বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

শব্দের শ্রেণিবিভাগ

মোট প্রশ্ন১,০৫৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শব্দের শ্রেণিবিভাগ

PrepBank · পাতা / ১১ · ৩০১৪০০ / ১,০৫৭

৩০১.
'পঙ্কজ' - কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক 
  2. যৌগিক 
  3. রূঢ় 
  4. যোগরূঢ়
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ়
ব্যাখ্যা

যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদেরকে যোগরূঢ় শব্দ বলে।

উদাহরণ:
- পঙ্কজ = পঙ্কে জন্মে যা (উপপদ তৎপুরুষ সমাস)।
- শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি নানাবিধ উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে।
- কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- তাই পঙ্কজ একটি যোগরূঢ় শব্দ।

- একই ভাবে রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, তুরঙ্গম প্রভৃতি যোগরূঢ় শব্দ ।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩০২.
কোনটি তদ্ভব শব্দ নয়?
  1. ক) হাতি
  2. খ) দাঁত
  3. গ) কুমির
  4. ঘ) পেট
সঠিক উত্তর:
ঘ) পেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পেট
ব্যাখ্যা
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষার একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলে।
যেমন,
- হাত, পা, হাতি, দাঁত, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

- পেট দেশি শব্দের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০৩.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. গোলাপ
  2. নাক
  3. বাঁশি
  4. তিন
সঠিক উত্তর:
বাঁশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁশি
ব্যাখ্যা

প্রশ্নে উল্লেখিত শব্দগুলোর মধ্যে বাঁশি শব্দটি ছাড়া অন্যগুলো মৌলিক শব্দ।

যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙ্গে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, তিল, লাল, তিন ইত্যাদি।

বাঁশি - শব্দটি রূঢ়ি শব্দ।
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন - গবেষণা (মূল অর্থ - গরু খোঁজা; কিন্তু ব্যবহৃত অর্থ - ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা)
তেমনি, বাঁশি শব্দটি 'বাঁশ দিয়ে তৈরি যেকোন বস্তু' না বুঝিয়ে 'সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র বিশেষ' অর্থে ব্যবহৃত হয়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ ও ড. হায়াৎ মামুদ রচিত ভাষা-শিক্ষা বই।

৩০৪.
‘রসদ’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে?
  1. ফরাসি
  2. আরবি
  3. ফারসি
  4. হিন্দি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কতিপয় ফারসি শব্দঃ
১. ধর্মসংক্রান্ত শব্দঃ
- খোদা, গুনাহ, দোজখ, নামাজ, বেহেশত, ফেরেশতা, রোজা ইত্যাদি।
২. প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দঃ
- কারখানা, চশমা, জবানবন্দি, তোশক, দফতর, দঊলত, নালিশ, বাদশাহ, বেগম, মেথর, রসদ ইত্যাদি।
৩. বিবিধঃ
- আদমি, আমদানি, জানোয়ার, জিন্দা, নমুনা, বদমাশ, রফতানি, হাঙ্গামা ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বই।
৩০৫.
'পেয়ারা' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. ক) হিন্দি
  2. খ) উর্দু
  3. গ) গ্রিস
  4. ঘ) পর্তুগীজ
সঠিক উত্তর:
ঘ) পর্তুগীজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পর্তুগীজ
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ - কপি, কাজু, কামরা, কেদারা, গামলা, গির্জা, গুদাম, চাবি, জানালা, তামাক, তােয়ালে ইত্যাদি।
উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৩০৬.
‘প্রবীণ’ শব্দটির প্রকৃত অর্থ হওয়ার কথা—
  1. অভিজ্ঞ যিনি
  2. বিদ্বান ব্যক্তি
  3. প্রকৃষ্টভাবে বীণা বাজাতে পারেন যিনি
  4. অনেক বয়স হয়েছে যার
সঠিক উত্তর:
প্রকৃষ্টভাবে বীণা বাজাতে পারেন যিনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রকৃষ্টভাবে বীণা বাজাতে পারেন যিনি
ব্যাখ্যা
রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।

যেমন:
- হস্তী - হস্ত + ইন, অর্থ - হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা।
- প্রবীণ - শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি 'অভিজ্ঞতাসম্পন্ন • বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ – শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে 'সংবাদ'। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে 'মিষ্টান্ন বিশেষ'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩০৭.
অর্থ অনুসারে 'পাঞ্জাবি' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দের অর্থ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে গঠিত হলেও মূল অর্থ প্রকাশ না করে অন্য কোনো অর্থ প্রকাশ করে তাকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।

ব্যুৎপত্তি বিশ্লেষণ করে যে শব্দের অর্থ বোঝা যায় না তাকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমন- হস্তী শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়: হস্ত + ইন (যার হাত আছে) কিন্তু শব্দটি হাতি নামক একটি বিশেষ প্রাণীকে বোঝাচ্ছে। 

এমনিভাবে, 
• কুশ + অল- (কুশ আহরণকরে যে) কুশল কিন্তু এর ব্যবহারিক অর্থ নিপুণ বা ভালো। 
• বাঁশ + ই- বাঁশি (বাঁশ দিয়ে তৈরি সব বস্তুকে না বুঝিয়ে একটি বিশেষ বাদ্যযন্ত্রকে বোঝাচ্ছে)।
• পাঞ্জাবি- বিশেষ ধরণের জামা; অথচ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ পাঞ্জাবের লোক। 
• সন্দেশ - সংবাদ না বুঝিয়ে বিশেষ ধরনের। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০৮.
'গবেষণা' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক 
  2. যৌগিক 
  3. রূঢ়ি
  4. যোগরূঢ়
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
ব্যাখ্যা

রূঢ়ি শব্দ: 
যেসব শব্দ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ না বুঝিয়ে অন্য অর্থ প্রকাশ করে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- ‘কুশল’ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ‘যে কুশ আনে’; প্রচলিত অর্থ মঙ্গল।
- গবেষণা (গো + এষণা) অর্থ গরু খোজা এটি প্রকৃত অর্থকে না বুঝিয়ে অন্য অর্থ বুঝাচ্ছে, তাই এটি রুঢ়ি শব্দ।

আরো কিছু রূঢ়ি শব্দ:
হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩০৯.
“দোসরা” তারিখ জ্ঞাপক সংখ্যাটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) উর্দু
  4. ঘ) হিন্দি
সঠিক উত্তর:
ঘ) হিন্দি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হিন্দি
ব্যাখ্যা

তারিখবাচক শব্দগুলোর প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থকে ৪ পর্যন্ত (পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা) হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়। বাকি শব্দগুলো বাংলার নিজস্ব ভঙ্গিতে গঠিত।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩১০.
কোনটি তুর্কি শব্দ নয়?
  1. ক) চাকর
  2. খ) দারোগা
  3. গ) তোপ
  4. ঘ) বাড়ি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাড়ি
ব্যাখ্যা
দারোগা, চাকর, চাকু, তোপ ইত্যাদি তুর্কি শব্দ৷ উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৩১১.
'পেট' - কোন ভাষার শব্দ?
  1. সংস্কৃত শব্দ
  2. ফারসি শব্দ
  3. দেশি শব্দ
  4. বাংলা শব্দ
সঠিক উত্তর:
দেশি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশি শব্দ
ব্যাখ্যা

দেশি শব্দ - পেট
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ:
- ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ডের নিম্নস্থ অঙ্গ, উদর, জঠর।

দেশি শব্দ:

- বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।

উদাহরণ:
- কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩১২.
উৎসগত দিক দিয়ে শব্দকে কয়টি শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
গ) ৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪
ব্যাখ্যা
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) অনুসারে, উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে :
- তৎসম,
- তদ্ভব,
- দেশি ও
- বিদেশি। 

বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খন্ড) গ্রন্থ অনুসারে,
উৎসগত দিক দিয়ে শব্দকে চারটি শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো :
-  সংস্কৃত : বাংলা ভাষার উচ্চারণ রীতিতে গৃহীত সংস্কৃত শব্দ—শ্রাদ্ধ, চন্দ্র।
-  প্রাকৃত : বাংলা ভাষার উচ্চারণ রীতিতে গৃহীত প্রাকৃত শব্দ—ছেরাদ্দ, চন্দ, প্রাকৃতায়িত বিভিন্ন ভাষার শব্দ।
-  বাংলা : সংস্কৃত থেকে বিবর্তিত, প্রাকৃত থেকে আগত, পরিবর্তিত সংস্কৃত, প্রাকৃত ইত্যাদি ভাষার শব্দ— সাধ, চাঁদ।
-  বিভিন্ন ভাষার শব্দ: নব্য-ভারতীয় আর্যভাষার শব্দ, বিভিন্ন অনার্য শব্দ, তুর্কি, আরবি, ফারসি, পাের্তুগিজ, ইংরেজি প্রভৃতি ভাষার শব্দ।
৩১৩.
মৌলিক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ভাত
  2. চলা
  3. পথ
  4. হাত
সঠিক উত্তর:
চলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলা
ব্যাখ্যা
• গঠন বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে মৌলিক এবং সাধিত এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• মৌলিক শব্দ:

ভাষার যে-সব শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না এবং যাদের সঙ্গে কোনো প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ ইত্যাদি যুক্ত থাকে না, তাদের মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দের বৈশিষ্ট্য হল- স্পষ্ট অর্থবোধকতা ও অবিভাজ্যতা। কখনো মৌলিক শব্দ ভেঙে দেখানোর চেষ্টা করলে ভাঙা বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনো অর্থ হয় না। যেমন: মা, ভাত, পথ, চল, গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
পথিক বা চলা শব্দ; এগুলোকে মৌলিক শব্দ বলা যায় না, কারণ (পথিন্ + ক) বা (চল্ + আ)-এভাবে এদের ভাঙা যায়।

• সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন:
- ডুবুরি (ডুব্‌ + উরি);
- চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ) ইত্যাদি।

আবার,
পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ ইত্যাদি।

• শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে। যেমন: ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৩১৪.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. ছুটি
  2. কাব্য
  3. দ্বীপ
  4. মেঘ
সঠিক উত্তর:
ছুটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছুটি
ব্যাখ্যা

মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
  যেমন:
- গোলাপ, নাক, লাল, তিন, ভাই, কলা, ছুটি
 
অন্যদিকে,
সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায়, এক কথায় তাকেই বলা হয় সাধিত শব্দ।
- অন্যভাবে বলা যায়, মৌলিক শব্দ বা ধাতুর সাথে বিভিন্ন প্রকার প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ যোগ করে যে শব্দ গঠিত হয়, তাকে বলা হয় সাধিত শব্দ ।
 যেমন-
- দেশি, মাটির, বোনের, হাতগুলো, বউটি, গোলাপী, ভাইয়ে ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
সাধিত শব্দ:
মেঘ = মিহ্ + অ।
দ্বীপ = দ্বী + অপ্ + অ।
কাব্য = কবি + য।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ - সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩১৫.
নিচের কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. দৌহিত্র
  2. গরমিল
  3. মধুর
  4. সন্দেশ
সঠিক উত্তর:
সন্দেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্দেশ
ব্যাখ্যা
• সন্দেশ - রূঢ়ি শব্দ।
- সন্দেশ শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে সংবাদ
- কিন্তু রূঢ়ি অর্থে মিষ্টান্ন।

রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন-
- হস্তী=হস্ত + ইন; অর্থ-হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ গরু খোঁজা।অথচ, বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।

অন্যদিকে,
দৌহিত্র, গরমিল ও মধুর - যৌগিক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৩১৬.
কোনটি দেশি শব্দ?
  1. ক) তোপ
  2. খ) টোপর
  3. গ) চেট্টি
  4. ঘ) তরকা
সঠিক উত্তর:
খ) টোপর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) টোপর
ব্যাখ্যা
দেশি শব্দ হচ্ছে:
- চুলা,
- কুলা,
- গঞ্জ,
- টোপর,
- ডাব,
- ডাগর,
- ঢেঁকি ইত্যাদি।

[উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াৎ মাহমুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯ ]
৩১৭.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ নয়?
  1. ক) হাত
  2. খ) গোলাপ
  3. গ) মানব
  4. ঘ) ফুল
সঠিক উত্তর:
গ) মানব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মানব
ব্যাখ্যা
মৌলিক শব্দঃ
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙ্গে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, তিল, হাত, ফুল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
মানব, একাঙ্ক, ধাতব ইত্যাদি সাধিত শব্দ।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই।
৩১৮.
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে কী বলে?
  1. ক) ধাতু
  2. খ) প্রাতিপাদিক
  3. গ) উপসর্গ
  4. ঘ) প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
খ) প্রাতিপাদিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রাতিপাদিক
ব্যাখ্যা
• প্রাতিপদিক: বিভক্তিহীন নামশব্দকে প্রাতিপদিক বলে। নামপদের যেই অংশকে আর বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, তাই প্রাতিপদিক।
যেমন: হাত, বই, কলম ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
• ধাতু: ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
যেমন: 'করে' একটি ক্রিয়াপদ। এতে দুটো অংশ রয়েছে।কর্‌ + এ।কর্‌ হলো ধাতু এবং এ বিভক্তি।

• উপসর্গ: যেসব অব্যয় বা শব্দাংশ অন্য শব্দের আগে বসে নতুন অর্থ তৈরি করে তাকে উপসর্গ বলে।
যেমন: ‘কাজ’ একটি শব্দ এর আগে ‘অ’ অব্যায়টি যুক্ত হলে হয় ‘অকাজ’। এখানে ‘অ’ একটি উপসর্গ।

• প্রত্যয়: শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন: বাঘ + আ = বাঘা; দিন + ইক = দৈনিক; দুল্ + অনা = দোলনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩১৯.
নিচের কোনটি ফরাসি শব্দ?
  1. মুক্তা
  2. সপ্তাহ
  3. কুপন
  4. গুদাম
সঠিক উত্তর:
কুপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুপন
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
- 'কুপন'- ফরাসি শব্দ।
 
• 'কুপন' শব্দের অর্থ:
- রসিদের যে অংশের বিনিময়ে কিছু দাবি করা যায়।
- রসিদ।

অন্যদিকে, 
মুক্তা, সপ্তাহ- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ।
গুদাম - পর্তুগিজ শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩২০.
'দধি' কী ধরনের শব্দ?
  1. ক) বিদেশি
  2. খ) তদ্ভব শব্দ
  3. গ) দেশি
  4. ঘ) তৎসম
সঠিক উত্তর:
ঘ) তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তৎসম
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দটি হলো: দধি 
দধি =√দধ্‌+ই
দধি হলো ঈষদুষ্ণ দুধের সঙ্গে এককোষী জীবাণু মিশিয়ে স্থির অবস্থায় রেখে দেয়ার ফলে জমাটবাঁধা থকথকে টক স্বাদ খাদ্য বস্তু , দই। 

[উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি]
৩২১.
উৎস বিবেচনায় বাংলাভাষার শব্দভাণ্ডারকে কত ভাগ করা যায়?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৬ ভাগে
সঠিক উত্তর:
৪ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ ভাগে
ব্যাখ্যা
• উৎস বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
- উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার(৪) শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।

- তৎসম শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে।
- যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

- তদ্ভব শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
- উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

- দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়।
- উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

- বিদেশি শব্দ:
- ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলোকে বিদেশি শব্দ বলে।
- এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৩২২.
নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. ক) পেট
  2. খ) চুলা
  3. গ) বধূ
  4. ঘ) ডাহা
সঠিক উত্তর:
গ) বধূ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বধূ
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম শব্দ গুলো হলো -
বৈষ্ণব, কুৎসিত, চন্দ্র, ভবন, ধর্ম, মনুষ্য, পাত্র, নক্ষত্র, ক্ষুধা, সূর্য, পদ্ম, ক্ষমা, অন্ন, নিমন্ত্রণ, চন্দ্র, জ্যোৎস্না, শ্রাদ্ধ, গৃহিণী, স্বামী, পুত্র, খাদ্য, অস্তি, অদ্য, অর্ধ, ইন্দ্রাগার, উপাধ্যায়, ঊষ্ণাপন, করোতি, কথয়তি, কার্য, গৃহ, চক্র, চর্মকার, বধূ, ভক্ত, মিথ্যা, লবণ, হস্ত, স্তম্ভ ইত্যাদি।
কিছু দেশি শব্দ— কুড়ি, পেট, চুলা, ঝাঁটা, ঝোল, ডিঙা, ডিঙি, কুলা, টোপর, ডাব, ডাগর, ঢেঁকি, ঢেউ, ঢিল, ডাহা, গঞ্জ, চোঙ্গা, ঢেউ, আলু, ইত্যাদি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২৩.
কোনটি সাধিত শব্দ?
  1. গরমিল
  2. গোলাপ
  3. নাক
  4. লাল
সঠিক উত্তর:
গরমিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গরমিল
ব্যাখ্যা
• সাধিত শব্দ - গরমিল

সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।
যথা:
→ চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ),
→ নীলাকাশ (নীল যে আকাশ),
→ ডুবুরি (ডুব্‌ + উরি),
→ চলন্ত (চল্ + অন্ত),
→ প্রশাসন (প্র + শাসন),
গরমিল (গর + মিল) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বাকিগুলো মৌলিক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩২৪.
উৎস অনুযায়ী 'আমানত' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) দেশি
  2. খ) আরবি
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) হিন্দি
সঠিক উত্তর:
খ) আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আরবি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
উৎস অনুযায়ী 'আমানত'- 'আরবি' ভাষার শব্দ।

• 'আমানত' শব্দটির অর্থ- গচ্ছিত বস্তু। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৩২৫.
‘ঠাকুর‘ কোন ভাষার শব্দ ?
  1. তুর্কি
  2. হিন্দি
  3. সংস্কৃত
  4. উর্দু
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
ব্যাখ্যা


- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- ‘ঠাকুর’ শব্দটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ। 
- (তৎসম বা সংস্কৃত) ঠক্কুর>ঠাকুর}
- কিন্তু বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর বইয়ে
- ‘ঠাকুর’ শব্দটি তুর্কি ভাষার শব্দ দেয়া, যা ভুল। 

[উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান]

