বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

জীব বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৪,২০৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

জীব বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ৩০ / ৪২ · ২,৯০১৩,০০০ / ৪,২০৮

২,৯০১.
কোনটিকে কোষের প্রাণশক্তি বলা হয়?
  1. ক) প্রোটোপ্লাজম
  2. খ) ক্রোমোজোম
  3. গ) মাইটোকন্ড্রিয়া
  4. ঘ) নিউক্লিয়াস
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিউক্লিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা

নিউক্লিয়াসকে কোষের মস্তিষ্ক, প্রাণকেন্দ্র বা প্রাণশক্তি বলা হয়।
যদিও, মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বা শক্তি ঘর বলা হয়। এটি কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ থাকে। কিন্তু, কোষে সংগঠিত সকল ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হয় নিউক্লিয়াস দ্বারা। তাই, নিউক্লিয়াসকে কোষের প্রাণশক্তি বলা যায়।
এছাড়াও,
রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়।
বংশগতির প্রধান উপাদান ক্রোমোজোম।
লাইসোজোম জীবকোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে।

২,৯০২.
অ্যান্টিবডি (Antibody) কোন শ্রেণীর জৈব অণুর অন্তর্ভুক্ত?
  1. Carbohydrate
  2. Lipid
  3. Protein
  4. Nucleic acid
সঠিক উত্তর:
Protein
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Protein
ব্যাখ্যা

অ্যান্টিবডি হলো বিশেষ ধরনের গ্লাইকোপ্রোটিন, যাকে ইমিউনোগ্লোবুলিন (Immunoglobulin, Ig) বলা হয়।

অ্যান্টিবডি (Antibody): 
- অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীত বস্তু বা নিজস্ব বস্তু বা কণিকা বা কোষ অথবা কোষগুচ্ছ। 
- অ্যান্টিবডি প্রধানত অ্যান্টিজেনের সাড়ায় দেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপাদিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। 
- এরা রক্তের প্লাজমা ও কলারসে বর্তমান থাকে। 
- এরা অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত হতে পারে এবং ক্লোনাল নির্বাচন দ্বারা উৎপাদিত হয় এবং দেহের প্রধান সৈনিক বা রক্ষণাবেক্ষণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। 
- অ্যান্টিবডিগুলো অনুপ্রবেশকারী বা বহিরাগত অ্যান্টিজেনকে ভক্ষণ করে, কখনো বিনষ্ট করে, কখনো মেরে ফেলে, কখনো বাইরে নিক্ষেপ করে। 
- অ্যান্টিজেন হচ্ছে non-self আর অ্যান্টিবডি হচ্ছে self বস্তু। 
- দেহের সব অ্যান্টিবডি গামা-গ্লোবিউলিন (γ-globulin) নামে পরিচিত। আর যেহেতু অ্যান্টিবডিসমূহ দেহের সুরক্ষার কাজ করে তাই এদেরকে ইমিউনোগ্লোবিউলিন (Immunoglobulin, সংক্ষেপে-Ig) বলা হয়। 
- এদের আণবিক ওজন ১,৫০,০০০-৯,০০,০০০/- ডাল্টনের মধ্যে সীমিত। 
- প্লাজমা প্রোটিনের প্রায় ২০% ইমিউনোগ্লোবিউলিন। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯০৩.
নিচের কোনটি ভাজক টিস্যুর কাজ?
  1. ক) খাদ্য প্রস্তুত করা
  2. খ) খাদ্য পরিবহন করা
  3. গ) নতুন কোষ ও টিস্যু সৃষ্টি করা
  4. ঘ) উদ্ভিদকে দৃঢ়তা প্রদান করা
সঠিক উত্তর:
গ) নতুন কোষ ও টিস্যু সৃষ্টি করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নতুন কোষ ও টিস্যু সৃষ্টি করা
ব্যাখ্যা
নতুন কোষ ও টিস্যু সৃষ্টি করা হচ্ছে ভাজক টিস্যুর কাজ। 

ভাজক টিস্যুর বৈশিষ্ট্যসমূহ- 
(১) কোষগুলো জীবিত, অপেক্ষাকৃত ছোট এবং সমব্যাসীয়।
(২) ভাজক টিস্যুর কোষগুলো সর্বদাই বিভাজন ক্ষমতাসম্পন্ন।
(৩) ভাজক টিস্যুর কোষগুলো সাধারণত আয়তকার, ডিম্বাকার, পঞ্চভুজ বা ষড়ভুজ আকৃতির হয়।
(৪) এই টিস্যুর কোষগুলো সেলুলোজ নির্মিত প্রাচীর বিশিষ্ট হয়।
(৫) কোষের নিউক্লিয়াস অপেক্ষাকৃত বড় আকারের এবং দানাদার ঘন সাইটোপ্লাজমে পূর্ণ থাকে।
(৬) ভাজক টিস্যুর কোষে সাধারণত কোষ গহবর থাকে না।
(৭) কোষ গুলো ঘন সন্নিবিষ্ট হওয়ায় এদের মধ্যে আন্তঃকোষীয় ফাঁক থাকে না।
(৮) এই টিস্যুর কোষগুলোর বিপাকীয় হার বেশি এবং সর্বদায় সক্রিয় বিপাকীয় অবস্থায় থাকে।
(৯) কোষে কোন প্রকার সঞ্চিত খাদ্য, ক্ষরিত বস্তু বা বর্জ্র পদার্থ থাকে না।
(১০) কোষগুলো আকারে সাধারণত ছোট এবং দৈর্ঘ্য প্রস্থে প্রায় সমান।

সূত্র: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যবই। 
২,৯০৪.
প্রাণি জগতের বৃহত্তম পর্ব কোনটি?
  1. Arthropoda
  2. Porifera
  3. Annelida
  4. Mollusca
সঠিক উত্তর:
Arthropoda
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Arthropoda
ব্যাখ্যা

• প্রাণিজগতের বৃহত্তম পর্ব হলো Arthropoda (আর্থ্রোপোডা)। 

প্রাণী জগতের শ্রেণীবিন্যাস:
- সম্পূর্ণ প্রানী জগতকে ৯ টি প্রধান পর্বে ভাগ করা হয়েছে যার মধ্যে প্রথম আটটি অমেরুদন্ডী প্রাণীদের এবং শুধুমাত্র কর্ডাটা পর্ব মেরুদন্ডী প্রাণীদের নিয়ে গঠিত।

- প্রাণীজগৎ এ মুুুখ্য পর্ব মোট ৯টি।এগুলো হল:

১.পরিফেরা - (Porifera)
২. নিডারিয়া - (Nidaria)
৩. প্লাটিহেলমিনথেস - (Platyhelminthes)
৪. নেমাটোডা - (Nematoda)
৫. অ্যানেলিডা - (Annelida)
৬. আর্থ্রোপোডা - (Arthropoda)
৭. মলাস্কা - (Mollusca)
৮. একাইনোডারমাটা - (Echinodermata)
৯. কর্ডাটা - (Chordata)    

উৎস: জীববিজ্ঞান-২য় পত্র, গাজী আজমল, গাজী আসমত।

২,৯০৫.
কোন খাদ্য উপাদান থেকে শরীরে বেশি শক্তি উৎপন্ন হয়?
  1. ভিটামিন
  2. শর্করা
  3. আমিষ
  4. চর্বি
সঠিক উত্তর:
চর্বি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্বি
ব্যাখ্যা

খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা: 
১। আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে। 
২। শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। 
৩। স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। 

- এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন। যেমন: 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
৫। খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
৬। পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 

- খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে, যেটি কোনো পুষ্টি না জোগালেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। 
৭। রাফেজ: রাফেজ বা খাদ্য আঁশ (Fibre) পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 

উল্লেখ্য,
- ১ গ্রাম শর্করা থেকে ৪ কিলোক্যালরি শক্তি উৎপন্ন হয়।
- ১ গ্রাম আমিষ থেকে ৪ কিলোক্যালরি শক্তি উৎপন্ন হয়।
- ১ গ্রাম চর্বি থেকে ৯ কিলোক্যালরি শক্তি উৎপন্ন হয়।
সুতরাং চর্বি থেকে বেশি শক্তি উৎপন্ন হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৯০৬.
রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন কে?
  1. থিওফ্রাস্টাস
  2. রবার্ট হুক
  3. উইলিয়াম হার্ভে
  4. এরিস্টটল
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম হার্ভে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম হার্ভে
ব্যাখ্যা
রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতি (Blood circulatory system):

- রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন উইলিয়াম হার্ভে। 
- ১৬২৮ সালে তিনি রক্তের সঞ্চালন আবিষ্কার করেন।
- ইংল্যান্ডের ফোকস্টোন শহরে ১৫৭৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন উইলিয়াম হার্ভে। 
- ১৬২৮ সালে ৫০ বছর বয়সে হার্ভে প্রকাশ করলেন তাঁর অবিস্মরণীয় গ্রন্থ ‘Exercitatio Anatomica de Moto Cordis er Sanguinis in Animalibus’। 
- শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্তশিরা পথে হৃৎপিণ্ডে আসে এবং হৃৎপিণ্ড থেকে ধমনীর মাধ্যমে বিভিন্ন অংশে সঞ্চালিত হয়, এটা সর্বপ্রথম হার্ভেই বলেছিলেন।


অপরদিকে, 
- গ্রিক বিজ্ঞানী এরিস্টটলকে প্রাণিবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- গ্রিক বিজ্ঞানী থিওফ্রাস্টাসকে উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- কোষবিদ্যার জনক রবার্ট হুক।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা। 
২,৯০৭.
কচুরিপানা পানিতে সহজে ভাসতে পারে, কারণ-
  1. ক) এদের শিকড় শক্ত হয়
  2. খ) এদের কান্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে
  3. গ) এদের পাতা হালকা থাকে
  4. ঘ) এরা পানিতে জন্মে
সঠিক উত্তর:
খ) এদের কান্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এদের কান্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে
ব্যাখ্যা
• কচুরিপানা পানিতে সহজে ভাসতে পারে, কারণ এদের কান্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে
- কচুরিপানা সহ অধিকাংশ জলজ উদ্ভিদের কান্ড ফাঁপা।
- এদের কান্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে। তাই এরা পানিতে ভাসতে পারে।
- এই বায়ু কুঠুরী জলজ উদ্ভিদকে পানিতে ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
২,৯০৮.
Which bone is the longest and strongest in the human body?
  1. Patella
  2. Pelvis
  3. Rib
  4. Mandible
  5. Femur
সঠিক উত্তর:
Femur
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Femur
ব্যাখ্যা
• ফিমার: 
- মানবদেহে ২০৬ টি অস্থি বিদ্যমান। 
- ফিমার হচ্ছে মানবদেহে সবচেয়ে বড় অস্থি। 
- এটি দেহের সবচেয়ে লম্বা, ভারী ও শক্ত অস্থি। 
- এর ঊর্ধ্ব প্রান্তে একটি গােল মস্তক, গ্রীবা ও ছােট-বড় ট্রোকেল্টার অবস্থিত। 
- নিম্নপ্রান্ত দুটি কল্ডাইল বিশিষ্ট। 
- ফিমারের মস্তক শ্রেণিচক্র অ্যাসিটামুলামের সাথে যুক্ত থাকে। 
- এর প্রান্তে Patella নামক চ্যাপ্টা সিগময়েড় অস্থি থাকে। 
- তারপরে রয়েছে পর্যায়ক্রমে টিবিয়া, ফিবুলা, হিউমেরাস, আলনা, রেডিয়াস। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৯০৯.
মানুষের শরীরে করোটিক নার্ভের মোট সংখ্যা কত?
  1. ২৪ টি
  2. ২৩ টি
  3. ৪৬ টি
  4. ৩১ টি
সঠিক উত্তর:
২৪ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪ টি
ব্যাখ্যা

• মানবদেহে করোটিড নার্ভ (Carotid nerves) মূলত সিম্প্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রের অংশ এবং তারা কারোটিড শিরা ও আর্টারি অঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। এই নার্ভগুলি মূলত রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। সাধারণভাবে, মানুষের শরীরে প্রত্যেক পাশে ১২টি করে করোটিড নার্ভ থাকে, যার মানে মোট ২৪টি হয়। এই নার্ভগুলো উভয় পাশে সমানভাবে থাকে এবং মূলত হরমোন নিঃসরণ ও রক্তচাপ সংক্রান্ত সংকেত পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রদত্ত অপশন গুলির মধ্যে সঠিক উত্তর হলো ক) ২৪ টি।
 
• করোটিক স্নায়ু:
- যে সব স্নায়ু মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করে করোটিকার বিভিন্ন ছিদ্রপথে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয় তাদের করোটিক স্নায়ু বলে।
- করোটিক স্নায়ুসমূহ সেনসরি বা সংবেদী, মটর বা আজ্ঞাবাহী/চেষ্টীয় এবং মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে।

• নিম্নে করোটিক স্নায়ু গুলোর নাম ও কাজ উল্লেখ করা হলো:
- অলফ্যাক্টরি - ঘ্রাণ অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায়।
- অপটিক - দর্শন অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায়।
- অকুলোমোটর - অক্ষিগোলকের সঞ্চালন। (মধ্যমস্তিষ্কের অঙ্কীয়দেশে অবস্থান)
- ট্রকলিয়ার - অক্ষিগোলকের সঞ্চালন। (মধ্যমস্তিষ্কের পৃষ্ঠ-পার্শ্বদেশে অবস্থান)
- ট্রাইজেমিনাল - সংশ্লিষ্ট অঙ্গ থেকে সংবেদ মস্তিষ্কে প্রেরণ।
- অ্যাবডুসেন্স - অক্ষিগোলকের সঞ্চালন। (পনস ও মেডুলার সংযোগস্থলের অঙ্কীয়দেশে অবস্থান)
- ফ্যাসিয়াল - স্বাদ গহণ, চর্বন, গ্রীবা সঞ্চালন।
- অডিটরি (অ্যাকাউস্টিক) - শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষা।
- গ্লসোফ্যারিঞ্জিয়াল - স্বাদ গ্রহণ, জিহ্বা ও গলবিলের সঞ্চালন।
- ভেগাস (নিউমোগ্যাস্ট্রিক) - সংশ্লিষ্ট অঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ।
- স্পাইনাল অ্যাক্সেসরি - মাথা ও কাঁধের সঞ্চালন।
- হাইপোগ্লোসাল - জিহ্বার সঞ্চালন।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- মানবদেহে সুষুম্না কাণ্ড থেকে ৩১ জোড়া বা ৬২টি সুষুম্না স্নায়ু উৎপন্ন হয়।
- মানুষের জীবকোষে ক্রোমোজোম আছে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯১০.
কানের কোন অংশটি দেহের ভারসাম্য রক্ষার কাজ করে? 
  1. ম্যালিয়াস
  2. ককলিয়ার
  3. ইউট্রিকুলাস
  4. ইউস্টেশিয়ান টিউব
সঠিক উত্তর:
ইউট্রিকুলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউট্রিকুলাস
ব্যাখ্যা
সংবেদি অঙ্গ: 
- দেহের চালক হচ্ছে মস্তিষ্ক। 
- মস্তিষ্ককে মগজ বলা হয়, দেহের সব কাজই চলছে মস্তিষ্কের হুকুমে। 
- মস্তিষ্ক থাকে মাথার খুলির মধ্যে, খুলির মাঝখানে বসেই দেহের বাইরের ও ভিতরের কাজকর্ম চালায়। 
- চোখ, কান, নাক, ত্বক ও জিহ্বা বাইরের সকল খবরা-খবর জোগাড় করে মস্তিষ্ককে জানিয়ে দেয়। 

কান বা কর্ণ: 
- কান না থাকলে মানুষ শুনতে পেত না, কারণ কথা বলা শিখতে হয় শুনে শুনে। 
- মাথার দুই পাশে দুটো কান বা কর্ণ আছে। 
- কর্ণ বা কান শুনতে ও দেহের ভারসাম্য রক্ষার প্রধান অঙ্গ হিসেবেও কাজ করে। 
- কান তিনটি অংশে বিভক্ত। 
যথা- 
১। বহিঃকর্ণ: 
- পিনা, কর্ণকুহর ও কর্ণপটহ নিয়ে বহিঃকর্ণ গঠিত। 
(ক) পিনা: 
- এটি কানের বাইরের অংশ, মাংস ও কোমলাস্থি দিয়ে গঠিত। 
- শব্দ কর্ণকুহরে পাঠানো এর প্রধান কাজ। 
(খ) কর্ণকুহর: 
- পিনা একটি নালির সাথে যুক্ত, এ নালিটিকে কর্ণকুহর বলে। 
(গ) কর্ণপটহ: 
- কর্ণকুহর শেষ হয়েছে একটা পর্দায়, এ পর্দাটির নাম কর্ণপটহ বা টিমপেনিক পর্দা। 
- কর্ণপটহ বহিঃকর্ণের শেষ অংশ। 

২। মধ্যকর্ণ: 
- বহিঃকর্ণ ও অন্তঃকর্ণের মাঝখানে মধ্যকর্ণ অবস্থিত। 
- এটা একটা বায়ুপূর্ণ থলি যার মধ্যে ম্যালিয়াস, ইনকাস ও স্টেপিস নামে তিনটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হাড় বা অস্থি রয়েছে। 
- অস্থিসমূহের মাধ্যমে শব্দ তরঙ্গ বা ঢেউ অন্তঃকর্ণে পৌঁছায়। 
- কানের সাথে গলার সংযোগের জন্য ইউস্টেশিয়ান টিউব নামে একটি নল আছে, এ নলটির কাজ হলো কর্ণপটহের বাইরের ও ভেতরের বায়ুর চাপ সমান রাখা। 

৩। অন্তঃকর্ণ: 
- এটি অডিটরি ক্যাপসুল অস্থির মধ্যে অবস্থিত। অন্তঃকর্ণ দুটি প্রধান প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। 
(ক) ইউট্রিকুলাস: 
- অন্তঃকর্ণের এ প্রকোষ্ঠটি তিনটি অর্ধবৃত্তাকার নালি দিয়ে গঠিত। 
- এদের ভিতরে আছে খুব সূক্ষ্ম লোমের মতো স্নায়ু ও রস। 
- নালির ভিতরের এ রস যখন নড়ে বা আন্দোলিত হয়, তখনই স্নায়ুগুলো উদ্দীপ্ত হয়, আর তখনই সে উদ্দীপনা মস্তিষ্কে পৌঁছায়। 
এই অংশ দেহের ভারসাম্য রক্ষার কাজ করে। 

(খ) স্যাকুলাস: 
- অন্তঃকর্ণের এই প্রকোষ্ঠের চেহারা অনেকটা শামুকের মতো প্যাঁচানো নালিকার মতো, একে ককলিয়া বলে। 
- ককলিয়ার ভেতরে শ্রবণ সংবেদি কোষ থাকে। 
- প্যাঁচানো নালিকা এক ধরনের রসে পূর্ণ থাকে। 
- এই অংশ শ্রবণের কাজ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
২,৯১১.
নিচের কোনটি বীরুৎ উদ্ভিদের উদাহরণ?
  1. আম
  2. ধান
  3. গোলাপ
  4. জবা
সঠিক উত্তর:
ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধান
ব্যাখ্যা

বীরুৎ উদ্ভিদের একটি উদাহরণ হচ্ছে ধান।

• বীরুৎ:
- বীরুৎ ছোট ও নরম কাণ্ডবিশিষ্ট অকাষ্ঠল উদ্ভিদ।
যেমন: ধান, গম, দূর্বাঘাস ইত্যাদি।
বীরুৎ বর্ষজীবী থেকে বহুবর্ষজীবী।

• গুল্ম:
গুল্ম হলো মাঝারি আকারের কাষ্ঠল উদ্ভিদ।
- এদের শাখা-প্রশাখা মাটির কাছাকাছি থেকে বের হয়।
যেমন: জবা, রঙ্গন, গোলাপ ইত্যাদি।

• উপগুল্ম:
উপগুল্ম গুল্মের চেয়ে ছোট হয়, তবে এতে কিছুটা কাষ্ঠল ভাব থাকতে পারে।
যেমন: কালকাসুন্দা, দাদমর্দন।

 • বৃক্ষ:
- বৃক্ষ হলো বিশাল, কাষ্ঠল এবং সাধারণত একটি প্রধান কাণ্ড বিশিষ্ট উদ্ভিদ।
যেমন: আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি।

উৎস: জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

২,৯১২.
মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে কোন উদ্ভিদে? 
  1. Volvariella
  2. Diatom
  3. Sago palm
  4. Riccia
সঠিক উত্তর:
Riccia
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Riccia
ব্যাখ্যা
মস: 
- মস জাতীয় উদ্ভিদে কান্ড ও পাতা রয়েছে।
- তবে সাধারণ উদ্ভিদের ন্যায় এদের মূল নেই।
- মস জাতীয় উদ্ভিদে মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে। 
- এরা সবুজ ও স্বভোজী।
- স্যাঁতসেঁতে জায়গায় এদের দেখা যায়।
উদাহারণ- Riccia, Antheceros, Semibarbula ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- Volvariella হচ্ছে এক প্রকার ছত্রাক।
- Diatom হচ্ছে শৈবাল জাতীয় উদ্ভিদ।
- Sago palm হচ্ছে সাইকাস জাতীয় উদ্ভিদ।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
২,৯১৩.
একজন স্বাভাবিক মানুষের দেহে কতটি হাড় থাকে?
  1. ১০৪ টি
  2. ২০০ টি
  3. ২০১টি
  4. ২০৬ টি
সঠিক উত্তর:
২০৬ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০৬ টি
ব্যাখ্যা
• মানুষের কঙ্কালতন্ত্র:
- একজন মানুষের দেহে ২০৬ টুকরা হাড় থাকে।
- মানুষের কঙ্কালতন্ত্রকে প্রধান দুটি অংশে ভাগ করা হয়।
যথা-
১. অক্ষীয় কঙ্কাল।
২. উপাঙ্গীয় কঙ্কাল।

• অক্ষীয় কঙ্কাল:
- কঙ্কালতন্ত্রে অক্ষীয় অস্থির সংখ্যা ৮০টি।
যথা:
- করোটিতে অস্থি সংখ্যা ২২টি
- বক্ষপিঞ্জরে অস্থি সংখ্যা ২৫টি
- মেরুদন্ডে ৩৩টি অস্থি রয়েছে।

• উপাঙ্গীয় কঙ্কাল:
- উপাঙ্গীয় অস্থির সংখ্যা ১২৬টি।
যথা:
- বাহুতে অস্থি সংখ্যা ৬০টি।
- পা এ অস্থি সংখ্যা ৬০টি।
- বক্ষ অস্থি চক্রে অস্থি সংখ্যা ৪টি।
- শ্রেণি অস্থি চক্রে ২টি অস্থি রয়েছে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯১৪.
হৃদপিন্ডের করোনারি রক্তনালির রক্ত জমাট বাঁধলে সেটিকে কি বলে?
  1. লিউকোসাইটোসিস
  2. সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস
  3. করোনারি থ্রম্বোসিস
  4. থ্যালাসেমিয়া
সঠিক উত্তর:
করোনারি থ্রম্বোসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করোনারি থ্রম্বোসিস
ব্যাখ্যা
শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ২০০০০ - ৩০০০০ হয়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে।
রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমান কমে রক্ত শূন্যতা সৃষ্টি হলে তাকে থ্যালাসেমিয়া বলে।
এটি বংশগত।
গুরু মস্তিষ্কের রক্তনালির রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই।
২,৯১৫.
উদ্ভিদের দেহ থেকে বাষ্প আকারে পানি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. সালোকসংশ্লেষণ
  2. প্রস্বেদন
  3. ইমবাইবিশন
  4. ব্যাপন
  5. অভিস্রবণ
সঠিক উত্তর:
প্রস্বেদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা

প্রস্বেদন:
- প্রস্বেদন উদ্ভিদের একটি বিশেষ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া।
- উদ্ভিদের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য পানি অপরিহার্য।
- উদ্ভিদ মূলরোমের সাহায্যে মাটি থেকে প্রচুর পরিমাণ পানি শোষণ করে। শোষিত পানির কিছু অংশ উদ্ভিদ তার বিভিন্ন বিপাকীয় কাজে ব্যবহার করে এবং বাকি অংশ বাষ্পাকারে বায়ুমন্ডলে পরিত্যাগ করে।
- উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর থেকে পাতার মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানির এই নির্গমনের প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন বলে।
- প্রস্বেদন প্রধানত পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে হয়।
- এছাড়া কান্ড ও পাতার কিউটিক্স এবং কান্ডের ত্বকে অবস্থিত লেন্টিসেল নামক এক বিশেষ ধরনের অঙ্গের মাধ্যমেও অল্প পরিমাণ প্রস্বেদন হয়।
- প্রস্বেদন কোথায় সংঘটিত হচ্ছে তার ভিত্তিতে প্রস্বেদন তিন প্রকার। যথা-
১. পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন,
২. ত্বকীয় বা কিউটিকুলার প্রস্বেদন,
৩. লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, ৮ম শ্রেণী, বোর্ড বই।

২,৯১৬.
রক্তের প্লাজমা প্রোটিন কোনটি?
  1. ক) অ্যালবুমিন
  2. খ) ফাইব্রিনোজেন
  3. গ) প্রোথ্রম্বিন
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• রক্তে জৈব পদার্থের ভিতরে প্লাজমা প্রোটিন এর পরিমাণ প্রায় ৭.৫%।
• প্লাজমা প্রোটিন এর মধ্যে অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, প্রোথ্রম্বিন, ফাইব্রিনোজেন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
• রক্তে বিদ্যমান নাইট্রোজেনঘটিত রেচন পদার্থের মধ্যে রয়েছে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন, জ্যানথিন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৯১৭.
উদ্ভিদের জন্য সামান্য পরিমাণে প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানকে কী বলা হয়?
  1. ম্যাক্রো উপাদান
  2. মাইক্রো উপাদান
  3. প্রোটিন উপাদান
  4. মুখ্য উপাদান
সঠিক উত্তর:
মাইক্রো উপাদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইক্রো উপাদান
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি: 
- মাটি ও পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য উদ্ভিদ যে সকল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদের পুষ্টি। 
- এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশ উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টিও বলা হয়। 
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০ টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে। 
- এ ৬০ টি উপাদানের মধ্যে ১৬ টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়। এ ১৬ টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। কারণ এ উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয়। 
উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি উপাদানের প্রকারভেদ: 
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সকল উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয় সেগুলোকে ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৯ টি উপাদান হলো- নাইট্রোজেন (N), পটাসিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) ও সালফার (S) । 

২। মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রো উপাদান বলা হয়। 
- এরূপ ৭ টি উপাদান হলো- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (C) ও ক্লোরিন (Cl) । 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯১৮.
ব্যাকটেরিওলজির জনক কে?
  1. লুই পাস্তুর
  2. এহরেনবার্গ
  3. রবার্ট কচ
  4. লিউয়েন হুক
সঠিক উত্তর:
রবার্ট কচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবার্ট কচ
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া:
- গ্রিক শব্দ Bakterion = Little rod থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটি এসেছে। যার অর্থ ক্ষুদ্র দন্ড।
- ব্যাকটেরিয়া (এক = বচনে ব্যাকটেরিয়াম) সাধারণত ক্লোরোফিলবিহীন, প্রাককেন্দ্রিক এককোষী ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব।
- গাঠনিক উপাদান ও পুষ্টি পদ্ধতির জন্য ব্যাকটেরিয়াকে উদ্ভিদ বলা হয়।
- ব্যাক্টেরিওলজির জনক হলেন রবার্ট কচ (Robert Koch)।
- রবার্ট কচ (১৮৪৩–১৯১০) ছিলেন একজন জার্মান চিকিৎসক এবং ব্যাক্টেরিওলজির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি প্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করেন যে নির্দিষ্ট রোগের জন্য নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া দায়ী।
- জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন।
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব।
- ব্যাপক অর্থে ব্যাকটেরিয়া বলতে আর্কিব্যাকটেরিয়া, ইউব্যাকটেরিয়া, সায়ানোব্যাকটেরিয়া, অ্যাকটিনোব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি গ্রুপকে বোঝায়।

উৎস:
১। উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা। 

২,৯১৯.
মানবদেহের প্রতিটি কোষে মোট কতটি ক্রোমোজোম থাকে? 
  1. ২২
  2. ২৩
  3. ৪৬
  4. ৪৪
সঠিক উত্তর:
৪৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৬
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোম: 
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম। 
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু। 
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি। 
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬ টি ক্রোমোজোম থাকে। 
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় অটোসোম। 
- অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
- অপর এক জোড়া বা ২ টি ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোসোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম। 
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। 
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯২০.
নিচের কোনটিতে বহিঃ নিষেক ঘটে?
  1. ক) মাছ
  2. খ) মানুষ
  3. গ) বিড়াল
  4. ঘ) ডাঙায় বসবাসকারী অধিকাংশ প্রাণীতে
সঠিক উত্তর:
ক) মাছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মাছ
ব্যাখ্যা

বহিঃ নিষেক: যে নিষেক ক্রিয়া প্রাণিদেহের বাইরে সংঘটিত হয় তা বহিঃ নিষেক নামে পরিচিত। এ ধরনের নিষেক সাধারণত পানিতে বাস করে এমন সব প্রাণীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
যেমন: বিভিন্ন ধরনের মাছ, ব্যাঙ প্রভৃতি। তবে এর ব্যতিক্রম রয়েছে, যেমন: হাঙ্গর।
অন্তঃ নিষেক: স্ত্রীদেহের জননাঙ্গে সংঘটিত নিষেক অন্তঃনিষেক নামে পরিচিত। সাধারণত শারীরিক মিলনের মাধ্যমে পুরুষ প্রাণী তার শুক্রাণু স্ত্রী জননাঙ্গে প্রবেশ করিয়ে এ ধরনের নিষেক ঘটায়।
অন্তঃনিষেক ডাঙায় বসবাসকারী অধিকাংশ প্রাণীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

২,৯২১.
অতিরিক্ত খাদ্য থেকে লিভারে সঞ্চিত সুগার হলো -
  1. গ্লুকোজ
  2. ফ্রুক্টোজ
  3. গ্লাইকোজেন
  4. সুক্রোজ
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোজেন
ব্যাখ্যা

গ্লাইকোজেন:
- গ্লাইকোজেন হলো একটি পুষ্টিজাত পলিস্যাকারাইড।
- এটি প্রাণীদেহের প্রধান সঞ্চিত খাদ্য উপাদান হলেও সায়ানোব্যাকটেরিয়া ও কতিপয় ছত্রাকের (ঈস্ট) সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে বিরাজ করে।
- গ্লাইকোজেন এর মূল গাঠনিক উপাদান α-D গ্লুকোজ।
- হাইড্রোলাইসিস শেষে গ্লাইকোজেন হতে কেবল α-D গ্লুকোজ অণু পাওয়া যায়।
- এর আণবিক সংকেত- (C6H10O5)n.

গ্লাইকোজেন এর কাজ: 
- প্রাণীদেহের লিভার ও পেশিতে বেশি করে গ্লাইকোজেন জমা থাকে যা প্রয়োজনে গ্লুকোজে পরিণত হয়। ফলে কার্বন ও শক্তি সরবরাহ হয়।
- রক্তের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে, যকৃতের গ্লাইকোজেন গ্লুকোজে পরিণত হয়ে রক্তে প্রবাহিত হয় এবং পেশিতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন পেশির কাজে শক্তি যোগায়।

তাই, বলা যায় অতিরিক্ত খাদ্য থেকে লিভারে সঞ্চিত সুগার হলো - গ্লাইকোজেন। 

তথ্যসূত্র: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,৯২২.
নিচের কোনটি পতঙ্গ পরাগী ফুল?
  1. ক) সরিষা
  2. খ) জুঁই
  3. গ) কুমড়া
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুন্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়।
যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা, জুঁই, আকন্দ, সূর্যমুখী, গোলাপ, অর্কিড ইত্যাদি।

• অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা ও মধুগ্রন্থিহীন। এসব ফুলের সুগন্ধ নেই। এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে।
যেমন- ধান।

• পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই।
যেমন- পাতাশেওলা।

• প্রাণীপরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে।
যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি
২,৯২৩.
মানুষের সেক্স ক্রোমোজোম কয়টি?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ১টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ২টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২টি
ব্যাখ্যা

- মানবদেহে ক্রোমোজোম সংখ্যা ৪৬ টি বা ২৩ জোড়া।
- এরমধ্যে ২২ জোড়া বা ৪৪ টি অটোজোম।
- ১ জোড়া বা ২টি সেক্স ক্রোমোজোম।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৯২৪.
হেটেরোজাইগাস জিনোটাইপের উদাহরণ কোনটি?
  1. ΤΤ
  2. Tt
  3. tt .
  4. XX
সঠিক উত্তর:
Tt
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Tt
ব্যাখ্যা
হেটারোজাইগাস (Heterozygous) জিনোটাইপ:
- কোন জিনোটাইপে একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী অ্যালিলদুটি অসমপ্রকৃতির হলে, তাকে হেটারোজাইগাস জিনোটাইপ বলা হয়।
- যেমন T এবং t অর্থাৎ Tt -ধারী জীবটি লম্বা হলেও তা হেটারোজাইগাস। কারণ এর মধ্যে একটি হলো প্রকট জিন এবং অন্যটি হলো প্রচ্ছন্ন জিন। 

অর্থাৎ প্রকট ও প্রচ্ছন্ন জিন পাশাপাশি অবস্থান করলে হেটারজাইগাস জিনোটাইপ তৈরি হয়। 
সুতরাং Tt জিনোটাইপ টি হেটারোজাইগাস প্রকৃতির।  

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
২,৯২৫.
রক্তশূণ্যতা দেখা দেয় কোনটির অভাবে?
  1. লৌহ
  2. ভিটামিন A
  3. ক্যালসিয়াম
  4. আয়োডিন
সঠিক উত্তর:
লৌহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লৌহ
ব্যাখ্যা
• লৌহ বা আয়রণ (Fe):
- রক্তের অন্যতম প্রধান উপাদান লৌহ বা আয়রণ।
- প্রতি ১০০ মিলি রক্তের প্রায় ৫০ মিলি গ্রাম লৌহ থাকে।
- এছাড়া যকৃত, প্লিহা, অস্তিমজ্জায় লৌহ সঞ্চিত থাকে।
- পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির দেহে বিদ্যমান ৩-৪ গ্রাম লৌহের চার ভাগের তিন ভাগই রক্তে থাকে।
- উৎস: কাঁচা কলা, সবুজ শাক, কচু, শুকনো ফল, আপেল, কলা ইত্যাদি লৌহের উদ্ভিজ্জ উৎস। ডিমের কুসুম, কলিজা, মাছ, মাংস ইত্যাদি লৌহের প্রাণিজ উৎস।
- কাজ : লৌহ রক্তের লোহিত কণিকা বা হিমোগ্লোবিন তৈরি করে, রক্তে অক্সিজেন বহন করে।
- অভাবজনিত অবস্থা: লৌহের অভাবে রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা বা এনিমিয়া দেখা দেয়।

অন্যদিকে,
- ভিটামিন A  এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
- ক্যালসিয়াম  এর অভাবে শিশুদের রিকেট এবং বয়স্ক মহিলাদের অস্টিওম্যালেশিয়া রোগ হয়।
- আয়োডিন এর অভাবে গলগণ্ড রোগ হবে।

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯২৬.
জীবন্ত জীবাশ্ম (Living fossil) বলা হয় কাকে?
  1. Pteris
  2. Cycus
  3. Genetum
  4. Royal Plam
সঠিক উত্তর:
Cycus
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Cycus
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- বর্তমান কালের কোন জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য অতীত কালের কোন জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল সম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বা জীবন্ত ফসিল বলা হয়। 
যেমন- সাইকাস (Cycus)। 

