বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৩২ / ১২৪ · ৩,১০১৩,২০০ / ১২,৪২১

৩,১০১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ক) ১১ টি
  2. খ) ১০ টি
  3. গ) ৩৯ টি
  4. ঘ) ৬৪ টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬৪ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬৪ টি
ব্যাখ্যা
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এসব সেক্টরকে আবার ৬৪টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- ফোর্স তিনটি হলো- জেড ফোর্স, এস ফোর্স এবং কে ফোর্স।
- ১০ নং সেক্টর ছিল একমাত্র নৌ সেক্টর যেখানে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১০২.
বার্ড প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৫৩ সালে
  2. ১৯৫৫ সালে
  3. ১৯৫৯ সালে
  4. ১৯৬১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৯ সালে
ব্যাখ্যা
- BARD (Bangladesh Academy for Rural Development) বা বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি ১৯৫৯ সালের ২৭ মে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটির প্রতিষ্ঠাতা ড. আখতার হামিদ খান।
- এটি কুমিল্লা জেলার কোটবাড়ীতে অবস্থিত।।
- বার্ড বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
- এটির প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হলো পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রদান।
(তথ্যসূত্রঃ বার্ড ওয়েবসাইট)
৩,১০৩.
পাল বংশের 'শেষ মুকুটমণি' বলা হয় কোন শাসককে?
  1. ধর্মপাল
  2. দেবপাল 
  3. রামপাল
  4. গোপাল
সঠিক উত্তর:
রামপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামপাল
ব্যাখ্যা

রামপাল:
- রামপালকে পালবংশের শেষ 'মুকুটমণি' বলা হয়।
- দ্বিতীয় শূরপালের পর রামপাল পাল বংশের রাজা হন।
- লিপি প্রমাণে বলা যায় তিনি ৪২ বছর  রাজত্ব করেন।
- তিনি আনুমানিক ১০৮২-১১২৪ খ্রি পর্যন্ত রাজত্ব করেন।
- প্রথম দিকে তাঁর রাজ্য বিহার ও পশ্চিম বাংলার অংশবিশেষে সীমাবদ্ধ ছিল।
- অগ্রজ দুই ভ্রাতার পর রামপাল বেশ প্রৌঢ় অবস্থায় সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তাঁর রাজত্বকাল ছিল নিঃসন্দেহে সাফল্যপূর্ণ।
- সীমিত সাম্রাজ্যের অধিপতি হয়েও উত্তর বাংলাকে পাল সাম্রাজ্যভুক্ত করে।
- তাঁর মৃত্যুর পর এই সাম্রাজ্য দ্রুত গতিতে বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যায়।

উল্লেখ্য,
- দ্বিতীয় মহীপালের রাজত্বকালের প্রধান ঘটনা ছিল উত্তর বাংলার সামন্ত বিদ্রোহ।
- 'রামচরিত' কাব্যে এই বিদ্রোহ ও বিদ্রোহোত্তর ঘটনাবলীর পাওয়া যায়।
- গোপালের উত্থানের মধ্যে দিয়ে পাল রাজবংশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পাল রাজবংশ প্রায় ৪শ বছর স্থায়ী ছিল।

উৎস: ইতিহাস, এস এস এইচ এল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১০৪.
Who became the first martyr in our liberation war among the seven Bir Sreshtho?
  1. Noor Mohammad Sheikh
  2. Mohammad Ruhul Amin
  3. Muhammad Mustafa Kamal
  4. Mohiuddin Jahangir
  5. Munshi Abdur Rouf
সঠিক উত্তর:
Munshi Abdur Rouf
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Munshi Abdur Rouf
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে প্রথম শহীদ হন ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ।

বীরশ্রেষ্ঠ:
- বীরশ্রেষ্ঠ বীরত্বের জন্য প্রদত্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক পুরস্কার। 
- যুদ্ধক্ষেত্রে অতুলনীয় সাহস ও আত্মত্যাগের নিদর্শন স্থাপনকারী যোদ্ধার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক দেয়া হয়। 
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে এই পদক দেয়া হয়েছে।
 
১। ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর,
- সেক্টর: ৭ নং,
- মৃত্যু: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে শেষ শহীদ)।
- সমাধিস্থল: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণ।
 
২। সিপাহী হামিদুর রহমান,
- সেক্টর: ৪ নং,
- মৃত্যু: ২৮ অক্টোবর, ১৯৭১।
- সমাধিস্থল: মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান।
 
৩। সিপাহী মোস্তফা কামাল,
- সেক্টর: ২ নং,
- মৃত্যু: ১৮ এপ্রিল, ১৯৭১।
- সমাধি স্থল: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার দরুইন গ্রামে।
 
৪। মোহাম্মদ রুহুল আমিন,
- সেক্টর: ১০ নং,
- মৃত্যু: ১০ ডিসেম্বর, ১৯৭১।
- সমাধিস্থল: রূপসা ফেরিঘাটের লুকপুরে।
 
৫। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান,
- বাংলাদেশ বিমান বাহিনী,
- মৃত্যু: ২০ আগস্ট, ১৯৭১।
- সমাধিস্থল: মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান।
 
৬। ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ,
- সেক্টর: ১ নং,
- মৃত্যু: ৮ এপ্রিল, ১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে ১ম শহীদ)।
- সমাধিস্থল: রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজারে কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারের পাশে। 
 
৭। নূর মোহাম্মদ শেখ,
- সেক্টর: ৮ নং,
- মৃত্যু: ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১।
- সমাধিস্থল: যশোরের কাশিপুর নামক স্থানে।
 
উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৩,১০৫.
'উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এই ঘোষণাটি দিয়েছিলেন -
  1. ক) ১৯৪৭ সালের মার্চ মাসে
  2. খ) ১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে
  3. গ) ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে
  4. ঘ) ১৯৪৮ সালের এপ্রিল মাসে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে
ব্যাখ্যা
১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ছাত্র-শিক্ষকদের সমাবেশে পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন- 'পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু'। উপস্থিত ছাত্ররা ‘না না না -- ধ্বনিতে এর প্রতিবাদ জানায়।
দেশের শিক্ষাবিদ-সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী এবং অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে অবস্থান নেন।

• পাকিস্তান গণপরিষদে বাঙালি সদস্য একাত্তরের শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান এ প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন। দুঃখের বিষয় মুসলিম লীগের অনেক বাঙালি সদস্যও এই বিরোধিতায় যোগ দিয়েছিলেন।
অথচ বাংলা পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হওয়া ছিল যুক্তিযুক্ত। পাকিস্তানের তৎকালীন মোট জনসংখ্যা ছিল ৬ কোটি ৯০ লক্ষ। এর মধ্যে ৪ কোটি ৪০ লক্ষ বাঙালি। বাকি আড়াই কোটি মানুষের মাতৃভাষাও উর্দু ছিল না।

সূত্র: বাংলাদেশে ও বিশ্ব পরিচয়, ৭ম শ্রেণি।
৩,১০৬.
আদিনা মসজিদ কে নির্মাণ করেন?
  1. সিকান্দার শাহ
  2. সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ
  3. খান জাহান আলী
  4. শের শাহ সুরি
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকান্দার শাহ
ব্যাখ্যা

আদিনা মসজিদ:
- আদিনা মসজিদ  পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার হযরত পান্ডুয়া বা ফিরুজাবাদে অবস্থিত।
- এর পেছনের দেয়ালে প্রাপ্ত একটি শিলালিপি অনুসারে এটি ১৩৭৩ খ্রিস্টাব্দে ইলিয়াস শাহের পুত্র সিকান্দর শাহ কর্তৃক নির্মিত। 
- সিকান্দর শাহের মতো সুলতানের পক্ষে, যিনি ১৩৬৯ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে আরব ও পারস্যের সুলতানদের মধ্যে যোগ্যতম এবং পরে ‘বিশ্বাসীদের খলিফা’ বলে ঘোষণা করেছিলেন, এ ধরনের একটি মসজিদ নির্মাণ ছিল তাঁর সম্পদ ও প্রতিপত্তির স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ। 

⇒ সিকান্দর শাহ:
- ইলিয়াস শাহের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র সিকান্দর শাহ ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি প্রায় ৩৪ বছর রাজত্ব করেন।
- তাঁর এ সুদীর্ঘ রাজত্বকালে বাংলাদেশে মুসলিম শাসন সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- সিকান্দর শাহ সুশাসক ও বিদ্যানুরাগী ছিলেন। 
- সুফি শেখ আলাউল হক ও শেখ শরফউদ্দীন ইয়াহিয়ার সাথে সিকান্দর শাহের সৌহার্দ্য ও পত্রালাপ ছিল।
- তাঁর রাজত্বকালে স্থাপত্যশিল্পের যথেষ্ট উন্নতি হয়।
- তাঁর সময় তৈরি 'আদিনা মসজিদ' মধ্যযুগের বাংলার স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৩,১০৭.
‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ ভাস্কর্যটি কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা সেনানিবাসে
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
  3. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে
  4. চট্টগ্রাম সেনানিবাসে
সঠিক উত্তর:
ঢাকা সেনানিবাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা সেনানিবাসে
ব্যাখ্যা
সাত বীরশ্রেষ্ঠের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য:

- সাত বীরশ্রেষ্ঠের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্য ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’।
- এর উদ্বোধন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।
- ভাস্কর্যটি ঢাকা সেনানিবাসের মাটিকাটা মিলিটারি পুলিশ চেকপোস্ট এলাকায় অবস্থিত।
- ১২ নভেম্বর ২০২৩ সালে ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করা হয়।
- ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ ভাস্কর্যটিতে ‘অর্ধবৃত্তাকার প্রাচীরে’ সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে তুলে ধরা হয়েছে।
- ভাস্কর্যের সামনে ‘ফোয়ারা’ নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।
- ফোয়ারা থেকে প্রাচীর পর্যন্ত সংযুক্ত রেখাগুলো ‘সূর্যরশ্মির প্রতীক’, যা দিয়ে বোঝানো হয়েছে যে বীরশ্রেষ্ঠরা জাতির সূর্যসন্তান এবং তাঁরা সূর্যরশ্মির মতো দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আলোর দিশারি ও অনবদ্য অনুপ্রেরণার উৎস।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ, ১৩ নভেম্বর, ২০২৩।
৩,১০৮.
প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মান করেন কে?
  1. মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা
  2. চাষী নজরুল ইসলাম
  3. জহির রায়হান
  4. আবদুস সামাদ
সঠিক উত্তর:
চাষী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাষী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
ওরা এগারো জন:
- প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র 'ওরা এগারো জন'।
- 'ওরা এগারো জন' চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেন মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা।
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ওরা ১১ জন চলচ্চিত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে অভিনয় করিয়েছিলেন নির্মাতা-প্রযোজক।
- “ওরা এগারো জন” চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম।
- একাত্তরে ১১টি সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন বাঙালিরা। বিষয়টি মাথায় রেখেই সিনেমার নাম রাখা হয়েছে ওরা ১১ জন।
- পরিচালক হিসেবে চাষী নজরুল ইসলামের প্রথম সিনেমা ছিল এটি।
- ওরা ১১ জন-এর শুটিং হয়েছিল জয়দেবপুরে।
- চিত্রগ্রাহক ছিলেন আবদুস সামাদ।
- ওরা ১১ জন সিনেমা শুরু হয় সাইফুল ইসলামের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত 'ও আমার দেশের মাটি' দিয়ে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক প্রথম আলো, ১৩ আগস্ট ২০২২।
৩,১০৯.
বাংলাদেশের মানুষ প্রধানত কোন মূল জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভূক্ত?
  1. ক) অস্ট্রোলয়েড
  2. খ) নেগ্রিড
  3. গ) মঙ্গোলয়েড
  4. ঘ) ভোটচীনীয়
সঠিক উত্তর:
ক) অস্ট্রোলয়েড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অস্ট্রোলয়েড
ব্যাখ্যা
অস্ট্রোলয়েডঃ
- অস্ট্রোলয়েড  প্রাচীন বাংলায় একটি নৃ-গোষ্ঠী। নৃতত্ত্ববিদগণ এদেরকে আদি অস্ট্রেলীয় বলে  মনে করেন। এ জনগোষ্ঠীকে অস্ট্রিক বা অস্ট্রো-এশীয়ও বলা হয়।
- প্রাচীন সাহিত্যে এরা নিষাদ নামে পরিচিত। পন্ডিতদের মতে, অস্ট্রোলয়েডদের আদি বাসস্থান মধ্য ভারত থেকে শুরু করে দক্ষিণ ভারত এবং সিংহল থেকে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কাল পরিক্রমায় তাদের একটি দল আদি বাসস্থান ত্যাগ করে বাংলায় অভিবাসন করে। 

অতএব প্রদত্ত প্রশ্নের এটিই সঠিক উত্তর।

এছাড়াও,
-  নেগ্রিটো: প্রস্তরযুগে প্রাচীন ভারতের আদিম মানুষ। বাংলার প্রাচীনতম বং জনগোষ্ঠীর পরবর্তীতে আসে নেগ্রিটো জনগোষ্ঠী।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী উপজাতির বড় অংশ হলো মঙ্গোলয়েড।
- প্রাচীনকালে আর্যপূর্ব জনগোষ্ঠীর যে চারটি শাখা এখানে বাস করতো তারা হলো- অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, নেগ্রিটো ও ভোটচীনীয়।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া
৩,১১০.
কোন আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এগারো দফা প্রণীত হয়?
  1. ক) বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন
  2. খ) বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন
  3. গ) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. ঘ) একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
গ) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে এগারো দফা দাবী ঘোষণা করা হয়।
এই এগারো দফার মধ্যে ছাত্রদের বিভিন্ন দাবী, ছয়দফা, কৃষক ও শ্রমিকদের অধিকার এবং পাকিস্তানের শাসনতান্ত্রিক বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত ছিলো। যার কারণে এগারো দফা পূর্ব বাংলার আপামর জনসাধারণের সমর্থন লাভ করেছিলো।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৩,১১১.
জুলাই অভ্যুত্থানে আবু সাঈদ শহিদ হয় কবে?
  1. ১৮ জুলাই, ২০২৪ সালে
  2. ১৬ জুলাই, ২০২৪ সালে
  3. ১৪ জুলাই, ২০২৪ সালে
  4. ১২ জুলাই, ২০২৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৬ জুলাই, ২০২৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬ জুলাই, ২০২৪ সালে
ব্যাখ্যা
জুলাই অভ্যুত্থান:
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহিদ- আবু সাইদ।
- ১৬ জুলাই ২০২৪ সালে তিনি শহিদ হন।
- আবু সাঈদ ২০০১ সালে রংপুরের জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন।
- তার বাবা-মা , মকবুল হোসেন ও মনোয়ারা বেগম।
- আবু সাইদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বায়ক ছিলেন।
- ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।

উৎস: প্রথম আলো।
৩,১১২.
সরকারি গেজেট অনুযায়ী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা কতজন?
  1. ৮৩২ জন 
  2. ৮৩৪ জন
  3. ৮৩৬ জন
  4. ৮৪৪ জন
সঠিক উত্তর:
৮৩৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮৩৬ জন
ব্যাখ্যা

• জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সরকারি গেজেটভুক্ত শহীদ:
- জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ২০২৪–এ শহীদদের গেজেট অনুসারে, জুলাই  গণঅভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৬।

⇒ "জুলাই যোদ্ধা" অর্থ জুলাই গণ অভ্যুত্থান চলাকালে তৎকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা উক্ত সময়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের আক্রমণে আহত ছাত্র-জনতা।
- এছাড়া "জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ" অর্থ "তৎকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা উক্ত সময়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের আক্রমণে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি।"

উল্লেখ্য,
- ৮৩৪ জনের নাম শহীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গেজেট প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। পরে সেখানে যুক্ত করা হয় আরও ১০ জনের নাম।
- গত ৩০শে জুন, ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত সরকারি গেজেট অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ছিল ৮৪৪ জন।
- তবে সরাসরি জুলাই আন্দোলনে যুক্ত না থাকা এবং চারজনের নাম গেজেটে দুইবার উল্লেখ থাকায় গত ৩রা অগাস্ট, ২০২৫ তারিখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই তালিকা থেকে আটজনের নাম বাতিল করে।
- মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী শহীদের সংখ্যা ৮৩৬ জন।

এছাড়াও,
- জুলাই  গণঅভ্যুত্থানে  ৬ থেকে ৬০ বছর বয়সী ১০ জনের নাম শহীদ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। 
- শহীদ ১০ জন নারীর মধ্যে ৭ জন ঢাকায়, ২ জন নারায়ণগঞ্জে ও ১ জন সাভারে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৭ জনই গুলিবিদ্ধ হন নিজ বাসার বারান্দা ও ছাদে। ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন সড়কে।
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ প্রথম নারী নাঈমা সুলতানা। 

তথ্যসূত্র:
i) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ii) বিবিসি।
iii) প্রথম আলো।

৩,১১৩.
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ২য় দাবি ছিলো কোনটি?
  1. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌
  2. সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া
  3. মার্শাল ল প্রত্যাহার
  4. জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর
সঠিক উত্তর:
সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ:
- বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।
- ভাষণটি ইতিহাসে ‘বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ’ নামে অভিহিত হয়েছে।
- মার্শাল ল প্রত্যাহার বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের প্রথম দাবি ছিলো।

• ভাষণে মূলত চার দফা দাবি তোলা হয় -
১। মার্শাল ল প্রত্যাহার,
২। সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া,
৩। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং
৪। জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর।

অন্যদিকে:
- ২১ দফা দাবির প্রথম দফা: বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করা
- ৬ দফা দাবির প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১১৪.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব -
  1. ক) বীরপ্রতীক
  2. খ) বীরশ্রেষ্ঠ
  3. গ) বীর বিক্রম
  4. ঘ) বীর উত্তম
সঠিক উত্তর:
খ) বীরশ্রেষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বীরশ্রেষ্ঠ
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ। 
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক। 
 
তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া
৩,১১৫.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে কোন সেক্টরের কোন সেক্টর কমান্ডার ছিল না?
  1. ১০নং
  2. ৯নং
  3. ১১নং
  4. ৮নং
সঠিক উত্তর:
১০নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সাব-সেক্টর সমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- নৌ সেক্টর ছিল ১০ নং সেক্টরের অধীনে।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধীনে ছিল।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,১১৬.
কয়টি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়?
  1. ৬ টি
  2. ৫ টি
  3. ৪ টি
  4. ৩টি  
সঠিক উত্তর:
৪ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ টি
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট:
- যুক্তফ্রণ্ট ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলার আইনসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দল সমুহের নির্বাচনী মোর্চা।
- এ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে।
- যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল।
- এ চারটি দল হলো আওয়ামী লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল।
- যুক্তফ্রন্ট চারটি দল নিয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর গঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- নির্বাচনী ইশতেহার ছিল ২১ দফা।

[বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইতে সংশোধন আকারে বলা হয়েছে যুক্তফ্রন্ট প্রধানত ৫ টি  দলের সমন্বয়ে গঠিত। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র ১ম ও ২য় খন্ডে চারটি বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত বলা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র অধিক গ্রহনযোগ্য হওয়ায় ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

উৎস: ইতিহাস, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র।
৩,১১৭.
যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) জামালপুর
  2. খ) সিরাজগঞ্জ
  3. গ) টাঙ্গাইল
  4. ঘ) বগুড়া
সঠিক উত্তর:
ক) জামালপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জামালপুর
ব্যাখ্যা
- যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী থানার তারাকান্দিতে অবস্থিত।
- এটি ১৯৯২ সালে স্থাপিত হয়। এর বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৫.৬১ লক্ষ মেট্রিক টন।
- এটিতে দানাদার ইউরিয়া সার উৎপাদিত হয়।
- শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প সংস্থার নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে দেশে ৮টি সার কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে চালু কারখানা ৬টি।

(তথ্যসূত্রঃ বিসিআইসি ওয়েবসাইট)
৩,১১৮.
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ক) ১১টি
  2. খ) ১২টি
  3. গ) ১৩টি
  4. ঘ) ৯টি
সঠিক উত্তর:
ক) ১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১১টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সাব-সেক্টর সমূহ:

- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালে ১১ এপ্রিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে এবং ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- নৌ সেক্টর ছিলো ১০ নং  সেক্টরের অধিনে ।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধিনে ছিল।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩,১১৯.
উপমহাদেশীয়দের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর কে ছিলেন?
  1. রমেশচন্দ্র মজুমদার
  2. স্যার এ. এফ. রহমান
  3. আমিনুল ইসলাম
  4. মোয়াজ্জেম হোসেন
সঠিক উত্তর:
স্যার এ. এফ. রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যার এ. এফ. রহমান
ব্যাখ্যা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:

- ১৯২১ সালের ১ জুলাই পূর্ববঙ্গের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় নাথান কমিশন গঠিত হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় নি। রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভারত সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হলে বঙ্গভঙ্গ রদের রাজকীয় ক্ষতিপুরণ হিসেবে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন - স্যার পি জে হার্টজ।
- উপমহাদেশীয়দের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন - স্যার এ. এফ. রহমান।
- ২০২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূর্ণ হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩,১২০.
'গণহত্যা যাদুঘর' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ঢাকা
  2. খ) চট্টগ্রাম
  3. গ) কুমিল্লা
  4. ঘ) খুলনা
সঠিক উত্তর:
ঘ) খুলনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খুলনা
ব্যাখ্যা
- দেশের একমাত্র গণহত্যা জাদুঘর খুলনা জেলায় অবস্থিত।
- ২০১৪ সালের ১৭ মে বেসরকারি উদ্যোগে এই জাদুঘরটি যাত্রা শুরু করে।
- পরবর্তীতে সরকার বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে জাদুঘর ট্রাস্টকে খুলনা শহরের সাউথ সেন্ট্রাল রোডে একখণ্ড জমি প্রদান করে।
- সেই জমিতে বর্তমানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের অধীনে ছয়তলা বিশিষ্ট নতুন জাদুঘর ভবন নির্মিত হচ্ছে। ২০২২ সালের মধ্যে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা।
- বর্তমানে জাদুঘরের কাজ পরিচালিত হচ্ছে নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার ৬ নম্বর রোডের ৪২৪ নম্বর বাড়িতে।

(তথ্যসূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিবেদন।)
৩,১২১.
ঐতিহাসিক ৬-দফাকে কিসের সাথে তুলনা করা হয়?
  1. ক) বিল অব রাইটস
  2. খ) ম্যাগনাকার্টা
  3. গ) পিটিশন অব রাইটস
  4. ঘ) মুখ্য আইন
সঠিক উত্তর:
খ) ম্যাগনাকার্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ম্যাগনাকার্টা
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অর্থনৈতিক বৈষম্য থেকে মুক্তির জন্য ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি পেশ করেন।
- এ কর্মসূচিকে বাংলার জনগণ ম্যাগনাকার্টা হিসেবে গ্রহণ করে। স্বয়ং বঙ্গবন্ধু এ ছয় দফাকে পূর্ব পাকিস্তানের 'বাঁচার দাবি' বলে অভিহিত করেন।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,১২২.
কৃষি উৎপাদনের দুই-তৃতীয়াংশের দাবিতে সংগঠিত আন্দোলনের নেতা কে?
  1. হাজী মোহাম্মদ মুহসীন
  2. হাজী মোহাম্মদ দানেশ
  3. হাজী শরিয়তউল্লাহ
  4. এ কে ফজলুল হক
সঠিক উত্তর:
হাজী মোহাম্মদ দানেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজী মোহাম্মদ দানেশ
ব্যাখ্যা
তেভাগা আন্দোলন
- তেভাগা আন্দোলন কৃষি উৎপাদনের দুই-তৃতীয়াংশের দাবিতে সংগঠিত বর্গাচাষিদের আন্দোলন। 
- ১৯৪০-৫০ সময়ে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- তেভাগা আন্দোলনের দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা।
- আন্দোলনটি নিশ্চিতভাবেই পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ প্রণয়নে প্রভাব বিস্তার করেছিল। 

- এই আন্দোলন সংগঠিত করেন বাংলার কৃষকসভার কমিউনিস্ট কর্মীরা। হাজী মোহাম্মদ দানেশ তেভাগা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
- তেভাগা আন্দোলন যখন স্তিমিত হওয়ার পথে তখন নাচোলের রাণী ইলা মিত্র এই আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করেন। 
- কৃষকদের নিকট তিনি রানী মা হিসেবে পরিচিতি পান।
- কৃষকদের অধিকার আদায়ে তেভাগা আন্দোলনে অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করেন অমল সেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,১২৩.
কোন নদীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ তৈরি করা হয়?
  1. পদ্মা
  2. মেঘনা
  3. যমুনা
  4. কর্ণফুলী
সঠিক উত্তর:
কর্ণফুলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা
কর্ণফুলী নদী:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি প্রধান নদী।
- এটি ভারতের মিজোরামের লুসাই পাহাড়ে শুরু হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার কাছে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে।
- এই নদীর মোহনাতে বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম বন্দর অবস্থিত।
- এই নদীর দৈর্ঘ্য ৩২০ কিলোমিটার।
- এটি চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির প্রধান নদী।
- এটি বাংলাদেশের খরস্রোতা নদী। 
- প্রধান উপনদী হলো কাসালং, হালদা, বোয়ালখালী।
- এর কাপ্তাই নামক স্থানে বাঁধ দিয়ে কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। 

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
         ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১২৪.
ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকার কর্তৃক স্থাপিত কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র-
  1. ক) Agriculture Information and Communication Centre
  2. খ) Post Harvest Management
  3. গ) Agriculture Information and Communication Council
  4. ঘ) Post-Entry Quarantine Centre
সঠিক উত্তর:
ক) Agriculture Information and Communication Centre
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Agriculture Information and Communication Centre
ব্যাখ্যা
- ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকার কর্তৃক স্থাপিত কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র - Agriculture Information and Communication Centre (AICC)।
- আমদানিকৃত বীজের রোগ-বালাই পরীক্ষার জন্য Post-Entry Quarantine Centre স্থাপনের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
- শস্য সংগ্রহোত্তর ফসলের ক্ষতি কমানোর জন্য - ‘Post Harvest Management’ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র:- অথনৈতিক সমীক্ষা-২০২২।
৩,১২৫.
জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয় কবে?
  1. ১ আগস্ট, ২০২৫
  2. ২ আগস্ট, ২০২৫
  3. ৩ আগস্ট, ২০২৫
  4. ৫ আগস্ট, ২০২৫
সঠিক উত্তর:
৫ আগস্ট, ২০২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ আগস্ট, ২০২৫
ব্যাখ্যা

জুলাই ঘোষণাপত্র:
-জুলাই ঘোষণাপত্র হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল, যার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
- ৫ই আগস্ট, ২০২৫, রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে '৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন' শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
- ঘোষণাপত্রের মূল বিষয়বস্তু হলো, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের নিরন্তর সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা।
- ঘোষণাপত্রে মোট ২৮টি দফা রয়েছে, যার মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাগুলোকে স্পষ্ট করা হয়েছে।

‘জুলাই ঘোষণাপত্র’-এর গুরুত্বপূর্ণ ২৮টি দফার সারাংশ:
১. ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনা ও গণপ্রতিরোধের ইতিহাস।
২. জাতীয় মুক্তির মূলনীতি - সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার।
৩. ১৯৭২ সালের সংবিধানের দুর্বলতা ও রাজনৈতিক ব্যর্থতা।
৪. বাকশাল ও একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে ৭ নভেম্বর বিপ্লব।
৫. সামরিক স্বৈরতন্ত্রবিরোধী ৯০’র গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্ব।
৬. ১/১১ ষড়যন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হওয়া।
৭. বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের চিত্র ও ক্ষমতার অপব্যবহার।
৮. গণহত্যা, গুম-খুন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং প্রতিষ্ঠান ধ্বংস।
৯. বাংলাদেশকে ব্যর্থ ও মাফিয়া রাষ্ট্রে রূপান্তরের অভিযোগ।
১০. দুর্নীতি, ব্যাংক লুট ও পরিবেশবিনাশের চিত্র তুলে ধরা।
১১. জনগণের ওপর দীর্ঘ দমনপীড়নের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক সংগ্রাম।
১২. বিদেশী আধিপত্যবিরোধী আন্দোলন দমন ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন।
১৩. তিনটি প্রহসনের নির্বাচনে ভোটাধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত করা।
১৪. বৈষম্যমূলক নিয়োগ নীতি ও তরুণদের প্রতি নিপীড়নের অভিযোগ।
১৫. নিপীড়নের ফলে জনরোষ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের উত্থান।
১৬. কোটা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনের ওপর বর্বরতা।
১৭. নারী-শিশুসহ এক হাজারের বেশি মানুষ হত্যার অভিযোগ।
১৮. ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের প্রেক্ষাপট।
১৯. গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা।
২০. ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আইনি ভিত্তি।
২১. ফ্যাসিবাদমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ।
২২. সুশাসন, আইনের শাসন ও সাংবিধানিক সংস্কারে জনগণের প্রতিশ্রুতি।
২৩. গুম-খুন, গণহত্যা, মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের ঘোষণা।
২৪. আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা ও শহীদদের জাতীয় বীর ঘোষণা।
২৫. একটি অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণ।
২৬. জলবায়ু ও পরিবেশসহ টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি।
২৭. ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান।
২৮. এই ঘোষণাপত্রকে গণঅভ্যুত্থান বিজয়ের চূড়ান্ত দলিল হিসেবে ঘোষণা।

