বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

যতিচিহ্ন ও যতিচিহ্নের ব্যবহার

মোট প্রশ্ন৪৬০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

যতিচিহ্ন ও যতিচিহ্নের ব্যবহার

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ৪৬০

১০১.
বাক্যে সম্বোধনের পর কোন চিহ্ন বসে?
  1. দাঁড়ি
  2. কমা
  3. কোলন
  4. হাইফেন
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
কমা (,)
- বাক্যে অল্প বিরতি বোঝাতে কমা বসে। নানা প্রয়োজনে বাক্যে কমাচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

১. বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য কমা বসে।
যেমন:
তুমি যাবে, না যাবে না?
সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।

২. বাক্যে সম্বোধনের পর কমা বসে।
যেমন:
সেতু, পড়তে বসো।
বিথু, খাবে এসো।

৩. একই পদের একাধিক শব্দ পাশাপাশি ব্যবহৃত হলে কমা বসে।
যেমন:
বিশেষ্য: পদ্মা, মেঘনা, যমুনা বাংলাদেশের প্রধান প্রধান নদী।
বিশেষণ: সুখ, দুঃখ, আশা, নিরাশা একই মালার ফুল।
সর্বনাম: তুমি, আমি ও রবিন বাজারে যাব।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১০২.
‘অর্ধচ্ছেদ’ অর্থে কোন বিরামচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. সেমিকোলন
  2. কোলন
  3. হাইফেন
  4. কমা
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

কিছু বিরাম-চিহ্নের বাংলা অর্থ ও যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে--
- 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে --
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• কোলন বা দৃষ্টান্ত থাকলে--
- এক সেকেন্ড থামতে হয়।

• দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে --
- এক সেকেন্ড থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্রাকেট থাকলে-- 
- থামার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০৩.
বাংলায় কোন চিহ্নকে 'পাদচ্ছেদ' বলা হয়?
  1. ক) দাঁড়ি
  2. খ) ড্যাস
  3. গ) কমা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কমা
ব্যাখ্যা
• ব্যবহৃত বিরাম-চিহ্ন কমা (,) -এর বাংলা অর্থ - পাদচ্ছেদ।

কিছু বিরাম-চিহ্নের বাংলা অর্থ:
• দাড়ি - পূর্ণচ্ছেদ।
• সেমিকোলন - অর্ধচ্ছেদ।
• কোলন - দৃষ্টান্তচ্ছেদ।
• কোলন ড্যাস - ছেদ বাক্যসঙ্গতি চিহ্ন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১০৪.
বিরাম চিহ্নের অপর নাম কী?
  1. ক) ছেদ চিহ্ন
  2. খ) স্থির চিহ্ন
  3. গ) বিশ্রাম চিহ্ন
  4. ঘ) বিভাজন চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
ক) ছেদ চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ছেদ চিহ্ন
ব্যাখ্যা
বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে বোঝার জন্য বাক্যের মধ্যে, সমাপ্তিতে কিংবা আবেগ, জিজ্ঞাসা ইত্যাদি প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে বাক্য-গঠনে যেভাবে বিরতি দিতে হয় এবং লেখার সময় বাক্যের মধ্যে তা দেখানোর জন্য যেসব সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তা-ই যতি বা ছেদচিহ্ন।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি
১০৫.
কোন যতিচিহ্ন ব্যবহারে বিরতির প্রয়োজন হয় না?
  1. বিস্ময় চিহ্ন
  2. ড্যাস
  3. হাইফেন
  4. প্রশ্নবোধক চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
ব্যাখ্যা
বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ-
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে- 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে - 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।
হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্রাকেট থাকলে- থামার প্রয়োজন হয় না।
• দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে - এক সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০৬.
যেসব বাক্যে ভাবসাদৃশ্য আছে তাদের মধ্যে কোন বিরামচিহ্ন বসে?
  1. সেমিকোলন
  2. হাইফেন 
  3. কোলন
  4. ড্যাশ 
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা

• বিরাম চিহ্ন:
লেখার সময়ও বাক্যের মধ্যে বিরতি বুঝিয়ে তা দেখানোর জন্য কিছু সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, যেগুলোকেই বিরতি চিহ্ন, যতি চিহ্ন, ছেদ চিহ্ন, বিরাম চিহ্ন বা ভাষা চিহ্ন বলে।

সেমিকোলন ব্যবহৃত হয় যেসব ক্ষেত্রে-
১. একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি বাক্যে লিখলে সেগুলোর মাঝখানে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-তিনি শুধু তামাশা দেখিতেছিলেন; কোথাকার জল কোথায় গিয়া পড়ে।

২. বক্তব্য স্পষ্ট করার জন্যে সমজাতীয় বাক্য পাশাপাশি প্রতিস্থাপন করলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-'বৃদ্ধ তাহারাই যাহারা মায়াচ্ছন্ন নব মানবের অভিনব জয়যাত্রার শুধু বোঝা নয়, বিঘ্ন; শতাব্দীর নব যাত্রীর চলার ছন্দে ছন্দ মিলাইয়া যাহারা কুচকাওয়াজ করিতে জানে না, পারে না; জীব হইয়াও জড়; যাহারা অটল সংস্কারের পাষাণ-সস্তূপ আঁকড়িয়া পড়িয়া আছে।'

৩. দুটি বা তিনটি বাক্য যোজক শব্দের সাহায্যে যুক্ত না হলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-আগে পাঠ্যবই পড়; পরে গল্প-উপন্যাস।

8. কোনো তালিকায় একাধিক ব্যক্তির নাম ও তাঁদের পদের উল্লেখ থাকলে বোঝবার সুবিধার জন্যে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়। যেমন- এবারের নবনিতেচিত কার্যনির্বাহী পরিষদে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা হলেন : আকবরউদ্দিন আহমদ, সভাপতি; আফসার রায়হান, সাধারণ সম্পাদক; চিত্ত বড়ুয়া, প্রচার সম্পাদক; এন্ড্রু গোমেজ, সংস্কৃতি সম্পাদক; ইত্যাদি।

৫. সেজন্যে, তবু, তথাপি, সুতরাং ইত্যাদি যে-সব যোজক বৈপরীত্য বা অনুমান প্রকাশ করে তাদের আগে সেমিকোলন বসে। যেমন-সে ফেল করেছে; সেজন্যে সে মুখ দেখায় না। মনোযোগ দিয়ে পড়; তাহলেই পাশ করবে।

৬. যেসব বাক্যে ভাবসাদৃশ্য আছে তাদের মধ্যে সেমিকোলন বসে। যেমন-দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।

৭. ছোটো ছোটো বিতর্কিত অংশ নির্দেশ করার জন্যে সেমিকোলন বসে। যেমন-মেয়েটি, যে প্রথম হয়েছে, একটি পুরস্কার পেয়েছে; এবার আশা করা যায়, সে আরো ভালো করবে।

​উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১০৭.
কোন বিরামচিহ্নে 'এক' বলার দ্বিগুন সময় থামতে হয়?
  1. দাঁড়ি
  2. প্রশ্নচিহ্ন
  3. সেমিকোলন
  4. কমা
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা

• বাক্যে 'সেমিকোলন' এর ক্ষেত্রে - এক বলার দ্বিগুন সময় থামতে হয়। 

• বাক্যে অবস্থান বিবেচনায় বিরামচিহ্নকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়:
-  প্রান্তিক বিরামচিহ্ন।
- বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন।

• প্রান্তিক বিরামচিহ্ন: দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময়বোধক প্রভৃতি।
• বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন: কমা, সেমিকোলন, ড্যাশ, হাইফেন ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
- বাক্যে যতিচিহ্ন দাঁড়ি (।) থাকলে ১ সেকেন্ড থামতে হয়।
- বাক্যে যতিচিহ্ন জিজ্ঞাসাচিহ্নপ্রশ্নচিহ্ন থাকলে ১ সেকেন্ড থামতে হয়।
- বাক্যে যতিচিহ্ন কমা থাকলে ১ বলতে যে সময় লাগে সে সময় থামতে হয়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

১০৮.
বাক্যের শেষে ব্যবহৃত অন্ত্যযতি কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
  5. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• বাক্যের শেষে যে যতিচিহ্নগুলো ব্যবহৃত হয়, এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা অন্ত্যযতি চিহ্ন বলে। অন্ত্যযতি চারটি, এগুলো হলো:
• অন্ত্যযতি:
১. দাড়ি (।),
২. প্রশ্নচিহ্ন (?),
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!),
৪. দুই দাঁড়ি (।।)।

• অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,),
৬. সেমিকোলন (;), 
৭. হাইফেন (-), 
৮. ড্যাশ (—),
৯. কোলন (:), 
১০. কোলন-ড্যাশ (:-),
১১. বিন্দু (.)।

• অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা ('),
১৩. ত্রিবিন্দু (...),
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/”...”),
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})),
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড)।
১০৯.
'এক' সেকেন্ড থামতে হয় কোন যতিচিহ্নের ক্ষেত্রে?
  1. কমা চিহ্ন
  2. বিস্ময় চিহ্ন
  3. ইলেক চিহ্ন
  4. সেমিকোলন চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
বিস্ময় চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিস্ময় চিহ্ন
ব্যাখ্যা
বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
•  কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।
•  হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে- থামার প্রয়োজন হয় না।
• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১০.
যতিচিহ্নের অপর নাম কী?
  1. বিরামচিহ্ন
  2. বিরতিচিহ্ন
  3. বিরামহীনচিহ্ন
  4. ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা

• যতিচিহ্ন:
- মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।
- বাংলা ভাষায় প্রচলিত যতিচিহ্নগুলো হলো: দাঁড়ি (1), কমা (,), সেমিকোলন (:), প্রশ্নচিহ্ন (?), বিস্ময়চিহ্ন (!), হাইফেন (-), ড্যাশ (−), কোলন (:), বিন্দু (.), ত্রিবিন্দু (...), উদ্ধারচিহ্ন ('-',"-"), বন্ধনীচিহ্ন ((-)), ({-}), ([-]), বিকল্পচিহ্ন (/)।

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২৪)।

১১১.
কোন যতিচিহ্নের বিরতিকাল 'এক সেকেন্ড'?
  1. ব্র্যাকেট
  2. বিস্ময় চিহ্ন
  3. হাইফেন
  4. ইলেক
সঠিক উত্তর:
বিস্ময় চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিস্ময় চিহ্ন
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত যতিচিহ্নের বিরতি কালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড':
- দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময় চিহ্ন,
- কোলন,
- কোলন ড্যাস,
- ড্যাস।

যে যতিচিহ্নের থামার প্রয়োজন নেই:
- হাইফেন,
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন,
- ব্র্যাকেট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১২.
বাক্য অসম্পূর্ণ রেখে প্রাসঙ্গিক অন্য তথ্য জ্ঞাপনের ক্ষেত্রে কোন বিরামচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. সেমিকোলন
  2. কমা
  3. কোলন
  4. ড্যাস
সঠিক উত্তর:
কোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলন
ব্যাখ্যা
• বিরাম চিহ্ন:
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরামচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

কোলন:

• বাক্য অসম্পূর্ণ রেখে প্রাসঙ্গিক অন্য তথ্য জ্ঞাপনের ক্ষেত্রে কোলন যতিচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়।
যেমন: কমিটিতে সিদ্ধান্ত হলো: আগামী মাসেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

• একটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্য লিখতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়।
যেমন: সভায় ঠিক করা হল: এক মাস পর আবার সভা অনুষ্ঠিত হবে।

নিম্নলিখিত স্থানে কোলন ব্যবহৃত হয়-
- বাক্যে কোনো প্রসঙ্গ অবতারণার আগে কোলন বসে। যেমন- শপথ নিলাম: পাশ করবই।
- কটা বাজে কত মিনিট তা সংখ্যায় নির্দেশ করতে। যেমন- ৭: ২০।
- নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে। যেমন- রাজা: উজিররা সবাই এসে হাসির হও।
- গনিতে অনুপাত বোঝাতে কোলন বসে। যেমন- ৫:৩।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১৩.
বিরাম চিহ্নের প্রর্বতক কে?
  1. ক) প্রমথ চৌধুরী
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) আব্দুল হাকিম
সঠিক উত্তর:
খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
হাজার বছরের ঐতিহ্যে ভরপুর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য কিন্তু বাংলা ভাষায় সুষ্ঠভাবে বিরাম চিহ্ন ব্যবহার শুরু হয়েছে দেড়শ দুইশ বছর আগে।
- মহামতি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-১৮৯১) বাংলা গদ্যে বিরাম চিহ্ন ব্যবহারের প্রথম নৈপুর্ণ দেখান।
- এ কারণেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলেছেন।
- যতি চিহ্নের প্রয়ােগ যথাযথ না হলে বাক্য অস্পষ্ট বা দুর্বোধ্য হতে পারে।
- এমনকি কখনাে কখনাে প্রত্যাশিত অর্থ প্রকাশ না করে সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করতে পারে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৪.
হাইফেন ব্যবহৃত হয়-
  1. সন্দেহ বোঝাতে বাক্যের মধ্যে বসে।
  2. নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে।
  3. সংখ্যা বা পরিমাণগত ব্যবধান বোঝাতে।
  4. নির্দিষ্ট শব্দে মনোযোগ আকর্ষণের জন্য।
সঠিক উত্তর:
সংখ্যা বা পরিমাণগত ব্যবধান বোঝাতে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংখ্যা বা পরিমাণগত ব্যবধান বোঝাতে।
ব্যাখ্যা
• সংখ্যা বা পরিমাণগত ব্যবধান বোঝাতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়। 
যেমন:
- আবহনী ২-৪ গোলে মোহামেডানের কাছে হেরেছে।

