বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

গদ্য সাহিত্যের বিকাশ (গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদি)

মোট প্রশ্ন৭৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

গদ্য সাহিত্যের বিকাশ (গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদি)

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৭৩৭

.
‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. রামরাম বসু
  3. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
রামনারায়ণ তর্করত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামনারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা

‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয় নি।
- ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করেছিল।

• সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেন:
- শকুন্তলা,
- মালতীমাধব,
- রত্নাবলী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসের পটভূমি কী?
  1. নদী ভাঙন
  2. নদী পাড়ের কৃষকদের জীবন
  3. ধীবর সমাজের রীতিনীতি
  4. জমিদারদের শোষণ
সঠিক উত্তর:
ধীবর সমাজের রীতিনীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধীবর সমাজের রীতিনীতি
ব্যাখ্যা
-অদ্বৈত মল্লবর্মণের বিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম'।
- এ উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর (জেলে) সমাজের রীতিনীতি, ধর্ম-সংস্কার, উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৫২ বঙ্গাব্দে, মোহাম্মদী পত্রিকায়।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে।
- ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' গ্রন্থটি কোন লিপিতে মুদ্রিত?
  1. ফারসি
  2. রোমান
  3. সংস্কৃত
  4. ইংরেজি
সঠিক উত্তর:
রোমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমান
ব্যাখ্যা
কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ: 
- এটি মনোএল দ্য আসসুম্পসাঁউ পর্তুগিজ খ্রিষ্টান মিশনারি কর্তৃক রচনা করেন।
- ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত হয়।
- গুরুশিষ্যের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা কীর্তন এই গ্রন্থের লক্ষ্য।

নোএল দা আসসুম্পসাঁউ:
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ জাতিতে একজন পর্তুগিজ ছিলেন।
- তিনি ছিলেন একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজক।
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেননি।
- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো:
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবংচ বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলা উপন্যাসধারার প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ বলা হয় কাকে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম 
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা

বাংলা উপন্যাসধারার প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ বলা হয়— গ) প্যারীচাঁদ মিত্রকে।
-----------------
প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র।
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব আলালের ঘরের দুলাল যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম  উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- প্যারীচাঁদ মিত্রকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক বলা হয়ে থাকে।
- তাই তাকে, বাংলা সাহিত্যধারার প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ বলা হয়।

তাঁর উপন্যাস সমূহ:
আলালের ঘরে দুলাল,
- আধ্যাত্নিকা,
- অভেদী।

তাঁর একমাত্র প্রহসন:
-  মদ খাওয়া বড় দায়-জাত থাকার কি উপায়।

বাংলা উপন্যাসের ক্রমবিকাশ:
১. প্যারীচাঁদ মিত্র (১৮৫৮) - প্রথম উপন্যাস, পথিকৃৎ ও প্রতিষ্ঠাতা 2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৬৫) - প্রথম সার্থক উপন্যাস (দুর্গেশনন্দিনী), উপন্যাসের পূর্ণ বিকাশ 3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - উপন্যাসকে শিল্পমর্যাদা প্রদান 4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় - সর্বাধিক জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
'তিতাস একটি নদীর নাম' কী জাতীয় রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. গল্প
  3. স্মৃতিকথা
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'তিতাস একটি নদীর নাম'  অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৩৫২ বঙ্গাব্দে ১৯৫৬ সালে 'মোহাম্মদী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- জেলে ও মৎসজীবীদের অন্ত্যজ জীবন নিয়ে রচিত।  
- সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক অদ্বৈত মল্লবর্মণ এর জন্ম ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি  ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে এক দরিদ্র জেলে পরিবারে।
-  তিনি  মোহাম্মদী,  আজাদ,  নবযুগ, কৃষক,  যুগান্তর প্রভৃতি পত্রিকায়ও সাংবাদিকতা করেন।

তাঁর কিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- নয়াবসত,
- রামধনু,
- সাদা হাওয়া ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস ও পদবিভাগ করে শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন কে?
  1. রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তিনি বাংলা গদ্যে যতি বা বিরামচিহ্নের প্রবর্তন করেন।
- বাংলা গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি 'উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ' ও 'অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত' সৃষ্টি করেন।
- তিনি বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন।
- বাংলা গদ্যকে তিনি সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

.
'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র-
  1. করালি
  2. নাজমা
  3. সুফিয়া
  4. নিতাই
সঠিক উত্তর:
নাজমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাজমা
ব্যাখ্যা

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
• তিনি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- একটি কালো মেয়ের কথা
• তাঁর সর্বশেষ ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস একটি কালো মেয়ের কথা।
• এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র নাজমা নামের একটি কালো মেয়ে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

.
'কথোপকথন' গ্রন্থটি কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  2. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  3. সংস্কৃত কলেজ
  4. মুসলিম সাহিত্য সমাজ
সঠিক উত্তর:
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
ব্যাখ্যা
'কথোপকথন':
- 'কথোপকথন' গ্রন্থের রচয়িতা - উইলিয়াম কেরী।
- কথোপকথন বাংলা ভাষায় মুদ্রিত এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত দ্বিতীয় গ্রন্থ।
- একাধিক মানুষের মুখের সাধারণ কথা বা কথোকথন বা ডায়লগ এ গ্রন্থের উপজীব্য।

উইলিয়াম কেরী:
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে তাঁর অবদান সর্বাধিক।
- তিনি 'ইতিহাসমালা' ও 'কথোপকথন' নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- 'ইতিহাসমালা' বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
.
'পল্লী সমাজ' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'পল্লী সমাজ' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত- উপন্যাস। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য উপন্যাস- বড়দিদি, বিরাজ বৌ, পন্ডিতমশাই, পরিনীতা, চন্দ্রনাথ, শ্রীকান্ত, দেবদাস, চরিত্রহীন, দত্তা, গৃহদাহ বামুনের মেয়ে, দেনা পাওনা, নব-বিধান, পথের দাবী, শেষ প্রশ্ন, শুভদা, বিপ্রদাস, নিষ্কৃতি, বৈকুন্ঠের উইল, অরক্ষণীয়া, শেষের পরিচয় ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১০.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঞ্চলিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) গণদেবতা
  2. খ) নাগিনী কন্যার কাহিনী
  3. গ) হাঁসুলীবাঁকের উপকথা
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত আঞ্চলিক উপন্যাস 
- গণদেবতা
- পঞ্চগ্রাম 
- হাঁসুলীবাঁকের উপকথা
- নাগিনী কন্যার কাহিনী।

এই উপন্যাসের পটভূমি রাঢ় বাংলা বিশেষ করে বীরভূম অঞ্চলের বৃহৎ মানবগোষ্ঠী ও তাদের সামগ্রিক রূপেতে অঙ্কিত হয়েছে।  
- একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সব পরিচয়ই এখানে আছে।  
- যেন প্রতিটি উপন্যাসই একটি অনু-অঞ্চল। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১.
‘দেনা পাওনা’ উপন্যাসটি কোন নামে নাটক হিসেবে মঞ্চায়িত হয়?
  1. ক) ষোড়শী
  2. খ) বিজয়া
  3. গ) দেবদাস
  4. ঘ) পণের টাকা
সঠিক উত্তর:
ক) ষোড়শী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ষোড়শী
ব্যাখ্যা

এই তিনটি মনে রাখুনঃ
দেনা পাওনা (১৯২৩): ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলার নারীদের প্রতি অবিচার ও পণপ্রথার কদর্যরূপ দর্শিত হয়েছে। জীবনানন্দ ও ষোড়শী উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র। উপন্যাসটি “ষোড়শী” নামে নাট্যায়িত হয়।
দত্তা (১৯১৮): উপন্যাসটি “বিজয়া” নামে নাট্যায়িত হয়। বনমালী, রাসবিহারী, বিজয়া, নরেন্দ্র ইত্যাদি প্রধান চরিত্র।
পল্লী সমাজ (১৯১৬): রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম ইত্যাদি প্রধান চরিত্র। উপন্যাসটি “রমা” নামে নাট্যায়িত হয়।

১২.
'সুবচন নির্বাসনে' নাটকটির রচয়িতা হলেন-
  1. সেলিম আল দীন
  2. আলাউদ্দীন আল আজাদ
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. জিয়া হায়দার
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল মামুন একজন নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক, অভিনেতা।
তিনি ১৯৪২ সালের ১৩ জুলাই জামালপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর গ্রন্থাকারে প্রকাশিত ও মঞ্চস্থ নাটকগুলোর মধ্যে:
- সুবচন নির্বাসনে
- এখনও দুঃসময় 
- এবার ধরা দাও 
- শপথ 
- সেনাপতি 
- অরক্ষিত মতিঝিল
- ক্রস রোডে ক্রসফায়ার 
- শাহজাদীর কালো নেকাব 
- আয়নার বন্ধুর মুখ 
- এখনও ক্রীতদাস 
- তোমরাই 
- দূরপাল্লা 
- তৃতীয় পুরুষ 
- আমাদের সন্তানেরা 
- কোকিলারা 

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া ]
১৩.
'রাজাবলি' গদ্য গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. তারিণীচরণ মিত্র
  3. রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়
  4. গোলোকনাথ শর্মা
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• 'রাজাবলি':
- কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত 'রাজাবলি' (১৮০৮) গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে।
- আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৪.
'হুতোম প্যাঁচার নকশা' উপন্যাসটি কোন জাতীয়?
  1. ক) ঐতিহাসিক
  2. খ) রোমান্টিক
  3. গ) রাজনৈতিক
  4. ঘ) ব্যঙ্গরসাত্মক
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যঙ্গরসাত্মক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যঙ্গরসাত্মক
ব্যাখ্যা
 কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' মূলত ব্যঙ্গরসাত্মক সামাজিক উপন্যাস।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে কলকাতাবাসী ধনীসমাজের ব্যঙ্গরসাত্মক চিত্র এই গ্রন্থে অঙ্কিত হয়েছে।
- হুতোম প্যাঁচার নকশা তাঁর শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা। এতে কলকাতার সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে এবং কলকাতার কথ্য ভাষাকে প্রথম সাহিত্যে স্থান দেওয়া হয়েছে
- সমসাময়িকদের মধ্যে কালীপ্রসন্ন শিল্পসংস্কৃতির একজন মহান পৃষ্ঠপোষক, বিধবাবিবাহের একনিষ্ঠ প্রবক্তা, অনন্যসাধারণ সমাজনীতিবিদ ও দেশপ্রেমিক সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- নাটক,  প্রহসন,  উপন্যাস, নকশা, প্রবন্ধ ও অনুবাদ মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা নয়।
- ইংরেজিতে দি ক্যালকাটা পুলিশ অ্যাক্ট-ও (১৮৬৬) তাঁর রচনা।
- প্রজন্ম পরম্পরায় তিনি তাঁর অসাধারণ সাহিত্যকর্ম  হুতোম প্যাঁচার নকশা (১৮৬২) এবং পুরাণসংগ্রহ (মহাভারত থেকে পৌরাণিক গল্পের সংগ্রহ, ১৮৬০-১৮৬৬)-এর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। । 
- নীলকরদের নিপীড়নমূলক আচরণ উদ্ঘাটনে অবদানের জন্য  রেভারেন্ড জেমস লং-কেও তাঁরা সংবর্ধিত করেন। দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ (১৮৬০) নাটক অনুবাদের অভিযোগে জেমস লঙের এক মাসের কারাদন্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা হলে (২৪ জুলাই ১৮৬১) কালীপ্রসন্ন তা পরিশোধ করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫.
'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকের পটভুমি হচ্ছে?
  1. ক) পানিপথের যুদ্ধ
  2. খ) সিপাহী বিদ্রোহ
  3. গ) কৃষক বিদ্রোহ
  4. ঘ) পলাশীর যুদ্ব
সঠিক উত্তর:
ক) পানিপথের যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পানিপথের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পটভূমিকায় মুনীর চৌধুরীর লেখা মৌলিক নাটক রক্তাক্ত প্রান্তর-এর চরিত্রগুলোর মধ্যে বিখ্যাত চরিত্র গুলো হচ্ছে ইব্রাহীম কার্দি, জোহরা, সুজাউদ্দৌলা, নজীবউদ্দৌলা, আবদালি প্রমুখ। উৎসঃ রক্তাক্ত প্রান্তর - মুনীর চৌধুরী
১৬.
'সোনার চেয়ে দামী' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'সোনার চেয়ে দামী' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস।
• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মা নদীর মাঝি,
- পুতুল নাচের ইতিকথা,
- অমৃতস্য পুত্রা,
- সহরতলী,
- অহিংসা,
- চতুষ্কোণ,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- সোনার চেয়ে দামী,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- চিহ্ন,
- জীয়ন্ত,
- মাশুল,
- হরফ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭.
জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) মাল্যদান
  2. খ) মাল্যবান
  3. গ) শঙ্খমালা
  4. ঘ) শঙ্খচিল
সঠিক উত্তর:
খ) মাল্যবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মাল্যবান
ব্যাখ্যা
• রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস 'মাল্যবান'। 
- উপন্যাসটি রচিত হয়েছিলো ১৯৪৮ সালে। 
- প্রকাশিত হয় কবির মৃত্যুর পর ১৯৭৩ সালে। 

• তিনি মূলত কবি হলেও উপন্যাস এবং প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেছেন। 
তাঁর দুইটি উপন্যাস- 
- মাল্যবান (১৯৭৩)
- সতীর্থ (১৯৭৪) 

• জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'কবিতার কথা'
এর বিখ্যাত উক্তি - 'সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি' 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮.
'দি ডিসগাইজ' নাটকের বাংলা অনুবাদ করেন কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. উইলিয়াম কেরি 
  3. হেরাসিম লেবেডেফ
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
হেরাসিম লেবেডেফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেরাসিম লেবেডেফ
ব্যাখ্যা

• 'দি ডিসগাইজ' নাটকের বাংলা অনুবাদ করেছেন- 'হেরাসিম লেবেডেফ'। 

• বাংলা নাটকের উৎস ও বিকাশ: 
- আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়। কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারে নি।
- বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে।
- হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন।
- তিনি “The Disguise” এবং “Love is the best Doctor” নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান।
- এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।
- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।
- বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৯.
স্বদেশী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস-
  1. ধাত্রীদেবতা
  2. সপ্তপদী
  3. গণদেবতা
  4. পঞ্চগ্রাম
সঠিক উত্তর:
সপ্তপদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সপ্তপদী
ব্যাখ্যা

সপ্তপদী উপন্যাসের রচয়িতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
১৯৪২ সালে গান্ধিজীর স্বদেশী আন্দোলনের সময়কাল এই উপন্যাসের পটভূমি। কৃষ্ণেন্দু এই উপন্যাসের নায়ক। কৃষ্ণেন্দু বাঙালি হিন্দু ছেলে, তরুণ মেধাবী ছাত্র এবং অসামান্য প্রতিভাধর ফুটবল খেলোয়ার। নায়িকা রিনা ব্রাউন সুন্দরী এবং মেধাবী ক্রিশ্চিয়ান মেয়ে। দুই বিপরীত ধর্মের তরুণ প্রেমের উপাখ্যান এটি।

- তাঁর ত্রয়ী উপন্যাসঃ
• ধাত্রীদেবতা,
• গণদেবতা ও
• পঞ্চগ্রাম।

- এছাড়াও তাঁর অন্যান্য উপন্যাসঃ
• আরোগ্য নিকেতন,
• চাপাডাঙ্গার বউ,
• একটি কালো মেয়ের কথা,
• হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
• কবি,
• কালিন্দী,
• চৈতালি ঘূর্ণি ইত্যাদি।

- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস।
- একটি কালো মেয়ের কথা উপন্যাসটি রচিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।

২০.
বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত ও ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ছাপাখানা থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. ইতিহাসমালা
  2. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
  3. লিপিমালা
  4. প্রবোধচন্দ্রিকা
সঠিক উত্তর:
রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
ব্যাখ্যা
• বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত ও ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ছাপাখানা থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ - রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত এই গদ্যগ্রন্থের রচয়িতা - রামরাম বসু।
- ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ গ্রন্থটি ১৮০১ সালে মুদ্রিত হয়।

-----------------------------------
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:

• ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষায় শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
• এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্ররিামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক উইলিয়াম কেরি। তিনি তাঁরা অধীনস্ত দু-জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।
• তাঁদের এই প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

ফোর্ট উইলিয়ামের ফর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:
• কেরি রচিত: কথোপকথন; ইতিহাসমালা (১৮১২)।
• রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র; লিপিমালা (১৮০২)।
• গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন; হিতোপদেশ; রাজাবলি; প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)।
• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট।
• রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং।
• চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস।
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২১.
'বত্রিশ সিংহাসন' - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. মনোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ
  3. বিজন ভট্টাচার্য
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা

বত্রিশ সিংহাসন:
- এটি মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- ‘বত্রিশ সিংহাসন' (১৮০২) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার অনূদিত কাহিনি সংকলন।
- বাংলা গদ্যের আদিপর্বের ইতিহাসে এই রচনাটি উল্লেখযোগ্য।

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২২.
কোন নাটক রচনার মাধ্যমে রামনারায়ণ তর্করত্ন ‘নাটুকে রামনারায়ণ’ নামে পরিচিতি লাভ করেন?
  1. কুলীনকুলসর্বস্ব
  2. মালতীমাধব
  3. রত্নাবলী
  4. অভিজ্ঞান শকুন্তলা
সঠিক উত্তর:
কুলীনকুলসর্বস্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুলীনকুলসর্বস্ব
ব্যাখ্যা

• রামনারায়ণ তর্করত্ন ও 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক:
- বাংলা নাটকের ইতিহাসে অস্থিরচিত্ততা কাটিয়ে উল্লেখযোগ্য নাটক সৃষ্টি হয় রামনারায়ণ তর্করত্নের (১৮২২-৮৬) হাতে। নাট্যকার হিসেবে তাঁর প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক 'কুলীনকুলসর্বস্বের' (১৮৫৪) অভিনয় সাফল্য। 

- এই নাটকটি নাট্যকর্মের বিবিধ বৈশিষ্ট্যের পরিপূর্ণ অনুসারী না হলেও তা তৎকালীন বাংলা নাটকের মধ্যে বৈচিত্র্যের পরিচায়ক বলে যথেষ্ট খ্যাতিলাভ করেছিল। 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নামে নাটক রচনার জন্য পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে রংপুরের কুত্তী পরগনার জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী যে প্রতিযোগিতা আহ্বান করেছিলেন তাতে বিজয়ী হয়ে রামনারায়ণ সে পুরস্কার লাভ করেন।

- এতে দেখা যায় রামনারায়ণের নাটক রচনা স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না এবং নাটকের বিষয় ও নাম পর-নির্দেশিত ছিল। তবে নাটকটির বিষয়ের প্রতি সমগ্র জাতির কৌতূহলই রামনারায়ণকে জনপ্রিয়তা দান করেছিল। এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি 'নাটুকে রামনারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভ করেছিলেন।

- কৌলিন্য প্রথার দোষ নির্দেশক এই নাটকটিতে মূলকাহিনির শিথিলতা পরিলক্ষিত হয়। তাতে কতকগুলো কৌতুকপূর্ণ দৃশ্য সংযোজিত হয়েছে মাত্র। একান্ত বাস্তব সামাজিক জীবনের ঘটনা অবলম্বন করাতেই এই নাটকটির বৈশিষ্ট্য প্রকাশমান। 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটকে যে কৌতুকরস স্থান পেয়েছে তা কোথাও করুণ, আবার কোথাও প্রহসনধর্মী। নাটকটির অন্য একটি বৈশিষ্ট্য এর টাইপ চরিত্রের প্রাধান্য। অনৃতাচার্য, অধর্মরুচি, বিবাহবণিক, উদারপরায়ণ, বিবাহবাতুল, অভব্যচন্দ্র এই সব নাম একদিকে যেমন ব্যঙ্গরসাত্মক, অন্যদিকে তাৎপর্যবাহী। হাস্যরসের আধিক্যের জন্য কোন কোন চরিত্র অবাস্তবতায় পরিপূর্ণ। 

অন্যদিকে, 
------------------------
সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন, এগুলো হলো-
- বেণীসংহার (১৮৫৬),
- রত্নাবলী (১৮৫৮),
- অভিজ্ঞান শকুন্তলা (১৮৬০) ও
- মালতীমাধব (১৮৬৭)- এই চারটি নাটক সংস্কৃত থেকে অনূদিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

২৩.
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. কালিপ্রসন্ন সিংহ
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. ভবানীচরণ বন্দোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
আলালের ঘরের দুলাল:

- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- তার আগে ১৮৫৪ সাল থেকে ‘মাসিক পত্রিকা’তে ধারাবাহিকভাবে এটি প্রকাশিত হতে থাকে।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- 'দুনিয়া সাচ্চা নয়-মুই একা সাচ্চা হয়ে কি করবো?' উপন্যাসে উক্তিটি বলেছেন ঠকচাচা।
- এছাড়াও উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রে হচ্ছে- বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: ‘আলালের ঘরের দুলাল’ উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪.
বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয় কখন?
  1. সতেরো শতকের শেষ দিকে
  2. আঠারো শতকের শেষ দিকে
  3. সতেরো শতকের শুরুর দিকে
  4. আঠারো শতকের শুরুর দিকে
সঠিক উত্তর:
আঠারো শতকের শেষ দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঠারো শতকের শেষ দিকে
ব্যাখ্যা
বাংলা নাটকের উৎস ও বিকাশ:
- আঠারো শতকের শেষ দিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়। বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে।
- কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।
- হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন।
- তিনি 'The Disguise' এবং 'Love is the best Doctor' নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান।
- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২৫.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাট্যকার-
  1. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. দীনবন্ধু মিত্র 
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও নাটক:
- বাংলা সাহিত্যে মাইকেল মধুসূদন দত্ত  (১৮২৪-৭৩) সগৌরব আবির্ভাব ঘটেছিল নাট্যরচনার সূত্র ধরে। নাটকের দীনহীন অবস্থা প্রত্যক্ষ করে তিনি নাটক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন এবং পরবর্তী পর্যায়ে তাঁর বিশ্বয়কর প্রতিভা বৈচিত্র্যমুখী হয়ে ওঠে।

- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাট্যকার হিসেবে মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্থান সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর প্রথম নাটক 'শর্মিষ্ঠা' (১৮৫৯) বাংলা নাটকে প্রাণসঞ্চার করতে সক্ষম হয়। এই নাটকের পূর্বেকার বাংলা নাটকে কৌতুকরসের বাহুল্য, রচনার গুরুভার ইত্যাদি ত্রুটি বিদ্যমান ছিল। মধুসূদন পূর্ববর্তী প্রভাব কাটিয়ে বাংলা নাটককে উদ্দেশ্যহীন গতি থেকে মুক্তি দিয়ে কাহিনিবিন্যাস, ঘটনার সংস্থাপনা এবং কৌতুক-রসের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে এক নতুন জীবনদান করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

- সংস্কৃত আলঙ্কারিকদের বিধিনিষেধ থেকে মুক্তি, কাহিনিতে নিরবচ্ছিন্ন গতি, নাট্যরীতিতে পাশ্চাত্য আদর্শ গ্রহণ ইত্যাদির ফলে বাংলা নাটক তাঁর হাতেই ভাবীকালের পথের সন্ধান পেয়ে সার্থকতর সৃষ্টির পর্যায়ে উন্নীত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

২৬.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের মৃত্যুর পর প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. বত্রিশ সিংহাসন
  2. রাজাবলি
  3. হিতোপদেশ
  4. প্রবোধচন্দ্রিকা
সঠিক উত্তর:
প্রবোধচন্দ্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবোধচন্দ্রিকা
ব্যাখ্যা

• 'প্রবোধচন্দ্রিকা' গ্রন্থ:
- 'প্রবোধচন্দ্রিকা' ১৮১৩ সালে রচিত হলেও প্রকাশিত হয়েছিল মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর ১৮৩৩ সালে।
- গ্রন্থটি মূলত দার্শনিক নিবন্ধ। সংস্কৃত বিদ্যাভাণ্ডারের পরিচয় দেওয়ার জন্যই গ্রন্থটি রচিত।
- এতে কথ্য সাধু ও সংস্কৃত রীতির ভাষা অনুসৃত হয়েছে। মৃত্যুঞ্জয়ের গদ্যে সংস্কৃতরীতির প্রয়োগ দোষত্রুটি থাকলেও বিষয়বস্তু ও রচনাপদ্ধতিতে একটা সুষম রূপ ফুটে উঠেছিল।

----------------------------
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক। উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পণ্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।
- মৃত্যুঞ্জয়ের কৃতিত্ব সম্পর্কে প্রমথ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন- ‘তিনি একদিকে যেমন সাধু ভাষার আদি লেখক, অপরদিকে তিনি তেমনি চলিত ভাষারও আদর্শ লেখক।’

• তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২),
- রাজাবলি (১৮০৮),
- হিতোপদেশ (১৮০৮),
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

২৭.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কর্ণফুলী উপন্যাসে কোন ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর জীবন সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে?
  1. মারমা
  2. খাসিয়া
  3. চাকমা
  4. রাখাইন
সঠিক উত্তর:
চাকমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাকমা
ব্যাখ্যা

• 'কর্ণফুলী' উপন্যাসের রচয়িতা আলাউদ্দিন আল আজাদ।
• কর্ণফুলী উপন্যাসে তিনি চাকমা ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর জীবন সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষে রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- শ্যামল ছায়া সংবাদ,
- অন্তরীক্ষে বৃক্ষরাজি,
- স্বপ্নশীলা,
- কালো জ্যোৎস্নাময় চন্দ্রমল্লিকা,
- বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি।
• 'নরকে লাল গোলাপ‌' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য নাটকঃ
- মরোক্কোর জাদুঘর,
- ধন্যবাদ,
- মায়াবী প্রহর,
- সংবাদ শেষাংশ ইত্যাদি।
• নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২৮.
বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন বিধৃত হয়েছে কোন গ্রন্থে?
  1. প্রবোধচন্দ্রিকা
  2. রাজাবলি
  3. তোতা ইতিহাস
  4. কথোপকথন
সঠিক উত্তর:
কথোপকথন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথোপকথন
ব্যাখ্যা
• 'কথোপকথন':
- উইলিয়াম কেরি সুশৃঙ্খল গদ্যের পথিকৃৎরূপে বিদেশীর ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগী করে ১৮০১ সালে 'কথোপকথন' গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশ করেন।
- গ্রন্থে গৃহীত কথোপকথনগুলো সে আমলের কলকাতা-শ্রীরামপুর অঞ্চলের সকল স্তরের স্ত্রীপুরুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, সামাজিক রীতিনীতি, ধর্ম ও আচারব্যবহার নিয়ে রচিত।

- এই গ্রন্থে চাকর ভাড়াকরণ, সাহেবের হুকুম, সাহেব ও মুনশীর পরামর্শ, ভোজনের কথা, যাত্রা, পরিচয়, ভূমির কথা, মহাজন, আসামি, বাগান করার হুকুম, ভদ্রলোকে ভদ্রলোকে কথাবার্তা, প্রাচীনে প্রাচীনে কথাবার্তা, সুপারিশ, মজুরের কথাবার্তা, খাতক মহাজনি, ঘটকালি, হাটের বিষয়, স্ত্রীলোকের হাট করা, জেলেদের কথাবার্তা, ভিক্ষুকের কথা, কাজের চেষ্টার কথা, কোন্দল বা ঝগড়া, স্ত্রীলোকে স্ত্রীলোকে কথাবার্তা, 'মাইয়া কন্দল', জমিদার রায়তের কথা ইত্যাদি বিষয়াবলম্বনে কথোপকথন রচিত হয়েছে।

- উইলিয়াম কেরি সহজ ও বাস্তব ভঙ্গিতে বক্তব্য পরিবেশন করেছেন। গ্রন্থের কোথাও অবিমিশ্র সাধু আবার কোথাও কথ্য ভাষাশ্রিত রচনারীতি স্থান পেয়েছে।

- বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন এই গ্রন্থে বিধৃত। সে যুগের সামাজিক ও ব্যবহারিক রীতিনীতির বিশেষ পরিচয় হিসেবেও এগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

- কথোপকথন গ্রন্থটি ছিল দ্বিভাষিক এক পৃষ্ঠায় বাংলা, অপর পৃষ্ঠায় ইংরেজি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
২৯.
নাট্যকার মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক কোনটি?
  1. ক) মানুষ
  2. খ) কবর
  3. গ) রক্তান্ত প্রান্তর
  4. ঘ) দণ্ডকারণ্য
সঠিক উত্তর:
গ) রক্তান্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রক্তান্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক মুনীর চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ঢাকার প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ,  কমিউনিস্ট পার্টি,  ভাষা আন্দোলন ইত্যাদির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির হত্যাকান্ড এবং পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যে সভা হয় তাতে তীব্র ভাষায় বক্তৃতা দেওয়ার অভিযোগে নিরাপত্তা আইনে সরকার তাঁকে বন্দি করে। জেলে বন্দী অবস্থায়ই তিনি ভাষা আন্দোলনের পটভূমিকায় রচনা করেন তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক কবর (১৯৫৩)। শুধু রচনাই নয়, জেলের বন্দিদের দ্বারা এ নাটকের প্রথম মঞ্চায়নও হয় জেলের মধ্যেই।
- কবর নাটকটি Irwin Shaw রচিত Bury the Dead(1936) নাটকের অনুসারে এদেশিয় ঘটনা কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে। 

- রক্তান্ত প্রান্তর নাটকটি তাঁর প্রথম পূর্নাঙ্গ মৌলিক নাটক । পানিপথের ৩য় যুদ্ধ অবলম্বনে এই নাটকটি রচিত। তিনি এর কাহিনী গ্রহণ করেছেন কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' (১৯০৫) গ্রন্থ থেকে। তাই এটি ঐতিহাসিক নয় ইতিহাস আশ্রিত নাটক।

- ১৯৭১ সালের মার্চে  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে তিনি পাকিস্তান সরকারের দেওয়া সিতারা-ই-ইমতিয়াজ (১৯৬৬) খেতাব বর্জন করেন।
- তাঁর একটি বিশেষ কীর্তি বাংলা টাইপ রাইটারের কি-বোর্ড (১৯৬৫) উদ্ভাবন, যা ‘মুনীর অপটিমা’ নামে পরিচিত। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি
নাটক
- রক্তাক্ত প্রান্তর (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য।)
- চিঠি (১৯৬৬)
- কবর  (পূর্ববাংলার প্রথম প্রতিবাদী নাটক। নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন।)
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য 
- মানুষ (১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য।)
- নষ্ট ছেলে (রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।)
- দণ্ডকারণ্য  (তিনটি নাটকের সমন্বয়। এতে দণ্ড, দণ্ডধর, দণ্ডকারণ্য)
- রাজার জন্মদিন

অনুবাদ নাটক
- কেউ কিছু বলতে পারে না (জর্জ বার্নার্ড শর You never can tell-এর বাংলা অনুবাদ।)
- রূপার কৌটা (জন গলজ্‌ওয়র্দির The Silver Box-এর বাংলা অনুবাদ।)
- মুখরা রমণী বশীকরণ  (উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের Taming of the Shrew-এর বাংলা অনুবাদ।)

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর বাংলাপিডিয়া

৩০.
'ইতিহাসমালা ও কথোপকথন' - নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. রামমোহন রায়
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. চণ্ডীচরণ মুন্‌শী
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা

উইলিয়াম কেরি:
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে এই বিদেশের অবদান সর্বাধিক।
- তিনি ইতিহাসমালা ও কথোপকথন নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- ইতিহাসমালা বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩১.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত কে?
  1. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  2. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. রামকিশোর দত্ত
  4. চণ্ডীচরণ মুনশি
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা

• ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলোচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- উইলিয়াম কেরির অধীনস্থ প্রধান পণ্ডিত ছিলেন মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), রাজাবলি (১৮০৮), হিতোপদেশ (১৮০৮), বেদান্তচন্দ্রিকা(১৮১৭) ও প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)—এই পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার শুধু অধ্যাপক পণ্ডিতই ছিলেন না, তিনি সে যুগের বহু জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।
- তাঁর শাস্ত্রজ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের খ্যাতি সে আমলে প্রবাদ বাক্যের মত ছড়িয়ে পড়েছিল।

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি ছিলেন ভাষাবিদ ও ভাষাশিল্পী।
- তাই, তাকে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ লেখক বলা যায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩২.
‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ উপন্যাস কার সময়ের পটভূমিতে লেখা?
  1. ক) বখতিয়ার খলজি
  2. খ) কুতুব উদ্দিন আইবেক
  3. গ) সম্রাট আকবর
  4. ঘ) রাজা লক্ষণ সেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজা লক্ষণ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজা লক্ষণ সেন
ব্যাখ্যা
শওকত আলী রচিত ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ উপন্যাসে রাজা লক্ষণ সেনের সময়ের সমাজ ও মানুষের দ্বন্দ্ব তুলে ধরা হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৩৩.
‘প্রবোধচন্দ্রিকা’ গদ্য গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. রামরাম বসু
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা

• ‘প্রবোধচন্দ্রিকা’ গদ্য গ্রন্থের রচয়িতা মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
- গ্রন্থটি বাংলা গদ্যের অনুশীলনের শুরুর দিকের রচনা।
- গ্রন্থটি ১৮১৩ সালে লিখিত, কিন্তু ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত হয়।

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

• তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৪.
বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাসের লেখক কে?
  1. ক) হ্যানা ক্যাথেরিন ম্যুলেনস
  2. খ) ট্যাকচাঁদ ঠাকুর
  3. গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
খ) ট্যাকচাঁদ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ট্যাকচাঁদ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাসের লেখক প্যারীচাদ মিত্র। 
- তিনি টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর  'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮) উপন্যাসকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস বলা হয়। 

হ্যানা ক্যাথেরিন ম্যুলেনস রচিত 'ফুলমনি ও করুণার বিবরণ' প্রকাশিত হয় ১৮৫২ সালে। 
- এই বইয়ে লেখিকা মানুষের গল্প শোনাতে চাননি খ্রিস্টধর্ম প্রচারণার জন্য লিখেছিলেন। 
- তাই এই বই কে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস বলা যায় না। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৩৫.
'পঞ্চাঙ্ক নাটক'ই হচ্ছে আদর্শ নাটক - কথাটি কে বলেছেন?
  1. ক) সক্রেটিস
  2. খ) অ্যারিস্টটল
  3. গ) প্লেটো
  4. ঘ) অ্যালেকজান্ডার
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যারিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা
নাটকের উৎস ও বিকাশ:
- একটি নাটকের গঠনকে প্রধানত পাঁচটি পর্বে বিভক্ত করা যায়। 
যথা- 
১। কাহিনীর আরম্ভ Exposition (মুখ), 
২। কাহিনীর ক্রমব্যাপ্তি Rising Action (প্রতিমুখ), 
৩। উৎকর্ষ বা চূড়ান্ত দ্বন্দ্ব Climax (গর্ভ), 
৪। গ্রন্থিমোচন Falling Action (বিমর্ষ) এবং 
৫। যবনিকাপাত Conclusion Denouement (উপসংহতি)। 

- উপরের পাঁচটি পর্যায়কে অবলম্বন করে রচিত হয় পঞ্চাঙ্ক নাটক। 
- একটি পর্যায় নিয়ে লেখা হয় একটি অঙ্ক। 
- অ্যারিস্টটলের মতে, পঞ্চাঙ্ক নাটকই হচ্ছে আদর্শ নাটক। 
- বর্তমানকালে নাট্যকারেরা পাঁচের চেয়ে কম অঙ্কে নাটক রচনা করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। 
- কখনো বা এক অঙ্কের পরিসরেই পাঁচটি পর্যায়কে ধারণ করে উৎকৃষ্ট নাটক লেখা হচ্ছে। 

উৎস: বাংলা প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬.
কোনটি ফররুখ আহমদের কাব্য?
  1. সিরাজাম মুনিরা
  2. অনল প্রবাহ
  3. প্রেমের সমাধি
  4. শান্তিধারা
সঠিক উত্তর:
সিরাজাম মুনিরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাজাম মুনিরা
ব্যাখ্যা
-  সিরাজাম মুনিরা ফররুখ আহমদের একটি বিখ্যাত কাব্য।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে।

ফররুখ আহমদের কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি, 
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম, 
- মুহূর্তের কবিতা, 
- ধোলাই কাব্য, 

অন্যদিকে:
• 'অনল প্রবাহ' হচ্ছে সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজী লিখিত কাব্যগ্রন্থ।
• 'প্রেমের সমাধি' হচ্ছে মোহাম্মদ নজিবর রহমান লিখিত সামাজিক উপন্যাস।
• 'শান্তিধারা' হচ্ছে মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী লিখিত গ্রন্থ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭.
ধর্মকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহারের কাহিনী বর্ণিত আছে কোন নাটকে?
  1. ক) চাঁদের অমাবস্যা
  2. খ) হাজার বছর ধরে
  3. গ) লালসালু
  4. ঘ) বহিপীর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বহিপীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বহিপীর
ব্যাখ্যা
নাট্যকার, ঔপন্যাসিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত বহিপীর বহিপীর নাটক ১৯৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- পিতার বদলির চাকরি সূত্রে ওয়ালীউল্লাহ সারা বাংলাদেশে ঘুরে বেড়ানাের সুযােগ পান।

- তিনি বাঙালি মুসলমান সমাজে তখন জেঁকে বসা পীর প্রথা কাছে থেকে দেখার সুযােগ পান।
- ফলে তিনি লালসালু উপন্যাসে যেমন, তেমনি এই নাটকে সে অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

- নাটকটি গড়ে উঠেছে বহিপীরের সর্বগ্রাসী স্বার্থ ও নতুন দিনের প্রতীক এক বালিকার বিদ্রোহের কাহিনীকে কেন্দ্র করে
- নাটকের এই কেন্দ্রীয় চরিত্রটির নাম অনুসারেই নাটকের নামকরণ করা হয়েছে বহিপীর। 
- এখানে ধর্মকে ভণ্ডবহিপীর ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে। 
চরিত্র: বহিপীর, তাহেরা, হাতেম, আমেনা, হাশেম। 

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত অন্যান্য নাটক -
- উজানে মৃত্যু
- সুড়ঙ্গ 
- তরঙ্গভঙ্গ

বিখ্যাত উপন্যাস সমূহ -
- লালসালু (ধর্ম ব্যাবসা কে কেন্দ্র করে রচিত) 
- চাঁদের অমাবস্যা
- কাঁদো নদী কাঁদো 
- দি আগলি এশিয়ান

গল্পগ্রন্থ -
- নয়নচারা
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সহপাঠ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৮.
ম্যানুয়েল দা আসসুম্পসাঁও (Manuel da Assumpção) কর্তৃক রচিত পর্তুগিজ ভাষার ব্যাকরণ বইটি কোথায় থেকে প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. ক) কলকাতা
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) লিসবন
  4. ঘ) হুগলি
সঠিক উত্তর:
গ) লিসবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লিসবন
ব্যাখ্যা

ম্যানুয়েল দা আসসুম্পসাঁও (Manuel da Assumpção) কর্তৃক রচিত পর্তুগিজ ভাষার ব্যাকরণ বইটি ১৭৪৩ সালে লিসবন থেকে প্রকাশিত হয়।
- বইটির মূল নাম ছিলো - "Vocabulario em idioma Bengalla, e Portuguez"। এটি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ ও শব্দকোষ।
-  এই বইয়ের একটি অধ্যায়ে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছিলো।
- লিসবন থেকে প্রকাশিত পর্তুগিজ ভাষায় রচিত রোমান হরফে মুদ্রিত হয়েছিলো গ্রন্থটি।
- এটি মূলত একটি অভিধান।

উল্লেখ্য,
বাংলা ব্যাকরণ রচনার দ্বিতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেন  ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড। যথার্থ বাংলা ব্যাকরণ রচনার ক্ষেত্রে তাঁর A Grammar of the Bengal Language (হুগলি, ১৭৭৮) একটি সার্থক প্রচেষ্টা। কিন্তু গ্রন্থ রচনায় তিনি সংস্কৃতের ওপর বেশি নির্ভর করেন। যেসব পন্ডিত তাঁকে এ কাজে সহায়তা করেন তাঁরা তাঁকে Vocabulario থেকে সাহায্য না নেয়ার পরামর্শ দেন, কারণ এর শব্দগুলি নেয়া হয়েছিল পূর্ববাংলার গ্রাম্য কথ্যভাষা থেকে, মার্জিত সংস্কৃত ভাষা থেকে নয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৯.
কোনটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম নাটক?
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. শর্মিষ্ঠা
  3. ভদ্রার্জুন
  4. নীলদর্পণ
সঠিক উত্তর:
ভদ্রার্জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভদ্রার্জুন
ব্যাখ্যা

