বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা / ৪২ · ৮০১৯০০ / ৪,২০৮

৮০১.
কোনটিকে কোষের 'রান্নাঘর' বলা হয়? 
  1. নিউক্লিয়াস
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. রাইবোজোম
  4. মাইটোকন্ড্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোপ্লাস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড: 
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। 
যথা- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট। 

ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষে সাহায্য করে বলে ক্লোরোপ্লাস্টকে 'কোষের রান্নাঘর' বা 'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' বলে। 
- পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভেতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

অন্যদিকে, 
- রাইবোজোমের প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ করা। তাই একে বলা হয় প্রোটিন ফ্যাক্টরি। 
- নিউক্লিয়াস কোষের সব ধরনের জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই একে কোষের মস্তিষ্ক, কোষের প্রাণ বা প্রাণকেন্দ্র বলা হয়। 
- কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে বলে মাইটোকনড্রিয়াকে কোষের 'পাওয়ার হাউস' বা 'শক্তিঘর' বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮০২.
শীত, গ্রীষ্ম, লজ্জা, ক্রোধ প্রভৃতি অনুভূতিবোধ থাকে -
  1. ক) চোখে
  2. খ) সেরিব্রাল কর্টেক্সে
  3. গ) মনে
  4. ঘ) অস্থিতে
সঠিক উত্তর:
খ) সেরিব্রাল কর্টেক্সে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সেরিব্রাল কর্টেক্সে
ব্যাখ্যা
মস্তিষ্কের প্রধান অংশ হলো গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম।
সেরিব্রামের বাইরের স্তরের নাম কর্টেক্স, কর্টেক্সের অপর নাম গ্রে ম্যাটার। এটা ডান ও বাম খন্ডে বিভক্ত। এদের ডান ও বাম সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার বলে।
মানব মস্তিষ্কে সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার অধিকতর উন্নত ও সুগঠিত। এই দুইখন্ড ঘনিষ্ঠভাবে স্নায়ুতন্তু দ্বারা সংযুক্ত। স্নায়ুকোষগুলো গুরুমস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে গুচ্ছ বেঁধে স্নায়ুকেন্দ্র সৃষ্টি করে।
কোন উদ্দীপকের প্রতি কি সাড়া দিবে, সে সিদ্ধ্বান্ত গ্রহণে সাড়া দিবে। এই যেমন আমাদের কোন কিছু অপছন্দ হলে আমাদের রাগের অনুভূতি জন্মায়, কোন অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়লে আমরা লজ্জা পাই।
দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ, চিন্তা-চেতনা, স্মৃতি, জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক ও পেশি চালনার ক্রিয়াকেন্দ্র গুরুমস্তিষ্কে বা সেরিব্রামে অবস্থিত।
উৎসঃ জীব বিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণী
৮০৩.
কচু খেলে গলা চুলকায়। কারণ কচুতে আছে -
  1. CaCO3
  2. CaC2O4
  3. Ca3(PO4)2
  4. CaSO4
সঠিক উত্তর:
CaC2O4
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CaC2O4
ব্যাখ্যা
কচু নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
১) কচু শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি, সি,ক্যালসিয়াম ও লৌহ। ভিটামিন এ জাতীয় খাদ্য রাতকানা প্রতিরোধ করে আর ভিটামিন সি শরীরের ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। তাই শিশুদের ছোট বেলা থেকেই কচুর শাক খাওয়ানো উচিত।
২) কচুতে আছে আয়রন, যা রক্ত শূন্যতা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
৩) কচুতে আছে নানা রকমের ভিটামিন যা গর্ভবতী মা ও শিশুর জন্য দারুণ উপকারী।
৪) কচুর ডাঁটায় প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে,তাই গরমের সময় কচুর ডাঁটায় রান্না করে খেলে শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ হয়।

৫) কচুর শাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে আঁশ থাকে যা হজমে সহায়তা করে।
৬) কচুতে আছে প্রচুর ফাইবার, ফোলেট ও থায়ামিন যা মানব শরীরের জন্য অনেক দরকারি উপাদান।
৭) কচু খেলে রক্তের কোলেস্টরল কমে তাই উচ্চরক্ত চাপের রোগীদের জন্য ওল কচুর রস বেশ উপকারী।
8) নিয়মিত কচু খেলে কোলন ক্যান্সার ও ব্রেষ্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।
৯) কচু শাক বা কচু খেলে অনেক সময় গলা চুলকায়; কারণ কচুতে (ক্যালসিয়াম অক্সলেট) CaC2O4 আছে।

অপশন আলোচনা:
- ক্যালসিয়াম কার্বনেট = CaCO3,
- ক্যালসিয়াম ফসফেট = Ca3(PO4)2,
- ক্যালসিয়াম সালফেট = CaSO4.

উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই ও পত্রিকার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রতিবেদন।
৮০৪.
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পদ্ধতি প্রধানত কয়টি ?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
ক) দুইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুইটি
ব্যাখ্যা
বিখ্যাত বাস্তুতত্ত্ববিদ E.P. Odum (1971) এর মতে ‘মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক, সুন্দর, ও সুখময় জীবন ধারা অক্ষুন্ন রাখার উদ্দেশ্যে অনুকূল ভারসাম্যপূর্ণ ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ বজায় রাখার তাগিদে জীব সম্প্রদায়কে অপচয়, ধ্বংস ও বিলুপ্তির কবল থেকে রক্ষার জন্য সুপরিকল্পিত ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করার কৌশলকে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বলে’।

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ পদ্ধতি : জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পদ্ধতি মূলত দুটি। যথা-
(ক) ইন সিটু কনজারভেশন এবং
(খ) এক্স সিটু কনজারভেশন।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০৫.
কোন ভাজক টিস্যুর কোষ দুটি তলে বিভক্ত হয়? 
  1. স্থায়ী টিস্যু 
  2. রিব ভাজক টিস্যু 
  3. প্লেট ভাজক টিস্যু 
  4. মাস ভাজক টিস্যু 
সঠিক উত্তর:
প্লেট ভাজক টিস্যু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লেট ভাজক টিস্যু 
ব্যাখ্যা

বিভাজন প্রক্রিয়া অনুসারে ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ: 
- বিভাজন প্রক্রিয়ার ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে ভাজক টিস্যুকে তিনভাগে বিভক্ত করা হয়। 
যথা- 
১। মাস ভাজক টিস্যু: 
- যে ভাজক টিস্যুর কোষ সব তলেই বিভাজিত হয় তাকে মাস ভাজক টিস্যু বলে। 
- এ প্রকার বিভাজনের ফলে উদ্ভিদ দেহের আয়তন বাড়ে। 
যেমন- কর্টেক্স, এন্ডোস্পার্ম। 

২। রিব ভাজক টিস্যু: 
- যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো মাত্র একটি তলে বিভক্ত হয় তাকে রিব ভাজক টিস্যু বলে। 
- এ ধরনের বিভাজনের ফলে এক সারি কোষ সৃষ্টি হয়। 
যেমন- মূল ও কান্ডের মজ্জা। 

৩। প্লেট ভাজক টিস্যু: 
- যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো দুটি তলে বিভক্ত হয় তাদের প্লেট ভাজক টিস্যু বলা হয়। 
যেমন- পাতার টিস্যু। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৮০৬.
ভাইরাসের ক্যাপসিডে কোনটি থাকে?
  1. একাধিক লিপিড স্তর
  2. একাধিক শর্করা অণু
  3. একাধিক নিউক্লিয়াস 
  4. একাধিক প্রোটিন অণু
সঠিক উত্তর:
একাধিক প্রোটিন অণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাধিক প্রোটিন অণু
ব্যাখ্যা

- ভাইরাসের ক্যাপসিড (capsid) অসংখ্য প্রোটিন অণু বা সাবইউনিট (যাদের ক্যাপসোমেয়ার বলা হয়) দিয়ে গঠিত একটি আবরণ। এই প্রোটিন আবরণটি ভাইরাসের জেনেটিক উপাদান (DNA বা RNA) কে রক্ষা করে

ভাইরাসের রাসায়নিক গঠন: 
- রাসায়নিকভাবে ভাইরাসে দুটি উপাদান যথা- নিউক্লিক অ্যাসিড এবং প্রোটিন থাকে। 
- ভাইরাসের কেন্দ্রে অবস্থান করে নিউক্লিক অ্যাসিড, এটি একটি বংশগতি নির্ধারক পদার্থ। 
- নিউক্লিক অ্যাসিড দুই ধরনের।
যথা- DNA ও RNA। 
- অন্যান্য জীবদেহে একইসাথে DNA ও RNA অবস্থান করলেও ভাইরাস দেহে একই সাথে DNA ও RNA অবস্থান করে না। 
- ক্যাপসিড আবরণটি অসংখ্য প্রোটিন অণু দিয়ে গঠিত, ক্যাপসিড আবরণের এক একটি প্রোটিন অণুকে ক্যাপসোমিয়ার বলা হয়। 
- ক্যাপসিড সাধারণত জৈবিক দিক দিয়ে নিষ্ক্রিয়, এরা নিউক্লিক অ্যাসিডকে রক্ষা করে, ভাইরাসকে পোষক দেহে সংক্রমণে সাহায্য করে এবং অ্যান্টিজেন হিসেবে কাজ করে। 
- কোন কোন ভাইরাসে (যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, হার্পিস এবং HIV ইত্যাদি) ক্যাপসিডের বাইরে জৈব পদার্থের একটি আবরণ থাকে। 
- এটি লিপিড, লিপোপ্রোটিন, শর্করা বা স্নেহ জাতীয় পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
- লিপিড বা লিপোপ্রোটিনের এক একটি স্তরকে পেপলোমিয়ার বলা হয়। 
- লিপোপ্রোটিনের আবরণ দিয়ে গঠিত ভাইরাসকে লিপোভাইরাস বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮০৭.
নিচের কোন এনজাইমটি আন্ত্রিক রসে নেই?
  1. ক) মলটেজ
  2. খ) সুক্রেজ
  3. গ) ল্যাকটেজ
  4. ঘ) টায়ালিন
সঠিক উত্তর:
ঘ) টায়ালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) টায়ালিন
ব্যাখ্যা
- মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে।
- মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে।
- মিউসিন খাদ্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়ে খাদ্য বস্তুকে নরম ও পিচ্ছিল করে। 
- লালারসে টায়ালিন ও মলটেজ থাকে।
- পাকস্থলি রসে শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই।
- অগ্ন্যাশয় রসে অ্যমাইলেজ ও মলটেজ থাকে।
- আন্ত্রিক রসে অ্যমাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ।

সূত্র: প্রাণিবিদ্যা, এইচএসসি। 
৮০৮.
উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে কোনটি?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) ম্যাগনেসিয়াম
  3. গ) ফসফরাস
  4. ঘ) পটাসিয়াম
সঠিক উত্তর:
খ) ম্যাগনেসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
পুষ্টি উপাদানের গুরুত্ব
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। 
যেমন- 

ম্যাগনেসিয়াম (Mg)
- ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। 
- এটি উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 

নাইট্রোজেন (N)
- নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন ও ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষকলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 

ফসফরাস (P)
- নিউক্লিক অ্যাসিড, বিভিন্ন ফসফোলিপিড, NADP, ATP ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যের সাংগঠনিক উপাদান। 
- উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 

পটাসিয়াম (K)
- উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। 
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- ইহা মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮০৯.
ভেড়ার অ্যানথ্রাক্স রোগ কোন অণুজীব দ্বারা সংক্রমিত হয়?
  1. ভাইরাস
  2. ছত্রাক
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. প্রোটোজোয়া
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া: 
- মানুষের অধিকাংশ মারাত্মক রোগ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হয়ে থাকে। 
যেমন- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া,  টাইফয়েড, কলেরা, ডিপথেরিয়া, আমাশয়, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশি ইত্যাদি। 
- আবার ব্যাকটেরিয়া গবাদি পশু ও অন্যান্য প্রাণীদেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। 
যেমন- গরু-মহিষের যক্ষ্মা, হাঁস-মুরগির কলেরা, ভেড়ার অ্যানথ্রাক্স, গলাফোলা, ইঁদুরের প্লেগ ইত্যাদি। 

ভাইরাস: 
- সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, গুটিবসন্ত, নিউমোনিয়া, জলবসন্ত, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, হেপাটাইটিস ইত্যাদি রোগ সবই ভাইরাসজনিত রোগ। 
- মানুষের ন্যায় অন্যান্য প্রাণীসহ গাছপালারও ভাইরাসজনিত রোগ হয়। 
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ, আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোনো বিষাক্ত পদার্থকেই ভাইরাস বলা হত।
- এরা অকোষীয় এবং আকারে এতই ছোট যে খালি চোখেতো দূরের কথা, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না।
- এদেরকে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১০.
উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামকরণের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. প্রজাতির নামের প্রথম অক্ষর Small letter হবে
  2. উদ্ভিদের নামটি হবে দ্বিপদী
  3. নামকরণের ভাষা হবে ল্যাটিন
  4. দ্বিপদী নামের অক্ষর হবে গ্রিক
সঠিক উত্তর:
দ্বিপদী নামের অক্ষর হবে গ্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিপদী নামের অক্ষর হবে গ্রিক
ব্যাখ্যা
বোটানিক্যাল নমেনক্লেচার (ICBN):

• ICBN -এর পূর্ণ রূপ হচ্ছে- International code of Botanical Nomenclature.
• এটি উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামকরণের আন্তর্জাতিক সংবিধান।
• উদ্ভিদ নামকরণের আন্তর্জাতিক নীতিমালাকে বলা হয় 'International code Botanical Nomenclature', সংক্ষেপে ICBN।
• এ বিধানের নিয়মনীতিগুলো International Botanical Congress কর্তৃক নির্ধারিত হয় এবং ইংরেজি, জার্মান ও ফরাসি ভাষায় প্রকাশ করা হয়।
• প্রাণির ক্ষেত্রে নামকরণের আন্তর্জাতিক নীতিমালাকে বলা হয় 'International code of Zoological Nomenclature', সংক্ষেপে ICZN ।

♦ ICBN-এর নিয়মানুযায়ী উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামকরণের উল্লেখযোগ্য নিয়মাবলি নিম্নরূপ:

- উদ্ভিদের নামটি হবে দ্বিপদী।
- নামকরণের ভাষা হবে ল্যাটিন।
- দ্বিপদী নামের অক্ষর হবে রোমান।
- দ্বিপদী নাম ছাপার অক্ষরে লিখতে হলে ইটালিক হরফে লিখতে হবে।
- গণ নামের প্রথম অক্ষর Capital letter এবং প্রজাতির নামের প্রথম অক্ষর Small letter হবে।
- হাতে লিখলে গণ ও প্রজাতির নিচে পৃথক পৃথকভাবে দাগ টানতে হবে।
- যে বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম কোন উদ্ভিদের বর্ণনা দিবেন দ্বিপদী নামের শেষে তাঁর নামও সংক্ষিপ্তভাবে সংযোজন করতে হবে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৮১১.
কোন ধরণের কোষ বিভাজন সর্বদা জনন মাতৃকোষে ঘটে থাকে?
  1. ক) অ্যামাইটোসিস
  2. খ) মাইটোসিস
  3. গ) মায়োসিস
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
গ) মায়োসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মায়োসিস
ব্যাখ্যা
মায়োসিস কোষ বিভাজন সর্বদা জনন মাতৃকোষে ঘটে থাকে। 

যে কোষ বিভাজনের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হ্রাস পায় তাকে মায়োসিস কোষ বিভাজন বলে।

মায়োসিস কোষ বিভাজনের বৈশিষ্ট্যসমূহ- 
১. এটি জীবের জনন মাতৃকোষে ঘটে থাকে।
২. মাতৃকোষটি বিভাজিত হয়ে চারটি অপত্য কোষের সৃষ্টি হয়।
৩. অপত্য কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক হয়।
৪. এ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট অপত্য কোষ জনন কোষ হিসেবে জীবের যৌন জননে অংশ নেয়।
৫. মিয়োসিসে নিউক্লিয়াস দুবার এবং ক্রোমোসোম একবার বিভক্ত হয়।

সূত্র- ৬০ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১২.
ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ নয় কোনটি?
  1. জ্বর
  2. জন্ডিস
  3. টিটেনাস
  4. গণোরিয়া
সঠিক উত্তর:
জন্ডিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন্ডিস
ব্যাখ্যা
• ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ নয় বসন্ত।
- এটি একটি ভাইরাস জনিত রোগ।

• ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ:
- ডিপথেরিয়া,
- গণোরিয়া,
- টাইফয়েড,
- জ্বর,
- কুষ্ঠ,
- টিটেনাস,
- নিউমোনিয়া,
- কলেরা ইত্যাদি।

• ভাইরাস জনিত রোগ:
- বসন্ত,
- হাম,
- সর্দি,
- ইনফ্লুয়েঞ্জা,
- জন্ডিস,
- এইডস,
- পোলিও ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৮১৩.
কোনটির জাইলেম ইংরেজি Y বা V আকৃতির মতো? 
  1. দ্বিবীজপত্রী মূলে
  2. দ্বিবীজপত্রী কাণ্ডে
  3. একবীজপত্রী মূলে
  4. একবীজপত্রী কাণ্ডে
সঠিক উত্তর:
একবীজপত্রী কাণ্ডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একবীজপত্রী কাণ্ডে
ব্যাখ্যা
একবীজপত্রী উদ্ভিদ কাণ্ডের অন্তর্গঠনগত শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যসমূহ: 
১। সাধারণত কাণ্ডরোম অনুপস্থিত। 
২। বহিঃত্বকে কিউটিকল উপস্থিত। 
৩। অন্তঃত্বক ও পরিচক্র থাকে না। 
৪। অধঃত্বক আছে এবং সাধারণত স্ক্লেরেনকাইমা কোষ দিয়ে গঠিত। 
৫। ভাস্কুলার বান্ডলগুলো গ্রাউন্ড টিস্যুতে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো। 
৬। জাইলেম Y অথবা V আকৃতির। 
৭। মেটাজাইলেম পরিধির দিকে এবং প্রোটোজাইলেম কেন্দ্রের দিকে অবস্থিত। 
৮। ভাস্কুলার বান্ডল সংযুক্ত, সমপার্শ্বীয় ও বদ্ধ (জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝে ক্যাম্বিয়াম নেই) প্রকৃতির। 


উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
৮১৪.
বিলিরুবিন তৈরি হয় -
  1. কিডনীতে
  2. পিত্তথলিতে
  3. প্লিহায়
  4. যকৃতে
সঠিক উত্তর:
যকৃতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যকৃতে
ব্যাখ্যা
- বিলিরুবিন পুরোপুরি তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায়। এটি জমা থাকে প্লীহাতে। 

বিলিরুবিন: 
- বিলিরুবিন এক ধরণের হলুদ রঙের পদার্থ, যেটা রক্তে উপস্থিত লাল রক্ত কনিকার ১২০ দিনের চক্র পূরণ হলে ভেঙ্গে তৈরি হয়। 
- বিলিরুবিনে বিলি থাকে, যেটা লিভারে তৈরি পাচক তরল পদার্থ এবং এটি গলব্লাডারে থাকে। 
- এটা খাবারকে হজম করতে এবং মল তৈরি হতে সাহায্য করে।  
- জন্ডিস হবার মূল কারণ হল রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা অধিক পরিমাণে বেড়ে যাওয়া। 
- যদি কোন কারণের ফলে বিলিরুবিন বিলির সাথে মিশতে না পারে কিংবা যখন লাল রক্ত কনিকা সামান্য থেকে কম পরিমাণে ভাঙতে শুরু করে, তখন রক্তে বিলিরুবিনের স্তর দ্রুত বাড়তে থাকে। আর এই ভাবে এটা অন্য অঙ্গে পৌঁছে সেখানে হলুদ ভাবের সৃষ্টি করে। 

• ব্রিটানিকা থেকে -
Bilirubin, a brownish-yellow pigment of bile, secreted by the liver in vertebrates, which gives to solid waste products (feces) their characteristic color.
It is produced in bone marrow cells and in the liver as the end product of red-blood-cell (hemoglobin) breakdown.

উৎস: University of California Website ও ব্রিটানিকা। 
৮১৫.
ফুসফুসের আবরণকে বলা হয়-
  1. ক) pericardium
  2. খ) Peritoneum
  3. গ) Pleura
  4. ঘ) Periosteum
সঠিক উত্তর:
গ) Pleura
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Pleura
ব্যাখ্যা
একটি দ্বিস্তর বিশিষ্ট ঝিল্লি দ্বারা ফুসফুস আবৃত থাকে। এই ঝিল্লিটিকে বলা হয় ফ্লুরা (Pleura)।
৮১৬.
ডাইনোসর কত বছর আগে বিলুপ্ত হয়েছে? 
  1. কয়েক শত বছর আগে
  2. কয়েক দশক আগে
  3. কয়েক হাজার বছর আগে
  4. কয়েক মিলিয়ন বছর আগে
সঠিক উত্তর:
কয়েক মিলিয়ন বছর আগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কয়েক মিলিয়ন বছর আগে
ব্যাখ্যা
বিবর্তন: 
- বিবর্তন একটি জৈবিক পদ্ধতি, এর প্রকৃত অর্থ হলো ক্রমবিকাশ। 
- পৃথিবীতে বর্তমানে যত জীব রয়েছে তারা বিভিন্ন সময়ে এ ভূ-মন্ডলে আবির্ভূত হয়েছে, আবার অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী সময়ের আবর্তে বিলুপ্ত হয়েছে। 
যেমন- ডাইনোসর আজ থেকে কয়েক মিলিয়ন বছর আগে বিলুপ্ত হয়েছে, আবার কোন কোন জীব ধীর গতিতে পরিবর্তন ঘটিয়ে এখনও টিকে আছে। 
- কয়েক লক্ষ বা হাজার বছর সময়ের ব্যাপকতায় জীব প্রজাতির পৃথিবীতে আবির্ভাব ও টিকে থাকার জন্য যে পরিবর্তন ও অভিযোজন প্রক্রিয়া তাকে জৈব বিবর্তন বলা হয়। 

- 'Evolution' পরিপদটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন হার্বার্ট স্পেন্সার। 
- তিনি বলেন ধীর অথচ ক্রমাগত ও পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কোন সত্ত্বা সরল থেকে জটিল হওয়ার ধারাবাহিক পরিবর্তনই বিবর্তন। 
- কোন প্রাণী বা উদ্ভিদ ধীরে ধীরে ধারাবাহিক রূপান্তরের মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রাণী বা উদ্ভিদ এ পরিণত হওয়াকে অভিব্যক্তি বলা হয়। 
- অভিব্যক্তির মূল কথা হলো প্রজাতিগুলো পরিবর্তনযোগ্য অর্থাৎ দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে জীবের চেহারায় পরিবর্তন ঘটে। 
- ইংরেজ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস রবার্ট ডারউইন অভিব্যক্তির কলাকৌশল সম্পর্কিত তাঁর মতামত ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ২৮ নভেম্বর 'The Origin of Species by means of Natural Selection' নামক বইটিতে প্রকাশ করেন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১৭.
নিচের কোনটি ডিপ্লয়েড?
  1. ক) শুক্রাণু
  2. খ) ডিম্বাণু
  3. গ) জাইগোট
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) জাইগোট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জাইগোট
ব্যাখ্যা

যৌন প্রজননের জন্য নিষেক প্রয়ােজন। এটি একটি জৈবিক প্রক্রিয়া। যৌন প্রজননে ডিম্বাণু এবং শুক্রাণুর মিলনকে নিষেক বলে।
শুক্রাণু সক্রিয়ভাবে ডিম্বাণুতে প্রবেশ করে এবং এদের নিউক্লিয়াস দুটি পরস্পর একীভূত হয়। একীভূত হয়ে যে কোষটি উৎপন্ন হয় তাকে জাইগােট বলে।
ডিম্বাণু এবং শুক্রাণু উভয়ই হ্যাপ্নয়েড (n) অর্থাৎ এক প্রস্থ ক্রোমােজোম (Chromosome) বহন করে।
জাইগােট ডিপ্লয়েড (2n) বা দুই প্রস্থ ক্রোমােজোমবিশিষ্ট। স্ত্রী ও পুং উভয় জননকোষের পূর্ণতা প্রাপ্তি নিষেকের পূর্বশর্ত।

৮১৮.
নিচের কোনটি জিমনোস্পার্মের বৈশিষ্ট্য?
  1. ফল সৃষ্টি হয় কিন্তু বীজ সৃষ্টি হয় না
  2. ফল সৃষ্টি হয় না কিন্তু বীজ সৃষ্টি হয়
  3. আর্কিগোনিয়া থাকে না।
  4. শুধু জলজ পরিবেশে জন্মে
সঠিক উত্তর:
ফল সৃষ্টি হয় না কিন্তু বীজ সৃষ্টি হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফল সৃষ্টি হয় না কিন্তু বীজ সৃষ্টি হয়
ব্যাখ্যা
• জিমনোস্পার্ম বা নগ্নবীজী উদ্ভিদে বীজ সৃষ্টি হয় কিন্তু ফল সৃষ্টি হয় না। 

• জিমনোস্পার্ম বা নগ্নবীজী উদ্ভিদ:

- যেসব উদ্ভিদে গর্ভাশয় থাকে না বলে ফল উৎপন্ন হয় না এবং বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে সেগুলোকে নগ্নবীজী উদ্ভিদ বলা হয়। 

• নগ্নবীজী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য:
- উদ্ভিদ বহুবর্ষজীবী, চিরসবুজ। 
- রেণুপত্র অর্থাৎ স্পোরোফিলগুলো ঘনভাবে সন্নিবেশিত হয়ে স্ট্রোবিলাস বা কোন (cone) তৈরি করে।
- মেগাস্পোরোফিল-এ (স্ত্রীরেণুপত্র) কোনো গর্ভাশয় তৈরি হয় না অর্থাৎ এদের গর্ভাশয়, গর্ভদণ্ড ও গর্ভমুণ্ড নেই।
- পরাগায়নকালে পরাগরেণু সরাসরি ডিম্বক রন্ধ্রে পতিত হয়।
- ডিম্বক মেগাস্পোরোফিলের কিনারে নগ্ন অবস্থায় থাকে।
- গর্ভাশয় নেই তাই এদের কোনো ফল সৃষ্টি হয় না।
- ফল সৃষ্টি হয় না বলে বীজ (নিষিক্ত ডিম্বক) নগ্ন অবস্থায় থাকে।
- নগ্নবীজী উদ্ভিদে দ্বিনিষেক ঘটে না (ব্যতিক্রম Ephedra)। 
- জাইলেম টিস্যুতে সত্যিকার ভেসেল কোষ থাকে না (ব্যতিক্রম Gnetum) এবং ফ্লোয়েম টিস্যুতে সঙ্গীকোষ থাকে না।
- জীবনচক্রে অসমআকৃতির (heteromorphic) জনুক্রম বিদ্যমান।
- সাধারণত আর্কিগোনিয়া সৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৮১৯.
নিচের কোনটি এককোষী প্রাণীর উদাহরণ?
  1. হাইড্রা
  2. ব্যাঙ
  3. প্রজাপতি
  4. অ্যান্টামিবা
সঠিক উত্তর:
অ্যান্টামিবা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যান্টামিবা
ব্যাখ্যা

- অ্যান্টামিবা (Entamoeba histolytica) দেহ শুধুমাত্র একটি কোষ নিয়ে গঠিত

কোষের ভিত্তিতে প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস:
- কোষের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
১। এককোষী প্রাণী:
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটি মাত্র কোষ নিয়ে গঠিত তাদেরকে এককোষী প্রাণী বলে।
যেমন- অ্যান্টামিবা (Entamoeba histolytica)।

২। বহুকোষী প্রাণী:
- যে সকল প্রাণীর দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে বহুকোষী প্রাণী বলে।
যেমন- হাইড্রা (Hydra vulgaris)।

অন্যদিকে,
- প্রজাপতি একটি জটিল বহুকোষী প্রাণী।
- ব্যাঙ একটি বহুকোষী প্রাণী, যার উন্নত অঙ্গ ও তন্ত্র রয়েছে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

৮২০.
'স্তরবিহীন প্রাণী' নিচের কোনটি?
  1. স্কাইফা
  2. মানুষ
  3. অরেলিয়া
  4. অ্যামিবা
সঠিক উত্তর:
অ্যামিবা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামিবা
ব্যাখ্যা
ভ্রূণীয় স্তর: 
- ভ্রূণীয় স্তরের উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা - 

ক. একস্তরী: 
- এরা সরল ধরনের প্রাণী। 
- এদের দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত। 
যেমন- স্কাইফা (Scypha gilatinosum)। 

খ. দ্বিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর (Ectoderm) ও অন্তঃস্তর (Endoderm) নামক দুটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- অরেলিয়া (Aurelia aurita)। 

গ. ত্রিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর, মধ্যস্তর (Mesoderm) ও অন্তঃস্তর নামক তিনটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- মানুষ (Homo sapiens)। 

ঘ. স্তরবিহীন প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে স্তরবিহীন প্রাণী বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২১.
নিচের কোনটি শর্করা বিশ্লেষী এনজাইম?
  1. লাইপেজ
  2. গ্যাস্ট্রিন
  3. টায়ালিন
  4. কোলাজিনেজ
সঠিক উত্তর:
টায়ালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টায়ালিন
ব্যাখ্যা
• টায়ালিন একটি শর্করা বিশ্লেষী এনজাইম। 

• পরিপাক:
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় মানুষের পৌষ্টিক নালির অভ্যন্তরে জটিল, অদ্রবণীয়, অশোষণযোগ্য খাদ্য উপাদানগুলো নির্দিষ্ট উৎসেচক বা এনজাইম এবং প্রাণরস বা হরমোনের উপস্থিতিতে বিশ্লেষিত হয়ে শোষণযোগ্য এবং দ্রবণীয় সরল উপাদানে পরিণত হয়, তাকে পরিপাক বলে।

• খাদ্য পরিপাক প্রণালী:
- মানুষে অধিকাংশ খাদ্য (শর্করা, আমিষ ও স্নেহদ্রব্য) বৃহৎ অণু হিসেবে মুখগহ্বরে গৃহীত হয়।
- খাদ্যবস্তুর এমন বৃহত্তর জটিল অণুগুলো ক্ষুদ্রতম অণুতে পরিণত না হওয়া পর্যন্ত শোষণ উপযোগী হয় না। 
- মানবদেহে শর্করা , আমিষ ও স্নেহ জাতীয় খাদ্যগুলো জটিল অবস্থা থেকে কতকগুলো এনজাইমের ক্রিয়ায় পরিপাক হয়ে সরল উপাদানে পরিণত হয়। 

• শর্করা জাতীয় খাদ্য- ভাত, রুটি, চিনি, শাক-সবজি।
→ শর্করা বিশ্লেষী বা অ্যামাইলোলাইটিক এনজাইম: টায়ালিন, অ্যামাইলেজ, মল্টেজ, সুক্রেজ। 
→ উৎপন্ন সরল উপাদান: গ্লুকোজ

• আমিষ জাতীয় খাদ্য: মাছ, মাংস, ডিম, ডাল। 
→ আমিষ বিশ্লেষী বা প্রোটিওলাইটিক এনজাইম: পেপসিন, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন ইত্যাদি। 
→ উৎপন্ন সরল উপাদান: অ্যামিনো এসিড

• স্নেহদ্রব্য জাতীয় খাদ্য- ভোজ্যতেল, ঘি, মাখন, প্রাণিজ চর্বি)
→ স্নেহ বিশ্লেষী বা লাইপোলাইটিক এনজাইম: পাকস্থলিয় ও আন্ত্রিক লাইপেজ, ফসফোলাইপেজ, কোলেস্টেরল এস্টারেজ, লেসিথিনেজ ইত্যাদি। 
→ উৎপন্ন সরল উপাদান: ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। 
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৮২২.
ক্লোনিং পদ্ধতিতে জন্মগ্রহণকারী ভেড়ার নাম কী?
  1. ক) নেনী
  2. খ) টর্মি
  3. গ) শেলী
  4. ঘ) ডলি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ডলি
ব্যাখ্যা
- কোনো জীব থেকে সম্পূর্ণ অযৌন প্রক্রিয়ায় হুবহু নতুন জীব সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে ক্লোনিং বলে।
- ড. ইয়ান উইলমুট প্রথম ক্লোন পদ্ধতিতে একটি ভেড়ার জন্ম দেন।
- সর্বপ্রথম যুক্তরাজ্যে Adult Cell ক্লোন করে যে ভেড়ার জন্ম দেওয়া হয়েছিল তার নাম ডলি।
- ডব্লিউ.এইচ.ও (WHO) বর্তমানে মানব শিশুর ক্লোন নিষিদ্ধ করেছে।
৮২৩.
শ্বেতসারের প্রধান উৎস কোনটি?
  1. ক) ধান
  2. খ) গাজর
  3. গ) খেজুর
  4. ঘ) আম
সঠিক উত্তর:
ক) ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধান
ব্যাখ্যা

ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা শ্বেতসারের প্রধান উৎস।
এছাড়া আলু, রাঙ্গা আলু বা, কচুতে শ্বেতসার বা, স্টার্চ পাওয়া যায়।
আঙ্গুর, আপেল, গাজর, খেজুর ইত্যাদিতে গ্লুকোজ পাওয়া যায়।
আম, পেঁপে, কলা, ইত্যাদিতে ফ্রুক্টোজ বিদ্যমান।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৮২৪.
দেহকোষের পুনরুজ্জীবন ঘটানোর জন্য প্রয়োজন -
  1. ক) কার্বোহাইড্রেট
  2. খ) প্রোটিন
  3. গ) স্নেহদ্রব্য
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) প্রোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রোটিন
ব্যাখ্যা
- খাদ্য উপাদানসমূহের মধ্যে আমিষ বা প্রোটিন অন্যতম যা কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন সমন্বয়ে গঠিত হয়।
- আমিষের গঠন একক হলো অ্যামাইনো অ্যাসিড। একাধিক অ্যামাইনো অ্যাসিড মিলিত হয়ে প্রোটিন গঠিত হয়। 
- লাইসিন, লিউসিন, আইসোলিউসিন, মিথিওনিন, ট্রিপটোফ্যান, ভ্যালিন, ফিনাইল অ্যালানিন ও থ্রিওনিন এ ৮টি অ্যামাইনো অ্যাসিডকে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড বলা হয়।

উৎস অনুসারে প্রোটিন ২ প্রকার-(১) প্রাণিজ 
প্রোটিন ও (২) উদ্ভিজ্জ প্রোটিন।
মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির, ডাল, বাদাম, শিমের বিচি, সয়াবিন, মটরশুঁটি ইত্যাদি প্রোটিনের ভালো উৎস।

- দেহকোষ ও পেশি গঠন, ক্ষয়পূরণ, দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি ইত্যাদি প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি।
- শারীরিক অবস্থা বয়স, ও শ্রমভেদে মানবদেহে প্রোটিনের দৈনিক চাহিদা বিভিন্ন ধরনের হয়।
- প্রাপ্ত বয়স্কদের তুলনায় শিশু, বাড়ন্তবয়সের বালক-বালিকা, কিশোর-কিশোরী, গর্ভবর্তী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের প্রোটিন চাহিদা বেশি হয়।

উৎসঃ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২৫.
নিচের কোনটি মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড নয়?
  1. মিথিওনিন
  2. সিস্টিন
  3. থ্রিওনাইন
  4. ট্রিপেটোফ্যান
সঠিক উত্তর:
সিস্টিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিস্টিন
ব্যাখ্যা
• "সিস্টিন" মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড নয়।

• আমিষ:

- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়।
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- এই ৮ টি অ্যামাইনো এসিড ছাড়া অন্য সবগুলো অ্যামাইনো এসিড আমাদের শরীরে সংশ্লেষ করতে পারে।
- প্রাণিজ প্রোটিনে এই অপরিহার্য আটটি অ্যামাইনো এসিড বেশি থাকে বলে এর পুষ্টিমূল্য বেশি।
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়।
- অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাদ্যে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড থাকে না বলে এদের পুষ্টিমূল্য কম।
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য।
- দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি।
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং ইত্যাদি সবগুলোই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়।
- প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন।
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক।
• ২০ টি অ্যামাইনো এসিডের মধ্যে ৮ টি অ্যামাইনো এসিডকে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড বলা হয়। যথা:
- লাইসিন,
- ট্রিপেটোফ্যান,
- মিথিওনিন,
- ভ্যালিন,
- লিউসিন,
- আইসোলিউসিন,
- ফিনাইল অ্যালানিন ও
- থ্রিওনাইন

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮২৬.
পাচক রস নামে পরিচিত কোন গ্রন্থি?
  1. ক) Liver
  2. খ) Salivary glands
  3. গ) Pancreas
  4. ঘ) Gastric glands
সঠিক উত্তর:
ঘ) Gastric glands
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Gastric glands
ব্যাখ্যা

পাচক রস গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি নামে পরিচিত। 

গ্যাস্ট্রিকগ্রন্থি পাকস্থলীর প্রাচীরে থাকে।
এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রস (ট্রিপসিন, লাইপেজ, এমাইলেজ) গ্যাস্ট্রিক রস বা, পাচক রস নামে পরিচিত।
যকৃৎ এর ইংরেজি হচ্ছে Liver. একে আবার কলিজাও বলা হয়। শরীরের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি হচ্ছে যকৃৎ। এটি পরিপাকতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এর রং লালচে খয়েরি।
মানুষের দেহে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি আছে। দুই কানের সামনে ও নিচে এক জোড়া চোয়ালের নিচে একজোড়া এবং চিবুকের নিচে একজোড়া রয়েছে।
অগ্নাশয় পাকস্থলীর পেছনে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্রগ্রন্থি। ইহা বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

