বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনিতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৬,৩২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনিতত্ত্ব

PrepBank · পাতা ৬১ / ৬৩ · ৬,০০১৬,১০০ / ৬,৩২৭

৬,০০১.
‘পরস্পর' শব্দটি কোন সন্ধির নিয়মে গঠিত হয়েছে?
  1. ক) স্বর সন্ধি
  2. খ) ব্যঞ্জন সন্ধি
  3. গ) বিসর্গ সন্ধি
  4. ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি: 
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে। 
- কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো - 
• গো+ইন্দ্র = গবেন্দ্র, 
• গো+অক্ষ = গবাক্ষ, 
• প্র+এষণ = প্রেষণ, 
• কুল+অটা = কুলটা, 
• পর+পর = পরস্পর
• অন্য + অন্য = অন্যান্য। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৬,০০২.
'বিজ্ঞান' শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ -
  1. ক) জ্‌+ঞ
  2. খ) ঞ + জ্‌
  3. গ) ঞ্‌ + গ
  4. ঘ) গ + ঞ্‌
সঠিক উত্তর:
ক) জ্‌+ঞ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জ্‌+ঞ
ব্যাখ্যা
যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, আবার কখনো সহজে চেনা যায় না।
- যুক্তবর্ণ দুই রকম।
যথা- স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ট, জ্জ, জ্ব, ড্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, দ্ম, ষ্ঠ, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, ব্দ ইত্যাদি। 

অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ত (ক্+ত), ক্ম (ক্+ম), ক্র (ক্‌+র), ক্ষ (ক্+ষ), ক্ষ্ম (ক্+ষ্+ম), ক্স (ক্‌+স), গু (গ্‌+উ), ন্ধ (গ্‌+ধ), ঙ্ক (ঙ্+ক), ঙ্গ (ঙ্+গ), জ্ঞ (জ্‌+ঞ), ঞ্চ (ঞ্‌+চ), ঞ্ছ (ঞ্‌+ছ), ঞ্জ (ঞ্‌+জ), ট্ট (ট্+ট), ত্ত (ত্+ত), খ (ত্+থ), ত্র (ত্+ত্র), দ্ধ (দ্‌+ধ), ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (ব্‌+ধ), ভ্র (ভ্+র), ভ্রূ (ভ্+র্+উ), রু (র্+উ), রূ (র্‌+ঊ), শু (শ্+উ), ষ্ণ (ষ্+ণ), হু (হ্+উ), হৃ (হ্+ঋ), হ্ন (হ্+ন), হ্ম (হ্+ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,০০৩.
ক্লিপ > কিলিপ এটি কিসের উদাহরণ?
  1. অপিনিহিতি
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. স্বরসঙ্গতি
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা

মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি : শব্দের মাঝখানে স্বরধ্বনি আসলে তাকে বলে মধ্য স্বরাগম।
যেমন, ‘রত্ন’ (র+অ+ত+ন+অ) শব্দের ‘ত’ ও ‘ন’-র মাঝখানে একটি অ যুক্ত হয়ে হয়েছে ‘রতন’।
এটি মধ্য স্বরাগম।
এরকম- ধর্ম˃ ধরম, স্বপ্ন˃ স্বপন, হর্ষ˃ হরষ,
প্রীতি˃ পিরীতি, ক্লিপ ˃ কিলিপ, ফিল্ম˃ ফিলিম,
মুক্তা˃ মুকুতা, তুর্ক˃ তুরুক, ভ্রু˃ ভুরু,
গ্রাম˃ গেরাম, প্রেক˃ পেরেক, স্রেফ˃ সেরেফ,
শ্লোক˃ শোলোক, মুরগ˃ মুরোগ˃ মোরোগ,

উতসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি।

৬,০০৪.
স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. হরিণ
  2. ভণিতা
  3. লক্ষণ
  4. বর্ণনা
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ভণিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভণিতা
ব্যাখ্যা
• 'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন- ঘণ্টা, লণ্ঠন, কান্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, যয়বহং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন – কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প + অ+), লক্ষণ (ক্+য+অ+ প্)। এরূপ রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

৪. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ণ হয়। যেমন: গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, কল্যাণ, শোণিত, মণি, আপণ, লাবণ্য, বাণী। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)
৬,০০৫.
'বৃহস্পতি' কোন ধরনের সন্ধির দৃষ্টান্ত?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. বিসর্গ সন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কতগুলো নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ: 
- পর্ + পর = পরস্পর
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গাে + পদ = গােষ্পদ,
- বন্ + পতি = বনস্পতি,
- ষট্ + দশ = ষােড়শ,
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- মনস্ + ঈষা = মনীষা,
- এক্‌ + দশ = একাদশ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,০০৬.
নিচের কোন শব্দে ণ-ত্ব বিধি অনুসারে 'ণ'-এর ব্যবহার হয়েছে?
  1. কল্যাণ
  2. প্রবণ
  3. নিক্কণ
  4. বিপণি
সঠিক উত্তর:
প্রবণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবণ
ব্যাখ্যা
• প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: প্রবণ।

---------------
• ণ-ত্ব বিধান:

বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড, লুণ্ঠন ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: পুণ্য, নিক্কণ, চিক্কণ, লাবণ্য, কল্যাণ, বিপণি, আপণ, গৌণ, ভাণ, শাণ, চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,০০৭.
'হাচ্ছানি' - শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. হাত + ছানি
  2. হাৎ + ছানি
  3. হাদ্‌ + ছানি
  4. হাত + চ্ছানি
সঠিক উত্তর:
হাত + ছানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাত + ছানি
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
- চ-বর্গীয় ধ্বনির আগে যদি ত-বর্গীয় ধ্বনি আসে তাহলে, ত-বর্গীয় ধ্বনি লোপ হয় এবং চ-বর্গীয় ধ্বনির দ্বিত্ব হয়। অর্থাৎ ত-বর্গীয় ধ্বনি ও চ-বর্গীয় ধ্বনি পাশাপাশি এলে প্রথমটি লুপ্ত হয়ে পরবর্তী ধ্বনিটি দ্বিত্ব হয়।

যেমন:
- নাত + জামাই = নাজ্জামাই
- বদ্ + জাত = বজ্জাত,
- হাত + ছানি = হাচ্ছানি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,০০৮.
নিচের কোন ধ্বনিদ্বয়ের উচ্চারণে ঠোঁটের উন্মুক্তি সংবৃত হয়?
  1. অ, আ
  2. এ, ও
  3. অ, অ্যা
  4. ই, উ
সঠিক উত্তর:
ই, উ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ই, উ
ব্যাখ্যা
ই ও উ - ধ্বনি দুটো উচ্চারণের সময় জিভ-এর উচ্চতা 'উচ্চ'তে থাকে এবং এর অবস্থান হয় যথাক্রমে সম্মুখ ও পশ্চাতে।
- ঠোটের উন্মুক্তি হয় সংবৃত।
নিচের ছকে বিস্তারিত দেওয়া আছে -


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,০০৯.
তৎসম শব্দের বানানে 'ণ' এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই-
  1. ষত্ব-বিধান
  2. উপসর্গ
  3. ণত্ব-বিধান
  4. প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
ণত্ব-বিধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ণত্ব-বিধান
ব্যাখ্যা
ণত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য- ন-এর ব্যবহার আছে।
- তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণত্ব বিধান ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,০১০.
হ্ণ যুক্তবর্ণটি কোন দুটি যুক্তবর্ণ নিয়ে গঠিত?
  1. হ্ ও ন
  2. হ ও ম
  3. ন্ ও হ
  4. হ্ ও ণ
সঠিক উত্তর:
হ্ ও ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্ ও ণ
ব্যাখ্যা
-’হ্ণ’ যুক্তবর্ণটি  "হ্ + ণ" যুক্তবর্ণ নিয়ে গঠিত।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ: 
- ক্ + ট = ক্ট, হ্ণ
- জ্ + জ = জ্জ,
- ঞ্ + চ = ঞ্চ,
- ষ্ + ণ = ষ্ণ,
- হ্ + ন = হ্ন,
- ঞ্ + জ = ঞ্জ
- জ্ + ঞ = জ্ঞ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
৬,০১১.
কোন শব্দে এ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ ঘটেছে?
  1. একটি
  2. দেশ
  3. এলাে
  4. একটা
সঠিক উত্তর:
একটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটা
ব্যাখ্যা
'এ' বর্ণের উচ্চারণ:
- এ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [এ] এবং [অ্যা]।
- সাধারণ উচ্চারণ [এ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে এ কখনাে কখনাে [অ্যা] উচ্চারিত হয়।
- এ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: একটি [একটি], দেশ [দেশ], এলাে [এলাে]।
- এ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ: একটা [অ্যাক্টা], বেলা [ব্যালা], খেলা [খ্যালা]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,০১২.
'গন্তব্য' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ হলো-
  1. ক) গত + ব্য
  2. খ) গন্‌ + তব্য
  3. গ) গম্ + তব্য
  4. ঘ) গন্ত + ব্য
সঠিক উত্তর:
গ) গম্ + তব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গম্ + তব্য
ব্যাখ্যা
আগে ম্ এবং পরে ক্/খ্/গ্/ ঘ্ - এর যে কোনটি থাকলে ম্ স্থানে অনুস্বার ( ং) বা অঙ ( ঙ) হয়।
কিন্তু ম এর পর চ্ থেকে ম্ পর্যন্ত যে কোনো ধ্বনি থাকলে পূর্বপদের ম্- স্থানে ঐ বর্গের পঞ্চম ধ্বনি হয়। 
- যেমনঃ 
- সম্ + কীর্ণ = সংকীর্ণ 
- গম্ + তব্য = গন্তব্য 
- কিম্ + তু = কিন্তু 
- সম্ + ধান = সন্ধান 
- সম্ + বোধন = সম্বোধন 
- সম্ + মান = সম্মান

[উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ]
৬,০১৩.
নিচের কোনটির মাধ্যমে ‘বৃদ্ধি’ হয়?
  1. ক) ‘অ’ স্থলে ‘আ’ হয়
  2. খ) ই, ঈ স্থলে ‘এ’ হয়
  3. গ) উ, ঊ স্থলে ‘ও’ হয়
  4. ঘ) ঋ স্থলে ‘র্অ’ হয়
সঠিক উত্তর:
ক) ‘অ’ স্থলে ‘আ’ হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ‘অ’ স্থলে ‘আ’ হয়
ব্যাখ্যা

গুণ ও বৃদ্ধিঃ অনেক সময় কৃৎ প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার ক্রিয়া প্রকৃতি বা ধাতুর আদিস্বর অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
এই পরিবর্তন যথেচ্ছভাবে হয় না, কিছু নিয়ম অনুসরণ করে হয়। কৃৎ প্রত্যয় ব্যবহৃত হওয়ার সময় পরিবর্তন হওয়ার নিয়ম ২টি- গুণ ও বৃদ্ধি।
বৃদ্ধি:
অ-স্থলে আ ; √পচ + ণক = পাচক
ই/ঈ-স্থলে ঐ ; √শিশু + ষ্ণ = শৈশব
উ/ঊ-স্থলে ঔ ; √যুব + অন = যৌবন
ঋ-স্থলে আর ; √কৃ + ঘ্যণ(য-ফলা) = কার্য

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী, ভাষা শিক্ষা-ড. হায়াৎ মাহমুদ।

৬,০১৪.
বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনি ধ্বনি পরিবর্তনের কোন নিয়ম অনুসরণ করে?
  1. ক) সমীভবন
  2. খ) বিষমীভবন
  3. গ) দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
  4. ঘ) ব্যঞ্জনচ্যুতি
সঠিক উত্তর:
ক) সমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সমীভবন
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যঞ্জন সন্ধি সমীভবন(Assimilation) -এর নিয়ম এই হয়ে থাকে, আর তা-ও মূলত কথ্যরীতিতে সীমাবদ্ধ। 
যেমন:
- এক+এক = একেক
- বদ্‌+জাত  বজ্জাত 

সমীভবন:
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন: জন্ম > জম্ম, কাঁদনা > কান্না।

প্রগত সমীভবন: পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন।
যেমন: চক্র > চক্ক, পক্ব > পক্ক।
পরাগত সমীভবন: পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন।
যেমন: তৎ + জন্য > তজ্জন্য, তৎ + হিত > তদ্ধিত।
অন্যোন্য সমীভবন: যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটি ধ্বনিই পরিবর্তিত হয়।
যেমন: সত্য > সচ্চ, চিকিৎসা > চিকিচ্ছা, উৎশ্বাস > উচ্ছ্বাস।

উৎস: বাংলাবিদ লেকচার এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,০১৫.
‘স্বাগত’ এর সন্ধি বিচ্ছেদ কি?
  1. ক) সু+আগত
  2. খ) স্বা-গত
  3. গ) সু+গত
  4. ঘ) স্বাগত
সঠিক উত্তর:
ক) সু+আগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সু+আগত
ব্যাখ্যা
• স্বাগত - সু + আগত।
স্বাগত - শুভাগত; অভ্যর্থিত অতিথি।

উৎস: বাংলা একাডেমী অভিধান।
৬,০১৬.
কোনটি নাসিক্য ধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• নাসিক্য ধ্বনি - ম।

• নাসিক্য ব্যঞ্জন:

- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে প্রথমে বাধা পায় এবং নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়, সেসব ধ্বনিকে নাসিক্য ব্যঞ্জন বলে।
- মা, নতুন, হাঙর প্রভৃতি শব্দের , ন, ঙ নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি।

অন্যদিকে,
• ল - পার্শ্বিক ব্যঞ্জন।
• জ - তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনি।
• প - ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।

৬,০১৭.
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়, এই নিয়মে ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. মুড়া > মুড়ো
  2. চুলা > চুলো
  3. মোজা > মুজো
  4. ইচ্ছা > ইচ্ছে 
সঠিক উত্তর:
মোজা > মুজো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোজা > মুজো
ব্যাখ্যা

• অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি: আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
 যেমন- মোজা > মুজো।

অন্যদিকে, 
---------------
• চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি: গিলা > গেলা, মিলামিশা > মেলামেশা, মিঠা > মিঠে, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।
পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর ও-কার হয়। যেমন- মুড়া > মুড়ো, চুলা > চুলো ইত্যাদি।
বিশেষ নিয়মে- উড়ুনি > উড়নি, এখনি > এখুনি হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,০১৮.
"রাখিয়া > রাইখ্যা" এটি ধ্বনির কোন ধরনের পরিবর্তন?
  1. সমীকরণ
  2. মধ্যগত
  3. অপিনিহিতি
  4. পরাগত
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
- যেমন- আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য, চারি > চাইর, মারি > মাইর ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,০১৯.
অন্যোন্য সমীভবনের উদাহরণ কোনটি?
  1. পক্ব > পক্ক
  2. সত্য > সচ্চ
  3. বড় > বড্ড
  4. তৎ + হিত > তদ্ধিত
সঠিক উত্তর:
সত্য > সচ্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্য > সচ্চ
ব্যাখ্যা
• সমীভবন:
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন: জন্ম > জন্ম, কাঁদনা > কান্না।

• প্রগত সমীভবন: পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন।
যেমন: চক্র > চক্ক, পক্ব > পক্ক।

• পরাগত সমীভবন: পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন।
যেমন: তৎ + জন্য > তজ্জন্য, তৎ + হিত > তদ্ধিত।

• অন্যোন্য সমীভবন: যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটি ধ্বনিই পরিবর্তিত হয়।
যেমন: সত্য > সচ্চ, চিকিৎসা > চিকিচ্ছা, উৎশ্বাস > উচ্ছ্বাস।

অন্যদিকে, 
• বড় > বড্ড - দ্বিত্ব ব্যাঞ্জন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,০২০.
‘একাদশ’ কোন নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. ব্যঞ্জন+স্বর
  2. স্বর+ব্যঞ্জন
  3. ব্যঞ্জন+ব্যঞ্জন
  4. নিপাতনে সিদ্ধ
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ
ব্যাখ্যা

স্বর-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
কিছু ব্যঞ্জনসন্ধি নিয়ম ছাড়া হয়, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি বলে। যেমন,
গো + পদ = গোষ্পদ,
এক + দশ = একাদশ,
বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,০২১.
নিচের কোন দুটি ঘােষ ব্যঞ্জন?
  1.  র, ল
  2. ছ, শ
  3. স, ট
  4. ফ, ত
সঠিক উত্তর:
 র, ল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 র, ল
ব্যাখ্যা

ঘােষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।

৬,০২২.
কোন গুচ্ছটি অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন?
  1. জ, শ, ক
  2. খ, ঘ, হ
  3. ফ, ভ, থ
  4. ঠ, ঢ, ঢ়
সঠিক উত্তর:
জ, শ, ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ, শ, ক
ব্যাখ্যা

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৬,০২৩.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয়?
  1. আপণ
  2. মরণ
  3. ভাষণ
  4. কারণ
সঠিক উত্তর:
আপণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপণ
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান:
• বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড, লুণ্ঠন ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: পুন্য, লাবণ্য, কল্যাণ, আপণ, গৌণ, ভাণ, শাণ, চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,০২৪.
নিচের কোন ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি হয়? 
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• ঘোষধ্বনি — 'ভ' উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি হয়

-------------------
ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা: ঘোষ ও অঘোষ।
১. ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যথা: ব, , ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

২. অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যথা: , ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক,

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৬,০২৫.
কোনটি ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি হচ্ছে- ঝ।

------------------
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করাযায়
যথা: ঘোষ ধ্বনি ও অঘোষ ধ্বনি।

• ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যথা:
ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

• অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি,
যথা:
প, ফ, ত, থ, স, ট, , চ, ছ, , ক, খ।

ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা- অল্পপ্রাণ ধ্বনি ও মহাপ্রাণ ধ্বনি।

• অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

• মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলোকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, , খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৬,০২৬.
পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে মিলে হয়-
  1. স্বরধ্বনি
  2. মৌলিক স্বরধ্বনি
  3. স্বল্প স্বরধ্বনি
  4. দ্বিস্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
দ্বিস্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিস্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা

• অর্ধস্বরধ্বনি
- যেসব স্বরধ্বনি পুরোপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলোকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি: [ই্], [উ্], [এ্] এবং [ও্।
- স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনোভাবেই দীর্ঘ করা যায় না।
যেমন-
'চাই' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [ই]। এখানে [আ] হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি, [ই্] হলো অর্ধস্বরধ্বনি।

• দ্বিস্বরধ্বনি
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়। যেমন - 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্] তৈরি হয়েছে।

- বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে, যথা: ঐ এবং ঔ।

এছাড়া ও,
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে।
- বাংলায় মৌলিক স্বরধ্বনি ৭ টি। যথা - [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ],[ও], [উ]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

৬,০২৭.
অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ কোনটি?
  1. শ্চ
  2. ভ্র
  3. ল্ফ
  4. ব্দ
সঠিক উত্তর:
ভ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্র
ব্যাখ্যা
• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- জ, ব্দ, ম্ফ, ল্ক, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ফ, শ্চ, ছ, ষ্ট ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- দ্ধ (দ+ধ), ন্ধ (+), ব্ধ (ব্‌+ধ), ভ্র (ভূ+র), ষ্ণ (ম্ + ণ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
৬,০২৮.
'ষ' এর অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. সুষমা
  2. স্পষ্ট
  3. জিনিষ
  4. ভবিষ্যৎ
সঠিক উত্তর:
জিনিষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিনিষ
ব্যাখ্যা
• 'ষ' এর অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে- জিনিষ শব্দে। 
• শুদ্ধ বানান- জিনিস। 

---------------------
ষ ব্যবহারের নিয়ম:

১. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স য হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ (ভ্ + অ + ব্‌ + ই+) এখানে ব-এর পরে ই-এর ব্যবধান), মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

২. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়। যেমন অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম > বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

৩. 'ঋ' এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

৪. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

৫. র- ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'ষ' হয়। যথা: পরিষ্কার। কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যথা পুরস্কার।

৬. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়। যথা: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৭. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

জ্ঞাতব্য
• আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। এ সম্বন্ধে সতর্ক হতে হবে। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,০২৯.
‘বজ্জাত’ শব্দের যর্থাথ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) বৎ + জাত
  2. খ) বত্ + জাত
  3. গ) বদ + জাত
  4. ঘ) বদ্ + জাত
সঠিক উত্তর:
ঘ) বদ্ + জাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বদ্ + জাত
ব্যাখ্যা
ত- বর্গীয় ধ্বনি ও চ- বর্গীয় ধ্বনি পাশাপাশি এলে প্রথমটি লুপ্ত হয়ে পরবর্তী ধ্বনিটি দ্বিত্ব হয়। যেমনঃ নাত + জামাই = নাজজামাই, বদ্ + জাত, = বজ্জাত, হাত + ছানি = হাচ্ছানি ইত্যাদি। রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম- দশম শ্রেণির র্বোড বই।
৬,০৩০.
নিচের কোন শব্দে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহার অশুদ্ধ?
  1. কোষ
  2. খষড়া
  3. কাষ্ঠ
  4. অনুষঙ্গ
সঠিক উত্তর:
খষড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খষড়া
ব্যাখ্যা
• ‘খষড়া’ শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহার অশুদ্ধ।

• শুদ্ধ বানান: খসড়া,
- এটি আরবি শব্দ।
অর্থ: রচনা বা শিল্পকর্মের প্রাথমিক ছক, নকশা।

• ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে বিদেশি শব্দের বানান বাংলায় লেখার সময় কখনো ‘ষ’ লেখা যাবে না।
যেমন:
- ফটোষ্ট্যাট হবে না, সঠিক বানান হবে ফটোস্ট্যাট।
তেমনইভাবে ষ্টেশন, ষ্ট্রিট ও কিষমিশ লিখলে ভুল হবে, সঠিক বানান হবে স্টেশন, স্ট্রিট এবং কিশমিশ।

-----------------------
• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,০৩১.
'স্থাণু' শব্দের 'ণ' বসেছে কোন নিয়মে?
  1. স্বভাবতই 'ণ' বসেছে
  2. ম এবং ক এ মাঝে 'ণ' বসে
  3. 'ক' এর পূর্বে 'ণ' বসে
  4. ম-এর পরে 'ণ' বসে
সঠিক উত্তর:
স্বভাবতই 'ণ' বসেছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বভাবতই 'ণ' বসেছে
ব্যাখ্যা
• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।

• ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়।
যেমন:
- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়।
যেমন:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,০৩২.
নিচের কোনটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ?
  1. ষষ্ঠ
  2. সম্মান
  3. স্বচ্ছ
  4. মনোযোগ
সঠিক উত্তর:
মনোযোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনোযোগ
ব্যাখ্যা
• বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্যকরা যায়:
১. বিসর্গ বিদ্যমান থাকে: মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃ + পতন = অধঃপতন।
২. বিসর্গ 'ও' হয়ে যায়: মনঃ + যোগ = মনোযোগ, তিরঃ + ধান = তিরোধান।
৩. বিসর্গ 'র' হয়ে যায়: নিঃ + আকার = নিরাকার, পুনঃ + মিলন = পুনর্মিলন।

অন্যদিকে,
• 'ষষ্ঠ' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = ষষ্‌ + থ। এটি ব্যঞ্জণসন্ধির উদাহরণ।
• 'সম্মান = সম্‌+মান'; ব্যঞ্জনসন্ধি।
• স্বচ্ছ = সু + অচ্ছ। এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,০৩৩.
কোন শব্দে ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়?
  1. খাঁটি বাংলা
  2. বাংলা
  3. তৎসম
  4. বিদেশি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম
ব্যাখ্যা
‘ণ-ত্ব ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ- এর পরে স্বরধ্বনি (ষ, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয়) ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,০৩৪.
নিচের অপশনগুলো থেকে ব্যঞ্জন সন্ধি শনাক্ত করুন-
  1. ক) বধূক্তি
  2. খ) ণিজন্ত
  3. গ) শীতার্থ
  4. ঘ) নদ্যম্বু
সঠিক উত্তর:
খ) ণিজন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ণিজন্ত
ব্যাখ্যা
ণিজন্ত (ণিচ্‌ + অন্ত) ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
বধূক্তি, শীতার্থ, নদ্যম্বু স্বরসন্ধির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,০৩৫.
'পিত্রালয়' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পিতা + আলয়
  2. পিতৃ + আলয়
  3. পিতৃ + লয়
  4. পিত্রা + লয়
সঠিক উত্তর:
পিতৃ + আলয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিতৃ + আলয়
ব্যাখ্যা
• 'পিত্রালয়' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: পিতৃ + আলয়।  
- এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ। 

• সন্ধির নিয়ম:
ঋ-কারের পর ঋ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ‘ঋ’ স্থানে ‘র’ হয় এবং তা র-ফলা রূপে পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন -
- পিতৃ + আলয় = পিত্রালয়,
- পিতৃ + আদেশ = পিত্রাদেশ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,০৩৬.
বাংলা ব্যাকরণে ফলার সংখ্যা কয়টি?
  1. ৪টি
  2. ৫টি 
  3. ৬টি 
  4. ৮টি 
সঠিক উত্তর:
৬টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬টি 
ব্যাখ্যা

• অনুবর্ণ:
ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ। অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

ফলা: ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলোকে ফলা বলে। বাংলা বর্ণমালায় ফলা বর্ণ ৬টি।
যেমন: ন-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা, য-ফলা, র ফলা, ল-ফলা।

রেফ: র-এর একটি অনুবর্ণ রেফ।

বর্ণসংক্ষেপ: যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়োজন হয়। এগুলো বর্ণসংক্ষেপ।
যেমন: ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬,০৩৭.
উচ্চারণের প্রকৃতি অনুযায়ী ‘হ' কোন প্রকৃতির ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. পার্শ্বিক ব্যঞ্জন
  2. তাড়িত ব্যঞ্জন
  3. নাসিক্য ব্যঞ্জন
  4. উষ্ম ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
উষ্ম ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উষ্ম ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• উষ্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে। সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।

- উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলােকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ) – এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলাের মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে।
- কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতাে আওয়াজ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,০৩৮.
‘হৃদরোগ’ শব্দে ব্যবহৃত যুক্তবর্ণটি কোন দুটি বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. হ্ + র
  2. হ্ + ঊ
  3. হ্ + ঋ
  4. হ্ + ঝ
সঠিক উত্তর:
হ্ + ঋ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্ + ঋ
ব্যাখ্যা
• 'হৃদরোগ' শব্দে ব্যবহৃত ‘হৃ’ যুক্তবর্ণটি 'হ্ ও ঋ' এই দুটি বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ঙ্ + গ = ঙ্গ,
- ন্ + ধ = ন্ধ,
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ন = হ্ন,
- হ্ + ম = হ্ম,
- ণ্ + ড = ণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,০৩৯.
উচ্চারণের রীতি অনুযায়ী নিচের কোনটি উচ্চমধ্য-সম্মুখ স্বরধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণের রীতি অনুযায়ী উচ্চমধ্য-সম্মুখ স্বরধ্বনি- এ। 

• স্বরধ্বনির উচ্চারণ:

উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়।

উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - ই, উ।
২. উচ্চ -মধ্য স্বরধ্বনি - এ, ও।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - অ্যা, অ।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - আ।

আবার, জিভের সম্মুখ - পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি - ই, এ, অ্যা।
২. মধ্য স্বরধ্বনি: আ।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: অ, ও, উ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অ নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,০৪০.
কোন শব্দে 'ণ' এর ব্যবহার অশুদ্ধ?
  1. উষ্ণ
  2. ত্রিনয়ণ
  3. মরণ
  4. ব্যাকরণ
সঠিক উত্তর:
ত্রিনয়ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রিনয়ণ
ব্যাখ্যা
যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযােজ্য নয়:

• সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন হয়।
যেমন:
- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা।

• ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনাে (ণ) হয় না, ন হয়। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন।
- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়ােজন হয় না।

অন্যদিকে,
• ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়।
যেমন:
- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,০৪১.
যুক্তবর্ণের শুদ্ধ গঠন কোনটি?
  1. ত্‌ + ত = ক্ত 
  2. ক্‌ + ন = ক্ম
  3. ক্ + ষ্ + ম = ক্ষ্ম 
  4. ঞ্‌ + জ = জ্ঞ 
সঠিক উত্তর:
ক্ + ষ্ + ম = ক্ষ্ম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ + ষ্ + ম = ক্ষ্ম 
ব্যাখ্যা

• যুক্তবর্ণের শুদ্ধ গঠন- ক্ + ষ্ + ম = ক্ষ্ম। 

• যুক্তবর্ণ:

একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: ক্ট, জ্জ, জ্ব, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ণ্ঠ, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: 
ক্ত (ক্ + ত), 
ক্ম (ক্ + ম), 
ক্ষ (ক্ + ষ), 
ক্ষ্ম (ক্ + ষ্ + ম),
ক্স (ক্ + স), 
গু (গ + উ),
গ্ধ (গ্ + ধ), 
ঙ্গ (ঙ্ + গ), 
জ্ঞ (জ্ + ঞ), 
ঞ্চ (ঞ্ + চ), 
ঞ্জ (ঞ্ + জ), 
ষ্ণ (ষ্ + ণ)
হু (হ্ + উ), 
হৃ (হ্ + ঋ), 
হ্ন (হ্ + ন), 
হ্ণ (হ্ + ণ),
হ্ম (হ্ + ম) ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৬,০৪২.
ব্যঞ্জনবর্ণের অপর নাম -
  1. ক) কারবর্ণ
  2. খ) যুক্তবর্ণ
  3. গ) অনুবর্ণ
  4. ঘ) সংখ্যাবর্ণ
সঠিক উত্তর:
গ) অনুবর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অনুবর্ণ
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ। অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

ফলা: ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলি ফলা ।
যেমন - য-ফলা ( ্য ) র - ফলা   ( ্র ) ইত্যাদি ।

রেফ: র - এর একটি অনুবর্ণ রেফ।

বর্ণসংক্ষেপ: যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময় বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়োজন হয় । এগুলো বর্ণসংক্ষেপ ।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি। (নবম -দশম)
৬,০৪৩.
'মনঃকষ্ট' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মন + কষ্ট
  2. মনস+কষ্ট
  3. মনোঃ + কষ্ট
  4. মনঃ + কষ্ট
সঠিক উত্তর:
মনঃ + কষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনঃ + কষ্ট
ব্যাখ্যা

• 'মনঃকষ্ট' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - মনঃ + কষ্ট।

বিসর্গসন্ধি: 
বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়:
• বিসর্গ বিদ্যমান থাকে: মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃ + পতন = অধঃপতন, বয়ঃ + সন্ধি = বয়ঃসন্ধি;
• বিসর্গ ও হয়ে যায়; মনঃ + যােগ = মনােযােগ, তিরঃ + ধান = তিরােধান, তপঃ + বন = তপোবন;
• বিসর্গ র’ হয়ে যায়: নিঃ + আকার = নিরাকার, পুনঃ + মিলন = পুনর্মিলন, আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ;
• বিসর্গ শ/ষ/ হয়: নিঃ + চয় = নিশ্চয়, দুঃ + কর = দুষ্কর, পুরঃ + কার = পুরস্কার;
• কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়: নিঃ + রব = নীরব, নিঃ + রস = নীরস, নিঃ + রােগ = নীরােগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,০৪৪.
প ফ ব ভ ম - এগুলো কী ধরনের বর্ণ?
  1. দন্ত্য বর্ণ
  2. তালব্য বর্ণ
  3. কণ্ঠ্য বর্ণ
  4. ওষ্ঠ্য বর্ণ
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ্য বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ্য বর্ণ
ব্যাখ্যা
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন: 
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলাে দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত।
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে: 
দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভে ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনিগুলো হলো-
- ক, খ, গ, ঘ ঙ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,০৪৫.
'পোকা > পোক্‌' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. সমীভবন
  2. ধ্বনি বিপর্যয়
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. বিষমীভবন
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোন স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
- সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ তিন ধরনের হয়ে থাকে।
সেগুলো হলো:

আদিস্বরলোপ:

 যেমন:
- অলাবু > লাবু > লাউ,
- উদ্ধার উধার > ধার।

মধ্যস্বর লোপ:
যেমন:
- অগুরু > অগ্রু,
- সুবর্ণ > স্বর্ণ।

অন্ত্যস্বর লোপ:
যেমন:
- আশা > আশ,
- আজি > আজ,
- চারি > চার (বাংলা),
- পোকা > পোক্‌ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,০৪৬.
কোনটি বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. সংস্কার
  2. সংসার
  3. সংহার
  4. স্বয়ংবরা
সঠিক উত্তর:
সংস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কার
ব্যাখ্যা
• বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি - সংস্কার

ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
- এদিক থেকে ব্যঞ্জন সন্ধিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি,
২. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি,
৩. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি।

বিশেষ নিয়মে সাধিত কতগুলো ব্যঞ্জনসন্ধি:
- উৎ + স্থান = উত্থান,
- সম্‌ + কার = সংস্কার,
- উৎ + স্থাপন = উত্থাপন,
- সম্‌ + কৃত = সংস্কৃত,
- পরি + কার = পরিষ্কার।

অন্যদিকে,
• সাধারণ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি - সংসার (সম্‌ + সার), সংহার (সম্‌ + হার), স্বয়ংবরা (স্বয়ম্‌ + বরা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,০৪৭.
কোন দুইটি সংযুক্ত বর্ণের রূপ ‘ঞ্চ’?
  1. ক) ণ + ঞ
  2. খ) ঞ্‌+চ
  3. গ) চ + ঞ
  4. ঘ) ঞ + জ
সঠিক উত্তর:
খ) ঞ্‌+চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঞ্‌+চ
ব্যাখ্যা
• একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলােকে দেখে কখনাে সহজে চেনা যায়, কখনাে সহজে চেনা যায় না।
- এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ্ঝ, ড্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, দ্ম, ইত্যাদি। 

অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ত (ক্‌+ত), ক্স (ক্‌+স), ক্র (ক্‌+র), ক্ষ (ক্‌+ষ), ক্ষ্ম (ক্‌+ষ্‌+ম), গু (গ+উ), গ্ধ (গ্‌+ধ), ঙ্ক (ঙ্‌+ক), ঙ্গ (ঙ+গ), জ্ঞ (জ্‌+ঞ), ঞ্চ (ঞ্‌+চ), ঞ্ছ (ঞ্‌+ছ), ঞ্জ (ঞ্‌+জ), ন্ধ (ন্‌+ধ), ষ্ণ (ষ+ণ), হু (হ্‌+উ), হৃ (হ্‌+ঋ), হ্ন (হ্‌+ন), হ্ম (হ্‌+ম ) ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,০৪৮.
'হৃ' এর শুদ্ধ গঠন কোনটি?
  1. হ্ + ঋ
  2. হ্ + উ
  3. হ্ + ঊ
  4. হ্ + র
সঠিক উত্তর:
হ্ + ঋ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্ + ঋ
ব্যাখ্যা
'হৃ' এর শুদ্ধ গঠন হলো:
হ্ + ঋ = হৃ। 

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ হলো:
- হ্ + ম = হ্ম,  
- হ্ + উ = হু,
- হ্‌ + র = হ্র, 
- হ্ + ন = হ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৬,০৪৯.
কোন ব্যঞ্জনধ্বনির বর্ণসমূহের উচ্চারণস্থান অগ্রতালু?
  1. ত, থ, দ, ধ
  2. ট, ঠ, ড, ঢ
  3. চ, ছ, জ, ঝ
  4. ক, খ, গ, ঘ
সঠিক উত্তর:
চ, ছ, জ, ঝ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চ, ছ, জ, ঝ
ব্যাখ্যা
• চ, ছ, জ, ঝ - ব্যঞ্জনধ্বনির বর্ণসমূহের উচ্চারণস্থান অগ্রতালু।

অন্যদিকে,
ত থ দ ধ ন - ব্যঞ্জনধ্বনির বর্ণসমূহের উচ্চারণস্থান অগ্র দন্তমূল।
• ট, ঠ, ড, ঢ - ব্যঞ্জনধ্বনির বর্ণসমূহের উচ্চারণস্থান পশ্চাৎ দন্তমূল।
• ক, খ, গ, ঘ - ব্যঞ্জনধ্বনির বর্ণসমূহের উচ্চারণস্থান জিহ্বামূল।

উচ্চারণের স্থানভেদে ব্যঞ্জনধ্বনির বিভাগ:

- ধ্বনি উৎপাদনের ক্ষেত্রে মুখবিবরে উচ্চারণের মূল উপকরণ বা উচ্চারক জিহ্বা ও ওষ্ঠ।
- আর উচ্চারণের স্থান হলাে কণ্ঠ বা জিহ্বামূল, অগ্রতাল, মূর্ধা বা পশ্চাৎ দন্তমূল, দন্ত বা অগ্র দন্তমূল, ওষ্ঠ্য ইত্যাদি।

- উচ্চারণের স্থানের নাম অনুসারে ব্যঞ্জনধ্বনিগুলােকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়:
১) কণ্ঠ্য বা জিহ্বামুলীয়,
২) তালব্য বা অগ্রতালুজাত,
৩) মূর্ধন্য বা পশ্চাৎ দন্তমূলীয়,
৪) দন্ত্য বা অগ্র দন্তমূলীয় এবং
৫) ওষ্ঠ্য।

ধ্বনিগুলোর উচ্চারণস্থান:
• ক খ গ ঘ ঙ - কণ্ঠ্য,
• চ ছ জ ঝ ঞ - তালব্য,
• ট ঠ ড ঢ ণ - মূর্ধন্য,
• ত থ দ ধ ন - দন্ত্য,
• প ফ ব ভ ম - ওষ্ঠ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ।
৬,০৫০.
নিচের কোনটি ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ?
  1. কাদনা > কান্না
  2. লাঙ্গল > নাঙ্গল
  3. বাক্স > বাস্ক
  4. সুবর্ণ > স্বর্ণ
সঠিক উত্তর:
বাক্স > বাস্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্স > বাস্ক
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি বিপর্যয়: শব্দের মধ্যবর্তী দুটো ব্যঞ্জনধ্বনি পরষ্পর পরিবর্তন ঘটলে হলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন,
- পিশাচ > পিচাশ। 
- লাফ ফাল। 
- বাক্স > বাস্ক। 
- রিকসা > রিস্কা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সুবর্ণ > স্বর্ণ; স্বরলোপ এর উদাহারণ।
• লাঙ্গল > নাঙ্গল; বিষমীভবন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহারণ।
• কাদনা > কান্না; সমীভবন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহারণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,০৫১.
অভিশ্রুতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি?
  1. চারি > চাইর
  2. আজি > আজ 
  3. সাধু > সাউধ
  4. রাখিয়া > রাইখ্যা
সঠিক উত্তর:
আজি > আজ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজি > আজ 
ব্যাখ্যা

• অভিশ্রুতি:
অপিনিহিতির প্রভাবজাত ই কিংবা উ-ধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সঙ্গে মিলে শব্দের পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে।
বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষায় যেমন অপিনিহিতির প্রাচুর্য, পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক কথ্যভাষা ও মান্যচলিত ভাষায় তেমনি অনেক অভিশ্রুতি শব্দ লক্ষ করা যায়।
যেমন:
করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে 'কইরিয়া' কিংবা বিপর্যয়ের ফলে 'কইরা' থেকে অভিশ্রুতিজাত 'করে'।

এরূপ-
- করিয়া > কইর‍্যা > করে;
- বাছিয়া > বাইছ্যা > বেছে;
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো;
- মাছুয়া > মাউছ্যা > মেছো;
- আজি > আইজ > আজ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
--------------------
• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জধব্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- চারি > চাইর,
- আজি > আইজ,
- সত্য > সইত্য,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,০৫২.
বাংলা ভাষায় স্বরধ্বনির সংখ্যা কয়টি?
  1. ৪টি
  2. ৭টি
  3. ১০টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭টি
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনি:
যে ধ্বনি, অন্য ধ্বনির সাহায্য ছাড়াই অবাধে উচ্চারিত হতে পারে, এবং যাকে আশ্রয় করে অন্য ধ্বনি প্রকাশিত হয় তাকে বলা হয় স্বরধ্বনি। যেমন: অ, আ, ই, উ ইত্যাদি।

• বাংলা মান্য চলিত ভাষায় স্বরধ্বনি আছে সাতটি। এগুলো হলো- অ, আ, ই, উ, এ, অ্যা, ও।
- যেহেতু এই স্বরধ্বনিগুলো বাংলায় শব্দের অর্থপার্থক্য ঘটাতে সক্ষম তাই এগুলো বাংলার স্বরধ্বনিমূল বা স্বর স্বনিম।

কথা বলার সময় আমরা যে কেবল সাতটি স্বরধ্বনিই উচ্চারণ করি তা নয়। এই ধ্বনিগুলোর কাছাকাছি আরো অনেক স্বরধ্বনি আমরা উচ্চারণ করি। তবে পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, কথা বলার সময় আমরা যত রকম উচ্চারণই করি না কেন, সেগুলোর প্রত্যেকটিই এই সাতটির কোনো-না-কোনোটির উচ্চারণ বৈচিত্র্য হিসেবে গ্রাহ্য।

বাংলা ভাষায় স্বরধ্বনির সংখ্যা সাতটি হলেও এর বর্ণমালায় এখন স্বরবর্ণের সংখ্যা এগারোটি। এগুলো হলো: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,০৫৩.
‘ক্ত’ যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ত্ + ত
  2. ক্ + ত্ + উ
  3. ক্ + ত
  4. ত্ + ত্ + উ
সঠিক উত্তর:
ক্ + ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ + ত
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ যুক্তবর্ণ: ক্ + ত = ক্ত।

------------------
• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ণ্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ঋ, ণ্ঠ, ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, জ, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ফ, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ত (ক্ + ত),
ক্ম (ক্ + ম),
ক্ষ (ক্ + ষ),
ক্ষ্ম (ক্ + ষ্ + ম),
ক্স (ক্ + স),
গু (গ্ + উ),
গ্ধ (গ্ + ধ),
ঙ্গ (ঙ্ + গ),
জ্ঞ (জ্ + ঞ),
ঞ্চ (ঞ্ + চ),
ঞ্জ (ঞ্ + জ),
ষ্ণ (ষ্ + ণ)
হু (হ্ + উ),
হৃ (হ্ + ঋ),
হ্ন (হ্ + ন),
হ্ম (হ্ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,০৫৪.
'লক্ষ্মণ' শব্দের 'ক্ষ্ম' বর্ণটি বিশ্লেষণ করলে হয়-
  1. ক) ক + ষ + ণ
  2. খ) হ + ষ + ম
  3. গ) ক + ণ + ম
  4. ঘ) ক + ষ + ম
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক + ষ + ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক + ষ + ম
ব্যাখ্যা

'ক্ষ্ম' বর্ণটি বিশ্লেষণ করলে হয় ক + ষ + ম।
ক্ষ্ম-সহযােগে গঠিত কয়েকটি শব্দের প্রয়ােগ হলো- লক্ষ্মী, লক্ষ্মণ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,০৫৫.
সন্ধির শুদ্ধ গঠন নয় কোনটি?
  1. অতি + অধিক = অত্যধিক
  2. তৎ + শক্তি = তচ্ছক্তি
  3. উৎ+ শ্বাস = উচ্ছ্বাস
  4. চতুঃ + ধা = চতুর্ধা
সঠিক উত্তর:
তৎ + শক্তি = তচ্ছক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎ + শক্তি = তচ্ছক্তি
ব্যাখ্যা
• সন্ধির শুদ্ধ গঠন নয়- তৎ + শক্তি = তচ্ছক্তি। 
• শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ: তদ্ + শক্তি = তচ্ছক্তি।

-------------
• সন্ধি:
পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। অন্য কথায়, সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।

• নিয়ম:
ই বা ঈ ধ্বনির পর যদি অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে ই/ঈ এর জায়গায় য হয়।
যেমন:
- অতি + অধিক = অত্যধিক,
- আদি + অন্ত = আদ্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- অতি + আচার = অত্যাচার,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ।

• নিয়ম:
ত ও দ এর পর শ থাকলে ত ও দ- এর স্থলে চ এবং শ- এর স্থলে ছ উচ্চারিত হয়। যেমন:
- উৎ+ শ্বাস = উচ্ছ্বাস।
- তদ্ + শক্তি = তচ্ছক্তি।
- পদ্ + হতি = পদ্ধতি।
- তদ্ + হিত = তদ্ধিত।

• নিয়ম:
অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পর পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘােষ অল্পপ্রাণ ও ঘােষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে ‘র’ হয়।
যেমন:
- চতুঃ + ধা = চতুর্ধা;
- দুঃ + যােগ = দুর্যোগ;
- নিঃ + আকার = নিরাকার।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি।
৬,০৫৬.
বাংলা বর্ণমালায় মোট পূর্ণমাত্রা বর্ণ কয়টি?
  1. ২৬ টি
  2. ৩২ টি
  3. ৩৬ টি
  4. ৪০ টি
সঠিক উত্তর:
৩২ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩২ টি
ব্যাখ্যা

বর্ণমালা:
- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ পঞ্চাশটি।
- এর মধ্যে পূর্ণমাত্রা বর্ণ ৩২ টি, অর্ধমাত্রার ৮টি এবং মাত্রাহীন ১০টি।
- সুতরাং মাত্রাযুক্ত বর্ণ ৩২ + ৮ = ৪০ টি।
- মাত্রাহীন ১০ টি বর্ণের মধ্যে ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি এবং স্বরবর্ণ ৪টি।
- ১১টি স্বরবর্ণ থেকে ৪টি মাত্রাহীন স্বরবর্ণ বাদ দিলে ৭টি মাত্রাযুক্ত স্বরবর্ণ থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৮ সংস্করণ)।

৬,০৫৭.
'হ' হচ্ছে একটি-
  1. ক) উষ্মধ্বনি
  2. খ) ঘােষ ধ্বনি
  3. গ) মহাপ্রাণ ধ্বনি
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
উষ্মধ্বনি:
- শ, ষ, স, হ - এ চারটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় আমরা শ্বাস যতক্ষণ খুশি রাখতে পারি।
- এগুলােকে বলা হয় উষ্মধ্বনি বা শিশধ্বনি।
- এ বর্ণগুলােকে বলা হয় উষ্মবর্ণ।
- শ ষ স-এ তিনটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অঘােষ অল্পপ্রাণ,
- আর ‘হ’ ঘােষ মহাপ্রাণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

উল্লেখ্য,
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১) অনুসারে, হ - একটি অঘোষ ধ্বনিও বটে।
অর্থ্যাৎ 'হ' - কে ঘোষ এবং অঘোষ দুই শ্রেণিতেই ফেলা যায়।
৬,০৫৮.
বাংলা বর্ণমালায় স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি কতটি?
  1. ১৩
  2. ১৬
  3. ২৫
  4. ২৯
সঠিক উত্তর:
১৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত মৌলিক স্বরধ্বনি - ৭টি।
ব্যঞ্জণধ্বনিমূল বা মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি - ৩০টি।
আবার, স্পৃষ্টব্যঞ্জন ধ্বনিমূল - ১৬টি।
উৎসঃ বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ।

৬,০৫৯.
আদি স্বরাগম ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি?
  1. স্কুল > ইস্কুল
  2. রত্ন > রতন
  3. বেঞ্চ > বেঞ্চি
  4. দিশ্ > দিশা
সঠিক উত্তর:
স্কুল > ইস্কুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্কুল > ইস্কুল
ব্যাখ্যা

• আদি স্বরাগম: উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে আদি স্বরাগম বলে।
যেমন-
- স্কুল > ইস্কুল,
- স্টেশন > ইস্টিশন,
- স্পর্ধা > আস্পর্ধা,
- স্তাবল > আস্তাবল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
- রত্ন > রতন,
- ধর্ম > ধরম,
- প্রীতি > পিরীতি ইত্যাদি।

• অন্ত্যস্বরাগম:
- কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন:
- দিশ্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,০৬০.
কোনটি অঘোষ ধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘোষ ও অঘোষ।

• ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি। যথা: ব, ভ, , দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়,, ঝ, গ, , ঙ, হ।

• অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি। যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক. খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৬,০৬১.
'তন্মাত্র' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. তৎ + মাত্র
  2. তন্‌ + মাত্র
  3. তদ্‌ + মাত্র
  4. তন্ম + মাত্র
সঠিক উত্তর:
তদ্‌ + মাত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদ্‌ + মাত্র
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়ম:
আগে ৎ বা দ্‌ এবং ন্ ম্ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে 'ন' হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ন' কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ম' হয়। কিন্তু, ৎ/ দ্‌-এর পর ল্ থাকলে ৎ / দ্‌ সন্ধিতে 'ল্' হয় এবং ল্ পরের ল-এর সঙ্গে মিলে 'ল্ল' হয়।
যেমন:
উৎ + নীত = উন্নীত,
ক্ষুধ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি,
তদ্‌ + মাত্র = তন্মাত্র,
উৎ + লাস = উল্লাস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,০৬২.
কোন শব্দে তালব্য ব্যঞ্জনের ব্যবহার আছে?
  1. শসা
  2. কর
  3. হার
  4. লাল
সঠিক উত্তর:
শসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শসা
ব্যাখ্যা
তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রর্ভতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে:
- 'হ' কন্ঠনালীয় ব্যঞ্জন।
- 'র' কম্পিত ব্যঞ্জন।
- 'ক' কন্ঠ ব্যঞ্জন।
- 'ল' পার্শ্বিক ব্যঞ্জন।
- 'স' দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,০৬৩.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. তন্‌ + নিমিত্ত = তন্নিমিত্ত
  2. নিঃ + চেষ্ট = নিশ্চেষ্ট
  3. মৃত + ময় = মৃন্ময়
  4. উদ্‌ + লিখিত = উল্লিখিত
সঠিক উত্তর:
নিঃ + চেষ্ট = নিশ্চেষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিঃ + চেষ্ট = নিশ্চেষ্ট
ব্যাখ্যা

• 'নিশ্চেষ্ট' এর সন্ধি বিচ্ছেদ: নিঃ + চেষ্ট।

---------------------
• স্বরসন্ধির নিয়ম: 
- আগে ৎ বা দ্‌ এবং পরে ৎ + ন/ম্ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে ন্ দ্ + ন হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে ন্ন কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে ন্ম হয়।
- কিন্তু, দ্-এর পর ল্ থাকলে ৎ/দ্ সন্ধিতে ল্ দ্ + ম হয় এবং ল্ পরের ল-এর ৎ+ সঙ্গে মিলে ল্ল হয়।
যেমন:
- উৎ + নতি = উন্নতি,
- তদ্‌ + নিমিত্ত = তন্নিমিত্ত,
- মৃৎ + ময় = মৃন্ময়,
- তদ্‌ + মধ্যে = তন্মধ্যে,
- উৎ + লিখিত = উল্লিখিত। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,০৬৪.
'রিকসা্‌ > রিস্‌কা' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ধ্বনি বিপর্যয় 
  2. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  3. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  4. অন্তর্হতি
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয় 
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি বিপর্যয় বা বর্ণ বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যবর্তী দুটো ব্যঞ্জনধ্বনি পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে হলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন: 
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল,
- বাক্‌স > বাস্‌ক,
- রিকসা্‌ > রিস্‌কা,
- তলোয়ার > তরোয়াল ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• ব্যঞ্জন বিকৃতি: 
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন- কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জনচ্যুতি: 
পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
 যেমন- বউদিদি > বউদি, বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

• অন্তর্হতি: 
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন- ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,০৬৫.
"বড়দাদা > বড়দা" এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অন্ত্য স্বরলোপ
  2. মধ্য স্বরলোপ
  3. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  4. আদি স্বরলোপ
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জনচ্যুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনচ্যুতি:
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লােপ পায়। এরূপ লােপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।

যেমন:
- বউদিদি> বউদি,
- বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,০৬৬.
কোনটি ঘোষ ব্যাঞ্জন ধ্বনি?
  1. ক) থ
  2. খ) ড
  3. গ) ত
  4. ঘ) চ
সঠিক উত্তর:
খ) ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ড
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘােষ ও অঘোষ।

১. ঘােষ ব্যঞ্জন  ধ্বনি:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ ।

২. অঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
৬,০৬৭.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই ণ হয়েছে?
  1. ক) ত্রিনয়ন
  2. খ) অন্ত
  3. গ) কৃপণ
  4. ঘ) নিপুণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিপুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিপুণ
ব্যাখ্যা
'নিপুণ'- শব্দে স্বভাবতই ণ হয়েছে।

তাছাড়া,
'ত্রিনয়ন'- শব্দের নিয়ম: সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না।
'অন্ত'  শব্দের নিয়ম: ত- বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ণ কখনো ণ হয়না।
'কৃপণ' শব্দের নিয়ম: ঋ, র, ষ এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য়, ব, হ, ং এবনহ ক- বর্গীয় ও প- বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য- ণ হয়।  



উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৬,০৬৮.
উচ্চারণের স্থান অনুসারে 'ড়' কোন ধরনের ধ্বনি?
  1. দন্তমূলীয়
  2. তালব্য
  3. মূর্ধন্য
  4. ওষ্ঠ্য
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য
ব্যাখ্যা
• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলাে দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত।
যেমন: পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,০৬৯.
কোন ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না?
  1. ব্যঞ্জনধ্বনি
  2. স্বরধ্বনি
  3. যুগ্মধ্বনি
  4. যৌগিক ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
স্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা

• স্বরধ্বনি:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে।

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা:
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - [ই], [উ]।
২. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি - [এ], [ও]।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - [অ্যা], [অ]।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - [আ]।
- উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

• ব্যঞ্জনধ্বনি:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখের বাইরে বের হওয়ার আগে বাক্প্র‌ত্যঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বাধা পায়, সেগুলোকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে।
যেমন - ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬,০৭০.
নিচের কোনটি নিম্ন বিবৃত স্বরধ্বনি?
  1. উ 
  2. অ্যা
  3. আ 
  4. ই 
সঠিক উত্তর:
আ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আ 
ব্যাখ্যা

• 'আ'- নিম্ন বিবৃত স্বরধ্বনি।

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা- 
- উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।
উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খােলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত [ই], [উ];
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ]।
সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট বেশি খােলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সর্বশেষ সংস্করণ)।

৬,০৭১.
'ব্যঞ্জন' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ব্যান্‌জোঁন্‌
  2. ব্যান্‌জোন্‌
  3. ব্যান্‌জন্‌
  4. ব্যঁন্‌জন্‌
সঠিক উত্তর:
ব্যান্‌জোন্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যান্‌জোন্‌
ব্যাখ্যা
ঞ-এর উচ্চারণ তিন রকম হয়:

যুক্ত ঞ + চ/ছ/জ/ঝ: ন-এর মতো:

- অঞ্চল (অন্‌চল্), বাঞ্ছা (বান্‌ছা), ব্যঞ্জন (ব্যান্‌জোন্‌)

যুক্ত জ+ঞ: গ্‌ঁ বা গ্‌র্গঁ-এর মতো:
- জ্ঞান (গ্যান্‌ঁ), যজ্ঞ (জোগ্‌গোঁ)।

উত্তর: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৬,০৭২.
'পুনরুত্থান'-এর সন্ধিবিচ্ছেদ-   
  1. পুণ+ উত্থান
  2. পূণঃ + উত্থান
  3. পুণঃ + উত্থান
  4. পুনঃ + উত্থান  
সঠিক উত্তর:
পুনঃ + উত্থান  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনঃ + উত্থান  
ব্যাখ্যা

'পুনরুত্থান'-এর সন্ধিবিচ্ছেদ- পুনঃ + উত্থান।

• বিসর্গসন্ধি:
- 'পুনরুত্থান' ‘র্’-জাত বিসর্গসন্ধির উদাহরণ। 
- বিসর্গসন্ধি হলো এমন একটি সন্ধি যেখানে শব্দের শেষে থাকা বিসর্গ পরবর্তী স্বর বা ব্যঞ্জনের সঙ্গে মিলিত হয়ে উচ্চারণের সুবিধার্থে রূপ বদলায়।
- অনেক ক্ষেত্রে বিসর্গ লোপ পায়, কখনও ‘র্’ বা ‘স্’-জাত বিসর্গে রূপান্তরিত হয়, আবার কোথাও ‘ও’-কারে বা দীর্ঘ স্বরে পরিবর্তিত হয়।

• ‘র্’-জাত বিসর্গসন্ধি:
- শব্দের শেষে থাকা র্ → বিসর্গ হয়ে পরবর্তী স্বরের সঙ্গে মিললে আবার র ধ্বনিতে ফিরে আসে।
- উদাহরণ:
- অন্তঃ + অঙ্গ = অন্তরঙ্গ।
- প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ।
- পুনঃ + উত্থান = পুনরুত্থান।
- অন্তঃ + গত = অন্তর্গত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,০৭৩.
বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা কয়টি?
  1. ৩২টি 
  2. ৪টি 
  3. ১০টি
  4. ২৫টি 
সঠিক উত্তর:
১০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০টি
ব্যাখ্যা

• বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা - ১০টি

• বর্ণ:
- ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ।
- এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে।
- ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- ধ্বনির বিভাজন অনুযায়ী বাংলা বর্ণমালাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
- স্বরধ্বনির প্রতীক স্বরবর্ণ।
- ব্যঞ্জনধ্বনির প্রতীক ব্যঞ্জনবর্ণ।
- বাংলা বর্ণমালায় মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি। তবে মূল বর্ণের পাশাপাশি বাংলা বর্ণমালায় রয়েছে নানা ধরনের কারবর্ণ, অনুবর্ণ, যুক্তবর্ণ ও সংখ্যাবর্ণ।

• মাত্রাহীন বর্ণ:
- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা - ১০টি
- স্বরবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা - ৪টি।
যথা: এ, ঐ, ও, ঔ।
- ব্যঞ্জনবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা - ৬টি।
যথা: ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,০৭৪.
'লাল' শব্দে 'ল' একটি -
  1. ক) উষ্ম ব্যঞ্জন
  2. খ) নাসিক্য ব্যঞ্জন
  3. গ) কম্পিত ব্যঞ্জন
  4. ঘ) পার্শ্বিক ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
ঘ) পার্শ্বিক ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পার্শ্বিক ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
⇒ উষ্ম ব্যঞ্জন
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাম্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
যেমন - সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ। 

⇒ নাসিক্য ব্যঞ্জন
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে প্রথমে বাধা পায় এবং নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়, সেসব ধ্বনিকে নাসিক্য ব্যঞ্জন বলে।
যেমন - মা, নতুন, হাঙর প্রভৃতি শব্দের ম, ন, ঙ নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি।

⇒ পার্শ্বিক ব্যঞ্জন
যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা দন্তমূল স্পর্শ করে এবং ফুসফুস থেকে আসা বাতাস জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তাকে পার্শ্বিক ব্যঞ্জন বলে।
যেমন - লাল শব্দে পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ কম্পিত ব্যঞ্জন
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের র কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৬,০৭৫.
মধ্য স্বরাগমের আরেক নাম -
  1. বিপ্রকর্ষ
  2. স্বরভক্তি
  3. স্বরসঙ্গতি
  4. ক + খ
সঠিক উত্তর:
ক + খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক + খ
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগমের অপর নাম: 'বিপ্রকর্ষ/স্বরভক্তি'। 

• মধ্য স্বরাগম:
- সময় সময় উচ্চারণের জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একেই বলা হয় মধ্য স্বরাগম।
- মধ্য স্বরাগমের অপর নাম বিপ্রকর্ষ/স্বরভক্তি।
যেমন:
- রত্ন > রতন,
- ধর্ম > ধরম,
- স্বপ্ন > স্বপন,
- প্রীতি > পিরীতি,
- মুক্তা > মুকুতা,
- গ্রাম > গেরাম ইত্যাদি।
-------------------- 
অন্যদিকে, 

স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। যথা-

• প্রগত স্বরসঙ্গতি:
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- মুলা > মুলো;
- শিকা > শিকে;
- তুলা > তুলো।

• পরাগত স্বরসঙ্গতি:
অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- আখো > আখুয়া > এখো;
- দেশি > দিশি।

• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- বিলাতি > বিলিতি।

• অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি:
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- মোজা > মুজো।

• চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
যেমন:
- গিলা > গেলা;
- মিলামিশা > মেলামেশা;
- মিঠা > মিঠে;
- ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,০৭৬.
নিচের কোন সন্ধিবিচ্ছেদটি সঠিক নয়?
  1. ক) মহা+ঋষি=মহর্ষি
  2. খ) শীত+ঋত=শীতার্ত
  3. গ) উপরি+উক্ত=উপরিউক্ত
  4. ঘ) যথা+উচিত=যথোচিত
  5. ঙ) যদি+অপি=যদ্যপি
সঠিক উত্তর:
গ) উপরি+উক্ত=উপরিউক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উপরি+উক্ত=উপরিউক্ত
ব্যাখ্যা
উপরি+উক্ত=উপর্যুক্ত
৬,০৭৭.
'সাধু > সাহু > সাউ' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. হ-কার লোপ
  3. অভিশ্রুতি
  4. বিষমীভবন
সঠিক উত্তর:
হ-কার লোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ-কার লোপ
ব্যাখ্যা

• হ-কার লোপ:
আধুনিক চলিত ভাষায় অনেক সময় দুই স্বরের মাঝামাঝি হ-কারের লোপ হয়।
যেমন-
- পুরোহিত > পুরুত,
- গাহিল > গাইল,
- চাহে > চায়,
- সাধু > সাহু > সাউ,
- আরবি আল্লাহ্ > বাংলা আল্লা,
- ফারসি শাহ্ > বাংলা শা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
-----------------
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন- কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি ৷

• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি। যেমন- করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া’ কিংবা বিপর্যয়ের ফলে ‘কইরা’ থেকে অভিশ্রুতিজাত ‘করে’।
 এরূপ- শুনিয়া > শুনে, বলিয়া > বলে, হাটুয়া > হাউটা > হেটো, মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে। যেমন- শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

৬,০৭৮.
উচ্চারণ স্থানের নামানুসারে 'ট-বর্গের' বর্ণগুলো কী নামে পরিচিত?
  1. মূর্ধন্য
  2. তালব্য
  3. ওষ্ঠ্য
  4. দন্ত্য
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য
ব্যাখ্যা
বর্গীয় ধ্বনি:
- ক থেকে ম পর্যন্ত পঁচিশটি স্পর্শধ্বনিকে উচ্চারণস্থানের দিক থেকে পাঁচটি গুচ্ছ বা বর্গে ভাগ করা হয়েছে। প্রতি গুচ্ছের প্রথম ধ্বনিটির নামানুসারে সে গুচ্ছের সবগুলো ধ্বনিকে বলা হয় বর্গীয় ধ্বনি। বর্গভুক্ত বলে এ ধ্বনির চিহ্নগুলোকেও ঐ বর্গীয় নামে অভিহিত করা হয়।

যেমন-
বৰ্গ - বৰ্গীয় বৰ্ণ - বর্গের ভাষাবৈজ্ঞানিক নাম:
→ ক - ক, খ, গ, ঘ, ঙ - কণ্ঠ্য।
→ চ - চ, ছ, জ, ঝ, ঞ - তালব্য। 
- ট, ঠ, ড, ঢ, ণ - মূর্ধন্য।
→ ত - ত, থ, দ, ধ, ন - দন্ত্য।
→ প - প, ফ, ব, ভ, ম - ওষ্ঠ্য।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,০৭৯.
'সংশয়' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সং + শয়
  2. সম্‌ + আশয়
  3. সন্‌ + শয়
  4. সম্‌ + শয়
সঠিক উত্তর:
সম্‌ + শয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্‌ + শয়
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- ম্‌- এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি যথা: য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে ম্‌- স্থলে অনুস্বার (ং) হয়।  

যেমন:
- সম্‌ + যম = সংযম,
- সম্‌ + রক্ষণ = সংরক্ষণ,
- সম্‌ + শয় = সংশয়,
- সম্‌ + হার = সংহার,
- স্বয়ম্‌ + বরা = স্বয়ংবরা ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬,০৮০.
গবাদি - কোন সূত্রে সিদ্ধ?
  1. ক) স্বরধ্বনি + ব্যাঞ্জনধ্বনি
  2. খ) স্বরধ্বনি + স্বরধ্বনি
  3. গ) ব্যাঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি
  4. ঘ) ব্যাঞ্জনধ্বনি + ব্যাঞ্জনধ্বনি
সঠিক উত্তর:
খ) স্বরধ্বনি + স্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্বরধ্বনি + স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
- 'গবাদি' শব্দটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।
- এর সন্ধিবিচ্ছেদ 'ও+ অন্য স্বর' সূত্র দ্বারা সিদ্ধ। 
- ও+ অন্য স্বর = অব্‌+স্বর। যেমন – গাে+আদি = গবাদি। 

• স্বরসন্ধির আরও কিছু উদাহরণ - 
⇒ অ/আ+অ/আ = আ। যেমন – উত্তর+অধিকার = উত্তরাধিকার, আশা+অতীত = আশাতীত
⇒ ই/ঈইঈ = ঈ। যেমন – অতি+ইন্দ্রিয় = অতীন্দ্রিয়, পরি+ঈক্ষা = পরীক্ষা
⇒ উ/উ+উ/ঊ = উ। যেমন – মরু+উদ্যান = মরূদ্যান
⇒ অ/আ+ই/ঈ = এ। যেমন – শুভ+ইচ্ছা = শুভেচ্ছা
⇒ অ/আ+উ/ঊ = ও। যেমন – সূর্য+উদয় = সূর্যোদয়
⇒ ও+ অন্য স্বর = অবৃ+স্বর। যেমন – গাে+আদি = গবাদি
⇒ ঔ+ অন্য স্বর = আবৃ+স্বর। যেমন – নৌ+ইক = নাবিক ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
৬,০৮১.
নিচের কোনটি উষ্ম বর্ণ নয়?
  1. শ  
  2. ষ 
  3. হ 
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

চ উষ্ম বা শিস বর্ণ নয়।
- চ হলো তালব্য স্পর্শধ্বনি।
-----------------------
উষ্ম বর্ণ:
- বাংলা বর্ণমালায় উষ্ম বর্ণ মোট চারটি।
- এগুলো হলো— শ, ষ, স ও হ।
- এই বর্ণগুলোর উচ্চারণের সময় শ্বাসবায়ুর প্রবাহ বেশি সক্রিয় থাকে এবং ধ্বনিগুলো অনেকটা শিসের মতো শোনা যায়, যার কারণে এগুলোকে উষ্ম বর্ণ বা শিস বর্ণ বলা হয়।
- উচ্চারণস্থানের ভিন্নতার ভিত্তিতে শ হলো তালব্য শ, ষ হলো মূর্ধন্য ষ, স হলো দন্ত্য স এবং হ হলো হ-ধ্বনি।

নোট-
- যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে উষ্মধ্বনি তিনটি (শ, স, হ) বলে গণনার রীতি দেখা যায়।
- তবে শুদ্ধ ব্যাকরণগত দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলা ভাষায় উষ্ম বর্ণের সংখ্যা চারটিই স্বীকৃত।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,০৮২.
জিভের উচ্চতা অনুযায়ী উচ্চ স্বরধ্বনি কোনগুলো?
  1. অ্যা, অ
  2. এ, ও
  3. ই, উ
সঠিক উত্তর:
ই, উ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ই, উ
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - ই, উ।
২. উচ্চ -মধ্য স্বরধ্বনি - এ, ও।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - অ্যা, অ।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,০৮৩.
ষ-ত্ব বিধানের ক্ষেত্রে শুদ্ধ নয় কোনটি?
  1. অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে 'ষ' হয়।
  2. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
  3. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়।
  4. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়।
সঠিক উত্তর:
অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে 'ষ' হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে 'ষ' হয়।
ব্যাখ্যা
ষ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে।
- যেসব তৎসম শব্দে 'ষ' রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে।
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য 'ষ'-এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স, ষ হয়।
যেমন - মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

২. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন - অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

৩. 'ঋ' এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়।
যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।

৪. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়।
যেমন - বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।

৫. র- ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'ষ' হয়। যথা: পরিষ্কার।
কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যথা: পুরস্কার।

৬. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়।
যথা: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

৭. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

৮. আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না। 
যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

৯. সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না।
যেমন - অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,০৮৪.
কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক?
  1. প্রতি + উষ = প্রত্যূষ
  2. ইতি + আতি = ইত্যাদি
  3. নদী + অম্বু = নদ্যম্বু
  4. পুর + কার
সঠিক উত্তর:
নদী + অম্বু = নদ্যম্বু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদী + অম্বু = নদ্যম্বু
ব্যাখ্যা
- সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ গুলো হলো-
ই/ঈ + অন্যস্বর = য-ফলা, এই নিয়মে গঠিত সন্ধি-
নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।
প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ।
ইতি + আদি = ইত্যাদি।
পুরঃ + কার (বিসর্গ সন্ধি)। বিসর্গ সন্ধির নিয়ম অনুসারে- অ এর পরে বিসর্গঃ + ক = স + ক।  

উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
৬,০৮৫.
নিচের কোন শব্দটি ‘ণ-ত্ব বিধান’ অনুযায়ী অশুদ্ধ বানান?
  1. ত্রিনয়ন
  2. গ্রন্থ
  3. অঘ্রান
  4. গভর্ণর
সঠিক উত্তর:
গভর্ণর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গভর্ণর
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - গভর্ণর। এর শুদ্ধ বানান - গভর্নর।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়: 
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। 
যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম ইত্যাদি। 

২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না। 
যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি। 

৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না। 
যেমন- গভর্নর, অঘ্রান

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
৬,০৮৬.
ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে কী বলে?
  1. কার
  2. যতি
  3. ফলা
  4. বিরাম
সঠিক উত্তর:
ফলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফলা
ব্যাখ্যা

• অনুবর্ণ:
- ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ। অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

• ফলা: ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলােকে ফলা বলে।
যেমন – ন-ফলা (,), ব-ফলা (), ম-ফলা (J), য-ফলা (), র ফলা (এ), ল-ফলা )।

• রেফ: র-এর একটি অনুবর্ণ রেফ (‘)।

• বর্ণসংক্ষেপ: যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়ােজন হয়। এগুলাে বর্ণসংক্ষেপ।
যেমন – ও, দ, ন, ম স স। ত্যাদি। এছাড়া ও বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত।

অন্যদিকে,
• স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে 'কার' বলে।
- স্বরবর্ণে কার আছে ১০ টি।

• মুখের কথাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময়ে কম-বেশি থামা বোঝাতে যেসব চিহ্ন ব্যবহৃত হয়, সেগুলোকে যতিচিহ্ন বলে।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও কিছু চিহ্ন ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতিচিহ্নও বলা হয় ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।

৬,০৮৭.
'গাঢ়' শব্দের 'ঢ়' কোন ধরনের ধ্বনি?
  1. ঘর্ষণজাত ধ্বনি
  2. তাড়নজাত ধ্বনি
  3. কম্পনজাত ধ্বনি
  4. পার্শ্বিক ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
তাড়নজাত ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাড়নজাত ধ্বনি
ব্যাখ্যা
• তাড়নজাত ধ্বনি:
জিভ উলটিয়ে এ ধ্বনি তৈরি হয়। উচ্চারণের সময় জিভের সামনের অংশ উপরের শক্ত তালুতে একটিমাত্র টোকা দেয় বলে এগুলিকে টোকাজাত ধ্বনিও বলে। এ জাতীয় বাংলা প্রতিবেষ্টিত ব্যঞ্জন দুটি: ড় ও ঢ় । 
যেমন- ধড়ফড়, বাড়, গাঢ়, নিগূঢ়।
এখানে, গাঢ় শব্দের 'ঢ়' হলো - তাড়নজাত ধ্বনি।
----------------
• ঘর্ষণজাত:
এ ধ্বনি উচ্চারণের সময় দুটি বাগযন্ত্র খুব কাছাকাছি আসে; কিন্তু একসঙ্গে যুক্ত হয় না। ফলে বাতাস বাধা পায় ও সংকীর্ণ পথে বের হওয়ার সময় ঘর্ষণের সৃষ্টি করে বলে এগুলি ঘর্ষণজাত ধ্বনি বলা হয়। উচ্চারণস্থান অনুযায়ী বাংলা ঘর্ষণজাত ধ্বনি হচ্ছে দন্তমূলীয়/স্/ বস্তু, কাস্তে, তালব্য /শ/ দাশ, রাশ, হ্রাস, কণ্ঠনালীয়: /হ/ হাট, হনহন।

• কম্পনজাত:
জিভ কম্পিত হয়ে বা দন্তমূল বারবার আঘাত করে উচ্চারিত হয় বলে এ-জাতীয় ব্যঞ্জনগুলিকে বলে কম্পনজাত। এ শ্রেণির বাংলা ব্যঞ্জন একটি /র/ যেমন- বার, ধার।

• পার্শ্বিক:
বাতাস জিভের এক পাশ বা দু-পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায় বলে এসব ব্যঞ্জনকে বলে পার্শ্বিক। বাংলায় এ শ্রেণির ধ্বনি একটি: ল। যেমন- তাল, শাল। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,০৮৮.
ধ্বনি-বিপর্যয় এর উদাহরণ কোনটি?
  1. লাল > নাল
  2. শরীর > শরীল
  3. রিকশা > রিশকা
  4. লাঙ্গল > নাঙ্গল
সঠিক উত্তর:
রিকশা > রিশকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিকশা > রিশকা
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি-বিপর্যয়:
উচ্চারণের সময় কিছু কিছু শব্দস্থিত ধ্বনির স্থানপরিবর্তন ঘটে। আগের ধ্বনি পরে যায় ও পরের ধ্বনি আগে আসে-এরকম অবস্থানগত বিপর্যয় দেখা যায়। যেমন-
- পিশাচ > পিচাশ।
['শাচ' ধ্বনি দুটি (শা + চ) স্থান বদলে হয়েছে 'চাশ' (চা+শ)।]

• উচ্চারণের সময় শব্দস্থিত ধ্বনি স্থান পরিবর্তন করলে, তাকে ধ্বনিবিপর্যয় বা বর্ণবিপর্যয় বলে।
যেমন:
- বাক্স > বাস্ক,
- তলোয়ার > তরোয়াল,
- মগজ > মজগ,
- রিকশা > রিশকা,
- লাফ > ফাল,
- ডেস্ক > ডেক্স ইত্যাদি।

• মৌখিক ভাষাতেই সাধারণত উচ্চারণদোষে ধ্বনি-বিপর্যয় ঘটে। এ রীতি অতি প্রাচীন। সংস্কৃতে এরকম দৃষ্টান্ত আছে।
যেমন- করেণু > কণেরু।

অন্যদিকে, 
• বিষমীভবন:
শব্দের মধ্যে পাশাপাশি অবস্থিত সমান দুই ব্যঞ্জনের মধ্যে যেকোনো একটি বদলে গেলে, ধ্বনি-পরিবর্তনের এই রীতিকে বলা হয় বিষমীভবন।
যথা-
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল,
- লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,০৮৯.
‘সঞ্চয়’ -এর সন্ধি বিচ্ছেদ কি?
  1. সন্ + চয়
  2. সম্ + চয়
  3. সঞ + চয়
  4. সং + চয়
সঠিক উত্তর:
সম্ + চয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্ + চয়
ব্যাখ্যা
• সন্ধি বিচ্ছেদে নাসিক্য বর্ণের পরিবর্তে ’ম‘ হয়।

এরূপ-
- সম্ + ধি= সন্ধি,
- সম্ + চয়= সঞ্চয়,
- সম্ +তাপ= সন্তাপ,
- কিম +ভূত= কিম্ভূত,
- সম্ +সার= সংসার,
- সম্ +বাদ= সংবাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
৬,০৯০.
'বাণিজ্য' শব্দে 'ণ' বসেছে ণ-ত্ব বিধানের কোন নিয়মে?
  1. ব এবং জ এর মাঝে 'ণ' হয়।
  2. ব বর্ণের পরে 'ণ' হয়।
  3. স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
  4. প-বর্গীয় ধ্বনির পরে 'ণ' হয়।
সঠিক উত্তর:
স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান: 
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

কতগুলো শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়:
যেমন,
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,০৯১.
শরীর > শরীল উদাহরণটি কিসের?
  1. ক) দ্বিত ব্যঞ্জন
  2. খ) ব্যঞ্জন বিকৃতি
  3. গ) ব্যঞ্জনচ্যুতি
  4. ঘ) বিষমীভবন
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিষমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিষমীভবন
ব্যাখ্যা
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে। যেমনঃ শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৬,০৯২.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ?
  1. ক) শুভ+ইচ্ছা = শুভেচ্ছা
  2. খ) জন+এক = জৈনক
  3. গ) গো+ইন্দ্র = গবেন্দ্র
  4. ঘ) পিতৃ+আলয় = পিত্রালয়
সঠিক উত্তর:
গ) গো+ইন্দ্র = গবেন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গো+ইন্দ্র = গবেন্দ্র
ব্যাখ্যা
• সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
গো+ইন্দ্র = গবেন্দ্র
গো+অক্ষ = গবাক্ষ
প্র+এষণ = প্রেষণ
কুল+অটা = কুলটা
পর+পর = পরস্পর

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬,০৯৩.
অভিধানে কোন শব্দটি আগে বসবে?
  1. চারা
  2. চাঁপা
  3. চাঁদ
  4. চাঁছা
সঠিক উত্তর:
চাঁছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁছা
ব্যাখ্যা
অভিধানে শব্দগুলো অক্ষরিক ক্রমানুসারে সাজানো হয়। অর্থাৎ, প্রথমে শব্দটির প্রথম অক্ষর দিয়ে শ্রেণিবদ্ধ করা হয় এবং তারপর পরবর্তী অক্ষরগুলো আসে।
 
এখানে, সমস্ত শব্দের প্রথম অক্ষর 'চ'। তবে পরবর্তী অক্ষরগুলো বিচার করলে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, 'আ' আসে ‘অ' এর পরে। তাই, আমরা এই শব্দগুলোকে নিম্নোক্ত ক্রমে সাজাতে পারি:
 
• অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ,

- ক, খ, গ, ঘ, ঙ,
- চ, ছ, জ, ঝ, ঞ,
- ট, ঠ, ড, ঢ, ণ,
- ত, থ, দ, ধ, ন,
- প, ফ, ব, ভ, ম,
- য, র, ল, শ, ষ, স, হ, ড়, ঢ়, য়, ৎ, ং, ঃ, ঁ।
 
• সুতরাং অপশনে প্রদত্ত শব্দগুলির বাংলা বর্ণমালার অনুযায়ী ক্রম হবে-
চাঁছা > চাঁদা> চাঁপা > চারা।
 
• অতএব, সঠিক উত্তর হবে ‘চাঁছা' (ঘ)। এটি অভিধানে অন্য তিনটি শব্দের চেয়ে আগে বসবে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬,০৯৪.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়?
  1. ষড়ঋতু
  2. কোষ
  3. ভাষা
  4. A, B, C সবগুলোই
  5. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
A, B, C সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
A, B, C সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন: ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন: ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন: অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ‘ষ’ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন: অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,০৯৫.
কোন ধ্বনি পরিবর্তনে পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লােপ পায়?
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. অভিশ্রতি
  3. অন্তর্হতি
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জনচ্যুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনচ্যুতি:
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লােপ পায়। এরূপ লােপকে বলা হয় ধ্বনি চ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।

যেমন:
- বউদিদি> বউদি,
- বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অন্তর্হতি - পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
অভিশ্রতি - বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে 
ব্যঞ্জন বিকৃতি - শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,০৯৬.
'হাচ্ছানি' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. হাচ + ছানি
  2. হাত + চানি
  3. হাত + ছানি
  4. হাতঃ + ছানি
সঠিক উত্তর:
হাত + ছানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাত + ছানি
ব্যাখ্যা
• সন্ধির নিয়ম:
- ত- বর্গীয় ধ্বনি ও চ- বর্গীয় ধ্বনি পাশাপাশি এলে প্রথমটি লুপ্ত হয়ে পরবর্তী ধ্বনিটি দ্বিত্ব হয়।
যেমন: 
- নাত + জামাই = নাজজামাই,
- বদ্ + জাত, = বজ্জাত,
- হাত + ছানি = হাচ্ছানি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬,০৯৭.
স্পর্শধ্বনিকে কতভাগে ভাগ করা হয়েছে?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৬
সঠিক উত্তর:
গ) ৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৫
ব্যাখ্যা
ক থেকে ম পর্যন্ত পঁচিশটি ধ্বনিকে সাধারণভাবে স্পর্শধ্বনি বলা হলেও ঙ, ঞ, ণ, ন এবং ম বাদে বাকি কুড়িটি ধ্বনি প্রকৃত স্পর্শধ্বনি৷
স্পর্শধ্বনিকে উচ্চারণ স্থানের দিক থেকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে৷
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ
৬,০৯৮.
বাংলা স্বরবর্ণে স্বরধ্বনি মূল কয়টি?
  1. ক) দুটি
  2. খ) চারটি
  3. গ) পাঁচটি
  4. ঘ) সাতটি
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাতটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সাতটি
ব্যাখ্যা
ভাষার ক্ষুদ্রতম একককে ধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।
- মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি
- মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি
- মৌলিক স্বরধ্বনি:
- [ই]
- [এ]
- [অ্যা]
- [আ]
- [অ]
- [ও]
- [উ]

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০২১]
৬,০৯৯.
নিচের কোন শব্দটিতে বিসর্গ ‘ও’ হয়েছে? 
  1. নীরোগ
  2. আরোগ্য
  3. ভৌগোলিক
  4. তিরোধান
সঠিক উত্তর:
তিরোধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিরোধান
ব্যাখ্যা
বিসর্গসন্ধি: 
- বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন- 
১. বিসর্গ বিদ্যমান থাকে। 
যেমন- মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃ + পতন = অধঃপতন, বয়ঃ + সন্ধি = বয়ঃসন্ধি। 

২. বিসর্গ ‘ও’ হয়ে যায়। 
যেমন- মনঃ + যোগ = মনোযোগ, তিরঃ + ধান = তিরোধান, তপঃ + বন = তপোবন। 

৩. বিসর্গ ‘র্’ হয়ে যায়। 
যেমন- নিঃ + আকার = নিরাকার, পুনঃ + মিলন = পুনর্মিলন, আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ। 

৪. বিসর্গ শ/ষ/স্ হয়। 
যেমন- নিঃ + চয় = নিশ্চয়, দুঃ + কর = দুষ্কর, পুরঃ + কার = পুরস্কার। 

৫. কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়। 
যেমন- নিঃ + রব = নীরব, নিঃ + রস = নীরস, নিঃ + রোগ = নীরোগ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬,১০০.
নিচের কোন উক্তিটি সত্য?
  1. খাঁটি বাংলা শব্দে 'ষ' হয় না
  2. সংস্কৃত 'সাৎ' পদে 'ষ' হয় না
  3. বিদেশি শব্দে 'ষ' হয় না
  4. উপরের সবগুলো
  5. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
ণত্ব ও ষত্ব বিধান শুধুমাত্র তৎসম শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিদেশি শব্দে 'ষ' হয় না, খাঁটি বাংলা শব্দে 'ষ' হয় না আর সংস্কৃত 'সাৎ' পদে 'ষ' হয় না।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ।