বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দের শ্রেণিবিভাগ

মোট প্রশ্ন১,০৫৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দের শ্রেণিবিভাগ

PrepBank · পাতা / ১১ · ৪০১৫০০ / ১,০৫৭

৪০১.
“হরতন” শব্দটি-
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) ওলন্দাজ
  4. ঘ) পর্তুগিজ
সঠিক উত্তর:
গ) ওলন্দাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ওলন্দাজ
ব্যাখ্যা


উৎসঃ বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৪০২.
‘নিঃস্ব’ কোন ধরনের শব্দ?
  1. ক) মৌলিক
  2. খ) সাধিত
  3. গ) যৌগিক
  4. ঘ) রূঢ়ি
সঠিক উত্তর:
ক) মৌলিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মৌলিক
ব্যাখ্যা

গঠনগত দিক থেকে শব্দ দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত:
ক. মৌলিক শব্দ ও
খ. সাধিত শব্দ।

ক. মৌলিক শব্দ: যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভাঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন: কলম, বাক্য, পদ্ম, নিঃস্ব, আম, বই ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি৷

৪০৩.
'বর্গি' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. তৎসম
  2. সিংহলি
  3. বর্মি
  4. ফারসি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা

• বর্গি,
- ফারসি শব্দ।
অর্থ: অষ্টাদেশ শতকের অশ্বারোহী মারাঠি দস্যুসৈন্য।

আবার,
বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে,
• ‘বর্গি’ মারাঠি শব্দ।
 
শব্দের উৎসমূল এর ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানের তথ্য অধিক গ্রহণযোগ্য হওয়ায় সঠিক উওর হবে ‘ফারসি’। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

 

৪০৪.
‘গায়ক’ শব্দটির প্রকৃতি-প্রত্যয় ও ব্যবহারিক অর্থ একই— এটি কোন ধরনের শব্দের উদাহরণ?
  1. রূঢ় শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. তদ্ভব শব্দ
  4. অপভ্রংশ শব্দ 
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
ব্যাখ্যা

যৌগিক শব্দ: 
যে সব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই, সেসব শব্দকে যৌগিক শব্দ বলে। 
অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গায়ক (মূল শব্দ) - গৈ+অক (শব্দ গঠন অর্থ) - যে গান করে (অর্থ)।
- মধুর = মধু + র; অর্থ - মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৪০৫.
অর্থগত দিক থেকে 'বৎস' কী শব্দ?
  1. যৌগিক শব্দ
  2. রূঢ়ি শব্দ
  3. মৌলিক শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা
রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন- গবেষণা, হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, বৎস ইত্যাদি।
- প্রবীণ = প্রকৃষ্ট বীণাবাদক (মূল অর্থ) -কিন্তু শব্দটি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি অর্থে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
যৌগিক শব্দ:
যে সব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই, তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
- মধুর = মধু + র; অর্থ - মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- কৃ + তব্য = কর্তব্য, অর্থ- যা করা উচিত।

যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন-
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪০৬.
'রাজপুত' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক
  2. যৌগিক
  3. রূঢ়ি
  4. যোগরূঢ়
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ়
ব্যাখ্যা
যোগরূঢ় শব্দ:
 সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে।

যেমন,
-পঙ্কজ ( যা পঙ্কে বা কাদায় জন্মে); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ- পদ্ম। 
- মহাযাত্রা ( মহাসমারোহে যাত্রা); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ- 'মৃত্যু' 
- আবার, রাজপুত ( রাজার পুত); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ জাতি বিশেষ।
- জলধি (জল ধারণ কর এমন); কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ 'সমুদ্র' ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪০৭.
অর্থগতভাবে 'অসুখ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. যৌগিক শব্দ
  2. রূঢ়ি শব্দ
  3. যোগরূঢ় শব্দ
  4. মৌলিক শব্দ
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ় শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা
• অর্থগতভাবে শব্দসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. যৌগিক শব্দ,
২. রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ,
৩. যোগরূঢ় শব্দ।

• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ।
যেমন:
- 'অসুখ' ব্যুৎপত্তিগত অর্থ-'সুখের অভাব'। ব্যবহারিক অর্থ-'রোগ'। তাই 'অসুখ' একটি যোগরূঢ় শব্দ। 
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।

- শাখার ন্যায় মৃগ শাখামৃগ সমাসবদ্ধ শব্দটি ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে বিচরণ করে এবং লম্বা লেজ ও লোমাবৃত দেহবিশিষ্ট মাঝারি আকৃতির স্তন্যপায়ী বৃক্ষচর প্রাণীকে বোঝায়। তবে ব্যবহারীক অর্থে শাখামৃগ শব্দটি শুধু 'বানর'কে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তাই 'শাখামৃগ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।

এরূপ-
আরো কিছু শব্দ হলো: মন্দির, জলদ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

---------------
• যৌগিক শব্দ:
যৌগিক শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও প্রচলিত অর্থের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই অর্থাৎ একই রকম।
যেমন:
- বাংলা 'মিতালি' শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ 'মিতার ভাব, বন্ধুত্ব' (মিতা শব্দের পরে 'ভাব' অর্থে তদ্ধিত প্রত্যয় 'আলি' যোগে 'মিতালি' শব্দটি গঠিত হয়েছে) এবং শব্দটি এই অর্থেই ভাষায় ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ 'মিতালি' শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই। ফলে 'মিতালি' বাংলাতে যৌগিক শব্দ।

এরূপ শব্দ হলো: গায়ক, কর্তব্য, বাবুয়ানা, মধুর, দৌহিত্র, চিকামারা ইত্যাদি।

• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ।
যেমন: গবেষণা, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, জেঠামি, বাঁশি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪০৮.
পদ বিবেচনায় শব্দ কত প্রকার?
  1. চার প্রকার
  2. পাঁচ প্রকার
  3. ছয় প্রকার
  4. আট প্রকার
সঠিক উত্তর:
আট প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আট প্রকার
ব্যাখ্যা

• পদ বিবেচনায় শব্দ - ৮ প্রকার।
• পদ: 
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যেমন:
১. বিশেষ্য,
২. সর্বনাম,
৩. বিশেষণ,
৪. ক্রিয়া,
৫. ক্রিয়া বিশেষণ,
৬. অনুসর্গ,
৭. যোজক,
৮. আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৪সংস্করণ)।

৪০৯.
'উপসর্গ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা
• 'উপসর্গ'-  রূঢ়ি শব্দ। 

• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যেসব প্রত্যয় নিষ্পন্ন শব্দ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- উপ + সর্গ = উপসর্গ; ব্যুৎপত্তিগত অর্থ- পূর্বের অধ্যায়। কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ- রোগের লক্ষণ। 
- সন্দেশ, হস্তী, তৈল, বাঁশি ইত্যাদি রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষাশিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
৪১০.
কোন দুটি যৌগিক শব্দ?
  1. মধুর, বাবুয়ানা
  2. বাবুয়ানা, জলধি
  3. মধুর, গবেষণা
  4. জলধি, তৈল
সঠিক উত্তর:
মধুর, বাবুয়ানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধুর, বাবুয়ানা
ব্যাখ্যা
যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।

যেমন:
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।

অন্যদিকে,
রূঢ়ি শব্দ - তৈল, গবেষণা।
যোগরূঢ় শব্দ - জলধি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪১১.
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, তাদেরকে কী শব্দ বলে?
  1. খাঁটি বাংলা শব্দ
  2. দেশি শব্দ
  3. তদ্ভব শব্দ
  4. তৎসম শব্দ
সঠিক উত্তর:
দেশি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশি শব্দ
ব্যাখ্যা
দেশি শব্দ:
- বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছুশব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
তদ্ভব শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত, হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

তৎসম শব্দ:

- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।
- সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

বিদেশি শব্দ:

- ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলােকে বিদেশি শব্দ বলে।
- এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।
৪১২.
'পিকনিক' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ? 
  1. ইংরেজি
  2. ফরাসি
  3. ফারসি
  4. তুর্কি
সঠিক উত্তর:
ফরাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরাসি
ব্যাখ্যা
পিকনিক 'ফরাসি' ভাষার শব্দ। 
পিকনিক অর্থ: বাড়ির বাইরে উন্মুক্ত পরিবেশে খেলাধুলা রান্না ও এক সঙ্গে খাওয়া দাওয়ার অনুষ্ঠান, বনভোজন, চড়ুইভাতি। 

[উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি। ]
৪১৩.
'সাম্পান' শব্দটি কোন ভাষা হতে বাংলায় আগমন করেছে?
  1. ক) পর্তুগিজ
  2. খ) চীনা
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) গুজরাটি
সঠিক উত্তর:
খ) চীনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চীনা
ব্যাখ্যা

ফরাসি: ডিপাে, রেস্তোরাঁ, কুপন, কার্তুজ।

ওলন্দাজ: ইস্কাপন, টেক্‌কা, তুরুপ, রুইতন, হরতন ইত্যাদি৷

অন্যান্য ভাষার শব্দ :
- রিকসা (রিক্সা) (জাপানি);
- চা, চিনি, লিচু, সাম্পান (চিনা);
- লুঙ্গি, ঘুঘনি, (বর্মী অর্থাৎ মায়ানমারের);
- স্টুডিও, ম্যালেরিয়া (ইতালীয়);
- সাগু (মালয়ী);
- কচুরি, লােটা, খানাপিনা, লাগাতার, বন, টালমাটাল (উর্দু/হিন্দি);
- হরতাল, খদ্দর (গুজরাটি) ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

৪১৪.
'রাখাল' কোন ধরনের শব্দ?
  1. যৌগিক শব্দ
  2. রূঢ়ি শব্দ
  3. মৌলিক শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা
• "রূঢ়ি" শব্দ:
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন-
• হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ-হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
• গবেষণা: (গো+এষণা) অর্থ- গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।

এ রকম-
• রাখাল: (অর্থ-যে গবাদি চরায়, ব্যুৎপত্তিগত অর্থ-যে রাখে বা রক্ষা করে)। 
• বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
• তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়। যেমন-বাদাম-তেল।
• প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি 'অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪১৫.
শব্দের অর্থমূলক শ্রেণীবিভাগ কয় প্রকার
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে শব্দের শ্রেণীবিভাগ সম্ভব। যেমন : শব্দগুলাে কোন উৎস থেকে এসেছে অথবা কোন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়েছে, কিংবা কোন অর্থ প্রকাশ করছে। শব্দের শ্রেণীবিভাগের প্রক্রিয়া তিনটি।
যেমন :
১. উৎসমূলক শ্রেণীবিভাগ :
(ক) তদ্ভব, (খ) তৎসম, (গ) দেশি ও (ঘ বিদেশি।

২. গঠনমূলক শ্রেণীবিভাগ :
(ক) মৌলিক ও (খ) সাধিত।

৩. অর্থমূলক শ্রেণীবিভাগ :
(ক) যৌগিক, (খ) রূঢ় বা রূঢ়ি এবং (গ) যােগরূঢ়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪১৬.
নিচের কোন শব্দটি সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করেছে?
  1. রাজপুত
  2. জেঠামি
  3. গায়ক
  4. কলস
সঠিক উত্তর:
রাজপুত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজপুত
ব্যাখ্যা

যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
• পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিত পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
• রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতিবিশেষ'।
• মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
• জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
• জেঠামি- রূঢ়ি শব্দ।
• গায়ক- যৌগিক শব্দ।
• কলস- মৌলিক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪১৭.
রূঢ়ি শব্দ নয় কোনটি?
  1. গবেষণা
  2. তৈল
  3. গায়ক
  4. প্রবীণ
সঠিক উত্তর:
গায়ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গায়ক
ব্যাখ্যা
• ‘গায়ক’ যৌগিক শব্দের উদাহরণ।

------------------------
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:

যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
• হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।

• গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।

• বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।

• তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়। যেমন - বাদাম তেল।

• প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
• সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪১৮.
নিচের কোনটি যোগরূঢ় শব্দ নয়?
  1. ক) রাজপুত্র
  2. খ) হরিণ
  3. গ) মহাযাত্রা
  4. ঘ) জলধি
সঠিক উত্তর:
খ) হরিণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হরিণ
ব্যাখ্যা
হস্তী, গবেষণা, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, হরিণ, কুশল, পাঞ্জাবি, মন্দির, ফলাহার, কারচুপি, রাখাল, কদর্য, শুশ্রূষা ইত্যাদি শব্দগুলো রূঢ়ি শব্দ।
অপরদিকে পঙ্কজ, আদিত্য, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, তুরঙ্গম, জলদ, দশানন, পরিবার, বহুব্রীহি, গোঁফখেজুরে, অসুখ ইত্যাদি শব্দগুলো যোগরূঢ় শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪১৯.
সাধিত শব্দ - 
  1. কলম
  2. আসল
  3. ডুবুরি
  4. গোলাপ
সঠিক উত্তর:
ডুবুরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডুবুরি
ব্যাখ্যা

• সাধিত শব্দ - ডুবুরি।

• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন,
- গাছ, পাখি, ফুল, হাত, কলম, আসল, গোলাপ ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।

- শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে।
যেমন - ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪২০.
'হরিণ' কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. রূঢ়ি শব্দ
  2. মিশ্র শব্দ
  3. যৌগিক শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা

• রূঢ়ি শব্দ:
- যখন কোনো শব্দ সৃষ্টির সময় কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা যায় তখন সেটি রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দের মধ্যে পড়ে।
- এ-বিচারে বলা যায়, যে শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থের সঙ্গে প্রচলিত অর্থের পার্থক্য থাকে তাকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
- অর্থাৎ প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগকৃত শব্দ যখন মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য অর্থ প্রকাশ করে।

যেমন:
• 'হরিণ' অর্থ- যে হরণ করে। প্রচলিত অর্থ- 'হরিণ' প্রাণী বিশেষ।
• 'ঝি' অর্থ- নিজ কন্যা। কিন্তু প্রচলিত অর্থ- ঝি (চাকরানি)।
• 'সন্দেশ' অর্থ- খবরাখবর। কিন্তু প্রচলিত অর্থ- সন্দেশ (মিষ্টিবিশেষ);
• 'পাঞ্জাবি' অর্থ- পাঞ্জাবের অধিবাসী। কিন্তু প্রচলিত অর্থ- পোশাক বিশেষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪২১.
কোনটি সাধিত শব্দ?
  1. কলম
  2. গরমিল
  3. নাক
  4. লাল
সঠিক উত্তর:
গরমিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গরমিল
ব্যাখ্যা
সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করলে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।

যেমন:
- গরমিল, ('গরমিল' সমাসের ব্যাসবাক্য - "মিলের অভাব"।
- পরিচালক,
- সম্পাদকীয়,
- সংসদ,
- নীলাকাশ ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
মৌলিক শব্দ - নাক, লাল, কলম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪২২.
‘সরোজ’ কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. মিশ্র শব্দ
  2. যোগরূঢ় শব্দ
  3. যৌগিক শব্দ
  4. রূঢ়ি শব্দ
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ় শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা
• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিত পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু ‘পঙ্কজ’ শব্দটি একমাত্র ‘পদ্মফুল’ অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- রাজপুত: ‘রাজার পুত্র’ অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে ‘জাতিবিশেষ’।
- মহাযাত্রা: ‘মহাসমারোহে যাত্রা’ অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ ‘মৃত্যু’।
- জলধি: ‘জল ধারণ করে এমন’ অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র ‘সমুদ্র’ অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

এরূপ- ‘সরোজ’ যোগরূঢ় শব্দ।

অন্যদিকে,
---------------------
• যৌগিক শব্দ:
যে সকঅল শব্দের ব্যুৎপত্তি গত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
- অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গায়ক = গৈ + ণক (অক); অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য; অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা; অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র ; অর্থ; মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য; অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা; অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

---------------------
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
এ রকম -
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়।
যেমন - বাদাম তেল।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪২৩.
কোনটি যোগরূঢ় শব্দ?
  1. প্রবীণ
  2. গায়ক
  3. জলধি
  4. গবেষণা
সঠিক উত্তর:
জলধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলধি
ব্যাখ্যা
• যোগরূঢ় শব্দ - জলধি

যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন -
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতিবিশেষ'।
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- আদিত্য: ব্যুৎপত্তিগত অর্থ অদিতির পুত্র বা সকল দেবতা। কিন্তু আদিত্য মানে সূর্য।

অন্যদিকে,
• রূঢ়ি শব্দ: প্রবীণ, গবেষণা।
• যৌগিক শব্দ: গায়ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৪২৪.
প্রত্যয়, বিভক্তি ও উপসর্গ যুক্ত থাকে না কোন শব্দে?
  1. যৌগিক শব্দে
  2. মৌলিক শব্দে
  3. সাধিত শব্দে
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
মৌলিক শব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক শব্দে
ব্যাখ্যা
• মৌলিক শব্দ:
ভাষার যে-সব শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না এবং যাদের সঙ্গে কোনো প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ ইত্যাদি যুক্ত থাকে না, তাদের মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দের বৈশিষ্ট্য হল- স্পষ্ট অর্থবোধকতা ও অবিভাজ্যতা। কখনো মৌলিক শব্দ ভেঙে দেখানোর চেষ্টা করলে ভাঙা বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনো অর্থ হয় না।
যেমন: মা, ভাত, পথ, চল ইত্যাদি।

ধরা যাক, পথিক বা চলা এগুলোকে মৌলিক শব্দ বলা যায় না, কারণ পথিন্ + ক্ বা চল্ + আ-এভাবে এদের ভাঙা যায়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪২৫.
‘সন্দেশ’ কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক
  2. যৌগিক
  3. রূঢ়
  4. যোগরূঢ়
সঠিক উত্তর:
রূঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়
ব্যাখ্যা
রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যেসব প্রত্যয় নিষ্পন্ন শব্দ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
‘সন্দেশ’ শব্দের শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থ ‘সংবাদ’। কিন্তু এর প্রচলিত অর্থ ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’। কাজেই ‘সন্দেশ’ রূঢ়ি শব্দ।

এরূপ:
হস্তী, তৈল, বাঁশি ইত্যাদি রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪২৬.
মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম। 
  2. প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে। 
  3. স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতা। 
  4. সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে। 
সঠিক উত্তর:
স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতা। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতা। 
ব্যাখ্যা

• মৌলিক শব্দ:
যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গোটা শব্দটাই নিজে নিজেই সমপূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভাঙতে চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনো অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন-
মা, পা, ঘোড়া, উট, বউ, গোলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪২৭.
‘দরজা' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ক) ফারসি
  2. খ) আরবি
  3. গ) পর্তুগিজ
  4. ঘ) তুর্কি
সঠিক উত্তর:
ক) ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ফারসি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
‘দরজা' শব্দটি 'ফারসি' ভাষা থেকে আগত। 
 
• ‘দরজা' (বিশেষ্য) শব্দের অর্থ- 'দ্বার, দুয়ার, পাট। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৪২৮.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. ক) চলন্ত
  2. খ) গাছ
  3. গ) ডুবুরি
  4. ঘ) গরমিল
সঠিক উত্তর:
খ) গাছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গাছ
ব্যাখ্যা
⇒ মৌলিক শব্দ:
যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গােটা শব্দটাই নিজে নিজেই সমপূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভাঙতে চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনাে অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন- পা, গােলাপ, নাক, পাখি, ফুল, লাল, গাছ, হাত ইত্যাদি।

⇒ সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।
শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন – ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪২৯.
'জলধি' কোন শব্দ?
  1. যৌগিক
  2. মৌলিক
  3. রূঢ়ি
  4. যোগরূঢ়
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ়
ব্যাখ্যা
যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতি বিশেষ'।
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই পঙ্কজ একটি যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৪৩০.
'সন্দেশ' - কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক 
  2. যৌগিক 
  3. রূঢ়ি 
  4. যোগরূঢ় 
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি 
ব্যাখ্যা

রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী - হস্ত + ইন, অর্থ - হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা।
এইরকম:
• প্রবীণ - শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি 'অভিজ্ঞতাসম্পন্ন • বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।

• সন্দেশ –
- শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে 'সংবাদ'। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে 'মিষ্টান্ন বিশেষ'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৩১.
অর্থানুসারে শব্দের প্রকারভেদ নয় কোনটি?
  1. যৌগিক শব্দ
  2. সাধিত শব্দ 
  3. রূঢ় শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
সাধিত শব্দ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধিত শব্দ 
ব্যাখ্যা

অর্থমূলক শ্রেণিবিভাগ: অর্থানুসারে শব্দ তিন প্রকার।
যথা-
(ক) যৌগিক শব্দ,
(খ) রূঢ়ি শব্দ এবং
(গ) যোগরূঢ় শব্দ।

অর্থানুসারে শব্দের শ্রেণিবিভাগের অন্তর্ভুক্ত নয়- সাধিত শব্দ। 'সাধিত শব্দ' শব্দের গঠনগত শ্রেণিবিভাগের অন্তর্ভুক্ত। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৪৩২.
শাক শব্দটি কোন ভাষার?
  1. ক) ফারসি
  2. খ) আরবি
  3. গ) সংস্কৃত
  4. ঘ) তুকি
  5. ঙ) দেশি
সঠিক উত্তর:
গ) সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
শাক শব্দটি সংস্কৃত ভাষার। এরূপ আরো ভবন, নক্ষত্র, সূর্য, গৃহিণী শব্দগুলোও সংস্কৃত। সবজি, দফতর, খোদা প্রভৃতি ফারসি শব্দ। মহকুমা, বাকি, গায়েব, উকিল আরবি শব্দ। কুলা, ঢেঁকি, চোঙ্গা টোপর প্রভৃতি দেশি শব্দ। বাবা, খোকা, দারোগা তু্র্কি ভাষার শব্দ। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৩৩.
গঠন বিবেচনায় 'পাখি' কোন ধরনের শব্দ?
  1. সাধিত শব্দ
  2. রূঢ়ি শব্দ
  3. মৌলিক শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
মৌলিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক শব্দ
ব্যাখ্যা
গঠন বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ-
গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে মৌলিক এবং সাধিত এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

• মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন: গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন- পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ।

অন্যদিকে,
- অর্থানুসারে শব্দ তিন প্রকার।
যথা:
(ক) যৌগিক শব্দ,
(খ) রূঢ়ি শব্দ এবং
(গ) যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৪৩৪.
কোনটি যৌগিক শব্দ?
  1. পঙ্কজ
  2. হস্তী
  3. গায়ক
  4. বাঁশি
সঠিক উত্তর:
গায়ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গায়ক
ব্যাখ্যা
যৌগিক শব্দ:
- যেসকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই তাকে যৌগিক শব্দ বলে।

যেমন:
- গায়ক, দৌহিত্র, কর্তব্য, বাবুয়ানা, চিকামারা, মধুর, শয়ন, গুণবান।

অন্যদিকে,
রূঢ়ি শব্দ - হস্তী, বাঁশি।
যোগরূঢ় শব্দ - পঙ্কজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৪৩৫.
‘তিন’ কী ধরনের শব্দ?
  1. সাধিত
  2. রূঢ়ি
  3. যৌগিক
  4. মৌলিক
সঠিক উত্তর:
মৌলিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন -
- গোলাপ,
- নাক,
- লাল,
- তিন।

• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।
যথা:
- চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ),
- নীলাকাশ (নীল যে আকাশ),
- ডুবুরি (ডুব্‌ + উরি),
- চলন্ত (চল্ + অন্ত),
- প্রশাসন (প্র + শাসন),
- গরমিল (গর + মিল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৩৬.
ফারসি শব্দটি চিহ্নিত করুন।
  1. কেয়ামত
  2. গোসল
  3. হারাম
  4. দরবার
সঠিক উত্তর:
দরবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দরবার
ব্যাখ্যা

ফারসি শব্দ : বাংলা ভাষায় আগত ফারসি শব্দগুলােকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

(১) ধর্মসংক্রান্ত শব্দ : খােদা, গুনাহ, দোজখ, নামাজ, পয়গম্বর, ফেরেশতা, বেহেশত, রােজা ইত্যাদি।
(২) প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দ : কারখানা, চশমা, জবানবন্দি, তােশক, দফতর, দরবার,
দোকান, দস্তখত, দৌলত, নালিশ, বাদশাহ, বান্দা, বেগম, মেথর, রসদ ইত্যাদি।
(৩) বিবিধ শব্দ : আদমি, আমদানি, জানােয়ার, জিন্দা, নমুনা, বদমাশ, রফতানি, হাঙ্গামা ইত্যাদি।

কেয়ামত, গোসল এবং হারাম আরবি ভাষার শব্দ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা একাডেমি অভিধান

৪৩৭.
'পঙ্কজ’ শব্দটি কোন ধরনের শব্দ?
  1. যৌগিক
  2. রূঢ়ি
  3. যোগরূঢ়
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ়
ব্যাখ্যা
• 'পঙ্কজ’ শব্দটি যোগরূঢ় শব্দ।

যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন -
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতিবিশেষ'।
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৩৮.
কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. মধুর
  2. মহাযাত্রা
  3. গায়ক
  4. জ্যাঠামি
সঠিক উত্তর:
জ্যাঠামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্যাঠামি
ব্যাখ্যা
• 'জ্যাঠামি'- রূঢ়ি শব্দ।

• রূঢ়ি শব্দ: 
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- সন্দেশ - সংবাদ (মূল অর্থ) - মিষ্টান্ন (পরিবর্তিত অর্থ)
- চিকন - চকচকে (মূল অর্থ) - সরু (পরিবর্তিত অর্থ)
- জ্যাঠামি - জেঠার ভাব (মূল অর্থ) - চাপল্য (পরিবর্তিত অর্থ)
- প্রবীণ - প্রকৃষ্ট বীণাবাদক (মূল অর্থ) - বয়স্ক ব্যক্তি (পরিবর্তিত অর্থ)।

আরো কিছু রূঢ়ি শব্দ:
- বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, বৎস, শুশ্রূষা ইত্যাদি।

যৌগিক শব্দ:
যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক অর্থ অভিন্ন তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
গায়ক, দৌহিত্র, চিকামারা, বাবুয়ানা, মধুর, কর্তব্য ইত্যাদি।
 
যৌগরূঢ় শব্দ:
সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামি না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাকে যৌগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
পঙ্কজ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।
 
উংস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৩৯.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. জলধি
  2. তৈল
  3. বউ
  4. হস্তী
সঠিক উত্তর:
বউ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বউ
ব্যাখ্যা
• মৌলিক শব্দ:
যে শব্দকে আর ভাঙ্গা বা বিশ্লেষণ করা যায়না তাকে মৌলিক শব্দ বলে যেমন:
- লাল, গোলাপ, বউ, হাত, পা মৌলিক শব্দ।

অন্যদিকে,
• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন -
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিত পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু ‘পঙ্কজ’ শব্দটি একমাত্র ‘পদ্মফুল’ অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- রাজপুত: ‘রাজার পুত্র’ অর্থ পরিত্যাগ করে  যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে ‘জাতিবিশেষ’।
- মহাযাত্রা: ‘মহাসমারোহে যাত্রা’ অর্থ পরিত্যাগ করে  যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ ‘মৃত্যু’।
- জলধি: ‘জল ধারণ করে এমন’ অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র ‘সমুদ্র’ অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

