বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

তরঙ্গ ও শব্দ

মোট প্রশ্ন২৫২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

তরঙ্গ ও শব্দ

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ২৫২

১০১.
কম্পাঙ্কের একক কী?
  1. হার্জ
  2. সেকেন্ড
  3. নিউটন 
  4. মিটার 
সঠিক উত্তর:
হার্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হার্জ
ব্যাখ্যা

- কম্পাঙ্ক বা ফ্রিকোয়েন্সি (Frequency) পরিমাপের আন্তর্জাতিক (SI) একক হলো হার্জ (Hertz), যাকে সংক্ষেপে Hz লিখে প্রকাশ করা হয়। জার্মান পদার্থ বিজ্ঞানী হাইনরিখ হার্জের নামানুসারে এই এককের নামকরণ করা হয়েছে। প্রতি সেকেন্ডে একটি তরঙ্গ যতগুলো পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করে, তাকেই হার্জ বলা হয়। 

বিস্তার: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে যে কোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গের বিস্তার বলে। 

দশা: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণার যে কোনো মুহূর্তের গতির সম্যক অবস্থানকে তার দশা বলে। 

পর্যায়কাল: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোন কণার একটি স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায়কাল বলে। 
- পর্যায়কালকে T অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। পর্যায়কালের একক সেকেন্ড (s)। 

কম্পাঙ্ক: 
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে ঐ কণার বা তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে। 
- কম্পাঙ্ককে সাধারণত ƒ দ্বারা প্রকাশ করা হয়। কম্পাঙ্কের একক হার্জ (Hz)। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০২.
আলোর তড়িৎ-চুম্বকীয় তত্ত্ব কে প্রস্তাব করেছিলেন?
  1. ম্যাক্স প্ল্যাংক
  2. ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
  3. ক্রিশ্চিয়ান ওয়েরস্টেড
  4. হেন্রিখ হার্জ
সঠিক উত্তর:
ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা

• আলোর তড়িৎ-চুম্বকীয় তত্ত্ব (Electromagnetic Theory of Light) প্রস্তাব করেছিলেন ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল। তিনি  Maxwell’s Equations এর মাধ্যমে দেখান, আলো একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ যা স্থান জুড়ে প্রলেপিত হয়। তাঁর তত্ত্ব অনুসারে, বৈদ্যুতিক ও চুম্বকীয় ক্ষেত্র একে অপরকে উত্পন্ন করে এবং তরঙ্গের আকারে স্থান মাধ্যমে ছড়ায়। এটি আলোর প্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে এক বিপ্লবাত্মক ধারণা।

তড়িৎ-চুম্বকীয় তত্ত্ব:
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভ‚তপূর্ব উন্নতি ঘটে।
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল (১৮৩১-১৮৭৯) আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্তে¡র ধারণা দেন।
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেন্রিখ হার্জের (১৮৫৭-১৮৯৪) পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়।
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কনী (১৮৭৪-১৯৩৭) তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে
সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন।
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও (১৮৫৮-১৯৩৭) একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। পরবর্তীতে বেতার যন্ত্র আবিষ্কার হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এস.এস.সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৩.
আলোর ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. আলো হচ্ছে বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ।
  2. আলো একটি পর্যাবৃত্ত তরঙ্গ।
  3. আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য আছে।
  4. আলো একটি সরলরৈখিক তরঙ্গ।
সঠিক উত্তর:
আলো একটি সরলরৈখিক তরঙ্গ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলো একটি সরলরৈখিক তরঙ্গ।
ব্যাখ্যা
• আলো হচ্ছে একটি বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ, যা মাধ্যম ছাড়াও যেমন শূন্যস্থানে (vacuum) চলতে পারে। এটি তরঙ্গ ধর্ম (যেমন প্রতিসরণ, প্রতিফলন, ব্যতিচার, অপবর্তন) এবং কণিকাধর্ম—দুটিই প্রদর্শন করে।
⇒ আলো একদিকে পর্যাবৃত্ত তরঙ্গ এবং এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য নির্দিষ্ট আছে । ( যেমন দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য ৪০০ থেকে ৭০০ ন্যানোমিটারের মধ্যে পড়ে।
⇒ পুকুরে ঢিল ছুড়ে যেমন ছোট-বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের তরঙ্গ তৈরি করা যায়, তেমনি আলোরও নানা তরঙ্গদৈর্ঘ্য থাকতে পারে। 


"আলো একটি সরলরৈখিক তরঙ্গ" — এই ধারণাটি আংশিক সত্য হলেও বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণে এটি পূর্ণ সত্য নয়। কারণ, আলো বিশেষ পরিস্থিতিতে যেমন লেজার বা মুক্ত মাধ্যমে সরলরেখায় চললেও বাস্তবে এটি তরঙ্গ ধর্ম অনুযায়ী বাঁকেও যেতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, আলো সরু ফাঁক দিয়ে গেলে অপবর্তন ঘটে, দুটি আলোর রশ্মি একত্রিত হলে ব্যতিচার দেখা যায়, এবং বিভিন্ন মাধ্যমের সংযোগস্থলে প্রতিসরণ ঘটে।।
 তাই আলো একটি সরলরৈখিক তরঙ্গ  কথাটি পূর্ণ সত্য নয়। 


তথ্যসূত্র: 
-  ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান।
-  পদার্থবিজ্ঞান – একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১০৪.
মানুষের শ্রাব্যতার সীমা কোন কম্পাঙ্কের মধ্যে? 
  1. 10 Hz – 10,000 Hz 
  2. 100 Hz – 30,000 Hz
  3. 50 Hz – 15,000 Hz 
  4. 20 Hz – 20,000 Hz
সঠিক উত্তর:
20 Hz – 20,000 Hz
উত্তর
সঠিক উত্তর:
20 Hz – 20,000 Hz
ব্যাখ্যা

শ্রাব্যতার সীমা, শব্দেতর ও শব্দোত্তর তরঙ্গ: 
- শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন। 
- কিন্তু কম্পন হলেই শব্দ শোনা যাবে তা কিন্তু নয়। 
- মানুষের শ্রবণ যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা আছে। 
- মানুষ শ্রবণ ইন্দ্রিয় 20 Hz থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পারে, তাই বলা হয় মানুষের শ্রাব্যতার সীমা 20 থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের মধ্যে। 
- এই সীমার নিচের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় শব্দেতর তরঙ্গ এবং উপরের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় শব্দোত্তর তরঙ্গ। 
- অবশ্য সবার শ্রাব্যতার পাল্লা সমান নয়। 
- মানুষ ভেদে এর তারতম্য আছে। 
- কয়েকটি প্রাণীর গড় শ্রাব্যতার পাল্লা নিচের ছকে উল্লেখ করা হলো- 


উৎস:
পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০৫.
শব্দের তীব্রতার একক কী?
  1. Hz
  2. N
  3. Wm−2
  4. s−1
সঠিক উত্তর:
Wm−2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Wm−2
ব্যাখ্যা
শব্দের তীব্রতা:
- একটি সুরেলা শব্দ কত জোরে শোনা যাচ্ছে তার পরিমাপ হচ্ছে তীব্রতা । একক ক্ষেত্রফল দিয়ে যে পরিমাণ শব্দ শক্তি যায় তাকে শব্দের তীব্রতা বলে।
-  শব্দের তীব্রতার একক  Wm-2.
- ১ বর্গমিটার ক্ষেত্রফল দিয়ে ১ W পরিমাণ শব্দ শক্তি গেলে তখন শব্দের তীব্রতা ১ Wm-2 হয়।
- জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী উইলহেলম এডুয়ার্ড ওয়েবারের নামানুসারে ওয়েবার (W) বা (Wb) এককের নামকরণ হয়েছে।

অন্যদিকে,
- শব্দের কম্পাঙ্কের একক Hz বা s-1.
- বলের একক N.

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি ।
১০৬.
400 Hz কম্পাঙ্কে স্পন্দিত কোনো রেডিও স্পিকার থেকে উৎপন্ন শব্দ তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 1.5m হলে বায়ুতে শব্দ তরঙ্গের বেগ কত?
  1. 450 ms- 1
  2. 580 ms- 1
  3. 600 ms- 1
  4. 700 ms- 1
সঠিক উত্তর:
600 ms- 1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
600 ms- 1
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: 400 Hz কম্পাঙ্কে স্পন্দিত কোনো রেডিও স্পিকার থেকে উৎপন্ন শব্দ তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 1.5m হলে বায়ুতে শব্দ তরঙ্গের বেগ কত?

সমাধান:
এখানে,
কম্পাঙ্ক, f = 400 Hz = 400s- 1
তরঙ্গ দৈর্ঘ্য, λ = 1.5m
তরঙ্গ বেগ, V = ?

আমরা জানি,
V = fλ
= 400s- 1 × 1.5m
= 600 ms- 1
১০৭.
তরঙ্গ দ্বারা নিচের কোনটি স্থানান্তরিত হয়?
  1. ক্ষমতা
  2. শক্তি
  3. গতিবেগ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শক্তি
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ হচ্ছে একটা মাধ্যমের ভিতর দিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় শক্তি পাঠানোর প্রক্রিয়া, যেখানে মাধ্যমের কণাগুলো তার নিজ অবস্থানে স্পন্দিত হতে পারে কিন্তু সেখান থেকে সম্পূর্ণ সরে যাবেনা। 
যান্ত্রিক তরঙ্গের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। 
তরঙ্গের ভিতর দিয়ে শক্তি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারে। 
শক্তি যত বেশি হয় তরঙ্গের বিস্তার তত বেশি হয়।

সূত্র - মাধ্যমিক পদার্থ বিজ্ঞান, বোর্ড বই।
১০৮.
নিচের কোন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি?
  1. পানি
  2. বাতাস
  3. লোহা
  4. কাঠ
সঠিক উত্তর:
লোহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহা
ব্যাখ্যা

• 'লোহা'র মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। 

• শব্দের বেগ: 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি হয়। 
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
- তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। 
- শব্দের বেগ কঠিন পদার্থে সবচেয়ে বেশি (যেমন- ইস্পাত, লোহা) হয়। 
- তরল  পদার্থের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম (যেমন- পানি) হয়। 
- বায়োবীয় পদার্থে সবচেয়ে কম। 
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 

উল্লেখ্য:
- কাঠ: কাঠ একটি কঠিন পদার্থ হলেও এটি লোহার মতো সুসংহত বা স্থিতিস্থাপক নয়, তাই এতে শব্দের বেগ লোহার চেয়ে কম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১০৯.
মানবদেহে মস্তিষ্কে শব্দের স্থায়িত্বকাল-
  1. ০.১ সেকেন্ড
  2. ১ সেকেন্ড
  3. ৫ সেকেন্ড
  4. ১০ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
০.১ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.১ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
• শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল:

- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- অর্থাৎ এই 0.1 সেকেন্ড সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না।
- অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে।
- সুতরাং প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১০.
লোকভর্তি হল ঘরে শূন্য ঘরের চেয়ে শব্দ ক্ষীণ হয়, কারণ-
  1. লোকভর্তি ঘরে মানুষের সোরগোল হয়
  2. শূন্য ঘর নীরব থাকে
  3. শূন্য ঘরে শব্দের শোষণ কম হয়
  4. শূন্য ঘরে শব্দের শোষণ বেশি হয়
সঠিক উত্তর:
শূন্য ঘরে শব্দের শোষণ কম হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্য ঘরে শব্দের শোষণ কম হয়
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 
- বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দের উৎপত্তি হয়। 
- যখন একটি ঘরে মানুষ বা আসবাব পত্র দিয়ে ভর্তি থাকে, তখন অনেক শব্দ সেগুলোর মাধ্যমে শোষিত হয়ে যায়। 
অর্থাৎ, লোকভর্তি হল ঘরে মানুষ বেশি থাকায় শব্দের শোষণ বেশি হয় তাই সেখানে শব্দের আওয়াজ ক্ষীণ হয়।
- আর, শূন্য ঘরে শব্দের শোষণ কম হয় লোকভর্তি হল ঘরের তুলনায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১১.
কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি? 
  1. লোহা 
  2. পানি 
  3. বাতাস 
  4. শূন্য মাধ্যম
সঠিক উত্তর:
লোহা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহা 
ব্যাখ্যা

• লোহাতে (কঠিন মাধ্যম) শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি। 

• শব্দ:
- শব্দ এক প্রকার শক্তি, যা আমাদের শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে শোনার অনুভূতি জাগায়। শব্দ শক্তি তরঙ্গাকারে এক স্থান বা বিন্দ থেকে অন্য স্থানে বা বিন্দুতে সঞ্চালিত হয়। 

• শব্দ একপ্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- এটি তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে।
- বায়বীয় মাধ্যমে এর বেগ কম, তরলে তার চেয়ে বেশি, কঠিন পদার্থে আরো বেশি।
- কোনো মাধ্যমের মধ্যে দিয়ে সংপ্রসারিত শব্দের প্রাবল্য মাধ্যমের ঘনত্বের সমানুপাতিক। অর্থাৎ মাধ্যমের ঘনত্ব বৃদ্ধির সাথে সাথে শব্দের গতি ও বৃদ্ধি পায়।
বায়ু ও তরল মাধ্যমের ঘনত্বের থেকে লোহা অর্থাৎ কঠিন মাধ্যমের ঘনত্ব বেশি হওয়ায় লোহাতে শব্দের বেগ বেশি।
- শূন্য মাধ্যমে কোন কণা না থাকায় শূন্য মাধ্যমে শব্দ চলাচল করতে পারে না। কারণ শব্দ চলাচল করতে মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১২.
তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে কী বলে?
  1. তরঙ্গ দৈর্ঘ্য
  2. তরঙ্গ বেগ
  3. বিস্তার
  4. কম্পাঙ্ক
সঠিক উত্তর:
কম্পাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কম্পাঙ্ক
ব্যাখ্যা

কম্পাঙ্ক (Frequency):
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে ঐ কণার বা তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে।
- কম্পাঙ্ককে সাধারণত f দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

তরঙ্গ বেগ (Wave velocity):
- তরঙ্গ নির্দিষ্ট দিকে একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে ঐ তরঙ্গের বেগ বা সংক্ষেপে তরঙ্গ বেগ বলে।

তরঙ্গ দৈর্ঘ্য (Wave length):
- একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন হতে যে সময় লাগে, সেই সময়ে তরঙ্গ যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বলে।

বিস্তার (Amplitude):
- তরঙ্গ সঞ্চারকারী কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে যেকোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গের বিস্তার বলে।

উৎস:  পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৩.
শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ কত?
  1. ৩৪৮ মিটার/সেকেন্ড
  2. ৩২৮ মিটার/সেকেন্ড
  3. ৩৩২ মিটার/সেকেন্ড
  4. ০ মিটার/সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
০ মিটার/সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০ মিটার/সেকেন্ড
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগ: 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি হয়। 
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- শব্দের বেগ কঠিন পদার্থে সবচেয়ে বেশি (যেমন- ইস্পাত, লোহা) হয়।
- তরল  পদার্থের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম (যেমন- পানি) হয়। 
- বায়োবীয় পদার্থে সবচেয়ে কম। 
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১৪.
সূর্য থেকে আমাদের পৃথিবীতে আলো আসে কোন তরঙ্গের মাধ্যমে?
  1. ক) যান্ত্রিক তরঙ্গ
  2. খ) অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
  3. গ) অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
  4. ঘ) তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
ঘ) তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

আমরা সূর্য থেকে আলো এবং তাপ পাই। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো এবং তাপ আসে তরঙ্গাকারে। সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে মহাশূন্য, কোন জড় মাধ্যম নেই। আলো, তাপ মাধ্যম ছাড়াই বিশেষ ধরনের তরঙ্গ আকারে সঞ্চারিত হয়। এ তরঙ্গকে বলা হয় তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ। বেতার তরঙ্গ, এক্সরশ্মি, গামারশ্মি, তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ ইত্যাদি তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গের উদাহরণ।
আলো একটি তড়িৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। ১৮৬২ সালে জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল প্রমাণ করেন তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ মহাশূন্যের মধ্য দিয়ে ধ্রুব দ্রুতিতে গমন করতে পারে। ১৮৬৪ সালে তিনি আলোর তাড়িতচৌম্বক তত্ত্বের অবতারণা করেন।
সুত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি।

১১৫.
স্বাভাবিক কথোপকথনের ক্ষেত্রে শব্দের তীব্রতা লেভেল কত? 
  1. ৮০ ডেসিবল
  2. ৬০ ডেসিবল
  3. ৭০ ডেসিবল
  4. ৯০ ডেসিবল
সঠিক উত্তর:
৬০ ডেসিবল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬০ ডেসিবল
ব্যাখ্যা
- স্বাভাবিক কথোপকথনের ক্ষেত্রে শব্দের তীব্রতা লেভেল- ৬০ ডেসিবল। 

শব্দের তীব্রতা: 
- শব্দের তীব্রতা হচ্ছে একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত শব্দ শক্তির পরিমাণ।
- সাধারণ ক্ষেত্রে বাতাসের মধ্যে শ্রোতার অবস্থানের সাপেক্ষে তীব্রতা পরিমাপ করা হয়।
- শব্দের তীব্রতার মূল একক Wm-2
- শব্দের তীব্রতা ও পরিমাপ আপেক্ষিক শ্রাব্যতার সর্ব নিম্ন ধাপ থেকে শুরু হয়।
- এই সর্বনিম্ন তীব্রতাকে বলা হয় প্রমিত বা প্রমাণ তীব্রতা। এর মান 10-12 Wm-2 কে বেছে নেয়া হয়েছে।
- এটি হচ্ছে 1000Hz কম্পাঙ্কের একটি শব্দ তরঙ্গের তীব্রতা যাকে শ্রাব্যতার সূচনা সীমা (threshold of audibility) হিসাবেও ধরা হয়। 


উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১৬.
শব্দের তীব্রতার SI একক কোনটি?
  1. নিউটন
  2. জুল
  3. হার্টজ
  4. ওয়াট প্রতি বর্গমিটার
সঠিক উত্তর:
ওয়াট প্রতি বর্গমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়াট প্রতি বর্গমিটার
ব্যাখ্যা

• শব্দের তীব্রতার SI একক হলো ওয়াট প্রতি বর্গমিটার।

• শব্দের তীব্রতা (Intensity):
- শব্দের তীব্রতা হলো একক ক্ষেত্রফল দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রবাহিত শব্দশক্তির পরিমাণ।
- এটি নির্দেশ করে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রফলে কত দ্রুত শক্তি সঞ্চালিত হচ্ছে।
- শব্দের তীব্রতা শক্তির সাথে সম্পর্কিত একটি ভৌত রাশি।
- তীব্রতা যত বেশি, শব্দ তত বেশি জোরালো অনুভূত হয়।
- শব্দের উৎস থেকে দূরত্ব বৃদ্ধি পেলে তীব্রতা হ্রাস পায়।
- তীব্রতা ক্ষেত্রফলের ব্যস্তানুপাতিকভাবে পরিবর্তিত হয়।

• শব্দের তীব্রতার একক:
- শব্দের তীব্রতার SI একক ওয়াট প্রতি বর্গমিটার (Wm-2)।
- এখানে ওয়াট শক্তির একক এবং বর্গমিটার ক্ষেত্রফলের একক।
- একক ক্ষেত্রফলে প্রতি সেকেন্ডে যত ওয়াট শক্তি প্রবাহিত হয় সেটিই তীব্রতা।
- তীব্রতার মান পরিমাপ করে শব্দের শক্তির বিস্তার নির্ণয় করা হয়।

• অন্যান্য একক:
- নিউটন → বলের একক,
- জুল → শক্তির একক,
- হার্টজ → কম্পাঙ্কের একক,
- শব্দের তীব্রতা স্তর (Intensity Level): ডেসিবেল (dB).

