বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

এসিড, লবণ, ক্ষার

মোট প্রশ্ন২২১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

এসিড, লবণ, ক্ষার

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ২২১

১০১.
'ওলিয়াম' কাকে বলে?
  1. গাঢ় সালফিউরিক এসিড
  2. ধূমায়মান সালফিউরিক এসিড
  3. লঘু সালফিউরিক এসিড
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ধূমায়মান সালফিউরিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধূমায়মান সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা
'ওলিয়াম' (Oleum):
- ওলিয়াম (Oleum) হলো সালফিউরিক এসিডের একটি অত্যন্ত ঘন রূপ, যার মধ্যে সালফার ট্রাইঅক্সাইড (SO₃) গ্যাস দ্রবীভূত থাকে।
- রাসায়নিকভাবে:
• Oleum=H2SO4⋅nSO3

• ব্যবহার:

- উচ্চ ঘনত্বের সালফিউরিক এসিড উৎপাদনে।
- ডিটারজেন্ট, রঞ্জক পদার্থ ও বিস্ফোরকের প্রস্তুতিতে।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
১০২.
কোনো দ্রবণের pH স্কেলের বিস্তৃতির সীমা কোনটি? 
  1. ০-৭
  2. ০-১৪
  3. ১-১৪
  4. ৭-১৪
সঠিক উত্তর:
০-১৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০-১৪
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৩.
সাবান হচ্ছে উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের ____ লবণ।
  1. ক) সোডিয়াম
  2. খ) ক্যালসিয়াম
  3. গ) ম্যাগনেসিয়াম
  4. ঘ) বেরিলিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক) সোডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK)।
- এর রাসায়নিক নাম হলো সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa)।
- সাবান তৈরি করা হয় চর্বি এবং ক্ষার থেকে।
- সাবান তৈরির উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়।

সূত্রঃ রসায়ন নবম-দশম শ্রেণি
১০৪.
কোনটি জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়?
  1. ফেরাস হাইড্রোক্সাইড
  2. ফেরিক হাইড্রোক্সাইড
  3. অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
সঠিক উত্তর:
পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা
ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন: সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 ইত্যাদি। 

মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন: অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), ফেরাস হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)2, ফেরিক হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)3, অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড  Al(OH)3 ইত্যাদি। 
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৫.
কঠিন সাবান তৈরিতে কোন ক্ষার ব্যবহৃত হয়?
  1. সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড
  2. পটাসিয়াম হাইড্রক্সাইড
  3. ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড
  4. অ্যামোনিয়াম হাইড্রক্সাইড
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড
ব্যাখ্যা

◉ কঠিন সাবান তৈরিতে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) ব্যবহার করা হয়, কারণ এটি চর্বি বা তেলের সাথে বিক্রিয়া করে শক্ত, দীর্ঘস্থায়ী এবং কার্যকরী সাবান তৈরি করে।

সাবানায়ন: 
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK) । 
এখানে R কে অ্যালকাইল মূলক বলা হয়, R এর সাধারণ সংকেত CnH2n+1 এবং n এর মান 12 থেকে 18 পর্যন্ত। 
যেমন: সোডিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COONa এবং পটাশিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COOK. 
- তেল বা চর্বির সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড বিক্রিয়া করে সাবান এবং গ্লিসারিন তৈরি হয়। 
- সাবান ও গ্লিসারিন তৈরির এই প্রক্রিয়াকে সাবানায়ন বলে। 
- সাধারণত তুলনামূলক শক্ত ধরনের সাবান তৈরীর জন্যে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) এবং কোমল ধরনের সাবানের জন্যে পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড (KOH) ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১০৬.
‘টেস্টিং সল্ট’ হিসেবে কোন লবণ ব্যবহৃত হয়?
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড 
  2. সোডিয়াম গ্লুটামেট 
  3. পটাশিয়াম নাইট্রেট 
  4. অ্যামোনিয়াম ফসফেট 
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম গ্লুটামেট 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম গ্লুটামেট 
ব্যাখ্যা

লবণ: 
- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে যা সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট লবণ ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০৭.
Which acid is mainly present in tomatoes?
  1. Carbonic acid
  2. Tartaric acid 
  3. Folic acid
  4. Lactic acid
  5. Oxalic acid
সঠিক উত্তর:
Oxalic acid
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Oxalic acid
ব্যাখ্যা

- টমেটোতে প্রধানত অক্সালিক এসিড (Oxalic acid) উপস্থিত থাকে, যদিও টমেটোতে ম্যালিক এবং সাইট্রিক অ্যাসিড সহ আরও অনেক অ্যাসিড থাকে, তবে অক্সালিক অ্যাসিডকে সাধারণত প্রধান অ্যাসিড হিসেবে গণ্য করা হয়। 

জৈব এসিড: 
- এসিড সাধারণত টক স্বাদযুক্ত হয়ে থাকে। 
- লেবু, আমলকি, কাঁচা আমড়া, জলপাই ও করমচায় প্রয়োজনীয় সাইট্রিক এসিড থাকে। 
- তেঁতুলে টারটারিক এসিড থাকে। 
- টমেটোতে অক্সালিক এসিড থাকে। 
- আপেল ও আনারসে ম্যালিক এসিড থাকে। 
- আমাদের পাকস্থলিতে হাইড্রোক্লোরিক এসিড উৎপন্ন হয় যা খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 
- বাজারের সকল সফট ড্রিংকসে যা থাকে তা প্রকৃত অর্থে কার্বনিক এসিডের দ্রবণ। 

অন্যদিকে, 
- কার্বনিক এসিড হলো CO2 + H2O দ্রবণে তৈরি হওয়া অ্যাসিড যা মূলত সোডা বা carbonated drinks-এ থাকে। 
- ফলিক অ্যাসিড হলো একটি ভিটামিন B9, যা সবজি ও ফল-এ থাকে। 
- ল্যাকটিক অ্যাসিড সাধারণত দুগ্ধজাত পণ্য বা গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়, টমেটোতে প্রাকৃতিকভাবে এটি প্রধান অ্যাসিড নয়। 
- টারটারিক অ্যাসিড মূলত আঙ্গুরে পাওয়া যায়, এটি টমেটোতে প্রধান অ্যাসিড নয়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১০৮.
এসিডের কার্যকরী ধর্ম প্রদর্শনের জন্য কোনটির উপস্থিতি আবশ্যক? 
  1. পানি
  2. তাপ
  3. আলো
  4. বাতাস
সঠিক উত্তর:
পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানি
ব্যাখ্যা
এসিডের রাসায়নিক ধর্মে পানির ভূমিকা: 
- এসিডের ধর্ম কার্যকর হয় পানির উপস্থিতিতে, পানির অনুপস্থিতিতে এসিড তার এসিডিয় ধর্ম প্রদর্শন করতে পারে না। 
- হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস ভর্তি গ্যাসজারের মধ্যে শুষ্ক নীল লিটমাস কাগজ ধরলে দেখা যাবে লিটমাস কাগজের বর্ণ অপরিবর্তিত আছে। 
- এ গ্যাসজারের মধ্যে কঠিন ক্যালসিয়াম কার্বনেটের টুকরা ফেললে দেখা যায় কোনো বিক্রিয়া ঘটে না এবং CO2 গ্যাস উৎপন্ন হয় না। 
- আবার গ্যাসজারের মধ্যে আয়রন ধাতুর টুকরা বা জিংক ধাতুর টুকরা রাখলেও কোনো রূপ বিক্রিয়া সংগঠিত হয় না। 
• HCl(g) + শুষ্ক নীল লিটমাস কাগজ → নীল লিটমাস কাগজের বর্ণ অপরিবর্তিত থাকে। 
• HCl(g) + CaCO3(s) → কোনো বিক্রিয়া ঘটে না এবং CO2 গ্যাস উৎপন্ন হয় না। 
• HCl(g) + Fe → কোন বিক্রিয়া ঘটে না এবং H2 গ্যাস উৎপন্ন হয় না। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৯.
কোনো দ্রবণের pH মান 7-এর বেশি হলে দ্রবণটি কী ধরনের হবে? 
  1. ক্ষারীয়
  2. এসিডীয় 
  3. নিরপেক্ষ
  4. অম্লীয়
সঠিক উত্তর:
ক্ষারীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষারীয়
ব্যাখ্যা

pH স্কেল: 
- কোনো এসিড দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। একইভাবে কোনো ক্ষার দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এসিড দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের গাঢ়ত্ব যদি বেশি হয়, তবে তা সবল এসিড, আর যদি কম হয় তবে তা দুর্বল এসিড। 
- ক্ষারের ক্ষেত্রে একই বিষয় প্রযোজ্য, তবে সেটি হাইড্রোক্সিল আয়নের ঘনমাত্রার উপর নির্ভর করে। 
- কিন্তু এসিড যদি খুবই লঘু হয় অথবা ক্ষার দ্রবণটি যদি খুবই লঘু হয়, তবে সেক্ষেত্রে H+ আয়ন অথবা OH- আয়নের ঘনমাত্রা 10 এর ঋণাত্মক ঘাত দ্বারা প্রকাশ করতে হয়। 
- বিষয়টিকে আরো সহজ করার জন্য বিজ্ঞানী সোরেনসেখ দ্রবণের H+ আয়নের ঘনমাত্রা pH দ্বারা প্রকাশ করার পদ্ধতি প্রচলন করেন। 
- pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+

- pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়, pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- pH স্কেলে দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- কোনো দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষারীয় এবং 7 এর সমান হলে দ্রবণটি হবে প্রশমন বা নিরপেক্ষ। 
- দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে। আর যদি দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়। এভাবে লিটমাস কাগজ অথবা লিটমাস দ্রবণ ব্যবহার করেও ঐ দ্রবণের pH মান 7 এর উপরে না নীচে তা নির্ধারণ করা যায়। 
- তবে দ্রবণের সঠিক pH মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে pH মিটারের সাহায্য নেয়া হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১০.
নিচের কোন উপাদানটি ফিটকিরিতে অনুপস্থিত?
  1. K
  2. H2O
  3. Na
  4. Al
সঠিক উত্তর:
Na
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Na
ব্যাখ্যা
ফিটকিরি বা পটাশ অ্যালাম: 
- ফিটকিরি এর রাসায়নিক সংকেত হলো [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O]
- ফিটকিরি সাধারণ মানুষের কাছে পটাশ অ্যালাম নামে পরিচিত। 
- এটি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- এটি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ। 
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- ফিটকিরি বা পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১১.
বেকিং সোডায় তাপ দিলে কোন গ্যাস উৎপন্ন হয়? 
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড 
  2. অক্সিজেন 
  3. নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড 
  4. হাইড্রোজেন ডাই-অক্সাইড 
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড 
ব্যাখ্যা

হাইড্রোক্লোরিক এসিড: 
- সাধারণত মাংস, পোলাও, বিরিয়ানি এ ধরনের খাবার খাওয়ার পর আমাদের পাকস্থলীতে নির্দিষ্ট মাত্রায় হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) -এর প্রয়োজন হয়। 
- কোমল পানীয়গুলো অল্প মাত্রায় এসিডিক, তাই গুরুপাক খাবার পর কোমল পানীয় আমাদের পরিপাকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) তৈরিতে সাহায্য করে। 

এসকরবিক এসিড: 
- লেবু, কমলা, আপেল, পেয়ারা, আমলকী ইত্যাদি ফলের মধ্যে ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড (C6H8O6) আছে। 
- এটি দেহের ক্ষত সারাতে খুবই সহায়ক এবং এর অভাবে আমাদের শরীরে স্কার্ভি রোগ হয়। 

এসিটিক এসিড: 
- আম, জলপাই ইত্যাদি নানা রকম আচার সংরক্ষণ করতে ভিনেগার বা এসিটিক এসিড (CH3COOH) ব্যবহার করা হয়। 

ল্যাকটিক এসিড: 
- কোমল পানীয়ের মতো বোরহানি বা দই খেলে এতে বিদ্যমান ল্যাকটিক এসিড [(CH3-CH(OH)-COOH] আমাদের হজম শক্তিতে সাহায্য করে। 
- কেক, বিস্কুট, পাউরুটি ইত্যাদি বেকিং সোডা (NaHCO3) ব্যবহার করে ফোলানো হয়। 
- তাপ দিলে এই বেকিং সোডা ভেঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়, যা কেক, বিস্কুট, পাউরুটিকে ফুলিয়ে তোলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১১২.
নিজেদের বর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমে কোনো একটি বস্তু অম্ল, ক্ষারক না নিরপেক্ষ তা নির্দেশ করে কে?
  1. প্রভাবক
  2. ক্যাটালিস্ট
  3. নির্দেশক
  4. লবণ
সঠিক উত্তর:
নির্দেশক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দেশক
ব্যাখ্যা
অম্ল, ক্ষারক ও নির্দেশক: 
- যে সমস্ত পদার্থ পানিতে হাইড্রোজেন আয়ন উৎপন্ন করে তারা হলো অম্ল বা এসিড।
- অম্ল নীল লিটমাসকে লাল করে। অম্ল টক স্বাদযুক্ত হয়।
- ধাতব অক্সাইড ও হাইড্রোক্সাইডসমূহ হলো ক্ষারক। ক্ষারক লাল লিটমাসকে নীল করে।
- ক্ষার হলো সেই সমস্ত ক্ষারক যারা পানিতে দ্রবীভূত হয়। ক্ষারকসমূহ কটু স্বাদের হয়।
- নির্দেশকসমূহ নিজেদের বর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমে কোনো একটি বস্তু অম্ল, ক্ষারক না নিরপেক্ষ তা নির্দেশ করে।
- লবণ হলো অম্ল ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন নিরপেক্ষ পদার্থ।
- এসিডের সাথে ধাতব কার্বনেট বা বাইকার্বনেটের বিক্রিয়ায় লবণ, পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইড তৈরি হয়।
- এসিডের সাথে ধাতুর বিক্রিয়ায় লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
১১৩.
লিটমাস পেপার নীল থেকে লাল হয় কোনটির সংস্পর্শে?
  1.  KOH
  2.  NaCl
  3. NaOH
  4.  HCl
সঠিক উত্তর:
 HCl
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 HCl
ব্যাখ্যা
• লিট্মাস পেপার:
- লিট্মাস পেপার হলো একধরণের নির্দেশক যা কোন দ্রবণের প্রকৃতি অ্যাসিডিক নাকি ক্ষারকীয় তা নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়।
- এসিড নীল লিট্মাস পেপারকে লাল বর্ণে পরিণত করে।
- ক্ষার লাল লিট্মাস পেপার কে নীল বর্ণে পরিণত করে। 

HCl হলো এসিড যা নীল লিট্মাস পেপার কে লাল বর্ণে পরিণত করে।

অন্যদিকে, 
• NaOH ও KOH হলো ক্ষারক যা লাল লিট্মাস পেপারকে নীল বর্ণে পরিণত করে।
• NaCl হলো নিষ্ক্রিয় লবণ যা লিট্মাস পেপারে কোন বর্ণ প্রদর্শন করে না। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
১১৪.
আমলকিতে কোন এসিড থাকে?
  1. স্যালিসাইলিক এসিড
  2. অ্যাসকরবিক এসিড
  3. টারটারিক এসিড
  4. ফরমিক এসিড
সঠিক উত্তর:
অ্যাসকরবিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাসকরবিক এসিড
ব্যাখ্যা
• আমলকিতে থাকে অ্যাসকরবিক এসিড।

• বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জৈব
এসিড:
- পিঁপড়ার কামড়ে ফরমিক এসিড থাকে।
- আঙ্গুর, কমলা, লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড।
- তেঁতুলে থাকে টারটারিক এসিড।
- আপেল, আনারসে থাকে ম্যালিক এসিড।
- স্যালিসাইলিক এসিড পাওয়া যায় আঙ্গুর, স্ট্রবেরি, বরই ইত্যাদি ফলে।

উৎস:  বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১১৫.
দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয়, তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস কী বর্ণ ধারণ করে?
  1. ক) নীল
  2. খ) সবুজ
  3. গ) সাদা
  4. ঘ) লাল
সঠিক উত্তর:
ক) নীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নীল
ব্যাখ্যা
pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা।
কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। অর্থাৎ‍pH = - log[H+]
pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়। pH মিটারের pH স্কেল থাকে।
দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশী হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং ঠিকঠিক 7 এর সমান হলে দ্রবণটি প্রশমন হয়।
দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে। আর যদি দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়।


উৎস:  রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
১১৬.
সাধারণত pH স্কেলের মান কত থেকে কত পর্যন্ত হয়ে থাকে?
  1. 0–7
  2. 1–10
  3. 0–12
  4. 0–14
সঠিক উত্তর:
0–14
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0–14
ব্যাখ্যা

