বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ২৭ / ১২৪ · ২,৬০১২,৭০০ / ১২,৪২১

২,৬০১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় 'এস' ফোর্সের দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. কে.এম.সফিউল্লাহ
  2. এস.কে.সাইফুল্লাহ
  3. এ.কে.এম শামীম
  4. আ.ক.ম সহিসুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
কে.এম.সফিউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কে.এম.সফিউল্লাহ
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স:

- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- 'জেড' ফোর্স, 'কে' ফোর্স, 'এস' ফোর্স নিয়ে ৩টি ব্রিগেড ফোর্স।
- জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।
- কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
- খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২,৬০২.
পাল বংশের শেষ 'মুকুটমণি' ছিলেন-
  1. দেবপাল
  2. রামপাল
  3. ধর্মপাল
  4. মহিপাল
সঠিক উত্তর:
রামপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামপাল
ব্যাখ্যা
• পাল বংশ:
- দ্বিতীয় শূরপালের পর রামপাল পাল বংশের রাজা হন।
- লিপি প্রমাণে বলা যায় তিনি ৪২ বছর  রাজত্ব করেন।
- তিনি আনুমানিক ১০৮২-১১২৪ খ্রি পর্যন্ত রাজত্ব করেন।
- প্রথম দিকে তাঁর রাজ্য বিহার ও পশ্চিম বাংলার অংশবিশেষে সীমাবদ্ধ ছিল।
- অগ্রজ দুই ভ্রাতার পর রামপাল বেশ প্রৌঢ় অবস্থায় সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তাঁর রাজত্বকাল ছিল নিঃসন্দেহে সাফল্যপূর্ণ।
- সীমিত সাম্রাজ্যের অধিপতি হয়েও উত্তর বাংলাকে পাল সাম্রাজ্যভুক্ত করে।
- তাঁর মৃত্যুর পর এই সাম্রাজ্য দ্রুত গতিতে বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যায়।
- তাই রামপালকে পালবংশের শেষ 'মুকুটমণি' বলা হয়।

উল্লেখ্য,
- দ্বিতীয় মহীপালের রাজত্বকালের প্রধান ঘটনা ছিল উত্তর বাংলার সামন্ত বিদ্রোহ।
- 'রামচরিত' কাব্যে এই বিদ্রোহ ও বিদ্রোহোত্তর ঘটনাবলীর পাওয়া যায়।
- গোপালের উত্থানের মধ্যে দিয়ে  পাল রাজবংশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পাল রাজবংশ প্রায় ৪শ বছর স্থায়ী ছিল।

উৎস: ইতিহাস, এস এস এইচ এল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬০৩.
আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র জারি হয় -
  1. ক) ৭ মার্চ ১৯৭১
  2. খ) ৭ এপ্রিল ১৯৭১
  3. গ) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
  4. ঘ) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন ইউসুফ আলী।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ১০ এপ্রিল ১৯৭১ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র খসড়া প্রণয়ন ও আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয় এবং
- ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
- ৬ষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র সংযুক্ত করা হয় ।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
২,৬০৪.
বাংলাদেশে নবনিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশনারের নাম কী?
  1. ক) সেলেনিয়া
  2. খ) জেরেমি করবিন
  3. গ) জেরেমি ব্রুয়ার
  4. ঘ) অলগা কেটরিন
সঠিক উত্তর:
গ) জেরেমি ব্রুয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জেরেমি ব্রুয়ার
ব্যাখ্যা
অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশনার:

- বাংলাদেশে নবনিযুক্ত  অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশনারের নাম জেরেমি ব্রুয়ার।
- ব্রুর ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ট্রেড বিভাগের একজন সিনিয়র ক্যারিয়ার অফিসার ছিলেন।
- তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া মেরিটাইম শাখার সহকারী সচিব ছিলেন।
- তিনি এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে বিদেশে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- ব্রুয়ার মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর এবং অ্যাডিলেড ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যাচেলর অফ আর্টস করেছেন।

তথ্যসূত্র - দ্যা ডেইলী স্টার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯।
২,৬০৫.
কতজন মুক্তিযোদ্ধাকে বীর উত্তম খেতাব প্রদান করা হয়?
  1. ৬৮
  2. ৬৯
  3. ১৭৮
  4. ১৭৭
সঠিক উত্তর:
৬৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৮
ব্যাখ্যা
খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়।
- এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানী।
- মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে তিনি এই প্রস্তাব করেন।
- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।

⇒ মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত।
- মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক অবদানের জন্য ৬৭৬ জনকে খেতাব প্রদান করা হয়।
যথা:
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৮ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং
• বীর প্রতীক ৪২৬ জন।

উল্লেখ্য,
- ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
- যাঁদের খেতাব বাতিল হলো তাঁরা হলেন লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম, গেজেট নং ২৫), লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম, গেজেট নং ৯০), লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক, গেজেট নং ২৬৭) এবং নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক, গেজেট নং ৩২৯)।
- যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৭ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৪ জন,
• বীর প্রতীক ৪২৪ জন।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ii) ৬ জুন, ২০২১, প্রথম আলো।
২,৬০৬.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে 'আকবর বাহিনী' কোন অঞ্চলে যুদ্ধ করে?
  1. মাগুরা
  2. বরিশাল
  3. সিরাজগঞ্জ
  4. কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
মাগুরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাগুরা
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
- কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ)।
- বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)।
- হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ)।
- আকবর বাহিনী (মাগুরা)।
- লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)।
- জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত।
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
২,৬০৭.
কতজন সদস্য নিয়ে শরিফ কমিশন গঠিত হয়েছিল?
  1. ৯ জন
  2. ১০ জন
  3. ১১ জন
  4. ১২ জন
সঠিক উত্তর:
১১ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ জন
ব্যাখ্যা

• ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন:
- আইয়ুব খান শিক্ষা সংস্কারের উদ্দেশ্যে ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেছিলেন।
- তদানীন্তন শিক্ষা সচিব এস.এম. শরীফকে সভাপতি করে গঠিত এগার সদস্যবিশিষ্ট এই কমিশন 'শরিফ কমিশন' নামে অভিহিত।
- ১৯৬২ সালের আগস্ট মাসে শরিফ কমিশনের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পেলে ছাত্র আন্দোলন নতুন রূপ লাভ করে।

- কমিশন ১৯৫৯ সালের ২৬ আগস্ট তার সুপারিশ পেশ করে। কমিশনের উল্লেখযোগ্য সুপারিশ ছিল নিম্নরূপ:
• তিন বছরের বি.এ কোর্স পদ্ধতি চালু করা (এর আগে ছিল দু'বছরের বি.এ পাস কোর্স)।
• স্কুল-কলেজের সংখ্যা সীমিত রাখা।
• শিক্ষা ব্যয়ের শতকরা ৮০ ভাগ অভিভাবককে বহন করতে হবে।
• ৬ষ্ঠ শ্রেণি হতে ডিগ্রি স্তর পর্যন্ত ইংরেজিকে বাধ্যতামূলক করা হবে।

- কমিশনের এই রিপোর্টের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ বিক্ষুব্ধ হয়।
- ঢাকা কলেজে সর্বপ্রথম আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।
- এ আন্দোলন 'বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন' নামে পরিচিত।
- ১৫ই আগস্ট থেকে ১০ই সেপ্টেম্বর প্রতিদিন বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৭ই সেপ্টেম্বর হরতাল পালনকালে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন নিহত এবং কয়েকশ' আহত হয়।
- এ আন্দোলনের ফলে শরিফ কমিশনের সুপারিশ স্থগিত হয়।
- এই আন্দোলনের ফলে ছাত্ররা আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের অন্যতম শক্তিতে পরিণত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 

২,৬০৮.
'ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০' বাস্তবায়নে কোন দেশ বাংলাদেশকে সাহায্য করছে?
  1. ক) ভারত
  2. খ) চীন
  3. গ) রাশিয়া
  4. ঘ) নেদারল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
ঘ) নেদারল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নেদারল্যান্ড
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান:
- ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ বা 'ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০' দেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন পরিকল্পনা।
- বাংলাদেশের ডেল্টা প্ল্যান ১০০ বছরের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে।
- এই পরিকল্পনা প্রণয়নে ও বাস্তবায়নে নেদারল্যান্ডস সরকার বাংলাদেশকে সহায়তা করছে।
- ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে এই পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হয়।
- ডেল্টা প্ল্যানে ছয়টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে: বন্যা, নদী ভাঙন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পনি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বন্য নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন।
- ২০২০ সালের ১ জুলাই ১২ সদস্যের এই কাউন্সিল গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
- সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রীকে ডেল্টা কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান করা হয়েছে।
- ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য এই মহাপরিকল্পনার প্রথম ধাপে অর্থাৎ ২০৩০ সাল নাগাদ বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে ৮০টি প্রকল্প।

উৎস: পরিকল্পনা কমিশন ওয়েবসাইট।
২,৬০৯.
'পাঁচসালা বন্দোবস্ত’ প্রবর্তন করেছিলেন কে?
  1. লর্ড বেন্টিঙ্ক
  2. ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. লর্ড ওয়েলেসলি
  4. লর্ড মিন্টো
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা

• পাঁচসালা বন্দোবস্ত:
- ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস পাঁচসালা বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
- পাঁচসালা বন্দোবস্তের মূল লক্ষ্য ছিল রাজস্ব আদায় করা।
- জমি বন্দোবস্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকায় জমিদাররা অর্থ আদায়ের জন্য কৃষকদের প্রতি চরম নির্যাতন মূলক ব্যবস্থা নিতো।
- অথচ কৃষকের বা জমির উন্নয়নের প্রতি তাদের কোনো লক্ষ ছিল না।
- এ অবস্থায় হেস্টিংস জমিদারদের সঙ্গে এক সালা বন্দোবস্ত চালু করেন।
- ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে কর্নওয়ালিস দশসালা বন্দোবস্ত চালু করেন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬১০.
ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের প্রধান নেতা কে ছিলেন?
  1. হাজী ওয়ালীউল্লাহ
  2. মজনু শাহ
  3. তিতুমীর
  4. হাজী শরীয়তুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
মজনু শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মজনু শাহ
ব্যাখ্যা
ফকির মজনু শাহ:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।
- ঐতিহাসিক ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের প্রধান নেতা ছিলেন মজনু শাহ।
- তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের মাদারিয়া তরিকার সুফি সাধক।
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করেন।

⇒ বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ। ইংরেজ সরকার তীর্থস্থান দর্শনের উপর করারোপ করে, ভিক্ষা ও মুষ্টি সংগ্রহকে বেআইনি ঘোষণা করে। তাছাড়া তাদেরকে ডাকাত-দস্যু বলে আখ্যায়িত করতে থাকে। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে ফকির সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনে অবতীর্ণ হয়।
- বিদ্রোহী ফকির দলের নেতার নাম ছিল মজনু শাহ। আর সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল ভবানী পাঠক।
- তাদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব-গোমস্তার বাড়ি। ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন। ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। এই সব অঞ্চলে ইংরেজদের সঙ্গে বিদ্রোহী ফকির-সন্ন্যাসীদের বহু সংঘর্ষ সংঘটিত হয়। এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে ।
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- এই নেতারা কয়েক বছর ইংরেজ প্রশাসনকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬১১.
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য ' বীরপ্রতীক' উপাধি লাভ করে কতজন ?
  1. ক) ৭ জন
  2. খ) ৬৮ জন
  3. গ) ১৭৫ জন
  4. ঘ) ৪২৬ জন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪২৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪২৬ জন
ব্যাখ্যা
১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়-
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৮ জন,
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন,
- বীর প্রতীক - ৪২৬ জন।

তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম)
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)

∴ বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে শহীদ হন কর্নেল জামিল। তিনি ২০০৯ সালে বীর উত্তম উপাধি পান।
অর্থাৎ, সব মিলিয়ে বর্তমানে বীর উত্তম খেতাব প্রাপ্ত - ৬৮ জন

(তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট প্রথম আলো রিপোর্ট)
 
২,৬১২.
ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস কবে ?
  1. ক) ৭ জুন
  2. খ) ৬ জুন
  3. গ) ৫ জুন
  4. ঘ) ৪ জুন
সঠিক উত্তর:
ক) ৭ জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৭ জুন
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ৬ দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী তীব্র গণ-আন্দোলনের সূচনা হয়। এই দিনে আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালে টঙ্গী, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জে পুলিশ ও ইপিআরের গুলিতে মনু মিয়া , শফিক, শামসুল হক, মুজিবুল হকসহ মোট ১১ জন বাঙালি নিহত হন।
• প্রতি বছর ৭ই জুন বাংলাদেশে '৬ দফা দিবস' পালন করা হয়। 
• ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস ।


SOURCE: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় , সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) প্রোগ্রাম বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৬১৩.
বিজু উৎসব কয়দিন ব্যাপী পালিত হয়?
  1. ১ দিন
  2. ২ দিন
  3. ৩ দিন
  4. ৪ দিন
সঠিক উত্তর:
৩ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ দিন
ব্যাখ্যা
বিজু উৎসব:
- নববর্ষ উপলক্ষে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যারা যে উৎসব করে তাকে বিজু বলে।
- এই উৎসবের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো পুরনো বছরকে বিদায় জানানো এবং নতুন বছরকে সাদরে গ্রহণ করা।
- চৈত্র মাসের শেষ দুই দিন এবং পহেলা বৈশাখ নিয়ে মোট তিন দিন ধরে বিজু উৎসব চলে।
- বিজু উৎসবে তিন দিনের আলাদা নামকরণ হয়েছে।
- প্রথম দিন ফুলবিজু, দ্বিতীয় দিন মূলবিজু এবং তৃতীয় দিন গজ্যাপজ্যা।
- ১২ এপ্রিল পালন করা হয় ফুলবিজু।
- চৈত্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ ১৩ এপ্রিল পালন করা হয় মূলবিজু।
- বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল পালন করা হয় গজ্যাপজ্যা (গড়িয়ে পড়ার দিন)। 

উৎস: ২৩ মার্চ, ২০২২, কালের কন্ঠ।
২,৬১৪.
কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা কোন জনপদের কেন্দ্র ছিল?
  1. বঙ্গ
  2. পুন্ড্র
  3. গৌড়
  4. সমতট
সঠিক উত্তর:
সমতট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমতট
ব্যাখ্যা
সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটির অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- হিউয়েন সাঙ সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন।
- হিউয়েন সাঙ বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- মেঘনা- পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল।
-সমতটের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই নিয়েই ছিল প্রাচীন সমতট।

অন্যান্য প্রাচীন জনপদগুলোর অবস্থান:
- বঙ্গ জনপদ: বৃহত্তর ফরিদপুর, বাখেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি, ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহের কিছু অংশ।
- পুণ্ড্র জনপদ: বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী প্রভৃতি অঞ্চল নিয়ে এই জনপদটি গঠিত হয়েছিলো।
- বরেন্দ্র জনপদ: বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো।
- গৌড় জনপদ: বর্তমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও বহরমপুর এলাকায় এটি বিস্তৃত ছিলো।
- হরিকেল জনপদ: সিলেট ও চট্টগ্রামের অংশবিশেষ ছিলো।
- চন্দ্রদ্বীপ জনপদ: বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল। এ জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬১৫.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণকে কেন্দ্র করে নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র -
  1. তর্জনী
  2. গর্জন
  3. স্বাধীনতা
  4. মুক্তি
সঠিক উত্তর:
তর্জনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তর্জনী
ব্যাখ্যা
তর্জনী:
- ১৯৭১ সালের অনিশ্চয়তা ভরা দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ভাষণ উদ্দীপ্ত করে তুলেছিল পূর্ব বাংলার মানুষকে।
- ২০১৭ সালের অক্টোবরে ইউনেস্কো এই ভাষণকে দিয়েছে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে এক অনন্য স্বীকৃতি। 
- সাতই মার্চের সেই ভাষণে অনুপ্রাণিত হয়ে চলচ্চিত্র বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সোহেল রানা বয়াতি।
- নাম ‘তর্জনী’।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ভাষণ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে কেমন প্রভাব ফেলছে, তা এই সিনেমায় তুলে ধরবেন পরিচালক সোহেল রানা।
- এই সিনেমায় ১৯৭১, ১৯৭৫ এবং ২০১৭ এই তিনটা সময়কে দেখানো হয়েছে।
- ‘তর্জনী’ সিনেমার গল্প যৌথভাবে লিখেছেন সোহেল রানা বয়াতি এবং শাহাদাত রাসেল।
- আর চিত্রনাট্য লিখছেন শাহাদাত রাসেল। 

উৎস: ২৫ মার্চ ২০১৯, প্রথম আলো।
২,৬১৬.
ঢাকার আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর কত সালে স্থানান্তর করা হয়?
  1. ক) ১৯৯৬ সালে
  2. খ) ২০১৭ সালে
  3. গ) ২০১৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৮ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ২০১৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২০১৭ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ ঢাকার সেগুনবাগিচায় একটি পুরানো দ্বিতল বাড়িতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দেশের প্রথম জাদুঘর 'মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর' প্রতিষ্ঠিত হয়।
২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্মিত নিজস্ব ভবনে 'মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর' স্থানান্তর করা হয়।

উৎসঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ওয়েবসাইট।
 
২,৬১৭.
ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সর্বপ্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে কোথায়?
  1. সুরাটে
  2. শ্রীরামপুর
  3. বাকুড়া
  4. কালিকট
সঠিক উত্তর:
সুরাটে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরাটে
ব্যাখ্যা
ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:

- ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উপমহাদেশে আগত সর্বশেষ ইউরোপীয় বণিক কোম্পানি।
- ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত বাণিজ্যিক কোম্পানিটি সর্বপ্রথম সুরাটে ১৬৬৮ খ্রিস্টাব্দে এবং পরের বছর মুসলিপট্টমে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- এছাড়া ১৬৭৩ খ্রিস্টাব্দে পন্ডিচেরীতে গড়ে তোলে ফরাসি উপনিবেশ।
- ১৬৭৪ খ্রিস্টাব্দের পর থেকে ফরাসিরা তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাংলায় সম্প্রসারিত করে।
- কয়েক বছরের মধ্যে চন্দননগর একটি শক্তিশালী সুরক্ষিত ফরাসি বাণিজ্য কুঠিতে পরিণত হয়।
- ১৬৯৬ খ্রিস্টাব্দে এই অঞ্চলে একটি শক্তিশালী দুর্গ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- পরবর্তিকালে তারা কাশিমবাজার ও বালাসোরে কুঠি স্থাপন করতে সক্ষম হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬১৮.
মুজিবনগর সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. তাজউদ্দিন আহমেদ
  3. এম মনসুর আলী
  4. আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
এম মনসুর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার গঠন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ও মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
- ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের জন্য এই দিনটির তাৎপর্য অপরিসীম, কেননা এই দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- এদিন (১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি 'মুজিবনগর সরকার' নামেই সমধিক পরিচিত এবং মুজিব নগর সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
- ১০ এপ্রিল দেশের 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামকরণ করে বঙ্গবন্ধুর অন্যতম সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে মন্ত্রীসভা ঘোষণা করা হয়।
- উল্লেখ্য, মেহেরপুর মহকুমা পরবর্তীতে জেলা হিসাবে উন্নীত হয় এবং বৈদ্যনাথতলার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়- মুজিবনগর।
- স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর ছিলো স্বাধীন দেশের অস্থায়ী রাজধানী এবং সচিবালয়/সদরদপ্তর ছিলো- কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোড।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ,
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান,
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য:
- মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ।
- মন্ত্রীপরিষদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন গণপরিষদের আওয়ামীলীগের হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ।
- মুজিবনগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত ও উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন- তৎকালীন ঝিনাইদহ মহকুমার পুলিশপ্রধান মাহবুব উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে আনসার, পুলিশ ও উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত ১২ সদস্যের একটি যৌথ দল।
- শপথগ্রহণের সময় শতাধিক ভারতীয় ও বিদেশি সাংবাদিক এবং প্রচার মাধ্যম কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, DMP ও তথ্য অধিদফতর ওয়েবসাইট।
২,৬১৯.
সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী কতজন আসামীর বীরত্বসূচক খেতাব বাতিল করা হয়?
  1. দুইজন
  2. তিনজন
  3. চারজন
  4. পাঁচজন
সঠিক উত্তর:
চারজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারজন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।

এদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।

এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম)
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো)
২,৬২০.
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ একমাত্র উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেন কোথায়?
  1. রমনার রেসকোর্স ময়দানে
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
  3. ঢাকা সেনানিবাসে
  4. ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় আসেন।
- মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ২১ মার্চ রমনার রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় এবং ২৪ মার্চ কার্জন হলে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেন 'উর্দুই এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- উপস্থিত ছাত্ররা 'না না' ধ্বনি দিয়ে এর প্রতিবাদ জানায়।
- আন্দোলনকারীদের তিনি কঠোর সমালোচনা করেন।
- জিন্নাহর এ ঘোষণা পূর্ব বাংলার জনমনে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি করে।
- এ সময়ে সারা পূর্ব পাকিস্তানেই ভাষা আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬২১.
বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন কোনটি?
  1. ক) ভাষা আন্দোলন
  2. খ) শাসনতান্ত্রিক আন্দোলন
  3. গ) শিক্ষা আন্দোলন
  4. ঘ) ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ক) ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন। পরবর্তীকালে এই আন্দোলন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্ম দেয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশের প্রথম পদক্ষেপ ভাষা আন্দোলন।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬২২.
ঐতিহাসিক ছয় দফার প্রথম দফা কী ছিল?
  1. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
  2. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌
  3. মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
  4. বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
সঠিক উত্তর:
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌
ব্যাখ্যা
• ছয় দফা:
পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার প্রশ্নে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- উক্ত সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সম্মিলিত ৬ দফাভিত্তিক ঘোষণা উত্থাপন বা পেশ করেন।
- এটাই ইতিহাসে ‘ছয় দফা কর্মসূচি’ নামে পরিচিত।
- ১৯৬৬ সালের ৫ - ৬ ফেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে বিরোধী দলের একটি সম্মেলনে ছয় দফা দাবী পেশ করেন।
- ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা - রুহুল কুদ্দুস।
- তিনি একজন পাকিস্তান সিএসপি কর্মকর্তা ছিলেন। 

• দফা গুলো হলো:
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও মূলধারা ’৭১'।
২,৬২৩.
কোন দেশ মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানের সমর্থনে ভারত মহাসাগরে সপ্তম নৌবহর পাঠায়?
  1. ক) চীন
  2. খ) যুক্তরাষ্ট্র
  3. গ) রাশিয়া
  4. ঘ) যুক্তরাজ্য
সঠিক উত্তর:
খ) যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে মোট তিনবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনে এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন তিনবারই ভেটো দেয়।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সমর্থনে বঙ্গোপসাগরে ৭ম নৌবহর প্রেরণ করলে তার পাল্টা ভারত মহাসাগরে অবস্থিত সোভিয়েত ইউনিয়নের ২০তম নৌবহর ৭ম নৌবহরের পিছু নেয়।যদিও তা পৌছানোর আগেই পাকিস্তান আত্মসমর্পন করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া ও মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর।
২,৬২৪.
কত সালে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প চালু করা হয়?
  1. ২০০১ সালে
  2. ২০০০ সালে
  3. ২০০২ সালে
  4. ২০০৩ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০২ সালে
ব্যাখ্যা

• প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প:
- চালু : ২০০২ সালে শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচি (১৯৯৩) এবং প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি (১৯৯৯) একীভূত করে সরকার দ্বারা চালু
- উদ্দেশ্য: প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার ও মান উন্নয়ন
- দ্বিতীয় পর্যায়: ২০০৮ সালে পুনরায় গ্রহণ
- সুবিধাভোগী শিক্ষার্থীর লক্ষ্য: তৃতীয় পর্যায়ে ১ কোটি ৩০ লাখ
- উপবৃত্তির পরিমাণ:
- প্রাক-প্রাথমিক: মাসিক ৭৫ টাকা
- প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি: মাসিক ১৫০ টাকা (দুই শিক্ষার্থী থাকলে ৩০০ টাকা)
- ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি: মাসিক ২০০ টাকা (দুই শিক্ষার্থী থাকলে ৪০০ টাকা)
- বর্তমান সুবিধাভোগী: ১ কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থী
- প্রদানের মাধ্যম: বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত MFS প্রতিষ্ঠান (বিকাশ, রকেট, এমক্যাশ, উপায়, ট্যাপ, মাই ক্যাশ, টেলিক্যাশ, ওকে ওয়ালেট, ইসলামিক ওয়ালেট) এবং ডাক বিভাগের নগদ সেবা।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২,৬২৫.
বাংলায় প্রথম আগত ইউরোপীয়ান বাণিজ্যিক দল কোনটি?
  1. পর্তুগীজ
  2. দিনেমার
  3. ব্রিটিশ
  4. ফরাসি
সঠিক উত্তর:
পর্তুগীজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগীজ
ব্যাখ্যা
বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন:
- পর্তুগীজরা প্রথম আগত ইউরোপীয়ান বাণিজ্যিক দল।
- পর্তুগীজরা ভারতীয় উপমহাদেশের কালিকট বন্দরে প্রথম আসে।
- ১৪৯৮ সালে পর্তুগীজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন, তিনি ভাস্কো-ডা-গামা।
- এরপর ১৫০৯ খ্রিস্টাব্দে আলবুকার্ক গোয়াতে আগমন করেন।
- আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
- কলম্বাস এবং ম্যাজিলানও বিখ্যাত পর্তুগিজ নাবিক ছিলেন।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে পর্তুগীজরা কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি অঞ্চলে কুঠি স্থাপন এবং ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে শুল্কঘাটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
- পর্তুগিজরা কেবল ব্যবসা-বাণিজ্যই করত না, তারা এদেশের জমিদার ও প্রতাপশালী বার ভূঁইয়াদের সেনাবাহিনীতে চাকরী করত।
- তারা সুযোগ পেলেই জুলুম, অত্যাচার ও লুণ্ঠন করতো।
- অনেক সময় সম্রাট বা নবাবের আইন অমান্য করে বিনা শুল্কে স্বাধীনভাবে ব্যবসা চালাত। এতে তাঁরা মোগল সম্রাটের বিরাগভাজন হন।
- পর্তুগিজরা আরও নানা প্রকার অপরাধমূলক কাজ করত।
- তাদের এ অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেলে সম্রাট শাহজাহান পর্তুগিজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করেন।
- সম্রাটের নির্দেশে কাসিম খান তাদের হুগলী কুঠি থেকে বিতাড়িত করেন।
- সর্বশেষ বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ ঘাঁটি দখল করে চিরতরে এ দেশ থেকে উচ্ছেদ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬২৬.
কোন মুঘল সুবেদার বার ভূঁইয়াদের দমন করেন?
  1. শাহ সুজা
  2. ইসলাম খান
  3. মনিমুখন্দর খান
  4. শায়েস্তা খান
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
• ইসলাম খান চিশতী: 
- আকবরের মৃত্যুর পুত্র জাহাঙ্গীর ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সিংহাসনে বসেন।
- তার পিতার নিযুক্ত সুবাদার মানসিংহকে বাংলার সুবাদারি পদে বহাল রাখেন।
- ১৬০৬ খ্রিস্টাব্দে তাঁর দুধ-ভাই কুতব-উদ-দীন খান কোকাকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করে পাঠান।
- কতুব-উদ-দীন বর্ধমানের ফৌজদার আলীকুলীকে দমন করার জন্য বর্ধমানে গেলে সেখানে আলী কুলী ও কুতব-উদ-দীন উভয়েই নিহত হন।
- এই আলী কুলীর পরমা সুন্দরী স্ত্রী ছিলেন মেহের-উন-নিসা।
- আর এই মেহের-উন-নিসাই পরে জাহাঙ্গীরের স্ত্রীরূপে নূরজাহান উপাধি লাভ করেন।
- এরপর সম্রাট ইসলাম খান চিশতীকে বাংলার সুবাদার নিযুক্ত করে পাঠান।
- ইসলাম খান চিশতীর মূল কৃতিত্ব হচ্ছে তিনি সমগ্র বাংলাদেশে এবং প্রতিবেশী কামরূপ,
- এবং কাছাড়ে মুঘল অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- ইসলাম খান বার ভূঁইয়াদের দমন করেন।
- এবং সকল ভূঁইয়া বা জমিদারকে পরাজিত করলে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের একটি সুবা বা প্রদেশে পরিণত হয়।
- ইসলাম খান চিশতী ছিলেন ফতেহপুর সিক্রির শয়খ সলীম চিশতীর পৌত্র,
- তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরের সমবয়সী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬২৭.
বাংলাদেশের কোনো জীবিত ব্যক্তিকে মুক্তিযুদ্ধে দেওয়া সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক পদক কোনটি?
  1. ক) বীর শ্রেষ্ঠ
  2. খ) বীর প্রতীক
  3. গ) বীর উত্তম
  4. ঘ) বীর বিক্রম
সঠিক উত্তর:
গ) বীর উত্তম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বীর উত্তম
ব্যাখ্যা
বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্ত সর্বমোট মুক্তিযুদ্ধা ৬৭৬ জন।
৪ টি বিভাগে খেতাব দেওয়া হয়। যেমন- বীর শ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক।
বাংলাদেশের কোনো জীবিত ব্যক্তিকে মুক্তিযুদ্ধে দেওয়া সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক পদক বীর উত্তম।
উৎসঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা।
২,৬২৮.
'তমদ্দুন মজলিশ' প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন -
  1. ক) আবুল হাসেম
  2. খ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
  3. গ) আবুল কালাম
  4. ঘ) আবুল হোসেন
সঠিক উত্তর:
খ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ
• প্রতিষ্ঠা ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর।
• উদ্যোক্তা- অধ্যাপক আবুল কাশেম, পদার্থবিজ্ঞান , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
• অন্য সদস্যরা ছিলেন- কাজী মোতাহার হোসেন,আবুল মনসুর আহমদ
• ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে পুস্তিকা প্রকাশ- ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর।
• প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক- অধ্যাপক আবুল কাশেম।
• প্রথম সভাপতি- দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ।

তথ্যসূত্র:- ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬২৯.
কে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ১৯৮২ সালে বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল করেন?
  1. আব্দুস সাত্তার
  2. হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
  3. বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
  4. বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
ব্যাখ্যা
জেনারেল এরশাদ:
- রক্তপাতহীন এক সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
- তিনি তখন সেনাবাহিনীর প্রধান। রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেই তিনি দেশে সামরিক আইন জারি করেন।

⇒ ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ দেশে সামরিক শাসন জারি করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
- তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সরিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা হাতে নেন জেনারেল এরশাদ। 
- তিনি সামরিক ফরমান জারি করার পর রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ, জাতীয় সংসদ ও মন্ত্রিসভা বাতিল করেন এবং স্থগিত করেন সংবিধানের কার্যকারিতা।
- জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে থাকেন। নানা অপতৎপরতার মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখার প্রচেষ্টা চালাতে থাকেন।
- কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই জেনারেল এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়।
- বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠন জোটবদ্ধ হয়ে আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যায়। 
- ধীরে ধীরে এরশাদবিরোধী আন্দোলন গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
- গণআন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর জেনারেল এরশাদ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন।
- প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে জেনারেল এরশাদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। 

উৎস: i) প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)।
ii) প্রথম আলো।
২,৬৩০.
নীল বিদ্রোহের প্রেক্ষিতে সরকার কোন কমিশন গঠন করে?
  1. হান্টার কমিশন
  2. সাইমন কমিশন
  3. ইন্ডিগো কমিশন
  4. দুর্ভিক্ষ কমিশন
সঠিক উত্তর:
ইন্ডিগো কমিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্ডিগো কমিশন
ব্যাখ্যা

নীল বিদ্রোহ:
- ১৮৫৯ সালে ইংরেজ নীলকরদের সীমাহীন অত্যাচার শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে নীল চাষিরা যে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে তাই ইতিহাসে নীল বিদ্রোহ নামে খ্যাত।
- এর নেতৃত্ব দিয়েছিল স্থানীয় পর্যায়ের সাধারণ কৃষকরা।
- বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন নেতা স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ সংগ্রাম পরিচালিত করে।
- এই নেতৃত্ব এতটাই শক্তিশালী এবং সুসংহত ছিল যে শেষ পর্যন্ত ইংরেজরা নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়।
- ১৮৬০ সালে সরকার 'ইন্ডিগো কমিশন' বা 'নীল কমিশন' গঠন করে।
- এই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে নীলচাষ করা, না করা কৃষকদের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয়া হয় এবং ‘ইন্ডিগো কন্ট্রাক্টস অ্যাক্ট' বাতিল করা হয়।
- ফলে নীল বিদ্রোহের অবসান ঘটে।
- দীনবন্ধু মিত্রের লেখা 'নীলদর্পণ' নাটকের কাহিনী চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুসারে, নীল বিদ্রোহের প্রেক্ষিতে নীল কমিশন (Indigo Commission) গঠিত হয় ৩১ মার্চ, ১৮৬০ সালে এবং কমিশন রিপোর্ট প্রকাশ করে ১৪ আগস্ট, ১৮৬০ সালে।
- ভারতের ন্যাশনাল আর্কাইভ প্রকাশিত রিপোর্টের তথ্য অনুসারে, নীল কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশকাল ১৮৬০ দেওয়া রয়েছে।
- ব্রিটানিকার তথ্য অনুসারে, মার্চ ১৮৬০ সালে ব্রিটিশ সরকার বাংলায় নীল বিদ্রোহের প্রেক্ষিতে "নীল আইন (Indigo Act)" প্রণয়ন করে এবং একটি কমিশন গঠন করে।
- কমিশন আগস্ট, ১৮৬০ সালে রিপোর্ট প্রদান করে এবং নীল চাষের প্রক্রিয়া পরিবর্তিত হয়। বাংলায় তখন নীল চাষের বিলুপ্তি ঘটলেও বিহারে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত নীল চাষ অব্যাহত ছিলো।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
         ii) ব্রিটানিকা।

২,৬৩১.
সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব অনুসারে, সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে কোনগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে?
  1. জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা 
  2. ধর্মীয় সহনশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা
  3. সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্র
  4. রাষ্ট্রীয় ঐক্য, সামরিক শৃঙ্খলা, বৈদেশিক নীতি
সঠিক উত্তর:
সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

সংবিধানের মূলনীতি: 
- কমিশন সুপারিশ করছে যে, সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
- বাংলাদেশের সমাজের বহুত্ববাদী চরিত্রকে ধারণ করে এমন একটি বিধান সংবিধানে যুক্ত করা সমীচীন।
- সুতরাং, কমিশন নিম্নোক্ত বিধান অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করছে "বাংলাদেশ একটি বহুত্ববাদী, বহু-জাতি, বহু-ধর্মী, বহু-ভাষী ও বহু-সংস্কৃতির দেশ যেখানে সকল সম্প্রদাযের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।

• রাষ্ট্রের মূলনীত :
- কমিশন সংবিধানের মূলনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র এবং জাতীযতাবাদ এবং এ সংশ্লিষ্ট সংবিধানের ৮, ৯, ১০ ও ১২ অনুচ্ছেদগুলি বাদ দেয়ার সুপারিশ করছে।

উৎস: সংবিধান সংস্কার কমিশন।[লিঙ্ক]

২,৬৩২.
বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি মুক্তিযোদ্ধা ডব্লিও এ এস ওয়াডারল্যান্ডের জন্মস্থান কোন দেশে?
  1. অস্ট্রেলিয়া
  2. নেদারল্যান্ড
  3. জার্মানি
  4. পোল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
নেদারল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেদারল্যান্ড
ব্যাখ্যা
• ডব্লিও এ এস ওয়াডারল্যান্ড:
- বিদেশী মুক্তিযোদ্ধা ডব্লিও এ এস ওয়াডারল্যান্ডকে বীর প্রতীক উপাধি দেয়া হয়।
- ডব্লিও এ এস ওয়াডারল্যান্ড ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক।
- ওডারল্যান্ড ১৯১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডের আমস্টারডামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকায় বাটা সু কোম্পানির প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে ওডারল্যান্ড ১৯৭০ সালের শেষের দিকে প্রথম ঢাকায় আসেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গেরিলা কমান্ডো হিসেবে স্বীয় অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে এবং স্বয়ং ২নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা গেরিলা শাখার সক্রিয় সদস্যরূপে অকুতোভয় ওডারল্যান্ড বাটা ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গণসহ টঙ্গীর কয়েকটি গোপন ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়মিত গেরিলা রণকৌশলের প্রশিক্ষণ দিতেন।
- উইলিয়ম ওডারল্যান্ড ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত ঢাকায় বাটা সু কোম্পানিতে চাকুরিরত ছিলেন।
- পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় পার্থের এক হাসপাতালে ২০০১ সালের ১৮ মে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৬৩৩.
বঙ্গবন্ধু ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা‘র নাম দিয়েছিলেন -
  1. ক) রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য
  2. খ) ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা
  3. গ) পাকিস্তানি ষড়যন্ত্র মামলা
  4. ঘ) আগরতলা মামলা
সঠিক উত্তর:
খ) ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা
ব্যাখ্যা
• আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- এই মামলার সরকারি নাম ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য’।
- লোকমুখে এই মামলা পরিচিতি লাভ করে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ হিসেবে।
- বঙ্গবন্ধু এই মামলার নামকরণ করেছিলেন ‘ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা’ নামে। 
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৬৩৪.
মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রথম বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয় কখন?
  1. ১৮ এপ্রিল ১৯৭১
  2. ৭ জুলাই ১৯৭১
  3. ১৭ আগস্ট ১৯৭১
  4. ১ অক্টোবর ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
৭ জুলাই ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ জুলাই ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে এগারোটি সেক্টরে বিভক্ত করা পাশাপাশি পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে যুদ্ধের জন্যে তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- প্রথম বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয় ১৯৭১ সালের ৭ জুলাই। এটির প্রধান করা হয় মেজর জিয়াউর রহমানকে। তার নামানুসারে প্রথম বিগ্রেডের নাম করা হয় জেড ফোর্স।
- মেজর সফিউল্লাহকে প্রধান করে দ্বিতীয় বিগ্রেড এস ফোর্স গঠন করা হয় ১ অক্টোবর ১৯৭১।
- মেজর খালেদ মোশারফকে প্রধান করে কে ফোর্স গঠন করা হয় ১৯৭১ সালের ১৪ অক্টোবর।
(তথ্যসূত্র: ‍মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বোর্ড বই)
২,৬৩৫.
ডেমোক্র্যাটিক অ্যাকশন কমিটি গঠিত হয় কখন?
  1. ক) বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সময়
  2. খ) পয়ষট্টির সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে
  3. গ) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে
  4. ঘ) সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে
সঠিক উত্তর:
গ) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে
ব্যাখ্যা
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময় ১৯৬৯ সালের ৮ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তানের বিরোধীদলগুলোর সমন্বয়ে ডেমোক্র্যাটিক অ্যাকশন কমিটি (ডাক) গঠিত হয়।

এই জোটে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ, মোজাফফর ন্যাপসহ আটটি রাজনৈতিক দল যুক্ত ছিলো।
পাকিস্তানে ফেডারেল পার্লামেন্টারি পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন, প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচন, জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার এবং শেখ মুজিবুর রহমান, খান আবদুল ওয়ালী খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টোসহ সকল রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি দাবিতে এই জোট গণআন্দোলনের ডাক দিয়েছিলো।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
২,৬৩৬.
একজন ভালো শিক্ষকের কি কি যোগ্যতা ও দক্ষতা দরকার?
  1. ক) জ্ঞানী ও শিক্ষিত হতে হবে
  2. খ) বিষয়ে ব্যুৎপত্তি থাকা দরকার
  3. গ) পড়ানো ও শাসন করার দক্ষতা
  4. ঘ) পড়ানো, সঠিক পরিচালনা ও গাইড করা
সঠিক উত্তর:
ঘ) পড়ানো, সঠিক পরিচালনা ও গাইড করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পড়ানো, সঠিক পরিচালনা ও গাইড করা
ব্যাখ্যা
ভালো শিক্ষকের যোগ্যতা ও দক্ষতা:
- শিক্ষক হল মানুষ গড়ার কারিগর।
- তাই একজন আদর্শ শিক্ষকের কিছু গুনাবলী থাকা দরকার।
- শিক্ষার সর্বস্তরে শিক্ষকই হলেন শিক্ষাকর্মের মূল উৎস।
- একদিকে শিক্ষাদান কাজ যেমন জটিল অন্যদিকে এটি একটি মহান পেশাও বটে।
- একজন ভালো শিক্ষকের পড়ানো, সঠিক পরিচালনা ও গাইড করার যোগ্যতা ও দক্ষতা দরকার।
২,৬৩৭.
সুলতানী আমলে বাংলার রাজধানীর নাম কি?
  1. ক) সোনারগাঁ
  2. খ) জাহাঙ্গীরনগর
  3. গ) ঢাকা
  4. ঘ) গৌড়
সঠিক উত্তর:
ক) সোনারগাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সোনারগাঁ
ব্যাখ্যা
সুলতানী আমলে বাংলার রাজধানী ছিল প্রথমে সোনারগাঁও (১৩৩৮-১৩৫২ খ্রি.)।
পরে রাজধানী স্থানান্তরিত হয় গৌড়ে (১৪৫০-১৫৬৫ খ্রি.)।
--------------
এটা যেহেতু জব সল্যুশনের পরীক্ষার প্রশ্ন, তাই বাতিল হবে না।
প্রথম রাজধানী হিসাবে সোনারগাঁও উত্তর ধরা হচ্ছে।
২,৬৩৮.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ১০
  2. ১১
  3. ১২
সঠিক উত্তর:
১১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।

সেক্টরগুলো:
- ফেনী নদী থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি এবং ফেনী: ১নং সেক্টর,
- ঢাকা, কুমিল্লা, আখাউড়া–ভৈরব, নোয়াখালী ও ফরিদপুরের কিছু অংশ: ২ নং সেক্টর,
- হবিগঞ্জ, আখাউড়া–ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলার অংশবিশেষ এবং কিশোরগঞ্জ এবং ঢাকার কিছু অংশ: ৩ নং সেক্টর,
- সিলেট জেলার অংশবিশেষ: ৪ নং সেক্টর,
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং সিলেট জেলার অংশ বিশেষ: ৫ নং সেক্টর,
- দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহাকুমা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী অঞ্চল ব্যতীত সমগ্র রংপুর: ৬ নং সেক্টর,
- রাজশাহী, পাবনা, ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী এলাকা ব্যতীত সমগ্র বগুড়া, দিনাজপুরের দক্ষিণ অঞ্চল এবং রংপুরের কিছু অংশ: ৭ নং সেক্টর,
- কুষ্টিয়া, যশোর, দৌলতপুর সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত খুলনা জেলা ও ফরিদপুরের কিছু অংশ: ৮ নং সেক্টর,
- পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনার কিছু অংশ: ৯ নং সেক্টর,
- সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল, নৌ কমান্ডো ও আভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন: ১০ নং সেক্টর,
- ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল: ১১ নং সেক্টর।

উৎস: ২৬ মার্চ ২০২৩, বিবিসি বাংলা।
২,৬৩৯.
নিচের কোনটি ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন?
  1. পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন
  2. গণ-আজাদী লীগ
  3. রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
  4. তমদ্দুন মজলিশ
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তমদ্দুন মজলিশ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।

ভাষা আন্দোলন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য তথ্য,
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন।
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
২,৬৪০.
মুক্তিযুদ্ধের আত্মসমর্পণের দলিল কোথায় স্বাক্ষরিত হয়?
  1. বলধা গার্ডেন
  2. বাহাদুর শাহ পার্ক
  3. সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
  4. ওসমানী উদ্যান
সঠিক উত্তর:
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
ব্যাখ্যা

ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের চীফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল জ্যাকব পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের খসড়া দলিল নিয়ে অপরাহ্ণ এক ঘটিকায় ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল অরোরা এক হেলিকপ্টার বহরে তাঁর সহকর্মীদের নিয়ে বিকাল চারটায় ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছেন।
পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে মুক্তিবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করেন ডেপুটি চীফ অব স্টাফ গ্রুপ-ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকাল পাঁচটা এক মিনিটে রমনা রেসকোর্সে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) যৌথ কম্যান্ডের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা এবং পাকিস্তান বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কম্যান্ডের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজী পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
২,৬৪১.
প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় কবে?
  1. ২ মার্চ ১৯৭১ সালে
  2. ৪ মার্চ ১৯৭১ সালে
  3. ৭ মার্চ ১৯৭১ সালে
  4. ২৬ মার্চ ১৯৭১ সালে
সঠিক উত্তর:
২ মার্চ ১৯৭১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ মার্চ ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
জাতীয় পতাকা:

- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা করেন কামরুল হাসান।
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং গাঢ় সবুজ এবং ১০:৬ অনুপাতে আয়তাকার, তাতে থাকবে সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- প্রথম অবস্থায় পতাকার কেন্দ্রস্থলে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ছিল।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ছাত্রনেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সে পতাকার আদলে মুজিবনগর সরকার জাতীয় পতাকার নমুনা নির্ধারণ করেন।
- শিবনারায়ণ দাস বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার অন্যতম এবং মূল নকশাকার।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ২ মার্চ ২০২২।
২,৬৪২.
একক দীর্ঘতম রেল সেতু কোনটি?
  1. যমুনা সেতু
  2. হার্ডিঞ্জ সেতু
  3. ব্রহ্মপুত্র সেতু
  4. তিস্তা সেতু
সঠিক উত্তর:
হার্ডিঞ্জ সেতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হার্ডিঞ্জ সেতু
ব্যাখ্যা
₻ একক দীর্ঘতম রেল সেতু - হার্ডিঞ্জ সেতু।
অন্যদিকে, 
- বঙ্গবন্ধু যমুনা বহুমুখী (সড়ক এবং রেল) সেতু বাংলাদেশে দীর্ঘতম ও দক্ষিণ এশিয়ার ৫ম এবং বিশ্বের ৯২তম দীর্ঘ সেতু।
- এটি ১৯৯৮ সালে নির্মাণকালীন সময়ে পৃথিবীর ১১তম বৃহত্তম সেতু এবং দক্ষিন এশিয়ার বৃহত্তম সেতু ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৬৪৩.
ভারতে মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন -
  1. ক) মুহম্মদ ঘোরী
  2. খ) মুহম্মদ-বিন-কাসিম
  3. গ) সুলতান মাহমুদ
  4. ঘ) বখতিয়ার খলজী
সঠিক উত্তর:
ক) মুহম্মদ ঘোরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মুহম্মদ ঘোরী
ব্যাখ্যা
ভারতে মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মুহম্মদ ঘোরী। মুহম্মদ ঘোরী ভারতে অনেকগুলো অভিযান পরিচালনা করেন। মুলতান, সিন্ধু ও পাঞ্জাব জয়ের পর ভারতের হিন্দু রাজশক্তিগুলোর সাথে তাঁর যুদ্ধ হয়। তরাইনের প্রথম যুদ্ধে তিনি পৃথ্বীরাজের নিকট পরাজিত হন। কিন্তু ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে তিনি জয়লাভ করেন। ১২০৩ খ্রিস্টাব্দে ভাইয়ের মৃত্যুর পর মুহম্মদ ঘোরী ঘোরের সুলতান হন। ১২০৬ খ্রি: মুহম্মদ ঘোরী নিহত হন। [সূত্র- বোর্ড বইঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি)]
২,৬৪৪.
সেনদের হটিয়ে কে বাংলার ক্ষমতা দখল করে?
  1. শায়েস্তা খাঁ
  2. মুহম্মদ ঘুরী
  3. বখতিয়ার খলজি
  4. ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
সঠিক উত্তর:
বখতিয়ার খলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বখতিয়ার খলজি
ব্যাখ্যা
ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি:
- বখতিয়ার খলজী ছিলেন বাংলার দিল্লি সুলতানাতের একজন মুসলিম সুলতান।
- তিনি ছিলেন একজন তুর্কি সেনাপতি।
- তিনি আফগানিস্তানের গরমশির এলাকার অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি তুর্কীদের খিলজী সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন। 
- তিনি ৬০১ হিজরিতে (১২০৫ খ্রি.) বিনা বাধায় গৌড় জয় করেন এবং লখনৌতি নাম দিয়ে সেখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন।
- উল্লেখ্য, পূর্বে গৌড়ের নাম ছিল লক্ষণাবতী।
- ত্রয়োদশ শতকে তার নদীয়া জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হয়। 
- তিনি ১২০৪ সালে বাংলার সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেনকে বিনা বাঁধায় পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন।
- তিনি স্বল্প সময়ের জন্য নদীয়ায় অবস্থান করেন এবং পরে গৌড়ের দিকে যাত্রা করেন।
- ১২০৬ সালে বখতিয়ার খিলজী ইহলোক ত্যাগ করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
২,৬৪৫.
'তুমি বাংলার ধ্রুবতারা, তুমি হৃদয়ের বাতিঘর' গানটির গীতিকার কে?
  1. সামিনা চৌধুরী
  2. নকীব খান
  3. রফিকুল ইসলাম
  4. কামাল চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
কামাল চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামাল চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• মুজিব শতবর্ষের থিম সং - 'তুমি বাংলার ধ্রুবতারা, তুমি হৃদয়ের বাতিঘর।'
- গানটির গীতিকার - কবি কামাল চৌধুরী।
- গানটির সুরকার - নকীব খান।

২,৬৪৬.
পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. গোপাল
  2. ধর্মপাল
  3. দেবপাল
  4. মহীপাল
সঠিক উত্তর:
গোপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপাল
ব্যাখ্যা

পাল রাজবংশ:
- পাল বংশ আট শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রায় চারশত বছর বাংলা ও বিহারে শাসনকারী রাজবংশ।
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর বাংলায় অরাজকতা চলে। এই অরাজক অবস্থাকে বলা হয় 'মাৎস্যন্যায়'।
- গোপাল নামক একজন শক্তিশালী লোক এই অরাজকতার অবসান ঘটান। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বংশের নাম পালবংশ।
- পালবংশের রাজারা প্রায় চারশ বছর রাজত্ব করেন।
- এযুগে বাংলা একটি স্থিতিশীল ও ঐশ্বর্যশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

⇒ গোপালের পর তাঁর পুত্র ধর্মপাল সিংহাসনে বসেন।
- দেবপালের পর পাল সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রথম মহীপালের রাজত্বকালে পালবংশের গৌরব পুনরায় ফিরে আসে।
- দ্বিতীয় মহীপাল ও রামপালের রাজত্বকালে বরেন্দ্র অঞ্চলে কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। রামপাল কৈবর্ত বিদ্রোহ দমন করে বরেন্দ্র অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেন। তিনি পালবংশের শেষ মুকুটমণি।
- অবশেষে সেনবংশের উত্থানের মধ্য দিয়ে পাল শাসনের অবসান ঘটে।

⇒ পাল রাজারা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী ছিলেন। পালযুগে বৌদ্ধ ধর্ম প্রসার লাভ করেছিল তিববত, জাভা, সুমাত্রা ও মালয়েশিয়াতে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৪৭.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হিসেবে কোন পত্রিকা প্রকাশিত হয়?
  1. জয়বাংলা
  2. বাংলাদেশ
  3. আজাদ
  4. মুক্তির ডাক
সঠিক উত্তর:
জয়বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়বাংলা
ব্যাখ্যা
সাপ্তাহিক জয়বাংলা পত্রিকা:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পত্র-পত্রিকা প্রকাশ করা হয়।
- গণমাধ্যম হিসেবে মূল্যবান অবদান রেখেছে এসব পত্র-পত্রিকা।
- সে সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হিসেবে প্রকাশিত হয় 'সাপ্তাহিক জয়বাংলা'।
- আব্দুল মান্নান এম.এন.এ. ছিলেন এর সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি এবং জিল্লুর রহমান এম.এন.এ. ছিলেন প্রধান সম্পাদক।
- ১১ মে থেকে ১৬ ডিসেম্বর এটি প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- বহিঃবিশ্বে জনমত গঠনের উদ্দেশ্যে মুজিবনগর সরকার Bangladesh (বাংলাদেশ) নামক একটি পত্রিকা প্রকাশ করে।
- গেরিলা আক্রমণ ও সম্মুখ সমরসহ মুক্তিযোদ্ধাদের নানা ধরনের তৎপরতার খবরের পাশাপাশি এই পত্রিকাগুলোতে থাকতো বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রম ও নির্দেশাবলী, রাজনৈতিক দল ও নেতৃবৃন্দের বিবৃতি ও তৎপরতা, প্রবাসী বাঙালিদের সংগঠন ও আন্দোলনের খবর এবং বাঙালি কুটনীতিকদের কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণী।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৪৮.
দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য সরাসরি জানাতে চালুকৃত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হটলাইন -
  1. ১০৬
  2. ১০৩
  3. ৩৩৩
  4. ৯৯৯
সঠিক উত্তর:
১০৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০৬
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য সরাসরি জানাতে এখন থেকে চালু হলো দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হটলাইন ‘১০৬’। বিনা খরচে এবং যে কোন মোবাইল বা টেলিফোন থেকে এই নাম্বারে কল করে দুদককে দুর্নীতির তথ্য, অভিযোগ জানানো যাবে।অফিস চলাকালীন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এই নম্বরে ফ্রি কল করে দুর্নীতির তথ্য জানানো যাবে।

বিভিন্ন সেবায় হটলাইন:
- ৯৯৯: বাংলাদেশের জরুরি কল সেন্টার। ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস। 
- ১০৬: দুর্নীতি দমন কমিশনের কল সেন্টার।
- ১৬৪৩০: সরকারি আইনি সহায়তা কল সেন্টার।
- ১৬১২৩: কৃষি বিষয়ক যে কোন পরামর্শ পেতে বিনামূল্যে কল করুন।
- ১০৯: নারী ও শিশু নির্যাতন অথবা পাচারের ঘটনা প্রতিরোধে কল সেন্টার।
- ১০৯৮: শিশু সহায়তামুলক কল সেন্টার।
- ৩৩৩: জাতীয় তথ্যবাতায়ন কল সেন্টার।
- ১৬২৬৩: বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য কল সেন্টার।
- ১৬১০৮: মানবাধিকার সহায়ক কল সেন্টার।
- ১৬২৫৬: আপনার ইউনিয়নের সকল তথ্য জানতে কল করুন ইউনিয়ন সহায়তামুলক কল সেন্টারে।
- ১৩১: বাংলাদেশ রেলওয়ে কল সেন্টার।
- ১০৫: জাতীয় পরিচয়পত্র তথ্য কল সেন্টার।
- ১০০: বিটিআরসি কল সেন্টার।
- ১৬৪২০: বিটিসিএল কল সেন্টার।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৬৪৯.
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানকে সাহায্য করতে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশ্যে কোন রণতরী প্রেরণ করেছিলো?
  1. ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড
  2. ইউএসএস তারাওয়া
  3. ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ
  4. ইউএসএস হ্যারি এস. ট্রুম্যান
সঠিক উত্তর:
ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানকে সাহায্য করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে উদ্দেশ্যে ‘টাস্কফোর্স-৭৪’ নামে একটি নৌবহর প্রেরণ করে।
- মার্কিন সপ্তম নৌবহরের ১২টি জাহাজের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স-৭৪ গঠন করা হয় যার নেতৃত্বে ছিলো তৎকালীন বিশ্বের সর্ববৃহৎ যুদ্ধজাহাজ বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ’
- কিন্তু ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের কঠিন অবস্থানের কারণে এই নৌবহর শেষ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করতে পারেনি।
(তথ্যসূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার আর্কাইভ)
২,৬৫০.
Question (43 to 57) : Choose the correct answer.
৪৩. The Sonakanda fort situated in the district of-
  1. Manshigonj
  2. Hajigonj
  3. Narayangonj
  4. Kushtia
সঠিক উত্তর:
Narayangonj
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Narayangonj
ব্যাখ্যা
সোনাকান্দা দুর্গ:
- সোনাকান্দা দুর্গ  শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বতীরে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দরে অবস্থিত একটি মুগল জলদুর্গ।
- হাজীগঞ্জ দুর্গের প্রায় বিপরীত দিকে এ দুর্গের অবস্থান।
- নদীপথে ঢাকার সাথে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ নদীপথগুলির নিরাপত্তা বিধানের জন্য মুগলগণ কতকগুলি জলদুর্গ নির্মাণ করেছিলেন, সোনাকান্দা দুর্গ তার অন্যতম।
- বন্দর উপজেলা সদর হতে ১.৫ কিঃ মিঃ দূরত্বে অবস্থিত এ দূর্গটি ঐতিহাসিক পুরাকীর্তির একটি নিদর্শণ।
- আনুমানিক ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান মীর জুমলা ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যা নদীতে জলদস্যুদের নিধন করার জন্য শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরবর্তী সোনাকান্দা এলাকায় এ দূর্গটি স্থাপন করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৬৫১.
৭ম শতাব্দীতে হিউয়েন সাং-এর দীক্ষাগুরু কে ছিলেন?
  1. অতীশ দীপঙ্কর
  2. শীলভদ্র
  3. কাহ্নপা
  4. মেগাস্থিনিস
সঠিক উত্তর:
শীলভদ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শীলভদ্র
ব্যাখ্যা
• নালন্দা মহাবিহার:
-  নালন্দা মহাবিহার সাত শতকে প্রসিদ্ধি অর্জনকারী বৌদ্ধ শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্র।
- বিহারের পাটনা থেকে ৮৫ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে এবং আধুনিক রাজগিরের ১১ কিমি উত্তরে অবস্থিত বড়গাঁও গ্রামের কাছে নালন্দার প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ রয়েছে।
- বাংলার ভৌগোলিক সীমানার বাইরে অবস্থিত হলেও নালন্দা মহাবিহারের সঙ্গে এতদঞ্চলের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল।
- গুপ্ত সম্রাটগণই নালন্দা মহাবিহারের নির্মাতা এবং সম্রাট প্রথম কুমারগুপ্তই সম্ভবত এক্ষেত্রে প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেন। 
- ফা-হিয়েন এর ভ্রমণ বিবরণীতে নালন্দায় বৌদ্ধ স্থাপনার কোন উল্লেখ না থাকায় এ বিষয়ে কিছুটা নিশ্চিত হওয়া যায়।
- সাত শতকের দিকে নালন্দা একটি শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি লাভ করে।
- চৈনিক তীর্থযাত্রী হিউয়েন-সাং পড়াশোনার জন্য এখানে কয়েক বছর অতিবাহিত করেন।
- তাঁর সময় থেকেই নালন্দা বিশিষ্ট পুরোহিতগণের তত্ত্বাবধানে শিক্ষা ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছিল।
- হিউয়েন-সাং-এর ভ্রমণের ৩০ বছরের মধ্যে ই-ৎসিঙ (৬৭৫ থেকে ৬৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ১০ বছর এখানে শিক্ষাগ্রহণ করেন) সহ কমপক্ষে ১১ জন কোরীয় ও চৈনিক তীর্থযাত্রীসহ বিশিষ্টজনেরা নালন্দা ভ্রমণ করেন বলে জানা যায়। 
- নালন্দার পন্ডিতগণ ছিলেন স্ব স্ব ক্ষেত্রে বিখ্যাত।
- হিউয়েন-সাং এবং ই-ৎসিঙ উভয়েই নালন্দার শিক্ষকগণের উচ্চ প্রশংসা করেছেন।
- হিউয়েন-সাং যখন নালন্দায় ছিলেন তখন বাঙালি বৌদ্ধ ভিক্ষু শীলভদ্র ছিলেন - এর অধ্যক্ষ।
- শীলভদ্র ছিলেন সর্বপ্রথম বাঙালি বৌদ্ধ শিক্ষক যিনি বাংলার বাইরে এরূপ দুর্লভ সম্মান অর্জন করেন।
- হিউয়েন-সাং নিজেও শীলভদ্রের একজন ছাত্র ছিলেন।
- পরবর্তী পাল রাজাদের দলিলপত্রেও বিভিন্ন প্রসঙ্গে নালন্দার উল্লেখ পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৬৫২.
মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন কে?
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. তাজউদ্দিন আহমেদ
  3. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
  4. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দিন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার: 
- ১০ই এপ্রিল ১৯৭১ নির্বাচিত সাংসদগণ আগরতলায় একত্রিত হয়ে এক সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে সরকার গঠন করেন।
- এই সরকার স্বাধীন সার্বভৌম "গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার"।
- স্বাধীনতার সনদ (Charter of Independence) বলে এই সরকারের কার্যকারিতা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত হয়।
- ১৭ই এপ্রিল ১৯৭১ মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামে বৈদ্যনাথ তলায় "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার" আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন।
- রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির এই সরকারের মন্ত্রী পরিষদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পীকার অধ্যাপক ইউসুফ আলী।

যে সমস্ত নেতৃবৃন্দকে নিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয় তাঁরা হলেন: 
১। রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (পাকিস্তানে বন্দী)
২। উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি)
৩। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ (প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত)
৪। অর্থমন্ত্রী ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত)
৫। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ (আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত)
৬। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম কামরুজ্জামান (ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত)

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
২,৬৫৩.
খান জাহান আলী সেতু কোন নদীর উপর নির্মিত হয়েছে?
  1. রুপসা নদী
  2. আত্রাই নদী
  3. ইছামতি নদী
  4. তিস্তা নদী
সঠিক উত্তর:
রুপসা নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুপসা নদী
ব্যাখ্যা
খান জাহান আলী সেতু:
- খানজাহান আলী সেতু রূপসা নদীর উপর নির্মিত একটি সেতু।
- এটি রূপসা সেতু নামেও পরিচিত।
- এই সেতুর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো দুই প্রান্তে দুটি করে মোট চারটি সিড়ি রয়েছে যার সাহায্যে মূল সেতুতে উঠা যায়।
- রূপচাঁদ সাহার কাটা খালটি আজ বিশাল রূপসা নদী।
- যা দেখে জীবনানন্দ দাশ মুগ্ধ হয়ে লিখেছিলেন ‘রূপসার ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক সাদা ছেড়া পালে ডিঙ্গা বায়; রাঙা মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে’রূপসা নদীর ওপর একটি সেতু হয়েছে লোকে বলে রূপসা সেতু।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৬৫৪.
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. সিলেট
  2. হবিগঞ্জ
  3. চট্টগ্রাম
  4. ফেনী
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার:
- ভারতের ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নারী মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রথম শহীদ বিপ্লবী নারী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।
- ১৯১১ সালের ৫ মে চট্টগ্রামের বর্তমান পটিয়া উপজেলার ধলঘাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ইডেন কলেজে ছাত্রী থাকাকালে প্রীতিলতা লীলা নাগের নেতৃত্বাধীন দীপালি সংঘের অন্তর্ভুক্ত শ্রীসংঘের সদস্য ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে সমগ্র বাংলা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিপ্লবী হয়ে ওঠে।
- প্রথম মহিলা সদস্য হিসেবে প্রীতিলতা যোগ দেন সূর্যসেনের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী দলের সঙ্গে।
- ১৯৩২ সালে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণে প্রীতিলতার ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
- প্রীতিলতার নেতৃত্বে বিপ্লবীরা ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ করে।
- ওই সময়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হলে তাত্ক্ষণিকভাবে পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মাহুতি দেন।
- তাঁর আত্মদান বিপ্লবীদের সশস্ত্র সংগ্রামে আরো উজ্জীবিত করে তোলে।
- পাহাড়তলীর ইউরোপিয়ান ক্লাবটি এখন ‘বীরকন্যা প্রীতিলতা জাদুঘর’ নামে পরিচিত।

উৎস: ৩ নভেম্বর, ২০২১, কালের কন্ঠ।
২,৬৫৫.
জাতীয় চার নেতার অন্তর্ভূক্ত নয় -
  1. ক) এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান
  2. খ) এ. কে. ফজলুল হক
  3. গ) ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
খ) এ. কে. ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
- ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর গভীর রাতে ১৫ই আগস্ট হত্যাকাণ্ডের খুনিচক্র সেনাসদস্যরা দেশত্যাগের পূর্বে খন্দকার মোশতাকের অনুমতি নিয়ে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে সেখানে বন্দি অবস্থায় থাকা মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতা— সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী ও এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামানকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
- এ হত্যাকাণ্ড ছিল ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত, স্বাধীনতাবিরোধী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর সম্মিলিত ষড়যন্ত্র ও নীলনক্সার বাস্তবায়ন।
- ১৫ ই আগস্ট ও ৩রা নভেম্বরের হত্যাকাণ্ড একই গোষ্ঠী সংঘটিত করে।
- উভয় হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের অর্জনসমূহ ধ্বংস ও দেশকে নেতৃত্বশূন্য করে পাকিস্তানি ভাবাদর্শ প্রতিষ্ঠা করা। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬৫৬.
খড়ক বংশের রাজা রাজভট্টের রাজধানী -
  1. ক) কর্মান্তবাসক
  2. খ) পাটালিপুত্র
  3. গ) পুন্ড্রনগর
  4. ঘ) কর্ণসুবর্ণ
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মান্তবাসক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কর্মান্তবাসক
ব্যাখ্যা

 চৈনিক পরিব্রাজক শ্রমণ শেং চি সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে এ অঞ্চল পরিভ্রমণ করার সময় রাজভট্ট ছিলেন সমতটের শাসক। এই রাজভট্টই খড়গ বংশের রাজা রাজভট্ট নামে পরিচিত। 
- রাজা রাজভট্টের রাজধানী (জয়স্কন্ধবার) ছিল কর্মান্তবাসক, কুমিল্লার সন্নিকটে বড় কামতার সঙ্গে যাকে অভিন্ন বলে শনাক্ত করা হয়েছে। 
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে কৈলাণ থেকে উদ্ধারকৃত শ্রীধারণ রাতের তাম্রশাসনে রাজাকে ‘সমতটেশ্বর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যার রাজধানী ছিল দেবপর্বত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,৬৫৭.
নিচের কোন নেতা চার খলিফার অর্ন্তভূক্ত নন?
  1. ক) আ. স. ম. আব্দুর রব
  2. খ) এ কে খন্দকার
  3. গ) আব্দুল কুদ্দুস মাখন
  4. ঘ) নুরে আলম সিদ্দিকী
সঠিক উত্তর:
খ) এ কে খন্দকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এ কে খন্দকার
ব্যাখ্যা

- বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১ মার্চ “স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ” গঠিত হয় ।
“স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ” - এর সদস্যগণ হলেন -

১. নুরে আলম সিদ্দিকী (সভাপতি, ছাত্রলীগ)
২. শাজাহান সিরাজ (সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগ)
৩. আ. স. ম. আব্দুর রব (সহ-সভাপতি, ডাকসু)
৪. আব্দুল কুদ্দুস মাখন (সাধারণ সম্পাদক, ডাকসু)
- এই ৪ ছাত্র নেতাকে মুক্তিযুদ্ধের ৪ খলিফা বলা হত।
- মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন - এ কে খন্দকার।

উৎস:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন , প্রফেসর মোজাম্মেল হক এবং নবম - দশম শ্রেণীর বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৫৮.
“ইন্ডিয়া এ্যাক্ট” আইন কবে পাস হয়?
  1. ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৭৮৬ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• ইন্ডিয়া এ্যাক্ট (১৭৮৪ খ্রি:):
 - রেগুলেটিং এ্যাক্ট-এর ভুলত্রুটি সংশোধনের জন্য ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম পিট একটি আইন পাস করেন যা ইতিহাসে ‘পিট এর ইন্ডিয়া এ্যাক্ট’ নামে পরিচিত।
- এ আইন দ্বারা পার্লামেন্ট উপমহাদেশ শাসনের সকল ক্ষমতা গ্রহণ করে।
- এ আইনের বলে ব্রিটিশ সরকারের নিযুক্ত ৬ জন এবং ইংল্যান্ডের মন্ত্রী সভার ১ জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত ‘বোর্ড অফ কন্ট্রোল’ এর উপর উপমহাদেশ শাসন ও পর্যবেক্ষণের ভার অর্পিত হয়। গভর্নর জেনারেলের ক্ষমতা বাড়ানো হয়। সুপ্রীম কোর্টের ক্ষমতা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়।
- এছাড়া, কোম্পানির তিনজন ডাইরেক্টর নিয়ে একটি ‘সিক্রেট কমিটি’ও গঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৫৯.
কৌলীন্য প্রথা প্রবর্তন করেন কে?
  1. হেমন্ত সেন
  2. লক্ষ্মণ সেন
  3. বল্লাল সেন
  4. বিজয় সেন
সঠিক উত্তর:
বল্লাল সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা
- বল্লাল সেন ছিলেন বাংলার সেন বংশের তৃতীয় শাসক। তিনি ১১৬০ সাল থেকে ১১৭৮ সাল পর্যন্ত রাজত্ব করেন।
- বল্লাল সেন তন্ত্র হিন্দুধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। ফলে তার রাজত্বকালে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের প্রসার ঘটে।
- হিন্দু সমাজকে নতুন করে গঠন করার উদ্দেশ্যে তিনি কৌলীন্য প্রথা প্রবর্তন করেন। কৌলীন্য প্রথার ফলে ব্রাহ্মণরা হিন্দু সমাজে অধিকতর সামাজিক মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী হন। তবে কিছু সূত্রমতে কৌলীন্য প্রথার উদ্ভব ঘটে পাল আমলে।
- বল্লাল সেন অত্যন্ত সুপণ্ডিত ছিলেন। দানসাগর ও অদ্ভুতসাগর তার রচিত দুটো গ্রন্থ।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
২,৬৬০.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা কত দিন ক্ষমতায় ছিল?
  1. ১৪ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৪২ দিন
  4. ৫৬ দিন
সঠিক উত্তর:
৫৬ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫৬ দিন
ব্যাখ্যা

- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিল। 

যুক্তফ্রন্ট: 
- যুক্তফ্রন্ট ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর গঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- নির্বাচনী ইশতেহার ছিল ২১ দফা।
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা পূর্ব বাংলার আইনসভার নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল ক্ষমতায় আসে।
- নির্বাচনে ৩০৯টি আসনের মধ্যে ২২৩টি আসনে জয়লাভ করেছিল তারা।
- যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠনের মাত্র ৫৬ দিন পর, ১৯৫৪ সালের ৩০ মে তৎকালীন পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ এই সরকার ভেঙে দেন এবং পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রীয় শাসন জারি করেন। 
- যুক্তফ্রন্ট সরকার মাত্র ৫৬ দিন বা প্রায় দুই মাস ক্ষমতায় ছিল। 

সূত্র: ইতিহাস, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৬১.
বাংলাদেশ ও কোন দেশের যৌথ উদ্যোগে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হয়?
  1. জাপান
  2. ভারত
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. চীন
সঠিক উত্তর:
চীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চীন
ব্যাখ্যা
- পটুয়াখালী জেলা কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী এলাকা অবস্থিত কয়লাভিত্তিক পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়।
- বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের অধীনে নির্মিত কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা ১,৩২০ মেগাওয়াট।
- কেন্দ্রটি নির্মাণে মোট ব্যয় হয় ২.৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যার মধ্যে ১.৯৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ প্রদান করে চীনের এক্সিম ব্যাংক।
- ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর এটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
(সূত্র: বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড ও ডেইলি স্টার)
২,৬৬২.
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী নিধনযজ্ঞ সরাসরি নেতৃত্বে দিয়েছিলেন কে?
  1. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজীর
  2. জেনারেল টিক্কা খান
  3. ইয়াহিয়া খান
  4. রাও ফরমান আলী
সঠিক উত্তর:
রাও ফরমান আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাও ফরমান আলী
ব্যাখ্যা

বুদ্ধিজীবী হত্যা :
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি বুদ্ধিজীবী নিধন ইতিহাসের নৃশংসতম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ। 
- বুদ্ধিজীবী হত্যা স্পষ্টতই ছিল সামরিক জান্তার নীলনকশার বাস্তবায়ন। 
- নীলনকশার লক্ষ্য ছিল বুদ্ধিজীবীদের নিশ্চিহ্ন করে বাঙালি জাতিকে নেতৃত্বহীন এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়ায় পরিণত করা। 
- বুদ্ধিজীবী নিধনের নীলনকশা পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর নেতৃত্বে অন্যূন দশ জনের একটি কমিটি কর্তৃক প্রণীত হয়।
- ১৪ ডিসেম্বরের নিধনযজ্ঞ সরাসরি রাও ফরমান আলী কর্তৃক পরিচালিত হয়।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর গভর্নর হাউজে ফেলে যাওয়া রাও ফরমান আলীর ডায়েরীর পাতায় বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের একটি তালিকা পাওয়া যায় (যাঁদের অধিকাংশই ১৪ ডিসেম্বরে নিহত হন)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,৬৬৩.
আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে মুসলিম শব্দ বাদ দেওয়া হয় কবে?
  1. ক) ১৯৫৩ সালে
  2. খ) ১৯৫৫ সালে
  3. গ) ১৯৫৭ সালে
  4. ঘ) ১৯৬০ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৫৫ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৫৫ সালের ২১ শে অক্টোবর আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দ বাদ দেওয়া হয়। অসাম্প্রদায়িক চেতনার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তা করা হয়। একই কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয়বারের মতো আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। (সূত্রঃ অসমাপ্ত আত্মজীবনী)
২,৬৬৪.
কোন মুঘল সম্রাটকে পরাজিত করে শের খান ‘শের শাহ’ উপাধি ধারন করেন?
  1. ক) মুঘল সম্রাট বাবর
  2. খ) মুঘল সম্রাট আকবর
  3. গ) মুঘল সম্রাট শাহজাহান
  4. ঘ) মুঘল সম্রাট হুমায়ন
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুঘল সম্রাট হুমায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুঘল সম্রাট হুমায়ন
ব্যাখ্যা

