বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা

মোট প্রশ্ন১,১৩৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা

PrepBank · পাতা / ১২ · ৮০১৯০০ / ১,১৩৬

৮০১.
বাক্যের সঠিক গঠনপ্রণালী, বিভিন্ন উপাদানের সংযোজন, বিয়োজন, এদের সার্থক ব্যবহারযোগ্যতা, বাক্যমধ্যে শব্দ বা পদের স্থান বা ক্রম, পদের রূপ পরিবর্তন ইত্যাদি বিষয় কোথায় আলোচিত হয়?
  1. Phonology
  2. Morphology
  3. Syntax
  4. Semantics
সঠিক উত্তর:
Syntax
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Syntax
ব্যাখ্যা

সব ভাষারই ব্যাকরণেই প্রধানত নিম্নলিখিত চারটি বিষয়ের আলোচনা করা হয়।
ধ্বনিতত্ত্ব(Phonology) - ধ্বনির উচ্চারণপ্রণালী, উচ্চারণের স্থান, ধ্বনির প্রতীক বা বর্ণের বিণ্যাস, ধ্বনিসংযোগ বা সন্ধি, ধ্বনির পরিবর্তন ও লোপ, ণত্ব ও ষত্ব বিধান ইত্যাদি বাংলা ব্যাকরণে ধ্বনিতত্বে আলোচ্য বিষয়।
শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব (Morphology) - এক বা একাধিক ধ্বনির অর্থবোধক সম্মিলনে শব্দ তৈরি হয়, শব্দের ক্ষুদ্রাংশকে বলা হয় রূপ। রূপ গঠন করে শব্দ। সেই জন্য শব্দতত্ত্বকে রূপতত্ত্ব বলে।
বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম(Syntax) - বাক্যের সঠিক গঠনপ্রণালী, বিভিন্ন উপাদানের সংযোজন, বিয়োজন, এদের সার্থক ব্যবহারযোগ্যতা, বাক্যমধ্যে শব্দ বা পদের স্থান বা ক্রম, পদের রূপ পরিবর্তন ইত্যাদি বিষয় বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়।বাক্যতত্বকে পদক্রম ও বলে।
অর্থতত্ত্ব(Semantics) - শব্দের অর্থবিচার, বাক্যের অর্থবিচার, অর্থের বিভিন্ন প্রকারভেদ, যেমন - মুখ্যার্থ, গৌনার্থ, বিপরীতার্থ ইত্যাদি অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (নবম - দশম শ্রেণি)

৮০২.
'বচন' ব্যাকরণের কোন তত্ত্বে আলোচিত হয়?
  1. অর্থতত্ত্ব
  2. বাক্যতত্ত্ব
  3. ধ্বনিতত্ত্ব
  4. রূপতত্ত্ব
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• 'বচন' - ব্যাকরণের 'রূপতত্ত্ব' অংশে আলোচিত হয়। 

• রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় পদ প্রকরণ যেমন: বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া। 
- ক্রিয়ারকাল, বচন ও পুরুষ এ অংশে আলোচিত হয়। 

অন্যদিকে, 
• অর্থতত্ত্ব: 
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বিপরীত শব্দ,
- প্রতিশব্দ,
- শব্দজোড়, 
- বাগধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে ।

• ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগযন্ত্র, বাগযন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৮০৩.
ভাষার মূল উপাদান কোনটি?
  1. বাক্য
  2. শব্দ
  3. ধ্বনি
  4. বর্ণ
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি
ব্যাখ্যা

• ভাষার মূল উপাদান- 'ধ্বনি'।

• ভাষা হলো বাক্যের সমষ্টি বাক্য গঠিত হয় শব্দ দিয়ে। আবার শব্দ তৈরি হয় ধ্বনি দিয়ে। 
এদিক থেকে ভাষার ক্ষুদ্রতম বা মূল উপাদান হলো ধ্বনি।  

তাছাড়া, 
- ভাষার মূল উপকরণ/প্রাণ - বাক্য।
- ভাষার মূল উপদান/ক্ষুদ্রতম একক - ধ্বনি এবং
- বর্ণ হচ্ছে শব্দের গঠনগত একক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮০৪.
ভাষা আন্দোলন চলাকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. লিয়াকত আলী খান
  2. নুরুল আমিন
  3. খাজা নাজিমউদ্দীন
  4. ইস্কান্দার মির্জা
সঠিক উত্তর:
খাজা নাজিমউদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাজা নাজিমউদ্দীন
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলন:
- ফিরোজ খান নুন ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দীন।
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। 
- ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে। 
- এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম- দশম শ্রেণি।

৮০৫.
বিহারের পূর্ব অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অঞ্চল এবং বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চলের উপভাষা কোনটি?
  1. ক) বরেন্দ্রি
  2. খ) রাঢ়ি
  3. গ) পূর্বি
  4. ঘ) কামরূপি
সঠিক উত্তর:
ঘ) কামরূপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কামরূপি
ব্যাখ্যা
• বিহারের পূর্ব অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অঞ্চল এবং বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চলের উপভাষা নাম কামরূপি
• কয়েকটি উপভাষার নাম: 
- বাঙ্গালি (বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চল),
- পূর্বি (বাংলাদেশের পূর্ব অঞ্চল, ত্রিপুরা এবং আসামের বরাক অঞ্চল),
- বরেন্দ্রি (বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল),
- কামরূপি (বিহারের পূর্ব অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অঞ্চল এবং বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চল),
- রাঢ়ি (পশ্চিমবঙ্গ),
- ঝাড়খণ্ডি (পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম অঞ্চল ও ঝাড়খণ্ডের পূর্ব অঞ্চল) প্রভৃতি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৮০৬.
'অদ্য' শব্দটি কোন ভাষারীতির উদাহরণ?
  1. চলিত
  2. প্রাকৃত
  3. সাধু
  4. কোল
সঠিক উত্তর:
সাধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু
ব্যাখ্যা
• 'অদ্য' — শব্দটি সাধু ভাষারীতির উদাহরণ। 
এর চলিতরূপ: আজ।

• অদ্য (ক্রিয়াবিশেষণ): 
- সংস্কৃত শব্দ 
অর্থ: আজ, সম্প্রতি, এখন। 
----------------
• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য: 
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয় ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি, (২০২১ ও ২০১৮ সংস্করণ)। 
২) অষ্টম শ্রেণীর ব্যকরণ বই।
৮০৭.
কোনটি অর্থতত্ত্বে আলোচনা কর হয়?
  1. বাক্যের ব্যঞ্জনা
  2. বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া
  3. বিশেষণ
  4. শব্দ গঠন
সঠিক উত্তর:
বাক্যের ব্যঞ্জনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যের ব্যঞ্জনা
ব্যাখ্যা

অর্থতত্ত্ব:
- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভূক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য:
- বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য , ধ্বনিদল প্রভৃতি।

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দ গঠন প্রক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৮০৮.
মনোয়েল দ্যা আসসুম্পসাঁও তার অভিধান ‘Vocabolario em idioma Bengalla, e Portuguez dividido em duas partes’ কত সালে প্রকাশ করেন?
  1. ১৭৩৩ সালে
  2. ১৭৪৩ সালে
  3. ১৭৪৬ সালে
  4. ১৭৫৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৪৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৪৩ সালে
ব্যাখ্যা

• ‘Vocabolario em idioma Bengalla, e Portuguez dividido em duas partes’ — গ্রন্থ রচনার জন্য ৯-১০ বছর ধরে শব্দ সংগ্রহ করেছেন।
- মনোএল ভাওয়ালের একটি গির্জায় ধর্মযাজকের দায়িত্ব পালনকালে ১৭৩৪-৪২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে Vocabolario em idioma Bengalla, e Potuguez dividido em duas partes শীর্ষক গ্রন্থটি রচনা করেন। এটি ১৭৪৩ সালে প্রকাশ করেন।


বাংলা ব্যাকরণ রচনার ইতিহাস:

প্রথম পর্যায়:
• প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় — ১৭৪৩ সালে।
• এটি পর্তুগিজ ভাষায় রচিত, লেখক ছিলেন — মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ।
• তিনি তাঁর — বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকাংশ হিসেবে এই ব্যাকরণ রচনা করেন।
 
ইংরেজি ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ:
• ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় — নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত বাংলা ব্যাকরণ।
• নাম: A Grammar of the Bengal Language. এটি ইংরেজি ভাষায় রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা ব্যাকরণ।
• ১৮০১ সালে — উইলিয়াম কেরি ইংরেজি ভাষায় রচনা করেন — A Grammar of the Bengalee Language। এর বঙ্গানুবাদ করেন — জন রবিনসন (১৮৪৬)।
 
বাংলা ভাষায় রচিত ব্যাকরণ:
• ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত হয় — রামমোহন রায়ের — ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’।
• এটি বাংলা ভাষায় রচিত — প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
 
উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১)।
- বাংলাপিডিয়া।

৮০৯.
বাক্য গঠনের উপাদান হলো-
  1. পদ
  2. সমাস
  3. প্রত্যয়
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ
ব্যাখ্যা
• বাক্যতত্ত্ব: 
বাক্যের নির্মান ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে। 
তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
কারক বিশ্লেষন, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

পদকে ক্রমানুসারে সাজানো হলে বাক্য তৈরি হয় সুতরাং বাক্য গঠনের উপাদান হলো পদ। এবং বাক্যতত্ত্বের অপর নাম পদক্রম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮১০.
চলিত ভাষায় নিচের কোনটির রূপ সংক্ষিপ্ত হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. অব্য়য়
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।  অনুসর্গ অব্য়য়পদ হলেও বিশেষ্য, বিশেষণ ও ক্রিয়া থেকেসৃষ্টি হওয়ায় চলিত ভাষায় অনুসর্গের রূপ সংক্ষিপ্ত হয়।

চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
- এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
- এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
- চলিত ভাসার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষায় অপনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮১১.
কোনটি সাধুরীতির শব্দ?
  1. শুকনো
  2. জুতা 
  3. এসে
  4. মাথা
সঠিক উত্তর:
জুতা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুতা 
ব্যাখ্যা

• সাধু ও চলিত ভাষায় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:

যেমন:
সাধু-চলিত:
→ আসিয়া - এসে,
→ মস্তক - মাথা,
জুতা - জুতো,
→ তুলা - তুলো,
→ শুষ্ক/শুকনা - শুকনো,
→ বন্য - বুনো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৮১২.
"উহা" শব্দের চলিতরূপ কোনটি?
  1. ওদের
  2. এরা
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
সাধু - চলিত:
→ এই-এ,
→ ইহা-এ, 
→ ইহাকে-একে, 
→ ইহাদের-এদের,
→ ইহারা-এরা,
উহা-ও
→ উহাদিগের-ওদের, 
→ কাহাকে-কাকে, 
→ কেহ-কেউ, 
→ তাহা-তা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম ও সপ্তম শ্রেণি।
৮১৩.
ব্যুৎপত্তিগতভাবে ব্যাকরণ শব্দের অর্থ হলো-
  1. সংক্ষেপণ
  2. ভাবের বিনিময়
  3. বিশেষভাবে বিশ্লেষণ
  4. মিলন
সঠিক উত্তর:
বিশেষভাবে বিশ্লেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষভাবে বিশ্লেষণ
ব্যাখ্যা
• ব্যাকরণ শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ - বিশেষভাবে বিশ্লেষণ।
আর ব্যবহারগত বা প্রকৃত অর্থ হলো - ভাষা প্রকৃতি ও প্রয়োগরীতি আলোচনা ও ব্যাখ্যা।
সুতরাং, বলা যায় - মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম হলো ভাষা, আর ভাষাকে শুদ্ধরূপে পড়তে, বুঝতে, লিখতে ও বলতে পারার নিয়মকে ব্যাকরণ বলে।

