বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

এসিড, লবণ, ক্ষার

মোট প্রশ্ন২২১এই পাতা২০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

এসিড, লবণ, ক্ষার

PrepBank · পাতা / · ২০১২২০ / ২২১

২০১.
সাধারণ খাওয়ার স্যালাইনে কী থাকে?
  1. 9% NaCl
  2. 0.9% NaCl
  3. 0.7% NaCl
  4. 7% NaCl
সঠিক উত্তর:
0.9% NaCl
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0.9% NaCl
ব্যাখ্যা
• সাধারণ খাওয়ার স্যালাইনে  0.9% NaCl আছে।

• খাওয়ার স্যালাইন:
- খাওয়ার স্যালাইন (Oral Rehydration Saline/Orsaline) শরীরের পানি ও লবণের (Electrolytes) ঘাটতিপূরণ করার জন্য মুখে গ্রহনযোগ্য লবণ ও গ্‌লুকোজ মিশ্রিত পানি।
- ডায়রিয়া/কলেরায় ঘন ঘন পাতলা পায়খানার কারণে অতি অল্প সময়ে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়।
- বিশেষ করে সোডিয়াম এবং পটাশিয়ামের ঘাটতি জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়।
- তখন খাওয়ার স্যালাইন ব্যবহার করা হয়।
- নরমাল স্যালাইনে পানি, সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও গ্লুকোজ বা শর্করা থাকে।
- প্রতি লিটার নরমাল স্যালাইনে ০.৯% সোডিয়াম ক্লোরাইড, গ্লুকোজের পরিমাণ ২০ গ্রামের বেশি নয় এবং এর প্রায় পুরোটাই অন্ত্রে লবণ শোষণে ব্যবহৃত হয়ে যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২০২.
অ্যাসিড ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে কোন যৌগগুলো উৎপন্ন করে? 
  1. পানি ও ক্ষার
  2. অক্সিজেন ও লবণ
  3. লবণ ও ক্ষারক
  4. লবণ ও পানি
সঠিক উত্তর:
লবণ ও পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লবণ ও পানি
ব্যাখ্যা
লবণ (Salt): 
- অ্যাসিড ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে
- কোনো অ্যাসিডের হাইড্রোজেন কোনো ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল মূলকের সাহায্যে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে প্রতিস্থাপিত হয়ে লবণ উৎপন্ন করে।
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) একটি লবণ।
- HCI অ্যাসিডের H পরমাণুকে সোডিয়াম (Na) ধাতুর প্রতিস্থাপনে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) নামক লবণ উৎপন্ন হয়েছে। 
যেমন- 
• HCl + NaOH → NaCl + H2
• এসিড + ক্ষার → লবণ + পানি 
- এছাড়াও K2SO4, KNO3, CaCO3, NaHCO3, Na2CO3, CuSO4 ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের লবণ। এই লবণগুলোর মধ্যে কোনটি অম্লীয়, আবার কোনো কোনটি ক্ষারীয়ও হতে পারে। 
১) পূর্ণ সরল লবণ: NaCl, KNO3, CaCO3
২) অম্লীয় বা আংশিক লবণ: Mg(HSO4)2, NaHCO3
৩) ক্ষারকীয় লবণ: Na2CO3, CuSO4 ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২০৩.
Alkaline Earth Metals কোনটি? 
  1. সিজিয়াম 
  2. রেডিয়াম 
  3. লিথিয়াম 
  4. রুবিডিয়াম 
সঠিক উত্তর:
রেডিয়াম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেডিয়াম 
ব্যাখ্যা

ক্ষার ধাতু (Alkali Metals): 
- পর্যায় সারণির 1 নং গ্রুপে 7 টি মৌল আছে। 
- এদের মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি 6 টি মৌল লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাসিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb), সিজিয়াম (Cs) এবং ফ্রান্সিয়াম (Fr) -কে ক্ষারধাতু বলে। 
- এই ছয়টি মৌলের প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষার ধাতু (Alkali Metals) বলা হয়। 

মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals): 
- পর্যায় সারণির 2 নং গ্রুপে বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr), বেরিয়াম (Ba) এবং রেডিয়াম (Ra) এই 6 টি মৌল আছে, যাদেরকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে। 
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে। এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২০৪.
ক্ষার ধাতু পানির সাথে বিক্রিয়ায় কী তৈরি করে? 
  1. হাইড্রোজেন গ্যাস ও লবণ
  2. হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার
  3. হাইড্রোজেন গ্যাস ও এসিড
  4. অক্সিজেন গ্যাস ও ক্ষার
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু (alkali metal): 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাশিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb) এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal): 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr) প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে। 
- এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৫.
কোনটি এসিডের প্রভাব নিষ্ক্রিয় করতে ব্যবহৃত ক্ষারক নয়? 
  1. চুন
  2. বেকিং সোডা
  3. ক্যালামিন
  4. মেলিটিন
সঠিক উত্তর:
মেলিটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেলিটিন
ব্যাখ্যা
ক্ষারক: 
- সকল ক্ষারক লাল লিটমাস কাগজের রং পরিবর্তন করে নীল করে। 
- পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারক অর্থাৎ ক্ষারসমূহ পানিতে হাইড্রক্সাইড আয়ন (OH-) উৎপন্ন করে। 
যেমন- 
• NaOH → Na+ + OH- 
• KOH → K+ + OH- 
- ক্ষারক এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ উৎপন্ন করে। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

প্রাত্যহিক জীবনে ক্ষারকের ব্যবহার: 
- মৌমাছি হুল ফুটালে এবং পিঁপড়া কামড় দিলে শরীরে যেহেতু ফরমিক এসিড, মেলিটিন এবং অ্যাপামিন নামক এসিডিক পদার্থ নিঃসৃত হয়, তাই সেগুলি জ্বালাপোড়া এবং ফুলে যাওয়ার কারণ হয়ে থাকে। 
- এসিডের প্রভাবকে নিষ্ক্রিয় করতে ক্ষারক ধর্মীয় মলম, লোশন (যেমন চুন), ক্যালামিন (যা জিংক কার্বোনেট) এবং বেকিং সোডা ব্যবহার করা হয়, যা এই জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে। 

মাটির এসিডিটি দূর ক্ষারকের ব্যবহার: 
- মাটিতে এসিডিটি বৃদ্ধি পেলে উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়, যা প্রশমিত করতে ক্ষারক যেমন- চুন (CaO), মিল্ক অব লাইম (Ca(OH)2 এবং চুনাপাথর (CaCO3) ব্যবহৃত হয়। 
- বাসাবাড়িতে পরিষ্কারক হিসেবে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ব্যবহৃত হয়। 
- টুথপেস্ট ও টুথপাউডার ক্ষারীয় পদার্থ হয়ে মুখে এসিডীয় অবস্থা নিরসন করে দাঁতের ক্ষয় রোধ করে। 
- সাবান যেমন- শক্ত সাবান, তরল সাবান এবং কাপড় কাচার সাবান ক্ষারক হিসেবে তৈরি হয়। আবার শেভিং ফোম এবং নরম সাবানও ক্ষারক দিয়ে তৈরি। 
- গ্যাস্ট্রিক ব্যথা বা এসিডিটির জন্য ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Mg(OH)2) ও অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Al(OH)3) এন্টাসিড হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২০৬.
কোন দ্রবণের pH মান 5 হলে তার প্রকৃতি কী হবে?
  1. দ্রবণটি নিরপেক্ষ এবং লিটমাসে কোনো পরিবর্তন ঘটাবে না
  2. দ্রবণটি ক্ষারীয় এবং লাল লিটমাসকে নীল করবে
  3. দ্রবণটি অম্লীয় এবং নীল লিটমাসকে লাল করবে
  4. দ্রবণটি তীব্র ক্ষারীয় এবং ত্বকে ক্ষতি করবে
সঠিক উত্তর:
দ্রবণটি অম্লীয় এবং নীল লিটমাসকে লাল করবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রবণটি অম্লীয় এবং নীল লিটমাসকে লাল করবে
ব্যাখ্যা

