বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৩১ / ৪২ · ৩,০০১৩,১০০ / ৪,২০৮

৩,০০১.
লোহিত রক্তকণিকার বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. ক) দ্বি-অবতল
  2. খ) নিউক্লিয়াসযুক্ত
  3. গ) হিমগ্লোবিনযুক্ত
  4. ঘ) উৎপত্তিস্থল অস্থিমজ্জা
সঠিক উত্তর:
খ) নিউক্লিয়াসযুক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিউক্লিয়াসযুক্ত
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্তকণিকা
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা দ্বি-অবতল, চাকতি আকৃতির এবং নিউক্লিয়াসবিহীন
- এতে হিমগ্লোবিন নামক রঞ্জন পদার্থ থাকার কারণে লাল বর্ণের হয়। এজন্য এদের Red Blood Cell বা RBC বলে।
- লোহিত কণিকা প্রকৃতপক্ষে হিমগ্লোবিন ভর্তি ভাসমান ব্যাগ এবং চ্যাপ্টা আকৃতির।
- এ কারণে লোহিত কণিকা তার আকারের পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহনে সক্ষম।
- লোহিত কণিকাগুলোর বিভাজন হয় না।
- এ কণিকাগুলো সার্বক্ষণিক অস্থিমজ্জার ভিতরে উৎপন্ন হয় এবং রক্তরসে চলে আসে।
- মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন।
- অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণির ক্ষেত্রে লোহিত কণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে।
- তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে এখান থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।

- মোটামুটি গড় হিসেবে: বিভিন্ন বয়সের মানব দেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে লোহিত কণিকার সংখ্যা হচ্ছে-
ভ্রূণ দেহে: ৮০-৯০ লাখ,
শিশুর দেহে: ৬০-৭০ লাখ,
পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ দেহে: ৪.৫ - ৫.৫ লাখ এবং
পূর্ণ বয়স্ক নারীর দেহে: ৪ - ৫লাখ

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,০০২.
মানুষের মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশের নাম-
  1. সেরেবেলাম
  2. হাইপোথ্যালামাস
  3. থ্যালামাস
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মানুষের মস্তিষ্ক: 

• স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশ মস্তিষ্ক।
• প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি।
• মস্তিষ্কের আবরণীর নাম মেনিনজেস।
• একটি পূর্নাঙ্গ স্নায়ু কোষকে নিউরন বলে।
• মস্তিষ্কে প্রায় ১০ বিলিয়ন (১ হাজার কোটি) নিউরন থাকে।

উল্লেখ্য, 
• মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশের নাম সেরেব্রাম।
• এটি মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে এবং মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশকে ঢেকে রাখে।
• দুটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার সমন্বয়ে সেরেব্রাম গঠিত।
• খণ্ডদুটি ভেতরের দিকে কর্পাস ক্যালোসাম নামে চওড়া স্নাযুগুচ্ছ দিয়ে যুক্ত।
• প্রতিটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার ৫টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা- ফ্রন্টাল লোব, প্যারাইটাল লোব, অক্সিপিটাল লোব, টেম্পোরাল লোব ও লিম্বিক লোব।


Image Source: প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি 

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০০৩.
রক্তে শতকরা কত শতাংশ রক্ত কণিকা থাকে?
  1. 50%
  2. 55%
  3. 45%
  4. 40%
সঠিক উত্তর:
45%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
45%
ব্যাখ্যা
রক্তের প্রধান উপাদান গুলো হল রক্ত রস এবং রক্ত কণিকা। সমগ্র রক্তের 55 শতাংশ রক্তরস এবং বাকি 45 শতাংশ রক্তকণিকা
উৎস: নবম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান।
৩,০০৪.
স্ব-পরাগায়নের সুবিধা কোনটি?
  1. ক) বীজ অধিক জীবনী শক্তি সম্পন্ন হয়
  2. খ) প্রজাতির গুনাগুন অক্ষুন্ন থাকে
  3. গ) বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বেশি হয়
  4. ঘ) নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়
সঠিক উত্তর:
খ) প্রজাতির গুনাগুন অক্ষুন্ন থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রজাতির গুনাগুন অক্ষুন্ন থাকে
ব্যাখ্যা
স্ব-পরাগায়ন : স্ব- পরাগায়নের ফলে পরাগরেণুর অপচয় কম হয়, পরাগায়নের জন্য বাহকের উপর নির্ভর করতে হয় না এবং পরাগায়ন নিশ্চিত হয়।
এর ফলে উৎপন্ন নতুন উদ্ভিদে বৈশিষ্ট্যের কোন পরিবর্তন ঘটে না। ফলে প্রজাতির গুণাগুণ অক্ষুন্ন থাকে।

পর-পরাগায়ন : পর-পরাগায়নের ফলে নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হয়, বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়, বীজ অধিক জীবনীশক্তিসম্পন্ন হয় এবং নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়। দুটি ভিন্ন গুণসম্পন্ন গাছের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে, তাই এর ফলে যে বীজ উৎপন্ন হয় তা নতুন গুণসম্পন্ন হয়।
এ বীজ থেকে যে গাছ জন্মায় তাও নতুন গুণসম্পন্ন হয়। এ কারণে এ সব গাছের নতুন ভ্যারাইটির সৃষ্টি হয়। 

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০০৫.
মানুষের জিহ্বা আসলে কী?
  1. ক) বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি
  2. খ) এক ধরনের অর্ধকঠিন যোজক কলা
  3. গ) রূপান্তরিত অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি
  4. ঘ) কয়েকটি ঐচ্ছিক পেশির সমন্বয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কয়েকটি ঐচ্ছিক পেশির সমন্বয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কয়েকটি ঐচ্ছিক পেশির সমন্বয়
ব্যাখ্যা

জিহ্বা আসলে বেশ কয়েকটি ঐচ্ছিক পেশির সমন্বিত রূপ। হাইপোগ্লোসাল নামক করোটিক স্নায়ু জিহ্বাতে উপস্থিত বেশিরভাগ পেশির সঞ্চালনের জন্য দায়ী।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩,০০৬.
রক্তনালির ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে রক্তপ্রবাহ অব্যাহত রাখে কোনটি?
  1. হিস্টামিন
  2. লিম্ফোসাইট
  3. ফ্যাগোসাইটোসিস
  4. হেপারিন
সঠিক উত্তর:
হেপারিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেপারিন
ব্যাখ্যা
• "হেপারিন" রক্তনালির ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে রক্তপ্রবাহ অব্যাহত রাখে।

• শ্বেত রক্তকণিকা:

- শ্বেত রক্তকণিকার বৈজ্ঞানিক নাম leucocytes.
- পূর্ণাঙ্গ মানুষের প্রতি ঘন মি. লি. রক্তে প্রায় ৬০০০টি বিভিন্ন ধরনের শ্বেত কণিকা থাকে।
- শ্বেতকণিকা আকারে লোহিত কণিকা অপেক্ষা বড়।
- এদের নিউক্লিয়াস আছে।
- রক্তে লোহিত ও শ্বেত কণিকার অনুপাত সাধারণত ৫০০:১।
- শ্বেত কণিকা লোহিত অস্থিমজ্জা, প্লীহা ও লসিকা গ্রন্থি ইত্যাদি হতে উৎপন্ন হয়।

• সাইটোপ্লাজমের গঠনের ভিত্তিতে শ্বেত কণিকাকে প্রধানত দু ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. দানাদার শ্বেত কণিকা
২. অদানাদার শ্বেতকণিকা

•  মানবদেহে শ্বেত কণিকার কাজ:
- ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় এরা ক্ষণপদের সাহায্যে রোগ-জীবাণুকে ভক্ষণ করে ধ্বংস করে।
- লিম্ফোসাইট তৈরি করে রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে, এজন্য এদেরকে দেহের আণুবীক্ষণিক সৈনিক বলে।
- বেসোফিল নিঃসৃত হেপারিন রক্তনালির ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে রক্তপ্রবাহ অব্যাহত রাখে।
- এন্টিবডি তৈরি করে জীবাণু ধ্বংস করে।
- হিস্টামিনের মাধ্যমে এলার্জিক বিক্রিয়া হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৩,০০৭.
প্রস্বেদন কত প্রকার?
  1. ৫ প্রকার
  2. ৪ প্রকার
  3. ৩ প্রকার
  4. ২ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদনের প্রকারভেদ:
- প্রস্বেদন তিন প্রকার। যথা-
• পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন।
• কিউটিকুলার প্রস্বেদন।
• লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।

• পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন:
- পত্ররন্ধ্র প্রধানত পাতার নিচের পৃষ্ঠে দেখা যায়।
- উদ্ভিদের মোট প্রস্বেদনের ৯০-৯৫% পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে ঘটে।
- শিরা ও উপশিরার মধ্য দিয়ে পানি প্যালিসেড প্যারেনকাইমা এবং স্পঞ্জি প্যারেনকাইমা কোষ সমূহে পৌঁছায়।
- পত্ররন্ধ্রের মধ্যদিয়ে সংঘটিত হয় বলে এ ধরনের প্রস্বেদনকে পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন বলা হয়।

• কিউটিকুলার প্রস্বেদন:
- উদ্ভিদের কান্ড এবং পাতার বহিঃত্বকের উপর কিউটিন এর আবরণকে কিউটিকল বলা হয়।
- উদ্ভিদকে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করাই এর কাজ। কিউটিকল পাতলা হলে কিউটিকল ভেদ করে কিছু পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে আসে।
- এটাই কিউটিকুলার প্রস্বেদন ।

• লেন্টিকুলার প্রস্বেদন:
- উদ্ভিদদেহে সেকেন্ডারি বৃদ্ধির ফলে কান্ডের বাইরের আবরণ কোন কোন জায়গায় ফেঁটে যায়।
- এতে কান্ডের ভেতরের কোষ বাইরের পরিবেশে উন্মুক্ত হয়। এ উন্মুক্ত জায়গাগুলোকে লেন্টিসেল বলা হয়।
- লেন্টিসেলের মধ্য দিয়ে ভেতরের টিস্যু থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে আসে।
- এটাই লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০০৮.
মানুষের মুখবিবরে কোন খাদ্য উপাদানটির পরিপাক ঘটে?
  1. ক) ভিটামিন
  2. খ) স্নেহপদার্থ
  3. গ) প্রোটিন
  4. ঘ) শর্করা
সঠিক উত্তর:
ঘ) শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শর্করা
ব্যাখ্যা
পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা:
- মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে।
- মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে।
- মূলত তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়। 
যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে:
১. লালা রসে: টায়ালিন ও মলটেজ।
২. পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই।
৩. অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ।
৪. আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০০৯.
লোহিত রক্তকোষের প্রধান উৎপাদন স্থান কোনটি? 
  1. প্লীহা 
  2. কিডনি 
  3. লিভার 
  4. অস্থিমজ্জা 
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জা 
ব্যাখ্যা

লোহিত রক্তকোষ: 
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকোষ দ্বি-অবতল এবং চাকতি আকৃতির। 
- এতে হিমোগ্লোবিন নামে রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে দেখতে লাল বর্ণের হয়, এজন্য এদেরকে Red Blood Cell বা RBC বলে। 
অন্যভাবে বলা যায়, লোহিত কোষ প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ভর্তি চ্যাপ্টা আকৃতির ভাসমান ব্যাগ, এ কারণে লোহিত কোষ অধিক পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহণ করতে পারে। 
- পরিণত লোহিত কোষগুলোর বিভাজন হয় না, এ কোষগুলো সর্বক্ষণই অস্থিমজ্জার ভিতরে উৎপন্ন হতে থাকে এবং উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে চলে আসে। 
- মানুষের লোহিত কোষের গড় আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন। 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীদের লোহিত রক্তকোষগুলো উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে আসার পূর্বে নিউক্লিয়াসবিহীন হয়ে যায়। 
- অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর ক্ষেত্রে এরকম ঘটে না অর্থাৎ এদের লোহিত কোষগুলোতে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- লোহিত কোষ প্লীহা (Spleen) তে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কোষ রক্তরসে সরবরাহ হয়। 
- লোহিত কোষের প্রধান কাজ হলো- 
১. দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা। 
২. নিষ্কাশনের জন্য কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইডকে টিস্যু থেকে ফুসফুসে বহন করা। 
৩. হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখার জন্য বাফার হিসেবে কাজ করা। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,০১০.
কলেরা রোগের জন্য সাধারণত  কোন জীবাণু দায়ী?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ছত্রাক
  4. প্রোটোজোয়া
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা

- কলেরা কলেরা রোগের জন্য সাধারণত  ব্যাকটেরিয়া দায়ী।

- কলেরা:
- কলেরা একটি পানিবাহিত সংক্রামক রোগ।
- এই রোগের কারণ হলো Vibrio cholera নামক একটি ব্যাকটেরিয়া।
- এই ব্যাকটেরিয়া দূষিত পানি বা খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং অন্ত্রে সংক্রমণ সৃষ্টি করে।

রোগের লক্ষণ:
- হটাৎ পানির মতো পাতলা ডায়রিয়া।
- বমি।
- শরীরের পানি ও লবণ ঘাটতি।
- চোখ বসে যাওয়া, দুর্বলতা, যদি দ্রুত চিকিৎসা না হয় মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

প্রতিকারের উপায়:
- বিশুদ্ধ পানি পান করা।
- সঠিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা করা।
- ভ্যাকসিন (Oral cholera vaccine- OCV) গ্রহণ 
- ORS (Oral rehydration salts) দ্রুত প্রয়োগ।

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,০১১.
সালোক সংশ্লেষণ ঘটে-
  1. সবুজ পাতায়
  2. সবুজ কাণ্ডে
  3. সবুজ শাখা প্রশাখায়
  4. উপরের সবকটিতে
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকটিতে
ব্যাখ্যা
• সালোক সংশ্লেষণ:
- শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্য্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোক সংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে।

- সালোক সংশ্লেষণের জন্য চারটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে:
(১) আলো (২) ক্লোরোফিল (৩) পানি ও (৪) কার্বন ডাই-অক্সাইড।

- সালোক সংশ্লেষণ সাধারণত উদ্ভিদের সবুজ অঙ্গে যেখানে ক্লোরোফিল আছে সেখানে ঘটে।
- যেমন: পাতা, সবুজকাণ্ড, শাখাপ্রশাখা প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- মূল মাটির নিচে থাকে এবং এটি উদ্ভিদের অসবুজ অংশ তাই এখানে সালোকসংশ্লেষণ ঘটে না।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,০১২.
একটি নিউরন থেকে উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনে পরিবাহিত হয় কোনটির মাধ্যমে?
  1. ক) সিন্যাপস
  2. খ) ডেনড্রাইট
  3. গ) অ্যাক্সন
  4. ঘ) সোমা
সঠিক উত্তর:
ক) সিন্যাপস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সিন্যাপস
ব্যাখ্যা
দেহের বিশেষ সংবেদী কোষ নিউরন বা স্নায়ুকোষগুলো একত্রে স্নায়ু টিস্যু গঠন করে৷ স্নায়ু টিস্যু অসংখ্য নিউরন দিয়ে গঠিত৷

একটি নিউরনের দুটি অংশ থাকে৷ যথা:
i) কোষদেহ এবং
ii) প্রলম্বিত অংশ।

প্রলম্বিত অংশ দুধরনের:
i) ডেনড্রাইট এবং
ii) অ্যাক্সন।

পরপর দুটি নিউরনের সন্ধিস্থলে অর্থাৎ প্রথমটির অ্যাক্সন এবং পরেরটির ডেনড্রাইটের মধ্যে একটি স্নায়ুসন্ধি গঠিত হয়, তাকে সিন্যাপস (Synapse) বলে।
সিন্যাপসের মধ্য দিয়েই একটি নিউরন থেকে উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনে পরিবাহিত হয়৷

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,০১৩.
কিসের জন্য পেপটিক আলসার হয়?
  1. ক) HCL
  2. খ) CH3COOH
  3. গ) H2SO4
  4. ঘ) H2CO3
সঠিক উত্তর:
ক) HCL
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) HCL
ব্যাখ্যা
আমাদের পাকস্থলির দেয়াল থেকে HCL উৎপন্ন হয়৷ পাকস্থলি খালি রাখলে HCL পাকস্থলির দেয়ালের কোষগুলোকে ভেঙে সেখানে ক্ষতের সৃষ্টি করে। এ অবস্থাকে পেপটিক আলসার বলে৷
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
৩,০১৪.
দুধের বিশুদ্ধতা মাপা হয় কিসে?
  1. ক) ন্যানোমিটার
  2. খ) ল্যাকটোমিটার
  3. গ) ফ্যাদোমিটার
  4. ঘ) অলটিমিটার
সঠিক উত্তর:
খ) ল্যাকটোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ল্যাকটোমিটার
ব্যাখ্যা
Lactometer-an instrument for measuring the density of milk.
Source: Oxford
৩,০১৫.
ঢেঁকিছাটা চালে কোন ভিটামিন থাকে?
  1. ভিটামিন এ
  2. ভিটামিন বি
  3. ভিটামিন সি
  4. ভিটামিন ডি
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন বি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন বি
ব্যাখ্যা
ভিটামিন ‘এ’ : দুধ, মাখন, চর্বি, ডিম, গাজর, আম, কাঁঠাল, রঙিন শাকসব্জি, মলা মাছ ইত্যাদি।