অন্যদিকে, 
• নির্দিষ্ট শব্দে মনোযোগ আকর্ষণের জন্য উদ্ধৃতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
• নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে কোলনচিহ্ন বসে।
• সন্দেহ বোঝাতে বাক্যের মধ্যে প্রশ্নচিহ্ন বসে।

-------------------
• হাইফেন:

- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইফেন মূলত পদসংযোজক চিহ্ন।
- সমাসে বিভক্তির বদলেও হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- বিভিন্ন ধরনের সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করার সময়ে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব।
- স্কুল-পালানো ছেলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১৫.
'কোলন ড্যাস' এর বিরতিকাল কোনটি?
  1. কোনোরূপ বিরতির প্রয়োজন নেই
  2. এক বলতে যে সময় লাগে
  3. এক সেকেন্ড কাল পরিমাণ
  4. এক বলার দ্বিগুণ সময়কাল
সঠিক উত্তর:
এক সেকেন্ড কাল পরিমাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক সেকেন্ড কাল পরিমাণ
ব্যাখ্যা
• 'কোলন ড্যাস' এর বিরতিকাল - এক সেকেন্ড কাল পরিমাণ। 

কোলন ড্যাস (:-)

- উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে হলে কোলন এবং ড্যাস চিহ্ন একসঙ্গে ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
পদ পাঁচ প্রকার:-
বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
- সেমিকোলন বিরতিকাল - ১ (এক) বলার দ্বিগুণ সময়কাল।
- কমা বিরতিকাল - ১ (এক) বলতে যে সময় লাগে।
- হাইফেন বিরতিকাল - কোনোরূপ বিরতির প্রয়োজন নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১১৬.
আবেদন, হতাশা, আনন্দ ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. প্রশ্নবোধক চিহ্ন 
  2. বিস্ময়চিহ্ন
  3. হাইফেন 
  4. কমা
সঠিক উত্তর:
বিস্ময়চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিস্ময়চিহ্ন
ব্যাখ্যা

বিস্ময়চিহ্ন (!):
- অবাক বা বিস্ময়ের ব্যাপার বোঝাতে প্রধানত বাক্যের শেষে বিস্ময়চিহ্ন বসে।
- আবেদন, ভর্তি, হতাশা, আনন্দ ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশের ক্ষেত্রেও বিস্ময়চিহ্ন বসে।
- বাক্যের ভেতরে বন্ধনীর মধ্যে, প্রয়োজন হলে বিস্ময়চিহ্ন বসানো যায়।
উদাহরণ:
- ইশ! যতি তুমি থাকতে।
- হঠাৎ বাড়িতে শোরগোল উঠল- চোর! চোর! চোর!

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১১৭.
কোন যতিচিহ্নের বিরতি-কালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড'?
  1. হাইফেন
  2. লোপ চিহ্ন
  3. কোলন
  4. ব্র্যাকেট
সঠিক উত্তর:
কোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলন
ব্যাখ্যা
• যেসব যতিচিহ্নের বিরতি কালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড'-
- দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময় চিহ্ন,
- কোলন,
- কোলন ড্যাস,
- ড্যাস।

• থামার প্রয়োজন নেই -
- হাইফেন,
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন,
- ব্র্যাকেট।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১৮.
বাক্যে কোনো প্রসঙ্গ অবতারণার আগে কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. উদ্ধৃতি
  2. হাইফেন
  3. কোলন
  4. বন্ধনী
সঠিক উত্তর:
কোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলন
ব্যাখ্যা
• 'কোলন' যতিচিহ্ন:
একটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্য লিখতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়।
যেমন:
- 'সভায় ঠিক করা হল: এক মাস পর আবার সভা অনুষ্ঠিত হবে।'

নিম্নলিখিত স্থানে কোলন ব্যবহৃত হয় -
বাক্যে কোনো প্রসঙ্গ অবতারণার আগে কোলন বসে।যেমন- শপথ নিলাম: পাশ করবই।
• কটা বাজে কত মিনিট তা সংখ্যায় নির্দেশ করতে। যেমন- ৭:২০।
• নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে। যেমন- রাজা: উজিররা সবাই এসে হাসির হও।
• গণিতে অনুপাত বোঝাতে কোলন বসে। যেমন- ৫:৩।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১৯.
নিচের কোনটিতে বিরামচিহ্ন যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়নি?
  1. পয়লা বৈশাখ, চৌদ্দশত বত্রিশ
  2. কক্সবাজার, ৫ জানুয়ারি ২০২২
  3. ০৬ মার্চ, ১৯৭১
  4. মে ১৬, ২০২৫
সঠিক উত্তর:
কক্সবাজার, ৫ জানুয়ারি ২০২২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কক্সবাজার, ৫ জানুয়ারি ২০২২
ব্যাখ্যা
বাক্যের বিভিন্ন ভাব সার্থকভাবে প্রকাশের জন্য কন্ঠস্বরের ভঙ্গির তারতম্য বোঝাতে বর্ণের অতিরিক্ত যে-সব চিহ্ন ব্যবহৃত হয় সেগুলোকে বলে বিরামচিহ্ন৷

-অপশন (খ)-তে বিরামচিহ্ন সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়নি৷

• তারিখ লেখার ক্ষেত্রে সাধারণত তারিখ ও বছরের মাঝে কমা বসে।
অর্থাৎ শুদ্ধরূপ হবে - কক্সবাজার, ৫ জানুয়ারি, ২০২২।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২০.
উদ্ধৃতি চিহ্নের পরিবর্তে কোন বিরাম-চিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. ড্যাশ চিহ্ন
  2. সেমিকোলন চিহ্ন
  3. কমা চিহ্ন
  4. কোলন চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
ড্যাশ চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড্যাশ চিহ্ন
ব্যাখ্যা
⇒ যতিচিহ্ন:
বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে বোঝাবার জন্য বাক্যের মধ্যে বা বাক্যের শেষে কিংবা বাক্যের আবেগ (আনন্দ, বেদনা, দুঃখ), জিজ্ঞাসা ইত্যাদি প্রকাশের উদ্দেশে বাক্যগঠনে যেভাবে বিরতি দিতে হয় এবং লেখার সময় বাক্যের মধ্যে তা দেখানোর জন্য যেসব সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, সেগুলোই বিরামচিহ্ন বা যতিচিহ্ন বা ছেদচিহ্ন।
- বাংলা ভাষায় যতি বা ছেদ-চিহ্নের প্রবর্তক- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

• ড্যাশ চিহ্ন:
- যৌগিক ও মিশ্রবাক্যে পৃথক ভাবাপন্ন দুই বা ততোধিক বাক্যের সমন্বয় বা সংযোগ বুঝাতে- ব্যবহৃত হয়-ড্যাশ বিরাম চিহ্ন।
এছাড়াও---
- কোনো কথার উদাহরণ, দৃষ্টান্ত বা বিন্তার বুঝাতে ব্যবহৃত হয়- ড্যাশ।

আরো কিছু ক্ষেত্রে ড্যাশ চিহ্ন ব্যবহৃত হয়:
• বাক্য অসম্পূর্ণ থাকলে বাক্যের শেষে।
• কোন কথার দৃষ্টান্ত বা বিস্তার বোঝাতে।
• স্থান বা কালগত ব্যবধান নির্দেশ করতে।
• উদ্ধৃতি চিহ্নের পরিবর্তে ড্যাশ-চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
• অভিধানে শব্দ ও তার অর্থের মাঝখানে ড্যাশ বসে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২১.
উদ্ধৃতির আগে কোন বিরামচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. সেমিকোলন 
  2. কোলনড্যাশ 
  3. হাইফেন 
  4. কোলন
সঠিক উত্তর:
কোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলন
ব্যাখ্যা

কোলন (:):
বাক্যে নানা কারণে কোলনচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
১. উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত বোঝাতে: বাংলা সন্ধি দু প্রকার: স্বরসন্ধি ও ব্যঞ্জনসন্ধি।
২. উদ্ধৃতির আগে: রবীন্দ্রনাথ বলেছেন: “মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে।"
৩. নাটকের সংলাপের আগে:

দুকড়ি: কী চাই?
কাঙালি: আজ্ঞে, মহাশয় হচ্ছেন দেশহিতৈষী।
দুকড়ি : তা তো সকলেই জানে কিন্তু আসল ব্যাপারটা কী?
কাঙালি: আপনি সাধারণের হিতের জন্য প্রাণপণ-

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১২২.
আবেদন পত্রে ভুক্তি, উপভুক্তির পরে কোন যতিচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ত্রিবিন্দু
  2. কোলন
  3. সেমিকোলন
  4. হাইফেন
সঠিক উত্তর:
কোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলন
ব্যাখ্যা
• কোলন (:) এর ব্যবহার:
-  একটি অপূর্ণ বাক্যের পরে আর একটি বাক্যের অবতারণা করতে গেলে কোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন: সভায় সাব্যস্ত হলো: এক মাস পরে নতুন সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

-  কোনো বিবৃতিকে সম্পূর্ণ করতে দৃষ্টান্ত দিতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়। যেমন: পদ পাঁচ প্রকার: বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয়, ক্রিয়া।
-  নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে কোলন বসে। যেমন- সিরাজ: আমার দুর্ভাগ্য যে আপনাকে আমার অপমান করতে হয়েছে।

-  আবেদন পত্রে ভুক্তি, উপভুক্তির পরে কোলন বসে। যেমন- নাম: পিতার নাম: ঠিকানা: শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্বাক্ষর: তারিখ:।
- সময়কে সংখ্যায় নির্দেশ করতে: ১২:৩০, ২:১৫।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৩.
উদ্ধারচিহ্ন কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৪ প্রকার
  3. ৩ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
ব্যাখ্যা
• উদ্ধারচিহ্ন দুই প্রকার :
- একক ও দ্বৈত।
-----------------
• উদ্ধারচিহ্ন (' - '), (" - ")
- কোনো কিছু উদ্ধৃত করার কাজে উদ্ধারচিহ্নের ব্যবহার হয়।
যেমন-
- 'সিরাজউদ্দৌলা' একটি ঐতিহাসিক নাটক।
- আমাদের কণ্ঠ শুনে প্রিয়ন্তি ঘর থেকে বেরিয়ে এল, "ও আপনারা এসে গেছেন! বাসা চিনতে কোনো কষ্ট হয়নি তো?"

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
১২৪.
বাক্যের কোন অংশ বাদ দিতে চাইলে কোন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. ড্যাশ
  2. হাইফেন
  3. কোলন ড্যাশ
  4. ত্রিবিন্দু
সঠিক উত্তর:
ত্রিবিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রিবিন্দু
ব্যাখ্যা

ত্রিবিন্দু (...):
- বাক্যের কোন অংশ বাদ দিতে চাইলে ত্রিবিন্দু ব্যবহৃত হয়। 
 যেমন:
- তিনি রেগে গিয়ে বললেন, “তার মানে তুমি একটা ...।"
- আমাদের ঐক্য বাইরের। ... এ ঐক্য জড় অকর্মক, সজীব সকর্মক নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১২৫.
বাক্যে উদ্ধৃতি চিহ্ন থাকলে কত সময় থামতে হয়?
  1. ‘এক’ বলতে যত সময় লাগে
  2. ‘এক’ বলার দ্বিগুণ সময়
  3. এক সেকেন্ড
  4. থামার প্রয়োজন নেই
সঠিক উত্তর:
‘এক’ বলতে যত সময় লাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
‘এক’ বলতে যত সময় লাগে
ব্যাখ্যা

যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কাল:
১. কমা - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
২. সেমিকোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
৩. দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড।
৪. প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৫. বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৬. কোলন - এক সেকেন্ড।
৭. ড্যাস- এক সেকেন্ড।
৮. কোলন ড্যাস - এক সেকেন্ড।
৯. হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
১০. ইলেক বা লোপ চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।
১১. একক উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
১২. যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
১৩. ব্র্যাকেট (বন্ধনি চিহ্ন) - থামার প্রয়োজন নেই।
১৪. ধাতু দ্যোতক চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯)।

১২৬.
শব্দের সংক্ষিপ্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন বিরামচিহ্ন বসে?
  1. ক) সেমিকোলন
  2. খ) বিন্দু
  3. গ) কমা
  4. ঘ) কোলন
সঠিক উত্তর:
খ) বিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিন্দু
ব্যাখ্যা

শব্দের সংক্ষিপ্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিন্দু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
যেমনঃ
তিনি পি.এইচ.ডি. ডিগ্রি লাভ করেছেন।
রাজু এবার এস.এস.সি পাস করেছে।
উৎসঃ বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ষষ্ঠ শ্রেণি।

১২৭.
কোন বাক্যে যতিচিহ্নের যথাযথ প্রয়োগ ঘটেনি?
  1. ক) নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
  2. খ) সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
  3. গ) গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত– বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
  4. ঘ) কাল তুমি যাকে দেখেছ তিনি আমার বাবা।
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাল তুমি যাকে দেখেছ তিনি আমার বাবা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাল তুমি যাকে দেখেছ তিনি আমার বাবা।
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্নের অশুদ্ধ প্রয়োগ : কাল তুমি যাকে দেখেছ তিনি আমার বাবা।
• শুদ্ধ যতিচিহ্নের প্রয়োগ: কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা।

যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

কমা:
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- সম্বোধন পদের পরে কমা বসে।
যেমন:
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত – বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
- সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তো পাপ ৷

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১২৮.
নিচের কোন বিরাম-চিহ্নের ক্ষেত্রে বিরতির প্রয়োজন নেই?
  1. ক) প্রশ্নবোধক চিহ্ন
  2. খ) বিস্ময় চিহ্ন
  3. গ) ইলেক বা লোপ চিহ্ন
  4. ঘ) কোলন চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
গ) ইলেক বা লোপ চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইলেক বা লোপ চিহ্ন
ব্যাখ্যা
বিরাম চিহ্ন:
 মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরামচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কাল:
১. কমা - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
২. সেমিকোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
৩. দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড।
৪. প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৫. বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৬. কোলন - এক সেকেন্ড।
৭. ড্যাস - এক সেকেন্ড।
৮. কোলন ড্যাস - এক সেকেন্ড।
৯. হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
১০. ইলেক বা লোপ চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।
১১. একক উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
১২. যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
১৩. ব্র্যাকেট (বন্ধনি চিহ্ন) - থামার প্রয়োজন নেই।
১৪. ধাতু দ্যোতক চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১২৯.
নিচের কোনটির বিরতিকাল ১ বলার দ্বিগুণ সময়?
  1. কোলন
  2. সেমিকোলন
  3. কমা
  4. ড্যাস
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
• যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কাল:
• কমা - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
• সেমিকোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড।
• প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
• বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
• কোলন - এক সেকেন্ড।
• ড্যাস - এক সেকেন্ড।
• কোলন ড্যাস - এক সেকেন্ড।
• হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
• ইলেক বা লোপ চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।
• একক উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
• যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
• ব্র্যাকেট (বন্ধনি চিহ্ন) - থামার প্রয়োজন নেই।
•  ধাতু দ্যোতক চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩০.
নজরুল দেখ তো কে এসেছে - বাক্যের মাঝে কোন যতিচিহ্ন বসবে?
  1. ক) কমা
  2. খ) সেমিকোলন
  3. গ) কোলন
  4. ঘ) ড্যাশ
সঠিক উত্তর:
ক) কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কমা
ব্যাখ্যা
• বাক্যের মাঝে কমা (,) যতিচিহ্ন বসবে।
- বাক্যটি হবে এরূপ - নজরুল, দেখ তো কে এসেছে।

• কমা এর ব্যবহার: 
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে।
- শব্দ, বর্গ, ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
যেমন- 
নজরুল, দেখ তো কে এসেছে।
কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩১.
কোনটি অভ্যন্তর যতিচিহ্ন?
  1. ঊর্ধ্বকমা
  2. দুই দাঁড়ি
  3. বিস্ময়চিহ্ন
  4. কমা
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
• অভ্যন্তর যতিচিহ্ন- কমা (,)।

• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• বাক্যের শেষে যে যতিচিহ্নগুলো ব্যবহৃত হয়, এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা অন্ত্যযতি চিহ্ন বলে। অন্ত্যযতি চারটি, এগুলো হলো:
• অন্ত্যযতি:
১. দাঁড়ি (।),
২. প্রশ্নচিহ্ন (?),
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!),
৪. দুই দাঁড়ি (।।)।

• অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,),
৬. সেমিকোলন (;), 
৭. হাইফেন (-), 
৮. ড্যাশ (—),
৯. কোলন (:), 
১০. কোলন-ড্যাশ (:-),
১১. বিন্দু (.)।

• অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা ('),
১৩. ত্রিবিন্দু (...),
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/”...”),
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})),
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড)।
১৩২.
বাক্যে দাঁড়ি (।) থাকলে কতক্ষণ থামতে হয়?
  1. এক বলতে যে সময় লাগে
  2. এক সেকেন্ড প্রয়োজন
  3. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  4. দুই সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
এক সেকেন্ড প্রয়োজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক সেকেন্ড প্রয়োজন
ব্যাখ্যা
• বাক্যে যতিচিহ্ন দাঁড়ি (।) থাকলে ১ সেকেন্ড থামতে হয়। 

• বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
- কমা বা পাদচ্ছেদ এবং উদ্ধরণ চিহ্ন থাকলে -- 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
- সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।
- হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্রাকেট থাকলে -- থামার প্রয়োজন হয় না।
- দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে - এক সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩৩.
দাঁড়ি (।) সাধারণত বাক্যে কী নির্দেশ করে?
  1. জিজ্ঞাসা
  2. সংযোগ
  3. সমাপ্তি 
  4. সম্পর্ক
সঠিক উত্তর:
সমাপ্তি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাপ্তি 
ব্যাখ্যা

 • দাঁড়ি (।)
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
যেমন
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।

উল্লেখ্য,
- মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

১৩৪.
তারিখ লিখতে কোন বিরামচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) কমা
  2. খ) সেমিকোলন
  3. গ) দাঁড়ি
  4. ঘ) কোলন
সঠিক উত্তর:
ক) কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কমা
ব্যাখ্যা
• তারিখ লিখতে- 'কমা' ব্যবহার হয়।
যেমন: ২রা চৈত্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ।

• অল্প বিরাম বোঝাতে কিছু স্থানে কমা ব্যবহৃত হয়। যথা:
- নামের শেষে ডিগ্রি থাকলে কমা বসে। যেমন: ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, এমএ. পিএইচডি
- এক জাতীয় একাধিক বাক্য পাশাপাশি ব্যবহৃত হলে তাদের আলাদা করতে।
- একই পদের বারবার ব্যবহারের মাঝে কমা বসে। সম্বোধনের পর কমা বসে।
- তারিখ লিখতে কমা বসে ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩৫.
‘দাড়ি (।)’ বিরাম-চিহ্নের বাংলা অর্থ-
  1. ক) পাদচ্ছেদ
  2. খ) অর্ধচ্ছেদ
  3. গ) পূর্ণচ্ছেদ
  4. ঘ) দৃষ্টান্তচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
গ) পূর্ণচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পূর্ণচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
ব্যবহৃত বিরাম-চিহ্ন দাড়ি (।)-এর বাংলা অর্থ - পূর্ণচ্ছেদ

কিছু বিরাম-চিহ্নের বাংলা অর্থ:
কমা - পাদচ্ছেদ
সেমিকোলন - অর্ধচ্ছেদ
কোলন - দৃষ্টান্তচ্ছেদ
কোলন ড্যাস - ছেদ বাক্যসঙ্গতি চিহ্ন

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩৬.
একই পদের একাধিক শব্দ পাশাপাশি ব্যবহৃত হলে, কোন চিহ্ন বসে?
  1. কমা
  2. কোলন
  3. হাইফেন
  4. দাঁড়ি
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
কমা (,)
- বাক্যে অল্প বিরতি বোঝাতে কমা বসে। নানা প্রয়োজনে বাক্যে কমাচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

১. বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য কমা বসে।
যেমন:
তুমি যাবে, না যাবে না?
সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।

২. একই পদের একাধিক শব্দ পাশাপাশি ব্যবহৃত হলে কমা বসে।
যেমন:
বিশেষ্য: পদ্মা, মেঘনা, যমুনা বাংলাদেশের প্রধান প্রধান নদী।
বিশেষণ: সুখ, দুঃখ, আশা, নিরাশা একই মালার ফুল।
সর্বনাম: তুমি, আমি ও রবিন বাজারে যাব।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৩৭.
কোনটি প্রান্তিক বিরাম চিহ্ন?
  1. বিস্ময় চিহ্ন
  2. কমা
  3. সেমিকোলন
  4. ড্যাশ
সঠিক উত্তর:
বিস্ময় চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিস্ময় চিহ্ন
ব্যাখ্যা
যতিচিহ্ন:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য বাক্যের মধ্যে বা শেষে নিয়মিত বর্ণের পাশাপাশি সাংকেতিক চিহ্নকে বোঝায়। যতিচিহ্ন ছেদ বা বিরাম চিহ্ন নামেও পরিচিত।

বাক্যে অবস্থান বিবেচনায় বিরাম চিহ্নকে ২ প্রকার:
- প্রান্তিক বিরামচিহ্ন: দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন প্রভৃতি।
- বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন: কমা, সেমিকোলন, ড্যাস, হাইফেন ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩৮.
পূর্ণযতি নয় কোনটি?
  1. কমা 
  2. দাঁড়ি 
  3. প্রশ্নবোধক চিহ্ন 
  4. বিস্ময় চিহ্ন 
সঠিক উত্তর:
কমা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা 
ব্যাখ্যা

• কমা (,):
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে।
- কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- সম্বোধন পদের পরে কমা বসে।

অন্যদিকে, 
দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন ও বিস্ময় চিহ্ন পূর্ণ যতিচিহ্ন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৩৯.
দুটি বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে কোন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. ড্যাশ
  2. কমা
  3. দাঁড়ি
  4. কোলন
সঠিক উত্তর:
ড্যাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড্যাশ
ব্যাখ্যা

ড্যাশ (-):
- সাধারণত দুটি বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে এবং ব্যাখ্যাযোগ্য বাক্যাংশের আগে-পরে ড্যাশ ব্যবহৃত হয়। 

যেমন: 
- বাংলাদেশ দল জয়লাভ করেছে – বিজয়ের আনন্দে দেশের জনগণ উচ্ছ্বসিত। 
- ঐ লোকটি – যিনি গতকাল এসেছিলেন – তিনি আমার মামা।

অন্যদিকে,
কোলন (:) - বাক্যের প্রথম অংশের কোনো উক্তিকে দ্বিতীয় অংশে ব্যাখ্যা করা এবং উদাহরণ উপস্থাপনের কাজে কোলন ব্যবহৃত হয়।কমা: - কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
দাঁড়ি - দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪০.
বাক্যে ‘কমা’ থাকলে বিরতির সময়কাল কত?
  1. ক) ১ বলার দ্বিগুণ সময়
  2. খ) ১ বলতে যে সময় প্রয়োজন
  3. গ) এক সেকেন্ড
  4. ঘ) থামার প্রয়োজন নেই
সঠিক উত্তর:
খ) ১ বলতে যে সময় প্রয়োজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১ বলতে যে সময় প্রয়োজন
ব্যাখ্যা
বিরাম চিহ্ন:
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরামচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কাল:
১. কমা - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
২. সেমিকোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
৩. দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড।
৪. প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৫. বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৬. কোলন - এক সেকেন্ড।
৭. ড্যাস - এক সেকেন্ড।
৮. কোলন ড্যাস - এক সেকেন্ড।
৯. হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
১০. ইলেক বা লোপ চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।
১১. একক উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
১২. যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
১৩. বন্ধনি চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।
১৪. ধাতু দ্যোতক চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪১.
নিচের কোন বাক্যে যতিচিহ্নের সঠিক প্রয়োগ ঘটেনি?
  1. সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।
  2. ড. মুহম্মদ এনামুল হক, এম.এ. পি-এইচডি।
  3. ৬৮-জেল রোড; ঢাকা-১২০০।
  4. সাহেব বললেন, ''ছুটি পাবেন না।''
সঠিক উত্তর:
৬৮-জেল রোড; ঢাকা-১২০০।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৮-জেল রোড; ঢাকা-১২০০।
ব্যাখ্যা

⇒ ৬৮-জেল রোড; ঢাকা-১২০০।- বাক্যে যতিচিহ্নের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।
⇒ যতিচিহ্নের শুদ্ধ প্রয়গে সঠিক বাক্য: ৬৮, জেল রোড, ঢাকা-১২০০।

⇒ ‘কমা’ যতিচিহ্ন:

বাংলায় কোনো কিছু লিখতে গিয়ে যত ধরনের যতিচিহ্ন আমরা ব্যবহার করি তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করি কমা (,)। বাক্যের ভেতরের বিরাম-চিহ্ন হলো কমা। বাক্যে ব্যবহৃত কমার ক্ষেত্রে ‘এক’ উচ্চারণ করার সমান সময় থামতে হয়।

অল্প বিরাম বোঝাতে কিছু স্থানে কমা ব্যবহৃত হয়। যথা:
• উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে (খণ্ডবাক্যের শেষে) কমা বসাতে হবে।
যেমন- সাহেব বললেন, ''ছুটি পাবেন না।''

• নামের পরে ডিগ্রিসূচক পরিচয় দেওয়া হলে সেগুলোর প্রত্যেকটির আগে কমা বসে।
যেমন- ড. মুহম্মদ এনামুল হক, এম.এ. পি-এইচডি।

• বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসবে।
যেমন- ৬৮, জেল রোড, ঢাকা-১২০০।

• পরস্পর সমন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরই কমা বসবে।
যেমন- সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪২.
বাংলা ভাষায় যতি বা ছেদ চিহ্ন মোট কয়টি?
  1. ৯ টি
  2. ১০ টি
  3. ১১ টি
  4. ১২ টি
সঠিক উত্তর:
১২ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২ টি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি , নবম-দশম শ্রেণির ২০১৯ সংস্করণ অনুসারে, 
- বাংলা ভাষায় যতি বা ছেদ চিহ্ন ১২ টি। 
যথা:
- কমা, সেমিকোলন, দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, ড্যাশ, কোলন ড্যাস, হাইফেন, ইলেক ( ' ), উদ্ধরণ চিহ্ন / উদ্ধারচিহ্ন, বন্ধনী। 
----------------------------
---------------------------- 
বিশেষ তথ্য: 
 বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে,
• বাংলা ভাষায় যতি বা ছেদ চিহ্ন ১৬টি।
যথা:
- কমা,
- সেমিকোলন,
- দাঁড়ি,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময় চিহ্ন,
- হাইফেন,
- ড্যাশ,
- কোলন,
- উদ্ধৃতি চিহ্ন/উদ্ধারচিহ্ন,
- বন্ধনী,
- বিন্দু,
- ত্রিবিন্দু,
- বিকল্প চিহ্ন,
- ঊর্ধ্বকমা,
- দুই দাঁড়ি,
- কোলন-ড্যাশ।

 বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি , নবম-দশম শ্রেণির ২০২২ সংস্করণ অনুসারে,
• বাংলা ভাষায় যতি বা ছেদ চিহ্ন ১৩ টি। 
যথা:
- কমা,
- সেমিকোলন,
- দাড়ি,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময় চিহ্ন,
- হাইফেন
- ড্যাশ,
- কোলন
- উদ্ধরণ চিহ্ন/উদ্ধারচিহ্ন,
- বন্ধনী
- বিন্দু
- ত্রিবিন্দু
- বিকল্প চিহ্ন

আবার ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এর বই অনুসারে,
• বাংলা ভাষায় যতি বা ছেদ চিহ্নের সংখ্যা ১৭টি।

উল্লেখ্য, বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বই এর তথ্য অধিক গ্রহণযোগ্য। অতএব বাংলা ভাষায় যতি বা ছেদ চিহ্নের সংখ্যা ১৬টি অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর। 
১৪৩.
অনুজ্ঞাসূচক বাক্যের শেষে কোন চিহ্ন বসে?
  1. দাঁড়ি
  2. কমা
  3. সেমিকোলন
  4. হাইফেন
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
ব্যাখ্যা

দাঁড়ি বা পূর্ণছেদ:
- বাংলা ভাষায় দাঁড়ি একটি বহুল ব্যবহৃত যতিচিহ্ন। বাক্যের মধ্যে বক্তব্য সমাপ্ত হলে অথবা অর্থ সম্পূর্ণ হলে দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ বসে।

এর প্রয়োগ ক্ষেত্র হচ্ছে:
- অনুজ্ঞাসূচক বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। যেমন- কাল একবার এসো।
- নির্দেশাত্মক বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। যেমন- সব সময় সত্য কথা বলবে।
- পরোক্ষ প্রশ্নের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্নের বদলে দাড়ি ব্যবহার হয়। যেমন- সীমা জানতে চাইল রীমা কবে আসবে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৪৪.
'উচ্চারণের স্থান' ব্যাকরণের আলোচিত হয়
  1. ক) রূপতত্ত্ব
  2. খ) ধ্বনিতত্ত্ব
  3. গ) বাক্যতত্ত্ব
  4. ঘ) অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
খ) ধ্বনিতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• 'সন্ধি' ব্যাকরণের ধ্বনিতত্ত্বে আলোচিত হয়।

• ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় অন্তত চারটি ভাগে বিভক্ত হয়।
যথা –
- ধ্বনিতত্ত্ব,
- রূপতত্ত্ব,
-বাক্যতত্ত্ব ও
- অর্থতত্ত্ব।

• ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় সমূহ
- ধ্বনি,
- বর্ণ,
- ধ্বনির উচ্চারণ প্রণালি,
- উচ্চারণের স্থান,
- ধ্বনি পরিবর্তন ও
- লোপ, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
- সন্ধি ইত্যাদি।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪৫.
নিচের কোন যতিচিহ্নের বিরতির সময়কাল এক সেকেন্ড?
  1. কমা
  2. কোলন
  3. সেমিকোলন
  4. ইলেক
সঠিক উত্তর:
কোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলন
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ-
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।
• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে থামার প্রয়োজন হয় না।
• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৪৬.
হৃদয়াবেগ প্রকাশ করতে কোন বিরামচিহ্ন বসে?
  1. ত্ৰিবিন্দু
  2. দাঁড়ি
  3. বিকল্পচিহ্ন
  4. বিস্ময়চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
বিস্ময়চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিস্ময়চিহ্ন
ব্যাখ্যা
- হৃদয়াবেগ প্রকাশ করতে হলে - বিস্ময়চিহ্ন বসে। 

• বিস্ময়চিহ্ন (!):
- অবাক বা বিস্ময়ের ব্যাপার বোঝাতে প্রধানত বাক্যের শেষে বিস্ময়চিহ্ন বসে।
- আবেদন, ভর্তি, হতাশা, আনন্দ ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশের ক্ষেত্রেও বিস্ময়চিহ্ন বসে।
- বাক্যের ভেতরে বন্ধনীর মধ্যে, প্রয়োজন হলে বিস্ময়চিহ্ন বসানো যায়।

উদাহরণ:
- ইশ! যতি তুমি থাকতে।
- হঠাৎ বাড়িতে শোরগোল উঠল- চোর! চোর! চোর!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪৭.
অভ্যন্তর যতিচিহ্ন কোনটি?
  1. দাঁড়ি
  2. কমা
  3. বিস্ময়চিহ্ন
  4. প্রশ্নচিহ্ন
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে, বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন হলো:

• অন্ত্যযতি:
১. দাঁড়ি (।)
২. প্রশ্নচিহ্ন (?)
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!)
৪. দুই দাঁড়ি (।।)

• অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,)
৬. সেমিকোলন (;)
৭. হাইফেন (-)
৮. ড্যাশ (-)
৯. কোলন (:)
১০. কোলন-ড্যাশ (:-)
১১. বিন্দু (.)

• অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা (')
১৩. ত্রিবিন্দু (...)
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/”...”)
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]}))
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)।
১৪৮.
'হাইফেন' চিহ্নের জন্য কতক্ষণ থামতে হয়?
  1. এক সেকেন্ড
  2. এক বলার সময়
  3. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  4. থামার দরকার নেই
সঠিক উত্তর:
থামার দরকার নেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থামার দরকার নেই
ব্যাখ্যা
যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কাল:
- কমা - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
- সেমিকোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
- দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড।
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
- বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
- কোলন - এক সেকেন্ড।
- ড্যাস - এক সেকেন্ড।
- কোলন ড্যাস - এক সেকেন্ড।
- হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।
- একক উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
- যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
- ব্র্যাকেট (বন্ধনি চিহ্ন) - থামার প্রয়োজন নেই।
- ধাতু দ্যোতক চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪৯.
একই ধরনের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. কোলন
  2. দাড়ি
  3. কমা
  4. সেমিকোলন 
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন 
ব্যাখ্যা

 • সেমিকোলন (;)
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে অথবা একই ধরনের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়।
যেমন
- সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।
- কোনো বইয়ের সমালোচনা করা সহজ; কিন্তু বই লেখা অত সহজ নয়।
- তিনি পড়েছেন বিজ্ঞান; পেশা ব্যাংকার; আর নেশা সাহিত্যচর্চা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

১৫০.
সন্ধির নিয়মে সমস্যমান পদের চেহারায় পরিবর্তন রোধে কোন বিরামচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. কমা
  2. হাইফেন
  3. সেমিকোলন
  4. কোলন
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
ব্যাখ্যা
• হাইফেন (-):
হাইফেন মূলত পদসংযোজক চিহ্ন। অর্থাৎ বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদ হাইফেন দিয়ে যুক্ত করা হয়। বাক্য পাঠ করার সময়ে এই যতি উচ্চারণের উপরে কোনো প্রভাব ফেলে না।

- নিম্নে হাইফেনের সাধারণ কিছু প্রয়োগ তুলে ধরা হলো:

• সন্ধি এড়াতে হাইফেন:
সন্ধির নিয়মে অনেক সময়ে সমস্যমান পদের চেহারায় পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তন রোধ করার জন্য অনেক সময়ে হাইফেন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
যেমন:
- ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলন বাংলাদেশের মানুষকে স্বাধীনতার দিকে চালিত করে।
- ন্যায়-অন্যায় বুঝি না, আক্রমণের পালটা হিসাবে প্রতি-আক্রমণ হয়, সেটা জানি।

• উপরের উদ্ধৃতি দুটিতে তিনটি সমাসবদ্ধ পদকে হাইফেন দিয়ে যুক্ত করা হয়েছে, সন্ধিবদ্ধ হলে এগুলির চেহারা হত যথাক্রমে গণান্দোলন, ন্যায়ান্যায়, এবং প্রত্যাক্রমণ। কিন্তু শব্দগুলির এমন চেহারা অপ্রত্যাশিত হওয়ায় এসব ক্ষেত্রে সন্ধির বদলে হাইফেন প্রযুক্ত হয়েছে।

-------------------------

• পদের সমাসবদ্ধতা প্রকাশে হাইফেন:
বিভিন্ন ধরনের সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করার সময়ে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ছাত্র-ছাত্রীদের খাবার পানি সরবরাহ করার জন্য স্কুলের বারান্দায় ফিল্টার বসানো হয়েছে।
- লাল-সবুজের পতাকা শোভিত বাংলাদেশের গ্যালারিতে আনন্দের বন্যা!
- রাজায়-রাজায় যুদ্ধ হয়, উলু-খাগড়ার প্রাণ যায়।

• একাধিক পদ মিলে পদবন্ধ-সমাস তৈরি হওয়ার সময়েও হাইফেন ব্যবহৃত হয়। কখনও কখনও এইসব পদবন্ধ বিশেষণ হিসাবে কাজ করে।
যেমন:
- সিগনালে-দাঁড়িয়ে-থাকা গাড়িটার উপরে ট্রাকটা হুমড়ি খেয়ে পড়ে। 

• সমাসে বিভক্তির বদলেও হাইফেন ব্যবহৃত হয়। যেমন-স্কুল-পালানো ছেলে।
• অনুকার শব্দ বা প্রায় সমার্থক একাধিক শব্দ দিয়ে শব্দদ্বৈত গঠনের কাজে হাইফেনের ব্যবহার হয়।
যেমন:
- গোল-গোল চোখ করে তাকিয়ে সে চলে যায়।
- ঝড়ের বাতাসে কড়-মড় করে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে।

• পরপদ অভিন্ন হলে প্রথমটিতে হাইফেন:
একাধিক সমাসবদ্ধ পদে পরপদ অভিন্ন হলে কোনো একটার পরপদ অক্ষুণ্ণ রেখে অন্যটার পরপদের পরিবর্তে হাইফেন ব্যবহৃত হয়। যেমন:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা- ও মুক্তি-সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

• লাইনের শেষে শব্দ ভাঙতে হাইফেন:
লাইনের মধ্যবর্তী ফাঁক দৃষ্টিকটুভাবে যাতে কম বা বেশি হয়ে না যায়, সেজন্য অনেক সময়ে লাইনের শেষ শব্দকে যৌক্তিকভাবে ভাঙা হয়। শব্দকে এভাবে ভাঙার সময়ে প্রথম অংশের শেষে হাইফেন ব্যবহার করতে হয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড)।
১৫১.
কোন বাক্যে কমার অসংগত প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. কেউই জানেনা, সে কোথায় গেছে
  2. বেশ, তাই হবে
  3. তার কাঁধে বিরাট বোঝা, হাতে লাঠি
  4. তুমিও যাবে, আমিও যাব
সঠিক উত্তর:
তুমিও যাবে, আমিও যাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুমিও যাবে, আমিও যাব
ব্যাখ্যা
কমা (,) এর ব্যবহার:
১) বাক্য সুস্পষ্ট করতে বাক্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মাঝে কমা বসে।
যেমন:
- সুখ চাও, সুখ পাবে বই পড়ে।

৩) সম্বোধনের পরে কমা বসে।
যেমন:
- রশিদ, এদিকে এসো।
- বেশ, তাই হবে।

৪) এক জাতীয় একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ পাশাপাশি ব্যবহৃত হলে কমা প্রয়োগে তাদের আলাদা করতে হয়।
যেমন:
- সে ক্লাসে ঢুকল, বই নিল।
- তার কাঁধে বিরাট বোঝা, হাতে লাঠি

৫) ভাবান্তরমূলক বাক্যাংশের পর কমা দিতে হয়।
যেমন:
- আমার মনে হয়, সে আসবে।
- তার কাঁধে বিরাট বোঝা, হাতে লাঠি

অন্যদিকে,
- দুটো বাক্যের মধ্যে ভাব বা অর্থের সম্বন্ধ থাকলে সেমিকোলন বসে
যেমন:
- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।
- কথাটা বলা সহজ; করা কঠিন।
- তুমিও যাবে; আমিও যাব।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৫২.
সর্বপ্রথম যতিচিহ্নের ব্যবহার ঘটে কোন গ্রন্থে?
  1. শকুন্তলা
  2. বেতাল পঞ্চবিংশতি
  3. ভ্রান্তিবিলাস
  4. সীতার বনবাস
সঠিক উত্তর:
বেতাল পঞ্চবিংশতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেতাল পঞ্চবিংশতি
ব্যাখ্যা

যতিচিহ্নের প্রচলন:
- বাংলা ভাষায় যতিচিহ্নের প্রচলন করেন - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- বাংলা ভাষায় যতি চিহ্ন প্রচলন করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তাকে বাংলা গদ্যের জনক ও বলা হয়।
- বেতাল পঞ্চবিংশতি গ্রন্থেই তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন।
- বিদ্যাসাগরের আগে বাংলা গদ্য বা কবিতা কোথাও যতিচিহ্ন ব্যবহার হতো না।
- শুধু পূর্ণচ্ছেদ বা দাঁড়িজ্ঞাপক চিহ্নটি ছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৫৩.
বাংলায় কোন চিহ্নটিকে সংযোগ চিহ্ন বলা হয়?
  1. ইলেক চিহ্ন
  2. হাইফেন
  3. ড্যাস
  4. কোলন
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
ব্যাখ্যা
হাইফেন:
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।

• দুটো শব্দের সংযোগ বোঝাতে হাইফেন বসে।
যেমন:
- আমার মা-বাবা বেড়াতে গেছেন।
- পাপ-পুণ্য, ভালো-মন্দ বিবেক দিয়ে বুঝতে হয়।

• সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেখাবার জন্য হাইফেন বসে।
যেমন:
- আমাদের প্রীতি-উপহার গ্রহণ করুন।
- তাদের মধ্যে অহি-নকুল সম্পর্ক।

• একই ধরনের শব্দ প্রকাশের ক্ষেত্রে হাইফেন বসে।
যেমন:
- বাংলাদেশ নদ-নদীর দেশ।
- ঢাকা-খুলনা-বরিশাল এ দেশের বড় শহর।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৫৪.
কোন যতিচিহ্ন কমার চেয়ে দ্বিগুণ সময় বিরতি নেয়?
  1. কোলন
  2. হাইফেন
  3. সেমিকোলন
  4. দাঁড়ি
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
• সেমিকোলন (;):
- একাধিক বাক্যের মধ্যে নিকট সম্পর্ক থাকলে তাদের মাঝে যোগসূত্র রক্ষার জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়। সেমিকোলন চিহ্ন কমার চেয়ে দ্বিগুণ সময় বিরতি নেয়।
যেমন:

১. দুটো বাক্যের মধ্যে ভাব বা অর্থের সম্বন্ধ থাকলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।
- কথাটা বলা সহজ; করা কঠিন।

২. একাধিক বাক্য সংযোজক অব্যয়ের দ্বারা যুক্ত না হলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- আগে স্কুলের পড়া; পরে গল্পের বই।

অন্যদিকে,
থামার প্রয়োজন নেই - হাইফেন।
১ সেকেন্ড থামতে হয় - কোলন; দাঁড়ি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৫৫.
লেখার সময় বিশ্রামের জন্য আমরা যে চিহ্নগুলো ব্যবহার করে থাকি সেগুলোকে কী বলে?
  1. ক) বিশ্রাম চিহ্ন
  2. খ) বিরাম চিহ্ন
  3. গ) বিভাজন চিহ্ন
  4. ঘ) সাংস্কৃতিক চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
খ) বিরাম চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিরাম চিহ্ন
ব্যাখ্যা
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। 
- যতিচিহ্নকে বিরাম চিহ্ন বা বিরিতি চিহ্নও বলে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৫৬.
'পাদচ্ছেদ' এর ক্ষেত্রে বিরতিকালের পরিমাণ কোনটি?
  1. ১ বলতে যে সময় লাগে
  2. ১ সেকেন্ড
  3. ১ বলার দ্বিগুণ সময়
  4. থামার প্রয়োজন নেই
সঠিক উত্তর:
১ বলতে যে সময় লাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ বলতে যে সময় লাগে
ব্যাখ্যা
• 'পাদচ্ছেদ' এর ক্ষেত্রে বিরতিকালের পরিমাণ - ১ বলতে যে সময় লাগে

বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫৭.
প্রথম অংশের ব্যাখ্যা বা উদাহরণ উপস্থাপন করতে কোন যতি চিহ্ন ব্যবহার করা হয়?
  1. ড্যাশ
  2. সেমিকোলন 
  3. কোলন 
  4. কমা 
সঠিক উত্তর:
কোলন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলন 
ব্যাখ্যা

প্রথম অংশের ব্যাখ্যা বা উদাহরণ উপস্থাপন করতে কোলন যতি চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।

কোলন (:)
- বাক্যের প্রথম অংশের কোনো উক্তিকে দ্বিতীয় অংশে ব্যাখ্যা করা এবং উদাহরণ উপস্থাপনের কাজে কোলন ব্যবহৃত হয়।
- যেমন- ভাষার দুটি রূপ: কথ্য ও লেখ্য।
- সভার সিদ্ধান্ত হলো: প্রতি মাসে সব সদস্যকে দশ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে। 

অন্যদিকে, 
ড্যাশ (-)
- সাধারণত দুটি বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে এবং ব্যাখ্যাযোগ্য বাক্যাংশের আগে-পরে ড্যাশ ব্যবহৃত হয়।
- যেমন - বাংলাদেশ দল জয়লাভ করেছে বিজয়ের আনন্দে দেশের জনগণ উচ্ছ্বসিত।
- ঐ লোকটি - যিনি গতকাল এসেছিলেন তিনি আমার মামা।

কমা (,)
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- যেমন- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
- সুজন, দেখ তো কে এসেছে।

সেমিকোলন (;)
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে অথবা একই ধরনের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়।
- যেমন - সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।
- কোনো বইয়ের সমালোচনা করা সহজ; কিন্তু বই লেখা অত সহজ নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

১৫৮.
প্রান্তিক বিরামচিহ্ন কোনটি?
  1. সেমিকোলন
  2. পাদচ্ছেদ 
  3. ড্যাশ
  4. প্রশ্নবোধক চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
প্রশ্নবোধক চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রশ্নবোধক চিহ্ন
ব্যাখ্যা

• বাক্যে অবস্থান বিবেচনায় বিরামচিহ্নকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়:
-  প্রান্তিক বিরামচিহ্ন।
- বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন।

• প্রান্তিক বিরামচিহ্ন:
যেসব বিরামচিহ্ন বাক্যের শেষে বসে তাদের প্রান্তিক বিরামচিহ্ন বলে।
যেমন- 
- দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময়বোধক প্রভৃতি প্রান্তিক বিরামচিহ্ন।

• বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন:
- যেসব বিরামচিহ্ন বাক্যের শেষে ছাড়া অন্যান্য স্থানে বসে তাদের বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন বলা হয়। 
যেমন- কমা, কোলন, সেমিকোলন, ড্যাশ, হাইফেন ইত্যাদি।   

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি-ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 

১৫৯.
একটি বদলে অন্যটির সম্ভাবনা বোঝাতে কোন চিহ্ন ব্যবহার হয়?
  1. বিকল্পচিহ্ন
  2. ত্রিবিন্দু
  3. বন্ধনী
  4. উদ্ধারচিহ্ন
সঠিক উত্তর:
বিকল্পচিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিকল্পচিহ্ন
ব্যাখ্যা
বিকল্পচিহ্ন (/):
- একটি বদলে অন্যটির সম্ভাবনা বোঝাতে বিকল্পচিহ্ন ব্যবহার হয়।
যেমন:
- শুদ্ধ/অশুদ্ধ চিহ্নিত করো।

অন্যদিকে,
ত্রিবিন্দু (...):
বাক্যের বা উদ্ধিৃতির কোনো অংশ বাদ দিতে চাইলে ত্রিবিন্দু ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- তিনি রেগে গিয়ে বললেন, "তার মানে তুমি একটা ...।"
- আমাদের ঐক্যের বাইরের। ... এ ঐক্য জড় অকর্মক, সজীব সকর্মক নয়।

বন্ধনী:
- অতিরিক্ত তথ্য উপস্থাপন ও কালনির্দেশের ক্ষেত্রে বন্ধনীর ব্যবহার হয়।
- বন্ধনী তিন প্রকার: ১) প্রথম বন্ধনী ( ), ২) দ্বিতীয় বন্ধনী { }, ৩) তৃতীয় বন্ধনী [ ]।

উদ্ধারচিহ্ন (‘ ’):
- কোনো কিছু উদ্ধৃত করার কাজে উদ্ধারচিহ্নের ব্যবহার হয়।
- উদ্ধারচিহ্ন দুই রকম: একক দ্বৈত।
যেমন:
- ‘সিরাজউদৌল্লা’ একটি ঐতিহাসিক নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬০.
নিচের কোন যতি চিহ্নের ক্ষেত্রে কোনাে বিরামের প্রয়ােজন হয় না?
  1. ক) সেমিকোলন
  2. খ) হাইফেন
  3. গ) কোলন
  4. ঘ) ড্যাস
  5. ঙ) কোলন ড্যাস
সঠিক উত্তর:
খ) হাইফেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাইফেন
ব্যাখ্যা

যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কালঃ
কমা- ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
সেমিকোলন- ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ- এক সেকেন্ড।
প্রশ্নবোধক চিহ্ন- এক সেকেন্ড।
বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন- এক সেকেন্ড।
কোলন- এক সেকেন্ড।
ড্যাস- এক সেকেন্ড।
কোলন ড্যাস- এক সেকেন্ড।
হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
ইলেক বা লোপ চিহ্ন- থামার প্রয়োজন নেই।
একক উদ্ধৃতি চিহ্ন- 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন- 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
ব্র্যাকেট (বন্ধনি চিহ্ন)- থামার প্রয়োজন নেই।
ধাতু দ্যোতক চিহ্ন- থামার প্রয়োজন নেই।

সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

১৬১.
নিচের কোন যতি চিহ্নের ক্ষেত্রে কোনাে বিরামের প্রয়ােজন হয় না?
  1. ক) কমা
  2. খ) কোলন
  3. গ) প্রশ্নবােধক চিহ্ন
  4. ঘ) ব্র্যাকেট
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্র্যাকেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্র্যাকেট
ব্যাখ্যা

যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কালঃ
কমা- ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
সেমিকোলন- ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ- এক সেকেন্ড।
প্রশ্নবোধক চিহ্ন- এক সেকেন্ড।
বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন- এক সেকেন্ড।
কোলন- এক সেকেন্ড।
ড্যাস- এক সেকেন্ড।
কোলন ড্যাস- এক সেকেন্ড।
হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
ইলেক বা লোপ চিহ্ন- থামার প্রয়োজন নেই।
একক উদ্ধৃতি চিহ্ন- 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন- 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
ব্র্যাকেট (বন্ধনি চিহ্ন)- থামার প্রয়োজন নেই।
ধাতু দ্যোতক চিহ্ন- থামার প্রয়োজন নেই।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

১৬২.
বাক্যের ভেতরে বিশেষভাবে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন হলে, কোন যতিচিহ্ন ব্যবহার করা হয়?
  1. ড্যাশ
  2. ত্রিবিন্দু
  3. বন্ধনী
  4. বিকল্পচিহ্ন
সঠিক উত্তর:
বন্ধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্ধনী
ব্যাখ্যা
বন্ধনী:
- অতিরিক্ত তথ্য উপস্থাপন ও কালনির্দেশের ক্ষেত্রে বন্ধনীর ব্যবহার হয়।
- বাক্যে বিশেষ ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন হলে বাক্যের ভেতর এর ব্যবহার হয়।
- বন্ধনী তিন প্রকার: প্রথম বন্ধনী ( ), দ্বিতীয় বন্ধনী { } ও তৃতীয় বন্ধনী [ ]।
যেমন:
- তিনি বাংলা ভাষার বিবর্তন (চর্যাপদের সময় থেকে পরবর্তী) নিয়ে আলোচনা করবেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) 'বিদ্রোহী কবি' হিসেবে পরিচিত।

অন্যদিকে,
ত্রিবিন্দু (...):
- কোনো অংশ বাদ দিতে চাইলে ত্রিবিন্দুর ব্যবহার হয়।
যেমন:
- তিনি রেগে গিয়ে বললেন, “তার মানে তুমি একটা ...।
- আমাদের ঐক্য বাইরের। ... এ ঐক্য জড় অকর্মক, সজীব সকর্মক নয়।

বিকল্পচিহ্ন: 
- একটির বদলে অন্যটির সম্ভাবনা বোঝাতে বিকল্পচিহ্নের ব্যবহার হয়।
- যেমন, শুদ্ধ/অশুদ্ধ চিহ্নিত করো ৷

ড্যাশ (-):
- সাধারণত দুটি বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে এবং ব্যাখ্যাযোগ্য বাক্যাংশের আগে-পরে ড্যাশ ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- বাংলাদেশ দল জয়লাভ করেছে – বিজয়ের আনন্দে দেশের জনগণ উচ্ছ্বসিত।
- ঐ লোকটি – যিনি গতকাল এসেছিলেন – তিনি আমার মামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৬৩.
বাংলা ভাষার ব্যবহৃত সেমিকোলন চিহ্নটি হলো-
  1. ক) (:)
  2. খ) (/)
  3. গ) (;)
  4. ঘ) (-)
সঠিক উত্তর:
গ) (;)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) (;)
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যে ব্যবহূত বিরামচিহ্নগুলো হচ্ছে:
- কমা (,),
- সেমিকোলন (;),
- কোলন (:),
- হাইফেন (-),
- ড্যাস (—),
- ঊর্ধ্বকমা (’),
- উদ্ধৃতিচিহ্ন (“ ”),
- বিকল্প চিহ্ন (/)।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ]
১৬৪.
যতিচ্ছেদ বা বিরামচিহ্ন ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. ক) ধ্বনিতত্ত্ব
  2. খ) শব্দতত্ত্ব
  3. গ) বাক্যতত্ত্ব
  4. ঘ) অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
গ) বাক্যতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

যতিচ্ছেদ বা বিরামচিহ্ন বাংলা ব্যাকরণের বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়
চারটি। যথা-
(১) ধ্বনিতত্ত্ব (Phonology)
(২) শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব (Morphology)
(৩) বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম (Syntax)
(৪) অর্থতত্ত্ব (Semantics)

বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম:
বাক্য, বাক্যের অংশ, বাক্যের প্রকার, বাক্য বিশ্লেষণ, বাক্য পরিবর্তন, পদক্রম, বাগধারা, বাক্য সংকোচন, বাক্য সংযোজক, বাক্য বিয়োজন, যতিচ্ছেদ বা বিরামচিহ্ন প্রভৃতি বিষয় বাক্য-প্রকরণে আলোচিত হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণী ও ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬৫.
গণিতে অনুপাত বোঝাতে কোন যতিচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. সেমিকোলন চিহ্ন
  2. কোলন চিহ্ন
  3. কমা চিহ্ন
  4. সমান চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
কোলন চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলন চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• কোলন:
একটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্য লিখতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়।
যেমন:
- 'সভায় ঠিক করা হল: এক মাস পর আবার সভা অনুষ্ঠিত হবে।'

নিম্নলিখিত স্থানে কোলন ব্যবহৃত হয়-
- বাক্যে কোনো প্রসঙ্গ অবতারণার আগে কোলন বসে। যেমন- শপথ নিলাম: পাশ করবই।
- কটা বাজে কত মিনিট তা সংখ্যায় নির্দেশ করতে। যেমন- ৭: ২০।
- নাটকের চরিত্রের পরে ও সংলাপের আগে। যেমন- রাজা: উজিররা সবাই এসে হাসির হও।
- গণিতে অনুপাত বোঝাতে কোলন বসে। যেমন- ৫:৩।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬৬.
নিচের কোনটি প্রান্তিক বিরাম চিহ্ন নয়?
  1. দাঁড়ি চিহ্ন
  2. কোলন
  3. প্রশ্নবোধক চিহ্ন
  4. বিষ্ময় চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
কোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলন
ব্যাখ্যা
• ‘কোলন’ প্রান্তিক বিরাম চিহ্ন নয়।

- বাক্যের শেষে বসে ৩টি যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন।
- এগুলো হলো: দাঁড়ি চিহ্ন, প্রশ্নবোধক চিহ্ন এবং বিস্ময় চিহ্ন।
- এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন বলে।

দাঁড়ি (।):
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
 যেমন:
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।

প্রশ্নচিহ্ন (?):
- সাধারণত কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করার ক্ষেত্রে প্রশ্নচিহ্ন বসে।
 যেমন:
- তারা কখন এসেছে?
- বাংলাদেশের রাজধানীর নাম কী?

বিস্ময়চিহ্ন (!):
- সাধারণত বিস্ময়, দুঃখ, আনন্দ ইত্যাদি প্রকাশের জন্য বিস্ময়চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
 যেমন:
- মানে কী! সে আর চাকরি করবে না!
- তার গানের কণ্ঠ দারুণ!

অন্যদিকে, 
কোলন (:):
- বাক্যের প্রথম অংশের কোনো উক্তিকে দ্বিতীয় অংশে ব্যাখ্যা করা এবং উদাহরণ উপস্থাপনের কাজে কোলন ব্যবহৃত হয়।
 যেমন:
- ভাষার দুটি রূপ: কথ্য ও লেখ্য ।
- সভার সিদ্ধান্ত হলো: প্রতি মাসে সব সদস্যকে দশ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৬৭.
নিচের বাক্যটিতে কয়টি বিরাম চিহ্ন বসবে?
গ্রীষ্ম বর্ষা শরৎ হেমন্ত শীত ও বসন্ত বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ
  1. ক) ৮টি
  2. খ) ৯টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৭টি
সঠিক উত্তর:
গ) ৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬টি
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত বাক্যে ৬টি বিরাম চিহ্ন বসেছে। 
কমা (,): কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে।
শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
যেমন :গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত - বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।

নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
সুজন, দেখ তাে কে এসেছে।
কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, “পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তাে পাপ।”

উৎস: নবম - দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)
১৬৮.
নিম্নের কোনটি অন্ত্যযতি নয়?
  1. ক) বিন্দু (.)
  2. খ) প্রশ্নচিহ্ন (?)
  3. গ) বিস্ময়চিহ্ন (!)
  4. ঘ) দুই দাঁড়ি (।।)
সঠিক উত্তর:
ক) বিন্দু (.)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিন্দু (.)
ব্যাখ্যা
প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে, 
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন হল: ১৬ টি। 
ক, অন্ত্যযতি
১. দাড়ি (।)
২. প্রশ্নচিহ্ন (?)
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!)
৪. দুই দাঁড়ি (।।) 

খ. অভ্যন্তর যতি
৫. কমা (,)
৬. সেমিকোলন (;) 
৭. হাইফেন (-) 
৮. ড্যাশ (-)
৯. কোলন (:) 
১০. কোলন-ড্যাশ (:-)
১১. বিন্দু (.)

গ. অন্যান্য যতি 
১২. ঊর্ধ্বকমা (')
১৩. ত্রিবিন্দু (...) 
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('...'/”...”)
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})) 
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)
১৬৯.
কোলনের ক্ষেত্রে সাধারণত কতক্ষণ থামতে হয়?
  1. ১ সেকেন্ড
  2. ১ বলতে যে সময় প্রয়োজন 
  3. ১ বলার দিগুণ সময় 
  4. থামার প্রয়োজন নেই 
সঠিক উত্তর:
১ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

সাধারণ বাক্যবিন্যাসে  দৃষ্টান্তচ্ছেদ বা কোলনের পর সংক্ষিপ্ত বিরতি রাখা হয়, যা প্রায় ১ সেকেন্ডের সমান।
-------------------
• কোলন (:) –
- কোলন (:) বাংলা ব্যাকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ যতিচিহ্ন।
- এটি পূর্ণ বাক্যের পর উদাহরণ, তালিকা, ব্যাখ্যা, উদ্ধৃতি বা সংলাপ এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
- এটি সাধারণত ‘অর্থাৎ’, ‘যেমন’ বা ‘নিচে দেওয়া হলো’—এই ধরনের ভাব প্রকাশ করে।
- কোলনের আগে থাকা বাক্য অবশ্যই পূর্ণ বা স্বাধীন বাক্য হতে হবে।

কোলনের প্রধান ব্যবহারসমূহ:

• উদাহরণ বা তালিকা দেখাতে:
- উদাহরণ:
- “আমাদের ক্লাসে তিনজন প্রধান শিক্ষক আছেন: মিস্টার রহমান, মিসেস দত্ত ও মিস্টার চৌধুরী।”
- “আমার প্রিয় ফল: আম, কলা, আনারস।”

• ব্যাখ্যা বা কারণ বোঝাতে:
- উদাহরণ:
- “তার বক্তব্য স্পষ্ট: আমাদের সবাইকে সাহায্য করতে হবে।”

• উদ্ধৃতি বা সংলাপের আগে:
- উদাহরণ: সুমি বলল: “আজকে আমি স্কুলে যাব না।”

• নাটকের সংলাপ:
- রাহুল: তুমি কোথায় যাচ্ছ?
- সুমি: বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে যাচ্ছি।

• শিরোনাম ও উপশিরোনাম আলাদা করতে:
- উদাহরণ:
- “বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস: একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয়।”

• সময় নির্দেশ করতে:
- উদাহরণ: ০৮:৪৫। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৭০.
বাক্যের শেষে কোন যতিচহ্নি বা বিরামচিহ্নগুলো বসে?
  1. দাড়ি, কমা ও প্রশ্নবোধক চিহ্ন
  2. বিস্ময়, দাঁড়ি ও সেমিকোলন চিহ্ন
  3. দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক ও কমা চিহ্ন
  4. দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক ও বিস্ময় চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক ও বিস্ময় চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক ও বিস্ময় চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• বিরাম চিহ্ন:
মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরামচিহ্ন বলে। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

• বাক্যের শেষে বসে ৩টি যতিচহ্নি বা বিরামচিহ্ন। এগুলোকে প্রান্তিক যতিচিহ্ন বা বিরাম চিহ্ন বলে। এগুলো হলো:
- দাঁড়ি চিহ্ন,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন এবং
- বিস্ময় চিহ্ন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭১.
সুজন দেখ তো কে এসেছে - বাক্যের মাঝে কোন যতিচিহ্ন বসবে?
  1. ক) কোলন
  2. খ) কমা
  3. গ) সেমিকোলন
  4. ঘ) ড্যাশ
সঠিক উত্তর:
খ) কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কমা
ব্যাখ্যা
বাক্যের মাঝে কমা ( , ) যতিচিহ্ন বসবে।
- বাক্যটি হবে এরূপ - সুজন, দেখ তো কে এসেছে।

• কমা এর ব্যবহার: 
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে।
- শব্দ, বর্গ, ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
যেমন- 
সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
১৭২.
বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে-
  1. কোলন
  2. দাঁড়ি
  3. কমা
  4. সেমিকোলন
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
ব্যাখ্যা
• 'দাঁড়ি' যতিচিহ্ন:
- দাঁড়ি অর্থ পূর্ণচ্ছেদ।
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
যেমন:
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।


অন্যদিকে, 
--------------------
• কমা:
কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। শব্দ, বর্গ ও অধীনে বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
যেমন:
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত- বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- সুজন, দেখ তোকে আসছে।

• সেমিকোলন:
- সেমিকোলন অর্থ হচ্ছে 'অর্ধচ্ছেদ'।
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে অথবা একই ধরনের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছব্দ করি।
- কোনো বইয়ের সমালোচনা করা সহজ; কিন্তু বই লেখা অত সহজ না।

• কোলন:
- বাক্যের প্রথম অংশের কোনো উক্তিকে দ্বিতীয় অংশে ব্যাখ্যা করা এবং উদাহরণ উপস্থানের কাজে কোলন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ভাষার দুটি রূপ: কথ্য ও লেখ্য।
- সভার সিন্ধান্ত হলো: প্রতি মাসে সব সদস্যকে দশ টাকা করে চাদা দিতে হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১৭৩.
বাক্যে 'বিরামচিহ্ন' কেন ব্যবহৃত হয়?
  1. বাক্য সংকোচনের জন্যে
  2. বাক্যকে অলংকৃত করার জন্যে
  3. বাক্যের সৌন্দর্যের জন্যে
  4. বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণের জন্যে
সঠিক উত্তর:
বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণের জন্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণের জন্যে
ব্যাখ্যা

• বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণের জন্য- বিরামচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।

যতিচিহ্ন:
- মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে বোঝাবার জন্য,
- বাক্যের মধ্যে বা বাক্যের সমাপ্তিতে কিংবা বাক্যে আবেগ (হর্ষ, বিষাদ), জিজ্ঞাসা ইত্যাদি প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে,
- বাক্য গঠনে যেভাবে বিরতি দিতে হয় এবং লেখার সময় বাক্যের মধ্যে তা দেখাবার জন্য,
- যেসব সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, সেগুলোই যতি বা ছেদচিহ্ন বা বিরাম- চিহ্ন।

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৭৪.
দাঁড়ি যতিচিহ্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিরতির সময়কাল কত?
  1. ১ বলার দ্বিগুণ
  2. ১ মিনিট
  3. ১ সেকেন্ড
  4. ১ বলেতে যে সময় প্রয়োজন
সঠিক উত্তর:
১ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
• দাঁড়ি:
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
- দাঁড়ি যতিচিহ্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিরতির সময়কাল ১ সেকেন্ড।
- বাংলা রচনায় দাঁড়ি চিহ্নের ব্যবহার অন্যান্য যতির তুলনায় বেশি।
- বিবৃতিমূলক সরল বাক্যে শুধু একটি দাঁড়ি দিয়ে শেষ হয়।
- অনুরোধ, আদেশ ইত্যাদি বোঝায় এমন বাক্যের শেষে দাঁড়ি ব্যবহৃত হয়। 
যেমন:
- যাও।
- তোমার লেখা হলে কলমটা দিয়ো তো।
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে ।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি আশ্ঢ় বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৭৫.
হৃদয়াবেগ প্রকাশ করতে হলে কোন যতিচিহ্নটি বসে?
  1. দাঁড়িচিহ্ন
  2. কমাচিহ্ন
  3. বিস্ময়চিহ্ন
  4. কোলনচিহ্ন
সঠিক উত্তর:
বিস্ময়চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিস্ময়চিহ্ন
ব্যাখ্যা
 বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন (!):
• হৃদয়াবেগ প্রকাশ করতে হলে এবং সম্বোধন পদের পরে (!) চিহ্নটি বসে। যেমন: আহা! কি চমৎকার দৃশ্য। জননী! আজ্ঞা দেহ মোরে যাই রনস্থলে।
• আবেদন, ভীতি, হতাশা, আনন্দ প্রকাশের ক্ষেত্রে (!) চিহ্নটি বসে। যেমন: দয়া করে আমার কথা শুনুন!
• সবিস্ময় প্রশ্নের জায়গায় প্রশ্ন চিহ্নের পরিবর্তে বিস্ময়সূচক চিহ্ন বসে। যেমন: তোমার হৃদয় কি পাষাণে গড়া! একটি বারও পলাশের কথা ভাবলে না!
• সংক্ষিপ্ত উত্তরের শেষে কখনো কখনো পূর্ণচ্ছেদ না বসে বিস্ময়সূচক চিহ্ন বসে। যেমন: আমাকে একটু আদর করবে!

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৬.
বার ও মাসের নামের পর কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. বিন্দু
  2. কোলন
  3. ড্যাস
  4. কমা
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• কমা:
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না। কমা চিহ্নের বাংলা নাম পাদচ্ছেদ।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।

• সম্বোধন পদের পরে সাধারণত কমা বসে।
যেমন:
- স্যার, আমাকে ব্যাপারটি বুঝিয়ে দেবেন?
- রব, এদিকে এসো।

• বাক্যে একাধিক বিশেষ্য কিংবা বিশেষণ পদের বিবৃতি প্রকাশের ক্ষেত্রে কমা বসাতে হয়।
যেমন:
- জনি বুদ্ধিমান, সাহসী ও জ্ঞানী।
- মীম, সানি, হারুন ও রব কক্সবাজার গিয়েছে।

• তারিখ লিখতে বার ও মাসের পরে ‘কমা’ বসে।
যেমন:
- ১৯শে আশ্বিন, বৃহস্পতিবার, ১৪২৫ সালে মীম বান্দরবান জেলায় জন্মগ্রহণ করে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৭৭.
নিচের কোন চিহ্ন বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে?
  1. ত্রিবিন্দু
  2. কোলন
  3. সেমিকোলন
  4. দাঁড়ি
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাঁড়ি
ব্যাখ্যা
দাঁড়ি:
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে। বাংলা রচনায় দাঁড়ি চিহ্নের ব্যবহার অন্যান্য যতির তুলনায় বেশি।
- বিবৃতিমূলক সরল বাক্যে শুধু একটি দাঁড়ি দিয়ে শেষ হয়। অনুরোধ, আদেশ ইত্যাদি বোঝায় এমন বাক্যের শেষে দাঁড়ি ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
- তোমার লেখা হলে কলমটা দিয়ো তো।
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭৮.
আবেদন, ভীতি, হতাশা, আনন্দ প্রকাশের ক্ষেত্রে কোন যতিচিহ্নটি বসে?
  1. ত্রিবিন্দু
  2. সেমিকোলন
  3. সম্বোধন চিহ্ন
  4. দাঁড়ি
সঠিক উত্তর:
সম্বোধন চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্বোধন চিহ্ন
ব্যাখ্যা
• বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন (!):
- হৃদয়াবেগ প্রকাশ করতে হলে এবং সম্বোধন পদের পরে (!) চিহ্নটি বসে। যেমন: আহা! কি চমৎকার দৃশ্য। জননী! আজ্ঞা দেহ মোরে যাই রনস্থলে।
- আবেদন, ভীতি, হতাশা, আনন্দ প্রকাশের ক্ষেত্রে (!) চিহ্নটি বসে। যেমন: দয়া করে আমার কথা শুনুন!
- সবিস্ময় প্রশ্নের জায়গায় প্রশ্ন চিহ্নের পরিবর্তে বিস্ময়সূচক চিহ্ন বসে। যেমন: তোমার হৃদয় কি পাষাণে গড়া! একটি বারও পলাশের কথা ভাবলে না!
- সংক্ষিপ্ত উত্তরের শেষে কখনো কখনো পূর্ণচ্ছেদ না বসে বিস্ময়সূচক চিহ্ন বসে। যেমন: আমাকে একটু আদর করবে!

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৯.
মহাবিশ্বের মূল কথা হলো (..........) বহুর মধ্যে এক। বাক্যের বন্ধনী স্থানে কোন ছেদ চিহ্ন বসবে?
  1. হাইফেন (-)
  2. কোলন (:)
  3. কমা (,)
  4. সেমিকোলন (;)
সঠিক উত্তর:
কোলন (:)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলন (:)
ব্যাখ্যা
কোলন:
একটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্য লিখতে হলে কোলন ব্যবহার করতে হয়।
যেমন- 'সভায় ঠিক করা হল: এক মাস পর আবার সভা অনুষ্ঠিত হবে।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮০.
বাক্যের পূর্ণ সমাপ্তি বা পূর্ণ বিরতি নির্দেশ করতে কোন বিরামচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সেমিকোলন
  2. খ) কমা
  3. গ) বিকল্পচিহ্ন
  4. ঘ) দাঁড়ি
সঠিক উত্তর:
ঘ) দাঁড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দাঁড়ি
ব্যাখ্যা
- বাক্যের পূর্ণ সমাপ্তি বা পূর্ণ বিরতি নির্দেশ করতে বিরামচিহ্ন 'দাঁড়ি' ব্যবহৃত হয়।

• যতিচিহ্ন:
- মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• দাঁড়ি:
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে।
- বাংলা রচনায় দাঁড়ি চিহ্নের ব্যবহার অন্যান্য যতির তুলনায় বেশি।
- বিবৃতিমূলক সরল বাক্যে শুধু একটি দাঁড়ি দিয়ে শেষ হয়।
- অনুরোধ, আদেশ ইত্যাদি বোঝায় এমন বাক্যের শেষে দাঁড়ি ব্যবহৃত হয়। 
যেমন:
- তোমার লেখা হলে কলমটা দিয়ো তো।
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে ।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।

উৎস:
১/ প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
২/ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৮১.
জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খণ্ড বাক্যের পর বসে-
  1. কোলন
  2. কমা
  3. দাঁড়ি
  4. সেমিকোলন
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খন্ড বাক্যের পরে কমা বসে।
যেমন:
- গতকাল যে লোকটি এসেছিল, সে আমার পরিচিত।

এছাড়াও কমার ব্যবহার:
• বাক্যে সমজাতীয় একাধিক পদ থাকলে কমা ব্যবহৃত হয়। 
যথা:
- সালাম, বরকত, রফিক- নাম না জানা আরো অনেকে শহিদ হয়েছেন ভাষা আন্দোলনে। 

• পরস্পর সম্বন্ধসূচক একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরই কমা বসবে। 
যেমন:
- সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প। 

• সমজাতীয় একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে কমা ব্যবহৃত হয়। 
যেমন:
বসতে দিলে শুতে চায়, শুতে দিলে ঘুমাতে চায়। 

বাক্যের প্রারম্ভে সম্বোধনের পরে কমা বসাতে হয়।
যেমন:
- শুভ, এদিকে এসো।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৮২.
আইনের কোনো ধারায় এক বা একাধিক উপধারা কিংবা শর্ত থাকলে তা পৃথককরণের জন্য কোন যতিচিহ্ন ব্যবহার করা হয়?
  1. কোলন
  2. বন্ধনি 
  3. হাইফেন 
  4. সেমিকোলন
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা

• সেমিকোলন:
সেমিকোলনের স্থানে কমার চেয়ে বেশি কিন্তু দাড়িঁর চেয়ে কম থামতে হয়। বাক্যের ভেতরে শুধু থামার জন্য কমা-সেমিকোলন ব্যবহার করা হয় না। অর্থ প্রকাশেও কমা ও সেমিকোলন ভূমিকা পালন করে। 

• সেমিকোলন চিহ্নের ব্যবহার:
- একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি স্বাধীন বাক্যে লিখতে সেগুলোর মাঝে সেমিকোলন বসে।
- কমা’র বারংবার ব্যবহারের পর কিন্তু দাঁড়ির আগে সেমিকোলন বসে।
- কমা অপেক্ষা অধিক বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে।
- আইনের কোনো ধারায় এক বা একাধিক উপধারা কিংবা শর্ত থাকলে তা পৃথককরণের জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।
যেমন- ধরা যাক, সংবিধানের ৩৬ নং ধারা নিম্নোক্ত উপধারা (১) বয়স ১৮ বছর হতে হবে; (২) প্রকৃতিস্থ হতে হবে।

উৎস: ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৮৩.
জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খণ্ড বাক্যের পর বসে-
  1. কোলন
  2. সেমিকোলন
  3. কমা
  4. দাঁড়ি
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেক খন্ড বাক্যের পরে কমা বসে।
যেমন:
- গতকাল যে লোকটি এসেছিল, সে আমার পরিচিত।

কমার আরো কিছু ব্যবহার:
• বাক্যে সমজাতীয় একাধিক পদ থাকলে কমা ব্যবহৃত হয়। 
যথা:
- সালাম, বরকত, রফিক- নাম না জানা আরো অনেকে শহিদ হয়েছেন ভাষা আন্দোলনে। 

• পরস্পর সম্বন্ধসূচক একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরই কমা বসবে। 
যেমন:
- সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প। 

• সমজাতীয় একাধিক বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে কমা ব্যবহৃত হয়। 
যেমন:
বসতে দিলে শুতে চায়, শুতে দিলে ঘুমাতে চায়। 

বাক্যের প্রারম্ভে সম্বোধনের পরে কমা বসাতে হয়।
যেমন:
- শুভ, এদিকে এসো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৮৪.
একাধিক বাক্য সংযোজক অব্যয়ের দ্বারা যুক্ত না হলে কোন চিহ্ন বসে?
  1. সেমিকোলন
  2. কমা
  3. কোলন
  4. কোলন ড্যাশ
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
সেমিকোলন (;):
- একাধিক বাক্যের মধ্যে নিকট সম্পর্ক থাকলে তাদের মাঝে যোগসূত্র রক্ষার জন্য সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।
- সেমিকোলনচিহ্ন কমার চেয়ে দ্বিগুণ সময় বিরতি নেয়।
যেমন:

১. দুটো বাক্যের মধ্যে ভাব বা অর্থের সম্বন্ধ থাকলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।
- কথাটা বলা সহজ; করা কঠিন।

২. একাধিক বাক্য সংযোজক অব্যয়ের দ্বারা যুক্ত না হলে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- আগে স্কুলের পড়া; পরে গল্পের বই।

৩. যেসব অব্যয় বৈপরীত্য বা অনুমান প্রকাশ করে, তাদের আগে সেমিকোলন বসে।
যেমন:
- মনোযোগ দিয়ে পড়; তাহলেই ভালো ফল করবে।
- ছেলেটি মেধাবী; কিন্তু ভারি অলস।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১৮৫.
দিক বা স্থান বা সময় নির্দেশের ক্ষেত্রে কোন চিহ্ন বসে?
  1. সেমিকোলন
  2. হাইফেন
  3. কোলন
  4. ড্যাস
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
ব্যাখ্যা

হাইফেন বা সংযোগ চিহ্ন (-):
হাইফেন সবসময় দুই ততোধিক শব্দের মধ্যে বসে। বাংলা লেখার সময় এর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

যেমন:
• সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেখানোর জন্য হাইফেন ব্যবহৃত হয়। যেমন হাট-বাজার, সাত-পাঁচ।

• একই শব্দ পরপর দুবার বসলে তাদের মাঝে হাইফেন বসে। যেমন চলতে-চলতে কোথায় চলে যায়। যেতে-যেতে হয়রান হয়ে পড়েছি।

দিক বা স্থান বা সময় নির্দেশের ক্ষেত্রে অনেক সময় হাইফেন বসে। যেমন: উত্তর-পশ্চিম কোণে মেঘ জমেছে।

• কোনো কোনো উপসর্গের পরে হাইফেন বসে। যেমন: অ-তৎসম, কু-অভ্যাস, বে-আঙ্কেল।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৬.
ছোটো ছোটো বিতর্কিত অংশ নির্দেশ করার জন্যে কোন যতিচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. কোলন
  2. ড্যাশ
  3. হাইফেন
  4. সেমিকোলন
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
• সেমিকোলন-চিহ্ন (;):
সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ হলো বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত এক ধরনের বাক্যান্তর্গত চিহ্ন। একাধিক বাক্যের মধ্যে অর্থের নিকট-সম্মন্ধ থাকলে বাক্যগুলোকে একটু বেশি থামার চিহ্ন দিয়ে ভাগ করতে হয়। এর জন্যে সেমিকোলন বসে। সেমিকোলনের বিরামের অনুপাত কমার (,) দ্বিগুণ।

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়-
১. একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি বাক্যে লিখলে সেগুলোর মাঝখানে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-তিনি শুধু তামাশা দেখিতেছিলেন; কোথাকার জল কোথায় গিয়া পড়ে।

২. বক্তব্য স্পষ্ট করার জন্যে সমজাতীয় বাক্য পাশাপাশি প্রতিস্থাপন করলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-'বৃদ্ধ তাহারাই যাহারা মায়াচ্ছন্ন নব মানবের অভিনব জয়যাত্রার শুধু বোঝা নয়, বিঘ্ন; শতাব্দীর নব যাত্রীর চলার ছন্দে ছন্দ মিলাইয়া যাহারা কুচকাওয়াজ করিতে জানে না, পারে না; জীব হইয়াও জড়; যাহারা অটল সংস্কারের পাষাণ-স্তূপ আঁকড়িয়া পড়িয়া আছে।'

৩. দুটি বা তিনটি বাক্য যোজক শব্দের সাহায্যে যুক্ত না হলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-আগে পাঠ্যবই পড়; পরে গল্প-উপন্যাস।

8. কোনো তালিকায় একাধিক ব্যক্তির নাম ও তাঁদের পদের উল্লেখ থাকলে বোঝবার সুবিধার জন্যে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়। যেমন- এবারের নবনিচিত কার্যনির্বাহী পরিষদে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা হলেন: আকবরউদ্দিন আহমদ, সভাপতি; আফসার রায়হান, সাধারণ সম্পাদক; চিত্ত বড়ুয়া, প্রচার সম্পাদক; এন্ড্রু গোমেজ, সংস্কৃতি সম্পাদক; ইত্যাদি।

৫. সেজন্যে, তবু, তথাপি, সুতরাং ইত্যাদি যে-সব যোজক বৈপরীত্য বা অনুমান প্রকাশ করে তাদের আগে সেমিকোলন বসে। যেমন-সে ফেল করেছে; সেজন্যে সে মুখ দেখায় না। মনোযোগ দিয়ে পড়; তাহলেই পাশ করবে।

৬. যেসব বাক্যে ভাবসাদৃশ্য আছে তাদের মধ্যে সেমিকোলন বসে। যেমন- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।

৭. ছোটো ছোটো বিতর্কিত অংশ নির্দেশ করার জন্যে সেমিকোলন বসে। যেমন-মেয়েটি, যে প্রথম হয়েছে, একটি পুরস্কার পেয়েছে; এবার আশা করা যায়, সে আরো ভালো করবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮৭.
একই ধরণের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. দাঁড়ি
  2. সেমিকোলন
  3. ড্যাশ
  4. কোলন
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
• 'সেমিকোলন’:
স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কার্যে অথবা একই ধরণের বর্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ( ; ) ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।

• সেমিকোলন চিহ্নের ব্যবহার:
- একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি স্বাধীন বাক্যে লিখতে সেগুলোর মাঝে সেমিকোলন বসে।
- কমা’র বারংবার ব্যবহারের পর কিন্তু দাঁড়ির আগে সেমিকোলন বসে।
- কমা অপেক্ষা অধিক বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে।
- কোনো তালিকায় বিদ্যমান একাধিক ব্যক্তির নাম ও পদের তালিকা অনুধাবনের সুবিধার্থে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়।
যেমন- গঠিত কমিটিতে সভাপতি, মোহাম্মদ আমজাদ; সহ-সভাপতি, নুর উদ্দীন; সাধারণ সম্পাদক, হামেদ আলি প্রমুখ।
- ছোটো ছোটো বিতর্কিত অংশ নির্দেশ করার জন্য সেমিকোলন বসে। যেমন: মেয়েটি, যে প্রথম হয়েছে, একটি পুরস্কার; এবার আশা করা যায়, সে আরো ভালো করবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮৮.
বাংলা ভাষায় প্রচলিত যতিচিহ্নগুলোর মধ্যে ‘উদ্ধারচিহ্ন’ এর কাজ কী?
  1. বিস্ময় প্রকাশ
  2. শব্দসংক্ষেপ
  3. উদাহরণ উপস্থাপন করা
  4. উদ্ধৃত করা
সঠিক উত্তর:
উদ্ধৃত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্ধৃত করা
ব্যাখ্যা
উদ্ধারচিহ্ন ('-'), ("-"):
- কোনো কিছু উদ্ধৃত করার কাজে উদ্ধারচিহ্নের ব্যবহার হয়।
- উদ্ধারচিহ্ন দুই রকম: একক ও দ্বৈত।
যেমন:
- 'সিরাজউদ্দৌলা' একটি ঐতিহাসিক নাটক।
- আমাদের কণ্ঠ শুনে প্রিয়ন্তি ঘর থেকে বেরিয়ে এল, "ও আপনারা এসে গেছেন! বাসা চিনতে কোনো কষ্ট হয়নি তো?"

