বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা / ১২৪ · ২০১৩০০ / ১২,৪২১

২০১.
লালবাগ কেল্লা কোন শতক নির্মিত হয়?
  1. ক) ষোড়শ শতক
  2. খ) সতের শতক
  3. গ) আঠারো শতক
  4. ঘ) উনিশ শতক
সঠিক উত্তর:
খ) সতের শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সতের শতক
ব্যাখ্যা
- লালবাগ কেল্লা পুরাতন ঢাকার লালবাগে অবস্থিত।
- সতের শতকে ১৬৭৮ সালে সুবাদার আজম শাহ এটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। মাঝে এর কাজ বন্ধ হয়ে গেলে ১৬৮০ সালে শায়েস্তা খান পুনরায় এর কাজ শুরু করে এটি নির্মাণ করেন।
- লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে শায়েস্তা খানের কন্যা পরীবিবির মাজার অবস্থিত।
- ১৯১০ সালে লালবাগ কেল্লা প্রত্নতত্ত্ব নির্দশন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এর আদি নাম কেল্লা আওরঙ্গবাদ। লালবাগে অবস্থিত হওয়ায় পরে এর নামকরণ করা হয় লালবাগ কেল্লা।
(তথ্যসূত্রঃ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ওয়েবসাইট)
২০২.
বাসা বাড়িতে সরবরাহকৃত বিদ্যুতের ফ্রিকুয়েন্সি কত?
  1. ক) ৫০ হার্জ
  2. খ) ৬০ হার্জ
  3. গ) ৭০ হার্জ
  4. ঘ) ৮০ হার্জ
সঠিক উত্তর:
ক) ৫০ হার্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৫০ হার্জ
ব্যাখ্যা
বিদ্যুৎ:
-  যে তড়িৎ প্রবাহ নির্দিষ্ট সময় পরপর দিক পরিবর্তন করে তাকে পর্যাবৃত্ত প্রবাহ (Alternating Current ) বলে। আমাদের দেশে বাসা বাড়িতে সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে ৫০ বার দিক পরিবর্তন করে। অর্থ্যৎ বিদ্যুতের ফ্রিকোয়েন্সি ৫০ হার্জ।

- বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কতৃক ৪ ধরনের বিদ্যুত সরবরাহ করা হয়।
১। নিম্নচাপ (এলটি): ২৩০/৪০০ ভোল্ট
- বিদ্যুৎ সরবরাহ: নিম্নচাপ এসি সিঙ্গেল ফেজ ২৩০ ভোল্ট এবং তিন ফেজ ৪০০ ভোল্ট।
- ফ্রিকোয়েন্সি: ৫০ সাইকেল/সেকেন্ড।

২। মধ্যমচাপ (এমটি): ১১ কেভি
 -বিদ্যুৎ সরবরাহ: মধ্যমচাপ এসি ১১ কেভি।
- ফ্রিকোয়েন্সি: ৫০ সাইকেল/সেকেন্ড।

৩। উচ্চচাপ (এইচটি): ৩৩ কেভি
- বিদ্যুৎ সরবরাহ: উচ্চচাপ এসি ৩৩ কেভি।
- ফ্রিকোয়েন্সি: ৫০ সাইকেল/সেকেন্ড।

৪। অতি উচ্চচাপ (ইএইচটি): ১৩২ কেভি এবং ২৩০ কেভি
- বিদ্যুৎ সরবরাহ: অতি উচ্চচাপ এসি ১৩২ কেভি এবং ২৩০ কেভি।
- ফ্রিকোয়েন্সি: ৫০ সাইকেল/সেকেন্ড।

উৎস: Source: desco.org.bd, জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
২০৩.
পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা ভাষায় আরবি হরফ চালুর চেষ্টা করে কত সালে?
  1. ১৯৪৬ সালে
  2. ১৯৪৭ সালে
  3. ১৯৪৮ সালে
  4. ১৯৪৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালে
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- ১৯৪৭ সাল থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা ভাষায় আরবি হরফ চালুর চেষ্টা করে।
- এরপর আরবিতে বাংলা শিক্ষা দেয়া শুরু হয়।
- চালু হয় এ ধরনের অনেকগুলো শিক্ষাকেন্দ্র।
- সেখানে বয়স্ক ছাত্রদের বিনামূল্যে আরবি হরফের বই দেওয়া হতে থাকে।
- পূর্ববাংলার জনগণ কিছুদিনের মধ্যেই পাকিস্তানিদের অসাধু উদ্দেশ্য বুঝতে পারে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ববাংলার নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়। ফলে সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যের বিরুদ্ধে প্রবল জনমত সৃষ্টি হতে থাকে।
- প্রথমে এগিয়ে আসে পূর্বপাকিস্তান মুসলিম লীগের 'ভাষা কমিটি'।
- এই কমিটির বক্তব্য ছিল, পূর্ববাংলার মানুষকে অশিক্ষিত বানানোর জন্যই শাসকদের এই ষড়যন্ত্র।
- প্রবল নিন্দা জানায় 'পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ'। প্রতিবাদে ফেটে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৪.
First oil reserve was discovered in Bangladesh in -
  1. 1974
  2. 1978
  3. 1984
  4. 1986
  5. 1988
সঠিক উত্তর:
1986
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1986
ব্যাখ্যা
হরিপুর খনিজ তেল ক্ষেত্র:
- বাংলাদেশের দুটি খনিজ তেল ক্ষেত্র রয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রথম খনিজ তেলক্ষেত্রটি হরিপুর তেলক্ষেত্র।
- এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৬ সালে সিলেটের হরিপুরে।
- ১৯৮৭ সালে তেলক্ষেত্রটি থেকে তেল উৎপাদন শুরু হয়।
- ১৯৯৪ সাল থেকে তেল উৎপাদনে স্থগিত হয়ে যায়।
- ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত এই সাত বছরে তেলক্ষেত্রটি থেকে মোট প্রায় ৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ২০২৩ সালে সিলেট গ্যাসক্ষেত্রের ১০ নম্বর কূপ খনন করে প্রথম স্তরে তেলের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- পরীক্ষামূলকভাবে প্রতি ঘণ্টায় ৩৫ ব্যারেল (১৫৯ লিটার) তেলের প্রবাহ পাওয়া গেছে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ২৬ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো।
iii) বাংলাপিডিয়া।
২০৫.
‘ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু-১’ কোন নদীর উপর নির্মিত হয়েছে?
  1. আত্রাই নদী
  2. পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদী
  3. আড়িয়াল খা নদী
  4. ফেনী নদী
সঠিক উত্তর:
ফেনী নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফেনী নদী
ব্যাখ্যা
- ‘ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু-১’ ফেনী নদীর উপর অবস্থিত।
- ১ দশমিক ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি খাগড়াছড়ির রামগড়ের সঙ্গে ত্রিপুরার সাবরুমকে যুক্ত করেছে।
- গত ৯ মার্চ ২০২১ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেতুটি উদ্বোধন করেন। এর আগে ২০১৫ সালের ৬ জুন দুই প্রধানমন্ত্রী এটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
- ভারত ও বাংলাদেশকে সংযোগকারী এটি প্রথম সেতু।
- চট্টগাম সমুদ্রবন্দর থেকে সেতুটির দূরত্ব ৮০ কিলোমিটার।
(তথ্যসূত্র: দৈনিক ‍যুগান্তর)
২০৬.
১৯৫৪ সালের পূর্ববাংলার প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম আসন সংখ্যা ছিল-
  1. ২২৩টি
  2. ২২২টি
  3. ৩০০টি
  4. ২৩৭টি
সঠিক উত্তর:
২৩৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩৭টি
ব্যাখ্যা

• যুক্তফ্রন্ট গঠন: 
-  ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
-  যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফাকে তাদের স্বার্থরক্ষার সনদ বলে বিবেচনা করে।
- পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের ২৩৭টি মুসলিম আসন ছিল।
- যুক্তফ্রন্ট পায় ২২৩টি।
- মুসলিম লীগ মাত্র ১টি আসন লাভ করে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

২০৭.
বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৪৮ সালে
  2. ১৯৪৯ সালে
  3. ১৯৫০ সালে
  4. ১৯৫১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৯ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:

- বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতা শেখ লুৎফর রহমান।
- ১৯৪২ সালে তিনি গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আই.এ এবং একই কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে বি.এ পাশ করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সাথে তাদের দাবি আদায়ের পক্ষে আন্দোলন করার জন্যে ১৯৪৯ সালে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।
- ১৯৫৩ সালে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন। ১৯৬৬ সালেই তিনি দলের সভাপতি হন।
- ১৯৬৬ সালে তিনি তাঁর বিখ্যাত ছয়দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেন।
- ১৯৭১ সালে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন।
- ১৯৭৫ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ তুলে দেয়া হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বিবিসি বাংলা, ১০ আগস্ট, ২০১০।
২০৮.
খড়গ রাজবংশের পতনের পর দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় কোন রাজবংশের উত্থান ঘটে?
  1. দেব রাজবংশ
  2. পাল রাজবংশ
  3. সেন রাজবংশ
  4. চন্দ্র রাজবংশ
সঠিক উত্তর:
দেব রাজবংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেব রাজবংশ
ব্যাখ্যা

দেব রাজবংশ:
- খড়গ রাজবংশের পতনের পর দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় দেব রাজবংশের উত্থান ঘটে।
- দেব রাজবংশ সমতট অঞ্চলে শাসনকারী রাজবংশ।
- সাত শতকের শেষ ভাগ থেকে আট শতকের প্রথমার্ধে (৭৫০-৮০০খ্রি.) দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গ দেব রাজবংশের অধীনে শক্তিশালী রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তাদের রাজধানী ছিল বর্তমান লালমাই-ময়নামতি অঞ্চলের দেবপর্বত।
- ময়নামতির শালবন বিহার খনন করে এই রাজবংশের চারটি তাম্রশাসন পাওয়া গেছে।
- দেববংশের রাজারা প্রাথমিক যুগের পাল রাজাদের সমসাময়িক ছিলেন। 

- দেব রাজবংশের চারজন বিখ্যাত রাজার নাম শ্রী শান্তিদেব, শ্রী বীরদেব, শ্রী আনন্দদেব ও শ্রী ভবদেব।
- আনন্দদেব ছিলেন দেব রাজবংশের শ্রেষ্ঠ রাজা। তিনি প্রায় ৩৯ বছর দেবপর্বতের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি পরমসৌগত, পরমেশ্বর, পরমভট্টারক ও মহারাজাধিরাজ উপাধি ধারণ করেছিলেন বলে জানা যায়।
- রাজা আনন্দদেবের আনন্দবিহার ও ভবদেবের সময় নির্মিত শালবন বিহার তথা ভবদেব মহাবিহার ঐ সময়ে বিকশিত বৌদ্ধ সংস্কৃতির কথা জানান দেয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

২০৯.
খিলাফত আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন কে?
  1. ক) মাওলানা শওকত আলী
  2. খ) মাওলানা মুহাম্মদ আলী
  3. গ) সৈয়দ আহমদ খান
  4. ঘ) ক + খ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক + খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক + খ
ব্যাখ্যা
- ১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত তুরস্ক তথা অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খেলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত।
- দুই ভাই মাওলানা মুহাম্মদ আলী ও মাওলানা শওকত আলী, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ খেলাফত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।
- একই সময়ে কংগ্রেসের অসহযোগ আন্দোলন ও খেলাফত আন্দোলন সমগ্র ভারতবর্ষে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
- ১৯২৪ সালে কামাল আতাতুর্ক তুরস্কে খেলাফত বিলুপ্ত করলে খেলাফত আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২১০.
মৌলিক গণতন্ত্রের স্তর ছিল -
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
মৌলিক গণতন্ত্র:
- জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হয়েই নিজের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভিত্তি সুদৃঢ় ও সুনিশ্চিত করার জন্য তিনি বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে প্রধান পদক্ষেপ হলো 'মৌলিক গণতন্ত্র' নামে এক নতুন পদ্ধতি চালু।
- তাঁর মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশে ৪ স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন গড়ে তোলার কথা বলা হয়।
- পূর্ব পাকিস্তানের ৪০ হাজার এবং পশ্চিম পাকিস্তানের ৪০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী সদস্য জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন বলে বিধান করা হয়।

[শুধুমাত্র সংগ্রামের নোটবুকে মৌলিক গণতন্ত্রের ৫টি স্তর বলা হয়েছে। কিন্তু  পৌরনীতি ও সুশাসন, ইতিহাস, ও  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খন্ডের মধ্যে  মৌলিক গণতন্ত্রের ৪টি স্তরের কথা বলা হয়েছে। তাই অধিক গ্রহনযোগ্য হিসেবে ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২১১.
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণহত্যা ছিল -
  1. চুকনগর গণহত্যা
  2. চট্টগ্রাম গণহত্যা
  3. মিরপুর গণহত্যা
  4. গোলাহাট গণহত্যা
সঠিক উত্তর:
চুকনগর গণহত্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুকনগর গণহত্যা
ব্যাখ্যা
 চুকনগর গণহত্যা:
- মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণহত্যা ছিল চুকনগর গণহত্যা।
- চুকনগর ছিল খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের একটি গ্রাম।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ২০মে মাত্র এক প্লাটুন পাকিস্তানি সেনা ৪ ঘণ্টায় ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে অন্তত ১২ হাজার নিরীহ মানুষকে।
- প্রকৃতপক্ষে এই গণহত্যায় এরচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
-  চুকনগরের পাশে ভদ্রা নদীর পানিতে লাশ ভাসিয়ে দেওয়ায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে -
- মুক্তিযুদ্ধে ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নৃশংসতা দেখেছে মিরপুর।
- একক শহর হিসেবে দেখলে মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া যায় চট্টগ্রামে। 
- মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যায় নৃশংসতার তালিকা করলে প্রথম দিকে থাকবে নীলফামারীর গোলাহাট গণহত্যা বা অপারেশন খরচাখাতা। 

উৎস: মার্চ ২৫, ২০২২, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
২১২.
মুজিবনগর সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন-
  1. এম মনসুর আলী
  2. মোশতাক আহমেদ
  3. কামরুজ্জামান
  4. তাজউদ্দীন আহমদ
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দীন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে এবং এই সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ-
- রাষ্ট্রপতিঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান;
- উপরাষ্ট্রপতিঃ সৈয়দ নজরুল ইসলাম;
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীঃ তাজউদ্দীন আহমদ;
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীঃ এম মনসুর আলী;
- স্বরাষ্ট্র, কৃষি, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রীঃ এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান,
- পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীঃ খন্দকার মোশতাক আহমেদ;
- প্রধান সেনাপতিঃ কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত এম. এ. জি ওসমানী;
- চিফ অব স্টাফঃ কর্নেল (অব.) আব্দুর রব এবং
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং বিমান বাহিনীর প্রধানঃ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২১৩.
মুজিবনগর সরকারের ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন -
  1. ক) তাজউদ্দিন আহমদ
  2. খ) ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
  3. গ) এ এইচ এম কামারুজ্জামান
  4. ঘ) খন্দকার মোশতাক
সঠিক উত্তর:
গ) এ এইচ এম কামারুজ্জামান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এ এইচ এম কামারুজ্জামান
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামারুজ্জামান।