• দ্রবণটি অম্লীয় এবং নীল লিটমাসকে লাল করবে — কারণ pH মান ৭-এর কম হলে দ্রবণ অম্লীয় হয় এবং অম্ল নীল লিটমাসকে লাল করে।

• pH ও এর ধারণা:
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল প্রবর্তন করেন।
- pH শব্দের p এসেছে জার্মান শব্দ Potenz থেকে, যার অর্থ ক্ষমতা, এবং H দ্বারা হাইড্রোজেন বোঝায়।
- pH = - log[H+].
- অর্থাৎ, কোনো দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমই হলো pH.

• pH স্কেল:
- pH মান ০ থেকে ১৪-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ।
- pH < ৭ হলে দ্রবণ অম্লীয়।
- pH = ৭ হলে দ্রবণ নিরপেক্ষ।
- pH > ৭ হলে দ্রবণ ক্ষারীয়।

• বিশুদ্ধ পানির pH:
- ২০°-২৭° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানির pH প্রায় ৭।
- বিশুদ্ধ পানিতে অম্ল যোগ করলে pH কমে যায়।
- বিশুদ্ধ পানিতে ক্ষার যোগ করলে pH বৃদ্ধি পায়।

• pH মিটার:
- দ্রবণের pH নির্ণয়ের জন্য pH মিটার ব্যবহার করা হয়।
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে।

• মানবদেহে pH এর গুরুত্ব:
- স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তের pH প্রায় ৭.৪৫।
- রক্তের pH বেশি পরিবর্তিত হলে মারাত্মক বিপর্যয়, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
- পাকস্থলীতে খাদ্য হজমের উপযোগী pH প্রায় ২।
- ক্ষুদ্রান্ত্রে উপযোগী pH প্রায় ৮।
- প্রস্রাব মৃদু অম্লীয় প্রকৃতির।

• প্রসাধনী ও ত্বকে pH:
- ত্বকের আদর্শ pH প্রায় ৫.৫।
- ত্বকের pH ৫.৫–৬.৫ এর মধ্যে থাকলে ত্বক ব্যাকটেরিয়া ও অ্যালার্জি প্রতিরোধে সক্ষম হয়।
- নবজাতক শিশুর ত্বকের pH প্রায় ৭-এর কাছাকাছি।
- শ্যাম্পুর pH প্রায় ৫.০–৫.৫ হওয়া উচিত।

• কৃষিক্ষেত্রে pH:
- মাটির pH সাধারণত ৪–৮ এর মধ্যে থাকে।
- pH ৩-এর নিচে হলে গাছ মারা যেতে পারে।
- pH ৯.৫-এর উপরে হলে মাটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়।
 
• অন্যান্য অপশন:
- দ্রবণটি নিরপেক্ষ → pH = ৭ হলে নিরপেক্ষ দ্রবণ হয়।
- দ্রবণটি ক্ষারীয় → pH ৭-এর বেশি হলে ক্ষারীয় প্রকৃতি প্রকাশ করে এবং লাল লিটমাসকে নীল করে।
- তীব্র ক্ষারীয় দ্রবণ → উচ্চ pH মানবিশিষ্ট দ্রবণ ত্বকে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০৭.
বাফার দ্রবণ সম্পর্কে কোন বক্তব্যটি সঠিক?
  1. এটি উচ্চ অম্লীয় বা ক্ষারীয় বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে
  2. এটি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না
  3. সামান্য অম্ল বা ক্ষার যোগ করলে pH এ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না
  4. বেশি সময় রেখে দিলে বা দ্রবণকে লঘুকরণ করলে এর pH পরিবর্তিত হয়
সঠিক উত্তর:
সামান্য অম্ল বা ক্ষার যোগ করলে pH এ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামান্য অম্ল বা ক্ষার যোগ করলে pH এ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না
ব্যাখ্যা

◉ বাফার দ্রবণ (Buffer Solution) হলো এমন একটি দ্রবণ, যা সামান্য পরিমাণ অম্ল (Acid) বা ক্ষার (Base) যোগ করার পরেও এর pH মানকে প্রায় স্থির রাখতে সক্ষম।

বাফার দ্রবণ:
- যে দ্রবণে সামান্য পরিমাণে এসিড বা ক্ষারক যোগ করার পরও তার pH অপরিবর্তিত থাকে তাকে বাফার দ্রবণ বলে।
- pH পরিবর্তন প্রতিরোধ করার এই ক্ষমতাকে দ্রবণটির বাফার ক্ষমতা (buffer capacity) বলে।

বাফার দ্রবণগুলো সাধারণত
(i) মৃদু এসিড ও ঐ এসিডের সঙ্গে তীব্র ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন কোন লবণ (যেমন এসিটিক এসিড ও সোডিয়াম এসিটেট) বা
(ii) মৃদু ক্ষার ও এর সঙ্গে তীব্র এসিডের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন কোন লবণ (যেমন NH4OH-NH4CI)-এর মিশ্রণ দ্বারা প্রস্তুত করা হয়।
উল্লেখ্য যে এসিটিক এসিড ও সোডিয়াম এসিটেট দ্বারা প্রস্তুত বাফার দ্রবণের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি।

বাফার দ্রবণের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
(i) এই দ্রবণের একটি নির্দিষ্ট pH থাকে।
(ii) এই দ্রবণে সামান্য পরিমাণ এসিড বা ক্ষার যোগ করলেও এর pH এর পরিবর্তন হয় না।
(iii) বেশি সময় রেখে দিলে বা দ্রবণকে লঘুকরণ করলেও এর pH অপরিবর্তিত থাকে।
এই দ্রবণ তার বাফার ক্রিয়া (buffer action) দ্বারা pH পরিবর্তনে বাধা দান করে।

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২০৮.
বাসাবাড়িতে সাপের উপদ্রব কমানোর জন্য কোন এসিড ব্যবহৃত হয়? 
  1. হাইড্রোক্লোরিক এসিড 
  2. কার্বোলিক এসিড 
  3. নাইট্রিক এসিড 
  4. সালফিউরিক এসিড 
সঠিক উত্তর:
কার্বোলিক এসিড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বোলিক এসিড 
ব্যাখ্যা

এসিডের ব্যবহার: 
- দৈনন্দিন জীবনে এবং শিল্প কারখানায় এসিডের ব্যবহার অনস্বীকার্য। 
যেমন- 
- সোনার গহনা তৈরির সময় নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করা হয়। 
– আইপিএস, গাড়ি, মাইক বাজানোর সময়, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
- বাসাবাড়িতে সাপের উপদ্রব কমানোর জন্য কার্বোলিক এসিড (যাকে ফিনলও বলা হয়) ব্যবহৃত হয়। 
- আমাদের খাদ্যদ্রব্য হজম করার জন্য পাকস্থলীতে যে এসিড অত্যাবশ্যকীয় তা হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড। 
- সার কারখানায় অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড। 
- এছাড়া ডিটারজেন্ট থেকে শুরু করে নানারকম রং, ঔষধপত্র, কীটনাশকসহ পেইন্ট, কাগজ, বিস্ফোরক ও রেয়ন তৈরিতে প্রচুর সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
- কোনো একটি দেশ কতটা শিল্পোন্নত তা বিচার করা হয় ঐ দেশ কতটুকু সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করে তার উপর ভিত্তি করে। 
- ইস্পাত তৈরির কারখানা, ঔষধ, চামড়া শিল্প ইত্যাদি অনেক শিল্পে হাইড্রোক্লোরিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 
- সার কারখানায়, বিস্ফোরক প্রস্তুতি, খনি থেকে মূল্যবান ধাতু যেমন- সোনা আহরণে ও রকেটে জ্বালানির সাথে নাইট্রিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

