বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১০ / ৪২ · ৯০১১,০০০ / ৪,২০৮

৯০১.
শক্তি উৎপাদনের উৎস বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) প্লাস্টিড
  2. খ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. গ) রাইবোসোম
  4. ঘ) নিউক্লিয়াস
সঠিক উত্তর:
খ) মাইটোকন্ড্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মাইটোকন্ড্রিয়া
ব্যাখ্যা
মাইটোকন্ড্রিয়া:
- প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়া দ্বিস্তরবিশিষ্ট ঝিল্লী দ্বারা আবৃত থাকে। ঝিল্লীটি প্রোটিন ও লিপিড দিয়ে তৈরি ।
- এটি কোষের সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু যেখানে শ্বসন প্রক্রিয়ার ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম এবং অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন ঘটে এবং শক্তি উৎপন্ন হয়।
- বেন্ডা ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে মাইটোকন্ড্রিয়া নামকরণ করেন।
- একটি কোষে মাইটোকন্ড্রিয়ার সংখ্যা গড়ে প্রায় ৩০০-৪০০টি। তবে যকৃত কোষে ১০০০ বা তার অধিক মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে ।
- ঝিল্লীর বাইরের আবরণটি মসৃণ কিন্তু ভেতরের আবরণটি স্থানে স্থানে ভাঁজ হয়ে ভেতরের দিকে ঝুলে থাকে, এ ভাঁজগুলোকে ক্রিস্টি বলা হয়।
- ক্রিস্টিতে শ্বসনের অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন পর্যায়টি সম্পন্ন হয়।
- ক্রিস্টির উপরের চারদিকে ছোট ছোট সবৃন্তক বৃত্তাকার বস্তু দেখা যায়, এগুলোকে অক্সিসোম বলা হয়।
- অক্সিসোমে এনজাইমগুলো সাজানো থাকে । প্রতিটি অক্সিসোম এর তিনটি অংশ থাকে। যথা- বৃন্ত, ভিত্তি, এবং মস্তক।
- মাইটোকন্ড্রিয়ার শুষ্ক ওজনের প্রায় ৬৫% প্রোটিন, ২৯% গি]সারাইড, ৪% কোলেস্টেরল থাকে। বাকি ১০% হলো ফ্যাটি অ্যাসিড, ক্যারোটিনয়েড, ভিটামিন ‘E’ এবং কিছু অজৈব পদার্থ।
- মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরের অর্ধতরল দানাদার পদার্থকে ম্যাট্রিক্স বলা হয়। এতে ডিএনএ থাকে।
- শ্বসনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল এনজাইম মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরে থাকে, ফলে এগুলো শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে।
- মাইটোকন্ড্রিয়াকে শক্তি উৎপাদনের উৎস বা ‘Power house' বলা হয়

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯০২.
হৃৎপিণ্ডের উপরের দুটি প্রকোষ্ঠকে কী বলা হয়? 
  1. নিলয় 
  2. অলিন্দ 
  3. ফুসফুসীয় ধমনি 
  4. মহাধমনি 
সঠিক উত্তর:
অলিন্দ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলিন্দ 
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ড (Heart): 
- হৃৎপিণ্ড রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত একরকমের পাম্প। 
- হৃৎপিণ্ড অনবরত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরে ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ওপরে অবস্থিত। 
- হৃৎপিণ্ডের প্রশস্ত প্রান্তটি ওপরের দিকে এবং ছুঁচালো প্রান্তটি নিচের দিকে বিন্যস্ত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম পর্দা দিয়ে বেষ্টিত থাকে। 
- উভয় স্তরের মাঝে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড থাকে, যেটি হৃৎপিণ্ডকে সংকোচনে সাহায্য করে। 

- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। 
- উপরের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান এবং বাম অলিন্দ (Atrium) এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান ও বাম নিলয় (Ventricles) বলে। 
- দুটি অলিন্দের ভেতরকার প্রাচীর পাতলা কিন্তু নিলয় দুটির প্রাচীর পুরু এবং পেশিবহুল। 
- ডান অলিন্দের সঙ্গে একটি ঊর্ধ্ব মহাশিরা এবং একটি নিম্ন মহাশিরা যুক্ত থাকে বাম নিলয়ের সঙ্গে চারটি পালমোনারি শিরা যুক্ত থাকে। 
- ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি এবং বাম নিলয় থেকে মহাধমনি উৎপত্তি হয়েছে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯০৩.
একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থানে প্রথম স্তরের খাদক কোনটি? 
  1. ব্যাঙ
  2. কচ্ছপ
  3. মশার শুককীট
  4. হাইড্রিলা
সঠিক উত্তর:
মশার শুককীট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মশার শুককীট
ব্যাখ্যা
বাস্তুসংস্থান (Ecology): 
- পরিবেশের সাথে জীবের যে পারস্পরিক ক্রিয়া তার একটি শৃঙ্খলা রয়েছে যাকে বাস্তুসংস্থান বলা হয়। 
- বাস্তুসংস্থানকে ইংরেজিতে Ecology বলা হয়। এর উৎপত্তি গ্রিক শব্দ Oikos যার অর্থ ঘর বা বসতি স্থান এবং Logos হচ্ছে বিজ্ঞান বা অধ্যয়ন। 
সুতরাং বাস্তুসংস্থান শব্দটির আভিধানিক অর্থ পৃথিবী বাসগৃহের তত্ত্বাবধায়ক বিজ্ঞান। তবে বাস্তুসংস্থান শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। 
- বৃহৎ অর্থে বাস্তুসংস্থান হলো পৃথিবীতে বসবাসকারী জীবগোষ্ঠির সাথে পরিবেশের সম্পর্ক অর্থাৎ জীবের সাথে পরিবেশের পারস্পরিক ক্রিয়া সম্পর্কিত বিজ্ঞানই হলো বাস্তুসংস্থান। 
যেমন- জলজ বাস্তুসংস্থান, স্থলজ বাস্তুসংস্থান, বনজ বাস্তুসংস্থান ইত্যাদি। 
- প্রত্যেকটি বাস্তুসংস্থান আলাদা এবং পরিপূর্ণভাবে শৃঙ্খলের মধ্যে টিকে আছে। আর প্রত্যেকটি শৃঙ্খলের উপর মানুষ নির্ভরশীল। 
- পরিবেশের এই শৃঙ্খলা যখন স্বাভাবিক নিয়মে বিরাজমান এবং চলমান থাকে তখন তাকে পরিবেশের ভারসাম্য অবস্থা বলে। 
- এই ভারসাম্য অবস্থা বুঝার জন্য একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থান তুলে ধরা হলো - 

- একটি পুকুরে বসবাসকারী জীব সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রধান হচ্ছে ভাসমান ও সঞ্চারমান ক্ষুদ্র জীব অর্থাৎ প্লাঙ্কটন। এছাড়া রয়েছে সবুজ শেওলা ও ক্ষুদ্র জলজ প্রাণি। - আর জড় উপাদানের মধ্যে রয়েছে পানি, মাটি ও সৌরশক্তি ইত্যাদি। 
- পুকুরের বাস্তুসংস্থানের উৎপাদক হচ্ছে সাধারণ ভাসমান ও অগভীর পানির বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ। 
যেমন- কচুরিপানা, শাপলা, হাইড্রিলা ইত্যাদি। 
- একটি পুকুরের প্রথম শ্রেণির খাদক হলো বিভিন্ন প্রকার ভাসমান ক্ষুদ্র পোকা, মশার শুককীট প্রভৃতি। 
- দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক হলো খামারি আকৃতির মাছ, ব্যাঙ, কচ্ছপ ইত্যাদি। 
- আর তৃতীয় শ্রেণির খাদকের মধ্যে রয়েছে বড় মাছ, বক, গাংচিল প্রভৃতি। 
- মৃত্যুর পর একই নিয়মে জীবাণু, মৃতজীবি ছত্রাক, কাঁদায় বসবাসকারী পোকা বিয়োজকের কাজ করে।  
- বিয়োজিত অজৈব লবণ পুকুরের উৎপাদক সম্প্রদায় খাদ্য উপাদান হিসেবে গ্রহণ করে। এভাবে পুকুরের প্রত্যেকটি উপাদান স্বাভাবিক নিয়মে নিজ নিজ কার্যাদি সম্পন্ন করে থাকে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থান তার সুশৃঙ্খল ধারা বজায় রেখে ভারসাম্য বজায় রাখছে। 
- কোনো কারণে এই শৃঙ্খলার ব্যত্যয় ঘটলে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। পুকুরের বাস্তুসংস্থানের অন্তর্গত কোনো একটি শ্রেণি নষ্ট বা ধ্বংস হলে শৃঙ্খলা ভেঙ্গে যাবে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৪.
‘অর্কিড’ কি ধরনের উদ্ভিদ?
  1. মৃতজীবী
  2. পরাশ্রয়ী
  3. মিথোজীবী
  4. সবগুলোই সত্য
সঠিক উত্তর:
পরাশ্রয়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরাশ্রয়ী
ব্যাখ্যা
- অর্কিড (Orchid)  Orchidaceae গোত্রের যে কোনো ফুল। 
- এদের গণ ও প্রজাতি সংখ্যা যথাক্রমে প্রায় ৭০০ ও ২০,০০০ এবং শীতলতম অঞ্চল ছাড়া গোটা বিশ্বে বিস্তৃত, আর্দ্র-ক্রান্তীয় এলাকায়ই অধিক। 
- অর্কিড বহুবর্ষজীবী ঔষধি, পরাশ্রয়ী উদ্ভিদ। 
- পরাশ্রয়ী সদস্যরা প্রধানত ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলের এবং ভূমিজ প্রজাতিগুলি নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের বাসিন্দা। 
- বর্ণাঢ্য পুষ্পপুটসহ বাঁকানো গড়ন অর্কিড ফুলের আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য। 
- প্রত্যেকটি গাছে কয়েকটি মাত্র ফল ফললেও অতিসূক্ষ্ম বীজের সংখ্যা অগণিত, ফলপ্রতি কয়েক হাজার থেকে কয়েক লক্ষ। 
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯০৫.
যৌন জনন অ্যানাইসোগ্যামাস- কোন পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য?
  1. ক) Fungi
  2. খ) Monera
  3. গ) Plantae
  4. ঘ) Protista
সঠিক উত্তর:
গ) Plantae
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Plantae
ব্যাখ্যা

Plantae অন্তর্ভুক্ত প্রজাতিদের যৌন জনন অ্যানাইসোগ্যামাস প্রকৃতির হয়ে থাকে।
আকার-আকৃতি অথবা শারীরবৃত্তীয় পার্থক্য বিশিষ্ট ভিন্নধর্মী দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন জনন সম্পন্ন হয়, তাকে অ্যানাইসোগ্যামাস (Anisogamous) বলে।
প্লানটি রাজ্যকে ইউক্যারিওটা (সুপার কিংডম ২) কিংডমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্লানটি রাজ্যের মধ্যে রয়েছে—মসবর্গীয় উদ্ভিদ, ফার্নবর্গীয় উদ্ভিদ, নগ্নবীজী উদ্ভিদ, আবৃতবীজী উদ্ভিদ।

এ রাজ্য এর কিছু বৈশিষ্ট্যসমূহ-
এরা প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত সালোকসংশ্লেষণকারী উদ্ভিদ।
এদের দেহে উন্নত টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান।
এদের ভ্রূণ সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে ডিপ্লয়েড পর্যায় শুরু হয়।
এদের যৌন জনন অ্যানাইসোগ্যামাস অর্থাৎ আকার, আকৃতি অথবা শারীরবৃত্তীয় পার্থক্যবিশিষ্ট ভিন্নধর্মী দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন জনন হয়।
এরা আর্কিগোনিয়াম বা স্ত্রীজনন অঙ্গবিশিষ্ট উদ্ভিদ।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৯০৬.
কোন উদ্ভিদে মূলের পরিবর্তে এককোষী রাইজয়েড সৃষ্টি হয়?
  1. Fern
  2. Riccia
  3. Funaria
  4. Spirogyra
সঠিক উত্তর:
Riccia
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Riccia
ব্যাখ্যা
ব্রায়োফাইটা: 
- ব্রায়োফাইটা এবং টেরিডোফাইটা গ্রুপের উদ্ভিদসমূহ হলো অপুষ্পক উদ্ভিদ। 
- আবার শৈবাল এবং ছত্রাকও অপুষ্পক উদ্ভিদ। তবে শৈবাল ও ছত্রাক হলো নিম্নশ্রেণির অপুষ্পক এবং ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটা হলো উচ্চশ্রেণির অপুষ্পক উদ্ভিদ। কারণ ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটা বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে শৈবাল ও ছত্রাক থেকে উন্নত ও জটিল প্রকৃতির। 
- ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটার মধ্যে টেরিডোফাইটা উন্নত। 
- ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটার মধ্যে বাহ্যিক মৌলিক পার্থক্য হলো ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদসমূহকে মূল, কান্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না কিন্তু টেরিডোফাইটা উদ্ভিদসমূহকে সত্যিকার মূল, কান্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। 
- এছাড়া ব্রায়োফাইটা অভাস্কুলার কিন্তু টেরিডোফাইটা ভাস্কুলার। 
যেমন- Riccia একটি ব্রায়োফাইটা গ্রুপের উদ্ভিদ। 

ব্রায়োফাইটা উদ্ভিদের বেশিষ্ট্য: 
১। এদের প্রধান দেহটি গ্যামিটোফাইটিক (হ্যাপ্লয়েড) অর্থাৎ গ্যামিট উৎপাদনকারী। 
২। গ্যামোটোফাইট সবুজ, স্বভোজী, স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। 
৩। এরা থ্যালয়েড হতে পারে অথবা দেহ রাইজয়েড, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪। ব্রায়োফাইটা গ্রুপের উদ্ভিদ তথা Riccia উদ্ভিদের দেহে মূল সৃষ্টি হয় না, মূলের পরিবর্তে এককোষী রাইজয়েড সৃষ্টি হয়। 
৫। এদের দেহে কোন পরিবহন টিস্যু থাকে না। 
৬। জাইগোট হতে মাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
৭। এদের যৌন জনন উওগ্যামাস ধরনের। অর্থাৎ সচল ছোট শুক্রাণুর সাথে নিশ্চল বড় ডিম্বাণুর মিলন ঘটে। 
৮। জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৯। এদের স্পোরোফাইট সর্বদাই পুষ্টি ও আশ্রয়ের জন্য আংশিক বা পূর্ণভাবে গ্যামিটোফাইটের উপর নির্ভরশীল। 
১০। উন্নত ব্রায়োফাইট উদ্ভিদের পরিণত স্পোরোফাইট পদ, সিটা (বৃত্ত) এবং ক্যাপসুলে বিভক্ত। অনুন্নত উদ্ভিদের স্পোরোফাইটে পদ ও সিটা অনুপস্থিত, শুধুমাত্র গোলাকার ক্যাপসুল থাকে (যেমন Riccia)। 
১১। সম আকৃতির রেণু সৃষ্টি করার জন্য ব্রায়োফাইটার প্রজাতিগুলো সকল ক্ষেত্রেই সমরেণুপ্রসু। এদের জীবন চক্রে অসম আকৃতির জনুক্রম বিদ্যমান থাকে। 
১২। গ্যামিটোফাইট দীর্ঘস্থায়ী, বিষমপৃষ্ঠ এবং থ্যালাস শায়িত। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৭.
আদর্শ খাদ্য দুধে কোনটি অনুপস্থিত?
  1. ক) ল্যাকটিক এসিড
  2. খ) কেসিন
  3. গ) ল্যাকটোজ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- দুধ একটি আদর্শ খাবার।
- এতে সুষম খাদ্যের ৬টি উপাদানই থাকে।
- দুধে যে শর্করা থাকে তাকে ল্যাকটোজ বলে।
- এতে যে প্রোটিন থাকে তাকে কেসিন বলে।
- দুধকে জমাট বাঁধায় রেনিন।
- দুধে ল্যাকটিক এসিড থাকে।

 সূত্র: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৯০৮.
উদ্ভিদ শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরি করে কিভাবে?
  1. ক) অক্সিজেন ও পানি থেকে
  2. খ) নাইট্রোজেন ও পানি থেকে
  3. গ) কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও পানি থেকে
  4. ঘ) কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও অক্সিজেন থেকে
সঠিক উত্তর:
গ) কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও পানি থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও পানি থেকে
ব্যাখ্যা
সবুজ উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো যে এরা সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন-ডাই-অক্সাইড এবং পানি থেকে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরি করে।
সবুজ উদ্ভিদে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য তৈরির এ প্রক্রিয়াকে সালোকসংশ্লেষণ বলে৷
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯০৯.
মানুষের হৃদপিণ্ডের উপরের দুটি প্রকোষ্ঠকে কী বলে?
  1. ক) অলিন্দ
  2. খ) নিলয়
  3. গ) এন্ডোকার্ডিয়াম
  4. ঘ) এপিকার্ডিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক) অলিন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অলিন্দ
ব্যাখ্যা
- মানুষের হৃদপিণ্ড ৪ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।
- উপরে দুই পাশে দুইটি অলিন্দ এবং নিচে দুই পাশে দুইটি নিলয়।
- হৃদপিণ্ডের স্তর ৩টি।
যথা- এপিকার্ডিয়াম, মায়োকার্ডিয়াম ও এন্ডোকার্ডিয়াম।
- হৃদপিণ্ডের বাইরের আবরণকে পেরিকার্ডিয়াম বলে।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯১০.
ক্রোমাজোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে তাকে কী বলে?
  1. ফ্যাক্টর
  2. প্লাজমিড
  3. অ্যালিল
  4. লোকাস
সঠিক উত্তর:
লোকাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোকাস
ব্যাখ্যা
জিন (Gene):

• জীবের সব দৃশ্য এবং অদৃশ্যমান লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী এককের নাম জিন।
• এর অবস্থান জীবের ক্রোমোজোমে।
• ক্রোমাজোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে, তাকে লোকাস (Locus) বলে।
• সাধারণত একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট জিন থাকে।
• কোনো কোনো ক্ষেত্রে একাধিক জিন মিলিতভাবে একটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশে সহায়তা করে। আবার কোনো কোনো সময় একটি জিন একাধিক বৈশিষ্ট্যও নিয়ন্ত্রণ করে।
• জিনই বংশগতির নিয়ন্ত্রক।
• W.L Johannsen (গ্রিক genes=born) ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে জিন শব্দটি ব্যবহার করেন।
• ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে মেন্ডেল এর অনুমানকৃত জীবের বৈশিষ্ট্য নির্ধারক বস্তুটি হলো এলিমেন্টিস বা ফ্যাক্টর (elementes or factor) যা পরবর্তীকালে জিন নামে অভিহিত হয়।

• অ্যালিল (Allel), অ্যালিলোমর্ফ (Allelomorph) : ক্রোমোসোমের একই লোকাসে অবস্থানকারী জিনগুলোকে পরস্পরের অ্যালিল বলা হয়।
• প্লাজমিড: প্লাজমিড হল স্বজননক্ষম ও বহিঃ ক্রোমোসোমীয় বৃত্তকার দ্বৈত DNA অণু। প্লাজমিডকে জৈব প্রযুক্তির অন্যতম মৌলিক হাতিয়ার বলা হয়।


