বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সুশাসন

মোট প্রশ্ন১,৩২৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সুশাসন

PrepBank · পাতা ১৩ / ১৪ · ১,২০১১,৩০০ / ১,৩২৩

১,২০১.
বাংলাদেশ সরকার গৃহীত জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  2. প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ
  3. রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  4. দক্ষ আমলাতন্ত্র তৈরি
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ২০১২ সালের অক্টোবরে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করে।
- এর অধীনে রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সমূহের জন্যে অনুসরণীয় কতগুলো কৌশল স্থির করা হয়।
(তথ্যসূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট)
১,২০২.
বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় -
  1. ১৯৮১ সালে
  2. ১৯৮৬ সালে
  3. ১৯৮৯ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮৯ সালে
ব্যাখ্যা
⇒ বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম সুশাসনের ধারণা দেয় ১৯৮৯ সালে।

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন হল এমন এক প্রক্রিয়া যেখানে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ সমাজের সমস্যা ও চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়।
সংস্থাটি সুশাসনকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে 'Governance is the manner in which power is exercised in the management of a countries economic and social resources for development.'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক 'শাসন: বিশ্বব্যাংকের অভিজ্ঞতা' শীর্ষক এক রিপোর্টে সুশাসনের চারটি স্তম্ভঘোষণা করে।

স্তম্ভ চারটি হলো:
• দায়িত্বশীলতা,
• স্বচ্ছতা,
• আইনি কাঠামো,
• অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,২০৩.
"সুশাসন মানবাধিকার, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে নিশ্চিত করে।" - উক্তিটি কার?
  1. ম্যাককরনি
  2. মারটিন মিনোগ
  3. কফি আনান
  4. মিশেল ক্যামডেসাস
সঠিক উত্তর:
কফি আনান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কফি আনান
ব্যাখ্যা
⇒ সুশাসন:
- কোন রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সহজেই নাগরিকগণ তা অনুধাবন করতে পারে।
- অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সংবেদনশীলতা, ঐকমত্য, কর্তব্য ও ন্যায়পরায়ণতা ও দক্ষতার মত বৈশিষ্ট্যগুলো তখন খুব সহজেই অনুমেয় হয়।
- সুশাসন না থাকলে সমাজে উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো পরিলক্ষিত হয় না। 

⇒  সুশাসনের কয়েকটি প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
- মিশেল ক্যামডেসাস: "রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক।"
- কফি আনান সুশাসন সম্পর্কে বলেন, "সুশাসন মানবাধিকার, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে নিশ্চিত করে।"
- ম্যাককরনি সুশাসন সম্পর্কে বলেন, "সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।
- মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, “ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,২০৪.
সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. আইনের শাসন
  2. অংশগ্রহনমূলক প্রক্রিয়া
  3. লিঙ্গ বৈষম্যের উপস্থিতি
  4. জনপ্রশাসনের সেবাধর্মী মনোভাব
সঠিক উত্তর:
লিঙ্গ বৈষম্যের উপস্থিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিঙ্গ বৈষম্যের উপস্থিতি
ব্যাখ্যা
সুশাসনের বৈশিষ্ট্য:
- সুশাসন মানে এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক সমান সুযোগ ও অধিকার পায়।
- সুশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সমতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, যেখানে লিঙ্গ বৈষম্যের কোনো স্থান নেই।
- সুশাসনে লিঙ্গ, ধর্ম, জাতি বা সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা হয় না।
- লিঙ্গ বৈষম্য থাকলে তা সুশাসনের পরিপন্থী হয়, তাই এটি সুশাসনের বৈশিষ্ট্য নয়।

অন্যদিকে:
- অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া (ক) → জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
- আইনের শাসন (খ) → ন্যায়বিচার ও আইনের সমান প্রয়োগ সুশাসনের ভিত্তি।
- জনপ্রশাসনের সেবাধর্মী মনোভাব (ঘ) → সুশাসনের অন্যতম শর্ত হলো জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২০৫.
নিচের কোনটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বর্ণিত সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. ক) জবাবদিহিতা
  2. খ) উন্নয়নের বৈধ কাঠামো
  3. গ) স্বচ্ছতা
  4. ঘ) ভবিষ্যৎবাচ্যতা
সঠিক উত্তর:
খ) উন্নয়নের বৈধ কাঠামো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উন্নয়নের বৈধ কাঠামো
ব্যাখ্যা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতে গভর্ন্যান্স হলো উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়া বা ধরন। ব্যাংকটির মতে সুশাসনের মূল উপাদান চারটি।
এগুলো হলো: জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যৎবাচ্যতা (Predictability)। অন্যদিকে উন্নয়নের বৈধ বা আইনি কাঠামো হলো বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসন মূল্যায়নের অন্যতম উপাদান।
সূত্র: এডিবি ওয়েবসাইট
১,২০৬.
বিশ্বব্যাংক সুশাসনের চারটি স্তম্ভ ঘোষণা করে কবে? 
  1. ১৯৯০ সালে
  2. ২০০০ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৪ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০০ সালে
ব্যাখ্যা

- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

বিশ্বব্যাংক:

- 'গভর্নেন্স' প্রপঞ্চটির সাথে 'সু' প্রত্যয় যোগ করে 'সুশাসন' শব্দটির প্রকাশ ঘটানো হয়েছে।
- এর ফলে 'গভর্নেন্স'-এর নরমেটিভ উপাদানের প্রকাশ ঘটেছে।
- এর ফলে সুশাসনের অর্থ দাঁড়িয়েছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্বব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।
- এ চারটি স্তম্ভ হলো-
১. দায়িত্বশীলতা
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪.অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

১,২০৭.
United Nations Convention Against Corruption গৃহিত হয় কবে?
  1. ক) ২০০১ সালে
  2. খ) ২০০৩ সালে
  3. গ) ২০০৫ সালে
  4. ঘ) ২০০৪ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ২০০৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২০০৩ সালে
ব্যাখ্যা
- United Nations Convention Against Corruption (UNCAC) হলো জাতিসংঘ গৃহিত দুর্নীতি রোধ বিষয়ক বৈশ্বিক কনভেনশন।
- এটি ২০০৩ সালের ৩১ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহিত হয় এবং ১৪ ডিসেম্বর ২০০৫ সালে কার্যকর হয়।
- বাংলাদেশসহ ১৮৭টি দেশ এটির অংশীদার।
(তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট)
১,২০৮.
সুশাসন বলতে সরকারের সাথে জনগণের সম্পর্ককে বুঝিয়েছেন কে?
  1. মারটিন মিনোগ
  2. এইচ এম জনসন
  3. ম্যাক করণী
  4. ল্যান্ডেল মিল
সঠিক উত্তর:
ম্যাক করণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাক করণী
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম সুশাসন (Good Governance) শব্দটি ব্যবহার করেন।

⇒ ম্যাক করণী (Mac Corney) এ প্রসঙ্গে বলেন, "সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়"।

অন্যদিকে,
- মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, "ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।"
- ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) মনে করেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জন প্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,২০৯.
সুশাসন নিশ্চিত করতে নাগরিকদের অন্যতম দায়িত্ব কী?
  1. জনসম্মতি নেওয়া
  2. নিরপেক্ষ নির্বাচন দেওয়া
  3. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা
  4. নিয়মিত কর প্রদান
সঠিক উত্তর:
নিয়মিত কর প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিয়মিত কর প্রদান
ব্যাখ্যা

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের দায়িত্ব কর্তব্য: 
- সন্তানদের শিক্ষাদান,
- নিয়মিত কর প্রদান,
- জাতীয় সম্পদ রক্ষা।
- সংবিধান মেনে চলা।

অন্যদিকে,
• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করনীয়: 
- জনগনের সম্মতি নেওয়া।
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা,
- শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান,
- দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করা,
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল  হক। 

১,২১০.
‘একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব চর্চা বা প্রয়োগের পদ্ধতিই সুশাসন’ উক্তিটি কার?
  1. World Bank
  2. UNHCR
  3. UNDP
  4. United Nations
সঠিক উত্তর:
UNDP
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNDP
ব্যাখ্যা
UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন” (Good Governance is the exercise of economic, Political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels)।

UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP ১৯৯৭ সালে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে।
- এতে বলা হয়েছে- "কোন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজে। মধ্যে শাসনপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা যায়।"
- UNDP-এর মতে, সুশাসন সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করে।

• UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি।
- স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।
১,২১১.
সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো -
  1. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
  2. নিরপেক্ষ আইন ব্যবস্থা
  3. প্রশাসনের নিরপেক্ষতা
  4. নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা
সঠিক উত্তর:
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
সুশাসনের পূর্বশর্ত:
- যেকোন দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো সুশাসন। সুশাসন প্রতিষ্ঠার কিছু পূর্বশর্ত রয়েছে।

সুশাসনের পূর্বশর্ত গুলো হচ্ছে:-
- আইনের শাসন,
- স্বচ্ছতা,
- জবাবদিহিতা,
- গ্রহণযোগ্যতা,
- দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্রশাসন,
- অংশগ্রহণমূলক সরকার ব্যবস্থা,
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা বা স্বাধীন প্রচারমাধ্যম,
- দায়বদ্ধতা,
- ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ,
- রাজনৈতিক স্বাধীনতার সুরক্ষা,
- অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ততা, 
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা,
- বৈধতা প্রভৃতি।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মোজাম্মেল হক।
১,২১২.
প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে কী হয়?
  1. দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়
  2. জনগণের রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পায়
  3. জনগণের মতামত উপেক্ষিত হয়
  4. রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়
সঠিক উত্তর:
জনগণের রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণের রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো সুশাসন।
- সুশাসন এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কার্যক্রম জনগণের কল্যাণে পরিচালিত হয় এবং জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্র ও প্রশাসনের একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
- যখন জনগণ রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে, তখনই সুশাসনের প্রকৃত রূপ প্রকাশ পায়।
- জনগণের মতামত, চাহিদা ও প্রত্যাশার ভিত্তিতে প্রশাসন পরিচালিত হলে রাষ্ট্রের প্রতি তাদের আস্থা বৃদ্ধি পায়।

উল্লেখ্য,
- সুশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন।
- রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যদি স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয় এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকে, তাহলে নাগরিকরা প্রশাসনের ওপর আস্থাশীল হয়।
- তাই, সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণ ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক মজবুত হয় এবং সমাজে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,২১৩.
আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক (AfDB)-এর মতে, সুশাসনের উপাদান নয় -
  1. দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই
  2. আইনের শাসন
  3. অংশগ্রহণ
  4. আইনি ও বিচারিক কাঠামো
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
ব্যাখ্যা

আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক (AfDB)-এর মতে, সুশাসনের উপাদান নয় আইনের শাসন।

সুশাসনের উপাদান:

• আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক (AfDB)-এর মতে, সুশাসনের উপাদান ৫টি। এগুলো হলো: 
- জবাবদিহিতা (Accountability),
- স্বচ্ছতা (Transparency),
- দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই (Combating Corruption),
- অংশগ্রহণ (Participation),
- আইনি ও বিচারিক কাঠামো (Legal and Judicial Framework).

