• বাংলা সাহিত্যের রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের আদিপর্বের শ্রেষ্ঠ রচনা ‘পদ্মাবতী’।
• পদ্মাবতী:
- পদ্মাবতী সৈয়দ আলাওল রচিত একটি অনন্য রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান, যা রচিত হয় আনুমানিক ১৬৪৮–১৬৫২ খ্রিষ্টাব্দে।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- আলাওল তাঁর পদ্মাবতী কাব্যের মূল কাহিনি গ্রহণ করেন মুহম্মদ জায়সী-এর রচিত হিন্দি “পদ্মাবৎ” মহাকাব্য থেকে।
- কাব্যটির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে চিতোর রাজা রতনসেন ও সিংহলরাজকন্যা পদ্মাবতীর প্রেমঘটনা ঘিরে।
- চিতোরের রাজা রতনসেনের সঙ্গে পদ্মাবতীর প্রেমের কথা জানতে পেরে দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি পদ্মাবতীর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে চিতোর আক্রমণ করেন - এটাই কাব্যের মূল সংঘাত।
----------------------------------------------
• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান হলো মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা।
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
• এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন:
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- নওয়াজিস খান,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর।
------------------------------------------
অন্যদিকে,
• মধুমালতী’ (১৫৮৮) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি প্রসিদ্ধ প্রণয়কাব্য, যার রচয়িতা কবি মুহম্মদ কবির।
- এই কাব্যে রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাময় প্রেমকাহিনি বর্ণিত হয়েছে, যেখানে নানা বাধা অতিক্রম করে তাদের প্রেমের সাফল্য ও সুখী দাম্পত্য জীবনের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
- কাব্যটি মূলত হিন্দি কবি মনঝনের রচিত ‘মধু মালতী’ বা ‘মৈনাসত’ কাব্যের অনুসরণে রচিত।
• ‘ইউসুফ-জুলেখা’ পনেরো শতকে রচিত একটি বাংলা রোমান্টিক কাব্য, যার রচয়িতা শাহ মুহম্মদ সগীর।
- 'ইউসুফ জুলেখা’ গ্রন্থে নবী ইউসুফ (আ.) ও জুলেখার প্রেম, বিচ্ছেদ এবং আধ্যাত্মিক রূপান্তরের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- শাহ মুহম্মদ সগীর কোরআন ও ধর্মগ্রন্থ অবলম্বনে এই কাহিনিকে বাংলা ভাষায় মানবিক ও রোমান্টিক কাব্যরূপ দিয়েছেন।
• মধ্যযুগের ‘লাইলি মজনু’ একটি করুণ প্রেমকাহিনিভিত্তিক কাব্য, যেখানে কায়েস (মজনু) ও লাইলির নিঃশর্ত ভালোবাসা, সামাজিক বাধা ও করুণ পরিণতি তুলে ধরা হয়েছে।
- আরবীয় লোকগাথা থেকে উদ্ভূত এই কাব্যটি দৌলত উজির বাহরাম খান বাংলায় রচনা করেন।
-------------------------------------
• সৈয়দ আলাওল:
- সৈয়দ আলাওল ছিলেন মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের একজন প্রধান কবি।
- আলাওল ছিলেন বহুভাষাবিদ; তিনি আরবি, ফারসি, সংস্কৃত, বাংলা এবং ব্রজবুলিতে পারদর্শী ছিলেন।
- তিনি আরাকানের দরবারে অমাত্য ও কবি হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তাঁকে মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের 'বার্ড' বলা হয়।
- তিনি রোমান্টিক ধারার বাংলা সাহিত্যের প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত;
- কারণ ধর্মীয় কাহিনীর বাইরে গিয়ে তিনি ফারসি ও হিন্দি সাহিত্য থেকে প্রাপ্ত কাহিনী নিয়ে প্রেমময় উপাখ্যান রচনা করেছেন।
- প্রধান কাব্য ‘পদ্মাবতী’-র পাশাপাশি তাঁর কিছু গুরুত্বপূর্ণ রচনা হচ্ছে:
• ‘তোহফা’,
• সপ্তপয়কর,
• সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল,
• সিকান্দারনামা,
• ‘সাপচন্দ’,
• ‘সতীময়না ও
• লোরচন্দ্রানী’ প্রভৃতি ।
উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ।