বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

গদ্য সাহিত্যের বিকাশ (গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদি)

মোট প্রশ্ন৭৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

গদ্য সাহিত্যের বিকাশ (গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদি)

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৭৩৭

১০১.
'কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ' - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ
  2. দোম আন্তোনিও
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
সঠিক উত্তর:
মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ
ব্যাখ্যা

‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থ:
- রোমান ক্যাথলিক পর্তুগিজ পাদ্রি মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ কর্তৃক ১৭৩৪ সালে রচিত এবং ১৭৪৩ সালে লিসবনে রোমান হরফে মুদ্রিত ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
- গ্রন্থটি ঢাকার ভাওয়াল অঞ্চলের নাগরী নামক স্থানে লিখিত।
- এই গ্রন্থের বাঁ দিকের পৃষ্ঠায় বাংলা ভাষায় এবং ডান দিকের পৃষ্ঠায় পর্তুগিজভাষায় গুরু ও শিষ্যের কথোপকথনের মাধ্যমে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা এবং খ্রিষ্টানদের আচার-অনুষ্ঠানের কথা আলোচিত হয়েছে।

মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ:
- তিনি একজন পর্তুগিজ ছিলেন।
- তিনি ছিলেন একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজক।
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেননি।
- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো:
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ,
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১০২.
হিন্দু থিয়েটার নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয় উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. ক) যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) তারাচরণ শিকদার
  3. গ) প্রসন্নকুমার ঠাকুর
  4. ঘ) রামনারায়ণ তর্করত্ন
সঠিক উত্তর:
গ) প্রসন্নকুমার ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রসন্নকুমার ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়। কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারে নি।
• বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে।
• হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন।
• তিনি “The Disguise” এবং “Love is the best Doctor” নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান। এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।
• ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।

• ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় হিন্দু থিয়েটার নামক বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়। এখান থেকেই মোটামুটি বাংলা নাটকের সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে করা যেতে পারে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০৩.
বাংলা ভাষায় প্রথম মুদ্রিত 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থটির রচয়িতা কে? 
  1. রামমোহন রায়
  2. রামরাম বসু
  3. চণ্ডীচরণ মুনশী
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
রামরাম বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'।
- এটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ হলো 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'।

রামরাম বসু:
- রামরাম বসু- ১৭৫৭ সালে হুগলির চুঁচুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- কেরী সাহেবের মুনশি হিসাবে খ্যাত ছিলেন রামরাম বসু।
১৮০১ সালের মে মাসে ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে কেরীর অধীনে
বাংলা বিভাগের সূচনা হলে, রামরাম সেখানে সহকারী মুন্সি হিসেবে নিযুক্ত হন।
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১)।
- এই গ্রন্থটি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত প্রথম কোন গ্রন্থ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০৪.
“লালসালু” উপন্যাসের লেখক কে?
  1. ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. খ) শওকত আলী
  3. গ) মুনীর চৌধুরী
  4. ঘ) শহীদুল্লাহ কায়সার
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
'লালসালু' উপন্যাসের রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ। ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১০৫.
‘কীর্তিবিলাস’ - কোন ধরনের নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা?
  1. বিয়োগান্তক
  2. হাস্যরসাত্মক
  3. ঐতিহাসিক
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিয়োগান্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিয়োগান্তক
ব্যাখ্যা

'কীর্তিবিলাস' নাটক:
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এর রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত। এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত।
- বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে।
- কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১০৬.
'কথোপকথন' - গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা

'কথোপকথন':
- উইলিয়াম কেরি সুশৃঙ্খল গদ্যের পথিকৃৎরূপে বিদেশীর ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগী করে ১৮০১ সালে 'কথোপকথন' গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশ করেন।
- গ্রন্থে গৃহীত কথোপকথনগুলো সে আমলের কলকাতা-শ্রীরামপুর অঞ্চলের সকল স্তরের স্ত্রীপুরুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, সামাজিক রীতিনীতি, ধর্ম ও আচারব্যবহার নিয়ে রচিত।
- এই গ্রন্থে চাকর ভাড়াকরণ, সাহেবের হুকুম, সাহেব ও মুনশীর পরামর্শ, ভোজনের কথা, যাত্রা, পরিচয়, ভূমির কথা, মহাজন, আসামি, বাগান করার হুকুম, ভদ্রলোকে ভদ্রলোকে কথাবার্তা, প্রাচীনে প্রাচীনে কথাবার্তা, সুপারিশ, মজুরের কথাবার্তা, খাতক মহাজনি, ঘটকালি, হাটের বিষয়, স্ত্রীলোকের হাট করা, জেলেদের কথাবার্তা, ভিক্ষুকের কথা, কাজের চেষ্টার কথা, কোন্দল বা ঝগড়া, স্ত্রীলোকে স্ত্রীলোকে কথাবার্তা, 'মাইয়া কন্দল', জমিদার রায়তের কথা ইত্যাদি বিষয়াবলম্বনে কথোপকথন রচিত হয়েছে।
- উইলিয়াম কেরি সহজ ও বাস্তব ভঙ্গিতে বক্তব্য পরিবেশন করেছেন। গ্রন্থের কোথাও অবিমিশ্র সাধু আবার কোথাও কথ্য ভাষাশ্রিত রচনারীতি স্থান পেয়েছে।
- বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন এই গ্রন্থে বিধৃত। সে যুগের সামাজিক ও ব্যবহারিক রীতিনীতির বিশেষ পরিচয় হিসেবেও এগুলো গুরুত্বপূর্ণ।
- কথোপকথন গ্রন্থটি ছিল দ্বিভাষিক এক পৃষ্ঠায় বাংলা, অপর পৃষ্ঠায় ইংরেজি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১০৭.
'ইতিহাসমালা' কার রচিত গ্রন্থ?
  1. উইলিয়াম কেরী
  2. রামরাম বসু
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. চণ্ডীচরণ মুন্সী
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরী
ব্যাখ্যা

• 'ইতিহাসমালা':
- 'ইতিহাসমালা' (১৮১২) উইলিয়াম কেরি সঙ্কলিত বিভিন্ন বিষয়ের ১৫০টি গল্পের সংগ্রহ।
- আধুনিক ভারতীয় সাহিত্যের এটি প্রথম গল্পসংগ্রহ।
- গল্পগুলি বাংলাদেশের নানা অঞ্চলে প্রচলিত ছিল।

উইলিয়াম কেরি:
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে তাঁর অবদান সর্বাধিক।
- তিনি 'ইতিহাসমালা' ও 'কথোপকথন' নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- 'ইতিহাসমালা' বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

ফোর্ট উইলিয়ামের ফর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:
• কেরি রচিত: কথোপকথন; ইতিহাসমালা (১৮১২)।
• রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র; লিপিমালা (১৮০২)।
• গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন; হিতোপদেশ; রাজাবলি; প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)।
• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট।
• রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং।
• চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস।
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০৮.
‘কালো বরফ’ উপন্যাসের লেখক কে?
  1. শহীদুল জহির
  2. জহির রায়হান
  3. মাহমুদুল হক
  4. জাকির তালুকদার
সঠিক উত্তর:
মাহমুদুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাহমুদুল হক
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের শক্তিমান লেখক মাহমুদুল হক ২০০৮ সালে মারা যান।
- কালো বরফ তার বিখ্যাত উপন্যাস।
- জীবন আমার বোন উপন্যাসটিও বেশ আলোচিত।
অন্যান্য উপন্যাস হলো :
- অনুর পাঠশালা
- নিরাপদ তন্দ্রা
- অশরীরী
- পাতালপুরী
- খেলাঘর
- মাটির জাহাজ
উৎস : বাংলাপিডিয়া ও জনকন্ঠ রিপোর্ট।

১০৯.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস কত সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়?
  1. ১৮৬৮ সালে
  2. ১৮৭৮ সালে
  3. ১৮৫৮ সালে
  4. ১৮৪৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৫৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৫৮ সালে
ব্যাখ্যা

আলালের ঘরের দুলাল:
- আলালের ঘরের দুলাল বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায়,
- জাত থাকার কি উপায়,
- আধ্যাত্মিকা। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১০.
'কুমুদিনী' কোন উপন্যাসের নায়িকা?
  1. ক) বিষবৃক্ষ
  2. খ) চোখের বালি
  3. গ) গোরা
  4. ঘ) যোগাযোগ
সঠিক উত্তর:
ঘ) যোগাযোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যোগাযোগ
ব্যাখ্যা
যোগাযোগ (১৯২৬) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি সামাজিক উপন্যাস৷ প্রকাশকালে এর নাম ছিলো 'তিন পুরুষ'৷ এই উপন্যাসের নায়ক মধুসূদন এবং নায়িকা কুমুদিনী৷
Source: LiveMCQ Lecture
১১১.
প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যের কোন শাখায় চলিতরীতির প্রবর্তন করেন?
  1. কাব্য
  2. নাটক
  3. গদ্য
  4. ছোটগল্প
সঠিক উত্তর:
গদ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গদ্য
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল বীরবল।
- প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রথম গদ্য রচনা 'বীরবলের হালখাতা'। এটি তাঁর প্রথম চলিত রীতিতে লিখিত গ্রন্থ। এটি ১৯০২ সালে প্রথম 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত সবুজপত্র পত্রিকা (১৯১৪) চলিত রীতি প্রবর্তনে মূল ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১২.
কোনটি বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক?
  1. জমিদার দর্পণ
  2. নীলদর্পণ
  3. শেষ নবাব
  4. কৃষ্ণকুমারী
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা
⇒ নীলদর্পণ নাটক:
• ‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদন্ডে দন্ডিত হন।  বঙ্কিমচন্দ্র নীলদর্পণকে আঙ্কল টমস কেবিন-এর সঙ্গে তুলনা করেন। নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
• এটিই বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক। ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম  ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

⇒ দীনবন্ধু মিত্র:
• দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
• দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে  সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও  প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১৩.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) একাত্তরের দিনগুলি (উপন্যাস)
  2. খ) গোরা (উপন্যাস)
  3. গ) পথের দাবী (উপন্যাস)
  4. ঘ) বিদ্রোহী (কবিতা)
সঠিক উত্তর:
ক) একাত্তরের দিনগুলি (উপন্যাস)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) একাত্তরের দিনগুলি (উপন্যাস)
ব্যাখ্যা
- জাহানারা ইমাম রচিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'।
- 'গোরা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বৃহত্তম এবং অনেকের মতে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস৷
- 'বিদ্রোহী' কবিতাটি কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কবিতা যা 'অগ্নি-বীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
-'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক 'সব্যসাচী' এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া৷
১১৪.
রামরাম বসুর 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থটি কেন ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে?
  1. বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস লেখার প্রচেষ্টা
  2. বাংলা গদ্যের প্রথম দিকের পাঠ্যপুস্তক
  3. প্রথম জীবনী গ্রন্থ
  4. প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
বাংলা গদ্যের প্রথম দিকের পাঠ্যপুস্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা গদ্যের প্রথম দিকের পাঠ্যপুস্তক
ব্যাখ্যা

• রামরাম বসু:
- রামরাম বসু- ১৭৫৭ সালে হুগলির চুঁচুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- কেরী সাহেবের মুনশি হিসাবে খ্যাত ছিলেন রামরাম বসু।
- 'লিপিমালা' রচনা করেছেন- রামরাম বসু।
- ১৮০১ সালের মে মাসে ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে কেরীর অধীনে বাংলা বিভাগের সূচনা হলে, রামরাম সেখানে সহকারী মুন্সি হিসেবে নিযুক্ত হন।
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১)।

• "রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র" রচনার প্রেক্ষাপট:

- ১৮০১ সালের মে মাসে ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে কেরীর অধীনে বাংলা বিভাগের সূচনা হলে, রামরাম বসু সেখানে সহকারী মুন্সি হিসেবে নিযুক্ত হন। ৭ আগস্ট ১৮১৩ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রামরাম এ কাজে নিযুক্ত ছিলেন।

- কলেজে নিযুক্ত হওয়ার মাত্র দুমাস পরেই ছাত্রদের পাঠ্যপু্স্তক হিসেবে তিনি বারো ভুঁইয়াদের একজন - প্রতাপাদিত্যের জীবন নিয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। এর নাম রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র। ১৮০১ সালের জুলাই মাসে গ্রন্থটি শ্রীরামপুর প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থের জন্যে তিনি কলেজের কাউন্সিল থেকে পুরস্কৃত হয়েছিলেন।

পরের বছর তিনি বিভিন্ন কাজের উপযোগী চিঠিপত্রের একটি আদর্শ সংকলন প্রকাশ করেন। এর নাম লিপিমালা। এ দুটি গ্রন্থ ছাড়া, তিনি গদ্যে-পদ্যে আরও কয়েকটি পুস্তিকা লিখেছিলেন, যেগুলিকে এক কথায় বলা যায়, খ্রিস্টীয় সাহিত্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১১৫.
'রক্তাক্ত প্রান্তর' বিখ্যাত এই নাটকটির নাট্যকার হলেন-
  1. ক) মুনীর চৌধুরী
  2. খ) বিষ্ণু দে
  3. গ) মামুনুর রশীদ
  4. ঘ) নুরুল মোমেন
সঠিক উত্তর:
ক) মুনীর চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

মুনীর চৌধুরী : তিনি ছিলেন মূলত শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সমালোচক ও বাগ্মী৷

ভাষা আন্দোলনের উপর রচিত তার নাটক 'কবর' (১৯৬৬)।

তার রচিত অন্যান্য নাটক-
- রক্তাক্ত প্রান্তর
- চিঠি
- দণ্ডকারণ্য
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য
- মুখরা রমনী বশীকরণ
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১১৬.
মুনীর চৌধুরী অনূদিত নাটক কোনটি?
  1. ক) কবর
  2. খ) রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. গ) চিঠি
  4. ঘ) মুখরা রমণী বশীকরণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুখরা রমণী বশীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুখরা রমণী বশীকরণ
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী উইলিয়াম শেক্সপিয়রের 'The Taming of The Shrew' নাটকের অনুবাদ করেন 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নামে।
- তাঁর আরাে দুটি অনুবাদ নাটক- 'কেউ কিছু বলতে পারে না ও রূপার কৌটা'।

মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-১৯৭১)
- মুনীর চৌধুরী সমকালীন জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গেও নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সম্পৃক্ত করেছিলেন।
- ১৯৭১ সালের মার্চে  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে তিনি পাকিস্তান সরকারের দেওয়া সিতারা-ই-ইমতিয়াজ (১৯৬৬) খেতাব বর্জন করেন।
- মুনীর চৌধুরী মঞ্চ, বেতার, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র মাধ্যমে নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা ও সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন।
- তাঁর একটি বিশেষ কীর্তি বাংলা টাইপ রাইটারের কি-বোর্ড (১৯৬৫) উদ্ভাবন, যা ‘মুনীর অপটিমা’ নামে পরিচিত।

তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক-
- কবর (১৯৬৬),
- চিঠি (১৯৬৬), 
- দন্ডকারণ্য (১৯৬৬)
- পলাশী ব্যারাক  ও অন্যান্য  (১৯৬৯)
- কেউ কিছু বলতে পারে না (১৯৬৭),
- রূপার কৌটা (১৯৬৯),
- মুখরা রমণী বশীকরণ (১৯৭০) ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১৭.
‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি কোন হরফে মুদ্রিত?
  1. বাংলা 
  2. রোমান
  3. পর্তুগিজ 
  4. ফারসি 
সঠিক উত্তর:
রোমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান
ব্যাখ্যা

• ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থ:
- রোমান ক্যাথলিক পর্তুগিজ পাদ্রি মানোএল দা আসসুম্পসাঁও কর্তৃক ১৭৩৪ সালে রচিত এবং ১৭৪৩ সালে লিসবনে রোমান হরফে মুদ্রিত ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
- গ্রন্থটি ঢাকার ভাওয়াল অঞ্চলের নাগরী নামক স্থানে লিখিত।
- এই গ্রন্থের বাঁ দিকের পৃষ্ঠায় বাংলা ভাষায় এবং ডান দিকের পৃষ্ঠায় পর্তুগিজভাষায় গুরু ও শিষ্যের কথোপকথনের মাধ্যমে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা এবং খ্রিষ্টানদের আচার-অনুষ্ঠানের কথা আলোচিত হয়েছে।

-----------------------
• মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ:
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ ছিলেন একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজক। তিনি জাতিতে একজন পর্তুগিজ ছিলেন।
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেননি।
- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো:
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ,
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১১৮.
বাংলা গদ্যকে পাঠ্যপুস্তকের গণ্ডি থেকে মুক্ত করার কৃতিত্ব কার?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 
  2. প্রমথ চৌধুরী 
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

• রাজা রামমোহন রায়:
বাংলা গদ্যকে পাঠ্যপুস্তকের গণ্ডি থেকে মুক্ত করার কৃতিত্ব যুগপুরুষ রাজা রামমোহন রায়-এর (১৭৭৪-১৮৩৩)। উনিশ শতকের নবজাগরণের অগ্রনায়ক ছিলেন তিনি। তাঁর উদ্যোগ ও চর্চায় বাংলা গদ্য এ সংস্কার আন্দোলনেরমাধ্যম হয়ে ওঠে ৷ সমাজ ও ধর্ম বিষয়ে প্রাণবন্ত তর্ক বিতর্কের লিখিত গদ্যরূপ বিভিন্ন পত্রিকায় ও পুস্তিকায় প্রকাশিত হয়। এ ভাবেই বাংলা গদ্য বিকাশধারার পথ খুঁজে পায়। আলোচনা “বিতর্ক ও মীমাংসা' এবং ধর্মতত্ত্বের বাহন হিসেবে বাংলা গদ্যের অমিত সম্ভাবনাকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রামমোহন রায়।

 রামমোহন রায় রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হল:
- 'বেদান্ত গ্রন্থ' (১৮১৫),
- 'বেদান্ত সার' (১৮১৫), 
- 'গোস্বামীর সহিত বিচার' (১৮১৮), 
- সহমরণ বিষয়ক, 
- প্রবর্তক নির্বর্তক সম্বাদ। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক সাহিত্য প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১১৯.
মুনীর চৌধুরী রচিত "কেউ কিছু বলতে পারে না" নাটকটি কোন ইংরেজ নাট্যকারের নাটক অবলম্বনে রচিত?
  1. ক) উইলিয়াম শেক্সপিয়ার
  2. খ) জর্জ বার্নার্ড শ
  3. গ) ডব্লিউ. বি. ইয়েটস্‌
  4. ঘ) জন গলজ্‌ওয়র্দি
সঠিক উত্তর:
খ) জর্জ বার্নার্ড শ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জর্জ বার্নার্ড শ
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী (২৭ নভেম্বর ১৯২৫ - ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১):
শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক মুনীর চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলায়। 
- মুনীর চৌধুরী ১৯৫৩ সালে কারাবন্দী অবস্থায় কবর নাটকটি রচনা করেন।

তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক
- কেউ কিছু বলতে পারে না (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর You never can tell-এর বাংলা অনুবাদ।
- রূপার কৌটা (১৯৬৯): জন গলজ্‌ওয়র্দির The Silver Box-এর বাংলা অনুবাদ।
- মুখরা রমণী বশীকরণ (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের Taming of the Shrew-এর বাংলা অনুবাদ।

তাঁর রচিত মৌলিক নাটক
- রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২): পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য
- চিঠি (১৯৬৬)
- কবর (রচনাকাল ১৯৫৩, প্রকাশকাল ১৯৬৬) নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন।
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য (১৯৬৯):
- মানুষ (১৯৪৭): ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- নষ্ট ছেলে (১৯৫০): রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।
- দণ্ডকারণ্য (১৯৬৬): তিনটি নাটকের সমন্বয়।
- রাজার জন্মদিন (১৯৪৬)
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য (১৯৬৯)

> তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশী বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের অন্যতম একজন শিকার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ)
১২০.
'মহাকবি আলাওল' -নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. ক) সানাউল হক
  2. খ) সিকান্‌দার আবু জাফর
  3. গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ঘ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
খ) সিকান্‌দার আবু জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সিকান্‌দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
'মহাকবি আলাওল' -নাটকটি রচনা করেন - 'সিকান্‌দার আবু জাফর'।

'সিকান্‌দার আবু জাফর'
• তিনি ১৯১৯ সালে তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতরচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক।
 
তাঁর রচিত  গ্রন্থাবলি:
কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর
- বৈরীবৃষ্টিতে
- তিমিরান্তক
- কবিতা
- বৃশ্চিকলগ্ন

উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু
- জয়ের পথে
- পূরবী
- নবী কাহিনী
নাটক:
- শকুন্ত উপাখ্যান
- সিরাজউদ্দৌলা
- মহাকবি আলাওল

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর। 
১২১.
আহমদ ছফা রচিত ‘ওঙ্কার’ উপন্যাসে কোন সামরিক শাসকের কথা বলা হয়েছে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. এস ওয়াজেদ আলি
  3. সঞ্জয় ভট্টাচার্য
  4. আইয়ুব খান
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা

আহমদ ছফা: মূলত চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- আহমদ ছফা রচিত 'ওঙ্কার' উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বােবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনি গতি লাভ করেছে। এটি মূলত '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে। সামরিক শাসন বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশিত হয়েছে এই উপন্যাসে।


তার অন্যান্য উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী (১৯৬৭),
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন (১৯৮৯),
- মরণ বিলাস (১৯৯০),
- গাভি বিত্তান্ত (১৯৯৪),
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী (১৯৯৬),
- বিহঙ্গ পুরাণ (১৯৮৬)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১২২.
ধর্মের জয়, স্বামীনিষ্ঠা কোন উপন্যাসের প্রতিপাদ্য?
  1. আনোয়ারা
  2. আব্দুল্লাহ
  3. লালসালু
  4. বহীপির
সঠিক উত্তর:
আনোয়ারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনোয়ারা
ব্যাখ্যা
'আনোয়ারা'(১৯১৪) উপন্যাসটি মোহাম্মদ নজিবর রহমানের প্রথম ও জনপ্রিয় উপন্যাস। 
- মুসলিম মধ্যবিত্তের বিকাশের চিত্র আছে এখানে। 
- ধর্মের জয়, অধর্মের পরাজয়, স্বামীনিষ্ঠা এই উপন্যাসের প্রতিপাদ্য।

মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন (১৮৬০-১৯২৩):
- পাবনা জেলার শাহজাদপুরের চরবেলতৈল গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- নজিবর রহমান  ইসমাইল হোসেন সিরাজীর (১৮৮০-১৯৩১) প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রতী হন।
- প্রথম সামাজিক  উপন্যাস আনোয়ারা (১৯১৪) লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস:
- প্রেমের সমাধি (১৯১৫),
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমণি (১৯১৭),
- পরিণাম (১৯১৮),
- গরীবের মেয়ে (১৯২৩), 
- দুনিয়া আর চাইনা (১৯২৪) ও
- মেহেরুন্নিসা।

- নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২৩.
'মানুষের রক্তে পিয়াস মেটায় মানুষ'।- উক্তিটি মুনীর চৌধুরী রচিত কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. দণ্ডকারণ্য
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. কবর
  4. মুখরা রমণী বশীকরণ
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
• 'মানুষের রক্তে পিয়াস মেটায় মানুষ'।-  রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি।

⇒ ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিনঅঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

⇒ মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২৪.
“তিথিডোর” কী ধরনের রচনা?
  1. ক) কবিতা
  2. খ) গল্প
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) স্মৃতিকথা
সঠিক উত্তর:
গ) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাসঃ
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমণ,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- মৌলিনাথ,
- নীলাঞ্জনের খাতা,
- রাত ভরে বৃষ্টি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১২৫.
‘বেদান্তগ্রন্থ’ গ্রন্থটি কার লেখা?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা

বেদান্তগ্রন্থ: 
- ‘বেদান্তগ্রন্থ’ (১৮১৫) রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রহ্মসূত্রের অনুবাদ ও টীকা।
- বাংলাগদ্যের ইতিহাসে গ্রন্থটির ঐতিহাসিক মূল্য অসামান্য।
- পৌত্তলিকতা যে হিন্দু ধর্মের মুখ্য ব্যাপার নয়, ব্রহ্মই একমাত্র তত্ত্ব ও উপাস্য তা প্রমাণের উদ্দেশ্যেই এই গ্রন্থ তিনি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থ অবলম্বন করে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে প্রবল বাকবিতর্ক হয়।

রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন।
- তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১২৬.
চলিত রীতির গদ্য ‘বীরবলের হালখাতা’ কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ভারতী
  2. ক্রান্তি
  3. কল্লোল
  4. সবুজপত্র
সঠিক উত্তর:
ভারতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতী
ব্যাখ্যা
‘বীরবলের হালখাতা’:
- ‘বীরবলের হালখাতা’ প্রমথ চৌধুরীর চলিত রীতির গদ্য রচনা।
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে 'ভারতী' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।

প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২৭.
বাংলা গদ্যকে সাহিত্যের বাহনের মর্যাদায় উন্নীত করেছেন কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. হরপ্রসাদ রায় 
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. চণ্ডীচরণ মুনশী
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

• বাংলা গদ্য ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান:
- বাংলা গদ্যকে সাহিত্যের বাহনের মর্যাদায় উন্নীত করলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর(১৮২০-৯১)। ভাব ও বিষয় অনুসারে বাক্যবিন্যাস এবং ইংরেজি ভাষার আদলে বিভিন্ন বিরাম-চিহ্নের ব্যবহার করে বাংলা গদ্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার কৃতিত্বও তাঁর৷

- বাংলা গদ্যের অবয়ব-নির্মাণে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেছিলেন। গদ্যের অনুশীলন পর্যায়ে বিদ্যাসাগর সুশৃঙ্খলতা, পরিমিতিবোধ ও ধ্বনিপ্রবাহে অবিচ্ছিন্নতা সঞ্চার করে বাংলা গদ্যরীতিকে উৎকর্ষের এক উচ্চতর পরিসীমায় উন্নীত করেন। সেজন্য বাংলা গদ্যশেলার উদ্ভবের পয়তাল্লিশ বৎসর পরে লেখ ধারণ করা সত্ত্বেও তাঁকে 'বাংলা গদ্যের জনক' বলা হয়ে থাকে। বস্তুতপক্ষে, বিদ্যাসাগরের সৃষ্ট গদ্যরীতির প্রভাবেই পরবর্তী পর্যায়ে বাংলা গদ্যের পরিণত রূপের সৃষ্টি হয়।

- মাইকেল মধুসূদনের মতে, 'প্রাচীন ঋষির জ্ঞান ও প্রতিভা, ইংরেজের কর্মশক্তি এবং বাঙালি মায়ের হৃদয় দিয়ে তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠিত।' 
- রবীন্দ্রনাথ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে অভিহিত করেছেন বাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পী অভিধায়। তবে বিদ্যাসাগর সৃষ্টিশীল সাহিত্যিক ছিলেন না। তিনি প্রধানত অনুবাদক, পাঠ্যগ্রন্থ প্রণেতা এবং শিক্ষা-সমাজ সাহিত্য বিষয়ের প্রবন্ধকার।

তাঁর অনুদিত ও রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হচ্ছে: 
- বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭), 
- শকুন্তলা (১৮৫৪),
- সীতার বনবাস (১৮৬০),
- ভ্রান্তিবিলাস (১৮৬৯),
- বাঙ্গালার ইতিহাস (১৮৪৮),
- জীবনচরিত(১৮৪৯),
- সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্য শান্ত্রবিষয়ক প্রস্তাব (১৮৫৩),
- বিদ্যাসাগর চরিত (১৮৯১) ইত্যাদি।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথমপত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম। 

১২৮.
'প্রথম প্রতিশ্রুতি' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) আশাপূর্ণা দেবী
  2. খ) স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. গ) চন্দ্রাবতী
  4. ঘ) অনীলা দেবী
সঠিক উত্তর:
ক) আশাপূর্ণা দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আশাপূর্ণা দেবী
ব্যাখ্যা
'প্রথম প্রতিশ্রুতি' আশাপূর্ণা দেবীর অন্যতম শেষ্ঠ উপন্যাস। 
- এর পরবর্তী খন্ডগুলো হল- 'সুবর্ণলতা' ও 'বকুল কথা'।
- উনিশ শতকের কলকাতার মেয়েদের শিক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও গ্রাম ছিল তিতিরে। 
- সেই গ্রাম বদলাতে যারা এগিয়ে এসেছিলেন লেখিকা তাদের স্মরণ করেছেন এই গ্রন্থে। 

আশাপূর্ণা দেবী (১৯০৯ –৯৫) রচিত অন্যান্য উপন্যাস - 
- বলয়গ্রাস
- মিত্তির বাড়ি
- অগ্নি পরীক্ষা 
- কল্যানী 
- নির্জন পৃথিবী
- শশিবাবুর সংসার 
- উন্মোচন
- অতিক্রান্ত
- নেপথ্য নায়িকা
- জনম জনম কি সাথী 
- যোগ বিয়োগ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১২৯.
'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন-
  1. ক) আলমগীর কবির
  2. খ) সুভাষ দত্ত
  3. গ) মোরশেদুল ইসলাম
  4. ঘ) তারেক মাসুদ
সঠিক উত্তর:
খ) সুভাষ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুভাষ দত্ত
ব্যাখ্যা
'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র - এর কাহিনী নিয়ে বসুন্ধরা চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন পরিচালক সুভাষ দত্ত। উপন্যাসটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়েছে। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৩০.
‘চিলেকোঠার সেপাই’ উপন্যাসটি কোন প্রেক্ষাপটের উপর রচিত?
  1. ক) ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
  2. খ) ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগ
  4. ঘ) ১৯৬৯ সালের গণুভ্যুত্থান
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৬৯ সালের গণুভ্যুত্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৬৯ সালের গণুভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
চিলেকোঠার সেপাই (১৯৮৭) আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের প্রথম উপন্যাস। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস এটি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য- মোহসীনা নাজিলা
১৩১.
গােলাম মােস্তফা রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ভাঙ্গাবুক
  2. রূপের নেশা
  3. এক মন এক প্রাণ
  4. হাসনাহেনা
সঠিক উত্তর:
হাসনাহেনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসনাহেনা
ব্যাখ্যা
গােলাম মােস্তফা যশাের জেলার শৈলকুপা থানার মনােহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
কাব্য, উপন্যাস, জীবনী, অনুবাদ ইত্যাদি সাহিত্যের প্রায় সকল শাখায় তাঁর স্বচ্ছন্দ পদচারণা ছিল।
কাব্যচর্চার ক্ষেত্রেই ইসলামি ঐতিহ্য থেকে তিনি প্রেরণা লাভ করেছিলেন।
তিনি ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্য:
- রক্তরাগ,
- খােশরােজ,
- কাব্যকাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা 
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম,
- তারানা ই পাকিস্তান 
- গীতি সঞ্চয়ন 

উপন্যাস:
- ভাঙ্গাবুক,
- রূপের নেশা,
- এক মন এক প্রাণ;

জীবনী :
-বিশ্বনবী,
- মরুদুলাল;
- ইসলাম ও জেহাদ 
- আমার চিন্তাধারা 

অনুবাদ :
- কালামে ইকবাল,
- আল কুরআন,
- শিকওয়া ও জওয়াবে শিকওয়া ইত্যাদি। 

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলা সাহিত্য,নবম দশম শ্রেণি।]
 
১৩২.
কলকাতায় প্রথম রঙ্গমঞ্চ তৈরি হয় -
  1. ১৭৪৩ সালে
  2. ১৭৪৭ সালে
  3. ১৭৫৩ সালে
  4. ১৭৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৫৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৫৩ সালে
ব্যাখ্যা
• নাটক ও নাট্যশালার ইতিহাস:
- ইউরো-প্রভাবিত নাট্যচর্চার প্রবর্তন জানামতে, বাংলার সর্বপ্রথম ইংরেজ নাট্যশালা 'দ্য প্লে হাউস' বো দ্য থিয়েটার) ১৭৫৩ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৭৭৫ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে 'দ্য নিউ প্লে হাউস' (দ্য ক্যালকাটা থিয়েটার)। ১৮০৮ সালে বিলুপ্তির পূর্ব পর্যন্ত এ মঞ্চে মঞ্চস্থ হয় শেক্সপীয়র, ম্যাসিঞ্জার, কংগ্রিভ, শেরিডান এবং অন্যান্য ইউরোপীয় নাট্যকারদের নাটক।
- প্রথম অবস্থায় নারী চরিত্রে পুরুষরাই অভিনয় করতেন। কিন্তু শীঘ্রই এ রীতির পরিসমাপ্তি ঘটে এবং নারীশিল্পীরা অভিনয় শুরু করেন।
- হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম 'বেঙ্গল থিয়েটার' নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন।
- এবং বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে। তিনি "The Disguise" এবং "Love is the best Doctor" নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান। এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।
- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় হিন্দু থিয়েটার নামক বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।
- এখান থেকেই মোটামুটি বাংলা নাটকের সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে করা যেতে পারে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩৩.
'অতীত জীবনের স্মৃতি' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. খ) এস ওয়াজেদ আলী
  3. গ) আহসান হাবীব
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
ক) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
আবুল কালাম শামসুদ্দীন এর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ অতীত জীবনের স্মৃতি। কচি পাতা তাঁর শিশুসাহিত্য ও দৃষ্টিকোণ তাঁর প্রবন্ধ সংকলন। পলাশী থেকে পাকিস্তান গ্রন্থের রচিতও তিনি। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৩৪.
‘গরিবের মেয়ে’ কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. ক) আত্মজীবনীমূলক
  2. খ) কাব্যধর্মী
  3. গ) আঞ্চলিক
  4. ঘ) সামাজিক
সঠিক উত্তর:
ক) আত্মজীবনীমূলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আত্মজীবনীমূলক
ব্যাখ্যা
আনোয়ারা, প্রেমের সমাধি, গরিবের মেয়ে, মেহেরুন্নেছা উপন্যাসগুলোর রচয়িতা মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন। উৎস: শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৩৫.
বাংলা ভাষার রচিত প্রথম নাটক কোনটি?
  1. ভদ্রার্জুন
  2. নীল দর্পন
  3. শর্মিষ্ঠা
  4. চণ্ডালিকা
সঠিক উত্তর:
ভদ্রার্জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভদ্রার্জুন
ব্যাখ্যা
 ⇒ ‘ভদ্রার্জুন’ ও ‘কীর্তিবিলাস’ নাটক:
- ১৮৫২ সালে যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্তের ‘কীর্তিবিলাস’ এবং তারাচরণ শিকদারের ‘ভদ্রার্জুন’ নামক দুটি নাটক প্রকাশিত হয়।
-  ‘কীর্তিবিলাস’ হচ্ছে বিয়োগান্ত নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- আর ‘ভদ্রার্জুন’ ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।
- ‘ভদ্রার্জুন’ নাটকের কাহিনি অর্জুন কর্তৃক সুভদ্রাহরণ। মহাভারত থেকে কাহিনি সংগ্রহ করা হলেও বাঙালি সমাজের বাস্তব পরিবেশ এতে অঙ্কিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
⇒ 'নীল দর্পণ' নাটক:
- 'নীল দর্পণ' হল দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি বাংলা সামাজিক নাটক।
- এই নাটকের পটভূমি নীল চাষের জন্য সাধারণ কৃষকদের উপর ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার ও নিপীড়ন।
- ১৮৬০ সালে দীনবন্ধু মিত্র রচিত নীল-দর্পণ নাটক প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সাহিত্যকর্ম।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন। অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

⇒ 'শর্মিষ্ঠা' নাটক: 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক-শর্মিষ্ঠা। 
- তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনি অবলম্বনে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক।
- এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার। 
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে নাটকটি প্রকাশিত ও একই সালের ৩রা সেপ্টেম্বর বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়। 
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- যযাতি, দেবযানি, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ। 

⇒ ‘চণ্ডালিকা’ নাটক:
- চণ্ডালিকা (১৯৩৩) সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক।
- এর কথাবস্তু পালি শার্দুল-কর্ণাবদলা থেকে গৃহীত।
- ১৯৩৮ সালে রবীন্দ্রনাথ এই নাটকটিকে নৃত্যনাট্যে রূপ দেন। কথা সুরের সমন্বয়ে এটি রবীন্দ্রনাথের অন্যতম সৃষ্টি।

অতএব, অপশনে উল্লেখ্য নাটক সমূহের রচনাকাল অনুসারে বাংলা ভাষার রচিত ও প্রকাশিত প্রথম নাটক ‘ভদ্রার্জুন’।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩৬.
সেলিম আল দীন রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. ক) নিঃশব্দ যাত্রা
  2. খ) হাতহদাই
  3. গ) কীত্তনখোলা
  4. ঘ) যৈবতী কন্যার মন
সঠিক উত্তর:
ক) নিঃশব্দ যাত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নিঃশব্দ যাত্রা
ব্যাখ্যা
সেলিম আল দীন রচিত নাটকগুলো হলোঃ জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, কীত্তনখোলা, হাতহদাই, বাসন, শকুন্তলা, মুনতাসীরঃ, কেরামতমঙ্গল, চাকা, হরগজ, প্রাচ্য, নিমজ্জন, ধাবমান, স্বর্ণবোয়াল, পুত্র, বনপাংশুল ইত্যাদি। অন্যদিকে নিঃশব্দ যাত্রা হলো আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত নাটক। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
১৩৭.
কোনটি সামাজিক নাটক?
  1. ক) নবান্ন
  2. খ) কৃষ্ণকুমারী
  3. গ) রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. ঘ) প্রায়শ্চিত্ত
সঠিক উত্তর:
ক) নবান্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নবান্ন
ব্যাখ্যা

