বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,২২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ২৩ · ১০১২০০ / ২,২২৭

১০১.
সাবক্লেভিয়াল ধমনির কোন শাখা মেরুদণ্ডে রক্ত সরবরাহ করে? 
  1. মেসেন্টেরিক ধমনি 
  2. সিলিয়াক ধমনি 
  3. ভার্টিব্রাল ধমনি 
  4. ইলিয়াক ধমনি 
সঠিক উত্তর:
ভার্টিব্রাল ধমনি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভার্টিব্রাল ধমনি 
ব্যাখ্যা

সাবক্লেভিয়াল ধমনি: 
- দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে। 
যেমন- 
• বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। 
• জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে। 
• ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। 
ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। 
• সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত বহন করে। 
সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। 
মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে।  
• আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত বহন করে। 
• থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত বহন করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০২.
কোন অবস্থার কারণে জন্ডিস হয়?
  1. দেহে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি 
  2. রক্তে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যাওয়া
  3. রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া
  4. রক্তে বিলিরুবিনের উচ্চ মাত্রা
সঠিক উত্তর:
রক্তে বিলিরুবিনের উচ্চ মাত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তে বিলিরুবিনের উচ্চ মাত্রা
ব্যাখ্যা

জন্ডিস হলো একটি শারীরিক অবস্থা, যা রক্তে বিলিরুবিনের উচ্চ মাত্রার কারণে হয়।
-  বিলিরুবিন হলো লাল রক্তকণিকা ভেঙে যাওয়ার পর উৎপন্ন একটি হলুদ বর্জ্য পদার্থ।
- সাধারণত, যকৃত (liver) এই বিলিরুবিনকে প্রক্রিয়াজাত করে শরীর থেকে বের করে দেয়। 
- যখন যকৃত সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না বা বিলিরুবিন অতিরিক্ত পরিমাণে তৈরি হয়, তখন এটি রক্তে জমা হতে থাকে, যার ফলস্বরূপ ত্বক, চোখ ও শ্লেষ্মা ঝিল্লি হলুদ হয়ে যায়।

বিলিরুবিন:
- বিলিরুবিন পুরোপুরি তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায় এবং এটি জমা থাকে প্লীহাতে।
- বিলিরুবিন এক ধরণের হলুদ রঙের পদার্থ, যা রক্তে উপস্থিত লাল রক্তকণিকার ১২০ দিনের চক্র পূরণ হলে ভেঙ্গে তৈরি হয়।
- বিলিরুবিন হলো যকৃতে তৈরি হওয়া পাচক তরল পদার্থ অর্থাৎ পিত্তরস বা বাইলের (bile) একটি উপাদান, যা পিত্তথলিতে জমা থাকে।
- এটা খাবারকে হজম করতে এবং মল তৈরি হতে সাহায্য করে।
- জন্ডিস হবার মূল কারণ হল রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা অধিক পরিমাণে বেড়ে যাওয়া।
- যদি কোন কারণের ফলে বিলিরুবিন বিলির সাথে মিশতে না পারে কিংবা যখন লাল রক্ত কণিকা সামান্য থেকে কম পরিমাণে ভাঙতে শুরু করে, তখন রক্তে বিলিরুবিনের স্তর দ্রুত বাড়তে থাকে। আর এই ভাবে এটা অন্য অঙ্গে পৌঁছে সেখানে হলুদ ভাবের সৃষ্টি করে।

উল্লেখ্য-
- রক্তে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা কমে যাওয়া: এই অবস্থাকে লিউকোপেনিয়া বলা হয়। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়, কিন্তু জন্ডিসের কারণ নয়।
-  রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া: এই অবস্থাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়। এর প্রধান লক্ষণ হলো দুর্বলতা ও মাথা ঘোরা। এটি একটি বিপাকীয় সমস্যা, জন্ডিসের সাথে এর সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
- দেহে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি: এই অবস্থাকে পলিসাইথেমিয়া বলা হয়। এটি রক্তকে অতিরিক্ত ঘন করে তোলে এবং রক্ত জমাট বাঁধাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। এর সাথেও জন্ডিসের কোনো সম্পর্ক নেই।

উৎস:
১। জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২। ব্রিটানিকা।

১০৩.
কোনটি শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে?
  1. খনিজ লবণ
  2. ভিটামিন
  3. স্নেহ
  4. আমিষ
সঠিক উত্তর:
আমিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমিষ
ব্যাখ্যা

আমিষ (Protein): 
- আমিষ বা প্রোটিন-জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। 
- আমিষে শতকরা 16 ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রনও থকে। 
- নাইট্রোজেন এবং শেষোক্ত উপাদানগুলোর উপস্থিতির কারণে আমিষের গুরুত্ব শর্করা ও স্নেহ পদার্থ থেকে আলাদা। শুধু আমিষজাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টিবিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

আমিষের উৎস: 
- মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, শিমের বীচি, শুঁটকি মাছ, চিনাবাদাম ইত্যাদি থেকে আমিষ পাওয়া যায়। 
- উৎস অনুযায়ী আমিষ দুই ধরনের। 
যথা- প্রাণিজ আমিষ এবং উদ্ভিজ্জ আমিষ। 

প্রাণিজ আমিষ: 
- মাছ, মাংস, ডিম, পনির, ছানা, কলিজা বা যকৃৎ ইত্যাদি প্রাণিজ আমিষ। এসব খাদ্যে দেহের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়। 

উদ্ভিজ্জ আমিষ: 
- ডাল, চিনাবাদাম, শিমের বীচি ইত্যাদি উদ্ভিজ্জ আমিষ। একসময় ধারণা করা হতো এগুলো প্রাণিজ আমিষের তুলনায় কম পুষ্টিকর, কারণ উদ্ভিজ্জ আমিষে প্রয়োজনীয় সবকয়টি অ্যামাইনো এসিড থাকে না। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে উদ্ভিজ্জ আমিষ প্রাণিজ আমিষের মতোই সকল অ্যামাইনো এসিড পর্যাপ্ত পরিমাণে ধারণ করে। 
- অনেক সময়, দুই বা ততোধিক উদ্ভিজ্জ আমিষ একত্রে রান্না করা যায়। কিন্তু এতে অ্যামাইনো এসিডের অনুপাতের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০৪.
নিচের কোনটি RNA-এর নাইট্রোজেন বেস?
  1. ক) থায়ামিন
  2. খ) ইউরাসিল
  3. গ) পিরিডক্সিন
  4. ঘ) অ্যাসপারজিন
সঠিক উত্তর:
খ) ইউরাসিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইউরাসিল
ব্যাখ্যা
- জীবের রাসায়নিক গঠনের উপাদান DNA।
- DNA তে চার ধরনের নাইট্রোজেন বেস থাকে।
- অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও থায়ামিন।
- RNA তে ও চার ধরনের নাইট্রোজেন বেস থাকে।
- অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও ইউরাসিল।
- থায়ামিনের পরিবর্তে ইউরাসিল থাকে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি   
১০৫.
ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যগত একক কোনটি? 
  1. অ্যালভিওলাস
  2. ট্র্যাকিয়া
  3. ব্রঙ্কিওল
  4. ব্রঙ্কাস
সঠিক উত্তর:
অ্যালভিওলাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যালভিওলাস
ব্যাখ্যা
অ্যালভিওলাস (Alveolus): 
- ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যগত একক হলো অ্যালভিওলাস। 
- অ্যালভিওলাসগুলো ক্ষুদ্র বুদবুদ সদৃশ বায়ুকুঠুরী বিশেষ। 
- ডান ফুসফুসে ১০টি ও বাম ফুসফুসে ৮টি লোবিউল থাকে। 
- প্রতিটি লোবিউলে ৫০-৮০টি অ্যালভিওলি থাকে। 
- অ্যালভিওলাসের প্রাচীর চ্যাপ্টাকৃতির স্কোয়ামাস এপিথেলিয়াল কোষ দ্বারা গঠিত। 
- এতে কোলাজেন ও ইলাস্টিন তন্তু থাকে। 
- ফলে শ্বসনের সময় সংকোচন ও প্রসারণ সহজ হয়। 
- এছাড়া অ্যালভিওলার বায়ু ও প্রাচীরের কৈশিক জালিকার রক্তের মধ্যে যে গ্যাসীয় বিনিময় সম্পাদিত হয় তার মধ্যবর্তী বিভেদক পর্দাকে শ্বাসপর্দা বলে। 
- শ্বাসপর্দাটি দুটি কোষীয় স্তর ও দুটি ভিত্তিপর্দা নিয়ে গঠিত। 
- এদের মধ্যে একটি এপিথেলিয় আবরণী ও অপরটি এন্ডোথেলিয় আবরণী। 
- বায়ু ও রক্তের মধ্যবর্তী স্থানে এই মিহিপর্দার উপস্থিতি গ্যাসীয় বিনিময়কে সহজ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৬.
টাইফইয়েড রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া কোনটি?
  1. Salmonella typhosa
  2. Bacillus dysenteriae
  3. Clostridium tetani
  4. Vibrio cholerae
সঠিক উত্তর:
Salmonella typhosa
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Salmonella typhosa
ব্যাখ্যা
• টাইফইয়েড রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া হচ্ছে Salmonella typhosa.

• কয়েকটি ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ:
- ডিপথেরিয়া,
- গণোরিয়া,
- টাইফয়েড,
- জ্বর,
- কুষ্ঠ,
- টিটেনাস,
- নিউমোনিয়া,
- কলেরা ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা: 
- ধ্নুষ্টংকার রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া Clostridium tetani.
- আমাশয় রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া Bacillus dysenteriae.
- কলেরা রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া Vibrio cholerae.

উৎস:
১. উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১০৭.
কোন পর্বের প্রাণীদেহে শিখাকোষ পাওয়া যায়?
  1. Porifera
  2. Platyhelminthes
  3. Nematoda
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
Platyhelminthes
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Platyhelminthes
ব্যাখ্যা
Platyhelminthes (চ্যাপ্টাদেহী কৃমি): 
- Platyhelminthes শব্দটি Greek শব্দ Platy = চ্যাপ্টা এবং Helminthes = কৃমি এ দুটি শব্দ নিয়ে গঠিত।
- ১৮৫৯ সালে Gogenbour এ পর্বের নামকরণ করেন।
- এ পর্বের আবিষ্কৃত প্রজাতির সংখ্যা ২৯,৪৮৭।

Platyhelminthes পর্বের বৈশিষ্ট্য: 
১। এরা ত্রিস্তরী (Triploblastic), চ্যাপ্টাদেহী ও সাধারণত চোষক বা আংটাযুক্ত অন্তঃপরজীবী কৃমিজাতীয়। 
২। এদের দেহগহ্বর অপ্রকৃত সিলোম। 
৩। এরা উভয়লিঙ্গিক ও দেহ সিলিয়াযুক্ত এপিডার্মিস অথবা কিউটিকল দ্বারা আবৃত। 
৪। এদের স্বনিষেক হয়। 
৫। শিখাকোষ (flame cell) নামক কোষের সাহায্যে রেচন সম্পাদন করে। 
৬। এদের পরিপাকতন্ত্র অসম্পূর্ণ (পায়ুবিহীন)। 
৭। এদের দেহ দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম। 

- শিখাকোষ (flame cell) হলো planaria (মিঠা পানিতে মুক্তভাবে বাস করা ফ্ল্যাটওয়ার্ম) প্রাণীদের মেসোডার্মে বিদ্যমান টিউবের সাথে সংযুক্ত কোষ। 
- এ কোষগুলো গর্তবিশিষ্ট বাল্ব ধরনের যাদের গুচ্ছাকারে সিলিয়া থাকে। 
- সিলিয়াগুলো প্রচণ্ডভাবে আন্দোলিত হয়ে টিউবের ভেতরে পানির স্রোত তৈরি করে। 
- ফলে বর্জ্য বস্তুসমূহ নির্গমন ছিদ্রের মাধ্যমে বাইরে নিষ্ক্রান্ত হয়। 
- এভাবেই শিখাকোষ রেচন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। 
উদাহরণ: Taenia solium-ফিতাকৃমি, Fasciola hepatica-যকৃতকৃমি, Schistosoma ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
১০৮.
হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর কোনটি?
  1. পেরিকার্ডিয়াম
  2. এপিকার্ডিয়াম
  3. মায়োকার্ডিয়াম
  4. এন্ডোকার্ডিয়াম
সঠিক উত্তর:
মায়োকার্ডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মায়োকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
হৃদপিণ্ডের আবরণ: 
- হৃদপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত। 
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে। 
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। 
- পেরিকার্ডিয়াল হৃদপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। 
- হৃদপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হৃদপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে। 

হৃদপিণ্ডের অন্তর্গঠন (Internal Structure): 
হৃদপিণ্ডের প্রাচীর: 
- অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি (Cardiac muscle) বলে। 
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট। 
যেমন - 
ক. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium): 
- এটি হৃদপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি। 
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে। 

খ. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium): 
- এটি হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। 
- স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃদপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। 

গ. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium): 
- এটি হৃদপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃদকপাটিকাসমূহ ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃদপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৯.
Which vitamin deficit is the cause of scurvy?
  1. Vitamin A
  2. Vitamin C
  3. Vitamin D
  4. Vitamin E
  5. Vitamin K
সঠিক উত্তর:
Vitamin C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Vitamin C
ব্যাখ্যা
ভিটামিন সি বা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড: 
- ভিটামিন সি টক স্বাদ বিশিষ্ট। 
- টাটকা শাকসবজি ও ফলে ভিটামিন সি থাকে। 
- আমলকি, লেবু, কমলালেবু, পেয়ারা, কাঁচা, মরিচ, লেটুস পাতা, পুদিনা পাতা, ধনে পাতা, টমেটো, আনারস, কামরাঙা, বাতাবি লেবু ইত্যাদি ভিটামিন সি এর ভালো উৎস। 
- শুকনা ফল ও টিনজাত খাদ্যে ভিটামিন সি থাকে না। 

কাজ: 
১। দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখে। 
২। ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল রাখে। 
৩। ক্ষতস্থান দ্রুত পুনর্গঠন করে। 
৪। সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করে। 
৫। আমিষ ও স্নেহ পদার্থ বিপাকে সাহায্য করে। 

অভাবজনিত অবস্থা: 
- দীর্ঘদিন ধরে ভিটামিন সি -এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়, ত্বকে ঘা হয়, ক্ষত শুকাতে দেরি হয়। 
- দাঁত দুর্বল হয়ে অকালে ঝরে পড়ে। 
- অস্থির গঠন মজবুত হয় না। 
- রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা কমে যায় ও সহজে ঠান্ডা লাগে। 
- এছাড়া চুল পড়ে ও অরুচি হয়। 

অন্যদিকে, 
- ভিটামিন 'এ' এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। 
- ভিটামিন 'ডি' এর অভাবে রিকেটস রোগ হয়। 
- ভিটামিন 'কে' এর অভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। 
- ভিটামিন 'ই' এর অভাব থেকে পেশির দুর্বলতা, অসাড়-ভাব বা চলাফেরায় সমস্যা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১০.
যকৃত কৃমি কোন ধরনের প্রতিসাম্য প্রদর্শন করে? 
  1. অরীয় প্রতিসাম্য 
  2. অপ্রতিসাম্য 
  3. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য 
  4. গোলীয় প্রতিসাম্য 
সঠিক উত্তর:
দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য 
ব্যাখ্যা

প্রতিসাম্য: 
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে। 
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
ক. গোলীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)। 

খ. অপ্রতিসাম্য: 
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

গ. অরীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)। 

ঘ. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য: 
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)। 

ঙ. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য: 
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১১.
প্রতিসাম্যতার ভিত্তিতে 'অ্যামিবা' কী ধরনের প্রাণী?
  1. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য
  2. অপ্রতিসাম্য
  3. অরীয় প্রতিসাম্য
  4. গোলীয় প্রতিসাম্য
সঠিক উত্তর:
অপ্রতিসাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপ্রতিসাম্য
ব্যাখ্যা
অ্যানিমেল ডাইভারসিটি বা প্রাণি বৈচিত্র্য: 

প্রকৃতির বিভিন্ন অঞ্চলে সাফল্যমণ্ডিতভাবে বংশবিস্তার করে টিকে থাকার উদ্দেশ্যে প্রাণি প্রজাতিগুলোর বহিঃঅঙ্গসংস্থান ও অন্তঃঅঙ্গসংস্থান, আকার, আকৃতি, প্রকৃতি ইত্যাদি প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন করে অভিযোজিত হওয়ার ফলে প্রাণীদের মধ্যে যে বৈচিত্র্যময়তার উদ্ভব ঘটে, তাকে প্রাণিবৈচিত্র্য বলে।

প্রতিসাম্য:
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে।
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
ক. গোলীয় প্রতিসাম্য- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus).
খ. অরীয় প্রতিসাম্য- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে খ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus).
গ. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa).
ঘ. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica).
ঙ. অপ্রতিসাম্য- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus).



উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১১২.
মানুষের মস্তিষ্কে নিউরন রয়েছে প্রায় -
  1. ক) ১০০ মিলিয়ন
  2. খ) ১০০ বিলিয়ন
  3. গ) ১০০ ট্রিলিয়ন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) ১০০ বিলিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০০ বিলিয়ন
ব্যাখ্যা

মানুষের মস্তিষ্কে নিউরন রয়েছে প্রায় ১০০ বিলিয়ন এবং প্রতিটি নিউরন অন্য সাত থেকে দশ হাজার নিউরনের সাথে সিন্যাপস সংযোগ করে থাকে। নিউরনের প্রধান কাজ উদ্দীপনা বহন করা।
উৎস: নবম দশম শ্রেণি,জীববিজ্ঞান।

উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির প্রাণিবিজ্ঞান বই (HSC programm), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৩.
ডারউইনের মৌলিক অবদান ছিল- 
  1. বিবর্তনের তত্ত্ব আবিষ্কার
  2. বিবর্তনের প্রমাণ নাকচ করা
  3. জীব কোষের গঠন ব্যাখ্যা
  4. বিবর্তনের প্রক্রিয়ার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া
সঠিক উত্তর:
বিবর্তনের প্রক্রিয়ার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবর্তনের প্রক্রিয়ার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া
ব্যাখ্যা
ডারউইনবাদ বা ডারউইনের তত্ত্ব: 
- ব্রিটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন জীববিজ্ঞান তথা সমগ্র বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি বৈপ্লবিক চিন্তাধারার সৃষ্টি করেন। 
- বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন (Charles Robert Darwin, 1809-1882) ইংল্যান্ডের স্রাসবেরি শহরে জন্মগ্রহণ করেন। প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত গ্যালাপ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জ পরিভ্রমণকালে তিনি ঐ অঞ্চলের উদ্ভিদ এবং প্রাণিকুলের বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য দেখে বিশেষভাবে আকৃষ্ট হন এরপর সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে 1837 খ্রিষ্টাব্দে ইংল্যান্ডে প্রত্যাবর্তনের প্রায় 20 বছর পরে 1859 খ্রিষ্টাব্দে 'প্রাকৃতিক নির্বাচনের দ্বারা প্রজাতির উদ্ভব' (Origin of Species by Means of Natural Selection) নামক বইয়ে তাঁর মতবাদটি প্রকাশ করেন। 

উল্লেখ্য, 
- ডারউইনের তত্ত্বটি বিবর্তন তত্ত্ব নামে প্রচলিত হলেও তিনি প্রকৃতপক্ষে জৈব অভিব্যক্তি তথা বিবর্তনের আবিষ্কারক নন। 
- ডারউইনের সাফল্য ছিল, জৈব অভিব্যক্তির কারণ হিসেবে পর্যাপ্ত সংখ্যক বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে একটি প্রক্রিয়ার (mechanism) ধারণা প্রতিষ্ঠা করা, যা জৈব অভিব্যক্তির যাবতীয় বিষয় ব্যাখ্যা করতে পারবে। জৈব অভিব্যক্তির কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক নির্বাচনকে উল্লেখ করে আরও একজন সমসাময়িক ব্রিটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী, আলফ্রেড ওয়ালেস (Alfred Russel Wallace, 1823-1913), একই সময়ে কিন্তু স্বাধীনভাবে অনুরূপ তত্ত্ব প্রণয়ন করেন। 
- তবে বিভিন্ন ঐতিহাসিক কারণে তাঁর চেয়ে ডারউইনের নামেই তত্ত্বটি অধিক প্রচলিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১৪.
মায়োফাইব্রিল কোন ধরনের কোষে দেখা যায়?
  1. পেশি টিস্যু
  2. স্নায়ু টিস্যু
  3. তন্তুজ যোজক টিস্যু
  4. কঙ্কাল যোজক টিস্যু
সঠিক উত্তর:
পেশি টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেশি টিস্যু
ব্যাখ্যা
পেশি টিস্যু:
- ভ্রণীয় মেসোডার্ম থেকে উৎপন্ন বিশেষ ধরনের টিস্যুকে বলা হয় পেশি টিস্যু।
-এরা সংকোচন এবং প্রসারণশীল টিস্যু।
- এদের মাতৃকা প্রায় অনুপস্থিত।
- পেশি কোষগুলো সরু, লম্বা ও তন্তুময়। তন্তুগুলো মাকু আকৃতির।
- এ ধরনের তন্তুকে মায়োফাইব্রিলও বলা হয়।
- পেশি কোষের সাইটোপ্লাজমে এক বা একাধিক নিউক্লিয়াস থাকে।
- এদের কোষ পর্দাকে সারকোলেমা বলা হয়।
- আড়াআড়ি ডোরাযুক্ত মায়োফাইব্রিলকে বলা হয় ডোরাকাটা পেশি এবং ডোরাবিহীন মায়োফাইব্রিলকে বলা হয় মসৃণ পেশি।

কাজ:
- পেশি কোষ সংকুচিত এবং প্রসারিত হয়ে অঙ্গ সঞ্চালন, চলন ও অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৫.
মানবদেহের সবচেয়ে দীর্ঘতম কোষ হিসেবে নিচের কোনটি পরিচিত?
  1. অস্টিওব্লাস্ট
  2. শুক্রাণু
  3. নিউরন
  4. মলিকুলার কোষ
সঠিক উত্তর:
নিউরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউরন
ব্যাখ্যা

নিউরন: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান কেন্দ্র হলো মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের একক নিউরন, আর অসংখ্য নিউরন নিয়ে গঠিত হয়েছে মস্তিষ্ক। 
- প্রাণিদেহের যে তন্ত্র দেহের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে, বিভিন্ন জৈবিক কার্যাবলির সমন্বয় সাধন করে এবং উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টির মাধ্যমে পরিবেশের মধ্যে সম্পর্ক রক্ষা করে, সে তন্ত্রকে স্নায়ুতন্ত্র বলে। 
- মানবদেহের সবচেয়ে দীর্ঘতম কোষ হলো নিউরন যা প্রায় 1.37 মিটার লম্বা। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১১৬.
মানুষের গায়ের রং কোন উপাদানের উপর নির্ভর করে? 
  1. মেলানিন
  2. থায়ামিন
  3. ক্যারোটিন
  4. হিমোগ্লোবিন
সঠিক উত্তর:
মেলানিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেলানিন
ব্যাখ্যা
- মানুষের ত্বকে উপস্থিত মেলানোসাইট নামক কোষ মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থ উৎপন্ন করে যা গায়ের রঙ ফর্সা বা কালো হওয়ার জন্য দায়ী। 
- পিনিয়াল গ্রন্থি থেকে মেলাটোনিন নামক রাসায়নিক উৎপন্ন হতে পারে যা ঘুমের উপর প্রভাব বিস্তার করে। 
- মেলানিনের অনুপস্থিতিতে চামড়ায় কোন রঞ্জক পদার্থ থাকে না, ফলে চামড়া সাদা হয়। এটাই অ্যালবিনিজম নামে পরিচিত। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
১১৭.
মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থিটি হচ্ছে - 
  1. থাইরয়েড
  2. ত্বক
  3. যকৃত
  4. নিউরন
সঠিক উত্তর:
যকৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যকৃত
ব্যাখ্যা

• মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি হলো যকৃত (গ)। এটি আমাদের শরীরের ডান দিকের উপরের অংশে অবস্থান করে এবং ওজন প্রায় ১.৫ কিলোগ্রামের কাছাকাছি হয়। যকৃত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে, যেমন রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ, হজমের জন্য পিত্ত (bile) তৈরি, প্রোটিন ও শর্করা সংরক্ষণ এবং রক্তের বিভিন্ন উপাদান নিয়ন্ত্রণ করা। এটি আমাদের দেহের মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ। অন্য গ্রন্থিগুলো যেমন থাইরয়েড, যা হরমোন উৎপাদন করে, বা নিউরন, যা স্নায়ুতন্ত্রের অংশ, সেগুলো যকৃতের তুলনায় আকারে ছোট। তাই বৃহত্তম গ্রন্থি হিসেবে যকৃতকে ধরা হয়।
 
• যকৃত:
- মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডানপাশে গাঢ় বাদামী বর্ণের ত্রিকোণাকার অঙ্গ।
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে।
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে।
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট।
- পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে।
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়।

• যকৃতের কাজ:
- যকৃত পিত্তরস তৈরি করে।
- ক্ষারীয় পিত্তরস পিত্তথলিতে জামা রাখে।
- পিত্তরসে কোন এনজাইম থাকে না, তাই যকৃত উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজ দেহে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত রাখে।
- রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি হলে গ্লুকোজ সরবরাহ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
- পিত্তরস চর্বি জাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে পরিপাকে সহায়তা করে।
- অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড যকৃতে আসার পর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রোজনজনিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৮.
রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরীতে সাহায্য করে-
  1. ক) আয়োডিন
  2. খ) আয়রন
  3. গ) ম্যাগনেসিয়াম
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস
সঠিক উত্তর:
খ) আয়রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আয়রন
ব্যাখ্যা
আয়রন রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরীতে সাহায্য করে। ফলে রক্তস্বল্পতা দূর হয়।
সূত্রঃ ৩৪তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
১১৯.
ভাইরাসজনিত রোগ নয় কোনটি?
  1. জন্ডিস
  2. এইডস
  3. নিউমোনিয়া
  4. চোখ ওঠা
সঠিক উত্তর:
নিউমোনিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউমোনিয়া
ব্যাখ্যা
[নিউমোনিয়া ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক এবং অন্যান্য মাইক্রোঅর্গানিজম দ্বারাও সৃষ্ট হতে পারে। সে হিসেবে অপশনের সবগুলো রোগই ভাইরাসজনিত। তবে যেহেতু নিউমোনিয়া ভাইরাস ছাড়াও অন্যান্য অনুজীবের সংক্রমণে হতে পারে, তাই এই প্রশ্নের বেস্ট অপশন হিসেবে নিউমোনিয়া উত্তর হিসেবে নেওয়া হচ্ছে। মূল পরীক্ষায় আপনার নিজস্ব বিবেচনায় উত্তর করতে পারেন।]
===========================

ভাইরাস ঘটিত রোগ: 
- ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাস জনিত রোগ বলে। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাস জনিত রোগ: এইডস, জন্ডিস, কোভিড-১৯, হার্পিস, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, পোলিও, জলাতঙ্ক, ডেঙ্গু জ্বর, ইবোলা ইত্যাদি। 

ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ: 
- ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ বলে। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ: যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, নিউমোনিয়া, মেনিনজাইটিস, কলেরা, গনোরিয়া, সিফিলিস, টাইফয়েড, আমাশয়, প্লেগ, কুষ্ট ইত্যাদি। 

• চোখ ওঠা রোগকে বলে কনজাংটিভাইটিস। চোখের কনজাংটিভা নামক পর্দার প্রদাহই চোখ ওঠা রোগ। এ রোগটি মূলত ভাইরাসজনিত এবং ছোঁয়াচে। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিকের উদ্ভিদবিজ্ঞান বই [লিঙ্ক]
১২০.
ইকোকার্ডিওগ্রাফি করা হয় কোনটির সাহায্যে?
  1. ক) এক্স রে
  2. খ) আল্ট্রাসাউন্ড
  3. গ) ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম
  4. ঘ) সিটি স্ক্যান
সঠিক উত্তর:
খ) আল্ট্রাসাউন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আল্ট্রাসাউন্ড
ব্যাখ্যা

ইকোকার্ডিওগ্রাফী কি
ইকোকার্ডিওগ্রাফী এক প্রকার পরীক্ষা পদ্ধতি যাতে আলট্রাসাউন্ড ওয়েভ ব্যবহার করে হার্টের বিভিন্ন অংশ দেখা হয়। আলট্রাসাউন্ড ওয়েভ হল অতি দ্রুত গতির শব্দ তরঙ্গ যা মানুষের কানে ধরা পড়ে না।
ইকোকার্ডিওগ্রাফিতে যন্ত্রের সাহায্যে হৃৎযন্ত্রের কার্যক্রমের গুণগত ও পরিমাণগত মূল্যায়ন করা যায়। শব্দের প্রতিফলনের নীতির ওপর ভিত্তি করে ইকোকার্ডিওগ্রাফি যন্ত্রের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এখানে শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। শব্দতরঙ্গ হচ্ছে যান্ত্রিক তরঙ্গ যা মাধ্যমের সংকোচন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। আল্ট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্রে শব্দের প্রতিধ্বনিকে ব্যবহার করা হয়। আল্ট্রাসনোগ্রাফি উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দের প্রতিফলনের উপর নির্ভরশীল। উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ হৃৎপিন্ডের যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশি থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়। এই প্রতিবিম্ব প্রতিফলিত তরঙ্গের দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক প্রতিবিম্ব মনিটরে পর্যবেক্ষণ করা যায়।
সুত্রঃ এসএসসি পদার্থবিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২১.
১৯০১ সালে প্রথম মানবদেহের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করেন-
  1. লুই পাস্তুর
  2. জি. ল্যামেটার
  3. উইলিয়াম হার্ভে
  4. কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার
সঠিক উত্তর:
কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার
ব্যাখ্যা
• ১৯০১ সালে প্রথম মানবদেহের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করেন কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার।

• রক্তের গ্রুপ:
- লোহিত রক্ত কণিকার প্লাজমামেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণিবিন্যাসকে রক্ত গ্রুপ (Blood Group) বলে।
- আমেরিকার জীববিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার (Karl Landsteiner) ১৯০১ সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করেন।
- রক্ত কণিকায় অ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণিবিন্যাস করেন, তা ABO ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত।
- অনেক সময় একে ল্যান্ডস্টেইনার এর ব্লাড গ্রুপ বলে।

• রক্ত গ্রুপের বৈশিষ্ট্য:

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২২.
AIDS রোগ প্রথম কোন দেশে চিহ্নিত হয়?
  1. আমেরিকা
  2. ব্রাজিল
  3. চীন
  4. জাপান
সঠিক উত্তর:
আমেরিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমেরিকা
ব্যাখ্যা

• এইডস রোগ: 
- সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী রোগ হচ্ছে ‘এইডস’ (AIDS)। 
- এটি একটি সংক্রামক রোগ। 
- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় AIDS চিহ্নিত হয় এবং তখন থেকে সারা বিশ্বে AIDS মরণব্যাধি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। 
- আফ্রিকার দেশগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। 
- প্রাকৃতিক নিয়মে সব মানুষের দেহেই রোগ-জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে, একে ইমিউনিটি বলা হয়। 
- রক্তের লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি প্রস্তুতের মাধ্যমে জীবাণুর আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে যা AIDS আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ধীরে ধীরে এই ক্ষমতা কমতে থাকে। 

- এই কারণে এ রোগটির নাম দেওয়া হয়েছে- AIDS ( Acquired Immune Deficiency Syndrome)। 
- এটি এক ধরনের ভাইরাস, যার নাম Human Immunodeficiency Virus (HIV), এটি AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে। 
- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। 
- দেহের রক্তস্রোতে প্রবেশ করার পর HIV রক্তের শ্বেত কণিকার T- লিম্ফোসাইটকে আক্রমণ করে, যার ফলে দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। 
- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। 
- এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। 
- প্রধাণত যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমেই আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে HIV সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়, মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে সদ্যোজাত শিশুর দেহে এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে, এছাড়াও রক্ত সঞ্চালন কিংবা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জের মাধ্যমে এ রোগ সঞ্চারিত হতে পারে। 
- AIDS প্রতিরোধ করার সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ বিষয় হলো, HIV সংক্রমণ কীভাবে ঘটে সে সম্পর্কে সবাইকে শিক্ষা দেওয়া। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১২৩.
ভাইরাস আবিষ্কার করেন কে?
  1. ওয়াল্টার রিড
  2. হারভে জে. অল্টার
  3. দিমিত্রি আইভানোভস্কি
  4. গ্যালো
সঠিক উত্তর:
দিমিত্রি আইভানোভস্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিমিত্রি আইভানোভস্কি
ব্যাখ্যা
• ভাইরাস:
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ হলো বিষ।
- বিজারিঙ্ক প্রথম ভাইরাস নামটি প্রবর্তন করেন।
- ভাইরাসের দেহ বাইরের প্রোটিন আবরণ এবং অভ্যন্তরস্থ নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA অথবা RNA) এই দুটি অংশ নিয়ে গঠিত।
- ভাইরাস জীবদেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে সংখ্যাবৃদ্ধির মাধ্যমে রোগ সৃষ্টি করে থাকে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে।
- ভাইরাস অকোষীয়। 
- ১৮৯২ সালে দিমিত্রি আইভানোভস্কি ভাইরাস আবিষ্কার করেন
- ওয়াল্টার রিড ১৯০১ সালে সর্বপ্রথম মানুষের দেহে পীত জ্বর সৃষ্টিকারী ভাইরাস আবিষ্কার করেন।
- ১৯৮৪ সালে গ্যালো মানুষের মরণব্যাধি এইডস রোগের ভাইরাস HIV আবিষ্কার করেন।
- ১৯৮৯ সালে হারভে জে. অল্টার মানুষের নীরব ঘাতকব্যাধি হেপাটাইটিস-সি ভাইরাস আবিষ্কার করেন।
- F. C. Bawden এবং N. W. Pirie ভাইরাসের রাসায়নিক প্রকৃতি বর্ণনা করেন।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান। 
১২৪.
দেহ থেকে হৃদপিন্ডে রক্ত বহন করে নিয়ে যায় যে রক্তনালী -
  1. ক) আর্টারি
  2. খ) ক্যাপিলারি
  3. গ) ভেইন
  4. ঘ) নার্ভ
সঠিক উত্তর:
গ) ভেইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভেইন
ব্যাখ্যা
- যে সব রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত হৃদপিন্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বাহিত হয়, তাকে ধমনি বা আর্টারি (Artory) বলে।
- যে সব রক্তনালীর মাধ্যমে সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে হৃৎপিন্ডে বহন করে নিয়ে
আসে, তাদের শিরা (Vein) বলে।
 
উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১২৫.
বাংলাদেশে জন্ম নেয়া প্রথম হিমায়িত ভ্রুণ শিশুর নাম-
  1. ক) হিরা
  2. খ) মনি
  3. গ) মুক্তা
  4. ঘ) অপ্সরা
সঠিক উত্তর:
ঘ) অপ্সরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অপ্সরা
ব্যাখ্যা
Apsora was born as a result of the first ever successful frozen embryo implant in Bangladesh. Courtesy: Infertility Research and Care Centre. সূত্রঃ The Daily Star.
১২৬.
নিচের কোনটি আদিকোষে উপস্থিত থাকে?
  1. ক) মাইটোকনড্রিয়া
  2. খ) রাইবোজোম
  3. গ) এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম
  4. ঘ) প্লাস্টিড
সঠিক উত্তর:
খ) রাইবোজোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাইবোজোম
ব্যাখ্যা
আদি ষকোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না। এসব কোষের নিউক্লিয়াস কোন পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে না তাই নিউক্লিও বস্তু সাইটোপ্লাজমে ছড়ানো থাকে। এসব কোষে মাইট্রোকন্ডিয়া, প্লাস্টিক, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গানু থাকে না তবে রাইবোজোম থাকে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২৭.
রিবোফ্লাভিনের অভাবজনিত সমস্যা কোনটি? 
  1. রক্তশূন্যতা দেখা দেয়
  2. ক্ষতস্থান শুকাতে দেরি হয়
  3. অস্থি ও দাঁতের গঠন দুর্বল হয়
  4. ঠোঁটের কোণে ও জিহ্বায় ঘা হয় 
সঠিক উত্তর:
ঠোঁটের কোণে ও জিহ্বায় ঘা হয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠোঁটের কোণে ও জিহ্বায় ঘা হয় 
ব্যাখ্যা
রিবোফ্লাভিন বা ভিটামিন বি উৎস: 
- কমলা ও হলুদ বর্ণের শাকসবজি যেমন- মিষ্টি কুমড়া, পাকা পেঁপে, কুমড়োর ফুল, ডিমের কুসুম, দুধ, বাদাম, যকৃত রিবোফ্লাভিনের ভালো উৎস। 

অভাবজনিত অবস্থা: 
- রিবোফ্লাভিন বা ভিটামিন বি এর অভাবে জিহ্বায়, ঠোঁটের কোণায় ও মুখের ভিতরে ঘা দেখা দেয়। 
- ত্বক খসখসে হয়ে যায়। 
- ভিটামিন বি অভাবে মুখে ঘা হতে পারে। 

দৈনিক চাহিদা: 
- প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের দৈনিক ১.৭ মিলিগ্রাম ও নারীর ১.৩ মিলিগ্রাম প্রয়োজন। 
- শিশুদের দৈনিক ০.৮ মিলিগ্রাম এবং কিশোর কিশোরীদের যথাক্রমে ২.০ মিলিগ্রাম ও ১.৩ মিলিগ্রাম প্রয়োজন। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৮.
বাতজ্বর হয় কিসের সংক্রমণের ফলে?
  1. ক) স্ট্রেপটোকক্কাস
  2. খ) রেট্রোভাইরাস
  3. গ) ফাইলেরিয়া
  4. ঘ) মাইকোব্যাক্টেরিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক) স্ট্রেপটোকক্কাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্ট্রেপটোকক্কাস
ব্যাখ্যা
স্ট্রেপটোকক্কাস অণুজীবের সংক্রমণে সৃষ্ট শ্বাসনালির প্রদাহ, ফুসকুড়িযুক্ত সংক্রামক জ্বর, টনসিলের প্রদাহ অথবা মধ্যকর্ণের সংক্রামক রোগ বাতজ্বরের উল্লেখযোগ্য লক্ষণ। বিশেষ করে হৃদপিণ্ড এই রোগে আক্রান্ত হয়। হৃদপেশি এবং হৃদপিন্ডের কপাটিকা বা ভাল্ব অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফলে হৃদপিন্ড যথাযথভাবে রক্ত পাম্প করতে পারে না৷
উৎসঃ জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
১২৯.
কীটপতঙ্গ সম্পর্কিত বিদ্যার ইংরেজী পতিশব্দ কি?
  1. ক) Embryology
  2. খ) Mycology
  3. গ) Microbiology
  4. ঘ) Entomology
সঠিক উত্তর:
ঘ) Entomology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Entomology
ব্যাখ্যা

- কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে কীটতত্ত্ব বা Entomology বলে।
- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় ছত্রাকের উৎস, গঠন, বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে মাইকোলজি (Mycology) বলে।
- ভ্রূণবিদ্যা (Embryology) : ভ্রূণ সৃষ্টি ও বিকাশের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবের সৃষ্টি হয়। জীবের ভ্রূণ গঠন ও বিকাশ নিয়ে এ শাখায় আলোচনা করা হয়।
উৎসঃজীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; প্রাণিবিদ্যা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।

১৩০.
কোন ধরনের রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস পাওয়া যায়?
  1. ক) লোহিত রক্তকণিকায়
  2. খ) অনুচক্রিকায়
  3. গ) প্লাটিলেটে
  4. ঘ) শ্বেত রক্তকণিকায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) শ্বেত রক্তকণিকায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শ্বেত রক্তকণিকায়
ব্যাখ্যা
নির্দিষ্ট আকারহীন শ্বেত রক্তকণিকা নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী বিজ্ঞান বোর্ড বই
১৩১.
নিচের কোন প্রাণী স্তন্যপায়ী? 
  1. বানর
  2. কুমির
  3. সাপ
  4. ব্যাঙ
সঠিক উত্তর:
বানর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বানর
ব্যাখ্যা
মেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- এদের মেরুদণ্ড আছে এবং দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে। 
- পাখনা বা দুই জোড়া পা থাকে এবং চোখ সরল প্রকৃতির। 
- মানুষ ছাড়া সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীর লেজ থাকে, এরা ফুলকা বা ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 
- মেরুদণ্ডী প্রাণীদের বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যেমন-
১। মৎস্য শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- এরা পানিতে বাস করে ও বেশির ভাগ মাছের গায়ে আঁইশ থাকে। যেমন- ইলিশ, রুই, কৈ ইত্যাদি। আবার কতকগুলোর আঁইশ থাকে না। যেমন- মাগুর, শিং, টেংরা, বোয়াল ইত্যাদি। 
- মাছ ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। এদের পাখনা আছে, পাখনার সাহায্যে এরা সাঁতার কাঁটে। 

২। পক্ষী শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- হাঁস, মুরগি, কবুতর, দোয়েল ইত্যাদি পাখি পক্ষী শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। 
- এদের দেহ পালক দিয়ে আবৃত থাকে, পালক পাখি চেনার একটা প্রধান বৈশিষ্ট্য। পাখি ছাড়া আর কোনো প্রাণীর পালক নেই। 
- বেশিরভাগ পাখিই আছে যারা উড়তে পারে। উট পাখি, পেঙ্গুইন এবং আরও কিছু পাখি আছে যারা উড়তে পারে না। পাখি ডিম পাড়ে। ডিম থেকে বাচ্চা হয়। 

৩। উভচর শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- ব্যাঙ উভচর শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। এদের জীবনের কিছু সময় ডাঙায় ও কিছু সময় পানিতে বাস করে। 
- এদের ত্বকে লোম, আঁইশ বা পালক কিছুই থাকে না। দুই জোড়া পা থাকে, পায়ের আঙুলে কোনো নখ থাকে না। 
- ব্যাঙাচি অবস্থায় এরা ফুলকা ও পরিণত অবস্থায় ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 

৪। সরীসৃপ শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- টিকটিকি, কুমির, সাপ, গিরগিটি ইত্যাদি সরীসৃপ শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। 
- এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, আঙুলে নখ থাকে, ডিম পাড়ে, ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। 
- ফুসফসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 

৫। স্তন্যপায়ী শ্রেণিভুক্ত প্রাণী: 
- বানর, ইঁদুর, কুকুর, বিড়াল, গরু, ছাগল ইত্যাদি স্তন্যপায়ী শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। মানুষও এই দলের অন্তর্ভুক্ত। 
- এদের দেহে লোম থাকে, বাচ্চা মায়ের দুধ খেয়ে বড়ো হয়, মায়েরা বাচ্চা প্রসব করে। 
- মস্তিষ্ক ও দেহের গঠন বেশ উন্নত। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১৩২.
প্রাণীর সকল কোষে নিচের কোনটি থাকে?
  1. ক) কোষগহ্বর
  2. খ) প্লাস্টিড
  3. গ) লাইসোসোম
  4. ঘ) কোষপ্রাচীর
সঠিক উত্তর:
গ) লাইসোসোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লাইসোসোম
ব্যাখ্যা
প্রাণী কোষের বৈশিষ্ট্য:  
- প্রাণী কোষে কোন কোষ প্রাচীর থাকে না। পাতলা স্থিতিস্থাপক প্লাজমা ঝিল্লী দ্বারা প্রাণী কোষ আবৃত অবস্থায় থাকে।
- প্রাণী কোষে সাধারণত প্লাস্টিড থাকে না। 
- প্রাণী কোষের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন।
- প্রাণী কোষে সেন্ট্রোসোম থাকে।
- প্রাণী কোষে সাধারণত কোন কোষ গহ্বর থাকে না। থাকলেও আকারে ক্ষুদ্রাকৃতির হয় এবং ক্ষণস্থায়ী।
- পূর্ণাঙ্গ প্রাণী কোষের আকার পরিবর্তিত হয়।
- প্লাজমা পর্দায় মাইক্রোভিলাই থাকে।
- নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের কেন্দ্রস্থলে থাকে।
- সকল কোষেই লাইসোসোম থাকে
- স্নেহ দ্রব্য অর্ধতরল অবস্থায় থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৩৩.
দেহ সঞ্চালন তথা প্রত্যেক কাজ ও অনুভূতির কেন্দ্র হলাে
  1. ক) সেরিব্রাম
  2. খ) সেরিবেলাম
  3. গ) মেডুলা
  4. ঘ) হাইপোথ্যালামাস
সঠিক উত্তর:
ক) সেরিব্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সেরিব্রাম
ব্যাখ্যা

সেরিব্রাম হলাে প্রত্যেক অঙ্গ থেকে স্নায়ুতাড়না গ্রহণের এবং প্রত্যেক অঙ্গে স্নায়ুতাড়না প্রেরণের উচ্চতর কেন্দ্র। দেহ সঞ্চালন তথা প্রত্যেক কাজ ও অনুভূতির কেন্দ্র হলাে সেরিব্রাম। এটি আমাদের চিন্তা, চেতনা, জ্ঞান, স্মৃতি, ইচ্ছা, বাকশক্তি ও ঐচ্ছিক পেশির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
কোন উদ্দীপকের প্রতি কী ধরনের সাড়া দিবে, সে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। সকল প্রাণীর মধ্যে মানুষের অগ্রমস্তিষ্কের বিবর্তন সর্বাধিক অগ্রগামী এবং সবচেয়ে বিকশিত।
উৎস: নবম দশম শ্রেণি,জীববিজ্ঞান

১৩৪.
নিউমোনিয়া রোগটি কোন ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা সংঘটিত হয়?
  1. Streptococcus pneumoniae 
  2. Mycobacterium tuberculosis
  3. Vibrio cholerae
  4. Clostridium tetani
সঠিক উত্তর:
Streptococcus pneumoniae 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Streptococcus pneumoniae 
ব্যাখ্যা

নিউমোনিয়া হলো ফুসফুসের সংক্রমণজনিত রোগ, যা শ্বাসপ্রশ্বাসে ব্যাধি সৃষ্টি করে।
- সবচেয়ে সাধারণ ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়ার কারণ হলো Streptococcus pneumoniae, যা ফুসফুসের এ্যালভিওলি (Alveoli) তে সংক্রমণ ঘটায়।

এর লক্ষণ: কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বুকের ব্যথা।

অন্য ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব:
Mycobacterium tuberculosis: ক্ষয় রোগ (Tuberculosis) ঘটায়।
Vibrio cholerae: কলেরা (ডায়রিয়া) সৃষ্টি করে।
Clostridium tetani: টিটানাস বা পেশীর সংকোচন ঘটায়।

তথ্যসূত্র: NCTB জীববিজ্ঞান বই, Britannica: [লিংক]

১৩৫.
কোন প্রকোষ্ঠ থেকে ফুসফুসীয় ধমনি উৎপন্ন হয়? 
  1. বাম নিলয়
  2. ডান নিলয়
  3. বাম অলিন্দ
  4. ডান অলিন্দ
সঠিক উত্তর:
ডান নিলয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডান নিলয়
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ড: 
- হৃৎপিণ্ড হলো রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা পাম্পের মতো কাজ করে। 
- এটি নিরবিচারে সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরের কেন্দ্রে, ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ঠিক ওপরে অবস্থান করে। 
- এর উপরের অংশটি প্রশস্ত এবং নিচের প্রান্তটি ছুঁচালো আকৃতির, যা নিচের দিকে অবস্থিত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডটি একটি দ্বিস্তর বিশিষ্ট পর্দা পেরিকার্ডিয়াম দ্বারা আবৃত থাকে। এই পর্দার দুই স্তরের মাঝে একটি তরল পদার্থ থাকে, যাকে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড বলা হয়। 
- এটি হৃৎপিণ্ডকে ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করে এবং সংকোচনের সময় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। 

- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। 
- উপরের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ (Atrium)। 
- নিচের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় ডান নিলয় ও বাম নিলয় (Ventricle)। 
- অলিন্দগুলোর প্রাচীর তুলনামূলকভাবে পাতলা, তবে নিলয়গুলোর প্রাচীর পুরু এবং অধিক পেশিবহুল, কারণ নিলয় থেকেই রক্ত শরীরের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ করা হয়। 
- ডান অলিন্দের সঙ্গে দুটি বড় শিরা যুক্ত থাকে ঊর্ধ্ব মহাশিরা ও নিম্ন মহাশিরা, যা দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে অক্সিজেনবিহীন রক্ত এনে দেয়। 
- ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি (Pulmonary artery) উৎপন্ন হয়, যা অক্সিজেন গ্রহণের জন্য রক্ত ফুসফুসে পাঠায়। 
- অন্যদিকে, বাম নিলয় থেকে মহাধমনি (Aorta) উৎপন্ন হয়, যা অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্তকে দেহের প্রতিটি কোষে সরবরাহ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩৬.
গায়ের রং পরিবর্তন করে আত্মরক্ষা করে-
  1. ক) ঘড়িয়াল
  2. খ) কচ্ছপ
  3. গ) গিরগিটি
  4. ঘ) সাপ
সঠিক উত্তর:
গ) গিরগিটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গিরগিটি
ব্যাখ্যা

- গিরগিটি গায়ের রং পরিবর্তন করে আত্মরক্ষা করে।
- সাপ জিহ্বার সাহায্যে শোনে। সাপের কান নেই।
- কচ্ছপ দীর্ঘজীবী প্রাণী। কচ্ছপ প্রায় ১৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।
- ঘড়িয়াল বিরল প্রজাতির মিঠা জলের কুমির বর্গের সরীসৃপ প্রাণী।

১৩৭.
এইডস (AIDS) রক্তের কোন অংশকে আক্রমণ করে?
  1. ক) B- সেল লিম্ফোসাইট
  2. খ) T- সেল লিম্ফোসাইট
  3. গ) অণুচক্রিকা
  4. ঘ) লোহিত রক্তকণিকা
সঠিক উত্তর:
খ) T- সেল লিম্ফোসাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) T- সেল লিম্ফোসাইট
ব্যাখ্যা
- সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী রোগ হচ্ছে ‘এইডস’ (AIDS)। এটি একটি সংক্রামক রোগ।


- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় AIDS চিহ্নিত হয় এবং তখন থেকে সারা বিশ্বে AIDS মরণব্যাধি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।


- প্রাকৃতিক নিয়মে সব মানুষের দেহেই রোগ-জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে, একে ইমিউনিটি বলা হয়। রক্তের লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি প্রস্তুতের মাধ্যমে জীবাণুর আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে যা AIDS আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ধীরে ধীরে এই ক্ষমতা কমতে থাকে।


- এই কারণে এ রোগটির নাম দেওয়া হয়েছে- ‘অ্যাকুয়ার্ড ইম্যুন ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রম’ যা সংক্ষেপে AIDS ( Acquired Immune Deficiency Syndrome)। এটি এক ধরনের ভাইরাস, যার নাম Human Immuno Deficiency Virus (HIV), এটি AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে।


- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। দেহের রক্তস্রোতে প্রবেশ করার পর HIV রক্তের শ্বেত কণিকার T- লিম্ফোসাইটকে আক্রমণ করে, যার ফলে দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।


- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। 


- প্রধাণত যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমেই আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে HIV সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়, মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে সদ্যোজাত শিশুর দেহে এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে, এছাড়াও রক্ত সঞ্চালন কিংবা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জের মাধ্যমে এ রোগ সঞ্চারিত হতে পারে।


- AIDS প্রতরোধ করার সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ বিষয় হলো, HIV সংক্রমণ কীভাবে ঘটে সে সম্পর্কে সবাইকে শিক্ষা দেওয়া।


উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১৩৮.
কোনটি অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয়?
  1. ক) ফসফরাস
  2. খ) পটাসিয়াম
  3. গ) ক্যালসিয়াম
  4. ঘ) খনিজলবণ
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
- ক্যালসিয়াম (Ca) প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও  ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর  ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। রক্ত এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি রয়েছে।
- ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাধঁকপি এবং ফল।
প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি।
- হাড় ও দাঁটের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। এ ছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে।


উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১৩৯.
নিচের কোনটি প্রাণিজ শর্করা? 
  1. সেলুলোজ
  2. ল্যাকটোজ
  3. সুক্রোজ
  4. শ্বেতসার
সঠিক উত্তর:
ল্যাকটোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যাকটোজ
ব্যাখ্যা
শর্করা: 
- শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য। 
- কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে শর্করা তৈরি হয়। 
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত। 
- শর্করা আমাদের শরীরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে। 
- কয়েক ধরনের শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এবং এদের উৎসও ভিন্ন। 
যেমন: 
উদ্ভিজ্জ উৎস: 
১। শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু এবং কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়। 
২। সেলুলোজ: বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে। 
৩। সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড় এবং মিছরি এর উৎস। 
৪। ফ্রোক্টোজ: আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রোক্টোজ থাকে। একে ফল শর্করাও বলা হয়ে থাকে। 
৫। গ্লুকোজ: এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর,খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। 