৩২৬.
'সপ্তাহ' কোন প্রকার সংখ্যাবাচক শব্দ ?
  1. ক) অঙ্কবাচক
  2. খ) ক্রম বা পূরণ বাচক
  3. গ) পরিমাণ বা গণনাবাচক
  4. ঘ) তারিখবাচক
সঠিক উত্তর:
গ) পরিমাণ বা গণনাবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পরিমাণ বা গণনাবাচক
ব্যাখ্যা
পরিমাণ বা গণনা বাচক সংখ্যাঃ
একাধিকবার একই একক গণনা করলে যে সমষ্টি পাওয়া যায়, তা-ই পরিমাণ বা গণনাবাচক সংখ্যা।
যেমনঃ সপ্তাহ বলতে আমরা সাত দিনের সমষ্টি বুঝিয়ে থাকি। সপ্ত (সাত) অহ (দিনক্ষণ) = সপ্তাহ। এখানে দিন একটি একক। এরূপ-সাতটি দিন বা সাতটি একক মিলে হয়েছে সপ্তাহ। (রেফারেন্সঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ)
৩২৭.
‘হুলিয়া’ - শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত বাংলা শব্দ?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. তুর্কি
  4. পর্তুগীজ
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা

হুলিয়া - শব্দটি আরবি ভাষা থেকে আগত শব্দ। এটি ‘হুলিয়াত’ শব্দ থেকে উৎপন্ন।
আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ আরবি শব্দ -
অন্দর, আজগুবি, আদালত, আমলা, আমানত, ইশারা, ইমারত, মফস্বল, ইশতেহার, মুনাফা, লোকসান ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯)

৩২৮.
নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. ক) মাটি
  2. খ) নারিকেল
  3. গ) গেরাম
  4. ঘ) চামার
সঠিক উত্তর:
খ) নারিকেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নারিকেল
ব্যাখ্যা
নারিকেল (নারিকেল্‌)
- সংস্কৃত বা তৎসম শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় - নারিক+√ঈরি+অ
- বিশেষ্য পদ। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩২৯.
নিচের কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. ভাড়াটে
  2. মন্দির
  3. জলধি
  4. অসুখ
সঠিক উত্তর:
মন্দির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্দির
ব্যাখ্যা
রূঢ়ি শব্দ:
- প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করলে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, মন্দির

অন্যদিকে,
- 'অসুখ' এবং 'জলধি' যোগরূঢ় শব্দ।
- ভাড়াটে - যৌগিক শব্দ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩০.
'খদ্দর' কোন ভাষার শব্দ?
  1. পাঞ্জাবি
  2. তুর্কি
  3. গুজরাটি
  4. চিনা
সঠিক উত্তর:
গুজরাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুজরাটি
ব্যাখ্যা

গুজরাটি - খদ্দর, হরতাল।
তুর্কি - চাকর, চাকু, তোপ, দারোগা৷
পাঞ্জাবি - চাহিদা, শিখ৷
চিনা - চা, চিনি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি

৩৩১.
মহাযাত্রা একটি -
  1. ক) সমাস নিষ্পন্ন শব্দ
  2. খ) যোগরূঢ় শব্দ
  3. গ) ক ও খ উভয়ই
  4. ঘ) রূঢ়ি শব্দ
সঠিক উত্তর:
গ) ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, কোনো বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ। যেমনঃ পঙ্কজ- শব্দের অর্থ যা পঙ্কে জন্মে যা, কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ পদ্মফুল। মহাযাত্রা - মহাসমারোহে যাত্রা অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ ‘মৃত্যু’।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৩৩২.
'মোলায়েম' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. আরবি 
  2. ফারসি 
  3. দেশি 
  4. তৎসম 
সঠিক উত্তর:
আরবি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি 
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'মোলায়েম' শব্দটি আরবি ভাষা থেকে এসেছে।



আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
তফসির, তবিয়ত, তম্বি, তরজমা, আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত, আলিশান, আলেম, আশেক, আসর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৩৩.
'হেডপণ্ডিত' মিশ্র শব্দটির উৎস কোন ভাষা?
  1. ক) ইংরেজি + তদ্ভব
  2. খ) ফ্রেঞ্চ + তৎসম
  3. গ) ইংরেজি + তৎসম
  4. ঘ) ফ্রেঞ্চ + তদ্ভব
সঠিক উত্তর:
গ) ইংরেজি + তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইংরেজি + তৎসম
ব্যাখ্যা

মিশ্র শব্দ (সংকর শব্দ):
বাংলা ভাষায় ‘মিশ্র শব্দ’ নামে আরেক ধরনের শব্দ আছে। এই শব্দগুলাে বিভিন্ন ভাষার বিদেশি শব্দ কিংবা দেশি ও বিদেশি শব্দের মিশ্রণে তৈরি হয়েছে। এগুলােকে সংকর শব্দ বলা যেতে পারে।

যেমন :
- ইংরেজি ‘হেড’ + তৎসম ‘পণ্ডিত = হেডপণ্ডিত;
- ইংরেজি ‘খ্রিস্ট’ + তৎসম ‘অব্দ = খ্রিস্টাব্দ;
- ইংরেজি ‘ডাক্তার’ + ফারসি ‘খানা’ = ডাক্তারখানা;
- তদ্ভব ‘হাট’ + ফারসি ‘বাজার' = হাটবাজার;
- তদ্ভব ‘রাজা’ + ফারসি ‘বাদশা’ = রাজা-বাদশা।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৩৪.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. বাঁশি 
  2. হস্তী 
  3. তৈল 
  4. হাত
সঠিক উত্তর:
হাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাত
ব্যাখ্যা

গঠন অনুসারে শব্দ দুই প্রকার। যথা:
• মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গাছ, পাখি, ফুল, হাত, ভাত, গোলাপ ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন:
- পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ, সদস্য, নীলাকাশ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
রূঢ়ি শব্দ - তৈল, বাঁশি, হস্তী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।

৩৩৫.
যোগরূঢ় শব্দ কোনটি?
  1. কলম
  2. মলম
  3. বাঁশি
  4. শাখামৃগ
সঠিক উত্তর:
শাখামৃগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাখামৃগ
ব্যাখ্যা
• অর্থগতভাবে শব্দসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. যৌগিক শব্দ,
২. রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ,
৩. যোগরূঢ় শব্দ।

• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ।
যেমন:
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।

• তেমনিভাবে, শাখার ন্যায় মৃগ = শাখামৃগ সমাসবদ্ধ শব্দটি ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে বিচরণ করে এবং লম্বা লেজ ও লোমাবৃত দেহবিশিষ্ট মাঝারি আকৃতির স্তন্যপায়ী বৃক্ষচর প্রাণীকে বোঝায়। তবে ব্যবহারীক অর্থে শাখামৃগ শব্দটি শুধু ‘বানর’কে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তাই ‘শাখামৃগ’ একটি যোগরূঢ় শব্দ।

এরূপ আরো কিছু শব্দ হলো: মন্দির, জলদ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘মলম’ ও ‘কলম’ আরবি শব্দ এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও প্রচলিত অর্থ একই। সুতরাং, অর্থগতভাবে ‘মলম’ ও ‘কলম’ যৌগিক শব্দ।

--------------------
• যৌগিক শব্দ:
যৌগিক শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও প্রচলিত অর্থের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। অর্থাৎ একই রকম।
যেমন:
- বাংলা ‘মিতালি’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ‘মিতার ভাব, বন্ধুত্ব’ (মিতা শব্দের পরে ‘ভাব’ অর্থে তদ্ধিত প্রত্যয় ‘আলি’ যোগে ‘মিতালি’ শব্দটি গঠিত হয়েছে ) এবং শব্দটি এই অর্থেই ভাষায় ব্যবহৃত হয়।
অর্থাৎ ‘মিতালি’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই। ফলে ‘মিতালি’ বাংলাতে যৌগিক শব্দ।

এরূপ শব্দ হলো: গায়ক, কর্তব্য, বাবুয়ানা, মধুর, দৌহিত্র, চিকামারা ইত্যাদি।

• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ।
যেমন: গবেষণা, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, জেঠামি, বাঁশি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৩৬.
'তেহাই' কোন প্রকার সংখ্যাবাচক শব্দ?
  1. ক) পূর্ণগুণিতক সংখ্যা শব্দ
  2. খ) তারিখবাচক সংখ্যা শব্দ
  3. গ) ভগ্নাংশ সংখ্যা শব্দ
  4. ঘ) পূর্ণসংখ্যার ন্যূনতা ও আধিক্যবাচক শব্দ
সঠিক উত্তর:
গ) ভগ্নাংশ সংখ্যা শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভগ্নাংশ সংখ্যা শব্দ
ব্যাখ্যা
সংখ্যাশব্দ
সংখ্যা হচ্ছে গণনা ও পরিমাপ সংক্রান্ত ধারনা।  
সংখ্যাবাচক বিশেষণের শ্রেণিবিভাগ- 
- পূর্ণসংখ্যাবাচক ও 
- ক্রমবাচক।
আরও রয়েছে - তারিখবাচক সংখ্যাশব্দ
                     - গুণিতক সংখ্যাশব্দ

গুণিতক সংখ্যাশব্দ তিন ধরনের হয়ে থাকে। 
- পূর্ণগুণিতক সংখ্যাশব্দ
- ভগ্নাংশ সংখ্যাশব্দ
- পূর্ণসংখ্যার ন্যূনতা ও আধিক্যবাচক শব্দ

