বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন১২,৪২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১০৬ / ১২৪ · ১০,৫০১১০,৬০০ / ১২,৪২১

১০,৫০১.
আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সার্বভৌম ক্ষমতা কার উপর?
  1. ক) জাতীয় সংসদ
  2. খ) রাষ্ট্রপতির
  3. গ) প্রধানমন্ত্রীর
  4. ঘ) বিচার বিভাগ
সঠিক উত্তর:
ক) জাতীয় সংসদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জাতীয় সংসদ
ব্যাখ্যা
আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত ক্ষমতা ও কার্যাবলি (Legislative Powers and Functions) :-
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সমগ্র অংশ কিংবা যে কোনাে অংশে বলবৎযােগ্য আইন প্রণয়ন করার ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ন্যস্ত।
- জাতীয় সংসদ যে কোনাে নতুন আইন তৈরি, প্রচলিত আইন সংশােধন এবং অপ্রয়ােজনীয় আইন বাতিল করতে পারে। সাধারণ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সংসদ সরকারি নীতি নির্ধারণ করে।
- তবে জাতীয় সংসদ আইনের দ্বারা যে কোনাে ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে আদেশ, বিধি, প্রবিধান বা উপ-আইন প্রণয়নের ক্ষমতা অর্পণ করতে পারবেন। 
- সুতরাং আইন প্রণয়ন ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ সার্বভৌম।

তথ্যসূত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১০,৫০২.
বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির গণচেতনার সর্বপ্রথম বহিঃপ্রকাশ -
  1. ক) মহান মুক্তিযুদ্ধ
  2. খ) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  3. গ) যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
  4. ঘ) ভাষা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূলভিত্তি হচ্ছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন।
- স্বাধীন বংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পেছনে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
- ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই তৎকালীন পূর্ব বাংলার গণতান্ত্রিক আন্দোলন সুসংহত হয় এবং অগ্রগতি লাভ করে।
- ভাষা আন্দোলনের চেতনাই জনগণের মধ্যে পরবর্তীকালে একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এক নতুন চেতনার উন্মেষ ঘটায় এবং এর মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে।
- বাঙালি জনগণের সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক আকাক্সক্ষাকে হাজারগুণে বাড়িয়ে দেয় এ আন্দোলন।
- তাই ‘৫২-এর ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির গণচেতনার সর্বপ্রথম বহিঃপ্রকাশ এবং স্বাধিকার আন্দোলনের এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ক্ষেত্রে ভাষা আন্দোলন এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

- এই রাষ্ট্রের কর্ণধাররা প্রথমই শোষণ ও বৈষম্যের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেয় বাঙালির প্রাণের ভাষা বাংলাকে।
- অথচ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় পাকিস্তানের ভাষাগত জনসংখ্যার একটি পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে, মোট জনসংখ্যার ৫৪.৬০% বাংলা, ২৮.০৪% পাঞ্জাবি, ৫.৮% সিন্ধি, ৭.১% পশতু, ৭.২% উর্দু এবং বাকি অন্যান্য ভাষাভাষী নাগরিক।
- এর থেকে দেখা যায় উর্দু ছিল পাকিস্তানি ভাষাভাষির দিক থেকে ৩য় স্থানে। অন্যদিকে তদানীন্তন পূর্ববঙ্গের জনসংখ্যার ৪.৪০ কোটির মধ্যে ৪.১৩ কোটি ছিল বাংলা ভাষাভাষী। এখানে ৯৮% বাংলা এবং মাত্র ১.১% ছিল উর্দু ভাষী। অথচ বাংলা ভাষাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বেশ কিছু পরিকল্পনা নেয়।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসএইচএল প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও যুগান্তর।
১০,৫০৩.
মাস্টারদা সূর্যসেনকে বৈপ্লবিক আর্দশে উদ্বুদ্ধ করেন কে?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. সুভাষ চন্দ্র বসু
  3. দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
  4. সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
মাস্টারদা সূর্য সেন:
- চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুণ্ঠিত হয় ১৯৩০ সালে।
- ১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের প্রধান সংগঠক মাস্টারদা সূর্যসেন।
- মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্ম ১৮৯৪ সালে চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে।
- পুরো নাম সূর্যকুমার সেন।
- বিএ পড়ার সময় তিনি তাঁর এক শিক্ষক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন।
- অধ্যাপক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী যুগান্তর নামে বিপ্লবী দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- সূর্য সেন ১৯১৮ সালে চট্টগ্রামে ফিরে বিপ্লবী যুগান্তর দলকে পুনরুজ্জীবিত করেন। 
- শিক্ষকতা করার কারণে তিনি পরিচিত মহলে 'মাস্টারদা' আখ্যা পান।
- ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার ফসল।
- ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কারাগারে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৫০৪.
হিন্দুধর্মের সংস্কারের উদ্দেশ্যে রাজা রামমোহন রায় কোন সমিতি গঠন করেন?
  1. ব্রাহ্মসমাজ 
  2. আর্য সমাজ
  3. প্রার্থনা সমাজ 
  4. আত্মীয় সভা
সঠিক উত্তর:
আত্মীয় সভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মীয় সভা
ব্যাখ্যা

রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃত রাজা রামমোহন রায়।
- ১৭৭৪ সালে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- তিনি বেদান্তসূত্র ও বেদান্তসারসহ উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ করেন।
- তাঁর অন্যান্য রচনার মধ্যে আছে তুহফাতুল মুজাহহিদদীন (একেশ্বরবাদ সৌরভ), মনজারাতুল আদিয়ান (বিভিন্ন ধর্মের উপর আলোচনা), ভট্টাচার্যের সহিত বিচার, হিন্দুদিগের পৌত্তলিক ধর্মপ্রণালি ইত্যাদি।
- তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করতে প্রচেষ্টা চালান।
- তাছাড়া তিনি সব কুসংস্কার দূর করে আদি একেশ্বরবাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন।
- হিন্দুধর্মের সংস্কার তথা নিজ ধর্মীয় মতবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে আত্মীয় সভা নামে একটি সমিতি গঠন করেন।
- ১৮২৮ সালে ২০শে আগস্ট তিনি ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। এর পরে ব্রাহ্মসমাজের উপাসনালয় স্থাপন করেন।
- তাঁর ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা উপমহাদেশের ধর্মীয় ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা করে। 
- রাজা রামমোহন রায় ১৮২২ সালে কোলকাতায় 'অ্যাংলো-হিন্দু স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন,
- ১৮৩৩ সালে রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর দুই বছর পর ১৮৩৫ সালে তাঁর স্বপ্ন সফল হয়।
- ভারতীয়দের পাশ্চাত্য ভাষা ইংরেজিতে শিক্ষা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলা পিডিয়া। 

১০,৫০৫.
মুজিবনগর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. মেহেরপুর
  2. যশোর
  3. কুষ্টিয়া
  4. চুয়াডাঙ্গা
সঠিক উত্তর:
মেহেরপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেহেরপুর
ব্যাখ্যা
- মুজিবনগর মেহেরপুর জেলায় অবস্থিত এবং এর পূর্ব নাম - বৈদ্যনাথতলা।
- এখানেই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার (মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত) শপথ গ্রহণ করে।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১০,৫০৬.
Where did the Fakir-Sannyasi Rebellion begin?
  1. Bihar
  2. Burdwan
  3. Murshidabad
  4. Rangpur
সঠিক উত্তর:
Burdwan
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Burdwan
ব্যাখ্যা

• ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ: 
-  ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে। 
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন। 
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
- তবে এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে। এই সব অঞ্চলে ইংরেজদের সঙ্গে বিদ্রোহী ফকির-সন্ন্যাসীদের বহু সংঘর্ষ সংঘটিত হয়। 
-এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে।
অপরদিকে,
- সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতা ভবানী-পাঠক ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে লেফটেন্যান্ট ব্রেনানের নেতৃত্বে একদল ব্রিটিশ সৈন্যের আক্রমণে দুই সহকারীসহ নিহত হন। 
-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের প্রধান নেতা ছিলেন তিনি।
- ফলে তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৫০৭.
মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য কতজন নারীকে "বীরপ্রতীক" উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. দুই জন
  2. সাত জন
  3. পাঁচ জন
  4. তিন জন
সঠিক উত্তর:
দুই জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই জন
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসী ভূমিকা পালনের জন্য দুই নারী ‘বীরপ্রতীক’ খেতাব পেয়েছেন। 
- তাদের একজন ক্যাপ্টেন ডা. সিতারা বেগম এবং অন্যজন তারামন বিবি। 
- তারামন বিবি মুক্তিবাহিনীর ১১ নম্বর সেক্টরের একটি দলের সঙ্গে ছিলেন। 
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আহত বা অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য ২ নম্বর সেক্টরে ‘বাংলাদেশ হাসপাতাল’ নামে একটি চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। 
- এই রকম অনেক হাসপাতালে ডা. জাফরউল্লাহ, ডা. মোবিন, ডা. আখতার, ডা. সিতারা বেগমসহ আরও অনেক চিকিৎসক, মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রী ও সেবিকা নিয়োজিত ছিলেন। 

উৎস: চিরন্তন ১৯৭১, প্রথম আলো পত্রিকা।
১০,৫০৮.
আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য উন্নত ধরনের কোনটি থাকা প্রয়োজন?
  1. চিকিৎসা ব্যবস্থা
  2. যোগাযোগ ব্যবস্থা
  3. খাদ্য ব্যবস্থা
  4. রাজনৈতিক ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
যোগাযোগ ব্যবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগাযোগ ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন:

- দেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা একটি অত্যাবশ্যকীয় ভৌতঅবকাঠামো হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিবহণ এবং তথ্য ও অন্যান্য যোগাযোগ নেটওয়ার্কের সাথে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার উপযোগী উন্নত এবং সুসমন্বিত পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা একান্ত জরুরি।
- পরিবহণ ও যোগাযোগ খাতে বিভিন্ন প্রকল্প অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
- সড়ক, ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ/পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অব্যাহত রয়েছে।
- পাশাপাশি পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সহ কয়েকটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।
- পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ এবং সুলভে মালামাল পরিবহণের নির্ভরশীল মাধ্যম হিসেবে রেলের ভূমিকা অব্যাহত রাখার জন্য উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
- নৌপথের নাব্যতা সংরক্ষণ ও নৌপথ উদ্ধার, নিরাপদ নৌযান চলাচল নিশ্চিতকরণ, অভ্যন্তরীণ নৌবন্দরসমূহের উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ নৌপথে কন্টেইনার পণ্য পরিবহণের অবকাঠামো সৃষ্টি ইত্যাদি কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

তথ্যসূত্র -  জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১০,৫০৯.
'বাঁশের কেল্লা' বিদ্রোহের সাথে সংশ্লিষ্ট -
  1. তিতুমীর
  2. কর্নেল স্টুয়ার্ট
  3. মাসুম খাঁ
  4. উল্লিখিত সবাই
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লিখিত সবাই
ব্যাখ্যা
• তিতুমীর ও বাঁশের কেল্লা 
- ১৮২৭ সালে তিতুমীর তার গ্রামের দরিদ্র কৃষকদের সাথে নিয়ে জমিদার এবং ব্রিটিশ নীলকদের বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়ে আন্দোলন শুরু করেন।
- ১৮৩১ সালে বারাসতের নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তারা বাঁশের কেল্লা তৈরি করেন।
- বাঁশ এবং কাদা দিয়ে তারা দ্বি-স্তর বিশিষ্ট এই কেল্লা নির্মাণ করেন।
- তিতুমীর বর্তমান চব্বিশ পরগনা, নদীয়া এবং ফরিদপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অধিকার নিয়ে সেখানে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। 
- ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ বাহিনীর কামানের গোলায় তিতুমীরের বাঁশেরকেল্লা ধ্বংস হয়ে যায় এবং তিতুমীর শহিদ হন।
- তার বাহিনীর প্রধান সেনাপতি মাসুম খাঁ বা গোলাম মাসুমকে ফাঁসি দেয়া হয়। বাশেঁর কেল্লা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।
- ইতিহাসে এ কেল্লাই নারিকেলবাড়িয়া বাঁশের কেল্লা নামে বিখ্যাত।

- ১৯৭১ সালে মুহাম্মদ জিন্নাহ কলেজ কে তার নাম অনুসারে সরকারী তিতুমীর কলেজ নামকরণ করা হয়।
- তার নামে বুয়েট এ একটি ছাত্র হলের নামকরণ করা হয় তিতুমীর হল।
- বিবিসির জরিপে তিনি ১১ তম শ্রেষ্ঠ বাঙালি।
- ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তিতুমীরের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ১০ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খুলনা শহরে রূপসা নদীর তীরে 'বানৌজা তিতুমীর' নামে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটি কমিশন করেন ও ‘নেভাল এনসাইন’ প্রদান করেন।
- এছাড়া বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি জাহাজের নামকরণ করা হয় বিএনএস তিতুমীর।
- রাজশাহী ও নীলফামারী জেলার চিলাহাটি স্টেশনের মধ্যে 'তিতুমীর এক্সপ্রেস' নামে একটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৫১০.
ফরায়েজী আন্দোলনের প্রবক্তা কে?
  1. তিতুমীর
  2. নবাব সলিমুল্লাহ
  3. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  4. দুদু মিয়া
সঠিক উত্তর:
হাজী শরীয়তউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজী শরীয়তউল্লাহ
ব্যাখ্যা
ফরায়েজী আন্দোলন:
- ফরায়েজী আন্দোলন ছিল উনিশ শতকে বাংলায় সংঘটিত একটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলন।
- প্রাথমিক পর্যায়ে এ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ধর্ম সংস্কার, কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই আন্দোলনে আর্থ-সামাজিক সংস্কারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
- এ আন্দোলনের প্রবক্তা হাজী শরীয়তউল্লাহ। 
- হাজী শরীয়তউল্লাহ বাংলায় ব্রিটিশ শাসনকে মুসলমানদের আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য ক্ষতিকর বলে বিবেচনা করতেন।
- হাজী শরীয়তউল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি। তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন। জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে শরিয়ত উল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ফরায়েজী আন্দোলন অসামান্য দ্রুততার সঙ্গে ঢাকা, ফরিদপুর, বাকেরগঞ্জ (বর্তমান বরিশাল), ময়মনসিংহ, ত্রিপুরা (বর্তমান কুমিল্লা), চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলাসমূহে এবং আসাম প্রদেশে বিস্তারলাভ করে। 
-  হিন্দু জমিদার ও ইউরোপীয় নীলকরদের সঙ্গে অবিরাম সংঘর্ষের ফলে আন্দোলনটি ক্রমান্বয়ে আর্থ-সামাজিক রূপ পরিগ্রহ করে। 

⇒ ১৮৪০ সালে হাজী শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তার একমাত্র পুত্র মুহসীনউদ্দীন ওরফে দুদু মিয়াকে ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা ঘোষণা করা হয়। 
- তিনি ফরায়েজী আন্দোলনকে একটি সুবিন্যস্ত ও শক্তিশালী সাংগঠনিক রূপ দেন।
- ফরায়েজী আন্দোলনভূক্ত সমগ্র অঞ্চলকে তিনি কয়েকটি সার্কেলে বিভক্ত করেন।
- অত্যাচারী জমিদার নীলকরদের মোকাবেলায় একটি সুশৃংখল লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছিল।
- জমিদার-নীলকরদের সঙ্গে দুদু মিয়ার বাহিনীর বেশ কয়েকবার সরাসরি সংঘর্ষ বাঁধে। 
- ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের সময় দুদু মিয়াকে বন্দী করা হয়।
- ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মুক্তি পান।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজী আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ঊনিশ শতকের শেষ প্রান্তে ফরায়েজী আন্দোলন স্তিমিত হয়ে যায়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫১১.
কার উদ্যোগে ক্র্যাক প্লাটুন গঠিত হয়?
  1. ক) মেজর কে এম শফিউল্লাহ
  2. খ) মেজর খালেদ মোশাররফ
  3. গ) মেজর জিয়াউর রহমান
  4. ঘ) মেজর আবু তাহের
সঠিক উত্তর:
খ) মেজর খালেদ মোশাররফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মেজর খালেদ মোশাররফ
ব্যাখ্যা
- ক্র্যাক প্লাটুন হলো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ নং সেক্টরের অধীনে ঢাকা শহরের তরুণদের সমন্বযে গঠিত একটি গেরিলা সংগঠন।
- ২নং সেক্টরের কমান্ডার মেজর খালেদ মোশারফের উদ্যোগে এই গেরিলা বাহিনী গড়ে তোলা হয়।
- ১৯৭১ সালের জুনে ভারতের মেঘালয়ের মেলাঘর ক্যাম্প থেকে প্রথমে ১৭ জন গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে ক্র্যাক প্লাটুনের যাত্রা শুরু করে।
- শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সন্তান শহিদ রুমী ইমাম, শহিদ জুয়েল, শহিদ আলতাফ মাহমুদ, প্রয়াত আযম খান, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ ক্র্যাক প্লাটুনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
(তথ্যসূত্র: দৈনিক সমকাল)
১০,৫১২.
মুজিব নগর সরকারকে শপথ পাঠ করান কে?
  1. ইউসুফ আলী
  2. এম. মনসুর আলী
  3. আবদুর রব
  4. এস.এ সামাদ
সঠিক উত্তর:
ইউসুফ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- মুজিবনগর সরকারের তথা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড।
- রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- এস.এ সামাদ ছিলেন প্রতিরক্ষা সচিব।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন এম.এ.জি ওসমানী।
- চিফ অব স্টাফ ছিলেন কর্নেল আবদুর রব।
- উপ-সেনাপতি ছিলেন এ.কে খন্দকার।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৫১৩.
নিচের কোনটি ভারতের হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সদ্ভাব সৃষ্টিতে সহায়ক হয়েছিল?
  1. বঙ্গভঙ্গ
  2. মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার
  3. লক্ষ্ণৌ চুক্তি
  4. বঙ্গভঙ্গ রদ
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্ণৌ চুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লক্ষ্ণৌ চুক্তি
ব্যাখ্যা
লক্ষ্ণৌ চুক্তি:
- ১৯০৯ সালের মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন ভারতীয়দের আশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়।
- যদিও মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের অধিকার স্বীকৃত হয়েছিল, তবু মুসলিম সম্প্রদায় তাতে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট হতে পারেনি।
- ১৯১১ সালের বঙ্গভঙ্গ রদ এবং বলকান যুদ্ধে তুরস্কের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ অবস্থান মুসলমানদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে।
- ১৯১৩ সালের কানপুর মসজিদের ঘটনায় পুলিশের গুলিতে মুসলমানদের মৃত্যুতে সরকার বিরোধী মনোভাব তীব্র হয়।
- এই পরিস্থিতিতে পাশ্চাত্য শিক্ষিত মুসলিম লীগের তরুণ সদস্যরা সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগে যোগ দেন।
- ১৯১৩ সালের লক্ষ্ণৌ অধিবেশনে মুসলিম লীগের নতুন গঠনতন্ত্র গৃহীত হয়, যা হিন্দু-মুসলিম ঐক্য ও স্বরাজ অর্জনের উপর জোর দেয়।
- এর ফলে ভারতের হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সদ্ভাব সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।
- ১৯১৫ সালে বোম্বে শহরে উভয় দলের সম্মেলনে সরকারী নীতির সমালোচনা করা হয় এবং হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের উপর জোর দেওয়া হয়।
- ১৯১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগ এদের বার্ষিক সম্মেলন লক্ষ্ণৌ শহরে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়।
- এ সময় উভয় সম্প্রদায় ভারতের শাসনতান্ত্রিক সংস্কারের নীতির প্রশ্নে একটা সমঝোতায় আসে।
- এটাই ইতিহাসে লক্ষ্ণৌ চুক্তি নামে পরিচিত।

সূত্র: ইতিহাস, প্রথম পত্র - এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫১৪.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা কে বঙ্গবন্ধু কী নামে নামকরণ করেছিলেন?
  1. করাচি ষড়যন্ত্র মামলা
  2. লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা
  3. ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা
  4. ঢাকা ষড়যন্ত্র মামলা
সঠিক উত্তর:
ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা: 
- ১৯৬৮ সালের ৬ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা করে যে, পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য একটি ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটিত হয়েছে। 
- এর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজন আওয়ামী লীগ নেতা, সিভিল সার্ভিসের দুইজন বাঙালি কর্মকর্তাসহ ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। 
- ১৮ জানুয়ারি আরেকটি প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে উক্ত মামলার ১নং আসামী বলে ঘোষণা করা হয়। 
- এই মামলার বিচারের জন্য একটি স্পেশাল ট্রাইবুনাল গঠিত হয়। 
- এই মামলার সরকারি নাম 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য'। লোকমুখে এই মামলা পরিচিতি লাভ করে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবে। 
- বঙ্গবন্ধু এই মামলার নামকরণ করেছিলেন ‘ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা' নামে।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- বাঙালিরা এটিকে মিথ্যা মামলা হিসেবে অভিহিত করে এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গণআন্দোলন গড়ে তোলে। 
- আন্দোলন জোরদার হলে সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে নেয় এবং বিনাশর্তে ৩৫ জন অভিযুক্তকে মুক্তি দেয়।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫১৫.
যৌথ বাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন কে?
  1. গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে খন্দকার
  2. কর্নেল এম.এ.জি ওসমানী
  3. লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা
  4. মেজর জেনারেল জ্যাকব
সঠিক উত্তর:
লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা
ব্যাখ্যা
যৌথ কমান্ড গঠন: 
- ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনীর যৌথ কমান্ড গঠিত হয়।
- ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কম্যান্ডের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা যৌথ বাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন।
- অবশ্য ৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় অমৃতসর, শ্রীনগর ও কাশ্মীর উপত্যকায় পাকিস্তান বিমানবাহিনীর বোমা বর্ষণের পর থেকেই মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনীর যৌথ কমান্ড কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করে।
- তখনই ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর উপর নির্দেশ আসে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে প্রত্যাঘাত করার।
- মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ক্রমশ অগ্রসর হতে থাকে।
- ফলে পাকিস্তানি সৈন্যদের পরাজয় ও আত্মসমর্পণ অনিবার্য হয়ে ওঠে।
- বাংলাদেশ সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হওয়ার প্রাক্কালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন এতে ভেটো প্রয়োগ করায় এই প্রচেষ্টা নস্যাৎ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৫১৬.
কার সময়ে 'বারোভূঁইয়া' দের দমন করা হয়?
  1. সম্রাট হুমায়ুন
  2. সম্রাট আকবর
  3. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  4. সম্রাট আওরঙ্গজেব
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
আফগান শাসন ও বারোভূঁইয়া (১৫৩৮-১৫৭৬ সাল): 
- ১৫৩৮ সালে আরব এবং পারস্যের অভিজাত মুসলমানদের হাতে প্রতিষ্ঠিত বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের অবসান হলে বাংলাকে একে একে অন্যান্য বিদেশি শক্তিসমূহ গ্রাস করতে থাকে।
- মুঘল সম্রাট হুমায়ুন অল্প কিছুকাল বাংলার রাজধানীর ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে আফগান নেতা শের শাহের কাছে পরাজয় মানতে হয়।
- শেষ পর্যন্ত মুঘল সম্রাট আকবর আফগানদের হাত থেকে বাংলার ক্ষমতা কেড়ে নেন।
- অবশ্য রাজধানী দখল করলেও মুঘলরা বাংলার অভ্যন্তরে অনেক দিন পর্যন্ত প্রকৃত ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি।
- এ সময় বাংলায় অনেক বড় বড় স্বাধীন জমিদার ছিলেন।
- 'বারোভূঁইয়া' নামে পরিচিত এ সকল জমিদার মুঘলদের অধিকার মেনে নেননি।
- সম্রাট আকবরের সময় মুঘল সুবাদারগণ 'বারোভূঁইয়া'দের দমন করার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেননি।
- 'বারোভূঁইয়া' দের দমন করা হয় সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়ে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১০,৫১৭.
মুজিব নগর সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. এম. মনসুর আলী
  4. তাজউদ্দিন আহমদ
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দিন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাজউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৫১৮.
সুষ্ঠু প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য মুজিবনগর সরকার বাংলাদেশকে কয়টি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করে?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ১১টি
  4. ১৩টি
সঠিক উত্তর:
১১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১টি
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো:
- মুজিবনগর সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- জনাব রুহুল কুদ্দুস প্রধান সচিব নিযুক্ত হয়েছিলেন।
- সুষ্ঠু প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য জুলাই মাসে (১৯৭১) বাংলাদেশকে ১১টি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- এগুলোর নাম দেয়া হয় জোনাল কাউন্সিল।
- মুজিবনগর সরকারের প্রতি আনুগত্য ঘোষণাকারী প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদের সদস্যদের প্রত্যক্ষভোটে ১১ জন আঞ্চলিক চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হয়।
- প্রতিটি অঞ্চলে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে একজন করে আঞ্চলিক প্রশাসক বা জোনাল এডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগ করা হয়।
- প্রতিটি অঞ্চলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ত্রাণ, প্রকৌশল, পুলিশ, তথ্য ও হিসাব কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫১৯.
যুক্তফ্রন্ট সরকারের ২১ দফার মধ্যে ভাষা সংক্রান্ত দফা ছিলো কয়টি?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
পাঁচটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঁচটি
ব্যাখ্যা
একুশ দফা:
- একুশ দফা ১৯৫৪ সালে পূর্ববাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পূর্ববাংলায় মুসলিম লীগ শাসনের অবসানকল্পে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দলের সমন্বয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রণ্ট নামে এক নির্বাচনী মোর্চা গঠিত হয়।
- এ মোর্চা গঠনের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন কৃষক-শ্রমিক পার্টির সভাপতি এ.কে ফজলুল হক, আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, এবং আওয়ামী মুসলিম লীগ নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- যুক্তফ্রণ্টের পক্ষ থেকে ২১টি প্রতিশ্রুতি সম্বলিত যে নির্বাচনী মেনিফেস্টো ঘোষণা করা হয় তা-ই ২১-দফা নামে পরিচিত।
- যুক্তফ্রন্ট সরকারের ২১ দফার মধ্যে ভাষা সংক্রান্ত দফা ছিলো ৫টি।
- এগুলা হলো ১, ১০, ১৬, ১৭, ১৮ নং দফা।

এই দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হল:
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা এবং ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ।
৩. পাটের ব্যবসায় জাতীয়করণ করা।
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা।
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা
৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা।
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা
১০. শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার, মাতৃভাষায় শিক্ষাদান, সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের মধ্যকার বৈষম্য বিলোপ করে সকল বিদ্যালয়কে সরকারি সাহায্যপুষ্ট প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে;
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা।
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা।
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা।
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহীদ মিনার নির্মাণ করা।
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা।
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনোভাবেই বৃদ্ধি না করা।
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

সূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৫২০.
“The Spirit of Islam” - গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. ক) চৌধুরী রহমত আলী
  2. খ) সৈয়দ আমীর আলী
  3. গ) রাজা রামমোহন রায়
  4. ঘ) নওয়াব আব্দুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ আমীর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ আমীর আলী
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আমীর আলী:
- ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে হুগলীর এক সম্ভ্রান্ত শিয়া পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ এবং বি.এল ডিগ্রি লাভ করেন।
- লন্ডনের লিঙ্কন্স ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাশ করার পর ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে আইন ব্যবসা শুরু করেন।
- তিনি ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন।
- তার রচিত গ্রন্থ - The Spirit of Islam এবং  A short History of the Saracens নামে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন।
 
- ১৯০৪ সালে তিনি লন্ডনে চলে যান এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেন।
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য নিয়োজিত হন এবং আমৃত্যু সে পদে বহাল থাকেন। 
- ১৯০৮ সালে লন্ডনে মুসলিম লীগের একটি শাখা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যু ঘটে।

তথ্যসুত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, (HSC Programme) উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫২১.
চৈনিক পর্যটক হিউয়েন সাং বাংলায় আসেন -
  1. ক) ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে
  2. খ) ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে
  3. গ) ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে
  4. ঘ) ৬৩৯ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
গ) ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
হিউয়েন-সাং (চীন) 
▪ ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে চীন থেকে যাত্রা শুরু করে হিউয়েন-সাং উত্তরের বাণিজ্য পথ ধরে মধ্য-এশিয়ার কুচ হয়ে উত্তর ভারতে পৌঁছান।
▪ হিউয়েন-সাং সপ্তম শতকের চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী।
হিউয়েন সাং ৬৩৮ সালে বাংলায় আসেন।
▪ ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে হিউয়েন সাং পুন্ডবর্ধনের রাজধানী পুন্ডনগরে আগমন করেন।
▪ বিখ্যাত চৈনিক পর্যটক হিউয়েন সাং হর্ষবর্ধনের শাসনামলে ভারতবর্ষে আসেন।
▪ হিউয়েন-সাং যখন নালন্দা মহাবিহারে অধ্যয়ন করেন তখন বাঙালি বৌদ্ধ ভিক্ষু শীলভদ্র ছিলেন এর অধ্যক্ষ। হিউয়েন-সাং শীলভদ্রের একজন ছাত্র ছিলেন।
▪ তাঁর রচিত ‘জিউ জি (সি-উ চি)’ মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের উপর সর্ববৃহৎ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ সম্বলিত গ্রন্থ।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৫২২.
তমদ্দুন মজলিশের বাংলা মুখপত্র ছিলো কোন পত্রিকা??
  1. সাপ্তাহিক মুক্তি
  2. সাপ্তাহিক সৈনিক
  3. সাপ্তাহিক আনন্দ
  4. সাপ্তাহিক নির্ভীক
সঠিক উত্তর:
সাপ্তাহিক সৈনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপ্তাহিক সৈনিক
ব্যাখ্যা

তমদ্দুন মজলিশ:
→ তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
→ তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
→ ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
→ অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
→ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।
→ মদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক আবুল কাশেমের অগ্রণী সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া, শাহেদ আলী, আবদুল গফুর, বদরুদ্দীন উমর, হাসান ইকবাল
→ অধ্যাপক আবুল কাশেম ছিলেন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ তমদ্দুন মজলিশের সভাপতি নির্বাচিত হন।
→ উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার উদ্যোগের বিরুদ্ধে বস্তুত তমদ্দুন মজলিশই প্রথম প্রতিবাদ উত্থাপন করে।
→ এই সংগঠন ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
→ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে তমদ্দুন মজলিশের প্রকাশিত পুস্তিকাটির নাম ছিল 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু'।
→ তমদ্দুন মজলিশের বাংলা মুখপত্র সাপ্তাহিক সৈনিক প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর। 

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১০,৫২৩.
সিপাহী বিদ্রোহের সাথে কোন নামটি জড়িত?
  1. মঙ্গল পাণ্ডে
  2. সুভাষচন্দ্র বসু
  3. সূর্যসেন
  4. অরবিন্দ ঘোষ
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল পাণ্ডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গল পাণ্ডে
ব্যাখ্যা
• সিপাহী বিদ্রোহ:
- ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে 'মঙ্গল পাণ্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহী বিদ্রোহের স্মৃতি বিজড়িত স্থান বাহাদুর শাহ পার্ক।
- সিপাহী বিদ্রোহকালীন গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড ক্যানিং।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৫২৪.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযানের নাম কী?
  1. অপারেশন কিলোফাইট
  2. অপারেশন ক্লোজ ডোর
  3. অপারেশন জ্যাকপট
  4. অপারেশন ক্লিন হার্ট
সঠিক উত্তর:
অপারেশন জ্যাকপট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপারেশন জ্যাকপট
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট ১৯৭১ সালে।
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে এক নম্বর সেক্টরের কমান্ডার।
- অপারেশন জ্যাকপটে চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযান তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
- সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বীর উত্তম খেতাব লাভ করেছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া, বিবিসি বাংলা, ১৬ই আগস্ট ২০২১।
১০,৫২৫.
কার নেতৃত্বে ফরায়েজী আন্দোলন গড়ে উঠে?
  1. ফকির মজনু শাহ
  2. মীর নিসার আলী
  3. হাজী শরিয়ত উল্লাহ
  4. নওয়াব আব্দুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
হাজী শরিয়ত উল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজী শরিয়ত উল্লাহ
ব্যাখ্যা
ফরায়েজি আন্দোলন:
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলার মুসলমানদের মধ্যে এক ধর্মীয় সামাজিক আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।
- মুসলমান সমাজে নানাবিধ কুসংস্কার ও অনৈসলামিক কার্যকলাপ লক্ষ করে পবিত্র কুরআন ও হাদীসের শিক্ষার আদর্শে স্ব-ধর্মাবলম্বীদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য যে আন্দোলন পরিচালিত হয়, এটি 'ফরায়েজি আন্দোলন' নামে পরিচিত।
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরিয়াত উল্লাহ।
- তিনি বাংলা তথা ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসন মেনে নিতে পরেননি। শরিয়ত উল্লাহ ইংরেজ রাজত্বকে ঘৃণার চোখে দেখতেন।
- তিনি ভারতবর্ষকে 'দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- ইসলাম অননুমোদিত সব বিশ্বাস, আচার-আচরণ ও অনুষ্ঠান ত্যাগ করে ইসলাম ধর্মে যা অবশ্য করণীয়, অর্থাৎ ফরজ, তা মেনে চলা ও পালন করার জন্য তিনি মুসলমান সমাজকে আহবান করেন। 
- মুসলমানদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালনে জমিদাররা বাধা প্রদান করতে থাকে এবং নানা ধরনের কর আরোপ করে।
- তিনি প্রজাদের অবৈধ কর দেয়া থেকে বিরত থাকার উপদেশ দেন এবং জমিদারদের সব অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য প্রস্তুতি নেন। 
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে শরিয়ত উল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যু ঘটে। এরপর ফরায়েজী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর সুযোগ্য পুত্র দুদু মিয়া।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫২৬.
তারামন বিবি কত নং সেক্টর থেকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন?
  1. ৮নং সেক্টর
  2. ১১নং সেক্টর
  3. ৯নং সেক্টর
  4. ৬নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
১১নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধে নারী, শিশু ও ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী:
- মুক্তিযুদ্ধে নারীদের বিশেষ অবদানের জন্য দুজন মহিলাকে বীরত্বসূচক 'বীরপ্রতীক' খেতাব প্রদান করা হয়।
- তারা হলেন-ক্যাপ্টেন ডা. সেতারা বেগম (২নং সেক্টর) এবং তারামন বিবি (১১নং সেক্টর)।
- খেতাবহীন বীর মহিলা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুনামগঞ্জের খাসিয়া সম্প্রদায়ের কাঁকন বিবি পরিচিত, যার আসল নাম ছিল কাঁকাত হেনিনচিতা।
- তিনি 'মুক্তিবেটি' নামেও পরিচিত।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক সেনা বাহিনী কর্তৃক ধর্ষিত হন প্রায় তিন লাখ নারী।
- এই নারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের সহযাত্রী হিসেবে ভূমিকা পালন করেন এবং তাদের ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রীয়ভাবে 'বীরাঙ্গনা' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১০,৫২৭.
রাষ্ট্র মালিকানাধীন বীমা কর্পোরেশন কয়টি?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ২টি
  4. ঘ) ৫টি
সঠিক উত্তর:
গ) ২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২টি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে সরকারি মালিকানাধীন বীমা প্রতিষ্ঠান ২টি।
- এগুলো হলো:
১। সাধারণ বীমা কর্পোরেশন।
২। জীবন বীমা কর্পোরেশন।
- দুটি প্রতিষ্ঠানই ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- দেশে বেসরকারি পর্যায়ে ৩২টি জীবন বীমা ও ৪৫টি সাধারণ বীমা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

উৎস: সাধারণ বীমা কর্পোরেশন ওয়েবসাইট।
১০,৫২৮.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯১৮ সালে
  2. খ) ১৯২০ সালে
  3. গ) ১৯২১ সালে
  4. ঘ) ১৯২২ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯২১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯২১ সালে
ব্যাখ্যা
১৯২১ সালের ১ জুলাই পূর্ববঙ্গের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম শুরু হয়।
বঙ্গভঙ্গ রদের পর পূর্ব বাংলার অসন্তুষ্ট মুসলমানদের দাবীর প্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় নাথান কমিশন গঠিত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন স্যার পি জে হার্টগ।
২০২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূর্ণ হবে।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
১০,৫২৯.
ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম কী?
  1. ক) পাল
  2. খ) কুষাণ
  3. গ) গুপ্ত
  4. ঘ) মৌর্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) মৌর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মৌর্য
ব্যাখ্যা
মৌর্য সাম্রাজ্যে
• প্রাচীন ভারতের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন ছিল খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে।
• প্রাচীন ভারতে সাম্রাজ্যের বিকাশ ঘটে খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে।  
• ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্যে

চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
• মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। তাঁর রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত।
• তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
• সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিল কৌটিল্য। 

মহামতি অশোক
• অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে বসেছিলেন এবং তাঁর অভিষেক হয়েছিল ২৬৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে।
• তার শাসনামলেই উত্তর বাংলায় মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
• প্রাচীন পুন্ড্রনগর ছিল এ প্রদেশের রাজধানী।
• কলিঙ্গের যুদ্ধ ছিল তার জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এ যুদ্ধে ১১/২ লক্ষ লোক বন্দী, ১ লক্ষ লোক নিহত এবং বহু সংখ্যক লোক আহত হয়।
• যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন। তাঁর শাসনামলে বৌদ্ধধর্ম রাজধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি পায়। 
• এজন্য তাঁকে বৌদ্ধধর্মের কনস্ট্যানটাইন বলা হয়।
•  প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫৩০.
ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে কোনটি সঠিক নয়?
  1. গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা
  2. ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন
  3. ২০০৬ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন
  4. অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
সঠিক উত্তর:
২০০৬ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৬ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন
ব্যাখ্যা
ড. মুহাম্মদ ইউনূস:
- ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদ।
- তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের একজন শিক্ষক ছিলেন।
- তিনি ক্ষুদ্রঋণ নামক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জনক হিসেবে সমাদৃত।
- অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা।
- মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই পুরস্কার লাভ করেন।
- ড. ইউনূস বিশ্ব খাদ্য পুরস্কারসহ আরও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন।

উল্লেখ্য,
- মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৯৬ সালে সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
- ড. ইউনুসকে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান করা হয়।

⇒ ১৯৭৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ড. ইউনূস জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহ প্রায় ১৪৫টি পুরস্কার অর্জন করেছেন।
- এর মধ্যে রয়েছে:
- স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন ১৯৮৭ সালে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১০,৫৩১.
বাংলাদেশে কয়টি কয়লা খনি রয়েছে?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
পাঁচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঁচ
ব্যাখ্যা
কয়লা:
- বাংলাদেশের কয়লা খনি ৫টি।
- স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে গঠিত  বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর বা জি.এস.বি ১৯৮৫ সালে দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়াতে, ১৯৮৯ সালে রংপুর জেলার খালাশপীর নামক স্থানে এবং ১৯৯৫ সালে দিনাজপুরের দীঘিপাড়াতে পার্মিয়ান যুগের গন্ডোয়ানা কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কার করে।
- বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জি.এস.বি)-এর অব্যাহত প্রচেষ্টায় ৪টি কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার যৌথ কোম্পানি বি.এইচ.পি-মিনারেলস আরও একটি কয়লাখনি আবিষ্কার করলে দেশে কয়লাখনির মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৫টিতে।



উৎস: খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো।
বাংলাপিডিয়া।   
১০,৫৩২.
Who played a key role in the formulation of the 21-point manifesto of the 'United Front'?
  1. A.K. Fazlul Haque
  2. Maulana Atahar Ali
  3. Abul Monsur Ahmed
  4. Maulana Vashani
সঠিক উত্তর:
Abul Monsur Ahmed
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Abul Monsur Ahmed
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক কাউন্সিল সম্মেলনে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
- পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র - স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৫৩৩.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. ময়নামতি
  2. পথের পাঁচালী
  3. গেরিলা
  4. নয়নমণি
সঠিক উত্তর:
গেরিলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গেরিলা
ব্যাখ্যা
• গেরিলা:
- গেরিলা ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশী চলচ্চিত্র।
- এটি 'জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার' পেয়েছে।
- নাসির উদ্দিন ইউসুফ পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত।
- সৈয়দ শামসুল হকের 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করা হয়েছে চলচ্চিত্রটি।
- যৌথভাবে চিত্রনাট্য রচনা করেছেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও এবাদুর রহমান।

অন্যদিকে, 
• 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।

• ‘ময়নামতি’:
কিংবদন্তী অভিনেতা নায়ক রাজ রাজ্জাক ও অভিনেত্রী কবরী অভিনীত কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘ময়নামতি’। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পূর্বকালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশী চলচ্চিত্র।

• নয়নমণি: 
 ১৯৭৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশী চলচ্চিত্র।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, প্রথম আলো, ১৮ ডিসেম্বর ২০২১, বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা রিপোর্ট।
১০,৫৩৪.
২০২৬ সালের ‘বর্ষপণ্য’ হিসেবে কোন পণ্যকে ঘোষণা করা হয়েছে? 
  1. পেপার ও প্যাকেজিং প্রডাক্ট
  2. টেক্সটাইল ও পোশাক
  3. ইলেকট্রনিক্স পণ্য
  4. খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য
সঠিক উত্তর:
পেপার ও প্যাকেজিং প্রডাক্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেপার ও প্যাকেজিং প্রডাক্ট
ব্যাখ্যা

• ২০২৬ সালের বর্ষপণ্য : 
- পেপার ও প্যাকেজিংকে চলতি বছরের বর্ষপণ্য ঘোষণা করে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার (ডিআইটিএফ) উদ্বোধন করা হয়েছে।
- 'পেপার ও প্যাকেজিং প্রডাক্টকে ২০২৬ সালের বর্ষপণ্য হিসেবে ঘোষণা করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
- বর্ষপণ্য ঘোষণার ফলে পেপার প্যাকেজিং শিল্পে নতুন বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং রফতানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। 

উল্লেখ্য, 
- ২০২৫ সালের 'বর্ষপণ্য' ছিলো আসবাবপত্র বা ফার্নিচার। 

তথ্যসূত্র: বনিক বার্তা। 

১০,৫৩৫.
বিক্রমশীলা বিহার কিসের প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়েছিলো? 
  1. নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কমে যাওয়া
  2. উজ্জয়িনী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কমে যাওয়া
  3. তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কমে যাওয়া
  4. ওদন্তপুরী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কমে যাওয়া
সঠিক উত্তর:
নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কমে যাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কমে যাওয়া
ব্যাখ্যা

• ধর্মপাল ও বিক্রমশীলা বিহার:
-
পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ছিলো ধর্মপাল।
- তিনি বৌদ্ধধর্মের একজন মহান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- তার সময় ত্রিশক্তির সংঘর্ষ হয়-
• পালবংশ;
• রাজপুতানা গুর্জর প্রতিহার বংশ;
• দক্ষিণাংশের রাষ্ট্রকূপ বংশ।
- ধর্মপাল পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বা সোমপুর বিহার নির্মাণ করেন।
- এছাড়া তিনি বিক্রমশীলা বিহার নির্মাণ করে যা বর্তমানে ভাগলপুরে অবস্থিত।
- বিক্রমশীলা বিহার নির্মিত হয় নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কমে যাওয়ার প্রতিক্রিয়ায়।
- তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্ম এবং শিক্ষার জন্য বিক্রমশীলা বিখ্যাত ছিল।

অন্যদিকে,
• উজ্জয়িনী  বিশ্ববিদ্যালয়- মধ্যপ্রাচ্য ও ভারতীয় উপমহাদেশের বৌদ্ধ শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

• তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়- পাকিস্তানের প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়।
- প্রাচীন সময়ে বিদ্যা, চিকিৎসা, যুদ্ধে কৌশল ও বাণিজ্য শিক্ষার জন্য সমাদৃত ছিলো।

• ওদন্তপুরী বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের বিহারে অবস্থিত।
- এটি নালন্দার মতো বৌদ্ধ শিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্র।
- ধর্মশিক্ষা ও শাস্ত্রীয় শিক্ষায় বিশেষভাবে প্রভাবশালী ছিলো।

উৎস:
১. ইতিহাস, এস এস এইচ এল প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
২. বাংলাপিডিয়া। 

১০,৫৩৬.
শরৎচন্দ্র বসু অখণ্ড বাংলাকে কেমন রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান?
  1. গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র
  2. সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
  3. সাংবিধানিক রাজতন্ত্র
  4. সামন্ততান্ত্রিক রাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
ব্যাখ্যা

• অখণ্ড বাংলার উদ্যোগ :

- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে হিন্দু–মুসলমান সম্পর্ক চরম পর্যায়ে পৌঁছায় ও দাঙ্গায় রূপ নেয়।
- এ সময় ব্রিটিশ সরকার ক্ষমতা ভারতীয়দের হাতে হস্তান্তরের ঘোষণা দেয়।
- বাংলার প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি “যুক্ত বাংলার প্রস্তাব” উত্থাপন করেন।
- এ প্রস্তাবের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন শরৎচন্দ্র বসু।
- এ প্রস্তাবটি ইতিহাসে “বসু–সোহরাওয়ার্দি প্রস্তাব” নামে খ্যাত।
- মুসলিম লীগ নেতা আবুল হাশিম বৃহত্তর বাংলা রাষ্ট্রের একটি রূপরেখা প্রণয়ন করেন।
- শরৎচন্দ্র বসু অখণ্ড বাংলাকে একটি “সোস্যালিস্ট রিপাবলিক/সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র” হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
- অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল— অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সমৃদ্ধ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলা গঠন।
- প্রথমদিকে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ নেতাদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া থাকলেও গান্ধী ও জিন্নাহ প্রস্তাবটিতে মৌন সমর্থন দিয়েছিলেন।
- কংগ্রেস, মুসলিম লীগ ও হিন্দু মহাসভা পরে এ প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে।
- শুধুমাত্র কমিউনিস্ট পার্টি অখণ্ড বাংলা প্রস্তাবকে সমর্থন দেয়।
- পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ী, পুঁজিপতি ও বুদ্ধিজীবী শ্রেণি যুক্ত বাংলার বিরোধিতা করে।
- ঢাকার হিন্দু বুদ্ধিজীবীরাও যুক্ত বাংলার বিপক্ষে অবস্থান নেন।
- বিভিন্ন পত্রপত্রিকা যুক্ত বাংলার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায়।
- বাংলা কংগ্রেসের কার্যকরী কমিটি বাংলা ভাগের পক্ষে প্রস্তাব গ্রহণ করে।
- ৩ জুন ১৯৪৭ – লর্ড মাউন্টব্যাটন ভারত বিভক্তির ঘোষণা দেন (পাঞ্জাব ও বাংলা ভাগের পরিকল্পনা সহ)।
- ২০ জুন ১৯৪৭ – বাংলা বিধানসভা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে বাংলা ভাগের পক্ষে রায় দেয়।
- ১৪ আগস্ট ১৯৪৭ – পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়; পূর্ব বাংলা পাকিস্তন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৫৩৭.
হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত চলচ্চিত্র নিচের কোনটি?
  1. চন্দ্রকথা
  2. জয়যাত্রা
  3. দারুচিনি দ্বীপ
  4. লালসালু
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রকথা
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ:

- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে।
- তিনি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম ছবি আগুনের পরশমণি (১৯৯৫) এবং শেষ ছবি ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২)।
- তাঁর অন্যন্যা চলচ্চিত্র গুলো হলো,
- শ্রাবণ মেঘের দিন (২০০০), দুই দুয়ারী (২০০১), চন্দ্রকথা (২০০৩), নয় নম্বর বিপদ সংকেত (২০০৭) এবং আমার আছে জল (২০০৮)।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১০,৫৩৮.
দেশের প্রথম এক্সপ্রেস হাইওয়ে কোনটি?
  1. ঢাকা-চট্টগ্রাম
  2. এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল
  3. ঢাকা-ভাঙ্গা
  4. চট্টগ্রাম-কক্সবাজার
সঠিক উত্তর:
ঢাকা-ভাঙ্গা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা-ভাঙ্গা
ব্যাখ্যা
- দেশের প্রথম এক্সপ্রেস হাইওয়ে হলো ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেস হাইওয়ে। ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত এই এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য ৫৫ কিলোমিটার।
- গত ১২ মার্চ ২০২০ এক্সপ্রেস হাইওয়েটির উদ্বোধন করা হয়। চারটি মূল লেনসহ এতে মোট আটটি লেণ রয়েছে।
(তথ্যসূত্র: প্রথম আলো)
১০,৫৩৯.
বর্তমানে দেশে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া বীরাঙ্গনার সংখ্যা-
  1. ক) ৩৩৯ জন
  2. খ) ৪১৩ জন
  3. গ) ৪৩৯ জন
  4. ঘ) ৪৪৮ জন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪৪৮ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪৪৮ জন
ব্যাখ্যা
বর্তমানে দেশে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া বীরাঙ্গনার সংখ্যা ৪৪৮ জন।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার।
১০,৫৪০.
সৌদি আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় -
  1. ক) ১৯৭৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি
  2. খ) ১৯৭৪ সালের ৪ মার্চ
  3. গ) ১৯৭৪ সালের ১৫ আগস্ট
  4. ঘ) ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট
ব্যাখ্যা

- ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ৮ জুলাই ১৯৭২ সালে।
- এটি মধ্যপ্রাচ্যের স্বীকৃতিদানকারী প্রথম দেশ ছিল।
- অন্যদিকে ইরান ও কাতার বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় যথাক্রমে ১৯৭৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ও ৪ মার্চ।
- সৌদি আরব স্বীকৃতি দেয় ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট।

উৎসঃ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।

১০,৫৪১.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ ছিলেন কে?
  1. আবদুস সালাম
  2. আবুল বরকত
  3. আবদুল জব্বার
  4. রফিকউদ্দিন আহমদ
সঠিক উত্তর:
রফিকউদ্দিন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রফিকউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা

প্রথম শহীদ:
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ ছিলেন রফিকউদ্দিন আহমদ।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার অধিকার আদায়ের মিছিলে পুলিশের গুলিতে তিনি ঘটনাস্থলেই শহীদ হন।
- তাকে আজিমপুর গোরস্থানে দাফন করা হয়।
- পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকা এক জনসভায় ঘোষণা করেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ।
- এর প্রতিক্রিয়ায় ৩১ জানুয়ারি, বিভিন্ন রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক দলের সভায় আলাউদ্দিন রহমান খানের সভাপতিত্বে কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি গঠন করা হয় ।
- কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ আহ্বায়ক কাজী গোলাম মাহবুবের নেতৃত্বে ফেব্রুয়ারি (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ) রোজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়।
- এর ফলে সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করলেও ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা সমবেত হয়ে “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই” শ্লোগান দিতে থাকে।
- পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষ হয়।
- এই মিছিলে রফিকউদ্দিন আহমদের সঙ্গে শহীদ হন আব্দুল বরকত, আব্দুস সালাম, আবুল জব্বার প্রমুখ।
- নয় বছরের শিশু ওহিউল্লাহও পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ও বাংলাপিডিয়া৷

১০,৫৪২.
CPD- এর পূর্ণরুপ কী?
  1. Centre for Public Dialogue
  2. Centre for Policy Discussion
  3. Century for Policy Dialogue
  4. Centre for Policy Dialogue
সঠিক উত্তর:
Centre for Policy Dialogue
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Centre for Policy Dialogue
ব্যাখ্যা

- CPD- এর পূর্ণরুপ হলো Centre for Policy Dialogue.
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার মূল্যায়ন করে.
- ১৯৯৩ সালে রেহমান সোবহান এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র- বাংলাপিডিয়া।

১০,৫৪৩.
লক্ষ্মৌ চুক্তির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে কোন আন্দোলন সংঘটিত হয়? 
  1. নীল বিদ্রোহ ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহ 
  2. সাইমন কমিশন বিরোধী আন্দোলন
  3. ভারত ছাড়ো আন্দোলন 
  4. খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন 
সঠিক উত্তর:
খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন 
ব্যাখ্যা

লক্ষ্মৌ চুক্তি: 
- ভারত উপমহাদেশের সাংবিধানিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে ১৯১৬ সালের লক্ষ্মৌ চুক্তি এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
- হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি রচনা করে এ চুক্তি। 

• নিম্নে লক্ষ্মৌ চুক্তির গুরুত্ব আলোচনা করা হলো:
১. লক্ষ্মৌ চুক্তির স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে হিন্দু মুসলিম রাজনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি রচিত হয়।
২. এ চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় কংগ্রেসে মুসলমানদের পৃথক নির্বাচনের দাবি মেনে নেয়।
৩. এ চুক্তির ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল।
8. এ চুক্তির ফলে ভারতবর্ষে স্বায়ত্তশাসনের দাবি জোরদার হয়ে ওঠে।
৫. এ চুক্তির ফলে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ সম্মিলিতভাবে ব্রিটিশ সরকারের কাছে স্বায়ত্বশাসনের দাবি জানায়।
৬. মুসলমানদের স্বার্থ বিরোধী বিল পাশ না হওয়ার সম্ভবনা সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৫৪৪.
'আবার তোরা মানুষ হ' চলচ্চিত্রটির পরিচালক কে?
  1. চাষী নজরুল ইসলাম
  2. ইউসুফ আলী
  3. খান আতাউর রহমান
  4. আলমগীর কবির
সঠিক উত্তর:
খান আতাউর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খান আতাউর রহমান
ব্যাখ্যা
আবার তোরা মানুষ হ (১৯৭৩):
- চলচ্চিত্রটির পরিচালক খান আতাউর রহমান।
- এ চলচ্চিত্রে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও অবক্ষয়ের চিত্র উঠে এসেছে।
- বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারুক, রাইসুল ইসলাম আসাদ, ববিতা, রোজী আফসারী, রওশন জামিলসহ অনেকে।
- এখানে আছে উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র ও তরুণদের কার্যকলাপ এবং একজন আদর্শবাদী অধ্যক্ষের দৃঢ়তা।

উৎস: ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১, প্রথম আলো। 
১০,৫৪৫.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কোন আসামীকে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়?
  1. সার্জেন্ট আবদুল জলিল;
  2. সার্জেন্ট শামসুল হক
  3. সার্জেন্ট জহুরুল হক
  4. সার্জেন্ট মোঃ আব্দুর রাজ্জাক
সঠিক উত্তর:
সার্জেন্ট জহুরুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সার্জেন্ট জহুরুল হক
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:

- ১৯৬৮ সালের আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম “রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য"। তবে এটি “আগরতলা ষড়যন্ত্র” মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৫৪৬.
১৯৭১ সালে ঢাকা শহরে 'অপারেশন সার্চলাইট' পরিচালনার মূল দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. ক) জেনারেল রাও ফরমান আলী
  2. খ) জেনারেল টিক্কা খান
  3. গ) জেনারেল ইয়াহিয়া খান
  4. ঘ) জেনারেল আবদুল হামিদ খান
সঠিক উত্তর:
ক) জেনারেল রাও ফরমান আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জেনারেল রাও ফরমান আলী
ব্যাখ্যা
- অপারেশন সার্চলাইট পাকিস্তানে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী মুক্তিকামী বাঙালিদের কঠোর হস্তে দমনের জন্য ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী যে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করে সামরিক কর্তৃপক্ষ একে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে অভিহিত করে।
- অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় ২৫ মার্চ রাত সাড়ে এগারটা থেকে মধ্য মে পর্যন্ত বড় বড় শহরে অভিযান পরিচালিত হয়।
- অপারেশন সার্চলাইট  অভিযান শুরুর সময় নির্ধারিত ছিল ২৬ মার্চ রাত ১টা।-
লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান ও এ.এ.কে নিয়াজীর জনসংযোগ কর্মকর্তা মেজর সিদ্দিক সালেক মন্তব্য করেছেন যে, বাঙালি বিদ্রোহীদের প্রবল প্রতিরোধ সৃষ্টির আগেই পাকিস্তান বাহিনী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে পৌঁছার লক্ষ্যে অভিযান এগিয়ে ২৫ মার্চ রাত ১১-৩০ মিনিটে শুরু হয়। 
পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের - ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- পাঁচ পৃষ্ঠার এই পরিকল্পনাটি রাও ফরমান আলী নিজ হাতে লিখেন।
- সিদ্ধান্ত হয়, ২৫ মার্চ রাত ১টায় অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় অভিযানে ঢাকায় নেতৃত্ব দিবেন জেনারেল রাও ফরমান আলী।
- দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নেতৃত্ব দিবেন জেনারেল খাদিম রাজা।

উৎস:- বাংলাপিডিয়া।
১০,৫৪৭.
অনুশীলন সমিতি কোন অঞ্চলের সশ্বস্ত্র বিপ্লবী সংগঠন ছিলো?
  1. ক) চট্টগ্রাম
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) কলকাতা
  4. ঘ) আসাম
সঠিক উত্তর:
খ) ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতে বাংলায় বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরই অংশ হিসেবে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে অনেকগুলো গোপন বিপ্লবী সশস্ত্র সংগঠন গড়ে উঠে। অনুশীলন সমিতি ছিলো ঢাকায় গড়ে উঠা একটি বিপ্লবী সশ্বস্ত্র সংগঠন। এর প্রধান সংগঠক ছিলেন পুলিন বিহারী দাস। এই সমিতি গুপ্ত হত্যা, সশ্বস্ত্র আক্রমণ প্রভৃতির মাধ্যমে সরকারকে ব্যতিব্যস্ত রাখে। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১০,৫৪৮.
ঐতিহাসিক 'ছয় দফায়' কোন বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিলো না?
  1. আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা
  2. বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
  3. আঞ্চলিক নির্বাচন ক্ষমতা
  4. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক নির্বাচন ক্ষমতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক নির্বাচন ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
- ঐতিহাসিক ছয় দফার আঞ্চলিক নির্বাচন ক্ষমতার কথা উল্লেখ ছিল না।

• ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫ - ৬ ফেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে বিরোধী দলের একটি সম্মেলনে ছয় দফা দাবী পেশ করেন।
- আর এটি ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়।
- ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা - রুহুল কুদ্দুস। 

• দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও মূলধারা ’৭১।
১০,৫৪৯.
জব চার্নক কত সালে কোলকাতা, সুতানটি ও গোবিন্দপুর নামে তিনটি গ্রামের জমিদারি স্বত্ব লাভ করেন?
  1. ১৬৫০ সালে
  2. ১৬৯০ সালে
  3. ১৭০০ সালে 
  4. ১৭২৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৬৯০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬৯০ সালে
ব্যাখ্যা
কোলকাতা নগরী ও ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ: 
- জব চার্নক নামে একজন ইংরেজ ১৬৯০ সালে ১২০০ টাকার বিনিময়ে কোলকাতা, সুতানটি ও গোবিন্দপুর নামে তিনটি গ্রামের জমিদারি স্বত্ব লাভ করেন
- ভাগীরথী নদীর তীরের এই তিনটি গ্রামকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীকালে কোলকাতা নগরীর জন্ম হয়। 
- এখানেই কোম্পানি ১৭০০ সালে ইংল্যান্ডের রাজা তৃতীয় উইলিয়ামের নাম অনুসারে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মাণ করে।
- ধীরে ধীরে এটি ইংরেজদের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা এবং রাজনৈতিক স্বার্থ বিস্তারের শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১০,৫৫০.
ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রথম সংগ্রাম কোনটি?
  1. ক) ফরায়জী আন্দোলন
  2. খ) সিপাহী বিদ্রোহ
  3. গ) ফকির আন্দোলন
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ফকির আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফকির আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন:
- বাংলায় সংঘটিত ব্রিটিশবিরোধী প্রথম আন্দোলন হলো ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন।
- আঠারো শতকে ১৭৬০ সাল থেকে ১৮০০ সালের মধ্যে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়।

- ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলনে সন্ন্যাসীদের নেতৃত্ব দেন ভবানী পাঠক।
- অন্যদিকে ফকিরদের নেতৃত্বে ছিলেন মজনু শাহ।

• ফরায়েজী আন্দোলন:
- ১৮১৮ সালে হাজী শরীয়তউল্লাহ বাংলায় ফরায়েজী আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- প্রথমদিকে ধর্মকেন্দ্রিক হলেও পরবর্তীতে সামাজিক ও ইংরেজ শাসনবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।
- হাজী শরীয়তউল্লাহ'র মৃত্যুর পর তার ছেলে দুদু মিয়া এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।
- ১৮৬২ সালে দুদু মিয়ার মৃত্যু হলে সুযোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজী আন্দোলন স্তিমিত হয়ে যায়।
- ফরায়েজী আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রুপ দেন- ‍দুদু মিয়া।

• সিপাহী বিদ্রোহ:
- ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিপ্লব এত ব্যাপক আকারে ঘটে যে তা বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ভিতকে কাঁপিয়ে তোলে।
- এক বছর ধরে স্থায়ী এই গণবিদ্রোহে সমাজের বিভিন্ন স্তরের জনগণ অংশ নেয় ও সহযোগিতা প্রদান করে।
- বিদেশি শাসন শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিদ্রোহের মূলে কাজ করেছিল।
- ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিরা বিপ্লবের বিরোধিতা করেছিল। 
- প্লবের ধ্বংসাত্মক রূপ লক্ষ করে রেভারেন্ড ডাফ মন্তব্য করেছিলেন যে,১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের অভ্যুত্থানকে নিছক সামরিক বিদ্রোহ বলা যায় না - এটি ছিল একটি বিপ্লব।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস,প্রথম পত্র,এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। (তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি)
১০,৫৫১.
ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. একুশের গল্প
  2. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
  3. আর্তনাদ
  4. আরেক ফাল্গুন
সঠিক উত্তর:
আরেক ফাল্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরেক ফাল্গুন
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস:
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুন হবো'।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি। এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।
- 'কবর' মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত প্রথম বাংলা নাটক ।
- 'একুশের গল্প' জহির রায়হান এর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত গল্প।

তথ্যসূত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,৫৫২.
“জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থী” উক্তিটি কার?
  1. দুদু মিয়া
  2. হাজী শরীয়ত উল্লাহ
  3. তিতুমীর
  4. সৈয়দ আমীর আলী
সঠিক উত্তর:
দুদু মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুদু মিয়া
ব্যাখ্যা

