বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,২২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাণিবিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ১০ / ২৩ · ৯০১১,০০০ / ২,২২৭

৯০১.
অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় কোনটি?
  1. লালা
  2. পিত্তরস
  3. পেপসিন
  4. হরমোন
সঠিক উত্তর:
হরমোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরমোন
ব্যাখ্যা
• অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় হরমোন।

• 'গ্রন্থি':

- যে সমস্ত অঙ্গসমূহ এক বা একাধিক রাসায়নিক যৌগ উৎপাদন এবং ক্ষরণের কাজে নিয়োজিত থাকে তাকে 'গ্রন্থি' বলে।
- মানবদেহে দুই ধরনের গ্রন্থি রয়েছে-

- অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি ও বহিঃক্ষরা গ্রন্থি।
১. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি - হাইপোথ্যালামাস, পিটুইটারী, থাইরয়েড, প্যারাথাইরয়েড, অ্যাড্রেনাল, প্যানক্রিয়াস বা অগ্নাশয়, টেস্টিস, ওভারী, প্লাসেন্টা।
২. বহিঃক্ষরা গ্রন্থি- ঘর্মগ্রন্থি, ল্যাক্রিমাল গ্রন্থি, স্তন গ্রন্থি, সেরোমিনাস গ্রন্থি, সেবাসিয়াস গ্রন্থি, মেবোমিয়ান গ্রন্থি, যকৃত এবং মিউকাস।

- অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি: প্রাণীদেহের নালীবিহীন গ্রন্থিসমূহ হতে নিঃসৃত রস সরাসরি রক্তে মিশ্রিত হয়ে রক্ত দ্বারাই দেহের বিভিন্ন স্থানে পরিবাহিত হয়। এ সকল গ্রন্থিকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলে।
- এই রস নির্দিষ্ট পরিমাণে নিঃসৃত হয়ে দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- উদাহরণস্বরূপ-থাইরয়েড নামক অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি কর্তৃক নিঃসৃত হরমোন 'থাইরক্সিন' প্রাণীর বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রিত করে।

• অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির বৈশিষ্ট্য:
- কোন নালীপথ নেই। রক্তের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে ক্রিয়াশীল অঙ্গে পৌঁছায়।
• ক্ষরিত পদার্থ হরমোন বা প্রাণরস নামে পরিচিত।
• এ সব গ্রন্থি হতে নিঃসৃত রস দূরবর্তী নির্দিষ্ট অঙ্গে ক্রিয়াশীল হয়।

 উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০২.
কোনটি উচ্চ রক্ত চাপের লক্ষণ?
  1. বুক ধড়ফড় করা
  2. অল্প পরিশ্রমে হাঁপানি উঠা
  3. নাক দিয়ে রক্ত পড়া
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
উচ্চ রক্ত চাপ: 
- উচ্চ রক্ত চাপকে নীরব ঘাতক হিসেবে গণ্য করা হয়। 
- স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রক্ত চাপকে উচ্চ রক্ত চাপ বলা হয়।
- এক জন পূর্ণ বয়ষ্ক মানুষের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে সিস্টোলিক চাপ ১২০ এবং ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০ বা এর নিচের মাত্রাকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রা হিসেবে ধরা হয়। 
- এ রক্ত চাপ যখন মাত্রাতিরিক্ত হয় তখন তাকে উচ্চ রক্ত চাপ বলে।

উচ্চ রক্ত চাপের লক্ষণ:
- মাথা ব্যথা, বিশেষ করে মাথার পেছন দিকে ব্যথা করা। 
- মাথা ঘোরা, ঘাড় ব্যথা। 
- বুক ধড়ফড় করা ও দুর্বল বোধ করা। 
- রোগীর নাক দিয়ে রক্ত পড়া, 
- অনিদ্রা এবং 
- অল্প পরিশ্রমে হাঁপানি উঠা।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৩.
দশ বছর বয়সের পর কত বছর ধরে ছেলে-মেয়ের শরীরে পরিবর্তন আসে?
  1. ক) ৩-৪ বছর
  2. খ) ১-৫ বছর
  3. গ) ২-৩ বছর
  4. ঘ) ৩-৮ বছর
সঠিক উত্তর:
ক) ৩-৪ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ৩-৪ বছর
ব্যাখ্যা
বয়ঃসন্ধিকাল হল শৈশব থেকে যৌবনে পদার্পণ করার মধ্যবর্তী সময় ।
এ সময় কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে ।
আকস্মিক হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মানসিক আবেগের তীব্রতার উত্থান পতন ঘটে। এর ইংরেজি Adolescence ।
দশ বছর বয়সের পর ৩ থেকে ৪ বছর ধরে ছেলে-মেয়ের শরীরে পরিবর্তন আসে। 

এ সময়ে ছেলে-মেয়েরা আকস্মিক লম্বা হতে থাকে, ওজন বাড়তে থাকে। 
বয়ঃসন্ধিকালে তিন ধরনের পরিবর্তন দেখা যায় - 
- শারীরিক পরিবর্তন
- মানসিক পরিবর্তন
- আচরণগত পরিবর্তন 

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
৯০৪.
ফলিক এসিড কোন ভিটামিনের রাসায়নিক নাম?
  1. ভিটামিন বি১
  2. ভিটামিন বি৯
  3. ভিটামিন বি৬
  4. ভিটামিন বি৩
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন বি৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিটামিন বি৯
ব্যাখ্যা
• ভিটামিন B কমপ্লেক্সভুক্ত বিভিন্ন ভিটামিনের রাসায়নিক নাম।
- B1 - Thiamin (থায়ামিন)। 
- B2 - Riboflavin (রিবোফ্লাভিন)। 
- B3 - Niacin (নিয়াসিন)। 
- B5 - Pantothenic acid (প্যানটোথেনিক এসিড)। 
- B6 - Pyridoxine (পাইরিডক্সিন)। 
- B7 - Biotin (বায়োটিন)। 
- B9 - Folate [folic acid) (ফোলেট, ফলিক এসিড)। 
- B12 - Cobalamin (কোবালামিন)। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
৯০৫.
থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে কোন হরমোন নিঃসৃত হয়? 
  1. রিলাক্সিন
  2. থাইরক্সিন
  3. অ্যান্ড্রোজেন
  4. টেস্টোস্টেরন
সঠিক উত্তর:
থাইরক্সিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থাইরক্সিন
ব্যাখ্যা

মানব প্রজননে হরমোন এর ভূমিকা: 
- হরমোন এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ যা নালিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। 
- হরমোন নির্দিষ্ট অথচ স্বল্প মাত্রায় নিঃসৃত হয়ে নানাবিধ শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি বা কম নিঃসৃত হলে দেহের বিভিন্ন কাজের ব্যাঘাত ঘটে এবং দেহে নানা রকম অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। 
- মানব দেহে প্রজনন সংক্রান্ত হরমোনগুলো হলো-
শুক্রাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এ অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের নাম- টেস্টোস্টেরণ এবং অ্যান্ড্রোজেন। 
- এ হরমোন শুক্রাণু উৎপাদন করে। দাঁড়ি ও গোফ গজায়। গলার স্বর বদলায়। 

পিটুইটারী গ্রন্থি: 
- এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) বৃদ্ধি উদ্ধীপক হরমোন এবং (খ) উৎপাদক হরমোন। 
- এ হরমোন জনন গ্রন্থির বৃদ্ধি, ক্ষরণ ও কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। মাতৃদেহের স্তন দুগ্ধ ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। জরায়ুর সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে। 

থাইরয়েড গ্রন্থি: 
- এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- থাইরক্সিন। 
- এ হরমোন দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি করে। যৌন লক্ষণ প্রকাশ ও বিপাকে সহায়তা করে। 

ডিম্বাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এ অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) ইস্ট্রোজেন, (খ) প্রোজেস্টেরন এবং (গ) রিলাক্সিন। 
- এ হরমোন নারী সুলভ লক্ষণগুলো সৃষ্টি করে। ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ করে। গর্ভাবস্থায় জরায়ু, ভ্রূণ ও অমরা ইত্যাদির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। ডিম্বাণু উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯০৬.
প্রোটিনের কোন রাসায়নিক পদার্থটি দেহে বৃদ্ধি সাধন করে?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) হাইড্রোজেন
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) কার্বন
সঠিক উত্তর:
গ) নাইট্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
- প্রানি কোষের অন্যতম উপাদান হচ্ছে প্রোটিন। 
- প্রোটিনে নাইট্রোজেন থাকার কারণে দেহের বৃদ্ধিসাধন করে এবং ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেটের অভাব পূরণ করতে পারে। 
- প্রাণিজ প্রোটিনে অত্যাবশ্যক এমাইনো এসিড থাকার কারণে একে সম্পূর্ণ প্রোটিন বলা হয়। 
- অত্যাবশ্যক এমাইনো এসিড কম থাকার কারণে উদ্ভিজ আমিষ অসম্পূর্ণ প্রোটিন হিসেবে চিহ্নিত। 
- প্রয়োজন অনুপাতে সময়মত প্রোটিন গ্রহণ অপরিহার্য।
 
উৎস: এসএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯০৭.
নিচের কোনটি স্নেহ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে?
  1. ট্রিপসিন
  2. লাইপেজ
  3. টায়ালিন
  4. অ্যামাইলেজ
সঠিক উত্তর:
লাইপেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইপেজ
ব্যাখ্যা
- অগ্ন্যাশয়ে অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন এবং লাইপেজ এনজাইম তৈরি হয়। 
- এই এনজাইমগুলো ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সঙ্গে মিশে। 
- ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- লাইপেজ স্নেহ খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- অ্যামাইলেজ শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 

অন্যদিকে, 
- মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নিঃসৃত এনজাইমটি হলো টায়ালিন। 
- টায়ালিন এনজাইম স্টার্চ, গ্লাইকোজেন, ডেক্সট্রিন অণুকে আর্দ্রবিশ্লিষ্ট করে প্রথমে দ্রবণীয় স্টার্চ এবং পরে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন অণুতে পরিণত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি এবং প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৯০৮.
ইনসুলিন কোন ধরনের যৌগ?
  1. লিপিড
  2. নিউক্লিক এসিড
  3. এনজাইম
  4. হরমোন
সঠিক উত্তর:
হরমোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরমোন
ব্যাখ্যা

ইনসুলিন:
- ইনসুলিন একটি প্রোটিনজাত হরমোন
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে।
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়।

- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়।
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন।
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯০৯.
মাছ অক্সিজেন নেয়-
  1. ক) মাঝে মাঝে পানির উপর নাক তুলে
  2. খ) পানিতে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন বিশ্লিষ্ট করে
  3. গ) পটকার মধ্যে জমানো বাতাস হতে
  4. ঘ) পানির মধ্যে দ্রবীভূত বাতাস হতে
সঠিক উত্তর:
ঘ) পানির মধ্যে দ্রবীভূত বাতাস হতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পানির মধ্যে দ্রবীভূত বাতাস হতে
ব্যাখ্যা
মাছ ফুলকার সাহায্যে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন গ্রহন করে বেঁচে থাকে।
৯১০.
জরায়ুর সংক্রমণ জনিত গর্ভপাতের জটিলতা-
  1. ক) খিঁচুনি
  2. খ) মাথাব্যাথা
  3. গ) বমি
  4. ঘ) রক্তক্ষরণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) রক্তক্ষরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রক্তক্ষরণ
ব্যাখ্যা
জরায়ুর গায়ের আবরণী কলাকে এন্ডোমেট্রিয়াম বলে। ব্যাকটেরিয়া দিয়ে এর সংক্রমণকে এন্ড্রোমেট্রাইটিস বলে।
জরায়ুর সংক্রামকজনিত গর্ভপাতের প্রথম ও প্রধান জটিলতা রক্তক্ষরণ।
৯১১.
হার্টের কোন প্রকোষ্ঠ ফুসফুস থেকে বিশুদ্ধ রক্ত গ্রহণ করে?
  1. বাম নিলয়
  2. বাম অলিন্দ
  3. ডান নিলয়
  4. ডান অলিন্দ
সঠিক উত্তর:
বাম অলিন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাম অলিন্দ
ব্যাখ্যা
মানব হৃদয় মোট ৪টি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত:
• ডান অলিন্দ (Right atrium): দেহ থেকে অশুদ্ধ রক্ত গ্রহণ করে।
• ডান নিলয় (Right ventricle): সেই অশুদ্ধ রক্ত ফুসফুসে পাঠায় বিশুদ্ধ করার জন্য।
• বাম অলিন্দ (Left atrium): ফুসফুস থেকে বিশুদ্ধ রক্ত গ্রহণ করে। এটি পালমোনারি ভেইন (pulmonary vein) এর মাধ্যমে রক্ত গ্রহণ করে।
• বাম নিলয় (Left ventricle): বাম অলিন্দ থেকে বিশুদ্ধ রক্ত পায় এবং দেহের অন্যান্য অংশে সরবরাহ করে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৯১২.
কীটপতঙ্গ সম্পর্কিত বিদ্যা হলো -
  1. ক) জিওলোজি
  2. খ) অ্যানথ্রপলোজি
  3. গ) এনটোমলজি
  4. ঘ) নিউরোলজি
সঠিক উত্তর:
গ) এনটোমলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এনটোমলজি
ব্যাখ্যা
জিওলজি- ভূতত্ত্ব বিজ্ঞান।
এনথ্রপলজি - নৃ বিজ্ঞান।
এনটোমলজি - কীট পতঙ্গ বিদ্যা।
নিউরোলজি - স্নায়ু বিষয়ক বিদ্যা।
ইকোলজি - বাস্তুসংস্থান।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৯১৩.
কোন প্রাণীর দেহে পুঞ্জাক্ষি থাকে? 
  1. জোঁক
  2. কেঁচো
  3. মশা
  4. শামুক
সঠিক উত্তর:
মশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মশা
ব্যাখ্যা
- 'মাছি'র দেহে প্রাণীর দেহে পুঞ্জাক্ষি থাকে। 

অমেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- অমেরুদণ্ডী প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, এদের দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে না, চোখ সরল প্রকৃতির বা একটি চোখের মধ্যে অনেকগুলো চোখ থাকে যা পুঞ্জাক্ষি এবং এদের লেজ নেই। 
- অমেরুদণ্ডী প্রাণী নানা ধরনের হয়। 
যেমন- 
• অনেক অমেরুদণ্ডী প্রাণী আকারে খুবই ছোটো, এদের খালিচোখে দেখা যায় না। 
যেমন- অ্যামিবা। 
• একদলভুক্ত অমেরুদণ্ডী প্রাণী, যাদের দেহ অনেকগুলো খণ্ডে বিভক্ত থাকে। 
যেমন- কেঁচো, জোঁক। 
• আরেক দলভুক্ত প্রাণী, এদের দেহ খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত নয় এবং দেহ সাধারণত শক্ত খোলসে আবৃত থাকে এবং মাংসল পা থাকে। 
যেমন- শামুক ও ঝিনুক। 
• পৃথিবীতে পতঙ্গ শ্রেণিভুক্ত প্রাণীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এদের দেহ তিনটি অংশে বিভক্ত যথা: মস্তক, বক্ষ ও উদর। এদের সন্ধিযুক্ত পা ও পুঞ্জাক্ষি থাকে। 
যেমন- প্রজাপতি, মশা, মাছি, তেলাপোকা, উইপোকা, মৌমাছি ইত্যাদি। 
• অনেক পতঙ্গ আছে যারা উপকার করে। এরা উপকারী পতঙ্গ। 
যেমন: মৌমাছি, রেশম পোকা ইত্যাদি। 
• নানা রকম রোগ ছড়ায় এমন শ্রেণিভুক্ত প্রাণী। 
যেমন- মশা ও মাছি। 
• অনেক পতঙ্গ আবার ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও ফসলের ক্ষতিসাধন করে। 
যেমন- উইপোকা, লেদাপোকা, পামরীপোকা ইত্যাদি। 
• এমন কতকগুলো সামুদ্রিক প্রাণী আছে, যাদের ত্বকে কাঁটার মতো অংশ থাকে। 
যেমন- তারামাছ ও সামুদ্রিক শশা। 
• আরেক দলভুক্ত অমেরুদণ্ডী প্রাণী। এদের দেহের ভিতর একটা ফাঁপা গহ্বর বা সিলেন্টেরন থাকে। এদের দেহে একটি মাত্র ছিদ্র থাকে। এই ছিদ্রপথে এরা খাদ্য গ্রহণ করে আবার বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়। 
যেমন- জেলী মাছ, প্রবালকীট। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৯১৪.
অণুচক্রিকা কোথায় উৎপন্ন হয়? 
  1. প্লাজমায়
  2. যকৃতে
  3. অস্থিমজ্জায়
  4. হৃদপিণ্ডে
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জায়
ব্যাখ্যা
রক্তের উপাদান: 
- রক্ত এক প্রকার যোজক কলা। 
- এর অন্তঃকোষ মাধ্যমটি তরল, হলুদ বর্ণের জলীয় পদার্থ দ্বারা গঠিত, এ তরল পদার্থকে প্লাজমা বা রক্তরস বলে। 
- এ প্লাজমার মধ্যে রক্তকণিকাগুলো ভাসমান অবস্থায় থাকে। 
- রক্তের দু'টি উপাদান- (১) রক্তরস এবং (২) রক্ত কণিকা। সমগ্র রক্তের ৫৫% রক্তরস এবং বাকি ৪৫% রক্তকণিকা। 
- রক্ত কণিকা প্রধানত তিন ধরনের। 
যথা- লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা। 

অণুচক্রিকা: 
- ইংরেজিতে এদেরকে প্লাটিলেট (Platelet) বলে। 
- অণুচিক্রকা আকারে ছোট, বর্তুলাকার ও বর্ণহীন, এরা গুচ্ছাকারে থাকে। 
- অস্থিমজ্জার মধ্যে অণুচক্রিকা উৎপন্ন হয়। 
- অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন। 
- পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। 
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- কোন রক্তবাহী নালির ক্ষতি হলে এরা অনতিবিলম্বে থ্রোম্বোপ্লাষ্টিন নামক এক প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসরণ করে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৫.
ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কে?
  1. রবার্ট হুক
  2. স্ট্রাসবুর্গার
  3. ওয়াটসন ও ক্রিক
  4. ক্রেমার
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাসবুর্গার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্রাসবুর্গার
ব্যাখ্যা
• ক্রোমোজোম (Chromosome):
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম।
- এটি নিউক্লিয়াসের নিউক্লিওপ্লাজমে বিস্তৃত এবং সূত্রাকার ক্রোমাটিন দিয়ে গঠিত।
- বিজ্ঞানী স্ট্রাসবুর্গার (Strasburger) (1875) প্রথম ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন।
- প্রজাতির বৈশিষ্ট্যভেদে কোষে এর ডিপ্লয়েড (দুই সেট ক্রোমোজোম, যার একসেট পিতা থেকে আসে এবং আর একসেট মাতা থেকে আসে) সংখ্যা 2 হতে 1600 পর্যন্ত হতে পারে।
- একটি ক্রোমোজোম দৈর্ঘ্যে সাধারণত 3.5 থেকে 30.0 মাইক্রন এবং প্রস্থে 0.2 থেকে 2.0 মাইক্রন হয়ে থাকে। (1 মাইক্রন = 1/1000 মিমি)।
- ক্রোমোজোমের কাজ হলো মাতাপিতা থেকে জিন (যা জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে সন্তান সন্ততিতে বহন করে নিয়ে যাওয়া।
- মানুষের চোখের রং, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার গঠন ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য ক্রোমোজোম কর্তৃক বাহিত হয়ে বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখে।
- এ কারণে ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌতভিত্তি (Physical basis of heredity) বলে আখ্যায়িত করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯১৬.
যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস কোথায় জমা থাকে?
  1. পাকস্থলীতে
  2. ক্ষুদ্রান্ত্রে
  3. বৃহদান্ত্রে
  4. পিত্তথলিতে
সঠিক উত্তর:
পিত্তথলিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিত্তথলিতে
ব্যাখ্যা

