বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,২২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ১১ / ২৩ · ১,০০১১,১০০ / ২,২২৭

১,০০১.
ত্বকের কোন উপাদান অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে দেহকে ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে?
  1. মেলানিন
  2. লাইসোজাইম
  3. কেরাটিন
  4. হিস্টিওসাইট
সঠিক উত্তর:
মেলানিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেলানিন
ব্যাখ্যা
দেহের প্রতিরক্ষায় ত্বকের ভূমিকা: 
- ত্বক প্রথম স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। 
- ত্বক দেহকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এবং প্রভাবে সৃষ্ট রোগ (ক্যান্সার) হতে দেহকে রক্ষা করে। ত্বকের এপিডার্মিসের কোষে মেলালিন (melanine) জাতীয় পদার্থ সৃষ্টি হয় যা অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে। 
- ত্বক দেহের বাইরের স্তরে দৃঢ় ও কেরাটিনাইজড (keratinized) আবরণী তৈরি করে, যা দেহের সকল বাহ্যিক অংশকে আচ্ছাদিত করে এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে একটি ফলপ্রসূ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। 
- দেহত্বক ছিঁড়ে গেলে বা কেটে গেলে ত্বকে অবস্থিত হিস্টিওসাইট (ম্যাক্রোফেজ) জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে প্রতিরক্ষা দান করে। 
- ঘাম ও তৈল গ্রন্থির নিঃসরণ ত্বকের উপরিভাগের pH-কে অম্লীয় (pH = 3-5) করে তোলে, ফলে অণুজীবসমূহ বেশি সময় ত্বকে বেঁচে থাকতে পারে না। 
- কিছু সংখ্যক উপকারী ব্যাকটেরিয়া ত্বকে অবস্থানকালে এসিড ও বিপাকীয় বর্জ্য নিঃসরণ করে, যা অণুজীবের সংখ্যাবৃদ্ধিকে বাঁধা দেয়। 
- ঘাম নিঃসৃত লবণ ও ফ্যাটি এসিডে অবস্থিত লাইসোজাইম (lysozyme) ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরকে ধ্বংস করে। 
- অশ্রুগ্রন্থি নিঃসৃতেও লাইসোজাইম থাকে যারা চোখে জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিহত করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০০২.
অতিরিক্ত খাদ্য থেকে লিভারে সঞ্চিত সুগার হলো?
  1. ক) গ্লুকোজ
  2. খ) গ্লাইকোজেন
  3. গ) ফ্রুক্টোজ
  4. ঘ) সুক্রোজ
সঠিক উত্তর:
খ) গ্লাইকোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গ্লাইকোজেন
ব্যাখ্যা
• যকৃত (Liver):
- মধ্যচ্ছদার নিচে উদরগহ্বরের উপরে পাকস্থলীর ডান পাশে যকৃৎ অবস্থিত।
- এটি মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি।
- প্রকৃতপক্ষে চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে যকৃৎ গঠিত।

• যকৃতের কাজ:
- যকৃত পিত্তরস তৈরি করে।
- যকৃত উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজদেহে গ্লাইকোজেনরূপে সঞ্চয় করে রাখে।
- পিত্তরস চর্বিজাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে, যা লাইপেজ সহযোগে পরিপাকে সহায়তা করে।
- রক্তে কখনো গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে যকৃতের সঞ্চিত গ্লাইকোজেনের কিছুটা অংশ গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং রক্তস্রোতে মিশে যায়। এভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,০০৩.
নিউক্লিক এসিড গঠিত হয়-
  1. সুগার + ফসফেট দিয়ে
  2. সুগার + নাইট্রোজেন বেইজ + ফসফেট দিয়ে
  3. সুগার + নাইট্রোজেন বেইজ + সালফেট দিয়ে
  4. প্রোটিন + নাইট্রোজেন বেইজ + সালফেট দিয়ে
সঠিক উত্তর:
সুগার + নাইট্রোজেন বেইজ + ফসফেট দিয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুগার + নাইট্রোজেন বেইজ + ফসফেট দিয়ে
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিক এসিড:
- নিউক্লক এসিড গঠিত হয় মূলত শর্করা, অজৈব ফসফেট, নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক দিয়ে।
- নিউক্লক এসিড মূলত দুই প্রকার:

• DNA :
- DNA এর পুরো নাম Deoxyribo Nucleic Acid.
- এতে পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট পেন্টোজ শর্করা, অজৈব ফসফেট, নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, থাইমিন ও সাইটোসিন) থাকে।

• RNA :
- RNA এর পুরো নাম Ribo Nucleic Acid।
- এটি পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শর্করা, অজৈব ফসফেট, নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, ইউরাসিল ও সাইটোসিন) দ্বারা গঠিত।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,০০৪.
মানব দেহের কোন অংশে নিউমোনিয়া রোগ হয়?
  1. হার্টে
  2. গলায়
  3. ফুসফুসে
  4. নাকে
সঠিক উত্তর:
ফুসফুসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুসফুসে
ব্যাখ্যা

নিউমোনিয়া (Pneumonia): 
- নিউমোনিয়া একটি মানবদেহের ফুসফুসের রোগ। 
- অত্যধিক ঠান্ডা লাগলে এ রোগ হতে পারে। 
- হাম ও ব্রংকাইটিস রোগের পর ঠান্ডা লেগে নিউমোনিয়া হতে দেখা যায়। 
- শিশু এবং বয়স্কদের জন্য এটি একটি মারাত্মক রোগ। 

ফুসফুস রোগের কারণ: 
- নিউমোকক্কাস (Pneumococcus) নামক ব্যাকটেরিয়া এ রোগের অন্যতম কারণ। 
- এছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের আক্রমণে নিউমোনিয়া হতে পারে। 
- এমনকি বিষম খেয়ে খাদ্যনালির রস শ্বাসনালিতে ঢুকলে সেখান থেকেও নিউমোনিয়া হতে পারে। 

ফুসফুস রোগের লক্ষণ: 
- ফুসফুসে শ্লেষ্মা-জাতীয় তরল পদার্থ জমে কফ সৃষ্টি হয়। 
- কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়। 
- দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় তার্থাৎ বেশি জ্বর হয়। 
- চূড়ান্ত পর্যায়ে বুকের মধ্যে ঘড়ঘড় আওয়াজ হয় ও মারাত্মক শ্বাসকষ্ট হয়। 

ফুসফুস রোগের প্রতিকার: 
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা। 
- তরল ও গরম পুষ্টিকর খাবার খাওয়া। 
- বেশি করে পানি পান করা। 

ফুসফুস রোগের প্রতিরোধ: 
- শিশু ও বয়স্কদের যেন ঠান্ডা না লাগে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা। 
- ধূমপান পরিহার করা। 
- আলো-বাতাসপূর্ণ গৃহে বসবাস করা। 
- রোগীকে সহনীয় উষ্ণতায় ও শুষ্ক পরিবেশে রাখা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০০৫.
রাফেজ প্রধানত কী জাতীয় খাদ্য? 
  1. শর্করা
  2. আমিষ
  3. চর্বি
  4. খনিজ লবণ
সঠিক উত্তর:
শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্করা
ব্যাখ্যা
খাদ্যআঁশ বা রাফেজ: 

• শস্যদানা, ফলমূল ও সবজির অপাচ্য তন্তুময় অংশ অর্থাৎ সেলুলোজই হচ্ছে রাফেজ। 
• এগুলো জটিল শর্করা।
• গবাদি পশু সাধারণ সেলুলোজ হজম করতে পারে। কিছু মানুষ এগুলো হজম করতে পারে না।
• মানুষ রাফেজ হজম করতে পারে না বলে পরিপাকতন্ত্রে এটি প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় থেকে যায়।
• সব ধরনের সবুজ শাক-সবজি, ফলমূল, ফলের খোসা, শস্যদানার বহিরাবরণ হচ্ছে রাফেজের ভালো উৎস।
• রাফেজ দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় দুই ধরনের হয়।

রাফেজ বা আঁশের গুরুত্ব: 
১. খাদ্য পরিপাকের সাহায্য করে
২. পানি শোষণ করে মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
৩. শরীর থেকে অপাচ্য বস্তু বের করে দিতে সাহায্য করে
৪. দেহের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে
৫. মলাশয়ের ক্যান্সার, অর্শ, অ্যাপেন্ডিকস, পিত্তথলির রোগ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ইত্যাদি রোগ হ্রাসে সাহায্য করে।


ছবির উৎস: কালের কণ্ঠ পত্রিকা 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,০০৬.
মা এবং নবজাতককে টিটেনাস থেকে রক্ষা করতে কোন ভ্যাকসিন ব্যবহার করা হয়?
  1. Zero dose
  2. Measles vaccine
  3. Tetanus toxoid
  4. Bacillus Calmette Guerin
সঠিক উত্তর:
Tetanus toxoid
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Tetanus toxoid
ব্যাখ্যা

• মা এবং নবজাতককে টিটেনাস থেকে রক্ষা করতে টিটেনাস টক্সয়েড (Tetanus toxoid) ভ্যাকসিন ব্যবহার করা হয়। এটি একটি নিরাপদ এবং কার্যকরী ভ্যাকসিন যা গর্ভবতী মহিলাকে দেওয়া হলে নবজাতকেও টিটেনাস থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। ভ্যাকসিনটি মা-এর শরীরে প্রতিরক্ষা শক্তি তৈরি করে এবং শিশুর জন্মের সময় তার শরীরে সেই প্রতিরক্ষা স্থানান্তরিত হয়। এই ভ্যাকসিন সাধারণত গর্ভাবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে নির্দিষ্ট ডোজে দেওয়া হয়। ফলে মা ও শিশু দুজনেই টিটেনাস রোগের ঝুঁকিমুক্ত থাকে।

- সঠিক উত্তর: গ) Tetanus toxoid.

• ভ্যাকসিনেশন:
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী বিভিন্ন রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০০৭.
ল্যাকটিক এসিড নিচের কোনটিতে পাওয়া যায়?
  1. দই
  2. পালংশাক
  3. লেবু
  4. ভিনেগার
সঠিক উত্তর:
দই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দই
ব্যাখ্যা

দই তৈরির প্রক্রিয়ায় ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া দুধের ল্যাকটোজকে ল্যাকটিক এসিড এ রূপান্তরিত করে।
- এই ল্যাকটিক এসিডই দইয়ের টক স্বাদ এবং ঘন গঠনের জন্য দায়ী।

ল্যাকটিক এসিড:
- ল্যাকটিক এসিড হলো এক ধরনের জৈব যৌগ, যা একটি কার্বোক্সিলিক এসিড। এর রাসায়নিক সূত্র হলো C3H6O3
- এটি সাধারণত দুধের শর্করা (ল্যাকটোজ) এবং অন্যান্য শর্করা থেকে গাঁজন (fermentation) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। 
- এটি দই ও অন্যান্য গাঁজনকৃত দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়। এটি খাদ্যকে জমাট বাঁধাতে এবং স্বাদ তৈরি করতে সাহায্য করে।
- তীব্র শারীরিক কাজের সময় (যেমন: ব্যায়াম), শরীরে অক্সিজেন সীমিত হলে গ্লুকোজ ল্যাকটিক এসিডে রূপান্তরিত হয়, যা শক্তি দেয়।
- ল্যাকটিক এসিড অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটিয়ে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার রোধ করে হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে।

উল্লেখ্য-
- পালংশাক→ অক্সালিক এসিড।
- লেবু → সাইট্রিক এসিড।
- ভিনেগার → অ্যাসেটিক এসিড।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১,০০৮.
চিন্তার সঙ্গে মস্তিস্কের যে অংশের সম্পর্ক তাকে বলা হয়-
  1. ক) সেরিব্রাম
  2. খ) সেরিবেলাম
  3. গ) মেডুলা
  4. ঘ) স্পাইনাল কর্ড
সঠিক উত্তর:
ক) সেরিব্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সেরিব্রাম
ব্যাখ্যা
মস্তিষ্কের প্রধান অংশ হলো গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম। এটা ডান ও বাম খন্ডে বিভক্ত। এদের ডান ও বাম সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার বলে। মানব মস্তিষ্কে সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার অধিকতর উন্নত ও সুগঠিত। এই দুইখন্ড ঘনিষ্ঠভাবে স্নায়ুতন্তু দ্বারা সংযুক্ত। স্নায়ুকোষগুলো গুরুমস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে গুচ্ছ বেঁধে স্নায়ুকেন্দ্র সৃষ্টি করে। এগুলো বিশেষ বিশেষ কর্মকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ, চিন্তা-চেতনা, স্মৃতি, জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক ও পেশি চালনার ক্রিয়াকেন্দ্র গুরুমস্তিষ্কে বা সেরিব্রামে অবস্থিত। সূত্রঃ বিজ্ঞান ৮ম শ্রেণি।
১,০০৯.
নিচের কোনটি জন্মনিরোধের পদ্ধতি নয়?
  1. ভ্যাসেকটমি
  2. IVF
  3. Tubectomy
  4. লাইগেশন
সঠিক উত্তর:
IVF
উত্তর
সঠিক উত্তর:
IVF
ব্যাখ্যা
• IVF জন্মনিরোধের পদ্ধতি নয় বরং এটি কৃত্তিম গর্ভধারণের পদ্ধতি। 

• Birth control:
- জন্মনিরোধক (Birth control) হলো এমন পদ্ধতি যা অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ রোধ করে। 

• জন্মনিরোধের জন্য দুইটি পদ্ধতি রয়েছে।
যথা-
- অস্থায়ী পদ্ধতি।
- স্থায়ী পদ্ধতি। 

• অস্থায়ী পদ্ধতি: যে পদ্ধতিতে অস্থায়ীভাবে জন্মনিরোধ করা হয় তাকে জন্মনিরোধের অস্থায়ী পদ্ধতি বলা হয়। 
উদাহরণ- কনডম, বড়ি, ইঞ্জেকশন ইত্যাদি।

• স্থায়ী পদ্ধতি: যে পদ্ধতিতে স্থায়ীভাবে জন্মনিরোধ করা হয় তাকে জন্মনিরোধের স্থায়ী পদ্ধতি বলা হয়। 
উদাহরণ- ভ্যাসেকটমি , লাইগেশন, টিউবেকটমি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• IVF বা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন হলো কৃত্তিম গর্ভধারণ পদ্ধতি।
- এটি একটি প্রজনন প্রযুক্তি, যেখানে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুকে দেহের বাইরে পরীক্ষাগারে (in vitro) নিষিক্ত করা হয় এবং এরপর নিষিক্ত ভ্রূণ নারীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
১,০১০.
মানবদেহে ক্যালসিয়ামের অভাবে কোন রোগটি হয়ে থাকে?
  1. ক) ডায়াবেটিস
  2. খ) এইডস
  3. গ) যক্ষ্মা
  4. ঘ) অস্টিওপরোসিস
সঠিক উত্তর:
ঘ) অস্টিওপরোসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অস্টিওপরোসিস
ব্যাখ্যা
মানবদেহে ক্যালসিয়ামের অভাবে অস্টিওপরোসিস রোগটি হয়ে থাকে। 

- অস্টিওপোরোসিস হাড়ের ক্ষয়জনিত একটি রোগ।
- এ সমস্যায় ঘনত্ব কমে গিয়ে হাড় হালকা ও ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং হাড় ভাঙার ঝুঁকি বেড়ে যায়। 
- সাধারণত বয়স্ক নারী এবং পুরুষ এর মাঝে এ রোগটি দেয়া দেয়। 

সূত্র- ১৯৯ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,০১১.
সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে কী বলা হয়?
  1. জিন ক্লোনিং
  2. সেল ক্লোনিং
  3. প্রাকৃতিক ক্লোনিং
  4. রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং
সঠিক উত্তর:
রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং
ব্যাখ্যা

ক্লোনিং পদ্ধতি: 
- প্রাকৃতিক ক্লোন বলতে একটি জীব অথবা এক দল জীবকে বুঝানো হয়, যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ প্রজননের দ্বারা। এগুলোর প্রকৃতি হয় পুরোপুরি তার মাতৃজীবের মত।
- একটি কোষ বা একগুচ্ছ কোষ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপত্তি হয় এবং সেগুলোর প্রকৃতি মাতৃকোষের মতো হয়, তখন তাকেও ক্লোন বলে। 
- প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশির ভাগ প্রোটোজোয়া এবং ইস্ট ছত্রাক ক্লোনিং পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে। 
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে তিন ধরনের ক্লোনিং করা হয়। 
যথা- 
১। জিন ক্লোনিং: একই জিনের অসংখ্য নকল তৈরি করাকে জিন ক্লোনিং বলে। জিন ক্লোনিং রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়। 
২। সেল ক্লোনিং: একই কোষের অসংখ্য হুবহু একই রকমের কোষ সৃষ্টি করাকে সেল ক্লোনিং বলে। 
৩। জীব ক্লোনিং: দুটির পরিবর্তে একটিমাত্র জীব থেকে জিনগত হুবহু এক বা একাধিক জীব তৈরির পদ্ধতিকে জীব ক্লোনিং বলে। 
- ডলি নামক ভেড়া হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী, যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয়, তা হুবহু তার মাতার মতো হয়। 
- এই ক্লোনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শকুর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে। 
- সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে বলে রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং। 
যেমন- ‘ডলি’ নামক ভেড়া তার উদাহরণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০১২.
রক্তে শ্বেত রক্তকণিকা বেড়ে যাওয়াকে কী বলে? 
  1. থ্যালাসেমিয়া
  2. পলিসাইথিমিয়া
  3. অ্যানিমিয়া
  4. লিউকেমিয়া
সঠিক উত্তর:
লিউকেমিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিউকেমিয়া
ব্যাখ্যা
• রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা:
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়।
যেমন-
• পলিসাইথিমিয়া:
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়।
• অ্যানিমিয়া:
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া।
• লিউকেমিয়া:
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়।
- যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।

• থ্যালাসেমিয়া:
- থ্যালাসেমিয়া এক ধরনের বংশগত রক্তের রোগ।
- এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়।
- হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।
- সাধারণত শিশু অবস্থায় এ থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০১৩.
গর্ভাবস্থায় কোনটির ঘাটতিতে অ্যানিমিয়া হয়?
  1. ভিটামিন A
  2. ভিটামিন D
  3. ভিটামিন B9
  4. ভিটামিন B1
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন B9
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন B9
ব্যাখ্যা
• গর্ভাবস্থায় ভিটামিন B9 বা ফলিক এসিডের ঘাটতিতে অ্যানিমিয়া হয়। 

• অ্যানিমিয়া:
- গর্ভাবস্থায় যখন শরীরে লোহিত রক্তকণিকা (RBC) যথেষ্ট পরিমাণে তৈরি হয় না তখন সাধারণত অ্যানিমিয়া (রক্তাল্পতা) হয়ে থাকে।
- RBC তৈরির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ফলিক এসিড বা ভিটামিন B9 ।

• অ্যানিমিয়ার লক্ষণ:
- ক্লান্তি, দুর্বলতা, 
- ফ্যাকাশে ত্বক ও চোখ, 
- শ্বাসকষ্ট ও মাথাব্যথা। 

• গর্ভাবস্থায় ফলিক অ্যাসিডের গুরুত্ব:
→ ভ্রূণের নিউরাল টিউব গঠনে সহায়তা:
- ফলিক অ্যাসিড গর্ভাবস্থায় শিশুর মস্তিষ্ক এবং মেরুরজ্জু (neural tube) গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  
→ জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধ:
- পর্যাপ্ত ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ করলে নিউরাল টিউব ত্রুটি যেমন স্পাইনাল বিফিডা এবং অ্যানেনসেফালি (Anencephaly) হওয়ার ঝুঁকি কমে।  
→ কোষ বিভাজন এবং বৃদ্ধি:
- ফলিক অ্যাসিড কোষ বিভাজন এবং বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয়। গর্ভাবস্থায়, এটি ভ্রূণের বৃদ্ধি এবং বিকাশে সহায়তা করে।  
→ লোহিত রক্তকণিকা তৈরি:
- ফলিক অ্যাসিড লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে এবং মায়ের রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করে।  
→ প্লাসেন্টার স্বাস্থ্য:
- ফলিক অ্যাসিড প্লাসেন্টার স্বাস্থ্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে। 

তথ্যসূত্র:
- Unicef.
- World Health Organization (WHO): Anaemia in pregnancy.
১,০১৪.
লাউয়ে কোন ভিটামিন পাওয়া যায়?
  1. ক) ভিটামিন - এ
  2. খ) ভিটামিন - সি
  3. গ) ভিটামিন - কে
  4. ঘ) ভিটামিন - ই
সঠিক উত্তর:
খ) ভিটামিন - সি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভিটামিন - সি
ব্যাখ্যা
লাউয়ের পুষ্টিগুণ:

প্রতি ১০০ গ্রাম লাউয়ে রয়েছে -
• কার্বোহাইড্রেট ২.৫ গ্রাম,
• প্রোটিন ০.২ গ্রাম,
• ফ্যাট ০.৬ গ্রাম,
 ভিটামিন সি ৬ গ্রাম,
• ক্যালসিয়াম ২০ মিলিগ্রাম,
• ফসফরাস ১০ মিলিগ্রাম,
• পটাশিয়াম ৮৭ মিলিগ্রাম,
• নিকোটিনিক অ্যাসিড ০.২ মিলিগ্রাম।

এ ছাড়া এতে রয়েছে খনিজ লবণ, ভিটামিন বি-১, বি-২, আয়রনসহ আরও নানা উপাদান।
লাউয়ের ৯৬ শতাংশ পানি।

সূত্র: প্রথম আলো।
১,০১৫.
পেশি সংকোচনে ভূমিকা রাখে কোন খনিজ উপাদান?
  1. ক) ক্যালসিয়াম
  2. খ) পটাসিয়াম
  3. গ) সোডিয়াম
  4. ঘ) ম্যাগনেসিয়াম
সঠিক উত্তর:
খ) পটাসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পটাসিয়াম
ব্যাখ্যা
খনিজ লবণ:
- গলগণ্ড, রক্তাস্বল্পতা খনিজ লবণের অভাবে দেহে এ রোগ সৃষ্টি হয়। 
- দেহ কোষ ও দেহের তরল উপাদানের জন্য (যেমন- রক্ত, এনজাইম, হরমোন ইত্যাদি) খনিজ লবণ খুবই দরকারি।
- খনিজ লবণ দেহ গঠন, দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ (যেমন- পেশি সংকোচন, স্নায়ু উত্তেজনা) নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। 
- হাড়, এনজাইম ও হরমোন গঠনের জন্য এটি একটি অপরিহার্য উপাদান।
- উদ্ভিদ মাটি থেকে সরাসরি খনিজ লবণ শোষণ করে। 
- আমাদের দেহের ওজনের ১% পরিমাণ লবণ থাকে। 
- এ উপাদানগুলো হলো ফসফরাস, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, সালফার, সোডিয়াম, ক্লোরিন ও ম্যাগনেসিয়াম। 
- এছাড়া লোহা, আয়োডিন, দস্তা, তামা ইত্যাদি খনিজ লবণ আমাদের দেহের জন্য অতি সামান্য পরিমাণে থাকে। 
- আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ হয়। গলগণ্ড রোধে আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়া উচিত।


উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,০১৬.
সুষম খাদ্যের মুখ্য উপাদান কোনটি?
  1. ক) ভিটামিন
  2. খ) স্নেহ
  3. গ) খনিজ লবণ
  4. ঘ) পানি
সঠিক উত্তর:
খ) স্নেহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্নেহ
ব্যাখ্যা

সুষম খাদ্যের উপাদান ছয়টি। যেমন ০- শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি।
- এদের মধ্যে শর্করা, আমিষ ও স্নেহ হলো খাদ্যের মুখ্য উপাদান।
- আর ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি হলো সহায়ক উপাদান।
সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১,০১৭.
কোন প্রাণীকে ডেভিল মাছ বলে?
  1. ক) তিমি
  2. খ) অক্টোপাস
  3. গ) হাঙ্গর
  4. ঘ) ডলফিন
সঠিক উত্তর:
খ) অক্টোপাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অক্টোপাস
ব্যাখ্যা
- অক্টোপাস সামুদ্রিক প্রাণী। 
- এটি মলাস্কা পর্ব ও সেফালোপডা শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। 
- অক্টোপাসের তিনটি হৃৎপিণ্ড রয়েছে। 
- অক্টোপাসের বাহ্যিক গঠন ভীতির সৃষ্টি করে বলে একে ডেভিল ফিশ বলা হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা
১,০১৮.
সাপ কোন বর্গের প্রাণি?
  1. Crocodillia
  2. Squamata
  3. Rhyncocepalia
  4. Chelonia
সঠিক উত্তর:
Squamata
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Squamata
ব্যাখ্যা

• সাপের বর্গ (Snake Classification):
- সাপ হলো Reptilia (সাপ, ছিপোকা, কুমির ইত্যাদি) প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত, তবে আরও বিশেষভাবে এটি Squamata বর্গের অন্তর্গত।
- Squamata বর্গের প্রাণীর মধ্যে সাপ এবং ছিপোকা থাকে।
- এই বর্গের প্রাণীর লাঠির মতো শক্তি ও নমনীয় ত্বক থাকে, যা তাদের চামড়ার আকার পরিবর্তনে সাহায্য করে।
- Crocodillia বর্গের প্রাণীর মধ্যে কুমির অন্তর্ভুক্ত, Rhyncocepalia প্রায় বিলুপ্ত প্রজাতির ছিপোকা, আর Chelonia বর্গের মধ্যে কচ্ছপ অন্তর্ভুক্ত।
- সাপের শারীরিক গঠন, চলাচল পদ্ধতি এবং দাঁতের ধরন অনুযায়ী এটি Squamata বর্গের সঠিক উদাহরণ।  

সুতরাং, সাপের সঠিক বর্গ হলো - খ) Squamata.

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল। 

১,০১৯.
প্যানক্রিয়াস থেকে কোন হরমোন রক্তে গ্লুকোজ কমায়?
  1. গ্লুকাগন
  2. অ্যাড্রেনালিন
  3. ইনসুলিন
  4. থাইরক্সিন
সঠিক উত্তর:
ইনসুলিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনসুলিন
ব্যাখ্যা

বহুমূত্র রোগ: 
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ। 
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়। 
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়। 
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। 
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না। 
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০২০.
খাদ্যের উপাদান মোট কতটি? 
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. পাঁচটি
  4. ছয়টি
সঠিক উত্তর:
ছয়টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছয়টি
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান: 
- পুষ্টিবিজ্ঞান অনুসারে তাদেরকেই খাদ্য বলে যেগুলো জীবদেহের বৃদ্ধি, শক্তি উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ এবং ক্ষয়পূরণ করে অর্থাৎ এক কথায় দেহের পুষ্টি সাধন করে। 
- খাদ্যের যেসব জৈব অথবা অজৈব উপাদান জীবের জীবনীশক্তির যোগান দেয়, তাদেরকে একসঙ্গে পরিশোষক বা নিউট্রিয়েন্টস ( Nutrients) বলে। 
যেমন - গ্লুকোজ, খনিজ লবণ, ভিটামিন ইত্যাদি হচ্ছে নিউট্রিয়েন্টস। 
- খাদ্যের কাজ প্রধানত তিনটি। 
যথা- 
১। খাদ্য দেহের গঠন, বৃদ্ধিসাধন, ক্ষয়পূরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করে। 
২। খাদ্য দেহে তাপ উৎপাদন করে, কর্মশক্তি প্রদান করে। 
৩। খাদ্য রোগ প্রতিরোধ করে, দেহকে সুস্থ, সবল এবং কর্মক্ষম রাখে। 

- খাদ্যের উপাদান মোট ছয়টি (৬) টি। 
যথা- 
• শর্করা, 
• আমিষ, 
• স্নেহ, 
• ভিটামিন, 
• খনিজ লবণ এবং 
• পানি। 
- এগুলোর মধ্যে শর্করা, আমিষ ও স্নেহ পদার্থ (ফ্যাট) দেহ পরিপোষক খাদ্য। 
- খাদ্যের শর্করা ও স্নেহকে বলা হয় শক্তি উৎপাদক খাদ্য এবং আমিষযুক্ত খাদ্যকে বলা হয় দেহ গঠনের খাদ্য। 
- ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি দেহ সংরক্ষক খাদ্য উপাদান, যেগুলো দেহের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০২১.
রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠিত হয় -
  1. জিংক এবং প্রোটিনের সমন্বয়ে
  2. কপার এবং লিপিডের সমন্বয়ে
  3. ম্যাঙ্গানিজ এবং প্রোটিনের সমন্বয়ে
  4. লৌহ এবং প্রোটিনের সমন্বয়ে
সঠিক উত্তর:
লৌহ এবং প্রোটিনের সমন্বয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লৌহ এবং প্রোটিনের সমন্বয়ে
ব্যাখ্যা
রক্ত:
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা।
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা।
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ।
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু।
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 

- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে।
- তবে কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০২২.
ভিটামিন সি এর রাসায়নিক নাম কী? 
  1. রেটিনল
  2. এসকরবিক এসিড
  3. টোকোফেরল
  4. নিকোটিনামাইড
সঠিক উত্তর:
এসকরবিক এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এসকরবিক এসিড
ব্যাখ্যা
ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড (Vitamin C): 
- ভিটামিন সি এর রাসায়নিক নাম এসকরবিক এসিড (Ascorbic acid)। 
- এটি তাপ, আলো, বাতাস ও ক্ষারে খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। 
- টাটকা শাক-সবজি ও ফল-মূল ভিটামিন সি এর উত্তম উৎস। 
- টক জাতীয় ফল যেমন- কমলা, লেবু, পেয়ারা, আমলকী, বাতাবি লেবু, আমড়া, কামরাঙা, আঙুর, আনারস ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এছাড়া, লেটুস পাতা, কাঁচা মরিচও ভিটামিন সি এর ভালো উৎস। 

এসকরবিক এসিডের কাজ: 
১। ভিটামিন সি একটি শক্তিশালী জারণরোধী ভিটামিন। 
২। ভিটামিন সি নিজে জারিত হয়ে অন্যান্য উপাদানের জারণ প্রতিরোধ করে। (সাধারণভাবে কোনো কিছুর সাথে অক্সিজেন যুক্ত হওয়াকে জারণ বলে।) 
৩। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। 
৪। ক্ষতস্থানের ঘা শুকাতে সাহায্য করে। 
৫। দেহের পেশি, কলা ও অস্থির সংযোজক কলা তৈরিতে সহায়তা করে। 
৬। ভিটামিন সি অন্ত্রে লৌহের শোষণ এবং হিমোগ্লোবিনে লৌহ যুক্তকরণে সাহায্য করে। 
৭। ত্বক, দাঁত, মাড়ি প্রভৃতির দৃঢ়তা রক্ষা করে। 
৮। রক্তবাহী নালীর প্রাচীর মজবুত করতে সহায়তা করে। 

এসকরবিক এসিডের অভাবজনিত অবস্থা: 
১। ভিটামিন সি এর দীর্ঘদিনের অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। স্বার্ভি রোগে দাঁতের মাড়ি ফুলে স্পঞ্জের মতো হয়ে যায়, রক্তক্ষরণ হয়, গোড়া আলগা ও নরম হয়ে যায়, অনেক সময় দাঁত পড়ে যায়। 
২। ত্বক খসখসে হয়, ফুসকুড়ি ওঠে এবং ত্বক চুলকায়। 
৩। অস্থি দুর্বল হয় ও অস্থি সন্ধিতে বা গাঁটে ব্যথা হয়, অস্থি দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়। 
৪। লৌহের পরিশোষণ ব্যহত হয় ও রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। 
৫। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং সহজেই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়। 
৬। রক্তবাহী নালী ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ত্বকের ভিতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণ হতে পারে। 
৭। ক্ষুধামন্দা, অলসতা, খিটখিটে মেজাজ পরিলক্ষিত হয়। 

অন্যদিকে, 
- রেটিনল হচ্ছে ভিটামিন A-এর একটি রূপ। 
- টোকোফেরল হলো ভিটামিন E-এর রাসায়নিক নাম। 
- নিকোটিনামাইড হলো ভিটামিন B3 (নিয়াসিন)-এর একটি রূপ। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০২৩.
অ্যামিবার চলনে সহায়তা করে -
  1. ক) পিল্লি
  2. খ) ফ্ল্যাজেলা
  3. গ) শীথ
  4. ঘ) ক্ষণপদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্ষণপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্ষণপদ
ব্যাখ্যা
• অ্যামিবা ও এন্টামিবা এককোষী প্রাণি।
- সকল জীবিত প্রাণী কোষ নামক এক বা একাধিক একক নিয়ে গঠিত। 
- শুধুমাত্র একটি কোষ নিয়ে গঠিত জীবগুলোকে এককোষী জীব বলা হয়।
- এদের চলন অঙ্গ ক্ষণপদযুক্ত। 
- এদের দেহে কোনো অক্ষীয় তন্তু থাকে না।

অ্যামিবা:
- প্রোটিস্টা রাজ্যের সদস্য অ্যামিবা এককোষী প্রাণী। এদের দেহ ক্ষুদ্রাকার।
- অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া এদের দেখা যায়না। ক্ষণপদ এর সাহায্যে অ্যামিবা গ্রহণ ও চলাচল করে।
- এদের দেহে পানিগহ্বর, খাদ্যগহ্বর ও সংকোচন গহ্বর থাকে।
- এদের সারা দেহ একটি পাতলা পর্দা দ্বারা ঘেরা থাকে। একে প্লাজমালেমা বলা হয়।
- আ্যামিবা পানিতে, স্যাঁতস্যাঁতে মাটিতে, পুকুরের তলার পচা জৈব আবর্জনার মধ্যে জন্মে।

• এন্টামিবা:
এন্টামিবা প্রোটিস্টা রাজ্যভূক্ত আরেক ধরনের এককোষী জীব।
- খালি চোখে এদের দেখা যায়না।
- এদের দেহ কোন নির্দিষ্ট আকৃতি নাই।
- এদের দেহ স্বচ্ছ জেলীর ন্যায়। 

• অন্যদিকে, ব্যাকটেরিয়ার গতিশীলতার তার যে গঠন দায়ী হলো ফ্ল্যাজেলা

উৎস: বিজ্ঞান, ৭ম শ্রেণি।
১,০২৪.
উচ্চ রক্তচাপের জন্য নিচের কোনটি দায়ী?
  1. ক) অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি
  2. খ) পিটুইটারি গ্রন্থি
  3. গ) ঘর্ম গ্রন্থি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি
ব্যাখ্যা

- অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে হরমোন তৈরি হওয়া বেড়ে গেলে হাইপার টেনশন বা উচ্চ-রক্তচাপ হয়।
- অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি হলো একটি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি যা অ্যাড্রেনালিন, অ্যালডোস্টেরন ও কর্টিসলসহ নানাবিধ হরমোন তৈরি করে থাকে। এটি সুপ্রারিনাল গ্রন্থি (suprarenal gland) নামেও পরিচিত। এরা বৃক্কের উপরিভাগে অবস্থিত।

- পিটুইটারি গ্রন্থি মস্তিষ্কের পাদদেশে অবস্থিত মটর দানার মতো দেখতে একটি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি । পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে গোনাডোট্রপিক, সোমাটোট্রপিক, TSH ইত্যাদি হরমোন নিঃসৃত হয় । এই গ্রন্থি অন্যান্য গ্রন্থিকে প্রভাবিত করা ছাড়াও মানবদেহের বৃদ্ধির হরমোন নির্গত করে ।
- ঘাম গ্রন্থিগুলিকে সাধারণত তথাকথিত একক্রাইন ঘাম গ্রন্থি বলা হয়। তাদের কাজটি ঘাম নিঃসরণ করা, যা তাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে ভারসাম্য আমাদের শরীরের।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক জীববিজ্ঞান

১,০২৫.
নিচের কোনটি মানবদেহে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে?
  1. লোহিত রক্তকণিকা
  2. শ্বেত রক্তকণিকা 
  3. অণুচক্রিকা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্তকণিকা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেত রক্তকণিকা 
ব্যাখ্যা

• রক্তের উপাদান:
- রক্ত এক প্রকার যোজক কলা। এর অন্তঃকোষ মাধ্যমটি তরল, হলুদ বর্ণের জলীয় পদার্থ দ্বারা গঠিত। এ তরল পদার্থকে প্লাজমা বা রক্তরস বলে। এ প্লাজমার মধ্যে রক্তকণিকাগুলো ভাসমান অবস্থায় থাকে।
- রক্তের দু'টি উপাদান- (১) রক্তরস এবং (২) রক্ত কণিকা। সমগ্র রক্তের ৫৫% রক্তরস এবং বাকি ৪৫% রক্তকণিকা। রক্ত কণিকা প্রধানত তিন ধরনের, যথা- লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা।

• লোহিত রক্তকণিকা:
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্ত কণিকা দ্বি-অবতল, চাকতি আকৃতির এবং নিউক্লিয়াস বিহীন। এতে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে লাল বর্ণের হয়। এজন্য এদের Red Blood Cell বা RBC বলে।
- লোহিত কণিকা প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ভর্তি ভাসমান ব্যাগ এবং চ্যাপ্টা আকৃতির। এ কারণে লোহিত কণিকা তার আকারের পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহনে সক্ষম।
- লোহিত কণিকাগুলোর বিভাজন হয় না। এ কণিকাগুলো সার্বক্ষণিক অস্থিমজ্জার ভেতরে উৎপন্ন হয় এবং রক্তরসে চলে আসে। - মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন।
- অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর ক্ষেত্রে লোহিত কণিকা প্লিহা-তে সঞ্চিত থাকে। তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে এখান থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
- আমাদের জীবনের প্রতি মুহূর্তে লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস হয় আবার সমপরিমাণ তৈরি হয়।

• শ্বেত রক্তকণিকা:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন। হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে। ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে।
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে।
- ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে দেহে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে।
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়।
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। শ্বেত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে।

• অণুচক্রিকা:
- এদেরকে প্লাটিলেট (Platelet) বলে। অণুচিক্রকা আকারে ছোট, বর্তুলাকার ও বর্ণহীন। এরা গুচ্ছাকারে থাকে।
- অস্থিমজ্জার মধ্যে অণুচক্রিকা উৎপন্ন হয়। অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন। পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ।
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। কোন রক্তবাহী নালির ক্ষতি হলে এরা অনতিবিলম্বে থ্রোম্বোপ্লাষ্টিন নামক এক প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসরণ করে। যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০২৬.
প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. খ) লাইসোজোম
  3. গ) ক্রোমোজোম
  4. ঘ) রাইবোজোম
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাইবোজোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাইবোজোম
ব্যাখ্যা
রাইবোজোমের প্রধান কাজ হলো প্রোটিন সংশ্লেষণ করা। এজন্য রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়। উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০২৭.
নিচের কোনটি ​স্তন্যপায়ী প্রাণী? 
  1. বাদুড় 
  2. টিকটিকি 
  3. কুমির 
  4. কচ্ছপ 
সঠিক উত্তর:
বাদুড় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাদুড় 
ব্যাখ্যা

সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী: 
- এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়।
যেমন- সাপ, কুমির, ঘড়িয়াল, কচ্ছপ, টিকটিকি, গিরগিটি, ডাইনোসর প্রভৃতি সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী।

স্তন্যপায়ী প্রাণী: 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে লোম দ্বারা আবৃত থাকে।
- স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সন্তান প্রসব করে।
- শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়।
- যেমন- তিমি, বাদুড়, শুশুক, গরু, হাতি, মানুষ, কুকুর, বানর, ঘোড়া, ইঁদুর, জিরাফ ইত্যাদি। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,০২৮.
নেফ্রন কী? 
  1. বৃক্কের রক্তপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণকারী অঙ্গ
  2. অন্ত্রের পুষ্টি শোষণ একক
  3. লিভারের প্রধান কার্যকারী একক
  4. বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকরী একক
সঠিক উত্তর:
বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকরী একক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকরী একক
ব্যাখ্যা

নেফ্রনের গঠন: 
- বৃক্কের লম্বচ্ছেদ অনুবীক্ষণ যন্ত্রে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, এর ভেতরে অসংখ্য কুণ্ডলীকৃত সূক্ষ্ম নালিকা দেখা যায়, এদেরকে নেফ্রন (nephron) বলে। 
- নেফ্রন হলো বৃক্কের গাঠনিক ও কাজের একক। 
- প্রচুর রক্তনালি ও কিছু যোজক কলাসহ প্রতিটি বৃক্কে প্রায় ১০ লক্ষ নেফ্রন থাকে। 
- প্রতিটি নেফ্রনের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ সে.মি.। 
- প্রতিটি নেফ্রনকে ৬টি অঞ্চলে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১. রেনাল করপাসল (Renal corpuscle), 
২. নিকটবর্তী প্যাঁচানো নালিকা (Proxinal convoluted tubule), 
৩. হেনলির লুপের অবরোহন বাহু (Descending limb of Henle's loop), 
৪. হেনলির লুপের আরোহন বাহু (Ascending limb of Henle's loop), 
৫. দূরবর্তী প্যাঁচানো নালিকা (Distal convoluted tubule) ও 
৬. সংগ্রাহী নালিকা (Collecting tubule)। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০২৯.
মানুষের স্পাইনাল কর্ডের দৈর্ঘ্য কত?
  1. ১৫ ইঞ্চি
  2. ১৮ ইঞ্চি
  3. ২০ ইঞ্চি
  4. ২৪ ইঞ্চি
সঠিক উত্তর:
১৮ ইঞ্চি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮ ইঞ্চি
ব্যাখ্যা
• সুষুম্না কান্ড:
- সুষুম্না কান্ড বা Spinal Cord কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের একটি অংশ।
- Spinal Cord বা স্নায়ু রজ্জু মস্তিষ্ক থেকে মেরুদন্ডের ভেতরে অবস্থিত।
- Spinal Cord প্রায় ১৮ ইঞ্চি লম্বা।
- এখান থেকে ৩১ জোড়া স্নায়ু (Spinal Nerve) উৎপন্ন হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৩০.
নীল তিমি কোন শ্রেণির প্রাণী? 
  1. সরীসৃপ
  2. পক্ষীকুল
  3. স্তন্যপায়ী
  4. মৎস্যকুল
সঠিক উত্তর:
স্তন্যপায়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্তন্যপায়ী
ব্যাখ্যা
Chordata পর্বের Mammalia শ্রেণির স্তন্যপায়ী প্রাণী: 
- নীল তিমি
- বাদুড়, 
- ডলফিন, 
- মানুষ, 
- বানর ইত্যাদি। 

Chordata পর্বের Reptalia শ্রেণির সরীসৃপ প্রাণী: 
- ঘড়িয়াল, 
- কুমির, 
- কচ্ছপ, 
- সাপ, 
- টিকটিকি ইত্যাদি। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,০৩১.
কোন গ্রন্থি থেকে ইনসুলিন নির্গত হয়?
  1. আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স
  2. সাবম্যান্ডিবুলার
  3. পিটুইটারি
  4. প্যারোটিড
সঠিক উত্তর:
আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স
ব্যাখ্যা
ডায়াবেটিস:
- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ।
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়।
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়।
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়।
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না।
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৩২.
সুস্থ মানুষের হৃদস্পন্দন মিনিটে -
  1. ক) ৬০ - ১০০ বার
  2. খ) ৫০ - ১১০ বার
  3. গ) ৮০ - ১২০ বার
  4. ঘ) ৬০ - ১২০ বার
সঠিক উত্তর:
ক) ৬০ - ১০০ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৬০ - ১০০ বার
ব্যাখ্যা
- সুস্থ মানুষের হৃদস্পন্দন মিনিটে ৬০ - ১০০ বার হয়। এটাকে হার্টবিট বলে। 
- আমাদের হাতের কব্জির রেডিয়াল ধমনিতে এই স্পন্দন পরিমাপ করা যায়। 
- হাতের কব্জির রেডিয়াল ধমনিতে এই স্পন্দন অনুভব করাকে পালস বলে।

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
১,০৩৩.
রক্তে উচ্চ কোলেস্টরেলের কারণে কোন রোগ হয়?
  1. ক) বাতজ্বর
  2. খ) এনজিনা
  3. গ) কোলেস্টেরোল্ফোবিয়া
  4. ঘ) রিউম্যাটিক ফিভার
সঠিক উত্তর:
খ) এনজিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এনজিনা
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনি গাত্রে চর্বি জমা হলে রক্তের সাহায্যে হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেন ও খাদ্যসার পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বুকে ব্যাথা অনুভূত হয়। এ অবস্থাকে এনজিনা বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।
১,০৩৪.
হৃদপিন্ডের আবরণকে বলা হয়-
  1. ক) Pleura
  2. খ) Peritoneum
  3. গ) Periosteum
  4. ঘ) Pericardium
সঠিক উত্তর:
ঘ) Pericardium
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Pericardium
ব্যাখ্যা
হৃদপিন্ড বক্ষ গহব্বরের বাম দিকে দু’ফুসফুসে মাঝখানে অবস্থিত একটি ত্রিকোণাকার ফাঁপা অঙ্গ। এটি হৃদপেশি নামক এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত। এটি পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। এছাড়া ফুসফুসের আবৃতকারী ঝিল্লীকে প্লুরা(Pleura) বলে; Abdomen এর আবরণ Peritoneum; এবং Bone এর আবরণ Periosteum। সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,০৩৫.
থ্রম্বোসাইটোসিস রোগে কোন রক্ত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়? 
  1. লোহিত রক্ত কণিকা
  2. প্লাজমা
  3. শ্বেত রক্ত কণিকা
  4. অনুচক্রিকা
সঠিক উত্তর:
অনুচক্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচক্রিকা
ব্যাখ্যা
রক্ত ও রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা: 
- রক্ত হলো প্রাণীদেহের একটি লাল বর্ণের, অস্বচ্ছ, লবণাক্ত এবং সামান্য ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষের রক্ত লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতির কারণে লাল রঙের হয়। 
- রক্তের বিভিন্ন উপাদানের ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা তৈরি হয়। 
রক্তের বিভিন্ন অস্বাভাবিক অবস্থা: 
১। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে অ্যানিমিয়া হয়। 

২। লিউকেমিয়া: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে গেলে (৫০,০০০-১,০০০,০০০) একে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলা হয়। 

৩। থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া হলো বংশগত রক্তের রোগ, যা সাধারণত শিশু অবস্থায় শনাক্ত হয়। 
- এ রোগে হিমোগ্লোবিনের গঠনগত ত্রুটির কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। 
- রোগীকে সাধারণত প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালন করতে হয়, তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমতে পারে। 

৪। পলিসাইথেমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেলে একে পলিসাইথেমিয়া বলে। 

৫। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে গেলে একে থ্রম্বোসাইটোসিস বলা হয়। 
- রক্তনালির অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধাকে থ্রম্বোসিস বলা হয়। 
- হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস এবং 
- মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

৬। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা ২০,০০০-৩০,০০০ হলে একে লিউকোসাইটোসিস বলা হয়। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এটি হতে পারে। 

৭। পারপুরা: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে পারপুরা হয়। 
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা দেখা দিতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৩৬.
মানবদেহে রোগ প্রতিরোধে প্রাথমিক প্রতিরক্ষাস্তরের (First line of defence) অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. ক) লাইসোজাইম
  2. খ) গ্যাসট্রিক জুস
  3. গ) সিলিয়া
  4. ঘ) লিস্ফোসাইট
সঠিক উত্তর:
ঘ) লিস্ফোসাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লিস্ফোসাইট
ব্যাখ্যা
- মানবদেহে রোগ প্রতিরোধে দ্বিতীয় প্রতিরক্ষাস্তর লিম্ফোসাইট।
- ত্বক, মিউকাস মেমব্রেন, সিলিয়া, লালারস, পাকস্থলী রস, অশ্রু, মূত্র প্রবাহ, নিউট্রোফিল ইত্যাদি প্রাথমিক প্রতিরক্ষাস্তর।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,০৩৭.
জীবজন্তুর বৈচিত্র্যের নিয়ন্ত্রক কোনটি?
  1. ক) জিন
  2. খ) ভাইরাস
  3. গ) ব্যাকটেরিয়া
  4. ঘ) ক্রোমোজোম
সঠিক উত্তর:
ক) জিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জিন
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোমের ভিতর DNA এর যে দীর্ঘ শেকল রয়েছে, তার একটি অংশে বংশগতির কোনো একটি একক লিপিবদ্ধ থাকে সেটিকে বলা হয় জিন।
ক্রোমোজোমের গায়েই সন্নিবেশিত থাকে অসংখ্য জিন বা বংশগতির একক। 
জীবজন্তুর বৈচিত্র্যের নিয়ন্ত্রক জিন। 

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
১,০৩৮.
পিত্তথলির পাথর মূলত-
  1. খাদ্যকণা
  2. অপাচ্য খাদ্য
  3. খাদ্যের অজৈব অংশ
  4. কোলেস্টেরল
সঠিক উত্তর:
কোলেস্টেরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলেস্টেরল
ব্যাখ্যা
• পিত্তথলির পাথর:
- কোলেস্টেরল পিত্তরসের অন্যতম উপাদান হলেও এটি একটি বর্জ্য পদার্থ এবং যকৃতের মাধ্যমে দেহ থেকে অপসারিত হয়।
- পিত্তরসে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে তা তলানির মতো পিত্তথলিতে জমা হয়।
- কোলেস্টেরলের এ তলানিই শক্ত হয়ে পিত্তথলির পাথর (Gallbladder stone) নামে পরিচিত হয়
- উল্লেখ্য, কোলেস্টেরল ছাড়াও পিত্ত, ফসফেট, ক্যালসিয়াম প্রভৃতি জমেও পিত্তথলির পাথর হতে পারে।

পিত্তরস:
- পিত্তরস খাদ্যের অম্লভাব প্রশমিত করে এবং ক্ষারীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে।
- কেননা আম্লিক পরিবেশে খাদ্য পরিপাক হয় না।
- পিত্তরস চর্বিজাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে, যা লাইপেজ সহযোগে পরিপাকে সহায়তা করে।
- অতিরিক্ত অ্যামাইনো এসিড যকৃতে আসার পর বিভিন্ন রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড ও অ্যামোনিয়ারূপে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহজাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে।
- রক্তে কখনো গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে যকৃতের সঞ্চিত গ্লাইকোজেনের কিছুটা অংশ গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং রক্তস্রোতে মিশে যায়।
- এভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১,০৩৯.
হৃৎপিণ্ডের কোন স্তর কপাটিকা সৃষ্টি করে?
  1. পেরিকার্ডিয়াম
  2. এপিকার্ডিয়াম
  3. মায়োকার্ডিয়াম
  4. এন্ডোকার্ডিয়াম
সঠিক উত্তর:
এন্ডোকার্ডিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এন্ডোকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ডের আবরণ: 
- হৃৎপিণ্ড একটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা ঝিল্লিতে আবৃত। 
- এর বাইরের স্তরটিকে প্যারাইটাল ও ভেতরেরটিকে ভিসেরাল বলে। 
- স্তর দুটির মাঝে তরল পদার্থপূর্ণ পেরিকার্ডিয়াম গহ্বর থাকে যা হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। 
- পেরিকার্ডিয়াল হৃৎপিণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। 
- হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। 
- হৃৎপিণ্ডকে সর্বদা সিক্ত রেখে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে। 

হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর: 
- হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। 
- এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি বলে। 
- পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট। যেমন- 

ক. এপিকার্ডিয়াম (Epicardium): 
- এটি হৃৎপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি। 
- এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে। 

খ. মায়োকার্ডিয়াম (Myocardium): 
- মায়োকার্ডিয়াম হৃৎপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। 
- স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃৎপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। 

গ. এন্ডোকার্ডিয়াম (Endocardium): 
- এটি হৃৎপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃৎকপাটিকাসমূহ সৃষ্টি করে তা ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃৎপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৪০.
কচু শাকে কোনটি বেশি থাকে?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. লৌহ
  3. আয়োডিন
  4. ভিটামিন সি
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- দেহ কোষ ও দেহের তরল অংশের জন্য খনিজ লবণ অত্যাবশ্যক। 
- মানব দেহে Ca, Fe, S, Zn, Na, K, I ইত্যাদি খনিজ লবণ থাকে। 
- এগুলো খাদ্য ও মানব দেহে বিভিন্ন পরিমাণে অন্য পদার্থের সাথে মিলিত হয়ে নানা জৈব ও অজৈব যৌগের লবণ তৈরি করে। 
- খনিজ লবণ দেহ গঠন ও দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। হাড়, দাঁত, পেশি, এনজাইম ও হরমোন গঠনের জন্য খনিজ লবণ একটি অপরিহার্য উপাদান। 

খনিজ পদার্থের উৎস: 
- দুধ, দই, ছানা, পনির, ছোট মাছ, নানা রকম ডাল, সবুজ শাকসব্জি, লাল শাক, কঁচু শাক ইত্যাদিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে। তবে  কঁচু শাকেও কম পরিমাণে লৌহ থাকে। 
- কলিজা, মাংস, ডিমের কুসুম, কঁচু শাক ইত্যাদিতে লৌহ থাকে। 
- দুধ, মাছ, বাদাম, ডাল হতে ফসফরাস পাওয়া যায়। 
- খাবার লবণ, চিপস, নোনতা খাবার, পনির, বাদাম, আচার ইত্যাদিতে সোডিয়াম থাকে। 
- মাছ, মাংস, বাদাম, ডাল, কলা, আলু, আপেল, গাজর ইত্যাদিতে পটাসিয়াম থাকে। 
- সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ, মাংস ও শ্যাওলায় আয়োডিন থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৪১.
করোনারী থ্রম্বসিস অসুখটি-
  1. ক) যকৃতের
  2. খ) হৃৎপিন্ডের
  3. গ) অগ্ন্যাশয়ের
  4. ঘ) কিডনীর
সঠিক উত্তর:
খ) হৃৎপিন্ডের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হৃৎপিন্ডের
ব্যাখ্যা
রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য হৃদরোগের আশংকা বাড়ায়। স্বাভাবিক মাত্রা থেকে রক্তে কোলেস্টেরল বেশি হলে রক্তনালীর অন্তঃপ্রাচীরের গাত্রে কোলেস্টেরল ও ক্যালসিয়াম জমা হয়ে রক্ত নালি গহ্বর সংকুচিত হয়। ফলে ধমনির প্রাচীরের স্থিতিস্থাপকতা কমে যায় এবং শক্ত হয়ে যায়— এ অবস্থাকে ধমনির কাঠিন্য বা Arteriosclerosis বলে ।
 
