বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

তরঙ্গ ও শব্দ

মোট প্রশ্ন২৫২এই পাতা৫০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

তরঙ্গ ও শব্দ

PrepBank · পাতা / · ২০১২৫০ / ২৫২

২০১.
20 Hz এর নিচের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে কী বলা হয়? 
  1. শব্দেতর তরঙ্গ 
  2. শব্দোত্তর তরঙ্গ 
  3. শ্রাব্য তরঙ্গ 
  4. আল্ট্রাসনিক তরঙ্গ 
সঠিক উত্তর:
শব্দেতর তরঙ্গ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দেতর তরঙ্গ 
ব্যাখ্যা

শ্রাব্যতার সীমা, শব্দেতর ও শব্দোত্তর তরঙ্গ: 
- শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন। 
- কিন্তু কম্পন হলেই শব্দ শোনা যাবে তা কিন্তু নয়। 
- মানুষের শ্রবণ যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা আছে। 
- মানুষ শ্রবণ ইন্দ্রিয় 20 Hz থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পারে। 
- তাই বলা হয় মানুষের শ্রাব্যতার সীমা 20 থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের মধ্যে। 
- 20 থেকে 20,000 Hz এই সীমার নিচের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় শব্দেতর তরঙ্গ এবং উপরের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় শব্দোত্তর তরঙ্গ। - অবশ্য সবার শ্রাব্যতার পাল্লা সমান নয়। 
- মানুষ ভেদে এর তারতম্য আছে। 
- কয়েকটি প্রাণীর গড় শ্রাব্যতার পাল্লা নিচের ছকে উল্লেখ করা হলো -


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২০২.
শব্দের প্রতিধ্বনি শোনার জন্য উৎস ও প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব কত মিটার? 
  1. ১৭.৬ মিটার
  2. ১৬.৬ মিটার
  3. ১৭.৮ মিটার
  4. ১৭.৯ মিটার
সঠিক উত্তর:
১৬.৬ মিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬.৬ মিটার
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। 
- অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
সুতরাং প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 

- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
- 0°C বা 273 K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব 0.3m বেশি হতে হবে। 
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m (0°C বা 273 K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৩.
শব্দের বেগের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. আদ্রতা বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়।
  2. শীতকালের চেয়ে বর্ষাকালে শব্দের বেগ বেশি হয়।
  3. শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩৩২ মিটার।
  4. পানিতে শব্দের বেগ বায়ু অপেক্ষা ৪.৫ গুন বেশি।
সঠিক উত্তর:
শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩৩২ মিটার।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩৩২ মিটার।
ব্যাখ্যা
• শব্দের বেগ:
- মাধ্যম ছাড়া শব্দ চলতে পারে না। তাই শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ ০।

- কঠিন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি যা ৫২২১ মি./সে,
- বায়বীয় মাধ্যমে সবচেয়ে কম যা ৩৩২ মি./সে।
- তরল মাধ্যমে শব্দের বেগ ১৪৫০ মি./সে।
- বাতাসের তুলনায় পানিতে শব্দের বেগ প্রায় চারগুন।
- বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। এই কারণে বর্ষাকালে জোরে শব্দ শোনা যায়।
- তাপমাত্রা বাড়লে মাধ্যমের ঘনত্ব কমে, ফলে শব্দের বেগ বাড়ে।
- শীতকালের চেয়ে বর্ষাকালে শব্দের বেগ বেশি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি  ও ব্রিটানিকা।
২০৪.
তরঙ্গস্থিত কোনো কণা একটি পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করতে যে সময় নেয়, তাকে ঐ তরঙ্গের কী বলে?
  1. স্পন্দন
  2. পর্যায়কাল 
  3. কম্পাঙ্ক
  4. দশা
সঠিক উত্তর:
পর্যায়কাল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্যায়কাল 
ব্যাখ্যা

• পর্যায়কাল (Time period):
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায় কাল বলে।
- পর্যায়কালকে T' দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- পর্যায়কালের একক সেকেন্ড (s)।

• পূর্ণ কম্পন বা স্পন্দন (Complete Vibration):
- তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণা কোন বিন্দু থেকে যাত্রা শুরু করে একই দিক থেকে পুনরায় ঐ বিন্দুতে ফিরে এলে তাকে একটি পূর্ণ স্পন্দন বলে।

• কম্পাঙ্ক (Frequency):
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে ঐ কণার বা তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে।
- কম্পাঙ্ককে সাধারণত f দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- কম্পাঙ্কের একক হার্জ, সংক্ষেপে লেখা হয় Hz।

• দশা (Phase):
- তরঙ্গ সঞ্চারকারী কোনো কণার যে কোনো মুহূর্তের গতির সম্যক অবস্থাকে তার দশা বলে।
- কোনো একটি মুহূর্তের গতির অবস্থা বলতে ঐ বিশেষ মুহূর্তে কণাটির সরণ, বেগ, ত্বরণ ইত্যাদি বুঝায়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০৫.
প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনির মধ্যে ন্যূনতম সময় ব্যবধান কত হতে হবে? 
  1. 0.1 সেকেন্ড 
  2. 0.01 সেকেন্ড
  3. 0.05 সেকেন্ড 
  4. 1.00 সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
0.1 সেকেন্ড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0.1 সেকেন্ড 
ব্যাখ্যা

- প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনির মধ্যে ন্যূনতম সময় ব্যবধান 0.1 সেকেন্ড হতে হবে, কারণ মানুষের কান দুটি শব্দকে আলাদাভাবে বোঝার জন্য কমপক্ষে এই সময়টুকু প্রয়োজন হয়; এর কম হলে শব্দ দুটি মিশে যাবে এবং প্রতিধ্বনি শোনা যাবে না। 

শব্দ: 

- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। 
- প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
সুতরাং প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 
- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি 332 ms-1। 
- 0°C বা 273 K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব 0.3 m বেশি হতে হবে। 
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m (0°C বা 273 K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০৬.
কোন মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি? 
  1. তরল মাধ্যমে 
  2. কঠিন মাধ্যমে 
  3. শূন্য মাধ্যমে 
  4. বায়বীয় মাধ্যমে 
সঠিক উত্তর:
কঠিন মাধ্যমে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঠিন মাধ্যমে 
ব্যাখ্যা

শব্দ তরঙ্গ: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
- কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক এক। 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন: ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। যেমন: পানি। 
- বায়বীয় পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম। 
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মতো তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
- অর্থাৎ তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২০৭.
সেকেন্ড দোলক হচ্ছে যে সরল দোলকের দোলনকাল- 
  1. এক সেকেন্ড
  2. দুই সেকেন্ড
  3. তিন সেকেন্ড
  4. চার সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
দুই সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
সরল দোলক: 
- একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকণাকে একটি ওজনহীন, নমনীয় ও অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে একটি উল্লম্ব তলে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে। 

সেকেন্ড দোলক: 
- যে দোলকের দোলনকাল দুই সেকেন্ড অর্থাৎ, দোলকের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যেতে এক সেকেন্ড সময় লাগে তাকে সেকেন্ড দোলক বলে। 

কার্যকরী দৈর্ঘ্য: 
- ঝুলন বিন্দু থেকে ববের ভারকেন্দ্র পর্যন্ত দূরত্বকে সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য বলে। 

সরল দোলন গতি: 
- যদি কোনো বস্তুর ত্বরণ একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে এর সরণের সমানুপাতিক এবং সর্বদা ঐ বিন্দু অভিমুখী হয়, তাহলে বস্তুর ঐ গতিকে সরল দোলন গতি বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (শাহজাহান তপন)।
২০৮.
নিচের কোনটি আলাদা?
  1. ক) শব্দ
  2. খ) মাটি
  3. গ) পানি
  4. ঘ) বাতাস
সঠিক উত্তর:
ক) শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শব্দ
ব্যাখ্যা

- যা ইন্দ্রিয় গ্রাহ্য, যা কিছু স্থান দখল করে, যার ওজন আছে এবং বল প্রয়োগের সাহায্যে যার স্থির বা গতিশীল অবস্থার পরিবর্তন করা যায়, তাকেই পদার্থ বলে। 
মাটি, পানি, বাতাস এরা সবাই পদার্থ। 
- যা কোনো স্থান দখল করে না, ওজন নেই, বল প্রয়োগের সাহায্যে অবস্থান পরিবর্তন করা যায় না, শুধু উপস্থিতি অনুভব করা যায় তাকে বলা হয় শক্তি। 
শব্দ, আলো, বিদ্যুৎ, তাপ ইত্যাদি হলো শক্তি। 

সূত্র: প্রাথমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, পঞ্চম শ্রেণি

২০৯.
জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনে সৃষ্ট তরঙ্গকে বলা হয়-
  1. বেতার তরঙ্গ
  2. যান্ত্রিক তরঙ্গ
  3. গামা রশ্মির তরঙ্গ
  4. তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ: 
- তরঙ্গ সৃষ্টির জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন হয়। 
- আর জড় মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের ফলে সৃষ্ট যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন ঐ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলো স্থানান্তরিত হয় না সেই পর্যাবৃত্ত আন্দোলনকে তরঙ্গ বলে। 

যান্ত্রিক তরঙ্গ: 
- জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলন ছাড়াও তরঙ্গ সৃষ্টি হতে পারে। 
- কিন্তু জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনে সৃষ্ট তরঙ্গকে বলা হয় যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
যেমন- পানির তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ, ভূমি কম্পনের ফলে সৃষ্ট ভূ-তরঙ্গ ইত্যাদি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 