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
2) Science Expert, Live Publications.

১১৭.
নিচের কোন প্রাণীটি পরস্পরের সাথে যোগাযোগের জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করে থাকে?
  1. মানুষ
  2. তিমি
  3. ইঁদুর
  4. কুকুর
সঠিক উত্তর:
তিমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিমি
ব্যাখ্যা

- মানুষ ছাড়াও অন্যান্য প্রাণীরাও শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করে।
- বাদুর পথ চলতে এবং খাদ্য বস্তুর অনুসন্ধানের জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করে।
- তিমি পরস্পরের সাথে যোগাযোগ এবং মনোভাব আদান-প্রদানের জন্য শব্দোত্তর তরঙ্গ ব্যবহার করে
- বলা হয়, শব্দোত্তর তরঙ্গই তিমির ভাষা।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৮.
চন্দ্রে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হলে ঐ বিষ্ফোরণের শব্দ কতক্ষণ পর পৃথিবীতে শোনা যাবে?
  1. ১.৩০ মিনিট
  2. ২.০০ মিনিট
  3. ২.৩০ মিনিট
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটি নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
শব্দ সঞ্চার [Propagation of Sound]:
- শব্দ বিস্তারের জন্য জড় মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- শব্দের উৎস এবং আমাদের কানের মধ্যবর্তী স্থানে যদি কোনো স্থিতিস্থাপক জড় মাধ্যম না থাকে, তাহলে শব্দ আমাদের কানে পৌঁছাতে পারে না।
- চাঁদে বায়ুমণ্ডল নেই, তাই চন্দ্রে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটলে তা পৃথিবীতে শোনা যাবে না।
- কারণ শব্দ সঞ্চারনের জন্য মাধ্যম নেই এবং ভ্যাকুয়াম বা শূন্যের মধ্য দিয়ে শব্দ সঞ্চালিত হতে পারে না।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১১৯.
স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রে শব্দের তীব্রতার লেভেল কত? 
  1. 10 dB
  2. 25 dB
  3. 40 dB
  4. 50 dB
সঠিক উত্তর:
10 dB
উত্তর
সঠিক উত্তর:
10 dB
ব্যাখ্যা

• স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রে শব্দের তীব্রতার লেভেল হচ্ছে 10 dB. 

• শব্দের তীব্রতার লেভেল: 
- শব্দের তীব্রতা হচ্ছে একক ক্ষেত্রফলের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত শব্দ শক্তির পরিমাণ। 
- সাধারণ ক্ষেত্রে বাতাসের মধ্যে শ্রোতার অবস্থানের সাপেক্ষে তীব্রতা পরিমাপ করা হয়। 
- এর মূল একক W/m2.
- শব্দের তীব্রতা ও পরিমাপ আপেক্ষিক শ্রাব্যতার সর্বনিম্ন ধাপ থেকে শুরু হয়। 
- এই সর্বনিম্ন তীব্রতাকে বলা হয় প্রমিত বা প্রমাণ তীব্রতা। 
- এর মান 10-12 Wm-2 বেছে নেয়া হয়েছে। 
- এটি হচ্ছে 1000Hz কম্পাঙ্কের একটি শব্দ তরঙ্গের তীব্রতা যাকে শ্রাব্যতার সূচনা সীমা হিসাবেও ধরা হয়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২০.
জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনের ফলে কোন ধরনের তরঙ্গ সৃষ্টি হয়? 
  1. তাপ তরঙ্গ
  2. যান্ত্রিক তরঙ্গ
  3. আলোক তরঙ্গ
  4. তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যান্ত্রিক তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
তরঙ্গ: 
- তরঙ্গ সৃষ্টির জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন হয়। 
- যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন ঐ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলো স্থানান্তরিত হয় না সেই পর্যাবৃত্ত আন্দোলনকে তরঙ্গ বলে। 

যান্ত্রিক তরঙ্গ: 
- জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলন ছাড়াও তরঙ্গ সৃষ্টি হতে পারে। 
- কিন্তু জড় মাধ্যমের কণার আন্দোলনে সৃষ্ট তরঙ্গকে বলা হয় যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
যেমন- পানির তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ, ভূমি কম্পনের ফলে সৃষ্ট ভূ-তরঙ্গ ইত্যাদি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 

তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ: 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো এবং তাপ আসে তরঙ্গাকারে। 
- সূর্য এবং পৃথিবীর মধ্যে মহাশূন্য, কোন জড় মাধ্যম নেই। 
- আলো, তাপ মাধ্যম ছাড়াই বিশেষ ধরনের তরঙ্গ আকারে সঞ্চারিত হয়, এ তরঙ্গকে বলা হয় তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ। 
যেমন- বেতার তরঙ্গ, এক্স-রশ্মি, গামা রশ্মি ইত্যাদি তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ। 

যান্ত্রিক তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
১. মাধ্যমের কণার স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 
২. মাধ্যমের কণাগুলো সাম্য অবস্থান থেকে উপরে নিচে অথবা সামনে পেছনে স্পন্দিত হতে থাকে। মাধ্যমের মধ্য দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয় না। 
৩. তরঙ্গ মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ বা স্থানান্তর করে। 
৪. তরঙ্গের কণাগুলো বিভিন্ন বেগে স্পন্দিত হয়। স্পন্দনের বেগ পর্যায়ক্রমে কমে বাড়ে। কিন্তু তরঙ্গ সুষম বেগে সঞ্চারিত হয়। অর্থাৎ কণাগুলোর স্পন্দন গতি এবং তরঙ্গ বেগ এক নয়। 
৫. তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণাগুলোর স্পন্দনের দিক এবং তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক এক নাও হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২১.
বাদুড় কত কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করতে সক্ষম?
  1. ক) 80 kHz
  2. খ) 90 kHz
  3. গ) 100 kHz
  4. ঘ) 120 kHz
সঠিক উত্তর:
গ) 100 kHz
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) 100 kHz
ব্যাখ্যা

বাদুড় ওড়ার সময় শব্দের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে। বাদুড়ের তৈরি এই শব্দ আমরা শুনতে পাই না, কারণ শব্দটি আলট্রাসাউন্ড অর্থাৎ আমাদের শােনার বাইরের কম্পাঙ্কের শব্দ।
- বাদুড় প্রায় 100 kHz কম্পনের শব্দ তৈরি করতে পারে।
- বাদুড় এই শব্দের প্রতিধ্বনি শোনার মাধ্যমে অন্ধকারে চলাফেরা করে।

উৎসঃ বিজ্ঞান - ৮ম শ্রেণি

১২২.
শব্দের প্রতিধ্বনি স্পষ্টভাবে শোনার জন্য মূল শব্দ ও প্রতিফলিত শব্দের মধ্যে ন্যূনতম কত সময় ব্যবধান প্রয়োজন?
  1. ০.০১ সেকেন্ড
  2. ০.১ সেকেন্ড
  3. ১ সেকেন্ড
  4. ২ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
০.১ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.১ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

• শব্দের প্রতিধ্বনি স্পষ্টভাবে শোনার জন্য মূল শব্দ ও প্রতিফলিত শব্দের মধ্যে ন্যূনতম ০.১ সেকেন্ড সময় ব্যবধান প্রয়োজন।

• শব্দের প্রতিধ্বনি:
- কোনো শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলক পৃষ্ঠে আঘাত করে প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় শ্রোতার কানে ফিরে এলে তাকে প্রতিধ্বনি বলে।
- প্রতিধ্বনি মূল শব্দের পুনরাবৃত্ত রূপ হিসেবে শোনা যায়।
- প্রতিধ্বনি স্পষ্টভাবে শোনার জন্য মূল শব্দ ও প্রতিফলিত শব্দের মধ্যে অন্তত ০.১ সেকেন্ড ব্যবধান থাকতে হয়।
- যদি সময় ব্যবধান ০.১ সেকেন্ডের কম হয়, তবে প্রতিফলিত শব্দ মূল শব্দের সাথে মিশে যায়।
- প্রতিধ্বনি শোনার জন্য প্রতিফলক পৃষ্ঠ যথেষ্ট দূরে থাকতে হয়।
- প্রতিধ্বনি শব্দের প্রতিফলনের ফল।

• প্রতিধ্বনি সৃষ্টির শর্ত:
- শব্দের উৎস ও প্রতিফলক পৃষ্ঠের মধ্যে পর্যাপ্ত দূরত্ব থাকতে হবে।
- মূল শব্দ ও প্রতিফলিত শব্দের মধ্যে ন্যূনতম ০.১ সেকেন্ড ব্যবধান থাকতে হবে।
- প্রতিফলক পৃষ্ঠ মসৃণ ও কঠিন হলে প্রতিফলন স্পষ্ট হয়।
- শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় শ্রোতার কানে প্রবেশ করলে প্রতিধ্বনি অনুভূত হয়।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

১২৩.
একটি দোলক এক সেকেন্ডে যতবার পূর্ণ দোলন সম্পন্ন করে, তাকে কী বলা হয়?
  1. বিস্তার
  2. কৌণিক বিস্তার
  3. কম্পাঙ্ক
  4. দোলনকাল
সঠিক উত্তর:
কম্পাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কম্পাঙ্ক
ব্যাখ্যা
কম্পাঙ্ক: 
- কোনো কম্পমান বস্তু প্রতি সেকেন্ডে যতবার কম্পন বা দোলন বা পুনরাবৃত্তি ঘটায় তাকে কম্পাঙ্ক বলে। 
- কম্পাঙ্ককে ƒ দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 


দোলনকাল বা পর্যায়কাল: 
- একবার পূর্ণ দোলন দিতে যে সময় লাগে তাকে দোলনকাল বলে। 
- দোলনকালকে T দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
- চিত্রে C থেকে A হয়ে B তে পৌঁছিয়ে আবার B থেকে A হয়ে C তে পৌঁছাতে যে সময় লাগে তাকে পর্যায়কাল বা দোলনকাল বলে। 

দোলন তল: 
- সূতাসহ ববটি যে তলে দুলতে থাকে তাকে দোলন তল বলে। 
চিত্রে, OBAC যে তলে অবস্থিত সেটিই দোলন তল। 

কার্যকরী দৈর্ঘ্য: 
- আলম্ব বিন্দু থেকে ববের ভারকেন্দ্র পর্যন্ত দূরত্বকে দোলকের কার্যকর দৈর্ঘ্য বলে। 
- r ব্যাসার্ধের গোলকাকৃতি ববের ভারকেন্দ্রটি ববের কেন্দ্রে অবস্থিত হয়; ফলে সুতোর দৈর্ঘ্য I হলে দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য, L = I + r  । 

বিস্তার: 
- সাম্যাবস্থান থেকে যেকোনো দিকে ববের সর্বাধিক সরণকে বিস্তার বলা হয়। 
প্রদত্ত চিত্রে, AB বা AC হল দোলকের বিস্তার। 
- বিস্তারকে সাধারণত x দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 

কৌণিক বিস্তার: 
- ববের সাম্যাবস্থান ও সর্বাধিক সরণের অবস্থান লম্বন বিন্দুতে যে কোণ উৎপন্ন করে তাকে দোলকের কৌণিক বিস্তার বলা হয়। 
- কৌণিক বিস্তারকে সাধারণত θ দিয়ে প্রকাশ করা হয়। 
এক্ষেত্রে চিত্র অনুসারে কৌণিক বিস্তার θ = ∠AOB = ∠AOC 
উল্লেখ্য, 
- সরল দোকের কৌণিক বিস্তার 4° এর কম হওয়া উচিত, যাতে CAB বৃত্তচাপটি প্রায় সরলরেখার আকার ধারণ করে। তাই AB বা AC কে পিন্ডের সর্বাধিক সরণ হিসেবে ধরা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১২৪.
তরঙ্গ সঞ্চালনকারী কোনো কণা একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় নেয় তাকে কী বলে?
  1. কম্পাঙ্ক
  2. বিস্তার
  3. দশা
  4. পর্যায়কাল
সঠিক উত্তর:
পর্যায়কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্যায়কাল
ব্যাখ্যা

• তরঙ্গ সঞ্চালনকারী কোনো কণা একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় নেয় তাকে পর্যায়কাল বলে।

• পর্যায়কাল:
- তরঙ্গ সঞ্চালনকারী কোনো কণা একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় নেয় তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায়কাল বলা হয়।
- পর্যায়কালকে সাধারণত T দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- পর্যায়কালের একক সেকেন্ড (s)।
- একটি কণা সাম্য অবস্থান থেকে শুরু করে একই দিক থেকে পুনরায় সেই অবস্থানে ফিরে এলে একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন হয়।
- একটি পূর্ণ স্পন্দনের জন্য যে সময় প্রয়োজন, সেটিই পর্যায়কাল।
- পর্যায়কাল যত কম, কণার স্পন্দন তত দ্রুত সম্পন্ন হয়।
- পর্যায়কাল ও কম্পাঙ্কের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান।
- যদি কম্পাঙ্ক f হয় এবং পর্যায়কাল T হয়, তবে f = 1/T.

• পূর্ণ স্পন্দন:
- কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে একদিকে গিয়ে পুনরায় সাম্য অবস্থানে ফিরে এলে সেটি অর্ধ স্পন্দন।
- সাম্য অবস্থান থেকে বিপরীত দিকে গিয়ে আবার প্রাথমিক অবস্থানে ফিরে এলে একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন হয়।
- একটি পূর্ণ স্পন্দনের জন্য নির্দিষ্ট সময় লাগে, যা পর্যায়কাল দ্বারা নির্দেশিত হয়।

• তরঙ্গের ক্ষেত্রে পর্যায়কালের গুরুত্ব:
- তরঙ্গের গতি, কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সাথে পর্যায়কালের গাণিতিক সম্পর্ক রয়েছে।
- তরঙ্গ বেগ নির্ণয়ে পর্যায়কাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- তরঙ্গের সময়ভিত্তিক আচরণ বিশ্লেষণে পর্যায়কাল ব্যবহৃত হয়।

• অন্যান্য অপশন:
- কম্পাঙ্ক: এক সেকেন্ডে সম্পন্ন স্পন্দনের সংখ্যা।
- বিস্তার: সাম্য অবস্থান থেকে কণার সর্বাধিক সরণ।
- দশা: নির্দিষ্ট মুহূর্তে কণার সরণ, বেগ ও ত্বরণ দ্বারা নির্দেশিত অবস্থা।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

১২৫.
যে তরঙ্গের কণার স্পন্দনের দিক তরঙ্গের সঞ্চারণের দিকের সমান্তরাল, তাকে কী বলে? 
  1. আলোক তরঙ্গ 
  2. অনুপ্রস্থ তরঙ্গ 
  3. অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ 
  4. তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ 
সঠিক উত্তর:
অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ 
ব্যাখ্যা

তরঙ্গ: 
- যে তরঙ্গ সঞ্চারণের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন হয়, সে তরঙ্গকে যান্ত্রিক তরঙ্গ এবং যে তরঙ্গের জন্য কোনো মাধ্যম প্রয়োজন হয় না, সে তরঙ্গকে তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ বলে। 
- মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের ফলে যে যান্ত্রিক তরঙ্গ সৃষ্ট হয় তা দুই ধরনের। 
যথা- 
(১) অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ ও 
(২) অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। 

অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ: 
- যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমান্তরালে অগ্রসর হয়, তাকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে। 
যেমন- শব্দ তরঙ্গ ও স্প্রিং এর তরঙ্গ ইত্যাদি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 