বিজন ভট্টাচার্য রচিত নবান্ন হলো সামাজিক নাটক।
এছাড়া নুরুল মোমেনের নয়া খান্দান, দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ, মুনীর চৌধুরীর চিঠি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিরকুমার সভা সামাজিক নাটক।
অন্যদিকে মুনীর চৌধুরীর রক্তাক্ত প্রান্তর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রায়শ্চিত্ত এবং মাইকেল মধুসূদন দত্তের কৃষ্ণকুমারী হলো ঐতিহাসিক নাটক।
(সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)

১৩৮.
'ধর্ম নিয়ে ব্যক্তি স্বার্থ' কোন উপন্যাসের উপজীব্য?
  1. ক) বহিপীর
  2. খ) লালসালু
  3. গ) হাজার বছর ধরে
  4. ঘ) একটি তুলসি গাছের কাহিনী
সঠিক উত্তর:
খ) লালসালু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লালসালু
ব্যাখ্যা
'লালসালু' উপন্যাসের রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।
- ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়। 
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।

বহিপীর - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক। 
হাজার বছর ধরে - জহির রায়হান রচিত উপন্যাস; আবহমান বাংলার জীবন প্রবাহ যার মূল বিষয়।
একটি তুলসি গাছের কাহিনী - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩৯.
কোনটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাস নয়?
  1. ক) চাঁদের অমাবস্যা
  2. খ) লালসালু
  3. গ) বহিপীর
  4. ঘ) দি আগলি এশিয়ান
সঠিক উত্তর:
গ) বহিপীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বহিপীর
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত উপন্যাসঃ লালসালু, চাঁদের অমাবস্যা, কাঁদো নদী কাঁদো, দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি। গল্পগ্রন্থঃ নয়নচারা, দুই তীর ও অন্যান্য গল্প। নাটকঃ বহিপীর, সুড়ঙ্গ, তরঙ্গভঙ্গ, উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১৪০.
'পার্থিব' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) সমরেশ মজুমদার
  2. খ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  4. ঘ) শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'পার্থিব' উপন্যাসের রচয়িতা শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। 
- এ উপন্যাসে নিঃসঙ্গতার কথা বলা হয়েছে। 
- নায়ক কৃষ্ণজীবন গ্রামের দরিদ্রের সন্তান হলেও মেধার জোরে খ্যাতিমান বিজ্ঞানী হয়ে উঠেছিল। 
- কিন্তু শহুরে জীবন তার ভাল লাগেনি। 

- শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এর জন্ম বাংলাদেশের ময়মনসিংহে।
তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: 
- ঘুনপোকা,
- উজান, 
- পারাপার,
- দূরবীন ইত্যাদি

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১৪১.
গ্রামীণ সমাজের সাধারণ মানুষের সরলতাকে কেন্দ্র করে ধর্ম ব্যবসা কোন উপন্যাসের বিষয়বস্তু?
  1. লালসালু
  2. চাঁদের অমাবস্যা
  3. গঙ্গা
  4. সূর্য দীঘল বাড়ী
সঠিক উত্তর:
লালসালু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালসালু
ব্যাখ্যা
কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এর জন্ম ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে। 
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা ভোরের আলো সম্পাদনা করেন।

তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস
- লালসালু (১৯৪৮)
- চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪)
- কাঁদো নদী কাঁদো (১৯৬৮)

> ১৯৪৮ সালে রচিত এবং প্রকাশিত লালসালু উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের ধ্রুপদী সৃষ্টিকর্ম হিসেবে বিবেচিত।
- এর পটভূমি ১৯৪০ কিংবা ১৯৫০ দশকের বাংলাদেশের গ্রামসমাজ হলেও এর প্রভাব বা বিস্তার কালোত্তীর্ণ।
- মূলত গ্রামীণ সমাজের সাধারণ মানুষের সরলতাকে কেন্দ্র করে ধর্মকে ব্যবসার উপাদানরূপে ব্যবহারের একটি নগ্ন চিত্র উপন্যাসটির মূল বিষয়
- উপন্যাসের চরিত্র - মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।

> লালসালু উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ করেন অ্যান-মারি-থিবো, জেফ্রি ডিবিয়ান, কায়সার সাঈদ এবং মালিক খৈয়াম।
- তবে ওয়ালীউল্লাহ নিজে এতে সম্প্রসারণের কাজ করেন।
- ১৯৬৭ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের Chatto অ্যান্ড Windus লিমিটেড থেকে Tree Without Roots শিরোনামে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে উপন্যাসটি জার্মান ও চেক ভাষাসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

উৎস: সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ); বাংলাপিডিয়া
১৪২.
'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি কোন সাহিত্যিক রচনা করেছেন? 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম: 
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
• কাব্যগ্রন্থ: 
- অগ্নি-বীণা, 
- বিষের বাঁশি, 
- ভাঙার গান, 
- সাম্যবাদী
- সর্বহারা ইত্যাদি। 

উপন্যাস: 
- বাঁধন-হারা, 
- মৃত্যু-ক্ষুধা এবং 
- কুহেলিকা। 

গল্পগ্রন্থ: 
- ব্যথার দান, 
- রিক্তের বেদন, 
- শিউলিমালা। 

সঙ্গীত বিষয়ক গ্রন্থ: 
- চোখের চাতক, 
- নজরুল গীতিকা, 
- সুর সাকী, 
- বনগীতি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১৪৩.
 'তোতা ইতিহাস' এর রচয়িতা কে? 
  1. গোলকনাথ শর্মা
  2. রামরাম বসু
  3. তারিণীচরণ মিত্র
  4. চণ্ডীচরণ মুনশী 
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীচরণ মুনশী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীচরণ মুনশী 
ব্যাখ্যা

• চণ্ডীচরণ মুনশী:
- চণ্ডীচরণ মুনশী ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালি লেখক এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাঙ্গলা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক।
- তাঁর রচিত একটি উপাখ্যান 'তোতা ইতিহাস'।
- এটি ফরাসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত।
- যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।

​উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪৪.
'মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।'- উক্তিটি কোন রচনার অন্তর্ভুক্ত?
  1. সাজাহান
  2. কবর 
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. নুরলদীনের সারাজীবন
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

• 'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটক:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত। রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।

- 'মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ইব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা,
- হিরণবালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়-এর লেখা ১৯০৯ সালে প্রকাশিত একটি ঐতিহাসিক নাটক হলো 'সাজাহান'।

• ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর'। নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়। নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• 'নুরলদীনের সারাজীবন' একটি ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক নাটক, যা লিখেছেন প্রখ্যাত বাঙালি নাট্যকার সৈয়দ শামসুল হক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১৪৫.
বাংলা গদ্যের পথিকৃৎ বলা হয় কাকে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. রাজা রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা
• উইলিয়াম কেরি:
- উইলিয়াম কেরিকে বাংলা গদ্যের পথিকৃৎ বলা হয়।
- তিনি সুশৃঙ্খল গদ্যের পথকিৃৎরূপে বিদেশী ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগী করে ১৮০১ সালে ‘ কথোপকথন’ গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশ করেন।
- ‘কথোপকথন’ গ্রন্থটি ছিল ‍দ্বিভাষিক - এক পৃষ্ঠায় বাংলা, অপর পৃষ্ঠায় ইংরেজি।
- বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন এই গ্রন্থে বিধৃত।

================
উল্লেখ্য,
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তিনি বাংলা গদ্যে যতি বা বিরামচিহ্নের প্রবর্তন করেন।
- বাংলা গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি ‘উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ’ ও ‘অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত’ সৃষ্টি করেন।
- তিনি বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন। 
- বাংলা গদ্যকে তিনি সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৪৬.
‘ঢাকা থিয়েটার’ প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. রামেন্দু মজুমদার
  2. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  3. সেলিম আল দীন
  4. মমতাজউদদীন আহমদ
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
⇒ সেলিম আল দীন:
- সেলিম আল দীন (১৯৪৯-২০০৮) বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর বাংলাদেশে তিনি অন্যান্যদের সঙ্গে গঠন করেন ‘ঢাকা থিয়েটার’ ও ‘বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার’।
- মূলত ঢাকা থিয়েটারের সাংগঠনিক কাঠামো থেকে তিনি তাঁর সুবিস্তৃত নিরীক্ষামূলক নাট্য রচনা ও তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। 

• তাঁর রচিত নাটকগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা, 
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ, নিমজ্জন,
- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৪৭.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. চণ্ডীচরণ মুনশি
  2. তারিণীচরণ মিত্র
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. রামরাম বসু
সঠিক উত্তর:
রামরাম বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থের রচয়িতা - রামরাম বসু

রামরাম বসু:
- তিনি ১৭৫৭ সালে হুগলির চুঁচুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৮০১ সালের মে মাসে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে কেরীর অধীনে বাংলা বিভাগের সূচনা হলে, রামরাম বসু সেখানে সহকারী মুনশি হিসেবে নিযুক্ত হন।
- কেরী সাহেবের মুনশি হিসাবে খ্যাত ছিলেন রামরাম বসু।
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১)।
- এই গ্রন্থটি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ
- তাঁর আরেকটি বিখ্যাত গ্রন্থ 'লিপিমালা' (১৮০২)।
- তিনি ১৮১৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১৪৮.
মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক কোনটি?
  1. পদ্মাবতী 
  2. চন্দ্রাবতী 
  3. বসন্তকুমারী
  4. রত্মাবতী
সঠিক উত্তর:
বসন্তকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসন্তকুমারী
ব্যাখ্যা

• 'বসন্তকুমারী নাটক':
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে 'বসন্তকুমারী নাটক' (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য। এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।

- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র, পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের মৃত্যু-এই কাহিনি অবলম্বনে 'বসন্তকুমারী' নাটক রচিত।

- নাটকটির অপর নাম 'বৃদ্ধস্য তরুণী ভার্যা'- কাহিনির তাৎপর্য প্রকাশক। মানুষের দেহাশ্রিত কামনাবাসনার যে বিচিত্র অভিব্যক্তি আধুনিক বাংলা সাহিত্যে রূপ পরিগ্রহ করেছে 'বসন্তকুমারী' নাটকে তা প্রকাশের মাধ্যমে মীর মশাররফ হোসেন মুসলমান সাহিত্যিকগণের মধ্যে পথিকৃৎ হয়ে রয়েছেন।

- কাহিনি গ্রন্থনের সুসংবদ্ধতা, সংলাপের বিচিত্র চাতুরী এবং সর্বাঙ্গীন প্রাণবন্ত ভাবপরিমণ্ডল এই সমস্ত বৈশিষ্ট্যের জন্য নাটকটির স্বাতন্ত্র্য বিবেচ্য।

অন্যদিকে, 
• মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত প্রণয়কাব্য 'পদ্মাবতী'-র রচয়িতা হলেন মহাকবি আলাওল।
• 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
• মীর মশাররফ হোসেন রচিত 'রত্মাবতী' গদ্যগ্রন্থ/উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১৪৯.
নুরুল মোমেন রচিত 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. শনিবারের চিঠি
  2. সাধনা
  3. কল্লোল
  4. প্রগতি
সঠিক উত্তর:
শনিবারের চিঠি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শনিবারের চিঠি
ব্যাখ্যা
⇒ 'নেমেসিস' নাটক: 
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক। এক চরিত্র বিশিষ্ট এমন নাটক বাংলা সাহিত্যে কম বলে ‘নেমেসিস’ উল্লেখযোগ্য।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম- সুরজিত নন্দী। 

⇒ নুরুল মোমেন: 
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'। 

• নুরুল মোমেন এর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে, 
- শতকরা আশি, 
- রূপলেখা, 
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৫০.
'ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' - গানটি ব্যবহৃত হয় কোন নাটকে?
  1. তারাবাঈ
  2. সাজাহান
  3. দুর্গাদাস
  4. নূরজাহান
সঠিক উত্তর:
সাজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাজাহান
ব্যাখ্যা
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি কবি, নাট্যকার ও গীতিকার। তাঁর সাহিত্যে দেশপ্রেমের পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে।
তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক 'সাজাহান' বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক। এটি সম্রাট শাহজাহানকে নিয়ে লেখা প্রথম নাটক‌।
তাঁর বিখ্যাত গান-
ধনধান্যে পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা
তাহার মাঝে আছে দেশ এক - সকল দেশের সেরা;
ও সে, স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ, স্মৃতি দিয়ে ঘেরা;
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রানি সে যে - আমার জন্মভূমি।
এই নাটকে ব্যবহৃত হয়।
তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক-
নূরজাহান, তারাবাঈ, মেবার পতন, চন্দ্রগুপ্ত, সিংহল বিজয়, দুর্গাদাস, রানা প্রতাপসিংহ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৫১.
নিচের কোনটি হরচন্দ্র ঘোষের অনুবাদ নাটক?
  1. চারুমুখ চিত্তহারা
  2. বেণীসংহার
  3. মালতীমাধব
  4. রত্নাবলী
সঠিক উত্তর:
চারুমুখ চিত্তহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারুমুখ চিত্তহারা
ব্যাখ্যা

