বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা

মোট প্রশ্ন১,১৩৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা

PrepBank · পাতা / ১২ · ৭০১৮০০ / ১,১৩৬

৭০১.
কত শতকে লেখ্য গদ্য রীতি সাধু রীতির জন্ম দেয়?
  1. উনিশ শতকে
  2. একুশ শতকে
  3. বিশ শতকে
  4. শতের শতকে
সঠিক উত্তর:
উনিশ শতকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উনিশ শতকে
ব্যাখ্যা
লেখ্য ভাষা রীতি:
- লিখিত বাংলা ভাষার আদি নিদর্শনের নাম 'চর্যাপদ'। প্রায় এক হাজার বছর আগে লেখ্য বাংলা ভাষার কাব্য রীতিতে এটি রচিত।
- ব্যবহারিক প্রয়োজনে ক্রমে লেখ্য গদ্য রীতির জন্ম হয়। উনিশ শতকের সূচনায় এই গদ্য রীতি সাধু রীতির জন্ম দেয়। বিশ শতকের সূচনায় সাধু রীতির পাশাপাশি চলিত রীতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
- একুশ শতকের সূচনায় চলিত রীতির একটি আদর্শ রূপ প্রমিত রীতি হিসেবে গৃহীত হয়েছে। এই প্রমিত রীতিই লেখ্য বাংলা ভাষার সর্বজনগ্রাহ্য লিখিত রূপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭০২.
বাংলা ভাষার রীতি কয়টি?
  1. দুটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
দুটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুটি
ব্যাখ্যা
অধিকাংশ ভাষায় অন্তত দুটি রীতি থাকে:
১. কথ্য ভাষা রীতি ও
২. লেখ্য ভাষা রীতি।

বাংলা ভাষায় এসব রীতির একাধিক বিভাজন রয়েছে।
যেমন কথ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে-
১. আদর্শ কথ্য রীতি ও
২. আঞ্চলিক কথ্য রীতি।

আবার লেখ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে-
১. প্রমিত রীতি,
২. সাধু রীতি ও
৩. কাব্য রীতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৭০৩.
ব্যাকরণ সম্পর্কে কোনটি সত্যি নয়?
  1. ক) ব্যাকরণ হলো ভাষার সংবিধান।
  2. খ) ব্যাকরণ ভাষাকে বর্ণনা করে।
  3. গ) ব্যাকরণ ভাষাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
  4. ঘ) ব্যাকরণ ভাষাকে পরিবর্তন করে।
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যাকরণ ভাষাকে পরিবর্তন করে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ব্যাকরণ ভাষাকে পরিবর্তন করে।
ব্যাখ্যা

ব্যাকরণ শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ - বিশেষভাবে বিশ্লেষণ।
আর ব্যবহারগত বা প্রকৃত অর্থ হলো - ভাষা প্রকৃতি ও প্রয়োগরীতি আলোচনা ও ব্যাখ্যা।
সুতরাং, বলা যায় - মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম হলো ভাষা, আর ভাষাকে শুদ্ধরূপে পড়তে, বুঝতে, লিখতে ও বলতে পারার নিয়মকে ব্যাকরণ বলে।

- ব্যাকরণ হলো ভাষার সংবিধান।
- ব্যাকরণ ভাষাকে বর্ণনা করে।
- ব্যাকরণ ভাষাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
- ব্যাকরণ ভাষার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা সাধন/আবিষ্কার করে।
- ব্যাকরণ ভাষার সুনির্দিষ্ট গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়।

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি’।

৭০৪.
সাধু ভাষায় কোন শব্দের প্রাধান্য বেশি?
  1. বিদেশি
  2. তৎসম
  3. দেশি
  4. তদ্ভব
সঠিক উত্তর:
তৎসম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য: 
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়। 

অপরদিকে, 
বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে -চলিতরীতি/ চলনরীতি। 
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারণে চলিত রীতি পরিবর্তিত রুপ লাভ করে।
- চলিত ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া, অষ্টম শ্রেণীর ব্যকরণ বই। 
৭০৫.
ভাষা পরিবারে নাম নয় কোনটি?
  1. অস্ট্রো-এশীয়
  2. সেমীয়-হেমীয়
  3. আফ্রিকীয়
  4. পলি-তিব্বতীয়
সঠিক উত্তর:
পলি-তিব্বতীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পলি-তিব্বতীয়
ব্যাখ্যা
• ভাষাবংশের নাম নয়- পলি-তিব্বতীয়।

• বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে।
- বাংলা ভাষা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'।
- ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭০৬.
'বিপরীত শব্দ' কোন তত্ত্বের আলোচ্য বিষয়?
  1. অর্থতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. ধ্বনিতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
অর্থতত্ত্ব:
- ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭০৭.
'যাহা' - এর চলিত রূপ কোনটি?
  1. যারা
  2. যাহারা
  3. যাকে
  4. যা
সঠিক উত্তর:
যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যা
ব্যাখ্যা

সাধু ও চলিত রীতি:
- সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পার্থক্য বাংলাদেশের মানুষ তাদের মনের ভাব প্রকাশের জন্য যে ভাষা ব্যবহার করে, তার নাম বাংলা ভাষা বাংলাদেশের বাইরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ড, বিহার, উড়িষ্যা, ত্রিপুরা, আসামের করিমগঞ্জ ও কাছাড়ের অধিবাসীদের একটি অংশের মাতৃভাষা বাংলা। বস্তুত, দেশ-জাতি-ধর্মনির্বিশেষে বাঙালি জনসমাজে ব্যবহৃত শব্দ নিয়ে বাংলা ভাষা গঠিত। বাংলা ভাষা প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরনো। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের ফলে বাংলা ভাষায় বিভিন্ন রূপের সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, পৃথিবীর সব ভাষাতেই দুটো রূপ দেখা যায়।

সাধু ভাষা ও চলিত ভাষায় সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:

→ তাহারা-তারা, 
→ ইহারা-এরা, 
→ যাহা-যা, 
→ যাহারা-যারা, 
→ যাহাকে-যাকে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭০৮.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে কোন অংশ থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি?
  1. গৌড়ীয় অপভ্রংশ
  2. মাগধী অপভ্রংশ
  3. গৌড়ী প্রাকৃত
  4. মাগধী প্রাকৃত
সঠিক উত্তর:
গৌড়ীয় অপভ্রংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌড়ীয় অপভ্রংশ
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, গৌড় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা অর্থ প্রাকৃতজনের মুখের ভাষা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে। অর্থাৎ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড়ীয় অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গকামরূপী ভাষার মাধ্যমে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষা স্বতন্ত্ররূপ পরিগ্রহ করে। 

• কিন্তু ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মনে করেন মগধ জনপদের মানুষের মুখের ভাষা
অর্থাৎ মগধ অঞ্চলের প্রাকৃজনের ভাষা বা মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষা উৎপত্তি লাভ করেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭০৯.
কোন শব্দগুচ্ছ সাধুভাষার উদাহরণ?
  1. বুনো, তুলো
  2. জুতো, হলেন
  3. শুষ্ক, সহিত
  4. দেখে, পেরিয়ে
সঠিক উত্তর:
শুষ্ক, সহিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুষ্ক, সহিত
ব্যাখ্যা
• 'শুষ্ক, সহিত' - শব্দগুচ্ছ সাধুভাষার উদাহরণ। 

• বাংলা ভাষার ৩টি রীতি রয়েছে।
যথা -
১. সাধু রীতি, 
২. চলিত রীতি, 
৩. আঞ্চলিক কথ্য রীতি বা উপভাষা। 

১. সাধু রীতি:
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এই রীতি তৎসম শব্দ বহুল ও গুরুগম্ভীর। এটি শুধু লেখার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বকৃতার জন্য অনুপযোগী।
- এই রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।

২. চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ - আলোচনার জন্য উপযোগী।

সাধু ও চলিত রীতির কিছু উদাহরণ-
সাধু ------------ চলিত , 
জুতা ------------ জুতো,  
তুলা------------- তুলো,  
শুষ্ক/শুকনা ----- শুকনো,
বন্য ------------ বুনো, 
দেন নি -------- দেননি, 
পার হইয়া ----- পেরিয়ে, 
পড়িল ---------- পড়ল/পড়লো, 
করিয়া ----------- করে, 
পূর্বেই ---------- আগেই। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০১৯)।
৭১০.
কোনটি সাধুরীতির শব্দ?
  1. আগুন
  2. বাঘ
  3. চাঁদ
  4. দন্ত
সঠিক উত্তর:
দন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দন্ত
ব্যাখ্যা
বিশেষ্যপদের রূপের পার্থক্য:
সাধু - চলিত:
→ অগ্নি - আগুন, 
→ কর্ণ - কান, 
→ চন্দ্র - চাঁদ, 
→ দন্ত - দাঁত, 
→ পক্ষী - পাখি, 
→ ব্যাঘ্র - বাঘ, 
→ মৎস্য - মাছ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৭১১.
‘এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ’ বইটির রচয়িতা কে?
  1. রামমোহন রায়
  2. নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
  3. মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ
  4. উইলিয়াম কেরি
সঠিক উত্তর:
নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
ব্যাখ্যা

বাংলা ব্যাকরণ:
- প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়। এর লেখক ছিলেন মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ।
- ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ। তাঁর বইটির নাম ‘এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।
- ১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি এবং ১৮২৬ সালে রামমোহন রায় ইংরেজি ভাষায় আরো দুটি উল্লেখযোগ্য বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
- ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত রামমোহন রায়ের ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।

৭১২.
নিচের যে ভাষাগুচ্ছ একই পরিবারভুক্ত নয় -
  1. ক) বাংলা, ভোজপুরিয়া, মগহি
  2. খ) আসামি, তামিল, ওড়িয়া
  3. গ) হিন্দি, গুজরাটি, মারাঠি
  4. ঘ) পাঞ্জাবি, বাংলা, মারাঠি
সঠিক উত্তর:
খ) আসামি, তামিল, ওড়িয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আসামি, তামিল, ওড়িয়া
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভাষাবংশের নাম ইন্দো -ইউরোপীয় ভাষাবংশ ।
'ইন্দো' মানে ইন্ডিয়া থেকে শুরু করে ইউরোপ পর্যন্ত অঞ্চলের অধিকাংশ ভাষা এই ভাষাবংশের অন্তর্গত ।
ইন্দো ইউরোপীয় ভাষাবংশ (৫০০০ খ্রিস্টপূর্ব) এর দুটি প্রধান শাখা ।
যথাঃ
কেতম ।
শতম ।
শতম ভাষা বিভিন্ন ভাবে ঘুরে এসে পোছায় গৌড় অপভ্রংশ(৪০০ - ৬০০ খ্রি.)যা থেকে পরে বাংলা ভাষা পাওয়া যায় ।
গৌড় অপভ্রংশ থেকে পাওয়া যায় তিনটি ভিন্ন ভাষা ।
বিহারি ।
প্রাচীন উড়িয়া ।
বঙ্গ-কামরূপি ।
আর বঙ্গ - কামরূপি ভাষা থেকে এসেছে বাংলা ও অসমিয়া ভাষা ।
সুতরাং বলা যায় আসামি, তামিল ও ওড়িয়া একই ভাষা গুচ্ছের নয় ।
উতসঃ ব্যবহারিক ব্যকরণ (তারিক মনজুর, সহযোগী অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।)

৭১৩.
'বাগ্‌ধারা' কোন অংশে আলোচনা করা হয়?
  1. অর্থতত্ত্ব
  2. ধ্বনিতত্ত্ব
  3. রূপতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
অর্থতত্ত্ব:
- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭১৪.
জুতো শব্দটি কোন ভাষারীতির?
  1. ক) সাধু
  2. খ) চলিত
  3. গ) প্রাকৃত
  4. ঘ) কোল
সঠিক উত্তর:
খ) চলিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চলিত
ব্যাখ্যা
’বুনো’ চলিত ভাষারীতির শব্দ। 
- এর সাধুরূপ: বন্য।
বন্য (বিশেষণ) শব্দের অর্থ- বনজাত; বনে উৎপন্ন;

• সাধু ভাষা  
- বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ; এর নবীন ও বর্তমানে বহুল প্রচলিত রূপটি হলো চলিত।
- সাধু ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের এবং  চলিত ভাষা সর্বসাধারণের জীবন-ঘনিষ্ঠ। ভাষার এই দ্বিধারিক প্রপঞ্চকে বলা হয় দ্বি-ভাষারীতি।
- সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত। এ ভাষায়  তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি। এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির রূপ মৌখিক ভাষার রূপ অপেক্ষা পূর্ণতর।
- সাধুরীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।

• চলিতরীতি
- বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে -চলিতরীতি/চলনরীতি। 
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রুপ লাভ করে।
- চলিত ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৭১৫.
'স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য' ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. ক) ধ্বনিতত্ত্ব
  2. খ) শব্দতত্ত্ব
  3. গ) বাক্যতত্ত্ব
  4. ঘ) অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ক) ধ্বনিতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• 'স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য' ব্যাকরণের 'ধ্বনিতত্ত্ব' অংশের আলোচ্য বিষয়। 

• ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগযন্ত্র, বাগযন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
সন্ধি প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)। 
৭১৬.
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. সমাস
  2. সন্ধি
  3. প্রত্যয়
  4. পুরুষ
সঠিক উত্তর:
সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধি
ব্যাখ্যা

• ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান, সন্ধি প্রভৃতি।

ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় সমূহ:
- ধ্বনি,
- বর্ণ,
- ধ্বনির উচ্চারণ প্রণালি,
- উচ্চারণের স্থান,
- ধ্বনি পরিবর্তন ও লোপ,
- ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
- সন্ধি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
---------------------
• রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- উপসর্গ, সমাস, প্রত্যয়, পুরুষ রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৭১৭.
সাধু ভাষায় কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. এখানে সে ফিরে আসেনি
  2. সে আসিবে বলিয়া ভরসাও করিতেছি না
  3. তিনি মূর্ছিত হয়ে পড়েছেন
  4. তুমি তার কথা বিশ্বাস করো না
সঠিক উত্তর:
সে আসিবে বলিয়া ভরসাও করিতেছি না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে আসিবে বলিয়া ভরসাও করিতেছি না
ব্যাখ্যা

• সাধু ভাষায় শুদ্ধ বাক্যটি হল "সে আসিবে বলিয়া ভরসাও করিতেছি না।"
যেমন এখানে 'আসিবে', 'বলিয়া', এবং 'করিতেছি' শব্দগুলো সাধু ভাষার উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- এখানে সে ফিরে আসেনি।
- তিনি মূর্ছিত হয়ে পড়েছেন।
- তুমি তার কথা বিশ্বাস করো না।
উপরিউক্ত বাক্যগুলো চলিত ভাষার বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম ও সপ্তম শ্রেণি।

৭১৮.
বাংলা একাডেমি প্রকাশিত 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' এর প্রধান সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. ড. সুকুমার সেন
  4. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' এর সম্পাদক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌। 

• মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌:
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ।
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে শহীদুল্লাহ্ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
- তিনিই প্রথম উর্দুর পরিবর্তে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার যৌক্তিক দাবি জানান।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির সম্পাদক ছিলেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সভা ও সম্মেলনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প, 
- ভাষা ও সাহিত্য,  
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ, 
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম, 
- পদ্মাবতী, 
- বাংলা সাহিত্যের কথা, 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, 
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত ইত্যাদি।

• তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি।
- মুহম্মদ আবদুল হাই -এর সঙ্গে তাঁর যুগ্ম-সম্পাদনায় রচিত Traditional Culture in East Pakistan (১৯৬১) একখানা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
- তাঁর Buddhist Mystic Songs (১৯৬০) গ্রন্থটি চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম।
- তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে চর্যাপদ সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় রচিত; এর ধর্মতত্ত্ব নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭১৯.
উপভাষার অপর নাম-
  1. চলিত ভাষা
  2. আঞ্চলিক ভাষা
  3. সাধুভাষা
  4. কথ্যভাষা
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক ভাষা
ব্যাখ্যা
• উপভাষার অপর নাম — আঞ্চলিক ভাষা।

⇒ উপভাষা: 
- প্রমিত ভাষার (Standard Language) পাশাপাশি প্রচলিত অঞ্চল বিশেষের জনগোষ্ঠী কর্তৃক ব্যবহূত আঞ্চলিক ভাষা।
- পৃথিবীর সর্বত্রই প্রমিত ভাষার পাশাপাশি এক বা একাধিক আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা (Dialect) ব্যবহূত হয়ে থাকে।
- প্রমিত ভাষার সঙ্গে উপভাষার ব্যবধান ধ্বনি, রূপমূল, উচ্চারণ ও ব্যাকরণগত কাঠামোর মধ্যে নিহিত থাকে।
- সাধারণত প্রমিত ভাষায় ভাষাভঙ্গির সংখ্যা বৃদ্ধি, ভৌগোলিক ব্যবধান এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক শ্রেণিবিন্যাসগত পার্থক্যের কারণে উপভাষার সৃষ্টি হয়।
- প্রমিত ভাষা দেশের সর্বস্তরে ব্যবহূত হয়; লিখিত পদ্ধতির ক্ষেত্রেও তা অনুসৃত হয়, কিন্তু উপভাষার ব্যবহার কেবল বিশেষ অঞ্চলের জনসাধারণের মধ্যেই সীমিত থাকে।

