বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনিতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৬,৩২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনিতত্ত্ব

PrepBank · পাতা ৪১ / ৬৩ · ৪,০০১৪,১০০ / ৬,৩২৭

৪,০০১.
'ত্থ' যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ত + ত
  2. ত + উ
  3. ত + থ
  4. থ + থ
সঠিক উত্তর:
ত + থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত + থ
ব্যাখ্যা
• 'ত্থ' যুক্তবর্ণটি 'ত +থ' বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত। 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ত্ + ত = ত্ত,
- ভ্‌ + র = ভ্র,
- ত্‌ + থ = ত্থ,
- ঙ্‌ + ক = ঙ্ক,
- হ্‌ + ম = হ্ম। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪,০০২.
কোনটি 'অ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ?
  1. অনাথ
  2. অণু 
  3. অতি
  4. অদ্য
সঠিক উত্তর:
অনাথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনাথ
ব্যাখ্যা

• 'অ' বর্ণের উচ্চারণ:
- অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।

• সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।
- অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা্‌], অনাথ [অনাথ্‌]।
- অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্খো‌], অদ্য [ওদ্‌দো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪,০০৩.
সন্ধি সাধিত শব্দ 'নাবিক' কোন ধরনের সন্ধির দৃষ্টান্ত?
  1. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. বিসর্গসন্ধি
  4. স্বরসন্ধি
সঠিক উত্তর:
স্বরসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরসন্ধি
ব্যাখ্যা
- ‘নাবিক ’ শব্দের সন্ধি-বিচ্ছেদ হচ্ছে - নৌ + ইক = নাবিক।
- নৌ + ইক = নাবিক এটি স্বরসন্ধি সাধিত শব্দ।

• এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্‌ ও আব্‌ হয়।
যেমন:
- পৌ + অক = পাবক,
- গো + এষণা = গবেষণা,
- পো + ইত্র = পবিত্র,
- নৌ + ইক = নাবিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
৪,০০৪.
'ন, র, ল' কোন ব্যঞ্জনের উদাহরণ?
  1. দন্তমূলীয়
  2. দন্ত্য
  3. তালব্য
  4. মূর্ধন্য
সঠিক উত্তর:
দন্তমূলীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দন্তমূলীয়
ব্যাখ্যা
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২)।
৪,০০৫.
কোন উষ্ম ব্যঞ্জনের উচ্চারণস্থান কণ্ঠনালীয়?
  1. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• উষ্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
- সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।
- উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলােকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ) – এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলাের মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতাে আওয়াজ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৪,০০৬.
জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি কয় প্রকার?
  1. পাঁচ প্রকার
  2. চার প্রকার
  3. তিন প্রকার
  4. দুই প্রকার
সঠিক উত্তর:
তিন প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন প্রকার
ব্যাখ্যা
• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন প্রকার।
যথা:
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি,
২. মধ্য স্বরধ্বনি ও
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

• সম্মুখ স্বরধ্বনি: সম্মুখ স্বর‌ধ্বনির উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
- যেমন: [ই], [এ], [অ্যা] ইত্যাদি সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

• মধ্য স্বরধ্বনি: মধ্য স্বরধ্বনি হচ্ছে [আ]।

• পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়। [অ], [ও], [উ] ইত্যাদি পশ্চাৎ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০০৭.
‘গো+আদি = গবাদি’ কোন সূত্রে সিদ্ধ সন্ধি?
  1. ও + অন্য স্বর = আব্ + স্বর
  2. ও + অন্য স্বর = অব্ + স্বর
  3. ঔ + অন্য স্বর = অব্ + স্বর
  4. ও + অন্য স্বর = আব্স্ব + র
সঠিক উত্তর:
ও + অন্য স্বর = অব্ + স্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ও + অন্য স্বর = অব্ + স্বর
ব্যাখ্যা
স্বরসন্ধি: 
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
→ এ + অন্য স্বর = অয়্‌ + স্বর। যেমন- শে + অন = শয়ন, 
→ ঐ + অন্য স্বর = আয়্‌ + স্বর। যেমন- নৈ + অক = নায়ক, 
ও + অন্য স্বর = অব্+ স্বর। যেমন- গো + আদি = গবাদি
→ ঔ + অন্য স্বর = আব্ + স্বর। যেমন- নৌ + ইক = নাবিক।
 
- কিছু স্বরসন্ধি সূত্র অনুসরণ করে না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন:
- কুল+অটা = কুলটা (সূত্র অনুসারে কুলাটা হওয়ার কথা)।
- গো+অক্ষ = গবাক্ষ (সূত্র অনুসারে গবক্ষ হওয়ার কথা) ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,০০৮.
কোন বর্গের বর্ণ গুলো দন্তমূলীয়?
  1. ক) চ বর্গ
  2. খ) ত বর্গ
  3. গ) প বর্গ
  4. ঘ) ক বর্গ
সঠিক উত্তর:
খ) ত বর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ত বর্গ
ব্যাখ্যা
ক খ গ ঘ ঙ      ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'কণ্ঠ ধ্বনি'       বর্ণ হিসেবে 'ক' বর্গীয়
চ ছ জ ঝ ঞ    ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'তালব্যধ্বনি'    বর্ণ হিসেবে 'চ' বর্গীয়
ট ঠ ড ঢ ণ       ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'মূর্ধন্য ধ্বনি'    বর্ণ হিসেবে 'ট' বর্গীয়
ত থ দ ধ ন       ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'দন্ত্যধ্বনি'       বর্ণ হিসেবে 'ত' বর্গীয়
প ফ ব ভ ম     ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'ওষ্ঠ্য ধ্বনি'      বর্ণ হিসেবে 'প' বর্গীয়


[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ]
 
৪,০০৯.
'উদ্যম' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হলো-
  1. ক) উদ্‌ + দম
  2. খ) উদ্য + যম
  3. গ) উৎ + দম
  4. ঘ) উৎ + ম
সঠিক উত্তর:
গ) উৎ + দম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উৎ + দম
ব্যাখ্যা
'উদ্যম' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হলো- উৎ + দম। 
- এটি একটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ। 
- এতে ত্‌+য = দ্‌+য সূত্রটি প্রয়োগ ঘটেছে। 
অনুরূপভাবে, উৎ + যোগ = উদ্যোগ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০১০.
নিচের কোনটি ঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
'ঝ'  একটি ঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি।

• ঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি। যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, , গ, ঘ, ঙ, হ।

অঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি, যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,০১১.
একাদশ = এক + দশ কোন প্রকার সন্ধির উদাহণ?
  1. ক) স্বরসন্ধি
  2. খ) ব্যাঞ্জনধ্বনি
  3. গ) নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি
  4. ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ ব্যাঞ্জনধ্বনি
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ ব্যাঞ্জনধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ ব্যাঞ্জনধ্বনি
ব্যাখ্যা

কিছু ব্যঞ্জনসন্ধি নিয়ম ছাড়া হয়। সেগুলকে নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি বলে। 
যেমন: একাদশ = এক + দশ
বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি
গোষ্পদ = গো + পদ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম-দশম শ্রেণি)

৪,০১২.
'মনস্কামনা' কোন ধরনের সন্ধির উদাহরণ?
  1. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  2. বিসর্গ সন্ধি
  3. ব্যঞ্জনসন্ধি
  4. স্বরসন্ধি
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ সন্ধি
ব্যাখ্যা
• 'মনস্কামনা' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - মনঃ + কামনা। 
- এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।
 
• অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশ্ ধ্বনি (ষ) হয়।
যেমন:
- নমঃ + কার = নমস্কার,
- পদঃ + খলন = পদস্খলন,
- নিঃ + কর = নিষ্কর,
- দুঃ + কর = দুষ্কর,

এরূপ - পুরস্কার, মনস্কামনা, তিরস্কার, চতুষ্পদ, নিষ্ফল, নিষ্পাপ, দুষ্প্রাপ্য, বহিষ্কৃত, দুষ্কৃতি, আবিষ্কার, চতুষ্কোণ, বাচস্পতি, ভাস্কর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,০১৩.
বউদিদি > বউদি— কীসের উদাহরণ?
  1. ক) অন্তর্হতি
  2. খ) ধ্বনিচ্যুতি
  3. গ) মধ্য স্বরাগম
  4. ঘ) প্রগত
সঠিক উত্তর:
খ) ধ্বনিচ্যুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধ্বনিচ্যুতি
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জনচ্যুতি : পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লােপ পায়। এরূপ লােপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন- বউদিদি > বউদি, বড় দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

অন্তর্হতি : পদের মধ্যে কোনাে ব্যঞ্জনধ্বনি লােপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন – ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী

৪,০১৪.
নিচের কোন বানানটি 'ষ-ত্ব' বিধানের নিয়মে শুদ্ধ?
  1. ক) মাষ্টার
  2. খ) পোশাক
  3. গ) পোষ্ট
  4. ঘ) পরিস্কার
সঠিক উত্তর:
খ) পোশাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পোশাক
ব্যাখ্যা
• 'ষ-ত্ব' বিধান অনুযায়ী:
- কেবল তৎসম শব্দেই  'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য।  
- বিদেশি শব্দে 'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য নয়। 
- 'পোষ্ট' ও 'মাষ্টার' শব্দটি ইংরেজি এবং 'পোশাক' ফারসি ভাষার শব্দ, তাই এতে 'ষ'-ত্ব বিধান প্রযোজ্য হবে না।
- সঠিক বানান - পোস্ট, মাস্টারপোশাক।  

অন্যদিকে, 
র-ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে, তবে তার পরে 'ষ' হয়।
যেমন - পরিষ্কার।
কিন্তু, অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে 'স' হয়।
যেমন - পুরস্কার।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৪,০১৫.
যৌগিক স্বরধ্বনির নিজস্ব আলাদা কয়টি বর্ণ আছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৭টি
  4. ৫টি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
যৌগিক স্বরধ্বনি:
- একাধিক স্বরধ্বনি মিলে যে ধ্বনি সৃষ্টি হয় তাকে যৌগিক স্বরধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনি মোট - ২৫ টি।।
- যার মাত্র ২টি যৌগিক স্বরধ্বনির নিজস্ব বর্ণ আছে

যেমন:
- ঐ (অ + ই),
- ঔ (অ + উ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,০১৬.
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. ক) কারক
  2. খ) প্রত্যয়
  3. গ) বর্ণ
  4. ঘ) সমাস
সঠিক উত্তর:
গ) বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বর্ণ
ব্যাখ্যা
• ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় অন্তত চারটি ভাগে বিভক্ত হয়।
যথা –
- ধ্বনিতত্ত্ব,
- রূপতত্ত্ব,
-বাক্যতত্ত্ব ও
- অর্থতত্ত্ব।

• ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় সমূহ
- ধ্বনি,
- বর্ণ,
- ধ্বনির উচ্চারণ প্রণালি,
- উচ্চারণের স্থান,
- ধ্বনি পরিবর্তন ও
- লোপ, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
- সন্ধি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
কারক, সমাস, উপসর্গ, অনুসর্গ, প্রকৃতি ও প্রত্যয় ইত্যাদি রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,০১৭.
কোনটি অশুদ্ধ?
  1.  হ্ + ন = হ্ন
  2. হ্ + ণ = হৃ
  3. হ্ + উ = হু
  4. হ্ + ম = হ্ম
সঠিক উত্তর:
হ্ + ণ = হৃ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্ + ণ = হৃ
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ যুক্তবর্ণ - হ্ + ণ = হৃ
- এর সঠিক রূপ - হ্ + ঋ = হৃ।

অন্যদিকে,
- হ্ + ম = হ্ম,
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ন = হ্ন।
উপরিউক্ত যুক্তবর্ণ গুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০২১)।

৪,০১৮.
'কুক্ষিগত' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. কুক্‌খিগোত
  2. কুক্‌খিগতো
  3. কুক্‌খিগত
  4. কুক্‌খিগোতো
সঠিক উত্তর:
কুক্‌খিগতো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুক্‌খিগতো
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• ​'কুক্ষিগত' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কুক্‌খিগতো। 




​উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,০১৯.
"মহৌৎসুক্য' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মহা + ওৎসুক্য
  2. মহ + ঔৎসুক্য
  3. মহা + ঔৎসুক্য
  4. মহঃ + ঔৎসুক্য
সঠিক উত্তর:
মহা + ঔৎসুক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহা + ঔৎসুক্য
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
• প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম ও-ধ্বনি বা ঔ-ধ্বনির যোগে ঔ-ধ্বনি হয়। বানানে তা ঔ-কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

যেমন:
আ + ঔ = ঔ:
মহা + ঔৎসুক্য = মহৌৎসুক্য,
মহা + ঔদার্য = মহৌদার্য,
মহা + ঔদাস্য = মহৌদাস্য ইত্যাদি।

অ + ঔ = ঔ:
পরম + ঔষধ = পরমৌষধ,
চিত্ত + ঔদার্য = চিত্তৌদার্য,
দিব্য + ঔষধ = দিব্যৌষধ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,০২০.
'বিলাতি > বিলিতি' কী ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. প্রগত স্বরসঙ্গতি
  2. পরাগত স্বরসঙ্গতি
  3. মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
  4. অন্যান্য স্বরসঙ্গতি
সঠিক উত্তর:
মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। যেমন দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• প্রগত (Progressive):
- আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন - মুলা > মুলো, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো।
• পরাগত (Regressive):
- অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন- আখো > আখুয়া > এখো, দেশি > দিশি।
• মধ্যগত (Mutual):
- আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন- বিলাতি > বিলিতি।
• অন্যোন্য (Reciprocal):
- আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন- মোজা > মুজো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,০২১.
'শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন' কোন সন্ধির উদাহরণ?
  1. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  2. স্বরসন্ধি
  3. ব্যঞ্জনসন্ধি
  4. বিসর্গ সন্ধি
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- সার + অঙ্গ = সারঙ্গ,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর,
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,০২২.
বাংলা ভাষায় কোন স্বরধ্বনি উচ্চারণকালে জিহ্বা উচ্চ অবস্থানে থাকে?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় 'উ' স্বরধ্বনিটি উচ্চারণকালে জিহ্বা উচ্চ অবস্থানে থাকে।

-----------------------
• স্বরধ্বনির উচ্চারণ বিধি:
- উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়।

উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - ই, উ।
২. উচ্চ -মধ্য স্বরধ্বনি - এ, ও।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - অ্যা, অ।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - আ।

আবার, জিভের সম্মুখ - পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি - ই, এ, অ্যা।
২. মধ্য স্বরধ্বনি: আ।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: অ, ও, উ।

বিশেষ তথ্য:
- ই এবং ঈ-ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা এগিয়ে আসে এবং উচ্চে অগ্রতালুর কঠিনাংশের কাছাকাছি পৌছে।
- ই, ঈ এ (অ) ধ্বনির উচ্চারণে জিহবা এগিয়ে সম্মুখভাগে দাঁতের দিকে আসে বলে এগুলোকে বলা হয় সম্মুখ ধ্বনি।

- উ এবং ঊ-ধ্বনি উচ্চারণে জিহ্বা পিছিয়ে আসে এবং পশ্চাৎ তালুর কোমল অংশের কাছাকাছি ওঠে।
- উ, ঊ ও অ-ধ্বনির উচ্চারণে জিহবা পিছিয়ে আসে বলে এগুলোকে পশ্চাৎ স্বরধ্বনি বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,০২৩.
জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী [উ] -
  1. ক) উচ্চ-পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
  2. খ) সম্মুখ স্বরধ্বনি
  3. গ) মধ্য স্বরধ্বনি
  4. ঘ) পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
ক) উচ্চ-পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) উচ্চ-পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনির উচ্চারণ:
- উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়।

উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - ই, উ।
২. উচ্চ -মধ্য স্বরধ্বনি - এ, ও।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - অ্যা, অ।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - আ।

আবার, জিভের সম্মুখ - পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি - ই, এ, অ্যা।
২. মধ্য স্বরধ্বনি: আ।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: অ, ও, উ।

সে অনুসারের,
উ- উচ্চ-পশ্চাৎ স্বরধ্বনি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,০২৪.
কোনটি সঠিক যুক্তবর্ণ?
  1. ঞ্‌ + জ = ঞ্জ
  2. হ্ + উ = হ্ন
  3. হ্ + ণ = হৃ
  4. ক্ষ + ম= হ্ম
সঠিক উত্তর:
ঞ্‌ + জ = ঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঞ্‌ + জ = ঞ্জ
ব্যাখ্যা

যুক্তবর্ণ: 
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। 
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, আবার কখনো সহজে চেনা যায় না। 
- যুক্তবর্ণ দুই রকম। 
যথা- স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ। 

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: 
- ক্ট, জ্জ, জ্ব, ড্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, দ্ম, ষ্ঠ, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, ব্দ ইত্যাদি। 

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: 
- ক্ত (ক্+ত), ক্ম (ক্+ম), ক্র (ক্‌+র), ক্ষ (ক্+ষ), ক্ষ্ম (ক্+ষ্+ম), ক্স (ক্‌+স), গু (গ্‌+উ), ন্ধ (গ্‌+ধ), ঙ্ক (ঙ্+ক), ঙ্গ (ঙ্+গ), জ্ঞ (জ্‌+ঞ), ঞ্চ (ঞ্‌+চ), ঞ্ছ (ঞ্‌+ছ), ঞ্জ (ঞ্‌+জ), ট্ট (ট্+ট), ত্ত (ত্+ত), খ (ত্+থ), ত্র (ত্+ত্র), দ্ধ (দ্‌+ধ), ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (ব্‌+ধ), ভ্র (ভ্+র), ভ্রূ (ভ্+র্+উ), রু (র্+উ), রূ (র্‌+ঊ), শু (শ্+উ), ষ্ণ (ষ্+ণ), হু (হ্+উ), হৃ (হ্+ঋ), হ্ন (হ্+ন), হ্ম (হ্+ম) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 

৪,০২৫.
ত-বর্গীয় ধ্বনি কোনটি?
  1. ন 
সঠিক উত্তর:
ন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন 
ব্যাখ্যা

• ক-বর্গীয় ধ্বনি: ক, খ, গ, ঘ, ঙ- এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণ জিহ্বার গোড়ার দিকে নরম তালুর পশ্চাৎ ভাগ স্পর্শ করে। এগুলো জিহ্বামূলীয় বা কণ্ঠ্য স্পর্শধ্বনি।

• চ-বর্গীয় ধ্বনি: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ-এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগ চ্যাপটাভাবে তালুর সম্মুখ ভাগের সঙ্গে ঘর্ষণ করে। এদের বলা হয় তালব্য স্পর্শধ্বনি।

• ট-বর্গীয় ধ্বনি: ট, ঠ, ড,, - এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগ কিঞ্চিৎ উল্টিয়ে ওপরের মাড়ির গোড়ার শক্ত অংশকে স্পর্শ করে। এগুলোর উচ্চারণে জিহ্বা উল্টা হয় বলে এদের নাম দন্তমূলীয় প্রতিবেষ্টিত ধ্বনি। আবার এগুলো ওপরের মাড়ির গোড়ার শক্ত অংশ অর্থাৎ মূর্ধায় স্পর্শ করে উচ্চারিত হয় বলে এদের বলা হয় মূর্ধন্য ধ্বনি।

• ত-বর্গীয় ধ্বনি: ত, থ, দ, ধ, ন- এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা সম্মুখে প্রসারিত হয় এবং অগ্রভাগ ওপরের দাঁতের পাটির গোড়ার দিকে স্পর্শ করে। এদের বলা হয় দন্ত্য ধ্বনি।

• প-বর্গীয় ধ্বনি: প, ফ, , ভ, ম- এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে ওষ্ঠের সঙ্গে অধরের স্পর্শ ঘটে। এদের ওষ্ঠ্যধ্বনি বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪,০২৬.
"ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত" উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ” হয়' এই নিয়ম অনুসারে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1.  মুমূর্ষু
  2. চক্ষুন্মান
  3. ধূলিসাৎ
  4.  অনুষঙ্গ
সঠিক উত্তর:
 অনুষঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 অনুষঙ্গ
ব্যাখ্যা

• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তডব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ব লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

"ষ" ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি। 
২. ট-বগীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ট, ওষ্ঠ ইত্যাদি। 
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের “স' “ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুন্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর “ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, উষা, পৌষ ইত্যাদি

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে স হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও “ষ' হয় না। যেমন- অগশ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,০২৭.
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, সেগুলোকে বলে-
  1. মৌলিক ধ্বনি 
  2. স্বরধ্বনি
  3. ব্যঞ্জনধ্বনি
  4. দ্বিস্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
স্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা

• স্বরধ্বনি:
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে।

অন্যদিকে,
ব্যঞ্জনধ্বনি:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখের বাহিরে বের হওয়ার আগে বাকপ্রত্যঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বাধা পায়, সেগুলোকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে।

মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি:
- [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ];

মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি:
- [প্], [ফ্], [ব্], [ভ্], [ত্], [খ্], [দ], [ধ], [ট], [ঠ], [ড্], [ঢ্], [চ্], [ছ], [জ], [ঝ], [ক্], [খ্], [গ্], [ঘ], [ম্], [ন্], [ঙ্], [স্], [শ], [হ্], [ল্], [র্], [ড় ], [ঢ় ]।
- এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।

৪,০২৮.
'উল্লিখিত' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. উদ্‌ + লিখিত
  2. উৎ + লিখিত
  3. উধ্‌ + লিখিত
  4. উল্‌ + লিখিত
সঠিক উত্তর:
উৎ + লিখিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎ + লিখিত
ব্যাখ্যা

• সন্ধির নিয়ম:
আগে ৎ বা দ্‌ এবং ন্‌ / ম্‌ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে 'ন্‌' হয়, এবং পরের ন-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ন' কিংবা ম-এর সঙ্গে মিলে 'ন্ম' হয়। কিন্তু, ৎ / দ্-এর পর ল্ থাকলে ৎ / দ্ সন্ধিতে 'ল্‌' হয় এবং ল্ পরের ল-এর সঙ্গে মিলে 'ল্ল' হয়।

যেমন:
উৎ+ নতি = উন্নতি,
জগৎ + নাথ = জগন্নাথ, 
তদ্‌ + নিমিত্ত = তন্নিমিত্ত, 
তদ্‌ + নিষ্ঠ তন্নিষ্ঠ,
ক্ষুধ্‌ + নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি,
মৃৎ + ময় = মৃন্ময়,
সৎ + মার্গ = সন্মার্গ,
তদ্‌ + মাত্র = তন্মাত্র,
তদ্‌ + মধ্যে = তন্যধ্যে,
উৎ + লাস = উল্লাস,
উৎ + লিখিত = উল্লিখিত
তদ্‌ + লিখিত = তল্লিখিত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,০২৯.
নিচের কোন শব্দটির বানানে ‘ণ’ - এর ভুল প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. নিপুণ
  2. বিপণি
  3. পিন্দণ
  4. বাণিজ্য
সঠিক উত্তর:
পিন্দণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিন্দণ
ব্যাখ্যা
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মকে ণ-ত্ব বিধান বলে।
বাংলা ভাষায় কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন - চাণক্য, মাণিক্য, বাণিজ্য, লবণ, মণ, গণ, নিপুণ, বিপণি ইত্যাদি।
'পিন্দণ'  শব্দটির সঠিক বানান - পিন্দন ।

[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯]
৪,০৩০.
‘রঞ্জন’ শব্দের যুক্তবর্ণটি কোন দুটি বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ঙ্ + জ
  2. জ্ + ঞ
  3. জ্ + ঙ
  4. ঞ্ + জ
সঠিক উত্তর:
ঞ্ + জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঞ্ + জ
ব্যাখ্যা
• ‘রঞ্জন’ শব্দের ‘ঞ্জ’ যুক্তবর্ণটি ঞ ও জ এই দুটি বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত।

• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ণ্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ঋ, ণ্ঠ, ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, জ, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ফ, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ত (ক্ + ত),
ক্ম (ক্ + ম),
ক্ষ (ক্ + ষ),
ক্ষ্ম (ক্ + ষ্ + ম),
ক্স (ক্ + স),
গু (গ্ + উ),
গ্ধ (গ্ + ধ),
ঙ্গ (ঙ্ + গ),
জ্ঞ (জ্ + ঞ),
ঞ্চ (ঞ্ + চ),
ঞ্জ (ঞ্ + জ),
ষ্ণ (ষ্ + ণ)
হু (হ্ + উ),
হৃ (হ্ + ঋ),
হ্ন (হ্ + ন),
হ্ম (হ্ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪,০৩১.
জিভের সম্মুখ - পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি 'আ' কোন ধরনের ধ্বনি?
  1. মধ্য স্বরধ্বনি
  2. সম্মুখ স্বরধ্বনি
  3. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
  4. নিম্ন স্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
মধ্য স্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্য স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - ই, উ।
২. উচ্চ -মধ্য স্বরধ্বনি - এ, ও।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - অ্যা, অ।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - আ।

• আবার, জিভের সম্মুখ - পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি - ই, এ, অ্যা।
২. মধ্য স্বরধ্বনি: আ।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: অ, ও, উ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪,০৩২.
'নিষ্পন্ন' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নি + পন্ন
  2. নিঃ + পন্ন
  3. নিষ + পন্ন
  4. নিষঃ + পন্ন
সঠিক উত্তর:
নিঃ + পন্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিঃ + পন্ন
ব্যাখ্যা

বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
- বিসর্গযুক্ত ই-ধ্বনি বা উ-ধ্বনির পর ক/খ/প/ফ থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ (ঃ) স্থানে ষ্‌ হয়। এবং বিসর্গযুক্ত অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির পর ক/খ/প/ফ থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ (ঃ) স্থানে স-ধ্বনি হয়। স পরবর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।

যেমন:
- নিঃ + পত্তি = নিষ্পত্তি,
- নিঃ + পন্ন = নিষ্পন্ন,
- নিঃ + প্রভ = নিষ্প্রভ,
- চতুঃ + পদ = চতুষ্পদ, 
- ভ্রাতুঃ + পুত্র = ভ্রাতুষ্পুত্র,
- তিরঃ + কার = তিরস্কার ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,০৩৩.
সন্ধি বিচ্ছেদ করুন : ‘পুরস্কার’।
  1. পুর + কার
  2. পুর + স্কার
  3. পুরঃ + কার
  4. পুরসঃ + কার
সঠিক উত্তর:
পুরঃ + কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরঃ + কার
ব্যাখ্যা
• সূত্র:
- বিসর্গযুক্ত ই- ধ্বনি বা ু- ধ্বনির পর ক/খ/প/ফ থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ ( ঃ ) স্থানে 'ষ' হয়। 
- বিসর্গযুক্ত অ- ধ্বনি বা আ- ধ্বনির পর ক/খ/প/ফ থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ ( ঃ ) স্থানে স- ধ্বনি হয়। স পরবর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়। 
যেমন:
- তিরঃ + কার= তিরস্কার।
- পুরঃ + কার= পুরস্কার। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,০৩৪.
যে রীতিতে 'প্রীতি' শব্দটি পিরীতি শব্দে পরিণত হয়, তার নাম-
  1. সম্প্রকর্ষ
  2. বিপ্রকর্ষ
  3. অভিশ্রুতি
  4. অপিনিহিতি
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা

• 'প্রীতি > পিরীতি' হলো - বিপ্রকর্ষের উদাহরণ।

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি: 
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন -
• অ স্বরধ্বনির আগমন- রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
• ই স্বরধ্বনির আগমন- প্রীতি > পিরীতি, স্নান > সিনান, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি। 
• উ স্বরধ্বনির আগমন- মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রু > ভুরু ইত্যাদি।
• এ স্বরধ্বনির আগমন- গ্রাম > গেরাম, প্ৰেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
• ও স্বরধ্বনির আগমন- শ্লোক > শােলােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,০৩৫.
কোনটি তালব্য বর্ণ?
  1. ই 
সঠিক উত্তর:
ই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ই 
ব্যাখ্যা

• তালব্য ধ্বনি:
জিভের পাতা উঁচু করে অগ্রতালুর সঙ্গে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাদের তালব্য ধ্বনি বলা হয়। 
 
'ই' বর্ণ:
- বাংলা স্বরবর্ণমালার তৃতীয় বর্ণ। 
- সংস্কৃতে এটি হ্রস্বস্বর; এর উচ্চারণ-স্থান - তালু।

- স্বরবর্ণের মধ্যে তালব্য বর্ণ হচ্ছে - ই, ঈ।

- ব্যঞ্জণ বর্ণে তালব্য ধ্বনি - চ, ছ, জ, ঝ, ঞ।
• এ, ঐ - কণ্ঠ তালব্য ধ্বনি।
• উ, ঊ - ওষ্ঠ্য ধ্বনি।
• ও, ঔ - কণ্ঠৌষ্ঠ ধ্বনি।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,০৩৬.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. ক) মরু + উদ্যান = মরুদ্যান
  2. খ) পরি + ইক্ষা = পরীক্ষা
  3. গ) প্রতি + উষ = প্রত্যুষ
  4. ঘ) গঙ্গা + উর্মি = গঙ্গোর্মি
সঠিক উত্তর:
গ) প্রতি + উষ = প্রত্যুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রতি + উষ = প্রত্যুষ
ব্যাখ্যা

- প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ (বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি) ;
- প্রতি + উষ = প্রত্যুষ (বাংলা একাডেমি অভিধান)।
- পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা।
- গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি৷
- মরু + উদ্যান = মরূদ্যান।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,০৩৭.
'অন্বেষণ' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. অন্বে + ষণ
  2. অনে + এষণ
  3. অণু + এষণ
  4. অনু + এষণ
সঠিক উত্তর:
অনু + এষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনু + এষণ
ব্যাখ্যা

• 'অন্বেষণ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = অনু + এষণ, ( উ + এ = ব + এ)।
- এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ। 

সন্ধির নিয়ম: 
- উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন-
অনু + এষণ = অন্বেষণ,
( উ + এ = ব + এ)

- সু + অল্প = স্বল্প
- তনু + ঈ = তন্বী,
- অনু + ইত = অন্বিত,
- সু + আগত = স্বাগত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,০৩৮.
শুদ্ধ যুক্তবর্ণ কোনটি?
  1. ঞ্‌ + ঝ = ঞ্ব
  2. হ্ + ণ = হ্ন
  3. ঞ্‌ + জ = ঞ্জ
  4. ষ্‌  + ঞ =  ষ্ণ
সঠিক উত্তর:
ঞ্‌ + জ = ঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঞ্‌ + জ = ঞ্জ
ব্যাখ্যা

• যুক্তবর্ণের শুদ্ধ গঠন- ঞ্‌ + জ = ঞ্জ। 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ক্ + ট = ক্ট,
- জ্ + জ = জ্জ,
- ঞ্‌ + ব = ঞ্ব, 
- ঞ্‌ + চ = ঞ্চ, 
- ঞ্‌ + ঝ = ঞ্ঝ, 
- ষ্‌ + ণ = ষ্ণ,  
- ঞ্‌ + জ = ঞ্জ, 
- জ + ঞ = জ্ঞ,
- হ্‌ + ন = হ্ন,  
- হ্ + ণ = হ্ণ। 
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১- সংস্করণ)।

৪,০৩৯.
'পরমেশ' এর শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পরম + ঈশ 
  2. পরঃ + মেশ
  3. পরমঃ + ঈশ 
  4. পরম + ইশ 
সঠিক উত্তর:
পরম + ঈশ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরম + ঈশ 
ব্যাখ্যা

• স্বরসন্ধির নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
- অ + ই = এ; শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা। 
- আ + ই = এ; যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট।
- অ + ঈ = এ; পরম + ঈশ = পরমেশ।
- আ + ঈ = এ;  মহা + ঈশ = মহেশ।

এরূপ- ঢাকেশ্বরী, পূর্ণেন্দু, শ্রবণেন্দ্রিয়, সেচ্ছা, রমেশ, নরেন্দ্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)

৪,০৪০.
'বৃহস্পতি' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ নিচের কোনটি ?
  1. ক) বৃৎ+পতি
  2. খ) বৃহৎ+স্পতি
  3. গ) বৃহৎ+পতি
  4. ঘ) বৃহঃ+পতি
সঠিক উত্তর:
গ) বৃহৎ+পতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বৃহৎ+পতি
ব্যাখ্যা
কিছু ব্যঞ্জনসন্ধি নিয়ম ছাড়া হয়, সেগুলােকে নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
যেমন –
গাে+পদ = গােষ্পদ,
এক+দশ = একাদশ,
বৃহৎ+পতি = বৃহস্পতি ইত্যাদি।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৪,০৪১.
"হাচ্ছানি" শব্দটি কোন সন্ধিযোগে গঠিত?
  1. ব্যঞ্জনসন্ধি
  2. স্বরসন্ধি
  3. বিসর্গসন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জনসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জনসন্ধি
ব্যাখ্যা
• "হাচ্ছানি" শব্দটি 'ব্যঞ্জনসন্ধি' সন্ধিযোগে গঠিত।
"হাচ্ছানি" শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ - হাত + ছানি = হাচ্ছানি।

সন্ধির নিয়ম:
- ত- বর্গীয় ধ্বনি ও চ- বর্গীয় ধ্বনি পাশাপাশি এলে প্রথমটি লুপ্ত হয়ে পরবর্তী ধ্বনিটি দ্বিত্ব হয়।
যেমন:
- নাত + জামাই = নাজজামাই,
- বদ্ + জাত, = বজ্জাত,
- হাত + ছানি = হাচ্ছানি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,০৪২.
'অপরাহ্ণ' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. অপরান্‌হ
  2. অপোরাহন্ন
  3. অপোরান্‌হো
  4. অপোরান্নো
সঠিক উত্তর:
অপোরান্‌হো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপোরান্‌হো
ব্যাখ্যা
• 'অপরাহ্ণ' এর সঠিক উচ্চারণ- 'অপোরান্‌হো'। 

• আরো কিছু সঠিক উচ্চারণ: 
- 'সৌজন্য' এর সঠিক উচ্চারণ- 'শোউজোন্‌নো'।
- 'কাকলি' এর সঠিক উচ্চারণ- (কাকোলি),
- 'প্রণতি' এর সঠিক উচ্চারণ-(প্রোনোতি),
- 'অবগতি' এর সঠিক উচ্চারণ- (অবোগোতি) ইত্যাদি।   

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৪,০৪৩.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ নয়?
  1. ক) স্বৈর
  2. খ) গবেন্দ্র
  3. গ) দ্যুলোক
  4. ঘ) অক্ষৌহিণী
সঠিক উত্তর:
গ) দ্যুলোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দ্যুলোক
ব্যাখ্যা
দিব্+লোক= দ্যুলোক -;নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি। নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি – স্ব+ ঈর= স্বৈর, গো+ইন্দ্র = গোবেন্দ্র, অক্ষ+ ঊহিণী= অক্ষৌহিণী। রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,০৪৪.
পশ্চাৎ স্বরধ্বনির নয় কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন প্রকার।
যথা:
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি,
২. মধ্য স্বরধ্বনি ও
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

• সম্মুখ স্বরধ্বনি: সম্মুখ স্বর‌ধ্বনির উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
- যেমন: [ই], [এ], [অ্যা] ইত্যাদি সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

• মধ্য স্বরধ্বনি: মধ্য স্বরধ্বনি হচ্ছে [আ]।

• পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়। [অ], [ও], [উ] ইত্যাদি পশ্চাৎ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪,০৪৫.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ন্ + ট= ণ্ট
  2. হ্ + ণ = হ্ন
  3. হ্ + ন = হ্ণ
  4. হ্ + ম = হ্ম
সঠিক উত্তর:
হ্ + ম = হ্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্ + ম = হ্ম
ব্যাখ্যা
⇒ যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• শুদ্ধ যুক্তবর্ণ: হ্ + ম = হ্ম।

অশুদ্ধ যুক্তবর্ণগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• ণ্ + ট = ণ্ট;
• হ্ + ণ = হ্ণ;
• হ্ + ন = হ্ন।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪,০৪৬.
অক্ষর উচ্চারণের কাল পরিমাণকে কী বলে?
  1. ধ্বনি
  2. যতি
  3. মাত্রা
  4. ছেদ
সঠিক উত্তর:
মাত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাত্রা
ব্যাখ্যা
মাত্রা:
- অক্ষর উচ্চারণের কাল পরিমাণকে মাত্রা বলে।
- বর্ণসমূহকে মাত্রার উপর ভিত্তি করে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
১. মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি।
২. অর্ধমাত্রার বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি।
৩. পূর্ণমাত্রার বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রার বর্ণ ৩২টি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৪৭.
নিচের কোনটি তালব্য বর্ণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
উচ্চারণস্থান অনুসারে বর্ণের নাম:

যেমন:
কণ্ঠ্য বা জিহ্বামূলীয় বর্ণ: অ, আ, ক, খ, গ, ঘ, ঙ, হ।
তালব্য বর্ণ: ই, ঈ, চ, ছ, , ঝ, ঞ, য, য়, শ।
ওষ্ঠ্য বর্ণ: উ, উ, প, ফ, ব, ভ, ম।
মূর্ধন্য বর্ণ: ঋ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র, ড়, ঢ়, ষ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪,০৪৮.
'পতঞ্জলি' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পাতা + অঞ্জলি
  2. পত + অঞ্জলি
  3. পাতা + ঞ্জলি
  4. পতৎ + অঞ্জলি
সঠিক উত্তর:
পতৎ + অঞ্জলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পতৎ + অঞ্জলি
ব্যাখ্যা
• পতঞ্জলি = পতৎ + অঞ্জলি; একটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।

• কতগুলো নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
- আ+ চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- বন্ + পতি = বনস্পতি
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- তৎ + কর = তস্কর,
- পর্+ পর = পরস্পর,
- মনস্ + ঈষা = মনীষা,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ
- এক্ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,০৪৯.
‘ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়’ এই নিয়ম সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. অকুণ্ঠ
  2. প্রনষ্ট
  3. চন্দ্রায়ণ
  4. চূর্ণ
সঠিক উত্তর:
চূর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চূর্ণ
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান:
যে রীতি অনুসারে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে ‘ন’ (দন্ত্য-ন) স্থানে ‘ণ’ (মূর্ধন্য-ণ) ব্যবহৃত হয়, তাকে ণ-ত্ববিধান বলে।
অর্থাৎ, তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
যেমন- ঋণ, কারণ, মরণ, ভীষণ, ভাষণ ইত্যাদি।
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন -এর ব্যবহার আছে, তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।

• ণ-ত্ব-বিধানের নিয়ম:
১. ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, ঘৃণা, অরণ্য, বর্ণ, চূর্ণ, পাষাণ, কৃষাণ ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে সংযুক্ত আকারে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য ‘ণ’ যুক্ত হয়। যেমন-কণ্টক, ঘণ্টা, অকুণ্ঠ, কাণ্ড, খণ্ড ইত্যাদি।

৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য়, ব, হ, ং, এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।
যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তারপরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প্ + অ + ণ্), লক্ষণ (ক্ + ষ্ + অ + ন্)। এরূপ- তর্পণ, বর্ষণ, সমর্পণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

৪. পরি, প্র, নির-এ তিনটি উপসর্গের পর ণ-ত্ব বিধি অনুসারে ন-ধ্বনি লিখতে মূর্ধন্য ণ হয়। যেমন- পরিণত, পরিবহণ, প্রমাণ, প্রবণ, পরিণয়, প্রণত। ব্যতিক্রম: পরিনির্বাণ, নির্নিমেষ, প্রনষ্ট, পরিবহন বানানও শুদ্ধ।

৫. উত্তর, পর, পার, রবীন্দ্র, চন্দ্র, নার শব্দের পরে ‘অয়ন’/‘আয়ন’ প্রত্যয় হলে দন্ত্য ন পাল্টে মূর্ধন্য ণ হয়।
যেমন- উত্তর + অয়ন = উত্তরায়ণ, পর + অয়ন = পরায়ণ, রবীন্দ্র + অয়ন = রবীন্দ্রায়ণ, চন্দ্র + অয়ন = চন্দ্রায়ণ, নর + অয়ন = নারায়ণ ইত্যাদি।

• ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
• সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না, এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন' হয়।
যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।

• ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না, ন হয়।
যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি।

• বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ণ লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৫০.
কোন দুটি স্বরের মিলিত ধ্বনিতে 'ঐ' সৃষ্টি হয়?
  1. উ + ই
  2. অ + ই
  3. এ + ই
  4. ই + ই
সঠিক উত্তর:
অ + ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ + ই
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০১৯), অনুসারে,
- ঐ, ঔ – এ দুটি দ্বিস্বর বা যৌগিক স্বরধ্বনির চিহ্ন। যেমন – অ + ই = ঐ,  অ + উ = ঔ।

এবং 
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১), অনুসারে, 
- ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি ই]।

• অপশন অনুসারে 'অ + ই = ঐ' উত্তর গ্রহণ করা হলো।

• অপশনে দুইটিই থাকলে নতুন সংস্করণ এবং অভিধান অনুযায়ী [ও+ই্] উত্তর করবেন। অপশনে [ও+ই্] না থাকলে পুরাতন সংস্করণ অনুসারে [অ+ই্] উত্তর করতে পারেন।


দ্বিস্বরধ্বনি:

- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
যেমন - লাউ শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আ] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
[আই]: তাই, নাই।
[এই]: সেই, নেই।
[আত্]: যাও, দাও।
[আ]: খায়, যায়।

- বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে, যথা: ঐ এবং ঔ।
- ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি ই]।
- ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [ট্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১ এবং ২০১৯)।

৪,০৫১.
দন্ত-ঘোষ-অল্পপ্রাণ বৈশিষ্ট্যযুক্ত ধ্বনি-
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরটি হলো: গ) দ।

• ঘোষ ব্যঞ্জন:

যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
যথা:
ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

• অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা:
প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

• অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ
ধ্বনি।
যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

• মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলোকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন:
ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১- সংস্করণ)।

৪,০৫২.
কোনটি স্বরসন্ধির উদাহরণ?
  1. ক) যাবজ্জীবন
  2. খ) গোস্পদ
  3. গ) নরাধম
  4. ঘ) দুঃশ্চিন্তা
সঠিক উত্তর:
গ) নরাধম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নরাধম
ব্যাখ্যা
নরাধম = নর + অধম, এটি তৎসম স্বরসন্ধি। বিদ্যালয়, হিমালয়, হস্তান্তর, সিংহাসন, হিতাহিত, কথামৃত, দেবালয়, শুভেচ্ছা, যথেষ্ট, মহার্ঘ এগুলোও সংস্কৃত স্বরসন্ধি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণী
৪,০৫৩.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ?
  1. তন্মধ্যে
  2. হরিশ্চন্দ্র
  3. বাগ্দান
  4. চলচ্চিত্র
সঠিক উত্তর:
হরিশ্চন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিশ্চন্দ্র
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

• নিচে কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- পর + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক + দশ = একাদশ,
- হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র (এখানে চ-এর প্রভাবে ত হয়েছে চ)।
• বাক্ + দান = বাগ্দান (এখানে ঘোষধ্বনি দ-এর প্রভাবে ক হয়েছে গ)।
• তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে (এখানে নাসিক্য ধ্বনি ম-এর প্রভাবে ত হয়েছে ন)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,০৫৪.
'সর্বোর্ধ্ব' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সর্বো + ঊর্ধ্ব
  2. সর্ব + ঊধ্ব
  3. সর্ব + ঊর্ধ্ব
  4. সর্ব + উর্ধ্ব
সঠিক উত্তর:
সর্ব + ঊর্ধ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্ব + ঊর্ধ্ব
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত সন্ধি:
প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হয়-উ ধ্বনি বা দীর্ঘ-ঊ ধ্বনির যোগে ও-ধ্বনি হয়। বানানে তা ও- কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।
যেমন-

• অ + উ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
- সর্ব + উচ্চ = সর্বোচ্চ;
- সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়;
- দীর্ঘ + উচ্চারণ = দীর্ঘোচ্চারণ;
- প্রশ্ন + উত্তর = প্রশ্নোত্তর।

• অ + ঊ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
- নব + ঊঢ়া = নবোঢ়া;
- সর্ব + ঊর্ধ্ব = সর্বোর্ধ্ব।

• আ + উ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
- যথা + উচিত = যথোচিত;
- কথা + উপকথন = কথোপকথন;
- যথা + উপযুক্ত = যথোপযুক্ত ইত্যাদি।

• আ + ঊ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
- গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি;
- মহা + ঊর্মি = মহাের্মি;
- মহা + ঊর্ধ্ব = মহোর্ধ্ব ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,০৫৫.
নিচের কোনটি বিসর্গ সন্ধিযোগে গঠিত শব্দ?
  1. ক) মনস্কাম
  2. খ) যথার্থ
  3. গ) নরাধম
  4. ঘ) ফনীন্দ্র
সঠিক উত্তর:
ক) মনস্কাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মনস্কাম
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধি: বিসর্গের সাথে স্বর বা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে। বিসর্গ সন্ধি দুই ভাগে বিভক্ত যথা-
 ১. র্-জাত বিসর্গ।
 ২. স্-জাত বিসর্গ।

সংস্কৃত ভাষার নিয়মে সংস্কৃত শব্দের শেষে ‘সৃ’ বা ‘র্’ থাকলে ‘স’ বা ‘র’ লোপ পেয়ে বিসর্গ সন্ধি হয়।
যেমন:
• র্-জাত বিসর্গ: নির্>নিঃ; দুর্>দুঃ, অন্তর্>অন্তঃ ইত্যাদি।
• স্-জাত বিসর্গ: সরস্>সরঃ; মনস্>মনঃ; পুরস্>পুরঃ ইত্যাদি।

বিসর্গ সন্ধির বৈশিষ্ট্য হলো সন্ধির ফলে র্-জাত বিসর্গের ‘র’ এবং স্-জাত বিসর্গের ‘স’ অনেক ক্ষেত্রে লোপ পেয়ে আবার ‘র’ এবং ‘স’ ফিরে আসে।
- র্-জাত বিসর্গ সন্ধি হলো: অন্তঃ + গত = অন্তর্গত।
- স্-জাত বিসর্গ সন্ধি হলো: মনঃ + কাম + মনস্কাম।

অন্যদিকে,
• স্বরসন্ধির সাথে স্বরসন্ধির মিলনের নাম স্বরসন্ধি। স্বরসন্ধিযোগে গঠিত শব্দ
আ + অ = আ;  যথা+অর্থ = যথার্থ।
অ + অ = আ;  নর+অধম = নরাধম।
ঈ + ই = ঈ; ফনী + ইন্দ্র = ফনীন্দ্র।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,০৫৬.
‘আহ্বান’ শব্দের প্রমিত উচ্চারণ কোনটি?
  1. আওবান্
  2. আওভান্
  3. আহোবান্‌
  4. আউভান্
সঠিক উত্তর:
আওভান্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আওভান্
ব্যাখ্যা
• ‘আহ্বান’ শব্দের প্রমিত উচ্চারণ — 'আও্‌ভান্‌'।
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: আ + √হ্বে + অন।
 অর্থ:
- আমন্ত্রণ; নিমন্ত্রণ।
- সম্বোধন; ডাক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৪,০৫৭.
অঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি কোনটি?
  1. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• 'ঠ' - অঘোষ ধ্বনি।

অন্যদিকে,
ভ, ন, ড় - ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
------------------ 
ঘোষ ব্যঞ্জন:

- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
যথা-
- ব, , ম, দ, ধ, , র, ল, ড, ঢ, , ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, সপ্তম শ্রেণি।
৪,০৫৮.
খাঁটি বাংলা শব্দের সন্ধি কয় প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই
ব্যাখ্যা
সন্ধি: 
দ্রুত উচ্চারণের ফলে পরস্পর সন্নিহিত দুটো ধ্বনির মিলনে যে ধ্বনিগত পরিবর্তন হয় তকেই বলা হয় সন্ধি।

বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) অনুসারে -

• সন্ধি প্রধানত দুই প্রকার:
- খাঁটি বাংলা শব্দের সন্ধি,
- তৎসম শব্দের সন্ধি। 

• খাঁটি বাংলা শব্দের সন্ধি দুই রকমের
- স্বরসন্ধি, 
- ব্যঞ্জন সন্ধি।

• তৎসম শব্দের সন্ধি তিন প্রকার।
- স্বরসন্ধি, 
- ব্যঞ্জন সন্ধি, 
- বিসর্গ সন্ধি। 

আবার, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) অনুসারে,
• সন্ধি তিন প্রকার:
- স্বরসন্ধি, 
- ব্যঞ্জনসন্ধি, 
- বিসর্গসন্ধি।
৪,০৫৯.
"সর্বংসহা" - শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সর্ব্‌ + সহা
  2. সর + সহা
  3. সম্ + সহা
  4. সর্বম্ + সহা
সঠিক উত্তর:
সর্বম্ + সহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বম্ + সহা
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম: 
- আগে ম্ এবং পরে অন্তঃস্থ ব্যঞ্জন (য/র/ল/ব) বা উষ্মধ্বনি (শ/স/হ) থাকলে সন্ধিতে ম্ স্থানে অনুষার ( ং) হয়।

যেমন:
- সম্ + যত = সংযত, 
- সম্ + যুক্ত = সংযুক্ত, 
- সম্ + রাগ = সংরাগ, 
- সম্‌ + রক্ষণ = সংরক্ষণ, 
- সর্বম্ + সহা = সর্বংসহা
- সম্ + লাপ = সংলাপ,
- সম্ + শোধন = সংশোধন
- সম্ + লগ্ন = সংলগ্ন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,০৬০.
নিচের কোনটি স্বরসন্ধির উদাহরণ? 
  1. সচ্চরিত্র 
  2. উজ্জ্বল 
  3. চলচ্চিত্র 
  4. সদানন্দ
সঠিক উত্তর:
সদানন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সদানন্দ
ব্যাখ্যা

স্বরসন্ধি:
- দুটি শব্দের মধ্যে প্রথম শব্দের শেষ স্বর এবং দ্বিতীয় শব্দের প্রথম স্বর মিলিত হয়ে একটি নতুন স্বরধ্বনি তৈরি করে।
- সদানন্দ = সদা + আনন্দ- স্বরসন্ধির উদাহরণ। 

• স্বরসন্ধির কিছু নিয়ম ও উদাহরণ:
• অ + অ = আ।
- উদাহরণ:
- নর + অধম = নরাধম,
- উত্তরাধিকার = উত্তর + অধিকা্‌
- হিমাচল = হিম + অচল,
- প্রাণাধিক = প্রাণ + অধিক, ইত্যাদি।

• অ + আ = আ।
- উদাহরণ:
- হিমালয়: হিম + আলয় = হিমালয়,
- দেবালয়: দেব + আলয় = দেবা লয়,
- রত্ন + আকর = রত্নাকর,
- সিংহাসন = সিংহ + আসন, ইত্যাদি।

• আ + অ = আ।
- উদাহরণ:
- যথা + অর্থ = যথার্থ,
- আশাতীত =আশা + অতীত,
- কথামৃত = কথা + অমৃত,
- মহার্ঘ = মহা + অর্ঘ, ইত্যাদি।

• আ + আ = আ।
- উদাহরণ:
- সদানন্দ = সদা + আনন্দ,
- বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়,
- কারাগার = কারা + আগার,
- মহাশয় =মহা + আশয়, ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- সচ্চরিত্র = সৎ+ চরিত্র, উজ্জ্বল = উৎ + জল, এবং চলচ্চিত্র = চলৎ + চিত্র- ব্যঞ্জন ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ। 

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ; 
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,০৬১.
মাত্রাহীন স্বরবর্ণ নয় কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি ও বর্ণ প্রকরণ:
ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।

- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ্ ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ: ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ: ৮ টি, এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৬২.
"অধ্যবসায়" শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ওদ্‌ধোবশায়্‌
  2. ওদ্যধোবশায়্‌
  3. ওদ্যবশায়্‌
  4. ওদ্যধবশায়্‌
সঠিক উত্তর:
ওদ্‌ধোবশায়্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওদ্‌ধোবশায়্‌
ব্যাখ্যা

• "অধ্যবসায়" শব্দের সঠিক উচ্চারণ - ওদ্‌ধোবশায়্‌
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- অবিরাম সাধনা, 
- নিবিড় প্রযত্ন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪,০৬৩.
নিচের কোনটি স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ?
  1. ম্ফ
  2. ষ্ণ
  3. দ্ধ
  4. ভ্র
সঠিক উত্তর:
ম্ফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্ফ
ব্যাখ্যা
• ম্ফ - স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ।

যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না।
- এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- জ, ব্দ, ম্ফ, ল্ক, ল্গ, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ফ, শ্চ, ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, ম্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- দ্ধ (দ+ধ), ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (ব্+ধ), ভ্র (ভ্+র), ষ্ণ (ষ্‌ + ণ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
৪,০৬৪.
বহ্ন্যুৎসব শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ করলে পাই -
  1. বহ্ন্য + ‍উৎসব
  2. বহ্ন্যু + সব
  3. বহ্ন্য + উৎসব
  4. বহ্নি + উৎসব
সঠিক উত্তর:
বহ্নি + উৎসব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহ্নি + উৎসব
ব্যাখ্যা
• ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বাঈ স্থানে 'য' বা য (্য) ফলা হয়।
- য-ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।
যেমন:
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত।
- ইতি + আদি = ইত্যাদি।
- অতি + উক্তি = অত্যুক্তি।
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ।
- মসী + আধার = মস্যাধার।
- প্রতি + এক = প্রত্যেক।
- নদী + অম্মু = নদ্যম্পু।
- বহ্নি + উৎসব = বহ্ন্যুৎসব।
- অতি + ঊর্ধ্ব = অত্যূর্ধ্ব ইত্যাদি।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,০৬৫.
ত-বর্গীয় ধ্বনির উচ্চারণস্থান কোনটি?
  1. জিহ্বা 
  2. দন্ত্য
  3. তালব্য 
  4. কণ্ঠ্য 
সঠিক উত্তর:
দন্ত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দন্ত্য
ব্যাখ্যা

• ত-বর্গীয় ধ্বনি:
ত, থ, দ, ধ, ন- এই পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা সম্মুখে প্রসারিত হয় এবং অগ্রভাগ ওপরের দাঁতের পাটির গোড়ার দিকে স্পর্শ করে। এদের বলা হয় দন্ত্য ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

৪,০৬৬.
নিচের কোন বানানটি সঠিক নয়?
  1. ক) কষ্ট
  2. খ) মাষ্টার
  3. গ) ওষ্ঠ
  4. ঘ) উৎকৃষ্ট
সঠিক উত্তর:
খ) মাষ্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মাষ্টার
ব্যাখ্যা
মাষ্টার- বানানটি সঠিক নয়। 
কারণ, বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য- ষ এর ব্যবহার হয়না।
এর সঠিক বানান: মাস্টার।

তাছাড়া,
ষ- ত্ব বিধান অনুসারে,
- ট- বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন: কষ্ট, ওষ্ঠ, 
- ঋ এবং ঋ- কারের পর 'ষ' হয়। যেমন: ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ ইত্যাদি। 

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেনি।
৪,০৬৭.
একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে- 
  1. অসমীকরণ 
  2. অপিনিহিতি
  3. অন্ত্যস্বরাগম
  4. স্বরসঙ্গতি
সঠিক উত্তর:
অসমীকরণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসমীকরণ 
ব্যাখ্যা

• অসমীকরণ (Dissimilation):
একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন:
- ধপ + ধপ > ধপাধপ,
- টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
অন্ত্যস্বরাগম (Apothesis):
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম। 
যেমন-  দিশ্ > দিশা, পোখত্ > পোক্ত, বেঞ্চ > বেঞ্চি, সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

অপিনিহিতি (Apenthesis):
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে। যেমন- আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য, চারি > চাইর, মারি > মাইর ইত্যাদি।

স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
 যেমন- দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৪,০৬৮.
কটাক্ষ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ করুন?
  1. কটু + অক্ষ
  2. কটাঁ + অক্ষ
  3. কটা + অক্ষ
  4. কট + অক্ষ
সঠিক উত্তর:
কট + অক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কট + অক্ষ
ব্যাখ্যা
কটাক্ষ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - কট + অক্ষ।

• স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনের নাম স্বরসন্ধি।
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয় মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন:
- নর + অধম = নরাধম,
- হিম + আলয় = হিমালয়,
- যথা + অর্থ = যথার্থ,
- বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,০৬৯.
নিচের কোনটি ব্যঞ্জনসন্ধি সাধিত শব্দ?
  1. পুরস্কার
  2. পিত্রালয়
  3. উল্লাস
  4. শয়ন
সঠিক উত্তর:
উল্লাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উল্লাস
ব্যাখ্যা

 • ব্যঞ্জন সন্ধি:
- স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

• (ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন) নিয়মে গঠিত ব্যঞ্জন সন্ধি।
- ব্যঞ্জনসন্ধিতে একটি ধ্বনির প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যায়।
যেমন
- চলৎ + চিত্র = চলচ্চিত্র;
- বিপদ্ + জনক = বিপজ্জনক ;
- উৎ + লাস = উল্লাস;
- বাক্ + দান = বাগ্দান ;
- তৎ + মধ্যে = তন্মধ্যে ;
- শম্ + কা = শঙ্কা ;
- সম্ + চয় = সঞ্চয় ;
- সম্ + তাপ = সন্তাপ ;
- সম্ + মান = সম্মান ;
- ষ + থ = ষষ্ঠ;

অন্যদিকে,
- বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ-  পুরঃ + কার = পুরস্কার।
- স্বর সন্ধির উদাহরণ-   পিতৃ + আলয় = পিত্রালয়,  শে + অন =  শয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,০৭০.
‘ইত্যাদি’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) ইত্য + আদি
  2. খ) ইত + আদি
  3. গ) ইতি + আদি
  4. ঘ) ইত্ + আদি
সঠিক উত্তর:
গ) ইতি + আদি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইতি + আদি
ব্যাখ্যা
সূত্র: ই বা ঈ ধ্বনির পর যদি অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে ই/ঈ এর জায়গায় য হয়। 
যেমন: 
- অতি + অধিক = অত্যধিক,
- আদি + অন্ত = আদ্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- অতি + আচার = অত্যাচার,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৪,০৭১.
‘লব্ধ’ শব্দের শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. লভ্ + ধ
  2. লব্ + দ্ধ
  3. লভ্ + ত
  4. লব্ + ত
সঠিক উত্তর:
লভ্ + ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লভ্ + ত
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মে:
আগে ধ্, ভ্ কিংবা হ্ থাকলে এবং পরে ত থাকলে সন্ধিতে (ধ্ + ত) স্থলে দ্ধ, (ভ্ + ত) স্থলে ব্ধ এবং (হ্ + ত) স্থলে গ্ধ হয়।
যেমন:
- বুধ্ + ত = বুদ্ধ,
- লভ্ + ত = লব্ধ,
- বিমুহ্ + ত = বিমুগ্ধ,
- দুহ্ + ত = দুগ্ধ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪,০৭২.
‘গবাক্ষ' কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. বিসর্গ সন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি: 
সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- গো + ইন্দ্র = গবেন্দ্র;
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ;
- প্র + এষণ = প্রেষণ;
- কুল + অটা = কুলটা;
- পর + পর = পরস্পর;
- অন্য + অন্য = অন্যান্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,০৭৩.
'ঝ' উচ্চারণের স্থান অনুসারে কোন ধরণের ধ্বনি?
  1. তালব্য 
  2. দন্তমূলীয়
  3. ওষ্ঠ্য
  4. দন্ত্য 
সঠিক উত্তর:
তালব্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালব্য 
ব্যাখ্যা

• উচ্চারণের স্থান অনুসারে ব্যঞ্জনধ্বনির শ্রেণিবিভাগ:

• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত। পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ। 
সে হিসেবে, অপশন অনুসারে গ্রহণযোগ্য উত্তর- দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনি।

• দন্ত্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৪,০৭৪.
নিচের কোনটি বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. সম্‌ + চয় = সঞ্চয়
  2. সম্‌ + লাপ = সংলাপ
  3. সম্‌ + সার = সংসার
  4. সম্‌ + কৃত = সংস্কৃত
সঠিক উত্তর:
সম্‌ + কৃত = সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্‌ + কৃত = সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মানুসারে,
- ম্ - এর পর যে কোনো বর্গীয় ধ্বনি থাকলে ম্ ধ্বনিটি সেই বর্গের নাসিক্য ধ্বনি হয়।
যেমন -
- ম্ + ক্ = ঙ + ক্‌ ⇒ শম্ + কা =শঙ্কা।
- ম্ + চ্ = ঞ + চ্  ⇒ সম্ + চয় = সঞ্চয়
- ম্ + ত্ = ন্ + ত্  ⇒ সম্ + তাপ = সন্তাপ।

- ম্ - এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে, ম্ স্থলে অনুস্বার (ং) হয়।
যেমন -
- সম্ + যম = সংযম,
- সম্ + লাপ = সংলাপ,
- সম্ + হার = সংহার,
- সম্ + বাদ = সংবাদ,
- সম্ + শয় = সংশয়,
- সম্+ রক্ষণ = সংরক্ষণ,
- সম্ + সার = সংসার

বিশেষ নিয়মে সাধিত কতগুলো ব্যঞ্জনসান্ধি:
- উৎ + স্থান = উত্থান,
- সম্‌ + কার = সংস্কার,
- উৎ + স্থাপন = উত্থাপন,
- সম্‌ + কৃত = সংস্কৃত,
- পরি + কার = পরিষ্কার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,০৭৫.
শুদ্ধ যুক্তবর্ণ কোনটি
  1. হ্‌ + ঊ = হু
  2. হ্‌ + ণ = হ্ণ
  3. হ্‌ + র = হৃ
  4. হ্‌ + ণ = হ্ন
সঠিক উত্তর:
হ্‌ + ণ = হ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্‌ + ণ = হ্ণ
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ যুক্তবর্ণ: হ্‌ + ণ = হ্ণ। 

• যুক্তবর্ণ:

একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।
যেমন:
হ্‌ + উ = হু, 
হ্‌ + ঊ = হূ, 
হ্‌ + ঋ = হৃ, 
হ্‌ + ন = হ্ন,  
হ্‌ + ণ = হ্ণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৪,০৭৬.
ধ্বনিতত্ত্বের ইংরেজী পরিভাষা কোনটি?
  1. ক) Syntax
  2. খ) Phonology
  3. গ) Morphology
  4. ঘ) Semantics
সঠিক উত্তর:
খ) Phonology
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) Phonology
ব্যাখ্যা
সব ভাষার ব্যাকরণেরই প্রধানত নিম্নলিখিত ৪টি বিষয়র আলোচনা করা হয়। যথা -
- ধ্বনিতত্ত্ব (Phonology),
- শব্দ বা রূপতত্ত্ব (Morphology),
- বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম (Syntax), এবং
- অর্থতত্ত্ব (Semantics)। এছাড়াও অভিধানতত্ত্ব (Lexicography), ছন্দ - অলঙ্কার ইত্যাদিও ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী।
৪,০৭৭.
সন্ধিতে ধ্বনির কয় ধরনের মিলন হয়?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• সন্ধিতে ধ্বনির ৪ ধরনের মিলন হয়।

সন্ধি:

- মানুষ কথা বলার সময় কথার গতি বৃদ্ধি পায়। দ্রুত কথা বলার সময় কখনো কখনো দুটো শব্দের কাছাকাছি থাকা দুটো ধ্বনির উচ্চারণ একত্রিত হয়ে যায়। ব্যাকরণে একে সন্ধি বলা হয়।
যেমন:
- 'আমি বিদ্যা আলয়ে যাব।' বাক্যটি বলার সময় 'আমি বিদ্যালয়ে যাব' হয়ে যায়। এখানে 'বিদ্যা'-এর 'আ'-ধ্বনি এবং 'আলয়'-এর 'আ'-ধ্বনি মিলে গেছে।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ লিখেছেন:
- দুটি বর্ণ অত্যন্ত নিকটবর্তী হলে উচ্চারণের সুবিধার জন্য উভয়ের মিলন হয়ে এক বর্ণ বা একের রূপান্তর বা একের লোপ বা উভয়ের রূপান্তর হলে- এরূপ মিলনকে সন্ধি বলে।

- সন্ধির ফলে নতুন নতুন শব্দের সৃষ্টি হয়।
- কথা বলার সময় শব্দের উচ্চারণ সহজ হয়। ভাষা সংক্ষিপ্ত হয় এবং শুনতে ভালো লাগে।

• সন্ধিতে ধ্বনির চার ধরনের মিলন হয়:
১. উভয় ধ্বনি মিলে একটি ধ্বনি হয়।
২. একটি ধ্বনি বদলে যায়।
৩. একটি ধ্বনি লোপ পায়।
৪. উভয় ধ্বনির বদলে নতুন ধ্বনির সৃষ্টি হয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৪,০৭৮.
Edition শব্দের অর্থ-
  1. সংস্করণ
  2. সম্পাদক
  3. সম্পাদকীয়
  4. অনুসন্ধান
সঠিক উত্তর:
সংস্করণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্করণ
ব্যাখ্যা
Edition শব্দের পারিভাষিক অর্থ = সংস্করণ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা অভিধান
৪,০৭৯.
নিচের কোনগুলো তালব্য বর্ণের উদাহরণ?
  1. ত, ধ
  2. ল, স
  3. ছ, জ
  4. ফ, ভ
সঠিক উত্তর:
ছ, জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছ, জ
ব্যাখ্যা

তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভে ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে:
- ফ, ভ - ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন। 
- ল, স - দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন।
- ত, ধ - দন্ত্য ব্যঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৪,০৮০.
নিচের কোনটি মধ্যগত স্বরসঙ্গতির উদাহরণ?
  1. শিকা > শিকে
  2. দেশি > দিশি
  3. তুলা > তুলো।
  4. বিলাতি > বিলিতি
সঠিক উত্তর:
বিলাতি > বিলিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলাতি > বিলিতি
ব্যাখ্যা
• বিলাতি > বিলিতি-  মধ্যগত স্বরসঙ্গতি।

• স্বরসঙ্গতি:

- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।

• প্রগত স্বরসঙ্গতি:
- আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- মুলা > মুলো;
- শিকা > শিকে;
- তুলা > তুলো।

• পরাগত স্বরসঙ্গতি:
- অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- আখো > আখুয়া > এখো;
- দেশি > দিশি।

• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:
- আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- বিলাতি > বিলিতি

• অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি:
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- মোজা > মুজো।

• চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
যেমন:
- গিলা > গেলা;
- মিলামিশা > মেলামেশা;
- মিঠা > মিঠে;
- ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৪,০৮১.
'যশোলাভ' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি ?
  1. ক) যশ + লাভ
  2. খ) যশঃ + লাভ
  3. গ) যশো + লাভ
  4. ঘ) যোশ + লাভ
সঠিক উত্তর:
খ) যশঃ + লাভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যশঃ + লাভ
ব্যাখ্যা
'যশোলাভ' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ যশঃ + লাভ।

বিসর্গ যুক্ত অ-কার কখনো কখনো ও-কারে পরিবর্তিত হয়ে যায়। 
যেমন - মনঃ + যোগ = মনোযোগ
            অহঃ + রাত্র = অহোরাত্র 
            যশঃ + লিপ্সা = যশোলিপ্সা
            পুরঃ + হিত = পুরোহিত 

উৎস: বাংলা লেখার নিয়ম কানুন, হায়াৎ মাহমুদ।
৪,০৮২.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) পুরস্কার
  2. খ) মুমূর্ষু
  3. গ) পরিস্কার
  4. ঘ) স্পষ্ট
সঠিক উত্তর:
গ) পরিস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পরিস্কার
ব্যাখ্যা
- অশুদ্ধ বানান হচ্ছে পরিস্কার। এর শুদ্ধরূপ হচ্ছে পরিষ্কার

• ষ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• 'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১। অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
২। ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
২। 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
৩। ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৪। তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৫। কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।
৬। র- ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'ষ' হয়। যথা: পরিষ্কার। কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যথা: পুরস্কার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৪,০৮৩.
কোন দুটি অঘোষ ধ্বনি?
  1. ফ, ত
  2. ন, র
  3. ভ, ম
  4. ঝ, গ
সঠিক উত্তর:
ফ, ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ, ত
ব্যাখ্যা
• ফ, ত - দুটি অঘোষ ধ্বনি।

ঘােষ ব্যঞ্জন:

যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি। 
যথা:
ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি।
যথা:
প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ, হ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
৪,০৮৪.
"জ্ঞ" - যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ কোনটি?
  1. ঞ + গ
  2. ঞ + জ
  3. জ + ঞ
  4. গ + ঞ
সঠিক উত্তর:
জ + ঞ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ + ঞ
ব্যাখ্যা

• "জ্ঞ" - যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ - জ + ঞ = জ্ঞ

সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না, এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম। যথা:
১. স্বচ্ছ ও
২. অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ণ্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ণ্ঠ, ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ফ, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ত = (ক্ + ত),
ক্ম = (ক্ + ম),
ক্ষ = (ক্ + ষ),
ক্ষ্ম = (ক্ + ষ্ + ম),
ক্স = (ক্ + স),
গু = (গ্ + উ),
গ্ধ = (গ্ + ধ),
ঙ্গ = (ঙ্ + গ),
জ্ঞ = (জ + ঞ),
ঞ্চ = (ঞ্ + চ),
ঞ্জ = (ঞ্ + জ),
ষ্ণ = (ষ্ + ণ)
হু = (হ্ + উ),
হৃ = (হ + ঋ),
হ্ন = (হ্ + ন),
হ্ম = (হ্ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি( ২০২২ সংস্করণ)।

৪,০৮৫.
'নরাধম' শব্দটি স্বরধ্বনির কোন নিয়মে গঠিত হয়েছে? 
  1. অ + আ = আ
  2. আ + আ = আ
  3. আ + অ = আ
  4. অ + অ = আ
সঠিক উত্তর:
অ + অ = আ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ + অ = আ
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধি: 
- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনের নাম স্বরসন্ধি। 
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয় মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়। 
যেমন- 
• অ + অ = আ ⇒ নর + অধম = নরাধম ।
এরূপ-
হিতাহিত (হিত + অহিত), হিমাচল, হস্তান্তর, প্রণাধিক ইত্যাদি। 
• অ + আ = আ ⇒ হিম + আলয় = হিমালয়। এরূপ-সিংহাসন, দেবালয়, রত্নাকর ইত্যাদি। 
• আ + অ = আ ⇒ যথা + অর্থ = যথার্থ। এরূপ-মহার্ঘ, আশাতীত, কথামৃত ইত্যাদি। 
• আ + আ = আ ⇒ বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়। এরূপ- মহাশয়, সদানন্দ, কারাগার ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,০৮৬.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. কণ্ঠ
  2. কণ্টক
  3. পাণ্ডব
  4. ঘন্টা
সঠিক উত্তর:
ঘন্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘন্টা
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান বানান অনুসারে, 'ঘন্টা' শব্দটি অশুদ্ধ। 

• ণ-ত্ব বিধান: 
• ট–বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সবসময় মূর্ধন্য ‘ণ’ যুক্ত হয়।
যেমন- ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড, কণ্টক, পাণ্ডব, কণ্ঠ। 

• ঋ, র, ষ এর পরে মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।
যেমন- তৃণ, ঋণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• ঋ, র, ষ এর পরে স্বরধ্বনি ষ, য়, ব, হ, ং এবং 'ক' বর্গীয় ও 'প' বর্গীয় থাকলে তার পরবর্তীতে ‘ন’ তখন ‘ণ’ হয়ে যায়।
যেমন- কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,০৮৭.
কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক?
  1. ক) হিত + আহিত = হিতাহিত
  2. খ) নরা + অধম = নরাধম
  3. গ) বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
গ) বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

• অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমনঃ
- নর + অধম = নরাধম,
- হিত + অহিত = হিতাহিত,
- বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,০৮৮.
‘ভাবুক’ -এর সন্ধি বিচ্ছেদ হলো -
  1. ভৈ + উক
  2. ভৌ + উক
  3. ভৈ + অক
  4. ভো + উক
সঠিক উত্তর:
ভৌ + উক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভৌ + উক
ব্যাখ্যা
• এ, ঐ, ও, ঔ- কারের পরে এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্‌, আব্‌ হয়। 
যেমন:
- ভৌ + উক = ভাবুক,
- পৌ + অক = পাবক,
- গো + আদি = গবাদি,
- গো + এষণা = গবেষণা,
- পো + ইত্র = পবিত্র, 
- নৌ + ইক = নাবিক ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,০৮৯.
'পশ্বধম' শব্দটির সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কী?
  1. ক) পশু + অধম
  2. খ) পশ্ম + অধম
  3. গ) পশ + ধম
  4. ঘ) পশু + ধম
সঠিক উত্তর:
ক) পশু + অধম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পশু + অধম
ব্যাখ্যা
• উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার ও ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন: 
উ + অ = ব + অ ------ সু + অল্প = স্বল্প।
উ + আ = ব + আ  ----- সু + আগত = স্বাগত।
উ + ই = ব + ই -----  অনু + ই = অন্বিত।
উ + ঈ = ব + ঈ ----- তনু + ঈ = তন্বী।
উ + এ = ব + এ ------ অনু + এষণ = অন্বেষণ।
- এরূপ- পশ্বধম, পশ্বাচার, অন্বয়, মন্বন্তর ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)। 

• ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ অনুসারে, 
- পশু + অধম = পশ্বধম।

• বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে, 
- পশ্বাধম (বিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ।
- পশু+অধম

• অর্থ:
পশুর চেয়েও অধম।
৪,০৯০.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ?
  1. ক) সদ্য + জাত = সদ্যোজাত
  2. খ) মনঃ + নীত = মনোনীত
  3. গ) সম্‌ + কার = সংস্কার
  4. ঘ) বিশ্ব + মিত্র = বিশ্বামিত্র
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিশ্ব + মিত্র = বিশ্বামিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিশ্ব + মিত্র = বিশ্বামিত্র
ব্যাখ্যা

ব্যাকরণের সাধারণ বা বিশেষ কোনো নিয়মানুসারেই যখন কোন কর্ম ব্যাখ্যা করা যায় না, অথচ তা সংঘটিত হয়, তখন সেই ব্যতিক্রমকে বৈধতা দেয়ার মানে নিপাতনে সিদ্ধ।
গো + পদ = গোষ্পদ।
বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি।
মনষ্‌ + ঈষা = মনীষা।
আ + পদ = আস্পদ।
বাক্‌ + ঈশ্বরী = বাগেশ্বরী।
বিশ্ব + মিত্র = বিশ্বামিত্র।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪,০৯১.
'পরমেশ' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ হলো-
  1. ক) পরমঃ + ঈশ
  2. খ) পরম + ইশ
  3. গ) পরম + ঈশ
  4. ঘ) পরম + ঈস
সঠিক উত্তর:
গ) পরম + ঈশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পরম + ঈশ
ব্যাখ্যা

অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়। এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
- শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা,
- মহা + ঈশ = মহেশ,
- পরম + ঈশ = পরমেশ,
- যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৪,০৯২.
মধ্যগত স্বরসঙ্গতির উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) জিলিপি
  2. খ) মুজো
  3. গ) মেলামেশা
  4. ঘ) তুলো
সঠিক উত্তর:
ক) জিলিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জিলিপি
ব্যাখ্যা
মধ্যগত স্বরসঙ্গতিঃ
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- বিলাতি > বিলিতি, জিলাপি > জিলিপি।

মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তিঃ
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি এলে তাকে মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি বলে।
যেমনঃ রত্ন > রতন, গ্রাম > গেরাম ইত্যাদি।

সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপঃ
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, মধ্য বা অন্তে কোন স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ।
যেমনঃ বসতি > বস্‌তি।

অপিনিহিতিঃ
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন- আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, মারি > মাইর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৪,০৯৩.
বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জন সন্ধি নয় কোনটি?
  1. পরিষ্কার
  2. পরিষ্কৃত
  3. সংস্কৃতি
  4. সংঘাত
সঠিক উত্তর:
সংঘাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংঘাত
ব্যাখ্যা

সংঘাত = সম্ + ঘাত
অনুস্বর সংযুক্ত শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ সহজে করা যায়।
এক্ষেত্রে অনুস্বরের স্থানে ম দিলেই হয়ে যায়।
পরিষ্কার = পরি + কার
পরিষ্কৃত = পরি + কৃত
সংস্কৃতি = সম্ + কৃতি

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯)।

৪,০৯৪.
কোনটি ব্যঞ্জন সন্ধিসাধিত শব্দ?
  1. নাতি + বৌ = নাতবৌ
  2. মা + এর = মায়ের
  3. কুড়ি + এক = কুড়িক
  4. রুপা + আলি = রুপালি
সঠিক উত্তর:
নাতি + বৌ = নাতবৌ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাতি + বৌ = নাতবৌ
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জনসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে ব্যঞ্জনধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে ব্যঞ্জনধ্বনি মিলিত হয়ে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

যেমন:
- নাতি + বৌ = নাতবৌ,
- উৎ + চারণ = উচ্চারণ, 
- চার + টি = চাট্টি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- স্বরসন্ধির উদাহরণ:
- রুপা + আলি = রুপালি, 
- কুড়ি + এক = কুড়িক, 
- মা + এর = মায়ের।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৪,০৯৫.
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন নয় কোনটি?




সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৪,০৯৬.
'ষ' ত্ব বিধান এর সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. মাষ্টার
  2. ষ্টেশন
  3. পোষ্ট
  4. সুষুপ্ত
সঠিক উত্তর:
সুষুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুষুপ্ত
ব্যাখ্যা

• 'ষ' ত্ব বিধান মতে সঠিক প্রয়োগ ঘটে 'সুষুপ্ত' শব্দে। 
- এটি একটি তৎসম শব্দ। 

'ষ-ত্ব' বিধান অনুযায়ী- 
- কেবল তৎসম শব্দেই  'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য। 
- বিদেশি শব্দে 'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য নয়। 

- 'পোষ্ট' ও 'মাষ্টার' 'ষ্টেশন' এবং 'পোষাক' এর সঠিক বানান - পোস্ট, মাস্টার, স্টেশন ও পোশাক।   
- পোস্ট, মাস্টার ইংরেজি শব্দ ও পোশাক ফারসি ভাষার শব্দ,।
 তাই এতে 'ষ'-ত্ব বিধান প্রযোজ্য হবে না।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৪,০৯৭.
একাক্ষর শব্দে আ -এর উচ্চারণ কিরূপ হয় ?
  1. ক) দীর্ঘ
  2. খ) হ্রস্ব
  3. গ) বিবৃত
  4. ঘ) সংবৃত
সঠিক উত্তর:
ক) দীর্ঘ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দীর্ঘ
ব্যাখ্যা

আ এর উচ্চারণ অনেকটা ইংরেজি ফাদার (father) ও কাম (calm) শব্দের আ (a)-এর মতাে। যেন- আপন, বাড়ি, মা, দাতা ইত্যাদি।
বাংলায় একাক্ষর (Monosyllabic) শব্দে আ দীর্ঘ হয়। যেমন- কাজ শব্দের আ দীর্ঘ এবং কাল শব্দের আ হ্রস্ব। এরূপ- যা, পান, ধান, সাজ, চাল, চাঁদ, বাঁশ। (রেফারেন্সঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ)

৪,০৯৮.
'একাদশ'- শব্দটি কোন নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. ক) স্বর + ব্যঞ্জন
  2. খ) ব্যঞ্জন + স্বর
  3. গ) ব্যঞ্জন + স্বর
  4. ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি
ব্যাখ্যা
'একাদশ' নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি।

ব্যঞ্জনসন্ধি:

স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।

স্বর+ব্যঞ্জন:

স্বর+ছ = স্বর+চ্ছ। যেমন – কথা+ছলে = কথাচ্ছলে, পরি+ছেদ = পরিচ্ছেদ।
এখানে পূর্ববর্তী স্বরের প্রভাবে পরবর্তী ছ-এর জায়গায় চ্ছ হয়েছে।

ব্যঞ্জন+স্বর:
ক/চ/ট/ত/প+স্বর = গ/জ/ড(ড়)/দ/ব। যেমন – দিক্+অন্ত = দিগন্ত, সৎ+উপায় = সদুপায়
স্বরধ্বনিগুলো ঘোষবৎ হয়। এখানে ঘোষবৎ স্বরধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী অঘোষ ধ্বনি (ক, চ, ট, ত, প) পরিবর্তিত হয়ে ঘোষধ্বনিতে (গ, জ, ড, দ, ব) পরিণত হয়।

ব্যঞ্জন+ব্যঞ্জন:
ব্যঞ্জনসন্ধিতে একটি ধ্বনির প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যায়। যেমন –
চলৎ+চিত্র = চলচ্চিত্র (এখানে চ-এর প্রভাবে ত হয়েছে চ)
বিপদ্+জনক = বিপজ্জনক (এখানে জ-এর প্রভাবে দ হয়েছে জ)
উৎ+লাস = উল্লাস (এখানে ল-এর প্রভাবে ত হয়েছে ল)।

• কিছু ব্যঞ্জনসন্ধি নিয়ম ছাড়া হয়, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি বলে। যেমন – গো+পদ = গোষ্পদ, এক+দশ = একাদশ, বৃহৎ+পতি = বৃহস্পতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,০৯৯.
কোন শব্দে স্বভাবত 'ণ' ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ভণিতা
  2. বর্ণনা
  3. ব্যাকরণ
  4. ভাষণ
সঠিক উত্তর:
ভণিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভণিতা
ব্যাখ্যা

কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়।
যেমন:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু, বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্কণ, নিক্কণ, তুণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ।

অন্যদিকে,
ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৪,১০০.
'বয়োজ্যেষ্ঠ' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বয়োঃ + জ্যেষ্ঠ
  2. বয়ঃ + জ্যেষ্ঠ
  3. বয়ো + জ্যেষ্ঠ
  4. বয় + জেষ্ঠ্য
সঠিক উত্তর:
বয়ঃ + জ্যেষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বয়ঃ + জ্যেষ্ঠ
ব্যাখ্যা

• বিসর্গ সন্ধিের নিয়ম:
পূর্বপদের শেষে যদি অঃ (=অস্) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি বর্গের ৩য়, ৪র্থ বা ৫ম বর্ণের ধ্বনি (গ/ঘ, জাঝা, ড/ঢ, দ/ধান, ব/ভ/ম) থাকে, কিংবা অন্তঃস্থ বর্ণ (য/র্ল) অথবা হ থাকে তবে সন্ধির ফলে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও-ধ্বনি হয় এবং পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়। কিন্তু পূর্বপদের শেষে যদি অঃ (=অস) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি অ থাকে তবে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও হয়ে পূর্ববর্ণে যুক্ত হয় এবং পরের অ-ধ্বনি লোপ পায়।

সন্ধিজাত শব্দগঠন:
- অধঃ + গতি = অধোগতি। 
- মনঃ + গত = মনোগত।
- বয়ঃ + জ্যেষ্ঠ = বয়োজ্যেষ্ঠ। 
- সদ্যঃ + জাত = সদ্যোজাত।
- ত্রয়ঃ + দশ = ত্রয়োদশ। 
- শিরঃ + দেশ = শিরোদেশ।
- তিরঃ + ধান = তিরোধান। 
- শিরঃ + ধার্য = শিরোধার্য।
- মনঃ + নয়ন = মনোনয়ন।  
- মনঃ + নীত = মনোনীত।
- অধঃ + বদন = অধোবদন। 
- সরঃ + বর= সরোবর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।