৮২৭.
ইউরিয়া থেকে উদ্ভিদ কোন খাদ্য উপাদান গ্রহণ করে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. সালফার
  3. ফসফরাস
  4. জিংক
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
• ইউরিয়া সার: 
- বাংলাদেশে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যে ইউরিয়া প্রধান। 
- ইউরিয়া সার থেকে উদ্ভিদ নাইট্রোজেন গ্রহণ করে থাকে।
- এই সারে ৪০-৪৭ শতাংশ নাইট্রোজেন বিদ্যমান থাকে। 
- এ সার জমিতে প্রয়োগ করলে মাটিতে রাসায়নিক বিক্রিয়া ছাড়া অনেক ফসলই সরাসরি ইউরিয়া হিসেবে এটি পরিশোষণ করতে পারে। 

• ইউরিয়া সারের কাজ:
- ইউরিয়া সার নাইট্রোজেন সরবরাহ করে থাকে যা শিকড়ের বৃদ্ধি বিস্তাররে সহায়তা করে থাকে। 
- গাছের ও শাকসবজির পর্যাপ্ত পরিমাণ পাতা, ডালপালা ও কান্ড উৎপাদনে সাহায্য করে থাকে। 
- ইউরিয়া সার ক্লোরোফিল উৎপাদনের মাধ্যমে গাছপালাকে গাঢ় সবুজ বর্ণ প্রদান করে থাকে। কুশি উৎপাদনসহ ফলের আকার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। 
- উদ্ভিদের শর্করা ও প্রোটিন উৎপাদনে সহায়তা করে থাকে। 
- এছাড়াও গাছের অন্যান্য সব আবশ্যক উপাদানের পরিশোষণের হার বাড়িয়ে থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, বিসিআইসি ওয়েবসাইট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৮২৮.
একটি আদর্শ ফুলের কয়টি অংশ থাকে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা
ফুল:
- ফুল উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদের একটি যৌন প্রজনন অঙ্গ।
- উদ্ভিদের বংশ রক্ষা ও বংশবিস্তারে সাহায্যকারী ফল ও বীজ উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপকে পুষ্প বা ফুল বলা হয়।
- যে ফুলে পাঁচটি অংশ উপস্থিত থাকে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলা হয়।
- এর যে কোনো একটি অংশ না থাকলে সে ফুলকে অসম্পূর্ণ ফুল বলা হয়। 
- এটি আবৃতবীজী উদ্ভিদে জননাঙ্গ ধারণ করে।
- একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি অংশ থাকে। যথা-
• পুষ্পাক্ষ,
• বৃতি,
• দলমন্ডল,
• পুংস্তবক,
• স্ত্রীস্তবক।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮২৯.
নিচের কোনটি মনেরা কিংডম এর অন্তর্ভুক্ত? 
  1. ক) ব্যাকটেরিয়া
  2. খ) প্রোটোজোয়া 
  3. গ) শৈবাল 
  4. ঘ) ক্রাইসফাইটস
সঠিক উত্তর:
ক) ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা

হুইটেকার ১৯৬৯ সালে একটি Five Kingdom শ্রেণীবিন্যাস পদ্ধতির প্রস্তাব করেন। তিনি সমস্ত কোষীয় জীবকে পাঁচটি কিংডম এ ভাগ করেন।
কিংডম ১- মনেরা- এতে আদিকেন্দ্রিক জীব যেমন- ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কিংডম ২- Protista- প্রোটোজোয়া, ক্রাইসোফাইটস কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কিংডম ৩- Plantae- এতে সবুজ শৈবাল, বাদামী শৈবাল, লোহিত শৈবাল, ব্রায়ফাইটস ইত্যাদিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কিংডম ৪- Fungi- ট্রু ফানজাই, কাইট্রিডিসকে রাখা হয়েছে।
কিংডম ৫ - Animalia- এতে সকল বহুকোষী প্রাণীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উৎস: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র

৮৩০.
নিচের কোনটিকে জীব ও জড়ের সেতুর সেতুবন্ধন বলে?
  1. ক) ব্যাকটেরিয়া
  2. খ) ভাইরাস
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) অ্যামিবা
সঠিক উত্তর:
খ) ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভাইরাস
ব্যাখ্যা
প্রাণ-রসায়নবিদগণ ভাইরাসের জড়-বৈশিষ্ট্যসমূহকে প্রাধান্য দেন, আর অনুজীব বিজ্ঞানিগণ ভাইরাসের জীব-বৈশিষ্ট্যসমূহকে প্রাধান্য দেন। এজন্য ভাইরাসকে জীব ও জড়ের সেতুবন্ধন বলে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৮৩১.
রক্ত কোন ধরনের টিস্যু? 
  1. স্নায়ু টিস্যু 
  2. পেশী টিস্যু 
  3. তরল যোজক টিস্যু 
  4. আবরণী টিস্যু 
সঠিক উত্তর:
তরল যোজক টিস্যু 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরল যোজক টিস্যু 
ব্যাখ্যা

রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লালবর্ণের তরল যোজক টিস্যু। 
- ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়। 
- উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে। 
- রক্তের উপাদান দুটি- রক্তরস (55%) এবং রক্তকোষ (45%)। 

- রক্তরস (Plasma) রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ। এর প্রায় 91-92% অংশ পানি এবং ৪-9% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। এসব রক্তরসের ভিতর বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন এবং বর্জ্য পদার্থ থাকে। 

- রক্তকোষ তিন ধরনের, যথা- লোহিত রক্তকোষ (Erythrocyte বা Red blood cells বা RBC), শ্বেত রক্তকোষ (Leukocyte বা white blood cells বা WBC) এবং অণুচক্রিকা (Thrombocytes বা Blood platelet)। 
- লোহিত রক্তকোষ হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে, যার জন্য রক্ত লাল হয়। হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- শ্বেত রক্তকোষ জীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রকৃতিগত আত্মরক্ষায় অংশ নেয়। মানবদেহে বেশ কয়েক ধরনের শ্বেত রক্তকোষ থাকে। 
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধায় অংশ নেয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৩২.
DNA-এর ডাবল হেলিক্স মডেলের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন কে?
  1. ওয়াটসন
  2. চার্লস ডারউইন
  3. গ্রেগর মেন্ডেল
  4. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
সঠিক উত্তর:
ওয়াটসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াটসন
ব্যাখ্যা

জেমস ডি. ওয়াটসন (James D. Watson) এবং ফ্রান্সিস ক্রিক (Francis Crick) ১৯৫৩ সালে DNA-এর ডাবল হেলিক্স গঠন আবিষ্কার করেন।
- এই আবিষ্কারের মাধ্যমে জিনের তথ্য সংরক্ষণ ও প্রজনন প্রক্রিয়া বোঝা সম্ভব হয়।
- ১৯৬২ সালে নোবেল পুরস্কার ওয়াটসন, ক্রিক ও মরিস উইলকিনস কে দেয়া হয় Physiology or Medicine ক্ষেত্রে।

অপরদিকে,
চার্লস ডারউইন: বিবর্তন তত্ত্ব আবিষ্কার করেছিলেন।
গ্রেগর মেন্ডেল: বীজানুতত্ত্বের (Genetics) মৌলিক নিয়ম আবিষ্কার করেছিলেন।
আলেকজান্ডার ফ্লেমিং: পেনিসিলিন আবিষ্কার করেছিলেন।

তথ্যসূত্র:NCTB জীববিজ্ঞান বই, Britannica: [লিংক]

৮৩৩.
Natural protien এর কোড নাম -
  1. Protien P-53
  2. Protien-51
  3. Protien P-49
  4. Protien-54
সঠিক উত্তর:
Protien P-49
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Protien P-49
ব্যাখ্যা
- অ্যামিনো এসিডের পলিমারকে প্রোটিন বা আমিষ বলে। 
-  প্রোটিন মূলত উচ্চ ভর বিশিষ্ট নাইট্রোজেন যুক্ত জটিল যৌগ যা অ্যামিনো অ্যাসিডের পলিমার। 
- এটি একটি পেপটাইড যৌগ। 
- ন্যাচারাল প্রোটিনের কোড নাম P-49 যা একটি জটিল জৈব যৌগ। 
- এটি দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে। 
৮৩৪.
নিচের কোনটি ভুল?
  1. পতঙ্গ পরাগী ফুল: সরিষা
  2. বায়ু পরাগী ফুল: শিমুল
  3. পানি পরাগী ফুল: পাতাশেওলা
  4. প্রাণি পরাগী ফুল: কদম
সঠিক উত্তর:
বায়ু পরাগী ফুল: শিমুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ু পরাগী ফুল: শিমুল
ব্যাখ্যা
পতঙ্গ পরাগী ফুল:
পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গিন ও মধু গ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। যেমন: 
- জবা,
- কুমড়া, 
- সরিষা ইত্যাদি।

বায়ু পরাগী ফুল:
বায়ু পরাগী ফুল হালকা ও মধুগ্রন্থিহীন। এসব ফুলের সুগন্ধ নেই। এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। যেমন:
- ধান, 
- গম,
- ভুট্টা ইত্যাদি। 

পানি পরাগী ফুল:
পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। যেমন:
- পাতাশেওলা।

প্রাণি পরাগী ফুল :
প্রাণীপরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। যেমন:
- কদম,
- শিমুল,
- কচু ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৮৩৫.
নিম্নের কোনটি আদি কোষ নয়?
  1. ক) ব্যাকটেরিয়া
  2. খ) সায়ানোব্যাকটেরিয়া
  3. গ) নীলাভ সবুজ শৈবাল
  4. ঘ) মানব দেহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) মানব দেহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মানব দেহ
ব্যাখ্যা

অপশনটা হবে, মানব দেহের কোষ বা জীব কোষ। যাইহোক, উত্তর ঠিক আছে।
আদিকোষঃ
এ ধরনের কোষে কোনাে সুগঠিত নিউক্লিয়াস (nucleus) থাকে না। এ জন্য এদের আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষও বলা হয়।
এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না তবে রাইবােজোম থাকে।
ক্রোমােজোমে কেবল DNA থাকে।
নীলাভ সবুজ শৈবাল বা ব্যাকটেরিয়ায় এ ধরনের কোষ পাওয়া যায়।

প্রকৃত কোষ বা সুকেন্দ্রিক কোষ (Eukaryotic cell):
এসব কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত। অর্থাৎ নিউক্লিয়ার ঝিল্লি (nuclear membrane) দিয়ে নিউক্লিও-বস্তু পরিবেষ্টিত ও সুসংগঠিত।
এসব কোষে রাইবােজোমসহ সকল অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে। ক্রোমােজোমে DNA, প্রােটিন, হিস্টোন এবং অন্যান্য উপাদান থাকে। অধিকাংশ জীবকোষ এ ধরনের হয়।

৮৩৬.
ট্রিপসিন এনজাইম কাজ করে কীসের উপর?
  1. ক) লিপিড
  2. খ) চর্বি
  3. গ) কার্বোহাইড্রেট
  4. ঘ) আমিষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমিষ
ব্যাখ্যা
ট্রিপসিন এনজাইম সবসময় শুধু আমিষের উপর কাজ করে৷
উৎসঃ সপ্তম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
৮৩৭.
ইউরিয়া সার ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. শাকসব্জির স্বাদ বৃদ্ধি করা
  2. গাছের কাণ্ডকে শক্ত করা
  3. গাছকে সবুজ ও সতেজ করা
  4. গাছের পোকামাকড় রোধ করা
সঠিক উত্তর:
গাছকে সবুজ ও সতেজ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গাছকে সবুজ ও সতেজ করা
ব্যাখ্যা

• ইউরিয়া সার ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হলো গাছকে সবুজ ও সতেজ করা, অর্থাৎ সঠিক উত্তর গ)। ইউরিয়া সারে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রোজেন থাকে, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। নাইট্রোজেন গাছের পাতার ক্লোরোফিল তৈরিতে সহায়তা করে, ফলে গাছ সবুজ রঙ ধারণ করে এবং খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া ভালোভাবে সম্পন্ন হয়। এর ফলে গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়, পাতার আকার বড় হয় এবং সামগ্রিকভাবে গাছ সুস্থ ও সতেজ থাকে। তবে অতিরিক্ত ইউরিয়া ব্যবহার গাছ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, তাই সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করা জরুরি।

ইউরিয়া সার: 
- বাংলাদেশে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যে ইউরিয়া প্রধান। 
- নাইট্রোজেনজাতীয় সারের মধ্যে ইউরিয়াতেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে নাইট্রোজেন থাকে। 
- গৃহপালিত পশুর মূত্রে ইউরিয়া থাকে এবং মাটি এ উৎস থেকেও ইউরিয়া পায়। 
- ইউরিয়া সার থেকে উদ্ভিদ নাইট্রোজেন প্রধানত লাভ করে। 
- এই সারে ৪০-৪৭ শতাংশ নাইট্রোজেন বিদ্যমান থাকে। 
- এ সার জমিতে প্রয়োগ করলে মাটিতে রাসায়নিক বিক্রিয়া ছাড়া অনেক ফসলই সরাসরি ইউরিয়া হিসেবে এটি পরিশোষণ করতে পারে। 
- তাছাড়া গাছে নাইট্রোজেনের অভাজনিত লক্ষণ পরিলক্ষিত হলে ইউরিয়ার দ্রবণ তৈরি করে সিঞ্চন যন্ত্রের সাহায্যে সরাসরি উদ্ভিদের পাতায় প্রয়োগ করলে উদ্ভিদ পত্র - রন্ধ্রের মাধ্যমে ইউরিয়া পরিশোষণ করতে পারে। 
- ইউরিয়া সারের প্রধান কাজ হচ্ছে রোগাক্রান্ত ও বিনষ্ট শিকড়যুক্ত উদ্ভিদ সতেজ হয়ে যায়। 

উৎস:
- উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, বিসিআইসি ওয়েবসাইট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
- কৃষি মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৮৩৮.
কোনটির পুষ্পায়নে আলোর প্রভাব নেই?
  1. ভুট্টা
  2. সয়াবিন
  3. টমেটো
  4. শিম
সঠিক উত্তর:
টমেটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টমেটো
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদে আলো-অন্ধকারের ছন্দকে বায়োলজিক্যাল ক্লক বলা হয়। 
- উদ্ভিদের আলো-অন্ধকারের ছন্দের উপর ভিত্তি করে পুষ্পধারী উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
১। স্বল্প দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ: 
- যে সব উদ্ভিদে পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ৮-১২ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন। 
যেমন- সয়াবিন, আলু, ইক্ষু, তামাক, শিম, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া ইত্যাদি। 

২। দীর্ঘ দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ: 
- পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ১২-১৬ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন হয়। 
যেমন- পালংশাক, আফিম, ভুট্টা, যব, লেটুস, ঝিঙা ইত্যাদি। 

৩। আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ: 
- পুষ্পায়নে আলো কোনও প্রভাব ফেলে না। 
যেমন- টমেটো, কার্পাস, আউশ ধান, শসা, সূর্যমুখী ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩৯.
ব্যাকটেরিয়ার কোষে নিচের কোনটি উপস্থিত থাকে?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. রাইবোজোম 
  3. প্লাস্টিড
  4. নিউক্লিওলাস
সঠিক উত্তর:
রাইবোজোম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইবোজোম 
ব্যাখ্যা

• ব্যাকটেরিয়া হলো প্রোকারিওটিক বা আদিঘোষী জীব। আদিঘোষী কোষে কোনো ঝিল্লিবেষ্টিত বা পর্দাঘেরা অঙ্গাণু থাকে না।
- রাইবোজোম হলো একটি ঝিল্লিহীন অঙ্গাণু যা প্রোটিন সংশ্লেষণের কাজে নিয়োজিত এবং এটি ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় থাকে।

• আদিকোষ:
- ব্যাকটেরিয়াতে আদিকোষ থাকে।
- এ ধরনের কোষে কোনাে সুগঠিত নিউক্লিয়াস (nucleus) থাকে না। এ জন্য এদের আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষও বলা হয়।
- এসব কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না তবে রাইবােজোম/ক্রোমাটিন বস্তু উপস্থিত থাকে।
- ক্রোমােজোমে কেবল DNA থাকে।
- ব্যাকটেরিয়ার কোষে রাইবোজোম উপস্থিত।
- ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব।

• এর সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে:
১. ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২-৫০ মাইক্রোমিটার।
২. এরা আণুবীক্ষণিক জীব ।
৩. এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে ।
৪. এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক। তাই এদের কোষে রাইবোজোম ছাড়া অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন নিউক্রিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোক্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৪০.
ক্রোমোসোমে একটি নির্দিষ্ট জিনের অবস্থানকে কী বলা হয়? 
  1. অ্যালিল
  2. ফিনোটাইপ
  3. লোকাস
  4. জেনোটাইপ
সঠিক উত্তর:
লোকাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকাস
ব্যাখ্যা
জেনেটিক্সে ব্যবহৃত কয়েকটি প্রয়োজনীয় সংজ্ঞা: 
জিন (Gene): 
- উইলহেম জোহানসেন (গ্রিক genes-born) ১৯০৯ খিস্টাব্দে জিন শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে মেন্ডেল এর অনুমানকৃত জীবের বৈশিষ্ট্য নির্ধারক বস্তুটি হলো এলিমেন্টিস বা ফ্যাক্টর (elementes or factor) যা পরবর্তীকালে জিন নামে অভিহিত হয়। 
- জিন হচ্ছে বংশগতির মৌলিক একক এবং এরা বংশ পরম্পরায় সঞ্চারিত হয়ে বংশগতিধারা অব্যাহত রাখে। 
- জিন হচ্ছে পলিপেপটাইড সংশ্লেষের জন্য সংকেত প্রদানকারী DNA অণুর অংশ বিশেষ। 

লোকাস: 
- ক্রোমোসোমে একটি নির্দিষ্ট জিনের অবস্থানকে লোকাস বলা হয়। 

অ্যালিল: 
- ক্রোমোসোমের একই লোকাসে অবস্থানকারী জিনগুলোকে পরস্পরের অ্যালিল বলা হয়। 
- জিনগুলোর একত্রে অবস্থান করাকে অ্যালিলোমর্ফ বলে। 

জেনোটাইপ: 
- জীবদেহের দৃশ্যমান অথবা সুপ্ত বেশিষ্ট্যগুলোর নিয়ন্ত্রক জিনসমূহের গঠনকে জেনোটাইপ বলে। 

ফিনোটাইপ: 
- জীবদেহের দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যসমূহকে ফিনোটাইপ বলে। 
- ফিনোটাইপ প্রকৃতপক্ষে জিনোটাইপের জিনসমূহের বাহ্যিক প্রকাশ। 
- মেন্ডেলের বংশগতির প্রথম সূত্রের ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩ : ১ এবং দ্বিতীয় সূত্রের ফিনোটাইপিক অনুপাত ৯ : ৩ : ৩ : ১। 

হোমোজাইগাস জীব: 
- জীবে একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী জিন জোড়া একই রকমের (উভয় জিনই প্রকট বা প্রচ্ছন্ন) হলে তাকে হোমোজাইগাস জীব বলে। 

হেটারোজাইগাস জীব: 
- জিন জোড়া ভিন্ন রকমের হলে সে জীবকে হেটারোজাইগাস জীব বলে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪১.
পানিতে দ্রবীভূত ভিটামিন কোনটি? 
  1. vit - A
  2. vit - K
  3. vit - C
  4. vit - D
সঠিক উত্তর:
vit - C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
vit - C
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) vit - C

ভিটামিন শোষণ (Absorption of Vitamins):

• চর্বিতে দ্রবীভূত ভিটামিন
- চর্বিতে দ্রবীভূত ভিটামিন গুলো হচ্ছে A, D, E, K।
- এগুলো ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাইয়ে শোষিত হয়।
- সাধারণ পিত্তলবণ এ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।

• পানিতে দ্রবীভূত ভিটামিন
- পানিতে দ্রবীভূত ভিটামিন C ও কয়েক প্রকার B ভিটামিন।
- ব্যাপন ও সক্রিয় শোষণ প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্রান্ত্রের ইলিয়াম অংশে শোষিত হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)। 

৮৪২.
মানব দেহের রক্তের গ্রুপিংয়ের জন্য দায়ী হচ্ছে:
  1. লোহিত রক্ত কণিকা
  2. বিলিভার্জিন
  3. এন্টিবডি
  4. অ্যান্টিজেন
সঠিক উত্তর:
অ্যান্টিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যান্টিজেন
ব্যাখ্যা
[রক্তের গ্রুপ নির্ধারণের ক্ষেত্রে অ্যান্টিজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, কারণ এগুলি রক্তের লোহিত রক্ত কণিকার উপর উপস্থিত থাকে এবং এন্টিবডির সাথে প্রতিক্রিয়া করে। বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতি রক্তের গ্রুপ যেমন A, B, AB, বা O নির্ধারণ করে।]

- মানুষের লোহিত রক্ত কণিকায় 'A' এবং 'B' নামক দু'ধরনের অ্যান্টিজেন (Antigen) এবং রক্ত রসে 'a' ও 'b' দু'ধরনের অ্যান্টিবডি (Antibodies) থাকে।
- অ্যান্টিজেন এক প্রকারের পদার্থ যা কোন জীবদেহে প্রবেশ করানোর ফলে ঐ জীবদেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় এবং অ্যান্টিবডি হলো এক প্রকারের পদার্থ যা জীবদেহে রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে।
- অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে মানুষের রক্তকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা হয় যাকে রক্তের গ্রুপ বলে।
- বিজ্ঞানী কার্লল্যান্ড স্টেইনার ১৯০১ সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করে তা 'A', 'B', 'O' এবং ‘AB' এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন।
- আজীবন মানুষের রক্তের গ্রুপ একই রকম থাকে যা পরিবর্তন হয় না।
- অতএব রক্তে বিভিন্ন অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে রক্তের গ্রুপকে চিহ্নিত করা যায়।
- নিম্নের ছকে রক্তের গ্রুপের অ্যান্টিবডি ও অ্যান্টিজেনের উপস্থিতি দেখানো হলো -

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪৩.
কোন উদ্ভিদে ব্যক্তবীজী এবং গুপ্তবীজী দুই ধরনের উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যই দেখা যায়?
  1. ক) নিটাম
  2. খ) আম
  3. গ) সাইকাস
  4. ঘ) মেহগনি
সঠিক উত্তর:
ক) নিটাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নিটাম
ব্যাখ্যা
সংযোগকারী জীব (Connecting Link)
- জীবজগতে যাদের মধ্যে দুটি জীবগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে তাদেরকে সংযোগকারী জীব (Connecting link) বলা হয়।
- উদাহরণ:  প্লাটিপাস।
- প্লাটিপাসের মধ্যে সরীসৃপ এবং স্তন্যপায়ী দুই ধরনের প্রাণীরই বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
- প্লাটিপাস সরীসৃপের মতো ডিম পাড়ে।
- অপরদিকে স্তন্যপায়ীর মতো এদের শরীর লোমে ঢাকা, বুকে রয়েছে দুগ্ধগ্রন্থি।
- শুধু তা-ই নয়, এদের ডিম ফুটে শাবক জন্মালে এরা শাবককে স্তন্য পান করায়।
- সংযোগকারী প্রাণীদের অধিকাংশই পৃথিবীর পরিবর্তনের সাথে কার্যকরীভাবে অভিযোজিত হতে সক্ষম না হওয়ায় ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। 
- এছাড়া, Gnetum (নিটাম) নামক গুপ্তবীজী উদ্ভিদে ব্যক্তবীজী এবং গুপ্তবীজী দুই ধরনের উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যই দেখা যায়।

সূত্র: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৪৪.
মানুষের হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের প্রসারণকে বলে-
  1. সিস্টোল
  2. স্ফিগমোম্যানোমিটার
  3. পেরিকার্ডিয়াম
  4. ডায়াস্টোল
সঠিক উত্তর:
ডায়াস্টোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়াস্টোল
ব্যাখ্যা
মানুষের হৃৎপিণ্ড (Heart): 

• একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে প্রতি মিনিটে হৃৎপিণ্ড সংকুচিত ও প্রসারিত হয় ৭০ থেকে ৮০ বার এবং গড় হিসাবে ৭৫ বার। (হৃদচক্রের হার- ০.৮ সেকেন্ড)
• পূর্ণ বয়স্ক মানুষের হৃৎপিণ্ডের ওজন প্রায় ২৫০-৩৫০ গ্রাম।
• হৃৎপিণ্ড ৩ স্তর বিশিষ্ট পেশি দ্বারা গঠিত। যথা: এপিকার্ডিয়াম, মায়োকার্ডিয়াম এবং এন্ডোকার্ডিয়াম।
• পেরিকার্ডিয়াম নামের পর্দার/ ঝিল্লির আবরণে ঢাকা থাকে পুরো হৃৎপিণ্ড।
• মানুষের হৃৎপিণ্ডে প্রকোষ্ঠের সংখ্যা চারটি।
• হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের প্রসারণকে বলে- ডায়াস্টোল এবং সংকোচনকে বলে- সিস্টোল।

• প্রবাহমান রক্ত রক্তনালীর গায়ে যে পার্শ্বচাপ দেয় তাকে রক্তচাপ বলে। রক্তচাপ ২ প্রকার। যথা:
১. সিস্টোলিক রক্তচাপ (১১০-১৪০ মি.মি. পারদ)
২. ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ (৬০-৯০ মি.মি. পারদ)

• একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তির সিস্টোলিক চাপ ১২০ মি.মি. পারদ এবং ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০ মি.মি. পারদ। একে ১২০/৮০ রূপে প্রকাশ করা হয়।
• মানবদেহের রক্তচাপ (Blood Pressure) নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম- স্ফিগমোম্যানোমিটার।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৮৪৫.
কোন ধরনের ভিটামিন দাঁত ও হাড়ের জন্য প্রয়োজন?
  1. ক) ভিটামিন এ
  2. খ) ভিটামিন বি
  3. গ) ভিটামিন সি
  4. ঘ) ভিটামিন ডি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভিটামিন ডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভিটামিন ডি
ব্যাখ্যা
- অন্ত্রে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ, দাঁত ও হাড় গঠন প্রভৃতি শারীরবৃত্তীয় কাজে এই ভিটামিন প্রয়োজন।
- রিকেটস (Rikets) কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নয়, ভিটামিন 'ডি' এর অভাবে এ রোগ হয়। 
- দুধ, মাখন, ডিম, কডলিভার তেল ও হাঙ্গরের তেলে প্রচুর ভিটামিন 'ডি' পাওয়া যায়।
- সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমা থাকা কোলেস্টেরল থেকেও এটি তৈরি হয়, তবে সেক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তৈরির শেষ ধাপটি সংঘটিত হয় কিডনিতে।
- দেহের হাড়গুলো দুর্বল হওয়া, গিঁট ফুলে যাওয়া, হাড়গুলো বিশেষ করে পায়ের হাড় বেঁকে যাওয়া ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ।
- এছাড়া এই রোগে অনেক সময় দেহের কাঠামো ঠিক থাকে না, হাড়গুলো ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং বক্ষদেশ সরু হয়ে যায়।

উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।
৮৪৬.
উদ্ভিদের কোন অংশের মাধ্যমে প্রস্বেদন ঘটে?
  1. মূল
  2. স্টোমাটা
  3. ক্লোরোফিল
  4. ফুল
সঠিক উত্তর:
স্টোমাটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টোমাটা
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্র, কিউটিকল ও লেন্টিসেলের মাধ্যমে প্রস্বেদন ঘটে। 

• প্রস্বেদন:
- যে শারীরতাত্ত্বিক (physiological) প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের বায়বীয় অঙ্গ (সাধারণত পাতা) হতে অতিরিক্ত পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়, তাকে প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন বলে।

• বায়ুমণ্ডলে উন্মুক্ত উদ্ভিদের যে কোনো অংশে প্রস্বেদন সংঘটিত হয়।
- পাতাই উদ্ভিদের প্রধান প্রস্বেদন অঙ্গ।
- গড় হিসেবে শোষিত পানির মাত্র ১% দেহে অবস্থান করে ও কাজে লাগে, বাকি ৯৯% পানি দেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। এটি উদ্ভিদের অত্যাবশ্যকীয় প্রক্রিয়া। 

প্রস্বেদন হওয়ার স্থানের উপর ভিত্তি করে প্রস্বেদন ৩ প্রকার।
যথা:

পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন (Stomatal transpiration):
- এ প্রক্রিয়ায় স্টোমাটা বা পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে প্রস্বেদন ঘটে। 
- এ প্রক্রিয়ায় শতকরা ৯৫-৯৮ ভাগ প্রস্বেদন হয়ে থাকে। 

ত্বকীয় বা কিউটিকুলার প্রস্বেদন (Cuticular transpiration):
- এ প্রক্রিয়ায় পত্রত্বকের কিউটিকলের মধ্য দিয়ে প্রস্বেদন ঘটে। 
- এ প্রক্রিয়ায় শতকরা ২-৫ ভাগ প্রস্বেদন হয়ে থাকে। 

লেন্টিকুলার প্রস্বেদন (Lenticular transpiration):
- এ প্রক্রিয়ায় কাণ্ডের লেন্টিসেলের মধ্য দিয়ে প্রস্বেদন ঘটে।
- এ প্রক্রিয়ায় শতকরা প্রায় ১ ভাগ প্রস্বেদন হয়ে থাকে। 

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৮৪৭.
সিলিয়াযুক্ত আবরণী টিস্যু কোথায় বিদ্যমান?
  1. ক) হাইড্রার এন্ডোডার্ম
  2. খ) মেরুদণ্ডী প্রাণীর শ্বাসনালীর প্রাচীরে
  3. গ) মেরুদণ্ডী প্রাণীর অন্ত্রে
  4. ঘ) শুক্রাণুতে
সঠিক উত্তর:
খ) মেরুদণ্ডী প্রাণীর শ্বাসনালীর প্রাচীরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মেরুদণ্ডী প্রাণীর শ্বাসনালীর প্রাচীরে
ব্যাখ্যা

সিলিয়াযুক্ত আবরণী টিস্যু বিদ্যমান মেরুদণ্ডী প্রাণীর শ্বাসনালীর প্রাচীরে।

হাইড্রার এন্ডোডার্ম এ রয়েছে ফ্লাজেলাযুক্ত আবরণী টিস্যু।
হাইড্রার এন্ডোডার্ম ও মেরুদণ্ডী প্রাণীদের অন্ত্রে ক্ষণপদযুক্ত আবরণী টিস্যু রয়েছে।
শুক্রানু এবং ডিম্বাণুতে জনন অঙ্গের আবরণী টিস্যু রয়েছে। এরা প্রজননে অংশগ্রহণ করে প্রজাতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৮৪৮.
মানব হৃদপিন্ড সম্পূর্ণভাবে কয়টি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা

হৃদপিন্ড:
- রক্ত সংবহন তন্ত্রের প্রধান অঙ্গ হৃদপিন্ড।
- এটা পাম্পের মতো কাজ করে, ফলে রক্ত সংবহনতন্ত্রে রক্ত প্রবাহ সচল থাকে।
- হৃদপিন্ড বক্ষ গহ্বরে দুই ফুসফুসের মাঝখানে একই বাম দিকে অবস্থিত।
- মানব হৃদপিন্ড সম্পূর্ণভাবে চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত।
- এর উপরের প্রকোষ্ঠ দুটি বাম ও ডান অলিন্দ এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটি বাম ও ডান নিলয় নামে পরিচিত।
- নিলয় অলিন্দের তুলনায় আকারে বড়, প্রাচীর পুরু ও পেশিবহুল।
- প্রকোষ্ঠ বিভক্ত থাকলেও গোটা হৃদপিন্ড একটি একক হিসাবে কাজ করে এবং পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।
- হৃদপিন্ড এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৪৯.
নিচের কোনটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী?
  1. ক) ব্যাঙ
  2. খ) সাপ
  3. গ) কচ্ছপ
  4. ঘ) অক্টোপাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) অক্টোপাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অক্টোপাস
ব্যাখ্যা
মেরুদন্ডের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর ভিত্তি করে প্রাণিকুলকে দুভাগে ভাগ করা হয়- মেরুদন্ডী প্রাণী ও অমেরুদন্ডী প্রাণী।
- যেসব প্রাণিদেহে মেরুদন্ড বা শিরদাঁড়া উপস্থিত তাদের মেরুদন্ডী প্রাণী বলে। যেমন: মাছ, ব্যাঙ, বাদুর, তিমি, সাপ, কচ্ছপ ইত্যাদি।
- যেসব প্রাণিদেহে মেরুদন্ড বা শিরদাঁড়া অনুপস্থিত তাদের অমেরুদন্ডী প্রাণী বলে। যেমন: তেলাপোকা, শামুক, মশা, অ্যামিবা, অক্টোপাস ইত্যাদি।

সূত্র: এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫০.
অণুচক্রিকা মূলত কোথায় উৎপন্ন হয়?
  1. হৃৎপিণ্ড
  2. ত্বক 
  3. লিভার 
  4. অস্থিমজ্জা
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জা
ব্যাখ্যা

অণুচক্রিকা: 
- ইংরেজিতে এদেরকে প্লাটিলেট (Platelet) বলে।
- অণুচিক্রকা আকারে ছোট, বর্তুলাকার ও বর্ণহীন, এরা গুচ্ছাকারে থাকে। 
- অণুচক্রিকা মূলত অস্থিমজ্জার মধ্যে উৎপন্ন হয়। 
- অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন। 
- পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। 
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- কোন রক্তবাহী নালির ক্ষতি হলে এরা অনতিবিলম্বে থ্রোম্বোপ্লাষ্টিন নামক এক প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসরণ করে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৫১.
'এপিলেপসি' রোগ দেহের কোথায় হয়?
  1. ক) হৃৎপিণ্ডে
  2. খ) মস্তিষ্কে
  3. গ) ফুসফুসে
  4. ঘ) যকৃতে
সঠিক উত্তর:
খ) মস্তিষ্কে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মস্তিষ্কে
ব্যাখ্যা
- এপিলেপসি মস্তিষ্কের একটি রোগ, যাতে আক্রান্ত ব্যাক্তির শরীরে খিঁচুনি বা কাপুনি দিতে থাকে।
- এই রোগকে মৃগী রোগ ও বলা হয়।
- স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীদের এই রোগ দেখা যায়। 
- মাথায় আঘাতের কারণে ম্যানিনজাইটিস, এনসেফালাইটিস, জন্মগত মস্তিষ্কের বিকৃতি, টিউমার ইত্যাদি কারণেও এপিলেপসির উপসর্গ দেখা যায়।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৮৫২.
বীজ উৎপাদনকারী উদ্ভিদকে কী বলে?
  1. স্পারমাটোফাইটা
  2. টেরিডোফাইট
  3. ব্রায়োফাইট
  4. থ্যালোফাইট
সঠিক উত্তর:
স্পারমাটোফাইটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পারমাটোফাইটা
ব্যাখ্যা
• স্পারমাটোফাইটা:
- বীজ উৎপাদনকারী উদ্ভিদকে স্পারমাটোফাইটা (Spermatophyta) বলা হয়।
- এরা উদ্ভিদ জগতের উপজগত ফ্যানেরোগ্যামিয়ার (Phanerogamia) অন্তর্ভুক্ত। Phanerogamia শব্দের প্রকৃত অর্থ-দৃশ্যমান জনন অঙ্গধারী উদ্ভিদ।
- বর্তমান পৃথিবীতে স্পারমাটোফাইটা উদ্ভিদের প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি।
- স্পারমাটোফাইটা উদ্ভিদের জীবন চক্রের প্রধান অংশ স্পোরোফাইট।
- উদ্ভিদের স্পোরোফাইটিক অংশ দীর্ঘস্থায়ী এবং গ্যামিটোফাইট অতি সংক্ষিপ্ত।
• বীজ উৎপাদন পদ্ধতির উপর নির্ভর করে স্পারমাটোফাইটাকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। যথা-
১. নগ্নবীজী এবং
২. আবৃতবীজী উদ্ভিদ।

১. নগ্নবীজী উদ্ভিদ:
- যে সব উদ্ভিদের বীজ সরাসরি উদ্ভিদের অক্ষে জন্মে এবং কোন ফল উৎপন্ন হয় না, এদেরকে জিমনোস্পার্মি (Gymnospermeae) বা নগ্নবীজী উদ্ভিদ বলা হয়।
- এদের গর্ভাশয় থাকে না তাই ফল হয় না। বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে।
- পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু বৃক্ষ (Sequoia gigantea ) এ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
যেমন- Cycas, Pimus, Gnetum ইত্যাদি হলো উল্লেখযোগ্য নগ্নবীজী উদ্ভিদ।

২. আবৃতবীজী উদ্ভিদ:
- যে সকল উদ্ভিদের ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় এবং ফলের বীজ নির্দিষ্ট আবরণ দিয়ে আবৃত অবস্থায় থাকে তাকে আবৃতবীজী উদ্ভিদ (Angiosperm) বলে।
- আজ থেকে প্রায় ১২০ মিলিয়ন বছর পূর্বে Cretaceous যুগের প্রথম দিকে আবৃতবীজী উদ্ভিদের উদ্ভব হয়েছিল বলে ধরে নেয়া হয়।
- Cretaceous যুগের শেষের দিকেই (আজ থেকে ৮০ মিলিয়ন বছর পূর্বে) পৃথিবীর অধিকাংশ অঞ্চলে আবৃতবীজী উদ্ভিদ প্রাধান্য বিস্তার লাভ করে ফেলে।
- বর্তমানে আবৃতবীজী উদ্ভিদ প্রজাতির সংখ্যা প্রায় আড়াই লক্ষ ধারণা করা হয়।
- এরা পানিতে, সিক্ত মাটিতে, মরুভূমিতে, পাথুরে পাহাড়ি অঞ্চলে এমনকি পরাশ্রয়ী ও পরভোজী হিসেবে অন্য উদ্ভিদের উপর জন্মায়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫৩.
জীবের শ্রেণিবিন্যাসের শাখাটিকে কী বলা হয়? 
  1. ইকোলজি
  2. ট্যাক্সোনমি
  3. অ্যানাটমি
  4. মাইক্রোবায়োলজি
সঠিক উত্তর:
ট্যাক্সোনমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্যাক্সোনমি
ব্যাখ্যা
জীবের শ্রেণিবিন্যাস: 
- আজ পর্যন্ত বিভিন্ন উদ্ভিদের প্রায় চার লক্ষ এবং প্রাণীর প্রায় তের লক্ষ প্রজাতির নামকরণ ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে। তবে এ সংখ্যা চূড়ান্ত নয়, কেননা প্রায় প্রতিদিনই আরও নতুন নতুন প্রজাতির বর্ণনা সংযুক্ত হচ্ছে। 
- এই অসংখ্য জীবকে সুষ্ঠুভাবে বিন্যাস করা বা সাজানোর প্রয়োজন। জীবজগৎকে একটি স্বাভাবিক নিয়মে শ্রেণিবিন্যাস করার প্রয়োজনীয়তা অবশ্য অনেক আগে থেকেই প্রকৃতিবিদগণ অনুভব করেছিলেন। 
- সেই প্রয়োজনের তাগিদেই জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে, যার নাম ট্যাক্সোনমি বা শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা। 
- শ্রেণিবিন্যাসের লক্ষ্য হচ্ছে মূলত এই বিশাল এবং বৈচিত্র্যময় জীবজগৎকে সহজভাবে অল্প পরিশ্রমে এবং অল্প সময়ে সঠিকভাবে জানা। 