- ব্যাকরণ হলো ভাষার সংবিধান।
- ব্যাকরণ ভাষাকে বর্ণনা করে।
- ব্যাকরণ ভাষাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- ব্যাকরণ ভাষার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা সাধন/আবিষ্কার করে।
- ব্যাকরণ ভাষার সুনির্দিষ্ট গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি’।
৮১৪.
‘আনন্দ’ কোন ধরণের বিশেষ্য ?
  1. ক) নাম-বিশেষ্য
  2. খ) জাতি - বিশেষ্য
  3. গ) গুণ - বিশেষ্য
  4. ঘ) সমষ্টি -বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
গ) গুণ - বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গুণ - বিশেষ্য
ব্যাখ্যা

- গুণ-বিশেষ্য: গুনগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমনঃ-
- সরলতা
- দয়া
- আনন্দ 
- গুরুত্ব
- দীনতা
-ধৈর্য

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১]

৮১৫.
কোন ভাষা থেকে সংস্কৃত ভাষাটি এসেছে?
  1. আর্য
  2. ভারতীয়
  3. প্রাচীন ভারতীয় আর্য
  4. প্রাচীন ভারতীয় কথ্য আর্য
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন ভারতীয় কথ্য আর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন ভারতীয় কথ্য আর্য
ব্যাখ্যা
প্রাচীন ভারতীয় কথ্য আর্য ভাষা থেকে সংস্কৃত ভাষাটি এসেছে।

বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- বাংলা ভাষা 'আদি আর্য ভাষাগোষ্ঠী' বা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।

বাংলা ভাষা বিবর্তনের রূপরেখা:



উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলাপিডিয়া।
৮১৬.
ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষাগােষ্ঠীর কোন শাখা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি?
  1. ধ্রুপদী
  2. বৈদিক
  3. শতম
  4. পালি
সঠিক উত্তর:
শতম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শতম
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ:
পৃথিবীর ভাষাগুলো ইন্দো ইউরোপীয়, চিনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশিয় প্রভৃতি ভাষা পরিবারে ভাগ করা যায়।
- বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষাগােষ্ঠীর সদস্য।
- ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষার শাখা ২ টি। যথা: কেন্তম ও শতম।
- ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষাগােষ্ঠীর শতম শাখা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।
- ভারতীয় উপমহাদেশের আঞ্চলিক ভাষাগুলাের আদিম উৎস অনার্য ভাষা।
- আর্যদের ভাষার নাম বৈদিক ভাষা।বেদের ভাষাকেও বৈদিক ভাষা বলা হয়।
- বৈদিক ভাষার সংস্কারজাত নতুন ভাষাই সংস্কৃত ভাষা।
- ভাষা হিসেবে সংস্কৃত শব্দটির উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায় মহাকাব্য রামায়ণে।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া।
- ধ্রুপদী ভাষা সংস্কৃতি ও পালির সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৮১৭.
'বাগযন্ত্র' ব্যাকরণেরকোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. অর্থতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• 'বাগযন্ত্র' ব্যাকরণের 'ধ্বনিতত্ত্ব' অংশের আলোচ্য বিষয়। 

• ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগযন্ত্র, বাগযন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
সন্ধি প্রভৃতি।

• ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় অন্তত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- ধ্বনিতত্ত্ব।
- রূপতত্ত্ব।
- বাক্যতত্ত্ব।
- অর্থতত্ত্ব।

বাকি অপশনগুলো:

• অর্থতত্ত্ব
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে ।

• রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দনির্মাণ ও পদনির্মাণ প্রক্রিয়া ।

• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।

৮১৮.
ব্যাকরণের কোন অংশকে 'বাগর্থ' বলা হয়?
  1. রূপতত্ত্ব
  2. অর্থতত্ত্ব
  3. ধ্বনিতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- একে বাগর্থতত্ত্বও বলে।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৮১৯.
বাক্যের অন্তর্গত শব্দের পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. সন্ধি
  2. পদ
  3. কাল
  4. কারক
সঠিক উত্তর:
কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারক
ব্যাখ্যা

• বাক্যের অন্তর্গত শব্দের পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যাকরণের কারক অংশে আলোচিত হয়।

কারক:
- বাক্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে যে নামপদের (বিশেষ্য বা সর্বনাম) সম্পর্ক থাকে, তাকে কারক বলে।
- কারক বলে দেয় নামপদটি ক্রিয়ার সঙ্গে কিভাবে যুক্ত।
- কারক দেখায় যে, কে কাজটি করছে, ক্রিয়াটি কার ওপরে ঘটছে, কোথায় বা কীভাবে ঘটছে ইত্যাদি।
- বাক্যের ক্রিয়াপদকে ‘কে’ বা ‘কী’ প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তার ভিত্তিতেই কারক নির্ধারিত হয়।
• উদাহরণ:
- সাকিব ব্যাট দিয়ে ক্রিকেট খেলে।
- সাকিব → কর্তৃকারক (ক্রিয়ার সম্পাদক/যে কাজটি করে);
- ব্যাট দিয়ে → করণ কারক (কী দিয়ে কাজটি সম্পাদিত হচ্ছে);
- ক্রিকেট → কর্মকারক (ক্রিয়ার লক্ষ্যবস্তু)।
- এখানে সাকিব, ব্যাট দিয়ে এবং ক্রিকেট → এই তিনটির সঙ্গে ক্রিয়া “খেলে”—র সম্পর্ক কারকের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।
- “কী দিয়ে খেলে?” → ব্যাট দিয়ে ⇒ করণ কারক।
- “কে খেলে?” → সাকিব ⇒ কর্তৃকারক।
- “কি খেলে?” → ক্রিকেট ⇒ কর্মকারক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

৮২০.
বাংলা ভাষার বয়স কত?
  1. ক) প্রায় ১০০০ বছর
  2. খ) প্রায় ২৭০০ বছর
  3. গ) প্রায় ২০০০ বছর
  4. ঘ) প্রায় ২৫০০ বছর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রায় ১০০০ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) প্রায় ১০০০ বছর
ব্যাখ্যা
সুকুমার সেন এবং সুনীতিকুমার চ্যাটার্জির মতে দশম শতাব্দীতে মাগধী প্রাকৃত হতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে। সে হিসেবে বলা যায় বাংলা ভাষার বয়স প্রায় এক হাজার বছর।
Source: Britannica
৮২১.
বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা কোন তত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• ধ্বনিতত্ত্ব:
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত। ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্যন্ত্র, বাগ্যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৮২২.
ভাষার মূল উপকরণ কোনটি?
  1. বর্ণ
  2. বাক্য
  3. শব্দ
  4. ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্য
ব্যাখ্যা

• ভাষার মূল উপকরণ - বাক্য।
• ভাষার মূল উপকরণ:
- বাক্য।
- উপকরণ বলতে বোঝায় বৃহত্তম একক।
- ভাষাকে বিশ্লেষণ করলে বড়ো/বৃহত্তম/ একক/বৃহত্তম একক বা অংশ হিসেবে পাওয়া যায় বাক্য; সুতরাং ভাষার উপকরণ বাক্য।
• ভাষা:
- গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিভ, তালু, দাঁত, নাক প্রভৃতি প্রত্যঙ্গ দিয়ে মানুষ নানা রকম ধ্বনি তৈরি করে।
- এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি হয় শব্দ।
- শব্দের গুচ্ছ দিয়ে বাক্য গঠিত হয়।
- বাক্য দিয়ে মানুষ মনের ভাব আদান-প্রদান করে। মনের ভাব প্রকাশক এসব বাক্যের সমষ্টিকে বলে ভাষা।

উল্লেখ্য,
• ভাষার মূল ভিত্তি - ধ্বনি।
• ভাষার মূল উপাদান / ক্ষুদ্রতম একক - ধ্বনি।
• ভাষার মূল উপকরণ - বাক্য।
• ভাষার প্রাণ - অর্থবোধক বাক্য।
• শব্দের গঠনগত একক - বর্ণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, সপ্তম ও নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৮২৩.
নিচের কোনটি চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য?
  1. তৎসম শব্দের ব্যাপক ব্যবহার
  2. ভাষা চটুল ও জীবন্ত
  3. উচ্চারণ গুরুগম্ভীর
  4. কাঠামো অপরিবর্তনীয়
সঠিক উত্তর:
ভাষা চটুল ও জীবন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষা চটুল ও জীবন্ত
ব্যাখ্যা
চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
১. চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদের রূপ সংক্ষিপ্ত। যেমন: করেছি, গিয়েছি।
২. চলিত ভাষায় সর্বনাম পদের রূপ সংক্ষিপ্ত। যেমন: তারা, তাদের।
৩. চলিত ভাষায় অনুসর্গের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: হতে, দিয়ে।
৪. চলিত ভাষায় তদ্ভব, অর্ধ-তৎসম, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার বেশি। যেমন: হাত, মাথা, ঘি, ধোয়া।
৫. চলিত ভাষার উচ্চারণ হালকা ও গতিশীল।
৬. চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
৭. চলিত ভাষা চটুল, জীবন্ত ও লোকায়ত

অন্যদিকে,
সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য - সাধু ভাষায় তৎসম শব্দের (সংস্কৃত শব্দ) প্রয়োগ বেশি। যেমন: হস্ত, মস্তক, ঘৃত, ধৌত। সাধু ভাষার উচ্চারণ গুরুগম্ভীর। সাধু ভাষা সুনির্ধারিত ব্যাকরণের অনুসারী। এর কাঠামো সাধারণত অপরিবর্তনীয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৮২৪.
কোনটি চলিত ভাষার শব্দ?
  1. চাঁদ
  2. হস্তী
  3. মৎস্য
  4. অগ্নি
সঠিক উত্তর:
চাঁদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদ
ব্যাখ্যা

• বিশেষ্যপদের রূপের পার্থক্য:

সাধু-চলিত:
→ অগ্নি - আগুন,
→ কর্ণ - কান,
চন্দ্র - চাঁদ,
→ দন্ত - দাঁত,
→ পক্ষী - পাখি,
→ ব্যাঘ্র - বাঘ,
→ মৎস্য - মাছ,
→ হস্তী - হাতি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৮২৫.
কোন বাক্যটি গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত?
  1. তাহারা রওয়ানা হলো।
  2. সে স্কুলে যাবে।
  3. তার বিবাহ হয় নাই।
  4. তাহার বাহিরে যাওয়ার সময় হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
সে স্কুলে যাবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে স্কুলে যাবে।
ব্যাখ্যা
• 'সে স্কুলে যাবে।' বাক্যটি গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত।

• গুরুচণ্ডালী দোষ:

- একই রচনায় সাধু ও চলিত ভাষার সংমিশ্রণ অসংগত ও অশুদ্ধ। ভাষারীতির এ অশিষ্ট প্রয়োগকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে।

- অশুদ্ধ: তাহারা রওয়ানা হলো। 
- শুদ্ধ: তারা রওনা হলো। 

- অশুদ্ধ:তার বিবাহ হয় নাই। 
- শুদ্ধ:তার বিয়ে হয়নি।

- অশুদ্ধ: তাহার বাহিরে যাওয়ার সময় হয়েছে।
- শুদ্ধ:তার বাইরে যাওয়ার সময় হয়েছে।
 
উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮২৬.
বাংলা ভাষা বিবর্তনের ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের পরবর্তী স্তর কোনটি?
  1. ইন্দো-ইরানীয়
  2. ভারতীয় আর্য
  3. দ্রাবিড়ীয়
  4. প্রাকৃত
সঠিক উত্তর:
ইন্দো-ইরানীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্দো-ইরানীয়
ব্যাখ্যা

ভাষা পরিবার:
পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে। ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো বাংলা ভাষায় ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য। বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া।

• ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠীর শ্রেণিবিভাগ:

- বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর সদস্য। ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার শাখা ২টি; কেন্তুম ও শতম।
- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর শতম শাখা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।

- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে। এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করেতে হয়েছে।
- সেগুলো হলো: ইন্দো-ইউরোপীয় - ইন্দো-ইরানীয় - ভারতীয় আর্য - প্রাকৃত - বাংলা। 

- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠীর প্রাচীন শাখা ৯টি। আধুনিককালে অনেকে ১০টি বলেও উল্লেখ করেছেন। আমরা যেহেতু আধুনিক যুগের মানুষ তাই সেহেতু আধুনিক মতকেই স্বীকার করবো।

- ভাষাতাত্ত্বিক অধ্যাপক অ্যাসকোলি আদি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠী থেকে সৃষ্ট ভাষাগুলোকে দুটো প্রধান ভাগে ভাগ করেছেন। একটি শতম (Satam) ও অন্যটি কেন্তম (Centum)। 

- কেন্তুম ও শতম এ বিভাজন হয়েছিলো মূলত কণ্ঠবর্ণের উচ্চারণ বৈশিষ্ঠ্য লক্ষ্য করে। এ বিভাজনের ফলে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠির অন্তর্ভুক্ত ভাষাগুলোর ভেতর একটি ভৌগোলিক বিভাজনও হয়। অ্যাসকোলির ধারণা কেন্তম গোষ্ঠীর ভাষাগুলো সব পশ্চিমের আর শতম গোষ্ঠির ভাষাগুলো সব পূর্বের।

উল্লেখ্য, 
যদি প্রশ্ন আসে কোন ভাষাগোষ্ঠী থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে তবে উত্তর হবে 'ইন্দো-ইউরোপীয়' বা 'আদি আর্য'।
যদি প্রশ্ন আসে কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে তবে উত্তর হবে 'প্রাকৃত' অথবা 'পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত'।
যদি প্রশ্ন আসে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে কোন প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে তবে উত্তর হবে 'গৌড়/গৌড়ীয় প্রাকৃত'।

উৎস: ইন্দো-ইউরোপীয় থেকে বাংলা (বাংলা ভাষার ইতিহাস), রেজাউল ইসলাম এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৮২৭.
‘বাংলা ভাষার উদ্ভব ও বিকাশ’ গ্রন্থের রচয়িতার নাম-
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. বিদ্যাপতি
  3. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ইংরেজিতে একটি বই লিখেন 'বাঙলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ' নামে।
- ইংরেজিতে এই গ্রন্থটির নাম হলো : 'The Origin and Development of the Bengali Language'।
- সংক্ষেপে এটিকে বলা হয় ODBL এবং এটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত।

উৎস : লাল নীল দীপাবলী, হুমায়ুন আজাদ।
৮২৮.
আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস কোন সালে স্বীকৃত হয়?
  1. ক) ১৯৯৮
  2. খ) ১৯৯৯
  3. গ) ২০০০
  4. ঘ) ২০০১
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৯৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৯৯
ব্যাখ্যা
• ইউনেস্কো ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯ সালে ২১ শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি দেয়। ২০০০ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারী বিশ্বব্যাপী প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়।

(সূত্র: বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইট)
৮২৯.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ কোনটি?
  1. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  2. ব্যাকরণ মঞ্জুরী
  3. আখ্যান মঞ্জুরী
  4. ব্যাকরণ কৌমুদী
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ কৌমুদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ কৌমুদী
ব্যাখ্যা
'ব্যাকরণ কৌমুদী': 
- এটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ। 
- তিনি মোট চারটি খণ্ডে গ্রন্থটি রচনা করেন।
- প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৩ সালে,
- তৃতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৪ সালে এবং
- চতুর্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৬২ সালে।

অন্যদিকে:
- রাজা রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ - 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।
- মুহাম্মদ এনামুল হক রচিত গ্রন্থ- 'ব্যাকরণ মঞ্জুরী'।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ- 'আখ্যান মঞ্জুরী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৩০.
মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
  2. ধ্বনিবিজ্ঞানের কথা
  3. আধুনিক বাংলা ধ্বনিবিজ্ঞান
  4. সাহিত্য ও ধ্বনিবিজ্ঞান
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব:
- বাংলা ভাষার ধ্বনির গঠন, উচ্চারণ ও ব্যবহারবিধি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশে­ষণ দিয়ে রচিত 
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব গ্রন্থটি মুহম্মদ আবদুল হাইকে  আন্তর্জাতিক খ্যাতি দান করে।
- ভাষাতত্ত্বের মৌলিক বিষয় নিয়ে এরূপ উচ্চমানসম্পন্ন গবেষণাগ্রন্থ দুই বাংলার মধ্যে তিনি প্রথম রচনা করেন। 
- ধ্বনিবিজ্ঞানী হিসেবে গ্রন্থটি তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে  দেয়।

মুহম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।

 তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২)বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৩১.
ভারতীয় আর্য ভাষার স্তর কয়টি?
  1. পাঁচটি
  2. চারটি
  3. দুইটি
  4. তিনটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা
ভারতীয় আর্য ভাষার বিকাশের তিনটি স্তর পাওয়া যায়।
(ক) প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা।
(খ) মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষা ও
(গ) আধুনিক/নব্য ভারতীয় আর্য ভাষা।

উৎস: হিন্দু ধর্ম বই, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩২.
‘শব্দ ও ধাতুরূপ’ ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্বে
  2. বাক্যতত্ত্বে
  3. রূপতত্ত্বে
  4. অর্থতত্ত্বে
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্বে
ব্যাখ্যা
• বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় চারটি।
যথা:
- ধ্বনিতত্ত্ব,
- শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব,
- বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম ও
- অর্থতত্ত্ব।

• রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্ব:
ব্যাকরণে শব্দ বা পদের আলোচনাকে বলে রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্ব।

এর আলোচ্য বিষয় হলো:
- শব্দগঠন,
- প্রত্যয়,
- উপসর্গ,
- পদ পরিচয়,
- ক্রিয়া, 
- লিঙ্গ,
- পুরুষ,
- বচন,
- শব্দ ও ধাতুরূপ,
- সমাস। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৩৩.
বাংলা ভাষার কোন রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়া পদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে?
  1. ক) চলিত রীতি
  2. খ) লেখা রীতি
  3. গ) সাধু রীতি
  4. ঘ) কথ্য রীতি
সঠিক উত্তর:
গ) সাধু রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাধু রীতি
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার সাধু রীতির বৈশিষ্ট্য: 
- বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
- এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়া পদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৩৪.
মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ তাঁর বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেছিলেন—
  1. একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে
  2. বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকা অংশ হিসেবে
  3. একটি সাহিত্য গ্রন্থের অংশ হিসেবে
  4. ধর্মীয় গ্রন্থের অংশ হিসেবে
সঠিক উত্তর:
বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকা অংশ হিসেবে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকা অংশ হিসেবে
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: খ) বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকা অংশ হিসেবে।

----------------------
বাংলা ব্যাকরণ রচনার ইতিহাস:


প্রথম পর্যায়:
• প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় — ১৭৪৩ সালে।
• এটি পর্তুগিজ ভাষায় রচিত, লেখক ছিলেন — মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ।
• তিনি তাঁর — বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকাংশ হিসেবে এই ব্যাকরণ রচনা করেন।
 
ইংরেজি ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ:
• ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় — নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত বাংলা ব্যাকরণ।
• নাম: A Grammar of the Bengal Language. এটি ইংরেজি ভাষায় রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা ব্যাকরণ।
• ১৮০১ সালে — উইলিয়াম কেরি ইংরেজি ভাষায় রচনা করেন — A Grammar of the Bengalee Language। এর বঙ্গানুবাদ করেন — জন রবিনসন (১৮৪৬)।
 
বাংলা ভাষায় রচিত ব্যাকরণ:
• ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত হয় — রামমোহন রায়ের — ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’।
• এটি বাংলা ভাষায় রচিত — প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
 
উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১)।
- বাংলাপিডিয়া।

৮৩৫.
বাক্যের মৌলিক উপাদান কোনটি?
  1. শব্দ
  2. বর্ণ 
  3. ধ্বনি 
  4. অক্ষর 
সঠিক উত্তর:
শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দ
ব্যাখ্যা

- ভাষার মূল উপাদান- 'ধ্বনি'।
- বাক্যের মৌলিক উপাদান/ক্ষুদ্রতম - শব্দ।
- ভাষার মূল উপকরণ/প্রাণ - বাক্য।
- ভাষার মূল উপদান/ক্ষুদ্রতম একক - ধ্বনি এবং
- বর্ণ হচ্ছে শব্দের গঠনগত একক।

উল্লেখ্য,
বাক্যের ক্ষুদ্রতম একক/উপাদান হলো 'ধ্বনি'। কিন্তু বাক্যের মৌলিক উপাদান শব্দ। বাক্যের ক্ষেত্রে মৌলিক কথাটি উল্লেখ থাকলে উত্তর শব্দ হবে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৮৩৬.
কোনটি চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য?
  1. কাঠামো সাধারণত অপরিবর্তনীয়
  2. সর্বনাম পদের রূপ সংক্ষিপ্ত
  3. সুনির্ধারিত ব্যাকরণের অনুসারী
  4. তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম পদের রূপ সংক্ষিপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম পদের রূপ সংক্ষিপ্ত
ব্যাখ্যা

চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
১. চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদের রূপ সংক্ষিপ্ত। যেমন: করেছি, গিয়েছি।
২. চলিত ভাষায় সর্বনাম পদের রূপ সংক্ষিপ্ত। যেমন: তারা, তাদের।
৩. চলিত ভাষায় অনুসর্গের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: হতে, দিয়ে।
৪. চলিত ভাষায় তদ্ভব, অর্ধ-তৎসম, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার বেশি। যেমন: হাত, মাথা, ঘি, ধোয়া।
৫. চলিত ভাষার উচ্চারণ হালকা ও গতিশীল।
৬. চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
৭. চলিত ভাষা চটুল, জীবন্ত ও লোকায়ত।

অন্যদিকে,
সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষায় তৎসম শব্দের (সংস্কৃত শব্দ) প্রয়োগ বেশি। যেমন: হস্ত, মস্তক, ঘৃত, ধৌত।
- সাধু ভাষার উচ্চারণ গুরুগম্ভীর।
- সাধু ভাষা সুনির্ধারিত ব্যাকরণের অনুসারী
- এর কাঠামো সাধারণত অপরিবর্তনীয়

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

৮৩৭.
‘উক্তি’ ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. বাক্যতত্ত্ব
  2. ধ্বনিতত্ত্ব
  3. অর্থতত্ত্ব
  4. রূপতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়কে ৪ টি ভাগে ভাগ করা হয়:
- ধ্বনিতত্ত্ব,
- রূপতত্ত্ব,
- বাক্যতত্ত্ব,
- অর্থতত্ত্ব।

• ধ্বনিতত্ত্ব:
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনি যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• রূপতত্ত্ব:
রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। শব্দ ও পদনির্মানের বিভিন্ন দিক ব্যাকরণের এই অংশে আলোচিত হয়।
যেমন- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি।

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যের নির্মান ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

• অর্থতত্ত্ব:
ব্যকরণের এই অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একে বাগর্থও বলে। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৩৮.
নিচের কোন ভাষা নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী?
  1. সাধু
  2. কথ্য
  3. চলিত
  4. আঞ্চলিক
সঠিক উত্তর:
সাধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার সাধু রীতির বৈশিষ্ঠ্য: 
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয় পদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।

৮৩৯.
কোনটি সাধু রীতির শব্দ?
  1. তারা
  2. গৃহিণী
  3. করে
  4. মাথা
সঠিক উত্তর:
গৃহিণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৃহিণী
ব্যাখ্যা
• সঠিক উত্তর- খ) গৃহিণী।

খ) গিন্নি - এটি চলিত রীতির শব্দ।
- সাধু রীতিতে: "গৃহিণী"।

ব্যাখ্যা:
চলিত রীতি হলো আধুনিক বাংলা ভাষার স্বাভাবিক কথ্য রূপ যা সাধারণত লেখায় ব্যবহৃত হয়।

সাধু ও চলিত রীতির কিছু উদাহরণ:
- তাহারা - "তারা",
 - 'মস্তক' - 'মাথা',
- পার হইয়া - পেরিয়ে,
- করিয়া - করে,
- করিয়াছিলেন - করেছিলেন,
- করিলেন - করলেন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৪০.
কোনটি ভাষার মৌলিক অংশ নয়?
  1. ক) ধ্বনি
  2. খ) বাক্য
  3. গ) অর্থ
  4. ঘ) ব্যাকরণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যাকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা
প্রত্যেক ভাষারই মৌলিক অংশ ৪টি। সেগুলো হল - ধ্বনি, শব্দ, বাক্য এবং অর্থ। [উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৮৪১.
প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় -
  1. ১৭৫৮ সালে ইংরেজি ভাষায়
  2. ১৭৬৮ সালে ইংরেজি ভাষায়
  3. ১৭৭৮ সালে ইংরেজি ভাষায়
  4. ১৭৯৮ সালে ইংরেজি ভাষায়
সঠিক উত্তর:
১৭৭৮ সালে ইংরেজি ভাষায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৭৮ সালে ইংরেজি ভাষায়
ব্যাখ্যা
ব্যাকরণ ও বাংলা ব্যাকরণ:
- ব্যাকরণে ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- ব্যাকরণের কাজ ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ইত্যাদি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভাষার মধ্যকার সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করা। 
- যে বিদ্যাশাখায় বাংলা ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি বর্ণনা করা হয় তাকে বাংলা ব্যাকরণ বলে। 

১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ।
- বইটির নাম 'এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৪২.
নিচের কোনটি 'রূপতত্ত্ব' এর আলোচ্য বিষয় নয়?
  1. সমাস
  2. ক্রিয়ার কাল
  3. বচন
  4. কারক
সঠিক উত্তর:
কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারক
ব্যাখ্যা

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে।
- শব্দ, দ্বিরুক্ত শব্দ, বচন, সমাস, প্রত্যয়, উপসর্গ, অনুসর্গ, পদ- প্রকরণ, অনুজ্ঞা, ক্রিয়ার কাল, পুরুষ, লিঙ্গ, বচন, ধাতু প্রভৃতি।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দ গঠন প্রক্রিয়া।

অন্যদিকে,
'কারক' -'বাক্যতত্ত্ব' এর আলোচ্য বিষয়।

অর্থ্যাৎ, 
• 'রূপতত্ত্ব' এর আলোচ্য বিষয় নয় - কারক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা ভাষাঢ় ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৮৪৩.
ভারতীয় আর্য ভাষাগোষ্ঠীর কোন অংশ থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি?
  1. প্রাচীন ভারতীয় আর্য 
  2. নব্য ভারতীয় আর্য
  3. অন্ত্য-মধ্য ভারতীয় আর্য 
  4.  মধ্য-মধ্য ভারতীয় আর্য
সঠিক উত্তর:
নব্য ভারতীয় আর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নব্য ভারতীয় আর্য
ব্যাখ্যা

• নব্য ভারতীয় আর্য থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি। 

• ইন্দো-ইউরোপীয় থেকে বাংলা ভাষার বিবর্তনের কালক্রম নিম্নরূপ:

- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর উৎপত্তি আনুমানিক ৩৫০০ খ্রিস্টপূর্বে। ইন্দো-ইরানীয় ভাষাগোষ্ঠীর উৎপত্তি আনুমানিক ১৮০০ খ্রিস্টপূর্ব।
- প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষাগোষ্ঠীর উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটে আনুমানিক ১৫০০-৬০০ খ্রিস্টপূর্বে। ভাষাগোষ্ঠীর এই অংশ থেকে (বৈদিক, সংস্কৃত প্রভৃতি) ভাষা উৎপত্তি লাভ করে।

মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষাগোষ্ঠীর উৎপত্তি ও বিকাশ আনুমানিক ৬০০ খ্রিস্টপূর্ব থেকে ১০০০ খ্রিস্টাব্দ।
ক. আদি-মধ্য ভারতীয় আর্য ৬০০-২০০ খ্রিস্টপূর্ব (অশোক-প্রাকৃত ও পালি)।
খ. মধ্য-মধ্য ভারতীয় আর্য ২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৬০০ খ্রিস্টাব্দ (আদি শিলালিপিসমূহের প্রাকৃত নাটকীয় প্রাকৃত, শৌরসেনি, মহারাষ্ট্রি, মাগধি, জৈন, অর্ধমাগধি)।
গ. অন্ত্য-মধ্য ভারতীয় আর্য ৬০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১০০০ খ্রিস্টাব্দ (অপভ্রংশ-পশ্চিমা এবং শৌরসেনি অপভ্রংশ)।

নব্য ভারতীয় আর্যের উৎপত্তি ১০০০ খ্রিস্টাব্দে। ভাষাগোষ্ঠীর এই অংশ থেকে (কাশ্মীরি, জিপসি, সিন্ধি, লাহন্দি, পাঞ্জাবি, মালদ্বীপি, সিংহলি, গুজরাটি, হিন্দি-উর্দু, আওধি, ভোজপুরি, মৈথিলি, ওড়িয়া, বাংলা, অসমিয়া, মারাঠি।) ভাষা উৎপত্তি লাভ করে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।

৮৪৪.
'সমাস' ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. অর্থতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• 'সমাস' ব্যাকরণের 'রূপতত্ত্ব' অংশের আলোচ্য বিষয়।
 
• রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- উপসর্গ, সমাস, প্রত্যয়, পুরুষ রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। 
 
• অর্থতত্ত্ব: 
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বিপরীত শব্দ,
- প্রতিশব্দ,
- শব্দজোড়, 
- বাগধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে ।

• ধ্বনিতত্ত্ব:  
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্যন্ত্র, বাগ্যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• বাক্যতত্ত্ব: 
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।

৮৪৫.
বাংলা ভাষার আদি উৎসের নাম কী?
  1. ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষা
  2. দ্রাবিড়ীয় ভাষা
  3. ফারসি ভাষা
  4. সংস্কৃত ভাষা
সঠিক উত্তর:
ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষা
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ:
- বাংলা ভাষা হাজার বছরের পুরনো। বাংলা ভাষার উৎসমূলে যে ভাষার সন্ধান পাওয়া যায়, তার নাম ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষা
- আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বে ইউরোপের মধ্যভাগ হতে দক্ষিণ-পূর্বাংশ ভূভাগে ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষা প্রচলিত ছিল। এ ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষাই হলো বাংলা ভাষার আদি উৎস।
- বতবে এ আদি উৎস থেকে বিবর্তনের পরবর্তী ধাপেই বাংলা ভাষার জন্ম হয়নি। ভাষার স্বাভাবিক পরিবর্তন ও বিবর্তনের ধারায় অনেক কাল ধরে অনেকগুলো স্তর পেরিয়ে সপ্তম শতকে বাংলা ভাষার উদ্ভব ঘটেছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

৮৪৬.
'বন্য' শব্দের চলিত রূপ কোনটি?
  1. বুন
  2. বুনো
  3. বন
  4. বূন
সঠিক উত্তর:
বুনো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুনো
ব্যাখ্যা

• বন্য’ শব্দের চলিত রূপ: 'বুনো'। 

• এরূপ আরো কয়েকটি সাধু ভাষার  চলিত রূপ:
- পেরিয়ে - পার হইয়া।
- পড়ল - পড়িল।
- করে - করিয়া।
- শুকনো - শুষ্ক। শুকনা।
- জুতোর - জুতার।
- ভেঙে - ভাঙ্গিয়া।
- যেতে লাগল - যাইতে লাগিল।
- বুনো - বন্য।
- জুড়ে - জুড়িয়া।
- তুলো - তুলা।
- ফুটে রয়েছে - ফুটিয়া রহিয়াছে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।

৮৪৭.
‘লম্ফ প্রদান করিল’-এর চলিত রূপ কোনটি?
  1. ক) লাফ দিল
  2. খ) লম্ফ দিল
  3. গ) লম্ফ প্রদান করল
  4. ঘ) লাফ প্রদান করল
সঠিক উত্তর:
ক) লাফ দিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লাফ দিল
ব্যাখ্যা
‘লম্ফ প্রদান করিল’ - এর চলিত রূপ - লাফ দিলো।
৮৪৮.
ভাষা পরিবারের শ্রেণিবিভাগ নয় কোনটি?
  1. চিনা-তিব্বতীয়
  2. আফ্রিকীয়
  3. ইন্দো-এশিয়
  4. দ্রাবিড়ীয়
সঠিক উত্তর:
ইন্দো-এশিয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্দো-এশিয়
ব্যাখ্যা
• ভাষা পরিবারের শ্রেণিবিভাগ নয়- ইন্দো-এশিয়। 

--------------------
• বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ:
- পৃথিবীর ভাষাগুলো ইন্দো ইউরোপীয়, চিনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশিয় প্রভৃতি ভাষা পরিবারে ভাগ করা যায়।
- বাংলা ভাষার উৎপত্তি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-গোষ্ঠীর অন্তর্গত ইন্দো-ইরানীয় শাখাভুক্ত নব্য-ভারতীয় আর্য ভাষা থেকে।
- নব্য ভারতীয় আর্যগোষ্ঠীর এই ভাষা ঐতিহাসিক সূত্রে আইরিশ, ইংরেজি, ফরাসি, গ্রিক, রুশ, ফারসি ইত্যাদি ভাষার দূরবর্তী জ্ঞাতিভগ্নী।
- ড. মুহম্মদ হম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড়ি প্রাকৃত থেকে গৌড়ি অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গ-কামরুপির মধ্য দিয়ে বাংলা এসেছে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা এসেছে মাগধী প্রাকৃত থেকে মাগধী অপভ্রংশ হয়ে।

- ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে ভাষা গবেষকদের মধ্যে ড. শহীদুল্লাহর মতামতটি অধিক গ্রহণযোগ্য। অন্যান্য পণ্ডিতগণও এই মতামতকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

- উদ্ভবের সময় থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাকে তিনটি ঐতিহাসিক পর্যায়ে ভাগ করে দেখা হয়: প্রাচীন বাংলা (৯০০/১০০০-১৩৫০), মধ্যবাংলা
(১৩৫০-১৮০০) এবং আধুনিক বাংলা (১৮০০-র পরবর্তী)। প্রাচীন বাংলার লিখিত নিদর্শনের মধ্যে চর্যাগীতিকাগুলি সর্বপ্রধান। 

উৎস:বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলাপিডিয়া।
৮৪৯.
মনের ভাব প্রকাশ করার মাধ্যম কোনটি?
  1. ক) ভাষা
  2. খ) চিত্র
  3. গ) ইঙ্গিত
  4. ঘ) আচরণ
সঠিক উত্তর:
ক) ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভাষা
ব্যাখ্যা
• বাগযন্ত্রের দ্বারা উচ্চারিত অর্থবোধক ধ্বনির সাহায্যে মানুষের ভাব প্রকাশের মাধ্যমকে ভাষা বলে।
‘ভাষা হলো পরপর ধ্বনি ব্যবহার করে অর্থ প্রকাশের মানবিক উপায়।
ভাষাবিজ্ঞানীগণ বিভিন্নভাবে ভাষাকে সংজ্ঞায়িত করেছেন। যেমন :
প্রখ্যাত ভাষাতাত্ত্বিক ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, 
‘মনের ভাব প্রকাশের জন্য বাগ্‌যন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনির দ্বারা নিষ্পন্ন, কোনো বিশেষ জনসমাজে ব্যবহৃত, স্বতন্ত্রভাবে অবস্থিত, তথা বাক্যে প্রযুক্ত, শব্দ - সমষ্টিকে ভাষা বলে। '
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভাষার সংজ্ঞার্থ নিরূপণ করতে গিয়ে বলেছেন,
 ‘মনুষ্যজাতি যে ধ্বনি বা ধ্বনিসকল দ্বারা মনের ভাব প্রকাশ করে, তাহার নাম ভাষা ।’
ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে,
‘মানুষ তাহার মনের ভাব প্রকাশ করিবার জন্য কন্ঠ, জিহ্বা, তালু, ওষ্ঠ, দন্ত, নাসিকা, মুখবিবর প্রভৃতি বাগ্যন্ত্রের সাহায্যে অপরের বোধগম্য যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টির উচ্চারণ করিয়া থাকে, সেই ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টিকে ভাষা বলা হয়।”
ড. সুকুমার সেনের মতে, 
‘মনের ভাব প্রকাশ করার নিমিত্ত বিভিন্ন জাতির বা সমাজের সকল সত্যের বোধগম্য বাক্যসমূহের সমষ্টিকে সেই জাতির ভাষা বলে।’

 উৎস: ভাষা শিক্ষা -ড. হায়াৎ মামুদ ,বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি।
৮৫০.
বাংলা ভাষার মৌলিক অংশ নয় কোনটি?
  1. ধ্বনি
  2. শব্দ
  3. বাক্য
  4. বর্ণ
সঠিক উত্তর:
বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণ
ব্যাখ্যা
• কিন্তু বাংলা ভাষার মৌলিক অংশ - ৪ টি।
যথা- 
ক. ধ্বনি;
খ. শব্দ;
গ. বাক্য;
ঘ. অর্থ।

অন্যদিকে,
• বাংলা ভাষার মৌলিক অংশ নয় — "বর্ণ"। 

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণির (২০২২ সংস্করণ)।
৮৫১.
উপমহাদেশে ‘ব্রাহ্মী লিপির’ জন্ম হয় কতো বছর আগে? 
  1. প্রায় ১৫০০ বছর আগে
  2. প্রায় ২০০০ বছর আগে
  3. প্রায় ২৫০০ বছর আগে
  4. প্রায় ৩০০০ বছর আগে
সঠিক উত্তর:
প্রায় ২৫০০ বছর আগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রায় ২৫০০ বছর আগে
ব্যাখ্যা
বাংলা লিপি: 
- বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপি রয়েছে। এই লিপির নাম বাংলা লিপি।  
- বাংলা লিপিতে মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি - স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি। 

♠♠
• প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়।  
• ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতুক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে।
•  বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির বিবর্তিত রূপ। 
• অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুরি প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়। 
• সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হতো। 
• বাংলাদেশের জীবনযাত্রার প্রায় সবক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহারের বিষয়টি সরকারিভাবে বাধ্যতামূলক।
• এছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা প্রদেশের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা বাংলা। 

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৫২.
চলিত শব্দ কোনটি?
  1. ক) বলবেন
  2. খ) বলিবেন
  3. গ) বলিয়াছিলেন
  4. ঘ) বলাইয়াছিলেন
সঠিক উত্তর:
ক) বলবেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বলবেন
ব্যাখ্যা
- চলিত শব্দ: বলবেন।

• বাংলা ভাষার ৩টি রীতি রয়েছে।
যথা -
১. সাধু রীতি
২. চলিত রীতি
৩. আঞ্চলিক কথ্য রীতি বা উপভাষা

• চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ - আলোচনার জন্য উপযোগী।

• সাধু ও চলিত ভাষার প্রধান পার্থক্য হলো ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের ভিন্নতায়।
প্রদত্ত ‘বলিলেন’ এর চলিত রূপ - 'বললেন'।
এবং ‘বলিয়াছিলেন’ এর চলিত রূপ - 'বলেছেন'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৫৩.
ভাষার কোন রীতিতে ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল থাকে?
  1. সাধু রীতি
  2. চলিত রীতি
  3. তৎসম রীতি
  4. আঞ্চলিক রীতি
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
চলিত রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলিত রীতি
ব্যাখ্যা
চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
- এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
- এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
- চলিত ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষায় অপনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৫৪.
সাধু ও চলিত রীতি বাংলা ভাষার কোনরূপে বিদ্যমান?
  1. ক) আঞ্চলিক
  2. খ) উপভাষা
  3. গ) লেখ্য
  4. ঘ) কথ্য
সঠিক উত্তর:
গ) লেখ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লেখ্য
ব্যাখ্যা
অধিকাংশ ভাষায় অন্তত দুটি রীতি থাকে 
- মৌখিক বা কথ্য 
- লৈখিক বা লেখ্য রূপ 

ভাষার মৌখিক রূপের আবার একাধিক রীতি: একটি চলিত কথ্য রীতি আরেকটি আঞ্চলিক কথ্য রীতি। 
বাংলা ভাষার লৈখিক বা লেখ্য রূপেরও দুইটি রূপ আছে: একটি চলিত রীতি ও অপরটি সাধু রীতি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৫৫.
সাধু রীতিতে ক্রিয়াররূপ কেমন হবে?
  1. দীর্ঘতর 
  2. পরিবর্তন হয় না
  3. হ্রস্বতর
  4. সংক্ষিপ্ত হয়
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘতর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘতর 
ব্যাখ্যা

• সাধু রীতি: 
দাপ্তরিক কাজ, সাহিত্য রচনা, যোগাযোগ ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনে লেখ্য বাংলা ভাষায় সাধু রীতির জন্ম হয়। উনিশ শতকের শুরুর দিকে সাধু রীতির বিকাশ ঘটে। প্রায় দুই শতাব্দী ধরে এই রীতি বাংলা লেখ্য ভাষার আদর্শ রীতি হিসেবে চালু থাকে।

• সাধু রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য: 
(ক) সাধু রীতিতে ক্রিয়ারূপ দীর্ঘতর হয়, যেমন ‘করা' ক্রিয়ার রূপ: করিতেছে, করিয়াছে, করিল, - করিলে, করিলাম, করিত, করিতেছিল, করিয়াছিল, করিব, করিবে, করিতে, করিয়া করিলে, করিবার।
(খ) সাধু রীতির বহু সর্বনামে ‘হ’-বর্ণ যুক্ত থাকে, যেমন – তাহারা, ইহাদের, যাহা, তাহা, উহা, কেহ ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 

৮৫৬.
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দের গুচ্ছকে কি বলে?
  1. ক) বর্গ
  2. খ) বাক্যাংশ
  3. গ) অক্ষর
  4. ঘ) বর্ণ
সঠিক উত্তর:
ক) বর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বর্গ
ব্যাখ্যা
• এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রতিটি শব্দকে পদ বলে।
- বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দের গুচ্ছ অনেক সময় পদের মত কাজ করে।
- তখন সেই একাধিক শব্দের গুচ্ছকে বর্গ বলে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৫৭.
ভাষার অর্থযুক্ত ক্ষুদ্রতম একক কোনটি?
  1. অক্ষর
  2. রূপমূল
  3. শব্দ
  4. বর্গ
সঠিক উত্তর:
রূপমূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপমূল
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) রূপমূল।

----------------------
• শব্দ ও রূপমূল:

শব্দকে আরও ক্ষুদ্রতর অংশে বিভক্ত করলে এমন উপাদান পাওয়া যায় যা অর্থ প্রকাশে অংশগ্রহণ করে। ভাষার এই ক্ষুদ্রতম অর্থযুক্ত একককে বলা হয় রূপমূল। অর্থাৎ, রূপমূল হলো ভাষার ক্ষুদ্রতম উপাদান যাদের সুস্পষ্ট অর্থ থাকবে বা অন্ততপক্ষে অর্থের কোনো যৌক্তিক ইঙ্গিত থাকবে।

আমরা জানি, ভাষার সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম উপাদান হলো ধ্বনিমূল, তবে ধ্বনিমূলের মধ্যে কোনো অর্থ বহন করার ক্ষমতা নেই। অন্যদিকে, রূপমূল সর্বদা কোনো না কোনোভাবে অর্থসংশ্লিষ্ট থাকে।

উদাহরণ:
• শব্দ: অবোধ।
• রূপমূল বিশ্লেষণ: অ + বোধ,

এখানে,
 • ‘অ’ → উপসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত, স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে না পারলেও অভাব বোঝায়।
• ‘বোধ’ → স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে।

রূপমূলের শ্রেণীবিন্যাস:
- মুক্ত রূপমূল (Free Morpheme): স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে।
উদাহরণ: বোধ, গান, মাটি।

- বদ্ধ রূপমূল (Bound Morpheme): স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে না, অন্য রূপমূলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অর্থ বোঝায়।
উদাহরণ: ‘অ’ (অবোধে), ‘উৎ’ (উৎক্ষেপণে)।
 
উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৮৫৮.
'যতিচিহ্ন' ব্যাকরণের কোন তত্ত্বে আলোচনা করা হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. অর্থতত্ত্ব
  3. রূপতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়কে ৪টি ভাগে ভাগ করা হয়:
- ধ্বনিতত্ত্ব,
- রূপতত্ত্ব,
- বাক্যতত্ত্ব,
- অর্থতত্ত্ব।

• ধ্বনিতত্ত্ব:
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনি যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• রূপতত্ত্ব:
রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। শব্দ ও পদনির্মানের বিভিন্ন দিক ব্যাকরণের এই অংশে আলোচিত হয়।
যেমন- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি।

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যের নির্মান ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

• অর্থতত্ত্ব:
ব্যকরণের এই অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একে বাগর্থও বলে। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৮৫৯.
'করিয়াছিলেন' এর চলিত রূপ কী হবে?
  1. করেছেন
  2. করেছিলেন
  3. করিলেন
  4. করলেন
সঠিক উত্তর:
করেছিলেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করেছিলেন
ব্যাখ্যা

- 'করিয়াছিলেন' এর চলিত রূপ হচ্ছে- করেছিলেন।

সাধু ও চলিত রীতির কিছু উদাহরণ:
- 'পার হইয়া' এর চলিত রূপ হচ্ছে- পেরিয়ে,
- 'পড়িল' এর চলিত রূপ হচ্ছে- পড়ল/পড়লো,
- 'করিয়া' এর চলিত রূপ হচ্ছে - করে,
- 'করিলেন' এর চলিত রূপ হচ্ছে- করলেন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৮৬০.
আঞ্চলিক ভাষার অপর নাম কী?
  1. পালি ভাষা
  2. খাঁটি বাংলা ভাষা
  3. দেশি ভাষা
  4. উপভাষা
সঠিক উত্তর:
উপভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপভাষা
ব্যাখ্যা
• আঞ্চলিক ভাষার অপর নাম উপভাষা।

• উপভাষা:
• উপভাষা হচ্ছে প্রমিত ভাষার (Standard Language) পাশাপাশি প্রচলিত অঞ্চলবিশেষের জনগোষ্ঠী কর্তৃক ব্যবহূত আঞ্চলিক ভাষা। পৃথিবীর সর্বত্রই প্রমিত ভাষার পাশাপাশি এক বা একাধিক আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা (Dialect) ব্যবহূত হয়ে থাকে।

• প্রমিত ভাষার সঙ্গে উপভাষার ব্যবধান ধ্বনি, রূপমূল, উচ্চারণ ও ব্যাকরণগত কাঠামোর মধ্যে নিহিত থাকে। সাধারণত প্রমিত ভাষায় ভাষাভঙ্গির সংখ্যা বৃদ্ধি, ভৌগোলিক ব্যবধান এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক শ্রেণিবিন্যাসগত পার্থক্যের কারণে উপভাষার সৃষ্টি হয়। প্রমিত ভাষা দেশের সর্বস্তরে ব্যবহূত হয়; লিখিত পদ্ধতির ক্ষেত্রেও তা অনুসৃত হয়, কিন্তু উপভাষার ব্যবহার কেবল বিশেষ অঞ্চলের জনসাধারণের মধ্যেই সীমিত থাকে।

• বাংলাদেশে বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সামাজিক ও ধর্মীয় কারণে বিভিন্ন উপভাষার সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটিশ আমলে কলকাতায় স্বতন্ত্র শ্রেণির প্রমিত ভাষা গড়ে উঠলেও ঢাকায় তা হয়নি; এমনকি ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ার পরেও নয়।

• বাংলাদেশের উপভাষাসমূহকে প্রধানত চার শ্রেণিতে ভাগ করা যায়, যথা: ১. উত্তরবঙ্গীয় দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া ও পাবনায় প্রচলিত উপভাষা; ২. রাজবংশী রংপুরের উপভাষা; ৩. পূর্ববঙ্গীয় (ক) ঢাকা, ময়মনসিংহ, ত্রিপুরা, বরিশাল ও সিলেটের উপভাষা, (খ) ফরিদপুর, যশোর ও খুলনার উপভাষা এবং ৪. দক্ষিণাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও চাকমা উপভাষা। 

• বাংলাদেশে উপভাষার বহুল ব্যবহারের জন্য উপভাষাভাষী ও প্রমিত ভাষাভাষীদের মধ্যে বৈষম্য লক্ষ্য করা যায়। বাংলা ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে তিনটি ভাষারীতি সমানভাবে ব্যবহূত হয়ে থাকে। সাধারণভাবে শিক্ষিত শ্রেণির মধ্যে লেখ্য ও কথ্যরূপে প্রমিত বাংলা, লিখিতরূপে ও পাঠ্যপুস্তকে সাধু/চলিত রীতি এবং বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষাভাষীদের মধ্যে মৌখিক ভাষারূপে উপভাষা ব্যবহূত হয়।

• বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান ১৯৬৫ সালে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র সম্পাদনায় বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
• পালি প্রাচীন ভারতের একটি অন্যতম বড় ভাষা। ‘পালি’ শব্দটি ‘পাঠ’ (Sacred Text) অর্থে ব্যবহূত হয়েছে। গৌতম বুদ্ধ এ ভাষায় শিষ্যদের পাঠ বা উপদেশ দিতেন; তাই বুদ্ধবচনই হচ্ছে পালি (ইতি পি পালি)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৬১.
কোন ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়?
  1. সাধু ভাষা
  2. চলিত ভাষা
  3. আঞ্চলিক ভাষা
  4. প্রমিত ভাষা
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষা
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয় তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া, অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ বই।
৮৬২.
‘সন্ধি’ ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. রূপতত্ত্ব
  2. অর্থতত্ত্ব
  3. ধ্বনিতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনের নাম সন্ধি। ধ্বনির বিন্যাসের মাধ্যমে সন্ধি শব্দ গঠন করে। সুতরাং সন্ধি ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়কে ৪ টি ভাগে ভাগ করা হয়:
- ধ্বনিতত্ত্ব,
- রূপতত্ত্ব,
- বাক্যতত্ত্ব,
- অর্থতত্ত্ব।

• ধ্বনিতত্ত্ব:
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনি যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• রূপতত্ত্ব:
রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে। এই আলোচনায় বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়। বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দ গঠন প্রক্রিয়া।

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যের নির্মাণ ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

• অর্থতত্ত্ব:
ব্যকরণের এই অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একে বাগর্থও বলে। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৬৩.
কোনটি ভাষা-পরিবারের নাম নয়?
  1. অস্ট্রো-এশীয়
  2. ইন্দো-দ্রাবিড়ীয়
  3. চীনা-তিব্বতীয়
  4. সেমীয়-হেমীয়
সঠিক উত্তর:
ইন্দো-দ্রাবিড়ীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্দো-দ্রাবিড়ীয়
ব্যাখ্যা
• ভাষা-পরিবারের নাম নয়: ইন্দো-দ্রাবিড়ীয়

বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে।
- বাংলা ভাষা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'।
- ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৬৪.
ধ্বনির সৃষ্টি হয় কীসের সাহায্যে?
  1. কলমের সাহায্যে
  2. অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সাহায্যে
  3. ঠোঁটের সাহায্যে
  4. বাগ্​যন্ত্রের সাহায্যে
সঠিক উত্তর:
বাগ্​যন্ত্রের সাহায্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাগ্​যন্ত্রের সাহায্যে
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি ও বাগ্‌যন্ত্র: 
- ধ্বনির সৃষ্টি হয় — বাগ্​যন্ত্রের সাহায্যে।
- গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিহ্বা, তালু, দাঁত, নাক ইত্যাদি বাক্‌ প্রত্যঙ্গকে এক কথায় বলে বাগ্‌যন্ত্র।
- বাগযন্ত্রের দ্বারা উচ্চারিত অর্থবােধক ধ্বনির সাহায্যে মানুষের মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যমকে ভাষা বলে।

অন্যদিকে, 
- ভাষার ক্ষুদ্রতম একক হলাে 'ধ্বনি'।
- এটা ভাষার মৌলিক অংশ। ধ্বনিকে শব্দের ক্ষুদ্রতম এককও বলা হয়।
- ধ্বনির লিখিত রূপ হলাে বর্ণ।
- ধ্বনি চেনার স্মারক বা চিহ্ন বা প্রতীকই বর্ণ।
- শব্দের ক্ষুদ্রতম অংশ হলাে অক্ষর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
৮৬৫.
সংস্কৃত শব্দবহুল ভাষা রীতি কোনটি?
  1. আঞ্চলিক ভাষা রীতি
  2. চলিত ভাষা রীতি
  3. সাধু ভাষা রীতি
  4. উপভাষা ভাষা রীতি
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষা রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষা রীতি
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

অপরদিকে,
• চলিত / প্রমিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে -চলিতরীতি/ চলনরীতি।
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনে চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ-আলোচনার জন্য উপযোগী।
- চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।

• আঞ্চলিক কথ্য রীতি:
কথ্য রীতির আঞ্চলিক ভেদ সহজে বােঝা যায়। এই আঞ্চলিক ভেদ সাধারণত অঞ্চলের নামে পরিচিতি পায়। যেমন নােয়াখালীর ভাষা, চাপাই নবাবগঞ্জের ভাষা, কিংবা সুন্দরবন অঞ্চলের ভাষা। ভাষার এই আঞ্চলিকতা উপভাষা নামে আখ্যায়িত হয়ে থাকে। বাঙ্গালি (বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চল), পূর্বি (বাংলাদেশের পূর্ব অঞ্চল, ত্রিপুরা এবং আসামের বরাক অঞ্চল), বরেন্দ্রি (বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল), কামরূপি (বিহারের পূর্ব অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অঞ্চল এবং বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চল), রাঢ়ি (পশ্চিমবঙ্গ)। ঝাড়খণ্ডি (পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম অঞ্চল ও ঝাড়খণ্ডের পূর্ব অঞ্চল) প্রভৃতি কয়েকটি উপভাষার নাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া, অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ বই।
৮৬৬.
প্রমিত রীতিতে কোন ধরনের শব্দ বর্জনীয়?
  1. সাহিত্যিক শব্দ
  2. তদ্ভব শব্দ
  3. কথ্য রীতির বহু শব্দ
  4. তৎসম শব্দ
সঠিক উত্তর:
কথ্য রীতির বহু শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথ্য রীতির বহু শব্দ
ব্যাখ্যা
প্রমিত রীতি:
- বিশ শতকের সূচনায় কলকাতার শিক্ষিত লোকের কথ্য ভাষাকে লেখ্য রীতির আদর্শ হিসেবে চালু করার চেষ্টা হয়।
- এটি তখন চলিত রীতি নামে পরিচিতি পায়।
- একুশ শতকের সূচনা নাগাদ এই চলিত রীতিরই নতুন নাম হয় ‘প্রমিত রীতি’। এটি ‘মান রীতি’ নামেও পরিচিত।

প্রমিত রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
- প্রমিত রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গ হ্রস্বতর।
- প্রমিত রীতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের শব্দ ব্যবহার করা যায়।
যেমন:
- তৎসম ‘বৎসর’-ও লেখা যায় আবার তদ্ভব ‘বছর’-ও লেখা যায়।
- প্রমিত রীতিতে কথ্য রীতির বহু শব্দ বর্জনীয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৮৬৭.
নিচের কোনটি সাধু ভাষায় ব্যবহার উপযোগী নয়?
  1. গল্প লেখা
  2. কবিতা লেখা
  3. প্রবন্ধ লেখা
  4. বক্তৃতা দেওয়া
সঠিক উত্তর:
বক্তৃতা দেওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বক্তৃতা দেওয়া
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

 উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৮৬৮.
বাংলা ভাষার রীতি কয়টি?
  1. একটি
  2. দুটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
সঠিক উত্তর:
দুটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুটি
ব্যাখ্যা
অধিকাংশ ভাষায় অন্তত দুটি রীতি থাকে:
১. কথ্য ভাষা রীতি ও
২. লেখ্য ভাষা রীতি।

বাংলা ভাষায় এসব রীতির একাধিক বিভাজন রয়েছে।
যেমন কথ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে-
১. আদর্শ কথ্য রীতি ও
২. আঞ্চলিক কথ্য রীতি।

আবার লেখ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে-
১. প্রমিত রীতি,
২. সাধু রীতি ও
৩. কাব্য রীতি। 

উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ ( ২০২২ সংস্করণ )
৮৬৯.
চলিত ভাষার শব্দ কোনটি?
  1. বন্য
  2. মস্তক
  3. তুলো
  4. ঘৃত
সঠিক উত্তর:
তুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুলো
ব্যাখ্যা

 সাধু ও চলিত ভাষায় বিশেষ্য  ও সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:

সাধু - চলিত
→  আসিয়া - এসে।
মস্তক- মাথা
→  জুতা- জুতো;
→  তুলা-  তুলো;
→  শুষ্ক/শুকনা - শুকনো;
→  বন্য - বুনো;
→  তাঁহারা/উঁহারা -তাঁরা/ওঁরা;
→  তাহাকে/উহাকে - তাকে/ওকে;
→  তাহার/তাঁহার - তার/তাঁর;
→  পাইয়াছিলেন - পেয়েছিলেন;
→  হইলেন - হলেন;

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০১৯ সংস্করণ)।

৮৭০.
নিচের কোনটি ভাষা-পরিবারের নাম নয়?
  1. সেমীয়-হেমীয়
  2. অস্ট্রো-এশীয়
  3. চীনা-তিব্বতীয়
  4. ইন্দো-সেমীয়
সঠিক উত্তর:
ইন্দো-সেমীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্দো-সেমীয়
ব্যাখ্যা
• ভাষা-পরিবারের নাম নয় - ইন্দো-সেমীয়।

বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে।
- বাংলা ভাষা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'।
- ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
৮৭১.
’প্রতিশব্দ,শব্দজোড়’ ব্যাকরণের কোন তত্ত্বের আলোচ্য বিষয়?
  1. বাক্যতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. ধ্বনিতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• ’প্রতিশব্দ,শব্দজোড়’  বাংলা ব্যাকরণের 'অর্থতত্ত্ব' অংশে আলোচিত হয়। 

• রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- উপসর্গ, সমাস, প্রকৃতি, প্রত্যয়, পুরুষ রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।  
 
• অর্থতত্ত্ব: 
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বিপরীত শব্দ,
- প্রতিশব্দ,
- শব্দজোড়, 
- বাগধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে ।

• ধ্বনিতত্ত্ব: 
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্যন্ত্র, বাগ্যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• বাক্যতত্ত্ব: 
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মাহমুদ। 

৮৭২.
বাঙ্গালি উপভাষা অঞ্চল কোনটি?
  1. নদীয়া
  2. ত্রিপুরা
  3. পুরুলিয়া
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার আঞ্চলিক কথ্য রীতির পার্থক্য সহজেই অঞ্চল ভেদে বুঝা যায়। আঞ্চলিক ভেদে ভাষার এই ভিন্নতা উপভাষা নামে পরিচিত।
- সেই হিসেবে 'বাঙ্গালি' উপভাষা বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চলে যেসকল জেলা রয়েছে,সেই সব অঞ্চলের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

• কয়েকটি উপভাষার নাম :
- বাঙ্গালি (বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চল),
- পূর্বি (বাংলাদেশের পূর্ব অঞ্চল, ত্রিপুরা এবং আসামের বরাক অঞ্চল),
- বরেন্দ্রি (বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল),
- কামরূপি (বিহারের পূর্ব অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অঞ্চল এবং বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চল),
- রাঢ়ি (পশ্চিমবঙ্গ),
- ঝাড়খণ্ডি (পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম অঞ্চল ও ঝাড়খণ্ডের পূর্ব অঞ্চল) প্রভৃতি।

• উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়,
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে ''বরিশাল''ই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত উত্তর।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৭৩.
সাধু ভাষা থেকে চলিত ভাষায় লিখতে পদ যুগলের পরিবর্তন ঘটে?
  1. ক) সর্বনাম ও ক্রিয়া
  2. খ) বিশেষ্য ও বিশেষণ
  3. গ) বিশেষণ ও ক্রিয়া
  4. ঘ) বিশেষ্য ও সর্বনাম
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক) সর্বনাম ও ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সর্বনাম ও ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
- সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।
- চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।
সুতরাং, এই দুটি পদের ভিন্নতার জন্যই সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য নির্ণয় করা যায়।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৮৭৪.
কোন ভাষা রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী?
  1. সাধু রীতি
  2. চলিত রীতি
  3. কথ্য রীতি
  4. আঞ্চলিক কথ্য রীতি
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
ব্যাখ্যা

সাধু রীতি:
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

অন্যদিকে,
• চলিত রীতি:
(ক) চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করেছে।
(খ) এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
(গ) চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী।
(ঘ) সাধুরীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৮৭৫.
'সন্ধি' ব্যাকরণের কোন তত্ত্বে আলোচিত হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• ধ্বনিতত্ত্ব:
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত। ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য- বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়সমূহ হলো-
- ধ্বনি,
- বর্ণ,
- ধ্বনির উচ্চারণ প্রণালি,
- উচ্চারণের স্থান,
- ধ্বনি পরিবর্তন ও লোপ,
- ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
- সন্ধি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৮৭৬.
"কারক বিশ্লেষণ" - ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• ধ্বনিতত্ত্ব:
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনি যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• রূপতত্ত্ব:
রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। শব্দ ও পদনির্মাণের বিভিন্ন দিক ব্যাকরণের এই অংশে আলোচিত হয়।
যেমন- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি।

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যের নির্মান ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

• অর্থতত্ত্ব:
ব্যকরণের এই অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একে বাগর্থও বলে। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৭৭.
'প্রকৃতি ও প্রত্যয়' কোন তত্ত্বের আলোচ্য বিষয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• 'প্রকৃতি ও প্রত্যয়' বাংলা ব্যাকরণের 'রূপতত্ত্ব' অংশে আলোচিত হয়। 

• রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- উপসর্গ, সমাস, প্রকৃতি, প্রত্যয়, পুরুষ রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।  
 
• অর্থতত্ত্ব: 
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বিপরীত শব্দ,
- প্রতিশব্দ,
- শব্দজোড়, 
- বাগধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে ।

• ধ্বনিতত্ত্ব: 
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্যন্ত্র, বাগ্যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• বাক্যতত্ত্ব: 
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মাহমুদ। 

৮৭৮.
বাচ্য ও উক্তি ব্যাকরণের কোন শাখায় আলোচিত হয়?
  1. বাক্যতত্ত্ব
  2. ধ্বনিতত্ত্ব
  3. রূপতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৮৭৯.
বাংলা কোন ভাষাবংশের শতম শাখাভুক্ত ভাষা?
  1. প্রাকৃত
  2. ইন্দো-ইউরোপীয়
  3. ভারতীয় আর্য
  4. ইন্দো-ইরানীয়
সঠিক উত্তর:
ইন্দো-ইউরোপীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্দো-ইউরোপীয়
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষা পরিবার:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।

- পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে। ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো বাংলা ভাষায় ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য। 

- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে। এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করেতে হয়েছে।
সেগুলো হলো:
ইন্দো-ইউরোপীয় -  ইন্দো-ইরানীয় - ভারতীয় আর্য - প্রাকৃত - বাংলা।

- বাংলা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশের শতম শাখার একটি ভাষা।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া। ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮৮০.
নিজের কোনটি শব্দালঙ্কার নয়?
  1. যমক
  2. উপমা
  3. অনুপ্রাস
  4. শ্লেষ
সঠিক উত্তর:
উপমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপমা
ব্যাখ্যা
• শব্দালঙ্কার নয় - উপমা।

⇒ অলঙ্কার:

কোন বাক্য পাঠ করার সময় তার দুটি দিক পাঠককে আকৃষ্ট করে: ধ্বনি (Sound) ও অর্থ (Sense)। তাই শব্দের ধ্বনিরূপ ও অর্থরূপের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে প্রধানত দু ধরনের অলঙ্কার সৃষ্টি হয়।
১. ধ্বনিরূপকে অবলম্বন করে যে অলঙ্কার সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় শব্দালঙ্কার।
২. আর শব্দের অর্থকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অলঙ্কারকে বলা হয় অর্থালঙ্কার।

• শব্দালঙ্কার:
একই ধ্বনির এরূপ পুনরাবৃত্তির মাধ্যমেই শব্দালঙ্কারের সৃষ্টি হয়। শব্দালঙ্কারের নানা শ্রেণিবিভাগ রয়েছে; তার মধ্যে প্রধান বিভাগগুলি হচ্ছে:
- অনুপ্রাস,
- যমক,
- বক্রোক্তি,
- শ্লেষ ও
- পুনরুক্তবদাভাস।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৮১.
চলিত ভাষারীতির ক্ষেত্রে শুদ্ধ নয় কোনটি?
  1. চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
  2. চলিত ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
  3. এই রীতিতে অভিশ্রুতির ব্যবহার নেই।
  4. এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
সঠিক উত্তর:
এই রীতিতে অভিশ্রুতির ব্যবহার নেই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এই রীতিতে অভিশ্রুতির ব্যবহার নেই।
ব্যাখ্যা
• চলিত ভাষারীতির ক্ষেত্রে শুদ্ধ নয়- এই রীতিতে অভিশ্রুতির ব্যবহার নেই।

----------------------
• চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
- এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
- এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
- চলিত ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষায় অপিনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৮২.
মানুষ মনের ভাব আদান-প্রদান করে কী দিয়ে?
  1. ক) ধ্বনি
  2. খ) শব্দ
  3. গ) বাক্য
  4. ঘ) কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
গ) বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাক্য
ব্যাখ্যা
বাক্য দিয়ে মানুষ মনের ভাব আদান-প্রদান করে।

• গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিভ, তালু, দাঁত, নাক প্রভৃতি প্রত্যঙ্গ দিয়ে মানুষ নানা রকম ধ্বনি তৈরি করে।
- এক বা একাধিক ধ্বনি দিয়ে তৈরি হয় শব্দ। শব্দের গুচ্ছ দিয়ে বাক্য গঠিত হয়।
- বাক্য দিয়ে মানুষ মনের ভাব আদান-প্রদান করে।
- মনের ভাব প্রকাশক এসব বাক্যের সমষ্টিকে বলে ভাষা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৮৩.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে কত খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষা স্বতন্ত্ররূপ পরিগ্রহ করে?
  1. ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে 
  2. ৫৬০ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে 
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার উৎপত্তি:
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মনে করেন, ভারতীয় ভাষা থেকেই বৈদিক এবং প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার সৃষ্টি। খ্রিষ্টপূর্ব আটাশ অব্দে প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা থেকেই আদিম প্রাকৃত ভাষার সৃষ্টি। আনুমানিক দুইশ খ্রিষ্টপূর্ব অব্দে এই ভাষা থেকেই গৌড়ীয় প্রাকৃত এবং আনুমানিক চারশ অব্দে গৌড়ী পাকৃত থেকে গৌড়ী অপভ্রংশের সৃষ্টি।

• জর্জ গ্রিয়ারসন, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়সহ অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী মনে করেন মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।

• কিন্তু ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে গৌড় অপভ্রংশ থেকে আনুমানিক খ্রিষ্টীয় পাঁচশ অব্দে বঙ্গ কামরূপী ভাষার তৈরী। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে গৌড় অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গকামরূপী ভাষার মাধ্যমে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষা স্বতন্ত্ররূপ পরিগ্রহ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৮৪.
কোনটি সাধুরীতির শব্দ?
  1. ওঁরা
  2. সাথে
  3. সহিত
  4. সঙ্গে
সঠিক উত্তর:
সহিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহিত
ব্যাখ্যা
• ‘সহিত’ শব্দটি সাধুর ভাষার শব্দ।
- এর চলিত রূপ সাথে / সঙ্গে।

অন্যদিকে,
- ‘ওঁরা’ শব্দটি চলিত ভাষার শব্দ। এর সাধু রূপ - তাহাঁরা / উহাঁরা।

সাধু ভাষা:
- বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ; এর নবীন ও বর্তমানে বহুল প্রচলিত রূপটি হলো চলিত।
- সাধু ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের এবং চলিত ভাষা সর্বসাধারণের জীবন-ঘনিষ্ঠ। ভাষার এই দ্বিধারিক প্রপঞ্চকে বলা হয় দ্বি-ভাষারীতি।
- সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত। এ ভাষায় তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি। এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির রূপ মৌখিক ভাষার রূপ অপেক্ষা পূর্ণতর।
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।

চলিতরীতি:
- বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে - চলিতরীতি / চলনরীতি।
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারণে চলিত রীতি পরিবর্তিত রুপ লাভ করে।
- চলিত ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৮৫.
চলিত ভাষার শব্দ কোনটি?
  1. জুতা
  2. শুষ্ক
  3. বুনো
  4. সহিত
সঠিক উত্তর:
বুনো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুনো
ব্যাখ্যা

• সাধু ও চলিত ভাষায় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:

 সাধু - চলিত:
আসিয়া - এসে;
মস্তক - মাথা;
জুতা - জুতো;
তুলা - তুলো;
শুষ্ক/শুকনা - শুকনো;
বন্য - বুনো;
পড়িল - পড়ল/পড়লো;
করিয়া - করে;
ভাঙিয়া - ভেঙে;
যাইতে - যেতে;
ফুটিয়া -  ফুটে; 
সহিত - সঙ্গে/সাথে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৮৮৬.
লেখ্য ভাষা রীতি নয় কোনটি?
  1. প্রমিত রীতি
  2. কাব্য রীতি
  3. সাধু রীতি
  4. আদর্শ কথ্য রীতি
সঠিক উত্তর:
আদর্শ কথ্য রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদর্শ কথ্য রীতি
ব্যাখ্যা
• অধিকাংশ ভাষায় অন্তত দুটি রীতি থাকে:
১. কথ্য ভাষা রীতি ও
২. লেখ্য ভাষা রীতি।

• বাংলা ভাষায় এসব রীতির একাধিক বিভাজন রয়েছে।
যেমন কথ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে -
১. আদর্শ কথ্য রীতি ও
২. আঞ্চলিক কথ্য রীতি।

• আবার লেখ্য ভাষা রীতির হচ্ছে ৩টি -
১. প্রমিত রীতি,
২. সাধু রীতি ও
৩. কাব্য রীতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ )
৮৮৭.
নিচের কোন ক্ষেত্রে সাধু ভাষার ব্যবহার উপযোগী নয়?
  1. গদ্য 
  2. গল্পে 
  3. কথাবার্তায় 
  4. কবিতায় 
সঠিক উত্তর:
কথাবার্তায় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথাবার্তায় 
ব্যাখ্যা

• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

 উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৮৮৮.
সাধু ভাষারীতি কোথায় ব্যবহৃত হয়?
  1. বক্তৃতায়
  2. লেখায়
  3. নাটকের সংলাপে
  4. কথাবার্তায়
সঠিক উত্তর:
লেখায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লেখায়
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
ক. সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
খ. এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
গ. সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
ঘ. সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
ঙ. সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৮৮৯.
ভাষার কোন রীতি কেবলমাত্র লেখ্যরূপে ব্যবহৃত হয়?
  1. কথ্য রীতি
  2. আঞ্চলিক রীতি
  3. সাধু রীতি
  4. চলিত রীতি
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
ব্যাখ্যা
 • সাধু রীতি:
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এই রীতি তৎসম শব্দ বহুল ও গুরুগম্ভীর। এটি শুধু লেখার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বকৃতার জন্য অনুপযোগী।
- এই রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।
- ভাষার এ রীতি সর্বজনস্বীকৃত লেখ্যরূপে ব্যবহৃত হয়। 

• চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ - আলোচনার জন্য উপযোগী।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৯০.
বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় কোনটি?
  1. ফারসি ও উর্দু
  2. নেপালি ও সিংহলি
  3. হিন্দি ও উর্দু
  4. অহমিয়া ও ওড়িয়া
সঠিক উত্তর:
অহমিয়া ও ওড়িয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অহমিয়া ও ওড়িয়া
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে। ইংরেজি, জার্মান,ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো বাংলা ভাষায় ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া।
- আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন ‘চর্যাপদ’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৮৯১.
সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য কোন পদে বেশি পাওয়া যায়? 
  1. ক্রিয়া ও সর্বনাম
  2. বিশেষণ ও সর্বনাম 
  3. বিশেষণ ও ক্রিয়াবিশেষ্য
  4. বিশেষ্য ও ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া ও সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া ও সর্বনাম
ব্যাখ্যা

সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য ক্রিয়া ও সর্বনাম পদে বেশি পাওয়া যায়।
-----------------------
• সাধু ভাষা:
- সাধু ভাষারীতি হলো সেই রীতি, যেখানে ক্রিয়ারূপ দীর্ঘতর হয়।
- যেমন করিতেছে, করিয়াছে, করিল, করিলে, করিতেছিল, করিয়াছিল, করিবার।
- সর্বনামে হ যুক্ত থাকে।
- যেমন তাহারা, যাহা, তাহা, উহা, এবং রূপ অপরিবর্তনীয়, অঞ্চল বা সময় অনুযায়ী পরিবর্তিত হয় না।
- এতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি, যা ভাষায় আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য যোগ করে।
- সাধু রীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে, পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত থাকে। 
- এই ভাষা সাধারণত শুধু লেখায় ব্যবহৃত হয়, কথাবার্তা বা বক্তৃতার জন্য নয়।
- এছাড়াও, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এই ভাষায় পূর্ণরূপে ব্যবহৃত হয়।

চলিত ভাষা:
- বিশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে সাধু রীতির স্থলে চলিত বা প্রমিত রীতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
- একুশ শতকের শুরুতে এটি পরিচিত হয় প্রমিত রীতি বা নাম রীতি নামে।
- বর্তমান বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় দাপ্তরিক কাজ, বিদ্যাচর্চা, সাংবাদিকতা ও যোগাযোগের ভাষা হিসেবে প্রমিত রীতি প্রধান রীতিতে পরিণত হয়েছে।

- প্রমিত রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গ হ্রস্বতর হয়। 
- যেমন করা ক্রিয়ার রূপ হলো করেছে, করল, করলে, করলাম, করত, করছিল, করব, করবে, করতে, করার ইত্যাদি।
- সর্বনামের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় তারা, এদের, যা, তা, ও, কেউ।
- প্রমিত রীতিতে শব্দের ব্যবহার আলোচ্য বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল;
- প্রয়োজনে তৎসম বা তদ্ভব উভয় ধরনের শব্দ ব্যবহার করা যায়।
- যেমন বৎসর বা বছর, চন্দ্র বা চাঁদ।
- এছাড়া কথ্য রীতির কিছু শব্দ পরিবর্তিত হয়ে লেখায় ব্যবহৃত হয়।
- যেমন ধুলা → ধুলো, তুলা → তুলো, মুলা → মুলো, পুজো → পূজা, সবথেকে → সবচেয়ে।

- তাই সাধু ভাষা ও প্রমিত ভাষার পার্থক্য মূলত ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের রূপে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ;
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

৮৯২.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে কত খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষা স্বতন্ত্ররূপ পরিগ্রহ করে?
  1. ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ৮৫০ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার বিবর্তন:
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, গৌড় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা অর্থ প্রাকৃতজনের মুখের ভাষা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে। অর্থাৎ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড়ী অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গকামরূপী ভাষার মাধ্যমে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষা স্বতন্ত্ররূপ পরিগ্রহ করে। 

• কিন্তু ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মনে করেন মগধ জনপদের মানুষের মুখের ভাষা। অর্থাৎ মগধ অঞ্চলের প্রাকৃজনের ভাষা বা মাগধী অপভ্রংশ থেকে বাংলা ভাষা উৎপত্তি লাভ করেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৯৩.
দেশ, কাল ও পরিবেশভেদে পার্থক্য ও পরিবর্তন ঘটে?
  1. ভাষার
  2. অর্থের
  3. ধ্বনির
  4. শব্দের
সঠিক উত্তর:
ভাষার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষার
ব্যাখ্যা

ভাষা:
- গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিহ্বা, তালু, দাঁত, নাক ইত্যাদি বাক্ প্রত্যঙ্গকে এক কথায় বলে বাগযন্ত্র। 
- মানুষের কণ্ঠনিঃসৃত বাক্ সংকেতের সংগঠনকে ভাষা বলা হয়। অর্থাৎ বাগযন্ত্রের দ্বারা সৃষ্ট অর্থবোধক ধ্বনির সংকেতের সাহায্যে মানুষের ভাব প্রকাশের মাধ্যমই হলো ভাষা।
- একই ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টির অর্থ বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম হতে পারে। এ কারণে বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর জন্য আলাদা আলাদা ভাষার সৃষ্টি হয়েছে।
- দেশ, কাল ও পরিবেশভেদে ভাষার পার্থক্য ও পরিবর্তন ঘটে। 
- বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থান করে মানুষ আপন মনোভাব প্রকাশের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বস্তু ও ভাবের জন্য বিভিন্ন ধ্বনির সাহায্যে শব্দের সৃষ্টি করেছে। 
- সেসব শব্দ মূলত নির্দিষ্ট পরিবেশে মানুষের বস্তু ও ভাবের প্রতীক (Symbol) মাত্র। 
- এ জন্যই আমরা বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাষার ব্যবহার দেখতে পাই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৮৯৪.
'গৌড়ীয় ব্যকরণ' কার রচনা?
  1. ক) গোলকনাথ শর্মা
  2. খ) রামরাম বসু
  3. গ) রাজা রামমোহন রায়
  4. ঘ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
গ) রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
গৌড়ীয় ব্যাকরণ বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
এর রচয়িতা রাজা রামমোহন রায় এবং তা প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ।
এর আগে তিনি ইংরেজিতে Bengali Grammar in the English Language নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও লাল নীল দীপাবলি।
৮৯৫.
চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
  2. এ ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের।
  3. এ ভাষা তৎসম শব্দবহুল।
  4. এ ভাষার গতি লঘু ও চঞ্চল।
সঠিক উত্তর:
এ ভাষার গতি লঘু ও চঞ্চল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ ভাষার গতি লঘু ও চঞ্চল।
ব্যাখ্যা
• চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
- এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
- এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
- চলিত ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষায় অপিনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।

অন্যদিকে,
• সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষা বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ। সাধু ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের।
- সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত।
- এ ভাষায় তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি।
- এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির পূর্ণরূপ গৃহীত হয়।
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৯৬.
প্রমিত রীতির ক্ষেত্রে কোনটি ভুল?
  1. ক্রিয়া হ্রস্বতর হয়।
  2. 'চন্দ্র'-ও লেখা যায়, 'চাঁদ'-ও লেখা যায়।
  3. সর্বনাম দীর্ঘতর হয়।
  4. অনুসর্গ হ্রস্বতর হয়।
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম দীর্ঘতর হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম দীর্ঘতর হয়।
ব্যাখ্যা
• প্রমিত রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
• প্রমিত রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গ হ্রস্বতর।
- ক্রিয়ার ক্ষেত্রে যেমন 'করা' ক্রিয়ার রূপ: করছে, করেছে, করল, করলে, করলাম, করত, করছিল, করেছিল, করব, করবে, করতে, করে, করলে, করার।
- সর্বনামের ক্ষেত্রে যেমন তারা, এদের, যা, তা, ও, কেউ ইত্যাদি।
- অনুসর্গের ক্ষেত্রে যেমন থেকে, হতে, সঙ্গে ইত্যাদি।

• প্রমিত রীতিতে শব্দ ব্যবহার আলোচ্য বিষয়ের উপরে নির্ভরশীল। প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের শব্দ ব্যবহার করা যায়। যেমন তৎসম 'বৎসর'-ও লেখা যায় আবার তদ্ভব 'বছর'-ও লেখা যায়। একইভাবে 'চন্দ্র'-ও লেখা যায়, 'চাঁদ'-ও লেখা যায়।

• প্রমিত রীতিতে কথ্য রীতির বহু শব্দ বর্জনীয়, যেমন 'ধুলো, তুলো, মুলো, পুজো, সবচে' ইত্যাদি না লিখে 'ধুলা, তুলা, মুলা, পূজা, সবচেয়ে' ইত্যাদি লিখতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৮৯৭.
বাংলা লিপি মোটামুটি স্থায়ী রূপ লাভ করে কোন যুগে?
  1. সেন
  2. পাল
  3. পাঠান
  4. গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
পাঠান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঠান
ব্যাখ্যা
• বাংলা লিপি মোটামুটি স্থায়ী রূপ লাভ করে- পাঠান যুগে। 

- বাংলা অক্ষর বা লিপি ব্রাহ্মী লিপির কুটিল অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- পাল যুগে বাংলা লিপির গঠনের কাজ শুরু হলেও সেন যুগে বাংলা লিপির সুসংগঠন হয়।
- চার্লস উইলকিনসন প্রথম নকশা করেন, কিন্তু আধুনিক রূপ দেন পঞ্চানন কর্মকার।
- তাই বাংলা লিপির জনক বা প্রথম নকশাকারক চার্লস উইলকিনসন হলেও আধুনিকতার রূপকার পঞ্চানন কর্মকার।

• সেন যুগে বাংলা লিপির গঠনকার্য শুরু হলেও পাঠান যুগে তা মোটামুটি স্থায়ী আকার লাভ করে।

• ১৮০০ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস স্থাপিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সুদীর্ঘ সময় হাতে লেখা হয়েছে বলে বাংলা লিপি নানা পরিবর্তনের মাধ্যমে অগ্রসর হয়েছে।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 
৮৯৮.
শব্দ ও বর্গের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়-
  1. ধ্বনিতত্ত্বে
  2. শব্দতত্ত্বে
  3. বাক্যতত্ত্বে
  4. অর্থতত্ত্বে
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্বে
ব্যাখ্যা
• অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের এই অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একে বাগর্থও বলে।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৯৯.
অর্থতত্ত্বকে আর কী বলা হয়?
  1. বাক্যতত্ত্ব
  2. বাগার্থতত্ত্ব
  3. রূপতত্ত্ব
  4. ধ্বনিতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
বাগার্থতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাগার্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়। 

• আলোচ্য বিষয়:

- বিপরীত শব্দ,
- প্রতিশব্দ,
- শব্দজোড়,
- বাগ্‌ধারা
- শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

৯০০.
কোনটি সাধুরীতির শব্দ?
  1. করল
  2. আজি
  3. জোছনা
  4. আজ
সঠিক উত্তর:
আজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজি
ব্যাখ্যা
• ‘আজ’ শব্দটি চলিত ভাষার শব্দ। এর সাধুরূপ অদ্য / আজি।

অন্যদিকে,
• ‘জোছনা’ চলিত ভাষার শব্দ। এর সাধুরূপ জ্যোৎস্না।
• ‘করল’ শব্দটিও চলিত ভাষার শব্দ। এর সাধুরূপ করিল।

=============
• সাধু ভাষা:  
- বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ; এর নবীন ও বর্তমানে বহুল প্রচলিত রূপটি হলো চলিত।
- সাধু ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের এবং চলিত ভাষা সর্বসাধারণের জীবন-ঘনিষ্ঠ। ভাষার এই দ্বিধারিক প্রপঞ্চকে বলা হয় দ্বি-ভাষারীতি।
- সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত। এ ভাষায় তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি। এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির রূপ মৌখিক ভাষার রূপ অপেক্ষা পূর্ণতর।
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।

• চলিতরীতি
- বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে - চলিতরীতি / চলনরীতি। 
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারণে চলিত রীতি পরিবর্তিত রুপ লাভ করে।
- চলিত ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।