Cycas কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলার কারণ: 
- এটি Cycadales বর্গের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ। 
- প্রাথমিক মেসোজোয়িক যুগে Cycadales বর্গের অনেক উদ্ভিদ পৃথিবীব্যাপি বিস্তৃত ছিল। 
- এদের অনেকেই এখন বিলুপ্ত, ফলে এদের পাওয়া যায় জীবাশ্ম হিসেবে। 
- এ বর্গের Cycas সহ ৯টি গণের প্রায় ১০০টি প্রজাতি এখনও পৃথিবীর বুকে টিকে রয়েছে। 
- এদের অনেক বৈশিষ্ট্য আদিকালের বিলুপ্ত জীবাশ্ম সাইকাড্স এর বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ এবং আদি প্রকৃতির। 
- এজন্যই Cycas সহ বর্তমানকালের সকল সাইকাড্সকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 
- Cycadales বর্গের সদস্যদেরকে সাইকাড্স বলে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯২৭.
'ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম' কোন প্রক্রিয়ার ধাপ? 
  1. নিঃসরণ
  2. সবাত শ্বসন
  3. ক্লোরোফিল সংশ্লেষণ
  4. ফটোসিনথেসিস 
সঠিক উত্তর:
সবাত শ্বসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবাত শ্বসন
ব্যাখ্যা
শ্বসন: 
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবদেহের কোষে অবস্থিত জটিল খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে সরল দ্রব্যে পরিণত হয় এবং সঞ্চিত স্থিতিশক্তি রূপান্তরিত হয়ে গতিশক্তিতে পরিণত হয় তাকে শ্বসন বলে। 
- এ প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড, পানি ও শক্তি উৎপন্ন হয়। 
- শ্বসনকে দুইটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- সবাত শ্বসন এবং অবাত শ্বসন। 
- সবাত শ্বসন প্রক্রিয়াটি ৪ টি পর্যায়ক্রমিক ধাপে সম্পন্ন হয়। 
যথা- গ্লাইকোলাইসিস, অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি, ক্রেবস চক্র এবং ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম। 
- সবাত শ্বসনে মোট ৩৮ টি ATP উৎপন্ন হয়। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯২৮.
মল্ট কোষ থেকে নিঃসৃত এনজাইম কোনটি?
  1. ইনভারটেস
  2. ডায়াস্টেস
  3. জাইমেস
  4. মলটেস
সঠিক উত্তর:
ডায়াস্টেস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়াস্টেস
ব্যাখ্যা
ঈস্ট (Yeast): 
- ঈস্ট এক প্রকার ছত্রাক জাতীয় নিম্ন স্তরের এককোষী উদ্ভিদ। 
- পঁচা প্রাণিজ বা উদ্ভিজ পদার্থ থেকে ঈস্ট খাদ্য সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে। 
- ঈস্টের কোষে জাইমেস, ইনভারটেস, মলটেস ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের এনজাইম থাকে। 

মল্ট(Mould): 
- বার্লির দানাকে পানিতে 15°C তাপমাত্রায় অন্ধকারে খোলা অবস্থায় রেখে দিলে বার্লির দানা অংকুরিত হয় এবং অংকুরিত শুষ্ক বার্লির দানাকে গুঁড়া করে নিলে মল্ট গুড়া পাওয়া যায়। 
- মল্ট থেকে ডায়াস্টেস এনজাইম নিঃসৃত হয়। 

এনজাইম: 
- এনজাইম হল এক প্রকার প্রাণ-শক্তিহীন, অদানাদার, নাইট্রোজেন বিশিষ্ট, অজানা, রহস্যময় জটিল জৈব যৌগ। 
- ঈস্ট (Yeast), ছত্রাক (fungus) বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষ হতে এনজাইম নিঃসৃত হয়। 
যেমন - ঈস্ট কোষে জাইমেস, ইনভারটেস, মলটেস প্রভৃতি এনজাইম থাকে। 
- এনজাইমগুলো নিজে পরিবর্তিত না হয়ে জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
- এজন্য এনজাইমকে জৈব প্রভাবক বলে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯২৯.
কোন উদ্ভিদের দেহ খন্ডিত হলে সেই খন্ডিত অংশ স্বাধীন উদ্ভিদ হিসেবে জীবনযাপন শুরু করে?
  1. ক) স্পাইরোগাইরা
  2. খ) বৈমাল
  3. গ) আপেল
  4. ঘ) ধান
সঠিক উত্তর:
ক) স্পাইরোগাইরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্পাইরোগাইরা
ব্যাখ্যা
স্পাইরোগাইরা, মিউকর ইত্যাদি উদ্ভিদের কোনো কারণ দেহ খন্ডিত হলে সেই খন্ডিত অংশ স্বাধীন উদ্ভিদ হিসেবে জীবনযাপন শুরু করে৷
উৎসঃ অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
২,৯৩০.
একাধিক কোষ বিভিন্ন কাজের জন্য মিলিতভাবে তৈরি করে- 
  1. অঙ্গ 
  2. কলা
  3. জীব 
  4. অণু
সঠিক উত্তর:
কলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলা
ব্যাখ্যা
• টিস্যু বা কলা:
- বহুকোষী প্রাণিদেহে অনেক কোষ একত্রে কোনো বিশেষ কাজে নিয়োজিত থাকে।
- একই ভ্রূণীয় কোষ থেকে উৎপন্ন হয়ে এক বা একাধিক ধরনের কিছুসংখ্যক কোষ জীবদেহের কোনো নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে সমষ্টিগতভাবে একটা কাজে নিয়োজিত থাকলে ঐ কোষগুলো সমষ্টিগতভাবে টিস্যু (Tissue) বা তন্ত্র তৈরি করে।
- একটি টিস্যুর কোষগুলোর উৎপত্তি, কাজ এবং গঠন একই ধরনের হয়। টিস্যু নিয়ে আলোচনাকে টিস্যুতত্ত্ব (Histology) বলে।
- কোষ এবং টিস্যুর মধ্যে পার্থক্য খুবই নির্দিষ্ট। কোষ হচ্ছে টিস্যুর গঠনগত ও কার্যকরী একক, যেমন লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা বিভিন্ন ধরনের রক্তকোষ।
- আবার এরা একত্রে তরল যোজক টিস্যু নামে এক ধরনের টিস্যু হিসেবে পরিচিত।
- তরল যোজক টিস্যু রক্ত দেহের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় শারীরবৃত্তীয় কাজে অংশ নেয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।
২,৯৩১.
রক্তশূন্যতার জন্য নিম্নের কোন উপাদানটি দায়ী নয়?
  1. ক) লৌহ
  2. খ) ম্যাগনেসিয়াম
  3. গ) ফলিক এসিড
  4. ঘ) ভিটামিন বি-12
সঠিক উত্তর:
খ) ম্যাগনেসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
রক্তশূন্যতা হচ্ছে দেহের এমন একটি অবস্থা, যখন বয়স এবং লিঙ্গভেদে রক্তে হিমােগ্লোবিনের ঘনত্ব স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। খাদ্যের মুখ্য উপাদান লৌহ, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন বি-12 ইত্যাদির অভাব ঘটলে এ রােগ দেখা যায়।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৩২.
রক্তে কোনটির মাত্রা বৃদ্ধি পেলে জন্ডিসের লক্ষণ প্রকাশ পায়?
  1. ক) বিলিরুবিন
  2. খ) ইনসুলিন
  3. গ) কোলেস্টেরল
  4. ঘ) হিমোগ্লোবিন
সঠিক উত্তর:
ক) বিলিরুবিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিলিরুবিন
ব্যাখ্যা
• জন্ডিস হবার মূল কারণ হল রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা অধিক পরিমাণে বেড়ে যাওয়া। বিলিরুবিন এক ধরণের হলুদ রঙের পদার্থ, যেটা রক্তে উপস্থিত লাল রক্ত কনিকার ১২০ দিনের চক্র পূরণ হলে ভেঙ্গে তৈরি হয়।

অপরদিকে ----

• কোলেস্টেরল এক ধরনের চর্বি। এটি কয়েক ধরনের হয়ে থাকে ট্রাইগ্লিসারাইড, এলডিএল, এইচডিএল এবং টোটাল কোলেস্টরল। এর মধ্যে একটা হলো উপকারী। আর তিনটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 

• ইনসুলিন হলো অগ্ন্যাশয়ের প্রধান হরমোন,এক ধরনের পলিপ্যাপটাইড, যা গ্লুকোজকে রক্ত থেকে কোষের মধ্যে প্রবেশ করা নিয়ন্ত্রণ করে। ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন নিঃসরণকারী কোষগুলো (আইল্যেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স-এর বিটা কোষ) থেকে নিঃসৃত হয়। 

• হিমোগ্লোবিন একটি অক্সিজেন বাহী লৌহসমৃদ্ধ মেটালোপ্রোটিন ।

SOURCE: জীব বিজ্ঞান ,  ২য় পত্র  ,এইচ এস সি পোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
২,৯৩৩.
আরশোলার হৃদপিন্ড কত প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট?
  1. ৪ প্রকোষ্ঠ
  2. ৮ প্রকোষ্ঠ
  3. ১১ প্রকোষ্ঠ
  4. ১৩ প্রকোষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
১৩ প্রকোষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩ প্রকোষ্ঠ
ব্যাখ্যা
- আরশোলার (cockroach) হৃদপিণ্ড ১৩ টি প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।
- এটি টিউবুলার আকৃতির এবং পৃষ্ঠদেশে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- মানুষের হৃদপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট (দুটি আলিন্দ এবং দুটি নিলয়) ।
- বেশিরভাগ মাছের হৃদপিণ্ড দুই প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট (একটি আলিন্দ এবং একটি নিলয়)।
- ব্যাঙের হৃদপিণ্ড তিন প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট (দুটি আলিন্দ এবং একটি নিলয়)।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৯৩৪.
মস্তিষ্ক থেকে কত জোড়া স্নায়ু নির্গত হয়?
  1. ক) ৮ জোড়া
  2. খ) ১০ জোড়া
  3. গ) ১২ জোড়া
  4. ঘ) ১৪ জোড়া
সঠিক উত্তর:
গ) ১২ জোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১২ জোড়া
ব্যাখ্যা

মানবদেহে করােটিকা স্নায়ুর সংখ্যা ১২ জোড়া বা ২৪ টি।
আর মেরুরজ্জীয় স্নায়ুর সংখ্যা ৩১ জোড়া বা ৬২ টি। 
উৎসঃ জীববিজ্ঞান বাের্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৯৩৫.
ডিমের কত শতাংশ অ্যালবুমিন?
  1. ক) ২০
  2. খ) ৩০
  3. গ) ৫০
  4. ঘ) ৭০
সঠিক উত্তর:
গ) ৫০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৫০
ব্যাখ্যা
ডিমের সাদা অংশে ‘অ্যালবুমিন’ নামক প্রোটিন থাকে। ডিমের প্রোটিনের পঞ্চাশ শতাংশই অ্যালবুমিন। এছাড়াও ডিমের কুসুমে আয়রন, ভিটামিন বি-২, বি-১২ এবং ডি রয়েছে। Source: Britannica
২,৯৩৬.
ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর কি দিয়ে গঠিত?
  1. ক) সেলুলোজ
  2. খ) কাইটিন
  3. গ) পেপটিডোগ্লাইকেন
  4. ঘ) লিপোপ্রোটিন
সঠিক উত্তর:
গ) পেপটিডোগ্লাইকেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পেপটিডোগ্লাইকেন
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর:
- ক্যাপসিউলের নিচেই জড় কোষ প্রাচীর অবস্থিত।
- কোষ প্রাচীর পেপটিডোগ্লাইকান দিয়ে গঠিত।
- কোষ প্রাচীর সাধারণত ১০-২৫ মাইক্রোমিটার পুরু হয়।
- এটি ব্যাকটেরিয়া কোষের নির্দিষ্ট আকার ও দৃঢ়তা দান করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৩৭.
কোনটি ডিম্বকের অংশ নয়?
  1. ক) পরাগ নালিকা
  2. খ) নিউসেলাস
  3. গ) ভ্রূণথলি
  4. ঘ) ডিম্বকমূল
সঠিক উত্তর:
ক) পরাগ নালিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পরাগ নালিকা
ব্যাখ্যা
ডিম্বকের গঠন : একটি ডিম্বক (Megasporangium = ovule) নিম্নলিখিত অংশগুলো নিয়ে গঠিত-
১। ডিম্বকনাড়ী (Funiculus) 
২। ডিম্বকনাভী (Hilum)  
৩। নিউসেলাস (Nucellus)
৪। ডিম্বকমূল (Chalaza) : 
৫। ডিম্বকত্বক (Integument) 
৬। ডিম্বকরন্ধ্র (Micropyle) 
৭। ভ্রূণথলি (Embryosac)

পরাগ নালিকা পুং গ্যামেটোফাইটের অংশ

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,৯৩৮.
কোন হেপাটাইটিস ভাইরাস রক্তের মাধ্যমে ছড়ায় না?
  1. Hepatities A
  2. Hepatities B
  3. Hepatities C
  4. Hepatities D
সঠিক উত্তর:
Hepatities A
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Hepatities A
ব্যাখ্যা
• হেপাটাইটিস:
- হেপাটাইটিস লিভার বা যকৃৎ এর একটি প্রদাহ যা হেপাটাইটিসের ৫টি ভাইরাসের ( এ, বি, সি, ডি এবং ই) মাধ্যমে ঘটে।
- দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে।
- হেপাটাইটিস লিভারের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কময়ে দিতে শুরু করে।
- হেপাটাইটিসের ভাইরাসগুলোর মধ্যে টাইপ-বি এবং সি মারাত্মক রূপ নেয় এবং লিভার সিরোসিস এবং ক্যান্সারের মতো মারাত্মক আকার ধারণ করে।
- প্রাথমিক অবস্থায় তা চিকিৎসা না করলে গুরুতর হয়ে ওঠে এবং লিভার সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

• ভাইরাসের নাম- ধরণ- সংক্রমণের মাধ্যম:
- Hepatities A- RNA - পানি, দূষিত খাবার;
- Hepatities B- DNA- রক্ত, যৌন মাধ্যম;
- Hepatities C- RNA- রক্ত, যৌন মাধ্যম;
- Hepatities D- RNA- রক্ত, যৌন মাধ্যম, লালা;
- Hepatities E- RNA- পানি, দূষিত খাবার।

উৎস: জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র- গাজী আজমল, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২,৯৩৯.
প্রস্বেদনের হার নির্ণয় করা যায় কোনটির মাধ্যমে?
  1. অডোমিটার
  2. পটেনশিওমিটার
  3. গ্যানং পটোমিটার
  4. ক্রেসকোগ্রাফ
সঠিক উত্তর:
গ্যানং পটোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যানং পটোমিটার
ব্যাখ্যা
• গ্যানং পটোমিটারের সাহায্যে প্রস্বেদনের হার নির্ণয় করা যায়। 

• প্রস্বেদন:

- উদ্ভিদের পাতা বা অন্য কোনো অঙ্গ হতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি বাষ্পাকারে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বলা হয়। 

• প্রস্বেদনের প্রকারভেদ:
প্রস্বেদন প্রধানত তিন প্রকার। যথা:  
- পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন। 
- কিউটিকুলার প্রস্বেদন।
- লেন্টিকুলার প্রস্বেদন।

• প্রস্বেদনের গুরুত্ব:  
→ উদ্ভিদের দেহে পানির পরিবহন:
- প্রস্বেদন প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের মূল দ্বারা শোষিত পানিকে কান্ড এবং পাতার মাধ্যমে উপরে উঠতে সাহায্য করে।  
→ উদ্ভিদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঠান্ডা রাখা:
- অতিরিক্ত পানি বাষ্পীভূত হওয়ার সময় উদ্ভিদ দেহকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।  
→ খনিজ লবণ পরিবহন:
- প্রস্বেদনের ফলে যে টান সৃষ্টি হয়, তা মাটির থেকে শোষিত খনিজ লবণ এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান উদ্ভিদদেহে পরিবহন করতে সাহায্য করে।  
→ উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশ:
- প্রস্বেদন উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করতে সহায়তা করে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২,৯৪০.
নিচের কোন উদ্ভিদ গ্রুপে জাইলেমে ভেসেল (Vessel) উপাদান প্রধান ভূমিকা পালন করে?
  1. জিমনোস্পার্ম
  2. ব্রায়োফাইট
  3. টেরিডোফাইট
  4. অ্যানজিওস্পার্ম
সঠিক উত্তর:
অ্যানজিওস্পার্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানজিওস্পার্ম
ব্যাখ্যা

অ্যানজিওস্পার্ম বা সপুষ্পক উদ্ভিদের জাইলেম টিস্যুতে ভেসেল (vessel) উপাদান প্রধান জল পরিবাহী কোষ হিসেবে কাজ করে। ভেসেলগুলো হলো লম্বা নল যা অনেকগুলি মৃত কোষের শেষ প্রান্তের সংযোগে গঠিত হয়, যা জল পরিবহনে অত্যন্ত কার্যকর।

ট্রাকিয়া বা ভেসেল: 