• অনুবাদ নাটক বাংলা নাটকের বিকাশের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল। এই ক্ষেত্রে হরচন্দ্র ঘোষের অনুবাদ নাটকের কথা উল্লেখযোগ্য। তাঁর 'ভানুমতী চিত্তবিলাস' (১৮৫২) ও 'চারুমুখ চিত্তহারা' (১৮৬৪) যথাক্রমে সেক্সপীয়রের 'মার্চেন্ট অব ভেনিস' ও 'রোমিও জুলিয়েটে'র ভাবানুবাদ।

অন্যদিকে, 
• সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন। বেণীসংহার (১৮৫৬), রত্নাবলী (১৮৫৮), অভিজ্ঞান শকুন্তলা (১৮৬০) ও মালতীমাধব (১৮৬৭)-এই চারটি নাটক সংস্কৃত থেকে অনূদিত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১৫২.
‘তোতা ইতিহাস’ গদ্য গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. চণ্ডীচরণ মুন্শী
  2. রামরাম বসু
  3. গোলোকথান শর্মা
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীচরণ মুন্শী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীচরণ মুন্শী
ব্যাখ্যা
♦ চণ্ডীচরণ মুনশী ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালি লেখক এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাঙ্গলা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক।
- তাঁর রচিত একটি উপাখ্যান 'তোতা ইতিহাস'।
- যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।

------------------------------------
♦ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:

• ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষায় শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
• এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্ররিামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক উইলিয়াম কেরি। তিনি তাঁরা অধীনস্ত দু-জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।
• তাঁদের এই প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

ফোর্ট উইলিয়ামের ফর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:
• কেরি রচিত: কথোপকথন; ইতিহাসমালা।
• রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র; লিপিমালা।
• গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ।
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন; হিতোপদেশ; রাজাবলি; প্রবোধচন্দ্রিকা।
• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট।
• রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং।
• চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস।
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৫৩.
'বত্রিশ সিংহাসন' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রামরাম বসু
  2. চণ্ডীচরণ মুন্সী
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. উইলিয়াম কেরি
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
বত্রিশ সিংহাসন:
- এটি মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- ‘বত্রিশ সিংহাসন' (১৮০২) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার অনূদিত কাহিনি সংকলন।
- বাংলা গদ্যের আদিপর্বের ইতিহাসে এই রচনাটি উল্লেখযোগ্য।

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫৪.
‘নীলদর্পণ’ নাটকে বাংলাদেশের কোন জেলার সাধারণ কৃষকদের উপর ইংরেজ শাসকদের অত্যাচারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে?
  1. ক) দিনাজপুর
  2. খ) মেহেরপুর
  3. গ) কুষ্টিয়া
  4. ঘ) রংপুর
সঠিক উত্তর:
খ) মেহেরপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মেহেরপুর
ব্যাখ্যা
দীনবন্ধু মিত্র রচিত ‘নীলদর্পণ’ নাটকে বাংলাদেশের মেহেরপুর জেলার সাধারণ কৃষকদের উপর ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার ও নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কীভাবে কৃষক গোলকমাধবের পরিবার নীলকর অত্যাচারে ধ্বংস হয়ে গেল এবং সাধুচরণের কন্যা ক্ষেত্রমণির মৃত্যু হল, তার এক মর্মস্পর্শী চিত্র অঙ্কিত হয়েছে এই নাটকে।
এই নাটকের অন্যতম বৈশিষ্ট হলো আঞ্চলিক ভাষার সাবলিল প্রয়োগ।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
১৫৫.
বাংলা কথ্য ভাষার আদি গ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রভু যিশুর বাণী
  2. কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
  3. ফুলমণি ও করুণার বিবরণ
  4. মিশনারি জীবন
সঠিক উত্তর:
কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
ব্যাখ্যা
• বাংলা কথ্য ভাষার আদি নিদর্শন ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ'।

• ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থ:

- রোমান ক্যাথলিক পর্তুগিজ পাদ্রি মানোএল দা আসসুম্পসাঁও কর্তৃক ১৭৩৪ সালে রচিত এবং ১৭৪৩ সালে লিসবনে রোমান হরফে মুদ্রিত ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
- গ্রন্থটি ঢাকার ভাওয়াল অঞ্চলের নাগরী নামক স্থানে লিখিত।
- এই গ্রন্থের বাঁ দিকের পৃষ্ঠায় বাংলা ভাষায় এবং ডান দিকের পৃষ্ঠায় পর্তুগিজভাষায় গুরু ও শিষ্যের কথোপকথনের মাধ্যমে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা এবং খ্রিষ্টানদের আচার-অনুষ্ঠানের কথা আলোচিত হয়েছে।

-----------------------
• মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ:
- তিনি একজন পর্তুগিজ ছিলেন।
- তিনি ছিলেন একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজক।
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেননি।
- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো:
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ,
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৫৬.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক কোনটি? 
  1. ব্রজাঙ্গনা
  2. বীরাঙ্গনা
  3. শর্মিষ্ঠা
  4. মেঘনাধবধ কাব্য
সঠিক উত্তর:
শর্মিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
শর্মিষ্ঠা নাটক: 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক- শর্মিষ্ঠা। 
- তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনী অবলম্বনে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক। 
- এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার। 
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে নাটকটি প্রকাশিত ও একই সালের ৩রা সেপ্টেম্বর বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়। 
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- যযাতি, দেবযানি, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ। 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাদ্রাজে অবস্থানকালে Timothy Penpoem ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়। 
- রামনারায়ণ তর্করত্নের রত্নাবলী (১৮৫৮) নাটক ইংরেজিতে অনুবাদ করতে গিয়ে তিনি বাংলা নাট্যসাহিত্যে উপযুক্ত নাটকের অভাব অনুভব করেন। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
কাব্যগ্রন্থ: 
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, 
- বীরাঙ্গনা, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য এবং 
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী। 

মহাকাব্য: 
- মেঘনাধবধ কাব্য । 

নাটক: 
- শর্মিষ্ঠা, 
- মায়াকানন, 
- কৃষ্ণকুমারী এবং 
- পদ্মাবতী। 

প্রহসন: 
- একেই কি বলে সভ্যতা এবং 
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১৫৭.
ইংরেজ অনুকরণের প্রতি ব্যঙ্গ করে রচিত প্রহসন কোনটি?
  1. ক) একেই কি বলে সভ্যতা
  2. খ) বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ
  3. গ) এর উপায় কি?
  4. ঘ) সধবার একাদশী
সঠিক উত্তর:
ক) একেই কি বলে সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) একেই কি বলে সভ্যতা
ব্যাখ্যা
দেশীয় নব্যশিক্ষিতদের ইংরেজদের অনুকরণ ও সুরাপানে আসক্তের প্রতি ব্যঙ্গ করে মাইকেল মধুসূদন দত্ত 'একেই কি বলে সভ্যতা' প্রহসন রচনা করেন। তার অপর প্রহসন 'বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ' নিরীহ প্রজাদের দ্বারা অত্যাচারী জমিদারের উচিত শিক্ষা প্রদান বিষয়ে রচিত। এর উপায় কি? এবং সধবার একাদশী রচনা করেছেন যথাক্রমে মীর মশাররফ হোসেন এবং দীনবন্ধু মিত্র। দুটো প্রসহনই বেশ্যাবৃত্তি ও সুরাপানের আসক্তদের প্রতি ব্যঙ্গ করে রচনা করা হয়েছে। (সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর)
১৫৮.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক উপন্যাস নয়?
  1. ক) ঘরে - বাইরে
  2. খ) পথের দাবী
  3. গ) চাঁদের অমাবস্যা
  4. ঘ) চিলেকোঠার সেপাই
সঠিক উত্তর:
গ) চাঁদের অমাবস্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চাঁদের অমাবস্যা
ব্যাখ্যা

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত ''চাঁদের অমাবস্যা'' (১৯৪৬) মনোসমীক্ষণমূলক উপন্যাস।
- ''পথের দাবী'' শরৎচন্দ্রের রাজনৈতিক উপন্যাস।
- ''ঘরে-বাইরে'' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজনৈতিক উপন্যাস এবং
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে রচিত আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের উপন্যাস ''চিলেকোঠার সেপাই''।

সোর্সঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৫৯.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম যতিচিহ্নের প্রয়োগ হয় কোন গ্রন্থে?
  1. ক) বীরবলের হালখাতা
  2. খ) বেতাল পঞ্চবিংশতি
  3. গ) শকুন্তলা
  4. ঘ) প্রভাবতী সম্ভাষণ
সঠিক উত্তর:
খ) বেতাল পঞ্চবিংশতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বেতাল পঞ্চবিংশতি
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে যতিচিহ্নের প্রর্বতন করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি ১৮৪৭ সালে হিন্দি থেকে বাংলা ভাষায় অনুবাদকৃত বেতাল পঞ্চবিংশতি গ্রন্থের দশম সংস্করণে সর্বপ্রথম যতিচিহ্নের ব্যবহার করেন। শকুন্তলা গ্রন্থটি সংস্কৃত থেকে অনুবাদকৃত। প্রভাবতী সম্ভাষণ হলো তার এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক গ্রন্থ যা একটি শোকগাথা। বীরবলের হালখাতা প্রথম চৌধুরী রচিত প্রথম গ্রন্থ যেখানে চলিত ভাষারীতি ব্যবহৃত হয়। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
১৬০.
নিচের কোন গ্রন্থটি উইলিয়াম কেরীর রচনা?
  1. ক) ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট
  2. খ) হিতোপদেশ
  3. গ) লিপিমালা
  4. ঘ) ইতিহাসমালা
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইতিহাসমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইতিহাসমালা
ব্যাখ্যা
• উইলিয়াম কেরী: 
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে এই বিদেশের অবদান সর্বাধিক।
- তিনি ইতিহাসমালা ও কথোপকথন নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- ইতিহাসমালা বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ) এবং বাংলাপিডিয়া। 
১৬১.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা - 
  1. রামরাম বসু
  2. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. তারিণীচরণ মিত্র
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা

তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৬২.
ন্যাশানাল থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেন কোন নাট্যপরিচালক?
  1. ক) দীনবন্ধু মিত্র
  2. খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. গ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
  4. ঘ) গিরিষচন্দ্র ঘোষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) গিরিষচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গিরিষচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্র ঘোষ, (১৮৪৪-১৯১২)  নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা।
• ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
১৮৭২ সালে তিনিই প্রথম বাংলা পেশাদার নাট্য কোম্পানি ন্যাশানাল থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেন।
• গিরিশচন্দ্র প্রায় চল্লিশটি নাটক রচনা করেছেন এবং ততোধিক সংখ্যক নাটক পরিচালনা করেছেন।
• ১৯১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এই মহান অভিনেতা ও নাট্যকার কলকাতায় পরলোক গমন করেন।

• পৌরাণিক নাটক
- রাবণবধ 
- সীতার বনবাস 
- সীতার বিদ্রোহ 
- লক্ষ্ণণ বর্জন
- রামের বনবাস
- সীতাহরণ 
- পান্ডবের অজ্ঞাতবাস
-পাণ্ডব গৌরব 

• রোমান্টিক নাটক
- মুকুলমুঞ্জরা
- আবু হোসেন

• ঐতিহাসিক নাটক
- সিরাজদ্দৌলা
- মীরকাশিম 
- ছত্রপতি শিবাজী 
- অশোক 

• কৌতুক নাটক
- হীরার ফুল 
- সপ্তমীতে বিসর্জন 
- বড়দিনের বখশিশ 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬৩.
'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকের কাহিনি কোন গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে?
  1. ক) বারি দ্য ডেড
  2. খ) মহাশ্মশান
  3. গ) মেঘনাধবধ
  4. ঘ) টেমিং অব দি শ্রু
সঠিক উত্তর:
খ) মহাশ্মশান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে। 
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক। 
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।  
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি  ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরন বালা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ব্যঙ্গ উপন্যাস কোনটি?
  1. কল্পতরু
  2. একটি কালো মেয়ের কথা
  3. চোখের বালি
  4. রাজসিংহ
সঠিক উত্তর:
কল্পতরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্পতরু
ব্যাখ্যা
‘কল্পতরু’ উপন্যাস:
• ‘কল্পতরু’ ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম ব্যঙ্গ-উপন্যাস।
• বঙ্গদর্শনে সমালোচনা করতে গিয়ে বঙ্কিমচন্দ্র কল্পতরুকে ‘বঙ্গভাষার একটি উৎকৃষ্ট উপন্যাস' আখ্যা দিয়েছেন।