২০৯.
'টেস্টিং সল্ট' এর রাসায়নিক নাম কী?
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. আর্দ্র সোডিয়াম সালফেট
  3. সোডিয়াম থায়োসালফেট
  4. মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট
সঠিক উত্তর:
মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- লবণ হলো একটি আয়নিক যৌগ যা অম্ল ও ক্ষারকের মধ্যে সংঘটিত প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপন্ন হয়।
যেমন- 
- আর্দ্র সোডিয়াম সালফেট হলো গ্লুবার লবণ।
- সোডিয়াম থায়োসালফেটকে বলা হয় হাইপো।
- মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট কে বলা হয় টেস্টিং সল্ট।
- খাবার লবণ বা টেবিল সল্ট হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড।

উল্লেখ্য, প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ আছে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। 
যেমন- 
• ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3), 
• সিলভার সালফেট (Ag2SO4), 
• সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২১০.
ক্ষার ধাতু বলতে কোন মৌলগুলোকে বোঝানো হয়?
  1. Fe, Cu, Zn, Pb
  2. Cu, Ag ও Au
  3. Be, Mg, Ca, Sr
  4. Li, Na, K, Rb
সঠিক উত্তর:
Li, Na, K, Rb
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Li, Na, K, Rb
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে। 
- এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে। 
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রুপা (Ag) ও সোনা (Au)। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১১.
The average salinity of sea water is ______. 
  1. 1%
  2. 2.5%
  3. 3.5%
  4. 5%
  5. None
সঠিক উত্তর:
3.5%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
3.5%
ব্যাখ্যা
সমুদ্রের পানি:
- সমুদ্রের পানিতে প্রায় ৩.৫% দ্রবীভূত লবণ থাকে, যা লবণাক্ততা হিসেবে পরিমাপ করা হয়।
- সমুদ্রের পানি মূলত সোডিয়াম ও ক্লোরিন লবণাক্ত।
- ফলে এই দুটো মৌল একত্রিত হয়ে তৈরি করে সোডিয়াম ক্লোরাইড, যাকে আমরা বলি লবণ।
- আর সমুদ্রের পানিতে সোডিয়াম ও ক্লোরিন আয়ন মিলে তৈরি হয় লবণ।
- এই দুটোর পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় সমুদ্রের পানিতেও লবণের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে।
- লবণের উপস্থিতির জন্যে সমুদ্রের পানির ঘনত্ব অনেক বেশি।

তথ্যসূত্র -
১. নাসা। [লিঙ্ক]
২. National Oceanic and Atmospheric Administration. [Link]
৩. ব্রিটানিকা। [Link]
২১২.
নিচের কোনটি লুইস এসিড নয়? 
  1. H2O
  2. BF3
  3. SO2
  4. CO2
সঠিক উত্তর:
H2O
উত্তর
সঠিক উত্তর:
H2O
ব্যাখ্যা
এসিড-ক্ষারকের লুইস তত্ত্ব: 
- 1923 খ্রিস্টাব্দে ব্রনস্টেড-লাউরি প্রোটন দান- গ্রহণভিত্তিক এসিড ও ক্ষারকের সংজ্ঞা প্রদান করেন। 
- একই বছর আমেরিকান রসায়নবিদ জি. এন. লুইস ইলেকট্রন জোড় দান- গ্রহণভিত্তিক সর্বশেষ এসিড-ক্ষারকের সংজ্ঞা প্রদান করেন। 
- লুইস এসিড হলো এমন যৌগ বা আয়ন যা একটি ইলেকট্রন-জোড় গ্রহণ করে। 
- ক্ষারক হলো এমন যৌগ বা আয়ন যা একটি ইলেকট্রন-জোড় দান করে। 
- লুইসের ক্ষারকের সংজ্ঞা ও ব্রনস্টেড-লাউরির ক্ষারকের সংজ্ঞা একই; প্রতিক্ষেত্রে ক্ষারকের একটি ইলেকট্রন- জোড় থাকে, যা বন্ধন গঠনে দান করে। 
- তাই লুইসের সংজ্ঞায় ক্ষারকের সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটেনি; কিন্তু এসিডের সংখ্যার অনেক বৃদ্ধি ঘটেছে। 
যেমন- CO2, SO2, SO3, BF3, AICI3, Cu2+ আয়ন ইত্যাদিতে H-পরমাণু না থাকা সত্ত্বেও এরা লুইস এসিড; কারণ বিক্রিয়ায় এরা ইলেকট্রন জোড় গ্রহণ করে। 
- সব ব্রনস্টেড-লাউরি এসিড হলো লুইস এসিড; কিন্তু সব লুইস এসিড ব্রনস্টেড-লাউরি এসিড নয়। 
- H+ আয়নসহ সব ক্যাটায়ন ও প্রশম অণু যাদের খালি যোজ্যতা স্তরে ক্ষারক প্রদত্ত ইলেকট্রন জোড় শেয়ার করে বন্ধন গঠনে সক্ষম, তাদের সবই লুইস এসিড।  সুতরাং লুইস তত্ত্বে এসিডের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। 
- লুইস ক্ষারক হলো NH3, H2O, OH-, CN-, CI- ইত্যাদি, এরা বিক্রিয়াকালে ইলেকট্রন যুগল যোগান দেয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারো ও নাগ)।
২১৩.
কোন লবণটি কাপড় কাচার সোডা নামে পরিচিত?
  1. সোডিয়াম কার্বোনেট 
  2. সোডিয়াম ক্লোরাইড 
  3. সোডিয়াম স্টিয়ারেট
  4. সোডিয়াম গ্লুটামেট
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম কার্বোনেট 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম কার্বোনেট 
ব্যাখ্যা
লবণের ব্যবহার: 
- যে লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে তা হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), এই লবণ সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। 
- তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে এই খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য আরেকটি লবণ সোডিয়াম গ্লুটামেট ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 
- কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করা হয় তা মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) লবণ। 
- আর শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) লবণ। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে যে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয় তাও একটি লবণ। 
- আবার জীবাণুনাশক হিসেবে যে তুঁতে (CuSO4.5H2O) বা ফিটকিরি [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] ব্যবহার করা হয় সেগুলোও লবণ। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য চুনাপাথর নামক একটি লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করে থাকি, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট (NH4)3PO4, পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

শিল্পকারখানায় লবণ: 
- শিল্পকারখানায় নানা কাজে খাবার লবণ অপরিহার্য। 
যেমন- চামড়াশিল্পে চামড়ার ট্যানিং করতে, মাখন ও পনিরের শিল্পোৎপাদনে, কাপড় কাচার সোডা ও খাবার সোডা তৈরি করতে, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজে খাবার লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- বেশ কিছু লবণ যেমন- তুঁতে (CuSO4), মারকিউরিক সালফেট (HgSO4), সিলভার সালফেট (Ag2SO4) শিল্পকারখানায় প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২১৪.
নিচের কোনটি লবণ?
  1. NaOH
  2. KOH
  3. ZnO
  4. KNO3
সঠিক উত্তর:
KNO3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
KNO3
ব্যাখ্যা
• লবণ হলো অম্ল (Acid) ও ক্ষার (Base) এর মধ্যে নিরপেক্ষীকরণ বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন যৌগ।

• KNO3(পটাশিয়াম নাইট্রেট):
- এটি একটি প্রকৃত লবণ।
- এটি নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO₃) এবং পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH) এর নিরপেক্ষীকরণ বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়।

HNO₃ + KOH → KNO₃ + H₂O

অন্যদিকে,
• NaOH (সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড):
এটি একটি শক্তিশালী ক্ষার।
লবণ নয়, কারণ এটি অম্লের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ তৈরি করে।
NaOH + HCl → NaCl + H₂O (এখানে NaCl লবণ)

• KOH (পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড):
এটি একটি শক্তিশালী ক্ষার।
লবণ নয়, তবে এটি অম্লের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ তৈরি করতে পারে।
KOH + HNO₃ → KNO₃ + H₂O (এখানে KNO₃ লবণ)

• ZnO (দস্তা অক্সাইড):
- এটি একটি উভধর্মী অক্সাইড, যা অম্ল এবং ক্ষার উভয়ের সাথে বিক্রিয়া করতে পারে।
- এটি লবণ নয়, তবে লবণ তৈরির প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে।

উৎস: রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২১৫.
পর্যায় সারণির গ্রুপ–11 এর মৌলগুলোকে কী বলা হয়?
  1. ক্ষার ধাতু
  2. মৃৎক্ষার ধাতু
  3. মুদ্রা ধাতু
  4. হ্যালোজেন
সঠিক উত্তর:
মুদ্রা ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুদ্রা ধাতু
ব্যাখ্যা

- পর্যায় সারণির গ্রুপ–১১ তে অবস্থিত মৌলগুলো (যেমন: কপার, সিলভার ও গোল্ড) প্রাচীনকাল থেকে বাণিজ্য ও বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে মুদ্রা তৈরিতে ব্যবহৃত হতো, এ কারণে আধুনিক পর্যায় সারণিতে এই গ্রুপের মৌলগুলোকে মুদ্রা ধাতু (Coinage Metals) বলা হয়। 

ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে। 
- এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে। 
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রূপা (Ag) ও সোনা (Au)। 
- এ মৌল তিনটির ধাতব উজ্জ্বলতা অসাধারণ। বর্তমান বাজারে সংকর ধাতুর তৈরী ধাতব মুদ্রা প্রচলিত আছে। 

• হ্যালোজেন: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ–17 এর মৌলগুলোকে (যেমন: F, Cl, Br, I) হ্যালোজেন বা লবণ উৎপাদনকারী বলা হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১৬.
আমলকি ফলে কোন এসিড বিদ্যমান? 
  1. অক্সালিক এসিড
  2. এসকরবিক এসিড
  3. টারটারিক এসিড
  4. ল্যাকটিক এসিড 
সঠিক উত্তর:
এসকরবিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এসকরবিক এসিড
ব্যাখ্যা

• আমলকি হলো ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিডের অন্যতম প্রধান উৎস। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে।

• এসকরবিক এসিড: 
- লেবু, কমলা, আপেল, পেয়ারা, আমলকি ইত্যাদি ফলের মধ্যে ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড (C6H8O6) আছে। 
- এটি দেহের ক্ষত সারাতে খুবই সহায়ক এবং এর অভাবে আমাদের শরীরে স্কার্ভি রোগ হয়। 
- আমলকীতে পেয়ারার তুলনায় ৩ গুণ এবং কমলার তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড থাকে।
- এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ত্বকের জন্য উপকারী।

• ল্যাকটিক এসিড: 
- কোমল পানীয়ের মতো বোরহানি বা দই খেলে এতে বিদ্যমান ল্যাকটিক এসিড [(CH3-CH(OH)-COOH] আমাদের হজম শক্তিতে সাহায্য করে। 
- এছাড়া কঠোর পরিশ্রমের সময় আমাদের পেশিতেও ল্যাকটিক এসিড জমা হয়, যার ফলে শরীরে ব্যথা অনুভূত হয়।

• অক্সালিক এসিড (Oxalic Acid):
- রাসায়নিক সংকেত: C2H2O4 ,
- এটি সাধারণত কচুশাক, পালং শাক, টমেটো এবং কামরাঙায় পাওয়া যায়। এটি অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে কিডনিতে পাথর তৈরি হতে পারে।

• টারটারিক এসিড (Tartaric Acid):
- এটি মূলত তেঁতুলে পাওয়া যায়। আঙ্গুরেও এটি থাকে। এটি খাবারে টক স্বাদ যোগ করে এবং বেকিং পাউডার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

​উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২১৭.
নাইট্রিক এসিডে নিচের কোন মৌলিক পদার্থটি উপস্থিত?
  1. ক) গন্ধক
  2. খ) দস্তা
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) সোডিয়াম
সঠিক উত্তর:
গ) অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

নাইট্রিক এসিডের সংকেত হলো HNO3। অর্থাৎ নাইট্রিক এসিডের একটি অণুতে একটি হাইড্রোজেন পরমাণু, একটি নাইট্রোজেন পরমাণু এবং তিনটি অক্সিজেন পরমাণু বিদ্যমান।

সুতরাং নাইট্রিক এসিডে নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন এই তিনটি মৌলিক পদার্থ উপস্থিত।

সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

২১৮.
নিচের কোনটি সত্য?
  1. ক) সকল ক্ষারকই ক্ষার কিন্তু সকল ক্ষার ক্ষারক নয়।
  2. খ) সকল ক্ষারই ক্ষারক কিন্তু সকল ক্ষারক ক্ষার নয়।
  3. গ) সকল ক্ষারকই পানিতে দ্রবীভূত হয়।
  4. ঘ) ক ও গ
সঠিক উত্তর:
খ) সকল ক্ষারই ক্ষারক কিন্তু সকল ক্ষারক ক্ষার নয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সকল ক্ষারই ক্ষারক কিন্তু সকল ক্ষারক ক্ষার নয়।
ব্যাখ্যা
- ক্ষারক হলো মূলত ধাতব অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড।
- কিছু কিছু ক্ষারক আছে যারা পানিতে দ্রবীভূত হয় আর কিছু আছে যারা দ্রবীভূত হয় না।
- যে সমস্ত ক্ষারক পানিতে দ্রবীতূত হয় তাদেরকে বলে ক্ষার। তাহলে ক্ষার হলো বিশেষ ধরনের ক্ষারক। সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 এগুলো ক্ষার। এদেরকে কিন্তু ক্ষারকও বলা যায়।
- পক্ষান্তরে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Al(OH)2] কিন্তু পানিতে দ্রবীভূত হয় না। তাই এটি একটি ক্ষারক হলেও ক্ষার নয়।
- অতএব একথা বলা যায় যে, সকল ক্ষার ক্ষারক হলেও সকল ক্ষারক কিন্তু ক্ষার নয়।

সূত্রঃ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি।
২১৯.
যে মূল বা যৌগ ইলেকট্রন দান করে তাকে কি বলে?
  1. জারক
  2. বিজারক
  3. ক্ষারক
  4. ক্ষারিত
সঠিক উত্তর:
বিজারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজারক
ব্যাখ্যা
বিজারক:
• যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন দান/ত্যাগ করে সেগুলোকে বিজারক বলে। আর ইলেক্ট্রন দান/বর্জনের প্রক্রিয়াটিকে জারণ বলে।
• বিজারক - সকল ধাতু, হাইড্রোজেন।

জারক:
• আবার যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে। আর ইলেক্ট্রন গ্রহণের প্রক্রিয়াটিকে বিজারণ বলে।
• জারক - অক্সিজেন, ক্লোরিন, ফ্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন, পটাশিয়াম ইত্যাদি।

ক্ষারক:
- ক্ষারক হলো মূলত ধাতব অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড।
- কিছু কিছু ক্ষারক আছে যারা পানিতে দ্রবীভূত হয় আর কিছু আছে যারা দ্রবীভূত হয় না।
- যে সমস্ত ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয় তাদেরকে বলে ক্ষার। তাহলে ক্ষার হলো বিশেষ ধরনের ক্ষারক।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২২০.
নিম্নের কোন দ্রবণে সামান্য পরিমাণ এসিড বা ক্ষার যোগ করলেও দ্রবণের pH মানের কোন পরিবর্তন হয় না?
  1. ক) অ্যাসিড দ্রবণে
  2. খ) বাফার দ্রবণে
  3. গ) ক্ষারীয় দ্রবণে
  4. ঘ) সবগুলোতেই
সঠিক উত্তর:
খ) বাফার দ্রবণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাফার দ্রবণে
ব্যাখ্যা

যে দ্রবণে সামান্য দুর্বল অম্ল বা ক্ষার যােগ করার পরও দ্রবণের pH- মান অপরিবর্তিত থাকে তাকে বাফার দ্রবণ বলে।
অর্থ্যাৎ বাফার দ্রবণে সামান্য পরিমাণ এসিড বা ক্ষার যোগ করলেও দ্রবণের pH মানের কোন পরিবর্তন হয় না।