বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মধ্য যুগের গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ

মোট প্রশ্ন১,৩০২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মধ্য যুগের গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ

PrepBank · পাতা / ১৩ · ৭০১৮০০ / ১,৩০২

৭০১.
কোরেশী মাগন ঠাকুর রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
  2. চন্দ্রাবতী
  3. পদ্মাবতী
  4. সংগীতমাধব
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা
• "চন্দ্রাবতী" কাব্য:
চন্দ্রাবতী কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর। তাঁর রচিত 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের একটিমাত্র পুথি পাওয়া গেছে। এটি লোককাহিনী আশ্রিত রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য। বর্ণনাধর্মী এ কাব্যে সাহিত্যিক গুণের অভাব থাকলেও মধ্যযুগের কাব্য হিসেবে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। 

--------------------
• কোরেশী মাগন ঠাকুর:
কোরেশী মাগন ঠাকুর (১৭শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি। চন্দ্রাবতী কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর এবং আরাকানের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দিক বংশজাত মাগন ঠাকুর একই ব্যক্তি ছিলেন এরূপ মনে করে তাঁর জীবনকথা আলোচনা করা হয়।

মাগন ঠাকুরের পিতা বড়াই ঠাকুর (শ্রীবড় ঠাকুর) ছিলেন আরাকানের একজন মন্ত্রী। রোসাঙ্গের অধিপতি নরপতিগি (১৬৩৮-৪৫) বৃদ্ধ বয়সে তাঁর একমাত্র কন্যার অভিভাবকত্বেরভার মাগন ঠাকুরের ওপর ন্যস্ত করেন। তাঁর মৃত্যুর পর রাজকন্যা মুখ্য পাটেশ্বরী হলে মাগন ঠাকুর মুখ্যপাত্রের (মুখ্যমন্ত্রীর) পদমর্যাদা লাভ করেন।

মাগন ঠাকুর গুণীর সমাদর করতেন এবং তিনি নিজেও ছিলেন নানা গুণের অধিকারী। বাংলা, ফারসি, বর্মি ও সংস্কৃত ভাষায় মাগন ঠাকুরের অগাধ পান্ডিত্য ছিল। সঙ্গীত ও অলঙ্কারশাস্ত্রেও তাঁর দখল ছিল। রোসাঙ্গের কবি আলাওল তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন এবং তাঁরই নির্দেশে 'পদ্মাবতী' (১৬৫২) ও 'সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল' (১৬৫৯) কাব্য রচনা করেন। 

অন্যদিকে, 
• 'সংগীতমাধব' সংস্কৃত নাটকের রচয়িতা গোবিন্দদাস। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭০২.
চণ্ডীদাস কোন দেবীর ভক্ত ছিলেন?
  1. দুর্গা
  2. বাশুলীদেবী
  3. লক্ষ্মী
  4. সরস্বতী
সঠিক উত্তর:
বাশুলীদেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাশুলীদেবী
ব্যাখ্যা

চণ্ডীদাস:
- চণ্ডীদাস চতুদর্শ শতকের শেষভাগে বীরভূমের নান্নুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা পদাবলির জনক। 
- তিনি চৈতন্য পূর্ববর্তী সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় কবি ছিলেন।
- চণ্ডীদাস বাশুলীদেবীর ভক্ত ছিলেন।
- তিনি পূর্বরাগের শ্রেষ্ঠ কবি ও দুঃখের কবি হিসেবে পরিচিত।
- চণ্ডীদাসের পদাবলিতে প্রেম, বিচ্ছেদ, বেদনা ও যন্ত্রণার সুন্দর প্রকাশ থাকায় বাংলা সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে “দুঃখের কবি” আখ্যা দিয়েছেন।
- বাংলা পদাবলির যে সকল পদ বাঙালির হৃদয় স্পর্শ করেছে, তার অধিকাংশই চণ্ডীদাসের লেখা।
- তাঁর রচনাগুলোর মধ্যে রাধা–কৃষ্ণের প্রেম ও আধ্যাত্মিক অনুভূতিকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। 
- চণ্ডীদাসের রচনা বাংলা বৈষ্ণব পদাবলির অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে গণ্য হয়।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু উক্তি হলো:
• “সই, মেন ধরিব হিয়া আমার বঁধুয়া আন বাড়ি যায় আমার আঙিনা দিয়া,”
• “বহুদিন পরে বধূয়া এলে। দেখা না হইতে পরান গেলে,”
• “বধূ কী আর বলিব আমি মরণে জীবনে জনমে জনমে প্রাণনাথ হৈও তুমি,”
• “আমার পরান যেমতি করিছে তেমতি হউক সে,”
• “সই কে বা শুনাইলো শ্যাম নাম,”
• “শ্যামের পিরিতি চন্দনের রীতি ঘষিতে সৌরভময়।”

 - তাঁর জাত-পাতমুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বানী-
"সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই" 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৭০৩.
কবীন্দ্র পরমেশ্বর রচিত মহাভারত গ্রন্থটির নাম কী?
  1. বিজয়পাণ্ডবকথা
  2. ছুটি খানী মহাভারত
  3. ভারতমাতা
  4. শ্রীরামপাঁচালী
সঠিক উত্তর:
বিজয়পাণ্ডবকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজয়পাণ্ডবকথা
ব্যাখ্যা
মহাভারত:
- মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য।
- মূল রচয়িতা - কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
- প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন - কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তিনি পরাগল খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম - পরাগলী মহাভারত।
- অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন - বিজয়পাণ্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।

উল্লেখ্য,
- কবীন্দ্র পরমেশ্বরের পর শ্রীকর নন্দী মহাভারত অনুবাদ করেন (ছুটি খানী মহাভারত)
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক - কাশীরাম দাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭০৪.
শেখ ফয়জুল্লাহ কত শতকের কবি?
  1. পনের শতক
  2. ষোলো শতক
  3. সতের শতক
  4. আঠার শতক
সঠিক উত্তর:
ষোলো শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষোলো শতক
ব্যাখ্যা

শেখ ফয়জুল্লাহ:
- তিনি ১৬শ শতক মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ আছে।
- বিভিন্ন মতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম উল্লিখিত হয়েছে।

শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত সাহিত্যকর্ম:
- গোরক্ষবিজয়,
- গাজীবিজয়,
- সত্যপীর,
- জয়নবের চৌতিশা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; এবং বাংলাপিডিয়া।

৭০৫.
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মুসলমান সাহিত্যিকদের উল্লেখযোগ্য রচনা কোনটি?
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. জীবনী সাহিত্য
  3. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  4. নাথ সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন:
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭০৬.
শুকুর মাহমুদ রচিত কাব্যের নাম কী?
  1. ময়নামতির গান
  2. গোপীচন্দ্রের সন্যাস
  3. মীনচেতন
  4. গোরাক্ষ বিজয়
সঠিক উত্তর:
গোপীচন্দ্রের সন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপীচন্দ্রের সন্যাস
ব্যাখ্যা
নাথসাহিত্য:
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনিভিত্তিক সাহিত্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনি বা আখ্যায়িকা।

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য হলো:
- 'গোরাক্ষ বিজয়' এর রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ।
- 'গোপীচন্দ্রের সন্যাস' এর রচয়িতা শুকুর মাহমুদ।
- 'মীনচেতন' এর রচয়িতা শ্যামাদাস সেন।
- 'ময়নামতির গান' এর রচয়িতা ভবানী দাস।
- 'গোর্খবিজয়' এর রচয়িতা ভীমসেন রায়।

• নাথ গীতিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- প্রাপ্ত পুথির ভিত্তিতে ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানের তিনজন কবির সন্ধান পাওয়া যায় দুর্লভ মল্লিক, ভবানী দাস ও শুকুর মাহমুদ।
- দুর্লভ মল্লিকের কাব্যের নাম গোবিন্দচন্দ্র গীত; সম্পাদনা করেন শিবচন্দ্র শীল।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালীর সম্পাদনায় ভবানী দাসের ময়নামতীর গান এবং শুকুর মাহমুদের গোপীচাঁদের সন্ন্যাস কাব্যদুটি ঢাকা সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৭০৭.
নিচের কোনটি জীবনী সাহিত্য?
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. জঙ্গনামা
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. চৈতন্যমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চৈতন্যমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৈতন্যমঙ্গল
ব্যাখ্যা
বাঙালীর জীবনে যেমন, বাঙলা সাহিত্যও তেমনই চৈতন্যদেবের প্রভাব অপরিসীম।
- তার জীবনী নিয়েই প্রথম বাংলা সাহিত্যে জীবনী সাহিত্য রচিত হয়।
- চেতন্যদেবের মৃত্যুর পর তার দুটি জীবনীগ্রন্থ লেখা হয় সংস্কৃত ভাষায়।

• বাংলা ভাষায় প্রথম চৈতন্যদেবের যে জীবনী-লেখা হয়, তার নাম চৈতন্যভাগবত।
- লেখক ছিলেন - বৃন্দাবন দাস।

• চৈতন্য দেবকে নিয়ে পরে যে গ্রন্থটি রচিত হয় সেটির নাম - চৈতন্যমঙ্গল।
- লেখক ছিলেন - লোচনদাস।

• চৈতন্যদেবের জীবনী হিসেবে সবচেয়ে বিখ্যাত যে গ্রন্থটি, তার নাম - চৈতন্যচরিতামৃত।
- লেখক ছিলেন - কৃষ্ণদাস কবিরাজ।

অন্যদিকে,
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
- গঠনগত বা আঙ্গিকগতভাবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন একটি নাট্যগীতি বা বর্ণনাত্মক নাটকও বলা যায়।
- এখানে গীত বা গানের আকারে গাওয়া হত, আবার নাটকীয়তাও আছে। তাই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনকে নাট্যগীতি বলা যায়।
- উল্লেখ্য, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বাংলা সাহিত্যের প্রথম একক গ্রন্থ। এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।

• ধর্মমঙ্গল:
- ধর্মমঙ্গল মঙ্গলকাব্যে ধারার ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্য।
- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট।

• 'জঙ্গনামা':
'জঙ্গনামা' মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যবাহী যুদ্ধ বিষয়ক কাব্য। জঙ্গনামা বলতে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলী সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।
- ফারসি কাব্য অবলম্বনে ফকির গরীবুল্লাহ সর্বপ্রথম জঙ্গনামা রচনা করেন। 
- জঙ্গনামার জনক ফকির গরীবুল্লাহ। 


উৎস; লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৭০৮.
'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে' - পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. খ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. গ) দ্বিজ কানাই
  4. ঘ) বড়ু চণ্ডিদাস
সঠিক উত্তর:
খ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
'প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে  জোড় হাতে
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।।' - আলোচ্য পঙক্তি টি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত 'আমার সন্তান' কবিতার অন্তর্গত। 

- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- ইন্দ্রনারায়ণ তাঁর বিশিষ্ট বন্ধু নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সঙ্গে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন। মহারাজা কবির পান্ডিত্য ও ব্যবহারে মুগ্ধ হন এবং তাঁকে ৪০ টাকা মাসোহারা দিয়ে আমত্য বা রাজসভাসদ পদে নিয়োগ দেন।
- মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘গুণাকর’ অর্থাৎ ‘সকল গুণের আধার’ উপাধিতে সম্মানিত করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৭০৯.
বাংলা সাহিত্যে যুগসন্ধিকাল কোন সময়কে ধরা হয়?
  1. ১৬১০-১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৭০০-১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৭৬০-১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৭৬০-১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
১৭৬০-১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৬০-১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
• ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ কে বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিকাল ধরা হয়।

• যুগসন্ধিকাল ও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- আধুনিক যুগের প্রথম ভাগের কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- উনিশ শতকের শুরুর দিকে ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহসে যুগসন্ধির কবি হিসেবে পরিচিত।
- মধ্যযুগের শেষ প্রতিনিধি ভারতচন্দ্র এবং আধুনিক যুগের প্রথম পুরুষ মাইকেল মধুসূদন, এই দুই মনীষীর মধ্যবর্তীকালে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের আবির্ভাব।
- তাঁর মধ্যে মধ্যযুগের কাব্য বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক যুগের সূচনা বৈশিষ্ট্য সমানভাবে লক্ষ্য করা যায় বলে তাঁকে যুগসন্ধির কবি বলা হয়।
- আবার, ভারতচন্দ্র রায়ের মৃত্যুর পর থেকে আধুনিকতার যথার্থ বিকাশকাল পর্যন্ত অর্থাৎ ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলা সাহিত্যে সৃষ্টির স্বল্পতা, রচনার পরিবেশ-পরিস্থিতি ও বৈশিষ্ট বিবেচনা করে এই পর্যায়কে একটা স্বতন্ত্র যুগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- কারও মতে এই যুগের পরিধি ১৭৬০ থেকে ১৮৩০ সাল অর্থাৎ ঈশ্বর গুপ্তের আবির্ভাব-পূর্বকাল পর্যন্ত।
- মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের শুরুর এই সময়কে 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়েছে।
- তাই ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে যুগসন্ধি এবং অবক্ষয় উভয় যুগের কবি বলা হয়।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুল আলম।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭১০.
মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য-
  1. ক) ধর্মকেন্দ্রিকতা
  2. খ) মানবতা
  3. গ) দেশপ্রেম
  4. ঘ) লৌকিকতা
সঠিক উত্তর:
ক) ধর্মকেন্দ্রিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধর্মকেন্দ্রিকতা
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল ধর্মকেন্দ্রিকতা
বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়। যথা :
১. প্রাচীন যুগ
২. মধ্যযুগ
৩. আধুনিক যুগ

• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল।
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য ছিল, মানুষ হয়ে পড়ে গৌণ।
• আর আধুনিক যুগে মানুষ মুখ্যহয় এবং মানবতায় একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে। সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা। স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭১১.
বিদ্যাপতি মূলত কোন ভাষার কবি ছিলেন?
  1. মারাঠি
  2. হিন্দি
  3. মৈথিলি
  4. গুজরাটি
সঠিক উত্তর:
মৈথিলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৈথিলি
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্যাপতি' মূলত মৈথিলী ভাষার কবি ছিলেন। 

• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
• কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।

- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭১২.
নিচের কোন কবি ‘রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান’ রচনা করেছেন?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. আলাওল
  3. ভারতচন্দ্র
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
আলাওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাওল
ব্যাখ্যা
‘রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' ধারার সাহিত্য:
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।
- 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।

- এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন:
- শাহ মুহম্মদ সগীর, সৈয়দ সুলতান, দৌতল কাজী, আবদুল হাকিম, আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭১৩.
আখ্যানমূলক কাব্য 'রসুল বিজয়' রচনা করেন -
  1. ফকির গরীবুল্লাহ
  2. আলাওল
  3. সাবিরিদ খান
  4. দৌলত উজির বাহরাম খান
সঠিক উত্তর:
সাবিরিদ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাবিরিদ খান
ব্যাখ্যা
• সাবিরিদ খান:
- তিনি মধ্যযুগের কবি ছিলেন।
- 'বিদ্যাসুন্দর' কাব্যের রচয়িতা সাবিরিদ খান।
- এ কাব্য রচনায় তিনি প্রচলিত কাহিনি অবলম্বন করেছেন।
- বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি কালিকামঙ্গলের অন্তর্গত।

সাবিরিদ খান তিনখানি আখ্যানমূলক কাব্য রচনা করেন: 
- বিদ্যাসুন্দর,
- রসুল বিজয়
- হানিফা-কয়রাপরী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৭১৪.
কোন ধরনের কাব্যকে 'জঙ্গনামা' বলা হয়?
  1. জীবনী সাহিত্য
  2. প্রণয় কাব্য
  3. যুদ্ধ কাব্য
  4. নীতিকাব্য
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধ কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুদ্ধ কাব্য
ব্যাখ্যা
• ‘জঙ্গনামা’:
- জঙ্গনামা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ বা তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা। অর্থ্যাৎ ‘জঙ্গনামা’ কাব্যের বিষয় যুদ্ধ-বিগ্রহ।
- বিশেষত হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণির কাব্যের মূল বিষয়। যেসব যুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে।
- তাই আরবি-ফারসি সাহিত্যে যেমন, বাংলা সাহিত্যেও তেমনি ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।
- ফারসি কাব্য অবলম্বনে ফকির গরীবুল্লাহ সর্বপ্রথম জঙ্গনামা রচনা করেন। 
----------------

জঙ্গনামা শ্রেণির কাব্যধারার উল্লেখযোগ্য কবি ও কাব্যের নাম হলো:

— শেখ ফয়জুল্লাহ - জয়নবের চৌতিশা।
— দৌলত উজির বাহরাম খান - জঙ্গনামা।
— মুহম্মদ খান - মকতুল হোসেন। 
— শেরবাজ - কাশিমের লড়াই ও ফাতিমার সুরতনামা। 
— হেয়াত মামুদ - জারি-জঙ্গনামা। 
— ফকির গরিবুল্লাহ - জঙ্গনামা ও সোনাভান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭১৫.
রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক কে ছিলেন?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. কমলা দাস
  3. পদ্মাবতী
  4. কুমুদিনী মিত্র
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা
• "চন্দ্রাবতী" রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক।

• চন্দ্রাবতী:

- চন্দ্রাবতী মধ্যযুগের তিনজন উল্লেখযোগ্য মহিলা কবির অন্যতম।
- চন্দ্রাবতী ছিলেন মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা।
- তাঁদের নিবাস ছিল বৃহত্তর ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জ জেলার অন্তর্গত পাঠবাড়ী বা পাতুয়ারী গ্রামে।
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।

• চন্দ্রাবতীর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- মালুয়া,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রামায়ণ ইত্যাদি।

• রামায়ণ:
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন- কৃত্তিবাস ওঝা।
- রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য।
- সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন 'বাল্মীকি'।
- গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস ওঝা বাংলায় 'রামায়ণ' অনুবাদ করেন।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩. বাংলাপিডিয়া।
৭১৬.
কবিওয়ালাদের অন্তর্ভুক্ত নয় কে?
  1. ক) অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি
  2. খ) রাধারমণ গোপ
  3. গ) রাম বসু
  4. ঘ) কেষ্টা মুচী
সঠিক উত্তর:
খ) রাধারমণ গোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাধারমণ গোপ
ব্যাখ্যা
- মর্সিয়া সাহিত্যের হিন্দু কবি - রাধারমণ গোপ।

আঠারো শতকের শেষ ও উনিশ শতকের শুরুর দিকে বাংলা সাহিত্যে কবিগান রচয়িতাদের আবির্ভাব ঘটে।
কবিওয়ালাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন: 
- গোঁজলা গুই (প্রাচীন কবি), রাম বসু, রাসু-নৃসিংহ, অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি, হরু ঠাকুর, কেষ্টা মুচী, ভবানী-বেনে, নিতাই বৈরাগী, ভোলা ময়রা, রামানন্দ নন্দী ইত্যাদি। 
- গোঁজলা গুঁই কবিগানের আদিগুরু বলে পরিচিত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭১৭.
বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক কে? 
  1. মানিক দত্ত
  2. বিজয় গুপ্ত
  3. রামনিধি গুপ্ত
  4. রামপ্রাসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। 
- রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধু (বাবু)। 
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। 
- ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন করেন এবং হিন্দুস্তানে টপ্পার শিক্ষা গ্রহণ করেন। 
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন। 
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম ‘গীতরত্ন’ (১৮৩২)। 

তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: 
"নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা"। 

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৭১৮.
মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. রামায়ণ
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. বৈষ্ণব পদাবলি
  5. চর্যাপদ
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- এটি একটি বৈষ্ণব কাব্য। এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- রচনাকাল সঠিকভাবে নির্ণীত না হলেও প্রাকচৈতন্য যুগের (খ্রিস্টীয় ১৪শ শতক) মনে করা হয়।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- এটি মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৩ খন্ডের কাব্য। মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮ টি পদে এটি বিন্যস্ত।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: রাধা, কৃষ্ণ এবং বড়ায়ি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭১৯.
‘হরি দত্তের গীত যত লোপ পাইল কালে।’ এটি কার রচনা?
  1. বিপ্রদাস পিপিলাই
  2. বিজয়গুপ্ত
  3. কানাহরি দত্ত
  4. কৃত্তিবাস ওঝা
সঠিক উত্তর:
বিজয়গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজয়গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• পঞ্চদশ শতকের শেষভাগের কবি বিজয়গুপ্ত আদিকবি হিসেবে হরিদত্তের কথা উল্লেখ করে বলেছেন-
- হরিদত্তের গীত যত লুপ্ত হৈল কালে।

কানাহরি দত্ত:
- মনসামঙ্গল কাব্যধারার আদি কবি হচ্ছেন কানাহরি দত্ত।
- কানাহরি দত্তের নাম পাওয়া যায় বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরণ বা মনসামঙ্গলে। তাতে একটি পঙক্তি আছে; ‘হরি দত্তের গীত যত লোপ পাইল কালে।’
- কানাহরি দত্তের রচনা রোপ পাওয়ায় এর উদাহরণ পাওয়া যায় না।
- বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরাণ বর্তমানে মনসামঙ্গলের প্রান্ত প্রাচীনতম পুথি।
- কানাহরি দত্তের সময়কাল : আশুতোষ ভট্টাচার্যের মতে বিজয় গুপ্তের সময় শতাব্দী পূর্বে, অর্থাৎ ১৩৯৪ বঙ্গাব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭২০.
'মধুমালতী' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ কবীর
  2. সাবিরিদ খান 
  3. আবদুল হাকিম 
  4. কোরেশী মাগন ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ কবীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ কবীর
ব্যাখ্যা

• 'মধুমালতী' কাব্য:
- মুহম্মদ কবীর হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচনা করেন। এর রচনা কাল ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দ এবং এ কাহিনি ভারতীয়।

- রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
- মূল কাব্য অধ্যাত্ম রসাত্মক হলেও অনুবাদে তা আদি রসাত্মক কাব্যে পরিণত হয়েছে।

- কাব্যটি তৎকালে এতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে, কবিরের পরবর্তী আরও ছয়জন কবি একই নামে কাব্য রচনা করেন। তবে একমাত্র সৈয়দ হামজা ব্যতীত অন্য কারও কাব্য শিল্পসফল হয়নি; আবার সৈয়দ হামজার কাব্যও কবিরের কাব্যের মতো সার্থক নয়।

• মুহম্মদ কবীর:
- মুহম্মদ কবীর (১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- প্রণয়োপাখ্যান রচয়িতা হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।
- মধুমালতী (১৫৮৮) নামে একখানি রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য তাঁর রচনা। চট্টগ্রামের জোরওয়ারগঞ্জে এর পুথি পাওয়া গেছে বলে কবিকে ওই অঞ্চলের অধিবাসী মনে করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭২১.
দৌলত কাজী কোন ধরনের কাব্যধারার প্রবর্তক হিসেবে বিবেচিত?
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. মর্সিয়া সাহিত্য
  3. নাথসাহিত্য
  4. রোমান্টিক আখ্যান
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক আখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক আখ্যান
ব্যাখ্যা
দৌলত কাজী রোমান্টিক আখ্যান কাব্যধারার প্রবর্তক হিসেবে বিবেচিত।

• দৌলত কাজী:
- দৌলত কাজী মধ্যযুগের একজন কবি। তিনি বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিক আখ্যান কাব্যের প্রবর্তক।
- তাঁর প্রধান কাব্য ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’।
- দেবদেবীর গুণকীর্তন বাদ দিয়ে মানব প্রেমকাহিনিকে কেন্দ্র করে কাব্য রচনা করেন।
- ধর্ম-সংস্কারমুক্ত ঐহিক কাব্যের সূচনা মুসলমান কবিদের হাত ধরে হয়।
- আরাকান রাজসভা এই কাব্যধারার একটি প্রধান কেন্দ্র ছিল।
- দৌলত কাজী লস্কর উজির আশরাফ খান-এর পৃষ্ঠপোষকতায় লেখালেখি করতেন।
- তিনি ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’ কাব্য অসমাপ্ত রেখে মৃত্যুবরণ করেন।
- পরবর্তীতে আলাওল ১৬৫৯ সালে এই কাব্যের শেষাংশ সম্পূর্ণ করেন।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, দৌলত কাজীর জীবনকাল আনুমানিক ১৬০০–১৬৩৮ খ্রি.।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭২২.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান কোনটি?
  1. লাইলী-মজনু
  2. সতীময়না-লোরচন্দ্রানী
  3. ইউসুফ-জোলেখা
  4. পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর:
ইউসুফ-জোলেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউসুফ-জোলেখা
ব্যাখ্যা

