বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মধ্য যুগের গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ

মোট প্রশ্ন১,৩০২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মধ্য যুগের গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ

PrepBank · পাতা / ১৩ · ৫০১৬০০ / ১,৩০২

৫০১.
পুঁথি সাহিত্যের প্রথম ও সার্থক জনপ্রিয় কবি ছিলেন?
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. আলাওল 
  3. সাবিরিদ খান 
  4. ফকির গরিবুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ফকির গরিবুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফকির গরিবুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• পুঁথি সাহিত্যর প্রথম, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি- ফকির গরীবুল্লাহ।
------------------
• পুঁথি সাহিত্য:
- পুঁথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত। হুগলির বালিয়া-হাফেজপুরের কবি ফকির গরীবুল্লাহ (আনু. ১৬৮০-১৭৭০)  আমীর হামজা রচনা করে এ কাব্যধারার সূত্রপাত করেন।
---------------------
- দোভাষী পুঁথি বা পুঁথি সাহিত্যর প্রাচীনতম, আদি, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি ফকির গরীবুল্লাহ।
- ফকির গরীবুল্লাহ না থাকলে উত্তর হবে সৈয়দ হামজা।
- মর্সিয়া‌ সাহিত্যের আদি কবি শেখ ফয়জুল্লাহ।
-------------------
• পুঁথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ফকির গরীবুল্লাহ্‌।
- তিনি ’আমীর হামজা’ কাব্য রচনা করেন।

• ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য-
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- সােনাভান,
- জঙ্গনামা,
- সত্যপীরের পুঁথি ও
- ইউসুফ জোলেখা। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৫০২.
আধুনিক যুগের কোন সাহিত্যিককে 'অবক্ষয়' যুগের কবিও বলা হয়?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 
  2. সজনীকান্ত দাস
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. সানাউল হক
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• যুগসন্ধির কাল:
- ১২০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে ধরা হয়।
- আর ১৮০১ খ্রিস্টাব্দ - বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।

- এর মধ্যে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই শত বছরের সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'যুগসন্ধির কাল' বলা হয়। মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুরি প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে 'যুগসন্ধির কাল' বা 'যুগসন্ধিক্ষণ' বা 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়ে থাকে।

- মধ্যযুগের শেষ প্রতিনিধি ভারতচন্দ্র এবং আধুনিক যুগের প্রথম পুরুষ মাইকেল মধুসূদন, এই দুই মনীষীর মধ্যবর্তীকালে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের আবির্ভাব।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তে মধ্যে মধ্যযুগের কাব্য বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক যুগের সূচনা বৈশিষ্ট্য সমানভাবে লক্ষ্য করা যায় বলে তাঁকে যুগসন্ধির কবি বা 'অবক্ষয় যুগ' এর কবি বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৫০৩.
কবিগান রচয়িতা এবং গায়ক হিসেবে এরা উভয়েই পরিচিত-
  1. এন্টনি ফিরিঙ্গি এবং রামপ্রসাদ রায়
  2. রামবসু এবং ভোলা ময়রা
  3. সাবিরিদ খান এবং দাশরথি রায়
  4. আলাওল ও ভারতচন্দ্র
সঠিক উত্তর:
রামবসু এবং ভোলা ময়রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামবসু এবং ভোলা ময়রা
ব্যাখ্যা

কবিগান দুই পক্ষের বিতর্কের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হতো ।
- কবিওয়ালারা ছিল নিম্নবর্ণের হিন্দু ।

- কবি অন্যদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন -গোঁজলা গুঁই, ভবানী বেনে, ভোলা ময়রা, হরু ঠাকুর, এন্টনি ফিরিঙ্গি, রামবসু প্রমুখ ।

- গোঁজলা গুঁই ছিলেন কবি গানের কবিগানের আদিগুরু ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর) ও লাল নীল দীপাবলি

৫০৪.
বাংলা সাহিত্যে মুরারি গুপ্ত কার জীবনী লিখে কৃতিত্ব অর্জন করেন?
  1. ক) শ্রীকৃষ্ণের
  2. খ) চৈতন্যদেবে
  3. গ) শ্রীরামের
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
খ) চৈতন্যদেবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চৈতন্যদেবে
ব্যাখ্যা
চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী।
- চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী সংস্কৃত ভাষায় লেখা হয়। 
- 'মুরারি গুপ্তের কড়চা' নামে পরিচিত তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম, 'শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম।'
- মুরারি গুপ্ত সিলেটের অধিবাসী ছিলেন পরে নবদ্বীপে শ্রীচৈতন্যের সহাধ্যায়ী ছিলেন। 
- মুরারি গুপ্তের গৃহে চৈতন্যের প্রথম ভাবাবেশ ঘটেছিল বলে জনশ্রুতি বিদ্যমান। 
- বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থ হলো বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত।
- 'চৈতন্য-মঙ্গল' বাংলায় ভাষায় লোচন দাস রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫০৫.
আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি কে?
  1. আলাওল
  2. দৌলত কাজী
  3. শাহ মুহম্মদ সগীর
  4. কোরেশী মাগন ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা

দৌলত কাজী:
- আরাকান রাজসভার আদি কবি ও প্রথম বাঙালি কবি দৌলত কাজী।
- তিনি লৌকিক কাহিনীর প্রথম রচয়িতা।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যের নাম 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী'।
- এটি হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসত' কাব্য অবলম্বনে তিন খন্ডে রচিত।

- আরাকান রাজসভার অন্যান্য কবিগণ হলেন:
• আলাওল,
• কোরেশী মাগন ঠাকুর,
• মরদন,
• আবদুল করিম খন্দকার,
• শমসের আলী ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫০৬.
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাঁকিল্যা গ্রাম কেন উল্লেখযোগ্য?
  1. শ্রীচৈতন্যদেবের জন্মস্থান
  2. বড়ু চণ্ডীদাসের জন্মস্থান
  3. চর্যাপদের প্রাপ্তিস্থান
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্ত্তন কাব্যের প্রাপ্তিস্থান
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্ত্তন কাব্যের প্রাপ্তিস্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকৃষ্ণকীর্ত্তন কাব্যের প্রাপ্তিস্থান
ব্যাখ্যা
• পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুঁথি আবিষ্কার হওয়ায় বাংলা সাহিত্যে এই গ্রাম উল্লেখযোগ্য।

-----------------
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি।

- কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনি ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি- কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই।

• মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত। খণ্ডগুলো হলো:
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বূল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড (রাধাবিরহ)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫০৭.
‘এ ভরা বাদর মাহ ভাদর/শূন্য মন্দির মোর।’ - কে লিখেছেন?
  1. চণ্ডীদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. রবীন্দ্রনাথ
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
"এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর।
 এ ভরা বাদর মাহ ভাদর
 শূন্য মন্দির মোর" - পঙক্তিগুলো মিথিলার কবি বিদ্যাপতি রচিত "বর্ষাবিরহের" একটি পদ । 

বিদ্যাপতি (আনু. ১৩৭৪-১৪৬০):
- বিদ্যাপতি  বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- বাঙালী কবি না হয়েও বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। 
- তিনি মাতৃভাষা মৈথিলি ছাড়াও সংস্কৃত, অবহঠট ও ব্রজবুলি ভাষায় পদাবলি রচনা করেন। 
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- শৈব বংশে জন্ম বলে তিনি বহু শৈবসঙ্গীতও রচনা করেন।
- কিন্তু ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলিই তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ ভাষায়ই ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী রচনা করেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৫০৮.
রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক কে?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. কপালিকা 
  3. রামী
  4. মাধবী
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা

• "চন্দ্রাবতী" রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক।

অন্যদিকে, 
- মধ্যযুগের অপর দুইজন মহিলা কবি হলেন- চণ্ডীদাস অনুরাগী রামী ও চৈতন্যের কৃপাপাত্রী মাধবী।

----------------
• চন্দ্রাবতী:
- চন্দ্রাবতী মধ্যযুগের তিনজন উল্লেখযোগ্য মহিলা কবির অন্যতম। চন্দ্রাবতী ছিলেন মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা।
- তাঁদের নিবাস ছিল বৃহত্তর ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জ জেলার অন্তর্গত পাঠবাড়ী বা পাতুয়ারী গ্রামে।
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- মৈমনসিংহ-গীতিকার 'জয়-চন্দ্রাবতী' উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।

চন্দ্রাবতীর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- মালুয়া,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রামায়ণ ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, 
• রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন- কৃত্তিবাস ওঝা। গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস ওঝা বাংলায় 'রামায়ণ' অনুবাদ করেন।
• রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য। সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন 'বাল্মীকি'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫০৯.
"শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" কাব্য কোন ছন্দে রচিত?
  1. চৌপদী ছন্দে
  2. স্বরবৃত্ত ছন্দে
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দে
  4. পয়ার ছন্দে 
সঠিক উত্তর:
পয়ার ছন্দে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পয়ার ছন্দে 
ব্যাখ্যা

• "শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" কাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।

- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি। কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু। এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।
- কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতণ্ডতা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে।

- এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়। কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং কুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে খণ্ডিতপদসহ মোট পদের সংখ্যা ৪১৮টি। পুঁথিতে সংস্কৃত শ্লোক আছে ১৬১টি। পুঁথির পাতার সংখ্যা ২২৬, অতএব পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪৫২: এর মধ্যে মাঝের মোট ৪৫ পৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি। ৪৫ পৃষ্ঠা বাদ গেলে পুঁথির প্রাপ্ত পৃষ্ঠার সংখ্যা ৪০৭।
পুঁথির লিপি তিন হাতের লেখা। ৪১৮টি পদের মধ্যে কবির ভণিতা আছে ৪০৯টি।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য মোট তের খণ্ডে বিভক্ত। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যর খণ্ডগুলো হলো-
 জন্মখণ্ড, তাম্বুলখণ্ড, দানখণ্ড, নৌকাখণ্ড, ভারখণ্ড, ছত্রখণ্ড, বৃন্দাবনখণ্ড, কালিয়দমনখণ্ড, যমুনাখণ্ড, হারখণ্ড, বাণখণ্ড, বংশীখণ্ড ও রাধাবিরহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৫১০.
গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু ছিলেন-
  1. জয়দেব 
  2. বিদ্যপতি 
  3. চণ্ডীদাস 
  4. কানাহরি দত্ত 
সঠিক উত্তর:
বিদ্যপতি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যপতি 
ব্যাখ্যা

• গোবিন্দদাস:
- তিনি বৈষ্ণব পদকর্তা ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকট তেলিয়াবুধুরি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু ছিলেন মিথিলার কবি বিদ্যাপতি।বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে 'কবীন্দ্র' উপাধিও প্রদান করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫১১.
অনূদিত কাব্য ‘পদ্মাবতী’ - কে রচনা করেন?
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. আলাওল
  3. আব্দুল হাকিম
  4. শাহ মুহম্মদ সগীর
সঠিক উত্তর:
আলাওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাওল
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' কাব্যের রচয়িতা- 'আলাওল'। 

• আলাওল: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। 
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ। 

• আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ: 
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা, 
- সয়ফুল্মুলুক বদিউজ্জামাল
- সতীময়না
- রাগতালনামা ইত্যাদি। 

⇒ ‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৫১২.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ‘dog Sanskrit’ বলেছেন কোনটিকে?
  1. ক) নিরঞ্জনের উষ্মা
  2. খ) সেক শুভোদয়া
  3. গ) শূন্যপুরান
  4. ঘ) প্রাকৃতপৈঙ্গল
সঠিক উত্তর:
খ) সেক শুভোদয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সেক শুভোদয়া
ব্যাখ্যা
• 'সেক শুভোদয়া' অশুদ্ধ বাংলা ও সংস্কৃত ভাষার মিশ্রিত একটি গ্রন্থ।
- অনেকে একে হলায়ুধ মিশ্রের রচনা বলে মনে করেন।
- এর রচনা কাল ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যে।
- গদ্য পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫ টি অধ্যায় আছে।
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এই সাহিত্য কর্মকে ‘dog sanskrit’ বলেছেন।
- ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ‘কায়স্থ' পত্রিকায় গ্রন্থটির ১৩টি পরিচ্ছদ অনুবাদ সহ প্রকাশ করেন।
- ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৫১৩.
চন্দ্রাবতীর পিতা নাম কী?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. দ্বিজ বংশীদাস
  3. দ্বিজ চণ্ডীদাস
  4. বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ বংশীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা
দ্বিজ বংশীদাস:
- মনসামঙ্গল গ্রন্থটি মধ্যযুগ এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি দ্বিজ বংশীদাস রচিত।
- দ্বিজ বংশীদাস পদ্মাপুরাণ বা মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম কবি ছিলেন।
- তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সুকণ্ঠ গায়ক হিসেবেও তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
- বংশীদাস কবি চন্দ্রাবতীর পিতা। কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণের অনুবাদে পিতা বংশীদাসরে পরিচয় তুলে ধরেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫১৪.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. মানিক দত্ত
  3. ভারতচন্দ্র রায়
  4. কানাহরি দত্ত
সঠিক উত্তর:
মানিক দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক দত্ত
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীমঙ্গল:
- ​'চণ্ডীমঙ্গল' চন্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের লিখিত কাব্য। 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী।
-  চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত।

'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো :
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫১৫.
'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র' কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. রফিক আজাদের 
  2. হাসান হাফিজুর রহমানের
  3. হুমায়ুন কবিরের 
  4. হাসান আজিজুল হকের 
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমানের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমানের
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র:
- হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৫ খণ্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) প্রকাশিত হয়। এটি তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়সীমা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত সারা বিশ্বে যা কিছু ঘটেছে তার তথ্য ও দলিলপত্র সংগ্রহ এবং সেসবের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস রচনা ও মুদ্রণের দায়িত্ব অর্পিত হয় মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাস লিখন ও মুদ্রণ প্রকল্পের ওপর। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই প্রকল্পটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর কাজ শুরু হয় ১৯৭৮ সালের জানুয়ারী থেকে (পরিশিষ্ট দ্রষ্টব্য)।

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস লিখন ও মুদ্রণ প্রকল্প গ্রহণ করে। ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা রক্ষা করা ও বিকৃতির আশঙ্কা এড়িয়ে যাবার জন্যই ইতিহাস রচনার পরিবর্তে দলিল ও তথ্য প্রকাশকেই অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়েছে। আর সে প্রকল্পের ফসলই "বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র"।

- প্রায় ১৫,০০০ পৃষ্ঠায় ১৫ খণ্ডে এসব দলিলপত্র প্রণয়ন করে ১৯৮২ সালে তা প্রকাশ করা হয়। এই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত গবেষক ও সম্পাদকবৃন্দের আক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই দলিলপত্র গ্রন্থমালা।

----------------
• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধগুলো হলো:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্য:
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু

উৎস: 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র' গ্রন্থ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫১৬.
কাদের বর্গী নামে ডাকা হতো?
  1. নেপালি সৈন্য
  2. আরাকানী জলদস্যু
  3. মারাঠা
  4. পর্তুগিজ
সঠিক উত্তর:
মারাঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মারাঠা
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ ভারতের মারাঠারা বাংলায় বর্গী নামে পরিচিত ছিলো। মারাঠা সৈন্যবাহিনীর সর্বনিম্ন পদধারী সৈনিকরা বরগি নামে পরিচিত ছিলো। এই বরগি থেকেই বর্গী নামের উদ্ভব।
আঠারো শতকে বাংলায় বর্গীরা ব্যাপক লুটতরাজ চালাতো। আলীবর্দি খান বাংলায় বর্গীদের দমন করেন।

অন্যদিকে,
পর্তুগিজদের ফিরিঙ্গি নামে ডাকা হতো। আরাকানী জলদস্যুদের মগ নামে অবিহিত করা হতো।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৫১৭.
হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' কাব্যের অনুবাদ গ্রন্থ কোনটি?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. পদ্মাবতী
  3. গুলে বকাওলী
  4. মধুমালতী
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে 'পদ্মাবতী' কাব্য রচনা করেন।

- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

অন্যদিকে, 
--------------------
• 'চন্দ্রাবতী' কোরেশী মাগন ঠাকুরের অন্যতম একটি কাব্যগ্রন্থ।
• 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি ইজ্জততুললাহ রচিত "তাজুউলমুলক গুল-ই- বকা-গুলি" এর অনুবাদ গ্রন্থ। ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত এই গ্রন্থটির বঙ্গানুবাদ করেন 'কবি নওয়াজিশ খান'।
• হিন্দি কবি মনঝনের 'মধুমালত' বা সাধনের 'মৈনাসত' কাব্যের অনুসরণে মুহম্মদ কবীর বাংলায় রচনা করেন 'মধুমালতী'।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।
৫১৮.
কোন কবি প্রথম বাংলা ভাষার মাধ্যমে আরবি-ফারসি সাহিত্যের বিষয় এদেশের পাঠকের কাছে তুলে ধরেন?
  1. ক) শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. খ) কবি আলাওল
  3. গ) কোরেশী মাগন ঠাকুর
  4. ঘ) দৌলত কাজী
সঠিক উত্তর:
ক) শাহ মুহম্মদ সগীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শাহ মুহম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা
- শাহ মুহম্মদ সগীরই প্রথম বাংলা ভাষার মাধ্যমে আরবি-ফারসি সাহিত্যের বিষয় এদেশের পাঠকের কাছে তুলে ধরেন।
- শাহ মুহম্মদ সগীর (আনু. ১৪শ-১৫শ শতক)  মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা কবি।
- তাঁর রচিত  ইউসুফ-জুলেখা কাব্যে গৌড় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০) স্তুতি আছে।
- তিনি সম্ভবত সুলতানের সভাকবি ছিলেন এবং তাঁরই নির্দেশে এ কাব্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৫১৯.
গোপীচন্দ্রের কাহিনির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় -
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. মহাভারত
  3. জায়সীর পদুমাবতে
  4. কৃষ্ণকুমারীতে
সঠিক উত্তর:
জায়সীর পদুমাবতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জায়সীর পদুমাবতে
ব্যাখ্যা
গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস:
- এই কাব্যের রচয়িতা শুকুর মাহমুদ।
- গোপীচন্দ্রের কাহিনির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় - জায়সীর পদুমাবতে। এ বিষয়ে প্রথম বাংলা গ্রন্থ নেপালে রচিত সপ্তদশ শতাব্দীর নাটক 'গোপীচন্দ্র নাটক'।

শুকুর মাহমুদ:
- (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম আবদুল শুকুর মাহমুদ।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম - গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫২০.
‘সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু আনলে পুড়িয়া গেল।’- পঙক্তিটি কার রচনা?
  1. চণ্ডীদাস
  2. বিদ্য্যাপতি
  3. জ্ঞানদাস
  4. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
• 'জ্ঞানদাস': 
- জ্ঞানদাস ছিলেন চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি।
- জ্ঞানদাস বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষায়, রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় ২শ(মতান্তরে চারশ) পদ লেখেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।

• বিরহের মর্মস্পর্শী আর্তি ফুটে উঠেছে জ্ঞানদাসের কবিতায়:
রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।।

• তাঁর আরো একটি বিখ্যাত পদ:
সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু আনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়-সাগরে সিনান করিতে সকলি গরল ভেল।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫২১.
'শাক্তপদাবলি' রচয়িতা হিসাবে বিখ্যাত ছিলেন -
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. দাশরথি রায়
  3. কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
  4. রজনীকান্ত সেন
সঠিক উত্তর:
কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
শাক্তপদাবলি বা শাক্ত গান হলো বাঙ্গালির প্রাণের গান।
- শাক্তগানের বিষয় - শ্যমা, কালী বা উমাকে কেন্দ্র করে রচিত।
- বাংলা শাক্তপদাবলির শ্রেষ্ঠ রচয়িতা - রামপ্রসাদ সেন। তিনি তাঁর নিজস্ব ঢঙে শাক্তপদ গাইতেন। এটি পরে 'রামপ্রসাদী সুর' বলে বাংলায় জনপ্রিয়তা লাভ করে।
- এছাড়া অপর বিখ্যাত শাক্তপদকর্তা ছিলেন - কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
----------
- রামনিধি গুপ্ত ছিলেন - টপ্পা গানের পথিকৃৎ।
- দাশরথি রায় ছিলেন - বাংলার শ্রেষ্ঠ পাঁচালিকার।
- রজনীকান্ত সেন মূলত ভক্তিগীতি ও দেশপ্রেম মূলক গান রচনা করতেন। বঙ্গভঙ্গের সময় তিনি প্রচুর দেশপ্রেমমূলক গান রচনা করেন।
এছাড়া, চারণকবি ছিলেন - মুকুন্দ দাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫২২.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যটি কত বঙ্গাব্দে সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৩০৯ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩১৬ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩২৩ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩২৬ বঙ্গাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৩২৩ বঙ্গাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩২৩ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা

'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- বড়ু চণ্ডীদাস আনুমানিক ১৩০৯ খ্রিষ্টাব্দে ছাতনা, বাঁকুড়া মতান্তরে বীরভূমের নানুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' বড়ু চণ্ডীদাসের রাধাকৃষ্ণনের প্রণয় বর্ণনার মাধ্যমে ঈশ্বরতত্ত্ব প্রকাশ করে রচিত কাব্যগ্রন্থ। এটি মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়। এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।

- কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতণ্ডতা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে। এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়। কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫২৩.
বিদ্যাপতি কোন শতকের কবি?
  1. ত্রয়োদশ শতক
  2. চতুর্দশ শতক
  3. পঞ্চদশ শতক
  4. ষোড়শ শতক
সঠিক উত্তর:
পঞ্চদশ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পঞ্চদশ শতক
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি। কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫২৪.
'প্রাকৃতপৈঙ্গল' কোন যুগের সাহিত্য?
  1. আধুনিক
  2. অন্ধকার
  3. প্রাচীন
  4. যুগসন্ধিক্ষণ
সঠিক উত্তর:
অন্ধকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্ধকার
ব্যাখ্যা
অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল,
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা',
- সেক শুভোদয়া।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫২৫.
মধ্যযুগের কবি কে?
  1. শবরপা
  2. বাহরাম খান
  3. ভানুসিংহ ঠাকুর
  4. ঈশ্বর গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
বাহরাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহরাম খান
ব্যাখ্যা
⇒ দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
- পীরভক্ত বাহরাম খানের প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন ।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।

- দৌলত উজির বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন:
• লায়লী-মজনু ও
• ইমাম-বিজয়।
উভয় কাব্যের উৎস আরবি সাহিত্য। 

অন্যদিকে,
- শবরপা ছিলেন প্রাচীন যুগের চর্যাপদের একজন কবি।
- উনিশ শতকের প্রথম থেকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূত্রপাত। এই যুগের প্রথম কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বা ঈশ্বর গুপ্ত। তিনি যুগসন্ধিক্ষণের কবি হিসেবে পরিচিত।
- ‘ভানুসিংহ ঠাকুর’ আধিুনিক যুগের কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫২৬.
'মৈনাসৎ' ও 'চান্দাইন কাব্য' অনুসরণে রচিত রোমান্টিক আখ্যানমূলক কাব্য কোনটি?
  1. পদ্মাবতী
  2. মধুমালতী
  3. চন্দ্রাবতী
  4. সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
সঠিক উত্তর:
সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
ব্যাখ্যা
• 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য:
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী রোমান্টিক আখ্যানমূলক কাব্য। 
- আরাকানরাজ শ্রীসুধর্মার সমরসচিব আশরফ খানের পৃষ্ঠপোষকতা ও নির্দেশে দৌলত কাজী সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী কাব্য রচনা করেন।

- তিনি হিন্দি কবি মিঁয়া সাধনের 'মৈনাসৎ' ও মোল্লা দাউদের 'চান্দাইন কাব্য' অনুসরণ করেন বলে ধারণা করা হয়। কাব্যটির দুই-তৃতীয়াংশ রচনার পর কবির মৃত্যু হলে আলাওল বাকি অংশ সমাপ্ত করেন (১৬৫৯)।

- এতে সামন্তপতি লোরের সঙ্গে অপর সামন্তবধূ চন্দ্রানীর পরকীয়া প্রেমের বর্ণনা আছে। কাব্যখানি মানবিক জীবনরসে সিক্ত। হিন্দি মূল কাব্যে রূপকের মাধ্যমে আধ্যাত্মিকতা বর্ণনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫২৭.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখক -
  1. ক) রামরাম বসু
  2. খ) রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়
  3. গ) চণ্ডীচরণ মুনশি
  4. ঘ) উপরের সবাই
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবাই
ব্যাখ্যা

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখক যারা ছিলেনঃ উইলিয়াম কেরি, রামরাম বসু, গোলকনাথ শর্মা, তারিণীচরণ মিত্র, চণ্ডীচরণ মুনশি, রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়, রামকিশোর তর্কালঙ্কার।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ

৫২৮.
'নবীবংশ' গ্রন্থটি কোন কবির রচনা?
  1. মুহম্মদ খান
  2. দৌলত উজির বাহরাম খান
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. আবদুল হাকিম 
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ সুলতান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ সুলতান
ব্যাখ্যা