- যকৃৎ বা লিভার থেকে পিত্তরস উৎপন্ন এবং নিঃসৃত হয়। নিঃসৃত হওয়ার পর এই পিত্তরস পিত্তনালীর মাধ্যমে গিয়ে পিত্তথলিতে (Gallbladder) জমা থাকে এবং সেখানে ঘনীভূত হয়। পরবর্তীতে যখন চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া হয়, তখন পিত্তথলি থেকে এই রস ক্ষুদ্রান্ত্রে এসে মেশে এবং চর্বি হজমে সহায়তা করে। অন্যদিকে, ক্ষুদ্রান্ত্র হলো যেখানে পিত্তরস কাজ করে, কিন্তু এটি এখানে জমা থাকে না। 

যকৃত: 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডানপাশে গাঢ় বাদামী বর্ণের ত্রিকোণাকার অঙ্গ। 
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে। 
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে। পিত্তরস ক্ষারীয় গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। 
- পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে। 
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়।

- যকৃত পিত্তরস তৈরি করে। ক্ষারীয় পিত্তরস পিত্তথলিতে জামা রাখে। 
- পিত্তরসে কোন এনজাইম থাকে না, তাই যকৃত উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজ দেহে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত রাখে। রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি হলে গ্লুকোজ সরবরাহ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। পিত্তরস চর্বি জাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে পরিপাকে সহায়তা করে। 
- অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড যকৃতে আসার পর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রোজনজনিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯১৭.
কোনো জীব থেকে অযৌন প্রজনন প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট জীবকে বলে-
  1. ক) অণুজীব
  2. খ) ভ্রুণ
  3. গ) ক্লোন
  4. ঘ) জীন
সঠিক উত্তর:
গ) ক্লোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্লোন
ব্যাখ্যা
কোনো জীব থেকে সম্পূর্ণ অযৌন প্রক্রিয়ায় হুবহু নতুন জীব সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে ক্লোনিং বলে।
ড. ইয়ান উইলমুট প্রথম ক্লোন পদ্ধতিতে একটি ভেড়ার জন্ম দেন। সর্বপ্রথম যুক্তরাজ্যে Adult Cell ক্লোন করে যে ভেড়ার জন্ম দেওয়া হয়েছিল তার নাম ডলি।
ডব্লিউ.এইচ.ও (WHO) বর্তমানে মানব শিশুর ক্লোন নিষিদ্ধ করেছে।
৯১৮.
Vertebrata প্রাণীর প্রধান রেচন অঙ্গ কোনটি?
  1. বৃক্ক 
  2. ত্বক 
  3. ফুসফুস 
  4. শ্বাসনালী 
সঠিক উত্তর:
বৃক্ক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃক্ক 
ব্যাখ্যা

উপপর্ব-ভার্টিব্রাটা: 
- Vertebrata (ল্যাটিন vertebratus = মেরুদণ্ড)- কর্ডাটা পর্বের যে সকল প্রাণীর ভ্রূণীয় নটোকর্ড পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় তরুণাস্থি অথবা অস্থি গঠিত মেরুদণ্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়, তারা Vertebrata উপপর্বের প্রাণি। 
- অস্থিময় বা তরণাস্থিময় ক্রেনিয়াম (cranium) এর ভিতর মস্তিষ্ক অবস্থান করে বলে এর অপর নাম Cranita । 
- এদেও প্রজাতির সংখ্যা ৬৫,৭৮৯টি। 

বৈশিষ্ট্য: ১। নটোকর্ড অস্থিময় বা তরুণাস্থিময় কশোরুকাবিশিষ্ট মেরুদণ্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত। 
২। পৃষ্ঠীয় ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু মস্তিষ্ক ও সুষুম্মাকাণ্ড গঠন করে। 
৩। রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ ধরনের। 
৪। মেসোডার্মাল বৃক্ক (kidney) প্রধান রেচন অঙ্গ। 
৫। পার্শ্বীয় জোড়া উপাঙ্গ (পাখনা বা পদ) চলন অঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯১৯.
রক্তের প্রধান উপাদান কোনটি? 
  1. প্রোটিন ও চর্বি 
  2. ভিটামিন ও খনিজ 
  3. প্লাজমা ও রক্তকোষ 
  4. লোহা ও গ্লুকোজ 
সঠিক উত্তর:
প্লাজমা ও রক্তকোষ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লাজমা ও রক্তকোষ 
ব্যাখ্যা

রক্ত (Blood): 
- প্রাণীদেহের রক্ত একধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যেটি মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তে লাল রঙয়ের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রং লাল। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

রক্তের উপাদান: 
- রক্তের প্রধান উপাদানগুলো হলো রক্তরস বা প্লাজমা এবং রক্তকোষ। 
- সমগ্র রক্তের ৫৫% রক্তরস এবং বাকি ৪৫% রক্তকোষ। 
- রক্তরসকে আলাদা করলে এটি হালকা হলুদ বর্ণের দেখায় এবং রক্তকোষগুলো এই রক্তরসে ভাসমান থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯২০.
পিত্তরসের প্রধান রঞ্জক পদার্থ কোনটি?
  1. বিলিরুবিন
  2. হিমোগ্লোবিন
  3. কোলেস্টেরল
  4. পেপসিন
সঠিক উত্তর:
বিলিরুবিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলিরুবিন
ব্যাখ্যা
- রক্তের লোহিত কণিকা তার আয়ু শেষে (১২০ দিন পর) প্লীহায় জমা হতে থাকে। প্লীহায় উপস্থিত ম্যাক্রোফেজ মেয়াদোত্তীর্ণ লোহিত রক্তকণিকাকে ভক্ষণ করে।
- ফলশ্রুতিতে হিমোগ্লোবিন লোহিত রক্তকণিকা থেকে বাইরে বের হয়ে আসে এবং বিলিরুবিন নামক রঞ্জক পদার্থে রূপান্তরিত হয়।
- এই রঞ্জক পদার্থ যকৃতে যেয়ে আরো রূপান্তরিত হয়ে বিলিরুবিন হয় এবং পিত্তরস এর মাধ্যমে দেহ থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং Encyclopedia Britannica
৯২১.
কার্বোহাইড্রেটে কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজনের অনুপাত কত?
  1. ক) ১ : ১ : ২
  2. খ) ১ : ২ : ১
  3. গ) ৪ : ৪ : ১
  4. ঘ) ২ : ১ : ১
সঠিক উত্তর:
খ) ১ : ২ : ১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১ : ২ : ১
ব্যাখ্যা
শর্করা
- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হল এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ।
- শর্করা জাতীয় খাদ্য দেহে কাজ করার শক্তি জোগায়।
- শর্করার মৌলিক উপাদান কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন। 
- যার প্রতিটি অণুতে কার্বনের(C) সাথে হাইড্রোজেন (H) এবং অক্সিজেন(O) থাকে।
- এতে কার্বন(C), হাইড্রোজেন (H) এবং অক্সিজেন(O)- এর অনুপাত ১ : ২ : ১।
৯২২.
মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ কোনটি?
  1. ক) পরিপাকে সহায়তা করা
  2. খ) শ্বসনে সহায়তা করা
  3. গ) সালোকসংশ্লেষণে সহায়তা করা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) শ্বসনে সহায়তা করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শ্বসনে সহায়তা করা
ব্যাখ্যা
• শ্বসনে সহায়তা করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ। 
মাইটোকন্ড্রিয়া হল প্রকৃত জীবকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু। কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে থাকে। তাই মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের পাওয়ার হাউস বা শক্তি ঘর বলা হয়। এতে ক্রেবস চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইত্যাদি সংঘটিত হয়।

মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ:
১। কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজের জন্য শক্তি উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণ করে।
২। শ্বসনের জন্য বিভিন্ন ধরনের এনজাইম ও কোএনজাইম ধারণ করে।
৩। শ্বসন এর বিভিন্ন পর্যায় যেমন- ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন পরিবহন, অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন ইত্যাদি এখানে হয়।
৪। কিছু পরিমাণ DNA ও RNA উৎপন্ন করে।
৫। ADP কে ATP তে রূপান্তর করার মাধ্যমে ATP তে শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে সহায়তা করে।

শ্বসন: 
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবদেহের কোষে অবস্থিত জটিল খাদ্যদ্রব্য জারিত হয়ে সরল দ্রব্যে পরিণত হয় এবং সঞ্চিত স্থিতিশক্তি রূপান্তরিত হয়ে গতিশক্তিতে পরিণত হয় তাকে শ্বসন বলে। এ প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাইঅক্সাইড, পানি ও শক্তি উৎপন্ন হয়।

শ্বসনের তাপমাত্রা:
• শ্বসনের জন্য সাধারণত উত্তম তাপমাত্রা ২০°C - ৪৫°C সেলসিয়াস।
• ১০°C  সেলসিয়াসের নিচে এবং ৪৫°C  সেলসিয়াসের উপরের তাপমাত্রায় শ্বসনের হার কমে যায়।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান।
৯২৩.
বৃক্কের আবরণীকে বলা হয় -
  1. ক) প্লুরা
  2. খ) পেরিকার্ডিয়াম
  3. গ) ক্যাপসুল
  4. ঘ) পেরিঅস্টিয়াম
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যাপসুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্যাপসুল
ব্যাখ্যা
- বৃক্ক মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ যার সাহায্যে দেহের ৮০% রেচন কার্য সম্পন্ন হয়।
- বৃক্ক এক ধরনের তন্তুময় আবরণ দিয়ে বেষ্টিত থাকে। একে ক্যাপসুল বলা হয়।
- ক্যাপসুল সংলগ্ন অংশকে কর্টেক্স (Cortex) বলে। এর ভেতরের অংশকে মেডুলা (Medula) বলা হয়। উভয় অঞ্চলই যোজক কলা এবং রক্তবাহী নালি দিয়ে গঠিত।

অন্যদিকে, 
» ফুসফুসের পর্দার নাম – প্লুরা;
» হৃদপিন্ডের পর্দার নাম - পেরিকার্ডিয়াম;
» অস্থির আবরণীর নাম - পেরিঅস্টিয়াম।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর জীববিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত) ও জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৯২৪.
কোন পর্বের প্রাণীদের রেচনতন্ত্র নেই?
  1. Echinodermata
  2. Annelida
  3. Arthropoda
  4. Platyhelminthes
সঠিক উত্তর:
Echinodermata
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Echinodermata
ব্যাখ্যা
• Echinodermata পর্বের প্রাণীদের রেচনতন্ত্র নেই।

• Echinodermata:

- এরা কণ্টকত্বকী প্রাণী।
- এদের প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৭,৫৫০।
- Echinodermata শব্দটি গ্রিক শব্দ Echinus (কণ্টক) এবং Derma (ত্বক)-এ দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত।
- ১৭৩৪ সালে Jacob Kline এর নামকরণ করেন।

• Echinodermata পর্বের বৈশিষ্ট্য:
- পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর দেহ পঞ্চঅরীয় প্রতিসম অথবা পাঁচটি সমভাগে বিভাজ্য।
- এদের দেহ কণ্টকময়, স্পাইন ও পেডিসিলারি নামক বহিঃকঙ্কালযুক্ত।
- এই পর্বে পানি সংবহনতন্ত্রের সাহায্যে চলন ও শ্বসনক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
- মস্তক অনুপস্থিত।
- দেহে সুস্পষ্ট মৌখিক তল (oral) ও বিমৌখিক তল (aboral) বিদ্যমান।
- এ পর্বের সকল প্রাণীই সামুদ্রিক।
- রেচনতন্ত্র নেই।
- উদাহরণ: Astropecten (এস্ট্রোপেকটেন), Echinus (একাইনাস), Cucumaria (কুকুমারিয়া) ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- Arthropoda পর্বের প্রাণীর রেচন অঙ্গ ম্যালপিজিয়ান নালিকা।
- Annelida পর্বের প্রাণীদের দেহের প্রায় প্রতিটি খণ্ডকে অবস্থিত নেফ্রিডিয়া নামক প্যাঁচানো নালিকা প্রধান রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে।
- Platyhelminthes পর্বের প্রাণীদের রেচনতন্ত্র শিখা কোষ নিয়ে গঠিত।

উৎস:
১. জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২. জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৯২৫.
DNA কাটা হয় কী দ্বারা?
  1. ইলেকট্রন
  2. সূক্ষ ইলেকট্রিক ছুরি
  3. লাইগেজ এনজাইম
  4. সীমাবদ্ধ এনজাইম
সঠিক উত্তর:
সীমাবদ্ধ এনজাইম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সীমাবদ্ধ এনজাইম
ব্যাখ্যা
• সীমাবদ্ধ এনজাইম:
- সীমাবদ্ধ এনজাইম (Restriction Endonuclease) হল এক ধরনের এনজাইম, যা নির্দিষ্ট নিউক্লিওটাইড সিকোয়েন্স (Recognition Site) চিনে DNA কেটে ছোট টুকরোয় বিভক্ত করে।
Escherichia coli একটি জনপ্রিয় রেস্ট্রিকশন এনজাইম।
• ব্যবহার:
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ DNA কাটার জন্য।
- DNA ক্লোনিং ও রিকম্বিনেন্ট DNA (rDNA) প্রযুক্তিতে।
- PCR ও জেল ইলেকট্রোফোরেসিস পরীক্ষায়।
- DNA টেস্টিং পরিক্ষায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৯২৬.
রক্তের বর্ণহীন তরল অংশকে কী বলা হয়? 
  1. রক্তরস 
  2. লিউকোসাইট 
  3. হিমোগ্লোবিন 
  4. রক্তকোষ 
সঠিক উত্তর:
রক্তরস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তরস 
ব্যাখ্যা

রক্ত (Blood): 
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ, মৃদু ক্ষারীয় এবং লবণাক্ত তরল পদার্থ। 
- রক্ত হৃৎপিণ্ড, শিরা, উপশিরা, ধমনি, শাখা ধমনি এবং কৈশিকনালি পথে আবর্তিত হয়। 
- লোহিত রক্তকোষে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়। 
- হাড়ের লাল অস্থিমজ্জাতে রক্তকোষের জন্ম হয়। 

রক্তের উপাদান: 
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা। 
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্তকোষের সমন্বয়ে রক্ত গঠিত। 

রক্তরস (Plasma): 
- রক্তের বর্ণহীন তরল অংশকে রক্তরস বলে। 
- সাধারণত রক্তের শতকরা প্রায় ৫৫ ভাগ রক্তরস। 
- রক্তরসের প্রধান উপাদান পানি। 
- এছাড়া বাকি অংশে কিছু প্রোটিন, জৈবযৌগ ও সামান্য অজৈব লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। 
যেমন- প্রোটিন (যথা-অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন ও ফাইব্রিনোজেন), গ্লুকোজ, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চর্বিকণা, খনিজ লবণ, ভিটামিন, হরমোন, এন্টিবডি, বর্জ্য পদার্থ (যেমন: কার্বন ডাই-অক্সাইড, ইউরিয়া, ইউরিক এসিড) ইত্যাদি। 
- এছাড়া রক্তরসে সামান্য পরিমাণে সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম বাইকার্বোনেট ও অ্যামাইনো এসিড থাকে। 
- খাদ্য হিসেবে যা গ্রহণ করা হয় তা পরিপাক হয়ে অন্ত্রের গাত্রে শোষিত হয় এবং রক্তরসে মিশে দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। এভাবে দেহকোষগুলো পুষ্টিকর দ্রব্যাদি গ্রহণ করে দেহের পুষ্টির সাধন এবং ক্ষয়পূরণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯২৭.
লিঙ্গ নির্ধারণের জন্য কোন ক্রোমোজোম দায়ী?
  1. অটোসোম
  2. সেক্স ক্রোমোজোম
  3. সব ক্রোমোজোম
  4.  ২২ জোড়া অটোসোম
সঠিক উত্তর:
সেক্স ক্রোমোজোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেক্স ক্রোমোজোম
ব্যাখ্যা

ক্রোমোজোম: 
- বংশগতির প্রধান উপাদান হচ্ছে ক্রোমোজোম। 
- এটি নিউক্লিয়াসের অন্যতম বস্তু। 
- Strasburger (১৮৭৫) নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম আবিষ্কার করেন কিন্তু তিনি এর নামকরণ করেননি। 
- Weldeyer ১৮৮৮ সালে সর্বপ্রথম ক্রোমোজোম শব্দটি ব্যবহার করেন। 
- প্রত্যেক প্রজাতির নিউক্লিয়াসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। 
- এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোসোম। অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। 
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম। লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯২৮.
'বেরিবেরি' রোগ হয় কোন ভিটামিনের অভাবে?
  1. ক) ভিটামিন বি-১
  2. খ) ভিটামিন বি-২
  3. গ) ভিটামিন বি-৬
  4. ঘ) ভিটামিন বি-১২
সঠিক উত্তর:
ক) ভিটামিন বি-১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভিটামিন বি-১
ব্যাখ্যা
- দেহে ভিটামিন বি-১ (থায়ামিন) এর চরম অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
- এর অভাবে স্নায়ু দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ, ক্লান্তি, খাওয়ার অরুচি, ওজনহীনতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা যায়। 
- ভিটামিন বি-২ এর অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা যায়, মুখে ও জিভে ঘা হয়। 
- ভিটামিন বি-১২ বা সায়ানোকোবালামিনের অভাবে রক্তশূণ্যতা ও স্নায়ুতন্ত্রের অবক্ষয় দেখা যায়। 

সূত্র: সধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯২৯.
প্রতিটি নিউরনের কয়টি অংশ থাকে?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
ব্যাখ্যা
প্রাণীদেহের যে কলা উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করতে পারে তাকে স্নায়ু টিস্যু বা নার্ভ টিস্যু বলে। স্নায়ু টিস্যুর একক হচ্ছে স্নায়ুকোষ বা নিউরন।
মস্তিষ্ক অসংখ্য স্নায়ুকোষ বা নিউরন দিয়ে তৈরি। প্রতিটি নিউরনে তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত।
যথা - কোষদেহ, ডেনড্রন এবং এক্সন।

রেফারেন্সঃ
Neurons are made up of three major parts: a cell body, or soma, which contains the nucleus of the cell and keeps the cell alive; a branching treelike fiber known as the dendrite, which collects information from other cells and sends the information to the soma; and a long, segmented fiber known as the axon, which transmits information away from the cell body toward other neurons or to the muscles and glands.
#Source: University of Minnesota, Open Library.

A neuron has three main parts: dendrites, an axon, and a cell body or soma
#Source: Queensland Brain Institute, The University of Queensland.

Some of the sources like Molecular Cell Biology, 4th edition by Harvey Lodish states that there are 4 major parts of a Neuron cell.
"Although the morphology of various types of neurons differs in some respects, they all contain four distinct regions with differing functions: the cell body, the dendrites, the axon, and the axon terminals"

And, a basic source too,
Neurons are composed of three main parts: dendrites, a cell body, and an axon.
#Source: Khan Academy Lecture.
-----------
নবম দশমের অনুসারে দেখলেও প্রশ্নে প্রধান অংশ কয়টি এটা চাওয়া হয়নি। মোট কয়টি অংশ থাকে সেটা চাওয়া হয়েছে।

এটাতে মতভেদ থাকতে পারে। এরকম হাজারটা প্রশ্ন চাকরির পরীক্ষায় এসেছে, হাজারটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং হবে। কারও পক্ষে বলা সম্ভব নয় যে প্রশ্নকর্তা কোনটাকে ঠিক ধরবেন। তবে, এটা মনে রাখতে হবে যে, এরকম প্রশ্নের ক্ষেত্রে প্রশ্নকর্তা যেটাকে ঠিক ধরেছেন সেটাই সঠিক হবে।
এতো প্রশ্নের মধ্যে এমন কয়েকটা থাকবেই যেগুলোর উত্তর একেকজন একেভাবে ধরেন। মূল প্রশ্নে যদি এমন বিভ্রান্তি থাকে তাহলে এখানেও থাকতে পারে।

৯৩০.
প্রথম ক্লোন মানব শিশুর নাম-
  1. ক) ডলি
  2. খ) মলি
  3. গ) ইভ
  4. ঘ) ইয়ান
সঠিক উত্তর:
গ) ইভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইভ
ব্যাখ্যা
প্রথম ক্লোন মানব শিশু (কন্যা শিশু) এর নাম ইভ।
সূত্রঃ ২৬তম বিসিএসের অনুরূপ প্রশ্ন।
৯৩১.
রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তিকে আর কী নামে ডাকা হয়? 
  1. রেপ্লিকেশন
  2. জিন ক্লোনিং
  3. ট্রান্সক্রিপশন
  4. প্রোটিন সংশ্লেষণ
সঠিক উত্তর:
জিন ক্লোনিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিন ক্লোনিং
ব্যাখ্যা
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (Genetic engineering): 
- একটি জীব থেকে একটি নির্দিষ্ট জিন বহনকারী ডিএনএ খণ্ড পৃথক করে ভিন্ন একটি জীবে স্থানান্তরের কৌশল হচ্ছে জিন প্রকৌশল (Genetic engineering)। 
অর্থাৎ, কাঙ্ক্ষিত নতুন একটি বৈশিষ্ট্য সৃষ্টির জন্য কোনো জীবের ডিএনএর পরিবর্তন ঘটানোকে জিন প্রকৌশল বলে। 
- এই জিন যে কৌশলগুলোর মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়, তাদের একত্রে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ কৌশল বলে। 
- এই কৌশল অবলম্বন করে একটি ডিএনএ অণুর কাঙ্ক্ষিত অংশ কেটে আলাদা করে অন্য একটি ডিএনএ অনুতে প্রতিস্থাপন করার ফলে যে নতুন ডিএনএ অণুর সৃষ্টি হয়, তাকে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ বলে। 
- রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ তৈরির প্রক্রিয়াকে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তি বা জিন ক্লোনিং বলা হয়। 
- জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে উৎপন্ন নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের কোনো কোনোটিকে বলা হয় GMO (Genetically Modified Organism) আর কোনোটিকে বলে ট্রান্সজেনিক (Transgenic)। জিএমও এবং ট্রান্সজেনিক জীব এক নয়। 
- আধুনিক জীবপ্রযুক্তি বা জিন কৌশলের মাধ্যমে জিন স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য অল্প সময়ে সুচারুভাবে স্থানান্তর করা সম্ভব হয় বলে সংশ্লিষ্ট উদ্ভাবক বা উদ্যোক্তাগণের নিকট প্রচলিত প্রজননের তুলনায় এ প্রযুক্তিটি অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৩২.
লুপ অফ হেনলি শরীরের নিম্নলিখিত কোন অঙ্গের অংশ?
  1. প্লীহা
  2. হৃৎপিন্ড
  3. যকৃৎ
  4. বৃক্ক
সঠিক উত্তর:
বৃক্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃক্ক
ব্যাখ্যা
• লুপ অফ হেনলি হলো বৃক্কের (Kidney) নেফ্রনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- নেফ্রন হলো বৃক্কের মূল কার্যকরী একক, যা রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ফিল্টার করে প্রস্রাব উৎপাদন করে।
- লুপ অফ হেনলি নেফ্রনের একটি লুপের মতো অংশ, যা প্রস্রাব গঠন ও রক্তের পানির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

লুপ অফ হেনলির কার্যক্রম:
- জল পুনরায় শোষণ:
- লুপ অফ হেনলি রক্তের পানির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- এটি শারীরিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে প্রস্রাবে পানির ঘনত্ব বাড়ায় বা কমায়।

- ইলেকট্রোলাইট শোষণ:
- সোডিয়াম (Na⁺) এবং ক্লোরাইড (Cl⁻) আয়নের পুনঃশোষণ ঘটায়।

- প্যাথওয়ে:
- এটি দুটি অংশে বিভক্ত: ডিসেন্ডিং লিম্ব (Descending limb): যেখানে পানি পুনঃশোষণ হয়।
- অ্যাসেন্ডিং লিম্ব (Ascending limb): যেখানে ইলেকট্রোলাইট শোষণ হয়।

অন্য বিকল্পগুলোর ব্যাখ্যা:
- ক) প্লীহা (Spleen):
- প্লীহা রক্ত সঞ্চালন এবং ইমিউন সিস্টেমের জন্য কাজ করে।

- খ) হৃৎপিন্ড (Heart):
- হৃৎপিন্ড রক্ত পাম্প করার জন্য দায়ী।

- গ) যকৃৎ (Liver):
- যকৃৎ বিপাক প্রক্রিয়া ও বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশনের কাজ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
৯৩৩.
Which is the largest part of the human brain?
  1. Thalamus
  2. Cerebrum
  3. Hypothalamus
  4. Medulla oblongata
  5. Cerebellum
সঠিক উত্তর:
Cerebrum
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Cerebrum
ব্যাখ্যা
মস্তিষ্ক:
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের যে স্ফীত অংশ করোটির মধ্যে অবস্থান করে এবং মানবদেহের সকল কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে তাকে মস্তিষ্ক বলে।
- প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের মস্তিষ্কের আয়তন প্রায় ১৫০০ ঘন সেন্টিমিটার, গড় ওজন প্রায় ১.৩৬ কেজি এবং প্রায় ১০০ বিলিয়ন নিউরন থাকে।
- মস্তিষ্ক স্নায়ুতন্ত্রের সবচেয়ে বড়, জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- মানব মস্তিষ্ক ৩টি প্রধান অংশে বিভক্ত। যথা-
(১) অগ্রমস্তিষ্ক,
(২) মধ্যমস্তিষ্ক ও
(৩) পশ্চাৎ মস্তিষ্ক।

(১) অগ্রমস্তিষ্ক:
- অগ্রমস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে।
- এটি তিন অংশে বিভক্ত। যথা-
(ক) সেরেব্রাম,
(খ) থ্যালামাস ও
(গ) হাইপোথ্যালামাস।

• সেরেব্রাম:
- মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ (মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে)।
- প্রতিটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার ৫টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা- ফ্রন্টাল লোব, প্যারাইটাল লোব, অক্সিপিটাল লোব, টেম্পোরাল লোব ও লিম্বিক লোব।
- সেরেব্রাম বাকশক্তি, স্মৃতি শক্তি, চিন্তা, বুদ্ধি-বৃত্তি, সৃজনশীলতা, ইচ্ছা শক্তি, সহজাত প্রবৃত্তি, কর্মপ্রেরণা প্রভৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট।
- সর্বোপরি মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

• থ্যালামাস:
- সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ারের নিচে দুটি ক্ষুদ্র ও ডিম্বাকৃতির থ্যালামাস থাকে যা ধূসর পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- থ্যালামাস সংবেদী-উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং রিলে করে সেরেব্রামে পাঠায়।

• হাইপোথ্যালামাস:
- এটি থ্যালামাসের ঠিক নিচে ধূসর পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- এটি অন্ততঃ এক ডজন পৃথক অঞ্চলে বিভক্ত থাকে।
- স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের সকল কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ক্ষুধা, তৃষ্ণা, রাগ, ভাল লাগা, ভীতি, আবেগ প্রভৃতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- পিটুইটারী গ্রন্থিও বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণ করে।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩৪.
বংশগতির বাহক জিনের রাসায়নিক কী দিয়ে তৈরি?
  1. অ্যামিনো অ্যাসিড
  2. কার্বোহাইড্রেট
  3. ডিএনএ
  4. ফ্যাটি অ্যাসিড
সঠিক উত্তর:
ডিএনএ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিএনএ
ব্যাখ্যা

◉ জিন আসলে DNA-এর একটি অংশ। DNA হলো নিউক্লিক অ্যাসিড, যা জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে। এর ভেতরে চারটি নাইট্রোজেন বেস (A, T, G, C) নির্দিষ্ট ক্রমে সাজানো থাকে, যা জিনগত তথ্য নির্ধারণ করে।

• মানব দেহে দুই ধরনের নিউক্লিক এসিড থাকে- DNA এবং RNA।
- DNA এর পূর্ণরূপ হল Deoxyribonucleic acid এবং RNA এর পূর্ণরূপ হল Ribonucleic acid।
- জিনের রাসায়নিক গঠন উপাদান হলো DNA।
- এটি একটি নিউক্লিক এসিড যা জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণের জিনগত নির্দেশ ধারণ করে।
- ডিএনএ হলো দ্বিসূত্রকবিশিষ্ট পলিনিউক্লিয়োটাইডের সর্পিলাকার গঠন।
- ডিএনএ অণুর আকৃতি অনেকটা প্যাঁচানো সিঁড়ির ন্যায়। 
- ১৯৫৩ সালে জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক বিজ্ঞানীদ্বয় ডিএনএ অণুর গঠন আবিষ্কার করেন। 

 উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৩৫.
শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচের ধাপ কোনটি? 
  1. বর্গ 
  2. শ্রেণি 
  3. গণ 
  4. প্রজাতি 
সঠিক উত্তর:
প্রজাতি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রজাতি 
ব্যাখ্যা

শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা: 
- পৃথিবীতে বৈচিত্র্যপূর্ণ প্রাণীর সংখ্যা সঠিক সংখ্যা কারো জানা নেই, তাই বিপুল সংখ্যক প্রাণীর গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জনের সহজ উপায় হলো শ্রেণিবিন্যাস। 
- প্রাণিদেহে বিদ্যমান বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে মিল, অমিল ও সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। 
- এদের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী জীবজগৎকে ধাপে ধাপে বিন্যস্ত করার এই পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। 
- প্রয়োজনের তাগিদে বর্তমানে জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে যা শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা (Taxonomy) নামে পরিচিত। 

- প্রজাতি হলো শ্রেণিবিন্যাসের সবচেয়ে নিচের ধাপ বা একক। 
যেমন- মানুষ, কুনোব্যাঙ, কবুতর ইত্যাদি এক একটি প্রজাতি। 
- কোনো প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস করতে হলে সেই প্রাণীকে বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ধাপে ধাপে সাজাতে হয়, এই সকল ধাপের প্রত্যেকটিকে যথাযথভাবে বিন্যস্ত করতে হয়। 
- শ্রেণিবিন্যাসের ইতিহাসে অ্যারিস্টটল, জন রে ও ক্যারোলাস লিনিয়াসের নাম উল্লেখযোগ্য। 
- প্রকৃতিবিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসকে শ্রেণিবিন্যাসের জনক বলা হয়, তিনিই সর্বপ্রথম প্রজাতির বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেন এবং দ্বিপদ বা দুই অংশ বিশিষ্ট নামকরণ প্রথা প্রবর্তন করেন। 
- একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুই অংশ বা পদবিশিষ্ট হয়, এই নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বা বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। 
যেমন- মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম - Homo sapiens  । 
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন অথবা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

৯৩৬.
ভিটামিন - ই এর কাজ -
  1. জননাঙ্গের বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক ক্ষমতা বজায় রাখে
  2. নারী ও পুরুষের স্বাভাবিক প্রজননে সহায়তা করে
  3. অকাল বার্ধক্য রোধ করে
  4. উপরের সবকয়টি
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
ভিটামিন - ই (Vitamin - E):

• ভিটামিন - ই এর রাসায়নিক নাম টোকোফেরল।
• এটি তাপ ও অম্লে বিনষ্ট হয় না। তবে ক্ষারে সামান্য নষ্ট হয়।

- ভিটামিন - ই এর উৎস:
• সব ধরনের উদ্ভিজ্জ তেল, যেমন - নারিকেল তেল, সরিষার তেল, চালের কুঁড়ার তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি ভিটামিন ই এর ভালো উৎস। শস্যদানার ভ্রূণ, বাদাম, গোটা শস্য, শাক-সবজি, মাখন ইত্যাদিতে কিছু পরিমাণে ভিটামিন ই থাকে।
• ডিমের কুসুম, দুধ ও যকৃতেও ভিটামিন ই পাওয়া যায়।

- ভিটামিন - ই এর কাজ:
•  ভিটামিন এ রক্তের লোহিত কণার জারণসহ অবাঞ্ছিত জারণ রোধ করে।
• জননাঙ্গের বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক ক্ষমতা বজায় রাখে।
• নারী ও পুরুষের বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ করে।
• নারী ও পুরুষের স্বাভাবিক প্রজননে সহায়তা করে।
• অকাল বার্ধক্য রোধ করে।
• ভ্রূণের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

- ভিটামিন - ই এর অভাবজনিত অবস্থা: 
• নারী ও পুরুষের সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা লোপ পায় এবং বন্ধ্যাত্ব দেখা দেয়।
• ভ্রূণের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
• গর্ভপাত হতে পারে।
• অকাল বার্ধক্য দেখা দেয়।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩৭.
কোনটি স্তন্যপায়ী প্রাণী নয়?
  1. কুমির
  2. তিমি
  3. হাতি
  4. বাদুড়
সঠিক উত্তর:
কুমির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমির
ব্যাখ্যা
স্তন্যপায়ী প্রাণী: 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহে লোম দ্বারা আবৃত থাকে। 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সন্তান প্রসব করে। 
- শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয়। 
যেমন- তিমি, বাদুড়, শুশুক, গরু, হাতি, মানুষ, কুকুর, বানর, ঘোড়া, ইঁদুর, জিরাফ ইত্যাদি। 

 সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী: 
-  এরা বুকে ভর দিয়ে চলে, ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। 
যেমন- সাপ, কুমির, ঘড়িয়াল, কচ্ছপ, টিকটিকি, গিরগিটি, ডাইনোসর প্রভৃতি সরীসৃপ শ্রেণির প্রাণী। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৯৩৮.
লোহিত রক্ত কণিকা কোথায় সঞ্চিত থাকে? 
  1. ধমনি
  2. প্লীহা
  3. শিরা
  4. হৃৎপিণ্ড
সঠিক উত্তর:
প্লীহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লীহা
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্ত কণিকা: 
- লোহিত রক্ত কণিকার আয়ুষ্কাল ১২০ দিন। 
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়। 
- লোহিত রক্তকণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়। 
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। 

উৎস: জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।
৯৩৯.
জন্ডিসের প্রধান কারণ কী? 
  1. প্লীহার ক্ষয়
  2. রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা কমে যাওয়া
  3. রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া
  4. রক্তে লাল কণিকার সংখ্যা বেড়ে যাওয়া
সঠিক উত্তর:
রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া
ব্যাখ্যা
বিলিরুবিন: 
- বিলিরুবিন পুরোপুরি তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায় এবং এটি জমা থাকে প্লীহাতে। 
- বিলিরুবিন এক ধরণের হলুদ রঙের পদার্থ, যা রক্তে উপস্থিত লাল রক্ত কনিকার ১২০ দিনের চক্র পূরণ হলে ভেঙ্গে তৈরি হয়। 
- বিলিরুবিনে বিলি থাকে, যেটা লিভারে তৈরি পাচক তরল পদার্থ এবং এটি গলব্লাডারে থাকে। 
- এটা খাবারকে হজম করতে এবং মল তৈরি হতে সাহায্য করে। 
- জন্ডিস হবার মূল কারণ হল রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা অধিক পরিমাণে বেড়ে যাওয়া। 
- যদি কোন কারণের ফলে বিলিরুবিন বিলির সাথে মিশতে না পারে কিংবা যখন লাল রক্ত কণিকা সামান্য থেকে কম পরিমাণে ভাঙতে শুরু করে, তখন রক্তে বিলিরুবিনের স্তর দ্রুত বাড়তে থাকে। আর এই ভাবে এটা অন্য অঙ্গে পৌঁছে সেখানে হলুদ ভাবের সৃষ্টি করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৯৪০.
​সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে কী বলা হয়? 
  1. জিন ক্লোনিং 
  2. সেল ক্লোনিং 
  3. মলিকুলার ক্লোনিং 
  4. রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং 
সঠিক উত্তর:
রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং 
ব্যাখ্যা

ক্লোনিং পদ্ধতি: 
- প্রাকৃতিক ক্লোন বলতে একটি জীব অথবা এক দল জীবকে বুঝানো হয়, যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ প্রজননের দ্বারা। এগুলোর প্রকৃতি হয় পুরোপুরি তার মাতৃজীবের মত।
- একটি কোষ বা একগুচ্ছ কোষ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপত্তি হয় এবং সেগুলোর প্রকৃতি মাতৃকোষের মতো হয়, তখন তাকেও ক্লোন বলে।
- প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশির ভাগ প্রোটোজোয়া এবং ইস্ট ছত্রাক ক্লোনিং পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে।
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে তিন ধরনের ক্লোনিং করা হয়।
​ যথা-
১। জিন ক্লোনিং: একই জিনের অসংখ্য নকল তৈরি করাকে জিন ক্লোনিং বলে। জিন ক্লোনিং রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়।
২। সেল ক্লোনিং: একই কোষের অসংখ্য হুবহু একই রকমের কোষ সৃষ্টি করাকে সেল ক্লোনিং বলে।
৩। জীব ক্লোনিং: দুটির পরিবর্তে একটিমাত্র জীব থেকে জিনগত হুবহু এক বা একাধিক জীব তৈরির পদ্ধতিকে জীব ক্লোনিং বলে।

- ডলি নামক ভেড়া হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী, যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয়, তা হুবহু তার মাতার মতো হয়।
- এই ক্লোনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শকুর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে।
- সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে বলে রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং। যেমন- ‘ডলি’ নামক ভেড়া তার উদাহরণ।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৪১.
নিচের কোনটি একটি ছত্রাক? 
  1. ক্লোরেলা
  2. ইস্ট
  3. অ্যামিবা
  4. স্পাইরোগাইরা
সঠিক উত্তর:
ইস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্ট
ব্যাখ্যা
জীবের শ্রেণিকরণ: 
- বিজ্ঞানীগণ পৃথিবীর সমস্ত জীবকে তাদের বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবদ্ধকরণের চেষ্টা করেছেন। 
- ১৯৬৯ খ্রি. বিজ্ঞানী হুইটেকার পঞ্চরাজ্য শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন। 
- ১৯৭৪ খ্রি. বিজ্ঞানী মাগিউলিস (Margulis) উক্ত শ্রেণিবিন্যাসকে পুনর্বিন্যাস করে জীবজগতের আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস প্রবর্তন করেন। 
- আধুনিক শ্রেণিবিন্যাসটি নিম্নরূপ পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করেছেন- 
যেমন-
রাজ্য-১: মনেরা, 
রাজ্য-২: প্রোটিস্টা, 
রাজ্য-৩: ফানজাই বা ছত্রাক, 
রাজ্য- ৪: প্লান্টি (উদ্ভিদজগৎ) এবং 
রাজ্য-৫: এ্যানিমেলিয়া (প্রাণিজগৎ)। 

ফানজাই বা ছত্রাক: 
- এদের দেহে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে।
- এরা সাধারণত এককোষী বা বহুকোষী হয়।
- দেহে ক্লোরোফিল নেই, তাই এরা পরভোজী। 
উদাহরণ- ইস্ট, পেনিসিলিয়াম, মাশরুম ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- ক্লোরেলা ও স্পাইরোগাইরা শৈবাল (Algae), যা স্বপোষী। 
- অ্যামিবা হলো এককোষী প্রোটিস্ট (অপ্রকৃত প্রাণী)। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৯৪২.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার EPI কার্যক্রমের আওতায় কোন টিকাটি প্রদান করা হয় না?
  1. BCG
  2. HIV
  3. Hepatitis B
  4. HPV
সঠিক উত্তর:
HIV
উত্তর
সঠিক উত্তর:
HIV
ব্যাখ্যা
• বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার EPI কার্যক্রমের আওতায় HIV টিকা প্রদান করা হয় না। 

• টিকা দেওয়া বা ভ্যাকসিনেশন (Vaccination):

- ইমিউনিটি অর্জনের জন্য দেহের মধ্যে টিকা বা ভ্যাকসিন দেওয়ার পদ্ধতিতে ভ্যাকসিনেশন বলে।

• টিকাকরণের নীতি (Priciples of Vaccination)-
- রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের রোগ সৃষ্টির ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেহে প্রবেশ করিয়ে ইমিউনিটি গড়ে তোলা হয়।
- এই পদ্ধতিতে সক্রিয় অনাক্রমীকরণের মাধ্যমে ইমিউনোলজিক্যাল মেমোরির (immunological memory) সৃষ্টি হয়।
- পরবর্তীতে রোগ সংক্রামক জীবাণু শরীরে প্রবশে করলে দেহ দ্রুততার সঙ্গে প্রবিষ্ট জীবাণুকে ধ্বংস করে।

• বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায়  ১৩ টি টিকার অনুমোদন দেওয়া হয় ।
সেগুলো হলো -
- যক্ষ্মা (BCG),
- ডিপথেরিয়া,
- হুপিং কাশি (pertussis),
- টিটেনাস (tetanus),
- Haemophilus influenzae type B (Hib),
- Hepatitis B (HepB),
- পোলিও (Polio),
- হাম (Measles),
- Rubella,
- Pneumococcal disease (PNC),
- Rotavirus (Rota),
- Human papillomavirus (HPV),
- COVID-19 (প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য)।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
- WHO [লিংক] 
৯৪৩.
পিত্তরসে কোন উপাদান অনুপস্থিত, যা খাদ্য পরিপাকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ? 
  1. পানি
  2. এনজাইম
  3. গ্লুকোজ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
এনজাইম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এনজাইম
ব্যাখ্যা
যকৃত (Liver): 
- মানুষের মধ্যচ্ছদার ঠিক নিচে পাকস্থলির ডানদিকে বিস্তৃত গাঢ় লালচে বর্ণের ত্রিকোণাকার ও পিত্তরস নিঃসরণকারী গ্রন্থিকে যকৃত বলা হয়। 
- যকৃতের বেশির ভাগ অংশ দেহের ডানদিকে অবস্থিত। 
- যকৃত মানবদেহের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ গ্রন্থি। 
- একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫-২.০ কেজি। 
- এটি চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে বিভক্ত। ডান খণ্ডটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং এই খণ্ডের নিচে পেয়ালার মতো পিত্তরস ধারণকারী একটি থলে থাকে, একে পিত্তথলি বলে। 
- পিত্তথলি ৭-৮ সে.মি. লম্বা, পিত্তথলি থেকে পিত্ত ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয়। 
- পিত্তরস হলদে সবুজ বর্ণের একটি ক্ষার জাতীয় তরল পদার্থ। এতে শতকরা ৮০% পানি ও ২০% অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান থাকে। 
- যকৃত থেকে ক্ষরণকৃত পিত্তরসে, খাদ্য পরিপাকে সাহায্যকারী কোন এনজাইম না থাকায় খাদ্য পরিপাকে এদের প্রত্যক্ষ কোন ভূমিকা নেই। তবে এরা শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন প্রভৃতি খাদ্যকে পরিপাকের পর রক্তস্রোতে পরিবাহিতকরণে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪৪.
মানুষের রক্তে শ্বেত কণিকা ও লোহিত কণিকার অনুপাত কত ?
  1. ক) ১ : ৭০০
  2. খ) ১ : ১০০
  3. গ) ১ : ৫০০
  4. ঘ) ১ : ১২০
সঠিক উত্তর:
ক) ১ : ৭০০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১ : ৭০০
ব্যাখ্যা
• মানুষের রক্তে শ্বেত কণিকা ও লোহিত কণিকার অনুপাত ১ : ৭০০।
শ্বেতকণিকা: শ্বেতকণিকা মানবদেহে রক্তের একটি উপাদান।
- রক্তে বর্ণহীন, নিউক্লিয়াসযুক্ত এবং তুলনামূলকভাবে স্বল্পসংখ্যক ও বৃহদাকার যে কোষ দেখা যায় এবং যারা দেহকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে তাকে শ্বেতকণিকা বলে।
• লোহিত রক্তকণিকা: মানুষের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা গোল, দ্বিঅবতল, নিউক্লিয়াসবিহীন চাকতির মতো ও লাল বর্ণের।
- লোহিত রক্তকণিকার কাজ হিমোগ্লোবিন ফুস্ফুস থেকে দেহ কোষে O₂ এবং সামান্য CO₂ পরিবহন করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান- ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৯৪৫.
কোন প্রাণীর রেচন অঙ্গ শিখা কোষ?
  1. ক) হাইড্রা
  2. খ) জেলিফিশ
  3. গ) ফিতা কৃমি
  4. ঘ) ঝিনুক
সঠিক উত্তর:
গ) ফিতা কৃমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ফিতা কৃমি
ব্যাখ্যা
প্লাটিহেলমিনথিস পর্বের প্রাণীর বৈশিষ্ট্যঃ
১। দেহ নরম, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম এবং পৃষ্ঠ- অঙ্কীয় তল বরাবর চ্যাপ্টা ।
২। এরা ট্রিপলোব্লাস্টিক অর্থাৎ তিনটি কোষীয় স্তরে বিন্যস্ত থাকে।
৩। সকল প্রাণী সিলোমবিহীন।
৪। পৌষ্টিকতন্ত্র অসর্ম্পূণ ।
৫। শিখা কোষ নামক প্রোটোনেফ্রিডিয়া সমন্বয়ে রেচনতন্ত্র গঠিত।
৬। অধিকাংশ উভলিঙ্গী।

উদাহরণঃ Dugesia tigrini, Taenia solium (ফিতাকৃমি), Fasciola hepatica (যকৃত কৃমি)।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪৬.
হাইড্রার নামকরণ করেছেন কোন বিজ্ঞানী? 
  1. থিওফ্রাস্টাস
  2. ট্রেম্বলে
  3. লিনিয়াস
  4. অ্যারিস্টটল
সঠিক উত্তর:
লিনিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিনিয়াস
ব্যাখ্যা
হাইড্রা: 
- Hydra আবিষ্কার করেন আব্রাহাম ট্রেম্বলে। 
- হাইড্রার নামকরণ করেন বিজ্ঞানী লিনিয়াস। 
- বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রজাতির Hydra পাওয়া যায় তন্মধ্যে Hydra vulgaris সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। 
- কর্ষিকার সাহায্যে এরা খাদ্য গ্রহণ, দেহের সংকোচন, প্রসারণ ও চলাচল সম্পন্ন করে থাকে। 
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় শ্বসন ও রেচন সম্পন্ন করে। 
- মুকুলোদগম ও দ্বিবিভাজনের সাহায্যে অযৌন জনন এবং জননকোষ সৃষ্টি করে যৌন জনন সম্পন্ন করে। 
- Hydra পুনরুৎপত্তি (regeneration) ক্ষমতা প্রাপ্ত। 
- Hydra মিঠাপানির প্রাণী। 
- এরা সাধারণত খাল, বিল, পুকুর, হ্রদ, ডোবা, ঝর্ণার পানিতে বাস করে। 
- ঘোলা পানিতে এদের কম পাওয়া গেলেও পরিস্কার, অপেক্ষাকৃত শীতল এবং স্রোতহীন পানিতে এদেরকে তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪৭.
পেশিকোষের মায়োফাইব্রিল প্রধানত কোন প্রোটিন দিয়ে গঠিত? 
  1. কেরাটিন ও এলাস্টিন 
  2. অ্যাকটিন ও মায়োসিন 
  3. হিমোগ্লোবিন ও মায়োসিন 
  4. কোলাজেন ও এলাস্টিন 
সঠিক উত্তর:
অ্যাকটিন ও মায়োসিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাকটিন ও মায়োসিন 
ব্যাখ্যা

পেশি কলা: 
- ভ্রূণীয় মেসোডার্ম থেকে উদ্ভূত যে কলা অসংখ্য তন্ত্রর মতো কোষের সমন্বয়ে গঠিত এবং সংকোচন প্রসারণের মাধ্যমে প্রাণী দেহের বিভিন্ন অঙ্গের সঞ্চালন ঘটায় তাকে পেশি কলা বলে। 
যেমন- মসৃণ পেশি, অমসৃণ পেশি, হৃদপেশি। 
- দেহ ওজনের শতকরা প্রায় ৪০-৫০ ভাগ পেশি কলা। 

বিভিন্ন প্রকার পেশির গঠন: 
- অবস্থান, গঠন ও কাজের তারতম্যের ভিত্তিতে পেশি কলাকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- ১। ঐচ্ছিক বা কঙ্কাল বা অমসৃণ পেশি, ২। অনৈচ্ছিক বা অরৈখিক বা মসৃণ পেশি এবং ৩। হৃদপেশি বা কার্ডিয়াক পেশি। 

ঐচ্ছিক বা কঙ্কাল বা অমসৃণ পেশি: 
- যেসব পেশি স্নায়ুবিক অথবা হরমোন উদ্দীপনায় উদ্দীপ্ত হয়ে কর্মতৎপর হয় অর্থাৎ যেসব পেশি স্বেচ্ছায় সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহ সঞ্চালনের মুখ্য ভূমিকা পালন করে তাদের ঐচ্ছিক পেশি বলে। 
- ঐচ্ছিক পেশি কঙ্কালের সাথে আটকে থাকে বলে এদেরকে কঙ্কাল পেশি বলে। 
- এসকল পেশির কোষগুলো তন্ত্রর মতো, তাই এদেরকে পেশিতন্ত্র বলে। 
- প্রতিটি পেশিকোষ এন্ডোমাইসিয়াম নামক যোজক কলার আবরণে আবৃত। 
- কোষগুলো বিক্ষিপ্ত না থেকে গুচ্ছাকারে বান্ডল সৃষ্টি করে। এ গুচ্ছাকার বান্ডলকে ফ্যাসিকুলাস বলে। এ বান্ডলগুলো পেরিমাইসিয়াম আবরণে আবৃত থাকে। 

- পেশিকোষগুলো নলাকার, লম্বা। দৈর্ঘ্যে ১-৪০ মিলিমিটার, প্রস্থে ০.০১-০.১০ মিলিমিটার হয়। 
- কোষগুলো সারকোলেমা নামক আবরণে আবৃত থাকে। এদের সাইটোপ্লাজমকে সারকোপ্লাজম বলে। 
- কোষের অভ্যন্তরে অসংখ্য ডিম্বাকার নিউক্লিয়াস থাকে। 
- প্রতিটি পেশিকোষের অভ্যন্তরে কতকগুলো অতিসূক্ষ্ম তন্তু বা মায়োফাইব্রিল পাওয়া যায়। প্রধানত অ্যাকটিন ও মায়োসিন নামক প্রোটিন দিয়ে মায়োফাইব্রিল গঠিত। 
- বিভিন্ন অস্থির সাথে, চোখে, জিহ্বায়, গলবিল ইত্যাদিতে ঐচ্ছিক পেশি থাকে। 
- ঐচ্ছিক পেশির সংকোচন প্রসারণে প্রাণীরা স্থানান্তরিত হয় এবং ইচ্ছানুসারে অঙ্গ সঞ্চালন করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৪৮.
একজন সুস্থ মানুষের হৃৎস্পন্দন প্রতি মিনিটে কত বার হয়?
  1. ক) ৬০-৮০ বার
  2. খ) ৭০-৯০ বার
  3. গ) ৬০-১০০ বার
  4. ঘ) ১০০-১২০ বার
সঠিক উত্তর:
গ) ৬০-১০০ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬০-১০০ বার
ব্যাখ্যা
- একটি সিস্টোল ও একটি ডায়াস্টোলের সমন্বয়ে একটি হৃৎস্পন্দন সম্পন্ন হয় এবং সময় লাগে প্রায় ০.৮ সেকেন্ড।
- একজন সুস্থ মানুষের হৃৎস্পন্দন প্রতি মিনিটে ৬০-১০০ বার হয়
- এটাকে হার্ট-বিট বলা হয়।
- আমাদের হাতের কবজির রেডিয়াল ধমনিতে এই স্পন্দন গোনা যায় আবার বুকের বাম দিকে নির্দিষ্ট স্থানে স্টেথোস্কোপ বসিয়ে শব্দ শোনা যায়।
- হাতের কবজিতে হৃৎস্পন্দন অনুভব করাকে পালস বলে।
- স্টেথোস্কোপের সাহায্যে হৃৎস্পন্দনের যে শব্দ শোনা যায়, তাকে হার্টসাউন্ড বলে।
- হৃৎস্পন্দন বা হার্ট-বিটকে যখন প্রতি মিনিটে হাতের কবজিতে গণনা করা হয়, তখন তাকে পালস রেট বলে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৯৪৯.
এককোষী জীবে কোণ ধরনের কোষ বিভাজন ঘটে?
  1. ক) মিয়োসিস
  2. খ) অ্যামাইটোসিস
  3. গ) মাইটোসিস
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যামাইটোসিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যামাইটোসিস
ব্যাখ্যা
- এককোষী জীব যেমন- ইস্ট, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক এবং অ্যামিবাতে অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন ঘটতে দেখা যায়।
- এককোষী জীবগুলো অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি করে থাকে।

অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজনের বৈশিষ্ট্যসমূহ-
১) প্রথমে মাতৃ নিউক্লিয়াসটি লম্বাটে ও ডাম্বেল আকৃতি ধারণ করে।
২) এরপর নিউক্লিয়াসটি ক্লিভেজ বা ফায়ারিং পদ্ধতির মাধ্যমে মাঝখানে সংকুচিত হয় এবং দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য
নিউক্লিয়াস গঠন করে।
৩) নিউক্লিয়াস বিভাজন এর সঙ্গে সঙ্গে কোষপর্দা ও সাইটোপ্লাজমীয় অংশ মাঝ বরাবর বিভাজিত হয় এবং নিউক্লিয়াসকে ঘিরে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে।

সূত্র: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি ।
৯৫০.
মায়ের শালদুধ কীভাবে শিশুর জন্য উপকারী?
  1. শিশুকে দ্রুত ঘুম পাড়াতে সহায়তা করে
  2. শিশুর হাড় মজবুত করে
  3. শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
  4. শিশুর দাঁত গঠনে সহায়তা করে
সঠিক উত্তর:
শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
ব্যাখ্যা
শিশুকে মায়ের দুধ দেয়ার প্রয়োজনীয়তা: 
- জন্মের পরপরই সুস্থ নবজাতককে উষ্ণ রাখার জন্য মায়ের পেট ও বুকে রাখা হয়। 
- প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী শিশুর জন্য মায়ের দুধ সর্বোৎকৃষ্ট খাদ্য। 
১। শিশুর প্রথম খাবার হিসেবে শালদুধ বা কলোস্ট্রাম শিশুর প্রথম টিকা হিসাবে কাজ করে। শালদুধ এন্টিবডি ও প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ায় শিশুর বহু রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। 
২। শিশু জন্মের প্রথম ৩-৫ দিন শালদুধ অল্প মাত্রায় আসে। তবে এ পরিমাণই নবজাতকের শারীরিক সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট। শালদুধ শিশুর পরিপাচক অন্ত্রসমূহকে উদ্দীপিত করে। যার ফলে অন্ত্র থেকে দ্রুত মিকোনিয়াম (শিশুর প্রথম মল) পরিষ্কার হয়। এ অবস্থা জন্ডিস সৃষ্টিকারী জীবাণু শরীর থেকে বের হয়ে যেতে সাহায্য করে। 
৩। শিশু মায়ের স্তন মুখে নেয়া ও চোষার ফলে মায়ের শরীরে অক্সিটোসিন নামক হরমোন নির্গত হয়। এতে মা শান্ত, অবসাদমুক্ত বোধ করেন এবং শিশুর সাথে মায়ের ভালোবাসার বন্ধন দৃঢ় হয়। 
৪। শিশু জীবনের প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ এবং ছয় মাস পর থেকে ২ বছর পর্যন্ত বাড়তি খাবারের সাথে মায়ের দুধ দেয়া চলতে থাকে। 
৫। মায়ের দুধে রোগ জীবাণু প্রবেশের ভয় থাকে না, এ দুধের উত্তাপ শরীরের তাপমাত্রা অনুযায়ী থাকে বলে একে ঠান্ডা বা গরম করতে হয় না। 
৬। শিশুকে বুকের দুধ দিতে হলে ধৈর্য ও মানসিক প্রস্তুতির প্রয়োজন। কারণ, মানসিক অশান্তি, স্বাস্থ্যহীনতা, রোগাক্রান্ত অবস্থা বা উত্তেজিত পরিস্থিতিতে শিশুকে দুধ দিলে মায়ের দুধ কমে যাবে, শিশুর মধ্যেও অতৃপ্তি আসবে। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫১.
মানবদেহে লোহিত রক্তকোষের প্রধান উৎপাদন স্থান কোনটি?
  1. অস্থিমজ্জা 
  2. লিভার 
  3. কিডনি 
  4. প্লীহা 
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জা 
ব্যাখ্যা

• মানবদেহে লোহিত রক্তকোষের (রেড ব্লাড সেল বা রক্তকণিকা) প্রধান উৎপাদন স্থান অস্থিমজ্জা। অস্থিমজ্জা হাড়ের অভ্যন্তরে থাকে এবং এটি বিভিন্ন ধরনের রক্তকোষ উৎপাদনের জন্য একটি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। নবজাতক শিশুদের জন্য প্রাথমিকভাবে বৃহৎ হাড়ের মধ্যে অস্থিমজ্জা সক্রিয় থাকে, তবে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এটি কেবল দীর্ঘহাড়ের মাথা, পেরুন এবং কিছু বড় হাড়ের মধ্যে সীমিত হয়ে আসে। অস্থিমজ্জায় হেমাটোপয়েটিক স্টেম সেল থাকে, যা বিভাজনের মাধ্যমে লোহিত রক্তকোষ, শ্বেতরক্তকোষ এবং রক্তপ্লেট তৈরি করে। অন্যান্য অঙ্গ যেমন লিভার, কিডনি বা প্লীহা রক্তকোষের উৎপাদন প্রধানত সহায়ক বা সীমিত মাত্রায় কার্যকর।

- উত্তর: ক) অস্থিমজ্জা।

লোহিত রক্তকোষ: 
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকোষ দ্বি-অবতল এবং চাকতি আকৃতির। 
- এতে হিমোগ্লোবিন নামে রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে দেখতে লাল বর্ণের হয়, এজন্য এদেরকে Red Blood Cell বা RBC বলে। 
অন্যভাবে বলা যায়, লোহিত কোষ প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ভর্তি চ্যাপ্টা আকৃতির ভাসমান ব্যাগ, এ কারণে লোহিত কোষ অধিক পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহণ করতে পারে। 
- পরিণত লোহিত কোষগুলোর বিভাজন হয় না, এ কোষগুলো সর্বক্ষণই অস্থিমজ্জার ভিতরে উৎপন্ন হতে থাকে এবং উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে চলে আসে। 
- মানুষের লোহিত কোষের গড় আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন। 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীদের লোহিত রক্তকোষগুলো উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে আসার পূর্বে নিউক্লিয়াসবিহীন হয়ে যায়। 
- অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর ক্ষেত্রে এরকম ঘটে না অর্থাৎ এদের লোহিত কোষগুলোতে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- লোহিত কোষ প্লীহা (Spleen) তে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কোষ রক্তরসে সরবরাহ হয়। 

- লোহিত কোষের প্রধান কাজ হলো- 
১. দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা। 
২. নিষ্কাশনের জন্য কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইডকে টিস্যু থেকে ফুসফুসে বহন করা। 
৩. হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখার জন্য বাফার হিসেবে কাজ করা। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৫২.
নিম্নের কোনটি মানব দেহের সংবেদী অঙ্গ নয়?
  1. হৃৎপিণ্ড
  2. কর্ণ 
  3. নাসিকা
  4. চক্ষু
সঠিক উত্তর:
হৃৎপিণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৃৎপিণ্ড
ব্যাখ্যা

- হৃৎপিণ্ড একটি অভ্যন্তরীণ অঙ্গ যা রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার অংশ এবং এর প্রধান কাজ হল রক্ত পাম্প করা, এটি কোনো সংবেদী অঙ্গ নয়। 