উৎস: AfDB ওয়েবসাইট।

১,২১৪.
সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে দারিদ্র বিমোচনের জন্য সুশাসনের কোন দিকটির উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে?  
  1. সুশাসনের বুদ্ধিভিত্তিক দিক
  2. সুশাসনের অর্থনৈতিক দিক
  3. সুশাসনের মূল্যবোধের দিক
  4. সুশাসনের গণতান্ত্রিক দিক
সঠিক উত্তর:
সুশাসনের অর্থনৈতিক দিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসনের অর্থনৈতিক দিক
ব্যাখ্যা

Millennium Development Goals:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সুশাসন (Good Governance) হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং মানবাধিকারের সুরক্ষা প্রদান করে।
- সুশাসনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন এবং ন্যায়সংগত ও কার্যকর প্রশাসনের কথা উল্লেখ করা হয়, যা টেকসই মানব উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তোলে।
- এই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (Millennium Development Goals—MDG) অর্জনের ক্ষেত্রেও সুশাসনের গুরুত্ব বিশেষভাবে স্বীকৃত।

- MDG মূলত বিশ্বব্যাপী চরম দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে প্রণীত একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ।
- ২০০০ সালের ৬–৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন সম্মেলনে ৮টি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
- এবং সেগুলো অর্জনের জন্য ১৫ বছরের সময়সীমা নির্ধারিত হয়।
- এই লক্ষ্যগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল তৃতীয় বিশ্বের জনগণের জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

- MDG-এর প্রধান লক্ষ্য ছিল- দারিদ্র্য বিমোচন। 
- এটি অর্জনের জন্য মানুষের ন্যূনতম দৈনিক আয় দারিদ্র্যসীমার ওপরে—অর্থাৎ ১.২৫ মার্কিন ডলারের বেশি—নিয়ে আসার ওপর জোর দেওয়া হয়।
- এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, সম্পদের সুষম বণ্টন এবং দায়িত্বশীল শাসন অপরিহার্য হওয়ায় MDG বাস্তবায়নে সুশাসনের অর্থনৈতিক মাত্রাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো (MDG) হচ্ছে -
• চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধা নির্মূল,
• সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন,
• শিক্ষার মাধ্যমে লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকরণ,
• শিশু মৃত্যু হ্রাসকরণ,
• মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন,
• এইচআইভি/এইডস, ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য মারাত্মক রোগ প্রতিরোধ,
• পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ,
• উন্নয়নের জন্য একটি বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের বিকাশ ঘটানো।

উৎস: জাতিসংঘের ওয়েবসাইট।

১,২১৫.
সরকার ও জনগণের 'Win Win Game' বলা হয় কোনটিকে?
  1. নৈতিকতা
  2. সুশাসন
  3. মূল্যবোধ
  4. সততা
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- 'সুশাসন' হলো একটি কাঙিক্ষত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন।
- 'সুশাসন' হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে, সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন।
- অন্যকথায় সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়।
- সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে।
- সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের 'Win Win Game' বলা হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ

১,২১৬.
জনপ্রশাসনে নব্য সংযোজিত প্রত্যয় কোনটি?
  1. ক) শ্রমবিভাজন
  2. খ) সুশাসন
  3. গ) আমলাতন্ত্র
  4. ঘ) ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ
সঠিক উত্তর:
খ) সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুশাসন
ব্যাখ্যা
জনপ্রশাসনে নব্য সংযোজিত প্রত্যয় হলো সুশাসন। সুশাসন মানে হলো উত্তম ও কার্যকরি শাসন।
সুশাসন ধারণাটির উদ্ভব ঘটে গত শতকের শেষ দশকে। এটি উদ্ভাবন করে বিশ্বব্যাংক।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১,২১৭.
মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের লক্ষ্য কোনটি?
  1. ক) আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা
  2. খ) মূল্যবোধের বিকাশ
  3. গ) নৈতিকতা সৃষ্টি
  4. ঘ) ব্যক্তির অধিকার সংরক্ষণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যক্তির অধিকার সংরক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যক্তির অধিকার সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা
▪ মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার উভয়ের লক্ষ্যই হচ্ছে ব্যক্তির অধিকার সংরক্ষণ
▪ তবে প্রকারগতভাবে এক রকমের হলেও বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে।
▪ তবে সব মৌলিক অধিকারই মানবাধিকার। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২১৮.
মূল্যবোধ হল -
  1. মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যাবলীর দিক নির্দেশনা
  2. সমাজজীবনে মানুষের সুখী হওয়ার প্রয়োজনীয় উপাদান
  3. সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি
  4. মানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ
সঠিক উত্তর:
সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।
অন্যভাবে বলা যায়, মূল্যবোধ হলো কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিস্বাস।
- আর যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো মুল্যবোধ শিক্ষা।
- মূল্যবোধ হল সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- একটি দেশের সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উৎকর্ষতার অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে এটি ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২১৯.
সামাজিক সাম্যের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণিকে কী দেওয়া যাবে না?
  1. সমান সুযোগ
  2. বিশেষ সুযোগ-সুবিধা
  3. অর্থনৈতিক সাহায্য
  4. আইনগত সুরক্ষা
সঠিক উত্তর:
বিশেষ সুযোগ-সুবিধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ সুযোগ-সুবিধা
ব্যাখ্যা

সাম্যের বিভিন্ন রূপ: 
- মানুষের বিভিন্নমুখী বিকাশ সাধনের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন।
- নাগরিক জীবনে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগের জন্য সাম্যকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়।
- যেমন- ১। সামাজিক সাম্য, ২। রাজনৈতিক সাম্য, ৩। অর্থনৈতিক সাম্য, ৪। আইনগত সাম্য, ৫। স্বাভাবিক সাম্য ও ৬। ব্যক্তিগত সাম্য।

১. সামাজিক সাম্য:
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ-পেশা নির্বিশেষে সমাজের সকল সদস্যের সমানভাবে সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করাকে সামাজিক সাম্য বলে।
- এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণিকে কোনো বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যাবে না।

২. রাজনৈতিক সাম্য:
- রাষ্ট্রীয় কাজে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ-সুবিধা থাকাকে রাজনৈতিক সাম্য বলে।
- নাগরিকরা রাজনৈতিক সাম্যের কারণে মতামত প্রকাশ, নির্বাচিত হওয়া এবং ভোট দেওয়ার অধিকার ভোগ করে।

৩. অর্থনৈতিক সাম্য: 
- যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেকের কাজ করার ও ন্যায্য মজুরি পাওয়ার সুযোগকে অর্থনৈতিক সাম্য বলে।
- বেকারত্ব থেকে মুক্তি, বৈধ পেশা গ্রহণ ইত্যাদি অর্থনৈতিক সাম্যের অন্তর্ভুক্ত।

৪. আইনগত সাম্য:
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে আইনের দৃষ্টিতে সমান মনে করা এবং বিনা অপরাধে গ্রেফতার ও বিনা বিচারে আটক না করার ব্যবস্থাকে আইনগত সাম্য বলে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২২০.
ই-গভর্নেন্সের মূল উদ্দেশ্য কী? 
  1. স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন
  2. সুশাসন প্রতিষ্ঠা
  3. শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন
  4. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
সুশাসন প্রতিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের উদ্দেশ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,২২১.
European Economic Community (EEC) সুশাসন নিয়ে কী প্রকাশ করেছে?
  1. অর্থনৈতিক নীতি
  2. সবুজপত্র
  3. আইনি নীতিমালা
  4. শ্বেতপত্র
সঠিক উত্তর:
শ্বেতপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্বেতপত্র
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও EEC:
- সুশাসনের অর্থ নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- সুশাসনের জন্য রাষ্ট্রের ন্যায়পরায়ণ আচরণ, দুর্নীতি ও নিপীড়নমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ অপরিহার্য।
- আর সুশাসনের জন্য খুব বেশি প্রয়োজন স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম।
- সুশাসনের বড় অন্তরায় দুর্নীতি।

⇒ সুশাসন নিয়ে 'White paper' বা 'শ্বেতপত্র' প্রকাশ করে European Economic Community।

⇒ শ্বেতপত্র:
- কোন একটি দেশের পার্লামেন্ট বা জাতীয় পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত দলিলকে শ্বেতপত্র বলা হয়ে থাকে।
- কোনো বিশেষ বিষয়ে জনগণ বা পার্লামেন্টকে অবহিত করার জন্য সরকারি বিবরণী।
- একই ধরনের প্রথা অপরাপর গণতান্ত্রিক দেশ যথা অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় প্রচলিত রয়েছে।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন আইন অথবা কোনো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ চূড়ান্ত করার পূর্বেও শ্বেতপত্র জারী করা হয়ে থাকে।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই ধরনের বিষয়ে শ্বেতপত্র জারী করে।
- শ্বেতপত্র জারী করার প্রথা বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধেও দেখা যায়।

উৎস: i) European Economic Community ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১,২২২.
ই-গভরনেন্সের বৈশিষ্ট্য কোনগুলো?
  1. ক) সেবার উন্নত মান
  2. খ) সরকারি দপ্তরের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি
  3. গ) সরকারের দপ্তরের দীর্ঘসূত্রিতা
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে জনগণের দোরগোড়ায় কম খরচে, দ্রুততম সময়ে এবং স্বচ্ছতার সাথে উন্নত সেবা পৌছে দেয়া কে ই-গভরনেন্স বলে।
উৎসঃ একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম-পত্র) বই
১,২২৩.
সুশাসনের চালিকাশক্তি কী?
  1. সম্মতি
  2. স্বচ্ছতা
  3. সন্তুষ্টি
  4. আপেক্ষিক
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম সুশাসন (Good Governance) শব্দটি ব্যবহার করেন।
- সুশাসনের ধারণাটি আপেক্ষিক।
- সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- সুশাসনের চালিকাশক্তি স্বচ্ছতা।
- সুশাসনের মানদণ্ড জনগণের সম্মতি ও সন্তুষ্টি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক

১,২২৪.
'যে সকল দেশে সুশাসন আছে শুধুমাত্র সে সকল দেশেই ঋণ মওকুফ করা হবে'- কে বলেছেন?
  1. বারবার কোনাবল
  2. ইব্রাহিম গানবারি
  3. মিশেল ক্যামডেসাস
  4. মারটিন মিনোগ
সঠিক উত্তর:
ইব্রাহিম গানবারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইব্রাহিম গানবারি
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা:
- বিশ্বব্যাংক ও UNDP-এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহকে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- সব ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিকাশের জন্যও প্রয়োজন সুশাসন।

• 'সুশাসন' বিষয় সম্পর্কিত তাত্ত্বিক মিশেল ক্যামডেসাস (Michel Camdessus) বলেছেন যে, ‘রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক' (Good Governance is important for countries at all stages of development)।

• জাতিসংঘের আফ্রিকা অঞ্চলের বিশেষ উপদেষ্টা ইব্রাহিম গানবারি সুশাসনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে বলেছেন যে, ‘যে সমস্ত রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শুধুমাত্র সে সমস্ত দেশেই ঋণ মওকুফ করা হবে'।

⇒ মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন,
- “ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,২২৫.
সুশাসন বলতে কী বোঝায়?
  1. শাসনব্যবস্থা যেখানে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নয়ন লক্ষ্য করা হয়
  2. শাসনব্যবস্থা যেখানে শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ করা হয়
  3. শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের অংশগ্রহণ সীমিত থাকে
  4. শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়
সঠিক উত্তর:
শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়
ব্যাখ্যা
Good Governance:
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- Good Governance শব্দটির অর্থ কার্যকর শাসন।
- ইংরেজি Good Governance শব্দের বাংলা অর্থ সুশাসন।
- সুশাসনকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হলে শাসন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
- Governance হল একটি বহুমাত্রিক ধারণা যা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ, ক্ষেত্র এবং প্রেক্ষাপট থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
- সাধারণত Governance বা শাসন এমন একটি পদ্ধতিকে বোঝায়, যেখানে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো সংস্থা, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নীতি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

⇒ সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
- সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

উৎস: i) ICSI.
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,২২৬.
UNDP সুশাসন নিশ্চিত করতে কোন উপাদানটি উল্লেখ করেনি?
  1. কৌশলগত লক্ষ্য
  2. দুর্নীতিমুক্ত আমলাতন্ত্র
  3. জবাবদিহিতা
  4. সমতা
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতিমুক্ত আমলাতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতিমুক্ত আমলাতন্ত্র
ব্যাখ্যা
UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন” (Good Governance is the exercise of economic, Political and administrative authority to manage a country's affairs at all levels)।

• UNDP-এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি। যথা:
- স্বচ্ছতা,
- আইনের শাসন,
- সকলের অংশগ্রহণ,
- সংবেদনশীলতা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য,
- সমতা,
- ন্যায্যতা,
- জবাবদিহিতা
- কৌশলগত লক্ষ্য।

উল্লেখ্য,
- UNDP সুশাসন নিশ্চিত করতে দুর্নীতিমুক্ত আমলাতন্ত্র উপাদানটি উল্লেখ করেনি।

উৎস: UNDP ওয়েবসাইট।
১,২২৭.
কোন ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়?
  1. সামাজিক ক্ষেত্রে
  2. অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে
  3. ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে
  4. রাজনৈতিক ক্ষেত্রে
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• অর্থনৈতিক ক্ষেত্র এবং সুশাসন:
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- এতে করে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
- ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়।