• দুদু মিয়া:
- হাজী শরীয়তুল্লাহ ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে মাদারীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ফরায়েজী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিল ফরিদপুর জেলায় এবং তার নেতৃত্বে এটি শুরু হয়।
- হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পর ফরায়েজী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর পুত্র দুদু মিয়া।
- তিনি ধর্মীয় সংস্কারমূলক এ আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেন।
- দুদু মিয়া ঘোষণা করেন, “জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থি”।

অপরদিকে,
- হাজী শরীয়তুল্লাহ একটি ইসলামী সংস্কার আন্দোলনের ডাক দেন।
- আল্লাহ কর্তৃক নির্দেশিত অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্যসমূহকে ফরজ বলা হয়।
- শরীয়তুল্লাহ মুসলমানদের স্থানীয় লোকাচার পালনের বিরোধী ছিলেন।
- ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে।
- অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্যসমূহকে কার্যকর করতে হাজী শরিয়তউল্লাহ ফরায়েজি মতাদর্শ প্রতিষ্ঠিত করেন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।

১০,৫৫৩.
অবিভক্ত বাংলায় সর্বপ্রথম রাজা কে?
  1. ক) অশোক
  2. খ) শশাঙ্ক
  3. গ) মগদ
  4. ঘ) ধর্মপাল
সঠিক উত্তর:
খ) শশাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা
সপ্তম শতকের প্রারম্ভে বাংলার প্রথম স্বাধীন নৃপতি শশাঙ্ক উত্তর বাংলায় একটি শক্তিশালী স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন যা ‘গৌড়রাজ্য’ নামে পরিচিত।
- এই রাজ্যের রাজধানী ছিলো মুর্শিদাবাদ জেলার নিকটবর্তী কর্ণসুবর্ণ।
- উত্তর বাংলা থেকে উড়িষ্যা পর্যন্ত স্বাধীন গৌড়রাজ্যের বিস্তৃতি ছিলো।
- ৫৯৪-৬৩৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শশাঙ্ক গৌড়রাজ্য শাসন করেন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।

খেয়াল করুন, অশোক একজন সম্রাট ছিলেন, রাজা নন। একটি সাম্রাজ্যে অনেকগুলো রাজ্য থাকে। তেমনি, একজন সম্রাটের অধীনে কয়েকজন রাজা থাকতে পারেন।
১০,৫৫৪.
What percent of share one must hold to be a director of a listed insurance company in Bangladesh?
  1. 2%
  2. 5%
  3. 10%
  4. 3%
সঠিক উত্তর:
2%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
2%
ব্যাখ্যা
বিমা কোম্পানিগুলোর বিধিমালা:
- বীমাকারীর পরিচালক নির্বাচন বিধিমালা, ২০২৪ এর গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। 
- নতুন এই বিধিমালায় বীমা কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরিচালকদের শেয়ারধারণের সময় ৬ মাস থেকে বাড়িয়ে ১ বছর করা হয়েছে। 
- এর ফলে একজন শেয়ারহোল্ডারকে পরিচালক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হলে বীমা প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধনের নূন্যতম ২ শতাংশ শেয়ার কমপক্ষে ১ বছর ধারণ করতে হবে।

⇒ বীমাকারীর পরিচালক নির্বাচন বিধিমালা, ২০২৪ –এ বলা হয়েছে, বীমা কোম্পানির সংঘস্মারক বা সংঘবিধিতে যা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ৭৮ এ বর্ণিত বিধি-নিষেধ সাপেক্ষে, উদ্যোক্তা পরিচালকের শূন্যপদ পূরণের নিমিত্তে বীমাকারীর বার্ষিক সাধারণ সভায় উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডাররা তাদের নিজেদের মধ্য থেকৈ উদ্যোক্তা পরিচালক নির্বাচন করবেন।
- উদ্যোক্তা পরিচালক পদে নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার অন্যূন ১ বছর পূর্ব থকে বীমা কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ২% শেয়ারধারণ অব্যাহত রাখতে হবে।
- শেয়ারগ্রহীতা পরিচালক পদে নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কমপক্ষে ১ বছর পূর্ব থেকে বীমা কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ২% শেয়ারধারণ অব্যাহত রাখতে হবে।

উৎস: i) বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ওয়েবসাইট।
ii) Insurance News Bangladesh।
১০,৫৫৫.
সোনারগাঁয়ের প্রাচীন নাম কী?
  1. ক) নারায়ণগঞ্জ
  2. খ) লাভনবন্দ
  3. গ) সুবর্ণগ্রাম
  4. ঘ) পুণ্ড্রনগর
সঠিক উত্তর:
গ) সুবর্ণগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুবর্ণগ্রাম
ব্যাখ্যা
সোনারগাঁও:
- সোনারগাঁও বাংলার প্রাচীন রাজধানী।
- বর্তমান ঢাকা থেকে ২৭ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত সোনারগাঁও বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা।
- ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে হিন্দু আমলের রাজধানী এখানেই অবস্থিত ছিল বলে ধারণা করা হয়।
- পরবর্তীকালে মুসলিম শাসকদের পুর্ববঙ্গের প্রাদেশিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল।
- প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম থেকে সোনারগাঁও নামের উদ্ভব বলে কারো কারো ধারণা রয়েছে।
- বারো ভূঁইয়া প্রধান ঈশা খাঁ'র স্ত্রী সোনাবিবি'র নামানুসারে সোনারগাঁও নামকরণ করা হয়।
- বাংলার রাজধানী হিসেবে সোনারগাঁওয়ের পত্তন করেন ঈশা খাঁ।
- আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়।
- মধ্যযুগে এটি মুসলিম সুলতানদের রাজধানী ছিল।
- ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে ঢাকা সুবে বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হবার পূর্ব পর্যন্ত সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।
- ঈশা খাঁ ও তাঁর বংশধরদের শাসনামলে সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।
- সোনারগাঁও এর আরেকটি নাম ছিল পানাম।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১০,৫৫৬.
ময়নামতির পূর্ব নাম কী?
  1. রোহিতগিরি
  2. সুবর্ণ গ্রাম
  3. ভবানীগঞ্জ
  4. সিংহজানী
সঠিক উত্তর:
রোহিতগিরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোহিতগিরি
ব্যাখ্যা
ময়নামতি:
- কুমিল্লা শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার পশ্চিমে ময়নামতি অবস্থিত।
- ময়নামতিতে রয়েছে ৮ম শতকের পুরার্কীতির নিদর্শন।
- ময়নামতির উত্তর - দক্ষিণে রয়েছে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ২ কিলোমিটার প্রস্থ নিয়ে বিস্তৃত প্রাচীনকালের রোহিতগিরি যা লালমাটির পাহাড় নামে পরচিতি।
- এর উত্তরাংশ দশম শতকে দেব বংশের রাজা মানিক্য চন্দ্রর রাজধানীকে কন্দ্রে করে তার স্ত্রী মরণামতরি নামে নামকরণ করা হয় ময়নামতি।

⇒ ময়নামতি বৌদ্ধ বিহার:
- লালমাই ময়নামতি গিরি শ্রেণীর মধ্যবর্তী স্থানে এই বিহারটি অবস্থিত।
- এই বিহারটির প্রত্যেক বাহুর দৈর্ঘ্য ৫৫০ ফুট।
- চারটি বাহুতে মোট ১১৫টি ভিক্ষু কক্ষ আছে যাতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বসবাস করতেন।
- মূল বিহারটি দেব বংশের চতুর্থ রাজা ভবদেব কর্তৃক আনুমানিক ৮ম শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছে।
- শালবন বিহার খনন করে অসংখ্য মূল্যবান প্রত্নতত্ত্ব আবিস্কার করা হয়েছে।
- এগুলোর মধ্যে আছে ৮টি তাম্রলিপি, ১৮টি স্বর্ণ ও ৩৫০টি রৌপ্য মুদ্রা, স্বর্ণালংকার, নানা ধরণের মূর্তি, পোড়ামাটির বিএফলক, সীল ও নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্য।

অন্যদিকে,
- সোনারগাঁও এর পূর্বনাম সুবর্ণগ্রাম।
- গাইবান্ধা  এর পূর্বনাম ভবানীগঞ্জ।
- জামালপুর এর পূর্বনাম সিংহজানী।

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ওয়েবসাইট।
১০,৫৫৭.
ভারতীয় উপমহাদেশের কোন বন্দরে সর্ব প্রথম পর্তুগীজদের আগমন ঘটে?
  1. কোচিন
  2. হুগলি
  3. মাদ্রাজ
  4. কালিকট
সঠিক উত্তর:
কালিকট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালিকট
ব্যাখ্যা

বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন:
- পর্তুগীজরা প্রথম আগত ইউরোপীয়ান বাণিজ্যিক দল।
- পর্তুগীজরা ভারতীয় উপমহাদেশের কালিকট বন্দরে প্রথম আসে।
- ১৪৯৮ সালে পর্তুগীজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন, তিনি ভাস্কো-ডা-গামা।
- এরপর ১৫০৯ খ্রিস্টাব্দে আলবুকার্ক গোয়াতে আগমন করেন।
- আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
- কলম্বাস এবং ম্যাজিলানও বিখ্যাত পর্তুগিজ নাবিক ছিলেন।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে পর্তুগীজরা কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি অঞ্চলে কুঠি স্থাপন এবং ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে শুল্কঘাটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
- পর্তুগিজরা কেবল ব্যবসা-বাণিজ্যই করত না, তারা এদেশের জমিদার ও প্রতাপশালী বার ভূঁইয়াদের সেনাবাহিনীতে চাকরী করত।
- তারা সুযোগ পেলেই জুলুম, অত্যাচার ও লুণ্ঠন করতো।
- অনেক সময় সম্রাট বা নবাবের আইন অমান্য করে বিনা শুল্কে স্বাধীনভাবে ব্যবসা চালাত। এতে তাঁরা মোগল সম্রাটের বিরাগভাজন হন।
- পর্তুগিজরা আরও নানা প্রকার অপরাধমূলক কাজ করত।
- তাদের এ অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেলে সম্রাট শাহজাহান পর্তুগিজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করেন।
- সম্রাটের নির্দেশে কাসিম খান তাদের হুগলী কুঠি থেকে বিতাড়িত করেন।
- সর্বশেষ বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ ঘাঁটি দখল করে চিরতরে এ দেশ থেকে উচ্ছেদ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৫৫৮.
বাংলাদেশের কোন প্রতিষ্ঠানটির ৭০ বছর পূর্তি উদযাপিত হয়েছে?
  1. ক) খাদ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট
  2. খ) কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট
  3. গ) বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি
  4. ঘ) বাংলা একাডেমি
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি
ব্যাখ্যা

এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশের ৭০ বছর পূর্তি উদযাপন:
মৌলিক গবেষণা, নতুন জ্ঞান সৃজন এবং মুক্তবুদ্ধি চর্চার অগ্রণী প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি’। 
৩ জানুয়ারি ১৯৫২ সালে এশিয়ার মানুষ, তাদের জীবন ও কর্ম এবং প্রকৃতি বিষয়ে গবেষণা এবং এ কাজে আত্মনিয়োগে গবেষকদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ‘পাকিস্তান এশিয়াটিক সোসাইটি’ নামে এই প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। 
১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি’ নামকরণ করা হয়।
৩ জানুয়ারি ২০২২ প্রতিষ্ঠানটির ৭০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়।

উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট 

১০,৫৫৯.
বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদানকারী উত্তর আমেরিকার দেশ কোনটি? 
  1. কানাডা
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. মেক্সিকো
  4. বার্বাডোস
সঠিক উত্তর:
বার্বাডোস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্বাডোস
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশসমূহ:
• বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে ভুটান।
- ভুটান ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে প্রথম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
- ভুটানের পর একই দিনে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম উত্তর আমেরিকার দেশ হিসেবে বার্বাডোস বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
• বার্বাডোস বাংলাদেশকে ১৯৭২ সালের ২০শে জানুয়ারি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উল্লেখ্য,
• ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে পূর্ব জার্মানি।
• মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে ইরাক।
• এশিয়ার অ-আরব মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া; এরপর মালয়েশিয়া।
• মুসলিম ও আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে সেনেগাল।
• সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে পোল্যান্ড।
• দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছে কলম্বিয়া; এরপর ভেনেজুয়েলা।
• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম ওশেনিয়ান দেশ টোঙ্গা।
• স্বাধীন বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দান করে- ৪ এপ্রিল,১৯৭২ সালে। 

উৎস:
১. Britannica;
২. প্রথম আলো।

১০,৫৬০.
When did Dhirendranath Datta demand the use of Bengali language along with Urdu in the Constituent Assembly of Pakistan?
  1. ক) 21 February, 1948
  2. খ) 22 February, 1948
  3. গ) 23 February, 1948
  4. ঘ) 24 February, 1948
সঠিক উত্তর:
গ) 23 February, 1948
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) 23 February, 1948
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলার কংগ্রেস সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদের ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবী পেশ করেন।
- কিন্তু মুসলিম লীগ সদস্যদের তীব্র বিরোধিতায় তার দাবী গৃহিত হয়নি।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১০,৫৬১.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'শ্যামল ছায়া'র রচয়িতা কে?
  1. ক) হুমায়ুন আহমেদ
  2. খ) আবু ইসহাক
  3. গ) আনোয়ার পাশা
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
ক) হুমায়ুন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হুমায়ুন আহমেদ
ব্যাখ্যা
১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্টের ট্র্যাজেডিকে কেন্দ্র করে রচিত ‘দেয়াল’ রাজনৈতিক উপন্যাসটির রচয়িতা হুমায়ুন আহমেদ। তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস - জোছনা ও জননীর গল্প, আগুনের পরশমণি, শ্যামল ছায়া, সৌরভ, ১৯৭১, অনীল বাগচীর একদিন।
Source: LiveMCQ Lecture
১০,৫৬২.
'Executive Committee of the National Economic Council' এর বিকল্প চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কে?
  1. ক) পরিকল্পনা মন্ত্রী
  2. খ) বাণিজ্য মন্ত্রী
  3. গ) প্রধানমন্ত্রী
  4. ঘ) অর্থমন্ত্রী
সঠিক উত্তর:
ঘ) অর্থমন্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অর্থমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
• জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি হলো ECNEC (Executive Committee of the National Economic Council)।
• ECNEC ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
• এর প্রধান/চেয়ারপার্সন হলেন প্রধানমন্ত্রী এবং বিকল্প চেয়ারপারসন অর্থমন্ত্রী।
• একনেকে সরকারি খাতে ৫০ কোটি টাকার উর্ধ্বের প্রকল্প অনুমোদন, বিনিয়োগ প্রস্তাব পর্যালোচনা, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা প্রভৃতি কার্যাবলি সম্পন্ন হয়।

তথ্যসূত্র:- মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৫৬৩.
ঐতিহাসিক ছয় দফা কবে ঘোষণা করা হয়?
  1. ক) ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
  2. খ) ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
  3. গ) ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
  4. ঘ) ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
সঠিক উত্তর:
ক) ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক ছয়দফা ঘোষণা
- ৬ দফা আন্দোলন বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা।
- পাক-ভারত যুদ্ধ সমাপ্ত হলে ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে নিখিল পাকিস্তান জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লাগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা ঘোষণা করেন।
- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসনসহ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক দাবি সম্বলিত 'ছয় দফা কর্মসূচি' সম্মেলনে পেশ করার চেষ্টা করেন।
- যা ঐতিহাসিক ছয় দফা নামে পরিচিত।
- ‘বাঙালির দাবি ছয় দফা, বাঁচার দাবি ছয় দফা' প্রভৃতি স্লোগানে মূখরিত হয় পূর্ব পাকিস্তান।
- ১৯৬৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখে তৎকালীন আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটি ‘আমাদের বাঁচার দাবি ছয় দফা' নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
- ১৯ মার্চে কাউন্সিল অধিবেশনে ‘ছয় দফা কর্মসূচি' অনুমোদন লাভ করে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫৬৪.
নিচের কোনটি সমতট জনপদের রাজধানী ছিলো?
  1. ক) ত্রিপুরা
  2. খ) বড় কামতা
  3. গ) তাম্রলিপ্ত
  4. ঘ) পুন্ড্রনগর
সঠিক উত্তর:
খ) বড় কামতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বড় কামতা
ব্যাখ্যা
• বড় কামতা ছিলো সমতট জনপদের রাজধানী। 

