বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা / ৪২ · ৬০১৭০০ / ৪,২০৮

৬০১.
কোন খাদ্য উপাদানটি আদর্শ খাদ্য পিরামিডের সর্বনিম্ন স্তরের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ভিটামিন
  2. স্নেহ
  3. শর্করা
  4. আমিষ
সঠিক উত্তর:
শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্করা
ব্যাখ্যা
• আদর্শ খাদ্য পিরামিডের সর্বনিম্ন স্তরের অন্তর্ভুক্ত খাদ্য উপাদান হলো- শর্করা। 

• আদর্শ খাদ্য পিরামিড:
- একটি খাদ্য তালিকায় শর্করার পরিমাণ বেশি রেখে এবং শর্করাকে নিচু স্তরে রেখে পর্যায়ক্রমে পরিমাণগত দিক বিবেচনা করে শাকসবজি, ফলমূল, আমিষ, স্নেহ ও চর্বি জাতীয় খাদ্যকে সাজালে যে কাল্পনিক পিরামিড তৈরি হয় তাকে আদর্শ খাদ্য পিরামিড বলে। 

• আদর্শ খাদ্য পিরামিড:

• সুষম খাদ্যের বৈশিষ্ট্য:
- একজন মানুষের বিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদনের সামর্থ্য থাকতে হবে। 
- শর্করা, আমিষ এবং চর্বি নির্দিষ্ট অনুপাতে পরিমাণ মতো গ্রহণ করতে হবে।
- খাদ্যে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও রাফেজ বা সেলুলোজ (ফাইবার) সরবরাহের জন্য সুষম খাদ্য তালিকায় ফল ও টাটকা শাকসবজি থাকতে হবে।
- খাদ্যে অবশ্যই প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি ও খনিজ লবণ থাকতে হবে। 
- সুষম খাদ্য অবশ্যই সহজপাচ্য হতে হবে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
 
৬০২.
নিচের কোন উদ্ভিদের কাণ্ড রূপান্তরিত হয়ে পাতা হিসেবে কাজ করে?
  1. গোলাপ
  2. শিমুল
  3. ফণিমনসা
  4. ফার্ন
সঠিক উত্তর:
ফণিমনসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফণিমনসা
ব্যাখ্যা

ফণিমনসা হলো একটি বিশেষ উদ্ভিদ যেখানে কাণ্ড রূপান্তরিত হয়ে পাতার কাজ করে। এতে ক্লোরোফিল থাকে যা ফটোসিন্থেসিস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
- ফণিমনসায় পাতার পরিবর্তে কাণ্ডই মূলত সবুজ, সূর্যালোক থেকে শক্তি গ্রহণের প্রধান উৎস।
- মরুভূমি ও শুষ্ক এলাকায় টিকে থাকার জন্য এই অভিযোজন হয়ে থাকে।
- ক্যাকটাসের মতো এটিও পানি সংরক্ষণকারী উদ্ভিদ যা কাণ্ডের ভিতরে পানি ও খাদ্য সঞ্চয় করে রাখে।
- পাতাগুলো কাঁটায় পরিণত হয়ে উদ্ভিদের আত্মরক্ষার কাজ করে।

অন্যদিকে,
- গোলাপ: এটি একটি সাধারণ উদ্ভিদ যেখানে কাণ্ড, পাতা ও ফুল আলাদা আলাদা অংশ হিসেবে থাকে।
- শিমুল: এটি একটি বড় গাছ যার মোটা কাণ্ড ও বিস্তৃত পাতা রয়েছে। 
- ফার্ন: এটি অপুষ্পক উদ্ভিদ, যার কাণ্ড সাধারণ এবং পাতা হিসেবে রূপান্তরিত হয় না।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

৬০৩.
মানবদেহের ক্ষুদ্রান্ত কয়টি অংশে বিভক্ত?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্রান্ত্র
পাকস্থলির পাইলোরাস অংশের পর থেকে ইলিওকোলি পর্যন্ত প্রায় ৬-৭ মিটার লম্বা বিস্তৃত অংশ ক্ষুদ্রান্ত্র এটি আবার ৩ অংশে বিভক্ত,
যথা- ডিওডেনাম, জেজুনাম ও ইলিয়াম।
ডিওডেনামে মূলত: অগ্ন্যাশয়িক রসের এনজাইমের ক্রিয়া এবং জেজুনাম ও ইলিয়ামে আন্ত্রিক রসের এনজাইমের ক্রিয়ার পরিপাক ঘটে।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৪.
কোন পর্বের প্রাণী চলাফেরা করতে পারে না?
  1. ক) পরিফেরা
  2. খ) নিডারিয়া
  3. গ) মোলাস্কা
  4. ঘ) নেমাটোডা
সঠিক উত্তর:
ক) পরিফেরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পরিফেরা
ব্যাখ্যা
পরিফেরা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য :
- এদের দেহ কোষ দুই স্তরে বিন্যস্ত।
- এদের দেহপ্রাচীর অস্টিয়া নামক অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত।
- এদের দেহে বিশেষ ধরনের নালীতন্ত্র বিদ্যমান, এর সাহায্যে অভ্যন্তরীণ পরিবহন ঘটে।
- এই পর্বের প্রাণীদের কোন অঙ্গ নেই ফলে এরা চলতে পারে না।
- এদের পরিপাক অন্তঃকোষীয়।
- এদের অন্তঃকঙ্কাল স্পিকিউল বা ফাইব্রাস নামক প্রোটিনে তৈরি।

সূত্র: এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৫.
সবাত শ্বসন প্রক্রিয়ায় মোট কতটি ATP সৃষ্টি হয়?
  1. ৩২টি
  2. ৩৬টি
  3. ৩৮টি
  4. ৪২টি
সঠিক উত্তর:
৩৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৮টি
ব্যাখ্যা
শ্বসন: 
- অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তার উপর নির্ভর করে শ্বসন প্রক্রিয়াকে দুভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা - 
ক) সবাত শ্বসন বা বায়বীয় শ্বসন (aerobic respiration) যা অক্সিজেনের উপস্থিতিতে হয়। 
খ) অবাত শ্বসন, অবায়বীয় শ্বসন (anaerobic respiration) যা অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে হয়। 

- সবাত শ্বসনের গ্লাইকোলাইসিস ধাপটি কোষের সাইটোপ্লাজমে ঘটে এবং ক্রেবস্ চক্রটি মাইট্রোকন্ড্রিয়াতে ঘটে। 
- সবাত শ্বসনে মোট যে ৩৮ টি ATP (অ্যাডিনো সাইন ট্রাই ফসফেট) উৎপন্ন হয়, তা কোষের প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬০৬.
নিচের কোন উদ্ভিদে কাণ্ডের মাধ্যমে স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন ঘটে?
  1. আদা
  2. পটল 
  3. ডালিয়া
  4. পাথরকুচি
সঠিক উত্তর:
আদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদা
ব্যাখ্যা

দেহ অঙ্গের মাধ্যমে: 
- দেহ অঙ্গের মাধ্যমেও অযৌন জনন ঘটে। 
- এই ধরনের অযৌন জননকে অঙ্গজ জননও (Vegetative reproduction) বলা হয়। 
- এটা আবার দু'ভাবে হয়। 
যথা- (ক) স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন এবং (খ) কৃত্রিম উপায়ে অঙ্গজ জনন। 

স্বাভাবিক অঙ্গজ জনন: 
- কিছু কিছু উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- মিষ্টি আলু, ডালিয়া, কাঁকরোল, পটল ইত্যাদি। 

- কতিপয় উদ্ভিদের কাণ্ড থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- আদা, হলুদ, সটি, আলু, ওলকচু ইত্যাদি। 

- কিছু উদ্ভিদের পাতার কিনারায় পত্রাশ্রয়ী মুকুল হতে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়। 
যথা- পাথরকুচি। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬০৭.
যক্ষ্মা রোগ সাধারণত কোন পথে ছড়ায়? 
  1. বায়ুর মাধ্যমে
  2. পানির মাধ্যমে
  3. খাদ্যের মাধ্যমে
  4. মশার মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
বায়ুর মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ুর মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
যক্ষ্মা রোগ: 
- যক্ষ্মার জীবাণু কেবল ফুসফুসকে আক্রান্ত করে তা নয়, এটি মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে ত্বক, অন্ত্র, লিভার, কিডনি, হাড়সহ দেহের যেকোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গে সংক্রমণ হতে পারে। 
- তবে ফুসফুসে যক্ষ্মা সংক্রমের হার সবচেয়ে বেশি হওয়ায় সরকারি সচেতনতামূলক প্রচারণায় সেটাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। 
- আমাদের এমন কোন অর্গান (অঙ্গ) নাই, যেখানে যক্ষ্মা হয়না। কারণ যক্ষ্মা হচ্ছে একটি বায়ুবাহিত ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক ব্যাধি যেটা মাইকোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকুলোসিস জীবাণুর সংক্রমণে হয়ে থাকে। আর এই জীবাণু যেকোন অঙ্গেই সংক্রমিত হতে পারে। 
- দেশের মোট জনসংখ্যার একটি অংশ জন্মগতভাবেই যক্ষ্মা রোগের জীবাণু বহন করে। তবে শরীরে জীবাণু থাকা মানেই এই নয় যে ব্যক্তি রোগে আক্রান্ত। 
- তবে জীবাণুর ধারক নিজে আক্রান্ত না হলেও তার মাধ্যমে অন্যের শরীরে যক্ষ্মা ছড়াতে পারে। আর সেটা যেকোন অঙ্গেই হতে পারে। 
- এই জীবাণু থেকে তাদেরই রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল। 
- এছাড়া ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের এই জীবাণুতে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। 
- এছাড়া পরিবেশ দূষণ, দরিদ্রতা, মাদকের আসক্তি, অপুষ্টি, যক্ষ্মার হার বাড়ার অন্যতম কারণ। 

যক্ষ্মা রোগের লক্ষণ: 
- ফুসফুসে যক্ষ্মার জীবাণু সংক্রমিত হলে টানা কয়েক সপ্তাহ কাশি, কফের সাথে রক্ত যাওয়ার মতো সাধারণ কিছু লক্ষণের ব্যাপারে কম-বেশি প্রায় সবারই জানা।
- আরোও কয়েকটি লক্ষণ হচ্ছে- 
- শরীরের যে অংশে যক্ষ্মার জীবাণু সংক্রমিত হবে সেই অংশটি ফুলে উঠবে। যেমন গলার গ্লান্ড আক্রান্ত হলে গলা ফুলবে, মেরুদণ্ডে আক্রান্ত হলে পুরো মেরুদণ্ড ফুলে উঠবে।
- ফোলা অংশটি খুব শক্ত বা একদম পানি পানি হবে না। সেমি সলিড হবে। ফোলার আকার বেশি হলে ব্যথাও হতে পারে।
- লিভারে যক্ষ্মা হলে পেটে পানি চলে আসে, তাই পেটও অস্বাভাবিক ফুলে যায়।
- মস্তিষ্কে সংক্রমিত হলে সেখানেও পানির মাত্রা বেড়ে যায়। অর্থাৎ মানুষের মস্তিষ্ক যে ইডিমা বা পানির মধ্যে থাকে, সেটার পরিমাণ বেড়ে যায়।
- এছাড়া চামড়ায় বা অন্য যেখানেই হোক না কেন সেই অংশটা ফুলে ওঠে।
- এছাড়া ক্ষুধামন্দা, হঠাৎ শরীরের ওজন কমে যাওয়া, জ্বর জ্বর অনুভব হওয়া, অনেক ঘাম হওয়া, ইত্যাদি যক্ষ্মার কিছু সাধারণ লক্ষণ। 

যক্ষ্মা রোগ হলে করণীয়: 
- উপরের লক্ষণগুলোর দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে বলে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। 
- সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে যক্ষ্মা পুরোপুরি সেরে যায়, তাই দেরি না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার ওপর জোর দেন চিকিৎসকরা। 
- যক্ষ্মা দীর্ঘমেয়াদি রোগ হওয়ায় এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ খেতে হয়। যেটা ছয় থেকে নয় মাস পর্যন্ত হয়ে থাকে। 
- এমন অবস্থায় যক্ষ্মারোগীদের ধৈর্যের সাথে নির্দিষ্ট মাত্রা অনুযায়ী পুরো মেয়াদে ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। 
- তবে অনেক সময় দুই থেকে তিন মাস ওষুধ খাওয়ার পর রোগী খুব ভালো অনুভব করে। তার রোগের সব লক্ষণ চলে যায়। এমন অবস্থায় অনেকেই সেরে উঠেছেন ভেবে ওষুধ খাওয়া ছেড়ে দেন। এক্ষেত্রে পরবর্তীতে আবারও যক্ষ্মা হওয়ার আশঙ্কা থাকে, এবং তার ক্ষেত্রে আগের ওষুধ কোন কাজে আসেনা। 
- সঠিক সময় চিকিৎসা না নিলে এই জীবাণু শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে রোগীর মৃত্যু হতে পারে এবং চিকিৎসা না নেয়ার কারণে তার মাধ্যমে আরও অনেকের মধ্যে জীবাণুটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। 
- যক্ষ্মা নির্ণয়ের জন্য সাধারণত এমটি টেস্ট, স্পুটাম টেস্ট, স্মিয়ার টেস্ট, এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, কালচার টেস্ট, এফএনএসি এবং বর্তমান যুগের সবচেয়ে আধুনিক জিন এক্সপার্ট পরীক্ষা। 

যক্ষ্মা প্রতিরোধের উপায়: 
- যক্ষ্মার জীবাণু ছড়ানো প্রতিরোধে কিছু বিষয়ে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ- 
• হাঁচি-কাশির সময় মুখে রুমাল দেওয়া , না হলে অন্তত হাত দিয়ে মুখ ঢেকে বা সবার থেকে দূরে গিয়ে কাশি দেয়া।
• যেখানে সেখানে থুতু-কফ না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে ভালভাবে জায়গাটি পরিষ্কার করা বা মাটি চাপা দেয়া।
• কারও মুখের সামনে গিয়ে কথা না বলা অথবা যক্ষ্মা জীবাণুমুক্ত রোগীর সঙ্গে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে কথা বলা।
• যক্ষ্মা রোগীর আক্রান্ত স্থান, সুস্থ ব্যক্তির ক্ষত স্থানের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখা।
• পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে।
• রোগী জীবাণুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।
• থ্রিএইচটি প্রতিরোধক থেরাপির মাধ্যমে এই জীবাণু থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে রোগীকে রিফাপেন্টিং নামে একটি ওষুধ প্রতিমাসে একবার করে তিন মাস খেতে হয়। 

উৎস: বিবিসি বাংলা নিউজ [লিঙ্ক]।
৬০৮.
কোনটির অভাবে মানবদেহে স্কার্ভি রোগ হয়?
  1. ট্যানিক এসিড
  2. এসিটিক এসিড
  3. এসকরবিক এসিড
  4. ম্যালিক এসিড
সঠিক উত্তর:
এসকরবিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এসকরবিক এসিড
ব্যাখ্যা
ভিটামিন সি: 
- ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিডের অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। 
- ভিটামিন সি এর অপর নাম এসকরবিক এসিড। 
- ভিটামিন সি মানুষকে রোগ জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে এবং ক্ষতস্থান গুকাতে সাহায্য করে। 
- আমলকি, কমলালেবু, লেবু আনারস প্রভৃতি ভিটামিন সি এর উৎস। 

অন্যদিকে, 
- ভিটামিন ডি এর অভাবে রিকেটস এবং অস্টিওম্যালাসিয়া হয়। 
- ভিটামিন এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। 
- ভিটামিন কে এর অভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬০৯.
শ্বেত রক্তকণিকা কী প্রক্রিয়া জীবাণু ধ্বংস করে?
  1. ক) থ্রম্বোপ্লাস্টিন
  2. খ) ফাইব্রিনোজেন
  3. গ) সাইটোকাইনোসিস
  4. ঘ) ফ্যাগোসাইটোসিস
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফ্যাগোসাইটোসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফ্যাগোসাইটোসিস
ব্যাখ্যা
শ্বেত রক্তকণিকা
- শ্বেত রক্তকণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে।
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে। ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে।
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে।
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে।
- শ্বেত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে।
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে।
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে।

শ্বেত রক্তকণিকার বৈশিষ্ট্যসমূহ-
১. শ্বেত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস আছে।
২. শ্বেত রক্তকণিকার আকার অনিয়মিত ও বড়।
৩. শ্বেত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন নেই।
৪. শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা লোহিত রক্তকণিকার তুলনায় অনেক কম।
৫. শ্বেত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১০.
What percentage of the human body is water?
  1. 35%
  2. 65%
  3. 55%
  4. 75%
সঠিক উত্তর:
65%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
65%
ব্যাখ্যা
• সঠিক উত্তর: খ) 65% 

- মানবদেহের একটি বড় অংশই পানি দিয়ে গঠিত।
- গড়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে প্রায় ৬০% থেকে ৭০% পর্যন্ত পানি থাকে।
- তবে এটি বয়স, লিঙ্গ এবং শরীরের গঠনের উপর নির্ভর করে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ:
- শিশুদের শরীরে পানির পরিমাণ আরও বেশি (প্রায় ৭৫%) হতে পারে।
- বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের পানির পরিমাণ কিছুটা কমে যেতে পারে।