- ট্রাকিয়া বা ভেসেল অ্যানজিওস্পার্ম উদ্ভিদের জাইলেম টিস্যুর প্রধান উপাদান। 
- এর কোষগুলো সাধারণত মোটা ও খাটো। 
- এরা একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে এবং এদের প্রস্থ প্রাচীর বিলুপ্তির ফলে লম্বা ফাঁপা নলের ন্যায় গঠন তৈরি করে। 
- ভেসেল কোষের পরিপূর্ণতার সময় প্রোটোপ্লাজম বিনষ্ট হয়। তাই পরিণত অবস্থায় এরা মৃত কোষ। 
- এদের কোষ প্রাচীর লিগনিনযুক্ত এবং ট্রাকিডের ন্যায়। 
- এরাও বলয়াকার, সর্পিলাকার, জালিকাকার, মই আকার ও কৃপাকার হতে পারে। 
- নলাকার ট্রাকিয়ার গহ্বরের আকারের ভিত্তিতে ট্রাকিয়া দু'রকম। 
যথা- প্রোটোজাইলেম ও মেটাজাইলেম। 
- সরু ব্যাসবিশিষ্ট ট্রাকিয়াকে (এরা প্রথমে সৃষ্টি হয়) প্রোটোজাইলেম এবং মোটা ব্যাসবিশিষ্ট ট্রাকিয়াকে (এরা পরে সৃষ্টি হয়) মেটাজাইলেম বলা হয়। 
- প্রধানত অ্যানজিওস্পার্মে ট্রাকিয়া থাকে। 
- এরা মূল থেকে পানি ও পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণ পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে পরিবহন করে এবং উদ্ভিদকে দৃঢ়তা প্রদান করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৪১.
নিচের কোনটি জন্ম নিয়ন্ত্রণের দীর্ঘমেয়াদী অস্থায়ী পদ্ধতি?
  1. ক) টিউবেকটিম
  2. খ) স্পঞ্জ
  3. গ) আই ইউ ডি
  4. ঘ) ডায়ফ্রাম
সঠিক উত্তর:
গ) আই ইউ ডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আই ইউ ডি
ব্যাখ্যা
গর্ভনিরোধক পদ্ধতি (Contraceptive methods):
- সন্তানের জন্ম বিভিন্ন উপায়ে রোধ করা সম্ভব।
- বর্তমানে অনেক ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি আছে।
- পরিকল্পিত ও সুস্থ-সুন্দর পরিবার গড়ে তোলার জন্য প্রতিটি দম্পতিকেই জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি সম্পর্কে সকল তথ্য জানতে হবে এবং ভেবে-চিন্তে উপযুক্ত পদ্ধতিটি বেছে নিতে হবে ।
- জন্মনিয়ন্ত্রনের বহুল ব্যবহৃত আধুনিক পদ্ধতিগুলো হলো-


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৪২.
হুইট্‌টেকার জীব জগৎকে পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করার প্রস্তাব করেন-
  1. ক) ১৯৬৭ সালে
  2. খ) ১৯৬৮ সালে
  3. গ) ১৯৬৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৭০ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৬৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ সালে হুইট্‌টেকার (Whittaker) জীব জগৎকে পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করার প্রস্তাব করেছিলেন। পরবর্তীকালে মারগুলিস (Margulis) ১৯৭৪ সালে হুইট্‌টেকারের শ্রেণীবিন্যাসের পরিবর্তিত ও বিস্তারিত রূপ দেন।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৪৩.
পত্ররন্ধ্রের খোলা ও বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় কোন খনিজ উপাদান বিশেষভাবে ভূমিকা রাখে?
  1. ম্যাগনেসিয়াম
  2. নাইট্রোজেন
  3. ফসফরাস
  4. পটাশিয়াম
সঠিক উত্তর:
পটাশিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাশিয়াম
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের পুষ্টিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের ভূমিকা: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন খনিজ পুষ্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- কিছু ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্টের ভূমিকা নিম্নে বর্ণনা করা হলো- 
১। পটাশিয়াম: 
- উদ্ভিদের বহু জৈবিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় পটাশিয়াম সহায়ক হিসেবে কাজ করে। 
- পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাশিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- পটাশিয়াম উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। 
- কোষবিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে পটাশিয়াম। 
- এটি মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনেও সাহায্য করে। 

২। নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেন নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন আর ক্লোরোফিলের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। 
- উদ্ভিদের সাধারণ দৈহিক বৃদ্ধিতে নাইট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং কোষ কলায় পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। 
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হয়, আর ক্লোরোফিল সৃষ্টি ব্যাহত হলে খাদ্য প্রস্তুত বাধাপ্রাপ্ত হয়। 
- খাদ্যপ্রস্তুত বাধাপ্রাপ্ত হলে শ্বসন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে এবং শক্তি নির্গমন হ্রাস পায়। 

৩। ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 
- এর অভাব হলে ক্লোরোফিল অণু সৃষ্টি এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত ব্যাহত হবে। 

৪। ফসফরাস: 
- মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 
- ফসফরাস জীবকোষের DNA, RNA, NADP, ATP প্রভৃতির গাঠনিক উপাদান। 
- কাজেই এটি ছাড়া উদ্ভিদের পুষ্টি একেবারেই সম্ভব নয়। 
- উদ্ভিদের মূল বৃদ্ধির জন্য ফসফরাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৪৪.
সাধারণত কত তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয়?
  1. ক) ২৮০-৩০০ ন্যানোমিটার
  2. খ) ৩৫০-৪০০ ন্যানোমিটার
  3. গ) ৪০০-৪৮০ ন্যানোমিটার
  4. ঘ) ৪৫০-৫০০ ন্যানোমিটার
সঠিক উত্তর:
গ) ৪০০-৪৮০ ন্যানোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪০০-৪৮০ ন্যানোমিটার
ব্যাখ্যা
- লাল, নীল, কমলা এবং বেগুনি অংশটুকুতেই সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয় আর সবুজ কিংবা হলুদ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ  ভালো হয় না। 
- একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আলোর পরিমাণ বাড়লে সালোকসংশ্লেষণের হার বেড়ে যায়।
- কিন্তু আলোর পরিমাণ অত্যাধিক বেড়ে গেলে পাতার ভিতরকার এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়, ক্লোরোফিল উৎপাদন কম হয়।
- এর ফলে সালোকসংশ্লেষণএর হার কমে যায়।
- সাধারণত ৪০০ -৪৮০ ন্যানোমিটার এবং ৬৮০ ন্যানোমিটার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয়। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।  
২,৯৪৫.
ইউরিয়া নিম্নের কোথায় তৈরি হয়?
  1. ক) বৃক্কে
  2. খ) যকৃতে
  3. গ) দেহকোষে
  4. ঘ) রেনাল ধমনিতে
সঠিক উত্তর:
খ) যকৃতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যকৃতে
ব্যাখ্যা
অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড যকৃতে আসার পর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রোজনজনিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে।
অন্যদিকে, বৃক্ক রেচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরীর থেকে নাইট্রোজেনেঘটিত যৌগ অ্যামোনিয়া, ইউরিক অ্যাসিড, ইউরিয়া ইত্যাদি দেহ থেকে বের করে দেয়।
অর্থাৎ, মানবদেহে ইউরিয়া তৈরি হয় যকৃতে আর রক্ত থেকে আলাদা করে বের করে দেয় বৃক্ক।


উৎস: National Library of Medicine, USA.
২,৯৪৬.
কোনটিকে জীবনের ভিত্তি বলা হয়? 
  1. দেহকোষ
  2. জিন
  3. প্রোটোপ্লাজম
  4. ক্রোমোজোম
সঠিক উত্তর:
প্রোটোপ্লাজম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটোপ্লাজম
ব্যাখ্যা
প্রোটোপ্লাজম: 
- কোষপ্রাচীরের অভ্যন্তরে পাতলা পর্দাবেষ্টিত জেলীর ন্যায় থকথকে আধা তরল বস্তুটিকে প্রোটোপ্লাজম বলে। 
- প্রোটোপ্লাজমকে জীবনের ভিত্তি বলা হয়। 
- প্রোটোপ্লাজমের তিনটি অংশ আছে। 
যথা- 
• কোষ ঝিল্লি, 
• সাইটোপ্লাজম ও 
• নিউক্লিয়াস। 

কোষ ঝিল্লি: 
- সম্পূর্ণ প্রোটোপ্লাজমকে ঘিরে যে নরম পর্দা দেখা যায় তাকে কোষ ঝিল্লি বা সেল মেমব্রেন বলে। 
- এটি কোষের ভেতর ও বাইরের মধ্যে পানি, খনিজ পদার্থ ও গ্যাস এর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। 

সাইটোপ্লাজম: 
- প্রোটোপ্লাজম থেকে নিউক্লিয়াসকে বাদ দিলে যে অর্ধতরল অংশটি থাকে, তাকে সাইটোপ্লাজম বলে। 
- এর প্রধান কাজ কোষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঙ্গানুগুলোকে ধারণ করা। 
- কিছু শরীরবৃত্তীয় কাজ এখানে সম্পন্ন হয়। 
যেমন- সালোকসংশ্লেষণ। 

নিউক্লিয়াস: 
- প্রোটোপ্লাজমের মধ্যে ভাসমান গোলাকার ঘন বস্তুটি নিউক্লিয়াস। 
- নিউক্লিয়াস কোষের সকল শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নবীন কোষে এদের অবস্থান কোষের কেন্দ্রে। 
- পরিণত কোষে এদের স্থান পরিবর্তন হতে পারে। 
- এরা গোলাকার তবে কখনও কখনও উপবৃত্তাকার বা নলাকার হতে পারে। 
- কোনো কোনো কোষে নিউক্লিয়াস থাকে না। 
- একটি নিউক্লিয়াস প্রধানত (১) নিউক্লিয়ার মেমব্রেন (২) নিউক্লিওপ্লাজম (৩) ক্রোমাটিন তন্তু ও (৪) নিউক্লিওলাস নিয়ে গঠিত। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
২,৯৪৭.
উদ্ভিদের অত্যাবশ্যকীয় মাইক্রো উপাদান কোনটি?
  1. অক্সিজেন
  2. ক্যালসিয়াম
  3. মোলিবডেনাম
  4. ফসফরাস
সঠিক উত্তর:
মোলিবডেনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোলিবডেনাম
ব্যাখ্যা

অত্যাবশ্যকীয় উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে,আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন: ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান। 

ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- ম্যাক্রো উপাদান ৯ টি। 
যথা: ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), অক্সিজেন (O) এবং সালফার (S)। 

মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। 
- মাইক্রো উপাদান ৭ টি। 
যথা: বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl), লৌহ (Fe), দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৯৪৮.
ভিটামিন ডি তৈরির চূড়ান্ত ধাপটি সংঘটিত হয়- 
  1. যকৃতে
  2. অন্ত্রে
  3. অস্থিমজ্জায়
  4. কিডনিতে
সঠিক উত্তর:
কিডনিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিডনিতে
ব্যাখ্যা
রিকেটস (Rikets): 
- এটি কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নয়, ভিটামিন 'ডি' এর অভাবে এ রোগ হয়। 
- অন্ত্রে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ, দাঁত ও হাড় গঠন প্রভৃতি শারীরবৃত্তীয় কাজে এই ভিটামিন প্রয়োজন।
- দুধ, মাখন, ডিম, কডলিভার তেল ও হাঙ্গরের তেলে প্রচুর ভিটামিন 'ডি' পাওয়া যায়।
- সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমা থাকা কোলেস্টেরল থেকেও এটি তৈরি হয়, তবে সেক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তৈরির শেষ ধাপটি সংঘটিত হয় কিডনিতে। 

- দেহের হাড়গুলো দুর্বল হওয়া, গিঁট ফুলে যাওয়া, হাড়গুলো বিশেষ করে পায়ের হাড় বেঁকে যাওয়া ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ।
- এছাড়া এই রোগে অনেক সময় দেহের কাঠামো ঠিক থাকে না, হাড়গুলো ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং বক্ষদেশ সরু হয়ে যায়।
- শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন 'ডি' সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে।
- চোখ এবং জননাঙ্গ ঢেকে রেখে নবজাতককে কিছুক্ষণ রোদে রাখা ভালো।
- এতে সূর্যালোকের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে শরীরে কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন 'ডি' তৈরি হয়।
- নিয়মিতভাবে সারা শরীর সারা দিন কালো বা গাঢ় রঙের কাপড়ে ঢেকে রাখলে কিংবা দীঘদিন ধরে ঘরের বাইরে না বের হলে ত্বক পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় না এবং এ কারণে ভিটামিন 'ডি'-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৪৯.
চোখের কোন অংশে রড ও কোন নামে দুই ধরনের কোষ রয়েছে?
  1. ক) স্ক্লেরা
  2. খ) কোরয়েড
  3. গ) রেটিনা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) রেটিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রেটিনা
ব্যাখ্যা

রেটিন হলো চক্ষু লেন্সের পেছনের দিকে অবস্থিত অক্ষিগোলকের ভিতরের পৃষ্টে গোলাপী রঙের ইষদচ্ছ আলোকসংবেদন আবরণ।

রেটিনা রড ও কোণ নামক কতগুলি স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা গঠিত ।
রেটিনার ওপর আলো পড়লে তা স্নায়ুতন্ত্রে এক প্রকার উত্তেজনা সৃষ্টি করে ফলে মস্তিষ্কে দর্শনের অনুভূতি জাগে ।
রেটিনা ক্যামেরার ফিল্মের মতো কাজ করে, ফটোরেসেপ্টরের মাধ্যমে চিত্রটি ক্যাপচার করে।

রেটিনার কাজ হল-
১) বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠন করা ।
২) আলোক গ্রাহক হিসেবে কাজ করে উজ্জ্বল আলোতে দেখতে সাহায্য করে ।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

২,৯৫০.
রক্তশূন্যতার জন্য নিম্নের কোন উপাদানটি দায়ী নয়?
  1. ক) ম্যাগনেসিয়াম
  2. খ) লৌহ
  3. গ) ফলিক এসিড
  4. ঘ) ভিটামিন বি-12
সঠিক উত্তর:
ক) ম্যাগনেসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
রক্তশূন্যতা হচ্ছে দেহের এমন একটি অবস্থা, যখন বয়স এবং লিঙ্গভেদে রক্তে হিমােগ্লোবিনের ঘনত্ব স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। খাদ্যের মুখ্য উপাদান লৌহ, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন বি-12 ইত্যাদির অভাব ঘটলে এ রােগ দেখা যায়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৫১.
নিচের কোনটি সরল টিস্যু নয়?
  1. ক) প্যারেনকাইমা
  2. খ) কোলেনকাইমা
  3. গ) স্ক্লেরেনকাইমা
  4. ঘ) জাইলেম প্যারেনকাইমা
সঠিক উত্তর:
ঘ) জাইলেম প্যারেনকাইমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জাইলেম প্যারেনকাইমা
ব্যাখ্যা

কোষের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে সরল টিস্যুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১) প্যারেনকাইমা,
২) কোলেনকাইমা ও
৩) স্ক্লেরেনকাইমা।
উৎসঃ জীব বিজ্ঞানঃনবম-দশম শ্রেণী

২,৯৫২.
মানবদেহের প্রথম প্রতিরক্ষা স্তরে ভূমিকা রাখে কোনটি?
  1. এন্টিজেন
  2. নিউট্রোফিল
  3. ম্যাক্রোফেজ
  4. লাইসোজাইম এনজাইম 
সঠিক উত্তর:
লাইসোজাইম এনজাইম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইসোজাইম এনজাইম 
ব্যাখ্যা

মানবদেহের প্রতিরক্ষা:
- রোগ জীবাণু কিংবা পরজীবী আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য মানবদেহে সাধারণভাবে তিন ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা লক্ষ করা যায়।

- প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর: ত্বক, সিলিয়া ও মিউকাস, এসিড, লাইসোজাইম এনজাইম ও রক্ত জমাট।
- দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর: শ্বেত রক্তকণিকা থেকে উৎপন্ন বিভিন্ন ধরনের ফ্যাগোসাইটিক কোষ (ম্যাক্রোফেজ, নিউট্রোফিল ইত্যাদি), প্রদাহ সৃষ্টিকারী সাড়া ও দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রভৃতি দেহে দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর: ম্যাক্রোফেজ কর্তৃক উৎপাদিত প্রোটিন দু'ভাবে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করে।
- যেমন- ভৌত পদ্ধতি ও ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়া। ম্যাক্রোফেজ কর্তৃক ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু নিধন চারটি পর্যায়ক্রমিক ধাপে সম্পন্ন হয়।
- যথা- কেমোট্যাক্সিস, সংলগ্নীকরণ, গ্রাসকরণ ও হত্যা এবং পরিপাক।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৫৩.
উদ্ভিদের জন্য কতটি অত্যাবশ্যকীয় খনিজ উপাদান রয়েছে?
  1. ১৬
  2. ১২ 
  3. ১০
  4. ১৮ 
সঠিক উত্তর:
১৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬
ব্যাখ্যা

উদ্ভিদের খনিজ পুষ্টি: 
- মাটি ও পরিবেশ থেকে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য উদ্ভিদ যে সকল পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে তাই উদ্ভিদের পুষ্টি। 
- এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশ উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদেরকে খনিজ পুষ্টিও বলা হয়। 
- উদ্ভিদে প্রায় ৬০ টি অজৈব উপাদান শনাক্ত করা হয়েছে। 
- এই ৬০ টি উপাদানের মধ্যে ১৬ টি উপাদান উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়, তাই এই ১৬ টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়; কারণ এই উপাদানগুলো উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ ও প্রজননের জন্য প্রয়োজনীয়
- অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দু'ভাবে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- ১। ম্যাক্রো উপাদান ও ২। মাইক্রো উপাদান । 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২,৯৫৪.
রাইজোবিয়াম কি?
  1. ক) ব্যাকটেরিয়া
  2. খ) ছত্রাক
  3. গ) পরজীবী
  4. ঘ) ভাইরাস
সঠিক উত্তর:
ক) ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
রাইজোবিয়াম একপ্রকার ব্যাকটেরিয়া। শিম জাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ে এক ধরনের গুটলি দেখা যায়, যার ভিতর রাইজোবিয়াম জাতীয় ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা বাতাসের নাইট্রোজেনকে নাইট্রেট সারে রূপান্তরিত করে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৫৫.
মাইটোকন্ড্রিয়ায় কোন ধরনের জৈবিক শক্তি সঞ্চিত থাকে? 
  1. ATP
  2. ADP
  3. GTP
  4. NADPH
সঠিক উত্তর:
ATP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ATP
ব্যাখ্যা

মাইটোকন্ড্রিয়া: 
- মাইটোকন্ড্রিয়া হলো প্রকৃত জীবকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু।
- কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ থাকে, তাই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বা শক্তি ঘর বলা হয়। 
- এতে ক্রেবস চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ইত্যাদি সংঘটিত হয়। 
- কলিকার ১৮৫০ সালে সাইটোপ্লাজমে এসব অঙ্গাণু আবিষ্কার করেন। 
- অল্টম্যান ১৮৯৪ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার উপস্থিতি আবিষ্কার করেন। 
- বেন্ডা ১৮৯৮ সালে মাইটোকন্ড্রিয়ার নামকরণ করেন। 
- বিভাজনের মাধ্যমে এদের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে। কোষে একটিমাত্র মাইটোকন্ড্রিয়া থাকলে তা কোষ বিভাজনের সাথেই বিভাজিত হয়। 

মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ: 
১। কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের জন্য শক্তি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করে। 
২। শ্বসনের জন্য বিভিন্ন ধরনের এনজাইম ও কোএনজাইম ধারণ করে। 
৩। শ্বসন এর বিভিন্ন পর্যায় যেমন- ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন পরিবহন, অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন ইত্যাদি এখানে সম্পন্ন হয়। 
৪। কিছু পরিমাণ DNA ও RNA উৎপন্ন করে। 
৫। ADP কে ATP তে রূপান্তর করার মাধ্যমে ATP তে শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে সহায়তা করে। 
৬। স্নেহ বিপাকে অংশ গ্রহণ করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৫৬.
বোরনের অভাবজনিত সমস্যা নয় কোনটি? 
  1. কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যাওয়া।
  2. ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হওয়া।
  3. উদ্ভিদের পাতায় ক্লোরোসিস হয়।
  4. উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়।
সঠিক উত্তর:
উদ্ভিদের পাতায় ক্লোরোসিস হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্ভিদের পাতায় ক্লোরোসিস হয়।
ব্যাখ্যা
বোরন (B): 
- বোরন কোষপ্রাচীরের কাঠামোর মধ্যে অবস্থান করে। 
- প্রাচীরটিকে তথা কোষটিকে দৃঢ়তা দেয়। 
- বিপাক ক্রিয়ার বিভিন্ন বিক্রিয়ায় এর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা রয়েছে। 
- তাই বোরনের অভাবে পর্যাপ্ত দৃঢ়তা না পেয়ে এবং বিপাকে গোলযোগ হওয়ার কারণে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়। 
- কচি পাতার বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা বিকৃত হয়। 
- কাণ্ড খসখসে হয়ে ফেটে যায়। 
- ফুলের কুঁড়ির জন্ম ব্যাহত হয়। 

লৌহ (Fe): 
- লৌহের অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়। 
- তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কাণ্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৫৭.
কতটি অ্যামাইনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে ইনসুলিন গঠিত ?
  1. ক) ৫১টি
  2. খ) ৪৫টি
  3. গ) ২৭টি
  4. ঘ) ২১ টি
সঠিক উত্তর:
ক) ৫১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৫১টি
ব্যাখ্যা
- ইনসুলিন একটি হরমোন।
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রাকে হ্রাস করে ফলে রক্ত স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।
- কোন কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন।
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন-A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন-B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে। 

উৎস : উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৫৮.
নিম্নোক্ত কোনটি অনৈচ্ছিক পেশির উদাহরণ?
  1. হৃৎপিণ্ডের পেশি (Cardiac Muscle)
  2. বাহুর পেশি (Biceps)
  3. পায়ের পেশি (Quadriceps)
  4. জিহ্বার পেশি
সঠিক উত্তর:
হৃৎপিণ্ডের পেশি (Cardiac Muscle)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৃৎপিণ্ডের পেশি (Cardiac Muscle)
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ডের পেশি অনৈচ্ছিক পেশির একটি প্রধান উদাহরণ।

অনৈচ্ছিক পেশি (Involuntary Muscle):
- অনৈচ্ছিক পেশি হলো সেই পেশি, যার সংকোচন ও প্রসারণ আমাদের ইচ্ছা বা সচেতন নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয়। এই পেশিগুলো স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
- এর বিপরীতে, ঐচ্ছিক পেশি (Voluntary Muscle) হলো সেই পেশি যা প্রাণীর ইচ্ছানুসারে সংকুচিত ও প্রসারিত হয় (যেমন- হাত ও পায়ের পেশি)।

কার্ডিয়াক পেশি বা হৃৎপেশি (Cardiac muscle):
-  এই পেশি মেরুদণ্ডী প্রাণীদের হৃৎপিণ্ডের এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি।
- এই টিস্যুর কোষগুলো নলাকৃতি (অনেকটা ঐচ্ছিক পেশির মতো), শাখান্বিত ও আড়াআড়ি দাগযুক্ত।
- এ টিস্যুর কোষগুলোর মধ্যে ইন্টারক্যালাটেড ডিস্ক (Intercalated disc) থাকে।
- এদের সংকোচন ও প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়।
- অর্থাৎ, কার্ডিয়াক পেশির গঠন ঐচ্ছিক পেশির মতো হলেও কাজ অনৈচ্ছিক পেশির মতো, তাই একে ঐচ্ছিক-অনৈচ্ছিক পেশিও বলে।
- কার্ডিয়াক পেশির কোষগুলো শাখার মাধ্যমে পরস্পর যুক্ত থাকে।
- হৃৎপিণ্ডের সব কার্ডিয়াক পেশি সমন্বিতভাবে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়।
- মানব ভ্রূণ সৃষ্টির একটা বিশেষ পর্যায় থেকে মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত হৃৎপিণ্ডের কার্ডিয়াক পেশি একটা নির্দিষ্ট গতিতে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহের মধ্যে রক্ত চলাচলের প্রক্রিয়া সচল রাখে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৯৫৯.
দ্বিপদ নামকরণের জনক বলা হয় কাকে?
  1. চার্লস ডারউইন
  2. গ্রেগর জোহান মেন্ডেল
  3. ক্যারোলাস লিনিয়াস
  4. লুই পাস্তুর
সঠিক উত্তর:
ক্যারোলাস লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যারোলাস লিনিয়াস
ব্যাখ্যা
দ্বিপদ নামকরণ:
-  গণ নাম এবং প্রজাতির নাম বুঝায়, এরূপ দুটি পদ নিয়ে গঠিত নামকে দ্বিপদ নাম এবং নামকরণের প্রক্রিয়াকে দ্বিপদ নামকরণ (binomial nomenclature) পদ্ধতি বলা হয়। 

• একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়। প্রথম অংশটি তার গণের নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি তার প্রজাতির নাম। যেমন- গোল আলুর বৈজ্ঞানিক নাম Solanum tuberosum।

•  দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির লক্ষ্য একটাই, তা হচ্ছে এই বৈচিত্র্যময় জীবজগতের প্রতিটি জীবকে আলাদা নামে সঠিকভাবে জানা। আন্তর্জাতিকভাবে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি মেনে জীবের বৈজ্ঞানিক নাম নির্ধারণ করা হয়।

• উদ্ভিদের নাম International Code of Botanical Nomenclature (ICBN) কর্তৃক এবং প্রাণীর নাম International Code of Zoological Nomenclature (ICZN) কর্তৃক স্বীকৃত নিয়মানুসারে হতে হবে। প্রকৃত পক্ষে এই code পুস্তকাকারে লিখিত একটি দলিল।
• নামকরণ ল্যাটিন শব্দে হওয়ায় কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নাম সারা বিশ্বে একই নামে পরিচিত হয়।

সুইডিশ বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস  দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির প্রবর্তন করেন এবং গণ ও প্রজাতির সংজ্ঞা দেন। 

তথ্যসূত্র:
মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
২,৯৬০.
ধানের বাদামী দাগ রোগ হয়- 
  1. ব্যাকটেরিয়া দ্বারা
  2. ভাইরাস দ্বারা
  3. ছত্রাক দ্বারা
  4. ব্যাক্টেরিওফাজ দ্বারা
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক দ্বারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছত্রাক দ্বারা
ব্যাখ্যা
ধানের রোগ: 
১.বাদামি দাগ রোগ: 
- ধানের বাদামি দাগ রোগের কারণ বাইপোলারিস ওরাইজি (Bipolaris oryzae) নামক ছত্রাক। 

২. ব্লাস্ট রোগ (Blast): 
- ধানের ব্লাস্ট রোগের কারণ পাইরিকুলারিয়াগ্রিসিয়া (Pyricularia grisea) নামক ছত্রাক। 

৩. খোল পচা রোগ (Sheath rot): 
- ধানের খোল পচা রোগের কারণ স্যারোক্লেডিয়াম ওরাইজি (Sarocladium oryzae) নামক ছত্রাক। 

৪. ব্যাকটেরিয়াজনিত পোড়া রোগ (Bacterial Blight): 
- জ্যানথোমোনাস অরাইজি পিভি অরাইজি (Xanthomonas oryzae pv.oryzae) এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া। 

৫. টুংরো (Tungro): 
- টুংরো রোগের কারণ রাইস টুংরো ভাইরাস (Rice Tungro Virus) নামক এক ধরনের অতি সূক্ষ্ম জীবাণু বা ভাইরাস। 

৬. উফরা রোগ (ডাক পোড়া) (Ufra): 
- উফরা রোগ (ডাক পোড়া) রোগের কারণ ডাইটিলেংকাস এ্যাংগাসটাস (Ditylenchus angustus) নামক এক ধরনের কৃমি। 

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS) ওয়েবসাইট।
২,৯৬১.
ফানজাই (Fungi)-এর সঞ্চিত খাদ্য কোনটি? 
  1. গ্লুকোজ 
  2. সেলুলোজ 
  3. গ্লাইকোজেন 
  4. স্টার্চ 
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোজেন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লাইকোজেন 
ব্যাখ্যা

ছত্রাক: 
- ফানজাই (Fungi) এর বাংলা হলো ছত্রাক। 
- ক্লোরোফিলবিহীন অসবুজ সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদগুলোই ছত্রাক নামে পরিচিত। 
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে মাইকোলজি বলা হয়। 
যেমন- Penicillium, Agaricus, Mucor, Puccinia, Candida, Arcyria, Saprolegnia ইত্যাদি ছত্রাকের উদাহরণ। 

ছত্রাকের বৈশিষ্ট্য: 
১। ছত্রাক অপুষ্পক উদ্ভিদ। 
২। এরা ক্লোরোফিলবিহীন, অসবুজ এবং সালোকসংশ্লেষণে অক্ষম। 
৩। এরা মৃতজীবী, পরজীবী বা মিথোজীবী হিসেবে বাস করে। 
৪। এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও বিভিন্ন অঙ্গাণু থাকে। 
৫। এদের কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে গঠিত। 
৬। ছত্রাকের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন বা চর্বি। 
৭। এদের পরিবহনতন্ত্র বা ভাস্কুলার টিস্যু থাকে না। 
৮। এদের জননাঙ্গ এককোষী। 
৯। স্ত্রী জননাঙ্গে থাকা অবস্থায় জাইগোট বহুকোষী ভ্রূণে পরিণত হয় না। 
১০। হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবিস্তার হয় এবং 
১১। জাইগোটে মায়োসিস ঘটে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৬২.
জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় অণুজীবের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হয়?
  1. মাইক্রোবায়োলজি
  2. ফাইকোলজি
  3. এন্ডোক্রাইনোলজি
  4. এন্টোমোলজি
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোবায়োলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোবায়োলজি
ব্যাখ্যা

• জীববিজ্ঞানের মাইক্রোবায়োলজি শাখায় অণুজীব বা মাইক্রোঅর্গানিজমের বৈশিষ্ট্য, গঠন, বৃদ্ধি, প্রজনন এবং পরিবেশে তাদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। মাইক্রোবায়োলজির অন্তর্ভুক্ত অণুজীবের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক, প্রোটোজোয়া এবং অ্যালগ রয়েছে। এই শাখা মানুষের স্বাস্থ্য, রোগ এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহে অণুজীবের প্রভাব, রোগ সৃষ্টি এবং জীববিজ্ঞানের গবেষণায় তাদের ব্যবহার-যেমন অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন বা বায়োপ্রসেস-সবই মাইক্রোবায়োলজির আলোচ্য বিষয়। অন্যদিকে ফাইকোলজি শাখা শৈবাল নিয়ে, এন্ডোক্রাইনোলজি হরমোন নিয়ে এবং এন্টোমোলজি পোকামাকড় নিয়ে কাজ করে। তাই অণুজীব সম্পর্কিত আলোচনা মাইক্রোবায়োলজিতে হয়।

- উত্তর: ক) মাইক্রোবায়োলজি।

• মাইক্রোবায়োলজি:
- ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, আণুবীক্ষণিক ছত্রাক এবং অন্যান্য অণুজীব সম্পর্কিত বিজ্ঞান হলো মাইক্রোবায়োলজি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• এন্ডোক্রাইনোলজি:
- জীবদেহে হরমোনের কার্যকারিতা বিষয়ক আলোচনা করা হয় এন্ডোক্রাইনোলজি শাখায়।
• এন্টোমোলজি:
কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান হলো এন্টোমোলজি।
• ফাইকোলজি (Phycology) হলো শৈবাল সম্পর্কিত বিজ্ঞান।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৬৩.
নিচের কোনটি প্রাণীর শ্রেণীবিন্যাসের সর্বোচ্চ স্তর?
  1. গণ
  2. বর্গ
  3. রাজ্য
  4. প্রজাতি
সঠিক উত্তর:
রাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজ্য
ব্যাখ্যা
• প্রাণীর শ্রেণীবিন্যাস (Biological Classification) একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, যার মাধ্যমে প্রাণীদের বিভিন্ন ভাগে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।
- শ্রেণীবিন্যাসে স্তরগুলো বড় থেকে ছোট ক্রমে সাজানো হয়।

• শ্রেণীবিন্যাসের স্তরসমূহ (Hierarchy of Classification):
রাজ্য (Kingdom) 
      ↓
পর্ব (Phylum) 
      ↓
বর্গ (Class) 
      ↓
গণ (Order)
      ↓
জাতি (Family)
      ↓
গণ (Genus)
      ↓
প্রজাতি (Species) 

শ্রেণীবিন্যাসের স্তর থেকে দেখা যায় যে এর সর্বোচ্চ স্তর হলো রাজ্য ও সর্বনিম্ন স্তর হলো প্রজাতি। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
২,৯৬৪.
দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালী ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণকারী ক্রোমোজোমের সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ২৩টি
  3. গ) ৪৪টি
  4. ঘ) ৪৬ টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৪৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৪৪টি
ব্যাখ্যা
মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬ টি ক্রোমোজোম থাকে। এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম। অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালী ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনো ভূমিকা নেই। সূত্রঃ সাধারণ বিজ্ঞান(উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
২,৯৬৫.
ডিএনএ (DNA) কাঁটার বিশেষ এনজাইমের নাম কী?
  1. লেকটেজ
  2. লাইপেজ
  3. রেস্ট্রিকশন এনজাইম
  4. লাইগেজ
সঠিক উত্তর:
রেস্ট্রিকশন এনজাইম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেস্ট্রিকশন এনজাইম
ব্যাখ্যা
রিকম্বিনেট ডিএনএ টেকনলজি (জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং) এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ - প্রত্যাশিত DNA অনুকে ছেদন।
- এক্ষেত্রে প্রথমে প্রত্যাশিত DNA অণুকে কেটে আলাদা করা হয়।
- প্রত্যাশিত DNA অণুকে কাঁটতে একটি বিশেষ এনজাইম (রেস্ট্রিকশন এন্ডোনিউক্লিয়েজ এনজাইম দ্বারা DNA ছেদন করা হয়) ব্যবহার করা হয়।
- বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫০টি রেস্ট্রিকশন এনজাইম আবিষ্কৃত হয়েছে। যথা- Eco RI, Hind III, Bam HI ইত্যাদি।
- রেস্ট্রিকশন এনজাইম DNA অণুর একটি সুনির্দিষ্ট সাজান অংশকে অসমভাবে কেঁটে দেয়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।
২,৯৬৬.
কোন রোগের চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়?
  1. ব্রেইন ক্যন্সার নিরাময়ে
  2. থাইরয়েড গ্রন্থির চিকিৎসায়
  3. গলগণ্ড রোগ নির্ণয়ে
  4. লিউকোমিয়া চিকিৎসায়
সঠিক উত্তর:
থাইরয়েড গ্রন্থির চিকিৎসায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থাইরয়েড গ্রন্থির চিকিৎসায়
ব্যাখ্যা
• থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131 ব্যবহৃত হয়।

- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়।
- আবার নিরাময়ের জন্য কোবাল্ট-60 থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়।
- রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-32 এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়।
- এই রেডিও আইসোটোপ ব্যবহৃত হয় গলগণ্ড রোগ নির্ণয়ে।
- ব্রেইন ক্যন্সার নিরাময়ে ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৬৭.
উদ্ভিদের অত্যাবশ্যকীয় মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট কোনটি?
  1. নাইট্রোজেন
  2. পটাশিয়াম
  3. ফসফরাস
  4. ম্যাঙ্গানিজ
সঠিক উত্তর:
ম্যাঙ্গানিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাঙ্গানিজ
ব্যাখ্যা
অত্যাবশ্যকীয় উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানকে সমষ্টিগতভাবে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বলা হয়। 
- এই উপাদানগুলো সব ধরনের উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, শারীরবৃত্তীয় কাজ এবং প্রজননের জন্য প্রয়োজন। 
- অত্যাবশ্যকীয় ১৬টি উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ কোনো কোনো উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করে,আবার কোনো কোনো উপাদান সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করে। 
- উদ্ভিদ কর্তৃক গৃহীত অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টির পরিমাণের উপর ভিত্তি করে এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যেমন: ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান এবং মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান। 

ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান বেশি পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা ম্যাক্রো উপাদান বলা হয়। 
- ম্যাক্রো উপাদান ১০টি। 
যথা: নাইট্রোজেন (N), পটাশিয়াম (K), ফসফরাস (P), ক্যালসিয়াম (Ca), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O), সালফার (S) এবং লৌহ (Fe)। 

মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান: 
- উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যেসব উপাদান অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে দরকার হয়, সেগুলোকে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা মাইক্রো উপাদান বলে। 
- মাইক্রো উপাদান ৬টি। 
যথা: দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাঙ্গানিজ (Mn), মোলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), তামা বা কপার (Cu) এবং ক্লোরিন (Cl)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৬৮.
মানবদেহে শ্বসন প্রক্রিয়ায় নিচের কোনটি উৎপন্ন হয়?
  1. C02
  2. H20
  3. ATP
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• মানব শ্বসন:
অক্সিজেন জীবনধারণের অপরিহার্য উপাদান। কোনো প্রাণীই অক্সিজেন ছাড়া বাঁচতে পারে না। মানবদেহে বাতাসের সাথে অক্সিজেন ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং রক্তের মাধ্যমে দেহের সব অঙ্গে পৌঁছায়। দেহকোষে পরিপাক হওয়া খাদ্যের সাথে অক্সিজেনের বিক্রিয়া ঘটে, ফলে তাপ এবং শক্তি উৎপন্ন হয়। এই তাপ দেহকে উষ্ণ রাখে এবং প্রয়োজনীয় শক্তি যোগায়। অক্সিজেন এবং খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে বিক্রিয়ার ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি উৎপন্ন হয়। রক্ত উপাদানগুলোকে ফুসফুসে নিয়ে যায়। সেখানে অক্সিজেন শোষিত হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ছেড়ে দেয়। যে প্রক্রিয়া দিয়ে অক্সিজেন গ্রহণ এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নিষ্কাশন করা হয়, তাকে শ্বাসকার্য বলে। যে জৈবিক প্রক্রিয়া জীবকোষের খাদ্যবস্তুকে বায়ুর অক্সিজেনের সাথে জারিত করে মজুত শক্তিকে ব্যবহারযোগ্য শক্তিতে রূপান্তর এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নিষ্কাশন করে, তাকে শ্বসন বলে। দেহের ভিতর গ্যাসীয় আদান-প্রদান একবার ফুসফুসে এবং পরে দেহের প্রতিটি কোষে পর্যায়ক্রমে সম্পাদিত হয়। শ্বসনের সরল বিক্রিয়াটি এরকম-

C6H1206 (গ্লুকোজ)  602 (অক্সিজেন)   ⇔   6C02 (কার্বন ডাই-অক্সাইড)  +  6H2O (পানি) +  ATP (শক্তি)

- মানবদেহে শ্বসন প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ ও ৬ অণু অক্সিজেনের বিক্রিয়ায় ৬ অণু কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি এবং ATP বা শক্তি     উৎপন্ন হয়।
- প্রশ্বাসে অক্সিজেন গ্রহণ এবং নিঃশ্বাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড দেহ থেকে বের করতেই হয়, তা না হলে আমাদের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। কারণ তিন-চার মিনিটের বেশি দেহে অক্সিজেনের সরবরাহ বন্ধ থাকলে মৃত্যু অনিবার্য।
- দেহের সচেতন, অচেতন উভয় অবস্থাতেই অবিরাম অক্সিজেন গ্রহণ এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের নির্গমন চলে। আর সাথে সাথে প্রতিনিয়ত দেহরক্ষার নানাবিধ প্রক্রিয়াও চলতে থাকে, যার ফলে প্রাণী বেঁচে থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

২,৯৬৯.
মানবদেহের নাক, কান এবং শ্বাসনালিতে নিচের কোনটি পাওয়া যায়?
  1. শক্ত হাড়
  2. তরুণাস্থি
  3. টেন্ডন
  4. পেরিটেন্ডিয়াম
সঠিক উত্তর:
তরুণাস্থি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরুণাস্থি
ব্যাখ্যা

• টেন্ডন (Tendon): 
- মাংসপেশির প্রান্তভাগ রজ্জুর ন্যায় শক্ত হয়ে অস্থিগাত্রের সাথে সংযুক্ত থাকে, এ শক্ত প্রান্তকে টেন্ডন বলে। 
- ঘন শ্বেত তন্তুময় যোজক টিস্যু দ্বারা টেন্ডন গঠিত। এসব টিস্যু শাখা-প্রশাখাবিহীন, তরঙ্গিত এবং উজ্জ্বল শ্বেততন্তু দ্বারা গঠিত। 
- এরা গুচ্ছাকারে পরস্পর সমান্তরালভাবে বিস্তৃত থাকে। অনেকগুলো তন্তু একত্রে আঁটি বা বান্ডেল তৈরি করে। এদের স্থিতিস্থাপকতা নেই। 
- আঁটিগুলো একত্রে দলবদ্ধ হয়ে আঁটিগুচ্ছ তৈরি করে। আঁটিগুচ্ছগুলো তন্তুময় টিস্যুগুচ্ছ দ্বারা বেষ্টিত হয়ে অধিকতর বড় আঁটিতে শ্রেণিবদ্ধ হয়, একে পেরিটেন্ডিয়াম বলে। 
- টেন্ডন বেশ শক্ত। পেশি বা অস্থির তুলনায় টেন্ডনের ভেঙ্গে বা ছিঁড়ে যাবার সম্ভাবনা অনেক কম। 
- টেন্ডন দেহ কাঠামো গঠন ও দৃঢ়তাদানে, অস্থিবন্ধনী গঠনে সাহায্য করে এবং চাপটানের বিরুদ্ধে যান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। 

• তরুণাস্থি (Cartilage): 
- দেহের অভ্যন্তরের নমনীয়, নরম ও স্থিতিস্থাপক যোজক কলাকে তরুণাস্থি বা কার্টিলেজ বলে। 
- মানুষের নাক, কান, হিউমেরাস ও ফিমারের মস্তক, বিভিন্ন অস্থিসন্ধি, শ্বাসনালি, আন্তঃকশেরুকা চাকতি ইত্যাদিতে তরুণাস্থি থাকে। 
- তরুনাস্থির ম্যাট্রিক্সকে কনড্রিন (chondrin) বলে। ইহা অর্ধকঠিন, নমনীয় ও স্থিতিস্থাপক। 
- এটি মূলত কন্ড্রোসাইট কোষ এবং কোলাজেন/ইলাস্টিন তন্তু দিয়ে গঠিত।
- এটি পেরিকনড্রিয়াম নামক তন্তুময় ঝিল্লি দ্বারা আবৃত থাকে।
- এতে রক্তনালী বা স্নায়ু থাকে না, তাই পুষ্টির জন্য আশেপাশের তরলের ওপর নির্ভর করে।
- প্রধানত তিন ধরনের তরুণাস্থি পাওয়া যায়: হায়ালিন, ইলাস্টিক এবং ফাইব্রাস

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৭০.
ভুট্টা কোন শ্রেনীর উদ্ভিদ?
  1. ক) খাদ্য শস্য
  2. খ) চিনি
  3. গ) আঁশ
  4. ঘ) তেল
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) খাদ্য শস্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) খাদ্য শস্য
ব্যাখ্যা

আমাদের দেশের কৃষির প্রধান উপখাত হলো- শস্য উৎপাদন।
বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাবার ভাত, আর তাই এই দেশের প্রায় ৮০ ভাগ কৃষি জমিতেই ধান উৎপাদন হয়। এছাড়াও গম, ভুট্টা, সহ শাকসব্জি উৎপাদন প্রচুর পরিমানে হয়।
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর অর্থনীতি (২য় পত্র) বই, প্রঃ মোস্তাফিজুর রহমান।

২,৯৭১.
HIV ভাইরাস কোন রক্ত কোষের ক্ষতিসাধন করে?
  1. প্লাজমা
  2. লোহিত রক্ত কোষ 
  3. শ্বেত রক্ত কোষ
  4. অণুচক্রিকা
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্ত কোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্ত কোষ
ব্যাখ্যা

এইডস (Acquired Immune Deficiency Syndrome বা AIDS):
বর্তমান বিশ্বে এইডস একটি মারাত্মক ঘাতক ব্যাধি হিসেবে পরিচিত। 1981 সালে রোগটি আবিষ্কৃত হয়।
Acquired Immune Deficiency Syndrome-এর শব্দগুলোর আদ্যক্ষর দিয়ে এ রোগটির নামকরণ
করা হয়েছে AIDS।
- UNAIDS কর্তৃক প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় যে সারা বিশ্বে বর্তমানে প্রায় 40.8 মিলিয়ন মানুষ HIV-এ জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত। এর মধ্যে প্রায় 53 শতাংশ হলো নারী।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে HIV/AIDS এর প্রায় সব দেশেই বিস্তার আছে এবং এটি এখনো একটি বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য সমস্যা।
Human Immune Deficiency Virus সংক্ষেপে HIV ভাইরাসের আক্রমণে এইডস হয়।
- HIV ভাইরাস শ্বেত রক্ত কোষের ক্ষতিসাধন করে (CD4 T-লিম্ফোসাইট নামক শ্বেত রক্তকোষ) এবং এ কোষের এন্টিবডি তৈরিসহ রোগ প্রতিরোধ-সংক্রান্ত কাজে বিঘ্ন ঘটায়। ফলে শ্বেত রক্ত কোষের সংখ্যা  ও এন্টিবডির পরিমাণ ক্রমশ কমতে থাকে।
- এই ভাইরাস মানবদেহে সুপ্ত অবস্থায় অনেক দিন থাকতে পারে।
- এই ভাইরাসের আক্রমণে রোগীর দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিনষ্ট হয়ে যায় বলে রোগীর মৃত্যু অনিবার্য হয়ে পড়ে। কারণ এইডস রোগীর রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করার মতো কোনো ঔষধ এখনও আবিষ্কার হয়নি।

• রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লালবর্ণের তরল যোজক টিস্যু। ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহণে অংশ নেয়।
- উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে।
- রক্তের উপাদান দুটি- রক্তরস (55%) এবং রক্তকোষ (45%)।
- রক্তরস (Plasma) রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ। এর প্রায় 91-92% অংশ পানি এবং ৪-9% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। এসব রক্তরসের ভিতর বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন এবং বর্জ্য পদার্থ থাকে।
- রক্তকোষ তিন ধরনের, যথা- লোহিত রক্তকোষ (Erythrocyte বা Red blood cells বা RBC), শ্বেত রক্তকোষ (Leukocyte বা white blood cells বা WBC) এবং অণুচক্রিকা (Thrombocytes বা Blood platelet)।
- লোহিত রক্তকোষ হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে, যার জন্য রক্ত লাল হয়। হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে অক্সিজেন পরিবহণ করে।
- শ্বেত রক্তকোষ জীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রকৃতিগত আত্মরক্ষায় অংশ নেয়। মানবদেহে বেশ কয়েক ধরনের শ্বেত রক্তকোষ থাকে।    - অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধায় অংশ নেয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

২,৯৭২.
প্রোটিন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়-
  1. ক) লিপিড
  2. খ) সাইট্রিক অ্যাসিড
  3. গ) অ্যামাইনো এসিড
  4. ঘ) নিউক্লিক এসিড
সঠিক উত্তর:
গ) অ্যামাইনো এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অ্যামাইনো এসিড
ব্যাখ্যা

• অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। আমিষ পরিপাক হওয়ার পর তা অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
দেহগঠনে আমিষ সহায়তা করে থাকে। এ পর্যন্ত আমাদের শরীরে ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিড আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড ৮টি। এগুলো হলঃ 
- লাইসিন
- ট্রিপেটোফ্যান
- মিথিওনিন
- ভ্যালিন
- লিউসিন
- আইসোলিউসিন
- ফিনাইল অ্যালানিন ও
- থ্রিওনাইন।
সূত্র: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

২,৯৭৩.
মানবদেহে লসিকার পরিমাণ কোনটি?
  1. ক) ১-২লিটার
  2. খ) ৩-৪লিটার
  3. গ) ৪-৫লিটার
  4. ঘ) ৫-৬লিটার
সঠিক উত্তর:
ক) ১-২লিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১-২লিটার
ব্যাখ্যা
লসিকা:
- এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে।
- এতে লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক।
- লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে।
যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি।
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৯৭৪.
এক গ্লাস পানিতে এক চামচ চিনি ঢাললে ক্রমান্বয়ে চিনির দানার অনুগুলো গ্লাসের সমস্ত পানিতে ছড়িয়ে পড়ে কোন প্রক্রিয়ায়?
  1. সালোকসংশ্লেষণ
  2. ব্যাপন
  3. প্রস্বেদন
  4. অভিস্রবণ
সঠিক উত্তর:
ব্যাপন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাপন
ব্যাখ্যা
• ব্যাপন:
- একই তাপমাত্রা ও বায়ুমন্ডলীয় চাপে কোনো পদার্থের অধিকতর ঘনস্থান হতে কম ঘন স্থানে বিস্তার লাভ করার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
- সর্বত্র সমানভাবে বিস্তৃত হয়ে ঘনত্বের পার্থক্যে সমতা না আসা পর্যন্ত ব্যাপন চলতে থাকে এবং তারপর বন্ধ হয়ে যায়।
- এক গ্লাস পানিতে এক চামচ চিনি ঢাললে ক্রমান্বয়ে চিনির দানার অনুগুলো গ্লাসের সমস্ত পানিতে ছড়িয়ে পড়ে এই প্রক্রিয়ায়

• প্রস্বেদন:
- উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য বায়বীয় অঙ্গ হতে জলীয়বাষ্প বের হয়ে যাবার প্রক্রিয়াকে বলা হয় প্রস্বেদন।
- উদ্ভিদ তার মূল দিয়ে মাটি হতে পানি শোষণ করে থাকে এবং এ পানিই কান্ড, শাখা-প্রশাখা, পাতা ও অন্যান্য বায়বীয় অঙ্গে স্থানান্তরিত হয়।

• অভিস্রবণ:
- কম ঘন দ্রবণ থেকে অধিক ঘন দ্রবণের দিকে দ্রাবক অণু প্রবেশ করার প্রক্রিয়াকে অভিস্রবণ বলে।
- দুটো দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে।
- অভিস্রবন এক প্রকার ব্যাপন।
- অভিস্রবণ কেবলমাত্র তরলের ক্ষেত্রে ঘটে।

• সালোকসংশ্লেষণ:
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সবুজ উদ্ভিদ কোষে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে, পরিবেশের বায়ুমণ্ডল থেকে গৃহীত কার্বন ডাইঅক্সাইড ও মূল দ্বারা শোষিত জলের বিক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্যের সংশ্লেষ ঘটে এবং গৃহীত কার্বন ডাইঅক্সাইডের সমপরিমাণ অক্সিজেন প্রকৃতিতে নির্গত হয়, তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, Live MCQ লেকচার শীট।
২,৯৭৫.
তামাকে উপস্থিত সবচেয়ে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ কোনটি?
  1. মিথানল
  2. নিকোটিন
  3. ইথানল
  4. আয়োডিন
সঠিক উত্তর:
নিকোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকোটিন
ব্যাখ্যা

নিকোটিন হলো তামাকে উপস্থিত সবচেয়ে বিষাক্ত ও ক্ষতিকর পদার্থ।
- এটি একটি শক্তিশালী নিউরোটক্সিন (স্নায়ুবিষ)।
- অত্যন্ত আসক্তিকারক পদার্থ - হেরোইনের চেয়েও বেশি আসক্তি সৃষ্টি করে।
- স্নায়ুতন্ত্রের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে, হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বৃদ্ধি করে
রক্তনালী সংকুচিত করে।
- মাত্র ৫০-৬০ মিলিগ্রাম একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য মারাত্মক হতে পারে।
- হার্টের সমস্যা, ফুসফুসের ক্যান্সার, স্ট্রোক, এবং অন্যান্য শ্বাসনালী রোগ মূলত নিকোটিনসহ তামাকের রাসায়নিক যৌগগুলো দ্বারা ঘটে।

• ধুমপান:
- ধুমপান হচ্ছে তামাক জাতীয় দ্রব্যাদি বিশেষ উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে শ্বাসের সাথে তার ধোঁয়া শরীরে গ্রহণ প্রক্রিয়া।
- ধুমপায়ী যে অবস্থায় জলন্ত সিগারেট বা বিড়ি থেকে উদ্ভুত ধোঁয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে মুখে টেনে সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করায় তাকে সক্রিয় ধুমপান বলে।
- অপরদিকে ধুমপানের সময় ধোঁয়ার যে অংশ চারপাশের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনৈচ্ছিকভাবে মানুষের দেহে নিশ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করে তাকে নিষ্ক্রিয় ধুমপান বলে।
- ধুমপানে সৃষ্ট ধোয়াতে প্রায় ৫০০ ধরনের রাসায়নিক পদার্থ থাকে।
- তামাকের মধ্যে ক্ষতিকর উপাদানগুলো হলো নিকোটিন, টার ও কার্বন মনো-অক্সাইড।

• ধুমপানের প্রভাব:
১। সিগারেট বা বিড়ির ধোঁয়ায় বিদ্যমান বিষাক্ত নিকোটিন ও টার ফুসফুসে ক্যান্সার সৃষ্টি করে; কার্বন মনোক্সাইড শ্বাসনালীতে ব্রঙ্কাইটিস সৃষ্টি করে।
২। ধুমপানের ধোঁয়া ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং আয়তন বেড়ে যায়।
৩। ধোয়ার প্রভাবে অ্যালভিওলাসের প্রাচীর ফেটে গিয়ে ফুসফুসে ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি করে ফলে শ্বসনতল কমে গিয়ে গ্যাস বিনিময়ে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করে এ অবস্থাকে এমফাইসিমা বলে।
৪। কার্বন মনোক্সাইড এর বৃদ্ধি ঘটে এবং রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা হ্রাস করে।

উৎস:
১। প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা।

২,৯৭৬.
Plasmodium vivax এর জীবনচক্রেমানবদেহে সংঘটিত চক্রটি হলো-
  1. অযৌন চক্র
  2. যৌন চক্র
  3. সুস্থাবস্থা
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
অযৌন চক্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অযৌন চক্র
ব্যাখ্যা

• Plasmodium vivax এর জীবনচক্রেমানবদেহে সংঘটিত চক্রটি হলো- অযৌন চক্র। 

Plasmodium vivax এর জীবনচক্রে মানবদেহে সংঘটিত চক্র:
- Plasmodium vivax নামক ম্যালেরিয়া পরজীবীর জীবনচক্র দুটি পোষকে সম্পন্ন হয়—মানবদেহ ও স্ত্রী এনোফিলিস মশা।
- মানবদেহে এই পরজীবী কেবল অযৌনভাবে বংশবিস্তার করে।
- মানবদেহে প্রবেশের পর স্পোরোজয়াইট প্রথমে যকৃতে (লিভার) প্রবেশ করে এবং সেখানে অযৌন বিভাজনের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায়।
- পরে এটি রক্তের লোহিত কণিকায় (RBC) প্রবেশ করে এবং পুনরায় অযৌন বিভাজনের মাধ্যমে সংখ্যাবৃদ্ধি করে।
- এই অযৌন বিভাজনের ফলেই ম্যালেরিয়ার উপসর্গ যেমন—জ্বর, কাঁপুনি, ঘাম ইত্যাদি দেখা যায়।

যৌন চক্র (Sexual Cycle):
- Plasmodium vivax এর যৌন চক্র মানবদেহে সংঘটিত হয় না।
- যৌন চক্র সম্পন্ন হয় স্ত্রী এনোফিলিস মশার দেহে।
- মানবদেহে তৈরি হওয়া গ্যামেটোসাইট মশার দেহে প্রবেশ করার পর সেখানে যৌন প্রজনন ঘটে।

সুস্থাবস্থা:
- সুস্থাবস্থা মানবদেহে Plasmodium vivax এর জীবনচক্রের কোনো ধাপ নয়।
- এটি পরজীবীর জীবনচক্রের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

- সুতরাং, Plasmodium vivax এর জীবনচক্রে মানবদেহে যে চক্রটি সংঘটিত হয় তা হলো অযৌন চক্র।
- সঠিক উত্তর: ক) অযৌন চক্র। 

সূত্র - sciencedirect journal.

২,৯৭৭.
গাছের শিকড় কেটে ফেলার প্রক্রিয়াটিকে কি বলে?
  1. ক) রুট ট্রেনিং
  2. খ) রুট হার্ডেনিং
  3. গ) রুট প্রুফিং
  4. ঘ) রুট প্রুনিং
সঠিক উত্তর:
ঘ) রুট প্রুনিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রুট প্রুনিং
ব্যাখ্যা
গাছের শিকড় কেটে ফেলার প্রক্রিয়াটিকে  রুট প্রুনিং বলে। 

সাধারণত গাছের কোন অংশ যেমন ডাল, পাতা, ফুল, ফল, মূল ইত্যাদি কেটে সরিয়ে ফেলাকে প্রুনিং বলে।
প্রুনিং গাছের বিভিন্ন শারীরবৃত্তিক কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে ফল ধারণ ও ফলের মান উন্নত করে।
পুষ্পধারণ, ফলায়ন, ও ফলের গুণগত মান উন্নত করার উদ্দেশ্য নিয়েই প্রুনিং করা হয়।
যদিও সব ধরনের ট্রেনিংকে প্রুনিং বলা হয়, কিন্তু সব ধরনের প্রুনিং ট্রেনিং নয়।

সূত্র- পোর্টল্যান্ড ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]
২,৯৭৮.
রিবোফ্লাভিনের অভাবজনিত মূল সমস্যা কোনটি? 
  1. রক্তশূন্যতা দেখা দেয়
  2. ঠোঁটের কোণে ও জিহ্বায় ঘা হয়
  3. ক্ষতস্থান শুকাতে দেরি হয়
  4. অস্থি ও দাঁতের গঠন দুর্বল হয়
সঠিক উত্তর:
ঠোঁটের কোণে ও জিহ্বায় ঘা হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠোঁটের কোণে ও জিহ্বায় ঘা হয়
ব্যাখ্যা
রিবোফ্লাভিন বা ভিটামিন বি উৎস: 
- কমলা ও হলুদ বর্ণের শাকসবজি যেমন- মিষ্টি কুমড়া, পাকা পেঁপে, কুমড়োর ফুল, ডিমের কুসুম, দুধ, বাদাম, যকৃত রিবোফ্লাভিনের ভালো উৎস। 

অভাবজনিত অবস্থা: 
- রিবোফ্লাভিন বা ভিটামিন বি এর অভাবে জিহ্বায়, ঠোঁটের কোণায় ও মুখের ভিতরে ঘা দেখা দেয়। 
- ত্বক খসখসে হয়ে যায়। 
- ভিটামিন বি২ অভাবে মুখে ঘা হতে পারে। 

দৈনিক চাহিদা: 
- প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের দৈনিক ১.৭ মিলিগ্রাম ও নারীর ১.৩ মিলিগ্রাম প্রয়োজন। 
- শিশুদের দৈনিক ০.৮ মিলিগ্রাম এবং কিশোর কিশোরীদের যথাক্রমে ২.০ মিলিগ্রাম ও ১.৩ মিলিগ্রাম প্রয়োজন। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৭৯.
কোন খাদ্য উপাদান পানি শোষণ ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে?
  1. রাফেজ
  2. স্নেহ
  3. খনিজ লবণ
  4. পানি
সঠিক উত্তর:
রাফেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাফেজ
ব্যাখ্যা
খাদ্যের উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বে গঠিত। এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- যেহেতু এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- অধিকাংশ খাদ্যে একাধিক খাদ্য উপাদান থাকে। 
- কোনে খাদ্যে যে উপাদানটি বেশি পরিমাণে থাকে, তাকে সেই উপাদানের খাদ্য হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(১) আমিষ: দেহের বৃদ্ধিসাধন এবং ক্ষয়পূরণ করে। 
(২) শর্করা: দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। 
(৩) স্নেহ ও চর্বিজাতীয় খাদ্য: দেহে তাপ এবং শক্তি উৎপাদন করে। 
- এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন- 
(৪) খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন: রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপন যোগায়। 
(৫) খনিজ লবণ: বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
(৬) পানি: দেহে পানি এবং তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 

- খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে, যেটি কোনো পুষ্টি ন জোগালেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। 
(৭) খাদ্য আঁশ (Fibre) বা রাফেজ: রাফেজ পানি শোষণ করে, মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৮০.
জীবদেহের প্রধান উপাদান-
  1. রাইবোজোম
  2. মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. নিউক্লিয়াস
  4. ক্রোমোজোম
সঠিক উত্তর:
ক্রোমোজোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রোমোজোম
ব্যাখ্যা

- জীবদেহের প্রধান উপাদান ক্রোমোজোম।
- নিউক্লিয়াসকে কোষের মস্তিষ্ক বা প্রাণশক্তি বলা হয়।
- রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়।
- মাইটোকনড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউজ বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৯৮১.
জনন কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা কেমন হয়? 
  1. দেহ কোষের অর্ধেক (n)
  2. দেহ কোষের দ্বিগুণ (2n)
  3. দেহ কোষের তিনগুণ (3n)
  4. নির্দিষ্ট নয়
সঠিক উত্তর:
দেহ কোষের অর্ধেক (n)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেহ কোষের অর্ধেক (n)
ব্যাখ্যা

জনন কোষে (শুক্রাণু বা ডিম্বাণু) ক্রোমোসোম সংখ্যা হ্যাপ্লয়েড (n) বলা হয়। হ্যাপ্লয়েড বলতে বোঝায় দেহ কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক।
- জীবের দেহকোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা সাধারণত ডিপ্লয়েড বা 2n থাকে। কিন্তু জনন কোষ (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) তৈরির সময় মিয়োসিস (Meiosis) নামক বিশেষ কোষ বিভাজন ঘটে। এই বিভাজনে মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা হ্রাস পেয়ে অর্ধেক হয়ে যায়। একে হ্যাপ্লয়েড (n) অবস্থা বলে। এর ফলে নিষেকের পর যখন দুটি জনন কোষ মিলিত হয়, তখন জাইগোটে ক্রোমোসোম সংখ্যা পুনরায় নির্দিষ্ট (n + n = 2n) থাকে।

• কোষ: 
- প্রতিটি জীবদেহ এক বা একাধিক কোষ দ্বারা গঠিত। 
- একটি মাত্র কোষ দ্বারা গঠিত জীবকে বলা হয় এককোষী জীব এবং একাধিক কোষ দ্বারা গঠিত জীবকে বলা হয় বহুকোষী জীব। 
- কোষ জীবদেহের গাঠনিক এবং কার্যকরী একক। 
- কোষের অভ্যন্তরেই জীবের জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় জৈবিক কার্যকলাপ সম্পন্ন হয়। 
- ব্রিটিশ বিজ্ঞানী রবার্ট হুক ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে বোতলের কর্ক পরীক্ষাকালে মৌচাকের ন্যায় অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এবং পরস্পর সংযুক্ত প্রকোষ্ঠ দেখতে পান। তিনি প্রকোষ্ঠগুলোর নাম দেন "Cell"। 
- Cell এর বাংলা অর্থ কুঠুরী বা কোষ। 

• কোষের প্রকারভেদ: 
(ক) অবস্থান এবং কাজের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- (i) দেহ কোষ এবং (ii) জনন কোষ। 
(i) দেহ কোষ: 
- যে সকল কোষ দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও অঙ্গতন্ত্র গঠন করে তাদেরকে বলা হয় দেহ কোষ। 
যেমন- পেশি কোষ, জাইলেম কোষ ইত্যাদি। 
- দেহ কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা জনন কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার দ্বিগুণ থাকে। তাই দেহ কোষকে ডিপ্লয়েড (2n) কোষ বলা হয়। 

(ii) জনন কোষ: 
- জীব দেহের যে সকল কোষ জনন কার্যে অংশ নেয় তাদেরকে বলা হয় জনন কোষ। 
- জনন কোষ কেবল মাত্র যৌন জননক্ষম জীবে সৃষ্টি হয়। 
যেমন- শুক্রাণু, ডিম্বাণু, পরাগরেণু ইত্যাদি। 
- জনন কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা দেহ কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক। তাই জনন কোষকে হ্যাপ্লয়েড (n) কোষ বলা হয়। 

(খ) নিউক্লিয়াসের গঠনের উপর নির্ভর করে কোষকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- (i) আদি কোষ এবং (ii) প্রকৃত কোষ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৮২.
নিচের কোনটি একটি আদর্শ ফুল?
  1. ক) লাউ
  2. খ) কুমড়া
  3. গ) ধুতুরা
  4. ঘ) শসা
সঠিক উত্তর:
গ) ধুতুরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ধুতুরা
ব্যাখ্যা

একটি আদর্শ ফুলের পাঁচটি অংশ থাকে।
যথা- পুষ্পাক্ষ, বৃতি, দলমন্ডল, পুংস্তবক এবং স্ত্রীস্তবক।
যে ফুলে এই পাঁচটি স্তবকই উপস্থিত থাকে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- জবা, ধুতুরা ইত্যাদি।

এবং এর যেকোনো একটি স্তবক না থাকলে সে ফুলকে অসম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন- লাউ, কুমড়া ইত্যাদি।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৯৮৩.
অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে নিচের কোন রোগটি হয়? 
  1. স্কার্ভি
  2. রিকেটস
  3. ডায়াবেটিস
  4. কোয়াশিয়রকর
সঠিক উত্তর:
ডায়াবেটিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়াবেটিস
ব্যাখ্যা
ইনসুলিন: 
- ইনসুলিন একটি হরমোন। 
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে। 
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। 
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। 
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন। 
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৮৪.
বিবর্তন শব্দটি এসেছে -
  1. ক) Evolveri থেকে
  2. খ) Evolver থেকে
  3. গ) Evolvers থেকে
  4. ঘ) Evolution থেকে
সঠিক উত্তর:
ক) Evolveri থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Evolveri থেকে
ব্যাখ্যা
- সময়ের সাথে কোন জীবের পরিবর্তনের ফলে নতুন কোন প্রজাতি সৃষ্টি হলে তাকে জৈব বিবর্তন বলে। 
- ইংরেজ দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ হার্বার্ট স্পেন্সার প্রথম ইভোলিউশন কথাটি ব্যবহার করেন।
- Evolution অর্থ বিবর্তন বা অভিব্যক্তি। 
 -বিবর্তন শব্দটি এসেছে Evolveri থেকে।

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
২,৯৮৫.
নিচের কোন রোগটির বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন প্রচলিত আছে?
  1. ক) দাদ
  2. খ) আমাশয়
  3. গ) ইনফ্লুয়েঞ্জা
  4. ঘ) এইডস
সঠিক উত্তর:
গ) ইনফ্লুয়েঞ্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইনফ্লুয়েঞ্জা
ব্যাখ্যা

- দাদ, আমাশয়, এইডস ইত্যাদি রোগের বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোনো ভ্যাকসিন প্রচলিত নেই।
- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা, ধনুষ্টংকার, হুপিং কাশি, হাম, রুবেলা, জলবসন্ত, পীতজ্বর, যক্ষ্মা, পোলিও ইত্যাদি রোগের বিরুদ্ধে কার্যকর ভ্যাকসিন প্রচলিত আছে৷
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২,৯৮৬.
আপেলে কোন ধরনের শর্করা বিদ্যমান?
  1. ক) গ্লুকোজ
  2. খ) ফ্রুক্টোজ
  3. গ) সুক্রোজ
  4. ঘ) মলটোজ
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্রুক্টোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্রুক্টোজ
ব্যাখ্যা
আপেলে ফ্রুক্টোজ  ধরনের শর্করা বিদ্যমান।

- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হলো-মানবদেহের কর্মশক্তি ও তাপশক্তির প্রধান উৎস।
- মানুষের প্রধান খাদ্য শর্করা। কার্বন (C) হাইড্রোজেন (Hz) ও অক্সিজেন (O2) নিয়ে শর্করার যৌগ গঠিত হয়।
- এটি মিষ্টি স্বাদযুক্ত এবং গন্ধ ও বর্ণহীন।

শর্করার উৎস- 
কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা প্রাণি এবং উদ্ভিদ উভয় ধরনের উৎস থেকেই পাওয়া যায়। উদ্ভিদ হতে প্রাপ্ত শর্করাগুলো হলো চিনি, মধু, মিষ্টি ফল (আম, আঙ্গুর, কলা, কাঠাল, খেজুর ইত্যাদি), আখের রস, গুড়, খেজুরের রস, চাল, গম, ভুট্টা, আলু, কচু ইত্যাদি । প্রাণি হতে প্রাপ্ত শর্করার ভালো উৎস হলো- দুধের শর্করা, প্রাণিদেহের যকৃত ও পেশিকোষের শর্করা।

শর্করার প্রকারভেদ- 
গঠন অনুসারে শর্করা তিন প্রকার যথা : এক শর্করা (মনোস্যাকারাইড), দ্বি-শর্করা (ডাইস্যাকারাইড) ও বহু শর্করা (পলিস্যাকারাইড)।
১। এক শর্করা : এক শর্করাগুলো হলো- গ্লুকোজ, ফ্রক্টোজ ও গ্যালাক্টোজ
ক) গগ্লুকোজ-চিনি, মিষ্টি ফল ইত্যাদি
খ) ফ্রুক্টোজ-মধু আঙ্গুর, বেদানা, আপেল, পাকা আম, পাকা কলা ইত্যাদি গ) গ্যালাক্টোজ-দুধের শর্করা ল্যাক্টোজ ভেঙ্গে গ্যালাক্টোজ ও গ্লুকোজ পাওয়া যায়।

২। দ্বি-শর্করা : দ্বি-শর্করাগুলো হলো- সুক্রোজ, মলটোজ ও ল্যাক্টেজ
ক) সুক্রোজ-আখের চিনি, গুড়, খেজুর রস
খ) মলটোজ-চালের শর্করা (দু'টি গ্লুকোজের অণু একত্রে)
গ) ল্যাক্টোজ-দুধের শর্করা।

৩। বহু শর্করা : বহু শর্করাগুলো হলো- শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন ও সেলুলোজ
ক) শ্বেতসার-চাল, গম, আলু, কচু
খ) সেলুলোজ-ফল ও শাক পাতার আঁশ, আঁশযুক্ত ফল, শস্যের খোসা
গ) গ্লাইকোজেন-প্রাণিদেহের যকৃত ও পেশিতে পাওয়া যায়।

সূত্র: ৮ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৮৭.
উদ্ভিদের পাতা হলদে হয় কিসের অভাবে?
  1. পটাশিয়াম
  2. বোরন
  3. নাইট্রোজেন
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
• নাইট্রোজেনের অভাবজনিত লক্ষণ:
- নাইট্রোজেনের অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে।
- ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়
- পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে 'ক্লোরোসিস' বলে।

অন্যদিকে,
- ফসফরাসের অভাব হলে পাতা বেগুনি হয়ে যায়।
- বোরনের অভাবে পর্যাপ্ত দৃঢ়তা না পেয়ে এবং বিপাকে গোলযোগ হওয়ার কারণে উদ্ভিদের বর্ধনশীল অগ্রভাগ মরে যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৮৮.
একটি আদর্শ ফুলের স্ত্রীস্তবক কয়টি অংশ নিয়ে গঠিত হয়?
  1. ক) দুই
  2. খ) তিন
  3. গ) চার
  4. ঘ) পাঁচ
সঠিক উত্তর:
খ) তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তিন
ব্যাখ্যা

আদর্শ ফুলের স্ত্রীস্তবক তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত হয়। যথা- গর্ভাশয়, গর্ভদণ্ড ও গর্ভমুণ্ড।

স্ত্রীস্তবক-
১. এটি ফুলের কেন্দ্রে অবস্থান করে এবং একটি অত্যাবশ্যকীয় স্তবক।
২. এটি এক বা একাধিক গর্ভপত্র নিয়ে গঠিত হয়।
৩. এক একটি গর্ভপত্র গর্ভাশয়, গর্ভদণ্ড ও গর্ভমুণ্ড এই তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত।
৪. স্ত্রীস্তবকের গর্ভপত্রগুলো সম্পূর্ণরূপে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে, আবার আলাদাও থাকতে পারে।
৫. স্ত্রীস্তবকের গর্ভাশয়ের ভেতরে এক বা একাধিক ডিম্বক বিশেষ নিয়মে সজ্জিত থাকে।
৬. ডিম্বকের মধ্যে স্ত্রী প্রজননকোষ বা ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়।
৭. স্ত্রীস্তবকের ডিম্বাণু সরাসরি জননকাজে অংশগ্রহণ করে।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। 

২,৯৮৯.
মানবদেহে কয় স্তরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আছে? 
  1. দুই স্তর
  2. তিন স্তর
  3. চার স্তর
  4. পাঁচ স্তর
সঠিক উত্তর:
তিন স্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন স্তর
ব্যাখ্যা
ইম্যুনাইজেশন: 
- মানুষের শরীরের সংক্রামক রোগের প্রতিরোধক তৈরি করার প্রক্রিয়াকে ইম্যুনাইজেশন বলে। 
- মানবদেহে রোগজীবাণুর আক্রমণের বিরুদ্ধে তিন স্তরবিশিষ্ট প্রতিরোধব্যবস্থা বিদ্যমান। 
যথা- 
১. প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর: 
- প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রথম স্তর হলো প্যাথোজেনকে (রোগজীবাণুকে) দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা। 
- এই ব্যবস্থায় আছে- (i) ত্বক, (ii) মিউকাস মেমব্রেন, (iii) শ্বসনতন্ত্রের সিলিয়া, (iv) পাকস্থলীর অ্যাসিড এবং (v) চোখের আবরণ ও অশ্রু। 

২. দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর: 
- প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর অতিক্রম করে কোনো রোগজীবাণু দেহাভ্যন্তরে প্রবেশ করতে গেলে দ্বিতীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত হয়। 
- এই ব্যবস্থায় আছে- (i) ব্যাথাদায়ক সাড়া, (ii) ফ্যাগোসাইটসমূহ, (iii) কমপ্লিমেন্ট, (iv) ইন্টারফেরন এবং (v) ন্যাচারাল কিলার সেল। 

৩. তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর: 
- এই ব্যবস্থায় আছে- (i) লিম্ফোসাইট, (ii) MHC অণু এবং (ii) ক্লোনাল সিলেকশন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২,৯৯০.
ছত্রাকে কোন প্রক্রিয়ায় কোষ বিভাজন হয়ে থাকে?
  1. ক্যারিওকাইনেসিস
  2. মায়োসিস
  3. মাইটোসিস
  4. অ্যামাইটোসিস
সঠিক উত্তর:
অ্যামাইটোসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামাইটোসিস
ব্যাখ্যা
জীবজগতে তিন প্রকারের কোষ বিভাজন দেখা যায়। যথা- 
ক) অ্যামাইটোসিস বা প্ৰত্যক্ষ কোষ বিভাজন,
(খ) মাইটোসিস বা সমীকরণিক কোষ বিভাজন 
(গ) মায়োসিস বা হ্রাসমূলক কোষ বিভাজন ।

অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন:
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস এবং সাইটোপ্লাজম উভয়েই সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে, তাকে অ্যামাইটোসিস বা প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন বলা হয়। এক্ষেত্রে নিউক্লিয়াসটি সরাসরি দুটি অংশে বিভক্ত হয়।
- এ ধরনের কোষ বিভাজন ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট, ছত্রাক, এককোষী জীবে হয়ে থাকে। 

মাইটোসিস কোষ বিভাজন:
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃতকোষের নিউক্লিয়াস এবং ক্রোমোসোম উভয়েই একবার করে বিভক্ত হয় তাকে মাইটোসিস কোষ বিভাজন বলা হয়।
- দেহকোষে মাইটোসিসি বিভাজন হয়ে থাকে।

মায়োসিস কোষ বিভাজন:
- যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় ক্রোমোসোম মাত্র একবার এবং নিউক্লিয়াস পরপর দু'বার বিভক্ত হয়, ফলে সৃষ্ট চারটি অপত্য কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা (n) মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার (2n) অর্ধেক হয়, তাকে মায়োসিস কোষ বিভাজন বলা হয়।
- জনন কোষে মিয়োসিসি বিভাজন হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৯৯১.
সালফারের অভাবে উদ্ভিদের কোন রোগটি হতে দেখা যায়? 
  1. ব্লাইট 
  2. ডাইব্যাক
  3. লিগুলেটিভ ডিফলিয়েন্সি 
  4. ফ্লোরোসিস 
সঠিক উত্তর:
ডাইব্যাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাইব্যাক
ব্যাখ্যা

সালফার: 
- সালফার (S) শউদ্ভিদের বিভিন্ন প্রোটিন, হরমোন ও ভিটামিনের গাঠনিক উপাদানই নয়, একই সাথে এটি কোষে পানির সমতা রক্ষা করে। 
- সালফারের অভাবে পাতা হালকা সবুজ হয় এবং পাতায় লাল ও বেগুনি দাগ দেখা যায়। 
- কচি পাতায় বেশি এবং বয়োবৃদ্ধ পাতায় কম ক্লোরোসিস হয়। 
- সালফারের অভাবে মূল, কান্ড এবং পাতার শীর্ষ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে টিস্যু মারা যেতে থাকে, যাকে ডাইব্যাক (dieback) রোগ বলে। 
- গাছের মধ্যপর্ব ছোট হয় বলে গাছ খর্বাকৃতির হয়। 

আয়রন: 
- লৌহ বা আয়রনের (Fe) অভাবে প্রথমে কচি পাতার রং হালকা হয়ে যায়, তবে পাতার সরু শিরার মধ্যবর্তী স্থানেই প্রথম হালকা হয় এবং ক্লোরোসিস হয়। 
- কখনো কখনো সম্পূর্ণ পাতা বিবর্ণ হয়ে যায়। 
- কান্ড দুর্বল এবং ছোট হয়। 

ম্যাগনেসিয়াম: 
- ম্যাগনেসিয়ামের (Mg) অভাবে ক্লোরোফিল সংশ্লেষিত হয় না বলে সবুজ রং হালকা হয়ে যায় এবং সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায়। 
- পাতার শিরাগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অধিক হারে ক্লোরোসিস হয়। 

নাইট্রোজেন: 
- নাইট্রোজেনের (N) অভাব হলে ক্লোরোফিল সৃষ্টিতে বিঘ্ন ঘটে। ফলে ক্লোরোফিলের অভাবে পাতার সবুজ রং হালকা হতে হতে একসময় হলুদ হয়ে যায়। - পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ক্লোরোসিস’ (Chlorosis) বলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৯৯২.
ক্ষুদ্রান্ত্রের কোন অংশে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও লিপিডের পরিপাক ঘটে? 
  1. ইলিয়ামে
  2. মলাশয়ে
  3. জেজুনামে
  4. ডিওডেনামে
সঠিক উত্তর:
ডিওডেনামে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিওডেনামে
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্রান্ত্র: 
- পাকস্থলির পাইলোরাস অংশের পর থেকে ইলিওকোলি পর্যন্ত প্রায় ৬-৭ মিটার লম্বা বিস্তৃত অংশ ক্ষুদ্রান্ত্র। 
- এটি আবার ৩ অংশে বিভক্ত। 
যথা- 
১। ডিওডেনাম, 
২। জেজুনাম ও 
৩। ইলিয়াম। 

- ডিওডেনামে মূলত অগ্ন্যাশয়িক রসের এনজাইমের ক্রিয়া এবং জেজুনাম ও ইলিয়ামে আন্ত্রিক রসের এনজাইমের ক্রিয়ার পরিপাক ঘটে। 
- ডিওডেনামে মূলত কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও লিপিডের পরিপাক ঘটে। 
- অম্লধর্মী পাকমণ্ড পাকস্থলি থেকে ডিওডেনামে প্রবেশ করলে যকৃত থেকে নিঃসৃত ও পিত্তথলিতে সঞ্চিত পিত্তরস নালিপথে ডিওডেনামে প্রবেশ করে ক্ষারীয় মাধ্যম সৃষ্টি করে। 
- অন্যদিকে অগ্ন্যাশয় থেকে রস নিঃসৃত হয়ে পাকমণ্ডের অম্লত্বের প্রশমন ঘটায়। 
- অগ্ন্যাশয় রসের এনজাইমসমূহ এ মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে পরিপাকে অংশ নেয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৯৩.
কতটি অ্যামাইনো এসিড নিয়ে ইনসুলিন গঠিত হয়?
  1. ২১ টি
  2. ৩০ টি
  3. ৫১ টি
  4. ৬২ টি
সঠিক উত্তর:
৫১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫১ টি
ব্যাখ্যা

ইনসুলিন:
- ইনসুলিন একটি হরমোন।
- ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের ‘আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস’ এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে।
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়।
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৯৯৪.
ভিটামিন সি এর অভাবে কোন রোগ হয়?
  1. স্বার্ভি
  2. রাতকানা
  3. বেরিবেরি
  4. রিকেটস
সঠিক উত্তর:
স্বার্ভি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বার্ভি
ব্যাখ্যা

ভিটামিন সি:
- ভিটামিন সি এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়।
- ভিটামিন সি এর অপর নাম এসকরবিক এসিড।
- ভিটামিন সি মানুষকে রোগ জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে এবং ক্ষতস্থান গুকাতে সাহায্য করে।
- আমলকি, কমলালেবু, লেবু আনারস প্রভৃতি ভিটামিন সি এর উৎস।

অন্যান্য অপশনসমূহ,
ভিটামিন A: রাতকানা (Night Blindness) রোগের জন্য দায়ী।
ভিটামিন B: বিভিন্ন B-ভিটামিনের অভাবে বেরিবেরি, পেলাগ্রা, ওয়ার্নিকি সিনড্রোম ইত্যাদি হতে পারে।
ভিটামিন D: রিকেটস (Rickets) এবং অস্টিওমালাসিয়া (Osteomalacia) রোগের জন্য দায়ী।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২,৯৯৫.
মাটির বায়ু কোন স্তরে অবস্থান করে?
  1. ক) মাটির কণার ফাঁকে
  2. খ) মাটির কণার চারপাশে
  3. গ) মাটিতে মিশ্রিত অবস্থায়
  4. ঘ) জৈব পদার্থের মধ্যে
সঠিক উত্তর:
ক) মাটির কণার ফাঁকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মাটির কণার ফাঁকে
ব্যাখ্যা
মাটির কণার ফাঁকে ফাঁকে বায়ু অবস্থান করে। 

মাটির পানি ও বায়ু মাটির রন্ধ্র পরিসরে অবস্থান করে। স্বাভাবিক অবস্থায় স্থূল রন্ধ্রে বায়ু এবং সূক্ষ্মরন্ধ্রে পানি থাকে। কোন একটি মাটিকে কৃষি কাজের জন্য উত্তম তখনই বলা হয় যখন এর রন্ধ্র পরিসর সমান অনুপাতে পানি ও বায়ু দ্বারা পূর্ণ থাকে।

কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় বস্ত্তর সমন্বয়ে গঠিত মাটি একটি তিন দশা বিশিষ্ট সিস্টেম। কঠিন দশা জৈব ও অজৈব পদার্থ দিয়ে গঠিত। অন্যদিকে তরল ও গ্যাসীয় দশাকে যথাক্রমে মৃত্তিকা পানি ও মৃত্তিকা বায়ু বলা হয়। মাটির জৈবপদার্থের মধ্যে গাছপালা, প্রাণী ও অণুজীবসমূহ এবং এদের মৃত দেহের অবশিষ্টাংশ অন্তর্ভুক্ত। 

সূত্র- বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।
২,৯৯৬.
রক্তের কোন কণিকা বৃদ্ধি পেলে ব্লাড ক্যান্সার হয়?
  1. লোহিত রক্ত কণিকা
  2. শ্বেত রক্ত কণিকা
  3. অনুচক্রিকা
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্ত কণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্ত কণিকা
ব্যাখ্যা
• লিউকেমিয়া:
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা, প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়।
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক হারে বেড়ে ১ ঘন মি.লি. রক্তে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।

• শ্বেত রক্তকণিকা বা লিউকোসাইট:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে।
- ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে।
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC এর তুলনায় অনেক কম।
- রক্তের শ্বেত রক্তকণিকা বৃদ্ধি পেলে ব্লাড ক্যান্সার হয়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৯৯৭.
কোনটির অভাবে রক্ত তঞ্চন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হতে পারে?
  1. ভিটামিন- এ
  2. ভিটামিন- কে
  3. ভিটামিন- ডি
  4. সেলেনিয়াম
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন- কে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন- কে
ব্যাখ্যা

- ভিটামিন- এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হতে পারে।
- ভিটামিন- কে এর অভাবে শরীরে রক্ত তঞ্চন (কোথাও কেটে গেলে রক্ত জমাট বাঁধা) প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হয়।
- ভিটামিন- ডি এর অভাবে রিকেটস ও অস্টিওম্যালাসিয়া রোগ হতে পারে।
- সেলেনিয়ামের অভাবে শিশুদের Kashin-Beck disease হতে পারে।
সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি এবং Encyclopedia Britannica

২,৯৯৮.
রক্ত জমাট বাধায় অংশ নেয়-
  1. ক) লোহিত রক্তকণিকা
  2. খ) শ্বেত রক্তকণিকা
  3. গ) অণুচক্রিকা
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
গ) অণুচক্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অণুচক্রিকা
ব্যাখ্যা
রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত  এবং লালবর্ণের তরল যোজক টিস্যু।
রক্তের উপাদান দুটি— রক্তরস এবং রক্তকণিকা। রক্তরস (Plasma) রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ।
এর প্রায় 91-92% অংশ পানি এবং 8-9% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ।
রক্তকণিকা তিন ধরনের, যথা- লোহিত রক্তকণিকা (RBC), শ্বেত রক্তকণিকা (WBC) এবং অণুচক্রিকা (Blood platelet)।
শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রকৃতিগত আত্মরক্ষায় অংশ নেয়।
অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাধায় অংশ নেয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি।
২,৯৯৯.
মানব-ক্লোনিং নিষিদ্ধ করেছে কোন সংস্থা?
  1. ILO
  2. EU
  3. IMF
  4. OECD
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
EU
উত্তর
সঠিক উত্তর:
EU
ব্যাখ্যা
ক্লোনিং:
- প্রাকৃতিক ক্লোন হলো একটি জীব অথবা একদল জীব যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ জননের দ্বারা।
- এদের ধরন হয় মাতৃ জীবের ন্যায়।
- একটি কোষ বা কোষগুচ্ছ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপন্ন হয় এবং তাদের প্রকৃতি মাতৃকোষের ন্যায় হয়, তাকেও ক্লোন বলে।
- প্রাকৃতিকভাবে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশিরভাগ প্রোটোজোয়া এবং ঈস্ট, ছত্রাক ক্লোনিং এর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্ষেত্রে প্রয়োজনবোধে কোনো বিশেষ জিনের সংখ্যাবৃদ্ধি করে তার প্রতিলিপি তৈরি করা হয়।
- কোনো কোনো কোষকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় আবাদ মাধ্যমে রেখে বিভাজন ঘটিয়ে এতে উৎপন্ন করা হয় একগুচ্ছ একই ধরনের কোষ।
- আবার কোনো অণুজীব উদ্ভিদ কিংবা প্রাণীর অনুরূপ অনেক জীব উৎপাদন করাকে ক্লোনিং বলে।

⇒ ১৯৯৬ সালের ৫ জুলাই ক্লোনিং পদ্ধতিতে ডলি নামের এক ভেড়ার জন্ম হয় গবেষণাগারে।
- তবে ১৯৯৬ সালে সফলভাবে প্রথম ক্লোন করা প্রাণীর জন্ম দেওয়া গেলেও ক্লোনিং নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা শুরু করেছিলেন সেই ১৯৫০-এর দশক থেকে।

⇒ পৃথিবীর প্রথম ক্লোন মানব শিশুর জন্ম হয় ২০০২ সালের ২৬ ডিসেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।
- প্রথম ক্লোন মানব শিশুটির নাম দেয়া হয় ইভ।

উল্লেখ্য,
⇒ ক্লোনিং এর মাধ্যমে মানব শিশু জন্মদানের নৈতিক দিক বিবেচনা করে জাতিসংঘ ১২ ডিসেম্বর, ২০০১ সালে সাধারন পরিষদের বৈঠকে একটি বিল উত্থাপন করে।
- সেখানে মানব ক্লোন গবেষণা নিষিদ্ধ করার পক্ষে ৮৪টি দেশ, বিপক্ষে ৩৪টি দেশ এবং ৩৭টি দেশ নিরপেক্ষ ভোট দেয়।
- এভাবে ক্লোনিং নিষিদ্ধ আইন পাশ করা হয়।
- এভাবে ৮ মার্চ, ২০০৫ সালে জাতিসংঘ মানব ক্লোনিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

এছাড়াও,
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) স্পষ্টভাবে মানব ক্লোনিংকে নিষিদ্ধ করে।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নের মৌলিক অধিকারের সনদের অনুচ্ছেদ ৩-এ ইউরোপীয় কাউন্সিলের দ্বারা গৃহীত মানবাধিকার ও বায়োমেডিসিন কনভেনশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যে, মানুষের প্রজনন ক্লোনিং নিষিদ্ধ।
- যদিও এই সনদ মানব ব্যতীত অন্য ক্লোনিংকে নিষিদ্ধ করে না।

উৎস: i) European Union Agency for Fundamental Rights. [link]
ii) UN ওয়েবসাইট। [link]
৩,০০০.
নিচের কোন উপাদান হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে?
  1. সোডিয়াম
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. ভিটামিন সি
  4. ক্যালসিয়াম
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
- ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে। 
- হাড়ের ক্ষয় কমাতে সাহায্য করে। 
- রক্ত তঞ্চন, পেশী সংকোচন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে। 
- ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস খাদ্যের উৎস: ম্যাকরেল মাছ, স্যামন মাছ, ডিমের সাদা অংশ, সয়া মিল্ক, দুধ, মাশরুম, চিজ, কমলালেবুর রস ইত্যাদি। 

উলেখ্য, 
অপশনে শুধুমাত্র ক্যালসিয়াম উল্লেখ আছে কিন্তু ফসফরাস নেই। তাই সঠিক উত্তর হবে ক্যালসিয়াম। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।