বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,২২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা / ২৩ · ১০০ / ২,২২৭

.
হাড়ের কোষের নাম-
  1. ক) Fibroblast
  2. খ) Chondroblast
  3. গ) Ependymal cell
  4. ঘ) Osteoblast
সঠিক উত্তর:
ঘ) Osteoblast
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Osteoblast
ব্যাখ্যা
Osteoblast (Physiology) (noun): a cell which secretes the substance of bone.
.
নিচের কোনটি নিউরনের অংশ নয়?
  1. ক) কোষদেহ
  2. খ) সিন্যাপস
  3. গ) ডেনড্রাইট
  4. ঘ) অ্যাক্সন
সঠিক উত্তর:
খ) সিন্যাপস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সিন্যাপস
ব্যাখ্যা
দেহের বিশেষ সংবেদী কোষ নিউরন বা স্নায়ুকোষগুলো একত্রে স্নায়ু টিস্যু গঠন করে৷ স্নায়ু টিস্যু অসংখ্য নিউরন দিয়ে গঠিত৷
একটি নিউরনের দুটি অংশ থাকে৷
যথাঃ কোষদেহ এবং প্রলম্বিত অংশ।
প্রলম্বিত অংশ দুধরনেরঃ ডেনড্রাইট এবং অ্যাক্সন।
পরপর দুটি নিউরনের সন্ধিস্থলে অর্থাৎ প্রথমটির অ্যাক্সন এবং পরেরটির ডেনড্রাইটের মধ্যে একটি স্নায়ুসন্ধি গঠিত হয়, তাকে সিন্যাপস (Synapse) বলে। সিন্যাপসের মধ্য দিয়েই একটি নিউরন থেকে উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনে পরিবাহিত হয়৷
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
.
বিলিরুবিন কোথায় তৈরী হয়?
  1. প্লীহায়
  2. পিত্তথলিতে
  3. যকৃতে
  4. কিডনিতে
সঠিক উত্তর:
যকৃতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যকৃতে
ব্যাখ্যা

- বিলিরুবিন তৈরি হয় যকৃতে ও অস্থিমজ্জায় এবং জমা হয় প্লীহাতে। 
- যকৃতের মধ্যে অবস্থিত প্লীহা বিলিরুবিন উৎপন্ন হওয়ার প্রধান স্থান হিসেবে স্বীকৃত যা কনজুগেশনের মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায়। 
- হিমগ্লোবিনের লৌহযুক্ত প্রস্থেটিক গ্রুপ ভেঙে যে সমস্ত বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয় হলুদ বিলিরুবিন তাদের মধ্যে অন্যতম। 
- রক্তের বিলিরুবিন যকৃতে গ্লুকো-ইউরোনিক অ্যাসিডযুক্ত হয়ে জল দ্রাব্য হয় এবং পিত্তের মাধ্যমে ক্ষুদ্রান্ত্রে পৌঁছায়। 
- সেখানে ব্যাকটেরিয়া দ্বারা অর্ধেক বিলিরুবিন থেকে ইউরোবিলিনোজেন উৎপন্ন হয় যা অন্ত্র থেকে শোষিত হয়ে শেষে হলুদ ইউরোবিলিন হিসাবে মূত্রে পৌছায় বলে মূত্রের রং হলুদ হয়। 
- দেহে বিলিরুবিন বেশি হলে তাকে জন্ডিস বলে। 

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
মানুষের শ্বসন অঙ্গ কোনটি দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে? 
  1. ছত্রাক
  2. ভাইরাস
  3. ব্যাকটেরিয়া
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
শ্বসন অঙ্গের সমস্যা: 
- মানুষের শ্বসন অঙ্গ ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক অথবা অন্য কোন এজেন্ট দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে, যা নানা রকম রোগ সৃষ্টি করে। 
যেমন- 
সাইনুসাইটিস (Sinusitis): 
- আমাদের করোটি ও মুখমণ্ডলের অস্থিগুলোর ভেতরে কিছু বায়ুপূর্ণ ফাঁকা স্থান রয়েছে যেগুলোকে সাইনাস বলে। 
- মানুষের মুখমণ্ডলে ৪ জোড়া সাইনাস আছে। 
যথা- 
(ক) ম্যাক্সিলারি সাইনাস, 
(খ) ফ্রন্টাল সাইনাস, 
(গ) এথময়েড সাইনাস এবং 
(ঘ) স্কেনয়েড সাইনাস। 

- এসকল সাইনাস মিউকাস পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে এবং পিচ্ছিল মিউকাস সৃষ্টির মাধ্যমে নাসিকা পথকে সিক্ত ও জীবাণুমুক্ত রাখে। 
- ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাক দ্বারা সাইনাস আক্রান্ত হলে যে প্রদাহের সৃষ্টি হয় তাকে সাইনুসাইটিস বলে। 
- সাইনুসাইটিস ৮ সপ্তাহের কম সময় থাকলে তাকে একিউট (Acute) সাইনুসাইটিস এবং ৩ মাসের অধিককাল থাকলে তাকে ক্রনিক (Chronic) সাইনুসাইটিস বলে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
হিস্টোলজিতে, রক্তকে কোন ধরনের টিস্যু হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়?
  1. আবরণী টিস্যু
  2. স্নায়ু টিস্যু
  3. যোজক টিস্যু
  4. পেশি টিস্যু
সঠিক উত্তর:
যোজক টিস্যু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোজক টিস্যু
ব্যাখ্যা
• যোজক টিস্যু (Connective Tissue):
• যোজক বা কানেকটিভ টিস্যুতে মাতৃকার (Matrix) পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি এবং কোষের সংখ্যা কম।
• গঠন এবং কাজের ভিত্তিতে কানেকটিভ টিস্যু প্রধানত তিন ধরনের হয়। যথা-
(i) ফাইব্রাস যোজক টিস্যু;
(ii) স্কেলিটাল যোজক টিস্যু;
(iii) তরল যোজক টিস্যু। 

রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লালবর্ণের তরল যোজক টিস্যু।
- ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়।
- উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে।
- রক্তের উপাদান দুটি- রক্তরস (৫৫%) এবং রক্তকণিকা (৪৫%)।
- রক্তরস (Plasma) রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ। এর প্রায় ৯১-৯২% অংশ পানি এবং ৮-৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
পিটুইটারী গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের মূল কাজ কী? 
  1. ডিম্বাণু উৎপাদন হ্রাস
  2. স্নায়ুতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ
  3. জরায়ুর সংকোচন নিয়ন্ত্রণ
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
জরায়ুর সংকোচন নিয়ন্ত্রণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জরায়ুর সংকোচন নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা
মানব প্রজননে হরমোন এর ভূমিকা: 
- হরমোন এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ যা নালিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। 
- হরমোন নির্দিষ্ট অথচ স্বল্প মাত্রায় নিঃসৃত হয়ে নানাবিধ শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি বা কম নিঃসৃত হলে দেহের বিভিন্ন কাজের ব্যাঘাত ঘটে এবং দেহে নানা রকম অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। 
- মানব দেহে প্রজনন সংক্রান্ত হরমোনগুলো হলো- 

শুক্রাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এ অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের নাম- টেস্টোস্টেরণ এবং অ্যান্ড্রোজেন। 
- এ হরমোন শুক্রাণু উৎপাদন করে। দাঁড়ি ও গোফ গজায়। গলার স্বর বদলায়। 

পিটুইটারী গ্রন্থি: 
- এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) বৃদ্ধি উদ্ধীপক হরমোন এবং (খ) উৎপাদক হরমোন। 
- এ হরমোন জনন গ্রন্থির বৃদ্ধি, ক্ষরণ ও কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। মাতৃদেহের স্তন দুগ্ধ ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। জরায়ুর সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে। 

থাইরয়েড গ্রন্থি: 
- এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- থাইরক্সিন হরমোন। 
- এ হরমোন দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি করে। যৌন লক্ষণ প্রকাশ ও বিপাকে সহায়তা করে। 

অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি: 
- এ গুন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- অ্যাড্রানালিন হরমোন। 
- এ হরমোন যৌন অঙ্গের বৃদ্ধি করে। যৌন লক্ষণ প্রকাশে সহায়তা করে। 

ডিম্বাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এ অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) ইস্ট্রোজেন, (খ) প্রোজেস্টেরন এবং (গ) রিলাক্সিন। 
- এ হরমোন নারী সুলভ লক্ষণগুলো সৃষ্টি করে। ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ করে। গর্ভাবস্থায় জরায়ু, ভ্রূণ ও অমরা ইত্যাদির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। ডিম্বাণু উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। 

অমরা গ্রন্থি: 
- অমরা থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) গোনাডোট্রপিক এবং (খ) প্রোজেস্টেরন। 
- এ হরমোন ডিম্বাশয়ের অনাল গ্রন্থিকে উত্তেজিত করে। স্তন গ্রন্থির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
DNA প্রতিলিপনের সময় কোন এনজাইম কাজ করে? 
  1. হেলিকেজ
  2. লিপেজ
  3. পেপটেজ
  4. অ্যামাইলেজ
সঠিক উত্তর:
হেলিকেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেলিকেজ
ব্যাখ্যা

• DNA প্রতিলিপন (DNA Replication) হলো জীবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জৈব প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একটি কোষ তার DNA অণুর অনুলিপি তৈরি করে, যাতে নতুন কোষে একই জিনগত তথ্য স্থানান্তরিত হয়। এই প্রক্রিয়া ঘটে কোষ বিভাজনের আগে, বিশেষ করে ইন্টারফেজের S পর্বে।

- প্রথম ধাপে DNA-এর দ্বিসূত্রক গঠন (Double helix) খুলে যায়, যাতে প্রতিটি স্ট্র্যান্ড নতুন DNA তৈরির টেমপ্লেট হিসেবে কাজ করতে পারে।
- এই কাজটি সম্পন্ন করে হেলিকেজ (Helicase) এনজাইম

• DNA প্রতিলিপনের প্রধান ধাপ তিনটি:
- Initiation (সূচনা),
- Elongation (বিস্তার),
- Termination (সমাপ্তি)। 

• হেলিকেজের কাজ:
- হেলিকেজ DNA-এর দুইটি নিউক্লিওটাইড শৃঙ্খলকে আলাদা করে।
- এটি হাইড্রোজেন বন্ড ভেঙে ডাবল হেলিক্স খুলে দেয়।
- ফলে একটি “Replication fork” তৈরি হয়, যেখানে DNA পলিমেরেজ কাজ শুরু করতে পারে।
- এটি মূলত প্রতিলিপনের সূচনাবিন্দু (Origin of replication) থেকে উভয় দিকে DNA খুলতে থাকে।
- এরপর DNA পলিমেরেজ নতুন নিউক্লিওটাইড যুক্ত করে নতুন স্ট্র্যান্ড তৈরি করে।
- প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নিখুঁত এবং সঠিক জিনগত তথ্য সংরক্ষণে অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

.
ডিএনএ এর নাইট্রোজেন বেস নয় কোনটি?
  1. ক) অ্যাডেনিন
  2. খ) গুয়ানিন
  3. গ) সাইটোসিন
  4. ঘ) ইউরাসিল
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইউরাসিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইউরাসিল
ব্যাখ্যা
- জীনের রাসায়নিক গঠন উপাদান DNA।
- DNA তে চার ধরনের নাইট্রোজেন বেস থাকে।
- যথা- অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও থায়ামিন।
- RNA তে ও চার ধরনের নাইট্রোজেন বেস থাকে। 
- শুধু থায়ামিনের পরিবর্তে ইউরাসিল থাকে। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
.
রক্ত কী দ্বারা গঠিত?
  1. রক্ত রস
  2. তরল কলা
  3. যোজক কলা
  4. রক্তরস ও রক্তকণিকা
সঠিক উত্তর:
রক্তরস ও রক্তকণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তরস ও রক্তকণিকা
ব্যাখ্যা
রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্ত কণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত হয়
- মানুষ ও অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের রক্ত লাল রঙের হয়।
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রং লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে।

রক্তকণিকা:
- মানুষের রক্তে ৩ ধরনের রক্তকণিকা রয়েছে। যথা- -
১. লোহিত রক্তকণিকা।
২. শ্বেত রক্তকণিকা।
৩. অনুচক্রিকা।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
চর্বি জমার প্রবণতা হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা রাখে কোনটি?
  1. ক) প্রোটিন
  2. খ) শর্করা
  3. গ) রাফেজ
  4. ঘ) স্নেহ
সঠিক উত্তর:
গ) রাফেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাফেজ
ব্যাখ্যা
রাফেজ/ আঁশযুক্ত খাদ্য: 
শস্যদানার বহিরাবরণ, সবজি, ফলের খােসা, শাঁস, বীজ এবং উদ্ভিদের ডাঁটা, মূল ও পাতায় আঁশ থাকে। এগুলে মূলত কোষপ্রাচীরের সেলুলােজ এবং লিগনিন।
রাফেজ পানি শােষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে।
রাফেজযুক্ত খাবার বিষাক্ত বর্জনীয় বস্তুকে খাদ্যনালি থেকে পরিশােষণ করে। 
খাদ্যনালির ক্যান্সারের আশঙ্কা অনেকাংশে হ্রাস করে।
আঁশযুক্ত খাবার স্থূলতা হ্রাস, ক্ষুধাপ্রবণতা এবং চর্বি জমার প্রবণতা হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

[উৎস: মাধ্যমিক জীব বিজ্ঞান]
১১.
লোহিত রক্তকণিকা কোথায় তৈরি হয়?
  1. প্লীহা ও অস্থিমজ্জায়
  2. যকৃত ও অস্থিমজ্জায়
  3. হৃৎপিণ্ড ও অস্থিমজ্জায়
  4. কিডনি ও অস্থিমজ্জায়
সঠিক উত্তর:
যকৃত ও অস্থিমজ্জায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যকৃত ও অস্থিমজ্জায়
ব্যাখ্যা
• ভ্রূণাবস্থায় এবং প্রাথমিক জীবনে লোহিত রক্তকণিকা যকৃতেও তৈরি হয়। ভ্রূণাবস্থায় প্লীহা-তেও লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হয় - তবে, যকৃতের তুলনায় তা খুব অল্প পরিমাণ।
তাই, সঠিক উত্তর - খ) যকৃত ও অস্থিমজ্জায় - কারণ উভয় অঙ্গই লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে ভূমিকা রাখে, যদিও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অস্থিমজ্জাই প্রধান স্থান।

• রক্তসংবহন তন্ত্র:
- যে প্রক্রিয়ায় প্রাণিদেহে রক্ত পরিবহনের কাজ সম্পন্ন হয় তাকে সংবহন প্রক্রিয়া বলে।
- রক্ত, হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং লসিকা ও লসিকাবাহী নালির সমন্বয়ে মানব দেহের সংবহনতন্ত্র গঠিত।
- যে তন্ত্রের মাধ্যমে দেহে রক্ত সঞ্চালিত হয় তাকে রক্ত সংবহনতন্ত্র বলে।
- হৃৎপিণ্ড, রক্ত ও রক্তবাহী নালির সমন্বয়ে রক্ত সংবহনতন্ত্র গঠিত।

• রক্ত ও রক্তের উপাদান:
- রক্ত ঘন লাল রঙের একটি তরল পদার্থ, এটি এক ধরনের তরল যোজক টিস্যু।
- রক্তের স্বাদ ক্ষারধর্মী।
- রক্তের উপাদান দুইটি।
- যথা: রক্তরস ও রক্তকণিকা।

• রক্তকণিকা:
- রক্তে তিন ধরনের কণিকা রয়েছে।
যথা-

ক. লোহিত রক্তকণিকা:
- লোহিত রক্তকণিকার জন্য রক্তের রং লাল দেখায়, এর মধ্যে হিমোগ্লোবিন নামক একটি রঞ্জক পদার্থ থাকে।
- হিমোগ্লোবিনের সাথে অক্সিজেন যুক্ত হয়ে দেহকোষে -পৌঁছায়।
- লোহিত রক্তকণিকা উভঅবতল (উভয় পৃষ্ঠে খাদ আছে), চাকতির মতো গোলাকার কোষ।
- পরিণত লোহিত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না।
- লোহিত রক্তকণিকা যকৃত ও অস্থিমজ্জায় তৈরি হয়।

খ. শ্বেত রক্ত কণিকা:
- শ্বেত রক্তকণিকা লোহিত রক্তকণিকার চেয়ে আকারে কিছুটা বড়ো ও অনিয়মিত আকারের হয়।
- এদের নিউক্লিয়াস আছে, প্লীহা ও অস্থিমজ্জায় এদের জন্ম।
- দেহে কোনো রোগ-জীবাণু প্রবেশ করলে শ্বেত রক্তকণিকা সেগুলোকে ধ্বংস করে।
- শ্বেত রক্তকণিকা দেহের প্রহরীর মতো কাজ করে, তাই এদের সৈনিকের সাথে তুলনা করা হয়।

গ. অণুচক্রিকা:
- অণুচক্রিকা দেখতে গোলাকার বা বৃত্তের মতো।
- এরা লোহিত রক্তকণিকার চেয়ে আকারে ছোটো হয় ও নিউক্লিয়াস থাকে না, এরা গুচ্ছাকারে থাকে।
- এদের উৎপত্তি লোহিত অস্থিমজ্জায়।
- দেহের কোনো অংশ কেটে রক্তপাত ঘটলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে, এদের প্লেটলেটও বলে।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১২.
মানুষের দেহের শ্বেত ও লোহিত রক্তকণিকার অনুপাত কত?
  1. ১ : ৭০০
  2. ৭০০ : ১
  3. ১ : ৮০০
  4. ৮০০ : ১
সঠিক উত্তর:
১ : ৭০০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ : ৭০০
ব্যাখ্যা
• শ্বেত রক্তকণিকা ও লোহিত কণিকা অনুপাত ১ : ৭০০।
- পূর্ণ বয়স্ক পুরুষের মানবদেহে অবস্থিত লোহিত রক্তকনিকার পরিমান প্রায় ৪৫ - ৫০ লাখ (প্রতি ঘন মিলিলিটারে)।
- অন্যদিকে, শ্বেত রক্তকনিকার পরিমান প্রায় ৪-১০ হাজার (প্রতি ঘন মিলিলিটারে)। 

• শ্বেতকণিকা:
- রক্তে বর্ণহীন, নিউক্লিয়াসযুক্ত এবং তুলনামূলকভাবে স্বল্পসংখ্যক ও বৃহদাকার যে কোষ দেখা যায় এবং যারা দেহকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে তাকে শ্বেতকণিকা বলে।
- শ্বেত রক্তকণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে।
- শ্বেত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১- ১৫ দিন।

• লোহিত রক্তকণিকা:
- মানুষের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা গোল, দ্বিঅবতল, নিউক্লিয়াসবিহীন চাকতির মতো ও লাল বর্ণের।
- লোহিত রক্তকণিকার কাজ হিমোগ্লোবিন ফুস্ফুস থেকে দেহ কোষে O₂ এবং সামান্য CO₂ পরিবহন করে।
- এতে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে লাল বর্ণের হয়। এজন্য এদের Red Blood Cell বা RBC বলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান- ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৩.
স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্য সম্পাদনের প্রধান একক কোনটি?
  1. নিউরোগ্লিয়া
  2. সাইন্যাপস
  3. নিউরন
  4. নেফ্রন
সঠিক উত্তর:
নিউরন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিউরন
ব্যাখ্যা

• স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্য সম্পাদনের প্রধান একক হলো নিউরন (গ)। নিউরন হলো একটি বিশেষায়িত স্নায়ুকোষ, যা উদ্দীপনা গ্রহণ, পরিবহন ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এর প্রধান অংশ হলো ডেনড্রাইট, কোষদেহ এবং অ্যাক্সন। ডেনড্রাইট উদ্দীপনা গ্রহণ করে, কোষদেহ তা প্রক্রিয়াজাত করে এবং অ্যাক্সন সেই স্নায়ুবার্তা অন্য কোষে পৌঁছে দেয়। স্নায়ুতন্ত্রের সব কার্যকলাপ- যেমন চিন্তা, অনুভূতি, চলাচল ও প্রতিফল ক্রিয়া- নিউরনের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। নিউরোগ্লিয়া সহায়ক কোষ, সাইন্যাপস সংযোগস্থল এবং নেফ্রন কিডনির একক, তাই সঠিক উত্তর নিউরন।
 
• স্নায়ুকলা (Nervous tissue):
- যে কলা দেহের সব ধরনের সংবেদন ও উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং তা পরিবহণের মাধ্যমে উদ্দীপনা অনুসারে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করে, সেটাই স্নায়ুটিস্যু বা স্নায়ুকলা। 
- বহুসংখ্যক স্নায়ুকোষ বা নিউরনের সমন্বয়ে স্নায়ুটিস্যু গঠিত।
- নিউরনই স্নায়ুতন্ত্রের গঠন এবং কার্যক্রমের একক।

• নিউরনের গঠন:
- প্রতিটি নিউরন দুটি অংশ নিয়ে গঠিত-কোষদেহ এবং প্রলম্বিত অংশ।

কোষদেহ (Cell body):
- প্লাজমামেমব্রেন, সাইটোপ্লাজম আর নিউক্লিয়াস নিয়ে গঠিত নিউরনের গোলাকার, তারকাকার, অথবা ডিম্বাকার অংশ কোষদেহ নামে পরিচিত। এখানে সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজিবস্তু, লাইসোজোম, চর্বি, গ্লাইকোজেন, রঞ্জক কণাসহ অসংখ্য নিসল দানা থাকে।

প্রলম্বিত অংশ:
- কোষদেহ থেকে সৃষ্ট শাখা-প্রশাখাকেই প্রলম্বিত অংশ বলে। প্রলম্বিত অংশ দুধরনের:

(i) ডেনড্রন:
- কোষদেহের চারদিকের শাখাযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রলম্বিত অংশকে ডেনড্রন বলে। ডেনড্রন থেকে যে শাখা বের হয় তাদের ডেনড্রাইট বলে। একটি নিউরনে ডেনড্রন সংখ্যা শূন্য থেকে শতাধিক পর্যন্ত হতে পারে। ডেনড্রাইট অন্য নিউরন থেকে স্নায়ু তাড়না গ্রহণ করে।

(ii) অ্যাক্সন (Axon):
- কোষদেহ থেকে উৎপন্ন বেশ লম্বা তন্তুর নাম অ্যাক্সন। এর চারদিকে পাতলা আবরণটিকে নিউরিলেমা বলে। নিউরিলেমা এবং অ্যাক্সনের মধ্যবর্তী অঞ্চলে স্নেহ পদার্থের একটি স্তর থাকে। একে মায়েলিন (Myelin) বলে।  

অপরদিকে,
- বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকারী একক হচ্ছে নেফ্রন।
- সাইন্যাপস হলো দুটি নিউরন বা একটি নিউরন ও অন্য কোনো কোষের (যেমন পেশী কোষ) সংযোগস্থল, যেখানে একটি নিউরন থেকে পরবর্তী কোষে স্নায়ু সংকেত বা তথ্য রাসায়নিক বা বৈদ্যুতিক উপায়ে প্রবাহিত হয়।
- নিউরোগ্লিয়া হলো স্নায়ুতন্ত্রের সহায়ক কোষ, যা নিউরনকে (স্নায়ুকোষ) ধরে রাখে, পুষ্টি যোগায়, সুরক্ষা দেয় এবং স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করে।

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

১৪.
কোনটি অগ্রমস্তিষ্কের অংশ?
  1. সেরেব্রাম
  2. সেরেবেলাম
  3. পনম
  4. কর্পোরা
সঠিক উত্তর:
সেরেব্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেরেব্রাম
ব্যাখ্যা

• সেরেব্রাম-  অগ্রমস্তিষ্কের অংশ।

অগ্রমস্তিষ্ক:
- অগ্রমস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে।
- এটি তিন অংশে বিভক্ত। যথা-
(ক) সেরেব্রাম,
(খ) থ্যালামাস ও
(গ) হাইপোথ্যালামাস।

• সেরেব্রাম:
- মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ (মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে)।
- প্রতিটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার ৫টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা- ফ্রন্টাল লোব, প্যারাইটাল লোব, অক্সিপিটাল লোব, টেম্পোরাল লোব ও লিম্বিক লোব।
- সেরেব্রাম বাকশক্তি, স্মৃতি শক্তি, চিন্তা, বুদ্ধি-বৃত্তি, সৃজনশীলতা, ইচ্ছা শক্তি, সহজাত প্রবৃত্তি, কর্মপ্রেরণা প্রভৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট।
- সর্বোপরি মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

• থ্যালামাস:
- সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ারের নিচে দুটি ক্ষুদ্র ও ডিম্বাকৃতির থ্যালামাস থাকে যা ধূসর পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- থ্যালামাস সংবেদী-উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং রিলে করে সেরেব্রামে পাঠায়।

• হাইপোথ্যালামাস:
- এটি থ্যালামাসের ঠিক নিচে ধূসর পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- এটি অন্ততঃ এক ডজন পৃথক অঞ্চলে বিভক্ত থাকে।
- স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের সকল কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ক্ষুধা, তৃষ্ণা, রাগ, ভাল লাগা, ভীতি, আবেগ প্রভৃতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- পিটুইটারী গ্রন্থিও বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণ করে।

অপশন আলোচনা:
ক) সেরেব্রাম — এটি অগ্রমস্তিষ্কের প্রধান ও সবচেয়ে বড় অংশ, তাই সঠিক উত্তর।
খ) সেরেবেলাম — এটি পশ্চাৎমস্তিষ্কের অংশ, অগ্রমস্তিষ্কের নয়।
গ) পনস (পনম) — এটি মধ্যমস্তিষ্ক/পশ্চাৎমস্তিষ্কের সংযোগকারী অংশ, অগ্রমস্তিষ্কের অংশ নয়।
ঘ) কর্পোরা (কর্পাস ক্যালোসাম বোঝালে) — এটি অগ্রমস্তিষ্কের ভেতরে সেরেব্রামের দুই অর্ধকে যুক্ত করে, তবে সাধারণ MCQ-তে একে সরাসরি অগ্রমস্তিষ্কের অংশ হিসেবে ধরা হয় না।
 
তথ্যসূত্র - প্রাণি বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
রক্তরসে বিদ্যমান জৈব খাদ্যসার পদার্থ কোনটি?
  1. ক) ইউরিয়া
  2. খ) অ্যালবুমিন
  3. গ) অ্যান্টিটক্সিন
  4. ঘ) গ্লুকোজ
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্লুকোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা
রক্তরস:
- রক্তের তরল অংশকে প্লাজমা বলে।
- রক্তরসে প্রায় ১০% জৈব ও অজৈব পদার্থ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।

জৈব পদার্থ: 
খাদ্যসার (গ্লুকোজ, অ্যামাইনো এসিড, স্নেহ পদার্থ, ভিটামিন ইত্যাদি)।
• রেচন পদার্থ (ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি)।
• প্রোটিন (ফিব্রিনোজেন, গ্লোবিউলিন, অ্যালবুমিন ইত্যাদি)।
• প্রতিরক্ষামূলক দ্রব্যাদি (অ্যান্টিটক্সিন)।
এছাড়াও রয়েছে হরমোন, কোলেস্টেরল, বিলিরুবিন ইত্যাদি।

অজৈব পদার্থ
- সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, আয়োডিন, এবং গ্যাসীয় পদার্থ- O2, CO2, N2 ইত্যাদি।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৬.
ডিপথেরিয়া রোগের কারণ কোনটি?
  1. ক) Mycobacterium
  2. খ) Bacillus
  3. গ) Corynebacterium
  4. ঘ) Diplococcus
সঠিক উত্তর:
গ) Corynebacterium
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Corynebacterium
ব্যাখ্যা

Mycobacterium tuberculosis - যক্ষ্মা
Bacillus dysenteri - আমাশয়
Corynebacterium diptheriae - ডিপথেরিয়া
Diplococcus pneumoniae - নিউমোনিয়া

১৭.
কোন জাতীয় বিপাকের বিপাকের ফলে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য সৃষ্টি হয়?
  1. প্রোটিন
  2. কার্বোহাইড্রেট
  3. লিপিড
  4. ভিটামিন
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোটিন
ব্যাখ্যা

• প্রোটিন - জাতীয় খাদ্যের বিপাকের ফলে মানবদেহে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য সৃষ্টি হয়। 

• রেচন:
- বিপাকের ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্যপদার্থ যে প্রক্রিয়ায় দেহ থেকে দ্রুত ও নিয়মিত নিষ্কাশিত হয় তাকে রেচন বলা হয়। 

• বৃক্ক:
- মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গকে বলা হয় বৃক্ক। 

• বৃক্কের কাজ:
- রক্ত থেকে নাইট্রোজেনযুক্ত বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করা।
- দেহে ও রক্তে পানির ভারসাম্য রক্ষা করা।
- রক্তে বিভিন্ন লবণ, অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করা।
- হরমোন ও এনজাইম নিঃসরণ করা।
- দেহের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা।
- ভিটামিন ডি ও লোহিত রক্ত কণিকা উৎপাদনে অংশগ্রহণ করা।

• রেচনে বৃক্কের ভূমিকা:
- বৃক্ক প্রধানত নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশন করে।
- আমিষ জাতীয় খাদ্য বিপাকের ফলে দেহে অ্যামোনিয়া, ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য সৃষ্টি হয়।
- এগুলো বিষাক্ত ও দেহের জন্য ক্ষতিকর। তাই এসব রেচন পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশন করা অত্যাবশ্যক।
- বৃক্ক এসব রেচন পদার্থ দেহ থেকে অপসারণ করে দেহকে সুস্থ রাখে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল। 

১৮.
যকৃৎ-এর ক্ষুদ্র একক লোবিউলে কী তৈরি হয়? 
  1. পিত্তরস 
  2. হিমোগ্লোবিন 
  3. ইনসুলিন 
  4. কোলেস্টেরল 
সঠিক উত্তর:
পিত্তরস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিত্তরস 
ব্যাখ্যা

যকৃৎ (Liver): 
- মধ্যচ্ছদার নিচে উদরগহ্বরের উপরে পাকস্থলীর ডান পাশে যকৃৎ অবস্থিত। 
- যকৃৎ মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। 
- যকৃৎ-এর রং লালচে খয়েরি। 
- যকৃতের ডান খণ্ডটি বাম খণ্ড থেকে আকারে কিছুটা বড়। 
- প্রকৃতপক্ষে চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে যকৃৎ গঠিত। প্রতিটি খণ্ড ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লোবিউল দিয়ে তৈরি। প্রত্যেকটি লোবিউলে অসংখ্য কোষ থাকে যে কোষ পিত্তরস (bile) তৈরি করে। 
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণ সম্পন্ন। 
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়। 
- যকৃতের নিচের অংশ পিত্তথলি বা পিত্তাশয় সংলগ্ন থাকে যেখানে পিত্তরস জমা হয়। এই পিত্তরস গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। 
- পিত্তথলি পিত্তনালির সাহায্যে অগ্ন্যাশয় নালির সাথে মিলিত হয়। এটি যকৃৎ-অগ্ন্যাশয় নালির মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯.
মানবদেহের ক্রোমোসোমের গড় দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ কত মাইক্রোমিটার হয়ে থাকে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৪
  3. গ) ৬
  4. ঘ) ৮
সঠিক উত্তর:
গ) ৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬
ব্যাখ্যা

মানবদেহের ক্রোমোসোমের গড় দৈর্ঘ্য ৪-৬ মাইক্রোমিটার হয়ে থাকে।

প্রশ্নে সর্বোচ্চ মাইক্রোমিটার চাওয়া হয়েছে বিধায়, ৬ কে সঠিক উত্তর হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে।
প্রজাতি অনুসারে, ক্রোমোসোমের দৈর্ঘ্য সাধারণত ০.২৫-৫০ মাইক্রোমিটার এবং ব্যাস ০.২-২.০ মাইক্রোমিটার হয়।
কোষের নিউক্লিয়াসের ভেতর অবস্থিত নিউক্লিয় জালক থেকে উৎপন্ন নিউক্লিক অ্যাসিড ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত যে-সুতোর মতো অংশ জীবদেহের বংশগত বৈশিষ্ট বহন করে এবং জীবের এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে পরিবাহিত করে, তাকে ক্রোমোজোম বলে।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

২০.
রেশম তন্তু কোন প্রোটিন দিয়ে তৈরি?
  1. ক) কেরাটিন
  2. খ) প্রোটামিন
  3. গ) ফাইব্রেয়ন
  4. ঘ) প্রোলামিন
সঠিক উত্তর:
গ) ফাইব্রেয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফাইব্রেয়ন
ব্যাখ্যা
রেশম:
- সৌন্দর্য ও গুণে রেশমের তৈরি পোশাক আসলে রাজকীয় পোশাক। 
- রেশমকে তন্তুর রাণি বলা হয়। 
- রেশম বা পলু পোকা নামের এক জাতীয় পোকার গুটি বা কোকুন থেকে রেশম বা সিল্ক তন্তু আহরণ করা হয়ে থাকে। 
- বাংলাদেশের রাজশাহী জেলায় রেশমের চাষ করা হয়।
- রেশম রাজকীয় তন্তু কিন্তু পানি ধারণক্ষমতা অত্যধিক হওয়ায় রেশমের তৈরি পোশাক পানি দিয়ে ধোয়া যায় না। 
- এগুলো হচ্ছে পলু পোকার মুখ নিসৃত লালা যা আপন শরীরের চারপাশে এরা বুনতে থাকে।
- রেশম তন্তু ফাইব্রেয়ন নামক প্রোটিন জাতীয় পদার্থ দিয়ে তৈরি।

_________________________
- মানুষের চুল ও নখে কেরাটিন নামক প্রোটিন থাকে।

উৎস:
১. বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১.
কোনটি রক্তবাহিকা নয় -
  1. ধমনি
  2. শিরা
  3. কৈশিক জালিকা
  4. কপাটিকা
সঠিক উত্তর:
কপাটিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপাটিকা
ব্যাখ্যা
রক্ত সংবহনতন্ত্র গঠিত হয় রক্ত, হৃদপিণ্ড ও রক্ত জালিকা দিয়ে। 
হৃদপিণ্ড হৃদ পেশী দিয়ে তৈরি। 
রক্ত বাহিকা ৩ ধরনের - ধমনি, শিরা, কৈশিক জালিকা। 

রক্তকে রক্তবাহিকার ভিতর দিয়ে সঞ্চালনের জন্য হৃদপিণ্ড মানব ও অন্য প্রানিদেহে পাম্পের মত কাজ করে। 

[সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই]
২২.
বৃক্কে অবস্থিত প্রতিটি নেফ্রনের দৈর্ঘ্য কত?
  1. ৩ সে.মি. (প্রায়)
  2. ৭ সে.মি. (প্রায়)
  3. ৯ সে.মি. (প্রায়)
  4. ১০ সে.মি. (প্রায়)
সঠিক উত্তর:
৩ সে.মি. (প্রায়)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ সে.মি. (প্রায়)
ব্যাখ্যা
• বৃক্কে অবস্থিত প্রতিটি নেফ্রনের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ সে.মি.।

• একটি নেফ্রনের গঠন:
- বৃক্কের লম্বচ্ছেদ অনুবীক্ষণ যন্ত্রে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, এর ভেতরে অসংখ্য কুণ্ডলীকৃত সূক্ষ্ম নালিকা দেখা যায়।
- এদেরকে নেফ্রন বলে।
- নেফ্রন হলো বৃক্কের গাঠনিক ও কাজের একক।
- প্রচুর রক্তনালি ও কিছু যোজক কলাসহ প্রতিটি বৃক্কে প্রায় ১০ লক্ষ নেফ্রন থাকে।
- প্রতিটি নেফ্রনের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ সে.মি.।

• প্রতিটি নেফ্রনকে ৬টি অঞ্চলে ভাগ করা যায়। যথা-
১. রেনাল করপাসল,
২. নিকটবর্তী প্যাঁচানো নালিকা,
৩. হেনলির লুপের অবরোহন বাহু,
৪. হেনলির লুপের আরোহন বাহু,
৫. দূরবর্তী প্যাঁচানো নালিকা ও
৬. সংগ্রাহী নালিকা।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩.
মানুষের রক্তের গ্রুপকে কী দ্বারা শ্রেণিবিন্যাস করা হয়? 
  1. রক্তের চাপ ও গতির ভিত্তিতে 
  2. হরমোন ও এনজাইমের ভিত্তিতে
  3. রক্তের রঙ ও ঘনত্বের ভিত্তিতে
  4. অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতির ভিত্তিতে
সঠিক উত্তর:
অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতির ভিত্তিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতির ভিত্তিতে
ব্যাখ্যা
ব্লাড গ্রুপ বা রক্তের গ্রুপ: 
- অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে মানুষের রক্তকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা যায়, একে ব্লাড গ্রুপ বলে। 
- বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার 1901 সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করে তা A, B, AB এবং O- এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন। 
- সাধারণত একজন মানুষের রক্তের গ্রুপ আজীবন একই রকম থাকে। 
- নিচের সারণিতে রক্তের গ্রুপের অ্যান্টিবডি এবং অ্যান্টিজেনের উপস্থিতি দেখানো হলো- 

- গ্রুপ A: এ শ্রেণির রক্তে A অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-B অ্যান্টিবডি (সংক্ষেপে b অ্যান্টিবডি) থাকে। 
- গ্রুপ B: এ শ্রেণির রক্তে B অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-A অ্যান্টিবডি (সংক্ষেপে a অ্যান্টিবডি) থাকে। 
- গ্রুপ AB: এই শ্রেণির রক্তে A ও B অ্যান্টিজেন থাকে এবং কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না। 
- গ্রুপ O: এ শ্রেণির রক্তে কোনো অ্যান্টিজেন থাকে না কিন্তু a ও b অ্যান্টিবডি থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪.
রাফেজ বা আঁশের কাজ -
  1. ক) খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করা।
  2. খ) দেহের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করা।
  3. গ) দেহ থেকে অপাচ্য বস্তু বের করে দিতে সাহায্য করা।
  4. ঘ) উপরের সবগুলো।
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো।
ব্যাখ্যা
- আঁশ বা রাফেজ খাদ্য উপাদানের অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি মূলত খাদ্যের মধ্যে থাকা দীর্ঘ তন্তুময় বা আঁশসদৃশ্য অংশ। উদ্ভিজ্জ খাদ্যের সেলুলোজ অংশই রাফেজ বা আঁশ। শাক-সবজি, খোসাসমেত টাটকা ফল, মটরশুঁটি, ধনিয়া, ডাল, শস্যবীজ ইত্যাদিতে রাজেফ বা আঁশ পাওয়া যায়।

- এটি আমাদের দেহে কোনো পুষ্টি যোগায় না। তবে, খাদ্যের মধ্যে অবস্থান করে অন্যান্য খাদ্যের সাথে গৃহীত হয় এবং সরাসরি খাদ্য নালির মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়ে অপরিপাককৃত অবস্থায় মলের সাথে নির্গত হয়।

- এটি কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়বেটিস, হৃদরোগ, স্থুলতা ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধ করে। রাফেজ বা আঁশ কোনো খাদ্য উপাদান না হলেও মানবদেহের জন্য অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান যা সুস্থ জীবনের জন্য অতি জরুরী ।

- আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অন্যান্য খাদ্য উপাদানের সাথে ২০-৩০ গ্রাম রাফেজ বা আঁশযুক্ত খাদ্যের উপস্থিতি থাকা প্রয়োজন। 

রাফেজ বা আঁশের গুরুত্ব- 
১. খাদ্য পরিপাকের সাহায্য করে
২. পানি শোষণ করে মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
৩. শরীর থেকে অপাচ্য বস্তু বের করে দিতে সাহায্য করে
৪. দেহের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে
৫. মলাশয়ের ক্যান্সার, অর্শ, অ্যাপেন্ডিকস, পিত্তথলির রোগ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ইত্যাদি রোগ হ্রাসে সাহায্য করে।

সূত্র: ২১ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫.
নিচের কোন ধমনি গলবিলে রক্ত বহন করে? 
  1. লিঙ্গুয়াল ধমনি
  2. ফ্যারিঞ্জিয়াল ধমনি
  3. অক্সিপিটাল ধমনি
  4. ফেসিয়াল ধমনি
সঠিক উত্তর:
ফ্যারিঞ্জিয়াল ধমনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্যারিঞ্জিয়াল ধমনি
ব্যাখ্যা
বহিঃক্যারোটিড ধমনি: 
- এটি মাথার ত্বক এবং ঘাড়ে রক্ত সরবরাহ করে। 
- বহিঃক্যারোটিড ধমনি থেকে উৎপন্ন শাখাগুলো - 
সুপিরিয়র থাইরয়েড ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি ও ল্যারিংক্সে রক্ত বহন করে। 
লিঙ্গুয়াল ধমনি: জিহ্বা ও সাবলিঙ্গুয়াল গ্রন্থিতে রক্ত বহন করে। 
ফেসিয়াল ধমনি: মুখমণ্ডল, চোখ, সাব-ম্যাক্সিলারি গ্রন্থি এবং মুখমণ্ডলের ত্বক ও পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে। 
অক্সিপিটাল ধমনি: অক্সিপিটাল অঞ্চলের ত্বক ও পেশিতে রক্ত বহন করে। 
ফ্যারিঞ্জিয়াল ধমনি: গলবিলে রক্ত বহন করে। 
- এছাড়া বহিঃক্যারোটিড ধমনি আন্তঃম্যাক্সিলারি ও সুপারফিসিয়াল টেমপোরাল ধমনিতে বিভক্ত হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬.
মানুষের মাথার চুল পড়ে গিয়ে টাক তৈরীর জন্য কোনটি দায়ী?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) প্রোটোজোয়া
সঠিক উত্তর:
গ) ছত্রাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ছত্রাক
ব্যাখ্যা
Microsporum - নামক একপ্রকার ছত্রাকের জন্য মানুষের মাথার চুল পড়ে গিয়ে টাক তৈরি করে।
একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান ১ম পত্র বই (উন্মুক্ত)।
২৭.
ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত রোগ নয় কোনটি?
  1. হাম
  2. যক্ষ্মা
  3. ডিপথেরিয়া
  4. সিফিলিস
সঠিক উত্তর:
হাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাম
ব্যাখ্যা

ভাইরাসজনিত রোগ:
- ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাস জনিত রোগ বলে।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাস জনিত রোগ: কোভিড-১৯, পোলিও, জন্ডিস, জলাতঙ্ক, হার্পিস, দাদ, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি।

ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ:

- ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ বলে।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ: কলেরা, যক্ষ্মা, আমাশয়, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, ডিপথেরিয়া, মেনিনজাইটিস, গনোরিয়া, সিফিলিস, টাইফয়েড, প্লেগ, কুষ্ঠ ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- 'নিউমোনিয়া' রোগটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীব দ্বারা সংক্রমিত হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২৮.
বংশগতির রাসায়নিক ভিত্তি কোনটি?
  1. ক) ক্রোমোজোম
  2. খ) আরএনএ
  3. গ) ডিএনএ
  4. ঘ) অটোজোম
সঠিক উত্তর:
গ) ডিএনএ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডিএনএ
ব্যাখ্যা
জেনেটিক্স বা বংশগতির ভৌত ভিত্তি হলো ক্রোমোজোম৷ আর রাসায়নিক ভিত্তি হলো ডিএনএ (DNA) যার পূর্ণরূপ Deoxyribo Nucleic Acid.
DNA থাকে ক্রোমোজোমের ভেতর আর ক্রোমোজোম থাকে নিউক্লিয়াসের ভেতর।
বিজ্ঞানী Watson ও Crick ১৯৫৩ সালে DNA অণুর Double Helix বা দ্বিসূত্র কাঠামোর বর্ণনা দেন৷
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯.
পরিণত বয়সের আদর্শ রক্তচাপ কত?
  1. 90/60 mmHg
  2. 100/70 mmHg 
  3. 140/90 mmHg
  4. 120/80 mmHg
সঠিক উত্তর:
120/80 mmHg
উত্তর
সঠিক উত্তর:
120/80 mmHg
ব্যাখ্যা

- পরিণত বয়সের আদর্শ রক্তচাপ হলো 120/80 mmHg, যা সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য স্বাভাবিক সীমার মধ্যে ধরা হয়। 

রক্তচাপ (Blood Pressure): 
- রক্তপ্রবাহের সময় ধমনির গায়ে যে চাপ সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তচাপ বলে। 
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন বা সিস্টোল অবস্থায় ধমনির গায়ে রক্তচাপের মাত্রা সর্বাধিক থাকে, একে সিস্টোলিক চাপ (Systolic Pressure) বলে। 
- হৃৎপিণ্ডের (প্রকৃতপক্ষে নিলয়ের) প্রসারণ বা ডায়াস্টোল অবস্থায় রক্তচাপ সবচেয়ে কম থাকে, একে ডায়াস্টোলিক চাপ (Diastolic Pressure) বলে। 

আদর্শ রক্তচাপ: 
- চিকিৎসকদের মতে, পরিণত বয়সে একজন মানুষের আদর্শ রক্তচাপ (Blood pressure) সাধারণত 120/80 mmHg মানের কাছাকাছি। 
- রক্তচাপকে দুটি সংখ্যায় উল্লেখ করা হয় যেখানে প্রথমটি উচ্চমান এবং দ্বিতীয়টি নিম্নমান। রক্তের উচ্চ চাপকে সিস্টোলিক (Systolic) চাপ বলে, যার আদর্শ মান 120 mmHg নিচে। নিম্নচাপকে ডায়াস্টোলিক (Diastolic) চাপ বলে, এই চাপটির আদর্শ মান 80 mmHg নিচে। এই চাপটি হৃৎপিণ্ডের দুটি বিটের মাঝামাঝি সময় রক্তনালিতে সৃষ্টি হয়। 
- দুই ধরনের রক্তচাপের পার্থক্যকে ধমনিঘাত বা নাড়িঘাত চাপ (Pulse pressure) বলা হয়। 
- সাধারণত সুস্থ অবস্থায় হাতের কব্জিতে রেট তথা হৃৎস্পন্দনের মান প্রতি মিনিটে 60-100 mmHg । 
- হাতের কব্জিতে হালকা করে চাপ দিয়ে ধরে পালস রেট বের করা যায়। 
- স্ফিগমোম্যানোমিটার (Sphygmomanometer) বা সংক্ষেপে বিপি যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ মাপা যায়। 
- এই যন্ত্র দিয়ে ডায়াস্টোলিক ও সিস্টোলিক চাপ দেখে রক্তচাপ নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৩০.
মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নিঃসৃত এনজাইম-
  1. ক) টায়ালিন
  2. খ) পেপসিন
  3. গ) রেনিন
  4. ঘ) লাইপেজ
সঠিক উত্তর:
ক) টায়ালিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) টায়ালিন
ব্যাখ্যা
মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নিঃসৃত এনজাইমটি হলো টায়ালিন।
টায়ালিন এনজাইম স্টার্চ, গ্লাইকোজেন, ডেক্সট্রিন অণুকে আর্দ্রবিশ্লিষ্ট করে প্রথমে দ্রবণীয় স্টার্চ এবং পরে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন অণুতে পরিণত করে।
উৎসঃ প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩১.
মানব হৃদপিন্ড সম্পূর্ণভাবে কয়টি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
হৃদপিন্ড:
- রক্ত সংবহন তন্ত্রের প্রধান অঙ্গ হৃদপিন্ড।
- এটা পাম্পের মতো কাজ করে, ফলে রক্ত সংবহনতন্ত্রে রক্ত প্রবাহ সচল থাকে।
- হৃদপিন্ড বক্ষ গহ্বরে দুই ফুসফুসের মাঝখানে একই বাম দিকে অবস্থিত।
- মানব হৃদপিন্ড সম্পূর্ণভাবে চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত।
- এর উপরের প্রকোষ্ঠ দুটি বাম ও ডান অলিন্দ এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটি বাম ও ডান নিলয় নামে পরিচিত।
- নিলয় অলিন্দের তুলনায় আকারে বড়, প্রাচীর পুরু ও পেশিবহুল।
- প্রকোষ্ঠ বিভক্ত থাকলেও গোটা হৃদপিন্ড একটি একক হিসাবে কাজ করে এবং পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।
- হৃদপিন্ড এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
অস্থি ও দাঁতের প্রধান খনিজ উপাদান কোনটি?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. ক্লোরিন
  3. ফ্লুরাইড
  4. ম্যাগনেসিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা

ক্যালসিয়াম:
- ক্যালসিয়াম (Ca) হলো অস্থি ও দাঁতের প্রধান খনিজ উপাদান।
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের প্রায় ২% ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত।
- শরীরে থাকা মোট খনিজ পদার্থের মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সর্বাধিক।
- এটি ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ৯০% পরিমাণে অস্থি ও দাঁতে সংরক্ষিত থাকে।
- এছাড়া, রক্ত ও লসিকাতেও ক্যালসিয়াম বিদ্যমান।
- উদ্ভিজ্জ উৎস: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাঁধাকপি, ফল ইত্যাদি।
- প্রাণিজ উৎস: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি।

ক্যালসিয়ামের কার্যকারিতা:
- হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করে।
- রক্ত সঞ্চালন ও হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে সহায়তা করে।
- স্নায়ু ও পেশির কার্যকারিতা বজায় রাখে।
- শিশুদের রিকেটস (Rickets)- এতে হাড় নরম ও বিকৃত হয়ে যায়।
- বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া (Osteomalacia) – এতে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়।
- দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা দেখা দেয়।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

৩৩.
নিচের কেনাটি আমিষের গঠনের একক?
  1. কার্বন
  2. অ্যামিনো অ্যাসিড
  3. হাইড্রোজেন
  4. নাইট্রোজেন
সঠিক উত্তর:
অ্যামিনো অ্যাসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামিনো অ্যাসিড
ব্যাখ্যা
- আমিষের গঠন একক কোনটি অ্যামাইনো অ্যাসিড।

• আমিষের গঠন:

- আমিষ বা প্রোটিনের গঠন উপাদান হলো-
- কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H₂), অক্সিজেন (O₂) এবং নাইট্রোজেন (N₂)।
- আমিষে ১৬% নাইট্রোজেন থাকে।
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন মৌল সমন্বয়ে আমিষ বা প্রোটিনের গঠন একক অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি হয়।
- একাধিক অ্যামাইনো অ্যাসিড মিলিত হয়ে পলিপেপটাইড ও পরিশেষে প্রোটিন গঠিত হয়।
- তাই প্রোটিনের রাসায়নিক বিশ্লেষণের ফলে বিভিন্ন ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায়।
- অর্থাৎ, পরিপাকের পর আমিষ বা প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ডাল, মটরশুঁটি শিমেরবিচি, সয়াবিন, বাদাম ইত্যাদি আমিষ জাতীয় খাদ্য।
- এসব খাদ্যে যথেষ্ট পরিমাণে আমিষ পাওয়া যায়।
 
উৎস:  সাধারণ বিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি।
৩৪.
জীব দেহের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায় কোন ধরনের খাদ্য থেকে-
  1. ক) শর্করা
  2. খ) স্নেহ
  3. গ) আমিষ
  4. ঘ) ভিটামিন
সঠিক উত্তর:
গ) আমিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আমিষ
ব্যাখ্যা
মাছ, মাংস, ডিম, পনির, ছানা, কলিজা, ডাল, চিনা বাদাম ইত্যাদি আমিষ জাতীয় খাদ্য। এসব খাদ্যে দেহের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়।
উৎস: নবম দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান
৩৫.
ফাইলেরিয়া কৃমি কোন পর্বের অন্তর্ভুক্ত প্রাণী?
  1. ক) Platyhelminthes
  2. খ) Cnidaria
  3. গ) Annelida
  4. ঘ) Nematoda
সঠিক উত্তর:
ঘ) Nematoda
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Nematoda
ব্যাখ্যা

ফাইলেরিয়া কৃমি নেমাটোডা পর্বের অন্তর্ভুক্ত প্রাণী।

এ পর্বের অনেক প্রানিরা অন্তঃপরজীবী হিসেবে অন্য প্রাণীর রক্তে এবং অন্ত্রে বসবাস করে। এই ধরনের পরজীবী বিভিন্ন প্রাণীর ও মানবদেহে বাস করে নানারকম ক্ষতি সাধন করে। তবে, এদের অনেকে মুক্তজীবী, যারা পানি ও মাটিতে বসবাস করেন।
নেমাটোডা প্রাণীদের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ-
১. নেমাটোডা ( Nematoda ) পর্বের প্রাণীদের দেহ লম্বা, নলাকার, সুতার ন্যায়, অখণ্ডায়িত ও দু'দিক ক্রমশ সরু।
২. দেহ নমনীয় ও ইলাস্টিন নির্মিত অকোষীয় কিউটিকল দ্বারা আবৃত।
৩. নেমাটোডা ( Nematoda ) পর্বের প্রাণীদের পৌষ্টিকনালি সোজা ও শাখাহীন এবং মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত । পৌষ্টিক গ্রন্থি অনুপস্থিত। এ কারণে এসব প্রাণীর দেহকে 'নলের ভেতর নল’ (‘tube within a tube) ধরনের গঠনের মতো দেখায়।
৪.এদের অপ্রকৃত সিলোম বা সিউডোসিলোম (pseudocoelom) উপস্থিত এবং অখণ্ডায়িত
৫. মুখছিদ্র সাধারণত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ওষ্ঠ দ্বারা পরিবেষ্টিত।
৬. নেমাটোডা বা গোলকৃমি ত্রিস্তরী প্রাণী; দেহে অঙ্গ-তন্ত্র গঠিত হয়।
৭.শ্বসনতন্ত্র ও সংবহনতন্ত্র অনুপস্থিত। রেচনতন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্র উপস্থিত।

নেমাটোডা বা গোলকৃমির পর্বের প্রাণীদের বৈজ্ঞানিক নাম
গোলকৃমি- Ascaris lumbricoides
চোখ কৃমি - Loa loa
হুকওয়ার্ম - Ancylostoma duodenale
মাইক্রোফাইলেরিয়া - Microflaria sp.
গুড়াকৃমি - Enterobius vermicularis
ফাইলেরিয়া কৃমি বা গোদকৃমি - Wuchereria bancrofti
চাবুক কৃমি - Trichinella spiralis
বিড়ালের গোলকৃমি - toxocara cati

সূত্র: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান, Animal Diversity Website (animaldiversity.org)

৩৬.
রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বৈজ্ঞানিক নাম কী?
  1. Panthera tigress
  2. Panthera tigris
  3. Panthera tigris tigris
  4. Panthera tigris attaica
সঠিক উত্তর:
Panthera tigris tigris
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Panthera tigris tigris
ব্যাখ্যা
• রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বৈজ্ঞানিক নাম- Panthera tigris tigris

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বৈজ্ঞানিক নাম: 
- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম- Homo sapiens; 
- শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম- Nymphaea nouchali; 
- ধানের বৈজ্ঞানিক নাম- Oryza sativa; 
- আমের বৈজ্ঞানিক নাম- Mangifera indica; 
- কাঁঠালের বৈজ্ঞানিক নাম- Artocarpus heterophyllus; 
- মৌমাছির বৈজ্ঞানিক নাম- Apis indica; 
- দোয়েল পাখির বৈজ্ঞানিক নাম- Copsychus saularis; 
- আরশোলার বৈজ্ঞানিক নাম- Periplaneta americana; 
- ইলিশ মাছের বৈজ্ঞানিক নাম- Hilsa ilisha. 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭.
এনজাইম, অ্যান্টিবডি এবং হরমোন-এর মৌলিক উপাদান -
  1. ক) প্রোটিন
  2. খ) ক্যালসিয়াম
  3. গ) ভিটামিন
  4. ঘ) লবণ
সঠিক উত্তর:
ক) প্রোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রোটিন
ব্যাখ্যা
- প্রোটিন জীবদেহের একটি অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক পদার্থ। 
- বিভিন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিড বিভিন্নভাবে শৃঙ্খলিত হয়ে এক একটি প্রোটিন গঠন করে। আর অ্যামাইনো অ্যাসিড হলো প্রোটিনের মূল গাঠনিক একক।
-  প্রোটিন অণু বহু সংখ্যক অ্যামাইনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে তৈরি। প্রোটিন শব্দটি সর্বপ্রথম প্রয়োগ করেন জি. মুলার ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে। 

- প্রোটিন অসংখ্য অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত বৃহদাকার যৌগিক জৈব অণু। 
- একটি কোষের অভ্যন্তরে সারাক্ষণ শত শত প্রকার প্রোটিন তৈরি হয়।
- জীবদেহের প্রায় সর্বত্রই প্রোটিন বিরাজমান। জৈব ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে এনজাইম, অ্যান্টিবডি, হরমোন। এগুলো , সবই প্রোটিন।
-  সব এনজাইম প্রোটিন কিন্তু সব প্রোটিন এনজাইম নয়।
- বিভিন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিড বিভিন্নভাবে শৃঙ্খলিত হয়ে এক একটি প্রোটিন গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৮.
এইডস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির কোন রক্ত কণিকা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়? 
  1. প্লাজমা
  2. অনুচক্রিকা
  3. লোহিত কণিকা
  4. শ্বেত কণিকা
সঠিক উত্তর:
শ্বেত কণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেত কণিকা
ব্যাখ্যা
এইডস: 
- AIDS হলো Acquired Immune Deficiency Syndrome এর সংক্ষিপ্ত রূপ। 
অর্থাৎ, বিশেষ কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াকে এইডস (AIDS) বলে। 
- Human Immune Deficiency Virus সংক্ষেপে HIV নামক ভাইরাস দ্বারা এ রোগ সৃষ্টি হয়। 
- HIV ভাইরাসের আক্রমণে মানুষের শ্বেত রক্ত কণিকার ম্যাক্রোফেজ ও T4 লিম্ফোসাইট ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। 
- এইডস ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শ্বেত রক্ত কণিকা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। 
- বর্তমান বিশ্বে AIDS একটি মারাত্মক রোগ। 
- আফ্রিকার দেশসমূহে HIV র আক্রমণ বেশি লক্ষ করা যায়। 
- ধারণা করা হয় বানরের দেহে এ ভাইরাসটি ছিল যা সর্বপ্রথম আফ্রিকায় বানর থেকে মানুষে স্থানান্তরিত হয় এবং পরে তা আমেরিকা, ইউরোপ তথা সমগ্রবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। 

AIDS এর বিস্তার: 
- বিভিন্ন উপায়ে এইডসের ভাইরাস একজন সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। 
যেমন- 
• নারী পুরুষের অস্বাভাবিক ও অসামাজিক যৌন আচরণ, 
• সংক্রমিত সিরিঞ্জ ব্যবহার, 
• সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ, 
• সংক্রমিত মায়ের গর্ভে জন্ম গ্রহণকারী শিশু, 
• সেলুনে একই ব্লেড বা ক্ষুর বিভিন্ন জনে ব্যবহার করা, 
• দন্ত চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা গ্রহণকারী ইত্যাদি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯.
সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ কোন খনিজ উপাদানের ভালো উৎস?
  1. আয়োডিন
  2. সোডিয়াম
  3. ক্যালসিয়াম 
  4. ফসফরাস
সঠিক উত্তর:
আয়োডিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আয়োডিন
ব্যাখ্যা

খনিজ লবণ (Mineral salts): 
- দেহকোষ ও দেহের তরল অংশের জন্য খনিজ লবণ অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। 
- মানুষের শরীরে ক্যালসিয়াম, লৌহ, সালফার, দস্তা, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, আয়োডিন ইত্যাদি থাকে। 
- এ উপাদানগুলো কখনো মৌলিক উপাদানরূপে মানবদেহে অবস্থান করে না, এগুলো খাদ্য ও মানবদেহে বিভিন্ন পরিমাণে অন্য পদার্থের সাথে মিলিত হয়ে নানা জৈব এবং অজৈব যৌগের লবণ তৈরি করে। 
- খনিজ লবণ দেহ গঠন ও দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হাড়, দাঁত, পেশি, এনজাইম এবং হরমোন গঠনের জন্য খনিজ লবণ একটি অপরিহার্য উপাদান। 
- স্নায়ুর উদ্দীপনা, পেশি সংকোচন, দেহকোষে পানির সাম্যতা বজায় রাখা, অম্ল ও ক্ষারের সমতাবিধান, এসব কাজে খনিজ লবণের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। 

- দুধ, দই, ছানা, পনির, ছোট মাছ (মলা-ঢেলা), নানা রকম ডাল, সবুজ শাকসবজি, ঢেঁড়স, লাল শাক, কচু শাক ইত্যাদি ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস। 
- কলিজা, সবুজ শাকসবজি, মাংস, ডিমের কুসুম, কচু শাক ইত্যাদিতে লৌহ থাকে। 
- দুধ, মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল থেকে ফসফরাস পাওয়া যায়। 
- খাবার লবণ, চিপস, নোনতা খাবার, পনির, বাদাম, আচার ইত্যাদিতে সোডিয়াম থাকে। 
- মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল, কলা, আলু, আপেল ইত্যাদিতে পটাশিয়াম থাকে। 
- আয়োডিনের উৎস হলো সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ, মাংস এবং শেওলা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪০.
খাদ্যের যেসব জৈব অথবা অজৈব উপাদান জীবের জীবনীশক্তির যোগান দেয়, তাদের একসঙ্গে কী বলে?
  1. পুষ্টি
  2. পরিপোষক
  3. মুখ্য উপাদান
  4. ভিটামিন
সঠিক উত্তর:
পরিপোষক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিপোষক
ব্যাখ্যা
পুষ্টি হলো পরিবেশ থেকে প্রয়ােজনীয় খাদ্যবস্তু আহরণ করে খাদ্যবস্তুকে পরিপাক ও শোষণ করা এবং আত্তীকরণ দ্বারা দেহের শক্তির চাহিদা পুরণ, রোগ প্রতিরোধ, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ করা। পুষ্টির ইংরেজি প্রতিশব্দ Nutrition.
অপরদিকে খাদ্যের যেসব জৈব অথবা অজৈব উপাদান জীবের জীবনীশক্তির যোগান দেয়, তাদের একসঙ্গে পরিপোষক বা নিউট্রিয়েন্টস বলে৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৪১.
নিচের কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম? 
  1. রাজকাঁকড়া
  2. স্ফোনোডন
  3. প্লাটিপাস
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলো জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটেছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ। 
- অন্যদিকে ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলোবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগের লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আর্থ্রোপোডাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪২.
হাঁটুতে কান থাকে
  1. বাঁদর এর
  2. পিপিলিকার
  3. সাপ এর
  4. ফড়িং এর
সঠিক উত্তর:
ফড়িং এর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফড়িং এর
ব্যাখ্যা
- ফড়িং ওডোনাটা বর্গভুক্ত ও এপিপ্রোকটা উপবর্গের এক ধরনের বড় যৌগিক চোখবিশিষ্ট পতঙ্গ।
- এদের দুই জোড়া শক্তিশালী ও স্বচ্ছ পাখা আছে। এ পাখার সাহায্যে ফড়িং উড়ে বেড়ায়। ব
- সে থাকার সময় পাখা অনুভূমিক এবং শরীরের সঙ্গে সমকোণে থাকে।
- ফড়িং এর হাটুতে কান থাকে। 



উৎস: royalsocietypublishing.org [লিঙ্ক]।
৪৩.
কোন খাদ্য উপাদান থেকে শরীরে বেশি শক্তি উৎপন্ন হয়?
  1. শর্করা
  2. আমিষ
  3. ভিটামিন
  4. চর্বি
সঠিক উত্তর:
চর্বি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর্বি
ব্যাখ্যা
• চর্বি - থেকে শরীরে বেশি শক্তি উৎপন্ন হয়।

- চর্বি হল এমন একটি খাদ্য উপাদান যা শরীরে সবচেয়ে বেশি শক্তি (ক্যালরি) উৎপন্ন করে। এর কারণ হল:

- প্রতি গ্রাম চর্বিতে থাকে 9 ক্যালোরি, যা অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের তুলনায় অনেক বেশি। যেমন:

- প্রোটিন: প্রতি গ্রামে 4 ক্যালোরি
- কার্বোহাইড্রেট: প্রতি গ্রামে 4 ক্যালোরি
- চর্বি: প্রতি গ্রামে 9 ক্যালোরি

শরীর চর্বিকে এমনভাবে সংরক্ষণ করে যা দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি সরবরাহ করতে পারে।
সাধারণভাবে বলতে গেলে, যে খাদ্য পদার্থে বেশি চর্বি থাকবে, তার শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতাও তত বেশি হবে।

খাদ্য উপাদান: 

- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা: 
১। আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে। 
২। শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। 
৩। স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। 

- এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন: 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
৫। খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
৬। পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 

- খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে, যেটি কোনো পুষ্টি না জোগালেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। 
৭। রাফেজ: রাফেজ বা খাদ্য আঁশ (Fibre) পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৯ সংস্করণ]।
৪৪.
ইনসুলিন হচ্ছে -
  1. ক) এক ধরনের এনজাইম
  2. খ) এক ধরনের হরমোন
  3. গ) এক ধরনের ঔষধ
  4. ঘ) এক ধরনের কৃত্রিম অঙ্গ
সঠিক উত্তর:
খ) এক ধরনের হরমোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এক ধরনের হরমোন
ব্যাখ্যা
প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমায়।
কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না।
যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়৷

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বই৷
৪৫.
ফলিক এসিডের অন্য নাম কোনটি?
  1. ভিটামিন বি ১২
  2. ভিটামিন বি ৬
  3. ভিটামিন বি ১
  4. ভিটামিন বি ৯
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন বি ৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন বি ৯
ব্যাখ্যা
- ফলিক এসিডের অপর নাম ভিটামিন বি ৯। 

ফলিক এসিডের উৎস: 
- কলিজা, মাংস, মাছ, বাদাম, সবুজ শাক-সবজি, যকৃত ও বিচিতে প্রচুর পরিমাণে ফলিক এসিড পাওয়া যায়। 

ফলিক এসিডের কাজ: 
১. হিমোগ্লোবিনের লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে ফলিক এসিড প্রয়োজন হয়। 
২. বংশগতির জন্য দায়ী জিন এর গঠন উপাদান নিউক্লিয়িক এসিডের ডিএনএ অণুর গঠনে বা সংশ্লেষণে কাজ করে। 
৩. কোষ বিভাজনে ও বর্ধনে কাজ করে। 

উৎস: গার্হস্থ্যবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬.
Which of the following is not present in pancreatic juice? 
  1. Pepsin 
  2. Lipase
  3. Trypsin
  4. Amylase
  5. None of the them
সঠিক উত্তর:
Pepsin 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Pepsin 
ব্যাখ্যা

- অগ্ন্যাশয় রসে পেপসিন (Pepsin) থাকে না, পেপসিন পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এবং এটি প্রোটিন হজমে সাহায্য করে। 

অগ্ন্যাশয়: 
- অগ্ন্যাশয় পাকস্থলির পেছনে এবং ডিওডেনামের দু'বাহুর মধ্যে প্রায় আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্র গ্রন্থি। 
- অগ্ন্যাশয়নালি পিত্তনালির সাথে মিলিত হয়ে যকৃত অগ্ন্যাশয়নালি গঠন করে ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয়। 
- অগ্ন্যাশয়ে নালীযুক্ত ও নালিবিহীন উভয় প্রকার গ্রন্থি থাকে বলে একে মিশ্র গ্রন্থি বলা হয়। 
- নালিযুক্ত গ্রন্থির নিঃসৃত রসকে অগ্ন্যাশয় রস এবং নালিবিহীন গ্রন্থি থেকে ইনসুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন তৈরি হয়। 
- অগ্ন্যাশয় রসে থাকে ট্রিপসিন, অ্যামাইলেজ ও লাইপেজ নামক উৎসেচক। 
- অগ্ন্যাশয় রস খাদ্য পরিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, খাদ্যের পরিপাকে অম্ল ক্ষারের সাম্যতা, পানির সাম্যতা দেহ তাপ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে, ইনসুলিন ও গ্লুকাগন রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭.
রেটিনা ও চক্ষুলেন্সের মধ্যবর্তী স্থানে থাকে -
  1. ক) অ্যাকুয়াস হিউমার
  2. খ) কর্ণিয়া
  3. গ) ভিট্রিয়াস হিউমার
  4. ঘ) অ্যাকুয়া রিজিয়া
সঠিক উত্তর:
গ) ভিট্রিয়াস হিউমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভিট্রিয়াস হিউমার
ব্যাখ্যা
অ্যাকুয়াস হিউমার (Aqueous humour):
লেন্স ও কর্নিয়ার মধ্যবর্তী স্থান এক প্রকার স্বচ্ছ জলীয় পদার্থে ভর্তি থাকে। একে বলা হয় অ্যাকুয়াস হিউমার।
- অ্যাকুয়াস হিউমার আলাের প্রতিসরণে সাহায্য করে, চোখের সম্মুখ অংশের আকৃতি ঠিক রাখে এবং লেন্স ও কর্নিয়ায় পুষ্টি সরবরাহ করে।

ভিট্রিয়াস হিউমার (Vitreous humour):
লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী অংশে এক প্রকার জেলি জাতীয় পদার্থে পূর্ণ থাকে। একে বলা হয় ভিট্রিয়াস হিউমার।
- ভিট্রিয়াস হিউমার রেটিনার দিকে আলাের প্রতিসরণে সাহায্য করে ও চক্ষু গােলকের গােলাকার আকৃতি বজায় রাখে।

সুত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, HSC Program, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮.
মানবদেহে প্রধানত কত প্রকার রক্ত কণিকা রয়েছে?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
সঠিক উত্তর:
তিন প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন প্রকার
ব্যাখ্যা
রক্ত:
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ তরল পদার্থ। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়। 
- এটি ক্ষারধর্মী, লবণাক্ত স্বাদযুক্ত পদার্থ। 
- সাধারণত হাড়ের লাল অস্থিমজ্জাতে রক্ত কণিকার জন্ম। 
- এটি রক্তরস ও রক্ত কণিকার সমন্বয়ে গঠিত।

রক্ত কণিকা:
- মানবদেহে তিন প্রকার রক্ত কণিকা দেখা যায়।
যথা- 
১। লোহিত রক্ত কণিকা, 
২। শ্বেত রক্ত কণিকা এবং 
৩। অণুচক্রিকা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণী, NCTB.
৪৯.
মানুষ কোন পর্বের অর্ন্তভুক্ত?
  1. ক) মলাস্কা
  2. খ) কর্ডাটা
  3. গ) পরিফেরা
  4. ঘ) অ্যামফিবিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) কর্ডাটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কর্ডাটা
ব্যাখ্যা
মানুষ (Homo Sapiens) হলো কর্ডাটা (Chordata) পর্বের প্রাণি।

কর্ডাটা পর্বের প্রাণীর বৈশিষ্ট্যসমূহ:

১. ভ্রূণ অবস্থায় অথবা সারা জীবন পৃষ্ঠ মধ্যরেখা বরাবর নিরেট (Solid), দণ্ডাকৃতির (Rod-shaped) ও স্থিতিস্থাপক (Elastic) নটোকর্ড (Notochord) বর্তমান যা মেরুদণ্ডীদের (Vertebrates) পূর্ণাঙ্গ প্রাণীতে মেরুদণ্ড (Vertebral column) দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।
২. নটোকর্ডের (Notochord) পৃষ্ঠদেশ (Dorsal side) বরাবর ফাঁপা ও নলাকার স্নায়ু-রজ্জু (Nerve cord) উপস্থিত। মেরুদণ্ডীদের ক্ষেত্রে এটির অগ্রপ্রান্তে মস্তিষ্ক (Brain) এবং এর পশ্চাতে সুষুম্নাকাণ্ড (Spinal cord) গঠিত হয়।
৩. উন্নত কর্ডেট (Higher Chordates) ছাড়া অধিকাংশ প্রাণীতে সারা জীবন অথবা জীবনের যে কোন দশায় গলবিলে পার্শ্বীয়ভাবে কয়েক জোড়া ফুলকা রন্ধ্র (Gill slits) বর্তমান।
৪. মেরুদণ্ডীদের অন্তঃকঙ্কাল বিশিষ্ট দু’জোড়া পদ (অগ্রপদ ও পশ্চাৎ পদ) বর্তমান।
৫. এন্ডোস্টাইল (Endostyle) উপস্থিত যা পরবর্তীতে থাইরয়েড গ্রন্থিতে (Thyroid glands) রূপান্তরিত হয়।
৬. পায়ু (Anus) পরবর্তী পেশীবহুল ও স্থিতিস্থাপক লেজ (Tail) উপস্থিত।
৭. উন্নত পরিপাকতন্ত্র পরিপাক গ্রন্থিবিশিষ্ট এবং পাকস্থলী (Stomach) ও অন্ত্র (Intestine) সুস্পষ্টভাবে আলাদা।
৮. রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ প্রকৃতির। অঙ্কীয় দিকে অবস্থিত হৃদযন্ত্র, পৃষ্ঠীয় ও অঙ্কীয় রক্তনালী নিয়ে রক্ত সংবহনতন্ত্র গঠিত। হেপাটিক পোর্টাল তন্ত্র (Hepatic portal system) উন্নত প্রকৃতির।
৯. জলজ শ্বসন (Aquatic respiration) ফুলকার (Gill) সাহায্যে এবং বায়বীয় শ্বসন (Arial respiration) ফুসফুসের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে।
১০. অধিকাংশ প্রাণীতে কোমলাস্থি (Cartilage) অথবা অস্থি (Bone) নির্মিত কঙ্কাল দৈহিক অবকাঠামো তৈরি করে।
১১. বিরল ব্যতিক্রম ছাড়া সকলেই একলিঙ্গ (Dioecious) প্রাণী।

সূত্র: অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান
৫০.
ইনসুলিন কতটি অ্যামাইনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন? 
  1. ৫০টি
  2. ৫১টি
  3. ৫২টি
  4. ৫৩টি
সঠিক উত্তর:
৫১টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫১টি
ব্যাখ্যা
ইনসুলিন: 
- ইনসুলিন একটি হরমোন। 
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে। 
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। 
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়। 

- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। 
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন। 
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১.
রক্ত আমাশয়ের জীবাণুর নাম-
  1. ক) ছত্রাক
  2. খ) সিলেগাসনি
  3. গ) ব্যাকটেরিয়া
  4. ঘ) ভাইরাস
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
রক্ত আমাশয়ের প্রধাণ কারণ হলো এক ধরণের ব্যাকটেরিয়া যার নাম শিগেলা। এই শিগেলা নামক ব্যাকটেরিয়া দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।
৫২.
বুদ্ধাঙ্ক (IQ) এর পরিমাপ অনুযায়ী প্রতিভাবানদের বুদ্ধাঙ্ক মাত্রা-
  1. ক) IQ > 90
  2. খ) IQ < 130
  3. গ) IQ > 120
  4. ঘ) IQ > 100
সঠিক উত্তর:
গ) IQ > 120
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) IQ > 120
ব্যাখ্যা
বুদ্ধিমত্তা মূল্যায়ন করার পদ্ধতি হলো বুদ্ধাঙ্ক।
- ইংরেজিতে একে বলা হয় - Intelligence quotient বা IQ.
- কারো IQ নির্ণয় করা বেশ কষ্টসাধ্য একটা বিষয়। স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এল. এম. টারম্যান সর্বপ্রথম ১৯১৬ সালে বুদ্ধাংক পরিমাপের গাণিতিক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। যাকে তিনি নাম দেন IQ বা Intelligence Quotient.

তার আবিস্কৃত গানিতিক সূত্রটি হলো
বুদ্ধাংক (IQ) = (মানসিক বয়স / প্রকৃত বয়স ) × ১০০

উৎস: শিক্ষা মনোবিজ্ঞান- ২, প্রোগ্রাম: Bachelor of Agriculture Education, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩.
'ভলভক্স' কোন প্রতিসাম্য প্রাণীর উদাহরণ?
  1. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য
  2. গোলীয় প্রতিসাম্য
  3. অরীয় প্রতিসাম্য
  4. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য
সঠিক উত্তর:
গোলীয় প্রতিসাম্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলীয় প্রতিসাম্য
ব্যাখ্যা
প্রতিসাম্য: 
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে। 
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 

ক. গোলীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)। 

খ. অরীয় প্রতিসাম্য: 
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)। 

গ. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য: 
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)। 

ঘ. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য: 
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)। 

ঙ. অপ্রতিসাম্য: 
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪.
শর্করা জাতীয় খাদ্য যে কাজে ব্যয় হয় -
  1. দেহের প্রয়োজনীয় তাপ উৎপন্ন করা
  2. ক্ষয়রোধের জন্য
  3. পুষ্টির অভাব পূরণে
  4. হাড় গঠনে
সঠিক উত্তর:
দেহের প্রয়োজনীয় তাপ উৎপন্ন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেহের প্রয়োজনীয় তাপ উৎপন্ন করা
ব্যাখ্যা

Carbohydrates serve as energy sources and as essential structural components in organisms; in addition, part of the structure of nucleic acids, which contain genetic information, consists of carbohydrate.

শর্করার কাজ
১। দেহের প্রয়োজনীয় তাপ উৎপন্ন করা
২। শক্তি যোগান দেয়া
৩। প্রোট্রিনের অপচয় রোধ করা
৪। বিপাকীয় কাজে প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করা
৫। সেলুলোজ নামক আঁশযুক্ত শর্করা দেহের অপাচ্য পদার্থ বের করতে ও কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করতে সাহায্য করে।

সূত্র: ব্রিটানিকা

৫৫.
পারপুরা রোগে রক্তের কোন উপাদানের সংখ্যা কমে যায়? 
  1. শ্বেত রক্ত কণিকা 
  2. লোহিত রক্ত কণিকা 
  3. অনুচক্রিকা 
  4. হিমোগ্লোবিন
সঠিক উত্তর:
অনুচক্রিকা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচক্রিকা 
ব্যাখ্যা

রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা: 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 
যেমন-
অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া। 

পারপুরা: 
- ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে। 
- এই রোগে অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

পলিসাইথিমিয়া: 
- দেহে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়াকে পলিসাইথিমিয়া রোগ বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৬.
তরল যোজক টিস্যু কয় প্রকার?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
তরল যোজক টিস্যু: 
- তরল যোজক টিস্যুর মাতৃকা তরল। 
- মাতৃকায় বিভিন্ন ধরনের জৈব পদার্থ কলয়েড এবং দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। 
- তরল যোজক টিস্যুর প্রধান কাজ দেহের ভেতরে বিভিন্ন দ্রব্যাদি পরিবহন করা, রোগ প্রতিরোধ এবং রক্ত জমাট বাঁধায় বিশেষ ভূমিকা রাখা। 
- তরল যোজক টিস্যু দু'প্রকারের হয়। 
যথা- ক) রক্ত এবং খ) লসিকা। 

লসিকা: 
- বিভিন্ন টিস্যুর মধ্যবর্তী স্থানে যে জলীয় পদার্থ জমা হয় তা কতগুলো ছোট নালীর মাধ্যমে সংগৃহীত হয়। ছোট নালীগুলো মিলিত হয়ে আবার বৃহত্তর নালীতে পরিণত হয়। এভাবে যে নালিকাতন্ত্র গঠিত হয় তাকে লসিকাতন্ত্র বলা হয়। 
- নালীগুলোকে লসিকানালী এবং সংগৃহীত রসকে লসিকা বলা হয়। 
- লসিকার মধ্যে কিছু কোষও থাকে, এদেরকে লসিকা কোষ বলা হয়। 
- লসিকা ঈষৎ ক্ষারীয়, স্বচ্ছ এবং হলুদ বর্ণের তরল পদার্থ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭.
হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকে -
  1. লোহিত রক্তকণিকায়
  2. শ্বেত রক্তকণিকায়
  3. অণুচক্রিকায়
  4. প্লাজমায়
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্তকণিকায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহিত রক্তকণিকায়
ব্যাখ্যা
হিমোগ্লোবিন এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ।
লোহিত রক্ত কণিকায় এর উপস্থিতির কারণে রক্ত লাল দেখায়।
রক্তে উপযুক্ত পরিমাণে হিমোগ্লোবিন না থাকলে রক্ত স্বল্পতা বা রক্তশূন্যত দেখা দেয়।

[সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি]
৫৮.
রেটিনা ও চক্ষুলেন্সের মধ্যবর্তী স্থানে থাকে -
  1. ক) অ্যাকুয়াস হিউমার
  2. খ) ভিট্রিয়াস হিউমার
  3. গ) কর্ণিয়া
  4. ঘ) অ্যাকুয়া রিজিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) ভিট্রিয়াস হিউমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভিট্রিয়াস হিউমার
ব্যাখ্যা

অ্যাকুয়াস হিউমার (Aqueous humour):
লেন্স ও কর্নিয়ার মধ্যবর্তী স্থান এক প্রকার স্বচ্ছ জলীয় পদার্থে ভর্তি থাকে। একে বলা হয় অ্যাকুয়াস হিউমার।
- অ্যাকুয়াস হিউমার আলাের প্রতিসরণে সাহায্য করে, চোখের সম্মুখ অংশের আকৃতি ঠিক রাখে এবং লেন্স ও কর্নিয়ায় পুষ্টি সরবরাহ করে।

ভিট্রিয়াস হিউমার (Vitreous humour):
লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী অংশে এক প্রকার জেলি জাতীয় পদার্থে পূর্ণ থাকে। একে বলা হয় ভিট্রিয়াস হিউমার।
- ভিট্রিয়াস হিউমার রেটিনার দিকে আলাের প্রতিসরণে সাহায্য করে ও চক্ষু গােলকের গােলাকার আকৃতি বজায় রাখে।

সুত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, HSC Program, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯.
শিশু যখন ৯ মাস বয়সে পৌঁছায়, তখন কোন টিকা দেওয়ার সুপারিশ থাকে?
  1. Diphtheria and Tetanus Vaccine
  2. BCG Vaccine
  3. Measles Vaccine
  4. Oral Polio Vaccine
সঠিক উত্তর:
Measles Vaccine
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Measles Vaccine
ব্যাখ্যা

• ৯ মাস বয়সে শিশুকে সাধারণত Measles Vaccine (গ) দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এটি শিশুদের ক measles রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়, যা খুব সংক্রামক এবং জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। Diphtheria, Tetanus, এবং Pertussis এর জন্য শিশুকে আগেই DTP টিকা দেওয়া হয়, আর BCG টিকা জন্মের সময় দেওয়া হয় যা যক্ষ্মা থেকে সুরক্ষা দেয়। Oral Polio Vaccine বিভিন্ন ডোজে জন্মের পর থেকে প্রদান করা হয়, তবে ৯ মাস বয়সে মূল লক্ষ্য থাকে measles প্রতিরোধ। তাই ৯ মাস বয়সে শিশুর টিকাকরণে Measles Vaccine প্রধান এবং অপরিহার্য হিসেবে গণ্য করা হয়।

ভ্যাকসিনেশন: 
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কয়েকটি রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬০.
খাদ্যে প্রোটিনের অভাবে কোন রোগ হয়? 
  1. স্কার্ভি
  2. বেরিবেরি
  3. রিকেটস
  4. কোয়াশিওরকর
সঠিক উত্তর:
কোয়াশিওরকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোয়াশিওরকর
ব্যাখ্যা

• কোয়াশিওরক হলো একটি প্রোটিন-অভাবজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের মধ্যে দেখা যায় যারা পর্যাপ্ত প্রোটিনযুক্ত খাদ্য খায় না।  

- প্রোটিন হলো মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান।
- এটি কোষ গঠন, অঙ্গপ্রতঙ্গ বৃদ্ধি, অ্যান্টিবডি ও হরমোন উৎপাদন, এনজাইম কার্যক্রম, এবং শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য অপরিহার্য।
- প্রোটিনের অভাব হলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ এবং কোষ ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, এবং এর ফলে কিছু বিশেষ রোগ দেখা দেয়।

কোয়াশিওরকের প্রধান কারণ:
- খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের ঘাটতি।
- শিশুদের বৃদ্ধি পর্যায়ে পর্যাপ্ত দুধ বা প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য না পাওয়া।

কোয়াশিওরকের লক্ষণসমূহ:
- পেশী কমজোরি হয়ে যায়।
- শিশুদের শরীরের বৃদ্ধি ও ওজন ঠিকমতো হয় না।
- এডিমা বা শরীরে পানি জমে পেট ফোলা দেখা দেয়।
- চুল সহজে ছিঁড়ে যায়, ত্বক শুষ্ক ও ক্ষীণ হয়ে যায়।
- রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই।  

৬১.
জীবদেহে বিপাকীয় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি প্রধানত কোন খাদ্য জারণের ফলে উৎপন্ন হয়?
  1. কার্বোহাইড্রেট
  2. প্রোটিন
  3. স্নেহজাতীয় খাদ্য
  4. ভিটামিন
সঠিক উত্তর:
কার্বোহাইড্রেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বোহাইড্রেট
ব্যাখ্যা

• জীবদেহে বিপাকীয় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি প্রধানত কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য জারণের ফলে উৎপন্ন হয়।

• পুষ্টিগত গুরুত্ব (শর্করা/কার্বোহাইড্রেট):
- শর্করা দেহের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদনে প্রধান ভূমিকা রাখে।
- জীবদেহে বিপাকীয় (Metabolic) কাজ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি কার্বোহাইড্রেট জারণে পাওয়া যায়।
- রক্তে অক্সিজেন কোষে পৌঁছে গ্লুকোজের সাথে বিক্রিয়া করে শক্তি নির্গত করে।
- এই শক্তিই দেহের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় মূল শক্তির উৎস।
 
• গ্লাইকোজেন ও সেলুলোজ:
- গ্লাইকোজেন প্রাণীদেহে খাদ্যঘাটতি বা অধিক পরিশ্রমের সময় শক্তি সরবরাহ করে।
- সেলুলোজ একটি অপাচ্য শর্করা এবং আঁশযুক্ত খাদ্য।
- সেলুলোজ মলত্যাগে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে।
 
• শর্করার অতিরিক্ত ও ঘাটতির প্রভাব:
- খাদ্যে শর্করার অভাবজনিত রোগ থেকে বাঁচতে প্রতিদিন প্রয়োজনীয় শর্করা গ্রহণ জরুরি।
- শর্করা চাহিদার তুলনায় বেশি হলে অতিরিক্ত অংশ মেদ হিসেবে জমা হয়।
- এতে স্থূলকায়তা এবং কখনো কখনো বহুমূত্র রোগ দেখা দিতে পারে।
- খাদ্যে প্রোটিন বা ফ্যাটের অভাব হলে শর্করা থেকে এগুলো সংশ্লেষ হতে পারে।
 
• খাদ্য ক্যালরি ও শক্তিমূল্য:
- খাদ্যের শক্তি ক্যালরি বা কিলোক্যালরি (kcal) এককে মাপা হয়।
- ১ ক্যালরি হলো ১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১° সেলসিয়াস বাড়াতে প্রয়োজনীয় তাপশক্তি।
- ১০০০ ক্যালরি = ১ কিলোক্যালরি (Food Calorie).
- শর্করা ও প্রোটিনের শক্তিমূল্য প্রায় ৪ kcal/g.
- স্নেহজাতীয় খাদ্য (ফ্যাট)-এর শক্তিমূল্য সবচেয়ে বেশি, ৯ kcal/g.
- একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষের দৈনিক প্রায় ২৫০০ kcal এবং নারীর প্রায় ২০০০ kcal প্রয়োজন।
 
• অন্যান্য অপশন:
- প্রোটিন → দেহগঠন, বৃদ্ধি ও এন্টিবডি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ।
- স্নেহজাতীয় খাদ্য → উচ্চ শক্তিমূল্যসম্পন্ন, সঞ্চিত শক্তির উৎস।
- ভিটামিন → শক্তি উৎপাদন নয়, দেহীয় কার্যাবলির সহায়ক।

উৎস: বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

৬২.
ORS সাধারণত কোন রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
  1. জন্ডিস
  2. ডায়রিয়া
  3. টাইফয়েড
  4. পোলিও
সঠিক উত্তর:
ডায়রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডায়রিয়া
ব্যাখ্যা

- ORS (Oral Rehydration Solution) ডায়রিয়া, কলেরা বা বমি ইত্যাদির ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের হয়ে যাওয়া রোধে ব্যবহৃত হয়।
- ORS হলো এক ধরনের দানাদার মিশ্রণ যা পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো হয় শরীরের পানিশূন্যতা প্রতিরোধ বা পূরণ করার জন্য।
- এটি সাধারণত ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হওয়ার সময় ব্যবহৃত হয়, যখন শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়।
- এটি শরীরের পানিশূন্যতা (Dehydration) প্রতিরোধ করে এবং লবণ-পানির ভারসাম্য বজায় রাখে।
- ORS-এ থাকা উপাদানসমূহ:
১। লবণ (সোডিয়াম ক্লোরাইড),
২। গ্লুকোজ,
৩। পটাশিয়াম ক্লোরাইড,
৪। সোডিয়াম বাইকার্বনেট বা সাইট্রেট।

উৎস: ১। জীব বিজ্ঞান প্রথম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)- ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফ (UNICEF) ওয়েবসাইট।

৬৩.
আমরা নিঃশ্বাসে যা গ্রহণ করি -
  1. ক) কার্বন ডাই অক্সাইড
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) সালফার ডাই অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
গ) অক্সিজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
আমরা নিঃশ্বাসে অক্সিজেন গ্রহণ করি এবং নিঃশ্বাস ত্যাগ করবার সময় কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস ত্যাগ করি। 

- শ্বসনের সময় পরিবেশ থেকে অক্সিজেন ফুসফুসে প্রবেশ করার পর রক্তের মাধ্যমে দেহের প্রতি কোষে পৌঁছে কোষস্থ খাদ্যকে জারিত করে জৈব শক্তি ও কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) উৎপন্ন করে।
- উৎপন্ন কার্বন ডাইঅক্সাইড রক্তের মাধ্যমে ফুসফুসে আসে এবং প্রশ্বাসের সময় দেহ থেকে নির্গত হয়। কাজেই অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবহন একটি জটিল প্রক্রিয়া। 
- রক্তের মাধ্যমে দু'ভাবে কোষে অক্সিজেন পরিবাহিত হয়।
- ৯৭ ৯৮% অক্সিজেন পরিবাহিত হয় লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিনের সাথে রাসায়নিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন হিসেবে এবং ২-৩% পরিবাহিত হয় প্লাজমায় দ্রবীভূত হয়ে।
- প্রতিটি হিমোগ্লোবিন অণু ৪টি লৌহ যুক্ত হিম ও ৪টি গ্লোবিনের সমন্বয়ে গঠিত। একটি করে লৌহ অণু প্রতিটি হিম গ্রুপের কেন্দ্রে অবস্থান করে এবং প্রতিটি লৌহ - অণুর সাথে একটি করে অক্সিজেন অণুযুক্ত হতে পারে। ফলে একটি হিমোগ্লোবিন অণু একই সাথে ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হতে পারে।
- অক্সিজেনের সাথে হিমোগ্লোবিনের রাসায়নিক বিক্রিয়া উভমুখী।

সূত্র: ১৩৪ পৃষ্ঠা, প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪.
চোখের লেন্সের ধরণ কোনটি?
  1. উত্তল
  2. অবতল
  3. দ্বি-উত্তল
  4.  দ্বি-অবতল
সঠিক উত্তর:
দ্বি-উত্তল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বি-উত্তল
ব্যাখ্যা

মানুষের চোখের লেন্সটি হলো একটি দ্বি-উত্তল লেন্স, যা উভয় দিকেই উত্তল আকৃতির। 
- এই লেন্সটি অভিসারী লেন্স হিসেবে কাজ করে এবং আলোকরশ্মিকে প্রতিসারিত করে রেটিনার উপর ফোকাস করতে সাহায্য করে, যার ফলে আমরা কোনো বস্তুর স্পষ্ট প্রতিবিম্ব দেখতে পাই।

দ্বি-উত্তল লেন্স:
- দ্বি-উত্তল লেন্স হলো একটি বিশেষ ধরনের উত্তল লেন্স, যার উভয় পৃষ্ঠই বাইরের দিকে বক্রাকার বা উত্তল আকৃতির।
- এটি অভিসারী (converging) লেন্স হিসেবে পরিচিত, কারণ এটি এর মধ্য দিয়ে যাওয়া সমান্তরাল আলোকরশ্মিকে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে (ফোকাস বিন্দুতে) একত্রিত করে।
- এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এটি এর মধ্য দিয়ে আপতিত সমান্তরাল আলোকরশ্মিকে প্রতিসরণের পর একটি বিন্দুতে মিলিত করে।
- এটি সাধারণত বাস্তব (real) এবং উল্টো (inverted) প্রতিবিম্ব তৈরি করে।
- রেটিনায় সৃষ্ট উল্টো প্রতিবিম্বের তথ্য অপটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছায়, এবং মস্তিষ্ক সেই সংকেতগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে সোজা করে দেখায়।

চোখে দ্বি-উত্তল লেন্সের কার্যকারিতা:
- চোখের লেন্স হলো একটি প্রাকৃতিক, নমনীয় এবং স্বচ্ছ দ্বি-উত্তল লেন্স। 
- এর মূল কাজ হলো বিভিন্ন দূরত্বে থাকা বস্তু থেকে আসা আলোকরশ্মিকে রেটিনার ওপর সঠিকভাবে ফোকাস করা, যাতে একটি স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি হয়।

উপযোজন (Accommodation) প্রক্রিয়া:
- চোখের লেন্সের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর উপযোজন ক্ষমতা। এটি চোখের সিলিয়ারি পেশী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- দূরের বস্তু দেখার জন্য চোখের লেন্স পাতলা হয়ে যায়, যার ফলে ফোকাস দূরত্ব বেড়ে যায় এবং রেটিনার উপর স্পষ্ট প্রতিবিম্ব তৈরি হয়।
- আর কাছের বস্তু দেখার সময় লেন্সটি মোটা হয়ে যায়, যার কারণে ফোকাস দূরত্ব কমে যায় এবং রেটিনার উপর প্রতিবিম্ব সঠিকভাবে গঠিত হয়। এই প্রক্রিয়াটিই উপযোজন নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য-
- উত্তল: এটি লেন্সের একটি সাধারণ প্রকার, কিন্তু চোখের লেন্সের সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট ধরণ হলো দ্বি-উত্তল।
- অবতল: এটি একটি অপসারী লেন্স এবং এটি দৃষ্টি ত্রুটি (যেমন: মায়োপিয়া) সংশোধনের জন্য চশমায় ব্যবহৃত হয়, চোখে নয়।
- দ্বি-অবতল: এটি অবতল লেন্সের একটি প্রকারভেদ এবং এটিও সাধারণত চশমা ও কিছু বিশেষ আলোকীয় যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়।

উৎস:
১। পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৬৫.
আমিষ তৈরি হয় -
  1. ক) ফ্যাটি এসিড দিয়ে।
  2. খ) অ্যামাইনো এসিড দিয়ে।
  3. গ) ফলিক এসিড দিয়ে।
  4. ঘ) নিউক্লিক এসিড দিয়ে।
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যামাইনো এসিড দিয়ে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যামাইনো এসিড দিয়ে।
ব্যাখ্যা
অ্যামাইনো এসিড
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেনের সমন্বয়ে আমিষ বা প্রোটিন গঠিত।
- আমিষের একক হল অ্যামাইনো এসিড।
- আমাদের শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
- মানুষের শরীরের এ পর্যন্ত ২০ প্রকার অ্যামাইনো এসিড পাওয়া গেছে যার মধ্যে ৮ টি হলো অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড। (উৎস: বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণী)
- সাধারণত ২০ টি অ্যামিনো এসিড প্রোটিন গঠনে অংশগ্রহণ করে। এদেরকে বলা হয় প্রোটিন অ্যামিনো এসিড। (উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, জীববিজ্ঞান)
- মানব শরীরে ২০ টি অ্যামিনো এসিড রয়েছে, যা প্রোটিন গঠনে সহায়তা করে। (উৎস: ব্রিটানিকা)
৬৬.
বিবর্তনবাদ তত্ত্বের জনক কে?
  1. ওপেন হ্যামার
  2. আর্কিমিদিস
  3. জন ডাল্টন
  4. চার্লস ডারউইন
সঠিক উত্তর:
চার্লস ডারউইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার্লস ডারউইন
ব্যাখ্যা
বিবর্তনবাদ:

- বিবর্তনবাদ তত্ত্বের জনক চার্লস ডারউইন।
- এই থিওরি বিজ্ঞানের জগতে বৈপ্লবিক তত্ত্ব হিসেবে পরিচিত।
- এই তত্ত্বে দেখানো হয়েছে প্রাণীরা সময়ের সাথে সাথে প্রাকৃতিক নিয়মে ধীরে ধীরে কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।
- বিবর্তনবাদের এই তত্ত্বটি আমাদের পৃথিবীর পশুপাখি ও উদ্ভিদ জগৎ সম্পর্কে বুঝতে বড়ো ধরনের ভূমিকা রেখেছে।
- তার এই প্রক্রিয়াকে ইংরেজিতে বলা হয় ন্যাচারাল সিলেকশন বা প্রাকৃতিক নির্বাচন যার মাধ্যমে একটি প্রাণীর জনগোষ্ঠী থেকে নতুন প্রজাতির উদয় ঘটে।
- অন দ্য অরিজিন অফ স্পেশিস নামে চার্লস ডারউইনের এই বইটি প্রকাশিত হয় ১৮৫৯ সালে।
- তার এই গ্রন্থে তিনি বিবর্তনবাদকে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলেছেন, এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যাতে কোনো প্রাণী ক্রমাগত অভিযোজনের ফলে আপন পরিবেশের জন্যে বিশেষায়িত হতে হতে এক সময় নতুন একটি প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র - বিবিসি নিউজ, ২ মার্চ ২০১৯।
৬৭.
নিচের কোনটি খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ?
  1. হেপাটাইটিস বি
  2. এইডস
  3. হেপাটাইটিস এ
  4. সিফিলিস
সঠিক উত্তর:
হেপাটাইটিস এ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেপাটাইটিস এ
ব্যাখ্যা
• বাতাসের মাধ্যমে সংক্রমণ:
যক্ষ্মা (TB),করোনা ভাইরাস (COVID-19),ইনফ্লুয়েঞ্জা (Flu),হাম (Measles),হুপিং কাশি (Whooping Cough/Pertussis)

• খাদ্য ও পানির মাধ্যমে সংক্রমণ:
- হেপাটাইটিস এ,
- হেপাটাইটিস ই,
- কলেরা,
- টাইফয়েড,
- ডায়রিয়া ।

• সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে সংক্রমণ:
- সিফিলিস, গনোরিয়া (যৌন সংক্রমিত রোগ - STDs)
- জন্ডিস (Hepatitis B, C)
- চিকেনপক্স (Varicella)
- স্কেবিস (Scabies - চর্মরোগ)

• প্রাণী বা কীটপতঙ্গের মাধ্যমে সংক্রমণ:
- ম্যালেরিয়া (Anopheles মশা)
- ডেঙ্গু (Aedes মশা)
- জিকা ভাইরাস (Zika - Aedes মশা)
- রেবিস (Rabies - কুকুর কামড়)

• রক্ত ও শরীরের তরলের মাধ্যমে সংক্রমণ:
- এইচআইভি/এইডস (HIV/AIDS)
- হেপাটাইটিস বি, সি (Hepatitis B, C)

উৎস: WHO website.
৬৮.
ক্রোমোজোমে কত ধরনের নিউক্লিক অ্যাসিড রয়েছে?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোমের রাসায়নিক গঠন:
- বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের সমন্বয়ে ক্রোমোজোম গঠিত।
- ক্রোমোজোমের রাসায়নিক উপাদানের মধ্যে রয়েছে- (১) নিউক্লিক অ্যাসিড, (২) প্রোটিন এবং (৩) অন্যান্য উপাদান ।
- ক্রোমোজোমে দুই ধরনের নিউক্লিক অ্যাসিড রয়েছে। যথা-
• ডিএনএ (DNA)।
• আরএনএ (RNA)।

ডিএনএ (DNA):
- এটি হলো সকল জীবের আদি বস্তু যার অবস্থান সর্ব প্রকার জীব কোষের নিউক্লিয়াসের ক্রোমোজোমে।
- ১৯৫৩ সালে জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক বিজ্ঞানীদ্বয় ডিএনএ অণুর গঠন আবিষ্কার করেন।
- ১৯৬২ সালে তাঁরা এ যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- ডিএনএ হলো দ্বিসূত্রকবিশিষ্ট পলিনিউক্লিয়োটাইডের সর্পিলাকার গঠন।
- এর প্রতিটি একককে নিউক্লিয়োটাইড বলে। এর একটি সূত্র অন্যটির পরিপূরক। 
- এতে পাঁচ কার্বনযুক্ত শর্করা, নাইট্রোজেনঘটিত বেস বা ক্ষারক এবং ফসফেট থাকে। 

আরএনএ (RNA):
- অধিকাংশ আরএনএতে একটি হেলিক্স থাকে।
- এটি একটিমাত্র পলিনিউক্লিয়োটাইড শৃঙ্খলে ভাঁজ হয়ে থাকে।
- আরএনএ পাঁচ কার্বনযুক্ত রাইবোজ শর্করা ও ফসফেট নির্মিত একটি মাত্র পার্শ্ব কাঠামো দ্বারা গঠিত।
- যার চার ধরনের নাইট্রোজেন ক্ষারক ডিএনএ এর ন্যায়, পার্থক্য শুধু পাইরিমিডিন ক্ষারকে।
- আরএনএতে পাইরিমিডিন গঠনে ইউরাসিল ও সাইটোসিন থাকে।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯.
ক্যালসিয়াম ও পটাসিয়াম সাহায্য করে পেশীর-
  1. প্রসারণে
  2. সংকোচনে
  3. শক্তিবর্ধনে
  4. বৃদ্ধিতে
সঠিক উত্তর:
সংকোচনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংকোচনে
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম: 
- ক্যালসিয়াম প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। 
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও  ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর  ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। 
- হাড় ও দাঁটের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। 
- এছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। 

পটাসিয়াম: 
- পটাসিয়াম পেশির সংকোচনে ভূমিকা রাখে। 
- পটাসিয়ামের ভালো উৎস হলো- মাছ, দুধ, ডাল, আখের গুড় ও শাকসবজি। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি। 
৭০.
হিমোগ্লোবিন হলো- 
  1. Fat
  2. Antigen
  3. Platelet 
  4. Protein
সঠিক উত্তর:
Protein
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Protein
ব্যাখ্যা
• হিমোগ্লোবিন:
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- হিমোগ্লোবিনথাকায় রক্তের রঙ লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে।
- তবে কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের
- সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭১.
হিমোগ্লোবিন প্রধানত কীভাবে অক্সিজেন পরিবহন করে? 
  1. সরাসরি কোষের মাধ্যমে
  2. বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে
  3. অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে
  4. প্লাজমায় দ্রবীভূত অবস্থায়
সঠিক উত্তর:
অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে
ব্যাখ্যা

- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন পরিবহন করে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে, কারণ হিমোগ্লোবিন নামক প্রোটিন অক্সিজেনকে লোহিত রক্তকণিকায় ধরে রাখে এবং অক্সিহিমোগ্লোবিন নামক একটি যৌগ তৈরি করে, যা শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পরিবহন করে এবং কোষে ছেড়ে দেয়।

রক্ত: 

- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। 
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- তবে কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭২.
কোনটিকে মস্তিষ্কের যোজক বলা হয়?
  1. পনস
  2. মেডুলা
  3. সেরিব্রাম
  4. সেরিবেলাম
সঠিক উত্তর:
পনস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পনস
ব্যাখ্যা
কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র: 
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের অংশ হলো মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জু। 
- মস্তিষ্ক হলো সমগ্র স্নায়ুতন্ত্রের চালক। 
- মানুষের মস্তিষ্ক করোটির মধ্যে সুরক্ষিত। 
- মস্তিষ্ক মেনিনজেস নামক পর্দা দ্বারা আবৃত। 
- মানুষের মস্তিষ্কের প্রধান অংশ তিনটি। 
যথা- (ক) গুরুমস্তিষ্ক (খ) মধ্যমস্তিষ্ক (গ) পশ্চাৎ বা লঘুমস্তিষ্ক। 

গুরুমস্তিষ্ক: 
- মস্তিষ্কের প্রধান অংশ হলো গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম। 
- এটা ডান ও বাম খণ্ডে বিভক্ত, এদের ডান ও বাম সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার বলে। 
- মানব মস্তিষ্কে সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার অধিকতর উন্নত ও সুগঠিত, এই দুইখণ্ড ঘনিষ্ঠভাবে স্নায়ুতন্তু দ্বারা সংযুক্ত। 
- এর উপরিভাগ ঢেউ তোলা ও ধূসর বর্ণের, দেখতে ধূসর বর্ণের হওয়ায় একে ধূসর পদার্থ বা গ্রে ম্যাটার বলে। 
- গুরুমস্তিষ্কের অন্তঃস্তরে কেবলমাত্র স্নায়ুতন্ত্র থাকে, স্নায়ুতন্তুর রং সাদা। 
- তাই মস্তিষ্কের ভিতরের স্তরের নাম শ্বেত পদার্থ বা হোয়াইট ম্যাটার। 
- শ্বেত পদার্থের ভিতর দিয়ে স্নায়ুতন্তু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায়। 
- ধূসর পদার্থের কয়েকটি স্তরে বিশেষ আকারে স্নায়ুকোষ দেখা যায়, এই স্নায়ুকোষগুলো গুরুমস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে গুচ্ছ বেঁধে স্নায়ুকেন্দ্র সৃষ্টি করে। 
- এগুলো বিশেষ বিশেষ কর্মকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। 
- দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ, চিন্তা-চেতনা, স্মৃতি, জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক ও পেশি চালনার ক্রিয়াকেন্দ্র গুরুমস্তিষ্কে অবস্থিত। 
- সেরিব্রামের নিচের অংশ হলো- থ্যালামাস ও হাইপোথ্যালামাস। 
- এগুলো ধূসর পদার্থের পুঞ্জ। 
- ক্রোধ, লজ্জা, গরম, শীত, নিদ্রা, তাপ সংরক্ষণ ও চলন এই অংশের কাজ। 

মধ্যমস্তিস্ক: 
- গুরুমস্তিষ্ক ও পনস-এর মাঝখানে মধ্যমস্তিষ্ক অবস্থিত। 
- মধ্যমস্তিষ্ক দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তির সাথেও সম্পর্কযুক্ত। 

পশ্চাৎ বা লঘুমস্তিষ্ক: 
- লঘুমস্তিষ্ক গুরুমস্তিষ্কের নিচে ও পশ্চাতে অবস্থিত। 
- এটা গুরুমস্তিষ্কের চেয়ে আকারে ছোট। 
- দেহের ভারসাম্য রক্ষা করা পশ্চাৎ বা লঘুমস্তিষ্কের প্রধান কাজ। 
- এছাড়া লঘুমস্তিষ্ক কথা বলা ও চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- এর তিনটি অংশ- গনস সেরিবেলাম: পনসের বিপরীতদিকে অবস্থিত খন্ডাংশটি হলো সেরিবেলাম। 
- এটা অনেকটা ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। 
- সেরিবেলাম ডান ও বাম দু'অংশে বিভক্ত। 

পনস: 
- পনস লঘুমস্তিষ্কের সামনে ও নিচে অবস্থিত। 
- পনসকে মস্তিষ্কের যোজক বলা হয়। 
- এটা গুরুমস্তিষ্ক, লঘুমস্তিষ্ক ও মধ্যমস্তিষ্ককে সুষুম্নাশীর্ষকের সাথে সংযোজিত করে। 

মেডুলা: 
- এটা মস্তিষ্কের নিচের অংশ। 
- সুষুম্নাশীর্ষক পনসের নিম্নভাগ থেকে মেরুরজ্জুর উপরিভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত। 
অর্থাৎ, এটা মস্তিষ্ককে মেরুরজ্জুর সাথে সংযোজিত করে, এজন্য একে মস্তিষ্কের বোঁটা বলা হয়। 
- মস্তিষ্কের এ অংশ হৃৎস্পন্দন, খাদ্যগ্রহণ ও শ্বসন ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৭৩.
প্রাণিবিজ্ঞানের জনক কে?
  1. অ্যারিস্টটল
  2. রবার্ট হুক
  3. থিওফ্রাস্টাস
  4. উইলিয়াম হার্ভে
সঠিক উত্তর:
অ্যারিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা
• অ্যারিস্টটলকে প্রাণিবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।

• জীববিজ্ঞান:

- জীবজগতের বিজ্ঞানভিত্তিক পঠন-পাঠন, আলোচনা, গবেষণা এবং প্রয়োগই হলো Biology বা জীববিজ্ঞান।
- ফরাসী বিজ্ঞানী ল্যামার্ক জীবনের বিজ্ঞান বোঝাতে Biology শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।
- দু'টি গ্রীক শব্দ Bios (অর্থ জীবন) এবং Logos (অর্থ জ্ঞান)-এর সমন্বয়ে ইংরেজি Biology শব্দটি গঠিত হয়েছে।
- অ্যারিস্টটলকে জীববিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- জীববিজ্ঞানের প্রধান শাখা দুটি। যথা-
১. উদ্ভিদবিজ্ঞান (Botany):
- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় সব ধরনের উদ্ভিদ, তাদের গঠন, স্বভাব, আবাসস্থল, শ্রেণিবিন্যাস, পূর্ণ জীবন বৃত্তান্ত, মানব কল্যাণে প্রয়োগ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয় তা হলো উদ্ভিদবিজ্ঞান।
- গ্রীক দার্শনিক থিওফ্রাস্টাসকে উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক বলা হয়।

২. প্রাণিবিজ্ঞান (Zoology):
- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় সব ধরনের প্রাণী, তাদের গঠন, স্বভাব, আবাসস্থল, শ্রেণিবিন্যাস, জীবন বৃত্তান্ত, মানব কল্যাণে প্রয়োগ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করা হয় তা হলো প্রাণিবিজ্ঞান।
- গ্রীক দার্শনিক অ্যারিস্টটলকে প্রাণিবিজ্ঞানের জনক বলা হয়।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- কোষ বিদ্যার জনক রবার্ট হুক।
- শারীর বিদ্যার জনক উইলিয়াম হার্ভে।
- গ্রিক বিজ্ঞানী থিওফ্রাস্টাসকে উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪.
থাইরয়েড গ্রন্থির রোগ কোনটি?
  1. ক) রিকেটস
  2. খ) রাতকানা
  3. গ) গলগন্ড
  4. ঘ) রক্তশূন্যতা
সঠিক উত্তর:
গ) গলগন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গলগন্ড
ব্যাখ্যা
গলগন্ড (Goitre):
- গলগন্ড থাইরয়েড গ্রন্থির একটি রোগ
- খাবারে আয়োডিনের অভাব থাকলে থাইরয়েডের গ্রন্থির আয়তন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গলগন্ডের সৃষ্টি করে।
- যে সকল এলাকার মাটিতে আয়োডিনের পরিমাণ কম সে সকল এলাকার শিশুদের এমন রোগ বেশি দেখা যায়।
যেমন- সমুদ্র থেকে দূরের (যেমন : জামালপুর, রংপুর ইত্যাদি) এলাকার মাটিতে লবণের পরিমাণ কম তাই এ সকল এলাকার শিশুদের বেশি পরিমাণে গলগন্ড রোগ দেখা দেয়।
- গলগন্ড দু'প্রকার। যথা-

(ক) সরল গলগন্ড:
- আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থিদ্বয় অথবা যে কোনো একটি ফুলে যায়।
- ফলে গলার কিছু অংশ ফুলে নিচের দিকে ঝুলে পড়ে। এটিই সরল গলগন্ড নামে পরিচিত।

লক্ষণ:
- আলসেমি বা কুঁড়েমি, নিদ্রাহীনতা, শুকনো চামড়া, ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা, মানসিক প্রতিবন্ধকতা, পড়াশুনায় অমনোযোগী হওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ।

প্রতিরোধ:
- যে অঞ্চলে এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেবে সে অঞ্চলের খাওয়ার পানির সাথে অতি সামান্য মাত্রায় আয়োডিন মেশানো যেতে পারে। আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করা।

(খ) টক্সিক গলগন্ড:
- অতিমাত্রায় থাইরক্সিন হরমোন নিঃসরণের ফলে এ রোগ দেখা দেয়।

লক্ষণ:
- হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, বুক ধড়পড় করা, ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া ও অধিক ঘাম হওয়া ইত্যাদি।

প্রতিরোধ:
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রেডিওঅ্যাক্টিভ আয়োডিন ব্যবহার করার মাধ্যমে এ গ্রন্থির বৃদ্ধি রোধ করা যায়। আয়োডিনযুক্ত খাবার যেমন- সামুদ্রিক শৈবাল, সামুদ্রিক মাছ, ইত্যাদি খাওয়া।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭৫.
উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে কোন ধমনী?
  1. ক) সিলিয়াক ধমনি
  2. খ) ইলিয়াক ধমনি
  3. গ) মেসেন্টেরিক ধমনি
  4. ঘ) ভার্টিব্রাল ধমনি
সঠিক উত্তর:
খ) ইলিয়াক ধমনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ইলিয়াক ধমনি
ব্যাখ্যা
সাবক্লেভিয়াল ধমনিঃ -
দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে।
যেমন -

১. আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত বহন করে।
২. থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত বহন করে।
৩. সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত বহন করে।
৪. ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদন্ডের রক্ত সরবরাহ করে।
৫. সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে।
৬. ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে।
৭. বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে।
৮. মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে।
৯. জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে।
১০. ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে।

উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
৭৬.
বিএমআই এর আদর্শ মান কত? 
  1. ২৫-২৯.৯ কেজি/মি
  2. ১৫-১৮.৪ কেজি/মি
  3. ১৮.৫-২৪.৯ কেজি/মি
  4. ৩০-৩৪.৯ কেজি/মি
সঠিক উত্তর:
১৮.৫-২৪.৯ কেজি/মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮.৫-২৪.৯ কেজি/মি
ব্যাখ্যা
বিএমআর ও ব্যয়িত শক্তির সম্পর্ক: 
- বিএমআই (Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে। 
- বিএমআই মান বয়স, লিঙ্গ, খাদ্যাভ্যাস ও শরীরের গঠনের উপর নির্ভরশীল। 
- দৈনিক খাদ্য চাহিদার সাথে বিএমআই এর মান নিয়ন্ত্রণ লক্ষ্য করা যায়। 
- বিএমআই শরীরে ৬০-৭৫ ভাগ শক্তি উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে, শরীর খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে মাত্র ১০-২০ শতাংশ ও শ্রমের মাধ্যমে ২০-৩০ শতাংশ শক্তি পেয়ে থাকে। 
- মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে বিএমআই এর মান কমতে থাকে, আবার অনেকেই শুকনো থাকার জন্য খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে ফেলে। এতে বিএমআই মান আরও কমে যায়, ফলে আর শুকানো যায় না। তাই খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ না কমিয়ে যদি প্রতিদিন পরিমিত শারীরিক পরিশ্রম করা হয় তাতে বিএমআই মান বেড়ে যাবে এবং স্বাস্থ্য সম্মত উপায়ে শরীরকে সুস্থ সবল রাখা যাবে। 
- বিএমআই (BMI) মান নির্ণয়: বিএমআই = দেহের ওজন (Kg)/দেহের উচ্চতা (মিটার)  । 

মান নির্দেশিকা: 
- বিএমআই ১৮.৫ কিলোগ্রাম/(মিটার) এর নিচে হলে শরীরের ওজন কম, পরিমিত খাদ্য গ্রহণে ওজন বাড়াতে হবে।
- বিএমআই ১৮.৫-২৪.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে সুস্বাস্থ্যের আদর্শ মান। 
- বিএমআই ২৫-২৯.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে শরীরের অতিরিক্ত ওজন, ব্যায়াম করে ওজন কমানো দরকার। 
- বিএমআই ৩০-৩৪.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে মোটা হওয়ার প্রথম স্তর, পরিমিত খাবার ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
- বিএমআই ৩৫-৩৯.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তর, পরিমিত খাবার ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন। 
- বিএমআই ৪০ কিলোগ্রাম/(মিটার) এর উপরে হলে অতিরিক্ত মোটাত্ব, মৃত্যু ঝুঁকির সম্ভাবনা, ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭.
ব্যাকটেরিয়া তরল মাধ্যমে চলাফেরা করে কোনটির সাহায্য?
  1. ক) পিল্লি
  2. খ) ফ্লাজেলা
  3. গ) শীথ
  4. ঘ) ক্যাপসুলস
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্লাজেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফ্লাজেলা
ব্যাখ্যা
- ফ্ল্যাজেলা প্রোটোপ্লাজম দিয়ে গঠিত এক প্রকার সূত্রাকৃতির উপাঙ্গ যা কোষ প্রাচীর ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে আসে।
- ফ্ল্যাজেলিন নামক প্রোটিন দিয়ে ফ্যাজেলা গঠিত ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে ব্যাকটেরিয়া তরল মাধ্যমে চলাফেরা করে। 
- ফ্ল্যাজেলা অপেক্ষা খাটো ও শক্ত উপাঙ্গকে পিলি বলে। পিলি পিলিন নামক এক প্রকার প্রোটিন দিয়ে গঠিত। ব্যাকটেরিয়াকে কোন কিছুর সাথে আটকে থাকতে পিলি সহায়তা করে। 
- ক্যাপসিউল পলিস্যাকারাইড বা পলিপেপটাইড দিয়ে গঠিত একটি স্তর, যা ব্যাকটেরিয়া কোষের বাইরের দিকে থাকে। এটি কোষ প্রাচীরকে ঘিরে রাখে। একে স্লাইম স্তরও বলা হয়।এটি ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিকূল অবস্থা হতে রক্ষা করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭৮.
ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ ছড়ানোর জন্য কোন মশা দায়ী?
  1. স্যান্ড ফ্লাই
  2. অ্যানোফিলিস
  3. কিউলেক্স
  4. এডিস
সঠিক উত্তর:
অ্যানোফিলিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যানোফিলিস
ব্যাখ্যা

• ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ ছড়ানোর জন্য প্রধানভাবে অ্যানোফিলিস মশা দায়ী। এটি একটি প্রজাতির মশা যা ম্যালেরিয়ার পারাসাইট Plasmodium বহন করে এবং মানুষকে কামড় দিয়ে সংক্রমণ ছড়ায়। অ্যানোফিলিস মশা সাধারণত সন্ধ্যা ও রাতের দিকে সক্রিয় থাকে এবং পরিষ্কার জলাশয় বা পুকুরে ডিম দেয়। কামড়ের সময়, এই মশা শরীরে থাকা Plasmodium স্পোরোজয়াইট রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করায়, যা পরবর্তীতে লিভার ও রক্তকোষে আক্রমণ চালায়। অন্য মশা প্রজাতি যেমন কিউলেক্স, এডিস বা স্যান্ড ফ্লাই বিভিন্ন রোগ ছড়াতে পারে, কিন্তু ম্যালেরিয়ার জন্য অ্যানোফিলিসই প্রধান বাহক। তাই ম্যালেরিয়ার নিয়ন্ত্রণে অ্যানোফিলিস মশার বৃদ্ধির স্থান ও কামড় প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, 
- ডেঙ্গু রোগের জীবাণুবাহী মশার প্রজাতি হলো- এডিস। 
- ফাইলেরিয়া বা গোদ রোগের জীবাণুবাহী মশা- কিউলেক্স। 
- কালাজ্বরের জীবাণুবাহী মশা- স্যান্ড ফ্লাই। 
- Aedes aegypti (এডিস এজিপটাই) প্রজাতির মশার কামড়ে ডেঙ্গু ছড়ায়। এছাড়া এডিস এলবোপিকটাস মশার কামরেও ডেঙ্গু রোগ ছড়াতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৭৯.
একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির দিনে কী পরিমাণে চর্বির প্রয়োজন হয়?
  1. ক) ১০-২০ গ্রাম
  2. খ) ৫০-৬০ গ্রাম
  3. গ) ১৫০-১৮৫ গ্রাম
  4. ঘ) ৮০-১০০ গ্রাম
সঠিক উত্তর:
খ) ৫০-৬০ গ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৫০-৬০ গ্রাম
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
উৎস অনুযায়ী স্নেহপদার্থ দুই ধরনের : উদ্ভিজ্জ এবং প্রাণিজ স্নেহপদার্থ।
সয়াবিন, সরিষা, তিল, বাদাম, সূর্যমুখীর তেল ভোজ্যতেল হিসাবে ব্যবহার করা হয়। ভোজ্যতেলের মধ্যে সয়াবিন তেল উৎকৃষ্টতম।
চর্বি, ঘি, ডালডা ইত্যাদি প্রাণিজ স্নেহপদার্থ। ডিমের কুসুমে স্নেহপদার্থ আছে, কিন্তু সাদা অংশে স্নেহপদার্থ থাকে না। একজন সুস্থ পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির দিনে ৫০-৬০ গ্রাম চর্বির প্রয়োজন হয়।
সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৮০.
নিচের কোনটি এক শর্করার (Monosaccharide) উদাহরণ? 
  1. শ্বেতসার
  2. সুক্রোজ
  3. গ্লুকোজ
  4. গ্লাইকোজেন
সঠিক উত্তর:
গ্লুকোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা

- গ্লুকোজ একটি এক শর্করা (Monosaccharide), অর্থাৎ এটি শর্করার সবচেয়ে সরল রূপ এবং একে আর্দ্রবিশ্লেষণ (hydrolysis) দ্বারা আরও সরল উপাদানে ভাঙা যায় না। এটি জীবদেহের শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে। 

শর্করার গঠন: 
- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হলো-মানবদেহের কর্মশক্তি ও তাপশক্তির প্রধান উৎস। 
- মানুষের প্রধান খাদ্য শর্করা। 
- কার্বন (C) হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O) নিয়ে শর্করার যৌগ গঠিত হয়। 
- এটি মিষ্টি স্বাদযুক্ত এবং গন্ধ ও বর্ণহীন। 

শর্করার উৎস: 
- কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা প্রাণি এবং উদ্ভিদ উভয় ধরনের উৎস থেকেই পাওয়া যায়। 
- উদ্ভিদ হতে প্রাপ্ত শর্করাগুলো হলো- চিনি, মধু, মিষ্টি ফল (আম, আঙ্গুর, কলা, কাঠাল, খেজুর ইত্যাদি), আখের রস, গুড়, খেজুরের রস, চাল, গম, ভুট্টা, আলু, কচু ইত্যাদি। 
- প্রাণি হতে প্রাপ্ত শর্করার ভালো উৎস হলো- দুধের শর্করা, প্রাণিদেহের যকৃত ও পেশিকোষের শর্করা। 

শর্করার প্রকারভেদ: 
- গঠন অনুসারে শর্করা তিন প্রকার। 
যথা: এক শর্করা (মনোস্যাকারাইড), দ্বি-শর্করা (ডাইস্যাকারাইড) ও বহু শর্করা (পলিস্যাকারাইড)। 
১। এক শর্করা: 
- এক শর্করাগুলো হলো- গ্লুকোজ, ফ্রক্টোজ ও গ্যালাক্টোজ। 
ক) গ্লুকোজ- চিনি, মিষ্টি ফল ইত্যাদি। 
খ) ফ্রুক্টোজ- মধু আঙ্গুর, বেদানা, আপেল, পাকা আম, পাকা কলা ইত্যাদি। 
গ) গ্যালাক্টোজ- দুধের শর্করা ল্যাক্টোজ ভেঙ্গে গ্যালাক্টোজ ও গ্লুকোজ পাওয়া যায়। 

২। দ্বি-শর্করা: 
- দ্বি-শর্করাগুলো হলো- সুক্রোজ, মলটোজ ও ল্যাক্টেজ। 
ক) সুক্রোজ- আখের চিনি, গুড়, খেজুর রস। 
খ) মলটোজ- চালের শর্করা (দু'টি গ্লুকোজের অণু একত্রে)। 
গ) ল্যাক্টোজ- দুধের শর্করা। 

৩। বহু শর্করা: 
- বহু শর্করাগুলো হলো- শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন ও সেলুলোজ। 
ক) শ্বেতসার- চাল, গম, আলু, কচু। 
খ) সেলুলোজ- ফল ও শাক পাতার আঁশ, আঁশযুক্ত ফল, শস্যের খোসা। 
গ) গ্লাইকোজেন- প্রাণিদেহের যকৃত ও পেশিতে পাওয়া যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮১.
স্ক্যাপুলার কোন অংশ হিউমেরাসের মস্তকের সঙ্গে সংলগ্ন থাকে?
  1. ক্ল্যাভিকল
  2. স্ক্যাপুলার কাঁটা
  3. অ্যাক্রোমিয়ন 
  4. গ্লিনয়েড গহ্বর 
সঠিক উত্তর:
গ্লিনয়েড গহ্বর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লিনয়েড গহ্বর 
ব্যাখ্যা

বক্ষ অস্থিচক্র (Pectoral girdle): 
- মানুষের দেহের দুই পাশে স্কন্ধ অঞ্চলে দুটি বক্ষ অস্থিচক্র অবস্থিত। 
- এরা পরস্পর থেকে পৃথকভাবে অবস্থান করে। 
- এদের একজোড়া ক্ল্যাভিকল ও একজোড়া স্ক্যাপুলা থাকে। 
- ক্ল্যাভিকল বাঁকা অস্থি, এ অস্থির কোন মজ্জাগহ্বর নেই। 
- প্রতিটি স্ক্যাপুলা প্রশস্ত চ্যাপ্টা ত্রিকোণাকার অস্থি। 
- এটি বক্ষ পিঞ্জরের উপরের প্রান্তের দু'পাশে অবস্থিত। 
- এর পশ্চাৎ তলে আনুভূমিকভাবে একটি কাঁটা থাকে একে স্ক্যাপুলার কাঁটা বলে। 
- স্ক্যাপুলার যে অংশে হিউমেরাসের মস্তক সংলগ্ন থাকে তাকে গ্লিনয়েড গহ্বর বলে। 
- স্ক্যাপুলার পার্শ্বীয় প্রান্তের বর্ধিত অংশকে অ্যাক্রোমিয়ন বলে। 
- বাহুর পেশিকে সংযোগ দেয়া ও হিউমেরাসকে সঞ্চালন করা বক্ষ অস্থিচক্রের প্রধান কাজ। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮২.
সর্বপ্রথম Genetics শব্দটি ব্যবহার করেন কে?
  1. Bateson
  2. Mendel
  3. Karl Correns
  4. de Vries
সঠিক উত্তর:
Bateson
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Bateson
ব্যাখ্যা

Genetics শব্দের উৎপত্তি:
- Genetics শব্দটি জীববিজ্ঞানের একটি শাখা, যা বংশগতি ও বৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনা করে।
- এই শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী William Bateson।
- তিনি 1905 সালে প্রথম “Genetics” শব্দটি প্রবর্তন করেন।
- Genetics শব্দটি গ্রিক শব্দ “Genesis” থেকে এসেছে, যার অর্থ উৎপত্তি বা জন্ম।
- Bateson মূলত Mendel-এর কাজকে ভিত্তি করে Genetics শাস্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- যদিও Gregor Mendel বংশগতির সূত্র আবিষ্কার করেন, তিনি “Genetics” শব্দটি ব্যবহার করেননি।
- Karl Correns এবং de Vries Mendel-এর কাজ পুনরাবিষ্কার করেন, কিন্তু শব্দটির প্রবর্তক নন।

সুতরাং, সর্বপ্রথম Genetics শব্দটি ব্যবহার করেন William Bateson.
সঠিক উত্তর: ক) Bateson.

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 

৮৩.
ফিতা কৃমি কি ধরনের প্রাণী?
  1. ক) মৃতজীবী
  2. খ) আংশিক পরজীবী
  3. গ) বহিঃজীবী
  4. ঘ) অন্তঃপরজীবী
সঠিক উত্তর:
ঘ) অন্তঃপরজীবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অন্তঃপরজীবী
ব্যাখ্যা
পরজীবী এক ধরনের জীব যা মানুষ সহ অন্যান্য পশুপাখির দেহে বসবাস করে। পরজীবী দুই ধরনের। বহিঃপরজীবী এবং অন্তঃপরজীবী।
দেহাভ্যন্তরের পরজীবী বা অন্তঃপরজীবীর উদাহরণঃ ফিতাকৃমি (Tapeworms), সুতাকৃমি (Threadworm), গোলকৃমি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৮৪.
ম্যালেরিয়া জীবাণু বহনকারী মশার গণ হলো-
  1. ক) Aedes
  2. খ) Mansonia
  3. গ) Culex
  4. ঘ) Anopheles
সঠিক উত্তর:
ঘ) Anopheles
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Anopheles
ব্যাখ্যা
Malaria is a life-threatening disease caused by parasites that are transmitted to people through the bites of infected female Anopheles mosquitoes. It is preventable and curable. সূত্রঃ World Health Organization.
৮৫.
'প্লেগ' সৃষ্টিকারী অনুজীব কোনটি?
  1. ব্যাকটেরিয়া
  2. ভাইরাস
  3. ছত্রাক
  4. অ্যামিবা
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
• প্লেগ (Plague) :
- এটি একটি মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি, যা Yersinia pestis নামক একটি ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়।
- এটি প্রধানত ইঁদুরের মত প্রাণীর দেহে থাকা ফ্লি (প্যারাসাইট) মাধ্যমে মানুষের দেহে ছড়িয়ে পড়ে। ইতিহাসে এটি মহামারির রূপ নিয়েছিল এবং লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটিয়েছিল

• ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ:

- ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ বলে।
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ: যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, মেনিনজাইটিস, কলেরা, গনোরিয়া, সিফিলিস, টাইফয়েড, আমাশয়, প্লেগ, কুষ্ঠ ইত্যাদি।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৮৬.
একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের ফুসফুস সর্বোচ্চ কত লিটার বায়ু ধারণ করতে পারে?
  1. ২ লিটার
  2. ৪ লিটার
  3. ৬ লিটার
  4. ৮ লিটার
সঠিক উত্তর:
৬ লিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ লিটার
ব্যাখ্যা

• একজন পূর্ণাঙ্গ ও সুস্থ মানুষের ফুসফুসের মোট বায়ু ধারণ ক্ষমতা (Total Lung Capacity) গড়ে প্রায় ৬ লিটার। 
- তবে ব্যক্তিভেদে, বিশেষ করে উচ্চতা, লিঙ্গ এবং শারীরিক সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে এই পরিমাণের কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।

ফুসফুস (Lungs): 
- মানুষের হালকা গোলাপী বর্ণের স্পঞ্জের মত নরম দুটি ফুসফুস থাকে। 
- বাম ফুসফুসটি আকারে ছোট, দুই লোব বিশিষ্ট এবং ডান ফুসফুসটি আকারে বড় ও তিন লোব বিশিষ্ট। 
- ফুসফুস দুই স্তর যুক্ত প্লিউরা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। 
- ভেতরের পর্দাকে ভিসেরাল প্লিউরা এবং বাইরের পর্দাকে প্যারাইটাল প্লিউরা বলে। 
- ফুসফুসের বায়ু ধারণ ক্ষমতা ৬ লিটার। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৭.
মানুষের চামড়ার রং নিয়ন্ত্রন করে -
  1. ক) ডিএনএ
  2. খ) জিন
  3. গ) ক্রোমোজোম
  4. ঘ) ক্যারোটিন
সঠিক উত্তর:
খ) জিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জিন
ব্যাখ্যা
» জীবের সব দৃশ্য এবং অদৃশ্যমান লক্ষণ নিয়ন্ত্রণকারী এককের নাম জিন। এর অবস্থান জীবের ক্রোমোজোমে।
ক্রোমোজোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে তাকে লোকাস বলে। সাধারণত একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট জিন থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একাধিক জিন মিলিতভাবে একটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশে সহায়তা করে। আবার কোনো কোনো সময় একটি জিন একাধিক বৈশিষ্ট্যও নিয়ন্ত্রণ করে। বিভিন্ন গবেষণার তত্ত্ব থেকে জানা গেছে জিনই বংশগতির নিয়ন্ত্রক।

• মানুষের চোখের রং, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার রং ইত্যাদি সবই জিন কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত।

উৎস:
জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।


[বি. দ্র. - এই প্রশ্নের উত্তর অপশনের উপর নির্ভর করে। অপশন দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
জিন, ক্রোমোজোম, DNA এই ৩টার মধ্যে সর্বোত্তম উত্তর হবে জিন। তারপরে ক্রোমোজোম। তবে, অপশনে শুধু DNA থাকলে উত্তর DNA দেয়া যেতে পারে।
এখানে, অপশনে অনুসারে উত্তর জিন ধরা হয়েছে।]
৮৮.
হৃদপিন্ডকে রক্ত সরবারহ করে-
  1. ক) ইনমিনেট ধমনি
  2. খ) করোনারি ধমনি
  3. গ) পালমোনারি শিরা
  4. ঘ) পালমোনারি ধমনি
সঠিক উত্তর:
খ) করোনারি ধমনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) করোনারি ধমনি
ব্যাখ্যা
করোনারি ধমনি: 
- হৃদপিন্ডের নিজের জন্যও পুষ্টি এবং অক্সিজেন প্রয়োজন। 
- এ চাহিদা পূরণ করা হয় করোনারি সংবহনের মাধ্যমে।
- সিস্টেমিক ধমনির গোড়া থেকে সৃষ্ট করোনারি ধমনির মাধ্যমে হৃদপিন্ডের প্রাচীরে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত সংবাহিত হয়।
- হৃদপিন্ডের প্রাচীর থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত করোনারি শিরার মাধ্যমে ডান অলিন্দে প্রবেশ করে। 

ইনমিনেট ধমনি:
- এটি একটি খাটো ও মোটা ধমনি।
- এটি অভিন্ন কারোটিড ধমনি ও ডান সাবক্লেভিয়ান ধমনিতে বিভক্ত।

পালমোনারি ধমনি:
- দেহ থেকে গৃহীত কার্বন ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত অক্সিজেনময় হওয়ার জন্য ফুসফুসে বহন করে।

পালমোনারি শিরা: 
- ফুসফুস থেকে অক্সিজেনময় রক্ত দেহে সরবারহের জন্য হৃদপিন্ডে বহন করে। 

সূত্র: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৮৯.
জন্ডিসের প্রধান কারণ হিসেবে কোন ভাইরাসকে চিহ্নিত করা হয়?
  1. র‍্যাবিস 
  2. ফ্ল্যাভি 
  3. হেপাটাইটিস-বি
  4. অ্যাডিনো 
সঠিক উত্তর:
হেপাটাইটিস-বি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেপাটাইটিস-বি
ব্যাখ্যা

- হেপাটাইটিস-বি (Hepatitis-B) ভাইরাস লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা জন্ডিসের অন্যতম প্রধান কারণ। হেপাটাইটিস ভাইরাসগুলো (A, B, C, D, E) বিশ্বব্যাপী জন্ডিস রোগের প্রধান উৎস। 

ভাইরাস ও তার প্রভাব: 
- ভাইরাস প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করতে পারে। 
- কিছু ভাইরাস মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব, এমনকি অকাল মৃত্যুর কারণ হতে পারে। যদিও স্বল্প পরিসরে ভাইরাস কিছু উপকারও করে, তবে অপকারের পরিমাণই বেশি। 

ভাইরাসের অপকারিতা: 
- ভাইরাস বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের নানা রকমের রোগের কারণ। 
- নিচে কিছু ভাইরাসজনিত রোগ, পোষকের নাম ও ভাইরাসের নাম উল্লেখ করা হলো-  


উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯০.
একটি পরিণত বৃক্কের দৈর্ঘ্য কত?
  1. ৫ - ৬ সেন্টিমিটার
  2. ১০ - ১২ সেন্টিমিটার
  3. ৩ - ৪ সেন্টিমিটার
  4. ১৫ - ১৭ সেন্টিমিটার
সঠিক উত্তর:
১০ - ১২ সেন্টিমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ - ১২ সেন্টিমিটার
ব্যাখ্যা
• একটি পরিণত বৃক্কের দৈর্ঘ্য ১০ - ১২ সেন্টিমিটার।

• বৃক্কের গঠন ও কাজ:
- বৃক্ক মেরুদণ্ডী প্রাণীদের প্রধান রেচন অঙ্গ।
- মানুষের উদরগহ্বরের পশ্চাৎ মেরুদণ্ডের উভয় পাশে একটি করে মোট দুটি বৃক্ক থাকে।
- মানুষের প্রতিটি বৃক্কে ১০-১২ লাখ নেফ্রন থাকে।
- পূর্ণাঙ্গ মানুষের প্রতিটি বৃক্ক প্রায় ১১-১২ সে.মি. লম্বা, ৫-৬ সে.মি. প্রস্থ এবং ৩ সে.মি. পুরু হয়।
- পুরুষ মানুষের প্রতিটি বৃক্কের ওজন ১৫০-১৭০ গ্রাম এবং প্রতিটি মহিলা মানুষের বৃক্কের ওজন ১৩০-১৫০ গ্রাম।
- সজীব অবস্থায় বৃক্কের রং খয়েরি লাল।
- আকৃতিতে অনেকটা শীম বীজের মত।
- এর বাইরের দিক উত্তল এবং ভেতরের দিক অবতল।
- অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাম বলে।
- এর ভেতর দিয়ে ইউরেটার ও রেনাল শিরা বের হয় এবং রেনাল ধমনী ও স্নায়ু বৃক্কে প্রবেশ করে।
- সমগ্র বৃক্ক স্বচ্ছ, পাতলা পেরিটোনিয়াম ঝিল্লী দ্বারা আবৃত থাকে।

উৎস:
১. প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. জীববিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৯১.
তামাকে সর্বাপেক্ষা বিষাক্ত বস্তুর নাম কি?
  1. সায়ানইড
  2. নিকোটিন
  3. আয়োডিন
  4. কার্বাইড
সঠিক উত্তর:
নিকোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকোটিন
ব্যাখ্যা
ধুমপান: 
- ধুমপান হচ্ছে তামাক জাতীয় দ্রব্যাদি বিশেষ উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে শ্বাসের সাথে তার ধোঁয়া শরীরে গ্রহণ প্রক্রিয়া। 
- ধুমপায়ী যে অবস্থায় জলন্ত সিগারেট বা বিড়ি থেকে উদ্ভূত ধোঁয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে মুখে টেনে সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করায় তাকে সক্রিয় ধুমপান বলে। 
- অপরদিকে ধুমপানের সময় ধোঁয়ার যে অংশ চারপাশের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনৈচ্ছিকভাবে মানুষের দেহে নিশ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করে তাকে নিষ্ক্রিয় ধুমপান বলে। 
- ধুমপানে সৃষ্ট ধোয়াতে প্রায় ৫০০ ধরনের রাসায়নিক পদার্থ থাকে। 
- তামাকের মধ্যে ক্ষতিকর উপাদানগুলো হলো নিকোটিন, টার ও কার্বন মনো-অক্সাইড। 

ধুমপানের প্রভাব: 
১। সিগারেট বা বিড়ির ধোঁয়ায় বিদ্যমান বিষাক্ত নিকোটিন ও টার ফুসফুসে ক্যান্সার সৃষ্টি করে; কার্বন মনোক্সাইড শ্বাসনালীতে ব্রঙ্কাইটিস সৃষ্টি করে। 
২। ধুমপানের ধোঁয়া ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং আয়তন বেড়ে যায়। 
৩। ধোয়ার প্রভাবে অ্যালভিওলাসের প্রাচীর ফেটে গিয়ে ফুসফুসে ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি করে ফলে শ্বসনতল কমে গিয়ে গ্যাস বিনিময়ে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করে এ অবস্থাকে এমফাইসিমা বলে। 
৪। কার্বন মনোক্সাইড এর বৃদ্ধি ঘটে এবং রক্তের O2 পরিবহন ক্ষমতা হ্রাস করে। ধমনি গাত্রে কোলেস্টেরল জমতে সাহায্য করে। এতে উচ্চ রক্তচাপ হয়। 
৫। ধুমপান এর ফলে গলবিল ও অন্ননালীতে ক্যান্সার সৃষ্টি করে। মুখ, গলা ও খাদ্যনালীতে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি ধুমপায়ীদের অধুমপায়ীর চেয়ে ৫-১০ গুণ বেশি। 
৬। ধুমপায়ী মহিলাদের বন্ধ্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। 
৭। ধুমপান পরিবেশ দূষণ ঘটায় এবং অধুমপায়ীদের শ্বাস গ্রহণে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২.
Which of the following is the longest bone in the human body?
  1. Humerus
  2. Stapes
  3. Femur
  4. Ulna
  5. Fibula
সঠিক উত্তর:
Femur
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Femur
ব্যাখ্যা

• মানবদেহের দীর্ঘতম হাড় হলো ফিমার। একে Thigh Bone বলা হয়।

• ফিমার (Femur):
-নিম্নবাহুর প্রথম অস্থিকে ফিমার বলা হয়।

• এটি মানবদেহের সবচেয়ে দীর্ঘ এবং শক্তিশালী হাড়।।
- এর ঊর্ধ্বপ্রান্তে একটি গোল হেড (মস্তক), নেক (গ্রীবা) এবং ছোট ও বড় ট্রোক্যান্টার অবস্থিত।
- দেহটি শক্ত ও নলাকার। এর পশ্চাত্তল একটি অমসৃণ আলযুক্ত।
-নিম্নপ্রান্ত দুটি কন্ডাইলবিশিষ্ট। দুই কন্ডাইলের মাঝখানে থাকে আন্তঃকন্ডাইলার ছিদ্র, প্যাটেলার সংযোগী তল এবং দুপাশে একটি করে এপিকন্ডাইল নামে সামান্য উঁচু জায়গা।

উল্লেখ্য:
- Stapes: এটি কানের ভেতরে অবস্থিত মানবদেহের ক্ষুদ্রতম অস্থি (হাড়)।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।

৯৩.
Panthera Leo কিসের নাম?
  1. ক) বাঘ
  2. খ) ভাল্লুক
  3. গ) কুমির
  4. ঘ) সিংহ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সিংহ
ব্যাখ্যা
সিংহের বৈজ্ঞানিক নাম Panthera Leo.
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই
৯৪.
সাম্প্রতিক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে কোন রোগ বিশ্বের এক নম্বর মরণব্যাধি হবে?
  1. ক) এইডস
  2. খ) এইডিস মশা দ্বারা আক্রান্ত জ্বর
  3. গ) স্ট্রোক ও করোনারি ধমনির রোগ
  4. ঘ) ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগ
সঠিক উত্তর:
গ) স্ট্রোক ও করোনারি ধমনির রোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্ট্রোক ও করোনারি ধমনির রোগ
ব্যাখ্যা
সাম্প্রতিক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে স্ট্রোক ও করোনারি ধমনির রোগ বিশ্বের এক নম্বর মরণব্যাধি হবে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৫.
BMI কী নির্দেশ করে?
  1. মানব দেহের গড়ন ও চর্বির সূচক
  2. পেশি ও চর্বির সূচক
  3. উচ্চতা ও স্থূলতার সূচক
  4. শক্তি খরচের সূচক
সঠিক উত্তর:
মানব দেহের গড়ন ও চর্বির সূচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানব দেহের গড়ন ও চর্বির সূচক
ব্যাখ্যা
বিএমআই (BMI): 
- বডি মাস ইনডেক্স (BMI- Body Mass Index) মানবদেহের গড়ন ও চর্বির একটি সূচক নির্দেশ করে ।
- অর্থাৎ কোন নির্দিষ্ট বয়সে সুস্থ জীবন যাপনের জন্য শরীরের দৈর্ঘ্যের সাথে চর্বির পরিমাণগত সম্পর্ক নির্দেশ করে।
- শরীরের সুস্থতা ও স্থূলতার মান নির্ণয়ে এ মানদন্ড দুটি খুবই উপযোগী।

বিএমআই (BMI) মান নির্ণয়:
বিএমআই = দেহের ওজন (Kg)/দেহের উচ্চতা (মিটার)

মান নির্দেশিকা
- বিএমআই ১৮.৫ কিলোগ্রাম/(মিটার) এর নিচে হলে শরীরের ওজন কম, পরিমিত খাদ্য গ্রহণে ওজন বাড়াতে হবে।
- বিএমআই ১৮.৫-২৪.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে সুস্বাস্থ্যের আদর্শ মান।
- বিএমআই ২৫-২৯.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে শরীরের অতিরিক্ত ওজন, ব্যায়াম করে ওজন কমানো দরকার।
- বিএমআই ৩০-৩৪.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে মোটা হওয়ার প্রথম স্তর, পরিমিত খাবার ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন।
- বিএমআই ৩৫-৩৯.৯ কিলোগ্রাম/(মিটার) হলে মোটা হওয়ার দ্বিতীয় স্তর, পরিমিত খাবার ও ব্যায়াম করা প্রয়োজন।
- বিএমআই ৪০ কিলোগ্রাম/(মিটার) এর উপরে হলে অতিরিক্ত মোটাত্ব, মৃত্যু ঝুঁকির সম্ভাবনা, ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬.
অগ্ন্যাশয় থেকে নির্গত চিনির বিপাক নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন কোনটি? 
  1. মেলানিন
  2. থাইরোসিন
  3. ইনসুলিন
  4. এড্রিনালিন
সঠিক উত্তর:
ইনসুলিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনসুলিন
ব্যাখ্যা
ডায়বেটিস: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন হরমোন নির্গত হয় যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। 
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৭.
ভিটামিন A-এর অভাবে কোন রোগ হতে পারে? 
  1. স্কার্ভি 
  2. রিকেটস 
  3. জেরোফথ্যালমিয়া 
  4. অ্যানিমিয়া 
সঠিক উত্তর:
জেরোফথ্যালমিয়া 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেরোফথ্যালমিয়া 
ব্যাখ্যা

ভিটামিন A: 
- প্রাণিজ উৎসের মধ্যে ডিম, গরুর দুধ, মাখন, ছানা, দই, ঘি, যকৃৎ ও বিভিন্ন তেলসমৃদ্ধ মাছে, বিশেষ করে কড মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন A পাওয়া যায়। 
- উদ্ভিজ্জ উৎসের মধ্যে ক্যারোটিন সমৃদ্ধ শাক-সবজি, যেমন- লালশাক, কচুশাক, পুঁইশাক, পাটশাক, কলমিশাক, ডাঁটাশাক, পুদিনা পাতা, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, বাঁধাকপি, মটরশুঁটি এবং বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন- আম, পাকা পেঁপে, কাঁঠাল ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন A রয়েছে। 

ভিটামিন A-এর কাজ: 
- ভিটামিন A যেসব কাজ করে সেগুলো হলো- 
১. দেহের স্বাভাবিক গঠন এবং বর্ধন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার কাজ নিশ্চিত করে। 
২. দেহের বিভিন্ন আবরণী কলা যেমন- ত্বক, চোখের কর্নিয়া ইত্যাদিকে স্বাভাবিক ও সজীব রাখে। 
৩. হাড় এবং দাঁতের গঠন এবং দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখে। 
৪. দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। 
৫. দেহে রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। 

অভাবজনিত রোগ ও প্রতিকার: 
- ভিটামিন A-এর অভাবে জেরোফথ্যালমিয়া রোগ হয়। 
- শুরুতে রাতকানা হিসেবে দেখা দিলেও এর অভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে চোখের কর্নিয়ায় আলসার হতে পারে। এই রোগ হলে আক্রান্ত মানুষ পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যেতে পারে। 
- ভিটামিন A-এর অভাবে দেহের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়। অনেক সময় ঘা, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা, প্রস্রাবের সমস্যা ইত্যাদি উপসর্গও দেখা দেয়। 
- ভিটামিন A-এর অভাবে ত্বকের লোমকূপের গোড়ায় ছোট ছোট গুটির সৃষ্টি হতে পারে। 
- অতিরিক্ত ভিটামিন A গ্রহণ করলেও তা ক্ষতিকারক হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৮.
মানুষের মুখবিবরে কত জোড়া লালাগ্রন্থি থাকে?
  1. এক 
  2. দুই 
  3. তিন 
  4. চার 
সঠিক উত্তর:
তিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন 
ব্যাখ্যা

মুখবিবর: 
- মুখ পরবর্তী অংশটি মুখবিবর। 
- মুখ বিবরের ঊর্ধ্ব প্রাচীর তালুর অস্থি ও পেশি দিয়ে, সামনের প্রাচীর ঠোঁটের পেশি দিয়ে এবং পার্শ্ব প্রাচীর গালের পেশি দিয়ে গঠিত। 
- তালুর অগ্রভাগ অস্থিনির্মিত এবং শক্ত, পেছনের অংশ মাংসল ও নরম। 
- তালুর পেছনের অংশের মধ্যভাগ থেকে একটি অপেক্ষাকৃত সরু আলজিহবা মুখবিবরে ঝুলে থাকে। 
- মানুষের ঊর্ধ্ব ও নিম্ন চোয়াল দাঁতযুক্ত, এছাড়া মুখবিবরে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি থাকে। 
- নিম্নে চোয়ালের অস্থির সাথে জিহ্বাযুক্ত থাকে। 
- পৃষ্ঠতলের উপর থাকে স্বাদকোরক এগুলো বিভিন্ন রাসায়নিক বস্তুর প্রতি সংবেদনশীল। 
- জিহ্বার অগ্রভাগ মিষ্টি, দুই পার্শ্ব নোনা, পশ্চাৎ ভাগের দুই পার্শ্ব টক এবং পেছনের দিক তিক্ত স্বাদ গ্রহণ করে।
- দাঁত খাদ্য দ্রব্যকে কাটা, ছেঁড়া ও পেষণে সাহায্য করে। 
- জিহ্বা খাদ্য দ্রব্যের স্বাদ গ্রহণ করে এবং পেষণের সময় লালারস মিশ্রিত করে খাদ্য দ্রব্যকে পিচ্ছিল করে পেছনে ঠেলে দেয়। 
- লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত “মিউসিন” খাদ্যকে পিচ্ছিল করে আর টায়ালিন ও মল্টেজ এনজাইম খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৯.
মানবদেহের মস্তিষ্কের কোন গ্রন্থিতে বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত হরমোন উৎপন্ন হয়?
  1. থাইমাস
  2. থাইরয়েড
  3. পিটুইটারি
  4. এড্রেনাল
সঠিক উত্তর:
পিটুইটারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিটুইটারি
ব্যাখ্যা
- মানুষের বৃদ্ধি হরমোন (Human Growth Hormone, HGH) সাধারণভাবে সোমাটোট্রপিন (Somatotrophin) নামে পরিচিত। 
- এটি এক ধরনের পেপটাইড হরমোন যা প্রায় ২০০টি অ্যামিনো এসিডের সমন্বয়ে গঠিত। 
- মানবদেহের বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত এ হরমোন শরীরে স্বাভাবিকভাবেই উৎপন্ন হয়। 
- মানবদেহের মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থিতে বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত এই হরমোন উৎপন্ন হয়। 
- বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩০ বছর বয়সের পরে বৃদ্ধি হরমোনের ক্ষরণ কমে যায়। 
- পরবর্তী প্রতি ১০ বছরে ক্ষরণ প্রায় ১৪% হারে হ্রাস পায়। 
- বৃদ্ধি হরমোন যত কমবে, শরীরে ততই বয়সের ছাপ বাড়বে। 
- এ সময় দেহে বৃদ্ধি হরমোন প্রয়োগ করলে বয়সের ছাপ মিলিয়ে যাবে কিংবা ছাপ পড়ার গতি কমে যাবে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০০.
অমরা (Placenta) কোন কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত? 
  1. রেচন
  2. প্রজনন
  3. শ্বাসক্রিয়া
  4. খাদ্য হজম
সঠিক উত্তর:
প্রজনন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রজনন
ব্যাখ্যা
মানব প্রজননে হরমোনের ভূমিকা: 
- হরমোন এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ; যা নালিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। 
- এটি রাসায়নিক দূত হিসেবে সরাসরি রক্তের মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেহের বিভিন্ন বিপাকীয় ও শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং বিভিন্ন রাসায়নিক ক্রিয়া ঘটাতে সাহায্য করে। 
- হরমোন নির্দিষ্ট অথচ স্বল্পমাত্রায় নিঃসৃত হয়ে নানাবিধ শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি বা কম নিঃসরণ হলে দেহের বিভিন্ন কাজের ব্যাঘাত ঘটে এবং দেহে নানা রকম অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। 

- শরীরে নিম্নলিখিত গ্রন্থিগুলো প্রজনন-সংক্রান্ত হরমোন নিঃসরণ করে- 
(i) পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary gland), 
(ii) থাইরয়েড গ্রন্থি (Thyroid gland), 
(iii) অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি (Adrenal gland), 
(iv) শুক্রাশয়ের অনালগ্রন্থি (Testis), 
(v) ডিম্বাশয়ের অনালগ্রন্থি (Ovary) এবং 
(vi) অমরা (Placenta)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।