• মানবদেহের গঠন মূলত পানির ওপর নির্ভরশীল। আমাদের দেহের প্রায় ৬০-৭০% হলো পানি, যা বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বিভিন্ন হারে থাকে।

• বিভিন্ন বয়স ও লিঙ্গ অনুযায়ী পানির পরিমাণ:
- নবজাতক (শিশু): ৭৫% পর্যন্ত।
- প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ: ৬০-৬৫%।
- প্রাপ্তবয়স্ক নারী: ৫৫-৬০%।
- বয়স্ক মানুষ: প্রায় ৫০-৫৫%।

- নারীদের শরীরে চর্বির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় পানির শতাংশ কিছুটা কম হয়।
- বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে দেহে পানির পরিমাণও কমে আসে।

• পানি আমাদের দেহে নিম্নোক্ত জায়গাগুলিতে থাকে:
- রক্তে: রক্তের প্রায় ৯০% পানি।
- মস্তিষ্ক ও হৃৎপিণ্ডে: প্রায় ৭৩%।
- ফুসফুসে: প্রায় ৮৩%।
- ত্বকে: প্রায় ৬৪%।
- পেশিতে ও কিডনিতে: প্রায় ৭৯%।
- হাড়ে: প্রায় ৩১%।

• পানির কাজ ও গুরুত্ব:
- দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
- বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয় (মূত্র ও ঘাম হিসেবে)।
- রক্ত সঞ্চালন ও পুষ্টি পরিবহনে সহায়ক।
- অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঠিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখে।
- হরমোন এবং এনজাইম সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
- সবকিছু মিলিয়ে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে পানি থাকে প্রায় ৬৫%, যা তাকে সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।

তাই প্রশ্নে দেওয়া অপশনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সঠিক উত্তর হলো: খ) 65%

সূত্র: ব্রিটানিকা।

৬১১.
কোন শ্রেণীর উদ্ভিদের ক্লোরোফিল নেই?
  1. ক) শৈবাল
  2. খ) মস
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) ফার্ন
সঠিক উত্তর:
গ) ছত্রাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ছত্রাক
ব্যাখ্যা

- ছত্রাকে ক্লোরোফিল বা অন্য কোনো ফটোসিন্থেটিক পিগমেন্ট না থাকায় এরা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে না।
- তাই ছত্রাক মৃতজীবী বা পরজীবী।
- এরা অভাস্কুলার, অসবুজ ও অপুষ্পক উদ্ভিদ।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৬১২.
মিয়োসিস কোষ বিভাজন ঘটে না-
  1. ক) গ্যামেট সৃষ্টির সময় জনন মাতৃকোষে
  2. খ) সপুস্পক উদ্ভিদের পরাগধানী ও ডিম্বকে
  3. গ) উন্নত প্রাণিদেহের শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়ে
  4. ঘ) প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত জীবদেহের দেহকোষে
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত জীবদেহের দেহকোষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত জীবদেহের দেহকোষে
ব্যাখ্যা
মিয়োসিস কোষ বিভাজন ঘটে গ্যামেট সৃষ্টির সময় জনন মাতৃকোষে, সপুস্পক উদ্ভিদের পরাগধানী ও ডিম্বকের মধ্যে এবং উন্নত প্রাণিদেহে শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়ে। প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত জীবদেহের দেহকোষে মাইটোসিস কোষ বিভাজন ঘটে। সূত্রঃ বিজ্ঞান ৮ম শ্রেণি।
৬১৩.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা -
  1. ক) ০.০১ mg
  2. খ) ০.০৫ mg
  3. গ) ০.১ mg
  4. ঘ) ০.৫ mg
সঠিক উত্তর:
ক) ০.০১ mg
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ০.০১ mg
ব্যাখ্যা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা হলো ০.০১ মিলিগ্রাম। তবে বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ দেশের মাত্রা নির্ধারণ করে থাকে।
বাংলাদেশে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা ০.০৫ মিলিগ্রাম। চাঁদপুর জেলা দেশের মধ্যে সবচেয়ে আর্সেনিক দূষণপ্রবণ জেলা।
(সূত্রঃ দুর্যোগকোষ)
৬১৪.
ত্বকের কোন স্তর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে?
  1. এপিডার্মিস
  2. হাইপোডার্মিস
  3. ডার্মিস
  4. সাবকিউটিস
সঠিক উত্তর:
এপিডার্মিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এপিডার্মিস
ব্যাখ্যা

দেহের প্রতিরক্ষায় ত্বকের ভূমিকা: 
- ত্বক প্রথম স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। 
- ত্বক দেহকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এবং প্রভাবে সৃষ্ট রোগ (ক্যান্সার) হতে দেহকে রক্ষা করে। ত্বকের এপিডার্মিসের কোষে মেলালিন (melanine) জাতীয় পদার্থ সৃষ্টি হয় যা অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে। 
- ত্বক দেহের বাইরের স্তরে দৃঢ় ও কেরাটিনাইজড (keratinized) আবরণী তৈরি করে, যা দেহের সকল বাহ্যিক অংশকে আচ্ছাদিত করে এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে একটি ফলপ্রসূ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। 
- দেহত্বক ছিঁড়ে গেলে বা কেটে গেলে ত্বকে অবস্থিত হিস্টিওসাইট (ম্যাক্রোফেজ) জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে প্রতিরক্ষা দান করে। 
- ঘাম ও তৈল গ্রন্থির নিঃসরণ ত্বকের উপরিভাগের pH-কে অম্লীয় (pH = 3-5) করে তোলে, ফলে অণুজীবসমূহ বেশি সময় ত্বকে বেঁচে থাকতে পারে না। - কিছু সংখ্যক উপকারী ব্যাকটেরিয়া ত্বকে অবস্থানকালে এসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য নিঃসরণ করে, যা অণুজীবের সংখ্যাবৃদ্ধিকে বাঁধা দেয়। 
- ঘাম নিঃসৃত লবণ ও ফ্যাটি এসিডে অবস্থিত লাইসোজাইম (lysozyme) ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরকে ধ্বংস করে। 
- অশ্রুগ্রন্থি নিঃসৃতেও লাইসোজাইম থাকে যারা চোখে জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিহত করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৫.
‘তিমি’ অক্সিজেন নেয়-
  1. ক) বাতাস থেকে
  2. খ) পানি থেকে
  3. গ) ফুলকার সাহায্যে
  4. ঘ) উপরের কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ক) বাতাস থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাতাস থেকে
ব্যাখ্যা
শুশুক, ডলফিন ও তিমি সামুদ্রিক প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী। শুশুক শ্বাস-প্রশ্বাসে সরাসরি পানির উপরের বাতাস ব্যবহার করে।
সূত্রঃ ১১তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
৬১৬.
নিচের কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম উদ্ভিদ?
  1. সাইকাস
  2. গর্জন
  3. গরান
  4. বৈলাম
সঠিক উত্তর:
সাইকাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইকাস
ব্যাখ্যা

*** সাইকাস হচ্ছে জীবন্ত জীবাশ্ম উদ্ভিদ।

• জীবন্ত জীবাশ্ম:
- বর্তমানকালের কোন জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অতীতকালের কোন জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলসম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বা লিভিং ফসিল বলা হয়।
- জীবন্ত জীবাশ্ম উদ্ভিদের উদাহরণ হচ্ছে জিঙ্কগো বিলোবা, সাইকাস, নিটাম, ইকুইজিটাম, ওল্লেমি পাইন।

• সাইকাসকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলার কারণ: 
- সাইকাস উদ্ভিদ Cycadales বর্গের অন্তর্গত। সাইকাসের উৎপত্তি মেসোজোয়িক যুগে (বিশেষ করে জুরাসিক যুগে)। সে সময়কার জীবাশ্ম সাইকাসের সাথে বর্তমান সাইকাসের গঠনে প্রায় কোনো পার্থক্য নেই।
- সাইকাসের অনেক বৈশিষ্ট্য সেই আদিকালের বিলুপ্ত জীবাশ্ম সাইকাডস-এর বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ।
-কোটি কোটি বছর ধরে সাইকাসের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ গঠন প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। 

- অন্যদিকে বৈলাম, গরান, গর্জন হলো আবৃতবীজী উদ্ভিদ। 

উৎস: ১) জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি) 
২) জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

৬১৭.
কাজের ভিত্তিতে প্রকৃত কোষ কয় ধরনের হয়ে থাকে?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
সঠিক উত্তর:
ক) দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুই
ব্যাখ্যা

কাজের ভিত্তিতে প্রকৃত কোষ দুই ধরনের হয়ে থাকে। যথা- দেহকোষ এবং জননকোষ।
যে সব কোষে সুনির্দিষ্ট বা সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে সেগুলোকে প্রকৃত কোষ বলে। প্রকৃত কোষে শুধু নিউক্লিয়াসই নয় অন্যান্য অঙ্গাণু যেমন, প্লাস্টিড (উদ্ভিদ কোষে), মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডপ্লাজমিক রেটিকুলাম, রাইবােজোম, লাইসোজোম, গলজি বস্তু, সেন্ট্রিওল ইত্যাদিও সুসংগঠিত।

প্রকৃত কোষ দুই প্রকার। যেমন– ১. দেহ কোষ ও ২. জনন কোষ।
দেহ কোষ : এরা বহুকোষী জীবের দেহ গঠন করে।
জনন কোষ : এ কোষের মাধ্যমে যৌন জনন সম্পন্ন হয়ে থাকে।
প্রকৃত কোষ এর বৈশিষ্ট্যসমূহ-
১। এসব কোষ এর কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে গঠিত।
২। এতে সুনির্দিষ্ট ও সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে অর্থাৎ নিউক্লিয়াসটি নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম দিয়ে গঠিত।
৩। ক্রোমোজমে এ (DNA, RNA) এবং প্রোটিন থাকে।
৪। সালোকসংশ্লেষণের এর জন্য সুগঠিত প্লাস্টিড থাকে।
৫। সাইটোপ্লাজমে সব ধরনের অঙ্গাণু যেমন- মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডপ্লাজমিক রেটিকুলাম, রাইবােজোম,লাইসোজম, গলজি বস্তু ইত্যাদি থাকে।
৬। মাইটোসিস পদ্ধতিতে দেহ কোষ বিভাজিত হয়।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৬১৮.
জীবদেহে অতিরিক্ত গ্লুকোজ কোথায় সঞ্চিত হয়?
  1. ক) অগ্নাশয়
  2. খ) যকৃত
  3. গ) প্লিহা
  4. ঘ) পিত্তথলি
সঠিক উত্তর:
খ) যকৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যকৃত
ব্যাখ্যা
- যকৃত দেহের বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি।
- এটি ২টি খন্ডে বিভক্ত: ডান এবং বাম।
- প্রাণীদেহে বিপাকে ও অন্যান্য কিছু শরীরবৃত্তীয় কাজে যকৃত প্রধান ভূমিকা পালন করে।
- ক্ষুদ্রান্ত থেকে হেপাটিক পোর্টাল শিরার মাধ্যমে গ্লুকোজ যকৃতে প্রবেশ করে।
- রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজ গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লাইকোজেনে রূপান্তরিত হয়ে যকৃতের সঞ্চয়ী কোষে জমা থাকে।

- যকৃতের সঞ্চয়ী ভূমিকা গুলো হল:
- গ্লাইকোজেনের সঞ্চয়
- রক্ত সঞ্চয়
- ভিটামিন সঞ্চয়
- খনিজদ্রব্য সঞ্চয়
- পিত্তরস সঞ্চয়
- লিপিড ও অ্যামিনো এসিড সঞ্চয়

সূত্র: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৬১৯.
‘নব্য ডারউইনিজম’ শব্দটি কোন বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত? 
  1. পরিবেশ বিজ্ঞান
  2. বিবর্তন
  3. কৃষি বিজ্ঞান
  4. জৈব চিকিৎসা বিজ্ঞান 
সঠিক উত্তর:
বিবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবর্তন
ব্যাখ্যা

- ‘নব্য ডারউইনিজম’ শব্দটি বিবর্তন বা অভিব্যক্তি'র সঙ্গে সম্পর্কিত। 

বিবর্তন: 
- বিবর্তনের অপর নাম অভিব্যক্তি। 
- বিবর্তন বলতে সাধারণভাবে বুঝায় কোনো কিছু বিকশিত হওয়া, ধীরে ধীরে উন্মোচিত হওয়া। 
- বিবর্তনের মতবাদগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ১. ল্যামার্কিজম, ২. ডারউইনিজম ও ৩. নব্য ডারউইনিজম। 
- বিবর্তন এর উল্লেখযোগ্য প্রমাণগুলো হলো- 
১। অঙ্গসংস্থানিক প্রমাণ, 
২। ভ্রূণতত্ত্বীয় প্রমাণ, 
৩। ভৌগোলিক প্রমাণ, 
৪। শারীরবৃত্তীয় প্রমাণ, 
৫। শ্রেণিবিন্যাসগত প্রমাণ, 
৬। জিনতত্ত্বীয় প্রমাণ ও 
৭। জীবাশ্মগত প্রমাণ ইত্যাদি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২০.
ম্যালেরিয়া টিকা নিচের কোনটি?
  1. ক) RTS,S/ AS01
  2. খ) Avil-3
  3. গ) STZ328
  4. ঘ) RPM/vx336
সঠিক উত্তর:
ক) RTS,S/ AS01
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) RTS,S/ AS01
ব্যাখ্যা
ম্যালেরিয়া টিকা:

- WHO অনুমোদিত বিশ্বের প্রথম ম্যালেরিয়া টিকার নাম - RTS,S/AS01.
- টিকাটি ১৯৮৭ সালে প্রথম উদ্ভাবন করে ব্রিটিশ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান জিএসকে।
- গত ৬ অক্টোবর ২০২১ সালে টিকাটিকে অনুমোদন দেয়া হয়।

তথ্যসূত্র - বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওয়েবসাইট ও দৈনিক প্রথম আলো, ০৭ অক্টোবর ২০২১।
৬২১.
বায়োলজি শব্দটির প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ক) এরিস্টটল
  2. খ) ল্যামার্ক
  3. গ) থিওফ্রাস্টাস
  4. ঘ) কার্ল বেন্ডা
সঠিক উত্তর:
খ) ল্যামার্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ল্যামার্ক
ব্যাখ্যা

ল্যামার্ক বায়োলজি শব্দটির প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি প্রথম বিবর্তন অপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
এ বিষয়টি তিনি ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে তার লেখা 'Philosophic Zoologique' নামে একটি বইতে লিপিবদ্ধ করেন।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান

৬২২.
নারভাস সিস্টেমের স্ট্রাকচারাল এবং ফাংশনাল ইউনিটকে কি বলে?
  1. ক) নেফ্রোন
  2. খ) নিউরন
  3. গ) থাইমাস
  4. ঘ) মাস্ট সেল
সঠিক উত্তর:
খ) নিউরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিউরন
ব্যাখ্যা
স্নায়ুতন্ত্রের গঠনমূলক ও কার্যকরী একককে নিউরন বা স্নায়ুকোষ বলে। মস্তিষ্ক কোটি কোটি স্নায়ুকোষ (নিউরন) দিয়ে তৈরি। এই একটি মাত্র মানব মগজে রয়েছে ১, ০০০ কোটি স্নায়ুকোষ বা নার্ভ সেল।
৬২৩.
উদ্ভিদের পুষ্টির জন্য মাইক্রো উপাদান কয়টি?
  1. ক) ১০টি
  2. খ) ৯টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৭টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬টি
ব্যাখ্যা

ম্যাক্রো উপাদানঃ
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
এরূপ উপাদানের সংখ্যা ১০টি
যথা - নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ (Fe)।
মাইক্রো উপাদানঃ
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলা হয়।
এদের সংখ্যা ৬টি।
যথা- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (Cu) ও ক্লোরিন (Cl)।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৬২৪.
অস্থিমজ্জা ক্ষতিগ্রস্ত হয় কোন রোগে?
  1. ম্যালেরিয়া
  2. হিমোফিলিয়া
  3. থ্যালাসেমিয়া
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
থ্যালাসেমিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থ্যালাসেমিয়া
ব্যাখ্যা

থ্যালাসেমিয়া:
- থ্যালাসেমিয়া একটি রক্তজনিত জিনগত রোগ।
- এটি উত্তরাধিকারসূত্রে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে।
- রোগীর শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে ত্রুটি দেখা যায়।
- হিমোগ্লোবিন অস্বাভাবিক হওয়ায় লোহিত রক্তকণিকা সহজে ভেঙে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা হয়।
- অস্থিমজ্জা অতিরিক্ত পরিশ্রম করে RBC তৈরি করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হাড়ের গঠন বিকৃত হতে পারে
- সাধারণত শিশু অবস্থায় এ থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ -
ম্যালেরিয়া: Plasmodium পরজীবী দ্বারা সৃষ্ট সংক্রমণ।
হিমোফিলিয়া: রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা।