- শ্রেণিবিন্যাসে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন সুইডিস প্রকৃতিবিদ ক্যারোলাস লিনিয়াস (1707-1778)। 
- তিনি 1735 সালে উপসালা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি লাভের পর ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানাটমির অধ্যাপক নিযুক্ত হয়েছিলেন। 
- বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ, বিশেষ করে ফুল সংগ্রহ আর জীবের শ্রেণিবিন্যাসে তাঁর অনেক আগ্রহ ছিল। 
- তিনিই প্রথম জীবের পূর্ণ শ্রেণিবিন্যাসের এবং নামকরণের ভিত্তি প্রবর্তন করেন। 
- অসংখ্য নমুনা জীবের বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করে তিনি জীবজগৎকে দুটি ভাগে, যথা- উদ্ভিদজগৎ এবং প্রাণিজগৎ হিসেবে বিন্যস্ত করেন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৫৪.
কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের অংশ কোনটি?
  1. ক) সুষুম্না স্নায়ু
  2. খ) করোটিকা স্নায়ু
  3. গ) সুষুম্নাকাণ্ড
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) সুষুম্নাকাণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুষুম্নাকাণ্ড
ব্যাখ্যা

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৮৫৫.
ডায়াস্টোল (Diastole) কী বোঝায়?
  1. হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ
  2. হৃৎপিণ্ডের রক্ত সঞ্চালন
  3. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন
  4. ধমনীতে রক্তের চাপ বৃদ্ধি 
সঠিক উত্তর:
হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ
ব্যাখ্যা

- ডায়াস্টোল বলতে হৃৎপিণ্ডের পেশীগুলোর শিথিলকরণ বা প্রসারণের পর্যায়কে বোঝায়, যে সময়ে হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলি রক্তে পূর্ণ হয়। এই পর্যায় চলাকালীন ধমনীতে রক্তচাপ সবচেয়ে কম থাকে, যা ডায়াস্টোলিক চাপ নামে পরিচিত। 

হৃৎপিণ্ড (Heart): 
- মানুষের রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার মূল অংশ হলো হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা। 
- হৃৎপিণ্ড অবিরাম সংকোচিত ও প্রসারিত হয়ে রক্তকে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে সারা দেহে প্রেরণ করে। 
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ একটি নির্দিষ্ট ছন্দে ঘটে, যা রক্ত সঞ্চালনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
- সিস্টোল (Systole) হলো হৃৎপিণ্ডের সংকোচন পর্যায়, যখন রক্ত অলিন্দ থেকে ভেন্ট্রিকলে অথবা ভেন্ট্রিকল থেকে ধমনিতে প্রবাহিত হয়। 
- ডায়াস্টোল (Diastole) হলো হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ পর্যায়, যখন হৃৎপিণ্ড রক্ত গ্রহণের জন্য আলগা হয়ে যায়। 
- সিস্টোলের সময় হৃৎপিণ্ডের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে, যা সিস্টোলিক চাপ নামে পরিচিত। 
- অলিন্দে যখন সিস্টোল হয়, তখন ভেন্ট্রিকল ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৫৬.
স্নায়ু টিস্যু যে বিশেষ কোষ দ্বারা গঠিত তাকে কী বলা হয়?
  1. অ্যাক্সন
  2. নিউরন
  3. ডেনড্রাইট
  4. সাইন্যাপস
সঠিক উত্তর:
নিউরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউরন
ব্যাখ্যা
স্নায়ু টিস্যু: 
- স্নায়ুতন্ত্র এক বিশেষ ধরনের টিস্যু দ্বারা গঠিত, এ বিশেষ ধরনের টিস্যুকে বলা হয় স্নায়ু টিস্যু। 
- এরা পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে দেহের ভেতরে পরিবাহিত করতে পারে এবং সে অনুযায়ী উপযুক্ত উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে পারে। 
- স্নায়ু টিস্যু যে বিশেষ কোষ দ্বারা গঠিত তাকে স্নায়ু কোষ বা নিউরন বলা হয়, তাই নিউরন হলো স্নায়ু তন্ত্রের গাঠনিক একক। 
- এটা ভ্রূণীয় এক্টোডার্ম জাত। 
- নিউরন বিভিন্ন ধরনের বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনা ও স্নায়ু তাড়না গ্রহণ করতে পারে এবং দেহের অভ্যন্তরে তা পরিবহন করতে পারে। 
- একটা পরিণত নিউরনের তিনটি অংশ থাকে। 
যথা- কোষদেহ, ডেনড্রাইট এবং অ্যাক্সন। 
- কোষ দেহ বহুভুজাকৃতি এবং নিউকিদ্বয়াসযুক্ত। 
- কোষের সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি, রাইবোসোম, আন্তঃপ্লাজমীয় নালিকা ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে। তবে নিউরনের সাইটোপ্লাজমে সক্রিয় সেন্ট্রিয়োল থাকে না বলে নিউরন বিভাজিত হয় না।
- কোষ দেহ থেকে একাধিক শাখা কোষ বের হয়। এরা উদ্দীপনা বা স্নায়ু তাড়না নিউরনের (সেনসরি নিউরন) দেহের দিকে পরিবাহিত করে।

- সাধারণত এরা অ্যাক্সন এর বিপরীত দিকে হয় এবং সংখ্যায় এক বা একাধিক থাকে।
- নিউরনের কোষ দেহ থেকে একটা লম্বা তন্তু স্নায়ু উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনের ডেনড্রাইটের দিকে পরিবহন করে।
- একটা নিউরনে একমাত্র অ্যাক্সন থাকে।
- পর পর দু'টো নিউরনের প্রথমটার অ্যাক্সন এবং পরেরটার ডেনড্রাইটের মধ্যে একটা স্নায়ু সন্ধি গঠিত হয়, একে সাইন্যাপস বা সিনাপস বলা হয়।
- সিনাপস এর মধ্য দিয়েই একটা নিউরন থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনে প্রবাহিত হয়।
- স্নায়ু তন্ত্রে এরা অবস্থান করে। প্রাণীর স্নায়ু তন্ত্রে অসংখ্য নিউরন থাকে।
- উদ্দীপনা গ্রহণ করে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করে এবং তা বাস্তবায়ন করে, উচ্চতর প্রাণীতে স্মৃতি সংরক্ষণ করে ও দেহের বিভিন্ন অঙ্গের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫৭.
নিচের কোনটি শিশুদের প্রোটিন ঘাটতিজনিত রোগ?
  1. ক) ডায়রিয়া
  2. খ) ইনফ্লুয়েঞ্জা
  3. গ) কোয়াশিওরকর
  4. ঘ) রিকেটস
সঠিক উত্তর:
গ) কোয়াশিওরকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কোয়াশিওরকর
ব্যাখ্যা
কোয়াশিওরকর হচ্ছে শিশুদের প্রোটিন ঘাটতিজনিত রোগ। 

- বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করার পরে সাধারণত এ রোগ দেখা দেয়।
- এ রোগের উল্লেখযোগ্য লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক পর্যায়ে অস্পষ্ট ধরনের জড়তা বা নিষ্ক্রিয়তা এবং খিটমিটে ভাব; পরবর্তী পর্যায়ে ডায়রিয়া, রোগ সংক্রমণ প্রবণতা, শরীরে পানি জমা, ত্বকের প্রদাহ এবং যকৃতের স্ফীতি দেখা দেয়।
- চুলের রং ক্রমে লালচে হয়ে যায়।
- রোগ গুরুতর ও দীর্ঘস্থায়ী হলে শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি কখনই সম্পূর্ণ হয় না।

সূত্র- বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।  
৮৫৮.
নিচের কোন উদ্ভিদ কেবল ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে দেখা যায়?
  1. খেজুর পাম
  2. সাগু পাম
  3. নিপা পাম
  4. তাল পাম
সঠিক উত্তর:
নিপা পাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপা পাম
ব্যাখ্যা
• ম্যানগ্রোভ:
- ম্যানগ্রোভ বলতে উপকূলীয় বনভূমিকে বুঝায়।
- ম্যানগ্রোভ বলতে সাধারণভাবে জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত বিস্তির্ণ জলাভূমিকে বোঝায়।
- ম্যানগ্রোভ বন জোয়ারভাটায় বিধৌত লবনাক্ত সমতলভূমি।
- উষ্ণমন্ডলীয় ও উপ-উষ্ণমন্ডলীয় অক্ষাংশের আন্তপ্লাবিত আবাসস্থলের সমন্বয়ে ম্যানগ্রোভ ইকোসিস্টেম গঠিত।
- এ আন্তপ্লাবিত জলাভূমি বিভিন্ন স্তরের পারষ্পরিক নির্ভরশীল উপাদানসমূহ যেমন- পানি প্রবাহ, পলি, পুষ্টি উপাদান, জৈব পদার্থ এবং জীবজন্তুর সমন্বয়ে গঠিত।

- গোলপাতা (Nipa palm) Arecaceae গোত্রের (Palmae) পামজাতীয় এক উদ্ভিদ প্রজাতি, Nypa fruticans।
- এটি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ, ছড়িয়ে আছে এশিয়া, ওসেনিয়া ও আফ্রিকার পূর্ব-উপকূলের ম্যানগ্রোভ বনে।
- কান্ড খাটো, অনুভূমিক ও তাতে অজস্র শিকড়। পাতা লম্বা ও খাড়া, ৩-৯ মি লম্বা।
- গোলপাতা সুন্দরবনে স্বল্প ও মধ্যম লবণাক্ত অঞ্চলে জন্মে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৫৯.
Cycas উদ্ভিদের পাতায় কোন ধরনের টিস্যু বিদ্যমান?
  1. ট্রান্সফিউশন টিস্যু
  2. পারেনকাইম টিস্যু
  3. কোলেনকাইমা
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ট্রান্সফিউশন টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রান্সফিউশন টিস্যু
ব্যাখ্যা
• Cycas উদ্ভিদের পাতায় "ট্রান্সফিউশন টিস্যু" বিদ্যমান।

• Cycas উদ্ভিদ :
 - Cycas Cycadales বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ।
- প্রাথমিক মেসোজোয়িক যুগে Cycadales বর্গের অনেক উদ্ভিদ পৃথিবীব্যাপি বিস্তৃত ছিল।
- এদের অনেকেই এখন বিলুপ্ত, ফলে এদের পাওয়া যায় জীবাশ্ম হিসেবে।
- এ বর্গের Cycas সহ ৯টি গণের প্রায় ১০০টি প্রজাতি এখনও পৃথিবীর বুকে টিকে রয়েছে।
- এদের অনেক বৈশিষ্ট্য আদিকালের বিলুপ্ত জীবাশ্ম সাইকাড্স এর বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ এবং আদি প্রকৃতির।
- এজন্যই Cycas সহ বর্তমানকালের সকল সাইকাড্সকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

• Cycas উদ্ভিদ শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য:
- এদের দেহ মূল, কান্ড ও পাতায় বিভক্ত।
- গর্ভাশয় না থাকায় এদের ফল হয় না। 
- বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে।
- পাতায় ট্রান্সফিউশন টিস্যু বিদ্যমান।
- বাতাসের ম ধ্যমে পরাগায়ন ঘটে।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, ড.  মোহাম্মদ আবুল হাসান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২. উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬০.
Cnidaria পর্বের প্রাণীর দেহের প্রতিসম কেমন?
  1. অসম
  2. অরীয়
  3. ত্রিপার্শ্বীয়
  4. দ্বিপার্শ্বীয়
সঠিক উত্তর:
অরীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরীয়
ব্যাখ্যা
Cnidaria (নিডারিয়া): 
- ১৮৪৭ সালে লিউকার্ট (Leuckart) সিলেন্টারেটা ইকাইনোডার্ম থেকে পৃথক করে একটি স্বতন্ত্র পর্বের মর্যাদা দেন। তবে লিউকার্টের সিলেন্টারেটায় স্পঞ্জ অন্তর্ভুক্ত ছিল। 
- এরপর ১৮৮৮ সালে হ্যাশ্চেক (Hatschek) কর্তৃক লিউকার্টের সিলেন্টারেটা বিভক্ত হয়ে Cnidaria (Gr.knide = দংশক/কাঁটা ল্যাটিন aria = সংযুক্ত) নামক পৃথক পর্ব হিসেবে মর্যাদা পায়। 

বৈশিষ্ট্য: 
• সম্পূর্ণভাবে জলজ, অধিকাংশই সামুদ্রিক তবে কিছু মিঠাপানিতে পাওয়া যায়। 
মুখ ও পরাঙমুখ বরাবর অনুদৈর্ঘ্য অক্ষকে ঘিরে অরীয় প্রতিসম। 
• এদের অনেক প্রজাতি বহুরূপীতা পরিদর্শন করে। বহুরূপী সদস্যদের মৌলিক একক পলিপ এবং মেডুসা। 
• দেহ প্রাচীর দ্বিস্তরী। 
• দেহাভ্যন্তরে সিলেন্টেরন নামক পরিপাক-সংবহন গহ্বর থাকে। 
• সাধারণত সিলিয়াযুক্ত মুক্ত সন্তরণক্ষম প্লানুলা লার্ভার মাধ্যমে পরিস্ফুটন ঘটে। 
উদাহরণ: Aurelia aurita (জেলিফিশ), Hydra vulgaris (হাইড্রা) ইত্যাদি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬১.
আদি কোষীয় জীব কোনটি?
  1. টেরিডোফাইটস
  2. শৈবাল
  3. ছত্রাক
  4. ব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
- নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। আদি কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত থাকে তাদেরকে বলা হয় আদি কোষ। 
- এ সকল কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি, সেন্ট্রিয়োল, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অনুপস্থিত থাকে। 
- তবে বিক্ষিপ্ত DNA এবং রাইবোসোম থাকে। 
- Mycoplasma নামক PPLO (Pleuro pneumonia like organism), ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ ব্যাকটেরিয়া, ইত্যাদি আদি কোষীয় জীব। 

২। প্রকৃত কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে তাদেরকে বলা হয় প্রকৃত কোষ। 
শৈবাল, ছত্রাক, ব্রায়োফাইটস, টেরিডোফাইটস, জিমনোস্পার্মস, অ্যানজিওস্পার্মস ইত্যাদি প্রকৃত কোষ দ্বারা গঠিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬২.
প্রোটিস্টাদের কোষে নিচের কোনটি থাকে না? 
  1. ভ্রুণ
  2. অঙ্গাণু
  3. নিউক্লিয়ার পর্দা
  4. ক্রোমাটিন
সঠিক উত্তর:
ভ্রুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রুণ
ব্যাখ্যা
প্রোটিস্টা (Protista) বৈশিষ্ট্য: 
- এরা এককোষী বা বহুকোষী, একক বা কলোনিয়াল (দলবদ্ধ) বা ফিলামেন্টাস এবং সুগঠিত নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট।
- কোষে ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা পরিবৃত্ত থাকে। 
- ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA এবং প্রোটিন থাকে। 
- কোষে সকল ধরনের অঙ্গাণু থাকে। 
- খাদ্যগ্রহণ শোষণ বা ফটোসিনথেটিক পদ্ধতিতে ঘটে। 
- মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন প্রজনন ঘটে এবং কনজুগেশনের মাধ্যমে অর্থাৎ জৈবনিকভাবে ভিন্ন কিন্তু গঠনগতভাবে এক, এরূপ দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন প্রজনন ঘটে। 
- কোনো ভ্রুণ গঠিত হয় না। 
উদাহরণ: অ্যামিবা, প্যারামেসিয়াম, এককোষী ও বহুকোষী শৈবাল। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৬৩.
কোনটি স্তন্যপায়ী প্রাণী নয়?
  1. টিকটিকি
  2. বাদুড়
  3. শুশুক
  4. ইঁদুর
সঠিক উত্তর:
টিকটিকি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টিকটিকি
ব্যাখ্যা
টিকটিকি সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী।

স্তন্যপায়ী প্রাণী:

- স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে লোম দ্বারা আবৃত থাকে।
- স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সন্তান প্রসব করে।
- শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়।
- যেমন- তিমি, বাদুড়, শুশুক, গরু, হাতি, মানুষ, কুকুর, বানর, ঘোড়া, ইঁদুর, জিরাফ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
⇒ সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী:
- এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়।
যেমন- সাপ, কুমির, ঘড়িয়াল, কচ্ছপ, টিকটিকি, গিরগিটি, ডাইনোসর প্রভৃতি সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৮৬৪.
মানবদেহের শতকরা পানির পরিমান কত?
  1. ক) ৬০-৮০%
  2. খ) ৬৫-৮৫%
  3. গ) ৬০-৯০%
  4. ঘ) ৬০-৭৫%
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬০-৭৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬০-৭৫%
ব্যাখ্যা

পৃথিবীতে যত প্রকার তরল পদার্থ পাওয়া যায়, পানি তার মধ্যে সবচেয়ে সহজলভ্য।
মানবদেহে শতকরা ৬০-৭৫% ভাগ পানি
মাছ, মাংস, শাক-সবজি প্রভৃতিতে শতকরা ৬০-৯০ ভাগ পানি থাকে।
পৃথিবীপৃষ্ঠের শতকরা ৭৫ ভাগই পানি দ্বারা গঠিত।
লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, এর মধ্যে ব্যবহার উপযোগী পানি মাত্র শতকরা ১ ভাগ।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। পৃষ্ঠা - ৩৫।

উল্লেখ্য, জীববিজ্ঞান বোর্ড বই ২০২০ অনুসারে, ৫০ - ৬৫%।
মূল পরীক্ষায় অপশন দেখে নিজের বিবেচনা থেকে উত্তর করবেন।

