বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনিতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৬,৩২৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনিতত্ত্ব

PrepBank · পাতা ১৩ / ৬৩ · ১,২০১১,৩০০ / ৬,৩২৭

১,২০১.
'সুন্দর' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. শুন্‌দর্‌
  2. শুন্‌দোর্‌
  3. শোন্‌দর্‌
  4. শোন্‌দোর্‌
সঠিক উত্তর:
শুন্‌দর্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুন্‌দর্‌
ব্যাখ্যা
• বানান: সুন্দর।
- সঠিক উচ্চারণ: শুন্‌দর্‌
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: সু + √ উন্দ্‌ + অর।
- অর্থ: সুশ্রী, সুদর্শন, কমনীয়।

 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২০২.
'বনৌষধি' - শব্দের শুদ্ধ সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. বন + ওষুধ
  2. বন + ঔষধ
  3. বন + ওষধি
  4. বন + ঔষধি
সঠিক উত্তর:
বন + ওষধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন + ওষধি
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
• অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়। ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন-
- মহা + ঋষি = মহর্ষি,
- শীত + ঋত = শীতার্ত,
- জন + এক = জনৈক,
- বন + ওষধি = বনৌষধি,
- প্রতি + এক = প্ৰত্যেক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,২০৩.
'ঙ্গ' যুক্তবর্ণে কোন দুটি বর্ণ যুক্ত হয়েছে?
  1. ঘ + ঙ্‌
  2. গ + ঙ্‌
  3. ঙ্‌ + গ
  4. ঙ্‌ + ঘ
সঠিক উত্তর:
ঙ্‌ + গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ্‌ + গ
ব্যাখ্যা
• 'ঙ্ + গ' যুক্তবর্ণটি গঠিত হয়েছে - ঙ্গ

• একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয় ।
- যুক্ত হওয়া বর্ণ গুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো যায় না।
- যুক্তবর্ণ দুই রকমের হয়, - স্বচ্ছ, অস্বচ্ছ।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:
- ন্ + ধ = ন্ধ,
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ঋ = হৃ,
- হ্ + ন = হ্ন,
- হ্ + ম = হ্ম,
- ণ্ + ড = ণ্ড ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,২০৪.
ণ-ত্ব বিধান অনুসারে অশুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. তৃণ
  2. কাণ্ড
  3. লুন্ঠন
  4. কারণ
সঠিক উত্তর:
লুন্ঠন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুন্ঠন
ব্যাখ্যা

• ণ-ত্ব বিধান অনুসারে অশুদ্ধ বানান - 'লুন্ঠন'।
এর শুদ্ধ বানান- 'লুণ্ঠন'।

ণ-ত্ব বিধান:
তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মকে ণ-ত্ব বিধান বলে।

• "ণ-ত্ব বিধান" এর কয়েকটি নিয়ম ও উদাহরণ:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড, লুণ্ঠন ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ—এর পরে মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন—ঋণ, তৃণ, বর্ণ, কারণ, ভীষণ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,২০৫.
সন্ধি সম্বন্ধে ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচনা করা হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
'সন্ধি' ব্যাকরণের 'ধ্বনিতত্ত্ব' অংশে আলোচিত হয়।  

ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য সন্ধি বাগ্যন্ত্র, বাগ্যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি। 

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় পদ প্রকরণ যেমন: বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- ক্রিয়ারকাল ও পুরুষ এ অংশে আলোচিত হয়। 

অর্থতত্ত্ব: 
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বিপরীত শব্দ,
- প্রতিশব্দ,
- শব্দজোড়,
- বাগধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে ।

বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,২০৬.
তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনি -

তাড়িত ব্যঞ্জন:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
- বাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ড়, ঢ় তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• কম্পিত ব্যঞ্জন - র।
• পার্শ্বিক ব্যঞ্জন - ল।
• উষ্ম ব্যঞ্জন - হ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২০৭.
‘পরস্পর’ কোন সন্ধিসাধিত শব্দ? 
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
  4. বিসর্গ সন্ধি
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
ব্যাখ্যা

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
 
যেমন:
- সার + অঙ্গ = সারঙ্গ,
- গো + অক্ষ = গবাক্ষ,
- প্র + এষণ = প্রেষণ,
- কুল + অটা = কুলটা,
- পর + পর = পরস্পর ইত্যাদি।
 
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,২০৮.
'যজ্ঞ' - শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. য + জ্ঞ
  2. যৎ + ণ
  3. যজ্ + ন
  4. জঙ্‌ + অ
সঠিক উত্তর:
যজ্ + ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যজ্ + ন
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- চ্ ও জ-এর পরে নাসিক্য ধ্বনি তালব্য হয়।

যেমন-
- যাচ্ + না = যাচ্ঞা,
- রাজ্ + নী = রাজ্ঞী,
- যজ্ + ন = যজ্ঞ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,২০৯.
'সুষুপ্ত' শব্দে 'ষ' হয়েছে যে নিয়মে -
  1. স্বভাবত 'ষ' বসে
  2. 'স' এর পরে বসেছে বলে
  3. 'উ' কারান্ত উপসর্গ পূর্বে আছে বলে
  4. 'প্ত' মূলরূপ থেকে উৎসারিত হওয়ায় 
সঠিক উত্তর:
'উ' কারান্ত উপসর্গ পূর্বে আছে বলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'উ' কারান্ত উপসর্গ পূর্বে আছে বলে
ব্যাখ্যা
• 'সুষুপ্ত' শব্দে 'ষ' হয়েছে - 'উ' কারান্ত উপসর্গ পূর্বে আছে বলে

ষ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে।
- যেসব তৎসম শব্দে 'ষ' রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে।
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য 'ষ'-এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন - অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২১০.
বাংলা বর্ণমালার পরাশ্রয়ী বর্ণ না কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
বাংলা বর্ণমালার পরাশ্রয়ী বর্ণের সংখ্যা ৩টি, যথা: ং,ঃ,ঁ। এই তিনটি বর্ণ স্বাধীনভাবে স্বতন্ত্র বর্ণ হিসাবে ভাষায় ব্যবহৃত হয় না। এ বর্ণের দ্যোতিত ধ্বনি অন্য ধ্বনির সাথে মিলিত হয়ে একত্রে উচ্চারিত হয়। তাই এ বর্ণগুলোকে বলা হয় পরাশ্রয়ী বর্ণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
১,২১১.
ভাষার মূল উপাদান কোনটি?
  1. ধ্বনি
  2. শব্দ
  3. বাক্য
  4. অর্থ
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি
ব্যাখ্যা
ভাষার মূল উপাদান- 'ধ্বনি'।

• ভাষা হলো বাক্যের সমষ্টি বাক্য গঠিত হয় শব্দ দিয়ে। আবার শব্দ তৈরি হয় ধ্বনি দিয়ে। 
এদিক থেকে ভাষার ক্ষুদ্রতম বা মূল উপাদান হলো ধ্বনি।  

তাছাড়া, 
- বাক্যের মৌলিক উপাদান/ক্ষুদ্রতম - শব্দ।
- ভাষার মূল উপকরণ/প্রাণ - বাক্য।
- ভাষার মূল উপদান/ক্ষুদ্রতম একক - ধ্বনি এবং
- বর্ণ হচ্ছে শব্দের গঠনগত একক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী (২০২২ সংস্করণ)। 
১,২১২.
"আত্মহত্যা" শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. আত্‌তোহোত্‌তা
  2. আত্‌তোঁহোত্‌তা
  3. আত্‌তহোত্‌তা
  4. আত্‌তঁহোত্‌তা
সঠিক উত্তর:
আত্‌তোঁহোত্‌তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্‌তোঁহোত্‌তা
ব্যাখ্যা

• "আত্মহত্যা" শব্দের সঠিক উচ্চারণ - আত্‌তোঁহোত্‌তা
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- স্বেচ্ছায় নিজের প্রাণনাশ, আত্মহনন।
- নিজের অনিষ্টসাধন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১,২১৩.
স্বরসঙ্গতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ কোনটি?
  1. বিলাতি > বিলিতি
  2. আজি > আইজ
  3. ধাইমা > দাইমা
  4. কবাট > কপাট
সঠিক উত্তর:
বিলাতি > বিলিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলাতি > বিলিতি
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি > বিলিতি,
- শিকা > শিকে,
- মুলা > মুলো ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
------------------
• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- মারি > মাইর ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়। একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধোবা > ধোপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,২১৪.
‘মৃন্ময়’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. ক) মৃত + ময়
  2. খ) মৃদ্‌ + ময়
  3. গ) মৃৎ + ময়
  4. ঘ) মৃন্‌ + ময়
সঠিক উত্তর:
গ) মৃৎ + ময়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মৃৎ + ময়
ব্যাখ্যা
ত্ [ৎ] কিংবা দ্ –এর পরে ম্ থাকলে সন্ধিতে ত্ বা দ্ এর জায়গায় ন্ হয়৷
মৃন্ময়-এর সন্ধি বিচ্ছেদ হলো মৃৎ + ময়৷ এটি একটি তৎসম ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ৷
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
১,২১৫.
"আ + অ = আ" সন্ধির এই নিয়মে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. হতাশ
  2. আশাতীত
  3. মহাশয়
  4. নবান্ন
সঠিক উত্তর:
আশাতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আশাতীত
ব্যাখ্যা
• নিয়ম:
অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয় মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
• আ + অ = আ;
- যথা + অর্থ = যথার্থ।
- মহা + অর্ঘ = মহার্ঘ।
- আশা + অতীত = আশাতীত।
- যথা + অযথ = যথাযথ।

• আ + আ = আ;
- বিদ্যা + আলায় = বিদ্যালয়।
- মহা + আশয় = মহাশয়।
- কারা + আগার = কারাগার।

--------------------
অন্যদিকে,
• অ + আ = আ;
- হিম + আলয় = হিমালয়।
- সিংহ + আসন = সিংহাসন।
- দণ্ড + আদেশ = দণ্ডাদেশ।
- হত + আশ = হতাশ।

• অ + অ = আ;
- নর + অধম = নরাধম।
- নব + অন্ন = নবান্ন
- স্ব + অধীন = স্বাধীন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২১৬.
কোনটি সঠিক যুক্তবর্ণ?
  1. ত্‌ + থ = ত্থ
  2. হ্‌ + ন = হ্ণ
  3. ক্‌ + ম = ক্ষ
  4. ষ্‌ + ন = ষ্ণ
সঠিক উত্তর:
ত্‌ + থ = ত্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্‌ + থ = ত্থ
ব্যাখ্যা

• সঠিক যুক্তবর্ণ - ত্‌ + থ = ত্থ।

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ যুক্তবর্ণের শুদ্ধরূপ:
- হ্‌ + ণ = হ্ণ,
- ষ্‌ + ণ = ষ্ণ,
- ক্‌ + ষ = ক্ষ।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ত্ + ত = ত্ত,
- ভ্‌ + র = ভ্র,
- ত্‌ + থ = ত্থ,
- ঙ্‌ + গ = ঙ্গ,
- ঙ্‌ + ক = ঙ্ক,
- হ্‌ + ম = হ্ম। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,২১৭.
ধ্বনির লিখিত রূপ বা সাংকেতিক চিহ্নকে কি বলা হয়?
  1. ক) বর্ণ
  2. খ) শব্দ
  3. গ) বাক্য
  4. ঘ) অক্ষর
সঠিক উত্তর:
ক) বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বর্ণ
ব্যাখ্যা
• বাগযন্ত্রের দ্বারা উচ্চারিত অর্থবােধক ধ্বনির সাহায্যে মানুষের মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যমকে ভাষা বলে।
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একক হলাে 'ধ্বনি'।
- এটা ভাষার মৌলিক অংশ। ধ্বনিকে শব্দের ক্ষুদ্রতম এককও বলা হয়।
- ধ্বনির লিখিত রূপ হলাে বর্ণ।
- ধ্বনি চেনার স্মারক বা চিহ্ন বা প্রতীকই বর্ণ।
- শব্দের ক্ষুদ্রতম অংশ হলাে অক্ষর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
১,২১৮.
অভিশ্রুতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. রাখিয়া > রেখে
  2. আজি > আইজ
  3. হাটুয়া > হেটো
  4. মাছুয়া > মাউছুয়া > মেছো
সঠিক উত্তর:
আজি > আইজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজি > আইজ
ব্যাখ্যা

• অভিশ্রুতি:
বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটালে তাকে অভিশ্রুতি বলে।
যেমন:
এরূপ-
- রাখিয়া > রেখে,
- করিয়া > করে,
- শুনিয়া > শুইনা > শুনে,
- বলিয়া > বইলা > বলে,
- হাটুয়া > হাউটা > হেটো,
- মাছুয়া > মাউছুয়া > মেছো ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
----------------
• অপিনিহিতি:
পরের ই-কার আগ উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিত বলে।
যেমন:
- আজি > আইজ,
- সাধু > সাউধ,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য,
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,২১৯.
‘পবন’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প + অন
  2. পো + বন
  3. পো + অন
  4. পৌ + বন
সঠিক উত্তর:
পো + অন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পো + অন
ব্যাখ্যা
• সন্ধির নিয়ম: 
এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়।
যেমন-
- নে + অন = নয়ন,
- শে + অন = শয়ন,
- নৈ + অক = নায়ক,
- গৈ + অক = গায়ক,
- পো + অন = পবন,
- লো + অন = লবণ,
- গো + আদি = গবাদি,
- গো + এষণা = গবেষণা,
- পো + ইত্র = পবিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২২০.
বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি এর উদাহরণ নিচের কোনটি?
  1. ক) শরীর > শরীল
  2. খ) মারি > মাইর
  3. গ) কাঁদনা > কান্না
  4. ঘ) রত্ন > রতন
সঠিক উত্তর:
ঘ) রত্ন > রতন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রত্ন > রতন
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis):
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন
অ – রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই – প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ – মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রু > ভুরু ইত্যাদি।
এ – গ্রাম > গেরাম, প্ৰেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও – শ্লোক > শােলােক, মুরগ > মুরােগ > মােরগ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
কাঁদনা > কান্না = সমীভবন
মারি > মাইর = অপিনিহিতি
শরীর > শরীল = বিষমীভবন

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২২১.
পূর্ণরূপ স্বরধ্বনির সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৭ টি
  3. গ) ১১ টি
  4. ঘ) ২৫ টি
সঠিক উত্তর:
গ) ১১ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১১ টি
ব্যাখ্যা
স্বরবর্ণ যখন নিরপেক্ষ বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়, অর্থাৎ কোন বর্ণের সাথে যুক্ত হয় না, তখন এর পূর্ণরূপ লিখা হয়। একে বলা হয় প্রাথমিক রূপ বা পূর্ণরূপ। তাই পূর্ণরূপের সংখ্যা ১১ টি।
রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ–নবম-দশম শ্রেণির র্বোড বই।
১,২২২.
'ব্যঞ্জন' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ব্যান্‌জোন্‌
  2. ব্যান্‌জন্‌
  3. বেন্‌জোন্‌
  4. ব্যাঞ্জোন্‌
সঠিক উত্তর:
ব্যান্‌জোন্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যান্‌জোন্‌
ব্যাখ্যা
ঞ-এর উচ্চারণ তিন রকম হয়:

স্বতন্ত্র 'ঞ :ইঁঅ-এর মতো:
- মিঞ (মিঁয়ো), মিঞা (মিঁয়া)।

যুক্ত ঞ + চ/ছ/জ/ঝ: ন-এর মতো:
- অঞ্চল (অন্‌চল্), বাঞ্ছা (বান্‌ছা), ব্যঞ্জন (ব্যান্‌জোন্‌)

যুক্ত জ+ঞ: গ্‌ঁ বা গ্‌র্গঁ-এর মতো:
- জ্ঞান (গ্যান্‌ঁ), যজ্ঞ (জোগ্‌গোঁ)।

উত্তর: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,২২৩.
কোন বর্ণের ধ্বনির আগে 'ন' — 'ণ' হয়?
  1. ক - বর্গীয়
  2. ত - বর্গীয়
  3. চ - বর্গীয়
  4. ট - বর্গীয়
সঠিক উত্তর:
ট - বর্গীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট - বর্গীয়
ব্যাখ্যা

• ‘ণ’ ব্যবহারের নিয়ম:
বাংলা ব্যাকরণের ধারা অনুযায়ী তৎসম শব্দে ‘ণ’ ব্যবহারের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। নিচে তা বিশ্লেষণসহ দেওয়া হলো:

• ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে:
- তৎসম শব্দে সব সময় ‘ণ’ ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: ঘণ্টা, কাণ্ড, মণ্ডল ইত্যাদি

• ঋ, র, ষ - এর পরে 'ণ' হয়।
যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

• ঋ, র, ষ- এর পরে স্বরধ্বনি (ষ, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয়) ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ‘ন’ মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন: কৃপণ, হরিণ, অর্পণ, লক্ষণ, রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

• কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ণ’ হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক, কফণি, বণিক, চিক্কণ, তূণ, ভণিতা, আপণ, বিপণি, লবণ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,২২৪.
'গাধা' শব্দে কোন কোন ব্যঞ্জনধ্বনি উপস্থিতি আছে?
  1. কণ্ঠ্য ও তালব্য
  2. কণ্ঠ্য ও মূর্ধন্য
  3. কণ্ঠ্য ও দন্ত্য
  4. দন্ত্য ও মূর্ধন্য
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠ্য ও দন্ত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠ্য ও দন্ত্য
ব্যাখ্যা
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, খ, , ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২২৫.
যে সকল স্বরধ্বনি পুরোপুরি উচ্চারিত হয় না, তাকে কী বলে?
  1. দ্বিস্বরধ্বনি
  2. অর্ধস্বরধ্বনি
  3. মিশ্রধ্বনি
  4. অর্ধ-দ্বিস্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
অর্ধস্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধস্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
অর্ধস্বরধ্বনি:
যেসব স্বরধ্বনি পুরোপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলোকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে। 
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি: [ই্], [উ্], [এ্] এবং [ও্]। 
- স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনোভাবেই দীর্ঘ করা যায় না।

যেমন-
- 'চাই' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [ই্]। এখানে [আ] হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি, [ই্] হলো অর্ধস্বরধ্বনি।
- একইভাবে 'লাউ' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [উ্]। এখানে [আ] হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি, [উ্] হলো অর্ধস্বরধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২২৬.
নিচের কোন বানানটি সঠিক?
  1. ঊসা
  2. ভাসণ
  3. পরিস্কার
  4. নষ্ট
সঠিক উত্তর:
নষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নষ্ট
ব্যাখ্যা
- ট–বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়৷
যথা:
- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- আবার কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়৷
যথা: ষড়ঋতু, ভাষণ, উষা, ভূষণ, ঔষধ ইত্যাদি৷

- র-ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে, তবে তার পরে 'ষ' বসে।
যেমন - পরিষ্কার

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২২৭.
স্বভাবতই মূর্ধন্য-ষ হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. চক্ষুষ্মান
  2. আকর্ষণ
  3. ঘর্ষণ
  4. আভাষ
  5. উপড়ের সবগুলো
সঠিক উত্তর:
আভাষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আভাষ
ব্যাখ্যা
• কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়। যেমন-
ভাষা, ঊষা, ষট্, আষাঢ়, ভাষণ, কোষ, কষিত, পাষাণ, পাষণ্ড, পৌষ, পুষ্প, কলুষ, ঔষধ, ভাষ্য, আভাষ, বাষ্প, মানুষ, অষ্ট। 

--------------------
ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম:

১. ঋ বা ঋ-কারের পরে মূর্ধন্য-ষ হবে। যেমন- কৃষক, বৃষ্টি, ঋষি, কৃষ্ণ, দৃষ্টি ইত্যাদি (ব্যতিক্রম: কৃশ্ ধাতু জাত কৃশ, কৃশতা, কৃশকায়)।
২. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন- বর্ষণ, ঘর্ষণ, বর্ষা ইত্যাদি।
৩. রেফ-এর পরে মূর্ধন্য-ষ হবে। যেমন- আকর্ষণ, বর্ষ, মুমূর্ষু, বার্ষিক, সপ্তর্ষি।

৪. র-ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'ষ' হয়। যথা- পরিষ্কার। অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যথা- পুরস্কার।

৫. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের সষ হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ (ভ্ + অ + ব্‌+ই+) এখানে ব-এর পরে ই-এর ব্যবধান), চিকীর্ষা, চক্ষুষ্মান, মুমূর্ষু ইত্যাদি।

৬. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়। যেমন- প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, অভিসেক> অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অসুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

৭. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়, যথা- অনিষ্ট, চেষ্টা, নষ্ট, বৈশিষ্ট্য, অনুষ্ঠান, কনিষ্ঠ, প্রতিষ্ঠান, শ্রেষ্ঠ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২২৮.
'অঞ্জন' শব্দের যুক্তবর্ণে কোন কোন বর্ণ যুক্ত রয়েছে?
  1. ক) জ্‌ + ঞ
  2. খ) ঞ্‌ + জ
  3. গ) ঞ্‌ + চ
  4. ঘ) চ্‌ + ঞ
সঠিক উত্তর:
খ) ঞ্‌ + জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঞ্‌ + জ
ব্যাখ্যা
ঞ্জ = ঞ্‌ + জ 
উদাহরণ- অঞ্জন, গঞ্জনা, গঞ্জ, রঞ্জনা, কুঞ্জ ইত্যাদি। 
অন্যদিকে, 
জ্ঞ = জ্‌ + ঞ; জ্ঞান, বিজ্ঞান, অজ্ঞান, সংজ্ঞা ইত্যাদি। 
ঞ্চ = ঞ্‌ + চ; অঞ্চল, চঞ্চল, পঞ্চম, প্রপঞ্চ, সঞ্চয়, কঞ্চি ইত্যাদি। 


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২২৯.
পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তনকে কী বলা হয়?
  1. অপিনিহিতি
  2. প্রগত সমীভবন
  3. অন্যোন্য সমীভবন
  4. পরাগত সমীভবন
সঠিক উত্তর:
পরাগত সমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরাগত সমীভবন
ব্যাখ্যা

পরাগত সমীভবন:
- পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন কে পরাগত সমীভবন বলে।

যেমন:
- তৎ + জন্য > তজ্জন্য,
- তৎ + হিত >তদ্ধিত।

অন্যদিকে,
প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তনকে প্রগত সমীভবন বলে।
যেমন: চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক।

অন্যোন্য সমীভবন:
- যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটো ধ্বনিই পরিবর্তিত হয় তখন তাকে বলে অনন্যান্য সমীভবন।
যেমন:
- সংস্কৃত সত্য > প্রাকৃত সচ্চ।
- সংস্কৃত বিদ্যা > প্রাকৃত বিজ্জা ইত্যাদি।

অপিনিহিতি:
- পরে উচ্চারিত হওয়া ‘ই/উ’ আগে উচ্চারিত হওয়াকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন:
- চারি > চাইর,
- মারি > মাইর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,২৩০.
সন্ধি বিচ্ছেদ করুন - কথাচ্ছলে
  1. ক) কথা + চ্ছল
  2. খ) কথা + ছলে
  3. গ) কথা + চ্ছলে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) কথা + ছলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কথা + ছলে
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনির পর 'ছ' থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়৷
যথা- কথা + ছলে = কথাচ্ছলে; আ + ছন্ন = আচ্ছন্ন; পরি + ছদ = পরিচ্ছদ৷
উৎসঃ নবম দশম শ্রেণীর ব্যাকরণ বই
১,২৩১.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. শিঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ
  2. শির্‌ + ছেদ = শিরশ্ছেদ
  3. শিরঃ + শ্ছেদ = শিরশ্ছেদ
  4. শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ
  5. সবগুলোই অশুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
পূর্বপদের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে চ্ বাছ থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে শ্; ট্ বা ঠ থাকলে ষ; ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।

সন্ধিজাত শব্দগঠন:
• নিঃ + চয় = নিশ্চয়।
• দুঃ + চিন্তা = দুশ্চিন্তা।
• নিঃ + ছিদ্র = নিশ্ছিদ্র।
শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ।
• চতুঃ + টয় = চতুষ্টয়।
• ধনুঃ + টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার।
• নিঃ + ঠুর = নিষ্ঠুর।
• ইতঃ + ততঃ = ইতস্তত।
• মনঃ + তাপ = মনস্তাপ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৩২.
'বাংলাদেশ' শব্দে কতটি অক্ষর আছে?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
অক্ষর:
বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশকে বলে-অক্ষর। এর ইংরেজি নাম - syllable.
অক্ষর মূলত দুই প্রকার।
যথা-
- মুক্তাক্ষর: টানা যাবে না (যেমন- ক/লা), 
- বদ্ধাক্ষর: টানা যাবে (যেমন- দিন, রাত)। 
যেমন- 
- 'বাংলাদেশ' শব্দে ৩ টি অক্ষর রয়েছে (বাং + লা + দেশ)। 

• সমাবর্তন শব্দে চারটি অক্ষর আছে।
যথা- সম + আ + √ বৃৎ + অন = সমাবর্তন।

• অক্ষর নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে দুটো বিষয় লক্ষণীয় - যতগুলো কার আছে এবং যতগুলো এক প্রয়াসে উচ্চারিত শব্দাবলী তার সমষ্টি হবে অক্ষর সংখ্যা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৩৩.
কোনটি শুদ্ধ যুক্তবর্ণ?
  1. ক্ + স = ক্ম
  2. ক্ + হ = ক্ষ
  3. ক্ + র = ক্স
  4. ক্‌ + ষ্‌ + ম = ক্ষ্ম
সঠিক উত্তর:
ক্‌ + ষ্‌ + ম = ক্ষ্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্‌ + ষ্‌ + ম = ক্ষ্ম
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ যুক্তবর্ণ - ক্‌ + ষ্‌ + ম = ক্ষ্ম

অন্যদিকে,
অশুদ্ধ যুক্তবর্ণের শুদ্ধরূপ:
- ক্ + স = ক্স,
- ক্ + ষ = ক্ষ,
- ক্ + ম = ক্ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২)।

১,২৩৪.
‘হৃ’ এর যুক্তবর্ণ কোনটি?
  1. হ্ + ঋ
  2. হ + ঞ
  3. হ + ঋ
  4. হ + ন
সঠিক উত্তর:
হ্ + ঋ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্ + ঋ
ব্যাখ্যা
• একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
যেমন- ব্রহ্ম, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- হ্ + ম = হ্ম, 
- ষ্ + ণ = ষ্ণ, 
- হ্ + উ = হু, 
- হ্ + ঋ = হৃ, 
- হ্ + ন = হ্ন, 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৩৫.
নিচের কোন গুলো দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন ধ্বনির উদাহরণ?
  1. ক) ক ,খ, গ, ঘ
  2. খ) ত ,থ, দ, ধ
  3. গ) প, ফ, ব, ভ
  4. ঘ) ন, র, ল, স
সঠিক উত্তর:
ঘ) ন, র, ল, স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ন, র, ল, স
ব্যাখ্যা
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:- নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনি। 


[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ]
১,২৩৬.
'অহরহ' কোন সন্ধির উদাহরণ?
  1. নিপাতনে সিদ্ধ
  2. বিসর্গ সন্ধি
  3. ব্যঞ্জন সন্ধি
  4. স্বরসন্ধি
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ সন্ধি
ব্যাখ্যা

• কিছু বিসর্গ সন্ধির উদাহরণঃ
- অহঃ + অহ = অহরহ,
- পুনঃ + আয় = পুনরায়,
- অন্তঃ + ধান = অন্তর্ধান,
- অন্তঃ + গত = অন্তর্গত,
- পুনঃ + উক্ত = পুনরুক্ত ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৩৭.
নিম্ন স্বরধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• 'আ'- নিম্ন স্বরধ্বনির উদাহরণ। 

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।

• উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২২ সংস্করণ)। 

১,২৩৮.
নিচের কোন ধ্বনিটি ঘোষ ব্যঞ্জন নয়?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ঘোষ ব্যঞ্জন নয় - খ।

ঘোষ ব্যঞ্জন:

- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
যথা-
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, , ঝ, গ, ঘ, , হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৩৯.
কোন বর্ণের দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণ জিহ্বার গোড়ার দিকে নরম তালুর পশ্চাৎ ভাগ স্পর্শ করে?
  1. চ-বর্গীয় ধ্বনি
  2. ট-বর্গীয় ধ্বনি
  3. ক-বর্গীয় ধ্বনি
  4. ত-বর্গীয় ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
ক-বর্গীয় ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক-বর্গীয় ধ্বনি
ব্যাখ্যা

ক-বর্গীয় ধ্বনি:
- ক, খ, গ, ঘ, ঙ- এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণ জিহ্বার গোড়ার দিকে নরম তালুর পশ্চাৎ ভাগ স্পর্শ করে। এগুলো জিহ্বামূলীয় বা কণ্ঠ্য স্পর্শধ্বনি।

অন্যদিকে,
চ-বর্গীয় ধ্বনি:
- চ, ছ, জ, ঝ, ঞ-এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগ চ্যাপটাভাবে তালুর সম্মুখ ভাগের সঙ্গে ঘর্ষণ করে। এদের বলা হয় তালব্য স্পর্শধ্বনি।

ট-বর্গীয় ধ্বনি:
- ট, ঠ, ড, ঢ, ণ -এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগ কিঞ্চিৎ উল্টিয়ে ওপরের মাড়ির গোড়ার শক্ত অংশকে স্পর্শ করে।

ত-বর্গীয় ধ্বনি:
- ত, থ, দ, ধ, ন- এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা সম্মুখে প্রসারিত হয় এবং অগ্রভাগ ওপরের দাঁতের পাটির গোড়ার দিকে স্পর্শ করে। এদের বলা হয় দন্ত্য ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,২৪০.
'বুনা > বোনা' শব্দে কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. প্রগত স্বরসঙ্গতি
  2. পরাগত স্বরসঙ্গতি
  3. মধ্যগত স্বরসঙ্গতি
  4. অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি
সঠিক উত্তর:
পরাগত স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরাগত স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন:
- দেশি > দিশি,
- বিলাতি> বিলিতি।

• প্রগত স্বরসঙ্গতি: আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- মুলা > মুলো,
- শিকা > শিকে,
- তুলা > তুলো।

• পরাগত স্বরসঙ্গতি: অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- বুনা > বোনা;
- দেশি> দিশি।

• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি: আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- বিলাতি > বিলিতি,
- ভিখারি > ভিখিরি।

• অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি: আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন:
- মোজা > মুজো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৪১.
বাংলা ব্যাকরণে সন্ধি কত প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৩
ব্যাখ্যা

পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- পৃথিবীর বহু ভাষায় পাশাপাশি শব্দের একাধিক ধ্বনি নিয়মিতভাবে সন্ধিবদ্ধ হলেও বাংলা ভাষায় তা বিরল।
- বাংলা ভাষায় উপসর্গ-প্রত্যয় দিয়ে এবং সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠনের ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে।

সন্ধি তিন প্রকার।
যেমন,
- স্বরসন্ধি,
- ব্যঞ্জনসন্ধি,
- বিসর্গসন্ধি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৪২.
সন্ধি সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) সন্ধির উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজপ্রবণতা
  2. খ) তৎসম সন্ধি মূলত বর্ণ সংযোগের নিয়ম
  3. গ) সন্ধির উদ্দেশ্য ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই সঠিক
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলোই সঠিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপরের সবগুলোই সঠিক
ব্যাখ্যা
সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনের নাম সন্ধি। সন্ধির উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজপ্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন। আর তৎসম সন্ধি মূলত বর্ণ সংযোগের নিয়ম। উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৪৩.
জিভের উচ্চতা অনুযায়ী [আ] এর অবস্থান -
  1. ক) উচ্চ স্বরধ্বনি
  2. খ) উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি
  3. গ) নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি
  4. ঘ) নিম্ন স্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিম্ন স্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিম্ন স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।

উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে;
নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
১,২৪৪.
'ঞ' বর্ণের উচ্চারণ হয়-
  1. [ঙ]-এর মতো
  2. [এঁ]-এর মতো
  3. [ওঁ]-এর মতো
  4. [অঁ]-এর মতো
সঠিক উত্তর:
[অঁ]-এর মতো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
[অঁ]-এর মতো
ব্যাখ্যা
• 'ঞ' বর্ণের উচ্চারণ:
ঞ বর্ণের নিজস্ব কোনো ধ্বনি নেই। স্বতন্ত্র ব্যবহারে [অঁ]-এর মতো আর সংযুক্ত ব্যঞ্জনে [ন্‌]-এর মতো উচ্চারিত হয়। 
যেমন:
- মিঞা [মিয়াঁ],
- চঞ্চল [চন্‌চল্],
- গঞ্জ [গন্‌জা]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
১,২৪৫.
বাংলায় কোন কোন বর্ণের দ্যোতিত ধ্বনিদ্বয়ে উচ্চারণে কোনো পার্থক্য লক্ষিত হয় না?
  1. ক) ং, ঁ
  2. খ) ঙ, ং
  3. গ) ঞ, চ
  4. ঘ) ঙ, গ
সঠিক উত্তর:
খ) ঙ, ং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঙ, ং
ব্যাখ্যা
বাংলায় ঙ, এবং ং - বর্ণের দ্যোতিত ধ্বনিদ্বয়ে কোনো পার্থক্য লক্ষিত হয় না। যেমনঃ রঙ/ রং, অহংকার /অহঙ্কার। ণ এবং ন - বর্ণের দ্যোতিত ধ্বনিদ্বয়ে কোনো পার্থক্য লক্ষিত হয় না।
রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ–নবম-দশম শ্রেণির র্বোড বই।
১,২৪৬.
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জধব্বনির আগে ই -কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে, তাকে কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন বলে?
  1. অন্তর্হতি
  2. অপিনিহিতি
  3. অভিশ্রুতি
  4. পরাগত সমীভবন
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
অপিনিহিতি:
- পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জধব্বনির আগে ই -কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।

যেমন:
- চারি > চাইর,
- আজি > আইজ,
- সত্য > সইত্য,
- রাখিয়া > রাইখ্যা,
- বাক্য > বাইক্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৪৭.
র-কার লোপ এর উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. করলাম > কল্লাম
  2. তর্ক > তক্ক
  3. হর্ষ > হরষ
  4. করতে > কত্তে
সঠিক উত্তর:
হর্ষ > হরষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হর্ষ > হরষ
ব্যাখ্যা

• র-কার লোপ এর উদাহরণ নয়- হর্ষ > হরষ। 
- 'হর্ষ > হরষ' মধ্য স্বরাগমের উদাহরণ। 

• র-কার লোপ:

আধুনিক চলিত বাংলায় অনেক ক্ষেত্রে র-কার লোপ পায় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জন দ্বিত্ব হয়।
যেমন:
- তর্ক > তক্ক,
- করতে > কত্তে,
- মারল > মাল্ল,
- করলাম > কল্লাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,২৪৮.
নিচের কোন শব্দগুচ্ছ ণত্ব ও ষত্ব বিধান অনুসারে সঠিক?
  1. বর্ননা, সুষমা, লবণ
  2. ব্রাহ্মণ, কষ্ট, পোষাক
  3. ঘণ্টা, দ্বেশ, ক্রন্দণ
  4. ভাষণ, গ্রন্থ, জিনিস
সঠিক উত্তর:
ভাষণ, গ্রন্থ, জিনিস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষণ, গ্রন্থ, জিনিস
ব্যাখ্যা

• শব্দগুচ্ছ ণত্ব ও ষত্ব বিধান অনুসারে সঠিক শব্দগুচ্ছ: 
ভাষণ, গ্রন্থ, জিনিস

• শুদ্ধ বানান:
বর্ণনা, দ্বেষ, ক্রন্দন ।

উৎস: বাংলা একাডেমি- আধুনিক বাংলা অভিধান। 

১,২৪৯.
'শ, ষ, স, হ' - এগুলো কোন ধরনের ধ্বনি?
  1. অন্তঃস্থ ধ্বনি
  2. পার্শ্বিক ধ্বনি
  3. স্পর্শধ্বনি
  4. শিশধ্বনি
সঠিক উত্তর:
শিশধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিশধ্বনি
ব্যাখ্যা

উষ্মধ্বনি:
- শ, ষ, স, হ - এ চারটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় আমরা শ্বাস যতক্ষণ খুশি রাখতে পারি। এগুলােকে বলা হয় উষ্মধ্বনি বা শিশধ্বনি। এ বর্ণগুলোকে বলা হয় উষ্মবর্ণ।
- শ ষ স - এ তিনটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অঘােষ অল্পপ্রাণ, আর 'হ' ঘােষ মহাপ্রাণ ধ্বনি।

অন্যদিকে,
পার্শ্বিক ব্যঞ্জন ধ্বনি:
- যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা দন্তমূল স্পর্শ করে এবং ফুসফুস থেকে আসা বাতাস জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তাকে পার্শ্বিক ব্যঞ্জন বলে।
- লাল শব্দে ল পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

স্পর্শ ধ্বনি:
- 'ক' থেকে 'ম' পর্যন্ত পঁচিশটি বর্ণকে স্পর্শ বর্ণ বা স্পর্শ ধ্বনি বলা হয়।
- 'ক' থেকে 'ম' পর্যন্ত পঁচিশটি স্পর্শধ্বনি কে উচ্চারণ স্থানের দিক থেকে পাঁচটি গুচ্ছে বা বর্গে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রতি গুচ্ছের প্রথম ধ্বনিটির নামানুসারে সে গুচ্ছের সবগুলো ধ্বনিকে বলা হয় ঐ বর্গীয় ধ্বনি।

অন্তঃস্থ ধ্বনি:
- যেসব ধ্বনিগুলো স্পর্শধ্বনি ও উষ্ণধ্বনির অন্তর্বর্তী স্থানে অর্থাৎ মাঝে অবস্থিত থাকে, তাদেরকে অন্তঃস্থ ধ্বনি বলে।
যেমন-
য, র, ল, ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

১,২৫০.
নিচের কোন শব্দে ‘অ’ বর্ণের উচ্চারণ স্বাভাবিক?
  1. অতি
  2. অদ্য
  3. অনাথ
  4. অণু
সঠিক উত্তর:
অনাথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনাথ
ব্যাখ্যা
'অ' বর্ণের উচ্চারণ:
- অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।
- সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

যেমন:
অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা্‌], অনাথ [অনাথ্‌]।
অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্খো‌], অদ্য [ওদ্‌দো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৫১.
নিচের কোনটি বিসর্গ সন্ধি সাধিত শব্দ?
  1. সম্মান
  2. নিশ্চয়
  3.  ষষ্ঠ
  4. সন্তাপ
সঠিক উত্তর:
নিশ্চয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিশ্চয়
ব্যাখ্যা

 বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ = নিশ্চয়।

•বিসর্গসন্ধি
বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়:

• বিসর্গ বিদ্যমান থাকে: 
মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট, 
অধঃ + পতন = অধঃপতন, 
বয়ঃ + সন্ধি = বয়ঃসন্ধি

• বিসর্গ 'ও' হয়ে যায়: 
মনঃ + যোগ = মনোযোগ, 
তিরঃ + ধান = তিরোধান, 
তপঃ + বন= তপোবন

• বিসর্গ 'র্' হয়ে যায়:
 নিঃ + আকার= নিরাকার,
পুনঃ + মিলন = পুনর্মিলন, 
আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ

• বিসর্গ শ/ষ/স্ হয়: 
নিঃ + চয় = নিশ্চয়, 
দুঃ + কর = দুষ্কর, 
পুরঃ + কার = পুরস্কার

• কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়:
নিঃ + রব = নীরব, 
নিঃ + রস= নীরস, 
নিঃ + রোগ = নীরোগ।

অন্যদিকে, 
ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ-
- সম্ + তাপ = সন্তাপ (এখানে দন্ত্যধ্বনি ত-এর প্রভাবে ম হয়েছে ন)
- সম্ + মান = সম্মান (এখানে ওষ্ঠ্যধ্বনি ম-এর প্রভাবে ম অপরিবর্তিত রয়েছে)
- ষ + থ = ষষ্ঠ (এখানে মূর্ধন্যধ্বনি ষ-এর প্রভাবে থ হয়েছে ঠ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,২৫২.
'শ' এর উচ্চারণ [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়েছে কোন শব্দে?
  1. শ্রমিক
  2. শসা
  3. শৃগাল
  4. ক ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ক ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
'শ' এর উচ্চারণ:
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।

যেমন:
- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্‌], শৃগাল [স্রিগাল্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২)।
১,২৫৩.
'নমস্কার' কোন ধরনের সন্ধির দৃষ্টান্ত?
  1. বিসর্গ সন্ধি
  2. নিপাতনে সিদ্ধ
  3. স্বরধ্বনি
  4. ব্যঞ্জন ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ সন্ধি
ব্যাখ্যা
• 'নমস্কার' এর সন্ধি বিচ্ছেদ - নমঃ + কার। এটি একটি বিসর্গ সন্ধি।

সন্ধির নিয়ম:
- অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশু ধ্বনি (ষ) হয়।
যেমন:
- নমঃ + কার = নমস্কার,
- পদঃ + খলন = পদস্খলন,
- নিঃ + কর = নিষ্কর,
- দুঃ + কর = দুষ্কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৫৪.
বিসর্গ সিন্ধ সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. অহংকার
  2. চিন্ময়
  3. পরিচ্ছেদ
  4. অকুতোভয়
সঠিক উত্তর:
অকুতোভয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অকুতোভয়
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সিন্ধর নিয়ম:
পূর্বপদের শেষে যদি অঃ (অস্) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি বর্গের ৩য়, ৪র্থ বা ৫ম বর্ণের ধ্বনি (গ/ঘ, জাঝা, ড/ঢ, দ/ধান, ব/ভ/ম) থাকে, কিংবা অন্তঃস্থ বর্ণ (য/র্ল) অথবা হ থাকে তবে সন্ধির ফলে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও-ধ্বনি হয় এবং পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়। কিন্তু পূর্বপদের শেষে যদি অঃ (=অস) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি অ থাকে তবে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও হয়ে পূর্ববর্ণে যুক্ত হয় এবং পরের অ-ধ্বনি লোপ পায়।

যেমন:
- অকুতঃ + ভয় = অকুতোভয়।
- মনঃ + ভাব = মনোভাব।
- ইতঃ + মধ্যে = ইতোমধ্যে।
- সদ্যঃ + মুক্ত = সদ্যোমুক্ত।
- মনঃ + যোগ = মনোযোগ।
- মনঃ + রম = মনোরম।
- শিরঃ + রত্ন = শিরোরত্ন।
- যশঃ + লাভ = যশোলাভ।
- যশঃ + লিপ্সা = যশোলিপ্সা।
- পুরঃ + হিত = পুরোহিত।
- মনঃ + হর = মনোহর।
- বয়ঃ + অধিক = বয়োধিক।

অন্যদিকে, 
অহম্ + কার = অহংকার, 
চিৎ + ময় = চিন্ময়,
পরি + ছেদ = পরিচ্ছেদ। 
[উপরে প্রদত্ত শব্দগুলো ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মে গঠিত।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৫৫.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) চতুঃ + কোণ = চতুষ্কোণ
  2. খ) সর্ব + সহা = সর্বংসহা
  3. গ) বিপদ্ + জাল = বিপজ্জাল
  4. ঘ) অলম + কার = অলংকার
সঠিক উত্তর:
খ) সর্ব + সহা = সর্বংসহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সর্ব + সহা = সর্বংসহা
ব্যাখ্যা
• ‘সর্বংসহা’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ- সর্বম্ + সহা = সর্বংসহা।

অন্যদিকে,
ব্যঞ্জনসন্ধি নিয়মে গঠিত সন্ধি হলো:
• বিপদ্ + জাল = বিপজ্জাল।
• অলম + কার = অলংকার।

• বিসর্গ সন্ধির নিয়মে গঠিত সন্ধি হলো- চতুঃ + কোণ = চতুষ্কোণ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,২৫৬.
'হ্ণ' যুক্তবর্ণটি গঠিত হয়েছে -
  1. হ্ + ঋ
  2. হ্‌ + ণ
  3. হ্ + ন
  4. হ্ + ম
সঠিক উত্তর:
হ্‌ + ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্‌ + ণ
ব্যাখ্যা
• 'হ্ণ' যুক্তবর্ণটি গঠিত হয়েছে - হ্‌ + ণ

যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না।
- এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:
- ঙ্ + গ = ঙ্গ,
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ঋ = হৃ,
- হ্ + ন = হ্ন,
- হ্ + ম = হ্ম,
- ণ্ + ড = ণ্ড,
- ত্‌ + র = ত্র,
- দ্‌ + ধ = দ্ধ,
- শ্‌ + উ = শু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৫৭.
বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রা স্বরবর্ণের সংখ্যা কয়টি?
  1. ৪টি
  2. ৬টি 
  3. ৭টি
  4. ৮টি
সঠিক উত্তর:
৬টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬টি 
ব্যাখ্যা

• বর্ণ প্রকরণ:
ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
- বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টি।
- মাত্রাহীন বর্ণ: বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ ১০টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৪টি -(এ, ঐ, ও, ঔ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং , ঃ, ঁ)।
- পূর্ণমাত্রা বর্ণ: ৩২টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৬টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ২৬টি।
- অর্ধমাত্রা বর্ণ: ৮টি, এর মধ্যে স্বরবর্ণ ১টি (ঋ) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৫৮.
কোনটি চ-বর্গীয় ধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ক-বর্গীয় ধ্বনি: ক, খ, গ, ঘ, ঙ- এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণ জিহ্বার গোড়ার দিকে নরম তালুর পশ্চাৎ ভাগ স্পর্শ করে। এগুলো জিহ্বামূলীয় বা কণ্ঠ্য স্পর্শধ্বনি।

• চ-বর্গীয় ধ্বনি: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ-এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগ চ্যাপটাভাবে তালুর সম্মুখ ভাগের সঙ্গে ঘর্ষণ করে। এদের বলা হয় তালব্য স্পর্শধ্বনি।

• ট-বর্গীয় ধ্বনি: , ঠ, ড, ঢ, ণ এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগ কিঞ্চিৎ উল্টিয়ে ওপরের মাড়ির গোড়ার শক্ত অংশকে স্পর্শ করে। এগুলোর উচ্চারণে জিহ্বা উল্টা হয় বলে এদের নাম দন্তমূলীয় প্রতিবেষ্টিত ধ্বনি। আবার এগুলো ওপরের মাড়ির গোড়ার শক্ত অংশ অর্থাৎ মূর্ধায় স্পর্শ করে উচ্চারিত হয় বলে এদের বলা হয় মূর্ধন্য ধ্বনি।

• ত-বর্গীয় ধ্বনি: ত, থ, দ, ধ, ন- এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা সম্মুখে প্রসারিত হয় এবং অগ্রভাগ ওপরের দাঁতের পাটির গোড়ার দিকে স্পর্শ করে। এদের বলা হয় দন্ত্য ধ্বনি।

• প-বর্গীয় ধ্বনি: প, ফ, ব, ভ, ম এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে ওষ্ঠের সঙ্গে অধরের স্পর্শ ঘটে। এদের ওষ্ঠ্যধ্বনি বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,২৫৯.
কোন ধরনের ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়, জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে?
  1. তালব্য ব্যঞ্জন
  2. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  3. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  4. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনিগুলো হলো- ক, খ, গ, ঘ, ঙ।

অন্যদিকে,
• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। যেমন: চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রর্ভতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলাে দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত। পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৬০.
‘আশ্চর্য’ শব্দটি কোন ধরনের সন্ধির উদাহরণ?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি
  4. বিসর্গসন্ধি
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি
ব্যাখ্যা
• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
- বন্‌ + পতি = বনস্পতি,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- পর্‌ + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক্‌ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৬১.
কোন শব্দটি ব্যঞ্জনসন্ধিতে গঠিত?
  1. রুপালি
  2. কুড়িক
  3. উচ্চারণ
  4. মায়ের
সঠিক উত্তর:
উচ্চারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চারণ
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জনসন্ধি:
- স্বরধ্বনির সঙ্গে ব্যঞ্জনধ্বনি কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে ব্যঞ্জনধ্বনি মিলিত হয়ে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
যেমন:
- নাতি + বৌ = নাতবৌ,
- উৎ + চারণ = উচ্চারণ,
- চার + টি = চাট্টি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- স্বরসন্ধির উদাহরণ: রুপা + আলি = রুপালি, কুড়ি + এক = কুড়িক, মা + এর = মায়ের।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১,২৬২.
শিক্ষ্‌ + অন মিলে কী হবে?
  1. ক) শিক্ষণ
  2. খ) শিক্ষক
  3. গ) শিক্ষকন
  4. ঘ) শিক্ষন
সঠিক উত্তর:
ক) শিক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শিক্ষণ
ব্যাখ্যা

শিক্ষণ (বিশেষ্য):
১ শিক্ষাগ্রহণ; অধ্যয়ন (এ ছাড়া শিক্ষণ বিভাগ আছে-মনোজ বসু)।
২ শিক্ষাদান; অধ্যাপনা; তালিম।
শিক্ষণীয় (বিশেষণ) শেখার বা শেখাবার যোগ্য।
(তৎসম বা সংস্কৃত) √শিক্ষ্‌+অন (ল্যুট্‌)

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান।

১,২৬৩.
শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্রত + ঊষ = প্রত্যুষ
  2. তদ্ + শক্তি = তচ্ছক্তি
  3. উৎ + চ্ছ্বাস = উচ্ছ্বাস
  4. নির + আকার = নিরাকার
সঠিক উত্তর:
তদ্ + শক্তি = তচ্ছক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদ্ + শক্তি = তচ্ছক্তি
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ সন্ধি-বিচ্ছেদ: তদ্ + শক্তি = তচ্ছক্তি।

-------------
• সন্ধি:
পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে। অন্য কথায়, সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।

• নিয়ম:
ই বা ঈ ধ্বনির পর যদি অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে ই/ঈ এর জায়গায় য হয়।
যেমন:
- অতি + অধিক = অত্যধিক,
- আদি + অন্ত = আদ্যন্ত,
- ইতি + আদি = ইত্যাদি,
- অতি + আচার = অত্যাচার,
- প্রতি + ঊষ = প্রত্যুষ।

• নিয়ম:
ত ও দ এর পর শ থাকলে ত ও দ- এর স্থলে চ এবং শ- এর স্থলে ছ উচ্চারিত হয়। যেমন:
- উৎ+ শ্বাস = উচ্ছ্বাস।
- তদ্ + শক্তি = তচ্ছক্তি।
- পদ্ + হতি = পদ্ধতি।
- তদ্ + হিত = তদ্ধিত।

• নিয়ম:
অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পর পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘােষ অল্পপ্রাণ ও ঘােষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে ‘র’ হয়।
যেমন-
দুঃ + যােগ = দুর্যোগ,
নিঃ + আকার = নিরাকার।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি।
১,২৬৪.
বিপ্রকর্ষের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ভ্রু > ভুরু 
  2. শ্লোক > শোলোক
  3. হর্ষ > হরষ
  4. পোখত্ > পোক্ত
সঠিক উত্তর:
পোখত্ > পোক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোখত্ > পোক্ত
ব্যাখ্যা

• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি (Anaptyxis): 
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন- ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি। যেমন-
অ– রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি।
ই– প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
উ– মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রু > ভুরু ইত্যাদি।
এ– গ্রাম > গেরাম, প্রেক > পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
ও– শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি ৷

অন্যদিকে, 
• অন্ত্যস্বরাগম (Apothesis):
কোনো কোনো সময় শব্দের শেষে অতিরিক্ত স্বরধ্বনি আসে। এরূপ স্বরাগমকে বলা হয় অন্ত্যস্বরাগম। 
যেমন:
- দিশ্ > দিশা,
- পোখত্ > পোক্ত,
- বেঞ্চ > বেঞ্চি,
- সত্য > সত্যি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,২৬৫.
শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. উদ্‌ + যোগ = উদ্যোগ
  2. বাগ্‌ + দান = বাগদান
  3. উদ্‌ + ঘাটন = উদ্‌ঘাটন
  4. যশঃ + লিপ্সা = যশোলিপ্সা
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যশঃ + লিপ্সা = যশোলিপ্সা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যশঃ + লিপ্সা = যশোলিপ্সা
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ - যশঃ + লিপ্সা = যশোলিপ্সা।
- এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।

অন্যান্য অপশনের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ নিচে দেওয়া হলো- 

• ব্যঞ্জন ধ্বনিসমূহের যে কোনো বর্গের অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনির পর যে কোনো বর্গের ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ তালব্য ধ্বনি, (য > জ), ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ ধ্বনি (ব), ঘোষ কম্পনজাত দন্তমূলীয় ধ্বনি (র) কিংবা ঘোষ অল্পপ্রাণ ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনি (ব) থাকলে প্রথম অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি ঘোষ অল্পপ্রাণরূপে উচ্চারিত হয়।
যথা:
- বাক্ + দান = বাগদান,
- ষট্ + যন্ত্ৰ = ষড়যন্ত্র,
- উৎ + ঘাটন = উদ্‌ঘাটন,
- উৎ + যোগ = উদ্যোগ,
- উৎ + বন্ধন = উদ্বন্ধন,
- তৎ + রূপ = তদ্রুপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ সংস্করণ); ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ।

১,২৬৬.
রিক্সা > রিসকা ধ্বনি পরিবর্তনের কোন সূত্র অনুযায়ী হয়েছে?
  1. আদি স্বরাগম
  2. প্রগত সমীভবন
  3. বিষমীভবন
  4. অন্তর্হতি
  5. ধ্বনি বিপর্যয়
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা

যদি শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটে, তখন তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন-
পিশাচ > পিচাশ,
বাক্স > বাসক,
রিক্সা > রিসকা,
লাফ > ফাল ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৬৭.
বাংলা বর্ণমালায় নাসিক্য ধ্বনি তৈরি হয় কীভাবে?
  1. ঠোঁটের ফাকা কম বেশি হলে
  2. জিভ মূর্ধা স্পর্শ করলে
  3. কোমল তালুর সঙ্গে আলজিভ নিচে নেমে এলে
  4. কোমল তালু ও জিভমূলের স্পর্শে
সঠিক উত্তর:
কোমল তালুর সঙ্গে আলজিভ নিচে নেমে এলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোমল তালুর সঙ্গে আলজিভ নিচে নেমে এলে
ব্যাখ্যা
• কোমল তালুর সঙ্গে আলজিভ নিচে নেমে- নাসিক্য ধ্বনি তৈরি হয়।
 
• আলজিভ: 
- মুখগহ্বরেরর কোমল তালুর পেছনে ঝুলন্ত মাংসপিন্ডের নাম আলজিভ। 
- ধনির উচ্চারণের সময়ে কোমল তালুর সঙ্গে আলজিভ নিচে নেমে এলে বাতাস মুখ দিয়ে পুরোপুরি বের না হয়ে খানিকটা নাক দিয়ে বের হয়। 
- এর ফলে নাসিক্য ধ্বনি উচ্চারিত হয়। 
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
১,২৬৮.
‘ফলাহার > ফলার' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তন?
  1. অভিশ্রুতি
  2. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  3. অন্তর্হতি
  4. ব্যঞ্জনচ্যুতি
সঠিক উত্তর:
অন্তর্হতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্তর্হতি
ব্যাখ্যা
অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।

যেমন:
- ফাল্গুন > ফাগুন,
- ফলাহার > ফলার,
- আলাহিদা > আলাদা।

অন্যদিকে,
অভিশ্রতি:
- বিপর্যস্ত স্বরধ্বনি পূর্ববর্তী স্বরধ্বনির সাথে মিলে গেলে এবং তদনুসারে পরবর্তী স্বরধ্বনির পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে অভিশ্রতি।
যেমন:
- করিয়া > কইর‌্যা > করে,
- দেখিয়া > দেইখ্যা > দেখে,
- গাছুয়া > গাউছা > গেছো।

ব্যঞ্জন বিকৃতি:
- শব্দ-মধ্যে কোনাে কোনাে সময় কোনাে ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়।
- একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন:
- কবাট > কপাট,
- ধােবা > ধােপা,
- ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

ব্যঞ্জনচ্যুতি:
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লােপ পায়। এরূপ লােপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন:
- বউদিদি> বউদি,
- বড়দাদা > বড়দা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৬৯.
কোনটি অশুদ্ধ যুক্তবর্ণ?
  1. ঞ্‌ + চ = ঞ্চ
  2. হ্ + ম = হ্ম
  3. জ + ঞ = ঞ্জ
  4. ঞ্ + ছ = ঞ্ছ
সঠিক উত্তর:
জ + ঞ = ঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ + ঞ = ঞ্জ
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ যুক্তবর্ণ - জ + ঞ = ঞ্জ। এর শুদ্ধ যুক্তবর্ণ - ঞ্ + জ = ঞ্জ।

অন্যদিকে,
- ঞ্‌ + চ = ঞ্চ,  
- হ্ + ম = হ্ম,
- ঞ্ + ছ = ঞ্ছ।
উপরিউক্ত যুক্তবর্ণগুলো শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।

১,২৭০.
কোনটি কণ্ঠধ্বনি নয়?
  1. ক) ক
  2. খ) খ
  3. গ) গ
  4. ঘ) প
সঠিক উত্তর:
ঘ) প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) প
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের স্থান অনুযায়ী ক, খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠধ্বনি। অন্যদিকে প ফ ব ভ ম ওষ্ঠ্যধ্বনি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৭১.
'কুণ্ডলাকৃতি' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. কুন্‌ডলাক্‌কৃতি
  2. কুণ্‌ডলাক্‌কৃতি
  3. কুন্‌ডোলাক্‌কৃতি
  4. কুণ্‌ডোক্‌কৃতি
সঠিক উত্তর:
কুন্‌ডলাক্‌কৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুন্‌ডলাক্‌কৃতি
ব্যাখ্যা
• বানান: কুণ্ডলাকৃতি।
- সঠিক উচ্চারণ: কুন্‌ডলাক্‌কৃতি
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: কুণ্ডল + আ + √কৃ + তি।
- অর্থ: কুণ্ডলের আকৃতিবিশিষ্ট।

 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৭২.
'সম্মান' কোন নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. ক) ব্যঞ্জন + স্বর
  2. খ) স্বর + ব্যঞ্জন
  3. গ) ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
  4. ঘ) স্বর + বিসর্গ
সঠিক উত্তর:
গ) ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনসন্ধি:
- স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
- ব্যঞ্জনসন্ধি সাধারণত চার নিয়মে হয়, স্বর+ব্যঞ্জন, ব্যঞ্জন + স্বর, ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন, নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি।

• ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন:
সম্‌ + মান = সম্মান (এখানে ওষ্ঠ্যধ্বনি ম-এর প্রভাবে ম অপরিবর্তিত হয়েছে)।

এছাড়াও 'ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন' ধ্বনির কয়েকটি উদাহরণ হচ্ছে -
বাক্‌ + দান = বাগ্‌দান (এখানে ঘোষধ্বনি দ-এর প্রভাবে ক হয়েছে গ)।
শম্‌ + কা = শঙ্কা (এখানে কণ্ঠ্যধ্বনি ক-এর প্রভাবে ম হয়েছে ঙ)।
ষষ্‌ + থ = ষষ্ঠ (এখানে মূর্ধন্যধ্বনি ষ-এর প্রভাবে থ হয়েছে ঠ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,২৭৩.
নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি -
  1. ক) সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা।
  2. খ) গো + অক্ষ = গবাক্ষ।
  3. গ) উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ।
  4. ঘ) বিপদ + চয় = বিপচ্চয়।
সঠিক উত্তর:
খ) গো + অক্ষ = গবাক্ষ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গো + অক্ষ = গবাক্ষ।
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি:
- কতগুলাে সন্ধি কোনাে নিয়মে সাধিত হয় না বা সূত্র অনুসরণ করে না, এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি বলে।
যেমন-
কুল + অটা = কুলটা (সূত্র অনুসারে কুলাটা হওয়ার কথা)।
গো + অক্ষ = গবাক্ষ (সূত্র অনুসারে গবাক্ষ হওয়ার কথা)।
মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড
শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন।

অন্যদিকে,
সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা।
উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ।
বিপদ + চয় = বিপচ্চয়।
উপরের তিনটি অপশনই ব্যঞ্জনধবনি + ব্যঞ্জনধ্বনি হিসেবে গঠিত হয়েছে।

উৎস:
১। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,২৭৪.
‘উচ্ছিষ্ট’ এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) উৎ + চিষ্ট
  2. খ) উৎ + শিষ্ট
  3. গ) উচ + চিষ্ট
  4. ঘ) উচ + চ্ছিষ্ট
সঠিক উত্তর:
খ) উৎ + শিষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উৎ + শিষ্ট
ব্যাখ্যা
• ‘উচ্ছিষ্ট’ শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ = উৎ + শিষ্ট।

• সন্ধির নিয়মানুসারে শব্দের দ্বিতীয় স্থানে চ, ছ, জ ও শ থাকলে ত ও দ এর তালব্যীভবন ঘটে।
যেমন:
বিদ্বজ্জন =  বিদ্বৎ + জন,
উচ্ছেদ = উদ্‌ + ছেদ,
উচ্ছিষ্ট = উৎ + শিষ্ট।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১,২৭৫.
'তস্কর' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কী?
  1. তৎ + কর
  2. তস্‌ + কর
  3. তঃ + কর
  4. তদ্‌ + কর
সঠিক উত্তর:
তৎ + কর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎ + কর
ব্যাখ্যা
• 'তস্কর' এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ তৎ + কর।

• কতগুলো সন্ধি নিপাতনে সিদ্ধ হয়:

- আ+ চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- বন্ + পতি = বনস্পতি
- বৃহৎ + পতি = বৃহস্পতি,
- তৎ + কর = তস্কর,
- পর্ + পর = পরস্পর,
- মনস্ + ঈষা = মনীষা,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ
- এক্ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,২৭৬.
কোন বর্গের আগে কখনও 'ণ' হয় না?
  1. ট-বর্গ 
  2. প-বর্গ  
  3. ত-বর্গ 
  4. চ-বর্গ  
সঠিক উত্তর:
ত-বর্গ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত-বর্গ 
ব্যাখ্যা

ত-বর্গীয় বর্ণের ক্ষেত্রে ‘ণ’ প্রযোজ্য নয়। 
------------------ 
• ণ-ত্ব-বিধান:
- যে রীতি অনুসারে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের বানানে ‘ণ’ ব্যবহৃত হয় তাকে ণত্ব-বিধান বলে।

- যেসব ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
• সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য হয় না, সেখানে ‘ন’ ব্যবহৃত হয়।
- যেমন:
- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।

ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনও ‘ণ’ হয় না।
- যেমন: অন্ত, গ্রন্থ।

• বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দে ‘ণ’ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- যেমন:
- দেশি শব্দ: কোণ, গণ্ড, ছাগল।
- তদ্ভব শব্দ: কান, সোনা, চুন।
- বিদেশি শব্দ: কোরআন, ইরান, নিশান, হর্ন, গভর্নর। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১,২৭৭.
‘দ্যুলোক’ - এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দিগ্ + লোক
  2. দি + লোক
  3. দিব্‌ + লোক
  4. দুঃ + লোক
সঠিক উত্তর:
দিব্‌ + লোক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিব্‌ + লোক
ব্যাখ্যা

- কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসরণ করে না। এগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ বলে।
- দ্যুলোক নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি।
- এর সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ হলো- দিব্‌ + লোক = দ্যুলোক।

এছাড়াও আরো কয়েকটি নিপাতনে সিন্ধ ব্যাঞ্জনসন্ধির উদাহরণ- 
ষট্‌ + দশ = ষোড়শ;
পর্‌ + পর = পরস্পর;
গো + পদ = গোস্পদ।

উৎস- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৭৮.
'কুমড়া > কুমড়ো' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. আদি স্বরাগম
  2. পরাগত সমীভবন
  3. প্রগত স্বরসঙ্গতি
  4. অন্ত্য সম্প্রকর্ষ
সঠিক উত্তর:
প্রগত স্বরসঙ্গতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রগত স্বরসঙ্গতি
ব্যাখ্যা
• প্রগত স্বরসঙ্গতি:
পূর্ববর্তী স্বরের প্রভাবে পরবর্তী স্বরের পরিবর্তন তথা পূর্ববর্তী স্বরের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা।
যথা- মুলা > মুলো, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো ইত্যাদি।

• পূর্ববর্তী উচ্চাবস্থিত ই-স্বরের প্রভাবে পরবর্তী নিম্নাবস্থিত আ-স্বর উচ্চ-মধ্যাবস্থিত এ-স্বরে পরিণত হয়। 
সূত্র: (ই→ আ> এ):
- মিথ্যা > মিথ্যে,
- মিঠা > মিঠে,
- ফিতা > ফিতে,
- বিলাত > বিলেত,
- ছিলাম > ছিলেম ইত্যাদি।

• পূর্ববর্তী উচ্চাবস্থিত উ (ক্ষেত্র বিশেষে উ)-স্বরের প্রভাবে নিম্নাবস্থিত আ-স্বর উচ্চ-মধ্যাবস্থিত ও-স্বরে পরিণত হয়। 
সূত্র: (উ→ আ > ও):
- খুড়া > খুড়ো,
- জুতা > জুতো,
- বুড়া > বুড়ো,
- রূপা > রুপো,
- পূজা > পুজো,
- কুমড়া > কুমড়ো,
- ফুটা > ফুটো,
- ফুলা > ফুলো ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,২৭৯.
নিচের কোনগুলো দন্তমূলীয় ধ্বনি?
  1. ক) ত, দ
  2. খ) চ, ঞ
  3. গ) ন, ল
  4. ঘ) ড, ণ
সঠিক উত্তর:
গ) ন, ল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ন, ল
ব্যাখ্যা
উচ্চারণ স্থান অনুসারে ব্যঞ্জনধ্বনি সাত প্রকার। যথা-

জিহ্বামূলীয় ধ্বনি: জিভের মূল বা গোড়ালি উঁচু করে কোমল তালুর সামনের বা মাঝের সঙ্গে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা জিহ্বামূলীয় ধ্বনি বলা হয়। যেমন- ক, খ, গ, ঘ ঙ/ং।

তালব্য ধ্বনি
: জিভের পাতা উঁচু করে অর্থতালুর সঙ্গে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাদের তালব্য ধ্বনি বলা হয়। যেমন - চ, ছ, জ, ঝ ঞ, শ।

দন্তমূলীয় মূর্ধন্য ধ্বনি: সমূলীয় মূর্ধন্য ধ্বনি উপর পাটি দাঁতের গোড়ার সঙ্গে জিভের ডগা একটু উল্টো করে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হ তাদের দন্তমূলায়
মূর্ধন্য ধ্বনি বলা হয়। যেমন- ট ঠ ড ঢ ণ ড় ঢ়।

দন্ত ধ্বনি: উপর পাটি দাঁতের সঙ্গে জিভের ডগা লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাদের দন্ত ধ্বনি বলে। যেমন- ত, থ, দ, ধ।

ওষ্ঠ্য ধ্বনি:
উপরের ঠোঁটের সঙ্গে নিচের ঠোঁট লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারিত হয় তাদের ওষ্ঠ্য ধ্বনি বলে। যেমন— প, ফ, ব, ভ, ম।

দন্তমূলীয় ধ্বনি
: উপর পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে জিভের ডগা লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারিত হয় তাদের দন্তমূলীয় ধ্বনি বলে। যেমন - , য, র, , স।

কন্ঠ্য ধ্বনি:
স্বরযন্ত্রের ভেতরে যে দুট স্বরতন্ত্রী আছে তাদের সংকোচনের সাহায্যে বায়ুপথ সংকীর্ণ করে, কিন্তু একেবারে বন্ধ না করে যে ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাকে কন্ঠ্য ধ্বনি বলে। যেমন- হ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,২৮০.
বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা কয়টি?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ১০টি
  4. ১১টি
সঠিক উত্তর:
১০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০টি
ব্যাখ্যা
• ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। ভাষার সবগুলো বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা।
• বাংলা বর্ণমালায় মোট বর্ণ ৫০টি। স্বরবর্ণ ১১টি ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।

• মাত্রাভেদে বর্ণমালা:
- বাংলা বর্ণমালায় পূর্ণমাত্রা বর্ণের সংখ্যা ৩২টি।
- বাংলা বর্ণমালায় মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা ১০টি।
- বাংলা বর্ণমালায় অর্ধমাত্রার বর্ণ হচ্ছে ৮টি।

• মাত্রাভেদে ব্যঞ্জনবর্ণ:
- ব্যঞ্জনবর্ণে পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা ২৬টি।
- ব্যঞ্জনবর্ণে অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা ৭টি (খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ)।
- ব্যঞ্জনবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণের সংখ্যা ৬টি (ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ)। 

• মাত্রাভেদে স্বরবর্ণ:
- স্বরবর্ণে পূর্ণমাত্রার বর্ণের সংখ্যা ৬টি।
- স্বরবর্ণে অর্ধমাত্রার বর্ণ সংখ্যা ১টি (ঋ)।
- স্বরবর্ণে মাত্রাহীন বর্ণ সংখ্যা ৪টি (এ, ঐ, ও, ঔ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,২৮১.
‘পুনরুক্ত’ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. পুনঃ + রুক্ত
  2. পুনঃ + উক্ত
  3. পুনঃ + ঊক্ত
  4. পুনঃ + উত্ত
সঠিক উত্তর:
পুনঃ + উক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনঃ + উক্ত
ব্যাখ্যা
• সন্ধির নিয়ম:
অ- কারের পরস্থিত র্‌-জাত বিসর্গের পর উপর্যুক্ত ধ্বনিসমূহের কোনটি থাকলে বিসর্গ স্থানে 'র' হয়।
যেমন:
- অন্তঃ + গত= অন্তর্গত,
- অহঃ + অহ= অহরহ,
- পুনঃ + উক্ত= পুনরুক্ত ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৮২.
‘দুর্যোগ’ কোন সন্ধি-সাধিত শব্দের উদাহরণ?
  1. স্বরসন্ধি
  2. ব্যাঞ্জনসন্ধি
  3. বিসর্গ সন্ধি
  4. নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসর্গ সন্ধি
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সন্ধিযোগে গঠিত শব্দ হচ্ছে- দুঃ + যােগ = দুর্যোগ।

⇒ অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পর পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘােষ অল্পপ্রাণ ও ঘােষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে ‘র’ হয়।
যেমন:
- দুঃ + যােগ = দুর্যোগ, 
- নিঃ + আকার = নিরাকার,
- আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,২৮৩.
'কণ্ঠৌষধি' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. কণ্ঠ + ওষধি
  2. কণ্ঠ + ঔষধি
  3. কণ্ঠ + ওষধ
  4. কণ্ঠঃ + ওষধি
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠ + ওষধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠ + ওষধি
ব্যাখ্যা

সন্ধির নিয়ম:
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়। ঔ-কার পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়।

অ+ ও = ঔ:
- বন+ ওষধি = বনৌষধি,
- কণ্ঠ + ওষধি = কণ্ঠৌষধি।

অ + ঔ= ঔ:
- পরম + ঔষধ = পরমৌষধ,
- চিত্ত + ঔদার্য = চিত্তৌদার্য।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ, এসএইচসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৮৪.
বাংলা বর্ণমালায় কোন স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ নেই?
  1. ক) অ
  2. খ) আ
  3. গ) উ
  4. ঘ) ঔ
সঠিক উত্তর:
ক) অ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অ
ব্যাখ্যা
বাংলা বর্ণমালায় 'অ'-এর কোনো সংক্ষিপ্ত রূপ বা কার নেই।
- স্বরবর্ণ যখন নিরপেক্ষ বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়, অর্থাৎ কোনাে বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয় না, তখন এর পূর্ণরূপ লেখা হয়।
- একে বলা হয় প্রাথমিক বা পূর্ণরূপ।
- যেমন- অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ।
- এই রূপ শব্দের আদি, মধ্য বা অন্ত যে-কোনাে অবস্থানে বসতে পারে। 
- স্বরধ্বনি যখন ব্যঞ্জনধ্বনির সাথে যুক্ত হয়ে উচ্চারিত হয়, তখন সে স্বরধ্বনিটির বর্ণ সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয়।
- স্বরবর্ণের এ সংক্ষিপ্ত রূপকে কার বলে। 
- স্বরবর্ণের কারবর্ণ ১০ টি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৮৫.
ক্রিয়ার মূল অংশকে কী বলা হয়?
  1. ক) প্রাতিপদিক
  2. খ) নামপদ
  3. গ) নাম-প্রকৃতি
  4. ঘ) ক্রিয়া-প্রকৃতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিয়া-প্রকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিয়া-প্রকৃতি
ব্যাখ্যা
ক্রিয়ার মূল অংশকে ধাতু বলা হয়। একে ক্রিয়া-প্রকৃতিও বলা হয়৷
অপরদিকে বিভক্তিহীন নাম শব্দকে প্রাতিপদিক বলা হয়। একে নামপদ বা নাম-প্রকৃতিও বলা হয়৷
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ৷
১,২৮৬.
'রঞ্জন' শব্দে ব্যবহৃত যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ কোনটি?
  1. ন্‌ + ঞ
  2. ণ্‌ + ঞ
  3. ঞ্‌ + জ
  4. ন্‌ + জ
সঠিক উত্তর:
ঞ্‌ + জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঞ্‌ + জ
ব্যাখ্যা

• ‘রঞ্জন’ শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ: 'ঞ+জ'। 
ঞ + জ = ঞ্জ,
যেমন- রঞ্জন, গঞ্জ, কুঞ্জ ইত্যাদি।
----------------------
যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, আবার কখনো সহজে চেনা যায় না।
- যুক্তবর্ণ দুই রকম।
যথা- স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ট, জ্জ, জ্ব, ড্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, দ্ম, ষ্ঠ, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, ব্দ ইত্যাদি। 

• অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ত (ক্+ত), ক্ম (ক্+ম), ক্র (ক্‌+র), ক্ষ (ক্+ষ), ক্ষ্ম (ক্+ষ্+ম), ক্স (ক্‌+স), গু (গ্‌+উ), ন্ধ (গ্‌+ধ), ঙ্ক (ঙ্+ক), ঙ্গ (ঙ্+গ), জ্ঞ (জ্‌+ঞ), ঞ্চ (ঞ্‌+চ), ঞ্ছ (ঞ্‌+ছ), ঞ্জ (ঞ্‌+জ), ট্ট (ট্+ট), ত্ত (ত্+ত), খ (ত্+থ), ত্র (ত্+ত্র), দ্ধ (দ্‌+ধ), ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (ব্‌+ধ), ভ্র (ভ্+র), ভ্রূ (ভ্+র্+উ), রু (র্+উ), রূ (র্‌+ঊ), শু (শ্+উ), ষ্ণ (ষ্+ণ), হু (হ্+উ), হৃ (হ্+ঋ), হ্ন (হ্+ন), হ্ম (হ্+ম) ইত্যাদি।
--------------------- 
গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
ক্ + র = ক্র
ক্ + ষ = ক্ষ
ক্ + স = ক্স
গ্ + উ = গু
গ্ + ধ = গ্ধ
ঙ্ + ক = ঙ্ক
ঙ্ + গ = ঙ্গ
ঞ্ + জ = ঞ্জ
ঞ্ + চ = ঞ্চ
ঞ্ + ছ = ঞ্ছ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৮৭.
কোনটি অন্তর্হতি ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. বলিয়া > বলে
  2. বড়দাদা > বড়দা
  3. শহরিয়া > শহুরে
  4. ফলাহার > ফলার
সঠিক উত্তর:
ফলাহার > ফলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফলাহার > ফলার
ব্যাখ্যা
অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।

যেমন:
- ফাল্গুন > ফাগুন,
- ফলাহার > ফলার,
- আলাহিদা > আলাদা।

অন্যদিকে,
অভিশ্রুতি ধ্বনি পরিবর্তন - শহরিয়া > শহইর‍্যা > শহুরে, বলিয়া > বলে।
ব্যঞ্জনচ্যুতি ধ্বনি পরিবর্তন - বড়দাদা > বড়দা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৮৮.
কোন দুটি ঘোষ ব্যঞ্জনধবনির উদাহরণ?
  1. ছ, শ
  2. স, ট
  3. জ, ঝ
  4. ফ, ত
সঠিক উত্তর:
জ, ঝ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ, ঝ
ব্যাখ্যা

ঘোষ ব্যঞ্জনধবনি:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অন্যদিকে,
অঘোষ ব্যঞ্জনধবনি:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।

১,২৮৯.
নিচের কোন গুচ্ছটি অঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. ত, স, ট
  2. ড়, শ, ক
  3. ফ, র, ল
  4. গ, ছ, শ
সঠিক উত্তর:
ত, স, ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত, স, ট
ব্যাখ্যা
• ত, স, ট - গুচ্ছটি অঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি।

ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:

- ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন:
- ঘোষ ও
- অঘোষ ব্যঞ্জন।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ব্যঞ্জন ধ্বনি।
যথা-
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে অঘোষ ব্যঞ্জন বলা হয়।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৯০.
নিম্নে কোনটি ”ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন” ধ্বনির উদাহরণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত। 
- প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- ট,  ড়,  মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
-  ’ধ’ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১,২৯১.
‘সূর্যোদয়’ এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ -
  1. সূর্য + দয়
  2. সূর্যো + দয়
  3. সূর্য + উদয়
  4. সৌর + উদয়
সঠিক উত্তর:
সূর্য + উদয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য + উদয়
ব্যাখ্যা
• 'সূর্যোদয়' শব্দটির সঠিক সন্ধি-বিচ্ছেদ হচ্ছে — সূর্য + উদয়।
- 'সূর্যোদয়' শব্দটি স্বরসন্ধি এর উদাহরণ।

• সন্ধি:
- পাশাপাশি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- বাংলা ভাষায় উপসর্গ, প্রত্যয় ও সমাস প্রক্রিয়ায় শব্দগঠনের ক্ষেত্রে সন্ধির সূত্র কাজে লাগে ।

• স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।
যেমন-
শুভ+ইচ্ছা = শুভেচ্ছা।
সূর্য+উদয় = সূর্যোদয়।
মহা+ঋষি = মহর্ষি।
শীত+ঋত = শীতার্ত।
জন+এক = জনৈক।
বন+ওষধি = বনৌষধি।
প্রতি+এক = প্ৰত্যেক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,২৯২.
'স্বৈরিণী' শব্দের সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) স্ব + ঈরিনি
  2. খ) স্ব + ইরিণী
  3. গ) স্ব + ঈরিণী
  4. ঘ) স্ব + ইরিনি
সঠিক উত্তর:
গ) স্ব + ঈরিণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্ব + ঈরিণী
ব্যাখ্যা
স্বৈরিণী = স্ব + ঈরিণী  
- এটি নিপাতন-সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ। 

কোন নিয়ম অনুসারে সন্ধি না হয়ে স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনির যখন পরিবর্তন ঘটে তখন সেইরূপ সন্ধিকে নিপাতন-সিদ্ধ সন্ধি বলে।
কুল + অটা = কুলটা
শুদ্ধ + ওদন = শুদ্ধোদন
স্ব + ঈর = স্বৈর।
সীমন্ + অন্ত = সীমন্ত
বিম্ব + ওষ্ঠ = বিম্বোষ্ঠ
অক্ষ + ঊহিণী = অক্ষৌহিণী
মার্ত + অণ্ড = মার্তণ্ড

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৯৩.
'কথাচ্ছলে' কোন নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
  2. ব্যঞ্জন + স্বর
  3. স্বর + ব্যঞ্জন
  4. স্বর + স্বর
সঠিক উত্তর:
স্বর + ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বর + ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনসন্ধি:
- স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
- এদিক থেকে ব্যঞ্জন সন্ধিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি,
২. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি,
৩. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি।

স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
- স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়।
যথা-
- অ + ছ = চ্ছ; মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি,
- আ + ছ = চ্ছ; কথা + ছলে = কথাচ্ছলে,
- ই + ছ = চ্ছ; পরি + ছদ = পরিচ্ছদ।

- এরূপ - একচ্ছত্র, বিচ্ছেদ, পরিচ্ছেদ, বিচ্ছিন্ন, অঙ্গচ্ছেদ, আলোকচ্ছটা, প্রতিচ্ছবি, প্রচ্ছদ, আচ্ছাদন, বৃক্ষচ্ছায়া, স্বচ্ছন্দে, অনুচ্ছেদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
১,২৯৪.
'গ্রাম > গেরাম' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. বিষমীভবন
  2. অন্ত্যস্বরাগম
  3. সমীভবন
  4. বিপ্রকর্ষ
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপ্রকর্ষ
ব্যাখ্যা
• মধ্য স্বরাগম, বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি:
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ বা স্বরভক্তি।
যেমন:
• অ- রত্ন > রতন, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন, হর্ষ > হরষ ইত্যাদি। অনুরূপভাবে, প্রথম > পরথম
• ই- প্রীতি > পিরীতি, ক্লিপ > কিলিপ, ফিল্ম > ফিলিম ইত্যাদি।
• উ- মুক্তা > মুকুতা, তুর্ক > তুরুক, ভ্রূ > ভুরু ইত্যাদি।
• এ- গ্রাম > গেরাম, প্রেক> পেরেক, স্রেফ > সেরেফ ইত্যাদি।
• ও- শ্লোক > শোলোক, মুরগ > মুরোগ > মোরগ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১,২৯৫.
উষ্মধ্বনি এর মধ্যে কোনটি ঘোষ মহাপ্রাণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• উষ্মধ্বনি:
"শ, ষ, স, হ " এ চারটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণের সময় আমরা শ্বাস যতক্ষণ খুশি রাখতে পারি। এগুলোকে বলা হয় উষ্মধ্বনি বা শিশধ্বনি।
- এ বর্ণগুলোকে বলা হয় উষ্মবর্ণ।

• এসব ধ্বনিগুলোর মধ্যে,
- শ, ষ, স- এ তিনটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি অঘোষ অল্পপ্রাণ,
- আর — 'হ' ঘোষ মহাপ্রাণ ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

১,২৯৬.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়?
  1. ক) নে+অন = নয়ন
  2. খ) তদ+রূপ = তদ্রূপ
  3. গ) রাজ+নী = রাজ্ঞী
  4. ঘ) তদ+কাল = তৎকাল
সঠিক উত্তর:
খ) তদ+রূপ = তদ্রূপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তদ+রূপ = তদ্রূপ
ব্যাখ্যা
তদ্রূপ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ হলো তৎ+রূপ।
১,২৯৭.
মৌলিক স্বরবর্ণ কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬টি
ব্যাখ্যা

মৌলিক স্বরবর্ণ:
- মৌলিক স্বরধ্বনি ৭ টি।
- এগুলো হলো : ই, এ, অ্যা, আ, অ, ও, উ।
- এই ৭টির মধ্যে ‘অ্যা’ বাংলা বর্ণমালায় নেই। সুতরাং বর্ণের কথা বললে ‘অ্যা’ বাদ যাবে।
অর্থাৎ মৌলিক স্বরধ্বনি ৭ টি হলেও মৌলিক স্বরবর্ণ ৬ টি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি(২০২৫)।

১,২৯৮.
কোনটি প্রগত সমীভবনের উদাহরণ?
  1. পাকা > পাক্কা
  2. পক্ব > পক্ক
  3. বড় > বড্ড
  4. কিছু > কিচ্ছু
সঠিক উত্তর:
পক্ব > পক্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পক্ব > পক্ক
ব্যাখ্যা

প্রগত সমীভবন:
- পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তনকে প্রগত সমীভবন বলে।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক

অন্যদিকে,
দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব:
- কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- পাকা > পাক্কা,
- সকাল > সক্কাল,
- বড় > বড্ড,
- কিছু > কিচ্ছু  ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,২৯৯.
ণ- ত্ব বিধান অনুসারে শুদ্ধ শব্দ নির্ণয় করুন-
  1. মুর্ধণ্য
  2. গ্রহণ
  3. বন্টন
  4. সায়াহ্ণ
সঠিক উত্তর:
গ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রহণ
ব্যাখ্যা
• 'গ্রহণ' শব্দটি ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী শুদ্ধ শব্দ।

• সূত্র:
• ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী 'ন' মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- কৃপণ (র- ফলার পরে হ, তার পরে ণ)।

অন্যদিকে,
- 'মুর্ধণ্য' এর সঠিক বানান 'মূর্ধন্য'।
- 'বন্টন' এর সঠিক বানান 'বণ্টন'।
- 'সায়াহ্ণ' এর সঠিক বানান 'সায়াহ্ন'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১,৩০০.
ঋ, র, ষ এর পর কোন বর্গের ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী 'ন'  'ণ' হয়?
  1. প বর্গ
  2. চ বর্গ
  3. ট বর্গ
  4. ত বর্গ
সঠিক উত্তর:
প বর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প বর্গ
ব্যাখ্যা

- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, ষ, য়, ব, হ, ৎ এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।

যেমন:
- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ),
- হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ),
- অর্পণ (র্ + প্ + অ+ ণ),
- লক্ষণ (ক্+অ+ণ)।
এরূপ রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।