তথ্যসূত্র- জুলাই ঘোষণাপত্র।

৩,১২৬.
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকে নিম্নের কোনটি পরিলক্ষিত হয় না?
  1. ধানের শীষ
  2. শাপলা
  3. পান পাতা
  4. তারকা
সঠিক উত্তর:
পান পাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পান পাতা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক:
- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক গ্রহণ করা হয়।
- এ প্রতীক হলো পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা এবং এর উভয় পার্শ্বে একটি করে ধানের শীষ, চূড়ায় পাটগাছের পরস্পরযুক্ত তিনটি পাতা এবং পাতার উভয় পার্শ্বে দুটি করে মোট চারটি তারকা।
- পানি, ধান ও পাট প্রতীকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে বাংলাদেশের নিসর্গ ও অর্থনীতি। এ তিনটি উপাদানের ওপর স্থাপিত জলজ প্রস্ফুটিত শাপলা হল অঙ্গীকার, সৌন্দর্য ও সুরুচির প্রতীক।
- তারকাগুলোতে ব্যক্ত হয়েছে জাতির লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা।

⇒ জাতীয় প্রতীকের ডিজাইনার পটুয়া কামরুল হাসান।
- সংবিধানের প্রথম ভাগ (প্রজাতন্ত্র) অনুচ্ছেদে : ৪ (৩)-এ জাতীয় প্রতীক সম্পর্কে বর্ণনা করা আছে।

⇒ ভাসমান শাপলাটি এঁকেছেন মোহাম্মদ ইদ্রিস ও এর দুই পাশে ধানের শীষবেষ্টিত পাটপাতা ও চারটি তারকা যুক্ত করেছেন শামসুল আলম।
- কামরুল হাসান ও তাঁর দলের করা এই প্রতীকটি জাতীয় প্রতীক হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয় ১৯৭২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি।
- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি মূলনীতি।
- জাতীয় প্রতীকের চারটি তারকা চিহ্ন দিয়ে এই চারটি মূলনীতিকেই বোঝানো হয়েছে।

⇒ এই জাতীয় প্রতীক কিন্তু সবাই ব্যবহার করতে পারেন না।
- শুধু রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার ব্যবহারের ক্ষমতা রাখেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৩,১২৭.
নিচের কোনটি প্রাচীন বাংলার জনপদের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) পুণ্ড্র
  2. খ) বঙ্গ
  3. গ) সমতট
  4. ঘ) চট্টলা
সঠিক উত্তর:
ঘ) চট্টলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চট্টলা
ব্যাখ্যা
চট্টলা প্রাচীন বাংলা জনপদের অন্তর্ভুক্ত নয়। 

- প্রাচীন বাংলা জনপদসমূহ- বঙ্গ, গৌড়, সমতট, পুণ্ড্র, রাঢ় ইত্যাদি। 

উত্তীর্ণ শিলালিপি ও বিভিন্ন সাহিত্যগ্রন্থে প্রায় ১৬টি জনপদের কথা জানা যায়। তবে একেকটি জনপদের সীমা এক এক রকম ছিল। এই জনপদগুলাে ধীরে ধীরে বর্ধিত হয়ে বর্তমান বাংলার রূপ পরিস্ফুটন হয়েছে। তাই এই জনপদগুলাের গুরুত্ব অপরিসীম।

নিচে কয়েকটি উল্লেখযােগ্য জনপদের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হলাে- 

পুন্ড্র:  প্রাচীন বাংলার অন্যতম প্রধান জনপদ ছিল পুন্ড্র। বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে গঠিত পুন্ড্রদের রাজধানী ছিল পুন্ড্রনগর যা পরবর্তীকালে মহাস্থানগড় নামে পরিচিত হয়। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের মধ্যে পুন্ড্রই ছিল সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ। পাথরের চাকতিতে খােদাই করা প্রাপ্ত লিপিগুলােকেই মনে করা হয় বাংলাদেশের প্রাচীনতম শিলালিপি।

বঙ্গ:  বঙ্গ নামের সাথে বাংলা নামটি জড়িয়ে আছে। এটি অতি প্রাচীন জনপদ। বর্তমান বাংলাদেশের বিক্রমপুর, ফরিদপুর, বাকেরগঞ্জ ও পটুয়াখালির নিচু জলাভূমি পর্যন্ত ছিল বঙ্গ জনপদের বিস্তৃতি। বঙ্গ জনপদ ছিল খুবই শক্তিশালি অঞ্চল। এই বঙ্গ’ নাম থেকেই বাঙালি জাতির উৎপত্তি ঘটেছিল। 

গৌড়: প্রাচীন বাংলায় সবচেয়ে জনপ্রিয় জনপদ ছিল গৌড়। তবে এই জনপদটির প্রাথমিক অবস্থান ঠিকমতাে জানা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হয় ষষ্ঠ শতকে পূর্ব বাংলার উত্তর অংশে গৌড় রাজ্য নামে স্বাধীন এক রাজ্য। ছিল। যার রাজা ছিলেন শশাঙ্ক এবং রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। রাজা শশাঙ্ক ছিলেন শক্তিশালী রাজা।
তার শাসনামলে প্রাচীন বাংলায় গৌড় জনপদ অনেক সমৃদ্ধ হয়েছিল।

হরিকেল: সপ্তম শতকের লেখকদের বর্ণনায় হরিকেল জনপদের অবস্থান যে পূর্ব বাংলায় ছিল সেটা জানা যায়। বর্তমান সিলেট থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত এই জনপদ ছিল সমৃদ্ধ। সমতট অনেকেই মনে করেন সমতট বর্তমান কুমিল্লার প্রাচীন নাম। গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মােহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী অঞ্চলকেই সম্ভবত সমতট বলঅ হতাে। কামতা ছিল এর রাজধানী।

সূত্র: ২৮ পৃষ্ঠা, বাংলাদেশের ইতিহাস এবং বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১২৮.
'ফ্লাউড কমিশন' কোনটির সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. ক) শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার
  2. খ) শাসন ব্যবস্থা সংস্কার
  3. গ) ভূমি রাজস্ব সংস্কার
  4. ঘ) আর্থিক ব্যবস্থা সংস্কার
সঠিক উত্তর:
গ) ভূমি রাজস্ব সংস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভূমি রাজস্ব সংস্কার
ব্যাখ্যা
ভূমি রাজস্ব সংক্রান্ত সমস্যাবলির সংস্কারের লক্ষ্যে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক সরকার ১৯৩৮ সালে স্যার ফ্রান্সিস ফ্লাউডকে প্রধান করে ফ্লাউড কমিশন গঠন করে।
এই কমিশন ১৯৪০ সালের ২ মার্চ তার রিপোর্ট পেশ করে।

রিপোর্টে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা তথা জমিদারি ব্যবস্থা বাতিল ও ভূমির উপর কৃষকদের অধিকার পুনস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

আন্তরিকতা থাকা সত্ত্বেও ১৯৫০ সালের পূর্বে ফ্লাউড কমিশনের সুপারিশসমূহ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। ১৯৫০ সালের পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের মাধ্যমে ১৯৫১ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা বাতিল হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৩,১২৯.
কোন প্রস্তাবের ভিত্তিতে ঐতিহাসিক ছয় দফা রচিত হয়?
  1. ক) পাঞ্জাব
  2. খ) লাহোর
  3. গ) করাচি
  4. ঘ) সিমলা
সঠিক উত্তর:
খ) লাহোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লাহোর
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলনের পটভূমি
- ‘পাকিস্তান’ রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছিল লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট রচিত হয় মূলত ১৯৪৭ সালেই, যখন লাহোর প্রস্তাব এর ভিত্তিতে দেশ বিভাজন করা হয় ।
- ছয়দফা কর্মসূচীর ভিত্তি ছিল ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব।
- পরবর্তীকালে এই ৬ দফা দাবিকে কেন্দ্র করে বাঙালি জাতির স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন জোরদার হয়।
- বাংলাদেশের জন্য এই আন্দোলন এতোই গুরুত্বপূর্ণ যে একে ম্যাগনা কার্টা বা বাঙালি জাতির মুক্তির সনদও বলা হয়।
- প্রতি বছর ৭ই জুন বাংলাদেশে '৬ দফা দিবস' পালন করা হয়।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৩০.
জাতীয় শহিদ মিনারের স্থাপতি-
  1. ক) মুঈনুল হোসেন
  2. খ) তানভীর কবির
  3. গ) হামিদুর রহমান
  4. ঘ) শামিম শিকদার
সঠিক উত্তর:
গ) হামিদুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নকশাকার/স্থপতি হলেন হামিদুর রহমান।
- ১৯৫৬ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের পাশে হামিদুর রহমানের নকশায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
- ১৯৬৩ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম এই শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন।

তথ্যসূত্র- বাংলাপিডিয়া।

৩,১৩১.
কার রাজত্বকালে বাংলার উত্তরাংশে মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. সম্রাট বিন্দুসার 
  2. সম্রাট অশোক
  3. সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  4. কোনটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
সম্রাট অশোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট অশোক
ব্যাখ্যা
মৌর্য বংশের শাসন: 
- আলেকজান্ডারের ভারত প্রত্যাগমনের মাত্র দুই বছর পর ৩২১ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ভারতের এক বিশাল অঞ্চলের ওপর মৌর্য বংশের শাসন চালু করেন।
- বাংলার উত্তরাংশে মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (২৬৯-২৩২ খ্রিষ্টপূর্ব)।
- বাংলা তখন মৌর্যদের একটি প্রদেশে পরিণত হয়েছিল।
- প্রাচীন পুণ্ড্রনগর ছিল এ প্রদেশের রাজধানী।
- উত্তর বঙ্গ ছাড়াও মৌর্য শাসন কর্ণসুবর্ণ (মুর্শিদাবাদ), তাম্রলিপ্তি (বর্তমান পশ্চিম বঙ্গের তমলুক জেলা) ও সমতট (দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা) অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- মৌর্যরাই ছিল ভারতের প্রথম সাম্রাজ্যবাদী শক্তি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩,১৩২.
শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক কত সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন?
  1. ১৯০৫ সালে
  2. ১৯৩৭ সালে
  3. ১৯৪০ সালে
  4. ১৯৪৭ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪০ সালে
ব্যাখ্যা
→ ১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

লাহোর প্রস্তাব:
- ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী প্রদেশে স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হয়।
- ১৯৩৭ সালে প্রদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- উক্ত প্রাদেশিক নির্বাচনে অধিকাংশ প্রদেশে কংগ্রেস জয়লাভ করে।
- এমনকি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশেও কংগ্রেস জয়লাভ করে।
- ১৯৪০ সালে মুসলিম লীগের সাধারণ অধিবেশন আহবান করা হয়।
- মুসলিম লীগের নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ধর্মভিত্তিক জাতির ধারণাকে সামনে তুলে ধরেন।
- হিন্দু-মুসলিমদের দুটি জাতি হিসাবে দাবী করেন।
- জিন্নাহর সাম্প্রদায়িক দ্বিজাতি তত্ত্ব এবং মুসলিমদের জন্য স্বতন্ত্র আবাসভূমির দাবী করেন।
- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক একটি প্রস্তাব পেশ করেন।
- জিন্নাহর সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি সভায় গৃহীত হয়।
- এই প্রস্তাবই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত। 

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৩৩.
শাহ সুলতান বলখীর মাজার কোথায় অবস্থিত?
  1. লালমাই
  2. মহাস্থানগড়
  3. উয়ারী বটেশ্বর
  4. সোনারগাঁও
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা
শাহ সুলতান বলখীর মাজার:
- বিখ্যাত সাধক শাহ সুলতান মাহিসওয়ার (রঃ) একজন দরবেশ।
- তিনি বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ে সমাহিত।
- শাহ সুলতান বলখীর মাজার মহাস্থানগড়ে অবস্থিত।
- শাহ সুলতান মাহিসওয়ারের ইতিহাস অস্পষ্ট।
- কথিত আছে যে, তিনি বলখ রাজ্যের রাজার পুত্র ছিলেন এবং এজন্য তিনি বলখী নামেও পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- মহাস্থানগড় এক সময় বাংলার রাজধানী ছিল।
- এর অবস্থান বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়।
- বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১০ কি.মি উত্তরে মহাস্থানগড় অবস্থিত।
- মহাস্থানগড় বগুড়ায় জেলার করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
- সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল।
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রাচীন পর্যটন কেন্দ্র।
- এটি বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগর কেন্দ্র মহাস্থানগড়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,১৩৪.
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কোন সালে স্বীকৃত হয়?
  1. ১৯৯৮
  2. ১৯৯৯
  3. ২০০০
  4. ২০০১
সঠিক উত্তর:
১৯৯৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৯
ব্যাখ্যা
• ২১ ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৩০তম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে পৃথিবীর ১৮৮টি দেশে এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়।

- ২০০৭ সালের ১৬ মে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন হয় যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের আহবান জানানো হয় এবং একই প্রস্তাবে ২০০৮ সালকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বর্ষ ঘোষণা করা হয়।
- পরবর্তীতে ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়।

তথ্যসূত্র: ইউনেস্কো ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৩,১৩৫.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্যে কতজনকে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়?
  1. ছয়জন
  2. সাতজন
  3. আটজন
  4. নয়জন
সঠিক উত্তর:
সাতজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাতজন
ব্যাখ্যা
মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭৩ সালে সাতজন কে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করেন।

এরা হলেন:
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : সেনাবাহিনী
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : সেনাবাহিনী
- সিপাহী হামিদুর রহমান : সেনাবাহিনী
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন : নৌবাহিনী
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : বিমান বাহিনী
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : সাবেক ই. পি. আর.
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : সাবেক ই. পি. আর.।

(তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়)
৩,১৩৬.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটির নেতা কে ছিলেন?
  1. তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান
  3. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
  4. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
সঠিক উত্তর:
আবদুল হামিদ খান ভাসানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন:

- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।
- কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
• অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)।
• মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)।
• মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)।
• ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৩৭.
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রাখার জন্য কতজন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধীতে ভূষিত করা হয়?
  1. ক) ৫ জন
  2. খ) ৬ জন
  3. গ) ৭ জন
  4. ঘ) ২ জন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২ জন
ব্যাখ্যা
মহিলা বীরপ্রতীক:

- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২ জন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তাঁরা হলেন- ডা. সেতারা বেগম ও তারামন বিবি।
- তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে যথাক্রমে ১১ ও ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