• সমতট জনপদ: 
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার প্রাচীন জনপদের নাম সমতট।
- প্রাচীন বঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের নতুন নামের আর একটি বিশাল রাজ্য।
- মধ্যবাংলার কিছু অংশ এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ, বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চল সমতট নামে পরিচিত ছিল।
- তবে ত্রিপুরাকে সমতটের প্রধান কেন্দ্র বলা হতো।
- সমতটের রাজধানী ছিল বড়কামতা। 

সূত্র: বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১০,৫৬৫.
আওয়ামী লীগের ছয় দফা কত সালে পেশ করা হয়েছিল?
  1. ক) ১৯৬৬
  2. খ) ১৯৬৭
  3. গ) ১৯৬৯
  4. ঘ) ১৯৭০
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৬৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর বিখ্যাত ছয়দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেন এবং এই ছয় দফাকে আখ্যায়িত করেন ‘আমাদের (বাঙালিদের) মুক্তি সনদ’ রূপে। [সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
১০,৫৬৬.
মারমা ভাষার প্রথম চলচ্চিত্রের নাম কী?
  1. ক) গিরিকন্যা
  2. খ) সাগরকন্যা
  3. গ) মেঘকন্যা
  4. ঘ) পাহাড়ীকন্যা
সঠিক উত্তর:
ক) গিরিকন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গিরিকন্যা
ব্যাখ্যা
- মারমা ভাষার প্রথম চলচ্চিত্রের নাম - তংস্মাসে (গিরিকন্যা)
- ‘গিরিকন্যা’ চলচ্চিত্রের নির্মাতা প্রদীপ ঘোষ।
- অনুষ্ঠানে ‘গিরিকন্যা’ চলচ্চিত্রের প্রযোজক ও কাহিনিকার চিকিৎসক মং উষা থোয়াই।

তথ্যসূত্র:- প্রথম আলো।
১০,৫৬৭.
রাজশাহী জেলার ঐতিহাসিক বাঘা মসজিদ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. সুলতান মাহমুদ শাহ
  2. সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  4. সুলতান নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ
সঠিক উত্তর:
সুলতান নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুলতান নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ
ব্যাখ্যা

 • বাঘা মসজিদ:
- বাঘা মসজিদ রাজশাহী জেলা সদর হতে প্রায় ৪১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বাঘা উপজেলায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মসজিদ।
- সুলতান নাসিরউদ্দিন নুসরাত শাহ ১৫২৩ খ্রিষ্টাব্দে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- মসজিদটি ১৫২৩-১৫২৪ সালে (৯৩০ হিজরি) হুসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা আলাউদ্দিন শাহের পুত্র সুলতান নসরাত শাহ নির্মাণ করেন।
- পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় এই মসজিদের সংস্কার করা হয় এবং মসজিদের গম্বুজগুলো ভেঙ্গে গেলে ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদে নতুন করে ছাদ দেয়া হয় ১৮৯৭ সালে।
 - মসজিদটি ২৫৬ বিঘা জমির ওপর অবস্থিত।
- সমভুমি থেকে থেকে ৮-১০ ফুট উঁচু করে মসজিদের আঙিনা তৈরি করা হয়েছে।
- মসজিদটিতে ১০টি গম্বুজ আছে ।
- আর ভেতরে রয়েছে ৬টি স্তম্ভ।
- মসজিদটিতে ৪টি মেহরাব রয়েছে যা অত্যন্ত কারুকার্য খচিত।
-  মসজিদের পাশে অবস্থিত বিশাল দিঘীও একটি দর্শনীয় স্থান।
- এছাড়া বাঘা মসজিদের পাশেই রয়েছে একটি মাজার শরীফ।

 উৎস:  জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৫৬৮.
মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বের জন্য কয়জনকে সর্বোচ্চ সম্মান 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাব দেয়া হয়?
  1. ৯ জন
  2. ৭ জন
  3. ৮ জন
  4. ১০ জন
সঠিক উত্তর:
৭ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭ জন
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে।
এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীরবিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৫৬৯.
বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা শশাঙ্কের রাজধানী কোথায় ছিলো?
  1. পুন্ড্রবর্ধন
  2. কর্ণসুবর্ণ
  3. পাটালিপুত্র
  4. সোনারগাঁও
সঠিক উত্তর:
কর্ণসুবর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ণসুবর্ণ
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা শশাঙ্কের রাজধানী ছিলো -কর্ণসুবর্ণ।

রাজা শশাংক:

- শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা।
- ৬০৬ সালে শশাঙ্ক গৌড়ে একটি স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- শশাঙ্কের রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- শশাঙ্কের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- কর্ণসুবর্ণ বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি।
- শশাঙ্ক শৈব ধর্মের অনুসারী ছিলেন।
- চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং শশাঙ্ককে বৌদ্ধ ধর্মের নিগ্রহকারী বা বিদ্বেষী হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫৭০.
'নায়েম' নিচের কোনটির সাথে সম্পর্কিত?
  1. অর্থনীতি
  2. শিক্ষা
  3. বৈদেশিক মুদ্রা
  4. ব্যক্তি সম্পর্কিত
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা
ব্যাখ্যা

জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম):
- NAEM- এর পূর্ণরুপ: National Academy for Educational Management.
- বাংলাদেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি উৎকৃষ্ট কেন্দ্র জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম)।
- এটি শিক্ষার উৎকর্ষ সাধনে কাজ করে যাচ্ছে।
- শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে এডুকেশন এক্সটেনশন সেন্টার (EEC) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে এটিকে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম)-এ রূপান্তর করা হয়।
- মূল লক্ষ্য: মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ দক্ষ, যোগ্য ও সৃজনশীল শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রশাসক গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে একটি অনন্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বা 'সেন্টার অফ এক্সিলেন্স' (Centre of Excellence)-এ পরিণত করা।
- মানব সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষা প্রশাসন, শিখন-শেখানো কার্যক্রম ও শিক্ষা গবেষণা পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
- নায়েমের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষা ক্ষেত্রে জাতীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণকে জ্ঞান, পেশাগত দক্ষতা, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও নেতৃত্বের গুণাবলি দ্বারা সমৃদ্ধ করা।

উৎস: নায়েম ওয়েবসাইট।

১০,৫৭১.
১৯৬৯ সালের কোন তারিখের জনসভায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেওয়া হয়? 
  1. ক) ২১ ফেব্রুয়ারি
  2. খ) ২২ ফেব্রুয়ারি
  3. গ) ২৩ ফেব্রুয়ারি
  4. ঘ) ২৪ ফেব্রুয়ারি
সঠিক উত্তর:
গ) ২৩ ফেব্রুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ২৩ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
গণআন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত আইয়ুব সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয় এবং শেখ মুজিবসহ সকল বন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হয়। পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল জনসভায় শেখ মুজিবর রহমানসহ মামলায় অভিযুক্তদের এক গণসম্বর্ধনা দেয়া হয় এবং শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১০,৫৭২.
দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা বাতিল করা হয় কবে?
  1. ১৭৬৫ সালে
  2. ১৭৬৭ সালে
  3. ১৭৭০ সালে
  4. ১৭৭২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৭২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৭২ সালে
ব্যাখ্যা

দ্বৈত শাসন:
- ১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- দ্বৈতশাসন অনুসারে রাজস্ব প্রশাসন ও দেশ রক্ষার ভার থাকে কোম্পানির হাতে এবং নিয়ামত বা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত হয় নবাবের হাতে।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে।
- অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়।
- নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন।
- সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটান।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৫৭৩.
ঐতিহাসিক ছয়দফার তৃতীয় দফা কোনটি?
  1. ক) কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
  2. খ) রাজস্ব, কর, শুল্ক ব্যবস্থা
  3. গ) বৈদেশিক মুদ্রা ও বৈদেশিক বাণিজ্য
  4. ঘ) মুদ্রা ও অর্থ ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুদ্রা ও অর্থ ব্যবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুদ্রা ও অর্থ ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক ছয়দফা
- ১৯৬৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের নেতৃবৃন্দের এক কনভেনশনে শেখ মুজিবুর রহমান যে ছয়দফা দাবিনামা উত্থাপন করেছিলেন তা আদায়ের জন্য তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল ইতিহাসে তা ‘ঐতিহাসিক ছয়দফা আন্দোলন' নামে অভিহিত হয়ে আছে। 
ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি:
১. শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি।
২. কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা।
৩. মুদ্রা ও অর্থ ব্যবস্থা।
৪. রাজস্ব, কর, শুল্ক ব্যবস্থা।
৫. বৈদেশিক মুদ্রা ও বৈদেশিক বাণিজ্য।
৬. প্রতিরক্ষা।

উৎস: ইতিহাস, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫৭৪.
১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে গ্রহণের পক্ষে মত দেয় কে?
  1. মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  2. অধ্যাপক আবুল কাশেম
  3. মাওলানা আব্দুর রশিদ
  4. ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ
সঠিক উত্তর:
ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলন:
- পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
- ১৯৪৭ সালের ১৭ মে মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা চৌধুরী খালিকুজ্জামান এবং একই বছর জুলাই মাসে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে গ্রহণের পক্ষে মত দেন।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহসহ বেশ কয়েকজন বাঙালি লেখক, বুদ্ধিজীবী এর প্রতিবাদ করেন এবং বাংলার পক্ষে বক্তব্য দেন। পূর্ব বাংলায় ছাত্র ও শিক্ষিত সমাজ রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে পত্র-পত্রিকায় মতামত প্রকাশ করতে শুরু করেন। 

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫৭৫.
বাংলাদেশে সরকারি ইপিজেড কয়টি?
  1. ১০টি
  2. ৯টি
  3. ১১টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের মোট ইপিজেডের সংখ্যা ৯।
- সরকারি ইপিজেড ৮টি এবং বেসরকারি ১টি।
- বাংলাদেশের প্রথম ইপিজেড- চট্টগ্রাম ইপিজেড।
- ১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করে।
- বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইপিজেড ঢাকা ইপিজেড, ঢাকার সাভারে এর অবস্থান।
- বাংলাদেশের একমাত্র কৃষিভিত্তিক ইপিজেড- উত্তরা ইপিজেড।
- এটি নীলফামারীতে অবস্থিত।
- ২০০১ সালে ২১৩.৬৬ একর জমিতে যাত্রা শুরু করে।
- মংলা ইপিজেড বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত।
- আদমজী ইপিজেড নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত।
- কর্ণফুলী ইপিজেডের অবস্থান পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম।
বাংলাদেশে সরকারি ইপিজেড এর সংখ্যা ৮ টি। যথা- চট্টগ্রাম, ঢাকা, মংলা, ঈশ্বরদী, উত্তরা, কুমিল্লা, আদমজী ও কর্ণফুলী। ১৯৮৩ সালে কার্যক্রম চালু হওয়া দেশের প্রথম সরকারি ইপিজেড চট্টগ্রাম। দেশের প্রথম ও একমাত্র বেসরকারি ইপিজেড এর নাম- KEPZ, চট্টগ্রাম।
উৎসঃ শিল্প মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বেপজা।

১০,৫৭৬.
ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম সংঘটিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৪৭
  2. খ) ১৯০৫
  3. গ) ১৮৮৫
  4. ঘ) ১৮৫৭
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৮৫৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৮৫৭
ব্যাখ্যা
- পলাশী যুদ্ধের একশ বছর পর ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে প্রধানত সিপাহীদের নেতৃত্বে যে ব্যাপক সশস্ত্র বিদ্রোহ সংঘটিত হয়, তাকেই ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়। 
- ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাসে ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের স্বাধীনতা সংগ্রাম এক যুগান্তকারী ঘটনা।
- ভারতের রাজনৈতিক, আর্থ- সামাজিক, ধর্মীয় ও সামরিক ক্ষেত্রে কোম্পানি সরকারের গৃহীত ব্যবস্থা, অনুসৃত নীতি বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে অসন্তোষ আর ক্ষোভের সৃষ্টি করে, তারই বহি:প্রকাশ এই সংগ্রাম।
- নানা কারণে এ সংগ্রাম ব্যর্থ হয়।
- তবে এর ফলে ভারতে একশ বছরের কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে।
- ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ১ নভেম্বর মহারানী ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাপত্রে স্বত্ববিলোপ নীতি এবং এর সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য নিয়ম বাতিল করা হয়।
- তাছাড়া এই ঘোষণা পত্রে যোগ্যতা অনুযায়ী ভারতীয়দের চাকরি প্রদান এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তাসহ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি ক্ষমা ঘোষণা করা হয়।
- এই বিদ্রোহের সুদূর প্রসারি গুরুত্ব হচ্ছে, বিদ্রোহের ক্ষোভ থেমে থাকেনি।
- এই সংগ্রামের পরিপ্রেক্ষিতে জনগণ সচেতন হয় উঠে এবং নানা আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ শাসনের অবসান ঘটায়।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
 
১০,৫৭৭.
ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত প্রথম বাংলা নাটক কোনটি?
  1. চিঠি
  2. মায়ের ভাষা
  3. কবর
  4. আরেক ফাল্গুন
সঠিক উত্তর:
কবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবর
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস:

- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুন হবো'।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি। এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।
- 'কবর' মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত প্রথম বাংলা নাটক।
- 'একুশের গল্প' জহির রায়হান এর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত গল্প।

তথ্যসূত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৫৭৮.
দৈনিক কত ক্যালরির কম খাদ্য গ্রহণ করলে তাকে হতদরিদ্র বলা হয়?
  1. ২১১২ ক্যালরির কম
  2. ১৮০৫ ক্যালরির কম
  3. ২১২২ ক্যালরির কম
  4. ১৬০৫ ক্যালরির কম
সঠিক উত্তর:
১৮০৫ ক্যালরির কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০৫ ক্যালরির কম
ব্যাখ্যা
দারিদ্র্য (Poverty):
- দারিদ্র্য হচ্ছে অর্থনীতির একটি নেতিবাচক অবস্থা।
- মানুষের অর্থনৈতিক দুর্বলতা, অসচ্ছলতা ও অক্ষমতা হলো দারিদ্র্য।
- আভিধানিক অর্থে, 'দারিদ্র্য' বলতে অভাব বা অনটনকেই বুঝায়।
- দারিদ্র্য মানে মৌলিক সামর্থ্যের অভাব।
- ন্যূনতম খাদ্য, পরিধেয় বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার। এ অধিকার নিশ্চিত করতে না পারা হচ্ছে দারিদ্র্য।
- আয়ের স্বল্পতা, জীবন ধারণের জন্য ন্যূনতম প্রয়োজন পূরণে ব্যর্থতা, নিরাপত্তাহীনতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সুযোগের অভাবের মাধ্যমে দারিদ্র্যের প্রকাশ ঘটে।
- দারিদ্র্য পরিমাপে এবং এর স্বরূপ বিশ্লেষণে 'দারিদ্র্য সীমা' ধারণাটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
- যারা দৈনিক ২১২২ ক্যালরির নিচে খাদ্য গ্রহণ করেন তারা দরিদ্র।
- আর যারা দৈনিক ১৮০৫ ক্যালরির নিচে খাদ্য গ্রহণ করেন তারা চরম দরিদ্র।
- সমাজবিজ্ঞানী গিলিনের মতে, দারিদ্র্য এমন একটি অবস্থা যাতে কোনো ব্যক্তি তার সমাজের অন্যদের সমমানে জীবন যাপন করতে পারে না এবং সে কারণে কার্যকর সামাজিক ভূমিকা পালনের - জন্য দৈহিক ও মানসিক যোগ্যতা এবং দক্ষতা অর্জনে অক্ষম।
- বস্তুত দারিদ্র্য নিরঙ্কুশভাবে কেবল আর্থিক অবস্থার সাথে সম্পর্কিত নয়।
- আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অনগ্রসরতা হচ্ছে দারিদ্র্য।
- বস্তুত দারিদ্র্য হচ্ছে ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সম্পদ, শিক্ষা এবং স্বাধীনতা থেকে বঞ্চনা ও বিচ্ছিন্নতা।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২২
১০,৫৭৯.
১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ থেকে বঙ্গবন্ধু কত দফা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেন?
  1. ক) ১১ দফা
  2. খ) ১৫ দফা
  3. গ) ২৫ দফা
  4. ঘ) ৩৫ দফা
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩৫ দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৩৫ দফা
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১৪ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশক্রমে তাজউদ্দিন আহমদ ৩৫ দফা আন্দোলন কর্মসূচি ও নির্দেশনা ঘোষণা করেন। এই ঘোষণা দ্বারা পূর্বের সকল নির্দেশাবলী বাতিল ঘোষিত হয়।
৩৫ দফা নির্দেশাবলীর প্রধান দফাসমূহ হলো:
১ নং দফা:
- সকল সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় পূর্ব থেকে চলমান হরতাল পালিত হবে।
২ নং দফা:
- সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
৩ নং দফা:
- আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষা।
৪ নং দফা:
- সামরিক কাজে ব্যবহার ব্যতীত বন্দরের অন্যান্য কাজ সচল থাকবে।
৫ নং দফা:
- আমাদনি প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্র: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : দ্বিতীয় খণ্ড : পৃষ্ঠা-৭৪১)
১০,৫৮০.
বর্তমানে (২০২১ সালের পরবর্তীতে) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা কত জন?
  1. ৪৭৫ জন
  2. ৪২৪ জন
  3. ৬৭৪ জন
  4. ৬৭২ জন
সঠিক উত্তর:
৬৭২ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৭২ জন
ব্যাখ্যা
• বীরত্বসূচক খেতাব:
- বীরত্বসূচক খেতাব বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসিকতা প্রদর্শন এবং আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের প্রদত্ত খেতাব।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদানের একটি প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানী মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করেন।
- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- এ পরিকল্পে চার পর্যায়ের খেতাব প্রদানের বিধান ছিল: (ক) সর্বোচ্চ পদ, (খ) উচ্চ পদ, (গ) প্রশংসনীয় পদ, (ঘ) বীরত্বসূচক প্রশংসাপত্র।
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্বে নির্বাচিত সকল মুক্তিযোদ্ধার নামসহ মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়:
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৮ জন,
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন,
- বীর প্রতীক- ৪২৬ জন।

এছাড়াও,
তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী],
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম),
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক),
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)।

বর্তমানে (২০২১ সালের পরবর্তীতে) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন,
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন,
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
১০,৫৮১.
পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র বাতিল ঘোষণা করেন কে?
  1. ইস্কান্দার মির্জা
  2. আইয়ুব খান
  3. ওমরাও খান
  4. ইয়াহিয়া খান
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মির্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মির্জা
ব্যাখ্যা

১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র:
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চে দ্বিতীয় গণপরিষদ কর্তৃক এ শাসনতন্ত্র গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়। পাকিস্তানের ইতিহাসে এ শাসনতন্ত্রটি ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৮ সালেই এ শাসনতন্ত্রের সমাধি রচিত হয়। ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা আইয়ুব খানের চাপের কারণে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন। এটি ছিল আসলে সামরিক অভ্যুত্থান।
- সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব খান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা এক ঘোষণায় পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র বাতিল ঘোষণা করেন। কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক সরকারকে তিনি বরখাস্ত করেন। সাথে সাথে জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদগুলো ভেঙে দেন। সকল রাজনৈতিক দলগুলোকেও বাতিল করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৫৮২.
‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ বা ‘মোহামেডান লিটারারী সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. ক) হাজী মুহম্মদ মহসীন
  2. খ) নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. গ) সৈয়দ আহমদ খান
  4. ঘ) সৈয়দ আমির আলী
সঠিক উত্তর:
খ) নওয়াব আবদুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নওয়াব আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা
বাংলার মুসলমানদের নবজাগরণে নওয়াব আবদুল লতিফের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মুসলমানদের পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার জন্য সচেষ্ট হন। এ ক্ষেত্রে তাঁর বড় অবদান ছিল ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ বা ‘মোহামেডান লিটারারী সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা। সূত্র- বোর্ড বইঃনবম-দশম শ্রেণি।
১০,৫৮৩.
বাংলায় হাবসী শাসন কত বছর স্থায়ী ছিল?
  1. ৩ বছর
  2. ৬ বছর
  3. ১০ বছর
  4. ১২ বছর
সঠিক উত্তর:
৬ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ বছর
ব্যাখ্যা

• হাবসী শাসন: [১৪৮৭-১৪৯৩ খ্রিঃ]
- বাংলার হাবসী শাসন মাত্র ছয় বছর (১৪৮৭-১৪৯৩ খ্রিঃ) স্থায়ী ছিল।
- এ সময় এদেশের ইতিহাস ছিল অন্যায়, অবিচার, বিদ্রোহ, ষড়যন্ত্র আর হতাশায় পরিপূর্ণ।
- এ সময়ে চারজন হাবসী সুলতানের মধ্যে তিনজন হাবসী সুলতানকেই হত্যা করা হয়।

- হাবসী নেতা সুলতান শাহজাদা 'বরবক শাহ' উপাধি নিয়ে প্রথম বাংলার ক্ষমতায় বসেন।
- কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি হাবসী সেনাপতি মালিক আন্দিলের হাতে নিহত হন।
- মালিক আন্দিল 'সাইফুদ্দিন ফিরুজ শাহ' উপাধি নিয়ে সিংহাসনে বসেন।
- একমাত্র তাঁর তিন বছরের রাজত্বকালের (১৪৮৭-১৪৯০ খ্রিঃ) ইতিহাসই কিছুটা গৌরবময় ছিল।
- তাঁর মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন দ্বিতীয় নাসিরউদ্দিন শাহমুদ শাহ।
- কিন্তু  কিছুকাল (১৪৯০-১৪৯১ খ্রিষ্টাব্দ) রাজত্ব করার পরই তিনি নিহত হন।
- এক হাবসি সর্দার তাঁকে হত্যা করে 'শামসুদ্দিন মুজাফফর শাহ' নাম নিয়ে সিংহাসনে বসেন (১৪৯১-১৪৯৩ খ্রিষ্টাব্দ)।
 অন্যান্য অনেক সুলতানের মতোই অত্যাচারী ও হত্যাকারী হিসেবে তার দুর্নাম ছিল।
ফলে গৌড়ের সম্ভ্রান্ত মুসলমানরা মুজাফফর শাহের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে।
- বিদ্রোহীদের সাথে যোগ দেন মুজাফফর শাহের উজির সৈয়দ হোসেন। অবশেষে মুজাফফর শাহনিহত হন।
- তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই বাংলায় হাবসি শাসনের অবসান ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১০,৫৮৪.
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর অবস্থিত ঢাকার-
  1. ধানমন্ডিতে
  2. সেগুনবাগিচায়
  3. শাহবাগে
  4. আগারগাঁয়ে
সঠিক উত্তর:
আগারগাঁয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগারগাঁয়ে
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর:
- মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মুক্তিযুদ্ধ-ভিত্তিক একটি জাদুঘর।
- এটি বাংলাদেশের একমাত্র মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
- এটি ঢাকার এফ-১১/এ-বি, সিভিক সেক্টর, আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।
- এই জাদুঘরের উদ্বোধন হয় ১৯৯৬ সালের ২২ শে মার্চ।
- মুক্তিযুদ্ধের অনেক দুর্লভ বস্তু আছে এই জাদুঘরে।


তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয় ওয়েবসাইট।
১০,৫৮৫.
পাকিস্তানের মোট জনগোষ্ঠীর মুখের ভাষা বাংলা ও উর্দু ছিল যথাক্রমে -
  1. ৩০.২৭% ও ৫৬.৪০%
  2. ৩.২৭% ও ৫৬.৪০%
  3. ৫৬.৪০% ও ৩০.২৭%
  4. ৫৬.৪০% ও ৩.২৭%
সঠিক উত্তর:
৫৬.৪০% ও ৩.২৭%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫৬.৪০% ও ৩.২৭%
ব্যাখ্যা
- পাকিস্তানের মোট জনগোষ্ঠীর ৫৬.৪০% মুখের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও সংখ্যালঘিষ্ঠ মাত্র ৩.২৭% জনগোষ্ঠীর ভাষা উর্দুকে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল।
- জনসংখ্যার দিক থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈষম্য এ অঞ্চলের জনমনে প্রবল অসন্তোষের সৃষ্টি করে।
- ফলে শুরু থেকেই স্বাধিকারের প্রশ্নে এই অঞ্চলের জনগণকে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়।
- ১৯৪৮ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামত উপেক্ষা করে উর্দু ভাষাকেই রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- প্রথমেই প্রতিবাদ মুখর হলো বাঙালি বুদ্ধিজীবী সমাজ।
- তারা এই অন্যায় বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায়।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীতে ভাষার জন্য প্রথম শহীদ হলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে।
- রক্তের বিনিময়ে পূর্ববাংলা অর্জন করে ভাষার অধিকার।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫৮৬.
‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন-
  1. ক) কিশোর মতিউর
  2. খ) শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) সার্জেন্ট জহুলুল হক
  4. ঘ) তোফায়েল আহমেদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) তোফায়েল আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তোফায়েল আহমেদ
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার মধ্য দিয়ে সামরিক শাসন ও আইয়ুব খান বিরোধী আন্দোলন যখন তীব্র হচ্ছিল তখন নেতৃত্বের পুরো ভাগে চলে আসে ছাত্ররা। এ সময়ে ডাকসুর সহ-সভাপতি তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত হয় সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। এই পরিষদ ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসে এগার দফা কর্মসূচি গ্রহণ করে। এগার দফা কর্মসূচির ভেতর ছয় দফাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ক্রমে ছয় দফা ও এগার দফার মধ্য দিয়ে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নিতে থাকে। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
১০,৫৮৭.
Bangladesh Academy for Rural Development এর অবস্থান কোথায়?
  1. শেরপুর, বগুড়া
  2. সাভার, ঢাকা
  3. কোটবাড়ী, কুমিল্লা
  4. জয়দেবপুর, গাজীপুর
সঠিক উত্তর:
কোটবাড়ী, কুমিল্লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোটবাড়ী, কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
- BARD (Bangladesh Academy for Rural Development) বা বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি কুমিল্লা জেলার কোটবাড়ীতে অবস্থিত।
- এটির প্রতিষ্ঠাতা ড. আখতার হামিদ খান।
- বার্ড ১৯৫৯ সালের ২৭ মে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বার্ড বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
- এটির প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হলো পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রদান।
(তথ্যসূত্রঃ বার্ড ওয়েবসাইট)
১০,৫৮৮.
কলকাতা অবস্থিত গোবরা নামক স্থান কেন বিখ্যাত?
  1. বল্লাল সেনের যুদ্ধক্ষেত্র
  2. বাংলাদেশ অস্থায়ী সরকারের রাজধানী স্থাপন
  3. মুক্তিযুদ্ধে নারী প্রশিক্ষণের জন্য
  4. কলিঙ্গ যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধে নারী প্রশিক্ষণের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধে নারী প্রশিক্ষণের জন্য
ব্যাখ্যা
কলকাতা অবস্থিত গোবরা নামক স্থানে মুক্তিযুদ্ধের সময় নারী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি ট্রেনিং ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধে নারী:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতার পার্ক সার্কাস ও পদ্মপুকুরের মাঝামাঝি গোবরা নামের স্থানে শুধু নারী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি ট্রেনিং ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল।
- সেটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।
- নারী যোদ্ধাদের জন্য অনুরূপ আরো তিনটি ক্যাম্প প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ে।
- গোবরা ক্যাম্পে মেয়েদের দেওয়া হতো তিন রকম ট্রেনিং: ১. সিভিল ডিফেন্স, ২. নার্সিং, ৩. অস্ত্র চালনা ও গেরিলা আক্রমণ।

এছাড়াও,
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখেন।
- আগরতলার লেম্বুচোরা ক্যাম্পে মহিলা গেরিলা স্কোয়াড-এর আধুনিক অস্ত্রের উচ্চতর ট্রেনিং হয়।
- রণাঙ্গনের যোদ্ধা তারামন বিবি বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত হন।
- চিকিৎসার কাজে মহিলা চিকিৎসকগণের গৌরবময় দৃষ্টান্ত ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম। তিনিও বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, ইত্তেফাক।
১০,৫৮৯.
পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কে?
  1. দেবপাল
  2. গোপাল
  3. ধর্মপাল
  4. মহেন্দ্রপাল
সঠিক উত্তর:
গোপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপাল
ব্যাখ্যা
পাল রাজবংশ:
- প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে পাল রাজবংশ দীর্ঘকাল শাসন করেছে।
- সুশাসন, জনকল্যাণ, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, উন্নত জীবনবোধ ইত্যাদি বাংলায় সর্বপ্রথম পালরাই প্রতিষ্ঠিত করে।
- পাল রাজারা বাংলা ও বিহার অঞ্চলে অষ্টম শতকের মাঝামাঝি থেকে প্রায় চারশ বছর শাসন করেছেন।
- নৈরাজ্য ও চরম অরাজকতার হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করে গোপাল নামক এক উচ্চবর্গীয় ব্যক্তি এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- ধর্মপাল, দেবপাল, মহিপাল নামে অনেক পাল রাজারা বাংলা শাসন করেছেন।
- তালপাতার পুঁথিচিত্র পাল যুগের নিদর্শন।
- তালপাতার উপরে চিত্রসম্বলিত বৌদ্ধ গ্রন্থ অষ্টসাহস্রিকা-প্রজ্ঞাপারমিতা পান্ডুলিপির বারোটি রঙ্গিন চিত্র বঙ্গীয় চিত্রকলার প্রাচীনতম নিদর্শন।
- বর্তমানে দুর্লভ এই পান্ডুলিপি কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটিতে সংরক্ষিত আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৫৯০.
ওয়ারেন হেস্টিংস কোন আইনের মাধ্যমে গভর্নর-জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন?
  1. রেগুলেটিং অ্যাক্ট, ১৭৭৩
  2. পিট এর ইন্ডিয়া অ্যাক্ট-১৭৮৪
  3. চার্টার এ্যাক্ট- ১৭৮৪
  4. ইন্ডিয়া অ্যাক্ট, ১৮৫৮
সঠিক উত্তর:
রেগুলেটিং অ্যাক্ট, ১৭৭৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেগুলেটিং অ্যাক্ট, ১৭৭৩
ব্যাখ্যা
ওয়ারেন হেস্টিংস:
- ব্রিটিশ আমলে বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস।
- তাঁর শাসন কালকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়, প্রথমপর্ব: ১৭৭২-১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার গভর্নর হিসেবে আর দ্বিতীয় পর্ব, ১৭৭৪-১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত গভর্নর জেনারেল হিসেবে। ১৭৭৩ সালে রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস হলে বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। সেই হিসেবে বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস।
- তিনি বাংলায় দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটান এবং বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য জমিদারদের সাথে 'পাঁচসালা ভূমি বন্দোবস্ত' করেন।
- তবে নানা কারণে এ ব্যবস্থা ফলপ্রসূ না হলে তিনি ১৭৭৭ সালে 'একসালা বন্দোবস্ত' করেন।
- গভর্নর পদে নিযুক্ত হয়ে হেস্টিংস সর্ব প্রথমেই সীমান্ত নীতি বিষয়ে পরিবর্তন সাধন করেন এবং অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির সূচনা করেন।