উল্লেখ্য,
- সুশাসন হলো উত্তমরূপে শাসন বা কার্যকরি শাসন।
- সুশাসনের ক্ষেত্রে শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, সরকারের জবাবদিহিতা ও কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা আবশ্যকীয় উপাদান।
- অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১,২২৮.
অধ্যাপক ডাইসির মতে আইনের শাসনের মৌলিক শর্ত কয়টি?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা

আইনের শাসন:
​- অধ্যাপক ডাইসির মতে, আইনের শাসনের মৌলিক তিনটি শর্ত রয়েছে। এগুলো হলো: 
​ক. আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান, 
​খ. আইনের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ বিদ্যমান থাকা, 
​গ. শুনানী গ্রহণ ব্যতীত কারো বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা।

- এই শর্ত তিনী মেনে চললেই তবে বলা যাবে যে, আইনের শাসন কার্যকর হয়েছে।
​- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে ন্যায়পরায়ণ আচরণ, নিপীড়ন মুক্ত স্বাধীন পরিবেশ ও নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকতে হয়।

​উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,২২৯.
জনমত বলতে কী বোঝায়?
  1. ক) সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত
  2. খ) প্রভাবশালীদের মতামত
  3. গ) কল্যাণকামী ও যুক্তিযুক্ত মতামত
  4. ঘ) শিক্ষিত শ্রেণীর মতামত
সঠিক উত্তর:
গ) কল্যাণকামী ও যুক্তিযুক্ত মতামত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কল্যাণকামী ও যুক্তিযুক্ত মতামত
ব্যাখ্যা
সাধারণ অর্থে জনমত বলতে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ বা অধিকাংশের মতামতকে বুঝলেও জনমত হলো যুক্তিযুক্ত, স্পষ্ট ও কল্যাণকামী মতামত।
জনমতকে আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ বলা হয়। সুষ্ঠু ও সচেতন জনমতের উপর প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সাফল্য নির্ভর করে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১,২৩০.
নিচের কোনটি সুশাসনের জন্য আবশ্যক নয়?
  1. জবাবদিহিতা
  2. সামরিক শাসন
  3. আইনের শাসন
  4. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
সঠিক উত্তর:
সামরিক শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামরিক শাসন
ব্যাখ্যা

- সুশাসনের জন্য আবশ্যক নয় সামরিক শাসন। 

- সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
- একটি সমাজে যখন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কর্তব্যপরায়ণতার মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো নিশ্চিত হয় তখনই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরমত সহিষ্ণুতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অন্যের মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ গুলোও সুশাসনের জন্য আবশ্যক।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৩১.
কোনটি রাষ্ট্রের মুখ্য উপাদান নয়?
  1. ক) জনসমষ্টি
  2. খ) সরকার
  3. গ) সার্বভৌমত্ব
  4. ঘ) স্থায়িত্ব
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্থায়িত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্থায়িত্ব
ব্যাখ্যা

- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
- রাষ্ট্র অবশ্যই একটি সার্বভৌম ভূখণ্ড।
- রাষ্ট্রের মূখ্য উপাদান চারটি। যথাঃ স্থায়ী জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব।
- স্থায়িত্ব, জাতীয়তাবাদ, অধিকার ও সাম্য, সম্পর্ক স্থাপনের স্বাধীনতা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ইত্যাদি কোনো রাষ্ট্রের গৌণ উপাদান।

১,২৩২.
কোন রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে?
  1. শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন
  2. শাসন প্রক্রিয়া ও মানব উন্নয়ন
  3. শাসন প্রক্রিয়া ও সুশাসন
  4. সুশাসন প্রক্রিয়া এবং নৈতিক শাসন প্রক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক (World Bank) প্রথমবারের মতো সুশাসন (Good Governance)-এর ধারণা ও সংজ্ঞা প্রদান করে ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত রিপোর্টে। রিপোর্টের নাম "Governance and Development" (শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন)।

বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে। এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"।
- এটি বিশেষ করে আফ্রিকার প্রেক্ষাপটে (Sub-Saharan Africa) উন্নয়নের বাধা হিসেবে দুর্বল শাসনকে চিহ্নিত করে সুশাসনকে উন্নয়নের অপরিহার্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।

উল্লেখ্য,
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে। এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

⇒ বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
১. দায়িত্বশীলতা, 
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৪. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,২৩৩.
'International Development Agency' এর মতে সুশাসনের উপাদান নয় কয়টি?
  1. ক) স্বচ্ছতা
  2. খ) ন্যায়বিচার
  3. গ) অংশগ্রহণ
  4. ঘ) জবাবদিহিতা
সঠিক উত্তর:
খ) ন্যায়বিচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ন্যায়বিচার
ব্যাখ্যা
▪ আইডিএ (International Development Agency) সুশাসনের চারটি মূল উপাদানের কথা বলেছেন। 
- এ এগুলো হল:
১। জবাবদিহিতা
২। স্বচ্ছতা
৩। আইনের শাসন ও
৪। অংশগ্রহণ। 

অন্যদিকে, 
জাতিসংঘ সুশাসনের ৮টি উপাদানের উল্লেখ করেছে। এগুলো হলো:- 
- অংশগ্রহণ,
- আইনের শাসন,
- জবাবদিহিতা,
- ন্যায়বিচার,
- স্বচ্ছতা,
- কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন,
- দায়বদ্ধতা,
- সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
১,২৩৪.
সুনাগরিকতা বিষয়ে তিনটি গুণের কথা বলেছেন -
  1. ক) লর্ড একটন
  2. খ) লর্ড ব্রাইস
  3. গ) লাস্কি
  4. ঘ) এরিস্টটল
সঠিক উত্তর:
খ) লর্ড ব্রাইস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লর্ড ব্রাইস
ব্যাখ্যা
সুনাগরিকতা বিষয়ে তিনটি গুণের কথা বলেছেন কোন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী - লর্ড ব্রাইস।

• সুনাগরিক:

- সু শব্দের অর্থ হল ভালো বা আদর্শ। তাহলে সুনাগরিক মানে হল আদর্শ নাগরিক।
- যেকোন রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সুনাগরিকের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। আবার এই সুনাগরিক গড়ে তোলাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
- কেউ একজন খুব সহজে একটা রাষ্ট্রের নাগরিক হলেও কেবল সুনাগরিকই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে।

- অধ্যাপক ই, এম, হোয়াইট এর মতে ’সাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা এ তিনটি গুন যদি কোন নাগরিকের থাকে তাহলে সে-ই সুনাগরিক।
- বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর বক্তব্যে নাগরিকের অনেকগুলো গুণের উল্লেখ রয়েছে,

- তবে লর্ড ব্রাইস প্রদত্ত উপাদানগুলোই এ পর্যন্ত সবেচেয়ে গ্রহণযোগ্য।
- তিনি মনে করেন কোন নাগরিক সুনাগরিক হিসেবে পরিগণিত হবে যদি তিনটি গুণ যথা- (১) বুদ্ধি (২) আত্মসংযম (৩) বিবেক থাকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৩৫.
কোন শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকগণ রাজনৈতিক স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়? 
  1. একনায়কতান্ত্রিক শাসন 
  2. সামরিক শাসন 
  3.  স্বৈরাচারী শাসন 
  4. উপরের সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো 
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক স্বাধীনতা: 
- ভোটার হবার স্বাধীনতা, ভোটদানের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্গত।
- ন্যায়সঙ্গতভাবে একজন নাগরিক সব ধরনের স্বাধীনতা ভোগের অধিকার রাখে।
- নেতৃত্বের বিকাশের জন্য রাজনৈতিক স্বাধীনতা থাকা উচিত।
- একনায়কতান্ত্রিক, সামরিক ও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকগণ রাজনৈতিক স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন,এইচ এসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৩৬.
প্লেটোর মতে চারটি প্রধান সদ্গুণ কোনগুলো?
  1.  ন্যায়, সাম্য, স্বাধীনতা, ভ্রাতৃত্ব
  2. প্রজ্ঞা, সাহস, ন্যায়, স্বাধীনতা
  3. সাহস, নৈতিকতা, দায়িত্ব, মিতাচার
  4. প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়
সঠিক উত্তর:
প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়
ব্যাখ্যা

সদগুন: 
• প্লেটো ৪টি প্রধান সদগুন কথা উল্লেখ করেছেন।
- এগুলো হচ্ছে: প্রজ্ঞা, সাহস, মিতাচার ও ন্যায়।
- এদের মধ্যে ন্যায়কেই তিনি রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ অত্যাবশ্যকীয় সদ্গুণরূপে অভিহিত করেন।
- অন্য তিনটি সদ্গুণের অস্তিত্ব থাকে তখনই ন্যায়রূপ সদ্গুণের অভ্যুদয় ঘটে।

উল্লেখ্য, 
- অ্যারিস্টটল সদ্গুণ উদ্ভবের কারণ হিসেবে জীবনে মধ্যপথ অবলম্বনের ওপর জোর দেন।
- একজন ব্যক্তিকে একই নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন যাপন করতে অনুপ্রাণিত করে।
- আর এভাবেই মনুষ্য-সমাজের বাইরেও নৈতিকতা বিস্তৃত হয়।

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৩৭.
দুর্বল শাসনব্যবস্থা থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে কোনটি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে?
  1. জবাবদিহিতা
  2. নৈতিক চরিত্র
  3. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  4. আইনের প্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা

দুর্বল শাসনব্যবস্থা থেকে উত্তরণে জবাবদিহিতা (Accountability) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

জবাবদিহিতা:

- জবাবদিহিতা হলো সুশাসনের চাবিকাঠি।
- সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে জবাবদিহিতা।
- আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, পেশাগত জবাবদিহিতা, আইনগত জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা প্রভৃতি সুনিশ্চিত হলে দুর্বল ও ভঙ্গুর শাসন ব্যবস্থার লক্ষণগুলো পর্যায়ক্রমে দূরীভূত হবে।
- সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
- আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধন সুনিশ্চিত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৩৮.
সুশাসনের পূর্বশর্ত নয় কোনটি?
  1. মত প্রকাশের স্বাধীনতা
  2. সামাজিক মূল্যবোধ
  3. আইনের শাসন
  4. জবাবদিহিতা
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা
- সামাজিক মূল্যবোধ সুশাসনের পূর্বশর্ত নয়।
সুশাসনের পূর্বশর্ত:
- আইনের শাসন
- স্বচ্ছতা
- জবাবদিহিতা
- গ্রহণযোগ্যতা
- দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব প্রশাসন
- অংশগ্রহণমূলক সরকার ব্যবস্থা
- মত প্রকাশের স্বাধীনতা
- দায়বদ্ধতা
- ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ প্রভৃতি।

এক নজরে সুশাসন:

– সুশাসনের পূর্বশর্ত হচ্ছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
– সুশাসনের প্রাণ হচ্ছে সামাজিক মূল্যবোধ।
– সুশাসনের মূলভিত্তি আইনের শাসন।
– সুশাসনের মূল চাবিকাঠি জবাবদিহিতা।
– সুশাসনের অন্তর্নিহিত শক্তি নৈতিকতা।
– সুশাসনের চালিকাশক্তি স্বচ্ছতা।
– সুশাসনের অন্তরায় দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি।
– সুশাসনের ধারণাটি আপেক্ষিক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,২৩৯.
জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের মূল উপাদান কতটি?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
সঠিক উত্তর:
৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি
ব্যাখ্যা

সুশাসনের উপাদান:
- জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৮টি।

- Asian Development Bank (এডিবি) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- ইউএনডিপি এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৯টি।
- বিশ্বব্যাংকের এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৬টি।
- আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক বা AFDB এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।
- আইডিএ (International Development Agency) এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।
- প্রাচীন অর্থশাস্ত্রবিদ কৌটিল্য এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৪টি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।

১,২৪০.
'শাসক যদি মহৎ গুণ সম্পন্ন হয় তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন'- উক্তিটি কে করেছেন?
  1. আলেকজান্ডার 
  2. অ্যারিস্টটল 
  3. প্লেটো 
  4. সক্রেটিস
সঠিক উত্তর:
প্লেটো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লেটো 
ব্যাখ্যা