অনুপ্রস্থ তরঙ্গ: 
- পানির মধ্যে তরঙ্গ সৃষ্টি হয় সে ক্ষেত্রে পানির কণাগুলো সাম্য অবস্থান পানির তল থেকে উপর-নিচে ওঠা-নামা করে। কিন্তু তরঙ্গ পানি পৃষ্ঠ বা পানির তলের উপর দিয়ে সামনে ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরণের তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। 
অর্থাৎ, যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে অগ্রসর হয়, তাকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে। 
- এ তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে বা আড়াআড়ি অগ্রসর হয় বলে একে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বা আড় তরঙ্গ বলে। 
যেমন- আলোক তরঙ্গ, বেতার তরঙ্গ, পানির তরঙ্গ ইত্যাদি অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৬.
শব্দের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াতকে কী বলে?
  1. ক) শব্দ সঞ্চালন
  2. খ) শব্দ পরিবহণ
  3. গ) শব্দত্তর তরঙ্গ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) শব্দ সঞ্চালন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শব্দ সঞ্চালন
ব্যাখ্যা

শব্দের একস্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করাকে শব্দ সঞ্চালন বলে।

কোনো মাধ্যম ছাড়া শব্দ এক অবস্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হতে পারে না।

যে শব্দ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক 20,000 Hz বা তার বেশি তাকে শব্দোত্তর তরঙ্গ / শ্রবণোত্তর তরঙ্গ বলে।

শব্দোত্তর কম্পাঙ্কের শব্দ মানুষ শুনতে না পেলেও বাদুর, কুকুর, মৌমাছি প্রভৃতি কিছু প্রাণী এই শব্দ শুনতে পায়।

সূত্র: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান।

১২৭.
স্থির তরঙ্গে পরপর দুটো সুস্পন্দ বিন্দু বা দুটো নিস্পন্দ বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্ব তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের কতগুণ হয়? 
  1. অর্ধেক
  2. সমান
  3. এক-চতুর্থাংশ
  4. দ্বিগুণ
সঠিক উত্তর:
অর্ধেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধেক
ব্যাখ্যা

• স্থির তরঙ্গে পরপর দুটি সুস্পন্দ বিন্দু (Antinodes) বা পরপর দুটি নিস্পন্দ বিন্দুর (Nodes) মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অর্ধেক অর্থাৎ λ/২। একে একটি পূর্ণ লুপের দৈর্ঘ্যও বলা হয়।
- অন্যদিকে, একটি সুস্পন্দ বিন্দু এবং তার ঠিক পরবর্তী নিস্পন্দ বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো তরঙ্গদৈর্ঘ্যের এক-চতুর্থাংশ বা  λ/৪।

• স্থির তরঙ্গ: 
- একই রকম দুটি অগ্রগামী তরঙ্গ বিপরীত দিক থেকে সমভাবে অগ্রসর হয়ে একে অপরের উপর আপতিত হলে যে তরঙ্গের উদ্ভব হয় তাকে স্থির তরঙ্গ বলে। 
- একটি তারের বা মোটা দড়ির এক প্রান্ত একটি দৃঢ় অবলম্বনে বেঁধে অন্য প্রান্ত ধরে উপর নিচে দোলালে একটি তরঙ্গ তার বেয়ে অগ্রসর হবে এবং বন্ধ প্রান্তে প্রতিফলিত হয়ে আবার ফিরে আসবে। 
- এই প্রতিফলিত তরঙ্গ যখন নতুন অগ্রগামী তরঙ্গের উপর আপতিত হবে তখন স্থির তরঙ্গ উদ্ভব হবে। 
- এই তরঙ্গ তার বা দড়ি বেয়ে অগ্রসর না হয়ে বরং তার বা দড়ির ঐ অংশের মধ্যে উৎপন্ন ও লুপ্ত হবে। 
- তরঙ্গের উদ্ভবের সময় দেখা যাবে তারের কোনো কোনো বিন্দুতে কোনো স্পন্দন নাই। 
- আবার কোনো কোনো বিন্দুতে সব সময় সর্বাধিক স্পন্দন হতে থাকবে। 
- যে বিন্দুতে কোনো স্পন্দন নাই সে বিন্দুগুলোকে নিস্পন্দ বিন্দু (Node) এবং যে বিন্দুতে সব সময় সর্বাধিক স্পন্দন হয় সে বিন্দুগুলোকে সুস্পন্দ বিন্দু (Antinode) বলে। 
- নিস্পন্দ ও সুস্পন্দ বিন্দুগুলোর অবস্থানগুলো সব সময় স্থির। 
- পরপর দুটো সুস্পন্দ বিন্দু বা দুটো নিস্পন্দ বিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্ব তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের অর্ধেক হয়। 
- গীটার, একতারা, সেতার ইত্যাদি বাদ্য যন্ত্রের তারে স্থির তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২৮.
টানা তারের আড় কম্পনের ক্ষেত্রে তারের দুই প্রান্ত বাঁধা থাকলে প্রান্ত বিন্দুতে কী সৃষ্টি হয়?
  1. সুস্পন্দ বিন্দু
  2. নিস্পন্দ বিন্দু
  3. অনুনাদ বিন্দু
  4. সংকোচন বিন্দু 
সঠিক উত্তর:
নিস্পন্দ বিন্দু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিস্পন্দ বিন্দু
ব্যাখ্যা

• টানা তারের আড় কম্পনের ক্ষেত্রে তারের দুই প্রান্ত বাঁধা থাকায় প্রান্ত বিন্দুতে নিস্পন্দ বিন্দু সৃষ্টি হয়।

• টানা তারের আড় কম্পন:
- একটি তারকে দুই প্রান্তে দৃঢ় অবলম্বনে টান টান করে বাঁধা হলে তা কম্পনের উপযোগী হয়।
- তারটিকে দৈর্ঘ্যের সাথে লম্বভাবে টেনে ছেড়ে দিলে আড় তরঙ্গ সৃষ্টি হয়।
- উৎপন্ন তরঙ্গ তারের আবদ্ধ প্রান্তে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে।
- আগত ও প্রতিফলিত তরঙ্গের সমন্বয়ে স্থির তরঙ্গ সৃষ্টি হয়।
- স্থির তরঙ্গের ফলে তারটি অবিরত কাঁপতে থাকে।

• নিস্পন্দ বিন্দু:
- তারের যে বিন্দুতে কোনো সরণ হয় না তাকে নিস্পন্দ বিন্দু বলে।
- দুই প্রান্ত বাঁধা থাকায় প্রান্ত বিন্দুতে সরণ শূন্য থাকে।
- তাই প্রান্তদ্বয় নিস্পন্দ বিন্দু হিসেবে কাজ করে।
- মধ্যবর্তী অংশে এক বা একাধিক নিস্পন্দ ও সুস্পন্দ বিন্দু সৃষ্টি হতে পারে।

• সুস্পন্দ বিন্দু:
- যে বিন্দুতে সরণ সর্বাধিক হয় তাকে সুস্পন্দ বিন্দু বলে।
- একটি মাত্র সুস্পন্দ বিন্দু থাকলে যে সুর উৎপন্ন হয় তাকে মূল সুর বলা হয়।
- একাধিক সুস্পন্দ বিন্দু থাকলে উৎপন্ন সুরকে উপসুর বলা হয়।

• অন্যান্য অপশন:
- সুস্পন্দ বিন্দু: যেখানে কম্পনের বিস্তার সর্বাধিক।
- অনুনাদ বিন্দু: অনুনাদের ক্ষেত্রে সৃষ্ট বিশেষ অবস্থা নির্দেশ করে।
- সংকোচন বিন্দু: অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গে ঘন অংশ নির্দেশ করে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
2) Science Expert, Live Publications.

১২৯.
শব্দ তরঙ্গের বেগ কোন কোন উপাদানের উপর নির্ভর করে? 
  1. তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও ব্যাস
  2. তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা
  3. চাপ ও ঘনত্ব
  4. সময় ও তরঙ্গের রঙ
সঠিক উত্তর:
তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা
ব্যাখ্যা
শব্দ তরঙ্গ (Sound Wave): 
- শব্দ তরঙ্গ তৈরি করতে তার একটা উৎসের দরকার, সেটাকে প্রবাহিত করার জন্য একটা মাধ্যমের দরকার এবং সেই শব্দ গ্রহণ করার জন্য কোনো এক ধরনের রিসিভার দরকার। 
- চারপাশে অসংখ্য শব্দের উৎস রয়েছে যার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত উৎস মানুষের কণ্ঠ; সেখানে যে ভোকাল কর্ড আছে তার ভেতর দিয়ে বাতাস বের হওয়ার সময় সেখানে যে কম্পন হয় সেটা দিয়ে শব্দ তৈরি হয়। কথা বলার সময় যদি গলায় স্পর্শ করা হয়, তাহলে সেই কম্পন অনুভব করতে পারা যায়। 

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ কারণ বস্তুকণার কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্যও একটি স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- শব্দ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং মাধ্যমের কণার কম্পনের দিক এক। 
- শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। 
- বায়বীয় মাধ্যমে এর বেগ কম, তরলে তার চেয়ে বেশি, কঠিন পদার্থে আরো বেশি। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- অন্যান্য তরঙ্গের মতো, শব্দ তরঙ্গের তীব্রতাও তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, শব্দ তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয় এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হয়। 
- অন্যান্য যেকোনো তরঙ্গের মতোই শব্দ তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ এবং উপরিপাতন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩০.
কিসের সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়? 
  1. প্রতিফলন
  2. প্রতিধ্বনি
  3. প্রতিসরণ
  4. প্রতিসরাঙ্ক
সঠিক উত্তর:
প্রতিধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিধ্বনি
ব্যাখ্যা
সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয়: 
- প্রতিধ্বনির সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়। 
- কোন শব্দ উৎস থেকে শব্দ করা হলে তা কোন কঠিন তলে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে আবার যদি শব্দের উৎসের নিকট ফিরে আসে, তখন সেই শব্দের পুনরাবৃত্তি শোনা যায়, শব্দের এই পুনরাবৃত্তিকে শব্দের প্রতিধ্বনি বলে। 
- ফ্যাদোমিটার যন্ত্র ব্যবহার করে সমুদ্রের গভীরতা মাপা হয়। 
- প্রতিধ্বনির সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা, কূপের গভীরতা ইত্যাদি নির্ণয় করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩১.
শব্দের তীক্ষ্ণতা কত ডেসিবল এর কম হলে মানুষ তা শুনতে পায় না?
  1. ক) ৫
  2. খ) ১০
  3. গ) ১০৫
  4. ঘ) ২১০
সঠিক উত্তর:
খ) ১০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০
ব্যাখ্যা
শব্দের একক বা শব্দের তীক্ষ্ণতা পরিমাপের একক ‘ডেসিবল’। শব্দের তীক্ষ্ণতা পরিমাপের একক এর উদ্ভাবক স্কটিশ বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল এর নামানুসারে ‘ডেসিবল’ নামকরণ হয়েছে।
১. শব্দের তীক্ষ্ণতা ১০ ডেসিবল এর কম হলে মানুষ তা শুনতে পায় না।
২. শব্দের তীক্ষ্ণতা ১০৫ ডেসিবল এর বেশি হলে মানুষ বধির হয়ে যেতে পারে।
৩. পারমানবিক বোমা সবচেয়ে বেশি তীব্রতর শব্দ উৎপন্ন করে, ২১০ ডেসিবল।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩২.
শব্দ কী? 
  1. এক ধরনের পদার্থ
  2. এক ধরনের শক্তি
  3. এক ধরনের আলো
  4. এক ধরনের তড়িৎ প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
এক ধরনের শক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এক ধরনের শক্তি
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- শব্দ এক প্রকারের শক্তি। 
- বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ সৃষ্টি হয়। 
- শব্দ সঞ্চারণের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
- জড় মাধ্যমের মধ্যে কোন বস্তুর কম্পন হলে মাধ্যমের কণাগুলো আন্দোলিত হয়ে তরঙ্গের সৃষ্টি করে। 
- এই তরঙ্গ জড় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সঞ্চারিত হয়ে কানে প্রবেশ করে। কানের মধ্যে বিভিন্ন যান্ত্রিক কৌশলের মাধ্যমে মস্তিষ্কে শব্দের অনুভূতি সৃষ্টি হয় ফলে শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। 

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ এক ধরনের তরঙ্গ এবং এর কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। 
- বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- 
১. শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 
২. কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয়, অর্থাৎ শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন। 
৩. শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
৪. শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতি (ঘনত্ব, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ইত্যাদি)-এর ওপর নির্ভরশীল। 
৫. শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
৬. শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৩.
বাতাসের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগ -
  1. ক) কমে
  2. খ) বাড়ে
  3. গ) প্রথমে কমে, পরে বাড়ে
  4. ঘ) অপরিবর্তিত থাকে
সঠিক উত্তর:
খ) বাড়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাড়ে
ব্যাখ্যা
- শব্দের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের বেগও বাড়ে।
- যেমন, পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস (0°) তাপমাত্রায় বাতাসে শব্দের গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩৩১ মিটার।
কিন্তু প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে এর বেগ ০.৬ মিটার বৃদ্ধি পাবে।
- শব্দের বেগ মাধ্যমের ঘনত্বের উপরও নির্ভর করে।
- যে মাধ্যমের ঘনত্ব বেশি সে মাধ্যমে শব্দের বেগও বেশি।
- ফলে পানিতে শব্দের বেগ ১৪৪০ মিটার/সেকেন্ড। কঠিন পদার্থ যেমন কাঠের মধ্যে শব্দের বেগ বায়ু অপেক্ষা ১২ গুণ বেশি। ইস্পাতে শব্দের বেগ বায়ুর চেয়ে ১৫ গুণ বেশি।
- সহজ কথায়, যে পদার্থের ঘনত্ব বেশি সে পদার্থে শব্দের বেগও বেশি।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।
১৩৪.
শব্দের বেগ মাধ্যমের কোন বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে?
  1. মাধ্যমের ঘনত্ব
  2. মাধ্যমের আর্দ্রতা
  3. মাধ্যমের তাপমাত্রা
  4. উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- শব্দ এক প্রকার শক্তি। 
- বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ সৃষ্টি হয়। 
- শব্দ সঞ্চারণের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
- জড় মাধ্যমের মধ্যে কোন বস্তুর কম্পন হলে মাধ্যমের কণাগুলো আন্দোলিত হয়ে তরঙ্গের সৃষ্টি করে। 
- এই তরঙ্গ জড় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সঞ্চারিত হয়ে কানে প্রবেশ করে। কানের মধ্যে বিভিন্ন যান্ত্রিক কৌশলের মাধ্যমে মস্তিষ্কে শব্দের অনুভূতি সৃষ্টি হয় ফলে শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। 

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 

- শব্দ এক ধরনের তরঙ্গ এবং এর কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। 
- বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- 
১. শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 
২. কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয়, অর্থাৎ শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন। 
৩. শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
৪. শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতি (ঘনত্ব, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ইত্যাদি)-এর ওপর নির্ভরশীল। 
৫. শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
৬. শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৫.
বাতাসের চেয়ে পানিতে শব্দ কত গুণ দ্রুত চলে?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ১৩
  4. ঘ) ১৫
সঠিক উত্তর:
খ) ৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪
ব্যাখ্যা
বাতাসের চেয়ে পানিতে শব্দ ৪ গুণ দ্রুত চলে। বাতাসের চেয়ে লোহার মধ্যে শব্দ প্রায় ১৫ গুণ দ্রুত চলে।
এছাড়াও-
১. শব্দ সবচেয়ে দ্রুত চলে কঠিন মাধ্যমে
২. তরল মাধ্যমে তার চেয়ে ধীরে চলে
৩. বায়বীয় মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে কম
৪. ভ্যাকুয়ামে বা শূন্যে শব্দের দ্রুতি শূন্য
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩৬.
বাদুড়ের শ্রাব্যতার উর্ধ্বসীমা হলো-
  1. ৪৫,০০০ Hz
  2. ১,০০,০০০ Hz
  3. ৩৫,০০০ Hz
  4. ২০,০০০ Hz
সঠিক উত্তর:
১,০০,০০০ Hz
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১,০০,০০০ Hz
ব্যাখ্যা
শ্রাব্যতার সীমা, শব্দেতর ও শব্দোত্তর তরঙ্গ: 

- শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন।
- কিন্তু কম্পন হলেই শব্দ শোনা যাবে তা কিন্তু নয়। 
- মানুষের শ্রবণ যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা আছে। 
- মানুষ শ্রবণ ইন্দ্রিয় 20 Hz থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পারে। 
- তাই বলা হয়, মানুষের শ্রাব্যতার সীমা/পাল্লা 20 থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের মধ্যে। 
- এই সীমার নিচের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় শব্দেতর তরঙ্গ এবং উপরের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় শব্দোত্তর তরঙ্গ। 

- কয়েকটি প্রাণীর গড় শ্রাব্যতার পাল্লা নিচে উল্লেখ করা হলো - 

• মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লা ২০ Hz ∼ ২০,০০০ Hz,
• কুকুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ৪ Hz ∼ ৪৫,০০০ Hz,
• বিড়ালের শ্রাব্যতার পাল্লা ৪৫ Hz ∼ ৬৪,০০০ Hz,
• ইদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ১,০০০ Hz ∼ ৯১,০০০ Hz,
বাদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ২,০০০ Hz ∼ ১,০০,০০০ Hz।

সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩৭.
ফটো- ইলেকট্রিক কোষে শক্তির কীরূপ পরিবর্তন ঘটে?
  1. ক) তড়িৎশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  2. খ) আলোকশক্তি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  3. গ) আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়
  4. ঘ) রাসায়নিক শক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়
সঠিক উত্তর:
খ) আলোকশক্তি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আলোকশক্তি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়
ব্যাখ্যা

- ফটো- ইলেকট্রিক কোষে আলোকশক্তি তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
- ফটোগ্রাফিক কাগজের উপর আলোকক্রিয়ায় আলোকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১৩৮.
Sound waves cannot travel through which medium?
  1. Air 
  2. Water 
  3. Iron 
  4. Vacuum 
  5. Steel
সঠিক উত্তর:
Vacuum 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Vacuum 
ব্যাখ্যা