- সাধারণত pH স্কেলের মান 0–14 পর্যন্ত হয়ে থাকে, যেখানে 7 নিরপেক্ষ, < 7 অম্লীয় এবং > 7 ক্ষারীয় বোঝায়। 

pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৭.
জীবাণুযুক্ত পানি বিশুদ্ধ করার জন্য কোন গ্যাস ব্যবহার করা হয়? 
  1. হাইড্রোজেন গ্যাস
  2. ক্লোরিন গ্যাস
  3. ফ্লোরিন গ্যাস
  4. নাইট্রোজেন গ্যাস
সঠিক উত্তর:
ক্লোরিন গ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লোরিন গ্যাস
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠে যে পানি পাওয়া যায় তাতে নানা রকম ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ, এমনকি রোগ সৃষ্টি করতে পারে এরূপ জীবন ধ্বংসকারী জীবাণুও থাকে। তাই ব্যবহারের আগে পানি বিশুদ্ধ করে নিতে হয়। 
- ভূগর্ভের পানি সাধারণত রোগ-জীবাণু মুক্ত থাকে, কিন্তু এই পানিতে আর্সেনিকের (As) মতো নানা রকম ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি থাকে। 
- সাধারণত যেসব প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয়, সেগুলো হলো: পরিস্রাবণ, ক্লোরিনেশন, স্ফুটন, পাতন ইত্যাদি। 
- জীবাণুনাশক পানি বিশুদ্ধ করার জন্য ক্লোরিন গ্যাস (Cl2) ব্যবহার করা হয়। 
- এছাড়াও ব্লিচিং পাউডার [(Ca(OCl)Cl] এবং আরও কিছু পদার্থ, যার মধ্যে ক্লোরিন (Cl) আছে এবং জীবাণু ধ্বংস করতে পারে। 
- আমাদের দেশে বন্যার সময় পানি বিশুদ্ধ করার জন্য যে ট্যাবলেট বা কিট ব্যবহার করা হয়, সেটি হচ্ছে মূলত সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড (NaOCl), এর মাঝে যে ক্লোরিন (Cl) থাকে, সেটি পানিতে থাকা রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করে ফেলে। 
- ক্লোরিন (Cl)  ছাড়াও ওজন গ্যাস (O3) দিয়ে অথবা অতিবেগুনি রশ্মি দিয়ে পানিতে থাকা রোগ-জীবাণু ধ্বংস করা যায়, বোতলজাত পানির কারখানায় এ পদ্ধতি ব্যবহার করে পানিকে রোগ-জীবাণু মুক্ত করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১৮.
কোনটি সাবানকে শক্ত করে?
  1. সোয়িাম কার্বনেট
  2. সোডিয়াম সালফেট
  3. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. সোডিয়াম সিলিকেট
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম সিলিকেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম সিলিকেট
ব্যাখ্যা
- সাবান সাধারণত শক্ত এবং কোমল এই দুই শ্রেণীতে বিভক্ত।
- শক্ত সাবান তৈরিতে কষ্টিক সোডা এবং কোমল সাবান তৈরিতে কস্টিক পটাসের ব্যবহার হয়ে থাকে।
- সাধারণত তুলনামূলক শক্ত ধরনের সাবান তৈরীর জন্যে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) এবং কোমল ধরনের সাবানের জন্যে পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড (KOH) ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও, সাবানকে শক্ত ও ভারী করার জন্য সোডিয়াম সিলিকেট (Na2SiO3) ব্যবহার করা হয়। তবে, এটা পরিমাণমত ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যাতে বেশি শক্ত হয়ে না যায়।

উৎস: ব্রিটানিকা ও সাধারণ বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৯.
​পাকস্থলীতে খাবার হজমের জন্য কোন এসিড প্রয়োজন? 
  1. ভিনেগার 
  2. এসিটিক এসিড 
  3. হাইড্রোক্লোরিক এসিড 
  4. এসকরবিক এসিড 
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোক্লোরিক এসিড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোক্লোরিক এসিড 
ব্যাখ্যা

এসিডের ব্যবহার: 
- নিচে বিভিন্ন এসিডের ব্যবহার উল্লেখ করা হলো- 
• হাইড্রোক্লোরিক এসিড: 
- সাধারণত মাংস, পোলাও, বিরিয়ানি এ ধরনের খাবার খাওয়ার পর আমাদের পাকস্থলীতে নির্দিষ্ট মাত্রায় হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) -এর প্রয়োজন হয়। 
- কোমল পানীয়গুলো অল্পমাত্রায় এসিডিক, তাই গুরুপাক খাবার পর কোমল পানীয় আমাদের পরিপাকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) তৈরিতে সাহায্য করে। 

• ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড: 
- লেবু, কমলা, আপেল, পেয়ারা, আমলকী ইত্যাদি ফলের মধ্যে ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড (C6H8O6) আছে। 
- এটি দেহের ক্ষত সারাতে খুবই সহায়ক এবং এর অভাবে আমাদের শরীরে স্কার্ভি রোগ হয়। 

• ভিনেগার বা এসিটিক এসিড: 
- আম, জলপাই ইত্যাদির নানা রকম আচার সংরক্ষণ করতে ভিনেগার বা এসিটিক এসিড (CH3COOH) ব্যবহার করা হয়। 

• ল্যাকটিক এসিড: 
- কোমল পানীয়ের মতো বোরহানি বা দই খেলে এতে বিদ্যমান ল্যাকটিক এসিড [(CH3-CH(OH)-COOH] আমাদের হজম শক্তিতে সাহায্য করে। 

• বেকিং সোডা: 
- কেক, বিস্কুট, পাউরুটি ইত্যাদি বেকিং সোডা (NaHCO3) ব্যবহার করে ফোলানো হয়। 
- তাপ দিলে এই বেকিং সোডা ভেঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়, যা কেক, বিস্কুট, পাউরুটিকে ফুলিয়ে তোলে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২০.
মৃৎক্ষার ধাতু নিচের কোনটি?
  1. বেরিয়াম 
  2. সিজিয়াম 
  3. রুবিডিয়াম 
  4. সোডিয়াম 
সঠিক উত্তর:
বেরিয়াম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেরিয়াম 
ব্যাখ্যা

মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals): 
- পর্যায় সারণির 2নং গ্রুপের মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে। 
যেমন- 
• বেরিলিয়াম (Be), 
• ম্যাগনেসিয়াম (Mg), 
• ক্যালসিয়াম (Ca), 
• স্ট্রনসিয়াম (Sr), 
বেরিয়াম (Ba) এবং 
• রেডিয়াম (Ra)। 
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে। 
- এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়। 

ক্ষার ধাতু (Alkali Metals): 
- পর্যায় সারণির 1নং গ্রুপের মৌলগুলোর মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি মৌলগুলোকে ক্ষারধাতু বলে। 
- এই মৌলগুলোর প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষার ধাতু (Alkali Metals) বলা হয়। 
যেমন- 
• লিথিয়াম (Li), 
• সোডিয়াম (Na), 
• পটাসিয়াম (K), 
• রুবিডিয়াম (Rb), 
• সিজিয়াম (Cs) এবং 
• ফ্রান্সিয়াম (Fr)। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১২১.
সৌর প্যানেলে সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণে কোন এসিড ব্যবহার করা হয়? 
  1. নাইট্রিক এসিড
  2. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  3. ফসফরিক এসিড
  4. সালফিউরিক এসিড
সঠিক উত্তর:
সালফিউরিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা
এসিডের ব্যবহার: 
- সৌর প্যানেলে তৈরি সৌর বিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ব্যবহার করা হয়। 
- বাসাবাড়িতে আইপিএস (IPS) চালানোর জন্য এবং গাড়িতে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, তার অত্যাবশ্যকীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড (H2SO4)। 
- ফসল উৎপাদনের জন্য সার হলো অতি প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। সার হিসেবে যেগুলো ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম সালফেট [(NH4)2SO4] ও অ্যামোনিয়াম ফসফেট [(NH4)3PO4]। 
- আর সার কারখানায় এগুলো তৈরি করা হয় যথাক্রমে নাইট্রিক এসিড (HNO3), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) এবং ফসফরিক এসিড (H3PO4) ব্যবহার করে। 
- শক্তিশালী এসিডগুলো ( যেমন সালফিউরিক এসিড (H2SO4), নাইট্রিক এসিড (HNO3), হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) মানবদেহের জন্য যেমন মারাত্মক ক্ষতিকর, তেমনি আমাদের অনেক প্রয়োজনীয় এবং নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্রেরও অনেক ক্ষতি করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২২.
পানিতে দ্রবীভূত করলে এসিডের অণু বিয়োজিত হয়ে কী আয়ন দান করে?
  1. ক) হাইড্রোজেন আয়ন
  2. খ) হিলিয়াম আয়ন
  3. গ) হাইড্রোক্সাইড আয়ন
  4. ঘ) অক্সাইড আয়ন
সঠিক উত্তর:
ক) হাইড্রোজেন আয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হাইড্রোজেন আয়ন
ব্যাখ্যা

এসিড এক ধরনের গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্য যা পানিতে দ্রবীভূত করলে এসিডের অণু বিয়োজিত হয়ে (ভেঙে) হাইড্রোজেন আয়ন বা প্রােটন (H+) দান করে।
যেমন- হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) এরা তীব্র এসিড৷
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি

১২৩.
মাটির অম্লতা দূর করতে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. চুন
  2. ইউরিয়া
  3. অ্যামোনিয়াম সালফেট
  4. ভিনেগার
সঠিক উত্তর:
চুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুন
ব্যাখ্যা

চুন (Lime) হলো একটি ক্ষারধর্মী পদার্থ, যা মাটির অম্লতা প্রশমিত করার জন্য সবচেয়ে কার্যকরী উপাদান।

• ক্ষারক:
- সকল ক্ষারক লাল লিটমাস কাগজের রং পরিবর্তন করে নীল করে।
- পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারক অর্থাৎ ক্ষারসমূহ পানিতে হাইড্রক্সাইড আয়ন (OH-) উৎপন্ন করে।
যেমন-
• NaOH → Na+ + OH-
• KOH → K+ + OH-
- ক্ষারকএসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ উৎপন্ন করে।
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে।

• প্রাত্যহিক জীবনে ক্ষারকের ব্যবহার:
- মৌমাছি হুল ফুটালে এবং পিঁপড়া কামড় দিলে শরীরে যেহেতু ফরমিক এসিড, মেলিটিন এবং অ্যাপামিন নামক এসিডিক পদার্থ নিঃসৃত হয়, তাই সেগুলি জ্বালাপোড়া এবং ফুলে যাওয়ার কারণ হয়ে থাকে।
- এসিডের প্রভাবকে নিষ্ক্রিয় করতে ক্ষারক ধর্মীয় মলম, লোশন (যেমন চুন), ক্যালামিন (যা জিংক কার্বোনেট) এবং বেকিং সোডা ব্যবহার করা হয়, যা এই জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে।

• মাটির এসিডিটি দূর ক্ষারকের ব্যবহার:
- মাটিতে এসিডিটি বৃদ্ধি পেলে উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়, যা প্রশমিত করতে ক্ষারক যেমন- চুন (CaO), মিল্ক অব লাইম Ca(OH)2 এবং চুনাপাথর (CaCO3) ব্যবহৃত হয়।
- এই প্রক্রিয়াকে 'লাইমিং' (Liming) বলা হয়।
- বাসাবাড়িতে পরিষ্কারক হিসেবে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ব্যবহৃত হয়।
- টুথপেস্ট ও টুথপাউডার ক্ষারীয় পদার্থ হয়ে মুখে এসিডীয় অবস্থা নিরসন করে দাঁতের ক্ষয় রোধ করে।
- সাবান যেমন- শক্ত সাবান, তরল সাবান এবং কাপড় কাচার সাবান ক্ষারক হিসেবে তৈরি হয়। আবার শেভিং ফোম এবং নরম সাবানও ক্ষারক দিয়ে তৈরি।
- গ্যাস্ট্রিক ব্যথা বা এসিডিটির জন্য ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Mg(OH)2) ও অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Al(OH)3) এন্টাসিড হিসেবে কাজ করে।

উল্লেখ্য,
- ইউরিয়া, অ্যামোনিয়াম সালফেট এবং ভিনেগার মাটির অম্লতা দূর না করে বরং অম্লতা আরও বাড়িয়ে দেয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২৪.
কোন পদ্ধতিতে সালফিউরিক এসিড তৈরি করা হয়?
  1. সলভে পদ্ধতিতে
  2. হ্যাবার পদ্ধতিতে
  3. স্পর্শ পদ্ধতিতে
  4. বিসমার্ক পদ্ধতিতে
সঠিক উত্তর:
স্পর্শ পদ্ধতিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পর্শ পদ্ধতিতে
ব্যাখ্যা
সালফিউরিক এসিড: 
- সালফিউরিক এসিড অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্য অপেক্ষা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় বলে সালফিউরিক এসিডকে রাসায়নিক দ্রব্যের রাজা বলা হয়। 
- শিল্পকারখানায় কঠিন সালফার থেকে সালফিউরিক এসিডকে প্রস্তুত করা হয় যে পদ্ধতিতে তাকে স্পর্শ পদ্ধতি বলে। 

সালফিউরিক এসিডের ধর্ম: 
এসিড ধর্ম: 
- লঘু H2SO4 বা গাঢ় H2SO4 কোনো ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ এবং পানি তৈরি করে, একে H2SO4 এর এসিড ধর্ম বলে। 
যেমন: সালফিউরিক এসিড ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড এর সাথে বিক্রিয়া করে ক্যালসিয়াম সালফেট লবণ এবং পানি উৎপন্ন করে। 
• H2SO4 + Ca(OH)2 → CaSO4 + 2H2
সালফিউরিক এসিড + ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড → ক্যালসিয়াম সালফেট + পানি 

জারণ ধর্ম (Oxidation Property): 
- H2SO4 এর মধ্যে অনেক বেশি পানি থাকলে অর্থাৎ পানির মধ্যে H2SO4 দিলে সেই H2SO4 কে লঘু H2SO4 এসিড বলে, লঘু H2SO4 এর জারণ ধর্ম নেই। 
- কিন্তু যে H2SO4 এর মধ্যে পানি কম পরিমাণে থাকে সেই H2SO4 গাঢ় H2SO4 বলে, গাঢ় H2SO4 এর জারণ ধর্ম আছে। 
- গাঢ় H2SO4 কপারকে জারিত করে কপার সালফেটে পরিণত করে এবং নিজে বিজারিত হয়ে সালফার ডাই-অক্সাইড এবং পানি উৎপন্ন করে। 
• 2H2SO4 (গাঢ়) + Cu → CuSO4 + SO2 + 2H2

নিরুদন ধর্ম (The Dehydrating Property): 
- যে পদার্থ কোনো যৌগ থেকে পানি শোষণ করে সেই পদার্থকে নিরুদক বলে। 
- পানি শোষণ করার ধর্মকে নিরুদন ধর্ম বলে। 
- লঘু H2SO4 এর কোনো নিরুদন ধর্ম নেই, কিন্তু গাঢ় H2SO4 এর নিরুদন ধর্ম আছে।
- গাঢ় H2SO4 চিনি (C12H22O11) থেকে পানি শোষণ করে, এজন্য গাঢ় H2SO4 কে নিরুদক বলে। 
• C12H22O11 + H2SO4 → 12C + H2SO4.11H2

অন্যদিকে, 
- সলভে পদ্ধতি → সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। 
- হ্যাবার পদ্ধতি → অ্যামোনিয়া (NH3) তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। 
- বিসমার্ক পদ্ধতি → এটি সালফিউরিক এসিড তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১২৫.
নিচের কোন মানটি pH স্কেলে নিরপেক্ষতা নির্দেশ করে?
  1. ৫.৫
  2. ৪.৫
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 

অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৬.
নিচের কোনটি ক্ষারকের উদাহরণ?
  1. HCl
  2. NaOH
  3. CO2
  4. NaCl
সঠিক উত্তর:
NaOH
উত্তর
সঠিক উত্তর:
NaOH
ব্যাখ্যা
• NaOH ক্ষারকের একটি উদাহরণ। 

• ক্ষারক:
- ক্ষারক (Base) হল এমন একটি রাসায়নিক যৌগ যা জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সাইড আয়ন (OH-) দান করে বা প্রোটন (H+) গ্রহণ করে। 

• ক্ষারকের বৈশিষ্ট্য:
- তিক্ত স্বাদ. 
- ক্ষারক লিটমাস পেপার নীল করে। 
- ক্ষারকের pH মান ৭-এর বেশি, অর্থাৎ pH > 7।  

• সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) একটি শক্তিশালী ক্ষারক, যা পানিতে দ্রবীভূত হয়ে Na+ ও OH- আয়ন তৈরি করে।
• NaOH-এর রাসায়নিক বিক্রিয়া:
NaOH → Na++ OH 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১২৭.
কোন এসিডটি পানিতে সম্পূর্ণভাবে বিযোজিত হয়?
  1. এসিটিক এসিড
  2. সাইট্রিক এসিড
  3. অক্সালিক এসিড 
  4. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোক্লোরিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোক্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা

- হাইড্রোক্লোরিক এসিডটি পানিতে সম্পূর্ণভাবে বিযোজিত হয়। 

শক্তিশালী এসিড: 
- বেশ কিছু জৈব এসিড পানিতে বিযোজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) বিমুক্ত করে। আবার খনিজ এসিডগুলো পানিতে পুরোপুরি বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) বিমুক্ত করে। অর্থাৎ, যতগুলো এসিডের অণু থাকে, তার সবগুলোই বিয়োজিত হয়। 
যেমন- 
• সালফিউরিক এসিড (H2SO4), 
• নাইট্রিক এসিড (HNO3) এবং 
• হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) । 

দুর্বল এসিড: 
- তবে কিছু কিছু এসিড বিশেষ করে জৈব এসিডগুলো পানিতে পুরোপুরিভাবে বিয়োজিত না হয়ে আংশিকভাবে বিয়োজিত হয়। অর্থাৎ, যতগুলো এসিডের অণু থাকে তার সবগুলো থেকে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) বিমুক্ত হয় না। সেজন্য এই এসিডগুলোকে দুর্বল এসিড বলে। 
- তবে কিছু এসিড আছে যেমন- কার্বোনিক এসিড (H2CO3) যেটি জৈব এসিড না হলেও দুর্বল এসিড। 
যেমন- 
• সাইট্রিক এসিড (C6H8O7), 
• এসিটিক এসিড (CH3COOH) এবং 
• অক্সালিক এসিড (HOOC-COOH) । 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২৮.
নিম্নের কোনটি অজৈব এসিড?
  1. ল্যাকটিক এসিড
  2. সাইট্রিক এসিড
  3. অ্যাসিটিক এসিড
  4. সালফিউরিক এসিড
সঠিক উত্তর:
সালফিউরিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা

- অজৈব এসিড বা খনিজ এসিড হলো সেই সকল এসিড যা সাধারণত খনিজ পদার্থ থেকে তৈরি হয় এবং এদের অণুতে কার্বন পরমাণুর উপস্থিতি থাকে না (ব্যতিক্রম কিছু ক্ষেত্রে)। সালফিউরিক এসিড (H2SO4) একটি শক্তিশালী অজৈব এসিড যা শিল্পকারখানায় বহুল ব্যবহৃত হয়। 

জৈব এসিড: 
- জলপাই, করমচা, আমলকি ও কাঁচা আমড়া ও লেবুতে সাইট্রিক এসিড থাকে। 
- তেঁতুলে টারটারিক এসিড থাকে। 
- টকদই এর মধ্যে থাকে ল্যাকটিক এসিড। 
- বাজারে কাঁচের বোতলে যে ভিনেগার পাওয়া যায় তা মূলত ইথানোয়িক এসিড (CH3-COOH)-এর ৬-১০% জলীয় দ্রবণ। 
- বাজারে বিভিন্ন রকমের সফট ড্রিংকস পাওয়া যায় যেগুলো প্রকৃত অর্থে কার্বনিক এসিডের দ্রবন। 
- পাকস্থলির দেয়াল হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) উৎপন্ন করে। এ হাইড্রোক্লোরিক এসিড খাবারের সাথে বিভিন্ন ক্ষতিকারক অণুজীবকে মেরে ফেলে এবং খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। আবার পাকস্থলি থেকে অতিরিক্ত এসিড উৎপন্ন হলে বুক জ্বালা ও গলায় জ্বালাপোড়া অনুভব করে থাকি। তখন আবার অতিরিক্ত এসিডকে প্রশমিত করতে সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট (NaHCO3) অথবা এন্টাসিড জাতীয় ওষুধ সেবন করে থাকি। 

অজৈব এসিড: 
- হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl), নাইট্রিক এসিড (HNO3) ও সালফিউরিক এসিড (H2SO4) হলো অজৈব এসিড।
- পানিতে বিভিন্ন অনুপাতে যোগ করে তাদের দ্রবণ প্রস্তুত করা হয়েছে। 
- জলীয় দ্রবণে থেকেই এরা তাদের এসিড ধর্ম প্রদর্শন করে। 
- হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাসের কোনো এসিড ধর্ম থাকে না। হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোক্লোরিক এসিড উৎপন্ন করে থাকে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৯.
এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়াকে বলা হয়- 
  1. বিয়োজন বিক্রিয়া
  2. সংযোজন বিক্রিয়া
  3. প্রশমন বিক্রিয়া
  4. জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
প্রশমন বিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশমন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রশমন বিক্রিয়া: 
- ধাতুর হাইড্রোক্সাইড তথা এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- যে বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষার বিক্রিয়াও বলা হয়। 
যেমন - লঘু NaOH দ্রবণে ধীরে ধীরে লঘু HCl দ্রবণ করলে NaCl (লবণ) এবং H2O (পানি) উৎপন্ন হয়। 
- প্রশমন বিক্রিয়ায় সব সময় তাপ উৎপন্ন হয় অর্থাৎ প্রশমন বিক্রিয়া একটি তাপ উৎপাদি বিক্রিয়া। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩০.
কোনো জলীয় দ্রবণে pH = 0 দ্রবণটির প্রকৃতি হবে-
  1. প্রশম
  2. অম্লীয়
  3. ক্ষারীয়
  4. উভধর্মী
সঠিক উত্তর:
অম্লীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অম্লীয়
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের [H+] মোলার ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে pH বলে। 
অর্থাৎ pH = -log[H+
- একইভাবে, কোনো দ্রবণের হাইড্রোক্সাইড আয়নের [OH-] মোলার ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে pOH বলে। 
অর্থাৎ, pOH = -log[OH-
- 25° C তাপমাত্রায় পানির [H+] ও [OH-] এর গুণফল হবে = 10-14
- যেকোনো নিরপেক্ষ দ্রবণে [H+] = [OH-] = 10-7 mol L-1, তাই নিরপেক্ষ দ্রবণের pH = pOH = 7. 
- বিশুদ্ধ পানির pH এবং pOH একই অর্থাৎ pH = pOH = 7. তাই বিশুদ্ধ পানি নিরপেক্ষ। 
- বিশুদ্ধ পানিতে এসিড যোগ করা হলে pH এর মান কমতে থাকে অর্থাৎ pH < 7 হয়। আবার বিশুদ্ধ পানিতে ক্ষার যোগ করা হলে pH এর মান বাড়তে থাকে অর্থাৎ pH > 7 হয়। 
সুতরাং, কোনো জলীয় দ্রবণের pH বা pOH = 7 হলে উক্ত দ্রবণ নিরপেক্ষ। pH < 7 হলে উক্ত দ্রবণ অম্লীয় এবং pH > 7 হলে উক্ত দ্রবণ ক্ষারকীয় হবে। 


উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩১.
বাসাবাড়ির আইপিএস (IPS) বা গাড়ির ব্যাটারির অত্যাবশ্যকীয় উপাদান কোনটি?
  1. HNO2
  2. H3PO4
  3. H2SO4
  4. HCl
সঠিক উত্তর:
H2SO4
উত্তর
সঠিক উত্তর:
H2SO4
ব্যাখ্যা

- বাসাবাড়ির আইপিএস (IPS) বা গাড়ির ব্যাটারির অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4)।

এসিডের ব্যবহার:

- ফলমূলে যে অ্যাসিড থাকে সেগুলো জৈব অ্যাসিড।
- এর মধ্যে অনেক অ্যাসিড আছে যা আমাদের দেহে রোগ প্রতিরোধ করে থাকে।
- এসকরবিক অ্যাসিড যা আমরা ভিটামিন সি বলে জানি তার অভাবে মানবদেহে স্কার্ভি (Scurvy) রোগ হয়।
- ভিটামিন 'সি' ক্ষত সারাতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- পাকস্থলীতে খাদ্যবস্তু হজম করার জন্য হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) এর প্রয়োজন হয় যা আমাদের দেহের গ্ল্যান্ড থেকে নিঃসৃত হয়।
- সফট ড্রিংকসের মত দই বা বোরহানি খেলে দই বা বোরহানিতে বিদ্যমান ল্যাকটিক অ্যাসিড খাবার হজমে সহায়তা করে।
- সার কারখানায় নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3), সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4), ফসফরিক অ্যাসিড (H3PO4) ব্যবহার করে বিভিন্ন রকমের সার প্রস্তুত করা হয়।
- টয়লেট পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত পরিষ্কারকের মূল উপাদানহলো হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl), নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3) বা সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4) এর মত শক্তিশালী অ্যাসিড।
- বাসাবাড়ির আইপিএস (IPS) বা গাড়ির ব্যাটারির অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4)।

উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩২.
নিচের কোনটি নোবেল গ্যাস?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) হাইড্রোজেন
  3. গ) নিয়ন
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
গ) নিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিয়ন
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাসঃ হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) এবং ওগানেসন (Og)।
- এগুলোর মধ্যে প্রথম ৬টি প্রকৃতিতে প্রাপ্ত।
- ওগানেসন (Og) পরীক্ষাগারে তৈরি এবং তেজস্ক্রিয়।
এরা অন্য মৌলের সাথে বিক্রিয়া করে না বলে এদেরকে অভিজাত বা মহান বা Noble গ্যাসও বলে।

- একমাত্র হিলিয়াম ছাড়া অন্য সকল নিষ্ক্রিয় মৌলের যোজ্যতা স্তরে ৮ টি ইলেকট্রন আছে। হিলিয়ামের যোজ্যতা স্তরে ২টি ইলেকট্রন আছে।

উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩৩.
ক্ষারক কোনটিকে প্রশমিত করতে পারে? 
  1. লবণ
  2. এসিড
  3. পানি
  4. অক্সিজেন
সঠিক উত্তর:
এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এসিড
ব্যাখ্যা
ক্ষারক: 
- ধাতুর অক্সাইডকে ক্ষারক বলে। 
- ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে। 

ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়োনিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- NaOH, КОН, Ca(OH)2 ইত্যাদি তীব্র ক্ষার। 

মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- NH4OH, Fe(OH)3, Al(OH)3 ইত্যাদি মৃদু ক্ষার। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৪.
যেসব এসিড জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়, তাদের কী বলা হয়? 
  1. দুর্বল এসিড
  2. নিরপেক্ষ এসিড
  3. তীব্র এসিড
  4. জৈব এসিড
সঠিক উত্তর:
তীব্র এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তীব্র এসিড
ব্যাখ্যা

- যেসব অ্যাসিড জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয়, তাদের তীব্র এসিড (Strong Acid) বলা হয়, যা হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) বা সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4)-এর মতো অ্যাসিডগুলির বৈশিষ্ট্য, যেখানে দুর্বল অ্যাসিডগুলি আংশিকভাবে আয়নিত হয়। 

 এসিড: 
- এসিড টক স্বাদ যুক্ত। 
- এসিড নীল লিটমাসকে লাল বর্ণে পরিণত করে। 
- এটি ক্ষার ও ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- এটি ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে H2 গ্যাস উৎপন্ন করে। 

জৈব এসিড: 
- জৈব এসিড মূলত কার্বক্সিলিক মূলক (-COOH) অথবা সালফোনিক এসিড মূলক (-SO3H) বর্তমান থাকে এবং অম্লধর্ম প্রকাশ পায়, ওদেরকে জৈব এসিড বলে। 

অজৈব এসিড: 
- অজৈব যৌগ কিন্তু টক স্বাদ যুক্ত, নীললিটমাস লাল করে, ক্ষার বা ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণও পানি উৎপন্ন করে এবং ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে H2 গ্যাস উৎপন্ন করে তাকে অজৈব এসিড বলে। 

তীব্র এসিড: 
- তীব্র এসিড জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- HCl, HNO3, H2SO4 ইত্যাদি। 

দুর্বল এসিড: 
- দুর্বল এসিড জলীয় দ্রবণ আংশিকভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- H2CO3, H-COOH, CH3-COOH ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৫.
বিশুদ্ধ জলের pH মান কত?
  1. ৮ 
  2. ৫ 
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

pH মান: 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H⁺) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলা হয়। 
- অর্থাৎ, pH = –log[H⁺].
- pH- এর ‘p’ এসেছে জার্মান শব্দ Potenz থেকে যার অর্থ হলো ক্ষমতা;
- এবং ‘H’ দ্বারা হাইড্রোজেন বোঝানো হয়েছে।
- অর্থাৎ pH হলো হাইড্রোজেন আয়নের ঘনমাত্রার ক্ষমতা।
- ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে বিজ্ঞানী সোরেনসেন (Sorensen) pH স্কেল প্রবর্তন করেন।
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয়, ক্ষারীয় বা নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- সাধারণভাবে pH এর মান ০ থেকে ১৪ এর মধ্যে থাকে।
- pH মান ৭-এর সমান হলে তা নিরপেক্ষ হিসেবে গণ্য হয়।
- বিশুদ্ধ জল একটি নিরপেক্ষ দ্রবণ, তাই এর pH মান ৭।

উল্লেখ্য,
- কোনো দ্রবণের pH মান ৭-এর কম হলে তা অ্যাসিডিক; এর অর্থ- দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়নের (H⁺) ঘনত্ব বেশি থাকে।
- pH মান ৭-এর বেশি হলে  দ্রবণটি ক্ষারীয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৬.
নিচের কোন যৌগটি একটি লবণ?
  1. ক) ক্যালসিয়াম অক্সাইড
  2. খ) সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. গ) কার্বনিক এসিড
  4. ঘ) পটাশিয়াম নাইট্রেট
সঠিক উত্তর:
ঘ) পটাশিয়াম নাইট্রেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পটাশিয়াম নাইট্রেট
ব্যাখ্যা

- প্রশমন বিক্রিয়ার সাহায্যে এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ এবং পানি উৎপন্ন হয়। তাই ধনাত্মক আয়নকে ক্ষারীয় মূলক বলে।
- আর লবণের ঋণাত্মক অংশটি এসিড বা অম্ল থেকে আসে। তাই লবণের ঋণাত্মক আয়নকে অম্লীয় মূলক বলে৷
- ক্যালসিয়াম অক্সাইড এবং সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড হলো ক্ষার।
- কার্বনিক এসিড হলো একটি অম্ল।
- পটাশিয়াম নাইট্রেট হলো একটি লবণ।
সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১৩৭.
কৃষি জমিতে চুন ব্যবহার করা হয় কেন?
  1. মাটির অম্লতা বৃদ্ধির জন্য
  2. মাটিতে লবণাক্ততা বাড়াতে
  3. মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
  4. মাটিতে নাইট্রোজেন বাড়াতে
সঠিক উত্তর:
মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য
ব্যাখ্যা

কৃষি জমিতে চুন (সাধারণত ক্যালসিয়াম কার্বনেট CaCO3 বা ডলোমাইট CaMg(CO3)2 ব্যবহার করার প্রধান উদ্দেশ্য হলো মাটির অম্লতা বা অ্যাসিডিটি হ্রাস করা।
- এসিড মাটি অনুর্বর।
- জমিতে বার বার অ্যামোনিয়াম সালফেটকে সার হিসেবে ব্যবহার করলে মাটিতে এসিডের মাত্রা বাড়ে।
- ফলে মাটি অনুর্বর হয়ে যায়।
- এই সারের সাথে চুন মিশালে এসিডের তীব্রতা হ্রাস পায়।
- তাই মাটির অম্লতা হ্রাসের জন্য চুন ব্যবহার করা হয়।

সূত্র- রসায়ন বই, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১৩৮.
নিচের কোন লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয়?
  1. AgCl
  2. CaCO3
  3. CuSO4
  4. Ag2SO4
সঠিক উত্তর:
CuSO4
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CuSO4
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- অনেক লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে। 
যেমন- 
• সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), 
• সোডিয়াম গ্লুটামেট (C5H8NO4Na) লবণ। 

- প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ আছে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। 
যেমন- 
ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3)
সিলভার সালফেট (Ag2SO4)
সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি।  

- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্যও লবণ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন - 
• চুনাপাথর (CaCO3) । 

- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ।
যেমন - 
• অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), 
• অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), 
• পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 

- কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধেও কিছু লবণ ব্যবহার করা হয় যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে। 
যেমন- 
তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) । 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩৯.
pH মান 7 এর নিচে হলে দ্রবণটি কী হবে?
  1. ক্ষারীয়
  2. ধাতব 
  3. নিরপেক্ষ 
  4. অম্লীয় 
সঠিক উত্তর:
অম্লীয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অম্লীয় 
ব্যাখ্যা

pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪০.
​রকেটে জ্বালানি ও সোনা আহরণে কোন এসিড ব্যবহার করা হয়? 
  1. কার্বোলিক এসিড 
  2. নাইট্রিক এসিড 
  3. হাইড্রোক্লোরিক এসিড 
  4. সালফিউরিক এসিড 
সঠিক উত্তর:
নাইট্রিক এসিড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রিক এসিড 
ব্যাখ্যা