⇒ ওয়ারেন হেস্টিংস ইংরেজদের শত্রু মারাঠাদের আশ্রয়ে বাস করার অজুহাতে সম্রাট শাহ আলমকে দেয় বার্ষিক ছাব্বিশ লক্ষ টাকা বন্ধ করে দেন এবং সম্রাটের নিকট হতে 'বারানসীর সন্ধি' দ্বারা এলাহাবাদ ও কারা জেলা দু'টি অযোধ্যার নবাবকে পঞ্চাশ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রদান করেন। 
- তিনি বিচার বিভাগকে রাজস্ব বিভাগ হতে পৃথক করে প্রত্যেক জেলায় একটি করে দিওয়ানী ও ফৌজদারী আদালত স্থাপন করেন। 
-ওয়ারেন হেস্টিংসের আমলে মুসলমানদের উচ্চ শিক্ষার জন্য কলকাতা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয় (১৭৮১)। গবেষণার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল। হেস্টিংস এর পৃষ্ঠপোষকতায় চার্লস উইলকিন্স বাংলায় ছাপাখানা (প্রেস) স্থাপন করে।

উল্লেখ্য, 
⇒ রেগুলেটিং এ্যাক্ট (১৭৭৩ খ্রি:):
- এতদিন উপমহাদেশে কোম্পানির যাবতীয় কাজ প্রথমে ইংল্যান্ডের বোর্ড অব ডাইরেক্টরস পরিচালনা করত। কালক্রমে এদেশে রাজ্য বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শাসন কাজেও নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এ বিশৃংখলা দূর করার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সর্বপ্রথম উপমহাদেশের শাসন কাজে হস্তক্ষেপ করে। তদানীন্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থ ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে উপমহাদেশে শাসন আইন নামে একটি আইন পাস করেন যা 'রেগুলেটিং এ্যাক্ট' নামে ইতিহাসে বিখ্যাত।
- রেগুলেটিং এ্যাক্ট এর দ্বারা বোর্ড অব ডাইরেকট্রসকে ব্রিটিশ সরকারের নিকট কোম্পানির শাসন ও রাজস্ব সম্পর্কে সকল তথ্য পাঠাতে হতো।
- বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল আখ্যা দেয়া হয়।
- এই রেগুলেটিং এ্যাক্ট অনুসারে বাংলার গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন। 

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) BBC.
১০,৫৯১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কয়টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ক) ৪
  2. খ) ৭
  3. গ) ১১
  4. ঘ) ৬৪
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬৪
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয়। এ সরকার প্রথমে ১০ এপ্রিল সমগ্র দেশকে ৪ টি সেক্টরে ভাগ করে। ১১ এপ্রিল তা পুর্নগঠন করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন এবং ১১টি সেক্টরকে ৬৪টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না। এটি ছিলো নৌ সেক্টর।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী)

১০,৫৯২.
ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি কত টাকার বিনিময় বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করেন?
  1. ২৮ লক্ষ
  2. ৫২ লক্ষ
  3. ৩১ লক্ষ
  4. ২৬ লক্ষ
সঠিক উত্তর:
২৬ লক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৬ লক্ষ
ব্যাখ্যা
• কোম্পানির দেওয়ানি লাভ:
- ১৭৬৫ সালে মীর জাফরের মৃত্যুর পর তার পুত্র নাজিম-উদ-দৌলাকে শর্তসাপেক্ষে বাংলার সিংহাসনে বসানো হয়।
- শর্ত থাকে যে, তিনি তার পিতার মতো ইংরেজদের নিজস্ব পুরাতন দস্তক অনুযায়ী বিনা শুল্কে অবাধ বাণিজ্য করতে দেবেন এবং দেশীয় বণিকদের অবাধ বাণিজ্যের সুবিধা বাতিল করবেন।
- এ সময়ে ইংরেজ কোম্পানি মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলার রাজস্ব বা খাজনা ও কর আদায়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব অর্থাৎ দেওয়ানি লাভ করে।
- ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের পর ইংরেজরাই বাংলার সত্যিকার শাসকরূপে আত্মপ্রকাশ করে।
- ১৭৬৫ সালে ক্লাইভ দ্বিতীয়বার ভারতবর্ষে এসে প্রথমেই পরাজিত অযোধ্যার নবাব এবং দিল্লির সম্রাটের দিকে নজর দেন।
- তিনিঅযোধ্যার পরাজিত নবাবের সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করেন। বিনিময়ে আদায় করে নেন কারা ও এলাহাবাদ জেলা দুইটি। যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ আদায় করেন পঞ্চাশ লক্ষ টাকা।
- অপরদিকে তিনি দেওয়ানি শর্তসংবলিত দুইটি চুক্তি করেন।
- একটি দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের সঙ্গে।
- এতে কোম্পানিকে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার দেওয়ানি দান করা হয়।
- এর বিনিময়ে ছাব্বিশ লক্ষ টাকা নবাব প্রতিবছর সম্রাটকে পাঠাবেন।
- এই টাকা নিয়মিত পাঠানোর জামিনদার হবে কোম্পানি।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১০,৫৯৩.
বাংলা বর্ষপঞ্জি প্রবর্তন করা হয় কত সালে?
  1. ক) ১৫৪৮ সালে
  2. খ) ১৫৫৬ সালে
  3. গ) ১৫৬৫ সালে
  4. ঘ) ১৫৮৪ সালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৫৮৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৫৮৪ সালে
ব্যাখ্যা

- বাংলা বর্ষপঞ্জি ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আকবর প্রবর্তন করেন।
- এই নতুন বর্ষপঞ্জিটি প্রথমে তারিখ-ই-এলাহী নামে পরিচিত ছিল ।
- ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ বা ১১ মার্চ এটি বঙ্গাব্দ নামে প্রচলিত হয়।
- নতুন এই সালটি আকবরের রাজত্বের ঊনত্রিশতম বর্ষে প্রবর্তিত হলেও তা গণনা করা হয় ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৫ নভেম্বর থেকে, কারণ এদিন আকবর দ্বিতীয় পানিপথের যুদ্ধে হিমুকে পরাজিত করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তারিখ-ই-এলাহীর উদ্দেশ্য ছিল আকবরের বিজয়কে মহিমান্বিত করে রাখা এবং একটি অধিকতর পদ্ধতিগত উপায়ে রাজস্ব আদায়ে সহায়তা করা।
- এর পূর্বে মুগল সম্রাটগণ রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে হিজরি বর্ষপঞ্জি ব্যবহার করেতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১০,৫৯৪.
'রাওলাট আইন' পাস হয় কত সালে?
  1. ১৯১৯ সালে
  2. ১৯২১ সালে
  3. ১৯২২ সালে
  4. ১৯২৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯১৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৯ সালে
ব্যাখ্যা
• রাওলাট আইন:
- ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে বৃটিশ সরকার চরমপন্থী বিপ্লবী আন্দোলন দমন করার উদ্দেশ্যে নিবর্তনমূলক রাওলাট আইন পাশ করে ।
- এবং বিনা বিচারে শত শত লোককে কারাবন্দী করে।
- উক্ত আইনের বিরুদ্ধে গান্ধীজীর সত্যাগ্রহ ও প্রতিবাদ আন্দোলনের পটভূমিতে সংঘটিত হয় ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ১৩ এপ্রিল জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড।
- বৃটিশ জেনারেল ডায়ার নিরস্ত্র জনতার উপর গুলি চালিয়ে প্রায় ৪০০ লোককে হত্যা করে। এতে ইংরেজ বিরোধী মনোভাব চাঙ্গা হয়ে উঠে।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫৯৫.
রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস হয় কার সময়ে?
  1. লর্ড ওয়েলেসলি
  2. লর্ড ডালহৌসি
  3. লর্ড নর্থ
  4. ওয়ারেন হেস্টিংস
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়ারেন হেস্টিংস
ব্যাখ্যা

রেগুলেটিং এ্যাক্ট:
- উপমহাদেশে কোম্পানির যাবতীয় কাজ প্রথমে ইংল্যান্ডের বোর্ড অব ডাইরেক্টরস পরিচালনা করত।
- কালক্রমে এদেশে রাজ্য বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শাসন কাজেও নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
- এ বিশৃংখলা দূর করার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সর্বপ্রথম উপমহাদেশের শাসন কাজে হস্তক্ষেপ করে।
 - তদানীন্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড নর্থ ১৭৭৩ সালে উপমহাদেশে শাসন আইন নামে একটি আইন পাস করেন যা 'রেগুলেটিং এ্যাক্ট' নামে ইতিহাসে বিখ্যাত।
- রেগুলেটিং এ্যাক্ট এর দ্বারা বোর্ড অব ডাইরেকট্রসকে ব্রিটিশ সরকারের নিকট কোম্পানির শাসন ও রাজস্ব সম্পর্কে সকল তথ্য পাঠাতে হতো।
- বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল আখ্যা দেয়া হয়।
- গভর্নর জেনারেলকে সাহায্য করার জন্য চার সদস্য বিশিষ্ট একটি 'কাউন্সিল' গঠিত হয় এবং সবার সমান অধিকার দেয়া হয়।
- এই রেগুলেটিং এ্যাক্ট অনুসারে বাংলার গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।

উল্লেখ্য,
- 'রেগুলেটিং এ্যাক্ট' আইন পাসের সময় বাংলার গভর্নর ছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
           ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৫৯৬.
ইলিয়াস শাহ কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?
  1. তুরস্ক
  2. ইরান
  3. উজবেকিস্তান
  4. আফগানিস্তান
সঠিক উত্তর:
ইরান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরান
ব্যাখ্যা

ইলিয়াস শাহের সিংহাসন লাভ ও রাজ্য বিস্তার:
- ইলিয়াস শাহী সুলতানগণ বাংলাদেশে প্রায় ১২২ বছর শাসন করেন। 
- এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্ সর্বপ্রথম বাংলার বিভিন্ন অংশ একত্র করেন। 
- এর আগে কোন মুসলমান সুলতান সমগ্র বাংলাদেশকে একত্রো করতে পারেননি। তাই এ আমল থেকেই সমগ্র বাংলাদেশ 'বাঙ্গালা' নামে পরিচিত হয় এবং অধিবাসীরা পরিচিত হয় 'বাঙালি' নামে। 
- ইলিয়াস শাহ ইরানের অধিবাসী ছিলেন।
- ইলিয়াস লখনৌতির শাসনকর্তা আলী মুবারকের ধাত্রীমাতার পুত্র ছিলেন।
- পরে আলী মুবারক বাংলাদেশে চলে আসেন এবং অল্প দিনের মধ্যেই লখনৌতির শাসনকর্তা কদর খানের প্রধান সেনাপতি হন।
- ইলিয়াস শাহ যখন সিংহাসনে বসেন তখন পূর্ব ও দক্ষিণ বঙ্গ তার রাজ্যের বাইরে ছিল।
- তিনি প্রথমে সাতগাও দখল করেন।
- এরপর ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দে নেপাল আক্রমণ করেন ও প্রচুর ধন-সম্পদ লাভ করেন।
- ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে সোনারগাও অধিকার করে সারা বাংলাদেশের সুলতান হন।
- ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ তাঁকে 'শাহ-ই-বাঙ্গালাহ' ও 'সুলতান-ই- বাঙ্গালাহ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০,৫৯৭.
কণিষ্ক নিচের কোনটি প্রবর্তন করেন?
  1. গুপ্তাব্দ
  2. শকাব্দ
  3. হর্ষাব্দ
  4. কণিষ্কাব্দ
সঠিক উত্তর:
শকাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শকাব্দ
ব্যাখ্যা
⇒ কণিষ্ক একটি অব্দ বা সম্বৎ প্রবর্তন করেন যা পরবর্তীতে শকাব্দ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- কণিষ্কের প্রবর্তিত অব্দটি পশ্চিম ভারতের শক ক্ষত্রপরা দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহার করেন।
- কুষাণদের পতনের পরেও তাঁরা এই অব্দটির প্রচলন অব্যাহত রাখেন।
- শকদের দ্বারা দীর্ঘকাল ব্যবহৃত হওয়ার কারণেই এই অব্দের নাম হয় শকাব্দ। 

কণিষ্ক:
- কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন কণিষ্ক।
- ৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- ভারতে তিনি এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন, এটি উত্তর- পশ্চিমে পেশোয়ার থেকে পূর্বে পশ্চিমবাংলা, উত্তরে কাশ্মির থেকে দক্ষিণে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ভারতের বাইরে বর্তমান সোভিয়েত তুর্কিস্থানের এবং আফগানিস্তানের কিছু অংশও তাঁর সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল।
- পুরুষপুর বা বর্তমান পেশোয়ার তাঁর রাজধানী ছিল।
- বিশাল সাম্রাজ্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্ন রাজকর্মচারীদের মাধ্যমে এখান থেকেই তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
- তাঁর আমলেই বৌদ্ধ ধর্ম 'মহাযান' ও 'হীনযান' -এ দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
- ২৩ বছর রাজত্ব করার পর কণিষ্ক ১০১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৫৯৮.
বড় কাটরা কে নির্মাণ করেছেন?
  1. শায়েস্তা খান
  2. ইসলাম খান
  3. শাহ সুজা
  4. মুর্শিদকুলি খান
সঠিক উত্তর:
শাহ সুজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহ সুজা
ব্যাখ্যা

বড় কাটরা:
- মুগল রাজধানী ঢাকার চক বাজারের দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে অবস্থিত।
- শাহ সুজা বাংলাদেশে অন্যতম মুঘল স্থাপত্য ‘বড় কাটরা’ নির্মাণ করেন।
- ১৬৪৪ সালে শাহ সুজা বড় কাটরা নির্মাণ করেন।

• ছোট কাটরা:
- পুরাতন ঢাকার একটি মুঘল স্থাপত্য নিদর্শন।
- এটি বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে পুরান ঢাকার চকবাজারের হাকিম হাবিবুর রহমান লেনে অবস্থিত।
- মুঘল সুবাদার শায়েস্তা খান ১৬৬৪ সালের দিকে এটি নির্মাণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১০,৫৯৯.
মহান মুক্তিযুদ্ধে 'আফসার বাহিনী' কোন অঞ্চলে যুদ্ধ করে?
  1. ময়মনসিংহ
  2. টাঙ্গাইল
  3. বরিশাল
  4. পাবনা
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক বাহিনী:

- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
- কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- আফসার বাহিনী (ভালুকা, ময়মনসিংহ)।
- বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)।
- হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ)।
- আকবর বাহিনী (মাগুরা)।
- লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)।
- জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত।
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
১০,৬০০.
কোন যুদ্ধে মুহাম্মদ ঘুরী পৃথ্বিরাজকে পরাজিত করে দিল্লি ও আজমীর দখল করেন?
  1. তরাইনের প্রথম যুদ্ধ
  2. তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ
  3. কলিঙ্গের যুদ্ধ
  4. কনৌজের যুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ:
- ১১৯২ সালে সংঘটিত তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ বর্তমান হরিয়ানার থানেশ্বরের নিকটে তরাইন নামক শহরের নিকটে সংঘটিত হয়।
- মুহম্মদ ঘুরির নেতৃত্বাধীন ঘুরি বাহিনী ও পৃথ্বীরাজ চৌহানের নেতৃত্বে চৌহান রাজপুত বাহিনীর মধ্যে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- এই যুদ্ধে মুহাম্মদ ঘুরী, পৃথ্বীরাজ চৌহানকে পরাজিত করেছিলেন এবং এই বিজয় দিল্লি সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠার সূচনা করে। তিনি ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন এবং দেশে তিনি 'মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা' হিসাবেও পরিচিত।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।