বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা / ৪২ · ৫০১৬০০ / ৪,২০৮

৫০১.
ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়? 
  1. ফলধারণ
  2. নিষেক
  3. পরাগায়ন
  4. অঙ্কুরোদগম
সঠিক উত্তর:
পরাগায়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরাগায়ন
ব্যাখ্যা
পরাগায়ন: 
- পরাগায়নকে পরাগসংযোগও বলা হয়। 
- পরাগায়ন ফল ও বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত। 
- একটি ফুলের পুংস্তবকের পরাগধানীতে আঙুলের ডগা ঘষে দেখা যায় হাতে হলুদ বা কমলা রঙের গুঁড়ো লেগেছে, এই গুঁড়ো বস্তুই পরাগরেণু। 
- ফুলের পরাগধানী হতে পরাগরেণু একই ফুলে অথবা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে। 
- পরাগায়ন দুই প্রকার। 
যথা- স্ব-পরাগায়ন ও পর-পরাগায়ন। 

১। স্ব-পরাগায়ন: 
- একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলে। 
- সরিষা, কুমড়া, ধুতুরা ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে। 

২। পর-পরাগায়ন: 
- একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে। 
- শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পর-পরাগায়ন হতে দেখা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৫০২.
সাধারণত রক্তের কত ভাগ রক্তরস থাকে?
  1. ৪৫ ভাগ 
  2. ৫৫ ভাগ 
  3. ৬৩ ভাগ 
  4. ৭৫ ভাগ 
সঠিক উত্তর:
৫৫ ভাগ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫৫ ভাগ 
ব্যাখ্যা
রক্ত (Blood): 
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ, মৃদু ক্ষারীয় এবং লবণাক্ত তরল পদার্থ। 
- রক্ত হৃৎপিণ্ড, শিরা, উপশিরা, ধমনি, শাখা ধমনি এবং কৈশিকনালি পথে আবর্তিত হয়। 
- লোহিত রক্তকোষে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়। 
- হাড়ের লাল অস্থিমজ্জাতে রক্তকোষের জন্ম হয়। 
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা। 
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্তকোষের সমন্বয়ে রক্ত গঠিত। 

রক্তরস (Plasma): 
- রক্তের বর্ণহীন তরল অংশকে রক্তরস বলে। 
- সাধারণত রক্তের শতকরা প্রায় ৫৫ ভাগ রক্তরস থাকে। 
- রক্তরসের প্রধান উপাদান পানি। 
- এছাড়া বাকি অংশে কিছু প্রোটিন, জৈব যৌগ ও সামান্য অজৈব লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫০৩.
ভাইরাসের নিউক্লিক অ্যাসিডের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্য? 
  1. সকল ভাইরাসে কেবল RNA থাকে
  2. সকল ভাইরাসে কেবল DNA থাকে
  3. সব ভাইরাসে DNA ও RNA দুটোই একসাথে থাকে
  4. ভাইরাসে কখনও DNA বা কখনও RNA থাকে, দুটো একসাথে থাকে না
সঠিক উত্তর:
ভাইরাসে কখনও DNA বা কখনও RNA থাকে, দুটো একসাথে থাকে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাইরাসে কখনও DNA বা কখনও RNA থাকে, দুটো একসাথে থাকে না
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের রাসায়নিক গঠন: 
- রাসায়নিকভাবে ভাইরাসে দুটি উপাদান থাকে। 
যথা- নিউক্লিক অ্যাসিড এবং প্রোটিন। 
- ভাইরাসের কেন্দ্রে অবস্থান করে নিউক্লিক অ্যাসিড, এটি একটি বংশগতি নির্ধারক পদার্থ। 
- নিউক্লিক অ্যাসিড দুই ধরনের। 
যথা- DNA ও RNA। 
- অন্যান্য জীবদেহে একইসাথে DNA ও RNA অবস্থান করলেও ভাইরাস দেহে একই সাথে DNA ও RNA অবস্থান করে না। 
- ক্যাপসিড আবরণটি অসংখ্য প্রোটিন অণু দিয়ে গঠিত, ক্যাপসিড আবরণের এক একটি প্রোটিন অণুকে ক্যাপসোমিয়ার বলা হয়। 
- ক্যাপসিড সাধারণত জৈবিক দিক দিয়ে নিষ্ক্রিয়, এরা নিউক্লিক অ্যাসিডকে রক্ষা করে, ভাইরাসকে পোষক দেহে সংক্রমণে সাহায্য করে এবং অ্যান্টিজেন হিসেবে কাজ করে। 
- কোন কোন ভাইরাসে (যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, হার্পিস এবং HIV ইত্যাদি) ক্যাপসিডের বাইরে জৈব পদার্থের একটি আবরণ থাকে। 
- এটি লিপিড, লিপোপ্রোটিন, শর্করা বা স্নেহ জাতীয় পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
- লিপিড বা লিপোপ্রোটিনের এক একটি স্তরকে পেপলোমিয়ার বলা হয়। 
- লিপোপ্রোটিনের আবরণ দিয়ে গঠিত ভাইরাসকে লিপোভাইরাস বলা হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৪.
কোনটির কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি? 
  1. ছত্রাক 
  2. শৈবাল 
  3. ভাইরাস 
  4. ব্যাকটেরিয়া 
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক 
ব্যাখ্যা

ছত্রাকের কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি।  

কোষ প্রাচীর: 
- প্রতিটি উদ্ভিদ কোষে শক্ত জড় পদার্থ দ্বারা পরিবেষ্টিত আবরণকে বলা হয় কোষ প্রাচীর। 
- এটি উদ্ভিদ কোষের অনন্য একটি বৈশিষ্ট্য যা প্রাণী কোষে থাকে না। 
- কোষ প্রাচীরের প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো- সেলুলোজ। তবে এতে হেমিসেলুলোজ, লিগনিন, পেকটিন, সুবেরিন ইত্যাদি রাসায়নিক পদার্থও থাকে। 
- কোষ প্রাচীরকে তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়। 
যথা- মধ্য পর্দা, প্রাথমিক প্রাচীর এবং গৌণ প্রাচীর। 

অন্যদিকে, 
- ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর প্রোটিন, লিপিড ও পলিস্যাকারাইড দিয়ে তৈরি। 
- শৈবাল এদের কোষ প্রাচীর সাধারণত সেলুলোজ ও পেকটিন দিয়ে গঠিত। 
- ভাইরাস অকোষীয়। এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০৫.
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য নিচের কোন উপাদানটি বেশি পরিমাণে দরকার হয়?
  1. ক) জিংক
  2. খ) সালফার
  3. গ) বোরন
  4. ঘ) কপার
সঠিক উত্তর:
খ) সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সালফার
ব্যাখ্যা
- অত্যাবশ্যকীয় 16 টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে, আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে।
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১। ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং
২। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান।

ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান:
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
- ম্যাক্রো উপাদান 10 টি। যথা-
• নাইট্রোজেন (N)
• পটাশিয়াম (K)
• ফসফরাস (P)
• ক্যালসিয়াম (Ca)
• ম্যাগনেসিয়াম (Mg)
• কার্বন (C)
• হাইড্রোজেন (H)
• অক্সিজেন (O)
সালফার (S) এবং 
• লৌহ (Fe)।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৫০৬.
পার্থেনোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় ফল হয় কোন উদ্ভিদের?
  1. আম
  2. কাঁঠাল
  3. লেবু
  4. আনারস
সঠিক উত্তর:
আনারস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনারস
ব্যাখ্যা
কোন কোন ক্ষেত্রে নিষেক ছাড়াই গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়। এ প্রক্রিয়াকে পার্থেনোজেনেসিস বলা হয়।
যেমন- পেঁপে, আনারস, আঙ্গুর ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৫০৭.
Which is the longest bone in the human body?
  1. Humerus
  2. Stapes
  3. Tibia
  4. Femur
  5. Radius 
সঠিক উত্তর:
Femur
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Femur
ব্যাখ্যা
• মানবদেহের দীর্ঘতম হাড় হলো ফিমার।

• ফিমার (Femur):
-নিম্নবাহুর প্রথম অস্থিকে ফিমার বলা হয়।

এটি মানবদেহের সবচেয়ে দীর্ঘ এবং শক্তিশালী হাড়।।
- এর ঊর্ধ্বপ্রান্তে একটি গোল হেড (মস্তক), নেক (গ্রীবা) এবং ছোট ও বড় ট্রোক্যান্টার অবস্থিত।
- দেহটি শক্ত ও নলাকার। এর পশ্চাত্তল একটি অমসৃণ আলযুক্ত।
-নিম্নপ্রান্ত দুটি কন্ডাইলবিশিষ্ট। দুই কন্ডাইলের মাঝখানে থাকে আন্তঃকন্ডাইলার ছিদ্র, প্যাটেলার সংযোগী তল এবং দুপাশে একটি করে এপিকন্ডাইল নামে সামান্য উঁচু জায়গা।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৫০৮.
OPV ভ্যাকসিন কোন রোগ প্রতিরোধে দেওয়া হয়?
  1. পোলিও
  2. যক্ষ্মা
  3. নিউমোনিয়া
  4. ধনুষ্টংকার
সঠিক উত্তর:
পোলিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোলিও
ব্যাখ্যা
• পোলিও রোগের ভ্যাকসিন হিসেবে OPV(Oral Polio Vaccine) দেওয়া হয়।

• বিভিন্ন রোগের টিকা:
- যক্ষ্মা: BCG
- ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, ধনুষ্টংকার: DPT
- হাম, রুবেলা: MR ভ্যাকসিন।
- নিউমোনিয়া - PCV
- ধনুষ্টংকার - TT(Tetanus Toxiod)

উৎস: ব্রিটানিকা।
৫০৯.
জেমস ওয়াটসন ও ফ্রানসিস ক্রিক DNA অণুর গঠন আবিষ্কারের জন্য কত সালে নোবেল পুরস্কার পান?
  1. ক) ১৯৫২ সালে
  2. খ) ১৯৫৭ সালে
  3. গ) ১৯৬২ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৬ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৬২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৬২ সালে
ব্যাখ্যা
রোজালিন্ড ফ্রাঙ্কলিন বিভিন্ন কোণে DNA অণুর উপর এক্স-রে ফেলে তার ছায়ার ছবি তুলেছিলেন এবং তাঁর তোলা সেই ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে ১৯৫৩ সালে DNA এর গঠন আবিষ্কার করেন জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক।
এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য তারা ১৯৬২ সালে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।

উৎস: বিজ্ঞান এবং জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি
৫১০.
মানুষের বৃদ্ধি হরমোন কোন গ্রন্থিতে উৎপন্ন হয়?
  1. ক) থাইরয়েড
  2. খ) থাইমাস
  3. গ) পিটুইটারি
  4. ঘ) এড্রেনাল
সঠিক উত্তর:
গ) পিটুইটারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পিটুইটারি
ব্যাখ্যা
- মানুষের বৃদ্ধি হরমোন (Human Growth Hormone, HGH) সাধারণভাবে সোমাটোট্রপিন (Somatotrophin) নামে পরিচিত। 
- এটি এক ধরনের পেপটাইড হরমোন যা প্রায় ২০০ টি অ্যামিনো এসিডে গঠিত। 
- মানবদেহের বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত এ হরমোন শরীরে স্বাভাবিকভাবেই উৎপন্ন হয়। 
- মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থিতে এটি উৎপন্ন হয়।
-  বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩০ বছর বয়সের পরে বৃদ্ধি হরমোনের ক্ষরণ কমে যায়। 
- পরবর্তী প্রতি ১০ বছরে ক্ষরণ প্রায় ১৪% হারে হ্রাস পায়। 
- বৃদ্ধি হরমোন যত কমবে, শরীরে ততই বয়সের ছাপ বাড়বে। 
- এ সময় দেহে বৃদ্ধি হরমোন প্রয়োগ করলে বয়সের ছাপ মিলিয়ে যাবে কিংবা ছাপ পড়ার গতি কমে যাবে।
 
উৎস: প্রাণী বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫১১.
রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ কত?
  1. ক) ৫০-১০০ mg/dl
  2. খ) ১০০-২০০ mg/dl
  3. গ) ১৫০-২৫০ mg/dl
  4. ঘ) ২০০-৩০০ mg/dl
সঠিক উত্তর:
খ) ১০০-২০০ mg/dl
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০০-২০০ mg/dl
ব্যাখ্যা
- কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং স্টেরয়েড -এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। মানুষের প্রায় প্রত্যেক কোষ এবং টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে।


- যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে।


- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে। স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম- উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein-HDL) এবং নিম্ন ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein-LDL)।


- রক্তের LDL-এর পরিমাণের বৃদ্ধির সাথে কোলেস্টেরলের আধিক্যের সম্পর্ক আছে। রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। রক্তে HDL -এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য উপকারী।


- রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ ১০০-২০০ mg/dl

- রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ায়। স্বাভাবিক মাত্রা থেকে রক্তে কোলেস্টেরল বেশি হলে রক্তনালী অন্তঃপ্রাচীরের গায়ে কোলেস্টেরল ও ক্যালসিয়াম জমা হয়ে রক্তনালী গহ্বর ছোট হয়ে যায়।


- এই কারণে ধমনির প্রাচীরের স্থিথিস্থাপকতা কমে যায় এবং শক্ত হয়ে যায়। এ অবস্থাকে ধমনির কাঠিন্য বা Arteriosclerosis বলে। এর প্রভাবে ধমনির প্রাচীরে ফাটল দেখা দিতে পারে।


- ধমনির গায়ে ফাটল দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়ে জমাট বেঁধে রক্তপ্রবাহ বাধপ্রাপ্ত হয়। হৃৎপিন্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 


-  রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে LDL-এর পরিমাণ বেড়ে যায় আর HDL-এর পরিমাণ কমে যায়। LDL-এর পরিমাণ ১৫০ mg/dl থেকে বেশি হলে তাকে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।


উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৫১২.
নাইট্রোজেন থেকে কোন সার তৈরি করা হয়?
  1. ক) পটাশ
  2. খ) টিএসপি
  3. গ) ইউরিয়া
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ইউরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইউরিয়া
ব্যাখ্যা
• ইউরিয়া সার:
- নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে ইউরিয়া সার প্রস্তুত করা হয়।
- নাইট্রোজেন গ্যাসকে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় অ্যামোনিয়ায় রূপান্তরিত করা হয়।
- অ্যামোনিয়া থেকে ইউরিয়া সার উৎপন্ন হয়।
- এতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ থাকে ৪৬%। 
- ইউরিয়া সার নাইট্রোজেন সরবরাহ করে থাকে যা শিকড়ের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। 

উৎস: কৃষি বাতায়ন ওয়েবসাইট।
৫১৩.
লেন্টিকুলার প্রস্বেদন কীভাবে ঘটে?
  1. পাতার রন্ধ্র দিয়ে
  2. মূলের কোষ দিয়ে
  3. কাণ্ডের ছিদ্র বা লেন্টিসেল দিয়ে
  4. ফুলের পাপড়ি দিয়ে
সঠিক উত্তর:
কাণ্ডের ছিদ্র বা লেন্টিসেল দিয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাণ্ডের ছিদ্র বা লেন্টিসেল দিয়ে
ব্যাখ্যা

প্রস্বেদন (Transpiration): 
- উদ্ভিদ প্রধানত মূল দিয়ে তার প্রয়োজনীয় পানি শোষণ করে। শোষিত পানির অতি সামান্য অংশ উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবিক কার্যাবলির জন্য ব্যয় হয়, অবশিষ্ট পানি উদ্ভিদের বায়বীয় অংশ দিয়ে বাষ্পাকারে বাইরে বের হয়ে যায়। 
- সাধারণত স্থলজ উদ্ভিদ যে শারীরতত্ত্বীয় প্রক্রিয়ায় তার বায়বীয় অঙ্গের মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানি বের করে দেয়, সেটাই প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন প্রক্রিয়া। - এই কাজটি তার বায়বীয় অঙ্গের কোন অংশের মাধ্যমে ঘটে, তার ভিত্তিতে এদের তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন (Stomatal transpiration): 
- পাতায়, কচিকাণ্ডে, ফুলের বৃতি ও পাপড়িতে দুটি রক্ষীকোষ (Guard cell) বেষ্টিত এক ধরনের রন্ধ্র থাকে, এদেরকে পত্ররন্ধ্র (একবচন stoma, বহুবচন stomata) বলে। কোনো উদ্ভিদের মোট প্রস্বেদনের 90-95% হয় পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে। 