সুত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণী।

২১৪.
বাংলাদেশ প্রথম 'PRSP' গ্রহণ করে-
  1. ক) ২০০৫ সালে
  2. খ) ২০০১ সালে
  3. গ) ২০০৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৭ সালে
সঠিক উত্তর:
ক) ২০০৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২০০৫ সালে
ব্যাখ্যা

- 'PRSP' এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Proverty Reduction Strategy Papers (দারিদ্র বিমোচন কৌশলপত্র).
- আইএমএফের নির্দেশনায় বাংলাদেশ সরকার গৃহিত দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র হচ্ছে PRSP.
- বাংলাদেশ সরকার ২০০৫ থেকে ২০০৮ সালে প্রথম এবং ২০০৯ থেকে ২০১১ সালে দ্বিতীয় দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র গ্রহণ করে।
- এটি প্রণয়ন করে পরিকল্পনা কমিশন।
- উল্লেখ্য ২০০২ সালে বিশ্ব ব্যাংক দরিদ্র দেশগুলোর দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে PRSP প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

উৎসঃ IMF ও পরিকল্পনা কমিশনের ওয়েবসাইট।

২১৫.
‘আওয়ামী মুসলীম লীগ’ থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয় কবে?
  1. ক) ১৯৫৪ সালে
  2. খ) ১৯৫৩ সালে
  3. গ) ১৯৫৫ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৬ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৫৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৫৫ সালে
ব্যাখ্যা
জন্মলগ্ন থেকে আওয়ামী মুসলিম লীগ অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক চেতনায় বিশ্বাসী ছিল। ফলে ১৯৫৫ সালে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে দলটিকে একটি অসাম্প্রদায়িক রূপ দেয়া হয় এবং অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য এর দ্বার খুলে দেওয়া হয়। এর মূল নেতা নির্বাচিত হন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
সূত্র : বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী
২১৬.
নেজামে ইসলাম পার্টির নেতা কে ছিলেন?
  1. হাজী মোহাম্মদ দানেশ
  2. মওলানা আতাহার আলী
  3. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
সঠিক উত্তর:
মওলানা আতাহার আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মওলানা আতাহার আলী
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিক লীগকে মোকাবিলার জন্য ৪টি রাজনৈতিক দল 'যুক্তফ্রন্ট' নামে জোট গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের প্রধান তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল। যথা:
১. আওয়ামী মুসলিম লীগ: হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
২. কৃষক শ্রমিক পার্টি: শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক।
৩. নেজামে ইসলাম পার্টি: মওলানা আতাহার আলী।
৪. বামপন্থী গনতন্ত্রী দল: হাজী মোহাম্মদ দানেশ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র), প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

২১৭.
বাংলাদেশ কবে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে?
  1. ১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪
  2. ১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪
  3. ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪
  4. ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪
সঠিক উত্তর:
১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ:
- বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যে সম্পর্কের সূত্রপাত ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়েই।
- এপ্রিলে ভারত সরকার জাতিসংঘের কাছে শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা দিতে অনুরোধ জানায়। এই অনুরোধে তৎকালীন জাতিসংঘ মহাসচিব কুর্ট ওয়াল্ডহেইম উদ্যোগী হন। 
- জাতিসংঘ মহাসচিব উ থান্ট ১৯৭১ সালের গণহত্যাকে মানব ইতিহাসে অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে ঘোষণা করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ মুক্ত হয়। 

⇒ বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের ৮ আগস্ট সদস্য পদের জন্য আবেদন পাঠিয়েছিল, তবে ১১ আগস্ট নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বাংলাদেশের আবেদনটি পুনরায় বিবেচনার জন্য ২১ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করতে সব সদস্যই সম্মত হয়।
- ২৩ আগস্ট বাংলাদেশকে জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য যুক্তরাজ্য, ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুগোস্লাভিয়া সমর্থিত একটি প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদে উপস্থাপন করা হয়।
- কিন্তু ২৫ তারিখে চীন ওই প্রস্তাবে ভেটো প্রয়োগ করার ফলে ওই সময় বাংলাদেশের পক্ষে জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভ করা সম্ভব হয়নি। 

⇒ ১৯৭৪ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ পুনরায় আবেদন করে।
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে ২৯তম অধিবেশনে বাংলাদেশের জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।
- বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬ তম সদস্য।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

২১৮.
’কারাগারের রোজনামচা’ বইটির প্রকাশকাল কত?
  1. ১৭ মার্চ ২০১৭
  2. ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
  3. ১৭ মার্চ ২০১২
  4. ১৬ মার্চ ২০১৭
সঠিক উত্তর:
১৭ মার্চ ২০১৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ মার্চ ২০১৭
ব্যাখ্যা
♦ কারাগারের রোজনামচা:
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ১৭ মার্চ, ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- নামকরণ করেন শেখ রেহেনা।

উৎস: কারাগারের রোজনামচা।
২১৯.
নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯০৫ সালে
  2. ১৯০৬ সালে
  3. ১৯০৭ সালে
  4. ১৯০৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯০৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯০৬ সালে
ব্যাখ্যা
মুসলিম লীগ:
 
- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯০৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সর্ব ভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে ঢাকার তৎকালীন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলমানদের জন্যে একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন।
- তার প্রস্তাবের ভিত্তিতেই মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ, নবাব ভিকার-উল মুলক, সুলতান মুহাম্মদ শাহ আগা খান প্রমুখের উদ্যোগে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- নওয়াব আব্দুল লতিফ, স্যার সৈয়দ আহমদ খান, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সাথে। জড়িত ছিলেন না।
- মুহম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২২০.
Who was not involved in the 1954 Provincial Assembly elections?
  1. Nawab Sir Salimullah
  2. Haji Danesh
  3. Maulana Atahar Ali
  4. A K Fazlul Huq
  5. Maulana Abdul Hamid Khan Bhasani
সঠিক উত্তর:
Nawab Sir Salimullah
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Nawab Sir Salimullah
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে পাকিস্তানের মুসলিম লীগ বিরোধী পূর্ব পাকিস্তানের কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী মোর্চা বা জোট গঠন করে।
- এই জোট 'যুক্তফ্রন্ট' নামে পরিচিত।
- ১৯৫৩ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে ‘যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- যুক্তফ্রন্টে মূলত চারটি রাজনৈতিক দল ছিল।
 
এগুলো হলো:
- মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন: আওয়ামী মুসলিম লীগ,
- ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন: কৃষক-শ্রমিক পার্টি,
- মাওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন: নিজাম-ই-ইসলামী এবং
- হাজী দানেশের নেতৃত্বাধীন: বামপন্থী গণতন্ত্রী দল। 
 
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২১.
একমাত্র খেতাব প্রাপ্ত বিদেশী মুক্তিযোদ্ধা ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?
  1. বেলজিয়াম
  2. কানাডা
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. জার্মানি
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রেলিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে একমাত্র বিদেশি নাগরিক হিসেবে বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড।
- তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে।
- ওডারল্যান্ড ১৯৭১ সালে ঢাকা বাটা সু কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ২নং
সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ওডারল্যান্ড ২০০১ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ায় মারা যান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২২২.
মহান মুক্তিযুদ্ধে নৌ সেক্টর কত নং সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ৭নং
  2. ৮নং
  3. ৯নং
  4. ১০নং
সঠিক উত্তর:
১০নং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সাব-সেক্টর সমূহ:

- মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- নৌ সেক্টর ছিল ১০ নং সেক্টরের অধীনে।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধীনে ছিল।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র- বাংলাপিডিয়া।
২২৩.
১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর কে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন?
  1. টিক্কা খান
  2. লিয়াকত আলী খান
  3. জুলফিকার আলী ভুট্টো
  4. ইয়াহিয়া খান
সঠিক উত্তর:
ইয়াহিয়া খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইয়াহিয়া খান
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন জেনারেল ইয়াহিয়া খান।

আইয়ুব খানের পদত্যাগ:
- ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯, শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য রাজবন্দীদের মুক্তি দেওয়া হয়।
- আন্দোলনের চাপে আইয়ুব খান সার্বজনীন ভোটাধিকার মেনে নেন এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে না দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
- তিনি রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়। 
- ১০ মার্চ রাওয়ালপিন্ডিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
- বঙ্গবন্ধু ছয় দফা ও এগারো দফা দাবি উপস্থাপন করলেও বৈঠক ব্যর্থ হয়।
- ২৪ মার্চ ১৯৬৯, জেনারেল আইয়ুব খান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
- ২৫ মার্চ সামরিক আইন পুনরায় জারি করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৪.
সেন আমলে প্রবর্তিত 'কৌলিন্য প্রথা' কীসের সঙ্গে সম্পর্কিত?
  1. ভূমি সংস্কার
  2. রাজস্ব নীতি
  3. সামরিক ব্যবস্থা
  4. সামাজিক ও বর্ণ সমীকরণ আইন
সঠিক উত্তর:
সামাজিক ও বর্ণ সমীকরণ আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক ও বর্ণ সমীকরণ আইন
ব্যাখ্যা

কৌলিন্য প্রথা:
- কৌলিন্য প্রথা বলতে বোঝায়, যে কোনো জাতি বা গোষ্ঠী বা বর্ণ বা সম্ভ্রান্ত বংশ যারা সামাজিক সম্মান ভোগ করে এবং ঐতিহ্যগতভাবে নিজেদের সামাজিক অবস্থান এবং ‘কুল’ পরিচিতি ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। 
- সেন আমলে বল্লাল সেন কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন।

⇒ কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক হিসেবে বল্লাল সেন ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।
- বাংলাদেশে কৌলিন্য প্রথার বহুল প্রচলন দেখা যায় আঠারো ও উনিশ শতকে।
- ব্রাহ্মণগণ এ প্রথা প্রবর্তনের উদ্যোক্তা ছিলেন।
- তাঁরা তাঁদের দাবি প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এ প্রথার একটি ঐতিহাসিক ভিত্তি দেখানোর জন্য প্রচার করেন যে, সেন আমলে বল্লাল সেন কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৫.
বিশ্বের ৪১তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সাবমেরিনের যুগে পদার্পণ করে -
  1. ক) ২০১৪ সালে
  2. খ) ২০১২ সালে
  3. গ) ২০১৬ সালে
  4. ঘ) ২০১৯ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ২০১৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২০১৬ সালে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ ২০১৬ সালে চীনের কাছ থেকে দুটি সাবমেরিন ক্রয় করে।
- এর ফলে বিশ্বের ৪১তম দেশ হিসেবে সাবমেরিন ক্ষমতার মালিক এখন বাংলাদেশ।
- ১৪ নভেম্বর ২০১৬ চীনের দালিয়ান প্রদেশের লিয়াওয়ান শিপইয়ার্ডে সাবমেরিন দুটি বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সাবমেরিন দুটির নামকরণ করা হয় 'নবযাত্রা' এবং ‘জয়যাত্রা'।
- আইএসপিআর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টাইপ ০৩৫ ডুবোজাহাজ (ন্যাটো প্রদত্ত নাম: মিং ক্লাস) এই কনভেনশনাল সাবমেরিন দুইটি ডিজেল ইলেকট্রিক সাবমেরিন, যার প্রতিটি দৈর্ঘ্যে ৭৬ মিটার এবং প্রস্থে ৭.৬ মিটার।
- আইএসপিআর থেকে আরো জানানো হয়, 'নবযাত্রা' এবং 'জয়যাত্রা' নামের দুটি সাবমেরিন টর্পেডো এবং মাইন দ্বারা সুসজ্জিত, যা শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনকে আক্রমণ করতে সক্ষম।

উৎস: ডেইলি স্টার ও বিবিসি বাংলা রিপোর্ট, আরটিভি।
২২৬.
’গেরিলা’ চলচ্চিত্রটির পরিচালক কে?
  1. তারেক মাসুদ
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. নাসির উদ্দীন ইউসুফ
  4. খান আতাউর রহমান
সঠিক উত্তর:
নাসির উদ্দীন ইউসুফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাসির উদ্দীন ইউসুফ
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র:  
- নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি নিয়ে নির্মিত সিনেমা 'গেরিলা'।
- সৈয়দ শামসুল হকের 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস থেকে নির্মিত হয় সিনেমাটি।
- ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমার বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন- 
- জয়া আহসান, ফেরদৌস, এটিএম শামসুজ্জামান, রাইসুল ইসলাম আসাদ, পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী ওয়াদুদ, শম্পা রেজা, গাজী রাকায়েত প্রমুখ।

মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত কয়েকটি বিখ্যাত চলচ্চিত্র হলো:
- আবার তোরা মানুষ হ: খান আতাউর রহমান পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত সিনেমা ।
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র 'ওরা ১১ জন'। পরিচালনা করেছেন চাষী নজরুল ইসলাম। 
- হারুনর রশীদ পরিচালিত 'মেঘের অনেক রং' সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৭৬ সালে। 

উৎস: ডেইলি স্টার বাংলা। 

২২৭.
ভারতের শাসনতান্ত্রিক সংস্কার প্রশ্নে ১৯১৬ সালে কংগ্রেস ও মুসলিমলীগের মধ্যে কোন চুক্তিটি সম্পাদিত হয়?
  1. ক) লক্ষ্ণৌ চুক্তি
  2. খ) এলাহাবাদ চুক্তি
  3. গ) বেঙ্গল প্যাক্ট
  4. ঘ) সিমলা চুক্তি
সঠিক উত্তর:
ক) লক্ষ্ণৌ চুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লক্ষ্ণৌ চুক্তি
ব্যাখ্যা
১৯১৬ সালের ডিসেম্বরে লক্ষ্ণৌ শহরে একই সময়ে ও স্থানে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে উভয় দল ভারতের শাসনতান্ত্রিক সংস্কার প্রশ্নে সমঝোতার অংশ হিসেবে লক্ষ্ণৌ চুক্তি সম্পাদন করে।
এ চুক্তিতে কংগ্রেস প্রথমবারের মতো মুসলমানদের জন্যে পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা মেনে নেয়।
(সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস – উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
২২৮.
‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়’ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. গোপালগঞ্জ
  2. নেত্রকোনা
  3. লালমনিরহাট
  4. কিশোরগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
কিশোরগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিশোরগঞ্জ
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কিশোরগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।
- গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ’ আইন গেজেট আকারে জারি করা হয়। এটির প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ড. জেড এম পারভেজ সাদ্দাদ।
অন্যদিকে,
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত গোপালগঞ্জে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত ঢাকার রোকেয়ার স্মরণীতে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত গাজীপুরের কালিয়াকৈরে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত গাজীপুরের সালনায়।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন ও অ্যারো স্পেস বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত লালমনিরহাটে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত ঢাকার শাহবাগে।
(তথ্যসূত্র: বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ওয়েবসাইট)
২২৯.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু কোন দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন?
  1. ক) অর্থ ও পরিকল্পনা
  2. খ) স্বরাষ্ট্র ও ত্রাণ
  3. গ) কৃষি ও সমবায়
  4. ঘ) শিক্ষা ও স্বাস্থ্য
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষি ও সমবায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষি ও সমবায়
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (২২৩টি আসন) অর্জন করে।
৪ এপ্রিল ১৯৫৪ এ কে ফজলুল হককে মুখ্যমন্ত্রী করে ৫ সদস্যের মন্ত্রীসভা গঠন করা হয়।
১৪ মে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় আওয়ামীলীগ যোগদান করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, বন, সমবায় এবং পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী হন।
তবে ৩০শে মে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়।

(তথ্যসূত্র: অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২৩০.
কোন শাসকের মৃত্যুর পর বাংলায় 'মাৎস্যন্যায়' সৃষ্টি হয়?
  1. ধর্মপাল
  2. মদন পাল
  3. শশাঙ্ক
  4. সম্রাট অশোক
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা
'মাৎস্যন্যায়:
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় অরাজকতা চলে।
- এই অরাজক অবস্থাকে বলা হয় 'মাৎস্যন্যায়'।
- গোপাল নামক একজন শক্তিশালী লোক এই অরাজকতার অবসান ঘটান।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত বংশের নাম পালবংশ।
- পালবংশের রাজারা প্রায় চারশ বছর রাজত্ব করেন।
- এযুগে বাংলা একটি স্থিতিশীল ও ঐশ্বর্যশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- গোপালের পর তাঁর পুত্র ধর্মপাল সিংহাসনে বসেন।
- তাঁর সময় উত্তর ভারতের আধিপত্য নিয়ে গুর্জর প্রতিহার, রাষ্ট্রকুট ও পালবংশের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- ধর্মপালের পর রাজা হলেন তাঁর পুত্র দেবপাল।
- তাঁর শাসনামলে পাল সাম্রাজ্য সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত হয়।
- দেবপালের পর পাল সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে।
- প্রথম মহীপালের রাজত্বকালে পালবংশের গৌরব পুনরায় ফিরে আসে।
- দ্বিতীয় মহীপাল ও রামপালের রাজত্বকালে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
- রামপাল কৈবর্ত বিদ্রোহ দমন করে বরেন্দ্র অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেন।
- তিনি পালবংশের শেষ মুকুটমণি।
- অবশেষে সেনবংশের উত্থানের মধ্য দিয়ে পাল শাসনের অবসান ঘটে।

উৎম: ইতহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩১.
বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের জন্ম কোন জেলায়?
  1. সাতক্ষীরা
  2. ঝিনাইদহ
  3. সিরাজগঞ্জ
  4. ভোলা
সঠিক উত্তর:
ঝিনাইদহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝিনাইদহ
ব্যাখ্যা
• বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান (১৯৫৩-১৯৭১):
- ১৯৫৩ সালে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার খোর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে।
- তাঁর পিতা আক্কাস আলী ও মাতা কায়দাছুন নেছা।
- ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে তিনি যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। 
- হামিদুর রহমান মুক্তিবাহিনীর সাহসী সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করছিলেন সিলেট শ্রীমঙ্গল এলাকায়।
- তিনি ৪ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

- মুক্তিযুদ্ধে বিরোচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরুপ তিনি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা বীরশ্রেষ্ট খেতাবে ভূষিত হন।
- সুদীর্ঘ ৩৬ বছর পর তাঁর দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় এবং ১১ ডিসেম্বর ২০০৭ তারিখে ঢাকার মিরপুরস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
- ঝিনাইদহ জেলা শহরের স্টেডিয়ামটি তাঁর নামে, বাংলাদেশ ডাক বিভাগ তাঁর স্মরনে একটি ডাক টিকিট প্রকাশ করেছে।

তথ্যসূত্র: ঝিনাইদহ জেলার ওয়েবসাইট।
২৩২.
সুলতানা রাজিয়া ছিলেন কার কন্যা?
  1. কুতুবউদ্দিনে কন্যা
  2. ইলতুৎমিশের কন্যা
  3. বাহরামের কন্যা
  4. রুকনউদ্দিনে কন্যা
সঠিক উত্তর:
ইলতুৎমিশের কন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলতুৎমিশের কন্যা
ব্যাখ্যা
সুলতানা রাজিয়ার সিংহাসন:
- ১২২৭ খ্রিস্টাব্দে বাংলার বিদ্রোহী শাসক সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খলজির বিদ্রোহ দমন করে,
- সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশের জ্যেষ্ঠপুত্র যুবরাজ নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাংলার শাসনকর্তা নিযুক্ত হন।
- কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ১২২৯ খ্রিস্টাব্দে সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদ মৃত্যুবরণ করেন।
- সুলতান ইলতুৎমিশ তাঁর সুযোগ্য কন্যা সুলতানা রাজিয়া।
- দূরদর্শী সুলতান ইলতুৎমিশ তাঁর সুযোগ্য কন্যা, বুদ্ধিমতী ও অনন্য প্রতিভার অধিকারী রাজিয়াকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন।
- ১২৩৬ খ্রিস্টাব্দে সুলতান ইলতুৎমিশের মৃত্যুর পর তাঁর মনোনয়ন অস্বীকার করে কতিপয় অভিজাত সুলতান পুত্র রুকনউদ্দিন ফিরোজকে সিংহাসনে আরোহণে সহায়তা প্রদান করেন।
- কিন্তু রুকনউদ্দিন ফিরোজ ছিলেন অদক্ষ।
- রুকনউদ্দিনের দুঃশাসনে সাম্রাজ্যের চতুর্দিকে চরম অরাজক পরিস্থিতি ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
- এমতাবস্থায় রানীমাতা শাহ তুরকান শাসন ক্ষমতা হস্তগত করেন।
- রুকনউদ্দিন ফিরোজ এবং রানীমাতা শাহ তুরকানকে দিল্লির উপকণ্ঠে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পরাজিত করে কারাগারে বন্দি করেন।
- এই ঘটনার পর আমির উমারাহগণ রাজিয়াকে দিল্লির সিংহাসনে আমন্ত্রণ জানান। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কতটি ব্রিগেড ফোর্স গঠিত হয়?
  1. ৩টি
  2. ৭টি
  3. ৮টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স:

- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- “জেড” ফোর্স, “কে” ফোর্স, ও “এস” ফোর্স নিয়ে ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠিত হয়।
- জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

- কে. এম. সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

- খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২৩৪.
মুজিবনগর সরকারকে কতটি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়?
  1. ৮টি
  2. ৯টি
  3. ১০টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১টি
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো:

- মুজিবনগর সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- জনাব রুহুল কুদ্দুস প্রধান সচিব নিযুক্ত হয়েছিলেন।
- সুষ্ঠু প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য জুলাই মাসে (১৯৭১) বাংলাদেশকে ১১টি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- এগুলোর নাম দেয়া হয় জোনাল কাউন্সিল।
- মুজিবনগর সরকারের প্রতি আনুগত্য ঘোষণাকারী প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদের সদস্যদের প্রত্যক্ষভোটে ১১ জন আঞ্চলিক চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হয়।
- প্রতিটি অঞ্চলে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে একজন করে আঞ্চলিক প্রশাসক বা জোনাল এডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগ করা হয়।
- প্রতিটি অঞ্চলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ত্রাণ, প্রকৌশল, পুলিশ, তথ্য ও হিসাব কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৫.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র 'এ স্টেট ইজ বর্ন' এর পরিচালক-
  1. ক) মোরশেদুল ইসলাম
  2. খ) তারেক মাসুদ
  3. গ) তানভীর মোকাম্মেল
  4. ঘ) জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
ঘ) জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জহির রায়হান
ব্যাখ্যা

• জহির রায়হান পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্রঃ
- স্টপ জেনোসাইড,
- এ স্টেট ইজ বর্ন
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র 'স্মৃতি ৭১' এর পরিচালক তানভীর মোকাম্মেল।
• মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রঃ
- আগামী ও
- সূচনা।
• তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্রঃ
- মুক্তির গান ও
- মুক্তির কথা।

২৩৬.
আফ্রিকান কোন দেশটি বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়?
  1. সেনেগাল
  2. গ্যাবন
  3. উগান্ডা
  4. গাম্বিয়া
সঠিক উত্তর:
সেনেগাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেনেগাল
ব্যাখ্যা
• আফ্রিকান দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় সেনেগাল।

বাংলাদেশের স্বীকৃতি লাভ:
- ১৯৭২ জানুয়ারি মাসেই পূর্ব জার্মানি, বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল, সোভিয়েত ইউনিয়ন স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে ০৮ জুলাই ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭৪ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- সেনেগাল (১ ফেব্রুয়ারি), মালয়েশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), ইন্দোনেশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), গাম্বিয়া (মার্চ), গ্যাবন (৬ এপ্রিল), সিয়েরা লিওন (২১ এপ্রিল), ইরাক (৮ জুলাই), দক্ষিণ ইয়েমেন (৩১ জুলাই), উগান্ডা (৫ আগস্ট), বুরকিনা ফাসো (১৯ আগস্ট) প্রভৃতি মুসলিম দেশ ১৯৭২ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ইরান ও তুরস্ক ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট, দৈনিক কালের কণ্ঠ, ডিসেম্বর ২১, ২০১৬ ও বিবিসি, মার্চ ২৬, ২০২১।
২৩৭.
”কেমনে ভুলিবো আমি বাঁচি না তারে ছাড়া” এ গানটির সুরকার কে?
  1. কুমার বিশ্বজিৎ
  2. সঞ্জীব চৌধুরী
  3. শাহ আবদুল করিম
  4. কেমনে ভুলিবো আমি বাঁচি না তারে ছাড়া
সঠিক উত্তর:
শাহ আবদুল করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহ আবদুল করিম
ব্যাখ্যা
”কেমনে ভুলিবো আমি বাঁচি না তারে ছাড়া” এ গানটির সুরকার শাহ আবদুল করিম।

শাহ আবদুল করিম:

- শাহ আবদুল করিম (জন্ম: ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯১৬ - মৃত্যু: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০০৯) বাংলা বাউল গানের জীবন্ত কিংবদন্তী হিসেবে পরিচিত।
- স্বল্প শিক্ষিত বাউল শাহ আব্দুল করিম এ পর্যন্ত প্রায় দেড় সহস্রাধিক গান লিখেছেন এবং সুরারোপ করেছেন।
- বাংলা একাডেমীর উদ্যোগে তাঁর ১০টি গান ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।
- বাউল শাহ আবদুল করিমের এ পর্যন্ত ৬টি গানের বই প্রকাশিত হয়েছে।
- বাউল শাহ আব্দুল করিম ২০০১ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

শাহ আবদুল করিমের লেখা ও সুর করা কয়েকটি গান হলো:
- বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে,
- আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম,
- গাড়ি চলে না,
- আমি কূলহারা কলঙ্কিনী,
- কেমনে ভুলিবো আমি বাঁচি না তারে ছাড়া,
- কোন মেস্তরি নাও বানাইছে,
- কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু,
- বসন্ত বাতাসে সইগো,
- আইলায় না আইলায় নারে বন্ধু,
- মহাজনে বানাইয়াছে ময়ূরপঙ্খী নাও,
- আমি তোমার কলের গাড়ি,
- সখী কুঞ্জ সাজাও গো,
- জিজ্ঞাস করি তোমার কাছে,
- মানুষ হয়ে তালাশ করলে,
- আমি বাংলা মায়ের ছেলে,
- রঙ এর দুনিয়া তরে চায় না।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২৩৮.
বঙ্গবন্ধু বন্দি হওয়ার পূর্বে কার নিকট স্বাধীনতার ঘোষণা বাণী প্রেরণ করেন?
  1. জিয়াউর রহমান
  2. এম. এ. হান্নান
  3. আমির হোসেন আমু
  4. আব্দুর রাজ্জাক
সঠিক উত্তর:
এম. এ. হান্নান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম. এ. হান্নান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা:

- বঙ্গবন্ধু বন্দি হওয়ার পূর্বেই চট্টগ্রামস্থ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব এম. এ. হান্নানের নিকট স্বাধীনতার ঘোষণা বাণী প্রেরণ করেন।
- বাণীটি স্বাধীনতার দলিলপত্র তৃতীয় খণ্ডে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে (পৃ.১)। বাণীটি নিম্নরূপ: "This may be my last message, from today Bangladesh is independent. I call upon the people of Bangladesh wherever you might be and with whatever you have, to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved".
- এম.এ. হান্নান বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা ২৬ মার্চ দুপুরে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচার করেন।
- ২৭ মার্চ কালুরঘাটে স্থাপিত স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র (পরে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র) থেকে মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। এই ঘোষণাটিও স্বাধীনতার দলিলপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- সেনাবাহিনীর অঘোষিত যুদ্ধের প্রতিবাদে বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে যে স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হয় তা চলে নয় মাস।
- এ যুদ্ধ আপামর জনসাধারণের কাছে মুক্তিযুদ্ধ নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৯.
শ্রীচৈতন্য বৈষ্ণব ধর্ম প্রচার করেন কার রাজত্বকালে?
  1. ক) আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. খ) নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  3. গ) গিয়াসুদ্দিন মাহমুদ শাহ
  4. ঘ) শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
সঠিক উত্তর:
ক) আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা
হোসেন শাহী বংশের শ্রেষ্ঠ সুলতান ছিলেন আলাউদ্দিন হোসেন শাহ । তাঁকে বাংলার আকবর বলা হতো। তার রাজ্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত প্রসারিত ছিল। আলাউদ্দিন হুসেন শাহের রাজত্বকালেই চট্টগ্রামে পর্তুগিজ বণিকদের আনাগোনা শুরু হয়। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়। এ সময়ে বিজয়গুপ্ত পদ্মপুরাণ বা মনসা মঙ্গল, বিপ্রদাস মনসা বিজয় এবং যশোরাজ খান শ্রীকৃষ্ণ বিজয় কাব্য রচনা করেন। মালাধর বসু শ্রীমদ্ভাগবত বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন এবং শ্রীকৃষ্ণ বিজয় নামে আর একটি কাব্যও রচনা করেন। শ্রীচৈতন্য বৈষ্ণব ধর্ম প্রচার করেন তাঁর রাজত্বকালে। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
২৪০.
পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র গৃহীত হয় কত সালে?
  1. ১৯৪৯ সালে
  2. ১৯৫১ সালে
  3. ১৯৫৪ সালে
  4. ১৯৫৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র বিল:
- পাকিস্তান সৃষ্টির দীর্ঘ ৯ বছর পর শাসনতন্ত্র বিশেষজ্ঞগণ এ শাসনতন্ত্রটি প্রণয়ন করেছিলেন।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চে পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়।
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র।
- ১৯৫৬ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারি গণপরিষদ পাকিস্তানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ধরনের শাসনতন্ত্র গ্রহণ করে।
- জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা ১৯৫৬ সালের ২রা মার্চ গভর্নর শাসনতন্ত্র বিলে সম্মতি দেন।
- মোট ১০৫ পৃষ্ঠার এ শাসনতন্ত্রে একটি প্রস্তাবনা, ১৩টি অংশ, ২৩৪টি বিধিএবং ৬টি তালিকা সন্নিবেশিত ছিল।
- এ শাসনতন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ছাড়াও প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থার উল্লেখ ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪১.
বর্তমানে বীর বিক্রম খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত জন?
  1. ৪২৪ জন
  2. ১৭৪ জন
  3. ৬৭ জন
  4. ৪২৬ জন
সঠিক উত্তর:
১৭৪ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৪ জন
ব্যাখ্যা
• বীরত্বসূচক খেতাব:
- বীরত্বসূচক খেতাব  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতা প্রদর্শন এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত খেতাব।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি  এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন।
- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- এ পরিকল্পে চার পর্যায়ের খেতাব প্রদানের বিধান ছিল: (ক) সর্বোচ্চ পদ, (খ) উচ্চ পদ, (গ) প্রশংসনীয় পদ, (ঘ) বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্র।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন, 
- বীর উত্তম - ৬৮ জন, 
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন, 
- বীর প্রতীক- ৪২৬ জন। 