আর্টারিওস্ক্লেরোসিস এর কারণে ধমনির প্রাচীরে ফাটল দেখা দিতে পারে। ধমনিগাত্রের ফাটল দিয়ে রক্ত ক্ষরণ হয়ে জমাট বাঁধার কারণে রক্ত প্রবাহ বাধা প্রাপ্ত হয়।
 
 হৃদপিন্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিকের রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ঘটতে পারে। 

হার্ট ব্লক: হৃদপিন্ডের স্পন্দন প্রবাহ উৎপাদন ত্রুটিপূর্ণ হলে বা উৎপন্ন প্রবাহ সঠিক পথে পরিবাহিত না হলে তাকে হৃদ
অবরোধ বা হার্ট ব্লক বলে ।
হার্ট অ্যাটাক: হৃদপিন্ডের করোনারি ধমনি কোনো কারণে বন্ধ হয়ে গেলে হৃদপেশির রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়ে যে রোগ
সৃষ্টি হয় তাকে হার্ট অ্যাটাক বলে ।
হার্ট ফেইলিউর: হৃদপিন্ডের অ্যাট্রিয়াম অথবা ভেন্ট্রিকল অথবা উভয়ের সংকোচন ক্ষমতা লোপ পাওয়াকে হার্ট ফেলিওর
বলে।
 
 
উৎস : হৃদপিণ্ডের যত কথা, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,০৪২.
মানুষের প্রধান খাদ্য কী?
  1. আমিষ
  2. চর্বি
  3. শর্করা
  4. ফ্যাটি এসিড
সঠিক উত্তর:
শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্করা
ব্যাখ্যা

শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হলাে-মানবদেহের কর্মশক্তি ও তাপশক্তির প্রধান উৎস। মানুষের প্রধান খাদ্য শর্করা।
- কার্বন, হাইড্রোজেন, ও অক্সিজেন নিয়ে শর্করার যৌগ গঠিত হয়।
- এটি মিষ্টি স্বাদযুক্ত এবং গন্ধ ও বর্ণহীন।
উৎসঃ সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,০৪৩.
আমিষে কোন মৌলের উপস্থিতি নেই?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) হাইড্রোজেন
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) সালফার
সঠিক উত্তর:
ঘ) সালফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সালফার
ব্যাখ্যা

কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন এ চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলাে অ্যামাইনাে এসিডে পরিণত হয়। অর্থাৎ বলা যায় একটি নির্দিষ্ট আমিষের পরিচয় হয় কিছু অ্যামাইনাে এসিড দিয়ে।
মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনে এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনাে এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

১,০৪৪.
In human blood plasma, water makes up about what percentage of its volume?
  1. 82%
  2. 65%
  3. 70%
  4. 78%
  5. 92%
সঠিক উত্তর:
92%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
92%
ব্যাখ্যা
• রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লাল বর্ণের তরল যোজক টিস্যু (Fluid Connective Tissue)। 
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। 
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 

• রক্তকণিকা ৩ ধরনের হতে পারে। 
যথা- 
- লোহিত রক্তকণিকা, 
- শ্বেত রক্তকণিকা এবং 
- অণুচক্রিকা। 

উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৪৫.
RNA -এর উপাদান নয় কোনটি?
  1. ক) ইউরাসিল
  2. খ) সাইটোসিন
  3. গ) অ্যাডেনিন
  4. ঘ) থায়ামিন
সঠিক উত্তর:
ঘ) থায়ামিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) থায়ামিন
ব্যাখ্যা
আরএনএ (RNA):
- RNA এর পুরো নাম Ribo Nucleic Acid।
- এটি ক্রোমোসোমের স্থায়ী উপাদান নয়।
- ক্রোমোসোমে এর পরিমাণ হচ্ছে ০.২-১.৪%।
- প্রতিটি RNA অণু একসূত্রকবিশিষ্ট।
- এটিও পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শর্করা (RNA এর রাইবোজ স্যুগারের ২নং কার্বনে অক্সিজেন অণু বিদ্যমান), অজৈব ফসফেট এবং নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, ইউরাসিল, সাইটোসিন) দিয়ে গঠিত।
- RNA তে নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ ক্ষারক থাইমিনের পরিবর্তে ইউরাসিল উপস্থিত থাকে।
- এটি ১০% ক্রোমোসোমে থাকে। ভাইরাস ক্রোমোসোমে স্থায়ী উপাদান হিসেবে RNA থাকে।

ডিএনএ (DNA)
- Deoxyribo Nucleic Acid (DNA) হলো ক্রোমোসোমের প্রধান এবং স্থায়ী উপাদান। 
- ক্রোমোসোমের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে ডিএনএ এর পরিমাণ হচ্ছে ৪৫%। এটি ৯০% ক্রোমোসোমে থাকে।
- DNA একটি পলিমার। এর একককে নিউক্লিয়োটাইড বলে। 
- নিউক্লিয়োটাইডের তিনটি উপাদান থাকে। যথা- পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ স্যুগার, নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, থায়ামিন, সাইটোসিন) এবং ফসফরিক অ্যাসিড।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৪৬.
মানবদেহে আকারে সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘতম হাড়ের নাম কী?
  1. Humerus
  2. Femur
  3. Tibia
  4. Radius
সঠিক উত্তর:
Femur
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Femur
ব্যাখ্যা
◉ ফিমার বা উরুর হাড় মানবদেহের সবচেয়ে দীর্ঘ হাড়।

ফিমার (Femur):
- এটি মানবদেহের দীর্ঘতম এবং বৃহত্তম হাড়।
- পায়ের গঠন ও কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ফিমার শরীরের ওজনকে সমর্থন করার জন্য এবং হাঁটা, দৌড়ানো এবং লাফানো সহ বিভিন্ন পায়ের নড়াচড়ার সুবিধার জন্য দায়ী। 
- এর উর্ধ্বপ্রান্তে একটি গোল মস্তক, গ্রীবা ও ছোট-বড় ট্রোকেল্টার অবস্থিত।
- নিম্নপ্রান্ত দুটি কন্ডাইল বিশিষ্ট।
- ফিমারের মস্তক শ্রোণিচক্রে অ্যাসিটাবুলামের সাথে যুক্ত থাকে।
- এর প্রান্তে প্যাটেল (Patella) নামক চ্যাপ্টা সিগময়েড অস্থি থাকে।
 
উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৪৭.
ডিপথেরিয়া রোগে দেহের কোন অংশ আক্রান্ত হয়?
  1. ক) চোখ
  2. খ) ফুসফুস
  3. গ) গলা
  4. ঘ) কিডনি
সঠিক উত্তর:
গ) গলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গলা
ব্যাখ্যা
ডিপথেরিয়া রোগে  মানবদেহের গলার অংশ আক্রান্ত হয়। 

- ডিপথেরিয়া হল এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ব্যাধি।
- করিনিব্যাকটিরিয়াম ডিপথেরি নামে ব্যাকটিরিয়ার সংক্রমণ থেকে এই রোগ হয়।
- ব্যাকটেরিয়া ঘটিত এই মারাত্মক রোগ গলা ও নাকের মিউকাস মেমব্রেন বা শ্লেষ্মা ঝিল্লিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
- গলার পিছন দিকটা পুরু আস্তরণ দ্বারা ঢেকে যায়, ফলে খাবার খেতে ও গিলতে সমস্যা হয়।
- মাঝে মাঝে শ্বাস নিতেও কষ্ট হয়।
-  এই রোগে হৃদপিণ্ড, কিডনি ও মস্তিষ্কের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

লক্ষণ- 
- ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ২-৫ দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। অনেকের মাঝে আবার লক্ষণ নাও প্রকাশ পেতে পারে। আবার অনেকের কাছে সাধারণ সর্দির মতো লক্ষণ প্রকাশ পায়।
- তবে ডিপথেরিয়ার দৃশ্যমান অতি সাধারণ উপসর্গ হচ্ছে গলা ও টনসিলে ধূসর পর্দা পড়া।
- এগুলো ছাড়াও জ্বর, শরীর ঠাণ্ডা হওয়া, ঘাড়ের গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, ভীষণ কাশি, গলা ব্যথা, নীলচে ত্বক, লালা ঝরা ইত্যাদি লক্ষণও প্রকাশ পায়।

সূত্র: Centers for Disease Control and Prevention [লিঙ্ক]
১,০৪৮.
করোনারি ধমনিতে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য কোন ওষুধ দেওয়া হয়?
  1. ইনসুলিন
  2. প্যারাসিটামল
  3. নাইট্রোগ্লিসারিন
  4. অ্যান্টিবায়োটিক
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোগ্লিসারিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাইট্রোগ্লিসারিন
ব্যাখ্যা

করোনারি ধমনিতে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য নাইট্রোগ্লিসারিন দেওয়া হয়।

• হার্ট অ্যাটাক:
- হৃদপেশিতে আঘাত লেগে বুকে ব্যথা ও চাপ সৃষ্টি হয়ে ২০-৪০ মিনিটের মধ্যে স্বাভাবিক রক্ত প্রবাহ ফিরে না আসলে হৃদপেশির মৃত্যু ঘটতে থাকে এবং এরূপ ৬-৮ ঘণ্টা ধরে পেশি মারা যেতে থাকলে তবে হার্ট অ্যাটাক ঘটে থাকে।
- হৃদপেশির আঘাতজনিত কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়।
- যখন হৃদপেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয় তখন তা আর সঠিকভাবে সংকোচন ঘটাতে পারে না এবং হৃদপিণ্ডের স্পন্দন থেমে যায় ও ফলে মস্তিষ্ক বিনষ্ট হয় এবং দেহের বিভিন্ন অঞ্চলে রক্ত প্রেরণে অক্ষম হয়।
- এক্ষেত্রে পাঁচ মিনিটের মধ্যে স্পন্দন শুরু না হলে মস্তিষ্ক বিনষ্ট ও রোগীর মৃত্যু ঘটে।
-অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশনজনিত হার্ট অ্যাটাক থেকে রোগীর মৃত্যু ঘটে।
- ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশন শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যে যদি কার্ডিও পালমোনারি সঞ্চালন করা সম্ভব হয় তবে রোগী মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা পেতে পারে।


• হার্ট অ্যাটাকের জন্য দায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কারণগুলো হলো:
- ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশন,
- রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি,
- উচ্চ রক্ত চাপ,
- তামাক সেবন।

• হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা:
- তাৎক্ষণিক ডাক্তারের শরণাপন্য হওয়া ও অক্সিজেন সরবরাহ করা।
- রক্ত জমাট বাঁধানো প্রতিহত করার জন্য অ্যাসপিরিন দেয়া।
- করোনারি ধমনির মধ্যে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য নাইট্রোগ্লিসারিন দেওয়া।
- বুকের ব্যথার চিকিৎসা আরম্ভ করা।
- নিয়মিত খাবার গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করা।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৪৯.
শিশুদের জন্মের ৯ মাস বয়সে কোন টিকা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়? 
  1. Measles Vaccine
  2. Oral Polio Vaccine
  3. BCG Vaccine
  4. Diphtheria and Tetanus Vaccine
সঠিক উত্তর:
Measles Vaccine
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Measles Vaccine
ব্যাখ্যা
- শিশুদের জন্মের ৯ মাস বয়সে 'Measles Vaccine' টিকা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। 

ভ্যাকসিনেশন: 
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কয়েকটি রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৫০.
জনন কোষ উৎপন্নের সময় কোন কোষ বিভাজন ঘটে?
  1. ক) অ্যামাইটোসিস
  2. খ) মাইটোসিস
  3. গ) মিয়ােসিস
  4. ঘ) সমীকরণিক
সঠিক উত্তর:
গ) মিয়ােসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মিয়ােসিস
ব্যাখ্যা

জনন কোষ উৎপন্নের সময় মিয়ােসিস কোষ বিভাজন ঘটে।
এ ধরনের কোষ বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি পরপর দুবার বিভাজিত হলেও ক্রোমােজোমের বিভাজন ঘটে মাত্র একবার। ফলে অপত্য কোষে ক্রোমােজোমের সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়।
এ বিভাজনে ক্রোমােজোমের সংখ্যা অর্ধেক হ্রাস পায় বলে এ ধরনের বিভাজনকে হ্রাসমূলক বিভাজনও বলা হয়।
জনন মাতৃকোষ থেকে পুং ও স্ত্রী গ্যামেট উৎপন্নের সময় এ ধরনের কোষ বিভাজন হয়।

১,০৫১.
শ্বেত রক্তকণিকার আয়ুষ্কাল কতদিন?
  1. ১২০দিন
  2. ৬০-৯০ দিন
  3. ১-১৫ দিন
  4. ৩০-৬০ দিন
সঠিক উত্তর:
১-১৫ দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১-১৫ দিন
ব্যাখ্যা
• মানবদেহে তিন ধরনের রক্তকনিকা দেখা যায়।
যথা -
- লোহিত রক্তকনিকা: এর গড় আয়ু ১২০ দিন।
- শ্বেত রক্তকণিকা বা লিউকোসাইট: এর গড় আয়ু ১-১৫ দিন।
- অনুচক্রিকা বা থ্রম্বোসাইট: এর গড় আয়ু ৫-১০ দিন।

• শ্বেত রক্তকণিকা:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে।
- ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
- শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়।

উৎস: নবম দশম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান।
১,০৫২.
রক্তে কোন কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ব্লাড ক্যান্সার হয়?
  1. লোহিত কণিকা
  2. শ্বেত কণিকা
  3. অনুচক্রিকা
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শ্বেত কণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেত কণিকা
ব্যাখ্যা
 শ্বেত রক্তকণিকা বা লিউকোসাইট:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। 
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে।
- ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে।
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC এর তুলনায় অনেক কম। 
- রক্তের শ্বেত রক্তকণিকা বৃদ্ধি পেলে ব্লাড ক্যান্সার হয়।

এছাড়া,
অ্যানিমিয়া:
- লোহিত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায় অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যায়।

পলিসাইথিমিয়া:
- লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়।

লিউকোসাইটোসিস:
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ১ ঘন মি.লি. রক্তে ২০,০০০ - ৩০,০০০ হয়।

লিউকোমিয়া:
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা, প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়।
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক হারে বেড়ে ১ ঘন মি.লি. রক্তে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকোমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৫৩.
শ্রেণিবিন্যাসের প্রতিটি একককে বলা হয় -
  1. ক) প্রজাতি
  2. খ) ট্যাক্সন
  3. গ) পর্ব
  4. ঘ) গোত্র
সঠিক উত্তর:
খ) ট্যাক্সন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ট্যাক্সন
ব্যাখ্যা
Taxon, plural Taxa, any unit used in the science of biological classification, or taxonomy. Taxa are arranged in a hierarchy from kingdom to subspecies, a given taxon ordinarily including several taxa of lower rank.
Source: Britanica.
-------------------------

শ্রেণিবিন্যাসের প্রতিটি একককে বলা হয় - ট্যাক্সন।

বর্তমানে প্রাণি শ্রেণিবিন্যাসে সাতটি ধাপ ব্যবহার করা হয়। যথা-
1. Kingdom (রাজ্য)
2. Phylum (পর্ব)
3. Class (শ্রেণি)
4. Order (বর্গ)
5. Family (গোত্র)
6. Genus (গণ)
7. Species (প্রজাতি)

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৫৪.
খাদ্যের কোন উপাদানটি মূলত পঁচনের জন্য দায়ী?
  1. ক) ভিটামিন
  2. খ) পানি
  3. গ) লিপিড
  4. ঘ) প্রোটিন
সঠিক উত্তর:
খ) পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পানি
ব্যাখ্যা
- খাদ্য সংরক্ষণ বলতে বোঝায়, যে ব্যবস্থার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ফল, শাকসবজি, মাছ-মাংস, দুধ ইত্যাদি খাদ্য দ্রব্যকে খাদ্যগুণ ও পুষ্টিগুণ অপরিবর্তিত রেখে স্বাভাবিক অবস্থায় দীর্ঘ সময় রাখার ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে রান্না করা অথবা কাঁচা উভয় প্রকার খাদ্য দ্রব্যকে সংরক্ষণ করা হয়। খাদ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রিজারভেটিভস্ ব্যবহার করা হয়। 

- খাদ্যে পানির উপস্থিতি মূলত পঁচনের জন্য দায়ী।
১,০৫৫.
অরীয় প্রতিসামোর উদাহরণ কোনটি?
  1. Hydra
  2. Taenia
  3. Astropecten
  4. Labeo
সঠিক উত্তর:
Astropecten
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Astropecten
ব্যাখ্যা

• এই প্রশ্নটি অরীয় প্রতিসাম্য (Radial Symmetry) সম্পর্কিত।
সঠিক উত্তর: গ) Astropecten.
- Hydra এবং Astropecten উভয়ই অরীয় প্রতিসাম্য প্রদর্শন করে, তবে Astropecten (তারামাছ) অরীয় প্রতিসাম্যের সবচেয়ে আদর্শ ও সুস্পষ্ট উদাহরণ।

অরীয় প্রতিসাম্য হলো এমন একটি দেহ গঠন যেখানে কেন্দ্রীয় অক্ষের চারদিকে দেহ অংশগুলো সুষমভাবে বিন্যস্ত থাকে। কেন্দ্র দিয়ে যেকোনো উল্লম্ব তলে দেহকে কাটলে সমান দুটি অংশ পাওয়া যায়।

প্রতিটি অপশন বিশ্লেষণ:
ক) Hydra - এটি অরীয় প্রতিসাম্য প্রদর্শন করে (Cnidaria পর্বের অন্তর্গত)
খ) Taenia - এটি দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য প্রদর্শন করে (ফিতাকৃমি)
গ) Astropecten - এটি একটি তারামাছ (Starfish/Sea star), যা স্পষ্ট অরীয় প্রতিসাম্য প্রদর্শন করে (Echinodermata পর্বের অন্তর্গত)
ঘ) Labeo - এটি একটি মাছ যা দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য প্রদর্শন করে

• প্রতিসাম্য:
- যে সকল প্রাণীর দেহকে কোনো না কোনো অক্ষ বা তল বরাবর সমান অংশে ভাগ করা যায় তাদেরকে প্রতিসাম্য প্রাণী বলে।
- প্রতিসাম্যতার উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

১. গোলীয় প্রতিসাম্য:
- যখন কোনো প্রাণী দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর বিন্যাস এমন হয় যে প্রাণিটিকে এর কেন্দ্র বিন্দু দিয়ে অতিক্রান্ত যেকোনো তলেই সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন তাকে গোলীয় প্রতিসাম্য বলে।
যেমন- ভলভক্স (Volvox aureus)।

২. অরীয় প্রতিসাম্য:
- যখন কোন প্রাণীর দেহকে অণুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর দুয়ের অধিক তলে সমদ্বিখণ্ডিত করা যায় তখন সে ধরনের প্রতিসাম্যকে অরীয় প্রতিসাম্য বলে।
যেমন- সমুদ্র তারা (Astropecten auranciacus)।

৩. দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য:
- কোনো প্রাণিদেহে যখন কোনো অঙ্গের সংখ্যা একটি বা এক জোড়া হওয়ায় অনুদৈর্ঘ্য অক্ষ বরাবর শুধু দুটি তল পরস্পরের সমকোণে অতিক্রম করতে পারে, ফলে ঐ প্রাণিদেহে চারটি সদৃশ অংশে বিভক্ত হতে পারে। এ ধরনের প্রতিসাম্যকে দ্বি-অরীয় প্রতিসাম্য বলে।
যেমন- অ্যান্থোজোয়া (Anthozoa)।

৪. দ্বি-পার্শ্বীয় প্রতিসাম্য:
- জীবদেহকে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর উলম্বভাবে দ্বিবিভক্ত করার ফলে যদি দুটি সমান ও সাদৃশ্যপূর্ণ অংশে বিভক্ত হয় তবে এ প্রতিসাম্যকে দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য বলে।
যেমন- যকৃত কৃমি (Fasciola hepatica)।

৫. অপ্রতিসাম্য:
- যখন জীবদেহকে উলম্বভাবে কেন্দ্রের মধ্যরেখা বরাবর ছেদ করলে তা দুটি অসমান ও সাদৃশ্যবিহীন অংশে বিভক্ত হয় তখন তাকে অপ্রতিসাম্য বলে।
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus)।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৫৬.
ডায়ালাইসিস কিসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. যকৃত
  2. বৃক্ক
  3. হৃদপিণ্ড
  4. স্নায়ু
সঠিক উত্তর:
বৃক্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃক্ক
ব্যাখ্যা

• বৃক্ক: 
- মানবদেহের উদরগহ্বরের পেছনের অংশে, মেরুদণ্ডের দুদিকে বক্ষপিঞ্জরের নিচে পিঠ-সংলগ্ন অবস্থায় দুটি বৃক্ক অবস্থান করে।
- প্রতিটি বৃক্ক দেখতে শিমবীজের মতো এবং এর রং লালচে হয়।
- বৃক্কের বাইরের পার্শ্ব উত্তল এবং ভিতরের পার্শ্ব অবতল হয়। অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাস বা হাইলাম বলে। হাইলামের ভিতর থেকে ইউরেটার এবং রেনাল শিরা বের হয় এবং রেনাল ধমনি বৃক্কে প্রবেশ করে। দুটি বৃক্ক থেকে দুটি ইউরেটার বের হয়ে মূত্রাশয়ে প্রবেশ করে। ইউরেটারের ফানেল আকৃতির প্রশস্ত অংশকে রেনাল পেলভিস বলে।
- বৃক্ক সম্পূর্ণরূপে এক ধরনের তনুময় আবরণ দিয়ে বেষ্টিত থাকে, একে রেনাল ক্যাপসুল বলে।
- ক্যাপসুল-সংলগ্ন অংশকে কর্টেক্স এবং ভেতরের অংশকে মেডুলা বলে। উভয় অঞ্চলই যোজক কলা এবং রক্তবাহী নালি দিয়ে গঠিত। - মেডুলায় সাধারণত ৮-১২ টি রেনাল পিরামিড থাকে। এদের অগ্রভাগকে রেনাল প্যাপিলা বলে। এসব প্যাপিলা সরাসরি পেলভিসে উন্মুক্ত হয়।
- প্রতিটি বৃক্কে বিশেষ এক ধরনের নালিকা থাকে, যাকে ইউরিনিফেরাস নালিকা বলে। প্রতিটি ইউরিনিফেরাস নালিকা নেফ্রন এবং সংগ্রাহক বা সংগ্রাহী নালিকা (Collecting tubule)-এই দু'টি প্রধান অংশে বিভক্ত। নেফ্রন মূত্র তৈরি করে আর সংগ্রাহী নালিকা রেনাল পেলভিসে মূত্র বহন করে।
- বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকরী একক হলো নেফ্রন। প্রতিটি বৃক্কে প্রায় ১০ থেকে ১৫ লক্ষ নেফ্রন থাকে।

• বৃক্ক বিকল:
- নেফ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনিতে পাথর ইত্যাদি কারণে কিডনি ধীরে ধীরে বিকল হয়ে যায়। আকস্মিক কিডনি অকেজো বা বিকল হওয়ার কারণগুলো হলো কিছু ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ইত্যাদি।
- কিডনি বিকল হলে মূত্রের পরিমাণ কমে যাবে। রক্তে ক্রিয়েটিনিন বৃদ্ধি পাবে। তখন রক্তের বর্জ্য দ্রব্যাদি অপসারণের জন্য নির্দিষ্ট সময় পর পর রোগীকে ডায়ালাইসিস করা হয়।

• ডায়ালাইসিস:
- বৃক্ক সম্পূর্ণ অকেজো বা বিকল হওয়ার পর বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ত পরিশোধন করার নাম ডায়ালাইসিস।
- সাধারণত 'ডায়ালাইসিস মেশিনের' সাহায্যে রক্ত পরিশোধন করা হয়। এ মেশিনের ডায়ালাইসিস টিউবটির এক প্রান্ত রোগীর হাতের কব্জির ধমনির সাথে এবং অন্য প্রান্ত ঐ হাতের কব্জির শিরার সাথে সংযোজন করা হয়। ধমনি থেকে রক্ত ডায়ালাইসিস টিউবের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করানো হয়। এর প্রাচীর আংশিক বৈষম্যভেদ্য হওয়ায় ইউরিয়া, ইউরিক এসিড এবং অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ বাইরে বেরিয়ে আসে। পরিশোধিত রক্ত রোগীর দেহের শিরার মধ্য দিয়ে দেহের ভেতর পুনরায় প্রবেশ করে।
- ডায়ালাইসিস টিউবটি এমন একটি তরলের মধ্যে ডুবানো থাকে, যার গঠন রক্তের প্লাজমার অনুরূপ হয়। এভাবে ডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ (ইউরিয়া এবং অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ) বাইরে নিষ্কাশিত হয়। তবে এটি একটি ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।

• প্রতিস্থাপন:
- যখন কোনো ব্যক্তির কিডনি বিকল বা অকেজো হয়ে পড়ে তখন কোনো সুস্থ ব্যক্তির কিডনি তার দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়। এই প্রক্রিয়াকে কিডনি সংযোজন বলে। 
- কিডনি সংযোজন দুভাবে করা যায়: কোনো নিকট আত্মীয়ের কিডনি অথবা কোনো মৃত ব্যক্তির কিডনি রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়। 

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

১,০৫৭.
নিচের কোনটি লসিকার কাজ নয়?
  1. ক) প্রোটিন পরিবহন
  2. খ) দেহ রসের সংবহন
  3. গ) প্রজনন
  4. ঘ) শোষণ
সঠিক উত্তর:
গ) প্রজনন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রজনন
ব্যাখ্যা
লসিকা গ্রন্থি:
- লসিকা নালিতে বেশ কাছাকাছি অবস্থিত গোলাকার বা ডিম্বাকার ফোলা অংশগুলোকে “লসিকা গ্রন্থি” বলে।
- যান্ত্রিক ছাঁকুনি হিসেবে কাজ করে বিভিন্ন জীবাণু ও ক্ষতিকর কোষের হাত থেকে এগুলো দেহকে রক্ষা করে।
- ঘাড়ে, বগলে ও কুঁচকিতে লসিকা গ্রন্থি থাকে।


লসিকার কাজ,

- প্রোটিন পরিবহন: কলার ফাঁকা স্থান থেকে প্রোটিন লসিকার মাধ্যমে রক্তে ফিরে আসে। 
- স্নেহ পরিবহন: যে সব স্নেহ কলা কৈশিক নালির বাধা অতিক্রমে অক্ষম সেগুলো লসিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। 
- পুষ্টি সরবরাহ: দেহের যে সব কলা কোষে রক্ত পৌঁছাতে পারে না সেখানে লসিকা অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ করে। 
- শোষণ: স্নেহ পদার্থ অন্ত্র থেকে শোষিত হয়ে লসিকার মাধ্যমে প্রবাহিত হয় । 
- প্রতিরক্ষা: লসিকায় অবস্থিত প্রচুর শ্বেত কণিকা দেহের প্রতিরক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকে। 
- প্রতিরোধ: B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপন্ন অ্যান্টিবডি দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 
- দেহ রসের সংবহন: রক্ত সংবহনের এক অংশ থেকে অন্য অংশে তরল পদার্থের পরিবহনে অংশ নেয়।

- প্রজনন লসিকার কাজ নয়।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৫৮.
শ্বেতসার পরিপাকে নিচের কোন এনজাইমটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ট্রিপসিন
  2. খ) অ্যামাইলেজ
  3. গ) লাইপেজ
  4. ঘ) পেপসিন
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যামাইলেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যামাইলেজ
ব্যাখ্যা

প্রাণীদেহে দ্বারা গৃহীত খাদ্যবস্তু যে সকল রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতিতে জটিল খাদ্য থেকে সরল খাদ্যে পরিণত হয় সে সকল রাসায়নিক পদার্থকে এনজাইম বলে।
যেমন - ট্রিপসিন, অ্যামাইলেজ, লাইপেজ, পেপসিন।
শরীরের শর্করা বা শ্বেতসার জাতীয় খাবার পরিপাকে অ্যামাইলেজ এনজাইমটি ব্যবহৃত হয়।

১,০৫৯.
খাদ্যের উপাদান কয়টি?
  1. ৩ টি
  2. ৪ টি
  3. ৬ টি
  4. ৭ টি
সঠিক উত্তর:
৬ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬ টি
ব্যাখ্যা
খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্যের রাসায়নিক প্রকৃতি ও গঠনের বিভিন্নতা অনুসারে খাদ্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে, এগুলোকে খাদ্য উপাদান বলা হয়। 
- খাদ্য উপাদান ৬ টি। 
যথা:
১। প্রোটিন বা আমিষ, 
২। কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা, 
৩। ফ্যাট বা স্নেহ পদার্থ, 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ, 
৫। মিনারেল বা খনিজ লবণ এবং 
৬। পানি । 

কাজ অনুযায়ী খাদ্যের ভাগ: 
- দেহে খাদ্যের কাজ অনুযায়ী খাদ্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যেমন- 
১। দেহ গঠন ও ক্ষয়পূরণকারী খাদ্য: প্রধানত আমিষ জাতীয় খাদ্য। 
২। তাপ ও শক্তি উৎপাদনকারী খাদ্য: প্রধানত স্নেহ ও শর্করা জাতীয় খাদ্য। 
৩। রোগ প্রতিরোধকারী খাদ্য: প্রধানত ভিটামিন ও খনিজ লবণ জাতীয় খাদ্য। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৬০.
বৃক্কের সবচেয়ে ছোট কাঠামোগত ইউনিট কী?
  1. নিউরন
  2. রেনিন
  3. টিউবিউল
  4. নেফ্রন
সঠিক উত্তর:
নেফ্রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেফ্রন
ব্যাখ্যা

• বৃক্কের সবচেয়ে ছোট কাঠামোগত এবং কার্যকরী ইউনিট হলো নেফ্রন। নেফ্রন মূলত রক্তকে পরিশোধন করে মূত্র উৎপন্ন করে এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত জল, লবণ ও বর্জ্য পদার্থ বের করে। প্রতিটি বৃক্কে প্রায় এক মিলিয়ন নেফ্রন থাকে। নেফ্রন দুটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত: গ্লোমেরুলাস এবং টিউবিউল। গ্লোমেরুলাস রক্ত ফিল্টার করার কাজ করে, আর টিউবিউল ফিল্টার হওয়া তরল থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান শোষণ করে এবং বর্জ্য পদার্থ মূত্রে পরিণত করে। তাই নেফ্রন বৃক্কের কার্যকারিতা বজায় রাখার মূল একক।

- সঠিক উত্তর: ঘ) নেফ্রন।

নেফ্রন:
- বৃক্কের ইউরিনিফেরাস নালিকার ক্ষরণকারী অংশ ও কার্যকরী একককে নেফ্রন বলে।
- মানুষের প্রতিটি বৃক্কে ১০-১২ লাখ নেফ্রন থাকে।

• বৃক্ক:
- যে প্রক্রিয়ায় কোষীয় বিপাকের ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশিত হয় তাকে রেচন বলে।
- যে তন্ত্রের মাধ্যমে রেচনকার্য সম্পন্ন হয় তাকে রেচনতন্ত্র বলে।
- বৃক্ক মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ।
- একটি পরিণত বৃক্কের দৈর্ঘ্য ১০-১২ সেন্টিমিটার,প্রস্থ ৫-৬ সেন্টিমিটার এবং স্থুলত্ব ৩ সেন্টিমিটার।
- পুরুষ মানুষের প্রতিটি বৃক্কের ওজন ১৫০-১৭০ গ্রাম এবং প্রতিটি মহিলা মানুষের বৃক্কের ওজন ১৩০-১৫০ গ্রাম।

• বৃক্কের কাজ:
- রক্ত থেকে নাইট্রোজেনযুক্ত বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করা।
- দেহে ও রক্তে পানির ভারসাম্য রক্ষা করা।
- রক্তে বিভিন্ন লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা।
- রক্ত অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করা।
- হরমোন ও এনজাইম নিঃসরণ করা।
- দেহের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা।
- ভিটামিন ডি ও লোহিত রক্ত কণিকা উৎপাদনে অংশগ্রহণ করা।

উৎস: জীববিজ্ঞান,একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি,গাজী আজমল ও প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৬১.
নিচের কোনটি মাত্র এক কোষবিশিষ্ট?
  1. পোলিও ভাইরাস
  2. গোল কৃমি
  3. অ্যামিবা
  4. মাশরুম
সঠিক উত্তর:
অ্যামিবা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামিবা
ব্যাখ্যা

- পোলিও ভাইরাস সহ অন্যান্য সকল ভাইরাস হলো অকোষীয়। কারণ এটি শুধু নিউক্লিক এসিড এবং প্রোটিন আবরণী বিশিষ্ট জীব ও জড়ের মাঝে এক সেতু বন্ধন বিশেষ। এদের দেহে আদি কিংবা প্রকৃত কোনো ধরনের কোষই উপস্থিত নয়।
- সকল ব্যাকটেরিয়া হলো এক কোষী। এরা আদি কোষবিশিষ্ট।
- সকল ধরনের কৃমি বহুকোষী।
- প্রায় সকল ছত্রাক বহুকোষী (ব্যতিক্রম- ক্রিপ্টোকক্কাস, ইস্ট ইত্যাদি)।
- অ্যামিবা, ম্যালেরিয়া পরজীবী, কালাজ্বরের পরজীবী ইত্যাদি সকলেই এককোষী এবং সুকেন্দ্রিক।
সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১,০৬২.
জীববৈচিত্র্যকে কতটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে? 
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন
ব্যাখ্যা
জীববৈচিত্র্য (Biodiversity): 
- পৃথিবীর পরিবেশ জীব ও জড় উপাদান নিয়ে গঠিত, এখানে রয়েছে বিচিত্র ধরনের জীব ও অজস্র জড় পদার্থ। 
- প্রতিটি প্রজাতি স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং স্বকীয় বৈশিষ্ট্য দিয়ে যে কোনো একটি প্রজাতি অন্য সব প্রজাতি হতে ভিন্ন ও শনাক্তকরণযোগ্য। 
- জীববৈচিত্র্যকে তিন ভাগে বা স্তরে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species diversity), 
২। বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য (Ecosystem diversity) এবং 
৩। বংশগতীয় বৈচিত্র্য (Genetical diversity)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৬৩.
মানুষের রক্তের প্রকৃতি কেমন?
  1. ক) নিরপেক্ষ
  2. খ) ঈষৎ ক্ষারধর্মী
  3. গ) ঈষৎ অম্লধর্মী
  4. ঘ) তীব্র ক্ষারধর্মী
সঠিক উত্তর:
খ) ঈষৎ ক্ষারধর্মী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঈষৎ ক্ষারধর্মী
ব্যাখ্যা

মানুষের রক্তের pH এর মান 7.35-7.45। অর্থাৎ স্বাভাবিক অবস্থায় রক্ত ঈষৎ ক্ষারীয় প্রকৃতির।
কোনো দ্রবণের pH এর মান 7 হলে তা নিরপেক্ষ।
কোনো দ্রবণের pH এর মান 0-6.9 হলে তা অম্লধর্মী।
কোনো দ্রবণের pH এর মান 7.1-14 হলে তা ক্ষারধর্মী।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,০৬৪.
পৃথিবীতে প্রাণের সূচনা হয় আনুমানিক-
  1. ক) ১০০ কোটি বছর আগে
  2. খ) ১০ কোটি বছর আগে
  3. গ) ১ কোটি বছর আগে
  4. ঘ) ৫০ লক্ষ বছর আগে
সঠিক উত্তর:
ক) ১০০ কোটি বছর আগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১০০ কোটি বছর আগে
ব্যাখ্যা
• জীবনের সূচনা ও বিকাশ: 
- আজ থেকে প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর সৃষ্টি হয় এবং প্রায় ৩.৬ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে প্রথম প্রাণের সূচনা হয় বলে ধারণা করা হয়।
- পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে তখন কোনো অক্সিজেন ছিলো না, তাই জীবন সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায়ে জীবগুলো ছিল অণুজীব, আদিকোষী এবং ব্যাকটেরিয়া জাতীয় যারা অক্সিজেন ছাড়াই বাঁচতে পারতো।
- পরবর্তীতে সায়ানোব্যাকটেরিয়ার আবির্ভাব ঘটে যা সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis) প্রক্রিয়ায় বায়ুমন্ডলে অক্সিজেন যোগ করতে থাকে।
- মাত্র ৫৪ কোটি বছর আগে বায়ুমন্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ বর্তমান সময়ে বায়ুমন্ডলে বিরাজমান অক্সিজেন-এর সমান হয়।

* ধারণা করা হয়, ৩.৬ বিলিয়ন অথবা ৩৬০ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে প্রাণের সূচনা হয়। তাই সঠিক উত্তর হিসেবে ১০০ কোটি বছর আগে নেয়া হলো।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৬৫.
মানুষের যক্ষ্মা রোগের জীবানু-
  1. Shigella dysenteriae
  2. Mycobacterium tuberculosis
  3. Bacillus anthracis
  4. Escherichia coli
সঠিক উত্তর:
Mycobacterium tuberculosis
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mycobacterium tuberculosis
ব্যাখ্যা

• মানুষের যক্ষ্মা রোগের জীবানু হলো Mycobacterium tuberculosis. এটি একটি ধীরে বৃদ্ধি পাওয়া ব্যাকটেরিয়া, যা প্রধানত ফুসফুসে সংক্রমণ সৃষ্টি করে। সংক্রমণ সাধারণত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়, যখন রোগী কাশির মাধ্যমে ক্ষুদ্র থুদি বা ফোঁটা বের করে। যক্ষ্মা রোগে ফুসফুসে ক্ষয় সৃষ্টি হয়, যাকে 'টিউবারকুলোসিস লেশান' বলা হয়। রোগের প্রধান লক্ষণ হলো দীর্ঘমেয়াদী কাশি, রক্ত মিশ্রিত কফ, জ্বর, রাতের ঘাম এবং ওজন কমে যাওয়া। যদিও অন্যান্য জীবাণু যেমন Shigella dysenteriae পায়খানির অসুখ, Bacillus anthracis এনথ্রাক্স এবং Escherichia coli অন্ত্রের সংক্রমণ ঘটায়, তারা যক্ষ্মার কারণ নয়। Mycobacterium tuberculosis সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকা, স্বাস্থ্যবিধি এবং সময়মতো চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ।
 
 • অপশন আলোচনা:
ক) Shigella dysenteriae: এটি ডায়রিয়ার ব্যাকটেরিয়া।
খ) Mycobacterium tuberculosis: মানুষের যক্ষ্মা (Tuberculosis) রোগের জীবানু।
গ) Bacillus anthracis: এটি Anthrax রোগের জীবানু।
ঘ) Escherichia coli: এটি সাধারণত আন্ত্রিক জীবাণু, কিছু স্ট্রেইন ডায়রিয়া সৃষ্টি করে।
 
• যক্ষ্মা:
- যক্ষ্মা সাধারণত Mycobacterium Tuberculosis নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে হয় যক্ষ্মা একটি বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ।
- যক্ষ্মা শুধু ফুসফুসের রোগ এই ধারণাটা সঠিক নয়।
- যক্ষ্মা অন্ত্র, হাড়, ফুসফুস এরকম দেহের প্রায় যেকোনো জায়গায় হতে পারে।
- সংক্রমিত গরুর দুধ খেয়েও যে কেউ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
- যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক হিসেবে দেয়া হয় বিসিজি (Bacillus Calmatte Guerin) টিকা।
- টিকার আবিষ্কারক ক্যালসাট ও গুয়েচিন।
- ব্যাকটেরিয়া থেকে যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়।

• এছাড়াও, 
- Bacillus Calmatte Guerin-BCG হলো যক্ষ্মার প্রতিষেধক।
- ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি ও টিটেনাস প্রতিষেধক হিসেবে ডিপিটি (DPT) টিকা দেয়া হয়।
- পোলিও রোগের টিকার নাম ওপিভি (Oral Polio Vaccine).
- টিটি (Tetanus Toxoid) প্রতিষেধক টিকা দেয়া হয় মায়েদের গর্ভাবস্থায় শিশুকে টিটেনাস রোগ থেকে রক্ষার জন্য।

উৎস:
- ব্রিটানিকা।
- সূত্র: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল এবং গাজী আসমত। 

১,০৬৬.
পশ্চাৎ মস্তিষ্কের অংশ কোনটি?
  1. থ্যালামাস
  2. সেরেবেলাম
  3. সেরেব্রাম
  4. সেরেব্রাল পেডাংকল
সঠিক উত্তর:
সেরেবেলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেরেবেলাম
ব্যাখ্যা
• সেরেবেলাম পশ্চাৎ মস্তিষ্কের অংশ।

• পশ্চাৎমস্তিষ্ক:
এটি মস্তিষ্কের পিছনের অংশ এবং ৩টি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত। যথা-
- সেরেবেলাম,
- মেডুলা অবলংগাটা এবং
- পনস।

• সেরেবেলাম:
- পশ্চাৎ মস্তিষ্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সেরেবেলাম যা সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ারের নিচে অবস্থিত।
- দুটি কুণ্ডলীকৃত সমগোলার্ধ নিয়ে গঠিত যারা ভার্নিস নামে একটি ক্ষুদ্র যোজকের সাহায্যে যুক্ত।
- এটি বাইরের দিকে কর্টেক্স এবং ভেতরের দিকে মেডুলা নিয়ে গঠিত।
- দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।
- ঐচ্ছিক চলাফেরাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- পেশির টান ও দেহভঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করে।

• মানব মস্তিষ্ক ৩টি প্রধান অংশে বিভক্ত।
যথা:
১) অগ্রমস্তিষ্ক,
২) মধ্যমস্তিষ্ক ও
৩) পশ্চাৎ মস্তিষ্ক।

• অগ্রমস্তিষ্ক:
অগ্রমস্তিষ্ক মস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে। এটি তিন অংশে বিভক্ত। যথা:
- সেরেব্রাম,
- থ্যালামাস
- হাইপোথ্যালামাস।
- মস্তিষ্কের মধ্যে অগ্রমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম সবচেয়ে বড় অংশ। সেরিব্রামকে গুরুমস্তিষ্কও বলা হয়।

• মধ্যমস্তিষ্ক:
হাইপোথ্যালামাসের নিচে ছোট অংশটি মধ্যমস্তিষ্ক। পৃষ্ঠীয় দিকে দুটি গোলাকার খণ্ড এবং অঙ্কীয় দিকে দুটি নলাকার ও পুরু স্নায়ুরজ্জু নিয়ে গঠিত, প্রথম দুটি সেরেব্রাল পেডাংকল এবং শেষের দুটি কর্পোরা কোয়াড্রিজেমিনা।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান ২য় পত্র(প্রাণিবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. প্রাণি বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৬৭.
আমাদের দেহকোষ রক্ত থেকে গ্রহণ করে-
  1. অক্সিজেন ও গ্লুকোজ
  2. অক্সিজেন ও রক্তের আমিষ
  3. ইউরিয়া ও গ্লুজোক
  4. এমাইনো এসিড ও কার্বন ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন ও গ্লুকোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্সিজেন ও গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা
- আমাদের দেহে সকল কাজের জন্য অক্সিজেন দরকার। 
- অক্সিজেন না হলে জীবকোষ বাঁচতে পারে না। 
- রক্তের লোহিত রক্ত কণিকায় অবস্থিত হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে।
- অক্সিহিমোগ্লোবিন রূপে প্রতিটি কোষে বহন করে।
- দেহকোষ রক্ত হতে অক্সিজেন ও খাদ্যসার (গ্লুকোজ, অ্যামাইনো এসিড, ফ্যাটিএসিড) গ্রহণ করে।

উৎস: বিজ্ঞান, ৭ম শ্রেণি। 
১,০৬৮.
সিলিয়াক ধমনি রক্ত বহন করে- 
  1. অন্ত্রে
  2. বৃক্কে
  3. পাকস্থলী ও যকৃতে
  4. পেলভিসে
সঠিক উত্তর:
পাকস্থলী ও যকৃতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকস্থলী ও যকৃতে
ব্যাখ্যা
সাবক্লেভিয়াল ধমনি: 
- দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে। 
যেমন- 
• আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত বহন করে। 
• থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত বহন করে। 
• সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত বহন করে। 
• ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। 
সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। 
• ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। 
• বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। 
• মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
• জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে। 
• ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৬৯.
খাওয়ার পর শর্করা কোন পদার্থে পরিণত হয়? 
  1. ফ্রুক্টোজ
  2. সেলুলোজ
  3. গ্লুকোজ
  4. ল্যাকটোজ
সঠিক উত্তর:
গ্লুকোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা

শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate): 
- শর্করাজাতীয় খাদ্য শরীরে কাজ করার শক্তি যোগায়। 
- শর্করার মৌলিক উপাদান কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন। 
- উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড, পাতা, ফুল, ফল ও বীজে শর্করা বিভিন্নরূপে জমা থাকে। 
- ফলের রসের গ্লুকোজ, দুধের ল্যাকটোজ, গম, আলু, চাল ইত্যাদি শর্করাজাতীয় খাদ্যের বিভিন্ন রূপ। 
- গঠনপদ্ধতি অনুসারে শর্করাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
- নিচের এই তিন ধরনের শর্করার গঠন এবং উৎস দেখানো হলো-

- প্রধানত চাল, গম, আলু থেকে শ্বেতসার পাওয়া যায়। 
- কাঁচা খাদ্যের শ্বেতসার সহজে হজম হয় না। এজন্য চাল, আটা, আলু ইত্যাদি রান্না করে খাওয়া হয়। 
- খাওয়ার পর শর্করা পরিপাক হয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। 
- দ্বি-শর্করা এবং বহু শর্করা পরিপাকের মাধ্যমে সরল শর্করায় (গ্লুকোজ) পরিণত হয়ে দেহে শোষণযোগ্য হয়। 
- মানব পরিপুষ্টির জন্য সরল শর্করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মানবদেহ শুধু সরল শর্করা শোষণ করতে পারে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৭০.
পয়েন্ট মিউটেশনের ফলে কোন রোগ হয়?
  1. ক) লুই গ্রেগরি ডিজিজ
  2. খ) হান্টিংটনস ডিজিজ
  3. গ) পারকিনসন ডিজিজ
  4. ঘ) আলঝেইমার ডিজিজ
সঠিক উত্তর:
খ) হান্টিংটনস ডিজিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হান্টিংটনস ডিজিজ
ব্যাখ্যা
পয়েন্ট মিউটশনের ফলে হান্টিংটনস রোগ (Huntington’s Disease) হয়। এই রোগ হলে মস্তিষ্ক ঠিকমত কাজ করে না। শরীরের পেশীগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার ক্ষমতা লোপ পায় এবং পরে মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে মৃত্যও ঘটে। সাধারণত চল্লিশ বছরের আগে এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। পয়েন্ট মিউটশনের ফলে সিকেল সেল নামে রক্তকনিকার আরেকটি রোগ হয়।
উৎসঃ বিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণী
১,০৭১.
শর্করা দেহে প্রধানত কোন কাজে সহায়তা করে? 
  1. দেহে শক্তি উৎপাদনে 
  2. কোষের অঙ্গাণুগুলো ধারণে
  3. মল নিষ্কাশনে 
  4. দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষায় 
সঠিক উত্তর:
দেহে শক্তি উৎপাদনে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেহে শক্তি উৎপাদনে 
ব্যাখ্যা

খাদ্য উপাদান: 
- খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক বস্তুর সমন্বয়ে গঠিত, এই রাসায়নিক বস্তুগুলোকে খাদ্য উপাদান বলে। 
- এই উপাদানগুলোর মধ্যে পুষ্টি থাকে, তাই খাদ্য উপাদানকে পুষ্টি উপাদানও বলা হয়। 
- উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে প্রধাণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
১। আমিষ: আমিষ দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে। 
২। শর্করা: শর্করা দেহে শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। 
৩। স্নেহ: স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। 

- এছাড়া আরও তিন ধরনের উপাদানও দেহের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন- 
৪। ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ: ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায় এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উদ্দীপনা যোগায়। 
৫। খনিজ লবণ: খনিজ লবণ দেহের বিভিন্ন জৈবিক কাজে অংশ নেয়। 
৬। পানি: দেহে পানি ও তাপের সমতা রক্ষা করে, এছাড়া কোষের কার্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ ও তার অঙ্গাণুগুলোকে ধারণ করে। 

- খাদ্য উপাদানের বাইরে আরও একটি উপাদান রয়েছে, যেটি কোনো পুষ্টি না জোগালেও একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। 
৭। রাফেজ: রাফেজ বা খাদ্য আঁশ (Fibre) পানি শোষণ করে এবং মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও বৃহদন্ত্র থেকে মল নিষ্কাশনে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৭২.
জেনেটিক ডিসঅর্ডারের জন্য কোনটি দায়ী?
  1. ক) পয়েন্ট মিউটেশন
  2. খ) ক্রোমোজোমের সংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধি
  3. গ) ট্রানসলোকেশন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
জেনেটিক ডিসওর্ডারের কারণ : চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন কীভাবে মাতা-পিতা থেকে সন্তানদের মধ্যে উপরিউক্ত রোগগুলো সঞ্চালিত হয় এবং কী ধরনের অনিয়মের কারণে রোগগুলো ঘটে। যে সকল অনিয়মের কারণে
মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের রোগের সৃষ্টি হয় তা হলো-
(ক) পয়েন্ট মিউটেশন (জিনের পরিব্যপ্তি, এমনকি একটি নিউক্লিয়োটাইডের পরিব্যপ্তি),
(খ) ক্রোমোসোম সংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধি,
(গ) মায়োসিস কোষ বিভাজনের সময় হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের বিচ্ছিন্নকরণ না ঘটা (Non-disjunction) অ্যানাফেজ দশায় দু’মেরুতে সম-সংখ্যক ক্রোমোসোম বিতরণ না হওয়া) এবং
(ঘ) অসমসত্ত্ব ক্রোমোসোমের মধ্যে অংশের বিনিময় (Translocation) ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৭৩.
মানবদেহের কোথায় শর্করা পরিপাককারী কোনো এনজাইম নেই? 
  1. লালা রসে
  2. আন্ত্রিক রসে
  3. অগ্ন্যাশয় রসে
  4. পাকস্থলি রসে
সঠিক উত্তর:
পাকস্থলি রসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকস্থলি রসে
ব্যাখ্যা
খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা: 
- মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে। 
- মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে। 
- মূলতঃ তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়। 
- লালারসে মিউসিন এবং দু’প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম যথা- টায়ালিন ও মলটেজ থাকে। 

- যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে- 
১. লালা রসে: টায়ালিন ও মলটেজ। 
২. পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই। 
৩. অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ। 
৪. আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৭৪.
নিচের কোনটি প্রোটিনের অভাব জনিত রোগ?
  1. রিকেটস
  2. গলগন্ড
  3. মেরাসমাস
  4. বেরিবেরি
সঠিক উত্তর:
মেরাসমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেরাসমাস
ব্যাখ্যা
প্রোটিনের অভাবজনিত রোগঃ
খাদ্যে প্রোটিনের অভাব হলে 'মেরাসমাস' ও 'কোয়াশিয়রকর' নামক দুটি রোগ হয়।
মেরাসমাস রোগে পেশী ও মেদ ক্ষয় হয় ও চামড়া কুচকে যায়, দেহের বৃদ্ধি থেমে যায়, ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে শতকরা ৬০ ভাগ কমে যায়, কম বয়সে এ রোগ হলে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
সাধারণত ২ - ৪ বছর বয়সে শিশুদের খাদ্যে আমিষের অভাব হলে কোয়াশিয়রকর রোগ হয়। এ রোগে শিশুদের দেহের বৃদ্ধি থেমে যায়, পেশী ক্ষয় হতে থাকে, পানি জমে শরীর ফুলে যায়, রক্তাল্পতা দেখা দেয় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়। 
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।
১,০৭৫.
সমগ্র বৃক্ক স্বচ্ছ ও পাতলা কোন ধরনের ঝিল্লী দ্বারা আবৃত থাকে? 
  1. ইকোকার্ডিয়াম
  2. প্লুরা
  3. পেরিটোনিয়াম
  4. পেরিকার্ডিয়াম
সঠিক উত্তর:
পেরিটোনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরিটোনিয়াম
ব্যাখ্যা
বৃক্ক: 
- বৃক্ক মেরুদণ্ডী প্রাণীদের প্রধান রেচন অঙ্গ। 
- মানুষের উদরগহ্বরের পশ্চাৎ মেরুদণ্ডের উভয় পাশে একটি করে মোট দুটি বৃক্ক থাকে। 
- পূর্ণাঙ্গ মানুষের প্রতিটি বৃক্ক প্রায় ১১-১২ সে.মি. লম্বা, ৫-৬ সে.মি. প্রস্থ এবং ৩ সে.মি. পুরু হয়। 
- সজীব অবস্থায় বৃক্কের রং খয়েরি লাল। 
- আকৃতিতে অনেকটা শীম বীজের মত। 
- এর বাইরের দিক উত্তল এবং ভেতরের দিক অবতল। 
- অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাম (hilum) বলে। 
- এর ভেতর দিয়ে ইউরেটার ও রেনাল শিরা বের হয় এবং রেনাল ধমনী ও স্নায়ু বৃক্কে প্রবেশ করে। 
- সমগ্র বৃক্ক স্বচ্ছ ও পাতলা পেরিটোনিয়াম ঝিল্লী দ্বারা আবৃত থাকে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৭৬.
O রক্ত গ্রুপের ব্যক্তি রক্ত দান করতে পারেন -
  1. কেবল A ও B গ্রুপের ব্যক্তিকে
  2. শুধুমাত্র AB গ্রুপের ব্যক্তিকে
  3. কেবলমাত্র O গ্রুপের ব্যক্তিকে
  4. সব রক্ত গ্রুপের ব্যক্তিকে
সঠিক উত্তর:
সব রক্ত গ্রুপের ব্যক্তিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সব রক্ত গ্রুপের ব্যক্তিকে
ব্যাখ্যা
সব রক্ত গ্রুপের ব্যক্তিকে O রক্ত গ্রুপের ব্যক্তি রক্ত দান করতে পারেন।

• রক্তের গ্রুপ:
- লোহিত রক্ত কণিকার প্লাজমা মেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণীবিন্যাসকে 'রক্ত গ্রুপ' বলে।
- রক্ত কণিকায় অ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণীবিন্যাস, তা ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত।
- মানুষের রক্তে A ও B এ দু'ধরনের অ্যান্টিজেন থাকতে পারে।

• O রক্তের গ্রুপ:
- O রক্তের গ্রুপের লোকেরা সাধারণত সর্বজনীন রক্ত দাতা হিসাবে পরিচিত এবং শুধুমাত্র O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে।

• AB রক্তের গ্রুপ:
- AB রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয় কারণ সব গ্রুপের রক্ত এটি গ্রহণ করতে পারে এবং শুধুমাত্র AB রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত দান করতে পারে।

• A রক্তের গ্রুপ:
- A রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র A এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে এবং টাইপ A এবং AB ব্যক্তিদের দান করতে পারে।

• B রক্তের গ্রুপ:
- B রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র B এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে এবং B এবং AB গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত দান করতে পারে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৭৭.
Brood pouch কোন মাছে থাকে?
  1. Sea horse
  2. তিমি
  3. হাঙ্গর
  4. ম্যাকারেল
সঠিক উত্তর:
Sea horse
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Sea horse
ব্যাখ্যা

• ব্রুড পাউচ (Brood Pouch):
- ব্রুড পাউচ হলো একটি বিশেষ ধরনের গর্ভধারণের পাউচ যা কিছু মাছের মধ্যে থাকে, যেখানে পুরুষ মাছ তার ডিম বা বাচ্চাদের নিরাপদে রাখে।
- এটি মূলত প্রজননের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং বাচ্চাদের নিরাপত্তা ও পুষ্টি দেয়।
- ব্রুড পাউচের মাধ্যমে ডিমগুলি পরিপক্ব হয়ে মাছের দেহ থেকে বের হয়।

• কোন মাছে থাকে? 
- ব্রুড পাউচ মূলত সি হর্সে (Sea Horse) দেখা যায়।
- সি হর্সের পুরুষ মাছই ডিমের যত্ন নেয় এবং তাদের ব্রুড পাউচে ডিম রাখে যতক্ষণ না তারা ফেটে বের হয়।
- অন্য মাছ যেমন তিমি, হাঙ্গর, বা ম্যাকারেল এ ধরনের ব্রুড পাউচ নেই।

- সুতরাং, ব্রুড পাউচ থাকা মাছ হলো -সি হর্স (Sea Horse). 
- সঠিক উত্তর: ক) Sea horse.

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল। 

১,০৭৮.
জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি আলোচনা হয় কোন শাখায়?
  1. ক) হিস্টোলজি
  2. খ) সাইটোলজি
  3. গ) এমব্রায়োলজি
  4. ঘ) ইভোলিউশন
সঠিক উত্তর:
ক) হিস্টোলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হিস্টোলজি
ব্যাখ্যা
হিস্টোলজি (Histology): জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস এবং কার্যাবলি এ শাখায় আলোচনা করা হয়৷
ভ্রূণবিদ্যা (Embryology): জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগােট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলােচনা এ শাখার প্রধান বিষয়।
কোষবিদ্যা (Cytology): জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা এ শাখার বিষয়৷
বিবর্তনবিদ্যা (Evolution): পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহ এ শাখার আলোচনার বিষয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৭৯.
বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে বের করার প্রক্রিয়াকে কী বলা হয়?
  1. হজম প্রক্রিয়া 
  2. রেচন প্রক্রিয়া
  3. শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া 
  4. রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
রেচন প্রক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেচন প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা

রেচনতন্ত্র (Excretory system): 
- বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় বিপাক ক্রিয়ার ফলে শরীরে উপজাত দ্রব্য হিসেবে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয়। 
- এসব বর্জ্য পদার্থ সাধারণত দেহের জন্য ক্ষতিকর এবং দেহ থেকে নিষ্কাশনের প্রয়োজন হয়। 
- দেহ থেকে এসব অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন করার পদ্ধতিকে রেচন প্রক্রিয়া বলে। 
- যে তন্ত্রের সাহায্যে রেচন প্রক্রিয়া সম্পাদিত হয়, তাকে রেচনতন্ত্র বলে। 
- একজোড়া বৃক্ক, একজোড়া ইউরেটার, একটি মূত্রথলি এবং একটি মূত্রনালি (ইউরেথ্রা) নিয়ে মানুষের রেচন তন্ত্র গঠিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৮০.
কোনটি হৃদরোগের ধরন নয়?
  1. অ্যানজাইনা পেকটোরিস
  2. মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন
  3. সিস্টিক ফাইব্রোসিস
  4. করোনারি অ্যাথেরোমা
সঠিক উত্তর:
সিস্টিক ফাইব্রোসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিস্টিক ফাইব্রোসিস
ব্যাখ্যা
• সিস্টিক ফাইব্রোসিস হৃদরোগের ধরন নয়। 

• হৃদরোগ:
- হৃদরোগ বলতে হৃৎপিণ্ড এবং রক্তবাহী নালীগুলোকে (ধমনী, শিরা, এবং কৈশিক জালিকা) প্রভাবিত করে এমন রোগগুলোকে বোঝায়।

• হৃদরোগের কারণ:
- অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যকলাপের অভাব, ধূমপান, মদ্যপান, এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।  
- উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, এবং স্থূলতা হৃদরোগের প্রধান কারণ।  
- হৃদরোগের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।  
- বয়স বাড়ার সাথে সাথে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।  
- সাধারণত পুরুষদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। 

• হৃদরোগ সাধারণত কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। যথা:
→ অ্যানজাইনা পেকটোরিস (Angina Pectoris):
- এটি হৃদরোগের একটি সাধারণ ধরন।
- যখন হৃৎপিণ্ড পর্যাপ্ত অক্সিজেন-যুক্ত রক্ত পায় না, তখন বুকের ব্যথা বা চাপ অনুভূত হয়—এটিই অ্যানজাইনা।
- এটি সাধারণত করোনারি ধমনীতে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে হয়।
- এটিকে সাধারণত হার্ট অ্যাটাকের পূর্বাবস্থা মনে করা হয়। 

→ মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (Myocardial Infarction):
- এটি হার্ট অ্যাটাক নামেও পরিচিত।
- হৃৎপিণ্ডের পেশিতে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ না হলে পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এটিই মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন।

→ করোনারি অ্যাথেরোমা (Coronary Atheroma):
- এটি হলো ধমনীতে চর্বি জমা হওয়া, যা করোনারি হার্ট ডিজিজের মূল কারণ।
- এটি রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।

অন্যদিকে,
• সিস্টিক ফাইব্রোসিস (Cystic Fibrosis) কোনো হৃদরোগ নয়।
- এটি একটি ফুসফুসজনিত ও পরিপাকতন্ত্র সম্পর্কিত জেনেটিক (বংশগত) রোগ।
- এটি প্রধানত ফুসফুস ও পরিপাকতন্ত্রে ঘন ও আঠালো শ্লেষ্মা সৃষ্টি করে।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
- National Institutes of Health (NIH).
১,০৮১.
কোনটিকে পৃথকীকরণ সূত্র বলা হয়?
  1. ক) মেন্ডেলের ২য় সূত্র
  2. খ) মেন্ডেলের ১ম সূত্র
  3. গ) মেন্ডেলের ৩য় সূত্র
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
খ) মেন্ডেলের ১ম সূত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মেন্ডেলের ১ম সূত্র
ব্যাখ্যা
মেন্ডেলের বংশগতির প্রথম সূত্র:
‘জীবের প্রতিটি বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি একক দায়ী থাকে যাকে ফ্যাক্টর (জিন) বলা হয় এবং ফ্যাক্টর বা জিনগুলো জোড়ায় জোড়ায় থাকে। সঙ্কর (hybrid) জীবে ফ্যাক্টর বা জিনগুলো মিশ্রিত না হয়ে পাশাপাশি অবস্থান করে এবং গ্যামিট উৎপাদনের সময় অপরিবর্তিত অবস্থায় পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গ্যামিটে গমন করে'। একে পৃথকীকরণ সূত্র বা মনোহাইব্রিড ক্রসের সূত্রও বলে।

মেন্ডেল এর বংশগতির দ্বিতীয় সূত্র:
‘দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন জীবে সঙ্করায়ন ঘটালে গ্যামিট সৃষ্টিকালে প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের ফ্যাক্টর বা জিন যুগলের স্বাধীন সঞ্চারণ বা বিন্যাস ঘটে এবং কোন একটি ফ্যাক্টর যুগলের সঞ্চারণ অন্য ফ্যাক্টর যুগলের উপর নির্ভরশীল নয়' । একে স্বাধীন সঞ্চারণ বা ডাইহাইব্রিড ক্রস সূত্রও বলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,০৮২.
ইনসুলিন তৈরিতে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) E.coli
  2. খ) ইস্ট
  3. গ) PRSV
  4. ঘ) ক ও খ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
- ইস্ট ও E.Coli ব্যাকটেরিয়া থেকে ইনসুলিন তৈরি হয়।
- হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের ওষুধ তৈরিতে ইস্ট নামক ছত্রাক ব্যবহৃত হয়।

উৎস: মাধ্যমিক জীব বিজ্ঞান, পৃষ্ঠা-৩১৩
১,০৮৩.
নিউরনের প্রধান অংশ -
  1. এক্সন
  2. ডেনড্রন
  3. কোষদেহ
  4. সিন্যাপস
সঠিক উত্তর:
কোষদেহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোষদেহ
ব্যাখ্যা

স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একককে স্নায়ুকোষ বা নিউরন বলে।
নিউরন দুইটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত।
যথাঃ ১) কোষদেহ ও ২) প্রলম্বিত অংশ।

কোষদেহ নিউরনের প্রধান অংশ।

প্রলম্বিত অংশ দুই প্রকার।
যথাঃ ১)এক্সন এবং ২) ডেনড্রন

একটি স্নায়ুকোষের এক্সন অন্য একটি স্নায়ুকোষের ডেনড্রাইটের মিলিত হওয়ার স্থানকে সিন্যাপস বলে। সিন্যাপসের মাধ্যমেই স্নায়ুতাড়না এক কোষ থেকে অন্য স্নায়ুকোষে পরিবাহিত হয়।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি

১,০৮৪.
আদর্শ খাদ্য পিরামিডে কোন খাদ্য উপাদান সবচেয়ে নিচে অবস্থান করে?
  1. আমিষ
  2. ফলমূল
  3. স্নেহ ও চর্বি
  4. শর্করা
সঠিক উত্তর:
শর্করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্করা
ব্যাখ্যা
আদর্শ খাদ্য পিরামিড: 
- যেকোনো একটি সুষম খাদ্যতালিকায় শর্করা, ভিটামিন ও খনিজ, আমিষ ও স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য এবং ফাইবার অন্তর্ভুক্ত থাকে। 
- একজন কিশোর বা কিশোরী, প্রাপ্তবয়স্ক একজন পুরুষ বা মহিলার সুষম খাদ্যতালিকা লক্ষ্য করলে দেখা যায়, তালিকায় শর্করার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- শর্করাকে নিচে রেখে পরিমাণগত দিক বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে শাকসবজি, ফলমূল, আমিষ এবং স্নেহ ও চর্বিজাতীয় খাদ্য সাজালে যে কাল্পনিক পিরামিড তৈরি হয়, তাকে আদর্শ খাদ্য পিরামিড বলে। 

- চিত্রে এই পিরামিডের সবচেয়ে উপরে রয়েছে স্নেহ বা চর্বিজাতীয় খাদ্য আর সবচেয়ে নিচে রয়েছে শর্করা। 
- মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাবার তালিকায় যেসব খাবার থাকে, তা এই চিত্রে পিরামিডের আকারে দেখানো হয়েছে। 
- পিরামিডের অংশগুলো তার আকার অনুযায়ী নিচের দিকে চওড়া এবং উপরের দিকে সরু। 
- সবচেয়ে চওড়া অংশে ভাত, আলু, রুটি এসব, এগুলো বেশি করে খেতে হবে। 
- তার পরের অংশে আছে শাকসবজি এবং ফলমূল, এসব ভাত, রুটির চেয়ে কম খেতে হবে। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, পনির, ছানা, দই আরও কম পরিমাণে খেতে হবে। 
- তেল, চর্বি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার সবচেয়ে কম খাওয়া উচিত। 
- মানুষের প্রতিদিনের খাবার এই খাদ্য পিরামিড অনুযায়ী বেছে নিতে হবে, তবেই মানুষ সহজে সুষম খাদ্য নির্বাচন করতে পারবে। 
- কোনো কিছু খেতে ভালো লাগলে অনেক সময় বেশি খেয়ে নেই যা সুস্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। তাই সবারই পরিমিত পরিমাণ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, সেই সঙ্গে খাদ্য গ্রহণের নিয়মনীতি এবং সময় মেনে চলতে হবে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৮৫.
জীব কোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে কোনটি?
  1. লাইসোজোম
  2. রাইবোজোম
  3. সেন্ট্রোসোম
  4. কোষ গহ্বর
সঠিক উত্তর:
লাইসোজোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইসোজোম
ব্যাখ্যা
• লাইসোজোম:
- লাইসোজোম জীব কোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে
- দেহে অক্সিজেনের অভাব হলে বা বিভিন্ন কারণে লাইসোজোমের পর্দা ক্ষতিগ্রস্থ হলে এর আশেপাশের অঙ্গগুলো নষ্ট হয়ে যায়। কোষটি মারা যায়না।

• রাইবোজোম:
- প্রাণী এবং উদ্ভিদ উভয় ধরণের কোষেই এদের পাওয়া যায়।
- রাইবোজোম প্রোটিন সংশ্লেষণে সাহায্য করে।

• সেন্ট্রোসোম:
- প্রাণীকোষে পাওয়া যায়।
- প্রাণীকোষের নিউক্লিয়াসের কাছে দুটি ফাঁপা নলাকার বা দণ্ডাকার অঙ্গাণু দেখা যায়, তাদের সেন্ট্রিওল বলে।

• কোষগহ্বর:
- সাইটোপ্লাজমে কোষের মধ্যে যে আপাত ফাঁকা স্থান দেখা যায়, সেগুলোই চচ্ছে কোষগহ্বর।
- কোষগহ্বর এর প্রধান কাজ কোষরস ধারণ করা।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
১,০৮৬.
মাছ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয়-
  1. ক) Herpetology
  2. খ) Ornithology
  3. গ) Ichthyology
  4. ঘ) Entomology
সঠিক উত্তর:
গ) Ichthyology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) Ichthyology
ব্যাখ্যা

- মাছ সম্পর্কিত বিদ্যাকে Ichthyology বলে।
- পাখি সম্পর্কিত বিদ্যাকে Ornithology বলে।
- উভচর ও সরীসৃপ বিষয়ক বিদ্যাকে Herpetology বলে।
- কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে কীটতত্ত্ব বা Entomology বলে।

উৎসঃ প্রাণিবিদ্যা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৮৭.
'অভিব্যক্তি' বলতে কী বোঝায়? 
  1. জীবের অপরিবর্তিত থাকা 
  2. ধারাবাহিক পরিবর্তন ছাড়া হঠাৎ রূপান্তর 
  3. পরিবেশের প্রভাবে অস্থায়ী পরিবর্তন 
  4. জীবের ধীর ধারাবাহিক রূপান্তরের মাধ্যমে নতুন রূপ ধারণ করা 
সঠিক উত্তর:
জীবের ধীর ধারাবাহিক রূপান্তরের মাধ্যমে নতুন রূপ ধারণ করা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবের ধীর ধারাবাহিক রূপান্তরের মাধ্যমে নতুন রূপ ধারণ করা 
ব্যাখ্যা

বিবর্তন: 
- বিবর্তন একটি জৈবিক পদ্ধতি, এর প্রকৃত অর্থ হলো ক্রমবিকাশ।
- পৃথিবীতে বর্তমানে যত জীব রয়েছে তারা বিভিন্ন সময়ে এ ভূমণ্ডলে আবির্ভূত হয়েছে, আবার অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী সময়ের আবর্তে বিলুপ্ত হয়েছে। যেমন- ডাইনোসর আজ থেকে কয়েক মিলিয়ন বছর আগে বিলুপ্ত হয়েছে, আবার কোন কোন জীব ধীর গতিতে পরিবর্তন ঘটিয়ে এখনও টিকে আছে। 
- কয়েক লক্ষ বা হাজার বছর সময়ের ব্যাপকতায় জীব প্রজাতির পৃথিবীতে আবির্ভাব ও টিকে থাকার জন্য যে পরিবর্তন ও অভিযোজন প্রক্রিয়া তাকে জৈব বিবর্তন বলা হয়। 

- হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টেফেন জে. গোল্ড (১৯৯১) এর মতে 'Evolution' পরিপদটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন জার্মান জীববিদ Albrecht von Haller (১৭৭৪ সালে)। 
- তিনি বলেন ধীর অথচ ক্রমাগত ও পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কোন সত্ত্বা সরল থেকে জটিল হওয়ার ধারাবাহিক পরিবর্তনই বিবর্তন। 
- কোন প্রাণী বা উদ্ভিদ ধীরে ধীরে ধারাবাহিক রূপান্তরের মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রাণী বা উদ্ভিদ এ পরিণত হওয়াকে অভিব্যক্তি বলা হয়। 
- অভিব্যক্তির মূল কথা হলো প্রজাতিগুলো পরিবর্তনযোগ্য অর্থাৎ দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে জীবের চেহারায় পরিবর্তন ঘটে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৮৮.
ভালো কোলেস্টেরল বলা হয় কোনটিকে?
  1. HDL
  2. LDL
  3. Tryglyceride
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
HDL
উত্তর
সঠিক উত্তর:
HDL
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- ভালো কোলেস্টেরল বলা হয় HDL কে।

কোলেস্টেরল:
- কোলেস্টেরল হাইড্রোকার্বন উচ্চশ্রেণীর প্রানিজ কোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কোলেস্টেরল লিপোপ্রোটিন নামক যৌগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তে প্রবাহিত হয়। রক্তে তিন ধরণের লিপোপ্রোটিন দেখা যায়।

 LDL(LOW DENSITY LIPOPROTEIN):
- একে খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয়। কারণ এটি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। সাধারণত আমাদের রক্তে 70% LDL থাকে। ব্যক্তিবিশেষে এই পরিমাপের পার্থক্য দেখা যায়।

HDL(HIGH DENSITY LIPOPROTEIN):
- একে ভালো কোলেস্টেরল বলা হয়। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

ট্রাইগ্লিসারাইড(Tryglyceride):
- এটি চর্বি হিসেবে রক্তের প্লাজমায় অবস্থান করে। ট্রাইগ্লিসারাইড আমাদের খাদ্যের প্রানিজ চর্বি অথবা কার্বোহাইড্রেট থেকে তৈরি হয়ে থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী

১,০৮৯.
কোন প্রাণী স্তন্যপায়ী হওয়া সত্ত্বেও ডিম দেয়?
  1. বাদুড়
  2. প্লাটিপাস
  3. গণ্ডার
  4. হাঙ্গর
সঠিক উত্তর:
প্লাটিপাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লাটিপাস
ব্যাখ্যা
• সংযোগকারী জীব:
- জীবজগতে এমন কিছু জীবের অস্তিত্ব দেখা যায়, যাদের মধ্যে দুটি জীবগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে।
- এ ধরনের জীবকে সংযোগকারী জীব বা কানেকটিং লিংক (Connecting link) বলে.
- উদাহরণ: প্লাটিপাস।
- প্লাটিপাসের মধ্যে সরীসৃপ এবং স্তন্যপায়ী উভয় ধরনের প্রাণীরই বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
- প্লাটিপাস সরীসৃপের মতো ডিম পাড়ে।
- অন্যদিকে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মতো এদের বুকে রয়েছে দুগ্ধগ্রন্থি।
- এদের ডিম ফুটে শাবক জন্মালে এরা শাবককে স্তন্য পান করায়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৯০.
মাংসাশী মাছ কোনটি? 
  1. Channa
  2. Catla
  3. Labeo
  4. Cirhina
সঠিক উত্তর:
Channa
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Channa
ব্যাখ্যা

মাংসাশী মাছ (Carnivorous Fish):

- মাংসাশী মাছ হলো সেই সকল মাছ যারা প্রধানত অন্যান্য ছোট মাছ, পোকামাকড় বা জলজ প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে।
- এদের দাঁত ও মুখের গঠন শিকার ধরার উপযোগী হয়।
- এরা সাধারণত শিকারি স্বভাবের হয় এবং দ্রুত আক্রমণ করতে পারে।

• Channa:
- Channa সাধারণভাবে শোল বা টাকি মাছ নামে পরিচিত।
- এটি একটি সুপরিচিত মাংসাশী মাছ।
- ছোট মাছ, ব্যাঙ, পোকামাকড় ইত্যাদি খেয়ে থাকে।
- এদের শিকারি স্বভাব খুব স্পষ্ট।

• Catla:
- Catla একটি নিরামিষভোজী/অর্ধ-নিরামিষভোজী মাছ।
- এটি মূলত প্ল্যাঙ্কটন ও জলজ উদ্ভিদ খায়।
- মাংসাশী মাছ নয়।

• Labeo:
- Labeo জাতের মাছ (যেমন: রুই) সাধারণত উদ্ভিদভোজী।
- শৈবাল ও জলজ উদ্ভিদ এদের প্রধান খাদ্য।
- এরা মাংসাশী নয়।

• Cirhina:
- Cirhina (মৃগেল) মাছও মূলত উদ্ভিদভোজী।
- কাদা ও জলজ উদ্ভিদ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে।
- মাংসাশী বৈশিষ্ট্য নেই।

সুতরাং, প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে একমাত্র মাংসাশী মাছ হলো Channa.
সঠিক উত্তর: ক) Channa.

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৯১.
মনেরা কিংডম এর অন্তর্ভুক্ত প্রাণী কোনটি?
  1. ক) ব্যাকটেরিয়া
  2. খ) এমিবা
  3. গ) ইস্ট
  4. ঘ) গরু
সঠিক উত্তর:
ক) ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া এবং নীলাভ সবুজ শৈবাল- এগুলো মনেরা কিংডম এর অন্তর্ভুক্ত প্রাণী।
মনেরা রাজ্যের বৈশিষ্ট্য-
১. এরা একের পর এক কোষ লম্বালম্বিভাবে যুক্ত হয়ে ফিলামেন্ট গঠন করে।
২. কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে; কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই।
৩. এদের কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা নেই; কিন্তু রাইবোসোম আছে।
৪. কোষ বিভাজন দ্বি-বিভাজন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়।
৫. এরা সাধারণত শোষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য গ্রহণ করে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৯২.
ব্লাড গ্রুপ-A তে কোন অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডি থাকে? 
  1. A অ্যান্টিজেন, অ্যান্টি-B অ্যান্টিবডি 
  2. B অ্যান্টিজেন, অ্যান্টি-A অ্যান্টিবডি 
  3. A ও B অ্যান্টিজেন, কোনো অ্যান্টিবডি নেই 
  4. কোনো অ্যান্টিজেন নেই, A ও B অ্যান্টিবডি থাকে 
সঠিক উত্তর:
A অ্যান্টিজেন, অ্যান্টি-B অ্যান্টিবডি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
A অ্যান্টিজেন, অ্যান্টি-B অ্যান্টিবডি 
ব্যাখ্যা

রক্তের গ্রুপ: 
- বিভিন্ন ব্যক্তির লোহিত রক্ত কণিকায় A এবং B নামক দুই ধরনের অ্যান্টিজেন (antigens) থাকে এবং রক্তরসে a ও b দু'ধরনের অ্যান্টিবডি (antibody) থাকে।
- এই অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে মানুষের রক্তকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা যায়, একে ব্লাড গ্রুপ বলে। 
- বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার 1901 সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করে তা A, B, AB এবং O- এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন। 
- সাধারণত একজন মানুষের রক্তের গ্রুপ আজীবন একই রকম থাকে। 
- রক্তে বিভিন্ন অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির উপস্থিতির ভিত্তিতে ব্লাড গ্রুপকে এভাবে বর্ণনা করা যায়। 
যেমন- 
গ্রুপ A: এ শ্রেণির রক্তে A অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-B অ্যান্টিবডি (সংক্ষেপে b অ্যান্টিবডি) থাকে। 
• গ্রুপ B: এ শ্রেণির রক্তে B অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টি-A অ্যান্টিবডি (সংক্ষেপে a অ্যান্টিবডি) থাকে। 
• গ্রুপ AB: এই শ্রেণির রক্তে A ও B অ্যান্টিজেন থাকে এবং কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না। 
• গ্রুপ O: এ শ্রেণির রক্তে কোনো অ্যান্টিজেন থাকে না কিন্তু a ও b অ্যান্টিবডি থাকে। 
• O গ্রুপের রক্তবিশিষ্ট ব্যক্তি সব গ্রুপের রক্তের ব্যক্তিকে রক্ত দিতে পারে, এদের বলা হয় সর্বজনীন রক্তদাতা (universal donor)। 
• AB রক্তধারী ব্যক্তি যেকোনো ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ করতে পারে, তাই তাকে সর্বজনীন রক্তগ্রহীতা (universal recipient) বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,০৯৩.
পারকিনসন রোগের লক্ষণ নয় কোনটি?
  1. নড়াচড়ায় কষ্ট হওয়া
  2. সোজাসুজি হাঁটার সমস্যা
  3. রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যাওয়া
  4. মাংসপেশির কার্যকারিতা হ্রাস
সঠিক উত্তর:
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যাওয়া
ব্যাখ্যা

• রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যাওয়া বা হাইপোগ্লাইসেমিয়া মূলত বিপাকীয় বা হরমোনজনিত (যেমন ইনসুলিন) সমস্যা, যা পারকিনসন রোগের কোনো লক্ষণ নয়।

• পারকিনসন:
- পারকিনসন রোগটি স্নায়ুর ক্ষয়জনিত রোগ।পারকিনসন রোগ মস্তিষ্কের এমন এক অবস্থা, যেখানে হাতে ও পায়ের কাঁপুনি হয় এবং আক্রান্ত রোগীর নড়াচড়া, হাঁটাহাঁটি করতে সমস্যা হয়।

- এ রোগ সাধারণত ৫০ বছর বয়সের পরে হয়। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে যুবক-যুবতীদেরও হতে পারে। এই ক্ষেত্রে রোগটি তার বংশে রয়েছে বলে ধরা হয়।
- স্নায়ু কোষ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে থাকে, যার একটি হলো ডোপামিন।
- ডোপামিন শরীরের পেশির নড়াচড়ায় সাহায্য করে। পারকিনসন রোগাক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়।
- ডোপামিন ছাড়া ঐ স্নায়ু কোষগুলো পেশি কোষগুলোতে সংবেদন পাঠাতে পারে না। ফলে মাংসপেশি তার কার্যকারিতা হারায়।

• পারকিনসন রোগের লক্ষণ:
- রোগীর হাত-পা কাঁপতে থাকে। ফলে চলাফেরা বিঘ্নিত হয়।
- চোখের পাতার কাঁপুনি।
- কোষ্ঠকাঠিন্য।
- খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া।
- সোজাসুজি হাঁটার সমস্যা।
- কথা বলার সময় মুখের বাচনভঙ্গি না আসা অর্থাৎ মুখ অনড় থাকা মাংসপেশিতে টান পড়া বা ব্যথা হওয়া।
- নড়াচড়ায় কষ্ট হওয়া। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

১,০৯৪.
খাদ্যকে মুখবিবর থেকে অন্ননালিতে পৌঁছে দেয় কোনটি?
  1. ক) মুখ
  2. খ) গলবিল
  3. গ) মুখবিবর
  4. ঘ) ক্ষুদ্রান্ত্র
সঠিক উত্তর:
খ) গলবিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গলবিল
ব্যাখ্যা
গলবিল:
- মুখবিবরের ঠিক পেছনে প্রায় ১০ সে.মি. দীর্ঘ চওড়া অংশকে গলবিল বলে। 
- গলবিল খাদ্যকে মুখবিবর থেকে অন্ননালিতে পৌঁছে দেয়

অন্ননালি
- গলবিলের ঠিক পেছনে প্রায় ২৫ সে.মি. লম্বা নলাকার অংশই অন্ননালি যা, শ্বাসনালির পেছন ও বক্ষ গহ্বরের মধ্যে দিয়ে উদরে অবস্থিত পাকস্থলিতে শেষ হয়।
- অন্ননালির পেশির সংকোচনে খাদ্যদ্রব্য নালি পথে পাকস্থলিতে প্রবেশ করে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০৯৫.
Oryza sativa কোন উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম?
  1. গম
  2. ধান
  3. পাট
  4. ভুট্টা
সঠিক উত্তর:
ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধান
ব্যাখ্যা
কয়েকটি জীবের দ্বিপদ নাম: 
• সাধারণ নাম ⇔ বৈজ্ঞানিক নাম: 
- পাট ⇔ Corchorus capsularis
- আম ⇔ Mangifera indica
- কাঁঠাল ⇔ Artocarpus heterophyllus
- শাপলা ⇔ Nymphaea nouchali
- ধান ⇔ Oryza sativa
- জবা ⇔ Hibiscus rosa-sinensis
- কলেরা জীবাণু ⇔ Vibrio cholerae
- ম্যালেরিয়া জীবাণু ⇔ Plasmodium vivax
- আরশোলা ⇔ Periplaneta americana
- মৌমাছি ⇔ Apis indica
- ইলিশ ⇔ Tenualosa ilisha
- দোয়েল ⇔ Copsychus saularis
- রয়েল বেঙ্গল টাইগার ⇔ Panthera tigris,
- মানুষ ⇔ Homo sapiens এবং 
- কুনো ব্যাঙ ⇔ Duttaphrynus melanostictus (Bufo melanostictus)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৯৬.
রক্তের pH মাত্রা সাধারণত গড়ে কত?
  1. ৬.৫–৬.৮
  2. ৮.৫–৯.০
  3. ৭.৩–৭.৪
  4. ৭.৮–৮.০
সঠিক উত্তর:
৭.৩–৭.৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭.৩–৭.৪
ব্যাখ্যা

রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা। 
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। 
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়, এর pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪। 
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬°-৩৮° সেলসিয়াস। 
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। 
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 

রক্তের উপাদান: 
- মানব দেহের রক্ত প্রধানতঃ রক্তরস ও রক্ত কণিকা নিয়ে গঠিত। 
- স্থিতি অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখলে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 
- উপরের হালকা হলুদ বর্ণের প্রায় ৫৫% যে অংশ থাকে তাকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে এবং নিচের গাঢ়তর বাঁকি ৪৫% অংশকে রক্ত কণিকা (Blood corpuscles) বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে রক্ত কণিকাগুলো রক্ত রসে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতিতে রক্ত লাল দেখায়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০৯৭.
ভাইরাস একটি -
  1. কোষহীন জীব
  2. এককোষী জীব
  3. দ্বিকোষী জীব
  4. বহুকোষী জীব
সঠিক উত্তর:
কোষহীন জীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোষহীন জীব
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য :
ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে, আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে।
তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 

ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে।
- পােষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে।
- এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়।
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম।
নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে।

ভাইরাসের জড় বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাস অকোষীয়। এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবােসােম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না।
- এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত।
- এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না।
- ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়।
- জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে।

উৎস:  জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,০৯৮.
হিমোগ্লোবিনের অভাবে নিচের কোনটি দেখা যায়?
  1. ক) অ্যানিমিয়া
  2. খ) ফ্যাগোসাইটোসিস
  3. গ) লিউকোমিয়া
  4. ঘ) অণুচক্রিকা
সঠিক উত্তর:
ক) অ্যানিমিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অ্যানিমিয়া
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিনের উপস্থিতির কারণে রক্ত লাল দেখায়। রক্তে উপযুক্ত পরিমাণ হিমোগ্লোবিন না থাকলে রক্তাল্পতা বা রক্তশূণ্যতা (Anemia) দেখা যায়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০৯৯.
সজীব রক্তের গড় তাপমাত্রা কত?
  1. ২৮°–৩০° সেলসিয়াস
  2. ৩৬°–৩৮° সেলসিয়াস
  3. ৩০°–৩২° সেলসিয়াস
  4. ৪০°–৪২° সেলসিয়াস
সঠিক উত্তর:
৩৬°–৩৮° সেলসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৬°–৩৮° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

- মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা সাধারণত ৯৮.৬° ফারেনহাইট (F) বা ৩৭° সেলসিয়াস (C) ধরা হয়। স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৬° থেকে ৩৮° সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে

রক্ত: 

- রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা। 
- রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। 
- রক্ত সামান্য ক্ষারীয়। এর pH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪। 
- সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬°-৩৮° সেলসিয়াস। 
- অজৈব লবণের উপস্থিতিতে রক্ত লবণাক্ত। 
- একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১০০.
মস্তিষ্কের কোন অংশ দেহের ভারসাম্য ও দেহভঙ্গি বজায় রাখতে সহায়তা করে?
  1. ক) সেরেব্রাম
  2. খ) থ্যালামাস
  3. গ) হাইপোথ্যালামাস
  4. ঘ) সেরেবেলাম
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেরেবেলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সেরেবেলাম
ব্যাখ্যা
সেরেব্রাম (অগ্রমস্তিষ্ক)
-  সংবেদী অঙ্গ থেকে আসা অনুভূতি গ্রহণ ও বিশ্লেষণ করে।
- চিন্তা, বুদ্ধি, ইচ্ছাশক্তি, উদ্ভাবনীশক্তি প্রভৃতি উন্নত মানসিক বোধের নিয়ন্ত্রণ করে।
- বিভিন্ন সহজাত প্রবৃত্তির নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
- বাকশক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- দেহের সব ঐচ্ছিক পেশির কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

থ্যালামাস (অগ্রমস্তিষ্ক)
- এটি সংজ্ঞাবহ স্নায়ুর রিলে স্টেশন হিসেবে কাজ করে।
- চাপ, স্পর্শ, যন্ত্রণা প্রভৃতি স্থূল অনুভূতির কেন্দ্র, আবেগের কেন্দ্র ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গের নিয়ন্ত্রক কেন্দ্র হিসেবে কাজ কর
- মানুষের ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক আচরণের প্রকাশ ঘটায়।
- ঘুমন্ত মানুষকে হঠাৎ জাগিয়ে তোলা ও পরিবেশ সম্বন্ধে সতর্ক করে তোলে। 

হাইপোথ্যালামাস (অগ্রমস্তিষ্ক)
- স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুকেন্দ্রের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- দেহতাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ঘাম, ঘুম, রাগ, পীড়ন, ভালোলাগা, ঘৃণা, উদ্বেগ প্রভৃতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে

মেসেনসেফানল (মধ্যমস্তিষ্ক)
- অগ্র ও পশ্চাৎমস্তিষ্কের যোগসূত্র রচনা করে।
- দর্শন ও শ্রবণ তথ্যের সমন্বয় ঘটায় এবং প্রতিবেদন সৃষ্টি করে।

সেরেবেলাম (পশ্চাৎমস্তিষ্ক)
- ঐচ্ছিক চলাফেরাকে নিয়ণ করে।
- ঐচ্ছিক পেশির পেশিটান নিয়ন্ত্রণ করে।
- দেহের ভারসাম্য ও দেহভঙ্গি বজায় রাখে।
- চলাফেরার দিক নির্ধারণ করে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ২য়  পত্র(একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি) - গাজী আজমল ও গাজী আসমত।