মানব সংবেদী অঙ্গ: 
- পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রকৃতি ও পরিবর্তন অনুধাবনে সক্ষম ইন্দ্রিয় সমূহকে সংবেদী অঙ্গ বা রিসেপ্টর বলা হয়।
- বিশেষ ধরনের সংবেদী কোষের সমন্বয়ে সংবেদী অঙ্গ গঠিত।
- মানব দেহের সংবেদী অঙ্গ হলো- চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা ও ত্বক।
- এরা সাধারণভাবে পঞ্চ ইন্দ্রিয় নামে পরিচিত ।
- এদের মধ্যে চক্ষু দর্শন অনুভূতি, কর্ণ শ্রবণ অনুভূতি ও ভারসাম্য অনুভূতি, নাসিকা ঘ্রাণ অনুভূতি, জিহ্বা স্বাদ অনুভূতি এবং ত্বক স্পর্শ অনুভূতি মস্তিষ্কে প্রেরণ করে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৯৫৩.
শিশুর দেহে থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি থাকলে এবং মানসিক বিকাশ ব্যাহত হলে কোন রোগ হতে পারে? 
  1. হাইড্রোসেফালি
  2. ক্রিটিনিজম
  3. মাইক্রোসেফালি
  4. ডাউন সিনড্রোম
সঠিক উত্তর:
ক্রিটিনিজম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিটিনিজম
ব্যাখ্যা
- বুদ্ধি প্রতিবন্ধীতার সাথে সম্পর্কিত কিছু রোগ রয়েছে যা দেখে সহজে শনাক্ত করা যায়। 
যেমন- 
ক) হাইড্রোসেফালি: 
- মাথার ভিতরে তরল পদার্থ জমে থাকে, ফলে মাথার আকৃতি অস্বাভাবিক বড় হয়। 

খ) ক্রিটিনিজম: 
- শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বিলম্ব হয়। শিশুর দেহে থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন কম হয়। ফলে শিশু খুব ধীরে বেড়ে ওঠে, কপাল ছোট, মুখমন্ডল ও হাত-পা ফোলা ইত্যাদি। 

গ) মাইক্রোসেফালি: 
- মাথার আকৃতি অস্বাভাবিক ছোট, এরা গুরুতর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হয়। 

ঘ) ডাউন সিনড্রোম: 
- মুখোমন্ডল গোলাকার, তীর্যক চোখ, চোখের পাতা পুরু হয়। জন্মের সময় শিশু দুর্বল ও শিথিল থাকে। হাত, পা ও ঘাড় খাটো হয়। উপুর হওয়া, বসা, হাঁটা দেরি হয়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫৪.
রক্তের কোন কণিকা বৃদ্ধি পেলে ব্লাড ক্যান্সার হয়?
  1. ক) শ্বেত কণিকা
  2. খ) লোহিত কণিকা
  3. গ) শ্বেত ও লোহিত কণিকা
  4. ঘ) কোন কণিকা নয়
সঠিক উত্তর:
ক) শ্বেত কণিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শ্বেত কণিকা
ব্যাখ্যা
শ্বেত রক্তকণিকা বা লিউকোসাইট:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে।
- ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে।
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC এর তুলনায় অনেক কম।
- রক্তের শ্বেত রক্তকণিকা বৃদ্ধি পেলে ব্লাড ক্যান্সার হয়।

রক্ত উপাদানের অস্বাভাবিক অবস্থা: 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। যেমন:

১. অ্যানিমিয়া:
- লোহিত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায় অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যায়।

২. পলিসাইথিমিয়া:
- লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়।

৩. লিউকোসাইটোসিস:
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ১ ঘন মি.লি. রক্তে ২০,০০০- ৩০,০০০ হয়।

৪. লিউকেমিয়া:
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা, প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়।
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক হারে বেড়ে ১ ঘন মি.লি. রক্তে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫৫.
কোন পর্যায়ে DNA এর প্রতিলিপন সম্পন্ন হয়?
  1. ক) প্রোফেজ
  2. খ) মেটাফেজ
  3. গ) টেলোফেজ
  4. ঘ) ইন্টারফেজ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইন্টারফেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইন্টারফেজ
ব্যাখ্যা

কোষ বিভাজন আরম্ভ হওয়ার পূর্বে ইন্টারফেজ পর্যায়েই DNA প্রতিলিপন সম্পন্ন হয়।

ইন্টারফেজ দশা- ইন্টারফেজ হল কোষ বিভাজনের প্রক্রিয়া পর্যায়ের প্রস্তুতির পর্ব। কোষ বিভাগের সময়, ডিএনএ দ্বিগুণ হয়ে যায় এবং তারপরে কন্যা কোষগুলিতে বিতরণ করা হয়। তাই কোষ বিভাগের এই প্রথম পর্যায়ে নিউক্লিয়োটাইড এবং সমস্ত প্রোটিন সংশ্লেষিত হয়।
ইন্টারফেজ এর গুরুত্ব:
-ইন্টারফেজ, কোষ বিভাজনের মধ্যবর্তী সময়কালে, এমন সময় হয় যখন কোষটি বিভিন্ন বিপাকীয় ক্রিয়াকলাপে বৃদ্ধি পায় এবং ব্যস্ত থাকে। কোনও কোষ বিভক্ত হওয়া উচিত কিনা তা Interphase সিদ্ধান্ত নেয়।
-ইন্টারফেজের তিন-পর্যায়ের জি 1, এস, জি 2 রয়েছে। এই পদক্ষেপগুলিতে, ডিএনএ প্রতিরূপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম এবং প্রোটিনগুলি সংশ্লেষিত করা হয়।
-জি ১ পর্যায়ে সাইটোপ্লাজম এবং নিউক্লিয়াসের অনুপাত বজায় থাকে। এস পর্যায়ে ডিএনএ এবং ক্রোমোজোমের নকল ঘটে এবং জি 2 পর্বে কোষটি বৃদ্ধি পায় এবং মাইটোসিসের জন্য প্রস্তুত হয়।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৯৫৬.
নিচের কোন প্রাণীটি মেরুদণ্ডী প্রাণী? 
  1. মাছ
  2. মশা
  3. কেঁচো
  4. চিংড়ি
সঠিক উত্তর:
মাছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাছ
ব্যাখ্যা
- মেরুদণ্ডের উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে প্রাণীজগৎকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। অমেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- যেসব প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, তাদেরকে বলা হয় অমেরুদণ্ডী প্রাণী। 
যেমন- মশা, মাছি, প্রজাপতি, চিংড়ি, কাঁকড়া, কেঁচো ইত্যাদি অমেরুদণ্ডী প্রাণী। 
- অমেরুদণ্ডী প্রাণীর মেরুদণ্ড নেই, এদের দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে না, চোখ সরল প্রকৃতির বা একটি চোখের মধ্যে অনেকগুলো চোখ থাকে যা পুঞ্জাক্ষি এবং এদের লেজ নেই। 

২। মেরুদণ্ডী প্রাণী: 
- যেসব প্রাণীর মেরুদণ্ড আছে, তাদেরকে বলা হয় মেরুদণ্ডী প্রাণী। 
যেমন- মাছ, ব্যাঙ, পাখি, টিকটিকি, গরু, ছাগল, মানুষ ইত্যাদির মেরুদণ্ড আছে। 
- এদের মেরুদণ্ড আছে, দেহের ভিতর কঙ্কাল থাকে, পাখনা বা দুই জোড়া পা থাকে, চোখ সরল প্রকৃতির। 
- মানুষ ছাড়া সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীর লেজ থাকে। 
- এরা ফুলকা বা ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৯৫৭.
একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী কোনটি? 
  1. ইঁদুর 
  2. খরগোস 
  3. ভেড়া 
  4. গরু 
সঠিক উত্তর:
ভেড়া 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভেড়া 
ব্যাখ্যা

ক্লোনিং পদ্ধতি: 
- প্রাকৃতিক ক্লোন বলতে একটি জীব অথবা এক দল জীবকে বুঝানো হয়, যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ প্রজননের দ্বারা। এগুলোর প্রকৃতি হয় পুরোপুরি তার মাতৃজীবের মত। 
- একটি কোষ বা একগুচ্ছ কোষ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপত্তি হয় এবং সেগুলোর প্রকৃতি মাতৃকোষের মতো হয়, তখন তাকেও ক্লোন বলে। 
- প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশির ভাগ প্রোটোজোয়া এবং ইস্ট ছত্রাক ক্লোনিং পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে। 
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে তিন ধরনের ক্লোনিং করা হয়। 
যথা- 
১। জিন ক্লোনিং: একই জিনের অসংখ্য নকল তৈরি করাকে জিন ক্লোনিং বলে। জিন ক্লোনিং রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়। 
২। সেল ক্লোনিং: একই কোষের অসংখ্য হুবহু একই রকমের কোষ সৃষ্টি করাকে সেল ক্লোনিং বলে। 
৩। জীব ক্লোনিং: দুটির পরিবর্তে একটিমাত্র জীব থেকে জিনগত হুবহু এক বা একাধিক জীব তৈরির পদ্ধতিকে জীব ক্লোনিং বলে। 
- ডলি নামক ভেড়া হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী, যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয়, তা হুবহু তার মাতার মতো হয়। 
- এই ক্লোনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শকুর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে। 
- সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে বলে রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং বলে। যেমন- ‘ডলি’ নামক ভেড়া তার উদাহরণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৫৮.
সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে কী বলা হয়?
  1. জিন ক্লোনিং
  2. সেল ক্লোনিং
  3. রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং
  4. প্রাকৃতিক ক্লোনিং
সঠিক উত্তর:
রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং
ব্যাখ্যা

ক্লোনিং পদ্ধতি: 
- প্রাকৃতিক ক্লোন বলতে একটি জীব অথবা এক দল জীবকে বুঝানো হয়, যাদের উদ্ভব ঘটে অযৌন অঙ্গজ প্রজননের দ্বারা। এগুলোর প্রকৃতি হয় পুরোপুরি তার মাতৃজীবের মত। 
- একটি কোষ বা একগুচ্ছ কোষ যখন একটিমাত্র কোষ থেকে উৎপত্তি হয় এবং সেগুলোর প্রকৃতি মাতৃকোষের মতো হয়, তখন তাকেও ক্লোন বলে। 
- প্রকৃতিতে ব্যাকটেরিয়া, অনেক শৈবাল, বেশির ভাগ প্রোটোজোয়া এবং ইস্ট ছত্রাক ক্লোনিং পদ্ধতিতে বংশবৃদ্ধি করে। 
- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে তিন ধরনের ক্লোনিং করা হয়। 
যথা- 
১। জিন ক্লোনিং: একই জিনের অসংখ্য নকল তৈরি করাকে জিন ক্লোনিং বলে। জিন ক্লোনিং রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ টেকনোলজির সাহায্যে ঘটানো হয়। ২। সেল ক্লোনিং: একই কোষের অসংখ্য হুবহু একই রকমের কোষ সৃষ্টি করাকে সেল ক্লোনিং বলে। 
৩। জীব ক্লোনিং: দুটির পরিবর্তে একটিমাত্র জীব থেকে জিনগত হুবহু এক বা একাধিক জীব তৈরির পদ্ধতিকে জীব ক্লোনিং বলে। 

- ডলি নামক ভেড়া হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী, যা একটি পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে ক্লোন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ডিম্বাণু থেকে যে প্রাণী সৃষ্টি হয়, তা হুবহু তার মাতার মতো হয়। 
- এই ক্লোনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর, খরগোস, গরু ও শকুর এমনকি বানর পর্যন্ত ক্লোন করা হয়েছে। 
- সম্পূর্ণ প্রাণীর ক্লোনিংকে রিপ্রোডাকটিভ ক্লোনিং বলে। 
যেমন- ‘ডলি’ নামক ভেড়া তার উদাহরণ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৫৯.
নিচের কোন এনজাইম প্রোটিনকে পলিপেপটাইডে পরিণত করে?
  1. ক) ট্রিপসিন
  2. খ) অ্যামাইলেজ
  3. গ) লাইপেজ
  4. ঘ) প্রোটিওলেজ
সঠিক উত্তর:
ক) ট্রিপসিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ট্রিপসিন
ব্যাখ্যা
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জটিল ও শোষণ অনুপযোগী খাদ্যবস্তু দেহাভ্যন্তরে বিভিন্ন এনজাইম ও পানির সাহায্যে ভেঙ্গে তরল, সরল ও শোষণ উপযোগী খাদ্যবস্তুতে পরিণত হয় তাকে পরিপাক (Digestion) বলে। 
- খাদ্য সিলেন্টেরনে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে মুখছিদ্র বন্ধ হয়ে যায় এবং অন্তঃত্বকীয় গ্রন্থিগুলো সক্রিয় হয়।
- মূলত গ্যাস্ট্রোডার্মিস নিঃসৃত এনজাইমের ক্রিয়ায় শিকারের মৃত্যু ঘটে।
- এরপর দেহ প্রাচীরের সংকোচন ও প্রসারণের ক্রিয়ায় খাদ্যবস্তু চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়।
- পরবর্তীতে অন্তঃত্বকের ফ্ল্যাজেলীয় কোষের ফ্ল্যাজেলায় সঞ্চালনে খাদ্যকণা এনজাইমের সাথে ভালোভাবে মিশ্রিত হয়।
- গ্রন্থিকোষ নির্মিত ট্রিপসিন এনজাইম প্রোটিনকে পলিপেপটাইডে পরিণত করে
- লিপিড ও শর্করা খাদ্যবস্তুর কোন পরিবর্তন হয় না।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬০.
বৃহদন্ত্রের কোন অংশ অ্যাপেনডিক্সের সাথে সংযুক্ত থাকে? 
  1. সিকাম
  2. ইলিয়াম 
  3. কোলন
  4. মলাশয়
সঠিক উত্তর:
সিকাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকাম
ব্যাখ্যা

অন্ত্র (Intestine): 
- পাকস্থলীর পরের অংশ অন্ত্র, এটি একটি লম্বা প্যাঁচানো নালি। 
- অন্ত্র দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত। 
যেমন- ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্র। 
(১) ক্ষুদ্রান্ত্র (Small Intestine): 
- পাকস্থলী থেকে বৃহদন্ত্র পর্যন্ত বিস্তৃত লম্বা, প্যাঁচানো নলটিকে ক্ষুদ্রান্ত্র বলে। 
- ক্ষুদ্রান্ত্র আবার তিনটি অংশে বিভক্ত। 
যথা- ডিওডেনাম, জেজুনাম ও ইলিয়াম। 
- ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামে পিত্তথলি থেকে পিত্তনালি এবং অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয় নালি এসে মিলিত হয়। 
- পিত্তনালির মাধ্যমে যকৃতের পিত্তরস এবং অগ্ন্যাশয়ের অগ্ন্যাশয় রস ডিওডেনামে এসে পৌঁছে। 
- ক্ষুদ্রান্ত্রের গায়ে আন্দ্রিক গ্রন্থিও থাকে। 
- ক্ষুদ্রান্ত্রের অন্তঃপ্রাচীরে আঙুলের মতো প্রক্ষেপিত অংশ থাকে, এদের ভিলাস বলে। ভিলাস পরিপাককৃত খাদ্য উপাদান শোষণ করে। 

(২) বৃহদন্ত্র (Large Intestine): 
- ইলিয়াম থেকে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত মোটা নলাকৃতির অংশ হলো বৃহদন্ত্র। 
- বৃহদন্ত্র তিনটি অংশে বিভক্ত। 
যথা- সিকাম, কোলন ও মলাশয়। 
- সিকামের সাথে অ্যাপেনডিক্স নামক ক্ষুদ্র নলের মতো প্রবৃদ্ধি সংযুক্ত থাকে। 
- বৃহদন্ত্রে মূলত পানি শোষিত হয়, মল তৈরি হয় এবং মল জমা থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৬, সংস্করণ)।

৯৬১.
রক্তচাপ মাপার যন্ত্রটির নাম কি?
  1. ক) থার্মোমিটার 
  2. খ) স্ফিগমোম্যানোমিটার
  3. গ) ব্যারোমিটার
  4. ঘ) হাইগ্রোমিটার
সঠিক উত্তর:
খ) স্ফিগমোম্যানোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্ফিগমোম্যানোমিটার
ব্যাখ্যা

স্ফিগমোম্যানোমিটার হলো রক্তচাপ পরিমাপক যন্ত্র।
গ্রিক শব্দ ‘Sphygmos’ (স্পন্দন) এবং বৈজ্ঞানিক পরিভাষা ‘Manometer’-এর (চাপমানযন্ত্র) সমন্বয়ে ‘স্ফিগমোম্যানোমিটার’ শব্দটির উৎপত্তি। নাম থেকে যন্ত্রটির কাজ বোঝা যায় সহজেই।
স্ফিগমোম্যানোমিটার প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৮৮১ সালে। আবিষ্কার করেন অস্ট্রিয়ান চিকিৎসক স্যামুয়েল সিগফ্রিড কার্ল রিটার ভন বাস্ক। এরপর একাধিকজনের হাত ধরে বর্তমান রূপে এসে পৌঁছেছে যন্ত্রটি। ১৮৯৬ সালে ইতালিয়ান শিশুচিকিৎসক স্কিপিয়ন রিভা-রকি এটিকে আরও সহজে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলেন। ১৯০১ সালে, নিউরোসার্জন হার্ভে কুশিং এর আধুনিকতর রূপ উপহার দেন এবং তখন থেকেই চিকিৎসাজগতে রীতিমতো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যন্ত্রটি।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান এবং প্রথম আলো পত্রিকা ওয়েবসাইট ১৬ই অগাস্ট, ২০২২ (ব্যাখ্যা)

৯৬২.
লোহিত রক্তকণিকার কাজ নয় কোনটি?
  1. ক) রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করা
  2. খ) দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা
  3. গ) হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখা
  4. ঘ) নিষ্কাশনের জন্য কার্বন ডাই-অক্সাইড বহন করা
সঠিক উত্তর:
ক) রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করা
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্তকণিকার কাজ হলো দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা, হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখা এবং নিষ্কাশনের জন্য কার্বন ডাই-অক্সাইডকে টিস্যু থেকে ফুসফুসে বহন করা। অণুচক্রিকার প্রধান কাজ হলো রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করা।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৬৩.
হাড় ও দাঁত শক্ত রাখার জন্য অত্যাবশ্যক খনিজ উপাদান কোনটি?
  1. আয়োডিন
  2. আয়রন
  3. ক্যালসিয়াম
  4. সোডিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম: 
- ক্যালসিয়াম (Ca) প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। 
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। 
- রক্ত এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি রয়েছে। 
- উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাধঁকপি এবং ফল। 
- প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 
- হাড় ও দাঁত শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। 
- এ ছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। 
- এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৬৪.
মানবদেহে লােহিত কণিকার আয়ুষ্কাল কত দিন?
  1. ৭ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ১৮০ দিন
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উপরের কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• লোহিত কণিকার আয়ুষ্কাল ১২০ দিন।

• লোহিত রক্ত কণিকা:
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা দ্বি-অবতল, চাকতি আকৃতির এবং নিউক্লিয়াসবিহীন।
- এতে হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জন পদার্থ থাকার কারণে লাল বর্ণের হয়। এজন্য এদের Red Blood Cell বা RBC বলে।
- লোহিত কণিকা প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ভর্তি ভাসমান ব্যাগ এবং চ্যাপ্টা আকৃতির।
- এ কারণে লোহিত কণিকা তার আকারের পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহনে সক্ষম।
- লোহিত কণিকাগুলোর বিভাজন হয় না।
- এ কণিকাগুলো সার্বক্ষণিক অস্থিমজ্জার ভিতরে উৎপন্ন হয় এবং রক্তরসে চলে আসে।
- মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬৫.
মায়ের দুধে কোন ধরনের ইমিউনোগ্লোবিউলিন পাওয়া যায়?
  1. IgG
  2. IgA
  3. IgE
  4. IgM
সঠিক উত্তর:
IgA
উত্তর
সঠিক উত্তর:
IgA
ব্যাখ্যা

অ্যান্টিবডি: 
- দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র (immune system) থেকে উৎপন্ন এক ধরনের দ্রবণীয় গ্লাইকোপ্রোটিন যা রোগ-ব্যাধি সৃষ্টিকারী নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে (যেমন-ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া) ধ্বংস করে তাকে অ্যান্টিবডি বলে। 
- প্রত্যেকটি অ্যান্টিবডি হচ্ছে ইমিউনোগ্লোবিউলিন (সংক্ষেপে Ig) নামে বিশেষ ধরনের একেকটি প্রোটিন অণু। 
- শ্বেত রক্তকণিকার অন্যতম প্রধান কণিকা লিম্ফোসাইট। লিম্ফোসাইট দু'ধরনের: (১) T-কোষ ও (২) B-কোষ। 
- B-লিম্ফোসাইট কয়েক উপধরনে বিভক্ত যার একটি হচ্ছে প্লাজমা B-কোষ, সংক্ষেপে প্লাজমাকোষ নামে পরিচিত।
- প্লাজমাকোষ থেকে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়। 
- প্রয়োজনে প্রত্যেক প্লাজমাকোষ প্রতি সেকেন্ডে কয়েক হাজার অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করতে পারে। 
- মানুষের দেহে প্রায় ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ধরনের অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হতে পারে। 

অ্যান্টিবডির প্রকারভেদ: 
- অ্যান্টিবডির গড়নে যে ভারী শৃঙ্খল রয়েছে তাতে অ্যামিনো এসিডের ক্রমের (sequence) ভিত্তিতে ভারী শৃঙ্খল ৫ ধরনের: γ-(gamma), α-(alpha), μ-(mu), €-(epsilon) এবং δ-(delta)। 
- এ পাঁচ ধরনের ভারী শৃঙ্খলবিশিষ্ট অ্যান্টিবডিগুলো নিচে বর্ণিত ৫টি শ্রেণিতে বিভক্ত। 
যেমন- 
১। ইমিউনোগ্লোবিউলিন G (IgG), 
২। ইমিউনোগ্লোবিউলিন A (IgA), 
৩। ইমিউনোগ্লোবিউলিন M (IgM), 
৪। ইমিউনোগ্লোবিউলিন D (IgD) এবং 
৫। ইমিউনোগ্লোবিউলিন E (IgE) । 

ইমিউনোগ্লোবিউলিন A (IgA): 
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১৫% হচ্ছে IgA । 
- এ ধরনের অ্যান্টিবডি মিউকাস ঝিল্লিতে আবৃত থাকে, যেমন-পরিপাক, জনন ও শ্বসনতন্ত্রে বিস্তৃত হয় এবং সেখানে রোগ সৃষ্টিকারী অনুজীর ও অণুকণাকে প্রশমিত করে। 
- মায়ের দুধেও IgA পাওয়া যায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুদেছে স্থানান্তরিত হয়

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।

৯৬৬.
দেহের প্রধান সৈনিক হিসেবে কাজ করে কোনটি? 
  1. আমিষ
  2. হরমোন 
  3. এনজাইম
  4. অ্যান্টিবডি 
সঠিক উত্তর:
অ্যান্টিবডি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যান্টিবডি 
ব্যাখ্যা

অ্যান্টিবডি (Antibody): 
- অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীত বস্তু বা নিজস্ব বস্তু বা কণিকা বা কোষ অথবা কোষগুচ্ছ। 
- অ্যান্টিবডি প্রধানত অ্যান্টিজেনের সাড়ায় দেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপাদিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। 
- এরা রক্তের প্লাজমা ও কলারসে বর্তমান থাকে। 
- এরা অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত (combine) হতে পারে এবং ক্লোনাল নির্বাচন (colonal selection) দ্বারা উৎপাদিত হয় এবং দেহের প্রধান সৈনিক বা রক্ষণাবেক্ষণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। 
- অ্যান্টিবডিগুলো অনুপ্রবেশকারী বা বহিরাগত অ্যান্টিজেনকে ভক্ষণ করে, কখনো বিনষ্ট করে, কখনো মেরে ফেলে, কখনো বাইরে নিক্ষেপ করে। 
- অ্যান্টিজেন হচ্ছে non-self আর অ্যান্টিবডি হচ্ছে self বস্তু। 

অ্যান্টিবডির প্রকার: 
- মানবদেহের রক্তে পাঁচ রকমের ইমিউনোগ্লোবিউলিন অর্থাৎ অ্যান্টিবডি দেখা যায়। 
যথা- IgG, IgA, IgM, IgD ও IgE । 
- এগুলো মানবদেহের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- পাঁচ প্রকার অ্যান্টিবডির মধ্যে IgG রক্তরসে সর্বাধিক মাত্রায় থাকে এবং IgD ও IgE সবচেয়ে কম পরিমাণে থাকে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬৭.
নিচের কোনটি জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস? 
  1. র‍্যাবিস ভাইরাস 
  2. অ্যাডিনো ভাইরাস 
  3. ফ্ল্যাভি ভাইরাস 
  4. ভেরিওলা ভাইরাস 
সঠিক উত্তর:
র‍্যাবিস ভাইরাস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
র‍্যাবিস ভাইরাস 
ব্যাখ্যা

- জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস হচ্ছে- র‍্যাবিস ভাইরাস। 

ভাইরাস: 
- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে। 
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে। 
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে। তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে। 
- বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর নানা রকমের রোগ উৎপন্ন করে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু রোগের নাম, পোষকের নাম এবং ভাইরাসের নাম নিম্নের ছকে দেওয়া হলো- 


উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬৮.
রক্তে উপস্থিত কোন কণিকা ফুসফুস থেকে শরীরের টিস্যুতে অক্সিজেন বহন করে নিয়ে যায়?
  1. মনোসাইট
  2. লিম্ফোসাইট
  3. ইওসিনোফিল
  4. এরিথ্রোসাইট
সঠিক উত্তর:
এরিথ্রোসাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিথ্রোসাইট
ব্যাখ্যা

এরিথ্রোসাইট (লোহিত রক্তকণিকা) এর প্রধান কাজ হলো ফুসফুস থেকে সারা শরীরে অক্সিজেন পরিবহন করা।

এরিথ্রোসাইট (লোহিত রক্ত কণিকা):
- এরিথ্রোসাইট বা লোহিত রক্তকণিকা হলো মানবদেহের অন্যতম প্রধান রক্তকণিকা, যা রক্তের মোট আয়তনের প্রায় ৪৫% দখল করে।
- এর প্রধান কাজ হলো হিমোগ্লোবিন নামক লৌহযুক্ত প্রোটিনের সাহায্যে ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে শরীরের বিভিন্ন কোষে পৌঁছে দেওয়া।
- লোহিত রক্ত কণিকার আয়ু ১২০ দিন।
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়।
- লোহিত রক্তকণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।

উল্লেখ্য:
- মনোসাইট, লিম্ফোসাইট, ইওসিনোফিল:
- এই তিনটিই হলো শ্বেত রক্তকণিকা (White Blood Cell/Leucocyte) এর প্রকারভেদ। এদের প্রধান কাজ হলো দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অংশ নেওয়া (যেমন: জীবাণু ভক্ষণ বা অ্যান্টিবডি তৈরি করা)।
- এরা অক্সিজেন পরিবহনে সরাসরি যুক্ত নয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৯৬৯.
ডেঙ্গু হলে শরীরে রক্তের কোন উপাদানটি কমে যায়?
  1. লোহিত রক্তকণিকা
  2. শ্বেত রক্তকণিকা
  3. অণুচক্রিকা
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
অণুচক্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অণুচক্রিকা
ব্যাখ্যা
ডেঙ্গু:
- ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশা।
- Aedes Aegypti (এডিস এজিপটাই) প্রজাতির মশার কামড়ে ডেঙ্গু রোগ ছড়ায়।
- এছাড়াও এডিস এলবোপিকটাস মশার কামড়েও ডেঙ্গু রোগ ছড়াতে পারে।
- ভাইরাস সংক্রমণের তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়।

⇒ ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ:
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে রক্ত কণিকার অনুচক্রিকা উপাদানের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায় এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ ঘটে।
- ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়।
- জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশিতে ও গাঁটে ব্যাথা এবং চর্মে ফুসকুড়ি।

উৎস: i) বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) BBC.
৯৭০.
লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত মিউসিন কী কাজ করে?
  1. খাদ্যের স্বাদ বৃদ্ধি করে
  2. খাদ্যকে পিচ্ছিল করে পেছনে ঠেলে দেয়
  3. জিহ্বার সংবেদনশীলতা বাড়ায় 
  4. সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
খাদ্যকে পিচ্ছিল করে পেছনে ঠেলে দেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাদ্যকে পিচ্ছিল করে পেছনে ঠেলে দেয়
ব্যাখ্যা

মুখবিবর: 
- মুখ পরবর্তী অংশটি মুখবিবর। 
- মুখবিবরের ঊর্ধ্ব প্রাচীর তালুর অস্থি ও পেশি দিয়ে, সামনের প্রাচীর ঠোঁটের পেশি দিয়ে এবং পার্শ্ব প্রাচীর গালের পেশি দিয়ে গঠিত। 
- তালুর অগ্রভাগ অস্থিনির্মিত এবং শক্ত, পেছনের অংশ মাংসল ও নরম। তালুর পেছনের অংশের মধ্যভাগ থেকে একটি অপেক্ষাকৃত সরু আলজিহবা মুখবিবরে ঝুলে থাকে। 
- মানুষের ঊর্ধ্ব ও নিম্ন চোয়াল দাঁতযুক্ত। 
- এছাড়া মুখবিবরে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি থাকে। 
- নিম্নে চোয়ালের অস্থির সাথে জিহ্বাযুক্ত থাকে। পৃষ্ঠতলের উপর থাকে স্বাদকোরক এগুলো বিভিন্ন রাসায়নিক বস্তুর প্রতি সংবেদনশীল। 
- জিহ্বার অগ্রভাগ মিষ্টি, দুই পার্শ্ব নোনা, পশ্চাৎ ভাগের দুই পার্শ্ব টক এবং পেছনের দিক তিক্ত স্বাদ গ্রহণ করে। 

কাজ: 
- দাঁত খাদ্য দ্রব্যকে কাটা, ছেঁড়া ও পেষণে সাহায্য করে। 
- জিহ্বা খাদ্য দ্রব্যের স্বাদ গ্রহণ করে এবং পেষণের সময় লালারস মিশ্রিত করে খাদ্য দ্রব্যকে পিচ্ছিল করে পেছনে ঠেলে দেয়। 
- লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত 'মিউসিন' খাদ্যকে পিচ্ছিল করে আর 'টায়ালিন ও মল্টেজ' এনজাইম খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৭১.
রক্তনালীর ভিতরে রক্ত জমাট বাধতে দেয় না -
  1. ক) ভিটামিন কে
  2. খ) হেপারিন
  3. গ) হিমোগ্লোবিন
  4. ঘ) বিলিরুবিন
সঠিক উত্তর:
খ) হেপারিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হেপারিন
ব্যাখ্যা

রক্তবাহিকার অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে না, কারণ সেখানে হেপারিন নামে এক পদার্থ সংবহিত হয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।

৯৭২.
চোখের একমাত্র আলোক সংবেদী অংশ কোনটি?
  1. রেটিনা
  2. আইরিশ
  3. পিউপিল
  4. অন্ধবিন্দু
সঠিক উত্তর:
রেটিনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেটিনা
ব্যাখ্যা
রেটিনা: 
- চক্ষু গোলকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর রেটিনা। 
- চোখের 'রেটিনা' স্তরটি আলোক সংবেদী, এতে আলোক সংবেদী কোষ থাকে। 
- আলোক সংবেদী কোষগুলো রড ও কোণ কোষ নিয়ে গঠিত। 
- চোখে রড কোষের সংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ। 
- কোণ কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য উপযোগী। 
- রড কোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
৯৭৩.
অমরা নিষেকের কত সপ্তাহের মধ্যে গঠিত হয়? 
  1. ২ সপ্তাহ
  2. ৪ সপ্তাহ
  3. ৮ সপ্তাহ
  4. ১২ সপ্তাহ
সঠিক উত্তর:
১২ সপ্তাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ সপ্তাহ
ব্যাখ্যা
অমরা (Placenta): 
- যে বিশেষ অঙ্গের মাধ্যমে মাতৃ জরায়ুতে ক্রমবর্ধমান ভ্রূণ এবং মাতৃ জরায়ু-টিস্যুর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয়, তাকে অমরা বা গর্ভফুল বলে। 
- ভ্রূণ জরায়ুতে পৌঁছানোর 4-5 দিনের মধ্যে সংস্থাপন সম্পন্ন হয়। 
- ক্রমবর্ধমানশীল ভ্রূণের কিছু কোষ এবং মাতৃ জরায়ুর অন্তঃস্তরের কিছু কোষ মিলিত হয়ে ডিম্বাকার ও রক্তনালিসমৃদ্ধ এই অমরা তৈরি করে। 
- নিষেকের ১২ সপ্তাহের মধ্যে অমরা গঠিত হয়। 
- এভাবে ভ্রূণ এবং মাতৃ জরায়ুর অন্তঃস্তরের মধ্যে একটি অবিচ্ছেদ্য অস্থায়ী অঙ্গ তৈরি হয়। 
- প্রসবের সময় অমরা দেহ থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে যায়। 

- অমরার সাহায্যে ভ্রূণ জরায়ুর গায়ে সংস্থাপিত হয়। 
- ভ্রূণের বৃদ্ধির জন্য খাদ্যের দরকার। শর্করা, আমিষ, স্নেহ, পানি এবং খনিজ লবণ ইত্যাদি অমরার মাধ্যমে মায়ের রক্ত থেকে ভ্রূণের রক্তে প্রবেশ করে। 
- অমরা অনেকটা ফুসফুসের মতো কাজ করে। 
- অমরার মাধ্যমে ভ্রূণ মায়ের রক্ত থেকে অক্সিজেন গ্রহণ এবং ভ্রূণ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিনিময় ঘটে। 
- অমরা একই সাথে বৃক্কের মতো কাজ করে। 
- বিপাকের ফলে যে বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হয় তা অমরার মাধ্যমে ভ্রূণের দেহ থেকে অপসারিত হয়। 
- অমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ হরমোন তৈরি করে। এ হরমোন ভ্রূণের রক্ষণাবেক্ষণ ও তার স্বাভাবিক গঠনে সাহায্য করে। 
- অমরাতে প্রচুর রক্তনালি থাকে। 
- অমরা, আম্বিলিকাল কর্ড দ্বারা ভ্রূণের নাভির সাথে যুক্ত থাকে, একে নাড়িও বলা হয়। 
- এটা মূলত একটি নালি, যার ভিতর দিয়ে মাতৃদেহের সাথে ভ্রূণের বিভিন্ন পদার্থের বিনিময় ঘটে। 
- গর্ভাবস্থায় অমরা থেকে এমন কতগুলো হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মাতৃদুগ্ধ উৎপাদন এবং প্রসব সহজ করতে সহায়তা করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৭৪.
মানবদেহে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ কোন প্রক্রিয়ায় বের হয়? 
  1. শ্বাসনালির মাধ্যমে
  2. রেচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে
  3. পরিপাকনালির মাধ্যমে
  4. স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
রেচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
রেচনতন্ত্র (Excretory system): 
- বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় বিপাক ক্রিয়ার ফলে শরীরে উপজাত দ্রব্য হিসেবে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয়। 
- এসব বর্জ্য পদার্থ সাধারণত দেহের জন্য ক্ষতিকর এবং দেহ থেকে নিষ্কাশনের প্রয়োজন হয়। 
- দেহ থেকে এসব অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন করার পদ্ধতিকে রেচন প্রক্রিয়া বলে। 
- যে তন্ত্রের সাহায্যে রেচন প্রক্রিয়া সম্পাদিত হয়, তাকে রেচনতন্ত্র বলে। 
- একজোড়া বৃক্ক, একজোড়া ইউরেটার, একটি মূত্রথলি এবং একটি মূত্রনালি (ইউরেথ্রা) নিয়ে মানুষের রেচন তন্ত্র গঠিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৭৫.
যকৃত মানবদেহের কোন অংশে অবস্থান করে?
  1. বাম পাশ, ফুসফুসের নিচে 
  2. মধ্যচ্ছদের নিচে, পাকস্থলীর ডান পাশে 
  3. পেটে, বৃহদান্ত্রের উপরে
  4. নাভির পাশে, পেরিকর্ডিয়ামের নিচে
সঠিক উত্তর:
মধ্যচ্ছদের নিচে, পাকস্থলীর ডান পাশে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যচ্ছদের নিচে, পাকস্থলীর ডান পাশে 
ব্যাখ্যা

- যকৃৎ মানবদেহের মধ্যচ্ছদার নিচে, উদরগহ্বরের উপরের ডান পাশে, পাকস্থলীর ডান দিকে এবং ডায়াফ্রামের (মধ্যচ্ছদা) ঠিক নিচে অবস্থিত। এটি শরীরের বৃহত্তম অঙ্গ এবং এর রং গাঢ় লালচে বাদামী, যা বিপাক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে সাহায্য করে। 

যকৃত (Liver): 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। 
- এটি মধ্যচ্ছদের নিচে, পাকস্থলীর ডান পাশে অবস্থিত। 
- যকৃতের রঙ গাঢ় বাদামি এবং এটি আকারে ত্রিকোণাকার। যকৃতের নিচে কলস আকৃতির পিত্তথলি (Gallbladder) সংযুক্ত থাকে। 

যকৃতের কাজ: 
- যকৃত থেকে ক্ষারীয় প্রকৃতির গাঢ় সবুজ বর্ণের পিত্তরস নিঃসৃত হয়। পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পিত্তনালির মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবাহিত হয়। 
- পাচন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে (গ্লাইকোজেন সংরক্ষণ ও মুক্তি)। প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট বিপাক ঘটায়। 
- দেহের বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করে (ডিটক্সিফিকেশন)। 
- রক্তে কোলেস্টেরল ও হরমোন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। যকৃতে বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয়, তাই একে "দেহের রসায়ন গবেষণাগার" বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৭৬.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা কত? 
  1. ক) ০.০৫ মিলিগ্রাম/লিটার
  2. খ) ০.০৩ মিলিগ্রাম/লিটার
  3. গ) ০.০২ মিলিগ্রাম/লিটার
  4. ঘ) ০.০১ মিলিগ্রাম/লিটার
সঠিক উত্তর:
ঘ) ০.০১ মিলিগ্রাম/লিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ০.০১ মিলিগ্রাম/লিটার
ব্যাখ্যা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা ০.০১ মিলিগ্রাম/লিটার। 

- আর্সেনিক দূষণ  ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আর্সেনিক দূষণ ধরা পড়ার পর থেকে বাংলাদেশের ভূগর্ভস্থ পানিতে বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত জেলাসমূহে আর্সেনিক দূষণের আশঙ্কা দেখা দেয়।
- বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর ১৯৯৩ সালে  নবাবগঞ্জ সদর (চাঁপাই নবাবগঞ্জ) উপজেলার বড়ঘরিয়া মৌজায় কয়েকটি কূপে পরীক্ষা চালিয়ে সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি লক্ষ্য করে।
- ১৯৯৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে (School of Environmental Sciences – SOES/ এস.ও.ই.এস) অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারের পর বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। এর পর থেকেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর প্রিভেনটিভ এন্ড সোশাল মেডিসিন (নিপসম), বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বি.ডব্লিউ.ডি.বি)-এর গ্রাউন্ড ওয়াটার সার্কেল, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি), বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ইত্যাদি সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ দেশের ভিতরে আর্সেনিক দূষণের প্রমাণ অনুসন্ধান করা শুরু করে। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।
৯৭৭.
কোন প্রাণী জিহ্বার সাহায্যে শোনে?
  1. ক) ঘড়িয়াল
  2. খ) কচ্ছপ
  3. গ) গিরগিটি
  4. ঘ) সাপ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাপ
ব্যাখ্যা

- গিরগিটি গায়ের রং পরিবর্তন করে আত্মরক্ষা করে।
- সাপ জিহ্বার সাহায্যে শোনে। সাপের কান নেই।
- কচ্ছপ দীর্ঘজীবী প্রাণী। কচ্ছপ প্রায় ১৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে।
- ঘড়িয়াল বিরল প্রজাতির মিঠা জলের কুমির বর্গের সরীসৃপ প্রাণী।