তথ্যসুত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৩,১৩৮.
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে কোথায় সমাহিত করা হয়?
  1. চট্টগ্রাম
  2. যশোর
  3. খুলনা
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
খুলনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খুলনা
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন:
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন: ১৯৩৫ সালে।
- তাঁর জন্মস্থান: বাঘচাপড়া, নোয়াখালী।
- ১৯৫৩ সালে তিনি নৌ বাহিনীতে জুনিয়ার মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।
- ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি ২নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন।
- সেপ্টেম্বর ১৯৭১ এ বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী গঠনের উদ্দেশ্যে সকল সেক্টর থেকে প্রাক্তন নৌসেনাদের আগরতলায় সংগঠিত করে নৌ বাহিনীর প্রাথমিক কাঠামো গঠন করা হয়।
- ভারত সরকার বাংলাদেশ নৌ বাহিনীকে দুইটি টাগবোট উপহার দেয়। এগুলোকে কোলকাতার গার্ডেনরীচ নৌ ওয়ার্কসপে দুইটি বাফার গান ও মাইন পড লাগিয়ে গানবোটে রূপান্তরিত করা হয়।
- গানবোট দুটির নামকরণ করা হয় 'পদ্মা' ও 'পলাশ'।
- রুহুল আমিন নিয়োগ পান 'পলাশের' ইঞ্জিন রুম আর্টিফিশার হিসেবে।
- ১০ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে সম্মুখ যুদ্ধে তিনি নিহত হন।
- খুলনার রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৩,১৩৯.
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে শহীদ নন?
  1. ক) সালাম
  2. খ) বরকত
  3. গ) আসাদ
  4. ঘ) জব্বার
সঠিক উত্তর:
গ) আসাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আসাদ
ব্যাখ্যা

- রফিক উদ্দিন, আব্দুল জব্বার, আবুল বরকত প্রমুখ ভাষা আন্দোলনের শহীদ।
- আবদুস সালাম (১৯২৫-১৯৫২) একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা-আন্দোলনের শহীদদের মধ্যে একজন। ভাষা শহীদদের মধ্যে তিনিই সর্বশেষ মারা যান।
- আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (আসাদ) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম-দশম শ্রেণি

৩,১৪০.
নালন্দা মহাবিহারের আচার্য কে ছিলেন?
  1. ক) হিউয়ান সাঙ
  2. খ) ক্যানিং
  3. গ) মহাস্থবীর শীলভদ্র
  4. ঘ) ফা-হিয়েন
সঠিক উত্তর:
গ) মহাস্থবীর শীলভদ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মহাস্থবীর শীলভদ্র
ব্যাখ্যা
- নালন্দা ছিল প্রাচীন ভারতের মগধ রাজ্যে (অধুনা ভারতের বিহার রাজ্য) অবস্থিত একটি খ্যাতনামা মহাবিহার। 
- এটি বিহারের রাজধানী পাটনা শহরের ৯৫ কিলোমিটার (৫৯ মা) দক্ষিণপূর্বে এবং বিহার শরিফ শহরের কাছে অবস্থিত।
 -নালন্দা মহাবিহারের আচার্য ছিলেন মহাস্থবীর শীলভদ্র
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,১৪১.
বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদের নাম-
  1. হরিকেল
  2. তাম্রলিপি
  3. চন্দ্রদ্বীপ
  4. পুণ্ড্র
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
ব্যাখ্যা

- বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদের নাম- 'পুণ্ড্র'।

'পুণ্ড্র' জনপদ:

- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুণ্ড্র।
- পুন্ড্র 'জন' বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল। পুণ্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- এটি বাংলার প্রাচীনতম জনপদ।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
- সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
-এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,১৪২.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কয়টি দেশ বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি
- ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৯ টি জেলার মধ্যে যশোর প্রথম স্বাধীন হয়।
- এই দিনই (৬ ডিসেম্বর) ভুটান প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- একই দিনে দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- ভুটান এবং ভারত; মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এই দুই দেশই শুধুমাত্র বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরেই বঙ্গবন্ধু বহির্বিশ্বের স্বীকৃতি ও দেশ গঠনে তাদের সহযোগিতা লাভের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন।
- ৩য় ও ৪র্থ দেশ হিসেবে যথাক্রমে পোল্যান্ড ও বুলগেরিয়া ১২ জানুয়ারি ১৯৭২ তারিখে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭২ সালে ১ ফেব্রুয়ারি প্রথম মুসলিম দেশ হিসাবে সেনেগাল বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে স্বীকৃতি দেয়।
- সর্বশেষ দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশকে ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা।
৩,১৪৩.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত বছর বয়সে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য হন?
  1. ৩৮ বছর
  2. ৩৬ বছর
  3. ৩৪ বছর
  4. ৩২ বছর
সঠিক উত্তর:
৩৪ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৪ বছর
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ সালে গঠিত হয় ।
- ২১ দফার অন্যতম রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- ২১ দফার প্রথম দফাটি ছিল বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চানদলীয় জোট যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

- ৪ এপ্রিল শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হককে মুখ্যমন্ত্রী করে ৫ সদস্যের মন্ত্রীসভা গঠন করা হয়।
- ১৪ মে এই মন্ত্রিসভায় আওয়ামীলীগ যোগদান করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, বন, সমবায় এবং পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী হন।
- তখন তার বয়স ছিলো ৩৪ বছর।
- তবে ৩০শে মে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়।

উৎস: অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩,১৪৪.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুক্তফ্রন্ট সরকারের কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন?
  1. ক) অর্থ ও পরিকল্পনা
  2. খ) স্বরাষ্ট্র ও ত্রাণ
  3. গ) কৃষি ও সমবায়
  4. ঘ) শিক্ষা ও স্বাস্থ্য
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষি ও সমবায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষি ও সমবায়
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং ৪ এপ্রিল এ কে ফজলুল হককে মুখ্যমন্ত্রী করে ৫ সদস্যের মন্ত্রীসভা গঠন করা হয়।
১৪ মে এ মন্ত্রিসভায় আওয়ামীলীগ যোগদান করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, বন, সমবায় এবং পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী হন। তবে ৩০শে মে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় এ মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়।
(সূত্রঃ অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,১৪৫.
ছয়দফা কর্মসূচি প্রথম কে ঘোষণা করেন?
  1. ক) মলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  2. খ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. গ) শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
  4. ঘ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
সঠিক উত্তর:
ঘ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক 'ছয়দফা কর্মসূচি' পেশ করেন। এ কর্মসূচিকে তিনি 'পূর্ব পাকিস্তানের বাঁচার দাবি' বলে অভিহিত করেন।
উৎসঃ অসমাপ্ত আত্মজীবনী, শেখ মুজিবুর রহমান।
৩,১৪৬.
ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন?
  1. ১নং সেক্টরে
  2. ৪নং সেক্টরে
  3. ৭নং সেক্টরে
  4. ১১নং সেক্টরে
সঠিক উত্তর:
১নং সেক্টরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১নং সেক্টরে
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:

- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন : ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : পশ্চিম পাকিস্তান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৩,১৪৭.
স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বশেষ শত্রুমুক্ত জেলা কোনটি?
  1. খুলনা
  2. বরিশাল
  3. ঢাকা
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা

⇒ স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বশেষ শত্রুমুক্ত জেলা:
- স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বশেষ শত্রুমুক্ত জেলা ঢাকা।

⇒ উল্লেখ্য:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে মিত্রবাহিনীর কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত পরাজয় হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর।
- কিন্তু আত্মসমর্পণের পরও পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিল।
- ঢাকায় আত্মসমর্পণের ১ সপ্তাহ পর্যন্ত যুদ্ধ চলার পর ২৩ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত হয় কুমিল্লার হোমনা।
- কিন্তু ঢাকার মিরপুর তখনো পাকিস্তানি বাহিনী ও বিহারিদের হাতে পুরোপুরি অবরুদ্ধ।
- ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি এক বিশেষ সামরিক অভিযানের পর ৩১ জানুয়ারি ১২ নম্বর সেকশনের ডি ব্লক ঈদগাহ মাঠে আত্মগোপনকারী পাকিস্তানি সেনা, বিহারি, রাজাকার, আলবদরদের অস্ত্রসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্ত হয় মিরপুর।

⇒ অন্যদিকে:
- খুলনা জেলা শত্রুমুক্ত হয় ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১।
- সিলেট জেলা শত্রুমুক্ত হয় ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭১।
- কুমিল্লা জেলা শত্রুমুক্ত হয় ৮ ডিসেম্বর ১৯৭১।

তথ্যসূত্র - জানুয়ারি ৩০, ২০২৩, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।

৩,১৪৮.
আসাদ গেট কোন স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত হয়?
  1. বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন
  2. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  3. ছয়দফা আন্দোলন
  4. ভাষা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
আসাদ গেট:
- শহীদ আসাদ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এর শহীদ ছাত্রনেতা।
- আসাদুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম কমিটির ১১ দফা আদায়ের মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- তাঁর মৃত্যু ঊনসত্তরের ছাত্র-গণআন্দোলনের গোটা অবয়বকেই পাল্টে দেয় এবং তা আইয়ুব খানের শাসন ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
- আসাদ গেট ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত হয়। 
- অনেক জায়গায় জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইয়ুবের নামফলক নামিয়ে আসাদের নাম উৎকীর্ণ করে।
- এভাবে ‘আইয়ুব গেট’ হয়ে যায় ‘আসাদ গেট’, ‘আইয়ুব এভিনিউ’ নামান্তরিত হয়ে হয় ‘আসাদ এভিনিউ’।
- তখন থেকে আসাদের নাম হয়ে ওঠে নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,১৪৯.
মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. আকবর
  2. শাহজাহান
  3. বাবর
  4. হুমায়ুন
সঠিক উত্তর:
বাবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাবর
ব্যাখ্যা
- জহিরউদ্দীন মুহম্মদ বাবর ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিনিই ছিলেন মুঘল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।

বাবর:
- জহিরউদ্দীন মুহম্মদ বাবর ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- পিতার দিক থেকে বাবর ছিলেন বিখ্যাত তুর্কি তৈমুর লং-এর অধস্তন পঞ্চম পুরুষ এবং মায়ের দিক থেকে তাঁর পূর্বপুরুষ ছিলেন বিখ্যাত মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান।
- উপমহাদেশে বাবরের প্রতিষ্ঠিত রাজবংশ মুঘল বংশ নামে পরিচিত হয়েছে মোঙ্গলদের সাথে তাঁর সম্পর্ক থাকার কারণেই।
- বাবর ১৪৮৩ খ্রিস্টাব্দে মধ্য এশিয়ার ফারগানায় জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতার মৃত্যুর পর বাবর বার বছর বয়সে ফারগানার অধিপতি হন।
- ১৫০৪ খ্রিস্টাব্দে উজবেক শাসনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রথম বারের মতো বাবর কাবুল জয় করেন।
- কাবুল বিজয়ের পরও বাবর পিতৃসিংহাসন পুনরুদ্ধার ও রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে ভারতবর্ষের দিকে দৃষ্টি নিবন্ধ করেন।
- কাবুল অধিকারের পর বাবর ভারত বিজয়ের পরিকল্পনা করেন।
- এসময় ভারতের শাসন ক্ষমতায় ছিলেন লোদী সুলতানরা।
- বাবরের আক্রমণের পূর্বে ভারতের শেষ সুলতান ছিলেন ইব্রাহিম লোদী।
- ভারতের কেন্দ্রীয় শক্তির দুর্বলতার সুযোগ গ্রহণ করে বাবর এদেশে মোগল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

সূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৫০.
কোন গ্রন্থে বঙ্গ জনপদের অবস্থান সম্পর্কে প্রথম ধারণা পাওয়া যায়?
  1. অর্থশাস্ত্র
  2. রঘুবংশ
  3. আইন-ই-আকবরী
  4. ঐতরেয় আরণ্যক
সঠিক উত্তর:
রঘুবংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রঘুবংশ
ব্যাখ্যা
- ‘বঙ্গ’ হলো প্রাচীন বাংলায় বসবাসকারী একটি জনগোষ্ঠী ও জনপদের নাম।
- ‘বঙ্গ’ জনগোষ্ঠীর প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় বেদের শাখা হিসেবে রচিত ‘ঐতরেয় আরণ্যক’ গ্রন্থে।
- তবে বঙ্গের অবস্থান সম্পর্কে প্রথম ধারণা পাওয়া যায় কালিদাস রচিত ‘রঘুবংশ’ গ্রন্থে। রঘুবংশ গ্রন্থের মতে গঙ্গার দুইধারার মধ্যবর্তী স্থানে বঙ্গ জনপদের অবস্থান।
- গ্রিক লেখকগণ বঙ্গ জনপদকেই গঙ্গারিডিই হিসেবে অভিহিত করেন। ‘বঙ্গ’ শব্দ থেকেই বর্তমান ‘বাংলাদেশ’ নামের উদ্ভব হয়েছে।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৩,১৫১.
অস্ট্রোলয়েড জাতিগোষ্ঠী প্রাচীন সাহিত্যে কী নামে পরিচিত ছিল?
  1. নিগ্রো
  2. নিষাদ
  3. দ্রাবিড়
  4. দাস
সঠিক উত্তর:
নিষাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিষাদ
ব্যাখ্যা

→ প্রাচীন সাহিত্যে অস্ট্রোলয়েডদের 'নিষাদ' নামে উল্লেখ করা হয়েছে।

অস্ট্রোলয়েড: 
- অস্ট্রোলয়েড জাতিগোষ্ঠী প্রাচীন বাংলায় একটি আদিম নৃগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত, তাদের প্রাচীন সাহিত্যে “নিষাদ” নামে উল্লেখ করা হয়েছে।
- নৃতত্ত্ববিদদের মতে, এরা আদি অস্ট্রেলীয় জনগোষ্ঠীর অংশ এবং অনেক সময় অস্ট্রিক বা অস্ট্রো-এশীয় বলেও অভিহিত হন।
- মধ্য ও দক্ষিণ ভারত থেকে শুরু করে সিংহল ও অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত এদের বিস্তৃতি ছিল, তবে একটি অংশ কালক্রমে বাংলায় অভিবাসন করে।
- বাংলার প্রাচীন বং ও নেগ্রিটো জাতিগোষ্ঠীর পরে এদের আগমন ঘটে।
- বর্তমান বাংলাদেশের কোল, ভীল, সাঁওতাল, মুন্ডা, মালপাহাড়ি প্রভৃতি গোষ্ঠী এদের উত্তরসূরি।
- অস্ট্রোলয়েডদের কৃষিনির্ভর সভ্যতা, ভাষা ও সামাজিক পদ্ধতির প্রভাব বাংলার সংস্কৃতিতে গভীরভাবে পরিলক্ষিত হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৩,১৫২.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সুন্দরবন কত নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ক) ৭ নম্বর
  2. খ) ৮ নম্বর
  3. গ) ৯ নম্বর
  4. ঘ) ১০ নম্বর
সঠিক উত্তর:
গ) ৯ নম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৯ নম্বর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল-১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর)
- ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।

- চট্টগ্রাম-১নং সেক্টর,
- ঢাকা-২ নং সেক্টর,
- রাজশাহী-৭ নং সেক্টর,
- মুজিব নগর-৮ নং সেক্টর,
- সুন্দরবন-৯ নং সেক্টর,

সূত্র: ঢাকা বিভাগের ওয়েবসাইট।
৩,১৫৩.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ কে?
  1. ক) রফিক
  2. খ) শফিক
  3. গ) বরকত
  4. ঘ) সালাম
সঠিক উত্তর:
ক) রফিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রফিক
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন
- ভাষা আন্দোলন  বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দাবিতে সংগঠিত গণআন্দোলন।
-  ১৯৪৭ সালে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত এবং ১৯৫২ সালে এই আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮) শুধুমাত্র উর্দুকে জাতীয় ভাষা হিসেবে ঘোষণার প্রতিবাদে বাঙালী ছাত্ররা সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে।
- ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে জড়ো হতে শুরু করে।
- ২১ ফেব্রুয়ারির মিছিলে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার, শফিউরসহ আরও অনেকে।
- ২০০০ সালে তাদের রাষ্ট্রীয় একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে।
- বরকত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।
- রফিক ছিলেন বাদামতলী কমার্শিয়াল প্রেসের মালিকের ছেলে।
- তারা তিনজন নিহত হন ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখে।
- পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে মারা যান রিকশাচালক সালাম এবং হাইকোর্টের কর্মচারী শফিউর রহমান।
- ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি প্রাণ হারানোর তালিকায় আরো দুটি নাম পাওয়া যায়- অহিউল্লাহ ও আবদুল আউয়াল।
- এ ছাড়া সালাউদ্দীন নামেও একজন ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ হন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। 
- বাংলা ভাষার অধিকার রক্ষার আন্দোলনে প্রথম শহিদ রফিকউদ্দিন আহমেদ। 

উৎস: i) দৈনিক ইত্তেফাক, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১।
         ii) প্রথম আলো, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২১।
৩,১৫৪.
সরকারি গেজেট অনুযায়ী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা কতজন?
  1. ৮৩৪ জন
  2. ৮৩৬ জন
  3. ৮৩৯ জন
  4. ৮৪৪ জন
সঠিক উত্তর:
৮৩৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮৩৬ জন
ব্যাখ্যা

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর শহীদদের গেজেট:
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এ শহীদদের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে সরকার।
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এটি প্রকাশ করেছে।
- সরকারি এ গেজেট অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৬ জন।
- সরকারি গেজেট অনুযায়ী, ২ আগস্ট পর্যন্ত শহীদের সংখ্যা ছিল ৮৪৪ জন। ৩ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে ৮ জনের নাম বাদ দিয়ে আরেকটি গেজেট করেছে মন্ত্রণালয়। এই গেজেট অনুযায়ী, শহীদের সংখ্যা এখন ৮৩৬ জন।
উল্লেখ্য,
- ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ তহবিল করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও প্রথম আলো।

৩,১৫৫.
বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব কে ছিলেন?
  1. সরফরাজ খান
  2. সিরাজ-উদ-দৌলা
  3. আলীবর্দী খান
  4. মুর্শিদ কুলি খান
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদ কুলি খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুর্শিদ কুলি খান
ব্যাখ্যা

• নবাব মুর্শিদ কুলি খান:
- মুর্শিদ কুলি খান (১৭০০-১৭২৭) বাংলায় নওয়াবী শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর কোনো কোনো সুবা স্বাধীন হয়ে যায়।
- বাংলাও এর ব্যতিক্রম ছিল না।
- বিশেষ করে মুর্শিদকুলী খানের সময় থেকে বাংলায় নবাবী আমলের সূচনা হয়।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে কর তলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদ কুলি খান দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- তিনি ঢাকা বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন ১৭১৭ সালে।
- তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।

অন্যদিকে -
- নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলা-বিহার-ওড়িশার শেষ স্বাধীন নবাব।
- আলীবর্দী খান (১৬৭৬-১৭৫৬) বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নওয়াব (১৭৪০-১৭৫৬)।
- ইলিয়াস শাহ বাংলাদেশে ইলিয়াস শাহী রাজবংশ-এর প্রথম শাসক।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া। 

৩,১৫৬.
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকার  ক্ষমতায় ছিল কত দিন? 
  1. ৫৬ দিন
  2. ৬৫ দিন
  3. ৫০ দিন
  4. ৪৫ দিন
সঠিক উত্তর:
৫৬ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫৬ দিন
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট সরকার
- ১৯৫৪ সালের ৩রা এপ্রিল যুক্তফ্রন্টভুক্ত কৃষক শ্রমিক পার্টির নেতা এ.কে. ফজলুল হক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
- যুক্তফ্রন্ট সরকার মাত্র ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিল।
- পাকিস্তান সরকার পূর্ববাংলার যুক্তফ্রন্ট সরকারকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করতে পারেনি।
- তারা ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেয়। আদমজী পাটকল ও কর্ণফুলি কাগজের কলে বাঙালি-অবাঙালি দাঙ্গাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করে।
- উল্লেখ্য, পাকিস্তান সরকারের ইন্ধনে ঐ দাঙ্গা হয়েছিল। শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হককে গৃহবন্দি করা হয়। বহু নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। এর মাধ্যমে পূর্ববাংলার প্রতি পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর চরম বৈরী মনোভাব প্রকাশ পায়।
- পূর্ববাংলায় পাকিস্তানের অরাজক শাসন পর্ব শুরু হয়।
- কেন্দ্র এবং প্রদেশে ঘন ঘন সরকার পরিবর্তন হতে থাকে। দেশ সামরিক শাসনের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি বোর্ড বই।

৩,১৫৭.
কোন বাংলাদেশী সর্বপ্রথম এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেন?
  1. ক) মুসা ইব্রাহিম
  2. খ) নিশাত মজুমদার
  3. গ) এম. এ. মুহিত
  4. ঘ) ওয়াসফিয়া নাজরীন
সঠিক উত্তর:
ক) মুসা ইব্রাহিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মুসা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
মুসা ইব্রাহিম:
- মুসা ইব্রাহীম একজন বাংলাদেশী পর্বতারোহী।
- তিনি প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেছেন।
- তিনি ২৩ মে ২০১০ তারিখে বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৫ মিনিটে এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করেন।
- এভারেস্ট জয়ী মুসা ইব্রাহিমের গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাটের দুর্গাপুর উপজেলা।
- মুসা ইব্রাহীম চায়না-তিব্বতের দিক দিয়ে এভারেস্ট জয় করেছিলেন।
- ২০১০ সালের ২৩ মে এভারেস্টের চূড়ায় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে বাংলাদেশকে ৬৭তম এভারেস্টজয়ী দেশ হিসেবে পরিণত করে মুসা ইব্রাহীম।

উল্লেখ্য,
- তেনজিং নোরগে একজন নেপালী শেরপা পর্বতারোহী ছিলেন।
- তিনি এবং এডমন্ড হিলারি ১৯৫৩ সালের ২৯ শে মে যৌথভাবে বিশ্বে সর্বপ্রথম পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট পর্বত জয় করেন ।

উৎস: i) প্রথম আলো, ১০ মার্চ, ২০১৮।
         ii) মে ২৬, ২০১০, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
৩,১৫৮.
শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট কত সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করে?
  1. ১০ সদস্যবিশিষ্ট
  2. ১২ সদস্যবিশিষ্ট
  3. ১৪ সদস্যবিশিষ্ট
  4. ১৫ সদস্যবিশিষ্ট
সঠিক উত্তর:
১৪ সদস্যবিশিষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪ সদস্যবিশিষ্ট
ব্যাখ্যা

• যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন-পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ:  
- শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট ১৪ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের নিরঙ্কুশ জয় শুরু থেকেই মুসলিম লীগ সুনজরে দেখেনি।
- তারা যুক্তফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আরম্ভ করে।
- নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২১শে ফেব্রুয়ারিকে সরকারি ছুটি ও বর্ধমান হাউসকে বাংলা ভাষার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ঘোষণা দিলে কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
- কেন্দ্রীয় সরকার সুযোগ খুঁজতে থাকে যেকোনো অজুহাতে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করতে।
- ১৯৫৪ সালের ৩০শে মে যুক্তফ্রন্ট সরকার বাতিল করে পূর্ব বাংলায় গভর্নরের শাসন জারি করে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি। 

৩,১৫৯.
সবুজের মাঝে লাল বৃত্তের জাতীয় পতাকার নকশা করেন কে?
  1. ক) লুইস আই কান
  2. খ) হামিদুর রহমান
  3. গ) কামরুল হাসান
  4. ঘ) মৃণাল হক
সঠিক উত্তর:
গ) কামরুল হাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কামরুল হাসান
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইনার কামরুল হাসান। ১৯৭২ সালে কামরুল হাসান সবুজের মাঝে লাল বৃত্তের জাতীয় পতাকার নকশা করেন।
এর পূর্বে ব্যবহৃত মানচিত্র খচিত পতাকাটি ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান জহুরুল হক হলের ১১৬ নং কক্ষে শিবনারায়ণ দাস ও আরো কয়েকজন মিলে চূড়ান্ত করেন যা ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় তৎকালীন ডাকসু ভিপি আ স ম রব প্রথম উত্তোলন করেন। ১৯৭১ সালের ২৩ শে মার্চ বাংলাদেশের সর্বত্র পাকিস্তানের পতাকা’র পরিবর্তে লাল-সবুজের পতাকা উড়ানো হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)

৩,১৬০.
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন SMART card (NID) কোন দেশ থেকে তৈরি করেছে?
  1. ক) জাপান
  2. খ) ফ্রান্স
  3. গ) নেদারল্যান্ড
  4. ঘ) ভারত
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্রান্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
ফরাসি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে ৯ কোটি ভোটারের জন্য উন্নত মানের জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্ট এনআইডি কার্ড) তৈরি করা হয়েছে। [সূত্র: কালের কন্ঠ]
৩,১৬১.
মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্যে গৃহীত প্রথম রণকৌশল কোনটি?
  1. ক্যালকাটা স্ট্র্যাটেজি
  2. ইউনাইটেট ওফেনসিভ
  3. তেলিয়াপাড়া রণকৌশল
  4. মেহেরুপুর রণকৌশল
সঠিক উত্তর:
তেলিয়াপাড়া রণকৌশল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেলিয়াপাড়া রণকৌশল
ব্যাখ্যা
তেলিয়াপাড়া রণকৌশল:
মহান মুক্তিযুদ্ধে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলাধীন তেলিয়াপাড়ার একটি বর্ণাঢ্য ইতিহাস রয়েছে। এখান থেকেই যেমন মুক্তিবাহিনী গঠন, মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা ও রাজনৈতিক সরকার গঠনের প্রস্তাব তথা মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রথম পাঠের অনুশীলন হয় তেমনি এখানে সংগঠিত হয়েছে বহু সম্মুখ সমর।
- ২৮ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত সময়ে এখানে সংগঠিত নানা বিষয় যেমন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ইতিহাসের অমূল্য উপাদান; তেমনি সম্মুখ সমরক্ষেত্র হিসেবেও এ স্থানের রয়েছে অতুলনীয় গৌরব-গাঁথা।

২৫ মার্চ পাক বাহিনীর বর্বোরোচিত হামলার পর বাঙ্গালি অনেক সেনা অফিসার বিদ্রোহ করেন। বিদ্রোহী অফিসারদের অনেকেই (খালেদ মোশাররফ, শাফায়াত জামিল, জিয়াউর রহমান, এস এম রেজা, কে এম সফিউল্লাহ প্রমুখ এম.এ.জি ওসমানীর উপস্থিতি বৈঠক করেন। তেলিয়াপাড়া তখন ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গলের অস্থায়ী হেডকোয়ার্টার। সেখান থেকে পূর্ব যোগাযোগের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় তেলিয়াপাড়া বিওপি-এর কাছে ভারতীয় বিএসএফ-এর পূর্বাঞ্চলীয় মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার ভি সি পান্ডের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় হয়। উভয় পক্ষের আলোচনায় ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোতে বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তাদের একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়।

৪ এপ্রিল সকালের মধ্যেই সেনা কর্মকর্তাদের সকলে তেলিয়াপাড়া বাংলোতে উপস্থিত হন। ১০টার দিকে ভারতীয় বিএসএফ-এর পূর্বাঞ্চলীয় মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার ভি সি পান্ডে ও আগরতলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওমেস সায়গল বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মুহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানীকে সঙ্গে নিয়ে তেলিয়াপাড়াস্থ সেনা সদরে এসে উপস্থিত হন। ৭ সকাল ১১টায় সভার কার্যক্রম শুরু হয়।

এখানেই সিদ্ধান্ত হয় যে, বিদ্রোহী অফিসাররা যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন। এখানেই প্রথম বিদ্রোহী সকল ইউনিটের সমন্বয়ে 'মুক্তিফৌজ' গঠন করে।
এই বৈঠকের স্থানের নাম অনুসারে এখানে গৃহীত যুদ্ধকৌশলকে "তেলিয়াপাড়া রণকৌশল" নামে অভিহিত করা হয়। এটাই মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্যে গৃহীত প্রথম রণকৌশল হিসাবে পরিগণিত।

তেলিয়াপাড়া সেনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ সরকার গঠনের আগে। তাই নিকট অতীতে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার উদাহরণ বিশ্লেষণ করে সভার লিখিতাকারে কোনো সিদ্ধান্ত সংরক্ষণ করা হয়নি।
- ‘মৌখিকভাবে বাহিনীর সংগঠন, নেতৃত্ব ও যুদ্ধ পরিচালনার যে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে গঠিত বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদন পায়।
- ১১ এপ্রিল নবগঠিত বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বেতার ভাষণে এই সভার সিদ্ধান্তের কিছু অংশ উচ্চারিত হয়েছিল। উক্ত ভাষণে 'মুক্তিফৌজ' গঠনের কথাও বলা হয়।
পরে এই সভার সিদ্ধান্তগুলোকে পরিবর্ধন, পরিমার্জন, সংশোধন, সংযোজনের মাধ্যমে আরও সময়োপযোগী করে তোলা হয়’।
- সভা শেষে কর্নেল ওসমানী তাঁর রিভলভার থেকে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।’
- ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তানুযায়ী ১০ এপ্রিল তেলিয়াপাড়ায় ২য় সেনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উৎসঃ মূলধারা ৭১, বাংলাপিডিয়া ও তেলিয়াপাড়া উপজেলা ওয়েবসাইট।
৩,১৬২.
অস্থায়ী সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র কে পাঠ করেন?
  1. ক) ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) এম এ হান্নান
  4. ঘ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
সঠিক উত্তর:
ঘ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে প্রাথমিকভাবে পূর্ব প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক তৎপরতা ছাড়াই পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
- ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ ও গণহত্যা শুরু হলে পূর্ব পাকিস্তান হতে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের অধিকাংশ সদস্য প্রতিবেশি দেশ ভারতে আশ্রয় নেন।
- তারা একত্রিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করেন।
- ১৩ এপ্রিল আগরতলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের এক সভায় সরকার গঠন অনুমোদন করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের সদস্যগণ মেহেরপুর বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করেন।
- সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তাঁর নাম অনুসারে বৈদ্যনাথ তলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং দেশে-বিদেশে সরকার পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে ।
- আওয়ামী লীগের চীপ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী অস্থায়ী সরকারের (মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত) সদস্যদের শপথ পাঠ করান।
- শপথ অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন
- এ সরকার গঠনের মাত্র দুই ঘন্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- ফলে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তরিত হয়।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩,১৬৩.
বাংলার প্রাচীনতম জনপদ কোনটি?
  1. বঙ্গ জনপদ
  2. পুণ্ড্র জনপদ
  3. বরেন্দ্র জনপদ
  4. সমতট জনপদ
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র জনপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র জনপদ
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র জনপদ:
- বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদ হলো পুণ্ড্র।
- বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অবস্থান ভূমিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে পুণ্ড্র জনপদ।
প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্যের রাজধানী ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- এর বর্তমান নাম মহাস্থানগড়।