এছাড়াও,
তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী], 
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম), 
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক), 
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)। 

বর্তমানে (২০২১ সালের পরবর্তীতে) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন, 
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন, 
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
২৪২.
‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ নামক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ কত সালে ঘটে?
  1. ক) বাংলা ১১০৬ সালে
  2. খ) বাংলা ১১৭৬ সালে
  3. গ) বাংলা ১২৭৬ সালে
  4. ঘ) বাংলা ১৩৭৬ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) বাংলা ১১৭৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাংলা ১১৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামক দুর্ভিক্ষ ঘটেছিল বাংলা সন ১১৭৬-এ (১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে)। তখন ছিল আঠারো শতকের চরম অর্থনৈতিক মন্দার বছর। [উৎসঃ বাংলাপিডিয়া]
২৪৩.
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস প্রথম বছর কতটি দেশ পালন করে?
  1. ১৮৭টি
  2. ১৮৮টি
  3. ১৮৯টি
  4. ১৯০টি
সঠিক উত্তর:
১৮৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৮টি
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস:

- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো বাংলাদেশের বাঙালি জনগোষ্ঠীর ভাষার জন্য আত্মত্যাগকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষনা করে।
- প্রতিবছর ২১ শে ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়।
- ২০০০ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি এ বিশেষ দিবসটিকে বিশ্বের ১৮৮টি দেশে প্রথমবারের মতো ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করে।
- ইউনেস্কোর পর জাতিসংঘও ২১ শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ৫ ডিসেম্বর ২০০৮ জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এ স্বীকৃতি দেয়া হয়।

তথ্যসূত্র - দৈনিক ইনকিলাব, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭।
২৪৪.
’বেঙ্গল প্যাক্ট' স্বাক্ষরিত হয়
  1. ১৯২১ সালে
  2. ১৯২৩ সালে
  3. ১৯২৭ সালে
  4. ১৯৩৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে
ব্যাখ্যা

• বেঙ্গল প্যাক্ট:
স্বরাজ দলের নেতা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ উপমহাদেশের রাজনীতিতে মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক পার্থক্যজনিত সমস্যা সমাধানকল্পে যে চুক্তি সম্পাদন করেন তা ইতিহাসে বেঙ্গল প্যাক্ট বা বাংলা চুক্তি নামে পরিচিত।
- বেঙ্গল প্যাক্ট ১৯২৩ সালে স্বাক্ষরিত হয়।
-পক্ষদ্বয়- মুসিলমানদের একাংশ ও স্বরাপ পার্টি।
- এটি সি আর দাস ফর্মুলা নামে ও পরিচিত। 
- এটি অবিভক্ত বাংলার হিন্দু- মুসলিম ঐক্য।
- এই চুক্তিতে হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী‌র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

২৪৫.
পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কোন দেশে অবস্থিত?
  1. থাইল্যান্ড
  2. ইতালি
  3. বাংলাদেশ
  4. ভারত
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত:

- পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত।
- ইংরেজ ক্যাপ্টেন মি. হেরাম কক্স (Captain Hiram Coxs)-এর নামানুসারে এ জায়গার নামকরণ হয় কক্সবাজার।
- কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য ১২০ কিলোমিটার।
- সমুদ্রের তীর ঘেঁষে গড়ে উঠা সংরক্ষিত বনভূমি সমৃদ্ধ ৯৬ কিলোমিটার পাহাড়ের সারি এখানকার অন্যতম বিরল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য বলে বিবেচিত।
- সমুদ্র সৈকতের পথ ধরে ১০-১২ কিলোমিটার দক্ষিণে গেলে হিমছড়ি পিকনিক স্পট।
- এখানকার ঝর্ণা, ঝাউবন, পাহাড় আর বনানীর সৌন্দর্য্য চিত্তাকর্ষক। কক্সবাজারের সন্নিকটেই বৌদ্ধ তীর্থস্থান রামু।
- কক্সবাজারের উত্তর-পশ্চিমে সমুদ্র মাঝে রয়েছে মহেশখালী দ্বীপ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২৪৬.
বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে কোন আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. শিক্ষা আন্দোলন
  3. ছয়দফা আন্দোলন
  4. ভাষা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
বাঙালির ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।
অন্যদিকে,
- শিক্ষা আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬২ সালে।
- ছয়দফা আন্দোলন আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬৬-৬৮ সময়ে।
- মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৭১ সালে।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
২৪৭.
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রথম কোথায় স্থাপিত হয়েছিল?
  1. ক)  মেহেরপুর, কুষ্টিয়া
  2. খ) কালুরঘাট, চট্রগ্রাম
  3. গ) মুজিবনগর, কুষ্টিয়া
  4. ঘ) নাটোর, রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
খ) কালুরঘাট, চট্রগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কালুরঘাট, চট্রগ্রাম
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র: 
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রথম স্থাপিত হয়েছিল চট্টগ্রামের কালুরঘাটে। 
- ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রটি পাকিস্তান হানাদার বিমান বাহিনীর বোমা বর্ষণের স্বীকার হয়। 
- স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র’ ও ‘জল্লাদের দরবার’। 
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে ‘কেল্লা ফতেহ খান’ চরিত্রের মাধ্যমে চিত্রিত করা হয়েছে। 
- চরমপত্র সিরিজটির পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদ সদস্য আব্দুল মান্নান। 
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত 'চরমপত্র' পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেন এম আর আখতার মুকুল। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪৮.
ইংরেজরা প্রথম কোথায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে?
  1. সুরাটে
  2. হুগলি
  3. চট্টগ্রাম
  4. কলকাতা
সঠিক উত্তর:
সুরাটে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরাটে
ব্যাখ্যা

• ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদের মাধ্যমে ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৭০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে।
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয়।
- ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে।
- এরপর ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার নিজে নিয়ে নেয়।

তথ্যসূত্র: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।

২৪৯.
বাংলাদেশ রেলওয়ের সবচেয়ে বড় কারখানা কোথায়?
  1. সৈয়দপুর
  2. ঢাকা
  3. রাজশাহী
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
সৈয়দপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ রেলওয়ে:
- বাংলাদেশ রেলপথ সরকারি মালিকানা ও সরকার কর্তৃক পরিচালিত দেশের একটি মুখ্য পরিবহন সংস্থা।
- দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা সৈয়দপুরে অবস্থিত।
- এ কারণে সৈয়দপুরকে রেলওয়ে শহর বলা হয়।
- সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাটি ১৮৭০ সালে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই রেলওয়ে কারখানাকে কেন্দ্র করেই মূলত সৈয়দপুর শহরের গোড়া পত্তন হয়েছিল।
- এটি বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক পরিচালিত হয়।

উল্লেখ্য,
- নাট-বল্টু থেকে শুরু করে রেলওয়ের ব্রডগেজ ও মিটারগেজ লাইনের বগি মেরামতসহ সব কাজ করা হয়। 
- ১১০ দশমিক ২৯ একর জায়গায় প্রতিষ্ঠিত কারখানাটিতে রয়েছে ২৮টি শপ (উপকারখানা)।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
         ii) ২১ আগস্ট ২০২৩, ইত্তেফাক।
২৫০.
সিপাহী বিদ্রোহের সময় দিল্লির সম্রাট ছিলেন কে?
  1. বাহাদুর শাহ
  2. আওরঙ্গজেব
  3. আলীবর্দী খাঁ
  4. শাহজাহান
সঠিক উত্তর:
বাহাদুর শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহাদুর শাহ
ব্যাখ্যা

সিপাহী বিদ্রোহ:
- সিপাহী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ শাসন অবসানকল্পে ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা ‘স্বাধীনতা লড়াই'।
- ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে। ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে। এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।

⇒ এ সংগ্রামের পরোক্ষ কারণ:
- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সামরিক অসন্তোষ।

⇒ এ সংগ্রামের প্রত্যক্ষ কারণ:
- ১৮৫৬ সালে সেনাবাহিনীতে ‘এনফিল্ড রাইফেল' প্রচলন করা হয়। এতে ব্যবহৃত কার্তুজ দাঁতে কেটে ভরতে হতো। গুজব রটে যে, এ কার্তুজে শুকর ও গরুর চর্বি মেশানো আছে। এটি ধর্মনাশের একটি পরিকল্পিত ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র বলে ভারতের হিন্দু-মুসলমান সিপাহীদের মধ্যে দারুন বিক্ষোভের সূচনা করে। 

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫১.
উপমহাদেশে সর্বশেষে আগত ইউরোপীয় বণিকদের কোম্পানি কোনটি?
  1. ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
  2. পর্তুগিজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
  3. ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
  4. ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
সঠিক উত্তর:
ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
ব্যাখ্যা

ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- উপমহাদেশে সর্বশেষে আগত ইউরোপীয় বণিকদের কোম্পানি হচ্ছে ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
- ১৬৬৪ সালে এই বাণিজ্যিক কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬৬৮ সালে কোম্পানি সর্বপ্রথম সুরাট এবং পরের বছর মসলিপট্টমে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৬৭৩ সালে পন্ডিচেরিতে ফরাসি উপনিবেশ গড়ে ওঠে।
- ১৬৭৪ সালের পর থেকে তারা তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাংলায় সম্প্রসারিত করে।
- কোম্পানি বাংলার সুবাদার শায়েস্তা খানের কাছ থেকে গঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত চন্দননগর নামক স্থানটি কিনে নেয়।
- ১৬৯০ থেকে ১৬৯২ সালের মধ্যে চন্দননগর একটি শক্তিশালী সুরক্ষিত ফরাসি বাণিজ্য কুঠিতে পরিণত হয়।
- ১৬৯৬ সালে কোম্পানি এখানে একটি শক্তিশালী দুর্গ স্থাপন করতে সক্ষম হয়।
উল্লেখ্য,
- সর্বপ্রথম এদেশে পর্তুগিজ বনিকরা বানিজ্য করার জন্য আসে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২৫২.
কোন মুঘল সম্রাট গৌড়ের নাম 'জান্নাতাবাদ' করেন?
  1. ক) সম্রাট হুমায়ুন
  2. খ) সম্রাট জাহাঙ্গীর
  3. গ) সম্রাট বাবর
  4. ঘ) সম্রাট আকবর
সঠিক উত্তর:
ক) সম্রাট হুমায়ুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সম্রাট হুমায়ুন
ব্যাখ্যা
সম্রাট হুমায়ুন
- মুঘল বংশের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহম্মদ বাবরের জ্যেষ্ঠপুত্র হুমায়ুন। 
- বাবরের শাসনামলে হুমায়ুন বাদাখশান, হিসার ফিরোজা এবং সম্বলের শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- পিতা বাবরের মৃত্যুর পর ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দের ৩০শে ডিসেম্বর মাত্র ২৩ বছর বয়সে পিতৃ মনোনয়ন অনুসারে হুমায়ুন ‘নাসির উদ্দিন মুহম্মদ হুমায়ুন' নাম ধারণ করে দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- একজন সুদক্ষ এবং নির্ভীক যোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও তাঁর সুপরিকল্পনার বড়ই অভাব ছিল।
- তিনি অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী গুজরাটের বাহাদুর শাহের বিরুদ্ধে অযথা সময় নষ্ট করেন।
- অথচ শের শাহের শক্তিবৃদ্ধির বিষয়ে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ উদাসীন।
- চুনার দুর্গ জয়ের পর সম্রাট হুমায়ুন দীর্ঘ সময় নষ্ট করেন।
- বাংলাকে ‘জান্নাতাবাদ' নামকরণ করে তিনি বাংলায় প্রায় ৮ মাস আরাম-আয়েশে ডুবে থাকেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, ওপেন স্কুল।
২৫৩.
দিল্লি থেকে রাজধানী দেবগিরিতে স্থানান্তর করেন কে?
  1. মুহম্মদ বিন তুঘলক
  2. শায়েস্তা খান
  3. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  4. সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ বিন তুঘলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ বিন তুঘলক
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ বিন তুঘলক:
- গিয়াসউদ্দীন তুঘলকের মৃত্যুর পর তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র মুহম্মদ বিন তুঘলক দিল্লীর সিংহাসনে আরোহন করেন।
- তাঁর রাজত্বকালের প্রথম তের বছর দেশে শান্তি বিরাজমান ছিল।
- এ সময়ের মধ্যে মুহম্মদ বিন তুঘলক দিল্লি থেকে রাজধানী দেবগিরিতে স্থানান্তর করেন।
- এছাড়াও খোরাসান অভিযান, কারাচিল অভিযান, প্রতীক মুদ্রার প্রচলন, দোয়াবে কর বৃদ্ধি ইত্যাদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
- সিন্ধুর বিদ্রোহ দমনকালে ক্লান্ত সুলতান মৃত্যু বরণ করেন।
- তিনি জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অসাধারণ পন্ডিত ছিলেন। 

অন্যদিকে -
- সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক দিল্লির কুতুব মিনার নির্মাণ করেন।
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ বাংলার প্রথম স্বাধিন সুলতান। তিনি রাজধানী সোনারগায়ে প্রতিষ্ঠা করেন।
- শায়েস্তা খান লালবাগ কেল্লা, ছোট কাটরা, সাতগম্বুজ মসজিদ প্রভৃতি নির্মাণ করেন।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৪.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বিগ্রেড আকারে কয়টি ফোর্স গঠিত হয়েছিল?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৬টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রধান সেনাপতি কর্নেল এম এ জি ওসমানী (সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে) বিগ্রেড আকারে তিনটি ফোর্স গঠন করেছিলেন। এসকল ফোর্সের প্রধানদের নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে ফোর্সগুলোর নামকরণ করা হয়।
ব্রিগেড ফোর্স ও প্রধানরা হলেন -
১. কে ফোর্স - খালেদ মোশাররফ
২. জেড ফোর্স - জিয়াউর রহমান
৩. এস ফোর্স - কে এম শফিউল্লাহ