ভগ্নাংশ সংখ্যাশব্দ
পূর্ণসংখ্যার অংশবাচক শব্দকে ভগ্নাংশ সংখ্যাশব্দ বলে। 
- পূর্ণসংখ্যার অংশ বোঝাতে বাংলায় নিম্নলিখিত শব্দগুলি ব্যবহার করা হয়। 
- চার ভাগের এক ভাগ = চৌথাই, সিকি, পোয়া
- তিন ভাগের এক ভাগ = তেহাই 
- দুই ভাগের এক ভাগ = অর্ধ, আধা, আধ, অর্ধেক, আধেক 

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ(প্রথম খণ্ড), বাংলা একাডেমি।
৩৩৭.
ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও প্রচলিত অর্থের মধ্যে পার্থক্য নেই কোন শব্দে ?
  1. যৌগিক
  2. রূঢ়
  3. যোগরূঢ়
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা

• যৌগিক শব্দ:
যৌগিক শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও প্রচলিত অর্থের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। অর্থাৎ একই রকম।
যেমন -
বাংলা ‘মিতালি’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ‘মিতার ভাব , বন্ধুত্ব’ ( ‘মিতা শব্দের পরে ‘ভাব’ - অর্থে তদ্ধিত প্রত্যয় ‘আলি’- যোগে ‘মিতালি’ হয়েছে);
শব্দটি এই অর্থেই ভাষায় ব্যবহৃত হয় ; অর্থাৎ ‘মিতালি’ শব্দটির  ব্যুৎপত্তিগত অর্থ  ও ব্যবহারিক অর্থ একই। ফলে ‘মিতালি’ বাংলাতে যৌগিক শব্দ।
 
এরকম - গায়ক = গৈ + অক - যার অর্থ  হলো গান করে যে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

৩৩৮.
‘আয়ত্তাধীন’ শব্দটি কোন কারণে অশুদ্ধ?
  1. ক) গঠনজনিত
  2. খ) বানানজনিত
  3. গ) বাহুল্যজনিত
  4. ঘ) প্রয়োগজনিত
সঠিক উত্তর:
ক) গঠনজনিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গঠনজনিত
ব্যাখ্যা
‘আয়ত্তাধীন’ শব্দটি গঠনজনিত কারণে অশুদ্ধ। এর যথার্থ প্রয়োগ হবে ‘আয়ত্ত’।
৩৩৯.
'নামাজ’ ও ‘রোজা' কোন দেশী শব্দ?
  1. ক) ফারসি
  2. খ) উর্দু
  3. গ) তুর্কী
  4. ঘ) আরবি
সঠিক উত্তর:
ক) ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ফারসি
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় আগত ফারসি শব্দগুলো তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন-
ধর্মসংক্রান্ত শব্দঃ খোদা, গুনাহ, দোজখ, নামাজ, পয়গম্বর, ফেরেশতা, বেহেশত, রোজা ইত্যাদি।
প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দঃ কারখানা, চশমা, জবানবন্দি, তোশক, দফতর, দরবার, দোকান, দস্তখত, দৌলত, নালিশ, বাদশাহ, বান্দা, বেগম, মেথর, রসদ ইত্যাদি।
বিবিধ শব্দঃ আদমি, আমদানি, জানোয়ার, জিন্দা, নমুনা, বদমাশ, রফতানি, হাঙ্গামা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৪০.
‘সন্দেশ’ - কোন ধরনের শব্দ?
  1. রূঢ়ি 
  2. যৌগিক 
  3. যোগরূঢ় 
  4. মৌলিক
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি 
ব্যাখ্যা

রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।

যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়।
যেমন - বাদাম তেল।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৪১.
কোনটি তদ্ভব শব্দ?
  1. চুলা
  2. ডাব
  3. চাবি
  4. কুমির
সঠিক উত্তর:
কুমির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমির
ব্যাখ্যা

প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষার একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলে।
যেমন,
- হাত, পা, পাখি, কুমির ইত্যাদি।
- চুলা, ডাব দেশি শব্দ।
- চাবি পর্তুগিজ শব্দ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৪২.
'পঙ্কজ’ কোন শ্রেণীভুক্ত শব্দ?
  1. ক) রুঢ়ি
  2. খ) মৌলিক
  3. গ) যৌগিক
  4. ঘ) যোগরুঢ়
সঠিক উত্তর:
ঘ) যোগরুঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যোগরুঢ়
ব্যাখ্যা

যোগরুঢ় শব্দ :সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনাে বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে, তাদের যােগরূঢ় শব্দ বলে। যেমন-
পঙ্কজ - পঙ্কে জন্মে যা (উপপদ তৎপুরুষ সমাস)। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি নানাবিধ উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু পঙ্কজ শব্দটি একমাত্র পদ্মফুল অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই পঙ্কজ একটি যােগরূঢ শব্দ।
(রেফারেন্সঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ)

৩৪৩.
কোন শব্দ গুলোকে ভাষার মূল উপকরণ বলা হয়?
  1. সংস্কৃত শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. সাধিত শব্দ
  4. মৌলিক শব্দ
সঠিক উত্তর:
মৌলিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক শব্দ
ব্যাখ্যা
গঠনগতভাবে শব্দ দুই প্রকার। যথা- মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ।
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
আর মৌলিক শব্দ গুলোই হচ্ছে ভাষার মূল উপকরণ।
যেমন- গোলাপ, লাল, নাক, তিন, নীল ইত্যাদি।
আবার, অর্থগতভাবে শব্দসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা- যৌগিক শব্দ, রূঢ়ি শব্দ ও যোগরূঢ় শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৪৪.
যোগরূঢ় শব্দ কোনটি?
  1. কলস
  2. মলম
  3. বাঁশি
  4. শাখামৃগ
সঠিক উত্তর:
শাখামৃগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাখামৃগ
ব্যাখ্যা
যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ।

যেমন:
- 'অসুখ' ব্যুৎপত্তিগত অর্থ-'সুখের অভাব'। ব্যবহারিক অর্থ-'রোগ'। তাই 'অসুখ' একটি যোগরূঢ় শব্দ। 
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।

- শাখার ন্যায় মৃগ শাখামৃগ সমাসবদ্ধ শব্দটি ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে বিচরণ করে এবং লম্বা লেজ ও লোমাবৃত দেহবিশিষ্ট মাঝারি আকৃতির স্তন্যপায়ী বৃক্ষচর প্রাণীকে বোঝায়। তবে ব্যবহারীক অর্থে শাখামৃগ শব্দটি শুধু 'বানর'কে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তাই 'শাখামৃগ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।
 
অন্যদিকে,
রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ - বাঁশি।
কলস; মলম - মৌলিক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৪৫.
নিচের কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. আদিত্য
  2. কুশল
  3. তুরঙ্গম
  4. মহাযাত্রা
সঠিক উত্তর:
কুশল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুশল
ব্যাখ্যা
⇒ রূঢ়ি শব্দ: 
যেসব শব্দ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ না বুঝিয়ে অন্য অর্থ প্রকাশ করে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- ‘কুশল’ ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ‘যে কুশ আনে’; প্রচলিত অর্থ মঙ্গল।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ গরু খোজা এটি প্রকৃত অর্থকে না বুঝিয়ে অন্য অর্থ বুঝাচ্ছে, তাই এটি রুঢ়ি শব্দ।

আরো কিছু রূঢ়ি শব্দ:
হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ।

অন্যদিকে, 
⇒ যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতিবিশেষ'।
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

এর‌ূপ- আদিত্য ও তুরঙ্গম।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৪৬.
অর্থনুসারে 'সন্দেশ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. যৌগিক 
  2. যোগরূঢ় 
  3. সাধিত 
  4. রূঢ়ি
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
ব্যাখ্যা

• রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
• হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ-হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
• গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
• বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
• তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়। যেমন- বাদাম তেল।
• প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি 'অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
• সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে 'সংবাদ'। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে 'মিষ্টান্ন বিশেষ'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৪৭.
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, তাকে কী বলে?
  1. সাধিত শব্দ
  2. রূঢ়ি শব্দ
  3. যৌগিক শব্দ
  4. মৌলিক শব্দ
সঠিক উত্তর:
মৌলিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক শব্দ
ব্যাখ্যা
মৌলিক শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভেঙে আলাদা করা যায় না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন-
- গোলাপ, নাক, লাল, তিন, ভাই, কলা, মাটি।

অন্যদিকে:
সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করা যায়, এক কথায় তাকেই বলা হয় সাধিত শব্দ।
- অন্যভাবে বলা যায়, মৌলিক শব্দ বা ধাতুর সাথে বিভিন্ন প্রকার প্রত্যয়, বিভক্তি, উপসর্গ যোগ করে যে শব্দ গঠিত হয়, তাকে বলা হয় সাধিত শব্দ ।
যেমন-
- দেশি, মাটির, বোনের, হাতগুলো, বউটি, গোলাপী, ভাইয়ে ইত্যাদি।
 
রূঢ়ি শব্দ:
- প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করলে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ, মন্দির।
 
যৌগিক শব্দ:
- যেসকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই তাকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গায়ক, দৌহিত্র, কর্তব্য, বাবুয়ানা, চিকামারা, মধুর, শয়ন, গুণবান।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪৮.
কোনটি যৌগিক শব্দ?
  1. রাজপুত
  2. বাঁশি
  3. দৌহিত্র
  4. তৈল
সঠিক উত্তর:
দৌহিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৌহিত্র
ব্যাখ্যা

