বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মধ্য যুগের গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ

মোট প্রশ্ন১,৩০২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মধ্য যুগের গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ

PrepBank · পাতা / ১৩ · ৮০১৯০০ / ১,৩০২

৮০১.
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান সাহিত্যধারার কবি নয় কে?
  1. আবদুল হাকিম
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. আলাওল
  4. দ্বিজ মাধব
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ মাধব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ মাধব
ব্যাখ্যা

• "রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান" সাহিত্যধারার কবি নয় - দ্বিজ মাধব। দ্বিজ মাধব ছিলেন চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবিদের একজন। 

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:

- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা।
- মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন:
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।

৮০২.
'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত কে?
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. আলাওল
  4. কৃত্তিবাস ওঝা
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
- তিনি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার ছিলেন।
- মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। তাঁর পিতার নাম গণপতি ঠাকুর।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় 'কীর্তিলতা' নামে ঐতিহাসিক কাব্য লিখেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৮০৩.
'শূন্যপুরাণ' গ্রন্থটি কয়টি অধ্যায়ে বিন্যস্ত?
  1. ৪৭টি
  2. ৫০টি
  3. ৫১টি
  4. ৫২টি
সঠিক উত্তর:
৫১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫১টি
ব্যাখ্যা
• শূন্যপুরাণ:
- 'শূন্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ এবং অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- ‘শূন্যপুরাণ’ বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- কারো মতে গ্রন্থটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮০৪.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম প্রণয়োপাখ্যান কোনটি?
  1. ইউসুফ-জোলেখা
  2. পদ্মাবতী
  3. চন্দ্রাবতী
  4. লায়লী-মজনু
সঠিক উত্তর:
ইউসুফ-জোলেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউসুফ-জোলেখা
ব্যাখ্যা
• 'ইউসুফ-জোলেখা’ শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।

• ইউসুফ-জোলেখা কাব্য:

- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে।
- ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।
- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জুলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ জুলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তবে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

• শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্য বা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি - শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জোলেখা।
- এটি একটি রোমান্টিক প্রনয়োপাখ্যান।
- ইউসুফ-জোলেখা কাব্যগ্রন্থের রচনাকাল অনুসারে এটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য এবং শাহ মুহম্মদ সগীর এই ধারার প্রথম কবি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৮০৫.
'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত ছিলেন মধ্যযুগের কোন কবি?
  1. চণ্ডীদাস
  2. গোবিন্দদাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
- বিদ্যাপতি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। বাঙালী কবি না হয়েও বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
- তিনি মাতৃভাষা মৈথিলি ছাড়াও সংস্কৃত, অবহঠট ও ব্রজবুলি ভাষায় পদাবলি রচনা করেন।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- শৈব বংশে জন্ম বলে তিনি বহু শৈবসঙ্গীতও রচনা করেন।কিন্তু ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলিই তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ ভাষায়ই ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী রচনা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৮০৬.
"ললাট লিখন দুঃখ যায় না খণ্ডন"- উক্তি টি কার?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) বিদ্যাপতি
  4. ঘ) আলাওল
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলাওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলাওল
ব্যাখ্যা
"ললাট লিখন দুঃখ যায় না খণ্ডন" উক্তিটি কবি আলাওল 'পদ্মাবতী' কাব্যে করেছেন।
- মহাকবি আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যের নাম পদ্মাবতী।
- এই কাব্যটি আলাওল রচনা করেন মাগণ ঠাকুরের অনুরোধে।
- পদ্মাবতী রচিত বা প্রকাশিত হয় ১৬৪৮ সালে।
- এটি বিখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির পদুমাবত এর কাব্যোনুবাদ।

'পদ্মাবতী' কাব্যে কবি আলাওলের আরও কিছু উক্তি- 
- দিবসের মর্ম কভু না পুছে পেচক। 
- যমে প্রাণ হরি নিতে কিবা নিশি দিশি। 
- ভাগ্য বিপরীত হৈলে খণ্ডে সব সুখ। 
- পড়শী হৈলে শত্রু গৃহে সুখ নাই। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৮০৭.
'মনসামঙ্গল' কাব্যধারার আদি কবি কে?
  1. মালাধর বসু
  2. কানাহরি দত্ত
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. মানিক দত্ত
সঠিক উত্তর:
কানাহরি দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কানাহরি দত্ত
ব্যাখ্যা
কানাহরি দত্ত:
- মনসামঙ্গল কাব্যধারার আদি কবি হচ্ছেন - কানাহরি দত্ত।
- কানাহরি দত্তের নাম পাওয়া যায় বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরণ বা মনসামঙ্গলে।
- তাতে একটি পঙক্তি আছে; ‘হরি দত্তের গীত যত লোপ পাইল কালে।’
- কানাহরি দত্তের রচনা লোপ পাওয়ায় এর উদাহরণ পাওয়া যায় না।
- বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরাণ বর্তমানে মনসামঙ্গলের প্রান্ত প্রাচীনতম পুথি।
- কানাহরি দত্তের সময়কাল: আশুতোষ ভট্টাচার্যের মতে বিজয় গুপ্তের সময় শতাব্দী পূর্বে, অর্থাৎ ১৩৯৪ বঙ্গাব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮০৮.
বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয় কাকে?
  1. ভারতচন্দ্র রায় 
  2. জয়দেব 
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীদাস:
- চণ্ডীদাস মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রসিদ্ধ কবি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।
- চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।
- এ নামে চারজন কবির পরিচয় পাওয়া যায়; তাঁরা হলেন: বড়ু চণ্ডীদাস, দ্বিজ চণ্ডীদাস, দীন চণ্ডীদাস ও চণ্ডীদাস। চণ্ডীদাস বৈষ্ণব কবি ছিলেন।
- তিনি চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন এবং জাতিতে ছিলেন ব্রাহ্মণ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৮০৯.
আবদুল হাকিম কোন শতকের কবি?
  1. ক) ষোলো শতক
  2. খ) সতেরো শতক
  3. গ) আঠারো শতক
  4. ঘ) উনিশ শতক
সঠিক উত্তর:
খ) সতেরো শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সতেরো শতক
ব্যাখ্যা
আবদুল হাকিম
আবদুল হাকিম চট্টগ্রামের সন্দীপের ভুলুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে। তিনি সতেরো শতেকের কবি। তিনি ৮ টি গ্রন্থ লিখেছেন। যথা :
- লালমতি সয়ফুল মুলুক
- নূরনামা
- কারবালা
- ইউসুফ জোলেখা
- নসীহৎনামা
- শহরনামা
- শিহাবউদ্দিননামা
- চারি মোকামভেদ। 

আবদুল হাকিমের ‘নূরনামা’ কাব্যের বিখ্যাত উক্তি: 
যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় না জানি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
৮১০.
নিচের কোনটি হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক আবিষ্কৃত পুঁথি-
  1. ক) সরহপাদের দোহা
  2. খ) ডাকার্ণব
  3. গ) কাহ্নপাদের দোহা
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন বিভাগীয় প্রধান ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে (৩য় বার) নেপালে গিয়ে রাজদরবারের 'নেপাল রয়্যাল লাইব্রেরি' থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
• এ সময় তিনি চর্যাপদের সাথে 'সরহপাদের দোহা', 'কাহ্নপাদের দোহা' ও ‘ডাকার্ণব' নামে আরাে তিনটি পুঁথি আবিষ্কার করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৮১১.
'মিছা মণি মুক্তা হেম, স্বদেশের প্রিয় প্রেম, তার চেয়ে রত্ন নাই আর।' - এই কবিতাংশের ভাব নিচের কোন কবিতায় প্রকট হয়ে ধরা দিয়েছে।
  1. ক) জীবণ-সঙ্গীত
  2. খ) আমার পরিচয়
  3. গ) তাহারেই পড়ে মনে
  4. ঘ) কপোতাক্ষ নদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) কপোতাক্ষ নদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কপোতাক্ষ নদ
ব্যাখ্যা
'মিছা মণি মুক্তা হেম, স্বদেশের প্রিয় প্রেম, তার চেয়ে রত্ন নাই আর।' যুগসন্ধিক্ষণের কবি ঈশ্বরযন্দ্র গুপ্ত রচিত কবিতা। এই কবিতায় দেশপ্রেম ফুটে উঠেছে।
প্রশ্নোল্লিখিত কবিতার মধ্যে মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কপোতাক্ষ নদ কবিতায় দেশপ্রেমের প্রকাশ তীব্রভাবে হয়েছে।
শামসুর রহমান রচিত আমার পরিচয় কবিতায়ও দেশের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে দেশের গৌরবান্বিত ইতিহাসকে উপজীব্য করে। তবে প্রশ্নের কবিতার ভাবের সাথে কপোতাক্ষ নদ কবিতার ভাব প্রকট হয়ে ধরা দিয়েছে।
৮১২.
চর্যাপদের কবি নন-
  1. লাড়ীডোম্বীপা
  2. ভুসুকুপা
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. কুক্কুরীপা
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা

- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদ ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- এর সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
- ভুসুকুপা, কুক্কুরীপা ও লাড়ীডোম্বীপা চর্যাপদের কবি। কিন্তু হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদের কবি নন তিনি চর্যাপদ সম্পাদনা করেন।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

৮১৩.
'দুর্গাভক্তিতরঙ্গিণী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) বিদ্যাপতি
  2. খ) গোবিন্দদাস
  3. গ) জয়দেব
  4. ঘ) চন্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
ক) বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি 'দুর্গাভক্তিতরঙ্গিণী' গ্রন্থটি রচনা করেন।
 
• বিদ্যাপতি:
- তিনি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার ছিলেন।
- মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। তাঁর পিতার নাম গণপতি ঠাকুর।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় 'কীর্তিলতা' নামে ঐতিহাসিক কাব্য লিখেছিলেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- পুরুষপরীক্ষা।
- লিখনাবলী (অলঙ্কার শাস্ত্রবিষয়ক গ্রন্থ)।
- কীর্তিলতা।
- ভূ-পরিক্রমা।
- দানবাক্যাবলী (স্মৃতিগ্রন্থ)।
- দুর্গাভক্তিতরঙ্গিণী
- শৈবসর্বস্বসার।
- বিভাগসার (স্মৃতিগ্রন্থ)।
- গঙ্গাবাক্যাবলী।
- কীর্তিপতাকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
৮১৪.
নাথসাহিত্য 'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সুকুর মামুদ
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. শ্যামদাস সেন
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
সুকুর মামুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকুর মামুদ
ব্যাখ্যা
• সুকুর মামুদ রচিত নাথসাহিত্য গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।

শুকুর মাহমুদ:

- তিনি মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম - গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

নাথ সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে,
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮১৫.
কার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের সমাপ্তি ঘটে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. রামপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের সমাপ্তি ঘটে।

অন্যদিকে,
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের মৃত্যু (১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ) থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বলা হয় যুগসন্ধিক্ষণ।
- যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে।
• অন্নদামঙ্গল কাব্য প্রথম মুদ্রিত করেন - গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য।
• শাক্তপদাবলির আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি - রামপ্রসাদ সেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮১৬.
নিচের কোনটি ‘পদ্মাবতী’ সম্পর্কিত?
  1. ক) প্রণয়কাব্য
  2. খ) মৌলিক গ্রন্থ
  3. গ) ভ্রমণকাহিনী
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) প্রণয়কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রণয়কাব্য
ব্যাখ্যা
পদ্মাবতী মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর ‘পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
- অযোধ্যার কবি জায়সী ১৫৪০ সালে ‘পদুমাবত’ কাব্য রচনা করেছিলেন।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ উমাদার আমলে মাগন ঠাকুর পদ্মাবতী কাব্য রচনা করেন।
- ১৬৫২ খ্রিস্টাব্দে আরাকান অমাত্যসভার কবি আলাওল প্রধানমন্ত্রী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে হিন্দিপদুমাবৎ কাব্য অবলম্বনে এটি রচনা করেন। এর রচয়িতা ছিলেন মালিক মোহাম্মদ জায়সী। 

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৮১৭.
বাংলা সাহিত্যে কোন সময়কালকে 'অন্ধকার যুগ' বলে?
  1. ৯৫০-১২০০ সাল
  2. ১২০১-১৮০০ সাল
  3. ১২০০-১৩৫০ সাল
  4. ১৩৫০-১৫০০ সাল
সঠিক উত্তর:
১২০০-১৩৫০ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২০০-১৩৫০ সাল
ব্যাখ্যা

অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়'শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
• 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম 'শূণ্যপুরাণ' এবং এর 'কলিমা জালাল' বা অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুম্মা',
• হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'। 'সেক শুভোদয়া' পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক একটি কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮১৮.
মধ্যযুগীয় কবি আলাওল রচিত কাব্য নয় কোনটি?
  1. তোহ্‌ফা
  2. সিকান্দারনামা
  3. সয়ফুলুলুক বদিউজ্জামাল
  4. গুলে বকাওলী
সঠিক উত্তর:
গুলে বকাওলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুলে বকাওলী
ব্যাখ্যা

• কবি আলাওল রচিত কাব্য নয়- গুলে বকাওলী। 

• গুলে বকাওলী:

- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ গুলে বকাওলী'।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
- সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন।
- এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

---------------
• আলাওল:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
-'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ।

আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
পদ্মাবতী,
তোহ্‌ফা,
সপ্তপয়কার,
সিকান্দারনামা,
সয়ফুলুলুক বদিউজ্জামাল, 
সতীময়না,
রাগতালনামা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮১৯.
রাজা শিবসিংহ রায় বিদ্যাপতিকে কী উপাধি দিয়েছিলেন?
  1. ক) কবিকঙ্কন
  2. খ) মহাকবি
  3. গ) কবিকন্ঠ হার
  4. ঘ) ব্যাসদেব
সঠিক উত্তর:
গ) কবিকন্ঠ হার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কবিকন্ঠ হার
ব্যাখ্যা

বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলা রাজসভার মহাকবি। ব্রজবুলি ভাষায় রচিত বৈষ্ণব পদাবলির অন্যতম পদকর্তা বিদ্যাপতি।
রাজা শিবসিংহ রায় তাঁর কাব্য প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে, 'কবিকন্ঠ হার' উপাধি দেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৮২০.
রামনিধি গুপ্তের টপ্পা সংগীত সংকলনের নাম কী?
  1. শ্যামা সংগীত
  2. গীতরত্ন
  3. টপ্পা পুথি
  4. মীনচেতন
সঠিক উত্তর:
গীতরত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গীতরত্ন
ব্যাখ্যা

টপ্পা সঙ্গীত:
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধুবাবু।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্থানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম - গীতরত্ন (১৮৩২)।

- তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা- 
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা।

৮২১.
'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।' - মধ্যযুগের কোন লেখক এই বিখ্যাত উক্তিটি করেছেন?
  1. বিদ্যাপতি
  2. চণ্ডীদাস 
  3. জ্ঞানদাস
  4. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

• 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।' — এই বিখ্যাত উক্তিটির রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ।

-------------------
• 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

• অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। 
যথা:
শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত উক্তি হলো:
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।'
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।'
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।'
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।'
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮২২.
বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের বিস্তার ছিলো -
  1. পাঁচ শতাব্দী ধরে
  2. ছয় শতাব্দী ধরে
  3. তিন শতাব্দী ধরে
  4. চার শতাব্দী ধরে
সঠিক উত্তর:
ছয় শতাব্দী ধরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছয় শতাব্দী ধরে
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের বিস্তার ছয় শতাব্দী (১২০১ - ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ) ধরে।
- শ্রীচৈতন্যদেবকে (জন্ম: ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দ) মাঝখানে রেখে এই যুগকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয় -
১. প্রাক্-চৈতন্য যুগ (১২০৩ - ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দ) এবং
২. উত্তর-চৈতন্য যুগ (১৫০০ - ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ)।
- প্রাক্-চৈতন্য যুগে রচিত হয়েছে কৃত্তিবাসি 'রামায়ণ', বড়ুচণ্ডীদাসের 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন', মালাধর বসুর 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়', বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাসের বৈষ্ণব পদাবলি এবং তিনটি আদি 'মনসামঙ্গলকাব্য'।
- উত্তর-চৈতন্যযুগের বিচিত্র ও প্রচুর সাহিত্যসম্ভারের মধ্যে বৃন্দাবনদাস, লোচনদাস, জয়ানন্দ এবং কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্য-জীবন-কাব্য; জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাসের বৈষ্ণব পদাবলি; কাশীরাম দাসের 'মহাভারত'; বহুসংখ্যক মনসা, চণ্ডী, ধর্ম ও অন্নদামঙ্গল কাব্য (কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, ঘনরাম চক্রবর্তী, ভারতচন্দ্র ইত্যাদি); মুসলমান কবি দৌলত কাজী ও আলাওলের কাব্যসম্ভার এবং শাক্তপদাবলি উল্লেখযোগ্য।
- ভারতচন্দ্রের মৃত্যু (১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ) থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে যুগসন্ধিক্ষণ বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮২৩.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত শ্রেষ্টসৃষ্টি কোনটি?
  1. রসমঞ্জরী
  2. বিদ্যাসুন্দর
  3. অন্নদামঙ্গল​
  4. সত্যপীরের পাঁচালি
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল​
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল​
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- তার রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম সত্যপীরের পাঁচালি (১৭৩৭-৩৮)।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৮২৪.
'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়' বিখ্যাত এই ভাবদ্যোতক প্রবচন এর কবি কে?
  1. বিজয় গুপ্ত
  2. ভারত চন্দ্র
  3. বিপ্রদাস পিপিলাই
  4. দ্বিজ বংশীদাস
সঠিক উত্তর:
ভারত চন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারত চন্দ্র
ব্যাখ্যা
• 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?' বিখ্যাত এই ভাবদ্যোতক প্রবচন এর কবি - ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর

অন্নদামঙ্গল:
- মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য।
- তাঁকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যা, সুন্দর, হীরা মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য তিনখণ্ডে বিভক্ত: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল ও মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড। 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি: 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'। 

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের (ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের) কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি, যা সুপ্রচলিত প্রবচন বা সুভাষিতের মর্যাদা লাভ করেছে।
যেমন -
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮২৫.
'মুক্তল হোসেন' কাব্যটি কোন ভাষা থেকে অনূদিত?
  1. আরবি
  2. সংস্কৃত
  3. ফারসি
  4. উর্দু
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা

'মুক্তল হোসেন' কাব্য:
- 'মুক্তল হোসেন' মুহম্মদ খান রচিত ফারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।
- মুহম্মদ খান 'মতুল হোসেন' কাব্য রচনা করে যথেষ্ট খ্যাতি লাভ করেছিলেন।
- ১৬৪৫ সালে 'মঞ্জুল হোসেন' কাব্য রচিত হয়। এই কাব্যটি ফারসি 'মঞ্জুল হোসেন' কাব্যের ভাবানুবাদ।
- কবির বৃদ্ধ অবস্থায় এটি রচিত। কাব্যটিতে কবি প্রতিভার উৎকর্ষের পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে।

মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ। তার গ্রন্থের নাম 'জয়নাবের চৌতিশা' (১৫৭০)।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ।তাঁর গ্রন্থ: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।
- 'মুক্তল হোসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮২৬.
'কবিকণ্ঠহার' কার উপাধি?
  1. গোবিন্দদাস 
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. জ্ঞানদাস 
  4. বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা

• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন চতুর্দশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকণ্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

- 'মৈথিল কোকিল' বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়। কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে 'মৈথিল কোকিল' বলা হয়।

- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮২৭.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে কোন লোকসঙ্গীতের লক্ষণ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়?
  1. ভাটিয়ালি
  2. ভাওয়াইয়া
  3. ঝুমুর গান
  4. বাউল গান
সঠিক উত্তর:
ঝুমুর গান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝুমুর গান
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) ঝুমুর গান।

উল্লেখ্য,
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে রাধা-কৃষ্ণের প্রণয়লীলা ও বিরহ-মিলনের বর্ণনা ঝুমুর গানের ছন্দ, ভাষা, লয় ও লোকজীবনের সরলতার সঙ্গে অত্যন্ত মিলে যায়।
- ঝুমুর হলো বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, মেদিনীপুর, মানভূম অঞ্চলের প্রধান লোকসঙ্গীত।
- এই গানের বৈশিষ্ট্য: সরল ভাষা, দ্রুত লয়, প্রেম-বিরহের আবেগ, রাধা-কৃষ্ণের লীলা-কেন্দ্রিক বিষয়, পয়ার-ত্রিপদীর সঙ্গে মিল।

------------------------
• "শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" কাব্য:
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামের শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।

- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি। কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু। এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।
- কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতণ্ডতা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে।
- এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়। কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে খণ্ডিতপদসহ মোট পদের সংখ্যা ৪১৮টি। পুঁথিতে সংস্কৃত শ্লোক আছে ১৬১টি।
- পুঁথির পাতার সংখ্যা ২২৬, অতএব পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪৫২; এর মধ্যে মাঝের মোট ৪৫ পৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি। ৪৫ পৃষ্ঠা বাদ গেলে পুঁথির প্রাপ্ত পৃষ্ঠার সংখ্যা ৪০৭।
- পুঁথির লিপি তিন হাতের লেখা। ৪১৮টি পদের মধ্যে কবির ভণিতা আছে ৪০৯টি।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য মোট তের খণ্ডে বিভক্ত।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যেের খণ্ডগুলো হলো-
- জন্মখণ্ড, 
- তাম্বুলখণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড, 
- ভারখণ্ড, 
- ছত্রখণ্ড, 
- বৃন্দাবনখণ্ড,
- কালিয়দমনখণ্ড, 
- যমুনাখণ্ড, 
- হারখণ্ড, 
- বাণখণ্ড,
- বংশীখণ্ড ও 
- রাধাবিরহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৮২৮.
"শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. দ্বিজ বংশীদাস
  2. বড়ু চণ্ডীদাস
  3. জয়দেব
  4. কানাহরি দত্ত 
সঠিক উত্তর:
বড়ু চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড়ু চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের রচয়িতা- বড়ু চণ্ডীদাস।

• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
 - শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর  পুঁথি আবিষ্কার করেন।  
- এ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।  
- বড়ু চণ্ডীদাসের প্রধান পরিচয়  শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে। 
- বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ এর মতে চণ্ডীদাসের জন্ম ১৩৩৯ এবং মৃত্যু ১৩৯৯ খ্রিস্টাব্দ।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮২৯.
মধ্যযুগের কোন কবিকে ‘দ্বিতীয় বিদ্যাপতি’ বলা হয়?
  1. চণ্ডীদাস
  2. জ্ঞানদাস
  3. গোবিন্দদাস
  4. বৃন্দাবন দাস 
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা

• মধ্যযুগের কবি 'গোবিন্দদাস':
গোবিন্দদাস ছিলেন বৈষ্ণব পদকর্তা। চৈতন্যত্তোরকালে খ্যাতি অর্জনকারী কবিদের একজন।

- তিনি 'দ্বিতীয় বিদ্যাপতি' নামে খ্যাত।
- তার কাব্যগুরু ছিলেন মিথিলার কবি বিদ্যাপতি।
- তার রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম 'সংগীতমাধব'।

- তিনি পূর্বরাগ, অভিসার, মান, কলহস্তরিতা, বাকসজ্জা, মাথুর প্রভৃতি পর্যায়ের পদকর্তা।
- অভিসার পদ পর্যায়ে গোবিন্দদাস শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। সমালোচকের মতে অভিসার পর্যায়ে তিনি রাজাধিরাজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৮৩০.
কবি আলাওলের জন্মস্থান কোথায়? 
  1. চট্টগ্রাম 
  2. কক্সবাজার 
  3. বরিশাল 
  4. ময়মনসিংহ
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম 
ব্যাখ্যা

• আলাওল:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- আলাওলের জন্ম আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে (জোবরা গ্রাম, হাটহাজারি, চট্টগ্রাম) মতান্বরে (ফতেহাবাদ পরগনা, ফরিদপুর)।
- আরাকান রাজসভা তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।
- পদ্মাবতী তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।

​সৈয়দ আলাওল রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম:
- পদ্মাবতী,
- হপ্তপয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৩১.
নিচের কোনটি শোকগীতি বা বিলাপ সংগীত?
  1. ক) সারিগান
  2. খ) মর্সিয়া
  3. গ) ভাটিয়ালী
  4. ঘ) হামদ
সঠিক উত্তর:
খ) মর্সিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মর্সিয়া
ব্যাখ্যা
শোকবিষয়ক রচনাকে মর্সিয়া সাহিত্য বা শোককাব্য বলা হয়।
- ‘মর্সিয়া’ কথাটি আরবি এর অর্থ শোক প্রকাশ করা।
- আরবি সাহিত্যে মর্সিয়ার উদ্ভব নানা ধরনের শোকাবহ ঘটনা থেকে হলেও পরে তা কারবালা প্রান্তরে নিহত ইমাম হোসেন ও অন্যান্য শহীদকে উপজীব্য করে লেখা কবিতা মর্সিয়া নামে আখ্যাত। 
- আরবি সাহিত্য থেকে মর্সিয়া কাব্য ফারসি সাহিত্য স্থান পায়।
- ভারতে মোগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে এদেশে ফারসি ভাষায় মর্সিয়া প্রচলিত হয় এবং পরে উর্দু ভাষাতেও তার প্রসার ঘটে।
- মর্সিয়া কাব্য বা শোক কাব্যের পটভূমিকা বর্ণনা করতে গিয়ে ড. আহমদ শরীফ লিখেছেন, ‘যুদ্ধ কাব্যের মধ্য কারবালাযুদ্ধ কাব্যই ষোল-সতের শতক থেকে বাংলার মুসলিম সমাজে বিশেষ জনপ্রিয় হতে থাকে।

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম।
৮৩২.
বাংলা বর্ণমালা তৈরীতে অগ্রদূত কারা?
  1. ক) উইলকিন্স ও হ্যালহেড
  2. খ) পঞ্চানন ও হ্যালহেড
  3. গ) উইলকিন্স ও পঞ্চানন
  4. ঘ) হ্যালহেড ও ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি 
সঠিক উত্তর:
গ) উইলকিন্স ও পঞ্চানন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উইলকিন্স ও পঞ্চানন
ব্যাখ্যা
উইলকিন্স ও পঞ্চানন বাংলা বর্ণমালা তৈরীতে অগ্রদূত।
- ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে চার্লস উইলকিন্স ও পঞ্চানন কর্মকার তৎকালে প্রচলিত প্রাচীন পুঁথির বাংলা অক্ষরের আদলে বাংলা বর্ণমালা তৈরি করে হুগলীতে প্রথম বাংলা মুদ্রণযন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।
- একই বছর ই মুদ্রণযন্ত্র থেকে হ্যালহেডের (A Grammar of the Bengali Language) শীর্ষক গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এ গ্রন্থে বাংলা অংশের মুদ্রণে হাতে খোদিত বাংলা টাইপ প্রথম ব্যবহৃত হয়।
- নির্মিত বাংলা বর্ণমালা মুদ্রিত হয়।
- উনিশ শতকে প্রায় সর্বত্রই বাংলা মুদ্রণ পদ্ধতি প্রচলিত হয়।
- ফলে হস্তলিখিত পুঁথির ব্যবহার হ্রাস পায়।
- ইতোপূর্বে যুগে যুগে ব্যক্তিভেদে হস্তাক্ষরের পরিবর্তন ঘটলে ও মুদ্রণযন্ত্রে বাংলা গ্রন্থ মুদ্রিত হওয়ায় পর থেকে বাংলা বর্ণ সার্বজনিক নির্দিষ্ট আদল লাভ করে।

উৎস : বাংলাপিডিয়া।
৮৩৩.
‘পদ্মাবতী’ আলাওলের অনুবাদ কাব্যটি কয়টি পর্বে রচিত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
 ⇒ ‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 

⇒ আলাওল: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। 
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ। 

আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ: 
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য,
- আধুনিক যুগের লেখক মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬০ সালে পদ্মাবতী নাটক রচনা করেন।
- এটি একটি পৌরাণিক নাটক গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অব ডিসকর্ড’ গল্প অবলম্বনে রচিত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া
৮৩৪.
বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ কত বঙ্গাব্দে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পুথি আবিষ্কার করেন?
  1. ১৩০৯ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩১৬ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩২৩ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩২৬ বঙ্গাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৩১৬ বঙ্গাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩১৬ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।

এগুলো হলো-
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৮৩৫.
আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য কোনটি?
  1. সপ্তপয়কর
  2. সিকান্দারনামা
  3. পদ্মাবতী
  4. তোহফা
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা

‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।

• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 

• আলাওল: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। 
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ। 

• আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ: 
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কর,
- সিকান্দারনামা, 
- সয়ফুল্মুলুক বদিউজ্জামাল
- সতীময়না
- রাগতালনামা ইত্যাদি। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৩৬.
ফকির গরীবুল্লাহ রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. জঙ্গনামা
  3. পদ্মাবতী
  4. সতীময়না
সঠিক উত্তর:
জঙ্গনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জঙ্গনামা
ব্যাখ্যা
• 'জঙ্গনামা' কাব্যের রচয়িতা ফকির গরীবুল্লাহ।

• ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

• মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সােনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- 'পদ্মাবতী' মহাকবি সৈয়দ আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত কাজী।
- ‘চন্দ্রাবতী' কাব্যের একমাত্র রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।

উৎস:

১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২. বাংলাপিডিয়া।
৮৩৭.
'পদ্মাবতী' কাব্যটি কার আদেশ বা অনুরোধে লেখা হয়েছিল?
  1. রতনসেন
  2. সম্রাট আকবর
  3. আলাউদ্দিন খিলজি
  4. মাগন ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
মাগন ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা

'পদ্মাবতী' কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' কাব্যের অনুবাদ।
- অনুবাদ হলেও কবি এখানে অনেক মৌলিকতা দেখিয়েছেন।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ খদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে 'পদ্মাবতী' কাব্য রচনা করেন। কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।
- প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং
- দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

আলাওল রচিত অন্যান্য বিখ্যাত গ্রন্থ:
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
- সতীময়না, 
- রাগতালনামা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৩৮.
কবি রামপ্রসাদ কে 'কবিরঞ্জন' উপাধি দেন কে?
  1. রাজা রঘুনাথ রায়
  2. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ 
  3. রাজা শিবসিংহ
  4. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
ব্যাখ্যা

• রামপ্রসাদ সেন:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভক্তিগীতির, বিশেষত শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ রূপকার, সাধককবি, গায়ক।
- তিনি আনুমানিক ১৭২০ খ্রিষ্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা, সংস্কৃত, হিন্দি, পারসি ভাষা জানতেন।
- রামপ্রসাদের গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।
- রামপ্রসাদের গান শুনে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা  অভিভূত হয়েছিলেন।
- রামপ্রসাদের উপাধি ছিল 'কবিরঞ্জন'। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এই উপাধি দিয়েছিলেন।

- রামপ্রসাদের শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।
- 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই' - রামপ্রসাদ সেনের উক্তি।
- রামপ্রসাদের আর একটি বিখ্যাত গান:

'মনরে কৃষি কাজ জান না
এমন মানবজমিন রইল পতিত
আবাদ করলে ফলত সোনা।'

- তিনি ১৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৮৩৯.
দেশী ভাষে কহ তাকে পাঞ্চালীর ছন্দে। সকলে শুনিয়া যেন বুঝয় সানন্দে। এই কাব্যাংশের কবি কে?
  1. দৌলত কাজী
  2. সৈয়দ আব্দুল হাকিম
  3. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  4. আবদুল করীম
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
• 'দেশী ভাষে কহ তাকে পাঞ্চালীর ছন্দে। সকলে শুনিয়া যেন বুঝয় সানন্দে।' এই কাব্যাংশের কবি - দৌলত কাজী

সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী:
- 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্যের কাহিনি খুবই প্রাচীন কাল থেকে লোকগাথা হিসেবে ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রচলিত ছিল।
- এই লোকগাথা অবলম্বন করে হিন্দি কবি সাধন 'মৈনাসত' নামে একটি কাব্য লিখেন।
- দৌলত কাজী তা অবলম্বন করে 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য রচনা করেন।
- ভিন্ন ভাষা থেকে এ কাব্যের কাহিনি বাংলায় রূপান্তরিত করার জন্য আশরফ খান নির্দেশ দিয়েছিলেন:

ঠেটা চৌপাইয়া দোহা কহিলা সাধনে।
না বুঝে গোহারী ভাষা কোন কোন জনে।
দেশী ভাষে কহ তাকে পাঞ্চালীর ছন্দে
সকলে শুনিয়া যেন বুঝয় সানন্দে।।

- এতে মনে হয় হিন্দি ঠেট ও গোহারী (গাঁওয়ারী) ভাষায় অর্থাৎ প্রাচীন হিন্দি ভাষায় রচিত কোন কাব্যকাহিনি অবলম্বনে দৌলত কাজী তাঁর কাব্যের পরিকল্পনা করেছিলেন।
- 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্যের কথাবস্তুতে হিন্দি প্রণয়কথা থাকলেও রূপে ও ভাবে তা বিদগ্ধ ও বিশুদ্ধ বাংলা কবিতা।
- কাব্যের প্রথমে আল্লাহ্-রসুলের বন্দনা করেছেন।
- বন্দনার উদার ও সার্বভৌম ভাবটি ধর্মসম্প্রদায়-নির্বিশেষে সর্বজনগ্রাহ্য।
- তারপর রাজা শ্রীসুধর্মা ও সমরসচিব আশরফ খানের প্রশংসা, রাজার বিহার ও আশরফ খানের দ্বারা কাব্য রচনার নির্দেশের কথা বলে কবি কাব্যের কাহিনি আরম্ভ করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৮৪০.
মালাধর বসু প্রথম কোন গ্রন্থের বাংলা অনুবাদক ছিলেন?
  1. মহাভারত
  2. ভগবত
  3. রামায়ণ
  4. গীতা
সঠিক উত্তর:
ভগবত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভগবত
ব্যাখ্যা

মালাধর বসু:
- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের তৃতীয় বা চতুর্থ দশকে জন্মগ্রহণ করেন।
- মালাধর বসু (১৫শ-১৬শ শতক) ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।
- মালাধরের একমাত্র কাব্য শ্রীকৃষ্ণবিজয়ের রচনাকাল ১৩৯৫-১৪০২ শকাব্দ (১৪৭৩-১৪৮০ খ্রি)।
- চৈতন্যদেবের (১৪৮৬-১৫৩৩) সন্ন্যাস গ্রহণের পূর্বে ভাগবতকে প্রথম বাংলায় প্রচার ও জনপ্রিয় করে তোলার কৃতিত্ব মালাধর বসুর।
- তিনি গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন।

অন্যদিকে,
- মহাভারতের প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন- কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৪১.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র নয় কোনটি?
  1. কৃষ্ণ
  2. রাধা
  3. ফুল্লরা
  4. বড়ায়ি
সঠিক উত্তর:
ফুল্লরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুল্লরা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) ফুল্লরা
ফুল্লরা চরিত্রটি চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের অন্তর্ভুক্ত, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন এর চরিত্র নয়।
 
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- এ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বড়ু চন্ডীদাস।
- বড়ু চন্ডীদাসের প্রধান পরিচয় শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে।

• এই গ্রন্থের প্রধান চরিত্র:
- এই গ্রন্থের প্রধান চরিত্র তিনটি।
- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৪২.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কোন কাব্য রচনা করে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি লাভ করেন?
  1. সত্য পীরের পাঁচালি
  2. বিদ্যাসুন্দর
  3. অভয়ামঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর: 
- মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। 
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ৩টি খণ্ড ছিল।
- এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল বিমিশ্র দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৪৩.
‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম -
  1. চন্দ্রাবতী
  2. খনা রানী
  3. লীলাবতী
  4. পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর:
লীলাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লীলাবতী
ব্যাখ্যা
• ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম - লীলাবতী।

খনার বচন:

- খনার বচন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি।
- ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন।
- শুভাশুভ, বিধিবিধান, নীতি ও উপদেশবাচক প্রতিপাল্য প্রাজ্ঞোক্তিই সাধারণ অর্থে বচন, যেমন গুরুর বচন, মহাপুরুষের বচন ইত্যাদি
- বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি বচনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- খনার বচনগুলো কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, জ্যোতিশাস্ত্র সম্পর্কিত।
- এছাড়াও স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন রয়েছে।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি।
- আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৮৪৪.
মঙ্গলযুগের শেষ বড় কবি বলা হয় কাকে?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. রামনিধি গুপ্ত
  4. দ্বিজ বংশীদাস
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের/মঙ্গলযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য রচনা করেন। ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ৩টি খণ্ড ছিল।
- এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল 'বিমিশ্র দেবতা' সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৪৫.
চৈতন্যদেবের শ্রেষ্ঠ জীবনীকার কে ছিলেন?
  1. লোচনদাস
  2. বৃন্দাবনদাস
  3. কৃষ্ণদাস
  4. চূড়ামণিদাস
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণদাস
ব্যাখ্যা
চৈতন্যদেবের (১৪৮৬-১৫৩৩) জীবন ও লীলাবিষয়ক এ কাব্যধারা মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- চৈতন্যচরিতকাব্য প্রথম রচিত হয় সংস্কৃত ভাষায়

- বাংলা চরিতকাব্যগুলির মধ্যে বৃন্দাবন দাসের 'চৈতন্যভাগবত' (১৫৪৬-১৫৫০) প্রথম রচনা। এটি চৈতন্যমঙ্গল নামেও পরিচিত।
- গোবিন্দদাসের কড়চা এ সময়ের অপর একখানি চৈতন্যচরিত কাব্য।

- এরপর চৈতন্যমঙ্গল নামে চৈতন্যের জীবনীকাব্য রচনা করেন জয়ানন্দ ও লোচনদাস
- লোচনদাসের কাব্যে (১৫৬০-৬৬/৭৫) চৈতন্যের মাতৃমমতামন্ডিত বাল্যলীলা এবং অতিরঞ্জনমুক্ত মানবীয় রূপটি প্রধানভাবে চিত্রিত হয়েছে। এখানেই এর বিশেষত্ব।

- চৈতন্যজীবনীগুলির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্যচরিতামৃত' (১৬১৫)।
- এতে চৈতন্যের শেষজীবনের কথা বর্ণিত হয়েছে। গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের এটি আকর গ্রন্থ।

- চৈতন্যজীবনী অবলম্বনে রচিত আরেকখানি চরিতকাব্য হলো চূড়ামণিদাসের গৌরাঙ্গবিজয়
- গ্রন্থটি তিনখন্ডে সম্পূর্ণ বলে জানা গেলেও কেবল প্রথম খন্ডের অংশবিশেষ পাওয়া গেছে এবং এটি খ্রিস্টীয় ষোড়শ শতকে রচিত বলে মনে করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮৪৬.
বিদ্যাপতি কোন ভাষায় পদ রচনা করেন নি?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) মৈথিলি
  3. গ) সংস্কৃত
  4. ঘ) অবহটঠ
সঠিক উত্তর:
ক) বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাংলা
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি ছিলেন বৈষ্ণব কবি ও পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। 
- মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। 
- বিদ্যাপতি মৈথিলী,  অবহট্ঠ ও সংস্কৃত ভাষায় বহু  গ্রন্থ ও পদ রচনা করেন।
- শৈব বংশে জন্ম বলে তিনি বহু শৈবসঙ্গীতও রচনা করেন।
- কিন্তু ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলিই তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- সুমধুর এই বৈষ্ণব পদাবলির জন্যই তিনি বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৪৭.
'গুলে বকাওলী' কাব্যের প্রথম বংলা অনুবাদক কবি কে?
  1. সৈয়দ হামজা
  2. মুহম্মদ মুকিম 
  3. নওয়াজিস খান
  4. সৈয়দ সুলতান
সঠিক উত্তর:
নওয়াজিস খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াজিস খান
ব্যাখ্যা

• গুলে বকাওলী:
- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ গুলে বকাওলী'।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
- সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন।
- এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৪৮.
মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি কে?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. আলাওল
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- তিনি ১৭১২ সালে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার পাণ্ডুয়া গ্রামে জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- মঙ্গলযুগ তথা মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
- তিনি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গলকাব্য রচনা করেন।
- ১৭৬০ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

৮৪৯.
নাথ সাহিত্যের জনক কে?
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. শুকুর মাহমুদ
  3. ফকীর গরীবুল্লাহ
  4. ভবানী দাস
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• নাথসাহিত্য:
- শেখ ফয়জুল্লাহ নাথ সাহিত্যের জনক।
- মুসলমান হয়েও তিনি নাথ সাহিত্য রচনা করেছিলেন।
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনী বা আখ্যায়িকা।

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য:
- ‘গোরাক্ষ বিজয়’ এর রচয়িতা - শেখ ফয়জুল্লাহ।
- ‘গোপীচন্দ্রের সন্যাস’ এর রচয়িতা - শুকুর মাহমুদ।
- ‘মীনচেতন’ এর রচয়িতা - শ্যামাদাস সেন।
- ‘ময়নামতির গান’ এর রচয়িতা - ভবানী দাস।
- ‘গোর্খবিজয়’ এর রচয়িতা - ভীমসেন রায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৫০.
'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' কোন ধারার সাহিত্য?
  1. নাথসাহিত্য
  2. বৈষ্ণবসাহিত্য
  3. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  4. মর্সিয়া সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
নাথসাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাথসাহিত্য
ব্যাখ্যা
নাথ সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।

নাথ সাহিত্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে,
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।

শুকুর মাহমুদ:
শুকুর মাহমুদ (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮৫১.
'প্রাকৃতপৈঙ্গল' এর কবি হলেন -
  1. নওয়াজিস খান
  2. রামাই পণ্ডিত
  3. শ্রীহর্ষ
  4. হলায়ুধ মিশ্র
সঠিক উত্তর:
শ্রীহর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীহর্ষ
ব্যাখ্যা

অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়'শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
'প্রাকৃতপৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম 'শূণ্যপুরাণ'। এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুম্মা এবং 'কলিমা জালাল'। 
• হলায়ুধ মিশ্র রচিত পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য 'সেক শুভোদয়া'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা।

৮৫২.
মধ্যযুগের মহিলা কবি চন্দ্রাবতী নিচের কোনটি রচনা করেন?
  1. মহাভারত
  2. গীতা
  3. রামায়ণ
  4. পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর:
রামায়ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামায়ণ
ব্যাখ্যা
• চন্দ্রাবতী রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক।

- মহিলা রামায়ণকার বলা হয় চন্দ্রাবতীকে।
- চন্দ্রাবতী মধ্যযুগের তিনজন মহিলা কবির একজন। অপর দুইজন চণ্ডীদাসের অনুরাগী রামী ও চৈতন্যের কৃপাপাত্রী মাধবী।
- চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জের পাতোয়ারি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- চন্দ্রাবতী ছিলেন মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা।
- লৌকিক, মানবিক ও কিছু মৌলিক উপাদান সংযোগের ফলে তাঁর রচিত রামায়ণ বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছিল।
- চন্দ্রাবতীর রচিত কাব্যগুলো হলো মালুয়া, দস্যু কেনারামের পালা, রামায়ণ ইত্যাদি।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৫৩.
চণ্ডীদাস সমস্যার উদ্ভব হয় কত সালে?
  1. ১৮৯৬
  2. ১৯০৭
  3. ১৯০৯
  4. ১৯১৬
সঠিক উত্তর:
১৯১৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯১৬
ব্যাখ্যা
- চণ্ডীদাসের পদাবলি দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত থাকলেও একাধিক চণ্ডীদাস সম্পর্কিত চণ্ডীদাস সমস্যার উদ্ভব হয় ১৯১৬ সালে বসন্তরঞ্জন রায় সম্পাদিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন প্রকাশের পর থেকে। কারণ, এই গ্রন্থের লেখকের নাম বড়ু চণ্ডীদাস।

- মধ্যযুগে বাংলা কাব্যে অন্তত চারজন চণ্ডীদাসের কবিতা পাওয়া যায়।
- তারা হলেন : বড়ু চণ্ডীদাস, দ্বিজ চণ্ডীদাস, দীন চণ্ডীদাস ও চণ্ডীদাস।
- এই চারটি নামের মধ্যে শেষ তিনটি নাম একজনের নাকি তাঁরা পৃথক কবি তা নিশ্চিত করে আজও বলা যাচ্ছে না। এই সমস্যাকেই চণ্ডীদাস-সমস্যা বলে।

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৫৪.
রামনিধি গুপ্ত কীসের জন্য বিখ্যাত?
  1. কীর্তন রচনার জন্য
  2. বাংলা নাটকের জনক হিসেবে
  3. বাংলা টপ্পা সংগীতের প্রবর্তক হিসেবে
  4. বাংলা গজল রচনার জন্য
সঠিক উত্তর:
বাংলা টপ্পা সংগীতের প্রবর্তক হিসেবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা টপ্পা সংগীতের প্রবর্তক হিসেবে
ব্যাখ্যা
রামনিধি গুপ্ত বাংলা টপ্পা সংগীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত।

• রামনিধি গুপ্ত
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত।
- ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের স্থাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টল্লা শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ হলো:
নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা?
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম হচ্ছে গীতরত্ন (১৮৩২)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৮৫৫.
'মৈমনসিংহ গীতিকা' গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় —
  1. ১৯৪৩ সালে
  2. ১৯৩৩ সালে
  3. ১৯২৩ সালে
  4. ১৯১৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২৩ সালে
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করেে এটি বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
যথা:
- মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কমলা, দেওয়ান ভাবনা, দস্যু কেনারামের পালা, রূপবতী, কঙ্ক ও লীলা, কাজলরেখা ও দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৫৬.
পদসঙ্গীত ধারার রূপকার ছিলেন কে?
  1. জয়দেব 
  2. গোবিন্দদাস 
  3. বিদ্যাপতি
  4. চণ্ডীদাস 
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
- বিদ্যাপতি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। বাঙালী কবি না হয়েও বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
- তিনি মাতৃভাষা মৈথিলি ছাড়াও সংস্কৃত, অবহঠট ও ব্রজবুলি ভাষায় পদাবলি রচনা করেন।
- শৈব বংশে জন্ম বলে তিনি বহু শৈবসঙ্গীতও রচনা করেন।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত। তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল-নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায়, রাজপণ্ডিত ইত্যাদি।
- কিন্তু ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলিই তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি। বিদ্যাপতি সহস্রাধিক পদাবলি রচনা করেছিলেন। রাধাকৃষ্ণের উল্লেখ আছে এমন পদের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। অন্যগুলোতে রাধাকৃষ্ণের উল্লেখ না থাকলেও তাদের প্রেমলীলা বিষয়ক পদ হিসেবে গ্রহণ করতে বাধা নেই।
- মিথিলার ঐশ্বর্যপূর্ণ রাজসভায় বিদ্যাপতি অসাধারণ পাণ্ডিত্যের সঙ্গে সংস্কৃত ও প্রাকৃতের ভাষা ভাব শব্দ ছন্দ ও অলঙ্কারের খনি থেকে রত্নরাজি আহরণ করে রাধার প্রেম বর্ণনা করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, 'বিদ্যাপতির কবিতা স্বর্ণহার, বিদ্যাপতির গান মুরজবীণাসঙ্গিনী স্ত্রীকণ্ঠগীতি।' আর রবীন্দ্রনাথ বিদ্যাপতির কাব্যকে 'রাজকণ্ঠের মণিমালা' বলে অভিহিত করেছেন।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৫৭.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে প্রাচীনযুগের সমকাল কোনটি?
  1. ৯৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ৬৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ৯৫০ - ১২৫০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ৭৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
৯৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৫০ - ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যকে তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা -
১. প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),
২. মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
৩. আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।

মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছর (১২০১ - ১৩৫০) অন্ধকার যুগ ছিল।
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের ব্যাপ্তি ছিল (৯৫০ - ১২০০) সুতরাং ২৫০ বছর।
এবং বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের ব্যপ্তি ছিল (১২০১-১৮০০) সুতরাং ৫৯৯ বা ৬০০ বছর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৫৮.
জ্ঞানদাস রচিত বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ -
  1. প্রেমসাগর ও গোপাললীলা
  2. মাথুর ও মুরলীশিক্ষা
  3. বৃন্দাবনলীলা ও রাধামাধব
  4. পদাবলী ও গীতগোবিন্দ
সঠিক উত্তর:
মাথুর ও মুরলীশিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাথুর ও মুরলীশিক্ষা
ব্যাখ্যা

জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।
- পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

৮৫৯.
"কে বলে শারদ শশী সে মুখের তুলা।
পদনখে পড়ি তার আছে কতগুলা।।"
- কার রচনা?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. চন্ডীদাস
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ছিলেন মধ্যযুগের শেষ বড় কবি। তার কাব্য প্রতিভা ছিল অসাধারণ।
চমৎকার কথা বলায়, ছন্দের আন্দোলন সৃষ্টিতে মধ্যযুগে তার জুড়ি নেই। কথা বলেন তিনি বিস্ময়কর চাতুর্যের সঙ্গে।

যেমন - মধ্যযুগের সকল কবিই বলেছেন, তার নায়িকা দেখতে অত্যন্ত সুন্দরী, দেখতে একেবারে চাঁদের মতন। এই নিয়ে তামাশা করেছেন ভারতচন্দ্র।
তিনি তার নায়িকার রূপ বর্ণনা করেছেন এভাবে -
''কে বলে শারদ শশী সে মুখের তুলা।
পদনখে পড়ি তার আছে কতগুলা।।''

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

৮৬০.
'চন্দ্রাবতী' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. আলাওল
  2. বিদ্যাপতি
  3. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  4. দৌলত কাজী
সঠিক উত্তর:
কোরেশী মাগন ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোরেশী মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা

'চন্দ্রাবতী' কাব্য:
- 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের রচয়িতা — কোরেশী মাগন ঠাকুর।
- মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
- তার পৃষ্ঠাপােষকতায় আরাকান বা রােসাঙ্গ রাজসভায় বাংলা সাহিত্য চর্চা শুরু হয়েছিল।
- তিনি আলাওলকে দুটি কাব্য ‘পদ্মাবতী’ ও ‘সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান' লিখতে পৃষ্ঠপােষকতা করেছিলেন।
- আলাওল, দৌলত কাজী, কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার উল্লেখযােগ্য কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলার পুরনারী - দীনেশচন্দ্র সেন, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৬১.
“কে বলে শারদ শশী সে মুখের তুলা / পদনখে পড়ি তার আছে কতগুলা”- আলোচ্য অংশের রচয়িতা কে?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. চন্ডীদাস
  4. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়৷
- চমৎকার কথা বলায়, ছন্দের আন্দোলন সৃষ্টিতে মধ্যযুগে তার জুড়ি নেই। কথা বলেন তিনি বিস্ময়কর চাতুর্যের সঙ্গে।

যেমন - মধ্যযুগের সকল কবিই বলেছেন, তার নায়িকা দেখতে অত্যন্ত সুন্দরী, দেখতে একেবারে চাঁদের মতন। এই নিয়ে তামাশা করেছেন ভারতচন্দ্র।
তিনি তার নায়িকার রূপ বর্ণনা করেছেন এভাবে -
''কে বলে শারদ শশী সে মুখের তুলা।
পদনখে পড়ি তার আছে কতগুলা।।''

উৎস:- লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।
৮৬২.
হিন্দি কবি মনঝনের কাব্যের অনুসরণে রচিত বাংলা অনুবাদ কাব্য কোনটি?
  1. গুলে বকাওলী
  2. মধুমালতী
  3. চন্দ্রাবতী
  4. সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী 
সঠিক উত্তর:
মধুমালতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধুমালতী
ব্যাখ্যা

• 'মধুমালতী' কাব্য:
- মুহম্মদ কবীর হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা 'মধুমালতী' কাব্য রচনা করেন। এর রচনা কাল ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দ এবং এ কাহিনি ভারতীয়।
- রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
- মূল কাব্য অধ্যাত্ম রসাত্মক হলেও অনুবাদে তা আদি রসাত্মক কাব্যে পরিণত হয়েছে।
- কাব্যটি তৎকালে এতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে, কবিরের পরবর্তী আরও ছয়জন কবি একই নামে কাব্য রচনা করেন। তবে একমাত্র সৈয়দ হামজা ব্যতীত অন্য কারও কাব্য শিল্পসফল হয়নি; আবার সৈয়দ হামজার কাব্যও কবিরের কাব্যের মতো সার্থক নয়।

অন্যদিকে, 
-----------------
• 'গুলে বকাওলী' কাব্য:
- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ গুলে বকাওলী'।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
- সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন।
এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

• 'চন্দ্রাবতী' কাব্য:
- 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের একমাত্র রচয়িতা কেরেশী মাগন ঠাকুর।
- এর একটি খণ্ডিত পুথি পাওয়া গেছে।
- কাব্যের রচনাকাল নিয়ে সংশয় আছে। তবে মাগন আরাকান রাজ্যের মন্ত্রী ও আলাওলের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তাই কাব্যটি সতের শতকের।
- 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের প্রাচীন উৎস জানা যায় না। মনে হয় এটা কবির স্বাধীন কল্পনা।

• 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য:
- 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্যটির রচয়িতা- 'দৌলত কাজী'। এটি সাধনের 'মৈনাসত' কাব্য থেকে অনুদিত।
-  এই কাব্যগ্রন্থটির তৃতীয় খণ্ড আলাওলের রচনা। তিনি আরাকান রাজসভার আদি কবি এবং প্রথম বাঙালি কবি।
- লোরচন্দ্রানী কাব্যটি পয়ার ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

-------------------
'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী ইত্যাদি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৬৩.
'ইউসুফ-জোলেখা'র কাহিনি অবলম্বনে প্রথম প্রণয়োপাখ্যান ধারার কাব্য রচনা করেন কে? 
  1. আব্দুল হাকিম
  2. শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ
  4. দৌলত উজির বাহরাম খান
সঠিক উত্তর:
শাহ মুহম্মদ সগীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহ মুহম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা

• 'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্য সম্পর্কিত আলোচনা:
- 'ইউসুফ-জোলেখা' শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।

- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জোলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ জোলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম, শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ, গোলাম সফাতউল্লাহ, সাদেক আলী ও ফকির মোহাম্মদ। তাঁদের মধ্যে প্রথম দুজন বাংলা এবং অন্যরা দোভাষী পুথির মিশ্র ভাষা ব্যবহার করেন। তবে এই কাব্য শাহ মুহম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়িা।

৮৬৪.
বাংলা টপ্পাগানের জনক কে?
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. রামনিধি গুপ্ত
  3. রমাপ্রসাদ সেন
  4. বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা

‘রামনিধি গুপ্ত’:
- তিনি একজন সঙ্গীতশিল্পী ও বাংলা টপ্পাগানের জনক। 
- তাঁর প্রকৃত নাম ‘রামনিধি গুপ্ত’, কিন্তু সঙ্গীতজগতে তিনি ‘নিধু গুপ্ত’ নামেই পরিচিত।
- কেউ কেউ তাঁকে ‘নিধুবাবু’ বলেও ডাকতেন।
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চাপ্তায় মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- নিধু গুপ্ত বাংলা ভাষায় টপ্পাগীতি রচনা ও সুরারোপ করে নিজেই তা গাইতেন।
- ক্রমে তাঁর গানের সমঝদার জোটে এবং কলকাতার নগরসমাজে তিনি অল্পদিনেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
- বর্ধমানের মহারাজা তেজেশচন্দ্র রায়বাহাদুর তাঁর গানের একজন একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন।
- ১৮৩২ সালে গীতরত্ন নামে তাঁর গানের একটি সংকলন প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা সঙ্গীত:
- "নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৮৬৫.
বিদ্যাপতি কোন রাজসভার কবি ছিলেন?
  1. গৌড় রাজসভা
  2. কৃষ্ণনগর রাজসভা
  3. মিথিলার রাজসভা
  4. আরাকান রাজসভা
সঠিক উত্তর:
মিথিলার রাজসভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিথিলার রাজসভা
ব্যাখ্যা

বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৬৬.
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার কবি নন কে?
  1. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  2. নওয়াজিস খান
  3. সৈয়দ সুলতান 
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার কবি নন- শেখ ফয়জুল্লাহ। 
- কারবালা ও ইসলামিক বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মুলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য। মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি শেখ ফয়জুল্লাহ।

--------------------------
• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:

- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা।
- মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন:
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- নওয়াজিস খান
- কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৬৭.
বাংলায় মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কে?
  1. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  2. কাশীরাম দাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
কাশীরাম দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাশীরাম দাস
ব্যাখ্যা
বাংলায় মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক হচ্ছে কাশীরাম দাস।

• মহাভারত:
- মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য।
- এই কাব্যের মূল রচয়িতা - কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
- এই গ্রন্থ প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন - কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক - কাশীরাম দাস।
- তিনি পরাগলী খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম - পরাগলী মহাভারত।
- কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন-বিজয়পান্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৮৬৮.
নিচের কোনটি শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের খণ্ড?
  1. প্রেম খণ্ড 
  2. মিলন খণ্ড 
  3. হার খণ্ড
  4. জয় খণ্ড 
সঠিক উত্তর:
হার খণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হার খণ্ড
ব্যাখ্যা

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস। এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৬৯.
দৌলত উজির বাহরাম খান কোন  শতকের কবি ছিলেন?
  1. ২০শ শতক
  2. ১৪শ শতক
  3. ১২শ শতক
  4. ১৬শ শতক
সঠিক উত্তর:
১৬শ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬শ শতক
ব্যাখ্যা

দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
- পীরভক্ত বাহরাম খানের প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।

দৌলত উজির বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন:
- লায়লী-মজনু ও
- ইমাম-বিজয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৭০.
কোনটি গোবিন্দদাসের উপাধি?
  1. কবিরাজ
  2. কবিকঙ্কণ
  3. কবীন্দ্র
  4. ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
গোবিন্দদাস:
- তিনি বৈষ্ণব পদকর্তা ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকট তেলিয়াবুধুরি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু ছিলেন মিথিলার কবি বিদ্যাপতি।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ এবং ‘কবিরাজ’ উপাধিও প্রদান করেন।

অন্যদিকে,
- রাজা রঘুনাথ রায় মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে ‘কবিকঙ্কণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৭১.
'লায়লী মজনু' কাব্যের প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. কায়েশ
  2. হামজা
  3. জামী
  4. আমির
সঠিক উত্তর:
কায়েশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কায়েশ
ব্যাখ্যা
• 'লায়লী মজনু' কাব্য:
- 'লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান। 'লায়লী মজনু' কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন আহমদ শরীফের মতে ১৫৪৩-১৫৫৩ সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহর মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির 'লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ। 'লাইলী-মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ- ইরান।
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে এই কাব্যে।
- এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৮৭২.
মানবতার কবি বলা হয় কাকে?
  1. জ্ঞানদাস 
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. গোবিন্দদাস 
  4. চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীদাস:
- বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস। তাঁর রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলি যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়কে সীমাহীন রসমাধুর্যে পরিপূর্ণ করে তুলেছে। বাংলা সাহিত্যে একাধিক চণ্ডীদাস নিয়ে জটিল চণ্ডীদাস সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

- চণ্ডীদাসের আবির্ভাবের স্থান ও কাল নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তের এখনও অভাব রয়েছে। সম্ভবত তিনি চৌদ্দ শতকের শেষভাগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। চণ্ডীদাসের বিস্ময়কর প্রতিভার পরিচায়ক আশ্চর্য সুন্দর পদগুলোতে অপূর্ব ভাবতায় কৃষ্ণপ্রেম-সাধিকা শ্রীরাধার যে মনোমুগ্ধকর চিত্র রূপায়িত হয়ে উঠেছে তা কয়েক শতাব্দী ধরে বাঙালির রসপিপাসু মনের পরিতৃপ্তি সাধন করে যাচ্ছে।

- তাঁর পদাবলির 'অনাবৃত প্রাণের নিরাভরণ আনন্দ-বেদনায় মেদুর মুহূর্তগুলো পাঠকের মনে যে প্রশান্তি, স্নিগ্ধতা ও প্রাপ্তির আনন্দঘন উপলব্ধি সৃষ্টি করে' তার মূল্য অপরিসীম।

- চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন। চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।

- তিনি 'শুনহ মানুষ ভাই/সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই' বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেছেন বলে তাঁকে মানবতার কবি বলা হয়। তাছাড়া ব্যক্তিজীবনেও তিনি জাত-সংস্কারের ঊর্ধ্বে ছিলেন।

-চণ্ডীদাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছেন "চণ্ডীদাস সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি-এই গুণে তিনি বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি"। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৭৩.
জ্ঞানদাসের রচিত দুটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম কী?​
  1. প্রেমসাগর ও ভক্তিবিনোদ
  2. মাথুর ও কৃষ্ণলীলা
  3. গীতগোবিন্দ ও প্রেমভক্তি
  4. মাথুর ও মুরলীশিক্ষা
সঠিক উত্তর:
মাথুর ও মুরলীশিক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাথুর ও মুরলীশিক্ষা
ব্যাখ্যা
জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন। জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত 'মাথুর ও মুরলীশিক্ষা' বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
৮৭৪.
'পদ্মাবতী' আলাওল রচিত-
  1. মৌলিক নাটক
  2. অনুবাদ নাটক
  3. মৌলিক কাব্য
  4. অনুবাদ কাব্য
সঠিক উত্তর:
অনুবাদ কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুবাদ কাব্য
ব্যাখ্যা

• ‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

• আলাওল: 
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। 
 
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহ্ফা,
- সপ্তপয়কর  ,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, 
- রাগতালনামা,
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৭৫.
‘শকুন্তলা’ গ্রন্থ সংস্কৃত থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন কে?
  1. ক) উইলিয়াম কেরী
  2. খ) এন্টনি ফিরিঙ্গি
  3. গ) উইলিয়াম জোনস
  4. ঘ) রাজা রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
গ) উইলিয়াম জোনস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উইলিয়াম জোনস
ব্যাখ্যা
- উইলিয়াম জোনস ১৭৪৬ সালে ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মূলত বহু ভাষাবিদ এবং এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা।
- তিনি ১৭৭০ সালে পারসি ভাষায় নাদির শাহের জীবনী অনুবাদ করেন।
- ১৭৮৪ সালে তিনি কলকাতায় এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন।

• তিনি কিছু গ্রন্থ সংস্কৃত থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন-
- শকুন্তলা, 
- হিতোপদেশ, 
- জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৭৬.
'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' ধারার প্রথম কবির নাম কী?
  1. দৌলত কাজী
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ্‌
  3. আব্দুল কাদির
  4. শাহ মুহম্মদ সগীর
সঠিক উত্তর:
শাহ মুহম্মদ সগীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহ মুহম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা
শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা কবি।
- রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি- শাহ মুহম্মদ সগীর।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তার হাতে রচিত হয় রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য ‘ইউসুফ-জুলেখা’।
- তাঁর রচিত 'ইউসুফ-জুলেখা' কাব্যে গৌড় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের স্তুতি আছে।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি এ কাব্য রচনা করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৭৭.
শ্রীচৈতন্যদেবের প্রকৃত নাম কী ছিল?
  1. নিমাই
  2. কৃষ্ণদাস
  3. জগন্নাথ মিশ্র
  4. বিশ্বম্ভর মিশ্র
সঠিক উত্তর:
বিশ্বম্ভর মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বম্ভর মিশ্র
ব্যাখ্যা

শ্রীচৈতন্যদেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র।
- কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত। প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- তাঁর পিতা জগন্নাথ মিশ্র সিলেট জেলার দক্ষিন গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলাপিডিয়া।

৮৭৮.
'গোরক্ষবিজয়' গ্রন্থটি সম্পাদনা করেন কে?
  1. ভবানী দাস
  2. পঞ্চানন মন্ডল
  3. আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ
  4. নলিনীকান্ত ভট্টশালী
সঠিক উত্তর:
আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ
ব্যাখ্যা
• 'গোরক্ষবিজয়' কাব্যগ্রন্থ:
- নাথ সাহিত্য ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো গোরক্ষবিজয়।
- গোরক্ষবিজয় সংক্রান্ত ১৭টির মতো পুথি অবিভক্ত বাংলা থেকে সংগৃহীত হয়েছে।
- সংগ্রাহকরা হলেন:
- নলিনীকান্ত ভট্টশালী (১টি পুথি),
- আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (৮টি পুথি),
- আলি আহমদ (৭টি পুথি) এবং পঞ্চানন মন্ডল (১টি পুথি)।
- এসব পুথির অধিকাংশই খণ্ডিত।

• পুথি অনুসরণে সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত গ্রন্থের নাম মীনচেতন।
- আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ সম্পাদিত গ্রন্থের নাম- গোরক্ষবিজয়।
- পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত গ্রন্থের নামগোর্খবিজয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮৭৯.
অন্ধকার যুগের সাহিত্যকর্ম নিচের কোনটি? 
  1. গুলে বকাওলী
  2. কলিমা জালাল
  3. বিদ্যাসুন্দর
  4. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
সঠিক উত্তর:
কলিমা জালাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলিমা জালাল
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ: 
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড় শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। 
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়। 

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন- 
- প্রাকৃতপৈঙ্গল, 
- কলিমা জালাল
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা', 
- হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'। 

• হলায়ূধ মিশ্র রচিত পির মহাত্ম্যক-ব্যঞ্জক কাব্য ‘সেক শুভোদয়া’। 
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্বের গ্রন্থের নাম ‘শূণ্যপুরাণ’। 

অন্যদিকে, 
• বিদ্যাসুন্দর মধ্যযুগের (‘মঙ্গলকাব্য’ ধারার) সাহিত্যকর্ম। 
• সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল ও গুলে বকাওলী মধ্যযুগের রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার সাহিত্যকর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮৮০.
‘হারামণি’ লোকগীতি সংকলন করেন-
  1. মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন
  2. শুকুর মাহমুদ
  3. মনসুর বয়াতি
  4. ফকির গরীবুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন
ব্যাখ্যা
⇒ মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন:
- ১৯০৪ সালের ৩১ জানুয়ারি পাবনা জেলার সুজানগর থানার মুরারিপুর গ্রামে জন্ম। 
- পাবনা  এডওয়ার্ড কলেজ ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম ‘বেদুইন মুসলমান’।
- মনসুরউদ্দীন মনেপ্রাণে ছিলেন  বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি, বিশেষত লোকসংস্কৃতির একজন একনিষ্ঠ অনুরাগী।
- তিনি পদ্মার চরাঞ্চল এবং পাবনা-ফরিদপুর-কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে গান, ছড়া, ধাঁধা, প্রবাদ, গল্প ইত্যাদি লোকসাহিত্যের অনেক উপাদান সংগ্রহ করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় ফোকলোর চর্চা দেশের সুধীমহলের স্বীকৃতি লাভ করে।
- ১৯৮৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

⇒ লোকগীতি সংকলন ‘হারামণি’: 
- মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন এর অক্ষয় কীর্তি হলো 'হারামণি'। 
- এর মোট ১৩ খণ্ডে লোকসঙ্গীত সংকলন ও সম্পাদনা করে তিনি প্রভুত খ্যাতি অর্জন করেন।
- প্রতিটি খণ্ডের সম্পাদনায় তিনি আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীর পাণ্ডিত্যের স্বাক্ষর রেখেছেন।

• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- শিরনী,
- ধানের মঞ্জরী,
- আগরবাতী,
- বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাধনা (৩ খণ্ড: ১৯৬০-৬৬) ও
- ইরানের কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৮১.
জ্ঞানদাস কোন যুগের কবি ছিলেন?
  1. উত্তর আধুনিক যুগ
  2. চৈতন্যোত্তর যুগ
  3. আধুনিক যুগ
  4. প্রাক-চৈতন্য যুগ
সঠিক উত্তর:
চৈতন্যোত্তর যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৈতন্যোত্তর যুগ
ব্যাখ্যা
জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।
- প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
৮৮২.
জৈগুনের পুঁথি' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ফকির গরীবুল্লাহ
  2. সৈয়দ হামজা
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. আমীর হামজা
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ হামজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ হামজা
ব্যাখ্যা

সৈয়দ হামজা :
- সৈয়দ হামজা পুঁথি সাহিত্য ধারার অন্যতম কবি।

​তাঁর গ্রন্থসমূহ হলো:
- জৈগুনের পুঁথি,
- হাতেম তাই ও
- আমির হামজা (দ্বিতীয় অংশ)।

উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৮৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি কে?
  1. দৌলত উজির বাহরাম খান
  2. শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর
  3. ফকির গরীবুল্লাহ
  4. আলাওল
সঠিক উত্তর:
শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা
শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর। তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি - শাহ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জোলেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৮৪.
'ইমামগণের কেচ্ছা ও আফৎনামা' গ্রন্থের কে লিখেছেন?
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. রামনিধি গুপ্ত
  4. রাধারমণ গোপ
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাধারমণ গোপ
ব্যাখ্যা

• 'ইমামগণের কেচ্ছা' গ্রন্থটির লেখক - রাধারমণ গোপ।

• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি শেখ ফয়জুল্লাহ। 
- তাঁর গ্রন্থের নাম 'জয়নালের চৌতিশা' (১৫৭০)।
- মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ - মুক্তল হোসেন।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি রাধারমণ গোপ। 
- তাঁর গ্রন্থের নাম 'ইমামগণের কেচ্ছা', 'আফৎনামা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৮৫.
কবি আলাওলের জন্মস্থান কোনটি?
  1. ফরিদপুরের সুরেশ্বর
  2. চট্টগ্রামের জোব্‌রা
  3. বার্মার আরাকান
  4. চট্টগ্রামের পটিয়া
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রামের জোব্‌রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রামের জোব্‌রা
ব্যাখ্যা
• আলাওল:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- আলাওলের জন্ম আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে (জোবরা গ্রাম, হাটহাজারি, চট্টগ্রাম) মতান্বরে (ফতেহাবাদ পরগনা, ফরিদপুর)।
- আরাকান রাজসভা তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।
- পদ্মাবতী তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।

• সৈয়দ আলাওল রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম:
- পদ্মাবতী,
- হপ্তপয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৮৬.
বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. শ্রীচৈতন্যদেব
  3. জয়দেব
  4. চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।

- এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে।
যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি।
৮৮৭.
খনার বচনে কিসের প্রাধান্য পায়?
  1. ক) কৃষি
  2. খ) আবহাওয়ার
  3. গ) উভয়
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
গ) উভয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উভয়
ব্যাখ্যা
ডাক ও খনার বচন বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়।
- তবে এর লিখিত কোন নিদর্শন নেই। 
- প্রাচীন যুগের সৃষ্টি হলেও মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে আধুনিক যুগে চলে এসেছে। 
- ডাক ও খনার বচনের মধ্যে ঐক্য থাকলেও ডাকের বচনে জ্যোতিষ ও ক্ষেত্রতত্ত্বের কথা ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা প্রাধান্য পেয়েছে। 
- খনার বচনে কৃষি ও আবহাওয়ার কথা প্রাধান্য  পেয়েছে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৮৮৮.
"দেশী ভাষা বিদ্যা যার মনে ন জুয়ায়।
নিজ দেশ তেয়াগী কেন বিদেশ ন যায়॥" – কবিতাংশটি কোন কবির রচনা?
  1. আবদুল হাকিম
  2. সৈয়দ সুলতান
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. আলাওল
সঠিক উত্তর:
আবদুল হাকিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল হাকিম
ব্যাখ্যা
• লাইনগুলো আবদুল হাকিম রচিত 'নুরনামা' কাব্যের অন্তর্গত।

এই কবিতার আরো বিখ্যাত অংশ হলো -
"যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী,
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।"
--------------------- 
• আব্দুল হাকিম:
- তিনি সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি ছিলেন।
- নোয়াখালী জেলার বাবুপুর (মতান্তরে সন্দ্বীপের সুধারাম) ছিল কবির আবাসভূমি।
- তাঁর পিতা শাহ্ রাজ্জাক ছিলেন একজন পন্ডিত ব্যক্তি এবং তাঁর পীর ছিলেন সাহাবুদ্দীন।
- আবদুল হাকিম  আরবি,  ফারসি ও  সংস্কৃত ভাষায় বিশেষ ব্যুৎপন্ন ছিলেন।
- হাদীস, আল-কুরআন, ফেকাহ প্রভৃতি শাস্ত্র এবং  রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণ সম্পর্কেও তাঁর গভীর পান্ডিত্য ছিল।
- আব্দুল হাকিমের ৫টি কাব্য পাওয়া যায়।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো: 
- ইউসুফ জোলেখা,
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
- হানিফার লড়াই।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৮৯.
'গুলে বকাওলী' গ্রন্থের প্রথম রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ আলী
  2. নওয়াজিস খান
  3. সাবিরিদ খান
  4. আলাওল
সঠিক উত্তর:
নওয়াজিস খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াজিস খান
ব্যাখ্যা
⇒ 'গুলে বকাওলী' রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
⇒ সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্য রচনা করেন।
⇒ এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৯০.
’ভাড়ুদত্ত, কালকেতু’ চরিত্রদ্বয় কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য
  2. চণ্ডীমঙ্গল কাব্য
  3. অন্নদামঙ্গল কাব্য
  4. মনসামঙ্গল কাব্য
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল কাব্য
ব্যাখ্যা

• 'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৯১.
কোরেশী মাগন ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. পদ্মবতী
  2. মধুমালতী
  3. চন্দ্রবতী
  4. সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রবতী
ব্যাখ্যা
'চন্দ্রাবতী কাব্য'
- আরাকান রাজসভায় অমাত্য কোরেশী মাগন ঠাকুর রচিত কাব্য 'চন্দ্রাবতী'।
- এর একটি খণ্ডিত পুথি পাওয়া গেছে।
- কব্যের রচনাকাল নিয়ে সংশয় আছে।
- এ কাব্যটি সতের শতকের।
- ভদ্রাবতী নগরের রাজপুত্র বীরভান মন্ত্রীপুত্র সুতের সহায়তায় কীভাবে সরন্দ্বীপ রাজকন্যা অপূর্বসুন্দরী চন্দ্রাবতীকে লাভ করেছিলেন তা - ই এ কাব্যে বর্ণিত হয়েছে। আলাওল মাগন ঠাকুরের উৎসাহে 'সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামাল' কাব্য রচনা করেন। '
-----------------------------------------------------
কোরেশী মাগন ঠাকুর:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি।
- চন্দ্রাবতী কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর এবং আরাকানের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দিক বংশজাত মাগন ঠাকুর একই ব্যক্তি ছিলেন এরূপ মনে করে তাঁর জীবনকথা আলোচনা করা হয়। 
- বাংলা, ফারসি, বর্মি ও সংস্কৃত ভাষায় মাগন ঠাকুরের অগাধ পান্ডিত্য ছিল।
- তাঁর রচিত চন্দ্রাবতী কাব্যের একটিমাত্র  পুথি পাওয়া গেছে।
- এটি  লোককাহিনী আশ্রিত রোমান্টিক প্রণয়কাব্য।
- বর্ণনাধর্মী এ কাব্যে সাহিত্যিক গুণের অভাব থাকলেও মধ্যযুগের কাব্য হিসেবে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। 

অন্যদিকে,
’পদ্মবতী’ কাব্যগ্রন্থের লেখক- কবি আলাওল।
’মধুমালতী’ কাব্যগ্রন্থের লেখক- মুহম্মদ কবীর।
’সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী’ কাব্যগ্রন্থের লেখক- কবি দৌলত কাজী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৯২.
'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্য কোন ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়?
  1. ফারসি
  2. সংস্কৃত
  3. আরবি
  4. ফরাসি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
• 'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্য  ফারসি ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়। 

• ইউসুফ-জোলেখা:
- ইউসুফ-জোলেখা একটি কাহিনি কাব্যগ্রন্থ।
- ইউসুফ-জোলেখা কাহিনি কাব্যের রচয়িতা শাহ মুহম্মদ সগীর।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৮৯-১৪০৯ খ্রিষ্টাব্দ) এ গ্রন্থ রচিত হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- সে-বিচারে কাব্যটি পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকের রচনা এবং শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে গণ্য।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে।
- ইরানের কবি ফেরদৌসিও (মৃত্যু ১০২৫ খ্রিষ্টাব্দ) এই নামে কাব্য রচনা করেছেন।
- এটি মূলত অনুবাদ কাব্য বা রোমান্টিক প্রণোয়োপাখ্যানের নিদর্শন।

উল্লেখ্য,
• ইউসুফ-জোলেখা, লায়লী-মজনু, হানিফা-কয়রাপরী, সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল, জেবলমুলুক-শামারোখ প্রভৃতি কাব্যের কাহিনি ফারসি গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
• গুলে-বকাওলী, লোরচন্দ্রানী, পদ্মাবতী, মধুমালতী, গদামল্লিকা প্রভৃতি কাব্যের কাহিনি হিন্দি-আরবি গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮৯৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি কে?
  1. আবুল ফজল
  2. সৈয়দ সুলতান
  3. শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর
  4. আলাওল
সঠিক উত্তর:
শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা
শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা কবি।
- রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি- শাহ মুহম্মদ সগীর।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তার হাতে রচিত হয় রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য ‘ইউসুফ-জুলেখা’।
- তাঁর রচিত 'ইউসুফ-জুলেখা' কাব্যে গৌড় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের স্তুতি আছে।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি এ কাব্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৯৪.
'সই কে শুনাইল শ্যাম নাম'- কার উক্তি?
  1. জ্ঞানদাস
  2. চণ্ডীদাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. শ্রীচৈতন্য
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীদাস:
- চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন। তাকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।
- তিনি ‘শুনহ মানুষ ভাই/ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই' বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেছেন বলে তাকে মানবতার কবি বলা হয়। তাছাড়া ব্যক্তিজীবনেও তিনি জাত-সংস্কারের ঊর্ধ্বে ছিলেন।
- চণ্ডীদাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছেন “চণ্ডীদাস সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি-এই গুণে তিনি বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি”।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।

• চণ্ডীদাস এর বিখ্যাত উক্তি:
- 'শুনহ মানুষ ভাই, সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।'
- 'সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম।'
- 'সখি কেমনে ধরিব হিয়া, আমার বধূয়া আনবাড়ী যায় আমার আঙিনা দিয়া।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

৮৯৫.
অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র কোনটি?
  1. ক) কালকেতু
  2. খ) মুরারি শীল
  3. গ) মালিনী
  4. ঘ) চাঁদ সওদাগর
সঠিক উত্তর:
গ) মালিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মালিনী
ব্যাখ্যা
অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র- 'মালিনী'।

• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'- এটা অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র-
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

তাছাড়া, 
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।

• মনসামঙ্গল কাব্যের চরিত্র-
চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, সনকা, লখিন্দর ইত্যাদি।

উৎস:- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৯৬.
অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত সাহিত্যকর্ম নয় কোনটি?
  1. প্রাকৃতপৈঙ্গল
  2. কলিমা জালাল
  3. সেক শুভোদয়া
  4. পদ্মপুরাণ
সঠিক উত্তর:
পদ্মপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মপুরাণ
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত সাহিত্যকর্ম নয়- 'পদ্মপুরাণ'। 

- নারায়ণ দেব মধ্যযুগের মনসামঙ্গল কাব্যের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় কবি।
- কবি নারায়ণ দেবের উপাধি ছিল 'সুকবি বল্লভ'।
- তাঁর কাব্যের নাম 'পদ্মপুরাণ'।

----------------------------
• বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ:

- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড় শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
- প্রাকৃতপৈঙ্গল,
- কলিমা জালাল,
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা',
- হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়া'।

• হলায়ূধ মিশ্র রচিত পির মহাত্ম্যক-ব্যঞ্জক কাব্য ‘সেক শুভোদয়া’।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্বের গ্রন্থের নাম ‘শূণ্যপুরাণ’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮৯৭.
নাথ সাহিত্যধারার 'গোর্খবিজয়' কাব্যটি রচনা করেন কে?
  1. ভবানী দাস
  2. ভীমসেন রায়
  3. সুকুর মুহম্মদ
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ভীমসেন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভীমসেন রায়
ব্যাখ্যা
নাথসাহিত্য:
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনী বা আখ্যায়িকা।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য:
গোরাক্ষ বিজয় - শেখ ফয়জুল্লাহ।
মীনচেতন - শ্যামাদাস সেন।
ময়নামতির গান - ভবানী দাস।
গোর্খবিজয় - ভীমসেন রায়।
গোপীচন্দ্রের সন্যাস - শুকুর মুহম্মদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
৮৯৮.
বাংলা সাহিত্যের 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' ধারার প্রথম কাব্য কোনটি?
  1. পদ্মাবতী
  2. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
  3. ইউসুফ-জোলেখা
  4. মধুমালতী
সঠিক উত্তর:
ইউসুফ-জোলেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউসুফ-জোলেখা
ব্যাখ্যা

'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্য:
- 'ইউসুফ-জোলেখা' শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।
- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জোলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ জোলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম, শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ, গোলাম সফাতউল্লাহ, সাদেক আলী ও ফকির মোহাম্মদ। তাঁদের মধ্যে প্রথম দুজন বাংলা এবং অন্যরা দোভাষী পুথির মিশ্র ভাষা ব্যবহার করেন। তবে এই কাব্য শাহ মুহম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়িা।

৮৯৯.
লৌকিক কাহিনীর প্রথম রচয়িতা কে?
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. দৌলত কাজী
  3. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  4. কানাহরি দত্ত
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
• লৌকিক কাহিনির প্রথম রচয়িতা - দৌলত কাজী।

• দৌলত কাজী:
- লৌকিক কাহিনীর প্রথম রচয়িতা দৌলত কাজী।
- দৌলত কাজী মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি।
- তিনি ষোল শতকের অন্যতম কবি।
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী কাব্য রচনা করেন।
- এটি তার রচিত শ্রেষ্ঠকাব্যগ্রন্থ যা তিনখণ্ডে রচিত।
- এতে সামন্তপতি লোরের সঙ্গে অপর সামন্তবধূ চন্দ্রানীর পরকীয়া প্রেমের বর্ণনা আছে।
- এই কাব্যখানি মানবিক জীবনরসে সিক্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৯০০.
'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' সাহিত্য ধারার কবি নন কে?
  1. আবদুল হাকিম
  2. দৌলত কাজী
  3. আবদুল কাদির
  4. সৈয়দ সুলতান
সঠিক উত্তর:
আবদুল কাদির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা
⇒ 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' সাহিত্য ধারার কবি নন আবদুল কাদির। তিনি আধুনিক যুগের সাহিত্যিকদের মধ্যে একজন।

⇒ ‘রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' ধারার সাহিত্যকর্ম ও সাহিত্যক:
• অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'। 
• 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
• এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন- শাহ মুহম্মদ সগীর, সৈয়দ সুলতান, দৌতল কাজী, আবদুল হাকিম, আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।
• 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।