উত্তর
ব্যাখ্যা
- বাংলা বর্ণমালায় দন্ত্য বর্ণ ৭ টি। যথা- ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স।
- বাংলা বর্ণমালার ওষ্ঠ্য বর্ণ গুলো হলোঃ প, ফ, ব, ভ, ম।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৬২ / ৬৩ · ৬,১০১–৬,২০০ / ৬,৩২৭
- বাংলা বর্ণমালায় দন্ত্য বর্ণ ৭ টি। যথা- ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স।
- বাংলা বর্ণমালার ওষ্ঠ্য বর্ণ গুলো হলোঃ প, ফ, ব, ভ, ম।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
যুক্তবর্ণের অশুদ্ধ গঠন- ষ্ + ঞ = ষ্ণ।
যুক্তবর্ণের শুদ্ধ গঠন- ষ্ + ণ = ষ্ণ।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ত্ + ত = ত্ত,
- ভ্ + র = ভ্র,
- ত্ + থ = ত্থ,
- ঙ্ + গ = ঙ্গ,
- ঙ্ + ক = ঙ্ক,
- জ্ + ঞ = জ্ঞ,
- ঞ্ + জ = ঞ্জ,
- ষ্ + ণ = ষ্ণ,
- ক্ + ষ = ক্ষ,
- হ্ + ম = হ্ম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
• সন্ধিবিচ্ছেদ:
- 'তিরোধান,' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ- তিরঃ + ধান।
- এটি মূলত বিসর্গ সন্ধির নিয়ম অনুযায়ী গঠিত।
- বিসর্গ (:) যখন ‘ধ’ ব্যঞ্জনবর্ণের আগে আসে, তখন বিসর্গটি ‘ও-কার’ (:) হয়ে ‘র’-এর সাথে যুক্ত হয়।
- এই নিয়ম অনুযায়ী তিরঃ + ধান = তিরোধান হয়েছে।
------------------
• বিসর্গসন্ধি:
- বিসর্গসন্ধি হলো এমন এক ধরনের সন্ধি যেখানে শব্দের শেষে থাকা বিসর্গ পরবর্তী স্বর বা ব্যঞ্জনের সঙ্গে মিলিত হয়ে উচ্চারণ সুবিধার জন্য রূপ পরিবর্তন করে।
- বিসর্গের পরে যে ব্যঞ্জন আসে তার প্রকার অনুযায়ী বিসর্গের পরিবর্তন ঘটে
- কয়েকটি বিসর্গ সন্ধি-
- মনোযোগ = মনঃ+যোগ,
- মনোরথ = মনঃ+রথ,
- পুরোহিত = পুরঃ+হিত,
- নির্জন = নিঃ+জন,
- আশীর্বাদ = আশীঃ+বাদ),
- দুরন্ত = দুঃ+অন্ত,
- প্রাদুর্ভাব = প্রাদুঃ+আভাব,
- প্রাতরাশ = প্রাতঃ + আশ,
- দুরাচার = দুঃ + আচার
- তিরঃ + ধান = তিরোধান,
- মনঃ + রম = মনোরম,
- মনঃ + হর = মনোহর,
- নিরবধি = নিঃ + অবধি,
- তপঃ + বন = তপোবন ইত্যাদি।
উৎস:
উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সে অনুসারে, 'আ'- নিম্ন বিবৃত স্বরধ্বনি।
------------------------
• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।
উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।
উল্লেখ্য,
• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খােলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত [ই], [উ];
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ]।
সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট বেশি খােলে।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)।
• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ নয় - দ্ম ( দ্ + ম)।
- এটি স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ।
অন্যদিকে,
অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ন্ধ= ন্ + ধ,
- ভ্র = ভ্ + র
- ট্ট = ট্ + ট।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের স্বল্পতা থাকে, তাকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের আধিক্য থাকে, তাকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
- প্রতি বর্গের ৫ম বর্ণকে বলা হয় নাসিক্য ধ্বনি।
- প্রতি জোড়ার ১ম, ৩য় ও ৫ম বর্ণ হচ্ছে অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
সুতরাং, এখানে 'ঞ' একটি অল্পপ্রাণ + নাসিক্য বর্ণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী।
বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ- নিঃ + চিন্ত = নিশ্চিন্ত।
অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ হলো:
- যথা + উচিত = যথোচিত;
- দুঃখ + ঋত = দুঃখার্ত;
- পিতৃ + উপদেশ = পিত্রুপদেশ।
• বিসর্গ সন্ধি:
- বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্ ও স্-এর সাথে স্বরধ্বনির কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।
- বিসর্গ সন্ধি দুইভাবে সাধিত হয়। যথা:
১. বিসর্গ + স্বর এবং
২. বিসর্গ + ব্যঞ্জন।
• পূর্বপদের শেষে যদি অ/আা ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনির পর বিসর্গ (র-জাত) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি স্বরধ্বনি থাকে তবে সন্ধির ফলে বিসর্গ র্ হয়ে যায় এবং পরের স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
- ইঃ + অ = ই + র্; নিঃ + অন্ন = নিরন্ন, বহিঃ + অঙ্গ = বহিরঙ্গ।
- ইঃ + আ = ই + রা; নিঃ + আকার = নিরাকার, নিঃ + আশা = নিরাশা।
- উঃ + অ = উ + র; দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা, চতুঃ + অঙ্গ = চতুরঙ্গ।
- উঃ + আ = উ + রা; দুঃ + আত্মা = দুরাত্মা, দুঃ + আশা = দুরাশা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• ধ্বনি ভাষার ক্ষুদ্রতম একক।
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।
• এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
- স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।
• মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি:
[ই], [এ), [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ];
• মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি:
[প্], [ফ], [ব], ভিা, [], [খ], [দ], [ধ], [ট], [ঠ], [ড], [ঢ়], [চ], [ছ], [জ], [ব], [ক], [খ], [গা, [ঘ], [ম], [ন], [৬], [স্], [শ], [হা, [ল], [র], [ড়], [ঢ়।।
এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
• 'ম' বর্ণের উচ্চারণ:
- 'ম' বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]।
- শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়। যেমন- শ্মশান [শঁশান], স্মরণ [শঁরোন]।
- শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়। যেমন- আত্মীয় [আত্তিঁয়ো], পদ্ম [পদ্দোঁ]।
- কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে। যেমন- যুগ্ম [জুগ্মো], জন্ম [জন্মো], গুল্ম [গুল্মো]।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যথা-
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• ঋ’এবং ঋ কারের পর ‘ষ’ হয়।
যথা- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
• ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়।
যথা: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
• তৎসম শব্দে ‘র'-এর পর 'ষ' হয়।
যথা- বর্ষা, ঘর্ষণ, বৰ্ষণ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে, একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ:
- রত্ন > রতন,
- ধর্ম > ধরম,
- স্বপ্ন > স্বপন,
- হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই:
- প্রীতি > পিরীতি,
- ক্লিপ > কিলিপ,
- ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ:
- মুক্তা > মুকুতা,
- তুর্ক > তুরুক,
- ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি।
এ:
- গ্রাম > গেরাম,
- প্ৰেক > পেরেক,
- স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও:
- শ্লোক > শােলােক,
- মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা,
- পরম + ঈশ = পরমেশ,
- মহা + ঈশ = মহেশ,
- যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• অঘোষ ধ্বনি নয় - জ। 'জ' হচ্ছে ঘোষ ব্যঞ্জন।
অন্যদিকে,
অঘোষ ধ্বনি - চ, ট এবং থ।
ঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
যথা-
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।
অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• 'এ' বর্ণের উচ্চারণ:
'এ' বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [এ] এবং [অ্যা]। সাধারণ উচ্চারণ (এ), কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে এ কখনো কখনো [অ্যা] উচ্চারিত হয়।
এ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: একটি (এটি), দেশ [দেশ), এলো [এলো]।
এ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ: একটা [অ্যাক্টা], বেলা [ব্যালা), খেলা [খ্যালা]।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২- সংস্করণ)।
অ-কার কিংবা আ-কারের পর এ-কার কিংবা ঐ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঐ-কার হয়।
যেমন-
- মত + ঐক্য = মতৈক্য;
- জন + এক = জনৈক;
- হিত + এষী = হিতৈষী;
- তথা + এবচ = তথৈবচ;
- মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ-নবম দশম শ্রেণী; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
যেমন:
- প্র+এষণ = প্রেষণ,
- কুল+অটা = কুলটা,
- পর+পর = পরস্পর,
- অন্য + অন্য = অন্যান্য।
অন্যদিকে,
ব্যঞ্জনসন্ধি - দিক্ + অন্ত = দিগন্ত, বাক্ + আড়ম্বর = বাগাড়ম্বর, বাক্ + ঈশ = বাগীশ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• ব্যঞ্জন বা অর্ধস্বরধ্বনিতে সমাপ্ত অক্ষরকে বদ্ধাক্ষর বলা হয়।
—---------------------------
• অক্ষর:
- বাগযন্ত্রের একটি প্রয়াসে যে ধ্বনি বা ধ্বনির সমষ্টি উচ্চারিত হয়, তাকে অক্ষর বলা হয়।
- অক্ষর হলো ধ্বনি বা শব্দাংশের সেই ক্ষুদ্রতম একক, যা একবারের উচ্চারণচেষ্টায় সম্পন্ন হয়।
- অক্ষর প্রধানত দুই প্রকার—
- মুক্তাক্ষর ও
- বদ্ধাক্ষর।
• বদ্ধাক্ষর:
- যে অক্ষরের সমাপ্তি ব্যঞ্জনধ্বনি বা অর্ধস্বরধ্বনিতে ঘটে, তাকে বদ্ধাক্ষর বলা হয়।
- একে ব্যঞ্জনান্ত বা যুগ্মাস্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
- যেমন— “বুধ বার দিনরাত হরতাল” বাক্যে (বুধ্), (বার্), (দিন্), (রাত), (হর্), (তাল্)—এসবই বদ্ধাক্ষর।
- বদ্ধাক্ষরকে সাধারণত – চিহ্ন দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
-----------------------------
অন্যদিকে,
• মুক্তাক্ষর:
- যে অক্ষরে কেবল একটি বর্ণ থাকে বা যা স্বরধ্বনিতে শেষ হয়, তাকে মুক্তাক্ষর বলা হয়।
- একে অযুগ্ম বা স্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
- যেমন— “ভালোবাসো সেটা বলনা কেন?” বাক্যে (ভা), (লো), (বা), (সো), (সে), (টা), (ব), (ল), (না), (না), (কে), (ন)—এগুলো সবই মুক্তাক্ষর।
- মুক্তাক্ষরকে U চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়।
- এ ধরনের অক্ষর উচ্চারণের শেষে মুখ খোলা থাকে, ফলে প্রয়োজনে উচ্চারণ দীর্ঘ করা যায়।
উৎস:
বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
• সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও ষ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
তৃষ্ণার্ত শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ তৃষ্ণা + ঋত।
সূত্র: অ/আ + ঋত = আর্।
অনুরূপভাবে, শীতার্ত = শীত + ঋত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)।
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন: কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
হাতি শব্দের হ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন: যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
বিসর্গ সন্ধি:
- অন্তঃ, পুনঃ, প্রান্তঃ ইত্যাদির পর স্বরধ্বনি থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ র হয়ে পরবর্তী স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ,
- অন্তঃ + আত্মা = অন্তরাত্মা,
- অন্তঃ + ইত = অন্তরিত,
- অন্তঃ + ইন্দ্রিয় = অন্তরিন্দ্রিয়,
- অন্তঃ + ঈক্ষ = অন্তরীক্ষ,
- অন্তঃ+ ঈপ = অন্তরীপ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
অগ্র দন্তমূলীয় বর্ণ:
- ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স।
অন্যদিকে,
জিহ্বামূলীয় বর্ণ:
- ক, খ, গ, ঘ, ঙ।
অগ্রতালু বা তালব্য বর্ণ বর্ণ:
- চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, শ, য, য়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি নিয়মে গঠিত সন্ধি:
ৎ বা দ্ এবং পরে হ থাকলে দুইয়ে মিলে দ্ধ হয় এবং শ্ থাকলে দুইয়ে মিলে চ্ছ হয়।
যেমন:
- উৎ + হার = উদ্ধার,
- উৎ + হৃত = উদ্ধৃত,
- পদ্ + হতি = পদ্ধতি,
- তদ্ + হিত = তদ্ধিত,
- উৎ + শ্বাস = উচ্ছ্বাস,
- উৎ + শৃঙ্খল = উচ্ছৃঙ্খল ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• শুদ্ধ বানান - রোষ।
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন -ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।
• বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না।
যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
• ষ-ত্ব বিধানের সঠিক প্রয়োগ ঘটেনি অর্থাৎ অপপ্রয়োগ ঘটেছে- ”ষ্টেশন” শব্দে।
- এটি একটি বিদেশি শব্দ তথা ইংরেজি শব্দ।
- এ ধরনের শব্দে ”ষ” হয়না।
• ’ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
• অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স ষ হয়।
যেমন - ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
• সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও য হয় না।
যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।
• বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না।
যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট. স্টেশন, ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
দ্বিস্বরধ্বনি:
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
যেমন:
- 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্] তৈরি হয়েছে।
- দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
- [আই]: তাই, নাই,
- [এই]: সেই, নেই,
- [উই]: দুই, রুই,
- [ওউ]: মৌ, বউ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
• বিদ্যালয় (বিশেষ্য পদ)
- শুদ্ধ উচ্চারণ- বিদ্দালয়্।
- শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ- বিদ্যা + আলয়।
অর্থ:
- যে গৃহে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রদান করা হয়,
- বিদ্যাশিক্ষার কেন্দ্র, শিক্ষালয়, শিক্ষাকেন্দ্র, সকুল।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'স্বাধীনতা' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ- স্ব + অধীনতা।
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
উ-কার কিংবা উ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন:
অনু + এষণ = অন্বেষণ,
তনু + ঈ = তন্বী,
অনু + ইত = অন্বিত,
স্ব + অধীন = স্বাধীন,
স্ব + ইচ্ছা = স্বেচ্ছা,
সু + আগত = স্বাগত ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।