যৌগিক শব্দ:
- যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক অর্থ অভিন্ন তাদের যৌগিক শব্দ বলে।

যেমন:
- দৌহিত্র, চিকামারা, বাবুয়ানা, মধুর, কর্তব্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
রূঢ়ি শব্দ - বাঁশি, তৈল।
যৌগরূঢ় শব্দ - রাজপুত।

উংস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৪৯.
কোনটি তৎসম শব্দের উদাহরণ?
  1. ক) জিভ
  2. খ) সচিবালয়
  3. গ) ঘোড়া
  4. ঘ) কুমির
সঠিক উত্তর:
খ) সচিবালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সচিবালয়
ব্যাখ্যা
• তৎসম শব্দ:
- সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকে তৎসম শব্দ বলা হয়।
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকেও তৎসম শব্দ বলে।
- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি তৎসম শব্দ: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• তদ্ভব শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত, হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
৩৫০.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. বাঁশি 
  2. ভাত 
  3. মিতালি 
  4.  সংসদ
সঠিক উত্তর:
ভাত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাত 
ব্যাখ্যা

গঠন অনুসারে শব্দ দুই প্রকার। যথা:
• মৌলিক শব্দ:

যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গাছ, পাখি, ফুল, হাত, ভাত, গোলাপ ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন:
- পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ, সদস্য, নীলাকাশ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
'বাঁশি' রূঢি শব্দ।
'মিতালি' যৌগিক শব্দ।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।

৩৫১.
মৌলিক শব্দ কোনটি?
  1. হস্তী 
  2. গরু
  3. পাঠক 
  4. বহন
সঠিক উত্তর:
গরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গরু
ব্যাখ্যা

• মৌলিক শব্দ:
যে-সব শব্দ বিশ্লেষণ করা বা ভাঙা যায় না, গোটা শব্দটাই নিজে নিজেই সমপূর্ণ হয়ে আছে বা স্বয়ংসিদ্ধ, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভাঙতে চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোনো অর্থ হয় না; সে কারণে অবিভাজ্য ও অর্থযুক্ত শব্দই মৌলিক শব্দ অর্থাৎ স্পষ্ট অর্থ ও অবিভাজ্যতাই মৌলিক শব্দের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
যেমন-
মা, পা, ঘোড়া, উট, বউ, গোলাপ, নাক, লাল, শাল, তিন, লতা, গরু ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
হস্তী- রূঢ়ি শব্দ।
পাঠক, বহন- যৌগিক শব্দ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৫২.
নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. ক) চাঁদ
  2. খ) ভবন
  3. গ) বালতি
  4. ঘ) হরতাল
সঠিক উত্তর:
খ) ভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভবন
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'ভবন'- তৎসম শব্দ। 
- 'ভবন' শব্দের অর্থ- আলয়, গৃহ, বাসস্থান। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৫৩.
নিচের কোন শব্দটি পতুর্গিজ ভাষা হতে বাংলা ভাষায় এসেছে?
  1. ক) কোলা
  2. খ) আদালত
  3. গ) আলমারি
  4. ঘ) পুরোহিত
সঠিক উত্তর:
গ) আলমারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আলমারি
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজ শব্দ : আনারস, আলপিন, আলমারি, গির্জা, গুদাম, চাবি, পাউরুটি, পাদ্রি, বালতি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী
৩৫৪.
নিম্নের কোনটি দেশি শব্দ?
  1. ক) জিলাপি
  2. খ) চমচম
  3. গ) সন্দেশ
  4. ঘ) সেমাই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেমাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেমাই
ব্যাখ্যা
সেমাই - দেশি শব্দ। 

অন্যদিকে, 
সন্দেশ - সংস্কৃত শব্দ
চমচম, জিলাপি - হিন্দি শব্দ

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩৫৫.
"গবেষণা" শব্দটি কোন শ্রেণির?
  1. রূঢ়ি
  2. যৌগিক
  3. যোগরূঢ়
  4. মৌলিক
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
ব্যাখ্যা

রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।

যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৫৬.
অর্থগত দিক থেকে 'সন্দেশ' কোন প্রকার শব্দ?
  1. রূঢ়ি শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. যোগরূঢ় শব্দ
  4. মৌলিক শব্দ
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা
• অর্থগত দিক থেকে শব্দ তিন প্রকার‌।
যথা-
- যৌগিক শব্দ,
- রূঢ়ি বা রূঢ় শব্দ ও
- যোগরূঢ় শব্দ।

• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ।

উদাহরণ-
- সন্দেশ - সংবাদ (মূল অর্থ) - মিষ্টান্ন (পরিবর্তিত অর্থ)।
- প্রবীণ - প্রকৃষ্ট বীণাবাদক (মূল অর্থ) - বয়স্ক ব্যক্তি (পরিবর্তিত অর্থ)।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০১৮)।
৩৫৭.
কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. কর্তব্য
  2. প্রবীণ
  3. শয়ন
  4. আদিত্য
সঠিক উত্তর:
প্রবীণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবীণ
ব্যাখ্যা

রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
 
যেমন:
- হস্তী - হস্ত + ইন, অর্থ - হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা।
- প্রবীণ - শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি 'অভিজ্ঞতাসম্পন্ন • বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ – শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে 'সংবাদ'। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে 'মিষ্টান্ন বিশেষ'।

অন্যদিকে,
যৌগিক শব্দ - কর্তব্য, শয়ন।
যোগরূঢ় শব্দ - আদিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৫৮.
বাংলা ভাষার শব্দ সম্ভারকে কয়টি ভাগে ভাগ করা হয়?
  1. ক) চারটি
  2. খ) পাঁচটি
  3. গ) দুইটি
  4. ঘ) তিনটি
সঠিক উত্তর:
খ) পাঁচটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পাঁচটি
ব্যাখ্যা
অর্থ অনুসারে শব্দ তিন প্রকার- যৌগিক, রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ, যােগরূঢ় শব্দ। উৎপত্তি অনুসারে শব্দ পাঁচ প্রকার - তৎসম, অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশি, বিদেশি। গঠন অনুসারে শব্দ দুই প্রকার- মৌলিক শব্দ, সাধিত শব্দ।
উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা
৩৫৯.
বাংলা শব্দগুচ্ছ কোনটি ?
  1. ক) গরিব, নকল, আদাব
  2. খ) কুড়ি, চিমটি, ঠাকুমা
  3. গ) বাজি, তাজা, চাদর
  4. ঘ) বাবা, বেগম, খোকা
সঠিক উত্তর:
খ) কুড়ি, চিমটি, ঠাকুমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কুড়ি, চিমটি, ঠাকুমা
ব্যাখ্যা
কুড়ি, চিমটি, ঠাকুমা = বাংলা শব্দ
গরিব, নকল, আদাব = আরবি শব্দ
বাজি, তাজা, চাদর = ফারসি শব্দ
বাবা, বেগম, খোকা = তুর্কি শব্দ

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩৬০.
অর্থ অনুসারে শব্দের শ্রেণিবিভাগের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. যৌগিক শব্দ
  2. মৌলিক শব্দ
  3. যোগরূঢ় শব্দ
  4. রূঢ়ি শব্দ
সঠিক উত্তর:
মৌলিক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক শব্দ
ব্যাখ্যা

অর্থমূলক শ্রেণিবিভাগ:
- অর্থানুসারে শব্দ তিন প্রকার।
যথা- 
(ক) যৌগিক শব্দ,
(খ) রূঢ়ি শব্দ এবং
(গ) যোগরূঢ় শব্দ।

• অর্থানুসারে শব্দের শ্রেণিবিভাগের অন্তর্ভুক্ত নয়- মৌলিক শব্দ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৩৬১.
“ডাক্তার-খানা” শব্দটি যে যে ভাষার সহযোগে গঠিত হয়েছে-
  1. ইংরেজি + ফারসি
  2. তৎসম + ফারসি
  3. ইংরেজি + বাংলা
  4. ফারসি + আরবি
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি + ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি + ফারসি
ব্যাখ্যা

কতগুলো মিশ্র শব্দ হলো-
খ্রিস্টাব্দ (ইংরেজি + তৎসম),
ডাক্তার-খানা (ইংরেজি + ফারসি),
রাজা-বাদশা (তৎসম + ফারসি),
হাট-বাজার (বাংলা + ফারসি),
হেড-মৌলভি (ইংরেজি + ফারসি),
হেড-পণ্ডিত (ইংরেজি + তৎসম),
পকেটমার (ইংরেজি + বাংলা),
চৌহদ্দি (ফারসি + আরবি) ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৬২.
'তুরঙ্গম'- কোন প্রকারের শব্দ?
  1. যৌগিক
  2. রূঢ়ি
  3. মৌলিক
  4. যোগরূঢ়
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগরূঢ়
ব্যাখ্যা