- শেরশাহ বিহারের শাসনকর্তা বাহারাম খানের অধীনে কর্মরত থাকাকালীন নিজগুণে তাঁর আস্থা অর্জনে সক্ষম হন। এ সময় একটি বাঘ হত্যা করে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিলে ফরিদ ‘শের খান’ উপাধিতে ভূষিত হন।
- পরবর্তীকালে চৌসার যুদ্ধে সম্রাট হুমায়ুনকে পরাজিত করে ‘শেরশাহ’ উপাধি ধারণ করে দিল্লির সিংহাসনে বসেন তিনি ।
- ১৫৪১ খ্রিস্টাব্দে শেরশাহ বাংলা আক্রমণ করে বাংলার সুলতান খিজির খানকে পরাজিত ও বিতাড়িত করেন।
- বাংলায় যাতে বিদ্রোহ সংঘটিত হতে না পারে সে জন্য তিনি বাংলাকে ১৯টি সরকারে বিভক্ত করে প্রত্যেকটির শাসনভার একজন আমিনের উপর ন্যস্ত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেনী ও বাংলাপিডিয়া।

২,৬৬৫.
প্রাচীন বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজ্য কোনটি?
  1. গৌড়
  2. পুন্ড্র
  3. রাঢ়
  4. বরেন্দ্র
সঠিক উত্তর:
গৌড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌড়
ব্যাখ্যা
গৌড় রাজ্য:
- প্রাচীন বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজ্য গৌড় রাজ্য।
- খ্রিস্টপূর্ব ৭৩০ অব্দে মালদহ অঞ্চলে ভোজ বংশীয় গৌড় নামক জনৈক ব্যক্তি যে রাজ্যের পত্তন করেছিলেন কালক্রমে তাই গৌড় রাজ্য নামে পরিচিত হয়।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল গৌড় রাজ্যের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ - পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে গৌড়ের নাম লখনৌতি (প্রদেশের নামে) পরিচিতি পায়।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৬৬.
১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে ছিলেন?
  1. বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  2. বিচারপতি এবি সিদ্দিকি
  3. বিচারপতি এসএম হুদা
  4. বিচারপতি আব্দুস সাত্তার
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি আব্দুস সাত্তার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি আব্দুস সাত্তার
ব্যাখ্যা

১৯৭০ সালের নির্বাচন:
- নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।
- ১৯৭০ সালের ১ জানুয়ারি সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
- ফলে সেদিন থেকেই নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু হয়।
- নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য ৭ টি নারী আসনসহ মোট বরাদ্দকৃত আসন ছিল ১৬৯ টি।
- বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল সবকয়টি আসনে প্রার্থী দাঁড় করাতে পারেনি।
- জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে দুটি রাজনৈতিক দল প্রধান হয়ে দেখা দেয়।
- নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন আওয়ামী লীগ লাভ করে।
- বাকি ২টি আসনের ১টি পায় পিডিপি (পাকিস্তান ডেমোক্রাটিক পার্টির নূরুল আমিন।
- তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ববাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।
- অপরটি পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় (স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে)।
- ১০ দিন পর অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮টি আসন লাভ করে।
- অপরপক্ষে জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) পশ্চিম পাকিস্তানে ১৪৪টি আসনের মধ্যে ৮৮টি আসন লাভ করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,৬৬৭.
মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) তাজউদ্দীন আহমদ
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) এএইচএম কামরুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
খ) তাজউদ্দীন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় যা ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে।
মুজিবনগর সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দীন আহমদ।
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী : এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ-পুনর্বাসন ও কৃষি মন্ত্রী : এ. এইচ. এম. কামরুজ্জামান।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৬৬৮.
ঔষধ নীতির প্রধান উদ্দেশ্য হলো-
  1. অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষতিকর ঔষধ প্রস্তুত বন্ধ করা
  2. ঔষধ শিল্পে দেশীয় কাঁচামালের ব্যবহার নিশ্চিত করা
  3. ঔষধ শিল্পে দেশীয় শিল্পপতিদের অগ্রাধিকার দেয়া
  4. বিদেশী শিল্পপতিদের দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহারে বাধ্য করা
সঠিক উত্তর:
অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষতিকর ঔষধ প্রস্তুত বন্ধ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষতিকর ঔষধ প্রস্তুত বন্ধ করা
ব্যাখ্যা

তৎকালীন সাম্প্রতিক প্রশ্ন।

- ১৯৮২ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় ঔষধ নীতি প্রণয়ন করা হয়েছিল । 
- এরপর ২০০৫ সালে এই নীতি নবায়ন করা হয় এবং ২০১৬ সালে আবার এই জাতীয় ঔষধ নীতি নবায়ন করা হয়েছে।
প্রথম ঔষধ নীতি অনুসারে ,
[ঔষধ নীতির প্রধান উদ্দেশ্য হলো- অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষতিকর ঔষধ প্রস্তুত বন্ধ করা] উত্তর গ্রহণ করা হয়েছে। 
-------------------- 

• "জাতীয় ঔষধ নীতি, ২০১৬”: 

১. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ক), ১৫(ঘ) ও ১৮(১) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের বিষয়ে জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
২. এক সময় যেখানে চাহিদার প্রায় ৮০% ঔষধ আমদানি করা হত সেখানে বর্তমানে ৯৭% এরও অধিক ঔষধ দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত গুণগতমানসম্পন্ন ঔষধ এখন বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশসহ ১১৩টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
৩. বঙ্গবন্ধু দেশে মানসম্মত ওষুধের উৎপাদন বাড়ানো এবং এ শিল্পকে সহযোগিতা ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে 'ঔষধ প্রশাসন পরিদপ্তর' গঠন করেন।
৪. ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সরকার প্রথম জাতীয় ঔষধনীতি প্রণয়ন করে। 

জাতীয় ঔষধনীতির লক্ষ্যসমূহ:
১। জনগণ যাতে নিরাপদ, কার্যকর ও মানসম্পন্ন ঔষধ সহজে ক্রয়সাধ্য মূল্যে পেতে পারে তা নিশ্চিত করা।
২। ঔষধের যৌক্তিক ও নিরাপদ ব্যবহার এবং সুষ্ঠু পরিবেশন ব্যবস্থা (Dispensing) নিশ্চিত করা।
৩। স্থানীয় সকল পদ্ধতির ঔষধ প্রস্তুতকারী শিল্পসমূহকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সেবা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা, যাতে মানসম্পন্ন ঔষধ ও ঔষধের কাঁচামাল উৎপাদনের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়।
৪। দেশের উৎপাদিত ঔষধের রপ্তানি বৃদ্ধি করা।
৫। ঔষধের কার্যকর নজরদারী (Surveillance) ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

উৎসঃ dgda.gov.bd, জাতীয় ঔষধনীতি-২০১৬। 

২,৬৬৯.
বাংলার সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রাচীন দূর্গনগরী কোনটি?
  1. মহাস্থানগড়
  2. ময়নামতি
  3. পাহাড়পুর
  4. উয়ারী বটেশ্বর
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা
মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
- পূর্বে মহাস্থানগড়ের নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- বগুড়া শহর হতে ১৫ কিঃমিঃ দূরে পুণ্ড্রবর্ধনের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই মহাস্থানগড়।
- মহাস্থানগড় সমগ্র বাংলার সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রাচীন এ দূর্গনগরী।
- সমগ্র বাংলার সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রাচীন এ দুর্গ নগরী ইটের বেষ্টনী প্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত যা উত্তর দক্ষিনে ১৫২৫ মিঃদীর্ঘ এবং পূর্ব পশ্চিমে ১৩৭০মিঃ প্রশস্থ ও চতুপার্শ্বস্থ সমতল ভূমি হতে ৫মিঃ উঁচু।
- কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত এ স্থান পরাক্রমশালী মৌর্য, গুপ্ত এবং পাল শাসকবর্গের প্রাদেশিক রাজধানী ও পরবর্তীকালে হিন্দু সমান্ত রাজাগণের রাজধানী ছিল।
- বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হয়েন সাঙ ভারতবর্ষ ভ্রমণকালে (৬৩৯-৬৪৫) পুন্ড্রনগর পরিদর্শন করেন।

তথ্যসূত্র - বগুড়া জেলা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
২,৬৭০.
বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা ঘটে কবে?
  1. ১৩২৮ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৩৩৩ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা ঘটে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে।

সুলতানি আমল:

- ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির মাধ্যমে ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হলে বাংলার ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা হয়।
- এরপর থেকে ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা মুসলিম শাসনাধীনে ছিল।
- বখতিয়ারের বাংলা বিজয়ের পর থেকে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত যেসব খলজি মালিক, তুর্কি শাসক ও বলবনী শাসকগণ বাংলা শাসন করেছেন তাদের অনেকেই পুরোপুরি স্বাধীন ছিলেন না, বরং তাঁরা দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত হতেন।
- কিন্তু দিল্লি থেকে বাংলা দূরবর্তী স্থানে হওয়ায় তাঁদের অনেকেই সুযোগ পেলেই স্বাধীনতার জন্য দিল্লির সুলতানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন।
- এজন্য বাংলাকে বুলঘাকপুর বা বিদ্রোহের নগরীও বলা হত।

উল্লেখ্য,
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাঁও-এ স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেন।
- ১৩৩৮ থেকে ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় দু'শ বছর ধরে বাংলাদেশ অবিচ্ছিন্নভাবে স্বাধীনতা ভোগ করেছিল।
- বাংলার এই স্বাধীন সুলতানি যুগে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ, ইলিয়াস শাহী বংশ, রাজা গণেশের বংশ, হাবশি সুলতান এবং পরবর্তীতে হোসেন শাহী বংশের শাসকগণ বাংলা শাসন করেছেন।
- এ সময় বাংলার সুলতানগণ বাংলায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা, শিক্ষাসংস্কৃতির উৎকর্ষ সাধন, জনকল্যাণকামী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছেন।
- তাই দু'শ বছরের এ স্বাধীন যুগটিকে বাংলার গৌরবময় যুগ বলা হয়।

এছাড়াও,
- ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ সোনারগাঁওকে স্বাধীন বাংলার প্রথম রাজধানী করেন।
- জালালউদ্দিন মাহমুদ শাহ তার রাজধানী গৌড়ে স্থানান্তরিত করেন।
- আলাউদ্দিন হোসেন শাহ সিংহাসনে আরোহণ করে রাজধানী গৌড় থেকে একডালাতে স্থানান্তরিত করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৭১.
ওলন্দাজরা কোন যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়?
  1. প্লাসি যুদ্ধ
  2. বিদরার যুদ্ধ
  3. পতিয়ালার যুদ্ধ
  4. বক্সারের যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
বিদরার যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদরার যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

ওলন্দাজ ও দিনেমার:
- হল্যান্ডের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয়।
- তারা 'ডাচ ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে বাণিজ্যের উদ্দেশে ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে উপমহাদেশে আসে।
- তারা কালিকট, নাগাপট্টম, বাংলার চুঁচুড়া, বাকুড়া, বলাসোর, কাশিমবাজার এবং বরানগরে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- কিন্তু অপর ইউরোপীয় শক্তি ইংরেজদের সঙ্গে তাদের ব্যবসায়-বাণিজ্য নিয়ে বিরোধ শুরু হয় এবং একই সঙ্গে তারা বাংলার শাসকদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে।
- ১৭৫৯ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজরা বিদরার যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।
- ফলে ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে শেষ পর্যন্ত সকল বাণিজ্যকেন্দ্র গুটিয়ে তারা এদেশ ত্যাগে বাধ্য হয়।

⇒ ওলন্দাজদের মতোই দিনেমার বা ডেনমার্কের অধিবাসী একদল বণিক বাণিজ্য করার জন্য 'ডেনিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে।
- ১৬২০ খ্রিস্টাব্দে তারা দক্ষিণ ভারতের ত্রিবান্ধুর এবং ১৬৭৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলার শ্রীরামপুরে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- কিন্তু এদেশে লাভজনক ব্যবসা করতে ব্যর্থ হয়ে ১৮৪৫ খ্রিস্টাব্দে বাণিজ্যিক সফলতা ছাড়াই দিনেমাররা এদেশ ত্যাগ করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৭২.
'দিওয়ান-ই-খাস' কোন মুঘল সম্রাটের আমলের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম কীর্তি?
  1. বাবর
  2. শাহজাহান
  3. আকবর
  4. হুমায়ুন
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
ব্যাখ্যা
সম্রাট শাহজাহান:
- ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দের ৪ ফেব্রুয়ারি 'আবুল মুজাফফর শিহাব উদ্দিন মুহাম্মদ শাহজাহান বাদশাহ গাজী' উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।
- তাঁর ত্রিশ বছরের রাজত্বকালে মোগল সাম্রাজ্য গৌরবের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিল।
- সমরকুশলী হিসেবে সম্রাট শাহজাহান দক্ষতার পরিচয় দেন।
- মোগল আধিপত্য বিস্তারেও তিনি বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দেন।
- তাঁর আমলে আহমদনগর, বিজাপুর, গোলকুণ্ডায় মোগল আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তিনি পর্তুগিজদের দমন করে হুগলী দখল করেন।
- সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে সর্বপ্রথম পশ্চিম এশিয়ার এবং ইউরোপের সাথে ভারতবর্ষের বহির্বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
- সম্রাট শাহজাহান ছিলেন সৌন্দর্য পিপাসু শিল্পমনা মানুষ।
- The Prince of Builder নামে খ্যাত সম্রাট শাহজাহানের আমলে মোগল শিল্প ও স্থাপত্যের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- সম্রাটের স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর নির্মিত স্মৃতিসৌধ তাজমহল বিশ্বের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম একটি নিদর্শন।
- তাজমহলকে ঐতিহাসিক হ্যাভেল ভারতের 'ভেনাস দ্যা মিলো' নামে আখ্যায়িত করেছেন।
- এছাড়া মতি মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস, জামে মসজিদ তাঁর আমলের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম কীর্তি।
- শাহজাহানের ময়ূর সিংহাসন তাঁর শিল্পানুরাগের এক অপূর্ব নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৭৩.
'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়' গানটির সুরকার কে?
  1. ক) আলতাফ মাহমুদ
  2. খ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  3. গ) আবদুল লতিফ
  4. ঘ) ড. মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষিত রচিত সাহিত্যকর্ম:
- আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচনা করেন ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি'।
- সঙ্গীতশিল্পী আবদুল লতিফ রচনা ও সুর করেন 'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়' এবং ‘তোরা ঢাকা শহর রক্তে ভাসাইলি'র মতো সঙ্গীত।
- 'সালাম সালাম হাজার সালাম' গীতিকার-ফজলে খোদা; শিল্পী-আব্দুল জব্বার।
- ড. মুনীর চৌধুরী জেলে বসে রচনা করেন 'কবর' নাটক।
- জহির রায়হান রচনা করেন ‘আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বাংলায় শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি
২,৬৭৪.
মুক্তিযুদ্ধে কুষ্টিয়া কত নং সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ক) ৫ নং সেক্টর
  2. খ) ৬ নং সেক্টর
  3. গ) ৯ নং সেক্টর
  4. ঘ) ৮ নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮ নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সামরিক কৌশল হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র ভৌগোলিক এলাকাকে ১১টি সেক্টর বা রণাঙ্গনে ভাগ করা হয়। 
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার (অধিনায়ক) নিয়োগ করা হয়।
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য প্রতিটি সেক্টরকে কয়েকটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।
- ৮ নং সেক্টর এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।
- এই সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল কল্যানীতে।
- সেক্টরের সৈন্যদের মধ্যে ৩০০০ ছিল নিয়মিত বাহিনী এবং ২৫০০০ গেরিলা সৈন্য।  

উৎস: বাংলাপিডিয়া,  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৭৫.
ছয় দফার কত নং দফাটি পররাষ্ট্র সংক্রান্ত?
  1. ক) চতুর্থ
  2. খ) দ্বিতীয়
  3. গ) পঞ্চম
  4. ঘ) তৃতীয়
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিতীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্বিতীয়
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে '৬ দফা দাবি' পেশ করেন।
• আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করা হয় লাহোর প্রস্তাবের সাথে মিল রেখে ২৩ মার্চ।
• ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালিদের অধিকারের সনদ যার মধ্যে বাঙালিদের জীবনের দাবি নিহিত ছিল। নিম্নে ছয় দফা কর্মসূচি উল্লেখ করা হল।

১। শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি: ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচিত হবে। 

২। পররাষ্ট্র সংক্রান্ত: বৈদেশিক সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা ছাড়া সকল বিষয় অঙ্গরাষ্ট্র বা প্রদেশের হাতে ন্যস্ত থাকবে। বৈদেশিক সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা বিষয় ন্যস্ত থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে।

৩। অর্থ ও মুদ্রা: দেশের দুই অঞ্চলের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু করার ব্যবস্থা থাকবে। এ রকম ব্যবস্থা চালু সম্ভব না হলে দুই অঞ্চলের জন্য একই মুদ্রা থাকবে, তবে সংবিধানে এমন ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে এক অঞ্চলের মুদ্রা অন্য অঞ্চলে পাচার না হতে পারে।

৪। শুল্ক সম্বন্ধীয়: সকল প্রকার ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য এবং আদায়ের ক্ষমতা প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক সরকারের হাতে থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় নিবার্হের জন্য আদায়কৃত অর্থের একটা অংশ কেন্দ্রীয় সরকার পাবে।

৫। বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা: বৈদেশিক মুদ্রার ওপর প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। 

৬। আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা: আঞ্চলিক সংহতি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যগুলো আধা-সামরিক বাহিনী বা মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করতে পারবে। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৭৬.
'দানসাগর' নামক গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. হেমন্ত সেন
  2. বল্লাল সেন
  3. বিজয় সেন
  4. লক্ষণ সেন
সঠিক উত্তর:
বল্লাল সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা
বল্লাল সেন:
- বাংলার পাল যুগের অবসানের পর বার শতকের দ্বিতীয় ভাগে সেন শাসনের সূচনা হয়।
- বাংলায় সেনবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হেমন্ত সেন।
- হেমন্ত সেনের পুত্র বিজয় সেন ১০৯৮ সাল থেকে ১১৬০ সাল পর্যন্ত বাংলায় রাজত্ব করেন।
- বাংলাদেশে বিজয় সেনের সময়ই সেনবংশের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- বিজয় সেনের মৃত্যুর পর আনুমানিক ১১৬০ সালে তার পুত্র বল্লাল সেন সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি রাজ্য জয়ের চেয়ে দেশের ভেতরে উন্নয়ন, নতুন প্রথা চালু ও সংস্কারের কাজে অধিকতর মনোযোগী ছিলেন।
- তবে তিনি গোবিন্দপালকে পরাজিত করে মগধের পূর্বাঞ্চল অধিকার করেন। কথিত আছে যে, বল্লাল সেন তাঁর পিতার রাজত্বকালে মিথিলা জয় করেন।
- বল্লাল সেন বিদ্যান ও বিদ্যোৎসাহী রাজা ছিলেন।
- তিনি ব্রতসাগর, আচারসাগর, প্রতিষ্ঠাসাগর, দানসাগর ও অদ্ভুতসাগর নামে পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৭৭.
১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে কে শহিদ হয়েছিলেন?
  1. আবদুল মতিন
  2. ওয়াজিউল্লাহ
  3. জহিরুল হক
  4. রফিকউদ্দিন 
সঠিক উত্তর:
ওয়াজিউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াজিউল্লাহ
ব্যাখ্যা

• বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন:
- ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের মূলে ছিল শরিফ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট।
- এই কমিশন গঠিত হয়েছিল আইয়ুবের সামরিক শাসন জারির পরপর, ৩০ ডিসেম্বর ১৯৫৮।
- কমিশনের প্রধান ছিলেন তৎকালীন শিক্ষাসচিব ড. এস এম শরিফ।
- এই কারণে রিপোর্টটি শরিফ কমিশন রিপোর্ট নামেই পরিচিতি পেয়েছে।
- কমিশন রিপোর্ট দাখিল করেছিল আট মাসের মাথায় ২৬ আগস্ট ১৯৫৯।

⇒ ক্ষমতায় এসেই আইয়ুব খান (অক্টোবর ১৯৫৮) সামরিক শাসন জারি করেছিলেন, এ সময় সব ধরনের রাজনীতি ছিল নিষিদ্ধ।
- ছাত্ররাজনীতি স্থায়ীভাবে নিষেধ করার মধ্যে সবাই আইয়ুবের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার মতলব আঁচ করেছিলেন।

 উল্লেখ্য,
- কমিশনের চেয়ারম্যান ড. শরিফ আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে আইয়ুবের শিক্ষক ছিলেন।
- ১৯৫৯ সালে শরিফ কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশিত হলে পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
- তবে সামরিক আইন জারি থাকায় তখন আন্দোলন তেমন জোরদার হতে পারেনি।
- ১৯৬২ সালে সামরিক আইন প্রত্যাহার হওয়ায় শিক্ষা কমিশন রিপোর্টবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ব্যাপকতা লাভ করে।
- আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে ১৪৪ ধারার মধ্যে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রদেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করা হয়।
- এদিন ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে, পুলিশের বাধার মুখেও ছাত্রদের মিছিল এগিয়ে গেলে পুলিশ গুলি চালায়।
- এতে মোস্তফা ও বাবুল নামের দুজন ঘটনাস্থলে নিহত হন এবং পরদিন গুলিবিদ্ধ ওয়াজিউল্লাহ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
- ছাত্র আন্দোলনের মুখে সরকার শেষ পর্যন্ত শরিফ কমিশন রিপোর্টের বাস্তবায়ন স্থগিত ঘোষণা করে।

তথ্যসূত্র:
i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

২,৬৭৮.
ভাষা শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত কবে পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষার দাবি উত্থাপণ করেন?
  1. ১৯৪৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
  2. ১৯৪৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি
  3. ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
  4. ১৯৪৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ও ধীরেন্দনাথ দত্ত:
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান প্রথমগণপরিষদ অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম ভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন। কিন্তু মুসলিম লীগের সদস্যদের ভোটে তা অগ্রাহ্য হয়।
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর থানার রামরাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তিনি থাকতেন কুমিল্লা শহরে।
- ১৯৪৬ সালে কংগ্রেস থেকে বঙ্গীয় বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ পাকবাহিনী তাকে কুমিল্লার বাসা থেকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে।
- ১৯৫৬-৫৮ সালের পূর্ব পাকিস্তানে আতাউর রহমান খানের মন্ত্রীসভায় তিনি স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৬৭৯.
'হায়ারোগ্লিফিক্স' লিখন পদ্ধতি প্রচলিত ছিলো কোন সভ্যতায়?
  1. ক) ক্যালডীয় সভ্যতা
  2. খ) মিসরীয় সভ্যতা
  3. গ) ফিনিশীয় সভ্যতা
  4. ঘ) সুমেরীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
খ) মিসরীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মিসরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
সভ্যতায় মিশরীয়দের অন্যতম অবদান হলো বর্ণমালার আবিষ্কার। প্রথমদিকে মিশরীয়রা চিত্রলিপির মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করতো যাকে বলা হতো হায়ারোগ্লিফিক্স বা পবিত্র অক্ষর।
আনুমানিক ৫০০০ বছর পূর্বে মিশরীয়রা ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করে। বর্ণমালা ব্যতীত মিশরীয়রা নলখাগড়া থেকে প্যাপিরাস নামক কাগজ উদ্ভাবন করে যা থেকে পেপার শব্দের উৎপত্তি হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৬৮০.
বঙ্গবন্ধু ভাষা আন্দোলনের জন্য কত তারিখে গ্রেফতার হয়েছিলেন?
  1. ১১ মার্চ ১৯৪৮
  2. ২২ মার্চ ১৯৪৮
  3. ১১ মার্চ ১৯৫২
  4. ২২ মার্চ ১৯৫২
সঠিক উত্তর:
১১ মার্চ ১৯৪৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ মার্চ ১৯৪৮
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলন ও বঙ্গবন্ধু:
- ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ
রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সর্বাত্মক সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। এটাই ছিল ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে তথা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর এ দেশে প্রথম সফল হরতাল।
- এই হরতালে বঙ্গবন্ধু নেতৃত্ব দেন। তাকে লাঠিপেঠাও করা হয়।
- পরে বঙ্গবন্ধুসহ বেশ কয়েকজনকে কারাগারে নেওয়া হয়। স্বাধীন পাকিস্তানের রাজনীতিতে এটিই তাঁর প্রথম গ্রেফতার।
- পাঁচ দিন কারাবন্দি থেকে ১৫ মার্চ সন্ধ্যায় মুক্তি পান তিনি।

তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন। (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২)।
২,৬৮১.
বাংলার ভেনিস বলা হয় যে শহরকে-
  1. ক) চাঁদপুর
  2. খ) ভোলা
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) খুলনা
সঠিক উত্তর:
গ) বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বরিশাল
ব্যাখ্যা
বাংলার ভেনিস:

- বরিশালকে বাংলার ভেনিস বলা হয়।
- প্রাচীন চন্দ্র দ্বীপের বর্তমান নাম - বরিশাল।
- বরিশাল বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি শহর।
- বাংলার ভেনিস নামে পরিচিত এ শহরটি বরিশাল জেলায় অবস্থিত ও এটি বরিশাল বিভাগের সদর দপ্তর।
- এটি বাংলাদেশ এর একটি অন্যতম সুন্দর শহর।
- কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত এই শহর।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৬৮২.
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৯ এ সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার লাভ করে কোনটি?
  1. ন’ ডরাই
  2. মায়া দ্য লস্ট মাদার
  3. ফাগুন হাওয়ায়
  4. ক + গ
সঠিক উত্তর:
ক + গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক + গ
ব্যাখ্যা
গত ৩ ডিসেম্বর ২০২০ তথ্য মন্ত্রণালয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৯ বিজয়ীদের নামের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে।
এতে যুগ্মভাবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার লাভ করে তৌকির আহমেদ পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘ফাগুন হাওয়ায়’ এবং তানিম রহমান অংশু পরিচালিত ‘ন’ ডরাই’।
সেরা অভিনেতা তারিক আনাম খান।
সেরা অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল।
সেরা পরিচালক তানিম রহমান অংশু।
মোট ২৬টি ক্যাটাগরিতে চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৯ প্রদান করা হয়।
এছাড়া আজীবন সম্মাননা লাভ করেন চিত্রনায়ক সোহেল রানা এবং কোহিনুর আক্তার সুচন্দা।
(সূত্র: তথ্য মন্ত্রণালয়)
২,৬৮৩.
কত সালে পাণ্ডুলিপিবিহীন এবং অলিখিত কোন বিষয়কে ইউনেস্কাে World Heritage Register - এর তালিকাভুক্ত করে?
  1. ক) 2015
  2. খ) 2017
  3. গ) 2018
  4. ঘ) 2016
সঠিক উত্তর:
খ) 2017
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) 2017
ব্যাখ্যা
ইউনেস্কোর মেমোরি অফ ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার প্রোগ্রামে এর মাধ্যমে বিশ্ব জুড়ে যেসব তথ্যভিত্তিক ঐতিহ্য রয়েছে সেগুলোকে সংরক্ষণ এবং পরবর্তী প্রজন্মের যাতে তা থেকে উপকৃত হতে পারে সে লক্ষ্যেই এ তালিকা প্রণয়ন করে ইউনেস্কো।
২০১৬ সালে বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে মেমোরি অফ ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আবেদন করা হয়। ২০১৭ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক এর অনুমোদন হয়। ভাষণটি পাণ্ডুলিপিবিহীন এবং অলিখিত। তবে, অডিও এবং ভিডিও কপি অক্ষত রয়েছে।
উৎসঃ ইউনেস্কো সাইট এবং বিবিসি।
২,৬৮৪.
ঐতিহাসিক ছয় দফার প্রথম দফা-
  1. ক) স্বতন্ত্র মুদ্রা ব্যবস্থা চালু
  2. খ) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  3. গ) পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা
  4. ঘ) রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি
সঠিক উত্তর:
খ) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
ব্যাখ্যা

• বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ নামে পরিচিত বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ১৯৬৬ সালের ছয় দফার প্রথম দফা ছিল প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
• ৬ দফার বাকি দফাগুলো হলোঃ
- কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,৬৮৫.
কোন দিনটিকে বাংলাদেশের জাতীয় দিবস হিসেবে পালন করা হয়?
  1. ক) ১৬ ডিসেম্বর
  2. খ) ১৭ এপ্রিল
  3. গ) ২৬ মার্চ
  4. ঘ) ২৫ মার্চ
সঠিক উত্তর:
গ) ২৬ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২৬ মার্চ
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস যা ২৬শে মার্চ তারিখে পালিত বাংলাদেশের জাতীয় দিবস।
• ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে (কাল রাত) তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু করে।
• ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এই দিনটিকে বাংলাদেশে জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়।  

তথ্যসূত্র:- জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
২,৬৮৬.
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন কবে?
  1. ক) ২২ মার্চ, ১৯৭৫
  2. খ) ২২ মার্চ, ১৯৭৪
  3. গ) ২২ মার্চ, ১৯৭৩
  4. ঘ) ১৭ মার্চ ১৯৭৫
সঠিক উত্তর:
ক) ২২ মার্চ, ১৯৭৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২২ মার্চ, ১৯৭৫
ব্যাখ্যা
• ইসলামের প্রচার-প্রসারের লক্ষ্যে বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ১৯৭৫ সালের ২২ মার্চ  এক অধ্যাদেশবলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ২৮ মার্চ ১৯৭৫ সালে ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন’ এ্যাক্ট প্রণীত হয়।
- বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ মুসলমান। সুপ্রাচীনকাল থেকে এ দেশে ইসলামী আর্দশ ও মূল্যবোধের লালন ও চর্চা হয়ে আসছে।
- এ প্রতিষ্ঠানটি কেন্দ্রীয়ভাবে ১৭টি বিভাগ, ৭টি প্রকল্প, ১টি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী, মাঠপর্যায়ে ৮টি বিভাগীয়সহ ৬৪টি জেলা কার্যালয় এবং
- আর্তমানবতার সেবায় ৫০টি ইসলামিক মিশন কেন্দ্র, ৭টি ইমাম প্রশিক্ষণ  একাডেমী কেন্দ্রের মাধ্যমে সারাদেশে নানামুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে।