- শব্দ তরঙ্গ হলো যান্ত্রিক তরঙ্গ, যার বিস্তারের জন্য একটি স্থিতিস্থাপক মাধ্যম (কঠিন, তরল বা গ্যাস) প্রয়োজন। শব্দ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে কণার কম্পনের মাধ্যমে শক্তি স্থানান্তর করে। যেহেতু শূন্য মাধ্যমে (Vacuum) কোনো কণা বা পদার্থ থাকে না, তাই সেখানে কম্পন সৃষ্টির মতো কিছুই থাকে না, ফলে শব্দ চলাচল করতে পারে না। 

শব্দ তরঙ্গ: 
- শব্দ এক প্রকার শক্তি, যা আমাদের শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে শোনার অনুভূতি জাগায়। 
- শব্দ এক ধরনের তরঙ্গ। 
- শব্দ শক্তি তরঙ্গাকারে এক স্থান বা বিন্দু থেকে অন্য স্থান বা বিন্দুতে সঞ্চারিত হয়। 

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 
- কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয়, অর্থাৎ শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন। 
- শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
- শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতি (ঘনত্ব, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ইত্যাদি)-এর ওপর নির্ভরশীল। 
- শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
- শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩৯.
খুব দূরের কোন কেন্দ্রের অনুষ্ঠান শোনার জন্য কোন ধরনের ফ্রিকোয়েন্সির সাহায্য নিতে হয়?
  1. UHF
  2. VHF
  3. LF
  4. HF
সঠিক উত্তর:
LF
উত্তর
সঠিক উত্তর:
LF
ব্যাখ্যা
LF (Low Frequency) বা নিম্ন ফ্রিকোয়েন্সি তরঙ্গের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো:

⇒এরা ভূপৃষ্ঠের খুব কাছে দিয়ে যেতে পারে (ground wave propagation)।
⇒এই তরঙ্গগুলো দীর্ঘ দূরত্বে ছড়াতে সক্ষম।
⇒ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জ: ৩০ কিলোহার্জ (kHz) থেকে ৩০০ কিলোহার্জ (kHz)।
⇒এই জন্য, খুব দূরের কেন্দ্রের রেডিও অনুষ্ঠান শোনার জন্য LF ফ্রিকোয়েন্সি সবচেয়ে কার্যকরী।

অন্যদিকে, 
 UHF (Ultra High Frequency):
⇒ ৩০০ MHz – ৩ গিগাহার্জ। 
⇒ এটির খুব বেশি দূর যেতে পারে না, মূলত টিভি, মোবাইল, Wi-Fi ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।

 VHF (Very High Frequency):
⇒ ৩০ MHz – ৩০০ MHz
⇒ মাঝারি দূরত্বে অনেক কার্যকর, কিন্তু অনেক বেশি দূরে তেমন কার্যকর নয়।

 HF (High Frequency):
⇒ ৩ MHz – ৩০ MHz
⇒ এটি আকাশ তরঙ্গ (sky wave) হিসেবে অনেক দূরে যেতে পারে, তবে LF-এর তুলনায় কম স্থির ও কম নির্ভরযোগ্য।

তথ্যসূত্র: 
-  HSC পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, ড. শাহজাহান তপন। 
-  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি – একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (NCTB)।
-  NASA: Radio Communication Basics
১৪০.
কোনটি সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য?
  1. ক) এটি পর্যাবৃত্ত গতি
  2. খ) এটি সরল রৈখিক গতি
  3. গ) ত্বরণ সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্যঃ
১. এটি পর্যাবৃত্ত গতি
২. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি
৩. এটি সরল রৈখিক গতি
৪. যে কোন সময় ত্বরণের মান সাম্যাবস্থান থেকে সরণের মানের সমানুপাতিক
৫. ত্বরণ সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী

সূত্রঃ পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১৪১.
মানুষের শ্রাব্য কম্পাঙ্কের সীমা কত? 
  1. ২০ থেকে ২০০০ হার্জ
  2. ২০ থেকে ২০,০০০ হার্জ
  3. ২০ থেকে ৩৫,০০০ হার্জ
  4. ৫০ থেকে ৫০,০০০ হার্জ
সঠিক উত্তর:
২০ থেকে ২০,০০০ হার্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০ থেকে ২০,০০০ হার্জ
ব্যাখ্যা
শ্রাব্যতার সীমা: 
- কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দের উৎপত্তি হয়। 
- সকল কম্পনশীল বস্তুর শব্দ মানুষ শুনতে পাই না। 
- যে শব্দ প্রতি সেকেন্ডে ২০টির কম কম্পন দিয়ে সৃষ্টি হয়, তা মানুষেরা শুনতে পাই না, এরকম শব্দকে শ্রুতিপূর্ব শব্দ বলা হয়। 
- আবার প্রতি সেকেন্ডে ২০,০০০-এর বেশি কম্পনের ফলে সৃষ্ট শব্দকেও মানুষ শুনতে পাই না, একে শ্রুতি-উত্তর শব্দ বলা হয়। 
সুতরাং মানুষের জন্য শ্রাব্যতার সীমা হলো প্রতি সেকেন্ডে ২০ থেকে ২০,০০০ কম্পন দিয়ে সৃষ্ট শব্দ। 
- প্রতি সেকেন্ডে কোনো বস্তু যতটা কম্পন দেয় তাকে বলা হয় ঐ বস্তুর কম্পাঙ্ক। 
- এই কম্পাঙ্ক প্রকাশের একক হলো হার্জ (Hertz)। 
- কোনো বস্তু সেকেন্ডে ২০ বার কাঁপলে তার কম্পাঙ্ক ২০ হার্জ, ২০,০০০ বার কাঁপলে ২০,০০০ হার্জ। 
সুতরাং মানুষের কানের শ্রাব্য কম্পাঙ্কের সীমা ২০ হার্জ থেকে ২০,০০০ হার্জ, এই সীমার মধ্যে কম্পাঙ্কের শব্দকে শ্রাব্য শব্দ বলে। 
- কোনো কোনো প্রাণী ২০,০০০ হার্জ কম্পাঙ্কের চেয়ে বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায়। 
যেমন- কুকুরের এই ক্ষমতা আছে। পুলিশ অতি উচ্চ কম্পাঙ্কের হুইসেল ব্যবহার করে যা কুকুর শুনতে পায় কিন্তু মানুষ শুনতে পায় না। 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানের অনেক অতিশব্দ (শ্রুতি-উত্তর শব্দ ব্যবহারকারী) যন্ত্রের একটি হলো আল্ট্রাসনোগ্রাম। এ যন্ত্র ২০,০০০ হার্জের চেয়ে বেশি কম্পাঙ্কের শব্দের সাহায্যে কাজ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১৪২.
একই রকম প্রতিফলিত তরঙ্গ যখন নতুন অগ্রগামী তরঙ্গের উপর আপতিত হয়, তখন কী ধরনের তরঙ্গ উৎপন্ন হয়?
  1. ক) অগ্রগামী তরঙ্গ
  2. খ) দীঘল তরঙ্গ
  3. গ) স্থির তরঙ্গ
  4. ঘ) আড় তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
গ) স্থির তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্থির তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

একই রকম দুটি অগ্রগামী তরঙ্গ বিপরীত দিক থেকে সমভাবে অগ্রসর হয়ে একে অপরের উপর আপতিত হলে যে তরঙ্গের উদ্ভব হয় তাকে স্থির তরঙ্গ বলে।
একটি তারের বা মোটা দড়ির এক প্রান্ত একটি দৃঢ় অবলম্বনে বেঁধে অন্য প্রান্ত ধরে উপর নিচে দোলালে একটি তরঙ্গ তার বেয়ে অগ্রসর হবে এবং বন্ধ প্রান্তে প্রতিফলিত হয়ে আবার ফিরে আসবে। এই প্রতিফলিত তরঙ্গ যখন নতুন অগ্রগামী তরঙ্গের উপর আপতিত হবে তখন স্থির তরঙ্গ উদ্ভব হবে।

উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র বই (উন্মুক্ত)।

১৪৩.
শব্দের তীক্ষ্ণতা প্রধানত কোনটির উপর নির্ভর করে? 
  1. শব্দের অনুরণন
  2. শব্দের কম্পাঙ্ক
  3. শব্দের তীব্রতা
  4. শব্দের প্রতিফলন
সঠিক উত্তর:
শব্দের কম্পাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দের কম্পাঙ্ক
ব্যাখ্যা
শব্দের তীক্ষ্ণতা: 
- যে বৈশিষ্ট্য দিয়ে কোন সুর চড়া বা সরু এবং কোন সুর মোটা বা খাদের তা বুঝা যায় তাকে শব্দের তীক্ষ্ণতা বলে। 
- শব্দের তীক্ষ্ণতা শব্দ সৃষ্টিকারী বস্তুর কম্পাঙ্কের ওপর নির্ভর করে। 
- কপাঙ্ক যত বেশি হবে শব্দের তীক্ষ্ণতা তত বৃদ্ধি পাবে। 
- ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট শব্দের তীক্ষ্ণতা বেশি ও বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট শব্দের তীক্ষ্ণতা কম। 
- পুরুষ অপেক্ষা মহিলা ও শিশুদের কন্ঠস্বরের কম্পাঙ্ক বেশি বলে তাদের স্বরও চড়া হয়। 
- মনে রাখতে হবে তীক্ষ্ণতা কম্পাঙ্কের সমানুপাতিক হলেও দুটি এক জিনিস নয়। 
- কম্পাঙ্ক হলো যান্ত্রিক আন্দোলন যা নিখুঁতভাবে মাপা যায় আর তীক্ষ্ণতা শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের অনুভূতি। 
- কম্পাঙ্ক কারণ, আর তীক্ষ্ণতা তার ফল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৪.
To hear an echo, the minimum distance between the source and the reflector must be:
  1. 16.6 meters
  2. 15 meters
  3. 12.6 meters
  4. 8 meters
  5. 20 meters
সঠিক উত্তর:
16.6 meters
উত্তর
সঠিক উত্তর:
16.6 meters
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় 0.1 সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। 
- অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
- সুতরাং প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে 0.1 সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 

- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি 332 ms-1। 
- 0°C বা 273 K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব 0.3m বেশি হতে হবে। 
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m (0°C বা 273 K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৫.
কম্পনশীল বস্তু প্রতি সেকেন্ডে যতটি স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে তাকে কী বলে?
  1. কম্পাঙ্ক
  2. পর্যায়কাল
  3. দশা
  4. বিস্তার
সঠিক উত্তর:
কম্পাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কম্পাঙ্ক
ব্যাখ্যা
• কম্পাঙ্ক:
- তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণা বা কম্পনশীল বস্তু প্রতি সেকেন্ডে যতটি স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে কম্পাঙ্ক বলে।
- কোনাে কণা t সময়ে N সংখ্যক কম্পন সম্পন্ন করলে কম্পাঙ্ক, f = N/t
- কম্পাঙ্কের একক s- 1। একে হার্জ (hertz) বলে। একে Hz দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
- কোনাে কণা এক সেকেন্ডে একটি পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করলে তার কম্পাঙ্ককে এক হার্জ বলে।

• পর্যায়কাল:
- তরঙ্গের উপর অবস্থিত কোনাে কম্পনশীল কণার একটি পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায়কাল T বলে।
- পর্যায়কালের একক সেকেন্ড।

• বিস্তার:
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে যে কোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গের বিস্তার বলে।

• দশা:
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণার যে কোনো মুহূর্তের গতির সম্যক অবস্থানকে তার দশা বলে।

উৎস: 
১. পদার্থবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান।
১৪৬.
শব্দকে যান্ত্রিক ও অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলা হয় কেন?
  1. কারণ শব্দ মাধ্যম ছাড়াই চলতে পারে
  2. কারণ শব্দ কণার স্পন্দনের দিকের সাথে লম্বভাবে অগ্রসর হয়
  3. কারণ শব্দ মাধ্যমের কণার কম্পনের মাধ্যমে সমান্তরালভাবে অগ্রসর হয়
  4. কারণ শব্দ কেবল কঠিন মাধ্যমে চলতে পারে
সঠিক উত্তর:
কারণ শব্দ মাধ্যমের কণার কম্পনের মাধ্যমে সমান্তরালভাবে অগ্রসর হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারণ শব্দ মাধ্যমের কণার কম্পনের মাধ্যমে সমান্তরালভাবে অগ্রসর হয়
ব্যাখ্যা

• শব্দ যান্ত্রিক ও অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ, কারণ এটি মাধ্যমের কণার কম্পনের মাধ্যমে স্পন্দনের দিকের সমান্তরালে অগ্রসর হয়।

• শব্দ:
- যা শোনা যায় তাই শব্দ।
- শব্দ এক প্রকার শক্তি, যা আমাদের শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে শোনার অনুভূতি সৃষ্টি করে।
- শব্দ শক্তি তরঙ্গাকারে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয়।
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ, কারণ এর সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- শব্দ এক প্রকার অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ, কারণ এতে মাধ্যমের কণার স্পন্দনের দিক ও তরঙ্গ সঞ্চালনের দিক সমান্তরাল।
- বস্তুর কম্পন থেকে শব্দের উৎপত্তি হয়।
- কম্পন বন্ধ হলে শব্দও বন্ধ হয়ে যায়।

• শব্দের উৎপত্তি:
- কোনো বস্তুতে আঘাত করলে বা কম্পন সৃষ্টি করলে তার চারপাশের মাধ্যমের কণাগুলো স্পন্দিত হয়।
- এই স্পন্দনের ফলে মাধ্যমের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সংকোচন ও প্রসারণ সৃষ্টি হয়।
- সংকোচন অংশে কণাগুলো ঘনভাবে অবস্থান করে এবং প্রসারণ অংশে কণাগুলো তুলনামূলকভাবে দূরে সরে যায়।
- এই সংকোচন ও প্রসারণ ক্রমান্বয়ে সামনে অগ্রসর হয়ে তরঙ্গ সৃষ্টি করে।
- মাধ্যমের কণাগুলো তাদের সাম্য অবস্থানের আশেপাশে সামনে-পেছনে স্পন্দিত হয়, কিন্তু স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হয় না।
- শক্তি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চালিত হয়, কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলো নিজ অবস্থান ত্যাগ করে না।

• শব্দের সঞ্চালন প্রক্রিয়া:
- উৎসে কম্পন সৃষ্টি হলে সংলগ্ন বায়ু স্তরে কম্পন শুরু হয়।
- এই কম্পন অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ আকারে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- বায়ু, তরল বা কঠিন মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালিত হতে পারে।
- মাধ্যম না থাকলে শব্দ সঞ্চালিত হতে পারে না।
- শব্দ তরঙ্গ কানে প্রবেশ করলে কর্ণঝিল্লিতে কম্পন সৃষ্টি করে।
- কর্ণঝিল্লির কম্পন স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছে শব্দের অনুভূতি সৃষ্টি করে।

• শব্দের বৈশিষ্ট্য:
- এটি যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- এটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।
- এটি শক্তি পরিবহন করে।
- এটি সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে অগ্রসর হয়।
- শব্দের সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম অপরিহার্য।

• অন্যান্য অপশন:
- মাধ্যম ছাড়াই চলতে পারে: তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য।
- স্পন্দনের দিকের সাথে লম্বভাবে অগ্রসর হয়: অনুপ্রস্থ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য।
- কেবল কঠিন মাধ্যমে চলতে পারে: শব্দ কঠিন, তরল ও বায়বীয় মাধ্যমে চলতে পারে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

১৪৭.
পানিতে ডুব দিয়ে কেউ হাততালি দিলে, সেই তালির শব্দ জোরে শুনতে পাবে-
  1. ডুবন্ত অবস্থায় থাকা ব্যক্তি
  2. পানির তীরে দাঁড়ানো ব্যক্তি
  3. ডুবন্ত অবস্থায় কেউ শব্দ শুনতেই পাবে না
  4. সকলেই জোরে শব্দ শুনতে পারবে
সঠিক উত্তর:
ডুবন্ত অবস্থায় থাকা ব্যক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডুবন্ত অবস্থায় থাকা ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
শব্দের গতি:
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ। তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- কঠিন পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন- ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি।
- তরলে পদার্থে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। যেমন- পানি।
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে কম।
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য।
- মাধ্যমগুলোতে শব্দের বেগের ক্রম হলো: বায়বীয় > তরল > কঠিন।

তাই, পানিতে ডুব দিয়ে কেউ হাততালি দিলে, সেই তালির শব্দ পানির তীরে দাঁড়ানো থাকা ব্যক্তির তুলনায় ডুবন্ত অবস্থায় থাকা ব্যক্তি জোরে শুনতে পাবে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৪৮.
লোহা মাধ্যমে শব্দ বাতাসের তুলনায় কত গুণ দ্রুত চলে?
  1. ২০ গুণ
  2. ১৮ গুণ
  3. ১৫ গুণ
  4. ১২ গুণ
সঠিক উত্তর:
১৫ গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫ গুণ
ব্যাখ্যা

• লোহা মাধ্যমে শব্দ বাতাসের তুলনায় প্রায় ১৫ গুণ দ্রুত চলে। শব্দের বেগ নির্ভর করে মাধ্যমের ঘনত্ব ও স্থিতিস্থাপকতার ওপর। লোহা একটি কঠিন পদার্থ, যার কণাগুলি খুব ঘনভাবে সজ্জিত থাকে এবং তাদের মধ্যে কম ফাঁকা জায়গা থাকে। ফলে শব্দের কম্পন এক কণার থেকে অন্য কণায় খুব দ্রুত সঞ্চারিত হয়। অন্যদিকে, বাতাস একটি গ্যাসীয় মাধ্যম, যেখানে কণাগুলি দূরে দূরে অবস্থান করে, তাই শব্দ সেখানে তুলনামূলকভাবে ধীরে চলে। গড়পড়তা হিসাবে, লোহায় শব্দের বেগ প্রায় ৫০০০ মিটার/সেকেন্ড এবং বাতাসে প্রায় ৩৪০ মিটার/সেকেন্ড। তাই সঠিক উত্তর হলো: (গ) ১৫ গুণ।

শব্দের সঞ্চালন: 
- কম্পনশীল বস্তু শব্দ সৃষ্টিকরে। 
- কোনো মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের ফলে সৃষ্ট যে আন্দোলন, মাধ্যমের মধ্য দিয়ে চলে বা সঞ্চালিত হয়, তাকে ঢেউ বলে। 
যেমন- একটি লম্বা স্প্রিং নিয়ে এর এক প্রান্তে আঘাত করলে দেখবে স্প্রিংটির সংকোচন ও প্রসারণের ফলে আন্দোলন সঞ্চালিত হচ্ছে, শব্দের ঢেউ এভাবেই সঞ্চালিত হয়। 
- শব্দের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াতকে শব্দ সঞ্চালন বলে। 
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন, এই মাধ্যম হতে পারে কঠিন, তরল ও বায়বীয়।
- কঠিন মাধ্যমে শব্দ বায়ু ও তরল মাধ্যমের চেয়ে দ্রুত ও ভালোভাবে সঞ্চালিত হয়; আবার শব্দ বায়ু মাধ্যমের চেয়ে দ্রুত ও ভালোভাবে তরল মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। 
- মাধ্যম ছাড়া শব্দ সঞ্চালিত হয় না, অর্থাৎ শূন্য মাধ্যমে শব্দ সঞ্চালিত হয় না। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

১৪৯.
পানি মাধ্যমে শব্দের বেগ -
  1. 1020 ms- 1
  2. 1450 ms- 1
  3. 5220 ms- 1
  4. 5560 ms- 1
সঠিক উত্তর:
1450 ms- 1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1450 ms- 1
ব্যাখ্যা
• পানি মাধ্যমে শব্দের বেগ 1450 ms- 1.

• শব্দের বেগের পরিবর্তন:

- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, আলোর দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3 × 108 ms- 1 নির্দিষ্ট।
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms- 1
- তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়।
- বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়।
- হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতি 1°C বা 1 K তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6 ms- 1 পরিমাণ বেড়ে যায়।
- মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়।
- মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়। যেমন-
১. বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 ms- 1,
২. পানি মাধ্যমে 1450 ms- 1 এবং
৩. লোহার মধ্যে 5220ms- 1
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি।
- কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি।
- বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫০.
সরল দোলকের সূত্রাবলী কে আবিষ্কার করেন?
  1. ক) কোপার্নিকাস
  2. খ) গ্যালিলিও
  3. গ) কেপলার
  4. ঘ) নিউটন
সঠিক উত্তর:
খ) গ্যালিলিও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা

অল্প বিস্তারে আন্দোিলত কোনো সরল দোলকের দোলনকাল চারটি সূত্র মেনে চলে। বিজ্ঞানী গ্যালিলিও এই সূত্রগুলো আবিস্কার করেন।
সুত্রঃ এইচএসসি পদার্থ বিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫১.
দৃশ্যমান বর্ণালির বৃহত্তম তরঙ্গদৈর্ঘ্য কোন রঙের আলোর?
  1. বেগুনী
  2. কমলা
  3. সবুজ
  4. লাল
সঠিক উত্তর:
লাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল
ব্যাখ্যা

লাল বর্ণের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বড়।

দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম: 
- বেগুনি < নীল < আসমানী < সবুজ < হলুদ < কমলা < লাল।
- সংক্ষেপে বেনীআসহকলা।
- আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হলে তার বিক্ষেপণ বেশি হয়।
- আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হলে তার বিক্ষেপণ কম হয়।
- লাল রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি তাই এর বিক্ষেপণ কম।
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম।
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশী।
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১৫২.
তাপমাত্রা প্রতি 1°C বাড়লে শব্দের বেগ কতটুকু বেড়ে যায়?
  1. 0.06 ms-1
  2. 0.6 ms-1
  3. 0.01 ms-1
  4. 0.1 ms-1
সঠিক উত্তর:
0.6 ms-1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0.6 ms-1
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) 0.6 ms-1

শব্দের বেগের পরিবর্তন:
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, আলোর দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3 × 108 ms-1 নির্দিষ্ট।
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
- তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়।
- বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়।
- প্রতি 1°C বা 1 K তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6 ms-1 পরিমাণ বেড়ে যায়।
- মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়।
- মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়।
যেমন-
১. বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1,
২. পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং
৩. লোহার মধ্যে 5220 ms-1
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি।
- কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি।
- বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৩.
মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লা কত?
  1. ৪ Hz ∼ ৪৫,০০০ Hz
  2. ১,০০০ Hz ∼ ৯১,০০০ Hz
  3. ২,০০০ Hz ∼ ১১০,০০০ Hz
  4. ২০ Hz ∼ ২০,০০০ Hz
সঠিক উত্তর:
২০ Hz ∼ ২০,০০০ Hz
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০ Hz ∼ ২০,০০০ Hz
ব্যাখ্যা
শ্রাব্যতার পাল্লা বা সীমা: উৎসের কম্পাঙ্ক 20Hz থেকে 20,000Hz এর মধ্য থাকলে মানুষ সে শব্দ শুনতে পায়। একে শ্রাব্যতার পাল্লা বলা হয়।

• 20Hz এর কম কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে শব্দেতর তরঙ্গ ও,
• 20,000Hz এর বেশি কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে শব্দোত্তর তরঙ্গ বলা হয়।
• মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লা-  ২০ Hz ∼ ২০,০০০ Hz;
• কুকুরের শ্রাব্যতার পাল্লা- ৪ Hz ∼ ৪৫,০০০ Hz;
• বিড়ালের শ্রাব্যতার পাল্লা- ৪৫ Hz ∼ ৬৪,০০০ Hz;
• ইদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা- ১,০০০ Hz ∼ ৯১,০০০ Hz;
• বাদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা- ২,০০০ Hz ∼ ১১০,০০০ Hz.

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৫৪.
কোন রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি?
  1. নীল
  2. লাল
  3. আসমানী
  4. বেগুনি
সঠিক উত্তর:
লাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) লাল

দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ:
- তাড়িতচৌম্বকীয় বর্ণালির অতিবেগুনি রশ্মির পরের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ আমাদের চোখে দৃশ্যমান হয় একে বলা হয় দৃশ্যমান বিকিরণ বা দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ।
- এই তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিসর 4 x 10-7 m থেকে 7 × 10-7 m মাত্র।
- এই পরিসরের বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে জন্য আলোর বিভিন্ন বর্ণ দেখা যায়।
- এদের বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি ভাগে ভাগ করা হয়।
- দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রম: বেগুনি < নীল < আসমানী < সবুজ < হলুদ < কমলা < লাল।
- আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হলে তার বিক্ষেপণ বেশি হয়।
- আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হলে তার বিক্ষেপণ কম হয়।
- লাল রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি তাই এর বিক্ষেপণ কম।
- যে বর্ণের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বেশি, তার প্রতিসরণ, বিচ্যুতি ও বিক্ষেপণ তত কম।
- বেগুনি আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে বেশী।
- লাল আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি বলে এর বিক্ষেপণ, প্রতিসরণ ও বিচ্যুতি সবচেয়ে কম।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৫.
সরল ছন্দিত গতিতে ত্বরণের মান কিসের সমানুপাতিক? 
  1. গতির
  2. সরণের
  3. বস্তুর ভরের
  4. সময়ের
সঠিক উত্তর:
সরণের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরণের
ব্যাখ্যা
সরল ছন্দিত গতি: 
- যদি পর্যাবৃত্ত গতিসম্পন্ন বস্তু বা কণার গতি সরল রৈখিক হয় এবং এর ত্বরণ সাম্য অবস্থান থেকে এর সরণের সমানুপাতিক হয় এবং এর দিক সব সময় সাম্য অবস্থান অভিমুখী হয়, তা হলে বস্তু কণার ঐ গতিকে সরল ছন্দিত গতি বা সরল ছন্দিত স্পন্দন বলে। 
- কোন স্প্রিং এর এক প্রান্ত দৃঢ় কোন অবস্থানে বেঁধে অন্য প্রান্তে একটি ভারী বস্তু ঝুলিয়ে টেনে ছেড়ে দিলে তার উপর-নিচে গতি, তারের বাদ্যযন্ত্র- যেমন গিটারের তার টেনে ছেড়ে দিলে তার গতি, পেন্ডুলামের গতি, ইঞ্জিনের মধ্যে পিস্টনের গতি ইত্যাদি সরল ছন্দিত গতির উদাহরণ। 

সরল ছন্দিত গতির বৈশিষ্ট্য: 
১. এটি পর্যাবৃত্ত গতি। 
২. এটি একটি সরল স্পন্দন গতি। 
৩. এটি সরল রৈখিক গতি। 
৪. যে কোন সময় ত্বরণের মান সাম্যাবস্থান থেকে সরণের মানের সমানুপাতিক। 
৫. ত্বরণ সর্বদা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু অভিমুখী। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫৬.
শব্দের তীব্রতা কত ডেসিবেল হলে কানে ব্যথা শুরু হয়?
  1. ক) ৮৫ ডিবি
  2. খ) ১২০ ডিবি
  3. গ) ৪৫ ডিবি
  4. ঘ) ৬০ ডিবি
সঠিক উত্তর:
খ) ১২০ ডিবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১২০ ডিবি
ব্যাখ্যা
- শব্দের তীব্রতা পরিমাপের একক ডেসিবেল (ডিবি)।
- শব্দের মাত্রা ৪৫ ডিবি হলেই সাধারণত মানুষ ঘুমাতে পারে না।
- ৮৫ ডিবিতে শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে এবং
- মাত্রা ১২০ ডিবি হলে কানে ব্যথা শুরু হয়

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫৭.
০° C তাপমাত্রায় প্রতিধ্বনি শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের ন্যূনতম দূরত্ব কত? 
  1. ১২.৬ মিটার
  2. ১৬.৬ মিটার 
  3. ২০.০ মিটার
  4. ২৫.০ মিটার
সঠিক উত্তর:
১৬.৬ মিটার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬.৬ মিটার 
ব্যাখ্যা

শব্দ: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় ০.১ সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। 
- অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
সুতরাং প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 

- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- ০°C বা ২৭৩ K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি 332 ms-1। 
- ০°C বা ২৭৩ K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব ১৬.৬ m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব ০.৩ m বেশি হতে হবে। 
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব ১৬.৬ m (০° C বা ২৭৩ K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৮.
কোন মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি? 
  1. বায়ু 
  2. শূন্যস্থান 
  3. ইস্পাত 
  4. পানি 
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত 
ব্যাখ্যা

শব্দ তরঙ্গ: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
- কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক এক। 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন: ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। যেমন: পানি। 
- বায়বীয় পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম। 
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মতো তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
- অর্থাৎ তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৫৯.
শব্দেতর তরঙ্গের কম্পাঙ্ক কত?
  1. ক) ২০০০০ Hz এর চেয়ে কম
  2. খ) ২০০০০ Hz এর চেয়ে বেশি
  3. গ) ২০ Hz - ২০০০০ Hz
  4. ঘ) ২০ Hz এর কম
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২০ Hz এর কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২০ Hz এর কম
ব্যাখ্যা

উৎসের কম্পাঙ্ক ২০ Hz - ২০০০০ Hz এর মধ্যে থাকলেই কেবল তা শুনতে পায় মানুষ। একে শ্রাব্যতার পাল্লা বলে।
- যে শব্দ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ২০০০০ Hz এর চেয়ে বেশি- তাকে শব্দোত্তর তরঙ্গ বলে।
- আর যে শব্দ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ২০ Hz এর চেয়ে কম-তাকে শব্দেতর তরঙ্গ বলে।
সূত্র: মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১৬০.
সেকেন্ড দোলকের দোলনকালকে কী দ্বারা প্রকাশ করা হয়?
  1. g
  2. L
  3. T
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
T
উত্তর
সঠিক উত্তর:
T
ব্যাখ্যা
• সেকেন্ড দোলকের দোলনকালকে 'T' দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

• সেকেন্ড দোলক:

- একটি সরল দোলক, যার পূর্ণ দোলনকাল দুই সেকেন্ড। অর্থাৎ, এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যেতে এবং আবার ফিরে আসতে মোট দুই সেকেন্ড সময় নেয়, তাকে সেকেন্ড দোলক বলা হয়।
- সেকেন্ড দোলক প্রতি ১ সেকেন্ডে একটি অর্ধদোলন সম্পন্ন করে।

• সেকেন্ড দোলকের দৈর্ঘ্য:
- সেকেন্ড দোলকের দোলনকাল, T = 2s

আমরা জানি,
সরল দোলকের দোলনকাল, T = 2π √(L/g)
∴ সেকেন্ড দোলকের জন্য, 2s = 2π √(L/g)
⇒ L = gs22

∴ দেখা যায় যে, সেকেন্ড দোলকের দৈর্ঘ্য অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভর করে।
- সেকেন্ড দোলকের দৈর্ঘ্য অভিকর্ষজ ত্বরণের সমানুপাতিক।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
১৬১.
শব্দের তীব্রতা এবং তরঙ্গের বিস্তার কিভাবে সম্পর্কিত?
  1. তীব্রতা বিস্তারের বিপরীত
  2. তীব্রতা সরাসরি এক ধরনের বিস্তার
  3. তীব্রতা বিস্তারের বর্গমূলের সমানুপাতিক
  4. তীব্রতা বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক
সঠিক উত্তর:
তীব্রতা বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তীব্রতা বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক
ব্যাখ্যা

শব্দ তরঙ্গ: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ। 
- কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক এক। 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন: ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। যেমন: পানি। 
- বায়বীয় পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম। 
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মতো তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬২.
নিম্নের কোন বৈশিষ্ট্যটি শব্দ তরঙ্গের ক্ষেত্রে সঠিক?
  1. শব্দ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ এবং মাধ্যমে কণার সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়
  2. শব্দ আড় তরঙ্গ এবং কণার উপর-নিচ স্পন্দনের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়
  3. শব্দ তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ এবং মাধ্যম ছাড়াই সঞ্চালিত হয়
  4. শব্দ কেবল তরল মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়
সঠিক উত্তর:
শব্দ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ এবং মাধ্যমে কণার সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ এবং মাধ্যমে কণার সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়
ব্যাখ্যা

• শব্দ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ, যা মাধ্যমে কণার সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়।

• শব্দ ও শব্দের উৎপত্তি:
- যা শোনা যায় তাই শব্দ।
- শব্দ এক প্রকার শক্তি, যা শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে অনুভূত হয়।
- কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়।
- কম্পন বন্ধ হলে শব্দও বন্ধ হয়ে যায়।
- শব্দ যান্ত্রিক তরঙ্গ এবং অনুদৈর্ঘ্য প্রকৃতির।

• শব্দ সঞ্চালন প্রক্রিয়া:
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য বস্তুগত মাধ্যম প্রয়োজন।
- কম্পনশীল বস্তু সংলগ্ন মাধ্যমের কণায় সংকোচন ও প্রসারণ সৃষ্টি করে।
- এই সংকোচন-প্রসারণ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ আকারে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- মাধ্যমের কণাগুলো সামনের-পেছনের দিকে স্পন্দিত হয়, কিন্তু স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হয় না।
- শব্দ শূন্য মাধ্যমে সঞ্চালিত হয় না।

• শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য:
- শব্দ যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।
- শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন।
- শব্দের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতি, ঘনত্ব, তাপমাত্রা ইত্যাদির উপর নির্ভরশীল।
- শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও অপবর্তন ঘটাতে পারে।
- শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৩.
কোনো স্থানে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে সেখানে একটি সরল দোলকের দোলনকাল কতগুণ বাড়বে বা কমবে?
  1. ৯ গুণ বাড়বে
  2. ৯ গুণ কমবে
  3. ৩ গুণ বাড়বে
  4. ৩ গুণ কমবে
সঠিক উত্তর:
৩ গুণ কমবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ গুণ কমবে
ব্যাখ্যা
সরল দোলক: 
- একটি ভারী আয়তনহীন বস্তু কণাকে ওজনহীন, নমনীয় ও অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে একটি উলম্ব তলে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে।
- দোলনকাল মধ্যাকর্ষণ জনিত ত্বরণ এর বর্গমূলের ব্যস্তানুপাতে পরিবর্তিত হয়।
সুতরাং, মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে সেখানে একটি সরল দোলকের দোলনকাল ৩ গুণ কমবে। 
১৬৪.
জিওফোন (Geophone) ব্যবহৃত হয়- 
  1. যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করতে
  2. শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি করতে
  3. গর্ভের শিশুর নড়াচড়া ধরতে
  4. শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন গ্রহণ করতে
সঠিক উত্তর:
শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন গ্রহণ করতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন গ্রহণ করতে
ব্যাখ্যা
শব্দের ব্যবহার (Usages of Sound): 
- শব্দের প্রচলিত ব্যবহারের কথা নিশ্চয়ই কাউকে আলাদা করে বলতে হবে না। 
যেমন- কথা বলা, গান শুনা, হৃৎস্পন্দন শোনা, যন্ত্রপাতির শব্দ শোনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে শব্দের ব্যবহার হয়। 
- শব্দের আরো কিছু ব্যবহার আছে যেমন- সন্তানসম্ভবা মায়ের গর্ভে যে নবজাতকটি বড় হয় বাইরে থেকে তাকে দেখার কোনো উপায় ছিল না, এখন আলট্রাসনোগ্রাফি নামে একটি প্রক্রিয়ায় সেটি দেখা সম্ভব হয়।

১। ত্রিমাত্রিক সিসমিক সার্ভে (3D Seismic Survey): 
- মাটির নিচে গ্যাস বা তেল আছে কি না দেখার জন্য সিসমিক সার্ভে করা হয়। 
- এটি করার জন্য মাটির খানিকটা নিচে ছোট বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, বিস্ফোরণের শব্দ মাটির নিচের বিভিন্ন স্তরে প্রতিফলিত হয়ে উপরে ফিরে আসে। 
- জিওফোন (Geophone) নামে বিশেষ এক ধরনের রিসিভারে সেই প্রতিফলিত তরঙ্গকে ধারণ (Detect) করা হয়। 
- সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে মাটির নিচের নিখুঁত ত্রিমাত্রিক ছবি বের করে, কোথায় গ্যাস বা কোথায় তেল আছে তা বের করা যায়। 
- শব্দের উৎসটি কোথায় আছে এবং জিওফোনগুলো কোথায় আছে দুটিই জানা থাকার কারণে উৎস থেকে জিওফোনে শব্দ আসতে কতটুকু সময় লেগেছে জানতে পারলেই বিভিন্ন স্তরের দূরত্ব নিখুঁতভাবে বের করা যায়। 

২। আলট্রাসাউন্ড ক্লিনার: 
- ল্যাবরেটরিতে যখন ছোটখাটো যন্ত্রপাতি নিখুঁতভাবে পরিষ্কার করতে হয়, তখন আলট্রাসাউন্ড ক্লিনার ব্যবহার করা হয়। এখানে কোনো একটি তরলে ছোটখাটো যন্ত্রপাতি ডুবিয়ে রেখে তার ভেতর আলট্রাসাউন্ড প্রবাহিত করা হয়, এবং তার কম্পনে যন্ত্রপাতির সব ময়লা বের হয়ে আসে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৬৫.
মানুষের কানে শ্রাব্য শব্দের কম্পাঙ্কের পরিসর কত?
  1. ১০ Hz – ১০০০ Hz
  2. ২০ Hz – ২০০০০ Hz
  3. ৫০ Hz – ৫০০০০ Hz
  4. ১০০ Hz – ১০০০০ Hz 
সঠিক উত্তর:
২০ Hz – ২০০০০ Hz
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০ Hz – ২০০০০ Hz
ব্যাখ্যা

• মানুষের শ্রাব্যতার সীমা ২০ Hz থেকে ২০,০০০ Hz কম্পাঙ্কের মধ্যে।

• শ্রাব্যতার সীমা:
- শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন।
- কম্পন হলেই সব শব্দ মানুষ শুনতে পায় না।
- মানুষের শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে।
- প্রতি সেকেন্ডে ২০ টির নিচে কম্পন হলে উৎপন্ন শব্দ মানুষ শুনতে পায় না।
- প্রতি সেকেন্ডে ২০,০০০ টির বেশি কম্পন হলেও উৎপন্ন শব্দ মানুষ শুনতে পায় না।
- তাই মানুষের শ্রাব্যতার সীমা ২০ Hz থেকে ২০,০০০ Hz কম্পাঙ্কের মধ্যে।
- এই সীমার মধ্যে উৎপন্ন শব্দকে শ্রাব্য শব্দ বলা হয়।
- মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।

• শব্দেতর (Infrasonic) তরঙ্গ:
- ২০ Hz-এর নিচের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে শব্দেতর তরঙ্গ বলে।
- এ ধরনের তরঙ্গ মানুষের কানে শোনা যায় না।
- শব্দের চেয়ে কম কম্পাঙ্কের জন্য একে শব্দেতর বলা হয়।

• শব্দোত্তর (Ultrasonic) তরঙ্গ:
- ২০,০০০ Hz-এর উপরের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে শব্দোত্তর তরঙ্গ বলে।
- এ ধরনের তরঙ্গ মানুষের কানে শোনা যায় না।
- শব্দের চেয়ে বেশি কম্পাঙ্কের জন্য একে শব্দোত্তর বলা হয়।

• বিভিন্ন প্রাণীর শ্রাব্যতার পাল্লা:
- মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লা ২০ Hz থেকে ২০,০০০ Hz,
- বিড়ালের শ্রাব্যতার পাল্লা ৪৫ Hz থেকে ৬৪,০০০ Hz,
- ইঁদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ১,০০০ Hz থেকে ৯১,০০০ Hz,
- বাদুরের শ্রাব্যতার পাল্লা ২,০০০ Hz থেকে প্রায় ১১০,০০০ Hz,
- ডগ হুইসেল বা নীরব বাঁশিতে উৎপন্ন শব্দ মানুষ শুনতে পায় না, কিন্তু কুকুর ও বিড়াল শুনতে পারে।
- প্রাণীভেদে শ্রাব্যতার পাল্লার পার্থক্য রয়েছে।

উৎস:
1) পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
2) Science Expert, Live Publications.

১৬৬.
শব্দের গতি কোন মাধ্যমের মধ্যে সবচেয়ে বেশি?
  1. শূন্য 
  2. পানি 
  3. ইস্পাত
  4. বাতাস
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
ব্যাখ্যা

 - ইস্পাত তথা কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি হয়। 

শব্দ তরঙ্গ: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ, এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক এক। 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন: ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। যেমন: পানি। 
- বায়বীয় পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম এবং শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মতো তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৬৭.
300 Hz কম্পাঙ্কে স্পন্দিত কোনো রেডিও স্পিকার থেকে উৎপন্ন শব্দ তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 1.5m হলে বায়ুতে শব্দ তরঙ্গের বেগ কত?
  1. 390 ms- 1
  2. 450 ms- 1
  3. 520 ms- 1
  4. 600 ms- 1
সঠিক উত্তর:
450 ms- 1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
450 ms- 1
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: 300 Hz কম্পাঙ্কে স্পন্দিত কোনো রেডিও স্পিকার থেকে উৎপন্ন শব্দ তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 1.5m হলে বায়ুতে শব্দ তরঙ্গের বেগ কত?

সমাধান:
এখানে,
কম্পাঙ্ক, f = 300 Hz
= 300s- 1
তরঙ্গ দৈর্ঘ্য, λ = 1.5m
তরঙ্গ বেগ, V = ?

আমরা জানি,
V = fλ
= 300s- 1 × 1.5m
= 450 ms- 1
১৬৮.
দুটি প্রায় সমান ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ তরঙ্গ যদি একে অপরের সাথে মিলিত হয়, তখন যেটি ঘটে তাকে বলা হয়:
  1. রেজোন্যান্স
  2. প্রতিধ্বনি
  3. ইকো
  4. বিটস
সঠিক উত্তর:
বিটস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিটস
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর - ঘ) বিটস। 
 
দুটি প্রায় সমান ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ তরঙ্গ যখন একে অপরের সাথে মিলিত হয়, তখন যে ঘটনাটি ঘটে তাকে বিটস (ঘ) বলা হয়। এই ক্ষেত্রে দুটি তরঙ্গ কখনো একে অপরকে শক্তিশালী করে (গঠনমূলক ব্যতিচার) এবং কখনো দুর্বল করে (বিনাশমূলক ব্যতিচার)। ফলে শব্দের তীব্রতা পর্যায়ক্রমে বাড়ে ও কমে, যা আমরা কানে “ধকধক” বা ওঠানামা করা শব্দ হিসেবে শুনি। বিটসের সংখ্যা নির্ভর করে দুই তরঙ্গের ফ্রিকোয়েন্সির পার্থক্যের উপর। এই ঘটনা সঙ্গীত যন্ত্র টিউন করার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

শব্দ: 
- শব্দ এক প্রকারের শক্তি। 
- বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ সৃষ্টি হয়। 
- শব্দ সঞ্চারণের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
- জড় মাধ্যমের মধ্যে কোন বস্তুর কম্পন হলে মাধ্যমের কণাগুলো আন্দোলিত হয়ে তরঙ্গের সৃষ্টি করে। 
- এই তরঙ্গ জড় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সঞ্চারিত হয়ে কানে প্রবেশ করে। কানের মধ্যে বিভিন্ন যান্ত্রিক কৌশলের মাধ্যমে মস্তিষ্কে শব্দের অনুভূতি সৃষ্টি হয় ফলে শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। 

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ এক ধরনের তরঙ্গ এবং এর কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। 
- বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- 
১. শব্দ এক ধরনের যান্ত্রিক এবং অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 
২. কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ উৎপন্ন হয়, অর্থাৎ শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন। 
৩. শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন। 
৪. শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতি (ঘনত্ব, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ইত্যাদি)-এর ওপর নির্ভরশীল। 
৫. শব্দের তীব্রতা তরঙ্গের বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
৬. শব্দ তরঙ্গ প্রতিফলন, প্রতিসরণ ও উপরিপাতন সম্ভব। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬৯.
শব্দের উৎপত্তির মূল কারণ কী?
  1. বস্তুর প্রসারণ
  2. বস্তুর কম্পন
  3. মাধ্যমের সংকোচন
  4. মাধ্যমের প্রসারণ
সঠিক উত্তর:
বস্তুর কম্পন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তুর কম্পন
ব্যাখ্যা

• শব্দের উৎপত্তির মূল কারণ হলো বস্তুর কম্পন।

• শব্দ (Sound):
- যা শোনা যায় তাই শব্দ।
- শব্দ এক প্রকার শক্তি।
- শব্দ আমাদের শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে শোনার অনুভূতি সৃষ্টি করে।
- শব্দ শক্তি তরঙ্গাকারে এক স্থান বা বিন্দু থেকে অন্য স্থান বা বিন্দুতে সঞ্চারিত হয়।
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- শব্দ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।

• শব্দের উৎপত্তি:
- কোনো বস্তুকে আঘাত করলে তা কম্পিত হয়।
- এই কম্পনের ফলেই শব্দ উৎপন্ন হয়।
- একটি ধাতব পাত্রে আঘাত করলে “ঝন্-ঝন্” শব্দ শোনা যায়।
- কিছুক্ষণ পরে কম্পন বন্ধ হলে শব্দও থেমে যায়।
- পাতলা কাগজের সামনে জোরে ফুঁ দিলে কাগজ কাঁপে এবং শব্দ হয়।
- ফুঁ দেওয়া বন্ধ করলে কাগজের কম্পন ও শব্দ উভয়ই বন্ধ হয়।
- পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে বস্তুর কম্পন থেকেই শব্দের সৃষ্টি হয়।

• শব্দের সঞ্চালন প্রক্রিয়া:
- কোনো মাধ্যমে কোনো বিন্দুতে কম্পন সৃষ্টি হলে মাধ্যমের কণাগুলি আন্দোলিত হয়।
- এই আন্দোলনের ফলে তরঙ্গের সৃষ্টি হয়।
- তরঙ্গ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে সঞ্চারিত হয়।
- পার্শ্ববর্তী কণাগুলিও পর্যায়ক্রমে আন্দোলিত হয়।
- এভাবে শব্দ তরঙ্গ আমাদের কানে পৌঁছে।
- কানের ভেতরে যান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মস্তিষ্কে শব্দের অনুভূতি সৃষ্টি হয়।
- আমরা তখন শব্দ শুনতে পাই।

• শব্দ সঞ্চালনের শর্ত:
- শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন।
- মাধ্যম না থাকলে শব্দ সঞ্চালিত হয় না।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭০.
তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের কী বলে?
  1. কম্পাঙ্ক
  2. পর্যায়কাল
  3. বিস্তার
  4. দশা
সঠিক উত্তর:
পর্যায়কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্যায়কাল
ব্যাখ্যা
• পর্যায়কাল:
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায় কাল বলে।
পর্যায়কালকে T দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- পর্যায়কালের একক সেকেন্ড (s)।

• কম্পাঙ্ক: তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে ঐ কণার বা তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে। 
• বিস্তার: তরঙ্গ সঞ্চারকারী কোনো কণা সাম্য অবস্থান থেকে যেকোনো একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গের বিস্তার বলে। 
• দশা: তরঙ্গ সঞ্চারকারী কোনো কণার যে কোনো মুহূর্তের গতির সম্যক অবস্থাকে তার দশা বলে। 

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭১.
তরঙ্গের বেগ (v) নির্ণয় করার সূত্র কোনটি? 
  1. v = λ × f × T
  2. v = λ × T 
  3. v = λ / T
  4. v = T / λ 
সঠিক উত্তর:
v = λ / T
উত্তর
সঠিক উত্তর:
v = λ / T
ব্যাখ্যা

তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ও বেগের সম্পর্ক: 
- তরঙ্গ সৃষ্টিকারী মাধ্যমের স্পন্দনশীল একটি কণা একটি পূর্ণ স্পন্দন হতে যে সময় লাগে, সেই সময়ে তরঙ্গ সামনের দিকে এগিয়ে যায়। 
- তরঙ্গের অতিক্রান্ত এই দূরত্বই তরঙ্গ দৈর্ঘ্য, λ । 
- আর পূর্ণ স্পন্দনের সময়কে বলা হয় পর্যায়কাল। 
- পর্যায়কালকে T দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
অর্থাৎ, T সেকেন্ডে তরঙ্গে অতিক্রান্ত দূরত্ব λ । 
∴ এক সেকেন্ডে অতিক্রান্ত দূরত্ব হবে λ/T । 

- কোনো বস্তুর একক সময়ে অর্থাৎ 1 সেকেন্ডে অতিক্রান্ত দূরত্বকে বেগ বলে। 
অর্থাৎ, তরঙ্গের বেগ, v = λ/T 
বা, v = (1/T) × λ 
∴ v = fλ [যেহেতু পর্যায়কাল T এবং কম্পাঙ্ক f হলে, f = 1/T] । 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭২.
পূর্ণ স্পন্দনের সময়কালকে কী বলে?
  1. ক) পর্যায়কাল
  2. খ) কম্পাঙ্ক
  3. গ) গতি
  4. ঘ) তরঙ্গ দৈর্ঘ্য
সঠিক উত্তর:
ক) পর্যায়কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পর্যায়কাল
ব্যাখ্যা

কোন কম্পনশীল বস্তু একটি পূর্ণ দোলন সম্পূর্ণ করতে যে সময় লাগে,তাকে দোলনকাল বলে ।
সরল দোলকের একটি পূর্ণ দোলনের যে সময় লাগে, তাই দোলনকাল অথবা,পর্যায়কাল বলে।

সুত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান।

১৭৩.
আলট্রাসনোগ্রাফি কী?
  1. নতুন ধরনের এক্সরে
  2. ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের শব্দের দ্বারা ইমেজিং
  3. শরীরের অভ্যন্তরের শব্দ বিশ্লেষণ
  4. শক্তিশালী শব্দ দিয়ে পিত্তপাথর বিচূর্ণীকরণ
সঠিক উত্তর:
ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের শব্দের দ্বারা ইমেজিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের শব্দের দ্বারা ইমেজিং
ব্যাখ্যা

আলট্রাসনোগ্রাফি হলো উচ্চ কম্পাঙ্কের এবং ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ছবি বা ইমেজ তৈরির একটি পদ্ধতি।

• আল্ট্রাসনোগ্রাফি:
- শরীরের অভ্যন্তরীণ নরম পেশী বা টিস্যুর সমস্যা নির্ণয়ে আল্ট্রাসাউন্ডকে কাজে লাগিয়ে যে পরীক্ষা করা হয় তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি বলে।
- আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে উচ্চ কম্পাংকের শব্দের প্রতিফলন বা প্রতিধ্বনিকে কাজে লাগানো হয়।
- উচ্চ কম্পাংকের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশী থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়।
- রোগ নির্ণয়ে যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয় সেই শব্দের কম্পাংক ১–১০ মেগাহার্টজ হয়ে থাকে।
- হৃদপিন্ডে অথবা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য নরম অঙ্গ যেমন- যকৃৎ, পিত্তথলি, প্রধানরক্ত নালী সমূহে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়।
- বিশেষত ভ্রুণের বৃদ্ধি, বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের টিউমার সনাক্তকরণে।
- এক্সরের তুলনায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি অধিকতর নিরাপদ রোগ নির্ণয়ের কৌশল।

উৎস:
১. পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৭৪.
কোন তরঙ্গ শূন্য মাধ্যমে চলতে সক্ষম?
  1. শব্দ তরঙ্গ
  2. পানির তরঙ্গ
  3. যান্ত্রিক তরঙ্গ
  4. তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

• তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গের প্রসারণের জন্য কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না, তাই এটি শূন্য মাধ্যমে চলতে পারে।

• তরঙ্গের শ্রেণিবিভাগ:
- তরঙ্গকে প্রধানত দুই ভাগে শ্রেণিবিভাগ করা যায়। যথা—
- যান্ত্রিক তরঙ্গ (Mechanical Wave),
- তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ (Electromagnetic Wave)।
 
• যান্ত্রিক তরঙ্গ (Mechanical Wave):
- যে তরঙ্গের প্রসারণের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়, তাকে যান্ত্রিক তরঙ্গ বলা হয়।
- যান্ত্রিক তরঙ্গ শূন্য মাধ্যমে চলতে পারে না।
- এই তরঙ্গের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চালিত হয়, কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলোর স্থায়ী স্থানান্তর ঘটে না।
- মাধ্যমের কণাগুলো নিজ নিজ সাম্য অবস্থার চারপাশে কম্পন করে।
- উদাহরণ—
- শব্দ তরঙ্গ,
- পানির তরঙ্গ।
 
• তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ (Electromagnetic Wave):
- যে তরঙ্গের প্রসারণের জন্য কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না, তাকে তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ বলা হয়।
- তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ শূন্য মাধ্যমেও চলতে সক্ষম।
- এই তরঙ্গের মাধ্যমেও শক্তি পরিবাহিত হয়।
- উদাহরণ—
- আলো,
- রেডিও তরঙ্গ।
 
• তরঙ্গ সঞ্চালনের সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
- তরঙ্গের মাধ্যমে শক্তি পরিবাহিত হয়, বস্তু পরিবাহিত হয় না।
- মাধ্যমের কণাগুলো কেবল কম্পনের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চালনে অংশগ্রহণ করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৭৫.
শব্দ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব কোনটি?
  1. ক) আলসার
  2. খ) শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়া
  3. গ) নিদ্রাহীনতা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

শব্দ দূষণ : অতি উচ্চ শব্দ আমাদের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটায়, মেজাজ খারাপ করে ফেলে এধরণের অতি শব্দ দ্বারা পরিবেশ নষ্ট হয়। এ অবস্থাকে বলা হয় শব্দ দূষণ।
উচ্চ শব্দ মানুষের মস্তিষ্কে স্নায়বিক চাপ সৃষ্টি করে। অর্থাৎ স্নায়ুর স্বাভাবিক সংযোগ ব্যহত করে, কাজে মনোযোগ কমিয়ে দেয়, মেজাজ খিটখিটে করে, কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়, পরিপাক ক্রিয়া ব্যহত করে।
পাকস্থলী ও পরিপাক তন্ত্রের পীড়া বা ব্যাধি সৃষ্টি করে। আলসার ও আন্ত্রিক পীড়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বাড়িয়ে দেয়।
সারাক্ষণ কানে মাইক্রোফোন লাগিয়ে উচ্চ স্বরে গান শুনলে পেটের পীড়া ও কানের অসুখ দেখা দেয়, বিশেষ করে শ্রবণ শক্তি ধীরে ধীরে কমে যায়। ফলে অল্প বয়সেই বধিরতা আসতে পারে।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১৭৬.
প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ ও প্রতিধ্বনির মধ্যে সময় ব্যবধান ন্যূনতম কত হতে হবে? 
  1. ০.১ সেকেন্ড 
  2. ০.৫ সেকেন্ড 
  3. ১.০ সেকেন্ড 
  4. ১.১ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
০.১ সেকেন্ড 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.১ সেকেন্ড 
ব্যাখ্যা

শব্দ: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় ০.১ সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
সুতরাং, প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে।
- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- ০°C বা ২৭৩K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি ৩৩২ms-1
- ০°C বা ২৭৩ K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব ১৬.৬ m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব ০.৩ m বেশি হতে হবে। 
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো- শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব ১৬.৬ m (০°C বা ২৭৩ K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৭.
প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ ও প্রতিধ্বনির মধ্যে সময় ব্যবধান ন্যূনতম কত হতে হবে? 
  1. ০.৩ সেকেন্ড
  2. ০.১ সেকেন্ড
  3. ১.১ সেকেন্ড
  4. ১.০ সেকেন্ড
সঠিক উত্তর:
০.১ সেকেন্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০.১ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

• শব্দ: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় ০.১ সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ আমাদের মস্তিষ্কে থাকে। 
- এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
সুতরাং, প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে।
- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- ০°C বা ২৭৩K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি ৩৩২ms-1
- ০°C বা ২৭৩ K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব ১৬.৬ m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব ০.৩ m বেশি হতে হবে। 
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো- শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব ১৬.৬ m (০°C বা ২৭৩ K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭৮.
শব্দ তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য কোনটির প্রয়োজন হয়? 
  1. আলো
  2. তড়িৎ শক্তি
  3. স্থিতিস্থাপক মাধ্যম
  4. শূন্য মাধ্যম
সঠিক উত্তর:
স্থিতিস্থাপক মাধ্যম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থিতিস্থাপক মাধ্যম
ব্যাখ্যা
শব্দ তরঙ্গ: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক এক। 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। 
যেমন: ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। 
যেমন: পানি। 
- বায়বীয় পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম। 
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মতো তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭৯.
মানুষ কোন কম্পনমাত্রার শব্দ শুনতে পারে?
  1. সেকেন্ডে ২০ এর কম কম্পনের ফলে সৃষ্ট শব্দ
  2. সেকেন্ডে ২০,০০০-এর বেশি কম্পনের ফলে সৃষ্ট শব্দ
  3. সেকেন্ডে ২০ থেকে ২০,০০০ কম্পনের ফলে সৃষ্ট শব্দ
  4. সেকেন্ডে ২০ থেকে ২৫,০০০ কম্পনের ফলে সৃষ্ট শব্দ
সঠিক উত্তর:
সেকেন্ডে ২০ থেকে ২০,০০০ কম্পনের ফলে সৃষ্ট শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেকেন্ডে ২০ থেকে ২০,০০০ কম্পনের ফলে সৃষ্ট শব্দ
ব্যাখ্যা
শ্রাব্যতার সীমা: 
- কোনো বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দের উৎপত্তি হয়। 
- সকল কম্পনশীল বস্তুর শব্দ মানুষ শুনতে পাই না। 
- যে শব্দ প্রতি সেকেন্ডে ২০টির কম কম্পন দিয়ে সৃষ্টি হয়, তা মানুষেরা শুনতে পাই না, এরকম শব্দকে শ্রুতিপূর্ব শব্দ বলা হয়। 
- আবার প্রতি সেকেন্ডে ২০,০০০-এর বেশি কম্পনের ফলে সৃষ্ট শব্দকেও মানুষ শুনতে পাই না, একে শ্রুতি-উত্তর শব্দ বলা হয়। 
সুতরাং মানুষের জন্য শ্রাব্যতার সীমা হলো প্রতি সেকেন্ডে ২০ থেকে ২০,০০০ কম্পন দিয়ে সৃষ্ট শব্দ। 
- প্রতি সেকেন্ডে কোনো বস্তু যতটা কম্পন দেয় তাকে বলা হয় ঐ বস্তুর কম্পাঙ্ক। 
- এই কম্পাঙ্ক প্রকাশের একক হলো হার্জ (Hertz)। 
- কোনো বস্তু সেকেন্ডে ২০ বার কাঁপলে তার কম্পাঙ্ক ২০ হার্জ, ২০,০০০ বার কাঁপলে ২০,০০০ হার্জ। 
সুতরাং মানুষের কানের শ্রাব্য কম্পাঙ্কের সীমা ২০ হার্জ থেকে ২০,০০০ হার্জ, এই সীমার মধ্যে কম্পাঙ্কের শব্দকে শ্রাব্য শব্দ বলে। 

- কোনো কোনো প্রাণী ২০,০০০ হার্জ কম্পাঙ্কের চেয়ে বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পায়। 
যেমন- কুকুরের এই ক্ষমতা আছে। পুলিশ অতি উচ্চ কম্পাঙ্কের হুইসেল ব্যবহার করে যা কুকুর শুনতে পায় কিন্তু মানুষ শুনতে পায় না। 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানের অনেক অতিশব্দ (শ্রুতি-উত্তর শব্দ ব্যবহারকারী) যন্ত্রের একটি হলো আল্ট্রাসনোগ্রাম। এ যন্ত্র ২০,০০০ হার্জের চেয়ে বেশি কম্পাঙ্কের শব্দের সাহায্যে কাজ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১৮০.
যে তরঙ্গে মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে তরঙ্গ অগ্রসর হয়, তাকে কী বলা হয়? 
  1. শব্দ তরঙ্গ
  2. অভিকর্ষ তরঙ্গ
  3. অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ
  4. অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুপ্রস্থ তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
তরঙ্গের প্রকারভেদ (Types of waves): 
- যে তরঙ্গ সঞ্চারণের জন্য জড় মাধ্যম প্রয়োজন হয় তাকে তরঙ্গকে যান্ত্রিক তরঙ্গ বলে। 
- আবার যে তরঙ্গের জন্য কোনো মাধ্যম প্রয়োজন হয় না সেই তরঙ্গকে তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ বলে। 
- মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের ফলে যে যান্ত্রিক তরঙ্গ সৃষ্ট হয় তা দুই ধরণের। 
যথা- (১) অনুপ্রস্থ তরঙ্গ ও (২) অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ। 

অনুপ্রস্থ তরঙ্গ (Transverse wave): 
- পানির মধ্যে তরঙ্গ সৃষ্টি হয় সে ক্ষেত্রে পানির কণাগুলো সাম্য অবস্থান পানির তল থেকে উপর-নিচে ওঠা-নামা করে। কিন্তু তরঙ্গ পানি পৃষ্ঠ বা পানির তলের উপর দিয়ে সামনে ছড়িয়ে পড়ে। এধরণের তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। 
অর্থাৎ, যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে অগ্রসর হয়, তাকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে। 
- এ তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দনের দিকের সাথে সমকোণে বা আড়াআড়ি অগ্রসর হয় বলে একে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বা আড় তরঙ্গ বলে। 
যেমন- আলোক তরঙ্গ, বেতার তরঙ্গ, পানির তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ। 

অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ (Longitudinal wave): 
- অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ হলো এমন এক ধরনের তরঙ্গ, যেখানে মাধ্যমের কণাগুলো কম্পনের দিকের সমান্তরালে আন্দোলিত হয়, কিন্তু নিজ অবস্থান পরিবর্তন করে না। 
- নমনীয় স্প্রিংয়ে মৃদু আঘাত করলে সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে তরঙ্গ সৃষ্টি হয়, যা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি পরিবহন করে। 
- এ তরঙ্গে তরঙ্গ শীর্ষ বা তরঙ্গ পাদ থাকে না, বরং সংকোচন ও প্রসারণের পর্যায়ক্রমিক বিন্যাস থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮১.
তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে ________ বলে। 
  1. কম্পাঙ্ক
  2. তরঙ্গ দৈর্ঘ্য
  3. তরঙ্গ বেগ
  4. বিস্তার
সঠিক উত্তর:
কম্পাঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কম্পাঙ্ক
ব্যাখ্যা

• তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে কম্পাঙ্ক বলা হয়। এটি তরঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য যা তরঙ্গের ঘনত্ব ও তার গতির সাথে সম্পর্কিত। কম্পাঙ্ক বৃদ্ধি পেলে স্পন্দনের সংখ্যা বাড়ে এবং কম্পাঙ্ক কমলে স্পন্দনের সংখ্যা কমে। এটি সাধারণত হার্জ (Hz) এককে পরিমাপ করা হয়।
 
 তরঙ্গ:
- তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোনো কণা এক সেকেন্ডে যতগুলো স্পন্দন সম্পন্ন করে তাকে কম্পাঙ্ক বলে।
- একে সাধারণত f দ্বারা প্রকাশ করা হয়। এর একক হার্জ। সংক্ষেপে লেখা হয় Hz।
- তরঙ্গ সৃষ্টিকারী কণা কোনো বিন্দু থেকে যাত্রা শুরু করে একই দিক থেকে পুনরায় ঐ বিন্দুতে ফিরে এলে তাকে একটি পূর্ণস্পন্দন বলে।
- সঞ্চারণকারী কোনো কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন করতে যে সময় লাগে তাকে ঐ তরঙ্গের পর্যায়কাল বলে। পর্যায়কালকে T দ্বারা প্রকাশ করা হয়। পর্যায়কালের একক সেকেন্ড।
- সঞ্চারণকারী কোনো কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন হতে যে সময় লাগে, সেই সময়ে তরঙ্গ যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বলে।
- তরঙ্গ নির্দিষ্ট দিকে একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে ঐ তরঙ্গের বেগ বা সংক্ষেপে তরঙ্গ বেগ বলে।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮২.
কোন তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি 332 ms-1 হয়?
  1. 0° C
  2. 0° K
  3. 273° C
  4. 373° K
সঠিক উত্তর:
0° C
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0° C
ব্যাখ্যা
শব্দ: 
- কোন শব্দ শোনার পর প্রায় ০.১ সেকেন্ড পর্যন্ত এর রেশ মস্তিষ্কে থাকে। এই সময়কে শব্দানুভূতির স্থায়িত্বকাল বলে। 
- এই সময়ের মধ্যে প্রতিধ্বনি হলে তা শোনা যাবে না। 
- অতএব প্রতিধ্বনি শোনার জন্য মূল শব্দ এবং প্রতিধ্বনি শোনার মধ্যবর্তী সময়ের পার্থক্য ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি হতে হবে। 
সুতরাং প্রতিফলক এবং শব্দের উৎসের মধ্যে দূরত্ব এমন হতে হবে যেন শব্দ তরঙ্গ উৎসের কাছে ফিরে আসতে ০.১ সেকেন্ড বা তার বেশি সময় লাগে। 
- বাতাসে শব্দের দ্রুতি তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় শব্দের দ্রুতি 332 ms-1 । 
- 0°C বা 273 K উষ্ণতায় প্রতিফলিত শব্দ শোনার জন্য শব্দ উৎস এবং প্রতিফলকের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m হতে হবে। 
- তাপমাত্রা বেশি হলে প্রতি ডিগ্রির জন্য দূরত্ব 0.3m বেশি হতে হবে। 
- তাই প্রতিধ্বনি শোনার শর্তটি হলো শ্রোতা বা উৎস এবং প্রতিফলক তলের মধ্যে ন্যূনতম দূরত্ব 16.6 m (0°C বা 273 K তাপমাত্রায়) বজায় রাখতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৩.
নিম্নের কোন কম্পাঙ্কের শব্দকে ইনফ্রাসাউন্ড বলা যায়?
  1. ক) 10 Hz
  2. খ) 20 Hz
  3. গ) 100 Hz
  4. ঘ) 20000 Hz
সঠিক উত্তর:
ক) 10 Hz
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) 10 Hz
ব্যাখ্যা
20 Hz থেকে 20000 Hz বিশিষ্ট শব্দকে মানুষ শুনতে পারে। 20 Hz এর কম হলে তাকে ইনফ্রাসাউন্ড এবং 20000 Hz এর বেশি হলে তাকে আলট্রাসাউন্ড বলে৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১৮৪.
কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য হয়?
  1. ভ্যাকুয়াম
  2. কঠিন
  3. তরল
  4. বায়বীয়
সঠিক উত্তর:
ভ্যাকুয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্যাকুয়াম
ব্যাখ্যা
শব্দের গতি: 
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে কম।
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ। তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- কঠিন পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। যেমন- ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি।
- তরলে পদার্থে শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। যেমন- পানি।
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের গতি সবচেয়ে কম।
- শূন্য বা ভ্যাকুয়াম মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৮৫.
নিচের কোনটি সত্য?
  1. ক) তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগ হ্রাস পায়।
  2. খ) বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়।
  3. গ) মাধ্যমের ঘনত্ব হ্রাস পেলে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়।
  4. ঘ) উপরের সবগুলো।
সঠিক উত্তর:
খ) বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়।
ব্যাখ্যা
পরীক্ষা করে দেখা গেছে আলাের দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3x108 ms-1 নির্দিষ্ট। কিন্তু শব্দের দ্রুতি সবসময় সমান নয়।
0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1

তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। হিসাব করে দেখা গেছে প্রতি 1°C বা 1K তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6 ms-1 পরিমাণ বেড়ে যায়।

বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়।
 
মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়।
মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়
যেমন- বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1, পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং লােহার মধ্যে 5220 ms-1 |

বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি। কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি।
বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১৮৬.
আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে ব্যবহৃত শব্দের কম্পাঙ্ক কত? 
  1. ১-১০ হার্জ 
  2. ০১-১০ মেগাহার্জ 
  3. ১-১০ কিলোহার্জ 
  4. ২০-৩০ মেগাহার্জ 
সঠিক উত্তর:
০১-১০ মেগাহার্জ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
০১-১০ মেগাহার্জ 
ব্যাখ্যা

• আল্ট্রাসনোগ্রাফি: 
- আল্ট্রাসনোগ্রাফি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দের প্রতিফলনের উপর নির্ভরশীল। 
- উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশি থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়। 
- রোগ নির্ণয়ের জন্য যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয় সেই শব্দের কম্পাঙ্ক 1-10 মেগাহার্টজ হয়ে থাকে। 
- আট্রাসনোগ্রাফির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার স্ত্রীরোগ এবং প্রসূতিবিজ্ঞানে লক্ষ্য করা যায়। 
- এর সাহায্যে ভ্রুণের আকার, পূর্ণতা, ভ্রুণের স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক অবস্থান জানা যায়। 
- প্রসূতিবিদ্যায় এটি একটি দ্রুত, নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য কৌশল। 
- আল্ট্রাসনোগ্রাফির সাহায্যে পিত্তপাথর, জড়ায়ুর টিউমার এবং অন্যান্য পেলভিক মাসের উপস্থিতিও শনাক্ত করা যায়। 
- এক্সরের তুলনায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি অধিকতর নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি, তবুও আল্ট্রাসাউন্ড খুব সীমিত সময়ের জন্য ব্যবহার করতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

১৮৭.
তরঙ্গের বেলায় কোন্‌টি সত্য?
  1. তড়িৎ চৌম্বকতরঙ্গ আলোর বেগে গমন করে
  2. শব্দতরঙ্গ একধরনের তড়িৎ চৌম্বকতরঙ্গ
  3. সকল তরঙ্গেই প্রতিফলন-প্রতিসরণ হয় না
  4. তরঙ্গবেগ হলো এর কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের অনুপাত
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ চৌম্বকতরঙ্গ আলোর বেগে গমন করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তড়িৎ চৌম্বকতরঙ্গ আলোর বেগে গমন করে
ব্যাখ্যা

তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ: 
- যখন বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র ও চৌম্বকক্ষেত্রের পর্যাবৃত্ত আন্দোলন স্থানান্তরিত হয়, তখন একে বলা হয় বিদ্যুৎচুম্বকীয় বা তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ।
- এই ধরনের তরঙ্গ প্রবাহিত হওয়ার জন্য কোনো মাধ্যম প্রয়োজন হয় না। 
যেমন- আলোর তরঙ্গ, গামা রশ্মি, মাইক্রোওয়েভ ইত্যাদি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের উদাহরণ। 

তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ আলোর বেগে (3 × 108 m/s) চলাচল করে

তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ t = 0 সময়ে উৎপন্ন হলে এবং কোনো প্রকার বাঁধাপ্রাপ্ত না হলে অর্থাৎ মুক্ত স্থানে (Free Space) একই বেগ অর্থাৎ আলোর বেগে প্রবাহিত হয়। বিভিন্ন তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গের মধ্যে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য এর পার্থক্য রয়েছে তবে মুক্তস্থানে সকলেরই বেগ সমান। 
--------------------

অন্য অপশনগুলোর মধ্যে - 
খ) শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, কারণ বস্তুকণার কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য একটি স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। যেমন- বায়বীয় মাধ্যমে এর বেগ কম, তরলে তার চেয়ে বেশি, কঠিন পদার্থে আরো বেশি। যেকোনো তরঙ্গের মতোই শব্দ তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ এবং উপরিপাতন হতে পারে। 

গ)
প্রায় সব তরঙ্গেরই প্রতিফলন কিংবা প্রতিসরণ হয়। 

ঘ) তরঙ্গ নির্দিষ্ট দিকে একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে ঐ তরঙ্গের বেগ বা সংক্ষেপে তরঙ্গ বেগ বলে। অর্থাৎ তরঙ্গ বেগ হলো কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গদৈর্ঘ্যের গুণফল, অনুপাত নয়। যেমন: v = fλ.


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থ প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৮.
নারীদের গলার স্বর তীক্ষ্ণ হওয়ার কারন কি?
  1. বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি হওয়া
  2. কম কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি হওয়া
  3. ভোকাল কর্ড শক্ত হওয়া
  4. কোন কম্পন সৃষ্টি না হওয়া
সঠিক উত্তর:
বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি হওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি হওয়া
ব্যাখ্যা
নারীদের গলার স্বর সাধারণত তীক্ষ্ণ বা উচ্চস্বরে (high-pitched) হয়।
এর মূল কারণ হলো — তারা বেশি কম্পাঙ্কের (higher frequency) শব্দ উৎপন্ন করে। 

• শব্দের তীক্ষ্ণতা নির্ভর করে শব্দতরঙ্গের কম্পাঙ্ক (frequency) এর উপর। কম্পাঙ্ক যত বেশি, শব্দ তত তীক্ষ্ণ; আর কম্পাঙ্ক যত কম, শব্দ তত গম্ভীর।

এর কারন হিসেবে বলা যায়-
- নারীদের স্বরযন্ত্র (larynx) তুলনামূলকভাবে ছোট হয়। এখানে অবস্থিত ভোকাল কর্ড (vocal cords) পুরুষদের তুলনায় ছোট ও পাতলা হয়। 
ফলে, কণ্ঠে  দ্রুত কম্পন ঘটে এবং এতে উচ্চতর ফ্রিকোয়েন্সি (frequency) তৈরি হয়।
-  উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির শব্দই আমাদের কানে তীক্ষ্ণ বা উঁচু স্বর হিসেবে শোনায়।
- নারীদের ভোকাল কর্ড প্রতি সেকেন্ডে গড়ে ২০০-২৫০ বার কম্পিত হয়।
পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি হয় প্রায় ১০০-১৫০ বার/সেকেন্ড।
-অর্থাৎ, বেশি কম্পন = বেশি তীক্ষ্ণতা।

তথ্যসূত্র:  
- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পদার্থবিজ্ঞান, ১১-১২ শ্রেণী। 
- নবম-দশম শ্রেণি – পদার্থবিজ্ঞান। 
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি – পদার্থবিজ্ঞান।
১৮৯.
মানুষের শ্রাব্যতার শব্দোত্তর তরঙ্গের সীমা হচ্ছে:
  1. 5,000 Hz
  2. 35,000 Hz
  3. 20,000 Hz
  4. 200 Hz
সঠিক উত্তর:
20,000 Hz
উত্তর
সঠিক উত্তর:
20,000 Hz
ব্যাখ্যা

• মানুষ সাধারণত ২০ হের্টজ থেকে ২০,০০০ Hz পর্যন্ত শব্দ শুনতে সক্ষম। এই সীমার মধ্যে আমাদের কানের সংবেদনশীলতা থাকে, যা দৈনন্দিন জীবনে কথোপকথন, সংগীত এবং পরিবেশের শব্দ বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই মানুষের শ্রাব্যতার শব্দোত্তর তরঙ্গের সীমা হলো ২০,০০০ Hz।
- সুতরাং সঠিক উত্তর হলো গ) 20,000 Hz

শব্দ তরঙ্গ:
- শব্দের উৎস বস্তুর কম্পন।
- কিন্তু কম্পন হলেই শব্দ শোনা যাবে তা সত্য নয়।
- মানুষের শ্রবণ যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা আছে।
- উৎসের কম্পন প্রতি সেকেন্ডে 20 টির নিচে হলে যে শব্দ উৎপন্ন হয় তা আমরা শুনতে পাই না। আবার উৎসের কম্পন যদি প্রতি সেকেন্ডে 20,000 টির বেশি হয় তাহলে যে শব্দ উৎপন্ন হয় তাও আমরা শুনতে পাই না। 
- আসলে আমাদের (মানুষের) শ্রবণ ইন্দ্রিয় 20 Hz থেকে 20, 000 Hz কম্পাঙ্কের শব্দ শুনতে পারে।
অর্থাৎ মানুষের শ্রাব্যতার সীমা 20 থেকে 20,000 Hz কম্পাঙ্কের মধ্যে। 

- এই সীমার নিচের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় (শব্দ থেকে কম) শব্দেতর তরঙ্গ এবং উপরের কম্পাঙ্কের তরঙ্গকে বলা হয় (শব্দ থেকে বেশি) শব্দোত্তর তরঙ্গ।
- কয়েকটি প্রাণীর গড় শ্রাব্যতার পাল্লা নিচের ছকে উল্লেখ করা হলো-

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯০.
বাদুড় অন্ধকারে চলাফেরা করে কিভাবে? 
  1. তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন চোখের সাহায্যে
  2. ক্রমাগত শব্দ উৎপন্নের মাধ্যমে অবস্থান নির্ণয় করে
  3. সৃষ্ট শব্দের প্রতিধ্বনি শুনে
  4. অলৌকিকভাবে
সঠিক উত্তর:
সৃষ্ট শব্দের প্রতিধ্বনি শুনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৃষ্ট শব্দের প্রতিধ্বনি শুনে
ব্যাখ্যা
- উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দোত্তর তরঙ্গ সৃষ্টি করে তার প্রতিধ্বনির মাধ্যমে বাদুড় পথ চলে। 
- কিন্তু বাদুড়ের তৈরি এই প্রতিধ্বনির শব্দ আমরা শুনতে পাই না কারণ, বাদুড় অন্ধকারে চলার সময় আলট্রাসনিক শব্দের মাধ্যমে দিক নির্ণয় করে। 
- আলট্রাসাউন্ড মূলত আমাদের শোনার বাহিরের শব্দ। 
- বাদুড় প্রায় 100 kHz কম্পনের শব্দ তৈরি করতে পারে। 
- আল্টাসনিক শব্দ ২০,০০০ থেকে বেশি কম্পাংকের হয়ে থাকে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১৯১.
প্রতি 1 কেলভিন তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের গতিবেগ কতটুকু বৃদ্ধি পায়?
  1. 0.2 ms-1
  2. 1.9 ms-1
  3. 1.6 ms-1
  4. 0.6 ms-1
সঠিক উত্তর:
0.6 ms-1
উত্তর
সঠিক উত্তর:
0.6 ms-1
ব্যাখ্যা

• প্রতি 1 কেলভিন তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে শব্দের গতিবেগ প্রায় 0.6 মিটার প্রতি সেকেন্ড বৃদ্ধি পায়। তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) 0.6 ms -1

শব্দের বেগের পরিবর্তন: 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, আলোর দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3×108 ms-1 নির্দিষ্ট। 
- 0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1 । 
- তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। 
- হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতি 1°C বা 1 K তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6 ms-1 পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়। 

- মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়। 
যেমন- 
• বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1
• পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং 
• লোহার মধ্যে 5220ms-1। 
- বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি। 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি। 
- বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯২.
চাঁদে কোন শব্দ করলে তা শোনা যাবে না কেন?
  1. চাঁদে কোন জীব নেই তাই
  2. চাঁদে কোন পানি নেই তাই
  3. চাঁদে বায়ুমন্ডল নেই তাই
  4. চাঁদের মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ অপেক্ষা কম তাই
সঠিক উত্তর:
চাঁদে বায়ুমন্ডল নেই তাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদে বায়ুমন্ডল নেই তাই
ব্যাখ্যা
- যেকোনো কম্পনশীল বস্তুই হলো শব্দের উৎস। 
- শব্দ বিস্তারের জন্য জড় মাধ্যমের প্রয়োজন। 
- ভ্যাকুয়াম বা শূন্য মাধ্যমে শব্দ চলতে পারে না। 
- কঠিন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি। 
- তরল ও বায়বীয় মাধ্যমে শব্দের বেগ পর্যায়ক্রমে কমে। 
- শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য কারণ শব্দ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন হয়। 
- চাঁদে কোনো বিষ্ফোরণ ঘটলে সেই শব্দ কখনোই পৃথিবী থেকে শোনা যাবে না, কারণ চাঁদে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই, তাই শব্দ সঞ্চালিত হয়ে পৃথিবীতে পৌছাতে পারবে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১৯৩.
এক্সরে রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কত মিটার?
  1. ক) 4 x 10-7 - 7 x 10-7
  2. খ) 7 x 10-7 - 1 x 10-3
  3. গ) 1 x 10-11 - 1 x 10-8
  4. ঘ) 1 x 10-3 - 1 x 10-1
সঠিক উত্তর:
গ) 1 x 10-11 - 1 x 10-8
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) 1 x 10-11 - 1 x 10-8
ব্যাখ্যা

Source:gsfc.nasa.gov
১৯৪.
নিচের কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ সর্বাধিক?
  1. ইস্পাত
  2. পানি 
  3. বায়ু 
  4. শূন্যস্থান
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্পাত
ব্যাখ্যা

- ইস্পাত একটি কঠিন মাধ্যম যেখানে কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং দৃঢ়ভাবে বিন্যস্ত থাকে, তাই এখানে শব্দের বেগ সর্বাধিক। 

শব্দ: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ, কারণ বস্তুর কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় এবং সেটি সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- এটি একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং কম্পনের দিক একই। 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে (যেমন: ইস্পাত, লোহা ইত্যাদি) শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি। 
- তরল পদার্থের মাধ্যমে (যেমন: পানি) শব্দের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। 
- বায়বীয় পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে কম। 
- শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য হয়। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- শব্দের তীব্রতা অন্যান্য তরঙ্গের মত তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হবে এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯৫.
GPS সিস্টেম কোন তরঙ্গ ব্যবহার করে?
  1. রেডিও ওয়েভ
  2. আল্ট্রাভায়োলেট
  3. এক্স-রে
  4. ইনফ্রারেড
সঠিক উত্তর:
রেডিও ওয়েভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেডিও ওয়েভ
ব্যাখ্যা
◉ GPS (Global Positioning System) স্যাটেলাইটগুলো পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে সিগন্যাল পাঠায়। এগুলো মূলত L-band microwave frequencies (1–2 GHz) এ কাজ করে, যা রেডিও ওয়েভ স্পেকট্রামের মধ্যে পড়ে।

GPS: 
- GPS এর পূর্ণরূপ Global Positioning System।
- জিপিএস বা গ্লোবাল পজিশনিং হলো একটি নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম।
- এটি ব্যবহারকারীদের অবস্থান, নেভিগেশন এবং সময় সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করে।
- এর সাহায্যে আমরা পৃথিবীর যেকোনো স্থানে বসে আমাদের বর্তমান লোকেশন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারি।
- এই প্রযুক্তি দ্বারা যেকোনো বস্তুর অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
খ) আল্ট্রাভায়োলেট (UV): জীবাণুনাশক, পানি বিশুদ্ধকরণ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।

গ) এক্স-রে (X-ray): চিকিৎসায় হাড় ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গের ছবি তোলার জন্য ব্যবহৃত হয়।

ঘ) ইনফ্রারেড (Infrared): রিমোট কন্ট্রোল, নাইট ভিশন ক্যামেরা ও তাপ সনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: 
১। ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 
২। U.S. Government GPS Official Website. [লিংক] 
১৯৬.
কোন মাধ্যম দিয়ে শব্দ সবচেয়ে দ্রুতগতিতে যায়?
  1. শূন্যতায়
  2. পানিতে
  3. বাতাসে
  4. লোহায়
সঠিক উত্তর:
লোহায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লোহায়
ব্যাখ্যা

- লোহা মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি।

শব্দের বেগ: 
- কঠিন পদার্থের মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি হয়। 
- শব্দ এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ।
- তাই শব্দ চলার জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।
- শব্দের বেগ কঠিন পদার্থে সবচেয়ে বেশি (যেমন- ইস্পাত, লোহা) হয়।
- তরল  পদার্থের গতি কঠিন পদার্থের চেয়ে কম (যেমন- পানি) হয়। 
- বায়োবীয় পদার্থে সবচেয়ে কম। 
- আর শূন্য মাধ্যমে শব্দের বেগ শূন্য। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯৭.
মানুষের শ্রবণযোগ্য শব্দের কম্পাঙ্ক সীমা কত?
  1. 20 Hz - 20,000 Hz
  2. 10 Hz - 10,000 Hz
  3. 5 Hz - 50,000 Hz
  4. 50 Hz - 50,000 Hz
সঠিক উত্তর:
20 Hz - 20,000 Hz
উত্তর
সঠিক উত্তর:
20 Hz - 20,000 Hz
ব্যাখ্যা
• মানুষের কান সাধারণত ২০ হার্জ (Hz) থেকে ২০,০০০ হার্জ (Hz) পর্যন্ত কম্পাঙ্কযুক্ত শব্দ শুনতে সক্ষম।

• এর নিম্নসীমা হলো ২০ হার্জ (Hz) ও ঊর্ধ্বসীমা হলো ২০,০০০ হার্জ (Hz)।

- শব্দের কম্পাঙ্ক ২০ Hz-এর কম হলে তাকে বলা হয় ইনফ্রাসাউন্ড বা শব্দেতর তরঙ্গ। — এটি মানুষ শুনতে পায় না।

- শব্দের কম্পাঙ্ক ২০,০০০ Hz-এর বেশি হলে তাকে বলা হয় আল্ট্রাসাউন্ড বা শব্দোত্তর তরঙ্গ। — এটিও মানুষ শুনতে পারে না, তবে ডলফিন, বাদুড়ের মতো প্রাণী শুনতে পারে।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচ.এস.সি. প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
১৯৮.
কোন মাধ্যমে শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি? 
  1. শূন্য 
  2. কঠিন 
  3. তরল 
  4. বায়বীয় 
সঠিক উত্তর:
কঠিন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কঠিন 
ব্যাখ্যা

শব্দ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: 
- শব্দ একটি যান্ত্রিক তরঙ্গ কারণ বস্তুকণার কম্পনের ফলে শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি হয়, এবং সেটি সঞ্চালনের জন্যও একটি স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের দরকার হয়। 
- শব্দ একটি অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গের প্রবাহের দিক এবং মাধ্যমের কণার কম্পনের দিক এক। 
- শব্দ তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। 
যেমন- বায়বীয় মাধ্যমে এর বেগ কম, তরলে তার চেয়ে বেশি, কঠিন পদার্থে সবচেয়ে বেশি বেশি। 
- শব্দের বেগ মাধ্যমের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতার উপরও নির্ভর করে। 
- অন্যান্য তরঙ্গের মতো, শব্দ তরঙ্গের তীব্রতাও তার বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক। 
অর্থাৎ, শব্দ তরঙ্গের বিস্তার বেশি হলে শব্দের তীব্রতা বেশি হয় এবং তরঙ্গের বিস্তার কম হলে শব্দের তীব্রতা কম হয়। 
- অন্যান্য যেকোনো তরঙ্গের মতোই শব্দ তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ এবং উপরিপাতন হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১৯৯.
The upper limit of the human hearing range is approximately:
  1. 26 kHz
  2. 15 kHz
  3. 14 kHz
  4. 23 kHz
  5. 20 kHz
সঠিক উত্তর:
20 kHz
উত্তর
সঠিক উত্তর:
20 kHz
ব্যাখ্যা
শ্রাব্যতার সীমা:
- মানুষের কানের শ্রাব্য কম্পাঙ্কের সীমা ২০ হার্জ থেকে ২০,০০০ হার্জ হয়ে থাকে।
- এই সীমার মধ্যে কম্পাঙ্কের শব্দকে শ্রাব্য শব্দ বলে।
- কম্পাঙ্কের যে সীমার মধ্যে সৃষ্ট শব্দ মানুষ শুনতে পায় তাকে শ্রাব্যতার সীমা বলে।
- যে শব্দ শুনতে পাওয়া যায় না তাকে অশ্রাব্য শব্দ বলে। অশ্রাব্য শব্দের কম্পাঙ্ক ২০ হার্জের কম এবং ২০,০০০ হার্জের বেশি হয়। এ শব্দ কুকুর, বাদুড়, মাকড়সা ইত্যাদি প্রাণী শুনতে পায়।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২০০.
সমটান সম্পন্ন একটি টানা তারের দৈর্ঘ্য দ্বিগুণ করলে কম্পনাঙ্কের কতটা পরিবর্তন ঘটবে?
  1. অর্ধেক হবে
  2. দ্বিগুণ হবে
  3. তিনগুণ হবে
  4. চারগুণ হবে
সঠিক উত্তর:
অর্ধেক হবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধেক হবে
ব্যাখ্যা
- টানা তারে আড় কম্পনের দৈর্ঘ্যের সূত্রানুযায়ী টান স্থির থাকলে একটি টানা তারের দৈর্ঘ্য এর কম্পাঙ্কের ব্যস্তানুপাতিক।
অর্থাৎ, তারের দৈর্ঘ্য দ্বিগুণ করলে কম্পনাঙ্ক অর্ধেক হবে।