Image Source: https://microbenotes.com/genes-and-loci-a-complete-guide/ 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯১১.
প্রতি চাকে কয়টি রানী মৌমাছি থাকে?
  1. ক) কয়েকটি
  2. খ) ২টি
  3. গ) অসংখ্য
  4. ঘ) ১টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১টি
ব্যাখ্যা

- মৌমাছি উপকারী পতঙ্গের মধ্যে অন্যতম।
- প্রতি চাকে একটি রানী, কয়েকটি পুরুষ মৌমাছি এবং অসংখ্য কর্মী মৌমাছি থাকে।
- মৌমাছি মূলত বসন্তকালের ফুল হতে মধু আহরণ করে।
- তাই মৌমাছির মধু ঋতু বলা হয় বসন্তকালকে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯১২.
কোনটি বংশগতি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. প্রোটিন
  2. হরমোন
  3. ক্রোমোজোম
  4. লোহিত রক্তকণিকা
সঠিক উত্তর:
ক্রোমোজোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রোমোজোম
ব্যাখ্যা

- ক্রোমোজোম-কে বংশগতির ভৌত ভিত্তি বলা হয় কারণ এটি জিন বহন করে পিতা-মাতা থেকে পরবর্তী প্রজন্মে নিয়ে যায়। এই জিনগুলোই জীবের বৈশিষ্ট্য (যেমন: চোখের রঙ, চুলের ধরন, ইত্যাদি) নিয়ন্ত্রণ করে। 

ক্রোমোজোম: 
- যে সকল বস্তু জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে তাকে বংশগতি বস্তু বলে। 
- DNA এর যে ছোট অংশ নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে তাকে জিন বলে। 
- উন্নত জীবে DNA প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়ে তৈরি করে ক্রোমোজোম। 
- ক্রোমোজোমই জনন কোষের মাধ্যমে সন্তান-সন্ততিতে বাহিত হয়। 
অর্থাৎ, ক্রোমোজোম হলো বংশগতি বস্তুর ধারক ও বাহক। 
- ক্রোমোজোমকে বংশগতির প্রধান উপাদান বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯১৩.
নিচের কোনটির কারণে উদ্ভিদের কাণ্ড ছোট এবং দুর্বল হয়? 
  1. ক) ম্যাগনেশিয়াম
  2. খ) লৌহ
  3. গ) সালফার
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম 
সঠিক উত্তর:
খ) লৌহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লৌহ
ব্যাখ্যা

লৌহের অভাবে উদ্ভিদের কাণ্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। লৌহের অভাবে প্রথম কচি পাতার রঙ হালকা হয়ে যায়, তবে সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয়ে যায় এবং ক্লোরোসিস হয়। কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়।
ম্যাগনেশিয়ামের অভাবে সালোকসংশ্লেষণের হাড় কমে যায়।
ক্যালসিয়ামের অভাবে উদ্ভিদের কাণ্ড শুকিয়ে যায় এবং পাতা কুকড়ে যায়।
সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল এবং বেগুনি দাগ দেখা যায়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৯১৪.
নিচের কোনটি টেরিডোফাইটা উদ্ভিদ? 
  1. Chara
  2. Spirogyra
  3. Pteris
  4. Agaricus
সঠিক উত্তর:
Pteris
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Pteris
ব্যাখ্যা
টেরিডোফাইটা: 
- গ্রিক শব্দ Pteron (পক্ষল বা ডানা) এবং Phyton (উদ্ভিদ) হতে Pteridophyta শব্দের উৎপত্তি। 
- এরা হলো ডানাবিশিষ্ট উদ্ভিদ। 
- মূল, কান্ড ও পাতা দ্বারা গঠিত এবং পরিবহন টিস্যুবিশিষ্ট অপুষ্পক স্বভোজী উদ্ভিদগুলো টেরিডোফাইটা নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীতে প্রায় দশ হাজার প্রজাতির টেরিডোফাইট উদ্ভিদ রয়েছে। 
- বাংলাদেশ থেকে ৪১ গোত্রের ১৯৫ প্রজাতির টেরিডোফাইট নথিভুক্ত করা হয়েছে। 
- টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো- 
Pteris
• Psilotum, 
• Lycopodium, 
• Equisetum ইত্যাদি। 

টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য: 
১। এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং অপুষ্পক। 
২। এরা অবীজী উদ্ভিদ। 
৩। দেহ মূল, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪। এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে। 
৫। জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৬। গ্যামিটোফাইট থ্যালাস প্রকৃতির এবং মোটামুটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। এ পর্যায়কে প্রোথ্যালাস বলে। 
৭। পুংগ্যামিটোফাইট সচল এবং অ্যান্থেরিডিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৮। স্ত্রীগ্যামিটোফাইট নিশ্চল এবং আর্কিগোনিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৯। ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
১০। অধিকাংশ সদস্যে কান্ড রাইজোমে পরিণত হয়। 
১১। এদের অস্থানিক মূল বিদ্যমান। 
১২। জীবনচক্রে সুস্পষ্ট হেটারোমরফিক জনুক্রম বিদ্যমান। 
১৩। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পোরোফিল ঘন সন্নিবেশিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৫.
নিচের কোনটি মানুষ, কুকুর ও বিড়ালের দেহে জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ছত্রাক
  4. শৈবাল
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
ব্যাখ্যা

*** মানুষ, কুকুর ও বিড়ালের দেহে জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী হচ্ছে ভাইরাস

• ভাইরাস:
- ভাইরাস মানবদেহে, উদ্ভিদ ও পোষা প্রাণীর দেহে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কোভিড-১৯, SARS, MERS, অ্যাডেনোভাইরাস, পোলিও, জলাতঙ্ক, মেনিনজাইটিস, হেপাটাইটিস (A, B, C), হাম, জলবসন্ত, হার্পিস, HPV, HIV/AIDS, ডেঙ্গু, ইবোলা, জিকা, সিমের মোজাইক রোগ, আলুর লিফরোল, ধানের টুংরো রোগ, গরুর বসন্ত, গরু, ভেড়া, ছাগল, মহিষ ইত্যাদি প্রাণীর খুরারোগ, মানুষ, কুকুর ও বিড়ালের দেহে জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টি করে।

• ব্যাকটেরিয়া:
- ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ মানব, উদ্ভিদ ও প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি করে; মানুষে যক্ষ্মা, কলেরা, টিটেনাস, নিউমোনিয়া, টাইফয়েড, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, লেপ্রসি (কুষ্ঠ রোগ), মেনিনজাইটিস, সিফিলিস এবং পোষা প্রাণীতে সালমোনেলোসিস, এন্থ্রাক্স , আবার উদ্ভিদে ব্যাকটেরিয়াল উইল্ট ( ব্যাকটেরিয়াল মরা), ফায়ার ব্লাইট (আগুন পোড়া), গমের টুন্ড রোগ, ধানের পাতা ধ্বসা ইত্যাদি প্রধান ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ।

• ছত্রাক
- মানবদেহ, উদ্ভিদ ও পোষা প্রাণীর দেহে ছত্রাক বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে, যেমন মানুষের দাদ (Ringworm), ক্যান্ডিডিয়াসিস এবং উদ্ভিদের আলুর আর্লি ব্লাইট রোগ, পাউডারি মিলডিল, যা টিস্যু ধ্বংস করে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি করে। পোষা প্রাণীতেও ছত্রাক দাদ, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ঘটায়, যা তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে ফেলে। 

• শৈবাল
- শৈবাল মানবদেহ, উদ্ভিদ ও পোষা প্রাণীর দেহে রোগ সৃষ্টি করতে পারে, যা প্রধানত ক্ষতিকারক শৈবাল ব্লম (HABs) থেকে টক্সিন নিঃসরণের কারণে হয়

উৎস: জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান। 

৯১৬.
PPLO-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Pleuro Pneumonitis Labeled Organisms
  2. Protozoa Pneumonia Like Organisms
  3. Pleuro Pulmonary Lymph Organs
  4. Pleuro Pneumonia Like Organisms
সঠিক উত্তর:
Pleuro Pneumonia Like Organisms
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Pleuro Pneumonia Like Organisms
ব্যাখ্যা

- PPLO (Pleuro Pneumonia Like Organisms) হলো মাইকোপ্লাজমা (Mycoplasma) নামক ব্যাকটেরিয়ার একটি গ্রুপ, যা কোষ প্রাচীরবিহীন ক্ষুদ্রতম মুক্তজীবী অণুজীব। 

- নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- আদি কোষ এবং প্রকৃত কোষ। 
১। আদি কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস অনুপস্থিত থাকে তাদেরকে বলা হয় আদি কোষ। 
- এ সকল কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি, সেন্ট্রিয়োল, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অনুপস্থিত থাকে। 
- তবে বিক্ষিপ্ত DNA এবং রাইবোসোম থাকে। 
- Mycoplasma নামক PPLO (Pleuro pneumonia like organisms), ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ ব্যাকটেরিয়া, ইত্যাদি আদি কোষীয় জীব। 

২। প্রকৃত কোষ: 
- যে সকল কোষে সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে তাদেরকে বলা হয় প্রকৃত কোষ। 
- শৈবাল, ছত্রাক, ব্রায়োফাইটস, টেরিডোফাইটস, জিমনোস্পার্মস, অ্যানজিওস্পার্মস ইত্যাদি প্রকৃত কোষ দ্বারা গঠিত। 
- আবার, অবস্থান এবং কাজের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- দেহ কোষ এবং জনন কোষ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯১৭.
পাটের জিন মানচিত্র আবিষ্কার করেছেন কে?
  1. ক) বিজ্ঞানী ড. মাকসুদুল আলম
  2. খ) ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল
  3. গ) ড. মুহম্মদ ইউনুস
  4. ঘ) জগদীশ চন্দ্র বসু
  5. ঙ) অভিজিৎ ব্যানার্জি
সঠিক উত্তর:
ক) বিজ্ঞানী ড. মাকসুদুল আলম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিজ্ঞানী ড. মাকসুদুল আলম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ড. মাকসুদুল আলম পাটের জিন মানচিত্র আবিষ্কার করেন।
উৎসঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি- মোঃ মজিবুর রহমান।
৯১৮.
যক্ষ্মার টিকা কোনটি?
  1. টিটি
  2. বিসিজি
  3. ডিপিটি
  4. ওপিভি
সঠিক উত্তর:
বিসিজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসিজি
ব্যাখ্যা
- যক্ষ্মার টিকা হলো BCG(Bacillus Calmatte Guerin) । 
- টিকার আবিষ্কারক ক্যালসাট ও গুয়েচিন। 
- ব্যাকটেরিয়া থেকে যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়। 

অন্যদিকে,
- ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি ও টিটেনাস প্রতিষেধক হিসেবে ডিপিটি (DPT) টিকা দেয়া হয়। 
- পোলিও রোগের টিকার নাম ওপিভি (Oral Polio Vaccine). 
- হাম রোগের টিকা এমএমআর। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
৯১৯.
রাণীক্ষেত রোগ কোন প্রাণীর সাথে সম্পর্কিত?
  1. ছাগল
  2. গরু
  3. মুরগি
  4. হাঁস
  5. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
মুরগি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুরগি
ব্যাখ্যা
রানীক্ষেত রোগ: 
- রানীক্ষেত রোগ (Ranikhet Disease) মুরগির একটি তীব্র সংক্রামক রোগ যা খুবই ছোঁয়াচে। 
- এই রোগ ইংল্যান্ডের নিউক্যাসেলে প্রথম সনাক্ত হয় এবং নিউক্যাসল রোগ নামে পরিচিতি লাভ করে। 
- এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ। 
- সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক মুরগির তুলনায় ছানারা এই রোগে বেশি সংবেদনশীল। 
- মুরগির পাশাপাশি টার্কি, কোয়েল, কবুতর, গিনি ফাউল, কাক, তোতা প্রভৃতিও এ রোগে আক্রান্ত হয়। 
- পাখিরা সারা বছরই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে, তবে শীত ও বসন্ত ঋতুতে এ রোগের সংক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। 
- রোগের সংক্রমণ সংক্রমিত পাখি এই ভাইরাসের প্রধান বাহক। 
- সংক্রামিত পাখির বিষ্ঠা, লালা ইত্যাদির সংস্পর্শে বা খাদ্যের মাধ্যমে এই জীবাণু সুস্থ পাখির দেহে প্রবেশ করলে সংক্রমণ ঘটে। 

লক্ষণ: 
- রোগের তীব্র পর্যায়ে মোরগ/মুরগি হঠাৎ তীব্র শব্দ করে ও লাফাতে থাকে এবং অবশেষে মারা যায়। এই রোগের মৃত্যুর হার প্রায় ১০০%; 
- তীব্র সংক্রমণে মুরগির ডায়রিয়া, ক্ষুধা হ্রাস, কাশি এবং হাঁচি (নাক দিয়ে স্রাব) শুরু হয়। সংক্রামিত পাখির তন্দ্রাচ্ছন্নতার উপসর্গ দেখা যায় এবং মুখ খুলে দীর্ঘ শ্বাসগ্রহণ করে; 
- তন্দ্রা, ডানা ঝরে পড়া এবং মাঝে মাঝে সবুজাভ ডায়রিয়া দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে সদ্য ভূমিষ্ট ছানাগুলির মৃত্যুর হার প্রায় ৯০-৯৫%; 
- সংক্রমণ মৃদু হলে প্রাপ্তবয়স্ক মুরগির শ্বাসকষ্ট হয়। ডিম উৎপাদন নাটকীয়ভাবে কমে যায়, মুরগির বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ কমে যায়। 

প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ: 
- ছানা এবং প্রাপ্তবয়স্ক মুরগির জন্য কঠোরভাবে টিকা সময়সূচি অনুসরণ করা উচিত; 
- হাঁস-মুরগির ঘর অবশ্যই যথাযথভাবে পরিষ্কার করতে হবে; বাড়ির চত্বর, আবাসন সরঞ্জাম এবং আঙিনা যেখানে পাখি পালন করা হয় সেগুলিকে জীবাণুনাশক ব্যবহার করে ঘন ঘন জীবাণুমুক্ত করতে হবে; 
- চাষের এলাকায় জৈব-নিরাপত্তা কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে এবং বাজার থেকে কেনা নতুন পাখিকে সুস্থ পাখি থেকে আলাদাভাবে রাখতে হবে; 
- আক্রান্ত মৃত পাখি মাটির নিচে চাপা দেওয়া উচিত। এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মনে রাখতে হবে ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’। তাই এই রোগ প্রতিরোধের জন্য যথাযথ টিকাদান অপরিহার্য। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৯২০.
মানুষের মস্তিষ্কে কত জোড়া করোটিক স্নায়ু আছে?
  1. ক) পাঁচ
  2. খ) সাত
  3. গ) বারো
  4. ঘ) একত্রিশ
সঠিক উত্তর:
গ) বারো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বারো
ব্যাখ্যা
মানুষের মস্তিষ্কে বারো জোড়া করোটিক স্নায়ু আছে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৯২১.
সালোকসংশ্লেষণে কার্বন ডাই-অক্সাইড পানির সাথে বিক্রিয়া করে কোনটি উৎপাদন করে?
  1. ক) শুধু গ্লুকোজ
  2. খ) শক্তি
  3. গ) কার্বনিক এসিড
  4. ঘ) গ্লুকোজ ও অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্লুকোজ ও অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্লুকোজ ও অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ
- পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হলো সূর্য। 
- সবুজ উদ্ভিদকুল সালোক সংশ্লেষণ চলাকালে সৌরশক্তিকে আবদ্ধ করে।
- যে পদ্ধতিতে সূর্যের আলোয় সবুজ উদ্ভিদেরা তাদের নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরি করে তার নামই হলো সালোকসংশ্লেষণ।
- একমাত্র সবুজ উদ্ভিদেরাই এ কাজটি করতে পারে।
- উদ্ভিদের পাতার সবুজ প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়। 
- সবুজ প্লাস্টিডের ভিতরে সৌরশক্তি, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৯২২.
জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় ভ্রূণের গঠন ও কাজ নিয়ে আলোচনা করা হয়?
  1. সাইটোলজি
  2. এমব্রায়োলজি
  3. জেনেটিক্স
  4. ফিজিওলজি
সঠিক উত্তর:
এমব্রায়োলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এমব্রায়োলজি
ব্যাখ্যা
শারীরবিদ্যা (Physiology) : জীবের শ্বসন, রেচন, প্রজনন, পরিপাক ও আত্তীকরণ, সবুজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ এসব জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়াসমূহ এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

ভ্রূণবিদ্যা (Embryology) : ভ্রূণ সৃষ্টি ও বিকাশের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবের সৃষ্টি হয়। জীবের ভ্রূণ গঠন ও বিকাশ নিয়ে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

কোষবিদ্যা (Cytology) : জীবদেহের গঠন ও কার্যের একক হলো কোষ। কোষ ও কোষাঙ্গাণুর গঠন, কাজ ও বিভাজন সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

বংশগতিবিদ্যা (Genetics) : মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য সন্তানে স্থানান্তরিত হয়। বংশগতির এ ধারা সম্বন্ধে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২৩.
Logos শব্দটির অর্থ কি?
  1. যুক্তি
  2. জীবন
  3. জ্ঞান
  4. অবধারণ
সঠিক উত্তর:
জ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞান
ব্যাখ্যা
• জীববিজ্ঞান:
- জীবজগতের বিজ্ঞানভিত্তিক পঠন-পাঠন, আলোচনা, গবেষণা এবং প্রয়োগই হলো Biology বা জীববিজ্ঞান।
- ফরাসী বিজ্ঞানী ল্যামার্ক  জীবনের বিজ্ঞান বোঝাতে Biology শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।
- দু'টি গ্রীক শব্দ Bios (অর্থ জীবন) এবং Logos (অর্থ জ্ঞান)-এর সমন্বয়ে ইংরেজি Biology শব্দটি গঠিত হয়েছে।
- অ্যারিস্টটলকে জীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- জীববিজ্ঞানের প্রধান শাখা দুটি। যথা-
 ১. উদ্ভিদবিজ্ঞান (Botany):
- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় সব ধরনের উদ্ভিদ, তাদের গঠন, স্বভাব, আবাসস্থল, শ্রেণিবিন্যাস, পূর্ণ জীবন বৃত্তান্ত, মানব কল্যাণে প্রয়োগ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয় তা হলো উদ্ভিদবিজ্ঞান।
- গ্রীক দার্শনিক থিওফ্রাস্টাসকে উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।

২. প্রাণিবিজ্ঞান (Zoology):
- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় সব ধরনের প্রাণী, তাদের গঠন, স্বভাব, আবাসস্থল, শ্রেণিবিন্যাস, জীবন বৃত্তান্ত, মানব কল্যাণে প্রয়োগ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয় তা হলো প্রাণিবিজ্ঞান।
-  গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্টটলকে  প্রাণিবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২৪.
পুরুষ প্রজননতন্ত্রের মুখ্য জনন অঙ্গ কোনটি?
  1. পুরুষাঙ্গ
  2. শুক্রাশয়
  3. এপিডিডাইমিস
  4. ক্ষেপণ নালি
সঠিক উত্তর:
শুক্রাশয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুক্রাশয়
ব্যাখ্যা
• পুরুষ প্রজননতন্ত্রের মুখ্য জনন অঙ্গ হলো শুক্রাশয়। 