• বাংলাদেশে বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সামাজিক ও ধর্মীয় কারণে বিভিন্ন উপভাষার সৃষ্টি হয়েছে। 
যেমন, 
‘ছেলে’ শব্দটিকে বিভিন্ন উপভাষায় যেভাবে উচ্চারণ করা হয় তা হলো এরূপ: 
ছাওয়াল (খুলনা, যশোর), ব্যাটা ছৈল (বগুড়া), পোলা (ঢাকা, ফরিদপুর), পুত (ময়মনসিংহ), পুয়া (সিলেট), পুতো (মণিপুর), পোয়া (চট্টগ্রাম, চাকমা) এবং হুত (নোয়াখালী)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭২০.
‘বন্য’ শব্দের চলিত রূপ কোনটি?
  1. বনানী
  2. বুনো
  3. বন
  4. বুন
সঠিক উত্তর:
বুনো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুনো
ব্যাখ্যা
- বন্য (বিশেষণ) এর চলিত রূপ - 'বুনো'। 

এরূপ আরো কয়েকটি:
- মস্তক (বিশেষ্য) এর চলিত রূপ - মাথা।
- জুতা (বিশেষ্য) এর চলিত রূপ - জুতো।
- তুলা (বিশেষ্য) এর চলিত রূপ - তুলো।
- শুষ্ক/শুকনা (বিশেষণ) এর চলিত রূপ - শুকনো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৮ সংস্করণ)।
৭২১.
বাংলা লিপির জনক বলা হয় কাকে?
  1. পঞ্চানন কর্মকার
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. চার্লস উইলকিনসন
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
চার্লস উইলকিনসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার্লস উইলকিনসন
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলা লিপি:
- বাংলা অক্ষর বা লিপি ব্রাহ্মী লিপির কুটিল অংশ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- পাল যুগে লিপির কাজ শুরু হলেও সেন যুগে লিপির সুসংগঠন হয়।
- চার্লস উইলকিনসন প্রথম নকশা করেন, কিন্তু আধুনিক রূপ দেন পঞ্চানন কর্মকার।
- তাই বাংলা লিপির জনক বা প্রথম নকশাকারক চার্লস উইলকিনসন হলেও আধুনিকতার রূপকার পঞ্চানন কর্মকার।

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণির (২০২১ সংস্করণ)।
৭২২.
চলিত রীতি ভাষার শুদ্ধ বাক্য -
  1. ক) কতবার সেই ফুল ধরতে চেষ্টা করলাম-- পারলাম না।
  2. খ) কতবার সেই ফুল ধরতে চেষ্টা করলাম-- পারিলাম না।
  3. গ) কতবার সেই ফুল ধরিতে চেষ্টা করিলাম-- পারলাম না।
  4. ঘ) কতবার সেই ফুল ধরতে চেষ্টা করিলাম-- পারিলাম না।
সঠিক উত্তর:
ক) কতবার সেই ফুল ধরতে চেষ্টা করলাম-- পারলাম না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কতবার সেই ফুল ধরতে চেষ্টা করলাম-- পারলাম না।
ব্যাখ্যা
- চলিত রীতি ভাষার শুদ্ধ বাক্যটি হচ্ছে কতবার সেই ফুল ধরতে চেষ্টা করলাম-- পারলাম না।

• চলিত রীতির বৈশিষ্ট্য:
ক) এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
খ) এ ভাষায় বক্তৃতা, আলাপ ও নাট্য আলাপের উপযোগী।
গ) চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
ঘ) চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
ঙ) চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদের প্রচুর রূপ দেখা যায়।

 • চলিত রীতি ভাষার উদাহরণ:
- পুল পেরিয়ে সামনে একটা বাঁশ বাগান পড়ল।
- বাকি রাতটা আমার নির্ঘুম কাটল।
- আমি এক সময় ভাবি, লেখার একটি স্কুল খুললে কেমন হয়।
- কতবার সেই ফুল ধরতে চেষ্টা করলাম-- পারলাম না।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৭২৩.
গুরুগম্ভীর ও আভিজাত্যের অধিকারী ভাষা কোনটি?
  1. চলিত ভাষা
  2. সাধু ভাষা
  3. প্রমিত ভাষা
  4. উপভাষা
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষা
ব্যাখ্যা
• সাধুভাষা:
উনিশ শতকের শুরুতে সংস্কৃতানুসারী পন্ডিতদের উদ্যোগ আয়োজনে যে সাহিত্যিক গদ্য ভাষার উন্মেষ ঘটে, তাই সাধুভাষা।

বাংলা ভাষার সাধু রীতির বৈশিষ্ট্য:
• সাধু ভাষায় সর্বনাম পদের পূর্ণরূপ গৃহীত হয়। যেমন: তাহার, ইহার, কাহাকে, ইহাকে ইত্যাদি।
• সাধুভাষায় ক্রিয়াপদগুলো পূর্ণরূপে ব্যবহৃত হয়। যেমন: খাইতেছিলাম, করিতেছিল ইত্যাদি।
• সাধুভাষায় তৎসম শব্দের সমধিক প্রয়োগ (যদিও তদ্ভব ও দেশি-বিদেশি শব্দের ব্যবহার নিষিদ্ধ নয়)। যেমন: চন্দ্র, অভ্যন্তর, অঙ্গ, সৌষ্ঠব, বৃন্ত, চর্ম, কাষ্ঠ, দর্পণ ইত্যাদি।
• সাধুভাষায় সন্ধি-সমাসের আধিক্য লক্ষ করা যায়। যেমন ইত্যাদি। কাষ্ঠাহরণে, রাজাজ্ঞা, রাজপুত্রহস্তে
• সাধুভাষায় বাক্যে পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট, অর্থাৎ বাক্যে প্রথমে উদ্দেশ্য ও পরে বিধেয় থাকে এবং ক্রিয়াপদ সাধারণত বাক্যের শেষে থাকে। যেমন: সম্মুখে এক ক্ষুদ্র প্রান্তর দেখিতে পাইলাম। 
• সাধুভাষায় দুরূহ তৎসম শব্দের ব্যবহার চলে। তবে সাধুভাষায় একসময় ব্যবহৃত অনেক শব্দই বর্তমানে অপ্রচলিত। যেমন: অত্রত্য, অপার্যমানে, নিষণ্ণ।
• সাধুভাষায় অনুসর্গের পূর্ণাঙ্গ রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন : জন্য, হইতে, দ্বারা, দিয়া, অপেক্ষা।
• সাধুভাষায় ধ্বন্যাত্মক শব্দের প্রাধান্য নেই।
• সাধুভাষা কথোপকথনে, নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
• সাধুভাষা গুরুগম্ভীর ও আভিজাত্যের অধিকারী।
• সাধুভাষা সর্বজনীন লেখ্য ভাষা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭২৪.
'যতিচিহ্ন' ব্যাকরণের কোন তত্ত্বে আলোচনা করা হয়?
  1. অর্থতত্ত্বে
  2. রূপতত্ত্বে
  3. বাক্যতত্ত্বে
  4. ধ্বনিতত্ত্বে
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্বে
ব্যাখ্যা
• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৭২৫.
পৃথিবীর ভাষা-পরিবার গুলোকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ক) ৬ ভাগে
  2. খ) ৪ ভাগে
  3. গ) ৫ ভাগে
  4. ঘ) ৮ ভাগে
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪ ভাগে
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর সকল ভাষাকে মূলত ৪টি ভাষা-পরিবা্রে ভাগ করা যায়।

- পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে।

- ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো বাংলা ভাষাও ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া। ধ্রুপদি ভাষা সংস্কৃত এবং পালির সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা। বাংলা ভাষায় কথা বলে প্রায় ত্রিশ কোটি মানুষ।
- এর মধ্যে বাংলাদেশে ষোলো কোটি এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দশ কোটি মানুষের বাস।
- এছাড়া ত্রিপুরা, আসাম, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশাসহ ভারতের অন্যান্য প্রদেশে প্রায় তিন কোটি এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আরো প্রায় এক কোটি বাংলাভাষী মানুষ রয়েছে।
- মাতৃভাষী মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে বাংলা পৃথিবীর ৬ষ্ঠ বৃহত্তম ভাষা। এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৭২৬.
গৌড়ী প্রাকৃত বলতে বোঝায়-
  1. গৌড় অঞ্চলের মুখের ভাষা
  2. গৌড় সাহিত্যের স্বাভাবিক রীতি
  3. গৌড় ভাষার লিখিত নমুনা
  4. গৌড় ভাষার বিকৃত উচ্চারণ
সঠিক উত্তর:
গৌড় অঞ্চলের মুখের ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌড় অঞ্চলের মুখের ভাষা
ব্যাখ্যা