৮৬৫.
অ্যানিলিডা পর্বের প্রাণীদের দেহ গঠন কেমন? 
  1. গোলাকার ও রেডিয়াল প্রতিসম
  2. চ্যাপ্টা ও বিকেন্দ্রিক 
  3. গোলাকার এবং অসম প্রতিসম 
  4. লম্বা, নলাকার ও দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম 
সঠিক উত্তর:
লম্বা, নলাকার ও দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লম্বা, নলাকার ও দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম 
ব্যাখ্যা

Annelida (অ্যানিলিডা): 
- ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী ল্যামার্ক (Lamarck) উন্নত খণ্ডায়িত প্রাণীদের অ্যানিলিডা (ল্যাটিন, annulus/annelus = little ring ছোট আংটি + eidos = form রূপ) নামে চিহ্নিত করেন। 

বৈশিষ্ট্য: 
- দেহ লম্বা, নলাকার, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম এবং পরপর রৈখিকভাবে সজ্জিত। 
- দেহে প্রকৃত সিলোম বিদ্যমান, দেহত্বক কাইটিনবিহীন পাতলা ও নমনীয় কিউটিকল দ্বারা আবৃত। 
- সিটা বা প্যারাপোডিয়া চলনে সাহায্য করে। 
- নেফ্রিডিয়ার মাধ্যমে রেচন ঘটে, রেচনাঙ্গ খণ্ডে খণ্ডে সজ্জিত থাকে। 
- পৌষ্টিকনালী নলাকার ও সম্পূর্ণ (মুখ পায়ু ছিদ্র সমন্বিত)। 
- রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ প্রকৃতির, রক্তের বর্ণ লাল। 
- পরোক্ষ পরিস্ফুটনের ক্ষেত্রে মুক্ত সন্তরণক্ষম ট্রোকোফোর নামক লার্ভার বিকাশ ঘটে। 
- উভলিঙ্গ সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ পরিস্ফুটন ঘটে। আবার কিছু ক্ষেত্রে অযৌন জনন ঘটে থাকে। 
উদাহরণ: Hirudo medicinalis (জোক), Metaphire posthuma (কেঁচো)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৬৬.
প্রাণিবিজ্ঞানের জনক-
  1. ক) থিওফ্রাস্টাস
  2. খ) উইলিয়াম হার্ভে
  3. গ) অ্যারিস্টটল
  4. ঘ) লুই পাস্তুর
সঠিক উত্তর:
গ) অ্যারিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা
গ্রিক বিজ্ঞানী এরিস্টটলকে প্রাণিবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
গ্রিক বিজ্ঞানী থিওফ্রাস্টাসকে উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
শারীরবিদ্যার জনক উইলিয়াম হার্ভে।
৮৬৭.
হাইড্রোক্লোরিক এসিডের ক্ষতিকর ভূমিকা থেকে পাকস্থলির প্রাচীরকে রক্ষা করে কোনটি? 
  1. ট্রিপসিন
  2. মল্টোজ
  3. টায়ালিন
  4. মিউসিন
সঠিক উত্তর:
মিউসিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিউসিন
ব্যাখ্যা
পাকস্থলি: 
- বক্ষ গহ্বরের ডায়াফ্রামের নীচে উদরের উপরের অংশে প্রায় ২৫ সে. মি. লম্বা ও ১৫ সে.মি. চওড়া বাঁকানো থলির মত অংশই পাকস্থলি। 
- একে কয়েকটি অংশে ভাগ করা যায়। 
যেমন- কার্ডিয়া, ফার্নডাস ও ছোট-বড় বাঁক, পাইরোলাস ও গ্রাসনালি। 
- পাকস্থলির প্রত্যেক অংশের মিউকোসা স্তরে প্রায় ৪০ মিলিয়ন (৪ কোটি) গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থাকে। 
- এই গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় দু'লিটার গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরিত হয়। 

কাজ: 
- খাদ্যদ্রব্যকে সাময়িকভাবে জমা রাখে এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 
- HCI জীবানুনাশক হিসেবে কাজ করে। 
- মিউসিন HCI (হাইড্রোক্লোরিক এসিড) -এর ক্ষতিকর ভূমিকা থেকে পাকস্থলির প্রাচীরকে রক্ষা করে। 
- গ্যাস্ট্রিক রসের এনজাইমগুলো HCI-এর উপস্থিতিতে আমিষ ও স্নেহজাতীয় খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬৮.
হৃৎপিণ্ডের উপরের দুটি প্রকোষ্ঠকে কী বলা হয়? 
  1. শিরা
  2. অলিন্দ
  3. নিলয়
  4. ধমনি
সঠিক উত্তর:
অলিন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলিন্দ
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ড: 
- হৃৎপিণ্ড হলো রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা পাম্পের মতো কাজ করে। 
- এটি নিরবিচারে সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরের কেন্দ্রে, ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ঠিক ওপরে অবস্থান করে। 
- এর উপরের অংশটি প্রশস্ত এবং নিচের প্রান্তটি ছুঁচালো আকৃতির, যা নিচের দিকে অবস্থিত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডটি একটি দ্বিস্তর বিশিষ্ট পর্দা পেরিকার্ডিয়াম দ্বারা আবৃত থাকে। এই পর্দার দুই স্তরের মাঝে একটি তরল পদার্থ থাকে, যাকে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড বলা হয়। 
- এটি হৃৎপিণ্ডকে ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করে এবং সংকোচনের সময় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। 

- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। 
- উপরের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ (Atrium)। 
- নিচের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় ডান নিলয় ও বাম নিলয় (Ventricle)। 
- অলিন্দগুলোর প্রাচীর তুলনামূলকভাবে পাতলা, তবে নিলয়গুলোর প্রাচীর পুরু এবং অধিক পেশিবহুল, কারণ নিলয় থেকেই রক্ত শরীরের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ করা হয়। 
- ডান অলিন্দের সঙ্গে দুটি বড় শিরা যুক্ত থাকে ঊর্ধ্ব মহাশিরা ও নিম্ন মহাশিরা, যা দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে অক্সিজেনবিহীন রক্ত এনে দেয়। 
- ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি (Pulmonary artery) উৎপন্ন হয়, যা অক্সিজেন গ্রহণের জন্য রক্ত ফুসফুসে পাঠায়। 
- অন্যদিকে, বাম নিলয় থেকে মহাধমনি (Aorta) উৎপন্ন হয়, যা অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্তকে দেহের প্রতিটি কোষে সরবরাহ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৬৯.
BMI( Body Mass Index) এর আদর্শমান কত?
  1. ২০.৫ - ২৫
  2. ২০ - ২৪.৯
  3. ১৮ - ২৬
  4. ১৮.৫ - ২৪.৯
সঠিক উত্তর:
১৮.৫ - ২৪.৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮.৫ - ২৪.৯
ব্যাখ্যা
• বিএমআই (BMI): 
- বডি মাস ইনডেক্স (BMI- Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে ।
- অর্থাৎ কোন নির্দিষ্ট বয়সে সুস্থ জীবন যাপনের জন্য শরীরের দৈর্ঘ্যের সাথে চর্বির পরিমাণগত সম্পর্ক নির্দেশ করে।

• বিএমআই (BMI) মান নির্ণয় :
বিএমআই = দেহের ওজন (Kg)/দেহের উচ্চতা (মিটার)২

• মান নির্দেশিকা:
- কম ওজন = <18.5;
- স্বাভাবিক ওজন = 18.5-24.9;
- অতিরিক্ত ওজন = 25-29.9;
- স্থূলতা = BMI 30 বা তার বেশি।

উৎস: National Heart, Lung, and Blood Institute,USA.
৮৭০.
অলফ্যাক্টরি স্নায়ু কোন ধরনের স্নায়ু? 
  1. মিশ্র
  2. সংবেদী
  3. অসংবেদী
  4. আজ্ঞাবাহী
সঠিক উত্তর:
সংবেদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবেদী
ব্যাখ্যা
করোটিক স্নায়ু: 
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে। 
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া। 
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে। 
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে। 
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু। 
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে। 
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু। 
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে। 
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭১.
সুস্থ প্রাপ্ত বয়স্ক একজন মানুষের স্বাভাবিক রক্ত চাপ পারদ স্তম্ভের কত মিলিমিটার?
  1. ক) ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)
  2. খ) ৯০-১১০ মিলিমিটার (mm Hg)
  3. গ) ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg)
  4. ঘ) ৮০-১২০ মিলিমিটার (mm Hg)
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮০-১২০ মিলিমিটার (mm Hg)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৮০-১২০ মিলিমিটার (mm Hg)
ব্যাখ্যা
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন এবং প্রসারণের ফলে হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ধমনির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ধমনি প্রাচীরে যে পার্শ্বচাপ সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তচাপ বলে। তাই রক্তচাপ বলতে সাধারণভাবে ধমনির রক্তচাপকেই বুঝায়।


- রক্তচাপ হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা, ধমনির প্রাচীরের স্থিতিস্থাপকতা ও রক্তের ঘনত্ব এবং পরিমাণের উপর নির্ভর করে। নিলয়ের সিস্টোল অবস্থায় ধমনিতে যে চাপ থাকে, তাকে সিস্টোলিক রক্তচাপ এবং ডায়াস্টোল অবস্থায় যে চাপ থাকে, তাকে ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ বলে।


- স্বাভাবিক এবং সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg) এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)। স্বাভাবিক রক্তচাপকে ১২০/৮০ মিলিমিটার (mm Hg) এভাবে প্রকাশ করা হয়।


- স্ফিগমোম্যানোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ নির্ণয় করা যায়।


উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৮৭২.
শ্বেত রক্তকণিকা কোন প্রক্তিয়ার মাধ্যমে জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে এবং তাকে গ্রাস করে?
  1. ফটোসিন্থেসিস 
  2. অসমোসিস
  3. ডিফিউশন
  4. ফ্যাগোসাইটোসিস
সঠিক উত্তর:
ফ্যাগোসাইটোসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্যাগোসাইটোসিস
ব্যাখ্যা

• শ্বেত রক্তকণিকা দেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তারা দেহে প্রবেশ করা জীবাণু, ব্যাকটেরিয়া বা ক্ষতিকর কণার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে। শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণুকে শনাক্ত করে তার দিকে অগ্রসর হয় এবং একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে গ্রাস করে ধ্বংস করে। এই প্রক্রিয়াটির নাম ফ্যাগোসাইটোসিস। ফ্যাগোসাইটোসিসে শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণুকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে নিজের ভেতরে নিয়ে যায় এবং এনজাইমের সাহায্যে তাকে ভেঙে ফেলে। ফটোসিন্থেসিস উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া, অসমোসিস ও ডিফিউশন হলো পদার্থ পরিবহনের প্রক্রিয়া, কিন্তু জীবাণু গ্রাস করার কাজটি শুধুমাত্র ফ্যাগোসাইটোসিসের মাধ্যমেই হয়। তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) ফ্যাগোসাইটোসিস।
 
শ্বেত রক্ত কণিকা: 
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। এইগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। 
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন। 
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে, ইংরেজিতে এই কণিকাকে White Blood Cell বা WBC বলে। 
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। 
- এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে। 
- শ্বেত রক্ত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। 
- শ্বেত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে। 
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। 
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৭৩.
পলিসাইথেমিয়া বলতে কি বুঝায়?
  1. লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া
  2. শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক বেড়ে যাওয়া
  3. শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া
  4. লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়া
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়া
ব্যাখ্যা

রক্ত উপাদানের অস্বাভাবিক অবস্থা

মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। যেমন:-
১. অ্যানিমিয়া: লোহিত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায় অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যায়।
২. পলিসাইথিমিয়া: লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়।
৩. লিউকোসাইটোসিস: শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ১ ঘন মি.লি. রক্তে ২০,০০০- ৩০,০০০ হয়।
৪. লিউকেমিয়া: নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা, প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক হারে বেড়ে ১ ঘন মি.লি. রক্তে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।
সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৮৭৪.
মস্তিষ্ক কোন তন্ত্রের অংশ? 
  1. স্নায়ুতন্ত্র
  2. রেচনতন্ত্র
  3. শ্বসনতন্ত্র
  4. পরিপাকতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
স্নায়ুতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্নায়ুতন্ত্র
ব্যাখ্যা
স্নায়ুটিস্যু বা নার্ভটিস্যু: 
- প্রাণী দেহের যে কলা উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করতে পারে তাকে স্নায়ুটিস্যু বা নার্ভটিস্যু বলে। 
যেমন- মস্তিষ্ক, সুষুম্না কাণ্ড ইত্যাদি। 
- স্নায়ুটিস্যুর একক হচ্ছে স্নায়ুকোষ বা নিউরন। 
- মস্তিষ্ক অসংখ্য স্নায়ুকোষ বা নিউরন দিয়ে তৈরি। 
- প্রতিটি নিউরন তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। 
যথা- (ক) কোষদেহ (খ) ডেনড্রন এবং (গ) অ্যাক্সন। 

স্নায়ুটিস্যুর কাজ: 
• দেহের বিভিন্ন ইন্দ্রিয় ও সংবেদন গ্রহণকারী অঙ্গ থেকে গৃহীত উদ্দীপনা মস্তিষ্কে প্রেরণ করে। 
• দেহের কার্যকর অংশ এ উদ্দীপনায় সাড়া দেয়। 
যেমন- মশা কামড়ালে এ অনুভূতি মস্তিষ্কে পাঠায়, মস্তিষ্ক হাতকে এ কথা জানায় তখন হাত মশা মারার চেষ্টা করে। 
• উদ্দীপনা বা ঘটনাকে স্মৃতিতে ধারণ করে। 
• দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৮৭৫.
স্ট্রোক হলে শরীরে সাধারণত কোন প্রভাব দেখা যায়?
  1. উচ্চ রক্তচাপ কমে
  2. হজম সমস্যা
  3. স্নায়বিক কাজ বন্ধ হয়
  4. হাড় দুর্বল হয়
সঠিক উত্তর:
স্নায়বিক কাজ বন্ধ হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্নায়বিক কাজ বন্ধ হয়
ব্যাখ্যা
• স্ট্রোক (Stroke) হলো একটি মেডিকেল ইমারজেন্সি যেখানে মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্তপ্রবাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় বা রক্তক্ষরণ হয়।
এতে ঐ অংশের স্নায়ুকোষ অক্সিজেন ও পুষ্টি পায় না, ফলে তা দ্রুত মারা যেতে শুরু করে। ফলে স্নায়ুবিক কাজ বন্ধ হয়ে যায়। 

শরীরে যে প্রভাব দেখা দেয়- 
- হঠাৎ করে শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া। 
- কথা বলায় অসুবিধা। 
- চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তি হ্রাস।
- চলাফেরায় ভারসাম্য হারানো। 
- স্মৃতি ও বোধশক্তির সমস্যা। 

অন্যদিকে, 
উচ্চ রক্তচাপ কমে → এটি সঠিক নয়।  বরং স্ট্রোকের সময় রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।

হজম সমস্যা → এটি সরাসরি স্ট্রোকের সাথে সম্পর্কিত নয়।

হাড় দুর্বল হয় → স্ট্রোক হাড়ের সমস্যা তৈরি করে না, যদিও দীর্ঘমেয়াদে চলাফেরা না করলে হাড় দুর্বল হতে পারে।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
- WHO: Stroke Facts.
৮৭৬.
চোখের কোনটি মস্তিষ্কে দর্শনের অনুভূতি জাগায়?
  1. চোখের মণি
  2. আইরিস
  3. রেটিনা
  4. কর্ণিয়া
সঠিক উত্তর:
রেটিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেটিনা
ব্যাখ্যা
• রেটিনা:
- রেটিন হলো চক্ষু লেন্সের পেছনের দিকে অবস্থিত অক্ষিগোলকের ভিতরের পৃষ্টে গোলাপী রঙের ইষদচ্ছ আলোকসংবেদন আবরণ।
- রেটিনা রড ও কোণ নামক কতগুলি স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা গঠিত ।
- রেটিনার ওপর আলো পড়লে তা স্নায়ুতন্ত্রে এক প্রকার উত্তেজনা সৃষ্টি করে ফলে মস্তিষ্কে দর্শনের অনুভূতি জাগে
- রেটিনা ক্যামেরার ফিল্মের মতো কাজ করে, ফটোরেসেপ্টরের মাধ্যমে চিত্রটি ক্যাপচার করে।
- রেটিনার কাজ হলো:
১) বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠন করা।
২) আলোক গ্রাহক হিসেবে কাজ করে উজ্জ্বল আলোতে দেখতে সাহায্য করে ।

- মানব চোখের লেন্সটি উভ উত্তল বা দ্বি উত্তল।
- কোনো বস্তু হতে আলোক রশ্মি চোখের লেন্স দ্বারা প্রতিসরিত হয়ে রেটিনায় বিম্ব গঠন করে।
- রেটিনায় গঠিত বিম্বটি হয় সদ, উল্টো ও খর্বিত।
- রেটিনা আলোক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে পরিণত করে।
- মানুষের চোখে রেটিনা ও চক্ষুলেন্সের মধ্যবর্তী স্থান ভিট্রিয়াস হিউমার নামক জেলী জাতীয় পদার্থ দ্বারা পূর্ণ থাকে। 

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। [২০১৯ সংস্করণ]
২. পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭৭.
আমাশয় রোগ প্রতিরোধের উপায় কী?
  1. ক) হাঁচি-কাশির সময় রুমাল ব্যবহার করা
  2. খ) বিশুদ্ধ খাবার ও পানি পান করা
  3. গ) মাদকদ্রব্য সেবন পরিহার করা
  4. ঘ) অনিরাপদ যৌনসংসর্গ এড়িয়ে চলা
সঠিক উত্তর:
খ) বিশুদ্ধ খাবার ও পানি পান করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশুদ্ধ খাবার ও পানি পান করা
ব্যাখ্যা

আমাশয় রোগটি ব্যাকটেরিয়া কিংবা পরজীবী উভয় কারণে হতে পারে। দূষিত খাবার ও পানি গ্রহণের মাধ্যমে রোগটি আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সুস্থ ব্যক্তির শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
তাই বিশুদ্ধ খাবার গ্রহণ ও বিশুদ্ধ পানি পানের মাধ্যমে আমাশয় প্রতিরোধ করা সম্ভব।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৮৭৮.
জীবের ভ্রূণ গঠন ও বিকাশ নিয়ে জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচনা হয়? 
  1. Cytology 
  2. Physiology 
  3. Morphology 
  4. Embryology
সঠিক উত্তর:
Embryology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Embryology
ব্যাখ্যা

জীববিজ্ঞানের বিশেষ শাখা: 
- জীবের তথা জীববিজ্ঞানের কোন দিকটি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে জীববিজ্ঞানকে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত করা হয়ে থাকে। 
- এখানে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শাখার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেয়া হলো- 
 • অঙ্গসংস্থান (Morphology): 
- এ শাখায় জীবের গঠন বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। 
- বাহ্যিক গঠনকে বহিঃঅঙ্গসংস্থান (External morphology) এবং অভ্যন্তরীণ গঠনকে অন্তঃঅঙ্গসংস্থান (Internal morphology) বলে। 
 