- “শাসক যদি ন্যায়বান হয় তাহলে আইন অনাবশ্যক, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক” –উক্তিটি গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর।
- শাসক যদি মহৎ গুণ সম্পন্ন হয় তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন।
- প্রজ্ঞা ও মুক্তিই হবে তাদের মূল চালিকাশক্তি।
- এমতাবস্থায় দার্শনিক রাজারা অবিবেচনায় শাসন কার্য পরিচালনা করবেন।
- তাদের পেছনে কোন প্রকার আইনের বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-২: রাষ্ট্রচিন্তা, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৪১.
সুশাসনের মূল ভিত্তি কোনটি?
  1. আইনের শাসন
  2. মূল্যবোধ
  3. গণতন্ত্র
  4. আমলাতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের শাসন
ব্যাখ্যা

সুশাসনের উপাদান:
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো আইনের শাসন। 

⇒ নিম্নে সুশাসনের উপাদানসমূহ:
- গণতন্ত্র, নৈতিক মূল্যবোধ, স্বচ্ছতা, বৈধতা, দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা, জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা, স্বাধীন প্রচার মাধ্যম, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জনবান্ধব প্রশাসন, সততা, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, সুশীল সমাজ দক্ষতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিকেন্দ্রীকরণ, লিঙ্গ বৈষম্যের অনুপস্থিতি, প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,২৪২.
ই-গভর্নেন্স-এর কার্যক্রম এর অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
  1. ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য পাঠানো
  2. লেনদেন পরিচালনা
  3. ভার্চুয়াল মিটিং
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
ই-গভর্নেন্স-এর কার্যক্রম: 
- ই-সরকার বা ই-গভর্নেন্স-এর পারস্পরিক লেনদেন সরকার ও জনগণ বা সেবাগ্রহণকারী, সরকার ও ব্যবসায়ী, এক সরকারের সাথে অন্য সরকারের কিংবা সরকার ও তার কর্মকর্তাদের মধ্যে হতে পারে।
- এরূপ লেনদেনের ক্ষেত্রে কয়েক ধরনের কার্যক্রম লক্ষ করা যায়: 
১. বিভিন্ন তথ্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠানো: যেমন নিয়ন্ত্রণমূলক কার্যক্রম, সাধারণ ছুটি, জনগণের জন্য বিভিন্ন ঘটনার দিন তারিখ, বিভিন্ন ইস্যুর ব্যাখ্যা, নোটিশ ইত্যাদি।
২. সরকার ও বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দ্বিমুখী যোগাযোগ: এই প্রক্রিয়ায় যেকোনো ব্যক্তি যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে ইন্টারনেট সংলাপে বসতে পারে এবং তাদের সমস্যা, মন্তব্য ও অনুরোধ প্রতিষ্ঠানকে জানাতে পারে।
৩. বিভিন্ন ধরনের লেনদেন পরিচালনা: যেমন আয়কর রিটার্ন জমা দেয়া, চাকরির জন্য আবেদন চাওয়া ও তা জমা দেয়া এবং অনুদান চাওয়া ও তা প্রদান করা।
৪. সরকার পরিচালনায় প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ: জনগণ ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার সাহায্য গ্রহণ করে, তথ্যপ্রযুক্তির সুযোগ নিয়ে প্রত্যক্ষভাবে সরকার পরিচালনায় অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে।
৫. জুম বা ভার্চুয়াল মিটিং: জুম বা ভার্চুয়াল মিটিং এর মাধ্যমে ই-গভর্নেন্স-এর কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,২৪৩.
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল কত সালে সুশাসন সম্পর্কিত পলিসি গ্রহণ করে?
  1. ক) ১৯৮৯ সালে
  2. খ) ১৯৯৬ সালে
  3. গ) ১৯৯৭ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৯ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৯৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা
- আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বোর্ড অব ডিরেক্টরস ১৯৯৭ সালে The Role of the IMF in Governance Issues নামে সুশাসন সম্পর্কিত পলিসি গ্রহণ করে। এটি পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২১ জুলাই IMF এর বোর্ড অব ডিরেক্টরসগণ রিভিউ করে।
- পরবর্তীতে ২০১৮ সালে পলিসিটির সহায়ক হিসেবে Framework for Enhanced Engagement on Governance নামে আারেকটি নতুন ফ্রেমওয়ার্ক গ্রহণ করে।
- সংস্থাটি আইনের শাসন, সরকারি খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি রোধের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের সকল স্তরে সুশাসনের উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
(তথ্যসূত্রঃ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ওয়েবসাইট)
১,২৪৪.
E-Governance-এর ফলে কোনটি হ্রাস পায়?
  1. দক্ষতা
  2. দুর্নীতি
  3. জবাবদিহিতা
  4. স্বচ্ছতা
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance ।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।
- তবে পুরোপুরি ই-গর্ভনেন্স চালু করার জন্য বিপুল অর্থ, দক্ষ জনশক্তি, সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা অপরিহার্য।
- বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রে এসব ক্ষেত্রে এখন অবধি অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,২৪৫.
বিশ্বব্যাংক কত সালে "Governance and Development" প্রতিবেদনে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯২ সালে
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও বিশ্বব্যাংক:
- সুশাসন (Good Governance) হলো এমন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণমূলক ও কার্যকর শাসন ব্যবস্থা, যা আইনের শাসন নিশ্চিত করে এবং দেশের জনগণের মৌলিক মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র পরিচালনা করে।
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা। ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম ‘সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়। 
- বিশ্বব্যাংক ১৯৯২ সালে "Governance and Development" শীর্ষক রিপোর্টে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করেছে। এ রিপোর্ট অনুযায়ী- "Governance is the manner in which power is exrcised in the management of a country's economic and social resources for development"
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, ‘সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,২৪৬.
জনগণ ও সরকারের মধ্যে যোগাযোগ সহজতর করে তোলে কোনটি?
  1. ই-গভর্ন্যান্স
  2. আমলাতন্ত্র
  3. স্থানীয় সরকার নির্বাচন
  4. তথ্য কেন্দ্র
সঠিক উত্তর:
ই-গভর্ন্যান্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ই-গভর্ন্যান্স
ব্যাখ্যা

ই-গভর্ন্যান্স সরকার ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ সহজতর করে তোলে।

ই-গভর্নেন্স:

- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।
- তবে পুরোপুরি ই-গর্ভনেন্স চালু করার জন্য বিপুল অর্থ, দক্ষ জনশক্তি, সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা অপরিহার্য।

• লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
- ই-গভর্নেন্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ই-গভর্নেন্সের ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,২৪৭.
রাজনৈতিক দুর্বলতার ফলে বাংলাদেশে কী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে? 
  1. গণতন্ত্র
  2. আমলাদের কর্তৃত্ববাদ
  3. শক্তিশালী সুশীল সমাজ
  4. সামরিক শাসন
সঠিক উত্তর:
আমলাদের কর্তৃত্ববাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমলাদের কর্তৃত্ববাদ
ব্যাখ্যা

আমলাতান্ত্রিকতা ও দুর্বল সুশীল সমাজ: 
- রাজনৈতিক দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশে আমলাদের কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
- তাঁরা নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী ক্ষমতা ও নীতিমালা প্রয়োগ করছে।
- দেশের সুশীল সমাজ অত্যন্ত দুর্বল।
- তারা অনেক বিষয়ে রাজনৈতিক মতামত ব্যক্ত করে সরকারের বিভিন্ন অন্যায় কার্যক্রমের সমালোচনা না করে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
- বাংলাদেশের সুশীল সমাজ কার্যত সরকার ও বিরোধী দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
- ফলত সুশীল সমাজ কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালন করতে পারছে না।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৪৮.
বিশ্বব্যাংকের কোন প্রেসিডেন্ট প্রথম 'Good Governance' শব্দটি ব্যবহার করেন?
  1. Barber Conable
  2. Jim Yong Kim
  3. Eugene Meyer
  4. George Woods
সঠিক উত্তর:
Barber Conable
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Barber Conable
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance। সুশাসন (Good Governance) অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।

⇒ সুশাসন ধারণাটির উদ্ভাবক বিশ্বব্যাংক।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল (Barber Conable) প্রথম সুশাসন শব্দটি ব্যবহার করেন।

উৎস: i) বিশ্বব্যাংক ওয়েবসাইট।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক। 
১,২৪৯.
“সুশাসন একটি জাতির রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে”— কে বলেছেন?
  1. বারবার কোনাবল
  2. মারটিন মিনোগ
  3. ল্যান্ডেল মিল
  4. জেফ্রি স্যাচস
সঠিক উত্তর:
ল্যান্ডেল মিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যান্ডেল মিল
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance।
- বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বারবার কোনাবল প্রথম সুশাসন (Good Governance) শব্দটি ব্যবহার করেন।
- বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে।

- মিশেল ক্যামডেসাস এর মতে, সুশাসন বিষয়ক তাত্ত্বিক মিশেল ক্যামডেসাস সুশাসনের গুরুত্ব বুঝাতে ''রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক''।
- ল্যান্ডেল মিল (Landell Mill) বলেন, সুশাসন একটি জাতির রাজনেতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে দিক নির্দেশ করে এবং জনপ্রশাসন এবং আইনী কাঠামোর মধ্যে এটি কিভাবে কাজ করে তা জানায়।

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

১,২৫০.
সুশাসন নিম্নের কোন ধারণা নির্মাণ করে না?
  1. রাজনৈতিক
  2. সামাজিক
  3. নৈতিক
  4. সাংস্কৃতিক
সঠিক উত্তর:
নৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা:
- সাধারণ অর্থে সুশাসন হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- এই শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার সঙ্গে নিশ্চিত হয় সামাজিক ন্যায় বিচার ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ।
- সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।

⇒ এটি ৪ ধরণের ধারণা নির্মাণ করে: 
- রাজনৈতিক সুশাসন,
- সামাজিক সুশাসন,
- অর্থনৈতিক সুশাসন এবং
- সাংস্কৃতিক সুশাসন।

উল্লেখ্য,
- তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়ন ও শাসন প্রক্রিয়ায় সুশাসন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, সরকারের জবাবদিহিতা, নারীর ক্ষমতায়ন, দুর্নীতি দূরীকরণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন সব ক্ষেত্রেই সুশাসন জরুরি।
- তৃতীয় বিশ্বে সুশাসনের সমস্যাকে সব সমস্যার মূল কারণ হিসাবে সনাক্ত করেছে দাতারা।
- একটি বহুমুখী ধারণা হিসাবে (Multi-dimentional) সুশাসনের উদ্ভব হয় মূলত ১৯৮৯ সালে।
- বিশ্বব্যাংক প্রথম এই ধারণা উপস্থাপন করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৫১.
সার্বজনীন মানবাধিকার গৃহীত হয় কবে?
  1. ১০ ডিসেম্বর, ১৯৪৮
  2. ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৪৮
  3. ১৪ মে, ১৯৪৮
  4. ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৮
সঠিক উত্তর:
১০ ডিসেম্বর, ১৯৪৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ ডিসেম্বর, ১৯৪৮
ব্যাখ্যা
• মানবাধিকারের ধারণা:
- অধিকারবোধ থেকে মানবাধিকারের উৎপত্তি হয়েছে।
- মানবাধিকার বলতে সেসব আইনগত ও নৈতিক অধিকারকে বোঝায়, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং সমগ্র বিশ্বের মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ মানবাধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকার। প্রতিটি মানুষ এ অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।

- ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়।
- জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত ঘোষণাপত্রে মানবাধিকার সংক্রান্ত কতগুলো সাধারণ নীতি রয়েছে। যেমন:
১. সকল মানুষ সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।
২. সকল মানুষ যেকোন প্রকার পার্থক্য, যথা: জাতি, গোত্র, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা, ধর্ম, মতাদর্শ, জাতীয় ও সামাজিক পরিচিতি, সম্পত্তি, জন্ম বা অন্য কোন মর্যাদা নির্বিশেষে ঘোষণায় উল্লেখিত সকল অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগের অধিকারী।
৩. মানবাধিকার সমগ্র বিশ্বের সর্বস্থানে সর্বকালের সকল মানুষের প্রাপ্য।
৪. বিশ্বের যেকোন রাষ্ট্রের নাগরিককে তাঁর দেশের বা আন্তর্জাতিক মর্যাদার ভিত্তিতে কোন পার্থক্য করা হবে না। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৫২.
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে প্রশাসন _________ নিমজ্জিত হয়।
  1. মূল্যবোধে
  2. ব্যর্থতায়
  3. অনাচারে
  4. দুর্নীতিতে
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতিতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতিতে
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি:
- দুর্নীতি হলো 'নীতি' বহির্ভূত কাজ।
- যেসব কাজ মানুষের নৈতিক অবক্ষয়ের পরিচয় বহন এবং সামাজিক জীবনে শান্তি-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়ে সমাজের সংহতি ও সামাজিক সম্পর্ক নষ্ট করে তাকে দুর্নীতি বলে।
- দুর্নীতি রাষ্টীয় তথা জাতীয় জীবনের জন্য অভিশাপ।