ভিটামিন ‘বি’ : ঈস্ট, ঢেঁকিছাঁটা চাল, আটা, অঙ্কুরিত ছোলা, মুগডাল, মটর, ফুলকপি, চিনাবাদম, শিমের বীচি, কলিজা, হৃদপিন্ড, দুধ, ডিম, মাংস, সবুজ শাকসব্জি ইত্যাদি।

ভিটামিন ‘সি’ : পেয়ারা, বাতাবী লেবু, কামরাঙা, কমলা, আমড়া, বাঁধাকপি, টমেটো, আনারস, কাঁচামরিচ, তাজা শাকসব্জি ইত্যাদি।

ভিটামিন ‘ডি’ : ডিম, দুধ, কলিজা, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাছের তেল, ভোজ্য তেল ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০১৬.
পিত্তরস কোথায় জমা থাকে?
  1. ডিওডেনামে 
  2. পাকস্থলীতে 
  3. পিত্তথলিতে
  4. রক্তনালিতে
সঠিক উত্তর:
পিত্তথলিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিত্তথলিতে
ব্যাখ্যা

যকৃত (Liver): 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। 
- এটি মধ্যচ্ছদের নিচে, পাকস্থলীর ডান পাশে অবস্থিত। 
- যকৃতের রঙ গাঢ় বাদামি এবং এটি আকারে ত্রিকোণাকার। 
- যকৃতের নিচে কলস আকৃতির পিত্তথলি (Gallbladder) সংযুক্ত থাকে। 

যকৃতের কার্যাবলি: 
- যকৃত থেকে ক্ষারীয় প্রকৃতির গাঢ় সবুজ বর্ণের পিত্তরস নিঃসৃত হয়। 
- পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পিত্তনালির মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবাহিত হয়। 
- পাচন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 
- রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে (গ্লাইকোজেন সংরক্ষণ ও মুক্তি)। 
- প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট বিপাক ঘটায়। 
- দেহের বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করে (ডিটক্সিফিকেশন)। 
- রক্তে কোলেস্টেরল ও হরমোন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। 
- যকৃতে বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয়, তাই একে "দেহের রসায়ন গবেষণাগার" বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,০১৭.
জাইলেম টিস্যু নয় কোনটি?
  1. ট্রাকিড
  2. ভেসেল
  3. বাস্ট তন্তু
  4. জাইলেম তন্তু
সঠিক উত্তর:
বাস্ট তন্তু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাস্ট তন্তু
ব্যাখ্যা
জটিল টিস্যু: 
- এ টিস্যুর প্রধান কাজ মাটি থেকে পানি ও অজৈব লবণ পরিবহন করে পাতায় পৌঁছানো এবং পাতায় যে খাদ্য প্রস্তুত হয় তা পরিবহন করে উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছানো। 
- এদের কাজ পরিবহন বলে এ টিস্যুকে পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। 
- জটিল টিস্যু দু'প্রকার। যথা- (i) জাইলেম টিস্যু ও (ii) ফ্লোয়েম টিস্যু। 

জাইলেম টিস্যু: 
- এ টিস্যু পরিবহন টিস্যুগুচ্ছের অন্যতম অংশ। 
- ভাস্কুলার উদ্ভিদে জাইলেমের সাহায্যেই খাদ্য দ্রব্যের উপাদানগুলো মাটি থেকে মূলের মাধ্যমে পাতায় পরিবাহিত হয়। 
- উৎপত্তি ও বিকাশের ভিত্তিতে জাইলেম দু'রকম। 
যথা-প্রাথমিক জাইলেম ও সেকেন্ডারি জাইলেম। 
- ভ্রূণ থেকে উদ্ভিদ বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে যে জাইলেমের সৃষ্টি হয় তাকে প্রাথমিক জাইলেম বলা হয়। 
- উদ্ভিদের সেকেন্ডারি বৃদ্ধির সময় ক্যাম্বিয়াম থেকে যে জাইলেমের সৃষ্টি হয় তাকে সেকেন্ডারি জাইলেম বলা হয়। 
- পরিণত অবস্থায় আবৃতবীজী উদ্ভিদে জাইলেম চার রকম কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- (A) ট্রাকিড, (B) ট্রাকিয়া বা ভেসেল, (C) জাইলেম প্যারেনকাইমা ও (D) জাইলেম তন্তু। 

ফ্লোয়েম টিস্যু: 
- উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে যে খাদ্য উৎপাদন হয় তা উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে পরিবহন করাই এদের কাজ। 
- ফ্লোয়েম টিস্যু চার ধরনের কোষ দ্বারা গঠিত। 
যথা- (A) সীভ নল, (B) সঙ্গী কোষ, (C) ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং (D) ফ্লোয়েম ফ্লাইবার বা বাস্ট তন্তু। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০১৮.
নিচের কোনটি প্রোটিন?
  1. ক) এনজাইম
  2. খ) অ্যান্টিবডি
  3. গ) হরমোন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- প্রোটিন জীবদেহের একটি অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক পদার্থ। 
- বিভিন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিড বিভিন্নভাবে শৃঙ্খলিত হয়ে এক একটি প্রোটিন গঠন করে। আর অ্যামাইনো অ্যাসিড হলো প্রোটিনের মূল গাঠনিক একক।
-  প্রোটিন অণু বহু সংখ্যক অ্যামাইনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে তৈরি। প্রোটিন শব্দটি সর্বপ্রথম প্রয়োগ করেন জি. মুলার ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে। 

- প্রোটিন অসংখ্য অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত বৃহদাকার যৌগিক জৈব অণু। 
- একটি কোষের অভ্যন্তরে সারাক্ষণ শত শত প্রকার প্রোটিন তৈরি হয়।
- জীবদেহের প্রায় সর্বত্রই প্রোটিন বিরাজমান। জৈব ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে এনজাইম, অ্যান্টিবডি, হরমোন। এগুলো  সবই প্রোটিন।
-  সব এনজাইম প্রোটিন কিন্তু সব প্রোটিন এনজাইম নয়।
- বিভিন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিড বিভিন্নভাবে শৃঙ্খলিত হয়ে এক একটি প্রোটিন গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০১৯.
নগ্নবীজী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য নয়-
  1. বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে
  2. গর্ভাশয় থাকে
  3. ফল উৎপন্ন হয় না
  4. উপরের সবকয়টি
সঠিক উত্তর:
গর্ভাশয় থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গর্ভাশয় থাকে
ব্যাখ্যা
নগ্নবীজী উদ্ভিদ: 
- যে সব উদ্ভিদের বীজ সরাসরি উদ্ভিদের অক্ষে জন্মে এবং কোন ফল উৎপন্ন হয় না, এদেরকে জিমনোস্পার্মি (Gymnospermeae) বা নগ্নবীজী উদ্ভিদ বলা হয়। 
- এদের গর্ভাশয় থাকে না তাই ফল হয় না। বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু বৃক্ষ (Sequoia gigantea ) এ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। 
- যেমন- Cycas, Pimus, Gnetum ইত্যাদি হলো উল্লেখযোগ্য নগ্নবীজী উদ্ভিদ। 

আবৃতবীজী উদ্ভিদ: 
- যে সকল উদ্ভিদের ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন হয় এবং ফলের বীজ নির্দিষ্ট আবরণ দিয়ে আবৃত অবস্থায় থাকে তাকে আবৃতবীজী উদ্ভিদ (Angiosperm) বলে। 
- আজ থেকে প্রায় ১২০ মিলিয়ন বছর পূর্বে Cretaceous যুগের প্রথম দিকে আবৃতবীজী উদ্ভিদের উদ্ভব হয়েছিল বলে ধরে নেয়া হয়। 
- Cretaceous যুগের শেষের দিকেই (আজ থেকে ৮০ মিলিয়ন বছর পূর্বে) পৃথিবীর অধিকাংশ অঞ্চলে আবৃতবীজী উদ্ভিদ প্রাধান্য বিস্তার লাভ করে ফেলে। 
- বর্তমানে আবৃতবীজী উদ্ভিদ প্রজাতির সংখ্যা প্রায় আড়াই লক্ষ ধারণা করা হয়। 
- এরা পানিতে, সিক্ত মাটিতে, মরুভূমিতে, পাথুরে পাহাড়ি অঞ্চলে এমনকি পরাশ্রয়ী ও পরভোজী হিসেবে অন্য উদ্ভিদের উপর জন্মায়। 

• নগ্নবীজী উদ্ভিদ ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ এর  বৈশিষ্ট্য:

• নগ্নবীজী উদ্ভিদ:

- গর্ভাশয় থাকে না;
- ফল উৎপন্ন হয় না;
- বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে।

• আবৃতবীজী উদ্ভিদ:
- গর্ভাশয় থাকে;
- ফল উৎপন্ন হয়;
- বীজ ফলের ভেতরে থাকে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০২০.
দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য প্রাণী কোনটি?
  1. ভলভক্স
  2. অ্যান্থোজোয়া
  3. সমুদ্র তারা
  4. অ্যামিবা
সঠিক উত্তর:
অ্যান্থোজোয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যান্থোজোয়া
ব্যাখ্যা
প্রতিসাম্য: 
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে। 
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা - 

ক. গোলীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)। 

খ. অরীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)। 

গ. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য: 
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)। 

ঘ. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য: 
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)। 

ঙ. অপ্রতিসাম্য: 
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০২১.
ম্যালেরিয়া রোগের পরজীবী আবিষ্কার করেন কে?
  1. ক) স্যার রোনাল্ড রস
  2. খ) চার্লস ল্যাভেরন
  3. গ) রবার্ট কচ
  4. ঘ) লুই পাস্তুর
সঠিক উত্তর:
খ) চার্লস ল্যাভেরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চার্লস ল্যাভেরন
ব্যাখ্যা
- পূর্বে একটি ধারণা প্রচলিত ছিলো যে, দূষিত বায়ু সেবনে ম্যালেরিয়া রোগ সৃষ্টি হয়। কিন্তু ফরাসি ডাক্তার চার্লস ল্যাভেরন ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগীর লোহিত রক্তকণিকা থেকে ম্যালেরিয়ার পরজীবী আবিষ্কার করলে প্রায় শত বছরের ভ্রান্ত ধারণাটির অবসান ঘটে। ১৮৯৭ সালে ডাক্তার রোনাল্ড রস আবিষ্কার করেন যে, Anopheles গণভুক্ত মশকীরা এ রোগের জীবাণু এক দেহ থেকে অন্য দেহে বিস্তার ঘটায়।
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়ার ওপর ব্যাপক গবেষণা করে Germ theory of Disease তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- জার্মান ডাক্তার রবার্ট কচ যক্ষ্মা রোগের জন্য দায়ী Mycobacterium tuberculosis ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেন।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৩,০২২.
মানবদেহে স্নেহজাতীয় পদার্থ হজমের জন্য কোন এনজাইমটি অপরিহার্য?
  1. পেপসিন
  2. অ্যামাইলেজ
  3. লাইপেজ
  4. ট্রিপসিন
সঠিক উত্তর:
লাইপেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইপেজ
ব্যাখ্যা

লাইপেজ হলো একটি পাচক এনজাইম যা স্নেহ জাতীয় খাদ্য বা ফ্যাট পরিপাকে সহায়তা করে। 
- লাইপেজ (Lipase) হলো এক ধরনের হাইড্রোলাইটিক এনজাইম, যা স্নেহ পদার্থের (ফ্যাট) অণুগুলোকে ফ্যাটি অ্যাসিড (Fatty acid) ও গ্লিসারলে (Glycerol) পরিণত করে।
- স্নেহ জাতীয় খাদ্য পরিপাকের জন্য পিত্তরসের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পিত্তরস ফ্যাটকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে ভেঙে ইমালসিফাই (Emulsify) করে, যা লাইপেজ এনজাইমের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তোলে।
- এই পরিপাক প্রক্রিয়াটি প্রধানত ক্ষুদ্রান্ত্রে সম্পন্ন হয়, যেখানে স্নেহ কণাগুলো সম্পূর্ণরূপে বিশ্লেষিত হয়।
- জম হওয়া ফ্যাটি অ্যাসিড এবং গ্লিসারল পরবর্তীতে অন্ত্রের লসিকাতন্ত্র (Lymphatic system) এবং রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে শোষিত হয়।
- লাইপেজের অভাবে ফ্যাট হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে, যার ফলে স্বাস্থ্যগত জটিলতা যেমন ডায়রিয়া বা ভিটামিনের অভাব হতে পারে।
- অগ্ন্যাশয়ে অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন এবং লাইপেজ এনজাইম তৈরি হয়।
- এই এনজাইমগুলো ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সঙ্গে মিশে।
- ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ খাদ্য হজমে সাহায্য করে।
- লাইপেজ স্নেহ খাদ্য হজমে সাহায্য করে।
- অ্যামাইলেজ শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে।

উল্লেখ্য-
- পেপসিন: প্রোটিন পরিপাককারী একটি এনজাইম, যা পাকস্থলীতে প্রোটিনকে প্রোটিওজ ও পেপটোনে পরিণত করে।
- অ্যামাইলেজ: শর্করা (কার্বোহাইড্রেট) পরিপাককারী একটি এনজাইম। লালা এবং অগ্ন্যাশয়ে এটি পাওয়া যায়।
- ট্রিপসিন:  ট্রিপসিন হলো প্রোটিন পরিপাককারী আরেকটি এনজাইম, যা অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হয়ে প্রোটিনকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পলিপেপটাইডে ভাঙে।

উৎস:
১। বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২। প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩,০২৩.
উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্ম কোনটি?
  1. লিমুলাস
  2. স্ফোনোডন
  3. প্লাটিপাস
  4. নিটাম
সঠিক উত্তর:
নিটাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিটাম
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও গিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে, এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,০২৪.
'মটরশুঁটি' কোন ধরনের খাদ্য?
  1. ক) আমিষ
  2. খ) শ্বেতসার
  3. গ) স্নেহ জাতীয়
  4. ঘ) ভিটামিন
সঠিক উত্তর:
ক) আমিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আমিষ
ব্যাখ্যা

উৎস দিয়ে বিবেচনা করলে আমিষ দুই ধরনের- প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ আমিষ।
প্রাণিজ আমিষের উৎস হলো মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি।
উদ্ভিজ্জ আমিষের উৎস হলো ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,০২৫.
খাদ্যআঁশ কোন শ্রেণির খাদ্য? 
  1. প্রোটিন
  2. শর্করা
  3. ফ্যাট
  4. খনিজ
সঠিক উত্তর:
শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্করা
ব্যাখ্যা
খাদ্যআঁশ বা রাফেজ: 
- শস্য দানার বহিরাবরণ, সবজি, ফলের খোসা, শাঁস বীজ ও উদ্ভিদের ডাটা, ফল, মূল, পাতা ইত্যাদিতে আঁশ থাকে। 
- খাদ্যআঁশগুলো মূলত কোষ প্রাচীরের সেলুলোজ এবং লিগনিন। 
- খাদ্যআঁশের সেলুলোজ এবং লিগনিন উদ্ভিদের দেহ কাঠামো তৈরি করে, এগুলো এক ধরনের জটিল শর্করা। 
- গবাদি পশু সাধারণ সেলুলোজ হজম করতে পারে, কিছু মানুষ এগুলো হজম করতে পারে না। 
- রাফেজ পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 
- ধারণা করা হয় এরূপ খাবার খাদ্যনালির ক্যান্সারের আশঙ্কা অনেকাংশে হ্রাস করে। 
- আঁশযুক্ত খাবার স্থূলতা হ্রাস, ক্ষুধা প্রকটতা হ্রাস ও চর্বি জমার প্রবণতা হ্রাসে সহায়তা করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০২৬.
হেপাটাইটিস B হয় কোন ধরনের জীবাণু দ্বারা?
  1. DNA ভাইরাস
  2. RNA ভাইরাস
  3. ব্যাক্টেরিয়া
  4. ছত্রাক
সঠিক উত্তর:
DNA ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
DNA ভাইরাস
ব্যাখ্যা
• হেপাটাইটিস B ভাইরাস মূলত DNA ভাইরাস।

• হেপাটাইটিস:
- হেপাটাইটিস লিভার বা যকৃৎ এর একটি প্রদাহ যা হেপাটাইটিসের ৫টি ভাইরাসের ( এ, বি, সি, ডি এবং ই) মাধ্যমে ঘটে।
- দূষিত পানি, রক্ত, যৌন ও খাবারের মাধ্যমে হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে। 

উল্লেখ্য,
- Hepatities A, Hepatities C, Hepatities D ও Hepatities E - RNA ভাইরাস।

উৎস: জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র- গাজী আজমল, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,০২৭.
উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কোন জাতীয় খাদ্য তৈরি করে?
  1. ক) ভিটামিন
  2. খ) স্নেহ
  3. গ) আমিষ
  4. ঘ) শর্করা
সঠিক উত্তর:
ঘ) শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শর্করা
ব্যাখ্যা

- উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে।
- সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো হলোঃ ক্লোরোফিল, সূর্যালোক, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ও পানি।
- উৎপাদিত হয় কার্বোহাইড্রেট (শর্করা), পানি এবং অক্সিজেন।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,০২৮.
যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া এককভাবে অবস্থান করে তাকে কী বলে?
  1. মাইক্রোকক্কাস
  2. ডিপ্লোকক্কাস
  3. সারসিনা
  4. স্ট্রেপটোকক্কাস
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোকক্কাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোকক্কাস
ব্যাখ্যা
কোষের আকারের ভিত্তিতে ব্যাকটেরিয়ার শ্রেণিবিন্যাস: 
- কোষের আকৃতি অনুসারে ব্যাকটেরিয়াকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- (ক) কক্কাস, (খ) ব্যাসিলাস, (গ) স্পাইরিলাম এবং (ঘ) কমা আকৃতি। 

কক্কাস: 
- গোলাকার ব্যাকটেরিয়াকে বলা হয় কক্কাস। 
- কক্কাস ব্যাকটেরিয়া আবার পাঁচ রকমের। 
যথা- 
১। মাইক্রোকক্কাস: 
- যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া এককভাবে অবস্থান করে তাকে মাইক্রোকক্কাস বলে। 
উদাহরণ- Micrococcus denitrificans. 

২। ডিপ্লোকক্কাস: 
- যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া জোড়ায় জোড়ায় থাকে তাদেরকে ডিপ্লোকক্কাস বলে। 
উদাহরণ- Diplococcus pneumoniae. 

৩। স্ট্যাফাইলোকক্কাস: 
- যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া অনিয়মিত গুচ্ছাকারে সাজান থাকে তাকে স্ট্যাফাইলোকক্কাস বলে। 
উদাহরণ- Staphylococcus aureus. 

৪। স্ট্রেপটোকক্কাস: 
- যে সব গোলাকার ব্যাকটেরিয়া চেইনের মত সাজানো থাকে তাকে স্ট্রেপটোকক্কাস বলে। 
উদাহরণ- Streptococcus lactis. 

৫। সারসিনা: 
- যে সকল গোলাকার ব্যাকটেরিয়া নিয়মিত দলে অবস্থান করে সমান সমান দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা বিশিষ্ট একটি ঘন তলের মত গঠন করে তাদেরকে সারসিনা বলে। 
উদাহরণ- Sarcina lutea. 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০২৯.
বংশগতির ধারক ও বাহক নিচের কোনটি?
  1. ক) জিন
  2. খ) ফ্যাক্টর
  3. গ) কণা
  4. ঘ) ক্রোমোসোম
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রোমোসোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রোমোসোম
ব্যাখ্যা
জীবের বংশগতি:
- বংশগতির ধারক ও বাহক হচ্ছে- ক্রোমোজোম। 

ক্রোমোজোম: 
- যে সকল বস্তু জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে তাকে বংশগতি বস্তু বলে। 
- DNA এর যে ছোট অংশ নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে তাকে জিন বলে। 
- উন্নত জীবে DNA প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়ে তৈরি করে ক্রোমোসোম। 
- ক্রোমোসোমই জনন কোষের মাধ্যমে সন্তান-সন্ততিতে বাহিত হয়। 
- অর্থাৎ ক্রোমোসোম হলো বংশগতি বস্তুর ধারক ও বাহক। 
- ক্রোমোসোমকে বংশগতির প্রধান উপাদান বলা হয়। 

উল্লেখ্য, 
- ক্রোমোজোম হলো বংশগতি বস্তুর ধারক ও বাহক, অপরদিকে জিন হচ্ছে বংশগতির নিয়ন্ত্রক।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০৩০.
মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ কী?
  1. ক) খাদ্য উৎপাদনে সাহায্য করা 
  2. খ) জীবের শ্বসনে সহায়তা করা
  3. গ) প্রোটিন সঞ্চয় করা
  4. ঘ) জীব কোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করা
সঠিক উত্তর:
খ) জীবের শ্বসনে সহায়তা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জীবের শ্বসনে সহায়তা করা
ব্যাখ্যা

মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ- জীবের শ্বসনে সহায়তা করা।

- দুটি পর্দা দ্বারা আবৃত যে সকল গোলাকার, ডিম্বাকার, সুতোর মতো অঙ্গাণু ইউক্যারিওটিক কোষের সাইটোপ্লাজমে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছড়িয়ে থাকে তাদেরকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলে।
-মাইটোকন্ড্রিয়ায় সুতোর মতো দানাময় অঙ্গাণু বা কনড্রিওজোম বলে।
মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজসমূহ-
-শ্বসনের ফলে নির্গত শক্তি থেকে এটিপি অনু সংশ্লেষ করে।
-মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের প্রয়োজনীয় শক্তিযুক্ত অনুর যোগান দেয়।
-মাইটোকন্ড্রিয়াতে স্নেহ দ্রব্য সংশ্লেষক লেসিথিন এবং ফসফেটিডাইল-ইথানল-অ্যামাইন জাতীয় স্নেহদ্রব্য সংশ্লেষ করে।
-ফ্যাটি এসিড বিপাকও নিয়ন্ত্রণ করে। শ্বসনের উপযোগী সকল উৎসেচক মাইট্রোকন্ডিয়ায় থাকে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৩,০৩১.
নিচের কোনটি এক অণুবিশিষ্ট শর্করা?
  1. ল্যাকটোজ
  2. সুক্রোজ
  3. গ্লুকোজ
  4. গ্লাইকোজেন
সঠিক উত্তর:
গ্লুকোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা
- এক অণুবিশিষ্ট শর্করা হচ্ছে- গ্লুকোজ। 

শর্করা বা শ্বেতসার: 

- শর্করা জাতীয় খাদ্য দেহে কাজ করার শক্তি জোগায়। 
- শর্করার মৌলিক উপাদান কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন। 
- উদ্ভিদের মূল, কান্ড, পাতা, ফুল, ফল ও বীজে শর্করা বিভিন্নরূপে থাকে। 
- গ্লুকোজ, ল্যাকটোজ ও শ্বেতসার শর্করার বিভিন্ন রূপমাত্র। 
- গঠন পদ্ধতি অনুসারে শর্করাকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 


 - সাধারণত চাল, গম, আলু থেকে শর্করা বা শ্বেতসার পাওয়া যায়। 
- কাঁচা খাদ্যের শ্বেতসার সহজে হজম হয় না বলে একে চাল, আটা, আলু ইত্যাদির সাথে রান্না করে খাোয়া হয়। 
- খাওয়ার পর শর্করা পরিপাক হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। 
- দ্বি-শর্করা ও বহু শর্করা পরিপাকের মাধ্যমে সরল শর্করায় পরিণত হয়ে দেহে শোষণযোগ্য হয়। 
- কারণ মানবদেহে শুধু সরল শর্করা শোষণ করতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০৩২.
Which hormone raises the level of glucose in the blood?
  1. Insulin
  2. Thyroxine
  3. Glucagon
  4. Adrenaline
  5. Testosterone
সঠিক উত্তর:
Glucagon
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Glucagon
ব্যাখ্যা
• রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে গ্লুকাগন হরমোন তা বৃদ্ধি করে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখে। 

• গ্লাইকোজেনোলাইসিস-
- গ্লাইকোজেনোলাইসিস হলো যকৃত (liver) ও পেশি (muscle) কোষে জমাকৃত গ্লাইকোজেনকে গ্লুকোজে রূপান্তরের প্রক্রিয়া, যা শরীরের শর্করার চাহিদা পূরণের জন্য ঘটে।

• রক্তে যদি শর্করার পরিমাণ কমে যায় তাহলে অগ্ন্যাশয় থেকে গ্লুকাগন হরমোন নিঃসৃত হয়।
- এই হরমোনের ক্রিয়ায় গ্লাইকোজেনোলাইসিস এর মাধ্যমে শর্করা তৈরি হয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক হয়।
- অগ্ন্যাশয় এর আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে ইনসুলিনের পাশাপাশি গ্লুকাগন হরমোনও নিঃসৃত হয়।
- ইনসুলিন রক্তে শর্করা কমাতে কাজ করে এবং গ্লুকাগন রক্তে শর্করা বৃদ্ধি করতে কাজ করে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী, গাজী আজমল।
৩,০৩৩.
হেপাটাইটিস হলে মানুষের শরীরের কোন অংশ ধীরে ধীরে কার্যক্ষমতা হারায়?
  1. পাকস্থলী
  2. লিভার
  3. বৃক্ক
  4. হৃদপিণ্ড
সঠিক উত্তর:
লিভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিভার
ব্যাখ্যা
হেপাটাইটিস:

- হেপাটাইটিস লিভার বা যকৃৎ এর একটি প্রদাহ যা হেপাটাইটিসের ৫টি ভাইরাসের ( এ, বি, সি, ডি এবং ই) মাধ্যমে ঘটে।
- দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে। 
- হেপাটাইটিস লিভার বা যকৃতের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমিয়ে দিতে শুরু করে। 
- হেপাটাইটিসের ভাইরাসগুলোর মধ্যে টাইপ-বি এবং সি মারাত্মক রূপ নেয় এবং লিভার সিরোসিস এবং ক্যান্সারের মতো মারাত্মক আকার ধারণ করে।
- প্রাথমিক অবস্থায় তা চিকিৎসা না করলে গুরুতর হয়ে ওঠে এবং লিভার সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। 

• ভাইরাসের নাম- ধরণ- সংক্রমণের মাধ্যম:

• Hepatities A- RNA - পানি, দূষিত খাবার;
• Hepatities B- DNA- রক্ত, যৌন মাধ্যম;
• Hepatities C- RNA- রক্ত, যৌন মাধ্যম;
• Hepatities D- RNA- রক্ত, যৌন মাধ্যম, লালা;
• Hepatities E- RNA- পানি, দূষিত খাবার।

উৎস: জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র- গাজী আজমল, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,০৩৪.
রক্তের কোন অংশ রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে?
  1. রক্তরস
  2. শ্বেত রক্ত কণিকা
  3. হিমোগ্লোবিন 
  4. লোহিত রক্ত কণিকা
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্ত কণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্ত কণিকা
ব্যাখ্যা

- শ্বেত রক্ত কণিকা (White blood cells) শরীরকে সংক্রমণ এবং রোগ থেকে রক্ষা করার জন্য দায়ী। তারা রোগজীবাণু (যেমন-ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং ছত্রাক) শনাক্ত করে এবং ধ্বংস করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গঠন করে। 

রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা। 
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্ত কণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত হয়। 
- মানুষ ও অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের রক্ত লাল রঙের হয়। লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রং লাল হয়। হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 

রক্তের কাজ: 
- রক্ত দেহের বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে। 
যথা- 
- খাদ্য পরিপাকের পর তার সারাংশ রক্তের সাথে মিশ্রিত হয়। রক্ত সেই খাদ্যসারকে দেহের সকল অংশে নিয়ে যায়। এভাবে জীবকোষগুলো পুষ্টি সাধন করে। 
- রক্তের লোহিত কণিকাস্থ হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনকে ফুসফুস হতে দেহের বিভিন্ন কোষে পৌঁছায় এবং কোষগুলো হতে কার্বন ডাই-অক্সাইড বহন করে এনে ফুসফুসের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেয়। 
- দেহের মধ্যে সর্বদাই দহনক্রিয়া সম্পাদিত হচ্ছে। তাতে বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে যে বিভিন্ন তাপমাত্রার সৃষ্টি হয়, তা রক্তের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র পরিব্যাপ্ত হয় এবং এভাবে দেহে তাপের সমতা রক্ষা পায়। 
- নালীবিহীন গ্রন্থিগুলোতে অন্তঃনিসৃত রস সরাসরি রক্তে মিশে, এ রসকে হরমোন বলে। সঞ্চালিত রক্তের দ্বারা হরমোন প্রয়োজন অনুযায়ী দেহের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ হয়। 
- রক্তের শ্বেত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় প্রবেশকৃত অবৈধ ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে রোগমুক্ত রাখে। 
- দেহের কোনো স্থান কেটে গেলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে, ফলে রক্তপাত বন্ধ হয়। 
- রক্ত দেহের বিভিন্ন প্রকার দুষিত পদার্থ ও বর্জ্য উপাদান ফুসফুস, মূত্রাশয় ও ত্বকে নিয়ে আসে ও সেখান হতে তাদের নিষ্কাশন করতে সহায়তা করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,০৩৫.
শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয় কাকে? 
  1. অ্যারিস্টটল
  2. জোহান মেন্ডেল
  3. ক্যারোলাস লিনিয়াস
  4. জন রে 
সঠিক উত্তর:
ক্যারোলাস লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যারোলাস লিনিয়াস
ব্যাখ্যা

দ্বিপদ নামকরণ: 
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণীদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। 
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিতে জীববিজ্ঞানের একটী স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা। 
- শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যাারিস্টটল, জন রে এবং ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 
- প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস প্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন, যা শ্রেণিবিন্যাসের সর্বনিম্ন মৌলিক একক। 
- তিনি প্রাণিজগতের দ্বিপদ নামকরণ বা দুই অংশবিশিষ্ট নামকরণের নিয়ম প্রবর্তন করেন; তাই শ্রেণিবিন্যাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়, এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম- Homo Sapiens. 
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৩,০৩৬.
পাকস্থলীর প্রাচীরকে হাইড্রোক্লোরিক এসিডের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কে রক্ষা করে? 
  1. গ্যাস্ট্রিন 
  2. মিউসিন 
  3.  লিপেজ 
  4. পেপসিন 
সঠিক উত্তর:
মিউসিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিউসিন 
ব্যাখ্যা

পাকস্থলী: 
-বক্ষ গহ্বরের ডায়াফ্রামের নীচে উদরের উপরের অংশে প্রায় ২৫ সে. মি. লম্বা ও ১৫ সে.মি. চওড়া বাঁকানো থলির মত অংশই পাকস্থলী। 
- একে কয়েকটি অংশে ভাগ করা যায়। যেমন- কার্ডিয়া, ফার্নডাস ও ছোট-বড় বাঁক, পাইরোলাস ও গ্রাসনালি। 
- পাকস্থলীর প্রত্যেক অংশের মিউকোসা স্তরে প্রায় ৪০ মিলিয়ন (৪ কোটি) গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থাকে। এই গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় দু'লিটার গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরিত হয়।
- খাদ্যদ্রব্যকে সাময়িকভাবে জমা রাখে এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 
- হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI) পাকস্থলীতে জীবানুনাশক হিসেবে কাজ করে। 
- মিউসিন হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI)-এর ক্ষতিকর ভূমিকা থেকে পাকস্থলীর প্রাচীরকে রক্ষা করে। 
- গ্যাস্ট্রিক রসের এনজাইমগুলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI)-এর উপস্থিতিতে আমিষ ও স্নেহজাতীয় খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,০৩৭.
কোনটি প্রাণির আচরণবিদ্যা?
  1. Ecology
  2. Ethology
  3. Entomology
  4. Toxicology
সঠিক উত্তর:
Ethology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ethology
ব্যাখ্যা

Ecology (ইকোলজি):
- ইকোলজি হলো জীব ও তাদের পরিবেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের অধ্যয়ন।
- এখানে প্রাণী, উদ্ভিদ ও পরিবেশ একে অপরের উপর কীভাবে প্রভাব ফেলে তা বিশ্লেষণ করা হয়।
- এটি প্রাণীর আচরণ নিয়ে সরাসরি আলোচনা করে না, বরং পরিবেশগত সম্পর্কের উপর জোর দেয়।

• Ethology (ইথোলজি):
- ইথোলজি হলো প্রাণীর আচরণবিদ্যা।
- এতে প্রাণীদের স্বাভাবিক আচরণ, অভ্যাস, প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক আচরণ নিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে গবেষণা করা হয়।
- প্রাণীরা কীভাবে খাদ্য সংগ্রহ করে, শত্রুর হাত থেকে বাঁচে বা দলবদ্ধভাবে বসবাস করে—এসব বিষয় ইথোলজির অন্তর্ভুক্ত।
- তাই প্রাণীর আচরণ অধ্যয়নের জন্য ইথোলজিই সঠিক বিজ্ঞান।

• Entomology (এনটোমোলজি):
- এনটোমোলজি হলো কীটপতঙ্গবিদ্যা।
- এতে পোকামাকড়ের গঠন, জীবনচক্র ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এটি শুধুমাত্র কীটপতঙ্গ সম্পর্কিত বিজ্ঞান, সব প্রাণীর আচরণ নয়।

• Toxicology (টক্সিকোলজি):
- টক্সিকোলজি হলো বিষবিদ্যা।
- এতে বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থ জীবদেহে কী প্রভাব ফেলে তা নিয়ে গবেষণা করা হয়।
- এটি প্রাণীর আচরণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

- সুতরাং, প্রাণীর আচরণ নিয়ে যে বিজ্ঞান আলোচনা করে তা হলো - Ethology (ইথোলজি)।

সূত্র - sciencedirect journal.