২। কিউটিকুলার প্রস্বেদন (Cuticular transpiration): 
- উদ্ভিদের বহিঃত্বকে বিশেষ করে পাতার উপরে এবং নিচে কিউটিনের আবরণ থাকে, এ আবরণকে কিউটিকল বলে। কিউটিকল ভেদ করে কিছু পানি বাষ্পাকারে বাইরে বের হয়, এ প্রক্রিয়াকে কিউটিকুলার প্রস্বেদন বলে। 

৩। লেন্টিকুলার প্রস্বেদন (Lenticular transpiration): 
- উদ্ভিদে গৌণ বৃদ্ধি হলে কাণ্ডের বাকল ফেটে লেন্টিসেল নামক ছিদ্র সৃষ্টি হয়। লেন্টিসেলের ভিতরের কোষগুলো আলাদাভাবে সজ্জিত থাকে এবং এর মাধ্যমে কিছু পানি বাইরে বেরিয়ে যায়, একে লেন্টিকুলার প্রস্বেদন বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫১৪.
Entomology হলো-
  1. ক) বাস্তুবিদ্যা
  2. খ) ভ্রূনবিদ্যা
  3. গ) শারীরবিদ্যা
  4. ঘ) কীটতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ঘ) কীটতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কীটতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
কিটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি এবং দমন সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে Entomolgy বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
৫১৫.
হাড় যেমন মানবদেহের কাঠামো তৈরি করে _____ তেমনি উদ্ভিদের কাঠামো তৈরি করে।
  1. ক) সেলুলোজ
  2. খ) খনিজ
  3. গ) রাফেজ
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
হাড় যেমন মানবদেহের কাঠামো তৈরি করে সেলুলোজ ও রাফেজ তেমনি উদ্ভিদের কাঠামো তৈরি করে। উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫১৬.
নিম্নের কোন উদ্ভিদটির প্রজনন মূলের মাধ্যমে হয়?
  1. ক) পাথরকুচি
  2. খ) পিঁয়াজ
  3. গ) মিষ্টি আলু
  4. ঘ) রসুন
সঠিক উত্তর:
গ) মিষ্টি আলু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মিষ্টি আলু
ব্যাখ্যা
যে জটিল প্রক্রিয়ায় জীব তার প্রতিরূপ বা বংশধর সৃষ্টি করে তাকে প্রজনন বা জনন বলে। প্রজনন বা জনন প্রধানত দুই প্রকার, যথা- অযৌন ও যৌন জনন ।

অযৌন জনন : যে প্রক্রিয়ায় দুটি ভিন্নধর্মী জনন কোষের মিলন ছাড়াই জনন সম্পন্ন হয় তাই অযৌন জনন। নিম্নশ্রেণির জীবে অযৌন জননের প্রবণতা বেশি। অযৌন জনন প্রধানত দুই ধরনের, যথা- স্পোর উৎপাদন ও অঙ্গজ জনন।

(ক) স্পোর উৎপাদন : প্রধানত নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে স্পোর বা অণুবীজ উৎপাদনের মাধ্যমে বংশ রক্ষা করার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। উদ্ভিদের দেহকোষ পরিবর্তিত হয়ে অণুবীজবাহী একটি অঙ্গের সৃষ্টি করে। এদের অণুবীজথলি বলে। একটি অণুবীজথলিতে সাধারণত অসংখ্য অণুবীজ থাকে। তবে কখনো কখনো একটি থলিতে একটি অণুবীজ থাকতে পারে। অণুবীজ থলির বাইরেও উৎপন্ন হয়। এদের বহিঃঅণুবীজ বলে। বহিঃঅণুবীজের কোনো কোনোটিকে কনিডিয়াম বলে। Mucor এ থলির মধ্যে অসংখ্য অণুবীজ উৎপন্ন হয়। Penicillium কনিডিয়া সৃষ্টির মাধ্যমে বংশ বৃদ্ধি করে।

(খ) অঙ্গজ জনন : কোনো ধরনের অযৌন রেণু বা জনন কোষ সৃষ্টি না করে দেহের অংশ খণ্ডিত হয়ে বা কোনো অঙ্গ রূপান্তরিত হয়ে যে জনন ঘটে তাকে অঙ্গজ জনন বলে। এ ধরনের জনন প্রাকৃতিক নিয়মে বা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটলে তাকে প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন বলা হয়। যখন কৃত্রিমভাবে অঙ্গজ জনন ঘটানো হয় তখন তাকে কৃত্রিম অঙ্গজ জনন বলে। প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন : বিভিন্ন পদ্ধতিতে স্বাভাবিক নিয়মেই এ ধরনের অঙ্গজ জনন দেখা যায়,
যেমন-
দেহের খণ্ডায়ন : সাধারণত নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে এ ধরনের জনন দেখা যায়। Spirogyra, Mucor ইত্যাদি উদ্ভিদের দেহ কোনো কারণে খন্ডিত হলে প্রতিটি খণ্ড একটি স্বাধীন উদ্ভিদ হিসেবে জীবনযাপন শুরু করে ৷

মূলের মাধ্যমে : কোনো কোনো উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হতে দেখা যায়, যেমন—পটল, সেগুন ইত্যাদি। কোনো কোনো মূল খাদ্য সঞ্চয়ের মাধ্যমে বেশ মোটা ও রসাল হয়। এর গায়ে কুঁড়ি সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে নতুন উদ্ভিদ গজায়, যেমন— মিষ্টি আলু।

 রূপান্তরিত কাণ্ডের মাধ্যমে :  কিছু কাণ্ডের অবস্থান ও বাইরের চেহারা দেখে তাকে কাণ্ড বলে মনেই হয় না। এরা পরিবর্তিত কাণ্ড । বিভিন্ন প্রতিকূলতায়, খাদ্য সঞ্চয়ে অথবা অঙ্গজ জননের প্রয়োজনে এরা পরিবর্তিত হয়। যেমন: পিঁয়াজ, আদা, রসুন ইত্যাদি।

পাতার মাধ্যমে: কখনো কখনো পাতার কিনারায় মুকুল সৃষ্টি হয়ে তার থেকে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়, যেমন: পাথরকুচি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণী
৫১৭.
উদ্ভিদ দেহে কোন টিস্যু খাদ্যের কাঁচামাল পরিবহন করে?
  1. ক) এপিডার্মাল টিস্যু
  2. খ) গ্রাউন্ড টিস্যু
  3. গ) ভাস্কুলার টিস্যু
  4. ঘ) গ্রন্থি টিস্যু
সঠিক উত্তর:
গ) ভাস্কুলার টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভাস্কুলার টিস্যু
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদ দেহে ভাস্কুলার টিস্যু খাদ্যের কাঁচামাল পরিবহন করে।
• ভাস্কুলার টিস্যু: উদ্ভিদদেহে যে টিস্যু খাদ্যের কাঁচামাল (পানি, খনিজ লবণ ইত্যাদি) ও তৈরিকৃত খাদ্য পরিবহন করে থাকে তাকে ভাস্কুলার টিস্যু বলে। 
- ভাস্কুলার টিস্যুকে পরিবহন টিস্যু বলে।
- জটিল টিস্যু হিসেবে পরিচিত জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যু উদ্ভিদের মাটি হতে মূল দ্বারা পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে পাতা পর্যন্ত পৌঁছায় এবং পাতায় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে খাদ্য মূল পর্যন্ত পরিবহন করে তাই জাইলেম ও ফ্লোয়েম কে পরিবহন টিস্যু বলে এবং যাবতীয় প্রক্রিয়া কে ভাস্কুলার টিস্যু বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫১৮.
দেহে তাপের সমতা রক্ষা করে -
  1. ক) ত্বক
  2. খ) রক্ত
  3. গ) চুল
  4. ঘ) মাংসপেশি
সঠিক উত্তর:
খ) রক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রক্ত
ব্যাখ্যা
রক্তের উল্লেখযোগ্য কাজ হলো:
- অক্সিজেন পরিবহন,
- কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ,
- খাদ্যসার পরিবহন,
- তাপের সমতা রক্ষা,
- বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন,
- হরমোন পরিবহন,
- রোগ প্রতিরোধ,
- রক্ত জমাট বাঁধা।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫১৯.
কোনটি কঙ্কালতন্ত্রের কাজ নয়?
  1. দেহকাঠামো গঠন
  2. খনিজ লবণ সঞ্চয়
  3. লোহিত রক্তকণিকা পরিবহন
  4. গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ রক্ষা করা
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্তকণিকা পরিবহন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্তকণিকা পরিবহন
ব্যাখ্যা
• লোহিত রক্তকণিকা পরিবহন করা কঙ্কালতন্ত্রের কাজ নয়, বরং লোহিত রক্তকণিকা উৎপন্ন করা কঙ্কালতন্ত্রের কাজ। 

• কঙ্কালতন্ত্র:
- ভ্রূণীয় মেসোডার্ম থেকে উদ্ভূত অস্থি ও তরুণাস্থি (কার্টিলেজ) নামক যোজক টিস্যু সমন্বয়ে গঠিত যে তন্ত্র দেহের কাঠামো সৃষ্টির মাধ্যমে দেহকে নির্দিষ্ট আকৃতি দান করে, দেহের ভার বহন করে, পেশি সংযোগের স্থান প্রদান করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন অঙ্গসমূহ রক্ষা করে তাকে কঙ্কালতন্ত্র বলে।

• মানব কঙ্কালতন্ত্রের অধিকাংশই অস্থি নির্মিত। এছাড়া এ তন্ত্রে তরুণাস্থি, টেনডন ও লিগামেন্ট থাকে যারা কঙ্কালতন্ত্রের বিভিন্ন অংশকে সংযুক্ত করে।

• কঙ্কালতন্ত্রের কাজ:
→ কাঠামো প্রদান:
- কঙ্কাল মানুষের শরীরের কাঠামো তৈরি করে এবং এটিকে একটি নির্দিষ্ট আকার দেয়।  
→ সুরক্ষা:
- কঙ্কাল শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন- মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড, ফুসফুস ইত্যাদি কে আঘাত থেকে রক্ষা করে।  
→ চলাচল ও নড়াচড়া:
- কঙ্কাল এবং পেশী একসাথে কাজ করে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে।  
→ খনিজ লবণ সঞ্চয়:
- কঙ্কাল ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের মতো খনিজ লবন সঞ্চয় করে।  
→ রক্তকণিকা উৎপাদন:
- অস্থিমজ্জা থেকে লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হয়।   

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৫২০.
সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় পানি বিয়োজিত হয়ে অক্সিজেন তৈরির প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়?
  1. ফটোরেসপিরেশন
  2. ফটোলাইসিস
  3. ফটোফসফোরাইলেশন
  4. ডি-ফসফোরাইলেশন
সঠিক উত্তর:
ফটোলাইসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফটোলাইসিস
ব্যাখ্যা
• ফটোলাইসিস:
- সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় পানি বিয়োজিত হয়ে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন এবং ইলেকট্রন তৈরির প্রক্রিয়াকে ফটোলাইসিস বলা হয়।
- ফটোলাইসিস হল সালোকসংশ্লেষণের (Photosynthesis) একটি ধাপ। 

• বিক্রিয়া:
2H2​O → ​4H++ 4e+ O2​
 
• ফটোলাইসিস (Photolysis) শব্দটি দুটি গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে: "ফটো" যার অর্থ আলো এবং "লাইসিস" যার অর্থ বিয়োজন বা ভাঙন।
- সুতরাং, ফটোলাইসিস মানে হলো আলোর মাধ্যমে কোনো কিছু ভেঙে যাওয়া বা বিয়োজিত হওয়া।  
- এই প্রক্রিয়াটি সালোকসংশ্লেষণের আলোক পর্যায়ে ঘটে থাকে।
- যখন সূর্যের আলো ক্লোরোফিলের উপর পড়ে, তখন পানির অণু ভেঙে গিয়ে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এবং ইলেকট্রন তৈরি করে।
- এই অক্সিজেন বায়ুমণ্ডলে মুক্ত হয়, যা আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাস এবং অন্যান্য জৈব প্রক্রিয়ার জন্য অত্যাবশ্যক।  
 
তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৫২১.
নিচের কোনটি স্নায়ুরোগ হিসেবে পরিচিত?
  1. অ্যজমা
  2. মায়োকার্ডাইটিস
  3. পারকিনসন
  4. উচ্চ রক্তচাপ
সঠিক উত্তর:
পারকিনসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পারকিনসন
ব্যাখ্যা
স্নায়ুরোগ:

• স্নায়ুরোগ হল স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে এমন যেকোনো অবস্থা।
• স্নায়ুতন্ত্র শরীরের একটি জটিল নেটওয়ার্ক যা মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ড থেকে শরীরের বাকি অংশে বার্তা প্রেরণ এবং গ্রহণ করে।
• স্নায়ু রোগের ফলে বিভিন্ন ধরণের লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে:
- স্নায়ুতে ব্যথা, অসাড়তা, ঝিনঝিনি বা জ্বালাপোড়া;
- মাংসপেশীর দুর্বলতা বা পক্ষাঘাত;
- চলাফেরায় অসুবিধা;
- সমন্বয়ের অভাব;
- বক্তৃতা বা গিলে ফেলার সমস্যা;
- মূত্রাশয় বা অন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ হারানো;
- সংবেদনশীলতা হ্রাস;
- জ্ঞান হারানো।

• স্ট্রোক, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, পারকিনসন'স ডিজিজ, আলঝেইমার'স ডিজিজ, GBS, মেনিনজাইটিস প্রভৃতি স্নায়ুরোগ হিসাবে পরিচিত।
• হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর, উচ্চ রক্তচাপ, এনজাইনা, মায়োকার্ডাইটিস, এন্ডোকার্ডাইটিস ইত্যাদি হৃদরোগ হিসাবে পরিচিত।
• নিউমোনিয়া, অ্যজমা, সিওপিডি, ব্রঙ্কিয়েকটেসিস ইত্যাদি ফুসফুসের রোগ হিসাবে পরিচিত।


উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং The American Parkinson Disease Association (APDA)। 
৫২২.
হৃৎপিণ্ডের প্রাচীরের মধ্যবর্তী স্তর কোনটি? 
  1. পেরিকার্ডিয়াম
  2. এপিকার্ডিয়াম
  3. মায়োকার্ডিয়াম
  4. এন্ডোকার্ডিয়াম
সঠিক উত্তর:
মায়োকার্ডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মায়োকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ডের আবরণ: 
- হৃৎপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত। 
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে। 
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। 
- পেরিকার্ডিয়াল হৃৎপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। 
- হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হৃৎপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে। 

হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর: 
- অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি বলে। 
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট। 
যেমন - 

ক. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium): 
- এটি হৃৎপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি। 
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে। 

খ. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium): 
- মায়োকার্ডিয়াম হৃৎপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। 
- স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃৎপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। 

গ. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium): 
- এটি হৃৎপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃৎকপাটিকাসমূহ ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃৎপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৩.
লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত এনজাইম কোনটি? 
  1. পেপসিন
  2. টায়ালিন
  3. ট্রিপসিন
  4. ল্যাকটোজ
সঠিক উত্তর:
টায়ালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টায়ালিন
ব্যাখ্যা
মুখবিবর: 
- মুখ পরবর্তী অংশটি মুখবিবর। 
- এর ভেতরে কয়েকটি অঙ্গ অবস্থিত। যেমন- দাঁত, মাড়ি, জিহবা, গাল ও তালু। 
- মুখ বিবরের ঊর্ধ্ব প্রাচীর তালুর অস্থি ও পেশি দিয়ে, সামনের প্রাচীর ঠোঁটের পেশি দিয়ে এবং পার্শ্ব প্রাচীর গালের পেশি দিয়ে গঠিত। 
- তালুর অগ্রভাগ অস্থিনির্মিত এবং শক্ত, পেছনের অংশ মাংসল ও নরম। 
- তালুর পেছনের অংশের মধ্যভাগ থেকে একটি অপেক্ষাকৃত সরু আলজিহবা মুখবিবরে ঝুলে থাকে। 
- মানুষের ঊর্ধ্ব ও নিম্ন চোয়াল দাঁতযুক্ত। 
- এছাড়া মুখবিবরে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি থাকে। 
- নিম্নে চোয়ালের অস্থির সাথে জিহ্বাযুক্ত থাকে। 
- পৃষ্ঠতলের উপর থাকে স্বাদকোরক এগুলো বিভিন্ন রাসায়নিক বস্তুর প্রতি সংবেদনশীল। 
- জিহ্বার অগ্রভাগ মিষ্টি, দুই পার্শ্ব নোনা, পশ্চাৎ ভাগের দুই পার্শ্ব টক এবং পেছনের দিক তিক্ত স্বাদ গ্রহণ করে।