'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্য:
- ইউসুফ-জোলেখা’ শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।
- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জুলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ জুলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তকে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭২৩.
'বিদ্যাসুন্দর' কাব্যের আদি কবির নাম কী?
  1. দ্বিজ বংশীদাস
  2. কানাহরি দত্ত 
  3. কবি কঙ্ক
  4. বড়ু চণ্ডীদাস 
সঠিক উত্তর:
কবি কঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি কঙ্ক
ব্যাখ্যা
• কবি কঙ্ক:
- 'কালিকামঙ্গল' বা 'বিদ্যাসুন্দর' কাব্যের আদি কবি।
- কিশোরগঞ্জের রাজ্যেশ্বর নদীর তীরবর্তী বিপ্র গ্রামে ব্রাহ্মণ ঘরে তাঁর জন্ম।
- পিতা গুণরাজ, মাতা গুণবতী।
- তিনি কোন সময় বর্তমান ছিলেন, এব্যাপারে নিশ্চিত করে বলা যায় না। গবেষকগণ মনে করেন, তিনি চৈতন্যদেবের সমসামায়িক। সুকুমার সেনের মতে কবি কঙ্ক আরও পরের কবি।
- শৈশবে পিতৃমাতৃহীন নিরাশ্রয় কঙ্ক, মুরারি ও কৌশল্যা নামধেয় এক চণ্ডাল দম্পতির ঘরে পালিত হন। তারাই কঙ্ক নাম রাখেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭২৪.
'ইমাম-বিজয়' আখ্যানকাব্যটি কার রচনা?
  1. ফকির গরীবুল্লাহ
  2. শাহ মুহাম্মদ সগীর
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. দৌলত উজির বাহরাম খান
সঠিক উত্তর:
দৌলত উজির বাহরাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৌলত উজির বাহরাম খান
ব্যাখ্যা

• 'ইমাম-বিজয়' আখ্যানকাব্যের রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান।

• দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
পীরভক্ত বাহরাম খানের প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।

দৌলত উজির বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন:
- লায়লী-মজনু ও
- ইমাম-বিজয়।
উভয় কাব্যের উৎস আরবি সাহিত্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৭২৫.
'কেরী সাহেবের মুনশি' হিসাবে খ্যাত ছিলেন কে?
  1. ক) কাশীরাম দাস
  2. খ) দ্বিজরাম দেব
  3. গ) রাম রাম বসু
  4. ঘ) মুক্তরাম সেন
সঠিক উত্তর:
গ) রাম রাম বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাম রাম বসু
ব্যাখ্যা
'কেরী সাহেবের মুনশি' হিসাবে খ্যাত ছিলেন- রাম রাম বসু

রামরাম বসু
- রামরাম বসু- ১৭৫৭ সালে হুগলির চুঁচুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- কেরী সাহেবের মুনশি হিসাবে খ্যাত ছিলেন রামরাম বসু।
- ১৮০১ সালের মে মাসে ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে কেরীর অধীনে
- বাংলা বিভাগের সূচনা হলে, রামরাম সেখানে সহকারী মুন্সি হিসেবে নিযুক্ত হন।
- 'লিপিমালা' রচনা করেছেন- রামরাম বসু।   
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১)।
- এই গ্রন্থটি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত প্রথম কোন গ্রন্থ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।  
৭২৬.
"ঢল ঢল কাঁচা
অঙ্গের লাবণি
অবনী বহিয়া যায়।"- পঙ্‌ক্তির রচয়িতা কে?
  1. ভারতচন্দ্র রায় 
  2. জ্ঞানদাস 
  3. বিদ্যাপতি 
  4. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
• গোবিন্দদাস:
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন। বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস। তিনি দ্বিতীয় বিদ্যাপতি নামেও খ্যাত।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়। মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম 'সংগীতমাধব'।

গোবিন্দদাসের উপাধি:
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে 'কবিরাজ' উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে 'কবীন্দ্র' উপাধিও প্রদান করেন।

গোবিন্দদাস রচিত বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
"ঢল ঢল কাঁচা
অঙ্গের লাবণি
অবনী বহিয়া যায়।
ঈষত হাসির তরঙ্গ- হিল্লোলে
মদন মুরুছা পায়।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৭২৭.
ব্রাহ্মী লিপি থেকে কয়টি শাখা সৃষ্টি হয়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
ব্যাখ্যা
ব্রাহ্মী লিপি থেকে তিনটি শাখা সৃষ্টি হয়। যথা- সারদা, নাগর ও কুটিল। উৎস: লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার।
৭২৮.
বাংলা ভাষায় প্রথম মুসলিম কবি কে?
  1. শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. শেখ চাঁদ
  3. সৈয়দ হামজা
  4. সৈয়দ সুলতান
  5. দৌলত কাজী
সঠিক উত্তর:
শাহ মুহম্মদ সগীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহ মুহম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি "শাহ মুহম্মদ সগীর"। 

• শাহ্ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি এ কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোম্যাণ্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জুলেখা।
- তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জুলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ।

অন্য অপশনগুলো:
খ) শেখ চাঁদ – মধ্যযুগের একজন মুসলিম কবি, তবে প্রথম নন।
গ) সৈয়দ হামজা – ধর্মীয় প্রভাবসম্পন্ন সাহিত্য রচনায় যুক্ত ছিলেন, কিন্তু প্রথম কবি নন।
ঘ) সৈয়দ সুলতান – "নবী বংশ" এবং "রসুল বিজয়" কাব্যের জন্য বিখ্যাত; ষোড়শ শতকের কবি।
ঙ) দৌলত কাজী – আরাকান রাজসভায় বাংলা কাব্য রচনা করেন, আলাওলের পূর্বসূরি, কিন্তু শাহ মুহম্মদ সগীরের পরে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭২৯.
বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) রামমোহন রায়
  2. খ) উইলিয়াম কেরি
  3. গ) মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  4. ঘ) নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহেড
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহেড
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থ রচয়িতা নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহ্যাড।
- তার রচিত গ্রন্থটির নাম 'এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' (১৭৭৮)। গ্রন্থটি মূলত ইংরেজী ভাষায় রচিত।
- তবে দৃষ্টান্ত দেবার সময় এর কিছু অংশ বাংলা লিপিতে মুদ্রিত হয়।

• রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
- রামমোহন রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' (১৮৩৩)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৩০.
দৌলত উজির বাহরাম খান রচিত 'লায়লী মজনু' কাব্যটি ইরানি কোন কবির কাব্যের ভাবানুবাদ?
  1. নিজামী
  2. ওমর খৈয়াম
  3. জামির
  4. ফেরদৌসি
সঠিক উত্তর:
জামির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জামির
ব্যাখ্যা

• 'লায়লী মজনু' কাব্য:
- 'লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান।
- 'লায়লী মজনু' কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন আহমদ শরীফের মতে (১৫৪৩-১৫৫৩) সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহর মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির 'লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ। 'লাইলী মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ-ইরান।
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে এই কাব্যে। এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

------------------------
• দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
পীরভক্ত বাহরাম খানের প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।

দৌলত উজির বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন:
- লায়লী মজনু ও
- ইমাম বিজয়।
[উভয় কাব্যের উৎস আরবি সাহিত্য।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৩১.
মধ্যযুগের সাহিত্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য শাখা কোনটি?
  1. ক) অনুবাদ সাহিত্য
  2. খ) মঙ্গলকাব্য
  3. গ) রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  4. ঘ) জীবনী সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
খ) মঙ্গলকাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের সাহিত্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য শাখা মঙ্গলকাব্য। এ সময়ে পাওয়া যায় - মনসামঙ্গল কাব্য, চণ্ডীমঙ্গলকাব্য, ধর্মমঙ্গল কাব্য, কালিকামঙ্গল কাব্য, অন্নদামঙ্গল কাব্য, শীতলামঙ্গল কাব্য। এ সময়ের প্রধান কাব্যগ্রন্থ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৭৩২.
"ইউসুফ-জুলেখা" কাব্য রচনা করেননি কে?
  1. আবদুল হাকীম
  2. শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. শাহ গরীবুল্লাহ
  4. মুহম্মদ কবীর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ কবীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ কবীর
ব্যাখ্যা

ইউসুফ-জোলেখা কাব্য সম্পর্কিত আলোচনা: 
• ইউসুফ-জোলেখা’ শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।
• গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
• বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে।
• ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।
• পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জুলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন।
- যেমন- ইউসুফ জুলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তবে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন। 

• বিশেষ তথ্য: 
- শাহ মুহম্মদ সগীর ছাড়াও মধ্যযুগে  আবদুল হাকিম,  শাহ্ গরীবউল্লাহ, গোলাম সফাতউল্লাহ, সাদেক আলী ও ফকির মোহাম্মদ ইউসুফ-জুলেখা কাব্য রচনা করেন। - তাঁদের মধ্যে প্রথম দুজন বাংলা এবং অন্যরা দোভাষী পুথির মিশ্র ভাষা ব্যবহার করেন।  
- ফারসি ভাষায় ফেরদৌসী (১১শ শতক) ও জামী (১৫শ শতক) ইউসুফ-জুলেখার প্রেমকথা অবলম্বনে সুফি অধ্যাত্মতত্ত্বের কাব্য রচনা করেন। 
- দৌলত উজির বাহরাম খান রচিত অনুবাদ কাব্য ‘লায়লী মজনু’।

অন্যদিকে,
 মুহম্মদ কবির:
• মুহম্মদ কবির (১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি। 
• প্রণয়োপাখ্যান রচয়িতা হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত। 
• মধুমালতী (১৫৮৮) নামে একখানি রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য তাঁর রচনা। 
• চট্টগ্রামের জোরওয়ারগঞ্জে এর পুঁথি পাওয়া গেছে বলে কবিকে ওই অঞ্চলের অধিবাসী মনে করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৭৩৩.
মর্সিয়া সাহিত্যের উপজীব্য কী?
  1. হিন্দু দেব-দেবীর কাহিনি
  2. আরব্য উপন্যাসের কাহিনি
  3. কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি
  4. গৌতম বুদ্ধের জীবনী কাহিনি
সঠিক উত্তর:
কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি
ব্যাখ্যা

মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনী নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি হলেন - শেখ ফয়জুল্লাহ। তার রচিত গ্রন্থের নাম জয়নবের চৌতিশা এটি ১৫৭০ সালে প্রকাশিত হয়। 
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন- রাধারমণ গোপ। 
- রাধারমণ গোপ রচিত গ্রন্থ হলো: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।

শেখ ফয়জুল্লাহ:
- তিনি ১৬শ শতক মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ আছে।
- বিভিন্ন মতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম উল্লিখিত হয়েছে।

যে পাঁচটি গ্রন্থের জন্য তিনি খ্যাতিমান সেগুলি:
- গোরক্ষবিজয়, গাজীবিজয়, সত্যপীর (১৫৭৫), জয়নবের চৌতিশা এবং রাগনামা।
- রাগনামাকে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য মনে করা হয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

৭৩৪.
‘পদ্মাবতী’ কাব্যটি কোন কাব্যের অনুবাদ?
  1. তগোবিন্দম্
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. ইউসুফ-জোলেখা
  4. পদুমাবৎ
সঠিক উত্তর:
পদুমাবৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদুমাবৎ
ব্যাখ্যা

‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং 
- দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

আলাওল:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ।

আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা,
- সয়ফুল্মুলুক বদিউজ্জামাল
- সতীময়না
- রাগতালনামা ইত্যাদি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৩৫.
'হৃদিবৃন্দাবনে বাস, যদি কর কমলাপতি।
ওহে ভক্তপ্রিয়! আমার ভক্তি হবে রাধাসতী।।' - উদ্ধৃতাংশটির রচয়িতা কে?
  1. দাশরথি রায়
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. মুকুন্দদাস
  4. রামনিধি গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
দাশরথি রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাশরথি রায়
ব্যাখ্যা
• 'হৃদিবৃন্দাবনে বাস, যদি কর কমলাপতি।
ওহে ভক্তপ্রিয়! আমার ভক্তি হবে রাধাসতী।।' - উদ্ধৃতাংশটির রচয়িতা - দাশরথি রায়

দাশরথি রায়:
- কবিগানের যুগে পাঁচালী গান নামে এক ধরনের গান প্রচলিত ছিল। 
- পাঁচালী গানের রচয়িতাদের মধ্যে শক্তিশালী ও বিখ্যাত কবি ছিলেন দাশরথি রায়।
- তিনি খ্যাত ছিলেন দাশুরায় নামে।
- তিনি নিজেই পাঁচালীর দল বেঁধে গান গাইতেন।
- তার একটি বিখ্যাত রচনা -

হৃদিবৃন্দাবনে বাস, যদি কর কমলাপতি।
ওহে ভক্তপ্রিয়! আমার ভক্তি হবে রাধাসতী।।
মুক্তি-কামনা আমারি, হবে, বৃন্দে গোপনারী,
দেহ হবে নন্দের পুরী, স্নেহ হবে মা যশোমতী।।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৩৬.
কবি দ্বিজ কানাইয়ের ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনা ও বেদনার সাদৃশ্য কোন পালায় ফুটে উঠেছে?
  1. মলুয়া
  2. কমলা
  3. দস্যু কেনারাম
  4. মহুয়া
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহুয়া
ব্যাখ্যা
• 'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেনের ধারণা।
- এই পালার কাহিনির সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

• মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

• মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তিদ্বয়:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

অন্যদিকে,
• ‘মলুয়া’ ও ‘দস্যু কেনারাম’ চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা।
• ‘কমলা’ দ্বিজ ঈশান প্রণীত পালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৩৭.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' -এর রচয়িতা কে?
  1. জ্ঞানদাস
  2. দীন চণ্ডীদাস
  3. বড়ু চণ্ডীদাস
  4. দীনহীন চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
বড়ু চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড়ু চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৩৮.
'নসীরনামা' কাব্য কার রচনা?
  1. ক) দৌলত কাজী
  2. খ) কবি মরদন
  3. গ) কোরেশী
  4. ঘ) মাগন ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
খ) কবি মরদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কবি মরদন
ব্যাখ্যা
আরাকান রাজসভার উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় যাঁরা কাব্যচর্চা করেন তাঁদের মধ্যে  দৌলত কাজী (আনু. ১৬০০-১৬৩৮) প্রাচীনতম। তাঁর সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী প্রথম মানবীয় প্রণয়কাব্য। 

আরাকানের কবি হচ্ছেন মরদন (আনু. ১৬০০-১৬৪৫), মাগন ঠাকুর প্রমুখ।
কবি মরদনের কাব্যের নাম 'নসীরনামা'। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৭৩৯.
'ইমাম-বিজয়' আখ্যানকাব্যের রচয়িতা কে?
  1. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  2. দৌলত উজির বাহরাম খান
  3. দৌলত কাজী
  4. শেখ চাঁদ
সঠিক উত্তর:
দৌলত উজির বাহরাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৌলত উজির বাহরাম খান
ব্যাখ্যা
• 'ইমাম-বিজয়' আখ্যানকাব্যের রচয়িতা - দৌলত উজির বাহরাম খান

দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
- পীরভক্ত বাহরাম খানের প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।

• দৌলত উজির বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন:
- লায়লী-মজনু ও
- ইমাম-বিজয়
উভয় কাব্যের উৎস আরবি সাহিত্য। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৪০.
কোন জেলা থেকে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যটি উদ্ধার করা হয়?
  1. হুগলী
  2. বীরভূম
  3. বর্ধমান
  4. বাঁকুড়া
সঠিক উত্তর:
বাঁকুড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঁকুড়া
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বাংলায় রচিত মধ্যযুগের প্রথম কাব্য।
- কাব্যের রচয়িতা - বড়ু চণ্ডীদাস। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম একক গ্রন্থও।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘরের মাচা থেকে উদ্ধার করেন।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কারের সময় গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠায় এর কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় এর নাম দেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। একে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভও বলা হয়।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- কাব্যটি ১৩ টি খন্ডে বিভক্ত। খন্ডগুলি হলো: জন্মখন্ড, তাম্বূল খন্ড, দানখন্ড, নৌকাখন্ড, ভারখন্ড, ছত্রখন্ড, বৃন্দাবন খন্ড, কালীয়দমন খন্ড, যমুনা খন্ড, হারখন্ড, বাণখন্ড, বংশীখন্ড ও বিরহখন্ড (রাধাবিরহ)।
- এতে রাধা, কৃষ্ণ ও বড়ায়ি নামে তিনটি চরিত্র রয়েছে।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৪১.
নিম্নের কোনটি মহাকবি আলাওল রচিত নয়?
  1. ক) তোহফা
  2. খ) সিকান্দারনামা
  3. গ) লালমোতি সয়ফুলমুলুক
  4. ঘ) রাগতালনামা
সঠিক উত্তর:
গ) লালমোতি সয়ফুলমুলুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লালমোতি সয়ফুলমুলুক
ব্যাখ্যা

 মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ।
-  আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রধান অমাত্য কোরেশী মাগন ঠাকুরের (১৬৪৫-৫৮) আনুকূল্যে তিনি আরাকানের অমাত্যসভায় স্থান পান।
- আলাওল মধ্যযুগের সর্বাধিক গ্রন্থপ্রণেতা। তাঁর মোট কাব্যসংখ্যা সাত।

সেগুলো হচ্ছে
- পদ্মাবতী (১৬৪৮),
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী (১৬৫৯),
- সপ্তপয়কর (১৬৬৫),
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (১৬৬৯) ও
- সিকান্দরনামা (১৬৭৩);
- নীতিকাব্য - তোহফা (১৬৬৪) এবং
- সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য - রাগতালনামা।

- এ ছাড়াও বৈষ্ণবপদের অনুরূপ তাঁর কিছু গীতিকবিতা আছে। রাগতালনামা ও গীতিকবিতাগুলি তাঁর মৌলিক রচনা, অন্যগুলি অনুবাদমূলক।
- পদ্মাবতী মালিক মুহম্মদ জায়সীকৃত হিন্দি পদুমাবত, সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী সাধনকৃত মৈনাসত, সপ্তপয়কর নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি হফত্ পয়কর, তোহফা ইউসুফ গদাকৃত ফারসি তুহুফ-ই-নসাঈহ, সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল গাওয়াসীকৃত ফারসি সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল এবং সিকান্দরনামা নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি সিকান্দরনামা অনুসরণে রচিত।

উল্লেখ্য, লালমোতি সয়ফুলমুলুক আবদুল হাকিম রচিত কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৭৪২.
'সৈয়দ সুলতান' — কোন সাহিত্য ধারার কবি হিসেবে প্রসিদ্ধ?
  1. জীবনী সাহিত্য
  2. লোক সাহিত্য
  3. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  4. নাথ সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন-
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর, প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৪৩.
বড়ু চন্ডীদাস কোন শতকের কবি ছিলেন?
  1. ত্রয়োদশ শতক
  2. দ্বাদশ শতক
  3. পঞ্চদশ শতক
  4. চতুর্দশ শতক
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুর্দশ শতক
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন ও সর্বজনস্বীকৃত বাংলাভাষায় রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - শ্রীকৃষ্ণকীর্তন/শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ।
এর রচয়িতা - বড়ু চন্ডীদাস। তিনি আনুমানিক চতুর্দশ শতকের কবি।

'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য 
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
 - শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
-  মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের
কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন। 
- এ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস । 
- বড়ু চণ্ডীদাসের প্রধান পরিচয়  শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে।
- বসন্তরঞ্জন বিদ্বদ্বল্লভ এর মতে বড়ু চণ্ডীদাসের জন্মকাল ১৪০৩-১৪১৭ অথবা ১৩৮৬-১৪০০ সালের কোন এক সময়ে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৪৪.
লোক সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন কোনটি?
  1. লোকনাট্য
  2. প্রবাদ
  3. ধাঁধা
  4. ছড়া
সঠিক উত্তর:
ছড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছড়া
ব্যাখ্যা
লোকসাহিত্য:
- লোকসাহিত্য মৌখিক ধারার সাহিত্য যা অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে রচিত হয়।
- লোকসাহিত্য লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা; এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায়।
- লােকসাহিত্যের উপাদান মূলত গ্রামীণ এলাকার অখ্যাত সাহিত্যিকদের রচনা।
- তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ‘জনপদের হৃদয়-কলরব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- লোকসাহিত্যকে প্রধানত লোকসঙ্গীত, গীতিকা, লোককাহিনী, লোকনাট্য, ছড়া, মন্ত্র, ধাঁধা ও প্রবাদ এই আটটি শাখায় ভাগ করা যায়।
- লোক সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন - 'ছড়া'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৪৫.
'মহাভারত' এর শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কে?
  1. কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব
  2. কাশীরাম দাস
  3. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  4. শ্রীকর নন্দী
সঠিক উত্তর:
কাশীরাম দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাশীরাম দাস
ব্যাখ্যা
মহাভারত:
- মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য।
- মূল রচয়িতা - কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব। প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন - কবীন্দ্র পরমেশ্বর। মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক - কাশীরাম দাস
- তিনি পরাগল খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম - পরাগলী মহাভারত।
- অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন - বিজয়পাণ্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।
- মহাভারতের আদি, সভা, বন, ও বিরাট পর্ব রচনার পর কাশীরাম দাস ইহলোক ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৪৬.
'সত্যপীরের পুঁথি' কে লিখেছেন?
  1. আব্দুল হাকিম
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. ভোলা ময়রা
সঠিক উত্তর:
ফকির গরীবুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফকির গরীবুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• 'সত্যপীরের পুঁথি' কাব্যের রচয়িতা - ফকির গরীবুল্লাহ।

------------------
• ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

উল্লেখ্য,
সত্যপীরের পাঁচালি  মধ্যযুগীয় পীরসাহিত্যের একখানা গ্রন্থ। এতে সত্যপীরের মহিমা কীর্তিত হয়েছে। মধ্যযুগে একাধিক কবি বিভিন্ন শিরোনামে এই পাঁচালি কাব্য রচনা করেছেন, যেমন: সত্যপীরের পাঁচালি, সত্যপীরের কথা,  সত্যনারায়ণের পাঁচালি  ইত্যাদি। কবিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:  কবি কংক, শেখ ফয়জুল্লাহ, রামেশ্বর ভট্টাচার্য, রামানন্দ, শাহ্ গরীবুল্লাহ,  ভারতচন্দ্র প্রমুখ।

মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সােনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি।

উল্লেখ্য,
• 'সত্যপীরের পাঁচালি' এর লেখক — ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৪৭.
'পদ্মাবতী' কোন কাব্য অবলম্বনে রচিত?
  1. রিহলা
  2. পদুমাবৎ
  3. সুর ​​সাগর
  4. বাদশাহনামা
সঠিক উত্তর:
পদুমাবৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদুমাবৎ
ব্যাখ্যা
হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর 'পদুমাবৎ' কাব্য অবলম্বনে 'পদ্মাবতী' কাব্য রচনা করেন।

মধ্যযুগের সবচেয়ে উল্লেখযােগ্য মুসলমান কবি ছিলেন আলাওল।
আরাকান রাজসভার তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।

• কবি আলাওলের সাহিত্যকর্ম গুলো হলোঃ
- পদ্মাবতী,
- সপ্ত পয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।]
৭৪৮.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য আবিষ্কার করেন কে?
  1. বসন্তরঞ্জন সাহা
  2. দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়
  3. আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
  4. বসন্তরঞ্জন রায়
সঠিক উত্তর:
বসন্তরঞ্জন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসন্তরঞ্জন রায়
ব্যাখ্যা
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'। বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- এ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস। বড়ু চণ্ডীদাসের প্রধান পরিচয় শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে। বসন্তরঞ্জন বিদ্বদ্বল্লভ এর মতে চণ্ডীদাসের জন্ম ১৩৩৯ এবং মৃত্যু ১৩৯৯ খ্রিস্টাব্দ।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৪৯.
রোসাঙ্গের অধিপতি শ্রীসুধর্মার প্রধান আমাত্য আশরফ খানের আদেশে দৌলত কাজী কোন কাব্যটি রচনা করেছিলেন?
  1. লাইলী-মজনু
  2. সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
  3. সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল
  4. মধুমালতী
সঠিক উত্তর:
সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর — খ) সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী।
--------------

'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য:
• সতের শতকের কবি দৌলত কাজী ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’ কাব্য রচনা করেন।
• রোসাঙ্গের অধিপতি শ্রীসুধর্মার প্রধান আমাত্য আশরফ খানের আদেশে দৌলত কাজী এ কাব্য রচনা আরম্ভ করেন কিন্তু শেষ করার আগেই তিনি মারা যান।
• পরে উজির সোলায়মানের আদেশে ১৬৫৯ খ্রিষ্টাব্দে কবি আলাওল কাব্যের শেষাংশ রচনা করেন।

• 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্যের কাহিনি সংক্ষেপ:
রাজা লোর আর রূপসী রানি ময়নাবতীর সুখের সংসার। বনবিহারে গিয়ে লোর এক যোগীর কাছে অপরূপা চন্দ্রানীর সংবাদ পায়। চন্দ্রানীর সাথে লোরের সাক্ষাত হয়। এবং চন্দ্রানীর স্বমীর সাথে লোরের যুদ্ধে হলে, যুদ্ধে চন্দ্রানীর স্বামী মারা যায়। পরবর্তীতে গোহারী রাজ্যের রাজা চন্দ্রানীর পিতা লোরকে গ্রহণ করে এবং পৌত্রলাভের আশায় তাদের বিয়ে দেন। লোর ময়নার কথা ভুলে চন্দ্রানীকে নিয়ে সংসার করে। লোর-চন্দ্রানীর এক পুত্র হয় এভাবে দিন যায়। ময়নাবতী স্বামীর বিরহেও সতীত্ব অক্ষুণ্ন রাখে এবং ১৪ বছর পর এক সুখপাখি ময়নাবতীর কথা লোরকে বর্ণনা করলে পুত্রের হাতে রাজত্ব দিয়ে লোর-চন্দ্রানীকে নিয়ে ময়নাবতীর কাছে যায় এবং লোর তাঁর দুই স্ত্রী নিয়ে জীবনযাপন করে বৃদ্ধ হয়।

দৌলত কাজী:
- তিনি আনুমানিক ১৬০০ থেকে ১৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সুলতানপুর গ্রাম, রাউজান, চট্টগ্রাম জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত মধ্যযুগের বিশিষ্ট কবি ছিলেন। তিনি বাংলা, সংস্কৃত, হিন্দি ও ব্রজবুলি ভাষায় জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী'। এই গ্রন্থের মূল হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসৎ' নামক কাব্য ।
---------------

অন্যান্য অপশন':
ক) লাইলী-মজনু কাব্যের রচয়িতা - দৌলত উজির বাহরাম খাঁ।
গ) সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল: আলাওল রচিত কাব্য।
ঘ) মধুমালতী: মুহম্মদ কবীর হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৫০.
কবি ভারতচন্দ্রের উপাধি ছিল -
  1. কবিকঙ্কন
  2. কবিকণ্ঠহার
  3. রায়গুণাকর
  4. কবিরঞ্জন
সঠিক উত্তর:
রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
• কবি ভারতচন্দ্রের উপাধি ছিল - রায়গুণাকর। 

• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর: 
- মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। 
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ৩টি খণ্ড ছিল।
- এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল বিমিশ্র দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৫১.
‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ - পঙ্‌ক্তিটি রচয়িতা কে?
  1. আলাওল
  2. চন্দ্রাবতী
  3. বিদ্যাপতি
  4. বিজয় গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
আলাওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাওল
ব্যাখ্যা
পদ্মাবতী:
- এটি একটি ইতিহাসমিশ্রিত রোমান্টিক প্রেমকাব্য।
- পদ্মাবতী আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- নাগরিক শিক্ষা, বৈদগ্ধ্য রূপ ও অভিপ্রায় তাঁর এ কাব্যের ভাব-ভাষা-রুচিতে প্রভাব বিস্তার করেছে।
- ‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ পঙ্‌ক্তিটি আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' কাব্যে রূপ বর্ণনা খণ্ডে লেখা আছে।

আলাওল:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- কাব্যিক আবেগের সঙ্গে বৌদ্ধিক চেতনার মিশ্রণ থাকায় আলাওলকে ‘পন্ডিতকবি’ বলা হয়।
- এখন পর্যন্ত আলাওলের ৭ টি কাব্যের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দিকাব্য 'পদুমাবৎ' অবলম্বনে আলাওল 'পদ্মাবতী' গ্রন্থটি অনুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৫২.
''মন্দকৃতি ভিক্ষাবৃত্তি জীবন কর্কশ''- উক্তিটি করেছেন কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. আলাওল
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
আলাওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাওল
ব্যাখ্যা
• 'মন্দকৃতি ভিক্ষাবৃত্তি জীবন কর্কশ।' - উক্তিটি করছেন 'আলাওল'। 
-----------------------
আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি (অনেকের মতেই, মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি) আলাওল।
তার শ্রেষ্ঠ রচনা - "পদ্মাবতী" কাব্য।
কবি তাঁর জীবনের দুঃসময়ের বেদনার কথা বিভিন্ন কাব্যে উল্লেখ করেছেন।
তেমনি কয়েকটি উক্তি- 
- 'আয়ুবশ আমারে রাখিল বিধাতায়। সবে ভিক্ষা প্রাণ রক্ষা ক্লেশে দিন যায়।'
- 'মন্দকৃতি ভিক্ষাবৃত্তি জীবন কর্কশ।' 
------------------- 
• আলাওল: 
- আরাকান (রোসাঙ্গ) রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজ্জিত ছিলেন।
 
• তাঁর রচিত গ্রন্থসমুহ:
- সিকান্দার নামা। 
- তোহ্ফা।
- সপ্তপয়কর।
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান।
- রাগতালনামা।
- সতীময়ান ও লোরচন্দ্রাণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৫৩.
'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল
অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।।' - কোন কবির রচনা?
  1. দ্বিজ বংশীদাস
  2. বড়ু চণ্ডীদাস
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ। 
- পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার পাণ্ডুয়া গ্রামে জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- মাতা ভবানী দেবী, পিতা নরেন্দ্রনারায়ণ। তাঁদের পদবি মুখোপাধ্যায়।
- তিনি বাংলা, সংস্কৃত, হিন্দি, পারসি ও আরবি ভাষা জানতেন।
- মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের শ্রেষ্ঠসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম - সত্য পীরের পাঁচালি (১৭৩৭-৩৮)।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের রচনা -

'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল
অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।।'

- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে' - ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের রচনা। তিনি ঈশ্বরী পাটনী চরিত্রের মুখ দিয়ে একথা বলিয়েছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭৫৪.
‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ কোন কাব্যগ্রন্থের অংশবিশেষ?
  1. শূন্যপুরাণ
  2. জঙ্গনামা
  3. গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস
  4. সেক শুভোদয়া
সঠিক উত্তর:
শূন্যপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্যপুরাণ
ব্যাখ্যা
'নিরঞ্জনের উষ্মা’:
- নিরঞ্জনের উষ্মা অংশের মূল প্রতিপাদ্য হলো: বর্ণ-হিন্দুগণ ধর্মসেবকদের প্রতি নানা অত্যাচার ও অবজ্ঞা করেছেন।
- এই অত্যাচারে বিরূপ হয়ে নিরঞ্জন ধর্মঠাকুর ‘যবন’ মুসলমানের রূপ ধারণ করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
- ‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ মূলত 'শূন্যপুরাণ' নামক কাব্যগ্রন্থের অংশবিশেষ।
- ‘শূন্যপুরাণে’ কমপক্ষে পাঁচজন কবির হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে মনে করা হয়।
- এছাড়া নানা মতান্তরের কারণে ‘নিরঞ্জনের উষ্মার’ রচনাকাল নির্দিষ্টভাবে বলা যায় না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৫৫.
আরাকান রাজসভায় রচিত বাংলা সাহিত্য কোনটি?
  1. ইউসুফ-জোলেখা
  2. গুলে বকাওলী
  3. চন্দ্রাবতী
  4. নবীবংশ
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা
• আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য'চন্দ্রাবতী'।
------------------------- 
• 'চন্দ্রাবতী' কাব্য: 

- 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের একমাত্র রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
- মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
- তার পৃষ্ঠাপােষকতায় আরাকান বা রােসাঙ্গ রাজসভায় বাংলা সাহিত্য চর্চা শুরু হয়েছিল।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আলাওলকে দুটি কাব্য ‘পদ্মাবতী’ ও ‘সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান' লিখতে পৃষ্ঠপােষকতা করেছিলেন।
- আলাওল, দৌলত কাজী, কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার উল্লেখযােগ্য কবি।
-------------------------------- 
• ইউসুফ-জোলেখা কাব্য:
- ইউসুফ-জোলেখা’ শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে। 

• গুলে বকাওলী:
- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ গুলে বকাওলী'।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
- সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন।
- এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

'নবীবংশ' গ্রন্থ: 
- 'নবীবংশ' গ্রন্থটির রচয়িতা - সৈয়দ সুলতান।
- নবীবংশ গ্রন্থটি ১৫৮৪ সালে রচিত হয়। হযরত মুহম্মদ (স) এর জীবনীকাব্য এটি।
- এতে সৃষ্টির সূচনা থেকে হযরত মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত সকল নবী-রসুলের কর্ম ও ধর্মজীবনের বিস্তৃত বর্ণনা আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭৫৬.
‘ইউসুফ-জোলেখা’ কাব্যটি কোন ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়েছে?
  1. সংস্কৃত
  2. উর্দু
  3. ফারসি
  4. আরবি
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
ইউসুফ-জোলেখা:
- ইউসুফ-জোলেখা একটি কাহিনি কাব্যগ্রন্থ। কাব্যের রচয়িতা শাহ মুহম্মদ সগীর।
- কাব্যটি ফারসি ভাষা থেকে অনুবাদ করা হয়। 
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৮৯-১৪০৯ খ্রিষ্টাব্দ) এ গ্রন্থ রচিত হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- সে-বিচারে কাব্যটি পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকের রচনা এবং শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে গণ্য।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে।
- ইরানের কবি ফেরদৌসিও (মৃত্যু ১০২৫ খ্রিষ্টাব্দ) এই নামে কাব্য রচনা করেছেন।
- এটি মূলত অনুবাদ কাব্য বা রোমান্টিক প্রণোয়োপাখ্যানের নিদর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৭৫৭.
বাংলা সাহিত্যে কবিগান ধারার প্রবর্তক- 
  1. শাহ মুহাম্মদ সগীর
  2. রামনিধি গুপ্ত
  3. গোঁজলা গুঁই 
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ 
সঠিক উত্তর:
গোঁজলা গুঁই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোঁজলা গুঁই 
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যে কবিগান ধারার প্রবর্তক- গোঁজলা গুঁই। 
-------------------------------------------
• গোঁজলা গুঁই:
-  গোঁজলা গুঁই ছিলেন অষ্টাদশ শতকের একজন খ্যাতনামা বাঙালি লোকগায়ক ও কবিওয়ালা।
- তাঁকে বাংলা কবিগানের আদিগুরু ও প্রবর্তক বলা হয়।
- সেই সময় বাংলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কবিগান নামে এক ধরনের সঙ্গীতধর্মী সাহিত্য জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
- গোঁজলা গুঁই প্রথম পেশাদার কবিদল গঠন করে ধনীদের বাড়িতে অর্থের বিনিময়ে কবিগান পরিবেশন করতেন।
- তিনি মূলত টপ্পা রীতিতে গান রচনা করতেন।
- তাঁর গানগুলো নায়ক-নায়িকার সংলাপের মতো করে লেখা হতো।
- ‘এসো এসো চাঁদ বদনি’ ও ‘প্রাণ, তোরে হেরিয়ে’—এই ধরনের গান টপ্পা রীতির বৈশিষ্ট্য বহন করে। 
- তাঁর শিষ্য লালু, নন্দলাল, কেষ্টা মুচি, রঘুনাথ দাস ও রামজী পরবর্তীকালে কবিগানকে আরও সমৃদ্ধ ও জনপ্রিয় করে তোলেন।
----------------------------------------------------
কবিগান: 
- মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের অবক্ষয়ের যুগে দুই ধরনের কবি মঞ্চে অবতীর্ণ হয়ে পরস্পরকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে যে গান রচনা ও পরিবেশন করতেন, তাকে কবিগান বলা হয়।
- এই ধরনের গান যাঁরা রচনা করতেন ও গাইতেন, তাঁদের বলা হতো কবিওয়ালা।
- এই সঙ্গীত কবিওয়ালারা আসরে গেয়ে শোনাতেন। 
- সমাজের উঁচু–নিচু সব শ্রেণির মানুষই কবিগান শুনে আনন্দ পেত।
- এই কবিওয়ালাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন—নিতাই বৈরাগী, কেষ্টা মুচি, গোঁজলা গুঁই, রাসু, ভোলা ময়রা, নীলমণি পাটনি ও অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি।
- কবিগানের আদিকবি হিসেবে গোঁজলা গুঁইকে গণ্য করা হয়।
- এবং বিদেশি কবিওয়ালাদের মধ্যে অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
-----------------------------------------
অন্যদিকে,
• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধরার সূচনা করেছিলেন শাহ মুহাম্মদ সগীর।
• রামনিধি গুপ্ত বাংলা টপ্পাগানের জনক। 
• শেখ ফয়জুল্লাহকে বাংলা সাহিত্যের মর্সিয়া সাহিত্য ধারার প্রবর্তক বলা হয়। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৭৫৮.
মর্সিয়া সাহিত্য মূলত কিসের উপর ভিত্তি করে রচিত?
  1. বৌদ্ধ ধর্মীয় উপাখ্যান
  2. মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস
  3. রামায়ণ কাহিনী
  4. কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনী
সঠিক উত্তর:
কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনী
ব্যাখ্যা
মর্সিয়া:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনী নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি হলেন - শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তার রচিত গ্রন্থের নাম জয়নালের চৌতিশা এটি ১৫৭০ সালে প্রকাশিত হয়।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন- রাধারমণ গোপ।
- রাধারমণ গোপ রচিত গ্রন্থ হলো: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৫৯.
‘সত্যপীরের পুথি’-এর লেখক কে?
  1. ক) রামপ্রসাদ সেন
  2. খ) শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ
  3. গ) শাহ মুহম্মদ সগীর
  4. ঘ) সৈয়দ সুলতান
সঠিক উত্তর:
খ) শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ
ব্যাখ্যা

শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ ১৮শ শতকের মধ্যভাগে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি মূলত ছিলেন কবি, পুথি সাহিত্যের দোভাষী।
তাঁর উল্ল্যেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো,
-আমীর হামজা,
-সোনাভান,
-জঙ্গনামা,
-সত্যপীরের পুথি ও
-ইউসুফ জোলেখা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৭৬০.
চম্পুকাব্য কী?
  1. ক) বাংলা ও মৈথিলি মিশ্রিত কাব্য
  2. খ) গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্য
  3. গ) সংস্কৃত ও প্রাকৃত মিশ্রিত কাব্য
  4. ঘ) চম্পুক রাজ্যে লিখিত কাব্য
সঠিক উত্তর:
খ) গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্য
ব্যাখ্যা
• গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- চম্পুকাব্যের একটি নিদর্শন হচ্ছে রামাই পণ্ডিত রচিত ‘শূন্যপুরাণ’।
- আরেকটি হচ্ছে হলায়ূধ মিশ্রের 'সেক শুভোদয়া'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৭৬১.
"রূপলাগি আঁখি ঝুরে গুণে মনভোর,
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।" - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. চণ্ডীদাস
  2. দ্বিজমাধব
  3. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  4. জ্ঞানদাস
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
"রূপলাগি আঁখি ঝুরে গুণে মনভোর,
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।" - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা জ্ঞানদাস

জ্ঞানদাস:
- তিনি চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়ার কাঁদড়া গ্রামে এক মঙ্গল-ব্রাহ্মণ বংশে আনুমানিক ১৫৩০ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর জন্ম।
- জ্ঞানদাস পদ রচনার ক্ষেত্রে মধ্যযুগের গতানুগতিক ধারা পরিহার করে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক অর্থাৎ রাধাকৃষ্ণের রূপাশ্রয়ে ভক্ত-ভগবানের আধ্যাত্মিক লীলা বর্ণনা করেন।
- পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়।

গুরুত্বপূর্ণ উক্তি:
- সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু
অনলে পুড়িয়ে গেল।

- রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল,
যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৬২.
জীবনী সাহিত্যের ধারা কার জীবনকাহিনীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে?
  1. শ্রীচৈতন্যদেব
  2. শ্রীকৃষ্ণ
  3. বিদ্যাপতি
  4. ধর্মঠাকুর
সঠিক উত্তর:
শ্রীচৈতন্যদেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীচৈতন্যদেব
ব্যাখ্যা
• শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়।

-------------------
• চৈতন্য জীবনী:
- চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী।
- 'মুরারি গুপ্তের কড়চা' নামে পরিচিত তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম, শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম। এটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়েছিলো।

চৈতন্যদেবের বাংলা জীবনী:
• বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
• বাংলায় চৈত্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ- লোচন দাস রচিত 'চৈতন্য-চরিতামৃত'।
• বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয় ও সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী- কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত 'চৈতন্য-চরিতামৃত'।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৬৩.
রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলার পটভূমিতে রচিত কাব্য কোনটি?
  1. রামায়ণ
  2. ভাগবত
  3. মহাভারত
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
⇒ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি।
- কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।

• এটি মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত। খণ্ডগুলি হলো:
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বূল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালীয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড (রাধাবিরহ)।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনী ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই (দূতী)। 

⇒ পদসংখ্যা:
- খণ্ডিত পদসহ মোট পদে সংখ্যা: ৪১৮টি। 
- সংস্কৃত শ্লোক : ১৬১টি।
- পুঁথির পাতার সংখ্যা : ২২৬টি।
- পুঁথির পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৪৫২টি।
- বিলুপ্ত পৃষ্ঠা সখ্যা : মাঝের ৪৫টি।
- প্রাপ্ত পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৪০৭টি। 
- লিপিকারের সংখ্যা : ৩ জন বা তিন হাতের লেখা।
- কবির ভণিতা সংখ্যা : ৪০৯টি। 

উৎস : শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের মূল বই, মঙ্গলকাব্যের মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
৭৬৪.
কবি যশোরাজ খান বৈষ্ণবপদ রচনা করেন কোন ভাষায়?
  1. ক) ব্রজবুলি
  2. খ) বাংলা
  3. গ) সংস্কৃত
  4. ঘ) হিন্দি
সঠিক উত্তর:
ক) ব্রজবুলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ব্রজবুলি
ব্যাখ্যা
ব্রজবুলি ভাষা:
- ব্রজবুলি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় কাব্যভাষা বা উপভাষা। 
- মিথিলার কবি  বিদ্যাপতি (আনু. ১৩৭৪-১৪৬০) এই কৃত্রিম ভাষার উদ্ভাবক।
- তিনি মৈথিলী ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার মিশ্রণে এই কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা উদ্ভাবন করেন। 
- এ ভাষায় তিনি রাধাকৃষ্ণের লীলাবিষয়ক বহু পদ রচনা করেন। পদগুলিতে রাধাকৃষ্ণের ব্রজলীলা বর্ণিত হওয়ায় এর নাম হয়েছে ব্রজবুলি।

- বিদ্যাপতির পদগুলি বাংলায় খুব জনপ্রিয় হয়েছিল; বিশেষত চৈতন্যদেব এই পদ আস্বাদন করায় এর ভাষার প্রতি বাংলার কবিগণ আকৃষ্ট হন।
- ষোল শতকের বাঙালি বৈষ্ণব কবিরা বিদ্যাপতির পদের ভাষা ও ছন্দের অনুকরণে রাধাকৃষ্ণবিষয়ক পদ রচনা করতে শুরু করেন।
- হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল বৈষ্ণব কবি এ ভাষায় বহু পদ রচনা করেন। এই ধারা উনিশ শতক পর্যন্ত চলেছিল।
- আধুনিক কবিদের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী রচনা করেছেন এ ভাষায়।

- বাংলাদেশে প্রথম ব্রজবুলি পদ রচনা করেন যশোরাজ খান, আসামে শংকরদেব এবং উড়িষ্যায় রামানন্দ রায়
- তারা তিনজনই ছিলেন ষোল শতকের কবি। ব্রজবুলির শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি ছিলেন - গোবিন্দদাস কবিরাজ (১৬শ-১৭শ শতক)।


উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৬৫.
মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ৯টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। 
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি - মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে মনসা ও চন্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্নপরিচয়, দেবখন্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলাপিডিয়া।
৭৬৬.
মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ক) ১৭৬০
  2. খ) ১৭৫২
  3. গ) ১৭৪২
  4. ঘ) ১৭১২
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭১২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৭১২
ব্যাখ্যা
মঙ্গলযুগ তথা মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তিনি ১৭১২ সালে জন্মগ্রহণ করেন ও ১৭৬০ সালে মারা যান। তিনি অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ডঃ. সৌমিত্র শেখর।
৭৬৭.
কোন গ্রন্থটি শুধুমাত্র আলাওল কর্তৃক রচিত নয়?
  1. ক) রাগতালনামা
  2. খ) তোহ্ফা
  3. গ) পদ্মাবতী
  4. ঘ) সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
সঠিক উত্তর:
ঘ) সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
ব্যাখ্যা

সতীময়না লোরচন্দ্রাণী মূলত দৌলত কাজী রচিত অনুবাদ গ্রন্থ। এটি সাধনের “মৈনাসত” কাব্য থেকে অনুদিত। এই কাব্যগ্রন্থটির তৃতীয় খন্ড আলাওলের রচনা। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
আলাওল মধ্যযুগের সর্বাধিক গ্রন্থপ্রণেতা। তাঁর মোট কাব্যসংখ্যা সাত। সেগুলির মধ্যে -
- আখ্যানকাব্য হচ্ছে পদ্মাবতী (১৬৪৮),
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী (১৬৫৯),
- সপ্তপয়কর (১৬৬৫),
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (১৬৬৯) ও
- সিকান্দরনামা (১৬৭৩);
- নীতিকাব্য - তোহফা (১৬৬৪) এবং
- সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য - রাগতালনামা।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৭৬৮.
আলাওলের পদ্মাবতী অনুবাদ করা হয়-
  1. হিন্দি সাহিত্য থেকে
  2. সংস্কৃত সাহিত্য থেকে
  3. মারাঠি সাহিত্য থেকে
  4. আরাকান সাহিত্য থেকে
সঠিক উত্তর:
হিন্দি সাহিত্য থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দি সাহিত্য থেকে
ব্যাখ্যা

 ‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 

• আলাওল: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। 
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ। 

আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা ইত্যাদি। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া

৭৬৯.
'রসুলবিজয়' কাব্য কে রচনা করেন?
  1. জৈনুদ্দীন
  2. আবদুল হাকিম
  3. ফকির গরীবুল্লাহ
  4. দৌলত কাজী
সঠিক উত্তর:
জৈনুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জৈনুদ্দীন
ব্যাখ্যা

জৈনুদ্দীন:
- জৈনুদ্দীন (১৫শ শতক)  মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি। তিনি ছিলেন সুফি ধারার অনুসারী; শাহ্ মোহাম্মদ খান ছিলেন তাঁর পীর। কবির পৃষ্ঠপোষক ছিলেন গৌড়ের যুবরাজ ইছপ খান (ইউসুফ খান), যিনি পরে শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ (১৪৭৪-৮২) নামে গৌড়ের সুলতান হন। 
- রসুলবিজয় কাব্য রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
- তার রচিত রসুলবিজয় যুদ্ধবিষয়ক একটি কাহিনীকাব্য।
- এতে  হযরত মুহাম্মদ (স.) ও ইরাকাধিপতি জয়কুমের মধ্যেকার দীর্ঘযুদ্ধের বর্ণনা আছে। যুদ্ধে ইসলামের বিজয় দেখানো হয়েছে।
- কাব্যটিতে রসুলের মধুর বাণী আছে বটে, কিন্তু যুদ্ধের ঘনঘটা ও শৌর্যবীর্যের যে ব্যাপক বর্ণনা আছে, তাতে কবিত্বের পরিচয় আছে কমই।
- কাব্যের উৎস ফারসি সাহিত্য হলেও কবি কোন কাব্য অনুসরণ করেছেন তা জানা যায় না।

উল্লেখ্য, অপশনে থাকা শেখ চাঁদ ও জৈনুদ্দীন - উভয়ই 'রসুল বিজয়' কাব্য রচনা করেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৭০.
কার আদেশে 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করা হয়?
  1. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  2. রাজা লক্ষ্মণ সেন
  3. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
  4. রাজা নারায়ণ দেব
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
ব্যাখ্যা

'অন্নদামঙ্গল' কাব্য: 
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ। 
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম। 

অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩ খণ্ডে বিভক্ত।
যথা : 
- শিবনারায়ণ, 
- কালিকামঙ্গল, 
- মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৭১.
কোরেশী মাগন ঠাকুর কোন শতকের কবি ছিলেন?
  1. ১৭শ শতক
  2. ১৬শ শতক
  3. ১৫শ শতক
  4. ১৪শ শতক
সঠিক উত্তর:
১৭শ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭শ শতক
ব্যাখ্যা

কোরেশী মাগন ঠাকুর:
- কোরেশী মাগন ঠাকুর (১৭শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি। তিনি চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
- বাংলা, ফারসি, বর্মি ও সংস্কৃত ভাষায় মাগন ঠাকুরের অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। সঙ্গীত ও অলঙ্কারশাস্ত্রেও তাঁর দখল ছিল।
- রোসাঙ্গের কবি আলাওল তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন এবং তাঁরই নির্দেশে পদ্মাবতী (১৬৫২) ও সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (১৬৫৯) কাব্য রচনা করেন। মাগন ঠাকুর গুণীর সমাদর করতেন এবং তিনি নিজেও ছিলেন নানা গুণের অধিকারী।
- তাঁর রচিত চন্দ্রাবতী কাব্যের একটিমাত্র পুথি পাওয়া গেছে। এটি লোককাহিনি আশ্রিত রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য। বর্ণনাধর্মী এ কাব্যে সাহিত্যিক গুণের অভাব থাকলেও মধ্যযুগের কাব্য হিসেবে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৭২.
'সোনাভান' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আলাওল
  2. সৈয়দ সুলতান
  3. শাহ মুহাম্মদ গরীবুল্লাহ
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
শাহ মুহাম্মদ গরীবুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহ মুহাম্মদ গরীবুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• শাহ মুহাম্মদ গরীবুল্লাহ:
- তিনি দোভাষী পুথি রচয়িতা।
- পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার হাফেজপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর নামে প্রচলিত এ যাবৎ পাঁচখানি কাব্যের সন্ধান পাওয়া যায়। 
- ইউসুফ জোলায়খা, জঙ্গনামা ও আমীর হামজা কাব্যের উৎস আরবি ও ইরানি সাহিত্য, আর সোনাভান ও সত্যপীরের কথা কাব্যের উৎস ভারতীয় সাহিত্য।

• ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য:
- আমীর হামজা, 
- সােনাভান,
- জঙ্গনামা,
- সত্যপীরের পুঁথি ও
- ইউসুফ জোলেখা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৭৩.
কোন গ্রাম থেকে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' আবিষ্কার কর হয়?
  1. জয়দেবপুর
  2. কাঁকিল্যা
  3. বৃষ্ণপুর
  4. বাঁকুড়া
সঠিক উত্তর:
কাঁকিল্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঁকিল্যা
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- এটি একটি বৈষ্ণব কাব্য। এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।
- রচনাকাল সঠিকভাবে নির্ণীত না হলেও প্রাকচৈতন্য যুগের (খ্রিস্টীয় ১৪শ শতক) মনে করা হয়।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- এটি মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৩ খন্ডের কাব্য। মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮ টি পদে এটি বিন্যস্ত।

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- রাধা,
- কৃষ্ণ এবং
- বড়ায়ি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৭৪.
নাথ সাহিত্য কয় ভাগে বিভক্ত হয়েছে?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
সঠিক উত্তর:
২ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ ভাগে
ব্যাখ্যা
নাথ সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে,
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে ।
 
• শুকুর মাহমুদ (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম - গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৭৭৫.
কোন কবির উপাধি 'গুণরাজ খান'?
  1. গোবিন্দদাস
  2. রামপ্রসাদ সেন
  3. বিজয় গুপ্ত
  4. মালাধর বসু
সঠিক উত্তর:
মালাধর বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালাধর বসু
ব্যাখ্যা

মালাধর বসু:
- তিনি মূলত মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তিনি ১৫ শতকের তৃতীয় বা চতুর্থ দশকে বর্ধমান জেলার কুলিন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি তাঁর কবিত্ব শক্তির জন্য শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি লাভ করেন।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়'।
- এই কাব্যে ভগবত অনুসরণে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম ও তাঁর লীলা বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৭৬.
শাহ মুহম্মদ সগীর কার নির্দেশে ইউসুফ-জোলেখা কাব্য রচনা করেন?
  1. সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  2. ইলিয়াস শাহ
  3. নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  4. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
ব্যাখ্যা

• শাহ মুহম্মদ সগীর:
- শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম মুসলিম কবি এবং ইউসুফ-জোলেখা কাব্যের রচয়িতা। তিনি গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০ খ্রিস্টাব্দ) রাজত্বকালে এই কাব্য রচনা করেন।
- তাঁর জন্মস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য তাঁর কাব্যে উল্লেখ নেই, তবে পণ্ডিতদের গবেষণার ভিত্তিতে তাঁর জন্মস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

তাঁর জন্মস্থান সম্পর্কিত তথ্য:
- ড. মুহম্মদ এনামুল হক তাঁর গবেষণায় শাহ মুহম্মদ সগীরের কাব্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের কতিপয় শব্দের ব্যবহার লক্ষ করেছেন, যেমন স্থানীয় ভাষার প্রভাব ও শব্দচয়ন।এই ভিত্তিতে তিনি অনুমান করেছেন যে শাহ মুহম্মদ সগীর চট্টগ্রামের অধিবাসী ছিলেন। এছাড়া, চট্টগ্রাম তৎকালীন সময়ে আরাকানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল, যা তাঁর কাব্যচর্চার পটভূমির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

- তাঁর কাব্যে বাংলার স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রূপ ফুটে উঠেছে, যা চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক পটভূমির সঙ্গে মিলে যায়।

শাহ মুহম্মদ সগীর সম্পর্কিত আরো কিছু তথ্য:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম [প্রাচীনতম] মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকে সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সভাকবি ছিলেন এবং তাঁর নির্দেশে ইউসুফ-জোলেখা কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি শাহ্ মুহম্মদ সগীর।

-------------------
• ইউসুফ-জোলেখা কাব্য:
- ইউসুফ-জোলেখা' শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।
এই কাব্যে রাজবন্দনায় তিনি নিজেকে সুলতান গিয়াসউদ্দিনের আজ্ঞার অধীন বলে উল্লেখ করেছেন, যা তাঁর সভাকবি হিসেবে পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
- কবি 'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্যের রাজবন্দনা অংশে লিখেছেন- "মনুষ্যের মৈদ্ধে জেহ্ন ধর্ম অবতার। মহা নরপতি গোজন পিরথিম্বীর সার।।"
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জুলেখা। তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জুলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। সগীর বাইবেল পড়েন নি; তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।
- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জুলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ জুলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তকে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মুহম্মদ এনামুল হক; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৭৭.
আধুনিক যুগের কোন কবি মর্সিয়া সাহিত্য রচনা করেন?
  1. ক) মীর মশাররফ হোসেন
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) কায়কোবাদ
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
আধুনিক যুগের মীর মশাররফ হোসেন ও কায়কোবাদ মর্সিয়া সাহিত্য রচনা করেন। উৎস: লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার।
৭৭৮.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মতে প্রাচীন যুগের সময়কাল-
  1. ক) ৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  2. খ) ৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  3. গ) ৬৫০-১০৫০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ঘ) ৯৫০-১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
খ) ৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা

• প্রাচীন যুগের সময়কাল,
- ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মতে, ৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

৭৭৯.
'জঙ্গনামা' কাব্যটির রচয়িতা কে?
  1. ক) চণ্ডীদাস
  2. খ) দৌলত উজির বাহরাম খান
  3. গ) সৈয়দ সুলতান
  4. ঘ) গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
খ) দৌলত উজির বাহরাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দৌলত উজির বাহরাম খান
ব্যাখ্যা
'জঙ্গনামা' কাব্যটির রচয়িতা- 'দৌলত উজির বাহরাম খান'

- তার রচিত প্রথম কাব্যের নাম ‘জঙ্গনামা’ বা মক্তুল হোসেন।
- তার ২য় কাব্য ‘লায়লী মজনু’।
- এটি তিনি পারসি কবি আব্দুর রহমান জামির ‘লায়লী মজনু’ অবলম্বনে রচনা করেন।

'জঙ্গনামা' কাব্য
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা। 
- বাংলা সাহিত্যে ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৮০.
নিম্নলিখিত কোন দুইটি আখ্যানকাব্য দৌলত উজির বাহরাম খানের রচনা?
  1. ইমামগনের কেচ্ছা ও ইউসুফ জুলেখা
  2. লায়লী-মজনু ও ইমাম-বিজয়
  3. ইউসুফ জুলেখা ও নূরনামা
  4. সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
সঠিক উত্তর:
লায়লী-মজনু ও ইমাম-বিজয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লায়লী-মজনু ও ইমাম-বিজয়
ব্যাখ্যা
দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
- তাঁর প্রকৃত নাম - আসাউদ্দীন। তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।
- দৌলত উজির বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন: লায়লী-মজনু ও ইমাম-বিজয়। উভয় কাব্যের উৎস আরবি সাহিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭৮১.
মধ্যযুগের সাহিত্যিক শেখ ফয়জুল্লাহ কত শতকের কবি?
  1. ১৫শ শতক
  2. ১৬শ শতক
  3. ১৪শ শতক
  4. ১৭শ শতক
সঠিক উত্তর:
১৬শ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬শ শতক
ব্যাখ্যা

শেখ ফয়জুল্লাহ:
- তিনি ১৬শ শতক মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ আছে।
- বিভিন্ন মতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম উল্লিখিত হয়েছে।

শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত সাহিত্যকর্ম:
- গোরক্ষবিজয়,
- গাজীবিজয়, 
- সত্যপীর,
- জয়নবের চৌতিশা এবং
- রাগনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৭৮২.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পর্কে বঙ্কিমচন্দ্র কী বলেছেন?
  1. প্রথম নবজাগরণের কবি
  2. খাঁটি বাঙালি কবি
  3. সন্ধিক্ষণের কবি
  4. সংবাদপত্রকার কবি
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাঙালি কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাঙালি কবি
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত একজন কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধিক্ষণের কবি, অবক্ষয় যুগের (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাকে 'খাঁটি বাঙালি' কবি বলেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৮৩.
সৈয়দ সুলতানের শিষ্য ছিলেন কে?
  1. ভারতচন্দ্র
  2. মুহম্মদ খান
  3. দৌলত কাজী
  4. আলাওল
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ খান
ব্যাখ্যা
সৈয়দ সুলতান:
- তাঁর বাসস্থান ছিল চট্টগ্রামের চক্রশালা চাকলার অধীন পটিয়া গ্রাম।
- মক্তুল হুসেন কাব্যের রচয়িতা মুহম্মদ খান ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- নবীবংশ,
- জ্ঞানপ্রদীপ,
- জ্ঞানচৌতিশা,
- শব—ই—মিরাজ,
- ওফাত—উ—রসুল,
- জয়কুম রাজার লড়াই ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৮৪.
মালাধর বসুর 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়'-
  1. মহাভারতের বাংলা অনুবাদ
  2. ভাগবতের বাংলা অনুবাদ
  3. শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী
  4. রামায়ণের বাংলা অনুবাদ
সঠিক উত্তর:
ভাগবতের বাংলা অনুবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাগবতের বাংলা অনুবাদ
ব্যাখ্যা
• মালাধর বসুর 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' গ্রন্থ:
- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কাটোয়ার নিকটবর্তী কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের প্রথমার্ধে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন-'গৌড়েশ্বর দিলা নাম গুণরাজ খান।' গৌড়েশ্বর রাজকর্মচারী মালাধর বসুর কর্মদক্ষতা, বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যবুদ্ধি গুণে। প্রভৃতি গুণে প্রীত হয়ে এই উপাধি দান করেছিলেন।

- মালাধর বসু ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক এবং তাঁর অনুবাদ কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়'। এটি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।

- মালাধর বসু ব্যাসদেব কর্তৃক স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে ভাগবতের দশম ও একাদশ স্কন্ধ অনুসরণে 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' কাব্য রচনা করেন। ১৪৭৩ থেকে ১৪৮০ সাল-এই দীর্ঘ সাত বৎসরের চেষ্টায় কবি এ কাব্য রচনা করেছিলেন। শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাবের পূর্বেই কাব্যটি রচিত হয়েছিল।

- চৈতন্যদেব কবি মালাধর বসুর প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন এবং তাঁর কাব্যের প্রশংসা করেছেন। কবির পুত্র সত্যরাজ খান এবং পৌত্র রামানন্দ শ্রীচৈতন্যের কৃপা লাভ করেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্য 'গোবিন্দবিজয়' ও 'গোবিন্দমঙ্গল' নামেও পরিচিত। অনুবাদমূলক হলেও রাগরাগিণীযুক্ত এই পাঁচালি রাধাকৃষ্ণ প্রেমপ্রতীকে ভক্তিবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত বলে ধরা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
৭৮৫.
বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ কত বঙ্গাব্দে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন?
  1. ১৩১৪ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩১৬ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩২১ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩২৩ বঙ্গাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৩১৬ বঙ্গাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩১৬ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এগ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৮৬.
পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রাম বাংলা সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য- 
  1. বৈষ্ণব পুথির প্রাপ্তিস্থান হিসেবে 
  2. মনসামঙ্গল কাব্যের পুথির প্রাপ্তিস্থান হিসেবে
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পুথির প্রাপ্তিস্থান হিসেবে 
  4. শূন্যপুরাণের পুথির প্রাপ্তিস্থান হিসেবে 
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পুথির প্রাপ্তিস্থান হিসেবে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পুথির প্রাপ্তিস্থান হিসেবে 
ব্যাখ্যা
• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- বড়ু চণ্ডীদাস আনুমানিক ১৩০৯ খ্রিষ্টাব্দে ছাতনা, বাঁকুড়া মতান্তরে বীরভূমের নানুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' বড়ু চণ্ডীদাসের রাধাকৃষ্ণনের প্রণয় বর্ণনার মাধ্যমে ঈশ্বরতত্ত্ব প্রকাশ করে রচিত কাব্যগ্রন্থ। এটি মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পুথি আবিষ্কার করেন। ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়। এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।

- কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতণ্ডতা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে। এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়। কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

- কাব্যটি মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে বিন্যস্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা।
৭৮৭.
কবি আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' একটি- 
  1. মৌলিক রচনা
  2. ভ্রমণকাহিনি
  3. অনুবাদ গ্রন্থ
  4. নাটক 
সঠিক উত্তর:
অনুবাদ গ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুবাদ গ্রন্থ
ব্যাখ্যা

‘পদ্মাবতী’ কাব্য সম্পর্কে কিছু তথ্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।

• কাব্যটিতে — দুইটি পর্ব রয়েছে।
এদের মধ্যে- 
প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 
---------------------
• সাহিত্যিক পরিচিতি: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। 
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ। 

আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য,
- আধুনিক যুগের লেখক মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬০ সালে পদ্মাবতী নাটক রচনা করেন।
- এটি একটি পৌরাণিক নাটক গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অব ডিসকর্ড’ গল্প অবলম্বনে রচিত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া

৭৮৮.
'পদ্মাবতী' কাব্যের প্রথম পর্বে কার সফল অভিযানের বিবরণ আছে?
  1. আলাউদ্দিন খিলজির
  2. চিতোররাজ রত্নসেনের
  3. মাগন ঠাকুরের
  4. সাদ থদোমিন্ডারের
সঠিক উত্তর:
চিতোররাজ রত্নসেনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিতোররাজ রত্নসেনের
ব্যাখ্যা

'পদ্মাবতী' কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্ডারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে 'পদ্মাবতী' কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৮৯.
বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কে?
  1. গোবিন্দদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. চণ্ডীদাস
  4. জ্ঞানদাস
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীদাস:
- বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস।
- তাঁর রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলি যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়কে সীমাহীন রসমাধুর্যে পরিপূর্ণ করে তুলেছে।
- চণ্ডীদাস রাধাকে কৃষ্ণপ্রেমে আত্মহারারূপে চিত্রিত করেছেন।
- দেহগত কামনা- বাসনা রাধাচরিত্রে প্রাধান্য পায় নি। কবি তাকে মর্ত্যলোক থেকে বহু দূরদুর্গম অধ্যাত্মতীর্থে স্থান দিয়েছেন।
- চণ্ডীদাস রাধার কামগন্ধহীন প্রেম অত্যন্ত সহজ সরল কথায় ছন্দে ও অলঙ্কার প্রয়োগে প্রস্ফুটিত করেছেন।
- কবি রাধার চরিত্রে মিলনের আনন্দের চেয়ে বিচ্ছেদের বেদনা তীব্রতর করে রূপ দিয়েছেন।

- কবি এই অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন :
এমন পিরীতি কভু নাহি দেখি শুনি।
পরাণে পরাণ বান্ধা আপনা আপনি॥
দুহুঁ কোরে দুহুঁ কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া।
আধ তিল না দেখিলে যায় যে মরিয়া॥

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৭৯০.
সেক শুভোদয়া গ্রন্থকে 'dog sanskirt' বলে উল্লেখ করেছেন কে?
  1. ড. সুকুমার সেন
  2. ড. মুহম্মদ এনামুল হক
  3. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ 
সঠিক উত্তর:
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• সেক শুভোদয়া:
- 'সেক শুভোদয়া' এর রচয়িতা হলেন হলায়ুধ মিশ্র।
- অশুদ্ধ বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি গ্রন্থ হলো- সেক শুভোদয়া। এটি সংস্কৃত গদ্য-পদ্যে লেখা চম্পুকাব্য।
- অনেকে একে রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি হলায়ুধ মিশ্রের রচনা বলে মনে করেন।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, সেক শুভোদয়া খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর একেবারের গোড়ার দিকের রচনা। গদ্য ও পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে।
- এই গ্রন্থটিতে বেশকিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রচুর ভুল সংস্কৃত ব্যবহারও আছে। তাই ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একে 'dog sanskirt' বলেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৭৯১.
মহাকবি আলাওল রচিত কাব্য-
  1. চন্দ্রবতী
  2. পদ্মাবতী
  3. মধুমালতী
  4. লাইলী মজনু
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• ‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

উল্লেখ্য,
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পদ্মাবতী একটি নাটক।

অন্যদিকে,
• 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
• মুহম্মদ কবীর মধ্যযুগীয় প্রণয়োপাখ্যান রচিয়তা। ১৫৮৮ সালে 'মধুমালতী' নামে রোমান্টিক প্রণয়কাব্য রচনা করেন।
• লাইলী-মজনু কাব্যের রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খাঁ। 

--------------
• আলাওল:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ।

• আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা,
- সয়ফুল্মুলুক বদিউজ্জামাল
- সতীময়না,
- রাগতালনামা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৯২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয় কাকে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি - ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
অন্যদিকে,
- আধুনিক যুগের নাগরিক কবি - শামসুর রাহমান।

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গলকাব্য রচনা করেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৭৯৩.
''যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্নয় ন জানি।" - কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) নূরনামা
  2. খ) বঙ্গবাণী
  3. গ) বঙ্গদর্শন
  4. ঘ) চতুর্দশপদী কবিতা
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গবাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গবাণী
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিটি আবদুল হাকিম রচিত 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের "বঙ্গবাণী" কাব্য/কবিতার অংশ।
- বাংলা ভাষার প্রতি এরূপ শ্রদ্ধাপূর্ণ বক্তব্যের জন্য কবির 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থ বিশেষভাবে প্রশংসিত।  

আবদুল হাকিম মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি।
আবদুল হাকিম রচিত পাঁচটি গ্রন্থ:  
- ইউসুফ-জুলেখা,  
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলক এবং
- হানিফার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৯৪.
কবীন্দ্র পরমেশ্বরের অনুবাদকৃত মহাভারতকে কী বলা হয়?
  1. ভারত পাচালী
  2. পাচালী মহাভারত
  3. ছুটি খাঁনী মহাভারত
  4. পরাগলী মহাভারত
সঠিক উত্তর:
পরাগলী মহাভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরাগলী মহাভারত
ব্যাখ্যা

পরাগলী মহাভারত:
- 'পরাগলী মহাভারত' খ্যাত গ্রন্থের লেখক কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তিনি মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি।
- নবাব হুসেন শাহ্‌ (১৪৯৩-১৫১৮) চট্টগ্রাম শাসনের জন্য পরাগল খাঁ নামক এক লস্কর নিযুক্ত করেন।
- যুদ্ধপ্রিয় পরাগল খাঁ মহাভারতের যুদ্ধকাহিনি শুনে গ্রন্থটি অনুবাদের জন্য পরমেশ্বর দাসকে নির্দেশ দেন।
- তাই কবীন্দ্র পরমেশ্বর এর অনুবাদকৃত মহাভারতকে 'পরাগলী মহাভারত' বলা হয়।
- কবীন্দ্র তাঁর রচিত মহাভারতের নাম দিয়েছেন ‘ভারত পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭৯৫.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য' কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল?
  1. নেপালের রাজদরবার থেকে 
  2. গোয়ালঘর থেকে 
  3. পাঠশালা থেকে
  4. কান্তজীর মন্দির থেকে
সঠিক উত্তর:
গোয়ালঘর থেকে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোয়ালঘর থেকে 
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
• ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কারের সময় গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠায় এর কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় এর নাম দেন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। একে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভও বলা হয়।
• ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
• পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায়নি।
• কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
• এ কাব্যের প্রধন তিনটি চরিত্র- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি। 

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো-
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৯৬.
হিন্দু মহাপুরাণ ‘ভাগবত’ কে প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন?
  1. ক) শ্রীকর নন্দী
  2. খ) রামেশ্বর ভট্টাচার্য
  3. গ) ফকির গরীবুল্লাহ
  4. ঘ) মালাধর বসু
সঠিক উত্তর:
ঘ) মালাধর বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মালাধর বসু
ব্যাখ্যা
• মালাধর বসু ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।
- চৈতন্যদেবের সন্ন্যাস গ্রহণের পূর্বে ভাগবতকে প্রথম বাংলায় প্রচার ও জনপ্রিয় করে তোলার কৃতিত্ব মালাধর বসুর।
- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কাটোয়ার নিকটবর্তী কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের প্রথমার্ধে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন।

অন্যদিকে,
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কাশীরাম দাস।
- শ্রীকর নন্দী রচিত গ্রন্থ 'ছুটিখানী মহাভারত'।
- কবীন্দ্র পরমেশ্বর মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৯৭.
‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয় কাকে?
  1. ক) বড়ু চণ্ডীদাস
  2. খ) বিজয় গুপ্ত
  3. গ) কবি কঙ্ক
  4. ঘ) বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৯৮.
গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি প্রদান করেন কে?
  1. কানা হরিদত্ত
  2. বিজয় গুপ্ত
  3. শ্রীজীব গোস্বামী
  4. বিপ্রদাস পিপিলাই
সঠিক উত্তর:
শ্রীজীব গোস্বামী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীজীব গোস্বামী
ব্যাখ্যা

গোবিন্দদাস:
- তিনি বৈষ্ণব পদকর্তা ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের  মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকট তেলিয়াবুধুরি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু ছিলেন মিথিলার কবি  বিদ্যাপতি।
-  বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ এবং ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন। 

উৎস: 
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৯৯.
'কায়েশ' চরিত্রটি কোন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ইউসুফ-জোলেখা
  2. লায়লী মজনু
  3. চন্দ্রাবতী 
  4. পদ্মাবতী 
সঠিক উত্তর:
লায়লী মজনু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লায়লী মজনু
ব্যাখ্যা
• 'লায়লী মজনু' কাব্যের প্রধান চরিত্র কায়েশ ও লায়লী।

-------------------------
• 'লায়লী মজনু' কাব্য:

- কবি দৌলত উজির বাহরাম খান রচিত 'লায়লী-মজনু' কাব্য ফারসি কবি জামীর লায়লী-মজনু নামক কাব্যের ভাবানুবাদ। লায়লী ও মজনুর প্রেমকাহিনি সারা বিশ্ব জুড়ে পরিচিত। এই কাহিনির মূল উৎস আরবি লোকগাঁথা।

- কাহিনিটিকে ঐতিহাসিক দিক থেকে সত্য বিবেচনা করা হয়। ফারসিতে দশ জন কবি এই প্রেমকাহিনি অবলম্বনে কাব্য রচনা করেছিলেন বলে জানা যায়।

- আমির-পুত্র কয়েস বাল্যকালে বণিক-কন্যা লায়লীর প্রেমে পড়ে মজনু বা পাগল নামে খ্যাত হয়। লায়লীও মজনুর প্রতি গভীর আকর্ষণ অনুভব করে। কিন্তু উভয়ের বিবাহে আসে প্রবল বাধা; ফলে মজনু পাগলরূপে বনেজঙ্গলে ঘুরে বেড়াতে থাকে। অন্যদিকে লায়লীর অন্যত্র বিয়ে হলেও তার মন থেকে মজনু সরে যায় নি। তাদের দীর্ঘ বিরহজীবনের অবসান ঘটে করুণ মৃত্যুর মাধ্যমে।

- এই মর্মস্পর্শী বেদনাময় কাহিনি অবলম্বনেই লায়লী-মজনু কাব্য রচিত। দৌলত উজির বাহরাম খান ফারসি কাব্যের ভাবানুবাদ অবলম্বন করলেও তাঁর স্বাধীন রচনা এতে স্থান পেয়েছে।

- কাব্যটির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ড. মুহম্মদ এনামুল হক মন্তব্য করেছেন, 'নিছক কাব্যরস, লিপিচাতুর্য, ভব্যতা ও শালীনতায় 'লায়লী মজনু'র সমকক্ষ কাব্য খ্রিস্টীয় ষোড়শ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যে একটিও নাই বলিলে অত্যুক্তি হয় না।' কবি কাব্যের বক্তব্য রূপায়ণে গতানুগতিক ঐতিহ্য অনুসরণ করেছেন বলে ভাবের ক্ষেত্রে কোন নতুনত্বের পরিচয় নেই। কিন্তু কবিত্বশক্তি প্রকাশে কবি যথেষ্ট সার্থকতা লাভ করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৮০০.
কৃত্তিবাসের পদবি কী ছিল?
  1. মহামহোপাধ্যায়
  2. উপপাধ্যায়
  3. মুখোপাধ্যায়
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মুখোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক ও বাংলা রামায়ণের আদি কবি ‘কৃত্তিবাস ওঝা’।
- মৈথিলি ব্রাহ্মণদের অসমিয়া ভাষায় ওঝা বলা হয়। ওঝা শব্দটি এসেছে ‘উপাধ্যায়' থেকে।
- তবে কৃত্তিবাসের আসল পদবি ছিল ‘মুখোপাধ্যায়’।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঁচালি'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- 'কৃত্তিবাস কীর্তিবাস কবি, এ বঙ্গের অলঙ্কার'- কৃত্তিবাস সম্পর্কে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এ মন্তব্য করেছিলেন। মাইকেল মধুসূদন দত্ত একটি সনেটে কবিকে 'কীর্তিবাস তুমি' বলে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনও করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।