• 'নবীবংশ' গ্রন্থটির রচয়িতা সৈয়দ সুলতান।

• 'নবীবংশ' গ্রন্থ:
- নবীবংশ গ্রন্থটি ১৫৮৪ সালে রচিত হয়। হযরত মুহম্মদ (স) এর জীবনীকাব্য এটি।
- এতে সৃষ্টির সূচনা থেকে হযরত মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত সকল নবী-রসুলের কর্ম ও ধর্মজীবনের বিস্তৃত বর্ণনা আছে।
- এছাড়া বিভিন্ন পৌরাণিক দেবদেবীকেও নবীদের ধারাভুক্ত করা হয়েছে।
- তবে ইসলামের গৌরব ও মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা ও প্রচারই এতে প্রাধান্য পেয়েছে।
- নবীবংশের দ্বিতীয় খণ্ড রসুল চরিত একখানা পৃথক গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত। বিষয়-বৈচিত্র্য ও বিশালতার বিচারে নবীবংশ মহাকাব্যের সমতুল্য।

----------------
• সৈয়দ সুলতান:
- মধ্যযুগের উল্লেখযোগ্য মুসলিম কবি।
- কাহিনিকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।
- কবির সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা নবীবংশ কাব্য।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো-
- জ্ঞানচৌতিশা,
- নবীবংশ,
- শব-ই-মেরাজ ও
- জয়কুমার রাজার লড়াই (যুদ্ধবিষয়ক কাহিনীকাব্য)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫২৯.
'যত যত মহাপণ্ডিত আছ এ সংসারে/আমার কবিত্ব কেহ নিন্দিতে না পারে।'-এটি কার রচনা?
  1. কাশীরাম দাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  4. কৃত্তিবাস ওঝা
সঠিক উত্তর:
কৃত্তিবাস ওঝা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃত্তিবাস ওঝা
ব্যাখ্যা
• 'যত যত মহাপণ্ডিত আছ এ সংসারে/আমার কবিত্ব কেহ নিন্দিতে না পারে।'- পঙ্‌ক্তিটি কৃত্তিবাস ওঝা করেছেন।

• কৃত্তিবাস পঞ্চদশ শতকের কবি।
- তাঁর একটি দীর্ঘ আত্মপরিচিতি পাওয়া গেছে।
- এ আত্মপরিচিতিতে তিনি অনেক কথা বলেছেন। 
---------------------- 
• কৃত্তিবাস ওঝা:
- বাল্মীকির রামায়ণের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ অনুবাদক।
- তার এ রামায়ণকে শ্রীরাম পাঁচালিও বলা হয়।
- মৈথিলি ব্রাহ্মণদের অসমিয়া ভাষায় ওঝা বলা হয়।
- ওঝা শব্দটি এসেছে ‘উপাধ্যায়' থেকে।
- কৃত্তিবাসের পদবি ছিল মুখোপাধ্যায়।
-  বাংলা রামায়ণের আদি কবির নাম কৃত্তিবাস ওঝা।
- কবির কাব্যের ‘আত্ম পরিচয়' অংশ থেকে তাঁর বংশ পরিচয় পাওয়া যায়।

- তাঁর রামায়ণ এতোটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করে যে, ১৮০২-০৩ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীরামপুরের পাদ্রিরা তাদের নব প্রতিষ্ঠিত প্রেসে গ্রন্থটি মুদ্রণ করেন। এ কারণে গোপাল হালদার মন্তব্য করেছেন, 'বাল্মীকি যেমন সংস্কৃতের আদি কবি কৃত্তিবাসও তেমনি বাঙলার আদি কবি।'
- কৃত্তিবাসের রামায়ণে চরিত্রসমূহ বাঙালি ঘরোয়া আমেজে সকলের পরিচিত হয়ে উঠেছে।
- মধুসূদন দত্ত একটি সনেটে কবিকে 'কীর্তিবাস তুমি' বলে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন।
- 'কৃত্তিবাস কীর্তিবাস কবি, এ বঙ্গের অলঙ্কার'- কৃত্তিবাস সম্পর্কে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এ মন্তব্য করেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ।
৫৩০.
'আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাত।' - কোন কবির সাহিত্যে এ প্রার্থনাটি ধ্বনিত হয়েছে?
  1. ঈশ্বরী পাটনী
  2. আলাওল
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
• 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে' - ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র- মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি। 
-----------------
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- ইন্দ্রনারায়ণ তাঁর বিশিষ্ট বন্ধু নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সঙ্গে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন। মহারাজা কবির পান্ডিত্য ও ব্যবহারে মুগ্ধ হন এবং তাঁকে ৪০ টাকা মাসোহারা দিয়ে আমত্য বা রাজসভাসদ পদে নিয়োগ দেন।
- মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘গুণাকর’ অর্থাৎ ‘সকল গুণের আধার’ উপাধিতে সম্মানিত করেন। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ:
- অন্নদামঙ্গল,
- গঙ্গাষ্টক,
- রসমঞ্জরী।
------------------- 
• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো: 
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে',
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন',
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়',
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।',
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩১.
'শূন্যপুরাণ' কত বঙ্গাব্দে প্রকাশ করা হয়?
  1. ১৩১৫ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩২৫ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩১৪ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩১৭ বঙ্গাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৩১৪ বঙ্গাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩১৪ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা
শূন্যপুরাণ:
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম ‘শূন্যপুরাণ’।
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি।
- শূন্যপুরাণ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ- গদ্যপদ্য মিশ্রিত চম্পুকাব্য।
- গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন।
- ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ নামে শূন্যপুরাণের একটি অংশ আছে।
- বৌদ্ধধর্মের ধ্বংসন্মুখ অবস্থায় হিন্দু ধর্মের সঙ্গে মিলন সাধনের জন্য রামাই পণ্ডিত ধর্মপূজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- এতে বৌদ্ধদের শূন্যবাদ এবং হিন্দুদের লৌকিক ধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে।
-বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে শূন্যপুরাণ শিল্পকর্ম হিসেবে নয়, ধর্মগ্রন্থ হিসেবেই ঐতিহাসিক গুরুত্ব পেয়ে আসছে।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুঁথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৩২.
কোরেশী মাগন ঠাকুর কোন কাব্য রচনার জন্য পৃষ্ঠপোষকতা করেন?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. ইউসুফ জুলেখা 
  3. পদ্মাবতী
  4. সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা

• কোরেশী মাগন ঠাকুর:
- কোরেশী মাগন ঠাকুর (১৭শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি। তিনি চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
- বাংলা, ফারসি, বর্মি ও সংস্কৃত ভাষায় মাগন ঠাকুরের অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। সঙ্গীত ও অলঙ্কারশাস্ত্রেও তাঁর দখল ছিল।

- রোসাঙ্গের কবি আলাওল তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন এবং তাঁরই নির্দেশে পদ্মাবতী (১৬৫২) ও সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (১৬৫৯) কাব্য রচনা করেন। আলাওলকে দুটি কাব্য ‘পদ্মাবতী’ ও ‘সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান' লিখতে পৃষ্ঠপােষকতা করেছিলেন। মাগন ঠাকুর গুণীর সমাদর করতেন এবং তিনি নিজেও ছিলেন নানা গুণের অধিকারী।
- তাঁর রচিত চন্দ্রাবতী কাব্যের একটিমাত্র পুথি পাওয়া গেছে। এটি লোককাহিনী আশ্রিত রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য। বর্ণনাধর্মী এ কাব্যে সাহিত্যিক গুণের অভাব থাকলেও মধ্যযুগের কাব্য হিসেবে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।

অন্যদিকে,
• 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
• 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্যটির রচয়িতা- 'দৌলত কাজী'।
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর। তাঁর রচিত একটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান 'ইউসুফ জুলেখা'। গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্য রচনা করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৩৩.
"এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর। 
এ ভরা বাদর মাহ ভাদর
শূন্য মন্দির মোর।" - পদটি কার রচনা?
  1. জ্ঞানদাস
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. চণ্ডীদাস
  4. বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
• বিদ্যাপতি বিভিন্ন শাস্ত্রজ্ঞ ছিলেন, তবে সংস্কৃত কাব্য ও অলংকার শাস্ত্রে তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল অসাধারণ। 
• তিনি ব্রজবুলি ভাষায় রাধা-কৃষ্ণের পাঁচশ’র বেশি পদ রচনা করেছেন।
• বাংলা ভাষায় একটি পঙ্‌ক্তি না লিখেও তিনি বাঙালিদের কাছে নমস্য।
• তাঁর পদাবলি তত্ত্ব দ্বারা আক্রান্ত নয়। রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখেছেন।
•  তাঁর অসখ্য পদের মধ্যে রাধার বয়ঃসন্ধি, রাধার অভিসার, প্রেম বৈচিত্ত্য, বিরহ ও ভাবসম্মিলনের পদগুলো দৃষ্টি কেড়ে নেয়।
 
তাঁর রচিত রাধার বর্ষাবিরহ পদ-

এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর। 
এ ভরা বাদর মাহ ভাদর
শূন্য মন্দির মোর।
 
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩৪.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের রচিত বই -
  1. ক) হিতোপদেশ
  2. খ) বেদান্তসার
  3. গ) প্রবোধচন্দ্রিকা
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বই লিখেছিলেন মৃত্যঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
তার বইগুলো হচ্ছে হিতোপদেশ, বত্রিশ সিংহাসন, রাজাবলি, প্রবোধচন্দ্রিকা, বেদান্তচন্দ্রিকা। বাংলা গদ্যকে সামনের দিকে অনেকখানি এগিয়ে নিয়ে গেছিলেন বিদ্যালঙ্কার।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ

৫৩৫.
লৌকিক কাহিনীর প্রথম রচয়িতা কে? 
  1. ফকির গরীবুল্লাহ
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. দৌলত কাজী
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা

• লৌকিক কাহিনির প্রথম রচয়িতা - দৌলত কাজী।

• দৌলত কাজী:
- লৌকিক কাহিনীর প্রথম রচয়িতা দৌলত কাজী।
- দৌলত কাজী মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি।
- তিনি ষোল শতকের অন্যতম কবি।
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী কাব্য রচনা করেন।
- এটি তার রচিত শ্রেষ্ঠকাব্যগ্রন্থ যা তিনখণ্ডে রচিত।
- এতে সামন্তপতি লোরের সঙ্গে অপর সামন্তবধূ চন্দ্রানীর পরকীয়া প্রেমের বর্ণনা আছে।
- এই কাব্যখানি মানবিক জীবনরসে সিক্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৩৬.
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কত বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৩০৯ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩১৬ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩২৩ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩২৬ বঙ্গাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৩২৩ বঙ্গাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩২৩ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- বড়ু চণ্ডীদাস আনুমানিক ১৩০৯ খ্রিষ্টাব্দে ছাতনা, বাঁকুড়া মতান্তরে বীরভূমের নানুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' বড়ু চণ্ডীদাসের রাধাকৃষ্ণনের প্রণয় বর্ণনার মাধ্যমে ঈশ্বরতত্ত্ব প্রকাশ করে রচিত কাব্যগ্রন্থ। এটি মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন। ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়। এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।
- কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতণ্ডতা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে। এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়। কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত। এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।
- কাব্যটি মোট ১৩ খণ্ডে ৪১৮টি পদে বিন্যস্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা।

৫৩৭.
'লায়লী-মজনু' কার কাব্য অবলম্বনে রচিত হয়েছে?
  1. মীর্জা গোলাম
  2. হেলাল হাফিজ
  3. আবদুর রহমান জামি
  4. মালিক মুহাম্মদ জয়সীর
সঠিক উত্তর:
আবদুর রহমান জামি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুর রহমান জামি
ব্যাখ্যা
'লায়লী-মজনু' কাব্য:
- দৌলত উজির বাহরাম খান রচিত ‘লায়লী মজনু’কাব্য।
- ‘লায়লী মজনু’র রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে।
- আহমদ শরীফের মতে ১৫৪৩-১৫৫৩। শহীদুল্লাহর মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- 'লায়লী মজনু' পারসি কবি আবদুর রহমান জামির কাব্য অবলম্বনে রচিত।
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে।
- এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩৮.
চন্দ্রাবতীর রচনায় কোন সময়ের সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থা প্রতিফলিত?
  1. চতুর্দশ শতাব্দীর
  2. পঞ্চদশ শতাব্দীর
  3. ষোড়শ শতাব্দীর
  4. সপ্তদশ শতাব্দীর
সঠিক উত্তর:
ষোড়শ শতাব্দীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষোড়শ শতাব্দীর
ব্যাখ্যা
চন্দ্রাবতী:
- ষোড়শ শতাব্দীর নারীকবি।
- তিনি ১৫৫০ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জের পাতোয়ারি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- চন্দ্রাবতীর পিতা মনসামঙ্গলের কবি 'দ্বিজ বংশীদাস'।
- চন্দ্রাবতী রচিত কাব্যগুলো:
• মলুয়া,
• দস্যু কেনারামের পালা,
• রামায়ণ ইত্যাদি।
- লৌকিক, মানবিক ও কিছু মৌলিক উপাদান সংযোগের ফলে তাঁর রচিত 'রামায়ণ' বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।
- ষোড়শ শতাব্দীর সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থা তাঁর রচনায় প্রতিফলিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩৯.
আলাওল কার আদেশে 'পদ্মাবতী' কাব্যটি রচনা করেন?
  1. দৌলত কাজীর আদেশে
  2. দৌলত উজির বাহরাম খানের আদেশে 
  3. কানাহরি দত্তের আদেশে
  4. মাগন ঠাকুরের আদেশে
সঠিক উত্তর:
মাগন ঠাকুরের আদেশে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাগন ঠাকুরের আদেশে
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে 'পদ্মাবতী' কাব্য রচনা করেন।

- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

--------------------
 আলাওল:
-  আলাওল (আনু. ১৬০৭-১৬৮০) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- আলাওল মধ্যযুগের সর্বাধিক গ্রন্থপ্রণেতা। তাঁর মোট কাব্যসংখ্যা সাতটি।

সেগুলির মধ্যে আখ্যানকাব্য হচ্ছে- 
- পদ্মাবতী (১৬৪৮),
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী (১৬৫৯),
- সপ্তপয়কর (১৬৬৫),
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (১৬৬৯) ও
- সিকান্দরনামা (১৬৭৩)। 

• নীতিকাব্য
- তোহ্‌ফা (১৬৬৪)। 

• সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য
- রাগতালনামা।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।
৫৪০.
আলাওলের 'পদ্মাবতী' কাব্যে কয়টি পর্ব রয়েছে?
  1. এক
  2. দুই
  3. তিন
  4. চার
সঠিক উত্তর:
দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই
ব্যাখ্যা
‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।

• কাব্যটিতে — দুইটি পর্ব রয়েছে।
প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 

• আলাওল: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। 
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ। 

আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য,
- আধুনিক যুগের লেখক মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬০ সালে পদ্মাবতী নাটক রচনা করেন।
- এটি একটি পৌরাণিক নাটক গ্রিক পুরাণের ‘অ্যাপেল অব ডিসকর্ড’ গল্প অবলম্বনে রচিত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া
৫৪১.
'জয়নবের চৌতিশা' - গ্রন্থটি কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. মর্সিয়া সাহিত্য
  2. নাথ সাহিত্য
  3. লোকসাহিত্য
  4. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া সাহিত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মর্সিয়া সাহিত্য
ব্যাখ্যা

মর্সিয়া সাহিত্য:
- পারস্যের কবিদের দ্বারা মর্সিয়া সাহিত্যের প্রসার ঘটে।
- বাংলা সাহিত্যের মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম কবি শেখ ফয়জুল্লাহ।
- বাংলা সাহিত্যে মর্সিয়া সাহিত্যের প্রথম কাব্য জয়নবের চৌতিশা এটি ১৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
-  রাধারমণ গোপ মর্সিয়া সাহিত্যের হিন্দু কবি।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'ইমামগণের কেচ্ছা ও অফৎনামা'।
- দৌলত উজির বাহরাম খাঁ কারবালার করুণ কাহিনি নিয়ে 'জঙ্গনামা' নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাব্য লেখেন। এটি ১৭২৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৪২.
সংস্কৃত নাটক ‘সংগীতমাধব’ রচনা করেন কে?
  1. গোবিন্দদাস
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. দ্বিজমাধব
  4. বিপ্রদাস পিপলাই
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
গোবিন্দদাস:
- গোবিন্দদাস কবিরাজ (আনু. ১৫৩৫-১৬১৩) বৈষ্ণব পদকর্তা।
- পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকট তেলিয়াবুধুরি গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁর আসল পদবি সেন এবং তাঁর ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- তাঁর নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ এবং ‘কবীন্দ্র’ উপাধি প্রদান করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৪৩.
‘ঈশ্বরী পাটনী’ কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. কালিকামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ ‘বিদ্যাসুন্দর'।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

-----------------
অন্যদিকে,
• মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

• কালিকামঙ্গল কাব্যের দুটি চরিত্র- বিদ্যা ও সুন্দর।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৪৪.
‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী’ কাব্যটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. অক্ষরবৃত্ত
  2. দোলন ত্রিপদী
  3. পয়ার ত্রিপদী
  4. মাত্রাবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
পয়ার ত্রিপদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পয়ার ত্রিপদী
ব্যাখ্যা
'সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী' কাব্য:
- এটি দৌলত কাজী রচিত কাব্যের নাম 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী'।
- এই গ্রন্থের মূল হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসৎ' নামক কাব্য। তাঁর এ কাব্য বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষার মিশ্রণে রচিত।
- 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী' কাব্যটি 'পয়ার ত্রিপদী' ছন্দে রচিত। কাব্য রচনার শেষ পর্যায়ে তাঁর মৃত্যু হলে আলাওল (১৬৫৯) তা সম্পূর্ণ করেন।

দৌলত কাজী:
- তিনি মূলত মধ্যযুগের বিশিষ্ট কবি ছিলেন।
- তিনি আনুমানিক ১৬০০ থেকে ১৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সুলতানপুর গ্রাম, রাউজান, চট্টগ্রাম জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা, সংস্কৃত, হিন্দি ও ব্রজবুলি ভাষায় জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।
- দৌলত কাজী আরাকানের রাজা সুধর্মের সমর সচিব আশারাফ খানের উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় হিন্দি কাব্য অবলম্বনে কাব্য রচনায় উৎসাহী হন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৪৫.

'সুখের লাগিয়া এঘর বাঁধিনু
আনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়-সাগরে সিনান করিতে
সকলি গরল ভেল'
—পদটি কে রচনা করেছেন?

  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. বিদ্যাপতি
  3. জ্ঞানদাস
  4. চন্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা

জ্ঞানদাস ছিলেন চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি৷
জ্ঞানদাসের পদরচনার মূল বিষয় প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা।
প্রণয়ের পূর্বরাগ তার রচনায় চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
জ্ঞানদাসের একটি বিখ্যাত পদের কিছু
অংশ:
'সুখের লাগিয়া এঘর বাঁধিনু
আনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়-সাগরে সিনান করিতে
সকলি গরল ভেল'।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৫৪৬.
‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই'- কে বলেছেন?
  1. ক) চণ্ডীদাস
  2. খ) বিদ্যাপতি
  3. গ) রামকৃষ্ণ পরমহংস
  4. ঘ) বিবেকানন্দ
সঠিক উত্তর:
ক) চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• চন্ডীদাসের বিখ্যাত উক্তি:
- 'শুনহ মানুষ ভাই, সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।'
- 'সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম।',
- 'সখি কেমনে ধরিব হিয়া, আমার বধূয়া আনবাড়ী যায় আমার আঙিনা দিয়া।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৫৪৭.
আবদুল হাকিম কোন শতকের কবি?
  1. ষোলো শতক
  2. সতেরো শতক
  3. আঠারো শতক
  4. পনেরো শতক
সঠিক উত্তর:
সতেরো শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সতেরো শতক
ব্যাখ্যা
আবদুল হাকিম:
- আবদুল হাকিম চট্টগ্রামের সন্দীপের ভুলুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তিনি সতেরো শতকের কবি।
- তিনি ৮ টি গ্রন্থ লিখেছেন।

আবদুল হাকিম রচিত গ্রন্থ:
- লালমতি সয়ফুল মুলুক
- নূরনামা
- কারবালা
- ইউসুফ জোলেখা
- নসীহৎনামা
- শহরনামা
- শিহাবউদ্দিননামা
- চারি মোকামভেদ। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৪৮.
‘লায়লী মজনু’ কাব্যের প্রেক্ষাপট বা উপাখ্যানটি কোন দেশের?
  1. সৌদি আরব
  2. ইরাক
  3. তুরস্ক
  4. ইরান
সঠিক উত্তর:
ইরান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইরান
ব্যাখ্যা

'লায়লী মজনু' কাব্য:
- 'লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান।
- 'লায়লী মজনু' কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন আহমদ শরীফের মতে (১৫৪৩-১৫৫৩) সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহর মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির 'লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ। 'লাইলী মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ-ইরান।
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে এই কাব্যে।
- এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৪৯.
পাণিনি কে ছিলেন?
  1. ক) ভাষাবিদ
  2. খ) ঋগ্বেদবিদ
  3. গ) বৈয়াকরণিক
  4. ঘ) আখ্যানবিদ
সঠিক উত্তর:
গ) বৈয়াকরণিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বৈয়াকরণিক
ব্যাখ্যা

- বিখ্যাত বৈয়াকরণিক পাণিনি ছিলেন উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ ব্যাকরণবিদ। তিনি অষ্টাধ্যায়ী নামক সংস্কৃত ব্যাকরণ গ্রন্থের জন্য বিখ্যাত ।
- প্রাচীন ও মধ্যযুগে বঙ্গদেশে প্রধানত সংস্কৃত ব্যাকরণেরই চর্চা হয়েছে; খুব সামান্য হয়েছে প্রাকৃত ব্যাকরণের চর্চা। এখানে পাণিনির (আনু. খ্রি.পূ পঞ্চম শতক) অষ্টাধ্যায়ীর সূত্রের সংক্ষিপ্ত রূপান্তরই বেশি জনপ্রিয় ছিল। 
Source: বাংলাপিডিয়া।

৫৫০.
আলাওল রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি ?
  1. সপ্তপয়কর
  2. সিকান্দারনামা
  3. সত্যপীরবিজয়
  4. তোহফা
সঠিক উত্তর:
সত্যপীরবিজয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যপীরবিজয়
ব্যাখ্যা

• আলাওল রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় ‘সত্যপীরবিজয়’। এটি শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ।

⇒ আলাওল: 

- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- আরাকান রাজসভা তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।
- পদ্মাবতী তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।

• সৈয়দ আলাওল রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম: 
- পদ্মাবতী,
- সপ্তপয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর বইতে সপ্তপয়কর বইটি ‘হপ্তপয়কর’ নামে বর্ণনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৫১.
লায়লী মজনু কাব্যের রচয়িতা-
  1. শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. দৌলত কাজী
  3. দৌলত উজির বাহরাম খান
  4. সাবিরিদ খান
সঠিক উত্তর:
দৌলত উজির বাহরাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৌলত উজির বাহরাম খান
ব্যাখ্যা

• ‘লায়লী মজনু' কাব্য:
- ‘লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান।
- ‘লায়লী মজনু’ কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন আহমদ শরীফের মতে (১৫৪৩-১৫৫৩) সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহর মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির ‘লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ।
- 'লাইলী মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ-ইরান।
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে এই কাব্যে।
- এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।


• দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
- পীরভক্ত বাহরাম খানের প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।

- দৌলত উজির বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন:
• লায়লী মজনু ও
• ইমাম বিজয়।
উভয় কাব্যের উৎস আরবি সাহিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৫২.
'রাগতালনামা' কবি আলাওল রচিত কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. নীতিকাব্য
  2. সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য
  3. আখ্যানকাব্য
  4. নাট্যকাব্য
সঠিক উত্তর:
সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের কবি আলাওল:
- আলাওল মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর কবিপ্রতিভার স্ফুরণ ঘটলে প্রধান অমাত্য কোরেশী মাগন ঠাকুরের (১৬৪৫-৫৮) আনুকূল্যে তিনি আরাকানের অমাত্যসভায় স্থান পান। 
 - আলাওল মধ্যযুগের সর্বাধিক গ্রন্থপ্রণেতা। তাঁর মোট কাব্যসংখ্যা সাতটি।

সেগুলির মধ্যে আখ্যানকাব্য হচ্ছে- 
• 'পদ্মাবতী' মালিক মুহম্মদ জায়সীকৃত হিন্দি পদুমাবত অবলম্বনে রচিত। 
• 'সতীময়না ও লোর-চন্দ্রানী' সাধনকৃত মৈনাসত অনুসরণে রচিত। 
• 'সপ্তপয়কর' নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি হফত্ পয়কর অনুসরণে রচিত। 
• 'তোহফা' ইউসুফ গদাকৃত ফারসি তুহুফ-ই-নসাঈহ অনুসরণে রচিত। 
• 'সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল' গাওয়াসীকৃত ফারসি সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল সয়ফুলমুলুক এবং
• 'সিকান্দরনামা' নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি সিকান্দরনামা অনুসরণে রচিত।

• নীতিকাব্য: তোহফা (১৬৬৪) এবং
• সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য: রাগতালনামা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৫৩.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. সিলেট 
  2. চট্টগ্রাম
  3. মুর্শিদাবাদ 
  4. নদীয়া 
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

• শাহ মুহম্মদ সগীর:
- শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম মুসলিম কবি এবং ইউসুফ-জোলেখা কাব্যের রচয়িতা। তিনি গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০ খ্রিস্টাব্দ) রাজত্বকালে এই কাব্য রচনা করেন।
- তাঁর জন্মস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য তাঁর কাব্যে উল্লেখ নেই, তবে পণ্ডিতদের গবেষণার ভিত্তিতে তাঁর জন্মস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

তাঁর জন্মস্থান সম্পর্কিত তথ্য:
- ড. মুহম্মদ এনামুল হক তাঁর গবেষণায় শাহ মুহম্মদ সগীরের কাব্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের কতিপয় শব্দের ব্যবহার লক্ষ করেছেন, যেমন স্থানীয় ভাষার প্রভাব ও শব্দচয়ন।এই ভিত্তিতে তিনি অনুমান করেছেন যে শাহ মুহম্মদ সগীর চট্টগ্রামের অধিবাসী ছিলেন। এছাড়া, চট্টগ্রাম তৎকালীন সময়ে আরাকানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল, যা তাঁর কাব্যচর্চার পটভূমির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

- তাঁর কাব্যে বাংলার স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রূপ ফুটে উঠেছে, যা চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক পটভূমির সঙ্গে মিলে যায়।

শাহ মুহম্মদ সগীর সম্পর্কিত আরো কিছু তথ্য:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম [প্রাচীনতম] মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকে সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সভাকবি ছিলেন এবং তাঁর নির্দেশে ইউসুফ-জোলেখা কাব্য রচনা করেন।।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি শাহ্ মুহম্মদ সগীর।

-------------------
• ইউসুফ-জোলেখা কাব্য:
- ইউসুফ-জোলেখা' শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।
এই কাব্যে রাজবন্দনায় তিনি নিজেকে সুলতান গিয়াসউদ্দিনের আজ্ঞার অধীন বলে উল্লেখ করেছেন, যা তাঁর সভাকবি হিসেবে পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
- কবি 'ইউসুফ-জোলেখা' কাব্যের রাজবন্দনা অংশে লিখেছেন- "মনুষ্যের মৈদ্ধে জেহ্ন ধর্ম অবতার। মহা নরপতি গোজন পিরথিম্বীর সার।।"
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জুলেখা। তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জুলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। সগীর বাইবেল পড়েন নি; তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।
- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জুলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ জুলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তকে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মুহম্মদ এনামুল হক; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৫৪.
'শূন্যপুরাণ' কোন ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ?
  1. হিন্দু ধর্মীয়
  2. খ্রিষ্ট ধর্মীয়
  3. বৌদ্ধ ধর্মীয়
  4. জৈন ধর্মীয়
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ ধর্মীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ ধর্মীয়
ব্যাখ্যা

• 'শূন্যপুরাণ':
- 'শূন্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ এবং অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- 'শূন্যপুরাণ' বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি। গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়। কারো মতে গ্রন্থটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৫৫.
'সত্য পীরের পাঁচালি' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ফকির গরীবুল্লাহ
  2. আলাওল
  3. সৈয়দ হামজা
  4. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম - সত্যপীরের পাঁচালি (১৭৩৭-৩৮)।

উল্লেখ্য,
- 'সত্যপীরের পুঁথি' কাব্যের রচয়িতা - ফকির গরীবুল্লাহ।

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:

- ভারতচন্দ্রের আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৫৫৬.
‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য কয়টি খণ্ডে বিভক্ত?
  1. তিন খণ্ডে
  2. চার খণ্ডে
  3. পাঁচ খণ্ডে
  4. ছয় খণ্ডে
সঠিক উত্তর:
তিন খণ্ডে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন খণ্ডে
ব্যাখ্যা
• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন। 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যধারার প্রধান কবি ছিলেন- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। 
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। 

যথা: 
→ শিবনারায়ণ, 
→ কালিকামঙ্গল এবং 
→ মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড। 

- কালিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দর কাহিনি' বলা হয়।
- দেবী কালির মাহাত্ম বর্ণনা করা হয়েছে এই মঙ্গল কাব্যে। 
- কালিকামঙ্গল কাব্যের আদি কবি- কবি কঙ্ক।
- এছাড়া সাবিরিদ খান ও রমাপদ সেন কালিকা মঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন। 
=================== 
• ভারতচন্দ্র রায়: 
- ভারতচন্দ্র রায় মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত।
- তাঁর পিতা নরেন্দ্রনারায়ণ রায় (মুখার্জি) জমিদার ছিলেন।
- তিনি হাওড়া জেলার পেন্ড্রো গ্রামে বাস করতেন। 
- ধর্মমঙ্গলের রচয়িতা রামদাস তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে প্রতাপনারায়ণের কথা উল্লেখ করেন।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল বিমিশ্র দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।
- উনবিংশ শতাব্দীর কলকাতায় ভারতচন্দ্র অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন এবং ৪৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৫৫৭.
দৌলত কাজী বাংলা সাহিত্যে কোন ধারার প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত?
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. বৈষ্ণব পদাবলি
  3. রোমান্টিক আখ্যান কাব্য
  4. নীতিকাব্য
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক আখ্যান কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক আখ্যান কাব্য
ব্যাখ্যা

দৌলত কাজী বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিক আখ্যান কাব্য ধারার প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত। 

• দৌলত কাজী:
- দৌলত কাজী মধ্যযুগের একজন কবি। তিনি বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিক আখ্যান কাব্যের প্রবর্তক।
- তাঁর প্রধান কাব্য ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’।
- দেবদেবীর গুণকীর্তন বাদ দিয়ে মানব প্রেমকাহিনিকে কেন্দ্র করে কাব্য রচনা করেন।
- ধর্ম-সংস্কারমুক্ত ঐহিক কাব্যের সূচনা মুসলমান কবিদের হাত ধরে হয়।
- আরাকান রাজসভা এই কাব্যধারার একটি প্রধান কেন্দ্র ছিল।
- দৌলত কাজী লস্কর উজির আশরাফ খান-এর পৃষ্ঠপোষকতায় লেখালেখি করতেন।
- তিনি ‘সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী’ কাব্য অসমাপ্ত রেখে মৃত্যুবরণ করেন।
- পরবর্তীতে আলাওল ১৬৫৯ সালে এই কাব্যের শেষাংশ সম্পূর্ণ করেন।
- ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, দৌলত কাজীর জীবনকাল আনুমানিক ১৬০০–১৬৩৮ খ্রি.।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫৫৮.
আলাওলের ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের মূল কাহিনি কোন দেশের রাজকন্যাকে কেন্দ্র করে রচিত?
  1. সেশেলসের রাজকন্যা 
  2. আফগানিস্তানের রাজকন্যা
  3. সিংহলের রাজকন্যা
  4. চিতোরের রাজকন্যা
সঠিক উত্তর:
সিংহলের রাজকন্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিংহলের রাজকন্যা
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের আদিপর্বের শ্রেষ্ঠ রচনা ‘পদ্মাবতী’।
- কাব্যটি সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীর প্রেম ও কাহিনী ঘিরে আবর্তিত।
-------------------------------
সৈয়দ আলাওল:
- সৈয়দ আলাওল ছিলেন মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একজন প্রধান কবি।
- আলাওল ছিলেন বহুভাষাবিদ; তিনি আরবি, ফারসি, সংস্কৃত, বাংলা এবং ব্রজবুলিতে পারদর্শী ছিলেন।
- তিনি আরাকানের দরবারে অমাত্য ও কবি হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তাঁকে মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের 'বার্ড' বলা হয়।
- তিনি রোমান্টিক ধারার বাংলা সাহিত্যের প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত;
- কারণ ধর্মীয় কাহিনীর বাইরে গিয়ে তিনি ফারসি ও হিন্দি সাহিত্য থেকে প্রাপ্ত কাহিনী নিয়ে প্রেমময় উপাখ্যান রচনা করেছেন।

- প্রধান কাব্য ‘পদ্মাবতী’-র পাশাপাশি তাঁর কিছু গুরুত্বপূর্ণ রচনা হচ্ছে:
• তোহফা, 
• সপ্তপয়কর,
• সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল,
• সিকান্দারনামা,
• ‘সাপচন্দ’,
• ‘সতীময়না ও
• লোরচন্দ্রানী’ প্রভৃতি। 
----------------------------
• 'পদ্মাবতী' নিয়ে কিছু কথা:
- পদ্মাবতী সৈয়দ আলাওল রচিত একটি অনন্য রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান, যা রচিত হয় আনুমানিক ১৬৪৮–১৬৫২ খ্রিষ্টাব্দে।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- আলাওল তাঁর পদ্মাবতী কাব্যের মূল কাহিনি গ্রহণ করেন মুহম্মদ জায়সী-এর রচিত হিন্দি “পদুমাবৎ” মহাকাব্য থেকে।

- কাব্যে প্রেম, যুদ্ধ, সম্মান, আধ্যাত্মিকতা ও রূপকবর্ণনার সংমিশ্রণ রয়েছে।
- রূপক ও প্রতীকী বর্ণনার মাধ্যমে পদ্মাবতীর সৌন্দর্য, রত্নসেনের বীরত্ব এবং সুফি দর্শন ফুটে উঠেছে।
- ইতিহাস ও সামাজিক প্রেক্ষাপটকে মিলিয়ে আলাওল ফারসি কাহিনীটি বাংলায় রূপান্তর করেছেন।
- কাব্যটির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে চিতোর রাজা রত্নসেন ও সিংহলরাজকন্যা পদ্মাবতীর প্রেমঘটনা ঘিরে।
- চিতোরের রাজা রত্নসেনের সঙ্গে পদ্মাবতীর প্রেমের কথা জানতে পেরে দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি পদ্মাবতীর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে চিতোর আক্রমণ করেন - এটাই কাব্যের মূল সংঘাত।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ।

৫৫৯.
'আমীর হামজা' কোন শ্রেণির কাব্য ?
  1. ক) রোমান্টিক প্রনয়োপাখ্যান
  2. খ) জীবনী সাহিত্য
  3. গ) মর্সিয়া সাহিত্য
  4. ঘ) জঙ্গনামা
সঠিক উত্তর:
ঘ) জঙ্গনামা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জঙ্গনামা
ব্যাখ্যা
'আমীর হামজা' ফকীর গরীবুল্লাহ রচিত জঙ্গনামাশ্রেণির কাব্য।

⇒ জঙ্গনামা  মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা।
- বিশেষত  হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণীর কাব্যের মূল বিষয়।
- যেসব যুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে।
- তাই আরবি-ফারসি সাহিত্যে যেমন, বাংলা সাহিত্যেও তেমনি ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৬০.
কে বাংলা ভাষার কবি নন? 
  1. জ্ঞানদাস
  2. চণ্ডীদাস
  3. মুকুন্দরাম
  4. জয়দেব
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
ব্যাখ্যা
- জয়দেব সংস্কৃত ভাষার বাঙ্গালি কবি। 
- তিনি বাংলার শেষ হিন্দু রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভা কবি ছিলেন। 
- তাঁর লিখিত গীতিকাব্য 'গীতগোবিন্দ'। 

অন্যদিকে, 
- চণ্ডীদাস, জ্ঞানদাস ও মুকুন্দরাম তিনজনই মধ্যযুগের বাংলা ভাষার কবি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬১.
কোন প্রতিষ্ঠান থেকে 'শূন্যপুরাণ' গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়?
  1. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বাংলা একাডেমি
  3. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  4. এশিয়াটিক সোসাইটি
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
ব্যাখ্যা

'শূণ্যপুরাণ':
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। 
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৬২.
ইরানি কবি জামির 'লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ করেন কে?
  1. শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ 
  3. দৌলত উজির বাহরাম খান
  4. নাওয়াজিশ খান
সঠিক উত্তর:
দৌলত উজির বাহরাম খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৌলত উজির বাহরাম খান
ব্যাখ্যা

• 'লায়লী মজনু' কাব্য:
- 'লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান। 'লায়লী মজনু' কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন- আহমদ শরীফের মতে ৫৪৩-১৫৫৩ সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহ্‌র মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির 'লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ।
- 'লাইলী-মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ- ইরান।
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে এই কাব্যে। এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৬৩.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের রচনার বিশেষত্ব ছিল-
  1. গ্রামীণ জীবন চিত্র
  2. রোম্যান্টিকতা
  3. বিদ্রোহ
  4. ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ
সঠিক উত্তর:
ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই শত বছরের সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'যুগসন্ধির কাল' বলা হয়। মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুরি প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়।
- ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ এবং দেশ ও সমাজভাবনাই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬৪.
'পূর্বরাগ' এর শ্রেষ্ঠ পদকর্তা বলা হয় কাকে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. চণ্ডীদাস
  3. জ্ঞানদাস
  4. জয়দেব
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• পূর্বরাগ:
- রূপ গোস্বামী ''উজ্জ্বলনীলমণি'' গ্রন্থে পূর্বরাগের সংজ্ঞার্থে বলেছেন -
- মিলনের পূর্বে দর্শন, নাম শ্রবণ প্রভৃতি দ্বারা নায়ক নায়িকার মনে পরস্পরের প্রতি যে অনুরাগ জন্মে, তাকে বলে পূর্বরাগ।
- পূর্বরাগের শ্রেষ্ঠ পদকর্তা - চণ্ডীদাস।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে পূর্বরাগ জনপ্রিয় কাব্যরূপ।

এছাড়াও, 
- প্রেমিক বা প্রেমিকা যখন গোপনে কোনো একটা নির্দিষ্ট স্থানে পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হবার জন্য যাত্রা করে তাকে অভিসার বলে।
- প্রেমাবিষ্ট হৃদয়ের একটি বিশিষ্ট ভাবকে প্রেমবৈচিত্ত্য বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৫৬৫.
মধ্যযুগের কবি দ্বিজ বংশীদাস কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. বরিশাল
  2. কিশোরগঞ্জ
  3. নারায়ণগঞ্জ
  4. মুন্সিগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
কিশোরগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিশোরগঞ্জ
ব্যাখ্যা

দ্বিজ বংশীদাস:
- মনসামঙ্গল গ্রন্থটি মধ্যযুগ এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি দ্বিজ বংশীদাস রচিত।
- দ্বিজ বংশীদাস পদ্মাপুরাণ বা মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম কবি ছিলেন।
- তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাব্যে ‘মঘ-ফিরিঙ্গি’, ‘বন্দুক-পলিতা’ প্রভৃতি শব্দের ব্যবহার দেখে অনেকে মনে করেন, কবি সতেরো শতকে আবির্ভূত হন।
- দ্বিজ বংশীদাস সংস্কৃত, পুরাণ, আগম ও তন্ত্রাদি শাস্ত্রে পন্ডিত ছিলেন।
- সুকণ্ঠ গায়ক হিসেবেও তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
- বংশীদাস কবি চন্দ্রাবতীর পিতা।
- কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণের অনুবাদে পিতা বংশীদাসরে পরিচয় তুলে ধরেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৬৬.
দৌলত কাজী কোন অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন?
  1. পটিয়া, চট্টগ্রাম
  2. ফতেহাবাদ, চট্টগ্রাম
  3. রাউজান, চট্টগ্রাম
  4. সুধারাম, সন্দ্বীপ
সঠিক উত্তর:
রাউজান, চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাউজান, চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
দৌলত কাজী:
- তিনি আনুমানিক ১৬০০ থেকে ১৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সুলতানপুর গ্রাম, রাউজান, চট্টগ্রাম জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত মধ্যযুগের বিশিষ্ট কবি ছিলেন।
- তিনি বাংলা, সংস্কৃত, হিন্দি ও ব্রজবুলি ভাষায় জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।
- দৌলত কাজী আরাকানের রাজা সুধর্মের সমর সচিব আশারাফ খানের উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় হিন্দি কাব্য অবলম্বনে কাব্য রচনায় উৎসাহী হন।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী'।
- এই গ্রন্থের মূল হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসৎ' নামক কাব্য ।
- তাঁর এ কাব্য বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষার মিশ্রণে রচিত।
- 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী' কাব্যটি পয়ার ত্রিপদী ছন্দে রচিত।
- কাব্য রচনার শেষ পর্যায়ে তাঁর মৃত্যু হলে আলাওল (১৬৫৯) তা সম্পূর্ণ করেন।
- তিনি তাঁর রচনায় রামায়ণ, মহাভারত ও বৈষ্ণব পদাবলি থেকে অনুষঙ্গ ব্যবহারে কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন।

অন্যদিকে,
- সৈয়দ সুলতান পটিয়া, চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন।
- দৌলত উজির বাহরাম খান ফতেহাবাদ, চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন।
- আবদুল হাকিম সুধারাম, সন্দ্বীপ অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬৭.
বিদ্যাপতি কোন ধারার কবি ছিলেন?
  1. শাক্ত
  2. বৈষ্ণব
  3. বাউল
  4. সুফি
সঠিক উত্তর:
বৈষ্ণব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈষ্ণব
ব্যাখ্যা

বিদ্যাপতি বৈষ্ণব ধারার কবি ছিলেন । 

• বিদ্যাপতি:
- বৈষ্ণব পদাবলির অবাঙালি কবি বিদ্যাপতি।
- তিনি মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন ।
- তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি। কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকণ্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- 'মৈথিল কোকিল' বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়। কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে 'মৈথিল কোকিল' বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস:
১।বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩। বাংলাপিডিয়া।

৫৬৮.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কত বঙ্গাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৩২১ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩২২ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩২৩ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩২৪ বঙ্গাব্দে
সঠিক উত্তর:
১৩২৩ বঙ্গাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩২৩ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন। 
- অযত্নে অবহেলায় থাকায় শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের সম্মুখ ও শেষ ভাগ খণ্ডিত আকারে পাওয়া যায়।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- এ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা মনে করা হয় বড়ু চন্ডীদাসকে। 
- বড়ু চন্ডীদাসের প্রধান পরিচয়  শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬৯.
বিদ্যাপতি কোন রাজ্যের রাজসভার কবি ছিলেন?
  1. রোসাঙ্গ
  2. আরাকান
  3. মিথিলা
  4. গৌড়
সঠিক উত্তর:
মিথিলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিথিলা
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৭০.
'মানসিংহ ভবানন্দ উপাখ্যান' এর রচয়িতা -
  1. দ্বিজ চণ্ডীদাস
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. কানাহরি দত্ত
  4. বিজয় গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
• 'মানসিংহ ভবানন্দ উপাখ্যান' এর রচয়িতা - 'ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর'। 
---------------- 
• অন্নদামঙ্গল কাব্য:

- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের ভাগ ৩টি।
যথা -
১. অন্নদামঙ্গল, 
২. বিদ্যাসুন্দর, 
৩. মানসিংহ-ভবানন্দ উপাখ্যান। 
 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি:
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো - 
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।’
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৭১.
'কাশিমের লড়াই' নামক মর্সিয়া কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. মুহম্মদ খান
  3. কবি শেররাজ
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
কবি শেররাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি শেররাজ
ব্যাখ্যা
• 'কাশিমের লড়াই' গ্রন্থটির রচয়িতা - 'কবি শেররাজ'। 

• 'জঙ্গনামা' কাব্য: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা। 
- বাংলা সাহিত্যে ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।
-------------
জঙ্গনামা শ্রেণির কাব্যধারার উল্লেখযোগ্য কবি ও কাব্যের নাম হলো:  
শেখ ফয়জুল্লাহ - ষোল শতক।
গ্রন্থের নাম: জয়নবের চৌতিশা।
   
দৌলত উজির বাহরাম খান - ষোল শতক।
গ্রন্থের নাম: জঙ্গনামা।

মুহম্মদ খান - সতের শতক।
গ্রন্থের নাম: মকতুল হোসেন।

শেরবাজ - আঠার শতক। 
গ্রন্থের নাম: কাশিমের লড়াই ও ফাতিমার সুরতনামা।

হেয়াত মামুদ - আঠার শতক।
গ্রন্থের নাম: জারি-জঙ্গনামা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড.মাহবুবুল আলম।
৫৭২.
মহাভারতের অনুবাদক কবি নন কে?
  1. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  2. চন্দ্রাবতী
  3.  শ্রীকর নন্দী
  4. দ্বিজ অভিরাম
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা

• মহাভারতের অনুবাদক কবি নন- চন্দ্রাবতী। 

• মহাভারত:

মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য ।মূল রচয়িতা– কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।

- প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন- কবীন্দ্র পরমেশ্বর। তিনি পরাগল খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম - পরাগলী মহাভারত ।
অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন  বিজয়পান্ডবকথা অথবা ভারত পাঁচালী।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক - কাশীরাম দাস । মহাভারতের আদি, সভা, বন, ও বিরাট পর্ব রচনার পর কাশীরাম দাস ইহলোক ত্যাগ করেন।
- কবীন্দ্র পরমেশ্বরের পর শ্রীকর নন্দী মহাভারত অনুবাদ করেন যা ছুটিখাঁনী মহাভারত নামেও পরিচিত।

মহাভারতের বাংলা অনুবাদক কবিরা হলেন-  কবীন্দ্র পরমেশ্বর, শ্রীকর নন্দী, সঞ্জয়, রামচন্দ্র খান, দ্বিজ রঘুনাথ, কাশীরাম দাস, দ্বিজ অভিরাম, নিত্যানন্দ ঘোষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
-------------------
• চন্দ্রাবতী:
- চন্দ্রাবতী হলেন মধ্যযুগের তিনজন প্রধান মহিলাকবির একজন। তার পিতা মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
-  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে রামায়ণ রচনা করেন 'চন্দ্রাবতী'। চন্দ্রাবতীকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়।
- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী' উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।

চন্দ্রাবতী রচিত কাব্য :
- রামায়ণ,
- মলুয়া,
- দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৫৭৩.
"যে সব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী। সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।" — পঙ্‌ক্তিটি রচনা করেছেন কে?
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. আব্দুল হাকিম
  3. দৌলত কাজী
  4. আব্দুল করিম
সঠিক উত্তর:
আব্দুল হাকিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল হাকিম
ব্যাখ্যা
• 'যে সব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী। সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা আবদুল হাকিম।
- এই উক্তটি তিনি 'নূরনামা' কাব্যের অন্তর্গত 'বঙ্গবানী' কবিতায় লিখেছেন।

আব্দুল হাকিম:
- আব্দুল হাকিম সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি।
- তিনি ১৬২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
- হানি-ফার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৭৪.
‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের কোন কবিকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়?
  1. কঙ্কন ঠাকুর
  2. দ্বিজমাধব
  3. মুকুন্দরাম
  4. বিজয় গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
দ্বিজমাধব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিজমাধব
ব্যাখ্যা
চণ্ডীমঙ্গল:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। এবং প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷
- এই কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
কালকেতু,
ফুল্লরা,
ধনপতি,
ভাঁড়ুদত্ত,
মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৭৫.
'কাশিমের লড়াই' গ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. দৌলত উজির বাহরাম খান
  2. শেররাজ
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. হেয়াত মামুদ
সঠিক উত্তর:
শেররাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেররাজ
ব্যাখ্যা
• 'কাশিমের লড়াই' গ্রন্থটির রচয়িতা - 'শেররাজ'। 

'জঙ্গনামা' কাব্য: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা। 
- বাংলা সাহিত্যে ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।
-------------
জঙ্গনামা শ্রেণির কাব্যধারার উল্লেখযোগ্য কবি ও কাব্যের নাম হলো:  
শেখ ফয়জুল্লাহ - ষোল শতক।
গ্রন্থের নাম: জয়নবের চৌতিশা।
   
দৌলত উজির বাহরাম খান - ষোল শতক।
গ্রন্থের নাম: জঙ্গনামা।

মুহম্মদ খান - সতের শতক।
গ্রন্থের নাম: মকতুল হোসেন।

শেরবাজ - আঠার শতক। 
গ্রন্থের নাম: কাশিমের লড়াই ও ফাতিমার সুরতনামা।

হেয়াত মামুদ - আঠার শতক।
গ্রন্থের নাম: জারি-জঙ্গনামা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৭৬.
দোনাগাজী চৌধুরী রচিত 'সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল' কাব্যের মূল কাহিনী কোন ভাষায় রচিত?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. হিন্দী
  4. সংস্কৃত
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা
'সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল' এর রচয়িতা - দোনাগাজী চৌধুরী।

 দোনাগাজী চৌধুরী (১৬শ শতক):
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি। 
- দোনাগাজীর প্রধান পরিচয় রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের কবি হিসেবে।

- তাঁর রচিত - সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল দীর্ঘ আখ্যানমূলক প্রেমকাব্য।
- এর মূল উৎস আরবি আলেফ-লায়লা ওয়া লায়লা গ্রন্থ।
- ফারসি ও তুর্কি ভাষায় এ কাহিনী অনুলিখিত হয়েছে।

- ভারতের কবি মহফিল ফারসিতে এবং গাওয়াসি দাকিনি উর্দুতে সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল  রচনা করেন।
- দোনাগাজী ফারসির অনুসরণে বাংলা ভাষায় তাঁর কাব্য রচনা করেন বলে ধারণা করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৭৭.
মহাকবি আলাওল রচিত সাহিত্যকর্ম কোনটি?
  1. সিকান্দারনামা
  2. সপ্তপয়কর
  3. পদ্মাবতী
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আলাওল:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- আনুমানিক ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলার ফতেয়াবাদ পরগনার জালালপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- আরাকান রাজসভা তথা সপ্তদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল।
- পদ্মাবতী তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
 
আলাওল রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম:
- পদ্মাবতী,
- সপ্তপয়কর,
সিকান্দারনামা,
- তোহফা,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৭৮.
'বহুদিন পরে বঁধুয়া এলে, দেখা না হইত পরাণ গেলে।' - কে বলেছেন?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. চণ্ডীদাস
  3. রামকৃষ্ণ পরমহংস
  4. বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
চণ্ডীদাস: 
- চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন। 
- চণ্ডীদাসকে বাংলার ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়। 
- তিনি ‘শুনহ মানুষ ভাই/ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই’ বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেছেন বলে তাকে মানবতার কবি বলা হয়। তাছাড়া ব্যক্তি জীবনেও তিনি জাত-সংস্কারের ঊর্ধ্বে ছিলেন। 
- চণ্ডীদাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছেন “চণ্ডীদাস সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি-এই গুণে তিনি বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি”। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন। 

চণ্ডীদাসের বিখ্যাত উক্তি:
- ‘বহুদিন পরে বঁধুয়া এলে, দেখা না হইত পরাণ গেলে।
- ‘শোন হে মানুষ ভাই, সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।’
- ‘সখি কেমনে ধরিব হিয়া, আমারি বধূয়া আনবাড়ী যায় আমারি আঙিনা দিয়া।’

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 
৫৭৯.
চৈতন্যদেবের জীবনী গ্রন্থকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. রোজনামচা
  2. উপাখ্যান
  3. জীবনীসার
  4. কড়চা
সঠিক উত্তর:
কড়চা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কড়চা
ব্যাখ্যা
কড়চা:
- চৈতন্যদেবের জীবনী গ্রন্থকে 'কড়চা' নামে অভিহিত করা হয়েছে।
- যেমন: মুরারি গুপ্তের কড়চা, স্বরূপ দামোদরের কড়চা, গোবিন্দদাসের কড়চা প্রভৃতি। কড়চা কথাটির প্রয়োগ সম্পর্কে ড. সুকুমার সেন লিখেছেন, 'কড়চা শব্দটি আসিয়াছে প্রাকৃত 'কটকচ্চ', সংস্কৃত 'কৃতকৃত্য' হইতে। 'কট' শব্দ প্রাচীন অনুশাসনে 'খসড়া লেখা' (Original draft) অর্থেই পাওয়া গিয়াছে।

শ্রীচৈতন্যদেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৮০.
মধ্যযুগের নিদর্শন ‘সেক শুভোদয়া’ কার সৃষ্টিকর্ম? 
  1. সুকুমার সেনে
  2. হলায়ূধ মিশ্র
  3. রামনিধি গুপ্ত 
  4. রামাই পণ্ডিত
সঠিক উত্তর:
হলায়ূধ মিশ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হলায়ূধ মিশ্র
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের নিদর্শন ‘সেক শুভোদয়া’ হলায়ূধ মিশ্র-এর রচনা।
----------------------
• সেক শুভোদয়া:
- সেখশুভোদয়া বাংলা ও সংস্কৃত ভাষার মিশ্রণে রচিত একটি চম্পুকাব্য (গদ্য-পদ্য মিশ্র সাহিত্য)।
- গ্রন্থটি সংস্কৃত গদ্য ও পদ্যে লেখা হলেও ভাষা সম্পূর্ণ শুদ্ধ নয়;
- এতে অশুদ্ধ সংস্কৃত, বাংলা ছড়া, বচন ও বাগধারার ব্যবহার দেখা যায়।
- এই কারণেই ভাষাবিদ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একে ‘Dog Sanskrit’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

- অনেকে মনে করেন, এটি গৌড়ের রাজা লক্ষ্মণ সেন-এর সভাকবি হলায়ূধ মিশ্র-এর রচনা।
- গবেষক মুহম্মদ এনামুল হক গ্রন্থটির রচনাকাল খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রথম দিক বলে মত দেন।
- যদিও অন্যদের মতে এটি ষোড়শ শতকের আগে রচিত নয়।

- গ্রন্থটিতে মোট ২৫টি অধ্যায় রয়েছে এবং প্রতিটি অধ্যায়ে এক বা একাধিক কাহিনি সংযোজিত। 
- কাহিনিগুলোর কেন্দ্রীয় চরিত্র জালালুদ্দিন তাব্রিজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান (সেক)।
- তিনি রাজা লক্ষ্মণ সেনের দরবারে চমৎকার ও চিত্তাকর্ষক গল্প পরিবেশনের মাধ্যমে সবার মনে বিস্ময় সৃষ্টি করলে রাজা তাকে পুরস্কৃত করেন। 

- ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ‘কায়স্থ' পত্রিকায় গ্রন্থটির ১৩টি পরিচ্ছদ অনুবাদ সহ প্রকাশ করেন।
- ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয়।
-------------------
অন্যদিকে,
- রামাই পণ্ডিত- শুন্যপুরাণ গ্রন্থের রচয়িতা।
- রামনিধি গুপ্ত টপ্পাগানের জনক। 

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।

৫৮১.
'ইউসুফ জোলেখা' কি জাতীয় রচনা?
  1. নাটক
  2. রোমান্টিক প্রণয়কাব্য
  3. উপন্যাস
  4. রম্যরচনা
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক প্রণয়কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক প্রণয়কাব্য
ব্যাখ্যা

ইউসুফ-জোলেখা:
- ইউসুফ-জোলেখা একটি কাহিনি কাব্যগ্রন্থ।এটি মূলত অনুবাদ কাব্য বা রোমান্টিক প্রণোয়োপাখ্যানের নিদর্শন।
- ইউসুফ-জোলেখা কাহিনি কাব্যের রচয়িতা শাহ মুহম্মদ সগীর।
গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৮৯-১৪০৯ খ্রিষ্টাব্দ) এ গ্রন্থ রচিত হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
সে-বিচারে কাব্যটি পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকের রচনা এবং শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে গণ্য।
-বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে।
ইরানের কবি ফেরদৌসিও (মৃত্যু ১০২৫ খ্রিষ্টাব্দ) এই নামে কাব্য রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৫৮২.
কবি আলাওলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. তোহফা
  2. পদ্মাবতী
  3. সিকান্দরনামা
  4. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা

• আলাওলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ: 'পদ্মাবতী'। 
- ১৬৪৮ সালে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
-----------------
• আলাওল: 
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। 
 
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সিকান্দার নামা,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কর  ,
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল, 
- রাগতালনামা।

• ‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৮৩.
বাংলা ভাষায় রচিত শ্রেষ্ঠ চৈতন্য জীবনীগ্রন্থ কোনটি?
  1. চৈতন্য-চরিতামৃত
  2. চৈতন্য-ভাগবত
  3. শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম
  4. চৈতন্য-মঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চৈতন্য-চরিতামৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৈতন্য-চরিতামৃত
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় রচিত শ্রেষ্ঠ চৈতন্য জীবনীগ্রন্থ 'চৈতন্য-চরিতামৃত'। গ্রন্থটি রচনা করেন কৃষ্ণদাস কবিরাজ।

অন্যদিকে,
• চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী। 'মুরারি গুপ্তের কড়চা' নামে পরিচিত তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম, শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম।
• বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থ হলো বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
• 'চৈতন্য-মঙ্গল' বাংলায় ভাষায় লোচন দাস রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৮৪.
বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী 'জাহ্নবী দেবীর' শিষ্য ছিলেন কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. গোবিন্দদাস
  3. আলাওল
  4. জ্ঞানদাস
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা

জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী 'জাহ্নবী দেবীর' শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।
- পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

৫৮৫.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কোন শতকের কবি?
  1. আঠারো
  2. সপ্তদশ
  3. ষোড়শ
  4. ত্রয়োদশ
সঠিক উত্তর:
আঠারো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঠারো
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ। তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৫৮৬.
বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয় কাকে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  3. চণ্ডীদাস
  4. জয়দেব
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়দেব
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলি:
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্’ কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন।
- তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- বৈষ্ণব পদাবলী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।

অন্যদিকে,
- বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলীর রচনা করেন চণ্ডীদাস।
- কৃষ্ণদাস কবিরাজ এর 'চৈতন্য-চরিতামৃত' বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয় ও সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্য জীবনী।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি।
৫৮৭.
বৈষ্ণব পদাবলি-এর আদি কবি বলা হয় কাকে? 
  1. বিদ্যাপতি
  2. গোবিন্দ দাস
  3. চণ্ডীদাস
  4. জয়দেব 
সঠিক উত্তর:
জয়দেব 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়দেব 
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সমৃদ্ধ ও শ্রেষ্ঠ সাহিত্যধারা।
- এই ধারার মূল ভিত্তি হলো রাধা–কৃষ্ণের প্রেমলীলা ও ভক্তিভাবনা।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে মোট পাঁচটি রসের প্রকাশ লক্ষ্য করা যায় — 
- শান্তরস, 
- দাস্যরস, 
- সখ্যরস, 
- বাৎসল্যরস,
- মধুররস। 
- এই রসসমূহের সমন্বয়ে বৈষ্ণব পদাবলি ভক্তি ও প্রেমের এক অনন্য সাহিত্যিক রূপ লাভ করেছে।

- বাঙালি কবি জয়দেব-কে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা আদিকবি বলা হয়।
- তাঁর রচিত গীতগোবিন্দম্-এ রাধা–কৃষ্ণের প্রেম ও ভক্তির রূপচিত্র তুলে ধরলেও এটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- যদিও এটি বাংলা নয়, তবুও আদি বৈষ্ণব পদাবলির পদকর্তা হিসেবে জয়দেবকে গণ্য করা হয়।

- পরবর্তীতে অবাঙালি কবি বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- তাঁকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদিকবি বলা হয়।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস, যার মাধ্যমে বাংলা ভাষায় এই ধারার পূর্ণ বিকাশ ঘটে।
-----------------------
উল্লেখ্য,
- পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
- বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকা হলো যে নারী অন্তরে স্বতঃসিদ্ধভাবে কৃষ্ণরতি ও কৃষ্ণপ্রেমে মগ্ন।
- অর্থাৎ, তার প্রেমের মূল কেন্দ্র কেবল কৃষ্ণ, এবং সে সম্পূর্ণভাবে কৃষ্ণের প্রেমে বশীভূত।
- এই ধরনের নায়িকাকে সমর্থা নায়িকা বলা হয়।
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি এই সমর্থা নায়িকাদের মধ্যে পড়েন, যেখানে শ্রীরাধা সর্বশ্রেষ্ঠ নায়িকা।

- বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা চিত্রিত হয়েছে:
- অভিসারিকা – প্রেমিককে খুঁজতে বের হওয়া।
- বাসকসজ্জা – সুন্দর সাজগোজ করা।
- উৎকণ্ঠিতা – অপেক্ষায় আগ্রহী বা উত্তেজিত থাকা।
- বিপ্রলব্ধা – প্রেমিকের অবহেলা বা অনুপস্থিতিতে দুঃখিত হওয়া।
- খণ্ডিতা – প্রেমিকের প্রতি ক্ষোভ বা বিরক্তি প্রকাশ।
- কলহান্তরিতা – প্রেমিকের সঙ্গে ঝগড়ার পর মন খারাপ থাকা।
- প্রোষিতভর্তৃকা – প্রেমিকের আগমনে আনন্দিত ও রোমাঞ্চিত হওয়া।
- স্বাধীনভর্তৃকা – প্রেমিকের উপস্থিতিতে স্বতঃস্ফূর্ত ও আনন্দিত থাকা। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস — ড. মাহবুবুল আলম। 

৫৮৮.
'শূন্যপুরাণ' কী ধরনের রচনা?
  1. রাধাকৃষ্ণের প্রেমের কাব্য
  2. ধর্মপূজাপদ্ধতি
  3. চৈতন্যজীবনীমূলক
  4. রোমান্টিক প্রাণয়োপাখ্যান
সঠিক উত্তর:
ধর্মপূজাপদ্ধতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মপূজাপদ্ধতি
ব্যাখ্যা
• 'শূন্যপুরাণ' হলো- 'ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ'।

• 'শূন্যপুরাণ': 
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম ‘শূন্যপুরাণ’।
- মূল গ্রন্থে ধর্মপূজার যে বিবরণ আছে তাতে বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদ ও হিন্দু লোকধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে। 
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি।
- কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন।
- গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম। 
৫৮৯.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কোন পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন?
  1. পূর্বাশা
  2. সংবাদ প্রভাকর
  3. তত্ত্ববোধিনী
  4. সম্বাদ কৌমুদী
সঠিক উত্তর:
সংবাদ প্রভাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
• সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- এটি বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশের তারিখ ১৮৩১ সালের ২৮ জানুয়ারি, শুক্রবার (১৬ মাঘ, ১২৩৭ বঙ্গাব্দ)।
- ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন সংবাদ প্রভাকর বাংলায় প্রকাশিত সর্বপ্রথম দৈনিক পত্রিকারূপে আবির্ভূত হয়।
- ১৮৫৩ সাল থেকে পত্রিকাটির মাসিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- ১৮৪০ ও ১৮৫০-এর দশকে পত্রিকাটি নারীশিক্ষা ও বিধবা-বিবাহের প্রতি সমর্থন প্রদান করা ছাড়াও কৌলীন্য প্রথার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

• এছাড়াও তিনি আরও কিছু পত্রিকা সম্পাদনা করেন-
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ণ,
- সংবাদ সাধুরঞ্জন।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাযুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- তিনি ১৮৫৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- 'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন রাজা রামমোহন রায়।
- 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন 'সঞ্জয় ভট্টাচার্য'।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৫৯০.
'দুররে মজলিশ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আফজাল আলী
  2. দৌলত কাজী
  3. নওয়াজিশ খান
  4. আব্দুল হাকিম
সঠিক উত্তর:
আব্দুল হাকিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আব্দুল হাকিম
ব্যাখ্যা

• আব্দুল হাকিম মধ্যযুগের প্রণয়োপাখ্যান ধারার বিখ্যাত কবি‌।
• তাঁর আটটি কাব্যগ্রন্থের সন্ধান পাওয়া গেছে। এগুলো হলোঃ
- ইউসুফ-জোলেখা,
- নূরনামা,
- লালমতি,
- সয়ফুলমূলক,
- শিহাবুদ্দীন নামা,
- নসিহৎনামা,
- দুররে মজলিশ,
- কারবালা ও শহরনামা,
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৫৯১.
কবিগানের আদিগুরু কে?
  1. ক) ফকির গরিবুল্লাহ
  2. খ) গোঁজলা গুই
  3. গ) হরু ঠাকুর
  4. ঘ) এন্টনি ফিরিঙ্গি
সঠিক উত্তর:
খ) গোঁজলা গুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গোঁজলা গুই
ব্যাখ্যা
গোঁজলা গুঁই কবিওয়ালাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন।
- তিনি কবিগানের আদিগুরু বলে পরিচিত।
- কবি ঈশ্বর গুপ্তের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৭০৪ থেকে ১৭১৪ সালের মধ্যে জীবিত ছিলেন।
- তাঁর গান থেকেই ঈশ্বর গুপ্ত কবিগানের প্রথম সূচনা ধরেছেন।
কবিওয়ালাদের মধ্যে আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাম: ভবানী বেনে, রাসু নৃসিংহ, হুরু ঠাকুর, ভোলা ময়রা, কেষ্টা মুচি, নিতাই বৈরাগী, এন্টনি ফিরিঙ্গি প্রমুখ৷
ফকির গরিবুল্লাহ - পুঁথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৫৯২.
পদসঙ্গীত ধারার রূপকার বলা হয় কাকে?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. জয়দেব
  3. বিদ্যাপতি
  4. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকণ্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

অন্যদিকে, 
• বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধুবাবু।
• বাঙ্গালি কবি জয়দেবকে - বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
• শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম।
৫৯৩.
মুকুন্দদাসকে চারণকবির মর্যাদা দেন-
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• মুকুন্দদাস:
- মুকুন্দদাস ছিলেন চারণকবি। ১৮৭৮সালে ঢাকার বিক্রমপুরে মুকুন্দদাসের জন্ম।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর। রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস।
- বরিশালের কংগ্রেসনেতা অশ্বিনীকুমার দত্তের নিকট স্বদেশী মন্ত্রে দীক্ষা নিয়ে মুকুন্দদাস দেশাত্মবোধক গান ও যাত্রা রচনা করে মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন। বরিশাল হিতৈষী পত্রিকায় তাঁর গান প্রকাশিত হয়; মাতৃপূজা (১৯০৮) নামে গানের একটি সংকলনও প্রকাশিত হয়।

- তিনি ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।
সাধনসঙ্গীত, পল্লীসেবা, ব্রহ্মচারিণী, পথ, সাথী, সমাজ, কর্মক্ষেত্র প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
মুকুন্দদাস সারাজীবনে সাতশত মেডেল এবং বহু পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু 'চারণকবি' উপাধির মাধ্যমেই তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৯৪.
'লায়লী মজনু' - মধ্যযুগের কোন ধারার সাহিত্য?
  1. বৈষ্ণব সাহিত্য
  2. লোক সাহিত্য
  3. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  4. মর্সিয়া সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন-
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর, প্রমুখ।

'লায়লী মজনু' কাব্য:
- 'লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান।
- 'লায়লী মজনু' কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন আহমদ শরীফের মতে (১৫৪৩-১৫৫৩) সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহর মতে
১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির 'লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ।
- 'লাইলী মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ-ইরান।
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে এই কাব্যে।
- এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৯৫.
'রসুল বিজয়' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল হামিদ
  2. খ) শেখ চাঁদ
  3. গ) মীর মুহম্মদ শফী
  4. ঘ) মুহম্মদ আকিল
সঠিক উত্তর:
খ) শেখ চাঁদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শেখ চাঁদ
ব্যাখ্যা
'রসুল বিজয়' কাব্যের রচয়িতা শেখ চাঁদ। এটি ইসলামি সুফি সাহিত্যধারার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
৫৯৬.
রামপ্রাসাদের গান শুনে কে অভিভূত হয়েছিলেন? 
  1. নবাব মীরকাশিম
  2. নবাব আলিবর্দি খাঁ
  3. নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ
  4. নবাব সিরাজউদৌলা
সঠিক উত্তর:
নবাব সিরাজউদৌলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবাব সিরাজউদৌলা
ব্যাখ্যা
রামপ্রসাদ সেন: 
- তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি। 
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত। 
- তাঁর রচিত শ্যামা সঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিন'শ। 
- শাক্ত সঙ্গীত/শ্যামা সঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত হয়েছিলেন- রামপ্রসাদ সেন। 
- বিখ্যাত গান "মনরে কৃষি কাজ জান না এমন মানবজমিন রইল পতিত আবাদ করলে ফলতো সোনা"। 
- রামপ্রসাদ সেনের গান শুনে বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদৌলা অভিভূত হয়েছিলেন। 
- রামপ্রসাদ সেনকে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র 'কবিরঞ্জন' উপাধি দিয়েছিলেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৫৯৭.
মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন-
  1. তুর্কি শাসকবর্গ
  2. সংস্কৃত পণ্ডিতগণ
  3. পাঠান সুলতানগণ
  4. মুঘল সম্রাটগণ
সঠিক উত্তর:
পাঠান সুলতানগণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঠান সুলতানগণ
ব্যাখ্যা

• মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন- পাঠান সুলতানগণ।

• পাঠান সুলতানগণের বাংলা সাহিত্যে অবদান:
• স্বাধীন সুলতানগণের শাসনের দীর্ঘ সময়ে অনেকেই বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা দান করেছিলেন।
- প্রথমে সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের কথা উল্লেখযোগ্য।
- তিনি 'ইউসুফ জোলেখা' কাব্যের কবি শাহ মুহম্মদ সগীরের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- শাহ মুহম্মদ সগীরই প্রথম কবি যিনি গৌড়েশ্বরের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে কাব্য রচনা করেন।
- বাংলা সাহিত্যের জন্য গৌড় দরবারে স্বীকৃতি অর্জনের কৃতিত্ব রামায়ণের অনুবাদক কবি কৃত্তিবাসের।
- গৌড়েশ্বর তাঁকে পুষ্পমাল্য দাকে সম্মানিত করেন।
- 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' কাব্যের রচয়িতা কবি মালাধর বসু সুলতান রুকনউদ্দিন বারবক শাহের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন।
- তাছাড়া সুলতান ইউসুফ শাহের কাছ থেকে পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে কবি জৈনুদ্দিন 'রসুলবিজয়' কাব্য রচনা করেন।
- গৌড়ের সুলতানদের পৃষ্ঠপোষকতার আনুকূল্যে বাংলা সাহিত্যের অগ্রগতির প্রমাণ মিলবে তখনকার কবিদের রচিত বিভিন্ন রাজপ্রশস্তিতে।
- ড. ওয়াকিল আহমদ তাঁর 'বাংলা সাহিত্যের পুরাবৃত্ত' গ্রন্থে এর একটি তালিকা দিয়েছেন:



উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫৯৮.
একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে কয়টি অংশ থাকে?
  1. ২টি
  2. ৫টি
  3. ৩টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি - মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্নপরিচয়, দেবখন্ড, মর্ত্যখন্ড এবং শ্রুতিফল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৯৯.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যের আদি মধ্যযুগ বা প্রাকচৈতন্য যুগের রচনাকাল কোনটি?
  1. ৯৫০ থেকে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ৯৫০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ১৩০০ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ
সঠিক উত্তর:
১৩০০ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩০০ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ:
• প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),

মধ্যযুগ:
→ প্রাচীন বা মুসলমানপূর্ব যুগ (৯৫০-১২০০),
→ তুর্কি বিজয়ের যুগ (১২০০-১৩০০),
→ আদি মধ্যযুগ বা প্রাকচৈতন্য যুগ (১৩০০-১৫০০),
→ অন্ত্য মধ্যযুগ (১৫০০-১৮০০), চৈতন্য যুগ বা বৈষ্ণবসাহিত্য যুগ (১৫০০-১৭০০) ও নবাবি আমল (১৭০০-১৮০০),

'চৈতন্য যুগ' সম্পর্কিত বিশেষ তথ্য:
- বাংলা সাহিত্যে (১৫০০ থেকে ১৭০০) পর্যন্ত সময়কে চৈতন্য যুগ বলে।
- শ্রীচৈতন্যদেব ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য সংক্ষেপে ‘চৈতন্য’ নামে পরিচিত।
- শ্রীচৈতন্যদেব তাঁর জীবিতকালেই ভক্তদের ভগমানের অবতার বলে গৃহীত হয়েছিল।
- চৈতন্যদেব প্রথম জীবনী সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- চৈতন্যের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী।
- প্রবোধানন্দ সরস্বতী ‘শ্রীচৈতন্যচন্দ্রামৃত’ নামক কাব্য রচনা করেছিলেন।
- চৈতন্যদেবের জীবনী গ্রন্থকে ‘কচড়া’ নামে অভিহিত করা হয়েছে, যার অর্থ ব্যাপক।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬০০.
'গুলে বকাওলী' কাব্যটি প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন কে?
  1. নওয়াজিস খান
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. আমির হামজা
  4. সৈয়দ হামজা
সঠিক উত্তর:
নওয়াজিস খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াজিস খান
ব্যাখ্যা

গুলে বকাওলী:
- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ গুলে বকাওলী'।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
- সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন।
- এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

নওয়াজিস খান:
- কবি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার অন্তর্গত সুখছড়ি গ্রামে বসবাস করতেন বলে জানা যায়।
- বাংলায় গুলে বকাওলী কাব্যের রচয়িতা হিসেবে নওয়াজিস খান খ্যাতিমান।
- কবি কাব্যে যে আত্মপরিচয় দান করেছেন তাতে তাঁর বংশলতিকার পরিচয় পাওয়া যায়।
- তাঁর এক পূর্বপুরুষ ছিলিম খান গৌড় থেকে চট্টগ্রাম এসে ছিলিমপুর গ্রামের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।