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় সপ্তম শ্রেণীর বোর্ড বই

২৫৫.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচারকার্যের শুনানি হয় কোথায়?
  1. ক) ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
  2. খ) করাচি আদালতে
  3. গ) লাহোরে
  4. ঘ) ঢাকা কোর্টে
সঠিক উত্তর:
ক) ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
ব্যাখ্যা

- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাড়া এই মামলার আরো আসামি ছিলেন ৩৪ জন।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন, ১৯৬৮ সালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।

- মামলার বিচারের জন্যে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি এস এ রহমান।
- অপর দুই সদস্য হলেন এম আর খান এবং মুকসুমুল হাকিম।

- বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কৌশুলী ছিলেন ব্রিটিশ আইনজীবী টমাস উইলিয়াম, আব্দুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান প্রমুখ।
- সরকার পক্ষের কৌশুলী ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনজুর কাদের এবং অ্যাডভোকেট জেনারেল টি এইচ খান।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাপিডিয়া।

২৫৬.
'মনপুরা-৭০' কি?
  1. একটি উপজেলা
  2. একটি নদীবন্দর
  3. একটি উপন্যাস
  4. একটি চিত্রশিল্প
সঠিক উত্তর:
একটি চিত্রশিল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি চিত্রশিল্প
ব্যাখ্যা
• মনপুরা-৭০:
- 'মনপুরা-৭০' একটি চিত্রকর্ম।
- সারি সারি লাশের পাশে স্বজনহারা এক মানুষের বিলাপের ছবি ‘মনপুরা ৭০'।
- জয়নুল আবেদিন এই বিখ্যাত ছবি আঁকেন দক্ষিণাঞ্চলের চর মনপুরায় ১৯৭০ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের পর।
- এ ঝড়ে প্রাণ হারান লক্ষাধিক মানুষ।
- জয়নুল আবেদিনের এই ছবি শোভা পাচ্ছে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের ৩৫ নম্বর গ্যালারিতে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, ৩০ অক্টোবর ২০১৬, প্রথম আলো।
২৫৭.
ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে তিতুমীর শহীদ হন -
  1. ক) ১৮৬৭ সালে
  2. খ) ১৮৯৫ সালে
  3. গ) ১৮৩১ সালে
  4. ঘ) ১৮৭৩ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৮৩১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৮৩১ সালে
ব্যাখ্যা
তিতুমীরের কৃষক বিদ্রোহ
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর (১৭৮২-১৮৩১) পশ্চিম বাংলার চব্বিশ পরগনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিতুমীর প্রথম জীবনে নদীয়া জেলার জমিদারের লাঠিয়াল বাহিনীর প্রধান হিসেবে কাজ করেন।
- পরবর্তীতে তিনি হজ্জ্বব্রত পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় যান। সেখানে গিয়ে ওহাবী আন্দোলনের নেতা সৈয়দ আহমদ বেরেলভির সান্নিধ্য লাভ করেন এবং তাঁর মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হন।
- তিতুমীর দেশে ফিরে একদিকে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন অপরদিকে জমিদার, নীলকর ও ব্রিটিশ বাহিনীর নির্মম অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে জনগণকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেন। 
- শীঘ্রই পশ্চিম বাংলার বিশাল অঞ্চল জুড়ে তিতুমীরের নেতৃত্বে কৃষক বিদ্রোহ দেখা দেয়। অত্যাচারী নীলকর, জমিদার ও ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে একাধিক জায়গায় তিতুমীরের বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। 
- চূড়ান্ত সংঘর্ষ বাঁধে বারাসাতের অদূরে নারিকেলবাড়িয়া নামক স্থানে। 
- সেখানে তিতুমীর বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করে শাসকগোষ্ঠির আক্রমণের বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। 
- আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত কর্ণেল সুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ বাহিনীর কামানের গোলার আঘাতে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। 
- ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এ সম্মুখ যুদ্ধে ৫০ জন সহযোদ্ধাসহ তিতুমীর শহীদ হন।
-  এভাবে তিতুমীরের নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটে।
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৫৮.
মহামুনি বিহার কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকার মালিবাগে
  2. জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে
  3. চট্টগ্রামের রাউজানে
  4. দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রামের রাউজানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রামের রাউজানে
ব্যাখ্যা
মহামুনি বিহার:

- মহামুনি বিহার চট্টগ্রামের রাউজানে অবস্থিত।
- রাউজান উপজেলার ২০০ বছরের ঐতিহাসিক প্রাচীন নিদর্শন মহামুনি বিহার।
- 'চাইঙ্গা ঠাকুর' নামের এক বৌদ্ধ ধর্মগুরু এই বিহারে ১৮০৫ মতান্তরে ১৮১৩ খ্রিষ্টাব্দে মহামানব গৌতম বুদ্ধের মূর্তি স্থাপন করেন।
- এ কারণে গৌতম বুদ্ধের নামে এ বিহারের নামকরণ করা হয় মহামুনি মন্দির।
- এই মন্দিরটির কারণে মহামুনি গ্রাম ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র তীর্থস্থানে পরিণত হয়।
- এ মন্দিরকে কেন্দ্র করে মং সার্কেল রাজা ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে মহামুনি মন্দির চত্বরে মেলার প্রবর্তন করেন, যা চৈত্র মাসের শেষ দিন থেকে শুরু হয়।

তথ্যসুত্র - দৈনিক সমকাল, ১৪ এপ্রিল ২০১৮ ।
২৫৯.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান OIC ২য় শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন-
  1. ক) ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৩
  2. খ) ২০-২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৩
  3. গ) ২০-২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
  4. ঘ) ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪
ব্যাখ্যা
১৯৭৪ সালের ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসির দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অংশগ্রহণ করেন।
২৬০.
বর্তমানে দেশে সরকারি মেরিন একাডেমি কতটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
বর্তমানে দেশে সরকারি মেরিন একাডেমি - ৫টি।  যথা:
- চট্টগ্রাম,
- সিলেট,
- বরিশাল,
- পাবনা ও
- রংপুর।
২৬১.
কত খ্রিস্টাব্দে পানিপথের ৩য় যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
  1. ১৭৩৩ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৭৫৯ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৭৬১ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬১ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

পানিপথের ৩য় যুদ্ধ:
- ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের ৩য় যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দে পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে আফগান শাসক আহমদ শাহ আবদালির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় মারাঠাশক্তি।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে আফগান শাসক আহমদ শাহ আবদালির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় মারাঠাশক্তি।
- অষ্টাদশ শতকের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধগুলোর মধ্যে ভয়াবহতম ছিল এই যুদ্ধ।
- দু’পক্ষের প্রায় সত্তর হাজার সৈন্য প্রাণ হারিয়েছিলন।
- বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করেও আফগান বাহিনীর হাতে পরাজিত হয়েছিল পেশওয়া শক্তি।
- পরে মারাঠাদের ওপর বীভৎস হত্যালীলা চালিয়েছিল আফগান সৈন্যরা। 
- এই যুদ্ধে পরাজিত হলে মারাঠা সাম্রাজ্য তছনছ হয়ে যায়।

উল্লেখ্য,
• পানিপথের ১ম যুদ্ধ: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ।
• পানিপথের ২য় যুদ্ধ: ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

২৬২.
উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা -
  1. লর্ড ক্যানিং
  2. লর্ড ডালহৌসি
  3. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  4. রবার্ট ক্লাইভ
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবার্ট ক্লাইভ
ব্যাখ্যা

রবার্ট ক্লাইভ:
- উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট ক্লাইভ।
- উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের ইতিহাসে রবার্ট ক্লাইভের স্থান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- তরুণ বয়সে মাদ্রাজে (বর্তমান চেন্নাই) ঈস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরী গ্রহণ করে স্বীয় কর্ম প্রচেষ্টার দ্বারা উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন।
- ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে রবার্ট ক্লাইভ সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাথে এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষর করলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করে দ্বৈত শাসন প্রবর্তন করে।
- রবার্ট ক্লাইভের চারিত্রিক দোষ থাকা সত্বেও উপমহাদেশে ইংরেজ শক্তির গোড়াপত্তনে তাঁর অবদান অস্বীকার করা যায় না।
- উপমহাদেশের ইতিহাসে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্থপতি ও প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে লর্ড ক্লাইভের নাম অবিস্মরণীয়।
- কেননা প্রথম পর্যায়ে তিনি দাক্ষিণাত্যে কোম্পানিকে রক্ষা করেন।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনি বাংলা জয় করেন। তৃতীয় পর্যায়ে তিনি নবাব ও সম্রাটকে নিয়ন্ত্রণ করে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হন এবং ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬৩.
‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ বিখ্যাত এই গানটির গীতিকার কে?
  1. ক) গাজী মাজহারুল আনোয়ার
  2. খ) আব্দুল গাফফার
  3. গ) আলতাফ মাহমুদ
  4. ঘ) আপেল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
ক) গাজী মাজহারুল আনোয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গাজী মাজহারুল আনোয়ার
ব্যাখ্যা
• বীর মুক্তিযোদ্ধা, চলচিত্র পরিচালক, প্রযোজক, রচয়িতা, গীতিকবি ও সুরকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ সেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে।
• ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ গানের গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার। 
• তার কালজয়ী কিছু গান:-
- একবা যেতে দে না আমায়,
- একতারা তুই দেশের কথা,
- গানেরি পাতায় স্বরলিপি,
- চোখ যে মনের কথা বলে,
- আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল,
- আছেন আমার মোক্তার,
- ভেঙ্গেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা,
- সবাই তো ভালবাসা চায়,
- ঢাকা শহর আইসা আমার,
- হে বন্ধু বঙ্গবন্ধু ইত্যাদি।     

তথ্যসূত্র:- লাইভ এম সি কিউ সাম্প্রতিক সমাচার, অক্টোবর - ২০২২।  
২৬৪.
'Nasirabad' is the former name of -
  1. ক) Barishal
  2. খ) Khulna
  3. গ) Chattogram
  4. ঘ) Mymensingh
সঠিক উত্তর:
ঘ) Mymensingh
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Mymensingh
ব্যাখ্যা
ময়মনসিংহ জেলার পূর্বনাম - নাসিরাবাদ। 

মোগল আমলে মোমেনশাহ নামে একজন সাধক ছিলেন, তাঁর নামেই মধ্যযুগে অঞ্চলটির নাম হয় মোমেনশাহী।
ষোড়শ শতাব্দীতে বাংলার স্বাধীন সুলতান সৈয়দ আলাউদ্দিন হোসেন শাহ তাঁর পুত্র সৈয়দ নাসির উদ্দিন নসরত শাহ'র জন্য এ অঞ্চলে একটি নতুন রাজ্য গঠন করেছিলেন, সেই থেকেই নসরতশাহী বা নাসিরাবাদ নামের সৃষ্টি।
নাসিরাবাদ নাম পরিবর্তন হয়ে ময়মনসিংহ হয় একটি ভুলের কারণে।
বিশ টিন কেরোসিন বুক করা হয়েছিল বর্জনলাল এন্ড কোম্পানীর পক্ষ থেকে নাসিরাবাদ রেল স্টেশনে।
এই মাল চলে যায় রাজপুতনার নাসিরাবাদ রেল স্টেশনে। এ নিয়ে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
পরবর্তীতে আরো কিছু বিভ্রান্তি ঘটায় রেলওয়ে স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে ময়মনসিংহ রাখা হয়। সেই থেকে নাসিরাবাদের পরিবর্তে ময়মনসিংহ ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

উৎসঃ ময়মনসিংহ জেলার সরকারি ওয়েবসাইট
২৬৫.
বাঙালির মুক্তির সনদ নামে পরিচিত-
  1. ক) ছয় দফা
  2. খ) এগারো দফা
  3. গ) উনিশ দফা
  4. ঘ) একুশ দফা
সঠিক উত্তর:
ক) ছয় দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ছয় দফা
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক রচিত ছয়দফা দাবী কে ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনাকার্টা’ বলা হয়।
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু প্রথম ছয়দফা দাবী উত্থাপন করেন।
- একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহিত হয় এবং ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়দফা উত্থাপন করেন।
- ৭ জুন ‘ছয়দফা দিবস’ পালিত হয়।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
২৬৬.
পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন জারি করা হয় কবে? 
  1. ১৯৫৭ সালের ৮ জুন
  2. ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর
  3. ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর
  4. ১৯৫৭ সালের ২৫ অক্টোবর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানে সামরিক শাসন:

• পাকিস্তানের ১ম সামরিক শাসন জারি হয়: ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর।
• জারি করেন: পাকিস্তানের প্রথম প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা।
• ইস্কান্দার মির্জা সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন।
• ফলাফল: সংবিধান বাতিল, আইন পরিষদ ও মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেয়া হয়। সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়। 
• মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন। 
• ২৭ অক্টোবর ১৯৫৮ জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। 
• ১৯৬২ সালের ৮ জুন আইয়ুব খান সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন।
• ইয়াহিয়া খান ১৯৬৯ সালের ২৫শে মার্চ দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
২৬৭.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দ্বিতীয় খেতাব -
  1. বীরপ্রতীক
  2. বীরশ্রেষ্ঠ
  3. বীরউত্তম
  4. বীরবিক্রম
সঠিক উত্তর:
বীরউত্তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীরউত্তম
ব্যাখ্যা
খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত।

যথা -
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,(মর্যাদা অনুসারে প্রথম বীরত্বসূচক খেতাব),
• বীর উত্তম ৬৮ জন,(মর্যাদা অনুসারে দ্বিতীয় বীরত্বসূচক খেতাব),
• বীর বিক্রম ১৭৫ জন (মর্যাদা অনুসারে তৃতীয় বীরত্বসূচক খেতাব),
• বীর প্রতীক ৪২৬ জন (মর্যাদা অনুসারে চতুর্থ বীরত্বসূচক খেতাব)।
- মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন।
- উল্লেখ্য, বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
২৬৮.
মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ কে?
  1. মনু মিয়া
  2. নূর হোসেন
  3. শংকু সমজদার
  4. রফিকউদ্দিন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
শংকু সমজদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শংকু সমজদার
ব্যাখ্যা
মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ:
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ দেশব্যাপী হরতাল চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন শংকু সমজদার।
- ওই সময় রংপুরের কৈলাশ রঞ্জন বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল সে।
- তাকে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম শহীদ হিসেবে ২০১২ সালে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছিল রংপুরের শঙ্কু সমাজদার।
- পরে ক্যাটগরির মধ্যে পড়ে না বলে তার নাম প্রত্যাহার করা হয়।

অন্যদিকে -
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহীদ মনু মিয়া।
- ১৯৮৭ সালে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের শহীদ হন নূর হোসেন।
- ভাষার আন্দোলনের প্রথম শহিদ রফিকউদ্দিন আহমেদ।