কাজ: 
- দাঁত খাদ্য দ্রব্যকে কাটা, ছেঁড়া ও পেষণে সাহায্য করে। 
- জিহ্বা খাদ্য দ্রব্যের স্বাদ গ্রহণ করে এবং পেষণের সময় লালারস মিশ্রিত করে খাদ্য দ্রব্যকে পিচ্ছিল করে পেছনে ঠেলে দেয়। 
- লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত “মিউসিন” খাদ্যকে পিচ্ছিল করে আর টায়ালিন ও মল্টেজ এনজাইম খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৪.
সর্বপ্রথম 'জেনেটিক্স' শব্দের প্রচলন করেন কে?
  1. মেন্ডেল
  2. বেটসন
  3. ডারউইন
  4. মর্গান
সঠিক উত্তর:
বেটসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেটসন
ব্যাখ্যা
- উইলিয়াম বেটসন ১৯০৫ সালে সর্বপ্রথম Genetics শব্দটি প্রচলন করেন
- অস্ট্রিয়াবাসী ধর্মযাজক গ্রেগর জোহান মেন্ডেল জিনতত্ত্বের জনক হিসেবে পরিচিত।
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের মৃত্যুর ১৬ বছর পর ১৯০০ সালে নেদারল্যান্ডসের উদ্ভিদবিজ্ঞানী হিউগো ডে সি, জার্মান উদ্ভিদবিজ্ঞানী অধ্যাপক কার্ল করেন্স, অস্ট্রিয়ার কৃষিবিজ্ঞানী এরিক শ্চেমেক পৃথকভাবে কিন্তু একই সময়ে মেন্ডেলের গবেষণার ফলাফল পুনরাবিষ্কার করেন। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫২৫.
নব্য-ডারউইনবাদের জনক কে?
  1. চার্লস রবার্ট ডারউইন
  2. জাঁ বাপ্টিস্ট পিয়েরে দ্য ল্যামার্ক
  3. অগাস্ট ভাইজম্যান
  4. আর্নেস্ট হেকেল
সঠিক উত্তর:
অগাস্ট ভাইজম্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগাস্ট ভাইজম্যান
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- ফরাসি উদ্ভিদবিজ্ঞানী জাঁ বাপ্টিস্ট পিয়েরে দ্য ল্যামার্ক বায়োলজি শব্দের প্রবর্তক এবং প্রাণিজগতকে মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী এ দুভাগে বিভক্ত করেন। তাঁকে অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার মতবাদের প্রবক্তা বলা হয়।
- চার্লস রবার্ট ডারউইন একজন ব্রিটিশ প্রকৃতিবিজ্ঞানী ছিলেন। ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত ''Origin of Species By Means of Natural Selection'' নামক গ্রন্থে তিনি অভিব্যক্তি সম্পর্কে তাঁর সুচিন্তিত ও জোরালো মতবাদ প্রকাশ করেন। এ মতবাদ প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ বা ডারউইনিজম নামে পরিচিত।
- বিজ্ঞানী ভাইজম্যান ও তাঁর অনুগামীরা ডারউইনের মতবাদের দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে নতুন জ্ঞানের আলোকে সবল করে তোলেন। ভাইজম্যান ও তাঁর অনুগামীদের মাধ্যমে ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচনবাদের এ নবমূল্যায়নকে নব্য-ডারউইনবাদ বলে। ভাইজম্যানকে নব্য-ডারউইনবাদের জনক বলা হয়। নব্য-ডারউইনবাদীদের মধ্যে ভাইজম্যান ছাড়াও হাক্সলি, স্পেনসার, জর্ডান, গ্রে এবং হেকেল এর নাম উল্লেখযোগ্য।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৫২৬.
কোন উপাদানটিকে Fruit Sugar বলা হয়?
  1. সেলুলোজ
  2. গ্লুকোজ
  3. সুক্রোজ
  4. ফ্রুকটোজ
সঠিক উত্তর:
ফ্রুকটোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্রুকটোজ
ব্যাখ্যা
• ফ্রুকটোজকে ফল শর্করা বা Fruit sugar বলা হয়। 

• শর্করা:

- শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য। কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে শর্করা তৈরি হয়।
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত।
- শর্করা আমাদের শরীরে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে।

• উৎস অনুসারে শর্করা ২ প্রকার। যথা-
- উদ্ভিজ্জ শর্করা ও প্রাণীজ শর্করা। 

• উদ্ভিজ্জ শর্করার প্রকারভেদ:
→ শ্বেতসার বা স্টার্চ:
- ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু বা কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়।
→ গ্লুকোজ:
- এটি চিনির তুলনায় কম মিষ্টি। এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর, খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়।
→ ফ্রুকটোজ:
- আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রুকটোজ থাকে। একে ফল শর্করাও (Fruit Sugar) বলা হয়ে থাকে।
→ সুক্রোজ:
- আখের রস, চিনি, গুড়, মিছরি এর উৎস।
→ সেলুলোজ:
- বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাকসবজিতে সেলুলোজ থাকে।

তথ্যসূত্র:
- সাধারণ বিজ্ঞান,  ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৫২৭.
কোন করোটিক স্নায়ুটি শ্রবণ শক্তির সাথে যুক্ত?
  1. অডিটরি
  2. হাইপোগ্লোসাল
  3. অকিউলোমোটর
  4. অলফ্যাক্টরি
সঠিক উত্তর:
অডিটরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অডিটরি
ব্যাখ্যা

• অডিটরি করোটিক স্নায়ুটি শ্রবণ শক্তির সাথে যুক্ত।

• করোটিক স্নায়ু:
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে।
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া।
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে।
- যে সকল স্নায়ু কোন সংবেদী অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা বহন করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বা মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় তাদের সংবেদী স্নায়ু বলে।
যেমন- অলফ্যাক্টরি ও অপটিক স্নায়ু।
- আবার যে সব স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন নির্দেশ বহন করে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয় তাদের চেষ্টীয় বা আজ্ঞাবাহী বা মোটর স্নায়ু বলে।
যেমন- অকুলোমোটর ও ট্রকলিয়ার স্নায়ু।
- কিছু স্নায়ু সংবেদী ও আজ্ঞাবাহী উভয় ধরনের কাজ করে, এদের মিশ্র স্নায়ু বলে।
যেমন- ফ্যাসিয়াল বা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ু।

• অলফ্যাক্টরি স্নায়ু:
-অগ্রমস্তিষ্কের অঙ্কীয়দেশ (অলফ্যাক্টরি লোবের শীর্ষদেশ) হতে উৎপন্ন হয়ে নাসিকা গহবরের মিউকাস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
- এটি সংবেদী স্নায়ু এবং মস্তিষ্কে ঘ্রাণের অনুভূতি পৌঁছায়। 

• অডিটরি:
- এটি মেডুলা অবলংগাটার পার্শ্বদেশ হতে উৎপত্তি লাভ করে অন্যকর্ণে বিস্তৃত হয়।
- অডিটরি স্নায়ু সংবেদী প্রকৃতির। এটি শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষার অনভূতি মস্তিষ্কে বহন করে।

• অকিউলোমোটর:
- চেষ্টীয় বা মোটর (Motor) স্নায়ু।
- এটি চোখের গোলকের সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়াও চোখের পাতার নড়াচড়া এবং চোখের পিউপিল বা মণির সংকোচন-প্রসারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

• অপটিক:
- অপটিক করোটিক স্নায়ুটি দৃষ্টিশক্তির সাথে যুক্ত।

• হাইপোগ্লোসাল:
- হাইপোগ্লোসাল করোটিক স্নায়ুটি জিভের গতির সাথে যুক্ত।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২৮.
মাইক্রোবায়োলজি শাখায় কোন ধরনের জীব নিয়ে গবেষণা করা হয়?
  1. হরমোন
  2. কীটপতঙ্গ
  3. অণুজীব
  4. খনিজ
সঠিক উত্তর:
অণুজীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অণুজীব
ব্যাখ্যা

মাইক্রোবায়োলজি (Microbiology) মূলত অণুজীব নিয়ে গবেষণা করে, যেমন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক ও প্রোটোজোয়া।

মাইক্রোবায়োলজি:
- মাইক্রোবায়োলজি (Microbiology) হল জীববিজ্ঞানের একটি শাখা, যা অণুজীব বা মাইক্রোঅর্গানিজম নিয়ে গবেষণা করে। অণুজীব বলতে বোঝায় ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক, প্রোটোজোয়া এবং শৈবাল, যা খালি চোখে দেখা যায় না এবং সাধারণত অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

মাইক্রোবায়োলজি বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত, যেমন:
i) ব্যাকটেরিয়ালজি (Bacteriology) – ব্যাকটেরিয়ার গঠন, বৃদ্ধি, জিনতত্ত্ব ও রোগতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করে।
ii) ভাইরোলজি (Virology) – ভাইরাসের গঠন, প্রজনন এবং এর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করে।
iii) মাইকোলজি (Mycology) – ছত্রাক বা ফাঙ্গাস নিয়ে গবেষণা করে, যা খাদ্য উৎপাদন ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
iv) ইমিউনোলজি (Immunology) – শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর গবেষণা করে।
v) অ্যান্টিবায়োটিক ও জৈবপ্রযুক্তি (Biotechnology & Antibiotics Research) – জীবাণুর সাহায্যে ওষুধ ও টিকা তৈরি করা হয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
ক) জীবদেহে হরমোনের কার্যকারিতা বিষয়ক আলোচনা করা হয় এন্ডোক্রাইনোলজি শাখায়।
খ) কীটপতঙ্গ নিয়ে গবেষণা করা হয় এনটোমোলজি (Entomology)-তে। 
ঘ) খনিজ নিয়ে গবেষণা করা হয় ভূতত্ত্ব (Geology) ও খনিজবিদ্যা (Mineralogy)-তে, যা জীববিজ্ঞানের শাখা নয়।

উৎস: 
১। উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা। 

৫২৯.
'Biology' শব্দের প্রবর্তক হলেন-
  1. ক) এরিস্টটল
  2. খ) কার্ল অগাস্ট
  3. গ) জাঁ ল্যামার্ক
  4. ঘ) লিউয়েনহুক
সঠিক উত্তর:
গ) জাঁ ল্যামার্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জাঁ ল্যামার্ক
ব্যাখ্যা
ফরাসি প্রকৃতিবিদ জ্যা বাতিস্ত ল্যামার্ক জীবিত বস্তু সংক্রান্ত অনেকগুলো শাস্ত্রের ধারক না হিসেবে 'Biology' শব্দের প্রচলন করেন।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫৩০.
জটিল টিস্যু কত প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
ক) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২
ব্যাখ্যা
স্থায়ী টিস্যু তিন প্রকার। যথা-
১. সরল টিস্যু,
২. জটিল টিস্যু ও
৩. ক্ষরণকারী টিস্যু।
সরল টিস্যু আবার তিন প্রকার।
যথা- প্যারেনকাইমা, কোলেনকাইমা ও স্ক্লেরেনকাইমা।
জটিল টিস্যু দুই প্রকার।
যথা- জাইলেম ও ফ্লোয়েম।
ক্ষরণকারী টিস্যু ২ প্রকার।
যথা- তরুক্ষীর টিস্যু ও গ্রন্থির টিস্যু।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫৩১.
কোনটি তৈলবীজ নয়?
  1. তিসি
  2. সরিষা
  3. অড়হর
  4. তিল
সঠিক উত্তর:
অড়হর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অড়হর
ব্যাখ্যা
তৈলবীজ: 
- তৈলবীজ শস্যকে সাধারণত তৈলবীজ ফসল বলা হয় যা থেকে ভোজ্যতেল বা শিল্পজাত তেল নিষ্কাশন করা যায়।
- তৈলবীজ ফসলের কয়েকটি পরিচিত উদাহরণ হলো সূর্যমুখী তেল, তিলের তেল, চিনাবাদাম তেল, সরিষার তেল ইত্যাদি। 
- তৈল, তিসি, চীনাবাদাম, সূর্যমুখী অপ্রধান তৈল ফসল হিসেবে এদেশে বহুকাল যাবত আবাদ হয়ে আসছে।
- উপযুক্ত প্রযুক্তির মাধ্যমে ফলন বৃদ্ধি করতে পারলে দেশের তৈল ঘাটতি মিটাতে এসব ফসলও বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারবে। 

অন্যদিকে, 
- অড়হর (Pigeon Pea)  Leguminosae গোত্রের Cajanus cajan প্রজাতির একজাতীয় ডালের স্থানীয় নাম।
- বসতবাড়ির আশেপাশে, ক্ষেতে অথবা রাস্তার ধারে গৌণ  ফসল হিসেবে সনাতন পদ্ধতিতে এর চাষ হয়।
- গাছ সচরাচর ৩০০ দিনে ফলনশীল হয়।
- বাংলাদেশে বেশির ভাগ অড়হরের চাষ কুষ্টিয়া, রংপুর, দিনাজপুর ও যশোর জেলায়। 

উৎস: ব্যাচেলর অব এগ্রিকালচারাল এডুকেশন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৩২.
শর্করার প্রধান কাজ কী? 
  1. দেহের রক্ত পরিষ্কার করা
  2. হরমোন তৈরি করা 
  3. দেহে তাপশক্তি উৎপাদন ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করা 
  4. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা 
সঠিক উত্তর:
দেহে তাপশক্তি উৎপাদন ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেহে তাপশক্তি উৎপাদন ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করা 
ব্যাখ্যা

শর্করা: 
- শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য। 
- কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে শর্করা তৈরি হয়। 
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত। 
- শর্করা শরীরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে। 
- কয়েক ধরনের শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এবং এদের উৎসও ভিন্ন। 
যেমন- 
উদ্ভিজ্জ উৎস:
১। শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু এবং কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়। 
২। সেলুলোজ: বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে।
৩। সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড় এবং মিছরি এর উৎস। 
৪। ফ্রোক্টোজ: আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রোক্টোজ থাকে। একে ফল শর্করাও বলা হয়ে থাকে। 
৫। গ্লুকোজ: এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর,খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। 

প্রাণিজ উৎস: 
১। ল্যাকটোজ বা দুধ শর্করা: গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে এই শর্করা থাকে। 
২। গ্লাইকোজেন: পশু ও পাখিজাতীয় (যেমন: মুরগি, কবুতর প্রভৃতি ইত্যাদি) প্রাণীর যকৃৎ এবং মাংসে (পেশি) গ্লাইকোজেন শর্করাটি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৩৩.
মানুষের প্রতি ১০০ মিলিলিটার রক্তে কত গ্রাম হিমোগ্লোবিন থাকে?
  1. ২৪
  2. ২২
  3. ১৬
  4. ২০
সঠিক উত্তর:
১৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬
ব্যাখ্যা
মানুষের রক্ত:
- মানুষের রক্তে pH ৭.৪।
- রক্ত হচ্ছে প্লাজমা ও প্লাজমায় ভাসমান বিভিন্ন কোষীয় উপাদানে গঠিত জটিল তরল টিস্যু।
- মানুষের দেহে প্রায় ৫ থেকে ৬ লিটার রক্ত থাকে।
- মানুষের প্রতি ১০০ মিলিলিটার রক্তে ১৬ গ্রাম হিমোগ্লোবিন থাকে।
- রক্ত মানুষের দেহের ৮%।
- রক্তের তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

- রক্তে ৩ ধরনের রক্তকণিকা থাকে।
যথা:
- লোহিত রক্তকণিকা,
- শ্বেত রক্তকণিকা এবং
- অণুচক্রিকা।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
৫৩৪.
ল্যামার্কের কোন বইয়ে বিবর্তন বা অভিব্যক্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. থিওরি অফ রেভোলিউশন
  2. ফিলােসােফিক জুওলজিক
  3. ন্যাচারাল হিস্ট্রি
  4. অন দ্য অরিজিন অব স্পিসিস
সঠিক উত্তর:
ফিলােসােফিক জুওলজিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফিলােসােফিক জুওলজিক
ব্যাখ্যা
বিবর্তন (Evolution): 
- বিবর্তন বা অভিব্যক্তি হলো এমন একটি জীববৈজ্ঞানিক ধারণা যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে জীবের গাঠনিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ক্রমপরির্তনকে বুঝায়। 
- কোনো জীবের বংশধরদের মাঝে যে জিনরাশি ছড়িয়ে পড়ে তারাই বংশপ্রবাহে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে। 
- ল্যামার্ক বায়োলজি’ শব্দটির প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি প্রথম বিবর্তন ৰা অভিব্যক্তির ওপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। 
- তিনি ১৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর লেখা 'ফিলােসােফিক জুওলজিক' নামের একটি বইয়ে বিবর্তন বা অভিব্যক্তির ওপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব লিপিবদ্ধ করেন
- সর্বপ্রথম জেনোফেন সময়ের সাথে সাথে জীবদেহের আকার পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আনেন।
- তারপর, এরিস্টটল বিবর্তনবাদ নিয়ে আলোচনা করেন।
- হার্বার্ট স্পেন্সার সর্বপ্রথম Evolution শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
- ল্যামার্ক বায়োলজি’ শব্দটির প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি প্রথম বিবর্তন ৰা অভিব্যক্তির ওপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
- এ বিষয়টি তিনি ১৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর লেখা 'ফিলােসােফিক জুওলজিক' নামে একটি বইতে লিপিবদ্ধ করেন।
- জৈব বিবর্তনের জনক বলা হয় চার্লস ডারউইনকে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৩৫.
কোন রাসায়নিকের প্রভাবে ফলের রং হলুদ হয়?
  1. লাইকোপেন
  2. ক্যারোটিন
  3. জ্যান্থোফিল
  4. ক্লোরোফিল
সঠিক উত্তর:
জ্যান্থোফিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্যান্থোফিল
ব্যাখ্যা
- ক্রোমোপ্লাস্টে ক্যারোটিন (কমলা বর্ণ কণিকা) ও জ্যান্থোফিল (হলুদ বর্ণ কণিকা) বেশি পরিমাণে থাকে এবং ক্লোরোফিল (সবুজ বর্ণ কণিক) অল্প পরিমাণে থাকে। - ফুলের পাপড়িতেও ক্রোমোপ্লাস্ট থাকে। এজন্য ফুল ও ফল বিভিন্ন বর্ণের দেখায়। 
- ফুলের বিভিন্ন বর্ণের দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে প্রজাপতি ও পাখি পরাগায়নে ও বংশবিস্তারে সাহায্য করে। 
- টমেটোর পাকলে যে লাল টকটকে রং হয় তা ক্রোমোপ্লাস্টের লাইকোপেন নামক রঞ্জক পদার্থের জন্য। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৫৩৬.
নিচের কোনটি উদ্ভিজ্জ আমিষ?
  1. ডিম
  2. দুধ
  3. ডাল
  4. ছানা
সঠিক উত্তর:
ডাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাল
ব্যাখ্যা
আমিষ: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। 
যথা: প্রাণিজ ও উদ্ভিজ। 

- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। 
- আর উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি। 

- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। 
- দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৩৭.
নিচের কোনটি ভাইরাসজনিত রোগ?
  1. ডিপথেরিয়া
  2. রুবেলা
  3. কলেরা
  4. প্লেগ
সঠিক উত্তর:
রুবেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুবেলা
ব্যাখ্যা


তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৮.
রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা কত হওয়া উচিত?
  1. ৮–১০ গ্রাম/ডেসিলিটার
  2. ১২–১৬ গ্রাম/ডেসিলিটার
  3. ১৮–২২ গ্রাম/ডেসিলিটার
  4. ২৫–৩০ গ্রাম/ডেসিলিটার
সঠিক উত্তর:
১২–১৬ গ্রাম/ডেসিলিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২–১৬ গ্রাম/ডেসিলিটার
ব্যাখ্যা

◉ রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা— ১২–১৬ গ্রাম/ডেসিলিটার। 

হিমোগ্লোবিন: 
- হিমোগ্লোবিন হলো লোহিত রক্তকণিকায় (RBC) বিদ্যমান একটি প্রোটিন, যা শরীরের টিস্যুগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে।
- পর্যাপ্ত টিস্যু অক্সিজেনেশন নিশ্চিত করতে রক্তে যথেষ্ট হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বজায় রাখা জরুরি।
- রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ গ্রাম প্রতি ডেসিলিটার (g/dl) এককে প্রকাশ করা হয়।

- স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন মাত্রা:
পুরুষ: ১৪–১৮ g/dl; 
মহিলা: ১২–১৬ g/dl; 

- স্বাভাবিকের চেয়ে কম হিমোগ্লোবিনের মাত্রা থাকলে তাকে অ্যানিমিয়া (রক্তাল্পতা) বলা হয়।
- রক্তে লাল কণিকার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি হলে তাকে এরিথ্রোসাইটোসিস বলা হয়, যার ফলে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়।

উৎস: National Library of Medicine ওয়েবসাইট। 

৫৩৯.
বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ কোন খনিজের অভাবে হয়? 
  1. পটাসিয়াম
  2. আয়রন
  3. ক্যালসিয়াম
  4. ফসফরাস
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম খনিজ উপাদান: 
- ক্যালসিয়াম (Ca) প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। 
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও  ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর  ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। 
- রক্ত এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি রয়েছে। 

- ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাধঁকপি এবং ফল। 
প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 
- হাড় ও দাঁটের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। 
- এছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। 
- এমনকি এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৪০.
রিকেটস রোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয় নিচের কোনটি?
  1. ক) যকৃত
  2. খ) মস্তিষ্ক
  3. গ) হাড়
  4. ঘ) কিডনি
সঠিক উত্তর:
গ) হাড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হাড়
ব্যাখ্যা

রিকেটস (Rickets)
- ভিটামিন 'ডি' এর অভাবে এ রােগ হয়। অন্ত্রে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শােষণ, দাঁত ও হাড় গঠন প্রভৃতি শারীরবৃত্তীয় কাজে এই ভিটামিন প্রয়ােজন।
- সুতরাং, রিকেটস্‌ রোগের ফলে হাড়ের গঠন ব্যাহত হয়।
- দুধ, মাখন, ডিম, কডলিভার তল ও হাঙ্গরের তেলে প্রচুর ভিটামিন "ডি' পাওয়া যায়।
- সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমা থাকা কোলেস্টেরল থেকেও এটি তৈরি হয়, তবে সেক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তৈরির শেষ ধাপটি সংঘটিত হয় কিডনিতে।

৫৪১.
কোন প্রাণির দেহে রক্তপূর্ণ গহ্বর হিমোসিলের উপস্থিতি রয়েছে?
  1. ক) কেঁচো
  2. খ) শামুক
  3. গ) প্রজাপতি
  4. ঘ) তারা মাছ
সঠিক উত্তর:
গ) প্রজাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রজাপতি
ব্যাখ্যা
প্রজাপতি, চিংড়ি, আরশোলা, কাঁকড়া এইসব আর্থ্রোপোডা (Arthropoda) পর্বের অন্তর্ভুক্ত প্রাণিদেহের রক্তপূর্ণ গহ্বর হিমোসিল নামে পরিচিত। এছাড়া এদের দেহে খন্ডায়িত ও সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ বিদ্যমান, মাথায় একজোড়া পুঞ্জাক্ষি ও অ্যান্টেনা থাকে, নরম দেহ শক্ত কাইটিন সমৃদ্ধ শক্ত আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। সূত্রঃ বিজ্ঞান ৮ম শ্রেণি।
৫৪২.
অশ্রু বা চোখের জল হল-
  1. ক) অ্যাকুয়াস হিউমার
  2. খ) ভিট্রিয়াস হিউমার
  3. গ) লবণযুক্ত পানি
  4. ঘ) অ্যাকোয়া রিজিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) লবণযুক্ত পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লবণযুক্ত পানি
ব্যাখ্যা

অশ্রু গ্রন্থি:
উপরের চক্ষু পল্লবের কোনায় অশ্রু গ্রন্থি থাকে যা থেকে অশ্রু (Tears) তৈরি হয়।
সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম বাইকার্বনেট ও পানি সমন্বয়ে অশ্রু তৈরি হয়।
অশ্রুতে লাইসোজাইম নামক একটি এনজাইমও থাকে। অশ্রু গ্রন্থিকে ল্যাক্রিমাল গ্রন্থিও বলে।
কাজ: অশ্রু চোখকে সিক্ত রাখে, ধূলা ও ময়লা পরিস্কার করে এবং ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

অ্যাকুয়াস হিউমার (Aqueous humour) - লেন্সও কর্নিয়ার মধ্যবর্তী স্থান এক প্রকার স্বচ্ছ জলীয় পদার্থে ভর্তি থাকে। একে বলা হয় অ্যাকুয়াস হিউমার।
- অ্যাকুয়াস হিউমার আলোর প্রতিসরণে সাহায্য করে, চোখের সম্মুখ অংশের আকৃতি ঠিক রাখে এবং লেন্স ও কর্নিয়ায় পুষ্টি সরবরাহ করে।
ভিট্রিয়াস হিউমার (Vitreous humour) - লেন্সও রেটিনার মধ্যবর্তী অংশে এক প্রকার জেলি জাতীয় পদার্থে পূর্ণ থাকে। একে বলা হয় ভিট্রিয়াস হিউমার।
- ভিট্রিয়াস হিউমার রেটিনার দিকে আলোর প্রতিসরণে সাহায্য করে ও চক্ষু গোলকের গোলাকার আকৃতি বজায় রাখে।

সুত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, HSC Program, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৪৩.
শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচিত হয়?
  1. ক) বংশগতিবিদ্যা
  2. খ) শারীরবিদ্যা
  3. গ) ভ্রূণবিদ্যা
  4. ঘ) অঙ্গসংস্থান
সঠিক উত্তর:
খ) শারীরবিদ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শারীরবিদ্যা
ব্যাখ্যা
জীবদেহের নানা অঙ্গ-প্রতঙ্গের জৈব-রাসায়নিক কার্যাদি যেমন: শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি জীববিজ্ঞানের শরীরবিদ্যায় আলোচিত আলোচিত হয়। উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৪৪.
খাদ্যবস্তু কেটে টুকরো করা হয় কোন দাঁতের সাহায্যে?
  1. ক) কর্তন দাঁত
  2. খ) ছেদন দাঁত
  3. গ) পেষণ দাঁত
  4. ঘ) অগ্রপেষণ
সঠিক উত্তর:
ক) কর্তন দাঁত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কর্তন দাঁত
ব্যাখ্যা
কর্তন দাঁত দিয়ে খাদ্যবস্তু কেটে টুকরো করা হয়। 

ছেদন দাঁত দিয়ে খাদ্যবস্তু ছেঁড়া হয়। 
পেষণ দাঁত দিয়ে চর্বণ ও পেষণ উভয় কাজ করা হয়। 
অগ্রপেষণ দাঁত দিয়েও চর্বণ ও পেষণ উভয় কাজ করা হয়।  
মানুষের স্থায়ী দাঁত চার ধরনের হয়ে থাকে। 

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান
৫৪৫.
নিচের কোনটি রেচন পদার্থ?
  1. ক) কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. খ) অ্যামোনিয়া
  3. গ) ক্লোরিন
  4. ঘ) আয়োডিন
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যামোনিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যামোনিয়া
ব্যাখ্যা

রক্তরসের প্রায় ৯০% পানি, বাকি ১০% দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে, যা বিভিন্ন রকমের জৈব এবং অজৈব পদার্থ।
অজৈব পদার্থগুলাের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থের আয়ন, যেমন: সােডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, আয়ােডিন এবং O2, CO2, এবং N2 জাতীয় গ্যাসীয় পদার্থ।
জৈব পদার্থের মধ্যে আছেঃ
১. খাদ্যসার: গ্লুকোজ, অ্যামিনাে এসিড, স্নেহপদার্থ, ভিটামিন ইত্যাদি।
২ রেচন পদার্থ: ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামােনিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৫৪৬.
গর্ভাবস্থায় নিম্নের কোন ঔষধটি অত্যাবশ্যকীয়?
  1. ক) কৃমির ওষুধ
  2. খ) বমির ওষুধ
  3. গ) ফলিক এসিড
  4. ঘ) এন্টাসিড
সঠিক উত্তর:
গ) ফলিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফলিক এসিড
ব্যাখ্যা
গর্ভাবস্থায় ফলিক এসিড গ্রহন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গর্ভাবস্থায় ফলিক এসিড নিউরাল টিউব ডিফেক্ট (NTD) যেমন- স্পাইনাল কর্ড (Spina Bifida) ও ব্রেইনের (anencephaly) জন্মগত ত্রুটি প্রতিরােধে সাহায্য করে।
নিউরাল টিউব হলাে ভূনের একটি অংশ যা থেকে মেরুদণ্ড ও মস্তিষ্কের গঠন হয়।
৫৪৭.
অণু খাদ্য (Micro Nutrients) বলা হয় কোনটিকে?
  1. আমিষ
  2. শর্করা
  3. স্নেহ
  4. ভিটামিন
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন
ব্যাখ্যা

• খাদ্য উপাদান:
- খাদ্যের যেসব জৈব ও অজৈব উপাদান দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করে তাদের খাদ্য উপাদান বা Nutrients বলে।
- দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণের জন্য ভিন্ন ভিন্ন খাদ্য উপাদান প্রয়োজন হয়।

• খাদ্য উপাদান ৬টি।
যথা:
১। আমিষ বা প্রোটিন, 
২। শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট, 
৩। স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাট, 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ, 
৫। খনিজ লবণ বা মিনারেল এবং 
৬। পানি। 

- আমিষ, শর্করা ও স্নেহ পদার্থকে খাদ্যের প্রধান বা মূল উপাদান (Macro nutrients) বলা হয়। কারণ, এ উপাদানগুলো মানবদেহে অধিক পরিমাণে প্রয়োজন হয়।
- ভিটামিন ও খনিজ লবণকে সহায়ক খাদ্য উপাদান বা অণুখাদ্য (Micro Nutrients) বলা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৪৮.
মানবদেহে কয় জোড়া সেক্স ক্রোমোজোম থাকে?
  1. ২২ জোড়া
  2. ২৩ জোড়া
  3. ১ জোড়া
  4. ২ জোড়া
সঠিক উত্তর:
১ জোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ জোড়া
ব্যাখ্যা
মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোসোম থাকে। এ ২৩ জোড়া ক্রোমোসোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় অটোসোম। অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। অপর এক জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোসোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৯.
অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে কোনটি?
  1. ক) ধমনি
  2. খ) শিরা
  3. গ) কৈশিকনালী
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) ধমনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধমনি
ব্যাখ্যা
রক্তনালি
- যে নালির মধ্য দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হয়, তাকে রক্তনালি বলে। 
- মানুষের দেহে তিন ধরনের রক্তনালি আছে। যথা- ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালি।

ধমনি:
- যে সকল রক্তবাহী নাশি হূৎপিণ্ড থেকে উৎপন্ন হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে, তাকে ধমনী বলে।
- এরা দেহের ভিতর দিকে অবস্থিত।
- ধমনির প্রাচীর পুরু পর ছোট এবং এর গহ্বরে কপাটিকা থাকে না।
- ধমনি অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে। 
শিরা:
- যে সকল রক্তনালি দ্বারা দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে তাকে শিরা বলে।
- শিরা প্রাচীর অপেক্ষকৃত পাতলা।
- এদের গহ্বরটি বড় ও গহ্বরের প্রাচীরপাত্রে কপাটিকা থাকে।
- দেহের কৈশিক জালিকা থেকে শিরার উৎপত্তি ঘটে।
- কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া শিরা সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত বহন করে। 
কৈশিকনালি:
- ধমনি ক্রমান্বয়ে শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত অতিসূক্ষ্ম নালি তৈরি করে। এই সকল সূক্ষ্মনালিকে কৈশিকনালি বা কৈশিক জালিকা বলে। 
- কৈশিকনালি থেকে শিরার উৎপত্তি।
- এক স্তরবিশিষ্ট পাতলা এপিথেলিয়াল কোষ দিয়ে কৈশিকনালির প্রাচীর গঠিত।
- কৈশিকনালি দেহকোষের চারপাশে অবস্থান করে।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৫৫০.
নিচের কোনটি পরিবেশের অজীব উপাদান?
  1. ক) অ্যামিবা
  2. খ) পানি
  3. গ) গোলাপ
  4. ঘ) শামুক
সঠিক উত্তর:
খ) পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পানি
ব্যাখ্যা
পরিবেশের উপাদান
- পরিবেশকে প্রধানত দুটো ভাগে ভাগ করা যায়।
- একটি হলো পরিবেশের সকল সজীব উপাদান, যা জীব উপাদান নামে পরিচিত।
- এই জীব উপাদানকে বাদ দিয়ে অবশিষ্ট সকল উপাদান নিয়ে আর একটি পরিবেশ গঠিত । যাকে বলা হয় জড় পরিবেশ বা অজীব পরিবেশ।
- জীব পরিবেশের উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে সকল উদ্ভিদ ও প্রাণী।
- পরিবেশের প্রাণহীন সব উপাদান নিয়ে জড় পরিবেশ গঠিত । এগুলো অজীব বা জড় উপাদান নামে পরিচিত।
- জড় পরিবেশের মূল উপাদান হচ্ছে মাটি, পানি এবং বায়ু । কারণ এ উপাদানগুলো ছাড়া কোন জীবই বেঁচে থাকতে পারে না।
- মাটি, পানি, বায়ু, আলো, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, জলবায়ু ইত্যাদি বিভিন্ন অজীব উপাদান বিভিন্নভাবে পরিবেশের প্রতিটি জীবের স্বভাব এবং বিস্তৃতিকে প্রভাবিত করে।
- এসব উপাদানের প্রাপ্যতার উপর নির্ভর করে পরিবেশের একটি নির্দিষ্ট স্থানে কোন ধরনের জীব উপাদান থাকবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৫৫১.
ইনসমনিয়া কোন ধরণের অসুখ?
  1. নিদ্রহীনতা
  2. স্নায়ুরোগ
  3. সেরিব্রাল পলসি
  4. চোখের রোগ
সঠিক উত্তর:
নিদ্রহীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিদ্রহীনতা
ব্যাখ্যা
- রাতে ঘুম না আসা বা আসলেও বারবার ভেঙ্গে যাওয়াকে বলা হয় ইনসমনিয়া বা অনিদ্রা রোগ। 
- ইনসোমোনিয়া হচ্ছে একটি নিদ্রাহীনজনিত সমস্যা। 
- ইনসোমনিয়া রোগের উপসর্গ সমূহ হচ্ছে- 
১. ঘুম না আসা, 
২. মাথা ব্যথা করা, 
৩. কাজে মনোনিবেশ করতে না পারা, 
৪. সারাদিন ক্লান্তিতে কাঁটানো, 
৫. মুড সুয়িং ইত্যাদি। 

উৎস: NHS Website [লিঙ্ক]।
৫৫২.
কোন ধমনী মানবদেহের পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে?
  1. ফ্রেনিক
  2. ভার্টিব্রাল
  3. সিলিয়াক
  4. ইলিয়াক
সঠিক উত্তর:
সিলিয়াক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলিয়াক
ব্যাখ্যা
সাবক্লেভিয়াল ধমনি: 
- সাবক্লেভিয়াল ধমনি দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপরে থেকে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সরবরাহ করে। 
- এটি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ ধমনীর একটি, যা সারা শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে রক্ত পৌঁছাতে সাহায্য করে। 
যেমন- 
⇒ আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। 
সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ জনন ধমনি: গোনাডে (যেমন: ডিম্বাশয় বা অন্ডকোষ) রক্ত সরবরাহ করে। 
⇒ ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
 
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৩.
নিউমোনিয়া রোগের ভাইরাস কোনটি?
  1. অ্যাডিনো
  2. ইবোলা
  3. ভেরিওলা
  4. র‍্যাবিস
সঠিক উত্তর:
অ্যাডিনো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাডিনো
ব্যাখ্যা
- নিউমোনিয়া রোগের ভাইরাস হচ্ছে অ্যাডিনো ভাইরাস। 

ভাইরাস: 
- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে। 
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে। 
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে। 
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে। 

ভাইরাসের অপকারিতা: 
১। বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর নানা রকমের রোগ উৎপন্ন করে। 
- কিছু রোগের নাম, পোষকের নাম এবং ভাইরাসের নাম নিম্নে দেওয়া হলো- 


উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৪.
কোন লাইপোপ্রোটিন শরীরের জন্য ক্ষতিকর? 
  1. LDL
  2. HDL
  3. DDL
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
LDL
উত্তর
সঠিক উত্তর:
LDL
ব্যাখ্যা

কোলেস্টেরল: 
- কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং স্টেরয়েড -এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। 
- মানুষের প্রায় প্রত্যেক কোষ এবং টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে। 
- যকৃত এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে। 
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে। 
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম। 
যথা- 
১। উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein-HDL) এবং 
২। নিম্ন ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein-LDL)। 

- রক্তের LDL-এর পরিমাণের বৃদ্ধির সাথে কোলেস্টেরলের আধিক্যের সম্পর্ক আছে। 
- রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 
- রক্তে HDL -এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য উপকারী। 
- রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ ১০০-২০০ mg/dl। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৫৫.
নিচের কোনটি বহু শর্করার উদাহরণ? 
  1. সুক্রোজ
  2. গ্লাইকোজেন
  3. ফ্রুক্টোজ
  4. মলটোজ
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোজেন
ব্যাখ্যা
শর্করার গঠন: 
- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হলো-মানবদেহের কর্মশক্তি ও তাপশক্তির প্রধান উৎস। 
- মানুষের প্রধান খাদ্য শর্করা। 
- কার্বন (C) হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) নিয়ে শর্করার যৌগ গঠিত হয়। 
- এটি মিষ্টি স্বাদযুক্ত এবং গন্ধ ও বর্ণহীন। 

শর্করার উৎস: 
- কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা প্রাণি এবং উদ্ভিদ উভয় ধরনের উৎস থেকেই পাওয়া যায়। 
- উদ্ভিদ হতে প্রাপ্ত শর্করাগুলো হলো- চিনি, মধু, মিষ্টি ফল (আম, আঙ্গুর, কলা, কাঠাল, খেজুর ইত্যাদি), আখের রস, গুড়, খেজুরের রস, চাল, গম, ভুট্টা, আলু, কচু ইত্যাদি। 
- প্রাণি হতে প্রাপ্ত শর্করার ভালো উৎস হলো- দুধের শর্করা, প্রাণিদেহের যকৃত ও পেশিকোষের শর্করা। 

শর্করার প্রকারভেদ: 
- গঠন অনুসারে শর্করা তিন প্রকার। 
যথা: এক শর্করা (মনোস্যাকারাইড), দ্বি-শর্করা (ডাইস্যাকারাইড) ও বহু শর্করা (পলিস্যাকারাইড)। 
১। এক শর্করা: 
- এক শর্করাগুলো হলো- গ্লুকোজ, ফ্রক্টোজ ও গ্যালাক্টোজ। 
ক) গ্লুকোজ- চিনি, মিষ্টি ফল ইত্যাদি। 
খ) ফ্রুক্টোজ- মধু আঙ্গুর, বেদানা, আপেল, পাকা আম, পাকা কলা ইত্যাদি। 
গ) গ্যালাক্টোজ- দুধের শর্করা ল্যাক্টোজ ভেঙ্গে গ্যালাক্টোজ ও গ্লুকোজ পাওয়া যায়। 

২। দ্বি-শর্করা: 
- দ্বি-শর্করাগুলো হলো- সুক্রোজ, মলটোজ ও ল্যাক্টেজ। 
ক) সুক্রোজ- আখের চিনি, গুড়, খেজুর রস। 
খ) মলটোজ- চালের শর্করা (দু'টি গ্লুকোজের অণু একত্রে)। 
গ) ল্যাক্টোজ- দুধের শর্করা। 

৩। বহু শর্করা: 
- বহু শর্করাগুলো হলো- শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন ও সেলুলোজ। 
ক) শ্বেতসার- চাল, গম, আলু, কচু। 
খ) সেলুলোজ- ফল ও শাক পাতার আঁশ, আঁশযুক্ত ফল, শস্যের খোসা। 
গ) গ্লাইকোজেন- প্রাণিদেহের যকৃত ও পেশিতে পাওয়া যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৬.
জৈবিক মুদ্রা (Biological Coin) হিসেবে পরিচিত যৌগটি কোনটি?
  1. ATP
  2. FTP
  3. NADH
  4. NADPH
সঠিক উত্তর:
ATP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ATP
ব্যাখ্যা
শ্বসন: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবদেহের কোষে অবস্থিত জটিল যৌগিক খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে সরল দ্রব্যে পরিণত হয় এবং শক্তি উৎপন্ন করে তাকে শ্বসন (respiration) বলে। 
- শ্বসনের সময় খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়। 
- শ্বসন প্রতিটি সজীব কোষে দিন ও রাতের সবসময় ঘটে। 
- কোষের সাইটোপ্লাজম বা সাইটোসল (cytosol) এবং কোষস্থ মাইটোকন্ড্রিয়া নামক অঙ্গানুতে সবাত শ্বসন হয়। 
- অবাত শ্বসন হয় সাইটোপ্লাজমে। 
- সবাত ও অবাত শ্বসনে খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে যে রাসায়নিক শক্তি উৎপাদন করে তা কোষের বিভিন্ন কার্য সম্পাদন করার জন্যে প্রধানত ATP হিসাবে তৈরি ও পরবর্তীতে ব্যবহৃত হয়। সেজন্য ATP কে জৈবনিক মুদ্রা বা biological coin বলা হয়। 
- সবাত শ্বসনের এক অণু গ্লুকোজ সম্পূর্ণ জারনের সর্বশেষ ধাপ কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াতে হয় এবং অন্যান্য উচ্চশক্তিসম্পন্ন রাসায়নিক পদার্থ ATP তে রূপান্তরিত হয় এবং সেজন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বা powerhouse of a cell বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৭.
মানবদেহের কোন অঙ্গাণুতে ঐচ্ছিক পেশি থাকে?
  1. জিহ্বায়
  2. চোখে
  3. গলবিলে
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ঐচ্ছিক বা কঙ্কাল বা অমসৃণ বা রৈখিক পেশি: 
- যেসব পেশি স্নায়ুবিক অথবা হরমোন উদ্দীপনায় উদ্দীপ্ত হয়ে কর্মতৎপর হয় অর্থাৎ যেসব পেশি স্বেচ্ছায় সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহ সঞ্চালনের মুখ্য ভূমিকা পালন করে তাদের ঐচ্ছিক পেশি বলে। 
- এসব পেশি কঙ্কালের সাথে আটকে থাকে বলে এদেরকে কঙ্কাল পেশি বলে। 
- এসকল পেশির কোষগুলো তন্তুর মতো, তাই এদেরকে পেশিতন্ত্র বলে। 
- প্রতিটি পেশিকোষ এন্ডোমাইসিয়াম নামক যোজক কলার আবরণে আবৃত। 
- কোষগুলো বিক্ষিপ্ত না থেকে গুচ্ছাকারে বান্ডল সৃষ্টি করে। 
- এ গুচ্ছাকার বান্ডলকে ফ্যাসিকুলাস বলে। এ বান্ডলগুলো পেরিমাইসিয়াম আবরণে আবৃত থাকে। 
- পেশিকোষগুলো নলাকার লম্বা। দৈর্ঘ্যে ১-৪০ মিলিমিটার, প্রস্থে ০.০১-০.১০ মিলিমিটার হয়। 

- কোষগুলো সারকোলেমা নামক আবরণে আবৃত থাকে। 
- এদের সাইটোপ্লাজমকে সারকোপ্লাজম বলে। 
- কোষের অভ্যন্তরে অসংখ্য ডিম্বাকার নিউক্লিয়াস থাকে। 
- প্রতিটি পেশিকোষের অভ্যন্তরে কতকগুলো অতিসূক্ষ্ম তন্তু বা মায়োফাইব্রিল পাওয়া যায়। 
- প্রধানতঃ অ্যাকটিন ও মায়োসিন নামক প্রোটিন দিয়ে মায়োফাইব্রিল গঠিত। 
- বিভিন্ন অস্থির সাথে, চোখে, জিহ্বায়, গলবিল ইত্যাদিতে ঐচ্ছিক পেশি থাকে। 
- ঐচ্ছিক পেশির সংকোচন প্রসারণে প্রাণীরা স্থানান্তরিত হয় এবং ইচ্ছানুসারে অঙ্গ সঞ্চালন করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৮.
রক্তের রং লাল হয় কিসের উপস্থিতির ফলে?
  1. ক) গ্লোবিউলিন
  2. খ) এরিথ্রোসাইট
  3. গ) হিমোগ্লোবিন
  4. ঘ) থ্রম্বোপ্লাস্টিন
সঠিক উত্তর:
গ) হিমোগ্লোবিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হিমোগ্লোবিন
ব্যাখ্যা

- হিমোগ্লোবিন আমিষ জাতীয় পদার্থ।
- রক্তের রং লাল হয় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য।
- হিমোগ্লোবিনের কাজ ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে কলায় পরিবহন করা এবং কলা থেকে কার্বণ-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে ফুসফুসে পরিবহন করা।

[তথ্যসূত্র - জীব বিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র - গাজী আজমল , একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি, পৃষ্ঠা - ৯৭।]

৫৫৯.
কৃত্রিম উপায়ে ফল পাকাতে ব্যবহার করা হয়-
  1. ক) ফ্লোরিজেন
  2. খ) অক্সিন
  3. গ) ভার্নালিন
  4. ঘ) ইথিলিন
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইথিলিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইথিলিন
ব্যাখ্যা

• কৃত্রিম উপায়ে ফল পাকাতে ব্যবহার করা হয় ইথিলিন।
• পসটুলেটেড হরমোনের উদাহরণ- ফ্লোরিজেন এবং ভার্নালিন।
• ফ্লোরিজেন উদ্ভিদের ফুল ফোটাতে সাহায্য করে।
• শৈত্য প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভিদের ফুল ধারণ ত্বরান্বিত করার প্রক্রিয়াকে ভার্নালাইজেশন বলে।
• অকালে ফলের ঝরা পড়া বন্ধ করে অক্সিন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান।

৫৬০.
বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে উদ্ভিদের কোন খাদ্য উপাদান বৃদ্ধি পায়?
  1. ফসফরাস
  2. নাইট্রোজেন
  3. পটাশিয়াম
  4. অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন উপাদানের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
- বজ্রবৃষ্টির ফলে মাটিতে নাইট্রোজেন নামক খাদ্য উপাদান বৃদ্ধি পায়।
মাটিতে নাইট্রোজেনের উৎস নাইট্রোজেন লবণ।
- বায়ুমণ্ডলে শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ নাইট্রোজেন থাকা সত্ত্বেও উদ্ভিদ সরাসরি বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে না।
- উদ্ভিদ মাটি থেকে আয়নিত অবস্থায় নাইট্রোজেন গ্রহণ করে থাকে।
- বিশ্বে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যে ইউরিয়া অন্যতম প্রধান এবং বহুল ব্যবহৃত সার।
- বজ্রপাত একটি শক্তিশালী সার প্রদানকারী এজেন্ট।
- প্রতিবার বজ্রপাত ঘটলে বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন হাইড্রোজেন বা অক্সিজেনের সাথে মিলিত হয়ে অ্যামোনিয়াম এবং নাইট্রেট তৈরি করে।
- নাইট্রোজেন তারপর বৃষ্টিতে মাটিতে ধুয়ে যায়।
- গাছপালা তখন মাটি থেকে 'নাইট্রোজেন' শোষণ করে এবং বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করে।
যেহেতু এটি ক্লোরোফিলের একটি মূল উপাদান বিধায় নাইট্রোজেন গাছের সবুজায়ন ঘটায়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৬১.
যে সকল উদ্ভিদের কখনো ফুল হয়না তাদের বলা হয়?
  1. ক) অপুষ্পক উদ্ভিদ
  2. খ) সপুষ্পক উদ্ভিদ
  3. গ) মিথোজীবী উদ্ভিদ
  4. ঘ) স্বভোজী উদ্ভিদ
সঠিক উত্তর:
ক) অপুষ্পক উদ্ভিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অপুষ্পক উদ্ভিদ
ব্যাখ্যা
- যে সকল উদ্ভিদে কখনো ফুল ও ফল হয় না তাদেরকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলা হয়।
- যেমন- ক্লোরেলা, নস্টক, মস, ফার্ন ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৬২.
শ্বসনের ফলে কী উৎপন্ন হয়?
  1. ক) কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. খ) শক্তি
  3. গ) জলীয় বাষ্প
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

যে বিশেষ জৈবনিক প্রক্রিয়ায় জারণের ফলে সজীব কোষস্থ খাদ্য স্থিতিশক্তি তাপ ও গতিশক্তিতে রূপান্তরিত ও মুক্ত হয় এবং কার্বন ডাই অক্সাইড ও জলীয় বাষ্প নির্গত হয় তাকে শ্বসন বলে। তাই মানবদেহে শক্তি উৎপাদনের প্রধান উৎস হলো শ্বসন।
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৬৩.
DNA কাটা হয় কী দ্বারা?
  1. ইলেকট্রন
  2. সূক্ষ ইলেকট্রিক ছুরি
  3. লাইগেজ এনজাইম
  4. রেস্ট্রিকশন এনজাইম
সঠিক উত্তর:
রেস্ট্রিকশন এনজাইম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেস্ট্রিকশন এনজাইম
ব্যাখ্যা

• রেস্ট্রিকশন এনজাইম (Restriction Enzyme):
- রেস্ট্রিকশন এনজাইম (Restriction Endonuclease) হল এক ধরনের এনজাইম, যা নির্দিষ্ট নিউক্লিওটাইড সিকোয়েন্স (Recognition Site) চিনে DNA কেটে ছোট টুকরোয় বিভক্ত করে।
- Escherichia coli একটি জনপ্রিয় রেস্ট্রিকশন এনজাইম।
- রেস্ট্রিকশন এনজাইমকে (Restriction Enzyme) আণবিক কাঁচি (Molecular Scissors) বলা হয়।

• ব্যবহার:
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ DNA কাটার জন্য।
- DNA ক্লোনিং ও রিকম্বিনেন্ট DNA (rDNA) প্রযুক্তিতে।
- PCR ও জেল ইলেকট্রোফোরেসিস পরীক্ষায়।
- DNA টেস্টিং পরিক্ষায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।

৫৬৪.
সাধারণত মুকুল জন্মে -
  1. পত্রকক্ষে
  2. কান্ডে
  3. পর্বে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পত্রকক্ষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পত্রকক্ষে
ব্যাখ্যা
কাণ্ড: 
- উদ্ভিদের যে অংশ থেকে শাখা-প্রশাখা পাতা উৎপন্ন হয়, তাই কাণ্ড। 
- এতে পর্ব, পর্বমধ্য ও মুকুল থাকে। 

পর্ব: 
- কাণ্ডের যে স্থান থেকে পাতা বের হয় তাকে পর্ব বা সন্ধি বলে। 

পর্বমধ্য: 
- পাশাপাশি দুটি পর্বের মধ্যবর্তী অংশটি পর্বমধ্য। 
- পর্বমধ্য গাছকে খাড়া রাখতে ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। 
- পর্বমধ্য থেকে কোনো ধরনের মূল, পাতা বা শাখা সৃষ্টি হয় না। 

মুকুল: 
- কাণ্ডের সাথে পাতা যে কোণ সৃষ্টি করে তাকে পত্রকক্ষ বলে। 
- সাধারণত মুকুল এ পত্রকক্ষে জন্মে। 
- তবে শাখার অগ্রভাগেও মুকুল সৃষ্টি হয়। 
- কাক্ষিক মুকুল পত্রকক্ষে এবং শীর্ষ মুকুল কাণ্ড বা শাখার অগ্রভাগে জন্মে। 

কাণ্ডের কাজ: 
১। কাণ্ড পাতা, ফুল ও ফল এবং শাখা-প্রশাখার ভারবহন করে। 
২। কাণ্ড শাখা-প্রশাখা ও পাতাকে আলোর দিকে তুলে ধরে যাতে সূর্যের আলো যথাযথভাবে পায়। 
৩। কাণ্ড শোষিত পানি ও খনিজ লবণ শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুলে এবং ফলে পরিবহন করে। 
৪ । পাতায় প্রস্তুত খাদ্য কাণ্ডের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। 
৫। কচি অবস্থায় সবুজ কাণ্ড সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে কিছু পরিমাণ খাদ্য প্রস্তুত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৫৬৫.
ত্বকের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়-
  1. সাপ
  2. কেঁচো
  3. মাছ
  4. পাখি
সঠিক উত্তর:
কেঁচো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেঁচো
ব্যাখ্যা

- কেঁচো ত্বকের সাহায্যে শ্বাসকার্য সম্পন্ন করে।
- এরা মাটির নিচে বাস করে।
- কেঁচো মাটির উর্বরা শক্তির জন্য বিশাল আশীর্বাদ।
- এরা ফসলের জমি ওলট-পালট করে উপরের মাটি নিচে ও নিচের মাটি উপরে তুলে আনে।
- তাই কেঁচোকে প্রকৃতির লাঙ্গল বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৬৬.
হিমোগ্লোবিন কোন জাতীয় পদার্থ? 
  1. স্নেহ
  2. আমিষ
  3. লৌহ
  4. আয়োডিন
সঠিক উত্তর:
আমিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমিষ
ব্যাখ্যা
- হিমোগ্লোবিন আমিষ জাতীয় পদার্থ। 
- হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য রক্তের রং লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিনের কাজ ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে কলায় পরিবহন করা এবং কলা থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে ফুসফুসে পরিবহন করা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান-দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
৫৬৭.
What is the average lifespan of a red blood cell?
  1. 15 days
  2. 60 days
  3. 90 days
  4. 120 days
  5. 140 days
সঠিক উত্তর:
120 days
উত্তর
সঠিক উত্তর:
120 days
ব্যাখ্যা
রক্তকণিকা:
- মানুষের রক্তে ৩ ধরনের রক্তকণিকা রয়েছে। যথা- 
১. লোহিত রক্তকণিকা।
২. শ্বেত রক্তকণিকা।
৩. অনুচক্রিকা।

লোহিত রক্তকণিকা:
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে যার জন্য রক্ত লাল হয়।
- লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস নেই।
- এ কণিকা দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।
- লোহিত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন।

• শ্বেত রক্তকণিকা:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকারনেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১ থেকে ১৫ দিন।
- শ্বেত রক্তকণিকাকে দেহের প্রহরী বলা হয়।

• অণুচক্রিকা:
- অণুচক্রিকা হলো গোলাকার, ডিম্বাকার বা রড আকারের।
- এতে নিউক্লিয়াস থাকে না।
- অণুচক্রিকা দেহের রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
- অনুচক্রিকার গড় আয়ু ৫ থেকে ১০ দিন।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৬৮.
সরল টিস্যু কয় প্রকার?
  1. ক) ২ প্রকার
  2. খ) ৩ প্রকার
  3. গ) ৪ প্রকার
  4. ঘ) ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩ প্রকার
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদ টিস্যু প্রধানত দুই প্রকার।
যথা:
- ভাজক টিস্যু ও
- স্থায়ী টিস্যু।

স্থায়ী টিস্যু তিন প্রকার।
যথা:
১. সরল টিস্যু,
২. জটিল টিস্যু ও
৩. ক্ষরণকারী টিস্যু।

সরল টিস্যু আবার তিন প্রকার।
যথা:
- প্যারেনকাইমা,
- কোলেনকাইমা ও
- স্ক্লেরেনকাইমা।

জটিল টিস্যু দুই প্রকার।
যথা:
- জাইলেম ও
- ফ্লোয়েম।

ক্ষরণকারী টিস্যু ২ প্রকার।
যথা:
- তরুক্ষীর টিস্যু ও
- গ্রন্থির টিস্যু।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৫৬৯.
এইডস (AIDS) রোগ প্রথম কোথায় চিহ্নিত হয়? 
  1. আমেরিকায়
  2. আফ্রিকায়
  3. বেলজিয়ামে
  4. লন্ডনে
সঠিক উত্তর:
আমেরিকায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমেরিকায়
ব্যাখ্যা
এইডস রোগ: 
- সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী রোগ হচ্ছে ‘এইডস’ (AIDS)। 
- এটি একটি সংক্রামক রোগ। 
- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় AIDS চিহ্নিত হয় এবং তখন থেকে সারা বিশ্বে AIDS মরণব্যাধি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। 
- আফ্রিকার দেশগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। 
- প্রাকৃতিক নিয়মে সব মানুষের দেহেই রোগ-জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে, একে ইমিউনিটি বলা হয়। 
- রক্তের লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি প্রস্তুতের মাধ্যমে জীবাণুর আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে যা AIDS আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ধীরে ধীরে এই ক্ষমতা কমতে থাকে। 

- এই কারণে এ রোগটির নাম দেওয়া হয়েছে- ‘অ্যাকুয়ার্ড ইম্যুন ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রম’ যা সংক্ষেপে AIDS ( Acquired Immune Deficiency Syndrome)। 
- এটি এক ধরনের ভাইরাস, যার নাম Human Immuno Deficiency Virus (HIV), এটি AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে। 
- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। 
- দেহের রক্তস্রোতে প্রবেশ করার পর HIV রক্তের শ্বেত কণিকার T- লিম্ফোসাইটকে আক্রমণ করে, যার ফলে দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। 
- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। 
- এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। 
- প্রধাণত যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমেই আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে HIV সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়, মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে সদ্যোজাত শিশুর দেহে এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে, এছাড়াও রক্ত সঞ্চালন কিংবা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জের মাধ্যমে এ রোগ সঞ্চারিত হতে পারে। 
- AIDS প্রতিরোধ করার সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ বিষয় হলো, HIV সংক্রমণ কীভাবে ঘটে সে সম্পর্কে সবাইকে শিক্ষা দেওয়া। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৭০.
জীবাণু বিজ্ঞান কোন বিদ্যার অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) রসায়ন বিজ্ঞান
  2. খ) পদার্থ বিজ্ঞান
  3. গ) উদ্ভিদবিজ্ঞান
  4. ঘ) জড় বিজ্ঞান
সঠিক উত্তর:
গ) উদ্ভিদবিজ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উদ্ভিদবিজ্ঞান
ব্যাখ্যা
জীবাণু বিজ্ঞান হচ্ছে উদ্ভিদবিজ্ঞান  এর অন্তর্ভুক্ত। 



সূত্র: ৬ পৃষ্ঠা, সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭১.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ কোনটি তৈরি করে? 
  1. কার্বোহাইড্রেট
  2. ভিটামিন
  3. লিপিড
  4. অ্যামাইনো অ্যাসিড
সঠিক উত্তর:
কার্বোহাইড্রেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বোহাইড্রেট
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণ: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে, তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ। 
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। 
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে। 
- সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল থাকতে হবে। 
- পানি, আলো, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফিল হলো তার প্রধান উপকরণ। 
- সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ কার্বোহাইড্রেট, পানি ও অক্সিজেন তৈরি করে। 
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান। 
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাইঅক্সাইড বিজারিত হয়। তাই একে একটি জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয়। 
- জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি। 
- লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭২.
কোন শর্করাটি প্রাণিজ উৎস থেকে পাওয়া যায়?
  1. গ্লাইকোজেন
  2. শ্বেতসার
  3. সুক্রোজ
  4. সেলুলোজ
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোজেন
ব্যাখ্যা
শর্করা: 
- শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য। 
- কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে শর্করা তৈরি হয়। 
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত। 
- শর্করা আমাদের শরীরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে। 
- কয়েক ধরনের শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এবং এদের উৎসও ভিন্ন। 
যেমন- 

উদ্ভিজ্জ উৎস: 

১। শ্বেতসার বা স্টার্চ: 
- ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। 
- এছাড়া আলু, রাঙা আলু এবং কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়। 

২। সেলুলোজ: 
- বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে। 

৩। সুক্রোজ: 
- আখের রস, চিনি, গুড় এবং মিছরি এর উৎস। 

৪। ফ্রোক্টোজ: 
- আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রোক্টোজ থাকে। 
- একে ফল শর্করাও বলা হয়ে থাকে। 

৫। গ্লুকোজ: 
- এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। 
- এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর, খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। 

প্রাণিজ উৎস: 

১। ল্যাকটোজ বা দুধ শর্করা: 
- গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে এই শর্করা থাকে। 

২। গ্লাইকোজেন: 
- পশু ও পাখি জাতীয় (যেমন: মুরগি, কবুতর প্রভৃতি ইত্যাদি) প্রাণীর যকৃৎ এবং মাংসে (পেশি) গ্লাইকোজেন শর্করাটি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৭৩.
হিমোগ্লোবিন কী করে? 
  1. রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে 
  2. শরীরকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে 
  3. খাদ্য হজমে সাহায্য করে 
  4. অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন পরিবহন করে
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন পরিবহন করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন পরিবহন করে
ব্যাখ্যা

রক্ত: 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৭৪.
১৯৬৯ সালে প্রথম টেস্ট টিউব বেবি জন্মদান সাফল্যের বিজ্ঞানী ছিলেন-
  1. ক) ড. পেট্রিক স্টেপটো
  2. খ) ড. রবার্ট এডয়ার্ড
  3. গ) ড. পেট্রুসি
  4. ঘ) উপরের সবাই
  5. ঙ) উপরের কেউই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ড. পেট্রুসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ড. পেট্রুসি
ব্যাখ্যা
ইতালির ড. পেট্রুসি ১৯৫৯ সালে প্রথম টেস্টটিউব বেবি জন্মদান সাফল্যের বিজ্ঞানী ছিলেন।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
৫৭৫.
সর্বপ্রথম কোন বিজ্ঞানী অণুবীক্ষণ যন্ত্রে কোষ প্রত্যক্ষ করেন?
  1. লিউয়েন হুক
  2. রবার্ট হুক
  3. লুই পাস্তুর
  4. এহরেনবার্গ
সঠিক উত্তর:
রবার্ট হুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবার্ট হুক
ব্যাখ্যা
কোষ: 
- জীবদেহের গঠন ও কাজের একক কোষ। 
- পৃথিবীতে অনেক জীব আছে যারা একটি মাত্র কোষ দিয়ে গঠিত। 
যেমন: ব্যাকটেরিয়া, প্রোটোজোয়া ইত্যাদি। 
- আবার অনেক জীব বহুসংখ্যক কোষ দিয়ে গঠিত। 
যেমন: মানুষ, গাছ, পাখি দেহ অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত। 
- কোষ একটির সাথে আরেকটি যুক্ত হয়ে জীবদেহ গঠন করে। 
- জীবজগতের অধিকাংশ উদ্ভিদ ও প্রাণীদেহ বিভিন্ন ধরনের অসংখ্য কোষ দিয়ে গঠিত। 
- জীবের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় শারীরবৃত্তীয় বিভিন্ন কাজে কোষগুলো যুক্ত থাকে। 
- কাজের উপর ভিত্তি করে বহুকোষী জীবে কোষের আকৃতি নানা রকমের হয়ে থাকে। 
- বহুকোষী একটি জীবের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য সব ধরনের কোষেরই সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন এবং সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়। 
- কোষ আণুবীক্ষণীক বস্তু অর্থাৎ, অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া কোষ দেখা যায় না। 
- ইংরেজ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক সর্বপ্রথম অণুবীক্ষণ যন্ত্রে কোষ প্রত্যক্ষ করেন। ১৬৬৫ সালে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে বোতলের ছিপি পরীক্ষা করার সময় তিনি মৌচাকের ন্যায় অসংখ্য কুঠরি পরপর সাজানো দেখতে পান। তিনি বোতলের ছিপির গঠনকারী এই এককগুলোর নাম দেন কোষ। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৫৭৬.
কলার চারা লাগানোর সময় পাতা কেটে ফেলা হয়-
  1. ক) সালোকসংশ্লেষণের হার বৃদ্ধির জন্য
  2. খ) অভিস্রবণ ত্বরান্বিত করার জন্য
  3. গ) শ্বসন বন্ধ করার জন্য
  4. ঘ) অতিরিক্ত প্রস্বেদন রোধ করার জন্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) অতিরিক্ত প্রস্বেদন রোধ করার জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অতিরিক্ত প্রস্বেদন রোধ করার জন্য
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন প্রক্রিয়া উদ্ভিদের অনেক উপকার করলেও কিছু অপকারও করে। প্রস্বেদনের ফলে জাইলেম বাহিকায় টান পড়ে। এই টানের ফলে উদ্ভিদের মূলরোম কর্তৃক শোষিত পানি ও খনিজ লবণ পাতায় পরিবাহিত হয়। শোষণের চেয়ে প্রস্বেদনে পানি হারানোর হার বেশি হলে উদ্ভিদের জন্য পানি ও খনিজ লবণের ঘাটতি দেখা দেবে। এর ফলে উদ্ভিদটির মৃত্যু হতে পারে। এ জন্য একে একটি অতি প্রয়োজনীয় অমঙ্গল(Necessary evil) বলা হয়। তাই কলার চারা লাগানোর সময় পাতা কেটে ফেলা হয়। সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৫৭৭.
নিচের কোনটি মানবদেহের লোহিত রক্তকণিকার কাজ?
  1. অধিক পরিমাণ CO2 বহন করে
  2. অক্সিজেন পরিবহন
  3. রক্ত জমাট বাঁধা
  4. হরমোন নিঃসরণ
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন পরিবহন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন পরিবহন
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্তকণিকা:
- মানবদেহের রক্তরসে ভাসমান গোল, দ্বি-অবতল চাকতির মতো, নিউক্লিয়াসবিহীন কিন্তু অক্সিজেনবাহী হিমোগ্লোবিনযুক্ত, লাল বর্ণের কণিকাকে লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Corpuscles, RBC) বলে। 

• লোহিত কণিকার কাজ:
(i) লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে দেহকোষে অধিকাংশ O2 এবং সামান্য পরিমাণ CO2 পরিবহন করে।
(ii) রক্তের ঘনত্ব ও সান্দ্রতা (viscocity) রক্ষা করে।
(iii) এগুলোর হিমোগ্লোবিন ও অন্যান্য অন্তঃকোষীয় বস্তু বাফাররূপে রক্তে অম্ল-ক্ষারের সাম্য রক্ষা করে।
(iv) প্লাজমাঝিল্লিতে অ্যান্টিজেন প্রোটিন সংযুক্ত থাকে যা মানুষের ব্লাড গ্রুপ নির্ণয়ে সহায়তা করে।
(v) এসব কণিকা রক্তে বিলিরুবিন ও বিলিভার্ডিন উৎপন্ন করে।
(vi) লোহিত রক্তকণিকা এনজাইমরূপী নাইট্রিক অক্সাইড উৎপাদন করতে পারে যা এন্ডোথেলিয়াল কোষের L-arginine-এর মতো ব্যবহৃত হয়।
(vii) এগুলো হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস উৎপাদন করে যা রক্তনালির সঙ্কোচনের জন্য সংকেত প্রদান করে।
(viii) এগুলো অনেকসময় দেহের অনাক্রম্যতায় সাড়াপ্রদান (immune response) করে। ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হলে লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিন থেকে এক ধরনের মুক্ত আয়ন সৃষ্টি হয় যা জীবাণুর কোষপ্রাচীর ভেঙ্গে দিয়ে একে ধ্বংস করে।
(ix) এগুলো পটাসিয়াম বাইকার্বোনেট হিসেবে কোষ-টিস্যু থেকে ফুসফুসে সামান্য পরিমাণে CO₂ পরিবহন করে।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
৫৭৮.
ইনসুলিন কোথায় থেকে নিঃসৃত হয়?
  1. থাইরয়েড
  2. অগ্ন্যাশয়
  3. হৃৎপিণ্ড
  4. যকৃত
সঠিক উত্তর:
অগ্ন্যাশয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্ন্যাশয়
ব্যাখ্যা
ইনসুলিন: 
- ইনসুলিন একটি হরমোন। 
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে।
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।
- কোন কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫৭৯.
দেহের প্রতিরক্ষণ ও আত্মরক্ষায় সাহায্য করে-
  1. ক) অনুচক্রিকা
  2. খ) লোহিত কণিকা
  3. গ) শ্বেতকণিকা
  4. ঘ) রক্তরস
সঠিক উত্তর:
গ) শ্বেতকণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শ্বেতকণিকা
ব্যাখ্যা
দেহের প্রতিরক্ষন ও আত্মরক্ষায় সাহায্য করে শ্বেতকণিকা।
- এরা দেহের আকার পরিবর্তনের মাধ্যমে ফ্যাগোসাইটসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে।
- অন্যদিকে অনুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে এবং লোহিত রক্ত কণিকা অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে।
৫৮০.
কোন খাদ্য উপাদান থেকে শরীরে বেশি শক্তি উৎপাদন হয়?
  1. আমিষ
  2. শর্করা
  3. ভিটামিন
  4. খনিজ লবণ
সঠিক উত্তর:
শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্করা
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা: 
১। আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে। 
২। শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। 
৩। স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। 

- এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন: 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
৫। খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
৬। পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 
-------------- 
• শর্করা: 

- শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য। 
- কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে শর্করা তৈরি হয়। 
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত। 
- শর্করা আমাদের শরীরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে। 
- কয়েক ধরনের শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এবং এদের উৎসও ভিন্ন।

যেমন:
উদ্ভিজ্জ উৎস: 
১। শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু এবং কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়। 
২। সেলুলোজ: বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে। 
৩। সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড় এবং মিছরি এর উৎস। 
৪। ফ্রোক্টোজ: আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রোক্টোজ থাকে। একে ফল শর্করাও বলা হয়ে থাকে। 
৫। গ্লুকোজ: এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর,খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। 

প্রাণিজ উৎস: 
১। ল্যাকটোজ বা দুধ শর্করা: গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে এই শর্করা থাকে। 
২। গ্লাইকোজেন: পশু ও পাখিজাতীয় (যেমন: মুরগি, কবুতর প্রভৃতি ইত্যাদি) প্রাণীর যকৃৎ এবং মাংসে (পেশি) গ্লাইকোজেন শর্করাটি থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৮১.
কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) কোষপ্রাচীর উদ্ভিদ কোষের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য
  2. খ) প্রাণিকোষে কোষপ্রাচীর থাকে
  3. গ) ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর প্রােটিন, লিপিড ও পলিস্যাকারাইড দিয়ে তৈরি
  4. ঘ) ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি
সঠিক উত্তর:
খ) প্রাণিকোষে কোষপ্রাচীর থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রাণিকোষে কোষপ্রাচীর থাকে
ব্যাখ্যা

কোষপ্রাচীর (cell wall)
কোষপ্রাচীর উদ্ভিদ কোষের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
প্রাণিকোষে কোষপ্রাচীর থাকে না।
ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর প্রােটিন, লিপিড ও পলিস্যাকারাইড দিয়ে এবং ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি।

৫৮২.
ধানের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
  1. Mangifera indica
  2. Ficus benghalensis
  3. Oryza sativa
  4. Nymphaea nouchali
সঠিক উত্তর:
Oryza sativa
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Oryza sativa
ব্যাখ্যা

• দ্বিপদ নামকরণ:
-দু'টি পদ নিয়ে গঠিত কোন জীব-প্রজাতির নামকে বলা হয় দ্বিপদ নাম এবং দু'টি পদের সমন্বয়ে নাম দেয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় দ্বিপদ নামকরণ।
- দ্বিপদ নামকরণের প্রবর্তক হলেন সুইডিশ জীববিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস।
- উদ্ভিদ প্রজাতির (শৈবাল ও ছত্রাক সহ) নামকরণ করা হয়ে থাকে ICBN (International Code of Botanical Nomenclature বর্তমানে ICN = International Code of Botanical Nomenclature for Algae, Fungi & Plants) -এর নীতিমালা অনুযায়ী এবং প্রাণী প্রজাতির নামকরণ করা হয় ICZN (International Code of Zoological Nomenclature)-এর নীতিমালা অনুযায়ী।

• বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম:
- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens
- দোয়েল পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Copsychus saularis
- বাঘ (রয়েল বেঙ্গল) এর বৈজ্ঞানিক নাম Panthera tigris
- আম গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica
- বট গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Ficus benghalensis
- কুনোব্যাঙ এর বৈজ্ঞানিক নাম Bufo melanostictus
- ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha
- ধানের বৈজ্ঞানিক নাম Oryza sativa
- শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম Nymphaea nouchali

উৎস: ১) জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, 
২) জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

৫৮৩.
শর্করা পাওয়া যায় না-
  1. দুধে
  2. ফলের রসে
  3. আলুতে
  4. উপরের সবকটিতেই পাওয়া যায়
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটিতেই পাওয়া যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটিতেই পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা
• শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate):
- শর্করাজাতীয় খাদ্য শরীরে কাজ করার শক্তি যোগায়।
- শর্করার মৌলিক উপাদান কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন।
- উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড, পাতা, ফুল, ফল ও বীজে শর্করা বিভিন্নরূপে জমা থাকে।
- ফলের রসের গ্লুকোজ, দুধের ল্যাকটোজ, গম, আলু, চাল ইত্যাদি শর্করাজাতীয় খাদ্যের বিভিন্ন রূপ।
- প্রধানত চাল, গম, আলু থেকে আমরা শ্বেতসার পাই।
- কাঁচা খাদ্যের শ্বেতসার সহজে হজম হয় না।
- এজন্য আমরা চাল, আটা, আলু ইত্যাদি রান্না করে খাই।
- খাওয়ার পর শর্করা পরিপাক হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়।
- দ্বি-শর্করা এবং বহু শর্করা পরিপাকের মাধ্যমে সরল শর্করায় পরিণত হয়ে দেহে শোষণযোগ্য হয়।
-মানব পরিপুষ্টির জন্য সরল শর্করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মানবদেহ শুধু সরল শর্করা শোষণ করতে পারে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৮৪.
দ্বিপদ নামকরণে দ্বিতীয় নামটি নির্দেশ করে-
  1. প্রজাতি
  2. বর্গ
  3. রাজ্য
  4. শ্রেণি
সঠিক উত্তর:
প্রজাতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রজাতি
ব্যাখ্যা
• দ্বিপদ নামকরণে দ্বিতীয় নামটি 'প্রজাতি' নির্দেশ করে। 
 
দ্বিপদ নামকরণ: 
- উদ্ভিদের নাম International Code of Botanical Nomenclature (ICBN) কর্তৃক এবং প্রাণীর নাম International code of Zoological Nomenclature (ICZN) কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মানুসারে হতে হয়।  
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণীদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। 
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিদে জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা।
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়। 
- প্রথম অংশটি তার গণের নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি তার প্রজাতির নাম। 
- প্রজাতি হলো শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচের ধাপ বা একক। 
যেমন: মানুষ, কুনোব্যাঙ, কবুতর ইত্যাদি এক একটি প্রজাতি। 

- প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়। 
- ক্যারোলাস লিনিয়াস সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়। 
- এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম - Homo Sapiens । 
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. গাজী আজমল) এবং বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৫৮৫.
নাইট্রোজেনের প্রধান উৎস কি?
  1. ক) বায়ু
  2. খ) গাছপালা
  3. গ) মাটি
  4. ঘ) পানি
সঠিক উত্তর:
ক) বায়ু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বায়ু
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডল নানাপ্রকার গ্যাস ও বাষ্পের সমন্বয়ে গঠিত হলেও এর প্রধান উপাদান দুইটি।
যথা- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন।
বায়ুমন্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি ৭৮.০১% ও অক্সিজেনের পরিমাণ ২০.৭১%।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৮৬.
কোনটি পৃথিবীর বিশাল আকৃতির শোধনাগার?
  1. বায়ু
  2. মাটি
  3. পানি
  4. গাছপালা
সঠিক উত্তর:
মাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাটি
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর বিশাল প্রাকৃতিক শোধনাগার হচ্ছে মাটি।
- সাধারণত আদর্শ মাটিতে ৫% জৈব পদার্থ থাকে।
- মাটির গঠন, বর্ণ, পানি ধারণক্ষমতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে মাটিকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
(ক) বালু মাটি,
(খ) পলি মাটি,
(গ) কাদামাটি এবং
(ঘ) দো-আঁশ মাটি।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৫৮৭.
প্যানক্রিয়াস কোন হরমোন নির্গত করে যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমায়? 
  1. থাইরক্সিন 
  2. গ্লুকাগন 
  3. ইনসুলিন 
  4. অ্যাড্রিনালিন 
সঠিক উত্তর:
ইনসুলিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনসুলিন 
ব্যাখ্যা

ডায়াবেটিস রোগ: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না যার কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৮৮.
একটি সম্পূর্ণ ফুলের কয়টি অংশ থাকে?
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৪ টি
  4. ৫ টি
সঠিক উত্তর:
৫ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫ টি
ব্যাখ্যা
• ফুল:
- উদ্ভিদের বংশ রক্ষা ও বংশবিস্তারে সাহায্যকারী ফল ও বীজ উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপকে পুষ্প বা ফুল বলা হয়।
- একটি সম্পূর্ণ ফুলে পাঁচটি অংশ উপস্থিত থাকে। যথা-
১. পুষ্পাক্ষ:
- ফুলের স্তবকগুলো যে অক্ষের উপর সাজানো থাকে তাকে পুষ্পাক্ষ বলে।

২. বৃতি:
- একটি ফুলের বাইরের স্তবককে বলা হয় বৃতি।
- এর প্রতিটি খন্ডকে বৃত্যংশ বলা এটি মুকুল অবস্থায় ফুলের অন্য হয়।
- বৃতি মুকুল অবস্থায় ফুলের অন্য স্তবকগুলোকে রোদ, বৃষ্টি, কীটপতঙ্গের আক্রমণ এবং বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা থেকে রক্ষা করে। - সবুজ বৃতি সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে খাদ্য প্রস্তুত করে।
- বৃতি যখন রঙ বেরঙের হয় তখন তারা পরাগায়নের মাধ্যম হিসেবে কীটপতঙ্গ, পশু-পাখি ইত্যাদিকে আকর্ষণ করে ।

৩. দলমন্ডল:
- বৃতির উপরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন দ্বিতীয় সহকারী স্তবকটি দলমন্ডল। এর প্রতিটি খন্ডকে দলাংশ বা পাপড়ি বলা হয়।

৪. পুংস্তবক:
- দলমন্ডলের ভেতরে পুষ্পাক্ষ সংলগ্ন পরাগরেণু উৎপাদনকারী স্তবককে পুংস্তবক বলা হয়। 

৫. স্ত্রীস্তবক:
- পুষ্পের কেন্দ্রে অবস্থিত ফ্লাক্স আকৃতির ডিম্বক উৎপাদনকারী স্তবককে স্ত্রীস্তবক বলা হয়। 
- এর প্রতিটি অংশকে গর্ভপত্র বলা হয়। একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ । যথা- গর্ভাশয়, গর্ভদন্ড ও গর্ভমুন্ড। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮৯.
ইউরিয়া সারে সবচেয়ে বেশি কোন উপাদান থাকে? 
  1. কার্বন 
  2. ফসফরাস 
  3. নাইট্রোজেন 
  4. পটাসিয়াম 
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন 
ব্যাখ্যা

ইউরিয়া সার: 
- বাংলাদেশে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যেও ইউরিয়া প্রধান। 
​- নাইট্রোজেন জাতীয় সারের মধ্যে ইউরিয়াতেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে নাইট্রোজেন থাকে। 
- গৃহপালিত পশুর মূত্রে ইউরিয়া থাকে এবং মাটি এ উৎস থেকেও ইউরিয়া পায়। 
- ইউরিয়া সার থেকে উদ্ভিদ প্রধানত নাইট্রোজেন লাভ করে। 
- এ সার জমিতে প্রয়োগ করলে মাটিতে রাসায়নিক বিক্রিয়া ছাড়া অনেক ফসলই সরাসরি ইউরিয়া হিসেবে এটি পরিশোষণ করতে পারে। 
- তাছাড়া গাছে নাইট্রোজেনের অভাজনিত লক্ষণ পরিলক্ষিত হলে ইউরিয়ার দ্রবণ তৈরি করে সিঞ্চন যন্ত্রের সাহায্যে সরাসরি উদ্ভিদের পাতায় প্রয়োগ করলে উদ্ভিদ পত্র - রন্ধ্রের মাধ্যমে ইউরিয়া পরিশোষণ করতে পারে। 
- ফলে রোগাক্রান্ত ও বিনষ্ট শিকড়যুক্ত উদ্ভিদ সতেজ হয়ে যায়। 

উৎস: উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯০.
মানবদেহের দুইটি বৃক্কে সর্বমোট কতগুলো নেফ্রন থাকে?
  1. ৫-৬ লক্ষ
  2. ১০-১২ লক্ষ
  3. ১৫-১৬ লক্ষ
  4. ২০-২৪ লক্ষ
সঠিক উত্তর:
২০-২৪ লক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০-২৪ লক্ষ
ব্যাখ্যা
• মানবদেহের দুইটি বৃক্কে সর্বমোট ২০-২৪ লক্ষ নেফ্রন থাকে। 

• বৃক্ক:
- বৃক্ক হলো মেরুদণ্ডী প্রাণীদের রেচন অঙ্গ, যা দেহের রেচন পদার্থ (যেমন ইউরিয়া) ছেঁকে মূত্র তৈরি করে এবং রক্ত পরিশোধন করে।

• বৃক্কের বাহ্যিক গঠন:
- প্রত্যেক বৃদ্ধ নিরেট, চাপা দেখতে অনেকটা শিম বীজের মতো এবং লালচে রংয়ের।
- একটি পরিণত বৃক্কের দৈর্ঘ্য ১০-১২ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ৫-৬ সেন্টিমিটার এবং স্থূলত্ব ৩ সেন্টিমিটার।
- একেকটির ওজন পুরুষে ১৫০-১৭০ গ্রাম এবং নারীদেহে ১৩০-১৫০ গ্রাম।
- বৃক্কের বাইরের দিক উত্তল ও ভিতরের দিক অবতল। অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাম (hilum) বলে।

• নেফ্রন:
- বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকরী একককে নেফ্রন বলা হয়। 
- মানুষের প্রত্যেক বৃক্কে ১০-১২ লক্ষ নেফ্রন রয়েছে। 
- মানবদেহে দুইটি বৃক্কতে মোট ২০-২৪ লক্ষ নেফ্রন থাকে। 
- প্রতিটি নেফ্রন প্রায় ৩ সে.মি. লম্বা।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৫৯১.
স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকরী একককে কী বলা হয়?
  1. নিউরন 
  2. নেফ্রন 
  3. অ্যাক্সন 
  4. সেলুলার কোষ 
সঠিক উত্তর:
নিউরন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউরন 
ব্যাখ্যা

স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক।
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একককে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৯২.
এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে কোন ভিটামিন?
  1. ভিটামিন এ
  2. ভিটামিন বি
  3. ভিটামিন সি
  4. ভিটামিন ডি
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন সি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন সি
ব্যাখ্যা

- এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে- ভিটামিন সি। 

ভিটামিন সি :

- ভিটামিন সি, যা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড নামে পরিচিত, একটি পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন।
- এটি শ্বেত রক্তকণিকার উৎপাদন ও কার্যকারিতা বাড়িয়ে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহায্য করে।
- কোলাজেন নামক প্রোটিন উৎপাদনে এটি অপরিহার্য, যা ত্বক, হাড়, পেশি এবং রক্তনালীকে শক্তিশালী করে।
- ভিটামিন সি এর প্রধান উৎসগুলো হলো লেবু, কমলা, পেপে, স্ট্রবোর, টমেটো এবং বিভিন্ন ধরনের সবুজ শাকসবজি।

এন্টিঅক্সিডেন্ট:
- এন্টিঅক্সিডেন্ট হলো এমন একটি পদার্থ যা ফ্রি রেডিক্যাল নামক অস্থির অণুর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরের কোষগুলোকে রক্ষা করে।
- ফ্রি রেডিক্যাল হলো অস্থির অণু, যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে এবং কোষের ক্ষতি করতে পারে। এই ধরনের ক্ষতি বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের কারণ হতে পারে, যেমন হৃদরোগ, ক্যান্সার এবং আর্থ্রাইটিস।
- ভিটামিন সি এই ফ্রি রেডিক্যালগুলোকে নিষ্ক্রিয় করতে সহায়তা করে, ফলে কোষের ক্ষতি রোধ হয়।

উৎস:
১। গার্হস্থ্য বিজ্ঞান-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা।

৫৯৩.
ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান নয় কোনটি? 
  1. ফসফরাস
  2. কপার
  3. কার্বন
  4. সালফার
সঠিক উত্তর:
কপার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপার
ব্যাখ্যা

মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট: উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান অত্যন্ত কম পরিমাণে দরকার তাকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বলে। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট হল ৭টি।
i)জিংক
ii)ম্যাংগানিস
iii)মলিবডেনাম
iv)বোরন
v)কপার
vi)ক্লোরিন
vii)লৌহ

ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট: উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান জরুরী বা বেশি পরিমাণে দরকার তাকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বলে। ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট হল ৯ টি।
i) নাইট্রোজেন
ii)ফসফরাস
iii)পটাশিয়াম
iv)ক্যালসিয়াম
v)ম্যাগনেসিয়াম
vi)কার্বন
vii)হাইড্রোজেন
viii)অক্সিজেন
ix)সালফার

তথ্যসূত্র: NCTB জীববিজ্ঞাব বই, Britannica: [লিংক]

৫৯৪.
নতুন কোনো প্রজাতির সৃষ্টিকে কী বলা হয়?
  1. সৃষ্টিতত্ত্ব
  2. ক্রমবিকাশ
  3. জৈব বিবর্তন
  4. পরিবেশ পরিবর্তন
সঠিক উত্তর:
জৈব বিবর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জৈব বিবর্তন
ব্যাখ্যা
বিবর্তন: 
- আধুনিক মানুষের ধারণা অনুযায়ী, জীব সৃষ্টির মূল ভিত্তি হলো বিবর্তন, যা গভীর যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রমাণিত হয়েছে। 
- ল্যাটিন শব্দ “Evolveri” থেকে বিবর্তন শব্দটি এসেছে। 
- ইংরেজ দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ হার্বার্ট স্পেনসার (Herbert Spencer) প্রথম 'ইভোলিউশন' শব্দটি ব্যবহারের জন্য পরিচিত।
- বিবর্তন বা ইভোলিউশন হলো একটি ধীর, অবিরাম এবং চলমান পরিবর্তন প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সরলতর উদবংশীয় জীবগুলো পরিবর্তিত হয়ে জটিল এবং উন্নততর নতুন প্রজাতির বা জীবের উদ্ভব ঘটায়।
- যখন জীবের পরিবর্তনের ফলে নতুন কোনো প্রজাতি সৃষ্টি হয়, তখন তাকে বলা হয় জৈব বিবর্তন

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৯৫.
মানব দেহে সর্বমোট কশেরুকার সংখ্যা কত?
  1. ২৯ টি
  2. ৩১ টি
  3. ৩২ টি
  4. ৩৩ টি
সঠিক উত্তর:
৩৩ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৩ টি
ব্যাখ্যা
• মেরুদন্ড:
- অ্যাটলাস অস্থি থেকে কক্কিক্স অস্থি পর্যন্ত বিস্তৃত দন্ডাকৃতির যে গঠন মানবদেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ গঠন করে তাকে মেরুদন্ড বা শিরদাঁড়া বলে।
- ৩৩টি অসম আকৃতির সীমিত সঞ্চালনক্ষম অস্থিখন্ডক সমন্বয়ে মেরুদন্ড গঠিত।
- এ সকল অস্থিখন্ডককে কশেরুকা বলে।
- কশেরুকাগুলো কোমলাস্থি নির্মিত চাকতি দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে।
- এদের সিমফাইসিস স্থির অবস্থায় বা চলমান অবস্থায় এটি দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।

• মানবদেহ সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- মানুষের শরীরে মোট হাড়ের সংখ্যা ২০৬ টি।
- করোটিতে অস্থির সংখ্যা ২৯ টি।
- মানবদেহে মোট কশেরুকার সংখ্যা ৩৩ টি।
- মানবেদেহে সাধারণত ক্রোমোজোম থাকে ২৩ জোড়া।
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম।
- মানবদেহের রক্তে প্লাজমার পরিমাণ ৫৫%।
- মানবদেহের রক্তে রক্তকণিকার পরিমাণ ৪৫%।
- মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৭° সেলসিয়াস (৯৮.৬° ফারেনহাইট)।

[মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট।
Medical Encyclopedia এবং আরো কিছু সোর্স অনুযায়ী -
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট।এক্ষেত্রে, অপশনে ৯৮.৪ এবং ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট দুটিই থাকলে - "৯৮.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট" দাগাতে হবে।
আবার, ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকলে এর সাথে ৯৮.৪ ডিগ্রি বাদে অন্য কিছু থাকলে তখন -
"৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট" দাগাতে হবে।]

- মানবদেহের শতকরা ৭০ ভাগ পানি থাকে।
- মানবদেহে মোট ৩ প্রকারের অস্থিসন্ধি রয়েছে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৬.
সর্বপ্রথম ভাইরাস আবিষ্কার করেন কে?
  1. আইভানোভস্কি
  2. লুই পাস্তুর
  3. লিউয়েন হুক
  4. রবার্ট হুক
সঠিক উত্তর:
আইভানোভস্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইভানোভস্কি
ব্যাখ্যা
• ভাইরাস:
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ হলো বিষ।
- ভাইরাস অকোষীয়।
- ভাইরাসের দেহ বাইরের প্রোটিন আবরণ এবং অভ্যন্তরস্থ নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA অথবা RNA) এই দুটি অংশ নিয়ে গঠিত।
- ভাইরাস জীবদেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে সংখ্যাবৃদ্ধির মাধ্যমে রোগ সৃষ্টি করে থাকে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে।
- ১৮৯২ সালে দিমিত্রি আইভানোভস্কি ভাইরাস আবিষ্কার করেন।
- F. C. Bawden এবং N. W. Pirie ভাইরাসের রাসায়নিক প্রকৃতি বর্ণনা করেন।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৫৯৭.
উদ্ভিদের পুষ্টির মাইক্রো উপাদান কোনটি?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) কপার
  3. গ) ক্যালসিয়াম
  4. ঘ) ম্যাগনেসিয়াম
সঠিক উত্তর:
খ) কপার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কপার
ব্যাখ্যা
মাইক্রোউপাদান : উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রোউপাদান বলা হয়।
এদের সংখ্যা ৭টি।
যথা- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (Cu) ও ক্লোরিন (Cl)।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৮.
উদ্ভিদের কোন অংশে শ্বসন ক্রিয়ার হার অনেক বেশি?
  1. অঙ্কুরিত বীজে
  2. মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগে
  3.  ফুল ও পাতার কুঁড়িতে
  4. সবগুলোতেই 
সঠিক উত্তর:
সবগুলোতেই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোতেই 
ব্যাখ্যা

শ্বসন: 
- জীবের জীবন ধারণ অর্থাৎ চলন, ক্ষয়পুরণ, বৃদ্ধি, জনন প্রভৃতি জৈবিক কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য শক্তির প্রয়োজন হয়, এ শক্তির প্রধান উৎস হলো সূর্যালোক। 
- সালোকসংশ্লেষণের সময় উদ্ভিদ সৌরশক্তিকে শর্করা জাতীয় খাদ্যবস্তুর মধ্যে স্থিতি শক্তিরূপে (Potential energy) সঞ্চয় করে রাখে। 
- খাদ্যের মধ্যে সঞ্চিত এই ধরনের শক্তি জীব তার জীবন ধারণের জন্য সরাসরি ব্যবহার করতে পারে না। 
- শ্বসনের সময় জীবদেহে এই স্থিতি শক্তি রাসায়নিক শক্তি (ATP) হিসেবে তাপরূপে মুক্ত হয় এবং জীবের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি যোগায়। 
- শর্করাজাতীয় খাদ্যবস্তু ছাড়াও প্রোটিন, ফ্যাট এবং বিভিন্ন জৈব এসিড শ্বসনিক বস্তুরূপে ব্যবহৃত হয়। 
- জীবদেহে এই জটিল যৌগগুলো প্রথমে ভেঙে সরল যৌগে পরিণত হয় এবং পরে জারিত হয়ে রাসায়নিক শক্তিতে (ATP) রূপান্তরিত হয়। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় জীবদেহের প্রতিটি কোষে দিবারাত্রি ২৪ ঘণ্টাই শ্বসন চলতে থাকে। 
- তবে উদ্ভিদের বর্ধিষ্ণু অঞ্চলে (ফুল ও পাতার কুঁড়ি, অঙ্কুরিত বীজ, মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগ) শ্বসন ক্রিয়ার হার অনেক বেশি। 
- সজীব কোষের সাইটোপ্লাজম ও মাইটোকন্ড্রিয়াতে শ্বসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
- এ জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবদেহ যৌগিক খাদ্যদ্রব্য জারিত করে সরল দ্রব্যে পরিণত করে এবং শক্তি উৎপন্ন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৯৯.
উদ্ভিদের মাইক্রো পুষ্টি উপাদানের সংখ্যা কত?
  1. ৬টি
  2. ৯টি
  3. ১০টি
  4. ১৭টি
সঠিক উত্তর:
৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬টি
ব্যাখ্যা
• অত্যাবশ্যকীয় উপাদান:
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে।
- এই ৬০টি উপাদানের মধ্যে ১৬টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়,
- এর মধ্যে ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান (Essential elements) বলা হয়।

• উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ:
অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে। যথা-

• ম্যাক্রো উপাদান:
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়।
এরূপ উপাদানের সংখ্যা ১০টি।
যথা - নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H),
অক্সিজেন (০), সালফার (S) এবং লৌহ (Fe)।

• মাইক্রো উপাদান:
উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলা হয়।
এদের সংখ্যা ৬টি।
যথা- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (Cu) ও ক্লোরিন (CI)।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬০০.
উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ কোনটি?
  1. মূল
  2. ফুল
  3. পাতা
  4. কাণ্ড
সঠিক উত্তর:
ফুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুল
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ হলো ফুল। 

• আবৃতবীজী উদ্ভিদে ডিম্বাণু সৃষ্টি হয় ডিম্বকে, ডিম্বক সৃষ্টি হয় ফুলের স্ত্রীকেশরের গর্ভাশয়ে।
- শুক্রাণু সৃষ্টি হয় পরাগরেণুতে, পরাগরেণু সৃষ্টি হয় ফুলের পুংকেশরের পরাগধানীতে।
- কাজেই ফুলই আবৃতবীজী উদ্ভিদে জননাঙ্গ ধারণ করে।
• ফুল হলো উদ্ভিদের বংশবিস্তারের (প্রজননের) জন্য বিশেষভাবে রূপান্তরিত বিটপ (shoot)।
- অর্থাৎ উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ হলো ফুল। 

• ফুল প্রধানত চারটি মূল অংশে বিভক্ত। যথা-
- বৃতি (Calyx) – ফুলকে রক্ষা করে। 
- পত্রমন্ডল (Corolla) – পোকামাকড় আকৃষ্ট করে। 
- পুংকেশর (Androecium) – পুরুষ প্রজনন অঙ্গ (পরাগ উৎপন্ন করে)। 
- স্ত্রীকেশর (Gynoecium) – স্ত্রী প্রজনন অঙ্গ (ডিম্বাণু বহন করে)। 

• পরাগায়ন ও নিষেকের মাধ্যমে ফুলে ফল ও বীজ তৈরি হয়।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।