যান্ত্রিক তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
১. মাধ্যমের কণার স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 
২. মাধ্যমের কণাগুলো সাম্য অবস্থান থেকে উপরে নিচে অথবা সামনে পেছনে স্পন্দিত হতে থাকে। মাধ্যমের মধ্য দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয় না। 
৩. তরঙ্গ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ বা স্থানান্তর করে। 
৪. তরঙ্গের কণাগুলো বিভিন্ন বেগে স্পন্দিত হয়। স্পন্দনের বেগ পর্যায়ক্রমে কমে বাড়ে। কিন্তু তরঙ্গ সুষম বেগে সঞ্চারিত হয়। অর্থাৎ কণাগুলোর স্পন্দন গতি এবং তরঙ্গ বেগ এক নয়। 
৫. তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণাগুলোর স্পন্দনের দিক এবং তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক এক নাও হতে পারে। 

তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ: 
- সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে মহাশূন্য, কোন জড় মাধ্যম নেই। 
- আলো, তাপ মাধ্যম ছাড়াই বিশেষ ধরনের তরঙ্গ আকারে সঞ্চারিত হয়, এ তরঙ্গকে বলা হয় তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ। 
যেমন- বেতার তরঙ্গ, এক্স রশ্মি, গামা রশ্মি, তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১০.
বিড়ালের শ্রাব্যতার উর্ধ্বসীমা কত?
  1. ক) 45000 Hz
  2. খ) 20000 Hz
  3. গ) 35000 Hz
  4. ঘ) 64000 Hz
সঠিক উত্তর:
ঘ) 64000 Hz
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) 64000 Hz
ব্যাখ্যা
মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লা ২০ Hz ∼ ২০,০০০ Hz
কুকুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ৪ Hz ∼ ৪৫,০০০ Hz
বিড়ালের শ্রাব্যতার পাল্লা ৪৫ Hz ∼ ৬৪,০০০ Hz
ইদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ১,০০০ Hz ∼ ৯১,০০০ Hz
বাদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ২,০০০ Hz ∼ ১১০,০০০ Hz

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২১১.
শব্দের প্রতিধ্বনি সৃষ্টি হওয়ার কারণ কী?
  1. প্রতিসরণ
  2. প্রতিফলন
  3. অপবর্তন
  4. শোষণ
সঠিক উত্তর:
প্রতিফলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিফলন
ব্যাখ্যা
- কোনো উৎস থেকে সৃষ্ট শব্দ যখন দূরবর্তী কোনো মাধ্যমে বাধা পেয়ে উৎসের কাছে ফিরে আসে তখন মূল ধ্বনির যে পুনরাবৃত্তি হয় তাকে শব্দের প্রতিধ্বনি বলে।
- অর্থাৎ, প্রতিফলিত শব্দকে বলা হয় প্রতিধ্বনি।
- শব্দের প্রতিধ্বনি শোনার জন্য উৎস ও প্রতিফলকের মধ্যবর্তী দূরত্ব ন্যূনতম ১৬.৬ মিটার হওয়া প্রয়োজন।
[- বায়ুতে শব্দের গতিবেগ সেকেন্ডে 1120 ফুট বা 332 মিটার হলে 1/10 সেকেন্ডে শব্দ 112 ফুট বা 33.2 মিটার পথ অতিক্রম করে।
- উৎস থেকে উৎপন্ন শব্দটি প্রতিফলিত হয়ে উৎসের কাছে ফিরে আসে, সুতরাং কোন শব্দের প্রতিধ্বনি স্পষ্ট করে শুনতে হলে প্রতিফলক এবং উৎসের দূরত্ব কমপক্ষে 112/2 = 56 ফুট বা 33.2/2 = 16.6 মিটার হওয়া দরকার।]
- শব্দের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে সমুদ্র ও কুয়ার গভীরতা নির্ণয় করা যায়।
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে।
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১২.
শব্দ তরঙ্গের তীব্রতা তার বিস্তারের-
  1. সমানুপাতিক
  2. বর্গের সমানুপাতিক
  3. ঘনের সমানুপাতিক
  4. বর্গের ব্যস্তানুপাতিক
সঠিক উত্তর:
বর্গের সমানুপাতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্গের সমানুপাতিক
ব্যাখ্যা
শব্দ তরঙ্গ (Sound Wave): 
- শব্দ তরঙ্গ তৈরি করতে তার একটা উৎসের দরকার, তা প্রবাহিত করার জন্য একটা মাধ্যমের দরকার এবং সেই শব্দ গ্রহণ করার জন্য কোনো এক ধরনের রিসিভার দরকার। 
যেমন- ইলেকট্রনিক স্পিকারে যে পাতলা ডায়াফ্রাম রয়েছে সেটিকে সুনির্দিষ্টভাবে কাঁপিয়ে শব্দ তৈরি করা হয়। স্কুলের ঘণ্টার মাঝে আঘাত করলে সেটি কাঁপতে শুরু করে শব্দ তৈরি করে, এবং তখন হাত দিয়ে সেটাকে চেপে ধরে কম্পন বন্ধ করে ফেললে সাথে সাথে শব্দও বন্ধ হয়ে যায়। গিটারের তারে টোকা দিলে সেটি কাঁপতে থাকে এবং শব্দ তৈরি করে। ল্যাবরেটরিতে সুর শলাকা দিয়ে নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করা যায়। 
- শব্দের কম্পাঙ্ক যদি 20 Hz থেকে 20,000 Hz (অর্থাৎ 20 kHz) এর মাঝখানে থাকে তাহলে সেই শব্দ শোনা যায়। 
(তবে কানে হেডফোন লাগিয়ে অবিরত গান শুনে কিংবা প্রচণ্ড শব্দদূষণে থাকলে অনেক সময় শোনার ক্ষমতা কমে যায়।) 
- শব্দের কম্পাঙ্ক 20 Hz থেকে কম হলে সেটাকে শব্দেতর বা ইনফ্রাসাউন্ড বলে এবং 20 kHz থেকে বেশি হলে সেটাকে শব্দোত্তর বা আলট্রাসাউন্ড বলে। 
- 20 Hz থেকে কম কিংবা 20 kHz থেকে বেশি কম্পাঙ্ক তৈরি করা হলে সেটি বাতাসে যে আলোড়ন সৃষ্টি করে তা শুনতে পাওয়া যায় না। এ ধরনের শব্দের অস্তিত্ব বুঝতে হলে বিশেষ ধরনের মাইক্রোফোন বা রিসিভার ব্যবহার করতে হবে। 

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ কারণ বস্তুকণার কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয়, এবং সেটি সঞ্চালনের জন্যও একটি স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- শব্দ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং মাধ্যমের কণার কম্পনের দিক এক। 
- শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। 
- বায়বীয় মাধ্যমে এর বেগ কম, তরলে তার চেয়ে বেশি, কঠিন পদার্থে আরো বেশি। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- অন্যান্য তরঙ্গের মতো, শব্দ তরঙ্গের তীব্রতাও তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, শব্দ তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয় এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হয়। 
- যেকোনো তরঙ্গের মতোই শব্দ তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ এবং উপরিপাতন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২১৩.
কোনটি মাধ্যমের কণাগুলোর সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে অগ্রসর হয়?
  1. আলোক তরঙ্গ
  2. বেতার তরঙ্গ
  3. শব্দ তরঙ্গ
  4. পানির তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
শব্দ তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দ তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
• অনুপ্রস্থ তরঙ্গ: যেসব তরঙ্গে কণাগুলোর কম্পনের দিক তরঙ্গ চলার দিকের সঙ্গে লম্বভাবে (সমকোণে) ঘটে, সেগুলোকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলা হয়।

এর বৈশিষ্ট্য হলো:
→কণাগুলো তরঙ্গ চলার দিকে উপর-নিচে বা ডান-বামে দুলে।
→তরঙ্গে শীর্ষ (crest) ও পাদ (trough) দেখা যায়। 
→এই তরঙ্গগুলো শূন্যস্থানেও চলতে পারে। 

উদাহারনঃ আলোর তরঙ্গ, বেতার তরঙ্গ, পানির তরঙ্গ। 

অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ: যেসব তরঙ্গে কণাগুলোর কম্পনের দিক তরঙ্গ চলার দিকের সাথে সমান্তরাল, সেগুলোকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে।কণাগুলো একই সরলরেখা বরাবর সামনের দিকে-পেছনের দিকে দুলে।
- তরঙ্গে সংকোচন (compression) ও প্রসারণ (rarefaction) হয়।
- এগুলো পরিবহনের জন্য সাধারণত মাধ্যম (বায়ু, জল, কঠিন পদার্থ) প্রয়োজন হয়।

উদাহারন: শব্দ তরঙ্গ, স্প্রিংয়ে সৃষ্ট কম্পন, ভূমিকম্পের প্রাথমিক তরঙ্গ 

• শব্দ তরঙ্গ হলো একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, যা সংকোচন ও প্রসারণ এর মাধ্যমে মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের ফলে ছড়ায়। এই তরঙ্গ অগ্রসর হতে কোনো না কোনো মাধ্যম (যেমন: বায়ু, জল, কঠিন পদার্থ) প্রয়োজন হয়।

শব্দ যেভাবে ছড়ায়:
-  যখন কোনো উৎস (যেমন: ঘণ্টা, স্পিকার) শব্দ সৃষ্টি করে, তখন তার চারপাশের বায়ুর কণাগুলো কম্পিত হয়।
-  কণাগুলো একে অপরকে ধাক্কা দিয়ে সংকোচন (কণাগুলো কাছাকাছি আসে) এবং প্রসারণ (কণাগুলো দূরে সরে যায়) সৃষ্টি করে।
-  এইভাবে একের পর এক সংকোচন-প্রসারণ তরঙ্গাকারে ছড়িয়ে পড়ে, যাকে আমরা শব্দ হিসেবে শুনি।

অন্যদিকে,
আলোক তরঙ্গ: এটি একটি তড়িৎ-চৌম্বক তরঙ্গ — এটি মাধ্যম ছাড়াই শূন্যে (vacuum) চলতে পারে।

বেতার তরঙ্গ (Radio wave): এটিও তড়িৎ-চৌম্বক তরঙ্গ, মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না।

পানির তরঙ্গ: এটি পৃষ্ঠতরঙ্গ (surface wave) — এটি কণার ওঠানামার মাধ্যমে ছড়ায়, সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে নয়।


তথ্যসূত্র: 
- ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান। 
- নবম-দশম শ্রেণি – পদার্থবিজ্ঞান।
২১৪.
একক সময়ে শব্দ যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে কী বলে?
  1. তরঙ্গদৈর্ঘ্য
  2. কম্পাঙ্ক
  3. শব্দের গতি
  4. শব্দ তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
শব্দের গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দের গতি
ব্যাখ্যা
• শব্দের গতি (Speed of Sound):
- শব্দের গতি (Speed of Sound) বলতে বোঝায় “এক সেকেন্ডে শব্দ যত দূরত্ব অতিক্রম করে।”
- এটি একটি ভৌত রাশি, যা সময় ও দূরত্বের উপর নির্ভর করে।
- সাধারণত শুষ্ক বায়ুতে শব্দের গতি ≈ 343 m/s (২০°C তাপমাত্রায়)।

অন্যদিকে,
- তরঙ্গদৈর্ঘ্য: এক কম্পাঙ্কের মধ্যে তরঙ্গ যতটা দূরত্ব অতিক্রম করে। এটি শব্দের "একটা অংশ"।
- কম্পাঙ্ক (Frequency): প্রতি সেকেন্ডে কতবার কণার দোলন হয়। এককে হার্টজ (Hz)।
- শব্দ তরঙ্গ: শব্দের একটি সামগ্রিক রূপ বা আকার; এটি কোনো নির্দিষ্ট পরিমাপ নয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
২১৫.
শব্দ সৃষ্টির প্রধান কারণ কী?
  1. বস্তুর কম্পন
  2. বস্তুর প্রসারণ
  3. মাধ্যমের প্রসারণ
  4. মাধ্যমের সংকোচন
সঠিক উত্তর:
বস্তুর কম্পন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তুর কম্পন
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- শব্দ এক প্রকার শক্তি।
- বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ সৃষ্টি হয়
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন।
- জড় মাধ্যমের মধ্যে কোন বস্তুর কম্পন হলে মাধ্যমের কণাগুলো আন্দোলিত হয়ে তরঙ্গের সৃষ্টি করে।
- এই তরঙ্গ জড় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সঞ্চালিত হয়ে কানে প্রবেশ করে।
- কানের মধ্যে বিভিন্ন যান্ত্রিক কৌশলের মাধ্যমে মস্তিষ্কে শব্দের অনুভূতি সৃষ্টি হয়, তাই শব্দ শুনতে পাওয়া যায়।

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ এক ধরনের তরঙ্গ এবং এর কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। 
যেমন- 
১. শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 
২. কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয়, অর্থাৎ শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন। 
৩. শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
৪. শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতি (ঘনত্ব, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ইত্যাদি)-এর ওপর নির্ভরশীল। 
৫. শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
৬. শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৬.
শব্দ তরঙ্গের গতি কোন মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি? 
  1. কঠিন 
  2. তরল 
  3. বায়ুবীয় 
  4. শূন্যস্থান 
সঠিক উত্তর:
কঠিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঠিন 
ব্যাখ্যা
শব্দ তরঙ্গ (Sound Wave): 
- শব্দ তরঙ্গ তৈরি করতে তার একটা উৎসের দরকার, সেটাকে প্রবাহিত করার জন্য একটা মাধ্যমের দরকার এবং সেই শব্দ গ্রহণ করার জন্য কোনো এক ধরনের রিসিভার দরকার। 
- পুরুষের গলার স্বর মোটা এবং নারী ও শিশুদের গলার স্বর তীক্ষ্ণ। যখন কোনো একটা শব্দ করা হয় তখন আমাদের ফুসফুস থেকে বাতাস গলা দিয়ে দিয়ে বের হয়ে আসে। আমাদের গলায় ও ফুসফুসে বাতাস ঢোকার জন্য এবং বের হওয়ার জন্য রয়েছে Wind pipe এর উপরে শব্দ সৃষ্টি করার জন্য রয়েছে স্বরযন্ত্র (Larynx)। সেখানে দুটো পর্দা ভালভের মতো কাজ করে, এই পর্দা দুটির নাম ভোকাল কর্ড (Vocal Cord)। বাতাস বের করার সময় এগুলো কাঁপতে পারে এবং শব্দ তৈরি করে। 
- বয়সের সাথে সাথে পুরুষের ভোকাল কর্ড শক্ত হয়ে যায়, নারীদেরটি কোমল থাকে। সে জন্য পুরুষেরা কম কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করে মেয়েরা বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করে। সে কারণে পুরুষের গলার স্বর মোটা, নারীর স্বর তীক্ষ্ণ। 

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ কারণ বস্তুকণার কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয়, এবং সেটি সঞ্চালনের জন্যও একটি স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- শব্দ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং মাধ্যমের কণার কম্পনের দিক এক। 
- শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। 
- বায়বীয় মাধ্যমে এর বেগ কম, তরলে তার চেয়ে বেশি, কঠিন পদার্থে আরো বেশি। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- অন্যান্য তরঙ্গের মতো, শব্দ তরঙ্গের তীব্রতাও তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, শব্দ তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয় এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হয়। 
- অন্যান্য যেকোনো তরঙ্গের মতোই শব্দ তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ এবং উপরিপাতন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২১৭.
শব্দের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে নিচের কোনটি নির্ণয় করা যায়?
  1. বস্তুর ভর
  2. তাপমাত্রা
  3. বৈদ্যুতিক রোধ
  4. সমুদ্রের গভীরতা
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের গভীরতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রের গভীরতা
ব্যাখ্যা

• শব্দের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা যায়।

• শব্দের প্রতিধ্বনি:
- কোনো উৎস থেকে উৎপন্ন শব্দ দূরবর্তী বাধায় প্রতিফলিত হয়ে উৎসের কাছে ফিরে এলে মূল ধ্বনির পুনরাবৃত্তিকে প্রতিধ্বনি বলে।
- এককথায়, প্রতিফলিত শব্দই প্রতিধ্বনি।
- প্রতিধ্বনি স্পষ্টভাবে শোনার জন্য উৎস ও প্রতিফলকের মধ্যবর্তী দূরত্ব কমপক্ষে ১৬.৬ মিটার হওয়া প্রয়োজন।

• প্রতিধ্বনির ব্যবহার:
- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়ে।
- কুয়ার গভীরতা নির্ণয়ে।
- দূরত্ব পরিমাপে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২১৮.
কোন মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি?
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. বায়বীয়
  4. শূন্য
সঠিক উত্তর:
কঠিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঠিন
ব্যাখ্যা
• কঠিন মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। 

• শব্দ:
- শব্দ হলো একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ (mechanical wave), যা কম্পনের মাধ্যমে উৎপন্ন হয় এবং মাধ্যমের (বায়ু, পানি, কঠিন পদার্থ) কণাগুলোর অনুনাদ বা কম্পনের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

• শব্দ শোনার জন্য শর্ত:
- একটি উৎস (source of vibration),
- একটি মাধ্যম (বায়ু, পানি, ইত্যাদি),
- একটি গ্রাহক (যেমন: কান)।

• মাধ্যমের ঘনত্ব যত বেশি শব্দের গতি তত বেশি হয়।
- কঠিন পদার্থের ঘনত্ব বেশি হওয়ায় কঠিন পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন- লোহাতে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি।
- তরল মাধ্যমে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের থেকে কম,
- বায়বীয় মাধ্যমে শব্দের বেগ তরল মাধ্যমের থেকে কম।
- শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য হয় কারণ শূন্য মাধ্যমে শব্দ পরিবহনের জন্য কোন কণা থাকে না।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২১৯.
What type of signal is transmitted through fiber optic cables?
  1. Radio signal
  2. Electrical signal
  3. Microwaves
  4. Optical signal
  5. Ultrasonic waves
সঠিক উত্তর:
Optical signal
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Optical signal
ব্যাখ্যা

• ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে আলোক সংকেত (Optical signal) প্রেরণ করা হয়। 

• ফাইবার অপটিক্স:
- ফাইবার অপটিক্স একটি অত্যাধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি যার ফলে আলোক সংকেতের মাধ্যমে তথ্য পাঠানো যায়।
- এতে প্লাস্টিক বা কাঁচের তৈরি পাতলা তন্তুর (fiber) মাধ্যমে আলো পাঠানো হয়।
- এটি আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ধর্ম ব্যবহার করে দীর্ঘ দূরত্বে তথ্য বহন করে। 

• ফাইবার অপটিক প্রযুক্তির কার্যপ্রণালী:
- তথ্য প্রথমে ডিজিটাল সংকেতে রূপান্তর করা হয়।
- এরপর সেই সংকেতকে আলোক সংকেতে রূপান্তর করা হয়।
- আলোক সংকেতকে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের মধ্য দিয়ে পাঠানো হয়।
- গন্তব্যে পৌঁছে আলোক সংকেত আবার ডিজিটাল তথ্য হিসেবে রূপান্তরিত হয়।

অন্যান্য অপশন:
- Radio signal: ওয়্যারলেস যোগাযোগে (রেডিও, Wi-Fi, মোবাইল) ব্যবহৃত হয়, ফাইবারে নয়।
- Electrical signal: কপার তার (twisted pair, coaxial) দিয়ে প্রেরণ করা হয়।
- Microwaves: মাইক্রোওয়েভ লিঙ্ক, স্যাটেলাইট যোগাযোগে ব্যবহৃত হয়, ফাইবারে নয়।
- Ultrasonic waves: শব্দ তরঙ্গ (ultrasound), যা মেডিকেল ইমেজিং বা sonar-এ ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা। 
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ০ ১০ম শ্রেণি।

২২০.
ত্রিমাত্রিক সিসমিক সার্ভেতে ব্যবহার হওয়া রিসিভারের নাম কী?
  1. মাইক্রোফোন
  2. আলট্রাসাউন্ড ট্রান্সডিউসার
  3. জিওফোন 
  4. সিসমিক রিসিভার
সঠিক উত্তর:
জিওফোন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিওফোন 
ব্যাখ্যা

- ত্রিমাত্রিক (3D) সিসমিক সার্ভেতে মাটির নিচে প্রতিফলিত শব্দ তরঙ্গ বা কম্পন শনাক্ত করার জন্য প্রধানত জিওফোন (Geophone) ব্যবহার করা হয়। এটি যান্ত্রিক কম্পনকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে। 

শব্দের ব্যবহার: 
- শব্দের প্রচলিত ব্যবহারের কথা নিশ্চয়ই কাউকে আলাদা করে বলতে হবে না। 
যেমন- কথা বলা, গান শুনা, হৃৎস্পন্দন শোনা, যন্ত্রপাতির শব্দ শোনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে শব্দের ব্যবহার হয়। শব্দ ব্যবহার করে বৈজ্ঞানিকভাবে নবজাতককে গর্ভের ভিতর থেকে দেখা সম্ভব; এই প্রক্রিয়াকে আলট্রাসনোগ্রাফি বলা হয়। 

১। ত্রিমাত্রিক সিসমিক সার্ভে (3D Seismic Survey): 
- মাটির নিচে গ্যাস বা তেল আছে কি না দেখার জন্য সিসমিক সার্ভে করা হয়। এটি করার জন্য মাটির খানিকটা নিচে ছোট বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, বিস্ফোরণের শব্দ মাটির নিচের বিভিন্ন স্তরে প্রতিফলিত হয়ে উপরে ফিরে আসে। 
- জিওফোন (Geophone) নামে বিশেষ এক ধরনের রিসিভারে সেই প্রতিফলিত তরঙ্গকে ধারণ (Detect) করা হয়। 
- সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে মাটির নিচের নিখুঁত ত্রিমাত্রিক ছবি বের করে, কোথায় গ্যাস বা কোথায় তেল আছে তা বের করা যায়। শব্দের উৎসটি কোথায় আছে এবং জিওফোনগুলো কোথায় আছে দুটিই জানা থাকার কারণে উৎস থেকে জিওফোনে শব্দ আসতে কতটুকু সময় লেগেছে জানতে পারলেই বিভিন্ন স্তরের দূরত্ব নিখুঁতভাবে বের করা যায়। 

২। আলট্রাসাউন্ড ক্লিনার: 
- ল্যাবরেটরিতে যখন ছোটখাটো যন্ত্রপাতি নিখুঁতভাবে পরিষ্কার করতে হয়, তখন আলট্রাসাউন্ড ক্লিনার ব্যবহার করা হয়। এখানে কোনো একটি তরলে ছোটখাটো যন্ত্রপাতি ডুবিয়ে রেখে তার ভেতর আলট্রাসাউন্ড প্রবাহিত করা হয়, এবং তার কম্পনে যন্ত্রপাতির সব ময়লা বের হয়ে আসে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২২১.
কোন মাধ্যমের মাধ্যমে শব্দ অতিক্রম করতে পারে না? 
  1. বায়ু 
  2. শূন্য
  3. পানি
  4. ইস্পাত
সঠিক উত্তর:
শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য
ব্যাখ্যা

 - শূন্য মাধ্যমের মাধ্যমে শব্দ অতিক্রম করতে পারে না। 

শব্দের বেগ: 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি হয়। 
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
- তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। 
- শব্দের বেগ কঠিন পদার্থে সবচেয়ে বেশি (যেমন- ইস্পাত, লোহা) হয়। 
- তরল পদার্থের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম (যেমন- পানি) হয়। 
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে কম। 
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২২২.
কোন মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি?
  1. শূন্যতা
  2. লোহা
  3. পানি
  4. বাতাস
সঠিক উত্তর:
লোহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহা
ব্যাখ্যা

লোহায় (কঠিনে) শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি।

শব্দ তরঙ্গ:
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়।
- এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক এক।
- কঠিন পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন: ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি।
তরল পদার্থে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। যেমন: পানি।
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে কম।
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য।
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে।
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মতো তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক।
- অর্থাৎ তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি (বোর্ড বই)।

২২৩.
উৎসের বিস্তার এবং শব্দের তীব্রতার সম্পর্ক কী?
  1. I ∝ A
  2. I ∝ A2
  3. I ∝ 1/A
  4. I ∝ √A
সঠিক উত্তর:
I ∝ A2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
I ∝ A2
ব্যাখ্যা

শব্দের তীব্রতা:
- শব্দ এক প্রকার তরঙ্গ।
- শব্দের তীব্রতা বলতে বুঝি, শব্দ সঞ্চালনের পথে লম্বভাবে অবস্থিত একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রবাহিত শব্দ শক্তির পরিমাণ।
- শব্দের তীব্রতা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর উপর নির্ভর করে-
১। উৎসের বিস্তার:
- শব্দ সৃষ্টিকারী বস্তুর কম্পনের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয়।
- শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক।
- শব্দের তীব্রতা I এবং বিস্তার A হলে, I ∝ A2.

২। উৎসের আকার:
- উৎসের আকার বড় হলে শব্দ তরঙ্গ বেশি পরিমাণ শক্তি সঞ্চালিত রতে পারে ফলে তীব্রতা বেড়ে যায়।

৩। উৎস থেকে শ্রোতার দূরত্ব:
- উৎস ও শ্রোতার মধ্যবর্তী দূরত্ব যতো বাড়বে শব্দের তীব্রতা ততো কমে যাবে কারণ বেশি দূরত্ব অতিক্রম করার ফলে শব্দ তরঙ্গের শক্তি কমে যায়।
- তীব্রতা দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।
- যদি তীব্রতা এবং দূরত্ব r হয় তাহলে, I ∝ 1/r2.

৪। মাধ্যমের ঘনত্ব:
- যে মাধ্যমের মধ্য দিয়ে শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালিত হবে তার ঘনত্ব বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয়।

৫। মাধ্যমের বেগ:
- মাধ্যমের বেগের দিকে শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালিত হলে শব্দের তীব্রতা বেড়ে যায় এবং বিপরীত দিকে সঞ্চালিত হলে শব্দের তীব্রতা কমে যায়।

৬। অনুনাদী বস্তুর উপস্থিতি:
- উৎসের কাছে কোনো অনুনাদী বস্তু থাকলে শব্দের তীব্রতা বেড়ে যায়।
- একটি সুরশলাকাকে বাতাসে স্পন্দিত করলে যে শব্দ উৎপন্ন হয় টেবিল বা কোনো ফাঁপা কাঠের বাক্সের সাথে লাগিয়ে স্পন্দিত করলে শব্দের তীব্রতা অনেক বেড়ে যায়।
- এক্ষেত্রে বেশি আয়তনের বায়ু কম্পিত হয় বলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।

২২৪.
শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল কত? 
  1. ১.০ সেকেন্ড
  2. ০.৫ সেকেন্ড
  3. ০.১ সেকেন্ড
  4. ০.০১ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
০.১ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.১ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল: 
- কোনো শব্দ শোনার পর প্রায় ০.১ সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
অর্থাৎ, এই ০.১ সেকেন্ড সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। 
- অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
সুতরাং, প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৫.
হাট বাজারে শব্দের তীব্রতা লেভেল সাধারণত কত ধরা হয়? 
  1. ৭০ ডেসিবল 
  2. ৪০ ডেসিবল 
  3. ৩০ ডেসিবল 
  4. ৫০ ডেসিবল 
সঠিক উত্তর:
৭০ ডেসিবল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭০ ডেসিবল 
ব্যাখ্যা

- হাট বাজারে শব্দের তীব্রতার স্তর বা শব্দের তীব্রতা লেভেল হচ্ছে ৭০ ডেসিবল। 

শব্দের তীব্রতা: 
- শব্দের তীব্রতা হচ্ছে একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত শব্দ শক্তির পরিমাণ। 
- সাধারণ ক্ষেত্রে বাতাসের মধ্যে শ্রোতার অবস্থানের সাপেক্ষে তীব্রতা পরিমাপ করা হয়। 
- শব্দের তীব্রতার মূল একক Wm-2  । 
- শব্দের তীব্রতা ও পরিমাপ আপেক্ষিক শ্রাব্যতার সর্বনিম্ন ধাপ থেকে শুরু হয়। 
- এই সর্বনিম্ন তীব্রতাকে বলা হয় প্রমিত বা প্রমাণ তীব্রতা যার মান 10-12 Wm-2 কে বেছে নেয়া হয়েছে। 
- এটি হচ্ছে 1000Hz কম্পাঙ্কের একটি শব্দ তরঙ্গের তীব্রতা যাকে শ্রাব্যতার সূচনা সীমা (threshold of audibility) হিসাবেও ধরা হয়।


উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৬.
একটি তরঙ্গের ক্ষেত্রে যদি মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিক এবং তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক পরস্পর লম্ব হয়, তবে সেই তরঙ্গটি কোন ধরনের?
  1. অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
  2. যান্ত্রিক তরঙ্গ
  3. অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
  4. তাপ তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

• অনুপ্রস্থ তরঙ্গ হলো সেই তরঙ্গ, যেখানে মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিক ও তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক পরস্পর লম্ব।

• অনুপ্রস্থ তরঙ্গ:
- যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে অগ্রসর হয় তাকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে।
- পানিতে তরঙ্গ সৃষ্টি হলে পানির কণাগুলো উপরে-নিচে ওঠানামা করে, কিন্তু তরঙ্গ সামনের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- অনুপ্রস্থ তরঙ্গে তরঙ্গ শীর্ষ ও তরঙ্গ পাদ গঠিত হয়।
- পরপর দুটি তরঙ্গ শীর্ষ অথবা দুটি তরঙ্গ পাদের মধ্যবর্তী দূরত্বকে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বলা হয়।
- আলো তরঙ্গ, বেতার তরঙ্গ ও পানির তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গের উদাহরণ।

• অনুপ্রস্থ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য:
- মাধ্যমের কণাগুলো সাম্য অবস্থান থেকে উপরে-নিচে স্পন্দিত হয়।
- কণার স্পন্দনের দিক ও তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক পরস্পর লম্ব।
- তরঙ্গ শক্তি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালন করে, কিন্তু কণাগুলো স্থানান্তরিত হয় না।

• অন্যান্য অপশন:
- অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ: যে তরঙ্গে কণার স্পন্দনের দিক ও তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক সমান্তরাল হয়।
- যান্ত্রিক তরঙ্গ: যে তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- তাপ তরঙ্গ: সূর্য থেকে তাপ শক্তি তরঙ্গ আকারে সঞ্চালিত হয়, যা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

২২৭.
নিচের প্রাণীগুলোর মধ্যে কোনটি সবচেয়ে বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পারে?
  1. মানুষ
  2. বিড়াল
  3. কুকুর
  4. বাদুড়
সঠিক উত্তর:
বাদুড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাদুড়
ব্যাখ্যা


সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৮.
তরঙ্গ সঞ্চালনের সময় কোনো কণার একটি পূর্ণ কম্পন (স্পন্দন) সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে, তাকে কী বলে?
  1. কম্পাঙ্ক
  2. পর্যায়কাল
  3. বিস্তার
  4. তরঙ্গ দৈর্ঘ্য
সঠিক উত্তর:
পর্যায়কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্যায়কাল
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ: 
- জড় মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের ফলে সৃষ্ট যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন ঐ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চালিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলো স্থানান্তরিত হয় না সেই পর্যাবৃত্ত আন্দোলনকে তরঙ্গ বলে। 

তরঙ্গ দৈর্ঘ্য: 
- তরঙ্গ সঞ্চারকারী কোনো কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন হতে যে সময় লাগে, সেই সময়ে তরঙ্গ যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বলে। 
- তরঙ্গের উপর পরপর দুটি সমদশা সম্পন্ন কণার মধ্যবর্তী দূরত্বই তরঙ্গ দৈর্ঘ্য। 
- তরঙ্গ দৈর্ঘ্যকে গ্রীক বর্ণ λ (ল্যামডা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- পর পর দুটি তরঙ্গ শীর্ষ বা পরপর দুটি তরঙ্গ পাদের মধ্যবর্তী দূরত্বও একটি তরঙ্গ দৈর্ঘ্য। 

তরঙ্গ শীর্ষ ও তরঙ্গ পাদ: 
- তরঙ্গের সাম্যাবস্থান থেকে সর্বোচ্চ (ধনাত্মক) বিস্তারের বিন্দুটিকে তরঙ্গ শীর্ষ এবং সর্বনিম্ন (ঋণাত্মক) বিস্তারের বিন্দুটিকে তরঙ্গ পাদ বলা হয়। 
- অসংখ্য তরঙ্গ পাদ এবং তরঙ্গ শীর্ষ নিয়ে তরঙ্গ সৃষ্টি হয়। 

তরঙ্গ বেগ: 
- তরঙ্গ নির্দিষ্ট দিকে একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে ঐ তরঙ্গের বেগ বা সংক্ষেপে তরঙ্গ বেগ বলে। 
- তরঙ্গ বেগকে v দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 

পর্যায়কাল: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোন কণার একটি স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায়কাল বলে। 
- পর্যায়কালকে T অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। পর্যায়কালের একক সেকেন্ড (s)। 

কম্পাঙ্ক: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে ঐ কণার বা তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে। 
- কম্পাঙ্ককে সাধারণত ƒ দ্বারা প্রকাশ করা হয়। কম্পাঙ্কের একক হার্জ (Hz)। 

বিস্তার: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে যে কোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গের বিস্তার বলে। 

দশা: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণার যে কোনো মুহূর্তের গতির সম্যক অবস্থানকে তার দশা বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৯.
তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি বৃদ্ধি পেলে বাতাসে শব্দের বেগ কতটুকু বৃদ্ধি পায়?
  1. ক) ০.৩১ মিটার/সেকেন্ড
  2. খ) ০.৬০ মিটার/সেকেন্ড
  3. গ) ১.০ মিটার/সেকেন্ড
  4. ঘ) ০.৫ মিটার/সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
খ) ০.৬০ মিটার/সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ০.৬০ মিটার/সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের বেগও বাড়ে।
যেমন, পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস (0°) তাপমাত্রায় বাতাসে শব্দের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩৩১ মিটার।
কিন্তু প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে এর বেগ ০.৬ মিটার বৃদ্ধি পাবে।
শব্দের বেগ মাধ্যমের ঘনত্বের উপরও নির্ভর করে। যে মাধ্যমের ঘনত্ব বেশি সে মাধ্যমে শব্দের বেগও বেশি। ফলে পানিতে শব্দের বেগ ১৪৪০ মিটার/সেকেন্ড। কঠিন পদার্থ যেমন কাঠের মধ্যে শব্দের বেগ বায়ু অপেক্ষা ১২ গুণ বেশি। ইস্পাতে শব্দের বেগ বায়ুর চেয়ে ১৫ গুণ বেশি। সহজ কথায়, যে পদার্থের ঘনত্ব বেশি সে পদার্থে শব্দের বেগও বেশি।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।
২৩০.
পানিতে শব্দের বেগ কত?
  1. ক) 920 ms-1
  2. খ) 790 ms-1
  3. গ) 1140 ms-1
  4. ঘ) 1493 ms-1
সঠিক উত্তর:
ঘ) 1493 ms-1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) 1493 ms-1
ব্যাখ্যা

বাতাসের চেয়ে তরল পদার্থে শব্দের বেগ বেশি।
তরলের চেয়ে কঠিন পদার্থে শব্দের বেগ বেশি।
বাতাসে শব্দের বেগ ৩৩০ মি/সে,
পানিতে ১৪৯৩ মি/সে,
লােহাতে ৫১৩০ মি/সে এবং
হীরায় শব্দের বেগ ১২,০০০ মি/সে।
উৎসঃ নবম দশম শ্রেণীর পদার্থজ্ঞান বই, পৃষ্ঠা নং ২০৩

২৩১.
নিচের কোন মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম? 
  1. শূন্য মাধ্যমে
  2. পানি মাধ্যমে 
  3. বায়ু মাধ্যমে 
  4. কঠিন মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
বায়ু মাধ্যমে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়ু মাধ্যমে 
ব্যাখ্যা
• শব্দের গতি বা দ্রুতি:
- শব্দ প্রতি সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে শব্দের গতি বা দ্রুতি বলে।
- কঠিন মাধ্যমে (যেমন- ইস্পাত, লোহা) শব্দ সবচেয়ে দ্রুত চলে।
- তরল মাধ্যমে (যেমন- পানি) তার চেয়ে ধীরে চলে।
- বায়বীয় মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম।
- শূন্য মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি শূন্য। এ মাধ্যমে শব্দের কোনো অস্তিত্ব নেই। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩২.
যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার-
  1. প্রতিসরণ তত কম
  2. বিচ্যুতি তত কম
  3. বিক্ষেপণ তত কম
  4. সবগুলোই সঠিক
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই সঠিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই সঠিক
ব্যাখ্যা

তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালি:
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ।
- দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসর 4 × 10 - 7 মিটার থেকে 7 × 10- 7 মিটার।
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়।
এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়।
- এদের মধ্যে বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম এবং লাল আলোর সবচেয়ে বেশি।
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম।
- দৃশ্যমান আলোর স্পেকট্রামে লাল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।
- দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের কারণে লাল আলো কম বিক্ষিপ্ত হয় এবং বস্তুর পৃষ্ঠ থেকে সহজে প্রতিফলিত হয়।
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশি।
- আর লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৩.
প্রতি ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতির কী রকম পরিবর্তন হয়?
  1. 1.0 মিটার/ সেকেন্ড বাড়ে
  2. 0.8 মিটার/ সেকেন্ড কমে
  3. 0.6 মিটার/ সেকেন্ড বাড়ে
  4. একই থাকে
সঠিক উত্তর:
0.6 মিটার/ সেকেন্ড বাড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0.6 মিটার/ সেকেন্ড বাড়ে
ব্যাখ্যা
শব্দ:
• শব্দ এক প্রকার শক্তি যা অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গরূপে কানে পৌঁছে শ্রবণের অনুভূতি জন্মায়।
• বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়, বস্তুর কম্পন থেমে গেলে শব্দ তরঙ্গ থেমে যায়।

শব্দের বেগের পরিবর্তন: 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, আলোর দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3×108 ms-1 
- কিন্তু শব্দের দ্রুতি সবসময় সমান নয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1 ( মিটার/ সেকেন্ড)। 
- তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতি 1°C বা 1 K তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6 ms-1 পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়। 
- মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়। 

যেমন- 
• বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
• পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং 
• লোহার মধ্যে 5220ms-1। 

- বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি। 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি। 
- বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৪.
শব্দ কীভাবে সৃষ্টি হয়?
  1. চৌম্বক ক্ষেত্রের মাধ্যমে
  2. বস্তুর কম্পনের মাধ্যমে
  3. তাপ উৎপাদনের মাধ্যমে
  4. আলো নির্গমনের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
বস্তুর কম্পনের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তুর কম্পনের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

- শব্দ হলো এক প্রকার শক্তি যা কোনো বস্তুর দ্রুত কম্পনের ফলে সৃষ্টি হয়। যখন কোনো বস্তু কম্পিত হয়, তখন তা তার চারপাশের মাধ্যমের (যেমন- বাতাস, পানি বা কঠিন পদার্থ) কণাগুলোকে আন্দোলিত করে। এই আন্দোলন তরঙ্গ আকারে আমাদের কানে পৌঁছালে আমরা শব্দ শুনতে পাই। কম্পন যত দীর্ঘস্থায়ী হয়, শব্দও ততক্ষণ শোনা যায়। 

শব্দ: 
- শব্দ এক প্রকার শক্তি।
- বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ সৃষ্টি হয়।
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন।
- জড় মাধ্যমের মধ্যে কোন বস্তুর কম্পন হলে মাধ্যমের কণাগুলো আন্দোলিত হয়ে তরঙ্গের সৃষ্টি করে।
- এই তরঙ্গ জড় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সঞ্চালিত হয়ে কানে প্রবেশ করে।
- কানের মধ্যে বিভিন্ন যান্ত্রিক কৌশলের মাধ্যমে মস্তিষ্কে শব্দের অনুভূতি সৃষ্টি হয়, তাই শব্দ শুনতে পাওয়া যায়।

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ এক ধরনের তরঙ্গ এবং এর কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। 
যেমন- 
১. শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 
২. কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয়, অর্থাৎ শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন। 
৩. শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
৪. শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতি (ঘনত্ব, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ইত্যাদি)-এর ওপর নির্ভরশীল। 
৫. শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
৬. শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৫.
রেলওয়ে স্টেশনে আগমনরত ইঞ্জিনে বাঁশি বাজাতে থাকলে প্লাটফরমে দাঁড়ানো ব্যক্তির কাছে বাঁশির কম্পনাঙ্ক- 
  1. আসলের সমান হবে
  2. আসলের চেয়ে বেশি হবে
  3. আসলের চেয়ে কম হবে
  4. আসল গতির সাথে সম্পর্কযুক্তভাবে কমে যাবে
সঠিক উত্তর:
আসলের চেয়ে বেশি হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আসলের চেয়ে বেশি হবে
ব্যাখ্যা
- রেলওয়ে ষ্টেশনে আগমনরত ইঞ্জিনে বাঁশি বাজাতে থাকলে প্লাটফরমে দাঁড়ানো ব্যক্তির কাছে বাঁশির কম্পনাঙ্ক আসলের চেয়ে বেশি হবে। 
- শব্দের উৎস থেকে কম্পাঙ্ক যেদিকে যায়, শব্দের উৎস তথা ট্রেন সেদিকেই এগোতে থাকলে কম্পাঙ্কের ঘনত্ব বাড়ে, এতে শব্দের তীব্রতা বাড়ে। 
- এই ঘটনা ডপলার অ্যাফেক্ট দ্বারা বর্ণনা করা যায়। 
- শব্দের উৎস এবং শ্রোতার মধ্যে আপেক্ষিক গতির ফলে শ্রুত শব্দের কম্পাঙ্কের যে আপাত পরিবর্তন হয় তাকে ডপলার ক্রিয়া বলে। 
- ডপলার ক্রিয়া শব্দ বিজ্ঞানের অন্যতম একটি আলোচ্য বিষয়। 
- ১৮৪২ সালে অস্ট্রিয়ার পদার্থবিদ ডপলার এ সূত্র প্রদান করেন। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
২৩৬.
কোন শব্দ শোনার পর কত সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ মস্তিষ্কে থাকে? 
  1. ১.১ সেকেন্ড
  2. ১.০ সেকেন্ড
  3. ০.১ সেকেন্ড
  4. ০.৫ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
০.১ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.১ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
সুতরাং, প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 

- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
- 0°C বা 273 K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব 0.3 m বেশি হতে হবে। 
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো- শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m (0°C বা 273 K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৭.
সরল ছন্দিত স্পন্দনের বৈশিষ্ট্য কোনটি ভুল? 
  1. এটি সরল রৈখিক গতি
  2. ত্বরণ সর্বদা সাম্যাবস্থান অভিমুখী
  3. এটি পর্যাবৃত্ত গতি
  4. ত্বরণ সরণের মানের বিপরীত দিকের হতে পারে
সঠিক উত্তর:
ত্বরণ সরণের মানের বিপরীত দিকের হতে পারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্বরণ সরণের মানের বিপরীত দিকের হতে পারে
ব্যাখ্যা
- ত্বরণ সরণের মানের বিপরীত দিকের হতে পারে এটি ভুল, কারণ এটি সব সময় সাম্যাবস্থান অভিমুখী। 
অর্থাৎ, ত্বরণ সরণের দিকের বিপরীত হতে পারে, কিন্তু “মানের বিপরীত” বলতে কিছু নেই। মান (magnitude) সবসময় ধনাত্মক বা শূন্য হয়। 

সরল ছন্দিত স্পন্দন: 
- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি সরল রৈখিক হয় এবং এর ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে এর সরণের সমানুপাতিক হয় এবং এর দিক সব সময় সাম্য অবস্থান অভিমুখী হয়, তা হলে বস্তু কণার ঐ গতিকে সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন বলে। 
যেমন- 
• কোন স্প্রিং এর এক প্রান্ত দৃঢ় কোন অবস্থানে বেঁধে অন্য প্রান্তে একটি ভারী বস্তু ঝুলিয়ে টেনে ছেড়ে দিলে তার উপর-নিচে গতি। 
• তারের বাদ্যযন্ত্র- যেমন গিটারের তার টেনে ছেড়ে দিলে তার গতি। 
• পেন্ডুলামের গতি, ইঞ্জিনের মধ্যে পিস্টনের গতি ইত্যাদি। 

সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য: 
১. এটি পর্যাবৃত্ত গতি। 
২. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি। 
৩. এটি সরল রৈখিক গতি। 
৪. যে কোন সময় ত্বরণের মান সাম্যাবস্থান থেকে সরণের মানের সমানুপাতিক। 
৫. ত্বরণ সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৮.
প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনির মধ্যে ন্যূনতম সময় ব্যবধান কত হতে হবে? 
  1. 0.1 সেকেন্ড 
  2. 0.05 সেকেন্ড
  3. 0.01 সেকেন্ড
  4. 0.001 সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
0.1 সেকেন্ড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0.1 সেকেন্ড 
ব্যাখ্যা

শব্দ: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। 
- প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
সুতরাং প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 

- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি 332 ms-1। 
- 0°C বা 273 K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব 0.3 m বেশি হতে হবে। 
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m (0°C বা 273 K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৯.
কোন ধরনের মাধ্যম শব্দ তরঙ্গকে বহন করতে পারে না?
  1. কঠিন মাধ্যমে
  2. তরল মাধ্যমে
  3. শূন্য মাধ্যমে
  4. বায়ু মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
শূন্য মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

• শব্দ তরঙ্গ হলো কণার কম্পন থেকে উৎপন্ন সংকেত, যা কণার মাধ্যমে সংক্রমণ ঘটে। শব্দের জন্য কোনো মাধ্যমের কণা থাকা আবশ্যক। কঠিন, তরল এবং বায়ুর কণার উপস্থিতি থাকায় শব্দ এগুলোতে চলতে পারে। কিন্তু শূন্য বা ভ্যাকুয়ামে কণা নেই, তাই শব্দের জন্য কোন মাধ্যম নেই এবং শব্দ তরঙ্গ শূন্যে চলতে পারে না। সুতরাং, শূন্য মাধ্যম শব্দ বহন করতে অক্ষম।

শব্দ তরঙ্গ:
- বস্তু একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয়। 
- তরঙ্গ চলাচলের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- শব্দ তরঙ্গ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গ প্রবাহের দিক ও কম্পনের দিক একই। 
- সব তরঙ্গই শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ করে। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৪০.
পরপর দুটি সুস্পন্দ বিন্দুর বা দুটি নিস্পন্দ বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্ব কত?
  1. তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অর্ধেক 
  2. তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সমান 
  3. তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তিনগুণ
  4. তরঙ্গদৈর্ঘ্যের চতুর্থাংশ
সঠিক উত্তর:
তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অর্ধেক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অর্ধেক 
ব্যাখ্যা

