বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনিতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৬,৩২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনিতত্ত্ব

PrepBank · পাতা ৫৬ / ৬৩ · ৫,৫০১৫,৬০০ / ৬,৩২৭

৫,৫০১.
'ধনুষ্টঙ্কার' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) ধনু + টঙ্কার
  2. খ) ধনুঃ + টঙ্কার
  3. গ) ধনুষ + টঙ্কার
  4. ঘ) ধনুশ + টঙ্কার
সঠিক উত্তর:
খ) ধনুঃ + টঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধনুঃ + টঙ্কার
ব্যাখ্যা
• বিসর্গের পর অঘােষ অল্পপ্রাণ কিংবা মহাপ্রাণ তালব্য ব্যঞ্জন থাকলে বিসর্গের স্থলে তালব্য শিশ ধ্বনি হয়, অঘােষ অল্পপ্রাণ কিংবা অঘােষ মহাপ্রাণ মূর্ধন্য ব্যঞ্জন থাকলে বিসর্গ স্থলে মূর্ধন্য শিশ ধ্বনি হয়, অঘােষ অল্পপ্রাণ কিংবা অঘােষ মহাপ্রাণ দন্ত্য ব্যঞ্জনের স্থলে দন্ত্য শিশ ধ্বনি হয়।

যেমন -

• ঃ + চ/ছ = শ + চ /ছ
নিঃ + চয় = নিশ্চয়,
শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ। 

• ঃ + ট / ঠ = ষ + ট/ ঠ
ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার,
নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর।

• ঃ + ত/ থ = স + ত/ থ
দুঃ +থ = দুস্থ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
৫,৫০২.
নিচের কোন ব্যঞ্জনবর্ণের স্বনিম রূপ বাংলা উচ্চারণে অনুপস্থিত?
  1. ত 
  2. ঘ 
  3. ম 
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জনবর্ণ:
ব্যঞ্জনধ্বনির লিখিত প্রতীক বা চিহ্নকে বলে ব্যঞ্জনবর্ণ। বাংলা বর্ণমালায় ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ রয়েছে। বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে ব্যঞ্জনবর্ণের তুলনা করলে দেখা যায় যে, সব ব্যঞ্জন বর্ণের স্বনিম রূপ বাংলা উচ্চারণে নেই।
যেমন- "ঞ, ণ, য়, ষ , ঃ, ইত্যাদির স্বনিম বা ধ্বনিমূল উচ্চারণে অনুপস্থিত। এগুলো হয় বাংলার অন্যান্য ধ্বনির সঙ্গে মিশে গেছে, না-হয় উচ্চারিত হয় না।

• বাংলা মান্য চলিত ভাষায় ব্যবহৃত ব্যঞ্জনধ্বনিমূল ২৮টি। এই  তালিকায় যে এগারোটি বর্ণ নেই, সেগুলো হলো: ঞ, ণ, ক্ষ, ঢ়, য়, ষ, স, ৎ, ং, ঃ, ঁ। এগুলো কোনো ধ্বনি প্রকাশ করে না।

যেমন-
• ঞ-এর উচ্চারণ হয় কখনো অঁ এর মতো, যেমন-মিঞ (মিয়ো), মিঞা (মিয়া); কখনো দন্তমূলীয় 'ন্' ধ্বনির মতো, যেমন- ব্যঞ্জন (ব্যান্‌জা), লাঞ্ছনা (লাছোনা)।
• ন এবং ণ-এর উচ্চারণে কোনো পার্থক্য নেই। যেমন- বান (বন্যা), বাণ (তীর)।
• ষ এবং স-এর উচ্চারণ শ এর মতো। যেমন-সবিশেষ (শবিশেশ)।
• ত এবং ৎ-এর উচ্চারণও অভিন্ন। যেমন- সৎ, সত। 

অন্যদিকে,
• ত, ঘ, ম ব্যঞ্জনবর্ণের স্বনিম রূপ বাংলা উচ্চারণে রয়েছে। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৫০৩.
"স্বেচ্ছা" - এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সে + আচ্ছা
  2. স + এচ্ছা
  3. স্ব + ইচ্ছা
  4. সু + ইচ্ছা
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
স্ব + ইচ্ছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ব + ইচ্ছা
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
স্ব + ইচ্ছা = স্বেচ্ছা
→ যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট, 
→ পরম + ঈশ = পরমেশ, 
→ মহা + ঈশ = মহেশ ইত্যাদি।

এরূপ -পূর্ণেন্দু, শ্রবণেন্দ্রিয়, শুভেচ্ছা, নরেশ, রমেশ, নরেন্দ্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫০৪.
'মুখচ্ছবি' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মুখঃ + ছবি
  2. মুখ + ছবি
  3. মুখছ + বি
  4. মুখ + ছবিই
সঠিক উত্তর:
মুখ + ছবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুখ + ছবি
ব্যাখ্যা

স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
- স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়।

যথা:
- অ + ছ = চ্ছ; মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি।
- আ + ছ = চ্ছ; কথা + ছলে = কথাচ্ছলে।
- ই + ছ = চ্ছ; পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।
এরূপ - একচ্ছত্র, বিচ্ছেদ, পরিচ্ছেদ, বিচ্ছিন্ন, অঙ্গচ্ছেদ, আলোকচ্ছটা, প্রতিচ্ছবি, প্রচ্ছদ, আচ্ছাদন, বৃক্ষচ্ছায়া, স্বচ্ছন্দে, অনুচ্ছেদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৫০৫.
বাংলা ভাষায় সংখ্যা নির্দেশের জন্য কয়টি সংখ্যাবর্ণ?
  1. ক) ৯
  2. খ) ১০
  3. গ) ২৫
  4. ঘ) ১০০
সঠিক উত্তর:
খ) ১০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১০
ব্যাখ্যা
সংখ্যাবর্ণ: বাংলা ভাষায় সংখ্যা নির্দেশের জন্য দশটি সংখ্যাবর্ণ রয়েছে। যথা: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ০।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৫,৫০৬.
একই স্বরধ্বনির পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে-
  1. ক) অপিনিহিতি
  2. খ) আদি স্বরাগম
  3. গ) প্রগত স্বরসঙ্গতি
  4. ঘ) অসমীকরণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অসমীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অসমীকরণ
ব্যাখ্যা
অপিনিহিতিঃ
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন- আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, মারি > মাইর ইত্যাদি।

আদি স্বরাগমঃ
উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে আদি স্বরাগম বলে।
যেমন- স্কুল > ইস্কুল, স্টেশন > ইস্টিশন, স্পর্ধা > আস্পর্ধা ইত্যাদি।

অসমীকরণ (Dissimilation):
একই স্বরধ্বনির পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমনঃ টপ + টপ >টপাটপ, ধপ + ধপ > ধপাধপ, ফট + ফট > ফটাফট। ইত্যাদি।

প্রগত স্বরসঙ্গতিঃ

আদি স্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে তাকে প্রগত স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমনঃ মুলা > মুলো, শিকা > শিকে ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণী।
 
৫,৫০৭.
অন্ত্যস্বরাগমের উদাহরণ কোনটি?
  1. ধাইমা > দাইমা
  2. বেঞ্চ > বেঞ্চি
  3. ধোবা > ধোপা
  4. শাক > শাগ
সঠিক উত্তর:
বেঞ্চ > বেঞ্চি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেঞ্চ > বেঞ্চি
ব্যাখ্যা

• অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন:
- দিস্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে।
যেমন:
- শাক > শাগ,
- ধোবা > ধোপা,
- কবাট > কপাট,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৫০৮.
পরে উচ্চারিত হওয়া ‘ই/উ’ আগে উচ্চারিত হওয়া কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. অন্যোন্য সমীভবন
  2. পরাগত সমীভবন
  3. অপিনিহিতি
  4. প্রগত সমীভবন
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
অপিনিহিতি:
- পূর্বে উচ্চারিত হওয়া ‘ ই/ উ ’ আগে উচ্চারিত হওয়া।
যেমন:
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর।

অন্যদিকে,
প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে।
- অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
 যেমন:
- চক্র > চক্ক, 
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

পরাগত সমীভবন:
- পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন।
যেমন:
- তৎ + জন্য > তজ্জন্য,
- তৎ + হিত > তদ্ধিত,
- উৎ + মুখ >উন্মুখ ইত্যাদি।

অন্যোন্য সমীভবন:
- যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অন্যোন্য সমীভবন।
যেমন:
- সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ,
- সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫০৯.
ঘোষীভবন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি?
  1. হাটুয়া > হাউটা
  2. শাক > শাগ
  3. কাদনা > কান্না
  4. কাঠ > কাট
সঠিক উত্তর:
শাক > শাগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাক > শাগ
ব্যাখ্যা

• ঘোষীভবন:
অঘোষধ্বনি ঘোষধ্বনি হিসেবে উচ্চারিত হলে তাকে ঘোষীভবন বলে।
যেমন:
- কাক > কাগ,
- শাক > শাগ,
- শালা > হালা।

উল্লেখ্য,
এটি পরাগত সমীভবন বা স্বরসঙ্গতির উদাহরণ নয়। কারণ, সমীভবনে এক ধ্বনিতে রূপ লাভ করে। এগুলো বরং এক ধরনের ব্যঞ্জন বিকৃতি। যে কারণে অনেক গ্রন্থে আলাদা করে এগুলো দেওয়া নেই।

অন্যদিকে,
• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদানুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।
যেমন:
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা,
- মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

• সমীভবন:
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভকরে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন:
- জন্ম > জম্ম,
- কাদনা > কান্না ইত্যাদি।

• ক্ষীণায়ন:
শব্দ মধ্যস্থিত মহাপ্রাণ ধ্বনি অল্পপ্রাণ ধ্বনিতে পরিণত হলে তাকে ক্ষীণায়ন বলে।
যেমন,
কাঠ > কাট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৫১০.
কোনগুলো অঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ?
  1. ক, খ, গ
  2. চ, ছ, জ
  3. ত, থ, স
  4. প, ফ, ব
সঠিক উত্তর:
ত, থ, স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত, থ, স
ব্যাখ্যা
• ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘােষ ও অঘোষ।

• ঘােষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

• অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
৫,৫১১.
কোনটি বিসর্গ সন্ধি সাধিত শব্দ?
  1. ক) বাচস্পতি
  2. খ) বৃহস্পতি
  3. গ) গবাক্ষ
  4. ঘ) পরস্পর
সঠিক উত্তর:
ক) বাচস্পতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাচস্পতি
ব্যাখ্যা

বিসর্গসন্ধির নিয়মে পদের অন্তস্থিত র্‌ ও স্‌ অনেক ক্ষেত্রে অঘোষ উষ্মধ্বনি অর্থাৎ হ ধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয় এবং তা বিসর্গ(ঃ) রূপে লেখা হয়।
বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্‌ ও স্‌ এর সাথে স্বরধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।

বিসর্গ সন্ধি দুইভাবে সাধিত হয়।
- বিসর্গ + স্বর
- বিসর্গ + ব্যঞ্জন।

যেমন,
বাচস্পতি= বাচঃ + পতি,
অহর্নিশ= অহঃ + নিশা বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরন, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৫১২.
'ঢাকেশ্বরী' শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ঢাক + ঈশ্বরী
  2. ঢাকে + ঈশ্বরী
  3. ঢাকা + ঈশ্বরী
  4. ঢাকা + ঈশ্বরি
সঠিক উত্তর:
ঢাকা + ঈশ্বরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা + ঈশ্বরী
ব্যাখ্যা

• স্বরসন্ধির নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
- অ + ই = এ; শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা। 
- আ + ই = এ; যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট।
- অ + ঈ = এ; পরম + ঈশ = পরমেশ।
- আ + ঈ = এ; মহা + ঈশ = মহেশ।
 
আবার, 
- ঢাকা + ঈশ্বরী = ঢাকেশ্বরী।  

এরূপ- ঢাকেশ্বরী, পূর্ণেন্দু, শ্রবণেন্দ্রিয়, সেচ্ছা, রমেশ, নরেন্দ্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

৫,৫১৩.
'ঈ + ঈ = ঈ' এই নিয়মে গঠিত সন্ধি সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. সতীশ
  2. সতীন্দ্র
  3. পরীক্ষা
  4. অতীন্দ্রিয়
সঠিক উত্তর:
সতীশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সতীশ
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম: 
- ই-কার বা ঈ-কারের পর ই-কার বা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়। দীর্ঘ ঈ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
 
যেমন-
- ই + ই = ঈ; অতি + ইন্দ্রিয় = অতীন্দ্রিয়, 
- ই + ঈ = ঈ; পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা,
- ঈ + ই = ঈ; সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র,
- ঈ + ঈ = ঈ; সতী + ঈশ = সতীশ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫১৪.
উচ্চারণের স্থান অনুসারে দন্তমূলীয় ধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• দন্তমূলীয় ধ্বনি:
জিভের ডগা ওপরের পাটি দাঁতের মূলকে স্পর্শ করে বাতাসের নির্গম-পথে বাধা সৃষ্টি করলে দন্তমূলীয় ধ্বনিগুলো উচ্চারিত হয়। যেমন- ন, র, ল দন্তমূলীয় ধ্বনি।
এরূপ- মান, বার, প্রাল। দন্ত্য-ন ধ্বনি উচ্চারণে কোনোক্রমেই দাঁতের স্পর্শ নেই। 'কান' শব্দ উচ্চারণ করলেই তা বুঝতে পারি।

অন্যদিকে, 
• ওষ্ঠ্য ধ্বনি:
যে ধ্বনির উচ্চারণে দুটি ঠোঁট পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বাতাসের নির্গম-পথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে ওষ্ঠ্য ধ্বনি বলা হয়।
যেমন- প, ফ, ব, ভ, ম হলো ওষ্ঠ্য ধ্বনি। যেমন- তাপ, লাফ, ডাব, সভা, নাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৫১৫.
উচ্চারণের সময়ে জিভ এর উচ্চতা অনুযায়ী 'আ' এর অবস্থান-
  1. ক) উচ্চ স্বরধ্বনি
  2. খ) উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি
  3. গ) নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি
  4. ঘ) নিম্ন স্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিম্ন স্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিম্ন স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]। 

- উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে;
- নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৫,৫১৬.
'পশ্বধম' শব্দের প্রমিত উচ্চারণ হলো -
  1. পশ্‌শোধম্‌
  2. পোশ্‌শোধম্‌
  3. পোশ্‌শধম্‌
  4. পশ্‌শধম্‌
  5. কোনটিই নয়।
সঠিক উত্তর:
পোশ্‌শোধম্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোশ্‌শোধম্‌
ব্যাখ্যা
'পশ্বধম' শব্দের প্রমিত উচ্চারণ হলো পোশ্‌শোধম্‌ 
পশ্বধম (বিশেষ্য)
অর্থ:
পশুর চেয়েও অধম।

{(তৎসম বা সংস্কৃত) পশু+অধম}

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
৫,৫১৭.
'ততোধিক' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ হলো-
  1. তত + ধিক
  2. তত + অধিক
  3. ততঃ + অধিক
  4. ততঃ + ধিক
সঠিক উত্তর:
ততঃ + অধিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ততঃ + অধিক
ব্যাখ্যা
‘ততোধিক' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ- ততঃ + অধিক। 
- ‘ততোধিক’ হলো বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।
 
• সন্ধির নিয়ম:
পুর্বপদের শেষে যদি অঃ (=অস্‌) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি বর্গের ৩য়, ৪র্থ বা ৫ম বর্ণের ধ্বনি (গ/ঘ, জ/ঝ, ড/ঢ, দ/ধ/ন, ব/ভ/ম) থাকে কিংবা অন্তঃস্থ বর্ণ (য/র্‌/ল্‌) অথবা হ থাকে তবে সন্ধির ফলে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও- ধ্বনি হয় এবং পূর্ব বর্ণে যুক্ত হয়।
- অ- ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গের পর অ ধ্বনি থাকলে ( অ+ঃ +অ) এ তিনে মিলে ও কার হয়।
যেমন:
ততঃ + অধিক= ততোধিক। 
-------------------
• কয়েকটি বিসর্গ সন্ধি: 
তিরঃ + ধান = তিরোধান,
মনঃ + রম = মনোরম,
মনঃ + যোগ = মনোযোগ,
মনঃ + তাপ = মনস্তাপ
তপঃ + বন = তপোবন ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫১৮.
'শংকা' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) শং + কা
  2. খ) শম্ + কা
  3. গ) স্ম+ কা
  4. ঘ) সং + কা
সঠিক উত্তর:
খ) শম্ + কা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শম্ + কা
ব্যাখ্যা
• 'শংকা' এর সন্ধি বিচ্ছেদ: 'শম্ + কা'। 
- এটি একটি ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ।

• 'শংকা' শব্দের সন্ধির নিয়ম:  
- ম্‌ এর পর যে কোন বর্গীয় ধ্বনি থাকলে ম্‌ ধ্বনি টি সেই বর্গের নাসক্য ধ্বনি হয়। 
যেমন- 
শম্‌+কা = শঙ্কা, 
সম্‌+চয় = সঞ্চয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫১৯.
'গাছুয়া > গাউছা > গেছো' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. সম্প্রকর্ষ
  2. অসমীকরণ
  3. অপিনিহিতি
  4. অভিশ্রুতি
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
ব্যাখ্যা
• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন:
করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে 'কইরিয়া' কিংবা বিপর্যয়ের ফলে 'কইরা' থেকে অভিশ্রুতিজাত 'করে'।
এরূপ-
- করিয়া > কইর‌্যা > করে;
- দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে;
- গাছুয়া > গাউছা > গেছো;
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো ইত্যাদি।

---------------
• অসমীকরণ:
একই স্বরধ্বনির পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন -
- টপ + টপ > টপাটপ,
- ধপ + ধপ > ধপাধপ,
- ফট + ফট > ফটাফট ইত্যাদি।

• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন:
ক. আদি স্বরলোপ: অলাবু > লাবু > লাউ।
খ. মধ্যস্বর লোপ: অগুরু > অগ্রু; সুবর্ণ > স্বর্ণ।
গ. অন্ত্যস্বলোপ: আজি > আজ; চারি > চার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫২০.
বাংলা ব্যাকরণে সংখ্যা নির্দেশ করার জন্য যেসব বর্ণ ব্যবহার করা হয়, সেগুলোকে কী বলে?
  1. ক) কারবর্ণ
  2. খ) অনুবর্ণ
  3. গ) সংখ্যাবর্ণ
  4. ঘ) যুক্তবর্ণ
সঠিক উত্তর:
গ) সংখ্যাবর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সংখ্যাবর্ণ
ব্যাখ্যা
• বাংলা ব্যাকরণের সংখ্যা নির্দেশ করার জন্য যেসব বর্ণ ব্যবহার করা হয় তাদেরকে সংখ্যাবর্ণ বলে।
- বাংলা ব্যাকরণে ১০ টি সংখ্যা বর্ণ রয়েছে।

ব্যঞ্জনবর্নের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ন।
অনুবর্নের মধ্যে রয়েছে - ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে কারবর্ণ বলে।
- বাংলা ব্যাকরণে কারবর্ণ ১০টি।

একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
যুক্তবর্ণ দুই ধরনের, 
- স্বচ্ছ,
- অস্বচ্ছ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৫২১.
"লাউ" শব্দের '[উ্‌]' কোন প্রকার স্বরধ্বনি?
  1. দ্বিস্বরধ্বনি
  2. অর্ধস্বরধ্বনি
  3. পূর্ণ স্বরধ্বনি
  4. ঊর্ধ্বস্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
অর্ধস্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধস্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা

দ্বিস্বরধ্বনি:
- পূর্ণস্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
যেমন - লাউ শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্‌] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
[আই্‌]: তাই, নাই।
[এই্‌]: সেই, নেই।
[আও্‌]: যাও, দাও। 
[আএ্‌]: খায়, যায়। 

• বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে, যথা: ঐ এবং ঔ। ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [ই্]। একইভাবে ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [উ্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৫,৫২২.
কোন বর্গীয় ধ্বনির আগে দন্ত্য ন সহযোগে যুক্তবর্ণ তৈরি হলে দন্ত্য ন সাধারণত মূর্ধন্য ণ-এ রূপান্তরিত হয়?
  1. ক-বর্গীয়
  2. ট-বর্গীয়
  3. চ-বর্গীয়
  4. প-বর্গীয়
সঠিক উত্তর:
ট-বর্গীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট-বর্গীয়
ব্যাখ্যা

ট-বর্গীয় (ট, ঠ, ড, ঢ) ধ্বনির আগে থাকা ন → ণ হয়।
------------------------------ 
• ণ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ব্যাকরণের ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী, ট-বর্গীয় ধ্বনির (ট, ঠ, ড, ঢ) পূর্বে যদি দন্ত্য ন ধ্বনি থাকে এবং ওই দন্ত্য ন সহযোগে যদি যুক্তবর্ণ তৈরি হয় তা হলে তা সর্বদা মূর্ধন্য ণ-এ রূপান্তরিত হয়।
- এটি মূলত তৎসম (সংস্কৃতমূল) শব্দে প্রযোজ্য।
- উচ্চারণকে সহজ ও স্পষ্ট করার জন্য এই নিয়ম প্রয়োগ করা হয়।
- উদাহরণস্বরূপ, বণ্টন, লুণ্ঠন, খণ্ড, কণ্টক, পাণ্ডব, ভণ্ডামি ইত্যাদি শব্দে ‘ন’ এর পরিবর্তে ‘ণ’ ব্যবহৃত হয়েছে। 
-------------------- 
উল্লেখ্য,
- বিদেশি শব্দে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
- যেমন কান্ট, ট্রানজিট, পেন্ডুলাম ইত্যাদি বিদেশি শব্দে ট-বর্গের আগে দন্ত্য ন বসেছে। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৫,৫২৩.
'পাকা > পাক্কা' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. সমীভবন
  2. ব্যঞ্জনদ্বিত্ব
  3. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  4. বিষমীভবন
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জনদ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জনদ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব:
 কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- পাকা > পাক্কা,
- সকাল > সক্কাল,

অন্যদিকে,
-------------------
• সমীভবন:
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভকরে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন:
- জন্ম > জন্ম।

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন:
- কবাট > কপাট।

• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল ইত্যাদি।
৫,৫২৪.
'আটমেসে ˃ আটাসে' - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. সম্প্রকর্ষ
  2. অভিশ্রতি
  3. স্বরলোপ
  4. ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ: 
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো  স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।

যেমন:
- আটমেসে ˃ আটাসে,
- কুটুম্ব ˃ কুটুম,
- জানালা ˃ জান্লা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৫২৫.
’পিশাচ > পিচাশ’ শব্দে কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে? 
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. বিষমীভবন
  3. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন: ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাস্ক, জাপানি রিক্সা বাংলা > রিস্কা ইত্যাদি
অনুরূপ-  পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।

অন্যদিকে, 
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন- কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জনচ্যুতি: 
শব্দের শেষে পাশাপাশি সমউচ্চরণ সম্পন্ন দুটো ব্যঞ্জনধ্বনি থেকে একটি লোপ পাওয়াকে ব্যঞ্জনচ্যুতি বা ধ্বনিচ্যুতি বলে।
যেমন- বড়দিদি > বড়দি, বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

• বিষমীভবন:
দুটি সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলা হয়।
যেমন: শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৫২৬.
স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণ আছে যথাক্রমে-
  1. ৬ টি ও ৪ টি
  2. ১ টি ও ৭ টি
  3. ৪ টি ও ৬ টি
  4. ৬ টি ও ৭ টি
সঠিক উত্তর:
৪ টি ও ৬ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ টি ও ৬ টি
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনবর্ণের ৩৯টি বর্ণের মধ্যে ২৬টি পূর্ণমাত্রার, ৭টি অর্ধমাত্রার এবং ৬টি মাত্রাহীন বর্ণ রয়েছে।
বাংলা স্বরবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণ ৪টি; পূর্ণমাত্রার বর্ণ ৬টি; অর্ধমাত্রার বর্ণ ১টি।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
৫,৫২৭.
'কুমড়া > কুমড়ো' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. প্রগত বিষমীভবন 
  2. পরাগত স্বরসঙ্গতি
  3. প্রগত স্বরসঙ্গতি
  4. মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
সঠিক উত্তর:
প্রগত স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রগত স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা

• স্বরসঙ্গতি:
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন: 
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

প্রগত:
- আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- মুলা > মুলো,
- শিকা > শিকে,
- তুলা > তুলো, 
- কুমড়া > কুমড়ো।

পরাগত:
- অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- আখো > আখুয়া > এখো,
- দেশি > দিশি।

মধ্যগত:
- আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- বিলাতি > বিলিতি,
- জিলাপি > জিলিপি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫,৫২৮.
'শৃগাল' - শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. স্রিগাল্‌
  2. সৃগাল্‌
  3. স্রিগাঁল্‌
  4. সৃগাঁল্‌
সঠিক উত্তর:
সৃগাল্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৃগাল্‌
ব্যাখ্যা

শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

উদাহরণ:
- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্‌], শৃগাল [সৃগাল্‌]
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্‌নো]।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।

৫,৫২৯.
'কৃদন্ত' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. কৃৎ + অন্ত
  2. কৃ + দন্ত
  3. কৃঃ +অন্ত
  4. ক্রী + অন্ত
সঠিক উত্তর:
কৃৎ + অন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃৎ + অন্ত
ব্যাখ্যা
'কৃদন্ত' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ - কৃৎ + অন্ত 

• সূত্র:

• ক, চ, ট, ত্, প্-এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্, জ্, ড্ (ড়), দ্, ব্ হয়।
- পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত,
- ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত,
- ষট্ + আনন = ষড়ানন,
- তৎ + অবধি = তদবধি,
- সুপ্ + অন্ত = সুবন্ত।
এরূপ- বাগীশ, তদন্ত, বাগাড়ম্বর, কৃদন্ত, সদানন্দ, সদুপায়, সদুপদেশ, জগদিন্দ্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সংস্করণ)।
৫,৫৩০.
'করিয়া > কইর‍্যা > করে' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. অভিশ্রুতি
  2. ব্যঞ্জনদ্বিত্বা
  3. স্বরলোপ
  4. অন্তর্হতি
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
ব্যাখ্যা
অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি। 
যেমন:
- করিয়া > কইর‌্যা > করে;
- দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে;
- গাছুয়া > গাউছা > গেছো;  
- মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
দ্বিত্ব ব্যাঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা:
- কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দুই বার উচ্চারণ হয়, একে বলে দ্বিত্ব ব্যাঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা।
যেমন:
- পাকা > পাক্কা;
- সকাল > সক্কাল ইত্যাদি।

স্বরলোপ বা সম্প্রকর্ষ:
- দ্রুত উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের শুরুতে বা মাঝে বা শেষে স্বরধ্বনি লোপ ঘটলে তাকে স্বরলোপ বা সম্প্রকর্ষ 

অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে।
যেমন:
- ফাল্গুন > ফাগুন,
- ফলাহার > ফলার,
- আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২)ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৫৩১.
'এ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. খেলা 
  2. একটি 
  3. বেলা
  4. একটা 
সঠিক উত্তর:
একটি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি 
ব্যাখ্যা

• 'এ' বর্ণের উচ্চারণ:
এ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [এ] সংবৃত এবং [অ্যা] বিবৃত।

সাধারণ উচ্চারণ [এ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে এ কখনো কখনো [অ্যা] উচ্চারিত হয়।
এ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: একটি [এক্‌টি], দেশ [দেশ্‌], এলো [এলো]।
• এ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ: একটা [অ্যাক্‌টা], বেলা [ব্যালা], খেলা [খ্যালা]।

--------------------
স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা,
- সংবৃত,
- অর্ধ-সংবৃত,
- অর্ধ-বিবৃত,
- বিবৃত। 

উল্লেখ্য,
- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ)।

৫,৫৩২.
'পতঞ্জলি' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. পৎ + অঞ্জলি
  2. পতৎ + অঞ্জলি
  3. পত + অঞ্জলি
  4. পতঃ + জলি
সঠিক উত্তর:
পতৎ + অঞ্জলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পতৎ + অঞ্জলি
ব্যাখ্যা
- 'পতঞ্জলি' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - পতৎ + অঞ্জলি।
- এটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যাঞ্জন সন্ধি।
- ব্যাকরণের সাধারণ বা বিশেষ কোনো নিয়মানুসারেই যখন কোনো কর্ম ব্যাখ্যা করা যায় না।
- অথচ তা সংঘটিত হয়, তখন সেই ব্যতিক্রমকে বৈধতা দেয়ার নাম নিপাতনে সিদ্ধ। 

• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যাঞ্জন সন্ধির উদাহরণ- 
- আশ্চর্য = আ + চর্য,
- ষোড়শ = ষট্‌ + দশ,
- পতঞ্জলি = পতৎ + অঞ্জলি,
- একাদশ = এক + দশ,
- বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি,
- গোষ্পদ = গো + পদ ,
- বনস্পতি = বন্‌ + পতি,
- পরস্পর = পর্‌ + পর ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫৩৩.
নাসিক্য বর্ণ কোনগুলো?
  1. জ, শ
  2. ঙ, ঞ
  3. প, ফ
  4. ত, থ
সঠিক উত্তর:
ঙ, ঞ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ, ঞ
ব্যাখ্যা
• নাসিক্য ধ্বনি:  
- ধ্বনির উচ্চারণে নাক ও মুখ দিয়ে কিংবা কেবল নাক দিয়ে ফুসফুস তাড়িত বাতাস বের হয় বলে এদের বলা হয় নাসিক্য ধ্বনি এবং প্রতীকি বর্ণগুলোকে বলা হয় নাসিক্য বর্ণ।
- যেমন: ঙ, ঞ, ণ, ন, ম।

অন্যদিকে, 
চ, ছ, জ, ঝ, শ- তালব্য বর্ণ,
প, ফ, ব, ভ, ম - ওষ্ঠ বর্ণ।
ত, থ, দ, ধ, ন - দন্ত্য বর্ণ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৫৩৪.
ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনিগুচ্ছ কোনটি?
  1. প, ফ, ভ 
  2. চ, ছ, ঝ 
  3. ক, ঘ, ঙ,
  4. গ, ন, ম
সঠিক উত্তর:
গ, ন, ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ, ন, ম
ব্যাখ্যা

• ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনিগুচ্ছ- গ, ন, ম। 

ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:

ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘোষ ও অঘোষ।
১. ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

২. অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৫,৫৩৫.
‘দই’ শব্দের মধ্যে কোন দুটি স্বরধ্বনি আছে?
  1. আ + ই্
  2. ও + ই্
  3. উ + ই্
  4. এ + ই্
সঠিক উত্তর:
ও + ই্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ও + ই্
ব্যাখ্যা
• একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি ‘ও’ এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি ‘ই্’ মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [দই] তৈরি হয়েছে।

------------------
• দ্বিস্বরধ্বনি:

পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়। যেমন 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বরি এবং [উ্] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [লাউ] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
[আই্]: তাই, নাই।
[এই্]: সেই, নেই।
[আও্]: যাও, দাও।
[আএ্]: খায়, যায়।
[উই্]: দুই, রুই।
[অএ্]: নয়, হয়।
[ওউ্]: মৌ, বউ।
[ওই্]: কৈ, দই।
[এউ্]: কেউ, ঘেউ।

বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে, যথা: ঐ এবং ঔ। ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [ই্]। একইভাবে ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পৃ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [উ্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৫৩৬.
সন্ধি বিচ্ছেদ করুনঃ ‘নিরবধি’।
  1. ক) নির + অবধি
  2. খ) নিরঃ + অবধি
  3. গ) নিঃ + অবধি
  4. ঘ) নির + বধি
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) নিঃ + অবধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিঃ + অবধি
ব্যাখ্যা
• নিঃ+অবধি = নিরবধি

অনুরূপ কিছু সন্ধি বিচ্ছেদ হলো:
- নিরাকার = নিঃ+আকার
- নিরাপদ = নিঃ+আপদ
- নিরাময় = নিঃ+আময়
- নিরাশা = নিঃ+আশা
- নিরীহ = নিঃ+ঈহ

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৫৩৭.
ণ-ত্ব বিধান অনুসারে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) প্রনাম
  2. খ) ভক্ষন
  3. গ) ভরণ
  4. ঘ) সাধারন
সঠিক উত্তর:
গ) ভরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভরণ
ব্যাখ্যা
ণ-ত্ব বিধান অনুসারে ভরণ শব্দটি সঠিক। কারণ, তৎসম শব্দে র-ফলা, রেফ, ক্ষ - এর পর 'ণ' ব্যবহৃত হয়। 

ণ-ত্ব বিধান: তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মকে ণত্ব বিধান বলে।

ণ-ত্ব বিধানের পাঁচটি নিয়মাবলী- 
১. ঋ, র, ষ—এই তিনটি বর্ণের পর তৎসম শব্দের দন্ত্য ‘ন’ মূধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: ঋণ, ঘৃণা, রণ, বর্ণ, ভূষণ ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ-এর পর স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, ষ, হ থাকলে তার পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: লক্ষণ, ভক্ষণ, রেণু, পাষাণ, নির্বাণ, দর্পণ, গ্রহণ ইত্যাদি।
৩. ট বর্গের পূর্বে দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: বণ্টন, লুণ্ঠন, খণ্ড ইত্যাদি।
৪. প্র, পরা, পরি, নির—এই চারটি উপসর্গের পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হবে। যেমন: প্রণাম, প্রমাণ, পরায়ণ, পরিণতি, নির্ণয় ইত্যাদি।
৫. ত, থ, দ, ধ-এর পূর্বে সংযুক্ত বর্ণে দন্ত্য ‘ন’ হয়, ‘ণ’ হয় না। যেমন: দৃষ্টান্ত, বৃন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন, বন্ধন ইত্যাদি। 

সূত্র: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ।
৫,৫৩৮.
'ক' বর্গের ধ্বনিসমূহের উচ্চারণ স্থান কোনটি?
  1. ক) জিহবামূল
  2. খ) অগ্রতালু
  3. গ) পশ্চাৎ দন্তমূল
  4. ঘ) অগ্রদন্তমূল
সঠিক উত্তর:
ক) জিহবামূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জিহবামূল
ব্যাখ্যা
ক, খ, গ, ঘ, ঙ এই বর্ণগুলােকে উচ্চারণ স্থানানুসারে বলে জিহ্বামূলীয় বর্ণ।
এদের উচ্চারণের স্থান হচ্ছে জিহ্বামূল। জিহ্বামূলীয় ধ্বনি জিভের গােড়ালি থেকে উচ্চারিত হয়।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ
৫,৫৩৯.
কোনটি স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ?
  1. ক্স
  2. ক্ম
  3. ণ্ঠ
  4. ঙ্গ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ণ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ণ্ঠ
ব্যাখ্যা
স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ণ্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ঋ, ণ্ঠ, ড, ন্স ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:  ক্ত (ক্+ত), ক্ম (ক্+ম), ক্ষ (ক্+ষ), ক্ষ্ম (ক্+ষ্+ম), ক্স (ক্+স), গু (গ্+উ), গ্ধ (গ্+ধ), ঙ্গ (ঙ্+গ) ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।
৫,৫৪০.
দ্বিস্বরধ্বনিযুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. কল
  2. নাই
  3. চাঁদ
  4. বল
সঠিক উত্তর:
নাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাই
ব্যাখ্যা

• "নাই" শব্দে [আ] পূর্ণ স্বরধ্বরি এবং [ই্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [নাই] তৈরি হয়েছে।

অন্যান্য অপশনগুলোর ব্যাখ্যা:
• কল : এখানে শুধু /অ/ স্বরধ্বনি রয়েছে, দ্বিস্বরধ্বনি নয়।
• চাঁদ: এখানে /আ/ (দীর্ঘ স্বর) রয়েছে, কিন্তু দ্বিস্বরধ্বনি নয়।
• বল: এখানে /অ/ স্বরধ্বনি রয়েছে, দ্বিস্বরধ্বনি নয়।

--------------------
• দ্বিস্বরধ্বনি:
- পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে দ্রুত উচ্চরণের সময় তা একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনি রূপে উচ্চারিত হয় যা দ্বিস্বর নামে পরিচিত।
-অর্থাৎ একসঙ্গে উচ্চারিত দুটো মিলিত স্বরধ্বনিকে যৌগিক স্বর বা দ্বি-স্বর বলা হয়। দ্বিস্বরে দুটি স্বর থাকে একটি পূর্ণ, আর একটি অপূর্ণ। বাংলায় পরের স্বরটিই সাধারণত অর্ধ হয়। বাংলা ভাষায় ২৫টি যৌগিক স্বরধ্বনি রয়েছে।
- বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরজ্ঞাপক দুটো বর্ণ রয়েছে ঐ এবং ঔ। অন্য যৌগিক স্বরের চিহ্ন স্বরূপ কোনো বর্ণ নেই।
উদাহরণ: কৈ, বৌ।

আবর,
• পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়। যেমন- 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বরি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [লাউ] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
[আই্‌]: তাই, নাই।
[এই্‌]: সেই, নেই।
[আও্‌]: যাও, দাও।
[আএ্‌]: খায়, যায়।
[উই্‌]: দুই, রুই।
[অএ্‌]: নয়, হয়।
[ওউ্‌]: মৌ, বউ।
[ওই্‌]: কৈ, দই।
[এউ্‌]: কেউ, ঘেউ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৫৪১.
'তপোবন' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. তপ + বন
  2. তপো + বন
  3. তপ্‌ + বন
  4. তপঃ + বন
সঠিক উত্তর:
তপঃ + বন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তপঃ + বন
ব্যাখ্যা
• 'তপোবন' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - তপঃ + বন।
এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ- 
 
কয়েকটি বিসর্গ সন্ধি-

• সন্ধির নিয়ম:
- অ-কারের পরস্থিত স্‌-জাত বিসর্গের পর ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি, নাসিক্য ধ্বনি কিংবা অন্তঃস্থ য, অন্তঃস্থ ব, র, ল, হ থাকলে অ-কার ও স্‌-জাত বিসর্গ স্থলে ও-কার হয়।
যথা - 
তিরঃ + ধান = তিরোধান,
মনঃ + রম = মনোরম,
মনঃ + যোগ = মনোযোগ,
মনঃ + তাপ = মনস্তাপ
মনঃ + হর = মনোহর ইত্যাদি।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং  ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৫৪২.
'গবেষণা' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. গবেশনা
  2. গবেশোনা
  3. গোবেশনা
  4. গোবেশোনা
সঠিক উত্তর:
গবেশনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গবেশনা
ব্যাখ্যা
• বানান: গবেষণা।
- সঠিক উচ্চারণ: গবেশনা
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: গবেষণ + আ (টাপ্‌)।
- অর্থ: তত্ত্বাদির বিশেষ অনুসন্ধান।

 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৫৪৩.
'হিতৈষী' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. হিত + ঋষি
  2. হিত + এষী
  3. হিতো + এষা
  4. হিতৈ + এষী
সঠিক উত্তর:
হিত + এষী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিত + এষী
ব্যাখ্যা

হিতৈষী' এর সঠিক  সন্ধি বিচ্ছেদ- হিত + এষী।
- এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।

• স্বরসন্ধির নিয়মানুসারে:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর এ-কার কিংবা ঐ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঐ-কার হয়; ঐ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয় যেমন-
- অ + এ = ঐ →  জন + এক = জনৈক।
- আ + এ = ঐ → সদা + এব  = সদৈব।
- অ + ঐ = ঐ → মত + ঐক্য = মতৈক্য।
- আ + ঐ = ঐ → মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য।
- এরূপ- হিতৈষী, সর্বৈব, অতুলৈশ্বর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫,৫৪৪.
বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে নিচের কোন বর্ণটি সবার আগে হবে?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ( ং) - সবার আগে বসবে।

• বাংলা অভিধানের বর্ণগুলোকে নিম্নোক্ত ক্রমে সাজাতে পারি:

অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ,
ং, ঃ, ঁ, 
ক, খ, গ, ঘ, ঙ,
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ,
ট, ঠ, ড,  ড়, ঢ, ঢ়, ণ,
ত, ৎ, থ, দ, ধ, ন,
প, ফ, ব, ভ, ম,
য, য়, র, ল,
শ, ষ, স, হ।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৫৪৫.
'আ' স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁটের উন্মুক্তি কেমন হয়?
  1. সংবৃত
  2. অর্ধ-সংবৃত
  3. বিবৃত
  4. অর্ধ-বিবৃত
সঠিক উত্তর:
বিবৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবৃত
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খােলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত [ই], [উ];
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ]।

উল্লেখ্য, 
- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে;
- বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট বেশি খােলে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২০ সংস্করণ)।
৫,৫৪৬.
নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি নয় কোনটি?
  1. শুদ্ধোদন
  2. প্রৌঢ় 
  3. বাগাড়ম্বর
  4. মার্তণ্ড
সঠিক উত্তর:
বাগাড়ম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাগাড়ম্বর
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম:
ক, চ, ট, ত, প থাকলে এবং তাদের পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ, জ, ড (ড়), দ, ব হয়। পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
ক্ + অ = গ + অ:
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত।

ক্ + আ = গ + আ:
- বাক্ + আড়ম্বর = বাগাড়ম্বর।

ক্ + ঈ = গ + ঈ:
- বাক্ + ঈশ = বাগীশ।

---------------------
• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি:

সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে। আবার কতগুলো সন্ধি কোনো নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ বলে। 

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
 কুল + অটা = কুলটা (কুলাটা নয়),
গো + অক্ষ = গবাক্ষ (গবক্ষ নয়),
 প্র + উঢ় = প্রৌঢ় (প্রোঢ় নয়),
অন্য + অন্য = অন্যান্য,
মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড,
শুদ্ধ ওদন = শুদ্ধোদন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৫৪৭.
ণত্ব বিধান বাংলা বানানে কোন শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. বিদেশি শব্দ
  2. দেশি শব্দ
  3. সংস্কৃত
  4. তদ্ভব শব্দ
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
ণত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য- ন-এর ব্যবহার আছে।
- তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণত্ব বিধান ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫৪৮.
দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির মুখ্য বাক্প্র‌ত্যঙ্গ কোনটি?
  1. ক) নিচের ঠোঁট
  2. খ) জিভের ডগা
  3. গ) দন্তমূল
  4. ঘ) উপরের পাটির দাঁত
সঠিক উত্তর:
খ) জিভের ডগা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জিভের ডগা
ব্যাখ্যা
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী বিভাজন:
- বাক্প্র‌ত্যঙ্গের ঠিক যে জায়গায় বায়ু বাধা পেয়ে ব্যঞ্জনধ্বনি সৃষ্টি করে সেই জায়গাটি হলো ঐ ব্যঞ্জনের উচ্চারণস্থান।
- উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা-
১. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
২. দন্ত্য ব্যঞ্জন,
৩. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন,
৪. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন,
৫. তালব্য ব্যঞ্জন,
৬. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
৭. কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন।
- ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে কোন বাক্প্রত্যঙ্গের অংশগ্রহণ মুখ্য এবং কোন বাপ্রত্যঙ্গের অংশগ্রহণ গৌণ, নিচের সারণিতে তা দেখানো হলো:


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
৫,৫৪৯.
স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ কোনটি?
  1. ফলাবর্ণ
  2. কারবর্ণ
  3. বর্ণসংক্ষেপ
  4. অনুবর্ণ
সঠিক উত্তর:
কারবর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারবর্ণ
ব্যাখ্যা

• কারবর্ণ:
- স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে 'কার' বলে। 
- স্বরবর্ণের মােট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে, এগুলাের নাম কারবর্ণ।
এগুলো হলো: [ া, ি, ী, ু, ূ, ৃ, ে, ৈ, ে-া, ৈ-া ]
- কারবর্ণের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই। এগুলাে ব্যঞ্জনবর্ণের আগে, পরে, উপরে, নিচে বা উভয় দিকে যুক্ত হয়।
- কোনাে ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হসৃচিহ্ন না থাকলে ব্যঞ্জনটির সঙ্গে একটি অ আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।
- 'অ' স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ নেই। 
- তাই 'অ' একটি নিলীন বর্ণ। 

অন্যদিকে
• অনুবর্ণ: ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ। অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

• ফলা: ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলোকে ফলা বলে। বাংলা বর্ণমালায় ফলা বর্ণ ৬টি।
যেমন:
- ন-ফলা,
- ব-ফলা,
- ম-ফলা,
- য-ফলা,
- র- ফলা,
- ল-ফলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫,৫৫০.
'পুনরুক্ত' এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পুনর্‌ + উক্ত
  2. পুন্‌ + রুক্ত
  3. পুনঃ + উক্ত
  4. পুনঃ + রুক্ত
সঠিক উত্তর:
পুনঃ + উক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনঃ + উক্ত
ব্যাখ্যা
• 'পুনরুক্ত' এর সন্ধি বিচ্ছেদ- 'পুনঃ + উক্ত'। 

• 'পুনরুক্ত' শব্দটির সন্ধির নিয়ম:
অ- কারের পরস্থিত র্‌-জাত বিসর্গের পর উপর্যুক্ত ধ্বনিসমূহের কোনটি থাকলে বিসর্গ স্থানে 'র' হয়।
যেমন:
- অন্তঃ + গত= অন্তর্গত,
- অহঃ + অহ= অহরহ,
- পুনঃ + উক্ত= পুনরুক্ত ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫৫১.
‘উদ্যোগ’ -এর সন্ধি বিচ্ছেদ-
  1. উদ + যোগ
  2. উৎ + যোগ
  3. উদ + যুদ
  4. ঊৎ + যোগ
সঠিক উত্তর:
উৎ + যোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎ + যোগ
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন ধ্বনিসমূহের যে কোনো বর্গের অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনির পর যে কোনো বর্গের ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ তালব্য ধ্বনি, (য > জ), ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ ধ্বনি (ব), ঘোষ কম্পনজাত দন্তমূলীয় ধ্বনি (র) কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি (ব) থাকলে প্রথম অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি ঘোষ অল্পপ্রাণরূপে উচ্চারিত হয়।
যথা:
-বাক্ + দান = বাগদান।
- ষট্ + যন্ত্র = ষড়যন্ত্ৰ৷
- উৎ + ঘাটন = উদ্ঘাটন।
- উৎ + যোগ = উদ্যোগ।
- উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন।
- তৎ + রূপ = তদ্রুপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫৫২.
"লাফ > ফাল" কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. ধ্বনি বিপর্যয়
  3. অন্তর্হতি
  4. অভিশ্রুতি 
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। এতে দুটি বর্ণের মধ্যে জায়গা পরিবর্তন হয়।
যেমন:
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল,
- বাক্স > বাস্ক,
- রিক্সা > রিস্কা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫,৫৫৩.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি? 
  1. আ + চর্য = আশ্চর্য
  2. পর + পর = পরস্পর 
  3. গো + পদ = গোষ্পদ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ হলো:
- বন + পতি = বনস্পতি,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- পর + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক+ দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫৫৪.
নিচের কোনটিতে বিসর্গ ‘ও’ হয়ে গেছে?
  1. ক) নীরোগ
  2. খ) আরোগ্য
  3. গ) তিরোধান
  4. ঘ) ভৌগোলিক
সঠিক উত্তর:
গ) তিরোধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তিরোধান
ব্যাখ্যা
• বিসর্গসন্ধি: 
- বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। 
যেমন - 

১. বিসর্গ বিদ্যমান থাকে। 
যেমন - মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃ + পতন = অধঃপতন, বয়ঃ + সন্ধি = বয়ঃসন্ধি। 

২. বিসর্গ ‘ও’ হয়ে যায়। 
যেমন - মনঃ + যোগ = মনোযোগ, তিরঃ + ধান = তিরোধান, তপঃ + বন = তপোবন। 

৩. বিসর্গ ‘র্’ হয়ে যায়। 
যেমন - নিঃ + আকার = নিরাকার, পুনঃ + মিলন = পুনর্মিলন, আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ। 

৪. বিসর্গ শ/ষ/স্ হয়। 
যেমন - নিঃ + চয় = নিশ্চয়, দুঃ + কর = দুষ্কর, পুরঃ + কার = পুরস্কার। 

৫. কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়। 
যেমন - নিঃ + রব = নীরব, নিঃ + রস = নীরস, নিঃ + রোগ = নীরোগ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৫৫৫.
নিচের কোনটি অনুবর্ণের অন্তর্ভুক্ত?
  1. বর্ণসংক্ষেপ
  2. রেফ
  3. ফলা
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
অনুবর্ণ:
- ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ। অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

ফলা:
- ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলােকে ফলা বলে।
যেমন:
- ন-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা, য-ফলা, র ফলা, ল-ফলা।

রেফ:
- র-এর একটি অনুবর্ণ রেফ।

বর্ণসংক্ষেপ:
- যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়ােজন হয়। এগুলাে বর্ণসংক্ষেপ।
যেমন:
- ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৫৫৬.
নিচের কোন সন্ধিবিচ্ছেদটি শুদ্ধ?
  1. গো + অক্ষ = গবাক্ষ
  2. গো + অক্ষ = গবক্ষ
  3. গোঃ + অক্ষ = গবোক্ষ
  4. গোঃ + অক্ষ = গবাক্ষ
সঠিক উত্তর:
গো + অক্ষ = গবাক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গো + অক্ষ = গবাক্ষ
ব্যাখ্যা

• গো + অক্ষ = গবাক্ষ; সন্ধিবিচ্ছেদটি সঠিক।

কতগুলো সন্ধি কোনো নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ বলে।
যথা:
- কুল + অটা = কুলটা (কুলাটা নয়),
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ (গবক্ষ নয়),
- প্র + উঢ় = প্রৌঢ় (প্রোঢ় নয়),
- অন্য + অন্য = অন্যান্য,
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড,
- শুদ্ধ  + ওদন = শুদ্ধোদন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫,৫৫৭.
বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণ মাত্রার স্বরবর্ণ কতটি?
  1. ৩২টি
  2. ১০ টি
  3. ৬টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬টি
ব্যাখ্যা

পূর্ণমাত্রার বর্ণ:
- বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণ মাত্রার বর্ণ ৩২টি।
- এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি।
- ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।

উল্লেখ্য,
- উপযুক্ত বর্ণসমূহকে মাত্রার উপর ভিত্তি করে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ১০ টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৫৫৮.
নিচের কোনটি দ্বিস্বরধ্বনি যুক্ত শব্দ?
  1. সারথি
  2. ঘটক 
  3. তীক্ষ্ণ 
  4. বউ
সঠিক উত্তর:
বউ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বউ
ব্যাখ্যা

• বউ: ব + ঔ; এখানে ঔ = ও + উ; সুতরাং বউ শব্দে দ্বিস্বরধ্বনি আছে। 

• 'বউ' শব্দের [ও] পূর্ণ স্বরধ্বরি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [বউ] তৈরি হয়েছে।

এখন অপশনগুলো দেখি:
ক) সারথি- (সা-র-থি) কোনো দ্বিস্বর নেই। 
খ) ঘটক- (ঘ-ট-ক) কোনো দ্বিস্বর নেই
গ) তীক্ষ্ণ- (তী-ক্ষ্ণ) দীর্ঘ ঈ আছে, কিন্তু দ্বিস্বর নেই। 

---------------
• দ্বিস্বরধ্বনি:
পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে দ্রুত উচ্চরণের সময় তা একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনি রূপে উচ্চারিত হয় যা দ্বিস্বর নামে পরিচিত। অর্থাৎ একসঙ্গে উচ্চারিত দুটো মিলিত স্বরধ্বনিকে যৌগিক স্বর বা দ্বি-স্বর বলা হয়। দ্বিস্বরে দুটি স্বর থাকে একটি পূর্ণ, আর একটি অপূর্ণ।

- বাংলায় পরের স্বরটিই সাধারণত অর্ধ হয়। বাংলা ভাষায় ২৫টি যৌগিক স্বরধ্বনি রয়েছে।
- বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরজ্ঞাপক দুটো বর্ণ রয়েছে: ঐ এবং ঔ।

- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়। যেমন-  'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বরি এবং [উ] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [লাউ] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
[আই্‌]: তাই, নাই।
[এই্‌]: সেই, নেই।
[আও্‌]: যাও, দাও।
[আএ্‌]: খায়, যায়।
[উই্‌]: দুই, রুই।
[অএ্‌]: নয়, হয়।
[ওউ্‌]: মৌ, বউ।
[ওই্‌]: কৈ, দই।
[এউ্‌]: কেউ, ঘেউ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২১২১-সংস্করণ)। 

৫,৫৫৯.
'দেবর্ষি' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) দে + ঋষি
  2. খ) দেব + আর্ষি
  3. গ) দেব + ঋষি
  4. ঘ) দে + আর্ষি
সঠিক উত্তর:
গ) দেব + ঋষি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দেব + ঋষি
ব্যাখ্যা
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ঋ-কার থাকলে উভয়ে মিলে 'অর' হয় এবং তা রেফ রূপে পরবর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন-
দেব + ঋষি = দেবর্ষি,
রাজা + ঋষি = রাজর্ষি,
মহা + ঋষি = মহর্ষি,
উত্তম + ঋণ = উত্তমর্ণ,
অধম + ঋণ = অধমর্ণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫৬০.
"পিশাচ > পিচাশ" - কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. ধ্বনি বিপর্যয়
  3. অন্তর্হতি
  4. বিষমীভবন
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। এতে দুটি বর্ণের মধ্যে জায়গা পরিবর্তন হয়।
যেমন:
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল,
- বাক্স > বাস্ক,
- রিক্সা > রিস্কা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫,৫৬১.
অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. ক) আপন
  2. খ) আপণ
  3. গ) নিক্কণ
  4. ঘ) কোনা
সঠিক উত্তর:
গ) নিক্কণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নিক্কণ
ব্যাখ্যা

কোণ = সংস্কৃত, তাই ণ হয়েছে।
কোনা = তদ্ভব, নাই ন হবে।
নিক্বণ বানানে ক্ব হবে, ক্ক হবে না।

উৎস : বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।

৫,৫৬২.
'দেবালয়' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. দেব + লয়
  2. দেবা + লয়
  3. দেব + আলয়
  4. দেবা + আলয়
সঠিক উত্তর:
দেব + আলয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেব + আলয়
ব্যাখ্যা
স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনের নাম স্বরসন্ধি।

• অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন -
- অ + অ = আ ⇒ নর + অধম = নরাধম।
এরূপ - হিমাচল, প্রাণাধিক, হস্তান্তর, হিতাহিত ইত্যাদি।
- অ + আ = আ ⇒ দেব + আলয় = দেবালয়
এরূপ - হিমালয়, রত্নাকর, সিংহাসন ইত্যাদি।
- আ + অ = আ ⇒ যথা + অর্থ = যথার্থ।
এরূপ - আশাতীত, কথামৃত, মহার্ঘ ইত্যাদি।
- আ + আ = আ ⇒ বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়।
এরূপ - কারাগার, মহাশয়, সদানন্দ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫৬৩.
নিচের কোনগুলো অঘোষ ধ্বনি?
  1. ক) ক, খ, চ, ছ
  2. খ) ক, খ, জ, ঝ
  3. গ) গ, ঘ, জ, ঝ
  4. ঘ) ক, খ, জ, ঝ
সঠিক উত্তর:
ক) ক, খ, চ, ছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ক, খ, চ, ছ
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণ বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনিগুলোকে প্রথমত দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
১. অঘোষ: যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না, তাকে বলা হয় অঘোষ ধ্বনি।
যেমন- ক, খ, চ, ছ ইত্যাদি ।
২. ঘোষ: যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয়, তাকে বলে ঘোষ ধ্বনি। যেমন—গ, ঘ, জ, ঝ ইত্যাদি ।

• উচ্চারণের সময় বাতাসের প্রবাহ অনুযায়ী স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনিগুলোকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
ক. অল্পপ্রাণ: যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের স্বল্পতা থাকে, তাকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি। যেমন-ক, গ, চ, জ ইত্যাদি ।
খ. মহাপ্রাণ: যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের আধিক্য থাকে, তাকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি। যেমন-খ, ঘ, ছ, ঝ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫৬৪.
‘তন্মধ্যে’ কোন নিয়মে গঠিত সন্ধির উদাহণ?
  1. স্বর + ব্যঞ্জন
  2. স্বর + স্বর
  3. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
  4. ব্যঞ্জন + স্বর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

সাধারণত ব্যঞ্জনসন্ধি  তিন নিয়মে হয়: 
১. স্বর + ব্যঞ্জন;
২. ব্যঞ্জন + স্বর;
৩. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন।

• স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরধ্বনির পর ‘ছ’ থাকলে তা দ্বিত্ব হয়, অর্থাৎ ‘ছ’-র বদলে ‘চ্ছ’ হয়।
যেমন:
- পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।
- বি + ছেদ = বিচ্ছেদ।
- বি + ছিন্ন = বিচ্ছিন্ন।

• ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি:
- ক/চ/ট/ত/প+স্বর = গ/জ/ড(ড়)/দ/ব। 
যেমন:
- দিক্‌ + অন্ত = দিগন্ত;
- সৎ + উপায় = সদুপায়।

[স্বরধ্বনিগুলাে ঘােষবৎ হয়। এখানে ঘােষবৎ স্বরধ্বনির (ক, চ, ট, ত, প) প্রভাবে পূর্ববর্তী অঘােষ ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে ঘােষধ্বনিতে (গ, জ, ড, দ, ব) পরিণত হয়।]

• ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে। যেমন:
• চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র;  
• বিপদ্ + জনক = বিপজ্জনক;
• বাক্ + দান = বাগ্দান;
• তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৫,৫৬৫.
"প্রেষণ" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্র + এষণ
  2. পৈ + এষণ
  3. প্রো + এষণ
  4. পৌ + এষণ
সঠিক উত্তর:
প্র + এষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্র + এষণ
ব্যাখ্যা

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
 
যেমন:
- সার + অঙ্গ = সারঙ্গ,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর ইত্যাদি।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৫৬৬.
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে কী বলে?
  1. অভিশ্রুতি
  2. সমীভবন
  3. অপিনিহিতি
  4. বিষমীভবন
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
• অপিনিহিতি (Apenthesis):
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।

যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া » রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য,
- সত্য > সইত্য,
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

• অন্যদিকে: 
• অভিশ্রুতি (Umlaut):
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
- যেমন: করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া’ কিবা বিপর্যয়ের ফলে ‘কইরা’ থেকে অভিশ্রুতিজাত করে।
- এরূপ – শুনিয়া > শুনে, বলিয়া > বলে, হাটুয়া > হাউটা > হেটো, মাছুয়া > মেছাে ইত্যাদি।

• সমীভবন (Assimilation):
- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন- জন্ম > জম্ম।

• বিষমীভবন (Dissimilation):
- দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন – শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম, (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫৬৭.
দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামে পরিচিত -
  1. ক) ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  2. খ) দন্ত্য ব্যঞ্জন
  3. গ) মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
  4. ঘ) তালব্য ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
ক) ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন: যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৫৬৮.
কোন শব্দে মূর্ধন্য-ণ এর ব্যবহার অশুদ্ধ?
  1. পরায়ণ
  2. পরণিন্দা
  3. ঘৃণা
  4. তর্পণ
সঠিক উত্তর:
পরণিন্দা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরণিন্দা
ব্যাখ্যা
• মূর্ধন্য-ণ এর ব্যাবহার অশুদ্ধ- পরণিন্দা। 

• ণ-ত্ব বিধান:

- যে রীতি অনুসারে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে ‘ন’ (দন্ত্য-ন) স্থানে ‘ণ’ (মূর্ধন্য-ণ) ব্যবহৃত হয়, তাকে ণ-ত্ববিধান বলে।
অর্থাৎ, তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
যেমন- ঋণ, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ ইত্যাদি।
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন -এর ব্যবহার আছে, তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।

• ণ-ত্ব-বিধানের নিয়ম:
১. ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, ঘৃণা, অরণ্য, বর্ণ, চূর্ণ, পাষাণ, কৃষাণ ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে সংযুক্ত আকারে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য ‘ণ’ যুক্ত হয়। যেমন-কণ্টক, ঘণ্টান, অকুণ্ঠ, কাণ্ড, খণ্ড ইত্যাদি।

৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য় ব হ ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।
যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তারপরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প্ + অ + ণ্), লক্ষণ (ক্ + ষ্ + অ + ন্)। এরূপ- তর্পণ, বর্ষণ, সমর্পণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

৪. পরি, প্র, নির-এ তিনটি উপসর্গের পর ণ-ত্ব বিধি অনুসারে ন-ধ্বনি লিখতে মূর্ধন্য ণ হয়। যেমন- পরিণত, পরিবহণ, প্রমাণ, প্রবণ, পরিণয়, প্রণত। ব্যতিক্রম: পরিনির্বাণ, নির্নিমেষ, প্রনষ্ট, পরিবহন বানানও শুদ্ধ।

৫. উত্তর, পর, পার, রবীন্দ্র, চন্দ্র, নার শব্দের পরে ‘অয়ন’/‘আয়ন’ প্রত্যয় হলে দন্ত্য ন পাল্টে মূর্ধন্য ণ হয়।
যেমন- উত্তর + অয়ন = উত্তরায়ণ, পর + অয়ন = পরায়ণ, রবীন্দ্র + অয়ন = রবীন্দ্রায়ণ, চন্দ্র + অয়ন = চন্দ্রায়ণ, নর + অয়ন = নারায়ণ ইত্যাদি।

• ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
• সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না, এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন' হয়।
যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।

• ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না, ন হয়।
যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি।

• বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ণ লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৬৯.
কোনটি মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্‌প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব,
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ,, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৫,৫৭০.
কোন যুক্তবর্ণের গঠনটি অশুদ্ধ?
  1. ণ্‌ + ড = ণ্ড
  2. ত্‌ + ত্‌ + উ = ক্ত
  3. জ্‌ + ঞ = জ্ঞ
  4. ষ্‌ + ণ = ষ্ণ
সঠিক উত্তর:
ত্‌ + ত্‌ + উ = ক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্‌ + ত্‌ + উ = ক্ত
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ যুক্তবর্ণ- ত্‌ + ত্‌ + উ = ক্ত। 

• শুদ্ধরূপ- ক্‌ + ত = ক্ত। 

এরূপ কিছু যুক্তবর্ণ হলো-
- ণ্ড = (ণ্‌ + ড), 
- গু = (গ্‌ + উ),
- গ্ধ = (গ্‌ + ধ),
- জ্ঞ = (জ্‌ + ঞ),
- ঞ্জ = (ঞ্‌ + জ),
- ষ্ণ = (ষ্‌ + ণ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।
৫,৫৭১.
'পরিচ্ছদ' শব্দের সন্ধিবিচ্ছদ কোনটি?
  1. পরিঃ + ছদ
  2. পরি + ছদ
  3. পরিচ + ছদ
  4. পরি + ইচ্ছদ
সঠিক উত্তর:
পরি + ছদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরি + ছদ
ব্যাখ্যা
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ব্যঞ্জন সন্ধি হয়।
যেমনঃ
- দিগন্ত = দিক্ + অন্ত,
- পরিচ্ছদ = পরি + ছদ,
- পদ্ধতি = পদ্ + হতি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৫,৫৭২.
নিচের কোনটি 'অসমীকরণ' এর উদাহরণ?
  1. দেশি > দিশি
  2. টপ + টপ > টপাটপ
  3. সত্য > সত্যি
  4. আজি > আইজ
সঠিক উত্তর:
টপ + টপ > টপাটপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টপ + টপ > টপাটপ
ব্যাখ্যা
• 'টপ + টপ > টপাটপ'- অসমীকরণ এর উদাহরণ।
 
অসমীকরণ: 
- একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয়, তখন তাকে বলে অসমীকরণ বলে।
যেমন: টপ + টপ > টপাটপ,  ধপ + ধপ > ধপাধপ।

• অন্যদিকে:
• অপিনিহিতি (Apenthesis):
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
- যেমন: আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য, চারি > চাইর, মারি > মাইর ইত্যাদি।

• অন্ত্যস্বরাগম (Apothesis):
- কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে।
- এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
- যেমন: দিশ্ > দিশা, পোখত্ > পোক্ত, বেঞ্চ > বেঞ্চি, সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
-যেমন: দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি - নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫৭৩.
'মস্যাধার' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মসি + আধার
  2. মসিঃ + আধার
  3. মসীঃ + আধার
  4. মসী + আধার
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মসী + আধার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মসী + আধার
ব্যাখ্যা

• সূত্র:
• ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' বা য ফলা হয়। য ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
যেমন:
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- পরি + আলোচনা = পর্যালোচনা,
- মসী + আধার = মস্যাধার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫,৫৭৪.
নিচের কোনটি ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ?
  1. কবাট > কপাট
  2. রিক্সা > রিস্কা
  3. বড়দাদা > বড়দা
  4. শরীর > শরীল
সঠিক উত্তর:
কবাট > কপাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবাট > কপাট
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধোবা > ধোপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন- বাক্স > বাস্ক, রিক্সা > রিস্কা ইত্যাদি।

অনুরূপ পিশাচ > পিচাশ, লাফ >ফাল।

• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন- শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জনচ্যুতি:
পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন- বউদিদি > বউদি, বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫,৫৭৫.
'সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. স্বরসঙ্গতি
  2. অভিশ্রুতি
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. মধ্যস্বর লোপ
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রকর্ষ
ব্যাখ্যা

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন-
- বসতি > বস্‌তি,
- জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

আদিস্বরলোপ:
যেমন-
- অলাবু > লাবু > লাউ,
- উদ্ধার > উধার > ধার।

মধ্যস্বর লোপ:
- অগুরু > অগ্নু,
- সুবর্ণ > স্বর্ণ।

অন্ত্যস্বর লোপ:
- আশা > আশ,
- আজি > আজ,
- চারি > চার (বাংলা),
- সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৫৭৬.
পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হয়ে গঠন করে -
  1. দ্বিস্বরধ্বনি
  2. ব্যঞ্জনধ্বনি
  3. স্বল্প স্বরধ্বনি
  4. অর্ধস্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
দ্বিস্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিস্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
দ্বিস্বরধ্বনি: 
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
 যেমন:
- লাউ’ শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্‌] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
- [আই]: তাই, নাই,
- [এই]: সেই, নেই,
- [আ]: যাও, দাও,
- [আ]: খায়, যায়,
- [উই]: দুই, রুই,
- [অ]: নয়, হয়,
- [ওউ]: মৌ, বউ,
- [ওই]: কৈ, দই,
- [এ]: কেউ, ঘেউ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫,৫৭৭.
নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ কোনটি?
  1. তস্কর
  2. রক্তোষ্ঠ
  3. গোষ্পদ
  4. আশ্চর্য
সঠিক উত্তর:
রক্তোষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তোষ্ঠ
ব্যাখ্যা

 • নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ - রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ।

অন্যদিকে,
- তৎ + কর = তস্কর;
- গো + পদ = গোষ্পদ
- আ + চর্য = আশ্চর্য; নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।

• স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ:
- অন্য + অন্য = অন্যান্য,
- কুল + অটা = কুলটা,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়,
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড,
- স্ব + ঈর = স্বৈর,
- গো + ইন্দ্ৰ = গবেন্দ্র,
- গো + ঈশ্বর = গবেশ্বর,
- অক্ষ + ঊহিণী = অক্ষৌহিণী,
- রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ,
- সীমন + অত = সীমন্ত,
- শার + অঙ্গ = শারঙ্গ,
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৫৭৮.
'জয়ধ্বনি' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. জয়দ্‌ধ্বোনি
  2. জয়োদ্‌ধোনি
  3. যয়োদ্‌ধোনি
  4. যয়োদ্‌ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
জয়োদ্‌ধোনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়োদ্‌ধোনি
ব্যাখ্যা
• 'জয়ধ্বনি'
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
- উচ্চারণ: জয়োদ্‌ধোনি
- প্রকৃতি প্রত্যয়: জয় + √ধ্বন্‌ + ই। 
 অর্থ:
- জয়োল্লাসের ধ্বনি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৫৭৯.
নিচের কোন শব্দে 'ণ' এর ভুল প্রয়োগ হয়েছে?
  1. লক্ষণ
  2. ব্রাহ্মণ
  3. কৃপণ
  4. রন্ধণ
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
রন্ধণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রন্ধণ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান- রন্ধণ,
এর শুদ্ধ বানান - রন্ধন।

----------------- 
• ণ-ত্ব বিধান:

- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার আছে। তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

ণ ব্যবহারের নিয়ম:
• ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প + অ+ণ্‌), লক্ষণ (ক্+ ষ্‌ + অ + ণ্‌)।
এরূপ - রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

• ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না, ন হয়।
যেমন - অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন, রন্ধন

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫৮০.
নিচের কোনটি ণত্ব বিধি প্রযোজ্য নয়?
  1. ক) দুরন্ত
  2. খ) ক্ষরণ
  3. গ) কৃষক
  4. ঘ) ভাষণ
সঠিক উত্তর:
ক) দুরন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুরন্ত
ব্যাখ্যা

বানানে ণ এর ব্যবহারের বিধানকেই ণত্ব বিধান/ ণত্ব বিধি বলে।
অর্থাৎ, ণত্ব বিধির প্রযোজ্যতা বা অপ্রযোজ্যতা বিবেচনা করতে হলে প্রথমত বানানে ন/ণ থাকতে হবে।
কৃষক বানানে ন/ণ নেই। তাই ণ-ত্ব বিধি আসার প্রশ্নই আসে না।

নিয়ম অনুযায়ী দুরন্ত তে ণ হয়, ত-বর্গের সাথে যুক্ত হয়েছে বলে ণত্ব বিধি প্রযোজ্য নয়।
তাই সঠিক উত্তর: ক)

এছাড়া,
ক্ষরণ - ণত্ব বিধি অনুযায়ী হয়েছে।
কৃষক - ষ-ত্ব বিধি অনুসারে হয়েছে।
ভাষণ শব্দে স্বভাবতই ণ হয়েছে।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি ব্যাকরণ।

৫,৫৮১.
কোনটি অশুদ্ধ বানান?
  1. মরণ
  2. ক্রন্দণ
  3. উষ্ণ
  4. ভাষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রন্দণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রন্দণ
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বানান - ক্রন্দণ।
এর শুদ্ধ বানান - ক্রন্দন।

ণ-ত্ব বিধান:

- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই। সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার আছে। তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়। তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়।
যেমন:
- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না, ন হয়।
যেমন -
- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫৮২.
পরের 'ই' কার ও 'উ' কার আগেই উচ্চারিত হওয়ার রীতিকে কী বলে?
  1. অপিনিহিতি
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. অন্তর্হতি
  4. অভিশ্রুতি
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা

অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জধব্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।

যেমন:
- চারি > চাইর,
- আজি > আইজ,
- সত্য > সইত্য,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৫৮৩.
কোন যুক্তবর্ণের বিশ্লেষণটি সঠিক নয়?
  1. হ্ + ঋ = হৃ
  2. ঙ্ + গ = ঙ্গ
  3. ণ্ + ঢ = ণ্ড
  4. ন্ + ধ = ন্ধ
সঠিক উত্তর:
ণ্ + ঢ = ণ্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ণ্ + ঢ = ণ্ড
ব্যাখ্যা
ণ্ + ঢ = ণ্ড - রূপটি সঠিক নয়।
- এর সঠিক রূপ - ণ্ + ড = ণ্ড।

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:
- হ্ + ঋ = হৃ,
- হ্ + ন = হ্ন,
- হ্ + ম = হ্ম,
- ঙ্ + গ = ঙ্গ,
- ন্ + ধ = ন্ধ,
- হ্ + উ = হু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫,৫৮৪.
যুক্তবর্ণের কোন রূপটি সঠিক?
  1. হ্‌ + ন = হ্ম
  2. ঙ্‌ + ক্ষ = ঙ্ক
  3. ত্‌ + থ = ত্থ
  4. ঙ্‌ + ঘ = ঙ্গ
সঠিক উত্তর:
ত্‌ + থ = ত্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্‌ + থ = ত্থ
ব্যাখ্যা
• ‘ত্থ’ যুক্তবর্ণটি গঠিত হয়েছে (ত্‌ + থ) বর্ণ যোগে।

অন্যদিকে,
- ঙ্‌ + গ = ঙ্গ,
- ঙ্‌ + ক = ঙ্ক,
- হ্‌ + ম = হ্ম

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ত্ + ত = ত্ত,
- ভ্‌ + র = ভ্র,
- ত্‌ + থ = ত্থ,
- হ্‌ + ণ = হ্ণ,
- ষ্‌ + ণ = ষ্ণ,
- ক্‌ + ষ = ক্ষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫,৫৮৫.
কোনটি সঠিক যুক্তবর্ণ?
  1. ঞ + জ = ঞ্ছ
  2. ঞ + ঙ = ঞ্জ
  3. ঞ + ছ = ঞ্চ
  4. ঙ + ক = ঙ্ক
সঠিক উত্তর:
ঙ + ক = ঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ + ক = ঙ্ক
ব্যাখ্যা
• সঠিক যুক্তবর্ণ - ঙ + ক = ঙ্ক

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ যুক্তবর্ণের শুদ্ধরূপ:
- ঞ + চ = ঞ্চ,
- ঞ + ছ = ঞ্ছ,
- ঞ + ন = ঞ্জ।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
ক্ + র = ক্র
ক্ + ষ = ক্ষ
ক্ + স = ক্স
গ্ + ধ = গ্ধ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৫৮৬.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ?
  1. হতাশ
  2. দণ্ডাদেশ
  3. হরিশ্চন্দ্র
  4. সিংহাসন
সঠিক উত্তর:
হরিশ্চন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিশ্চন্দ্র
ব্যাখ্যা
• সন্ধি:
- সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজ প্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন।
- তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা।

• নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

• নিচে কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- পর + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক + দশ = একাদশ,
- হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত- অ + আ = আ;
- হিম + আলয় = হিমালয়।
- সিংহ + আসন = সিংহাসন।
- দণ্ড + আদেশ = দণ্ডাদেশ।
- হত + আশ = হতাশ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)
৫,৫৮৭.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী 'স' কোন প্রকার ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. ক) দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনি
  2. খ) তালব্য ব্যঞ্জন
  3. গ) কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন
  4. ঘ) দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনি
সঠিক উত্তর:
ঘ) দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনি
ব্যাখ্যা
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৫,৫৮৮.
সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য-
  1. ক) ত্রুটি দূরীকরণ
  2. খ) উচ্চারণে সহজ প্রবণতা
  3. গ) উচ্চারণ দীর্ঘকরণ
  4. ঘ) লেখা সহজকরণ
সঠিক উত্তর:
খ) উচ্চারণে সহজ প্রবণতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উচ্চারণে সহজ প্রবণতা
ব্যাখ্যা
• সন্ধি শব্দের অর্থ মিলন। দ্রুত উচ্চারণের ফলে পরস্পর সন্নিহিত দুটো ধ্বনির মিলনে যে ধ্বনিগত পরবির্তন হয় তাকেই বলা হয় সন্ধি।
- সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য হলো স্বাভাবিক উচ্চারণে সহজপ্রবণতা ও ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন।
যেমন:
- ‘রত্ন’ ও ‘আকার’ উচ্চারণে যে আয়াস বাক্যর প্রয়োজন, ‘রত্নাকার’ তার চেয়ে কম আয়াসে উচ্চারিত হয়।

ধ্বনির আরো কিছু প্রয়োজনীয়তা:
- নতুন শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন।
- ধ্বনি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন।
- শব্দের আকার ছোট করতে প্রয়োজন।

উৎস:- মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৮৯.
'মস্যাধার' কোন ধরনের সন্ধির দৃষ্টান্ত?
  1. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. স্বরসন্ধি
  4. বিসর্গসন্ধি
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
স্বরসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরসন্ধি
ব্যাখ্যা
স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

সন্ধির নিয়ম:
• ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' বা য(্য) ফলা হয়। য-ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
যেমন -
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত, 
- ইতি + আদি = ইত্যাদি, 
- অতি + উক্তি = অত্যুক্তি, 
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ, 
- মসী + আধার = মস্যাধার, 
- প্রতি + এক = প্রত্যেক, 
- নদী + অম্বু = নদ্যম্বু ইত্যাদি।
এরূপ - প্রত্যহ, অত্যধিক, গত্যন্তর, প্রত্যাশা, প্রত্যাবর্তন, আদ্যন্ত, যদ্যপি, অভ্যুত্থান, অত্যাশ্চর্য, প্রত্যুপকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৫৯০.
'সাধারণ' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. শাধারােণ
  2. শাধারােন
  3. শাদারােন
  4. শাধারন
সঠিক উত্তর:
শাধারােন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাধারােন
ব্যাখ্যা
শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

উদাহরণ:
- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্‌], শৃগাল [সৃগাল্‌]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্‌নো] ।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১) ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৫৯১.
'রহস্য' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. রহশো
  2. রহশ্‌শ
  3. রহশ্‌শো
  4. রহোশ্‌শো
সঠিক উত্তর:
রহোশ্‌শো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রহোশ্‌শো
ব্যাখ্যা

আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুসারে,
রহস্য:
- উচ্চারণ: রহোশ্‌শো
- অর্থ:
১) গূঢ় অর্থ বা তাৎপর্য, মর্ম।
২) সহজে বোঝা যায় না এমন গোপন তত্ত্ব।
৩) (বাংলায়) হাস্যপরিহাস; রসিকতা।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

৫,৫৯২.
বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ কয়টি?
  1. ৬টি
  2. ৮টি
  3. ১০টি
  4. ১২টি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
৮টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮টি
ব্যাখ্যা

• উপযুক্ত বর্ণসমূহকে মাত্রার উপর ভিত্তি করে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। ।
• মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ১০ টি।
- এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।

• অর্ধমাত্রার বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি।
এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

• পূর্ণমাত্রার বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণ মাত্রার বর্ণ ৩২টি।
এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৫৯৩.
সংবৃত স্বরধ্বনি কোনটি?
  1. অ 
  2. অ্যা
  3. ও 
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা:
১. সংবৃত - [ই], [উ]।
২. অর্ধ-সংবৃত - [এ], [ও]।
৩. অর্ধ-বিবৃত - [অ্যা], [অ]।
৪. বিবৃত - []।
 
- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৫,৫৯৪.
অভিশ্রুতি ধ্বনি পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত নয় কোনটি?
  1. মাছুয়া > মেছো 
  2. করলাম > কল্লাম
  3. শুনিয়া > শুনে
  4. হাটুয়া > হাউটা > হেটো
সঠিক উত্তর:
করলাম > কল্লাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করলাম > কল্লাম
ব্যাখ্যা

অভিশ্রুতি (Umlaut):
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন: করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া’ কিংবা বিপর্যয়ের ফলে ‘কইরা’ থেকে অভিশ্রুতিজাত ‘করে'।

এরূপ – শুনিয়া > শুনে, বলিয়া > বলে, হাটুয়া > হাউটা > হেটো, মাছুয়া > মেছো ইত্যাদি৷

অন্যদিকে, 
---------------
র-কার লোপ:
আধুনিক চলিত বাংলায় অনেক ক্ষেত্রে র-কার লোপ পায় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জন দ্বিত্ব হয়।
যেমন: তর্ক > তক্ক, করতে > কত্তে, মারল > মাল্ল, করলাম > কল্লাম৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫,৫৯৫.
কোনটি মূর্ধন্য ব্যঞ্জন?
  1. ড়
সঠিক উত্তর:
ড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড়
ব্যাখ্যা
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, , , দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৫৯৬.
‘দুরাত্মা’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দুর্ + আত্মা
  2. দুরঃ + আত্মা
  3. দুরা + আত্মা
  4. দুঃ + আত্মা
সঠিক উত্তর:
দুঃ + আত্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুঃ + আত্মা
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধি:
- বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্ ও স্-এর সাথে স্বরধ্বনির কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।
- বিসর্গ সন্ধি দুইভাবে সাধিত হয়। যথা:
১. বিসর্গ + স্বর এবং
২. বিসর্গ + ব্যঞ্জন।

• পূর্বপদের শেষে যদি অ/আা ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনির পর বিসর্গ (র-জাত) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি স্বরধ্বনি থাকে তবে সন্ধির ফলে বিসর্গ র্‌ হয়ে যায় এবং পরের স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
• ইঃ + অ = ই + র্‌:
- নিঃ + অন্ন = নিরন্ন,
- বহিঃ + অঙ্গ = বহিরঙ্গ।

• ইঃ + আ = ই + রা:
- নিঃ + আকার = নিরাকার,
- নিঃ + আশা = নিরাশা।

• উঃ + অ = উ + র:
- দুঃ + অবস্থা = দুরবস্থা,
- চতুঃ + অঙ্গ = চতুরঙ্গ।

• উঃ + আ = উ + রা:
- দুঃ + আত্মা = দুরাত্মা,
- দুঃ + আশা = দুরাশা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৫৯৭.
মধ্যস্বর লোপ পেয়েছে নিচের কোন উদাহরণে?
  1. অলাবু > লাবু > লাউ
  2. আজি > আজ
  3. অগুরু > অগ্রু
  4. সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
সঠিক উত্তর:
অগুরু > অগ্রু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগুরু > অগ্রু
ব্যাখ্যা

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন- বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

• আদি স্বরলোপ:
প্রথম স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে আদি স্বরলোপ বলে।
যেমন:
- অলাবু> লাবু > লাউ,
- উদ্ধার > উধার > ধার।

• মধ্যস্বর লোপ:
শব্দের মধ্যে অবস্থিত স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে মধ্যস্বর লোপ বলে।
যেমন:
- অগুরু > অগ্রু,
- সুবর্ণ > স্বর্ণ।

• অন্ত্যস্বর লোপ:
শব্দের শেষে অবস্থিত স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্ত্যস্বর লোপ বলে।
যেমন:
- আশা > আশ,
- আজি > আজ,
- চারি > চার,
- সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

৫,৫৯৮.
পূর্ণমাত্রার স্বরবর্ণের সংখ্যা কয়টি?
  1. ৬টি
  2. ৭টি 
  3. ৪টি 
  4. ৮টি 
সঠিক উত্তর:
৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬টি
ব্যাখ্যা

• বর্ণসমূহকে মাত্রার উপর ভিত্তি করে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
• মাত্রাহীন বর্ণ:
- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ১০ টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং,  ঃ,  ঁ)।

• অর্ধমাত্রার বর্ণ:
- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, খ, ধ, প, শ)।

• পূর্ণমাত্রার বর্ণ:
- বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণ মাত্রার বর্ণ ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৫৯৯.
"রাত" - শব্দে কোন কোন ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ আছে?
  1. দন্তমূলীয় এবং মূর্ধন্য
  2. দন্তমূলীয় এবং দন্ত্য
  3. মূর্ধন্য এবং দন্ত্য
  4. দন্ত্য এবং ওষ্ঠ্য
সঠিক উত্তর:
দন্তমূলীয় এবং দন্ত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দন্তমূলীয় এবং দন্ত্য
ব্যাখ্যা

• "রাত" - শব্দে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন 'র' এবং দন্ত্য ব্যঞ্জন 'ত' ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ আছে।

দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জন ধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরচিত।
 যেমন: 
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৫,৬০০.
ণ-ত্ব বিধি অনুসারে 'ণ'-এর ব্যবহার হয়েছে কোনটিতে?
  1. শাণ
  2. গৌণ
  3. কণিকা
  4. অর্পণ
সঠিক উত্তর:
অর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্পণ
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড, লুণ্ঠন ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

অপরদিকে,
কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়।
যেমন:
পুণ্য, লাবণ্য, কল্যাণ, বিপণি, আপণ, গৌণ, ভাণ, শাণ, চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।