প্রাণিজ উৎস: 
১। ল্যাকটোজ বা দুধ শর্করা: গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে এই শর্করা থাকে। 
২। গ্লাইকোজেন: পশু ও পাখিজাতীয় (যেমন: মুরগি, কবুতর প্রভৃতি ইত্যাদি) প্রাণীর যকৃৎ এবং মাংসে (পেশি) গ্লাইকোজেন শর্করাটি থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪০.
জীববিজ্ঞানের কোন শাখায় জীবদেহের হরমোনের কার্যকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) ফিজিওলজি
  2. খ) সাইটোলজি
  3. গ) এন্ডোক্রাইনোলজি
  4. ঘ) হিস্টোলজি
সঠিক উত্তর:
গ) এন্ডোক্রাইনোলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এন্ডোক্রাইনোলজি
ব্যাখ্যা
এন্ডোক্রাইনোলজি (Endocrinology): এ শাখায় জীবদেহের হরমোনের কার্যকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
শরীরবিদ্যা (Physiology): জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈব রাসায়নিক কার্যাদি, যেমন: শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয় এ শাখায় আলোচিত হয়৷
কোষবিদ্যা (Cytology): জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়৷
হিস্টোলজি (Histology): জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়৷
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪১.
নিচের কোনটিকে দেহ সংরক্ষক খাদ্য উপাদান বলা হয়? 
  1. শর্করা
  2. স্নেহ 
  3. আমিষ 
  4. ভিটামিন
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন
ব্যাখ্যা

খাদ্য ও পুষ্টি: 
- পুষ্টি হলো পরিবেশ থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্যবস্তু আহরণ করে তা পরিপাক ও শোষণ করা এবং আত্তীকরণ দ্বারা দেহের শক্তির চাহিদা পূরণ, রোগ প্রতিরোধ, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ করা। পুষ্টির ইংরেজি শব্দ Nutrition.
- অপরদিকে খাদ্যের যেসব জৈব অথবা অজৈব উপাদান জীবের বেঁচে থাকার জন্য দরকারি শক্তির জোগান দেয়, তাদের একসঙ্গে পরিপোষক বা নিউট্রিয়েন্টস (Nutrients) বলে। 
যেমন- গ্লুকোজ, খনিজ লবণ, ভিটামিন ইত্যাদি হচ্ছে নিউট্রিয়েন্টস। 
- খাদ্যের কাজ প্রধানত তিনটি। 
যথা- 
১. খাদ্য দেহের গঠন, বৃদ্ধিসাধন, ক্ষয়পূরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করে। 
২. খাদ্য দেহে তাপ উৎপাদন করে, কর্মশক্তি প্রদান করে। 
৩. খাদ্য রোগ প্রতিরোধ করে, দেহকে সুস্থ, সবল এবং কর্মক্ষম রাখে। 

খাদ্যের উপাদান: 
- খাদ্যের উপাদান ছয় (৬) টি। 
যেমন- শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ এবং পানি। 
- স্নেহ এবং শর্করাকে বলা হয় শক্তি উৎপাদক খাদ্য এবং আমিষযুক্ত খাদ্যকে বলা হয় দেহ গঠনের খাদ্য, যদিও এর বাইরেও এসব উপাদানের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে। 
- ভিটামিন, খনিজ লবণ, পানি ও আঁশ দেহ সংরক্ষক খাদ্য উপাদান, যেগুলো দেহের অন্যান্য কাজে লাগে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪২.
লালা রসে কোন এনজাইমটি থাকে?
  1. টায়ালিন
  2. অ্যামাইলেজ
  3. সুক্রেজ
  4. ল্যাকটেজ
সঠিক উত্তর:
টায়ালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টায়ালিন
ব্যাখ্যা

• এনজাইম: 
- এনজাইম হলো এক ধরনের জৈব অনুঘটক, যা প্রোটিন দিয়ে গঠিত এবং জীবদেহের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার গতিকে ত্বরান্বিত করে, কিন্তু নিজে বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে অপরিবর্তিত থাকে, ফলে বারবার ব্যবহৃত হতে পারে।
- এটি হজম, শক্তি উৎপাদন, কোষের বৃদ্ধি ও বিপাকসহ প্রায় সমস্ত জৈবিক প্রক্রিয়া সম্পাদনের জন্য অপরিহার্য।

• খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা: 
- মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে। 
- মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে।
- মূলত তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়। লালারসে মিউসিন এবং দু'প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম; যথা- টায়ালিন ও মলটেজ থাকে।

যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে:
- লালা রসে: টায়ালিন ও মলটেজ।
- পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই।
- অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ।
- আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ।

মিউসিন: মিউসিন খাদ্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়ে খাদ্য বস্তুকে নরম ও পিচ্ছিল করে।

টায়ালিন: টায়ালিন এনজাইম প্রধানত সিদ্ধ বা রন্ধণকৃত স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও ডেক্সট্রিন অণুকে হাইড্রোলাইসিস করে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন, মলটোজ ও আইসোমলটোজে পরিণত করে যা পাকস্থলীতে অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে।

মলটেজ: ক্লোরিনের উপস্থিতিতে মলটেজ এনজাইম সামান্য পরিমাণ মলটোজের উপর ক্রিয়া করে গ্লুকোজে পরিণত করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৩.
মানুষের হৃৎপিণ্ডে মোট কয়টি প্রকোষ্ঠ থাকে?
  1. ৪টি 
  2. ৩টি 
  3. ২টি 
  4. ৫টি 
সঠিক উত্তর:
৪টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি 
ব্যাখ্যা

- মানুষের হৃৎপিণ্ড একটি পেশীবহুল অঙ্গ যা চার (৪)টি প্রকোষ্ঠ বা কক্ষ নিয়ে গঠিত।

হৃৎপিণ্ড: 

- হৃৎপিণ্ড হলো রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা পাম্পের মতো কাজ করে। এটি নিরবিচারে সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরের কেন্দ্রে, ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ঠিক ওপরে অবস্থান করে। এর উপরের অংশটি প্রশস্ত এবং নিচের প্রান্তটি ছুঁচালো আকৃতির, যা নিচের দিকে অবস্থিত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ডটি একটি দ্বিস্তর বিশিষ্ট পর্দা পেরিকার্ডিয়াম দ্বারা আবৃত থাকে। এই পর্দার দুই স্তরের মাঝে একটি তরল পদার্থ থাকে, যাকে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড বলা হয়। এটি হৃৎপিণ্ডকে ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করে এবং সংকোচনের সময় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। 

- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। 
- উপরের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ (Atrium)। নিচের দুটি প্রকোষ্ঠকে বলা হয় ডান নিলয় ও বাম নিলয় (Ventricle)। 
- অলিন্দগুলোর প্রাচীর তুলনামূলকভাবে পাতলা, তবে নিলয়গুলোর প্রাচীর পুরু এবং অধিক পেশিবহুল, কারণ নিলয় থেকেই রক্ত শরীরের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ করা হয়। 
- ডান অলিন্দের সঙ্গে দুটি বড় শিরা যুক্ত থাকে ঊর্ধ্ব মহাশিরা ও নিম্ন মহাশিরা, যা দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে অক্সিজেনবিহীন রক্ত এনে দেয়। 
- ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি (Pulmonary artery) উৎপন্ন হয়, যা অক্সিজেন গ্রহণের জন্য রক্ত ফুসফুসে পাঠায়। অন্যদিকে, বাম নিলয় থেকে মহাধমনি (Aorta) উৎপন্ন হয়, যা অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্তকে দেহের প্রতিটি কোষে সরবরাহ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪৪.
ত্বকের কোন স্তর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে?
  1. হাইপোডার্মিস
  2. সাবকিউটেনিয়াস টিস্যু
  3. ডার্মিস
  4. এপিডার্মিস
সঠিক উত্তর:
এপিডার্মিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এপিডার্মিস
ব্যাখ্যা

- ত্বকের বাইরের স্তর এপিডার্মিস শরীরকে অতিবেগুনি (UV) বিকিরণ থেকে রক্ষা করে, এই স্তরে থাকা মেলানিন (Melanin) নামক রঞ্জক UV রশ্মি শোষণ করে এবং ত্বকের গভীর স্তরগুলিকে ক্ষতি থেকে বাঁচায়। 

দেহের প্রতিরক্ষায় ত্বকের ভূমিকা: 
- ত্বক প্রথম স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। 
- ত্বক দেহকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এবং প্রভাবে সৃষ্ট রোগ (ক্যান্সার) হতে দেহকে রক্ষা করে। ত্বকের এপিডার্মিসের কোষে মেলালিন (melanine) জাতীয় পদার্থ সৃষ্টি হয় যা অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে। 
- ত্বক দেহের বাইরের স্তরে দৃঢ় ও কেরাটিনাইজড (keratinized) আবরণী তৈরি করে, যা দেহের সকল বাহ্যিক অংশকে আচ্ছাদিত করে এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে একটি ফলপ্রসূ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। 
- দেহত্বক ছিঁড়ে গেলে বা কেটে গেলে ত্বকে অবস্থিত হিস্টিওসাইট (ম্যাক্রোফেজ) জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে প্রতিরক্ষা দান করে। 
- ঘাম ও তৈল গ্রন্থির নিঃসরণ ত্বকের উপরিভাগের pH-কে অম্লীয় (pH = 3-5) করে তোলে, ফলে অণুজীবসমূহ বেশি সময় ত্বকে বেঁচে থাকতে পারে না। - কিছু সংখ্যক উপকারী ব্যাকটেরিয়া ত্বকে অবস্থানকালে এসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য নিঃসরণ করে, যা অণুজীবের সংখ্যাবৃদ্ধিকে বাঁধা দেয়। 
- ঘাম নিঃসৃত লবণ ও ফ্যাটি এসিডে অবস্থিত লাইসোজাইম (lysozyme) ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরকে ধ্বংস করে। 
- অশ্রুগ্রন্থি নিঃসৃতেও লাইসোজাইম থাকে যারা চোখে জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিহত করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৫.
মেন্ডেলের বংশগতির দ্বিতীয় সূত্রের অনুপাত-
  1. ৯:৩:২:১
  2. ৯:৩:৩:১
  3. ৯:১:৩:১
  4. ৯:৩:১:৩
সঠিক উত্তর:
৯:৩:৩:১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯:৩:৩:১
ব্যাখ্যা
মেন্ডেলের সূত্র: 

• গ্রেগর জোহান মেন্ডেল বংশগতির দুটি সূত্র প্রদান করেন ।
• জীনতত্ত্বের জনক বলে পরিচিত মেন্ডেল মূলত পেশায় অস্ট্রিয়ার একজন ধর্মযাজক ছিলেন।
• গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ফিনোটাইপিক অনুপাত ৩:১।
• মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অনুপাত ৯:৩:৩:১।
• মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের অপর নাম - মনোহাইব্রিড ক্রস সূত্র/ জনন কোষ শুদ্ধতার সূত্র/ পৃথকীকরণ সূত্র।
• মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের অপর নাম - স্বাধীন সঞ্চারণ বা ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্র।

মেন্ডেলের বংশগতির প্রথম সূত্র: 
‘জীবের প্রতিটি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি একক দায়ী থাকে যাকে ফ্যাক্টর (জিন) বলা হয় এবং ফ্যাক্টর বা জিনগুলো জোড়ায় জোড়ায় থাকে। সঙ্কর (hybrid) জীবে ফ্যাক্টর বা জিনগুলো মিশ্রিত না হয়ে পাশাপাশি অবস্থান করে এবং গ্যামিট উৎপাদনের সময় অপরিবর্তিত অবস্থায় পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গ্যামিটে গমন করে'। 

মেন্ডেল এর বংশগতির দ্বিতীয় সূত্র: 
‘দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন জীবে সঙ্করায়ন ঘটালে গ্যামিট সৃষ্টিকালে প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের ফ্যাক্টর বা জিন যুগলের স্বাধীন সঞ্চারণ বা বিন্যাস ঘটে এবং কোন একটি ফ্যাক্টর যুগলের সঞ্চারণ অন্য ফ্যাক্টর যুগলের উপর নির্ভরশীল নয়' । 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৪৬.
হার্ট অ্যাটাকের কারণে কোন অঙ্গ প্রধানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়? 
  1. কিডনি
  2. ফুসফুস
  3. পাকস্থলী
  4. হৃৎপিণ্ড
সঠিক উত্তর:
হৃৎপিণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৃৎপিণ্ড
ব্যাখ্যা
হার্ট অ্যাটাক: 
- যখন কারও হৃদযন্ত্রের কোনো অংশে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় কিংবা বাধাগ্রস্ত হয়, তখন হৃৎপিণ্ডের কোষ কিংবা হৃৎপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে মায়োকারডিয়াল ইনফ্রাকশন, করোনারি থ্রোমবসিস ইত্যাদি সমস্যা সৃষ্টি হয়, যেগুলোকে একনামে হার্ট অ্যাটাক বলা হয়। 
- বাংলাদেশে হৃদরোগ, বিশেষ করে করোনরি (coronary) হৃদরোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। হৃৎপিণ্ড রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন এবং খাবারের সারবস্তু অর্থাৎ পুষ্টিকর পদার্থ রক্তনালির মধ্য দিয়ে দেহের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেয়। নিজের কাজ সঠিকভাবে করার জন্য অর্থাৎ তার হৃৎপেশির অক্সিজেন এবং পুষ্টি অর্জনের জন্য হৃৎপিণ্ডের তিনটি প্রধান রক্তনালি আছে। এগুলোর মধ্যে অনেক সময় চর্বি জমে রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। ফলে প্রাণঘাতী রোগ হার্ট অ্যাটাক হয়। 
- বর্তমান সময়ে হার্ট অ্যাটাকে শুধু 40-60 বছর বয়সি লোকেরাই আক্রান্ত হচ্ছে না, অনেক সময়ে তরুণরাও এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। 
- এ রোগের সাথে দেহের ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে। 
- রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস যেমন অধিক তেলযুক্ত খাবার (বিরিয়ানি, তেহারি ইত্যাদি), ফাস্টফুড (বার্গার, বিফ বা চিকেন প্যাটিস ইত্যাদি) খাওয়া, অলস জীবনযাপন এবং শারীরিক পরিশ্রম না করার ফলে এই রোগ দেখা যায়। 
- এ ছাড়াও সব সময় হতাশা, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও বিমর্ষ থাকলে যেকোনো বয়সে এই রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। 

রোগের লক্ষণসমূহ: 
- হার্ট অ্যাটাক হলে বুকে অসহনীয় ব্যথা অনুভূত হয়। বিশেষ করে বুকের মাঝখানে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব হয়, যা প্রাথমিকভাবে অ্যান্টাসিড ঔষধ খেলেও কমে না। ব্যথা বাম দিকে বা সারা বুকে ছড়িয়ে যেতে পারে।
- ব্যথা অনেক সময় গলা এবং বাম হাতে ছড়িয়ে যায়। 
- রোগী প্রচণ্ডভাবে ঘামতে থাকে এবং বুকে ভারি চাপ অনুভব করছে বলে মত প্রকাশ করে। 
- রোগীর যদি আগে থেকে ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে তার বুকে কোনো ব্যথা ছাড়াই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। তাই রোগী কিছু বুঝে ওঠার আগেই সর্বনাশ হয়ে যায়। এজন্য ডায়াবেটিস রোগী কোনো অসুবিধা বোধ না করলেও নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে চেক-আপ করাতে হবে। 

প্রতিকার: 
- এমন অবস্থা দেখা দিলে অবহেলা না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ইসিজি করিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া দরকার। 
- করোনারি হৃদরোগ এক মারাত্মক হৃদরোগ। এ রোগ থেকে বাঁচতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলা দরকার, যাতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। যেমন: ধূমপান না করা এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা বা হাঁটা, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা, কাঁচা ফল ও শাকসবজি বেশি বেশি খাওয়া। 
- চর্বিযুক্ত খাবার না খাওয়া, ভাজা খাবার, মশলাযুক্ত খাবার, ফাস্টফুড না খাওয়া ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪৭.
ডায়াবেটিস রোগের প্রধান কারণ কী? 
  1. রক্তে অক্সিজেনের অভাব 
  2. ভিটামিনের ঘাটতি
  3. ইনসুলিনের অভাব 
  4. অতিরিক্ত পানি পান 
সঠিক উত্তর:
ইনসুলিনের অভাব 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনসুলিনের অভাব 
ব্যাখ্যা

- ডায়াবেটিস রোগের প্রধান কারণ হচ্ছে- ইনসুলিনের অভাব। 

ডায়াবেটিস রোগ: 

- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন হরমোন নির্গত হয় যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না, যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৪৮.
তিমির বৈজ্ঞানিক নাম কোনটি?
  1. Balaenoptera musculus
  2. Bos taurus
  3. Loxodonta cyclotis
  4. Crocodylus palustris
সঠিক উত্তর:
Balaenoptera musculus
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Balaenoptera musculus
ব্যাখ্যা
• স্তন্যপায়ী প্রাণী: 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে লোম দ্বারা আবৃত থাকে। 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সন্তান প্রসব করে। 
- শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়। 
যেমন-
- তিমি, বাদুড়, শুশুক, গরু, হাতি, মানুষ, কুকুর, বানর, ঘোড়া, ইঁদুর, জিরাফ ইত্যাদি।

এখানে,
- তিমির বৈজ্ঞানিক নাম = Balaenoptera musculus.
- গরুর বৈজ্ঞানিক নাম = Bos taurus.
- হাতির বৈজ্ঞানিক নাম = Loxodonta cyclotis.

 • সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী: 
-  এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। 
যেমন- সাপ, কুমির, ঘড়িয়াল, কচ্ছপ, টিকটিকি, গিরগিটি, ডাইনোসর প্রভৃতি সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী। 

এখানে,
- কুমিরের বৈজ্ঞানিক নাম = Crocodylus palustris

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৪৯.
ইনসুলিন আবিষ্কার করেন কে?
  1. লুক মন্টাজনিয়ের
  2. হ্যারল্ড ভার্মুস
  3. এডওয়ার্ড জেনার
  4. উইলিয়াম হার্ভে
  5. ফ্রেডরিক গ্র্যান্ট বেন্টিং
সঠিক উত্তর:
ফ্রেডরিক গ্র্যান্ট বেন্টিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্রেডরিক গ্র্যান্ট বেন্টিং
ব্যাখ্যা
ইনসুলিন:
- ইনসুলিন আবিষ্কার করেন ফ্রেডরিক গ্র্যান্ট বেন্টিং (Frederick G. Banting)।
- তিনি একজন কানাডিয়ান চিকিৎসক, চিকিৎসাবিজ্ঞানী এবং ইনসুলিনের আবিষ্কারক।
- তিনি বিজ্ঞানী Charles H. Best এবং রোমানিয়ান ফিজিওলজিস্ট Nicolas C. Paulescu এর সঙ্গে ১৯২১ সালে ইনসুলিন আবিষ্কার করেছিলেন।
- ইনসুলিন: ইনসুলিন একটি হরমোন।
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of Langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে।
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫০.
ইন্টারফেরন কোন ধরনের পদার্থ?
  1. প্রোটিন
  2. শর্করা
  3. চর্বি
  4. গ্লাইকোলিপিড
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
ব্যাখ্যা

• ইন্টারফেরন হল প্রোটিন ধরনের পদার্থ, যা আমাদের দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি মূলত ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কাজ করে। যখন কোনো কোষ ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয়, তখন সেই কোষ ইন্টারফেরন নিঃসরণ করে। নিঃসৃত ইন্টারফেরন আশেপাশের কোষগুলোকে সতর্ক করে এবং ভাইরাস প্রতিরোধী প্রোটিন উৎপাদন করতে প্ররোচিত করে। এভাবে এটি ভাইরাসের বৃদ্ধি ও সংক্রমণ রোধ করে। ইন্টারফেরন শুধুমাত্র ভাইরাস নয়, কিছু ব্যাকটেরিয়া ও টিউমার কোষের বিরুদ্ধেও কার্যকর। চিকিৎসা ক্ষেত্রেও ইন্টারফেরন বিভিন্ন রোগ যেমন হেপাটাইটিস, ক্যান্সার এবং কিছু অটোইমিউন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। সুতরাং, ইন্টারফেরন একটি প্রোটিন পদার্থ।

- সঠিক উত্তর: ক) প্রোটিন। 

• ইন্টারফেরন (Interferon):
- ইন্টারফেরন হলো একটি প্রোটিন যা মানুষের এবং প্রাণীর দেহে ভাইরাসের সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
- এটি ভাইরাস সংক্রমণের সময় তৈরি হয় এবং কোষকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়।
- ইন্টারফেরন মূলত প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immune response) বৃদ্ধিতে কাজ করে।
- এটি কোনো শর্করা, চর্বি বা গ্লাইকোলিপিড নয়, বরং প্রোটিন।
- চিকিৎসা ও গবেষণায় ইন্টারফেরন ভাইরাসজনিত রোগ, ক্যান্সার এবং অন্যান্য রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

সুতরাং, ইন্টারফেরন হলো - প্রোটিন।  

সূত্র: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল এবং গাজী আসমত। 

১৫১.
লোহিত রক্তকোষের গড় আয়ু কত দিন? 
  1. ৬০ দিন
  2. ১২০ দিন
  3. ১৮০ দিন
  4. ১৫০ দিন
সঠিক উত্তর:
১২০ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২০ দিন
ব্যাখ্যা

লোহিত রক্তকোষ: 
- মানবদেহে তিন ধরনের রক্তকণিকার মধ্যে লোহিত রক্তকোষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্তকোষ তৈরি হয়। 
- লোহিত রক্তকোষের গড় আয়ু ১২০ দিন। 
- মানুষের লোহিত রক্তকোষে নিউক্লিয়াস থাকে না এবং দেখতে অনেকটা দ্বি-অবতল বৃত্তের মতো। 
- পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির রক্তে লোহিত রক্তকোষ সংখ্যা প্রতি কিউবিক মিলিমিটারে প্রায় 50 লক্ষ। 

- লোহিত রক্তকোষ শ্বেত রক্তকোষের চেয়ে প্রায় ৫০০ গুণ বেশি। 
- পুরুষের তুলনায় নারীদের রক্তে লোহিত রক্তকোষ কম থাকে। 
- তুলনামূলকভাবে শিশুদের দেহে লোহিত রক্তকোষের পরিমাণ বেশি থাকে। 
- আমাদের জীবনের প্রতি মুহূর্তে লোহিত রক্তকোষ ধ্বংস হয়, আবার সমপরিমাণে তৈরিও হয়। 
- লোহিত রক্তকোষের হিমোগ্লোবিন অক্সিহিমোগ্লোবিন হিসেবে অক্সিজেন এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহন করে। 

হিমোগ্লোবিন: 
- হিমোগ্লোবিন এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ। 
- লোহিত রক্তকোষের উপস্থিতির কারণে রক্ত লাল দেখায়। 
- রক্তে প্রয়োজনীয় পরিমাণ হিমোগ্লোবিন না থাকলে রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা (anemia) দেখা দেয়। 
- বাংলাদেশের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী এ রোগে আক্রান্ত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫২.
মানুষের শরীরের রক্তের গ্রুপ কয়টি?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
চারটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারটি
ব্যাখ্যা
রক্তের গ্রুপ: 
- বিভিন্ন ব্যক্তির লোহিত রক্ত কণিকায় A এবং B নামক দুই ধরনের অ্যান্টিজেন (antigens) থাকে এবং রক্তরসে a ও b দু'ধরনের অ্যান্টিবডি (antibody) থাকে। 
- এই অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে মানুষের রক্তকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা যায়, একে ব্লাড গ্রুপ বলে। 
- বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার 1901 সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করে তা A, B, AB এবং O- এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন। 
- সাধারণত একজন মানুষের রক্তের গ্রুপ আজীবন একই রকম থাকে। 
- রক্তে বিভিন্ন অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির উপস্থিতির ভিত্তিতে ব্লাড গ্রুপকে এভাবে বর্ণনা করা যায়। 
যেমন- 
• গ্রুপ A: এ শ্রেণির রক্তে A অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-B অ্যান্টিবডি (সংক্ষেপে b অ্যান্টিবডি) থাকে। 
• গ্রুপ B: এ শ্রেণির রক্তে B অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-A অ্যান্টিবডি (সংক্ষেপে a অ্যান্টিবডি) থাকে। 
• গ্রুপ AB: এই শ্রেণির রক্তে A ও B অ্যান্টিজেন থাকে এবং কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না। 
• গ্রুপ O: এ শ্রেণির রক্তে কোনো অ্যান্টিজেন থাকে না কিন্তু a ও b অ্যান্টিবডি থাকে। 
- O গ্রুপের রক্তবিশিষ্ট ব্যক্তি সব গ্রুপের রক্তের ব্যক্তিকে রক্ত দিতে পারে, এদের বলা হয় সর্বজনীন রক্তদাতা (universal donor)। 
- AB রক্তধারী ব্যক্তি যেকোনো ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ করতে পারে, তাই তাকে সর্বজনীন রক্তগ্রহীতা (universal recipient) বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৫৩.
সুষুম্নাকাণ্ড কোন তন্ত্রের অংশ?
  1. স্নায়ুতন্ত্রের
  2. কঙ্কালতন্ত্রের
  3. পরিপাকতন্ত্রের
  4. শ্বসনতন্ত্রের
সঠিক উত্তর:
স্নায়ুতন্ত্রের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্নায়ুতন্ত্রের
ব্যাখ্যা

- স্নায়ুতন্ত্রের দুইটি প্রধান অংশ, কেন্দ্রীয় এবং প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র।
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ভিতরে আছে মস্তিষ্ক এবং সুষুম্নাকান্ড।
- প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রের ভিতরে আছে করোটিক স্নায়ু এবং সুষুম্না স্নায়ু।
- সুষুম্নাকাণ্ড মেরুদণ্ডের অস্থি ও তরুণাস্থি নির্মিত কঙ্কাল আবরণে বেষ্টিত হয়ে অবস্থান করে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১৫৪.
পিটুইটারি গ্রন্থির কোন হরমোনটি মূত্র নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. অক্সিটোসিন 
  2. ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন
  3. প্রোল্যাকটিন
  4. ভ্যাসোপ্রেসিন
সঠিক উত্তর:
ভ্যাসোপ্রেসিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্যাসোপ্রেসিন
ব্যাখ্যা

ভ্যাসোপ্রেসিন বা অ্যান্টি-ডাইইউরেটিক হরমোন (ADH) শরীরের পানির ভারসাম্য রক্ষা করে এবং মূত্র নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

পিটুইটারি গ্রন্থি:
- পিটুইটারি গ্রন্থি হলো মানব মস্তিষ্কের নিচে অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র, লালচে-ধূসর রঙের মটর-সদৃশ অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি।
- এটি অন্তঃক্ষরাতন্ত্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যার ওজন মাত্র ০.৫ গ্রাম।
- পিটুইটারি গ্রন্থিকে হরমোন সৃষ্টিকারী প্রধান গ্রন্থি বা নিয়ামক গ্রন্থি (Principal/Master gland) বলে।
- এটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হরমোন নিঃসরণ করে এবং অন্যান্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির (যেমন থাইরয়েড, অ্যাড্রেনাল ও প্রজনন গ্রন্থি) কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।
- এটি হাইপোথ্যালামাসের সাথে সংযুক্ত থাকে।

• প্রধান অংশ ও হরমোনসমূহ:
- পিটুইটারি গ্রন্থিকে প্রধানত দুইটি অংশে ভাগ করা হয়। যথা:
১। অগ্র পিটুইটারি (Anterior Pituitary/Adenohypophysis):
- দেহের বৃদ্ধি, বিপাক এবং অন্যান্য গ্রন্থির কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে।
- এর প্রধান হরমোনগুলো হলো:
- গ্রোথ হরমোন (GH): দেহের সামগ্রিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে।
- থাইরয়েড-স্টিমুলেটিং হরমোন (TSH): থাইরয়েড গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে।
- অ্যাড্রেনোকর্টিকোট্রপিক হরমোন (ACTH): অ্যাড্রেনাল গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে।
- ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন (FSH) এবং লিউটিনাইজিং হরমোন (LH): এ দুটি হরমোনকে একত্রে গোনাডোট্রপিক হরমোন (GTH) বলা হয়, যা প্রজনন অঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে।
- প্রোল্যাকটিন (Prolactin): দুগ্ধ উৎপাদনে সহায়তা করে।
- মেলানোসাইট স্টিমুলেটিং হরমোন (MSH): ত্বক ও চুলের বর্ণ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

২। পশ্চাৎ পিটুইটারি (Posterior Pituitary/Neurohypophysis):
- এই অংশটি নিজে কোনো হরমোন তৈরি করে না, বরং হাইপোথ্যালামাস থেকে আসা দুটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন সংরক্ষণ করে ও প্রয়োজনে নিঃসরণ করে।
- হরমোন দুটি হলো:
- ভ্যাসোপ্রেসিন (Vasopressin): এটি অ্যান্টিডিউরেটিক হরমোন (ADH) নামেও পরিচিত, যা কিডনির মাধ্যমে মূত্র নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- অক্সিটোসিন (Oxytocin): এটি সন্তান প্রসবকালে জরায়ুর সংকোচন ঘটানো এবং দুগ্ধ নিঃসরণে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ২য় পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল, গাজী আসমত।

১৫৫.
মানবদেহের ত্বক ও কোষঝিল্লীর সজীবতা রক্ষা করে কোন ভিটামিন?
  1. ভিটামিন বি
  2. ভিটামিন এ
  3. ভিটামিন ডি
  4. ভিটামিন ই
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন এ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন এ
ব্যাখ্যা

ভিটামিন এ মানবদেহের ত্বক ও কোষঝিল্লীর সজীবতা রক্ষা করে।

ভিটামিন এ :
- ভিটামিন এ এর রাসায়নিক নাম রেটিনল।
- এরা চোখের রেটিনা অর্থাৎ অক্ষিপট ও যকৃতে জমা থাকে।
- প্রাণিজ উৎস হতে প্রাপ্ত ভিটামিন এ রেটিনল এবং উদ্ভিজ্জ উৎস হতে প্রাপ্ত ভিটামিন এ ক্যারোটিনরূপে পাওয়া যায়।
- ভিটামিন এ বর্ণহীন, তাপে স্থিতিশীল, অম্ল ও ক্ষারে অবিকৃত থাকে।
- রান্নার সময় ভিটামিন এ বজায় রাখতে হলে মৃদু তাপে ঢাকনাসহ রাঁধতে হবে।

ভিটামিন এ এর উৎস:
- ভিটামিন এ প্রাণিজ এবং উদ্ভিজ্জ উৎস হতে পাওয়া যায়।
- প্রাণিজ উৎস: ডিমের কুসুম, মাছের তেল। যকৃত বা কলিজা, দুধ, ডিম, ঘি, মাখন ইত্যাদি এর ভালো উৎস। প্রাণিজ উৎসে ভিটামিন এ রেটিনলরূপে পাওয়া যায়।
- উদ্ভিজ্জ উৎস: হলুদ, কমলা ও গাঢ় সবুজ বর্ণের শাকপাতা, ফল ও সবজি ভিটামিন এ এর ভালো উৎস। উদ্ভিদে ভিটামিন এ ক্যারোটিন রূপে থাকে। যেমন- গাজর, মিষ্টি কুমড়া, লালশাক, মিষ্টি আলু, পাকা পেঁপে, আম, কাঁঠাল, ধনে পাতা ইত্যাদিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ক্যারোটিন থাকে।

ভিটামিন এ এর কাজ :
১। ভিটামিন এ দেহের আবরক কলা গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণে কাজ করে।
২। ত্বক ও কোষঝিল্লীর সজীবতা রক্ষা করে।
৩। দৃষ্টি শক্তি প্রখর রাখে।
৪। চোখের নানারকম রোগ হতে চোখকে রক্ষা করে।
৫। চোখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।
৬। অল্প আলোতে দেখতে সাহায্য করে।
৭। প্রজনন তন্ত্রের গঠন ও কার্যকারিতা রক্ষায় ভূমিকা রাখে।
৮। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরিতে সহায়তা করে।

ভিটামিন এ এর অভাবজনিত অবস্থা :
১। জরায়ু, মূত্রাশয়, শ্বাসনালী ইত্যাদি স্থানের আবরককলা ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
২। ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়।
৩। চোখের উজ্জ্বলতা হ্রাস পায়।
৪। অল্প আলোতে দেখার ক্ষমতা কমে যায়।
৫। চোখের প্রদাহ হয়।
৬। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
৭। দীর্ঘ দিনের মারাত্মক অভাবে রাতকানা, জেরোপথ্যালমিয়াসহ চোখের জটিল রোগ সৃষ্টি হয়।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৬.
করোটিকার (Cranium) কাজ কী? 
  1. পেটের অঙ্গ সুরক্ষা
  2. মস্তিষ্ক আবৃত রাখা
  3. বুকের অঙ্গ সুরক্ষা
  4. হাত-পা সংযুক্ত করা
সঠিক উত্তর:
মস্তিষ্ক আবৃত রাখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মস্তিষ্ক আবৃত রাখা
ব্যাখ্যা

অক্ষীয় কঙ্কাল: 
- কঙ্কালতন্ত্রের যে অস্থিগুলো দেহের অক্ষ রেখা বরাবর অবস্থান করে কোমল, নমনীয় অঙ্গগুলোকে ধারণ করে ও রক্ষা করে এবং দেহ কাণ্ডের গঠনগুলো সংযুক্ত করে অবলম্বন দান করে তাদের একত্রে অক্ষীয় কঙ্কাল বলে। 
- অক্ষীয় কঙ্কাল প্রধানতঃ তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত।
যথা- (ক) করোটি, (খ) মেরুদণ্ড ও (গ) বক্ষপিঞ্জর। 
• করোটি (skull): 
- মুখমণ্ডলীয় ও করোটিকার অস্থি সমন্বয়ে গঠিত মাথার কঙ্কালিক গঠনকে করোটি বলে। 
- করোটিতে মোট ২৯টি অস্থি থাকে। 

করোটিকা (Cranium): 
- করোটির যে অংশ মস্তিষ্ক আবৃত করে রাখে তাকে করোটিকা বলে। 
- করোটিকা ছয় প্রকারের মোট আটটি অস্থিপাত নিয়ে গঠিত। 

• মেরুদণ্ড (Vertebral column): 
- অ্যাটলাস অস্থি থেকে কক্কিক্স অস্থি পর্যন্ত বিস্তৃত দণ্ডাকৃতির যে গঠন মানবদেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ গঠন করে তাকে মেরুদণ্ড বা শিরদাঁড়া বলে। 
- ৩৩টি অসম আকৃতির সীমিত সঞ্চালনক্ষম অস্থিখণ্ডক সমন্বয়ে মেরুদণ্ড গঠিত, এ সকল অস্থিখণ্ডককে কশেরুকা (vertebra) বলে। 
- কশেরুকাগুলো কোমলাস্থি নির্মিত চাকতি দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে। 
- এদের সিমফাইসিস স্থির অবস্থায় বা চলমান অবস্থায় এটি দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে। 

• বক্ষপিঞ্জর (Thoracic cage): 
- বক্ষদেশীয় ১২টি কশেরুকার সঙ্গে ১২ জোড়া পশুকা যুক্ত হয়ে যে খাঁচার মত আকৃতি গঠন করে তাকে বক্ষপিঞ্জর বলে। 
- এই খাঁচার ভেতরের গহ্বরকে বক্ষগহ্বর বলে, এই গহ্বরে হৃদপিণ্ড ও ফুসফুস অবস্থান করে। 
- দু'পাশের পর্যুকাগুলো স্টার্নাম নামক অস্থির সাথে যুক্ত থাকে। 
- বুকের কেন্দ্রীয় সম্মুখ অংশে অবস্থিত চাপা অস্থিটির নাম স্টার্নাম। 
- এটি ৩টি অংশে বিভক্ত। 
যথা- উপরের ত্রিকোণাকার ম্যানুব্রিয়াম, মাঝের লম্বা দেহ এবং নিচের ক্ষুদ্র জিফয়েড প্রসেস। 
- স্টার্নাম বুকের খাঁচার সামনের অংশ গঠন করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৭.
নিচের কোনটি প্রাণিজ আমিষের উৎস? 
  1. ডিম 
  2. ডাল 
  3. বাদাম 
  4. শিমের বিচি 
সঠিক উত্তর:
ডিম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিম 
ব্যাখ্যা

আমিষ বা প্রোটিন: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার। 
যথা- 
১। প্রাণিজ আমিষ: 
- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। 
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। 
- দেহ কোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণী দেহে শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% প্রোটিন থাকে। 

২। উদ্ভিজ আমিষ: 
- উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি,বাদাম ইত্যাদি। 
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫৮.
মানুষে রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক সময় কত মিনিট?
  1. ১-৮ মিনিট
  2. ২-৪ মিনিট
  3. ৩-৬ মিনিট
  4. ৪-৫ মিনিট
সঠিক উত্তর:
৪-৫ মিনিট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪-৫ মিনিট
ব্যাখ্যা
রক্ত জমাট বাঁধা বা রক্ত তঞ্চন (Blood Clotting): 
- যে প্রক্রিয়ায় ক্ষতস্থান থেকে নির্গত হওয়া রক্তের প্লাজমা থেকে ফাইব্রিনোজেন আলাদা হয়ে ক্ষতস্থানে ফাইব্রিন জালক নির্মাণের মাধ্যমে রক্তপাত বন্ধ করে ফলে রক্তের অবশিষ্টাংশ থকথকে পিণ্ডে পরিণত হয় সে প্রক্রিয়ার নাম রক্ত তঞ্চন বা রক্তের জমাট বাঁধা। 
- রক্তবাহিকার অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না, কারণ সেখানে হেপারিন নামে এক পদার্থ সংবহিত হয়। 
- কিন্তু দেহের কোনও অংশে ক্ষত সৃষ্টি হলে রক্ত যখন দেহের ক্ষত অংশ থেকে বের হতে থাকে তখন ঐ অংশের অণুচক্রিকাগুলো বাতাসের সংস্পর্শে ভেঙ্গে যায় এবং ক্ষতের মুখে রক্ত জমাট বাঁধিয়ে রক্তপাত বন্ধ করে। 
- রক্তরসে অবস্থিত ১৩টি ভিন্ন ভিন্ন ক্লটিং ফ্যাক্টর (clotting factor) রক্ত তঞ্চনে অংশ নেয়। 
- এগুলোর ধারাবাহিক কার্যকারিতার ফলে ক্ষতস্থানে রক্ত জমাট বাঁধে। 

রক্ত জমাট বাঁধার কৌশল: 
- দেহের কোন অংশে ক্ষত সৃষ্টি হলে সেখান থেকে নির্গত রক্তের অনুচক্রিকাগুলো বাতাসের সংস্পর্শে এসে ভেঙ্গে যায় এবং থ্রম্বোপ্লাস্টিন (thromboplastin: ক্লটিং ফ্যাক্টর) নামক প্লাজমা প্রোটিন উৎপন্ন হয়। 
- থ্রম্বোপ্লাস্টিন রক্তের হেপারিনকে অকেজো করে দেয় এবং রক্তরসে অবস্থিত ক্যালসিয়াম আয়নের উপস্থিতিতে প্রোথ্রম্বিন (prothrombin) নামক গ্লাইকোপ্রোটিনের সাথে ক্রিয়া করে সক্রিয় থ্রম্বিন (thrombin) এনজাইম (ক্লটিং ফ্যাক্টর IIa) উৎপন্ন করে। 
- থ্রম্বিন রক্তে অবস্থিত ফাইব্রিনোজেন (fibrinogen; ক্লটিং ফ্যাক্টর I) নামক দ্রবণীয় প্লাজমা প্রোটিনের সাথে মিলে ফাইব্রিন (fibrin) নামক অদ্রবণীয় প্রোটিন সূত্রের সৃষ্টি করে। 
- এভাবে সৃষ্ট সূত্রগুলো পরস্পর মিলিত হয়ে জালকের আকার ধারণ করে। 
-  ফাইব্রিনের জালকে লোহিত রক্ত কণিকাগুলো আটকে যায়। ফলে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয় এবং রক্ত জমাট বেঁধে যায়। 
- মানুষে রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক সময় ৪-৫ মিনিট। 
- জমাট বাঁধা রক্ত থেকে যে হালকা হলুদ বর্ণের তরল জলীয় অংশ বেরিয়ে আসে তাকে রক্তের সিরাম (serum) বলে। 
- সিরাম বস্তুতপক্ষে রক্তরস, তবে এতে ফাইব্রিনোজেন থাকে না। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
১৫৯.
পরিপাক যন্ত্রে স্নেহ পদার্থ কোন ভিটামিনের শোষনে সাহায্য করে?
  1. ক) ভিটামিন এ
  2. খ) ভিটামিন বি
  3. গ) ভিটামিন সি
  4. ঘ) ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ক) ভিটামিন এ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভিটামিন এ
ব্যাখ্যা
ভিটামিন- এ (রেটিনোয়িক এসিড), ভিটামিন- ডি (কোলিক্যালসিফেরল), ভিটামিন- ই (টকোফেরল) এবং ভিটামিন- কে স্নেহজাতীয় পদার্থে দ্রবণীয়।
তাই পরিপাক যন্ত্রে স্নেহ পদার্থ এই চারটি ভিটামিনের শোষনে সাহায্য করে। 

অন্যদিকে, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এবং ভিটামিন সি পানিতে দ্রবণীয়।

সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
১৬০.
Body Mass Index অনুযায়ী, মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তরের মান কোনটি? 
  1. ২৫.০-২৯.৯
  2. ৩০.০-৩৪.৯
  3. ৩৫.০-৩৯.৯
  4. ৪০.০ -এর উপরে
সঠিক উত্তর:
৩৫.০-৩৯.৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৫.০-৩৯.৯
ব্যাখ্যা
বিএমআই (Body Mass Index): 
- বিএমআই (Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে। 
- শরীরের সুস্থতা ও স্থূলতার মান নির্ণয়ে এটি খুবই উপযোগী। 
     বিএমআই = দেহের ওজন (কেজি)/দেহের উচ্চতা (মিটার)২ 

বিএমআই মান ⇒ করণীয়: 
• ১৮.৫ -এর নিচে ⇒ শরীরের ওজন কম। পরিমিত খাদ্যগ্রহণে ওজন বাড়াতে হবে। 
• ১৮.৫-২৪.৯ ⇒ এটি সুস্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ মান। 
• ২৫.০-২৯.৯ ⇒ শরীরের ওজন অতিরিক্ত। ব্যায়াম করে অতিরিক্ত ওজন কমানো প্রয়োজন। 
• ৩০.০-৩৪.৯ ⇒ মোটা হওয়ার প্রথম স্তর। বেছে খাদ্যগ্রহণ ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
৩৫.০-৩৯.৯ ⇒ মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তর। পরিমিত খাদ্য গ্রহন ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
• ৪০.০ -এর উপরে ⇒ অতিরিক্ত মোটাত্ব।মৃত্যুঝুঁকির আশঙ্কা। ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬১.
গ্লুকাগন নিঃসৃত হয় কোন গ্রন্থি থেকে?
  1. ক) যকৃত
  2. খ) থাইরয়েড
  3. গ) অগ্ন্যাশয়
  4. ঘ) পিটুইটারি
সঠিক উত্তর:
গ) অগ্ন্যাশয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অগ্ন্যাশয়
ব্যাখ্যা
অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়।
সূত্রঃ ৩৪তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
১৬২.
কোনটি পোলিও রোগের টিকা?
  1. বিসিজি
  2. এমএমআর
  3. ডিপিটি
  4. ওপিভি
সঠিক উত্তর:
ওপিভি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওপিভি
ব্যাখ্যা
• পোলিও রোগের টিকার নাম ওপিভি।

• ওপিভি:
- ‘পোলিওমাইটিলিজ’ এক ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ যা ‘পোলিও’ নামে অধিক পরিচিত।
- ১৮৪০ সালে জ্যাকব হেইনার প্রথম এই রোগ শনাক্ত করেন এবং ১৯০৯ সালে কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার পোলিও ভাইরাস শনাক্ত করেন।
- ১৯৫২ সালে জোনাস এডওয়ার্ড সাল্ক‌ পোলিওর টিকা উদ্ভাবন করেন।
- ১৯৫৭ সালে আলবার্ট সাবিন মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা আবিষ্কার করেন।
- বাংলাদেশে ১৯৫৫ সালে পোলিও টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
- পোলিও একটি সংক্রামক রোগ।
- পোলিও ভাইরাস একটি আরএনএ এন্টারো ভাইরাস।
- অন্যান্য ভাইরাসের মত এরও কোনো বিপাকীয় এনজাইম নেই।
- এটি দূষিত খাদ্য, পানি দ্বারা দেহে প্রবেশ করে।
- বাংলাদেশ পোলিও মুক্ত হয় ২০০৬ সালে।

• অন্যান্য অপশনসমূহ সম্পর্কে আলোচনা:
- যক্ষার টিকা - বিসিজি।
- হাম রোগের টিকা - এমএমআর ভ্যাকসিন।
- ডিফথেরিয়া, হুপিং কাশি ও ধনুষ্টঙ্কারের টিকা - ডিপিটি।

উৎস:

১. ব্রিটানিকা।
২. প্রাণীবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩. WHO ওয়েবসাইট।
১৬৩.
মানুষের পরিপাক নালির গড় দৈর্ঘ্য কত?
  1. ৩–৪ মিটার
  2. ৫–৬ মিটার
  3. ৮–১০ মিটার
  4. ১২–১৫ মিটার
সঠিক উত্তর:
৮–১০ মিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮–১০ মিটার
ব্যাখ্যা

- মানুষের পরিপাক নালি মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত একটি দীর্ঘ নালি বিশেষ, এর গড় দৈর্ঘ্য সাধারণত ৮-১০ মিটার হয়ে থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের পরিপাক নালী প্রায় ৩০ ফুট (প্রায় ৯ মিটার) লম্বা হতে পারে। 

পরিপাক নালি: 
- মানবদেহে পরিপাক ও পরিশোষণ পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে সংগঠিত হয়। 
- পরিপাকতন্ত্র পরিপাক নালি ও পরিপাক গ্রন্থি নিয়ে গঠিত। 
- মানুষের পরিপাক নালি মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত ৮-১০ মিটার বিস্তৃত দীর্ঘ নালি বিশেষ যা কোথাও থলির ন্যায় স্ফীত আবার কোথাও কুণ্ডলীকৃত। 
- বিভিন্ন অংশ যেমন- মুখছিদ্র, মুখবিবর, গলবিল, অন্ননালি, পাকস্থলি, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদন্ত্র দ্বারা পরিপাক নালি গঠিত। 

ক্ষুদ্রান্ত: 
- পাকস্থলির পাইলোরাস অংশের পর থেকে ইলিওকোলি পর্যন্ত প্রায় ৬-৭ মিটার লম্বা বিস্তৃত অংশ ক্ষুদ্রান্ত। 
- এটি আবার ৩ অংশে বিভক্ত। যথা- ডিওডেনাম, জেজুনাম ও ইলিয়াম। 
- ডিওডেনামে মূলতঃ অগ্ন্যাশয় রসের এনজাইমের ক্রিয়া এবং জেজুনাম ও ইলিয়ামে আন্ত্রিক রসের এনজাইমের ক্রিয়ার পরিপাক ঘটে।

বৃহদন্ত্র: 
- পৌষ্টিকনালির শেষোক্ত বৃহৎ নলাকার অংশ যা ক্ষুদ্রান্ত্রের পর থেকে প্রায় ২ মিটার লম্বা মলাশয় পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- বৃহদন্ত্র তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা- সিকাম, কোলন ও মলাশয়। 
- সিকাম বৃহদন্ত্রের প্রথম, বড় স্ফীত ও গোলাকার থলের মতো অংশ। সিকাম থেকে একটি ক্ষুদ্র আঙ্গুল ও বন্ধ থলের ন্যায় প্রসারিত অংশকে অ্যাপেনডিক্স বলা হয়। এটি একটি নিষ্ক্রিয় অঙ্গ।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৪.
শ্বেত রক্ত কণিকা কোন প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে?
  1. থ্রম্বোপ্লাস্টিন
  2. অটোফ্যাগি
  3. সাইটোকাইনোসিস
  4. ফ্যাগোসাইটোসিস
সঠিক উত্তর:
ফ্যাগোসাইটোসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্যাগোসাইটোসিস
ব্যাখ্যা
শ্বেত রক্ত কণিকা: 
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। 
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন। 
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে। 
- ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে। 
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। 
- এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে। 
শ্বেত রক্ত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। 
- শ্বেত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে। 
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। 
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। 
- শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৫.
লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ুষ্কাল কতদিন?
  1. ক) ১ মাস
  2. খ) ২ মাস
  3. গ) ৩ মাস
  4. ঘ) ৪ মাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪ মাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৪ মাস
ব্যাখ্যা

রক্ত কণিকার মধ্যে লােহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
লােহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতাে দ্বি-অবতল।
এর গড় আয়ু ১২০ দিন বা ৪ মাস।
লাল অস্থিমজ্জায় লােহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়।
সূত্র: জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি

১৬৬.
মানবদেহের রক্তে রক্তকণিকার শতকরা পরিমাণ -
  1. ৪৫%
  2. ৬৫%
  3. ৫৫%
  4. ৯১%
সঠিক উত্তর:
৪৫%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪৫%
ব্যাখ্যা
মানবদেহ (রক্ত): 

• রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা।
• রক্তের উপাদান প্রধানত দুইটি। যথা: রক্তরস (৫৫%) এবং রক্তকণিকা (৪৫%)। 
• রক্তের হালকা হলুদ বর্ণের তরল অংশকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে।
• রক্তে ৩ ধরনের কণিকা রয়েছে। যথা- লোহিত রক্ত কণিকা, শ্বেত রক্ত কণিকা এবং অণুচক্রিকা।
• সাধারণত মানুষের শরীরের ওজনের ৮% রক্ত থাকে।
• একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দেহে রক্তের পরিমাণ ৫-৬ লিটার । 
• রক্ত সামান্য ক্ষারীয়।
•  মানুষের রক্তের PH: 7.35 - 7.45।
• মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৭° সেলসিয়াস (৯৮.৬০ ফারেনহাইট)।

উৎস: জীববিজ্ঞান, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
১৬৭.
নিচের কোনটি ভিটামিন-সি-এর উৎস নয়?
  1. ডিমে
  2. কলিজায়
  3. বাঁধাকপিতে
  4. পেয়ারায়
সঠিক উত্তর:
ডিমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিমে
ব্যাখ্যা
ভিটামিন সি: 
- ভিটামিন-সি এর অপর নাম অ্যাসকরবিক এসিড। 
- পেয়ারা, বাতাবী লেবু, কামরাঙা, কমলা, আমড়া, বাঁধাকপি, টমেটো, আনারস, কাঁচামরিচ, তাজা শাকসব্জি ইত্যাদিতে ভিটামিন সি থাকে। 
- সবুজ শাক-সবজি ও ফল যেমন- বাঁধাকপি, ফুলকপি, পালং শাক ইত্যাদিতে ভিটামিন-সি পাওয়া যায়। 
- সবচেয়ে বেশি ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল আমলকি। 
ডিম ও দুধে ভিটামিন-সি ছাড়া সকল ভিটামিন রয়েছে। 
 
অন্যদিকে, 
- দুধ, মাখন, চর্বি, ডিম, গাজর, আম, কাঁঠাল, রঙিন শাকসবজি, মলা মাছ ইত্যাদিতে ভিটামিন এ থাকে। 
- ঈস্ট, ঢেঁকিছাঁটা চাল, আটা, অঙ্কুরিত ছোলা, মুগডাল, মটর, ফুলকপি, চিনাবাদম, শিমের বীচি, কলিজা, হৃদপিন্ড, দুধ, ডিম, মাংস, সবুজ শাকসব্জি ইত্যাদিতে ভিটামিন বি থাকে। 
- ডিম, দুধ, কলিজা, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাছের তেল, ভোজ্য তেল ইত্যাদিতে ভিটামিন ডি থাকে। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬৮.
মানবদেহে দৈহিক ওজনের কত শতাংশ পানি থাকে? 
  1. ৪০-৫০% 
  2. ২০-৩০%
  3. ৬০-৭৫% 
  4. ৮০-৯০%
সঠিক উত্তর:
৬০-৭৫% 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬০-৭৫% 
ব্যাখ্যা

পানি (Water): 
- পানি খাদ্যের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানবদেহের জন্য পানি অপরিহার্য, এটি দেহের গঠন এবং অভ্যন্তরীণ কাজ পানি ছাড়া চলতে পারে না। 
- মানুষের দৈহিক ওজনের ৬০-৭৫% হচ্ছে পানি। আমাদের রক্ত, মাংস, স্নায়ু, দাঁত, হাড় ইত্যাদি প্রতিটি অঙ্গ গঠনের জন্য পানির প্রয়োজন। 
- দেহকোষ গঠন এবং কোষের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া পানি ছাড়া কোনোভাবেই সম্পন্ন করা সম্ভব না। পানির মাধ্যমে শরীর গঠনের নানা প্রয়োজনীয় উপাদান শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পরিবাহিত হয়। 
- এটি জীবদেহে দ্রাবকের কাজ করে, খাদ্য উপাদানের পরিপাক ও পরিশোষণে সাহায্য করে। 
- বিপাকের ফলে দেহে উৎপন্ন ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং বিষাক্ত পদার্থগুলোকে পানি মূত্র ও ঘাম হিসেবে শরীর থেকে বের করে দেয়। এছাড়া পানি শরীর থেকে ঘাম নিঃসরণ এবং বাষ্পীভবনের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। 
- শরীরে পানির উৎস: খাবার পানি, পানীয় যেমন- চা, দুধ, কফি, শরবত এবং বিভিন্ন খাদ্য যেমন- শাকসবজি ও ফল। 

- শরীর থেকে মোট নির্গত পানির পরিমাণ গৃহীত পানির পরিমাণের সমান হলে শরীরে পানির সমতা বজায় থাকে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ২-৩ লিটার পানি পান করা উচিত, কারণ প্রায় ঐ পরিমাণ পানি প্রত্যেকদিনই আমাদের শরীর থেকে বের হয়ে যায়। 
- গরম আবহাওয়ায়, কঠোর পরিশ্রমে দেহে পানির অভাব দেখা দেয়। এ সময় পানি পানের পরিমাণ বাড়ানো উচিত। 
- ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ঘনঘন প্রস্রাবের কারণে শরীরে পানির অভাব হতে পারে। শরীরে পানির অভাব হলে তীব্র পিপাসা হয়, রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটে, ত্বক কুঁচকে যায়।
- পানির অভাবে স্নায়ু ও পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে।
- দেহে অম্ল ও ক্ষারের সমতা নষ্ট করে এসিডোসিস রোগের সৃষ্টি হয়।
- শরীরে পানি ১০% কমে গেলে সংজ্ঞা লোপ পায়, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।
- অত্যধিক বমি, ডায়রিয়া ইত্যাদি কারণেও শরীর থেকে অনেক পানি বের হয়ে যেতে পারে। শরীরে পানির অভাব নিরসনের জন্য যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হয়। শরীর থেকে যে পরিমাণ পানি ও লবণ বের হয়ে যায়, খাবার স্যালাইন তা পূরণ করে শরীরে পানি ও লবণের ভারসাম্য ঠিক রাখে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬৯.
জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মানব সৃষ্ট প্রধান কারণ কোনটি?
  1. ক) প্রাণির বাসস্থান ধ্বংস
  2. খ) পরিবেশ দূষণ
  3. গ) অতিমাত্রায় সম্পদ আহরণ
  4. ঘ) জনসংখ্যা বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
ক) প্রাণির বাসস্থান ধ্বংস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রাণির বাসস্থান ধ্বংস
ব্যাখ্যা

মানব সৃষ্ট কারণঃ
১। বাসস্থান ধ্বংস- জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের সব থেকে বড় কারণ হলো তাদের বাসস্থান ধ্বংস করা। বর্তমানে প্রতি মিনিটে পৃথিবীতে ৫০ একর বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে। জলাভূমি ভরাট করা জলজ প্রাণীর বিলুপ্তির কারণ।

২। এক্সপ্লয়টেশন- সম্পদের অতিমাত্রায় আহরণ বহু জীব প্রজাতি বিলুপ্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৩। অতিমাত্রায় পশু চারণ- তৃণভূমিতে অতিমাত্রায় পশুচারণের ফলে অনেক উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্তির পথে।

৪। পলিনেটর ধ্বংস- মৌমাছিসহ বহু কীটপতঙ্গ উদ্ভিদের পরাগায়ন ঘটায়। অতিমাত্রায় কীটনাশক, পতঙ্গনাশক ব্যবহারের ফলে পরাগায়নের এ বাহকগুলো কমে গিয়েছে। তাই পরাগায়নের অভাবে এ সকল উদ্ভিদ প্রজাতিসমূহ বিলুপ্তির পথে রয়েছে।

৫। পরিবেশ দূষণ- পরিবেশ দূষণ জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭০.
রক্তের লাল রং হওয়ার কারণ কী? 
  1. শ্বেতকণিকার সংখ্যা
  2. হিমোগ্লোবিনের উপস্থিতি
  3. অক্সিজেনের পরিমাণ
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইডের উপস্থিতি
সঠিক উত্তর:
হিমোগ্লোবিনের উপস্থিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমোগ্লোবিনের উপস্থিতি
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা। 
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্ত কণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত হয়। 
- মানুষ ও অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের রক্ত লাল রঙের হয়। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রং লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 

রক্তের কাজ: 
- রক্ত দেহের বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে। 
যথা- 
- খাদ্য পরিপাকের পর তার সারাংশ রক্তের সাথে মিশ্রিত হয়। রক্ত সেই খাদ্যসারকে দেহের সকল অংশে নিয়ে যায়। এভাবে জীবকোষগুলো পুষ্টি সাধন করে। 
- রক্তের লোহিত কণিকাস্থ হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনকে ফুসফুস হতে দেহের বিভিন্ন কোষে পৌঁছায় এবং কোষগুলো হতে কার্বন ডাই-অক্সাইড বহন করে এনে ফুসফুসের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেয়। 
- দেহের মধ্যে সর্বদাই দহনক্রিয়া সম্পাদিত হচ্ছে। তাতে বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে যে বিভিন্ন তাপমাত্রার সৃষ্টি হয়, তা রক্তের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র পরিব্যাপ্ত হয় এবং এভাবে দেহে তাপের সমতা রক্ষা পায়। 
- নালীবিহীন গ্রন্থিগুলোতে অন্তঃনিসৃত রস সরাসরি রক্তে মিশে, এ রসকে হরমোন বলে। সঞ্চালিত রক্তের দ্বারা হরমোন প্রয়োজন অনুযায়ী দেহের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ হয়। 
- রক্তের শ্বেতকণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় প্রবেশকৃত অবৈধ ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে রোগমুক্ত রাখে। 
- দেহের কোনো স্থান কেটে গেলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে, ফলে রক্তপাত বন্ধ হয়। 
- রক্ত দেহের বিভিন্ন প্রকার দুষিত পদার্থ ও বর্জ্য উপাদান ফুসফুস, মূত্রাশয় ও ত্বকে নিয়ে আসে ও সেখান হতে তাদের নিষ্কাশন করতে সহায়তা করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭১.
জাইগোট সর্বদা-
  1. হ্যাপ্লয়েড
  2. ডিপ্লয়েড
  3. ট্রিপ্লয়েড
  4. ট্রেট্রাপ্লয়েড
সঠিক উত্তর:
ডিপ্লয়েড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিপ্লয়েড
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোমের প্লয়িডি লেভেল:
- মানুষের শুক্রাণু এবং ডিম্বাণু উভয়েই হ্যাপ্লয়েড (n) অর্থাৎ একপ্রস্থ ক্রোমোজোম বিশিষ্ট।
- শুক্রাণু এবং ডিম্বাণুর মিলনকে নিষেক বলে।
- নিষেকের ফলে জাইগোট তৈরি হয়।
- জাইগোট ডিপ্লয়েড (2n) বা দুই প্রস্থ ক্রোমোজোম বিশিষ্ট।
- সস্যের এন্ডোস্পার্ম ট্রিপ্লয়েড (3n) বা তিন প্রস্থ ক্রোমোজোম বিশিষ্ট হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী, NCTB।
১৭২.
আমাদের শরীরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে নিচের কোনটি?
  1. ক) শর্করা
  2. খ) আমিষ
  3. গ) স্নেহ
  4. ঘ) ভিটামিন
সঠিক উত্তর:
ক) শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শর্করা
ব্যাখ্যা
শর্করা:
- শর্করা হচ্ছে মানুষের প্রধান খাদ্য।
- কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে শর্করা তৈরি হয়।
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত।
- শর্করা আমাদের শরীরে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে
- কয়েক ধরনের শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট রয়েছে এবং এদের উৎসও ভিন্ন। যেমন: 

উদ্ভিজ্জ উৎস:
১। শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য শস্য দানা স্টার্চের প্রধান উৎস। এছাড়া আলু, রাঙা আলু এবং কচুতেও শ্বেতসার বা স্টার্চ পাওয়া যায়।
২। সেলুলোজ: বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে। 
৩। সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড় এবং মিছরি এর উৎস।
৪। ফ্রোক্টোজ: আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রোক্টোজ থাকে। একে ফল শর্করাও বলা হয়ে থাকে।
৫। গ্লুকোজ: এটি চিনির তুলনায় মিষ্টি কম। এই শর্করাটি আঙুর, আপেল, গাজর,খেজুর ইত্যাদিতে পাওয়া যায়।

প্রাণিজ উৎস:
১। ল্যাকটোজ বা দুধ শর্করা: গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে এই শর্করা থাকে।
২। গ্লাইকোজেন: পশু ও পাখিজাতীয় (যেমন: মুরগি, কবুতর প্রভৃতি ইত্যাদি) প্রাণীর যকৃৎ এবং মাংসে (পেশি) গ্লাইকোজেন শর্করাটি থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭৩.
যকৃতের রোগ কোনটি?
  1. জন্ডিস
  2. টাইফয়েড
  3. হাম
  4. কলেরা
সঠিক উত্তর:
জন্ডিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন্ডিস
ব্যাখ্যা

• যকৃতের রোগ হচ্ছে - জন্ডিস। 

• জন্ডিস:
- জন্ডিস হলো ভাইরাস জনিত রোগ। 
- জন্ডিস হলে রক্তে বিলরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায় ফলে ত্বক, চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়। 
- বিলিরুবিন তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায়। জমা হয় প্লীহাতে।
- যকৃতের মধ্যে অবস্থিত প্লীহা বিলিরুবিন উৎপন্ন হওয়ার প্রধান স্থান হিসেবে স্বীকৃত।
- যা কনজুগেশনের মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৭৪.
What substance is hemoglobin?
  1. ক) affectionate
  2. খ) Carbohydrates
  3. গ) non-vegetarian
  4. ঘ) Vitamins
সঠিক উত্তর:
গ) non-vegetarian
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) non-vegetarian
ব্যাখ্যা
- হিমোগ্লোবিন আমিষ জাতীয় পদার্থ।
- রক্তের রং লাল হয় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য।
- হিমোগ্লোবিনের কাজ ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে কলায় পরিবহন করা এবং কলা থেকে কার্বণ-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে ফুসফুসে পরিবহন করা।

তথ্যসূত্র - জীব বিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৭৫.
রক্ত জমাটকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন প্রোথ্রম্বিনের সক্রিয়করণে কোন ভিটামিন কাজ করে?
  1. ভিটামিন এ
  2. ভিটামিন সি
  3. ভিটামিন ডি
  4. ভিটামিন কে
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন কে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন কে
ব্যাখ্যা
ভিটামিন কে (Vitamin K): 
- ভিটামিন কে এর রাসায়নিক নাম ফাইটাল নেপথোকুইনোন। 
- এটি তাপ, আর্দ্রতা ও বায়ুর সংস্পর্শে ক্ষতিগ্রস্থ হয় না। 

• ভিটামিন কে এর উৎস: 
- সবুজ শাক সবজি, ডিমের কুসুম, দুধ, যকৃত, মাংস, মাছ, লেটুস পাতা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মটরশুঁটি ইত্যাদিতে কে ভিটামিন পাওয়া যায়। 

• ভিটামিন কে এর কাজ: 
১. কোনো কারণে রক্তক্ষরণ হলে রক্ত জমাট বাঁধতে ভিটামিন কে সাহায্য করে। রক্ত জমাটকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন প্রোথ্রম্বিনের সক্রিয়করণে ভিটামিন কে কাজ করে। 
২. পিত্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। 
৩. যকৃতের স্বাভাবিক কার্যকলাপ বজায় রাখে। 

• ভিটামিন কে এর অভাবজনিত অবস্থা: 
- ভিটামিন কে এর অভাবে রক্ত জমাট বাঁধা ব্যাহত হয়। ফলে, সামান্য কাটা ছেঁড়ায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৬.
মানবদেহে কোন ভাইরাস 'গুটিবসন্ত' রোগ সৃষ্টি করে?
  1. ভেরিওলা ভাইরাস
  2. র‍্যাবিস ভাইরাস
  3. অ্যাডিনো ভাইরাস
  4. ফ্ল্যাভি ভাইরাস
সঠিক উত্তর:
ভেরিওলা ভাইরাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেরিওলা ভাইরাস
ব্যাখ্যা
- মানবদেহে "ভেরিওলা ভাইরাস" ভাইরাস 'গুটিবসন্ত' রোগ সৃষ্টি করে। 

- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে। 
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে। 
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে, তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে। 

ভাইরাসের অপকারিতা: 
১। বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর নানা রকমের রোগ উৎপন্ন করে। 
- এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রোগের নাম, পোষকের নাম এবং ভাইরাসের নাম হলো- 

- ভাইরাস নানা রকম প্রাণীর মারাত্মক রোগের সৃষ্টি করে, ফলে প্রাণীর অকাল মৃত্যু সংঘটিত হয়। 

২। প্রাণীর ন্যায় উদ্ভিদের প্রায় ৩০০ ধরনের রোগ ভাইরাস দিয়ে সংঘটিত হয়। 
- এতে ফসলের উৎপাদন বিপুল পরিমাণে হ্রাস পায়। 
- এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রোগের নাম, পোষকের নাম এবং ভাইরাসের নাম হলো- 

৩। ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস: মানুষের উপকারি কিছু ব্যাকটেরিয়াকে ফায ভাইরাস ধ্বংস করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৭.
ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত সমস্যা কোনটি?
  1. এটির অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয়
  2. এটির অভাবে রিকেটস রোগ হয়
  3. এটির অভাবে রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম: 
- ক্যালসিয়াম (Ca) প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। 
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। 
- রক্ত এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি রয়েছে। 

- ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাধঁকপি এবং ফল। 
- প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 
- হাড় ও দাঁটের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। 
- এ ছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। 
- এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭৮.
কোন বিজ্ঞানী রক্ত-সঞ্চালন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন?
  1. ক) আন নাফিস
  2. খ) ইবনে সিনা
  3. গ) উইলিয়াম হার্ভে
  4. ঘ) লুই পাস্তুর
সঠিক উত্তর:
গ) উইলিয়াম হার্ভে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উইলিয়াম হার্ভে
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ বিজ্ঞানী উইলিয়াম হার্ভে ১৬২৮ সালে রক্ত-সঞ্চালন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।
সূত্রঃ ২৯তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
১৭৯.
মানুষ (Homo sapiens) কোন শ্রেণীর প্রাণী?
  1. ত্রিস্তরী
  2. দ্বিস্তরী
  3. একস্তরী 
  4. স্তরবিহীন
সঠিক উত্তর:
ত্রিস্তরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রিস্তরী
ব্যাখ্যা

- ভ্রূণীয় বিকাশের স্তরের ওপর ভিত্তি করে মানুষকে ত্রিস্তরী (Triploblastic) প্রাণী বলা হয়। মানুষের ভ্রূণীয় অবস্থায় তিনটি স্তর যেমন- এক্টোডার্ম (Ectoderm - বহিঃস্তর), মেসোডার্ম (Mesoderm - মধ্যস্তর) এবং এন্ডোডার্ম (Endoderm - অন্তস্তর) পরিলক্ষিত হয়। এই তিনটি স্তর থেকেই পরবর্তীতে মানুষের দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও তন্ত্র গঠিত হয়। 

ভ্রূণীয় স্তর: 
- ভ্রূণীয় স্তরের উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক. একস্তরী প্রাণী: 
- এরা সরল ধরনের প্রাণী। 
- এদের দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত। 
যেমন- স্কাইফা (Scypha gilatinosum)। 

খ. দ্বিস্তরী প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর (Ectoderm) ও অন্তঃস্তর (Endoderm) নামক দুটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- অরেলিয়া (Aurelia aurita)। 

গ. ত্রিস্তরী প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর, মধ্যস্তর (Mesoderm) ও অন্তঃস্তর নামক তিনটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- মানুষ (Homo sapiens)। 

ঘ. স্তরবিহীন প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে স্তরবিহীন প্রাণী বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮০.
সাইটোকাইনেসিস মূলত শুরু হয় ক্যারিওকাইনেসিসের কোন দশাতে?
  1. ক) প্রোফেজ
  2. খ) মেটাফেজ
  3. গ) এনাফেজ
  4. ঘ) টেলোফেজ
সঠিক উত্তর:
ঘ) টেলোফেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) টেলোফেজ
ব্যাখ্যা
ক্যারিওকাইনেসিসকে নিউক্লিয়াসের বিভাজন বলে, নিউক্লিয়াসের বিভাজন শেষ হওয়ার সাথে সাথে শুরু হয় সাইটোকাইনেসিস যা মূলত টেলোফেজ দশাতেই শুরু হয়।
উৎসঃ অষ্টম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
১৮১.
উচ্চ পর্বতের চূড়ায় উঠলে নাক দিয়ে রক্তপাতের সম্ভাবনা থাকে; কারণ উচ্চ পর্বত চূড়ায়-
  1. ক) অক্সিজেন কম
  2. খ) ঠাণ্ডা বেশি
  3. গ) বায়ুর চাপ বেশি
  4. ঘ) বায়ুর চাপ কম
সঠিক উত্তর:
ঘ) বায়ুর চাপ কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বায়ুর চাপ কম
ব্যাখ্যা
পর্বতের চূড়ায় বায়ুর চাপ কম হওয়ার কারণে পর্বতের চূড়ায় আরোহণ করলে নাক দিয়ে রক্তপাত হতে পারে।

উৎসঃ  নবম দশম শ্রেণির জীবজ্ঞান বই।
১৮২.
স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রমের একক-
  1. ক) স্নায়ুটিস্যু
  2. খ) নিউরন
  3. গ) প্যারিসিম্প্যাথেটিক স্নায়ু
  4. ঘ) মেসেনসেফালন
সঠিক উত্তর:
খ) নিউরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিউরন
ব্যাখ্যা
বহুসংখ্যক নিউরন বা স্নায়ুকোষের সমন্বয়ে স্নায়ুটিস্যু গঠিত হয়। নিউরনই স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যক্রমের একক।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১৮৩.
একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম সাধারণত কতটি অংশ নিয়ে গঠিত? 
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৪ টি
  4. ৭ টি
সঠিক উত্তর:
২ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ টি
ব্যাখ্যা
দ্বিপদ নামকরণ: 
- বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সঠিক উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণীদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও পরস্পরের মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- জীবজগতকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। 
- বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিতে জীববিজ্ঞানের একটী স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যার নাম শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা। 

- শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যাারিস্টটল, জন রে এবং ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 
- প্রকৃতি বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়। 
- ক্যারোলাস লিনিয়াসই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়। 
- এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
যেমন মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম- Homo Sapiens. 
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন বা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১৮৪.
স্নায়ুকোষের কত শতাংশ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে?
  1. এক-দ্বিতীয়াংশ
  2. এক-তৃতীয়াংশ
  3. এক-চতুর্থাংশ
  4. এক-পঞ্চমাংশ
সঠিক উত্তর:
এক-চতুর্থাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক-চতুর্থাংশ
ব্যাখ্যা
স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮৫.
The largest gland in the human body, located in the upper right abdomen, is called:
  1. Thyroid gland
  2. Pancreas
  3. Kidney
  4. Liver
  5. Spleen
সঠিক উত্তর:
Liver
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Liver
ব্যাখ্যা
• যকৃত: 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। 
- মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডানপাশে গাঢ় বাদামী বর্ণের ত্রিকোণাকার অঙ্গ। 
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে। 
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে। 
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। 
- পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে। 

- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়। 
- যকৃত পিত্তরস তৈরি করে। 
- ক্ষারীয় পিত্তরস পিত্তথলিতে জামা রাখে। 
- পিত্তরসে কোন এনজাইম থাকে না, তাই যকৃত উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজ দেহে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত রাখে। 
- রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি হলে গ্লুকোজ সরবরাহ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 

- পিত্তরস চর্বি জাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে পরিপাকে সহায়তা করে। 
- অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড যকৃতে আসার পর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রোজনজনিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৬.
নিচের কোনটি লসিকার কাজ নয়? 
  1. পুষ্টি সরবরাহ
  2. প্রজনন
  3. প্রোটিন পরিবহন
  4. দেহ রসের সংবহন
সঠিক উত্তর:
প্রজনন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রজনন
ব্যাখ্যা
- লসিকার কাজ নয়- প্রজনন। 

লসিকা: 
- এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে। 
- লসিকায় লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক। 
- লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে। 
যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি। 
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার। 

লসিকার কাজ: 
• প্রোটিন পরিবহন: কলার ফাঁকা স্থান থেকে প্রোটিন লসিকার মাধ্যমে রক্তে ফিরে আসে। 
• স্নেহ পরিবহন: যে সব স্নেহ কলা কৈশিক নালির বাধা অতিক্রমে অক্ষম সেগুলো লসিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।
• পুষ্টি সরবরাহ: দেহের যে সব কলা কোষে রক্ত পৌঁছাতে পারে না সেখানে লসিকা অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ করে।
• শোষণ: স্নেহ পদার্থ অন্ত্র থেকে শোষিত হয়ে লসিকার মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। 
• প্রতিরক্ষা: লসিকায় অবস্থিত প্রচুর শ্বেত কণিকা দেহের প্রতিরক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকে। 
• প্রতিরোধ: B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপন্ন অ্যান্টিবডি দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 
দেহ রসের সংবহন: রক্ত সংবহনের এক অংশ থেকে অন্য অংশে তরল পদার্থের পরিবহনে অংশ নেয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৭.
পিটুইটারি গ্রন্থি ক্ষরিত হরমোন কোনটি?
  1. ক) থাইরক্সিন
  2. খ) অক্সিটোসিন
  3. গ) থাইমোসিন
  4. ঘ) ইনসুলিন
সঠিক উত্তর:
খ) অক্সিটোসিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অক্সিটোসিন
ব্যাখ্যা
পিটুইটারি গ্রন্থি:
- এটি মস্তিষ্কে হাইপোথ্যালামাসের সাথে সংযুক্ত একটি গোলাকার ছোট গ্রন্থি।
- এ গ্রন্থি থেকে সর্বাধিক সংখ্যক হরমোন ক্ষরিত হয়।
- এসব হরমোন অন্যান্য প্রায় সকল গ্রন্থির উপর প্রভাব বিস্তার করে কাজের সমন্বয় ঘটায়।
- এজন্য এ গ্রন্থিকে প্রভু গ্রন্থি বলা হয়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৮.
কোনটিকে প্রোটিন উৎপাদনের কারখানা বলা হয়?
  1. ক) মাইট্রোকন্ডিয়া
  2. খ) ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. গ) রাইবোজোম
  4. ঘ) নিউক্লিয়াস
সঠিক উত্তর:
গ) রাইবোজোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাইবোজোম
ব্যাখ্যা

- রাইবোজোমের প্রধান কাজ প্রোটিন সংশ্লেষণ করা। তাই একে বলা হয় প্রোটিন ফ্যাক্টরি।
- নিউক্লিয়াস কোষের সব ধরনের জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই একে কোষের মস্তিষ্ক, কোষের প্রাণ বা প্রাণকেন্দ্র বলা হয়।
- কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে বলে মাইটোকনড্রিয়াকে কোষের 'পাওয়ার হাউস' বা 'শক্তিঘর' বলা হয়।
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট।
- ক্লোরোপ্লাস্ট খাদ্য সংশ্লেষে সাহায্য করে বলে 'কোষের রান্নাঘর' বা 'শর্করা জাতীয় খাদ্যের কারখানা' বলে।
- এটি শক্তি রূপান্তরের অঙ্গানু।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১৮৯.
একটি সিন্টোল ও একটি ডায়াস্টোলের সমন্বয়ে একটি হৃদস্পন্দন সম্পন্ন করতে সময় লাগে-
  1. ০.৫ সেকেন্ড
  2. ০.৮ সেকেন্ড
  3. ০.২ সেকেন্ড
  4. ০.৪ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
০.৮ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.৮ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
হৃদস্পন্দন:
- একটি সিস্টোল ও একটি ডায়াস্টোলের সমন্বয়ে একটি হৃৎস্পন্দন সম্পন্ন হয় এবং
- একটি হৃদস্পন্দনে সময় লাগে প্রায় ০.৮ সেকেন্ড।
- একজন সুস্থ মানুষের হৃৎস্পন্দন প্রতি মিনিটে ৬০-১০০ বার হয়। এটাকে হার্ট-বিট বলা হয়।
- মানুষের হৃৎস্পন্দন শোনা যায় স্টেথোস্কোপ যন্ত্রের মাধ্যমে।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি।
১৯০.
মানবদেহের প্রতিটি কোষে কয়টি লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজম থাকে?
  1. ২টি
  2. ২২টি
  3. ৪৪টি
  4. ৪৬টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজম:

- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজম।
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু ।
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি।
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজম শব্দটি ব্যবহার করেন।
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজম থাকে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজম থাকে।
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজমকে বলা হয় অটোসোম।
- অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই।
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজম।
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজম।
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯১.
সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে কার ক্রোমোজোম মূল ভূমিকা পালন করে?
  1. ক) পিতার
  2. খ) মাতার
  3. গ) পিতা-মাতা উভয়ের
  4. ঘ) কখনো পিতার আবার কখনো মাতার
সঠিক উত্তর:
ক) পিতার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পিতার
ব্যাখ্যা
আমাদের দেশে কন্যা-সন্তান প্রসব করার কারণে অজ্ঞতাবশতঃ অনেক সময় মাতাকে অপবাদ দেয়া হয়।
প্রকৃতপক্ষে প্রত্যাশিত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণে মাতার কোনও ভূমিকা নেই। কেননা, মাতৃকোষে সব সময়ই কেবলমাত্র 'X' ক্রোমোসোম বহনকারী ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়। অপরদিকে পিতার জননকোষ তথা শুক্রাণু 'X' এবং 'Y' ক্রোমোসোম বহন করে।
গর্ভধারণকালে কোন্ ধরনের ক্রোমোসোম (X অথবা Y) বহনকারী শুক্রাণু 'X' ক্রোমোসোম বহনকারী ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হবে, তার উপর নির্ভর করে ভবিষ্যত সন্তানের লিঙ্গ। যদি পিতার 'X' ক্রোমোসোম বহনকারী শুক্রাণু মাতার 'X' ক্রোমোসোম বহনকারী ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে, তবে উৎপন্ন জাইগোট হবে 'XX' তথা সন্তান হবে কন্যা।
অন্যদিকে যদি পিতার 'Y' ক্রোমোসোম বহনকারী শুক্রাণু মাতার 'X' ক্রোমোসোম বহনকারী ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে, তবে উৎপন্ন জাইগোট হবে 'XY' তথা ভূমিষ্ট হবে পুত্র সন্তান।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯২.
খাদ্যশক্তি কীসের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়?
  1. ওয়াট
  2. কিলো ক্যালোরি
  3. নিউটন
  4. কিলো জুল
সঠিক উত্তর:
কিলো ক্যালোরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিলো ক্যালোরি
ব্যাখ্যা

কিলো ক্যালোরি হলো খাদ্যশক্তি পরিমাপের প্রধান একক।
- ১ কিলো ক্যালোরি = ১০০০ ক্যালোরি।
- এটি ১ কেজি পানির তাপমাত্রা ১°C বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় শক্তি।
- খাদ্যের লেবেলে "Cal" বা "kcal" দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
- পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকরা দৈনিক খাদ্য চাহিদা নির্ধারণে এটি ব্যবহার করেন।
- একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দৈনিক প্রয়োজন প্রায় ২৫০০ কিলো ক্যালোরি।
- খাদ্যের শক্তি হলো খাদ্যে উপস্থিত শর্করা, আমিষ ও ফ্যাট থেকে পাওয়া মোট শক্তি।
- শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ জাতীয় খাদ্য উপাদান থেকে দেহে তাপ উৎপন্ন হয়।
- এই তাপ আমাদের দেহের ভিতরে খাদ্যের পরিপাক, বিপাক, শ্বাসকার্য, রক্তসঞ্চালন ইত্যাদি কাজে সাহায্য করে। শারীরিক পরিশ্রমে শক্তি ব্যয় হয়।
- যেসব খাদ্যে শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ পদার্থ থাকে, সেসব খাদ্য থেকে বেশি ক্যালরি পাওয়া যায়।
- যেসব খাদ্যে পানি ও সেলুলোজের পরিমাণ বেশি থাকে, সেসব খাদ্যে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে।
- তেল বা চর্বি জাতীয় পদার্থে ক্যালরির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে।

অন্যদিকে,
- ওয়াট: এটি বৈদ্যুতিক ক্ষমতার একক।
- নিউটন: এটি বলের একক। 
- কিলো জুল: এটি আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক একক হলেও, বেশির ভাগ দেশে খাদ্য শক্তি বোঝাতে কিলোক্যালোরি বেশি প্রচলিত।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

১৯৩.
মানব দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত?
  1. ক) ৯৮.৪° ফারেনহাইট
  2. খ) ৩৬.৯° ফারেনহাইট
  3. গ) ৩৯.৯° ফারেনহাইট
  4. ঘ) ৯৪.৯° ফারেনহাইট
সঠিক উত্তর:
ক) ৯৮.৪° ফারেনহাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৯৮.৪° ফারেনহাইট
ব্যাখ্যা
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা হলো ৩৬.৯° সেলসিয়াস অর্থাৎ ৯৮.৪° ফারেনহাইট।
মানবদেহের তাপমাত্রা নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হয় ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
১৯৪.
কোষের প্রাণশক্তি বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) প্রোটোপ্লাজম
  2. খ) রাইবোজোম
  3. গ) নিউক্লিয়াস
  4. ঘ) ক্রোমোজোম
সঠিক উত্তর:
গ) নিউক্লিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা
- নিউক্লিয়াস হলো কোষের মস্তিষ্ক এবং প্রাণশক্তি। 
- মাইটোকন্ড্রিয়া হলো কোষের পাওয়ার হাউজ।
- রাইবোজোম হলো কোষের প্রোটিন ফ্যাক্টরি।
- প্লাস্টিড হলো উদ্ভিদ কোষে খাদ্য তৈরির কারখানা।
- বংশগতির প্রধান উপাদান ক্রোমোজোম।
- লাইসোজোম জীবকোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৯৫.
মানবদেহে অটোসোমের সংখ্যা কত?
  1. ২২ জোড়া
  2. ২৬ জোড়া
  3. ২৩ জোড়া
  4. ১ জোড়া
সঠিক উত্তর:
২২ জোড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২ জোড়া
ব্যাখ্যা

• মানুষের প্রতিটি দেহকোষে মোট ২৩ জোড়া (৪৬টি) ক্রোমোসোম থাকে। এর মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোসোম নারী ও পুরুষের দেহে একই রকম এবং এগুলো দেহের সাধারণ বৈশিষ্ট্য বা দৈহিক গঠন নিয়ন্ত্রণ করে, যাদের অটোসোম বলা হয়।
- বাকি ১ জোড়া হলো সেক্স ক্রোমোসোম।

ক্রোমোজোম: 
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম। 
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু। 
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি। 
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। 
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় অটোসোম। 
- অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোসোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম। 
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। 
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৬.
পশ্চাৎপদের প্রথম বড় অস্থি কোনটি?
  1. ক) টারসাল
  2. খ) ফ্যালানজেস
  3. গ) ফিমার
  4. ঘ) টিবিয়া-ফিবুলা
সঠিক উত্তর:
গ) ফিমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফিমার
ব্যাখ্যা
পশ্চাৎপদ বা নিম্নবাহুর অস্থিসমূহ:
- প্রত্যেকটি পশ্চাৎপদ ৩০টি অস্থি নিয়ে গঠিত। যেমন- ফিমার, টারসাল, টিবিয়া-ফিবুলা, ফ্যালানজেস, মেটাটার্সাস ইত্যাদি। 

ফিমার:
- ফিমার পশ্চাৎপদের প্রথম বড় অস্থি।
- ইহা দেহের সবচেয়ে লম্বা, ভারী ও শক্ত অস্থি।
- এর উর্ধ্বপ্রান্তে একটি গোল মস্তক, গ্রীবা ও ছোট-বড় ট্রোকেল্টার অবস্থিত।
- নিম্নপ্রান্ত দুটি কন্ডাইল বিশিষ্ট।
- ফিমারের মস্তক শ্রোণিচক্রে অ্যাসিটাবুলামের সাথে যুক্ত থাকে।
- এর প্রান্তে প্যাটেল (Patella) নামক চ্যাপ্টা সিগময়েড অস্থি থাকে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৭.
কোনটি পৌষ্টিক গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে?
  1. যকৃত
  2. বৃক্ক
  3. পিত্তথলি
  4. গলবিল
সঠিক উত্তর:
যকৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যকৃত
ব্যাখ্যা
পৌষ্টিক গ্রন্থি:
- যে সব গ্রন্থির রস খাদ্য পরিপাকে অংশ নেয় তাদেরকে পরিপাক গ্রন্থি বা পৌষ্টিক গ্রন্থি বলে। 
- মানবদেহের পরিপাক গ্রন্থিগুলো হলো- লালা গ্রন্থি, যকৃত, অগ্ন্যাশয়, গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি ও আন্ত্রিক গ্রন্থি। 

যকৃত:
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি।
- মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডানপাশে গাঢ় বাদামী বর্ণের ত্রিকোণাকার অঙ্গ।

পিত্তথলি:
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে।
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে।
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট।

গলবিল:
-  মুখ গহ্বর ও অন্ননালির মধ্যবর্তী ছোট অংশকে গলবিল বলে।
- গ্যালেট নামক ছিদ্রের মাধ্যমে মুখ গহ্বর গলবিলে যুক্ত হয়।

বৃক্ক: 
- বৃক্ক হচ্ছে উন্নত প্রাণীদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৮.
মানুষের মাথার চুলে স্বাভাবিকভাবে কোন প্রকার প্রাকৃতিক তেল উৎপন্ন হয়?
  1. সানফ্লাওয়ার অয়েল
  2. মিনারেল অয়েল
  3. সিবাম অয়েল
  4. গ্লিসারিন অয়েল
সঠিক উত্তর:
সিবাম অয়েল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিবাম অয়েল
ব্যাখ্যা
প্রসাধনী: 
- বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনীর মধ্যে pH মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। 
- শরীরের ত্বকের জন্য আদর্শ pH মান 5.5 । 
- ত্বকের pH মান 5.5 থেকে 6.5 এর মধ্যে থাকলে ত্বক বিভিন্ন এলার্জেন ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমনকে প্রতিরোধ করতে পারে। 
- ত্বকের pH মান আদর্শ সীমার চেয়ে বেশি বা কম হলে ত্বকের কোমলতা ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়। 
- মানুষের মাথার চুলে রয়েছে সেবাম (Sebum) নামক এক প্রকার প্রাকৃতিক তেল, এর pH মান হলো 5.0 । 
- চুলের পরিচর্যায় যে কোনো প্রকার স্যাম্পুর pH মান 5.5 এর কাছাকাছি থাকাই উচিত। 
- চুলের pH মান 6 এর উপর গেলে চুল মসৃণতা হারিয়ে ফেলে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৯.
নিচের কোন গ্রন্থি থেকে ইনসুলিন নির্গত হয়? 
  1. প্যারোটিড
  2. পিটুইটারি
  3. সাবম্যান্ডিবুলার
  4. আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স
সঠিক উত্তর:
আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স
ব্যাখ্যা
ডায়বেটিস: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন হরমোন নির্গত হয় যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। 
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২০০.
রক্তরসে কোনটি থাকে না?
  1. ক) শর্করা
  2. খ) হিমোগ্লোবিন
  3. গ) লবণ
  4. ঘ) ইউরিক এসিড
সঠিক উত্তর:
খ) হিমোগ্লোবিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হিমোগ্লোবিন
ব্যাখ্যা
রক্তরসে শর্করা, লবণ ও ইউরিক এসিড সবই থাকে। তাই প্রশ্নটি বাতিল করা হলো।
অন্যদিকে, হিমোগ্লোবিন লোহিত রক্তকণিকার প্রোটিন অণু যা ফুসফুস থেকে দেহের টিস্যুতে অক্সিজেন বহন করে এবং টিস্যু থেকে ফুসফুসে ফিরে কার্বন ডাই অক্সাইড ফিরিয়ে দেয়।
সূত্রঃ ব্রিটানিকা।