উৎস: বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৬২৫.
কোন উদ্ভিদে ফুল বা ফল হয় না এবং প্রজনন স্পোর বা রেণুর মাধ্যমে ঘটে? 
  1. সপুষ্পক উদ্ভিদ 
  2. অপুষ্পক উদ্ভিদ 
  3. আবৃতবীজী উদ্ভিদ 
  4. নগ্নবীজী উদ্ভিদ 
সঠিক উত্তর:
অপুষ্পক উদ্ভিদ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপুষ্পক উদ্ভিদ 
ব্যাখ্যা

সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- সপুষ্পক উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয়। 
যেমন- আম, কাঁঠাল, শাপলা, জবা ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত। 
- কোনো উদ্ভিদ ফল উৎপন্ন করে আবার কোনটি ফল উৎপন্ন করে না, তাই বীজগুলো অনাবৃত থাকে। 
- এরা প্রধানত দুই ধরনের। 
যথা: নগ্নবীজী উদ্ভিদ ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ। 
- এদের দেহে অত্যন্ত উন্নত ধরনের পরিবহন কলা উপস্থিত থাকে। 

অপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- উদ্ভিদের মধ্যে কিছুসংখ্যক উদ্ভিদে ফুল ও ফল হয় না। এরা স্পোর বা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে প্রজনন সম্পন্ন করে। এদের অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
- এদের অনেকের দেহকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। 
যেমন- অ্যাগারিকাস ও স্পাইরোগাইরা, মস, ফার্ণ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৬২৬.
এক মনোমার বিশিষ্ট শর্করার উৎস কোনটি?
  1. ক) চিনি
  2. খ) মধু
  3. গ) চাল
  4. ঘ) আটা
সঠিক উত্তর:
খ) মধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মধু
ব্যাখ্যা
শর্করা জাতীয় খাদ্য শরীরে কাজ করার শক্তি যোগায়।
শর্করার মৌলিক উপাদান কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন।
উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড, পাতা, ফুল, ফল ও বীজে শর্করা বিভিন্নরূপে জমা থাকে।
ফলের রসে গ্লুকোজ, দুধে ল্যাকটোজ, গম, আলু, চাল ইত্যাদিতে শ্বেতসার (স্টার্চ) ইত্যাদি শর্করাজাতীয় খাদ্যের বিভিন্ন রূপ। গঠনপদ্ধতি অনুসারে শর্করাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়।
নিচের সারণিতে এই তিন ধরনের শর্করার গঠন এবং উৎস দেখানো হলো।

 

উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি
৬২৭.
মানুষের মুখবিবরে কতটি লালাগ্রন্থি থাকে? 
  1. দুইটি
  2. চারটি
  3. ছয়টি
  4. আটটি
সঠিক উত্তর:
ছয়টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছয়টি
ব্যাখ্যা
মুখবিবর: 
- মুখ পরবর্তী অংশটি মুখবিবর। 
- মুখ বিবরের ঊর্ধ্ব প্রাচীর তালুর অস্থি ও পেশি দিয়ে, সামনের প্রাচীর ঠোঁটের পেশি দিয়ে এবং পার্শ্ব প্রাচীর গালের পেশি দিয়ে গঠিত। 
- তালুর অগ্রভাগ অস্থিনির্মিত এবং শক্ত, পেছনের অংশ মাংসল ও নরম। 
- তালুর পেছনের অংশের মধ্যভাগ থেকে একটি অপেক্ষাকৃত সরু আলজিহবা মুখবিবরে ঝুলে থাকে। 
- মানুষের ঊর্ধ্ব ও নিম্ন চোয়াল দাঁতযুক্ত। 
এছাড়া মুখবিবরে তিন জোড়া বা ছয়টি লালাগ্রন্থি থাকে। 
- নিম্নে চোয়ালের অস্থির সাথে জিহ্বাযুক্ত থাকে। 
- পৃষ্ঠতলের উপর থাকে স্বাদকোরক এগুলো বিভিন্ন রাসায়নিক বস্তুর প্রতি সংবেদনশীল। 
- জিহ্বার অগ্রভাগ মিষ্টি, দুই পার্শ্ব নোনা, পশ্চাৎ ভাগের দুই পার্শ্ব টক এবং পেছনের দিক তিক্ত স্বাদ গ্রহণ করে। 

কাজ: 
- দাঁত খাদ্য দ্রব্যকে কাটা, ছেঁড়া ও পেষণে সাহায্য করে। 
- জিহ্বা খাদ্য দ্রব্যের স্বাদ গ্রহণ করে এবং পেষণের সময় লালারস মিশ্রিত করে খাদ্য দ্রব্যকে পিচ্ছিল করে পেছনে ঠেলে দেয়। 
- লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত “মিউসিন” খাদ্যকে পিচ্ছিল করে আর টায়ালিন ও মল্টেজ এনজাইম খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৮.
ডিপথেরিয়ায় মানবদেহের প্রধানত কোন অংশ আক্রান্ত হয়?
  1. ক) কান
  2. খ) নাক
  3. গ) গলা
  4. ঘ) পাকস্থলী
সঠিক উত্তর:
গ) গলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গলা
ব্যাখ্যা
ডিপথেরিয়ায় মানবদেহের প্রধানত গলার অংশ আক্রান্ত হয়। 

- ডিপথেরিয়া ব্যাকটেরিয়া ঘটিত মারাত্মক রোগ যা গলা ও নাকের মিউকাস মেমব্রেন বা শ্লেষ্মা ঝিল্লিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
- Corynebacterium diphtheriae নামক ব্যাকটেরিয়া ডিপথেরিয়ার জন্য দায়ী।
- এই রোগে গলার নিম্নাংশে পুরু পর্দার আচ্ছাদন (ডিপথেরিক মেমব্রেন) পড়ে। ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
- এই রোগে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া, প্যারালাইসিস, কিডনি নষ্ট হতে পারে এবং রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

লক্ষণসমূহ-
১) ঠান্ডা লাগা। 
২) জ্বর। 
৩) গলায় প্রচন্ড ব্যাথা ও কাশি। 
৪) মুখ দিয়ে লালা বের হওয়া। 
৫) শ্বাস নিতে অসুবিধা। 
৬) খাবার গিলতে সমস্যা। 
৭) কথা বলার মধ্যে জড়তা। 
৮) নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া। 
৯) দুর্বলতা। 
১০) প্রচন্ড মাথা ব্যথা। 

সূত্র- Centers for Disease Control and Prevention [লিঙ্ক]
৬২৯.
হাঁটুতে কান থাকে-
  1. ফড়িং এর
  2. মাছির
  3. কেঁচোর
  4. হাঙরের
সঠিক উত্তর:
ফড়িং এর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফড়িং এর
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য প্রাণী: 

• হাঁটুতে কান থাকে-  ফড়িং এর।
- ফড়িং ওডোনাটা বর্গভুক্ত ও এপিপ্রোকটা উপবর্গের এক ধরনের বড় যৌগিক চোখবিশিষ্ট পতঙ্গ।
- এদের দুই জোড়া শক্তিশালী ও স্বচ্ছ পাখা আছে। এ পাখার সাহায্যে ফড়িং উড়ে বেড়ায়। ব
- সে থাকার সময় পাখা অনুভূমিক এবং শরীরের সঙ্গে সমকোণে থাকে।

Source - Link

অপরদিকে, 
- তিনটি হৃৎপিণ্ড আছে: হাঙর, ক্যাটল ফিশ।
- খন্ডায়ন প্রাণী বলা হয়: কেঁচো, জোঁক।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়  ব্রিটানিকা।
৬৩০.
নিচের কোনটি কার্বন- ডাই- অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত সংবহনে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) হেপাটিক ধমনি
  2. খ) ফুসফুসীয় ধমনি
  3. গ) পালমােনারি শিরা
  4. ঘ) ফিমোরাল ধমনি
সঠিক উত্তর:
খ) ফুসফুসীয় ধমনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফুসফুসীয় ধমনি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
সাধারণত ধমনি সংবহনে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের আধিক্য থাকে।
যেমন মহাধমনি, হেপাটিক বা যকৃত ধমনি, ফিমোরাল ধমনি ইত্যাদি প্রায় সকল ধমনি সংবহনেই অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের আধিক্য থাকের

কেবল ফুসফুসীয় ধমনির সংবহনে কার্বন- ডাই- অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্তের আধিক্য থাকে।
- ফুসফুসীয় ধমনির উদ্ভব হয় ডান নিলয় থেকে।
- হৃদপিণ্ডের ডান নিলয়ের সংকোচনের ফলে কার্বন- ডাই- অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত তথা অক্সিজেনরিক্ত রক্ত ফুসফুসীয় ধমনিতে প্রবেশ করে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

করােনারি ধমনি: অ্যাওর্টা অ্যাওর্টিক আর্চ গঠনের পূর্বেই ডান ও বাম করােনারি ধমনি উৎপন্ন করে। এরা অক্সিজেন যুক্ত রক্ত হৃদপেশীতে সরবরাহ করে।

ইনমিনেট ধমনি: এটি একটি খাটো ও মােটা ধমনি। এটি অভিন্ন ক্যারােটিড ধমনি ও ডান সাবক্লেভিয়ান ধমনিতে বিভক্ত।

পালমােনারী ধমনি: দেহ থেকে গৃহীত কার্বন-ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত অক্সিজেনময় হওয়ার জন্য ফুসফুসে বহন করে।

পালমােনারি শিরা: ফুসফুস থেকে অক্সিজেনময় রক্ত দেহে সরবরাহের জন্য হৃদপিন্ডে বহন করে।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩১.
এইডস রোগের জন্য দায়ী ভাইরাসটি কোনটি? 
  1. HPV
  2. HSV
  3. HBV
  4. HIV
সঠিক উত্তর:
HIV
উত্তর
সঠিক উত্তর:
HIV
ব্যাখ্যা
এইডস রোগ: 
- সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী রোগ হচ্ছে ‘এইডস’ (AIDS)। 
- এটি একটি সংক্রামক রোগ। 
- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় AIDS চিহ্নিত হয় এবং তখন থেকে সারা বিশ্বে AIDS মরণব্যাধি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। 
- আফ্রিকার দেশগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। 
- প্রাকৃতিক নিয়মে সব মানুষের দেহেই রোগ-জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে, একে ইমিউনিটি বলা হয়। 
- রক্তের লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি প্রস্তুতের মাধ্যমে জীবাণুর আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে যা AIDS আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ধীরে ধীরে এই ক্ষমতা কমতে থাকে। এই কারণে এ রোগটির নাম দেওয়া হয়েছে- ‘অ্যাকুয়ার্ড ইম্যুন ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রম’ যা সংক্ষেপে AIDS ( Acquired Immune Deficiency Syndrome)। 

- এইডস এক ধরনের ভাইরাস, যার নাম Human Immuno Deficiency Virus (HIV), এটি AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে। 
- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। 
- দেহের রক্তস্রোতে প্রবেশ করার পর HIV রক্তের শ্বেত কণিকার T- লিম্ফোসাইটকে আক্রমণ করে, যার ফলে দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। 
- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। 
- এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। 
- প্রধাণত যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমেই আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে HIV সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়, মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে সদ্যোজাত শিশুর দেহে এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে, এছাড়াও রক্ত সঞ্চালন কিংবা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জের মাধ্যমে এ রোগ সঞ্চারিত হতে পারে। 
- AIDS প্রতিরোধ করার সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ বিষয় হলো, HIV সংক্রমণ কীভাবে ঘটে সে সম্পর্কে সবাইকে শিক্ষা দেওয়া। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৩২.
সালোকসংশ্লেষণ কী? 
  1. পানি পরিশোধনের প্রক্রিয়া 
  2. প্রাণীর খাদ্য হজমের প্রক্রিয়া 
  3. সবুজ উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করার প্রক্রিয়া 
  4. সূর্যের আলো থেকে তাপ উৎপাদনের প্রক্রিয়া 
সঠিক উত্তর:
সবুজ উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করার প্রক্রিয়া 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজ উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করার প্রক্রিয়া 
ব্যাখ্যা

সালোকসংশ্লেষণ: 
- পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হলো সূর্য। 
- সবুজ উদ্ভিদকুল সালোকসংশ্লেষণ চলাকালে সৌরশক্তিকে আবদ্ধ করে। 
- যে পদ্ধতিতে সূর্যের আলোয় সবুজ উদ্ভিদেরা তাদের নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরি করে তার নামই হলো সালোকসংশ্লেষণ। 
- একমাত্র সবুজ উদ্ভিদেরাই এই কাজটি করতে পারে। 
- উদ্ভিদের পাতার সবুজ প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়। 
- এই প্লাস্টিডের ভিতরে সৌরশক্তি, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে। 

- পাতাকে সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে গণ্য করা হয়। 
কারণ- 
• পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হওয়ায় বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি এবং অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়। 
• পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা অনেক বেশি। 
• পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদান সহজে ঘটে। 
- জীবজগতের জন্য প্রাথমিক খাদ্য শর্করা একমাত্র সালোকসংশ্লেণের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়। 
- সালোকসংশ্লেষণে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি গৃহীত হয় এবং গ্কোলুজ ও অক্সিজেন উৎপন্ন করে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৬৩৩.
ক্লোরেফিলে কোন মৌলটির উপস্থিতি বিদ্যমান?
  1. ক) K
  2. খ) Ca
  3. গ) Mg
  4. ঘ) Na
সঠিক উত্তর:
গ) Mg
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Mg
ব্যাখ্যা
- ক্লোরোফিল হচ্ছে একধরণের সবুজ রঞ্জক পদার্থ যা সায়ানোব্যাকটেরিয়ায় এবং উদ্ভিদ ও শৈবালের ক্লোরোপ্লাস্টে পাওয়া যায়।
- ক্লোরোফিল শব্দটি গ্রীক শব্দ থেকে নেয়া হয়েছে,তাই ক্লোরোফিলের শব্দগত অর্থ সবুজ পাতা।
- ক্লোরোফিল একটি অতীব প্রয়োজনীয় জৈব অণু যা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং উদ্ভিদকে সূর্যালোক থেকে শক্তি সংগ্রহে সাহায্য করে।
- ক্লোরেফিলে ম্যাগনেসিয়াম (Mg) এর উপস্থিতি রয়েছে।
৬৩৪.
Species Plantarum বইটি রচনা করেন কে?
  1. ক) অ্যারিস্টটল
  2. খ) থিয়োফ্রাস্টাস
  3. গ) রবার্ট হুক
  4. ঘ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্যারোলাস লিনিয়াস
ব্যাখ্যা
১৭৫৩ সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস Species Plantarum বইটি রচনা করেন। এই বইটির প্রকাশনার মাধ্যমে তিনি দ্বিপদ নামকরণের প্রবর্তন করেন এবং গণ ও প্রজাতির সংজ্ঞা দেন। সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৬৩৫.
কচুশাক বিশেষভাবে মূল্যবান যে উপাদানের জন্য তা হলো-
  1. লৌহ
  2. ভিটামিন-সি
  3. ক্যালসিয়াম
  4. ভিটামিন-এ
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান (পৃষ্ঠা নং - ৯৪)

 

ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎসের তালিকায় কচু শাক দেয়া আছে। তবে, কচু শাক লৌহেরও ভাল উৎস। সম্ভবত প্রচলিত উত্তর লৌহ। কিন্তু, লৌহ এবং ক্যালসিয়াম একসাথে দেয়া হলে সঠিক উত্তর নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। যেহেতু, প্রধান উৎস হিসেবে জীববিজ্ঞান বইতে সরাসরি বলা আছে তাই এটাকেই উত্তর হিসেবে নেয়া হল। পাশপাশি সকল তথ্য দেয়া হল।
----------
লৌহ/আয়রনের উদ্ভিজ্জ উৎসঃ ফুলকপির পাতা, নটোশাক, নিম পাতা, ডুমুর, কাঁচা কলা, ভুট্টা, গম, বাদাম ইত্যাদি৷
ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎসঃ ডাল, তিল, গাজর, ফুলকপি, পালংশাক, কচুশাক, লাল শাক, বাধাকপি ইত্যাদি৷
উৎসঃ বিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণী
যদিও, এখানে লিস্টে নাম দেয়া হয়নি। তবে, কচু শাক লৌহের ভাল উৎস কোন সন্দেহ নেই। যাইহোক, দুইটা রেফারেন্সেরই দিক থেকে চিন্তা করলে ক্যালসিয়ামকে বাদ দেয়া যাচ্ছে না।
৬৩৬.
নিম্নের কোনটি ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট রোগ?
  1. যক্ষ্মা
  2. পোলিও
  3. ম্যালেরিয়া
  4. কলেরা 
সঠিক উত্তর:
পোলিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোলিও
ব্যাখ্যা

◉ পোলিও (Poliomyelitis) একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা Poliovirus দ্বারা সংক্রমিত হয়। এটি মূলত স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে এবং অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী পঙ্গুত্ব সৃষ্টি করতে পারে।

ভাইরাসজনিত রোগ:
- এইডস,
- পোলিও, 
- ডেঙ্গু,
- ইনফ্লুয়েঞ্জা,
- পীতজ্বর,
- হাম,
- রুবেলা,
- মাম্পস,
- জন্ডিস,
- হার্পিস ইত্যাদি।

ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ:
- আমাশয়,
- কলেরা,
- কুষ্ঠ,
- যক্ষ্মা,
- ধনুষ্টংকার,
- ডিপথেরিয়া,
- হুপিং কাশি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, ম্যালেরিয়া — Plasmodium প্রজাতির প্রোটোজোয়া দ্বারা সৃষ্ট, যা মশার মাধ্যমে ছড়ায়।

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।

৬৩৭.
শুকনো কিসমিস পানিতে রাখলে ফুলে উঠে কোন প্রক্রিয়ায়?
  1. ব্যাপন
  2. প্রস্বেদন
  3. অভিস্রবন
  4. ইমবাইবিশন
সঠিক উত্তর:
অভিস্রবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিস্রবন
ব্যাখ্যা
অভিস্রবণ: 
- যে প্রক্রিয়ায় একটি বৈষম্যভেদ্য ঝিল্লিয মধ্য দিয়ে হালকা ঘনত্বের দ্রবণ হতে পানি (দ্রাবক) অধিক ঘন দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে অভিস্রবণ বলে। 
- দুটি দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে। 
- পানিতে কিসমিস ডুবিয়ে রাখলে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কিছুক্ষণের মধ্যেই কিসমিস ফুলে ওঠে। 

- অভিস্রবণ দু'ধরনের। 
যথা - 
(১) অন্তঃঅভিস্রবণ: 
- দ্রাবক যখন কোষের বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করে তখন অন্তঃঅভিস্রবণ ঘটে। 
- অন্তঃঅভিস্রবণের ফলে মাটি থেকে পানি মূলরোমে প্রবেশ করে; উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি শোষণ করতে পারে। 
উদাহরণ - কিসমিস পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ধীরে ধীরে ফুলে উঠে। 

(২) বহিঃঅভিস্রবণ: 
- দ্রাবক যখন কোষের ভেতর থেকে বাইরে আসে তখন বহিঃঅভিস্রবণ ঘটে। 
- টসটসে আঙ্গুর ঘন চিনির কিংবা লবণের দ্রবণে ডুবিয়ে রাখলে কিছুটা চুপসে যায়। কারণ বহিঃঅভিস্রবণের ফলে আঙ্গুরের ভেতরের পানি বাইরের ঘন দ্রবণে চলে আসে। 
 
উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। 
৬৩৮.
নিচের কোনটি ইবোলা ভাইরাসের লক্ষণ নয়?
  1. ক) জ্বর হওয়া
  2. খ) পেশীতে ব্যথা অনুভব করা
  3. গ) মাথাব্যথা
  4. ঘ) উচ্চ রক্তচাপ
সঠিক উত্তর:
ঘ) উচ্চ রক্তচাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উচ্চ রক্তচাপ
ব্যাখ্যা
উচ্চ রক্তচাপ ইবোলা ভাইরাসের লক্ষণ নয়। 

লক্ষণ- 
- ভাইরাস শরীরে প্রবেশের ২-২১ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পেয়ে থাকে, গড়ে ৭-১০ দিন।
- প্রাথমিকভাবে ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো জ্বর, ক্ষুধামন্দা, গা ব্যথা, মাথা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, কাশি ইত্যাদি দেখা দেয়।
- এর পরে বমি, পাতলা পায়খানা এবং ত্বকে লক্ষণ প্রকাশ পায়।
- নাক, মাড়ি, চোখ, বমিতে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
- ত্বকে রক্তক্ষরণের কারণে এক ধরনের ছোপ ছোপ লালচে ক্ষত দেখা দেয়, কাশি এবং মলেও রক্তক্ষরণ হয়।
- শরীরের ভেতর রক্তক্ষরণ হতে থাকে, লিভার ও কিডনির কার্যক্ষমতাও কমতে থাকে।
- এ রোগের কিছু লক্ষণ ম্যালেরিয়া বা ডেঙ্গুজ্বরের মতো মনে হতে পারে। ৮-১২ দিনের মধ্যে মৃত্যু হয়ে থাকে।
-দুর্বলতা এবং অস্থি জোড়ার ব্যথা রোগ প্রশমনের দীর্ঘকাল পরও পরিলক্ষিত হয়। 

সূত্র: WHO Website [লিঙ্ক]
৬৩৯.
শ্বেত রক্তকণিকা (লিউকোসাইট) সম্পর্কিত কোন বিবৃতিটি সঠিক নয়?
  1. শ্বেত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে
  2. ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ভক্ষণ করে
  3. মানবদেহে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে ৪ - ১১ হাজার 
  4. রক্তপ্রবাহে শ্বেত রক্তকণিকা সাধারণত মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়
সঠিক উত্তর:
রক্তপ্রবাহে শ্বেত রক্তকণিকা সাধারণত মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তপ্রবাহে শ্বেত রক্তকণিকা সাধারণত মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়
ব্যাখ্যা

শ্বেত রক্তকণিকা সাধারণত অস্থিমজ্জা (bone marrow) এবং লিম্ফয়েড অঙ্গাণু যেমন লিম্ফ নোড (lymph nodes) ও প্লীহা (spleen) -তে বিভাজিত হয়, রক্তপ্রবাহের মধ্যে নয়।

শ্বেত রক্তকণিকা:
- শ্বেত রক্তকণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে।
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে।
- ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে।
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে।
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে।
- শ্বেত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে।
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে।
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪ - ১১ হাজার (গড়ে ৭৫০০) শ্বেত রক্তকণিকা থাকে।

শ্বেত রক্তকণিকার বৈশিষ্ট্যসমূহ-
১. শ্বেত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস আছে।
২. শ্বেত রক্তকণিকার আকার অনিয়মিত ও বড়।
৩. শ্বেত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন নেই।
৪. শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা লোহিত রক্তকণিকার তুলনায় অনেক কম।
৫. শ্বেত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪০.
What is the specific name of the virus that causes dengue fever?
  1. Filovirus
  2. Togavirus
  3. Bunyavirus
  4. Flavivirus
  5. Orthomyxovirus
সঠিক উত্তর:
Flavivirus
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Flavivirus
ব্যাখ্যা
- ডেঙ্গু জ্বরের ভাইরাস হচ্ছে- ফ্ল্যাভি ভাইরাস। 

ভাইরাস: 
- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে। 
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে। 
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে। 
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে। 

ভাইরাসের অপকারিতা: 
১। বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর নানা রকমের রোগ উৎপন্ন করে। 
- এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রোগের নাম, পোষকের নাম এবং ভাইরাসের নাম হলো - 
 
অপশন আলোচনা:
ক) Filovirus - Ebola virus (Ebola virus disease),
খ) Togavirus - Chikungunya virus (Chikungunya fever),
গ) Bunyavirus - Hantavirus (Hantavirus pulmonary syndrome),
ঘ) Flavivirus - Dengue virus (Dengue fever), Zika virus (Zika fever),
ঙ) Orthomyxovirus - Influenza virus (Influenza, commonly known as flu).

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪১.
মানবদেহের রক্ত সংবহনতন্ত্র কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
ব্যাখ্যা
রক্ত সংবহনতন্ত্র:

- মানবদেহের রক্ত সংবহনতন্ত্র প্রধানত: ২ প্রকার
• সিস্টেমিক সংবহনতন্ত্র।
• পালমোনারি সংবহনতন্ত্র।
- রক্ত সংবহনের জন্য বিভিন্ন অঙ্গের পারস্পরিক সহযোগিতায় যে অঙ্গতন্ত্র গঠিত হয় তাকে “রক্ত সংবহনতন্ত্র” বলে।
- এ তন্ত্র রক্ত, রক্তবাহিকা ও হৃদপিণ্ড দিয়ে গঠিত।
- মানবদেহের রক্তবাহিকাগুলো দু'ধরনের রক্ত সংবহন চক্র গঠন করে। যথা:
• সিস্টেমিক চক্র।
• পালমোনারি চক্র।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪২.
মানুষের দেহে করোটিক স্নায়ু সংখ্যা কতটি?
  1. ১২টি
  2. ২৪টি
  3. ৩১টি
  4. ৪৬টি
সঠিক উত্তর:
২৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪টি
ব্যাখ্যা
করোটিক স্নায়ু: 
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে। 
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া বা ২৪টি। 
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে। 
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে। 
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু। 
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে। 
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু। 
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে। 
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু। 

অলফ্যাক্টরি স্নায়ু: 
- অগ্রমস্তিষ্কের অঙ্কীয়দেশ (অলফ্যাক্টরি লোবের শীর্ষদেশ) হতে উৎপন্ন হয়ে নাসিকা গহবরের মিউকাস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
- এটি সংবেদী স্নায়ু এবং মস্তিষ্কে ঘ্রাণের অনুভূতি পৌঁছায়।

অন্যদিকে, 
- মানবদেহে সুষুম্না কাণ্ড থেকে ৩১ জোড়া বা ৬২টি সুষুম্না স্নায়ু উৎপন্ন হয়। 
- মানুষের জীবকোষে ক্রোমোজোম আছে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৩.
গাছের খাদ্য তালিকায় নেই-
  1. ক) Na, Al, P
  2. খ) Ca, C, H
  3. গ) N, O, Zn
  4. ঘ) K, S, Fe
সঠিক উত্তর:
ক) Na, Al, P
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Na, Al, P
ব্যাখ্যা
গাছের খাদ্য তালিকায় সোডিয়াম (Na) এবং অ্যালমুনিয়াম (Al) নেই।
সূত্রঃ ২৭তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
৬৪৪.
মানুষের স্পাইনাল কর্ডের দৈর্ঘ্য কত সেন্টিমিটার?
  1. ১৮ সে.মি.
  2. ৩০ সে.মি.
  3. ৪৫ সে.মি.
  4. ৬০ সে.মি.
সঠিক উত্তর:
৪৫ সে.মি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৫ সে.মি.
ব্যাখ্যা
• সুষুম্না কান্ড:
- সুষুম্না কান্ড বা Spinal Cord কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের একটি অংশ।
- Spinal Cord বা স্নায়ু রজ্জু মস্তিষ্ক থেকে মেরুদন্ডের ভেতরে অবস্থিত।
- Spinal Cord প্রায় ১৮ ইঞ্চি বা ৪৫ সে.মি. লম্বা।
- এখান থেকে ৩১ জোড়া স্নায়ু (Spinal Nerve) উৎপন্ন হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৪৫.
নিম্নলিখিত ভাইরাসগুলোর মধ্যে কোনটি ফ্ল্যাভিভাইরাস গোত্রভুক্ত?
  1. ইবোলা ভাইরাস
  2. ডেঙ্গু ভাইরাস
  3. এইচআইভি
  4. ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস
সঠিক উত্তর:
ডেঙ্গু ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেঙ্গু ভাইরাস
ব্যাখ্যা

• ফ্ল্যাভিভাইরাস গোত্রভুক্ত ভাইরাস হলো ডেঙ্গু ভাইরাস। ফ্ল্যাভিভাইরাস গোত্রের ভাইরাসগুলো সাধারণত RNA ভাইরাস এবং তারা মশা দ্বারা সংক্রমিত হয়। এই ভাইরাসগুলো মানুষের মধ্যে বিভিন্ন জ্বরজনিত রোগ সৃষ্টি করতে পারে, যেমন ডেঙ্গু, জিকা, হেপাটাইটিস সি এবং ইয়েলো ফিভার। অন্যদিকে, ইবোলা ভাইরাস হলো ফিলোভাইরাস গোত্রের, যা হেমোরাজিক জ্বর সৃষ্টি করে। এইচআইভি হলো রেট্রোভাইরাস গোত্রের, যা মানুষের ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাসের মাধ্যমে এডস সৃষ্টি করে। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস হলো অরথোমিক্সোভাইরাস গোত্রের, যা শ্বাসনালীতে সংক্রমণ ঘটায়। সুতরাং, প্রদত্ত অপশন চারটির মধ্যে শুধুমাত্র ডেঙ্গু ভাইরাস ফ্ল্যাভিভাইরাস।
 
ভাইরাস: 
- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে। 
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে। 
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে। 
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে। 

ভাইরাসের অপকারিতা: 
- বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর নানা রকমের রোগ উৎপন্ন করে। 
- এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রোগের নাম, পোষকের নাম এবং ভাইরাসের নাম হলো- 
 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪৬.
​ইনসুলিন কোন অঙ্গ থেকে নির্গত হয়? 
  1. কিডনি 
  2. হার্ট 
  3. প্যানক্রিয়াস
  4. লিভার 
সঠিক উত্তর:
প্যানক্রিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যানক্রিয়াস
ব্যাখ্যা

বহুমূত্র রোগ: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ।
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়।
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়।
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না।
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৪৭.
ভাইরাসের কেন্দ্রে কোন পদার্থ থাকে যা বংশগতি নির্ধারণ করে? 
  1. প্রোটিন
  2. কার্বোহাইড্রেট
  3. নিউক্লিক অ্যাসিড
  4. অ্যামাইনো এসিড
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিক অ্যাসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের রাসায়নিক গঠন: 
- রাসায়নিকভাবে ভাইরাসে দুটি উপাদান থাকে। 
যথা- নিউক্লিক অ্যাসিড এবং প্রোটিন। 
- ভাইরাসের কেন্দ্রে অবস্থান করে নিউক্লিক অ্যাসিড, এটি একটি বংশগতি নির্ধারক পদার্থ। 
- নিউক্লিক অ্যাসিড দুই ধরনের। 
যথা- DNA ও RNA। 
- অন্যান্য জীবদেহে একইসাথে DNA ও RNA অবস্থান করলেও ভাইরাস দেহে একই সাথে DNA ও RNA অবস্থান করে না। 
- ক্যাপসিড আবরণটি অসংখ্য প্রোটিন অণু দিয়ে গঠিত, ক্যাপসিড আবরণের এক একটি প্রোটিন অণুকে ক্যাপসোমিয়ার বলা হয়। 
- ক্যাপসিড সাধারণত জৈবিক দিক দিয়ে নিষ্ক্রিয়, এরা নিউক্লিক অ্যাসিডকে রক্ষা করে, ভাইরাসকে পোষক দেহে সংক্রমণে সাহায্য করে এবং অ্যান্টিজেন হিসেবে কাজ করে। 
- কোন কোন ভাইরাসে (যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, হার্পিস এবং HIV ইত্যাদি) ক্যাপসিডের বাইরে জৈব পদার্থের একটি আবরণ থাকে। 
- এটি লিপিড, লিপোপ্রোটিন, শর্করা বা স্নেহ জাতীয় পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- লিপিড বা লিপোপ্রোটিনের এক একটি স্তরকে পেপলোমিয়ার বলা হয়। 
- লিপোপ্রোটিনের আবরণ দিয়ে গঠিত ভাইরাসকে লিপোভাইরাস বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৮.
ইনসুলিন নিঃসৃত হয় কোথা থেকে?
  1. ক) পিটুইটারী গ্ল্যান্ড হতে
  2. খ) প্যানক্রিয়াস হতে
  3. গ) লিভার হতে
  4. ঘ) লালাগ্রন্থি থেকে
সঠিক উত্তর:
খ) প্যানক্রিয়াস হতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্যানক্রিয়াস হতে
ব্যাখ্যা

অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়। ইনসুলিনের অভাবেই ডায়াবেটিস রোগ হয়।
অগ্ন্যাশয়ের ইংরেজি হচ্ছে প্যানক্রিয়াস।

প্যানক্রিয়াস (pancrea) হল মানুষের একটি অংগ যা একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে। পাকস্থলী যেখানে শেষ হয়, ডিওডেনাম সেখানে শুরু হয়। আর ডিওডেনামের পিছনেই এটির অবস্থান।



এটা মূলত দুই ধরনের কাজ করে।
১) খাদ্য হজমের জন্য পাচক রস বা ডাইজেস্টিভ জুস তৈরি করে পাকস্থলীতে সরবরাহ করে।
২) ইন্সুলিন ও গ্লুকাগন নিঃসরণ করে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই


৬৪৯.
কোন ধমনি মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে?
  1. ইলিয়াক ধমনি
  2. ভার্টিব্রাল ধমনি
  3. সিলিয়াক ধমনি
  4. মেসেন্টেরিক ধমনি
সঠিক উত্তর:
ভার্টিব্রাল ধমনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভার্টিব্রাল ধমনি
ব্যাখ্যা
সাবক্লেভিয়াল ধমনি ও তার শাখা: 
- সাবক্লেভিয়াল ধমনি দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সরবরাহ করে। 
- এর শাখাগুলোর কাজ হলো বিভিন্ন অঙ্গের রক্ত সরবরাহ করা। 

প্রধান শাখাগুলোর রক্ত সরবরাহের অঞ্চলসমূহ: 
- আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত সরবরাহ করে। 
- থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে। 
- সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে। 
- ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। 
- সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। 
- ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। 
- বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। 
- মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
- জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে। 
- ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫০.
বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী উপাদানের নাম কি?
  1. ক) জিন
  2. খ) প্রোটিন
  3. গ) ক্রোমোজোম
  4. ঘ) গ্যাসেট
সঠিক উত্তর:
ক) জিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জিন
ব্যাখ্যা

জীবের সব দৃশ্য এবং অদৃশ্যমান লক্ষণ নিয়ন্ত্রণকারী এককের নাম জিন। এর অবস্থান জীবের ক্রোমোজোমে। ক্রোমোজোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে তাকে লোকাস বলে। সাধারণত একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট জিন থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একাধিক জিন মিলিতভাবে একটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশে সহায়তা করে। আবার কোনো কোনো সময় একটি জিন একাধিক বৈশিষ্ট্যও নিয়ন্ত্রণ করে। বিভিন্ন গবেষণার তত্ত্ব থেকে জানা গেছে জিনই বংশগতির নিয়ন্ত্রক।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী

জীবের একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একাধিক জিন কাজ করে, আবার কখনো একটি জিন বেশ কয়েকটি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে।
মানুষের চোখের রং, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার রং ইত্যাদি সবই জিন কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি

এই প্রশ্নের উত্তর অপশনের উপর নির্ভর করে। অপশন দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
জিন, ক্রোমোজোম, DNA এই ৩টার মধ্যে সর্বোত্তম উত্তর হবে জিন। তারপরে ক্রোমোজোম। তবে, অপশনে শুধু DNA থাকলে উত্তর DNA দেয়া যেতে পারে।
এখানে, অপশনে অনুসারে উত্তর জিন ধরা হয়েছে।

৬৫১.
মানবদেহের পেশিটিস্যুতে পানির পরিমাণ কত?
  1. ৩০%
  2. ৫০%
  3. ৭৫%
  4. ৯০%
সঠিক উত্তর:
৭৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৫%
ব্যাখ্যা
• পেশিটিস্যু- 
- যে টিস্যু সঙ্কোচন-প্রসারণের মাধ্যমে প্রাণিদেহের বিভিন্ন অঙ্গের সঞ্চালন ঘটায় তাকে পেশিটিস্যু বলে। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ভ্রূণীয় মেসোডার্ম থেকে পেশিটিস্যু উৎপন্ন হয়।
- পেশিটিস্যুর একককে পেশিকোষ বা পেশিতন্ত্র বলা হয়।

• মানবদেহের পেশিটিস্যুতে (Muscle tissue) প্রায় ৭৫% পানি থাকে।
- এই পানি কোষের অভ্যন্তরে এবং কোষের চারপাশে ছড়িয়ে থাকে, যা পেশির কার্যক্ষমতা বজায় রাখা, নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

• শরীরের বিভিন্ন টিস্যুর পানির পরিমাণ ভিন্ন হয়ে থাকে।
• পেশি টিস্যুতে পানির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
৬৫২.
কোন অঙ্গটি সালোকসংশ্লেষণে সূর্যের আলো শোষণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে? 
  1. কাণ্ড 
  2. পাতা 
  3. মূল 
  4. শিকড় 
সঠিক উত্তর:
পাতা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতা 
ব্যাখ্যা

- সালোকসংশ্লেষণে সূর্যের আলো শোষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো পাতা, কারণ পাতায় প্রচুর ক্লোরোফিল থাকে যা আলো শোষণ করে, এবং পাতার বৃহৎ পৃষ্ঠতল আলো গ্রহণ ও গ্যাস বিনিময়ে সাহায্য করে, যা সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থান। 

সালোকসংশ্লেষণ: 
- পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হলো সূর্য। 
- সবুজ উদ্ভিদকুল সালোকসংশ্লেষণ চলাকালে সৌরশক্তিকে আবদ্ধ করে। 
- যে পদ্ধতিতে সূর্যের আলোয় সবুজ উদ্ভিদেরা তাদের নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরি করে তার নামই হলো সালোকসংশ্লেষণ। 
- একমাত্র সবুজ উদ্ভিদেরাই এ কাজটি করতে পারে। 
- উদ্ভিদের পাতার সবুজ প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়। 
- এ প্লাস্টিডের ভিতরে সৌরশক্তি, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে। 
- পাতাকে সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে গণ্য করা হয়। কারণ- 
• পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হওয়ায় বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি এবং অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়। 
• পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা অনেক বেশি। 
• পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদান সহজে ঘটে।
- জীবজগতের জন্য প্রাথমিক খাদ্য শর্করা একমাত্র সালোকসংশ্লেণের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়। 
- সালোকসংশ্লেষণে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি গৃহীত হয় এবং গ্কোলুজ ও অক্সিজেন উৎপন্ন করে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৬৫৩.
সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় আলোকশক্তি কোন শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. ক) তাপ শক্তি
  2. খ) বিদ্যুৎ শক্তি
  3. গ) রাসায়নিক শক্তি
  4. ঘ) চুম্বক শক্তি
সঠিক উত্তর:
গ) রাসায়নিক শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাসায়নিক শক্তি
ব্যাখ্যা
• সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। 

 • সালোক সংশ্লেষণ:
- যে উদ্ভিদ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোক সংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে।
- যেহেতু সালোক সংশ্লেষনের সময় কার্বন-ডাই-অক্সাইড শর্করা জাতীয় খাদ্যে রূপান্তরিত হয় সুতরাং ফটোসিনথেসিস প্রক্রিয়ার এই অংশকে কার্বন আত্তীকরণ পদ্ধতি বলে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৪.
বাংলাদেশের জাতীয় গাছের নাম কী?
  1. ক) কাঁঠাল গাছ
  2. খ) আম গাছ
  3. গ) বট গাছ
  4. ঘ) জাম গাছ
সঠিক উত্তর:
খ) আম গাছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আম গাছ
ব্যাখ্যা

- জাতীয় গাছ : আম গাছ
- জাতীয় পাখি : দোয়েল
- জাতীয় ফল : কাঁঠাল
- জাতীয় মাছ : ইলিশ
- জাতীয় ফুল : শাপলা
- জাতীয় পশু : রয়েল বেঙ্গল টাইগার
- জাতীয় দিবস : ২৬শে মার্চ।
(সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া)

৬৫৫.
মানুষের করোটিক স্নায়ুর সংখ্যা কতটি?
  1. ১২টি
  2. ২৪টি
  3. ৩১টি
  4. ৩৩টি
সঠিক উত্তর:
২৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪টি
ব্যাখ্যা
• করোটিক স্নায়ু:
- যেসব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি হয়ে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বেরিয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় সেগুলোকে করোটিক স্নায়ু বলে।
- মানুষের মস্তিষ্কে ১২ জোড়া অর্থাৎ ২৪টি করোটিক স্নায়ু আছে।
- সম্মুখ অংশ থেকে পরপর এদের রোমান সংখ্যা দিয়ে সূচিত করা হয়।
- মানবদেহে সুষুম্না কাণ্ড থেকে ৩১ জোড়া সুষুম্না স্নায়ু উৎপন্ন হয়।
- মানবদেহে সর্বমোট  ৩৩টি কশেরুকা রয়েছে।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৬৫৬.
তিন গ্রাম কার্বোহাইড্রেট হতে কত কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়? 
  1. প্রায় ৪ কিলোক্যালরি 
  2. প্রায় ৮ কিলোক্যালরি 
  3. প্রায় ১২ কিলোক্যালরি 
  4. প্রায় ৭ কিলোক্যালরি 
সঠিক উত্তর:
প্রায় ১২ কিলোক্যালরি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ১২ কিলোক্যালরি 
ব্যাখ্যা
ক্যালরি: 
- কর্মশক্তি পরিমাপের একক হলো ক্যালরি। 
- পুষ্টিবিজ্ঞানে খাদ্য হতে উৎপন্ন তাপ বা শক্তি ক্যালরি দিয়ে পরিমাপ করা হয়। 
- আমরা জানি যে ১০০০ ক্যালরি = ১ কিলোক্যালরি। 
- এ হিসাবে আমাদের দেহের শক্তি চাহিদাও কিলোক্যালরি দিয়ে নির্ণয় করা হয়। 
- খাদ্য উপাদানগুলোর মধ্যে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট হতে উল্লেখযোগ্য ও যথেষ্ট পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়। 
- ১ গ্রাম প্রোটিন হতে ৪ কিলোক্যালরি (প্রায়) শক্তি পাওয়া যায়। 
- ১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট হতে ৪ কিলোক্যালরি (প্রায়) শক্তি পাওয়া যায়। 
∴ ৩ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট হতে ৩ × ৪ = ১২ কিলোক্যালরি (প্রায়) শক্তি পাওয়া যায়। 
- ১ গ্রাম তেল বা চর্বি হতে ৯ কিলোক্যালরি (প্রায়) শক্তি পাওয়া যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৭.
স্থায়ী টিস্যু কয় প্রকার?
  1. ক) ২ প্রকার
  2. খ) ৩ প্রকার
  3. গ) ৪ প্রকার
  4. ঘ) ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ প্রকার
ব্যাখ্যা

- টিস্যু দুই ধরনের। যথা- ভাজক টিস্যু এবং স্থায়ী টিস্যু।
- স্থায়ী টিস্যু আবার তিন ধরনের। যথা- সরল টিস্যু, জটিল টিস্যু এবং নিঃস্রাবী টিস্যু।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৫৮.
গায়ের রং পরিবর্তন করে আত্মরক্ষা করে -
  1. ক) গিনিপিগ
  2. খ) টিকটিকি
  3. গ) সজারু
  4. ঘ) গিরগিটি
সঠিক উত্তর:
ঘ) গিরগিটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গিরগিটি
ব্যাখ্যা
Chameleon, (family Chamaeleonidae), any of a group of primarily arboreal (tree-dwelling) Old World lizards best known for their ability to change body colour. Other characteristics of chameleons include zygodactylous feet (with toes fused into opposed bundles of two and three), acrodont dentition (with the teeth attached to the edge of the jaw), eyes that move independently, atrophied venom glands that produce harmless trace amounts of venom, and a long, slender projectile tongue. সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৬৫৯.
ভাইরাস সম্পর্কে সত্য হলো-
  1. এককোষী
  2. অকোষীয়
  3. দ্বিকোষী
  4. বহুকোষী
সঠিক উত্তর:
অকোষীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অকোষীয়
ব্যাখ্যা

- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ। এর অর্থ হলো বিষ।
- ভাইরাস অতিআণুবীক্ষণিক এবং অকোষীয় রাসায়নিক বস্তু যা প্রোটিন ও নিউক্লিক এসিডের সমন্বয়ে গঠিত।
- ভাইরাসের দেহে কোনো নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম নেই। তাই এদের অকোষীয় বলা হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৬৬০.
একটি আদর্শ ফুলের কতটি অংশ থাকে?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৫টি
ব্যাখ্যা
একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি অংশ থাকে।
যথা-
(ক) পুষ্পাক্ষ,
(খ) বৃতি,
(গ) দলমন্ডল,
(ঘ) পুংস্তবক এবং
(ঙ) স্ত্রীস্তবক।

উৎস: জীববিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৬৬১.
কোন অংশটি পেশি ও অস্থির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে?
  1. অস্থিবন্ধনী
  2. লিগামেন্ট
  3. টেনডন
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
টেনডন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেনডন
ব্যাখ্যা
• টেনডন পেশি ও অস্থির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।

• টেনডন:
- মাংসপেশির যে প্রান্তভাগ রজ্জুর মতো শক্ত হয়ে অস্থিগাত্রের সাথে সংযুক্ত হয় সেই শক্ত প্রান্তকে টেনডন বলা হয়।

• টেনডনের গঠন:
- টেনডন টিস্যু কোলাজেন দিয়ে তৈরি, যা শরীরের সবচেয়ে বেশি প্রোটিন। এই কোলাজেন ফাইবারগুলি স্থিতিস্থাপক, মজবুত এবং নমনীয়।
- টেনডনগুলো স্নায়ু এবং রক্তনালী নিয়ে গঠিত।
- টেনডন ঘন, শ্বেত তন্তুময় যোজক কলা দিয়ে গঠিত। 
- অস্থি বা পেশির তুলনায় টেনডনের ভেঙ্গে বা ছিরে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম, তবে যদি কোনোভাবে ছিঁড়ে যায় তাহলে সহজে জোড়া লাগে না।

• টেনডনের কাজ:
- অস্থি বা হাড়ের সাথে পেশী সংযুক্ত করতে সাহায্য করে।
- অস্থিবন্ধনী গঠনে সাহায্য করে। 
- চাপটানের বিরুদ্ধে যান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। 
- লাফ দেওয়ার সময়, দৌড়ানোর সময় পেশীতে আঘাত রোধ করে। সারা শরীর জুড়ে টেনডন পাওয়া যায়।
- অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৬৬২.
উদ্ভিদের মাইক্রো উপাদান নয় কোনটি?
  1. বোরন
  2. আয়রন
  3. তামা
  4. কার্বন
সঠিক উত্তর:
কার্বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি: 
- মাটি ও পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য উদ্ভিদ যে সকল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদের পুষ্টি। 
- এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশ উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টিও বলা হয়। 
- ১৬টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়।এ ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়।

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ: 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৭টি উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B)কপার বা তামা (Cu) ও ক্লোরিন (Cl) । 

২। ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৯টি উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও সালফার (S) । 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৩.
ফানজাই রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত জীব কোনটি?
  1. স্পাইরোগাইরা
  2. মাশরুম
  3. অ্যামিবা
  4. ব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর:
মাশরুম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাশরুম
ব্যাখ্যা
জীবের শ্রেণিকরণ: 
- বিজ্ঞানীগণ পৃথিবীর সমস্ত জীবকে তাদের বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবদ্ধকরণের চেষ্টা করেছেন। 
- ১৯৬৯ খ্রি. বিজ্ঞানী হুইটেকার পঞ্চরাজ্য শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন। 
- ১৯৭৪ খ্রি. বিজ্ঞানী মাগিউলিস (Margulis) উক্ত শ্রেণিবিন্যাসকে পুনর্বিন্যাস করে জীবজগতের আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন। 
- আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসটি নিম্নরূপ পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করেছেন- 
যেমন-
রাজ্য-১: মনেরা: 
- এ রাজ্যের অধীনে বিন্যস্ত জীবের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- জীবটি এককোষী এবং এর কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না; এরা খুবই ক্ষুদ্র এবং অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া এদের দেখা যায় না। 
উদাহরণ: ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, স্পাইরোগাইরা ইত্যাদি। 

রাজ্য-২: প্রোটিস্টা: 
- এর অধীনে ঐ সকল জীবকে বিন্যস্ত করা হয়, যাদের কোষ সুগঠিত নিউক্লিয়াসযুক্ত, এরা এককোষী বা বহুকোষী ক্লোরোফিল যুক্ত একক বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে। 
উদাহরণ: ইউগ্লেনা, অ্যামিবা ইত্যাদি। 

রাজ্য-৩: ফানজাই বা ছত্রাক: 
- এদের দেহে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। এরা সাধারণত এককোষী বা বহুকোষী হয়। দেহে ক্লোরোফিল নেই, তাই এরা পরভোজী। 
উদাহরণ- ইস্ট, পেনিসিলিয়াম, মাশরুম ইত্যাদি। 

রাজ্য- ৪: প্লান্টি (উদ্ভিদজগৎ): 
- অধিকাংশ উদ্ভিদ নিজেই নিজের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। এদের দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত। এদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ দ্বারা নির্মিত। এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও কোষ গহ্বর বিদ্যমান। উদ্ভিদে সবুজ কণিকা বা ক্লোরোফিল থাকে, তাই এরা খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। 
উদাহরণ: আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি। 

রাজ্য-৫: এ্যানিমেলিয়া (প্রাণিজগৎ): 
- এসব জীবের কোষে সেলুলোজ নির্মিত কোষপ্রাচীর থাকে না। সাধারণত এ কোষগুলোতে প্লাস্টিডও থাকে না। তাই খাদ্যের জন্য এরা উদ্ভিদের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। 
উদাহরণ- মাছ, পাখি, গরু, মানুষ ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৬৬৪.
জীনের রাসায়নিক গঠন উপাদানকে বলা হয় -
  1. DNA
  2. RNA
  3. ATP
  4. TNA
সঠিক উত্তর:
DNA
উত্তর
সঠিক উত্তর:
DNA
ব্যাখ্যা
- জীবের রাসায়নিক গঠন উপাদান DNA

DNA: 
- জিনের রাসায়নিক গঠন উপাদান হলো DNA. 
- এটি একটি নিউক্লিক এসিড যা জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণের জিনগত নির্দেশ ধারণ করে। 
- DNA এর পূর্ণরূপ হল Deoxyribonucleic acid এবং RNA এর পূর্ণরূপ হল Ribonucleic acid. 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৫.
কলেরা রোগের কারণ কী? 
  1. ভাইরাস 
  2. ব্যাকটেরিয়া 
  3. ছত্রাক 
  4. পরজীবী
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া 
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ: 
- ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ বলে। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ: যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, মেনিনজাইটিস, কলেরা, গনোরিয়া, সিফিলিস, টাইফয়েড, আমাশয়, প্লেগ, কুষ্ঠ ইত্যাদি।

ভাইরাসজনিত রোগ: 
- ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাস জনিত রোগ বলে। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাস জনিত রোগ: জন্ডিস, পোলিও, জলাতঙ্ক, কোভিড-১৯, হার্পিস, দাদ, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য, 
- 'নিউমোনিয়া' রোগটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীব দ্বারা সংক্রমিত হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬৬.
মানব শ্বাসতন্ত্রের প্রথম অংশের নাম কী? 
  1. ফুসফুস
  2. শ্বাসনালী
  3. নাসিকা
  4. গলবিল
সঠিক উত্তর:
নাসিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাসিকা
ব্যাখ্যা

মানুষের শ্বাসতন্ত্রের প্রধান অংশসমূহের নাম:
- দেহের যে অঙ্গগুলো শ্বসন প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে, সেগুলোকে একত্রে শ্বাসতন্ত্র বলে। 
- যে সকল অঙ্গগুলো নিয়ে মানব শ্বাসতন্ত্র গঠিত তা হলো- নাসারন্ধ্র ও নাসাপথ (Nasal cavity), গলবিল ও গলনালি (Pharynx), স্বরযন্ত্র (Larynx), শ্বাসনালি (Trachea), বায়ুনালি বা ব্রঙ্কাস (Bronchus), ফুসফুস (Lung) ও মধ্যচ্ছদা (Diaphragm) । 

নাসারন্ধ্র বা নাসাপথ: 
- মানব শ্বাসতন্ত্রের প্রথম অংশের নাম নাসিকা। 
- এটা মুখ গহ্বরে উপরে অবস্থিত একটি ত্রিকোণাকার গহ্বর, এর সাহায্যে কোন বস্তুর সুগন্ধ বা দুর্গন্ধ বোঝা যায়। 
- একটি বিশেষ ধরনের স্নায়ু এ অঙ্গকে উদ্দীপিত করে, ফলে গন্ধ পাওয়া যায়। 
- একটি পাতলা পর্দা দ্বারা এটি দু'ভাগে বিভক্ত। 
- ইহার সম্মুখ ভাগ লোম দ্বারা আবৃত ও পেছনের দিকের অংশ শ্লেষ্মা প্রস্তুতকারী পর্দা দ্বারা আবৃত। 
- শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বায়ুতে বিদ্যমান ধূলিকণা, রোগ জীবাণু ও আবর্জনা থাকলে তা এ লোম ও পর্দাতে আটকে যায়। 
- ফলে বায়ু ফুসফুসে প্রবেশের পূর্বে অনেকটা নির্মল হয়ে যায়। 
- এছাড়া শ্বসনের জন্য গৃহীত বায়ু নাসাপথ দিয়ে যাওয়ার সময় কিছুটা শুষ্ক ও আর্দ্র হয়। এর ফলে হঠাৎ ঠান্ডা বায়ু ফুসফুসে প্রবেশ করে কোন প্রকার ক্ষতি করতে পারে না। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬৭.
পেনিসেলিয়াম কোন প্রাণীরাজ্য এর অন্তর্ভুক্ত প্রাণী?
  1. ক) Protista
  2. খ) Animalia
  3. গ) Fungi
  4. ঘ) Plantae
সঠিক উত্তর:
গ) Fungi
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Fungi
ব্যাখ্যা

ইস্ট, পেনিসিলিয়াম, এবং মাশরুম ফানজাই রাজ্য এর অন্তর্ভুক্ত প্রাণী।
ফানজাই রাজ্যকে ইউক্যারিওটা (সুপার কিংডম ২) কিংডমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরা প্রকৃতকোষবিশিষ্ট এককোষী বা বহুকোষী জীব। এককভাবে অথবা কলোনি আকারে দলবদ্ধভাবে বসবাস করে। যেমন—ইস্ট, Penicillium, মাশরুম।

এর কিছু বৈশিষ্ট্যসমূহ-
অধিকাংশই স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী।
দেহ এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম (সরু সুতার মতো অংশ) দিয়ে গঠিত।
এগুলোর নিউক্লিয়াস সুগঠিত।
কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত।
খাদ্যগ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৬৬৮.
রোগ প্রতিরোধে ইমিউনিটির প্রধান উদ্দেশ্য কয়টি?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৪
সঠিক উত্তর:
গ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৩
ব্যাখ্যা
মানবদেহের প্রতিরক্ষা:

- মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ, কলা ও কোষ নিয়মতান্ত্রিকভাবে একত্রে দেহের প্রতিরক্ষা (defence) ব্যবস্থাপনায় কোন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, পরজীবী ও অন্যান্য জীবাণুর আক্রমণ থেকে মানুষকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাকে বলা হয় ইমিউনিটি (immunity)।
- দেহের বিভিন্ন অঙ্গ, কলা ও কোষ সমন্বয়ে গঠিত যে তন্ত্র দেহকে রোগাক্রমণের হাত থেকে এবং রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে রক্ষা করে তাকে ইমিউন তন্ত্র (immune system) বলা হয়।

রোগ প্রতিরোধে ইমিউনিটির প্রধান উদ্দেশ্য তিন প্রকারের।
যথা-
• অণুজীবদের (micro- organisms) বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
• দেহের ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোকে শনাক্ত করা ও প্রতিস্থাপিত করা।
• পরিত্যক্ত বা নষ্ট কোষগুলোকে শনাক্ত করা এবং তাদের ধ্বংস করা।

- মানবদেহে প্রধাণত লিস্ফয়েড অঙ্গ ও শ্বেত রক্ত কণিকাগুলো দেহের প্রতিরক্ষার কাজে অংশ গ্রহণ করে থাকে।
- ইমিউন তন্ত্রের লিস্ফয়েড অঙ্গগুলো প্রাথমিক বা মুখ্য ও গৌন অঙ্গ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৯.
অভিস্রবণ প্রক্রিয়া মূলত কত ধরনের হয়ে থাকে?
  1. দুই ধরনের
  2. তিন ধরনের
  3. চার ধরনের
  4. পাঁচ ধরনের
সঠিক উত্তর:
দুই ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই ধরনের
ব্যাখ্যা
অভিস্রবণ: 
- যে প্রক্রিয়ায় একটি বৈষম্যভেদ্য ঝিল্লিয মধ্য দিয়ে হালকা ঘনত্বের দ্রবণ হতে পানি (দ্রাবক) অধিক ঘন দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে অভিস্রবণ বলে। 
- দুটি দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে। 
- পানিতে কিসমিস ডুবিয়ে রাখলে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কিছুক্ষণের মধ্যেই কিসমিস ফুলে ওঠে। 
- অভিস্রবণ দু'ধরনের। 
যথা- 
(১) অন্তঃঅভিস্রবণ: 
- দ্রাবক যখন কোষের বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করে তখন অন্তঃঅভিস্রবণ ঘটে। 
- অন্তঃঅভিস্রবণের ফলে মাটি থেকে পানি মূলরোমে প্রবেশ করে; উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি শোষণ করতে পারে। 
উদাহরণ - কিসমিস পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ধীরে ধীরে ফুলে উঠে। 

(২) বহিঃঅভিস্রবণ: 
- দ্রাবক যখন কোষের ভেতর থেকে বাইরে আসে তখন বহিঃঅভিস্রবণ ঘটে। 
- টসটসে আঙ্গুর ঘন চিনির কিংবা লবণের দ্রবণে ডুবিয়ে রাখলে কিছুটা চুপসে যায়। কারণ বহিঃঅভিস্রবণের ফলে আঙ্গুরের ভেতরের পানি বাইরের ঘন দ্রবণে চলে আসে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭০.
স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যকরী একককে কী বলে?
  1. অস্টিওসাইট
  2. নিউরন
  3. নেফ্রন
  4. মেনিনজেস
সঠিক উত্তর:
নিউরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউরন
ব্যাখ্যা
- মস্তিস্ক হলো স্নায়ুতন্ত্রের অঙ্গ।
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যকরী একককে নিউরন বলে।
- মস্তিষ্কে নিউরন থাকে ১০ বিলিয়ন।
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি।
- মস্তিষ্ক আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৭১.
বাকশক্তি, স্মৃতি শক্তি, চিন্তা, বুদ্ধি-বৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কের কোন অংশ?
  1. সেরেব্রাম
  2. থ্যালামাস
  3. মেডুলা অবলংগাটা
  4. পনস
সঠিক উত্তর:
সেরেব্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেরেব্রাম
ব্যাখ্যা
অগ্রমস্তিষ্ক:
- অগ্রমস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে।
- এটি তিন অংশে বিভক্ত। যথা-
• সেরেব্রাম,
• থ্যালামাস ও
• হাইপোথ্যালামাস।

⇒ সেরেব্রাম:
- মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ।
- সেরেব্রাম মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে।
- প্রতিটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার ৫টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা-
• ফ্রন্টাল লোব,
• প্যারাইটাল লোব,
• অক্সিপিটাল লোব,
• টেম্পোরাল লোব ও
• লিম্বিক লোব।

- সেরেব্রাম বাকশক্তি, স্মৃতি শক্তি, চিন্তা, বুদ্ধি-বৃত্তি, সৃজনশীলতা, ইচ্ছা শক্তি, সহজাত প্রবৃত্তি, কর্মপ্রেরণা প্রভৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট।
- সর্বোপরি মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭২.
Biotechnology শব্দটি প্রথম কে, কোন বছর প্রবর্তন করেন?
  1. গ্রেগর মেন্ডেল, 1863 সালে 
  2. ওয়াটসন ও ক্রিক, 1953 সালে
  3. স্ট্রাসবুর্গার, 1953 সালে
  4. কার্ল এরেকি, 1919 সালে 
সঠিক উত্তর:
কার্ল এরেকি, 1919 সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্ল এরেকি, 1919 সালে 
ব্যাখ্যা

- হাঙ্গেরীয় কৃষি প্রকৌশলী কার্ল এরেকি (Karl Ereky) সর্বপ্রথম ১৯১৯ সালে "Biotechnology" বা "জৈবপ্রযুক্তি" শব্দটি প্রবর্তন করেন।

জীবপ্রযুক্তি বা বায়োটেকনোলজি (Biotechnology): 

- জীবপ্রযুক্তি দুটি শব্দ Biology এবং Technology-এর সমন্বয়ে গঠিত। Biology শব্দের অর্থ জীব সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান এবং Technology শব্দের অর্থ প্রযুক্তি। 
অর্থাৎ, Biology এবং Technology-এর আন্তঃসম্পর্কিত বিষয়ই হলো জীবপ্রযুক্তি। 
- 1919 সালে হাঙ্গেরীয় প্রকৌশলী কার্ল এরেকি (Karl Ereky) প্রথম Biotechnology শব্দটি প্রবর্তন করেন। 
- এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করে কোনো জীবকোষ, অণুজীব বা তার অংশবিশেষ ব্যবহার করে নতুন কোনো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের (উদ্ভিদ বা প্রাণী বা অণুজীব) উদ্ভাবন বা সেই জীব থেকে প্রক্রিয়াজাত বা উপজাত দ্রব্য প্রস্তুত করা হয়। 

- বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় জীবপ্রযুক্তি কোনো নতুন সংযোজন নয়, মানব সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকেই জীবপ্রযুক্তির প্রয়োগ শুরু হয়েছে। গাঁজন এবং চোলাইকরণের (Fermentation and brewing) মতো প্রযুক্তিজ্ঞান মানুষ প্রায় ৪০০০ বছর আগেই রপ্ত করেছে। 
- 1863 সালে গ্রেগর জোহান মেন্ডেল কৌলিতত্ত্ব বা জেনেটিক্স-এর সূত্রগুলো আবিষ্কারের পর থেকে জীবপ্রযুক্তি নতুনরূপে অগ্রযাত্রা শুরু করে। 
- 1953 সালে Watson এবং Crick কর্তৃক ডিএনএ ডাবল হেলিক্স মডেল আবিষ্কারের ধারাবাহিকতায় আজকের আধুনিক জীবপ্রযুক্তির শুরু। 
- জীবপ্রযুক্তির অনেক পদ্ধতির মধ্যে বর্তমানে টিস্যু কালচার (Tissue culture) ও জিন প্রকৌশল (Genetic engineering) পদ্ধতি কৃষি উন্নয়ন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৭৩.
হৃৎপিণ্ডের কোন প্রকোষ্ঠ থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত মহাধমনির মাধ্যমে দেহের কোষে সরবরাহ করা হয়? 
  1. ডান নিলয় 
  2. বাম নিলয়
  3. ডান অলিন্দ
  4. বাম অলিন্দ
সঠিক উত্তর:
বাম নিলয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাম নিলয়
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ড: 
- হৃৎপিণ্ড হলো রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা পাম্পের মতো কাজ করে। 
- এটি নিরবিচারে সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরের কেন্দ্রে, ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ঠিক ওপরে অবস্থান করে। 
- এর উপরের অংশটি প্রশস্ত এবং নিচের প্রান্তটি ছুঁচালো আকৃতির, যা নিচের দিকে অবস্থিত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডটি একটি দ্বিস্তর বিশিষ্ট পর্দা পেরিকার্ডিয়াম দ্বারা আবৃত থাকে। এই পর্দার দুই স্তরের মাঝে একটি তরল পদার্থ থাকে, যাকে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড বলা হয়। 
- এটি হৃৎপিণ্ডকে ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করে এবং সংকোচনের সময় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। 

- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। 
- উপরের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ (Atrium) এবং নিচের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় ডান নিলয় ও বাম নিলয় (Ventricle)। 
- অলিন্দগুলোর প্রাচীর তুলনামূলকভাবে পাতলা, তবে নিলয়গুলোর প্রাচীর পুরু এবং অধিক পেশিবহুল, কারণ নিলয় থেকেই রক্ত শরীরের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ করা হয়। 
- ডান অলিন্দের সঙ্গে দুটি বড় শিরা যুক্ত থাকে ঊর্ধ্ব মহাশিরা ও নিম্ন মহাশিরা, যা দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে অক্সিজেনবিহীন রক্ত এনে দেয়। 
- ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি (Pulmonary artery) উৎপন্ন হয়, যা অক্সিজেন গ্রহণের জন্য রক্ত ফুসফুসে পাঠায়। অন্যদিকে, বাম নিলয় থেকে মহাধমনি (Aorta) উৎপন্ন হয়, যা অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্তকে দেহের প্রতিটি কোষে সরবরাহ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৭৪.
Placoid আঁইশ কোন মাছে দেখা যায়?
  1. Labeо
  2. Catla
  3. Channa
  4. Scoliodon
সঠিক উত্তর:
Scoliodon
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Scoliodon
ব্যাখ্যা

• Placoid আঁইশ (Placoid scale):
- Placoid আঁইশ সাধারণত কার্টিলাজিনাস মাছের (Chondrichthyes) দেহে দেখা যায়।
- এই আঁইশগুলো দাঁতের মতো গঠনযুক্ত এবং এগুলোকে ডার্মাল ডেন্টিকল (Dermal denticles) বলা হয়।
- Placoid আঁইশ মাছের দেহকে রক্ষা করে এবং পানিতে চলাচলের সময় ঘর্ষণ কমাতে সাহায্য করে।
- এই ধরনের আঁইশ হাঙর ও শাপলাপাতা মাছের মধ্যে দেখা যায়।
- অস্থিময় মাছ (Bony fish) যেমন Labeo, Catla বা Channa-তে এই আঁইশ থাকে না।

• Labeo:
- Labeo একটি অস্থিময় মাছ।
- এর দেহে Cycloid আঁইশ পাওয়া যায়।
- তাই এতে Placoid আঁইশ দেখা যায় না।

• Catla:
- Catla-ও একটি অস্থিময় মাছ।
- এর দেহে Cycloid আঁইশ থাকে।
- Placoid আঁইশ Catla-তে অনুপস্থিত।

• Channa:
- Channa একটি অস্থিময় মাছ।
- এর দেহে Cycloid আঁইশ দেখা যায়।
- Placoid আঁইশ এতে পাওয়া যায় না।

• Scoliodon:
- Scoliodon হলো একটি হাঙরজাতীয় কার্টিলাজিনাস মাছ।
- এর দেহে Placoid আঁইশ উপস্থিত।
- এটি Placoid আঁইশের একটি আদর্শ উদাহরণ।

- সুতরাং, Placoid আঁইশ যে মাছে দেখা যায় তা হলো Scoliodon.
- সঠিক উত্তর: ঘ) Scoliodon.

সূত্র - sciencedirect journal.

৬৭৫.
সালফারের অভাবে উদ্ভিদের নিচের কোন রোগটি দেখা যায়?
  1. ফ্লোরোসিস
  2. ডাইব্যাক
  3. ক্লোরোসিস
  4. লিগুলেটিভ ডিফলিয়েন্সি
সঠিক উত্তর:
ডাইব্যাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাইব্যাক
ব্যাখ্যা
সালফার: 
- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) রোগ বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

আয়রন: 
- লৌহ বা আয়রনের (Fe) অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। 
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ (Chlorosis) বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৭৬.
মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা কত ভাগ ক্যালসিয়াম থাকে?
  1. নয় ভাগ
  2. ছয় ভাগ
  3. দুই ভাগ
  4. আট ভাগ
সঠিক উত্তর:
দুই ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই ভাগ
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম (Ca): 
- এটি প্রাণীদের হাড় এবং দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। 
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। 
- রক্তে এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি লক্ষণীয়। 
- ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, পালংশাক, কচুশাক, লালশাক, কলমিশাক, বাঁধাকপি এবং ফল। 
- ক্যালসিয়ামের প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 
- হাড় এবং দাঁতের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। 
- এছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। 
- এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৭৭.
উদ্ভিদ কোষ এবং প্রাণী কোষের মধ্যে পার্থক্য কী?
  1. ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. নিউক্লিয়াস
  3. কোষ প্রাচীর
  4. কোষ আবরণী
সঠিক উত্তর:
কোষ প্রাচীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোষ প্রাচীর
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদ কোষ ও প্রাণী কোষের মধ্যে তুলনামূলক বৈশিষ্ট্য: 
⇒ উদ্ভিদ কোষের চারদিকে সেলুলোজ নির্মিত জড় কোষ প্রাচীর বিদ্যমান থাকে। এর নিচে প্লাজমা ঝিল্লী থাকে।
- প্রাণী কোষে কোন কোষ প্রাচীর থাকে না। পাতলা স্থিতিস্থাপক প্লাজমা ঝিল্লী দ্বারা প্রাণী কোষ আবৃত অবস্থায় থাকে।

⇒ কিছু নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ ব্যতীত অধিকাংশ উদ্ভিদ কোষে প্লাস্টিড থাকে। ব্যতিক্রম- ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদিতে প্লাস্টিড থাকে না।
- প্রাণী কোষে সাধারণত প্লাস্টিড থাকে না।

⇒ উদ্ভিদ কোষের সঞ্চিত খাদ্য সাধারণত শ্বেতসার। 
- প্রাণী কোষের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন।

⇒ উদ্ভিদ কোষে কোন সেন্ট্রোসোম থাকে না। ব্যতিক্রম- কিছু শৈবাল, মস ও ছত্রাকে সেন্ট্রোসোম থাকে। 
- প্রাণী কোষে সেন্ট্রোসোম থাকে।

⇒ উদ্ভিদ কোষে সাধারণত বড় আকারের এক বা একাধিক কোষ গহ্বর থাকে এবং স্থায়ী।
- প্রাণী কোষে সাধারণত কোন কোষ গহ্বর থাকে না। থাকলেও আকারে ক্ষুদ্রাকৃতির হয় এবং ক্ষণস্থায়ী।

⇒ পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ কোষের আকার সাধারণত পরিবর্তিত হয় না। 
- পূর্ণাঙ্গ প্রাণী কোষের আকার পরিবর্তিত হয়।

⇒ প্লাজমা পর্দায় মাইক্রোভিলাই থাকে না। 
- প্লাজমা পর্দায় মাইক্রোভিলাই থাকে।

⇒ নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের পরিধির দিকে থাকে।
- নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের কেন্দ্রস্থলে থাকে।

⇒ শুধুমাত্র ভাজক কোষেই লাইসোসোম থাকে।
- সকল কোষেই লাইসোসোম থাকে।

⇒ স্নেহ দ্রব্য তরল অবস্থায় থাকে।
- স্নেহ দ্রব্য অর্ধতরল অবস্থায় থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৮.
ভিটামিন B12 এর রাসায়নিক নাম কি?
  1. রাইবোফ্লভিন 
  2. কোবালামিন
  3. থিয়ামিন
  4. নিয়াসিন
সঠিক উত্তর:
কোবালামিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোবালামিন
ব্যাখ্যা

ভিটামিন B12 এর রাসায়নিক নাম কোবালামিন, হলো একটি পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন।

ভিটামিন (Vitamin):
- ভিটামিন হলো এক ধরনের জৈব যৌগ যা জীবের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ এবং সুস্থ থাকার জন্য খুব অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হয়। মানব শরীর সাধারণত এগুলো তৈরি করতে পারে না, তাই খাদ্য থেকে এগুলো গ্রহণ করতে হয়।
- ভিটামিনকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়: স্নেহ পদার্থে দ্রবণীয় ভিটামিন (যেমন: A, D, E, K) এবং পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (যেমন: B কমপ্লেক্স এবং C)।

ভিটামিন B12 (কোবালামিন):
-  ভিটামিন B12, যা কোবালামিন নামে পরিচিত, একটি পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন।
- কোবালামিন নামটি এসেছে কারণ এই ভিটামিনের অণুতে কোবাল্ট নামক একটি খনিজ পদার্থ থাকে, যা এর কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য
- এটি নতুন লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। এর অভাবে মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া (রক্তাল্পতা) হয়, যেখানে লোহিত রক্তকণিকা অস্বাভাবিকভাবে বড় হয় এবং তাদের সংখ্যা কমে যায়।
- এটি স্নায়ু কোষের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং স্নায়ুতন্ত্রের আবরণ (myelin sheath) গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- এর অভাবে স্নায়বিক দুর্বলতা, হাত-পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরা বা অসাড়তা এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাস পেতে পারে।
- এটি শরীরের প্রতিটি কোষে ডিএনএ সংশ্লেষণ এবং নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- ভিটামিন B12 সাধারণত প্রাণিজ উৎসে পাওয়া যায়, যেমন: মাংস, মাছ, ডিম, এবং দুগ্ধজাত পণ্য। 

উল্লেখ্য-
- রাইবোফ্লভিন: এটি ভিটামিন B2 এর রাসায়নিক নাম।
- থিয়ামিন: এটি ভিটামিন B1 এর রাসায়নিক নাম।
- নিয়াসিন: এটি ভিটামিন B3 এর রাসায়নিক নাম।

উৎস:
১। গার্হস্থ্য বিজ্ঞান-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা।

৬৭৯.
ভিটামিন ‘K’ কোন প্রোটিন তৈরিতে সহায়তা করে?
  1. হিমোগ্লোবিন
  2. ইনসুলিন
  3. প্রোথ্রম্বিন
  4. অ্যালবুমিন
সঠিক উত্তর:
প্রোথ্রম্বিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোথ্রম্বিন
ব্যাখ্যা

• ভিটামিন ‘K’ প্রোথ্রম্বিন তৈরিতে সহায়তা করে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

• ভিটামিন ‘K’:
- ভিটামিন ‘K’ প্রধানত সবুজ রঙের শাকসবজি ও কিছু তেলজাত খাদ্যে পাওয়া যায়।

• ভিটামিন ‘K’-এর উৎসসমূহ:
- সবুজ রঙের শাকসবজি,
- লেটুস পাতা,
- ফুলকপি,
- বাঁধাকপি,
- ডিমের কুসুম,
- সয়াবিন তেল,
- যকৃত।

• ভিটামিন ‘K’-এর কাজ:
- দেহে প্রোথ্রম্বিন নামক গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন তৈরিতে সহায়তা করে।
- প্রোথ্রম্বিন রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে।

• ভিটামিন ‘K’-এর অভাবজনিত সমস্যা:
- যকৃত থেকে পিত্তরস নিঃসৃত হয়।
- পিত্তরস নিঃসরণে সমস্যা হলে ভিটামিন ‘K’-এর শোষণ কমে যায়।
- ভিটামিন ‘K’-এর অভাবে ত্বকের নিচে ও দেহের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
- রক্তক্ষরণ বন্ধ করার ব্যবস্থা না নিলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
- এ অবস্থায় অস্ত্রোপচারের সময় রক্তক্ষরণ সহজে বন্ধ হয় না, ফলে রোগীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

উৎস: বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণি।

৬৮০.
ধানের পরাগায়ন কিভাবে হয়?
  1. ক) কীটপতঙ্গের সাহায্যে
  2. খ) বৃষ্টির সাহায্যে
  3. গ) মৌমাছির সাহায্যে
  4. ঘ) বাতাসের সাহায্যে
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাতাসের সাহায্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাতাসের সাহায্যে
ব্যাখ্যা
- যেসব ফুলের পরাগায়ন বায়ুর মাধ্যমে হয় তাদের বায়ুপরাগী ফুল বলে।
- বায়ুপরাগী ফুল হালকা এবং মধুগ্রন্থিহীন।
- এদের ফুলে সুগন্ধ নেই। 
- যেমন: ধান, গম, ভুট্টা, ইক্ষু ইত্যাদি। 
৬৮১.
ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস কোনটি?
  1. ক) বাদাম
  2. খ) চুন
  3. গ) দুধ
  4. ঘ) সবকটি
সঠিক উত্তর:
গ) দুধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দুধ
ব্যাখ্যা
দুধ, দই, ছানা, পনির, ছোট মাছ (মলা-ঢেলা), নানা রকম ডাল, সবুজ শাকসবজি, লাল শাক, কচু শাক ইত্যাদি ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস।
কলিজা, সবুজ শাকসবজি, মাংস, ডিমের কুসুম, কচু শাক ইত্যাদিতে লৌহ থাকে।
দুধ, মাছ, মাংস, ডাল থেকে ফসফরাস পাওয়া যায়। খাবার লবণ, চিপস, নোনতা খাবার, পনির, বাদাম আচার ইত্যাদিতে সোডিয়াম থাকে।
মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল, কলা, আলু, আপেল ইত্যাদিতে তে পটাশিয়াম থাকে।
আয়োডিনের উৎস হল সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ, মাংস এবং শেওলা। উৎসঃ নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান (পৃষ্ঠা নং - ৯৪)।
৬৮২.
ভাইরাস সৃষ্টির সর্বশেষ ধাপ কোনটি?
  1. ক) প্রোটিন
  2. খ) নিউক্লিক এসিড
  3. গ) নিউক্লিওপ্রোটিন
  4. ঘ) প্রোটোভাইরাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রোটোভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প্রোটোভাইরাস
ব্যাখ্যা
প্রোটিন ও নিউক্লিক এসিড সমন্বয়ে নিউক্লিওপ্রোটিন তৈরি হয়।
নিউক্লিওপ্রোটিন থেকে প্রোটোভাইরাস তৈরি হয় এবং
সবশেষে প্রোটোভাইরাস থেকে ভাইরাস সৃষ্টি হয়। 

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
৬৮৩.
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে রক্ত কণিকার কোন উপাদান স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়? 
  1. অনুচক্রিকা 
  2. শ্বেত রক্ত কণিকা 
  3. হিমোগ্লোবিন 
  4. লোহিত রক্ত কণিকা 
সঠিক উত্তর:
অনুচক্রিকা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচক্রিকা 
ব্যাখ্যা

রক্ত: 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 
যেমন- 
১। পলিসাইথিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। 

২। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া। 

৩। পারপুরা: 
- ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে, এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

৪। লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

৫। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ২০,০০০-৩০,০০০ হয়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়। 

৬। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। 
- রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। 
- হৃৎপিন্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৮৪.
নিচের কোনটি সম্পূর্ণ ফুল?
  1. ধুতুরা
  2. লাউ
  3. কুমড়া
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ধুতুরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধুতুরা
ব্যাখ্যা

একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি অংশ থাকে।
যথা- পুষ্পাক্ষ, বৃতি, দলমন্ডল, পুংস্তবক এবং স্ত্রীস্তবক।
- যে ফুলে এই পাঁচটি স্তবকই উপস্থিত থাকে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে।
যেমন- জবা, ধুতুরা ইত্যাদি।
- যেকোনো একটি স্তবক না থাকলে সে ফুলকে অসম্পূর্ণ ফুল বলে।
যেমন- লাউ, কুমড়া ইত্যাদি।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

৬৮৫.
মানবদেহের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম পেশী কোনটি?
  1. ট্রাইসেপ পেশী
  2. ডেল্টয়েড পেশী
  3. স্টেপিডিয়াস পেশী
  4. ম্যাসিয়েটর পেশী
সঠিক উত্তর:
স্টেপিডিয়াস পেশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টেপিডিয়াস পেশী
ব্যাখ্যা
• স্টেপিডিয়াস পেশী (Stapedius muscle) হল মানবদেহের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম পেশী। এটি মধ্যকর্ণে অবস্থিত এবং স্টেপিস (stapes) নামক ক্ষুদ্র হাড়ের সঙ্গে সংযুক্ত।

অবস্থান: কানের মধ্যভাগে (middle ear) ।
দৈর্ঘ্য: মাত্র ১–১.৩ মিলিমিটার, যা এটিকে মানবদেহের সবচেয়ে ছোট পেশীতে পরিণত করে।
কাজ: এই পেশীটি স্টেপিস (stapes) নামক হাড়ের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে। এটি উচ্চ শব্দের সময়  কানকে সুরক্ষা দেয়।
গুরুত্ব: শব্দ তরঙ্গের অতিরিক্ত কম্পন প্রতিহত করে শ্রবণ সংবেদনকে নিয়ন্ত্রণ করে। 

ট্রাইসেপ পেশী:
-  অবস্থান: বাহুর পিছনে (upper arm)। 
-  কাজ: বাহু সোজা করতে সাহায্য করে (extension)। 
-  আকার: বড় ও সুগঠিত পেশী। 
-  সবচেয়ে ক্ষুদ্র নয়, বরং একটি বৃহৎ ও শক্তিশালী পেশী। 

ডেল্টয়েড পেশী:
-  অবস্থান: কাঁধে ।
-  কাজ: বাহু উপরে ওঠানো, পাশে সরানো ইত্যাদি ।
-  এটা একাধিক পেশীতন্তু দ্বারা  গঠিত, বৃহৎ ও বহুমুখী কার্যক্ষম পেশী ।

• ম্যাসিয়েটর পেশী:
-  অবস্থান: চোয়ালের পাশে ।
-  কাজ: চিবানো এবং মুখ বন্ধ করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
-  এটি মানবদেহের সবচেয়ে শক্তিশালী পেশীগুলোর একটি, কিন্তু ক্ষুদ্রতম নয়।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
- Encyclopedia Britannica.
৬৮৬.
জাইলেম কয় ধরনের?
  1. ক) এক
  2. খ) দুই
  3. গ) তিন
  4. ঘ) চার
  5. ঙ) পাঁচ
সঠিক উত্তর:
খ) দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দুই
ব্যাখ্যা
জাইলেম দুই ধরণের- মুখ্য ও গৌণ জাইলেম।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই।
৬৮৭.
আধুনিক শ্রেণিকরণ পদ্ধতিতে নিচের কোনটি ফানজাই বা ছত্রাক রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) ইস্ট
  2. খ) পেনিসিলিয়াম
  3. গ) মাশরুম
  4. ঘ) ফার্ন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফার্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফার্ন
ব্যাখ্যা
রাজ্যঃ ফানজাই বা ছত্রাক- এদের দেহে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। এরা সাধারণত এককোষী বা বহুকোষী হয়। দেহে ক্লোরোফিল নেই তাই এরা পরভোজী। উদাহরণঃ ইস্ট, পেনিসিলিয়াম, মাশরুম ইত্যাদি। ফার্ন প্লান্টি রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। এরা স্বভোজী এবং এদের দেহে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে। এদের কোষপ্রাচীর সেলুলোজ নির্মিত।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান ষষ্ঠ শ্রেণি]
৬৮৮.
নিচের কোন উপাদানটি গাছ মাটি থেকে সংগ্রহ করে?
  1. কার্বন
  2. ক্লোরিন
  3. অক্সিজেন
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক্লোরিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরিন
ব্যাখ্যা

• উদ্ভিদ মাটি থেকে খনিজ লবণ হিসেবে ক্লোরিন (Cl) সংগ্রহ করে। অন্যদিকে কার্বন (C) এবং অক্সিজেন (O) মূলত বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড ও অক্সিজেন গ্যাস হিসেবে গ্রহণ করে।
- ক্লোরিন উদ্ভিদের জন্য একটি প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট।

• উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদান:
- উদ্ভিদের সাধারণত ১৬টি উপাদানকে গাছের অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য উপাদান বলা হয়।
- এই ১৬টি উপাদান হলো: কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), নাইট্রোজেন (N), ফসফরাস (P), পটাশিয়াম (K), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), সালফার (S), লৌহ (Fe), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), জিংক (Zn), কপার (Cu), ক্লোরিন (CI), বোরন (B), ও মলিবডেনাম (Mo)।

• উদ্ভিদ পুষ্টি উপাদানের উৎস:
- বায়ু হতে উদ্ভিদ C, O এবং N সংগ্রহ করে।
- C ও O বায়ু CO2 হিসেবে প্রধানত: পাতার স্টোমাটার সাহায্যে গ্রহণ করে।
- মাটি হতে উদ্ভিদ খনিজ পদার্থ (Mineral matter) ও জৈব পদার্থ (Organic matter) সংগ্রহ করে।
- C, H, O ব্যতিত অন্যান্য উপাদান অর্থাৎ ১৩টি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান উদ্ভিদ মাটি হতে পরিশোষণ করে।

উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬৮৯.
শর্করা কোন উপাদানগুলোর সমন্বয়ে তৈরি হয়? 
  1. কার্বন ও অক্সিজেন
  2. কার্বন ও নাইট্রোজেন
  3. অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন
  4. কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
শর্করা: 
- শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য। 
- কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের সমন্বয়ে শর্করা তৈরি হয়। 
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত। 
- শর্করা আমাদের শরীরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে। 
- কয়েক ধরনের শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এবং এদের উৎসও ভিন্ন। 
যেমন- 
উদ্ভিজ্জ উৎস: 
১। শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু এবং কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়। 
২। সেলুলোজ: বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে। 
৩। সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড় এবং মিছরি এর উৎস। 
৪। ফ্রোক্টোজ: আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রোক্টোজ থাকে। একে ফল শর্করাও বলা হয়ে থাকে। 
৫। গ্লুকোজ: এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর,খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। 