৩,০৩৮.
চক্ষু গোলকের সবচেয়ে বাইরের স্তরের নাম কী?
  1. ক) কর্নিয়া
  2. খ) কনজাংটিভা
  3. গ) স্ক্লেরা
  4. ঘ) আইরিশ
সঠিক উত্তর:
গ) স্ক্লেরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্ক্লেরা
ব্যাখ্যা
• চক্ষু গোলকের সবচেয়ে বাইরের স্তরের নাম স্ক্লেরা।

• স্ক্লেরা: স্ক্লেরা চক্ষু গোলকের সবচেয়ে বাইরের স্তর। এ স্তরটি সাদা, শক্ত এবং প্রধানত তন্তুময় যোজক কলা দ্বারা তৈরি। চক্ষু পেশি স্ক্লেরার সাথে সংযুক্ত থাকে।
- কাজ: স্ক্লেরা চোখের আকৃতি রক্ষা করে, চোখকে সংরক্ষণ করে এবং পেশি সংযুক্ত রাখে।

• কর্নিয়া: স্ক্লেরা আবরণীর সম্মুখ ভাগের স্বচ্ছ অংশের নাম কর্ণিয়া।
- কাজ: কর্নিয়ার মাধ্যমে চোখের ভেতরে আলো প্রবেশ করে।

• কনজাংটিভা: কনজাংটিভা নামক একটি পাতলা স্বচ্ছ পর্দা দ্বারা কর্ণিয়া আবৃত থাকে।
- কাজ: কনজাংটিভা চোখে ব্যাকটেরিয়ার প্রবেশ রোধ করে এবং কর্নিয়াকে রক্ষা করে।

• আইরিশ: কর্নিয়ার পিছনের কোরয়েডের বাড়ানো অস্বচ্ছ, মধ্য ছিদ্র যুক্ত ঘন কালো গোলকের পর্দাকে আইরিশ বলে।
- এটি কোরয়েড স্তরের পরিবর্তিত অবস্থা।
- কাজ: চোখে আলোর প্রবেশ বৃত্তাকার ও রেডিয়াল পেশি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০৩৯.
মৌমাছির মধু ঋতু কোনটি?
  1. ক) গ্রীষ্মকাল
  2. খ) শরৎকাল
  3. গ) হেমন্তকাল
  4. ঘ) বসন্তকাল
সঠিক উত্তর:
ঘ) বসন্তকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বসন্তকাল
ব্যাখ্যা
মৌমাছি উপকারী পতঙ্গের মধ্যে অন্যতম। প্রতি চাকে একটি রানী, কয়েকটি পুরুষ মৌমাছি এবং অসংখ্য কর্মী মৌমাছি থাকে। মৌমাছি মূলত বসন্তকালের ফুল হতে মধু আহরণ করে। তাই মৌমাছির মধু ঋতু বলা হয় বসন্তকালকে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,০৪০.
​মানুষের শরীরের ওজনের কত শতাংশ ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত?
  1. ৮%
  2. ৫%
  3. ২%
  4. ১০%
সঠিক উত্তর:
২%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২%
ব্যাখ্যা

ক্যালসিয়াম খনিজ উপাদান: 
- ক্যালসিয়াম (Ca) প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। 
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। রক্ত এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি রয়েছে। 
- ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাধঁকপি এবং ফল। 
- প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 
- হাড় ও দাঁটের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। এছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,০৪১.
কোন উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকে না? 
  1. সুপারি
  2. সাইকাস
  3. আম
  4. জাম
সঠিক উত্তর:
সাইকাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাইকাস
ব্যাখ্যা
সপুষ্পক উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন হয় তাদেরকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: আম, কাঁঠাল, ধান, নারিকেল ইত্যাদি। 
- এদের দেহ সুস্পষ্টভাবে মূল, কাণ্ড এবং পাতা বিভক্ত। 
- ফুলের মাধ্যমে পরাগায়ন প্রক্রিয়ায় এদের বংশবিস্তার ঘটে। 
- বীজের আবরণের উপর নির্ভর করে সপুষ্পক উদ্ভিদকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। নগ্নবীজী উদ্ভিদ: 
- নগ্নবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকে না বলে ফল উৎপন্ন হয় না। তাই বীজ নগ্ন অবস্থায় থাকে। 
উদাহরণ: সাইকাস, পাইনাস ইত্যাদি। 

২। আবৃতবীজী উদ্ভিদ: 
- আবৃতবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় থাকায় ফল উৎপাদন হয় এবং বীজ আবৃত থাকে। 
উদাহরণ: আম, জাম, সুপারি ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৩,০৪২.
সালফারের অভাবে গাছের টিস্যু ধ্বংস বা মারা যাওয়া কী নামে পরিচিত? 
  1. হাইপোক্সিয়া
  2. ফোটোসিন্থেসিস
  3. ডাইব্যাক
  4. ক্লোরোসিস
সঠিক উত্তর:
ডাইব্যাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাইব্যাক
ব্যাখ্যা
সালফার: 
- সালফার (S) উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,০৪৩.
কোনটি রক্তের কাজ নয় -
  1. কলা থেকে ফুসফুসে বর্জ্য পদার্থ গ্রহণ করা
  2. ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে কলাতে খাদ্যের সারবস্তু বহন করা
  3. হরমোন বিতরণ করা
  4. জারক রস বিতরণ করা
সঠিক উত্তর:
জারক রস বিতরণ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জারক রস বিতরণ করা
ব্যাখ্যা
- রক্তের কাজ নয়- জারক রস বিতরণ করা। 

রক্তের উল্লেখযোগ্য কাজ হলো - 
• অক্সিজেন পরিবহন করা, 
• কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ করা, 
• খাদ্যসার পরিবহন করা, 
• তাপের সমতা রক্ষা করা, 
• বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন করা, 
• হরমোন পরিবহন করা, 
• রোগ প্রতিরোধ করা, 
• রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করা ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,০৪৪.
যকৃত থেকে নিঃসৃত রসটির নাম কী? 
  1. পিত্তরস
  2. অ্যামাইলেজ
  3. লাইপেজ
  4. পেপসিন
সঠিক উত্তর:
পিত্তরস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিত্তরস
ব্যাখ্যা
যকৃত: 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। 
- মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডানপাশে গাঢ় বাদামী বর্ণের ত্রিকোণাকার অঙ্গ। 
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে। 
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে। 
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। 
- পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে। 
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়। 

যকৃতের কাজ: 
- যকৃত পিত্তরস তৈরি করে। 
- ক্ষারীয় পিত্তরস পিত্তথলিতে জামা রাখে। 
- পিত্তরসে কোন এনজাইম থাকে না, তাই যকৃত উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজ দেহে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত রাখে। 
- রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি হলে গ্লুকোজ সরবরাহ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- পিত্তরস চর্বি জাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে পরিপাকে সহায়তা করে। 
- অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড যকৃতে আসার পর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রোজনজনিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০৪৫.
লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত এনজাইম কোনটি? 
  1. ট্রিপসিন
  2. লাইপেজ
  3. টায়ালিন
  4. পেপসিন
সঠিক উত্তর:
টায়ালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টায়ালিন
ব্যাখ্যা
মুখবিবর: 
- মুখ পরবর্তী অংশটি মুখবিবর। 
- মুখ বিবরের ঊর্ধ্ব প্রাচীর তালুর অস্থি ও পেশি দিয়ে, সামনের প্রাচীর ঠোঁটের পেশি দিয়ে এবং পার্শ্ব প্রাচীর গালের পেশি দিয়ে গঠিত। 
- তালুর অগ্রভাগ অস্থিনির্মিত এবং শক্ত, পেছনের অংশ মাংসল ও নরম। 
- তালুর পেছনের অংশের মধ্যভাগ থেকে একটি অপেক্ষাকৃত সরু আলজিহবা মুখবিবরে ঝুলে থাকে। 
- মানুষের ঊর্ধ্ব ও নিম্ন চোয়াল দাঁতযুক্ত। 
- এছাড়া মুখবিবরে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি থাকে। 
- নিম্নে চোয়ালের অস্থির সাথে জিহ্বাযুক্ত থাকে। 
- পৃষ্ঠতলের উপর থাকে স্বাদকোরক এগুলো বিভিন্ন রাসায়নিক বস্তুর প্রতি সংবেদনশীল। 
- জিহ্বার অগ্রভাগ মিষ্টি, দুই পার্শ্ব নোনা, পশ্চাৎ ভাগের দুই পার্শ্ব টক এবং পেছনের দিক তিক্ত স্বাদ গ্রহণ করে। 

কাজ: 
- দাঁত খাদ্য দ্রব্যকে কাটা, ছেঁড়া ও পেষণে সাহায্য করে। 
- জিহ্বা খাদ্য দ্রব্যের স্বাদ গ্রহণ করে এবং পেষণের সময় লালারস মিশ্রিত করে খাদ্য দ্রব্যকে পিচ্ছিল করে পেছনে ঠেলে দেয়। 
- লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত “মিউসিন” খাদ্যকে পিচ্ছিল করে আর লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত 'টায়ালিন ও মল্টেজ' এনজাইম খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০৪৬.
Which is the largest animal in the world?
  1. ক) Giraffe
  2. খ) African elephant
  3. গ) Antarctic blue whale
  4. ঘ) Hippopotamus
সঠিক উত্তর:
গ) Antarctic blue whale
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Antarctic blue whale
ব্যাখ্যা
According to the World Wildlife Foundation, the largest animal in the world is the Antarctic blue whale. It can weigh up to 400,000 pounds and stretch an astonishing 98 feet in length.

The Antarctic blue whale’s heart is equivalent in size to a compact car, and the amount of noise it makes as it travels through the ocean is louder than a jet engine.

Source: worldwildlife.org, usatoday.com
৩,০৪৭.
হৃদপিন্ডের ক্ষেত্রে কোনটি সত্য নয়?
  1. ক) হৃদপিন্ডের প্রসারনকে বলা হয় ডায়াস্টোল।
  2. খ) হৃদপিণ্ড যখন প্রসারিত হয় তখন রক্ত চাপের ফলে ধমনীতে প্রবেশ করে।
  3. গ) হৃদপিণ্ড অনবরত সংকোচন-প্রসারনের মাধ্যমে রক্ত প্রবাহকে ক্রমাগত সঞ্চালন করে।
  4. ঘ) হৃদপিণ্ড প্রসারিত হলে রক্ত ধমনী থেকে হৃদপিণ্ডে ফিরে আসে।
সঠিক উত্তর:
খ) হৃদপিণ্ড যখন প্রসারিত হয় তখন রক্ত চাপের ফলে ধমনীতে প্রবেশ করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হৃদপিণ্ড যখন প্রসারিত হয় তখন রক্ত চাপের ফলে ধমনীতে প্রবেশ করে।
ব্যাখ্যা
হৃৎপিন্ড:

- সিস্টোলিক চাপ বলতে বোঝায় হৃৎপিন্ডের সংকোচন চাপ।
- হৃদপিন্ডের প্রসারনকে বলা হয় ডায়াস্টোল এবং সংকোচন কে বলা হয় সিস্টোল।
- হৃদপিণ্ড অনবরত সংকোচন-প্রসারনের মাধ্যমে রক্ত প্রবাহকে ক্রমাগত সঞ্চালন করে।
- হৃদপিণ্ড যখন সংকুচিত হয় তখন রক্ত চাপের ফলে ধমনীতে প্রবেশ করে।
- আবার প্রসারিত হলে রক্ত ধমনী থেকে হৃদপিন্ডে ফিরে আসে।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০৪৮.
মানবদেহে কত ধরনের অ্যাামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে? 
  1. ১২ ধরনের
  2. ১৫ ধরনের
  3. ১৮ ধরনের
  4. ২০ ধরনের
সঠিক উত্তর:
২০ ধরনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০ ধরনের
ব্যাখ্যা
আমিষ: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। 
যথা: প্রাণিজ ও উদ্ভিজ। 
- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। 
- আর উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি,বাদাম ইত্যাদি। 
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। 
- দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,০৪৯.
ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ কী?
  1. খাদ্য প্রস্তুত করা
  2. খাদ্য সঞ্চয় করা
  3. উদ্ভিদকে রঙিন ও আকর্ষণীয় করা 
  4. ক্লোরোফিল উৎপাদন করা
সঠিক উত্তর:
উদ্ভিদকে রঙিন ও আকর্ষণীয় করা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্ভিদকে রঙিন ও আকর্ষণীয় করা 
ব্যাখ্যা

- ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ হচ্ছে ফুল, ফল এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশকে ক্লোরোফিল (সবুজ রঙ) ব্যতীত অন্যান্য উজ্জ্বল রঙ (যেমন- হলুদ, কমলা, লাল) প্রদান করা। এই রঙিন বৈশিষ্ট্য প্রাণী ও পোকামাকড়কে আকর্ষণ করে, যা পরাগায়ন এবং বীজের বিস্তারে সহায়তা করে। 

প্লাস্টিড (Plastid): 
- বিজ্ঞানী আর্নস্ট হেকেল 1866 সালে উদ্ভিদ কোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু প্লাস্টিড আবিষ্কার করেন। 
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় এবং আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা। 
- প্লাস্টিড তিন ধরনের। 
যথা- 
১। ক্লোরোপ্লাস্ট (Chloroplast): 
- সবুজ রঙের প্লাস্টিডকে ক্লোরোপ্লাস্ট বলে। পাতা, কচি কাণ্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে এদের পাওয়া যায়। 
- প্লাস্টিডের গ্রানা (grana) অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে (stroma) অবস্থিত উৎসেচক সমষ্টি, বায়ু থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং কোষের ভিতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে। 
- এই প্লাস্টিডে ক্লোরোফিল থাকে, তাই এদের সবুজ দেখায়। এছাড়া এতে ক্যারোটিনয়েড নামে এক ধরনের রঞ্জকও থাকে। 

২। ক্রোমোপ্লাস্ট (Chromoplast): 
- এগুলো রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল (হলুদ), ক্যারোটিন (কমলা), ফাইকোএরিথ্রিন (লাল), ফাইকোসায়ানিন (নীল) ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনোটিকে হলুদ, কোনোটিকে নীল আবার কোনোটিকে লাল দেখায়। 
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। রঙিন ফুল, পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। 
- ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা এদের প্রধান কাজ। এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে। 

৩। লিউকোপ্লাস্ট (Leucoplast): 
- যেসব প্লাস্টিডে কোনো রঞ্জক পদার্থ থাকে না, তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। 
- যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না (যেমন: মূল, ভ্রুণ, জননকোষ ইত্যাদি) সেখানে এদের পাওয়া যায়। 
- এদের প্রধান কাজ খাদ্য সঞ্চয় করা। আলোর সংস্পর্শে এলে লিউকোপ্লাস্ট ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,০৫০.
নিচের কোন অণুজীবগুলো মানুষের শ্বসনতন্ত্রে সংক্রমণ বা রোগ সৃষ্টি করতে পারে?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ছত্রাক
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• শ্বসন অঙ্গের সমস্যা:  
- মানুষের শ্বসন অঙ্গ (যেমন- নাসারন্ধ্র, শ্বাসনালি, ফুসফুস) ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক- এই তিন ধরণের অণুজীব দ্বারাই সংক্রমিত হতে পারে।
- উদাহরণস্বরূপ, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের কারণে, নিউমোনিয়া ব্যাকটেরিয়ার কারণে এবং অ্যাসপারজিলোসিস ছত্রাকের কারণে হতে পারে।

• সাইনুসাইটিস (Sinusitis): 
- আমাদের করোটি ও মুখমণ্ডলের অস্থিগুলোর ভেতরে কিছু বায়ুপূর্ণ ফাঁকা স্থান রয়েছে যেগুলোকে সাইনাস বলে। 
- মানুষের মুখমণ্ডলে ৪ জোড়া সাইনাস আছে। 
যথা- 
(ক) ম্যাক্সিলারি সাইনাস, 
(খ) ফ্রন্টাল সাইনাস, 
(গ) এথময়েড সাইনাস এবং 
(ঘ) স্কেনয়েড সাইনাস। 

- এসকল সাইনাস মিউকাস পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে এবং পিচ্ছিল মিউকাস সৃষ্টির মাধ্যমে নাসিকা পথকে সিক্ত ও জীবাণুমুক্ত রাখে। 
- ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাক দ্বারা সাইনাস আক্রান্ত হলে যে প্রদাহের সৃষ্টি হয় তাকে সাইনুসাইটিস বলে। 
- সাইনুসাইটিস ৮ সপ্তাহের কম সময় থাকলে তাকে একিউট (Acute) সাইনুসাইটিস এবং ৩ মাসের অধিককাল থাকলে তাকে ক্রনিক (Chronic) সাইনুসাইটিস বলে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,০৫১.
আমিষের প্রধান কাজ কী? 
  1. শক্তি উৎপাদন করা
  2. রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করা
  3. মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করা
  4. দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করা
সঠিক উত্তর:
দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করা
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধাণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা - 
১। আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে। 
২। শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। 
৩। স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। 

- এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন- 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
৫। খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
৬। পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 

- খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে যা কোনো পুষ্টি না জোগালেও এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি খাদ্য উপাদান।  
৭। রাফেজ: রাফেজ বা খাদ্য আঁশ (Fibre) পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,০৫২.
নিচের কোনটিকে বায়ুদূষণ নির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. শৈবাল
  2. মস
  3. ফার্ন
  4. লাইকেন
সঠিক উত্তর:
লাইকেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইকেন
ব্যাখ্যা
• লাইকেনকে বায়ুদূষণ নির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

• লাইকেন:
-  লাইকেন হলো ছত্রাক এবং একাকোষী শৈবাল বা সায়ানোব্যাকটেরিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহাবস্থানের ফলে সৃষ্ট বিশেষ প্রকৃতির থ্যালয়েড গঠন।
-  লাইকেন স্বয়ংসম্পূর্ণ, বিষমপৃষ্ঠ, থ্যালয়েড, অপুষ্পক উদ্ভিদ।
- সারা পৃথিবীতে প্রায় ৪০০টি গণ এবং ১৭,০০০ লাইকেন প্রজাতির সন্ধান পাওয়া

• পরিবেশ দূষণের নির্দেশক হিসেবে লাইকেন:
-   লাইকেন বাতাস বা বৃষ্টির পানি থেকে অতিদ্রুত তার প্রয়োজনীয় বস্তু সংগ্রহ করতে পারে।
-  একইভাবে সালফার ডাই-অক্সাইড, হেভি মেটাল, রেডিও অ্যাকটিভ বস্তুও দ্রুত শোষণ করে থাকে।
-  এসব দূষিত বস্তু শোষণের ফলে এদের মৃত্যু ঘটে। কাজেই বায়ু দূষণের একটি নির্দেশক (indicator) হিসেবে লাইকেনকে ধরা হয়।
-  অর্থাৎ বায়ু দূষণ অঞ্চলে লাইকেন কম পাওয়া যাবে।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৩,০৫৩.
কোন গ্রন্থি “মাস্টার গ্রন্থি” নামে পরিচিত? 
  1. থাইরয়েড
  2. পিটুইটারি
  3. অ্যাড্রিনাল
  4. পাইনিয়াল
সঠিক উত্তর:
পিটুইটারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিটুইটারি
ব্যাখ্যা

• মানবদেহে বিভিন্ন অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হরমোন নিঃসরণ করে শরীরের বৃদ্ধি, বিপাক, প্রজনন ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

- এই সব গ্রন্থির মধ্যে পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary gland) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি অন্য সব অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। তাই একে বলা হয় “Master Gland” বা “মাস্টার গ্রন্থি।”

অবস্থান:
পিটুইটারি গ্রন্থি অবস্থিত মস্তিষ্কের Hypothalamus-এর নিচে, Sella turcica নামক হাড়ের খাপে।
এটি আকারে ছোট, মটরদানার মতো।
 
পিটুইটারি গ্রন্থি দুটি অংশে বিভক্ত:
- অ্যান্টেরিয়র লোব (Anterior lobe)। 
- পোস্টেরিয়র লোব (Posterior lobe)। 
এই দুটি অংশ থেকে বিভিন্ন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা অন্য গ্রন্থিগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রধান হরমোন ও কাজ:
- গ্রোথ হরমোন (GH): শরীরের বৃদ্ধি ও হাড়ের বিকাশে সাহায্য করে।
- থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন (TSH): থাইরয়েড গ্রন্থিকে সক্রিয় করে।
- অ্যাড্রেনোকর্টিকোট্রপিক হরমোন (ACTH): অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি নিয়ন্ত্রণ করে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

৩,০৫৪.
নিচের কোনটি ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. প্রধানত দ্বি-ভাজন (Binary fission) পদ্ধতিতে সংখ্যাবৃদ্ধি করে
  2. এককোষী প্রোক্যারিওটিক জীব
  3. কোষীয় অঙ্গাণু যেমন রাইবোসোম, সাইটোপ্লাজম, কোষপ্রাচীর থাকে
  4. এরা বাধ্যতামূলক পরজীবী
সঠিক উত্তর:
এরা বাধ্যতামূলক পরজীবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরা বাধ্যতামূলক পরজীবী
ব্যাখ্যা

ভাইরাস হলো বাধ্যতামূলক পরজীবী, কারণ তারা পোষক কোষ ছাড়া সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে না।

ব্যাকটেরিয়া:
-ব্যাকটেরিয়া হলো আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত, অসবুজ, এককোষী অণুবীক্ষণিক জীব।
- বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক সর্ব প্রথম ব্যাকটেরিয়া দেখতে পান।
- ব্যাকটেরিয়া প্রধানত দ্বি-ভাজন (Binary fission) পদ্ধতিতে সংখ্যাবৃদ্ধি করে, যা একটি অযৌন প্রজনন পদ্ধতি।
- ব্যাকটেরিয়া এককোষী প্রোক্যারিওটিক জীব অর্থাৎ এদের সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না।
- ব্যাকটেরিয়া কোষে রাইবোসোম, সাইটোপ্লাজম, কোষপ্রাচীর ইত্যাদি বিদ্যমান থাকে।
- ব্যাকটেরিয়া কোষ গোলাকার, দণ্ডাকার, কমা আকার, প্যাঁচানো ইত্যাদি নানা ধরণের হতে পারে।

• কোষের আকৃতি অনুসারে ব্যাকটেরিয়াকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা- (১) কক্কাস, (২) ব্যাসিলাস, (৩) স্পাইরিলাম এবং (৪) কমা আকৃতি

ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা:
- মৃত জীবদেহ ও আবর্জনা পঁচাতে সাহায্য করে।
একমাত্র ব্যাকটেরিয়াই প্রকৃতি থেকে মাটিতে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।
-পাট থেকে আঁশ ছাড়াতে ব্যাকটেরিয়া সাহায্য করে।
- দই তৈরি করতেও ব্যাকটেরিয়ার সাহায্য নিতে হয়।
- বিভিন্ন জীবন রক্ষাকারী এন্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি হয়।
- ব্যাকটেরিয়া জীন প্রকৌশলের মূল ভিত্তি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

৩,০৫৫.
কোন জাতীয় খাদ্যের বিপাকের ফলে মানবদেহে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য সৃষ্টি হয়?
  1. শর্করা
  2. আমিষ
  3. স্নেহ
  4. রাফেজ
সঠিক উত্তর:
আমিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমিষ
ব্যাখ্যা
• আমিষ জাতীয় খাদ্যের বিপাকের ফলে মানবদেহে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য সৃষ্টি হয়। 

• রেচন:
- বিপাকের ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্যপদার্থ যে প্রক্রিয়ায় দেহ থেকে দ্রুত ও নিয়মিত নিষ্কাশিত হয় তাকে রেচন বলা হয়। 

• বৃক্ক:
- মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গকে বলা হয় বৃক্ক। 

• বৃক্কের কাজ:
- রক্ত থেকে নাইট্রোজেনযুক্ত বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করা।
- দেহে ও রক্তে পানির ভারসাম্য রক্ষা করা।
- রক্তে বিভিন্ন লবণ, অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করা।
- হরমোন ও এনজাইম নিঃসরণ করা।
- দেহের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা।
- ভিটামিন ডি ও লোহিত রক্ত কণিকা উৎপাদনে অংশগ্রহণ করা।

• রেচনে বৃক্কের ভূমিকা:
- বৃক্ক প্রধানত নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশন করে।
- আমিষ জাতীয় খাদ্য বিপাকের ফলে দেহে অ্যামোনিয়া, ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য সৃষ্টি হয়।
- এগুলো বিষাক্ত ও দেহের জন্য ক্ষতিকর। তাই এসব রেচন পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশন করা অত্যাবশ্যক।
- বৃক্ক এসব রেচন পদার্থ দেহ থেকে অপসারণ করে দেহকে সুস্থ রাখে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল। 
৩,০৫৬.
রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে খাদ্যের কোন উপাদান?
  1. শর্করা
  2. ভিটামিন
  3. আমিষ
  4. স্নেহ
সঠিক উত্তর:
আমিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমিষ
ব্যাখ্যা
• আমিষ রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে।

• রক্ত:
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা।
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা।
- দেহের অস্থি, পেশি, বিভিন্ন অঙ্গতন্ত্র, রক্তকণিকা ইত্যাদি অধিকাংশই আমিষ দ্বারা তৈরি।
- আমিষ দেহের এন্টিবডি উৎপাদনে মূখ্য ভূমিকা পালন করে।
- এটি রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরিতেও সাহায্য করে।

- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের।
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে।
- তবে কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,০৫৭.
গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ক) কান্ড শক্ত
  2. খ) গোড়া থেকেই শাখা-প্রশাখা বের হয়
  3. গ) উদ্ভিদগুলো দেখতে অনেকটা ঝোপের মতো দেখায়
  4. ঘ) উপরের সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো 
ব্যাখ্যা
যেসব উদ্ভিদের কান্ড শক্ত কিন্তু গুঁড়িহীন অর্থাৎ ক্ষুদ্র কান্ড বিশিষ্ট এবং মাটির সামান্য উপরে ঝোপের মতো শাখাপ্রশাখা সৃষ্টি করে, সেসব উদ্ভিদকে গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ বলে। যেমন – জবা, রঙ্গন, গোলাপ, বেলি, জুঁই,কাগজি লেবু, গন্ধরাজ ইত্যাদি।
গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য:
এ জাতীয় উদ্ভিদ সাধারণত মাঝারি আকারে হয়ে থাকে।
এদের কান্ড শক্ত।
এদের শেকড় মাটির বেশি গভীরে যায় না।
এদের গোড়া থেকেই শাখা-প্রশাখা বের হয়।
এ উদ্ভিদগুলো দেখতে অনেকটা ঝোপের মতো দেখায়।
কিছু কিছু গুল্ম উদ্ভিদ ফুল ও ফল প্রদান করে।
এগুলো অত্যন্ত সহিষ্ণু এবং এরা প্রায় সব ধরণের মাটিতে জন্মায়। উদাহরণ: জবা, রঙ্গন, গোলাপ, লেবু ইত্যাদি।

source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম
৩,০৫৮.
কোনটিকে প্রোটিন উৎপাদনের কারখানা বলা হয়?
  1. নিউক্লিয়াস
  2. রাইবোজোম
  3. ক্লোরোপ্লাস্ট
  4. মাইটোকন্ড্রিয়া
সঠিক উত্তর:
রাইবোজোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইবোজোম
ব্যাখ্যা
রাইবোজোম: 
- রাইবোজোমের প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ করা। 
- তাই একে বলা হয় প্রোটিন ফ্যাক্টরি বা প্রোটিন উৎপাদনের কারখানা। 

নিউক্লিয়াস: 
- নিউক্লিয়াস কোষের সব ধরনের জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- তাই একে কোষের মস্তিষ্ক, কোষের প্রাণ বা প্রাণকেন্দ্র বলা হয়। 

মাইটোকন্ড্রিয়া: 
- কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের 'পাওয়ার হাউস' বা 'শক্তিঘর' বলা হয়। 

ক্লোরোপ্লাস্ট: 
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষে সাহায্য করে বলে 'কোষের রান্নাঘর' বা 'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' বলে। 
- এটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গানু। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৩,০৫৯.
গর্ভাবস্থায় রক্ত স্বল্পতা দেখা দিলে কী ধরনের ট্যাবলেট খেতে হবে?
  1. ভিটামিন
  2. আয়রন ও ক্যালসিয়াম
  3. জিঙ্ক
  4. আয়োডিন
সঠিক উত্তর:
আয়রন ও ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়রন ও ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
রক্ত স্বল্পতা:

- অনেক সময় গর্ভাবস্থায় রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয়।
- এ সমস্যা সমাধানে করণীয় দিক-
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রথম মাস থেকে ফলিক এসিড এবং ৩ মাসের পর থেকে আয়রন ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খেতে হবে
- আয়রনযুক্ত খাবার যেমন- কচু শাক, কলিজা, তেঁতুল, তরমুজ, ডিম ইত্যাদি খেতে হবে।
- ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন- আমলকি, লেবু, কাঁচামরিচ, পেয়ারা, আনারস এবং কাঁচা ফলমূল খেতে হবে।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০৬০.
চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন কোনটি?
  1. A
  2. C
  3. B6
  4. B12
সঠিক উত্তর:
A
উত্তর
সঠিক উত্তর:
A
ব্যাখ্যা

• ভিটামিনের শ্রেণিবিভাগ:
- এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত ভিটামিনসমূহকে তাদের দ্রবণ ক্ষমতার উপর নির্ভর করে ২টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:

১. চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন:
- যে ভিটামিনসমূহ তেল/চর্বিতে দ্রবীভূত হয় কিন্তু পানিতে অদ্রবণীয় থাকে তাদেরকে চর্বিতে দ্রবণীয় (fat soluble) ভিটামিন বলা হয়।
- এরা তেল এবং চর্বির সাথে মিশে দেহে শোষিত হয়।
- তেল/চর্বি বা স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলো হলো: ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই এবং ভিটামিন কে।

২. পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন:
- যে ভিটামিনগুলো পানিতে দ্রবীভূত হয় কিন্তু তেল বা চর্বিতে অদ্রবীভূত থাকে তাদের পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (Water soluble vitamin) বলে।
- এ ভিটামিনগুলো হলো বিভিন্ন প্রকারের বি ভিটামিন ও ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড।
- বি ভিটামিনগুলোকে একত্রে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স বলে।
- ভিটামিন বি১ বা থায়ামিন, ভিটামিন বি২ বা রিবোফ্লাভিন, ভিটামিন বি৫ বা নায়াসিন, ভিটামিন বি৬ বা পিরিডক্সিন, ভিটামিন বি১২ বা কোবালামিন, ফলিক এসিড, পেন্টোথেনিক এসিড, বায়োটিন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বি ভিটামিন। এগুলো মানবদেহের জন্য আবশ্যক।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,০৬১.
ভাইরাস একটি-
  1. এককোষী জীব
  2. দ্বিকোষী জীব
  3. বহুকোষী জীব
  4. কোষহীন জীব
সঠিক উত্তর:
কোষহীন জীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোষহীন জীব
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের জড় বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস অকোষীয়।
- এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবােসােম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
- এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
- এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
- ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
- জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে।

ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
- পােষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
- এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
- নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 
 
তথ্যসূত্র - উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০৬২.
কোনটি একবীজপত্রী উদ্ভিদ নয়?
  1. ভুট্টা
  2. নারিকেল
  3. গম
  4. কাঁঠাল
সঠিক উত্তর:
কাঁঠাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁঠাল
ব্যাখ্যা
একবীজপত্রী উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদের বীজে একটি মাত্র বীজপত্র থাকে, তাদের একবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: ধান, গম, ভুট্টা, নারিকেল, খেজুর ইত্যাদি। 

দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ: 
- যেসব উদ্ভিদের বীজে দুটি বীজপত্র থাকে, তাদের দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে। 
যেমন: আম, জাম, কাঁঠাল, ছোলা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৩,০৬৩.
কোন পর্বের প্রাণীরা চলাচলে অক্ষম?
  1. ক) পরিফেরা
  2. খ) আর্থোপোডা
  3. গ) নেমাটোডা
  4. ঘ) কর্ডাটা
সঠিক উত্তর:
ক) পরিফেরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পরিফেরা
ব্যাখ্যা

পরিফেরা পর্বের প্রাণীর বৈশিষ্ট্যঃ
১। এদের দেহ কোষ দুই স্তরে বিন্যস্ত। এরা সরলতম বহুকোষী প্রাণী।
২। এদের দেহপ্রাচীর অস্টিয়া নামক অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত।
৩। এদের দেহে বিশেষ ধরনের নালীতন্ত্র বিদ্যমান, এর সাহায্যে অভ্যন্তরীণ পরিবহন ঘটে।
৪। এই পর্বের প্রাণীদের কোন অঙ্গ নেই ফলে এরা চলতে পারে না।
৫। এদের পরিপাক অন্তঃকোষীয়।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,০৬৪.
কোনটি ঋণাত্মক আন্তঃক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) শোষণ
  2. খ) প্রতিযোগিতা
  3. গ) অ্যান্টিবায়োসিস
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

ঋনাত্মক আন্তঃক্রিয়া : যে আন্তঃসম্পর্কে দুটি জীবের একটি অথবা উভয়েই ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাকে ঋনাত্মক আন্তঃক্রিয়া বলে।
ঋনাত্মক আন্তঃক্রিয়াকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন- শোষণ, প্রতিযোগিতা, অ্যান্টিবায়োসিস।

শোষণ : এক্ষেত্রে একটি জীব অন্য জীবকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে নিজের অধিকার ভোগ করে।
যেমন- স্বর্ণলতা উদ্ভিদ হস্টোরিয়া নামক চোষক অঙ্গের মাধ্যমে আশ্রয়দাতা উদ্ভিদ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে।

প্রতিযোগিতা : কোন নির্দিষ্ট স্থানে আলো, বাতাস, পানি ও খাদ্যের জন্য জীবসমূহের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। এ প্রতিযোগিতায় যারা সবল তারাই টিকে থাকে।

অ্যান্টিবায়োসিস : একটি জীব কর্তৃক সৃষ্ট জৈব রাসায়নিক পদার্থের কারণে যদি অন্য জীবের বৃদ্ধি ও বিকাশ আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে বাধাগ্রস্থ হয় অথবা মৃত্যু ঘটে তখন সে প্রক্রিয়াকে অ্যান্টিবায়োসিস বলে। অণুজীবের মধ্যে এ ধরনের সম্পর্ক অনেক বেশি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,০৬৫.
নিডারিয়া পর্বের প্রাণি কোনটি?
  1. ক) জোঁক
  2. খ) হাইড্রা
  3. গ) শামুক
  4. ঘ) গোলকৃমি
সঠিক উত্তর:
খ) হাইড্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাইড্রা
ব্যাখ্যা
প্রজাপতি, চিংড়ি, আরশোলা, কাঁকড়া ইত্যাদি আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণি। এই পর্বটি প্রাণিজগতের সবচেয়ে বৃহৎ পর্ব৷
নিডারিয়া পর্বের প্রাণি হলো- হাইড্রা, অবেলিয়া৷
অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণি হলো- কেঁচো, জোঁক৷
নেমাটোডা পর্বের প্রাণি- গোলকৃমি, ফাইলেরিয়া কৃমি ইত্যাদি৷
মলাস্কা পর্বের প্রাণি - শামুক, ঝিনুক।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৩,০৬৬.
সিস্টোলিক চাপ কোন অবস্থায় সর্বাধিক থাকে? 
  1. ধমনী সংকোচনে
  2. হৃৎপিণ্ডের সংকোচনে
  3. হৃৎপিণ্ডের নিলয় প্রসারণে
  4. রক্তনালিতে চাপ শূন্য হওয়ার সময়
সঠিক উত্তর:
হৃৎপিণ্ডের সংকোচনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৃৎপিণ্ডের সংকোচনে
ব্যাখ্যা

রক্তচাপ (Blood Pressure): 
- রক্তপ্রবাহের সময় ধমনির গায়ে যে চাপ সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তচাপ বলে। 
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন বা সিস্টোল অবস্থায় ধমনির গায়ে রক্তচাপের মাত্রা সর্বাধিক থাকে, একে সিস্টোলিক চাপ (Systolic Pressure) বলে। 
- হৃৎপিণ্ডের (প্রকৃতপক্ষে নিলয়ের) প্রসারণ বা ডায়াস্টোল অবস্থায় রক্তচাপ সবচেয়ে কম থাকে, একে ডায়াস্টোলিক চাপ (Diastolic Pressure) বলে। 

আদর্শ রক্তচাপ: 
- চিকিৎসকদের মতে, পরিণত বয়সে একজন মানুষের আদর্শ রক্তচাপ (Blood pressure) সাধারণত ১২০/৮০ মিলিমিটার মানের কাছাকাছি। 
- রক্তচাপকে দুটি সংখ্যায় উল্লেখ করা হয় যেখানে প্রথমটি উচ্চমান এবং দ্বিতীয়টি নিম্নমান। 
- রক্তের উচ্চ চাপকে সিস্টোলিক (Systolic) চাপ বলে, যার আদর্শ মান ১২০ মিলিমিটারের নিচে। 
- নিম্নচাপকে ডায়াস্টোলিক (Diastolic) চাপ বলে, এই চাপটির আদর্শ মান ৮০ মিলিমিটারের নিচে। এই চাপটি হৃৎপিণ্ডের দুটি বিটের মাঝামাঝি সময় রক্তনালিতে সৃষ্টি হয়। 
- দুধরনের রক্তচাপের পার্থক্যকে ধমনিঘাত বা নাড়িঘাত চাপ (Pulse pressure) বলা হয়। 
- সাধারণত সুস্থ অবস্থায় হাতের কব্জিতে রেট তথা হৃৎস্পন্দনের মান প্রতি মিনিটে ৬০-১০০ । 
- হাতের কব্জিতে হালকা করে চাপ দিয়ে ধরে পালস রেট বের করা যায়। 
- স্ফিগমোম্যানোমিটার (Sphygmomanometer) বা সংক্ষেপে বিপি যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ মাপা যায়। 
- এই যন্ত্র দিয়ে ডায়াস্টোলিক ও সিস্টোলিক চাপ দেখে রক্তচাপ নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,০৬৭.
কোনটি টেরিডোফাইটা উদ্ভিদ? 
  1. Chara
  2. Spirogyra
  3. Psilotum
  4. Agaricus
সঠিক উত্তর:
Psilotum
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Psilotum
ব্যাখ্যা
টেরিডোফাইটা: 
- গ্রিক শব্দ Pteron (পক্ষল বা ডানা) এবং Phyton (উদ্ভিদ) হতে Pteridophyta শব্দের উৎপত্তি। 
- এরা হলো ডানাবিশিষ্ট উদ্ভিদ। 
- মূল, কান্ড ও পাতা দ্বারা গঠিত এবং পরিবহন টিস্যুবিশিষ্ট অপুষ্পক স্বভোজী উদ্ভিদগুলো টেরিডোফাইটা নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীতে প্রায় দশ হাজার প্রজাতির টেরিডোফাইট উদ্ভিদ রয়েছে। 
- বাংলাদেশ থেকে ৪১ গোত্রের ১৯৫ প্রজাতির টেরিডোফাইট নথিভুক্ত করা হয়েছে। 
- টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো- 
• Pteris, 
Psilotum
• Lycopodium, 
• Equisetum ইত্যাদি। 

টেরিডোফাইটা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য: 
১। এদের প্রধান দেহটি স্পোরোফাইটিক এবং অপুষ্পক। 
২। এরা অবীজী উদ্ভিদ। 
৩। দেহ মূল, কান্ড ও পাতার ন্যায় অংশে বিভক্ত। 
৪। এদের দেহে পরিবহন টিস্যু থাকে। 
৫। জননাঙ্গ বহুকোষী এবং চতুর্দিকে বন্ধ্যা কোষের আবরণ থাকে। 
৬। গ্যামিটোফাইট থ্যালাস প্রকৃতির এবং মোটামুটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র। এ পর্যায়কে প্রোথ্যালাস বলে। 
৭। পুংগ্যামিটোফাইট সচল এবং অ্যান্থেরিডিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৮। স্ত্রীগ্যামিটোফাইট নিশ্চল এবং আর্কিগোনিয়ামে উৎপন্ন হয়। 
৯। ভ্রূণ সৃষ্টি হয়। 
১০। অধিকাংশ সদস্যে কান্ড রাইজোমে পরিণত হয়। 
১১। এদের অস্থানিক মূল বিদ্যমান। 
১২। জীবনচক্রে সুস্পষ্ট হেটারোমরফিক জনুক্রম বিদ্যমান। 
১৩। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পোরোফিল ঘন সন্নিবেশিত হয়ে স্ট্রোবিলাস গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০৬৮.
কোন উদ্ভিদের মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে?
  1. ফার্ন
  2. ছত্রাক
  3. শৈবাল
  4. মস
সঠিক উত্তর:
মস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মস
ব্যাখ্যা
• মসবর্গের উদ্ভিদের মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে।

• মস:

- মস বর্গের উদ্ভিদে মূলের পরিবর্তে চুলের মত সূক্ষ্ম রাইজয়েড জন্মে।
- মূলের কাজ রাইজয়েড দিয়ে সম্পন্ন হয়।
- ক্লোরোফিল থাকার জন্য এরা নিজের খাদ্য নিজে প্রস্তুত করতে পারে।
- এরা সবুজ ও স্বভোজী।
- মস জাতীয় উদ্ভিদে কান্ড ও পাতা রয়েছে।
- তবে সাধারণ উদ্ভিদের ন্যায় এদের মূল নেই।
- স্যাঁতসেঁতে জায়গায় এদের দেখা যায়।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• ফার্ন:
ফার্ন বর্গের উদ্ভিদের দেহকে মূল, কান্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। এরা নিজের খাদ্য নিজে প্রস্তুত করতে পারে। টেরিস বা ঢেঁকিশাক একটি ফার্ন জাতীয় উদ্ভিদ।

• ছত্রাক:
পঁচা স্যাঁতসেঁতে জায়গায় ভ্যাপসা আবহাওয়ায় ব্যাঙের ছাতা বা ছত্রাক জন্মাতে দেখা যায়। এই ব্যাঙের ছাতার আরেকটি নাম হলো এগারিকাস। বাসি, পঁচা রুটির উপর তুলার আঁশের মত এক প্রকার বস্তু জন্মাতে দেখা যায়। একে রুটির ছত্রাক বা মিউকর বলে। এসব উদ্ভিদ ক্লোরোফিলবিহীন। এ কারণে এদের রঙ সাদা।

• শৈবাল:
আবদ্ধ জলাশয়, জমে থাকা বৃষ্টির পানি, নর্দমা, কল পাড়ের স্যাঁতসেতে মাটিতে সবুজ শেওলা জন্মে থাকে। এসব শেওলা জাতীয় উদ্ভিদকে শৈবাল বলা হয়। এদেরদেহে ক্লোরোফিল থাকে তাই নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করতে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০৬৯.
নিচের কোনটি বায়ুদূষণ নির্দেশক?
  1. লাইকেন
  2. মস
  3. ফার্ন
  4. শৈবাল
সঠিক উত্তর:
লাইকেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইকেন
ব্যাখ্যা
লাইকেন:
-  লাইকেন হলো ছত্রাক এবং একাকোষী শৈবাল বা সায়ানোব্যাকটেরিয়ার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহাবস্থানের ফলে সৃষ্ট বিশেষ প্রকৃতির থ্যালয়েড গঠন।
-  লাইকেন স্বয়ংসম্পূর্ণ, বিষমপৃষ্ঠ, থ্যালয়েড, অপুষ্পক উদ্ভিদ।
- সারা পৃথিবীতে প্রায় ৪০০টি গণ এবং ১৭,০০০ লাইকেন প্রজাতির সন্ধান পাওয়া

পরিবেশ দূষণের নির্দেশক হিসেবে লাইকেন:
-   লাইকেন বাতাস বা বৃষ্টির পানি থেকে অতিদ্রুত তার প্রয়োজনীয় বস্তু সংগ্রহ করতে পারে। একইভাবে সালফার ডাই-অক্সাইড, হেভি মেটাল, রেডিও অ্যাকটিভ বস্তুও দ্রুত শোষণ করে থাকে।
-  এসব দূষিত বস্তু শোষণের ফলে এদের মৃত্যু ঘটে। কাজেই বায়ু দূষণের একটি নির্দেশক (indicator) হিসেবে লাইকেনকে ধরা হয়।
অর্থাৎ বায়ু দূষণ অঞ্চলে লাইকেন কম পাওয়া যাবে।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৩,০৭০.
সালোকসংশ্লেষণে কোনটির প্রভাব নেই?
  1. পাতার বয়স
  2. খনিজ পদার্থ
  3. এনজাইম
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সালোকসংশ্লেষণের প্রভাবক:
পাতার বয়স ও সংখ্যা:
- একেবারে কচি পাতা এবং একেবারে বয়স্ক পাতায় ক্লোরোফিলের পরিমাণ কম থাকে বলে সালোকসংশ্লেষণ কম হয়।
- বয়স বাড়ার সাথে সাথে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যাও বেশি হয়।
- মধ্যবয়সি পাতায় সবচেয়ে বেশি সালোকসংশ্লেষণ ঘটে।
- পাতার সংখ্যা বেশি হলে সালোকসংশ্লেষণ বেশি হয়।

খনিজ পদার্থ:
- ক্লোরোফিলের প্রধান উপকরণ হচ্ছে নাইট্রোজেন এবং ম্যাগনেসিয়াম।
- লোহার অনুপস্থিতিতে পাতা ক্লোরোফিল সংশ্লেষণ করতে পারে না, ফলে পাতা হলুদ হয়ে যায়।
- কাজেই মাটিতে এসব খনিজের অভাব হলে সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়।

 এনজাইম: সালোকসংশ্লেষণের জন্য বিভিন্ন ধরনের এনজাইমের প্রয়োজন হয়।

সালোকসংশ্লেষণের অন্যান্য প্রভাবক: আলো, তাপমাত্রা, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অক্সিজেন, পানি, রাসায়নিক পদার্থ, ক্লোরোফিল, শর্করার পরিমাণ, পটাশিয়াম ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,০৭১.
কোনটির কারণে ধানের ব্লাস্ট রোগ হয়?
  1. ছত্রাক
  2. ভাইরাস
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. ব্যাক্টেরিওফাজ
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক
ব্যাখ্যা
ধানের রোগ: 
১.বাদামি দাগ রোগ: 
- ধানের বাদামি দাগ রোগের কারণ বাইপোলারিস ওরাইজি (Bipolaris oryzae) নামক ছত্রাক। 

২. ব্লাস্ট রোগ (Blast): 
- ধানের ব্লাস্ট রোগের কারণ পাইরিকুলারিয়াগ্রিসিয়া (Pyricularia grisea) নামক ছত্রাক। 

৩. খোল পচা রোগ (Sheath rot): 
- ধানের খোল পচা রোগের কারণ স্যারোক্লেডিয়াম ওরাইজি (Sarocladium oryzae) নামক ছত্রাক। 

৪. ব্যাকটেরিয়াজনিত পোড়া রোগ (Bacterial Blight): 
- জ্যানথোমোনাস অরাইজি পিভি অরাইজি (Xanthomonas oryzae pv.oryzae) এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া। 

৫. টুংরো (Tungro): 
- টুংরো রোগের কারণ রাইস টুংরো ভাইরাস (Rice Tungro Virus) নামক এক ধরনের অতি সূক্ষ্ম জীবাণু বা ভাইরাস। 

৬. উফরা রোগ (ডাক পোড়া) (Ufra): 
- উফরা রোগ (ডাক পোড়া) রোগের কারণ ডাইটিলেংকাস এ্যাংগাসটাস (Ditylenchus angustus) নামক এক ধরনের কৃমি। 

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS) ওয়েবসাইট।
৩,০৭২.
রক্তে শ্বেত রক্ত কণিকার পরিমাণ বেড়ে গেলে কোন রোগ হয়?
  1. থ্যালাসেমিয়া
  2. লিউকেমিয়া
  3. অ্যানিমিয়া
  4. থ্রম্বোসিস
সঠিক উত্তর:
লিউকেমিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিউকেমিয়া
ব্যাখ্যা
শ্বেত রক্ত কণিকা: 
- মানবদেহে কয়েক প্রকার শ্বেত রক্ত কণিকা থাকে। 
- এদের আকার অনিয়মিত, বড় এবং সংখ্যায় লোহিত রক্ত কণিকার চেয়ে কম। 
- প্রতি কিউবিক মিলিমিটারে ৫ থেকে ১০ হাজার শ্বেত রক্ত কণিকা থাকে। 
- লাল অস্থিমজ্জা ও লসিকাগ্রন্থিতে শ্বেত কণিকা তৈরি হয়। 
- এরা বর্ণহীন কিন্তু এদের নিউক্লিয়াস আছে। 
- এদের আকার পরিবর্তন হতে পারে এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারে। 
- এরা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ক্ষণপদ সৃষ্টির মাধ্যমে রোগ জীবাণু ভক্ষণ করতে পারে। 
- রক্তে এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে লিউকেমিয়া রোগ হয়। 
- শ্বেত রক্ত কণিকা দেহে প্রহরীর মতো কাজ করে রোগ জীবাণু ধ্বংস করে এবং অ্যান্টিবডি তৈরি করে। 
এছাড়া, থ্যালাসেমিয়া একটি রক্ত সম্পর্কিত জেনেটিক ডিসঅর্ডার।
- অ্যানিমিয়া হলো রক্তশূন্যতা এবং 
- থ্রম্বোসিস হলো রক্ত জমাট বাঁধা।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০৭৩.
মানুষের দেহের রক্তরসে শতকরা কত ভাগ পানি থাকে?
  1. ৯০
  2. ৮০
  3. ৭৫
  4. ৭০
সঠিক উত্তর:
৯০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯০
ব্যাখ্যা
• রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লালবর্ণের তরল যোজক টিস্যু।
- ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়।
- উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে।
- রক্তের উপাদান দুটি। যথা-
১. রক্তরস:
- রক্তরস (Plasma) রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ।
- এর প্রায় ৯১-৯২% অংশ পানি এবং ৮-৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 
[বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণির তথ্য অনুযায়ী পানি ৯০%]

২. রক্তকণিকা:
- রক্তকণিকা তিন ধরনের। যথা- লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা।
- লোহিত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে, যার জন্য রক্ত লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে অক্সিজেন পরিবহন করে।
- শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রকৃতিগত আত্মরক্ষায় অংশ নেয়।
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
৩,০৭৪.
সর্বপ্রথম 'জেনেটিক্স' শব্দের প্রচলন করেন কে? 
  1. বেটসন
  2. মেন্ডেল
  3. ডারউইন
  4. মর্গান
সঠিক উত্তর:
বেটসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেটসন
ব্যাখ্যা
- উইলিয়াম বেটসন ১৯০৫ সালে সর্বপ্রথম Genetics শব্দটি প্রচলন করেন। 
- অস্ট্রিয়াবাসী ধর্মযাজক গ্রেগর জোহান মেন্ডেল জিনতত্ত্বের জনক হিসেবে পরিচিত। 
- গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের মৃত্যুর ১৬ বছর পর ১৯০০ সালে নেদারল্যান্ডসের উদ্ভিদবিজ্ঞানী হিউগো ডে সি, জার্মান উদ্ভিদবিজ্ঞানী অধ্যাপক কার্ল করেন্স, অস্ট্রিয়ার কৃষিবিজ্ঞানী এরিক শ্চেমেক পৃথকভাবে কিন্তু একই সময়ে মেন্ডেলের গবেষণার ফলাফল পুনরাবিষ্কার করেন। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,০৭৫.
মাইটোকন্ড্রিয়ায় কত ভাগ প্রোটিন?
  1. ৭০%
  2. ৭২%
  3. ৭৩%
  4. ৮০%
সঠিক উত্তর:
৭৩%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৩%
ব্যাখ্যা
মাইটোকন্ড্রিয়া: 
- মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গানু। 
- শ্বসনের মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন করে। 
- মাইটোকন্ড্রিয়া ৭৩% প্রোটিন, ২৫-৩০% লিপিড, সামান্য পরিমাণে ডিএনএ, আরএনএ, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে। 
- শক্তি উৎপাদনের সকল প্রক্রিয়া এর ভিতরে ঘটে থাকে বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে 'পাওয়ার হাউস' বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,০৭৬.
ব্যাকটেরিয়ার অযৌন জনন প্রক্রিয়া কোনটি?
  1. বাইনারি ফিউশন
  2. ফিশন
  3. ফিউশন
  4. বাইনারি ফিশন
সঠিক উত্তর:
বাইনারি ফিশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাইনারি ফিশন
ব্যাখ্যা
- ব্যাকটেরিয়ার জনন : ব্যাকটেরিয়া দুটি প্রক্রিয়ায় জনন সম্পন্ন করে। যেমন- অযৌন জনন এবং যৌন জনন।
- অযৌন জনন: ব্যাকটেরিয়া সাধারণত অযৌন প্রক্রিয়ায় দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন পদ্ধতিতে জনন সম্পন্ন করে।
- দ্বিভাজন পদ্ধতি দ্বিভাজন ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাবৃদ্ধির স্বাভাবিক, অত্যন্ত সরল এবং দ্রুততম জনন প্রক্রিয়া।
- দ্বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি ব্যাকটেরিয়াম কোষ বিভক্ত হয়ে দুটি কোষে পরিণত হয়।

উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩,০৭৭.
কোনটির দেহে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম নেই?
  1. শৈবাল
  2. ছত্রাক
  3. ভাইরাস
  4. ব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাইরাস
ব্যাখ্যা

- ভাইরাস হলো একটি অকোষীয় (acellular) অণুজীব। এদের দেহে কোনো কোষপ্রাচীর, প্লাজমালেমা, সুসংগঠিত নিউক্লিয়াস কিংবা সাইটোপ্লাজম থাকে না। ভাইরাসের দেহ মূলত কেবল দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। যেমন- বাইরের একটি আমিষ বা প্রোটিন আবরণ (যাকে ক্যাপসিড বলা হয়) এবং ভেতরের নিউক্লিক অ্যাসিড (ডিএনএ অথবা আরএনএ)। 

ভাইরাস: 
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ বিষ। আদিকালে রোগ সৃষ্টিকারী যে কোনো বিষাক্ত পদার্থকেই ভাইরাস বলা হত। এরা অকোষীয় এবং আকারে এতই ছোট যে খালি চোখেতো দূরের কথা, সাধারণ অণুবীক্ষণ যন্ত্রেও দেখা যায় না। এদেরকে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখতে হয়। 
- ভাইরাস নিউক্লিক অ্যাসিড (যা কেন্দ্রে থাকে) ও প্রোটিন (যা আবরণ হিসেবে থাকে) দিয়ে গঠিত অতি-আণুবীক্ষণিক বস্তু যা জীবদেহের অভ্যন্তরে সক্রিয় হয় এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে তথায় রোগ সৃষ্টি করে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে। 
- উদ্ভিদ, প্রাণী, ব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, অ্যাকটিনোমাইসিটিস প্রভৃতি জীবদেহের সজীব কোষে ভাইরাস সক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করে। আবার বায়ু, মাটি, পানি ইত্যাদি জড় মাধ্যমে ভাইরাস নিষ্ক্রিয় অবস্থায় অবস্থান করে। 

ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে। আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান।  যেমন- 
ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
• ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
• পোষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
• এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
• ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
• নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 
• ভাইরাস সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক পরজীবী। 

ভাইরাসে জড় বৈশিষ্ট্য: 
• ভাইরাস অকোষীয়। এদের সাইটোপ্লাজম, কোষঝিল্লী, কোষপ্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
• ভাইরাসের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
• ভাইরাসের কোনো জৈবিক কার্যকলাপ যেমন- প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
• ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
• জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

শৈবাল: 
- শৈবাল সমাঙ্গদেহী বিভাগের অন্তর্গত ক্লোরোফিল সমন্বিত এক প্রকার প্রাচীনতম নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদ। শৈবালের দেহ থ্যালাসের ন্যায় কিন্তু দেহকোষে ক্লোরোফিল থাকাতে এরা স্বভোজী। এদের দেহকোষে সুগঠিত ও স্বতন্ত্র নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া এবং অন্যান্য কোষ অঙ্গাণু থাকে। 

ছত্রাক: 
- ফানজাই (Fungi) এর বাংলা হলো ছত্রাক, ক্লোরোফিলবিহীন অসবুজ সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদগুলোই ছত্রাক নামে পরিচিত। এরা মৃতজীবী, পরজীবী বা মিথোজীবী হিসেবে বাস করে। এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও বিভিন্ন অঙ্গাণু থাকে। এদের কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে গঠিত। 

ব্যাকটেরিয়া:  
- ব্যাকটেরিয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এরা আণুবীক্ষণিক জীব এবং এককোষী, এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক। তাই এদের কোষে রাইবোসোম ছাড়া অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন- নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোস্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,০৭৮.
হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে-
  1. আয়োডিন
  2. আয়রন
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস
ব্যাখ্যা
- ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে। 
- হাড়ের ক্ষয় কমাতে সাহায্য করে। 
- রক্ত তঞ্চন, পেশী সংকোচন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে। 
- ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস খাদ্যের উৎস: ম্যাকরেল মাছ, স্যামন মাছ, ডিমের সাদা অংশ, সয়া মিল্ক, দুধ, মাশরুম, চিজ, কমলালেবুর রস ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০৭৯.
নিচের কোনটি ভাইরাসের দেহে বিদ্যমান? 
  1. নিউক্লিয়াস
  2. রাইবােসােম
  3. সাইটোপ্লাজম
  4. নিউক্লিক অ্যাসিড
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিক অ্যাসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউক্লিক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে, আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। 
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 

ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
- পােষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
- এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
- নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 

ভাইরাসের জড় বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস অকোষীয় তাই এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবােসােম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
- এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
- এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
- ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
- জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০৮০.
বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে মৎস্য চাষ পদ্ধতিকে কী বলে?
  1. এপিকালচার
  2. সেরিকালচার
  3. পিসিকালচার
  4. হর্টিকালচার
সঠিক উত্তর:
পিসিকালচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিসিকালচার
ব্যাখ্যা

পিসিকালচার (Pisciculture):
- বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে মৎস্য চাষ তথা মৎস্য পালন, আহরণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতিকে পিসিকালচার বলে।
- মাছ ছাড়াও বিভিন্ন শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া ইত্যাদি অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পন্ন প্রাণীদের চাষ পালন, আহরণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতিকে পিসিকালচার বলে।

অন্যান্য অপসনসমূহ, 
এপিকালচার (Apiculture) — মৌমাছি পালন।
সেরিকালচার (Sericulture) — রেশম উৎপাদনের জন্য রেশমকীট পালন।
হর্টিকালচার (Horticulture) — ফল, ফুল, শাকসবজির চাষ।

তথ্যসূত্র - কৃষিশিক্ষা প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

৩,০৮১.
ভিলাই পোষ্টিকতন্ত্রের কোথায় থাকে?
  1. পাকস্থলি
  2. ক্ষুদ্রান্ত্র
  3. বৃহদান্ত্র
  4. পিত্তথলি
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্রান্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষুদ্রান্ত্র
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্রান্ত্র (Small Intestine):
- পাকস্থলী থেকে বৃহদন্ত্র পর্যন্ত বিস্তৃত লম্বা, প্যাঁচানো নলটিকে ক্ষুদ্রান্ড বলে।
- ক্ষুদ্রান্ত্র আবার তিনটি অংশে বিভক্ত, ডিওডেনাম, জেজুনাম ও ইলিয়াম।
- ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামে পিত্তথলি থেকে পিত্তনালি এবং অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয় নালি এসে মিলিত হয়।
- পিত্তনালির মাধ্যমে যকৃতের পিত্তরস এবং অগ্ন্যাশয়ের অগ্ন্যাশয় রস ডিওডেনামে এসে পৌঁছে।
- ক্ষুদ্রান্ত্রের গায়ে আত্মিক গ্রন্থিও থাকে।
- ক্ষুদ্রান্ত্রের অন্তঃপ্রাচীরে আঙুলের মতো প্রক্ষেপিত অংশ থাকে, এদের ভিলাই বলে
- ভিলাইপরিপাককৃত খাদ্য উপাদান শোষণ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,০৮২.
নিম্নলিখিত কোনটি প্রোটিস্টা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়? 
  1. অ্যামিবা
  2. প্যারামেসিয়াম
  3. শৈবাল
  4. ব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা

- ব্যাকটেরিয়া প্রোটিস্টা (Protista) রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়; এটি মনেরা (Monera) রাজ্যের সদস্য।

রাজ্য-2: প্রোটিস্টা (Protista): 

- এই প্রোটিস্টা রাজ্যের কিছু বৈশিষ্ট্য নিম্নে দেওয়া হলো-
• এরা এককোষী বা বহুকোষী, একক বা কলোনিয়াল (দলবদ্ধ) বা ফিলামেন্টাস এবং সুগঠিত নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট। 
• কোষে ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা পরিবৃত্ত থাকে। 
• ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA এবং প্রোটিন থাকে। 
• কোষে সকল ধরনের অঙ্গাণু থাকে। 
• খাদ্যগ্রহণ শোষণ বা ফটোসিনথেটিক পদ্ধতিতে ঘটে। 
• মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন প্রজনন ঘটে এবং কনজুগেশনের মাধ্যমে অর্থাৎ জৈবনিকভাবে ভিন্ন কিন্তু গঠনগতভাবে এক, এরূপ দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন প্রজনন ঘটে।
• কোনো ভ্রূণ গঠিত হয় না। 
উদাহরণ: অ্যামিবা, প্যারামেসিয়াম, এককোষী ও বহুকোষী শৈবাল। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং লাইভ লেকচার।

৩,০৮৩.
ফিল্টার কোন প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করে থাকে?
  1. ক) ক্লোরিনেশন
  2. খ) স্ফুটন
  3. গ) পরিস্রাবণ
  4. ঘ) পাতন
সঠিক উত্তর:
গ) পরিস্রাবণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পরিস্রাবণ
ব্যাখ্যা
সাধারণত যেসব প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয়, সেগুলাে হলাে পরিস্রাবণ, ক্লোরিনেশন, স্ফুটন, পাতন ইত্যাদি। নিচে এই প্রক্রিয়াগুলাে বর্ণনা করা হলােঃ

পরিস্রাবণঃ পরিস্রাবণ হলাে তরল আর কঠিন পদার্থের মিশ্রণ থেকে কঠিন পদার্থকে আলাদা করার একটি প্রক্রিয়া। পানিতে অদ্রবণীয় ধুলা-বালির কণা থেকে শুরু করে নানারকম ময়লা-আবর্জনার কণা থাকে। এদেরকে পরিস্রাবণ করে পানি থেকে দূর করা হয়। এটি করার জন্য পানিকে বালির স্তরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করা হয়, তখন পানিতে অদ্রবণীয় ময়লার কণাগুলাে বালির স্তরে আটকে যায়। বালির স্তর ছাড়াও খুব সূক্ষ্মভাবে তৈরি কাপড় ব্যবহার করেও পরিস্রাবণ করা যায়। বর্তমান সময়ে আমাদের অনেকের বাসায় আমরা যেসব ফিল্টার ব্যবহার করি, সেখানে আরাে উন্নতমানের সামগ্রী দিয়ে পরিস্রাবণ করা হয়।

ক্লোরিনেশনঃ যদি পানিতে রােগ সৃষ্টিকারী জীবাণু থাকে, তবে তা অবশ্যই দূর করতে হবে এবং সেটি করা হয় জীবাণুনাশক ব্যবহার করে। নানারকম জীবাণুনাশক পানি বিশুদ্ধ করার কাজে ব্যবহার করা হয়। এদের মাঝে অন্যতম হচ্ছে ক্লোরিন গ্যাস। এছাড়া ব্লিচিং পাউডার এবং আরও কিছু পদার্থ যার মাঝে ক্লোরিন আছে এবং জীবাণু ধ্বংস করতে পারে, সেগুলাে ব্যবহার করা হয়।

স্ফুটনঃ পানিকে খুব ভালােভাবে ফুটালে এতে উপস্থিত জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। প্রশ্ন হতে পারে, জীবাণুমুক্ত করার জন্য কতক্ষণ পানি ফুটাতে হয়? স্ফুটন শুরু হওয়ার পর ১৫-২০ মিনিট ফুটালে সেই পানি জীবাণুমুক্ত হয়। বাসা-বাড়িতে খাওয়ার জন্য এটি একটি সহজ এবং সাশ্রয়ী প্রক্রিয়া।

পাতনঃ যখন খুব বিশুদ্ধ পানির প্রয়ােজন হয়, তখন পাতন প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয়। যেমন: ঔষধ তৈরির জন্য, পরীক্ষাগারে রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পুরোপুরি বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন হয়। এই প্রক্রিয়ায় একটি পাত্রে পানি নিয়ে তাপ দিয়ে সেটাকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। পরে ঐ বাষ্পকে আবার ঘনীভূত করে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধ করা পানিতে অন্য পদার্থ থাকার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,০৮৪.
অ্যান্টিবডি কে গঠন করে? 
  1. নিউট্রাফিল
  2. বেসোফিল
  3. মনোসাইট
  4. লিম্ফোসাইট
সঠিক উত্তর:
লিম্ফোসাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিম্ফোসাইট
ব্যাখ্যা
অ্যাগ্রানুলোসাইট: 
- এ ধরনের শ্বেত রক্তকোষের সাইটোপ্লাজম দানাহীন ও স্বচ্ছ। 
- অ্যাগ্রানুলোসাইট শ্বেত রক্তকোষ দুরকমের; যথা- লিম্ফোসাইট ও মনোসাইট। 
- দেহের লিম্ফনোড, টনসিল, প্লিহা ইত্যাদি অংশে এরা তৈরি হয়। 
- লিম্ফোসাইটগুলো বড় নিউক্লিয়াসযুক্ত ছোট কোষ। 
- মনোসাইট ছোট, ডিম্বাকার ও বৃক্কাকার নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট বড় রক্তকোষ। 
- লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি গঠন করে এবং এই অ্যান্টিবডির দ্বারা দেহে প্রবেশ করা রোগজীবাণু ধ্বংস করে। 
- এভাবে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 
- মনোসাইট ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় রোগজীবাণুকে ধ্বংস করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,০৮৫.
মস্তিষ্কের ক্ষমতা ক্ষয় পেতে থাকে স্নায়ু কোষের-
  1. এক-চতুর্থাংশ ধ্বংস হয়ে গেলে
  2. অর্ধেক ধ্বংস হয়ে গেলে
  3. এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে গেলে
  4. এক-চতুর্থাংশ বেড়ে গেলে
সঠিক উত্তর:
এক-চতুর্থাংশ ধ্বংস হয়ে গেলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক-চতুর্থাংশ ধ্বংস হয়ে গেলে
ব্যাখ্যা
স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,০৮৬.
পাস্তুরাইজেশন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন কে?
  1. ক) থমাস হান্ট মর্গান
  2. খ) থিওডোর সোয়ান
  3. গ) স্ট্যানলি বি. প্রুজিনার
  4. ঘ) লুই পাস্তুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লুই পাস্তুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লুই পাস্তুর
ব্যাখ্যা

- লুই পাস্তুর মুরগির কলেরা, গবাদি পশুর অ্যানথ্রাক্স, জলাতঙ্কের ভ্যাক্সিন, পাস্তুরাইজেশন পদ্ধতি প্রভৃতি উদ্ভাবন করেন।
- থমাস হান্ট মর্গান বংশগতির সঞ্চারণে ক্রোমোজোমের ভূমিকা আবিষ্কার করেন।
- স্ট্যানলি বি. প্রুজিনার প্রথম প্রিয়ন আবিষ্কার করেন।
- থিওডোর সোয়ান কোষ মতবাদ বর্ণনা করেন।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৩,০৮৭.
প্রতিসাম্যতার ভিত্তিতে 'অ্যামিবা' কী ধরনের প্রাণী?
  1. কেন্দ্রীয় প্রতিসাম্য
  2. অরীয় প্রতিসাম্য
  3. অপ্রতিসাম্য
  4. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য
সঠিক উত্তর:
অপ্রতিসাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপ্রতিসাম্য
ব্যাখ্যা

• অ্যামিবা একটি এককোষী প্রাণী যার কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই। ক্ষণপদের সাহায্যে এটি প্রতিনিয়ত আকার পরিবর্তন করে বলে একে কোনো অক্ষ বা তল বরাবর দুটি সমান অংশে ভাগ করা যায় না, তাই এটি অপ্রতিসাম্য প্রাণীর উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

• অ্যানিমেল ডাইভারসিটি বা প্রাণি বৈচিত্র্য:
- প্রকৃতির বিভিন্ন অঞ্চলে সাফল্যমণ্ডিতভাবে বংশবিস্তার করে টিকে থাকার উদ্দেশ্যে প্রাণি প্রজাতিগুলোর বহিঃঅঙ্গসংস্থান ও অন্তঃঅঙ্গসংস্থান, আকার, আকৃতি, প্রকৃতি ইত্যাদি প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন করে অভিযোজিত হওয়ার ফলে প্রাণীদের মধ্যে যে বৈচিত্র্যময়তার উদ্ভব ঘটে, তাকে প্রাণিবৈচিত্র্য বলে।

প্রতিসাম্য:
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে।
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
ক. গোলীয় প্রতিসাম্য:
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus).
খ. অরীয় প্রতিসাম্য:
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে খ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus).
গ. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য:
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa).
ঘ. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য:
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica).
ঙ. অপ্রতিসাম্য:
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus).