ভদ্রার্জুন:
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম নাটক - ভদ্রার্জুন
- ১৮৫২ সালে তারাচরণ শিকদারের ‘ভদ্রার্জুন’ নাটক প্রকাশিত হয়।
- ‘কীর্তিবিলাস’ হচ্ছে বিয়োগান্ত নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- আর ‘ভদ্রার্জুন’ ইংরেজি ও সংস্কৃতের যুক্ত আদর্শে রচিত প্রথম মৌলিক মধুরান্তিক বাংলা নাটক।
- ‘ভদ্রার্জুন’ নাটকের কাহিনি অর্জুন কর্তৃক সুভদ্রাহরণ।
- মহাভারত থেকে কাহিনি সংগ্রহ করা হলেও বাঙালি সমাজের বাস্তব পরিবেশ এতে অঙ্কিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
কৃষ্ণকুমারী: 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত। এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন।
'শর্মিষ্ঠা' নাটক: - এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক
নীল দর্পণ হল দীনবন্ধু মিত্র কর্তৃক ১৮৬০ খ্রি. রচিত একটি বাংলা সামাজিক নাটক।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪০.
বাংলাদেশের প্রথম ছাপাখানা কোনটি?
  1. ক) বার্তাবহ যন্ত্ৰ
  2. খ) বাংলা প্রেস
  3. গ) রংপুর বার্তা
  4. ঘ) মিলন বার্তা প্রেস
সঠিক উত্তর:
ক) বার্তাবহ যন্ত্ৰ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বার্তাবহ যন্ত্ৰ
ব্যাখ্যা
• মুদ্রণ শিল্প:
- মুদ্রণ শিল্প  প্রযুক্তি হিসেবে সর্বপ্রথম ভারতে চালু করেন পর্তুগিজগণ।
- প্রথম মুদ্রণযন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় গোয়ায়।
- এরপর মুদ্রণ প্রযুক্তি বোম্বাইয়ে চালু হয় ১৬৭০ সালে।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তা উইলকিন্স ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে হুগলি জেলার চুঁচুড়ায় একটি ছাপাখানা স্থাপন করেন।
- ১৮৪৭-৪৮ সালে রংপুরে প্রথম ছাপাখানা ''বার্তাবহ যন্ত্র'' প্রতিষ্ঠা করা হয় ৷ এটি বাংলাদেশের ভূখন্ডে প্রথম ছাপাখানা।
- সর্বপ্রথম একজন ইংরেজ আলেকজান্ডার ফারবেখ ঢাকায় ছাপাখানা স্থাপন করেন। ছাপাখানাটির নাম ছিল ‘ঢাকা প্রেস’।
- এই ছাপাখানাটিতে অবশ্য বাংলা মুদ্রণের কোন ব্যবস্থা ছিল না। এখান থেকে ঢাকা নিউজ নামে ইংরেজি সংবাদপত্র প্রকাশিত হতো। ১৮৬০ সালে বাংলা প্রেস বা বাংলা যন্ত্র নামে ঢাকায় দ্বিতীয় ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ছাপাখানাটি প্রথমদিকে শুধু বাংলা মুদ্রণের কাজ করত।
- ১৮৬৬ সালে ঢাকায় তিনটি ছাপাখানা ছিল। আর একটি প্রাচীন ছাপাখানা ছিল ফরিদপুরে এবং সেখান থেকে বাংলা অমৃতবাজার পত্রিকা প্রকাশিত হতো।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪১.
কখনো উপন্যাস লেখেননি -
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) জীবনানন্দ দাস
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
কাব্যঃ
- তন্বী (১৯৩০),
- অর্কেস্ট্রা (১৯৩৫),
- ক্রন্দসী (১৯৩৭),
- উত্তরফাল্গুনী (১৯৪০),
- সংবর্ত (১৯৫০),
- দশমী (১৯৫৬);

গদ্যগ্রন্থঃ
- স্বগত (১৯৩৮),
- কুলায় ও কালপুরুষ (১৯৫৭)।

এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে। কিন্তু কখনো কোন উপন্যাস লিখেন নাই।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৪২.
রামনারায়ণ তর্করত্নের অভিনয় সাফল্য নাটক কোনটি?
  1. বেণীসংহার
  2. রত্নাবলী
  3. কুলীনকুলসর্বস্ব
  4. মালতীমাধব
সঠিক উত্তর:
কুলীনকুলসর্বস্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুলীনকুলসর্বস্ব
ব্যাখ্যা

• রামনারায়ণ তর্করত্ন ও 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক:
বাংলা নাটকের ইতিহাসে অস্থিরচিত্ততা কাটিয়ে উল্লেখযোগ্য নাটক সৃষ্টি হয় রামনারায়ণ তর্করত্নের (১৮২২-৮৬) হাতে। নাট্যকার হিসেবে তাঁর প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক 'কুলীনকুলসর্বস্বের' (১৮৫৪) অভিনয় সাফল্য। 

এই নাটকটি নাট্যকর্মের বিবিধ বৈশিষ্ট্যের পরিপূর্ণ অনুসারী না হলেও তা তৎকালীন বাংলা নাটকের মধ্যে বৈচিত্র্যের পরিচায়ক বলে যথেষ্ট খ্যাতিলাভ করেছিল। 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নামে নাটক রচনার জন্য পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে রংপুরের কুত্তী পরগনার জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী যে প্রতিযোগিতা আহ্বান করেছিলেন তাতে বিজয়ী হয়ে রামনারায়ণ সে পুরস্কার লাভ করেন। এতে দেখা যায় রামনারায়ণের নাটক রচনা স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না এবং নাটকের বিষয় ও নাম পর-নির্দেশিত ছিল। তবে নাটকটির বিষয়ের প্রতি সমগ্র জাতির কৌতূহলই রামনারায়ণকে জনপ্রিয়তা দান করেছিল। এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি 'নাটুকে রামনারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভ করেছিলেন। কৌলিন্য প্রথার দোষ নির্দেশক এই নাটকটিতে মূলকাহিনির শিথিলতা পরিলক্ষিত হয়। তাতে কতকগুলো কৌতুকপূর্ণ দৃশ্য সংযোজিত হয়েছে মাত্র। একান্ত বাস্তব সামাজিক জীবনের ঘটনা অবলম্বন করাতেই এই নাটকটির বৈশিষ্ট্য প্রকাশমান। 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটকে যে কৌতুকরস স্থান পেয়েছে তা কোথাও করুণ, আবার কোথাও প্রহসনধর্মী। নাটকটির অন্য একটি বৈশিষ্ট্য এর টাইপ চরিত্রের প্রাধান্য। অনৃতাচার্য, অধর্মরুচি, বিবাহবণিক, উদারপরায়ণ, বিবাহবাতুল, অভব্যচন্দ্র এই সব নাম একদিকে যেমন ব্যঙ্গরসাত্মক, অন্যদিকে তাৎপর্যবাহী। হাস্যরসের আধিক্যের জন্য কোন কোন চরিত্র অবাস্তবতায় পরিপূর্ণ। 

অন্যদিকে, 
------------------------
সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন, এগুলো হলো-
- বেণীসংহার (১৮৫৬),
- রত্নাবলী (১৮৫৮),
- অভিজ্ঞান শকুন্তলা (১৮৬০) ও
- মালতীমাধব (১৮৬৭)- এই চারটি নাটক সংস্কৃত থেকে অনূদিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৪৩.
রামনারায়ণ তর্করত্ন কোন নাটক রচনা করে ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করেছিল?
  1. শকুন্তলা
  2. মালতীমাধব
  3. রত্নাবলী
  4. কুলীনকুলসর্বস্ব
সঠিক উত্তর:
কুলীনকুলসর্বস্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুলীনকুলসর্বস্ব
ব্যাখ্যা
• ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয় নি।
- ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করেছিল।

• সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেন:
- শকুন্তলা,
- মালতীমাধব,
- রত্নাবলী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৪.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রামরাম বসু
  2. উইলিয়াম কেরী
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালংকার
  4. গোলোকথান শর্মা
সঠিক উত্তর:
রামরাম বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
• রামরাম বসু:
- রামরাম বসু- ১৭৫৭ সালে হুগলির চুঁচুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- কেরী সাহেবের মুনশি হিসাবে খ্যাত ছিলেন রামরাম বসু।
- 'লিপিমালা' রচনা করেছেন- রামরাম বসু।
- ১৮০১ সালের মে মাসে ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে কেরীর অধীনে বাংলা বিভাগের সূচনা হলে, রামরাম সেখানে সহকারী মুন্সি হিসেবে নিযুক্ত হন।
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১)।
- এই গ্রন্থটি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত প্রথম কোন গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৫.
গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস-
  1. যাত্রা
  2. মুক্তি
  3. জাল
  4. চৌচির
সঠিক উত্তর:
জাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাল
ব্যাখ্যা

• আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস 'জাল'।
• উপন্যাসটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে রচিত।
• ১৯৫০ সালে সরকারি কর্মকর্তা থাকাকালীন সময়ে 'জাল নোট' এর কয়েকটা মামলার তদন্তের ভার পড়েছিলো লেখকের ওপর। সেই অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করেই তাঁর 'জাল' উপন্যাসটি রচিত।
• তাঁর রচিত সামাজিক উপন্যাস- সূর্য দীঘল বাড়ী ও পদ্মার পলিদ্বীপ।
• 'যাত্রা' শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
• 'মুক্তি' উপন্যাসের রচয়িতা আবু জাফর শামসুদ্দীন।
•'চৌচির' উপন্যাসের রচয়িতা আবুল ফজল।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৪৬.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ট্রাজেডি নাটকের রচয়িতা-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  3. তারাচরণ শিকদার
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• ১৮৫২ সালেই প্রকাশিত হয় প্রথম ট্রাজেডি নাটক। এর নাম - কীর্তিবিলাস।
- কীর্তিবিলাসের রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত।

অন্যদিকে, 
• ১৮৫২ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন' প্রকাশিত হয়।
- নাটকটির রচয়িতা - তারাচরণ শিকদার। এটি একটি কমেডি নাটক।

• ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় - বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি।
- এর নাম - কৃষ্ণকুমারী। রচয়িতা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।
৪৭.
চতুর্দশপদী কবিতার ক্ষেত্রে শেষ ছয় চরণে থাকে-
  1. ভাবের পরিণতি
  2. ভণিতা 
  3. ভাবের প্রবর্তনা 
  4. উপসংহার
সঠিক উত্তর:
ভাবের পরিণতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাবের পরিণতি
ব্যাখ্যা

• চতুর্দশপদী কবিতার ক্ষেত্রে শেষ ছয় চরণে থাকে- ভাবের পরিণতি। 
-------------------
• সনেট (Sonnet):
- চতুর্দশপদী (Sonnet) হল এক ধরনের কবিতা যার প্রথম উদ্ভব হয় মধ্যযুগে ইতালিতে।
- এর বৈশিষ্ট হল যে এই কবিতাগুলো ১৪টি চরণে সংগঠিত এবং প্রতিটি চরণে সাধারণভাবে মোট ১৪টি করে অক্ষর থাকবে।
- এর প্রথম আট চরণের স্তবককে অষ্টক এবং পরবর্তী ছয় চরণের স্তবককে ষষ্টক বলে।
- অষ্টকে মূলত ভাবের প্রবর্তনা এবং ষষ্ঠকে ভাবের পরিণতি থাকে।

উল্লেখ্য,
- বাংলায় চতুর্দশপদী কবিতার জনক - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট সংকলন চতুর্দশপদী কবিতাবলী। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- ইতালীয় কবি পেত্রার্ক ও শেক্সপিয়ারের অনুকরণে এসব সনেট রচনা করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৮.
অচলা ও সুরেশ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক) পল্লীসমাজ
  2. খ) গৃহদাহ
  3. গ) দত্তা
  4. ঘ) চরিত্রহীন
সঠিক উত্তর:
খ) গৃহদাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গৃহদাহ
ব্যাখ্যা

অচলা, সুরেশ ও মহিম শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গৃহদাহ উপন্যাসের রচিত্র।
নরেন ও রমা দত্তা উপন্যাস,
সতীশ ও কিরণময়ী চরিত্রহীন উপন্যাস এবং
রমেশ ও রমা পল্লীসমাজ উপন্যাসের চরিত্র।
(সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)

৪৯.
বাংলা সাহিত্যে গদ্যরীতির সূচনা হয় কবে থেকে?
  1. আঠারো
  2. সপ্তদশ
  3. ষোল
  4. পঞ্চদশ
সঠিক উত্তর:
ষোল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষোল
ব্যাখ্যা

বাংলা গদ্যের উৎপত্তি:
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের পূর্বে সাহিত্যগুণসমৃদ্ধ কোন গদ্যরচনার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না।
- ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
- ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে।
- ফলে ভাষাগত দিক থেকে গদ্যের উৎকর্ষসাধন মোটেই সম্ভবপর হয়নি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫০.
রামনারায়ণ তর্করত্ন ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করেন কোন নাটকটি রচনার মাধ্যমে?
  1. ক) মালতীমাধব
  2. খ) রত্নাবলী
  3. গ) শকুন্তলা
  4. ঘ) কুলীনকুলসর্বস্ব
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুলীনকুলসর্বস্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কুলীনকুলসর্বস্ব
ব্যাখ্যা
কুলীনকুলসর্বস্ব নাটক:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয় নি।
- ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করেছিল

• সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেন:
- শকুন্তলা
- মালতীমাধব
- রত্নাবলী

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫১.
'অ-তে অজগর' উপনাসের রচয়িতা-
  1. ক) আবদুল মান্নান সৈয়দ
  2. খ) কাজী আবদুল ওদুদ
  3. গ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  4. ঘ) ইব্রাহিম খাঁ
সঠিক উত্তর:
ক) আবদুল মান্নান সৈয়দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, অ-তে অজগর, কলকাতা, ক্ষুধা প্রেম আগুন, কলকাতা, পোড়ামাটির কাজ, হে সংসার হে লতা। তাঁর রচিত ছোটগল্প- সত্যের মতো বদমাশ, চলো যাই পরোক্ষে, মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা, নেকড়ে হায়েনা, তিন পরী ইত্যাদি। প্রবন্ধ- বিবেচনা-পুনর্বিবেচনা, দশ দিগন্তের দ্রষ্টা, নির্বাচিত প্রবন্ধ, করতলে মহাদেশ, আমার বিশ্বাস।
৫২.
কোন নাটক রচনার মাধ্যমে রামনারায়ণ তর্করত্ন 'নাটুকে রামনারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভ করেছিলেন?
  1. রত্নাবলী
  2. অভিজ্ঞান শকুন্তলা
  3. কুলীনকুলসর্বম্ব
  4. মালতীমাধব
সঠিক উত্তর:
কুলীনকুলসর্বম্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুলীনকুলসর্বম্ব
ব্যাখ্যা