শারীরবিদ্যা (Physiology): 
- জীবের শ্বসন, রেচন, প্রজনন, পরিপাক ও আত্তীকরণ, সবুজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ এসব জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়াসমূহ এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 
 
ভ্রূণবিদ্যা (Embryology): 
- ভ্রূণ সৃষ্টি ও বিকাশের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবের সৃষ্টি হয়। 
- জীবের ভ্রূণ গঠন ও বিকাশ নিয়ে জীববিজ্ঞানের এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 
 
কোষবিদ্যা (Cytology): 
- জীবদেহের গঠন ও কার্যের একক হলো কোষ। 
- কোষ ও কোষাঙ্গাণুর গঠন, কাজ ও বিভাজন সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 
 
বংশগতিবিদ্যা (Genetics): 
- মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য সন্তানে স্থানান্তরিত হয়। 
- বংশগতির এ ধারা সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 
 
বাস্তুবিদ্যা (Ecology): 
- জীবসমূহ যে পরিবেশে বাস করে সেই পরিবেশ এবং সেই পরিবেশের সাথে ঐ জীবসমূহের আন্তঃসম্পর্ক সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 
 
বিবর্তন (Evolution): 
- আদি কালের অনেক জীবই বর্তমান কালের জীবসমূহ থেকে অন্য রকম ছিল, কালের বিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমান পর্যায়ে এসেছে। 
- জীবসমূহের সূচনা ও বিবর্তন নিয়ে এ শাখায় আলোচনা করা হয়। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৭৯.
আয়োডিনের প্রাপ্তির জন্য সবচেয়ে কার্যকর উৎস কোনটি?
  1. সামুদ্রিক উদ্ভিদ 
  2. বাদাম 
  3. শাকসবজি
  4. ডাল
সঠিক উত্তর:
সামুদ্রিক উদ্ভিদ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামুদ্রিক উদ্ভিদ 
ব্যাখ্যা

• আয়োডিনের প্রাপ্তির জন্য সবচেয়ে কার্যকর উৎস হল সামুদ্রিক উদ্ভিদ। এটি কারণ, সমুদ্রের পানিতে আয়োডিন প্রচুর পরিমাণে থাকে, এবং সামুদ্রিক উদ্ভিদ যেমন শৈবাল, কেল্প ইত্যাদি এই আয়োডিন শোষণ করে। মানুষ যখন এই উদ্ভিদ খায়, তখন সহজেই প্রয়োজনীয় আয়োডিন শরীরে পৌঁছে যায়। অন্যদিকে, বাদাম, শাকসবজি বা ডালে আয়োডিনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে খুব কম থাকে, তাই এগুলি আয়োডিনের প্রধান উৎস হিসেবে যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলা এবং শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত আয়োডিন গ্রহণ জরুরি, কারণ এটি থাইরয়েড হরমোনের উৎপাদন ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে সাহায্য করে। তাই স্বাস্থ্যকর ডায়েটের অংশ হিসেবে সামুদ্রিক উদ্ভিদকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
 
খনিজ লবণ (Mineral salts): 
- দেহকোষ ও দেহের তরল অংশের জন্য খনিজ লবণ অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। 
- মানুষের শরীরে ক্যালসিয়াম, লৌহ, সালফার, দস্তা, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, আয়োডিন ইত্যাদি থাকে। 
- এ উপাদানগুলো কখনো মৌলিক উপাদানরূপে মানবদেহে অবস্থান করে না, এগুলো খাদ্য ও মানবদেহে বিভিন্ন পরিমাণে অন্য পদার্থের সাথে মিলিত হয়ে নানা জৈব এবং অজৈব যৌগের লবণ তৈরি করে। 
- খনিজ লবণ দেহ গঠন ও দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হাড়, দাঁত, পেশি, এনজাইম এবং হরমোন গঠনের জন্য খনিজ লবণ একটি অপরিহার্য উপাদান। 
- স্নায়ুর উদ্দীপনা, পেশি সংকোচন, দেহকোষে পানির সাম্যতা বজায় রাখা, অম্ল ও ক্ষারের সমতাবিধান, এসব কাজে খনিজ লবণের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। 

- দুধ, দই, ছানা, পনির, ছোট মাছ (মলা-ঢেলা), নানা রকম ডাল, সবুজ শাকসবজি, ঢেঁড়স, লাল শাক, কচু শাক ইত্যাদি ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস। 
- কলিজা, সবুজ শাকসবজি, মাংস, ডিমের কুসুম, কচু শাক ইত্যাদিতে লৌহ থাকে। 
- দুধ, মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল থেকে ফসফরাস পাওয়া যায়। 
- খাবার লবণ, চিপস, নোনতা খাবার, পনির, বাদাম, আচার ইত্যাদিতে সোডিয়াম থাকে। 
- মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল, কলা, আলু, আপেল ইত্যাদিতে পটাশিয়াম থাকে। 
- আয়োডিনের ভালো উৎস হলো সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ, মাংস এবং শেওলা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৮০.
ব্যাকটেরিয়ায় কোন ধরনের কোষ বিভাজন লক্ষ্য করা যায়?
  1. ক) মাইটোসিস
  2. খ) মিয়সিস
  3. গ) অ্যামাইটোসিস
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) অ্যামাইটোসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অ্যামাইটোসিস
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট, ছত্রাক, এমিবা ইত্যাদি এককোষী জীবে এমাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভক্ত হয়ে বংশবৃদ্ধি করে।
যে কোষ বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে তাকে অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন বলে।
মাইটোসিস: এই কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় প্রকৃত বা সুকেন্দ্রিক কোষ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষে পরিণত হয়। মাইটোসিসে নিউক্লিয়সি একবার বিভাজিত হয়, প্রায় সমানভাবে। | নিউক্লিয়াসের প্রতিটি ক্রোমাজোমও একবার করে বিভাজিত হয়। সাইটোপ্লাজমও বিভাজিত হয় একবারই। তাই মাইটোসিস বিভাজনে কোষের মাতৃকোষ এবং অপত্য কোষে ক্রোমাজোম সংখ্যা, তথা DNA-এর পরিমাণ সমান থাকে। শুধু যে পরিমাণে একই থাকে তা নয়, মাতৃকোষের DNA-এর প্রায় হুবহু অনুলিপি অপত্য কোষে পাওয়া যায়। একে সমীকরণিক বিভাজনও বলে।
মিয়সিস: মিয়সিস বিভাজনের এক চক্রে নিউক্লিয়াস দুইবার বিভাজিত হয়। প্রথমবারে নিউক্লিয়াসের ক্রোমাজোম পরিমাণে অর্ধেক হয়ে যায়। এই বিভাজনে মাতৃকোষের যে দুটি নিউক্লিয়াস পাওয়া যায়, দ্বিতীয়বারে তার প্রতিটিই আবার দুটি কোষে বিভাজিত হয়।

সূত্র: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান

৮৮১.
বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে কোনটি?
  1. রাফেজ
  2. সেলুলোজ
  3. পেকটিন
  4. লিগনিন
সঠিক উত্তর:
রাফেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাফেজ
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধাণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা - 
১। আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে। 
২। শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। 
৩। স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। 

এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন- 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
৫। খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
৬। পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 

খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে যা কোনো পুষ্টি না জোগালেও এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি খাদ্য উপাদান।  
৭। রাফেজ: রাফেজ বা খাদ্য আঁশ (Fibre) পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৮২.
ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবহার করা হয়? 
  1. শৈবাল
  2. ছত্রাক
  3. ভাইরাস
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের উপকারিতা: 
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। 
যথা- 
১। বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতংক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়। 
২। ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়। 
৩। ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
৪। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। 
৫। কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে। 
৬। জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
৭। লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮৩.
স্পারমাটোফাইটা কী?
  1. ফুল উৎপাদনকারী উদ্ভিদ
  2. ক্লোরোফিল উৎপাদনকারী উদ্ভিদ
  3. অক্সিজেন উৎপাদনকারী উদ্ভিদ
  4. বীজ উৎপাদনকারী উদ্ভিদ
সঠিক উত্তর:
বীজ উৎপাদনকারী উদ্ভিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বীজ উৎপাদনকারী উদ্ভিদ
ব্যাখ্যা
স্পারমাটোফাইটা: 
- বীজ উৎপাদনকারী উদ্ভিদকে স্পারমাটোফাইটা (Spermatophyta) বলা হয়। 
- এরা উদ্ভিদ জগতের উপজগত ফ্যানেরোগ্যামিয়ার (Phanerogamia) অন্তর্ভুক্ত। Phanerogamia শব্দের প্রকৃত অর্থ-দৃশ্যমান জনন অঙ্গধারী উদ্ভিদ। 
- বর্তমান পৃথিবীতে স্পারমাটোফাইটা উদ্ভিদের প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি। 
- স্পারমাটোফাইটা উদ্ভিদের জীবন চক্রের প্রধান অংশ স্পোরোফাইট। 
- উদ্ভিদের স্পোরোফাইটিক অংশ দীর্ঘস্থায়ী এবং গ্যামিটোফাইট অতি সংক্ষিপ্ত। 
- বীজ উৎপাদন পদ্ধতির উপর নির্ভর করে স্পারমাটোফাইটাকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(ক) নগ্নবীজী এবং 
(খ) আবৃতবীজী উদ্ভিদ। 

নগ্নবীজী উদ্ভিদ: 
- যে সব উদ্ভিদের বীজ সরাসরি উদ্ভিদের অক্ষে জন্মে এবং কোন ফল উৎপন্ন হয় না, এদেরকে জিমনোস্পার্মি (Gymnospermeae) বা নগ্নবীজী উদ্ভিদ বলা হয়। 
- এদের গর্ভাশয় থাকে না তাই ফল হয় না। বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু বৃক্ষ (Sequoia gigantea ) এ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। 
যেমন- Cycas, Pimus, Gnetum ইত্যাদি হলো উল্লেখযোগ্য নগ্নবীজী উদ্ভিদ। 

আবৃতবীজী উদ্ভিদ: 
- যে সকল উদ্ভিদের ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় এবং ফলের বীজ নির্দিষ্ট আবরণ দিয়ে আবৃত অবস্থায় থাকে তাকে আবৃতবীজী উদ্ভিদ (Angiosperm) বলে। 
- আজ থেকে প্রায় ১২০ মিলিয়ন বছর পূর্বে Cretaceous যুগের প্রথম দিকে আবৃতবীজী উদ্ভিদের উদ্ভব হয়েছিল বলে ধরে নেয়া হয়। 
- Cretaceous যুগের শেষের দিকেই (আজ থেকে ৮০ মিলিয়ন বছর পূর্বে) পৃথিবীর অধিকাংশ অঞ্চলে আবৃতবীজী উদ্ভিদ প্রাধান্য বিস্তার লাভ করে ফেলে। 
- বর্তমানে আবৃতবীজী উদ্ভিদ প্রজাতির সংখ্যা প্রায় আড়াই লক্ষ ধারণা করা হয়। 
- এরা পানিতে, সিক্ত মাটিতে, মরুভূমিতে, পাথুরে পাহাড়ি অঞ্চলে এমনকি পরাশ্রয়ী ও পরভোজী হিসেবে অন্য উদ্ভিদের উপর জন্মায়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮৪.
নিচের কোনটি ভাইরাস ঘটিত রোগ?
  1. লেপ্রসি
  2. ডেঙ্গু
  3. ডিপথেরিয়া
  4. টাইফয়েড
সঠিক উত্তর:
ডেঙ্গু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেঙ্গু
ব্যাখ্যা

*** ডেঙ্গু একটি ভাইরাস ঘটিত রোগ।

• ব্যাকটেরিয়া:
- গ্রিক শব্দ Bakterion = little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটির উৎপত্তি। ব্যাকটেরিয়া (এক বচনে ব্যাকটেরিয়াম)  এক ধরনের ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব।
- ডাচ বিজ্ঞানী Antony Van Leeuwenhoek ১৬৭৫ সালে তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণযন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
- এরা এক কোষী জীব, তবে একসাথে অনেকগুলো কলোনি করে বা দল বেঁধে থাকতে পারে।
- এদের কোষে জড় কোষ প্রাচীর থাকে। তাই এরা উদ্ভিদের সাথে মিল সম্পন্ন।
- এদের কতক পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবী এবং কিছু স্বনির্ভর।

• ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ:
- ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ মানব, উদ্ভিদ ও প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি করে; মানুষে যক্ষ্মা, কলেরা, টিটেনাস, টাইফয়েড, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, লেপ্রসি (কুষ্ঠ রোগ), মেনিনজাইটিস, সিফিলিস এবং পোষা প্রাণীতে সালমোনেলোসিস, এন্থ্রাক্স , আবার উদ্ভিদে ব্যাকটেরিয়াল উইল্ট ( ব্যাকটেরিয়াল মরা), ফায়ার ব্লাইট (আগুন পোড়া), গমের টুন্ড রোগ, ধানের পাতা ধ্বসা ইত্যাদি প্রধান ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ।

• ভাইরাস:
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ। আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোনো বিষাক্ত পদার্থকেই ভাইরাস বলা হত।
- এরা অকোষীয় এবং আকারে এতই ছোট যে খালি চোখেতো দূরের কথা, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না। এদেরকে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়।
- ভাইরাস নিউক্লিক অ্যাসিড ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত অতি-আণুবীক্ষণিক বস্তু যা জীবদেহের অভ্যন্তরে সক্রিয় হয় এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে দেহে রোগ সৃষ্টি করে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে।
- উদ্ভিদ, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, অ্যাকটিনোমাইসিটিস প্রভৃতি জীবদেহের সজীব কোষে ভাইরাস সক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করে। আবার বায়ু, মাটি, পানি ইত্যাদি জড় মাধ্যমে ভাইরাস নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে। কাজেই ভাইরাস জীব এবং জড় উভয় অবস্থায় অবস্থান করে।

• ভাইরাস ঘটিত রোগ:
- ভাইরাস মানবদেহে, উদ্ভিদ ও পোষা প্রাণীর দেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কোভিড-১৯, SARS, MERS, অ্যাডেনোভাইরাস, পোলিও, জলাতঙ্ক, মেনিনজাইটিস, জন্ডিস- হেপাটাইটিস (A, B, C), হাম, জলবসন্ত, হার্পিস, HPV, HIV/AIDS, ডেঙ্গু, ইবোলা, জিকা, সিমের মোজাইক রোগ, আলুর লিফরোল, ধানের টুংরো রোগ, গরুর বসন্ত, গরু, ভেড়া, ছাগল, মহিষ ইত্যাদি প্রাণীর খুরারোগ, মানুষ, কুকুর ও বিড়ালের দেহে জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টি করে।

উৎস: ১) জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২) জীব বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৮৫.
বিষাক্ত নিকোটিন থাকে -
  1. ক) চায়ে
  2. খ) কফিতে
  3. গ) গাঁজায়
  4. ঘ) তামাকে
সঠিক উত্তর:
ঘ) তামাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তামাকে
ব্যাখ্যা
Nicotine is a highly addictive chemical compound present in the tobacco plant.
Tobacco products, including cigarettes, cigars, smokeless tobacco, hookah tobacco, and most e-cigarettes, contain nicotine.

Source: FDA
৮৮৬.
কচুরিপানা কেন পানিতে ভাসে?
  1. ক) কাণ্ড ফাঁপা বলে
  2. খ) শিকড় বেশি বলে
  3. গ) পাতা হালকা বলে
  4. ঘ) পানির ঘনত্ব বেশি বলে
সঠিক উত্তর:
ক) কাণ্ড ফাঁপা বলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাণ্ড ফাঁপা বলে
ব্যাখ্যা

জলজ উদ্ভিদ যেমন কচুরীপানা সহজে ভাসতে পারে কারণ এরা আকারে অনেক ছোট হয়, এদের কাণ্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে বলে কাণ্ড ফাপা থাকে, এদের পাতা অনেক কম থাকে।

উৎসঃ জীব বিজ্ঞান-নবম দশম শ্রেণী

৮৮৭.
মৃত পশুর সৎকারে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক্লোরিন
  2. ফরমালিন
  3. ডিডিটি
  4. ফসফরাস
সঠিক উত্তর:
ডিডিটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিডিটি
ব্যাখ্যা
মৃত পশুর সৎকার: 
- মৃত পশুকে যেখানে সেখানে ফেলে রাখা যাবে না, মৃত পশু পরিবেশ দূষিত করে। 
- পশুর রোগ জীবাণু বাতাসে ছড়ায় এবং সুস্থ পশুকে আক্রান্ত করে, তাই মৃত্যুর পর অতি দ্রুত খামার ও বসতবাড়ি হতে দূরে মৃত পশুকে সৎকারের ব্যবস্থা করতে হবে। 
- মৃত পশুকে উঁচু স্থানে মাটির ১ : ২২ মিটার (৪ ফুট) গভীরে গর্ত করে মাটি চাপা দিতে হবে। 
- মাটি চাপা দেওয়ার সময় গর্তের উপরের স্তরে চুন বা ডিডিটি ছড়িয়ে দিতে হবে এবং এর উপর মাটি ছিটিয়ে দিতে হবে। 

মৃত পাখির সৎকার: 
- খামার ও বসত বাড়ি থেকে দূরে সৎকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 
- হাঁস মুরগির মৃত্যুর পর যেখানে সেখানে না ফেলে একটি গর্ত করে মাটি চাপা দিতে হবে, অন্যথায় মৃত পাখি থেকে রোগজীবাণু চারিদিকে ছড়িয়ে পড়বে এবং এলাকার সুস্থ ও জীবিত পাখিকে আক্রান্ত করবে। 
- খামারে মহামারী আকারে অনেক পাখির মৃত্যু হলে বড় গর্তে মাটি চাপা দিয়ে মাটির উপর DDT (Dichloro Diphenyl Trichloroethane) ছিটিয়ে দিতে হবে। 

মৃত মাছের সৎকার: 
- অনেক সময় চিকিৎসা করেও রোগাক্রান্ত মাছকে নীরোগ করা যায় না। 
- বিপুল হারে মাছ মরতে শুরু করে। 
- অতঃপর পঁচে দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং পরিবেশ দূষিত হয়। 
- এমতাবস্থায় নিম্নরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে- 
• জাল দিয়ে মৃত মাছগুলোকে সংগ্রহ করতে হবে। 
• পুকুর থেকে অনেক দূরে যেখান থেকে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে পুকুরে প্রবেশ করবে না সেখানে তিন ফুট গভীর গর্ত করতে হবে। 
• গর্তে মৃত মাছ নিক্ষেপ করে এর উপর ব্লিচিং পাউডার {Ca(OCl)Cl} ছিটাতে হবে। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি।
৮৮৮.
এগ্রোনমি কী নিয়ে গবেষণা করে?
  1. কৃষি বিজ্ঞান
  2. মহাকাশ বিজ্ঞান
  3. প্রাণিবিজ্ঞান
  4. পরিবেশ বিজ্ঞান
সঠিক উত্তর:
কৃষি বিজ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষি বিজ্ঞান
ব্যাখ্যা

এগ্রোনমি (Agronomy) হলো কৃষি বিজ্ঞানের একটি শাখা যা ফসল উৎপাদন ও মাটি ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণা করে। এটি শস্য উৎপাদন, মাটির উর্বরতা, সার ব্যবস্থাপনা, সেচ পদ্ধতি, কীটনাশক ব্যবহার ও টেকসই কৃষি উন্নয়ন সম্পর্কিত গবেষণা করে।

এছাড়াও,
- ফলচাষ বিষয়ক বিদ্যাকে পোমোলজি বলা হয়।
- হর্টিকালচার হল উন্নয়ন, টেকসই উৎপাদন, বাজারজাতকরণ এবং উচ্চ-মূল্যের, নিবিড়ভাবে চাষ করা খাদ্য এবং শোভাময় উদ্ভিদের বিজ্ঞান ও শিল্প।
- রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- সেরিকালচার।
- মৌমাছির পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- এপিকালচার।
- মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- পিসিকালচার।
- চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- প্রণকালচার।
- পাখী পালন বিদ্যাকে বলা হয়- এভিকালচার এবং
- সামুদ্রিক মৎস্য পালন বিদ্যাকে বলা হয়- মেরিকালচার।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
মহাকাশ বিজ্ঞান – এটি অ্যাস্ট্রোনমি (Astronomy) নামে পরিচিত, যা মহাকাশ ও গ্রহ-নক্ষত্র নিয়ে গবেষণা করে।
প্রাণিবিজ্ঞান – এটি জুলজি (Zoology) নামে পরিচিত, যা প্রাণী ও তাদের আচরণ নিয়ে গবেষণা করে।
পরিবেশ বিজ্ঞান – এটি এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স (Environmental Science) নামে পরিচিত, যা পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র নিয়ে গবেষণা করে।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৮৮৯.
ধানের বাদামী দাগ রোগ হয়-
  1. ভাইরাস দ্বারা
  2. ব্যাকটেরিয়া দ্বারা
  3. ব্যাক্টেরিওফাজ দ্বারা
  4. ছত্রাক দ্বারা
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক দ্বারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক দ্বারা
ব্যাখ্যা
ধানের রোগ: 
১.বাদামি দাগ রোগ: 
- ধানের বাদামি দাগ রোগের কারণ বাইপোলারিস ওরাইজি (Bipolaris oryzae) নামক ছত্রাক। 

২. ব্লাস্ট রোগ (Blast): 
- ধানের ব্লাস্ট রোগের কারণ পাইরিকুলারিয়াগ্রিসিয়া (Pyricularia grisea) নামক ছত্রাক। 

৩. খোল পচা রোগ (Sheath rot): 
- ধানের খোল পচা রোগের কারণ স্যারোক্লেডিয়াম ওরাইজি (Sarocladium oryzae) নামক ছত্রাক। 

৪. ব্যাকটেরিয়াজনিত পোড়া রোগ (Bacterial Blight): 
- জ্যানথোমোনাস অরাইজি পিভি অরাইজি (Xanthomonas oryzae pv.oryzae) এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া। 

৫. টুংরো (Tungro): 
- টুংরো রোগের কারণ রাইস টুংরো ভাইরাস (Rice Tungro Virus) নামক এক ধরনের অতি সূক্ষ্ম জীবাণু বা ভাইরাস। 

৬. উফরা রোগ (ডাক পোড়া) (Ufra): 
- উফরা রোগ (ডাক পোড়া) রোগের কারণ ডাইটিলেংকাস এ্যাংগাসটাস (Ditylenchus angustus) নামক এক ধরনের কৃমি। 

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS) ওয়েবসাইট।
৮৯০.
নিচের কোনটি লোনা পানির উদ্ভিদ?
  1. চাপালিশ
  2. কেওড়া
  3. গজারি
  4. হিজল
সঠিক উত্তর:
কেওড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেওড়া
ব্যাখ্যা
- কেওড়া হলো সমুদ্র উপকূলের লোনা পানিতে জন্মানো উদ্ভিদ বা ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ। এসব উদ্ভিদের শ্বাসমূল থাকে।
- বাংলাদেশের সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি।
এ বনে জন্মানো ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- সুন্দরী
- গরান
- গেওয়া
- কেওড়া
- গোলপাতা ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
- হিজল মিঠাপানির জলজ উদ্ভিদ।
- শালবনে গজারী বা শাল এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চলে চাপালিশ উদ্ভিদের আধিক্য বিদ্যমান।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী, বাংলাপিডিয়া এবং বন বিভাগ ওয়েবসাইট)
৮৯১.
পাখি সম্পর্কিত বিদ্যা-
  1. ক) Herpetology
  2. খ) Ichthyology
  3. গ) Ornithology
  4. ঘ) Entomology
সঠিক উত্তর:
গ) Ornithology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Ornithology
ব্যাখ্যা

- পাখি সম্পর্কিত বিদ্যাকে Ornithology বলে।
- মাছ সম্পর্কিত বিদ্যাকে Ichthyology বলে।
- উভচর ও সরীসৃপ বিষয়ক বিদ্যাকে Herpetology বলে।
- কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে কীটতত্ত্ব বা Entomology বলে।
উৎসঃ প্রাণিবিদ্যা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।

৮৯২.
প্লাস্টিড কত ধরনের আছে?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন
ব্যাখ্যা
প্লাস্টিড: 
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। 
যথা- 
১। ক্লোরোপ্লাস্ট, 
২। ক্রোমোপ্লাস্ট এবং 
৩। লিউকোপ্লাস্ট। 

ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। 
- পাতা, কচি কান্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। 
- এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

ক্রোমোপ্লাস্ট: 
- ক্রোমোপ্লাস্টগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। 
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটি হলুদ, কোনটি নীল আবার কোনটি লাল দেখায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ। 

লিউকোপ্লাস্ট: 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রূণ, জনন কোষ ইত্যাদি), সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৯৩.
নিচের কোনটি বড় দিনের উদ্ভিদ?
  1. সয়াবিন
  2. পালংশাক
  3. আলু
  4. ইক্ষু
সঠিক উত্তর:
পালংশাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পালংশাক
ব্যাখ্যা
দিবালোকের দীর্ঘতা ভিত্তিক পুষ্পক উদ্ভিদের শ্রেণীবিভাগ:
- আমরা জানি সারা বছর দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান থাকে না।
- কখনও দিন ছোট ও রাত বড়।
- আবার কখনও দিন বড় ও রাত ছোট থাকে।
- দিবাকালের দীর্ঘতার উপর ভিত্তি করে পুষ্পক উদ্ভিদকে তিনভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। ভাগ তিনটি হল-
১। ছোট দিনের উদ্ভিদ।
২। বড় দিনের উদ্ভিদ।
৩। নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ।

ছোট দিনের উদ্ভিদ:
- দিনের দৈর্ঘ্য কম হলে যেসব উদ্ভিদে ফুল ধরে সেসব উদ্ভিদকে বলা হয় ছোট দিনের উদ্ভিদ।
- দিন ছোট হলে রাত বড় হয় তথা অন্ধকার কাল বেশি থাকে।
- সয়াবিন, আলু, ইক্ষু, কসমস, চন্দ্রমল্লিকা, অ্যাস্টার, ডালিয়া, তামাক, শিম এগুলিও ছোট দিনের উদ্ভিদ। রোপা আমন, পাট এগুলি ছোট দিনের উদ্ভিদ।

বড় দিনের উদ্ভিদ:
- রাতের অন্ধকারের চেয়ে দিনের দৈর্ঘ্য বেশি হলে যে সব উদ্ভিদে ফুল ধরে সেসব উদ্ভিদকে বলা হয় বড়দিনের উদ্ভিদ।
- উদ্ভিদের বিভিন্নতায় দিনের এ দৈর্ঘ্যকাল ১৪-১৮ ঘন্টা হতে পারে।
- পালংশাক, লেটুস, আফিম, ভুট্টা, যব, ঝিঙা ইত্যাদি বড় দিনের উদ্ভিদ।

নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ:
- যে সব উদ্ভিদের ফুল ধারণের উপর দিন রাতের তুলনামূলক দৈর্ঘ্যের কোন প্রভাব নাই এরাই নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ।
- প্রয়োজনীয় দৈহিক বৃদ্ধি হলেই এদের ফুল ধরে।
- এদেরকে বছরের বিভিন্ন সময়ে জন্মানো যায়।
- টমেটো, শশা, কার্পাস, সূর্যমুখী, আউশ ধান ইত্যাদি নিরপেক্ষ দিনের উদ্ভিদ।

তথ্যসূত্র - উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯৪.
AIDS -এর সংক্রমণের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্য নয়?
  1. গর্ভবতী মহিলা এ রোগে আক্রান্ত হলে তার সন্তানের মধ্যে এ রোগ হতে পারে
  2. রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে AIDS আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত দ্বারা এ রোগ ছড়ায়
  3. স্তন পানের মাধ্যমে মহিলার দেহ থেকে শিশুর AIDS হতে পারে
  4. AIDS রোগীর সাধারণ স্পর্শের দ্বারা এ রোগ ছড়ায়
সঠিক উত্তর:
AIDS রোগীর সাধারণ স্পর্শের দ্বারা এ রোগ ছড়ায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
AIDS রোগীর সাধারণ স্পর্শের দ্বারা এ রোগ ছড়ায়
ব্যাখ্যা
এইডস: 

- AIDS হলো Acquired Immune Deficiency Syndrome এর সংক্ষিপ্ত রূপ। 
অর্থাৎ, বিশেষ কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াকে এইডস (AIDS) বলে। 
- Human Immune Deficiency Virus সংক্ষেপে HIV নামক ভাইরাস দ্বারা এ রোগ সৃষ্টি হয়। 
- HIV ভাইরাসের আক্রমণে মানুষের শ্বেত রক্ত কণিকার ম্যাক্রোফেজ ও T4 লিম্ফোসাইট ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। 
- এইডস ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শ্বেত রক্ত কণিকা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। 
- বর্তমান বিশ্বে AIDS একটি মারাত্মক রোগ। 
- আফ্রিকার দেশসমূহে HIV র আক্রমণ বেশি লক্ষ করা যায়। 
- ধারণা করা হয় বানরের দেহে এ ভাইরাসটি ছিল যা সর্বপ্রথম আফ্রিকায় বানর থেকে মানুষে স্থানান্তরিত হয় এবং পরে তা আমেরিকা, ইউরোপ তথা সমগ্রবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। 

AIDS এর বিস্তার: বিভিন্ন উপায়ে এইডসের ভাইরাস একজন সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। যেমন- 
• নারী পুরুষের অস্বাভাবিক ও অসামাজিক যৌন আচরণ, 
• সংক্রমিত সিরিঞ্জ ব্যবহার, 
• সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ, 
• সংক্রমিত মায়ের গর্ভে জন্ম গ্রহণকারী শিশু, 
• সেলুনে একই ব্লেড বা ক্ষুর বিভিন্ন জনে ব্যবহার করা, 
• দন্ত চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা গ্রহণকারী ইত্যাদি। 

অর্থাৎ সাধারণ স্পর্শের দ্বারা এ রোগ ছড়ায় না। যদিও অধিকাংশ মানুষের এই বিষয়ে ভ্রান্ত ধারনা রয়েছে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯৫.
কৃত্রিম প্রজনন প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট উদ্ভিদকে কী বলে?
  1. ক) মিউটেন্ট উদ্ভিদ
  2. খ) স্পোর উদ্ভিদ
  3. গ) অনুন্নত উদ্ভিদ
  4. ঘ) সংকর উদ্ভিদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংকর উদ্ভিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংকর উদ্ভিদ
ব্যাখ্যা
- বর্তমানে প্রচলিত ফসল থেকে আরও উন্নত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন নতুন প্রকরণ উদ্ভাবন প্রক্রিয়াকে সাধারণভাবে ব্রিডিং বলা হয়।
- দুটি বৈসাদৃশ্যসম্পন্ন নির্বাচিত উদ্ভিদের মধ্যে যেখানে প্রাকৃতিক উপায়ে পরাগায়ন ও প্রজনন ঘটানো সম্ভব সেখানে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে পরাগায়ন ঘটিয়ে উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন সাধন করে উন্নত জাত বা প্রকরণ সৃষ্টি করাকে উদ্ভিদের কৃত্রিম প্রজনন বলে।
- কৃত্রিম প্রজনন প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট উদ্ভিদকে সংকর (Hybrid) উদ্ভিদ বলে
- উন্নত নতুন ফসল সৃষ্টি প্রক্রিয়াগুলোর মধ্যে সংকরায়ন অন্যতম। 
- প্রকৃতিতে প্রাকৃতিকভাবেও কিছু কিছু সংকরায়ন ঘটে।
- তবে সাধারণত কৃত্রিমভাবে সংকরায়ন ঘটানো হয়।
- সংকরায়ন হলো উদ্ভিদ সুপ্রজননের এমন একটি পদ্ধতি যেখানে এক বা একাধিক জিনগত বৈশিষ্ট্যে ভিন্ন দু' বা ততোধিক উদ্ভিদের মধ্যে ক্রস করিয়ে নতুন ভ্যারাইটি (জাত) উদ্ভাবন করা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯৬.
মানুষের শরীরের রক্তের গ্রুপ কয়টি?
  1. চারটি
  2. পাঁচটি
  3. তিনটি
  4. দুইটি
সঠিক উত্তর:
চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারটি
ব্যাখ্যা
- মানুষের রক্তের গ্রুপকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- O, A, B এবং AB। 

রক্তের গ্রুপ: 
- লোহিত রক্ত কণিকার প্লাজমা মেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণীবিন্যাসকে 'রক্ত গ্রুপ' বলে। 
- রক্ত কণিকায় আ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণীবিন্যাস, তা ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত। 
- মানুষের রক্তে A ও B এ দু'ধরনের আ্যান্টিজেন থাকতে পারে। 

O রক্তের গ্রুপ: 
- O গ্রুপের রক্তের কণিকা ঝিল্লিতে কোন অ্যান্টিজেন নাই। 
- O রক্তের গ্রুপের লোকেরা সাধারণত সর্বজনীন রক্ত দাতা হিসাবে পরিচিত এবং শুধুমাত্র O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে। 

AB রক্তের গ্রুপ: 
- AB রক্তের গ্রুপে A ও B দুটি অ্যান্টিজেন থাকে। 
- AB রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয় কারণ সব গ্রুপের রক্ত এটি গ্রহণ করতে পারে এবং শুধুমাত্র AB রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে। 

A রক্তের গ্রুপ: 
- A রক্তের গ্রুপে A অ্যান্টিজেন থাকে। 
- A রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র A এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং টাইপ A এবং AB ব্যক্তিদের দান করতে পারে। 

B রক্তের গ্রুপ: 
- B রক্তের গ্রুপে B অ্যান্টিজেন থাকে। 
- B রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র B এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং B এবং AB গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯৭.
কোন অঙ্গাণুটি অটোফ্যাগি এর সাথে জড়িত?
  1. লাইসোসোম
  2. গলগি বস্তু
  3. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
  4. মাইটোকন্ড্রিয়া
সঠিক উত্তর:
লাইসোসোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইসোসোম
ব্যাখ্যা
লাইসোসোম:
- এটি এক ধরনের কোষীয় অঙ্গাণু যা সাধারণত প্রাণী কোষে পাওয়া যায়।
- একটি দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী দ্বারা আবদ্ধ থাকে।
- লাইসোসোমকে আত্মঘাতী থলিকা বলা হয়।
- লাইসোসোম সাধারণত পরিপাকের কাজে সাহায্য করে।
- তীব্র খাদ্যের অভাবের সময় লাইসোসোমের প্রাচীর ফেটে যায় এবং আবদ্ধকৃত এনজাইম বের হয়ে কোষের অন্যান্য অঙ্গাণুগুলো নষ্ট করে দেয়।
- লাইসোসোমের এ কাজকে স্ব-গ্রাস বা অটোফ্যাগি বলে।
- এভাবে সম্পূর্ণ কোষটি পরিপাক হয়ে যেতে পারে।

সূত্র: ১) National Center for Biotechnology Information.
২) Nature.com
৮৯৮.
অপত্য জননকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা কেমন হয়?
  1. মাতৃকোষের সমান 
  2. মাতৃকোষের অর্ধেক 
  3. মাতৃকোষের দ্বিগুণ 
  4. মাতৃকোষের চারগুণ 
সঠিক উত্তর:
মাতৃকোষের অর্ধেক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাতৃকোষের অর্ধেক 
ব্যাখ্যা

জননকোষ (Gametic cell): 
- যৌন প্রজনন ও জনুঃক্রম দেখা যায়, এমন জীবে জননকোষ উৎপন্ন হয়। 
- মিয়োসিস পদ্ধতিতে জনন মাতৃকোষের বিভাজন ঘটে এবং জনন কোষ উৎপন্ন হয়। 
- অপত্য জননকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃজনন কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক থাকে। 
- পুং ও স্ত্রী জননকোষ মিলিত হয়ে নতুন জীবের দেহ গঠনের সূচনা করে। 
- পুং ও স্ত্রী জননকোষের মিলনের ফলে সৃষ্ট এই প্রথম কোষটিকে জাইগোট (Zygote) বলে। 
- জাইগোট বারবার বিভাজনের মাধ্যমে জীবদেহ গঠন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৯৯.
পানির জীব হয়েও বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়-
  1. পটকা মাছ
  2. শুশুক মাছ
  3. হাঙ্গর
  4. জেলীফিস
সঠিক উত্তর:
শুশুক মাছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুশুক মাছ
ব্যাখ্যা
- ডলফিন (শুশুক) ও তিমি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণি।
- কিন্তু নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য ডলফিন বা শুশুক মাছ মানুষের মতই বাতাস ব্যবহার করে। 
- পানিতে এই প্রাণিগুলো নিঃশ্বাস নিতে পারে না, কারণ এগুলোর ফুলকা নেই।

- Whales and dolphins are mammals and breathe air into their lungs, just like we do.
- They cannot breathe underwater like fish can as they do not have gills. They breathe through nostrils, called a blowhole, located right on top of their heads.
 - This allows them to take breaths by exposing just the top of their heads to the air while they are swimming or resting under the water.
- After each breath, the blowhole is sealed tightly by strong muscles that surround it, so that water cannot get into the whale or dolphin’s lungs.

Source: uk.whales.org
৯০০.
কোন জারক রস পাকস্থলিতে দুগ্ধ জমাট বাধায়?
  1. পেপসিন
  2. অ্যামাইলেজ
  3. রেনিন
  4. ট্রিপসিন
সঠিক উত্তর:
রেনিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেনিন
ব্যাখ্যা
- রেনিন দুগ্ধ আমিষ কেসিনকে প্যারাকেসিনে পরিণত করে, যা পাকস্থলীতে দুগ্ধ জমাট বাঁধায়। 
- দুধ একটি আদর্শ খাবার, কারণ এতে সুষম খাদ্যের ৬ টি উপাদানই বিদ্যমান। 
- দুধে যে শর্করা থাকে তাকে ল্যাকটোজ বলে।  
- এতে যে প্রোটিন থাকে তাকে কেসিন বলে। 

উৎস: ব্রিটানিকা এবং জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।