• পুরুষ প্রজনন অঙ্গ:
- যেসব অঙ্গের সমন্বয়ে প্রধানত শুক্রাণু তৈরি, সঞ্চয় ও পরিবহন সম্পন্ন হয় সেগুলোকে পুরুষ প্রজনন অঙ্গ বলা হয়।

• পুরুষ জনন অঙ্গ ২ ধরনের।
যথা-
- মুখ্য জনন অঙ্গ: পুরুষ প্রজননতন্ত্রের যে অঙ্গ শুক্রাণু উৎপন্ন করে তাকে মুখ্য জনন অঙ্গ বলা হয়। 
- আনুষঙ্গিক জনন অঙ্গ: যে সব অঙ্গ শুক্রাণু সঞ্চয় ও পরিবহনের কাজে নিয়োজিত সেগুলোকে আনুষঙ্গিক জনন অঙ্গ বলে। 

• শুক্রাশয় হচ্ছে মুখ্য জননাঙ্গ।
- এর কারণ হলো শুক্রাশয় থেকে শুক্রাণু উৎপন্ন হয়। 

অন্যদিকে,
•  আনুষঙ্গিক জনন অঙ্গ সমূহ হলো- 
- এপিডিডাইমিস,
- ভাস ডিফারেন্স (Vas deferens) বা শুক্রনালি,
- সেমিনাল ভেসিকল,
- ক্ষেপন নালি,
- ইউরেথ্রা,
- বহিঃযৌনাঙ্গ,
- জনন গ্রন্থি। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৯২৫.
সামাজিক আচরণ প্রদর্শনকারী প্রাণী কোনটি?
  1. ব্যাঙ
  2. বাবুই পাখি
  3. কুকুর
  4. মৌমাছি
সঠিক উত্তর:
মৌমাছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌমাছি
ব্যাখ্যা

• সামাজিক আচরণ প্রদর্শনকারী প্রাণী হলো এমন প্রাণী যারা দলবদ্ধভাবে বসবাস করে, নিজেদের মধ্যে সংযোগ ও সহযোগিতা করে এবং দলগত কাজ করে। এই ধরনের প্রাণীর মধ্যে একে অপরের সাথে যোগাযোগ, খাদ্য সংগ্রহ, শিকার করা বা শত্রু থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সাধারণ। উপরের উদাহরণগুলোতে ব্যাঙ মূলত একা থাকে এবং সামাজিকতা খুব কম দেখায়। বাবুই পাখি কিছুটা দলবদ্ধ হয়, কিন্তু সামাজিক আচরণ সীমিত। কুকুর মানুষের সাথে এবং নিজেদের মধ্যে সামাজিক আচরণ দেখায়, তবে মৌমাছি সম্পূর্ণ সামাজিক প্রাণী হিসেবে পরিচিত। মৌমাছি ছত্রাকের মতো কাঠামো তৈরি, খাদ্য সংগ্রহ, সন্তান পালন এবং রানী মৌমাছির নেতৃত্বের মাধ্যমে সম্পূর্ণ সামাজিক জীবন পরিচালনা করে। তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) মৌমাছি।
 
• মৌমাছির সামাজিক আচরণ (Social Behavior of Honey Bee):
- মৌমাছি সামাজিক প্রাণী। একেকটি বড় পরিবার গড়ে বা বসতবদ্ধ হয়ে মৌচাকে বাস করে।
- প্রত্যেকটি কলোনিতে মৌমাছির ৩টি সম্প্রদায়ভুক্ত সদস্যরা সম্মিলিতভাবে সামাজিক উন্নয়নে নিরলস কাজ করে চলে।
- একটি মাত্র রাণীর নেতৃত্বে কয়েকশ ড্রোন (পুরুষ মৌমাছি) এবং ৬০-৮০ হাজার কর্মী মৌমাছি (বন্ধ্যা স্ত্রী মৌমাছি) সুশৃঙ্খলভাবে সামাজিক দায়িত্ব পালন করে।
- এই মাতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা মৌমাছি গোষ্ঠীর সকল মৌলিক চাহিদা মিটিয়ে প্রাণিজগতে অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
- মৌমাছিরা দৃঢ় সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে বাস করে এবং একে সমাজবদ্ধ প্রাণীর আদর্শ উদাহরণ বলা হয়।

সুতরাং, সামাজিক আচরণ প্রদর্শনকারী প্রাণী হল মৌমাছি।  
সঠিক উত্তর: ঘ) মৌমাছি। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল এবং গাজী আসমত। 

৯২৬.
নিচের কোনটি রক্তের অজৈব পদার্থ?
  1. ক্লোরিন
  2. ভিটামিন
  3. গ্লকোজ
  4. অ্যামোনিয়া
সঠিক উত্তর:
ক্লোরিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরিন
ব্যাখ্যা
রক্তের তরল অংশকে প্লাজমা বলে।
রক্তরসের প্রায় ৯০% জৈব ও অজৈব পদার্থ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।

জৈব পদার্থগুলো হলো:
 খাদ্যসার (গ্লুকোজ, অ্যামাইনো অ্যাসিড, স্নেহ পদার্থ, ভিটামিন, ইত্যাদি)।
 রেচন পদার্থ (ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন, ইত্যাদি)।
 প্রোটিন (ফিব্রিনোজেন, গ্লোবিউলিন, অ্যালবুমিন, ইত্যাদি)।
 প্রতিরক্ষামূলক দ্রব্যাদি (অ্যান্টিটক্সিন)।
এছাড়াও রয়েছে হরমোন, কোলেস্টেরল, বিলিরুবিন, ইত্যাদি।

অজৈব পদার্থের মধ্যে রয়েছে সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, আয়োডিন,
এবং গ্যাসীয় পদার্থ--O2, CO2, N2 ইত্যাদি।

উৎস: এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২৭.
কোনটি শৈবালের উদাহরণ?
  1. ক) মিউকর
  2. খ) আগারিকাস
  3. গ) স্পাইরোগাইরা 
  4. ঘ) ইস্ট
সঠিক উত্তর:
গ) স্পাইরোগাইরা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্পাইরোগাইরা 
ব্যাখ্যা
শৈবাল জলজ সুকেন্দ্রিক এককোষী বা বহুকোষী জীব, যারা সালোকসংশ্লেষনের মাধ্যমে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। এদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত নয়। স্পাইরোগাইরা (সূত্রাকার শৈবাল) , ভলভক্স (উপনিবেশ গঠনকারী শৈবাল)।

source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
৯২৮.
অপ্রতিসম ফুল কোনটি?
  1. কলাবতী ফুল
  2. শিমের ফুল
  3. জবা
  4. সরিষা ফুল
সঠিক উত্তর:
কলাবতী ফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলাবতী ফুল
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- যে ফুল খাড়াভাবে কেন্দ্র বরাবর কাটলে একবারের অধিক সমান দুটি অংশে বিভক্ত হয়, তাকে বহুপ্রতিসম ফুল বলে, যেমন- সরিষা, জবা ইত্যাদি।
- যে ফুল খাড়াভাবে কেন্দ্র বরাবর কাটলে মাত্র একবার দুটি সমান অংশে বিভক্ত হয়, তাকে একপ্রতিসম ফুল বলে, যেমন- শিম ও অপরাজিতা ফুল।
- যে ফুল খাড়াভাবে কেন্দ্র বরাবর কাটলে কখনোই দুটি সমান অংশে বিভক্ত করা যায় না, তাকে অপ্রতিসম ফুল বলে, যেমন- কলাবতী ফুল।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৯২৯.
কোনটি গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ?
  1. দূর্বাঘাস
  2. দাঁতমর্দন
  3. লেবু
  4. কালকাসুন্দা
সঠিক উত্তর:
লেবু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেবু
ব্যাখ্যা
গুল্ম
- একক গুঁড়িবিহীন ঝোপজাতীয় মাঝারি ধরনের কাষ্ঠল উদ্ভিদকে গুল্ম বলে।
- যেমন- জবা, গোলাপ, রঙ্গন, লেবু।
- গুল্ম বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ।

উপগুল্ম:
- গুল্মের চেয়ে অপেক্ষাকৃত ছোট আকৃতির উদ্ভিদকে উপগুল্ম বলে।
- যেমন- কালকাসুন্দা, দাঁতমর্দন।

বীরুৎ:
- ছোট ও নরম কাণ্ড বিশিষ্ট অকাষ্ঠল উদ্ভিদকে বীরুৎ বলে।
- যেমন- ধান, সরিষা, মরিচ, গম, দূর্বাঘাস ইত্যাদি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৯৩০.
অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহণ করে কোনটি?
  1. ক) শিরা
  2. খ) ধমনী
  3. গ) কৈশিকনালী
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) ধমনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধমনী
ব্যাখ্যা

ধমনী অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে। 
ধমনি ও শিরা মূলত রক্তনালি। যেসব রক্তনালির মাধ্যমে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে সারা দেহে বাহিত হয়, তাই ধমনী।
ধমনীর উৎপত্তিস্থল হৃৎপিণ্ড।
রক্তের গতির দিক সাধারণত হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন দিকে।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি

৯৩১.
কোনটি কৃত্রিম অঙ্গজ জনন?
  1. ক) দেহের খন্ডায়ন
  2. খ) মূলের মাধ্যমে
  3. গ) রূপান্তরিত কাণ্ডের মাধ্যমে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক অঙ্গজ জননঃ
দেহের খন্ডায়ন
মূলের মাধ্যমে
রূপান্তরিত কাণ্ডের মাধ্যমে
পাতার মাধ্যমে

কৃত্রিম অঙ্গজ জননঃ
কলম
শাখা কলম

উৎসঃ বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি
৯৩২.
ডিম্বকের মূল দেহকে কী বলে?
  1. ডিম্বকনাড়ী
  2. নিউসেলাস
  3. ডিম্বকনাভী
  4. ডিম্বকত্বক
সঠিক উত্তর:
নিউসেলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউসেলাস
ব্যাখ্যা
ডিম্বকের পরিস্ফুটন: 
- সপুষ্পক উদ্ভিদের স্ত্রী জননাঙ্গ বলতে স্ত্রীস্তবকের প্রত্যেকটা স্ত্রীকেশর (Carpel) কে বুঝায়। 
- প্রতিটি স্ত্রীকেশর তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা- গর্ভমুন্ড, গর্ভদন্ড ও গর্ভাশয় বা ডিম্বাশয়। 
- ডিম্বাশয়ের অভ্যন্তরে অবস্থিত স্ফিত অংশকে ডিম্বক (Ovule) বলে। 
- ডিম্বক সৃষ্টি হয় গর্ভাশয়ের ভেতরের অমরা (Placenta) হতে। 
- প্রথমে অমরাতে একটি ছোট স্ফিত অঞ্চলের সৃষ্টি হয়, পরে সেটা বড় হয়ে ডিম্বকে পরিণত হয়। 
- ক্ষেত্র বিশেষে একটি ডিম্বাশয়ে এক বা একাধিক ডিম্বক থাকতে পারে। 
- প্রাথমিকভাবে ডিম্বকের টিস্যুকে মূলত দুটি অঞ্চলে ভাগ করা চলে । 
যথা- চারপাশের আবরণী টিস্যু ও মাঝের নিউসেলাস (Nucellus) টিস্যু। 
- পরে বাইরের আবরণটির নিচে অন্য একটি আবরণের সৃষ্টি হয়। 
- বাইরের আবরণকে বহিঃত্বক এবং ভেতরের আবরণকে অন্তঃত্বক বলে। 
- ডিম্বকের অগ্রভাগে একটি অংশে ত্বক না থাকায় নিউসেলাস উন্মুক্ত থাকে। 
- এটিতে একটি ছিদ্র পথ থাকে, যাকে ডিম্বকরন্ধ্র বা মাইক্রোপাইল (Micropyle) বলা হয়। 
- ডিম্বক সৃষ্টির শুরু সবক্ষেত্রে একইভাবে হলেও পরে ডিম্বকের বৃদ্ধি একইভাবে হয় না। 
- এ ব্যতিক্রমের জন্য পূর্ণ গঠিত ডিম্বক নানা আকৃতির হয়। 

ডিম্বকের গঠন: 
- একটি ডিম্বক (Megasporangium = ovule) নিম্নলিখিত অংশগুলো নিয়ে গঠিত- 
১। ডিম্বকনাড়ী (Funiculus): ডিম্বকের বোঁটার ন্যায় অংশকে ডিম্বকনাড়ী বলে। এ বোঁটার সাহায্যে ডিম্বক অমরার সাথে যুক্ত থাকে। 
২। ডিম্বকনাভী (Hilum): ডিম্বকের যে অংশের সাথে ডিম্বকনাড়ী সংযুক্ত থাকে তাকে ডিম্বকনাভী বলে। 
৩। নিউসেলাস (Nucellus): ডিম্বকের মূল দেহকে ভ্ৰূণপোষক টিস্যু বা নিউসেলাস বলে। এটি প্যারেনকাইমা টিস্যু দ্বারা গঠিত এবং ডিম্বকত্বক দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে। 
৪। ডিম্বকমূল (Chalaza): ডিম্বকের গোড়ার দিকে যে অংশ হতে ডিম্বকত্বক উৎপন্ন হয় তাকে ডিম্বকমূল বলে। 
৫। ডিম্বকত্বক (Integument): নিউসেলাসের বাইরের আবরণকে ডিম্বকত্বক বলে। এটি সাধারণত দু'স্তরবিশিষ্ট হয়, তবে ক্ষেত্রবিশেষে একস্তর বিশিষ্টও হতে পারে।
৬। ডিম্বকরন্ধ্র (Micropyle): ডিম্বকত্বক ডিম্বককে সম্পূর্ণ আবৃত না করায় শীর্ষদেশে একটি ছিদ্রের সৃষ্টি হয়। এ ক্ষুদ্র ছিদ্রপথকে ডিম্বকরন্ধ্র বলে। 
৭। ভ্রূণথলি (Embryosac): নিউসেলাসের মধ্যে অবস্তিত থলির ন্যায় অংশকে ভ্রণথলি বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩৩.
১ কিলোক্যালরি সমান কত ক্যালরি?
  1. ১০ ক্যালরি
  2. ১০০০ ক্যালরি
  3. ১০০ ক্যালরি
  4. ১০০০০ ক্যালরি
সঠিক উত্তর:
১০০০ ক্যালরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০০০ ক্যালরি
ব্যাখ্যা
ক্যালরি: 
- ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১০ সেলসিয়াস বাড়াতে প্রয়োজনীয় তাপ হচ্ছে ১ ক্যালরি। 
- ১০০০ ক্যালরি = ১ কিলোক্যালরি। 
- শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ জাতীয় খাদ্য উপাদান থেকে দেহে তাপ উৎপন্ন হয়, এই তাপ দেহের ভিতরে খাদ্যের পরিপাক, বিপাক, শ্বাসকার্য, রক্তসঞ্চালন ইত্যাদি কাজে সাহায্য করে। 
- খাদ্যের তাপশক্তি মাপার একক হলো কিলোক্যালরি। 
- যেসব খাদ্যে শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ পদার্থ থাকে, সেসব খাদ্য থেকে বেশি ক্যালরি পাওয়া যায়। 
- যেসব খাদ্যে পানি ও সেলুলোজের পরিমাণ বেশি থাকে, সেসব খাদ্যে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে। 
- তেল বা চর্বি জাতীয় পদার্থে ক্যালরির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৯৩৪.
রক্তে হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে-
  1. ক) আয়োডিন
  2. খ) লৌহ
  3. গ) ক্যালসিয়াম
  4. ঘ) ফসফরাস
সঠিক উত্তর:
খ) লৌহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লৌহ
ব্যাখ্যা
লৌহ রক্তের একটি প্রধান উপাদান৷ লৌহের প্রধান কাজ হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করা৷ হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে দেহে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৩৫.
মানবদেহের দেহকোষে অটোজোম থাকে কতটি? 
  1. ০২ টি
  2. ২২ টি
  3. ৪৪ টি
  4. ৪৬ টি
সঠিক উত্তর:
৪৪ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৪ টি
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোম: 
- মানবদেহের দেহকোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। 
- এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া বা ৪৪টি ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম। 
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালী ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- লিঙ্গ নির্ধারণে অটোজোমের কোনো ভূমিকা নেই। 
- অন্য এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স-ক্রোমোজোম যা মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারণ করে থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৩৬.
মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের বিকল্প নাম কী?
  1. স্বাধীন সঞ্চারণ সূত্র
  2. ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্র
  3. মনোহাইব্রিড ক্রস সূত্র
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মনোহাইব্রিড ক্রস সূত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনোহাইব্রিড ক্রস সূত্র
ব্যাখ্যা
• মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের অপর নাম মনোহাইব্রিড ক্রস সূত্র/ জনন কোষ শুদ্ধতার সূত্র/ পৃথকীকরণ সূত্র।

• মেন্ডেলের সূত্র:
- জীনতত্ত্বের জনক বলে পরিচিত মেন্ডেল মূলত পেশায় অস্ট্রিয়ার একজন ধর্মযাজক ছিলেন।
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেল বংশগতির দুটি সূত্র প্রদান করেন ।
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩:১।
- মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অনুপাত ৯:৩:৩:১।

• মেন্ডেলের বংশগতির প্রথম সূত্র:
- মেন্ডেলের প্রথম সূত্রকে পৃথকীকরণ সূত্র বলা হয়।
- ‘জীবের প্রতিটি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি একক দায়ী থাকে যাকে ফ্যাক্টর (জিন) বলা হয় এবং ফ্যাক্টর বা জিনগুলো জোড়ায় জোড়ায় থাকে। সঙ্কর জীবে ফ্যাক্টর বা জিনগুলো মিশ্রিত না হয়ে পাশাপাশি অবস্থান করে এবং গ্যামিট উৎপাদনের সময় অপরিবর্তিত অবস্থায় পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গ্যামিটে গমন করে'।

• মেন্ডেলের বংশগতির দ্বিতীয় সূত্র:
- ‘দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন জীবে সঙ্করায়ন ঘটালে গ্যামিট সৃষ্টিকালে প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের ফ্যাক্টর বা জিন যুগলের স্বাধীন সঞ্চারণ বা বিন্যাস ঘটে এবং কোন একটি ফ্যাক্টর যুগলের সঞ্চারণ অন্য ফ্যাক্টর যুগলের উপর নির্ভরশীল নয়'।
- মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অপর নাম - স্বাধীন সঞ্চারণ বা ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্র।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩৭.
অণুচক্রিকা (Platelet) মূল উৎপাদন কেন্দ্র কোনটি?
  1. হৃৎপিণ্ড
  2. অস্থিমজ্জা 
  3. লিভার 
  4. লোমকোষ 
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জা 
ব্যাখ্যা

• অণুচক্রিকা বা প্লেটলেট রক্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা রক্ত জমাট বাঁধা ও ক্ষত সারাতে সহায়তা করে। প্লেটলেট মূলত অস্থিমজ্জা থেকে উৎপন্ন হয়। অস্থিমজ্জায় বিশেষ ধরণের বৃহৎ কোষ থাকে, যাকে মেগাকারিওসাইট বলা হয়। মেগাকারিওসাইটের সাইটোপ্লাজমের ক্ষুদ্র অংশগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে রক্তে প্রবেশ করলে এগুলোই প্লেটলেট হিসেবে পরিচিত হয়। সুতরাং, অণুচক্রিকার উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র হলো অস্থিমজ্জা। অন্য অপশনগুলো—হৃৎপিণ্ড, লিভার বা লোমকোষ—প্লেটলেট উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। অস্থিমজ্জা ছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশ প্লেটলেট তৈরি করতে পারে না, তাই এটি রক্তের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও ক্ষত নিরাময়ে অপরিহার্য।

- সঠিক উত্তর: খ) অস্থিমজ্জা।
 
অণুচক্রিকা: 
- ইংরেজিতে এদেরকে প্লাটিলেট (Platelet) বলে।
- অণুচিক্রকা আকারে ছোট, বর্তুলাকার ও বর্ণহীন, এরা গুচ্ছাকারে থাকে। 
- অস্থিমজ্জার মধ্যে অণুচক্রিকা উৎপন্ন হয়। 
- অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন। 
- পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। 
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- কোন রক্তবাহী নালির ক্ষতি হলে এরা অনতিবিলম্বে থ্রোম্বোপ্লাষ্টিন নামক এক প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসরণ করে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৩৮.
ফ্লোয়েমের কোষীয় উপাদান নয় কোনটি?
  1. সীভনল
  2. ফ্লোয়েম কোলেনকাইমা
  3. সঙ্গীকোষ
  4. ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা
সঠিক উত্তর:
ফ্লোয়েম কোলেনকাইমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্লোয়েম কোলেনকাইমা
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণে উৎপাদিত পদার্থ: 
- উদ্ভিদ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মূলের সাহায্যে পানি শোষণ করে। 
- এ পানি জাইলেম ভেসেলের মাধ্যমে উদ্ভিদের মূল থেকে পাতায় পৌঁছে। 
- পাতা উক্ত পানি এবং বায়ুর কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সহায়তায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে। 
- নিম্নস্তরের সবুজ উদ্ভিদের প্রায় সকল কোষেই খাদ্য তৈরি হয়। 
- কিন্তু উচ্চস্তরের উদ্ভিদে কেবলমাত্র সবুজ অংশ এবং পাতায় সালোকসংশ্লেষণ ঘটে। 
- পাতায় সংশ্লেষিত খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে বলা হয় খাদ্য পরিবহন। 

- উদ্ভিদ পাতা থেকে বিভিন্ন স্থানে যে খাদ্য পরিবহন করে তা দ্রবীভূত তরল অবস্থায় থাকে বলে একে খাদ্যরস বলা হয়। 
- এ খাদ্যরস বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারের পর উদ্ভিদ অতিরিক্ত খাদ্যরসকে অদ্রবণীয় অবস্থায় রূপান্তরিত করে এবং সংরক্ষণ করে। 
- পাতার মেসোফিল টিস্যুতে খাদ্য তৈরি হয়। 
- তৈরির পর ফ্লোয়েমের মাধ্যমে খাদ্য বিভিন্ন স্থানের কোষে পৌঁছায়। 
- ফ্লোয়েমের চারটি কোষীয় উপাদান থাকে। 
যথা- সীভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম তন্তু। 
- এর মধ্যে সীভনল, সঙ্গীকোষ এবং ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা খাদ্যরস পরিবহনে অংশ নেয়। 
- এ তিনটির মধ্যে আবার সীভনল খাদ্য পরিবহনে প্রধান ভূমিকা রাখে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯৩৯.
নিচের কোন উপাদানের অভাবে উদ্ভিদের ক্লোরোসিস হতে পারে? 
  1. লৌহ
  2. ম্যাঙ্গানিজ
  3. দস্তা
  4. উপরোক্ত সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরোক্ত সবগুলোই
ব্যাখ্যা
নাইট্রোজেন (N): 
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। 
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- তার কারণ ক্লোরোফিল ছাড়া অন্যান্য বর্ণকণা বা পিগমেন্ট মিলিতভাবে হলুদ দেখায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' (chlorosis) বলে। 
- লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ বা দস্তার অভাবেও ক্লোরোসিস হতে পারে। 
- কেননা এই উপাদানগুলোও ক্লোরোফিল উৎপাদনের সাথে কোনো না কোনোভাবে জড়িত। 
- ক্লোরোসিসে কোষের বৃদ্ধি এবং বিভাজন হ্রাস পায়, তাই উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে যায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৪০.
'অরিজিন অব স্পিসিস' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) ক্যারোলাস লিনিয়াস
  2. খ) চার্লস ডিকেন্স
  3. গ) চার্লস ডারউইন
  4. ঘ) উইলিয়াম হার্ভে
সঠিক উত্তর:
গ) চার্লস ডারউইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চার্লস ডারউইন
ব্যাখ্যা
ইংলিশ জীববিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন সর্বপ্রথম বিবর্তনের ধারণা দেন। ১৮৫৯ সালে তাঁর আলোড়ন সৃষ্টিকারী গ্রন্থ 'অরিজিন অব স্পিসিস' এ প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব উপস্থাপন করেন যা বৈজ্ঞানিক মহলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পায়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৪১.
মানুষের স্থায়ী দাঁত কয় ধরনের হয়ে থাকে?
  1. ক) তিন
  2. খ) চার
  3. গ) পাঁচ
  4. ঘ) দুই
সঠিক উত্তর:
খ) চার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চার
ব্যাখ্যা
মানুষের স্থায়ী চার ধরনের দাঁত রয়েছে।

যথা-
১. কর্তন দাঁত- এই দাঁত দিয়ে খাবার কেটে টুকরো টুকরো করা হয়। 
২. ছেদন দাঁত- খাবার ছেঁড়া হয়।
৩. অগ্রপেষণ দাঁত- এই ধরনের দাঁত দিয়ে চর্বণ, পেষণ, উভয়ের কাজ করা হয়। 
৪. পেষণ দাঁত- এই দাঁত খাদ্যবস্তু চর্বণ ও পেষণের কাজ করে। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৯৪২.
নিচের কোনটি জীবদেহের শ্বসনে সহায়তা করে?
  1. ক) নিউক্লিয়াস
  2. খ) প্লাস্টিড
  3. গ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  4. ঘ) লাইসোসোম
সঠিক উত্তর:
গ) মাইটোকন্ড্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাইটোকন্ড্রিয়া
ব্যাখ্যা
মাইটোকন্ড্রিয়া জীবদেহের শসনে সহায়তা করে এবং ইহা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ। 

মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria) হচ্ছে এক প্রকার কোষীয় অঙ্গানু, যা সুকেন্দ্রিক কোষে পাওয়া যায়। মাই‌টোক‌ন্ড্রিয়াকে কোষের শ‌ক্তি উৎপাদন কেন্দ্র বা পাওয়ার হাউসও বলা হয়। প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়া দ্বিস্তর পর্দা দ্বারা আবৃত। এর বাইরের পর্দাটি মসৃণ কিন্তু ভেতরের পর্দাটি আঙুলের মতো অনেক ভাঁজ সৃষ্টি করে।

মাইট্রোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ- 
১। মাইটোকন্ড্রিয়াতে কোষীয় শ্বসনের ক্রেবস চক্ক সংঘটিত হয়। এতে জীবদেহের প্রয়ােজনীয় শক্তি উৎপন্ন হয় । এ জন্য এদেরকে কোষের শক্তিঘর (Power house) বলা হয়।
২। এরা প্রােটিন সংশ্লেষেণের প্রয়ােজনীয় এনজাইম ধারণ করে।
৩। মাইটোকন্ডিয়াতে বিভিন্ন ধরনের ক্যাটায়ন, যেমন- Ca, S++, Fe++, Min+ ইত্যাদি সঞ্চিত থাকে।
৪ ডিম্বাণু ও শুক্রাণু গঠনে অংশগ্রহণ করে।
৫। DNA ও RNA সংশ্লেষ করে।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান
৯৪৩.
ভাইরাসের দেহে কী থাকে?
  1. কোষঝিল্লি
  2. এনজাইম
  3. আমিষ
  4. নিউক্লিয়াস
সঠিক উত্তর:
আমিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমিষ
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের গঠনঃ
বিভিন্ন প্রকার ভাইরাসের গঠন বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে।
সাধারণভাবে প্রতিটি ভাইরাস প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত। যথা-প্রােটিন আবরণ তথা ক্যাপসিড ও নিউক্লিক এসিড।

ক্যাপসিড (Capsid):
অপেক্ষাকৃত জটিল ভাইরাসে নিউক্লিক এসিডের বাইরে একে ঘিরে অবস্থিত প্রােটিন আবরণটি হলাে ক্যাপসিড। এ প্রােটিন আবরণটি অসংখ্য প্রােটিন অণু দ্বারা গঠিত। ক্যাপসিড আবরণের এক একটি প্রােটিন অণুকে ক্যাপসােমিয়ার (capsomere) বলে।
এ ক্যাপসােমিয়ার অণুসমূহ নির্দিষ্ট ভাইরাস নির্দিষ্ট ধরণের।
কোনাে কোনাে প্রাণি ভাইরাসের ক্যাপসিডের বাহিরে একটি লিপােপ্রােটিনের স্তর থাকে এবং এর একককে পেপলােমার (peplomer) বলে। এ ধরনের ভাইরাসকে লিপপাভাইরাস (lipovirus) বলে।

নিউক্লিক এসিড (Nucleic Acid):
প্রতিটি ভাইরাস দেহের কেন্দ্রে অবস্থান করে নিউক্লিক এসিড।
নিউক্লিক এসিড ভাইরাসের বংশগতি নির্ধারক পদার্থ। নিউক্লিক এসিড দু'ধরনের তথা DNA (ডি অক্সিরাইবাে নিউক্লিক এসিড) ও RNA (রাইবাে নিউক্লিক এসিড)।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)
৯৪৪.
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য সমষ্টিগত অত্যাবশ্যকীয় উপাদানের সংখ্যা কতটি? 
  1. ৭ টি 
  2. ৯ টি 
  3. ১৬ টি
  4. ১২ টি 
সঠিক উত্তর:
১৬ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬ টি
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি: 
- মাটি ও পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য উদ্ভিদ যে সকল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদের পুষ্টি। এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশ উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টিও বলা হয়। 
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে। এই ৬০টি উপাদানের মধ্যে ১৬টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্তপ্রয়োজনীয়।
- এই ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (Essential elements) বলা হয়, কারণ এ উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয়। এদের যে কোনো একটির অভাব হলে উদ্ভিদের অভাবজনিত লক্ষণ (Deficiency symptoms) প্রকাশ পায় এবং পুষ্টি অভাবজনিত রোগ সৃষ্টি হয়। 

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ: 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুইভাবে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
(ক) ম্যাক্রোউপাদান (Macronutrient) বা মুখ্য উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোউপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৯টি উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও সালফার (S)। 

(খ) মাইক্রোউপাদান (Micronutrient) বা গৌণ উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রোউপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৭টি উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (C) ও ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৪৫.
ভাইরাস ক্রোমোসোমে স্থায়ী উপাদান হিসেবে কোনটি থাকে?
  1. ক) ডিএনএ
  2. খ) আরএনএ
  3. গ) জিন
  4. ঘ) থাইমিন
সঠিক উত্তর:
খ) আরএনএ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আরএনএ
ব্যাখ্যা
আরএনএ (RNA):
- RNA এর পুরো নাম- Ribo Nucleic Acid।
- এটি ক্রোমোসোমের স্থায়ী উপাদান নয়। 
- ক্রোমোসোমে এর পরিমাণ হচ্ছে ০.২-১.৪%।
- প্রতিটি RNA অণু একসূত্রকবিশিষ্ট।
- এটিও পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শর্করা (RNA এর রাইবোজ স্যুগারের ২নং কার্বনে অক্সিজেন অণু বিদ্যমান), অজৈব ফসফেট এবং নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, ইউরাসিল, সাইটোসিন) দিয়ে গঠিত।
- RNA তে নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ ক্ষারক থাইমিনের পরিবর্তে ইউরাসিল উপস্থিত থাকে। 
- এটি ১০% ক্রোমোসোমে থাকে।
- ভাইরাস ক্রোমোসোমে স্থায়ী উপাদান হিসেবে RNA থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯৪৬.
শ্বেত রক্তকণিকার ক্ষেত্রে কোনটি সত্য?
  1. এটিকে দেহের প্রহরী বলা হয়
  2. এটি নিউক্লিয়াসহীন কোষ
  3. এটি রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে
  4. এর গড় আয়ু ১২০ দিন
সঠিক উত্তর:
এটিকে দেহের প্রহরী বলা হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটিকে দেহের প্রহরী বলা হয়
ব্যাখ্যা
রক্তকণিকা:
- মানুষের রক্তে ৩ ধরনের রক্তকণিকা রয়েছে।
যথা-
১. লোহিত রক্তকণিকা,
২. শ্বেত রক্তকণিকা ও
৩. অনুচক্রিকা।

• লোহিত রক্তকণিকা:
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে যার জন্য রক্ত লাল হয়।
- লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস নেই।
- এ কণিকা দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল
- লোহিত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন।

• শ্বেত রক্তকণিকা:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকারনেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১ থেকে ১৫ দিন।
- শ্বেত রক্তকণিকাকে দেহের প্রহরী বলা হয়

• অণুচক্রিকা:
- অণুচক্রিকা হলো গোলাকার, ডিম্বাকার বা রড আকারের।
- এতে নউক্লিয়াস থাকে না।
- অণুচক্রিকা দেহের রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
- অনুচক্রিকার গড় আয়ু ৫ থেকে ১০দিন।

তথ্যসুত্র- জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৪৭.
মাইটোকন্ড্রিয়ায় প্রোটিন থাকে -
  1. ক) ৫৫%
  2. খ) ৬৩%
  3. গ) ৬৮%
  4. ঘ) ৭৩%
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭৩%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭৩%
ব্যাখ্যা
কোষের সাইটোপ্লাজমের মাঝে বিক্ষিপ্তভাগে অবস্থিত ধূসর বর্ণের ও শক্তি উপাদানের বিশেষ ধরনের অঙ্গগুলোকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলা হয়। একে কোষের পাওয়ার হাউজও বলা হয়।
মাইটোকন্ড্রিয়ায় ৭৩% প্রোটিন, ২৫-৩০% লিপিড, এবং সামান্য পরিমানে ডিএনএ ও আরএনএ, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, এএসসি প্রোগ্রাম, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪৮.
নিচের কোনটি biological coin নামে পরিচিত?
  1. NADP
  2. NADH
  3. ATP
  4. FTP
সঠিক উত্তর:
ATP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ATP
ব্যাখ্যা
শ্বসন: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবদেহের কোষে অবস্থিত জটিল যৌগিক খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে সরল দ্রব্যে পরিণত হয় এবং শক্তি উৎপন্ন করে তাকে শ্বসন (respiration) বলে। 
- শ্বসনের সময় খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়। 
- শ্বসন প্রতিটি সজীব কোষে দিন ও রাতের সবসময় ঘটে। 
- কোষের সাইটোপ্লাজম বা সাইটোসল (cytosol) এবং কোষস্থ মাইটোকন্ড্রিয়া নামক অঙ্গানুতে সবাত শ্বসন হয়। 
- অবাত শ্বসন হয় সাইটোপ্লাজমে। 
- সবাত ও অবাত শ্বসনে খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে যে রাসায়নিক শক্তি উৎপাদন করে তা কোষের বিভিন্ন কার্য সম্পাদন করার জন্যে প্রধানত ATP হিসাবে তৈরি ও পরবর্তীতে ব্যবহৃত হয়। সেজন্য ATP কে জৈবনিক মুদ্রা বা biological coin বলা হয়। 
- সবাত শ্বসনের এক অণু গ্লুকোজ সম্পূর্ণ জারনের সর্বশেষ ধাপ কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াতে হয় এবং অন্যান্য উচ্চশক্তিসম্পন্ন রাসায়নিক পদার্থ ATP তে রূপান্তরিত হয় এবং সেজন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বা powerhouse of a cell বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯৪৯.
কোনটির কারণে মরিচ ঝাল লাগে?
  1. ক) অক্সালিক এসিড
  2. খ) ক্যাপসিসিন
  3. গ) ক্যাপসোমিয়ার
  4. ঘ) ভিটামিন সি
সঠিক উত্তর:
খ) ক্যাপসিসিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্যাপসিসিন
ব্যাখ্যা
- ক্যাপসিসিনের কারণে মরিচে ঝাল লাগে।
- ক্যাপসিসিন গন্ধহীন একধরনের অ্যালকালয়েড।
- যে মরিচে যত বেশি ক্যাপসিসিন থাকে সে মরিচ তত বেশি ঝাল।
৯৫০.
গম, ভূট্টা, ইক্ষু এদের পরাগায়ন ঘটে-
  1. ক) প্রাণীর সাহায্যে
  2. খ) মৌমাছির সাহায্যে
  3. গ) বাতাসের সাহায্যে
  4. ঘ) কীটপতঙ্গের সাহায্যে
সঠিক উত্তর:
গ) বাতাসের সাহায্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাতাসের সাহায্যে
ব্যাখ্যা
যেসব ফুলের পরাগায়ন বায়ুর মাধ্যমে হয়ে থাকে তাদের বায়ুপরাগী ফুল বলে। যেমন- ধান, গম, ভুট্টা, ইক্ষু ইত্যাদি।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৫১.
নিচের কোনটি হৃদরোগ ?
  1. ক) প্যরালাইসিস
  2. খ) এপিলেপসি
  3. গ) এনজাইনা
  4. ঘ) পারকিনসন
সঠিক উত্তর:
গ) এনজাইনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এনজাইনা
ব্যাখ্যা
- স্ট্রোক, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, পারকিনসন'স ডিজিজ, আলঝেইমার'স ডিজিজ, GBS, মেনিনজাইটিস, এপিলেপসি প্রভৃতি স্নায়ুরোগ হিসাবে পরিচিত।
- হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর, উচ্চ রক্তচাপ, এনজাইনা, মায়োকার্ডাইটিস, এন্ডোকার্ডাইটিস ইত্যাদি হৃদরোগ হিসাবে পরিচিত।
- নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, সিওপিডি, ব্রঙ্কিয়েকটেসিস ইত্যাদি ফুসফুসের রোগ হিসাবে পরিচিত।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৯৫২.
কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম নয়?
  1. প্লাটিপাস
  2. রাজকাঁকড়া
  3. তেলাপোকা
  4. স্ফোনোডন
সঠিক উত্তর:
তেলাপোকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেলাপোকা
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
যেমন- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্ম। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৯৫৩.
মানুষের হৃৎপিণ্ডে কতটি প্রকোষ্ঠ থাকে?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত।

হৃৎপিণ্ড:
- হৃৎপিণ্ড রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত এক ধরনের পাম্প।
- হৃৎপিণ্ড অনবরত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়।
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরে ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ওপরে অবস্থিত।
হৃৎপিণ্ডটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম পর্দা দিয়ে বেস্টিত থাকে।
- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। 
- ওপরের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান এবং বাম অলিন্দ (Atrium) এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান এবং বাম নিলয় (Ventricles) বলে।
- দুটি অলিন্দের ভেতরকার প্রাচীর পাতলা কিন্তু নিলয় দুটির প্রাচীর পুরু এবং পেশিবহুল।
- ডান অলিন্দের সঙ্গে একটি ঊর্ধ্ব মহাশিরা এবং একটি নিম্ন মহাশিরা যুক্ত থাকে।
- বাম নিলয়ের সঙ্গে চারটি পালমোনারি শিরা যুক্ত থাকে।
- ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি এবং বাম নিলয় থেকে মহাধমনি উৎপত্তি হয়েছে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৫৪.
ভিটামিন-এ এর অভাবে কোন রোগ হয়? 
  1. রিকেটস 
  2. বেরিবেরি 
  3. স্কার্ভি 
  4. রাতকানা 
সঠিক উত্তর:
রাতকানা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাতকানা 
ব্যাখ্যা

ভিটামিন এ: 
- প্রাণিজ উৎসের মধ্যে ডিম, গরুর দুধ, মাখন, ছানা, দই, ঘি, যকৃত ও বিভিন্ন তেলসমৃদ্ধ মাছে, বিশেষ করে ছোট মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-এ পাওয়া যায়। 
- উদ্ভিজ উৎসের মধ্যে ক্যারোটিন সমৃদ্ধ শাক-সবজি যেমন: লালশাক, কচুশাক, পুঁইশাক, পাটশাক, কলমিশাক, ডাঁটাশাক, পুদিনা পাতা, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, বাঁধাকপি, মটরশঁটি এবং বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন: আম, পাকা পেঁপে, কাঁঠাল ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ রয়েছে। 

ভিটামিন-এ এর কাজ: 
- দেহের স্বাভাবিক গঠন এবং বর্ধন সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হওয়ার কাজ নিশ্চিত করে। 
- দেহের বিভিন্ন আবরণী কলা যেমন: ত্বক, চোখের কর্নিয়া ইত্যাদিকে স্বাভাবিক ও সজীব রাখে। 
- হাঁড় এবং দাঁতের গঠন ও দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখে। 
- দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। 
- দেহে রোগ সংক্রমন প্রতিরোধ করে। 
- ভিটামিন-এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। 
- ভিটামিন-এ এর অভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে চোখের কর্নিয়ায় আলসার হতে পারে, এ অবস্থাকে জেরপথ্যালমিয়া রোগ বলে। এই রোগে আক্রান্ত মানুষ পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যেতে পারে। 
- ভিটামিন-এ এর অভাবে দেহের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়। অনেক সময় ঘা, সর্দি, কাশি,গলাব্যাথা ইত্যাদি উপসর্গও দেখা দেয়। 
- ভিটামিন-এ এর অভাবে ত্বকের লোমকূপের গোড়ায় ছোট ছোট গুটির সৃষ্টি হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৫৫.
পূর্ণবয়স্ক সুস্থ একজন ব্যক্তির গড় নাড়ীর স্পন্দন প্রতি মিনিটে কত বার?
  1. ৬৬ বার
  2. ৭২ বার
  3. ৭৮ বার
  4. ৮০ বার
সঠিক উত্তর:
৭২ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭২ বার
ব্যাখ্যা
• পূর্ণবয়স্ক সুস্থ একজন মানুষের হৃৎস্পন্দন গড়ে প্রতি মিনিটে ৭২ বার।

• রক্তচাপ:

- হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অঞ্চলে রক্ত প্রবাহিত হওয়ার সময় প্রবাহমান রক্ত ধমনির স্থিতিস্থাপক প্রাচীরে যে পার্শ্বীয় চাপের সৃষ্টি করে, তাকে রক্তচাপ বলে।
- হৃৎপিণ্ড থেকে দেহে প্রবাহমান রক্ত ধমনির প্রাচীরের ওপর দুই ধরনের পার্শ্বীয় চাপের সৃষ্টি করে। যথা:

১. সিস্টোলিক চাপ বা সিস্টোল:
- হৃৎপিণ্ডের ভেন্ট্রিকল সিস্টোল থাকা অবস্থায় প্রবাহমান রক্ত ধমনির প্রাচীরে যে উচ্চ পার্শ্বীয় চাপের সৃষ্টি করে তাকে সিস্টোলিক চাপ বলে।
- এ চাপ ১১০-১৪০ মি.মি. পারদ (Hg).

২. ডায়াস্টোলিক চাপ বা ডায়াস্টোল:
- হৃৎপিণ্ডের ভেন্ট্রিকলদ্বয় ডায়াস্টোল থাকা অবস্থায় প্রবাহমান রক্ত ধমনির প্রাচীরে যে পার্শ্বীয় নিম্নচাপের সৃষ্টি করে তাকে ডায়াস্টোলিক চাপ বলে।
- ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ৬০-৯০ মি.মি. পারদ (Hg) পর্যন্ত ওঠানামা করে।
- সুস্থ স্বাভাবিক পূর্ণবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক চাপ ১২০ মি.মি. পারদ এবং ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০ মি.মি. পারদ (Hg).
- এ পরিমাপকে আদর্শ রক্তচাপ ধরা হয়।
- স্ফিগমোম্যানোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে মানুষের রক্তচাপ নির্ণয় করা হয়।
- একবার সিস্টোল এবং তার পরবর্তী ডায়াস্টোলকে একত্রে হৃৎস্পন্দন বা হার্টবিট বলে।
- পূর্ণবয়স্ক সুস্থ একজন মানুষের হৃৎস্পন্দন গড়ে প্রতি মিনিটে ৭২ বার।
- রক্তের সান্দ্রতা (viscosity), প্রান্তীয় রোধ (peripheral resistance) এবং দেহের রক্তের মোট পরিমাণের ওপর রক্তচাপ নির্ভর করে।
- রক্তচাপ মাপার জন্য Sphygmomanometer ও Stethoscope ব্যবহার করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৯৫৬.
গ্যামেটোজেনেসিস কত প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
ক) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২
ব্যাখ্যা
গ্যামিটোজেনেসিস বা গ্যামিট সৃষ্টি (Gametogenesis):

- যৌন জননক্ষম মানুষের জননকোষ বা গ্যামিট সৃষ্টি হওয়ার প্রক্রিয়াকে গ্যামেটোজেনেসিস বলে।
- গ্রিক gamos জননকোষ এবং genesis-উৎপত্তি হওয়া এর সমন্বয়ে gametogenesis শব্দটি গঠিত।
- যৌন জননক্ষম পরিণত পুরুষের শুক্রাশয় এবং স্ত্রীর ডিম্বাশয়ের জার্মিনাল এপিথেলিয়াম কোষ থেকে গ্যামেটোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় যথাক্রমে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়।
- গ্যামেটোজেনেসিস দু'প্রকার। যথা-
১) স্পার্মাটোজেনেসিস। 
২) উওজেনেসিস।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫৭.
মূল ও কান্ডের মজ্জায় কোন ভাজক টিস্যুর সৃষ্টি হয়?
  1. রিব ভাজক টিস্যু
  2. মাস ভাজক টিস্যু
  3. প্লেট ভাজক টিস্যু
  4. গ্রাউন্ড ভাজক টিস্যু
সঠিক উত্তর:
রিব ভাজক টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিব ভাজক টিস্যু
ব্যাখ্যা
বিভাজন প্রক্রিয়া অনুসারে ভাজক টিস্যুর প্রকারভেদ: 
- বিভাজন প্রক্রিয়ার ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে ভাজক টিস্যুকে তিনভাগে বিভক্ত করা হয়। 
যথা - 
১। মাস ভাজক টিস্যু, 
২। রিব ভাজক টিস্যু ও 
৩। প্লেট ভাজক টিস্যু। 

মাস ভাজক টিস্যু: 
- যে ভাজক টিস্যুর কোষ সব তলেই বিভাজিত হয় তাকে মাস ভাজক টিস্যু বলে। এ প্রকার বিভাজনের ফলে উদ্ভিদ দেহের আয়তন বাড়ে। 
যেমন- কর্টেক্স, এন্ডোস্পার্ম।  

রিব ভাজক টিস্যু: 
- যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো মাত্র একটি তলে বিভক্ত হয় তাকে রিব ভাজক টিস্যু বলে। এ ধরনের বিভাজনের ফলে এক সারি কোষ সৃষ্টি হয়। 
যেমন- মূল ও কান্ডের মজ্জায় এই ধরনের টিস্যু সৃষ্টি হয়। 

প্লেট ভাজক টিস্যু: 

- যে ভাজক টিস্যুর কোষগুলো দুটি তলে বিভক্ত হয় তাদের প্লেট ভাজক টিস্যু বলা হয়। 
যেমন- পাতার টিস্যু। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫৮.
কোন ভিটামিন রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে?
  1. ভিটামিন A
  2. ভিটামিন C
  3. ভিটামিন K
  4. ভিটামিন D
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন K
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন K
ব্যাখ্যা
• ভিটামিন K রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

• রক্ততঞ্চন: 
- দেহের কোথাও ক্ষত সৃষ্টির ফলে কোনো রক্তবাহিকার এন্ডোথেলিয়াম ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্তপাত বন্ধের উদ্দেশে ও সংক্রমণ প্রতিরোধে যে জটিল জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায়
   ফাইব্রিন জালক সৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষতস্থানে রক্তকে থকথকে পিণ্ডে পরিণত করে সে প্রক্রিয়াকে রক্তের জমাট বাঁধা বা রক্ত তঞ্চন বলে।
• এ প্রক্রিয়ায় অণুচক্রিকা ও রক্তরসে উপস্থিত ১৩ ধরনের ক্লটিং ফ্যাক্টর (clotting factor) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

• এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ৪টি ফ্যাক্টর হলো-
(i) ফাইব্রিনোজেন,
(ii) প্রোথ্রম্বিন,
(iii) থ্রম্বোপ্লাস্টিন ও
(iv) Ca2+

• এর মধ্যে ২ নং ফ্যাক্টর টি হলো প্রোথ্রম্বিন। এটি প্লাজমা প্রোটিন।
-  এটি ভিটামিন K-র উপস্থিতিতে যকৃতে সংশ্লেষিত হয়। এটি রক্ত তঞ্চনের সময়ে প্রম্বিনে পরিণত হয়।
- ভিটামিন K রক্ত জমাট বাঁধতে ভূমিকা রাখে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি; গাজী আজমল।
৯৫৯.
"Survival of the fittest" ধারণাটি সর্বপ্রথম কোন বিজ্ঞানী ব্যবহার করেন?
  1. ল্যামার্ক
  2. গ্রেগর মেন্ডেল
  3. থমাস হাক্সলি
  4. হার্বার্ট স্পেন্সার
সঠিক উত্তর:
হার্বার্ট স্পেন্সার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হার্বার্ট স্পেন্সার
ব্যাখ্যা

"Survival of the fittest" ধারণাটি প্রথম ব্যবহার করেন হার্বার্ট স্পেন্সার, একজন সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিক।
- পরে চার্লস ডারউইন তার প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection) তত্ত্ব ব্যাখ্যা করার সময় এই বাক্যাংশটি গ্রহণ করেন।
- অর্থাৎ, পরিবেশের সাথে সবচেয়ে বেশি মানিয়ে নিতে সক্ষম জীবই টিকে থাকে ও বংশবিস্তার করে।

প্রাকৃতিক নির্বাচন বা যোগ্যতমের উর্দ্ধতন (Natural Selection or Survival of the Fittest):
- ডারউইনের মতে জীবন ধারণের সংগ্রামে কেবল সেই জীব সাফল্য লাভ করে যাদের দেহে সংগ্রামের পক্ষে অনুকূলে এবং অধিকতর ও সঙ্গত সামঞ্জস্যপূর্ণ অভিযোজন বা প্রকরণ থাকে।
- যে সকল জীবের অভিযোজন বা প্রকরণ সংগ্রাম উত্তরণের উপযোগী নহে তারা পৃথিবী হতে বিলীন হয়ে যায়।
- ডারউইন একে প্রাকৃতিক নির্বাচন (natural selection) বলে অভিহিত করেছেন।
- Herbert Spencer একে যোগ্যতমের উর্দ্ধতন (survival of the fittest) হিসেবে অ্যাখায়িত করেছেন।

অন্যান্য অপশনসমূহ:
- ল্যামার্ক: তিনি 'অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার' তত্ত্বের প্রবক্তা।
- গ্রেগর মেন্ডেল: তিনি বংশগতিবিদ্যার জনক।
- থমাস হাক্সলি: তিনি ডারউইনের একজন শক্তিশালী সমর্থক ও প্রচারক ছিলেন, কিন্তু এই শব্দটির প্রবক্তা নন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬০.
বৃক্কের গাঠনিক বা কার্যিক একককে কী বলে?
  1. নেফ্রন
  2. নিউরন
  3. রেচন
  4. কিডনী
সঠিক উত্তর:
নেফ্রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেফ্রন
ব্যাখ্যা

মানুষের বৃক্ক:
- যে প্রক্রিয়ায় কোষীয় বিপাকের ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশিত হয় তাকে রেচন বলে।
- যে তন্ত্রের মাধ্যমে রেচনকার্য সম্পন্ন হয় তাকে রেচনতন্ত্র বলে।
- বৃক্ক মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ।
- বৃক্কের গাঠনিক বা কার্যিক একককে নেফ্রন বলে।
- মানুষের প্রতিটি বৃক্কে ১০-১২ লাখ নেফ্রন থাকে।
- বৃক্ক মানুষের দেহে এবং রক্তে পানির ভারসাম্য রক্ষা করে।
- রক্তে লবণের পরিমান নিয়ন্ত্রণ করে।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- একটি পরিণত বৃক্কের দৈর্ঘ্য ১০-১২ সেন্টিমিটার,প্রস্থ ৫-৬ সেন্টিমিটার এবং স্থুলত্ব ৩ সেন্টিমিটার।
- পুরুষ মানুষের প্রতিটি বৃক্কের ওজন ১৫০-১৭০ গ্রাম এবং প্রতিটি মহিলা মানুষের বৃক্কের ওজন ১৩০-১৫০ গ্রাম।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান,একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি,গাজী আজমল ও প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬১.
শর্করার গঠন উপাদান কোনটি?
  1. কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন
  2. কার্বন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
  3. কার্বন, হাইড্রোজেন ও নাইট্রোজেন
  4. হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট: 
- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যতম প্রধান খাদ্য বা প্রধান পুষ্টি উপাদান। 
- দেহের শক্তি উৎপাদনকারী খাদ্য উপাদানের মধ্যে শর্করা অপরিহার্য। 
- প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এমন খাদ্যসমূহের বেশিরভাগই শর্করা জাতীয় খাদ্য। 
- দেহের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মশক্তি ও তাপশক্তির ৬০%-৭০% শক্তি কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য হতে গ্রহণ করা হয়। 
- ১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা হতে ৪ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। 
- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেটের মূল গঠন উপাদান হলো- কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O)। 
- কার্বোহাইড্রেট অণুতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন ২ : ১ অনুপাতে অবস্থান করে। 
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত জৈব যৌগের মধ্যে কার্বোহাইড্রেটের সংখ্যাই বেশি। 

শর্করার শ্রেণিবিভাগ: 
- গাঠনিক বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে শর্করাকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। এক-শর্করা (Monosaccharide): 
- Mono অর্থ এক এবং Saccharide অর্থ চিনি, এ থেকেই Mono Saccharide বা এক-শর্করার নামকরণ করা হয়েছে। এক অণুবিশিষ্ট সরল শর্করাকে এক-শর্করা বলা হয়। মনোস্যাকারাইডকে বিশ্লেষণ করলে কেবল কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পাওয়া যায়। 
যেমন- গ্লুকোজ, ফ্রক্টোজ ও গ্যালাক্টোজ। 

২। দ্বি-শর্করা (Disaccharide): 
- ডাই অর্থ দুই। দুটি এক-শর্করার অণু যুক্ত হয়ে দ্বি-শর্করা তৈরি হয়। দ্বি-শর্করাকে বিশ্লেষণ করলে ২টি এক-শর্করা পাওয়া যায়। 
যেমন- সুক্রোজ, মল্টোজ ও ল্যাকটোজ। 
- এদের বিশ্লেষণ করলে ২টি করে এক-শর্করা পাওয়া যাবে। 
• সুক্রোজ → গ্লুকোজ + ফ্রুক্টোজ, 
• মল্টোজ → গ্লুকোজ + গ্লুকোজ, 
• ল্যাকটোজ → গ্লুকোজ + গ্যালাকটোজ। 

৩। বহু শর্করা (Poly Saccharide): 
- বহু শর্করাগুলো জটিল শর্করা। অনেকগুলো বা দুই এর অধিক। এক-শর্করা অণু যুক্ত হয়ে বহু শর্করা গঠিত হয়। 
যেমন- সেলুলোজ, স্টার্চ ও গ্লাইকোজেন। 
- এদের ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করলে এক শর্করা পাওয়া যায়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬২.
সালোকসংশ্লেষণে সূর্যের আলোর রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা হলো-
  1. ০%
  2. ১০-১৫%
  3. ৩-৬%
  4. ১০০%
সঠিক উত্তর:
৩-৬%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩-৬%
ব্যাখ্যা
সালোক সংশ্লেষণ: 
- যে উদ্ভিদ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্য্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোক সংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে।
- যেহেতু সালোক সংশ্লেষনে এর সময় কার্বন-ডাই-অক্সাইড শর্করা জাতীয় খাদ্যে রূপান্তরিত হয় সুতরাং ফটোসিনথেসিস প্রক্রিয়ার এই অংশকে কার্বন আত্তীকরণ পদ্ধতি বলে। 
- সুতরাং সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে আলোচনার জন্য দুটি অংশে ভাগ করা যায়।
- প্রথমত সালোক সংশ্লেষণ বা আলোক রাসায়নিক বিক্রিয়া বা আলোক পর্যায় এবং দ্বিতীয়ত কার্বন ডাই-অক্সাইড বিজারণ বা কার্বন আত্তীকরণ প্রক্রিয়া। 
- সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার রাসায়নিক বিক্রিয়া নিচে দেওয়া হলো- 


- সালোক সংশ্লেষণের জন্য চারটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে- (১) আলো, (২) ক্লোরোফিল, (৩) পানি ও (৪) কার্বন ডাই-অক্সাইড। 
- সূর্য হতে যে আলো পৃথিবীতে আসে তার যে অংশ উদ্ভিদের পাতায় পতিত হয় সে অংশের শতকরা ১ থেকে ২ ভাগ মাত্র সালোক সংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়, বাকী ৯৮ থেকে ৯৯ ভাগ সূর্যরশ্মি প্রতিফলিত হয়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে অথবা কিছু অংশ তাপ শক্তি রূপে শোষিত হয়। 

উল্লেখ্য, 
- অপশন গ) ৩-৬% এর উত্তরটি শতকরা ১-২ ভাগের কাছাকাছি হওয়ায় এই উত্তরটি নেওয়া হয়েছে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬৩.
প্রসূতি মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় দৈনিক মোট ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ-
  1. ২৬০০ ক্যালরি
  2. ২১০০ ক্যালরি
  3. ১৯৫০ ক্যালরি
  4. ৫০০ ক্যালরি
সঠিক উত্তর:
২৬০০ ক্যালরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৬০০ ক্যালরি
ব্যাখ্যা

প্রসূতি মায়ের খাদ্য:
- প্রসব-পরবর্তী নবজাতকের দুধের চাহিদা পূরণ ও মায়ের স্বাস্থ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য এই সময় মায়ের বেশি পুষ্টিকর খাদ্যের প্রয়োজন।
- প্রসূতি মাকে দৈনিক গড়ে ৬৫০ থেকে ৮৫০ মিলিলিটার দুধ উৎপাদন করতে হয়। এই দুধ উৎপাদনের জন্য মাকে অতিরিক্ত ৫০০ ক্যালরি গ্রহণ করতে হয়।
- দৈনিক প্রসূতি মায়ের মোট ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ হচ্ছে (২১০০ + ৫০০) = ২৬০০ ক্যালরি।
- দুধের প্রোটিন তৈরির জন্য মাকে দৈনিক ৭০ - ৭৫ গ্রাম প্রোটিন জাতীয় খাদ্য, যেমন- মাছ, মাংস, ডিম, ডাল গ্রহণ করতে হবে।
 - ক্যালসিয়াম ও লৌহসমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। দুধ, কাঁটাসহ ছোট মাছ, ডিম, সবুজ শাক-সবজি, যকৃত ইত্যাদিতে ক্যালসিয়াম ও লৌহ পাওয়া যায়।
- শারীরিক সুস্থতার জন্য বেশি পরিমাণে শাক-সবজি ও ফল খেতে হবে। প্রসবের পর এক মাস ফলিক এসিড খেতে হবে।
- বিশুদ্ধ পানি, দুধ ও পানি জাতীয় খাদ্য বেশি পরিমাণে খেতে হবে।
- মায়ের দুধ শিশুর আদর্শ খাদ্য। এই দুধে শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় সব কয়টি পুষ্টি উপাদান থাকে। তাই দুগ্ধ উৎপাদন ও মায়ের দুর্বলতা রোধের জন্য মাকে নিয়মিত সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
- প্রসূতি মাকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। দৈনিক হালকা হাঁটা-চলা ও ঘরের হালকা কাজ করতে পারবে।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬৪.
ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর কী দ্বারা পঠিত?
  1. প্রোটিন ও কাইটিন
  2. লিপিড ও প্রোটিন
  3. কাইটিন ও লিপিড
  4. লিগনিন ও সুবেরিন
সঠিক উত্তর:
লিপিড ও প্রোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিপিড ও প্রোটিন
ব্যাখ্যা
• কোষপ্রাচীর (cell wall):
- কোষপ্রাচীর উদ্ভিদ কোষের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
- এটি মৃত বা জড়বস্তু দিয়ে তৈরি। প্রাণিকোষে কোষপ্রাচীর থাকে না।
- কোষপ্রাচীরের রাসায়নিক গঠন বেশ জটিল, এতে সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ, লিগনিন, পেকটিন, সুবেরিন নামক রাসায়নিক পদার্থ থাকে।
- তবে ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর প্রোটিন, লিপিড ও পলিস্যাকারাইড দিয়ে তৈরি ।
- ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি।
- প্রাথমিক কোষ প্রাচীরটি এক স্তরবিশিষ্ট। 
- কোষপ্রাচীর কোষকে দৃঢ়তা প্রদান করে, কোষের আকার ও আকৃতি বজায় রাখে।
- পাশের কোষের সাথে প্লাজমোডেজমাটা (আণুবীক্ষণিক নালি) সৃষ্টির মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করে এবং পানি ও খনিজ লবণ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৬৫.
অ্যামিবা কোন প্রতিসাম্য প্রদর্শন করে?
  1. অরীয় প্রতিসাম্য
  2. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য​
  3. অপ্রতিসাম্য
  4. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য
সঠিক উত্তর:
অপ্রতিসাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপ্রতিসাম্য
ব্যাখ্যা
প্রতিসাম্য: 
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে। 
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১। অপ্রতিসাম্য: 
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

২। গোলীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)। 

৩। অরীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)। 

৪। দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য: 
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)। 

৫। দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য: 
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬৬.
উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কোন জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে?
  1. ক) প্রোটিন
  2. খ) কার্বোহাইড্রেট
  3. গ) ফ্যাট
  4. ঘ) ভিটামিন
সঠিক উত্তর:
খ) কার্বোহাইড্রেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কার্বোহাইড্রেট
ব্যাখ্যা
যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ নিজস্ব ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাইঅক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬৭.
রক্তের লাল রঙের জন্য কোন পদার্থ দায়ী? 
  1. হিমোগ্লোবিন 
  2. প্লাজমা 
  3. লিউকোসাইট 
  4. বিলিরুবিন
সঠিক উত্তর:
হিমোগ্লোবিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমোগ্লোবিন 
ব্যাখ্যা

• হিমোগ্লোবিন হলো লোহিত রক্তকণিকায় অবস্থিত একটি লৌহঘটিত প্রোটিন রঞ্জক। এই প্রোটিনে আয়রন বা লোহা থাকায় এটি অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন গঠন করে, যার ফলে রক্ত উজ্জ্বল লাল দেখায়।

• রক্ত: 
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। 
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- তবে কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৬৮.
নিচের কোন উদ্ভিদটি আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদের উদাহরণ? 
  1.  ইক্ষু 
  2.  তামাক 
  3. চন্দ্রমল্লিকা 
  4. আউশ ধান 
সঠিক উত্তর:
আউশ ধান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আউশ ধান 
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদে আলো-অন্ধকারের ছন্দকে বায়োলজিক্যাল ক্লক বলা হয়।
- উদ্ভিদের আলো-অন্ধকারের ছন্দের উপর ভিত্তি করে পুষ্পধারী উদ্ভিদকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
১। স্বল্প দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ: 
- যে সব উদ্ভিদে পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ৮-১২ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন। 
যেমন- সয়াবিন, আলু, ইক্ষু, তামাক, শিম, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া ইত্যাদি। 
 
২। দীর্ঘ দিবা দৈর্ঘ্যের উদ্ভিদ: 
- পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে ১২-১৬ ঘণ্টা আলো প্রয়োজন হয়। 
যেমন- পালংশাক, আফিম, ভুট্টা, যব, লেটুস, ঝিঙা ইত্যাদি। 
 
৩। আলোক নিরপেক্ষ উদ্ভিদ: 
- পুষ্পায়নে আলো কোনও প্রভাব ফেলে না। 
যেমন- টমেটো, কার্পাস, আউশ ধান, শসা, সূর্যমুখী ইত্যাদি। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬৯.
কোন রক্তকণিকাকে দেহের প্রহরী বলা হয়?
  1. শ্বেত রক্তকণিকা
  2. লোহিত রক্তকণিকা
  3. অণুচক্রিকা
  4. হিমোগ্লোবিন
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্তকণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্তকণিকা
ব্যাখ্যা
• লোহিত রক্তকণিকা:
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে যার জন্য রক্ত লাল হয়।
- লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস নেই।
- এ কণিকা দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।
- লোহিত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন।

• শ্বেত রক্তকণিকা:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকারনেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১ থেকে ১৫ দিন।
- শ্বেত রক্তকণিকাকে দেহের প্রহরী বলা হয়।

• অণুচক্রিকা:
- অণুচক্রিকা হলো গোলাকার, ডিম্বাকার বা রড আকারের।
- এতে নিউক্লিয়াস থাকে না।
- অণুচক্রিকা দেহের রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
- অনুচক্রিকার গড় আয়ু ৫ থেকে ১০ দিন।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৭০.
রক্তনালির ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনাকে কী বলা হয়?
  1. অ্যানিমিয়া
  2. থ্যালাসেমিয়া
  3. পলিসাইথিমিয়া
  4. থ্রম্বোসাইটোসিস
সঠিক উত্তর:
থ্রম্বোসাইটোসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থ্রম্বোসাইটোসিস
ব্যাখ্যা
রক্ত উপাদানের অস্বাভাবিক অবস্থা: 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 
যেমন- 
১. পলিসাইথিমিয়া: 
- হিমোগ্লোবিনের মাত্রা এবং রক্তকোষের সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় অত্যাধিক বৃদ্ধি পাওয়া। 

২. অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা: 
- হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যাওয়া। 

৩. লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কোষের সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কোষের সংখ্যা সেসবের চাইতেও অত্যধিক হারে বেড়ে যায়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 
- লিউকেমিয়ার বেশ কিছু ধরন রয়েছে যেগুলো অনেকাংশে নিরাময়যোগ্য। 

৪. লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কোষের সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যায়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়। 

৫. থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- এ অবস্থায় অণুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। 
- রক্তনালির অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। 
- হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালির রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস এবং গুরু মস্তিষ্কের রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

৬. পারপুরা: 
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে ত্বকের নিচে রক্তপাত হয়ে এ অবস্থা হতে পারে। 
- এ অবস্থায় অণুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

৭. থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া একধরনের বংশগত রক্তের রোগ। 
- এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তস্বল্পতা সৃষ্টি হয়। 
- হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যায়, ফলে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। 
- এ রোগটি মানুষের অটোজোমে অবস্থিত প্রচ্ছন্ন জিনের দ্বারা ঘটে। যখন মাতা ও পিতা উভয়ের অটোজোমে এ জিনটি প্রচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে, তখন তাদের সন্তানদের মধ্যে প্রচ্ছন্ন জিন দুটি একত্রিত হয়ে এই রোগের প্রকাশ ঘটায়। 
- সাধারণত শিশু অবস্থায় থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়। এ রোগের জন্য রোগীকে নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। 
- তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রক্তস্বল্পতার হার কমে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৭১.
কোন ফুলকে উভলিঙ্গ (Bisexual) বলা হয়?
  1. লাউ 
  2. জবা 
  3. কুমড়া 
  4. হাতীশুঁড়
সঠিক উত্তর:
জবা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জবা 
ব্যাখ্যা

প্রজনন অঙ্গ: ফুল 
- প্রজননের জন্য রূপান্তরিত বিশেষ ধরনের বিটপ (Shoot) হলো ফুল। 
- ফুল উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ। 
- একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি স্তবকের মধ্যে দুটি স্তবক (পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক) প্রজননের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ যারা সরাসরি প্রজননে অংশ নেয়, কিন্তু অন্য স্তবকগুলো সরাসরি অংশ না নিলেও প্রজননে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করে। 
- যে ফুলে এই পাঁচটি স্তবকই উপস্থিত থাকে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- জবা, ধুতুরা। 
- এই পাঁচটি স্তবকের যেকোনো একটি স্তবক না থাকলে সে ফুলকে অসম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- লাউ, কুমড়া। 
- বৃন্তযুক্ত ফুলকে সবৃন্তক যেমন- জবা, কুমড়া এবং বৃন্তহীন ফুলকে অবৃন্তক ফুল বলে যেমন- হাতীশুঁড়। 
- যখন কোনো ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক দুটোই উপস্থিত থাকে, তাকে উভলিঙ্গ ফুল (Bisexual flower) যেমন- জবা, ধুতুরা। 
- পুংস্তবক বা স্ত্রীস্তবকের যেকোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে তাকে একলিঙ্গ ফুল (Unisexual flower) যেমন লাউ, কুমড়া এবং দুটোই অনুপস্থিত থাকলে ক্লীব ফুল (Neuter flower) বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৭২.
কোন হরমোন উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে?
  1. অক্সিন
  2. সাইটোকাইনিন
  3. ফ্লোরিজেন
  4. ভার্নালিন
সঠিক উত্তর:
ফ্লোরিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্লোরিজেন
ব্যাখ্যা
ফাইটোহরমোন: 
- যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ উদ্ভিদদেহে উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন বা প্রাণরস বলে। 
- উদ্ভিদ হরমোনকে ফাইটোহরমোন (Phytohormones) বলা হয়। কেউ কেউ ফাইটোহরমোনকে উদ্ভিদ বৃদ্ধিকারক বস্তু (Plant growth substances) হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। 
- যে রাসায়নিক বস্তুটি কোষে উৎপন্ন হয় এবং উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষ বা কোষপুঞ্জের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে হরমোন (Hormone) বলে। 
- উদ্ভিদের প্রতিটি কোষই হরমোন উৎপন্ন করতে পারে। 
- এরা কোনো পুষ্টিদ্রব্য নয় তবে ক্ষুদ্রমাত্রায় উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
যেমন: অক্সিন (Auxin), জিবেরেলিন (Gibberellin), সাইটোকাইনিন (Cytokinin), অ্যাবসিসিক এসিড (Abscisic acid), ইথিলিন (Ethylene) ইত্যাদি। 

- এসব হরমোন ছাড়াও উদ্ভিদে আরও কিছু হরমোন রয়েছে, যাদের আলাদা করা বা শনাক্ত করা যায়নি, এদের পসটুলেটেড হরমোন (Postulated hormones) বলে। 
- এরা প্রধানত উদ্ভিদের ফুল ও জনন সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকাশে সাহায্য করে। 
- এদের মধ্যে ফ্লোরিজেন (Florigen) এবং ভার্নালিন (Vernalin) প্রধান। 
- ফ্লোরিজেন পাতায় উৎপন্ন হয় এবং তা পত্রমূলে স্থানান্তরিত হয়ে পত্রমুকুলকে পুষ্পমুকুলে রূপান্তরিত করে। 
- ফ্লোরিজেন উদ্ভিদে ফুল ফোটাতে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৭৩.
কোন উদ্ভিদের দেহ খন্ডিত হলে সেই খন্ডিত অংশ স্বাধীন উদ্ভিদ হিসেবে জীবনযাপন শুরু করে?
  1. ক) স্পাইরোগাইরা
  2. খ) ছত্রাক
  3. গ) এমিবা
  4. ঘ) হাইড্রা
সঠিক উত্তর:
ক) স্পাইরোগাইরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্পাইরোগাইরা
ব্যাখ্যা

স্পাইরোগাইরা, মিউকর ইত্যাদি উদ্ভিদের কোনো কারণ দেহ খন্ডিত হলে সেই খন্ডিত অংশ স্বাধীন উদ্ভিদ হিসেবে জীবনযাপন শুরু করে৷
উৎসঃবিজ্ঞানঃঅষ্টম শ্রেণী

৯৭৪.
শুকানোর মাধ্যমে খাদ্য সংরক্ষণ করা যায় কারণ-
  1. শুকানো প্রক্রিয়ায় তাপে জীবাণু মরে
  2. পচনের বিক্রিয়ার পানি লাগে
  3. শুষ্ক খাদ্যে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব কম
  4. পচনকারী জীবাণু পানি ছাড়া বাঁচে না
সঠিক উত্তর:
পচনকারী জীবাণু পানি ছাড়া বাঁচে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পচনকারী জীবাণু পানি ছাড়া বাঁচে না
ব্যাখ্যা
• খাদ্য সংরক্ষণের বিভিন্ন কৌশল:

১। শুষ্ককরণ (Drying Process) : রোদে শুকিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়। এতে খাদ্যের উপর পানির পরিমাণ কমে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি বাধাগ্রস্থ হয়। পচনশীল জীবাণু পানি ছাড়া বাঁচে না তাই খাদ্যবস্তু থেকে পানি শুকিয়ে নিয়ে তা সংরক্ষণ করা যায়। এতে খাদ্যের ছত্রাক, জীবাণু ও এনজাইম প্রতিহত হয় এবং কোনো বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়াই খাদ্য অনেকদিন সংরক্ষণ করা যায়। ধান বা চাল, গম, ডাল ইত্যাদি রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায়।

২। শীতলীকরণ (Cooling Process): এ পদ্ধতিতে নিম্ন তাপমাত্রায় অণুজীবের পুনরুৎপাদন এবং বংশবিস্তার হ্রাস পায়। তাছাড়া যে সকল এনজাইম খাদ্য পচনে সাহায্য করে এদের কার্যকলাপ হ্রাস পায়, ফলে খাদ্য সংরক্ষিত থাকে।

৩। ভ্যাকুয়াম প্যাকিং : বায়ুশূণ্য পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া বাঁচার জন্য প্রয়োজনীয় �2O2​ পায় না। ফলে অণুজীব মারা যায় এবং খাদ্য সংরক্ষিত অবস্থায় থাকে।

৪। লবণ যুক্তকরণ/কিউরিং (Curing): অসমোসিস পদ্ধতিতে লবণ মাছ, মাংস থেকে আর্দ্রতা সরিয়ে নেয়। তাছাড়া লবণ ক্লস্ট্রিডিয়াম বটুলিনাম নামক অণুজীব যা খাদ্য পচনজনিত বিষ ক্রিয়া সৃষ্টি করে এর বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্থ করে।

৫। চিনিযুক্তকরণ : চিনির শিরাপ বা কেলাস আকারে ফল সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। এ পদ্ধতিতে খাদ্য কেলাসন না হওয়া পর্যন্ত চিনিতে রান্না করা হয়। প্রক্রিয়াকৃত খাদ্য শুষ্ক অবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়। যেমন- লাউ, কুমড়ো এদের মোরোব্বা এ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়।

৬। পিকলিং (Pickling): এটি হচ্ছে খাদ্যকে কোনো Anti-microbial তরলে সংরক্ষণ করা। এতে খাদ্যকে কোনো তরলে ডুবিয়ে রাখা হয় যাতে ব্যাকটেরিয়া এবং অণুজীব ধ্বংস হয়। সাধারণত অ্যালকোহল, সরিষার তেল, ব্রাইন (NaCl এর গাঢ় জলীয় দ্রবণ) এক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

৭। লাইযুক্তকরণ (Liquidation): লাই দ্রবণ হিসেবে NaOH বা KOH বা 3Na2​CO3​ এর দ্রবণ ব্যবহৃত হয়। এ দ্রবণ খাদ্যকে এতে বেশি ক্ষারীয় করে যে ব্যাকটেরিয়া বাঁচতে পারে না। তাছাড়া লাই দ্রবণ চর্বিকে সাবানায়ন করে। এতে খাদ্যের গঠন এবং স্বাদ পরিবর্তন হয়।

৮। জেলিকরণ (Jelly): খাদ্যকে এমন একটি পদার্থের সাথে রান্না করা হয় যা শীতল করলে কঠিন জেল এ পরিণত হয়। এক্ষেত্রে পানির পরিমাণ কমে খাদ্য সংরক্ষিত হয়।

৯। Smoking বা ধুমায়িতকরণ: খাদ্যদ্রব্যকে কাঠ পুড়িয়ে ধোঁয়া তৈরি করে সে ধোঁয়াতে উন্মুক্ত করে সংরক্ষণ করা হয়। এতে খাদ্যের সেলফ লাইফ বাড়ে বা অনেকদিন টাটকা থাকে।

১০। তেজস্ক্রিয় রশ্মি (Radioactive rays): গামা রশ্মি, UV রশ্মি, IR রশ্মি প্রয়োগ করে খাদ্য সংরক্ষণ করা যায়। এর সাহায্যে অণু জীব বিনষ্ট করা হয়। অনুজীব বংশবিস্তার করতে পারে না।
৯৭৫.
কোনটি প্রাণী বৈচিত্র্যের প্রকারভেদ নয়?
  1. জিনগত বৈচিত্র্য
  2. আকৃতি বৈচিত্র্য
  3. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য
  4. বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য
সঠিক উত্তর:
আকৃতি বৈচিত্র্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকৃতি বৈচিত্র্য
ব্যাখ্যা
প্রাণিজগতের বিভিন্নতা বা প্রাণী বৈচিত্র্য (Animal diversity):
- বৈচিত্র্যময় এ পৃথিবীতে বিরাজমান সকল প্রাণীর মধ্যে যে জিনগত, বাস্তুসংস্থানগত ও প্রজাতিগত বিভিন্নতা দেখা যায় তাকে প্রাণী বৈচিত্র্য বলে।
- প্রকৃতিতে তিন ধরনের প্রাণী বৈচিত্র্য দেখা যায়।
যথা- জিনগত বৈচিত্র্য, প্রজাতিগত বৈচিত্র্য, বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য। 

১। জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity): 
- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে।
- এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই প্রজাতির মধ্যে ঘটে তাই একে অন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে। যেমন- মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য।

২। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity):
- ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলে। এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই গণভুক্ত প্রজাতিগুলোর মধ্যে ঘটে তাই একে আন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে।
- একই গনভুক্ত প্রজাতির মধ্যে ক্রোমোসোম সংখ্যা ও আঙ্গিক গঠনে যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। যেমন- রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris) ও সিংহ (Panthera leo) একই গণভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্রোমোসোম সংখ্যা ও জিনের বিন্যাস ভিন্ন হওয়ার ফলে এদের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বিরাজ করে।

৩। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity):
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে জীবজগতের মিথষ্ক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশিয় একক বা বায়োম সৃষ্টি হয়। যেমন- তুন্দ্রা বায়োম, মরূ বায়োম, তৃণ ভূমি বায়োম ইত্যাদি।
- বিভিন্ন বায়োমে বসবাসকারি জীবের বৈচিত্র্যকে বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য বলে। যেমন- বন, তৃণভূমি, জলাভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সাগর, মরুভূমি প্রভৃতি বাস্তুতন্ত্রে গড়ে উঠে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ বিভিন্ন জীব সম্প্রদায়।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭৬.
Platelet বা অণুচক্রিকা প্রধানত কোথায় তৈরি হয়?
  1. যকৃত
  2. প্লাজমায়
  3. হৃদপিণ্ড
  4. অস্থিমজ্জা
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জা
ব্যাখ্যা

◉ অণুচক্রিকা (Platelet) হলো রক্তের একটি ক্ষুদ্রকণিকা, যা রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে (Blood clotting) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি অস্থিমজ্জায় (Bone marrow) তৈরি হয়।

রক্তের উপাদান: 
- রক্ত এক প্রকার যোজক কলা। 
- এর অন্তঃকোষ মাধ্যমটি তরল, হলুদ বর্ণের জলীয় পদার্থ দ্বারা গঠিত, এ তরল পদার্থকে প্লাজমা বা রক্তরস বলে। 
- এ প্লাজমার মধ্যে রক্তকণিকাগুলো ভাসমান অবস্থায় থাকে। 
- রক্তের দু'টি উপাদান- (১) রক্তরস এবং (২) রক্ত কণিকা। সমগ্র রক্তের ৫৫% রক্তরস এবং বাকি ৪৫% রক্তকণিকা। 
- রক্ত কণিকা প্রধানত তিন ধরনের। 
যথা- লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা। 

অণুচক্রিকা: 
- ইংরেজিতে এদেরকে প্লাটিলেট (Platelet) বলে। 
- অণুচিক্রকা আকারে ছোট, বর্তুলাকার ও বর্ণহীন, এরা গুচ্ছাকারে থাকে। 
- অস্থিমজ্জার মধ্যে অণুচক্রিকা উৎপন্ন হয়। 
- অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন। 
- পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। 
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- কোন রক্তবাহী নালির ক্ষতি হলে এরা অনতিবিলম্বে থ্রোম্বোপ্লাষ্টিন নামক এক প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসরণ করে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৭৭.
উদ্ভিদের খাদ্য প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস-
  1. পানি
  2. মাটি
  3. আলো
  4. বায়ু
সঠিক উত্তর:
আলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলো
ব্যাখ্যা

- সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে।
- এই প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস আলো।
- লাল আলোতে সবচেয়ে বেশি সালোক সংশ্লেষণ হয়।
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল থাকতে হবে।
- পানি, আলো, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফিল প্রধান উপকরণ।
- উৎপন্ন হয় কার্বোহাইড্রেট, পানি ও অক্সিজেন।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৯৭৮.
নিম্নলিখিত উদ্ভিদের মধ্যে কোনটি 'বাল্ব' জাতীয় রূপান্তরিত কাণ্ডের উদাহরণ?
  1. পেঁয়াজ
  2. আদা
  3. আলু
  4. কচুরিপানা
সঠিক উত্তর:
পেঁয়াজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেঁয়াজ
ব্যাখ্যা
রূপান্তরিত কাণ্ডের মাধ্যম: 
- উদ্ভিদের কোন অংশকে কাণ্ড বলে তা নিশ্চয়ই সবাই জানে তবে কিছু কাণ্ডের অবস্থান ও বাইরের চেহারা দেখে তাকে কাণ্ড বলে মনেই হয় না, এরা পরিবর্তিত কাণ্ড। 
- বিভিন্ন প্রতিকূলতায়, খাদ্য সঞ্চয়ে অথবা অঙ্গজ জননের প্রয়োজনে এরা পরিবর্তিত হয়। 
- এদের বিভিন্ন রূপ নিম্নে দেওয়া হলো- 
(ক) কন্দ (বাল্ব): 
- এরা অতি ক্ষুদ্র কাণ্ড। 
- এদের কাক্ষিক ও শীর্ষ মুকুল নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়, যেমন- পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি। 

(খ) স্টোলন: 
- কচুর লতি হচ্ছে কচুর শাখা কাণ্ড, এগুলো জননের জন্যই পরিবর্তিত হয়। 
- স্টোলনের অগ্রভাগে মুকুল উৎপন্ন হয়। 
- এভাবে স্টোলন উদ্ভিদের জননে সাহায্য করে, যেমন- কচু, পুদিনা। 

(গ) রাইজোম: 
- এরা মাটির নিচে ভূমির সমান্তরালে অবস্থান করে। 
- কাণ্ডের মতো এদের পর্ব, পর্বসন্ধি স্পষ্ট, পর্বসন্ধিতে শঙ্কপত্রের কক্ষে কাক্ষিক মুকুল জন্মে। 
- এরাও খাদ্য সঞ্চয় করে মোটা ও রসাল হয়। 
- অনুকূল পরিবেশে এসব মুকুল বৃদ্ধি পেয়ে আলাদা আলাদা উদ্ভিদ উৎপন্ন করে, যেমন- আদা। 

(ঘ) টিউবার: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদে মাটির নিচের শাখার অগ্রভাগে খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে স্ফীত হয়ে কন্দের সৃষ্টি করে, এদের টিউবার বলে। 
- ভবিষ্যতে এ কন্দ জননের কাজ করে। 
- কন্দের গায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গর্ত থাকে, এগুলো দেখতে চোখের মতো তাই এদের চোখ বলা হয়। 
- একটি চোখের মধ্যে একটি কুঁড়ি থাকে, আঁশের মতো অসবুজ পাতার (শঙ্কপত্র) কক্ষে এসব কুঁড়ি জন্মে। 
- প্রতিটি চোখ থেকে একটি স্বাধীন উদ্ভিদের জন্ম হয়, যেমন- আলু। 

(ঙ) বুলবিল: 
- কোনো কোনো উদ্ভিদের কাক্ষিক মুকুলের বৃদ্ধি যথাযথভাবে না হয়ে একটি পিণ্ডের মতো আকার ধারণ করে, এদের বুলবিল বলে। 
- এসব বুলবিল কিছুদিন পর গাছ থেকে খসে মাটিতে পড়ে এবং নতুন গাছের জন্ম দেয়, যেমন- চুপড়ি আলু। 

(চ) অফসেট: 
- কচুরিপানা, টোপাপানা ইত্যাদি জলজ উদ্ভিদে শাখা কাণ্ড বৃদ্ধি পেয়ে একটি নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন করে। 
- কিছুদিন পর মাতৃউদ্ভিদ থেকে এটি বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন উদ্ভিদে পরিণত হয়, যেমন- কচুরিপানা।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৯৭৯.
উদ্ভিদের মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট কোনটি? 
  1. কার্বন
  2. সালফার
  3. লৌহ
  4. দস্তা
সঠিক উত্তর:
দস্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দস্তা
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন - 
১। ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং 
২। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান। 

ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। 
যথা -
• নাইট্রোজেন (N), 
• পটাশিয়াম (K), 
• ফসফরাস (P), 
• ক্যালসিয়াম (Ca), 
• ম্যাগনেসিয়াম (Mg), 
কার্বন (C)
• হাইড্রোজেন (H), 
• অক্সিজেন (O), 
সালফার (S) এবং 
লৌহ বা আয়রন (Fe)। 

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে।
- মাইক্রো উপাদান ৬টি।
যথা - 
দস্তা বা জিংক (Zn)
• ম্যাঙ্গানিজ (Mn), 
• মোলিবডেনাম (Mo), 
• বোরন (B), 
• তামা বা কপার (Cu) এবং 
• ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৮০.
অযৌন জনন কয় প্রকার?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৪
সঠিক উত্তর:
খ) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২
ব্যাখ্যা
নিম্নশ্রেণীর জীবে অযৌন জননের প্রবণতা বেশি৷ অযৌন জনন প্রধানত দুই প্রকার৷
যথা- স্পোর উৎপাদন ও অঙ্গজ জনন৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি
৯৮১.
ফ্লোয়েমে কোন ধরনের কোষ থাকে?
  1. ট্রাকিড
  2. সীভ নল
  3. জাইলেম তন্তু
  4. ভেসেল
সঠিক উত্তর:
সীভ নল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সীভ নল
ব্যাখ্যা

জটিল টিস্যু:
- এ টিস্যুর আসল কাজ মাটি থেকে পানি ও অজৈব লবণ পরিবহন করে পাতায় পৌঁছানো এবং পাতায় যে খাদ্য প্রস্তুত হয় তা পরিবহন করে উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছানো।
- এদের কাজ পরিবহন বলে এ টিস্যুকে পরিবহন টিস্যুও বলা হয়।
- জটিল টিস্যু দু'প্রকার।
যথা-
১। জাইলেম টিস্যু:
- জাইলেম টিস্যুর কাজ পানি পরিবহণ করা।
- ভাস্কুলার উদ্ভিদে জাইলেমের সাহায্যেই খাদ্য দ্রব্যের উপাদানগুলো মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পাতায় পরিবাহিত হয়।
- পরিণত অবস্থায় আবৃতবীজী উদ্ভিদের জাইলেম চার ধরণের কোষ দ্বারা গঠিত।
যথা- ট্রাকিড, ট্রাকিয়া বা ভেসেল, জাইলেম প্যারেনকাইমা ও জাইলেম তন্তু

২। ফ্লোয়েম টিস্যু:
- ফ্লোয়েম টিস্যু উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে যে খাদ্য উৎপাদন হয় তা উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পরিবহন করে।
- ফ্লোয়েম টিস্যু চার ধরনের কোষ দ্বারা গঠিত।
যথা- সীভ নল, সঙ্গী কোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম ফাইবার বা বাস্ট তন্তু

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৮২.
রক্ত কণিকায় কিসের উপস্থিতির কারণে রক্ত লাল দেখায়?
  1. ক) বেসোফিল
  2. খ) হেপারিন
  3. গ) হিমোগ্লোবিন
  4. ঘ) ফাইব্রিনোজেন
সঠিক উত্তর:
গ) হিমোগ্লোবিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হিমোগ্লোবিন
ব্যাখ্যা
হিমোগ্লোবিন এক ধরনের আমিষ জাতীয় রঞ্জক পদার্থ। লোহিত রক্ত কণিকায় এর উপস্থিতির কারণে রক্ত লাল দেখায়। রক্তে উপযুক্ত পরিমাণে হিমোগ্লোবিন না থাকলে রক্ত স্বল্পতা বা রক্তশূন্যত দেখা দেয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি
৯৮৩.
জেরপথ্যালমিয়া রোগের কারণ কোনটি?
  1. ক) ভিটামিন A এর দীর্ঘস্থায়ী অভাব
  2. খ) ভিটামিন C এর দীর্ঘস্থায়ী অভাব
  3. গ) ভিটামিন E এর দীর্ঘস্থায়ী অভাব
  4. ঘ) ভিটামিন D এর দীর্ঘস্থায়ী অভাব
সঠিক উত্তর:
ক) ভিটামিন A এর দীর্ঘস্থায়ী অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভিটামিন A এর দীর্ঘস্থায়ী অভাব
ব্যাখ্যা
ভিটামিন এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। এর অভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে চোখের কর্নিয়ায় আলসার হতে পারে - এ অবস্থাকে জেরপথ্যালমিয়া রোগ বলে।
এ রোগ হলে একজন মানুষ পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ভিটামিন এ এর অভাবে দেহের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্থ হয়। অনেক সময় সর্দি, ঘা, কাশি, গলাব্যাথা হয়। 

[সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই]
৯৮৪.
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত?
  1. ৩৯০.১৫ কেলভিন
  2. ৩১০.১৫ কেলভিন
  3. ৩৭৭.০৪ কেলভিন
  4. ২৯৮.৩২ কেলভিন
সঠিক উত্তর:
৩১০.১৫ কেলভিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩১০.১৫ কেলভিন
ব্যাখ্যা
মানবদেহের তাপমাত্রা:
- যে থার্মোমিটারের সাহায্যে শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয় তাকে ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার বলে।
- এই থার্মোমিটারে ফারেনহাইট স্কেল ব্যবহার করা হয়।
- ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারে ৯৫-১১০° ফারেনহাইট পর্যন্ত দাগ কাটা থাকে।
- মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪° ফারেনহাইট বা ৩৬.৯° সেলসিয়াস।
- কেলভিন স্কেলে মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩১০.১৫ কেলভিন।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৯৮৫.
হিউম্যান প্যাপিলোমা একটি -
  1. ছত্রাক
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ভাইরাস
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
ব্যাখ্যা
হিউম্যান প্যাপিলোমা (Human papilloma-HPV):
- হিউম্যান প্যাপিলোমা একধরনের ভাইরাস।
- হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস Papovaviridae ফ্যামেলি অন্তর্গত ভাইরাসগুলোর একটি উপগোষ্ঠী যা মানুষকে সংক্রামিত করে।
- এর ফলে আঁচিল এবং টিউমারের পাশাপাশি যৌনাঙ্গের ক্যান্সার হয়।
- বিশেষ করে মহিলাদের জরায়ু ক্যান্সার হয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
৯৮৬.
বিখ্যাত ‘আইরিশ দুর্ভিক্ষ’-এর কারণ কী?
  1. ভাইরাস আক্রমণ
  2. শৈবাল আক্রমণ
  3. ছত্রাক আক্রমণ
  4. ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক আক্রমণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক আক্রমণ
ব্যাখ্যা

আইরিশ দুর্ভিক্ষ:
- বিখ্যাত ‘আইরিশ দুর্ভিক্ষ’-এর কারণ ছত্রাক আক্রমণ।

⇒ আয়ারল্যান্ডের ঠান্ডা কিন্তু তুষারমুক্ত পরিবেশ ছিল আলু চাষের জন্য অনুকূল।
- এর স্বাদ অল্প সময়ে এতোটাই জনপ্রিয়তা পায় যে শস্যের পর আলুই আইরিশদের বিকল্প প্রধান খাবার হয়ে ওঠে।
- আয়ারল্যান্ডে আলু প্রবেশের পরপরই ১৫৯০ থেকে ১৮৪৫ সালের মধ্যে তাদের জনসংখ্যা ১০ লাখ থেকে বেড়ে ৮০ লাখে দাঁড়ায়।

⇒ ১৮৪৫ থেকে ১৮৫২ সাল পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডে সংঘটিত হয় একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।
- এই সময়ে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ অনাহারে মারা যায় এবং প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।
- এই দুর্ভিক্ষের প্রধান কারণ ছিল আলু ফসলের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং Phytophthora infestans নামক ছত্রাকের সংক্রমণ, যা আলু ফসলকে ব্যাপকভাবে ধ্বংস করে দেয়।

উৎস: i) BBC.
ii) Britannica.

৯৮৭.
কোনটি দেহকোষ নয়?
  1. স্নায়ুকোষ
  2. লোহিত রক্তকণিকা
  3. শুক্রাণু
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শুক্রাণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুক্রাণু
ব্যাখ্যা
• দেহকোষ (Somatic cell):
- বহুকোষী জীবের দেহ গঠনে এসব কোষ অংশগ্রহণ করে।
- মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজনের মাধ্যমে দেহকোষ বিভাজিত হয় এবং এভাবে দেহের বৃদ্ধি ঘটে।
- বিভিন্ন তন্ত্র ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠনে দেহকোষ অংশ নেয়।
উদাহরণ: স্নায়ুকোষ, রক্ত, রক্তকণিকাসমূহ, ফুসফুস, হৃদপিন্ড,অস্থিকোষ ইত্যাদি।

• জননকোষ (Gametic cell):
- যৌন প্রজনন ও জনঃক্রম দেখা যায়, এমন জীবে জননকোষ উৎপন্ন হয়।
- মিয়োসিস পদ্ধতিতে জনন মাতৃকোষের বিভাজন ঘটে এবং জনন কোষ উৎপন্ন হয়।
- অপত্য জননকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃজনন কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক থাকে।
- পুং ও স্ত্রী জননকোষ মিলিত হয়ে নতুন জীবের দেহ গঠনের সূচনা করে।
- পুং ও স্ত্রী জননকোষের মিলনের ফলে সৃষ্ট এই প্রথম কোষটিকে জাইগোট (Zygote) বলে।
- জাইগোট বারবার বিভাজনের মাধ্যমে জীবদেহ গঠন করে।
উদাহরণ: শুক্রাণু ও ডিম্বাণু।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম- ১০ম শ্রেণি।
৯৮৮.
বাংলাদেশের একটি জীবন্ত জীবাশ্মের নাম -
  1. রাজ কাঁকড়া
  2. গন্ডার
  3. পিপীলিকাভুক ম্যানিস
  4. স্লো লোরিস
সঠিক উত্তর:
রাজ কাঁকড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজ কাঁকড়া
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী হচ্ছে জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৮৯.
কোন অর্গানেলটি পর্দা দ্বারা আবেষ্টিত থাকে না?
  1. রাইবোসোম
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. মাইটোকন্ড্রিয়া
  4. পারোক্সিসোম
সঠিক উত্তর:
রাইবোসোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইবোসোম
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত অপশনসমূহের মধ্যে 'রাইবোসোম' পর্দা দ্বারা আবেষ্টিত থাকে না। 
 
• রাইবোসোম: 
- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাই রাইবোসোম। 
- রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার। 
- রাইবোসোমের কোনো আবরণী নেই। 
- সাইটোপ্লাজমে একাধিক রাইবোসোম মুক্তোর মালার মতো অবস্থান করলে তাকে পলিরাইবোসোম বা পলিসোম বলে। 
- আদিকোষ ও প্রকৃতকোষ-এই উভয় প্রকার কোষেই রাইবোসোম উপস্থিত থাকার কারণে রাইবোসোমকে সর্বজনীন অঙ্গাণু বলা হয়। 
 
• ক্লোরোপ্লাস্ট:  
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোফিল-a, ক্লোরোফিল-b, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত। 
- ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা (pigment) অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের। 
- এতে অন্যান্য বর্ণকণিকাও কিছু কিছু পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। 
- ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞনী শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং নামকরণ করেন ক্লোরোপ্লাস্ট। 

ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন (ভৌত গঠন): 
- সমস্ত ক্লোরোপ্লাস্ট একটি দুই স্তরবিশিষ্ট আংশিক অনুপ্রবেশ্য (semipermeable) মেমব্রেন (ঝিল্লি) দ্বারা আবৃত থাকে। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট মেমব্রেনে ফসফোলিপিড-এর পরিবর্তে গ্লাইকোসিল গ্লিসারাইড (glycosyl glyceride) থাকে।
- এটি একটি ব্যতিক্রমী গঠন। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট হলো তিন মেমব্রেন দ্বারা তৈরি ৩ প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট একটি অঙ্গাণু। 

• মাইটোকন্ড্রিয়া: 
- প্রকৃত জীবকোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু হলো মাইটোকন্ড্রিয়া।
- কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের 'পাওয়ার হাউস' বা শক্তিঘর বলা হয়।
- এ অঙ্গাণুতে ক্রেবস্ চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট প্রক্রিয়া প্রভৃতি ঘটে থাকে।
- দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী ঝিল্লি দ্বারা সীমিত সাইটোপ্লাজমন্ত্র যে অঙ্গাণুতে ক্রেবস্ চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট ইত্যাদি ঘটে থাকে এবং শক্তি উৎপন্ন হয় সেই অঙ্গাণুকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলে। 
- মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গানু। 

• পারোক্সিসোম: 
- পারঅক্সিসোম প্রায় সব ধরনের কোষে দেখা গেলেও প্রাণীর কিডনি ও লিভার কোষে অধিক থাকে। 
- অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের আউটপকেটিং-এর মাধ্যমে এরা তৈরি হয়। 
- এরা এক আবরণী বিশিষ্ট, ব্যাস ০.২-১৭ µm, এবং এরা দানাদার। 
- এর ভেতরে ক্রিস্টাল বা দানার আকারে সঞ্চয়ী এনজাইম জমা থাকে। 
- এর মধ্যে catalase প্রধান এনজাইম, এদেরকে মাইক্রোসোম (microsome) নামেও অভিহিত করা হয়। 
- ১৯৬৭ সালে বেলজিয়াম সাইটোলজিস্ট Christian de Duve কোষের সাইটোপ্লাজম থেকে পারঅক্সিসোম অঙ্গাণুটি আবিষ্কার করেন। 
- পারঅক্সিসোম প্রাণীর কিডনি ও লিভার কোষে অধিক থাকে। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৯০.
Platyhelminthes পর্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. একস্তরী, সিলোমযুক্ত, অসীম
  2. ত্রিস্তরী, চ্যাপ্টাদেহী, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম
  3. দ্বিস্তরী, কুণ্ডলীযুক্ত, অপ্রতিসম 
  4. ত্রিস্তরী, গোলাকৃতি, উভয়লিঙ্গিক
সঠিক উত্তর:
ত্রিস্তরী, চ্যাপ্টাদেহী, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রিস্তরী, চ্যাপ্টাদেহী, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম
ব্যাখ্যা

- Platyhelminthes পর্বের প্রাণীরা ত্রিস্তরী (Triploblastic), অর্থাৎ এদের দেহে তিনটি ভ্রূণীয় কোষস্তর (এক্টোডার্ম, মেসোডার্ম ও এন্ডোডার্ম) থাকে। এদের দেহ উপর-নিচে চ্যাপ্টা, পাতা বা ফিতার মতো হয়, যে কারণে এদেরকে চ্যাপ্টা কৃমি (flatworm) বলা হয়। এরা দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম (Bilaterally symmetrical), যার অর্থ হলো এদের দেহকে কেন্দ্রীয় অক্ষ বরাবর শুধুমাত্র একটি তলে দুটি সমান ও অভিন্ন অংশে ভাগ করা যায়। 

Platyhelminthes (চ্যাপ্টাদেহী কৃমি): 
- Platyhelminthes শব্দটি Greek শব্দ Platy = চ্যাপ্টা এবং Helminthes = কৃমি এ দুটি শব্দ নিয়ে গঠিত।
- ১৮৫৯ সালে Gogenbour এ পর্বের নামকরণ করেন। এ পর্বের আবিষ্কৃত প্রজাতির সংখ্যা ২৯,৪৮৭।

Platyhelminthes পর্বের বৈশিষ্ট্য: 
১। এরা ত্রিস্তরী (Triploblastic), চ্যাপ্টাদেহী ও সাধারণত চোষক বা আংটাযুক্ত অন্তঃপরজীবী কৃমিজাতীয়। 
২। এদের দেহগহ্বর অপ্রকৃত সিলোম। 
৩। এরা উভয়লিঙ্গিক ও দেহ সিলিয়াযুক্ত এপিডার্মিস অথবা কিউটিকল দ্বারা আবৃত। 
৪। এদের স্বনিষেক হয়। 
৫। শিখাকোষ (flame cell) নামক কোষের সাহায্যে রেচন সম্পাদন করে। 
৬। এদের পরিপাকতন্ত্র অসম্পূর্ণ (পায়ুবিহীন)। 
৭। এদের দেহ দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম। 

- শিখাকোষ (flame cell) হলো planaria (মিঠা পানিতে মুক্তভাবে বাস করা ফ্ল্যাটওয়ার্ম) প্রাণীদের মেসোডার্মে বিদ্যমান টিউবের সাথে সংযুক্ত কোষ। এ কোষগুলো গর্তবিশিষ্ট বাল্ব ধরনের যাদের গুচ্ছাকারে সিলিয়া থাকে। সিলিয়াগুলো প্রচণ্ডভাবে আন্দোলিত হয়ে টিউবের ভেতরে পানির স্রোত তৈরি করে। ফলে বর্জ্য বস্তুসমূহ নির্গমন ছিদ্রের মাধ্যমে বাইরে নিষ্ক্রান্ত হয়। এভাবেই শিখাকোষ রেচন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। 
উদাহরণ: Taenia solium-ফিতাকৃমি, Fasciola hepatica-যকৃতকৃমি, Schistosoma ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

৯৯১.
কোনটি উদ্ভিদের মুখ্য পুষ্টি উপাদান নয়-
  1. ম্যাঙ্গানিজ
  2. অক্সিজেন
  3. ক্যালসিয়াম
  4. লৌহ
সঠিক উত্তর:
ম্যাঙ্গানিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাঙ্গানিজ
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান:
-ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রোমৌল বা মুখ্য উপাদান:

- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রোমৌল বা মুখ্য উপাদান বলা হয়।
- উদ্ভিদের ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। যথা -
১. নাইট্রোজেন,
২. পটাসিয়াম,
৩. ক্যালসিয়াম,
৪. লৌহ,
৫. ম্যাগনেসিয়াম,
৬. কার্বন,
৭. হাইড্রোজেন,
৮. অক্সিজেন,
৯. ফসফরাস ও
১০. সালফার।

- ম্যাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাইক্রোমৌল বা গৌণ উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় সেগুলোকে ম্যাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাইক্রোমৌল বা গৌণ উপাদান বলা হয়।
- উদ্ভিদের গৌণ উপাদান হলো ৬টি। যথা -
১. দস্তা/ জিংক,
২. ম্যাঙ্গানিজ,
৩. মলিবডেনাম,
৪. বোরন,
৫. তামা এবং
৬. ক্লোরিন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।
৯৯২.
উদ্ভিদের মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন ও বর্ধনে সাহায্য করে নিচের কোনটি?
  1. ক) পটাশিয়াম
  2. খ) ম্যাগনেসিয়াম
  3. গ) আয়রন
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
ক) পটাশিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
পটাশিয়াম:
- উদ্ভিদের বহু জৈবিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় পটাশিয়াম সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম।
- পটাশিয়াম উদ্ভিদে পানি শোষণে সাহায্য করে।
- কোষবিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে পটাশিয়াম।
- এটি মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনেও সাহায্য করে

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৯৯৩.
ভিটামিন-ডি এর অপর নাম -
  1. টোকোফেরল
  2. ক্যালসিফেরল
  3. আয়োফেরল
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিফেরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিফেরল
ব্যাখ্যা
ভিটামিন-ডি এর অপর নাম ক্যালসিফেরল।
ভিটামিন-ডি এর অভাবে 'রিকেটস' রোগ হয়।

ভিটামিন-ই এর রাসায়নিক নাম - টোকোফেরল।
৯৯৪.
মানবদেহে ফুসফুস থেকে ধমনী এবং কৈশিকনালির মাধ্যমে দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করে কোন রক্ত কণিকা?
  1. লোহিত রক্ত কণিকা
  2. শ্বেত রক্ত কণিকা
  3. অণুচক্রিকা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্ত কণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্ত কণিকা
ব্যাখ্যা

লোহিত রক্ত কণিকা কোষগুলো ফুসফুসে অক্সিজেন গ্রহণ করে হৃদযন্ত্র, ধমনী এবং কৈশিকনালির মাধ্যমে দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করে।

মানব দেহের রক্তের কাজ পরিচালনায় বিভিন্ন প্রকার কোষের ভূমিকা:
 - তিন প্রকারের রক্ত কণিকা (যেমন- লোহিত রক্ত কণিকা, শ্বেত রক্ত কণিকা এবং অণুচক্রিকা) তথা রক্ত কোষ প্রাণী দেহে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে।
- ধমনী, শিরা এবং কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়।
- লোহিত রক্ত কণিকা কোষগুলো ফুসফুসে অক্সিজেন গ্রহণ করে হৃদযন্ত্র, ধমনী এবং কৈশিকনালির মাধ্যমে দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করে।
- শ্বেত রক্ত কণিকা জীবাণু ধ্বংস করে আত্মরক্ষায় অংশ নেয়, রোগ প্রতিরোধ করে এবং দেহের বিভিন্ন অঙ্গ গঠনেও অংশ নেয়।
- অণুচক্রিকা কোষগুলো রক্ততঞ্চন অথবা রক্ত জমাট বাঁধায় অংশ নেয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি, প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৯৫.
জারক রস বলতে কি বুঝায়?
  1. অম্ল
  2. প্রোটিন
  3. অনুঘটক
  4. নিউক্লীয় প্রোটিন
সঠিক উত্তর:
অনুঘটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুঘটক
ব্যাখ্যা
অগ্ন্যাশয়:
- এটি ২০ সেন্টিমিটার লম্বা ও ৫ সেন্টিমিটার চওড়া একটি মিশ্র গ্রন্থি যা পাকস্থলীর নিচে উদর গহ্বরের ডিওডেনামের ফাঁকা থেকে প্লীহা পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এতে এক্সোক্রেইন ও এন্ডোক্রেইন নামক দুটি অংশ আছে।
- অগ্ন্যাশয় রস বর্ণহীন, ক্ষারধর্মী ও পরিষ্কার জলীয় দ্রবণ।

কাজ-
ক) অগ্নাশয় থেকে নিঃসৃত খাদ্য পরিপাককারী জারক রস, যেমন- ট্রিপসিন প্রোটিনকে, অ্যামাইলোপসিন কার্বোহাইড্রেটকে এবং লাইপেজ চর্বিজাতীয় খাদ্য পরিপাক করে ।
খ) অগ্নাশয় থেকে ক্ষরিত ইনসুলিন ও গ্লুকাগন রক্তশর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
গ) ট্রিপসিন, লাইপেজ ইত্যাদি জারক রস প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও চর্বিজাতীয় খাদ্য পরিপাকে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯৬.
নিচের কোনটি উভলিঙ্গ ফুল?
  1. কুমড়া
  2. লাউ
  3. পেঁপে
  4. ধুতুরা
সঠিক উত্তর:
ধুতুরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধুতুরা
ব্যাখ্যা

- যখন কোন ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক দুটোই উপস্থিত থাকে তখন সেটি উভলিঙ্গ ফুল। যেমন: গোলাপ, ধুতুরা, জবা ইত্যাদি।
- পুংস্তবক বা স্ত্রীস্তবকের যে কোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে তাকে একলিঙ্গ ফুল বলে, যেমন: কুমড়া, পেঁপে, লাউ। আবার দুটিই অনুপস্থিত থাকলে ক্লীব ফুল বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৯৭.
হৃদপিণ্ড থেকে ফুস্ফুসে রক্ত সরবরাহ করে কোন রক্তনালী?
  1. হেপাটিক শিরা
  2. কার্ডিয়াক ধমনী
  3. পালমোনারি শিরা
  4. পালমোনারি ধমনী
সঠিক উত্তর:
পালমোনারি ধমনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পালমোনারি ধমনী
ব্যাখ্যা
• যেসব নালীর মাধ্যমে হৃদপিণ্ড থেকে সারাদেহে বা সারাদেহ থেকে রক্ত হৃদপিণ্ড তে সঞ্চালিত হয় সেগুলো কে বলা হয় রক্তনালী। 

• পালমোনারি ধমনী (Pulmonary Artery) হল সেই রক্তনালী, যা হৃদপিণ্ডের ডান নিলয় (right ventricle) থেকে ফুসফুসে (lungs) রক্ত বহন করে।

- এ ধমনী শরীরের একমাত্র ধমনী, যা অক্সিজেনবিহীন (deoxygenated) রক্ত বহন করে।
-  অধিকাংশ ধমনী অক্সিজেনযুক্ত রক্ত বহন করে, কিন্তু পালমোনারি ধমনী ব্যতিক্রম—এটি অক্সিজেনবিহীন রক্তকে ফুসফুসে নিয়ে যায়। 

- পরবর্তীতে ফুস্ফুস থেকে অক্সিজেন যুক্ত রক্ত পালমোনারি শিরার মাধ্যমে আবার হৃদপিণ্ডের বাম অলিন্দ বা আট্রিয়ামে ফিরে আসে। পালমোনারি শিরা আবার দেহের একমাত্র শিরা যা অক্সিজেন যুক্ত রক্ত বহন করে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান – নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB)। 
-জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
- Gray's Anatomy – The Anatomical Basis of Clinical Practice.
৯৯৮.
প্রাণীদের অন্ত্রে অন্তঃপ্রাচীরে কোন ধরনের আবরণী টিস্যু দেখা যায়?
  1. স্তম্ভাকৃতি আবরণী টিস্যু
  2. আঁইশ আকৃতি আবরণী টিস্যু
  3. ঘনাকৃতি আবরণী টিস্যু
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
স্তম্ভাকৃতি আবরণী টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্তম্ভাকৃতি আবরণী টিস্যু
ব্যাখ্যা
প্রাণী টিস্যুর প্রকারভেদ:

- কোন বিশেষ টিস্যু গঠনকারী কোষের সংখ্যা, বৈশিষ্ট্য এবং তাদের নিঃসৃত বা সৃষ্ট আন্তঃকোষীয় পদার্থ বা মাতৃকার বৈশিষ্ট্য, পরিমাণ, উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে প্রাণী টিস্যুকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(ক) আবরণী টিস্যু,
(খ) যোজক টিস্যু,
(গ) পেশি টিস্যু এবং
(ঘ) স্নায়ু টিস্যু।

আবরণী টিস্যু: আবরণী টিস্যুর কোষগুলো ঘন সন্নিবেশিত এবং একটি ভিত্তি পর্দার উপর বিন্যস্ত থাকে। এ প্রকার টিস্যুর মাতৃকা থাকে না।
• কাজ- কোন অঙ্গের বা নালীর ভেতরের এবং বাইরের আবরণ তৈরি করে। ত্বকীয় টিস্যু রূপান্তরিত হয়ে রক্ষণ, ক্ষরণ, শোষণ, ব্যাপন এবং পরিবহন ইত্যাদি কাজে অংশ নেয়। এটি রূপান্তরিত হয়ে গ্রন্থি টিস্যু এবং জার্মিনাল টিস্যুতে পরিণত হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে।

• প্রকারভেদ: কোষের আকৃতি, প্রাণী দেহে অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী আবরণী টিস্যু তিন প্রকার। যথা-

১. আঁইশ আকৃতি আবরণী টিস্যু- এ প্রকার টিস্যুর কোষগুলো আঁইশের ন্যায় চ্যাপ্টা এবং নিউক্লিয়াস বড়। যেমন- বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুল প্রাচীর।
• কাজ- প্রধানত ছাঁকন এবং আবরণ সৃষ্টি।

২. ঘনাকৃতি আবরণী টিস্যু- এ টিস্যুর কোষগুলো ঘনকের ন্যায়। যেমন- বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা।
• কাজ- প্রধানত পরিশোষণ এবং আবরণ সৃষ্টি।

৩. স্তম্ভাকৃতি আবরণী টিস্যু- এ টিস্যুর কোষগুলো স্তম্ভের ন্যায় সরু এবং লম্বা। যেমন- প্রাণীদের অন্ত্রে অন্তঃপ্রাচীর।
• কাজ- প্রধানত ক্ষরণ, রক্ষণ এবং শোষণ। 



উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯৯৯.
গুচ্ছ ফলের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) কাঁঠাল
  2. খ) আকন্দ
  3. গ) জাম
  4. ঘ) আনারস
সঠিক উত্তর:
খ) আকন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আকন্দ
ব্যাখ্যা
গুচ্ছ ফলঃ একটি ফুলে যখন অনেকগুলো গর্ভাশয় থাকে এবং প্রতিটি গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়ে একটি বোঁটার উপর গুচ্ছাকারে থাকে তখন তাকে গুচ্ছ ফল বলে।
যেমন- চম্পা, আতা, আকন্দ, শরীফা, নয়নতারা ইত্যাদি।

সূত্রঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী।
১,০০০.
জনন মাতৃকোষ বিভাজিত হয় কোন পদ্ধতিতে?
  1. ক) মাইটোসিস
  2. খ) মিয়োসিস
  3. গ) এমাইটোসিস
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
খ) মিয়োসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মিয়োসিস
ব্যাখ্যা

জনন মাতৃকোষ মিয়োসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।