স্থির তরঙ্গ: 
- একই রকম দুটি অগ্রগামী তরঙ্গ বিপরীত দিক থেকে সমভাবে অগ্রসর হয়ে একে অপরের উপর আপতিত হলে যে তরঙ্গের উদ্ভব হয় তাকে স্থির তরঙ্গ বলে।
- একটি তারের বা মোটা দড়ির এক প্রান্ত একটি দৃঢ় অবলম্বনে বেঁধে অন্য প্রান্ত ধরে উপর নিচে দোলালে একটি তরঙ্গ তার বেয়ে অগ্রসর হবে এবং বন্ধ প্রান্তে প্রতিফলিত হয়ে আবার ফিরে আসবে। এই প্রতিফলিত তরঙ্গ যখন নতুন অগ্রগামী তরঙ্গের উপর আপতিত হবে তখন স্থির তরঙ্গ উদ্ভব হবে। 
- এই তরঙ্গ তার বা দড়ি বেয়ে অগ্রসর না হয়ে বরং তার বা দড়ির ঐ অংশের মধ্যে উৎপন্ন ও লুপ্ত হবে। তরঙ্গের উদ্ভবের সময় দেখা যাবে তারের কোনো বিন্দুতে কোনো স্পন্দন নাই। 
- আবার কোনো কোনো বিন্দুতে সব সময় সর্বাধিক স্পন্দন হতে থাকবে। যে বিন্দুতে কোনো স্পন্দন নাই সে বিন্দুগুলোকে নিস্পন্দ বিন্দু (Node) এবং যে বিন্দুতে সব সময় সর্বাধিক স্পন্দন হয় সে বিন্দুগুলোকে সুস্পন্দ বিন্দু (Antinode) বলে। 
​- নিস্পন্দ ও সুস্পন্দ বিন্দুগুলোর অবস্থানগুলো সব সময় স্থির। 
- পরপর দুটো সুস্পন্দ বিন্দু বা দুটো নিস্পন্দ বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্ব তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের অর্ধেক হয়। 
- গীটার, একতারা, সেতার ইত্যাদি বাদ্য যন্ত্রের তারে স্থির তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪১.
কোন মাধ্যমে শব্দ সবচেয়ে দ্রুত সঞ্চালিত হয়?
  1. কঠিন 
  2. তরল 
  3. শূন্য
  4. বায়ু 
সঠিক উত্তর:
কঠিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঠিন 
ব্যাখ্যা

শব্দের সঞ্চালন: 
- কম্পনশীল বস্তু শব্দ সৃষ্টিকরে। 
- কোনো মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের ফলে সৃষ্ট যে আন্দোলন, মাধ্যমের মধ্য দিয়ে চলে বা সঞ্চালিত হয়, তাকে ঢেউ বলে। 
যেমন- একটি লম্বা স্প্রিং নিয়ে এর এক প্রান্তে আঘাত করলে দেখবে স্প্রিংটির সংকোচন ও প্রসারণের ফলে আন্দোলন সঞ্চালিত হচ্ছে, শব্দের ঢেউ এভাবেই সঞ্চালিত হয়। 
- শব্দের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াতকে শব্দ সঞ্চালন বলে। 
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন, এই মাধ্যম হতে পারে কঠিন, তরল ও বায়বীয়।
- কঠিন মাধ্যমে শব্দ বায়ু ও তরল মাধ্যমের চেয়ে দ্রুত ও ভালোভাবে সঞ্চালিত হয়; আবার শব্দ বায়ু মাধ্যমের চেয়ে দ্রুত ও ভালোভাবে তরল মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। 
- মাধ্যম ছাড়া শব্দ সঞ্চালিত হয় না, অর্থাৎ শূন্য মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালিত হয় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

২৪২.
প্রতিধ্বনি তৈরি হওয়ার জন্য সর্বনিম্ন দূরত্ব কত হওয়া উচিত?
  1. 3.32 মি.
  2. 1.165 মি.
  3. 1.68 মি.
  4. 16.5 মি.
সঠিক উত্তর:
16.5 মি.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
16.5 মি.
ব্যাখ্যা

• প্রতিধ্বনি বা ইকো শুনতে হলে শব্দকে উৎস থেকে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়ে ভিন্নতার প্রয়োজন। সাধারণত মানুষের কানে দুটি আলাদা শব্দ আলাদা হিসেবে চিনতে কমপক্ষে 0.1 সেকেন্ডের সময়ের পার্থক্য থাকা উচিত। 
- সঠিক উত্তর হলো ঘ) 16.5 মি.

• শব্দের প্রতিফলন (Reflection of Sound):
- যখন কোনো শব্দ তরঙ্গ কোনো কঠিন ও মসৃণ পৃষ্ঠে আঘাত করে ফিরে আসে, তখন সেই ঘটনাকে বলা হয় শব্দের প্রতিফলন।
- শব্দ প্রতিফলনের জন্য পৃষ্ঠটি হতে হবে কঠিন, মসৃণ ও সমতল (যেমন: দেওয়াল, পাহাড়, ভবন ইত্যাদি)।

- বায়ুতে শব্দের বেগ ৩৩০ মিটার প্রতি সেকেন্ড হলে, শব্দটি প্রতিফলিত দেয়ালে গিয়ে ফিরে আসার মোট সময় হবে ০.১ সেকেন্ড।
-  সুতরাং, 2d = v × t অনুযায়ী, 2d = 330 × 0.1 = 33, অর্থাৎ d = 16.5 মিটার।
-  তাই শব্দের প্রতিফলন ঘটার জন্য ন্যূনতম দূরত্ব হতে হবে ১৬.৫ মিটার।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম- দশম শ্রেণি।

২৪৩.
সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করতে ব্যবহৃত হয়-
  1. শব্দোত্তর তরঙ্গ
  2. আলোক তরঙ্গ
  3. ডিটারজেন্ট
  4. তেল ও গ্রীজ
সঠিক উত্তর:
শব্দোত্তর তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দোত্তর তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লার উপরের (≥ 20 KHz ) কম্পন বিশিষ্ট তরঙ্গকে শব্দোত্তর তরঙ্গ বলা হয়। এর বিভিন্ন ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। তা হলো- 
১. দেহের নরম টিস্যু এবং রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকগণ দেহ অভ্যন্তরের বিভিন্ন অঙ্গের ছবি তুলতে শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করেন, একে আলট্রাসনোগ্রাফি বলা হয়।
২. রক্তের গতি জানতে হৃদরোগ সনাক্ত করণে, মাতৃ গর্ভে জন্ম-পূর্ব শিশুর অবস্থা সনাক্ত করতে (আলট্রাসনোগ্রাফি)।
৩. সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়, ডুবো জাহাজ, হিমশৈল ইত্যাদির অবস্থান জানতে।
৪. ধাতব পাত বা ধাতব খন্ডের মধ্যের সূক্ষ্ম ফাটল অনুসন্ধানে।
৫. সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করতে।
৬. ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের কাজে।
৭. সাধারণভাবে মিশে না এমন (যেমন পানি-পারদ বা পানি-তেল) তরলসমূহের মিশ্রণ তৈরিতে।
৮. মানুষ ছাড়াও অন্যান্য প্রাণীরাও শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করে। যেমন বাদুর পথ চলতে এবং খাদ্য বস্তুর অনুসন্ধানের জন্য, তিমি পরম্পরের সাথে যোগাযোগ এবং মনোভাব আদান প্রদানের জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করে। বলা হয় শব্দোত্তর তরঙ্গই তিমির ভাষা।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৪.
কোন মাধ্যমে শব্দের গতি সর্বাপেক্ষা কম? 
  1. বায়বীয় মাধ্যমে
  2. শূন্য মাধ্যমে 
  3. কঠিন মাধ্যমে
  4. তরল মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
বায়বীয় মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বায়বীয় মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

শব্দের গতি: 
- বায়বীয় মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম। 
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ, তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। 
- কঠিন পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন- ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি। 
- তরলে পদার্থে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। যেমন- পানি। 
- শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৪৫.
ইঁদুরের শ্রাব্যতার উর্ধ্বসীমা কত?
  1. ৪৫,০০০ Hz
  2. ৬৪,০০০ Hz
  3. ৯১,০০০ Hz
  4. ১১০,০০০ Hz
সঠিক উত্তর:
৯১,০০০ Hz
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯১,০০০ Hz
ব্যাখ্যা
• ইঁদুরের শ্রাব্যতার উর্ধ্বসীমা ৯১,০০০ Hz।

• শ্রাব্যতার সীমা, শব্দেতর ও শব্দোত্তর তরঙ্গ:
- শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন, কিন্তু কম্পন হলেই শব্দ শোনা যাবে তা কিন্তু নয়।
- মানুষের শ্রবণ যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা আছে।
- মানুষ শ্রবণ ইন্দ্রিয় 20 Hz থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পারে।
- তাই বলা হয় মানুষের শ্রাব্যতার সীমা 20 থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের মধ্যে।
- এই সীমার নিচের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় শব্দেতর তরঙ্গ এবং উপরের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় শব্দোত্তর তরঙ্গ।
- অবশ্য সবার শ্রাব্যতার পাল্লা সমান নয়। প্রাণিভেদে এর তারতম্য আছে।

• কয়েকটি প্রাণীর গড় শ্রাব্যতার পাল্লা:
- মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লা = ২০ Hz ∼ ২০,০০০ Hz,
- কুকুরের শ্রাব্যতার পাল্লা = ৪ Hz ∼ ৪৫,০০০ Hz,
- বিড়ালের শ্রাব্যতার পাল্লা = ৪৫ Hz ∼ ৬৪,০০০ Hz,
- ইঁদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা = ১,০০০ Hz ∼ ৯১,০০০ Hz,
- বাদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা = ২,০০০ Hz ∼ ১১০,০০০ Hz.

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৬.
রাডারে ব্যবহৃত তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ কোনটি?
  1. এক্স-রে
  2. মাইক্রোওয়েভ
  3. রেডিও তরঙ্গ
  4. অবলোহিত রশ্মি
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোওয়েভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইক্রোওয়েভ
ব্যাখ্যা
• মাইক্রোওয়েভ:
- মাইক্রোওয়েভ ওভেন ব্যবহার করে দ্রুত খাবার গরম বা রান্না করা যায়।
- রাডার সিস্টেমে মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করে বস্তুর দূরত্ব, গতি এবং অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।
- মাইক্রোওয়েভ ওয়াই-ফাই, ব্‌লুটুথ এবং অন্যান্য ওয়‍্যারলেস প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে,
• এক্স-রে:
- বিভিন্ন প্রকার রোগের কারণ অনুসন্ধানে, ক্যান্সার কোষ ধ্বংসের জন্য এই রশ্মি ব্যবহার করা হয়।

• রেডিও তরঙ্গ:
- মোবাইল ফোন, বিমান চালনা, রেডিও এবং টিভি সংক্রান্ত যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়।

• অবলোহিত রশ্মি:
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে, কম্পন সংক্রান্ত বর্ণালী বিদ্যায় এবং অবলোহিত ফটোগ্রাফিতে এই তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৭.
In which season is sound heard louder and travels farther than in other seasons?
  1. Rainy season
  2. Winter season
  3. Summer season
  4. Spring season
  5. None of the above
সঠিক উত্তর:
Rainy season
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Rainy season
ব্যাখ্যা

• বর্ষাকালে শব্দ কেন বেশি দূরে যায় এবং জোরে শোনা যায় তার প্রধান কারণ হলো বাতাসের আর্দ্রতা।
- আমরা জানি, শব্দের বেগ ঘনত্বের বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতিক (v × 1/√ρ)। অর্থাৎ ঘনত্ব কমলে শব্দের বেগ বাড়ে।
- বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়লে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায়। শব্দের বেগ বাতাসের ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে; ঘনত্ব যত কম হয়, শব্দের বেগ তত বৃদ্ধি পায়। বর্ষাকালে এই বেগ বেশি থাকার কারণে শব্দ অনেক স্পষ্ট ও উচ্চৈঃস্বরে শোনা যায়।

• শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য:
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ কারণ বস্তুকণার কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্যও একটি স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়।
- শব্দ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং মাধ্যমের কণার কম্পনের দিক এক।
- শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে।
- বায়বীয় মাধ্যমে এর বেগ কম, তরলে তার চেয়ে বেশি, কঠিন পদার্থে আরো বেশি।
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে।
- অন্যান্য তরঙ্গের মতো, শব্দ তরঙ্গের তীব্রতাও তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক।
- অর্থাৎ, শব্দ তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয় এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হয়।
- অন্যান্য যেকোনো তরঙ্গের মতোই শব্দ তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ এবং উপরিপাতন হতে পারে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৪৮.
টেলিভিশনে যে তরঙ্গ ব্যবহৃত হয় - 
  1. রেডিও ওয়েভ
  2. অবলোহিত রশ্মি
  3. আলট্রা ভায়োলেট
  4. দৃশ্যমান রশ্মি
সঠিক উত্তর:
রেডিও ওয়েভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেডিও ওয়েভ
ব্যাখ্যা
- টেলিভিশনে শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য প্রয়োজন একটি প্রেরক ষ্টেশনের। 
- আর এ প্রেরক ষ্টেশনে থাকে শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য দুটো পৃথক প্রেরক যন্ত্র। 
- একটি প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে শব্দকে তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গে রূপান্তরিত করে প্রেরণ করা হয় এবং অন্য প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে ছবিকে তড়িৎ-সংকেতে রূপান্তরিত করে তা তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ হিসেবে প্রেরণ করা হয়। 

শব্দ প্রেরণ: 
- এক্ষেত্রে শব্দ প্রেরণকারী যন্ত্র মাইক্রোফোনের সাহায্যে বক্তার শব্দ সংগ্রহ করে। 
- মাইক্রোফোনে একটি পাতলা ধাতব পদার্থ থাকে, একে ডায়াফ্রাম বলে। 
- মাইক্রোফোনে আগত শব্দ এই ডায়াফ্রামটিকে কম্পিত করে, এ যান্ত্রিক কম্পন তড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত হয়। 
- এভাবে মাইক্রোফোন শব্দ তরঙ্গকে তড়িৎ সংকেতে রুপান্তরিত করে। 
- এরপর এ সংকেতকে তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গে রূপান্তরিত করে প্রেরক এন্টেনার মাধ্যমে আকাশে ছড়িয়ে দেয়া হয়। 

ছবি প্রেরণ: 
- যে ছবি বা দৃশ্য প্রেরণ বা সম্প্রচার করতে হবে তার প্রতিবিম্ব বা ছবি লেন্সের মধ্যদিয়ে টেলিভিশন ক্যামেরার পর্দায় ফেলা হয়। 
- এ ছবিকে টেলিভিশন ক্যামেরা তড়িৎ সংকেতে রুপান্তরিত করে। 
- এরপর তড়িৎ সংকেতকে তাড়িত চৌম্বক বেতার তরঙ্গে (রেডিও তরঙ্গ) রূপান্তরিত করে প্রেরক এন্টেনার মাধ্যমে আকাশে ছড়িয়ে দেয়া হয়। 

অর্থাৎ, অপশন অনুসারে সঠিক উত্তর হবে - ক) রেডিও ওয়েভ । 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৯.
কুকুরের শ্রাব্যতার সর্বোচ্চ সীমা কত?
  1. 20,000 Hz
  2. 45,000 Hz
  3. 60,000 Hz
  4. 90,000 Hz
সঠিক উত্তর:
45,000 Hz
উত্তর
সঠিক উত্তর:
45,000 Hz
ব্যাখ্যা
• শব্দ তরঙ্গ:
- শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন।
- কিন্তু কম্পন হলেই শব্দ শোনা যাবে তা সত্য নয়।
- মানুষের শ্রবণ যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা আছে।
- উৎসের কম্পন প্রতি সেকেন্ডে 20 টির নিচে হলে যে শব্দ উৎপন্ন হয় তা আমরা শুনতে পাই না। আবার উৎসের কম্পন যদি প্রতি সেকেন্ডে 20,000 টির বেশি হয় তাহলে যে শব্দ উৎপন্ন হয় তাও আমরা শুনতে পাই না।
- মানুষের শ্রাব্যতার সীমা 20 থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের মধ্যে।
- এই সীমার নিচের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় (শব্দ থেকে কম) শব্দেতর তরঙ্গ এবং উপরের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় (শব্দ থেকে বেশি) শব্দোত্তর তরঙ্গ।
- কয়েকটি প্রাণীর গড় শ্রাব্যতার পাল্লা নিচের ছকে উল্লেখ করা হলো-

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫০.
যদি কোনো গ্যাসের কেলভিন তাপমাত্রা ৪ গুণ বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে শব্দের বেগ কত গুণ বৃদ্ধি পাবে?
  1. ৪ গুণ
  2. ২ গুণ
  3. ১৬ গুণ
  4. একই থাকবে
সঠিক উত্তর:
২ গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ গুণ
ব্যাখ্যা

যদি কোনো গ্যাসের কেলভিন তাপমাত্রা ৪ গুণ বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে শব্দের বেগ ২ গুণ বৃদ্ধি পাবে। 

যদি কোনো গ্যাসের কেলভিন তাপমাত্রা ৪ গুণ বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে শব্দের বেগ ২ গুণ বৃদ্ধি পাবে, কারণ শব্দের বেগ তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক 
v ∝ √T। তাই, তাপমাত্রা ৪ গুণ হলে, বেগ √4 বা ২ গুণ হবে। 

শব্দের বেগ (Speed of Sound):
- বাতাসে শব্দের বেগ তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক। অর্থাৎ, v ∝ √T। এখানে তাপমাত্রা কেলভিন স্কেলে।
- শব্দের বেগ বাতাসের চাপের ওপর নির্ভর করে না।
- বাতাসের ঘনত্বের বর্গমূলের বিপরীত আনুপাতিকভাবে নির্ভর করে। তাই বাতাসে জলীয় বাষ্প থাকলে বাতাসের ঘনত্ব কমে যায় এবং শব্দের বেগ বেড়ে যায়।
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ। এটি মাধ্যমের স্থিতিস্থাপকতার ওপর নির্ভর করে।
- তরল এবং কঠিন পদার্থের ধাতব ও অ-ধাতব প্রকৃতি বাতাস থেকে ভিন্ন হওয়ায়, শব্দের বেগও সেখানে ভিন্ন হয়।
- তরলে শব্দের বেগ বাতাস থেকে বেশি এবং কঠিন পদার্থে শব্দের বেগ তরল থেকেও বেশি।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।