• গৌড়ী প্রাকৃত বলতে বোঝায়- গৌড় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা। 

---------------------
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, গৌড় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা অর্থ প্রাকৃতজনের মুখের ভাষা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে।
অর্থাৎ বাংলা ভাষার উৎপত্তি গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দের কাছাকাছি কোনো সময়ে, অর্থাৎ সপ্তম শতকে, গৌড়ি প্রাকৃত থেকে জন্ম নিয়েছিল আধুনিকতম প্রাকৃত বাংলা ভাষার। তাহলে দেখা গেল বাংলা ভাষার উৎপত্তি সরাসরি সংস্কৃত ভাষ্য থেকে হয়নি। 
- অর্থাৎ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে গৌড়ী অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গকামরূপী ভাষার মাধ্যমে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষা স্বতন্ত্ররূপ পরিগ্রহ করে।

• কিন্তু ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মনে করেন মগধ জনপদের মানুষের মুখের ভাষা। অর্থাৎ মগধ অঞ্চলের প্রাকৃজনের ভাষা বা মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষা উৎপত্তি লাভ করেছে।
- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মনে করেন দশ শতকে, ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে, মাগবি অপভ্রংশ থেকে বাংলা ভাষার জন্ম।

- কিন্তু মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মনে করেন খ্রিষ্টীয় সাত শতকে, ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে, গৌড় অপভ্রংশ থেকে বাংলা ভাষার জন্ম।

প্রথম থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত সময়ের বাংলা ভাষাকে প্রধানত তিন যুগে ভাগ করা হয়। যেমন:
১। প্রাচীন যুগ: ৬৫০ (মতান্তরে ৯৫০) থেকে ১২০০ সাল পর্যন্ত।
২। মধ্যযুগ: ১২০০ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত।
৩। আধুনিক যুগ: ১৮০০ থেকে বর্তমান পর্যন্ত।

[এর মধ্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত কালকে সন্ধিযুগ বা অন্ধকার যুগ ধরা হয়।]

বাংলা ভাষা বিবর্তনের রূপরেখা- 



উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৭২৭.
‘পাণিনি’ ছিলেন-
  1. নাট্যকার
  2. ব্যাকরণবিদ
  3. রাজা
  4. কবি
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণবিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণবিদ
ব্যাখ্যা
পাণিনি:
- পাণিনি ছিলেন উপমহাদেশের বৈদিক যুগের একজন সংস্কৃত ব্যাকরণবিদ।
- তিনি অষ্টাধ্যায়ী নামক সংস্কৃত ব্যাকরণ গ্রন্থের জন্য বিখ্যাত।
- প্রাচীন ও মধ্যযুগে বঙ্গদেশে প্রধানত সংস্কৃত ব্যাকরণেরই চর্চা হয়েছে। তবে খুব সামান্য হয়েছে প্রাকৃত ব্যাকরণের চর্চা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭২৮.
মনোয়েল দ্যা আসসুম্পসাঁও অভিধান প্রকাশের আগে কত বছর ধরে শব্দ সংগ্রহ করেন?
  1. ২-৩ বছর
  2. ৫-৭ বছর
  3. ৯-১০ বছর
  4. ১৪-১৫ বছর
সঠিক উত্তর:
৯-১০ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯-১০ বছর
ব্যাখ্যা

• ‘Vocabolario em idioma Bengalla, e Portuguez dividido em duas partes’ — গ্রন্থ রচনার জন্য ৯-১০ বছর ধরে শব্দ সংগ্রহ করেছেন।
- মনোএল ভাওয়ালের একটি গির্জায় ধর্মযাজকের দায়িত্ব পালনকালে ১৭৩৪-৪২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে Vocabolario em idioma Bengalla, e Potuguez dividido em duas partes শীর্ষক গ্রন্থটি রচনা করেন। এটি ১৭৪৩ সালে প্রকাশ করেন।

বাংলা ব্যাকরণ রচনার ইতিহাস:

প্রথম পর্যায়:
• প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় — ১৭৪৩ সালে।
• এটি পর্তুগিজ ভাষায় রচিত, লেখক ছিলেন — মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ।
• তিনি তাঁর — বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকাংশ হিসেবে এই ব্যাকরণ রচনা করেন।
 