• তুরঙ্গম- যোগরূঢ় শব্দ।

• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন -
- তুরঙ্গম: যা তাড়াতাড়ি যায়, কিন্তু প্রচলিত অর্থে ঘোড়াকে বোঝায়।
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই 'পঙ্কজ' একটি যোগরূঢ় শব্দ।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতিবিশেষ'।
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
-----------------------
অন্যদিকে,
- রূঢ়ি শব্দ:
যেসব শব্দ প্রত্যয় ও উপসর্গযোগে মূল শব্দের অনুগামি না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন: বাঁশি, তৈল, সন্দেশ, প্রবীণ, হরিণ, পাঞ্জাবী, হস্তী ইত্যাদি।

- যৌগিক শব্দ:
যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত ও ব্যবহারিক অর্থ অভিন্ন তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন: গায়ক, দৌহিত্র, চিকামারা, বাবুয়ানা, মধুর, কর্তব্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৬৩.
নিচের কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. জলধি
  2. দৌহিত্র
  3. হরিণ
  4. গায়ক
সঠিক উত্তর:
হরিণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিণ
ব্যাখ্যা
রূঢ়ি শব্দ:
- যেসব শব্দ প্রত্যয় ও উপসর্গযোগে মূল শব্দের অনুগামি না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।

যেমন:
- বাঁশি, তৈল, সন্দেশ, প্রবীণ, হরিণ, পাঞ্জাবী, হস্তী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
যৌগিক শব্দ - গায়ক, দৌহিত্র।
যৌগরূঢ় শব্দ - জলধি।

উংস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৬৪.
'জোছনা' কোন শ্রেণীর শব্দ ?
  1. ক) যৌগিক
  2. খ) তৎসম
  3. গ) দেশী
  4. ঘ) অর্ধ-তৎসম
সঠিক উত্তর:
ঘ) অর্ধ-তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অর্ধ-তৎসম
ব্যাখ্যা
কিছু সংস্কৃত শব্দ সামান্য বিকৃতভাবে বাংলায় ব্যবহূত হয়, যেগুলিকে বলা হয় অর্ধতৎসম শব্দ।
যেমন:
- চন্দর < চন্দ্র,
- বাদ্যি < বাদ্য,
- মিষ্টি < মিষ্ট,
- সত্যি < সত্য,
- জ্যোৎস্না > জ্যোছনা ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৩৬৫.
‘নিমরাজি’ ‘নিম’ উপসর্গটি কোন ভাষার?
  1. ক) আরবী
  2. খ) বাংলা
  3. গ) ইংরেজি
  4. ঘ) ফার্সি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফার্সি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফার্সি
ব্যাখ্যা
'নিমরাজি' শব্দে 'নিম' উপসর্গটি অর্ধেক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
- এটি একটি ফারসি উপসর্গের উদাহরণ।

আরও কিছু ফারসি উপসর্গ নিম্নরূপ-
- ফি: প্রত্যেক অর্থে = ফি-বছর, ফি-সপ্তাহ, ফি-রোজ, ফি-সব।
- না: না অর্থে = নারাজ, নাচার।
- ব: সাথে অর্থে = বনাম, বকলম, বমাল। 
- কম: অল্প অর্থে = কমবখ্‌ত, কমআক্কেল, কমজোর।
- বে: না অর্থে = বেকার, বেয়াদব, বেকসুর, বেহায়া।
- বর: মন্দ অর্থে = বরখাস্ত, বরখেলাপ, বরদাস্ত, বরবাদ।
- নিম: অর্ধেক অর্থে = নিমরাজি, নিমমোল্লা। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৬.
"হস্ত + ইন = হস্তী" কোন ধরনের শব্দ?
  1. যোগরূঢ় শব্দ
  2. যৌগিক শব্দ
  3. রূঢ়ি শব্দ
  4. মৌলিক শব্দ
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা
• 'হস্তী'- রূঢ়ি শব্দ।

• রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন -
- "হস্তী = হস্ত + ইন";
প্রত্যয়জাত অর্থ - হস্ত আছে যার; কিন্তু 'হস্তী' বলতে একটি পশুকে (হাতি) বোঝায়।
তাই , এটি একটি রূঢ়ি শব্দ।

অনুরূপভাবে, 
- গবেষণা ( গো + এষণা) অর্থ গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ -সংস্করণ)।
৩৬৭.
'কিন্ডারগার্টেন' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. ক) ইংরেজি
  2. খ) পর্তুগিজ
  3. গ) জার্মান
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
গ) জার্মান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জার্মান
ব্যাখ্যা
কিন্ডারগার্টেন (বিশেষ্য)
- উৎসগত দিক দিয়ে জার্মান ভাষা থেকে আগত
অর্থ: যে বিদ্যালয়ে ক্রীড়াচ্ছলে শিশুদের শিক্ষা দেয়া হয়, শিশুদের প্রারম্ভিক বিদ্যালয়, kindergarten। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩৬৮.
'প্রবীণ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক শব্দ
  2. রূঢ়ি শব্দ
  3. যোগরূঢ় শব্দ
  4. যৌগিক শব্দ
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা
প্রবীণ - রূঢ়ি শব্দ।

• রূঢ়ি শব্দ: 
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।

এ রকম -
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়। 
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়। 
যেমন - বাদাম তেল।

- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৯.
কোন শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে?
  1. রূঢ়ি
  2. মৌলিক
  3. যৌগিক
  4. যোগরূঢ়
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
ব্যাখ্যা

রূঢ়ি শব্দ:
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।

যেমন:
- হস্তী - হস্ত + ইন, অর্থ - হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা।
এইরকম:
• প্রবীণ - শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি 'অভিজ্ঞতাসম্পন্ন 'বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
• সন্দেশ- শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে 'সংবাদ'। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে 'মিষ্টান্ন বিশেষ'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৭০.
বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেকটি শব্দকে বলা হয়-
  1. ক) কারক
  2. খ) বর্ণ
  3. গ) পদ
  4. ঘ) ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
গ) পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পদ
ব্যাখ্যা
পদ: শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ। বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মােট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়। যথা:
- বিশেষ্য
- সর্বনাম
- বিশেষণ
- ক্রিয়া
- ক্রিয়াবিশেষণ
- অনুসর্গ
- যােজক 
- আবেগ

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৭১.
নিচের কোনটি অর্ধতৎসম শব্দ নয়?
  1. ক) পিরিতি
  2. খ) ডাগর
  3. গ) খিদে
  4. ঘ) পত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ডাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ডাগর
ব্যাখ্যা
অর্ধতৎসম শব্দগুলো হলো- বোষ্টম, ছেরাদ্দ, গিন্নী, কুচ্ছিত, চম্মআর, ভত্ত, লোণ, হত্থ, খিদে, চন্দর, পত্তর, পিরিতি, মিত্তির, সুরুজ, জ্যোছনা ইত্যাদি।
কুলা, গঞ্জ, চোঙ্গা, টোপর, ডাব, ডাগর, ঢেঁকি ইত্যাদি হলো দেশি শব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭২.
কোনটি আরবি শব্দ?
  1. খারিজ
  2. চেহারা
  3. চশমা
  4. খোয়াব
সঠিক উত্তর:
খারিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খারিজ
ব্যাখ্যা

• ‘খারিজ’ 'আরবি' ভাষার শব্দ।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

শব্দের অর্থ: 
- বায়ুমণ্ডলের চাপ ও তাপমাত্রার আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রবল ঝড়।

অন্যদিকে,
ফারসি শব্দ - খোয়াব, চশমা, চেহারা।

আরো কিছু আরবি শব্দ:
- ইবাদত,
- ইনসান,
- এতিম,
- এলাকা,
- মুসাফির ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৭৩.
কোনটি রূঢ়ি শব্দ নয়?
  1. সন্দেশ
  2. প্রবীণ
  3. বাঁশি
  4. আদিত্য
সঠিক উত্তর:
আদিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদিত্য
ব্যাখ্যা

রূঢ়ি শব্দ:
- প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করলে তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ

অন্যদিকে,
- আদিত্য - যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৭৪.
'লেফাফাদুরস্ত' শব্দে কোন দুটি ভাষার শব্দের মিশ্রন ঘটেছে?
  1. ক) আরবি + ফারসি
  2. খ) ফারসি + আরবি
  3. গ) আরবি + হিন্দি
  4. ঘ) হিন্দি + আরবি
সঠিক উত্তর:
ক) আরবি + ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আরবি + ফারসি
ব্যাখ্যা
আরবি + ফারসি গঠিত শব্দ- 
আদমশুমারি, আমদরবার, গরিবখানা, জমাখরচ, কুলফিবরফ, গরিবনওয়াজ, দলিলদস্তাবেজ, মুশকিল-আসান, লেফাফাদুরস্ত, সদর-অন্দর। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
৩৭৫.
'হেড-মৌলভী' কোন কোন ভাষার শব্দ সহযোগে গঠিত?
  1. ইংরেজি + ফার্সি
  2. ইংরেজি + আরবি
  3. ইংরেজি + তুর্কি
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি + আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি + আরবি
ব্যাখ্যা
হেড-মৌলভী:

> আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুসারে - ইংরেজি+আরবি শব্দ।

• হেড (বিশেষণ) - ইংরেজি শব্দ।
অর্থ: প্ৰধান ৷
বিশেষ্য – মাথা

• মৌলবি (বিশেষ্য) - আরবি শব্দ।
অর্থ: ইসলাম ধর্মশাস্ত্র ও আরবি ভাষায় পারদর্শী ব্যক্তি।