• রামনারায়ণ তর্করত্ন ও 'কুলীনকুলসর্বম্ব' নাটক:
বাংলা নাটকের ইতিহাসে অস্থিরচিত্ততা কাটিয়ে উল্লেখযোগ্য নাটক সৃষ্টি হয় রামনারায়ণ তর্করত্নের (১৮২২-৮৬) হাতে। নাট্যকার হিসেবে তাঁর প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক 'কুলীনকুলসর্বম্বের' (১৮৫৪) অভিনয় সাফল্য।

এই নাটকটি নাট্যকর্মের বিবিধ বৈশিষ্ট্যের পরিপূর্ণ অনুসারী না হলেও তা তৎকালীন বাংলা নাটকের মধ্যে বৈচিত্র্যের পরিচায়ক বলে যথেষ্ট খ্যাতিলাভ করেছিল। 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নামে নাটক রচনার জন্য পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে রংপুরের কুন্ডী পরগনার জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী যে প্রতিযোগিতা আহ্বান করেছিলেন তাতে বিজয়ী হয়ে রামনারায়ণ সে পুরস্কার লাভ করেন। 

এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি 'নাটুকে রামনারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভ করেছিলেন। 

কৌলিন্য প্রথার দোষ নির্দেশক এই নাটকটিতে মূলকাহিনির শিথিলতা পরিলক্ষিত হয়। তাতে কতকগুলো কৌতুকপূর্ণ দৃশ্য সংযোজিত হয়েছে মাত্র। একান্ত বাস্তব সামাজিক জীবনের ঘটনা অবলম্বন করাতেই এই নাটকটির বৈশিষ্ট্য প্রকাশমান। 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটকে যে কৌতুকরস স্থান পেয়েছে তা কোথাও করুণ, আবার কোথাও প্রহসনধর্মী।

অন্যদিকে, 
-----------------
• সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন। বেণীসংহার (১৮৫৬), রত্নাবলী (১৮৫৮), অভিজ্ঞান শকুন্তলা (১৮৬০) ও মালতীমাধব (১৮৬৭)-এই চারটি নাটক সংস্কৃত থেকে অনূদিত। 

উৎস: 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৩.
বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয় -
  1. আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে
  2. দোম আন্তনিও রচিত 'ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ' গ্রন্থকে
  3. মানোএল দা আসসুম্পসাঁও রচিত 'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' গ্রন্থকে
  4. ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড রচিত ' A Grammar of the Bengal Language' গ্রন্থকে
সঠিক উত্তর:
আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে
ব্যাখ্যা
বাংলা গদ্যের উৎপত্তি:
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের পূর্বে সাহিত্যগুণসমৃদ্ধ কোন গদ্যরচনার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না।
- দৈনন্দিন জীবনে বাঙালির কথাবার্তায় চিরদিন গদ্যরীতি ব্যবহৃত হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত সাহিত্যে তার অনুপ্রবেশ ঘটে নি এবং এর লিখিত রূপ চিঠিপত্র, দলিলদস্তাবেজ, বৈষ্ণব কড়চা ও বিদেশি খ্রিষ্টানকর্তৃক লিখিত ধর্মবিষয়ক গ্রন্থের সঙ্কীর্ণ সীমানায় আবদ্ধ ছিল।
- ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
- ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে ভাষাগত দিক থেকে গদ্যের উৎকর্ষসাধন মোটেই সম্ভবপর হয় নি।
- ইতস্তত বিক্ষিপ্ত কিছুসংখ্যক দৃষ্টান্ত অন্যত্র দৃষ্টিগোচর হলেও বাণিজ্যসম্ভারের পশ্চাতে খ্রিষ্টধর্মের পসার সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।

• ড. সুকুমার সেন বাংলা গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন। সে স্তরগুলোর পরিধি:
- প্রথম স্তর: সূচনা - ষোল শতক থেকে ১৮০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
- দ্বিতীয় স্তর: উন্মেষ - ১৮০০ (শ্রীরামপুর মিশন) থেকে ১৮৪৭ সালের (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের) পূর্ব পর্যন্ত ।
- তৃতীয় স্তর: অভ্যুদয় - ১৮৪৭ (বিদ্যাসাগর) থেকে ১৮৬৫ সালের (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের) পূর্ব পর্যন্ত
- চতুর্থ স্তর: পরিণতি - ১৮৬৫ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫৪.
'ধাবমান' নাটকটি কোন অঞ্চলকে কেন্দ্র করে রচিত?
  1. ক) চট্টগ্রাম
  2. খ) টেকনাফ
  3. গ) নেত্রকোনা
  4. ঘ) তেতুলিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) নেত্রকোনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা
নাট্যকার সেলিম আল দীন রচিত নাটক 'ধাবমান'। 
- নেত্রকোনার বিরিশিরি-দূর্গাপূরের বিস্তীর্ণ পঞ্চল ও সোমেশ্বরী নদী এর আখ্যান পটভূমি
- বাঙালি ও গারোদের হাজার বছরের সংঘাত-যুদ্ধ-ধর্মান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চলতে থাকাপ্রান্ত এলাকায় বাসরত দুই জাতির মানুষের সমন্বয়ের ক্রিয়া এর উপজীব্য। 

 সেলিম আল দীন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার ও গবেষক।
- তিনি ফেনী জেলার সোনাগাজী থানার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি অন্যান্যদের সাথে 'ঢাকা থিয়েটার' ও 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার' গড়ে তোলেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কয়েকটি নাটক:
- কেরামতমঙ্গল,
- স্বর্ণবোয়াল,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- সর্ব বিষয়ক গ্রন্থ ও অন্যান্য নাটক,
- মুনতাসির ফ্যান্টাসী,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- বাসন,
- যৈবতী কন্যার মন,
- কীর্তনখোলা,
- চাকা,
- হরগজ,
- প্রাচ্য,
- নিমজ্জন,
- ধাবমান,
- পুত্র,
- বনপাংশুল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৫.
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থটির প্রকাশকাল-
  1. ক) ১৯২৯
  2. খ) ১৯৩৬
  3. গ) ১৯৪১
  4. ঘ) ১৯৪৪
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৪৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৯৪৪
ব্যাখ্যা
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা ফররুখ আহমদ। এটির প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে। সিরাজাম মুনীরা, নৌফেল ও হাতেম, মুহূর্তের কবিতা, সিন্দাবাদ, হাতেমতায়ী, নতুন লেখা, হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থের রচয়িতাও ফররুখ আহমদ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬.
'রাজা প্রতিপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থটি কত সালে রচিত হয়?
  1. ১৮০৫ সালে
  2. ১৮০১ সালে
  3. ১৮০৮ সালে
  4. ১৮০২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮০১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০১ সালে
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতিপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১) লিখেছেন রামরাম বসু।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পাঠ্যপুস্তকের অভাব দূর করার জন্য এই গ্রন্থটি লিখেন৷

----------------------
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:

- লর্ড ওয়েলেসলি কর্তৃক ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ৪ঠা মে কলেজের প্রতিষ্ঠা দিবস হলেও ২৪শে নভেম্বর থেকে কলেজের কাজ শুরু হয়েছিল।
- দেশীয় ভাষা শিক্ষা দিয়ে সিবিলিয়ানদের উপযুক্ত করে তোলার জন্যই ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠা।
- এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্রীরামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক বাংলায় অভিজ্ঞ উইলিয়াম কেরি।
- তিনি তাঁর অধীনস্ত দু জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। তাঁদের প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:

• কেরি রচিত: কথোপকথন (১৮০১); ইতিহাসমালা (১৮১২) ।
•  রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১); লিপিমালা (১৮০২) ।
• গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত:
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২);
-  হিতোপদেশ (১৮০৮);
- রাজাবলি (১৮০৮);
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩) ।

• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট (১৮০৩)।
•  রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)।

• চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস (১৮০৫)।
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৭.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. রামরাম বসু
  3. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা

তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৫৮.
'ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' চরণটি কোন নাটকের?
  1. সাজাহান
  2. তারাবাঈ
  3. মেবার পতন
  4. দুর্গাদাস
সঠিক উত্তর:
সাজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাজাহান
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক সাজাহান।
এটি সম্রাট শাহজাহানকে নিয়ে লেখা প্রথম নাটক‌।
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের বিখ্যাত গান 'ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' এই নাটকে ব্যবহৃত হয়।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার
৫৯.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. চণ্ডীচরণ মুনশী
  2. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. রামরাম বসু
  4. গোলকনাথ শর্মা
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন। তার রচিত গ্রন্থগুলো হলো: বত্রিশ সিংহাসন, -রাজাবলী, -হিতোপদেশ, -বেদান্তচন্দ্রিকা, -প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলোচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৬০.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বেদান্তচন্দ্রিকা
  2. হিতোপদেশ
  3. বত্রিশ সিংহাসন
  4. কথামালা
সঠিক উত্তর:
কথামালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথামালা
ব্যাখ্যা
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ - কথামালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬১.
চণ্ডীচরণ মুনশী কোন গ্রন্থটি রচনা করেন?
  1. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
  2. লিপিমালা
  3. কথোপকথন
  4. তোতা ইতিহাস
সঠিক উত্তর:
তোতা ইতিহাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোতা ইতিহাস
ব্যাখ্যা
তোতা ইতিহাস:
- চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত গ্রন্থ 'তোতা ইতিহাস' একটি গল্পগ্রন্থ। যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে। এটি ফারসি সাহিত্য থেকে অনুবাদকৃত।

চণ্ডীচরণ মুনশী:
- তিনি ছিলেন বাঙ্গালী লেখক।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাঙালা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অন্যদিকে, 
উইলিয়াম কেরি রচিত গ্রন্থ - কথোপকথন (১৮০১)
রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ - রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১) ও লিপিমালা (১৮০২)। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬২.
কোন নাটকের রচনাকালে রচয়িতা কারাগারে বন্দি ছিলেন?
  1. ক) শঙ্খনীল কারাগার
  2. খ) কমলাকান্তের জবানবন্দী
  3. গ) রাজবন্দীর রোজনামচা
  4. ঘ) কবর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কবর
ব্যাখ্যা
'কবর' মুনীর চৌধুরীর একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক। 
- বাংলা ভাষা আন্দোলনের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে মুনীর চৌধরীকে আটক করা হয়।
- ১৯৫৩ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারির প্রাক্কালে জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় অন্য রাজবন্দি বামপন্থী লেখক রণেশ দাশগুপ্ত মুনীর চৌধুরীকে নাটক লিখতে বলেন।
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত Bury The Dead (১৯৩৬) নাটকের অনুসরণে ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে ‘কবর’ নাটকটি রচিত হয়েছে।
- রাজবন্দিরা এই নাটকটি জেলেই মঞ্চস্থ করেন।

মুনীর চৌধুরীর অন্যান্য মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর
- চিঠি
- দন্ডকারণ্য।

তাঁর অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

রাজবন্দীর রোজনামচা শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
শঙ্খনীল কারাগার হুমায়ুন আহমেদের প্রথম লিখিত উপন্যাস ।
কমলাকান্তের জবানবন্দী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রম্য রচনা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৩.
বাংলা সাহিত্যে গদ্যরীতির সূচনা হয় কবে?
  1. ষোল শতকে
  2. সতের শতকে
  3. আঠার শতকে
  4. উনিশ শতকে
সঠিক উত্তর:
ষোল শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষোল শতকে
ব্যাখ্যা

• বাংলা গদ্যের উৎপত্তি:
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের পূর্বে সাহিত্যগুণসমৃদ্ধ কোন গদ্যরচনার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না।
- দৈনন্দিন জীবনে বাঙালির কথাবার্তায় চিরদিন গদ্যরীতি ব্যবহৃত হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত সাহিত্যে তার অনুপ্রবেশ ঘটে নি এবং এর লিখিত রূপ চিঠিপত্র, দলিলদস্তাবেজ, বৈষ্ণব কড়চা ও বিদেশি খ্রিষ্টানকর্তৃক লিখিত ধর্মবিষয়ক গ্রন্থের সঙ্কীর্ণ সীমানায় আবদ্ধ ছিল।
- ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
- ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে ভাষাগত দিক থেকে গদ্যের উৎকর্ষসাধন মোটেই সম্ভবপর হয় নি।
- ইতস্তত বিক্ষিপ্ত কিছুসংখ্যক দৃষ্টান্ত অন্যত্র দৃষ্টিগোচর হলেও বাণিজ্যসম্ভারের পশ্চাতে খ্রিষ্টধর্মের পসার সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।

• ড. সুকুমার সেন বাংলা গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন। সে স্তরগুলোর পরিধি:
- প্রথম স্তর: সূচনা - ষোল শতক থেকে ১৮০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
- দ্বিতীয় স্তর: উন্মেষ - ১৮০০ (শ্রীরামপুর মিশন) থেকে ১৮৪৭ সালের (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের) পূর্ব পর্যন্ত ।
- তৃতীয় স্তর: অভ্যুদয় - ১৮৪৭ (বিদ্যাসাগর) থেকে ১৮৬৫ সালের (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের) পূর্ব পর্যন্ত
- চতুর্থ স্তর: পরিণতি - ১৮৬৫ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় বাংলা গদ্যরীতির সূচনা হয় ষোল শতকে তকে উনিশ শতকে বাংলা সাহিত্যে গদ্যরীতির ব্যবহার শুরু হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৬৪.
'আমলার মামলা' নাটকটি কে লিখেছেন?
  1. শওকত ওসমান
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সমরেশ বসু
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
'আমলার মামলা' নাটকটির রচয়িতা শওকত ওসমান। 

শওকত ওসমান
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

তাঁর রচিত নাটক: 
- তস্কর লস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা,
- কাঁকর মণি,
- বাগদাদের কবি।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী
- জাহান্নাম হইতে বিদায়।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৫.
নিচের কোনটি নাটক?
  1. ক) কন্যাকুমারী
  2. খ) নতুন চাঁদ
  3. গ) গড্ডলিকা
  4. ঘ) নেমেসিস
সঠিক উত্তর:
ঘ) নেমেসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নেমেসিস
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত নাটক।

 • অন্যান্য অপশন:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ - 'নতুন চাঁদ'।
- আব্দুর রাজ্জাক রচিত উপন্যাস - 'কন্যাকুমারী'।
- রাজশেখর বসু রচিত গল্পগ্রন্থ - 'গড্ডলিকা'।
৬৬.
‘গন্ধবণিক’ কী ধরনের রচনা?
  1. ক) নাটক
  2. খ) কবিতা
  3. গ) গল্প
  4. ঘ) প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
গ) গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গল্প
ব্যাখ্যা

'গন্ধবণিক 'আল মাহমুদ রচিত গল্পগ্রন্থ। প্রকাশিত হয়, ১৯৮৬ সালে।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬৭.
গদ্য সাহিত্য প্রকৃতপক্ষে কোন যুগের সৃষ্টি?
  1. প্রাচীন যুগ
  2. অন্ধকার যুগ
  3. মধ্যযুগ
  4. আধুনিক যুগ
সঠিক উত্তর:
আধুনিক যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধুনিক যুগ
ব্যাখ্যা

• গদ্য সাহিত্য রচনার সূচনা:
- উনিশ শতকের (১৮০০-১৮৯৯) শুরুতে বাংলা ভাষার গদ্য সাহিত্য রচনা শুরু হয়।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা হিসেবে ধরা হয়।
- ১৮০১ থেকে আধুনিক যুগের সূচনা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা, বাংলা বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং আধুনিক চিন্তার কারণে বাংলা সাহিত্যে আধুনিক ধারা তরান্বিত হয়। 
- কাব্য, ছড়া, পালা প্রাচীন ও মধ্যযুগের সৃষ্টি।
- কিন্তু নাটক, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, গদ্য, সাময়িকপত্র আধুনিক যুগের সৃষ্টি।

উল্লেখ্য, 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়। 
- বাংলা গদ্যকে সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও বহুমুখী প্রকাশক্ষম করার প্রধান কৃতিত্ব ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের।
- এজন্য তাকে "বাংলা গদ্যের জনক" বলা হয়।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
- বাংলাপিডিয়া।

৬৮.
নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) শঙ্খনীল কারাগার
  2. খ) জোছনা ও জননীর গল্প
  3. গ) আগুনের পরশমণি
  4. ঘ) মাতাল তরণী
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাতাল তরণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাতাল তরণী
ব্যাখ্যা
‘মাতাল তরণী’ হুমায়ুন আজাদ রচিত প্রবন্ধ। [সূত্র: LiveMCQ লেকচার]
৬৯.
'ব্রাহ্মণ রোমান ক্যাথলিক সংবাদ' নামক মুদ্রিত গ্রন্থটি রচিত হয় -
  1. ১৮৩৭ সালে
  2. ১৭৩৫ সালে
  3. ১৭৯০ সালে
  4. ১৯১৪ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৩৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৩৫ সালে
ব্যাখ্যা
• ‘ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ’ গ্রন্থ:
- বাংলা গদ্যের প্রাচীনতম নিদর্শনের পরবর্তী প্রচেষ্টার নিদর্শনস্বরূপ সর্বাগ্রে উল্লেখ করা যায় সতের শতকের শেষভাগে ঢাকার ভূষণার জমিদারপুত্র দোম আন্তনিও নামক একজন দেশীয় পাদ্রি রচিত 'ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ'।
- ‘ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ’ গ্রন্থে একজন ব্রাহ্মণ ও একজন রোমান-ক্যাথলিকের মধ্যে ধর্মবিচারচ্ছলে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে খ্রিষ্ট ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপাদন করাই ছিল উদ্দেশ্য।
- গ্রন্থটি ১৭৩৫ সালে রচিত হয় এবং পর্তুগালের রাজধানী লিসবন নগরে ১৭৪৩ সালে রোমান অক্ষরে মুদ্রিত হয়।
- সাধুভাষার ছাঁদে গ্রন্থটি লিখিত এবং এতে ফারসি শব্দের বাহুল্য বর্জন করার চেষ্টা আছে।
- গ্রন্থের ভাষায় তৎসম শব্দের আধিক্য পরিলক্ষিত না হলেও রচনা সহজবোধ্য হয়নি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং ‘ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ’ গ্রন্থ।
৭০.
ঠকচাচা ও মতিলাল চরিত্র দুটি কোন উপন্যাসের?
  1. ক) কপালকুন্ডলা
  2. খ) চোখের বালি
  3. গ) আলালের ঘরের দুলাল
  4. ঘ) যোগাযোগ
সঠিক উত্তর:
গ) আলালের ঘরের দুলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা
- ঠকচাচা ও মতিলাল চরিত্র দুটি 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।

• আলালের ঘরের দুলাল:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭১.
'লিপিমালা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রামরাম বসু
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. গোলোকনাথ শর্মা
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
রামরাম বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামরাম বসু
ব্যাখ্যা

ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:
- উইলিয়াম কেরি রচিত: কথোপকথন (১৮০১); ইতিহাসমালা (১৮১২)।
- রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১); লিপিমালা (১৮০২)
- গোলোকনাথ শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২); হিতোপদেশ (১৮০৮); রাজাবলি (১৮০৮); প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)।
- তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট (১৮০৩)।
- রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)।
- চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস (১৮০৫)।
- হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭২.
বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য 'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. মানোএল দা আসসুম্পসাঁও
  3. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
মানোএল দা আসসুম্পসাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানোএল দা আসসুম্পসাঁও
ব্যাখ্যা
• "কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ" গ্রন্থ:
• রোমান ক্যাথলিক পর্তুগিজ পাদরি মানোএল দা আসসুম্পসাঁও কর্তৃক ১৭৩৪ সালে রচিত এবং ১৭৪৩ সালে লিসবনে রোমান হরফে মুদ্রিত 'কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ' গ্রন্থটি বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

• গ্রন্থটি ঢাকার ভাওয়াল অঞ্চলের নাগরী (বর্তমান গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার একটি গ্রাম) নামক স্থানে লিখিত। এই গ্রন্থের বাঁ দিকের পৃষ্ঠায় বাংলা ভাষায় এবং ডান দিকের পৃষ্ঠায় পর্তুগিজ ভাষায় গুরু ও শিষ্যের কথোপকথনের মাধ্যমে খ্রিস্টধর্মের মহিমা এবং খ্রিস্টানদের আচার-অনুষ্ঠানের কথা আলোচিত হয়েছে।

• মূল পর্তুগিজ অংশ মানোএল দা আসসুম্পসাঁও-এর লেখা; তিনি সম্ভবত কোন দেশীয় খ্রিস্টান দ্বারা বাংলা ভাষায় অনুবাদ করিয়েছিলেন। খ্রিস্টীয় ধর্মশাস্ত্রকে কৃপা বা দয়ার শাস্ত্র মনে করে এর অর্থ রহস্য উদ্ঘাটন করার চেষ্টা আলোচ্য গ্রন্থে পরিদৃষ্ট হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৩.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) ইছামতি
  2. খ) ময়ূরকন্ঠী
  3. গ) ধূপছায়া
  4. ঘ) সংকর সকীর্তন
সঠিক উত্তর:
ক) ইছামতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ইছামতি
ব্যাখ্যা
ইছামতি (১৯৫০) উপন্যাসের জন্যে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গ সরকার মরণোত্তর রবীন্দ্র পুরস্কার প্রদান করে। এটি নীল বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- আরণ্যক,
- অংশনি সংকেত (অসমাপ্ত),
- আদর্শ হিন্দু হোস্টেল,
- দৃষ্টিপ্রদীপ,
- দেবযান ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার
৭৪.
বাংলা গদ্যসাহিত্যের আদি নিদর্শন 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. রামরাম বসু
  3. চণ্ডীচরণ মুন্শী
  4. তারিণীচরণ মিত্র
সঠিক উত্তর:
রামরাম বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
• বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত ও ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ছাপাখানা থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ - রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত এই গদ্যগ্রন্থের রচয়িতা - রামরাম বসু।
- ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ গ্রন্থটি ১৮০১ সালে মুদ্রিত হয়।

-----------------------------------
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
• ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষায় শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
• এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্ররিামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক উইলিয়াম কেরি। তিনি তাঁরা অধীনস্ত দু-জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।
• তাঁদের এই প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:
• কেরি রচিত: কথোপকথন (১৮০১); ইতিহাসমালা (১৮১২)।
• রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১); লিপিমালা (১৮০২)।
• গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২); হিতোপদেশ (১৮০৮); রাজাবলি (১৮০৮); প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)।
• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট (১৮০৩)।
• রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)।
• চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস (১৮০৫)। 
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৫.
কোনটি শওকত ওসমানের নাটক?
  1. পিঁজরাপোল
  2. পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
  3. নেকড়ে অরণ্য
  4. রাজসাক্ষী
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

- কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবল সিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসঃ
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী
- জাহান্নাম হইতে বিদায়

তাঁর রচিত একটি নাটকঃ
- তস্কর লস্কর
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা
- কাঁকর মণি
- বাগদাদের কবি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৭৬.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ পর্বে রচিত বাংলা বইগুলো-
  1. সংস্কৃত বইয়ের অনুবাদ
  2. ফারসি বইয়ের অনুবাদ
  3. ইংরেজি বইয়ের অনুবাদ
  4. পণ্ডিতদের রচিত মৌলিক গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত বইয়ের অনুবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত বইয়ের অনুবাদ
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ পর্বে রচিত বাংলা বইগুলো- সংস্কৃত বইয়ের অনুবাদ। 

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ (১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত) পর্বে (বিশেষত ১৮০১-১৮১৫) বাংলা গদ্যের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে, কিন্তু এই সময়ে রচিত বাংলা গ্রন্থগুলোর অধিকাংশই সংস্কৃত গ্রন্থের অনুবাদ বা সংস্কৃত সাহিত্যের প্রভাবে রচিত হয়েছে। উইলিয়াম কেরির নেতৃত্বে দেশীয় পণ্ডিতরা (যেমন, রামরাম বসু, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, গোলকনাথ শর্মা) এই কাজ করেন। এই গ্রন্থগুলো কলেজের ইংরেজ কর্মচারীদের জন্য পাঠ্যপুস্তক হিসেবে রচিত হয়েছে, যাতে সংস্কৃতের কৃত্রিম গাম্ভীর্য এবং সাধু ভাষার প্রাধান্য লক্ষণীয়।

উদাহরণস্বরূপ:
• হিতোপদেশ (গোলকনাথ শর্মা, ১৮০২; মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, ১৮০৮): সংস্কৃত গ্রন্থের অনুবাদ।
• বত্রিশ সিংহাসন (মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, ১৮০২): সংস্কৃত কথাসাহিত্যের অনুবাদ।
• রাজাবলি (মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, ১৮০৮): সংস্কৃত ইতিহাসের অনুবাদ।
• রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (রামরাম বসু, ১৮০১): এটি বাংলা গদ্যের প্রথম মুদ্রিত জীবনচরিত্র, কিন্তু সংস্কৃত শৈলীতে রচিত এবং ঐতিহাসিক উৎসের ভিত্তিতে (মৌলিক বলে বিবেচিত হলেও, সংস্কৃত প্রভাব প্রধান)।

যদিও কিছু গ্রন্থে পণ্ডিতদের নিজস্ব শৈলী প্রকাশ পেয়েছে (যেমন, কথোপকথন বা লিপিমালা), তবুও অধিকাংশই অনুবাদভিত্তিক। এই পর্ব বাংলা গদ্যকে সংস্কৃতীকরণ করেছে, যা পরবর্তীকালে চলিত ভাষার প্রসারে সাহায্য করেছে।

অন্যান্য অপশনগুলো কেন সঠিক নয় তা বিশ্লেষণ করা হলো:
খ) ফারসি বইয়ের অনুবাদ: ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে ফারসি ভাষার শিক্ষা দেওয়া হলেও বাংলা গদ্যপুস্তকগুলো ফারসি গ্রন্থের অনুবাদ ছিল না। এগুলো মূলত সংস্কৃত গ্রন্থের ভিত্তিতে রচিত হয়।

গ) ইংরেজি বইয়ের অনুবাদ: এই পর্বে বাংলা গদ্যে ইংরেজি গ্রন্থের অনুবাদের উদাহরণ তেমন পাওয়া যায় না। বাংলা গদ্যের প্রাথমিক বিকাশে সংস্কৃত প্রভাবই প্রধান ছিল।

ঘ) পণ্ডিতদের রচিত মৌলিক গ্রন্থ: যদিও কিছু গ্রন্থে পণ্ডিতদের নিজস্ব রচনাশৈলী প্রকাশ পেয়েছে (যেমন, উইলিয়াম কেরির কথোপকথন বা রামরাম বসুর রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র), তবুও এই গ্রন্থগুলোর অধিকাংশই সংস্কৃত গ্রন্থের অনুবাদ বা সংস্কৃত সাহিত্যের প্রভাবে রচিত। তাই এটিকে সম্পূর্ণ মৌলিক গ্রন্থ বলা যায় না।


-------------------------
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:

বাংলাদেশে কর্মরত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষায় শিক্ষাদানের জন্য তৎকালীন ইংরেজশাসিত ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি কর্তৃক ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ৪ঠা মে কলেজের প্রতিষ্ঠা-দিবস হলেও ২৪শে নভেম্বর থেকে কলেজের কাজ শুরু হয়েছিল। ওয়েলেসলি অনুভব করেছিলেন যে কোম্পানির দায়িত্বপূর্ণ কাজের ভার নিয়ে বিলাত থেকে যারা আসে, তারা অধিকাংশ চৌদ্দ থেকে আঠার বৎসরের নাবালক, স্বদেশে তাদের শিক্ষা সম্পূর্ণ হয় নি, এ দেশেও তার কোন ব্যবস্থা ছিল না। দেশীয় ভাষা শিক্ষা দিয়ে এই সিবিলিয়ানদের উপযুক্ত করে তোলার জন্যই ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠা। এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্রীরামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক বাংলায় অভিজ্ঞ উইলিয়াম কেরি। তিনি তাঁর অধীনস্ত দু জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। তাঁদের প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন:
• কেরি রচিত- কথোপকথন (১৮০১); ইতিহাসমালা (১৮১২)। 
• রামরাম বসু রচিত- রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১), লিপিমালা (১৮০২)। 
• গোলোকনাথ শর্মা রচিত- হিতোপদেশ (১৮০২)। 
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), হিতোপদেশ (১৮০৮),  রাজাবলি (১৮০৮), প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)। 
• তারিণীচরণ মিত্র রচিত- ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট (১৮০৩)। 
• রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত- মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)। 
• চণ্ডীচরণ মুর্শী রচিত- তোতা ইতিহাস (১৮০৫)।
• হরপ্রসাদ রায় রচিত-  পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)। 

উল্লেখ্য,
বাংলা ভাষার সংস্কৃতীকরণ বাংলা গদ্যের সূচনাতেই এর রূপের পরিবর্তন ঘটেছিল। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজকে কেন্দ্র করে যে লেখকগোষ্ঠী গদ্যরচনায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন তাঁরাই বাংলা গদ্যকে সংস্কৃতঘেঁষা করে তোলেন। এতদিন পর্যন্ত দৈনন্দিন জীবনের কথাবার্তায় তদ্ভব, আরবি-ফারসি ও দেশজ শব্দমিশ্রিত যে ভাষা প্রচলিত ছিল তা সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিতগণের প্রভাবে সংস্কৃত শব্দসম্ভারে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে এবং গদ্যরীতির মধ্যে কৃত্রিম গাম্ভীর্য আনীত হয়। এমনিভাবে বাংলা গদ্য একটা নতুন রূপ পরিগ্রহ করে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া। 

৭৭.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম গদ্যগ্রন্থ -
  1. ক) কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
  2. খ) মঙ্গল সমাচার
  3. গ) কথোপকথন
  4. ঘ) রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
সঠিক উত্তর:
ক) কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম গদ্যগ্রন্থ- কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ।

- 'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' গ্রন্থটি রচনা করেন - মনোএল দা আসসাম্পসাঁউ ।

মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ একজন পর্তুগিজ। মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেনি।

- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো: · কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ।

- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোর্তুগিজ। এর মধ্যে ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ গ্রন্থে একটি অধ্যায়ে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ সংযোজন করেন। তাই তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭৮.
আর্য ভাষার প্রথম স্তর কোনটি?
  1. ক) বৈদিক
  2. খ) সংস্কৃত
  3. গ) অপভ্রংশ
  4. ঘ) তদ্ভব
সঠিক উত্তর:
ক) বৈদিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বৈদিক
ব্যাখ্যা
আর্য ভাষার তিনটি স্তর হলো যথাক্রমে বৈদিক,সংস্কৃত এবং অপভ্রংশ।
উৎসঃ হুমায়ুন আজাদ রচিত ‘বাংলা ভাষার জন্মকথা’।
৭৯.
কলকাতার বেঙ্গলি থিয়েটার-এ মঞ্চস্থ প্রথম বাংলা নাটক কোনটি?
  1. কাল্পনিক সংবদল
  2. ভানুমতি চিত্ত বিলাস
  3. কিঞ্চিৎ জলযোগ
  4. কলীনকল সর্বস্ব
সঠিক উত্তর:
কাল্পনিক সংবদল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাল্পনিক সংবদল
ব্যাখ্যা

• নাটকের উৎপত্তি:
- ১৭৯৫ সালের ২৭ নভেম্বর কলকাতার বেঙ্গলি থিয়েটার-এ মঞ্চস্থ হয় প্রথম বাংলা নাটক “কাল্পনিক সংবদল'।
- এটি কোন মৌলিক নাটক নয়, অনুবাদ নাটক। রুশদেশীয় যুবক গেরাসিম স্তেপানভিচ্‌ লেবেদেফ ইংরেজি নাটক "দ্য ডিসগাইজ' বাংলায় রূপান্তর করে লেখেন “কাল্পনিক সংবদল'।
- এ সময় লেবেদেফ “লাভ ইজ দ্য বেস্ট ডক্টর' নামে আরও একটি কৌতুক নাটক অনুবাদ করেন। এ নাটকটিও কলকাতার বেঙ্গলি থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়। নাটকদ্বয় বাংলায় রূপান্তর করতে গিয়ে লেবেদেফ পন্ডিত গোলকনাথ দাসের সহায়তা গ্রহণ করেছিলেন। 
- ১৭৯৫ সালে রুশীয় যুবক লেবেদেফের এই সাহসী উদ্যমের পর ধীরে ধীরে বাংলা নাটক বিকশিত হতে আরম্ভ করে।

অন্যদিকে, 
• হরচন্দ্র ঘোষ রচিত নাটক 'ভানুমতি চিত্ত বিলাস' (১৮৫৩)। 
• জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক 'কিঞ্চিৎ জলযোগ'। 
• রামনারায়ন তর্করত রচিত নাটক 'কলীনকল সর্বস্ব' নাটক

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথমপত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮০.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের শিক্ষক ছিলেন না কে?
  1. রামরাম বসু
  2. গোলকনাথ শর্মা
  3. চণ্ডীচরণ মুনশী
  4. রাজা রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের শিক্ষক ছিলেন না। 

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:

- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু, 
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলোচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮১.
‘কুলীন কুলসর্বস্ব’ নাটকটি কার লেখা?
  1. ক) রামনারায়ণ তর্করত্ন
  2. খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. গ) জ্যোতিন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) দীনবন্ধু মিত্র
সঠিক উত্তর:
ক) রামনারায়ণ তর্করত্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রামনারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা

বাংলা মৌলিক নাটক রচয়িতা হিসেবেই রামনারায়ণের মুখ্য পরিচয়। বাংলা ভাষায় প্রথম বিধিবদ্ধ নাটক রচনার জন্য তিনি 'নাটুকে রামনারায়ণ' নামে পরিচিত ছিলেন।
কুলীনকুলসর্বস্ব (১৮৫৪) তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ নাটক। এতে হিন্দুসমাজে বহুবিবাহ প্রথার কুফল সম্পর্কে বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

৮২.
উত্তর বসন্ত - কি ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) গল্পগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. ঘ) কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

আবদুল কাদির রচিত কাব্যগ্রন্থঃ দিলরুবা, উত্তর বসন্ত।
তার রচিত প্রবন্ধগ্রন্থঃ বাংলা কাব্যের ইতিহাসঃ মুসলিম সাধনার ধারা, কবি নজরুল, কাজী আবদুল ওদুদ, লোকায়ত সাহিত্য ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৮৩.
‘যত বড় ক্ষতি ততো বড় লাভ-এই তো জগতের নিয়ম।’ উক্তিটি কোন নাটকের অন্তর্গত?
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. কবর
  3. রূপার কৌটা
  4. দণ্ডকারণ্য
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
⇒ ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

নাটকে ব্যবহৃত কিছু উক্তি হলো:
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' - রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- ‘যত বড় ক্ষতি ততো বড় লাভ-এই তো জগতের নিয়ম।’- রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকে উক্তিটি করেছেন নজীবদ্দৌলা। 
- ‘আমরা হচ্ছি পাহারাদার। টুলি-পরা কলুর বলদ।’- রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকে উক্তিটি করেছেন বশির।

-------------------
⇒ মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৪.
'হাঙর নদী গ্রেনেড' সেলিনা হোসেন রচিত একটি-
  1. ক) সামাজিক উপন্যাস
  2. খ) ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস
  3. গ) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  4. ঘ) গল্প
সঠিক উত্তর:
গ) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
হাঙর নদী গ্রেনেড বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন রচিত একটি বাংলা ভাষার উপন্যাস।

'হাঙর নদী গ্রেনেড' 
- উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কালের যশোরের কালীগঞ্জ গ্রামের এক মায়ের সত্য ঘটনা অবলম্বনে সেলিনা হোসেন এই উপন্যাসটি রচনা করেন। - - ১৯৭২ সালে গল্পাকারে ঘটনাটি লিখেন এবং সমকালীন টেরেডাকটিল নামে তরুণদের একটি পত্রিকায় গল্পটি ছাপা হয়েছিল।
- ১৯৭৪ সালে গল্পটিকে উপন্যাস আকারে লিখেন এবং ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেন।

• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থসমূহ:
প্রবন্ধ: 
- স্বদেশে পরবাসী
- একাত্তরের ঢাকা
- নির্ভয় করো হে
- মুক্তো করো ভয়
- ঘর গেরস্থির রাজনীতি

গল্প:
- উৎস থেকে নিরন্তরত
- পরজন্ম
- মানুষটি 
- মতিজানের মেয়েরা
- অনূঢ়া
- পূর্ণিমা
- একালের পান্তাবুড়ি
- নারীর রূপকথা। 

উপন্যাস : 
- জলোচ্ছ্বাস
- মগ্ন চৈতন্যে শিস
- যাপিত জীবন
- নীল ময়ূরের যৌবন
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি 
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
- কালকেতু ও ফুল্লরা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৮৫.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বত্রিশ সিংহাসন
  2. হিতোপদেশ
  3. প্রবোধচন্দ্রিকা
  4. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
সঠিক উত্তর:
রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
ব্যাখ্যা

• রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র গ্রন্থের রচয়িতা রামরাম বসু।

​• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:

- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।

​তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- হিতোপদেশ,
- রাজাবলি,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৮৬.
কোন প্রতিষ্ঠানটি গদ্যচর্চা শুরু করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
  1. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  2. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
  3. বিশ্বভারতী
  4. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
ব্যাখ্যা
→ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগে পদ্যই ছিল ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন। মধ্যযুগে কতিপয় ক্ষেত্রে চিঠিপত্র, দলিল-দস্তাবেজে গদ্যের ব্যবহার দেখা গেলেও তা ছিল খুবই সীমিত।
→ ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বাংলা গদ্যে গ্রন্থ প্রণয়নের প্রয়োজন দেখা দেয়।
১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজকে কেন্দ্র করে গদ্যচর্চা শুরু হয়। সেদিনকার গদ্য লেখকগণ গদ্যগ্রন্থ রচনা করতে গিয়ে মূলত নির্ভর করলেন সাধুজনের মধ্যে ব্যবহৃত সংস্কৃত ভাষার ওপর।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৮৭.
'ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
খ) মুহম্মদ আবদুল হাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থাবলী - সাহিত্য ও সংস্কৃতি, বিলাতে সাড়ে সাত শ' দিন, তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা, ভাষা ও সাহিত্য, এ ফোনেটিক এন্ড ফোনোলোজিক্যাল স্টাডি অব নেইজালস অ্যান্ড নেইজালাইজেশন ইন বেঙ্গলি, ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব, বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (সৈয়দ আলী আহসান সহযোগে)।
৮৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক কোনটি?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. কৃষ্ণকুমারী 
  3. নীলদর্পণ
  4. শর্মিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
শর্মিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও নাটক:
- বাংলা সাহিত্যে মাইকেল মধুসূদন দত্ত  (১৮২৪-৭৩) সগৌরব আবির্ভাব ঘটেছিল নাট্যরচনার সূত্র ধরে। নাটকের দীনহীন অবস্থা প্রত্যক্ষ করে তিনি নাটক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন এবং পরবর্তী পর্যায়ে তাঁর বিশ্বয়কর প্রতিভা বৈচিত্র্যমুখী হয়ে ওঠে।

- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাট্যকার হিসেবে মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্থান সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর প্রথম সার্থক নাটক 'শর্মিষ্ঠা' (১৮৫৯) বাংলা নাটকে প্রাণসঞ্চার করতে সক্ষম হয়। এই নাটকের পূর্বেকার বাংলা নাটকে কৌতুকরসের বাহুল্য, রচনার গুরুভার ইত্যাদি ত্রুটি বিদ্যমান ছিল। মধুসূদন পূর্ববর্তী প্রভাব কাটিয়ে বাংলা নাটককে উদ্দেশ্যহীন গতি থেকে মুক্তি দিয়ে কাহিনিবিন্যাস, ঘটনার সংস্থাপনা এবং কৌতুক-রসের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে এক নতুন জীবনদান করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

- সংস্কৃত আলঙ্কারিকদের বিধিনিষেধ থেকে মুক্তি, কাহিনিতে নিরবচ্ছিন্ন গতি, নাট্যরীতিতে পাশ্চাত্য আদর্শ গ্রহণ ইত্যাদির ফলে বাংলা নাটক তাঁর হাতেই ভাবীকালের পথের সন্ধান পেয়ে সার্থকতর সৃষ্টির পর্যায়ে উন্নীত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৮৯.
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আধুনিকতম শাখা কোনটি?
  1. উপন্যাস
  2. ছোটগল্প
  3. নাটক
  4. কাব্য
সঠিক উত্তর:
ছোটগল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের অন্যতম উপাদান ও আধুনিকতম শাখা হলো ছোটগল্প।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত ধরে বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্প স্থান লাভ করে বিধায় তাকে ছোটগল্পের জনক বলা হয়। 
---------------------
• 'ছোটগল্প':
- ছোটগল্প  কথাসাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- বাংলা সাহিত্যে এর আবির্ভাব উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে।
- ছোটগল্প বলতে সাধারণত তাকেই বোঝায় যা আধঘণ্টা থেকে এক বা দুঘণ্টার মধ্যে এক নাগাড়ে পড়ে শেষ করা যায়।
- তবে আকারে ছোট হলেই তাকে ছোটগল্প বলা যাবে না।
- কারণ ছোটগল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে বিন্দুতে সিন্ধুর বিশালতা থাকতে হবে, অর্থাৎ অল্প কথায় অধিক ভাব ব্যক্ত করতে হবে।

• ছোটগল্পের প্রকৃতি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) তাঁর ‘বর্ষাযাপন’ কবিতায় বলেছেন:
ছোটো প্রাণ, ছোটো ব্যথা ছোটো ছোটো দুঃখকথা
নিতান্তই সহজ সরল,
সহস্র বিস্মৃতিরাশি  প্রত্যহ যেতেছে ভাসি
তারি দু-চারিটি অশ্রুজল।
নাহি বর্ণনার ছটা  ঘটনার ঘনঘটা,
নাহি তত্ত্ব নাহি উপদেশ।
অন্তরে অতৃপ্তি রবে  সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হয়ে হইল না শেষ।

• ছোটগল্প সম্পর্কিত আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: 
- বাংলা সাহিত্যের ছোটগল্পের জনক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম 'ভিখারিণী'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প। 
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প 'দেনা পাওনা'।

অন্যদিকে,
• বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম শাখা কাব্য।
- 'চর্যাপদ' বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। যা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯০.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ খোলা হয়- 
  1. ১৮০০ সালে
  2. ১৮০১ সালে
  3. ১৮০২ সালে 
  4. ১৮০৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮০১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০১ সালে
ব্যাখ্যা

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলী কর্তৃক ১৮০০ সালের ৪মে প্রতিষ্ঠিত প্রাচ্যবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

- নবনিযুক্ত ইউরোপীয় আমলাদের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতি সাধনই ছিল এ কেন্দ্রের উদ্দেশ্য। 
-  ১৮০১ সালের ২৪শে নভেম্বর কলেজে বাংলা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রথম অধ্যক্ষ হন পাদ্রী উইলিয়াম কেরী। 
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ উইলিয়াম কেরী এবং তাঁর দুই সহকারী রামরাম বসু ও মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ছাড়াও আরো কয়েকজন বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠ্যপোযোগী গ্রন্থ রচনা করেন।

তথ্যসূত্র: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যবই- এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৯১.
বাংলা গদ্যের আদিপর্বের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ কোনটি?
  1. রাজসিংহ
  2. বত্রিশ সিংহাসন
  3. যুগলাঙ্গুরীয়
  4. চন্দ্রশেখর
সঠিক উত্তর:
বত্রিশ সিংহাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বত্রিশ সিংহাসন
ব্যাখ্যা
• বত্রিশ সিংহাসন:
- ‘বত্রিশ সিংহাসন' (১৮০২) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার অনূদিত কাহিনি সংকলন।
- বাংলা গদ্যের আদিপর্বের ইতিহাসে এই রচনাটি উল্লেখযোগ্য।

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:

- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ ও লেখক।
- উইলিয়াম কেরির সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ এর বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন।
- তিনি উনিশ শতকের প্রথম ভালো বাংলা গদ্য লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- এছাড়াও তিনি কাজ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পণ্ডিত হিসেবে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- বত্রিশ সিংহাসন,
- হিতোপদেশ,
- রাজাবলি,
- প্রবোধচন্দ্রিকা,
- বেদান্তচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস হচ্ছে-
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাজসিংহ।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯২.
কোনটি ত্রয়ী উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা
  2. ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  3. পরিত্যক্ত স্বামী
  4. দেয়াল
সঠিক উত্তর:
ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
ব্যাখ্যা

ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন এই তিনটি উপন্যাস একত্রে ত্রয়ী উপন্যাস নামে পরিচিত ।
- আবু জাফর শামসুদ্দীন কর্তৃক উপন্যাসগুলো রচিত ।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস পরিত্যক্ত স্বামী প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩)
- পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪)
- সংকর সংকীর্তন (১৯৮০)
- দেয়াল (১৯৮৫)।
গল্পগ্রন্থ:
- জীবন (১৯৪৮)
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা (১৯৭৮)
- ল্যাংড়ী (১৯৮৪);
প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য (১৯৬৪),
- Sociology of Bengal Politics (১৯৭৩)
- সোচ্চার উচ্চারণ (১৯৭৭)
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি (১৯৮৮) ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (সৌমিত্র শেখর)

৯৩.
গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত নাটক কোনটি?
  1. সিরাজদ্দৌলা
  2. কুলীনকুলসর্বস্ব
  3. মালতীমাধব
  4. কীর্তিবিলাস
সঠিক উত্তর:
সিরাজদ্দৌলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাজদ্দৌলা
ব্যাখ্যা
• 'সিরাজদ্দৌলা' নাটক:
- গিরিশচন্দ্র ঘোষের 'সিরাজদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজদ্দৌলাকে নবজাগ্রত স্বাদেশিকতার আদর্শ বিগ্রহে পরিণত করেছিলেন।
- ঐতিহাসিক অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় স্বাধীন বাংলার শেষ নবাব, ইংরেজ ঐতিহাসিকদের হাতে কুৎসা-কণ্টকিত, সিরাজদ্দৌলার নতুন দেশভক্তরূপ আবিষ্কার করেছিলেন। নাটকে তা যথাযথ রূপায়িত হয়েছিল।

- নাটকে সিরাজ-চরিত্রের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে সিরাজের উক্তিতে:
স্বেচ্ছাচারে চালিত জীবন,
হিতাহিত ছিল না বিচার,
মদ্যপানে করিয়াছি
শত শত দুর্নীতি ব্যাভার
কিন্তু কহি স্বরূপ বচন
বসি বৃদ্ধ নবাবের মরণ শয্যায়,
শেষ বাক্যে তাঁর
জন্মিয়াছে ধারণা আমার,
রাজকার্য নহে স্বেচ্ছাচার।

----------------------
তাঁর রচিত নাটক:
- আগমনী,
- অভিমন্যুবধ,
- রামের বনবাস,
- সীতাহরণ,
- পাণ্ডবের অজ্ঞাতবাস,
- প্রফুল্ল
- বলিদান,
- সিরাজদ্দৌলা,
- মীরকাশিম,
- ছত্রপতি শিবাজী,
- শঙ্করাচার্য,
- বিল্বমঙ্গল ঠাকুর।

অন্যদিকে,
• নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক 'কুলীনকুলসর্বস্ব' (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
• রামনারায়ণ তর্করত্নের অনুবাদ নাটক-  মালতীমাধব। 
• ১৮৫২ সালে যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্তের 'কীর্তিবিলাস' মৌলিক নাটক প্রকাশিত হয়। কীর্তিবিলাস' হচ্ছে বিয়োগান্ত নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৪.
ব্যঙ্গপ্রধান গল্পসংগ্রহ কোনটি?
  1. লিপিমালা
  2. রাজাবলি
  3. তোতা ইতিহাস
  4. ইতিহাসমালা
সঠিক উত্তর:
ইতিহাসমালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতিহাসমালা
ব্যাখ্যা

• 'ইতিহাসমালা':
- প্রায় দেড় শ ইতিহাসাশ্রিত গল্প অবলম্বনে ১৮১২ সালে 'ইতিহাসমালা' নামক অন্য একটি গ্রন্থ উইলিয়াম কেরি প্রকাশ করেন। এ দেশের সাহিত্যের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি প্রথম গল্পসংগ্রহ হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ স্থান পাওয়ার যোগ্য। 

- সংগৃহীত গল্পগুলোর অধিকাংশই ব্যঙ্গপ্রধান। এতে প্রাচ্য-পাশ্চাত্য উভয় উৎস থেকে গল্প সংগৃহীত হয়েছিল।

- 'হিতোপদেশ', 'পঞ্চতন্ত্র' প্রভৃতি প্রাচীন সংস্কৃত গ্রন্থের গল্প থেকে শুরু করে অপেক্ষাকৃত আধুনিক ধনপতি-খুল্লনা-লহনা, রূপ সনাতন গোস্বামির কথা এতে স্থান পেয়েছে। অনুবাদে যে যথেষ্ট পরিমাণ প্রাঞ্জলতা সঞ্চারিত হতে পারে ইতিহাসমালা তার বিশিষ্ট নিদর্শন। 

- সুষম ও প্রাঞ্জল রচনারীতির জন্য এই কলেজ থেকে প্রকাশিত সমস্ত গ্রন্থের মধ্যে তা শ্রেষ্ঠস্থানের অধিকারী। এই গ্রন্থের ভাষা ছিল ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রাথমিক যুগের ভাষা অপেক্ষা অনেক উন্নত এবং গদ্য রচনার একটা স্টাইলও এতে পরিলক্ষিত হয়।

অন্যদিকে, 
'লিপিমালা' ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ছাত্রদের চলিত ভাষা ও দেশীয় লোকের বৈষয়িক ব্যবহারের পরিচয়দানের জন্য পত্রাকারে লিখিত প্রবন্ধ।

• কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে রচিত 'রাজাবলি' গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে। আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

• চণ্ডীচরণ মুনশীর 'তোতা ইতিহাস' (১৮০৫) ফারসি থেকে অনুবাদ। পাঠ্যপুস্তক ও গল্পগ্রন্থ হিসেবে গ্রন্থটি যথেষ্ট সমাদর লাভ করেছিল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

৯৫.
নিচের কোনটি আহমেদ ছফা এর উপন্যাস নয়?
  1. ক) মরণ বিলাস
  2. খ) গাভি বিত্তান্ত
  3. গ) সূর্য তুমি সাথী
  4. ঘ) বিহঙ্গ পুরাণ
  5. ঙ) জাগ্রত বাংলাদেশ
সঠিক উত্তর:
ঙ) জাগ্রত বাংলাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ) জাগ্রত বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
জাগ্রত বাংলাদেশ(১৯৭১) আহমদ ছফার প্রবন্ধগ্রন্থ। সূর্য তুমি সাথী, ওঙ্কার, মরণ বিলাস, অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী, বিহঙ্গ পুরাণ আহমদ ছফার উপন্যাস। সূত্রঃ সৌমিত্র শেখর, ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৯৬.
ভাষা আন্দোলন নির্ভর উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) নেকড়ে অরণ্য
  2. খ) জীবন ক্ষুদা
  3. গ) আরেক ফালগুণ
  4. ঘ) আনন্দের মৃত্যু
সঠিক উত্তর:
গ) আরেক ফালগুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আরেক ফালগুণ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস - আরেক ফাল্গুন। প্রকাশকাল - ১৯৬৮ সাল। এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালন নিয়ে লেখা। পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুন হবো’ যা প্রণিধানযোগ্য। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৭.
'প্রফুল্ল' নাটকটি কার লেখা?
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. মামুনুর রশিদ
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. জসীমউদ্দীন
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা

• গিরিশচন্দ্র ঘোষের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ বিয়োগান্ত নাটক প্রফুল্ল।
• তাঁর রচিত পৌরাণিক নাটকঃ
- রাবণবধ,
- সীতার বনবাস,
- সীতাহরণ,
- জনা,
- অভিমুন্যবধ,
- পাণ্ডব গৌরব ইত্যাদি।
• তাঁর ঐতিহাসিক নাটকঃ
- সিরাজউদ্দৌলা,
- মীর কাশিম,
- ছত্রপতি শিবাজী ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৯৮.
‘বেদান্তচন্দ্রিকা’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রামরাম বসু
  2. গোলোকথান শর্মা
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. রামরাম বসু
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• 'বেদান্তচন্দ্রিকা' গ্রন্থটির রচয়িতা মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
- গ্রন্থটি ১৮১৭ সালে প্রকাশিত হয়।

------------------
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:

- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পণ্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

-------------------------------
• ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:
• কেরি রচিত : কথোপকথন (১৮০১); ইতিহাসমালা (১৮১২) ।
•  রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০০); লিপিমালা (১৮০২) ।
• গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত:
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২);
-  হিতোপদেশ (১৮০৮);
- রাজাবলি (১৮০৮);
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩) ।

• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট (১৮০৩)।
• রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)।
• চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস (১৮০৫)।
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৯.
সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ করেন কে?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. চণ্ডীচরণ মুনশী
  4. কুসুমকুমারী দাশ
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা

• কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- তিনি ছিলেন একাধারে সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী।
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- কালীপ্রসন্ন সিংহ মাত্র তেরো বছর বয়সে 'বিদ্যোৎসাহিনী সভা' প্রতিষ্ঠা করেন।
- বিদ্যোৎসাহিনী সভাতে সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে মিলিত হয়ে নিয়মিত প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা করতেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত দুইটি গ্রন্থ:
• হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা তাঁর শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা।
এতে কলকাতার সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে এবং কলকাতার কথ্য ভাষাকে প্রথম সাহিত্যে স্থান দেওয়া হয়েছে।
বাংলা গদ্যের উন্নয়নে হুতোম প্যাঁচার নকশা মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

• সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ:
- সতেরো খণ্ডে সংস্কৃত মহাভারতের বাংলা গদ্যানুবাদও কালীপ্রসন্ন সিংহের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি।
- এটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১০০.
সাহিত্যজগতে নাট্যকার হিসেবে মামুনুর রশীদের আবির্ভাব ঘটে কোন নাটক প্রকাশের মধ্যদিয়ে?
  1. গিনিপিগ
  2. ওরা কদম আলী
  3. সমতট
  4. ওরা আছে বলেই
সঠিক উত্তর:
ওরা কদম আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওরা কদম আলী
ব্যাখ্যা
⇒ ওরা কদম আলী:
- ১৯৭৮ সালে 'ওরা কদম আলী' প্রকাশের মধ্যদিয়ে মামুনুর রশীদের আবির্ভাব ঘটে নাট্যকার হিসেবে।
- শোষিত-নিপীড়িত বঞ্চিত মানুষের জন্য নাটক লিখতে গিয়ে তিনি নাটকে নিয়ে এসেছেন প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ চেতনা।
- আর বঞ্চিত, শোষিত মানুষের শ্রেণিসংগ্রামের রূপকার হিসেবে মামুনুর রশীদের ‘ওরা কদম আলী' নাটক সমকালীন বাংলা নাট্য-সাহিত্যের ধারায় যুক্ত করেছেন বিশিষ্ট মাত্রা। গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যক্তিক প্রতিবাদ সামষ্টিক রূপ কীভাবে পরিগ্রহ করে কদম আলী নামের একটি বোবা চরিত্রের মধ্য দিয়ে এ নাটকে তা দেখানো হয়েছে। 

===========
⇒ মামুনুর রশীদ:
- মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান৷

• তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।