৯৭৮.
থ্যালাসেমিয়া রোগ কোন রক্ত উপাদানের পরিমাণ কমে গেলে হয়? 
  1. রক্তরস 
  2. হিমোগ্লোবিন 
  3. শ্বেত রক্তকোষ 
  4. অণুচক্রিকা 
সঠিক উত্তর:
হিমোগ্লোবিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমোগ্লোবিন 
ব্যাখ্যা

থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া একধরনের বংশগত রক্তের রোগ। 
- এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তস্বল্পতা সৃষ্টি হয়। 
- হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যায়, ফলে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। 
- এ রোগটি মানুষের অটোজোমে অবস্থিত প্রচ্ছন্ন জিনের দ্বারা ঘটে। 
- যখন মাতা ও পিতা উভয়ের অটোজোমে এ জিনটি প্রচ্ছন্ন অবস্থায় থাকে, তখন তাদের সন্তানদের মধ্যে প্রচ্ছন্ন জিন দুটি একত্রিত হয়ে এই রোগের প্রকাশ ঘটায়। 
- সাধারণত শিশু অবস্থায় থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়। 
- এ রোগের জন্য রোগীকে নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রক্তস্বল্পতার হার কমে যায়। এ রোগে আয়রন বা লৌহযুক্ত খাবার খেয়ে বেশি উপকার হয় না বরং রোগের জটিলতা বাড়তে পারে। 
- নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন ও অন্যান্য চিকিৎসা করালেও অনেক রোগী অল্প বয়সে মারা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৭৯.
জীন প্রকৌশলের মূল ভিত্তি কোনটি?
  1. ক) প্রোটোজোয়া
  2. খ) ভাইরাস
  3. গ) ফানজাই
  4. ঘ) ব্যাকটেরিয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়া:
- ব্যাকটেরিয়া হলো আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত, অসবুজ, এককোষী অণুবীক্ষণিক জীব।
- বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক সর্ব প্রথম ব্যাকটেরিয়া দেখতে পান।
- ব্যাকটেরিয়া কোষ গোলাকার, দণ্ডাকার, কমা আকার, প্যাঁচানো ইত্যাদি নানা ধরণের হতে পারে। 

ক) কক্কাস: কোনো কোনো ব্যাকটেরিয়া কোষের আকৃতি গোলাকার। এরা কক্কাস ব্যাকটেরিয়া। এরা এককভাবে অথবা দলবেঁধে থাকতে পারে। যেমন- নিউমোনিয়া রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া।
খ) ব্যাসিলাস: এরা দেখতে লম্বা দণ্ডের ন্যায় । ধনুষ্টংকার, রক্তামাশ ইত্যাদি রোগ এরা সৃষ্টি করে।
গ) কমা: এরা বাঁকা দণ্ডের ন্যায় আকৃতির ব্যাকটেরিয়া। মানুষের কলেরা রোগের ব্যাকটেরিয়া এ ধরনের।
ঘ) স্পাইরিলাম: এ ধরণের ব্যাকটোরিয়ার আকৃতি প্যাঁচানো। 

ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা
- মৃত জীবদেহ ও আবর্জনা পঁচাতে সাহায্য করে। 
- একমাত্র ব্যাকটেরিয়াই প্রকৃতি থেকে মাটিতে নাইট্রোজেন সংরক্ষণ করে।
- পাট থেকে আঁশ ছাড়াতে ব্যাকটেরিয়া সাহায্য করে ৷
- দই তৈরি করতে ও ব্যাকটেরিয়ার সাহায্য নিতে হয়।
- বিভিন্ন জীবন রক্ষাকারী এন্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি হয়।
- ব্যাকটেরিয়া জীন প্রকৌশলের মূল ভিত্তি।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, ৭ম শ্রেণি।
৯৮০.
কৃত্রিম জিন আবিষ্কার করেন কে?
  1. ক) আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
  2. খ) হরগোবিন্দ খোরানা
  3. গ) জোহান সেন
  4. ঘ) রবার্ট হুক
সঠিক উত্তর:
খ) হরগোবিন্দ খোরানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হরগোবিন্দ খোরানা
ব্যাখ্যা
ভারতীয় বিজ্ঞানী ড. হরগোবিন্দ খোরানা কৃত্রিম জিন সংশ্লেষণ করে ১৯৬৯ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
জেনেটিক কোডের আবিষ্কারকও তিনি।
৯৮১.
মাছ অক্সিজেন নেয়-
  1. মাঝে মাঝে পানির উপর নাক তুলে
  2. পানিতে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন বিশ্লিষ্ট করে
  3. পটকার মধ্যে জমানো বাতাস হতে
  4. পানির মধ্যে দ্রবীভূত বাতাস হতে
সঠিক উত্তর:
পানির মধ্যে দ্রবীভূত বাতাস হতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানির মধ্যে দ্রবীভূত বাতাস হতে
ব্যাখ্যা
- জলাধারে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন সবচেয়ে বেশি থাকে পানির উপরিভাগে, এবং গভীরতার সাথে সাথে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমতে থাকে। 
- কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন পানির সকল স্তর তথা উপরিভাগ, মধ্যভাগ এবং তলদেশ সকল স্তরেই থাকে। 
- না হলে মধ্য এবং তলদেশের জলজ প্রাণীদের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব হতো না। 
- মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন। 
- যারা বায়ুমণ্ডল থেকে সরাসরি অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে না তাদের বেঁচে থাকার জন্য পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন গুরুত্বপূর্ণ। 
- মাছ অক্সিজেন নেয় পানির মধ্যে দ্রবীভূত বাতাস হতে। 
৯৮২.
হৃদপিণ্ডের সংকীর্ণ বা বন্ধ হয়ে যাওয়া রক্তনালীতে বেলুন বা স্টেন্ট ব্যবহার করে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াকে কী বলে?
  1. বাইপাস সার্জারি
  2. এনজিওপ্লাস্টি
  3. হার্ট ভালভ রিপ্লেসমেন্ট
  4. পেসমেকার স্থাপন
সঠিক উত্তর:
এনজিওপ্লাস্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এনজিওপ্লাস্টি
ব্যাখ্যা

• এনজিওপ্লাস্টি হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে হৃদপিণ্ডের ধমনিতে সরু নালীর মাধ্যমে বেলুন ফুলিয়ে রক্ত চলাচলের পথ প্রশস্ত করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে সেখানে ধাতব রিং বা স্টেন্ট বসিয়ে ব্লক দূর করা হয়।

• এনজিওপ্লাস্টি: 

- এনজিওপ্লাস্টি হচ্ছে হৃৎপিণ্ডের বন্ধ শিরা বেলুনের সাহায্যে ফুলানো। 
- এনজিও (Angio) শব্দের অর্থ হল রক্তনালী এবং প্লাস্টি (Plasty) শব্দের অর্থ হল ঢিলা করে দেওয়া। 
- এই পদ্ধতিতে হৃৎপিণ্ডের রক্তনালীর মধ্যকার চর্বি জমে সরু হয়ে যাওয়া পথ প্রশস্থ বা ঢিলা করে দেওয়া হয়। 
- যে পথে এনজিওগ্রাম করা হয়েছিল সেই একই পথে ক্যাথেটারের সংগে বেলুন প্রবেশ করানো হয়। 
- তারপর ওই বেলুন ফুলিয়ে করনারী ধমনীর সরু অংশকে প্রশস্থ করা হয়, এতে করে ধমনীর ভেতরের রক্তের প্রবাহ স্বাভাবিক হয়। 
- ধমনীর এই প্রশস্থতা ধরে রাখতে রিং বসানো হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

৯৮৩.
চার্লস ডারউইনকে কী বলা হয়?
  1. সেল থিওরির জনক
  2. জীববৈচিত্র্য তত্ত্বের জনক
  3. জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর জনক
  4. জৈব বিবর্তনের জনক 
সঠিক উত্তর:
জৈব বিবর্তনের জনক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জৈব বিবর্তনের জনক 
ব্যাখ্যা

বিবর্তন (Evolution): 
- বিবর্তন বা অভিব্যক্তি হলো এমন একটি জীববৈজ্ঞানিক ধারণা যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে জীবের গাঠনিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ক্রমপরির্তনকে বুঝায়। 
- কোনো জীবের বংশধরদের মাঝে যে জিনরাশি ছড়িয়ে পড়ে তারাই বংশপ্রবাহে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে। 
- ল্যামার্ক বায়োলজি’ শব্দটির প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি প্রথম বিবর্তন ৰা অভিব্যক্তির ওপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। 
- তিনি ১৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর লেখা 'ফিলােসােফিক জুওলজিক' নামের একটি বইয়ে বিবর্তন বা অভিব্যক্তির ওপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব লিপিবদ্ধ করেন। 
- সর্বপ্রথম জেনোফেন সময়ের সাথে সাথে জীবদেহের আকার পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আনেন। 
- তারপর, এরিস্টটল বিবর্তনবাদ নিয়ে আলোচনা করেন। 
- হার্বার্ট স্পেন্সার সর্বপ্রথম Evolution শব্দটি ব্যবহার করেছেন। 
- ল্যামার্ক বায়োলজি’ শব্দটির প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি প্রথম বিবর্তন ৰা অভিব্যক্তির ওপর বিশ্লেষণী তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। 
- এ বিষয়টি তিনি ১৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর লেখা 'ফিলােসােফিক জুওলজিক' নামে একটি বইতে লিপিবদ্ধ করেন। 
- চার্লস ডারউইনকে জৈব বিবর্তনের জনক বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৮৪.
এন্টিবডি তৈরি করে নিচের কোনটি?
  1. Red blood corpuscle
  2. Thrombocyte
  3. B Lymphocyte
  4. Monocyte
সঠিক উত্তর:
B Lymphocyte
উত্তর
সঠিক উত্তর:
B Lymphocyte
ব্যাখ্যা
◉ B Lymphocyte এন্টিবডি তৈরি করে।

শ্বেত রক্ত কণিকা:
- শ্বেত রক্ত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্ত কণিকা বলে।
- ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলতে শ্বেত রক্ত কণিকাকে বুঝানো হয়।
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম।
- এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে।
- ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে।
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্ত কণিকা থাকে।
- শ্বেত রক্ত কণিকায় DNA থাকে।

গঠনগতভাবে এবং সাইটোপ্লাজমে দানার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি অনুসারে শ্বেত কণিকাকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
(ক) অ্যাগ্রানুলোসাইট বা দানাবিহীন এবং
(খ) গ্রানুলোসাইট বা দানাযুক্ত।

অ্যাগ্রানুলোসাইট:
- এ ধরনের শ্বেত কণিকাগুলোর সাইটোপ্লাজম দানাহীন ও স্বচ্ছ।
- অ্যাগ্রানুলোসাইট শ্বেত কণিকা দুই রকমের।
যথা-লিম্ফোসাইট ও মনোসাইট।
- দেহের লিম্ফলোড, টনসিল, প্লীহা ইত্যাদি অংশে এরা তৈরি হয়।
- লিম্ফোসাইটগুলো বড় নিউক্লিয়াসযুক্ত ছোট কণিকা।
- মনোসাইট ছোট, ডিম্বাকার ও বৃক্কাকার নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট বড় কণিকা।
- লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি গঠন করে এবং এই অ্যান্টিবডির দ্বারা দেহে প্রবেশ করা রোগ-জীবাণু ধ্বংস করে, B-লিম্ফোসাইট (B-Lymphocyte) কোষ অ্যান্টিবডির মাধ্যমে রস নির্ভর প্রতিরক্ষা সৃষ্টি করে।
- মনোসাইট ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করে।

উৎস:
১. বিজ্ঞান, নবন-দশম শ্রেণি।
২. প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮৫.
প্রাণীদেহে শুষ্ক ওজনের কত ভাগ প্রোটিন থাকে?
  1. প্রায় ৭০ ভাগ
  2. প্রায় ৬০ ভাগ
  3. প্রায় ৫০ ভাগ
  4. প্রায় ৪০ ভাগ
সঠিক উত্তর:
প্রায় ৫০ ভাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ৫০ ভাগ
ব্যাখ্যা
আমিষ: 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক।

উৎস বিবেচনায় আমিষ দুই প্রকার: 
১। প্রাণিজ আমিষ: 
- প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। 
যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির ইত্যাদি। 

২। উদ্ভিজ আমিষ: 
- উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। 
যেমন: ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি,বাদাম ইত্যাদি। 

- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়। 
- অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাদ্যে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড থাকে না বলে এদের পুষ্টিমূল্য কম। 
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। 
- দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। 
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং- এগুলো সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়। 
- প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৮৬.
টেস্টটিউব বেবি প্রযুক্তি প্রধানত কোন সমস্যার সমাধানে ব্যবহৃত হয়?
  1. জেনেটিক রোগ
  2. বন্ধ্যাত্ব সমস্যা
  3. সংক্রামক রোগ
  4. হরমোনজনিত রোগ
সঠিক উত্তর:
বন্ধ্যাত্ব সমস্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্ধ্যাত্ব সমস্যা
ব্যাখ্যা

• টেস্টটিউব বেবি প্রযুক্তি প্রধানত বন্ধ্যাত্ব সমস্যার সমাধানে ব্যবহৃত হয়।

• টেস্টটিউব বেবি:
- টেস্টটিউব বেবি হলো একটি আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে দেহের বাইরে কৃত্রিমভাবে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন ঘটিয়ে ভ্রূণ সৃষ্টি করা হয়।
- পরবর্তীতে সেই ভ্রূণ নারীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয় এবং স্বাভাবিকভাবে ভ্রূণের বৃদ্ধি ঘটে।
- এই পদ্ধতিতে জন্ম নেওয়া শিশুকেই টেস্টটিউব বেবি বলা হয়।

• ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF):
- টেস্টটিউব বেবি পদ্ধতির বৈজ্ঞানিক নাম হলো ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF)।
- এখানে “ইন ভিট্রো” বলতে দেহের বাইরে বিশেষ পাত্রে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাকে বোঝায়।

• টেস্টটিউব বেবির প্রয়োজনীয়তা:
- অনেক দম্পতির ক্ষেত্রে স্বাভাবিক উপায়ে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন সম্ভব হয় না।
- ফ্যালোপিয়ান নালির সমস্যা, শুক্রাণুর স্বল্পতা বা অন্যান্য জটিলতার কারণে সন্তান ধারণে ব্যর্থতা দেখা দেয়।
- এসব ক্ষেত্রে টেস্টটিউব বেবি প্রযুক্তি সন্তান লাভের একটি কার্যকর সমাধান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

• টেস্টটিউব বেবির ধাপসমূহ:
- দেহ থেকে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু সংগ্রহ করা হয়।
- বিশেষ কালচার মিডিয়ামে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন ঘটিয়ে ভ্রূণ তৈরি করা হয়।
- উৎপন্ন ভ্রূণ নারীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়।
- এরপর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ভ্রূণের বৃদ্ধি ও শিশুর জন্ম ঘটে।

• টেস্টটিউব বেবি প্রযুক্তির গুরুত্ব:
- বন্ধ্যাত্ব সমস্যায় আক্রান্ত দম্পতিদের জন্য নতুন আশার সৃষ্টি করেছে।
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে আধুনিক প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ।
- পরিবার গঠন ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

• অন্যান্য অপশনসমূহ:
- জেনেটিক রোগ → জেনেটিক রোগ প্রতিরোধে PGT (Preimplantation Genetic Testing) করা যায় IVF-এর সময়, কিন্তু IVF-এর প্রধান উদ্দেশ্য নয়। এটি অতিরিক্ত সুবিধা।
- সংক্রামক রোগ → IVF-এর সাথে সংক্রামক রোগের কোনো সম্পর্ক নেই।
- হরমোনজনিত রোগ → হরমোনজনিত সমস্যা (যেমন PCOS) বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে, কিন্তু IVF-এর প্রধান লক্ষ্য হরমোনজনিত রোগের চিকিৎসা নয়, বরং বন্ধ্যাত্বের সমাধান।

উৎস: বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৯৮৭.
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়ার ঘটনা কী নামে পরিচিত? 
  1. স্ট্রোক 
  2. অস্টিওপোরোসিস 
  3. ডায়াবেটিস
  4. অস্টিওআর্থ্রাইটিস
সঠিক উত্তর:
স্ট্রোক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ট্রোক 
ব্যাখ্যা

• মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়ার ঘটনাকে স্ট্রোক (Stroke) বলা হয়। এটি একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা যেখানে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশে রক্ত সরবরাহ ঠিকমত হয় না। রক্ত চলাচল বন্ধ হলে সেই অংশের মস্তিষ্ক কোষগুলি অক্সিজেন ও পুষ্টি না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্ট্রোকের প্রধান কারণ হতে পারে মস্তিষ্কের ধমনিতে রক্ত জমাট বাঁধা বা কোনো ধমনীর ফেটে যাওয়া। এর ফলে হঠাৎ মাথা ব্যথা, পায়ে বা হাতে দুর্বলতা, কথা বলতে বা বোঝাতে সমস্যা, দৃষ্টি ঝাপসা বা মুখের অঙ্গচলনে অসাম্য দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে স্থায়ী অক্ষমতা বা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। তাই স্ট্রোককে দ্রুত সনাক্ত এবং চিকিৎসা করা অত্যন্ত জরুরি।

- সঠিক উত্তর: ক) স্ট্রোক।

স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাঁধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৮৮.
পরিপাকনালীর দীর্ঘতম অংশটির নাম কী?
  1. ক) গলবিল
  2. খ) পাকস্থলী
  3. গ) ক্ষুদ্রান্ত্র
  4. ঘ) বৃহদান্ত্র
সঠিক উত্তর:
গ) ক্ষুদ্রান্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্ষুদ্রান্ত্র
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্রান্ত্র পরিপাকনালীর সবচেয়ে দীর্ঘতম অংশ এবং তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। 
যথা- ডিওডেনাম, জেজুনাম এবং ইলিয়াম। 

ডিওডেনাম- 
এটি পাকস্থলী সংলগ্ন অংশ এবং 'U' আকৃতি বিশিষ্ট। এটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ২৫-৩০ সেন্টিমিটার। এই অংশে সাধারণ পিত্তনালি ও অগ্ন্যাশয় নালি উন্মুক্ত থাকে।

জেজুনাম- 
এটি ডিওডিনামের পরবর্তী নলাকার অংশ। এটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ২-৩ মিটার হয়।

ইলিয়াম- 
এটি ক্ষুদ্রান্ত্রের শেষ অংশে, যা বৃহদন্ত্রের সঙ্গে সংলগ্ন থাকে। এটি দৈর্ঘ্যে প্রায়ৎ৩-৪ মিটার হয়। ইলিয়াম যেখানে বৃহদন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকে ঐস্থানে ইলিওসিকাল ভালব বলে।

ক্ষুদ্রান্ত্রের কাজ সমূহ- 
১. শোষণঃ  জল, ভিটামিন, খনিজলবন এবং পচিত সরল খাদ্য সমূহ এখানে শোষিত হয়। শর্করা ও প্রোটিনের সরল অংশ রক্তবাহে এবং ফ্যাটের সরল অংশ লসিকাবাহে প্রবেশ করে।
২. খাদ্যবস্তু গ্রহণঃ পাকস্থলী থেকে অর্ধপাচ্য খাদ্য পাকমন্ডকে গ্রহন করে।
৩. আন্ত্রিকরস ক্ষরণঃ ক্ষুদ্রান্ত্রের অন্তঃপ্রাচীরে অবস্থিত আন্ত্রিক গ্রন্থি থেকে আন্ত্রিকরস ক্ষরিত হয়। আন্ত্রিকরস খাদ্য পরিপাকে অংশ নেয়।
৪. পরিপাকঃ ক্ষুদ্রান্তে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাট পাচিত হয়। এখানে আন্ত্রিক রসে অবস্থিত উৎসেচক অ্যামাইলোজ, মলটেজ, ল্যাকটেজ, সুক্রেজ, ইরিপসিন, লাইপেজ থাকে।

সূত্র- ৫১ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৯৮৯.
ব্যাকটেরিয়া গঠিত রোগ নয় কোনটি?
  1. নিউমোনিয়া
  2. ধনুষ্টংকার
  3. মাম্পস
  4. টাইফয়েড
সঠিক উত্তর:
মাম্পস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাম্পস
ব্যাখ্যা

• ব্যাকটেরিয়া:
- গ্রিক শব্দ Bakterion (little rod) থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটির উৎপত্তি।
- ব্যাকটেরিয়া (একবচনে ব্যাকটেরিয়াম) এক ধরনের ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব।
- অ্যান্টনি ভ্যান লীউয়েনহুককে ব্যাকটেরিওলজি ও প্রোটোজুওলজির জনক বলা হয়ে থাকে।
- জার্মান বিজ্ঞানী এরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে এসব ক্ষুদ্রজীবদের ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন।
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়ার ওপর ব্যাপক গবেষণা এবং ব্যাকটেরিইয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব, এদের কোষে জড় কোষ প্রাচীর থাকে।

- মানবদেহে ব্যাকটেরিয়া গঠিত কিছু রোগ হলো:
যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, কলেরা, ডিপথেরিয়া, আমাশয়, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশি ইত্যাদি।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাস জনিত রোগ:
এইডস, জন্ডিস, কোভিড-১৯, হার্পিস, গুটি বসন্ত, জল বসন্ত, হাম, মাম্পস, ইনফ্লুয়েঞ্জা, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, পোলিও, জলাতঙ্ক, নিপাহ, ডেঙ্গু জ্বর, ইবোলা, জিকা জ্বর ইত্যাদি

সুতরাং, মাম্পস একটি ভাইরাসজনিত রোগ, ব্যাকটেরিয়া গঠিত রোগ নয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।

৯৯০.
রক্তে শ্বেতকণিকার কাজ কী? 
  1. অক্সিজেন পরিবহন করা 
  2. জীবাণু ধ্বংস করা 
  3. রক্ত জমাট বাঁধা 
  4. খাদ্য সরবরাহ করা 
সঠিক উত্তর:
জীবাণু ধ্বংস করা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবাণু ধ্বংস করা 
ব্যাখ্যা

রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা। 
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্ত কণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত হয়। 
- মানুষ ও অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের রক্ত লাল রঙের হয়। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রং লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 

রক্তের কাজ: 
- রক্ত দেহের বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে। 
যথা- 
- খাদ্য পরিপাকের পর তার সারাংশ রক্তের সাথে মিশ্রিত হয়, রক্ত সেই খাদ্যসারকে দেহের সকল অংশে নিয়ে যায় আর এভাবে জীবকোষগুলো পুষ্টি সাধন করে। 
- রক্তের লোহিত কণিকাস্থ হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনকে ফুসফুস হতে দেহের বিভিন্ন কোষে পৌঁছায় এবং কোষগুলো হতে কার্বন ডাই-অক্সাইড বহন করে এনে ফুসফুসের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেয়। 
- দেহের মধ্যে সর্বদাই দহনক্রিয়া সম্পাদিত হয় আর এতে বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে যে বিভিন্ন তাপমাত্রার সৃষ্টি হয়, তা রক্তের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র পরিব্যাপ্ত হয় এবং এভাবে দেহে তাপের সমতা রক্ষা পায়। 
- নালীবিহীন গ্রন্থিগুলোতে অন্তঃনিসৃত রস সরাসরি রক্তে মিশে যে রসকে হরমোন বলে। সঞ্চালিত রক্তের দ্বারা হরমোন প্রয়োজন অনুযায়ী দেহের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ হয়। 
- রক্তের শ্বেতকণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় প্রবেশকৃত অবৈধ ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে রোগমুক্ত রাখে। 
- দেহের কোনো স্থান কেটে গেলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে, ফলে রক্তপাত বন্ধ হয়। 
- রক্ত দেহের বিভিন্ন প্রকার দুষিত পদার্থ ও বর্জ্য উপাদান ফুসফুস, মূত্রাশয় ও ত্বকে নিয়ে আসে ও সেখান হতে তাদের নিষ্কাশন করতে সহায়তা করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৯১.
আমিষ গঠনের একক কোনটি?
  1. ফরমিক এসিড
  2. অ্যামাইনো এসিড
  3. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  4. কার্বোলিক এসিড
সঠিক উত্তর:
অ্যামাইনো এসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যামাইনো এসিড
ব্যাখ্যা
আমিষের গঠন: 
- আমিষ বা প্রোটিনের গঠন উপাদান হলো- কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H2), অক্সিজেন (O2) এবং নাইট্রোজেন (N2)। 
- আমিষে ১৬% নাইট্রোজেন থাকে। 
- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন মৌল সমন্বয়ে আমিষ বা প্রোটিনের গঠন একক অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি হয়। 
- একাধিক অ্যামাইনো অ্যাসিড মিলিত হয়ে পলিপেপটাইড ও পরিশেষে প্রোটিন গঠিত হয়। 
- তাই প্রোটিনের রাসায়নিক বিশ্লেষণের ফলে বিভিন্ন ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায়। 
অর্থাৎ, পরিপাকের পর আমিষ বা প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ডাল, মটরশুঁটি, শিমেরবিচি, সয়াবিন, বাদাম ইত্যাদি আমিষ জাতীয় খাদ্য। এসব খাদ্যে যথেষ্ট পরিমাণে আমিষ পাওয়া যায়। 

অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড: 
- প্রোটিন গঠনকারী অ্যামাইনো অ্যাসিডের মধ্যে ৮টি অ্যামাইনো অ্যাসিড মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। 
- এরা দেহে তৈরি হতে পারে না। 
- বিশেষ বিশেষ প্রোটিন জাতীয় খাদ্য হতে এ সমস্ত অ্যামাইনো অ্যাসিডগুলো মানবদেহে সরবরাহ করতে হয়। 
- এদের অত্যাবশ্যক বা অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড বলে। 
- এ ৮টি অত্যাবশ্যকীয় অ্যাসিড হলো- 
১। লাইসিন, 
২। লিউসিন, 
৩। আইসোলিউসিন, 
৪। মিথিওনিন, 
৫। ট্রিপটোফ্যান, 
৬। ভ্যালিন, 
৭। ফিনাইল অ্যালানিন এবং 
৮। থ্রিওনিন। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯২.
দুধে যে শর্করা থাকে তাকে কী বলে?
  1. ক) ফ্রুকটোজ
  2. খ) গ্যালাকটোজ
  3. গ) ল্যাকটোজ
  4. ঘ) অ্যামাইলেজ
সঠিক উত্তর:
গ) ল্যাকটোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ল্যাকটোজ
ব্যাখ্যা
দুধ একটি আদর্শ খাবার। এতে সুষম খাদ্যের ৬ টি উপাদানই বিদ্যমান।
দুধে যে শর্করা থাকে তাকে ল্যাকটোজ বলে। এতে যে প্রোটিন থাকে তাকে কেসিন বলে এবং দুধকে জমাট বাঁধায় রেনিন।
৯৯৩.
কোন্‌ টিস্যু পেশীকে হাড়ের সাথে সংযুক্ত রাখে? 
  1. তরুণাস্থি 
  2. লিগামেন্ট 
  3. টেন্ডন
  4. অ্যারিওলার টিস্যু
সঠিক উত্তর:
টেন্ডন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেন্ডন
ব্যাখ্যা

- টেন্ডন হলো এক ধরনের শক্ত, তন্তুময় ও শ্বেত বর্ণের যোজক কলা, যা কঙ্কাল পেশীকে হাড়ের (অস্থি) সাথে দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত রাখে। এটি পেশীর সংকোচনজনিত শক্তি হাড়ে সঞ্চারিত করে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নাড়াচাড়া করতে সাহায্য করে 

টেন্ডন (Tendon): 

- মাংসপেশির প্রান্তভাগ রজ্জুর ন্যায় শক্ত হয়ে অস্থিগাত্রের সাথে সংযুক্ত থাকে, এ শক্ত প্রান্তকে টেন্ডন বলে। 
- ঘন শ্বেত তন্তুময় যোজক টিস্যু দ্বারা টেন্ডন গঠিত। এসব টিস্যু শাখা-প্রশাখাবিহীন, তরঙ্গিত এবং উজ্জ্বল শ্বেততন্তু দ্বারা গঠিত। 
- এরা গুচ্ছাকারে পরস্পর সমান্তরালভাবে বিস্তৃত থাকে। অনেকগুলো তন্তু একত্রে আঁটি বা বান্ডেল তৈরি করে। এদের স্থিতিস্থাপকতা নেই। 
- আঁটিগুলো একত্রে দলবদ্ধ হয়ে আঁটিগুচ্ছ তৈরি করে। আঁটিগুচ্ছগুলো তন্তুময় টিস্যুগুচ্ছ দ্বারা বেষ্টিত হয়ে অধিকতর বড় আঁটিতে শ্রেণিবদ্ধ হয়, একে পেরিটেন্ডিয়াম বলে। 
- টেন্ডন বেশ শক্ত। পেশি বা অস্থির তুলনায় টেন্ডনের ভেঙ্গে বা ছিঁড়ে যাবার সম্ভাবনা অনেক কম। 
- টেন্ডন দেহ কাঠামো গঠন ও দৃঢ়তাদানে, অস্থিবন্ধনী গঠনে সাহায্য করে এবং চাপটানের বিরুদ্ধে যান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। 

লিগামেন্ট বা অস্থিবন্ধনী (Ligament): 
- পাতলা কাপড়ের ন্যায় কোমল অথচ দৃঢ়, স্থিতিস্থাপক বন্ধনী দ্বারা অস্থিসমূহ পরস্পরের সাথে সংযুক্ত থাকে, একে অস্থিবন্ধনী বা লিগামেন্ট বলে।
- লিগামেন্ট শ্বেততন্তু ও পীততন্তুর সমন্বয়ে গঠিত।
- লিগামেন্ট অস্থিকে আটকে রাখে। এতে অঙ্গটি সবদিকে সোজা বা বাঁকা হয়ে নড়াচড়া করতে পারে এবং হাড়গুলো স্থানচ্যুত ও বিচ্যুত হয় না। 

তরুণাস্থি: 
- দেহের অভ্যন্তরের নমনীয়, নরম ও স্থিতিস্থাপক যোজক কলাকে তরুণাস্থি বা কার্টিলেজ বলে। 
- মানুষের নাক, কান, হিউমেরাস ও ফিমারের মস্তক, বিভিন্ন অস্থিসন্ধি, শ্বাসনালি, আন্তঃকশেরুকা চাকতি ইত্যাদিতে তরুণাস্থি থাকে। 
- তরুনাস্থির ম্যাট্রিক্সকে কনড্রিন (chondrin) বলে। ইহা অর্ধকঠিন, নমনীয় ও স্থিতিস্থাপক। 

অ্যারিওলার টিস্যু: 
- অ্যারিওলার টিস্যু একটি শিথিল যোজক কলা যা প্রধানত অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে নির্দিষ্ট স্থানে ধরে রাখতে এবং ত্বকের নিচে কুশনিং হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৯৪.
কোনটি রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে?
  1. ক) কোলেস্টেরল
  2. খ) অ্যামাইনো এসিড
  3. গ) ফ্যাটি এসিড
  4. ঘ) গ্লুকোজ
সঠিক উত্তর:
ক) কোলেস্টেরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কোলেস্টেরল
ব্যাখ্যা
কোলেস্টেরল হলো এক ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ। এটি রক্তে স্নেহ পদার্থের বাহক হিসেবে কাজ করে।
স্নেহ ও প্রোটিনের যৌগকে বলা হয় লাইপোপ্রোটিন। লাইপোপ্রোটিনের মধ্যে স্নেহের উপস্থিতির মাত্রার ভিত্তিতে একে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
একটি হল উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন High Density Lipoprotein সংক্ষেপে HLD এবং নিম্ন ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন Low Density Lipoprotein বা LDL। রক্তে LDL বেশি থাকা শরীরের জন্যে ক্ষতিকর।
অন্যদিকে রক্তে HLD এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্যে উপকারি।

(সূত্র: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি)
৯৯৫.
মানুষের রক্তকে কয়টি গ্রুপে ভাগ করা যায়?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৬
সঠিক উত্তর:
খ) ৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪
ব্যাখ্যা
• মানুষের রক্তের গ্রুপকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- O, A, B এবং AB।
রক্তের গ্রুপ: লোহিত রক্ত কণিকার প্লাজমামেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণীবিন্যাসকে রক্ত গ্রুপ বলে।
- রক্ত কণিকায় আ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণীবিন্যাস, তা ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত। 
- মানুষের রক্তে A ও B এ দু'ধরনের আ্যান্টিজেন থাকতে পারে। 
• O রক্তের গ্রুপ: O গ্রুপের রক্তের কণিকা ঝিল্লিতে কোন অ্যান্টিজেন নাই কিন্তু রক্ত রসে a ও b দুই ধরনের অ্যান্টিবডি থাকে। O রক্তের গ্রুপের লোকেরা সাধারণত সর্বজনীন রক্ত দাতা হিসাবে পরিচিত এবং শুধুমাত্র O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে।
• AB রক্তের গ্রুপ: AB রক্তের গ্রুপে A ও B দুটি অ্যান্টিজেন থাকে। AB রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয় কারন সব গ্রুপের রক্ত এটি গ্রহন করতে পারে এবং শুধুমাত্র AB রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে।
• A রক্তের গ্রুপ: A রক্তের গ্রুপে A অ্যান্টিজেন থাকে। A রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র A এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং টাইপ A এবং AB ব্যক্তিদের দান করতে পারে।
• B রক্তের গ্রুপ: B রক্তের গ্রুপে B অ্যান্টিজেন থাকে। B রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র B এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং B এবং AB গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯৬.
কোন প্রাণির হৃৎপিণ্ড তিনটি?
  1. ক) ব্যাঙ
  2. খ) অক্টোপাস
  3. গ) তেলাপোকা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) অক্টোপাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অক্টোপাস
ব্যাখ্যা
• ক্যাটল ফিস এবং অক্টোপাসের হৃৎপিণ্ড আছে ৩টি করে।
• অন্যদিকে, ব্যাঙের হৃৎপিণ্ড ৩ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।

তাছাড়া, 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড ৪ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট। উপরের দিকে দুটি অলিন্দ এবং নিচের দিকে দুটি নিলয়।
- তেলাপোকার হৃৎপিণ্ড ১৩ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৯৭.
মৌমাছির বৈজ্ঞানিক নাম কী? 
  1. Homo sapiens 
  2. Apis indica 
  3. Periplaneta americana
  4. Copsychus saularis
সঠিক উত্তর:
Apis indica 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Apis indica 
ব্যাখ্যা

- কয়েকটি জীবের দ্বিপদ নাম নিচে দেওয়া হলো- 
সাধারণ নাম ⇔ বৈজ্ঞানিক নাম: 
• ধান ⇔ Oryza sativa.
• পাট ⇔ Corchorus capsularis.
• আম ⇔ Mangifera indica.
• কাঁঠাল ⇔ Artocarpus heterophyllus.
• শাপলা ⇔ Nymphaea nouchali.
• জবা ⇔ Hibiscus rosa-sinensis.
• কলেরা জীবাণু ⇔ Vibrio cholerae.
• ম্যালেরিয়া জীবাণু ⇔ Plasmodium vivax.
• আরশোলা ⇔ Periplaneta americana.
মৌমাছি ⇔ Apis indica.
• ইলিশ ⇔ Tenualosa ilisha.
• কুনো ব্যাঙ ⇔ Duttaphrynus melanostictus (Bufo melanostictus).
• দোয়েল ⇔ Copsychus saularis.
• রয়েল বেঙ্গল টাইগার ⇔ Panthera tigris.
• মানুষ ⇔ Homo sapiens ইত্যাদি। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং লাইভ লেকচার।

৯৯৮.
নিচের কোনটি মলাস্কা পর্বের প্রাণী?
  1. ক) তারা মাছ
  2. খ) জোক
  3. গ) ঝিনুক
  4. ঘ) কাঁকড়া
সঠিক উত্তর:
গ) ঝিনুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঝিনুক
ব্যাখ্যা
মলাস্কা পর্বের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য:
- সাধারণত দেহ নরম।
- দেহটি শক্ত খোলস দ্বারা আবৃত।
- পেশীবহুল পা দিয়ে চলাচল করে।
- ফুসফুস বা ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়।
- যেমন: শামুক, ঝিনুক। 

সূত্র: অষ্টম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান। 
৯৯৯.
মানুষের ভ্রূণীয় স্তর কয়টি?
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. স্তরবিহীন
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা
ভ্রূণীয় স্তর: 
- ভ্রূণীয় স্তরের উপর ভিত্তি করে প্রাণিজগতকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
ক. একস্তরী: 
- এরা সরল ধরনের প্রাণী। 
- এদের দেহের কোষসমূহ একটি মাত্র স্তরে সজ্জিত। 
যেমন- স্কাইফা (Scypha gilatinosum) । 

খ. দ্বিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর (Ectoderm) ও অন্তঃস্তর (Endoderm) নামক দুটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে দ্বিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- অরেলিয়া (Aurelia aurita) । 

গ. ত্রিস্তরী: 
- যে সকল প্রাণীর ভ্রূণের কোষগুলো বহিঃস্তর, মধ্যস্তর (Mesoderm) ও অন্তঃস্তর নামক তিনটি স্তরে সাজানো থাকে তাদেরকে ত্রিস্তরী প্রাণী বলে। 
যেমন- মানুষ (Homo sapiens) । 

ঘ. স্তরবিহীন প্রাণী: 
- যে সকল প্রাণীর দেহ একটিমাত্র কোষ দিয়ে গঠিত তাদেরকে স্তরবিহীন প্রাণী বলে। 
যেমন- অ্যামিবা (Amoeba proteus) । 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,০০০.
Which acid is mainly present in tomatoes?
  1. Carbonic acid
  2. Tartaric acid 
  3. Folic acid
  4. Lactic acid
  5. Oxalic acid
সঠিক উত্তর:
Oxalic acid
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Oxalic acid
ব্যাখ্যা

- টমেটোতে প্রধানত অক্সালিক এসিড (Oxalic acid) উপস্থিত থাকে, যদিও টমেটোতে ম্যালিক এবং সাইট্রিক অ্যাসিড সহ আরও অনেক অ্যাসিড থাকে, তবে অক্সালিক অ্যাসিডকে সাধারণত প্রধান অ্যাসিড হিসেবে গণ্য করা হয়। 

জৈব এসিড: 
- এসিড সাধারণত টক স্বাদযুক্ত হয়ে থাকে। 
- লেবু, আমলকি, কাঁচা আমড়া, জলপাই ও করমচায় প্রয়োজনীয় সাইট্রিক এসিড থাকে। 
- তেঁতুলে টারটারিক এসিড থাকে। 
- টমেটোতে অক্সালিক এসিড থাকে। 
- আপেল ও আনারসে ম্যালিক এসিড থাকে। 
- আমাদের পাকস্থলিতে হাইড্রোক্লোরিক এসিড উৎপন্ন হয় যা খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 
- বাজারের সকল সফট ড্রিংকসে যা থাকে তা প্রকৃত অর্থে কার্বনিক এসিডের দ্রবণ। 

অন্যদিকে, 
- কার্বনিক এসিড হলো CO2 + H2O দ্রবণে তৈরি হওয়া অ্যাসিড যা মূলত সোডা বা carbonated drinks-এ থাকে। 
- ফলিক অ্যাসিড হলো একটি ভিটামিন B9, যা সবজি ও ফল-এ থাকে। 
- ল্যাকটিক অ্যাসিড সাধারণত দুগ্ধজাত পণ্য বা গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়, টমেটোতে প্রাকৃতিকভাবে এটি প্রধান অ্যাসিড নয়। 
- টারটারিক অ্যাসিড মূলত আঙ্গুরে পাওয়া যায়, এটি টমেটোতে প্রধান অ্যাসিড নয়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।