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
২৬৯.
নিচের কোনটি বাঙালি জাতির 'ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত?
  1. ৬ দফা
  2. ৭ মার্চের ভাষণ
  3. ১১ দফা
  4. লাহোর প্রস্তাব
সঠিক উত্তর:
৬ দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ দফা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- ৭ জুন ছয় দফা দিবস। 
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত। 
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা 'ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২৭০.
মুক্তিযোদ্ধা দিবস পালিত হয় কত তারিখে?
  1. ১ ডিসেম্বর
  2. ৫ ডিসেম্বর
  3. ১৪ ডিসেম্বর
  4. ১৬ ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
১ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
• জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস : ৭ মার্চ
- স্বাধীনতা দিবস এবং জাতীয় দিবস : ২৬ মার্চ
- জাতীয় শোক দিবস : ১৫ আগষ্ট
- সশস্ত্রবাহিনী দিবস : ২১ নভেম্বর
- মুক্তিযোদ্ধা দিবস : ০১ ডিসেম্বর
- বিজয় দিবস : ১৬ ডিসেম্বর

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা।
২৭১.
ফ্লাউড কমিশনের সাথে নিম্নের কোন আন্দোলন সম্পর্কিত?
  1. তেভাগা আন্দোলন
  2. টঙ্ক আন্দোলন
  3. ওয়াহাবি আন্দোলন
  4. ফরায়েজি আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
তেভাগা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেভাগা আন্দোলন
ব্যাখ্যা

ফ্লাউড কমিশন:
- ফ্লাউড কমিশন ১৯৩৮ সালে বঙ্গীয় সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ভূমি রাজস্ব কমিশন। 
- ১৯৩৭ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর এ.কে ফজলুল হক মুসলিম লীগ ও কংগ্রেস ব্যতিরেকে অন্যান্য সংসদীয় দলের সমর্থন নিয়ে একটি কোয়ালিশন সরকার গঠন করেন। 
- এ উদ্দেশ্যে স্যার ফ্রান্সিস ফ্লাউড-এর নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠিত হয়।
- কমিশনের বিচার্য ছিল ভূমি রাজস্ব প্রশাসন সংক্রান্ত সমস্যাবলির সমাধান বিশেষত জমিদারি প্রথা বাতিল সংক্রান্ত বিষয় বিবেচনা করা।
- ১৯৪০ সালের ২ মার্চ কমিশনের সুপারিশমালা পেশ করা হয়। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা বাতিল এবং ভূমি নিয়ন্ত্রণে সকল মধ্যবর্তী স্বত্ব বিলোপ সাধন উক্ত সুপারিশমালার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- এ সুপারিশগুলি ১৯৪৪ সালের প্রশাসনিক তদন্ত কমিটির জোরালো সমর্থন লাভ করে। কিন্তু ফ্লাউড কমিশনের সুপারিশমালা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার খুব বেশিদূর অগ্রসর হতে পারে নি। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, ১৯৪৩ সালের মহাদুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা এবং ভারত বিভাগের রাজনীতি প্রভৃতি ছিল এর প্রধান অন্তরায়। এসব সীমাবদ্ধতার কারণে ফজলুল হক, খাজা নাজিমউদ্দীন ও সোহরাওয়ার্দী সরকারের আমলে ফ্লাউড কমিশন রিপোর্টের বাস্তবায়ন স্থগিত থাকে, যদিও সব কটি সরকারই জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের ব্যাপারে যথেষ্ট আগ্রহী ছিল। পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর আওতায় ১৯৫১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার বিলুপ্তি ঘটে। 

⇒ তেভাগা আন্দোলন কৃষি উৎপাদনের দুই-তৃতীয়াংশের দাবিতে সংগঠিত বর্গাচাষিদের আন্দোলন।
- ১৯৪৬-৪৭ সালে এ আন্দোলন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল।
- মূলত তেভাগা আন্দোলন সংগঠিত করেন বাংলার প্রাদেশিক কৃষকসভার কম্যুনিস্ট কর্মীরা।
- তাদের নেতৃত্বে বর্গাচাষিরা ভূমিমালিক শ্রেণীর বিরুদ্ধে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ হয়। খুব দ্রুত নিচের স্তরে এর নেতৃত্ব গড়ে ওঠে।
- এ তেভাগা আন্দোলন বাংলার ১৯টি জেলায় ছড়িয়ে পড়ে।
- আন্দোলনটি তীব্র আকার ধারণ করে দিনাজপুর, রংপুর, জলপাইগুড়ি, খুলনা, ময়মনসিংহ, যশোর এবং চবিবশ পরগনা জেলায়। 
- এ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল বর্গাচাষিদের অধিকার আদায়।

⇒ তেভাগা আন্দোলনের মূল কারণ ছিল:
- জমির মালিক ও বর্গাচাষীদের মধ্যে ফসলের ভাগ নিয়ে অসন্তোষ।
- বর্গাচাষীদের উপর জমিদার ও জোতদারদের শোষণ।
- ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ এবং এর পরবর্তী অর্থনৈতিক সংকট।
- ফ্লাউড কমিশনের সুপারিশ যা উৎপাদিত ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ চাষীদের দেয়ার কথা বলেছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।

⇒ তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন ইলা মিত্র। তেভাগা আন্দোলন যখন স্তিমিত হওয়ার পথে তখন নাচোলের রাণী ইলা মিত্র এই আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করেন।
- এই আন্দোলনের আরেকজন নেতা হলেন হাজী দানেশ।
- কৃষকদের অধিকার আদায়ে তেভাগা আন্দোলনে অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করেন নড়াইলের অমল সেন।

অন্যদিকে,
- ১৯৪৬-৫০ সালে উত্তর ময়মনসিংহে কৃষকদের দ্বারা পরিচালিত আন্দোলন টঙ্ক আন্দোলন নামে পরিচিত।
- পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় প্রায় একই সময়ে দুটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের শুরু হয়। পূর্ব বাংলার আন্দোলনটি ফরায়েজি আন্দোলন নামে পরিচিত, আর পশ্চিম বাংলার আন্দোলনের নাম ওয়াহাবি বা ‘তারিক-ই- মুহম্মদীয়া'।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) সংগ্রামের নোটবুক।

২৭২.
মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রকাশিত ডাকটিকেটের ডিজাইনার কে ছিলেন?
  1. ক) বিপি চিতনিশ
  2. খ) বিমান মল্লিক
  3. গ) মইনুল ইসলাম
  4. ঘ) এম এ হুদা
সঠিক উত্তর:
খ) বিমান মল্লিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিমান মল্লিক
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকার বেশ কয়েকটি ফিল্ড পোস্ট অফিস চালু করে এবং মুক্তাঞ্চলের ডাকঘরসমূহের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের পর পরিবহণ ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ডাকবিভাগকে ন্যস্ত করে। ডাকটিকিট ডিজাইনার বিমান মল্লিক আটটি ডাকটিকিটের ডিজাইন করেন এবং তা ১৯৭১ সনের জুনে মুজিবনগর সরকারের কাছে পাঠান এবং সেগুলি বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টির জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। [সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
২৭৩.
মুক্তিযুদ্ধে সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয়?
  1. ক) ৫৫ টি
  2. খ) ৬০ টি
  3. গ) ৬৪ টি
  4. ঘ) ৬৬ টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৬৪ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬৪ টি
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সামরিক কৌশল হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র ভৌগোলিক এলাকাকে ১১টি সেক্টর বা রণাঙ্গনে ভাগ করা হয়। এই সেক্টরগুলোকে আবার ৬৪ টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করা হয়।
-  যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য প্রতিটি সেক্টরকে কয়েকটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৪.
বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) এর নামকরণ হয়-
  1. ক) ১৯৭৪
  2. খ) ১৯৭৬
  3. গ) ১৯৮৩
  4. ঘ) ১৯৮৬
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৮৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৮৩
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) দেশের একমাত্র ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে খেলাধুলার সাথে সাধারণ শিক্ষার সমন্বিত কার্যক্রম রয়েছে। ক্রীড়ার মানোন্নয়ন, উদীয়মান ও প্রতিভাবান শিশু-কিশোর-তরুণ ক্রীড়াবিদদের নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়।
ক্রীড়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং আধুনিক ও যথোপযোগী প্রশিক্ষণ দানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৪ সালে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে প্রকল্প আকারে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব স্পোর্টস (বিআইএস) প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করে। ১৯৭৬ সালে এ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৮৩ সালে এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে এর নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) রাখা হয়।
১৯৮৬ সাল থেকে এ প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়। রাজধানী ঢাকা থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সাভারের জিরানীতে ১১৯ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠানটি অবস্থিত।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
২৭৫.
১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করেন কে?
  1. ক) লর্ড চার্লস হার্ডিঞ্জ
  2. খ) লর্ড কার্জন
  3. গ) রাজা চতুর্থ জর্জ
  4. ঘ) রাজা পঞ্চম জর্জ
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজা পঞ্চম জর্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজা পঞ্চম জর্জ
ব্যাখ্যা
• লর্ড চার্লস হার্ডিঞ্জ ১৯১১ সালের ২৫ আগস্ট গোপনে প্রেরিত এক বার্তায় ভারত সরকার ভারতের প্রশাসনে নির্দিষ্ট কিছু পরিবর্তনের সুপারিশ করে। 
- গভর্নর জেনারেলের উপদেশ অনুযায়ী রাজা পঞ্চম জর্জ ১৯১১ সালের ডিসেম্বর মাসে দিল্লিতে তাঁর রাজ্যাভিষেক দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদ করা ও ভারতের প্রশাসনে সুনির্দিষ্ট কতিপয় পরিবর্তন আনয়নের কথা ঘোষণা করেন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২৭৬.
রাজু ভাস্কর্যের স্থপতি -
  1. ক) নিতুন কুন্ডু
  2. খ) শামীম শিকদার
  3. গ) মৃণাল হক
  4. ঘ) শ্যামল চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ঘ) শ্যামল চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শ্যামল চৌধুরী
ব্যাখ্যা
রাজু ভাস্কর্য
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কয়টি ভাস্কর্য মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে তার মধ্যে অন্যতম প্রধান হচ্ছে রাজু ভাস্কর্য।
- এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি চত্বরে অবস্থিত।
- ১৯৯২ সালের ১৩ মার্চ তদান্তিন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনসমূহের জোট গণতান্ত্রিক ছাত্র ঐক্যের সন্ত্রাস বিরোধী মিছিল চলাকালে সন্ত্রাসীরা গুলি করলে মিছিলের নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা মঈন হোসেন রাজু নিহত হন।
- রাজুসহ সন্ত্রাস বিরোধী আন্দোলনের সকল শহীদের স্মরণে নির্মিত হয় এই ভাস্কর্যটি।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মইন হোসেন রাজু ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের নেতা। 
- এই ভাস্কর্যের স্থপতি ছিলেন ভাস্কর শ্যামল চৌধুরী।
- তার সহযোগী ছিলেন গোপাল পাল।

উৎস: i) চ্যানেল আই অনলাইন।
         ii) সমকাল, ৪ জুলাই, ২০২১।
২৭৭.
বাংলাদেশে কোনো ব্যক্তির ভোটাধিকার প্রাপ্তির ন্যূনতম বয়স কত?
  1. ক) ১৬ বছর
  2. খ) ১৮ বছর
  3. গ) ২০ বছর
  4. ঘ) ২১ বছর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৮ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৮ বছর
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তম ভাগের ১২২ নং অনুচ্ছেদে "ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা" সম্পর্কে বলা হয়েছে।

অনুচ্ছেদ - ১২২ঃ ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা
(১) প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটাধিকার-ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।
(২) কোন ব্যক্তি সংসদের নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কোন নির্বাচনী এলাকায় ভোটার-তালিকাভু্ক্ত হইবার অধিকারী হইবেন, যদি
(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন;
(খ) তাঁহার বয়স আঠার বৎসরের কম না হয়;
(গ) কোন যোগ্য আদালত কর্তৃক তাঁহার সম্পর্কে অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা বহাল না থাকিয়া থাকে;
(ঘ) তিনি ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বা আইনের দ্বারা ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বিবেচিত হন; এবং
(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত না হইয়া থাকেন।

উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।

২৭৮.
বাংলায় ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন শুরু হয় কবে?
  1. ১৭৫০ সালে
  2. ১৭৫৭ সালে
  3. ১৭৬০ সালে
  4. ১৭৬৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৬০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬০ সালে
ব্যাখ্যা
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
- ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
- তবে এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে। এই সব অঞ্চলে ইংরেজদের সঙ্গে বিদ্রোহী ফকির-সন্ন্যাসীদের বহু সংঘর্ষ সংঘটিত হয়।
- এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে।

উল্লেখ্য,
- ফকির মজনু শাহর যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি, অর্থাৎ অতর্কিতে আক্রমণ করে নিরাপদে সরে যাওয়া। 
- তিনি ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- এই নেতারা কয়েক বছর ইংরেজ প্রশাসনকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে। ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।
- অপরদিকে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতা ভবানী-পাঠক ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে লেফটেন্যান্ট ব্রেনানের নেতৃত্বে একদল ব্রিটিশ সৈন্যের আক্রমণে দুই সহকারীসহ নিহত হন।
- সন্ন্যাসী বিদ্রোহের প্রধান নেতা ছিলেন তিনি। ফলে তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৯.
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকে কয়টি তারকা আছে?
  1. ৩টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

জাতীয় প্রতীক:
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৪(৩) নং অনুচ্ছেদে জাতীয় প্রতীক সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- ডিজাইনার- কামরুল হাসান।
- ব্যবহারের অধিকার রয়েছে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী।
- বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক হলো পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা এবং এর উভয় পার্শ্বে একটি করে ধানের শীষ, চূড়ায় পাটগাছের পরস্পরযুক্ত তিনটি পাতা এবং পাতার উভয় পার্শ্বে দুটি করে মোট চারটি তারকা।
- পানি, ধান ও পাট প্রতীকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়েছে বাংলাদেশের নিসর্গ ও অর্থনীতি।
- এ তিনটি উপাদানের উপর স্থাপিত জলজ প্রস্ফুটিত শাপলা হলো অঙ্গীকার, সৌন্দর্য ও সুরুচির প্রতীক।
- তারকাগুলোতে ব্যক্ত হয়েছে জাতির লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান ও বাংলাপিডিয়া।

২৮০.
রোহিতগিরি কী?
  1. ক) দেবপর্বত
  2. খ) লালমাই পাহাড়
  3. গ) আনন্দবিহার
  4. ঘ) হরিকেল
সঠিক উত্তর:
খ) লালমাই পাহাড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লালমাই পাহাড়
ব্যাখ্যা
-  পূর্ব ও দক্ষিণ বাংলায় সবচেয়ে শক্তিধর রাজবংশ হচ্ছে চন্দ্রবংশ। 
- খ্রিস্টীয় দশম শতকের শুরুতেই চন্দ্রবংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় । 
- প্রায় দেড়শ বছর এই বংশ শাসনকার্য পরিচালনা করে । 
- এই বংশের প্রথম শক্তিধর রাজার নাম ত্রৈলোক্যচন্দ্র। তিনি মহারাজাধিরাজ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন। 
- কুমিল্লার লালমাই পাহাড়কে সে যুগে বলা হতো রোহিতগিরি
-  ত্রৈলোক্যচন্দ্রের পিতা ছিলেন সুবর্ণচন্দ্র এবং পিতামহ ছিলেন পূর্ণচন্দ্র।
-  শক্তিধর ত্রৈলোক্যচন্দ্র হরিকেল দখল করেছিলেন। 
- এই সাথে তিনি চন্দ্রদ্বীপ (বরিশাল ও এর চারপাশের অঞ্চল) জয় করেন। একে একে তাঁর অধিকারে আসে বঙ্গ ও সমতট।
- ত্রৈলোক্যচন্দ্র প্রায় ত্রিশ বছর (আনুমানিক ৯০০-৯৩০ খ্রি.) শাসন করেন । 
 
======
 খড়গ বংশের শাসনের পর অষ্টম শতকের মাঝামাঝি একই অঞ্চলে দেববংশের উদ্ভব হয়। 
দেববংশের রাজাদের রাজধানী ছিল দেবপর্বতে। 
কুমিল্লার নিকট ময়নামতির দক্ষিণে ছিল এই দেবপর্বত। 
সমগ্র সমতট অঞ্চল জুড়ে দেবরাজাদের রাজত্ব ছিল। 
দেবরাজা আনন্দের রাজধানীতে ‘আনন্দবিহার' বলে একটি বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ করা হয় । 
আনুমানিক ৭৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত দেবরাজাদের শাসন চালু থাকে । 
 

উৎস : ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৮১.
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতি কে?
  1. ক) শামীম শিকদার
  2. খ) হামিদুর রহমান
  3. গ) মৃণাল হক
  4. ঘ) কামরুল হাসান
সঠিক উত্তর:
খ) হামিদুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা
• হামিদুর রহমান:
- বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নকশাকার/স্থপতি হলেন হামিদুর রহমান।
- ১৯৫৬ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের পাশে হামিদুর রহমানের নকশায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
- ১৯৬৩ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম এই শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন।

তথ্যসূত্র- বাংলাপিডিয়া।
২৮২.
'বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড' পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কোন পরিকল্পনার অন্তর্গত?
  1. ক) অপারেশন এঞ্জেল
  2. খ) অপারেশন সার্চলাইট
  3. গ) অপারেশন চেঙ্গিস খান
  4. ঘ) অপারেশন ক্যাক্টাস লিলি
সঠিক উত্তর:
খ) অপারেশন সার্চলাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অপারেশন সার্চলাইট
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট

পাকিস্তানে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী মুক্তিকামী বাঙালিদের কঠোর হস্তে দমনের জন্য ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী যে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করে সামরিক কর্তৃপক্ষ একে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে অভিহিত করে।

এ অপারেশনের উদ্দেশ্য ছিল -

- ঢাকাসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান শহরগুলিতে বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা ও ছাত্র নেতৃবৃন্দ এবং বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের গ্রেপ্তার ও প্রয়োজনে হত্যা,
- সামরিক আধা সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর বাঙালি সদস্যদের নিরস্ত্রীকরণ,
- অস্ত্রাগার, রেডিও ও টেলিফোন এক্সচেঞ্জ দখলসহ প্রদেশের সামগ্রিক কর্তৃত্ব গ্রহণ এবং
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অসহযোগ আন্দোলন কঠোর হস্তে দমন করে প্রদেশে পাকিস্তান সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২৮৩.
ঐতিহাসিক ছয় দফায় ‘প্যারামিলিটারি বাহিনী’ গঠনের কথা উল্লেখ আছে-
  1. ষষ্ঠ দফায়
  2. দ্বিতীয় দফায়
  3. প্রথম দফায়
  4. পঞ্চম দফায়
সঠিক উত্তর:
ষষ্ঠ দফায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষষ্ঠ দফায়
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:   
• ১৯৬৬ সালের ৫-৬ই ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধীদলীয় নেতারা একটি সম্মেলনের আহ্বান করেন।
• আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু লাহোর পৌঁছান।
• সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ‘ছয় দফা’ প্রস্তাব পেশ করলে সম্মেলনের নেতৃবৃন্দ তা প্রত্যাখ্যান করেন।
• বঙ্গবন্ধু সম্মেলন বর্জন করেন এবং ছয় দফা সাংবাদিকদের সামনে প্রকাশ করে ঢাকায় ফিরে আসেন.
• ২১শে ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুর নামে ‘আমাদের বাঁচার দাবি: ছয় দফা কর্মসূচি' শীর্ষক একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়।

♣ দফাগুলো ছিল নিম্নরূপ:
১ নং দফা:  
লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানকে একটি ফেডারেল রাষ্ট্র হিসেবে গঠন করতে হবে।
• এটি হবে সংসদীয় পদ্ধতির যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা।
• প্রাপ্তবয়স্কদের সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইনসভা হবে সার্বভৌম।

২ নং দফা:  

• ফেডারেল সরকারের হাতে থাকবে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয়।
• অন্যান্য বিষয় থাকবে প্রাদেশিক সরকারের হাতে।

৩ নং দফা:  

• ক. দেশের দুই অঞ্চলের জন্য সহজে বিনিময়যোগ্য দুটি মুদ্রা চালু থাকবে।
•মুদ্রা লেনদেনের হিসাব রাখার জন্য দুই অঞ্চলের জন্য দুইটি স্বতন্ত্র স্টেট ব্যাংক থাকবে।
• মুদ্রা ও ব্যাংক পরিচালনার ক্ষমতা থাকবে প্রাদেশিক সরকারের হাতে। 
অথবা;
• খ. দুই অঞ্চলের জন্য একই মুদ্রা থাকবে, তবে সংবিধানে এমন ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে মুদ্রা ও মূলধন পাচার হতে না পারে।
•  একটি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থাকবে এবং দুইটি আঞ্চলিক রিজার্ভ ব্যাংক থাকবে।

৪ নং দফা:

• সকল প্রকার কর ও শুল্ক ধার্য ও আদায়ের ক্ষমতা থাকবে প্রাদেশিক সরকারের হাতে। 
• আদায়কৃত অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ ফেডারেল তহবিলে জমা হবে।
• এ দ্বারা ফেডারেল সরকার ব্যয় নির্বাহ করবে।

৫ নং দফা:  

• বৈদেশিক মুদ্রা ও বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রদেশগুলোর হাতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
• বৈদেশিক বাণিজ্য ও সাহায্যের ব্যাপারে প্রদেশগুলো যুক্তিযুক্ত হারে ফেডারেল সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মিটাবে।

৬ নং দফা: 
• আঞ্চলিক সংহতি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রদেশগুলো নিজস্ব মিলিশিয়া বা প্যারামিলিটারি বাহিনী বা আধা সামরিক বাহিনী গঠন ও পরিচালনা করতে পারবে। 

উৎস:
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৪.
বাংলাদেশের জাতীয় দিবস কোনটি?
  1. ক) ২৬ মার্চ
  2. খ) ১৬ ডিসেম্বর
  3. গ) ২১শে ফেব্রুয়ারি
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ক) ২৬ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২৬ মার্চ
ব্যাখ্যা
২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় ও স্বাধীনতা দিবস। ১৯৮০ সালের ৩ অক্টোবর ২৬ শে মার্চকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। ১৯৮১ সাল থেকে ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। সেজন্যে একে স্বাধীনতা দিবস বলা হয়। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস এবং ২১ শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। (সূত্রঃ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়)
২৮৫.
কোন শাসকের আমলে সমগ্র বাংলা 'বাঙ্গালা' নামে পরিচিত হয়ে ওঠে?
  1. সিকান্দার শাহ
  2. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  3. গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ
  4. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা
সুলতানি আমল: 
- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ বাংলাদেশে প্রায় ১২২ বছর শাসন করেন।
- এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্ সর্বপ্রথম বাংলার বিভিন্ন অংশ একত্রো করেন।
- সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহহের আমল থেকেই সমগ্র বাংলা 'বাঙ্গালা' নামে পরিচিত হয় এবং অধিবাসীরা পরিচিত হয় 'বাঙালি' নামে।
- ইলিয়াসশাহী সুলতানগণ স্থানীয় জনগণের মন জয় করার জন্য উদারনৈতিক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। 
- ইলিয়াসশাহী সুলতানগণ আরবদেশ, চীন ও পারস্যের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেন।

এছাড়াও,
- ইলিয়াসশাহী আমলে বাংলার কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছিল।
- অবশ্য ইলিয়াস শাহী বংশের শাসন সূচনার কিছু সময় আগে বাংলায় স্বাধীন সুলতানি যুগ শুরু হয়।
- ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ ১৬৩৮ সালে পূর্ব বাংলায় স্বাধীন সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। রাজধানী হয় সোনারগাও।
- একই সময় আলাউদ্দীন আলী শাহ পশ্চিম বাংলায় স্বাধীন সুলতানি প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৩৫২ সালে ইলিয়াস শাহ সোনারগাও দখলের মাধ্যমে দুই বাংলা একত্র করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৬.
মুজিবনগর সরকারে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন কে?
  1. তাজউদ্দিন আহমদ
  2. খন্দকার মোশতাক আহমদ
  3. এএইচএম কামারুজ্জামান
  4. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- মুজিবনগর সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তার অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

⇒ মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:
• রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
• উপরাষ্ট্রপতি ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
• প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমদ।
• অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী: এম মনসুর আলী।
• স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী: এএইচএম কামারুজ্জামান।
• পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী: খন্দকার মোশতাক আহমদ।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র: তৃতীয় খণ্ড।
২৮৭.
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ-বিন-বখতিয়ার খলজি কোন রাজাকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন?
  1. বল্লাল সেন
  2. লক্ষণ সেন
  3. কেশব সেন
  4. হেমন্ত সেন
সঠিক উত্তর:
লক্ষণ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লক্ষণ সেন
ব্যাখ্যা
মুসলিম শাসন:
- বাংলায় মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হলেন ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ-বিন-বখতিয়ার খলজি।
- বখতিয়ার খলজি ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলার বয়োঃবৃদ্ধ রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে বাংলা দখল করেন।

এছাড়াও,
- তিনি অশ্ব বিক্রেতার বেশে ১৭/১৮ জন অশ্বারোহীসহ লক্ষণ সেনের রাজধানী নদীয়ায় প্রবেশ করে অতর্কিত আক্রমণ করেন। এই আক্রমণে লক্ষণ সেন পালিয়ে পূর্ববঙ্গের বিক্রমপুরে আশ্রয় নেন।
- লক্ষণ সেন পলায়ন করলে বখতিয়ার খলজি বিনা বাধায় নদীয়া দখল করেন এবং গৌড়ের নাম পরিবর্তন করে লক্ষণাবতী রাখেন। তাঁর প্রচেষ্টার ফলেই এদেশে প্রথম মুসলমানদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২৮৮.
মুজিবনগর সরকারের সচিবালয়ের প্রধান সচিব নিযুক্ত হয়েছিলেন কে?
  1. রুহুল কুদ্দুস
  2. ইউসুফ আলী এম.এন.এ
  3. মাহবুব উদ্দিন আহমেদ
  4. আবদুল মান্নান এম.এন.এ
সঠিক উত্তর:
রুহুল কুদ্দুস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুহুল কুদ্দুস
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো:
- মুজিবনগর সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- জনাব রুহুল কুদ্দুস প্রধান সচিব নিযুক্ত হয়েছিলেন।
- সুষ্ঠু প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য জুলাই মাসে (১৯৭১) বাংলাদেশকে ১১টি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- এগুলোর নাম দেয়া হয় জোনাল কাউন্সিল।
- মুজিবনগর সরকারের প্রতি আনুগত্য ঘোষণাকারী প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদের সদস্যদের প্রত্যক্ষভোটে ১১ জন আঞ্চলিক চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হয়।
- প্রতিটি অঞ্চলে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে একজন করে আঞ্চলিক প্রশাসক বা জোনাল এডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগ করা হয়।
- প্রতিটি অঞ্চলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ত্রাণ, প্রকৌশল, পুলিশ, তথ্য ও হিসাব কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৯.
'জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থি'- ঘোষণা করেন কে?
  1. তিতুমীর
  2. হাজী শরীয়তুল্লাহ
  3. দুদু মিয়া
  4. ফকির মজনু শাহ
সঠিক উত্তর:
দুদু মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুদু মিয়া
ব্যাখ্যা

দুদু মিয়া:
- হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র দুদু মিয়া ফরায়েজী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।
- তিনি ধর্মীয় সংস্কারমূলক এ আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেন।
- “জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থি” ঘোষণা করেন দুদু মিয়া।

উল্লেখ্য,
- হাজী শরীয়তুল্লাহ একটি ইসলামী সংস্কার আন্দোলনের ডাক দেন।
- ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে মাদারীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন হাজী শরীয়তুল্লাহ।
- ফরায়েজী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিল ফরিদপুর জেলায় এবং তার নেতৃত্বে এটি শুরু হয়।
- আল্লাহ কর্তৃক নির্দেশিত অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্যসমূহকে ফরজ বলা হয়।
- শরীয়তুল্লাহ মুসলমানদের স্থানীয় লোকাচার পালনের বিরোধী ছিলেন।
- ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে।
- অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্যসমূহকে কার্যকর করতে হাজী শরিয়তউল্লাহ ফরায়েজি মতাদর্শ প্রতিষ্ঠিত করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।

২৯০.
'কবর' নাটকটির বিষয়বস্তু কি?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধ
  2. খ) বঙ্গভঙ্গ
  3. গ) ভাষা আন্দোলন
  4. ঘ) সিপাহী বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
গ) ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা

কবর নাটকটির রচনাকাল ১৯৫৩, প্রকাশকাল ১৯৬৬, পূর্ববাংলার প্রথম প্রতিবাদী নাটক। নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য - ড সৌমিত্র শেখর।

২৯১.
মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে কোথায় নির্বাসিত করা হয়?
  1. ভারতে
  2. পাকিস্তানে
  3. নেপালে
  4. মায়ানমারে
সঠিক উত্তর:
মায়ানমারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মায়ানমারে
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর:
- আওরঙ্গজেবে পর মোগল সাম্রাজ্য তথা ভারতের শেষ সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর। 
- তিনি দিল্লির সম্রাট দ্বিতীয় আকবর শাহর দ্বিতীয় পুত্র।

⇒ ১৮৩৭ সালে তিনি দিল্লির সিংহাসনে আরোহন করেন।
- বাহাদুর শাহ সিংহাসনে আরোহণের ২০ বছর পর সূত্রপাত হয় ঐতিহাসিক সিপাহি বিদ্রোহের। 
- দেশপ্রেমিক সিপাহিরা মুঘল বাদশাহ বাহাদুর শাহ জাফরকে ভারতবর্ষের স্বাধীন বাদশাহ বলে ঘোষণা দেন।
- ওই মুহুর্ত থেকে বাহাদুর শাহ জাফর হলেন বিদ্রোহের প্রধান পরিচালক ও কেন্দ্রস্বরূপ।
- বাহাদুর শাহ জাফর সিপাহিদের বিপ্লব তথা ভারতবর্ষের প্রথম সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্ব দিচ্ছেন- এই সংবাদে কানপুর, লক্ষৌ বিহার, ঝাঁশি, বেরিলি থেকে শুরু করে পশ্চিম ও পূর্ব বাংলার সর্বত্র সিপাহিরা গর্জে ওঠেন।
- ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে ব্রিটিশ শাসকেরা তাঁকে মিয়ানমারে নির্বাসনে পাঠান।
- ১৮৬২ সালের ৭ নভেম্বর সেখানেই তিনি মারা যান।
- বাহাদুর শাহের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মোগল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