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)। 
১৮৯.
বাক্যে পাদচ্ছেদ যতিচিহ্ন থাকলে, বিরতির সময়কাল কত?
  1. থামার প্রয়োজন নেই
  2. এক সেকেন্ড
  3. এক বলার দ্বিগুণ সময়
  4. এক বলতে যে সময় লাগে
সঠিক উত্তর:
এক বলতে যে সময় লাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক বলতে যে সময় লাগে
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

♦ বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ-

• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯০.
কোন যতিচিহ্নের বিরতিকাল 'এক সেকেন্ড' নয়?
  1. ড্যাস
  2. বিস্ময়চিহ্ন
  3. কোলন
  4. হাইফেন
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
ব্যাখ্যা
যেসকল যতিচিহ্নের বিরতিকালের পরিমাণ 'এক সেকেন্ড':
- দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ,
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন,
- বিস্ময়চিহ্ন,
- কোলন,
- কোলন ড্যাস,
- ড্যাস

থামার প্রয়োজন নেই:
- হাইফেন,
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন,
- ব্র্যাকেট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯১.
প্রান্তিক বিরামচিহ্ন-  
  1. দাঁড়ি
  2. প্রশ্নচিহ্ন
  3. বিস্ময়চিহ্ন
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

বিরামচিহ্ন:
- বাক্যের অর্থ স্পষ্ট ও ঠিকভাবে প্রকাশ করতে বিরামচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- মুখের কথা লিখিত রূপে উপস্থাপন করার সময় কম-বেশি থামা বা বিরতি বোঝাতে এবং বক্তব্যকে পরিষ্কার করতে এগুলো ব্যবহৃত হয়।
- বিরামচিহ্নকে কখনও যতিচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।
- বাক্যের মধ্যে অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে বিরামচিহ্ন দুই ভাগে ভাগ করা যায়—
১. প্রান্তিক বিরামচিহ্ন;
২. বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন।

• প্রান্তিক বিরামচিহ্ন:
- এ ধরনের চিহ্ন সাধারণত বাক্যের শেষে বসে।
- যেমন—দাঁড়ি (।), প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?), বিস্ময়বোধক চিহ্ন (!)।

• বাক্যান্তর্গত বিরামচিহ্ন:
- এই চিহ্নগুলো বাক্যের মাঝে বা বাক্যের অন্যান্য স্থানে বসে।
- যেমন—কমা (,), কোলন (:), সেমিকোলন (;), ড্যাশ (—), হাইফেন (-) ইত্যাদি।
- এই চিহ্নগুলো বাক্যের গঠন ও অর্থের সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করে।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি-ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

১৯২.
ঠিকানা লেখার সময় রাস্তার নামের পর কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. ড্যাশ 
  2. কমা
  3. কোলন
  4. সেমিকোলন 
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা

• 'কমা' যতিচিহ্ন:
কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না। কমা চিহ্নের বাংলা নাম পাদচ্ছেদ।

• কমা (,) এর ব্যবহার:

- বাক্য সুস্পষ্ট করতে বাক্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মাঝে কমা বসে। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে বই পড়ে।

- পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে শেষ পদটি ছাড়া প্রতিটির পরে কমা বসে। যেমন- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মন সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, ভালবাসা, আনন্দে ভরে থাকে।

- সম্বোধনের পরে কমা বসে। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।

- জটিল বাক্যের প্রত্যেকটি খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসে। যেমন- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।

- কোন বাক্যে উদ্ধৃতি থাকলে, তার আগের খণ্ডবাক্যের শেষে কমা (,) বসে। যেমন- আহমদ ছফা বলেন, 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।' তুমি বললে, 'আমি কালকে আবার আসবো।'

- মাসের তারিখ লেখার সময় বার ও মাসের পর কমা বসে। যেমন- ২৫ বৈশাখ, ১৪১৮, বুধবার।

- ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর কমা বসে। যেমন-৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা-১০০০।
- ডিগ্রী পদবি লেখার সময় কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম, এ, পি-এইচ,ডি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৯৩.
কোনটি যতিচিহ্ন নয়?
  1. কোলন
  2. দাঁড়ি
  3. বিসর্গ
  4. সেমিকোলন
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ
ব্যাখ্যা

• যতিচিহ্ন নয় - বিসর্গ
- বিসর্গ হচ্ছে পরাশ্রয়ী এবং মাত্রাহীন ব্যঞ্জনবর্ণ।

অন্যদিকে,
কোলন (:)
- বাক্যের প্রথম অংশের কোনো উক্তিকে দ্বিতীয় অংশে ব্যাখ্যা করা এবং উদাহরণ উপস্থাপনের কাজে কোলন ব্যবহৃত হয়।যেমন:
- ভাষার দুটি রূপ: কথ্য ও লেখ্য।
- সভার সিদ্ধান্ত হলো: প্রতি মাসে সব সদস্যকে দশ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে।

সেমিকোলন (;):
- কমা অপেক্ষা বেশি কিন্তু দাঁড়ির চেয়ে কম সময়ের বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে। একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একবাক্যে লিখতে মাঝখানে সেমিকোলন হয়। এবং দুটো বাক্যের মধ্যে ভাব বা অর্থের সম্বন্ধ থাকলে সেমিকোলন বসে।

দাঁড়ি (।)
- দাঁড়ি সাধারণত বাক্যের সমাপ্তি নির্দেশ করে। 
যেমন
- প্রান্ত ফুটবল খেলা পছন্দ করে।
- যথাযথ অনুসন্ধানের পর বলা যাবে কী ঘটেছিল।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৯৪.
পূর্ণযতি নয় কোনটি?
  1. দাঁড়িচিহ্ন
  2. বিস্ময়চিহ্ন
  3. প্রশ্নবোধকচিহ্ন
  4. কমাচিহ্ন
সঠিক উত্তর:
কমাচিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমাচিহ্ন
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।
 
• কমা:
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে।
- কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- সম্বোধন পদের পরে কমা বসে।
যেমন:
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত – বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
- সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
- কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা ।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, “পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তো পাপ ৷”

অন্যদিকে,
দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক ও বিস্ময়চিহ্নের মাধ্যমে বাক্যের সমাপ্তি ঘটে। সুতরাং এগুলোপূর্ণ যতিচিহ্ন হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯৫.
একাধিক বাক্যের মধ্যে অর্থের নিকট-সম্বন্ধ থাকলে কোন বিরাম চিহ্ন বসবে?
  1. সেমিকোলন
  2. কোলন
  3. হাইফেন
  4. কমা
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেমিকোলন
ব্যাখ্যা

সেমিকোলন-চিহ্ন ( ; ):
- সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ হলো বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত এক ধরনের বাক্যান্তর্গত চিহ্ন।
- মনোভাব প্রকাশের বেলায় একটা ভাব একটিমাত্র বাক্যে শেষ হয়ে সন্নিহিত ভাবের নতুন বাক্য শুরু করতে চাইলে একটু বেশি থামতে হয়।
- অর্থাৎ একাধিক বাক্যের মধ্যে অর্থের নিকট-সম্বন্ধ থাকলে বাক্যগুলোকে একটু বেশি থামার চিহ্ন দিয়ে ভাগ করতে হয়।
- এর জন্যে সেমিকোলন বসে। 
- 'কমা' অপেক্ষা বেশি বিরতির প্রয়োজন হলে সেমিকোলন বসে। 

যেমন:
- কোন বইয়ের সমালোচনা করা সহজ; কিন্তু বই লেখা অত সহজ না। 

উৎস:  ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১৯৬.
যতিচিহ্ন মোট কয়টি?
  1. ১১
  2. ১২
  3. ১৩
  4. ১৪
সঠিক উত্তর:
১৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৩
ব্যাখ্যা
• মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয় ।

• বাংলা ভাষায় প্রচলিত যতিচিহ্নগুলো হলো:
- দাঁড়ি (।),
- কমা (,),
- সেমিকোলন (i),
- প্রশ্নচিহ্ন (?),
- বিস্ময় চিহ্ন (!),
- হাইফেন (-),
- ড্যাশ (—),
- কোলন (:),
- বিন্দু (.),
- ত্রিবিন্দু (...),
- উদ্ধারচিহ্ন ('- -"),
- বন্ধনীচিহ্ন ((-)), ({-}), ([-]),
- বিকল্পচিহ্ন (/)।

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯৭.
বাক্যে 'সেমিকোলন' থাকলে কতক্ষন থামতে হয়?
  1. ১ বলার দ্বিগুণ সময়
  2. এক সেকেন্ড
  3. ১ বলতে যে সময় লাগে
  4. থামার প্রয়োজন নেই
সঠিক উত্তর:
১ বলার দ্বিগুণ সময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ বলার দ্বিগুণ সময়
ব্যাখ্যা

সেমিকোলন (;):
- স্বাধীন অথচ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত একাধিক বাক্যকে এক বাক্যে পরিণত করার কাজে অথবা একই ধরনের বৰ্গকে পাশাপাশি সাজাতে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়।

যেমন:
- সোহাগ ক্রিকেট পছন্দ করে; আমি ফুটবল পছন্দ করি।
- কোনো বইয়ের সমালোচনা করা সহজ; কিন্তু বই লেখা অত সহজ নয়।

সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে থামার পরিমাণ:
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

গুরুত্বপূর্ণ যতি বা ছেদচিহ্ন:
- সেমিকোলন এর সময়কাল এক বলার দ্বিগুন সময়।
- কমা'র বিরতিকাল ১(এক) বলতে যে সময় লাগে।
- হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন, উদ্ধরণ চিহ্ন, ব্রাকেট(বন্ধনী চিহ্ন) থামার প্রয়োজন নাই।
- প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন, কোলন এবং ড্যাস এর বিরতিকাল কাল ১ সেকেন্ড।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

১৯৮.
ডিগ্রি বা পদবি লেখার সময় কোন যতিচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. দাঁড়ি
  2. কোলন
  3. সেমিকোলন
  4. কমা
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
⇒ কমা (,) এর ব্যবহার:
১) বাক্য সুস্পষ্ট করতে বাক্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মাঝে কমা বসে। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে বই পড়ে।
২) পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে শেষ পদটি ছাড়া প্রতিটির পরে কমা বসে। যেমন- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মন সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, ভালবাসা, আনন্দে ভরে থাকে।
৩) সম্বোধনের পরে কমা বসে। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
৪) জটিল বাক্যের প্রত্যেকটি খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসে। যেমন- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।
৫) কোন বাক্যে উদ্ধৃতি থাকলে, তার আগের খণ্ডবাক্যের শেষে কমা (,) বসে। যেমন- আহমদ ছফা বলেন, ‘মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।’ তুমি বললে, ‘আমি কালকে আবার আসবো।’
৬) মাসের তারিখ লেখার সময় বার ও মাসের পর কমা বসে। যেমন- ২৫ বৈশাখ, ১৪১৮, বুধবার।
৭) ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর কমা বসে। যেমন- ৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা- ১০০০।
8) ডিগ্রি পদবি লেখার সময় কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম,এ, পি-এইচ,ডি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯৯.
কোন বিরামচিহ্নে বিরাম নিতে হয় না?
  1. ড্যাশ
  2. কোলন
  3. সেমিকোলন
  4. হাইফেন
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইফেন
ব্যাখ্যা
• হাইফেন এর ক্ষেত্রে বিরাম নিতে হয় না বা থামার প্রয়োজন নেই। 

• বিরাম চিহ্ন:
- মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে বিরামচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয়।

যতি বা ছেদ চিহ্নের বিরতি কাল:
১. কমা - ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
২. সেমিকোলন - ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
৩. দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ - এক সেকেন্ড।
৪. প্রশ্নবোধক চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৫. বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন - এক সেকেন্ড।
৬. কোলন - এক সেকেন্ড।
৭. ড্যাস - এক সেকেন্ড।
৮. কোলন ড্যাস - এক সেকেন্ড।
৯. হাইফেন - থামার প্রয়োজন নেই।
১০. ইলেক বা লোপ চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।
১১. একক উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
১২. যুগল উদ্ধৃতি চিহ্ন - 'এক' উচ্চরণে যে সময় লাগে।
১৩. ব্র্যাকেট (বন্ধনি চিহ্ন) - থামার প্রয়োজন নেই।
১৪. ধাতু দ্যোতক চিহ্ন - থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০০.
ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর কোন যতিচিহ্ন বসে?
  1. কমা
  2. ড্যাশ 
  3. সেমিকোলন
  4. দাঁড়ি 
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা

• কমা (,) এর ব্যবহার:
- বাক্য সুস্পষ্ট করতে বাক্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মাঝে কমা বসে। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে বই পড়ে।

- পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে শেষ পদটি ছাড়া প্রতিটির পরে কমা বসে। যেমন- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মন সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, ভালবাসা, আনন্দে ভরে থাকে।

- সম্বোধনের পরে কমা বসে। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।

- জটিল বাক্যের প্রত্যেকটি খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসে। যেমন- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।

- কোন বাক্যে উদ্ধৃতি থাকলে, তার আগের খণ্ডবাক্যের শেষে কমা (,) বসে। যেমন- আহমদ ছফা বলেন, 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।' তুমি বললে, 'আমি কালকে আবার আসবো।'

- মাসের তারিখ লেখার সময় বার ও মাসের পর কমা বসে। যেমন- ২৫ বৈশাখ, ১৪১৮, বুধবার।
- ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর কমা বসে। যেমন-৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা-১০০০।
- ডিগ্রী পদবি লেখার সময় কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম, এ, পি-এইচ,ডি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ)।