> তবে, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ) অনুসারে - হেড-মৌলভী: ইংরেজি+ফারসি শব্দ।
৩৭৬.
'ঢিপি' কী ধরনের শব্দ?
  1. ক) দেশী
  2. খ) বিদেশী
  3. গ) তৎসম
  4. ঘ) প্রাকৃত
সঠিক উত্তর:
ক) দেশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দেশী
ব্যাখ্যা

দেশি শব্দ:
- আর্য জাতি বাংলা দেশে আসার আগে দ্রাবিড়, অস্ট্রিক প্রভৃতি যে-সব প্রাক্-আর্য জাতি এদেশে বসবাস করত তাদের ভাষার অনেক শব্দ বাংলা ভাষায় রয়ে গেছে। সে-সব শব্দরাজিই ‘দেশি' শব্দ। অর্থাৎ সংস্কৃতের সঙ্গে সম্পর্কশূন্য, বাংলা দেশের আদিম অধিবাসীদের ভাষার শব্দাবলিকে ‘দেশি শব্দ’ বলা হয়।
যেমন : কুড়ি (কোল ভাষা), পেট (তামিল ভাষা) , চুলা (মুণ্ডারি ভাষা)।
এরকম- খুঁটি , ঝিঙে, চিংড়ি, চাল, ট্যাংরা, ডিঙা, ঢিল , ঢিপি, ঝাটা, মুড়ি, মুড়কি, চেঁকি, ঢােল, ঝােল, ডাহা, ডাঙা, বঁটি, কামড়, দোয়েল, ফিঙে, খাঁচা, খড়, কুলা, গাড়ি, ঘােড়া, ঘােমটা, আঁকা, ধামা, বােঝা, চোঙ্গা, চাঙ, টোপর, ডাব ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৭৭.
নিচের কোনটি যোগরূঢ় শব্দের উদাহরণ নয়?
  1. রাজপুত
  2. মহাযাত্রা
  3. প্রবীণ
  4. জলধি
সঠিক উত্তর:
প্রবীণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবীণ
ব্যাখ্যা

যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোন বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
কতগুলো রূঢ়ি শব্দ হচ্ছে - হস্তী, গবেষণা, বাঁশি, তৈল, প্রবীণ, সন্দেশ।
প্রবীণ - শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি 'অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যাক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
যোগরূঢ় শব্দ: সমাসবদ্ধ অথবা একাধিক শব্দ বা ধাতুর দ্বারা নিষ্পন্ন শব্দ যখন কোনো আপেক্ষিক অর্থ না বুঝিয়ে অন্য বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন: রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি ইত্যাদি।
উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী

৩৭৮.
তৎসম শব্দ কোনটি?
  1. ক) জ্যোছনা
  2. খ) ছেরাদ্দ
  3. গ) কুচ্ছিত
  4. ঘ) গৃহিনী
সঠিক উত্তর:
ঘ) গৃহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গৃহিনী
ব্যাখ্যা

গৃহিণী বাদে বাকিগুলো অর্ধ-তৎসম শব্দ
(রেফারেন্সঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ)

৩৭৯.
মৌলিক শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) চন্দ্রমুখ
  2. খ) গোলাপ
  3. গ) লাল
  4. ঘ) চাঁদ
সঠিক উত্তর:
ক) চন্দ্রমুখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চন্দ্রমুখ
ব্যাখ্যা
গঠনগত দিক থেকে শব্দকে ২ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
যথা - মৌলিক শব্দ ও সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ: যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা যায় না বা ভাঙ্গা যায় না, তাদেরকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গোলাপ, নাক, লাল, চাঁদ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
চন্দ্রমুখ = মুখ চন্দ্রের ন্যায় । 
- এটি উপমিত কর্মধারয় সমাস সাধিত শব্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৮০.
নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. ক) চন্দ্ৰ
  2. খ) ঈমান
  3. গ) আলমারি
  4. ঘ) চশমা
সঠিক উত্তর:
ক) চন্দ্ৰ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চন্দ্ৰ
ব্যাখ্যা
• তৎসম শব্দ:
- সংস্কৃত শব্দ যদি অপরিবর্তিতরূপে হুবহু বাংলায় ব্যবহৃত হয় তাহলে সেই শব্দকে তৎসম শব্দ বলে।
- 'তৎসম' অর্থ তার (তৎ) সমান (সম)। এখানে 'তার' অর্থ সংস্কৃতের।

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'চন্দ্র'- তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। 

• নিচে তৎসম শব্দের উদাহরণ হলো:
- চন্দ্র, সূর্য, আকাশ, মনুষ্য, হস্ত, পদ, মস্তক, চক্ষু, কর্ণ, বৃক্ষ, স্বামী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
'ঈমান'- আরবি শব্দ।
'আলমারি'- পর্তুগিজ শব্দ।
'চশমা'- ফারসি শব্দ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৮১.
যোগরুঢ় শব্দ কোনটি?
  1. ক) গায়ক
  2. খ) জলধি
  3. গ) গবেষণা
  4. ঘ) গোলাপ
সঠিক উত্তর:
খ) জলধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জলধি
ব্যাখ্যা
• সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতি বিশেষ'।
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। তাই পঙ্কজ একটি যোগরূঢ় শব্দ।

গায়ক = যৌগিক শব্দ 
গবেষণা = রূঢ়ি শব্দ
গোলাপ = মৌলিক শব্দ 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৮২.
কোনটি সাধিত শব্দ?
  1. মা
  2. দরদি
  3. লাল
  4. ভাত
সঠিক উত্তর:
দরদি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দরদি
ব্যাখ্যা
• সাধিত শব্দ - দরদি

সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করা হলে আলাদা অর্থবোধক শব্দ পাওয়া যায়, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে।
- সাধারণত একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়ে থাকে।
যথা:
→ চাঁদমুখ (চাঁদের মতো মুখ),
→ নীলাকাশ (নীল যে আকাশ),
→ ডুবুরি (ডুব্‌ + উরি),
→ চলন্ত (চল্ + অন্ত),
→ প্রশাসন (প্র + শাসন),
→ গরমিল (গর + মিল), 
দরদি (দরদ + ই) ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বাকিগুলো মৌলিক শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৮৩.
অর্থগত দিক থেকে 'চিকন' কোন প্রকার শব্দ?
  1. ক) যৌগিক শব্দ
  2. খ) মৌলিক শব্দ
  3. গ) রূঢ়ি শব্দ
  4. ঘ) যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
গ) রূঢ়ি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা
অর্থগত দিক থেকে শব্দ তিন প্রকার‌।
যথা-
- যৌগিক শব্দ,
- রূঢ়ি বা রূঢ় শব্দ ও
- যোগরূঢ় শব্দ।

রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ।

উদাহরণ-
- সন্দেশ - সংবাদ (মূল অর্থ) - মিষ্টান্ন (পরিবর্তিত অর্থ)।
- চিকন - চকচকে (মূল অর্থ) - সরু (পরিবর্তিত অর্থ)।
- জ্যাঠামি - জেঠার ভাব (মূল অর্থ) - চাপল্য (পরিবর্তিত অর্থ)।
- প্রবীণ - প্রকৃষ্ট বীণাবাদক (মূল অর্থ) - বয়স্ক ব্যক্তি (পরিবর্তিত অর্থ)।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৪.
'ঈ' প্রত্যয় যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) একাদশী
  2. খ) বাঘিনী
  3. গ) ননদিনী
  4. ঘ) অরণ্যানী
সঠিক উত্তর:
ক) একাদশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) একাদশী
ব্যাখ্যা
'-ঈ' প্রত্যয় যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ- 
একাদশ - একাদশী
মানব - মানবী
কপোত - কপোতী 
নেতা - নেত্রী 
তাপস - তাপসী ইত্যাদি 

'-আনী' প্রত্যয় যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ-
অরণ্য - অরণ্যানী 
চাকর - চাকরাণী 
মেথর - মেথরাণী 
শূদ্র - শূদ্রাণী ইত্যাদি 

'-ইনী'প্রত্যয় যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ-
বাঘ - বাঘিনী
গোয়ালা - গোয়ালিনী
মালী - মালিনী 
পাগল - পাগলিনী ইত্যাদি 

'-নী' প্রত্যয় যোগে লিঙ্গান্তরিত শব্দ-
ননদাই - ননদিনী 
ধোপা - ধোপানী 
নাতি - নাতনী 
জেলে - জেলেনী ইত্যাদি 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৫.
'কোরবানি' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. পর্তুগিজ
  2. ফরাসি
  3. ফারসি
  4. তুর্কি
  5. আরবি
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা


উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

৩৮৬.
সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. গাছ
  2. চলন্ত
  3. পাখি
  4. ফুল
সঠিক উত্তর:
চলন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলন্ত
ব্যাখ্যা
• সাধিত শব্দ - চলন্ত

• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।

- শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে।
যেমন - ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৮৭.
কোনটি যোগরূঢ় শব্দ নয়?
  1. বহুব্রীহি
  2. জলদ
  3. অসুখ
  4. বাবুয়ানা
সঠিক উত্তর:
বাবুয়ানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাবুয়ানা
ব্যাখ্যা
যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যেসকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে বিশিষ্ট কোন অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ় বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, আদিত্য, জলদ, দশানন, বহুব্রীহি, অসুখ
 