• রূঢ়ি শব্দ:
যেসব শব্দ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ না বুঝিয়ে অন্য অর্থ প্রকাশ করে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ গরু খোজা এটি প্রকৃত অর্থকে না বুঝিয়ে অন্য অর্থ বুঝাচ্ছে, তাই এটি রুঢ়ি শব্দ।

আরো কিছু রূঢ়ি শব্দ:
হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৪০.
দেশি শব্দ ‘চুলা’ কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে?
  1. তামিল ভাষা
  2. কোল ভাষা
  3. মুন্ডারী ভাষা
  4. ফরাসি ভাষা
সঠিক উত্তর:
মুন্ডারী ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুন্ডারী ভাষা
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষাভাষীদের ভূখণ্ডে অনেক আদিকাল থেকে যারা বাস করতো, সেইসব আদিবাসীদের ভাষার যে সব শব্দ বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সে সব শব্দকে বলা হয় দেশি শব্দ। এই আদিবাসীদের মধ্যে আছে- কোল, মুণ্ডা, ভীম, ইত্যাদি। যেমন,
কুড়ি (বিশ)- কোলভাষা,
পেট (উদর)- তামিল ভাষা,
চুলা (উনুন)- মুণ্ডারী ভাষা

এছাড়াও কুলা, গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপর, ডাব, ডাগর, ঢেঁকি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি।

৪৪১.
মৌলিক শব্দ নয় কোনটি?
  1. গােলাপ
  2. ঘােড়া
  3. ডুবুরি
  4. লাল
সঠিক উত্তর:
ডুবুরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডুবুরি
ব্যাখ্যা
• গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা:
- মৌলিক শব্দ ও
- সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা যোয় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, গােটা শব্দটাই নিজে নিজেই সমপূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভাঙতে চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনাে অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন- মা, পা, ঘােড়া, উট, বউ, গােলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন- পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।
শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন: ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৪২.
‘বাবুয়ানা’ কোন প্রকৃতির শব্দ?
  1. রূঢ় শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. মৌলিক শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
ব্যাখ্যা
অর্থগতভাবে শব্দসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:

• যৌগিক শব্দ:
যৌগিক শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও প্রচলিত অর্থের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। অর্থাৎ একই রকম।
যেমন:
- বাংলা ‘মিতালি’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ‘মিতার ভাব, বন্ধুত্ব’ (মিতা শব্দের পরে ‘ভাব’ অর্থে তদ্ধিত প্রত্যয় ‘আলি’ যোগে ‘মিতালি’ শব্দটি গঠিত হয়েছে ) এবং শব্দটি এই অর্থেই ভাষায় ব্যবহৃত হয়।
অর্থাৎ ‘মিতালি’ শব্দটির  ব্যুৎপত্তিগত অর্থ  ও ব্যবহারিক অর্থ একই। ফলে ‘মিতালি’ বাংলাতে যৌগিক শব্দ।

এরূপ শব্দ হলো: গায়ক, কর্তব্য, বাবুয়ানা, মধুর, দৌহিত্র, চিকামারা ইত্যাদি।

• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ।
যেমন: গবেষণা, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, জেঠামি, বাঁশি ইত্যাদি ।

• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ।
যেমন: মন্দির, জলদ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৪৩.
"প্রত্যয়, সমাস বা উপসর্গ" দিয়ে সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. জয়
  2. পরিচালক
  3. পরাগ
  4. বাঘা
সঠিক উত্তর:
পরাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরাগ
ব্যাখ্যা
• মৌলিক শব্দ:
মৌলিক শব্দে প্রত্যয়, বিভক্তি বা উপসর্গ যুক্ত থাকে না। এ শব্দ বিশ্লেষণে কোন অর্থপূর্ণ অংশ থাকে না।  
উদাহরণ- গোলাপ, হাত, পুষ্প, পরাগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সাধিত শব্দ:
‘ফিসফিস’ সাধিত শব্দ। মৌলিক শব্দ বা ধাতুর সাথে প্রত্যয়, উপসর্গ যোগে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ ইত্যাদি।
এখানে,
• পরিচালক; উপসর্গ সাধিত শব্দ। ‘পরিচালক’ শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ।
• √ জি + অল = জয়; বাঘ + আ = বাঘা; প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম -দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৪৪৪.
'ম্যালেরিয়া' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ইতালিয়ান
  2. ইংরেজি
  3. পর্তুগিজ
  4. ফরাসি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ইতালিয়ান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতালিয়ান
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'ম্যালেরিয়া' ইতালিয়ান শব্দ।
• 'ম্যালেরিয়া' অর্থ:
মানবদেহে অ্যানোফিলিস মশাবাহিত জীবাণু সংক্রমণের ফলে পালা করে আসে এমন জ্বর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৪৪৫.
অর্থ অনুযায়ী শব্দ কত প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৮
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
ব্যাখ্যা
অর্থ অনুসারে শব্দ ৩ প্রকার। যথা :
১. যৌগিক
২. রূঢ় বা রূঢ়ি
৩. যোগরূঢ়

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৪৬.
কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. গোলাপী
  2. লাল
  3. ভাইয়ে
  4. মাটির
সঠিক উত্তর:
লাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল
ব্যাখ্যা

মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গোলাপ, নাক, লাল, তিন, ভাই, কলা, মাটি।

সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায়, এক কথায় তাকেই বলা হয় সাধিত শব্দ।
- অন্যভাবে বলা যায়, মৌলিক শব্দ বা ধাতুর সাথে বিভিন্ন প্রকার প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ যোগ করে যে শব্দ গঠিত হয়, তাকে বলা হয় সাধিত শব্দ ।
যেমন-
- দেশি, মাটির, বোনের, হাতগুলো, বউটি, গোলাপী, ভাইয়ে ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ -সংস্করণ)।
২) বাংলা ২য় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪৭.
'হাটবাজার' শব্দটি কোন দুটি ভাষা থেকে আগত শব্দের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ফারসি ও আরবি
  2. বাংলা ও ফারসি
  3. আরবি ও তুর্কি
  4. তৎসম ও হিন্দি
সঠিক উত্তর:
বাংলা ও ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা ও ফারসি
ব্যাখ্যা
কোনো কোনো সময় দেশি ও বিদেশি শব্দের মিলনে শব্দদৈত্ব সৃষ্টি হয়।
'হাটবাজার' একটি মিশ্র শব্দ

- হাট শব্দটি তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ হট্ট> থেকে উৎপন্ন। অর্থ্যাৎ এটি একটি তদ্ভব শব্দ।
আর তদ্ভব শব্দগুলো বাংলা ভাষার নিজস্ব শব্দ হিসাবে বিবেচিত হয়। অর্থ্যাৎ হাট শব্দটি বাংলা শব্দও বটে।
আবার,
- বাজার শব্দটি ফারসি শব্দ থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।
'হাটবাজার' শব্দটি তদ্ভব/বাংলা ও ফারসি ভাষার শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।

অপশনে তদ্ভব ও ফারসি থাকলে সেটি সঠিক উত্তর হবে।
এই প্রশ্নের ক্ষেত্রে বাংলা ও ফারসি সঠিক উত্তর।

[উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ]

উল্লেখ্য, মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (২০১৯ সংস্করণে০ হাটবাজার শব্দটি বাংলা - ফারসির সমন্বয়ে গঠিত মিশ্র শব্দ হিসাবে দেখানো হয়েছে।
৪৪৮.
কোনটি দেশি শব্দ?
  1. ডাব
  2. বৃক্ষ
  3. পাখি
  4. গ্রহ
সঠিক উত্তর:
ডাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাব
ব্যাখ্যা

উৎস বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়: তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

১. তৎসম শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

২. তদ্ভব শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

৩. দেশি শব্দ: বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

৪. বিদেশি শব্দ: ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলোকে বিদেশি শব্দ বলে। এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৪৪৯.
অর্থগত দিক থেকে 'পাঞ্জাবি' কোন ধরনের শব্দ?
  1. যৌগিক
  2. রূঢ়
  3. মিশ্র
  4. যোগরূঢ়
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
রূঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়
ব্যাখ্যা
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
রূঢ় শব্দের অর্থ কর্কশ বা অস্বাভাবিক। যখন কোনো শব্দ সৃষ্টির সময় কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা যায় তখন সেটি রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দের মধ্যে পড়ে।
এ-বিচারে বলা যায়, যে শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থের সঙ্গে প্রচলিত অর্থের পার্থক্য থাকে তাকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে। অর্থাৎ প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগকৃত শব্দ যখন মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য অর্থ প্রকাশ করে।

যেমন:
• প্রবীণ অর্থ- যে প্রকৃষ্টভাবে বীণা বাজায় (প্র + বীণ)। কিন্তু এখন প্রবীণ অর্থ বৃদ্ধ বা প্রাচীন।

অনুরূপ :
• কুশ (এক প্রকার তৃণ) + অল > কুশল।

অন্যভাবে,
• 'হরিণ' অর্থ-  যে হরণ করে। প্রচলিত অর্থ-  'হরিণ' প্রাণী বিশেষ। 
• 'ঝি' অর্থ- নিজ কন্যা। কিন্তু প্রচলিত অর্থ- ঝি (চাকরানি)। 
• 'সন্দেশ' অর্থ- খবরাখবর। কিন্তু প্রচলিত অর্থ- সন্দেশ (মিষ্টিবিশেষ);
• 'পাঞ্জাবি' অর্থ- পাঞ্জাবের অধিবাসী। কিন্তু প্রচলিত অর্থ- পোশাক বিশেষ।

এছাড়াও রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দের আর কিছু উদাহরণ হলো:
গবেষণা, মন্দির, ফলাহার, কারচুপি, শুশ্রূষা, বৎস, রাখাল, কদর্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৫০.
'হালাল' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি
  2. উর্দু
  3. আরবি
  4. গুজরাটি
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা
আরবি শব্দ -
হারাম, হালাল, আদালত, গোসল, হজ, উকিল, ঈদ, কিতাব, কলম, নগদ, বাকি, তওবা,কিয়ামত, আল্লাহ, ইসলাম, নগদ, জান্নাত ইত্যাদি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
৪৫১.
যৌগিক শব্দ- 
  1. সন্দেশ
  2. গোলাপ
  3. গায়ক
  4. পঙ্কজ
সঠিক উত্তর:
গায়ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গায়ক
ব্যাখ্যা

• যৌগিক শব্দ: 
যে সব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই, তাদের যৌগিক শব্দ বলে।

অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গায়ক (মূল শব্দ) - গৈ+অক (শব্দ গঠন অর্থ) - যে গান করে (অর্থ)।
- মধুর = মধু + র; অর্থ - মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।

অন্যদিকে,
- মৌলিক শব্দ: গোলাপ, লাল, নীল, হাত, পা, তিন ইত্যাদি।
- রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ :  সন্দেশ, জ্যাঠামি ,প্রবীণ, অতিথি, কুশল, গবাক্ষ, দুহিতা, পাঞ্জাবি, বাঁশি, রাখাল, স্নাতক, তৈল ইত্যাদি।
- যােগরূঢ় শব্দ : জলদ, পঙ্কজ, মন্দির, জলদ, রাজপুত, অন্ন, জলধি, মহাযাত্রা, সরােজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৫২.
'গবাক্ষ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক
  2. যৌগিক
  3. যোগরূঢ়
  4. রূঢ়ি
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
ব্যাখ্যা
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ।।
উদাহরণ
গবাক্ষ = গো + অক্ষ, ব্যুৎপত্তিগত অর্থ- গোরুর অক্ষি বা চোখ;
কিন্তু 'গবাক্ষ' বলতে 'জানালা' বােঝায়। 

• এরূপ আরও শব্দ হলাে- অতিথি, কুশল, গবাক্ষ, দুহিতা, পাঞ্জাবি, বাঁশি, রাখাল, স্নাতক ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৩.
'সাইক্লোন' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ক) ইংরেজি
  2. খ) গ্রিক
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) দেশি
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গ্রিক
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'সাইক্লোন'- গ্রিক শব্দ।

'সাইক্লোন' শব্দটির অর্থ:
- ঘূর্ণিঝড়,
- প্রচণ্ড বেগে ঘুরপাক খেতে খেতে এগিয়ে চলে এমন ঝড়। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৪৫৪.
Q. 01-16: Choose the correct answer.
১) নিচের কোনটি মুন্ডারী ভাষার শব্দ?
  1. ক) চাকু
  2. খ) চিনি
  3. গ) চাকর
  4. ঘ) চুলা
সঠিক উত্তর:
ঘ) চুলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চুলা
ব্যাখ্যা
চুলা - মুন্ডারী ভাষার শব্দ।
চাকু- তুর্কি ভাষার শব্দ।
চাকর - ফারসি ভাষার শব্দ।
চিনি - তৎসম শব্দ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪৫৫.
কোনটি সাধিত শব্দ?
  1. সংসদ
  2. তিন
  3. গাছ
  4. কলম
সঠিক উত্তর:
সংসদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংসদ
ব্যাখ্যা
সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করলে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।

যেমন:
- গরমিল, পরিচালক, সম্পাদকীয়, সংসদ, নীলাকাশ ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
তিন, গাছ, কলম - মৌলিক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪৫৬.
নিচের কোনটি পর্তুগিজ শব্দ?
  1. ভবন
  2. বারান্দা
  3. বেহালা
  4. তামাক
সঠিক উত্তর:
বেহালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেহালা
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'বেহালা'- পর্তুগিজ শব্দ। 

• 'বেহালা' শব্দের অর্থ:
- ছড় দিয়ে বাজানো হয় এমন চারটি তারের বাদ্যযন্ত্রবিশেষ। 
---------------
• পর্তুগিজ ভাষার কিছু শব্দ হলো:
- আলপিন, বালতি, আনারস, আলমারি, গির্জা, গুদাম, চাবি, ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ভবন- তৎসম শব্দ।
বারান্দা - ফারসি শব্দ।
তামাক - দেশি শব্দ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪৫৭.
নিচের কোনটি যোগরূঢ় শব্দ?
  1. বাবুয়ানা
  2. অতিথি 
  3. কুশল 
  4. মহাযাত্রা
সঠিক উত্তর:
মহাযাত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাযাত্রা
ব্যাখ্যা

• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
• পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিত পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
• রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতিবিশেষ'।
মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
• জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
• বাবুয়ানা- যৌগিক শব্দ।
• কুশল, অতিথি- রূঢ় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪৫৮.
উৎস বিবেচনায় তৎসম শব্দ কোনটি?
  1. ঘোড়া
  2. বৃক্ষ
  3. পাখি
  4. কুমির
সঠিক উত্তর:
বৃক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃক্ষ
ব্যাখ্যা
উৎস বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ-
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভাণ্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়: তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

১. তৎসম শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।

২. তদ্ভব শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

৩. দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

৪. বিদেশি শব্দ:
ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলোকে বিদেশি শব্দ বলে। এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৪৫৯.
ফরাসি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আগত শব্দ নয়-
  1. রেস্তোরাঁ
  2. কার্তুজ
  3. সওগাত
  4. বুর্জোয়া
সঠিক উত্তর:
সওগাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সওগাত
ব্যাখ্যা

• ফরাসি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আগত শব্দঃ
- কুপন,
- ডিপো,
- রেস্তোরাঁ,
- আঁতেল,
- কার্তুজ,
- ওলন্দাজ,
- দিনেমার,
- কাফে,
- আঁতাত,
- বুর্জোয়া,
- রেনেসাঁস ইত্যাদি।
• তুর্কি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আগত শব্দঃ
- বাবা,
- উজবুক,
- কাঁচি,
- কাবু,
- কুর্নিশ,
- কুলি (মজুর),
- কোর্মা,
- খাতুন,
- চকমক,
- তালাশ,
- তােপ,
- বন্দুক,
- বাবুর্চি,
- বেগম,
- মুচলেকা,
- লাশ,
- সওগাত
- দারোগা,
- চাকর,
- চাকু,
- তোপ ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৪৬০.
নিচের কোনটি সংস্কৃত শব্দ?
  1. ক) টোপর
  2. খ) চাঁদ
  3. গ) কুলা
  4. ঘ) নারী
সঠিক উত্তর:
ঘ) নারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নারী
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত শব্দ - জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, কৃষ্ণ, গৃহিণী, চন্দ্র, সূর্য, আকাশ, হস্ত, মস্তক, চক্ষু, নর, নারী, বৃক্ষ, লতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• দেশি শব্দ- ডাব, ছুলা, কুলা, টোপর, ঢেকিঁ, প্রভৃতি দেশি শ্বব্দ।
• তদ্ভব শব্দ- চাঁদ, হাত, মাছ, দুধ, পা, নাক, কান প্রভৃতি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ।
৪৬১.
অর্থ বিবেচনায় 'গায়ক' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক 
  2. রূঢ়ি
  3. যোগরূঢ়
  4. যৌগিক
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা

• যৌগিক শব্দ:
- যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন -
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা - অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৬২.
উৎস বিবেচনায় 'অধ্যাদেশ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. তদ্ভব শব্দ
  2. বাংলা শব্দ
  3. তৎসম শব্দ
  4. দেশি শব্দ
সঠিক উত্তর:
তৎসম শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম শব্দ
ব্যাখ্যা
• উৎস বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়: তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

১. তৎসম শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

২. তদ্ভব শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

৩. দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

৪. বিদেশি শব্দ:
ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলোকে বিদেশি শব্দ বলে। এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৪৬৩.
কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. ক) মানব
  2. খ) বাজনা
  3. গ) দোকানদার
  4. ঘ) বেঙাচি
সঠিক উত্তর:
ক) মানব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মানব
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- 'মানব'- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। 

• 'মানব'  (বিশেষ্য)- (মনু+অ), 
শব্দের অর্থ- মানুষ; মনুষ্য; আদমি; নৃ; নর।

অন্য অপশনগুলোতে,
• 'বাজনা'- (সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত শব্দ) এর অর্থ- 'বাদ্যযন্ত্র, বাদ্যধ্বনি। 

• 'দোকানদার'- (ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ)।


উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৬৪.
'পানি' কোন ধরনের শব্দ?
  1. ক) তৎসম শব্দ
  2. খ) তদ্ভব শব্দ
  3. গ) ফারসি শব্দ
  4. ঘ) হিন্দি শব্দ
সঠিক উত্তর:
ঘ) হিন্দি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হিন্দি শব্দ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
'পানি'- তৎসম বা সংস্কৃত পানীয় শব্দ থেকে এসেছে। 
- 'পানি' হিন্দি ভাষার শব্দ। 

'পানি' এর সমার্থক শব্দ: জল, বারি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৬৫.
কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. গোলাপী
  2. দেশি
  3. ভাইয়ে
  4. গোলাপ
সঠিক উত্তর:
গোলাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাপ
ব্যাখ্যা

মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
  যেমন:
- গোলাপ, নাক, লাল, তিন, ভাই, কলা, মাটি।

অন্যদিকে,
সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায়, এক কথায় তাকেই বলা হয় সাধিত শব্দ।
- অন্যভাবে বলা যায়, মৌলিক শব্দ বা ধাতুর সাথে বিভিন্ন প্রকার প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ যোগ করে যে শব্দ গঠিত হয়, তাকে বলা হয় সাধিত শব্দ ।
 যেমন-
- দেশি, মাটির, বোনের, হাতগুলো, বউটি, গোলাপী, ভাইয়ে ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ -সংস্করণ)।
২) বাংলা ২য় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬৬.
কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. বাঁশি
  2. মা
  3. তৈল
  4. জলধি
সঠিক উত্তর:
মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মা
ব্যাখ্যা

• মৌলিক শব্দ - মা

অন্যদিকে,
রূঢ়ি শব্দ:
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়।
যোগরূঢ় শব্দ - জলধি

মৌলিক শব্দ:
- যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গোটা শব্দটাই নিজে নিজেই সমপূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভাঙতে চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনো অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন- মা, পা, ঘোড়া, উট, বউ, গোলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৬৭.
কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. ক) বাঁশি
  2. খ) মা
  3. গ) তৈল
  4. ঘ) জলধি
সঠিক উত্তর:
খ) মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মা
ব্যাখ্যা

যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন : মা, বউ, লতা, গাছ, পাখি, ফুল ইত্যাদি। 

• সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে। - যেমনঃ
- জলধিঃ 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
• যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গ যগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি বলে।
- যেমনঃ হস্তী = হস্ত + ইন, অর্থ - হস্ত আচে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
এছাড়াও সন্দেশ, প্রবীণ, তৈল, বাঁশি, গবেষণা, হস্তী ইত্যাদি রূঢ়ি শব্দ।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৬৮.
নিচের কোনটি তদ্ভব শব্দের উদাহরণ?
  1. ক) মই
  2. খ) জোছনা
  3. গ) পাতা
  4. ঘ) কাগজ
সঠিক উত্তর:
গ) পাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পাতা
ব্যাখ্যা
পাতা- তদ্ভব শব্দের উদাহরণ।

তদ্ভব শব্দ:
যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত ভাষায় পাওয়া যায়, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তন ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, সেসব শব্দকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ।

- তদ্ভব একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এর অর্থ, 'তৎ' (তার) থেকে 'ভব' (উৎপন্ন)।
- যেমন - সংস্কৃত - হস্ত, প্রাকৃত - হথ, তদ্ভব - হাত। সংস্কৃত - চর্মকার, প্রাকৃত - চম্মআর, তদ্ভব - চামার ইত্যাদি।
- একইভাবে সংস্কৃত 'চন্দ্র' শব্দ থেকে 'চাঁদ' শব্দটি উৎপন্ন হয়েছে।
- এই তদ্ভব শব্দগুলােকে খাটি বাংলা শব্দও বলা হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৬৯.
'চন্দ্র' কোন শ্রেণীর শব্দ?
  1. ক) যৌগিক
  2. খ) তৎসম
  3. গ) দেশী
  4. ঘ) অর্ধ-তৎসম
সঠিক উত্তর:
খ) তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তৎসম
ব্যাখ্যা

তৎসম শব্দঃ যেসব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে সোজাসুজি বাংলা ভাষায় এসেছে এবং যাদের রূপ অপরিবর্তিত রয়েছে সেসব শব্দকে তৎসম শব্দ বলা হয়।
'তৎসম একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ - তৎ (তার) + সম (সমান) = তার সমান অর্থ্যাৎ, সংস্কৃতের সমান।
উদাহরণঃ চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, ধর্ম, পাত্র, মনুষ্য ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

৪৭০.
'প্রবীণ' - রূঢ়ি অর্থে 'বয়স্ক বা অভিজ্ঞ ব্যক্তি' বোঝায়, তবে এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ কী?
  1. যিনি প্রবীণদের সম্মান করেন
  2. যিনি প্রবীণদের সেবা করেন
  3. যিনি প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন
  4. যিনি অনেক বীণা সংগ্রহ করেন
সঠিক উত্তর:
যিনি প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যিনি প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন
ব্যাখ্যা

রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
 যেমন:
- হস্তী - হস্ত + ইন, অর্থ - হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা।
- প্রবীণ - শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি 'অভিজ্ঞতাসম্পন্ন • বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ - শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে 'সংবাদ'। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে 'মিষ্টান্ন বিশেষ'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৭১.
'লাজুক' কোন ধরনের শব্দ?
  1. ক) মৌলিক
  2. খ) রুঢ়ি
  3. গ) যোগরুঢ়
  4. ঘ) যৌগিক
সঠিক উত্তর:
ঘ) যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যৌগিক
ব্যাখ্যা
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় উক যোগে লাজুক শব্দটি গঠিত হয় যা একটি যৌগিক শব্দ।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা--ড.হায়াৎ মামুদ
৪৭২.
অর্থের বিবেচনায় 'দয়ালু' কোন ধরনের শব্দ?
  1. রূঢ় শব্দ
  2. মিশ্র শব্দ
  3. যোগরূঢ় শব্দ
  4. যৌগিক শব্দ
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক শব্দ
ব্যাখ্যা

• অর্থের বিবেচনায় 'দয়ালু' একটি যৌগিক শব্দ। 

-------------------
• যৌগিক শব্দ:

যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
চিকামারা = চিকা + মারা অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

'দয়ালু' শব্দের গঠন ও বিশ্লেষণ:
• দয়া + আলু = দয়ালু; শব্দটিতে 'দয়া' (বিশেষ্য পদ) এবং 'আলু' (প্রত্যয়) মিলে গঠিত।

- "দয়ালু" শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ("যে দয়া রাখে") এবং ব্যবহারিক অর্থ ("দয়াশীল বা করুণাময় ব্যক্তি")। শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম যা যৌগিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪৭৩.
নিম্নের কোন শব্দগঠন প্রক্রিয়াটি সমাস নিষ্পন্ন?
  1. ক) মৌলিক
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) যােগরূঢ়
  4. ঘ) রূঢ়ি
সঠিক উত্তর:
গ) যােগরূঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যােগরূঢ়
ব্যাখ্যা
• বাগর্থ অনুসারে বাংলা শব্দের শ্রেণিবিভাগ:

যৌগিক শব্দ: প্রতিটি শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ যেমন থাকে তেমনি এর ব্যবহারিক অর্থও থাকে। প্রসঙ্গত বলা যায় যে, একটি শব্দের উৎপত্তি যখন ঘটেছিল তখন তার যে অর্থ ছিল তা-ই হলাে ওই শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ; আর শব্দটি বর্তমানে কোন অর্থে প্রযুক্ত হচ্ছে তা-ই তার ব্যবহারিক অর্থ। যৌগিক শব্দের ক্ষেত্রে এই দুটি অর্থই অভিন্ন থাকবে। অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যেসব শব্দের ব্যবহারিক অর্থ তাদের ব্যুৎপত্তিগত অর্থকেই অনুসরণ করে তাদের যৌগিক শব্দ বলে। যেমন, ‘জীবনী’ শব্দটি গঠিত হয়েছে ‘জীব+ অন+ ঈ' অর্থাৎ ‘জীব’ শব্দ হতে। তাই ‘জীবনী' শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হওয়া উচিত জীব সংশ্লিষ্ট কোনাে অর্থ। আর ‘জীবনী’ শব্দের অর্থ ‘জীবের বেঁচে থাকার বিবরণ'। অর্থাৎ, ‘জীবন’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ বজায় থেকেছে। 

রূঢ়ি শব্দ: ব্যুৎপত্তিগত এবং ব্যবহারিক অর্থের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে এমন প্রত্যয় বা উপসর্গ যােগে গঠিত শব্দকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন: হস্তী শব্দটির বুৎপত্তিগত অর্থ হাত আছে যার, কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ হাতি।

যােগরূঢ় শব্দ: সমাস নিষ্পন্ন শব্দ যদি ব্যুৎপত্তিগত অর্থ থেকে ভিন্ন কোনাে ব্যবহারিক অর্থ ধারণ করে তবে তাকে যােগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন: পঙ্কজ শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ পঙ্কে জন্মে যে কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ পদ্মফুল। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭৪.
‘পেয়ারা’ কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ক) পর্তুগীজ
  2. খ) আরবী
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) গুজরাটি
সঠিক উত্তর:
ক) পর্তুগীজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পর্তুগীজ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,  
'পেয়ারা'- 'পর্তুগীজ' ভাষা থেকে আগত শব্দ।

'পেয়ারা' বলতে বোঝায়- ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে চাষ করা হয় এমন মাঝারি আকৃতির চিরহরিৎ উদ্ভিদের অসংখ্য ছোটো বীজবিশিষ্ট গোলাকৃতির ফল। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৪৭৫.
‘জীবনী’ শব্দটি অর্থগতভাবে -
  1. ক) রূঢ়
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) যোগরূঢ়
  4. ঘ) মৌলিক
সঠিক উত্তর:
খ) যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যৌগিক
ব্যাখ্যা
শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যেসব শব্দের ব্যাবহারিক অর্থ তাদের ব্যুৎপত্তিগত অর্থকেই অনুসরণ করে তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন, ‘জীবনী’ শব্দটি গঠিত হয়েছে ‘জীব + অন + ঈ’ অর্থাৎ ‘জীব’ শব্দ হতে। তাই ‘জীবনী’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হওয়া উচিত জীব সংশ্লিষ্ট কোনো অর্থ। আর ‘জীবনী’ শব্দের অর্থ ‘জীবের বেঁচে থাকার বিবরণ’।

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৭৬.
‘চৌ-হদ্দি’ শব্দটি কোন কোন ভাষার শব্দ মিলে হয়েছে?
  1. ক) বাংলা + ফরাসি
  2. খ) সংস্কৃত + ফারসি
  3. গ) ফারসি + আরবি
  4. ঘ) সংস্কৃত + আরবি
সঠিক উত্তর:
গ) ফারসি + আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফারসি + আরবি
ব্যাখ্যা
কোন কোন সময় দেশি ও বিদেশী শব্দের মিলনে শব্দদৈত সৃষ্টি হয়ে থাকে তাকে মিশ্র শব্দ বলে।
এখানে,
‘চৌ-হদ্দি’ শব্দটি (ফারসি+আরবি) সংমিশ্রণে তৈরি মিশ্র শব্দ।
- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে- চৌহদ্দি অর্থ-     চারদিকের সীমানা, চতুঃসীমা।

সূত্র: বাংলার ভাষার ব্যাকরণ,নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৭৭.
কোনটি গ্রীক শব্দ?
  1. ক) লিচু
  2. খ) লুঙ্গী
  3. গ) চাবি
  4. ঘ) সেমাই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেমাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেমাই
ব্যাখ্যা

দাম, ইউনানি ও সেমাই গ্রিক শব্দ। দাম-দ্রাখমে, সেমাই-সেমাদালিম ও ইউনানি-আইওনিয়ন থেকে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় এসেছে।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪৭৮.
'সন্দেশ'- শব্দটি অর্থগত দিক দিয়ে কোন শ্রেণীর শব্দ?
  1. ক) মৌলিক
  2. খ) যৌগিক
  3. গ) রুঢ়ি
  4. ঘ) যোগরুঢ়
সঠিক উত্তর:
গ) রুঢ়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রুঢ়ি
ব্যাখ্যা

রুঢ়ি শব্দ : যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযাগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনাে বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রুঢ়ি শব্দ বলে। যেমন -হস্তী=হস্ত+ইন, অর্থ-হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বােঝায়। গবেষণা (গাে+এষণা) অর্থ- গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালােচনা।
অন্যান্য রুঢ়ি শব্দ : বাশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ ইত্যাদি
(রেফারেন্সঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ)

৪৭৯.
কোনটি দেশি শব্দ নয়?
  1. আড়ং
  2. খিদে
  3. চোঙ্গা
  4. টোপর
সঠিক উত্তর:
খিদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খিদে
ব্যাখ্যা
অর্ধতৎসম শব্দগুলো হলো- অদ্ধ, নেমন্তন্ন, বোষ্টম, ছেরাদ্দ, গিন্নী, কুচ্ছিত, চম্মআর, হত্থ, খিদে, চন্দর, পত্তর, পিরিতি, মিত্তির, সরুজ, জ্যোছনা ইত্যাদি।
আড়ং, আলু, পেট, চুলা, ডাব, কুলা, গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপর, ডাগর, ঢেঁকি ইত্যাদি হলো দেশি শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৮০.
'আদিত্য' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ় শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা
• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।

যেমন -
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- আদিত্য: ব্যুৎপত্তিগত অর্থ অদিতির পুত্র বা সকল দেবতা। কিন্তু আদিত্য মানে সূর্য।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৪৮১.
অর্থগতভাবে 'সুহৃদ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. যোগরূঢ় শব্দ
  2. মিশ্র শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. যৌগিক শব্দ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ় শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা
• অর্থগতভাবে শব্দসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. যৌগিক শব্দ,
২. রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ,
৩. যোগরূঢ় শব্দ।

• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ।
যেমন:
- 'সুহৃদ' এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ -'সুন্দর হৃদয় যার'। ব্যবহারিক অর্থ- 'বন্ধু'। তাই 'সুহৃদ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।
- 'অসুখ' এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ-'সুখের অভাব'। ব্যবহারিক অর্থ-'রোগ'। তাই 'অসুখ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।
- 'পঙ্কজ' এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ- পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।

এরূপ-
আরো কিছু শব্দ হলো: মন্দির, জলদ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪৮২.
'জানালা' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) পর্তুগিজ
  2. খ) ফারসি
  3. গ) তুর্কি
  4. ঘ) গ্রিক
সঠিক উত্তর:
ক) পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
জানালা (বিশেষ্য) 
- উৎসগত দিক দিয়ে পর্তুগিজ শব্দ। 

- অর্থ: আলো বাতাস চলাচলের জন্য গাড়ি বা ঘরের দেওয়াল কেটে তৈরি এবং খোলা বন্ধ করা যায় এমন বাতায়ন, গবাক্ষ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪৮৩.
নিচের কোনটি ’রুঢ়ি শব্দ’?
  1. কর্তব্য 
  2. গবেষণা
  3. গায়ক
  4. চিকামারা
  5. জলধি
সঠিক উত্তর:
গবেষণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গবেষণা
ব্যাখ্যা

 • রুঢ়ি শব্দ:
⇒ যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
গবেষণা, বাঁশি, তৈল, সন্দেশ, প্রবীণ, হরিণ, পাঞ্জাবী, হস্তী ইত্যাদি।

• যৌগিক শব্দ:
⇒ যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক অর্থ অভিন্ন তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
গায়ক, দৌহিত্র, চিকামারা, বাবুয়ানা, মধুর, কর্তব্য ইত্যাদি।

• যৌগরূঢ় শব্দ:
⇒ সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ সমস্যমান পদসমূহের অনুগামি না হয়ে কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাকে যৌগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
পঙ্কজ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৮৪.
মৌলিক শব্দ নয় কোনটি?
  1. গোলাপ
  2. ঘোড়া
  3. ডুবুরি
  4. লতা
সঠিক উত্তর:
ডুবুরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডুবুরি
ব্যাখ্যা
• গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা:
- মৌলিক শব্দ ও
- সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গোটা শব্দটাই নিজে নিজেই সম্পূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভা চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনো অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন- মা, পা, ঘোড়া, উট, বউ, গোলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন- পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ, সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।
শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন: ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৮৫.
‘সন্দেশ’ কোন শ্রেণির শব্দ?
  1. যৌগিক
  2. রূঢ়ি
  3. দেশি
  4. যোগরূঢ়
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
ব্যাখ্যা
• সন্দেশ - রূঢ়ি শব্দ

রূঢ়ি শব্দ: 
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী - হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
এ রকম -
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়। 
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়। 
যেমন - বাদাম তেল।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৮৬.
‘মন্দির’ কোন ধরণের শব্দ?
  1. ক) মৌলিক
  2. খ) যোগরূঢ়
  3. গ) যৌগিক
  4. ঘ) রূঢ়ি
সঠিক উত্তর:
ঘ) রূঢ়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রূঢ়ি
ব্যাখ্যা

রুঢ়ি শব্দ:
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযাগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনাে বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রুঢ়ি শব্দ বলে।

মন্দির (বিশেষ্য) = দেবালয়; পূজা বা উপাসনার গৃহ।
(তৎসম বা সংস্কৃত) √মন্দ্‌+ইর (কিরচ্‌)
যেহেতু শব্দটি কৃৎ-প্রতয়ান্ত শব্দ; তাই এটি রুঢ়ি শব্দ

অন্যান্য আরো কিছু রূঢ়ি শব্দঃ
হস্তী, গবেষণা, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, হরিণ, কুশল, পাঞ্জাবি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনাে বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যােগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন- পঙ্কজ, আদিত্য, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, তুরঙ্গম, জলদ, দশানন, পরিবার ইত্যাদি।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ ও বাংলা একাডেমি অভিধান।

৪৮৭.
কোনটি যৌগিক শব্দ?
  1. জলধি
  2. গবেষণা
  3. তৈল
  4. দৌহিত্র
সঠিক উত্তর:
দৌহিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৌহিত্র
ব্যাখ্যা

যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।

যেমন:
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা - অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

অন্যদিকে,
- রূঢ়ি শব্দ - তৈল, গবেষণা।
- যোগরূঢ় শব্দ - জলধি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৮৮.
'আঁতেল' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ক) পর্তুগিজ
  2. খ) ফরাসি
  3. গ) ওলন্দাজ
  4. ঘ) ফারসি
সঠিক উত্তর:
খ) ফরাসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফরাসি
ব্যাখ্যা

• ফরাসি ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় আগত শব্দঃ
- কুপন,
- ডিপো,
- রেস্তোরাঁ,
- আঁতেল,
- ওলন্দাজ,
- দিনেমার,
- কাফে,
- আঁতাত,
- বুর্জোয়া,
- রেনেসাঁস ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪৮৯.
‘সাবান' কোন দেশী শব্দ?
  1. ক) তুর্কি
  2. খ) পাঞ্জাবি
  3. গ) ফরাসি
  4. ঘ) পর্তুগিজ
সঠিক উত্তর:
ঘ) পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
‘সাবান'- পর্তুগিজ ভাষার শব্দ।

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু পর্তুগিজ ভাষার শব্দ হলো-
- বোতাম,
- আলপিন,
- পাউরুটি,
- ইংরেজ,
- সাবান,
- পাদ্রি,
- আলকাতরা,
- বারান্দা,
- পেয়ারা,
- বোতাম,
- আলমারি,
- গির্জা,
- চাবি,
- আনারস,
- ইস্পাত,
- আচার,
- পিস্তল,
- গুদাম ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৯০.
'চাউল' কোন ধরনের শব্দ?
  1. বিদেশি শব্দ
  2. তৎসম শব্দ
  3. দেশি শব্দ
  4. তদ্ভব শব্দ
সঠিক উত্তর:
দেশি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশি শব্দ
ব্যাখ্যা
• দেশি শব্দ:
- বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের সংস্কৃতির কিছু কিছু শব্দ আর্যদের প্রভাবে পরিবর্তিত না হয়ে অবিকৃতভাবে বাংলা ভাষায় রক্ষিত আছে, এসব শব্দকে বলা হয় দেশি শব্দ।
- প্রাচীনকালে এদেশের অধিবাসী ছিলেন অনার্য, দ্রাবিড়, কোল প্রভৃতি জাতি। তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় রক্ষিত হয়েছে। এগুলোকে দেশী শব্দ বলা হয়। অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ণয় করা যায় না।

দেশি শব্দের উদাহরণ- পেট, ডাব, টোপ, ডিঙা, চাউল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
-----------------
• তৎসম শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে।
যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।

- সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

• তদ্ভব শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলােকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘােড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

• বিদেশি শব্দ:
ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে এই শব্দগুলােকে বিদেশি শব্দ বলে।
- এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৯১.
'কর্তব্য' - কোন ধরনের শব্দ?
  1. যৌগিক
  2. যোগরূঢ়
  3. রূঢ়ি
  4. মৌলিক
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা

যৌগিক শব্দ:
- যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। 

যেমন:
গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
চিকামারা = চিকা + মারা - অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪৯২.
কোনটি যোগরূঢ় শব্দ?
  1. প্রবীণ
  2. আদিত্য
  3. গায়ক
  4. দৌহিত্র
সঠিক উত্তর:
আদিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদিত্য
ব্যাখ্যা
যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যেসকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে বিশিষ্ট কোন অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ় বলে।

যেমন:
- পঙ্কজ, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, আদিত্য

অন্যদিকে,
যৌগিক শব্দ - গায়ক, দৌহিত্র।
রূঢ়ি শব্দ - প্রবীণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৯৩.
পাণি শব্দটি উৎসগত দিক দিয়ে কোন প্রকারের শব্দ?
  1. সংস্কৃত
  2. তদ্ভব
  3. দেশি
  4. বিদেশি
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
পাণি শব্দটি উৎসগত দিক দিয়ে সংস্কৃত শব্দ।
পাণি (পানি) 
[স. √পণ্‌+ই]
- বিশেষ্য
- হাত (বীণাপাণি)

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪৯৪.
শ্রেণিগতভাবে 'তুরঙ্গম' কোন শব্দ?
  1. যোগরূঢ় শব্দ
  2. রূঢ়ি শব্দ
  3. যোগিক শব্দ
  4. রূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ় শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা
যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।

যেমন:
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতিবিশেষ'।
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- তুরঙ্গম: ত্বরাতে গমন করে যা, কিন্তু প্রচলিত অর্থে ঘোড়াকে বোঝায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৯৫.
'পঙ্কজ' কোন শব্দের উদাহরণ?
  1. ক) যৌগিক শব্দ
  2. খ) রূঢ়ি শব্দ
  3. গ) যোগরূড় শব্দ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) যোগরূড় শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) যোগরূড় শব্দ
ব্যাখ্যা
'পঙ্কজ' যোগরূড় শব্দের উদাহরণ।

• অর্থ অনুসারে শব্দ তিন প্রকার। যথা:
- যৌগিক শব্দ,
- রূঢ়ি শব্দ,
- যোগরূড় শব্দ।

যোগরূড় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যেসব শব্দ, সমস্যমান পদস্মূহের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য এক বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয় সেসব শব্দকে যোগরূঢ় শব্দ বলে। যেমন: 
- যা পঙ্কে বা কাদায় জন্মে - পঙ্কজ।
কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ পদ্ম।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৪৯৬.
'রামরাম বসু ছিলেন কেরি সাহেবের মুন্সি।'- এখানে 'মুন্সি' কোন ভাষার শব্দ?
  1. বাংলা
  2. সংস্কৃত
  3. আরবি
  4. ফারসি
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
মুন্সি- আরবি ভাষার শব্দ।  

• 'মুন্সি' শব্দের অর্থ: 
- কেরানি;
- যিনি লেখার কাজ করেন; লেখক।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৪৯৭.
'দোস্ত' শব্দটি উৎসগত দিক থেকে কোন প্রকার?
  1. ক) তৎসম
  2. খ) তদ্ভব
  3. গ) খাঁটি বাংলা
  4. ঘ) বিদেশি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিদেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিদেশি
ব্যাখ্যা
'দোস্ত'
- দোস্‌ত 
- বিশেষণ 
- ফারসি শব্দ (বিদেশি) 
- অর্থ - বন্ধু, সুহৃদ, মিত্র। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪৯৮.
কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. ক) বাঁশি
  2. খ) মা
  3. গ) তৈল
  4. ঘ) জলধি
সঠিক উত্তর:
খ) মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মা
ব্যাখ্যা
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন : মা, বউ, লতা, গাছ, পাখি, ফুল ইত্যাদি। 

• সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে। - যেমনঃ
- জলধিঃ 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
• যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গ যগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি বলে।
- যেমনঃ হস্তী = হস্ত + ইন, অর্থ - হস্ত আচে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
এছাড়াও সন্দেশ, প্রবীণ, তৈল, বাঁশি, গবেষণা, হস্তী ইত্যাদি রূঢ়ি শব্দ।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৯৯.
কোন শব্দটির ব্যবহারিক অর্থ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ থেকে আলাদা?
  1. গোলাপি
  2. বাবুয়ানা
  3. গবেষণা
  4. পাগলামি
সঠিক উত্তর:
গবেষণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গবেষণা
ব্যাখ্যা
• রূঢ়ি শব্দ : 
যেসব শব্দ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ না বুঝিয়ে অন্য অর্থ প্রকাশ করে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে। এই শব্দের ক্ষেত্রে ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক অর্থের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
যেমন,
- গবেষণা (গো + এষণা) অর্থ গরু খোজা এটি প্রকৃত অর্থকে না বুঝিয়ে অন্য অর্থ বোঝায়, তাই এটি রূঢ়ি শব্দ।

আরো কিছু রূঢ়ি শব্দ:
- হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ।

অন্যান্য অপশনগুলোর ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক অর্থ একই:

ক) গোলাপি:
ব্যুৎপত্তিগত অর্থ: "গোলাপ" + "ই" = গোলাপ ফুলের মতো রঙ
ব্যবহারিক অর্থ: গোলাপি রঙ (হালকা লাল রঙ)
মিল: উভয় অর্থই গোলাপ ফুলের রঙের সাথে সম্পর্কিত

খ) বাবুয়ানা:
ব্যুৎপত্তিগত অর্থ: বাবুর ভাব;
ব্যবহারিক অর্থ: বাবুর ভাব।
মিল: উভয় অর্থই একই।

ঘ) পাগলামি:
ব্যুৎপত্তিগত অর্থ: "পাগল" + "আমি" = পাগলের মতো আচরণ।
ব্যবহারিক অর্থ: মানসিক বিকার, উন্মাদনা, বা হাস্যকর আচরণ।
মিল: উভয় অর্থই পাগলের আচরণের সাথে সম্পর্কিত।

উৎস:  ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।
৫০০.
কোনটি যৌগিক শব্দ?
  1. জলধি
  2. পঙ্কজ
  3. বাবুয়ানা
  4. রাজপুত
সঠিক উত্তর:
বাবুয়ানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাবুয়ানা
ব্যাখ্যা

• যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
​দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
চিকামারা = চিকা + মারা অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

অন্যদিকে,
​---------------------
• ​​যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতি বিশেষ'।
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।