বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনিতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৬,৩২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনিতত্ত্ব

PrepBank · পাতা ৫৫ / ৬৩ · ৫,৪০১৫,৫০০ / ৬,৩২৭

৫,৪০১.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ‘ঘ’ কোন ধরনের ধ্বনি?
  1. ওষ্ঠ স্পৃষ্ট
  2. দন্ত স্পৃষ্ট
  3. কণ্ঠ স্পৃষ্ট
  4. মূর্ধা স্পৃষ্ট
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠ স্পৃষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠ স্পৃষ্ট
ব্যাখ্যা
• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।

- উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়, যথা:
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
৫,৪০২.
নিচের কোনটি স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ?
  1. ক্স
  2. স্খ
  3. ক্ত
  4. ঙ্গ
সঠিক উত্তর:
স্খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্খ
ব্যাখ্যা

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ- স্খ। 

• যুক্তবর্ণ:

একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না।
এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ণ্ঠ, ড্ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: 
ক্ত = (ক্ + ত), ক্ম = (ক্ + ম), ক্ষ = (ক্ + ষ), ক্ষ্ম = (ক্ + ষ্ + ম), ক্স = (ক্ + স), গু = (গ্ + উ), গ্ধ = (গ্ + ধ),  ঙ্গ = (ঙ্ + গ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫,৪০৩.
কোনটি মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন?
  1. ড়
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।
 
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৫,৪০৪.
’চলচ্চিত্র’ কোন নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1.  স্বর + ব্যঞ্জন
  2. ব্যঞ্জন + স্বর
  3. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন 
  4. স্বর + স্বর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন 
ব্যাখ্যা

 • ব্যঞ্জনসন্ধি:
- স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

• [ব্যঞ্জন+ব্যঞ্জন]
- ব্যঞ্জনসন্ধিতে একটি ধ্বনির প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যায়।
যেমন
চলৎ+চিত্র = চলচ্চিত্র (এখানে চ-এর প্রভাবে ত হয়েছে চ)।
বিপদ্+জনক = বিপজ্জনক (এখানে জ-এর প্রভাবে দ হয়েছে জ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫- সংস্করণ)।

৫,৪০৫.
কোন শব্দটিতে স্বভাবতই 'ষ' হয়নি?
  1. আষাঢ়
  2. কৃষক
  3. ঊষা
  4. ভাষা
সঠিক উত্তর:
কৃষক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষক
ব্যাখ্যা
• মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়ােজন হয় না।
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়ােগ রয়েছে।
- যে-সব তৎসম শব্দে ‘ষ’ রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে।
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য ষ’-এর ব্যবহারের নিয়মকে ষত্ব বিধান বলে। 

• কতোগুলো শব্দে স্বভাবতই ষ হয়।
যেমন-
আষাঢ়, ঊষা, ঊষর, ঔষধ, ঔষধি, কলুষ, কোষ, তোষণ, দ্বেষ, পাষন্ড, পাষাণ, পোষণ, পৌষ, ভাষা, ভাষ্য, ভাষণ, ভূষণ, মানুষ, রোষ, শোষণ।

• ঋ এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়। 
যেমন- দৃষ্টি, কৃষক, সৃষ্টি, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৪০৬.
‘প্রৌঢ়’ - এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্রো + উঢ়
  2. প্র + ঊঢ়
  3. প্রৌ + উঢ়
  4. প্রো + ঊঢ়
সঠিক উত্তর:
প্র + ঊঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্র + ঊঢ়
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- যেসব সন্ধির নিদিষ্ট কোন নিয়ম নেই তাদেরকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

যেমন:
- বন + পতি = বনস্পতি,
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- এক + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ - ২০১৯)।
৫,৪০৭.
নিচের কোনটি উষ্মধ্বনি?
  1. ক) ম
  2. খ) ন
  3. গ) হ
  4. ঘ) ল
সঠিক উত্তর:
গ) হ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হ
ব্যাখ্যা
উষ্মধ্বনি/উষ্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাম্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্মধ্বনি/উষ্ম ব্যঞ্জন  বলে।
- এগুলোকে শিস্‌ ধ্বনিও বলা হয়।

বাংলায় উষ্ম ধ্বনিমূল তিনটি।
যথা - স্‌, শ্‌ ও হ্‌।
এগুলোর ক্ষেত্রে অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণভেদ প্রযোজ্য নয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খন্ড), বাংলা একাডেমি।
৫,৪০৮.
জিহবামূলীয় ব্যঞ্জনবর্ণ কোনটি?
  1. ক) ঙ
  2. খ) ড
  3. গ) ফ
  4. ঘ) দ
সঠিক উত্তর:
ক) ঙ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ঙ
ব্যাখ্যা
বাংলা বর্ণমালায়
ক, খ, গ, ঘ, ঙ - কণ্ঠ্য বা জিহবামূলীয় বর্ণ,
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, শ, য, য় - তালব্য বর্ণ,
ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ষ, র, ড়, ঢ় - মূর্ধন্য বা পশ্চাৎ দন্তমূলীয় বর্ণ,
ত, থ, দ, ধ, ন - দন্ত্য বর্ণ,
প, ফ, ব, ভ, ম - ওষ্ঠ বর্ণ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৪০৯.
'জরুরি > জরুলি' ধ্বনির কোন ধরনের পরিবর্তন?
  1. ক) ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. খ) সমীভবন
  3. গ) বিষমীভবন
  4. ঘ) ধ্বনিবিপর্যয়
সঠিক উত্তর:
গ) বিষমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিষমীভবন
ব্যাখ্যা
দুটো সমবর্ণের একটির অপরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে। যেমন : শরীর > শরীল, লাল > নাল, আরমারি > আলমারি, জরুরি > জরুলি, মর্মর > মার্বেল, লাঙ্গল > নাঙ্গল, নুকসান (আরবি) > লােকসান ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৪১০.
'মহেশ' শব্দটির সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ হলো-
  1. ক) মহান + ঈশ = মহেশ
  2. খ) মহা + ঈশ = মহেশ
  3. গ) মহা + ইশ = মহেশ
  4. ঘ) মহা + ঈস = মহেশ
সঠিক উত্তর:
খ) মহা + ঈশ = মহেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মহা + ঈশ = মহেশ
ব্যাখ্যা

অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়। এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
- শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা,
- মহা + ঈশ = মহেশ,
- পরম + ঈশ = পরমেশ,
- যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৪১১.
‘অজন্ত’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ- 
  1. অজ্‌ + অন্ত
  2. অচ্ + অন্ত
  3. অজ্‌ঃ + অন্ত
  4. অচ্ঃ + অন্ত
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
অচ্ + অন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অচ্ + অন্ত
ব্যাখ্যা
• ‘অজন্ত’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: অচ্ + অন্ত।
- এটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।

ব্যঞ্জন ও স্বরধ্বনি যোগে গঠিত ব্যঞ্জনসন্ধির কিছু উদাহরণ হলো:
• প্রাক্ + উক্ত = প্রাগুক্ত।
• ণিচ্ + অন্ত = ণিজন্ত।
• অচ্ + অন্ত = অজন্ত।
• ষট্ + অঙ্গ = ষড়ঙ্গ।
• ষট্ + ঋতু = ষড়ঋতু।
• ষট্ + ঐশ্বর্য = ষড়ৈশ্বর্য।
• ষট্ + আনন = ষড়ন।
• সৎ+ অর্থক = সদর্থক।
• সৎ + ইচ্ছা = সদিচ্ছা।
• মৃৎ + অঙ্গ = মৃদঙ্গ।
• অপ্ + অগ্নি = অবগ্নি।
• অপ্ + ইন্ধন = অবিন্ধন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৪১২.
'তরবার > তরোয়াল' শব্দে ধ্বনির কোন ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. সমীভবন
  2. অভিশ্রুতি
  3. বিষমীভবন
  4. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
বিষমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষমীভবন
ব্যাখ্যা

• বিষমীভবন: দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- তরবার > তরোয়াল;
- লাঙ্গল > নাঙ্গল;
- শরীর > শরীল;
- লাল > নাল,
- আরমারি > আলমারি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সমীভবন: শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন:
- জন্ম > জম্ম,
- কাঁদনা > কান্না।

• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন:
- করিয়া > কইর‌্যা > করে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫,৪১৩.
'শক্তি > শকতি' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অপনিহিতি
  2. আদি স্বরাগম
  3. স্বরসংগতি
  4. মধ্যস্বরাগম
সঠিক উত্তর:
মধ্যস্বরাগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যস্বরাগম
ব্যাখ্যা
• 'শক্তি > শকতি'- মধ্যস্বরাগম, 'বিপ্রকর্ষ' বা স্বরভক্তি এর উদাহরণ।

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি: 
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্যস্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ।
যেমন : গ্রাম > গেরাম।

আরো কয়েকটি উদাহরণ
- রত্ন > রতন,
- প্রীতি > পিরীতি,
- ধর্ম > ধরম,
- স্বপ্ন > স্বপন ইত্যাদি।
---------------------
---------------------
• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জধব্বনির আগে ই -কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- চারি > চাইর,
- আজি > আইজ,
- সত্য > সইত্য,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য।

আদি স্বরাগম:
- উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে আদি স্বরাগম বলে।
যেমন:
- স্কুল > ইস্কুল,
- স্টেশন > ইস্টিশন,
- স্পর্ধা > আস্পর্ধা ইত্যাদি।

• স্বরসংগতি ধ্বনি পরিবর্তন: 
- একটি স্বরধনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসংগতি বলে।

যেমন- 
• দেশি > দিশি, 
• বিলাতি > বিলিতি, 
• মুলা > মুলো ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৪১৪.
"ঝ, ঞ" - কোন ধরনের ধ্বনি?
  1. কণ্ঠ্য
  2. তালব্য
  3. মূর্ধন্য
  4. দন্ত্য
সঠিক উত্তর:
তালব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালব্য
ব্যাখ্যা
• বর্গীয় ধ্বনি: 
- ক থেকে ম পর্যন্ত পঁচিশটি স্পর্শধ্বনিকে উচ্চারণস্থানের দিক থেকে পাঁচটি গুচ্ছ বা বর্গে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রতি গুচ্ছের প্রথম ধ্বনিটির নামানুসারে সে গুচ্ছের সবগুলো ধ্বনিকে বলা হয় বর্গীয় ধ্বনি।
- বর্গভুক্ত বলে এ ধ্বনির চিহ্নগুলোকেও ঐ বর্গীয় নামে অভিহিত করা হয়।
যেমন- 

বৰ্গ - বৰ্গীয় বৰ্ণ - বর্গের ভাষাবৈজ্ঞানিক নাম:
• ক - ক, খ, গ, ঘ, ঙ - কণ্ঠ্য,
• চ - চ, ছ, জ, ঝ, ঞ - তালব্য,
• ট - ট, ঠ, ড, ঢ, ণ - মূর্ধন্য,
• ত - ত, থ, দ, ধ, ন - দন্ত্য,
• প - প, ফ, ব, ভ, ম - ওষ্ঠ্য। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪১৫.
'বাক্য > বাইক্য' এটি কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন? 
  1. অভিশ্রুতি 
  2. স্বরসঙ্গতি
  3. বিষমীভবন
  4. অপিনিহিতি
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা

অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার, উ-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার  উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য,
- সত্য > সইত্য,
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই (২০১৮ - সংস্কারণ)।

৫,৪১৬.
'দূর্যোগ' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দুহঃ + যোগ
  2. দুঃ + যোগ
  3. দুর + যোগ
  4. দুরঃ + যোগ
সঠিক উত্তর:
দুঃ + যোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুঃ + যোগ
ব্যাখ্যা

• ‘দুর্যোগ’ এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ- 'দুঃ + যোগ'।

• ‘দুর্যোগ’ এর সন্ধি বিচ্ছেদ এর নিয়ম:  
অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পর পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘােষ অল্পপ্রাণ ও ঘােষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে ‘র’ হয়।
যেমন-
- দুঃ + যােগ = দুর্যোগ, 
- নিঃ + আকার = নিরাকার,
- আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৪১৭.
'গঙ্গোর্মি' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কী হবে?
  1. গঙ্গা + ঊর্মি
  2. গঙ্গা + উর্মি
  3. গঙ্গ + ঊর্মি
  4. গঙ্গো + উর্মি
সঠিক উত্তর:
গঙ্গা + ঊর্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গঙ্গা + ঊর্মি
ব্যাখ্যা
• 'গঙ্গোর্মি' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ- গঙ্গা + ঊর্মি।

সূত্র:
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা উ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও-কার হয়; ও-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।
যেমন-
- অ + উ = ও; সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়।
- আ + উ = ও; যথা + উচিত = যথোচিত।
- অ + উ = ও; গৃহ + ঊর্ধ্ব = গৃহোর্ধ্ব।
- আ + উ = ও; গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,৪১৮.
নিচের কোনগুলো মহাপ্রাণ ধ্বনি?
  1. ক) খ, ঘ, চ, জ
  2. খ) খ, ঘ, ছ, ঝ
  3. গ) ক, গ, ছ, ঝ
  4. ঘ) ক, গ, চ, জ
সঠিক উত্তর:
খ) খ, ঘ, ছ, ঝ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) খ, ঘ, ছ, ঝ
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণের সময় বাতাসের প্রবাহ অনুযায়ী স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনিগুলোকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
ক. অল্পপ্রাণ: যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের স্বল্পতা থাকে, তাকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি। যেমন- ক, গ, চ, জ ইত্যাদি ।
খ. মহাপ্রাণ: যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাসের চাপের আধিক্য থাকে, তাকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি। যেমন- খ, ঘ, ছ, ঝ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৪১৯.
নিচের কোনটি অভিশ্রুতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. মারি > মাইর
  2. রাখিয়া > রেখে
  3. সাধু > সাউধ
  4. বাক্য > বাইক্য
সঠিক উত্তর:
রাখিয়া > রেখে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাখিয়া > রেখে
ব্যাখ্যা

• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে।
যেমন:
- রাখিয়া > রেখে,
- করিয়া > করে,
- শুনিয়া > শুইনা > শুনে,
- বলিয়া > বইলা > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মাউছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
----------------
• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগ উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিত বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য,
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫,৪২০.
’মনস্তাপ’- এর সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মন + তাপ
  2. মনস + তাপ
  3. মনো + তাপ
  4. মনঃ + তাপ
সঠিক উত্তর:
মনঃ + তাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনঃ + তাপ
ব্যাখ্যা

• মনস্তাপ = মনঃ + তাপ।

• বিসর্গ সন্ধি: পূর্বপদের শেষ ধ্বনি বিসর্গ হলে এবং পরপদের প্রথম ধ্বনি ব্যঞ্জন কিংবা স্বর হলে এ দুয়ের মধ্যে যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।
• সংস্কৃত ভাষার নিয়মে সংস্কৃত শব্দের  শেষে ‘স্’ বা ‘র্’ থাকলে ‘স’ বা ‘র’ লোপ পেয়ে বিসর্গ হয়।
যেমন:
র্-জাত বিসর্গ: নির্ >নিঃ; দুর্ >দুঃ; অন্তর্ >অন্তঃ ইত্যাদি।
স্-জাত বিসর্গ: সরস্ >সরঃ; মনস্ >মনঃ; পুরস্>পুরঃ ইত্যাদি।

কয়েক টি র্-জাত বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- নিঃ+আকার = নিরাকার
- অন্তঃ+অঙ্গ = অন্তরঙ্গ
- দুঃ+অবস্থা = দুরবস্থা

কয়েকটি স্-জাত বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- নিঃ+চয় = নিশ্চয়
- দুঃ+কৃতি = দুষ্কৃতি

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৪২১.
'উপগ্রহ' শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. উপগ্‌গ্রোহো
  2. উপোগ্‌গ্রহো
  3. উপোগ্‌গ্রোহ
  4. উপোগ্‌গ্রোহো
সঠিক উত্তর:
উপোগ্‌গ্রোহো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপোগ্‌গ্রোহো
ব্যাখ্যা
• বানান: উপগ্রহ।
- সঠিক উচ্চারণ: উপোগ্‌গ্রোহো
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: উপ + গ্রহ।
- অর্থ: গ্রহকে প্রদক্ষিণ করে এমন ক্ষুদ্রতর গ্রহ; অনুষঙ্গী গ্রহ।

 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫,৪২২.
'বাক্স' থেকে 'বাসক'—এটি ধ্বনি পরিবর্তনের কোন ধরনের উদাহরণ?
  1. স্বরভক্তি
  2. ধ্বনি বিপর্যয়
  3. বর্ণলোপ
  4. দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা

ধ্বনি বিপর্যয়:
- যদি শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটে, তখন তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।

যেমন:
- পিশাচ > পিচাশ,
- বাক্স > বাসক,
- রিক্সা > রিসকা,
- লাফ > ফাল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৪২৩.
'সংসার' এর সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. সং + সার
  2. সাং + সার
  3. সম্ + সার
  4. সম + সার
সঠিক উত্তর:
সম্ + সার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্ + সার
ব্যাখ্যা
• সন্ধির নিয়ম: 
ম্‌- এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি যথা: য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে ম্‌- স্থলে অনুস্বার (ং) হয়।  
যেমন:
• সম্‌+ সার = সংসার;
• সম্‌+ বাদ = সংবাদ;
• সম্‌+ যম = সংযম;
• সম্‌+ রক্ষন = সংরক্ষণ;
• সম্‌+ লাপ = সংলাপ;
• সম্‌+ শয় = সংশয়;
• সম্‌+হার = সংহার ইত্যাদি। 
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৪২৪.
'লাউ' শব্দে কোন কোন স্বরধ্বনি আছে?
  1. আ + ও্
  2. আ + উ্
  3. আ + ঊ্
  4. আ + উ
সঠিক উত্তর:
আ + উ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আ + উ্
ব্যাখ্যা
অর্ধস্বরধ্বনি:
- যেসব স্বরধ্বনি পুরোপুরি উচ্চারিত হয় না, সেগুলোকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে। 
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি।
যথা:
- [ই্‌], [উ্‌], [এ্‌] এবং [ও্‌]।

- স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনোভাবেই দীর্ঘ করা যায় না। 
যেমন:
- ‘চাই' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [ই্‌]। 
এখানে [আ] হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি, [ই্‌] হলো অর্ধস্বরধ্বনি। 
একইভাবে, 
- ‘লাউ’ শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [উ্‌]। 
- এখানে [আ] হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি, [উ্‌] হলো অর্ধস্বরধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৪২৫.
'ফ' ধ্বনির উচ্চারণ স্থানগত অবস্থান কোনটি?
  1. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  2. কণ্ঠনালী ব্যঞ্জন
  3. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
  4. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়।
- ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
- দন্ত্য ব্যঞ্জন,
- দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন,
- মূর্ধন্য ব্যঞ্জন,
- তালব্য ব্যঞ্জন,
- কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
- কণ্ঠনালী ব্যঞ্জন।

• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত। পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৫,৪২৬.
স্বরান্ত অক্ষরকে কী বলে?
  1. মুক্তাক্ষর
  2. বদ্ধাক্ষর
  3. যুক্তাক্ষর
  4. একাক্ষর
সঠিক উত্তর:
মুক্তাক্ষর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তাক্ষর
ব্যাখ্যা
⇒ অক্ষর (Syllable):
- বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশের নাম অক্ষর (Syllable)। অক্ষর দু প্রকার। 
যথা:
১. মুক্তাক্ষর ও
২. বদ্ধাক্ষর।

============
⇒ মুক্তাক্ষর:
যখন একটি অক্ষরে একটিই বর্ণ থাকে, তখন তাকে মুক্তাক্ষর বলে। অযুগ্ন বা মুক্ত স্বরান্ত ধ্বনিকে মুক্তাক্ষর বলে। একে স্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
যেমন:
- ‘ভালোবাসো যদি বলিবে না কেন?’
এখানে (ভা) (লো) (বা) (সো) (য) (দি) (ব) (লি) (বে) (না) (কে) (ন) এই সবগুলোই (১২টি) মুক্তাক্ষর। 

- মুক্তাক্ষর U চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়।
- মুক্তাক্ষর উচ্চারণের শেষে মুখ খোলা থাকে, ফলে অক্ষর উচ্চারণ করে ও তাকে প্রয়োজন মতো প্রলম্বিত করা চলে। 
যেমন: অপরিচিত। 

⇒ বদ্ধাক্ষর:
ব্যঞ্জনধ্বনি বা অর্ধস্বরধ্বনির মাধ্যমে যে সব অক্ষরের সমাপ্তি ঘটে তাকে বদ্ধাক্ষর বলে।
বদ্ধ অর্থ্যাৎ যুগ্মাস্বরান্ত বা ব্যঞ্জনান্ত ধ্বনিকে বদ্ধাক্ষর বলে। 
যেমন : 'সোম বার দিনরাত হরতাল।
[এখানে (সোম্) (বার্) (দিন্) (রাত) (হর্) (তাল্) এই সবগুলোই (৬টি) বদ্ধাক্ষর।] 

বদ্ধাক্ষর ( - ) চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়। 

উৎস: বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৪২৭.
নিচের কোন শব্দটি ষ-ত্ব বিধানের নিয়মসিদ্ধ উপায়ে গঠিত?
  1. ক) বিষম
  2. খ) অর্ষ
  3. গ) আষাঢ়
  4. ঘ) দর্ষন
সঠিক উত্তর:
ক) বিষম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিষম
ব্যাখ্যা
• ই -কারান্ত এবং উ -কারান্ত উপসর্গের পর কতকগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমনঃ অভিসেক > অভিষেক, বিসম > বিষম ইত্যাদি।

• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন- রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।
• দর্শন, আদর্শ, অর্শ, বর্শা (বল্লম) ইত্যাদি শব্দে ষ হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৪২৮.
'তৈআরি > তৈরি' - কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. অপনিহিতি
  2. মধ্যস্বর লোপ
  3. অন্ত্যস্বর লোপ
  4. আদিস্বরলোপ
সঠিক উত্তর:
মধ্যস্বর লোপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যস্বর লোপ
ব্যাখ্যা
সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
- দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোন স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
- সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ তিন ধরনের হয়ে থাকে।
সেগুলো হলো:

আদিস্বরলোপ:
 যেমন:
- অলাবু > লাবু > লাউ,
- উদ্ধার > উধার > ধার।

মধ্যস্বর লোপ:
যেমন:
- অগুরু > অগ্রু,
- সুবর্ণ > স্বর্ণ,
- তৈআরি > তৈরি

অন্ত্যস্বর লোপ:
যেমন:
- আশা > আশ,
- আজি > আজ,
- চারি > চার (বাংলা),
- পোকা > পোক্‌
- সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩) ভাষা-শিক্ষা ড. মামুদ।
৫,৪২৯.
স্বরবর্ণের মােট কয়টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে?
  1. ৭টি
  2. ৯টি
  3. ১০টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
১০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০টি
ব্যাখ্যা
• কারবর্ণ:
- স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে 'কার' বলে। 
- স্বরবর্ণের মােট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে, এগুলাের নাম কারবর্ণ।
এগুলো হলো: [ া, ি, ী, ু, ূ, ৃ, ে, ৈ, ে-া, ৈ-া ]
- কারবর্ণের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই। এগুলাে ব্যঞ্জনবর্ণের আগে, পরে, উপরে, নিচে বা উভয় দিকে যুক্ত হয়।
- কোনাে ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হসৃচিহ্ন না থাকলে ব্যঞ্জনটির সঙ্গে একটি অ আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।
- 'অ' স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ নেই। 
- তাই 'অ' একটি নিলীন বর্ণ। 

অন্যদিকে
• অনুবর্ণ:
ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ। অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

• ফলা: ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলোকে ফলা বলে। বাংলা বর্ণমালায় ফলা বর্ণ ৬টি।
যেমন:
- ন-ফলা,
- ব-ফলা,
- ম-ফলা,
- য-ফলা,
- র- ফলা,
- ল-ফলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৪৩০.
'প্রত্যেক' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্র + এক
  2. প্রত্যেহ + এক 
  3. প্রত্ব + এক 
  4. প্রতি + এক 
সঠিক উত্তর:
প্রতি + এক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতি + এক 
ব্যাখ্যা

• ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' বা য(্য) ফলা হয়। য-ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
যেমন -
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত।
- ইতি + আদি = ইত্যাদি।
- অতি + উক্তি = অত্যুক্তি।
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ।
- মসী + আধার = মস্যাধার।
- প্রতি + এক = প্রত্যেক।
- নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।

এরূপ - প্রত্যহ, অত্যধিক, গত্যন্তর, প্রত্যাশা, প্রত্যাবর্তন, আদ্যন্ত, যদ্যপি, অভ্যুত্থান, অত্যাশ্চর্য, প্রত্যুপকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫,৪৩১.
ঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি -

ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘোষ ও অঘোষ।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যেমন - ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ,

অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যেমন - প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

ধ্বনি সৃষ্টিতে বায়ুর প্রবাহ অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।
 
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৪৩২.
সত্য > সইত্য কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. স্বরসঙ্গতি
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. অপিনিহিতি
  4. সম্প্রকর্ষ
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
• অপিনিহিতি (Apenthesis):
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- আজি >আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য >বাইক্য,
- সত্য > সইত্য,
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,৪৩৩.
'বড়দাদা > বড়দা' - এটি কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  3. অভিশ্রুতি
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জনচ্যুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জনচ্যুতি:
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লােপ পায়। এরূপ লােপকে বলা হয় ধ্বনি চ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।

যেমন:
- বউদিদি > বউদি,
- বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৪৩৪.
'হ্ম' কোন কোন বর্ণের যুক্ত?
  1. ক্ + ষ
  2. ম্ + হ
  3. ষ্ + ক
  4. হ্ + ম
সঠিক উত্তর:
হ্ + ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্ + ম
ব্যাখ্যা

• হ্ + ম = হ্ম,
উদাহরণঃ ব্রাহ্ম, ব্রাহ্মণ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৪৩৫.
কোনটি সমীভবনের উদাহরণ?
  1. পোখত্ > পোক্ত
  2. স্বপ্ন > স্বপন
  3. গলদা > গল্লা
  4. সুবর্ণ > স্বর্ণ
সঠিক উত্তর:
গলদা > গল্লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গলদা > গল্লা
ব্যাখ্যা
• সমীভবন বা সমীকরণ:
শব্দের মধ্যে পাশাপাশি অবস্থিত অসম ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সুবিধার্থে একে অপরের প্রভাবে সঙ্গতি বা সাম্য লাভকরলে, তাকে বলা হয় সমীভবন বা সমীকরণ।
যেমন- জন্ম > জন্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

সমীভবন তিন রীতির হয়। যথা- (ক) প্রগত সমীভবন, (খ) পরাগত সমীভবন, (গ) অন্যোন্য সমীভবন।

ক. প্রগত সমীভবন:
পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী অসম ব্যঞ্জনধ্বনি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সমতা প্রাপ্ত হয়। যেমন-পক্ব > পক্ক, পূর্ববর্তী 'ক'-এর প্রভাবে পরবর্তী 'ব' উচ্চারণে 'ক'-তে রূপান্তরিত হয়ে সাম্য লাভ করেছে।
একইভাবে,
- চন্দন > চন্নন,
- গলদা > গল্লা,
- স্বর্ণ > সন্ন,
- পদ্ম > পদ্দ,
- রাজ্য > রাজ্জ,
- চক্র > চক্কর,
- লগ্ন > লগ্ন ইত্যাদি।

--------------------
অন্যদিকে, 
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন-
অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই - প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ> কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রু > ভুরু ইত্যাদি।
এ - গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও - শ্লোক > শোলোক, মুরগ> মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

• অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন: দিশ্ > দিশা, পোখত্ > পোক্ত, বেঞ্চ > বেঞ্চি, সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ। যেমন- বসতি > বস্তি, জানালা > জান্না ইত্যাদি।
ক. আদিস্বরলোপ (Aphesis): যেমন- অলাবু > লাবু > লাউ, উদ্ধার > উধার > ধার।
খ. মধ্যস্বর লোপ (Syncope): অগুরু > অগ্নু, সুবর্ণ > স্বর্ণ
গ. অন্ত্যস্বর লোপ (Apocope): আশা > আশ, আজি > আজ, চারি > চার (বাংলা), সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৪৩৬.
"রত্ন > রতন" - কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. আদি স্বরাগম
  2. স্বরসংগতি
  3. অপনিহিতি
  4. বিপ্রকর্ষ
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা

• 'রত্ন > রতন'- মধ্যস্বরাগম, 'বিপ্রকর্ষ' বা স্বরভক্তি এর উদাহরণ।

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি: 
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্যস্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ।
যেমন : গ্রাম > গেরাম।

আরো কয়েকটি উদাহরণ
- রত্ন > রতন,
- প্রীতি > পিরীতি,
- ধর্ম > ধরম,
- স্বপ্ন > স্বপন ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৪৩৭.
‘ত্বরান্বিত’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ত্বরা + ন্বিত
  2. ত্বরা + অন্বিত
  3. ত্বর্‌ + অন্বিত
  4. ত্বরা + আনিত
সঠিক উত্তর:
ত্বরা + অন্বিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্বরা + অন্বিত
ব্যাখ্যা
• ‘ত্বরান্বিত’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - ত্বরা + অন্বিত।
-------------- 
• স্বরসন্ধির সাথে স্বরসন্ধির মিলনের নাম স্বরসন্ধি।
সূত্র: অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয় মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।  
যেমন:
♦ অ + আ = আ;
-  বিদ্যা + আলায় = বিদ্যালয়।
-  হিম + আলয় = হিমালয়।

♦ আ + অ = আ;
- যথা + অর্থ = যথার্থ।
- ত্বরা + অন্বিত = ত্বরান্বিত।

♦ অ + অ = আ;
- চর + অচর = চরাচর।
- নর+অধম = নরাধম।

♦ আ + আ = আ;
- মহা + আকাশ = মহাকাশ।
- কারা + আগার = কারাগার।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যেতিভূষণ চাকী।
৫,৪৩৮.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ?
  1. গোষ্পদ
  2. তস্কর
  3. ষোড়শ
  4. অন্যান্য
সঠিক উত্তর:
অন্যান্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্যান্য
ব্যাখ্যা
• কতগুলো নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি:
- কুল + অটা = কুলটা (কুলাটা নয়),
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ (গবক্ষ নয়),
- প্র + উঢ় = প্রৌঢ় (প্রোঢ় নয়),
- অন্য + অন্য = অন্যান্য,
- মার্ত + অন্ড = মার্তন্ড,
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

• কতগুলো নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
- আ+ চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোম্পদ,
- বন্ + পতি = বনস্পতি 
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- তৎ+ কর = তস্কর,
- পর্ + পর = পরস্পর,
- মনস্ + ঈষা = মনীষা,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক্ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম- দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৪৩৯.
কোনগুলো অঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. চ, ট, প, ঠ
  2. ত, ঙ, ম, হ
  3. থ, ড, ভ, ব
  4. ন, র, ল, স
সঠিক উত্তর:
চ, ট, প, ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চ, ট, প, ঠ
ব্যাখ্যা
• অঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি - চ, ট, প, ঠ
 
ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘোষ ও অঘোষ।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যথা: , , , দ, ধ, , , , , ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ,

অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যথা: , ফ, ত, থ, স, , , , ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৪৪০.
‘হুঁশিয়ার’ শব্দে ষ ব্যবহৃত হয়নি কেন?
  1. ক) সংস্কৃত শব্দ বলে
  2. খ) বিদেশি শব্দ বলে
  3. গ) অর্ধসংস্কৃত শব্দ বলে
  4. ঘ) তদ্ভব শব্দ বলে
সঠিক উত্তর:
খ) বিদেশি শব্দ বলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিদেশি শব্দ বলে
ব্যাখ্যা
ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নায়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে স হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

• প্রশ্নে দেয়া ‘হুঁশিয়ার’ শব্দটি ফারসি শব্দ, তাই ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি শব্দে ষ এর ব্যবহার প্রযোজ্য নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৪৪১.
‘শুক্রবার >শুক্কুরবার’ কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. প্রগত সমীভবন
  2. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  3. বিপ্রকর্ষ
  4. ব্যাঞ্জনদ্বিত্বা
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
⇒ মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ - রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ; বস্‌তি > বসতি ইত্যাদি।
ই - প্রীতি > পিরীতি; ক্লিপ > কিলিপ; ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক; ভ্রু > ভুরু; শুক্রবার >শুক্কুরবার ইত্যাদি।
এ - গ্রাম > গেরাম; প্রেক > পেরেক; স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও - শ্লোক > শোলক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
⇒ প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন: চক্র > চক্ক;  পক্ব > পক্ক; পদ্ম > পদ্দ; লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

⇒ দ্বিত্ব ব্যাঞ্জন বা ব্যাঞ্জনদ্বিত্বা:
কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দুই বার উচ্চারণ হয়, একে বলে দ্বিত্ব ব্যাঞ্জন বা ব্যাঞ্জনদ্বিত্বা।
যেমন: পাকা > পাক্কা; সকাল > সক্কাল ইত্যাদি।

⇒ ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি । অর্থাৎ পদের অন্তর্গত কোনো বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে ।
যেমন- শাক > শাগ, ধোবা > ধোপা, কবাট > কপাট, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪৪২.
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি কোনটি?
  1. ক) স্বল্প
  2. খ) ষোড়শ
  3. গ) ষড়ানন
  4. ঘ) অহর্নিশ
সঠিক উত্তর:
খ) ষোড়শ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ষোড়শ
ব্যাখ্যা
• কিছু ব্যঞ্জনসন্ধি নিয়ম ছাড়া হয়, সেগুলােকে নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
যেমন – ষট্‌+দশ = ষোড়শ 
আরও কিছু নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি- 

গাে+পদ = গােষ্পদ,
এক+দশ = একাদশ,
বৃহৎ+পতি = বৃহস্পতি
পতট+অঞ্জলি = পতঞ্জলি 
বন্‌+পতি = বনস্পতি 
পর্‌+পর = পরষ্পর
আ+চর্য = আশ্চর্য
তৎ+কর = তস্কর ইত্যাদি।

অহঃ+নিশ= অহর্নিশ - বিসর্গসন্ধি 
ষট্‌+আনন = ষড়ানন - ব্যঞ্জনসন্ধি 
সু + অল্প = স্বল্প - স্বরসন্ধি 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪৪৩.
'মনস্কামনা' কোন ধরনের সন্ধির উদাহরণ?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. বিসর্গ সন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ সন্ধি
ব্যাখ্যা
• 'মনস্কামনা' বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।

বিসর্গ সন্ধি:
সংস্কৃত সন্ধির নিয়মে পদের অন্তস্থিত র্‌ ও স্‌ অনেক ক্ষেত্রে অঘোষ উষ্মধ্বনি অর্থাৎ হ ধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয় এবং তা বিসর্গ (ঃ) রূপে লেখা হয়।
- র্‌ ও স্‌ বিসর্গ ব্যঞ্জনধ্বনিমালার অন্তর্গত। সে কারণে বিসর্গ সন্ধি ব্যঞ্জনসন্ধির অন্তর্গত।
- বস্তুত বিসর্গ র্‌ এবং স্‌ এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
- বিসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. র্‌ - জাত বিসর্গ ও 
২. স্‌ - জাত বিসর্গ।
বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্‌ ও স্‌ - এর সাথে স্বরধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।

• বিসর্গ সন্ধির নিয়মানুসারে,
অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশ্ ধ্বনি (ষ) হয়।
যেমন -
- অ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (স্ + ক) ⇒ নমঃ + কার = নমস্কার। 
- অ এর পরে বিসর্গ ঃ + খ = = (স্ + খ) ⇒ পদঃ + খলন = পদস্খলন।
- ই এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (ষ + ক) ⇒ নিঃ + কর = নিষ্কর।
- উ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (ষ + ক) ⇒ দুঃ + কর = দুষ্কর।

এরূপ - পুরস্কার, মনস্কামনা, তিরস্কার, চতুষ্পদ, নিষ্ফল, নিষ্পাপ, দুষ্প্রাপ্য, বহিষ্কৃত, দুষ্কৃতি, আবিষ্কার, চতুষ্কোণ, বাচস্পতি, ভাস্কর ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৪৪৪.
'শিক্ষা' শব্দের সংযুক্ত বর্ণ কোন কোন বর্ণ নিয়ে গঠিত-
  1. ক + হ
  2. হ + ম
  3. ক + ষ
  4. ষ + ক
সঠিক উত্তর:
ক + ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক + ষ
ব্যাখ্যা

• ক্ষ = ক + ষ, যেমন- বক্ষ, রক্ষা, শিক্ষা ইত্যাদি।
• হ্ম = হ + ম, যেমন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
• জ্ঞ = জ + ঞ, যেমন- জ্ঞান, বিজ্ঞ ইত্যাদি।
• ষ্ণ = ষ + ণ, যেমন- কৃষ্ণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৪৪৫.
'দুরুচ্চার্য' এ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দুরঃ + চার্য
  2. দুর + আচার্য
  3. দুঃ + উচ্চার্য
  4. দু + উচ্চার্য
সঠিক উত্তর:
দুঃ + উচ্চার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুঃ + উচ্চার্য
ব্যাখ্যা
• 'দুরুচ্চার্য' এর সন্ধি বিচ্ছেদ : 'দুঃ + উচ্চার্য'। 
 
• কিছু বিসর্গ সন্ধির সন্ধি বিচ্ছেদ হলো: 
- প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ,
- পুনঃ + আয় = পুনরায়,
- অন্তঃ + ধান = অন্তর্ধান,
- অন্তঃ + গত = অন্তর্গত,
- পুনঃ + উক্ত = পুনরুক্ত,
- অহঃ + অহ = অহরহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ। 
৫,৪৪৬.
বাংলায় অর্ধস্বরধ্বনি কতটি?
  1. ক) ১১টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৭টি
  4. ঘ) ১০ টি
সঠিক উত্তর:
খ) ৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪টি
ব্যাখ্যা
যে সব স্বর ধ্বনি পুরোপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলোকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
বাংলায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি:
- ই্
- এ্
- উ্ এবং
- ও্ 

স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনোভাবেই দীর্ঘ করা যায় না।
যেমন- 'চাই' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে 'আ' এবং 'ই্' এখানে 'আ' হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি 'ই্' হলো অর্ধ স্বরধ্বনি।  

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ]
৫,৪৪৭.
কোন নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি গঠিত হয়?
  1. ক) স্বর + ব্যঞ্জন
  2. খ) বিসর্গ + ব্যঞ্জন
  3. গ) ব্যঞ্জন + বিসর্গ
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ক) স্বর + ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্বর + ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনসন্ধি
- স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

সাধারণত, ব্যঞ্জনসন্ধি  তিন নিয়মে হয়: 
১. স্বর + ব্যঞ্জন
২. ব্যঞ্জন + স্বর
৩. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৪৪৮.
শুদ্ধ যুক্তবর্ণ কোনটি?
  1. হ্ + ষ + ম = হ্ম
  2. হ্ + উ = হু
  3. হ্ + ণ = হৃ
  4. হ্ + ঋ = হ্ন
সঠিক উত্তর:
হ্ + উ = হু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্ + উ = হু
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ যুক্তবর্ণ - হ্ + উ = হু

অন্যদিকে,
- হ্ + ম = হ্ম,
- হ্ + ঋ = হৃ,
- হ্ + ন = হ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।
৫,৪৪৯.
'দৃশ্য' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. দৃশ্‌শো
  2. দ্রিশ্‌শো
  3. দ্রিশ্‌শ্য
  4. দ্রিশ্‌শ
সঠিক উত্তর:
দ্রিশ্‌শো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রিশ্‌শো
ব্যাখ্যা
ঋ বর্ণের উচ্চারণ [রি]-এর মতো:

যেমন:
- ঋতু [রিতু], ঋণ [রিন্, কৃষক [ক্রিশক্], দৃশ্য [দ্রিশ্‌শো]

বর্ণের উচ্চারণ:
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মূল ধ্বনিকে প্রকাশ করার জন্য রয়েছে ৫০টি মূল বর্ণ। এর মধ্যে অধিকাংশ বর্ণের উচ্চারণ মূল ধ্বনির অনুরূপ। কয়েকটি বর্ণের একাধিক উচ্চারণ রয়েছে। আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে একাধিক বর্ণের উচ্চারণ অভিন্ন। ধ্বনিগুলো দিয়ে শব্দ তৈরি হওয়ার সময়ে পাশের ধ্বনির প্রভাবে বর্ণের উচ্চারণ অনেক সময়ে বদলে যায়। এখানে বাংলা বর্ণের উচ্চারণ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৪৫০.
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. একাদশ
  2. বৃহস্পতি
  3. গবেশ্বর
  4. আশ্চর্য
সঠিক উত্তর:
গবেশ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গবেশ্বর
ব্যাখ্যা
• গো + ঈশ্বর = গবেশ্বর - নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি।

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
কতগুলাে সন্ধি কোনাে নিয়মে সাধিত হয় না এমন সন্ধিকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কিছু নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি:
- পর্ + পর = পরস্পর,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গাে + পদ = গােষ্পদ,
- বন্ + পতি = বনস্পতি,
- ষট্ + দশ = ষােড়শ,
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- মনস্ + ঈষা = মনীষা,
- এক + দশ = একাদশ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,৪৫১.
বাংলা বানানে ‘ণ’ এর প্রয়োগ কোন ক্ষেত্রে সঠিক?
  1. ক) তৎসম শব্দে
  2. খ) তদ্ভব শব্দে
  3. গ) দেশি শব্দে
  4. ঘ) বিদেশি শব্দে
সঠিক উত্তর:
ক) তৎসম শব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) তৎসম শব্দে
ব্যাখ্যা

১৯৯২ সালের বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের বেশ কয়েকটি নিয়ম প্রণয়ন করেছে।
তার মধ্যে একটি হলো-
তৎসম শব্দের বানানে ণ-ত্ব বিধানের শুদ্ধতা রক্ষা করতে হবে।
যেমন: মাণিক্য, গণ, লবণ, বেণু, কঙ্কণ, কল্যাণ, শোণিত, মণি ইত্যাদি।

অতৎসম বানানে ণ হবে না। তার বদলে হবে ন। 
যেমন: অঘ্রান, কান, গুনতি, ঝরনা, ইরান, কুরান ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, বাংলা একাডেমি অভিধান।

৫,৪৫২.
'দণ্ডাদেশ' শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দণ্ডা + অদেশ
  2. দণ্ড + দেশ
  3. দণ্ডা + আদেশ
  4. দণ্ড + আদেশ
সঠিক উত্তর:
দণ্ড + আদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দণ্ড + আদেশ
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয় মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
• অ + আ = আ;
- হিম + আলয় = হিমালয়।
- সিংহ + আসন = সিংহাসন।
- দণ্ড + আদেশ = দণ্ডাদেশ।
- হত + আশ = হতাশ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪৫৩.
'প্রাতরাশ' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কী?
  1. প্রাতঃ + রাশ
  2. প্রাত + রাশ
  3. প্রাতো + রাশ
  4. প্রাতঃ + আশ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
প্রাতঃ + আশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাতঃ + আশ
ব্যাখ্যা
• সূত্র:
- অ-কারের পরস্থিত র্‌-জাত বিসর্গের পর উপর্যুক্ত ধ্বনিসমূহের কোনটি থাকলে বিসর্গ স্থানে 'র' হয়।
যেমন -
- প্রাতঃ + আশ = প্রাতরাশ,
- পুনঃ + আয় = পুনরায়,
- অন্তঃ + ধান = অন্তর্ধান,
- অন্তঃ + গত = অন্তর্গত,
- পুনঃ + উক্ত = পুনরুক্ত,
- অহঃ + অহ = অহরহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।।
৫,৪৫৪.
দুটি ব্যঞ্জনধ্বনির মধ্যে পরস্পর স্থান পরিবর্তনকে কী বলে?
  1. ক) ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. খ) ধ্বনি বিপর্যয়
  3. গ) অপিনিহিতি
  4. ঘ) বিপ্রকর্ষ
  5. ঙ) অভিশ্রুতি
সঠিক উত্তর:
খ) ধ্বনি বিপর্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা
ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণঃ- রিক্‌সা > রিস্‌কা, বাক্‌স > বাস্‌ক।
৫,৪৫৫.
নিম্ন - মধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি কোনটি? 
  1. উ 
  2. অ্যা
  3. এ 
সঠিক উত্তর:
অ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যা
ব্যাখ্যা

• [অ্যা] নিম্ন-মধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি।

অন্যদিকে,
- [ই] উচ্চ সম্মুখ স্বরধ্বনি।
- [উ] উচ্চ পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

- [এ]  উচ্চ-মধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি।
- [ও]  উচ্চ-মধ্য পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

- [অ্যা]  নিম্ন - মধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি।
- [অ]  নিম্ন - মধ্য পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

- [আ]  নিম্ন মধ্য স্বরধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)। 

৫,৪৫৬.
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুসারে কোন বাক্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) সকল অতৎসম শব্দে কেবল ই বা উ কারচিহ্ন ব্যবহৃত হবে।
  2. খ) পদাশ্রিত নির্দেশক টি-তে ঈ-কার হবে।
  3. গ) সর্বনাম পদরূপে কী শব্দটি ঈ- কার দিয়ে লেখা হবে।
  4. ঘ) অতৎসম শব্দের বানানে 'ণ' ব্যবহার করা যাবেনা।
সঠিক উত্তর:
খ) পদাশ্রিত নির্দেশক টি-তে ঈ-কার হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পদাশ্রিত নির্দেশক টি-তে ঈ-কার হবে।
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
পদাশ্রিত নির্দেশক টি-তে ই-কার হবে।   
যেমন- ছেলেটি, বইটি, লোকটি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৫,৪৫৭.
যৌগিক স্বরধ্বনি কোনটি?
  1. ঊ 
  2. ঈ 
  3. ঔ 
  4. এ 
সঠিক উত্তর:
ঔ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঔ 
ব্যাখ্যা

• বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে। ঐ, ঔ – এ দুটি দ্বিস্বর বা যৌগিক স্বরধ্বনির চিহ্ন।

• ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [ই্‌]।
• একইভাবে ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [উ্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৫,৪৫৮.
বাংলা স্বরসন্ধির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) পুনর্জীবন
  2. খ) শাঁখারি
  3. গ) সংস্কৃত
  4. ঘ) সঞ্চয়
সঠিক উত্তর:
খ) শাঁখারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শাঁখারি
ব্যাখ্যা
বাংলা শব্দের স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনে যে সন্ধি হয় তাকে বাংলা স্বরসন্ধি বলে। যেমনঃ শাঁখা+আরি= শাঁখারি। এরূপ রূপালি, কতেক, নিন্দুক, হিংসুক ইত্যাদি। শুভেচ্ছা, যথেষ্ট, বিদ্যালয় ও মহার্ঘ হলো সংস্কৃত স্বরসন্ধি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী
৫,৪৫৯.
নিচের কোনটি সমীভবন এর উদাহরণ?
  1. ধােবা > ধােপা
  2. কাক > কাগ
  3. মুলা > মুলো
  4. গল্প > গপ্প
সঠিক উত্তর:
গল্প > গপ্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্প > গপ্প
ব্যাখ্যা
• সমীভবন:
উচ্চারণের সময় পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি একই রকম হয়ে যাওয়া, কিংবা একই রকম হওয়ার প্রবণতাকে বলা হয় সমীভবন।

সমীভবন তিন প্রকার। যথা:
- পরাগত সমীভবন,
- প্রগত সমীভবন ও 
- অন্যোন্য সমীভবন।

• পরাগত সমীভবন:
সমীভবন ঘটিত পরিবর্তনটি যদি প্রথম ধ্বনির ক্ষেত্রে ঘটে এবং প্রথম ধ্বনি পরের ধ্বনির মতো হয়, তখন তা পরাগত সমীভবন হয়।
যেমন:
- গল্প > গপ্প;
- তৎ + জন্য > তজ্জন্য;
- তৎ + হিত > তদ্ধিত;
- উৎ + মুখ >উন্মুখ
- বদ্ + জাত > বজ্জাত ইত্যাদি।

-------------
• ঘোষীভবন:
অঘোষ ধ্বনি যখন ঘোষবৎ উচ্চচারিত হয় তখন তাকে বলে ঘোষীভবন।
যেমন:
- শাক > শাগ,
- কাক > কাগ ইত্যাদি।

• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধােবা > ধােপা,
- ধাইমা > দাইমা,
- লেবু > নেবু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৪৬০.
কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়?
  1. সু + অল্প = স্বল্প
  2. নৈ + অক = নায়ক
  3. জন + ঐক = জনৈক
  4. প্রতি + এক = প্রত্যেক
সঠিক উত্তর:
জন + ঐক = জনৈক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন + ঐক = জনৈক
ব্যাখ্যা
• 'জন + ঐক = জনৈক' - সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়।
- সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: 'জন + এক = জনৈক'। 


• 'ই/ঈ + অন্য স্বর = য্ + স্বর' সূত্রানুযায়ী সঠিক - প্রতি + এক = প্রত্যেক।

অন্যদিকে,
- উ/ঊ + অন্য স্বর = বৃ + স্বর। যেমন - সু + অল্প = স্বল্প।
- ঐ + অন্য স্বর = আ + স্বর। যেমন – নৈ + অক = নায়ক।
- অ/আ + এ/ঐ = ঐ । যেমন - জন + এক = জনৈক।

স্বরসন্ধি:

- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
- অ/আ + অ/আ = আ। যেমন – উত্তর + অধিকার = উত্তরাধিকার, আশা + অতীত = আশাতীত,
- ই/ঈ + ই/ঈ = ঈ। যেমন – অতি + ইন্দ্রিয় = অতীন্দ্রিয়, পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা,
- উ/ঊ + উ/ঊ = উ। যেমন - মরু + উদ্যান = মরূদ্যান,
- অ/আ + ই/ঈ = এ । যেমন - শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৪৬১.
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি নয় কোনটি?
  1. আ + চর্য = আশ্চর্য
  2. পর্‌ + পর = পরস্পর
  3. ষট্ + দশ = ষোড়শ
  4. গৈ + অক = গায়ক
সঠিক উত্তর:
গৈ + অক = গায়ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৈ + অক = গায়ক
ব্যাখ্যা
• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
- বন্‌ + পতি = বনস্পতি,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- পর্‌ + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক্‌ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
সন্ধির নিয়ম: 
এ কিংবা ঐ এর পরে অন্য কোন স্বরধ্বনি থাকলে ‘এ’ এর জায়গায় ‘অয়’ এবং ‘ঐ’ এর জায়গায় ‘আয়’ হয়। 
যেমন - 
• 'গায়ক' এর সন্ধি বিচ্ছেদ = গৈ + অক। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৪৬২.
কোনটি পশ্চাৎ স্বরধ্বনি?
  1. অ্যা
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন প্রকার।
যথা:
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি,
২. মধ্য স্বরধ্বনি ও
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

• সম্মুখ স্বরধ্বনি: সম্মুখ স্বর‌ধ্বনির উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
- যেমন: [ই], [এ], [অ্যা] ইত্যাদি সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

• মধ্য স্বরধ্বনি: মধ্য স্বরধ্বনি হচ্ছে [আ]।

• পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়। [অ], [ও], [উ] ইত্যাদি পশ্চাৎ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৪৬৩.
নিচের কোন শব্দে স্বরে-ব্যঞ্জনে সন্ধি হয়েছে?
  1. সচ্চিন্তা
  2. উচ্ছেদ
  3. কথাচ্ছলে
  4. বিপচ্চয়
সঠিক উত্তর:
কথাচ্ছলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথাচ্ছলে
ব্যাখ্যা

স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়।
যথা-
অ + ছ = চ্ছ: এক + ছত্র = একচ্ছত্র।
আ + ছ = চ্ছ: কথা + ছলে = কথাচ্ছলে।
ই + ছ = চ্ছ: পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।

এরূপ-
মুখচ্ছবি, বিচ্ছেদ, পরিচ্ছেদ, বিচ্ছিন্ন, অঙ্গচ্ছেদ, আলোকচ্ছটা, প্রতিচ্ছবি, প্রচ্ছদ, আচ্ছাদন, বৃক্ষচ্ছায়া, স্বচ্ছন্দে, অনুচ্ছেদ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
---------------------------
ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
ত্ ও দ্–এর পর চ্ ও ছ, থাকলে ত্ ও দ্‌ স্থানে চ্ হয়।
যেমন:
ত্ + চ = চ্চ: সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা।
ত্ + ছ = চ্ছ: উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ।
প্ + চ = চ্চ: বিপদ + চয় = বিপচ্চয়৷
দৃ + ছ = চ্ছ: বিপদ + ছায়া = বিপচ্ছায়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫,৪৬৪.
কোন বর্ণটির সংক্ষিপ্ত রূপ নেই?
  1. ঐ 
  2. আ 
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর- ঘ) অ।
-------------------
• 'অ' নিলীন বর্ণ:
- ‘অ' কোনো বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে দেখা যায় না। কারণ ‘অ’-এর কোনো সংক্ষিপ্ত রূপ নেই।
- কিন্তু 'অ' ছাড়া বাকি স্বরধ্বনিগুলোর সংক্ষিপ্ত রূপ আছে বলে সেগুলো কোনো বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে দেখা যায়।
যেমন :
কর = কর্ + অ (‘অ') দেখা যায় না।
আবার,
করা = কর্ + আ (‘আ’ দেখা যায়)।

- অর্থাৎ ‘অ’ অন্য বর্ণের সঙ্গে লুকিয়ে থাকতে পারে বা নিঃশেষে লীন হয়ে থাকতে পারে বলে নিলীন বর্ণ ।

বর্ণ সম্পর্কিত আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: 
• স্বরবর্ণের মোট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে। এগুলোর নাম কার বর্ণ। যেমন: আ-কার, ই-কার, ঈ-কার, উ-কার, ঊ-কার, ঋ-কার, এ-কার, ঐ-কার, ও-কার, ঔ-কার। 

• ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে ফলা বলে। ব্যঞ্জনবর্ণে মোট ফলা আছে মোট ৬ টি। যেমন: ন-ফলা, ব-ফলা, ম-ফলা, য-ফলা, র- ফলা, ল-ফলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫,৪৬৫.
'ষ্ণ' যুক্তবর্ণটি ভাঙ্গলে কোন দুটি বর্ণ পাওয়া যায়?
  1. ক) ক+ষ
  2. খ) ক+ম
  3. গ) ষ+ণ
  4. ঘ) হ+ম
সঠিক উত্তর:
গ) ষ+ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ষ+ণ
ব্যাখ্যা

ক্ষ = ক+ষ
হ্ম = হ+ম
জ্ঞ = জ+ঞ
ষ্ণ = ষ+ণ

৫,৪৬৬.
ঋ-কার ও র-এর পর ‘ণ’ হয়। - এই বিধানের প্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. ক) কৃপণ
  2. খ) লক্ষণ
  3. গ) ব্যাকরণ
  4. ঘ) অর্পণ
সঠিক উত্তর:
গ) ব্যাকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা
• 'ব্যাকরণ' শব্দে ঋ-কার ও র-এর পর ‘ণ’ হয়' এই বিধান এর ব্যবহার হয়েছে। 

• ণ-ত্ব বিধান অনুসারে,
ঋ, র, ষ -- এই তিন বর্ণের পরে 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ঋণ, তৃণ, ঘৃণা, ঘূর্ণন, মরণ, ব্যাকরণ, কৃষ্ণ, বিষ্ণু, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• ঋ, র, ষ-এর পর স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, ষ, য়, ব, হ, ং থাকলে তার পরবর্তী দন্ত্য ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।
যেমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, ভক্ষণ, রেণু, পাষাণ, নির্বাণ, দর্পণ, গ্রহণ ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ ও মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৪৬৭.
'নাজ্জামাই' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নাতি + জামাই
  2. নাত + জামাই
  3. নাজ + জামাই
  4. নাতিন + জামাই
সঠিক উত্তর:
নাত + জামাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাত + জামাই
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জন সন্ধি:
- ঘরে আর ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে আর ব্যঞ্জনে এবং ব্যঞ্জনে আর স্বরে মিলিত হয়ে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
- প্রকৃত বাংলা ব্যঞ্জন সন্ধি সমীভবন ( Assimilation)-এর নিয়মেই হয়ে থাকে। আর তা-ও মূলত কথ্যরীতিতে সীমাবদ্ধ।

সন্ধির নিয়ম:
- চ-বর্গীয় ধ্বনির আগে যদি ত-বর্গীয় ধ্বনি আসে তাহলে, ত-বর্গীয় ধ্বনি লোপ হয় এবং চ-বর্গীয় ধ্বনির দ্বিত্ব হয়।
- অর্থাৎ ত-বর্গীয় ধ্বনি ও চ-বর্গীয় ধ্বনি পাশাপাশি এলে প্রথমটি লুপ্ত হয়ে পরবর্তী ধ্বনিটি দ্বিত্ব হয়।
যেমন-
- নাত + জামাই = নাজ্জামাই (ত্ + জ=জ্জ),
- বদ্ + জাত = বজ্জাত,
- হাত + ছানি = হাচ্ছানি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫,৪৬৮.
"মাত্রুপদেশ" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মাতৃ + উপদেশ
  2. মাৎ + রুপদেশ
  3. মাত্র + উপদেশ
  4. মাত্রু + উপদেশ
সঠিক উত্তর:
মাতৃ + উপদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাতৃ + উপদেশ
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• প্রথম পদের শেষে ঋ-ধ্বনি এবং দ্বিতীয় পদের প্রথম ঋ ছাড়া অন কোনো স্বরধ্বনি থাকলে আগের ঋ-ধ্বনি র হয় এবং বানানে তার-ফলা হয়ে আগের বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়। পরের স্বরধ্বনি সাধারণত উচ্চারণে অপরিবর্তিত থাকে এবং র-ফলার সঙ্গে জুড়ে যায়।
যেমন:
পিতৃ + অনুমতি = পিত্রনুমতি,
পিতৃ + অর্থে = পিত্রর্থে,
পিতৃ + আলয় = পিত্রালয়,
মাতৃ + আদেশ = মাত্রাদেশ,
মাতৃ + উপদেশ = মাত্রুপদেশ,
পিতৃ + উপদেশ = পিত্রুপদেশ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়ৎ মামুদ।
৫,৪৬৯.
'উদ্যোগ' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. উত + যোগ
  2. উদ্যো + গ
  3. উৎ + যোগ
  4. উদ + যোগ
সঠিক উত্তর:
উৎ + যোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎ + যোগ
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন ধ্বনিসমূহের যে কোনো বর্গের অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনির পর যে কোনো বর্গের ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ তালব্য ধ্বনি, (য > জ), ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ ধ্বনি (ব), ঘোষ কম্পনজাত দন্তমূলীয় ধ্বনি (র) কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি (ব) থাকলে প্রথম অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি ঘোষ অল্পপ্রাণরূপে উচ্চারিত হয়।
যথা:
- বাক্ + দান = বাগদান,
- ষট্ + যন্ত্ৰ ষড়যন্ত্র,
- উৎ + ঘাটন = উদ্‌ঘাটন,
- উৎ + যোগ = উদ্যোগ,
- উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন,
- তৎ + রূপ = তদ্রুপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ সংস্করণ)।
৫,৪৭০.
ধ্বনিতত্ত্ব ভেদে নিম্নের কোন শব্দটি অন্যগুলো থেকে আলাদা?
  1. ক) জিহ্বা
  2. খ) হাত
  3. গ) তালু
  4. ঘ) ঠোঁট
সঠিক উত্তর:
খ) হাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাত
ব্যাখ্যা
হাত ছাড়া বাকি অঙ্গগুলো ধ্বনি উচ্চারণে ভূমিকা রাখে।
৫,৪৭১.
'অকুতোভয়' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অকুতো + ভয়
  2. অকুত + ভয়
  3. অকুতঃ + ভয়
  4. অকুত্ত + ভয়
সঠিক উত্তর:
অকুতঃ + ভয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অকুতঃ + ভয়
ব্যাখ্যা

• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
পূর্বপদের শেষে যদি অঃ (=অস্) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি বর্গের ৩য়, ৪র্থ বা ৫ম বর্ণের ধ্বনি (গ/ঘ, জাঝা, ড/ঢ, দ/ধান, ব/ভ/ম) থাকে, কিংবা অন্তঃস্থ বর্ণ (য/র্ল) অথবা হ থাকে তবে সন্ধির ফলে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও-ধ্বনি হয় এবং পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়। কিন্তু পূর্বপদের শেষে যদি অঃ (=অস) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি অ থাকে তবে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও হয়ে পূর্ববর্ণে যুক্ত হয় এবং পরের অ-ধ্বনি লোপ পায়।

যেমন:
- ততঃ + অধিক = ততোধিক। 

এরূপ কিছু শব্দ হলো:
- অকুতঃ + ভয় = অকুতোভয়। 
- মনঃ + ভাব = মনোভাব।
- ইতঃ + মধ্যে = ইতোমধ্যে। 
- সদ্যঃ + মুক্ত = সদ্যোমুক্ত।
- মনঃ + যোগ = মনোযোগ।
- মনঃ + রম = মনোরম। 
- শিরঃ + রত্ন = শিরোরত্ন।
- যশঃ + লাভ = যশোলাভ। 
- যশঃ + লিপ্সা = যশোলিপ্সা।
- পুরঃ + হিত = পুরোহিত। 
- মনঃ + হর = মনোহর।
- বয়ঃ + অধিক = বয়োধিক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৪৭২.
'সদৈব' শব্দটির সঠিক বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সদৈ + ব
  2. সদ + এব
  3. সদে + ব
  4. সদা + এব
সঠিক উত্তর:
সদা + এব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সদা + এব
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর এ-কার কিংবা ঐ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঐ-কার হয়; ঐ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।

যেমন:
- সদা + এব = সদৈব,
- জন + এক = জনৈক,
- মত + ঐক্য = মতৈক্য,
- মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫,৪৭৩.
ঋ, র, ষ এর পরে কী হয়?
  1. ন্য
  2. ণ্য
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

 ণত্ব বিধান অনুসারে,
• ঋ, র, ষ - এর পরে মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।

যেমন:
- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ, ব্যাকরণ ইত্যাদি।

- ঋ, র, ষ - এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য়, ব, হ,ং এবং ক - বর্গীয় ও প - বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী 'ন' মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন:
- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্‌, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ণ,) এরূপ- রুক্সিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

• ণত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য- ন-এর ব্যবহার আছে।
- তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণত্ব বিধান ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫,৪৭৪.
অর্ধবিবৃত স্বরধ্বনি কোনটি?




সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

• ঠোঁটের আকৃতি অনুযায়ী বাংলা স্বরধ্বনি ৪ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
সংবৃত: ২টি (ই, উ)।
অর্ধসংবৃত: ২টি (এ, )।
বিবৃত: ১টি (আ)।
অর্ধবিবৃত: ২টি (অ্যা, অ)।

---------------------
• জিভের উচ্চতা অনুযায়ী বাংলা স্বরধ্বনি ৪ প্রকার। যথা:
উচ্চ-স্বরধ্বনি: ২টি (ই, উ);
উচ্চমধ্য-স্বরধ্বনি: ২টি (এ, ও);
নিম্নমধ্য-স্বরধ্বনি: ২টি (অ্যা, অ);
নিম্ন-স্বরধ্বনি: ১টি (আ)।

• জিভের অগ্রপশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী বাংলা স্বরধ্বনি ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
সম্মুখ স্বরধ্বনি: ৩টি (ই, এ, অ্যা)।
কেন্দ্রীয় স্বরধ্বনি: ১টি (আ)।
পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: ৩টি (অ, ও, উ)।

• কোমল তালুর অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি ২ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
মৌখিক স্বরধ্বনি: ৭টি স্বরধ্বনির স্বাভাবিক উচ্চারণ
অনুনাসিক স্বরধ্বনি: ৭টি স্বরধ্বনির অনুনাসিক উচ্চারণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াত মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ)।

৫,৪৭৫.
কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনধ্বনি:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখের বাইরে বের হওয়ার আগে বাক্প্র‌ত্যঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বাধা পায়, সেগুলোকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে।

• ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট, জিভ, জিভমূল ইত্যাদি বাক্প্র‌ত্যঙ্গের আকৃতিগত পরিবর্তন হয়। এতে বায়ুপথে সৃষ্ট বাধার ধরন আলাদা হয়ে উচ্চারণের প্রকৃতি বদলে যায়।
- উচ্চারণের এই প্রকৃতি অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা: স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন, নাসিক্য ব্যঞ্জন, উষ্ম ব্যঞ্জন, পার্শ্বিক ব্যঞ্জন, কম্পিত ব্যঞ্জন, তাড়িত ব্যঞ্জন ইত্যাদি।

উষ্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্র‌ত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলোকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
- সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।
- উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলোকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ) - এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
এগুলোর মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শ্বাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতো আওয়াজ হয়।

পার্শ্বিক ব্যঞ্জন:
যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা দন্তমূল স্পর্শ করে এবং ফুসফুস থেকে আসা বাতাস জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তাকে পার্শ্বিক ব্যঞ্জন বলে।
- লাল শব্দে '' পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

কম্পিত ব্যঞ্জন:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
- কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের '' কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

তাড়িত ব্যঞ্জন:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
- বাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ড়, ঢ় তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৪৭৬.
'অন্তর্ভুক্তিমুলক' শব্দ উচ্চারণে কয়টি অক্ষর পাওয়া যায়?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) ৬।

• 'অন্তর্ভুক্তিমূলক' শব্দটির উচ্চারণ বিশ্লেষণ:
'অন্তর্ভুক্তিমূলক' উচ্চারণে ৬টি পৃথক অক্ষর পাওয়া যায়।
উচ্চারণ: অন্-তোর্-ভুক্-তি-মূ-লক।
মোট অক্ষর = ৬টি।

• অক্ষর:

এর ইংরেজি নাম - syllable. অল্প প্রয়াসে যে ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ একবারে উচ্চারিত হয় তাকে অক্ষর বলে। তাই একে শব্দাংশ ও বলা হয়।

• অক্ষর মূলত দুই প্রকার।
যথা-
- মুক্তাক্ষর: টানা যাবে না (যেমন- ক/লা)।
- বদ্ধাক্ষর: টানা যাবে (যেমন- দিন, রাত)।

যেমন: 'বিশ্ববিদ্যালয়' শব্দে ৫টি অক্ষর রয়েছে (বি + শ্ব + বি + দ্যা + লয়)।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা কবিতার ছন্দ ও অক্ষর বিশ্লেষণ।
৫,৪৭৭.
'হরিণ' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) হোরিন্‌
  2. খ) হুরিণ্‌
  3. গ) হোরিণ্‌
  4. ঘ) হুরিন্‌
সঠিক উত্তর:
ক) হোরিন্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হোরিন্‌
ব্যাখ্যা
- 'হরিণ' শব্দের সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে হোরিন্‌।

• ণ বর্ণের উচ্চারণ [ন্‌]:
- কণা [কনা],
- বাণী [বানি],
- হরিণ [হোরিন্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২)।
৫,৪৭৮.
স্বভাবতই 'ষ' হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ভবিষ্যৎ
  2. পরিষ্কার
  3. ভূষণ
  4. উৎকৃষ্ট
সঠিক উত্তর:
ভূষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূষণ
ব্যাখ্যা

ষ ব্যবহারের নিয়ম:
১. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

২. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

৩. ঋ'এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
৪. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ ইত্যাদি।

৫. র- ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'ষ' হয়। যথা: পরিষ্কার। কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যথা: পুরস্কার।
৬. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়। যথা: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

৭. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়।
যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

'ষ' এর ব্যবহার প্রযোজ্য নয় যেসব ক্ষেত্রে-
বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও ষ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৪৭৯.
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ কোনটি?
  1. প 
  2. হ 
  3. ত 
  4. ন 
সঠিক উত্তর:
হ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ 
ব্যাখ্যা

• কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
- “হ” কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
 ---------------
• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত।
- ”প, ফ, ব, ভ, ম” ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- ”ত, থ, দ, ধ” দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- ”ন, র, ল, স” দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে,সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- “ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ়” মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়েজিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- ”চ, ছ, জ, ঝ, শ” তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
 - ”ক, খ, গ, ঘ, ঙ” কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২৫)।

৫,৪৮০.
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, তাকে কী বলে?
  1. ব্যঞ্জনধ্বনি
  2. মৌলিক ধ্বনি
  3. যুগ্মধ্বনি
  4. স্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
স্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনি:
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে।

উল্লেখ্য,
ব্যঞ্জনধ্বনি:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখের বাহিরে বের হওয়ার আগে বাকপ্রত্যঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বাধা পায়, সেগুলোকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
৫,৪৮১.
তাড়নজাত ধ্বনি কোনটি?
  1. শ 
  2. র 
  3. ল 
  4. ঢ়
সঠিক উত্তর:
ঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢ়
ব্যাখ্যা

• তাড়নজাত ব্যঞ্জনধ্বনি:
তাড়িত ব্যঞ্জন যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতাে করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
যেমন, 
বাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ড়, ঢ় তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে, 
• ঘর্ষণজাত ব্যঞ্জনধ্বনি:
এ ধ্বনি উচ্চারণের সময় দুটি বাগযন্ত্র খুব কাছাকাছি আসে; কিন্তু একসঙ্গে যুক্ত হয় না। ফলে বাতাস বাধা পায় ও সংকীর্ণ পথে বের হওয়ার সময় ঘর্ষণের সৃষ্টি করে বলে এগুলি ঘর্ষণজাত ধ্বনি বলা হয়। উচ্চারণস্থান অনুযায়ী বাংলা ঘর্ষণজাত ধ্বনি হচ্ছে দন্তমূলীয়/স/ বস্তু, কাস্তে, তালব্য: /শ/ দাশ, রাশ, হ্রাস, কণ্ঠনালীয়: /হ/ হাট, হনহন।

• কম্পনজাত ব্যঞ্জনধ্বনি:
জিভ কম্পিত হয়ে বা দন্তমূল বারবার আঘাত করে উচ্চারিত হয় বলে এ-জাতীয় ব্যঞ্জনগুলিকে বলে কম্পনজাত। এ শ্রেণির বাংলা ব্যঞ্জন একটি /র/ যেমন- বার, ধার।

• পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনি:
বাতাস জিভের এক পাশ বা দু-পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায় বলে এসব ব্যঞ্জনকে বলে পার্শ্বিক। বাংলায় এ শ্রেণির ধ্বনি একটি: ল - তাল, শাল। 

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম-দশম শ্রেণি,  (২০২১ সংস্করণ)।

৫,৪৮২.
সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট
  2. খ) চক্ষু + রোগ = চক্ষুঃরোগ
  3. গ) পরিঃ + কার = পরিস্কার
  4. ঘ) ইতঃ + মধ্যে = ইতোঃমধ্যে
সঠিক উত্তর:
ক) মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট
ব্যাখ্যা

বিসর্গসন্ধি বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়:
১. বিসর্গ বিদ্যমান থাকে: মনঃ+কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃ+পতন = অধঃপতন, বয়ঃ+সন্ধি = বয়ঃসন্ধি
২. বিসর্গ ‘ও’ হয়ে যায়: মনঃ+যােগ = মনােযােগ, তিরঃ+ধান = তিরােধান, তপঃ+বন = তপােবন
৩. বিসর্গ ‘রু হয়ে যায়: নিঃ+আকার = নিরাকার, পুনঃ+মিলন = পুনর্মিলন, আশীঃ+বাদ = আশীর্বাদ
৪. বিসর্গ //স্ হয়: নিঃ+চয় = নিশ্চয়, দুঃ+কর = দুষ্কর, পুরঃ+কার = পুরস্কার
৫. কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়: নিঃ+রব = নীরব, নিঃ+রস = নীরস, নিঃ+রােগ = নীরােগ।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ (২০২১ সংস্করণ)

৫,৪৮৩.
উচ্চারণ প্রকৃতি অনুযায়ী ‘ড়’ একটি-
  1. নাসিক্য ব্যঞ্জন
  2. কম্পিত ব্যাঞ্জন
  3. উষ্ম ব্যঞ্জন
  4. তাড়িত ব্যাঞ্জন
সঠিক উত্তর:
তাড়িত ব্যাঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তাড়িত ব্যাঞ্জন
ব্যাখ্যা
⇒ তাড়িত ব্যঞ্জনের: 
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে। বাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের 'ড়', 'ঢ়' তাড়িত ব্যঞ্জনের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
⇒ কম্পিত ব্যঞ্জন: 
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
- যেমন- কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের 'র' কম্পিত ব্যঞ্জন ধ্বনির উদাহরণ।

⇒ উষ্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
- সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।

⇒ নাসিক্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে প্রথমে বাধা পায় এবং নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়, সেসব ধ্বনিকে নাসিক্য ব্যঞ্জন বলে। মা, নতুন, হাঙর প্রভৃতি শব্দের ম, ন, ও ঙ নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি,  নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৫,৪৮৪.
'উন্নয়ন' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. উঃ + নয়ন
  2. উন + নয়ন
  3. উৎ + নয়ন
  4. উধ + নয়ন
সঠিক উত্তর:
উৎ + নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎ + নয়ন
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়ম:
 নৃ বা ম্ পরে থাকলে ক্ স্থানে ঙ, চ্ স্থানে ঞ, ট্ স্থানে প্, ত স্থানে ন্ এবং প্ স্থানে ম্ হয়, অর্থাৎ বর্গের প্রথম ধ্বনি সন্ধিতে পঞ্চম ধ্বনিতে পরিণত হয়।
যেমন:
- দিক্ + নির্ণয় = দিনির্ণয়,
- দিক্ + নিরূপণ = দিনিরূপণ,
- ষট্ + নবতি = স্বপ্নবতি,
- উৎ + নয়ন = উন্নয়ন,
- উৎ + নতি = উন্নতি, 
- চিৎ + ময় = চিন্ময়,
- মৃৎ + ময় = মৃন্ময়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৪৮৫.
"ভ্রাতুষ্পুত্র" শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ভ্রাতুষ্‌পুত্‌ত্রো
  2. ভ্রাতুশ্‌পুত্‌ত্রো
  3. ভ্রাতুশ্‌পুত্‌ত্র
  4. ভ্রাতুষ্‌পুত্‌ত্র
সঠিক উত্তর:
ভ্রাতুশ্‌পুত্‌ত্রো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রাতুশ্‌পুত্‌ত্রো
ব্যাখ্যা

• "ভ্রাতুষ্পুত্র" শব্দের সঠিক উচ্চারণ - ভ্রাতুশ্‌পুত্‌ত্রো
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- ভাইয়ের ছেলে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫,৪৮৬.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়েছে?
  1. উৎকৃষ্ট
  2. কাষ্ঠ
  3. কৃষক
  4. ষড়ঋতু
সঠিক উত্তর:
ষড়ঋতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষড়ঋতু
ব্যাখ্যা

• ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়।
যেমন:
- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।

২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়।
যেমন:
- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।

কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ, পাষাণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৪৮৭.
বিসর্গ সন্ধির নিয়মে গঠিত শব্দ-
  1. নবোঢ়া
  2. অত্যাচার
  3. হরিশ্চন্দ্র
  4. চতুষ্টয়
সঠিক উত্তর:
চতুষ্টয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুষ্টয়
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম: 
পূর্বপদের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে 'চ্' বা 'ছ' থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে শ্; ট্ বা ঠ থাকলে য; ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।

• সন্ধিজাত শব্দের গঠন:
- নিঃ + চয় = নিশ্চয়। 
- দুঃ + চিন্তা = দুশ্চিন্তা। 
- নিঃ + ছিদ্র = নিশ্ছিদ্র। 
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ। 
- চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়। 
- ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার। 
- নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর। 
- ইতঃ + ততঃ = ইতস্তত। 
- মনঃ + তাপ = মনস্তাপ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র; নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি। 
• নব + উঢ়া = নবোঢ়া; স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত। 
• অতি + আচার = অত্যাচার; স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫,৪৮৮.
'বাবা' ও 'ভাই' শব্দ দুটির শুরুতে কোন ধরনের ব্যঞ্জন ধ্বনি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. কণ্ঠ্য
  2. ওষ্ঠ্য
  3. তালব্য
  4. মূর্ধন্য
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ্য
ব্যাখ্যা

ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জন ধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরচিত।
 যেমন: 
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৫,৪৮৯.
বাংলা ভাষায় কতটি যৌগিক স্বরধ্বনির নিজস্ব বর্ণ বা প্রতীক নেই?
  1. ১২
  2. ২৩
  3. ২৫
সঠিক উত্তর:
২৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩
ব্যাখ্যা

একাধিক স্বরধ্বনি মিলে যে ধ্বনি সৃষ্টি হয় তাকে যৌগিক স্বরধ্বনি বলে।
বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনি মোট ২৫ টি।
২৩ টি যৌগিক স্বরধ্বনির নিজস্ব বর্ণ বা প্রতীক নেই।
মাত্র ২টি যৌগিক স্বরধ্বনির নিজস্ব বর্ণ আছে।
যেমন- ঐ (অ+ই), ঔ (অ+উ)।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৪৯০.
'দুরূহ' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ-
  1. ক) দুঃ + ঊহ্‌
  2. খ) দুঃ + রুহ
  3. গ) দুর + উহ
  4. ঘ) দুর + হ
সঠিক উত্তর:
ক) দুঃ + ঊহ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দুঃ + ঊহ্‌
ব্যাখ্যা
সন্ধিবদ্ধ শব্দে র থাকলে র-এর পরিবর্তে ঃ হয়। যেমন : দুঃ + ঊহ্‌

মূল শব্দ  =  সন্ধি বিচ্ছেদ
নিরাকার  =  নিঃ + আকার।
দুরাচার  =  দুঃ + আচার।
নিরবধি  =  নিঃ + অবধি।
নিরীহ  =  নিঃ + ঈহ।
নিরক্ষর  =  নিঃ + অক্ষর।
দুরবস্থা  =  দুঃ + অবস্থা।
চতুরঙ্গ  =  চতুঃ + অঙ্গ।
অহরহ  =  অহঃ + অহ।
জ্যোতিরিন্দ্র  =  জ্যোতিঃ + ইন্দ্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণী (২০২১ সংস্করণ)। বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ ও হায়াৎ মামুদের ভাষা-শিক্ষা।
৫,৪৯১.
কোনটি প্রগত সমীভবনের উদাহরণ?
  1. বিদ্যা > বিজ্জা
  2. সত্য > সচ্চ
  3. পদ্ম > পদ্দ
  4. সকাল > সক্কাল
সঠিক উত্তর:
পদ্ম > পদ্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্ম > পদ্দ
ব্যাখ্যা
প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'সকাল > সক্কাল' হচ্ছে দ্বিত্ব ব্যঞ্জনের উদাহরণ।
- 'সত্য > সচ্চ' এবং 'বিদ্যা > বিজ্জা' হচ্ছে অন্যোন্য সমীভবনের উদাহরণ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৪৯২.
"রক্তোষ্ঠ" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. রক্ত + উষ্ঠ
  2. রক্তো + উষ্ঠ
  3. রক্তঃ + ওষ্ঠ
  4. রক্ত + ওষ্ঠ
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
রক্ত + ওষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্ত + ওষ্ঠ
ব্যাখ্যা

নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে 'নিপাতনে সিদ্ধ' সন্ধি বলে।

যেমন:
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- স্ব + ঈর = স্বৈর,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- সার + অঙ্গ = সারঙ্গ,
- শুদ্ধ + ওদন (অন্ন) = শুদ্ধোদন,
- রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ,
- বিম্ব + ওষ্ঠ = বিম্বোষ্ঠ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫,৪৯৩.
নিচের কোনটি অল্পপ্রাণ ধ্বনির উদাহরণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ‘প’ হচ্ছে অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি।

• ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা - 
- অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।
 
• অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

• মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন – ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৪৯৪.
'বাঞ্ছিত' শব্দের যুক্তব্যঞ্জনের সঠিক বিশ্লেষণ কোনটি? 
  1. ঞ্‌ + জ
  2. ঞ্‌ + ছ
  3. চ্‌ + ঞ
  4. ঞ্ + ঝ
সঠিক উত্তর:
ঞ্‌ + ছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঞ্‌ + ছ
ব্যাখ্যা
'বাঞ্ছিত' শব্দের যুক্তব্যঞ্জনটি =ঞ্ছ
ঞ্‌ + ছ = ঞ্ছ

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণঃ
- ঙ্ + গ = ঙ্গ
- ঙ্ +ক = ঙ্ক
- ক্ + র = ক্র
- ঞ্ঝ = ঞ্ + ঝ,
- ক্ষ = ক + ষ,
- হ্ম = হ + ম,
- জ্ঞ = জ্‌ + ঞ,
- ষ্ণ = ষ + ণ।

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০১৯]
৫,৪৯৫.
'কারবর্ণ' সম্পর্কে কোনটি সত্য নয়?
  1. কারবর্ণের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই।
  2. ব্যঞ্জনবর্ণের আগে বসে।
  3. ব্যঞ্জনবর্ণের পরে বসে।
  4. ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ।
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ।
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ। - বাক্যটি সত্য নয়।

কারণ,
স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে বলা হয় — কারবর্ণ। 

• কারবর্ণ:
- স্বরবর্ণের মোট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে, এগুলোর নাম কারবর্ণ: া, ি, ী, ু, ূ, ৃ, ে, ৈ, ো, ৌ।
- কারবর্ণের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই।
- এগুলো ব্যঞ্জনবর্ণের আগে, পরে, উপরে, নিচে বা উভয় দিকে যুক্ত হয়।
- কোনো ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হস্‌চিহ্ন না থাকলে ব্যঞ্জনটির সঙ্গে একটি [অ] আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫,৪৯৬.
'রুই' শব্দের মধ্যে কোন কোন স্বরধ্বনি আছে?
  1. ও + ই্
  2. ও + উ্
  3. উ + ই্
  4. এ + ই্
সঠিক উত্তর:
উ + ই্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উ + ই্
ব্যাখ্যা
পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
যেমন - 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ ধ্বনি এবং [উ] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্] তৈরি হয়েছে।
দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ
- [আই্] = তাই, নাই
- [এই্] = সেই, নেই
- [আও্]= যাও, দাও
- [আএ্] = খায়, যায়,
- [উই্,] = দুই, রুই
- [অএ্] = নয়, হয়
- [ওউ্] =মৌ, বউ
- [ওই্] = কৈ, দই
- [এউ্] = কেউ, ঘেউ

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ]
৫,৪৯৭.
কোন শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. কৃপণ
  2. মাণিক্য
  3. হরিণ
  4. ব্রাহ্মণ
সঠিক উত্তর:
মাণিক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাণিক্য
ব্যাখ্যা

‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড, লুণ্ঠন ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

• কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। 
- যেমন: পুণ্য, নিক্কণ, চিক্কণ, লাবণ্য, কল্যাণ, বিপণি, আপণ, গৌণ, ভাণ, শাণ, চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৪৯৮.
জ্ঝ এই বর্ণটি কোন যুক্ত বর্ণের ফলে তৈরী হয়েছে?
  1. ক) জ্‌+ঝ
  2. খ) জ+ব
  3. গ) জ+ক্ষ
  4. ঘ) ঝ+জ
সঠিক উত্তর:
ক) জ্‌+ঝ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জ্‌+ঝ
ব্যাখ্যা
জ্ঝ = জ্‌+ঝ - কুজ্ঝটিকা।
জ্‌+ঞ = জ্ঞ (উচ্চারণ গ্‌গ্যঁ এর মত) - জ্ঞান, বিজ্ঞান, অজ্ঞান, সংজ্ঞা, প্রজ্ঞা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৫,৪৯৯.
যুক্তবর্ণের কোন গঠনটি অশুদ্ধ?
  1. ঞ্‌ + চ = ঞ্চ
  2. ঞ্‌ + ষ = ষ্ণ
  3. ঞ্‌ + জ = ঞ্জ
  4. ঞ্  + ছ = ঞ্ছ
সঠিক উত্তর:
ঞ্‌ + ষ = ষ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঞ্‌ + ষ = ষ্ণ
ব্যাখ্যা

• যুক্তবর্ণের অশুদ্ধ গঠন-  ঞ্‌ + ষ = ষ্ণ। 
- শুদ্ধ গঠন- ষ্‌ + ণ = ষ্ণ। 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ক্ + ট = ক্ট, 
- জ্ + জ = জ্জ,
- ঞ্‌ + চ = ঞ্চ,
- ষ্‌ + ণ = ষ্ণ,
- হ্ + ন = হ্ন,
- ঞ + জ = ঞ্জ, 
- জ + ঞ = জ্ঞ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫,৫০০.
বাগ্‌যন্ত্রের সবচেয়ে সচল অঙ্গ কোনটি?
  1. ক) জিভ
  2. খ) ওষ্ঠ
  3. গ) তালু
  4. ঘ) মূর্ধা
সঠিক উত্তর:
ক) জিভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জিভ
ব্যাখ্যা
ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলােকে একত্রে বাগযন্ত্র বলে।
- মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগযন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। 

জিভ
- মুখগহ্বরের নিচের অংশে জিভের অবস্থান।
- বাগযন্ত্রের মধ্যে জিভ সবচেয়ে সচল ও সক্রিয় প্রত্যঙ্গ।
- জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং মুখগহ্বরের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে জিভের স্পর্শের প্রকৃতি অনুযায়ী ধ্বনির বৈচিত্র্য তৈরি হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।