অপরদিকে,
বঙ্গ জনপদ:
- প্রাচীন বাংলা কতগুলো অঞ্চল বা জনপদে বিভক্ত ছিল।
- এর মধ্যে 'বঙ্গ' জনপদ ছিল অন্যতম।
- বর্তমান বরিশাল, ফরিদপুর, বিক্রমপুর, বাখেরগঞ্জ, পটুয়াখালীর নীচু জলাভূমি নিয়ে 'বঙ্গ' জনপদ গঠিত ছিল।
- এই অঞ্চলে বসবাসকারী 'বঙ্গ' জনগোষ্ঠী থেকে 'বঙ্গ' নামের উৎপত্তি ঘটেছে বলে ধারণা করা হয়।

বরেন্দ্র জনপদ:
- রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর এবং ভারতের মালদহ, মুর্শিদাবাদের কিছু অংশ, দার্জিলিং ও কোচবিহার এক সময় এ জনপদের আওতায় ছিল।

সমতট জনপদ:
- বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ।
- বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী একসময় সমতট নামে পরিচিত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৬৪.
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণা করা হয় কখন?
  1. ক) ২ মার্চ ১৯৭১
  2. খ) ৭ মার্চ ১৯৭১
  3. গ) ২৬ মার্চ ১৯৭১
  4. ঘ) ৩ মার্চ ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩ মার্চ ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩ মার্চ ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- ৩ মার্চ (১৯৭১) অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদের অধিবেশন স্থগিতের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২ মার্চ
ঢাকায় এবং পরদিন সারাদেশে হরতাল ডাকেন।
- তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানবাসী বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- ২ এবং ৩ মার্চ হরতালের ফলে সকল সরকারি কর্মকান্ড অচল হয়ে পড়ে।
- কোনো কোনো ছাত্র এবং শ্রমিক সংগঠন স্বাধীনতার ঘোষণা দাবি করেন।
- পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ৩ মার্চ ১৯৭১ ঢাকায় পল্টন ময়দানে আয়োজিত জনসভায় স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গ্রহণ করে।
- সভায় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপস্থিতিে ‘স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ঘোষণা ও কর্মসূচি’ শীর্ষক একটি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৬৫.
কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন কে?
  1. বল্লাল সেন
  2. বিজয় সেন
  3. হেমন্ত সেন
  4. লক্ষ্মণ সেন
সঠিক উত্তর:
বল্লাল সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা

কৌলিন্য প্রথা ও বল্লাল সেন:
- কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক হিসেবে বল্লাল সেন ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।
- সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় যে, কৌলিন্য প্রথার সাথে বল্লাল সেনের সম্পর্কের তেমন কোনো যুক্তিযুক্ত ভিত্তি নেই।
- বাংলাদেশে কৌলিন্য প্রথার বহুল প্রচলন দেখা যায় আঠারো ও উনিশ শতকে।
- বল্লাল সেন তাঁর পিতার ন্যায় শৈব ছিলেন।
- ধর্মপ্রচারে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল।
- তিনি তাঁর পিতার অন্যান্য উপাধির সাথে 'অরিরাজ নিঃশঙ্কর' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি আনুমানিক ১৮ বছর রাজত্ব করার পর বৃদ্ধ বয়সে পুত্র লক্ষণ সেনের হাতে রাজ্যভার অপর্ণ করে সস্ত্রীক ত্রিবেণীর কাছে গঙ্গাতীরে বাণপ্রস্থ অবলম্বন করে শেষ জীবন অতিবাহিত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৬৬.
ইংরেজদের বিরুদ্ধে তিতুমীর কোন জেলায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ক) চবিবশ পরগনা
  2. খ) নদীয়া
  3. গ) ফরিদপুর
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- তিতুমীরের প্রকৃত নাম সাইয়িদ মীর নিসার আলী।
- পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার বশিরহাট মহকুমার চাঁদপুর (মতান্তরে হায়দারপুর) গ্রামে ১৭৮২ সালে তাঁর জন্ম। 
- তিতুমীর ইংরেজ ও ‍জমিদারদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর জন্যে ১৮৩১ সালের অক্টোবর মাসে নারকেলবাড়িয়ায় এক দুর্ভেদ্য বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন।
- লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে ১০০ অশ্বারোহী, ৩০০ স্থানীয় পদাতিক, দুটি কামানসহ গোলন্দাজ সৈন্যের এক নিয়মিত বাহিনী তিতুমীরের বিরুদ্ধে প্রেরণ করে।
- তিনি তাঁর মুজাহিদ বাহিনীতে বিপুল সংখ্যক মুজাহিদ নিয়োগ করে তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দান করেন। 
- অচিরেই তিনি চবিবশ পরগনা, নদীয়া ও ফরিদপুর জেলায় স্বীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিতুমীর তাকি ও গোবরডাঙার জমিদারদের নিকট কর দাবি করলে তারা ইংরেজদের শরণাপন্ন হন। কলকাতা থেকে এক ইংরেজ বাহিনী তিতুমীরের বিরুদ্ধে প্রেরিত হয়। কিন্তু ইংরেজ ও জমিদারদের সম্মিলিত বাহিনী মুজাহিদদের নিকট শোচনীয় পরাজয় বরণ করে। 
- অবশেষে লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে ১০০ অশ্বারোহী, ৩০০ স্থানীয় পদাতিক, দুটি কামানসহ গোলন্দাজ সৈন্যের এক নিয়মিত বাহিনী তিতুমীরের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন।
- ১৮৩১ সালের ১৪ নভেম্বর ইংরেজ বাহিনী মুজাহিদদের উপর আক্রমণ চালায়।
- ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ বাহিনীর কামানের গোলায় তিতুমীরের বাঁশেরকেল্লা ধ্বংস হয়ে যায় এবং তিতুমীর শহিদ হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৩,১৬৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ২নং সেক্টরের সদরদপ্তর কোথায় ছিল?
  1. বাঁশতলা
  2. হেজামারা
  3. হরিণা
  4. মেলাঘর
সঠিক উত্তর:
মেলাঘর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেলাঘর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
=১নং সেক্টর:
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রব।
- সদরদপ্তর: হরিণা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ২নং সেক্টর:
- ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মেলাঘর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ, পরে মেজর এটিএম হায়দারের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৩নং সেক্টর:
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: হেজামারা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে এম শফিউল্লাহ, পরে মেজর এএনএম নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৫নং সেক্টর:
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বাঁশতলা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,১৬৮.
বঙ্গবন্ধু সেতু প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী কে?
  1. স্টিভ পলার্ড
  2. জর্জ স্টিভেসন
  3. ক্রিস্টোফার নোলান
  4. রবার্ট ডেভিলা
সঠিক উত্তর:
স্টিভ পলার্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টিভ পলার্ড
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু সেতু:
- বঙ্গবন্ধু সেতু ১৯৯৮ সালের জুনে উন্মুক্ত করা হয়। 
- এই সেতুর যমুনা নদীর পূর্ব পাড়ের ভুয়াপুর এবং পশ্চিম পাড়ে সিরাজগঞ্জকে সংযুক্ত করেছে।
 - এটি ১৯৯৮ সালে নির্মাণকালীন সময়ে পৃথিবীর ১১তম বৃহত্তম সেতু এবং বর্তমানে এটি দক্ষিণ এশিয়ার ৬ষ্ঠ বৃহত্তম সেতু। 
- এটি যমুনা নদীর উপর দিয়ে নির্মিত যা বাংলাদেশের প্রধান তিনটি সেতুর একটি এবং পানি প্রবাহের উপর ভিত্তি করে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম।
- বঙ্গবন্ধু সেতু যা বাংলাদেশের পূর্ব এবং পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে কৌশলগত সেতুবন্ধন তৈরী করেছে।
- ইংল্যান্ডের স্টিভ পলার্ড হলেন বঙ্গবন্ধু সেতু প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ
৩,১৬৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কতটি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়
  1. ৩টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স:

- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- “জেড” ফোর্স, “কে” ফোর্স, “এস” ফোর্স নিয়ে ৩টি ব্রিগেড ফোর্স।
- জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।
- কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
- খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩,১৭০.
মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা জেলা কত নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভূক্ত ছিল?
  1. ক) ১নং
  2. খ) ২নং
  3. গ) ৪নং
  4. ঘ) ৮নং
সঠিক উত্তর:
খ) ২নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২নং
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালে ‍মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।

১নং সেক্টর - চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত। 
২ নং সেক্টর - ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
৪নং সেক্টর - উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। 
৮ নং সেক্টর - এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,১৭১.
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের আসন সংখ্যা ছিল?
  1. ১৬৯ টি
  2. ১৬২ টি
  3. ১৬৭ টি
  4. ১৬০ টি
সঠিক উত্তর:
১৬৯ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬৯ টি
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন:
- ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের নির্বাচনের কমিশনার ছিলেন-  বিচারপতি আব্দুস সাত্তর ।
- পূর্ব পাকিস্তানে মোট জাতীয় পরিষদে আসন ছিল- ১৬৯ টি।
- তার মধ্যে তৎকালীন আওয়ামীলীগ ১৬৭ টি আসনে জয় লাভ করেন।
- প্রাদেশিক পরিষদের মোট আসন ছিলো-৩১০ টি।
- তার মধ্যে তৎকালীন আওয়ামীলীগ ২৯৮টি আসনে জয় লাভ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৩,১৭২.
শেরে বাংলা একে ফজলুল হক কত সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন?
  1. ক) ১৯৪০
  2. খ) ১৯৪৩
  3. গ) ১৯৪১
  4. ঘ) ১৯৪২
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৪০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৪০
ব্যাখ্যা
১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তানে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সাধারণ সভায় শেরে বাংলা একে ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

তার প্রস্তাবে বলা হয়,
ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব এলাকাসমূহের মতো যে সকল অঞ্চলে মুসলমানগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ, সে সব অঞ্চলে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ’ (স্টেটস) গঠন করতে হবে যার মধ্যে গঠনকারী এককগুলি হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম।

২৪শে মার্চ লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয়। এই প্রস্তাবে ভারতে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। ১৯৪৬ সালের এপ্রিলে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনে লাহোর প্রস্তাব সংশোধন করে একাধিক রাষ্ট্রের (স্টেটস) পরিবর্তে কেবল একটি রাষ্ট্র (স্টেট) প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩,১৭৩.
বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রের ঘোষণা হয়েছিল কবে?
  1. ক) ২৬ মার্চ ১৯৭১
  2. খ) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
  3. গ) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
  4. ঘ) ১০ জানুয়ারী ১৯৭২
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- মুজিবনগর সরকারের শপথ বাক্য পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এ ঘোষণা প্রবাসী মুজিবনগর সরকার পরিচালনার অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসাবে কার্যকর হয়।

উৎস: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র - বাংলাপিডিয়া
৩,১৭৪.
কবে বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণের নির্দেশ দেয়?
  1. ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর
  2. ১৯৭১ সালের ৩১ ডিসেম্বর
  3. ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি
  4. ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণ:  
- ১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ছিলো যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ।
- ব্রিজ কালভার্ট সব যুদ্ধের সময় বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়েছে শত্রু বাহিনী।
- যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। প্রায় সবারই হাতে অস্ত্র।
- এই সুযোগে রাজাকার, আল-বদর আর চোর-ডাকাতরা গুপ্ত হত্যা ও ডাকাতি শুরু করে।
- আর বদনাম রটাতে লাগলো মুক্তিযোদ্ধাদের নামে।
- এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র জমা দেয়ার আহ্বান জানালেন।
- বঙ্গবন্ধুর এই আহ্বান মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া পড়ল।
- নির্দেশ মোতাবেক দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদের পর থেকেই অস্ত্র জমা দেওয়া  শুরু হয়।
- সেই ধারাবাহিকতায় ৩০ জানুয়ারি ১৯৭২ গেরিলা বাহিনীর অস্ত্র জমা দেওয়ার দিন নির্ধারণ করা হয়।
- আর মুজিব বাহিনীর অস্ত্র জমা দেওয়ার দিন ছিল ৩১ জানুয়ারি।
- উভয় অনুষ্ঠানেই বঙ্গবন্ধু উপস্থিত থেকে অস্ত্র জমা নেন।

উৎস: দৈনিক ভোরের কাগজ ও বাংলা ট্রিবিউন। [লিঙ্ক], [লিঙ্ক]
৩,১৭৫.
সম্মিলিত বিরোধী জোটের হয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন কে?
  1. ক) আতাউর রহমান
  2. খ) মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  3. গ) এ কে ফজলুল হক
  4. ঘ) ফাতেমা জিন্নাহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফাতেমা জিন্নাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফাতেমা জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
সম্মিলিত বিরোধী জোট/Combined Opposition Party (COP)
• রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৯৬৪ সালের ২৬ জুলাই আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক জোট গঠিত হয় যা 'সম্মিলিত বিরোধী জোট' (Combined Opposition Party-COP) নামে পরিচিত। এ জোটের শরিক দলগুলো হলো -

১. পাকিস্তান আওয়ামী লীগ,
২. ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী),
৩. পাকিস্তান মুসলিম লীগ (কাউন্সিল),
৪. নেজাম-ই-ইসলাম,
৫. জামায়াতে ইসলামী।

• 'সম্মিলিত বিরোধী জোট' আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছোট বোন ফাতেমা জিন্নাহ কে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনয়ন করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
• এ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসতে থাকে ততই ফাতেমা জিন্নাহর প্রতি জনসমর্থন অতি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে।
• এর মূল কারণ ছিল আইয়ুব খানের স্বেচ্ছাচারী শাসনের ফলে জনগণের মনে সঞ্চিত ক্ষোভ, মৌলিক গণতন্ত্রীদের দুর্নীতি এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানের তোষামোদি ও চাটুকারিতা, বিরোধী জোটের অন্তর্ভুক্ত নেতা-নেত্রীদের জনপ্রিয়তা ইত্যাদি।
• কিন্তু ৮০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রীকে (Basic Democrats) নগদ অর্থ প্রদানসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খান পূর্বের মতোই তার সপক্ষে ধরে রাখতে সমর্থ হন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৩,১৭৬.
শশাঙ্কের সময়ে গৌড়ের রাজধানীর নাম কী ছিল?
  1. সুবর্ণগ্রাম
  2. কর্ণসুবর্ণ
  3. কর্ণাটক
  4. কোটিবর্ষ
সঠিক উত্তর:
কর্ণসুবর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ণসুবর্ণ
ব্যাখ্যা
গৌড়:
- ষষ্ঠ শতকে বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান।
- বাংলায় তুর্কি বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩,১৭৭.
কৈবর্ত্য বিদ্রোহের সময় সেন বংশের কোন রাজা রামপালকে সাহায্য করেন?
  1. ক) সমান্ত সেন
  2. খ) বল্লাল সেন
  3. গ) হেমন্ত সেন
  4. ঘ) বিজয় সেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিজয় সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিজয় সেন
ব্যাখ্যা
• হেমন্ত সেনের মৃত্যুর পর তার পুত্র বিজয় সেন (১০৯৮-১১৬০ খ্রিষ্টাব্দে) সিংহাসনে আরোহণ করেন। তার সুদীর্ঘ রাজত্বকালই সেন বংশের শাসনের শক্তিশালী ভিত্তি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিল।