উল্লেখ্য,
⇒ আধুনিক ভারতবর্ষের ইতিহাসে সাহিত্য ক্ষেত্রে সবচেয়ে উজ্জ্বলতর রেনেসাঁর জন্য তাঁর অসামান্য অবদান রয়েছে।
- তিনি নিজে অসংখ্য কালজয়ী কবিতা ও গজল রচনা করেন।
- এর পাশাপাশি তিনি তাঁর সমসাময়িক হিন্দুস্তানের বিশিষ্ট কবিদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন অসীম উদারতায়।
- তাঁদের মধ্যে মির্জা গালিব (জীবনকাল: ১৭৯৭-১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দ) ও শেখ মুহাম্মদ ইব্রাহিম জওক (জীবনকাল: ১৭৮৯-১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দ) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উৎস: i) The Business Standard.
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯২.
‘মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি’ এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) নওয়াব আব্দুল লতিফ
  3. গ) রাজা রামমোহন রায়
  4. ঘ) সৈয়দ আমীর আলী
সঠিক উত্তর:
খ) নওয়াব আব্দুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নওয়াব আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা
‘মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি’ এর প্রতিষ্ঠাতা - নওয়াব আব্দুল লতিফ।

• আবদুল লতিফের জন্ম- ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলায়।
- কলকাতা মাদ্রাসায় তিনি ইংরেজী শিক্ষা গ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে আবদুল লতিফ প্রথমে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে এবং কলকাতা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন।

- ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত হন এবং ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে কলিকাতার প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট পদে উন্নীত হন।
- ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের কাউন্সিল আইন অনুযায়ী বাংলায় ব্যবস্থাপক পরিষদ গঠিত হলে তিনি এর সদস্য মনোনীত হন। 
- কর্মজীবনে কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ সরকার প্রথমে তাঁকে ‘খান বাহাদুর’ এবং পরে ‘নওয়াব’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- আবদুল লতিফের সর্বাপেক্ষা উল্লেখ্যযোগ্য কীর্তি ছিল ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ‘মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা।

তথ্যসুত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৩.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কোন আসামী বিচার চলাকালীন অবস্থায় শহিদ হন?
  1. আহমেদ ফজলুর রহমান
  2. সার্জেন্ট শামসুল হক
  3. সার্জেন্ট আবদুল জলিল
  4. সার্জেন্ট জহুরুল হক
সঠিক উত্তর:
সার্জেন্ট জহুরুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সার্জেন্ট জহুরুল হক
ব্যাখ্যা
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
-২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ আইয়ুব সরকারের নিপীড়নের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান নিহত হলে গণজাগরণ রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানের।
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের হরে। সেখানে পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর এবং ছুরিকাঘাতে রুস্তম নিহত হন।
- ১৫ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হক বিচার চলাকালীন অবস্থায় শহিদ হন।
- ১৮ ফেব্রুয়ারি রাবির ড. শামসুজ্জোহা শহিদ হন।
- এর ফলে সৃষ্টি হওয়া তীব্র জনরোষে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সহ সকল আসামিকে মুক্তি বাধ্য হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে তোফায়েল আহামেদ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ( বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ) শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন।
- এই আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে আইয়ুব সরকারের পতন ঘটে এবং আইয়ুব খান ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
২৯৪.
‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র’ প্রণয়নের নেতৃত্বে কে ছিলেন?
  1. সৈয়দ আবুল মকসুদ
  2. মুনতাসীর মামুন
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. গোলাম মোস্তফা
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ': 'দলিলপত্র
- ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা রক্ষা করা ও বিকৃতির আশংকা এড়িয়ে যাবার জন্যই ইতিহাস রচনার পরিবর্তে দলিল ও তথ্য প্রকাশকেই অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়েছে।
- আর সে প্রকল্পের ফসলই “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র”।
- প্রায় ১৫,০০০ পৃষ্ঠায় ১৫ খন্ডে এসব দলিলপত্র প্রণয়ন করে ১৯৮২ সালে তা প্রকাশ করা হয়। 
- এ দলিলপত্রাদি ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মফিজুল্লাহ কবীর ও সাংবাদিক হাসান হাফিজুর রহমানের যৌথ নেতৃত্বে একটি প্রামাণ্যকরণ কমিটি কর্তৃক প্রণীত।
- প্রায় সাড়ে তিন লাখ পৃষ্ঠাব্যাপী বিপুলায়তন ও সংগৃহীত উপাত্ত থেকে নির্বাচন করে প্রামাণ্যকরণ কমিটি কর্তৃক অনুমোদনের পর কালপঞ্জি অনুসারে বিভিন্ন খন্ডে প্রকাশ করা হয়।

⇒  বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর সরকারের উদ্যোগে ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমির মাধ্যমে প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের তথ্য সংগ্রহের প্রকল্প শুরু হয়।
- রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস লিখন ও মুদ্রণ প্রকল্প গ্রহণ করে।
- পরবর্তীকালে এই প্রকল্প স্বাধীনতা যুদ্ধ সংক্রান্ত দলিল ও তথ্যসমূহ প্রকাশনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং এর কাজ শুরু হয় ১৯৭৮ সালের জানুয়ারি থেকে। 
- তবে প্রকল্পটি সরকারি অনুমোদন লাভ করে ১৮ জুলাই ১৯৭৮-এ বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী (নং ৫১/২/৭৮/ডেব/২৬১)।
- এই প্রকল্পের সদস্য সচিব হাসান হাফিজুর রহমান বাংলা একাডেমি কর্তৃক ইতোপূর্বে সংগৃহীত দলিলপত্রসমূহ স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করেন।
- রাষ্ট্রপতি এরশাদ সরকারের শাসনামলে ১৯৮২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে খন্ডগুলির প্রকাশ শুরু হয়।

উল্লেখ্য,
- দলিলপত্রের প্রথম খণ্ডে রয়েছে পটভূমি (১০৫-১৯৫৮), দ্বিতীয় খণ্ডেও পটভূমি (১৯৫৮-১৯৭১), তৃতীয় খণ্ডে ‘মুজিবনগর: প্রশাসন’, চতুর্থ খণ্ডে ‘মুজিবনগর: প্রবাসী বাঙালিদের তৎপরতা’, পঞ্চম খণ্ডে ‘মুজিবনগর: বেতারমাধ্যম’, ষষ্ঠ খণ্ডে ‘মুজিবনগর: গণমাধ্যম’, সপ্তম খণ্ডে ‘পাকিস্তানি দলিলপত্র: সরকারি ও বেসরকারি’, অষ্টম খণ্ডে ‘গণহত্যা, শরণার্থী শিবির ও প্রাসঙ্গিক ঘটনা’, নবম খণ্ডে ‘সশস্ত্র সংগ্রাম (১)’, দশম খণ্ডে ‘সশস্ত্র সংগ্রাম (২)’, একাদশ খণ্ডে ‘সশস্ত্র সংগ্রাম (৩)’, দ্বাদশ খণ্ডে ‘বিদেশি প্রতিক্রিয়া: ভারত’, ত্রয়োদশ খণ্ডে ‘বিদেশি প্রতিক্রিয়া: জাতিসংঘ ও বিভিন্ন রাষ্ট্র বিশ্ব জনমত’, চতুর্দশ খণ্ডে ‘বিশ্ব জনমত’, পঞ্চদশ খণ্ডে ‘সাক্ষাৎকার’, ষোড়শ খণ্ডে ‘কালপঞ্জী, গ্রন্থপঞ্জী ও নির্ঘণ্ট’ সন্নিবেশিত আছে।

উৎস: i) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ': 'দলিলপত্র। 
ii) বাংলাপিডিয়া।

২৯৫.
পার্বত্য চট্টগ্রামে কয়টি সার্কেল রয়েছে?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩টি
ব্যাখ্যা

• পার্বত্য চট্টগ্রামে ৩টি সার্কেল রয়েছে। এগুলো হলোঃ
- চাকমা সার্কেল (রাঙামাটি),
- মং সার্কেল (খাগড়াছড়ি) এবং
- বোমাং সার্কেল (বান্দরবান)।
• পার্বত্য চট্টগ্রামের এই ৩ সার্কেল প্রধানরা স্থানীয় পাহাড়ি জনগণের কাছে 'রাজা' হিসেবেই পরিচিত।
- সরকারিভাবে সার্কেল প্রধানদের সার্কেল চীফ বলা হয়।

উৎসঃ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।

২৯৬.
প্রাচীন ‘সমতট’ অঞ্চলটি বর্তমান বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বরিশাল
  2. নোয়াখালী 
  3. চট্টগ্রাম
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
নোয়াখালী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নোয়াখালী 
ব্যাখ্যা

• সমতট : 
- দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার একটি প্রাচীন জনপদ।
- সমতট নামটি বর্ণনামূলক, অর্থ “তটের সমান্তরাল”।
- চতুর্থ শতকে সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে সমতটের উল্লেখ আছে।
- কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের মাধ্যমে জানা যায় সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- সপ্তম শতকে হিউয়েন সাঙ সমতটে এসেছিলেন।
- হিউয়েন সাঙের বর্ণনা অনুযায়ী, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- মূলত মেঘনা-পূর্ববতী অঞ্চলই সমতট হিসেবে পরিচিত ছিল।
- এ অঞ্চলের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী লালমাই এলাকা।
- প্রাচীন সমতট অন্তর্ভুক্ত ছিল ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চল।

অন্যদিকে,
- বঙ্গ জনপদ: বৃহত্তর ফরিদপুর, বাখেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি, ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহের কিছু অংশ।
- পুণ্ড্র জনপদ: বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী প্রভৃতি অঞ্চল নিয়ে এই জনপদটি গঠিত হয়েছিলো।
- বরেন্দ্র জনপদ: বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো।
- চন্দ্রদ্বীপ জনপদ: বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল। এ জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯৭.
উপমহাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় কার শাসনামলে?
  1. লর্ড মিন্টো
  2. লর্ড কার্জন
  3. লর্ড মেয়ো
  4. লর্ড ক্যানিং
সঠিক উত্তর:
লর্ড মেয়ো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড মেয়ো
ব্যাখ্যা
• উপমহাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় লর্ড মেয়ো-এর  শাসনামলে।
• লর্ড মেয়ো:
- তার শাসনামলেই ১৮৭২ সালে উপমহাদেশের প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- লর্ড মেয়ো ভারতবর্ষে পরিসংখ্যান জরিপ চালু করেন।
 - তিনি প্রথম কৃষি ও বাণিজ্য বিভাগ সৃষ্টি করেন।

অন্যদিকে,
• লর্ড ক্যানিং 
- লর্ড ক্যানিং ভারতের শেষ গভর্ণর জেনারেল এবং প্রথম ভাইসরয় ছিলেন।
- ১৮৬১ সালে লর্ড ক্যানিং উপমহাদেশে প্রথমবারের মত কাঠামোবদ্ধ পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করেন। 
- একই বছর ( ১৮৬১ খ্রীস্টাব্দ ) তিনি ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস চালু করেন।
- ১৮৬১ সালে লর্ড ক্যানিং ভারত উপমহাদেশে প্রথম বাজেট ঘোষণা করেন।
- তিনি উপমহাদেশে প্রথম কাগজের মুদ্রা প্রচলন করেন।
• লর্ড মিন্টো:
'মর্লি মিন্টো সংস্কার আইন, ১৯০৯' এর মাধ্যমে মুসলামানদের পৃথক নির্বাচনের অধিকার দেন।
• লর্ড কার্জন:
- তাঁর পুরো নাম জর্জ নাথানিয়েল কার্জন।
- লর্ড কার্জন ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ১৬ অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- তার নামানুসারে 'কার্জন হল' নির্মিত হয়েছিল।
- কার্জন হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের অংশ হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২৯৮.
'দ্যা কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' এর অন্যতম প্রধান আয়োজক ছিলেন -
  1. ক) বব ডিলান
  2. খ) মার্ক এন্থনি
  3. গ) জর্জ হ্যারিসন
  4. ঘ) পিটার সোরি
সঠিক উত্তর:
গ) জর্জ হ্যারিসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জর্জ হ্যারিসন
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশের শরণার্থীদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে জর্জ হ্যারিসনের তত্ত্বাবধানে নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল 'দ্যা কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' জর্জ হ্যারিসনকে অনুষ্ঠানটি করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন সেতার বাদক পণ্ডিত রবি শঙ্কর।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
২৯৯.
কোন পত্রিকাটি ভাষা আন্দোলনের বিরোধিতা করে?
  1. ক) সাপ্তাহিক সৈনিক
  2. খ) পাকিস্তান অবজারভার
  3. গ) দৈনিক আজাদ
  4. ঘ) মর্নিং নিউজ
সঠিক উত্তর:
ঘ) মর্নিং নিউজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মর্নিং নিউজ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনে সংবাদপত্রের ভূমিকা ছিলো অসামান্য।
সৈনিক, ইত্তেফাক, আজাদ, সংবাদ, অগত্যা, মিল্লাত, ইনসাফ, জিন্দেগী, পাকিস্তান অবজারভার প্রভৃতি পত্রিকা ভাষা আন্দোলনের সমর্থনে জোরালো ভূমিকা পালন করে।
অন্যদিকে, ‘মর্নিং নিউজ’ পত্রিকা ভাষা আন্দোলনের শুরু থেকেই তথ্য বিকৃতি করে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৩০০.
স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের-
  1. ক) ২ মার্চ
  2. খ) ২৩ মার্চ
  3. গ) ১০ মার্চ
  4. ঘ) ২৫ মার্চ
সঠিক উত্তর:
ক) ২ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২ মার্চ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইনার কামরুল হাসান।
১৯৭২ সালে কামরুল হাসান সবুজের মাঝে লাল বৃত্তের জাতীয় পতাকার নকশা করেন।
এর পূর্বে ব্যবহৃত মানচিত্র খচিত পতাকাটি ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান জহুরুল হক হলের ১১৬ নং কক্ষে শিবনারায়ণ দাস ও আরো কয়েকজন মিলে চূড়ান্ত করেন যা ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় তৎকালীন ডাকসু ভিপি আ স ম রব প্রথম উত্তোলন করেন।
১৯৭১ সালের ২৩ শে মার্চ বাংলাদেশের সর্বত্র পাকিস্তানের পতাকা’র পরিবর্তে লাল-সবুজের পতাকা উড়ানো হয়।

উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি