বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনিতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৬,৩২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনিতত্ত্ব

PrepBank · পাতা ৪০ / ৬৩ · ৩,৯০১৪,০০০ / ৬,৩২৭

৩,৯০১.
নিচের কোন ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি হয়? 




সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

ঘোষধ্বনি 'ম' উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি হয়

-------------------
ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘোষ ও অঘোষ।
১. ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

২. অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যথা: প, , ত, , স, ট, ঠ, চ, , শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৩,৯০২.
'ক' ধ্বনিকে 'ক' বলতে গেলে তাঁর সঙ্গে কি যোগ করতে হয়?
  1. হস্‌ ধ্বনি
  2. ব্যঞ্জনধ্বনি
  3. অ ধ্বনি
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অ ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ ধ্বনি
ব্যাখ্যা
• 'ক' ধ্বনিকে 'ক' বলতে গেলে তাঁর সঙ্গে 'অ' যোগ করতে হয়। 

• ভাষা ও ধ্বনি সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- বাগযন্ত্রের দ্বারা উচ্চারিত অর্থবােধক ধ্বনির সাহায্যে মানুষের মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যমকে ভাষা বলে।
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একক হলাে 'ধ্বনি'।
- এটা ভাষার মৌলিক অংশ। ধ্বনিকে শব্দের ক্ষুদ্রতম এককও বলা হয়।
- ধ্বনির লিখিত রূপ হলাে বর্ণ।
- ধ্বনি চেনার স্মারক বা চিহ্ন বা প্রতীকই বর্ণ।
- শব্দের ক্ষুদ্রতম অংশ হলাে অক্ষর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ, ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৯০৩.
বাংলা বর্ণমালা মাত্রাহীন বর্ণ কয়টি?
  1. ক) ৩২টি
  2. খ) ৮টি
  3. গ) ১০টি
  4. ঘ) ১১টি
সঠিক উত্তর:
গ) ১০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১০টি
ব্যাখ্যা
• উপযুক্ত বর্ণসমূহকে মাত্রার উপর ভিত্তি করে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। ।
মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ১০ টি
এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)।

অর্ধমাত্রার বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ ৮টি।
এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

পূর্ণমাত্রার বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণ মাত্রার বর্ণ ৩২টি।
এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯০৪.
নিচের কোনটি ষ-ত্ব বিধান অনুযায়ী সঠিক নয়?
  1. প্রতিষেধক
  2. পোষাক
  3. সুষমা
  4. প্রতিষ্ঠান
সঠিক উত্তর:
পোষাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোষাক
ব্যাখ্যা
• 'পোষাক' এর সঠিক বানান পোশাক কারণ বিদেশি শব্দের বানানে 'ষ' হয় না।

অন্যদিকে,
• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।

যেমন:
- অভিসেক >অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ >অনুষঙ্গ,
- প্রতিসেধক >প্রতিষেধক, প্রতিস্থান >প্রতিষ্ঠান,
- অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,৯০৫.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি নয়?
  1. ক) পরস্পর
  2. খ) ষড়ানন
  3. গ) মনীষা
  4. ঘ) একাদশ
সঠিক উত্তর:
খ) ষড়ানন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ষড়ানন
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনসন্ধি(ব্যঞ্জনধ্বনি+স্বরধ্বনি): ক, চ, ট, ত, প থাকলে এবং তাদের পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ, জ, ড (ড়), দ, ব হয়। পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়। যেমন- ষট্+আনন = ষড়ানন।
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি গুলো হলো- ষট্ + দশ = ষোড়শ, মনীষা = মনস + ঈষা, বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি, আশ্চর্য = আ+ চর্য, পতঞ্জলি = পতৎ + অঞ্জলি, তস্কর = তৎ + কর, বনস্পতি = বন + পতি, পরস্পর = পর + পর, একাদশ = এক + দশ ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি]
৩,৯০৬.
'স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য' ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. ক) ধ্বনিতত্ত্ব
  2. খ) শব্দতত্ত্ব
  3. গ) বাক্যতত্ত্ব
  4. ঘ) অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ক) ধ্বনিতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• 'স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য' ব্যাকরণের 'ধ্বনিতত্ত্ব' অংশের আলোচ্য বিষয়। 

• ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগযন্ত্র, বাগযন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
সন্ধি প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)। 
৩,৯০৭.
'কুঞ্ঝটিকা' এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. কুঃ + ঝটিকা
  2. কুৎ + ঝটিকা
  3. কুৎ + জটিকা
  4. কুজ + ঝটিকা
সঠিক উত্তর:
কুৎ + ঝটিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুৎ + ঝটিকা
ব্যাখ্যা

- কুঞ্ঝটিকা এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: কুৎ + ঝটিকা।
- এটি ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ।

ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মানুসারে:
- ত্ ও দ্‌-এরপর জ্ ও থাকলে ত্ ও দৃ-এর স্থানে জ্ হয়। যেমন-
- ত্ + জ = জ্জ → সৎ + জন = সজ্জন।
- দ + জ = জ্জ →  বিপদ + জাল = বিপজ্জাল।
- ত + ঝ = জ্ঝ  →  কুৎ + ঝটিকা = কুঞ্ঝটিকা।
 - এরূপ – উজ্জ্বল, তজ্জন্য, যাবজ্জীবন, জগজ্জীবন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩,৯০৮.
ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান অনুসারে নিচের কোন শব্দটি অশুদ্ধ?
  1. ক) পালোয়াণ
  2. খ) রুক্মিণী
  3. গ) ব্রাহ্মণ
  4. ঘ) অর্পণ
সঠিক উত্তর:
ক) পালোয়াণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পালোয়াণ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• পালোয়ান (ফারসি শব্দ)
অর্থ- কুস্তিগির, মল্ল, ব্যায়ামবীর, বলবান, সাহসী ইত্যাদি।

• ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে বাংলা, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দে ‘ণ’ ও ‘ষ’ ব্যবহৃত হয় না। অতএব, পালোয়াণ শব্দে ‘ণ’ এর ব্যবহার অশুদ্ধ।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ- এর পরে স্বরধ্বনি (ষ, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয়) ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক, কফণি, বণিক, চিক্কণ,তূণ, ভণিতা, আপণ, বিপণি, লবণ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৯০৯.
'সংরক্ষণ' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. সম্ + রক্ষণ
  2. সর্ + অক্ষণ
  3. সম্ + অক্ষণ
  4. সমঃ + রক্ষণ
সঠিক উত্তর:
সম্ + রক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্ + রক্ষণ
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম: 
- ম্‌- এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি যথা: য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে ম্‌- স্থলে অনুস্বার (ং) হয়।  
যেমন:
- সম্‌ + সার = সংসার,
- সম্‌ + বাদ = সংবাদ,
- সম্‌ + যম = সংযম,
- সম্‌ + রক্ষণ = সংরক্ষণ,
- সম্‌ + লাপ = সংলাপ,
- সম্‌ + শয় = সংশয়,
- সম্‌ + হার = সংহার,
- স্বয়ম্‌ + বরা = স্বয়ংবরা ইত্যাদি। 
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯১০.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী 'তালব্য বর্ণ' কোনটি?
  1. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী বর্ণের বিভাজন:
• কণ্ঠ্য বা জিহবামূলীয় বর্ণ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ। 
তালব্য বর্ণ: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, শ, য। 
• মূর্ধন্য বা পশ্চাৎ দন্তমূলীয় বর্ণ: ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ষ, র, ড়, ঢ়। 
• দন্ত্য বর্ণ: ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স। 
• ওষ্ঠ্য বর্ণ: প, ফ, ব, ভ, ম। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯১১.
নিচের কোনটি ঘোষ ধ্বনি?
  1. ক) ল
  2. খ) প
  3. গ) ছ
  4. ঘ) থ
সঠিক উত্তর:
ক) ল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ল
ব্যাখ্যা
‘ল’ ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
• ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘােষ ও অঘোষ।

ঘােষ ব্যঞ্জন ধ্বনি
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি।
যথা:
ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, , ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ ।

অঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি।
যথা:
প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

• ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়ঃ অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।

অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন ধ্বনি
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন:
প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন ধ্বনি
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন:
ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৯১২.
নিচের কোনগুলো বলকের উদাহরণ?
  1. ক) রা, এগুলো
  2. খ) এর, লাম
  3. গ) টি, টুকু
  4. ঘ) ই, ও
সঠিক উত্তর:
ঘ) ই, ও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ই, ও
ব্যাখ্যা
পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।
লগ্নক চার ধরনের। যথা_-
- বিভক্তি
- নির্দেশক
- বচন
- বলক

বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে।
'তখনই' বা 'এখনই' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০২১]
৩,৯১৩.
কোন শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহার অশুদ্ধ?
  1. কষায়িত
  2. কষণ
  3. কষরত
  4. কষ্টি
সঠিক উত্তর:
কষরত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কষরত
ব্যাখ্যা
• ‘কষরত’ শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহার অশুদ্ধ।
• শুদ্ধ বানান: কসরত,
- এটি আরবি শব্দ।
অর্থ: কৌশল, ব্যায়াম, অভ্যাস, চর্চা।
 
• ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে বিদেশি শব্দের বানান বাংলায় লেখার সময় কখনো ‘ষ’ লেখা যাবে না।
যেমন: 
- ফটোষ্ট্যাট হবে না, সঠিক বানান হবে ফটোস্ট্যাট।
তেমনইভাবে ষ্টেশন, ষ্ট্রিট ও কিষমিশ লিখলে ভুল হবে, সঠিক বানান হবে স্টেশন, স্ট্রিট এবং কিশমিশ।
 
অন্যদিকে,
কষাকষি, ষাণ্মাসিক ও কোষ শব্দগুলোতে ‘ষ’ এর ব্যবহার শুদ্ধ।
 
-----------------------
• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।
 
• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।
 
• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৯১৪.
বর্গের কোন বর্ণসমূহের ধ্বনি মহাপ্রাণধ্বনি?
  1. ১ম ও ২য় বর্ণ
  2. ২য় ও ৩য় বর্ণ
  3. ২য় ও ৪র্থ বর্ণ
  4. ১ম ও ৩য় বর্ণ
সঠিক উত্তর:
২য় ও ৪র্থ বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২য় ও ৪র্থ বর্ণ
ব্যাখ্যা

• বর্গের প্রথম ও তৃতীয় বর্ণ অল্পপ্রাণধ্বনি,
• দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ মহাপ্রাণধ্বনি,
• পঞ্চম বর্গ নাসিক্যধ্বনি।
• আবার প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণ অঘােষ,
• তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ণ ঘােষ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৯১৫.
কোনটি জিহ্বামূলীয় বর্ণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

জিহ্বামূলীয় বর্ণ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ।

অন্যদিকে,
• অগ্র দন্তমূলীয় বর্ণ: ত, থ, দ, ধ, ন,,
• অগ্রতালু বা তালব্য বর্ণ বর্ণ: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, শ, য, য়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৯১৬.
সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ভাৎ + কর = ভাস্কর
  2. দুষ + কর = দুষ্কর
  3. নিস + কর = নিষ্কর
  4. আ + চর্য = আশ্চর্য
সঠিক উত্তর:
আ + চর্য = আশ্চর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আ + চর্য = আশ্চর্য
ব্যাখ্যা
- সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - আ + চর্য = আশ্চর্য
- এটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।

• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
- বন্‌ + পতি = বনস্পতি,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- পর্‌ + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক্‌ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'দুষ্কর' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = দুঃ + কর।
- 'নিষ্কর' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = নিঃ + কর।
- 'ভাস্কর' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = ভাঃ + কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৯১৭.
কোনটি শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ?
  1. ষটঃ + নবতি = ষণ্ণবতি
  2. চিঃ + ময় = চিন্ময়
  3. অন্তঃ + ঈক্ষ = অন্তরীক্ষ
  4. তদঃ + নিষ্ঠ = তন্নিষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
অন্তঃ + ঈক্ষ = অন্তরীক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্তঃ + ঈক্ষ = অন্তরীক্ষ
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- অন্তঃ, পুনঃ, প্রাতঃ (অন্তর্, পুনর্, প্রাতর্) ইত্যাদির পর স্বরধ্বনি থাকলে সন্ধির ফলে বিসর্গ 'র' হয়ে পরবর্তী স্বরধ্বনির সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- অন্তঃ + ঈক্ষ = অন্তরীক্ষ,
- অন্তঃ + ঈপ = অন্তরীপ,
- পুনঃ + উত্থান পুনরুত্থান,
- পুনঃ + উক্তি = পুনরুক্তি।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদের শুদ্ধরূপ:
- ষট্ + নবতি = ষণ্ণবতি,
- চিৎ + ময় = চিন্ময়,
- তদ্‌ + নিষ্ঠ = তন্নিষ্ঠ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৯১৮.
'পদস্খলন' শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পদ + খলন
  2. পদঃ + খলন
  3. পৎ + খলন
  4. পদসঃ + খলন
সঠিক উত্তর:
পদঃ + খলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদঃ + খলন
ব্যাখ্যা
বিসর্গ সন্ধি:
- অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশু ধ্বনি (ষ) হয়।

যেমন:
- নমঃ + কার = নমস্কার,
- পদঃ + খলন = পদস্খলন
- নিঃ + কর = নিষ্কর, 
- দুঃ + কর = দুষ্কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৯১৯.
'ঞ্ঝ' যুক্তবর্ণটিতে কোন কোন বর্ণ রয়েছে?
  1. ক) ঞ্ + ঝ
  2. খ) জ্ + ঞ
  3. গ) ঞ্ + জ
  4. ঘ) ছ + ঞ
সঠিক উত্তর:
ক) ঞ্ + ঝ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ঞ্ + ঝ
ব্যাখ্যা
ঞ্ঝ = ঞ্ + ঝ৷ উদাহরণ- ঝঞ্ঝা, ঝঞ্ঝাট ইত্যাদি৷
ঞ্ + জ = ঞ্জ৷ উদাহরণ- গঞ্জ, রঞ্জন, কুঞ্জ ইত্যাদি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি৷
৩,৯২০.
বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়ে ব্যাকরণের কোন অংশ আলোচনা করে?
  1. ক) ধ্বনিতত্ত্ব
  2. খ) রূপতত্ত্ব
  3. গ) বাক্যতত্ত্ব
  4. ঘ) অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ঘ) অর্থতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
ব্যাকরণের আলােচ্য বিষয় বিভক্ত হয় অন্তত চারটি ভাগে, যথা – ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব ও অর্থতত্ত্ব।

⇒ ধ্বনিতত্ত্ব
ধ্বনিতত্ত্বের আলােচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলােচনা এর অন্তর্ভুক্ত। ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলােচ্য বাদ্যযন্ত্র, বাগযন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

⇒ রূপতত্ত্ব
রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলােচনা করা হয়। এই আলােচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়। বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দনির্মাণ ও পদনির্মাণ প্রক্রিয়া।

⇒ বাক্যতত্ত্ব
বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলােচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলােচ্য। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়। এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলােচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যােগ্যতা, বাক্যের উপাদান লােপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলােচিত হয়ে থাকে।

⇒ অর্থতত্ত্ব
ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলােচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলােচনা থাকে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৯২১.
ধ্বনির কোন গুচ্ছটি তালব্য ব্যঞ্জনের উদাহরণ?
  1. ন, র, ল, স
  2. ট, ঠ, ড, ঢ
  3. চ, ছ, জ, ঝ
  4. ত, থ, দ, ধ
সঠিক উত্তর:
চ, ছ, জ, ঝ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চ, ছ, জ, ঝ
ব্যাখ্যা
• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে, 
• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন: ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• দন্ত্য ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,৯২২.
কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি ভুল?
  1. ক) গৈ + অক = গায়ক
  2. খ) সু + অল্প = স্বল্প
  3. গ) আ + চর্য = আশ্চর্য
  4. ঘ) দু + লোক = দ্যুলোক
সঠিক উত্তর:
ঘ) দু + লোক = দ্যুলোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দু + লোক = দ্যুলোক
ব্যাখ্যা

- ‘দ্যুলোক’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ দিব্‌ + লোক। এটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যাঞ্জন সন্ধি।
- কতোকগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসরণ করে না। এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ বলে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৯২৩.
কোনটি কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ?
  1.  হ
  2. ড়
  3. ঢ়
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

কম্পিত ব্যঞ্জন:
- বযে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
- কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের র কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ

অন্যদিকে,
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
- হাতি শব্দের কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩,৯২৪.
"কেন্দ্র" - শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. কেন্‌দ্রোঁ
  2. ক্যান্‌দ্রো
  3. কেন্‌দ্রো
  4. কেন্‌দ্রঁ
সঠিক উত্তর:
কেন্‌দ্রো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেন্‌দ্রো
ব্যাখ্যা

র বর্ণের উচ্চারণ:
- র বর্ণের উচ্চারণ [র্‌]। তবে র-ফলা হিসেবে এর উচ্চারণে বৈচিত্র্য আছে।

•  শব্দের মধ্যে বা শেষে কোনাে ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে র-ফলা থাকলে দ্বিত্বসহ র-ফলা উচ্চারিত হয়।
যেমন:
- মাত্র [মাত্ত্রো‌], বিদ্রোহ [বিদ্দ্রো‌হাে], যাত্রী [জাত্ত্রি‌]।

• কিন্তু শব্দের মধ্যে বা শেষে যুক্তব্যঞ্জনের সঙ্গে র-ফলা যুক্ত হলে দ্বিত্ব উচ্চারণ হয় না।
যেমন:
- কেন্দ্র [কেন্‌দ্রো], শাস্ত্র [শাস্‌ত্রো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।

৩,৯২৫.
'রাজীব মাষ্টার ষ্টেশনের কাছেই থাকেন।' - বাক্যটির 'মাষ্টার' ও 'ষ্টেশনের' শব্দগুলোতে মূর্ধন্য 'ষ' এর ব্যবহার -
  1. দুটোই শুদ্ধ
  2. দুটোই অশুদ্ধ
  3. প্রথমটি শুদ্ধ, দ্বিতীয়টি অশুদ্ধ
  4. প্রথমটি অশুদ্ধ, দ্বিতীয়টি শুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
দুটোই অশুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুটোই অশুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• 'রাজীব মাষ্টার ষ্টেশনের কাছেই থাকেন।' - বাক্যটির 'মাষ্টার' ও 'ষ্টেশনের' শব্দগুলোতে মূর্ধন্য 'ষ' এর ব্যবহার - দুটোই অশুদ্ধ


ষ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে।
- যেসব তৎসম শব্দে 'ষ' রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে।
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য 'ষ'-এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না। 
যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট, স্টেশন, স্টুডিও ইত্যাদি।
  
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯২৬.
পরে উচ্চারিত হওয়া ‘ই/উ’ আগে উচ্চারিত হওয়াকে কী বলে?
  1. অন্তর্হতি
  2. অপিনিহিতি
  3. সম্প্রকর্ষ
  4. অভিশ্রতি
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা

অপিনিহিতি:
- পরে উচ্চারিত হওয়া ‘ই/উ’ আগে উচ্চারিত হওয়াকে অপিনিহিতি বলে

যেমন:
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩,৯২৭.
ক- বর্গীয় ধ্বনির উচ্চারণস্থান কোনটি?
  1. পশ্চাৎ দন্তমূল
  2. জিহবামূল
  3. অগ্রদন্তমূল
  4. অগ্রতালু
সঠিক উত্তর:
জিহবামূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিহবামূল
ব্যাখ্যা
• ক, খ, গ, ঘ, ঙ এই বর্ণগুলােকে উচ্চারণ স্থানানুসারে বলে জিহ্বামূলীয় বর্ণ।

• বর্গীয় ধ্বনি: 

- ক থেকে ম পর্যন্ত পঁচিশটি স্পর্শধ্বনিকে উচ্চারণস্থানের দিক থেকে পাঁচটি গুচ্ছ বা বর্গে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রতি গুচ্ছের প্রথম ধ্বনিটির নামানুসারে সে গুচ্ছের সবগুলো ধ্বনিকে বলা হয় বর্গীয় ধ্বনি।
- বর্গভুক্ত বলে এ ধ্বনির চিহ্নগুলোকেও ঐ বর্গীয় নামে অভিহিত করা হয়। যেমন- 

বৰ্গ ⇒ বৰ্গীয় বৰ্ণ ⇒ বর্গের ভাষাবৈজ্ঞানিক নাম:
• ক ⇒ ক খ গ ঘ ঙ ⇒ কণ্ঠ্য,
• চ ⇒ চ ছ জ ঝ ঞ ⇒ তালব্য, 
• ট ⇒ ট ঠ ড ঢ ণ ⇒ মূর্ধন্য,
• ত ⇒ ত থ দ ধ ন ⇒ দন্ত্য, 
• প ⇒ প ফ ব ভ ম ⇒ ওষ্ঠ্য। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ।
৩,৯২৮.
বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. ক) মাষ্টার
  2. খ) রেশন
  3. গ) ষ্টেডিয়াম
  4. ঘ) কর্ণ ল
সঠিক উত্তর:
খ) রেশন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রেশন
ব্যাখ্যা
• বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে 'ণ' ত্ব বিধান 'ষ' ত্ব বিধান খাটে না। 
অর্থাৎ 'ণ' ও 'ষ' বিদেশি শব্দে ব্যবহৃত হয় না। 
বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে
S = স এবং
sh, shion, sion, tion = শ 

• শুদ্ধ বানান =
রেশন (ফরাসি শব্দ)
কর্নেল (ফরাসি শব্দ)
স্টেডিয়াম (ইংরেজি শব্দ)
মাস্টার (ইংরেজি শব্দ)

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৩,৯২৯.
কোন ধরনের শব্দে কখনোই মূর্ধণ্য-ণ হবে না ?
  1. ক) তৎসম
  2. খ) বিদেশি
  3. গ) তদ্ভব
  4. ঘ) আঞ্চলিক
সঠিক উত্তর:
খ) বিদেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিদেশি
ব্যাখ্যা
ণ-ত্ব বিধানঃ
• বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

বিদেশি শব্দে ‘ণ’ ব্যবহার হয় না — সবসময় ‘ন’ হয়। বাংলা ব্যাকরণে মূর্ধণ্য-ণ-এর ব্যবহার শুধুমাত্র তৎসম (সংস্কৃত থেকে আগত) শব্দেই সীমাবদ্ধ। অন্য ধরনের শব্দে দন্ত্য-ন ব্যবহৃত হয়। নিচে বিস্তারিত:তৎসম (ক):
সংস্কৃত শব্দে মূর্ধণ্য-ণ ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: প্রাণ, বাণী, ক্ষণিক।বিদেশি (খ):
বিদেশি শব্দে (ইংরেজি, আরবি, ফারসি ইত্যাদি) ণ ব্যবহার হয় না।
উদাহরণ: টেলিফোন (ফোনে "ন")।
তদ্ভব (গ) -
সংস্কৃত থেকে বিবর্তিত শব্দে ণ-এর বদলে ন ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: অঘ্রান (সংস্কৃত "অগ্রহায়ণ" থেকে)।আঞ্চলিক (ঘ):
আঞ্চলিক বা কথ্য ভাষার শব্দেও ণ ব্যবহার হয় না।
উদাহরণ: কইন্যা (কন্যা)।সূত্র:
বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, "মূর্ধণ্য-ণ কেবল তৎসম শব্দেই প্রযোজ্য" (ড. হুমায়ুন আজাদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ)।প্রশ্নটি রিয়েল জবের পরীক্ষায় আসছে বিধায় আমরা অধিক প্রচলিত উত্তর (খ) বিদেশি গ্রহণ করেছি।
৩,৯৩০.
'ফল' শব্দের 'ফ' উচ্চারণস্থান অনুযায়ী কোন ধরনের ব্যঞ্জন?
  1. মূর্ধন্য
  2. ওষ্ঠ্য
  3. তালব্য
  4. কণ্ঠনালীয়
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ্য
ব্যাখ্যা

• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধানি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধানি নামেও পরিচিত। পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্যব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে, 
মূর্ধন্য ব্যাঞ্জন:
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিজ্যের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধানির উদাহরণ।

তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে। হাতি শব্দের হ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৩,৯৩১.
ণ-ত্ব বিধানের নিয়মসাধিত উপায়ে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. চিক্কণ
  2. লাবণ্য
  3. কঙ্কণ
  4. রুক্মিণী
সঠিক উত্তর:
রুক্মিণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুক্মিণী
ব্যাখ্যা

• মূর্ধন্য-ণ ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন- ঘণ্টা, লণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য য় ব হ ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প্ + অ+ণ), লক্ষণ (ক্ + ষ্ + অ + ণ্)। এরূপ– রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি৷

৪. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু, বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, চিক্কণ, গুণ গণনা, পিণাক, পণ্য। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩,৯৩২.
ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় আছে কোন শব্দে?
  1. জন্ম
  2. শ্মশান
  3. পদ্ম
  4. স্মরণ
সঠিক উত্তর:
জন্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন্ম
ব্যাখ্যা
• ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]। শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়।
যেমন: শ্মশান [শঁশান্], স্মরণ [শঁরোন্]।

• শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়।
যেমন: আত্মীয় [আত্‌তিঁয়ো], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।

• কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে।
যেমন: যুগ্ম [জুগ্‌মো], জন্ম [জন্‌মো], গুল্ম [গুল্‌মো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৩,৯৩৩.
'নবছিদ্র' শব্দটির উচ্চারণে কয়টি অক্ষর পাওয়া যায়?
  1. ১টি
  2. ২টি 
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা

উত্তর: খ) ৩ টি অক্ষর পাওয়া যায়।

ব্যাখ্যা:
• অক্ষর:
এর ইংরেজি নাম - syllable. অল্প প্রয়াসে যে ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ একবারে উচ্চারিত হয় তাকে অক্ষর বলে। তাই একে শব্দাংশ ও বলা হয়।

অক্ষর মূলত দুই প্রকার।
যথা-
- মুক্তাক্ষর: টানা যাবে না (যেমন- ক/লা)
- বদ্ধাক্ষর: টানা যাবে (যেমন- দিন, রাত)

যেমন: 'বিশ্ববিদ্যালয়' শব্দে ৫টি অক্ষর রয়েছে (বি + শ্ব + বি + দ্যা + লয়)।

-------------------------
'নবছিদ্র' শব্দের উচ্চারণ হল: নবোছিদ্‌রো।

'নবছিদ্র' শব্দটির উচ্চারণ বিশ্লেষণ:
- নবো (প্রথম অক্ষর);
- ছিদ্ (দ্বিতীয় অক্ষর);
- রো (তৃতীয় অক্ষর)।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

৩,৯৩৪.
ধ্বনি পরিবর্তনের নিয়মে কোনটি মধ্য স্বরাগমের উদাহরণ?
  1. পোষ্য > পুষ্যি
  2. বেঞ্চ > বেঞ্চি
  3. স্তাবল > আস্তাবল
  4. ধর্ম > ধরম
সঠিক উত্তর:
ধর্ম > ধরম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্ম > ধরম
ব্যাখ্যা
মধ্য স্বরাগম:
- সময় সময় উচ্চারণের জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একেই বলা হয় মধ্য স্বরাগম।
- মধ্য স্বরাগমের অপর নাম বিপ্রকর্ষ/স্বরভক্তি।
যেমন:
- রত্ন > রতন,
- ধর্ম > ধরম,
- স্বপ্ন > স্বপন,
- প্রীতি > পিরীতি,
- মুক্তা > মুকুতা,
- গ্রাম > গেরাম ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- 'স্তাবল > আস্তাবল' হচ্ছে আদি স্বরাগমের উদাহরণ।
- 'বেঞ্চ > বেঞ্চি' হচ্ছে অন্ত্যস্বরাগমের উদাহরণ।
- 'পোষ্য > পুষ্যি' হচ্ছে স্বরসঙ্গতির উদাহরণ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯৩৫.
'গঞ্জ' শব্দের যুক্তবর্ণে কোন দুটি বর্ণ যুক্ত আছে?
  1. ঙ্‌ + ঞ
  2. ঞ্‌ + চ্‌
  3. জ্‌ + ঞ
  4. ঞ্‌ + জ
সঠিক উত্তর:
ঞ্‌ + জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঞ্‌ + জ
ব্যাখ্যা
• 'গঞ্জ' শব্দের যুক্তবর্ণ = ঞ্‌ + জ। 
উদাহরণ: 
- অঞ্জন, গঞ্জনা, গঞ্জ, কুঞ্জ ইত্যাদি। 
 
• গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ হলো:
- ঞ্ + চ = ঞ্চ,
- ষ্ + ণ = ষ্ণ,
- হ্ + ম = হ্ম,
- ঞ্ + ছ = ঞ্ছ,
- ক্ + ষ্ + ম = ক্ষ্ম।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
৩,৯৩৬.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. মরু + উদ্যান = মরুদ্যান
  2. প্রতি + উষ = প্রত্যুষ
  3. গঙ্গা + ঊর্মি= গঙ্গোর্মি
  4. পরি + ইক্ষা = পরীক্ষা
সঠিক উত্তর:
গঙ্গা + ঊর্মি= গঙ্গোর্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গঙ্গা + ঊর্মি= গঙ্গোর্মি
ব্যাখ্যা
• সূত্র: অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও-কার হয়।
সুতরাং, আ + ঊ = ও ; গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি।

অন্যদিকে,
• সূত্র: উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঊ-কার হয়; এই নিয়মে গঠিত। 
যেমন:
- মরু + উদ্যান = মরূদ্যান। 
- বধূ + উৎসব = বধূৎসব।
- ভূ+ ঊর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব।

• সূত্র: ই/ঈ এরপরে ই/ঈ থাকলে উভয়ে মিলে ঈ হয় এবং তা ই/ঈ-র আগের ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
ই+ঈ = ঈ;
- পরি+ঈক্ষা = পরীক্ষা।
- প্রতি+ঈক্ষা= প্রতীক্ষা।

• সূত্র: ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে 'য' বা য-ফলা হয়। 
যেমন:
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ,
- নদী + অম্বু = নদ্যম্বু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৯৩৭.
"দেশি > দিশি" - কোন ধরনের ধ্বনি পরবর্তনের উদাহরণ?
  1. অন্তর্হতি 
  2. স্বরসঙ্গতি
  3. বিষমীভবন 
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি 
সঠিক উত্তর:
স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা

• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। অর্থাৎ পূর্ববর্তী বা পরবর্তী স্বরের প্রভাবে শব্দের মধ্যে অপর  স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে প্রভাবকারী স্বরের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা করলে , এই রীতিকে বলা হয় স্বরসঙ্গতি। প্রধানত চারটি পদ্ধতিতে স্বরসঙ্গতি হয়ে থাকে। যথা:

প্রগত স্বরসঙ্গতি (Progressive):
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন,
- মুলা > মুলাে, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো, মিথ্যা > মিথ্যে, পুত্র > পুত্তুর ।

পরাগত স্বরসঙ্গতি (Regressive):
অন্ত্যস্বরের কারণে আদিস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন-
আখাে > আখুয়া > এখাে, দেশি > দিশি।

মধ্যগত স্বরসঙ্গতি (Mutual):
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- বিলাতি > বিলিতি।

অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি (Reciprocal):
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যান্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন – মােজা > মুজো, ধোঁকা > ধুঁকো, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩,৯৩৮.
'শুদ্ধোদন' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. শুদ্ধ + উদন
  2. শুদ্ধ + ওদন
  3. শুদ্‌ + উদন
  4. শুদ্‌ + ওদন
সঠিক উত্তর:
শুদ্ধ + ওদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুদ্ধ + ওদন
ব্যাখ্যা
• 'শুদ্ধোদন' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - শুদ্ধ + ওদন

স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি: 
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ:
- অন্য + অন্য = অন্যান্য,
- কুল + অটা = কুলটা,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়,
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড,
- স্ব + ঈর = স্বৈর,
- গো + ইন্দ্ৰ = গবেন্দ্র,
- গো + ঈশ্বর = গবেশ্বর,
- অক্ষ + ঊহিণী = অক্ষৌহিণী,
- রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ,
- সীমন + অত = সীমন্ত,
- শার + অঙ্গ = শারঙ্গ,
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯৩৯.
‘উদ্ধার’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কী?
  1. উদ্ + হার
  2. উত্ + ধার
  3. উৎ+ হার
  4. উধ্ + হার
সঠিক উত্তর:
উৎ+ হার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎ+ হার
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি নিয়মে গঠিত সন্ধি:
ৎ বা দ্ এবং পরে হ থাকলে দুইয়ে মিলে দ্ধ হয় এবং শ্ থাকলে দুইয়ে মিলে চ্ছ হয়।
যেমন:
- উৎ + হার = উদ্ধার,
- উৎ + হৃত = উদ্ধৃত,
- পদ্ + হতি = পদ্ধতি,
- তদ্ + হিত = তদ্ধিত,
- উৎ + শ্বাস = উচ্ছ্বাস,
- উৎ + শৃঙ্খল = উচ্ছৃঙ্খল ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৯৪০.
'থালা' শব্দের 'থ' এবং 'ল' বর্ণ দুটি কোন ধরনের ব্যঞ্জন?
  1. ওষ্ঠ্য এবং দন্ত্য
  2. দন্ত্য এবং দন্তমূলীয়
  3. মূর্ধন্য এবং দন্তমূলীয়
  4. ওষ্ঠ্য এবং দন্তমূলীয়
সঠিক উত্তর:
দন্ত্য এবং দন্তমূলীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দন্ত্য এবং দন্তমূলীয়
ব্যাখ্যা

• 'থালা' শব্দের 'থ' এবং 'ল' বর্ণ দুটি 'দন্ত্য এবং দন্তমূলীয়' ধরনের ব্যঞ্জন।

দন্ত্য ব্যঞ্জন:

- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, , দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র,, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জন ধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরচিত।
 যেমন: 
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩,৯৪১.
‘ক্ষ্ম’ যুক্তবর্ণের মধ্যে কী কী বর্ণ আছে?
  1. ক + ষ + ণ
  2. ক + ষ + ম
  3. হ + ম
  4. হ + ম + ণ
সঠিক উত্তর:
ক + ষ + ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক + ষ + ম
ব্যাখ্যা
ক্ষ্ম = ক + ষ + ম । যেমন : সূক্ষ্ম।
উৎস : নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ (পুরাতন)
৩,৯৪২.
'ভাষাচার্য' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ভাষা + অচার্য
  2. ভাষা + চার্য
  3. ভাষা + আচার্য
  4. ভাষ + আচার্য
সঠিক উত্তর:
ভাষা + আচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষা + আচার্য
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির যোগে আ-ধ্বনি হয়। বানানে তা আ-কার রূপে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

যেমন:
- ভাষা + আচার্য = ভাষাচার্য,
- হত + আশ = হতাশ,
- স্ব + আয়ত্ত = স্বায়ত্ত
- মহা + অর্থ = মহার্ঘ,
- আশা + অতীত = আশাতীত,
- মহা + আশয় = মহাশয়,
- কারা + আগার = কারাগার,
- ব্যথা + আতুর = ব্যথাতুর ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৯৪৩.
"ধপ + ধপ > ধপাধপ" কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অসমীকরণ
  2. স্বরসঙ্গতি
  3. অন্তর্হতি
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
সঠিক উত্তর:
অসমীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসমীকরণ
ব্যাখ্যা

অসমীকরণ:
একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন:
- ধপ + ধপ > ধপাধপ,
- টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩,৯৪৪.
নিচের কোনটি নিম্নমধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি?
  1. অ্যা
সঠিক উত্তর:
অ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যা
ব্যাখ্যা
• নিম্নমধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি 'অ্যা'।

অন্যদিকে,
- 'আ' নিম্ন মধ্য স্বরধ্বনি।
- 'অ' নিম্নমধ্য পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।
- 'এ' উচ্চমধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি।

উল্লেখ্য,
- 'অ' নিম্নমধ্য পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।
- 'ও' উচ্চমধ্য পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।
- 'ই' উচ্চ সম্মুখ স্বরধ্বনি।
- 'উ' উচ্চ পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,৯৪৫.
'ক্রমশ' শব্দের যুক্তবর্ণটির রূপ কী?
  1. ক) ক্ + ত
  2. খ) ক্ + ম
  3. গ) ক্ + র
  4. ঘ) ক্ + ষ
সঠিক উত্তর:
গ) ক্ + র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্ + র
ব্যাখ্যা
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
'ক্র' যুক্তবর্ণটির এর সঠিক রূপ হলো: ক্ + র=ক্র

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
ক্ + ত = ক্ত
ক্ + ম = ক্ম
ক্ + ষ = ক্ষ
ক্ + স = ক্স

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ]
৩,৯৪৬.
বাংলা ভাষায় ব্যাঞ্জনবর্ণ কয়টি?
  1. ২৯টি
  2. ৩৯টি
  3. ১৯টি
  4. ৪৯টি
সঠিক উত্তর:
৩৯টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৯টি
ব্যাখ্যা
• বর্ণ ও ধ্বনি প্রকরণ:
- ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি এ, ঐ, ও, ঔ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ,ঁ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ: ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ: ৮টি, এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৪৭.
'আশাতীত' কোন সূত্রযোগে গঠিত স্বরসন্ধি?
  1. ক) অ + অ = আ
  2. খ) অ + আ = আ
  3. গ) আ + অ = আ
  4. ঘ) আ + আ = আ
সঠিক উত্তর:
গ) আ + অ = আ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আ + অ = আ
ব্যাখ্যা
আ + অ = আ - সূত্রযোগে গঠিত স্বরসন্ধির উদাহরণ
- আশা + অতীত = আশাতীত।
- মহা + অর্ঘ = মহার্ঘ।
- ত্বরা + অন্বিত = ত্বরান্বিত।
- যথা + অযথ = যথাযথ।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৪৮.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়নি?
  1. গণিকা
  2. বেণী
  3. বাণিজ্য
  4. তৃণ
সঠিক উত্তর:
তৃণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃণ
ব্যাখ্যা
ণ-ত্ব বিধান অনুসারে,
ঋ, র, ষ-এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- কিছু শব্দ স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন:
চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা।
কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্বাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু, বিপণি, গণিকা
আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ।
চিক্বণ, নিক্বণ, তূণ, কফণি (কনুই), বণিক, গুণ, গণনা, পণ্য, বাণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,৯৪৯.
'ল' কোন ধ্বনির অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) অনুনাসিক
  2. খ) অঘোষ
  3. গ) ঘোষ
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঘোষ
ব্যাখ্যা
ঘােষ ব্যঞ্জন
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র,, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৯৫০.
অর্ধস্বরধ্বনি রয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. আম 
  2. বই
  3. ঋণ 
  4. ঈগল 
সঠিক উত্তর:
বই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বই
ব্যাখ্যা
• অর্ধ-স্বরধ্বনি (semi-vowel):
- বাংলা ভাষায় চারটি অর্ধস্বরধ্বনি (semi-vowel) রয়েছে। যেমন- বই, ঢেউ, যায় এবং যাও-এর ই্‌, উ্‌, এ্‌ (য়) এবং ও্‌  অর্ধস্বরধ্বনি।
- উচ্চারণ প্রক্রিয়ার দিক থেকে অর্ধস্বরধ্বনি পূর্ণস্বরের মতো স্পষ্ট উচ্চারিত নয়, যেন অসম্পূর্ণ স্বরের মতো।
যেমন: 'বই' শব্দের 'ই', 'ঢেউ' শব্দের 'উ', 'যায়' শব্দের 'য়', 'যাও' শব্দের 'ও'।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৯৫১.
নিচের কোনটি বিপ্রকর্ষ-র উদহরণ?
  1. স্টেশন> ইস্টিশন
  2. পোখত্ >পোক্ত
  3. শ্লোক> শোলোক
  4. রাখিয়া > রাইখ্যা
সঠিক উত্তর:
শ্লোক> শোলোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্লোক> শোলোক
ব্যাখ্যা
• আদি স্বরাগম :
- উচ্চারণের সুবিধার জন্য বা অন্য কোনো কারণে শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে বলে আদি স্বরাগম (Prothesis)।
যেমন:
- স্কুল> ইস্কুল, স্টেশন> ইস্টিশন। 

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন-ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন-
অ — রত্ন> রতন, ধর্ম >ধরম, স্বপ্ন> স্বপন, হর্ষ >হরষ ইত্যাদি।
ই — প্রীতি> পিরীতি, ক্লিপ> কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ — মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক> তুরুক, ভূ >ভুরু ইত্যাদি।
এ — গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ >সেরেফ ইত্যাদি।
ও — শ্লোক> শোলোক, মুরগ >মুরোগ> মোরগ ইত্যাদি।

• অন্ত্যস্বরাগম :
- কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে, এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন
দিশ্> দিশা, পোখত্ >পোক্ত, বেঞ্চ >বেঞ্চি, সত্য >সত্যি ইত্যাদি।

• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন
আজি >আইজ, সাধু> সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য, চারি> চাইর, মারি >মাইর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ।
৩,৯৫২.
সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ছেলে + মি = ছেলেমি
  2. সং + সার= সংসার
  3. উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন
  4. আহঃ + রহ = অহরহ
সঠিক উত্তর:
উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন ধ্বনিসমূহের যে কোনো বর্গের অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনির পর যে কোনো বর্গের ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ তালব্য ধ্বনি, (য > জ), ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ ধ্বনি (ব), ঘোষ কম্পনজাত দন্তমূলীয় ধ্বনি (র) কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি (ব) থাকলে প্রথম অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি ঘোষ অল্পপ্রাণরূপে উচ্চারিত হয়।
যথা:
- বাক্ + দান = বাগদান,
- ষট্ + যন্ত্ৰ ষড়যন্ত্র,
- উৎ + ঘাটন = উদ্‌ঘাটন,
- উৎ + যোগ = উদ্যোগ,
- উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন,
- তৎ + রূপ = তদ্রুপ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'অহরহ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = অহঃ + অহ।
• 'সংসার' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = সম্‌ + সার।
• 'ছেলেমি' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = ছেলে + আমি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,৯৫৩.
'অভিধান' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ওভিধান্‌
  2. অভিধানঁ
  3. ওবিধান্‌
  4. ওভিধানঁ
সঠিক উত্তর:
ওভিধান্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওভিধান্‌
ব্যাখ্যা
অ-এর উচ্চারণ দু রকম:

স্বাভাবিক (অ-এর মতো):
- অজ (অজো), অকাল (অকাল্), কথা (কথা), শপথ (শপথ্) ক্ষণ (খন্‌), জঞ্জাল (জন্‌জাল্), গয়না (গয়্না‌, ঘর (ঘর্)।

সংবৃত বা পরিবর্তিত (ও-এর মতো):
- অতি (ওতি), নদী (নোদি), অভিধান (ওভিধান্‌), অতনু (অতোনু), সুমতি (সুমোতি), মৌন (মৌনো), মৃগ (মৃগো)।
 
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৯৫৪.
'চক্র > চক্ক' কোন ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অপিনিহিতি
  2. অন্যোন্য সমীভবন
  3. পরাগত সমীভবন
  4. প্রগত সমীভবন
সঠিক উত্তর:
প্রগত সমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রগত সমীভবন
ব্যাখ্যা
প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তনকে প্রগত সমীভবন বলে।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক।

অন্যদিকে:
পরাগত সমীভবন:
- পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন কে পরাগত সমীভবন বলে।
যেমন:
- তৎ + জন্য > তজ্জন্য,
- তৎ + হিত >তদ্ধিত।

অন্যোন্য সমীভবন:
- যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অনন্যান্য সমীভবন।
যেমন:
- সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ।
- সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

অপিনিহিতি:
- পরে উচ্চারিত হওয়া ‘ই/উ’ আগে উচ্চারিত হওয়াকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,৯৫৫.
স বর্ণের [শ] উচ্চারণ হয়েছে কোন শব্দে?
  1. সালাত
  2. সালাম 
  3. আস্তে
  4. সাধারণ
সঠিক উত্তর:
সাধারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ
ব্যাখ্যা

• শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- শ কখনো [শ]-এর মতো উচ্চারিত হয়, কখনো [স]-এর মতো উচ্চারিত হয়।
- স কখনো [শ]-এর মতো উচ্চারিত হয়, আবার কখনো [স]-এর মতো উচ্চারিত হয়।
- ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।
যেমন:
শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্], শৃগাল [সৃগাল্]।
ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষোলো [শোলো]।
স বর্ণের [শ] উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারোন], সামান্য [শামান্‌না]।
স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌] সালাত [সালাত্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩,৯৫৬.
সংস্কৃত প্রয়োগ অনুসারে বাংলা বর্ণমালায় রক্ষিত স্বরবর্ণ কোনটি?
  1. ক) ঈ
  2. খ) ঋ
  3. গ) ঐ
  4. ঘ) ঔ
সঠিক উত্তর:
খ) ঋ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঋ
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত প্রয়োগ অনুসারে বাংলা বর্ণমালায় রক্ষিত স্বরবর্ণ 'ঋ'।
- 'ঋ' ধ্বনিটিকে স্বরধ্বনি বলা চলে না। 
- সংস্কৃতে এই ধ্বনিটি স্বরধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয়। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৫৭.
“পুনর্জন্ম” শব্দটি কোন সন্ধির মাধ্যমে গঠিত হয়েছে?
  1. ক) নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি
  2. খ) নিপাতনে সিদ্ধ বিসর্গসন্ধি
  3. গ) নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

পুনঃ + জন্ম = পুনর্জন্ম। এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।
আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিসর্গ সন্ধি - প্রাতরাশ, অতএব, তপোবন, পুনরায়, নিরাকার, দুর্যোগ, নীরস, নীরব।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য - ড সৌমিত্র শেখর।

৩,৯৫৮.
ষ- ত্ব বিধান অনুযায়ী কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. অনুষঙ্গ
  2. প্রতিষেধক
  3. সুষমা
  4. মাষ্টার
সঠিক উত্তর:
মাষ্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাষ্টার
ব্যাখ্যা

• ষ- ত্ব বিধান অনুযায়ী 'মাষ্টার' বানানটি অশুদ্ধ।

• আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে য হয় না। এ সম্বন্ধে সতর্ক হতে হবে। 
যেমন:
- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়। 
যেমন সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ >অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক >প্রতিষেধক, বিসম> বিষম, সুসমা> সুষমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩,৯৫৯.
ব্যঞ্জন ধ্বনির সংক্ষিপ্ত রূপকে বলে-
  1. রেফ
  2. হসন্ত
  3. কার
  4. ফলা
সঠিক উত্তর:
ফলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফলা
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে ফলা বলে।

---------------
• অনুবর্ণ:

ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ। অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

• ফলা:
ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে ঝুলে থাকে, সেগুলোকে ফলা বলে। বাংলা বর্ণমালায় ফলা বর্ণ ৬টি।
যেমন:
- ন-ফলা,
- ব-ফলা,
- ম-ফলা,
- য-ফলা,
- র- ফলা,
- ল-ফলা।

• রেফ: র-এর একটি অনুবর্ণ রেফ।

• বর্ণসংক্ষেপ: যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময়ে বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়োজন হয়। এগুলো বর্ণসংক্ষেপ। যেমন ভ, দ, ন, ম, ষ, স ইত্যাদি। এছাড়া ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৯৬০.
‘যথার্থ’ শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কী?
  1. যথা + অর্থ 
  2. যথা + আর্থ
  3. যথঃ + অর্থ
  4. যথ + আর্থ
সঠিক উত্তর:
যথা + অর্থ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথা + অর্থ 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ক) যথা + অর্থ 

স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনের নাম স্বরসন্ধি।

স্বরসন্ধির উদাহরণ:
১. অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয় এবং পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
- অ + অ = আ → নর + অধম = নরাধম। এরূপ: হিমাচল, প্রাণাধিক, হস্তান্তর, হিতাহিত।
- অ + আ = আ → হিম + আলয় = হিমালয়। এরূপ: দেবালয়, রত্নাকর, সিংহাসন।
- আ + অ = আ → যথা + অর্থ = যথার্থ। এরূপ: আশাতীত, কথামৃত, মহার্ঘ।
- আ + আ = আ → বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়। এরূপ: কারাগার, মহাশয়, সদানন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

৩,৯৬১.
কোনটি অসমীকরণ ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ধপ + ধপ > ধপাধপ
  2. তৎ + জন্য > তজ্জন্য
  3. উৎ + মুখ > উন্মুখ
  4. তৎ + হিত > তদ্ধিত
সঠিক উত্তর:
ধপ + ধপ > ধপাধপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধপ + ধপ > ধপাধপ
ব্যাখ্যা

• অসমীকরণ (Dissimilation): 
একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন-
- ধপ + ধপ > ধপাধপ,
- টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
পরাগত (Regressive) সমীভবন:
পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে বলে পরাগত সমীভবন।
যেমন- তৎ + জন্য > তজ্জন্য, তৎ + হিত > তদ্ধিত, উৎ + মুখ > উন্মুখ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৯৬২.
'ট' বর্গের বর্ণসমূহ কোন ধরনের ধ্বনি?
  1. কণ্ঠ্য ধ্বনি
  2. তালব্য ধ্বনি
  3. মূর্ধন্য ধ্বনি
  4. দন্ত্য ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য ধ্বনি
ব্যাখ্যা
• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
------------------ 
বাংলা বর্ণমালায় (ক - ম) পর্যন্ত এই ২৫টি বর্ণকে একত্রে স্পর্শ ধ্বনি বলা হয়।
 
এরমধ্যে, 
ক - বর্গীয় (ক, খ, গ, ঘ, ঙ) - এই ৫টি কণ্ঠ ধ্বনি,
চ - বর্গীয় (চ, ছ, জ, ঝ, ঞ) - ৫টি তালব্য ধ্বনি,
ট - বর্গীয়( ট, ঠ, ড, ঢ, ণ) - এই ৫টি মূর্ধন্য ধ্বনি,
ত - বর্গীয় (ত, থ, দ, ধ, ন) - পাঁচটি দন্ত্য ধ্বনি এবং
প - বর্গীয় (প, ফ, ব, ভ, ম) - এই ৫টি ওষ্ঠ্য ধ্বনি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৩,৯৬৩.
'সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না।' এর উদাহরণ কোনটি?
  1. অন্ত
  2. ক্রন্দন
  3. দুর্নিবার
  4. গ্রন্থ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
দুর্নিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্নিবার
ব্যাখ্যা

• সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়।
যেমন - ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।

অন্যদিকে, 
• ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না, ন হয়।
যেমন - অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৯৬৪.
নিচের কোন ব্যঞ্জনবর্ণের নিজেস্ব কোনো ধ্বনি নেই?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনধ্বনির লিখিত প্রতীক বা চিহ্নকে বলে ব্যঞ্জনবর্ণ। বাংলা বর্ণমালায় ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ রয়েছে। বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে ব্যঞ্জনবর্ণের তুলনা করলে দেখা যায় যে, সব ব্যঞ্জন বর্ণের স্বনিম রূপ বাংলা উচ্চারণে নেই। যেমন- ঞ, ণ, য়, য,ঃ ইত্যাদির স্বনিম বা ধ্বনিমূল উচ্চারণে অনুপস্থিত। এগুলো হয় বাংলার অন্যান্য ধ্বনির সঙ্গে মিশে গেছে, না- হয় উচ্চারিত হয় না।

কিছু ব্যঞ্জনবর্ণের নিজেস্ব কোনো ধ্বনি নেই, সেগুলো হলো: ঞ, ণ, ক্ষ, ঢ়, য়, য, স, ৎ, ং, ঃ,'। এগুলো কোনো ধ্বনি প্রকাশ করে না।

• ঞ-এর উচ্চারণ কখনো আঁ যেমন-মিঞ (মিয়ো), মিঞা (মিয়া); কখনো দন্তমূলীয় ন্ ধ্বনির মতো, যেমন-ব্যঞ্জন (ব্যান্‌জোন), লাঞ্ছনা (লাছোনা)।
• ন এবং ণ-এর উচ্চারণে কোনো পার্থক্য নেই। যেমন- বান (বন্যা), বাণ (তীর)।
• ষ এবং স-এর উচ্চারণ শ এর মতো। যেমন- সবিশেষ (শবিশেশ)।
• ত এবং ৎ-এর উচ্চারণও অভিন্ন। যেমন- সত, সৎ।
• ঙ, ং-এর উচ্চারণ একই। যেমন: ব্যাঙ, ব্যাং।

• বিসর্গ (ঃ) এবং চন্দ্রবিন্দু (ঁ) স্বতন্ত্র বর্ণ নয়; এগুলো ধ্বনি প্রকাশের বা উচ্চারণ নির্দেশের অণুচিহ্ন। আরবিতে যেমন হরকত আছে এগুলো তেমনি। বিসর্গের (ঃ) সাহায্যে ধ্বনির দ্বিত্ব উচ্চারণ বোঝায়। যেমন-'অতঃপর' (অতোপ্‌পর), প্রাতঃরাশ (প্রাতোর্‌রাশ। চন্দ্রবিন্দুর সাহায্যে স্বরের অনুনাসিকতা বোঝায়। যেমন- আ > আঁ, ই > ই।

• ঢ়-এর উচ্চারণ বাংলায় নেই।
য় অর্ধস্বর এ এর মতো উচ্চারিত হয়।
• য এর উচ্চারণ জ-এর মতো।

 অন্যদিকে, 
ব, ম, র বর্ণের নিজেস্ব ধ্বনি আছে। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৯৬৫.
"ক" উচ্চারণ করলে যা শোনা যায়, তা হলো—
  1. বর্ণ
  2. ধ্বনি
  3. শব্দ
  4. আঙ্গিক
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি
ব্যাখ্যা

বাংলা ব্যাকরণে ধ্বনি এবং বর্ণ দুটি ভিন্ন ধারণা, এবং এদের মধ্যে পার্থক্য প্রধানত তাদের প্রকৃতি এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার মধ্যে নিহিত। নিচে এই পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

ধ্বনি:
ধ্বনি হলো মুখ থেকে উচ্চারিত শব্দ বা কথনের একক, যা কান দিয়ে শোনা যায়। এটি একটি শ্রুতিগ্রাহ্য (auditory) উপাদান। ধ্বনি ভাষার মৌখিক রূপের অংশ এবং এটি উচ্চারণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। উদাহরণ: ‘ক’ ধ্বনি বা ‘আ’ ধ্বনি উচ্চারণের সময় শোনা যায়। ধ্বনির সংখ্যা ভাষার উচ্চারণ প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করে।

বর্ণ:
বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত রূপ বা চিহ্ন, যা চোখ দিয়ে দেখা যায়। এটি একটি দৃষ্টিগ্রাহ্য (visual) উপাদান। বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ (যেমন: অ, আ, ই) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ (যেমন: ক, খ, গ) রয়েছে, যা ধ্বনিকে লিখিত আকারে প্রকাশ করে।

উদাহরণ: যখন আমরা ‘ক’ উচ্চারণ করি, তখন তা ধ্বনি হিসেবে শোনা যায়, কিন্তু যখন লিখি ‘ক’, তখন তা বর্ণ হিসেবে দেখা যায়।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৯৬৬.
"শিকা > শিকে" কোন ধরনের স্বরসঙ্গতির উদাহরণ?
  1. প্রগত
  2. পরাগত 
  3. মধ্যগত 
  4. অন্যোন্য 
সঠিক উত্তর:
প্রগত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রগত
ব্যাখ্যা

• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
- একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
 যেমন→ দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• প্রগত (Progressive):
- আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন→ মুলা > মুলো, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো।

• পরাগত (Regressive):
- অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন→ আখো > আখুয়া এখো, দেশি > দিশি।

• মধ্যগত (Mutual):
- আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন→ বিলাতি > বিলিতি।

• অন্যোন্য (Reciprocal):
- আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন→ মোজা > মুজো।

• বিশেষ নিয়মে উড়ুনি > উড়নি, এখনি > এখুনি হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৯৬৭.
‘গবেশ্বর’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কি হবে?
  1. ক) গব + ঈশ্বর
  2. খ) গো + ঈশ্বর
  3. গ) গো + ইশ্বর
  4. ঘ) গব + এশ্বর
সঠিক উত্তর:
খ) গো + ঈশ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গো + ঈশ্বর
ব্যাখ্যা
‘গবেশ্বর’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ গো + ঈশ্বর। এটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি। [সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর]
৩,৯৬৮.
বর্গের কোন বর্ণসমূহের ধ্বনি মহাপ্রাণধ্বনি?
  1. তৃতীয় বর্ণ
  2. দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ
  3. প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণ
  4. দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ণ
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ
ব্যাখ্যা
• মহাপ্রাণ ধ্বনি:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস জোরে বের হয়ে যায়, বাতাসের চাপ বেশি থাকে তাকে মহাপ্রাণ ধ্বনি বলে।
- বর্গের ২য় ও ৪র্থ ধ্বনি হচ্ছে মহাপ্রাণ ধ্বনি।
- যথা: (খ, ঘ), (ছ, ঝ), (ঠ, ঢ), (থ, ধ), (ফ, ভ) এবং 'হ' ইত্যাদি।

• বর্গের প্রথম ও তৃতীয় বর্ণ অল্পপ্রাণধ্বনি,
• দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণ মহাপ্রাণধ্বনি,
• পঞ্চম বর্গ নাসিক্যধ্বনি।
• আবার প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণ অঘােষ,
• তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ণ ঘােষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৯৬৯.
বাংলা বানানের নিয়মানুসারে, বাংলা ভাষায় ধ্বনি পরিবর্তনকে কয়ভাগে ভাগ করা যায়?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
ধ্বনি পরিবর্তন:
ভাষা সর্বদা পরিবর্তনশীল। কোন ভাষার পরিবর্তন নিয়ম বা ব্যাকরণ দিয়ে বন্ধ করে দিলে সে ভাষা আস্তে আস্তে মরে যায়। যেমন মরে গেছে - সংস্কৃত ভাষা।
মানুষের মুখে মুখে উচ্চারণের সুবিধার্থে ভাষার শব্দ, মূলত শব্দের অন্তর্গত ধ্বনি নানাভাবে পরিবর্তিত হয়। তবে এই পরিবর্তনও কিছু নিয়ম মেনে হয়ে থাকে।
ধ্বনির এই পরিবর্তনই মূলত ভাষার পরিবর্তন ঘটায়। অর্থ্যাৎ, ভাষার পরিবর্তন ধ্বনি পরিবর্তনের সাথে সম্পৃক্ত।

ধ্বনি পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কোন প্রকার নেই। ধ্বনি পরিবর্তন নানান প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়।

তবে, বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে,
বাংলা ভাষায় ধ্বনি পরিবর্তনের ৪টি শ্রেণী লক্ষ্য করা যায়:
যথা:
১. ধ্বনির লোপ
২. ধ্বনির যোগ
৩. ধ্বনির রূপান্তর
৪. ধ্বনির স্থানবিনিময়


উৎস: বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
৩,৯৭০.
স্বরধ্বনির সংক্ষিপ্ত রূপকে বলে-
  1. ক) বিভক্তি
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) কার
  4. ঘ) ফলা
সঠিক উত্তর:
গ) কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কার
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনির সংক্ষিপ্ত রূপকে বলে সংক্ষিপ্ত স্বরচিহ্ন বা কার।
বাংলা ভাষায় কার রয়েছে ১০ টি৷ অ-কারের সংক্ষিপ্ত রূপের জন্য কোন চিহ্ন নেই৷

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
৩,৯৭১.
অভিশ্রুতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি?
  1. রাখিয়া > রাইখ্যা
  2. সাধু > সাউধ
  3. আজি > আইজ
  4. হাটুয়া > হাউটা > হেটো
সঠিক উত্তর:
হাটুয়া > হাউটা > হেটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাটুয়া > হাউটা > হেটো
ব্যাখ্যা
• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে।
যেমন:
এরূপ-
- রাখিয়া > রাইখা,
- করিয়া > কইরা,
- শুনিয়া >শুইনা > শুনে,
- বলিয়া > বইলা > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মাউছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
----------------
• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগ উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিত বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য,
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩,৯৭২.
নিচের কোনটি স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ?
  1. ক) ক্ত
  2. খ) দ্ম
  3. গ) ক্ম
  4. ঘ) ক্ষ
সঠিক উত্তর:
খ) দ্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দ্ম
ব্যাখ্যা
• যুক্তবর্ণ: 
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলােকে দেখে কখনাে সহজে চেনা যায়, কখনাে সহজে চেনা যায় না।
- এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- জ্ঝ = জ + ঝ
- ক্ট, জ্ঞ, জ্ব, জ্ঞ, ব্জ, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, দ্ম, ণ্ঠ, ণ্ড, ন্স, স্ট, জ, ব্দ, প্প, ল্ক, শ্চ ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- হু (হ্‌ + উ),
- ক্ম ( ক্‌+ ম), 
- ক্ত (কৃ+ত),
- ক্স (ক্‌+স), ক্র (ক্‌+র), ক্ষ (ক+ষ), ক্ষ্ম (ক্‌+ষ্‌+ম), ক্স (ক্‌+স) ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,৯৭৩.
"মসী + আধার = মস্যাধার" এটি কোন সন্ধির উদাহরণ?
  1. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  2. স্বরসন্ধি
  3. ব্যঞ্জনসন্ধি
  4. বিসর্গসন্ধি
সঠিক উত্তর:
স্বরসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরসন্ধি
ব্যাখ্যা
• "মসী + আধার = মস্যাধার" এটি 'স্বরসন্ধি' সন্ধির উদাহরণ।

সন্ধির নিয়ম:
• ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বাঈ স্থানে 'য' বা য(্য) ফলা হয়। য-ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়।

যেমন:
- অতি + উক্তি = অত্যুক্তি,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ,
- মসী + আধার = মস্যাধার,
- প্রতি + এক = প্রত্যেক,
- নদী + অম্মু = নদ্যম্পু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৯৭৪.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি নয়?
  1. হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র
  2. পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি
  3. গো + এষণা = গবেষণা
  4. আ + পদ = আস্পদ
সঠিক উত্তর:
গো + এষণা = গবেষণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গো + এষণা = গবেষণা
ব্যাখ্যা

নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
- কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

যেমন:
- আ + পদ = আস্পদ,
- পর + পর = পরস্পর,
- এক + দশ = একাদশ,
- হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সন্ধি বিচ্ছেদ এর নিয়ম: 
- এ, ঐ, ও, ঔ- কারের পরে এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্‌, আব্‌ হয়। 
যেমন,
- ভৌ + উক = ভাবুক; (সূত্র: ঔ+উ = আব্‌+উ)।
- পৌ + অক = পাবক,
- গো + আদি = গবাদি,
- গো + এষণা = গবেষণা,
- পো + ইত্র = পবিত্র,
- নৌ + ইক = নাবিক ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৯৭৫.
'অত্যন্ত' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) অতী + ত
  2. খ) অন্ত + অন্ত
  3. গ) অতি + অন্ত
  4. ঘ) ইতি + অন্ত
সঠিক উত্তর:
গ) অতি + অন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অতি + অন্ত
ব্যাখ্যা
'অত্যন্ত' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = অতি + অন্ত। 
সূত্র: ই + অ = য্‌ + অ 

ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে ‘য' বা য-ফলা হয়।
- য-ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়। 
অনুরূপভাবে, 
প্রতি + এক = প্রত্যেক
অতি + উক্তি = অত্যুক্তি
ইতি + আদি = ইত্যাদি ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৭৬.
'দুরবস্থা' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দুর + অবস্থা
  2. দুরঃ + অবস্থা
  3. দুঃ + অবস্থা
  4. দুর + বস্থা
সঠিক উত্তর:
দুঃ + অবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুঃ + অবস্থা
ব্যাখ্যা
• 'দুরবস্থা' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ — দুঃ + অবস্থা।

• সন্ধির নিয়ম: 
অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পর পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘােষ অল্পপ্রাণ ও ঘােষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে ‘র’ হয়।
যেমন
নিঃ + আকার = নিরাকার,
আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ,
দুঃ + যােগ = দুর্যোগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৯৭৭.
সন্ধি বিচ্ছেদ করুন - 'প্রৌঢ়'
  1. প্র + উঢ়
  2. প্র + ঊঢ়
  3. প্রো + উঢ়
  4. প্রো + ঊঢ়
সঠিক উত্তর:
প্র + ঊঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্র + ঊঢ়
ব্যাখ্যা
স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি: 
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ:
- অন্য + অন্য = অন্যান্য,
- কুল + অটা = কুলটা,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + ঊঢ় = প্রৌঢ়,
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড,
- স্ব + ঈর = স্বৈর,
- গো + ইন্দ্ৰ = গবেন্দ্র,
- গো + ঈশ্বর = গবেশ্বর,
- অক্ষ + ঊহিণী = অক্ষৌহিণী,
- রক্ত + ওষ্ঠ = রক্তোষ্ঠ,
- সীমন + অত = সীমন্ত,
- শার + অঙ্গ = শারঙ্গ,
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৯৭৮.
'কৃষ্টি' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. কৃষ্‌ + তি
  2. কৃষ্‌ + টি
  3. কৃ + ষ্‌টি
  4. কৃষ্‌ + ঠি
সঠিক উত্তর:
কৃষ্‌ + তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্‌ + তি
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়ম:
ষ্‌ এর পরে ত্ বা থ থাকলে, যথাক্রমে ত্ এবং থ্ স্থানে ট ও ঠ হয়।
যেমন:
- কৃষ্‌ + তি = কৃষ্টি;
- ষম্ + থ্ = ষষ্ঠ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৯৭৯.
কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন কোন গুলো?
  1. ক) ক, খ, গ, ঘ
  2. খ) ত, থ, দ, ধ
  3. গ) ট, ঠ, ড, ঢ
  4. ঘ) চ, ছ, জ, ঝ
সঠিক উত্তর:
ক) ক, খ, গ, ঘ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ক, খ, গ, ঘ
ব্যাখ্যা
স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাপ্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।

- উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়, যথা :
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
৩,৯৮০.
'সামান্য' শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. শামান্নো
  2. শামান্‌নোঁ
  3. শামান্‌নো
  4. সামান্‌নো
সঠিক উত্তর:
শামান্‌নো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামান্‌নো
ব্যাখ্যা
শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

উদাহরণ:
- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্‌], শৃগাল [সৃগাল্‌]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্‌নো]
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
৩,৯৮১.
ধ্বনি-পরিবর্তনের নিয়মে বর্ণ-বিপর্যয়ের দৃষ্টান্ত কোনটি?
  1. ফাল্গুন > ফাগুন
  2. ধোবা > ধোপা
  3. ফলাহার > ফলার
  4. রিক্সা > রিস্কা
সঠিক উত্তর:
রিক্সা > রিস্কা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিক্সা > রিস্কা
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। এতে দুটি বর্ণের মধ্যে জায়গা পরিবর্তন হয়।
যেমন:
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল,
- বাক্স > বাস্ক,
- রিক্সা > রিস্কা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ধোবা > ধোপা; ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ। 
• ফলাহার > ফলার; ফাল্গুন > ফাগুন; অন্তর্হতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩,৯৮২.
কোনটি অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ?
  1. যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট
  2. মহা + ঈশ = মহেশ
  3. পরম + ঈশ = পরমেশ
  4. শুভ + ঈচ্ছা = শুভেচ্ছা
সঠিক উত্তর:
শুভ + ঈচ্ছা = শুভেচ্ছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুভ + ঈচ্ছা = শুভেচ্ছা
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ - শুভ + ঈচ্ছা = শুভেচ্ছা
- এর শুদ্ধবিচ্ছেদ - শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা।

সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট, 
- পরম + ঈশ = পরমেশ, 
- মহা + ঈশ = মহেশ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩,৯৮৩.
নিচের কোনটি অনুনাসিক ধ্বনি?
  1. ক) ও
  2. খ) অ্যা
  3. গ) উ
  4. ঘ) অঁ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অঁ
ব্যাখ্যা
• অনুনাসিক স্বরধ্বনি: মৌলিক স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে বায়ু শুধু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। এ সময়ে কোমল তালু স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে। কিন্তু ধ্বনিগুলো উচ্চারণের সময়ে কোমল তালু খানিকটা নিচে নেমে গেলে কিছুটা বায়ু নাক দিয়েও বের হয়। এর ফলে ধ্বনিগুলো অনুনাসিক হয়ে যায়। স্বরধ্বনির এই অনুনাসিকতা বোঝাতে বাংলা স্বরবর্ণের উপরে চন্দ্রবিন্দু (ঁ) ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

- মৌলিক স্বরধ্বনি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]
- অনুনাসিক ষ্বরধ্বনি: [ইঁ], [এঁ], [অ্যাঁ], [আঁ], [অঁ], [ওঁ], [উঁ]
- বাংলা ভাষায় যেসব স্বরধ্বনি পুরোপুরি উচ্চারিত হয় না তাদেরকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে। বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চার টি যথা: [ই্], [উ্], [এ্], এবং [ও্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
৩,৯৮৪.
বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণের লিখিত রূপ কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা
বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণের লিখিত রূপ দুটি:
১. পূর্ণরূপ ও
২. সংক্ষিপ্ত রূপ।

স্বরবর্ণের পূর্ণরূপ:
- বাংলা ভাষা লেখার সময় কোনো শব্দে স্বাধীনভাবে স্বরবর্ণ বসলে তার পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
শব্দের প্রথমে: অনেক, আকাশ, ইলিশ, উকিল, ঋণ, এক।
শব্দের মধ্যে: বেদুইন, বাউল, পাঁউরুটি, আবহাওয়া।
শব্দের শেষে: বই, বউ, যাও।

স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ:
- অ-ভিন্ন অন্য স্বরবর্ণগুলো ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে সংযুক্ত হলে পূর্ণরূপের বদলে সংক্ষিপ্ত রূপ পরিগ্রহ করে। স্বরবর্ণের এ ধরনের সংক্ষিপ্তরূপকে 'কার' বলে।
- স্বরবর্ণের 'কার'-চিহ্ন ১০টি।
যথা:
আ-কার - মা, বাবা, ঢাকা।
ই-কার - কিনি, চিনি, মিনি।
ঈ-কার - শশী, সীমানা, রীতি।
উ-কার - কুকুর, পুকুর, দুপুর।
ঊ-কার - ভূত, মূল্য, সূচি।
ঋ-কার - কৃষক, তৃণ, পৃথিবী।
এ-কার – চেয়ার, টেবিল, মেয়ে।
ঐ-কার - তৈরি, বৈরী, নৈঋত।
ও-কার - খোকা, পোকা, বোকা।
ঔ-কার - নৌকী, পৌষ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩,৯৮৫.
নিচের কোনটি সম্প্রকর্ষের উদাহরণ?
  1. সত্য > সইত্য
  2. আজি > আজ
  3. দিশ্ > দিশা
  4. বেঞ্চ > বেঞ্চি
সঠিক উত্তর:
আজি > আজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজি > আজ
ব্যাখ্যা

• স্বরলোপ বা সম্প্রকর্ষ:
দ্রুত উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের শুরুতে বা মাঝে বা শেষে স্বরধ্বনি লোপ ঘটলে তাকে স্বরলোপ বা সম্প্রকর্ষ বলে।
স্বরলোপ তিন প্রকার। যথা :
ক. আদি স্বরলোপ: অলাবু > লাবু > লাউ।
খ. মধ্যস্বর লোপ: অগুরু > অগ্রু; সুবর্ণ > স্বর্ণ।
গ. অন্ত্যস্বলোপ: আজি > আজ; চারি > চার ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জধব্বনির আগে ই -কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- চারি > চাইর,
- আজি > আইজ,
- সত্য > সইত্য,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য।

• অন্ত্যস্বরাগম:
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরুপ স্বরাগমকে বলে অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন:
- দিশ্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৯৮৬.
কোন যুক্তবর্ণটি শুদ্ধ?
  1. হ্ + ণ = হ্ন
  2. হ্ + ঋ = হৃ
  3. ঙ্ + ঘ = ঙ্গ
  4. ণ্ + উ = ণ্ড
সঠিক উত্তর:
হ্ + ঋ = হৃ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্ + ঋ = হৃ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ যুক্তবর্ণ - হ্ + ঋ = হৃ

অন্যদিকে
অশুদ্ধ যুক্তবর্ণের শুদ্ধরূপ:
- হ্ + ন = হ্ন,
- ঙ্ + গ = ঙ্গ,
- ণ্ + ড = ণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩,৯৮৭.
নিচের কোনটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ?
  1. সংস্কৃত
  2. জ্যোতিরিন্দ্র
  3. আচ্ছন্ন
  4. গোস্পদ
সঠিক উত্তর:
জ্যোতিরিন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্যোতিরিন্দ্র
ব্যাখ্যা
বিসর্গ সন্ধি:
- বিসর্গের সাথে স্বরধ্বনির কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।
- বস্তুত বিসর্গর্  এবং স্ এর সক্ষিপ্তরূপ।
- বিসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

যথা:
 ১. র্ -জাত বিসর্গ এবং
 ২. স্-জাত বিসর্গ। 
 - অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ বর্গীয় ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ নাসিক্য ধ্বনি কিংবা য, ও, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে ‘র’ হয়। 

যেমন:
• দুঃ + যোগ = দুর্যোগ, 
• আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ, 
• নিঃ + আকার = নিরাকার।
• জ্যোতিঃ + ইন্দ্র = জ্যোতিরিন্দ্র। 
• এরূপ নির্জন, দুরন্ত, বহির্গত, দুর্লোভ, প্রাদুর্ভাব, জ্যোতির্ময়, নিরাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩,৯৮৮.
'ভ্রাত্রেষণা' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ভাতা + এষণা
  2. ভ্রাত + এষণা
  3. ভ্রাতা + এষণা
  4. ভাতৃ + এষণা
সঠিক উত্তর:
ভাতৃ + এষণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাতৃ + এষণা
ব্যাখ্যা
• 'ভ্রাত্রেষণা' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - ভাতৃ + এষণা

স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

• প্রথম পদের শেষে ঋ-ধ্বনি এবং দ্বিতীয় পদের প্রথম ঋ ছাড়া অন্য কোনো স্বরধ্বনি থাকলে আগের ঋ-ধ্বনি 'র' হয় এবং বানানে তা 'র-ফলা' হয়ে আগের বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়। পরের স্বরধ্বনি সাধারণত উচ্চারণে অপরিবর্তিত থাকে এবং 'র-ফলা'র সঙ্গে জুড়ে যায়। 
যেমন - 
- ঋ + অ = র্‌ + অ ; পিতৃ + অর্থে = পিত্রর্থে।
- ঋ + আ = র্‌ + আ ; পিতৃ + আলয় = পিত্রালয়।
- ঋ + ই = র্‌ + ই ; পিতৃ + ইচ্ছা = পিত্রিচ্ছা।
- ঋ + এ = র্‌ + এ ; ভাতৃ + এষণা = ভ্রাত্রেষণা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৯৮৯.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ?
  1. গবাক্ষ
  2. শুদ্ধোদন
  3. কুলটা 
  4. একাদশ
সঠিক উত্তর:
একাদশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাদশ
ব্যাখ্যা

• নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

• নিচে কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- আ + পদ = আস্পদ,
- পর + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক + দশ = একাদশ,
- হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোনো নিয়মে সাধিত হয় না বা সূত্র অনুসরণ করে না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন:
- কুল + অটা = কুলটা (সূত্র অনুসারে কুলাটা হওয়ার কথা)।
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ (সূত্র অনুসারে গবাক্ষ হওয়ার কথা)।
- মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড, 
- শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩,৯৯০.
"রাজ্ঞী" - শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. রাজ্‌ + নী
  2. রাগ্‌+ নী
  3. রাধ্‌ + নী
  4. রাঙ্গ + নী
সঠিক উত্তর:
রাজ্‌ + নী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজ্‌ + নী
ব্যাখ্যা

• সন্ধির নিয়ম:
- ব্যঞ্জসন্ধিতে চ্‌ ও জ্‌ এর পর নাসিক্য ধ্বনি তালব্য হয়। 

যেমন:
- যাচ্‌ + না = যাচ্ঞা, 
- রাজ্‌ + নী = রাজ্ঞী
- যজ্‌ + ন = যজ্ঞ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩,৯৯১.
‘প্রৌঢ়’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্র + ঊঢ়
  2. প্র + উঢ়
  3. প্রঃ + উঢ়
  4. প্রো + উঢ়
সঠিক উত্তর:
প্র + ঊঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্র + ঊঢ়
ব্যাখ্যা
- 'প্রৌঢ়' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ  = প্র + ঊঢ়।
- এটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ। 
- যেসব সন্ধির নিদিষ্ট কোন নিয়ম নেই তাদেরকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ:
- বন + পতি = বনস্পতি,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোস্পদ,
- পর + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ - ২০১৯)।
৩,৯৯২.
ম-এর স্বাভাবিক উচ্চারণ বজায় আছে কোন শব্দে?
  1. জন্ম
  2. স্মরণ
  3. শ্মশান
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জন্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন্ম
ব্যাখ্যা
• ম বর্ণের উচ্চারণ:
ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]। শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [আঁ]-এর মতো হয়। 

• ম-এর [আঁ] উচ্চারণ: শ্মশান [শঁশান্‌], স্মরণ [শঁরোন্‌]।
• শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়। যেমন: আত্মীয় [আত্‌তিঁয়াে], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।
• কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্- এর উচ্চারণ বজায় থাকে। যেমন: যুগ্ম [জুগ্‌মাে), জন্ম [জন্‌মো), গুল্ম (গুল্‌মো)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৩,৯৯৩.
নিচের কোন সন্ধিবিচ্ছেদটি সঠিক নয়?
  1. নিঃ + কর = নিষ্কর
  2. তিরঃ + কার = তিরস্কার
  3. পরিঃ + কার = পরিষ্কার
  4. পুরঃ + কার = পুরস্কার
সঠিক উত্তর:
পরিঃ + কার = পরিষ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিঃ + কার = পরিষ্কার
ব্যাখ্যা
• পরিষ্কার - বিসর্গ সন্ধি নয়।
• সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ - পরি +কার।
- এটি বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ।

• বিসর্গ সন্ধি:
অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশ্ ধ্বনি (ষ) হয়।
যেমন -
- অ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (স্ + ক) ⇒ নমঃ + কার = নমস্কার।
- অ এর পরে বিসর্গ ঃ + খ = = (স্ + খ) ⇒ পদঃ + খলন = পদস্খলন।
- ই এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (ষ + ক) ⇒ নিঃ + কর = নিষ্কর।
- উ এর পরে বিসর্গ ঃ + ক = (ষ + ক) ⇒ দুঃ + কর = দুষ্কর।

এরূপ - পুরস্কার, মনস্কামনা, তিরস্কার, চতুষ্পদ, নিষ্ফল, নিষ্পাপ, দুষ্প্রাপ্য, বহিষ্কৃত, দুষ্কৃতি, আবিষ্কার, চতুষ্কোণ, বাচস্পতি, ভাস্কর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩,৯৯৪.
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে কী বলে?
  1. অসমীকরণ
  2. অভিশ্রুতি
  3. অন্তর্হতি
  4.  ব্যঞ্জন বিকৃতি
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
ব্যাখ্যা

অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।

যেমন
- শুনিয়া > শুনে,
- বলিয়া > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা,
- মাছুুয়া > মেছো ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• অসমীকরণ:
একই স্বরধ্বনির পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন -
- টপ + টপ > টপাটপ,
- ধপ + ধপ > ধপাধপ,
- ফট + ফট > ফটাফট। 

অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন:
- ফলাহার > ফলার;
- আলাহিদা > আলাদা;
- ফাল্গুন > ফাগুন ইত্যাদি।

 ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
- যেমন- কবাট > কপাট, ধােবা > ধােপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩,৯৯৫.
‘রবীন্দ্র’ এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) রবী + ইন্দ্র
  2. খ) রবী + ঈন্দ্র
  3. গ) রবি + ইন্দ্র
  4. ঘ) রবি + ঈন্দ্র
সঠিক উত্তর:
গ) রবি + ইন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রবি + ইন্দ্র
ব্যাখ্যা
• 'রবীন্দ্র' এর সন্ধি বিচ্ছেদের নিয়ম: 
- ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়।
- দীর্ঘ ঈ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।

যেমন-
- রবি + ইন্দ্র = রবীন্দ্র,
- সুধী + ইন্দ্র = সুধীন্দ্র,
- পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা,
- সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র,
- অতি + ইত = অতীত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯ সংস্করণ) ।
৩,৯৯৬.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ?
  1. আশ্চর্য
  2. অজন্ত
  3. অবিন্ধন
  4. অবগ্নি
সঠিক উত্তর:
আশ্চর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশ্চর্য
ব্যাখ্যা
⇒ নিপাতনে সিদ্ধ সংস্কৃত ব্যঞ্জনসন্ধি:
সংস্কৃত ব্যঞ্জনসন্ধির ক্ষেত্রে এমন কতকগুলো ব্যঞ্জনসন্ধি আছে যেগুলো কোনো নিয়মের মধ্যে পড়ে না। এসব সন্ধিকে 'নিপাতনে সিদ্ধ' সন্ধি বলে।

যেমন:
• তদ্ + কর = তস্কর;
• এক + দশ = একাদশ;
• দিব্‌ + লোক = দ্যুলোক;
• ষট্ + দশ = ষোড়শ;
• হরি + চন্দ্র= হরিশ্চন্দ্র;
• বৃহৎ + পতি = = বৃহস্পতি;
• আ + চর্য = আশ্চর্য;
•  গো + পদ = গোষ্পদ;
• আ + পদ = আস্পদ;
• পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি;
• পশ্চাৎ + অর্ধ = পশ্চার্ধ;
• বাক্ + ঈশ্বরী = বাগেশ্বরী;
• বিশ্ব+ মিত্র = বিশ্বামিত্র ইত্যাদি।

অন্যদিকে, ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ হলো:
• অপ্ + ইন্ধন = অবিন্ধন।
• অচ্ + অন্ত = অজন্ত।
• অপ্ + অগ্নি = অবগ্নি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩,৯৯৭.
যুক্তবর্ণের শুদ্ধ গঠন কোনটি?
  1. ষ্‌ + ক = ক্ষ
  2. ঞ্‌ + ক = ঙ্ক
  3. ক্‌ + ত = ত্ত
  4. ত্‌ + থ = ত্থ
সঠিক উত্তর:
ত্‌ + থ = ত্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্‌ + থ = ত্থ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ যুক্তবর্ণ- ত্‌ + থ = ত্থ। 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ত্ + ত = ত্ত,
- ঙ্ + ক = ঙ্ক,
- ক্ + ষ = ক্ষ, 
- ভূ + র = ভ্র,
- ঙ্ + গ = ঙ্গ,
- হ্ + ম = হ্ম,
- ষ্‌ + ণ = ষ্ণ,
- হ্‌ + ণ = হ্ণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৩,৯৯৮.
অ/আ + উ/ঊ = ও; সূত্রযোগে কোন শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ ঘটে?
  1. ক) শুভেচ্ছা
  2. খ) সূর্যোদয়
  3. গ) বনৌষধি
  4. ঘ) আশাতীত
সঠিক উত্তর:
খ) সূর্যোদয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সূর্যোদয়
ব্যাখ্যা
অ/আ + উ/ঊ = ও; সূত্রযোগে সন্ধি বিচ্ছেদ ঘটেছে 'সূর্যোদয়' শব্দে।
সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়

অন্যদিকে, 
সূত্র: অ/আ + অ/আ = আ।
যেমন – উত্তর + অধিকার = উত্তরাধিকার, আশা + অতীত = আশাতীত

সূত্র: অ/আ + ই/ঈ = এ।
যেমন – শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা

সূত্র: অ/আ + ও/ঔ = ঔ।
যেমন – বন + ওষধি = বনৌষধি

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩,৯৯৯.
‘চরাচর’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. চর + আচার
  2. চরা + চর
  3. চর + অচর
  4. চরা + অচর
সঠিক উত্তর:
চর + অচর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চর + অচর
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির সাথে স্বরসন্ধির মিলনের নাম স্বরসন্ধি।
সূত্র: অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয় মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।  
যেমন:
♦ অ + আ = আ;
-  বিদ্যা + আলায় = বিদ্যালয়।
-  হিম + আলয় = হিমালয়।

♦ আ + অ = আ;
- যথা + অর্থ = যথার্থ।
- ত্বরা + অন্বিত = ত্বরান্বিত।

♦ অ + অ = আ;
- চর + অচর = চরাচর।
- নর+অধম = নরাধম।

♦ আ + আ = আ;
- মহা + আকাশ = মহাকাশ।
- কারা + আগার = কারাগার।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, জ্যেতিভূষণ চাকী।
৪,০০০.
পরের 'ই' কার এবং 'উ' কার আগেই উচ্চারিত হওয়ার রীতিকে কী বলে?
  1. স্বরাগম
  2. অভিশ্রুতি
  3. অপিনিহিতি
  4. ধ্বনি বিপর্যয়
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
• অপিনিহিতি (Apenthesis) :
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
কক্ষ > বইক্ষ/কইক্খ
আজি > আইজ,
সাধু > সাউধ,
রাখিয়া > রাইখ্যা,
বাক্য > বাইক্য,
সত্য > সইত্য,
চারি > চাইর,
মারি > মাইর ইত্যাদি।
------------------------------ 
অন্যদিকে,
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ – রত্ন > রতন; ধর্ম > ধরম; স্বপ্ন > স্বপন; হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই – প্রীতি > পিরীতি; ক্লিপ > কিলিপ; ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ – মুক্তা  > মুকুতা; তুর্ক > তুরুক; ক্রু > ভুরু ইত্যাদি।
এ – গ্রাম > গেরাম; প্ৰেক > পেরেক; স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও – শ্লোক » শােলােক; মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন:
ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাস্ক,
জাপানি রিক্সা > বাংলা রিস্কা ইত্যাদি।
অনুরূপ- পিশাচ > পিচাশ; লাফ > ফাল।

• অভিশ্রুতি (Umlaut):
- অভিশ্রুতি অপিনিহিতির পরবর্তী পর্যায়।
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন-
- করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া কিংবা বিপর্যয়ের ফলে কইরা থেকে অভিশ্রুতিজাত করে।
এরূপ-
- রাখিয়া > রাইখা,
- করিয়া >কইরা,
- শুনিয়া >শুইনা > শুনে,
- মাছুয়া > মাউছুয়া >মেছাে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।