জাতীয় বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক:
- ৩১ জুলাই ২০২৫ তারিখে পরিকল্পনা কমিশনে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) পক্ষ থেকে ‘বাংলাদেশের জাতীয় বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
- দেশে প্রথমবারের মতো বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক (এমপিআই) প্রকাশ করেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)।
- এ সূচকে ব্যক্তির আয়-রোজগারের ভিত্তিতে দারিদ্র্য নিরূপণ করা হয় না, বরং বিভিন্ন সেবার প্রাপ্যতার ভিত্তিতে দারিদ্র্য নির্ধারণ করা হয়।
- মোট ১১টি সূচকের সমন্বয়ে এই দারিদ্র্য হিসাব করা হয়। সেগুলো হলো, বিদ্যুতের প্রাপ্যতা, স্যানিটেশন, পানির প্রাপ্যতা, আবাসনের মান, রান্নার জ্বালানির প্রাপ্যতা, সম্পদের প্রাপ্যতা, ইন্টারনেট সংযোগ, বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতির হার, শিশুদের শিক্ষাকালের ব্যাপ্তি, পুষ্টি এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা।
- ২০১৬ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপ (হেইস) এবং ২০১৯ সালের বহু সূচকবিশিষ্ট গুচ্ছ জরিপের (মিকস) ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
⇒ এমপিআই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে ২৪.৫ শতাংশ মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যে রয়েছে, যা সংখ্যায় প্রায় ৩ কোটি ৯৮ লাখ।
- গ্রামীণ এলাকায় এই হার ২৬.৯৬ শতাংশ, আর শহরে ১৩.৪৮ শতাংশ।
- সিলেট বিভাগে এই দারিদ্র্যের হার সর্বোচ্চ (৩৭.৭০ শতাংশ) এবং সবচেয়ে কম খুলনা বিভাগে।
⇒ প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, বহুমাত্রিকতার বিচারে সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্য হার বান্দরবানে ৬৫.৩৬ শতাংশ। এরপরের অবস্থানে থাকা কক্সবাজারে এ হার ৪৭.৭০ শতাংশ। বহুমাত্রিক দারিদ্র্যে শীর্ষ ১০ জেলার মধ্যে আরও আছে যথাক্রমে সুনামগঞ্জে ৪৭.৩৬, রাঙ্গামাটিতে ৪৫.৮৯, ভোলায় ৪৫.১২, নেত্রকোণায় ৩৮.২১, হবিগঞ্জে ৩৭.৪৮, খাগড়াছড়িতে ৩৬.৯১, কিশোরগঞ্জে ৩৬.১১ এবং কুড়িগ্রামে ৩৯.২৪ শতাংশ।
⇒ এছাড়া সবচেয়ে কম বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার ঝিনাইদহে ৮.৬৬ শতাংশ মানুষ। এরপরের শীর্ষ ১০ জেলাগুলোর মধ্যে যথাক্রমে ঢাকায় ৯.১৯, গাজীপুরে ৯.৬৩, যশোরে ১০.৫৮, মেহেরপুরে ১১.০৮, কুষ্টিয়ায় ১২.২২, চুয়াডাঙ্গায় ১৩.৫১, মানিকগঞ্জে ১৪.০৭, ফেনীতে ১৪ শতাংশ এবং দিনাজপুরে ১৪.৬২ শতাংশ বহুমাত্রিক দারিদ্র্য রয়েছে বলে জানিয়েছে জিইডি।
উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) General Economics Division ওয়েবসাইট।