কৈবর্ত্য বিদ্রোহের সময় বিজয় সেন রামপালকে সাহায্য করেন। বরেন্দ্র উদ্ধারে রামপালকে সাহায্য করার বিনিময়ে বিজয় সেন স্বাধীনতার স্বীকৃতি পান। 

• রাঢ় শূর বংশের রাজকন্যা বিলাসদেবীকে তিনি বিয়ে করেন এবং বৈবাহিক আত্মীয়তার সূত্র ধরে রাঢ় বিজয় সেনের অধিকারে আসে।


উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,১৭৮.
পারস্যের কবি হাফিজের সাথে পত্রালাপ হয়েছিল -
  1. ক) গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. খ) আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  3. গ) সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ
  4. ঘ) সুলতান শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশ
সঠিক উত্তর:
ক) গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
ব্যাখ্যা
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
- গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ বাংলার প্রথম ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান।
- সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ নিজে বিদ্বান ও কবি ছিলেন।
- মাঝে মাঝে তিনি আরবি ও ফারসি ভাষায় কবিতা লিখতেন।
- পারস্যের বিখ্যাত কবি হাফিজের সঙ্গে তাঁর পত্রালাপ ছিল।
- একবার তিনি হাফিজের নিকট কবিতার একটি চরণ লিখে পাঠান এবং কবিতাটিকে পূর্ণ করার জন্য কবিকে অনুরোধ জানান।
- হাফিজ দ্বিতীয় চরণটি রচনা করে কবিতাটি পূর্ণ করে পাঠান।
- তিনি সুলতানের নিকট একটি গজলও লিখে পাঠান।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর বিখ্যাত কাব্য ‘ইউসুফ জোলেখা’ রচনা করেন। 

উৎস: ইতিহাস, SSHL, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৭৯.
'অন্ধকূপ হত্যা' কাহিনী কার বিবরণের ওপর ভিত্তি করে রচিত?
  1. মীর জাফর
  2. জে.জেড হলওয়েল
  3. নবাব সিরাজ-উদ্দৌলা
  4. লর্ড ক্লাইভ
সঠিক উত্তর:
জে.জেড হলওয়েল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জে.জেড হলওয়েল
ব্যাখ্যা
অন্ধকূপ হত্যা:
- বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা কর্তৃক কলকাতা দখলের সময় সংঘটিত হওয়া কথিত ঘটনা অন্ধকূপ হত্যা নামে পরিচিত।
- এ কাহিনী মূলত কলকাতা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ইংরেজ সেনাপতি জে.জেড হলওয়েলের বিবরণের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- নবাব কর্তৃক ১৭৫৬ সালে ২০ জুন কলকাতার ইংরেজ দুর্গ দখলের পর ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে অবিশ্বাস্য রকম ক্ষুদ্র একটি কক্ষে আবদ্ধ রেখে হত্যা করা হয় বলে এই উপাখ্যানে দাবি করা হয়।

উল্লেখ্য,
- নবাব কলকাতা আক্রমণ করলে (১৬-২০ জুন, ১৭৫৬) ফোর্ট উইলিয়ামের ইংরেজরা পলায়ন করতে বাধ্য হয়।
- জন জেফেনিয়াহ হলওয়েলসহ ১৭০ জন ইংরেজ পলায়নের জন্য সময়মতো জাহাজে উঠতে ব্যর্থ হয় এবং পরিণামে তারা নবাবের সৈন্যদের হাতে বন্দি হয়।
- ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে দুর্গের ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট ৩ ইঞ্চি প্রস্থ একটি বন্দিশালায় গ্রীষ্মের অসহনীয় গরমে রাত্রিযাপনে বাধ্য করা হয়।
- ১২৩ জন ইংরেজ এই বন্দিশালায় মারা যায়।
- জীবিতদের মধ্যে একজন ছিলেন হলওয়েল।
- তিনি এই শোকাবহ ঘটনার বিস্তৃত বর্ণনা দেন এবং এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য নবাবকে দায়ী করেন।
- কিন্তু পরবর্তীকালের ইতিহাসবিদগণ হলওয়েলের কাহিনীর সত্যতা সম্পর্কে সন্দিহান হওয়ার মতো প্রমাণ আবিষ্কার করেন।
- সেই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা নবাবের সম্পূর্ণ অজ্ঞাতেই ঘটেছিল।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৩,১৮০.
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে 'কাদেরিয়া বাহিনী' কোন অঞ্চলে যুদ্ধ করে?
  1. গোপালগঞ্জ
  2. ময়মনসিংহ
  3. টাঙ্গাইল
  4. কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
টাঙ্গাইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টাঙ্গাইল
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
- কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ)।
- বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)।
- হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ)।
- আকবর বাহিনী (মাগুরা)।
- লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)।
- জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত।
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৩,১৮১.
কোন আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ‘এগারো দফা’ প্রণীত হয়?
  1. ক) বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন
  2. খ) একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন
  3. গ) চুয়ান্নর প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন
  4. ঘ) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
সঠিক উত্তর:
ঘ) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
‘উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান’ এর প্রেক্ষাপটে ১৯৬৯ সালের জানুয়ারি মাসে ‘ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ এর পক্ষ থেকে ‘এগারো দফা’ দাবী ঘোষণা করা হয়।
এই এগারো দফার মধ্যে ছাত্রদের বিভিন্ন দাবী দাওয়া, ছয়দফা, কৃষক ও শ্রমিকদের অধিকার এবং পাকিস্তানের শাসনতান্ত্রিক বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত ছিলো।
যার কারণে ‘এগারো দফা’ পূর্ব বাংলার সকল স্তরের জনসাধারণের সমর্থন লাভ করতে সক্ষম হয়।
সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া।
৩,১৮২.
Who among the following was impeached in the British Parliament?
  1. Robert Clive
  2. Lord Cornwallis 
  3. Warren Hastings 
  4. Lord Wellesley 
সঠিক উত্তর:
Warren Hastings 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Warren Hastings 
ব্যাখ্যা

ওয়ারেন হেস্টিংস:
- ব্রিটিশ আমলে বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস।
- তাঁর শাসন কালকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়, প্রথমপর্ব: ১৭৭২-১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার গভর্নর হিসেবে আর দ্বিতীয় পর্ব, ১৭৭৪-১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত গভর্নর জেনারেল হিসেবে।
- ১৭৭৩ সালে রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস হলে বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। সেই হিসেবে বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস।

⇒ গভর্নর পদে নিযুক্ত হয়ে হেস্টিংস সর্ব প্রথমেই সীমান্ত নীতি বিষয়ে পরিবর্তন সাধন করেন এবং অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির সূচনা করেন।
-  ওয়ারেন হেস্টিংস ইংরেজদের শত্রু মারাঠাদের আশ্রয়ে বাস করার অজুহাতে সম্রাট শাহ আলমকে দেয় বার্ষিক ছাব্বিশ লক্ষ টাকা বন্ধ করে দেন এবং সম্রাটের নিকট হতে 'বারানসীর সন্ধি' দ্বারা এলাহাবাদ ও কারা জেলা দু'টি অযোধ্যার নবাবকে পঞ্চাশ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রদান করেন। 

⇒ রাজস্ব আদায়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং দিউয়ানী বিচার ব্যবস্থার সংস্কার সাধন হেস্টিংসের অভ্যন্তরীণ শাসন নীতির মূল উদ্দেশ্য ছিল।
- তিনি বাংলায় দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটান এবং বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য জমিদারদের সাথে 'পাঁচসালা ভূমি বন্দোবস্ত' করেন।
- তবে নানা কারণে এ ব্যবস্থা ফলপ্রসূ না হলে তিনি ১৭৭৭ সালে 'একসালা বন্দোবস্ত' করেন।

⇒ তিনি কোম্পানির কর্মচারীদের বিনা শুল্কে ব্যক্তিগত বাণিজ্য বন্ধ করে দেন।
- তিনি মোগল বিচার ব্যবস্থাকে অনুসরণ করে তাকে শৃঙ্খলাপূর্ণ ও ন্যায়বিচারমূলক করার নীতি গ্রহণ করেন।
- তিনি বিচার বিভাগকে রাজস্ব বিভাগ হতে পৃথক করে প্রত্যেক জেলায় একটি করে দিওয়ানী ও ফৌজদারী আদালত স্থাপন করেন। 
- ওয়ারেন হেস্টিংস ভারতীয় শিক্ষা-সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তার আমলে মুসলমানদের উচ্চ শিক্ষার জন্য কলকাতা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয় (১৭৮১)। গবেষণার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল। হেস্টিংস এর পৃষ্ঠপোষকতায় চার্লস উইলকিন্স বাংলায় ছাপাখানা (প্রেস) স্থাপন করে।

⇒ পদত্যাগ ও ইমপীচমেন্ট:
- হেস্টিংসের কার্যকালের শেষ দিকে ইংল্যান্ডে তাঁর বিরুদ্ধে নানা প্রকার অভিযোগ ও অপবাদ প্রকাশ পেতে থাকে। ১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দে হেস্টিংস পদত্যাগ করে দেশে ফিরে যান। উইলিয়াম পিট ও লর্ড জান্ডাসের চেষ্টার ফলে হেস্টিংসকে বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়। বিশেষ করে চৈৎ সিংহ, অযোধ্যার বেগমদের প্রতি অসদাচারণ ও অত্যাচারের অভিযোগ ছিল গুরুতর। সাত বৎসর ধরে বিচারের পর হেস্টিংস অভিযোগ হতে মুক্ত হলেন বটে, কিন্তু আত্মপক্ষ সমর্থনের ব্যয় সংকুলান করতে গিয়ে তিনি একেবারে সর্বস্বান্ত হলেন। পিট ও ডান্ডাসের বিরোধিতার ফলে তাঁর ভাতাও বন্ধ করে দেয়া হয়।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) BBC.

৩,১৮৩.
হাজী মোহাম্মদ দানেশ কোন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন?
  1. ক) স্বদেশী আন্দোলন
  2. খ) তেভাগা আন্দোলন
  3. গ) কার্পাস আন্দোলন
  4. ঘ) আইন অমান্য আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
খ) তেভাগা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তেভাগা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
 - হাজী মোহাম্মদ দানেশ তেভাগা আন্দোলনের নেতা হিসেবেই সমধিক পরিচিত।
- হাজী দানেশ ১৯৩৮ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কমিউনিস্ট পার্টির অঙ্গসংগঠন কৃষক সমিতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং উত্তরবঙ্গে কৃষক আন্দোলন সংগঠিত করেন।
-  তাঁর নেতৃত্বে দিনাজপুর জেলায় টোল আদায় বন্ধ ও জমিদারি উচ্ছেদের দাবিতে কৃষক আন্দোলন জোরদার হয়। 
- আন্দোলনকালে তিনি গ্রেফতার হন এবং কারাভোগ করেন (১৯৩৮)। 
 
==========
 
- তেভাগা আন্দোলন বাংলায় সংঘটিত বর্গাচাষীদের একটি কৃষক আন্দোলন। ১৯৪৬-৪৭ এবং ১৯৪৮-৫০ দুই দফায় তেভাগা আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- তেভাগা আন্দোলনে দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা।
- এই আন্দোলন কৃষকসভার কমিউনিস্টদের মাধ্যমে রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, চব্বিশ পরগণা প্রভৃতি জেলায় সংঘটিত হয়।
- নাচোলের রানী ইলা মিত্র তেভাগা আন্দোলনের একজন নেত্রী।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া, এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী। 
 
৩,১৮৪.
লালবাগের কেল্লা স্থাপন করেন কে?
  1. শায়েস্তা খান
  2. টিপু সুলতান
  3. ইসলাম খান
  4. শাহ সুজা
সঠিক উত্তর:
শায়েস্তা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
লালবাগ কেল্লা:
- লালবাগ কেল্লা পুরাতন ঢাকার লালবাগে অবস্থিত।
- সতের শতকে ১৬৭৮ সালে সুবাদার আজম শাহ এটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। মাঝে এর কাজ বন্ধ হয়ে গেলে ১৬৮০ সালে শায়েস্তা খান পুনরায় এর কাজ শুরু করে এটি নির্মাণ করেন।
- লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে শায়েস্তা খানের কন্যা 'ইরান দুখত রহমত বানুর' সমাধি অবস্থিত।
- ইরান দুখত 'পরীবিবি' নামে পরিচিত।
- ১৯১০ সালে লালবাগ কেল্লা প্রত্নতত্ত্ব নির্দশন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এর আদি নাম কেল্লা আওরঙ্গবাদ। লালবাগে অবস্থিত হওয়ায় পরে এর নামকরণ করা হয় লালবাগ কেল্লা।

তথ্যসূত্র - প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৩,১৮৫.
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে কয়টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ১১
  2. ৩২
  3. ৬৪
সঠিক উত্তর:
৬৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৪
ব্যাখ্যা

• সেক্টর ও সাব সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ১১ টি সেক্টরের অধীনে ৬৪ টি সাবসেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে ১নং সেক্টর গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম। 
- ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে ২নং সেক্টর গঠিত। আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে ৩নং সেক্টর গঠিত হয়।
- উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে ৪নং সেক্টর গঠিত।
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে ৫নং সেক্টর গঠিত।
- ৬ নং সেক্টর  সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত।
- ৭ নং সেক্টর  রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- ১০ নং সেক্টর  নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- ১১ নং সেক্টর  টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,১৮৬.
বৃহত্তর রংপুর জেলা মুক্তিযুদ্ধে কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ক) চার নম্বর
  2. খ) ছয় নম্বর
  3. গ) আট নম্বর
  4. ঘ) নয় নম্বর
সঠিক উত্তর:
খ) ছয় নম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ছয় নম্বর
ব্যাখ্যা
সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ৬ নং সেক্টর গঠিত হয়েছিল। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার। সূত্র- বাংলাপিডিয়া।
৩,১৮৭.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন?
  1. গোপালগঞ্জ হাই স্কুল
  2. গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল
  3. গোপালগঞ্জ জিলা স্কুল
  4. গোপালগঞ্জ ইসলামিয়া স্কুল
সঠিক উত্তর:
গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতা শেখ লুৎফর রহমান।
- ১৯৪২ সালে তিনি গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আই.এ এবং একই কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে বি.এ পাশ করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সাথে তাদের দাবি আদায়ের পক্ষে আন্দোলন করার জন্যে ১৯৪৯ সালে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়।
- ১৯৫৩ সালে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন। ১৯৬৬ সালেই তিনি দলের সভাপতি হন।
- ১৯৬৬ সালে তিনি তাঁর বিখ্যাত ছয়দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেন।
- ১৯৭১ সালে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন।
- ১৯৭৫ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ তুলে দেয়া হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বিবিসি বাংলা, ১০ আগস্ট, ২০১০।
৩,১৮৮.
ঐতিহাসিক ছয় দফায় 'বৈদেশিক বাণিজ্য' সম্পর্কে উল্লেখ আছে কোন দফায়?
  1. ২য়
  2. ৩য়
  3. ৪র্থ
  4. ৫ম
সঠিক উত্তর:
৫ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ম
ব্যাখ্যা

- ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা ঘোষণা করেন।
- বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ছয়টি দফা হলো-
১. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
২. ফেডারেল সরকার।
৩. মুদ্রা সংক্রান্ত ক্ষমতা।
৪. ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য।
৫. বৈদেশিক বাণিজ্য।
৬. প্যারা মিলিশিয়া গঠন।

উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,১৮৯.
বিক্রমশীলা মহাবিহারের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. দেবপাল
  2. মহীপাল
  3. গোপাল
  4. ধর্মপাল
সঠিক উত্তর:
ধর্মপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মপাল
ব্যাখ্যা
• বিক্রমশীলা মহাবিহার: 
- বিক্রমশীলা মহাবিহার পালরাজ ধর্মপাল প্রতিষ্ঠিত একটি বৌদ্ধ মঠ।
- এর সমর্থন মেলে সর্বজ্ঞ মিত্র-এর ‘স্রগ্ধরা স্তোত্র’ (Sragdhara Stotra) সূত্রে, যেখানে এটিকে ‘শ্রীমদ্বিক্রমশীলাদেব মহাবিহার’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- রাজা ধর্মপাল গৌরবময় ‘বিক্রমশীলাদেব’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন বলে জানা যায়।
- সন্ন্যাসীদের বসবাসের জন্য বুদ্ধদেব পাঁচ ধরনের বাসস্থান নির্দেশ করেছিলেন বলে জানা যায়।
- বিহার ছিল এগুলির মধ্যে একটি।
- বিহারগুলি ধীরে ধীরে বেশ বড়সড় আবাসস্থলে পরিণত হয় এবং সন্ন্যাসীরা সেখানে সম্মিলিতভাবে জীবনযাপন করতেন।
- প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে বর্তমানে বিক্রমশীলা মহাবিহারের অবস্থান বিহারের ভাগলপুর জেলার অন্তিচক নামক স্থানে নির্দিষ্ট হয়েছে।
- খ্রিস্টীয় নবম শতকের প্রথম দিক থেকে বারো শতক পর্যন্ত এর নির্মাণকাজ চলে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৩,১৯০.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণাগার করার দাবি করা হয় -
  1. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে
  2. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে
  3. বরেন্দ্র জাদুঘরকে
  4. বর্ধমান হাউসকে
সঠিক উত্তর:
বর্ধমান হাউসকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ধমান হাউসকে
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা:
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- ২১ দফা ছিল আসলে পূর্ববাংলার মানুষের অধিকারের দলিল।
- ২১ দফা ইস্তেহার দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে।

উল্লেখ্য,
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণাগার করার দাবি করা হয় বর্ধমান হাউসকে।

⇒ যুক্তফ্রন্টের ১৬ নং দফা: বাংলা ভাষা গবেষণার জন্য বর্ধমান হাউজে বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৯১.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ১১ টি
  2. খ) ১৯ টি
  3. গ) ৬৪ টি
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ৬৪ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬৪ টি
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে ৬৪ টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়। 

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয়।
- এ সরকার প্রথমে ১০ এপ্রিল সমগ্র দেশকে ৪ টি সেক্টরে ভাগ করে।
- ১১ এপ্রিল তা পুর্নগঠন করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন এবং ১১ টি সেক্টরকে ৬৪টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না। এটি ছিলো নৌ সেক্টর।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি। 
৩,১৯২.
ভোমরা স্থলবন্দর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) যশোর
  2. খ) চুয়াডাঙ্গা
  3. গ) বাহ্মনবাড়িয়া
  4. ঘ) সাতক্ষীরা
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাতক্ষীরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাতক্ষীরা
ব্যাখ্যা
স্থলবন্দরের নাম ও অবস্থান:

- বেনাপোল স্থলবন্দর: বেনাপোল, শার্শা, যশোর।
- বুড়িমারী স্থলবন্দর: পাটগ্রাম, লালমনিরহাট।
- আখাউড়া স্থলবন্দর: আখাউড়া, বাহ্মনবাড়িয়া।
- ভোমরা স্থলবন্দর: ভোমরা, সাতক্ষীরা সদর।
- নাকুগাঁও স্থলবন্দর: নালিতাবাড়ী, শেরপুর।
- তামাবিল স্থলবন্দর: গোয়াইনঘাট সিলেট।
- সোনাহাট স্থলবন্দর: ভুরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম।
- দর্শনা স্থলবন্দর: দামুরহুদা, চুয়াডাঙ্গা।
- বিলোনিয়া স্থলবন্দর: বিলোনিয়া, ফেনী।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ।
৩,১৯৩.
কে, কোথায় প্রথম ঐতিহাসিক ছয় দফা প্রস্তাব পেশ করেন?
  1. ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, লাহোরে
  2. খ) মিজানুর রহমান চৌধুরী, পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, রেসকোর্স ময়দানে
  4. ঘ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ধানমন্ডি ৩২ নং বাড়ীতে
সঠিক উত্তর:
ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, লাহোরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, লাহোরে
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক রচিত ছয়দফা দাবী কে ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনাকার্টা’ বলা হয়।
১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ছয়দফা দাবী উত্থাপন করেন। একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহিত হয় এবং ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়দফা উত্থাপন করেন। ৭ জুন ছয়দফা দিবস পালিত হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া
৩,১৯৪.
শশাঙ্ক আনুমানিক কোন সালে স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ৫৯৮ খ্রি.
  2. ৬০৬ খ্রি.
  3. ৬২০ খ্রি.
  4. ৬৩৭ খ্রি.
সঠিক উত্তর:
৬০৬ খ্রি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬০৬ খ্রি.
ব্যাখ্যা

রাজা শশাঙ্ক:
- বাংলার ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- তিনি বাংলার বাইরেও রাজ্য জয় করে এক বিশাল সাম্রাজ্য স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
- শশাঙ্ক উত্তর ভারতের রাজনীতিতেও ভূমিকা পালন করেছিলেন। 
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী। বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,১৯৫.
'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা কে ছিলেন?
  1. মধুসূদন দত্ত 
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. হেনরি লুই ডিরোজিও
  4. উইলিয়াম কেরী 
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ডিরোজিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেনরি লুই ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট: 
- হেনরি লুই ডিরোজিও ১৮০৯ সালের ১৮ই এপ্রিল কোলকাতা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ছিলেন পর্তুগিজ এবং মা ছিলেন বাঙালি। ডিরোজিও ইংরেজি শিক্ষার স্কুল ডেভিড ড্রামন্ডের ধর্মতলা একাডেমিতে পড়ালেখা শুরু করেন।
- এই শিক্ষকের আদর্শ ডিরোজিওকে তাঁর শিশুকাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রভাবিত করে রেখেছিল।
- তিনি ছিলেন বাঙালি যুব সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী 'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা।
- বয়সে তরুণ হলেও তিনি ইতিহাস, ইংরেজি, সাহিত্য, দর্শন শাস্ত্রে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।
- তাঁর দূরদৃষ্টি, বাগ্মিতা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা তৎকালীন তরুণ সমাজকে ব্যাপক প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩,১৯৬.
দিল্লী সালতানাতের পতন হয় কাদের হাতে?
  1. ক) আফগানদের হাতে
  2. খ) তৈমুর লঙের হাতে
  3. গ) পারস্যের শাহ্‌ এর বাহিনীর হাতে
  4. ঘ) মোঙ্গলদের হাতে
  5. ঙ) মোগলদের হাতে
সঠিক উত্তর:
ঙ) মোগলদের হাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ) মোগলদের হাতে
ব্যাখ্যা
ইব্রাহিম লোদীর উদ্ব্যত আচরণ ও কঠোর দমন নীতির ফলে অসন্তুষ্ট আফগান অভিজাত শ্রেণি, পাঞ্জাবের শাসনকর্তা দৌলত খান লোদী এবং ইব্রাহীম লোদীর পিতৃব্য আলম খান এবং রাজপুতনার মেবারের রানা সংগ্রাম সিংহ কাবুলের অধিপতি জহিরুদ্দীন মুহম্মদ বাবরকে ভারত আক্রমণের আহ্বান জানান। উচ্চাভিলাষী এবং সাম্রাজ্যবাদী বাবর এই আহবানে সাড়া দিয়ে ভারত আক্রমণ করেন। ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত ঐতিহাসিক পানিপথের প্রথম যুদ্ধে লোদী বংশের সর্বশেষ শাসক ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করে দিল্লি সালতানাতের পতন ঘোষণা করেন এবং ভারতর্ষে মুঘল শাসনের গোড়াপত্তন করেন।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির ইসলামের ইতিহাস -২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
৩,১৯৭.
'ECNEC' এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন-
  1. ক) অর্থমন্ত্রী
  2. খ) পরিকল্পনা মন্ত্রী
  3. গ) রাষ্ট্রপতি
  4. ঘ) প্রধানমন্ত্রী
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রধানমন্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা

- ECNEC (Executive Committee of the National Economic Council) গঠিত হয় ১৯৮২ সালে।
- একনেকের সর্বশেষ ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী সভাপতি।
- অর্থমন্ত্রী বিকল্প সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

৩,১৯৮.
কখন পূর্ব বাংলার নাম পরিবর্তন করে পূর্ব পাকিস্তান করা হয়?
  1. দেশ বিভাগের সময়
  2. পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানে
  3. পাকিস্তানের দ্বিতীয় সংবিধানে
  4. যুক্তফ্রন্ট সরকারের সময়ে
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানে
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান:
- ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান ঘোষণা করা হয়।
- এটি ছিল সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার সংবিধান।
- এ সংবিধানের মাধ্যমে 'পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্র' নাম ধারণ করে। 
- পশ্চিমাঞ্চলের প্রদেশগুলোকে একত্রিত করে এক ইউনিট গঠন করা হয় এবং নামকরণ করা হয় পশ্চিম পাকিস্তান।
- পূর্ব বাংলার নাম হয় পূর্ব পাকিস্তান।
- সংবিধানে সকল বিষয়ে সংখ্যাসাম্য নীতি স্বীকৃতি হয়।
- বাংলা এবং উর্দুকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়া হয়।
- তবে এই সংবিধানের মাধ্যমে পূর্ব বাংলাকে কার্যত পশ্চিম পাকিস্তানের একটি উপনিবেশ হিসেবে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়।
- পূর্ব বাংলার সুশীল সমাজ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরিস্থিতি অনুধাবন করে প্রতিবাদে সোচ্চার হন।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,১৯৯.
স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলা ভাষাকে জীবনের সর্বস্তরে ব্যবহারের আইন পাস হয় কত সালে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৮৭ সালে
  3. ১৯৯৯ সালে
  4. ২০০০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮৭ সালে
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সংবিধানে তৃতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা'।
- সংবিধানের এই বিধান যথাযথভাবে কার্যকর করতে ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ 'বাংলা ভাষা প্রচলন আইন' কার্যকর করা হয়।
- এই আইনের ৩(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘এ আইন প্রবর্তনের পর বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারি অফিস-আদালত, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন আদালতের সোয়াল- জওয়াব এবং অন্যান্য আইনানুগত কার্যাবলী অবশ্যই বাংলায় লিখিতে হবে।
- ' ৩(২) ধারায় আরও বলা হয়েছে, উল্লেখিত কোনো কর্মস্থলে যদি কোনো ব্যক্তি বাংলা ভাষা ব্যতীত অন্য কোনো ভাষায় আবেদন বা আপিল করেন, তাহলে তা বেআইনি ও অকার্যকর বলে গণ্য হবে।'
- ধারা ৩ ( বলছে, ‘যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই আইন অমান্য করেন তাহলে উক্ত কার্যের জন্য তিনি সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধির অধীনে অসদাচরণ করেছেন বলে গণ্য হবে এবং তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

উৎস:পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোজাম্মেল হক। এবং প্রথম আলো পত্রিকা।[লিঙ্ক]

৩,২০০.
ঢাকা কখন সর্বপ্রথম বাংলার রাজধানী হয়েছিল?
  1. ১২৫৫ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৬১০ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬১০ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
রাজধানী ঢাকা:
- এটি বাংলাদেশের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত বৃহত্তম শহর।
- মুঘল সম্রাট আকবরের সময় বাংলার রাজধানী ছিল বিহারের রাজমহল।
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ইচ্ছানুযায়ী ১৬১০ সালে ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়।

উল্লেখ্য,
- জনপদ হিসেবে ঢাকার গোড়াপত্তন হয় ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে।
- শহর হিসেবে এর গোড়াপত্তন হয় ১২২৯ খ্রিস্টাব্দে।
- ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার শাহ সুজা রাজধানী আবার রাজমহলে স্থানান্তর করেছিলেন। শাহ সুজার পতনের পর ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মীর জুমলা আবার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- ১৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মুর্শিদ কুলি খান রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।
- বঙ্গভঙ্গের পর ১৯০৫ সালে ঢাকাকে আসাম ও বাংলার রাজধানী করা হয়।
- কংগ্রেসের বাধার মুখে ব্রিটিশ রাজ আবার ১৯১১ সালে রাজধানী কলকাতায় ফিরিয়ে নেয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান এবং স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলা নামে নতুন প্রদেশের রাজধানী হওয়ায় ঢাকার উথানে অধিকতর স্থায়ী উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে ঢাকা রাজনৈতিক , প্রশাসনিক কার্যকলাপ এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্ররূপে মর্যাদা লাভ করে।
উল্লেখ্য,
- ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার শাহ সুজা রাজধানী আবার রাজমহলে স্থানান্তর করেছিলেন। শাহ সুজার পতনের পর ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মীর জুমলা আবার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- ১৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মুর্শিদ কুলি খান রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।
- ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯০৫ সালে ঢাকাকে বাংলার রাজধানী করা হয়। বঙ্গভঙ্গের পর ১৯০৫ সালে ঢাকাকে আসাম ও বাংলার রাজধানী করা হয়।
- কংগ্রেসের বাধার মুখে ব্রিটিশ রাজ আবার ১৯১১ সালে রাজধানী কলকাতায় ফিরিয়ে নেয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান এবং স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলা নামে নতুন প্রদেশের রাজধানী হওয়ায় ঢাকার উথানে অধিকতর স্থায়ী উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে ঢাকা রাজনৈতিক , প্রশাসনিক কার্যকলাপ এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্ররূপে মর্যাদা লাভ করে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) The Business Standard.