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন ওয়েবসাইট। 
২,৬৮৭.
কোন শাসককে পাল বংশের শেষ মুকুট বলা হয়?
  1. গোপাল
  2. রামপাল
  3. মদনপাল
  4. ধর্মপাল
সঠিক উত্তর:
রামপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামপাল
ব্যাখ্যা

রামপাল:
- রামপাল রাজা হয়েই বরেন্দ্র পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন।
- এই সময় কৈবর্তদের নেতা ছিলেন ভীম। প্রথম চেষ্টায় রামপাল ব্যর্থ হন।
- বরেন্দ্র অঞ্চলের উপর রামপালের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তাঁর রাজত্বের শেষের দিকে তিনি কামরূপ এবং উড়িষ্যার উপরও প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন।
- রামপালকে পাল বংশের শেষ মুকুট বলা হয়।
- কবি সন্ধ্যাকর নন্দী ‘রামচরিত’ নামে রামপালের জীবনী লিখেন।
- রামপালের মৃত্যুর পর পাল সাম্রাজ্যের গৌরব দ্রুত বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৬৮৮.
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য “বীর প্রতীক” উপাধি লাভ করে কতজন?
  1. ক) ৭ জন
  2. খ) ৬৮ জন
  3. গ) ১৭৫ জন
  4. ঘ) ৪২৬ জন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪২৬ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪২৬ জন
ব্যাখ্যা

১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত। যথা-
১. বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন (মর্যাদা অনুসারে প্রথম বীরত্বসূচক খেতাব),
২. বীর উত্তম ৬৮ জন (মর্যাদা অনুসারে দ্বিতীয় বীরত্বসূচক খেতাব),
৩. বীর বিক্রম ১৭৫ জন (মর্যাদা অনুসারে তৃতীয় বীরত্বসূচক খেতাব) এবং
৪. বীর প্রতীক ৪২৬ জন (মর্যাদা অনুসারে চতুর্থ বীরত্বসূচক খেতাব)।
মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন।
উৎসঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২,৬৮৯.
পানিপথের প্রথম যুদ্ধে কে পরাজিত হন?
  1. বিক্রমাদিত্য
  2. সম্রাট বাবর
  3. ইব্রাহিম লোদী
  4. সম্রাট আকবর
সঠিক উত্তর:
ইব্রাহিম লোদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইব্রাহিম লোদী
ব্যাখ্যা
পানিপথের প্রথম যুদ্ধ:
- পক্ষ: সম্রাট বাবর বনাম ইব্রাহিম লোদী। 
- সময়কাল: ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ।
- অপরদিকে ইব্রাহিম লোদীর সৈন্য সংখ্যা ছিল এক লক্ষ। 
- পানিপথ প্রান্তরে বাবর ভিন্ন রকম যুদ্ধ কৌশল গ্রহণ করেছিলেন। 
- প্রতিরক্ষা হিসেবে পরিখা খনন করেন। 
- ভারতবর্ষে প্রথমবারের মতো কামান ও গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করেন। 
- শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদী পরাজিত ও নিহত হন।

উল্লেখ্য,
- পানিপথের ২য় যুদ্ধ: ১৫৫৬  খ্রিস্টাব্দ।
- পানিপথের ৩য় যুদ্ধ: ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দ।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৯০.
ডা. মিলন কোন আন্দোলনের সময় শহীদ হয়েছিলেন?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  3. স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
  4. ভাষা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
ব্যাখ্যা
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন:

- ডা. মিলন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় শহীদ হয়েছিলেন।
- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯০ সালে ছাত্র-জনতা-পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের আন্দোলনের ফলে স্বৈরাচার এরশাদের পতন হয়েছিল।
- নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর পুলিশের গুলিতে ঢাকার জিরো পয়েন্টে নূর হোসেন মারা যান।
- এ সময় তার গায়ে সাদা রঙ দিয়ে লেখা ছিলো 'স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক'।
- এ আন্দোলনে প্রাণ হারান নূর হোসেন, সেলিম, দেলোয়ার, তাজুল, ডা. মিলন, নূরুল হুদা, বাবুল, ফাত্তাহসহ অনেকে।
- নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক প্রথম আলো, ৬ ডিসেম্বর ২০১৭।
২,৬৯১.
খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কতজন?
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. ৪ জন
সঠিক উত্তর:
২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- ৬ জুন ২০২১ তারিখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীর বিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীর প্রতীক : ৪২৪ জন।

মহিলা বীরপ্রতীক:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২ জন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তাঁরা হলেন- ডা. সেতারা বেগম ও তারামন বিবি।
- তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে যথাক্রমে ১১ ও ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
২,৬৯২.
'বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২' কোন ধরনের স্যাটেলাইট?
  1. ওয়েদার স্যাটেলাইট
  2. ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট
  3. আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট
  4. কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট
সঠিক উত্তর:
আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২:
- দেশের দ্বিতীয় স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২’।
- এর ধরন নির্ধারণের জন্য ফ্রান্সের প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপার্সকে (পিডব্লিউসি) নিয়োগ দিয়েছে বিএসসিএল। 
- এটি একটি আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট।
- এই স্যাটেলাইটটি আবহাওয়া, নজরদারি বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত হবে।
- ২০২৩ সালে মহাকাশে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২। 

উল্লেখ্য,
- ২০১৮ সালের ১২ মে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে স্যাটেলাইটের অভিজাত ক্লাবে প্রবেশ করে বাংলাদেশ।

উৎস: ৬ মার্চ, ২০২৩, দৈনিক ইত্তেফাক।
২,৬৯৩.
জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সরকার কতটি সংস্কার কমিশন গঠন করেছে?  
  1. ৬টি 
  2. ৮টি
  3. ১০টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১টি
ব্যাখ্যা

- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়।
- এ সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতের সংস্কার।
- সেজন্য গঠন করা হয়েছে ১১টি সংস্কার কমিশনসহ বিভিন্ন টাস্কফোর্স ও কমিটি।

• সংস্কার কমিশন: 
১. নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন,
২. বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন,
৩. দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার ,
৪. পুলিশ সংস্কার কমিশন,
৫. জনপ্রশাসন সংস্কার,
৬. সংবিধান সংস্কার কমিশন,
৭. নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন,
১০. স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন,
১১. স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন। 

তথ্যসূত্র: প্রধান ‍উপদেষ্টার কার্যালয় ওয়েবসাইট।

২,৬৯৪.
১৯৫২ সালে তৎকালীন ভাষা আন্দোলন কিসের জন্ম দিয়েছিল? 
  1. এক রাজনৈতিক মতবাদের
  2. এক সাংস্কৃতিক আন্দোলনের
  3. এক নতুন জাতীয় চেতনার
  4. এক নতুন সমাজ ব্যবস্থার
সঠিক উত্তর:
এক নতুন জাতীয় চেতনার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক নতুন জাতীয় চেতনার
ব্যাখ্যা
• ১৯৫২ সালে তৎকালীন ভাষা আন্দোলন এক নতুন জাতীয় চেতনার জন্ম দিয়েছিল।

• বাংলা ভাষা আন্দোলন ছিল ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৬ পর্যন্ত তৎকালীন পূর্ব বাংলায় (বর্তমান বাংলাদেশে) সংঘটিত একটি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন।
• মৌলিক অধিকার রক্ষাকল্পে বাংলা ভাষাকে ঘিরে সৃষ্ট এ আন্দোলনের মাধ্যমে তদানীন্তন পাকিস্তান অধিরাজ্যের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণদাবীর বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
• ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে এ আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ ধারণ করলেও বস্তুত এর বীজ রোপিত হয়েছিল বহু আগে, অন্যদিকে এর প্রতিক্রিয়া এবং ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী।

এছাড়াও
• ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পূর্বেই বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আলোচনার সূত্রপাত হয়।
• পাকিস্তান সরকার বাংলাভাষাকে উপেক্ষা করার নীতি অবলম্বন করলে ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভাষা আন্দোলন
শুরু হয়।
• ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষার দাবিতে আন্দোলন করতে যেয়ে ৬ জন শহীদ হন।
• বাংলা ভাষার প্রতি হটকারী সিদ্ধান্তের ফলে মুসলিম লীগের পতন ঘটে।
• রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ছাত্র সমাজের উত্থান ঘটে।
• অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও নারী জাগরণের সূচনা ঘটে।

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৯৫.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ১১টি
  2. ১৭টি
  3. ৫৪টি
  4. ৬৪টি
সঠিক উত্তর:
৬৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৪টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সাব-সেক্টর সমূহ:

- মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- নৌ সেক্টর ছিলো ১০ নং সেক্টরের অধিনে।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধীনে ছিল।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৬৯৬.
মধ্যযুগের মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি কে?
  1. ক) সৈয়দ সুলতান
  2. খ) শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. গ) দৌলত উজির বাহরাম খান
  4. ঘ) শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
খ) শাহ মুহম্মদ সগীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শাহ মুহম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের মুসলমান কবিদের মধে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শাহ মুহাম্মদ সগীর।
- তাঁর জন্ম আনুমানিক ১৪-এর শেষ থেকে ১৫ শতক। 
- তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য 'ইউসুফ জোলেখা'।
- ইউসুফ-জুলেখা কাব্যে গৌড় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০) স্তুতি আছে।
- পারসি কবি আব্দুর রহমান জামি রচিত ইউসুফ জোলেখা থেকে তিনি এ কাহিনী গ্রহণ করেছেন। 

অন্যদিকে, 
• সৈয়দ সুলতানের জীবনকাল আনু্মানিক ১৫৫০ থেকে ১৬৪৮ খ্রিষ্টাব্দ। 
• দৌলত উজির বাহরাম খান ষােড়শ শতাব্দীতে চট্টগ্রামের ফতেহাবাদ বা জাফরাবাদে জন্মগ্রহণ করেন।
• শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ ১৮শ শতকের মধ্যভাগে জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৬৯৭.
BITAC is an institution for technical support/ assistance to
  1. Cottage industries
  2. Industries
  3. RMG
  4. All of these
সঠিক উত্তর:
Industries
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Industries
ব্যাখ্যা
বিটাক:

- এর পূর্ণরূপ বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনিক্যাল অ্যাসিসট্যান্স সেন্টার।
- বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিকে 'বিটাক' প্রযুক্তিগত সহায়তা করে থাকে।
- ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার নামে।
- ১৯৭২ সালে এর নাম পরিবর্তন করে বিটাক রাখা হয়।
- প্রধান নির্বাহী হলেন মহাপরিচালক।
- বর্তমানে এর পাঁচটি কেন্দ্র রয়েছে ঢাকা (১৯৬৪), চট্টগ্রাম (১৯৭৬), চাঁদপুর (১৯৮৩), খুলনায়
(১৯৯৩) এবং বগুড়া (২০০৬)।

তথ্যসূত্র - বিটাক অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
২,৬৯৮.
অপারেশন জ্যাকপট বলতে কী বুঝেন?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধে বিমান বাহিনীর অভিযান
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধে ক্র‍্যাক প্লাটুনের অভিযান
  3. গ) মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর অভিযান
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধে নৌ কমান্ডোদের অভিযান
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুক্তিযুদ্ধে নৌ কমান্ডোদের অভিযান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুক্তিযুদ্ধে নৌ কমান্ডোদের অভিযান
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোরা পরিচালিত প্রথম অভিযান অপারেশন জ্যাকপট নামে পরিচিত।
- এদিন নৌ-কমান্ডোরা একযোগে চট্টগ্রাম, মংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দরে পাকবাহিনীর উপর হামলা চালায়।
- এতে পাকবাহিনীর ২৬টি নৌযান ধ্বংস হয়।
- মোট ১৪৮ জন নৌ-কমান্ডোরা চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে এ অপারেশনে অংশ নেয়।

তথ্যসূত্র- বাংলাপিডিয়া।

২,৬৯৯.
মহান মুক্তিযুদ্ধে বিদেশী মুক্তিযোদ্ধা  ডব্লিও এ এস ওয়াডারল্যান্ডকে কোন উপাধি দেয়া হয়?
  1. ক) বীরশ্রেষ্ঠ
  2. খ) বীর প্রতীক
  3. গ) বীর বিক্রম
  4. ঘ) বীর উত্তম
সঠিক উত্তর:
খ) বীর প্রতীক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বীর প্রতীক
ব্যাখ্যা
ডব্লিও এ এস ওয়াডারল্যান্ড:

- বিদেশী মুক্তিযোদ্ধা  ডব্লিও এ এস ওয়াডারল্যান্ডকে বীর প্রতীক উপাধি দেয়া হয়।
- ডব্লিও এ এস ওয়াডারল্যান্ড ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক।
- ওডারল্যান্ড ১৯১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডের আমস্টারডামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকায় বাটা সু কোম্পানির প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে ওডারল্যান্ড ১৯৭০ সালের শেষের দিকে প্রথম  ঢাকায় আসেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গেরিলা কমান্ডো হিসেবে স্বীয় অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে এবং স্বয়ং ২নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা গেরিলা শাখার সক্রিয় সদস্যরূপে অকুতোভয় ওডারল্যান্ড বাটা ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গণসহ টঙ্গীর  কয়েকটি গোপন ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়মিত গেরিলা রণকৌশলের প্রশিক্ষণ দিতেন।
- উইলিয়ম ওডারল্যান্ড ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত ঢাকায় বাটা সু কোম্পানিতে চাকুরিরত ছিলেন।
- পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় পার্থের এক হাসপাতালে ২০০১ সালের ১৮ মে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

অন্যদিকে,
- সর্বোমোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে খেতাব দেয়া হয়।
- ২ জন নারীকে বীর প্রতীক খেতাব দেয়া হয়।
- ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম এবং তারামন বিবি।

উৎস- বাংলা পিডিয়া।
২,৭০০.
কত সালে পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন জারি করা হয়?
  1. ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৭
  2. ৭ নভেম্বর ১৯৫৮
  3. ৭ অক্টোবর ১৯৫৮
  4. ৪ আগস্ট ১৯৫৭
সঠিক উত্তর:
৭ অক্টোবর ১৯৫৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ অক্টোবর ১৯৫৮
ব্যাখ্যা
সামরিক শাসন:
- পাকিস্তানের প্রথম প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন।
- কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইনসভা ও মন্ত্রীপরিষদ বাতিল করেন।
- ২৭ অক্টোবর ১৯৫৮ জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন।

- ১৯৬২ সালের ৮ জুন আইয়ুব খান সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন।
- ইয়াহিয়া খান ১৯৬৯ সালের ২৫শে মার্চ দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।