প্রাণিজ উৎস: 
১। ল্যাকটোজ বা দুধ শর্করা: গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে এই শর্করা থাকে। 
২। গ্লাইকোজেন: পশু ও পাখিজাতীয় (যেমন: মুরগি, কবুতর প্রভৃতি ইত্যাদি) প্রাণীর যকৃৎ এবং মাংসে (পেশি) গ্লাইকোজেন শর্করাটি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৯০.
ভয় পেলে শরীরের লোম খাড়া হয় কোন হরমোনের কারণে?
  1. অ্যাড্রেনালিন
  2. অক্সিটোসিন
  3. ডোপামিন
  4. ইনসুলিন
সঠিক উত্তর:
অ্যাড্রেনালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাড্রেনালিন
ব্যাখ্যা
• ভয় পেলে গায়ের লোম খাড়া হয়  অ্যাড্রেনালিন হরমোনের জন্য।

• কয়েকটি গুরত্বপূর্ণ হরমোন: 
- অক্সিটোসিন জরায়ুর পেশি সংকোচন ঘটিয়ে শিশুর জন্মের প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।
- ডোপামিন মস্তিষ্কে সুখ এবং সন্তুষ্টির অনুভূতি সৃষ্টি করে।

- থাইরক্সিন হরমোন মানুষের বৃদ্ধি এবং বিকাশে ভূমিকা রাখে। 
- ইনসুলিন এবং গ্লুকাগন গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে এ হরমোন দুটি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে।
- ক্যালসিটোনিন হরমোন রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
- জীবন রক্ষাকারী হরমোন অ্যালডোস্টেরন।
- শুক্রাশয় হতে টেসটোস্টেরন হরমোন নিঃসৃত হয়। 
- দাড়ি গোঁফ গজায় টেসটোস্টেরন  হরমোনের জন্য। 
- মহিলাদের রজঃচক্র নিয়ন্ত্রণ করে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোন।

উৎস: Harvard Medical School ওয়েবসাইট।
৬৯১.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের কোন অংশে ঘটে?
  1. ক) কান্ডে
  2. খ) মূলে
  3. গ) পাতায়
  4. ঘ) সবুজ অংশে
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবুজ অংশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবুজ অংশে
ব্যাখ্যা
যে উদ্ভিদ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে। 
- সবুজ উদ্ভিদ সালোক সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য যে কোন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে আলো ব্যবহার করতে পারে না, কেবলমাত্র ৩০০nm থেকে ৮১০nm পর্যন্ত তরঙ্গদৈর্ঘ্যরে আলো উদ্ভিদ ব্যবহার করতে পারে। 
- সালোকসংশ্লেষণে অপরিহার্য উপাদানগুলো হলো আলো, ক্লোরোফিল, পানি, কার্বন ডাই - অক্সাইড।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের সবুজ আংশে ঘটে। 

সূত্র: এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯২.
কোন উপাদানটি আদর্শ খাদ্য পিরামিডে সর্বনিম্ন স্তরে রয়েছে? 
  1. আমিষ
  2. শর্করা
  3. স্নেহ
  4. খনিজ লবণ
সঠিক উত্তর:
শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্করা
ব্যাখ্যা
আদর্শ খাদ্য পিরামিড: 
- যে কোনো একটি সুষম খাদ্য তালিকায় শর্করার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে। 
- শর্করাকে নিচু স্তরে রেখে পর্যায়ক্রমে পরিমাণগত দিক বিবেচনা করে শাকসব্জি, ফল- মূল, আমিষ, স্নেহ ও চর্বি জাতীয় খাদ্যকে সাজালে যে কাল্পনিক পিরামিড তৈরি হয় তাকে আদর্শ খাদ্য পিরামিড বলে। 
- পিরামিডের শীর্ষে রয়েছে স্নেহ বা চর্বি জাতীয় খাদ্য আর সর্বনিম্ন স্তরে রয়েছে শর্করা। 
- পিরামিডের অংশগুলো আকার অনুযায়ী নিচের দিকে বড়, উপরের দিকে ছোট। 
- সবচেয়ে চওড়া অংশে ভাত, আলু, রুটি, তার পরের অংশে শাকসব্জি ফল-মূল। 
- এভাবে ক্রমান্বয়ে কম প্রয়োজনীয় খাবারগুলো উপরের স্তরে অর্থাৎ কম খেতে হবে। 
- আমাদের প্রতিদিনের খাবার খাদ্য পিরামিড অনুযায়ী নিতে হবে তবেই আমরা সহজে সুষম খাদ্য (Balanced diet) নির্বাচন করতে এবং খাদ্য গ্রহণ সম্পর্কিত নীতিমালা ও সময় মেনে চলতে সহায়ক হবে। 


উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৩.
ডিমের সাদা অংশে থাকে-
  1. ক) ভিটামিন সি
  2. খ) অ্যালবুমিন
  3. গ) লেমিটিন
  4. ঘ) গ্লুকোজ
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যালবুমিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যালবুমিন
ব্যাখ্যা
- ডিমের সাদা অংশে 'অ্যালবুমিন' নামক প্রোটিন থাকে।
- ডিমের প্রোটিনের পঞ্চাশ শতাংশই অ্যালবুমিন।
- এছাড়াও ডিমের কুসুমে আয়রন, ভিটামিন বি-২, বি-১২ এবং ডি রয়েছে। 

সূত্র: ব্রিটানিকা
৬৯৪.
মাশরুম এক ধরনের-
  1. ক) অপুষ্পক উদ্ভিদ
  2. খ) পরজীবী উদ্ভিদ
  3. গ) ফাঙ্গাস
  4. ঘ) অর্কিড
সঠিক উত্তর:
গ) ফাঙ্গাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফাঙ্গাস
ব্যাখ্যা
- ফাংগাস বহুবচনে ফানজাই, একটি ল্যাটিন শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ ‘মাশরুম' বা ব্যাঙের ছাতা সদৃশ বস্তু।
- ফানজাই বা ছত্রাক এমন একটি উদ্ভিদ গোষ্ঠী যারা বিভিন্ন পরিবেশে মৃতজীবী অথবা পরজীবী হিসেবে বসবাস করে এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহে নানা ধরনের রোগ সৃষ্টি করে। 
- এদের সকলেই আমাদের আর্থিক ক্ষতি সাধন করে না, অনেক ছত্রাক আমাদের প্রভূত উপকার করে থাকে।
- এরা এককোষী সরলতম গঠন থেকে শুরু করে বহু-কোষী জটিল দেহের অধিকারী।
-  উদ্ভিদ বিজ্ঞানের যে শাখায় ছত্রাক সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা ও গবেষণা করা হয় তাকে ছত্রাক বিজ্ঞান বা মাইকোলজি (Mycology গ্রীক শব্দ, mykes অর্থ ছত্রাক এবং logos অর্থ জ্ঞান) বলে।
 
উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত  বিশ্ববিদ্যালয়
৬৯৫.
ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কী দ্বারা গঠিত?
  1. সেলুলোজ
  2. কাইটিন
  3. প্রোটিন
  4. সুবেরিন
সঠিক উত্তর:
কাইটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাইটিন
ব্যাখ্যা

• কাইটিন ছত্রাকের কোষপ্রাচীরের প্রধান গাঠনিক উপাদান। এটি ছত্রাককে কাঠামোগত শক্তি প্রদান করে এবং বাহ্যিক চাপ থেকে রক্ষা করে।

• কোষপ্রাচীর (cell wall):
- কোষপ্রাচীর উদ্ভিদ কোষের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
- এটি মৃত বা জড়বস্তু দিয়ে তৈরি। প্রাণিকোষে কোষপ্রাচীর থাকে না।
- কোষপ্রাচীরের রাসায়নিক গঠন বেশ জটিল, এতে সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ, লিগনিন, পেকটিন, সুবেরিন নামক রাসায়নিক পদার্থ থাকে।
- তবে ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর প্রোটিন, লিপিড ও পলিস্যাকারাইড দিয়ে তৈরি ।
- ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি।
- প্রাথমিক কোষ প্রাচীরটি এক স্তরবিশিষ্ট। 
- কোষপ্রাচীর কোষকে দৃঢ়তা প্রদান করে, কোষের আকার ও আকৃতি বজায় রাখে।
- পাশের কোষের সাথে প্লাজমোডেজমাটা (আণুবীক্ষণিক নালি) সৃষ্টির মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করে এবং পানি ও খনিজ লবণ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৯৬.
মস্তিষ্কের কোন অংশ দেহতাপ নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. ক) সেরেব্রাম
  2. খ) থ্যালামাস
  3. গ) হাইপোথ্যালামাস
  4. ঘ) সেরেবেলাম
সঠিক উত্তর:
গ) হাইপোথ্যালামাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হাইপোথ্যালামাস
ব্যাখ্যা
সেরেব্রাম (অগ্রমস্তিষ্ক)
-  সংবেদী অঙ্গ থেকে আসা অনুভূতি গ্রহণ ও বিশ্লেষণ করে।
- চিন্তা, বুদ্ধি, ইচ্ছাশক্তি, উদ্ভাবনীশক্তি প্রভৃতি উন্নত মানসিক বোধের নিয়ন্ত্রণ করে।
- বিভিন্ন সহজাত প্রবৃত্তির নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
- বাকশক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- দেহের সব ঐচ্ছিক পেশির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

থ্যালামাস (অগ্রমস্তিষ্ক)
- এটি সংজ্ঞাবহ স্নায়ুর রিলে স্টেশন হিসেবে কাজ করে।
- চাপ, স্পর্শ, যন্ত্রণা প্রভৃতি স্থূল অনুভূতির কেন্দ্র, আবেগের কেন্দ্র ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গের নিয়ন্ত্রক কেন্দ্র হিসেবে কাজ কর
- মানুষের ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক আচরণের প্রকাশ ঘটায়।
- ঘুমন্ত মানুষকে হঠাৎ জাগিয়ে তোলা ও পরিবেশ সম্বন্ধে সতর্ক করে তোলে। 

হাইপোথ্যালামাস (অগ্রমস্তিষ্ক)
- স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুকেন্দ্রের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- দেহতাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ঘাম, ঘুম, রাগ, পীড়ন, ভালোলাগা, ঘৃণা, উদ্বেগ প্রভৃতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে

মেসেনসেফানল (মধ্যমস্তিষ্ক)
- অগ্র ও পশ্চাৎমস্তিষ্কের যোগসূত্র রচনা করে।
- দর্শন ও শ্রবণ তথ্যের সমন্বয় ঘটায় এবং প্রতিবেদন সৃষ্টি করে।

সেরেবেলাম (পশ্চাৎমস্তিষ্ক)
- ঐচ্ছিক চলাফেরাকে নিয়ণ করে।
- ঐচ্ছিক পেশির পেশিটান নিয়ন্ত্রণ করে।
- দেহের ভারসাম্য ও দেহভঙ্গি বজায় রাখে।
- চলাফেরার দিক নির্ধারণ করে।

সূত্র- জীববিজ্ঞান ২য়  পত্র(একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি) - গাজী আজমল ও গাজী আসমত ।
৬৯৭.
পুষ্টি কী?
  1. সুস্বাস্থ্য
  2. জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া
  3. দেহের চাহিদা
  4. বিভিন্ন খাদ্য উপাদান
সঠিক উত্তর:
জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা

যা আহার করলে হজম ও বিশোষণ হয়ে দেহের গঠন, বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ, রক্ষণাবেক্ষণ, তাপ ও শক্তি উৎপাদন, রােগ প্রতিরােধ ইত্যাদি করে দেহকে সুস্থ্য, সবল ও কর্মক্ষম রাখে তাকে খাদ্য বলে।
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় খাদ্যবস্তু আহারের পর রক্তের মাধ্যমে শােষিত হয়ে দেহের প্রয়ােজনীয় চাহিদা পূরণ করে তাকে পুষ্টি বলে।
উন্নত গুণাগুণ সম্পন্ন খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে স্বাস্থ্য রক্ষাকে পুষ্টি বলে, এই ধারণাটা ঠিক নয়।
খাদ্য সাধারণভাবে আমাদের দেহে তিন ধরনের কাজ করে থাকে- (১) গঠন, বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ (২) তাপ ও কর্মশক্তি উৎপাদন (৩) রােগ প্রতিরােধ। খাদ্য উপাদান ছয়টি, যথা: আমিষ, শর্করা, স্নেহ পদার্থ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি। দেহের সুস্থতার জন্য এ ছয়টি খাদ্য উপাদানই কম বেশি প্রয়ােজনীয় পরিমাণে গ্রহণ করা অপরিহার্য।
উৎসঃ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৬৯৮.
কোন প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোক ব্যবহার করে নিজের খাদ্য তৈরি করে?
  1. শ্বসন
  2. সালোকসংশ্লেষণ
  3. বাষ্পীভবন
  4. ট্রান্সলোকেশন
সঠিক উত্তর:
সালোকসংশ্লেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালোকসংশ্লেষণ
ব্যাখ্যা

- সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সূর্যালোক ব্যবহার করে নিজের খাদ্য (শর্করা বা গ্লুকোজ) তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ পাতার ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে খাদ্য প্রস্তুত করে। 

সালোকসংশ্লেষণ: 
- পৃথিবীর সমস্ত শক্তির উৎস হলো সূর্য। সবুজ উদ্ভিদকুল সালোকসংশ্লেষণ চলাকালে সৌরশক্তিকে আবদ্ধ করে। 
- যে পদ্ধতিতে সূর্যের আলোয় সবুজ উদ্ভিদেরা তাদের নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরি করে তার নামই হলো সালোকসংশ্লেষণ। 
- একমাত্র সবুজ উদ্ভিদেরাই এ কাজটি করতে পারে। উদ্ভিদের পাতার সবুজ প্লাস্টিড সালোকসংশ্লেষণে অংশ নেয়। 
- এ প্লাস্টিডের ভিতরে সৌরশক্তি, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বিক্রিয়া করে অক্সিজেন ও গ্লুকোজ উৎপন্ন করে। 
- পাতাকে সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থানরূপে গণ্য করা হয়। 
কারণ- 
১. পাতা চ্যাপ্টা ও সম্প্রসারিত হওয়ায় বেশি পরিমাণ সূর্যরশ্মি এবং অল্প সময়ে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষিত হয়। 
২. পাতার কোষগুলোতে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যা অনেক বেশি। 
৩. পাতায় অসংখ্য পত্ররন্ধ্র থাকায় সালোকসংশ্লেষণের সময় গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদান সহজে ঘটে। 
- জীবজগতের জন্য প্রাথমিক খাদ্য শর্করা একমাত্র সালোকসংশ্লেণের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়। 
- সালোকসংশ্লেষণে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি গৃহীত হয় এবং গ্কোলুজ ও অক্সিজেন উৎপন্ন করে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য রক্ষা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৬৯৯.
নিচের কোনটি মানবদেহের এলার্জি প্রতিরোধ করে?
  1. ক) হেপারিন
  2. খ) অ্যাপামিন
  3. গ) হিস্টামিন
  4. ঘ) মেলিটিন
সঠিক উত্তর:
গ) হিস্টামিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হিস্টামিন
ব্যাখ্যা
গ্র‍্যানোলোসাইট
- গ্র‍্যানোলোসাইট শ্বেত রক্তকণিকার একটি ধরন৷
- এদের সাইটোপ্লাজম সূক্ষ্ম দানাযুক্ত।
- গ্রানুলােসাইট শ্বেত কণিকাগুলাে নিউক্লিয়াসের আকৃতির ভিত্তিতে তিন প্রকার। যথা: নিউট্রোফিল, ইওসিনােফিল এবং বেসােফিল।

- নিউট্রোফিল ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়া জীবাণু ভক্ষণ করে।
- ইওসিনােফিল ও বেসোফিল হিস্টামিন নামক রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত করে দেহে এলার্জি প্রতিরোধ করে।
- বেসােফিল হেপারিন নিঃসৃত করে রক্তকে রক্ত বাহিকার ভেতরে জমাট বাঁধতে বাধা দেয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭০০.
কোন প্রাণীকে প্রাকৃতিক লাঙল বলা হয়?
  1. ব্যাঙ
  2. ষাঁড়
  3. মহিষ
  4. কেঁচো
সঠিক উত্তর:
কেঁচো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেঁচো
ব্যাখ্যা
- কেঁচো ত্বকের সাহায্যে শ্বাসকার্য সম্পন্ন করে। 
- এরা মাটির নিচে বাস করে। 
- কেঁচো মাটির উর্বরা শক্তির জন্য বিশাল আশীর্বাদ। 
- এরা ফসলের জমি উলট-পালট করে উপরের মাটির নিচে ও নিচের মাটি উপরে তুলে আনে। 
- তাই কেঁচোকে প্রকৃতির লাঙ্গল বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।