অন্যদিকে,
যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। যেমন -
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা - অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৮৮.
'আইন’ শব্দটি কোন বিদেশি ভাষা থেকে আগত?
  1. আরবি
  2. হিন্দি
  3. ফারসি
  4. ফরাসি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
ফারসি - আ’ঈন শব্দ থেকে বাংলা আইন শব্দটি এসেছে।

এছাড়াও বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কতিপয় ফারসি শব্দঃ
১. ধর্মসংক্রান্ত শব্দঃ
খোদা, গুনাহ, দোজখ, নামাজ, বেহেশত, ফেরেশতা, রোজা ইত্যাদি।
২. প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক শব্দঃ
কারখানা, চশমা, জবানবন্দি, তোশক, দফতর, দঊলত, নালিশ, বাদশাহ, বেগম, মেথর, রসদ ইত্যাদি।
৩. বিবিধঃ
আদমি, আমদানি, জানোয়ার, জিন্দা, নমুনা, বদমাশ, রফতানি, হাঙ্গামা ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
৩৮৯.
'চাকর' শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
  1. ফরাসি
  2. ফারসি
  3. তুর্কি
  4. আরবি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা

• 'চাকর' শব্দটি ফারসি ভাষার শব্দ । 
• ফারসি ভাষার আরো কয়েকটি শব্দ হলো:
- কারখানা,
- চশমা,
- জবানবন্দি,
- তোশক,
- দফতর,
- দরবার,
- দোকান,
- দস্তখত,
- দৌলত,
- নালিশ,
- বাদশাহ,
- বান্দা,
- বেগম,
- মেথর,
- রসদ

উৎসঃ বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

উল্লেখ্য,
- চাকর শব্দটির উৎস মাধ্যমিক ব্যাকরণ বইয়ে 'তুর্কি' দেওয়া আছে যা প্রকৃতপক্ষে ভুল
- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে এটি ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
তাই নিঃসন্দেহে সঠিক উত্তর - ফারসি।
তবে অপশনে ফারসি না থাকলে উত্তর 'তুর্কি' হবে।

৩৯০.
‘পানি’ কোন ভাষার শব্দ?
  1. উর্দু
  2. ফারসি
  3. হিন্দি
  4. তুর্কি
সঠিক উত্তর:
হিন্দি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দি
ব্যাখ্যা

হিন্দি ভাষার শব্দগুলো হলো :
- পানি
- ধোলাই
- লাগাতার
- হালুয়া
- ঠান্ডা
উৎস : নবম দশম শ্রেণির ব্যাকরণ (নতুন)

৩৯১.
'মক্কেল' শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. ফরাসি
  4. হিন্দি
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা
মক্কেল (বিশেষ্য)
অর্থ: মামলা-মোকদ্দমায় যে ব্যক্তি উকিলের সাহায্য গ্রহণ করে 
ইহা আরবি ভাষা থেকে আগত। 
 
আরবি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ:
- মকান 
- মকাম 
- মকুফ 
- মকুব 
- মক্কা 
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৯২.
‘ওরে বাছা, দেখতে পারি নে তোর দুঃখ’ বাক্যটিতে ‘বাছা’ শব্দটি-
  1. দেশী
  2. খাঁটি বাংলা শব্দ
  3. তৎসম
  4. অর্ধ-তৎসম
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাংলা শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাংলা শব্দ
ব্যাখ্যা
- তদ্ভব একটি পারিভাষিক শব্দ।
- এই ‘তদ্ভব’ পরিভাষার ‘তৎ’ = তার, এবং ভাব (‘ভব’) = উৎপন্ন অর্থ বুঝায়। এখানেও ‘তার’ বলতে ‘সংস্কৃত’কে নির্দেশ করছে।
- অর্থাৎ যেসব শব্দের মূল সংস্কৃত, কিন্তু ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তনের ধারায় প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, তাদেরকে বলা হয় তদ্ভব শব্দ। - উদাহরণ:
তৎসম > প্রাকৃত > তদ্ভবঃ
চন্দ্র > চান্দ > চাঁদ;
হস্ত > হত্থ > হাত;
অদ্য > অজ্জ > আজ;
বৎস > বচ্ছ > বাছা ইত্যাদি।
এই তদ্ভব শব্দগুলোকে খাঁটি বাংলা শব্দও বলে।

সূত্র- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
৩৯৩.
নিচের কোনটি তৎসম শব্দ?
  1. পা
  2. মাথা
  3. কান
  4. হস্ত
সঠিক উত্তর:
হস্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হস্ত
ব্যাখ্যা
• হস্ত (বিশেষ্য পদ)
- এটি একটি তৎসম শব্দ। 
অর্থ:
- হাত; কর; পাণি।
- বাহু; ভুজ।
-  মণিবন্ধ।

• তৎসম শব্দ:
যেসব শব্দ পরিবর্তন ছাড়াই সংস্কৃত থেকে বাংলায় সরাসরি এসেছে সেগুলোকে 'তৎসম শব্দ' বলে। যেমন: চন্দ্র, সূর্য, হস্ত ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• তদ্ভব শব্দ:

যেসব শব্দ সংস্কৃত থেকে প্রাকৃতের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে বাংলায় এসেছে সেগুলোকে 'তদ্ভব শব্দ' বলে। যেমন: হাত, পা, মাথা, কান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৯৪.
'দুনিয়া' শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ফরাসি
  2. ফারসি
  3. আরবি 
  4. গুজরাটি
সঠিক উত্তর:
আরবি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি 
ব্যাখ্যা
• দুনিয়া (বিশেষ্য): 
-  শব্দটি 'আরবি' ভাষা থেকে এসেছে
অর্থ: পৃথিবী, বিশ্ব, ধরা, ধরিত্রী। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩৯৫.
কোনটি তৎসম শব্দ নয়?
  1. ক) চন্দ্র
  2. খ) সূর্য
  3. গ) ভবন
  4. ঘ) ডিঙ্গা
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডিঙ্গা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডিঙ্গা
ব্যাখ্যা
কুলা, গঞ্জ, টোপর, ডাব, ডিঙ্গা ইত্যাদি দেশী বা তদ্ভব শব্দ।
উৎসঃ prothomalo.com
৩৯৬.
নিচের কোনটি তদ্ভব শব্দ নয়?
  1. ক) দাঁত
  2. খ) বৃক্ষ
  3. গ) কুমির
  4. ঘ) সাপ
সঠিক উত্তর:
খ) বৃক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বৃক্ষ
ব্যাখ্যা
• প্রদত্ত প্রশ্নে বৃক্ষ হচ্ছে তৎসম শব্দ।
- অপশনের বাকি শব্দগুলো হচ্ছে- তদ্ভব শব্দ। 

• তদ্ভব শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারে স্বতন্ত্র তাকে বোঝায়।
- যেমন: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত, হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

• তৎসম শব্দ:
- সংস্কৃত ভাষা থেকে সোজাসুজি বাংলায় এসেছে এবং যাদের রূপ অপরিবর্তিত তাকে বোঝায়।
- যেমন: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
৩৯৭.
'মহাপরিচালক' শব্দটি কোন শ্রেণির ?
  1. তৎসম
  2. তদ্ভব
  3. দেশি
  4. বিদেশি
সঠিক উত্তর:
তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম
ব্যাখ্যা
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়; তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি।
- এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

তৎসম শব্দ : প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।
-সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৯৮.
ব্যাকরণ শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
  1. ক) নব্য ভারতীয় আর্যভাষা
  2. খ) ফারসি
  3. গ) সংস্কৃত
  4. ঘ) অসমীয়া
সঠিক উত্তর:
গ) সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
ব্যাকরণ শব্দটি 'সংস্কৃত' ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।

ব্যাকরণ:
- ডক্টর সুকুমার সেনের মতে, যে শাস্ত্রে বাংলা ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতির বিচার ও বিশ্লেষণ আছে এবং যে শাস্ত্রে জ্ঞান থাকলে বাংলা ভাষা শুদ্ধরূপে বলতে, লিখতে ও শিখতে পারা যায়, তাকে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বলে।
- ব্যাকরণ শব্দের অর্থ বিশেষভাবে বিশ্লেষণ।
- শব্দটি গঠিত হয়েছে এভাবে: বি+আ+কৃ বা কর+অন অর্থাৎ বিশেষ এবং সম্যকরূপে বিশ্লেষণ করা।

উৎস:  বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৩৯৯.
‘মর্সিয়া’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে আগত?  
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. তুর্কি
  4. হিন্দি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
মর্সিয়া (বিশেষ্য) ফারসি থেকে আগত শব্দ।

অর্থ:
- মৃত্যু উপলক্ষ্যে রচিত শোকগাথা
- কারবালার যুদ্ধের কাহিনি অবলম্বনে রচিত শোকগাথা,
- মহরমে গীত শোকগাথা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪০০.
‘মৌলভী’ কোন ভাষার শব্দ?
  1. আরবী
  2. ফারসি
  3. উর্দু
  4. পশতু
সঠিক উত্তর:
আরবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবী
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 
শুদ্ধ বানান- মৌলবি,
- আরবি শব্দ।
অর্থ: ইসলাম ধর্মশাস্ত্র ও আরবি ভাষায় পারদর্শী ব্যক্তি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।