• যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্ক:
- ১৯৮০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লব এবং মার্কিন কূটনীতিক জিম্মি সংকটের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন উত্তেজনাপূর্ণভাবে তৈরি হয়েছে। মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার এবং আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তা ইস্যু এই সম্পর্ক খারাপের কারণ। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত JCPOA বা ইরান পারমাণবিক চুক্তি অনুযায়ী ইরান পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করবে এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে, কিন্তু ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে বের হয়ে যায়। ২০২৫-২০২৬ সালে সম্পর্ক আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে; মার্কিন বাহিনী ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আক্রমণ পরিচালনা করে এবং ইরান রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ মহড়া চালায়। বর্তমানে তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতায় জেনেভায় আলোচনার মাধ্যমে সীমিত সমঝোতার চেষ্টা চলছে, যেখানে ইরান শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির অধিকার চাইছে, এবং যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা সীমিত নমনীয়তা দেখাচ্ছে। তবে এখনও চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি এবং উভয় পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস ও উত্তেজনা বজায় আছে।
------------------------------
উল্লেখ্য,
- বর্তমানে ২০২৬ এর ফেব্রুয়ারির তথ্য অনুযায়ী:
যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক ক্ষমতা সীমিত করতে পরিকল্পনা করছে। ট্রাম্প প্রশাসন সমরাস্ত্র মোতায়েন এবং দুটি বিমানবাহী রণতরির মাধ্যমে ইরানকে শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ না করতে দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের জন্য ঝুঁকি কমানো। ইসরায়েলও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাচ্ছে।
ইরান আলোচনায় কিছু নমনীয়তা দেখালেও পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে নিচ্ছে না। এর পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত শক্তি হিসেবে রাখছে। সরকারবিরোধী আন্দোলন থাকলেও জনগণের মধ্যে কোনো বিকল্প নেতৃত্ব স্পষ্ট নয়, এবং রেজা পাহলভি শাহ শাসনের প্রত্যাবর্তনের আহ্বান সত্ত্বেও বাস্তবায়ন কঠিন।
২০২৫ সালে ইসরায়েলের হামলায় ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছিল, তবে ইরান ধীরে ধীরে তা পুনঃস্থাপন করেছে। সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনী হস্তক্ষেপ করলেও, জনগণকে সমর্থন দিয়ে ইরান কিছু পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত হামলা বা ইরান সরকারের পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা সহজ নয়, এবং এটি আরও জটিল ও বিপজ্জনক।
উৎস: দৈনিক কালের কণ্ঠ ও প্রথম আলো পত্রিকা।