 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩,০৮৮.
খাদ্য উৎপাদক জীবকে কী বলা হয়?
  1. ক) ইকোটোন
  2. খ) অটোট্রফ
  3. গ) হেটেরোট্রফ
  4. ঘ) ফটোট্রফ
সঠিক উত্তর:
খ) অটোট্রফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অটোট্রফ
ব্যাখ্যা
বাস্তুতন্ত্র (Ecology)
- বাস্তুতন্ত্র (Ecology) হলো জীব, পরিবেশ এবং জীবগুলি একে অপরের সাথে এবং তাদের পরিবেশের সাথে কীভাবে যোগাযোগ করে সে সম্পর্কে অধ্যয়ন।
- বাস্তুতন্ত্রের জীবজ উপাদান ৩ ধরনের। যথা- উৎপাদক, খাদক ও বিয়োজক। 
- বিয়োজক হচ্ছে ব্যাক্টেরিয়া, ছত্রাক ইত্যাদি অতি ক্ষুদ্র জীব বা অনুজীব।
- উৎপাদক হচ্ছে যারা নিজের খাদ্য নিজে উৎপাদন করে, যেমন- সবুজ উদ্ভিদ এবং খাদক খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সবুজ উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল।
- খাদ্য উৎপাদক জীবকে অটোট্রফ (Autotroph) বলা হয়।
- দুটি ভিন্ন বাস্তুতন্ত্র যে অঞ্চল বরাবর মিলিত হয়, সেই অঞ্চলকেই বলা হয় ইকোটোন।
- খাদ্য উৎপাদক স্বভোজী অর্থাৎ অটোট্রফ অথবা তৃণভোজী জীবকে যারা খাদ্যরূপে তাদেরকে পরভোজী জীব (Heterotroph) বলা হয়।

সূত্র:
১. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. রসায়নবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, হাজারী ও নাগ।
৩,০৮৯.
ব্যাকটেরিওফাজ মূলত কী?
  1. ব্যাকটেরিয়ার একটি প্রজাতি
  2. ব্যাকটেরিয়া-ভক্ষক ভাইরাস
  3. ফাঙ্গাস
  4. প্রোটোজোয়া
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া-ভক্ষক ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া-ভক্ষক ভাইরাস
ব্যাখ্যা
• ব্যাকটেরিওফাজ হলো ব্যাকটেরিয়া-ভক্ষক ভাইরাস। 

• ব্যাকটেরিওফায:

- যে সমস্ত ভাইরাস ঠাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে এবং ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে দেয় তাদেরকে ব্যাকটেরিওফায বলে।

- ফায (Phage) একটি গ্রিক শব্দ যার অর্থ হলো 'to eat' বা ভক্ষণ। প্রকৃত অর্থে ফায হলো ঐ সব ভাইরাস যারা জীবদেহে অবস্থিত রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে দেয়।
 - ফায- এর জেনেটিক বস্তু ব্যাকটেরিয়ার দেহে প্রবেশ করে এবং একসময় ব্যাকটেরিয়া কোষটি ধ্বংস হয়ে যায়।
- ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী দ্য হেরেলি ফেলিক্স ( d' Herelle Felix) এ ভাইরাসকে ব্যাকটেরিওফায বা ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস বা ফায নামে অভিহিত করেন।
- বিজ্ঞানী Twort ব্যাকটেরিওফায ভাইরাস তথা T2 ভাইরাস আবিষ্কার করেন। 

• কার্যপদ্ধতি:
- ব্যাকটেরিয়ার দেহে আটকে যায়।
- DNA পোষক ব্যাকটেরিয়ার ভিতরে অনুপ্রবেশ করে।
-  ব্যাকটেরিয়ার কোষ ব্যবহার করে নিজের কপি তৈরি করে।
- শেষে ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীরকে বিগলিত (Lysis) করে বাইরে বেরিয়ে আসে।

তথ্যসূত্র:
-জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৩,০৯০.
কোনটি পৌষ্টিক গ্রন্থি নয়?
  1. ক) লালা গ্রন্থি
  2. খ) যকৃৎ
  3. গ) অগ্ন্যাশয়
  4. ঘ) পিট্যুইটারী গ্রন্থি
সঠিক উত্তর:
ঘ) পিট্যুইটারী গ্রন্থি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পিট্যুইটারী গ্রন্থি
ব্যাখ্যা
পরিপাকতন্ত্রের প্রধান কাজ খাদ্য পরিপাক, পরিপাককৃত খাদ্য শোষণের পর অপাচ্য অংশ সাময়িকভাবে জমা রাখা এবং দেহ থেকে নিষ্কাশন করা। এ তন্ত্রের লালাগ্রন্থি, যকৃত এবং অগ্ন্যাশয় নামে পৌষ্টিক গ্রন্থিসমূহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় রস নিঃসৃত করে পরিপাকে অংশ নেয়। পিট্যুইটারী, থাইরয়েড, প্যারাথাইরয়েড, সুপ্রারেনাল ইত্যাদি অন্তক্ষরা গ্রন্থি। সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৩,০৯১.
ভিটামিন B12 কমপ্লেক্স এর অপর নাম কী?
  1. থায়ামিন
  2. রাইবোফ্ল্যাভিন
  3. ফলিক এসিড
  4. কোবালামিন
সঠিক উত্তর:
কোবালামিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোবালামিন
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন B কমপ্লেক্স
- থায়ামিন (B1) - দেহে থায়ামিনের চরম অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়
- রাইবোফ্ল্যাভিন (B2) - এর অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা দেয়, মুখে ও জিভে ঘা হয়, ত্বক খসখসে হয়।
- নিয়াসিন বা নিকোটিনিক এসিড (B3) - অভাবে পেলেগ্রা রোগ হয়। 
- পিরিডক্সিন (B6) - এর অভাবে অ্যানিমিয়া রোগ দেখা দেয়।।
- ফলিক এসিড (B9) - এর অভাবে অ্যানিমিয়া রোগ দেখা দিতে পারে।
- কোবালামিন বা সায়ানোকোবালামিন (B12) - এর অভাবে রক্তশূন্যতা রোগ দেখা দেয়।

সূত্র- ৯ম-১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
৩,০৯২.
ইকোলজিক্যাল পিরামিডের সর্বনিম্ন স্তরে থাকে-
  1. প্রাইমারি খাদক
  2. টারশিয়ারি খাদক
  3. উৎপাদক
  4. সর্বোচ্চ খাদক
সঠিক উত্তর:
উৎপাদক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎপাদক
ব্যাখ্যা
ইকোলজিক্যাল পিরামিড : বিভিন্ন ইকোসিস্টেমের খাদ্য শৃঙ্খলের বিন্যাস সম্পর্কিত পিরামিড আকৃতির নকশাকে ইকোলজিক্যাল পিরামিড বলে।
সাধারণত একটি ইকোসিস্টেমে উৎপাদকের তুলনায় প্রাথমিক খাদকের সংখ্যা কম থাকে। আবার প্রাথমিক খাদকের তুলনায় সেকেন্ডারি খাদকের সংখ্যা কম থাকে। সেকেন্ডারি খাদকের তুলনায় টারসিয়ারি খাদকের সংখ্যা আরও কম থাকে।
খাদ্য স্তরগুলোর মধ্যকার এরূপ সম্পর্ক নিয়ে নকশা আঁকলে একটি পিরামিডের ন্যায় চিত্র পাওয়া যাবে।



সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০৯৩.
মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য কোন ভ্যাকসিন দেওয়া হয়?
  1. Bacillus Calmette Guerin
  2. Tetanus toxoid
  3. Measles vaccine
  4. Zero dose
সঠিক উত্তর:
Tetanus toxoid
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Tetanus toxoid
ব্যাখ্যা
• মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 

• ভ্যাকসিনেশন:

- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী বিভিন্ন রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০৯৪.
ফানজাই (Fungi)-এর কোষপ্রাচীর প্রধানত কোন পদার্থ দিয়ে গঠিত?
  1. প্রোটিন
  2. সেলুলোজ
  3. কাইটিন
  4. লিপিড
সঠিক উত্তর:
কাইটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাইটিন
ব্যাখ্যা

- ফানজাই (Fungi) বা ছত্রাকের কোষপ্রাচীর প্রধানত কাইটিন নামক একটি শক্ত পলিস্যাকারাইড দিয়ে গঠিত। কিছু ক্ষেত্রে গ্লুকান এবং গ্লাইকোপ্রোটিনও থাকতে পারে। এই কাইটিন উপাদানটি ছত্রাকের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীকোষ থেকে এদের আলাদা করে। 

ফানজাই (Fungi): 

- ফানজাই এর বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নে দেওয়া হলো- 
- এরা অধিকাংশই স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী।  
- এদের দেহ এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম (সরু সুতার মতো অংশ) দিয়ে গঠিত। 
- এইগুলোর নিউক্লিয়াস সুগঠিত। 
- এদের কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত। 
- এদের খাদ্যগ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে। 
- এদের ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত। 
- এরা হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবৃদ্ধি ঘটে। 
উদাহরণ: ইস্ট, Penicillium, মাশরুম ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,০৯৫.
পানির জীব হয়েও বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়-
  1. পটকা মাছ
  2. হাঙ্গর
  3. ডলফিন
  4. জেলী ফিস
সঠিক উত্তর:
ডলফিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডলফিন
ব্যাখ্যা
- ডলফিন (শুশুক) ও তিমি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণি। 
- কিন্তু নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য ডলফিন বা শুশুক মাছ মানুষের মতই বাতাস ব্যবহার করে। 
- পানিতে এই প্রাণিগুলো নিঃশ্বাস নিতে পারে না, কারণ এগুলোর ফুলকা নেই। 

- Whales and dolphins are mammals and breathe air into their lungs, just like we do. 
- They cannot breathe underwater like fish can as they do not have gills. They breathe through nostrils, called a blowhole, located right on top of their heads. 
 - This allows them to take breaths by exposing just the top of their heads to the air while they are swimming or resting under the water. 
- After each breath, the blowhole is sealed tightly by strong muscles that surround it, so that water cannot get into the whale or dolphin’s lungs. 

উৎস: uk.whales.org
৩,০৯৬.
জীবদেহের দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যসমূহকে কী বলে?
  1. ক) অ্যালিল
  2. খ) জিনোটাইপ
  3. গ) ফিনোটাইপ
  4. ঘ) লোকাস
সঠিক উত্তর:
গ) ফিনোটাইপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফিনোটাইপ
ব্যাখ্যা
লোকাস- ক্রোমোসোমে একটি জিনের অবস্থানকে লোকাস বলে।

অ্যালিল, অ্যালিলোমর্ফ : ক্রোমোসোমের একই লোকাসে অবস্থানকারী জিনগুলোকে পরস্পরের অ্যালিল বলা হয়। জিনগুলোর একত্রে অবস্থান করাকে অ্যালিলোমর্ফ বলে। মনে করি, মানুষে বাদামী চোখের রং এর জন্য দায়ী জিন B ও নীল চোখের রং এর জন্য দায়ী জিন b পরস্পরের অ্যালিল।

জিনোটাইপ : জীবদেহের দৃশ্যমান অথবা সুপ্ত বেশিষ্ট্যগুলোর নিয়ন্ত্রক জিনসমূহের গঠনকে জিনোটাইপ বলে।
মনেকরি, মটরশুঁটি গাছের লম্বা কান্ডের জন্য T জিন এবং বামন কান্ডের জন্য t জিন দায়ী।
অতএব TT, tt, Tt যথাক্রমে বিশুদ্ধ লম্বা, বিশুদ্ধ বামন ও সঙ্কর লম্বা মটরশুঁটি গাছের জিনোটাইপ।

ফিনোটাইপ - জীবদেহের দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যসমূহকে ফিনোটাইপ বলে। ফিনোটাইপ প্রকৃতপক্ষে জিনোটাইপের জিনসমূহের বাহ্যিক প্রকাশ।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,০৯৭.
প্রোটিন জাতীয় খাদ্যে নিচের কোন উপাদানটি অনুপস্থিত?
  1. কার্বন
  2. নাইট্রোজেন
  3. হাইড্রোজেন
  4. সোডিয়াম
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধাণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা: আমিষ, শর্করা ও স্নেহ। 

আমিষ: 
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রন থাকে। 
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টিবিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- উৎস অনুযায়ী আমিষ দুই ধরনের। যথা- 

১। প্রাণিজ আমিষ: 
- মাছ, মাংস, ডিম, পনির, ছানা, কলিজা বা যকৃত ইত্যাদি প্রাণিজ আমিষ। 
- এসব খাদ্যে দেহের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়। 

২। উদ্ভিজ্জ আমিষ: 
- ডাল, চিনাবাদাম, শিমের বীচি ইত্যাদি উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
- অনেক সময় দুই বা ততোধিক উদ্ভিজ্জ আমিষ একত্রে রান্না করা যায়। কিন্তু এতে অ্যামাইনো এসিডের অনুপাতের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩,০৯৮.
যক্ষ্মা রোগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার নাম কোনটি?
  1. Salmonella typhosa
  2. Vibrio cholerae
  3. Mycobacterium tuberculosis
  4. Clostridium tetani
সঠিক উত্তর:
Mycobacterium tuberculosis
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mycobacterium tuberculosis
ব্যাখ্যা

• রোগ: যক্ষ্মা, ব্যাকটেরিয়ার নাম: Mycobacterium tuberculosis.

• রোগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার তালিকা:

- যক্ষ্মা:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Mycobacterium tuberculosis.

- নিউমোনিয়া:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Diplococcus pneumoniae.

- টাইফয়েড:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Salmonella typhosa.

- কলেরা:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Vibrio cholerae.

- ডিপথেরিয়া:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Corynebacterium diphtheriae.

- আমাশয়: 
ব্যাকটেরিয়ার নাম: Bacillus dysenteriae.

- ধনুষ্টঙ্কার:
- ব্যাকটেরিয়ার নাম: Clostridium tetani.

- হুপিং কাশি:
ব্যাকটেরিয়ার নাম: Bordetella pertussis.

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,০৯৯.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান কোনটি?
  1. প্যারেনকাইমা টিস্যু
  2. পাতার মেসোফিল টিস্যু
  3. পাতার কোলেনকাইমা টিস্যু
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পাতার মেসোফিল টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতার মেসোফিল টিস্যু
ব্যাখ্যা
• পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।

• সালোকসংশ্লেষণ:

- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে বলা হয় সালোকসংশ্লেষণ।
- এটি একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্লাস্টিডে ঘটে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ খাদ্য প্রস্তুত করে।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হতে হলে অবশ্যই সূর্যালোক ও ক্লোরোফিল থাকতে হবে।
- পানি, আলো, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ক্লোরোফিল প্রধান উপকরণ।
- কার্বোহাইড্রেট, পানি ও অক্সিজেন তৈরি করে।
- পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার প্রধান স্থান।
- সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি জারিত হয় এবং কাবন ডাইঅক্সাইড বিজারিত হয়।
- তাই একে একটি জারণ বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয়।
- জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।
- লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে বেশি হয়।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩,১০০.
নিম্নের কোনটি ভাসমান উদ্ভিদ নয়?
  1. টোপাপানা
  2. খুদিপানা
  3. পাতাশেওলা
  4. কচুরিপানা
সঠিক উত্তর:
পাতাশেওলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাতাশেওলা
ব্যাখ্যা
জলজ উদ্ভিদ:
- পুকুরে বিভিন্ন ধরনের জলজ উদ্ভিদ জন্মায়।
যথা-
ক) শেওলা:
- অগভীর পুকুরের তলদেশে বা পুকুর পাড়ে বিভিন্ন ধরনের শেওলা জন্মে।
- যেমন- স্পাইরোগাইরা।

খ ) ভাসমান উদ্ভিদ:
- এ সকল উদ্ভিদ পানিতে ভেসে থাকে।
- এদের মূল মাটিতে আটকানো থাকে না।
- যেমন- কচুরিপানা, টোপাপানা, খুদিপানা ইত্যাদি।

গ) নির্গমশীল উদ্ভিদ:
- এ সব উদ্ভিদের শিকড় পানির নিচে মাটিতে থাকে কিন্তু পাতা ও কাণ্ডের উপরের অংশ বা শুধু পাতা পানির উপর দাঁড়িয়ে থাকে বা ভেসে থাকে।
- যেমন- শাপলা, পানিফল, শুসনি শাক, আড়াইল।

ঘ) নিমজ্জিত বা ডুবন্ত উদ্ভিদ:
- এ ধরনের জলজ উদ্ভিদ পানির তলদেশে থাকে।
- এদের শিকড় মাটিতে থাকে।
- এদের পাতা ও ডাল কখনো পানির উপরে আসে না।
- যেমন- কাঁটাঝাঁঝি, পাতাঝাঁঝি, পাতাশেওলা, নাজাস।

ঙ) লতানো উদ্ভিদ:
- এদের শিকড় পুকুরের পাড়ে আটকানো থাকে এবং কাণ্ড, পাতা পানিতে ছড়িয়ে থাকে।
- যেমন- হেলেঞ্চা, কলমিলতা, মালঞ্চ।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি।