বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনিতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৬,৩২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনিতত্ত্ব

PrepBank · পাতা ১৪ / ৬৩ · ১,৩০১১,৪০০ / ৬,৩২৭

১,৩০১.
‘র’-বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনিকে বলা হয়-
  1. ক) পার্শ্বিক ধ্বনি
  2. খ) অনুনাসিক ধ্বনি
  3. গ) তাড়নজাত ধ্বনি
  4. ঘ) কম্পনজাত ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
ঘ) কম্পনজাত ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কম্পনজাত ধ্বনি
ব্যাখ্যা
কম্পনজাত ধ্বনি: ‘র’-বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি জিহ্বার অগ্রভাগকে কম্পিত করে এবং দন্তমূলকে একাধিক বার দ্রুত আঘাত করে উচ্চারিত হয়। জিহ্বাগ্রকে কম্পিত করা হয় বলে এ ধ্বনিকে কম্পনজাত ধ্বনি বলা হয়।
পার্শ্বিক ধ্বনি: ‘ল’-বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগকে মুখের মাঝামাঝি দন্তমূলে ঠেকিয়ে রেখে জিহ্বার এক বা দু পাশ দিয়ে মুখবিবর থেকে বায়ু বের করে দেওয়া হয়। দু পাশ দিয়ে বায়ু নিঃসৃত হয় বলে একে পার্শ্বিক ধ্বনি বলা হয়।
তাড়নজাত ধ্বনি: ‘ড়’ ও ‘ঢ়’- বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি জিহ্বার অগ্রভাগের তলদেশ দ্বারা অর্থাৎ উল্টো পিঠের দ্বারা ওপরের দন্তমূলে দ্রুত আঘাত বা তাড়না করে উচ্চারিত হয়। এজন্য এদেরকে তাড়নজাত ধ্বনি বলে।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি]
১,৩০২.
উচ্চারণস্থান অনুসারে কোন দুটি মূর্ধন্যধ্বনি?
  1. দ, ধ
  2. ট, ঠ
  3. জ, ঝ
  4. ভ, ম
সঠিক উত্তর:
ট, ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট, ঠ
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণস্থান ও বৈশিষ্ট্য:
- উচ্চারণস্থান অনুসারে স্পর্শধ্বনির পাঁচটি বিভাগ রয়েছে। মূলত কণ্ঠ, তালু, মূর্ধা, দাঁত ও ঠোঁট - এই পাঁচটি উচ্চারণস্থানের জন্য স্পর্শধ্বনি গুলোকে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এই বিভাগগুলোকে বর্গ বলে। প্রথম ধ্বনির নাম অনুসারে বর্গের নাম নির্দেশ করা হয়।

মূর্ধন্যধ্বনি:
- ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র, ড়, ঢ়, ষ।

জিহ্বামূলীয় ধ্বনি:
- ক, খ, গ, ঘ, ঙ, হ।

তালব্যধ্বনি:
- চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, য়, শ।

দন্ত্যধ্বনি:
- ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স।

ওষ্ঠ্যধ্বনি:
প, ফ, ব, ভ, ম

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

১,৩০৩.
'ফল' শব্দের 'ফ' কোন ধরনের ব্যঞ্জনের অন্তর্গত?
  1. উষ্ম ব্যঞ্জন
  2. নাসিক্য ব্যঞ্জন
  3. পার্শ্বিক ব্যঞ্জন
  4. স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• 'ফল' শব্দের 'ফ' স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনের অন্তর্গত।

স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় দুটি বাক্প্রতঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত।
- ফল, থলে, ঠাণ্ডা, ছুরি, খেলা শব্দের , থ, ঠ, ছ, খ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি
- উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী এগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা -
ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৩০৪.
'তৃষ্ণার্ত' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. তৃষ্ণা + আর্ত
  2. তৃষ্ণা + ঋত
  3. তৃষ্ণা + রিত
  4. তৃষ্ণা + অর্ত
সঠিক উত্তর:
তৃষ্ণা + ঋত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৃষ্ণা + ঋত
ব্যাখ্যা
- 'তৃষ্ণার্ত' এর সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে 'তৃষ্ণা + ঋত'।
- এটি একটি স্বরসন্ধি (তৎসম শব্দের)।

• সন্ধির নিয়ম: 
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর 'ঋত'-শব্দ থাকলে (অ, আ+ঋ) উভয় মিলে 'আর' হয় এবং বানানে পূর্ববর্তী বর্ণে আ ও পরবর্তী বর্ণে রেফ লেখা হয়।
যেমন:
- অ + ঋ = আর, শীত + ঋত = শীতার্ত।
- আ + ঋ = আর, তৃষ্ণা + ঋত = তৃষ্ণার্ত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩০৫.
কোনটি কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন?
  1. ড়
  2. ঢ়
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
- হাতি শব্দের কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

কম্পিত ব্যঞ্জন:
- বযে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে।
- কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,৩০৬.
নিচের কোনটি সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ?
  1. তনু + ঈ = তন্বী
  2. অনু + ঈত = অন্বিত
  3. স্ব + আগত = স্বাগত
  4. পিতা + আদেশ = পিত্রাদেশ
সঠিক উত্তর:
তনু + ঈ = তন্বী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তনু + ঈ = তন্বী
ব্যাখ্যা
• সূত্র:
• উ-কার কিংবা উ-কারের পর উ-কার ও উ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা উ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয় যেমন-
- উ+ অ = ব + অ; সু + অল্প = স্বল্প।
- উ+ আ = ব + আ; সু + আগত = স্বাগত।
- উ+ ই = ব + ই; অনু + ইত = অন্বিত।
- উ+ঈ= ব + ঈ; তনু + ঈ = তন্বী।
- উ+ এ = ব + এ; অনু + এষণ = অন্বেষণ।

অন্যদিকে,
বাকি অপশনসমূহের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ:
- সু + আগত = স্বাগত।
- পিতৃ + আদেশ = পিত্রাদেশ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,৩০৭.
স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয়েছে নিচের কোন শব্দ?
  1. পরিণয়
  2. সমর্পণ
  3. পাষাণ
  4. চাণক্য
সঠিক উত্তর:
চাণক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাণক্য
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ণ-ত্ব-বিধানের নিয়ম:
১. ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, ঘৃণা, অরণ্য, বর্ণ, চূর্ণ, পাষাণ, কৃষাণ ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে সংযুক্ত আকারে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য ‘ণ’ যুক্ত হয়। যেমন-কণ্টক, ঘণ্টান, অকুণ্ঠ, কাণ্ড, খণ্ড ইত্যাদি।

৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য় ব হ ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়।
যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তারপরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প্ + অ + ণ্), লক্ষণ (ক্ + ষ্ + অ + ন্)। এরূপ- তর্পণ, বর্ষণ, সমর্পণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

৪. পরি, প্র, নির-এ তিনটি উপসর্গের পর ণ-ত্ব বিধি অনুসারে ন-ধ্বনি লিখতে মূর্ধন্য ণ হয়। যেমন- পরিণত, পরিবহণ, প্রমাণ, প্রবণ, পরিণয়, প্রণত। ব্যতিক্রম: পরিনির্বাণ, নির্নিমেষ, প্রনষ্ট, পরিবহন বানানও শুদ্ধ।

৫. উত্তর, পর, পার, রবীন্দ্র, চন্দ্র, নার শব্দের পরে ‘অয়ন’/‘আয়ন’ প্রত্যয় হলে দন্ত্য ন পাল্টে মূর্ধন্য ণ হয়।
যেমন- উত্তর + অয়ন = উত্তরায়ণ, পর + অয়ন = পরায়ণ, রবীন্দ্র + অয়ন = রবীন্দ্রায়ণ, চন্দ্র + অয়ন = চন্দ্রায়ণ, নর + অয়ন = নারায়ণ ইত্যাদি।

৬. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: লাবণ্য, কল্যাণ, আপণ, গৌণ, ভাণ, শাণ, চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
• সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না, এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন' হয়।
যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।

• ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না, ন হয়।
যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি।

• বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ণ লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩০৮.
সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পত + অঞ্চলি = পতঞ্চলি
  2. অন্তঃ + লিন = অন্তর্লীন
  3. জন + ঐক = জনৈক
  4. মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য
সঠিক উত্তর:
মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য
ব্যাখ্যা
- সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হলো 'মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য
- এটি একটি স্বরসন্ধি (তৎসম শব্দের)

• অ-কার কিংবা অ-কারের পর  এ-কার কিংবা ঐ-কারের থাকলে উভয় মিলে ঐ-কার হয়, ঐ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন:
- জন + এক = জনৈক,
- সদা + এব = সদৈব,
- মত + ঐক্য = মতৈক্য,
- মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য,
- তথা + এবচ = তথৈবচ ইত্যাদি।
- পতৎ + অঞ্চলি = পতঞ্চলি,
- অন্তঃ + লীন = অন্তর্লীন,
- ষট্‌ + আনন = ষড়ানন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ব্যকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ )।
১,৩০৯.
ব্যঞ্জন বিকৃতি ঘটেছে কোথায়?
  1. ক) ধােবা > ধােপা
  2. খ) বউদিদি > বউদি
  3. গ) আলাহিদা > আলাদা
  4. ঘ) মাছুয়া > মেছাে
সঠিক উত্তর:
ক) ধােবা > ধােপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধােবা > ধােপা
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জন বিকৃতি : শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন- কবাট > কপাট, ধােবা > ধােপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

ব্যঞ্জনচ্যুতি : পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লােপ পায়। এরূপ লােপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন- বউদিদি > বউদি, বড় দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

অন্তহঁতি : পদের মধ্যে কোনাে ব্যঞ্জনধ্বনি লােপ পেলে তাকে বলে অন্তহতি ।
যেমন – ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি।

অভিশ্রুতি (Umlaut) : বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।
যেমন— করিয়া থেকে অপিনিহিতির ফলে ‘কইরিয়া’ কিবা বিপর্যয়ের ফলে ‘কইরা’ থেকে অভিশ্রুতিজাত করে। এরূপ – শুনিয়া > শুনে, বলিয়া > বলে, হাটুয়া > হাউটা > হেটো, মাছুয়া > মেছাে ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩১০.
'স্ত্রী' শব্দে কয়টি বর্ণ আছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: ঘ) ৪টি।

'স্ত্রী' শব্দের বর্ণ বিভাজন:
১. স্ (স + হসন্ত);
২. ত;
৩. র;
৪. ী (দীর্ঘ ই-কার)।

মোট বর্ণ = ৪টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৩১১.
কোনটি মহাপ্রাণ ধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• 'ভ' - মহাপ্রাণ ধ্বনি।

অন্যদিকে,
ট, দ, প - অল্পপ্রাণ ধ্বনি।

• মহাপ্রাণ ধ্বনি: 
- যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস জোরে বের হয়ে যায়, বাতাসের চাপ বেশি থাকে তাকে মহাপ্রাণ ধ্বনি বলে।
- বর্গের ২য় ও ৪র্থ ধ্বনি হচ্ছে মহাপ্রাণ ধ্বনি।
- যথা- (খ, ঘ), (ছ, ঝ), (ঠ, ঢ), (থ, ধ), (ফ, ভ) এবং 'হ' ইত্যাদি। 

• অল্পপ্রাণ ধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩১২.
ণ-ত্ব বিধানের শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. দুর্ণিবার
  2. লণ্ঠন
  3. উষ্ণ
  4. তৃন
সঠিক উত্তর:
উষ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উষ্ণ
ব্যাখ্যা
• 'উষ্ণ' - বানানে ণ-ত্ব বিধানের শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।
-------------------- 
ণ-ত্ব বিধান: 

- বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
- তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
- কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি। 

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ‘ন’ হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

অন্যদিকে,
• লন্ঠন ইংরেজি শব্দ। এই শব্দে ণ-ত্ব বিধানের প্রয়োগ অশুদ্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩১৩.
কোনটিতে ষ-ত্ব বিধানের অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) ভবিষ্যৎ
  2. খ) মুমূর্ষু
  3. গ) চক্ষুষ্মান
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র - এর পরে প্রত্যয়ের স সর্বদা ষ হয়।

যেমন - ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি
১,৩১৪.
কোনগুলো দন্ত ধ্বনি?
  1. ট ঠ ড ঢ
  2. ত থ দ ধ
  3. প ফ ব ভ
  4. ক খ গ ঘ
সঠিক উত্তর:
ত থ দ ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত থ দ ধ
ব্যাখ্যা
বাংলা বর্ণমালায় (ক - ম) পর্যন্ত এই ২৫টি বর্ণকে একত্রে স্পর্শ ধ্বনি বলা হয়।

এরমধ্যে,
ক - বর্গীয় (ক, খ, গ, ঘ, ঙ) - এই ৫টি কণ্ঠ ধ্বনি,
চ - বর্গীয় (চ, ছ, জ, ঝ, ঞ) - ৫টি তালব্য ধ্বনি,
ট - বর্গীয়( ট, ঠ, ড, ঢ, ণ) - এই ৫টি মূর্ধন্য ধ্বনি,
ত - বর্গীয় (ত, থ, দ, ধ, ন) - পাঁচটি দন্ত ধ্বনি এবং
প - বর্গীয় (প, ফ, ব, ভ, ম) - এই ৫টি ওষ্ঠ্য ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩১৫.
'বিদ্যালয়' সন্ধিতে কোন সূত্রের প্রয়োগ হয়েছে?
  1. আ + অ
  2. আ + আ
  3. অ + আ
  4. অ + অ
সঠিক উত্তর:
আ + আ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আ + আ
ব্যাখ্যা
স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনে যে সন্ধি হয়, তাকে স্বরসন্ধি বলে।
যেমন:
- সোনা + আলি = সোনালি, 
- মিথ্যা + উক = মিথ্যুক, 
- নদী + এর = নদীর ইত্যাদি।

অ, আ ধ্বনির সন্ধি:
→ অ + অ = আ; নব + অন্ন = নবান্ন,
→ অ + আ = আ; জল + আশয় = জলাশয়,  
→ আ + অ = আ; কথা + অমৃত = কথামৃত, 
→ আ + আ = আ; বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,৩১৬.
ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম থাকলে, সেগুলােকে বলা হয় -
  1. ঘােষ ব্যঞ্জনধ্বনি
  2. মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি
  3. অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি
  4. কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনি
সঠিক উত্তর:
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা - 
অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।
 
• অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

• মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন – ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৩১৭.
স্বরযন্ত্রের অংশ নয় কোনটি?
  1. ক) ওষ্ঠ
  2. খ) অধিজিহ্বা
  3. গ) স্বররন্ধ্র
  4. ঘ) ধ্বনিদ্বার
সঠিক উত্তর:
ক) ওষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ওষ্ঠ
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলােকে একত্রে বাগ্‌যন্ত্র বলে।
- মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগযন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। 

স্বরযন্ত্র
শ্বাসনালির উপরের অংশে স্বরযন্ত্রের অবস্থান।
- মেরুদণ্ডের ৪, ৫ ও ৬ নং অস্থির পাশে থাকা এই অংশটি নলের মতাে।
- বাতাস স্বরযন্ত্রের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসে বলে ধ্বনির সৃষ্টি হয়। এবং সেই ধ্বনি থেকে শব্দের সৃষ্টি হয়।
- অধিজিহ্বা, স্বররন্ধ্র, ধ্বনিদ্বার ইত্যাদি স্বরযন্ত্রের অংশ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৩১৮.
নিচের কোনটি ধ্বনি-পরিবর্তনের উদাহরণ নয়?
  1. প্রাতিপদিক
  2. অভিশ্রুতি
  3. অপিনিহিতি
  4. ধ্বনি-বিপর্যয়
সঠিক উত্তর:
প্রাতিপদিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাতিপদিক
ব্যাখ্যা
• 'প্রাতিপদিক' ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয়।

প্রাতিপদিক:
বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলে। যেমন: মুখ, পা, বই ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
উচ্চারণের সুবিধার জন্য ধ্বনি পরিবর্তন করা হয়। স্বরসঙ্গতি, অপনিহিতি এবং ব্যঞ্জন বিকৃতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ।

স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- শিকা > শিকে,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধােবা > ধােপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩১৯.
"স্বপ্ন > স্বপন" কোন প্রকার ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. বিপ্রকর্ষ
  2. স্বরভক্তি
  3. মধ্য স্বরাগম
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা

মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্যস্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ।

যেমন:
- গ্রাম > গেরাম।
- রত্ন > রতন,
- প্রীতি > পিরীতি,
- ধর্ম > ধরম,
- স্বপ্ন > স্বপন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,৩২০.
নিচের কোন শব্দে 'অ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ হয়েছে?
  1. পক্ষ
  2. মন
  3. অদ্য
  4. কথা
সঠিক উত্তর:
কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথা
ব্যাখ্যা
• 'কথা’ শব্দে 'অ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ হয়েছে।
 
• ‘অ’বর্ণের উচ্চারণ-বিধি:
- 'অ' বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।
- সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।
 
• 'অ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্]।
• 'অ' বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্খো‌], অদ্য [ওদ্‌দো], মন [মোন্]।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৩২১.
'দেবর্ষি' শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দেবি + ঋষি 
  2. দেব + ঋষ
  3. দেব + ঋষি
  4. দে + ঋষি
সঠিক উত্তর:
দেব + ঋষি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেব + ঋষি
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ঋ-কার থাকলে উভয়ে মিলে 'অর' হয় এবং তা রেফ রূপে পরবর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়। 

যেমন-
- দেব + ঋষি = দেবর্ষি,
- মহা + ঋষি = মহর্ষি।
এরূপ – অধমর্ণ, উত্তমর্ণ, সপ্তর্ষি, রাজর্ষি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,৩২২.
উচ্চরণস্থান অনুযায়ী তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি হচ্ছে-
  1. ট, ঢ
  2. প, ভ
  3. থ, ধ
  4. চ, ঝ
সঠিক উত্তর:
চ, ঝ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চ, ঝ
ব্যাখ্যা
• যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চরণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সগেুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত।

উচ্চরণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
- ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন - প, ফ, ব, ভ।
- দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন - ত, থ, দ, ধ।
- মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন - ট, ঠ, ড, ঢ।
- তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন - চ, ছ, জ, ঝ।
- কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন - ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ,নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৩২৩.
নিচের কোনটি 'উচ্চ স্বরধ্বনি'-র উদাহরণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।

• উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)। 

১,৩২৪.
মূর্ধন্য ’ণ' হয় না কার পরে?
  1. ট-বর্গীয়
সঠিক উত্তর:
ট-বর্গীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট-বর্গীয়
ব্যাখ্যা

• মূর্ধন্য 'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
- ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন,
- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না, ন হয়।
যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন ইত্যাদি।

• ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে সংযুক্ত আকারে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য ‘ণ’ যুক্ত হয়। 
যেমন- কণ্টক, ঘণ্টা, অকুণ্ঠ, কাণ্ড, খণ্ড ইত্যাদি। 

কিন্তু, পরে ট-বর্গীয় ধ্বনির পরে 'ণ' হয় না।
যেমন- পাঠন, বাটন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৩২৫.
"ন" কোন বর্গীয় ধ্বনি?
  1. চ-বর্গীয়
  2. ট-বর্গীয়
  3. ত-বর্গীয়
  4. প-বর্গীয়
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ত-বর্গীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত-বর্গীয়
ব্যাখ্যা
• ক থেকে ম পর্যন্ত পঁচিশটি স্পর্শধ্বনিকে উচ্চারণস্থানের দিক থেকে পাঁচটি গুচ্ছ বা বর্গে ভাগ করা হয়েছে। প্রতি গুচ্ছের প্রথম ধ্বনিটির নামানুসারে সে গুচ্ছের সবগুলো ধ্বনিকে বলা হয় বর্গীয় ধ্বনি। বর্গভুক্ত বলে এ ধ্বনির চিহ্নগুলোকেও ঐ বর্গীয় নামে অভিহিত করা হয়।

যেমন-
• ক-বর্গীয় ধ্বনি: ক, খ, গ, ঘ, ঙ। (উচ্চারণস্থান- কণ্ঠ্য)। 
• চ-বর্গীয় ধ্বনি: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ। (উচ্চারণস্থান- তালব্য)। 
• ট-বর্গীয় ধ্বনি: ট, ঠ, ড, ঢ, ণ। (উচ্চারণস্থান- মূর্ধন্য)। 
• ত-বর্গীয় ধ্বনি: ত, থ, দ, ধ, ন। (উচ্চারণস্থান- দন্ত্য)। 
• প-বর্গীয় ধ্বনি: প, ফ, ব, ভ, ম। (উচ্চারণস্থান-ওষ্ঠ্য)। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩২৬.
উচ্চারণ স্থানানুযায়ী 'ঠ, ড়, ঢ়' কোন ধরনের ব্যঞ্জন?
  1. ওষ্ঠ্য
  2. দন্তমূলীয়
  3. মূর্ধন্য
  4. তালব্য
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য
ব্যাখ্যা
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলাে দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত।
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৩২৭.
"জন্ম > জনম" - কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. অপিনিহিতি
  2. আদি স্বরাগম
  3. বিপ্রকর্ষ
  4. অন্ত্যস্বরাগম
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা

• "জন্ম > জনম" — 'বিপ্রকর্ষ' এর উদাহরণ।

-------------
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
অনেক সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন- ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন-
অ -  রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই -  প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম  > ফিলিম ইত্যাদি।
উ -  মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভূ >ভুরু ইত্যাদি।
এ -  গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও -  শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ >মোরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অপিনিহিতি (Apenthesis):
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য, চারি > চাইর, মারি > মাইর ইত্যাদি।

আদি স্বরাগম (Prothesis):
উচ্চারণের সুবিধার জন্য বা অন্য কোনো কারণে শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে বলে আদি স্বরাগম (Prothesis)।
যেমন:
স্কুল > ইস্কুল, স্টেশন > ইস্টিশন। 

অন্ত্যস্বরাগম (Apothesis):
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম।
যেমন:
- দিশ > দিশা, পোখত্ >পোক্ত, বেঞ্চ > বেঞ্চি, সত্য >  সত্যি ইত্যাদি।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,৩২৮.
'হ' এর সঙ্গে ঋ - কার যুক্ত হলে যে ধ্বনি টি মহাপ্রাণ হয় -
  1. ক) ঘ
  2. খ) এ
  3. গ) ণ
  4. ঘ) র
সঠিক উত্তর:
ঘ) র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) র
ব্যাখ্যা

'হ' এর সঙ্গে ঋ - কার যুক্ত হলে ‘র’ ধ্বনি টি মহাপ্রাণ হয়।
যেমনঃ
- হৃদয়,
- সুহৃদ,
- হৃদ্য।

১,৩২৯.
বাংলা ভাষায় কতটি সন্ধিস্বরের পৃথক বর্ণ রয়েছে?
  1. ক) ১১ টি
  2. খ) ২৫ টি
  3. গ) ৮ টি
  4. ঘ) ২টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ২টি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনি মোট ২৫টি। এর মধ্যে শুধু ২টি যৌগিক স্বরধ্বনি / সন্ধিস্বর / দ্বিস্বর / যৌগিক স্বর-এর নিজস্ব বর্ণ আছে।
যথাঃ (অ+ই) ঐ, (অ+উ) ঔ। বাকি ২৩ টি যৌগিক স্বরধ্বনির কোন নিজস্ব বর্ণ বা প্রতীক নেই।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১,৩৩০.
যৌগিক স্বরজ্ঞাপক বর্ণ কোনটি?
  1. ক) ঊ
  2. খ) ঋ
  3. গ) ঔ
  4. ঘ) ঈ
সঠিক উত্তর:
গ) ঔ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঔ
ব্যাখ্যা
 দ্বিস্বরধ্বনি: পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে দ্রুত উচ্চরণের সময় তা একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনি রূপে উচ্চারিত হয় যা দ্বিস্বর নামে পরিচিত।
- অর্থাৎ একসঙ্গে উচ্চারিত দুটো মিলিত স্বরধ্বনিকে যৌগিক স্বর বা দ্বি-স্বর বলা হয়।
- দ্বিস্বরে দুটি স্বর থাকে একটি পূর্ণ, আর একটি অপূর্ণ।
- বাংলায় পরের স্বরটিই সাধারণত অর্ধ হয়।
- বাংলা ভাষায় ২৫টি যৌগিক স্বরধ্বনি রয়েছে।
- বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরজ্ঞাপক দুটো বর্ণ রয়েছে : ঐ এবং ঔ
- উদাহরণ : কৈ, বৌ।
- অন্য যৌগিক স্বরের চিহ্ন স্বরূপ কোনাে বর্ণ নেই।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৩১.
'জনৈক' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ-
  1. জন + ইক
  2. জন + এক
  3. জনৈ + এক
  4. জন + ঈক
সঠিক উত্তর:
জন + এক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন + এক
ব্যাখ্যা
• সন্ধি:
- পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- বাংলা ভাষায় উপসর্গ, প্রত্যয় ও সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠনের ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে ।

• সন্ধি তিন প্রকার: স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি ও বিসর্গসন্ধি ৷
- 'সূর্যোদয়' শব্দটির সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ হচ্ছে সূর্য + উদয়। 'সূর্যোদয়' শব্দটি স্বরসন্ধি এর উদাহরণ।

• স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
যেমন-
শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা।
সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়।
মহা + ঋষি = মহর্ষি।
শীত + ঋত = শীতার্ত।
জন + এক = জনৈক।
বন + ওষধি = বনৌষধি।
প্রতি + এক = প্ৰত্যেক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
১,৩৩২.
অন্তঃস্থ ধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• অন্তঃস্থ ধ্বনি:
স্পর্শ বা উম্ম ধ্বনির অন্তরে অর্থাৎ মাঝে আছে বলে য, র, ল, ব- এ ধ্বনিগুলোকে অন্তঃস্থ ধ্বনি বলা হয় আর বর্ণগুলোকে বলা হয় অন্তঃস্থ বর্ণ।

অন্যদিকে,
• ওষ্ঠ্য ধ্বনি যে ধ্বনির উচ্চারণে দুটি ঠোঁট পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বাতাসের নির্গম-পথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে ওষ্ঠ্য (bilabials) ধ্বনি বলা হয়। প, ফ, ব,, হলো ওষ্ঠ্য ধ্বনি। যেমন- তাপ, লাফ, ডার, সহা, নাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,৩৩৩.
কোনটি সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ?
  1. প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ
  2. অন্ত + গত = অন্তর্গত
  3. রাজ + ঋষি = রাজর্ষি
  4. সম + প্রদান = সম্প্রদান
সঠিক উত্তর:
প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ
ব্যাখ্যা

ই-কার বা ঈ-কার পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে সন্ধির বেলায় পূর্ববর্তী ব্যাঞ্জনবর্ণের সাথে য-ফলা লেখা হয়।
যেমনঃ
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ
- অতি + অন্ত = অত্যন্ত

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী।

১,৩৩৪.
কোনটি ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ?
  1. ক) বউদিদি > বউদি
  2. খ) লাল > নাল
  3. গ) লাফ > ফাল
  4. ঘ) ধাইমা > দাইমা
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধাইমা > দাইমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধাইমা > দাইমা
ব্যাখ্যা
- ধাইমা > দাইমা হচ্ছে ব্যঞ্জন বিকৃতির উদাহরণ।

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়।
- একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
- যেমন- কবাট > কপাট, ধােবা > ধােপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বউদিদি > বউদি - ব্যঞ্জনচ্যুতি।
লাল > নাল - বিষমীভবন।
লাফ > ফাল - ধ্বনি বিপর্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি। (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩৩৫.
নিয়ম অনুসারে সন্ধি হয়নি নিচের কোন শব্দে?
  1. গায়ক
  2. কুলটা
  3. পশ্বধম
  4. নদ্যম্বু
সঠিক উত্তর:
কুলটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুলটা
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সাথে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
- কতগুলো সন্ধি এই নিয়মের অনুসরণ করে হয় না। সেগুলোকে নিপাতনেসিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন:
- কুল + অটা = কুলটা
- গাে + অক্ষ = গবাক্ষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
স্বরসন্ধির নিয়ম:
• নিয়ম: এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।
যেমন- গৈ + অক = গায়ক

• উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার ও ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন- পশু + অধম = পশ্বধম

• ই/ঈ + অন্যস্বর = য-ফলা, এই নিয়মে গঠিত সন্ধি - নদী + অম্বু = নদ্যম্বু

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৩৩৬.
স্বভাবত 'ণ' ব্যবহার হয়েছে কোন শব্দে?
  1. লক্ষণ
  2. অর্পণ
  3. স্থাণু
  4. হরিণ
  5. ব্রাহ্মণ
সঠিক উত্তর:
স্থাণু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থাণু
ব্যাখ্যা

• স্বভাবত 'ণ' ব্যবহার হয়েছে - স্থাণু।

ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম:
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প + অ+ণ্‌), লক্ষণ (ক্+ ষ্‌ + অ + ণ্‌)।
এরূপ - রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।
- 'কৃপণ' শব্দটি ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে হয়েছে।

স্বভাবতই 'ণ' হয় এমন কিছু শব্দ:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, শোণিত, মণি, স্থাণু ,গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু , বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্বণ, নিক্বণ, তূণ, বণিক, গুণ, গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,৩৩৭.
‘ফাল্গুন > ফাগুন’ ধ্বনির কোন ধরনের পরিবর্তন?
  1. ক) সম্প্রকর্ষ
  2. খ) ধ্বনিচ্যুতি
  3. গ) অন্তর্হতি
  4. ঘ) ব্যঞ্জন বিকৃতি
সঠিক উত্তর:
গ) অন্তর্হতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অন্তর্হতি
ব্যাখ্যা
অন্তর্হতি: পদের মধ্যে কোন ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি। যেমনঃ ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি।
ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি: পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লােপ পায়। এরূপ লােপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি। যেমন- বউদিদি > বউদি, বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।
ব্যঞ্জন বিকৃতি: শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি। যেমন-কবাট > কপাট, ধােবা > ধােপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।
সম্প্রকর্ষ: দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোন ধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ। যেমনঃ বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি]
১,৩৩৮.
'নীরব' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. নির + রব
  2. নিঃ + রব
  3. নীঃ + রব
  4. নীর + রব
সঠিক উত্তর:
নিঃ + রব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিঃ + রব
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
পূর্বপদের শেষে বিসর্গযুক্ত ই/উ-ধ্বনি থাকলে এবং পরপদের প্রথমে র থাকলে সন্ধিতে বিসর্গ লোপ পায় এবং ই বা উ-ধ্বনি দীর্ঘতা পেয়ে দীর্ঘ-ঈ বা দীর্ঘ-উ-তে রূপান্তরিত হয়।
যেমন:
- নিঃ + রব = নীরব,
- নিঃ + রস = নীরস,
- নিঃ + রোগ = নীরোগ,
- নিঃ + রন্দ্র = নীরন্দ্র ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৩৩৯.
বাংলা বর্ণমালায় ঘোষ বর্ণ-
  1. ১ম ও ৩য় বর্গ
  2. ২য় ও ৩য় বর্গ
  3. ৩য় ও ৪র্থ বর্গ
  4. ১ম ও ২য় বর্গ
সঠিক উত্তর:
৩য় ও ৪র্থ বর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩য় ও ৪র্থ বর্গ
ব্যাখ্যা

• যে বর্ণগুলাে উচ্চারণ করতে ফুসফুস থেকে অপেক্ষাকৃত অধিক বাতাস প্রবাহিত হয় এবং নিনাদিত উচ্চারণ হয় তাদের ঘােষ বর্ণ বলে ।
• বর্গের তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম বর্ণ এবং য, র, ল, ব, হ ঘোষ বর্ণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৪০.
সন্ধিজাত শব্দ নয় কোনটি?
  1. তন্বী
  2. অথৈ
  3. স্বাগত
  4. পবিত্র
সঠিক উত্তর:
অথৈ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অথৈ
ব্যাখ্যা
• 'অথৈ' - উপসর্গজাত শব্দ।
এখানে, খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'অ' ব্যবহৃত হয়েছে।
-------------------
সন্ধির নিয়ম: 
উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার ও ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ-এর স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়। যেমন-
তনু + ঈ = তন্বী, 
সু + অল্প = স্বল্প,
সু + আগত = স্বাগত ইত্যাদি।

আবার,
 'পবিত্র' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ- 'পো + ইত্র'।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
১,৩৪১.
কোনো ভাষার বাক্‌ প্রবাহকে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করলে আমরা কী পাই?
  1. যৌগিক স্বরধ্বনি
  2. মৌলিক ধ্বনি
  3. মৌলিক বর্ণ
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
মৌলিক ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলিক ধ্বনি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার ধ্বনি ও বর্ণ প্রকরণ:
- কোনো ভাষার বাক্ প্রবাহকে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করলে আমরা কতগুলো মৌলিক ধ্বনি (Sound) পাই। বাংলা ভাষাতেও কতগুলো মৌলিক ধ্বনি আছে।
- বাংলা ভাষার মৌলিক ধ্বনিগুলোকে প্রধান দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
১. স্বরধ্বনি ও ২. ব্যঞ্জনধ্বনি।

স্বরধ্বনি: যে সকল ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস-তাড়িত বাতাস বেরিয়ে যেতে মুখবিবরের কোথাও কোনো প্রকার বাধা পায় না, তাদেরকে বলা হয় স্বরধ্বনি (Vowel sound)।
যেমন অ, আ, ই, উ ইত্যাদি।

ব্যঞ্জনধ্বনি:
- যে সকল ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস-তাড়িত বাতাস বেরিয়ে যেতে মুখবিবরের কোথাও না কোথাও কোনো প্রকার বাধা পায় কিংবা ঘর্ষণ লাগে, তাদেরকে বলা হয় ব্যঞ্জনধ্বনি (Consonant sound)।
যেমন- ক, চ, ট, ত, প ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩৪২.
বাংলা ভাষায় মৌলিক ধ্বনি কতটি?
  1. ০৭টি
  2. ৩৭টি
  3. ১১টি
  4. ১০টি
সঠিক উত্তর:
৩৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩৭টি
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি ভাষার ক্ষুদ্রতম একক।
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে।

• এই ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
- স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।

• মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি:
[ই], [এ), [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ]; 

• মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি:
[প্], [ফ], [ব], ভিা, [ত্], [থ], [দ], [ধ], [ট], [ঠ], [ড], [ঢ়], [চ], [ছ], [জ], [ব],[ক], [খ], [গা,[ঘ], [ম], [ন], [ঙ], [স্], [শ], [হা, [ল], [র], [ড়], [ঢ়।।
- এখানে তৃতীয় বন্ধনী দিয়ে ধ্বনি বা উচ্চারণ নির্দেশ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

১,৩৪৩.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ?
  1. ক) পর+পর
  2. খ) নিঃ+রব
  3. গ) প্রাতঃ+আশ
  4. ঘ) দুঃ+যোগ
সঠিক উত্তর:
ক) পর+পর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পর+পর
ব্যাখ্যা
• 'পরস্পর' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ- পর + পর
- এটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ।

• নিপাতনে সিদ্ধ:
- ব্যাকরণের সাধারণ বা বিশেষ কোনো নিয়মানুসারে যখন কোনো কর্ম ব্যাখ্যা করা যায় না অথচ তা সংঘটিত হয়, তখন সেই ব্যতিক্রমকে বৈধতা দেয়ার নাম নিপাতনে সিদ্ধ।

• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ- 
- আশ্চর্য = আ + চর্য।
- ষোড়শ = ষট্‌ + দশ।
- পতঞ্জলি = পতৎ + অঞ্জলি।
- একাদশ = এক + দশ।
- বৃহস্পতি = বৃহৎ + পতি।
- গোষ্পদ = গো + পদ।
- বনস্পতি = বন্‌ + পতি।
- পরস্পর = পর + পর।
- তস্কর = তদ্‌ + কর। 
- দ্যুলোক = দিব্‌ + লোক ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশন:
- নিঃ+রব = নীরব।
- প্রাতঃ+আশ = প্রাতরাশ।
- দুঃ+যোগ = দুর্যোগ।
উপরের সবগুলো বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৪৪.
'দ্ধ' যুক্তবর্ণটি কিভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. ক) ধ্ + দ
  2. খ) দ্ + ব
  3. গ) দ্ + ধ
  4. ঘ) দ্ + দ
সঠিক উত্তর:
গ) দ্ + ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দ্ + ধ
ব্যাখ্যা
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।

 গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ হলোঃ
- হ্ + উ = হু
- ত্ + র = ত্র
- র্ + উ = রু
- র্ + ঊ = রূ
- ভ্ + র = ভ্র
- শ্ + উ = শু
- ণ্ + ড = ণ্ড
- দ্ + ধ = দ্ধ
- ন্ + ধ = ন্ধ

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১]
১,৩৪৫.
দ্বিস্বরধ্বনি বলতে কী বোঝায়?
  1. শুধুমাত্র অর্ধস্বরধ্বনির উচ্চারণ
  2. দুটি পূর্ণ স্বরধ্বনির সমন্বয়
  3. পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং অর্ধস্বরধ্বনির একত্রে উচ্চারণ
  4. একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং একটি ব্যঞ্জনধ্বনির সমন্বয়
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং অর্ধস্বরধ্বনির একত্রে উচ্চারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং অর্ধস্বরধ্বনির একত্রে উচ্চারণ
ব্যাখ্যা
দ্বিস্বরধ্বনি:
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।

যেমন:
- 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
- [আই]: তাই, নাই,
- [এই]: সেই, নেই,
- [উই]: দুই, রুই,
- [ওউ]: মৌ, বউ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
১,৩৪৬.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. গঙ্গা + উর্মি = গঙ্গোর্মি
  2. বসুন্‌ + ধরা = বসুন্ধরা
  3. মরু + উদ্যান = মরূদ্যান
  4. মসি + আধার = মস্যাধার
সঠিক উত্তর:
মরু + উদ্যান = মরূদ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরু + উদ্যান = মরূদ্যান
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ - মরু + উদ্যান = মরূদ্যান
- এটি সংস্কৃত স্বরসন্ধির উদাহরণ।

অন্যান্য অপশনগুলোর শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ: 
- গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি,
- বসুম্‌ + ধরা = বসুন্ধরা,
- মসী + আধার = মস্যাধার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৪৭.
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন নয় কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন নয় -
- এটি কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন।

কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, , গ, , কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৩৪৮.
‘ধপ + ধপ > ধপাধপ’ কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. সমীভবন
  2. অসমীকরণ
  3. ধ্বনি বিপর্যয়
  4. বিষমীভবন
সঠিক উত্তর:
অসমীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসমীকরণ
ব্যাখ্যা
ভাষার পরিবর্তন ধ্বনির পরিবর্তনের সাথে সম্পৃক্ত। ধ্বনি পরিবর্তন নানা প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়।

• অসমীকরণ:
একই ঘরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন:
- ধপ + ধপ > ধপাধপ।
- টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
• ধ্বনি বিপর্যয়: শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন:
- ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাস্ক।
- জাপানি রিক্সা > বাংলা রিস্কা ইত্যাদি।
অনুরুপ, পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।

• বিষমীভবন: দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- শরীর > শরীল।
- লাল > নাল ইত্যাদি।

• সমীভবন: শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন:
- জন্ম > জম্ম,
- কাঁদনা > কান্না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩৪৯.
বাংলা বর্ণমালায় কয়টি পরাশ্রয়ী বর্ণ রয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৩টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩টি
ব্যাখ্যা

• পরাশ্রয়ী বর্ণ:
যেসব বর্ণ স্বাধীনভাবে স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে ভাষায় ব্যবহৃত হয় না। এবং বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অন্য ধ্বনির সঙ্গে মিলিত হয়ে একত্রে উচ্চারিত হয়, সে বর্ণগুলোকে বলা হয় পরাশ্রয়ী বর্ণ।

• বাংলা বর্ণমালায় তিনটি পরাশ্রয়ী বর্ণ রয়েছে।
যথা-  ং, ঃ ও ঁ।

-এই বর্ণ গুলোর স্বাধীন ও স্বতন্ত্র বর্ণের মতো কার বা ফলা গ্রহন করতে পারে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।

১,৩৫০.
'অন্তর্গত' এর শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ-
  1. অন্তর + গত
  2. অন্তর + গতো
  3. অন্তঃ + গত
  4. অন্ত + গত
সঠিক উত্তর:
অন্তঃ + গত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্তঃ + গত
ব্যাখ্যা
• 'অন্তর্গত' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - 'অন্তঃ + গত'।

• সূত্র:
- অ- কারের পরস্থিত র্‌-জাত বিসর্গের পর উপর্যুক্ত ধ্বনিসমূহের কোনটি থাকলে বিসর্গ স্থানে 'র' হয়।
যেমন:
- অন্তঃ + গত= অন্তর্গত,
- অহঃ + অহ= অহরহ,
- পুনঃ + উক্ত= পুনরুক্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সংস্করণ)।
১,৩৫১.
"কিন্তু" শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. কিমঃ + তু
  2. কিন্ + তু
  3. কি + অন্তু
  4. কিম্ + তু
সঠিক উত্তর:
কিম্ + তু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিম্ + তু
ব্যাখ্যা
সন্ধির নিয়ম:
• আগে ম্ এবং পরে চ্ থেকে ম্ পর্যন্ত বর্গীয় ধ্বনির যেকোনোটি থাকলে পূর্বপদের ম্ স্থানে পরবর্তী বর্গীয় ধ্বনির পঞ্চম ধ্বনি হয়।

যেমন:
→ কিম্ + চিৎ = কিঞ্চিৎ, 
→ সম্ + ত্রাস = সন্ত্রাস, 
কিম্ + তু = কিন্তু
→ সম্ + ধি = সন্ধি, 
→ সম্ + নিবেশ = সন্নিবেশ, 
→ সম্ + ন্যাস = সন্ন্যাস।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,৩৫২.
নিচের কোনটি ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ?
  1. লাঙ্গল > নাঙ্গল 
  2. পিশাচ > পিচাশ
  3. আরমারি > আলমারি
  4. লগ্ন  > লগ্গ
সঠিক উত্তর:
পিশাচ > পিচাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিশাচ > পিচাশ
ব্যাখ্যা

• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। এতে দুটি বর্ণের মধ্যে জায়গা পরিবর্তন হয়।
যেমন- 
- পিশাচ > পিচাশ,
- লাফ > ফাল,
- বাক্‌স > বাস্‌ক,
- রিকসা্‌ > রিস্‌কা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• বিষমীভবন:
দুটো সমবর্ণের একটির অপরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- শরীর > শরীল,
- লাল > নাল,
- লাঙ্গল > নাঙ্গল,  
- আরমারি > আলমারি,
- জরুরি > জরুলি ইত্যাদি। 

• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতো হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র  > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন  > লগ্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩৫৩.
বাংলা একাক্ষর যুক্ত শব্দে 'ও' কার কি হয়?
  1. স্বল্প
  2. দীর্ঘ
  3. সমান থাকে
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘ
ব্যাখ্যা

বাংলা একাক্ষর যুক্ত শব্দে 'ও' কার দীর্ঘ হয়।
- যেমনঃ গো, জোর, রোগ ইত্যাদি। অন্যত্র সাধারণত হ্রস্ব হয়।
- ও এর উচ্চারণ ইংরেজিতে বোট শব্দের (oa) এর মত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণি)

১,৩৫৪.
ভাষার সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম উপাদান কোনটি?
  1. শব্দমূল 
  2. ধ্বনিমূল 
  3. বর্গমূল 
  4. পদ
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিমূল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিমূল 
ব্যাখ্যা

ভাষার সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম উপাদান হলো ধ্বনিমূল, তবে ধ্বনিমূলের মধ্যে কোনো অর্থ বহন করার ক্ষমতা নেই। সাধারণত লেখ্য ভাষার প্রতিটি বর্ণ কথ্য ভাষার একটি ধ্বনিমূল নির্দেশ করে। অন্যদিকে, রূপমূল সর্বদা কোনো না কোনোভাবে অর্থসংশ্লিষ্ট থাকে।

• ধ্বনিমূল ও ধ্বনির শ্রেণিবিভাগ:
প্রত্যেক ভাষায় ব্যবহৃত ধ্বনিগুলো বিচার করলে কতকগুলো ক্ষুদ্রতম অবিভাজ্য ধ্বনি-একক পাওয়া যায়। এদের বলা হয় ধ্বনিমূল (Phoneme) বা মৌলিক ধ্বনি। ভাষার ধ্বনিমূলগুলোকে প্রধানত দুটো ভাগে ভাগ করা যায়; যথা-১. স্বরধ্বনি, ২. ব্যঞ্জনধ্বনি। বাংলা স্বরধ্বনির লিখিত রূপকে বলে স্বরবর্ণ এবং ব্যঞ্জনধ্বনির লিখিত রূপকে বলে ব্যঞ্জনবর্ণ। বাংলা স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণগুলোকে একত্রে বলে বাংলা বর্ণমালা।

• স্বরবর্ণ: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ। মোট ১১টি। 

• ব্যঞ্জনবর্ণ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ত, থ, দ, ধ, ন, প, ফ, ব, ত, ম, য, র, ল, শ, ষ, স, হ, ড়, ঢ়, য়, ং, ৎ, ঃ, ঁ। মোট ৩৯টি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৩৫৫.
ণ-ত্ব বিধান কোন শব্দের জন্য প্রযোজ্য?
  1. ক) সংস্কৃত শব্দ
  2. খ) বিদেশি শব্দ
  3. গ) দেশি শব্দ
  4. ঘ) তদ্ভব শব্দ
সঠিক উত্তর:
ক) সংস্কৃত শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সংস্কৃত শব্দ
ব্যাখ্যা
ণ-ত্ব বিধানঃ
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়।
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

- বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়।
- ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' বসে।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩৫৬.
‘ঙ্ক্ষ’ যুক্তবর্ণটি কোন কোন বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ঙ্ + ষ্ + ক
  2. ঙ্ + হ্ + ষ
  3. ঙ্ + ম্ + ষ
  4. ঙ্ + ক্ + ষ্
সঠিক উত্তর:
ঙ্ + ক্ + ষ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ্ + ক্ + ষ্
ব্যাখ্যা
• ঙ্ + ক্ + ষ্ = ঙ্ক্ষ।

• যুক্তবর্ণ:

একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ণ্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ঋ, ণ্ঠ, ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, জ, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ফ, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
ক্ত (ক্ + ত),
ক্ম (ক্ + ম),
ক্ষ (ক্ + ষ),
ক্ষ্ম (ক্ + ষ্ + ম),
ক্স (ক্ + স),
গু (গ্ + উ),
গ্ধ (গ্ + ধ),
ঙ্গ (ঙ্ + গ),
জ্ঞ (জ্ + ঞ),
ঞ্চ (ঞ্ + চ),
ঞ্জ (ঞ্ + জ),
ষ্ণ (ষ্ + ণ)
হু (হ্ + উ),
হৃ (হ্ + ঋ),
হ্ন (হ্ + ন),
হ্ম (হ্ + ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,৩৫৭.
নিচের কোনটি যৌগিক স্বরধ্বনির চিহ্ন?
  1. ক) আ
  2. খ) ঔ
  3. গ) উ
  4. ঘ) ঊ
সঠিক উত্তর:
খ) ঔ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঔ
ব্যাখ্যা
একাধিক স্বরধ্বনি মিলে যে ধ্বনি সৃষ্টি হয় তাকে যৌগিক স্বরধ্বনি বা দ্বিস্বরধ্বনি বলে।
বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনি মোট ২৫টি। এর মধ্যে মাত্র ২টি যৌগিক স্বরধ্বনির নিজস্ব বর্ণ আছে।
যথাঃ (অ+ই) ঐ, (অ+উ) ঔ।
বাকি ২৩ টি যৌগিক স্বরধ্বনির নিজস্ব বর্ণ বা প্রতীক নেই।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১,৩৫৮.
‘উল্লাস’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) উছ+লাস
  2. খ) উল+লাস
  3. গ) উচ্ছ+লাস
  4. ঘ) উৎ+লাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) উৎ+লাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উৎ+লাস
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনসন্ধিতে একটি ধ্বনির প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যায়। যেমন-
উৎ+লাস = উল্লাস ( এখানে ল-এর প্রভাবে ত হয়েছে ল)
বাক্+দান = বাগ্দান ( এখানে ঘোষধ্বনি দ-এর প্রভাবে ক হয়েছে গ)
তৎ+মধ্যে = তন্মধ্যে ( এখানে নাসিক্য ধ্বনি ম-এর প্রভাবে ত হয়েছে ন)
শম্+কা = শঙ্কা ( এখানে কণ্ঠ্যধ্বনি ক-এর প্রভাবে ম হয়েছে ঙ)
ষষ্+থ = ষষ্ঠ ( এখানে মূর্ধন্যধ্বনি ষ-এর প্রভাবে থ হয়েছে ঠ)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৫৯.
'মনস্তাপ' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. মনসঃ + তাপ
  2. মনঃ + তাপ
  3. মনস্‌ + তাপ
  4. মনোঃ + তাপ
সঠিক উত্তর:
মনঃ + তাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনঃ + তাপ
ব্যাখ্যা

• বিসর্গ সন্ধি:
পূর্বপদের শেষে বিসর্গ (০ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে চ্ বাছ থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে শ্, ট্ বা ঠ থাকলে ; ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।
যেমন:
- চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়,
- ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার,
- নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর,
- ইতঃ + তত = ইতস্তত,
- মনঃ + তাপ = মনস্তাপ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,৩৬০.
'ভ্রূ > ভুরু' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত?
  1. অন্তর্হতি
  2. স্বরভক্তি
  3. অসমীকরণ
  4. প্রগত সমীভবন 
সঠিক উত্তর:
স্বরভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরভক্তি
ব্যাখ্যা

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।

যেমন:
অ - রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি। 
ই - প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ - মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি।
এ - গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও - শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,৩৬১.
কোনটি অন্তর্হতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. গাছুয়া > গেছো
  2. কবাট > কপাট
  3. ধাইমা > দাইমা
  4. ফলাহার > ফলার
সঠিক উত্তর:
ফলাহার > ফলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফলাহার > ফলার
ব্যাখ্যা
অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।

যেমন:
- ফাল্গুন > ফাগুন,
- ফলাহার > ফলার,
- আলাহিদা > আলাদা।

অন্যদিকে,
ব্যঞ্জন বিকৃতি - কবাট > কপাট, ধাইমা > দাইমা।
অভিশ্রতি - গাছুয়া > গাউছা > গেছো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩৬২.
‘যুগ্ম’ শব্দের উচ্চারণ কোনটি?
  1. জুগানো
  2. জুগ্‌মো
  3. জুগমোঁ
  4. যুগনো
সঠিক উত্তর:
জুগ্‌মো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুগ্‌মো
ব্যাখ্যা
'যুগ্ম' শব্দের সঠিক উচ্চারণ- জুগ্‌মো। 

কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্‌ এর উচ্চারণ বজায় থাকে।
যেমন-
যুগ্ম এর উচ্চারণ: জুগ্‌মো,
গুল্ম এর উচ্চারণ: গুল্‌মো, 

• যুগ্ম (জুগ্‌মো): 
- [স. √যুজ্‌+ম]
- বিশেষণ পদ।
অর্থ-
- যুগল, জোড়া, 
- দুই দিয়ে বিভাজ্য, জোড়, 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ), আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,৩৬৩.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. বন + ওষধি = বনৌষধ
  2. মহা + ওষধি = মহাঔষধি
  3. পরম + ঔষধ = পরমৌষধি
  4. মহা + ঔষধ = মহৌষধ
সঠিক উত্তর:
মহা + ঔষধ = মহৌষধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহা + ঔষধ = মহৌষধ
ব্যাখ্যা

অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়; ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়।
যেমন-
বন + ওষধি = বনৌষধি
মহা + ওষধি = মহৌষধি
পরম + ঔষধ = পরমৌষধ
মহা + ঔষধ = মহৌষধ
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

১,৩৬৪.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধির উদাহরণ?
  1. ক) ষড়যন্ত্র
  2. খ) বৃষ্টি
  3. গ) দ্রষ্টা
  4. ঘ) স্বৈর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বৈর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বৈর
ব্যাখ্যা
কতগুলো স্বরসন্ধি রয়েছে যা সাধারণ নিয়মের মধ্যে পদে না এদেরকে নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে। অর্থাৎ ব্যাকরণের বাইরের এ সকল সন্ধিকে নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন:
স্বর+ঈর = স্বৈর
• গো+অক্ষ = গবাক্ষ
• প্র+ঊঢ় = প্রৌঢ়
• গো+ইন্দ্র = গবেন্দ্র

অন্যদিকে,
দ্রষ্টা, বৃষ্টি ও ষড়যন্ত্র ব্যঞ্জনসন্ধির নিয়ম অনুসারে গঠিত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি. ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,৩৬৫.
'যথেষ্ট' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. যথা + এষ্ট
  2. যথা + ইষ্ট
  3. যথাঃ + ইষ্ট
  4. যথ + ইষ্ট
সঠিক উত্তর:
যথা + ইষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথা + ইষ্ট
ব্যাখ্যা

• স্বরসন্ধির নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন-
- অ + ই = এ; শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা। 
- আ + ই = এ; যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট।
- অ + ঈ = এ; পরম + ঈশ = পরমেশ।
- আ + ঈ = এ; মহা + ঈশ = মহেশ।

এরূপ- ঢাকেশ্বরী, পূর্ণেন্দু, শ্রবণেন্দ্রিয়, সেচ্ছা, রমেশ, নরেন্দ্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

১,৩৬৬.
পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে তাকে কী বলে?
  1. অর্ধ-দ্বিস্বরধ্বনি
  2. দ্বিস্বরধ্বনি
  3. মিশ্রস্বরধ্বনি
  4. অনুনাসিক স্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
দ্বিস্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিস্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা

দ্বিস্বরধ্বনি:
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়

যেমন:
- 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্] তৈরি হয়েছে।
- দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
- [আই]: তাই, নাই,
- [এই]: সেই, নেই,
- [উই]: দুই, রুই,
- [ওউ]: মৌ, বউ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।

১,৩৬৭.
'শ্মশান' শব্দে  ম-এর উচ্চারণ হয়েছে- 
  1. ম-এর মতো 
  2. অঁ- এর মতো 
  3. অ্যাঁ- এর মতো 
  4. ও- এর মতো  
সঠিক উত্তর:
অঁ- এর মতো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অঁ- এর মতো 
ব্যাখ্যা

• 'ম' বর্ণের উচ্চারণ:
- 'ম' বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]।
- শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়। যেমন- শ্মশান [শঁশান], স্মরণ [শঁরোন]।
- শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়। যেমন- আত্মীয় [আত্‌তিঁয়ো], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।
- কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে। যেমন-  যুগ্ম [জুগ্‌মো], জন্ম [জন্‌মো], গুল্ম [গুল্‌মো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,৩৬৮.
'ভাবুক' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ভো + অক
  2. ভৌ + উক
  3. ভা + বুক
  4. ভাব + উক
সঠিক উত্তর:
ভৌ + উক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভৌ + উক
ব্যাখ্যা
সন্ধি বিচ্ছেদ:
- এ, ঐ, ও, ঔ- কারের পরে এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্‌, আব্‌ হয়।
যেমন,
- ভৌ + উক = ভাবুক,
- পৌ + অক = পাবক,
- গো + আদি = গবাদি,
- গো + এষণা = গবেষণা,
- পো + ইত্র = পবিত্র,
- নৌ + ইক = নাবিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩৬৯.
কোনটি অর্ধস্বরধনি নয়?
  1. ক) ই্‌
  2. খ) আ
  3. গ) এ্‌
  4. ঘ) ও্‌
সঠিক উত্তর:
খ) আ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আ
ব্যাখ্যা

অর্ধস্বরধ্বনি:
যেসব স্বরধ্বনি পুরােপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলােকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে। বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি: ই্‌, উ্‌, এ্‌, ও্‌। স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনােভাবে,দীর্ঘ করা যায় না।
যেমন -
- ‘চাই’ শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [ই্]। এখানে [আ] হলাে পূর্ণ স্বরধ্বনি, [ই্] হলাে অর্ধস্বরধ্বনি।
- একইভাবে 'লাউ' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [উ্]। এখানে [আ] হলাে পূর্ণ স্বরধ্বনি, [উ্] হলাে অর্ধস্বরধ্বনি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

১,৩৭০.
বাংলা সাতটি স্বরধ্বনির মধ্যে কোন তিনটি বিবৃত?
  1. অ, ই, উ
  2. আ,ঈ, ঊ
  3. অ, এ, অ্যা
  4. অ্যা, আ, অ
সঠিক উত্তর:
অ্যা, আ, অ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যা, আ, অ
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খােলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা, 
- সংবৃত;
- অর্ধ-সংবৃত;
- অর্ধ-বিবৃত;
- বিবৃত।
সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট বেশি খােলে।

• বিবৃত ধ্বনির উচ্চারণ:
- অ- ধ্বনির বিবৃতি বা স্বাভাবিক উচ্চারণ: অমল, অনেক, কত। 
- বাংলায় আ ধ্বনি একটি বিবৃত স্বর। যেমন- আপন, মা, দাতা ইত্যাদি।
- কয়েকটি ক্ষেত্রে আ ধ্বনির উচ্চারণ অ্যা হয়। অ্যা ধ্বনির বিবৃত উচ্চারণ এর উদাহরণ- খেল্‌ (খ্যাল্‌), দেখ্‌ (দ্যাখ্‌)। 

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।  
১,৩৭১.
‘লক্ষণ’ শব্দের প্রমিত উচ্চারণ -
  1. ক) লোক্খন
  2. খ) লক্‌খোন্
  3. গ) লোক্‌খোন্
  4. ঘ) লক্‌খন্
সঠিক উত্তর:
গ) লোক্‌খোন্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লোক্‌খোন্
ব্যাখ্যা
- ‘লক্ষণ’ শব্দের প্রমিত উচ্চারণ হলো 'লোক্‌খোন্'।

লক্ষণ
• সঠিক উচ্চারণ- লোক্‌খোন্‌।
• এটি একটি বিশেষ্য পদ।
• এটি তৎসম বা সংস্কৃত ভাষার শব্দ।
• প্রকৃতি-প্রত্যয়: √রক্ষ্‌+অন(ল্যুট্‌)

শব্দের অর্থ-
১ চিহ্ন (দারিদ্র্যের লক্ষণ)। 
২ পরিচয় (মরত্ত্বের লক্ষণ)।
৩ নিদর্শন; অভিজ্ঞান (জ্ঞানের লক্ষণ)। 
৪ আভাস; ইঙ্গিত; সূচনা (ঝড়ের বা ক্রোধের লক্ষণ)। 

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
১,৩৭২.
মিথ্যা > মিথ্যে কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. ক) প্রগত স্বরসঙ্গতি
  2. খ) মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
  3. গ) পরাগত স্বরসঙ্গতি
  4. ঘ) অন্যান্য স্বরসঙ্গতি
সঠিক উত্তর:
ক) প্রগত স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রগত স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। অর্থাৎ পূর্ববর্তী বা পরবর্তী স্বরের প্রভাবে শব্দের মধ্যে অপর  স্বরধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে প্রভাবকারী স্বরের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা করলে , এই রীতিকে বলা হয় স্বরসঙ্গতি। প্রধানত চারটি পদ্ধতিতে স্বরসঙ্গতি হয়ে থাকে। যথা:

⇒ প্রগত স্বরসঙ্গতি (Progressive): আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মুলা > মুলাে, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো, মিথ্যা > মিথ্যে, পুত্র > পুত্তুর ।

⇒ পরাগত স্বরসঙ্গতি (Regressive): অন্ত্যস্বরের কারণে আদিস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- আখাে > আখুয়া > এখাে, দেশি > দিশি।

⇒ মধ্যগত স্বরসঙ্গতি (Mutual): আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- বিলাতি > বিলিতি।

⇒ অন্যান্য স্বরসঙ্গতি (Reciprocal): আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যান্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন – মােজা > মুজো, ধোঁকা > ধুঁকো, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৭৩.
'মুলা > মুলো' ও 'শিকা > শিকে' কোন ধরনের স্বরসঙ্গতি?
  1. প্রগত স্বরসঙ্গতি
  2. পরাগত স্বরসঙ্গতি
  3. মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
  4. চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি
সঠিক উত্তর:
প্রগত স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রগত স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা

স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। যেমন: দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

প্রগত: 
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন- মুলা > মুলো, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো।

পরাগত:
অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন- আখো > আখুয়া > এখো, দেশি >  দিশি।

মধ্যগত:
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন- বিলাতি > বিলিতি।

অন্যোন্য:
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন- মোজা > মুজো।

চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি: 
গিলা > গেলা, মিলামিশা > মেলামেশা, মিঠা > মিঠে, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।
পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর ও-কার হয়। যেমন- মুড়া > মুড়ো, চুলা > চুলো ইত্যাদি।
বিশেষ নিয়মে- উড়ুনি > উড়নি, এখনি > এখুনি হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,৩৭৪.
নিচের কোনগুলো পরাশ্রয়ী বর্ণ?
  1. ক) ঙ, ঞ
  2. খ) ং, ঃ
  3. গ) শ, ঘ
  4. ঘ) র, ঢ়
সঠিক উত্তর:
খ) ং, ঃ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ং, ঃ
ব্যাখ্যা
- ং, ঁ, ঃ — এই তিনটি বর্ণ স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হতে পারে না৷
এ বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অন্য ধ্বনির সঙ্গে মিলিত হয়ে একত্রে উচ্চারিত হয়৷ তাই এরা পরাশ্রয়ী বর্ণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী৷
১,৩৭৫.
“তরবার > তরোয়াল” কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. ধ্বনি বিপর্যয়
  2. বিষমীভবন
  3. স্বরসঙ্গতি
  4. অসমীকরণ
সঠিক উত্তর:
বিষমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষমীভবন
ব্যাখ্যা
⇒ বিষমীভবন: দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন:
- তরবার > তরোয়াল;
- লাঙ্গল > নাঙ্গল;
- শরীর > শরীল;
- লালা > নাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
⇒ ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের শধ্যে দুটো ব্যঞ্জনের পরস্পর স্থান পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
:যেমন:
- পিশাচ ˃ পিচাশ,
- লাফ ˃ ফাল,
- বাক্‌স > বাস্‌ক,
- রিকসা্‌ > রিস্‌কা ইত্যাদি।

⇒ স্বরসঙ্গতি ধ্বনি পরিবর্তন: 
একটি স্বরধনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। যেমন- 
• দেশি > দিশি, 
• বিলাতি > বিলিতি, 
• মুলা > মুলো ইত্যাদি। 

⇒ অসমীকরণ (Dissimilation):
একই স্বরধ্বনির পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন: টপ + টপ > টপাটপ, ধপ + ধপ > ধপাধপ, ফট + ফট > ফটাফট। ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৭৬.
উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুসারে কোনটি উচ্চ স্বরধ্বনি?
  1. অ্যা
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• 'উ'- উচ্চ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা- 
- উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।

• উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)।
১,৩৭৭.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পরম + ঈশ = পরমেশ
  2. পো + অক = পাবক
  3. মসি + আধার = মস্যাধার
  4. সতী + ইশ = সতীশ
সঠিক উত্তর:
পরম + ঈশ = পরমেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরম + ঈশ = পরমেশ
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ - পরম + ঈশ = পরমেশ
- এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- বাকি অপশনগুলোও স্বরসন্ধির উদাহরণ। 
- যাদের শুদ্ধরূপ -
→ পৌ + অক = পাবক,
→ মসী + আধার = মস্যাধার,
→ সতী + ঈশ = সতীশ।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩৭৮.
সম্মুখ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভের কী অবস্থান হয়?
  1. জিভ পুরোপুরি পিছনে যায়
  2. জিভ একদম স্থির থাকে
  3. জিভ সামনে উঁচু বা নিচু হয়
  4. জিভ নিচে নামে
সঠিক উত্তর:
জিভ সামনে উঁচু বা নিচু হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিভ সামনে উঁচু বা নিচু হয়
ব্যাখ্যা
সম্মুখ স্বরধ্বনি:
- সম্মুখ স্বর‌ধ্বনির উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
যেমন:
- [ই], [এ], [অ্যা] সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

মধ্য স্বরধ্বনি:
- মধ্য স্বরধ্বনি হচ্ছে [আ]।

পশ্চাৎ স্বরধ্বনি:
- পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
- [অ], [ও], [উ] ইত্যাদি পশ্চাৎ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৩৭৯.
কোনটি অপিনিহিতর উদাহরণ?
  1. ইস্কুল
  2. ধপাধপ
  3. গেলাস
  4. আইজ
সঠিক উত্তর:
আইজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইজ
ব্যাখ্যা

• অপিনিহিতি: 
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে-ই কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলা হয়।
যেমন:
- সাধু > সাঊধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- আজি > আইজ।

অন্যদিকে, 
• আদি স্বরাগম:   
উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে আদি স্বরাগম বলে।
যেমন:
- স্কুল > ইস্কুল,
- স্টেশন > ইস্টিশন,
- স্পর্ধা > আস্পর্ধা।

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই – প্রীতি > পিরীতি, গ্লাস > গেলাস, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ – মুক্তা মুকুতা, তুর্ক » তুরুক, ক্রু » ভুরু ইত্যাদি।
এ – গ্রাম > গেরাম, প্ৰেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও – শ্লোক » শােলােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

• অসমীকরণ:
একই স্বরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয়, তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন-
- ধপ + ধপ > ধপাধপ,
- টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৩৮০.
নিচের কোনটি উষ্ম ব্যঞ্জনধ্বনি নয়?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• উষ্ম ব্যঞ্জনধ্বনি নয়- ঙ।
- ‘ঙ’ হচ্ছে নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• উষ্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
- সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।
- উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলােকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ)- এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলাের মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতাে আওয়াজ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০২২ সংস্করণ)।
১,৩৮১.
উচ্চারণের রীতি অনুযায়ী কোনটি উচ্চ-মধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি?
  1. ক) অ
  2. খ) এ
  3. গ) আ
  4. ঘ) ও
সঠিক উত্তর:
খ) এ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) এ
ব্যাখ্যা
উচ্চারণ রীতি
- উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়।
- নিচের ছক থেকে স্বরধ্বনির এই উচ্চারণ-বিভাজন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে:

- উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা- 
• উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
• উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
• নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
• নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।
- উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে;
- নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,৩৮২.
নিচের কোনটি ব্যঞ্জনচ্যুতির উদাহরণ?
  1. ক) আলাহিদা > আলাদা
  2. খ) কবাট > কপাট
  3. গ) লােকসান > লােসকান
  4. ঘ) বড়দিদি > বড়দি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বড়দিদি > বড়দি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বড়দিদি > বড়দি
ব্যাখ্যা
শব্দের শেষে পাশাপাশি সমউচ্চরণ সম্পন্ন দুটো ব্যঞ্জনধ্বনি থেকে একটি লােপ পাওয়াকে ব্যঞ্জনচ্যুতি বা ধ্বনিচ্যুতি বলে। যেমন- বড়দাদা > বড়দা, বড়দিদি > বড়দি ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৮৩.
কোনটি অর্ধস্বরধ্বনি নয়?
  1. [এ]
  2. [আ]
  3. [উ]
  4. [ই]
সঠিক উত্তর:
[আ]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
[আ]
ব্যাখ্যা
• অর্ধস্বরধ্বনি নয় - [আ]।

অর্ধস্বরধ্বনি:

- যেসব স্বরধ্বনি পুরোপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলোকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি: [ই], [উ], [এ] এবং [ও]।
- স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনোভাবেই দীর্ঘ করা যায় না।

যেমন
- 'চাই' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [ই]। এখানে [আ] হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি, [ই] হলো অর্ধস্বরধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।
১,৩৮৪.
'ক্ষ' যুক্ত বর্ণটি কীভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. ক) হ্ + ম
  2. খ) ক +ষ
  3. গ) ষ্ +ম
  4. ঘ) ম্ +হ
সঠিক উত্তর:
খ) ক +ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক +ষ
ব্যাখ্যা
হ+ম= হ্ম যেমনঃ ব্রাহ্মণ, ব্রহ্ম ইত্যাদি
ক+ষ= ক্ষ যেমনঃ শিক্ষা, রক্ষা ইত্যাদি।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
১,৩৮৫.
কোনটিতে "ষ-ত্ব বিধান" এর নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে?
  1. স্পষ্ট
  2. শ্রদ্ধাস্পদাসু
  3. মাস্টার
  4. অগ্নিষাৎ
সঠিক উত্তর:
অগ্নিষাৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্নিষাৎ
ব্যাখ্যা

• ষ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে।
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন - ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

• অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স, ষ হয়।
যেমন - শ্রদ্ধাস্পদেষু, শ্রদ্ধাভাজনেষু ইত্যাদি।
- কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে 'স' হয়।
যেমন - শ্রদ্ধাস্পদাসু

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।

- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না।
যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৩৮৬.
'বিলাতি > বিলিতি' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অপিনিহিতি
  2. স্বরসঙ্গতি
  3. অন্তর্হতি
  4. অভিশ্রুতি
সঠিক উত্তর:
স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা

• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

------------------
• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন- আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, রাখিয়া >  রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য, সত্য > সইত্য, চারি > চাইর, মারি > মাইর ইত্যাদি।

• অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে।
যেমন: ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাহিদা > আলাদা ইত্যাদি।

• অভিশ্রুতি:
অপিনিহিতির প্রভাবজাত ই কিংবা উ-ধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সঙ্গে মিলে শব্দের পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে।
বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষায় যেমন অপিনিহিতির প্রাচুর্য, পশ্চিমবঙ্গের আঞ্চলিক কথ্যভাষা ও মান্যচলিত ভাষায় তেমনি অনেক অভিশ্রুতি শব্দ লক্ষ করা যায়।
যেমন:
- মানিয়া > মাইন্যা > মেনে,
- করিয়া > কইর‍্যা > করে,
- বাছিয়া > বাইছ্যা > বেছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

১,৩৮৭.
'সত্য > সইত্য' এটি কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. স্বরসঙ্গতি
  2. অপিনিহিতি
  3. অভিশ্রুতি
  4. বিষমীভবন
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা

অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার, উ-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার, উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।যেমন-
- আজি > আইজ,
- সাধু  > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য,
- সত্য > সইত্য,
- চারি > চাইর,
- মারি >মাইর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- অভিশ্রুতি ধ্বনি পরিবর্তন এর উদাহরণ: জালিয়া > জাইল্যা > জেলে।
- সঙ্গস্বরসঙ্গতি ধ্বনি পরিবর্তন এর উদাহরণ: দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।
- বিষমীভবন ধ্বনি পরিবর্তন এর উদাহরণ: শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই (২০১৮ - সংস্কারণ)।

১,৩৮৮.
নিচের কোনটি অভিশ্রুতির উদাহরণ?
  1. শরীর > শরীল
  2. মানিয়া > মেনে
  3. কাঁদনা > কান্না
  4. রাখিয়া > রাইখ্যা
সঠিক উত্তর:
মানিয়া > মেনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিয়া > মেনে
ব্যাখ্যা

• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদানুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে অভিশ্রুতি বলে।
যেমন:
- মানিয়া > মাইন্যা > মেনে,
- করিয়া > কইর‍্যা > করে,
- বাছিয়া > বাইছ্যা > বেছে,
- মাছুয়া > মাউছ্যা > মেছো,
- আজি > আইজ > আজ
- হাটুয়া > হাউট্যা > হেটো ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বিষমীভবন: 
দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন: শরীর > শরীল, লাল > নাল, লাঙ্গল > নাঙ্গল ইত্যাদি।

• সমীভবন:
উচ্চারণের সময় পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি একই রকম হয়ে যাওয়াকে বলে সমীভবন।
যেমন- জম্ম > জন্ম, কাঁদনা > কান্না। 

• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন: আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, রাখিয়া > রাইখ্যা, বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৩৮৯.
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, , ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের , ঠ, ড, ঢ, ড়, মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের , ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি(২০২৫)।

১,৩৯০.
'দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে' এটি কোন ধ্বনি পরবর্তনের উদাহরণ?
  1. স্বরলোপ
  2. সম্প্রকর্ষ
  3. অভিশ্রুতি
  4. দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিশ্রুতি
ব্যাখ্যা
অভিশ্রুতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রুতি।

যেমন:
- করিয়া > কইর‌্যা > করে,
- দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে,
- গাছুয়া > গাউছা > গেছো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩৯১.
নিচের কোনটি ধ্বনি পরিবর্তন 'অন্তর্হতি' এর উদাহরণ নয়?
  1. আলাদিয়া > আলাদা
  2. ফলাহার > ফলার
  3. ফাল্গুন > ফাগুন
  4. পিশাচ > পিচাশ
সঠিক উত্তর:
পিশাচ > পিচাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিশাচ > পিচাশ
ব্যাখ্যা
• অন্তর্হতি:
পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্তর্হতি বলে।
যেমন: ফাল্গুন > ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাদিয়া > আলাদা ইত্যাদি। 

• ধ্বনি বিপর্যয়: 
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন: পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩৯২.
জিভের উচ্চতা অনুযায়ী নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি কোনগুলো?
  1. ই, উ
  2. এ, ও
  3. অ্যা, অ
  4. আ, অ
সঠিক উত্তর:
অ্যা, অ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যা, অ
ব্যাখ্যা

• স্বরধ্বনির উচ্চারণ:
 উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়।
 
উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - ই, উ।
২. উচ্চ -মধ্য স্বরধ্বনি - এ, ও।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - অ্যা, অ।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - আ।
 
আবার, জিভের সম্মুখ - পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি: ই, এ, অ্যা।
২. মধ্য স্বরধ্বনি: আ।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: অ, ও, উ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,৩৯৩.
নিচের কোনটি 'ষত্ব' বিধানের ক্ষেত্রে অশুদ্ধ?
  1. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়।
  2. ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়।
  3. উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়।
  4. খাঁটি বাংলা শব্দ বা ক্রিয়াপদে 'ষ' হয়।
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাংলা শব্দ বা ক্রিয়াপদে 'ষ' হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাঁটি বাংলা শব্দ বা ক্রিয়াপদে 'ষ' হয়।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ বাক্যটি - খাঁটি বাংলা শব্দ বা ক্রিয়াপদে 'ষ' হয়।
কারণ,
খাঁটি বাংলা শব্দ বা ক্রিয়াপদে মূলত 'ষ' ব্যবহার হয় না। বাংলা ভাষায় 'ষ' ধ্বনি সাধারণত সংস্কৃত থেকে আগত শব্দে পাওয়া যায়। খাঁটি বাংলা শব্দে মূলত 'স' ব্যবহৃত হয়।

• ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ষ’ ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন - ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন - কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের ‘স’ ‘ষ’ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ” হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কলুষ, ভূষণ, দ্বেষ, ঔষধ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।
৭. খাঁটি বাংলা শব্দ বা ক্রিয়াপদে 'ষ' হয় না। যেমন - দেশি, বসবাস, করিস ইত্যাদি।

• যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ‘ষ’ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩৯৪.
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়, একে বলে-
  1. ধ্বনি বিপর্যয়
  2. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  3. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  4. সমীভবন
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন বিকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন বিকৃতি
ব্যাখ্যা

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন- কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা, ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
------------------
• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন: ইংরেজি বাক্স > বাংলা বাস্ক, জাপানি রিক্সা বাংলা রিস্কা ইত্যাদি।
অনুরূপ-  পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।

• ব্যঞ্জনচ্যুতি: 
শব্দের শেষে পাশাপাশি সমউচ্চরণ সম্পন্ন দুটো ব্যঞ্জনধ্বনি থেকে একটি লোপ পাওয়াকে ব্যঞ্জনচ্যুতি বা ধ্বনিচ্যুতি বলে।
যেমন- বড়দিদি > বড়দি, বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

• সমীভবন:
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন- জন্ম > জন্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,৩৯৫.
'তিরোধান' শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. তিরঃ + ধান
  2. তিরো + ধান
  3. তিরোঃ + ধান
  4. তির + ধান
সঠিক উত্তর:
তিরঃ + ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিরঃ + ধান
ব্যাখ্যা

• 'তিরোধান' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ- 'তিরঃ + ধান'।

• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
অ-কারের পরস্থিত স-জাত বিসর্গের পর ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি, নাসিক্য ধ্বনি কিংবা অন্তঃস্থ য, অন্তঃস্থ ব, র, ল, হ থাকলে অ-কার ও স-জাত বিসর্গ স্থলে ও-কার হয়।
যেমন:
• সদ্যঃ + জাত = সদ্যোজাত,
• তিরঃ + ধান = তিরোধান,
• মনঃ‌ + রম = মনোরম,
• মনঃ + হর = মনোহর,
• তপঃ + বন = তপোবন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১,৩৯৬.
নিম্নলিখিত কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ?
  1. মহা + ঋষি = মহর্ষি
  2. সার + অঙ্গ = সারঙ্গ
  3. শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা
  4. সু + অল্প = স্বল্প
সঠিক উত্তর:
সার + অঙ্গ = সারঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সার + অঙ্গ = সারঙ্গ
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

যেমন:
- সার + অঙ্গ = সারঙ্গ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
স্বরসন্ধির উদাহরণ - সু + অল্প = স্বল্প, শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা, মহা + ঋষি = মহর্ষি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩৯৭.
কম্পিত ব্যঞ্জনধ্বনি রয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. টক
  2. তল
  3. পথ
  4. রক্ত
সঠিক উত্তর:
রক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্ত
ব্যাখ্যা

• কম্পিত ব্যঞ্জন ধ্বনি:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ একাধিক বার অতি দ্রুত দন্তমূলকে আঘাত করে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে কম্পিত ব্যঞ্জন বলে। যেমন- রক্ত, কর, ভার, হার প্রভৃতি শব্দের 'র' কম্পিত ব্যঞ্জন ধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে, 
------------------
• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাম্প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্র্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত।
- তল, পথ, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১,৩৯৮.
কোন সন্ধিটি নিপাতনে সিদ্ধ?
  1. সম্ + সার = সংসার
  2. প্র + এষণ = প্রেষণ
  3. উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ
  4. বাক্ + দান = বাকদান
সঠিক উত্তর:
প্র + এষণ = প্রেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্র + এষণ = প্রেষণ
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- গো + ইন্দ্র = গবেন্দ্র,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর,
- অন্য + অন্য = অন্যান্য।

অন্যদিকে,
- ম্‌- এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি যথা: য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে ম্‌- স্থলে অনুস্বার (ং) হয়। যেমন: সম্‌+ সার= সংসার। 
- ত্‌ ও দ্‌ এর পর চ্‌ ও ছ্‌- থাকলে ত্‌ ও দ্‌ স্থানে চ্‌ হয়। যেমন: উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ এবং বিপদ + চয় = বিপচ্চয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৩৯৯.
কোনটি 'সংগীত' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ?
  1. সম্ + গীত
  2. সং + গীত
  3. সংগী + ত
  4. সংগ + ইত
সঠিক উত্তর:
সম্ + গীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্ + গীত
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জন সন্ধি বিচ্ছেদে নাসিক্য বর্ণের পরিবর্তে' ম 'হয়।
এরূপ-
- সম্ + গীত = সংগীত,
- সম্ + ধি = সন্ধি,
- সম্ + চয় = সঞ্চয়,
- সম্ + তাপ = সন্তাপ,
- কিম + ভূত = কিম্ভুত,
- সম্ + সার = সংসার,
- সম্ + বাদ = সংবাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,৪০০.
কোন ধ্বনিটি শব্দের আদিতে বসে না?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• 'ড়' - ধ্বনিটি শব্দের আদিতে বসে না। 
-----------------
• ঙ, ঞ, ং, ণ, ড় - এসব ধ্বনি কখনো শব্দের প্রথমে আসে না, শব্দের মধ্যে কিংবা শেষে আসে।
- সুতরাং এসব ধ্বনির প্রতীক বর্ণও শব্দের আদিতে ব্যবহৃত হয় না, শব্দের মধ্যে বা অন্তে ব্যবহৃত হয়। যেমন,
সংঘ, ব্যাংক, ক্ষণ, ভূঞা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, উচ্চতর স্বনির্ভর বিশুদ্ধ ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।