• বঙ্কিমচন্দ্র মতপ্রকাশ করেছেন যে,
“বাবু ইন্দ্ৰনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় একখানি মাত্র গ্রন্থ প্রচার করিয়া বাঙ্গালায় প্রধান লেখকদিগের মধ্যে স্থান পাইবার যোগ্য বলিয়া পরিচিত হইয়াছেন।' তবে তিনি যে কল্পতরুকে আলালের ঘরের দুলাল ও হুতোম প্যাঁচার নকশা ওপরে স্থান দিয়েছেন, তার সঙ্গে অনেকেই একমত হবেন না।

--------------------
⇒ ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়:
• ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (১৮৪৯-১৯১১) জন্ম যদিও বর্ধমানের একটি গ্রামে, সাত মাস থেকে ন বছর বয়স পর্যন্ত তিনি ছিলেন পিতার কর্মস্থল পূর্ণিয়ায়। ফলে বাংলা ভাষা তাঁর ঠিকমতো রপ্ত হয়নি। 
• ইন্দ্রনাথ পরবর্তী উচ্চ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এবং সাহিত্যিকরূপে প্রতিষ্ঠালাভ করে বাংলা ভাষা ও তার সংস্কার সম্পর্কে প্রবন্ধ ও অভিভাষণ লিখেছিলেন।
• বস্তুত বাংলা সাহিত্যে ব্যঙ্গ ও হাস্যরসের স্রষ্টা হিসেবে একসময়ে তিনি অতি উচ্চ স্থান অধিকার করেছিলেন।
• সাহিত্যক্ষেত্রে ইন্দ্ৰনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবির্ভাব অনেকটা আকস্মিক। তিনি যখন কলকাতা হাইকোর্টে ওকালতি করেন, তখন কিছুটা খেয়ালের বশেই ক্ষুদ্রকায় ব্যঙ্গকাব্য “উৎকৃষ্ট কাব্যম” (১৮৭০) রচনা করেন।
• পরে তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের অনুরোধে লেখেন “কল্পতরু” (১৮৭৪)।

উৎস: ‘কল্পতরু’ উপন্যাসের (ভূমিকা) ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬৫.
বাংলা মৌলিক নাটকের যাত্রা শুরু হয় কোন নাট্যকারের হাতে? 
  1. মধুসূদন দত্ত
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. জ্যোতিন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. তারাচরণ শিকদার
সঠিক উত্তর:
তারাচরণ শিকদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাচরণ শিকদার
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন' প্রকাশিত হয় ১৮৫২ সালে।
- নাটকটির রচয়িতা তারাচরণ শিকদার যা একটি কমেডি নাটক।
- তারাচরণ শিকদারের হাত ধরেই বাংলা মৌলিক নাটকের যাত্রা শুরু হয়।

উল্লেখ্য,
• ১৮৫২ সালেই প্রকাশিত হয় প্রথম ট্রাজেডি নাটক কীর্তিবিলাস।
- কীর্তিবিলাস নাটকের রচয়িতা যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত।

• ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক কৃষ্ণকুমারী।
- এই নাটকের রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
১৬৬.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ‘শবনম’ একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কবিতা
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) রম্য-রচনা
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ‘শবনম’ একটি- উপন্যাস।

• সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯০৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ই সেপ্টেম্বর পিতার (সাব্রেজিস্ট্রার) অর্মস্থল তৎকালীন শ্রীহট্ট অর্থাৎ আজকের সিলেট এ জন্মগ্রহণ করেন

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য
- শবনম

• রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র
- ময়ূরকণ্ঠী

• ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী
- টুনি মেম

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬৭.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. এখানে এখন
  2. বিশ শতকের মেয়ে
  3. দুয়ে দুয়ে চার
  4. উজানের মৃত্যু
সঠিক উত্তর:
বিশ শতকের মেয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ শতকের মেয়ে
ব্যাখ্যা

• নীলিমা ইব্রাহিম রচিত নাটকঃ
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদজ্বালা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।
• তাঁর রচিত ছোটগল্প- রমনা পার্কে।
• এখানে এখন কাব্যনাট্যের রচয়িতা সৈয়দ শামসুল হক।
• উজানের মৃত্যু নাটকের রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৬৮.
'শেষ রাত্রির তারা' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু জাফর শামসুদ্দিন
  2. খ) আলাউদ্দিন ওমর
  3. গ) মানিক বন্দোপাধ্যায়
  4. ঘ) ডি. এল. রায়
সঠিক উত্তর:
ক) আবু জাফর শামসুদ্দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবু জাফর শামসুদ্দিন
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীনের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ— উপন্যাস: পরিত্যক্ত স্বামী (১৯৪৭), মুক্তি (১৯৪৮), ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪), সংকর সংকীর্তন (১৯৮০), প্রপঞ্চ (১৯৮০), দেয়াল (১৯৮৫); গল্পগ্রন্থ: জীবন, শেষ রাত্রির তারা, রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা। উৎসঃ কালের কণ্ঠ।
১৬৯.
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটকটি কার নাট্যকর্ম?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. কায়কোবাদ
  3. মমতাজউদদীন আহমদ
  4. শেখ ওয়াজেদ আলি 
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটকটি মুনীর চৌধুরীর নাট্যকর্ম। 
--------------------------------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবী।
- তিনি তৎকালীন ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জ শহরে ২৭ নভেম্বর ১৯২৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তিনি পাকিস্তান সরকারের হাতে বন্দী হন।
- কারাগারে থাকাকালীনই তাঁর বিখ্যাত নাটক ‘কবর’ (১৯৫৩) রচনা করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী আল-বদর বাহিনী তাঁকে তাঁর বাড়ি থেকে অপহরণ করে এবং সেদিনই তাঁকে হত্যা করা হয়।

• মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য। 
---------------------------------------------
• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- মুনীর চৌধুরীর উল্লেখযোগ্য নাটক ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ ১৭৬১ সালের পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- নাটকটি কায়কোবাদের ‘মহাশ্মশান’ কাব্য থেকে অনুপ্রাণিত।
- এই নাটকে তিনি যুদ্ধবিরোধী চেতনা, সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে মানবিক প্রেম এবং যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরেছেন।
- নাটকের মূল বার্তা হলো—যুদ্ধ কখনো প্রকৃত বিজয় আনে না;
- বরং এটি মানবজীবনের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১৭০.
'শেখ মুজিব : তাকে যেমন দেখেছি' প্রবন্ধ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) মযহারুল ইসলাম
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  4. ঘ) আবুল ফজল
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল ফজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা

মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম সদস্য আবুল ফজল রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ হলো 'শেখ মুজিব : তাকে যেমন দেখেছি'।
এটি ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত হয়।
তার অন্যান্য প্রবন্ধের মধ্যে রয়েছে, বিচিত্র কথা, সমকালিন চিন্তা, শুভবুদ্ধি ইত্যাদি।
(সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)

১৭১.
'কথোপকথন' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  4. রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা

• 'কথোপকথন' গ্রন্থের রচয়িতা - উইলিয়াম কেরি। 
- কথোপকথন বাংলা ভাষায় মুদ্রিত এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত দ্বিতীয় গ্রন্থ। 
- একাধিক মানুষের মুখের সাধারণ কথা বা কথোকথন বা ডায়লগ এ গ্রন্থের উপজীব্য। 

উইলিয়াম কেরি: 
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি। 
- বাংলা গদ্যের বিকাশে তাঁর অবদান সর্বাধিক। 
- তিনি 'ইতিহাসমালা' ও 'কথোপকথন' নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন। 
- 'ইতিহাসমালা' বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ। 
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)।

১৭২.
'শ্রীরামপুর মিশন' কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৮১০ সালে
  2. ১৮১৫ সালে
  3. ১৮০২ সালে
  4. ১৮০০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮০০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০০ সালে
ব্যাখ্যা
শ্রীরামপুর মিশন:
- শ্রীরামপুর মিশন (১৮০০-১৮৪৫) ভারতের প্রথম নিজস্ব প্রচারক সংঘ।
- ১৮০০ সালের ১০ জানুয়ারী উইলিয়াম কেরী ও ভ্রাতৃবৃন্দ এ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- মিশন হুগলি জেলার দুটি স্থান থেকে বাংলায় যীশুর বাণী প্রচার শুরু করে।
- উইলিয়াম কেরী ‘ব্যাপটিস্ট মিশনারি সোসাইটি’র প্রতিনিধি হিসেবে ১৭৯৩ সালে বাংলায় আসেন খ্রিস্টধর্ম প্রচার করতে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৭৩.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস নয়-
  1. ক) দেয়াল
  2. খ) নীল দংশন
  3. গ) একটি কালো মেয়ের কথা
  4. ঘ) অহিংসা
সঠিক উত্তর:
ঘ) অহিংসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অহিংসা
ব্যাখ্যা

''অহিংসা'' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস।
এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মা নদীর মাঝি,
- পুতুল নাচের ইতিকথা,
- অমৃতস্য পুত্রা,
- চতুষ্কোণ,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- সোনার চেয়ে দামী,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- চিহ্ন,
- জীয়ন্ত,
- মাশুল,
- হরফ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 'দেয়াল' হুমায়ুন আহমেদ, 'একটি কালো মেয়ের কথা' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং 'নীল দংশন'  সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।

 
১৭৪.
'পুতুলনাচের ইতিকথা' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) ছড়া-কবিতা
  2. খ) শিশুতোষ রচনা
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) নাট্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
গ) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
কথা সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস- পদ্মানদীর মাঝি (১৯৩৬), জননী, চিহ্ন, দিবারাত্রির কাব্য, পুতুলনাচের ইতিকথা, শহরবাসের ইতিকথা, অহিংসা, শহরতলী, সোনার চেয়ে দামি, স্বাধীনতার স্বাদ, ইতিকথার পরের কথা, আরোগ্য ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৭৫.
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাস কার লেখা?
  1. আবুল কালাম চৌধুরী
  2. আবু জাফর শামছুদ্দিন
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন আবুল কালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাস:
- বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন গ্রামীণ দিগন্ত ফটোগ্রাফিকভাবে চিত্রায়িত হয়েছে শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে। 

শামসুদ্দীন আবুল কালাম:
- তিনি বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে ১৯২৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন ।

তাঁর কয়েকটি উপন্যাসের নাম:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- সমুদ্র বাসর,
- কাঞ্চনগ্রাম।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৭৬.
'অভিশপ্ত নগরী' উপন্যাসটির কার?
  1. সরদার জয়েনউদ্দিন
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. শামসুজ্জামান খান
  4. সত্যেন সেন
সঠিক উত্তর:
সত্যেন সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা

• সত্যেন সেন বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
•তিনি সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
• তিনি 'উদীচী' সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- অভিশপ্ত নগরী,
- ভোরের বিহঙ্গী,
- পাপের সন্তান,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড,
- পদচিহ্ন,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ,
- আলবেরুনী ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত শিশু সাহিত্যঃ
- পাতাবাহার,
- অভিযাত্রী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৭৭.
‘রাজাবলি’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পণ্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

• তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলি,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
১৭৮.
'ভবিষ্যতের বাঙালি' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) এস ওয়াজেদ আলী
  2. খ) নীহাররঞ্জন দাস
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) নীরদ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ক) এস ওয়াজেদ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
ভবিষ্যতের বাঙালি গ্রন্থের জন্য এস ওয়াজেদ আলী বিখ্যাত হয়ে থাকবেন। সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্যে হিন্দু-মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৭৯.
কোনটি ঠিক?
  1. ক) গোরা (নাট্যগ্রন্থ)
  2. খ) বিদ্রোহী (কাব্যগ্রন্থ)
  3. গ) পথের দাবী (উপন্যাস)
  4. ঘ) একাত্তরের দিনগুলি (উপন্যাস)
সঠিক উত্তর:
গ) পথের দাবী (উপন্যাস)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পথের দাবী (উপন্যাস)
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক উপন্যাস - গোরা।
কবিতা - বিদ্রোহী
পথের দাবী - রাজনৈতিক উপন্যাস। 
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ - একাত্তরের দিনগুলি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৮০.
কুলীন কুলসর্বস্ব নাটকটি কার লেখা?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
রামনারায়ণ তর্করত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা
- 'কুলীন কুলসর্বস্ব' নাটকটি রচনা করেছেন রামনারায়ণ তর্করত্ন।

• কুলীনকুলসর্বস্ব:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
• তাঁর 'কুলীন কুলসর্বস্ব' নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
• সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয় নি।
• 'কুলীন কুলসর্বস্ব' নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
• এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করেছিল।
• 'কুলীন কুলসর্বস্ব' নাটকে যে কৌতুকরস স্থান পেয়েছে তা কোথাও করুণ, আবার কোথাও প্রহসনধর্মী।

• রামনারায়ণ তর্করত্ন যেসকল নাটক অনুবাদ করেন:
- অভিজ্ঞান শকুন্তলা,
- রত্নাবলী,
- মালতীমাধব,
- বেণীসংহার।

• রামনারায়ণ তর্করত্ন রচিত নাটক:
- রুক্ষ্মিণীহরণ,
- কংসবধ,
- ধর্মবিজয়।

• রামনারায়ণ তর্করত্ন রচিত প্রহসন:
- যেমন কর্ম তেমন ফল,
- উভয় সংকট,
- চক্ষুদান।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৮১.
'নবান্ন' নাটক লিখেছেন-
  1. ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. খ) অমৃতলাল বসু
  3. গ) নুরুল মোমেন
  4. ঘ) বিজন ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিজন ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

বিজন ভট্টাচার্য : তিনি নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন৷
তিনি 'নবান্ন' (১৯৪৪) নাটকটি রচনা করে প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন।
তার রচিত অন্যান্য নাটক-
- জনপদ
- কলঙ্ক
- মরাচাঁদ
- অবরোধ
- গোত্রান্তর
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১৮২.
”আব্দুল্লাহ” উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো?
  1. কল্লোল
  2. মোসলেম ভারত
  3. বঙ্গদর্শন
  4. ভারতী
সঠিক উত্তর:
মোসলেম ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোসলেম ভারত
ব্যাখ্যা

আব্দুল্লাহ (১৯৩৩) উপন্যাসটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- উপন্যাসটি রচনা করেন কাজী ইমদাদুল হক।

কাজী ইমদাদুল হক ১৮৮২ সালের ৪ নভেম্বর খুলনা জেলার গোদাইপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি শিক্ষক (১৯২০) পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- আঁখিজল (১৯০০)
- মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা (১৯০৪),
- ভূগোল শিক্ষা প্রণালী (দু ভাগ, ১৯১৩, ১৯১৬),
- নবীকাহিনী (১৯১৭),
- প্রবন্ধমালা (১৯১৮),
- কামারের কান্ড (১৯১৯) ।
১৯২৬ সালের ২০ মার্চ কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া

১৮৩.
বিষয় অনুসারে নাটককে কয় ভাগে বিভক্ত করা যায়? 
  1. দুই 
  2. চার 
  3. পাঁচ 
  4. ছয়
সঠিক উত্তর:
চার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার 
ব্যাখ্যা

• বিভিন্ন মাপকাঠির আলোকে নাটককে নানাভাবে শ্রেণীবদ্ধ করা যায়। বিষয় অনুসারে আমরা নাটককে প্রধান চারটি ভাগে বিভক্ত করতে পারি। এই বিভাগগুলো নিম্নরূপ—
১. পৌরাণিক নাটক, 
২. ঐতিহাসিক নাটক, 
৩. সামাজিক নাটক, 
৪. চরিতমূলক নাটক। 

• পৌরাণিক নাটক:
পৌরাণিক কোন কাহিনী বা চরিত্রকে কেন্দ্র করে যখন কোন নাটক রচিত হয়, তখন তাকে পৌরাণিক নাটক বলে। রামায়ন, মহাভারত, ভাগবত পুরাণ বা অন্য কোন ধর্মমূলক কাহিনী অবলম্বনে পৌরাণিক নাটক লিখিত হয়। পৌরাণিক কোন কাহিনী বা চরিত্রকে সমকালীন জীবন ও চিন্তার সঙ্গে একাত্ম করার মধ্যেই এ ধরনের নাটকের সার্থকতা নিহিত। Byron এর The Four P'S গিরিশচন্দ্রের ‘জনা’, অমৃতলালের ‘হরিশচন্দ্র', দ্বিজেন্দ্রলালের ‘সীতা, মম্মথ রায়ের 'কারাগার ইত্যাদি পৌরাণিক নাটকের উদাহরণ।

• ঐতিহাসিক নাটক:
অতীতের কোন ঘটনা বা ইতিহাসের কোন চরিত্র অবলম্বনে যখন নাটক লিখিত হয়, তাকে ঐতিহাসিক নাটক বলে। এ ধরনের নাটকে নাট্যকারকে ঐতিহাসিক সত্য অক্ষুণ্ণ রাখতে হয়, তবে নাটকের প্রয়োজনে তিনি একাধিক কল্পিত চরিত্র বা ঘটনার অবতারণা করতে পারেন। ঐতিহাসিক ঘটনাকে বর্তমানের মানবভাগ্যের সঙ্গে একাত্মকরে নেওয়ার মধ্যেই এ জাতীয় নাটকের সার্থকতা নিহিত। শেক্সপীয়রের Henry IV দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘সাজাহান’, শচীন সেনগুপ্তের 'সিরাজউদ্দৌলা', সিকান্দার আবু জাফরের ‘সিরাজ-উ-দ্দৌলা' প্রভৃতি ঐতিহাসিক নাটকের উদাহরণ।

• সামাজিক নাটক: 
সমাজের কোন সমস্যা নিয়ে রচিত নাটককে সামাজিক নাটক বলা হয়। সামাজিক নাটকে সমাজের মৌল প্রবণতা এবং নানা অনুষদের প্রতি নাট্যকারকে সতর্ক থাকতে হয়। এ ধরনের নাটকে সমাজের দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও বিরোধ দেখা দেয়- পরিণতিতে অশুভ পতন দেখানো হয়। বার্নার্ড শ'র Heart-break House দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ, নুরুল মোমেনের ‘রূপান্তর' প্রভৃতি সামাজিক নাটকের উদাহরণ।

• চরিতমূলক নাটক:
বিশেষ কোন ব্যক্তিত্বের চরিত্রকে কেন্দ্র করে লেখা হয় চরিতমূলক নাটক। চরিত্রমূলক নাটকে যে ব্যক্তিত্বের জীবন নিয়ে নাটক লেখা হয়, নাট্যকার তার জীবনের বাস্তব ঘটনার সঙ্গে কিছু কল্পনারও আশ্রয় নিয়ে থাকেন। তবে এ ব্যাপারে নাট্যকারকে খুবই সচেতন থাকতে হয়, যেন কল্পনার অংশটুকু বিশেষ ব্যক্তিত্বকে বিবর্ণ না করে। বনফুলের ‘শ্রীমধুসূদন' ও 'বিদ্যাসাগর’, মহেন্দ্র গুপ্তের ‘মাইকেল' প্রভৃতি চরিতমূলক নাটকের উদাহরণ।

উল্লেখ্য, 
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড মাহাবুবুল আলম এর বই অনুসারে নাটক বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে তিন ভাগে বিভক্ত। যথা- ১. পৌরাণিক নাটক, ২. ঐতিহাসিক নাটক,  ৩. সামাজিক নাটক। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথমপত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৪.
কোন সালে বাংলা গদ্যের প্রাচীনতম নিদর্শন রচিত হয়?
  1. ১৭৫৭ সালে
  2. ১৬০০ সালে
  3. ১৫৫৫ সালে
  4. ১৪৯৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৫৫৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫৫৫ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলা গদ্যের উৎপত্তি:
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের পূর্বে সাহিত্যগুণসমৃদ্ধ কোন গদ্যরচনার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না।
- ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
- ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে।
- ফলে ভাষাগত দিক থেকে গদ্যের উৎকর্ষসাধন মোটেই সম্ভবপর হয় নি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৮৫.
বিখ্যাত কবিতা ‘বড় কে’ এর কবি কে?
  1. হরিশচন্দ্র মিত্র
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. কামিনী রায়
সঠিক উত্তর:
হরিশচন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিশচন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
হরিশচন্দ্র মিত্র:
তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি ১৮৩৭ সালে ঢাকায় এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৫৮ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের  সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ শুভস্য শীঘ্রং নামক একটি নাটক।
- তাঁর অন্যান্য নাটকের মধ্যে রয়েছে
যেমন:
ম্যাও ধরবে কে, 
- ঘর থাকতে বাবুই ভেজ,
- জানকী নাটক,
- জয়দ্রথবধ বৃত্তান্ত ইত্যাদি।

তাঁর কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: 
- হাস্যরসতরঙ্গিণী,
- বিধবা বঙ্গললনা,
- বীর বাক্যাবলী,
- কীচকবধ কাব্য,
- বঙ্গবালা,
- রামায়ণ ইত্যাদি।

তাঁর গীতিনাট্যগুলি হলো: 
- আগমনী,
- নতুন জামাই,
- হঠাৎ বাবু,
- ছাল নাই কুকুরের বাঘা নাম ইত্যাদি।

'বড় কে' কবিতা নিম্নরূপ:

আপনাকে বড় বলে
বড় সেই নয়,
লোকে যারে বড় বলে
বড় সেই হয়।
বড় হওয়া সংসারেতে
কঠিন ব্যাপার,
সংসারে সে বড় হয়
বড় গুণ যার।
গুণেতে হইলে বড়
বড় বলে সবে,
বড় যদি হতে চাও
ছোট হও তবে।
(সংক্ষেপিত)

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৮৬.
“আগুনের শেষ, ঋণের শেষ আর শত্রুর শেষ কখনো রাখিসনে মা” - শরৎচন্দ্রের কোন উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি?
  1. ক) শ্রীকান্ত
  2. খ) দত্তা
  3. গ) পল্লী সমাজ
  4. ঘ) পথের দাবী
সঠিক উত্তর:
গ) পল্লী সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পল্লী সমাজ
ব্যাখ্যা
উল্লেখিত উক্তি “পল্লী সমাজ” উপন্যাস থেকে নেয়া। এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত। এর আগে “ভারতবর্ষ” পত্রিকায় উপন্যাসটি ১৯১৫ সালে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। শরৎচন্দ্রের আত্মজীবনীমূলিক উপন্যাস - শ্রীকান্ত; প্রেমের উপন্যাস - দত্তা, রাজনৈতিক উপন্যাস - পথের দাবী। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
১৮৭.
সৈয়দ আলী আহসান রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) সহচা সচকিত
  2. খ) একক সন্ধায় বসন্ত
  3. গ) অনেক আকাশ
  4. ঘ) অনল প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনল প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনল প্রবাহ
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আলী আহসান রচিত কাব্যগ্রন্থ - অনেক আকাশ, একক সন্ধায় বসন্ত, সহচা সচকিত, উচ্চারণ, আমার প্রতিদিনের শব্দ, প্রেম যেখানে সর্বস্ব।
অনল প্রবাহ - সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার
১৮৮.
'নাটুকে নারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভ করেছিলেন কে?
  1. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  2. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  3. তারাচরণ শিকদার
  4. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
রামনারায়ণ তর্করত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা
• রামনারায়ণ তর্করত্ন:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক 'কুলীনকুলসর্বস্ব' (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয় নি।
'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি 'নাটুকে নারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভকরেছিল।

সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেন:
- শকুন্তলা, 
- মালতীমাধব, 
- রত্নাবলী। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
১৮৯.
জেলে জীবনের কাহিনী কোন উপন্যাসের উপজীব্য?
  1. ক) হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
  2. খ) তিতাস একটি নদীর নাম
  3. গ) হাজার বছর ধরে
  4. ঘ) খোয়াবনামা
সঠিক উত্তর:
খ) তিতাস একটি নদীর নাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তিতাস একটি নদীর নাম
ব্যাখ্যা
অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার তিতাসপাড়ের জেলেদের জীবনের সুখ-দুঃখের বিচিত্র কাহিনী নিয়ে রচিত। এর প্রধান চরিত্র বাসন্তী ও কিশোর। অন্যদিকে হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, হাজার বছর ধরে এবং খোয়াবনামা যথাক্রমে ধর্মীয় কুসংস্কার, আবহমান গ্রামীণ জীবন এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে রচিত। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
১৯০.
'পদ্মার পলিদ্বীপ' কী ধরনের উপন্যাস?
  1. ক) রাজনৈতিক
  2. খ) রোমান্টিক
  3. গ) ঐতিহাসিক
  4. ঘ) আঞ্চলিক
সঠিক উত্তর:
ঘ) আঞ্চলিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আঞ্চলিক
ব্যাখ্যা
আবু ইসহাকের দীর্ঘ সময়ব্যাপী রচিত উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'। 
- ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকার মুক্তধারা থেকে এটি প্রকাশিত হয়। 
- তখন এটির নাম ছিলো 'মুখর মাটি'। 
- 'পদ্মার পলিদ্বীপ' একটি আঞ্চলিক উপন্যাস।
- পদ্মা নদীকে বলা হয় কীর্তিনাশা। কারণ চাঁদরায়-কেদাররায়-রাজবল্লভ প্রমুখ বার ভুঁইয়াদের কীর্তি এ নদী ধ্বংশ করেছে। 
- এ উপন্যাসে পদ্মাতীরবর্তী চরকেন্দ্রিক অধিবাসী, তাদের চরদখল, জীবনসংগ্রাম মুখ্য। 
- চরিত্র: ফজল, এরফান মাতব্বর, আরশেদ মোল্লা, জরিবা, রূপজান ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯১.
বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত প্রথম মৌলিক গদ্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. কথোপকথন
  2. বত্রিশ সিংহাসন
  3. রাজাবলি
  4. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
সঠিক উত্তর:
রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
ব্যাখ্যা

'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থ:
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'। এটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাঙালি রচিত এবং বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত প্রথম একটানা দীর্ঘ মৌলিক রচনা 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'।
- এই গ্রন্থে রাজা প্রতাপাদিত্য সম্পর্কে জ্ঞাত কাহিনিগুলেঅ স্থান পেয়েছে।
- রামরাম বসু, উইলিয়াম কেরিকে বাংলা ভাষা শেখান ( ১৭৯৩ থেকে ১৭৯৬ পর্যন্ত)।
- তাই তিনি কেরি সাহেবের মুন্‌সি নামে পরিচিত ছিলেন।

রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ:
- রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র,
- লিপিমালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৯২.
'তৃণাঙ্কুর' বিভূতিভূষণ রচিত একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) ভ্রমণ কাহিনী
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) আত্মজীবনী
সঠিক উত্তর:
ঘ) আত্মজীবনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আত্মজীবনী
ব্যাখ্যা
'তৃণাঙ্কুর' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনী- অভিযাত্রিক, বনে-পাহাড়ে, হে অরণ্য কথা কও। ছোটগল্প- মেঘমল্লার, মৌরিফুল, যাত্রাবদল, কিন্নরদল, পুঁইমাচা ইত্যাদি। পথের পাঁচালী, অপরাজিত, দৃষ্টিপ্রদীপ, চাঁদের পাহাড়, আরণ্যক, বিপিনের সংসার, অশনিসংকেত, অনুবর্তন ইত্যাদি তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৯৩.
বিহারের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী 'তাৎমাদের' জীবন অস্তিত্বের সংগ্রাম নিয়ে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. জাগরী
  2. ঢোঁরাই চড়িত মানস
  3. বিবর
  4. জগদ্দল
সঠিক উত্তর:
ঢোঁরাই চড়িত মানস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢোঁরাই চড়িত মানস
ব্যাখ্যা
সতীনাথ ভাদুড়ী রচিত বিখ্যাত উপন্যাস - ''ঢোঁড়াই চরিত মানস''।
- দুই খন্ডে বিভক্ত উপন্যাসটির প্রথম খন্ড প্রকাশিত হয় - ১৯৪৯ সালে।
- দুই খণ্ডের এই উপন্যাসটি বিহারের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী 'তাৎমাদের' জীবন অস্তিত্বের সংগ্রাম নিয়ে রচিত।
- এছাড়া তাঁর আরেকটি উপন্যাস হচ্ছে - জাগরী (ভারত ছাড় আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত)

- বিবরজগদ্দল - উপন্যাস দুটির রচয়িতা সমরেস বসু

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯৪.
'অয়োময়' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) ইমদাদুল হক মিলন
  2. খ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. গ) মমতাজউদদীন আহমেদ
  4. ঘ) হুমায়ূন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) হুমায়ূন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• হুমায়ূন আহমেদের একটি বিখ্যাত নাটক অয়োময়‌
- ক্ষয়িষ্ণু জমিদার প্রথা নাটকটির মূল উপজীব্য।
- নাটকটি মূলত জমিদার মির্জা সাহেবের বিচিত্র চরিত্রকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত।
- একসময় জমিদার নিজে জমিদারি প্রথার প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে গভীর রাতে সংসার ত্যাগ করেন।

উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১৯৫.
হুমায়ুন আজাদ রচিত 'কবি অথবা দন্ডিত অপুরুষ' কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) গল্পগ্রন্থ
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন আজাদ:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল  বিক্রমপুরের রাড়িখালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী। 
- ১৯৮৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি হুমায়ুন কবির নাম পরিবর্তর করে বর্তমান হুমায়ুন আজাদ নাম গ্রহণ করেন।
- ১৯৭০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ১৯৭২ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক পদে যোগদান করেন।
- ১৯৭৮ সালের ১ নভেম্বর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন এবং ১৯৮৬ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
কাব্যগ্রন্থ:
-  যতোই গভীরে যাই মধু যতোই ওপরে যাই নীল 
- আমি বেঁচেছিলাম অন্যদের সময়ে 
- কাব্যসংগ্রহ 
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- শামসুর রাহমান:নিঃসঙ্গ শেরপা
- বিমানবিকীকরণ ও অন্যান্য প্রবন্ধ 
- ভাষা-আন্দোলন : সাহিত্যিক পটভূমি 
- নারী 
- নরকে অনন্ত ঋতু 
- প্রবচনগুচ্ছ
- সীমাবদ্ধতার সূত্র 
- আধার ও আধেয় 
- আমার অবিশ্বাস 
- নির্বাচিত প্রবন্ধ 
- আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম প্রভৃতি। 

উপন্যাস:
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল 
- সব কিছু ভেঙে পড়ে 
- মানুষ হিশেবে আমার অপরাধসমূহ 
- যাদুকরের মৃত্যু 
- শুভব্রত,তার সম্পর্কিত সুসমাচার 
- রাজনীতিবিদগণ 
- কবি অথবা দন্ডিত অপুরুষ 
- নিজের সঙ্গে নিজের জীবনের মধু 
- ফালি ফালি করে কাটা চাঁদ
- শ্রাবণের বৃষ্টিতে রক্তজবা ইত্যাদি। 

ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক:
- লাল নীল দীপাবলি 
- ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না 
- কতো নদী সরোবর 
- আববুকে মনে পড়ে 
- বুকপকেটে জোনাকিপোকা 
- আমাদের শহরে একদল দেবদূত 
- অন্ধকারে গন্ধরাজ ইত্যাদি। 
- তাঁর নারী, দ্বিতীয় লিঙ্গ, পাক সার জমীন সাদ বাদ গ্রন্থ তিনটি বিতর্কের ঝড় তোলে এবং এরই এক পর্যায়ে সরকার বই তিনটিকে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৯৬.
'খোয়াবনামা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. আনোয়ার পাশা
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. আবুল মনসুর আহমদ
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
> খোয়াবনামা উপন্যাসটি আখতারুজ্জামান মোহাম্মদ ইলিয়াস এর মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- এর মাধ্যমে মূলত গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনালেখ্যসহ ফকির -সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প,তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন অসাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এ উপন্যাসে নিপুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান মোহাম্মদ ইলিয়াস এর জন্ম ১৯৪৩ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি।

তাঁর ছোটগল্প সংকলন:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর (১৯৭৬)
- খোঁয়ারি (১৯৮২)
- দুধভাতে উৎপাত (১৯৮৫)
- দোজখের ওম (১৯৮৯)
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল (১৯৯৭)

উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই (১৯৮৭)
- খোয়াবনামা (১৯৯৬)

প্রবন্ধ সংকলন:
- সংস্কৃতির ভাঙ্গা সেতু (১৯৯৮)


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ।
১৯৭.
বাংলা সাহিত্যে অ্যাবসার্ডধর্মী নাটকের প্রচলন করেন-
  1. নুরুল মোমেন
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. সাঈদ আহমদ
  4. সেলিম আল দীন
সঠিক উত্তর:
সাঈদ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাঈদ আহমদ
ব্যাখ্যা
• সাঈদ আহমদ: 
- সাঈদ আহমদ (১৯৩১-২০১০) নাট্যকার, চিত্রসমালোচক, শিক্ষাবিদ। তাঁর জন্ম পুরানো ঢাকার ইসলামপুরে ১ জানুয়ারি ১৯৩১ সালে। 
- বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রতিভাবান নাট্যকার - সাঈদ আহমদ।
- ১৯৫৪ সালে লন্ডনে স্যামুয়েল ব্যাকেটের নাটক দেখে সাঈদ আহমদ এই ধরনের নাটকের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং বাংলায় অ্যাবসার্ডধর্মী নাটকের প্রচলন করেন।
 
তার রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- কালবেলা,
- মাইলপোস্ট,
- তৃষ্ণায়,
- প্রতিদিন একদিন,
- শেষ নবাব।
 
• ১৯৭৫ সালে অ্যাবসার্ডধারার বাইরে এসে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিয়ে রচনা করেন - 'প্রতিদিন একদিন' নাটক।
• বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তাঁর লেখা নাটক 'শেষ নবাব'। এটি তার শেষ নাটক।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯৮.
রামমোহন রায় কর্তৃক রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. বেদান্তগ্রন্থ
  2. প্রবোধচন্দ্রিকা
  3. লিপিমালা 
  4. বেদান্তচন্দ্রিকা
সঠিক উত্তর:
বেদান্তগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেদান্তগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'বেদান্তগ্রন্থ': 
- ‘বেদান্তগ্রন্থ’ (১৮১৫) রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রহ্মসূত্রের অনুবাদ ও টীকা। বাংলাগদ্যের ইতিহাসে গ্রন্থটির ঐতিহাসিক মূল্য অসামান্য।
- পৌত্তলিকতা যে হিন্দু ধর্মের মুখ্য ব্যাপার নয়, ব্রহ্মই একমাত্র তত্ত্ব ও উপাস্য তা প্রমাণের উদ্দেশ্যেই এই গ্রন্থ তিনি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থ অবলম্বন করে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে প্রবল বাকবিতর্ক হয়।

----------------------
• রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন।
- তিনি প্রায় ৩০টি গ্রন্থ রচনা করেন।

অন্যদিকে, 
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার এর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: প্রবোধচন্দ্রিকা, বেদান্তচন্দ্রিকা ইত্যাদি।
• রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ- লিপিমালা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১৯৯.
মুনির চৌধুরীর ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটকের পটভূমি কোনটি?
  1. ক) পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
  2. খ) পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ
  3. গ) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  4. ঘ) ভাষা আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
গ) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পটভূমিকায় মুনীর চৌধুরীর লেখা মৌলিক নাটক রক্তাক্ত প্রান্তর-এর চরিত্রগুলোর মধ্যে বিখ্যাত চরিত্র গুলো হচ্ছে ইব্রাহীম কার্দি, জোহরা, সুজাউদ্দৌলা, নজীবউদ্দৌলা, আবদালি প্রমুখ। উৎসঃ রক্তাক্ত প্রান্তর - মুনীর চৌধুরী
২০০.
১৯৩৬ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বানান সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য ছিল-
  1. বানানকে উচ্চারণের কাছাকাছি নেওয়া
  2. বানানের ঐতিহ্যকে বজায় রাখা
  3. বানানের নিয়ম প্রণয়ন করা
  4. বানানে বিকল্প বর্জন করা
সঠিক উত্তর:
বানানের নিয়ম প্রণয়ন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বানানের নিয়ম প্রণয়ন করা
ব্যাখ্যা

• বাংলা বানানের নিয়ম:
- উনিশ শতকের গোড়া থেকে বাংলা গদ্যরচনা আরম্ভ হলে বাংলা বানানে নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে থাকে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ ব্যাপারটি অনুধাবন করে একটি বানান-রীতি প্রণয়নের জন্য ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুরোধ করেন। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এ প্রস্তাবকে সমর্থন জানান। এই পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় 'কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বানান সংস্কার সমিতি' গঠন করে। এবং ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ৮ই মে প্রথম বাংলা বানানের নিয়ম প্রকাশ করে।

- প্রায় দুইশ লেখক ও অধ্যাপকের অভিমত আলোচনা করে সমিতি বানানের নিয়ম সংকলন করেছিল।

- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বানান সংস্কার-সমিতি বাংলা বানানের এইসব নিয়ম প্রবর্তিত করেছিলেন পঁয়ষট্টি বছর আগে। ইতিমধ্যে প্রচুর বিতর্ক ও আলোচনা গড়িয়ে গেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বানানে পরিবর্তন এসেছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবের মূল কাঠামো স্বীকার করে নিলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংস্থা অনেকগুলি পরিবর্তন সাধন করেছেন, কিছু-কিছু পরিবর্তন ভাষায় স্বাভাবিকভাবে এসেও গেছে।

- বাংলা একাডেমি এই নিয়ম প্রণয়নে উদ্যোগী হয় ১৯৯২ সালের এপ্রিল মাসে।

উৎস: বাংলা বানানের নিয়ম, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়; দৈনিক পত্রিকা রিপোর্ট এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।