এসিডের ব্যবহার: 
- দৈনন্দিন জীবনে এবং শিল্প কারখানায় এসিডের ব্যবহার অনস্বীকার্য। 
​- সোনার গহনা তৈরির সময় নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করা হয়। 
– আইপিএস, গাড়ি, মাইক বাজানোর সময়, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
- বাসাবাড়িতে সাপের উপদ্রব কমানোর জন্য কার্বোলিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
- আমাদের খাদ্যদ্রব্য হজম করার জন্য পাকস্থলীতে যে এসিড অত্যাবশ্যকীয় তা হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড। 
- সার কারখানায় অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড। 
- এছাড়া ডিটারজেন্ট থেকে শুরু করে নানারকম রং, ঔষধপত্র, কীটনাশকসহ পেইন্ট, কাগজ, বিস্ফোরক ও রেয়ন তৈরিতে প্রচুর সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
- কোনো একটি দেশ কতটা শিল্পোন্নত তা বিচার করা হয় ঐ দেশ কতটুকু সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করে তার উপর ভিত্তি করে। 
- ইস্পাত তৈরির কারখানা, ঔষধ, চামড়া শিল্প ইত্যাদি অনেক শিল্পে হাইড্রোক্লোরিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 
- সার কারখানায়, বিস্ফোরক প্রস্তুতি, খনি থেকে মূল্যবান ধাতু যেমন- সোনা আহরণে ও রকেটে জ্বালানির সাথে নাইট্রিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১৪১.
pH স্কেলের উদ্ভাবন করেন কে?
  1. মেন্ডেলিফ
  2. সোরেনসেন
  3. ডাল্টন
  4. ল্যাভয়সিয়ে
সঠিক উত্তর:
সোরেনসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোরেনসেন
ব্যাখ্যা
•  pH :
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের [H+] মোলার ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে pH বলে।
- 1909 সালে ড্যানিশ প্রাণ-রসায়নবিদ সোরেনসেন কোনো দ্রবণের H+ ও OH- আয়নের ঘনমাত্রা প্রকাশের জন্য pH স্কেল ব্যবহার করেন।
- pH হলো Puissance d' Hydrogen অর্থাৎ হাইড্রোজেন আয়নের প্রাবল্য। 

• pH pOH এর মধ্যে সম্পর্ক-
pH + pOH = 14

• বিশুদ্ধ পানির pH এবং pOH একই অর্থাৎ pH = pOH = 7 I অর্থাৎ বিশুদ্ধ পানি নিরপেক্ষ।
- বিশুদ্ধ পানিতে এসিড যোগ করা হলে pH এর মান কমতে থাকে এবং ক্ষার যোগ করলে pH এর মান বাড়তে থাকে। 

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪২.
এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস কোনটি? 
  1. N2O
  2. SO2
  3. CO
  4. CO2
সঠিক উত্তর:
SO2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
SO2
ব্যাখ্যা

এসিড বৃষ্টি: 
- বায়ুমণ্ডলে অধঃক্ষেপণ বৃষ্টিতে pH এর মান 5.6 এর কম হলেই ঐ অধঃক্ষেপণকে এসিড বৃষ্টি বলে। 
- এসিড বৃষ্টির কারণ হচ্ছে মনুষ্যসৃষ্ট বায়ু দূষণ ক্রিয়া। 
- সাধারণত কলকারখানা অঞ্চলের এসিড বৃষ্টির পানির pH এর মান 5.6 থেকে 3.5 এর মধ্যে থাকে। 
- এই এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস বা এসিড বৃষ্টির কারণ মূলত সালফার ডাই অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (যেমন: NO, NO2) । 

এসিড বৃষ্টির ক্ষতিকর প্রভাব: 
- বর্তমানে রিপোর্টে প্রকাশিত ভারতের 'মথুরা অয়েল রিফাইনারি' থেকে নির্গত SO2 বৃষ্টির পানিতে দ্রবীভূত হয়ে এসিড বৃষ্টি ঘটাচ্ছে। 
- এ এসিড বৃষ্টি থেকে 'তাজমহল'-এর মার্বেল পাথর আক্রান্ত হচ্ছে। এসিড বৃষ্টিতে বিভিন্ন ধাতুর তৈরি ব্রিজ ও অট্টালিকার ক্ষতি হয়। 
- এসিড বৃষ্টির ফলে জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ আক্রান্ত হয়। কম pH এর পানিতে মাছের ডিম হ্যাচিং (hatching) বাঁধাপ্রাপ্ত হয়। অধিক অম্লত্বের কারণে জলাশয়ে সমগ্র বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হয়ে জলাশয় বন্ধ্যা হয়ে যেতে পারে।
- এসিড বৃষ্টির প্রভাবে বৃষ্টি অরণ্য (rain forest)- এর বিশেষ ক্ষতি হতে পারে। বীজের অঙ্কুরোদ্গম এসিড বৃষ্টিতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। 
- মাটির উপাদান ক্যালসিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম, জিংক ধাতুর ফসফরাস যৌগ এসিড বৃষ্টি ধুয়ে নিয়ে মাটিকে অনুর্বর করে দেয়। 

এসিড বৃষ্টির প্রতিকার: 
- এসিড বৃষ্টি হওয়ার পরে পুকুর ও হ্রদের পানিতে এবং কৃষি জমিতে চুন বা লাইম অথবা চুনাপাথর গুঁড়া ছিটানো দরকার। তখন অতিরিক্ত এসিড ক্যালসিয়াম লবণে পরিণত হয়। এরূপ লাইমিং কাজে অর্থ ব্যয় খুব বেশি। 
- দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো ট্রপোস্ফিয়ারকে SO2 গ্যাস ও নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx) মুক্ত রাখার ব্যবস্থা করা। 
- এজন্য শিল্পক্ষেত্রে FGD প্ল্যান্ট ও মোটর-কারে ক্যাটালাইটিক কনভার্টার ব্যবহার করে NOx গ্যাসকে বিজারিত করে N2 গ্যাসে পরিণত করা। 

অন্যদিকে, 
- কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2), কার্বন মনোঅক্সাইড (CO) এবং নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) এসিড বৃষ্টির সাথে সম্পর্কযুক্ত নয় বা এসিড বৃষ্টির কারণ নয়। 
যেমন- কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) দূর্বল কার্বনিক এসিড (H2CO3) তৈরি করে যা এসিড বৃষ্টি তৈরি করতে পারে না। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।

১৪৩.
pH স্কেলে pH মানের সীমা কোনটি?
  1. 7 থেকে 14
  2. 0 থেকে 14
  3. 1 থেকে 7
  4. 1 থেকে 14
সঠিক উত্তর:
0 থেকে 14
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0 থেকে 14
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো এসিড দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। একইভাবে কোনো ক্ষার দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এসিড দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের গাঢ়ত্ব যদি বেশি হয়, তবে তা সবল এসিড, আর যদি কম হয় তবে তা দুর্বল এসিড। 
- ক্ষারের ক্ষেত্রে একই বিষয় প্রযোজ্য, তবে সেটি হাইড্রোক্সিল আয়নের ঘনমাত্রার উপর। 
- কিন্তু এসিড যদি খুবই লঘু হয় অথবা ক্ষার দ্রবণটি যদি খুবই লঘু হয়, তবে সেক্ষেত্রে H+ আয়ন অথবা OH- আয়নের ঘনমাত্রা 10 এর ঋণাত্বক ঘাত দ্বারা প্রকাশ করতে হয়। 
- বিষয়টিকে আরো সহজ করার জন্য বিজ্ঞানী সোরেনসেখ দ্রবণের H+ আয়নের ঘনমাত্রা pH দ্বারা প্রকাশ করার পদ্ধতি প্রচলন করেন। 
- pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+

- pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়। 
- pH মিটারের pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশী হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং ঠিকঠিক 7 এর সমান হলে দ্রবণটি প্রশমন হয়। 
- দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে। আর যদি দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়। এভাবে লিটমাস কাগজ অথবা লিটমাস দ্রবণ ব্যবহার করেও ঐ দ্রবণের pH মান 7 এর উপরে না নীচে তা নির্ধারণ করা যায়। 
- তবে দ্রবণের সঠিক pH মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে pH মিটারের সাহায্য নেয়া হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৪.
কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ হচ্ছে- 
  1. কপার সালফেট
  2. পটাশিয়াম নাইট্রেট
  3. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
  4. অ্যামোনিয়াম ফসফেট
সঠিক উত্তর:
কপার সালফেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপার সালফেট
ব্যাখ্যা

লবণ: 
- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এই তুঁতে বা কপার সালফেট শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪৫.
বিশুদ্ধ পানির pH মান কত? 
  1. 0
  2. 7
  3. 10
  4. 14
সঠিক উত্তর:
7
উত্তর
সঠিক উত্তর:
7
ব্যাখ্যা

pH স্কেল: 
- কোনো জলীয় দ্রবণের প্রকৃতি অম্লীয় নাকি ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ প্রকৃতির ইত্যাদি জানার জন্য pH একক ব্যবহার করা হয়। 
- কোনো দ্রবণের pH হলো ঐ দ্রবণে উপস্থিত হাইড্রোজেন আয়নের (H+) ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম। 
অর্থাৎ, pH = -log[H+
- বিশুদ্ধ পানির pH মান = 7 । 
- যদি বিশুদ্ধ পানিতে এসিড যোগ করা হয় এবং এসিড যোগের কারণে যদি H+ এর সংখ্যা 10 গুণ বেড়ে গিয়ে প্রতি লিটারে 10-6 মোল হয়, তাহলে দ্রবণের pH কমে যাবে।
• pH = -log[10-6] = 6
- H+ আয়নের ঘনমাত্রা যত বেশি হবে pH এর মান তত কমতে থাকবে। 

- যদি বিশুদ্ধ পানির মধ্যে ক্ষার যোগ করা হয় তবে ক্ষারের OH- বিশুদ্ধ পানির H+ এর সাথে বিক্রিয়া করে ঐ দ্রবণে বিশুদ্ধ পানির তুলনায় H+ এর সংখ্যা কমে যাবে।
যেমন: পানির মধ্যে ক্ষার যোগ করার কারণে যদি H+ এর সংখ্যা কমে গিয়ে প্রতি লিটারে 10-10 মোল হয় তাহলে তার pH হবে- 
• pH = -log[10-10] = 10 
- pH এর মান 7 থেকে বেড়ে যাবে, অর্থাৎ ক্ষারীয় দ্রবণের pH এর মান 7 থেকে বেশি। 
- pH এর মান 7 হওয়ার অর্থ এটি ক্ষারও নয় আবার এসিডও নয়, এটি নিরপেক্ষ দ্রবণ। 
- যদি কোনো দ্রবণের pH এর মান 7 থেকে কম হয় তাহলে সেই দ্রবণটি এসিডিক দ্রবণ এবং যদি কোনো দ্রবণের pH মান 7 থেকে বেশি হয় তবে সেই দ্রবণটি ক্ষারীয় দ্রবণ। 
- বাস্তব জীবনে ব্যবহারিক ক্ষেত্রে pH এর মান 0 থেকে 14 পর্যন্ত বিবেচনা করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪৬.
অ্যাসিড ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে কী উৎপন্ন করে? 
  1. লবণ ও পানি
  2. পানি ও ক্ষার
  3. লবণ ও ক্ষারক
  4. অক্সিজেন ও লবণ
সঠিক উত্তর:
লবণ ও পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লবণ ও পানি
ব্যাখ্যা
লবণ (Salt): 
- অ্যাসিড ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে
- কোনো অ্যাসিডের হাইড্রোজেন কোনো ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল মূলকের সাহায্যে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে প্রতিস্থাপিত হয়ে লবণ উৎপন্ন করে।
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) একটি লবণ।
- HCI অ্যাসিডের H পরমাণুকে সোডিয়াম (Na) ধাতুর প্রতিস্থাপনে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) নামক লবণ উৎপন্ন হয়েছে।

- এ ছাড়াও K2SO4, KNO3, CaCO3, NaHCO3, Na2CO3, CuSO4 ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের লবণ। 
- এই লবণগুলোর মধ্যে কোনটি অম্লীয়, আবার কোনো কোনটি ক্ষারীয়ও হতে পারে। 
i) পূর্ণ সরল লবণ: NaCl, KNO3, CaCO3
(ii) অম্লীয় বা আংশিক লবণ: Mg(HSO4)2, NaHCO3
(iii) ক্ষারকীয় লবণ: Na2CO3, CuSO4 ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৪৭.
সরিষার তেলে কোন এসিড বিদ্যমান?
  1. ক) পাইরুভিক এসিড
  2. খ) ইরোসিক এসিড
  3. গ) হাইপোক্লোরাস এসিড
  4. ঘ) হাইড্রোফ্লোরিক এসিড
সঠিক উত্তর:
খ) ইরোসিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইরোসিক এসিড
ব্যাখ্যা
- সর্দি-কাশি হলে অনেকে সরিষার তৈল নাকে-মুখে ব্যবহার করেন।
- কিন্তু এই তৈলের একটি বড় অসুবিধা হলো এতে প্রায় ৪০-৪৫% ইরোসিক এসিড নামক একটি
ক্ষতিকারক ফ্যাটি এসিড আছে যা হৃৎপিন্ডের রোগ সৃষ্টি করতে পারে। 
- বর্তমানে আমরা যে পরিমান সরিষার তৈল দৈনিক আহার করি তাতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
 
উৎস: School of Agriculture & Rural Development, Bangladesh Open University
১৪৮.
হাইড্রোজেনের তুলনায় কোন মৌল কম সক্রিয়? 
  1. সোডিয়াম 
  2. সিলভার 
  3. লিথিয়াম 
  4. আয়রন 
সঠিক উত্তর:
সিলভার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলভার 
ব্যাখ্যা

- হাইড্রোজেন অপেক্ষা কম সক্রিয় মৌল- সিলভার (Ag)। 

সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়। 
- পর্যায় তালিকা অনুসারে, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়। 
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়। আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়। - মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে।

- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক।
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে। 
অর্থাৎ, হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 
- হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু + লঘু এসিড → লবণ + হাইড্রোজেন। 
যেমন- অধিক সক্রিয় জিংক ধাতু ও লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিড বা লঘু সালফিউরিক এসিড বা লঘু নাইট্রিক এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 
• Zn(s) + 2HCl(aq) → ZnCl2(aq) + H2(g) 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৯.
আচার সংরক্ষণে কোন এসিড ব্যবহার করা হয়? 
  1. ল্যাকটিক এসিড
  2. এসিটিক এসিড
  3. এসকরবিক এসিড
  4. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
সঠিক উত্তর:
এসিটিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এসিটিক এসিড
ব্যাখ্যা
হাইড্রোক্লোরিক এসিড: 
- সাধারণত মাংস, পোলাও, বিরিয়ানি এ ধরনের খাবার খাওয়ার পর আমাদের পাকস্থলীতে নির্দিষ্ট মাত্রায় হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) -এর প্রয়োজন হয়। 
- কোমল পানীয়গুলো অল্পমাত্রায় এসিডিক, তাই গুরুপাক খাবার পর কোমল পানীয় আমাদের পরিপাকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) তৈরিতে সাহায্য করে। 

ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড: 
- লেবু, কমলা, আপেল, পেয়ারা, আমলকী ইত্যাদি ফলের মধ্যে ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড (C6H8O6) আছে। 
- এটি দেহের ক্ষত সারাতে খুবই সহায়ক এবং এর অভাবে আমাদের শরীরে স্কার্ভি রোগ হয়। 

ভিনেগার বা এসিটিক এসিড: 
- আম, জলপাই ইত্যাদি নানা রকম আচার সংরক্ষণ করতে ভিনেগার বা এসিটিক এসিড (CH3COOH) ব্যবহার করা হয়। 

ল্যাকটিক এসিড: 
- কোমল পানীয়ের মতো বোরহানি বা দই খেলে এতে বিদ্যমান ল্যাকটিক এসিড [(CH3-CH(OH)-COOH] আমাদের হজম শক্তিতে সাহায্য করে। 

বেকিং সোডা: 
- কেক, বিস্কুট, পাউরুটি ইত্যাদি বেকিং সোডা (NaHCO3) ব্যবহার করে ফোলানো হয়। 
- তাপ দিলে এই বেকিং সোডা ভেঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়, যা কেক, বিস্কুট, পাউরুটিকে ফুলিয়ে তোলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫০.
জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হওয়া এসিডকে কী বলা হয়?
  1. তীব্র এসিড
  2. দুর্বল এসিড 
  3. অজৈব এসিড 
  4. জৈব এসিড 
সঠিক উত্তর:
তীব্র এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তীব্র এসিড
ব্যাখ্যা

এসিড: 
- এসিড টক স্বাদ যুক্ত। 
- এটি নীল লিটমাসকে লাল বর্ণে পরিণত করে। 
- এটি ক্ষার ও ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- এটি ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে H2 গ্যাস উৎপন্ন করে। 

জৈব এসিড: 
- জৈব এসিড মূলত কার্বক্সিলিক মূলক (-COOH) অথবা সালফোনিক এসিড মূলক (-SO3H) বর্তমান থাকে এবং অম্লধর্ম প্রকাশ পায়, ওদেরকে জৈব এসিড বলে। 

অজৈব এসিড: 
- অজৈব যৌগ কিন্তু টক স্বাদ যুক্ত, নীললিটমাস লাল করে, ক্ষার বা ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে লবণও পানি উৎপন্ন করে এবং ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে H2 গ্যাস উৎপন্ন করে তাকে অজৈব এসিড বলে। 

তীব্র এসিড: 
- জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণ ভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- HCl, HNO3, H2SO4 ইত্যাদি। 

দুর্বল এসিড: 
- জলীয় দ্রবণ আংশিকভাবে আয়নিত হয়। 
যেমন- H2CO3, H-COOH, CH3-COOH ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫১.
সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড নয় কোনটি? 
  1. অলিয়িক এসিড 
  2. স্টিয়ারিক এসিড 
  3. পামিটিক এসিড 
  4. উল্লিখিত সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
অলিয়িক এসিড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলিয়িক এসিড 
ব্যাখ্যা

ফ্যাটি এসিড: 
- অ্যালিফেটিক এসিডের অণুতে একটি মাত্র কার্বক্সিলমূলক থাকলে এদেরকে মনোকার্বক্সিল এসিড বলে। 
- অ্যালিফেটিক মনোকার্বক্সিলিক এসিড শ্রেণীকে ফ্যাটি এসিডও বলা হয়। 
- সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের সাধারণ সংকেত হল CnH2n+1COOH. 
- ফ্যাটি এসিড সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত উভয় প্রকার হতে পারে। 
যেমন- 
সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) প্রোপানোয়িক এসিড, 
(২) স্টিয়ারিক এসিড, 
(৩) পামিটিক এসিড।

অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) অক্সালিক এসিড, 
(২) অলিয়িক এসিড
(৩) লিনোলিক এসিড। 
- অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের কার্বন শিকলে এক বা একাধিক দ্বি-বন্ধন থাকে।

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।

১৫২.
পিঁপড়ার কামড়ে কোন এসিড থাকে?
  1. টারটারিক এসিড
  2. ম্যালিক এসিড
  3. ফরমিক এসিড
  4. এসকরবিক এসিড
সঠিক উত্তর:
ফরমিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরমিক এসিড
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন এসিড:
- পিঁপড়ার কামড়ে ফরমিক এসিড থাকে।
- আঙ্গুর, কমলা, লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড।
- তেঁতুলে থাকে টারটারিক এসিড।
- আমলকিতে থাকে এসকরবিক এসিড।
- আপেল, আনারসে থাকে ম্যালিক এসিড।
- স্যালিসাইক্লিক এসিড পাওয়া যায় আঙ্গুর, স্ট্রবেরি, বরই ইত্যাদি ফলে।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১৫৩.
এসিড সম্পর্কে কোন উক্তিটি সত্য?
  1. pH মান 7-এর বেশি
  2. স্বাদ তিক্ত
  3. ধাতুর সাথে বিক্রিয়ায় CO2 উৎপন্ন করে
  4. নীল লিটমাস কাগজকে লাল করে
সঠিক উত্তর:
নীল লিটমাস কাগজকে লাল করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীল লিটমাস কাগজকে লাল করে
ব্যাখ্যা

◉ এসিড সাধারণত নীল লিটমাস কাগজকে লাল করে। 

এসিড: 
এসিড হলো সেই পদার্থ, যা জলে দ্রবীভূত হয়ে H+ (প্রোটন বা হাইড্রোজেন আয়ন) উৎপন্ন করে।

এসিডের ধর্ম: 
১। প্রায় সকল এসিড টক স্বাদযুক্ত। 
২। এসিড নীল লিটমাসকে লাল করে। 
৩। এসিড সক্রিয় ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন উৎপন্ন করে। 
৪। এসিড ধাতব অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
৫। ধাতব কার্বনেট বা হাইড্রোজেন কার্বনেটের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করে থাকে। 
৬। pH মান 7-এর কম হয়ে থাকে। 

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৫৪.
বেকিং সোডা ব্যবহার করে তাপ দিলে কোন গ্যাস উৎপন্ন হয় যা কেক বা পাউরুটিকে ফুলিয়ে তোলে? 
  1. হাইড্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা

প্রাত্যহিক জীবনে এসিডের ব্যবহার: 
- বোলতা বা বিচ্ছু হুল ফুটালে প্রচণ্ড জ্বালা করে কারণ বোলতা এবং বিচ্ছুর হুলে থাকে হিস্টামিন (Histamine) নামে এক ধরনের ক্ষারক পদার্থ। তাই এসব ক্ষেত্রে জ্বালা নিবারণের জন্য এসিড কিংবা এসিডজাতীয় মলম ব্যবহার করা হয়, যাতে থাকে ভিনেগার অথবা বেকিং সোডা।  এসিড কিংবা এসিডজাতীয় ঐ ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়া করে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে, ফলে জ্বালা আর থাকে না। 
- সাধারণত মাংস, পোলাও, বিরিয়ানি এ ধরনের খাবার খাওয়ার পর খাবার হজম করার জন্য বিভিন্ন ধরনের কোমল পানীয় পান করা হয়, কারণ পাকস্থলীতে নির্দিষ্ট মাত্রায় হাইড্রোক্লোরিক এসিডের প্রয়োজন হয়। এই মাত্রার হেরফের হলে পরিপাকে অসুবিধা হয়। কোমল পানীয়গুলো অল্পমাত্রায় এসিডিক, তাই গুরুপাক খাবার পর কোমল পানীয় পরিপাকে সাহায্য করে। 
- লেবু, কমলা, আপেল, পেয়ারা, আমলকী ইত্যাদি নানা রকম ফলের মাঝে আছে নানা রকমের জৈব এসিড যেগুলো খুবই প্রয়োজনীয় এবং রোগ প্রতিরোধ করে। যেমন- ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড। ভিটামিন সি ক্ষত সারাতে খুবই সহায়ক হিসেবে কাজ করে এবং শরীরে এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। 
- আম, জলপাই ইত্যাদি নানা রকম আচার সংরক্ষণে ভিনেগার বা এসিটিক এসিড (CH3COOH) ব্যবহার করা হয়। 
- বোরহানি বা দই খেলে এতে বিদ্যমান ল্যাকটিক এসিড হজমে সহায়তা করে। 

- বেকিং সোডা ব্যবহার করে তাপ দিলে বেকিং সোডা ভেঙে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়, যা কেক, বিস্কুট বা পাউরুটিকে ফুলিয়ে তোলে। 
- টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য যেসব পরিষ্কারক ব্যবহার করা হয় তার মূল উপাদান হলো শক্তিশালী এসিড, যেমন- HCl, HNO3 কিংবা H2SO4 । 
- সৌর প্যানেলে তৈরি সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য বা বাসাবাড়িতে আইপিএস (IPS) চালানোর জন্য এবং গাড়িতে ব্যবহৃত ব্যাটারিতে সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করা হয়। 
- ফসল উৎপাদনের জন্য সার হলো অতি প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। সার হিসেবে যেগুলো ব্যবহার করা হয় তার অন্যতম উপাদান হলো অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম সালফেট (NH4)2SO4 ও অ্যামোনিয়াম ফসফেট (NH4)3PO4 । সার কারখানায় এগুলো তৈরি করা হয় যথাক্রমে নাইট্রিক এসিড (HNO3), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) এবং ফসফরিক এসিড (H3PO4) দিয়ে। 
- এসিড কাপড়ে লাগলে কাপড় পুড়ে যায় কিংবা ছিদ্র হয়ে যায়। একইভাবে ধাতব পদার্থসমূহ এসিডের সংস্পর্শে এলে তাও ক্ষয় হয়ে যায়। অতএব এসিডের ব্যবহারে খুবই সাবধান হতে হবে। কোনো কারণে গায়ে এসিড পড়লে সাথে সাথে প্রচুর পানি দিয়ে সেই জায়গাটা ধুয়ে ফেলতে হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫৫.
PH হলো-
  1. এসিড নির্দেশক
  2. এসিড ও ক্ষার নির্দেশক
  3. ক্ষার নির্দেশক
  4. এসিড, ক্ষার ও নিরপেক্ষতা নির্দেশক
সঠিক উত্তর:
এসিড, ক্ষার ও নিরপেক্ষতা নির্দেশক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এসিড, ক্ষার ও নিরপেক্ষতা নির্দেশক
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৬.
গ্লাস ক্লিনারে কোন ক্ষার থাকে?
  1. NH4OH
  2. Fe(OH)2
  3. CaO
  4. KOH
সঠিক উত্তর:
NH4OH
উত্তর
সঠিক উত্তর:
NH4OH
ব্যাখ্যা

ক্ষার (Alkali): 
- ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের হাইড্রোক্সোইড যৌগ যা পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- কোনো যৌগের ক্ষার হবার জন্য ২টি শর্ত রয়েছে- 
১। যৌগটিতে হাইড্রোক্সাইড (OH-) যৌগমূলক থাকতে হবে এবং 
২। ঐ যৌগ পানিতে দ্রবীভূত হতে হবে। 
- NaOH ক্ষার, কারণ সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড যৌগে OH- মূলক আছে এবং এটি পানিতে দ্রবণীয়। 
- Fe(OH)2 কে ক্ষার বলা যায় না, কারণ এটিতে OH- গ্রুপ আছে কিন্তু এটি পানিতে দ্রবণীয় নয়, এটি শুধু ক্ষারক। 
- CaO ক্ষারক কিন্তু ক্ষার নয় কারণ CaO এ OH- মূলক নাই। 
অর্থাৎ, হাইড্রোক্সাইড মূলকধারী পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারকগুলোই হলো ক্ষার। তাই সব ক্ষারকই ক্ষার নয় কিন্তু সব ক্ষারই ক্ষারক। 
- বাসাবাড়িতে ক্ষার জাতীয় অনেক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- 
কাচ পরিষ্কার করার জন্য যে গ্লাস ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ক্ষার (NH4OH) থাকে। 
• টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য যে টয়লেট ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) ক্ষার থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫৭.
বিশুদ্ধ সালফিউরিক এসিড কোন রঙের হয়?
  1. ক) লাল
  2. খ) বর্ণহীন তরল
  3. গ) নীল
  4. ঘ) বেগুনী
সঠিক উত্তর:
খ) বর্ণহীন তরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বর্ণহীন তরল
ব্যাখ্যা
বিশুদ্ধ সালফিউরিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড ও নাইট্রিক এসিড বর্ণহীন তরল পদার্থ।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১৫৮.
ক্ষার হতে হলে কোন শর্তগুলি পূরণ করতে হবে?
  1. যৌগে OH⁻ মূলক থাকতে হবে
  2. যৌগ পানিতে দ্রবীভূত হতে হবে
  3. ক) ও খ) উভয়ই 
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
ক) ও খ) উভয়ই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ও খ) উভয়ই 
ব্যাখ্যা

ক্ষার (Alkali): 
- ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের হাইড্রোক্সোইড যৌগ যা পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- কোনো যৌগের ক্ষার হবার জন্য ২টি শর্ত রয়েছে-
১। যৌগটিতে হাইড্রোক্সাইড (OH-) যৌগমূলক থাকতে হবে এবং 
২। ঐ যৌগ পানিতে দ্রবীভূত হতে হবে। 

- NaOH ক্ষার, কারণ সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড যৌগে OH- মূলক আছে এবং এটি পানিতে দ্রবণীয়। 
- Fe(OH)2 কে ক্ষার বলা যায় না, কারণ এটিতে OH- গ্রুপ আছে কিন্তু এটি পানিতে দ্রবণীয় নয়, এটি শুধু ক্ষারক।
- CaO ক্ষারক কিন্তু ক্ষার নয় কারণ CaO এ OH- মূলক নাই। 
অর্থাৎ, হাইড্রোক্সাইড মূলকধারী পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারকগুলোই হলো ক্ষার। তাই সব ক্ষারকই ক্ষার নয় কিন্তু সব ক্ষারই ক্ষারক। 
- বাসাবাড়িতে ক্ষার জাতীয় অনেক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- 
• কাচ পরিষ্কার করার জন্য যে গ্লাস ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ক্ষার (NH4OH) থাকে। 
• টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য যে টয়লেট ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) ক্ষার থাকে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫৯.
পানির লবণাক্ততা কোনটির মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়?
  1. গ্লুকোমিটার
  2. হ্যালোমিটার
  3. স্যালিনোমিটার
  4. এডাফিমিটার
সঠিক উত্তর:
স্যালিনোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যালিনোমিটার
ব্যাখ্যা
• লবণাক্ততা:
- পানিতে উপস্থিত দ্রবীভূত লবণের পরিমাণ ।
- জলের প্রাকৃতিক সংস্থাগুলিতে, লবণাক্ততা সাধারণত সোডিয়াম ক্লোরাইডের একটি পরিমাপ (NaCl; সাধারণ লবণ)।
- ম্যাগনেসিয়াম , সালফেট , ক্যালসিয়াম, এবং অন্যান্য আয়ন অল্প ঘনত্বে লবণাক্ততায় অবদান রাখে।
- লবণাক্ততা সাধারণত একটি স্যালিনোমিটার দিয়ে পরিমাপ করা হয় ।
- যা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পানিতে উপস্থিত লবণের পরিমাণ বা ওজন গণনা করে।
- একে এককে প্রকাশ করা যেতে পারে যেমন পার্টস পার মিলিয়ন (পিপিএম) এবং প্রতি কিলোগ্রাম পানিতে গ্রাম লবণ (যাকে ব্যবহারিক লবণাক্ততা একক [psu] বলা হয়) বা সাধারণ শতাংশ হিসাবে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১৬০.
সার কারখানায় ব্যবহৃত হয় না কোন এসিড?
  1. ক) সালফিউরিক এসিড
  2. খ) হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  3. গ) নাইট্রিক এসিড
  4. ঘ) ফসফরিক অ্যাসিড
সঠিক উত্তর:
খ) হাইড্রোক্লোরিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাইড্রোক্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা

সার কারখানায় নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3), সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4), ফসফরিক অ্যাসিড (H3PO4) ব্যবহার করে বিভিন্ন রকমের সার প্রস্তুত করা হয়।
টয়লেট পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত পরিষ্কারকের মূল উপাদানহলাে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl), নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3) বা সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4) এর মত শক্তিশালী অ্যাসিড।
বাসাবাড়ির আইপিএস (IPS) বা গাড়ির ব্যাটারির অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলাে সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4)।
সূত্রঃ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬১.
নিচের কোনটি জৈব অম্ল?
  1. HCl
  2. H2SO4
  3. CH3COOH
  4. HNO3
সঠিক উত্তর:
CH3COOH
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CH3COOH
ব্যাখ্যা
• অ্যাসিটিক অ্যাসিড(CH3COOH) হলো অন্যতম একটি জৈব অম্ল। 

• জৈব এসিড:

- যে জৈব যৌগে কার্বক্সিল গ্রুপ (-COOH) বিদ্যমান থাকে তাকে জৈব এসিড (অম্ল) বা ফ্যাটি এসিড বলে। 

• বৈশিষ্ট্য:
- জলীয় দ্রবণে H+ আয়ন দান করে, যা তাদের অম্লীয় করে তোলে।
- সাধারণত অজৈব অ্যাসিডের তুলনায় দুর্বল প্রকৃতির হয়।
- জৈব এসিড টক স্বাদ সম্পন্ন হয়। 
- পানি ও জৈব দ্রাবকে দ্রবণীয়।

• উদাহরণ: সাইট্রিক অ্যাসিড, অক্সালিক অ্যাসিড, অ্যাসকরবিক অ্যাসিড, অ্যাসিটিক অ্যাসিড(CH3COOH) ইত্যাদি। 

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬২.
নিরপেক্ষ দ্রবণে pH মান কত?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৩.
কোনো পদার্থ কতটুকু অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝতে কোন বিজ্ঞানী pH স্কেল ব্যবহার করেন?
  1. জে. জে. থমসন
  2. জেমস চ্যাডউইক
  3. আইনস্টাইন
  4. সোরেনসেন
সঠিক উত্তর:
সোরেনসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোরেনসেন
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়।
- কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+

- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৪.
সালফিউরিক এসিডে কোন মৌলিক পদার্থটি নেই?
  1. ক) হাইড্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) সালফার
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
সালফিউরিক এসিডের সংকেত H2SO4.
সংকেত থেকে আমরা দেখতে পাই সালফিউরিক এসিডে দুই অণু হাইড্রোজেন, এক অণু সালফার ও চার অণু অক্সিজেন থাকে। 
নাইট্রোজেন থাকে না। 
১৬৫.
ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লিটমাসকে কী রঙে পরিবর্তিত করে? 
  1. লাল
  2. নীল
  3. সবুজ
  4. অপরিবর্তিত
সঠিক উত্তর:
নীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীল
ব্যাখ্যা
ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়, তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- 
• NaOH, 
• KOH, 
• Ca(OH)2 ইত্যাদি। 

মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয়, তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- 
• NH4OH, 
• Fe(OH)2
• Fe(OH)3
• Al(OH)3 ইত্যাদি। 
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৬.
ক্ষারীয় দ্রবণকে কীভাবে শনাক্ত করা যায়?
  1. এটি লাল লিটমাস কাগজকে নীল করে
  2. এটি নীল লিটমাস কাগজকে লাল করে
  3. এটি হলুদ লিটমাস কাগজকে বাদামী করে
  4. এটি সবুজ লিটমাস কাগজকে কালো করে
সঠিক উত্তর:
এটি লাল লিটমাস কাগজকে নীল করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটি লাল লিটমাস কাগজকে নীল করে
ব্যাখ্যা

ক্ষারীয় (alkaline) দ্রবণ হলো এমন জলীয় দ্রবণ যার pH ৭-এর উপরে থাকে। যেমন— সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH) ইত্যাদি। ক্ষারীয় দ্রবণের একটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি লাল লিটমাস কাগজকে নীল রঙে পরিবর্তন করে।

​ক্ষার:
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে।
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে।
​- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে।
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়। 

মৃদু ক্ষার:
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়।
যেমন: অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), আয়রন (¡¡) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)2, আয়রন (¡¡¡) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)3, অ্যালুমিনিয়াম (¡¡¡) হাইড্রোক্সাইড Al(OH)3 ইত্যাদি।
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়।

তীব্র ক্ষার:
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়।
যেমন: সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৭.
বিশুদ্ধ নাইট্রিক এসিডের ক্ষেত্রে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. বর্ণহীন তরল পদার্থ
  2. আয়নিত নয়
  3. পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে না
  4. হাইড্রোজেন আয়ন অনুপস্থিত থাকে
সঠিক উত্তর:
পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে না
ব্যাখ্যা
• বিশুদ্ধ নাইট্রিক এসিড পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে। 

• এসিড:
-  যে সব পদার্থ পানিতে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) তৈরি করে তাদেরকে এসিড বলা হয়। 

• উদাহরণ:
সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড।

• এসিডের সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
-  অ্যাসিড টক স্বাদযুক্ত। 
- নীল লিটমাসকে লাল করে।
- ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- মৃদু এসিড জলীয় দ্রবণে আংশিক বিয়োজিত হলেও তীব্র এসিড জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণরূপে বিয়োজিত হয়। 

• বিশুদ্ধ সালফিউরিক এসিড এবং নাইট্রিক এসিড বর্ণহীন তরল পদার্থ। যৌগ দুটি আণবিক অবস্থায় থাকে।
- এরা আয়নিত নয় বলে অর্থাৎ হাইড্রোজেন আয়ন অনুপস্থিত।
- এই কারণে বিশুদ্ধ সালফিউরিক এসিড এবং নাইট্রিক এসিড এসিডের ধর্ম প্রদর্শন করে না এবং বিদ্যুৎ পরিবহন করে না।
- এই এসিডগুলোকে শুধু পানিতে দ্রবীভূত করলেই হাইড্রোজেন আয়ন উৎপন্ন করে।
- ফলে তখন এরা এসিডের ধর্ম প্রদর্শন করে এবং বিদ্যুৎ পরিবহন করে। 


H2SO4 (l) + পানি → H2SO4(aq)
H2SO4 (aq) → 2H+ (aq) + SO42-(aq)
অনুরূপভাবে,
HNO3 (l) + পানি →  HNO3(aq)
HNO3(aq) →  H+ (aq) + NO3- (aq)

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১৬৮.
নিচের কোন মৌল ক্ষার ধাতুর উদাহরণ? 
  1. রূপা (Ag)
  2. ম্যাগনেসিয়াম (Mg)
  3. সোনা (Au)
  4. সোডিয়াম (Na)
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম (Na)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম (Na)
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে। 
- এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে। 
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রুপা (Ag) ও সোনা (Au)। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৯.
চুলের pH এর মান কত এর উপর গেলে চুল মসৃণতা হারিয়ে ফেলে?
  1. ক) ৫
  2. খ) ৫.২
  3. গ) ৫.৫
  4. ঘ) ৬
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬
ব্যাখ্যা
- বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনীর মধ্যে pH এর মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH এর মান ৫.৫।
- ত্বকের pH এর মান ৫.৫ থেকে ৬.৫ এর মধ্যে থাকলে ত্বক বিভিন্ন এলার্জেন ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমনকে প্রতিরোধ করতে পারে।
- ত্বকের pH এর মান আদর্শ সীমার চেয়ে বেশি বা কম হলে ত্বকের কোমলতা ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়।
- মাথার চুলে রয়েছে সেবাম (Sebum) নামক এক প্রকার প্রাকৃতিক তেল। এর pH এর মান হলো ৫.০।
- চুলের পরিচর্যায় যে কোনো প্রকার স্যাম্পুর pH এর মান ৫.৫ এর কাছাকাছি থাকাই উচিত।
- চুলের pH এর মান ৬ এর উপর গেলে চুল মসৃণতা হারিয়ে ফেলে।

উৎস: এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭০.
লাল লিটমাস কাগজ নীল রঙ ধারণ করে যখন দ্রবণের pH মান হয়- 
  1. 5 এর নিচে
  2. 7 এর নিচে
  3. 7 এর উপরে
  4. 7 এর সমান
সঠিক উত্তর:
7 এর উপরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
7 এর উপরে
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো এসিড দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। একইভাবে কোনো ক্ষার দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এসিড দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের গাঢ়ত্ব যদি বেশি হয়, তবে তা সবল এসিড, আর যদি কম হয় তবে তা দুর্বল এসিড। 
- ক্ষারের ক্ষেত্রে একই বিষয় প্রযোজ্য, তবে সেটি হাইড্রোক্সিল আয়নের ঘনমাত্রার উপর। 
- বিষয়টিকে আরো সহজ করার জন্য বিজ্ঞানী সোরেনসেখ দ্রবণের H+ আয়নের ঘনমাত্রা pH দ্বারা প্রকাশ করার পদ্ধতি প্রচলন করেন। 
- pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H] 

- pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়। 
- pH মিটারের pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষারীয় এবং ঠিকঠিক 7 এর সমান হলে দ্রবণটি প্রশমন বা নিরপেক্ষ হয়। 
- দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে। আর যদি দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়। এভাবে লিটমাস কাগজ অথবা লিটমাস দ্রবণ ব্যবহার করেও ঐ দ্রবণের pH মান 7 এর উপরে না নীচে তা নির্ধারণ করা যায়। 
- তবে দ্রবণের সঠিক pH মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে pH মিটারের সাহায্য নেয়া হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭১.
pH-স্কেলে মান কমতে থাকলে নিচের কোন বৈশিষ্ট্য বৃদ্ধি পায়?
  1. ক্ষারধর্মিতা
  2. আয়নিক ঘনত্ব
  3. লবণাক্ততা
  4. অম্লীয়তা
সঠিক উত্তর:
অম্লীয়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অম্লীয়তা
ব্যাখ্যা

পিএইচ মান যত কম হয় (অর্থাৎ ৭ থেকে ০-এর দিকে যায়), হাইড্রোজেন আয়নের ঘনত্ব তত বেশি হয়, এবং দ্রবণটির অম্লতা তত বাড়ে।

pH:
- পিএইচ (pH) স্কেল হল কোনো জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়নের (H⁺) ঘনত্বের উপর ভিত্তি করে দ্রবণটির অম্লতা বা ক্ষারত্ব পরিমাপের একটি পদ্ধতি।
- স্কেলটির ব্যাপ্তি সাধারণত ০ থেকে ১৪ পর্যন্ত হয়।
- এই স্কেলে ৭ হলো নিরপেক্ষ (Neutral) অবস্থা।
- ৭ এর কম মানগুলো অম্লীয় (Acidic) অবস্থাকে নির্দেশ করে।
- ৭ এর বেশি মানগুলো ক্ষারীয় (Alkaline or Basic) অবস্থাকে নির্দেশ করে।
- এসিডের পরিমাণ যত বাড়বে, pH-এর মান তত কমে। অন্যদিকে ক্ষারের পরিমাণ যত বাড়ে, pH-এর মানও তত বাড়ে।
- অম্লীয় দ্রবণ (Acidic Solution) এর উদাহরণ হলো লেবুর রস, ভিনেগার এবং হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড।
- ক্ষারীয় দ্রবণ (Basic or Alkaline Solution) এর উদাহরণ হলো সাবান, অ্যামোনিয়া এবং সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড।
- নিরপেক্ষ দ্রবণ (Neutral Solution) এর আদর্শ উদাহরণ হলো বিশুদ্ধ পানি।
- নদ-নদী, খালবিল ইত্যাদির জন্য pH-এর মান খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সাধারণত নদ-নদীর পানি ক্ষারীয় হয়।
- গবেষণা করে দেখা গেছে, নদ-নদীর পানির pH যদি ৬-৮ এর মধ্যে থাকে, তাহলে সেটা জলজ উদ্ভিদ কিংবা প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য কোনো অসুবিধার সৃষ্টি করে না।
- তবে pH-এর মান যদি এর চাইতে কমে যায় বা বেড়ে যায়, তাহলে ঐ পানিতে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী আর উদ্ভিদের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
- পানিতে এসিডের পরিমাণ খুব বেড়ে গেলে, অর্থাৎ pH-এর মান খুব কমে গেলে জলজ প্রাণীদের দেহ থেকে ক্যালসিয়ামসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ বাইরে চলে আসে, যার ফলে মাছ সহজেই রোগাক্রান্ত হতে শুরু করে।

উৎস:
১। বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২। ব্রিটানিকা।

১৭২.
সমুদ্রে লবণের শতকরা পরিমাণ কত?
  1. ২.৫% - ৩.৫%
  2. ৬.৫% - ৭.৫%
  3. ৪.৫% - ৫.৫%
  4. ৫.৫% - ৬.৫%
সঠিক উত্তর:
২.৫% - ৩.৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২.৫% - ৩.৫%
ব্যাখ্যা
সমুদ্রের পানিতে ২.৫% থেকে ৩.৫% লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।
যে পানির ঘনত্ব বেশি সে পানিতে সাঁতার কাটা সহজ।
পুকুর, নদী বা বিলের পানির চেয়ে সমুদ্রের পানির ঘনত্ব বেশি।
সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা সহজ হয়।
১৭৩.
ক্ষারের জলীয় দ্রবণ - 
  1. লাল লিটমাসকে নীল করে
  2. নীল লিটমাসকে লাল করে
  3. নীল লিটমাসকে হলুদ করে
  4. নীল লিটমাসকে সবুজ করে
সঠিক উত্তর:
লাল লিটমাসকে নীল করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল লিটমাসকে নীল করে
ব্যাখ্যা
ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 

মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন: অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), আয়রন (¡¡) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)2, আয়রন (¡¡¡) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)3, অ্যালুমিনিয়াম (¡¡¡) হাইড্রোক্সাইড  Al(OH)3 ইত্যাদি। 
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন: সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৪.
উচ্চতর জৈব এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবন কে কি বলা হয়?
  1. বেকিং সোডা
  2. কস্টিক পটাশ
  3. গ্রিজ
  4. সাবান
সঠিক উত্তর:
সাবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাবান
ব্যাখ্যা
সাবান:  সাবান হলো উচ্চতর জৈব এসিডের  (যেমন: স্টিয়ারিক এসিড, পামিটিক এসিড)  সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ।
- এটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ময়লা ও তেল অপসারণ করে।


• সাবান তৈরির রাসায়নিক বিক্রিয়া কে বলা হয় স্যাপোনিফিকেশন।
- এ প্রক্রিয়া তে জৈব এসিডের সাথে ক্ষারের ক্রিয়ায় সাবান তৈরি হয়। 
বিক্রিয়াটি হলো:
                       জৈব এসিড বা স্টিয়ারিক এসিড (C₁₇H₃₅COOH ) + NaOH → C17H35COONa (সোডিয়াম স্টিয়ারেট) + H2O
- এখানে সোডিয়াম স্টিয়ারেট হলো সবানের রাসায়নিক নাম। 

অন্যদিকে, 
বেকিং সোডা: এটির রাসায়নিক নাম হলো সোডিয়াম বাইকার্বনেট (NaHCO₃)।  এটি খাদ্য প্রস্তুতিতে ব্যবহার হয়।

কস্টিক পটাশ: এটির রাসায়নিক নাম হলো পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড (KOH)।  এটি সাবান তৈরির জন্য ব্যবহার হয়, কিন্তু এটি সাবান নয়। 

গ্রিজ: এটি একধরনের ঘন পিচ্ছিল পদার্থ। এটি সাধারণত লুব্রিক্যান্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।


তথ্যসূত্র:
-  রসায়ন ,  নবম-দশম শ্রেণী। 
- রসায়ন ২য় পত্র,  একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
১৭৫.
পাকস্থলীতে খাদ্যদ্রব্য হজমের জন্য কোন এসিড অত্যাবশ্যক?
  1. সালফিউরিক এসিড
  2. নাইট্রিক এসিড
  3. কার্বোলিক এসিড 
  4. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোক্লোরিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোক্লোরিক এসিড
ব্যাখ্যা

- পাকস্থলীতে খাদ্যদ্রব্য হজমের জন্য হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

এসিডের ব্যবহার: 
- আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এবং শিল্প কারখানায় এসিডের ব্যবহার অনস্বীকার্য। 
যেমন- 
• সোনার গহনা তৈরির সময় নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করা হয়। 
• আইপিএস, গাড়ি, মাইক বাজানোর সময়, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• বাসাবাড়িতে সাপের উপদ্রব কমানোর জন্য কার্বোলিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• আমাদের খাদ্যদ্রব্য হজম করার জন্য পাকস্থলীতে যে এসিড অত্যাবশ্যকীয় তা হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড। 
• সার কারখানায় অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড। 
• এছাড়া ডিটারজেন্ট থেকে শুরু করে নানারকম রং, ঔষধপত্র, কীটনাশকসহ পেইন্ট, কাগজ, বিস্ফোরক ও রেয়ন তৈরিতে প্রচুর সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• কোনো একটি দেশ কতটা শিল্পোন্নত তা বিচার করা হয় ঐ দেশ কতটুকু সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করে তার উপর ভিত্তি করে। 
• ইস্পাত তৈরির কারখানা, ঔষধ, চামড়া শিল্প ইত্যাদি অনেক শিল্পে হাইড্রোক্লোরিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• সার কারখানায়, বিস্ফোরক প্রস্তুতি, খনি থেকে মূল্যবান ধাতু যেমন- সোনা আহরণে ও রকেটে জ্বালানির সাথে নাইট্রিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১৭৬.
নিচের কোন অক্সাইড পানির সাথে যুক্ত হয়ে অম্ল বা এসিড উৎপন্ন করে?
  1. Na2O
  2. CO2
  3. Al2O3
  4. CaO
সঠিক উত্তর:
CO2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CO2
ব্যাখ্যা

- 'CO2' অক্সাইড পানির সাথে যুক্ত হয়ে অম্ল বা এসিড উৎপন্ন করে

ক্ষারধর্মী অক্সাইড: 

- যে সব ধাতব অক্সাইড অম্লীয় অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ উৎপন্ন করে অথবা এসিডের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন করে, তাকে ক্ষারধর্মী অক্সাইড বলা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম অক্সাইড (Na2O), ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO), ফেরিক অক্সাইড (Fe2O3) । 

অম্লধর্মী অক্সাইড: 
- যে সব অক্সাইড পানির সাথে যুক্ত হয়ে অম্ল বা এসিড উৎপন্ন করে, তাকে অম্লধর্মী অক্সাইড বলা হয়। 
- অম্লধর্মী অক্সাইডগুলো প্রধানত অধাতব অক্সাইড। 
যেমন- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO2)। 

উভধর্মী অক্সাইড: 
- যে সব ধাতব অক্সাইড অবস্থাভেদে অম্ল ও ক্ষারক উভয় রূপে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে, তাকে উভধর্মী অক্সাইড বলে। 
অর্থাৎ, এই জাতীয় অক্সাইড অম্লের অম্লত্ব ও ক্ষারে ক্ষারকত্ব উভয় গুণকে বিনষ্ট করে থাকে। 
যেমন-অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড (Al2O3), জিংক অক্সাইড (ZnO), লেড মনো অক্সাইড (PbO)। 

প্রশম অক্সাইড: 
- যে সব অধাতব অক্সাইড অম্লীয় বা ক্ষারকীয় কোন ধর্মই প্রকাশ করে না, তাকে প্রশম অক্সাইড বলা হয়। 
যেমন- পানি (H2O), কার্বন মনো অক্সাইড (CO), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), নাইট্রিক অক্সাইড (NO)। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৭.
NH4Cl কোন ধরনের এসিড ও ক্ষার থেকে উৎপন্ন লবণ?
  1. মৃদু এসিড ও তীব্র ক্ষার
  2. মৃদু এসিড ও মৃদু ক্ষার
  3. তীব্র এসিড ও মৃদু ক্ষার
  4. তীব্র এসিড ও তীব্র ক্ষার
সঠিক উত্তর:
তীব্র এসিড ও মৃদু ক্ষার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তীব্র এসিড ও মৃদু ক্ষার
ব্যাখ্যা
লবণের আর্দ্র বিশ্লেষণ (Hydrolysis of Salts): 
- এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়ায় লবণ উৎপন্ন হয়। 
- বেশির ভাগ লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয়। আবার কোনো কোনো লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয় না, এসব লবণের পানিতে দ্রাব্যতা গুণ নেই। 
- লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে যে দ্রবণ উৎপন্ন করে তা নিরপেক্ষ, অম্লীয় বা ক্ষারীয় প্রকৃতির হয়। 
- কোনো লবণকে পানিতে দ্রবীভূত করে যে বিক্রিয়ার মাধ্যমে লবণটি জলীয় দ্রবণে H3O+ বা OH- আয়নের পরিমাণে বৃদ্ধি ঘটিয়ে দ্রবণটির প্রকৃতি অম্লীয় বা ক্ষারীয় করে, সে বিক্রিয়াকে লবণের আর্দ্র বিশ্লেষণ বলে। 
- লবণের আর্দ্র বিশ্লেষণে লবণটি পানির সাথে বিক্রিয়া করে ওই লবণের উৎপাদন এসিড ও ক্ষার উৎপন্ন করে। 
- যে লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয় না সে লবণের আর্দ্র বিশ্লেষণ হয় না। 
- বিভিন্ন প্রকার এসিড ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণ নিম্নরূপ: 
যেমন- 
i. তীব্র এসিড ও তীব্র ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণ: NaCl, KCl, NaNO3, KNO3, Na2SO4, K2SO4 ইত্যাদি। 
ii. তীব্র এসিড ও মৃদু ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণ: NH4Cl, NH4NO3, (NH4)2SO4, CuSO4, FeSO4, FeCl3, AlCl3 ইত্যাদি। 
iii. মৃদু এসিড ও তীব্র ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণ: Na2CO3, CH3-COONa, KCN, H-COONa, K2CO3 ইত্যাদি। 
iv. মৃদু এসিড ও মৃদু ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন লবণ: (NH4)2CO3, H-COONH4, CH3-COONH4 ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৮.
চুনের পানিতে লিটমাস পেপার ডুবালে কী হয়?
  1. ক) লাল লিটমাস নীল হয়
  2. খ) নীল লিটমাস লাল হয়
  3. গ) লাল লিটমাস সাদা হয়
  4. ঘ) নীল লিটমাস কালো হয়
সঠিক উত্তর:
ক) লাল লিটমাস নীল হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লাল লিটমাস নীল হয়
ব্যাখ্যা
CaO + H2O = Ca(OH)2
ক্যালসিয়াম অক্সাইড (চুন) + পানি --> ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
Ca(OH)2, স্ন্যাক লাইম নামেই বেশি পরিচিত। এই বিক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে তাপশক্তি উৎপন্ন হয় যার ফলে পানি ফুটতে থাকে। স্ন্যাক লাইম বা Ca(OH)2, পানিতে খুব অল্প পরিমাণে দ্রবীভূত হয়।
আর, পানিতে Ca(OH)2, এর সম্পৃক্ত দ্রবণকেই চুনের পানি বা লাইম ওয়াটার বলা হয়।

লিটমাস পেপার এসিডে ডুবালে নীল লিটমাস লাল হয়।
আবার, ক্ষারকের দ্রবণে ডুবালে লাল লিটমাসকে নীল করে।

চুনের পানি বা লাইম ওয়াটার ক্ষারকীয় দ্রবণ। তাই এতে লিটমাস পেপার ডুবালে লাল লিটমাস নীল হবে।
১৭৯.
খাবারের স্বাদ বৃদ্ধির জন্য কোন লবণ ব্যবহৃত হয় যা ‘টেস্টিং সল্ট’ নামে পরিচিত?
  1. পটাশিয়াম স্টিয়ারেট
  2. সোডিয়াম স্টিয়ারেট 
  3. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. সোডিয়াম গ্লুটামেট
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম গ্লুটামেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম গ্লুটামেট
ব্যাখ্যা

লবণ: 
- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

লবণের ব্যবহার: 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে যা সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট লবণ ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 
- কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করা হয় তা মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) লবণ। 
- আর শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) লবণ। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ। 
- আবার জীবাণুনাশক হিসেবে তুঁতে (CuSO4.5H2O) বা ফিটকিরি [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] ব্যবহার করা হয় যা মূলত লবণ। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

শিল্পকারখানায় লবণ: 
- শিল্পকারখানায় নানা কাজে খাবার লবণ অপরিহার্য। 
যেমন- চামড়াশিল্পে চামড়ার ট্যানিং করতে, মাখন ও পনিরের শিল্পোৎপাদনে, কাপড় কাচার সোডা ও খাবার সোডা তৈরি করতে, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজে খাবার লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- বেশ কিছু লবণ যেমন- তুঁতে (CuSO4), মারকিউরিক সালফেট (HgSO4), সিলভার সালফেট (Ag2SO4) শিল্পকারখানায় প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- টেক্সটাইল ও রং তৈরির কারখানায় রং ফিক্স করার কাজে লবণ প্রয়োজন হয়। 
- ধাতুর বিশুদ্ধকরণে লবণ লাগে। 
- রাবার প্রস্তুতিতে লবণ ব্যবহার করে রাবারকে (ল্যাটেক্স) রাবার গাছের নির্যাস থেকে আলাদা করা হয়। 
- ওষুধ কারখানায় স্যালাইন এবং অন্যান্য ওষুধেও লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- ডিটারজেন্ট তৈরিতেও ফিলার হিসেবে লবণ খুবই প্রয়োজনীয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮০.
জলীয় দ্রবণে pH এর সর্বোচ্চ মান কোনটি?
  1. ১০
  2. ১৪
  3. ২০
সঠিক উত্তর:
১৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৪
ব্যাখ্যা
• জলীয় দ্রবণে pH এর সর্বোচ্চ মান 14 এবং pH এর সর্বনিম্ন মান 0.

pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয় 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 
 
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮১.
অম্লীয় মাটির pH কত হলে গাছপালা জীবিত থাকতে পারে না?
  1. 3
  2. 6
  3. 7
  4. 9
সঠিক উত্তর:
3
উত্তর
সঠিক উত্তর:
3
ব্যাখ্যা

• গাছপালা সাধারণত মধ্যম বা হালকা অম্লীয় মাটিতেই ভালোভাবে বৃদ্ধি পায়। মাটির pH যদি অত্যন্ত অম্লীয় হয়, যেমন pH ৩, তাহলে মাটিতে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান যেমন নাইট্রোজেন, ফসফরাস এবং পটাশিয়াম গাছের জন্য গ্রহণযোগ্য অবস্থায় থাকে না। এছাড়া, অতিরিক্ত অম্লত্ব অনেক ধরনের ক্ষতিকারক ধাতু যেমন অ্যালুমিনিয়ামকে দ্রবীভূত করে, যা গাছের মূলের ক্ষতি করতে পারে। ফলে গাছপালা যথাযথভাবে বৃদ্ধি পায় না বা মৃত্যুবরণ করতে পারে। অন্যদিকে, pH ৬, ৭ বা ৯-এর মাটি সাধারণত গাছপালার জীবনের জন্য সহনীয় এবং পুষ্টি গ্রহণের জন্য উপযুক্ত। তাই অত্যন্ত অম্লীয় মাটিতে (pH ৩) গাছপালা বাঁচতে পারে না।

- সঠিক উত্তর: ক) 3

pH স্কেল: 
- কোনো এসিড দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। একইভাবে কোনো ক্ষার দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এসিড দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের গাঢ়ত্ব যদি বেশি হয়, তবে তা সবল এসিড, আর যদি কম হয় তবে তা দুর্বল এসিড। 
- ক্ষারের ক্ষেত্রে একই বিষয় প্রযোজ্য, তবে সেটি হাইড্রোক্সিল আয়নের ঘনমাত্রার উপর। 
- কিন্তু এসিড যদি খুবই লঘু হয় অথবা ক্ষার দ্রবণটি যদি খুবই লঘু হয়, তবে সেক্ষেত্রে H+ আয়ন অথবা OH- আয়নের ঘনমাত্রা 10 এর ঋণাত্বক ঘাত দ্বারা প্রকাশ করতে হয়। 
- অম্লীয় মাটিতে pH 4.5 এর নিচে নেমে গেলে গাছপালা মারা যায়। pH 5.5 এর নিচে নেমে গেলে গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।
- বিষয়টিকে আরো সহজ করার জন্য বিজ্ঞানী সোরেনসেখ দ্রবণের H+ আয়নের ঘনমাত্রা pH দ্বারা প্রকাশ করার পদ্ধতি প্রচলন করেন। 
- pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+

- pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়। 
- pH মিটারের pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশী হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং ঠিকঠিক 7 এর সমান হলে দ্রবণটি প্রশমন হয়। 
- দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে। আর যদি দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়। এভাবে লিটমাস কাগজ অথবা লিটমাস দ্রবণ ব্যবহার করেও ঐ দ্রবণের pH মান 7 এর উপরে না নীচে তা নির্ধারণ করা যায়। 
- তবে দ্রবণের সঠিক pH মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে pH মিটারের সাহায্য নেয়া হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮২.
এসিডের ভুল উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) ভিনেগার বা বেকিং সোডা এসিড জাতীয়
  2. খ) আমাদের ত্বক সাধারণত এসিডিক
  3. গ) টুথপেস্ট এসিড জাতীয়
  4. ঘ) সার তৈরিতে এসিড ব্যবহৃত হয়
সঠিক উত্তর:
গ) টুথপেস্ট এসিড জাতীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) টুথপেস্ট এসিড জাতীয়
ব্যাখ্যা
১. ভিনেগার বা বেকিং সোডা এসিড জাতীয়।
২. বাজারে মুখ ধােয়ার জন্য যেসব প্রসাধনী সামগ্রী পাওয়া যায়, তাতে লেখা থাকে pH-এর মান ৫.৫। এর কারণ আমাদের ত্বক সাধারণত এসিডিক হয় এবং এর pH ৪-৬ এর মধ্যে থাকে। তবে নবজন্ম নেওয়া শিশুদের ত্বকের pH-এর মান ৭ এর কাছাকাছি থাকে। তাই বড়দের জন্য যেসব প্রসাধনী ব্যবহৃত হয়, তা শিশুদের জন্য প্রযােজ্য নয়। এতে শিশুদের ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।
৩. টুথপেস্ট বা টুথ পাউডার আমাদের নিত্যদিনের একটি অত্যন্ত প্রয়ােজনীয় বস্তু, যা ক্ষারীয়। খাওয়ার পরে সাধারণত আমাদের মুখে এসিডীয় অবস্থা তৈরি হয়। আর টুথপেস্ট বা পাউডার দিয়ে ব্রাশ করলে একদিকে যেমন দাঁত পরিষ্কার হয়, অন্যদিকে তেমনি পেস্ট বা পাউডারের ক্ষার সৃষ্ট এসিডকে নিষ্ক্রিয় করে। ফলে দাঁতের ক্ষয় রােধ হয়।
৪. ফসল উৎপাদনের জন্য সার হলাে অতি প্রয়ােজনীয় একটি জিনিস। সার হিসেবে আমরা যেগুলাে ব্যবহার করি তার অন্যতম হলাে অ্যামােনিয়াম নাইট্রেট, অ্যামােনিয়াম সালফেট ও অ্যামােনিয়াম ফসফেট। আর সার কারখানায় এগুলাে তৈরি করা হয় যথাক্রমে নাইট্রিক এসিড, সালফিউরিক এসিড এবং ফসফরিক এসিড দিয়ে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮৩.
দ্রবণের pH মান কোন সীমার মধ্যে থাকে?
  1. 0 থেকে 7 এর মধ্যে
  2. 0 থেকে 14 এর মধ্যে
  3. 7 থেকে 14 এর মধ্যে
  4. 6 থেকে 14 এর মধ্যে
সঠিক উত্তর:
0 থেকে 14 এর মধ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0 থেকে 14 এর মধ্যে
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- বিজ্ঞানী সোরেনসেখ দ্রবণের H+ আয়নের ঘনমাত্রা pH দ্বারা প্রকাশ করার পদ্ধতি প্রচলন করেন। 
- pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = -log[H+

- pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়। 
- pH মিটারের pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং 7 এর সমান হলে দ্রবণটি প্রশমন হয়। 
- দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে। আর যদি দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়। 
- এভাবে লিটমাস কাগজ অথবা লিটমাস দ্রবণ ব্যবহার করেও ঐ দ্রবণের pH মান 7 এর উপরে না নীচে তা নির্ধারণ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৪.
প্রশমন বিক্রিয়া একটি -
  1. তাপ উৎপাদি বিক্রিয়া
  2. তাপহারি বিক্রিয়া
  3. উভয়ই
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
তাপ উৎপাদি বিক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপ উৎপাদি বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রশমন বিক্রিয়া: 
- ধাতুর হাইড্রোক্সাইড তথা এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- যে বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষার বিক্রিয়াও বলা হয়। 
যেমন - লঘু NaOH দ্রবণে ধীরে ধীরে লঘু HCl দ্রবণ করলে NaCl (লবণ) এবং H2O (পানি) উৎপন্ন হয়। 
- প্রশমন বিক্রিয়ায় সব সময় তাপ উৎপন্ন হয় অর্থাৎ প্রশমন বিক্রিয়া একটি তাপ উৎপাদি বিক্রিয়া। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮৫.
সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিড বিক্রিয়া করলে কী উৎপন্ন হয়? 
  1. অক্সাইড ও গ্যাস 
  2. ক্ষার ও পানি 
  3. লবণ ও পানি 
  4. লবণ ও হাইড্রোজেন 
সঠিক উত্তর:
লবণ ও হাইড্রোজেন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লবণ ও হাইড্রোজেন 
ব্যাখ্যা

এসিড (Acid): 
- রাসায়নিক দ্রব্যাদির মধ্যে এসিড খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- এসিড এক ধরনের গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্য যা পানিতে দ্রবীভূত করলে এসিডের অণু বিয়োজিত হয়ে (ভেঙে) হাইড্রোজেন আয়ন বা প্রোটন (H+) দান করে। 
যেমন- 
- হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) এরা তীব্র এসিড; অতএব, এরা জলীয় দ্রবণে নিম্নরূপে বিয়োজিত হয়- 
• HCl(aq) → H+(aq) + Cl-(aq) 
• H2SO4(aq) → 2H+(aq) + SO42-(aq) 
- কার্বনিক এসিড (H2CO3), এসিটিক এসিড (CH3COOH) এরা মৃদু এসিড; অতএব, এরা জলীয় দ্রবণে নিম্নরূপে বিয়োজিত হয়- 
• H2CO3(aq) ⇔ 2H+(aq) + CO32-(aq) 
• CH3COOH(aq) ⇔ H+(aq) + CH3COO-(aq) 

- এসিড ও পানির দ্রবণে এসিডের পরিমাণ যদি বেশি থাকে তবে তাকে গাঢ় এসিড বলে। আবার, এসিডের জলীয় দ্রবণে পানির পরিমাণ যদি এসিডের তুলনায় অনেক বেশি হয় তবে তাকে লঘু এসিড বলে।
- এসিড টক স্বাদযুক্ত। 
- এসিড দ্রবণ নীল রঙের লিটমাস পেপারকে লাল রঙের লিটমাস পেপারে রূপান্তরিত করে। 
- এসিড ধাতব অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
• CaO + 2HCl  → CaCl2 + H2
- এসিড সক্রিয় ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস তৈরি করে। 
• 2Na + 2HCl → 2NaCl + H2

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮৬.
2NaOH + H₂SO₄ বিক্রিয়ায় কী কী উৎপন্ন হয়?
  1. Na2SO₄ ও 2H2O
  2. NaO2 ও 2H2
  3. Na2SO4 ও 2H2
  4. NaOH ও 2SO2
সঠিক উত্তর:
Na2SO₄ ও 2H2O
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Na2SO₄ ও 2H2O
ব্যাখ্যা

2NaOH + H₂SO₄ বিক্রিয়ায় Na₂SO₄ ও 2H₂O উৎপন্ন হয়। 

এসিড-ক্ষার বিক্রিয়া (প্রশমন বিক্রিয়া)
- আমরা জানি, এসিড জলীয় দ্রবণে H⁺ আয়ন দান করে এবং ক্ষার জলীয় দ্রবণে OH⁻ আয়ন দান করে।
- তাই, এসিড ও ক্ষার একত্রে মিশ্রিত হলে এসিডের H⁺ এবং ক্ষারের OH⁻ বিক্রিয়া করে পানি উৎপন্ন করে।
- উদাহরণ: HCl পানিতে H⁺ দেয় এবং NaOH পানিতে OH⁻ দেয়। এই দ্রবণ দুটিকে একত্রিত করলে পানি উৎপন্ন হয়।

এসিড-ক্ষার সমতা
- এসিডের বাকি ঋণাত্মক আয়ন Cl⁻ এবং ক্ষারের ধনাত্মক আয়ন Na⁺ বিক্রিয়া করে লবণ (NaCl) উৎপন্ন করে।
- এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন হওয়াকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে। কারণ, এই বিক্রিয়ায় এসিড তার এসিডত্ব এবং ক্ষার তার ক্ষারকত্ব হারায় এবং প্রশম পদার্থ লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়।

উদাহরণসমূহ:
2NaOH(aq) + H₂SO₄(aq) → Na₂SO₄(aq) + 2H₂O(l)
- এক মোল সালফিউরিক এসিড দুই মোল সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডকে সম্পূর্ণরূপে প্রশমিত করে।
- এটি প্রমাণ করে যে, কোনো নির্দিষ্ট এসিডের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অপর কোনো নির্দিষ্ট ক্ষারের নির্দিষ্ট পরিমাণকে সম্পূর্ণরূপে প্রশমিত করতে পারে।

NaOH(aq) + HCl(aq) → NaCl(aq) + H₂O(l)
- এখানে এক মোল হাইড্রোক্লোরিক এসিড এক মোল সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডকে সম্পূর্ণরূপে প্রশমিত করে।
- দুই মোল HCl দুই মোল NaOH কে সম্পূর্ণরূপে প্রশমিত করবে।

উৎস: রসায়ন - ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১৮৭.
যেসব এসিড পানিতে দ্রবীভূত হয়ে সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয়, সেগুলোকে কী বলা হয়?
  1. দুর্বল এসিড
  2. শক্তিশালী এসিড
  3. জৈব এসিড
  4. খনিজ এসিড
সঠিক উত্তর:
শক্তিশালী এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শক্তিশালী এসিড
ব্যাখ্যা

• যেসব এসিড পানিতে দ্রবীভূত হয়ে সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয় এবং অধিক পরিমাণে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) উৎপন্ন করে, সেগুলোকে শক্তিশালী এসিড বলা হয়।

• শক্তিশালী ও দুর্বল এসিড:
- যেসব এসিড পানিতে দ্রবীভূত হয়ে সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয় এবং প্রচুর পরিমাণে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) উৎপন্ন করে, তাদেরকে শক্তিশালী এসিড বলা হয়।
- অপরদিকে, যেসব এসিড পানিতে সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয় না, বরং আংশিকভাবে আয়নিত হয়, সেগুলোকে দুর্বল এসিড বলা হয়।
- অর্থাৎ, দুর্বল এসিডের ক্ষেত্রে এসিডের সব অণু থেকে H+ আয়ন উৎপন্ন হয় না।
- কিন্তু শক্তিশালী এসিডের ক্ষেত্রে পানিতে দ্রবীভূত হলে প্রায় সব অণুই H+ আয়নে বিযুক্ত হয়।
 
• গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- সব জৈব এসিডই যে দুর্বল হবে, তা নয়।
- উদাহরণস্বরূপ, কার্বনিক এসিড (H2CO3) একটি জৈব এসিড হলেও এটি দুর্বল এসিড।
- আবার কোনো এসিড খনিজ (Inorganic) হলেই যে তা শক্তিশালী হবে, এমনটিও নয়।
 
• দুর্বল এসিডের উদাহরণ:
- এসিটিক এসিড (CH3COOH),
- সাইট্রিক এসিড (C6H8O7),
- অক্সালিক এসিড (HOOC–COOH)।
 
• শক্তিশালী এসিডের উদাহরণ:
- সালফিউরিক এসিড (H2SO4),
- নাইট্রিক এসিড (HNO3),
- হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl)। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৮৮.
pH স্কেলের সর্বাধিক সীমা কত? 
  1. 0
  2. 14
  3. 7
  4. 10
সঠিক উত্তর:
14
উত্তর
সঠিক উত্তর:
14
ব্যাখ্যা

pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৯.
কোন এসিড শিল্পোন্নয়নের পরিমাপক হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. সালফিউরিক এসিড
  2. নাইট্রিক এসিড
  3. হাইড্রোক্লোরিক এসিড 
  4. কার্বোলিক এসিড
সঠিক উত্তর:
সালফিউরিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা

এসিডের ব্যবহার: 
- আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এবং শিল্প কারখানায় এসিডের ব্যবহার অনস্বীকার্য। 
যেমন-
• সোনার গহনা তৈরির সময় নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করা হয়। 
• আইপিএস, গাড়ি, মাইক বাজানোর সময়, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়।
• বাসাবাড়িতে সাপের উপদ্রব কমানোর জন্য কার্বোলিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• আমাদের খাদ্যদ্রব্য হজম করার জন্য পাকস্থলীতে যে এসিড অত্যাবশ্যকীয় তা হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড। 
• সার কারখানায় অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড। 
• এছাড়া ডিটারজেন্ট থেকে শুরু করে নানারকম রং, ঔষধপত্র, কীটনাশকসহ পেইন্ট, কাগজ, বিস্ফোরক ও রেয়ন তৈরিতে প্রচুর সালফিউরিক এসিড ব্যবহৃত হয়। 
কোনো একটি দেশ কতটা শিল্পোন্নত তা বিচার করা হয় ঐ দেশ কতটুকু সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করে তার উপর ভিত্তি করে। 
• ইস্পাত তৈরির কারখানা, ঔষধ, চামড়া শিল্প ইত্যাদি অনেক শিল্পে হাইড্রোক্লোরিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 
• সার কারখানায়, বিস্ফোরক প্রস্তুতি, খনি থেকে মূল্যবান ধাতু যেমন- সোনা আহরণে ও রকেটে জ্বালানির সাথে নাইট্রিক এসিড এসিড ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

১৯০.
মাটির এসিডিটি (অম্লত্ব) নিষ্ক্রিয় করতে ব্যবহৃত লবণ কোনটি?
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. কপার সালফেট
  3. পটাসিয়াম নাইট্রেট 
  4. ক্যালসিয়াম কার্বোনেট
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম কার্বোনেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম কার্বোনেট
ব্যাখ্যা

- মাটির অম্লত্ব বা এসিডিটি বৃদ্ধি পেলে মাটির গুণাগুণ নষ্ট হয় এবং ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হয়। এই অতিরিক্ত অম্লত্ব প্রশমিত বা নিষ্ক্রিয় করার জন্য ক্ষারীয় পদার্থের প্রয়োজন হয়। ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3) একটি ক্ষারীয় লবণ (যা চুনাপাথর হিসেবে পরিচিত), এটি মাটির এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে মাটির pH মান বৃদ্ধি করে এবং মাটিকে নিরপেক্ষ অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। 

লবণ: 
- অনেক লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে। 
যেমন- 
• সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), 
• সোডিয়াম গ্লুটামেট (C5H8NO4Na) লবণ। 

- প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ আছে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। 
যেমন- 
• ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3), 
• সিলভার সালফেট (Ag2SO4), 
• সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি। 

- কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধেও কিছু লবণ ব্যবহার করা হয় যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে। 
যেমন- 
• তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) । 

- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্যও লবণ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- 
• চুনাপাথর (CaCO3) । 

- মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ। 
যেমন- 
• অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), 
• অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), 
• পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯১.
টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য টয়লেট ক্লিনার হিসেবে কোন ক্ষারধর্মীয় উপাদান ব্যবহার করা হয়?
  1. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. ফেরাস হাইড্রোক্সাইড
  3. সোডিয়াম অক্সাইড
  4. ক্যালসিয়াম অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা
ক্ষারক (Base): 
- সাধারণত ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের অক্সাইড এবং হাইড্রোক্সাইড যা এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে তাকে ক্ষারক বলে। 
যেমন- ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO), পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), সোডিয়াম অক্সাইড (Na2O), কপার অক্সাইড (CuO), ফেরাস অক্সাইড (FeO), সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2, ফেরাস হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)2, অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH) ইত্যাদি। 
- এসিডের সাথে ক্ষারের বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন হওয়ার বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষারক প্রশমন বিক্রিয়া বলে। 
- তাই বলা হয় এসিড ক্ষারককে আর ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে। 
• CaO + 2HCl →  CaCl2 + H2
• 2KOH + H2SO4 → K2SO4 + 2H2
• NH4OH + HCl → NH4Cl + H2

ক্ষার (Alkali): 
- ধাতু বা ধাতুর মতো ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের হাইড্রোক্সোইড যৌগ যা পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- কোনো যৌগের ক্ষার হবার জন্য ২টি শর্ত রয়েছে- 
১। যৌগটিতে হাইড্রোক্সাইড (OH-) যৌগমূলক থাকতে হবে এবং 
২। ঐ যৌগ পানিতে দ্রবীভূত হতে হবে। 
- NaOH ক্ষার, কারণ সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড যৌগে OH- মূলক আছে এবং এটি পানিতে দ্রবণীয়। 
- Fe(OH)2 কে ক্ষার বলা যায় না, কারণ এটিতে OH- গ্রুপ আছে কিন্তু এটি পানিতে দ্রবণীয় নয়, এটি শুধু ক্ষারক। 
- CaO ক্ষারক কিন্তু ক্ষার নয় কারণ CaO এ OH- মূলক নাই। 
অর্থাৎ, হাইড্রোক্সাইড মূলকধারী পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারকগুলোই হলো ক্ষার। তাই সব ক্ষারকই ক্ষার নয় কিন্তু সব ক্ষারই ক্ষারক। 
- বাসাবাড়িতে ক্ষার জাতীয় অনেক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য যে টয়লেট ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) ক্ষার থাকে। কাচ পরিষ্কার করার জন্য যে গ্লাস ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ক্ষার (NH4OH) থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯২.
pH স্কেলের সীমা কত? 
  1. 0-14
  2. 7-14
  3. 0-7
  4. 0-18
সঠিক উত্তর:
0-14
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0-14
ব্যাখ্যা

pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৩.
আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহৃত টুথপেস্ট কী জাতীয়?
  1. ক্ষার জাতীয়
  2. এসিড জাতীয়
  3. লবণ জাতীয়
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক্ষার জাতীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষার জাতীয়
ব্যাখ্যা
টুথপেস্ট:
কখনো মিষ্টিজাতীয় খাবার খেয়ে মুখ পরিষ্কার না করলে কিছুক্ষণ পর মুখে টক টক অনুভূত হয়।
- আসলে মুখের মধ্যে অনেক ব্যাকটেরিয়া থাকে যা আমাদের খাওয়া খাবার থেকে বিভিন্ন ধরনের জৈব এসিড তৈরি করে।
- তাই মুখে টক স্বাদ অনুভূত হয়।
- এই এসিড দাঁতের এনামেলকে (ক্যালসিয়ামের যৌগ) ক্ষয় করে।
- টুথপেস্টে থাকা ক্ষারজাতীয় পদার্থ এ সকল এসিডকে প্রশমিত করে।
- ফলে দাঁতের এনামেল রক্ষা পায়।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯৪.
অম্লের ক্ষেত্রে কোন তথ্যটি সত্য নয়?
  1. ক) সকল লঘু এসিড টক স্বাদ যুক্ত
  2. খ) লাল লিটমাসকে নীল করে
  3. গ) এসিডগুলো ক্ষয়কারী পদার্থ
  4. ঘ) সক্রিয় ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে সংশ্লিষ্ট ধাতুটির লবণ উৎপন্ন করে
সঠিক উত্তর:
খ) লাল লিটমাসকে নীল করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লাল লিটমাসকে নীল করে
ব্যাখ্যা

লঘু এসিডের বৈশিষ্ট্যঃ

- সকল লঘু এসিড টক স্বাদযুক্ত
- এসিডগুলো ক্ষয়কারী পদার্থ হিসাবে পরিচিত
- এসিড নীল বর্ণের লিটমাসকে লাল বর্ণে পরিণত করে
- সক্রিয় ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে সংশ্লিষ্ট ধাতুটির লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে
- ধাতব কার্বনেটের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে।

উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি

১৯৫.
pH স্কেলের সীমা কোনটি? 
  1. 0–7 
  2. 0–10 
  3. 0–14 
  4. 1–14 
সঠিক উত্তর:
0–14 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0–14 
ব্যাখ্যা

pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়।
- কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+

- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৬.
গাড়ির ব্যাটারির অত্যাবশ্যকীয় উপাদান কোনটি?
  1. সালফিউরিক অ্যাসিড
  2. হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড
  3. নাইট্রিক অ্যাসিড
  4. ফসফরিক অ্যাসিড
সঠিক উত্তর:
সালফিউরিক অ্যাসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফিউরিক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা

অম্ল বা অ্যাসিড: 
- আরহেনিয়াস মতবাদ অনুসারে, হাইড্রোজেন পরমানু যুক্ত যে সকল যৌগ জলীয় দ্রবণে প্রোটন (H+) দান করে তাকে অম্ল বা এসিড বলে। যেমন- HCl, H2SO4, HNO3 ইত্যাদি অম্ল।
- লুইস মতবাদ অনুসারে, যে সকল যৌগ বা আয়ন অন্য কোন যৌগ বা আয়ন থেকে এক জোড়া ইলেকট্রন গ্রহণ করতে পারে তাকে অম্ল বা এসিড বলে। যেমন: H+, AICI3, ইত্যাদি।
- HCl, H2SO4, HNO3, H3PO4 ইত্যাদি বিভিন্ন শক্তিশালী এসিডের উদাহরণ। 

বিভিন্ন শক্তিশালী এসিডের ব্যবহার: 
- সার কারখানায় নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3), সালফিউরিক অ্যাসিড (H₂SO₄), ফসফরিক অ্যাসিড (H₃PO₄) ব্যবহার করে বিভিন্ন রকমের সার প্রস্তুত করা হয়।
- টয়লেট পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত পরিষ্কারকের মূল উপাদানহলো হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCI), নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3) বা সালফিউরিক অ্যাসিড (H₂SO₄) এর মত শক্তিশালী অ্যাসিড।
- বাসাবাড়ির আইপিএস (IPS) বা গাড়ির ব্যাটারির অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো সালফিউরিক অ্যাসিড (H₂SO₄)।

তথ্যসূত্র: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৯৭.
একটি দ্রবণের pH মান কিসের ঘনত্বের ঋণাত্মক লগারিদম?
  1. জলীয় অণু (H2O)
  2. হাইড্রোজেন আয়ন (H+)
  3. হাইড্রোক্সাইড আয়ন (OH-)
  4. ক্লোরাইড আয়ন (Cl-)
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন আয়ন (H+)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন আয়ন (H+)
ব্যাখ্যা

একটি দ্রবণের pH মান হলো হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ঘনত্বের ঋণাত্মক লগারিদম।

pH স্কেল:
-কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়।
- কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন।
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়।
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+)-এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে।
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+)-এর ঘনমাত্রার ঋনাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের PH বলে। অর্থাৎ, pH = -log[H+]
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়।
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে।
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি নিরপেক্ষ হয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৮.
তড়িৎ কোষে কোনটি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে?
  1. প্রতিরোধ
  2. ইলেকট্রোলাইট
  3. ক্যাপাসিটার
  4. ট্রান্সফরমার
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রোলাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেকট্রোলাইট
ব্যাখ্যা

• তড়িৎ কোষ (Electric Cell): এটি এমন একটি ডিভাইস যা রাসায়নিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে।

- ইলেকট্রোলাইট (Electrolyte): তড়িৎ কোষে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল উপাদান হলো ইলেকট্রোলাইট।
- এটি এমন একটি পদার্থ যা আয়ন উৎপন্ন করে।
- ইলেকট্রোলাইট বিদ্যুৎ প্রবাহের জন্য মাধ্যম সরবরাহ করে।
- উদাহরণ: সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4) অম্লীয় তড়িৎ কোষে।

অন্যান্য উপাদানসমূহ:
- প্রতিরোধ (Resistor): এটি বিদ্যুৎ প্রবাহকে সীমিত বা নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না।
- ক্যাপাসিটার (Capacitor): এটি বিদ্যুতকে সংরক্ষণ করে, কিন্তু উৎপাদন করে না।
- ট্রান্সফরমার (Transformer): এটি বিদ্যুতের ভোল্টেজ পরিবর্তন করে, কিন্তু উৎপাদন নয়।

সুতরাং, তড়িৎ কোষে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল উপাদান হলো ইলেকট্রোলাইট।


তথ্যসূত্র: NCTB মাধ্যমিক রসায়ন।  

১৯৯.
যদি কোন যৌগের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে তাহলে যৌগটি-
  1. অম্ল
  2. ক্ষার
  3. লবণ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক্ষার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষার
ব্যাখ্যা
• ক্ষার:
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে।
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে।
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে।
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়।
- উদাহরণ: : সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
২০০.
মাটির pH কত হলে তাকে অ্যালকালিন(Alkaline) মাটি বলা হয়?
  1. 7
  2. 8
  3. 6
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
8
উত্তর
সঠিক উত্তর:
8
ব্যাখ্যা
• মাটির pH মান নির্ধারণ করে সেটি অম্লীয় (Acidic), নিরপেক্ষ (Neutral), অথবা ক্ষারীয়/অ্যালকালিন (Alkaline) কিনা।
• সাধারণত, pH 7-এর বেশি হলে মাটিকে ক্ষারীয় (Alkaline) মাটি বলা হয়।

• pH মান অনুযায়ী মাটির ধরন:

• pH < 7 = অম্লীয় (Acidic) মাটি; 
• pH = 7 = নিরপেক্ষ (Neutral) মাটি; 
• pH > 7 = ক্ষারীয় বা অ্যালকালিন (Alkaline) মাটি; 

উৎস: রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।