⇒ বাংলাদেশে দুর্নীতির প্রধান ক্ষেত্রসমূহ:
- দেশে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে।
- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সমীক্ষায় বাংলাদেশ পর পর পাঁচবার দুর্নীতিতে শীর্ষস্থান দখল করেছে।
- বাংলাদেশের যে ক্ষেত্রে দুর্নীতি অধিক হারে ঘটে থাকে সেগুলো হচ্ছে -
১. রাজনৈতিক;
২. প্রশাসনিক;
৩. সেবা খাত: স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা, পুলিশি সেবা, বিচার বিভাগ, শিক্ষা;
৪. অর্থনৈতিক ক্ষেত্র: উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শুল্ক, কর ও ভ্যাট, বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন;
৫. বেসরকারি ও অন্যান্য ক্ষেত্র।

⇔ প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জনাবদিহিতার অভাব:
- গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকলে প্রশাসনযন্ত্র দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
- এক্ষেত্রে অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে অনৈতিক কাজ করা, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের মাধ্যমে প্রশাসনকে যথেচ্ছা ব্যবহার করে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা হয়।
- এতে দেশের বৃহৎ স্বার্থ উপেক্ষিত থাকে। দুর্বল, দরিদ্র ও অসহায় মানুষ ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৫৩.
লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার জন্য প্রয়োজন -
  1. মূল্যবোধ
  2. সুশাসন
  3. নৈতিকতা
  4. উপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা
সামাজিক উন্নয়নে সুশাসন:
- সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুশাসন অপরিহার্য।
- শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলেই সুশাসনের ভূমিকা শেষ হয়ে যায় না।
- উন্নয়নের ফলাফল সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ন্যায্যতার সাথে ভোগ করতে পারাই সুশাসনের লক্ষণ।

⇒ একটি সমাজে বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণ শ্রেণি পেশার মানুষ থাকে।
- যেমন, বাংলাদেশে রয়েছে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ধর্মের মানুষ।
- এছাড়াও দেশটিতে আছে নানা জাতিসত্তার মানুষ।
- এখন এ সকল মানুষের কাছে সম্পদের ন্যায্য বণ্টন না হলে সামাজিক অসন্তোষ বাড়বে।
- শুধু সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন হলেই সুশাসন হবে না।
- যদি সংখ্যালঘু মানুষেরা স্বাধীনভাবে নির্ভয়ে তার সম্পত্তির অধিকার ভোগ না করতে পারে তাহলেও সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে না।
- নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য দূর করার জন্যও সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি।
- অনগ্রসর নারী সমাজের উন্নয়নের জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা তথা আইন সংস্কার জরুরি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,২৫৪.
সুশাসন হচ্ছে এমন এক শাসনব্যবস্থা যা শাসক ও শাসিতের মধ্যে -
  1. সুসম্পর্ক গড়ে তোলে
  2. আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে
  3. শান্তির সম্পর্ক গড়ে তোলে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে
ব্যাখ্যা
সুশাসন:
– সুশাসন হচ্ছে এমন এক শাসনব্যবস্থা যা শাসক ও শাসিতের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে
– এটি শাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, যা জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাস অর্জনে সহায়ক।
– এই আস্থার সম্পর্ক যত শক্তিশালী হবে সুশাসন তত মজবুত হবে।

উৎস: পেীরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৫৫.
সুশাসন প্রত্যয়টির উদ্ভাবক কে?
  1. বিশ্বব্যাংক
  2. জাতিসংঘ
  3. ইউরোপীয় ইউনিয়ন
  4. এডিবি
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- বর্তমান বিশ্বে একটি জনপ্রিয় ধারণা হল সুশাসন।
- সুশাসনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল 'Good Governance'।
- সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন।
- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের ৪টি স্তম্ভ ঘোষণা করে।
• এ চারটি স্তম্ভ হচ্ছে –
- দায়িত্বশীলতা,
- স্বচ্ছতা,
- আইনী কাঠামো,
- অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৫৬.
সুশাসন নিশ্চিতে ও সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় গড়ে তোলার জন্য সরকার কত সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল' প্রণয়ন করেছে?
  1. ২০০৮ সালে
  2. ২০০৯ সালে
  3. ২০১১ সালে
  4. ২০১২ সালে
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১২ সালে
ব্যাখ্যা

সুশাসন ও বাংলাদেশ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।
- সুশাসন নিশ্চিতে জরুরি সেবার হটলাইন চালু করেছে সরকার।
- তাহলো বাংলাদেশের জরুরি কল সেন্টার ৯৯৯; দুর্নীতি দমন কমিশনের কল সেন্টার ১০৬; সরকারি আইনি সহায়তা কল সেন্টার ১৬৪৩০; কৃষি বিষয়ক যে কোন পরামর্শ পেতে বিনামূল্যে কল করুন ১৬১২৩; নারী নির্যাতন বা বাল্যবিবাহ হতে দেখলেই বিনামূল্যে কল করুন এই নাম্বারে ১০৯ ইত্যাদি।

এছাড়াও,
- সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন করতে চলছে।
- দুর্নীতি দমনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে আইন প্রণীত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯', 'তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯', 'ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯', 'সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯', 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯', 'চার্টার্ড সেক্রেটারিজ আইন, ২০১০', 'জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১', 'মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২', 'মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২', 'প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২' ইত্যাদি।

⇒ বাংলাদেশ জাতিসংঘের United Nations Convention Against Corruption (UNCAC) এর অনুসমর্থনকারী দেশ।
- দুর্নীতি নির্মূলের জন্য 'ফৌজদারি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে দুর্নীতির প্রতিকার ছাড়াও দুর্নীতির ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণকে' সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই
কনভেনশনে।

এছাড়া,
- সর্বোপরি সুশাসন বাস্তবায়ন সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কাঙ্ক্ষিত সোনার বাংলা গঠন করা সম্ভব হবে।

উৎস: তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট। 

১,২৫৭.
সুশাসনের ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় কীসের সঙ্গে সম্পর্কিত?
  1. রাষ্ট্র
  2. প্রশাসন
  3. জনগণ
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হলো সুশাসন।
- সুশাসন হলো যৌক্তিক এবং দক্ষভাবে শাসন পরিচালনা।
- সুশাসন অবশ্যই আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। 
- এটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিত করে।
- জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, সরকারের দক্ষতা ও সাড়া প্রদানের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে সুশাসন প্রক্রিয়া।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৫৮.
নাগরিকতার ধারণার উদ্ভব হয় কোন দেশে?
  1. ক) ইংল্যান্ড
  2. খ) চীন
  3. গ) গ্রিস
  4. ঘ) ফ্রান্স
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গ্রিস
ব্যাখ্যা
প্রায় ২,৫০০ বছর পূর্বে প্রাচীন গ্রিসে নাগরিক ও নাগরিকতা ধারণার উদ্ভব হয়।
গ্রিস তখন ছোট ছোট নগরে বিভক্ত ছিলো যা নগর-রাষ্ট্র নামে পরিচিত। এসব নগর-রাষ্ট্রে যারা প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করতো তাদের নাগরিক বলা হয়। তাদের ভোটাধিকার ছিলো। তবে নারী, বিদেশি ও দাসদাসীরা নাগরিক হিসেবে গণ্য হতো না।
সময়ের পরিক্রমায় নাগরিক ও নাগরিকতার ধারণা বর্তমান রূপ লাভ করেছে।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,২৫৯.
সুশাসনের উপযোগী সরকার ব্যবস্থা কোনটি?
  1. কর্তৃত্ববাদী সরকার
  2. গণতান্ত্রিক সরকার
  3. সমাজতান্ত্রিক সরকার
  4. একনায়কতান্ত্রিক সরকার
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক সরকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতান্ত্রিক সরকার
ব্যাখ্যা
• সুশাসনের উপযোগী সরকার ব্যবস্থা হলো - গণতান্ত্রিক সরকার।

গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা ও সুশাসন:
- গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা সুশাসনের জন্য সবচেয়ে উপযোগী কারণ এটি জনগণের মতামত, অধিকার এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
- সুশাসনের মূল উপাদানগুলো হচ্ছে- স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং জনগণের অংশগ্রহণ।
- এই উপাদানসমূহ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।
- গণতন্ত্রে জনগণ ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন করে, যা সুশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- এছাড়া, ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করতে আইনের শাসন অপরিহার্য, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কার্যকর থাকে।
- গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় থাকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৬০.
ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল-এর মতে, সমকালীন বিশ্বের অন্যতম চ্যালেঞ্জ -
  1. স্বজনপ্রীতি
  2. দুর্নীতি
  3. স্বেচ্ছাচারিতা
  4. অস্বচ্ছতা
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি:
- দুর্নীতি এক ধরনের সামাজিক ব্যাধি।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
- সমাজভেদে এবং একই সমাজে যুগভেদে নীতি, আদেশ ও মূল্যবোধের পার্থক্য দেখা দেয়।
- দুর্নীতি যেহেতু নীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধের পরিপন্থীমূলক কাজ, সেহেতু দুর্নীতিমূলক কাজের উদাহরণ দিতে গেলে স্থান-কাল-পাত্র-আদর্শ ইত্যাদি বিবেচনা করতে হয়।
- সাধারণভাবে দুর্নীতি বলতে আইন ও নীতির বিরুদ্ধ কাজকে বুঝায়।
- দুর্নীতির সাথে পেশা, ক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা, পদবি, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ইত্যাদি বিষয় গভীরভাবে জড়িত।
- দুর্নীতি সব সময়ই নেতিবাচক শব্দ।
- স্ব-স্ব অবস্থান ও পেশার মাধ্যমে অবৈধ স্বার্থ উদ্বারের লক্ষ্যে পরিচালিত আচরণই দুর্নীতি।

⇒ 'ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল' মনে করে "সমকালীন বিশ্বের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দুর্নীতি।
⇒ জাতিসংঘ প্রণীত ম্যানুয়াল অপ অ্যান্টি-করাপশন পলিসিতে বলা হয়েছে যে, ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারই হল দুর্নীতি।
⇒ বাংলাদেশের 'দুর্নীতি দমন কমিশন' এর একটি প্রকাশনাতে দুর্নীতি বলতে বোঝান হয়েছে, "ব্যক্তি স্বার্থ অর্জনের বা ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি।" যেমন- রাষ্ট্রীয় সম্পদের অব্যবহার, সরকারি সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ে অস্বচ্ছতা, দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসৎ উদ্দেশ্যে প্রভাব বিস্তার, ঘুষ গ্রহণ, অর্থ বা সম্পদ আত্মসাৎ, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার সবই দুর্নীতি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৬১.
সুশাসনের অভাবে একটি রাষ্ট্রে কী ঘটতে পারে?
  1. দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা
  2. সামাজিক স্থিতিশীলতা
  3. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি
  4. টেকসই উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা
ব্যাখ্যা
সুশাসনের অভাবজনিত প্রভাব:
- সুশাসন একটি দেশের কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- এর অভাবে দেশের উপর বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেমন:

⇒ দুর্নীতি বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়।
- কারণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারকরা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পায়।

⇒ সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি:
- সুশাসনের অভাবে জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হয়।
- যখন জনগণ অনুভব করে যে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সরকার তাদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।

⇒ অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া:
- সুশাসনের অভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
- কারণ, অদক্ষ নীতি, দুর্নীতি এবং অপব্যবহারের কারণে সম্পদের সঠিক ব্যবহার হয় না।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৬২.
নিচের কোনটি নাগরিকের দায়িত্ব?
  1. রাস্তায় ট্রাফিক আইন মেনে চলা
  2. শিল্প কারখানায় অধিক শ্রমিক নিয়োগ দেয়া
  3. দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা
  4. রাজনৈতিক সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত হওয়া
সঠিক উত্তর:
রাস্তায় ট্রাফিক আইন মেনে চলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাস্তায় ট্রাফিক আইন মেনে চলা
ব্যাখ্যা
• নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য: 
- রাষ্ট্র যেমন নাগরিকদের বিবিধ সুযোগ সুবিধা এবং অধিকার দিয়ে থাকে তেমনি রাষ্ট্রের প্রতিও নাগরিকদের কতগুলো দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- নাগরিকদের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা।
- রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন এবং সংবিধান মেনে চলা এবং আইনের প্রতি সম্মান দেখানো নাগরিকদের অন্যতম দায়িত্ব।
- তাই নাগরিক হিসেবে রাস্তায় চলাকালে ট্রাফিক আইন অনুসরণ করা প্রত্যেক ব্যক্তির একান্ত কর্তব্য।

• রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন এবং সংবিধান মেনে চলা এবং আইনের প্রতি সম্মান দেখানো নাগরিকদের অন্যতম দায়িত্ব।
- কেউ আইন অমান্য করলে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। স্বাভাবিক জীবনের ব্যাঘাত ঘটে।
- তাই সুষ্ঠু জীবনযাপন, শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিককে আইন মেনে চলতে হবে।

• সততা ও সুবিবেচনার সাথে ভোট দেওয়া নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য।
- এর ফলে যোগ্য ও উপযুক্ত প্রার্থী জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হবে।
- অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ প্রার্থীকে ভোটদানে বিরত থাকা উচিত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,২৬৩.
জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হল -
  1. আইনের শাসন
  2. সুশাসন
  3. মূল্যবোধ
  4. নৈতিকতা
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- জনগণ, রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রত্যয় হল সুশাসন।
- সুশাসন হলো যৌক্তিক এবং দক্ষভাবে শাসন পরিচালনা।
- সুশাসন অবশ্যই আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- এটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিত করে।
- জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, সরকারের দক্ষতা ও সাড়া প্রদানের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে সুশাসন প্রক্রিয়া।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৬৪.
বিশ্বব্যাংকের মতে উন্নয়নশীল দেশসমূহে অনুন্নয়নের মূল কারণ কোনটি?
  1. প্রাকৃতিক সম্পদের অপ্রতুলতা
  2. শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর অনুপস্থিতি
  3. জনসংখ্যার আধিক্য
  4. সুশাসনের অভাব
সঠিক উত্তর:
সুশাসনের অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসনের অভাব
ব্যাখ্যা
উন্নয়নশীল দেশসমূহে অনুন্নয়নের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিশ্বব্যাংক সুশাসনের অনুপস্থিতির বিষয়টি উপলব্ধি করে। সংস্থাটির মতে অনুন্নত ও উন্নয়নীল দেশগুলোতে উন্নয়ন না হওয়ার কারণ হলো সুশাসনের অভাব।
বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে তাদের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম সুশাসন প্রত্যয়টি ব্যবহার করে। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে বিশ্বব্যাংক তার ‘শাসন প্রক্রিয়া ও উন্নয়ন’ নামে একটি রিপোর্টে সুশাসন ধারণাটি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র – প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
১,২৬৫.
“জাতীয়তাবাদ হলো এক প্রকার মানসিক ঐক্যবোধে উদ্ধুদ্ধ জনসমাজ, যারা নিজেদেরকে বাকি মানব সমাজ হতে পৃথক মনে করে।” –জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে এটি কার ভাষ্য?
  1. এম. ডব্লিউ পামফ্রে
  2. জন স্টুয়ার্ট মিল
  3. হ্যারল্ড লাস্কি
  4. গর্ডন মুর
সঠিক উত্তর:
হ্যারল্ড লাস্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্যারল্ড লাস্কি
ব্যাখ্যা
জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে অধ্যাপক হ্যারল্ড লাস্কি এর ভাষ্য হলো,
“জাতীয়তাবাদ হলো এক প্রকার মানসিক ঐক্যবোধে উদ্ধুদ্ধ জনসমাজ, যারা নিজেদেরকে বাকি মানব সমাজ হতে পৃথক মনে করে।”

জাতীয়তাবাদ হলো কোন জনসমাজের মধ্যকার মানসিক অনুভূতি ও পারস্পরিক বন্ধনের চেতনা। এই চেতনার ফলেই একটি জনসমাজ নিজেদেরকে অভিন্ন সত্ত্বার অধিকারী এবং অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র বলে মনে করে।
ভৌগোলিক ঐক্য, বংশগত ঐক্য, ভাষা, ধর্ম, ঐতিহ্য চেতনা, রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা প্রভৃতি জাতীয়তাবাদের উপাদান।

(তথ্যসূত্র: সিভিক এডুকেশন-১ : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১,২৬৬.
আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভ কোন ধরনের অধিকার?
  1. ক) সামাজিক অধিকার
  2. খ) রাজনৈতিক অধিকার
  3. গ) নৈতিক অধিকার
  4. ঘ) সাংস্কৃতিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
ক) সামাজিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সামাজিক অধিকার
ব্যাখ্যা
অধিকার হলো সমাজ বা রাষ্ট্রকর্তৃক স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ-সুবিধা যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে থাকে।
অধিকারের বিভিন্ন ধরন রয়েছে। এর মধ্যে, সমাজে সুখে-শান্তিতে বসবাসের জন্যে আমরা যেসব অধিকার ভোগ করে থাকি সেগুলো হলো সামাজিক অধিকার।

বিভিন্ন সামাজিক অধিকারের মধ্যে রয়েছে:
- আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভ
- ধর্ম চর্চার অধিকার
- সম্পত্তি লাভের অধিকার
- চলাফেরা ও মতপ্রকাশের অধিকার প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেনী)
১,২৬৭.
সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।
- সুশাসন সম্পর্কিত প্রদত্ত সংজ্ঞাটি কার?
  1. ক) বিশ্বব্যাংক
  2. খ) আই.এম.এফ
  3. গ) এল.এফ ওয়ার্ড
  4. ঘ) বব জেসফ
সঠিক উত্তর:
ক) বিশ্বব্যাংক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিশ্বব্যাংক
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক ১৯৮৯ সালে প্রথম 'সুশাসন' ধারনাটি সামনে নিয়ে আসে। বিশ্বব্যাংকের মতে সুশাসনে ৪টি স্তম্ভ বা উপাদান। বিশ্বব্যাংক উক্ত সংজ্ঞাটি ১৯৯৪ সালে প্রদান করেন।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র) বই।

১,২৬৮.
'সম্পত্তি ভোগের অধিকার' কোন ধরনের অধিকার?
  1. ক) রাজনৈতিক অধিকার
  2. খ) নৈতিক অধিকার
  3. গ) সামাজিক অধিকার
  4. ঘ) অর্থনৈতিক অধিকার
সঠিক উত্তর:
গ) সামাজিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সামাজিক অধিকার
ব্যাখ্যা
- সমাজে সুখী ও সুন্দরভাবে বসবাস করার জন্য নাগরিকগণ যেসকল অধিকার ভোগ করে, সেগুলোকে আমরা সামাজিক অধিকার বলি।
- সামাজিক অধিকারগুলো নিম্নরূপ :
- জীবন ধারণের অধিকার,
- ব্যক্তি স্বাধীতার অধিকার,  
- মতামত প্রকাশের অধিকার, 
- সভা-সমিতির অধিকার,  
সম্পত্তি ভোগের অধিকার,  
- ধর্মীয় অধিকার,
- আইনের অধিকার, 
-  চুক্তির অধিকার,  
-স্বাস্থ্য ও শিক্ষা লাভের অধিকার।

উৎস: সিভিক এডুকেশন-১, বিএসএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৬৯.
তথ্য অধিকার আইন কত সালে পাশ হয়?
  1. ২০০৮ সালে
  2. ২০০৯ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৭ সালে
সঠিক উত্তর:
২০০৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০৯ সালে
ব্যাখ্যা
• তথ্য অধিকার আইন:
- তথ্য প্রাপ্তি বর্তমানে নাগরিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
- বাংলাদেশী নাগরিকদের অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকার ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার প্রণয়ন করেছে।
- এই আইনের মাধ্যমে তথ্য কমিশন গঠন ও প্রত্যেকটি সরকারি কার্যালয়ে তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগদানের মাধ্যমে তথ্য সরবরাহ করা হয়।

• তথ্য কমিশনের গঠন:
- তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর ১১(১) উপ-ধারার বিধান মতে আইন জারির ৯০ দিনের মধ্যে ১ জুলাই, ২০০৯ তারিখে প্রধান তথ্য কমিশনার ও ২ জন তথ্য কমিশনার, তন্মধ্যে একজন নারী সদস্য সমন্বয়ে তথ্য কমিশন গঠন করা হয়।
- প্রথম প্রধান তথ্য কমিশনার ছিলেন এম আজিজুর রহমান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৭০.
সামাজিক মূল্যবোধের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি কোনটি?
  1. সহনশীলতা
  2. যৌক্তিকতা
  3. প্রজ্ঞা
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সহনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহনশীলতা
ব্যাখ্যা

⇒ সামাজিক মূল্যবোধের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি সহনশীলতা।

সহনশীলতা:
- একটি বহুমাত্রিক সমাজে বিভিন্ন মতাদর্শ, সংস্কৃতি, ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষ একত্রে বসবাস করে।
- সহনশীল মানসিকতা ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যে সহমর্মিতা সৃষ্টি করে, যা সামাজিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- সহনশীলতা ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মানবোধ বৃদ্ধি করে।
- যদি সহনশীলতা না থাকে, তবে সমাজে বিভাজন, সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।
- সহনশীলতা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সম্পর্কেই নয়, বরং সামগ্রিক সমাজ ব্যবস্থার উন্নতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- কারণ এটি গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সাম্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- অতএব, সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে সহনশীলতা একটি অপরিহার্য উপাদান বা ভিত্তি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,২৭১.
সুশাসনের অন্যতম উপাদান 'Rule of Law'-এর মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. আইনকে রাজনীতির অধীন করে ফেলা
  2. আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান
  3. প্রশাসনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
  4. রাজনৈতিক দলগুলিকে প্রাধান্য দেওয়া
সঠিক উত্তর:
আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান
ব্যাখ্যা
সুশাসন (Good Governance):
- ম্যাককরনী (Mac' Corney) বলেছেন যে, ‘সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।'
- মোটকথা, প্রশাসনের যদি জবাবদিহিতা (Accountability), বৈধতা (Legilimacy), স্বচ্ছতা (Transparency) থাকে, এতে যদি অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত থাকে, বাকস্বাধীনতাসহ সকল রাজনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন (Rule of law), আইনসভার নিকট শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা বা দায়িত্বশীলতার নীতি কার্যকর থাকে তাহলে সে শাসনকে ‘সুশাসন' (Good Governance) বলে।

⇒ আইনের অনুশাসন (Rule of Law):
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা অর্থাৎ আইন সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হবে।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য দূর হয়।
- ফলে সমাজে স্থিলিশীলতা আসে এবং শান্তির বিরাজ করে।
- নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য অধিকার কেবল আইনের শাসনের মাধ্যমে বলবৎ করা যায়।
- আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে।
- সমাজ থেকে মায়া, মমতা, সহমর্মিতা, ন্যায়-বিচার, নীতি-আদর্শ হ্রাস পায়।
- অতএব সভ্য সমাজের মানদন্ড হলো আইনের শাসন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৭২.
কারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারি সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে কিন্তু সরকার গঠনে সচেষ্ট নয়?
  1. সাধারণ জনগণ
  2. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  3. রাজনৈতিক দল
  4. বিরোধী দল 
সঠিক উত্তর:
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
→ চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী কোন রাজনৈতিক সংগঠন নয়। তবুও আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় চাপসৃষ্টিকারী দলের ভূমিকা অপরিহার্য। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারি সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করাই হল চাপ সৃষ্টিকারী দলের প্রধান কাজ।
→ মূলত: গোষ্ঠী স্বার্থ আদায়ে কাজ করলেও, কোন কোন চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে কখনো কখনো বৃহত্তর জনকল্যাণমূলক বা জাতীয় স্বার্থে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,২৭৩.
কোনটি সুশাসনের অন্যতম উপাদান?
  1. নৈতিকতা
  2. স্বচ্ছতা
  3. স্বজনপ্রীতি
  4. সৃজনশীলতা
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন হলো উত্তমরূপে শাসন বা কার্যকরি শাসন। সুশাসনের ক্ষেত্রে শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, সরকারের জবাবদিহিতা ও কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা আবশ্যকীয় উপাদান।

সুশাসনের ক্ষেত্রে নৈতিক শাসন বা সৃজনশীলতা আবশ্যক নয়। স্বজনপ্রীতি সুশাসনের অন্তরায়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১,২৭৪.
'Marriage and Morals' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. জন স্টুয়ার্ট মিল
  2. ম্যাকিয়াভেলি
  3. বার্ট্রান্ড রাসেল
  4. ম্যাক্স ওয়েবার
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্ট্রান্ড রাসেল
ব্যাখ্যা

বার্ট্রান্ড রাসেল:
- বার্ট্রান্ড রাসেল (১৮ মে, ১৮৭২ ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭০) ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্রিটিশ দার্শনিক, গণিতবিদ, এবং সমাজ চিন্তাবিদ।
- তাঁর সমাজসচেতন লেখনী এবং কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৫০ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার পান।

⇒ তার গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- The Problem of Philosophy,
- The Conquest of Happiness,
- Religion and Science,
- The Principles of Mathematics,
- The Analysis of Mind,
- Marriage and Morals,
- Philosophical Essays,
- Political Ideals,
- Principles of Social Reconstruction,
- The Analysis of Matter and
- Logic and knowledge.

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।

১,২৭৫.
মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে কী ধরনের সম্পর্ক বিদ্যমান?
  1. ক) একমুখী
  2. খ) নেতিবাচক
  3. গ) ঘনিষ্ঠ
  4. ঘ) পারস্পরিক বিপরীত
সঠিক উত্তর:
গ) ঘনিষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঘনিষ্ঠ
ব্যাখ্যা
- মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান।
-মূল্যবোধ যেমন সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তেমনি সুশাসন মূল্যবোধকে লালন করে।
- সামাজিক ঐক্য, শৃঙ্খলাবোধ প্রভৃতি সুশাসনের গুণাবলি প্রতিষ্ঠায় মূল্যবোধ ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক)
১,২৭৬.
জাতিসংঘের অভিমত অনুসারে সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো - 
  1. দারিদ্র বিমোচন
  2. মৌলিক অধিকার রক্ষা
  3. মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
  4. নারীদের উন্নয়ন ও সুরক্ষা
সঠিক উত্তর:
মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ ১৯৯৭ সালে 'শাসন ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- এই প্রতিবেদনে সর্বপ্রথম সুশাসন সম্পর্কে স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।
- জাতিসংঘের অভিমত অনুযায়ী, সুশাসনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন।

কারণ:
- মৌলিক স্বাধীনতার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে একদিকে যেমন মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষিত হয়।
- অন্যদিকে তেমনি নারীর উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
- ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ঘটে এবং দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘ সুশাসনের ক্ষেত্রে ৮টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছে। উপাদানগুলো হলো:
→ অংশগ্রহণ;
→ মতামতের উপর নির্ভরশীলতা;
→ জবাবদিহিতা;
→ স্বচ্ছতা;
→ দায়বদ্ধতা;
→ কার্যকরী ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা;
→ ন্যাযতা; এবং
→ আইনের শাসন।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
১,২৭৭.
নিচের কোনটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক উল্লিখিত সুশাসনের উপাদান নয়?
  1. জবাবদিহিতা
  2. ভবিষ্যৎবাণী
  3. স্বচ্ছতা
  4. সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা
সঠিক উত্তর:
সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকারি খাতের ব্যবস্থাপনা
ব্যাখ্যা

- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতে গভর্ন্যান্স হলো উন্নয়নের জন্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতা চর্চার প্রক্রিয়া বা ধরন।
ব্যাংকটির মতে সুশাসনের মূল উপাদান চারটি। এগুলো হলো:
- জবাবদিহিতা
- স্বচ্ছতা
- অংশগ্রহণ এবং
- ভবিষ্যৎবাণী।
(তথ্যসূত্র: এডিবি ওয়েবসাইট)

১,২৭৮.
’’রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারীপুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন’’ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত রয়েছে? 
  1. অনুচ্ছেদ-২৮(১)
  2. অনুচ্ছেদ-২৮(২)
  3. অনুচ্ছেদ-২৮(৩)
  4. অনুচ্ছেদ- ২৮(৪)
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-২৮(২)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুচ্ছেদ-২৮(২)
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সংবিধান:
- অনুচ্ছেদ-২৮ :
ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য
- ২৮ (১):  কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না।
 - ২৮(২) রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারীপুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন।
 - ২৮(৩) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাইবে না।
 - ২৮ (৪) নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান-প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১,২৭৯.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ কোনটি?
  1. সাম্য
  2. গণতন্ত্র
  3. আইনের শাসন
  4. জবাবদিহিতা
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্র হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাণ।
- সুশাসনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

উল্লেখ্য,
- জি. বিলনে, OCED ও UNDP সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সুশাসনের কিছু আদর্শ ও কার্যকরী বৈশিষ্ঠ্যের কথা উল্লেখ করেন।

উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বৈশিষ্ঠ্য:
- গনতন্ত্র,
- অংশগ্রহন প্রক্রিয়া,
- নৈতিক মূল্যবোধ,
- স্বাধীন বিচার বিভাগ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

১,২৮০.
কোন সুশাসনের পূর্বশর্ত নয়?
  1. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
  2. প্রচার মাধ্যমের পরাধীনতা
  3. অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া
  4. জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা
সঠিক উত্তর:
প্রচার মাধ্যমের পরাধীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রচার মাধ্যমের পরাধীনতা
ব্যাখ্যা
সুশাসনের পূর্বশর্ত:
⇒ সুশাসনের বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে: 
- স্বচ্ছতা,
- জবাবদিহিতা,
- স্বাধীন প্রচার মাধ্যম,
- অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া,
- আইনের শাসন,
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা,
- জনবান্ধব প্রশাসন,
- সততা,
- জনগণের নিকট গ্রহণযোগ্যতা,
- দক্ষতা,
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা,
- বিকেন্দ্রীকরণ,
- প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,২৮১.
'শর্তহীন আদেশ' ধারণাটির প্রবর্তক কে? 
  1. অ্যারিস্টটল
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. ইমানূয়েল কান্ট
  4. হার্বার্ট স্পেন্সার
সঠিক উত্তর:
ইমানূয়েল কান্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইমানূয়েল কান্ট
ব্যাখ্যা

ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি।যথা:-
- সৎ ইচ্ছা,
- কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং
- শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

• নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচএসসি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৮২.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে-
  1. ক) দুর্নীতি দূর হয়
  2. খ) বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
  3. গ) আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়
  4. ঘ) নৈতিক অবক্ষয় রোধ হয়
সঠিক উত্তর:
খ) বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ঠ হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সহিংস আচরণ এবং হরতাল, জ্বালাও-পুড়াও নীতি অবলম্বনের ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হয়। উন্নয়ন সহযোগী দাতা সংস্থাগুলো মুখ ফিরিয়ে নেয়, বিদেশি উদ্যোক্তারা এসব দেশে শিল্প কারখানা স্থাপনে বা পুঁজি বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। [সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী]
১,২৮৩.
“স্বাধীনতা হল অধিকারের ফল” উক্তিটি কার?
  1. ক) জন লক
  2. খ) জাঁ জ্যাক রুশো
  3. গ) নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি
  4. ঘ) এইচ জে লাস্কি
সঠিক উত্তর:
ঘ) এইচ জে লাস্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) এইচ জে লাস্কি
ব্যাখ্যা
• জাঁ জ্যাক রুশো (Rousseau) বলেছেন যে, “মানুষ স্বাধীন হয়ে জন্মগ্রহণ করে' (Man is born free but everywhere he is in chains)।

• রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এইচ জে লাস্কি (H.J.Laski) বলেছেন “স্বাধীনতা হল অধিকারের ফল”।

• রাষ্ট্রবিজ্ঞানী টি এইচ গ্রিন (T.H. Green) বলেন, “যা উপভোগ করার এবং সম্পন্ন করার যোগ্য তা উপভোগ ও সম্পাদন করার ক্ষমতাকে স্বাধীনতা বলে”।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৮৪.
নিচের কোনটি জনগণ ও সরকারের মধ্যে সুসম্পর্ক ও স্বার্থের সমন্বয় ঘটায়?
  1. নৈতিকতা
  2. সুশাসন
  3. মূল্যবোধ
  4. গণতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সরকার ও জনগণের স্বার্থকে এক সুতোয় বাঁধার প্রক্রিয়াকে সুশাসন (Good Governance) বলা হয়।
- এটি এমন একটি শাসনব্যবস্থা যা  জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
- সুশাসনই জনগণ ও সরকারের মধ্যে সুসম্পর্ক ও স্বার্থের সমন্বয় ঘটায়।
- সুশাসনের মাধ্যমে জনগণ নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।
- এই শাসনব্যবস্থায় সরকার কীভাবে কাজ করছে, তার জবাবদিহিতা থাকে জনগণের প্রতি।
- সুশাসন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে, সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, জনগণের মৌলিক অধিকার ও ন্যায্য সুযোগ প্রদান করে।
- সুশাসনই সেই মূল ভিত্তি যা সরকার ও জনগণের মাঝে বিশ্বাস, সমন্বয় এবং কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,২৮৫.
টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য অঙ্গ কোনটি?
  1. শিক্ষা
  2. আইন
  3. মূল্যবোধ
  4. সুশাসন
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা
টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন:
- টেকসই উন্নয়ন মূলত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে গৃহীত একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা।
- সুশাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ এবং আইনের শাসন বজায় থাকে।
- টেকসই উন্নয়নের জন্য সুশাসন অপরিহার্য, কারণ এটি ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।
- সুশাসন শুধু প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি করে না, বরং সমাজের সবস্তরে উন্নয়নের পথ তৈরি করে।
- এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক- যা টেকসই উন্নয়নের মূল লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৮৬.
"Good Governance is important for countries at all stages of development"—উক্তিটি কার?
  1. মিশেল ক্যামডেসাস
  2. UNDP
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. ইব্রাহিম গানবারি
সঠিক উত্তর:
মিশেল ক্যামডেসাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিশেল ক্যামডেসাস
ব্যাখ্যা
সুশাসনের ধারণা:
- বিশ্বব্যাংক ও UNDP-এর মতে, সুশাসনের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্রের নাগরিকগণ তাদের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষাসমূহকে প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- সব ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিকাশের জন্যও প্রয়োজন সুশাসন।

'সুশাসন' বিষয় সম্পর্কিত তাত্ত্বিক মিশেল ক্যামডেসাস (Michel Camdessus) বলেছেন যে, ‘রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক' (Good Governance is important for countries at all stages of development)।

এছারাও,
• জাতিসংঘের আফ্রিকা অঞ্চলের বিশেষ উপদেষ্টা ইব্রাহিম গানবারি সুশাসনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে বলেছেন যে, ‘যে সমস্ত রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শুধুমাত্র সে সমস্ত দেশেই ঋণ মওকুফ করা হবে'।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১,২৮৭.
সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো-
  1. স্বজনপ্রীতি
  2. স্বেচ্ছাচারিতা
  3. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
  4. দুর্নীতি
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
- সুশাসন মানে হলো যথার্থরূপে শাসন বা ভালোভাবে শাসন।
- সুশাসনের পূর্বশর্ত হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
- এগুলো ব্যতীত দুর্নীতি রোধ করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না।
- অংশগ্রহণ ও ই-গভর্ন্যান্স সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা প্রভৃতি সুশাসনের অন্যতম অন্তরায়।
- বাংলাদেশে উন্নয়ন ও সুশাসনের বড় অন্তরায় রয়েছে দুর্নীতি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
          ii) সিপিডি।

১,২৮৮.
সরকার ও জনগণের win win game বলা হয় কোনটিকে?
  1. সুশাসন
  2. নৈতিকতা
  3. মূল্যবোধ
  4. উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন
ব্যাখ্যা

⇒ সুশাসনের ফলে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও জনগণের ‘Win Win Game' বলা হয়৷

সুশাসন:
- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা ।
- ‘সুশাসন' হলো একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন।
- সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়।
- সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে।
- সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয় ।
- মূলত ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব
হয় ।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ, ndicia24.com

১,২৮৯.
নিম্নোক্ত সংস্থাগুলোর মধ্যে কোনটি সুশাসনের সর্বোচ্চ সংখ্যক উপাদান বর্ণনা করেছে?
  1. জাতিসংঘ
  2. ইউএনডিপি
  3. বিশ্বব্যাংক
  4. জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন
সঠিক উত্তর:
ইউএনডিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউএনডিপি
ব্যাখ্যা
UNDP ও সুশাসন:
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”।
- UNDP ১৯৯৭ সালে 'স্থায়ী মানব উন্নয়নের জন্য শাসন' (Governance for Sustainable Human Development) শিরোনামে এর নীতি নথিতে সুশাসনের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে।
- এতে বলা হয়েছে- "কোন দেশের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কাজে। মধ্যে শাসনপ্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করা যায়।"

• UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি। এগুলো হলো:
- স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

অন্যদিকে,
- জাতিসংঘের মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৮টি।
- বিশ্বব্যাংকের এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৬টি।
- জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন বা UNHCR এর মতে, সুশাসনের মূল উপাদান ৫টি।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
১,২৯০.
সুশাসনের মূল চাবিকাঠি কোনটি?
  1. জবাবদিহিতা
  2. মূল্যবোধ
  3. নৈতিক চেতনা
  4. গণতান্ত্রিক সরকার
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা

সুশাসন :
- সুশাসনের মূল চাবিকাঠি হলো জবাবদিহিতা।
- সুশাসন নিশ্চিতকরণের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে জবাবদিহিতা।
- আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, পেশাগত জবাবদিহিতা, আইনগত জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা প্রভৃতি সুনিশ্চিত হলে দুর্বল ও
ভঙ্গুর শাসন ব্যবস্থার লক্ষণগুলো পর্যায়ক্রমে দূরীভূত হবে।
- সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
- আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধন সুনিশ্চিত।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,২৯১.
জাতীয় শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার কৌশল বাস্তবায়নের জন্য চিহ্নিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. নির্বাচন কমিশন
  2. জাতীয় সংসদ
  3. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
  4. দুর্নীতি দমন কমিশন
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
ব্যাখ্যা
শুদ্ধাচার:
- শুদ্ধাচারের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সমস্যা দূর করা যায়।
- শুদ্ধাচার বলতে সাধারণভাবে নৈতিকতা ও সততার দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে বোঝায়।
- ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচারের অর্থ হলো কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততা তথা চরিত্রনিষ্ঠা।
- রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো নাগরিক।
- নাগরিকগণ রাষ্ট্রের সকল কাজের অংশীদার।
- তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে নাগরিকদের শুদ্ধাচারের চর্চা করতে হবে।
- শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা পেলে দুর্নীতি হ্রাস, জনগণ অন্যায় কর্ম থেকে বিরত থাকবে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রিক অনাচার দূর হবে।

⇒ জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল:
- জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল হলো দুর্নীতি ঠেকাতে নাগরিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, এবং সততা নিশ্চিত করণে সরকার প্রণীত একটি সুশাসন কৌশল।
- স্লোগান: সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়।
- দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে।
- এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
- এই কৌশলে শুদ্ধাচার বলতে নৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষতাকে নির্দেশ করা হয়েছে।
- গ্রহণকারী: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

• শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান:
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, ২. জাতীয় সংসদ, ৩. বিচার বিভাগ, ৪. নির্বাচন কমিশন, ৫. অ্যাটর্নি জেনারেল, ৬. সরকারি কর্ম কমিশন, ৭. মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ৮. ন্যায়পাল, ৯. দুর্নীতি দমন কমিশন, ১০. স্থানীয় সরকার।

উল্লেখ্য,
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয় শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার কৌশল বাস্তবায়নের জন্য চিহ্নিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত নয়।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) তথ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
১,২৯২.
মূল্যবোধ দৃঢ় হয়-
  1. ধর্মের মাধ্যমে
  2. শিক্ষার মাধ্যম
  3. সুশাসনের মাধ্যমে
  4. গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার মাধ্যম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার মাধ্যম
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন। জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার। পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৯৩.
“Politics have no relation to morals.” - কার উক্তি?
  1. ক) Niccolo Machiavelli
  2. খ) John Locke
  3. গ) Thomas Hobbs
  4. ঘ) Edmund Burke
সঠিক উত্তর:
ক) Niccolo Machiavelli
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) Niccolo Machiavelli
ব্যাখ্যা
উল্লেখিত উক্তিটি Modern Political Philosophy -এর জনক Niccolo Machiavelli কর্তৃক প্রদত্ত। ম্যাকিয়াভ্যালি ইতালির নাগরিক। তার লেখা উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বই -
The Prince,
The Discourses,
The Art of War,
Selected Political Writings,
On Conspiracies ইত্যাদি।
১,২৯৪.
যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয় সেই শাসনব্যবস্থার নাম -
  1. ক) স্বৈরশাসন
  2. খ) অপশাসন
  3. গ) সুশাসন
  4. ঘ) আইনের শাসন
সঠিক উত্তর:
গ) সুশাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুশাসন
ব্যাখ্যা
 • সুশাসনের সংজ্ঞা:
»  সুশাসন সরকার পরিচালনা অপেক্ষা একটি বিস্তৃত ধারণা যা একটি নির্দিষ্ট ভূখন্ডে সামাজিক নিয়ম- শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহারের প্রশ্নে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকার সাথে বিশেষভাবে সম্পর্কিত।
 » সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণ শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন। 
 »  সুশাসন সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে জনগণের তথা রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৯৫.
প্রশাসনে স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ হয় কীসের মাধ্যমে?
  1. সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে
  2. শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে
  3. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে
  4. উন্নত জীবনযাপনের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রশাসনে স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ হয়।

বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার উপায়:

- বাংলাদেশে সুশাসনের ক্ষেত্রে অনেক অন্তরায় রয়েছে।
- দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, প্রশাসনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতা সম্পদের অপব্যবহার, শাসনরীতির অনিয়ম, প্রশাসনে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অভাব বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার স্বাভাবিক চিত্র।
- এ ক্ষেত্রে যদি সরকার সংসদকে কার্যকরি করার যথাযথ পদক্ষেপ নেয় এবং সংসদ তার কার্যকর ভূমিকা পালন করে তবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

⇒ সুশাসন নিশ্চিত করার উপায়:
- দুর্নীতি প্রতিরোধ: 
- জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ,
- গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ,
- স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা- নারীর ক্ষমতায়ন,
- এনজিওদের ভূমিকা পালনের সুযোগ সৃষ্টি,
- রাজনৈতিক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ,
- রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৯৬.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নয় কোনটি?
  1. আইনের শাসন
  2. দায়হীনতা
  3. পরমত সহিষ্ণুতা
  4. সচেতনাবোধ সৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
দায়হীনতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দায়হীনতা
ব্যাখ্যা
দায়হীনতা সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নয়।

সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ:

• পরমত সহিষ্ণুতা:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের একটি ভিত্তি হল পরমত সহিষ্ণুতা। নানা মত, নানা চিন্তায় বিভক্ত রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তিগুলো যদি পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এবং অপর পক্ষের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতায় সম্মত থাকে, তাহলে একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

• স্বচ্ছতা:
- রাষ্ট্রীয়, সরকারি কিংবা প্রশাসনিক কর্মকান্ডের স্বচ্ছতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ। এই মূল্যবোধের চর্চা সাধারণ জনগণের মধ্যে শাসনকারী কর্তৃপক্ষের ব্যাপারে আস্থার জন্ম দেয়, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জরুরি।

• আইনের শাসন:
- সমাজের প্রয়োজনেই আইনের সৃষ্টি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলেই সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব যা কেবলমাত্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মাধ্যমেই তৈরি হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ না থাকলে আইনের কোন মূল্যায়ন থাকে না। সেক্ষেত্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

• ন্যায়পরায়ণতা:
- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসসম্পন্ন ব্যক্তি সাধারণত ন্যায়পরায়ণ হয়। সমাজে এমন নাগরিকের সংখ্যা বেশি হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ত্বরান্বিত হয়। তাই একটি সমাজে বা রাষ্ট্রে ন্যায়পরায়ণতার বোধ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি।

• সচেতনাবোধ সৃষ্টি:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সচেতন নাগরিক একান্ত কাম্য। মানবিক গুনাবলী ও মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরাই সচেতন হয়ে থাকে। ফলে সরকার ও প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এছাড়াও কেবলমাত্র সচেতন ব্যক্তিরাই সুশাসন বিরোধী কর্মকান্ডের বিরোধীতা করতে পারে।

• দায়বদ্ধতা:
- নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের যেমন দায়বদ্ধতা আছে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকেরও দায়বদ্ধতা আছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি কেবলমাত্র অধিকার ভোগ করে না বরং রাষ্ট্রের প্রতি তার যে দায়িত্ব সেগুলোও ভালোভাবে পালন করে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্র ও নাগরিক উভয় পক্ষের দায়বদ্ধতা কাম্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৯৭.
সুশাসনের ইস্যু কীসের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে?
  1. রাষ্ট্র ও সমাজ
  2. অর্থনীতি
  3. শিক্ষা
  4. সংস্কৃতি
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্র ও সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্র ও সমাজ
ব্যাখ্যা

সুশাসন:
- সুশাসন প্রত্যয়টির ইংরেজি প্রতিশব্দ `Good Governance'। সুশাসনের কতকগুলি উপাদান রয়েছে। সেই উপাদানগুলির উপস্থিতি নিশ্চিত হলে একটি রাষ্ট্র সুশাসিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- একটি সুশাসিত রাষ্ট্রই পারে নাগরিকদের সর্বাঙ্গিন মঙ্গল ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে।

• সুশাসনের ইস্যু বলতে প্রতিকূলতা কে বুঝায়। সুশাসনের ইস্যু রাষ্ট্র ও সমাজভেদে আলাদা হতে পারে।
- বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এ ধরণের বিশেষ কয়েকটি ইস্যু রয়েছে। যেমন: দুর্নীতি, পরিবেশ দূষণ, অপরিকল্পিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া খাদ্যে ভেজাল, নারী নির্যাতন, জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাতে উপকূলীয় অঞ্চলসহ বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ এবং কৃষি জমির ক্ষতি সুশাসন প্রতিষ্ঠার অভিযানে এ ইস্যুগুলো ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এসব ইস্যুগুলো অবশ্যই মোকাবেলা করতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৯৮.
UNDP-এর মতে, সুশাসনের উপাদান কয়টি?
  1. ৬টি
  2. ৭টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
সঠিক উত্তর:
৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯টি
ব্যাখ্যা

UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”।
- এটি একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চাকে নির্দেশ করে, যেখানে অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা, কার্যকারিতা ও ন্যায়বিচারের মতো উপাদান গুরুত্ব পায়।

• UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি:
- স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। এবং UNDP ওয়েবসাইট।

১,২৯৯.
সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত?
  1. জনমনে ভীতি সৃষ্টি
  2. রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন
  3. আইনের শাসন উপেক্ষা
  4. নৈতিক মূল্যবোধের উপর গুরুত্ব
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধের উপর গুরুত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক মূল্যবোধের উপর গুরুত্ব
ব্যাখ্যা

সমাজ ও সুশাসন:
- সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে নৈতিক মূল্যবোধের উপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
- কারণ সুশাসন তখনই কার্যকর হয় যখন সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার, সততা, এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়।
- নৈতিক মূল্যবোধ মানুষকে সৎ, দায়িত্বশীল, এবং আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে সাহায্য করে, যা সমাজে একটি সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করে।
- এভাবে, সমাজে আইন ও ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধা বৃদ্ধি পায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়।

অন্যদিকে,
- আইনের শাসন উপেক্ষা, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বা জনমনে ভীতি সৃষ্টি সমাজে অস্থিতিশীলতা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, যা সুশাসনের মূল ধারণার পরিপন্থী।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩০০.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয় -
  1. সন্তানদের শিক্ষাদান
  2. স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা
  3. সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন
  4. আইন মান্য করা
সঠিক উত্তর:
স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের করণীয়:
→ সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সন্নিবেশ।
→ মত প্রকাশের স্বাধীনতা।
→ শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান।
→ দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা।
→ জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন।
→ দক্ষ ও কার্যকর সরকার।
→ জনসম্মতি।
→ সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
→ স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা।
→ একাধিক রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি।
 
তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।