ইংরেজি ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ:
• ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় — নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত বাংলা ব্যাকরণ।
• নাম: A Grammar of the Bengal Language. এটি ইংরেজি ভাষায় রচিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা ব্যাকরণ।
• ১৮০১ সালে — উইলিয়াম কেরি ইংরেজি ভাষায় রচনা করেন — A Grammar of the Bengalee Language। এর বঙ্গানুবাদ করেন — জন রবিনসন (১৮৪৬)।
 
বাংলা ভাষায় রচিত ব্যাকরণ:
• ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত হয় — রামমোহন রায়ের — ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’।
• এটি বাংলা ভাষায় রচিত — প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
 
উৎস:
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১)।
- বাংলাপিডিয়া।

৭২৯.
প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন কে?
  1. নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
  2. রামমোহন রায়
  3. মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ
  4. পঞ্চানন কর্মকার
সঠিক উত্তর:
মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ
ব্যাখ্যা

বাংলা ব্যাকরণ:
- প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়। এর লেখক ছিলেন মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ। 
- ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ। তাঁর বইটির নাম ‘এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।
- ১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি এবং ১৮২৬ সালে রামমোহন রায় ইংরেজি ভাষায় আরো দুটি উল্লেখযোগ্য বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
- ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত রামমোহন রায়ের ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।

৭৩০.
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় নয় কোনটি?  
  1. বিপরীত শব্দ
  2. শব্দজোড়
  3. প্রতিশব্দ
  4. বাচ্য 
সঠিক উত্তর:
বাচ্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাচ্য 
ব্যাখ্যা

• অর্থতত্ত্ব:
- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে ।
- বাক্যের নির্মান ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে,বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

• ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য:
- বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য , ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দ গঠন প্রক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৭৩১.
কোন বাক্যটি চলিত ভাষায় লেখা?
  1. ক) সে কাজ করিয়া বাড়ি ফিরছিল
  2. খ) পড়ায় তাহার মন নেই
  3. গ) বাবা তার সম্পত্তি ছেলেদের মধ্যে ভাগ করে দিলেন
  4. ঘ) এতদ্দিন বহু স্থলে এইরুপ হইয়া থাকে
সঠিক উত্তর:
গ) বাবা তার সম্পত্তি ছেলেদের মধ্যে ভাগ করে দিলেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বাবা তার সম্পত্তি ছেলেদের মধ্যে ভাগ করে দিলেন
ব্যাখ্যা
অপশন ‘গ’ এর বাক্যটি চলিত ভাষার বাক্য। বাক্যটির সাধু রূপ হলো- বাবা তার সম্পত্তি ছেলেদের মধ্যে ভাগ করিয়া দিলেন।
৭৩২.
বাংলা ব্যাকরণে ‘গুরুচণ্ডালী দোষ’ বলতে কি বোঝায়?
  1. ক) সাধু ভাষার অশুদ্ধ ব্যবহার
  2. খ) চলিত ভাষার অশুদ্ধ ব্যবহার
  3. গ) সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ
  4. ঘ) সাধু ও আঞ্চলিক কথ্য ভাষার মিশ্রণ
সঠিক উত্তর:
গ) সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ
ব্যাখ্যা

সাধু ও চলিত ভাষারীতির মিশ্রণকে গুরুচণ্ডালী দোষ।
অর্থাৎ তৎসম শব্দের সাথে দেশীয় শব্দ কখনো কখনো গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
যেমন- অশুদ্ধ- গরুর শকট (দেশি + তৎসম)
শুদ্ধ- গরুর গাড়ি (দেশি + দেশি)
অশুদ্ধ- মড়াদাহ (দেশি + তৎসম)
শুদ্ধ- শবদাহ (তৎসম + তৎসম)
শুদ্ধ- মড়াপোড়া (দেশি + দেশি)।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৩৩.
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় নয় কোনটি?
  1.  বাগ্‌ধারা
  2. শব্দজোড়
  3.  যতিচিহ্ন
  4. শব্দ ও বর্গের ব্যঞ্জনা
সঠিক উত্তর:
 যতিচিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 যতিচিহ্ন
ব্যাখ্যা

• অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় নয় - যতিচিহ্ন।
- এটি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

অর্থতত্ত্ব:
- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৭৩৪.
সাধু ভাষা বাংলা ভাষার কোন রূপ?
  1. বিদেশি প্রভাবিত রূপ
  2. আধুনিক কথ্য রূপ
  3. আঞ্চলিক রূপ
  4. প্রাচীন লিখিত রূপ
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন লিখিত রূপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন লিখিত রূপ
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষা:
- সাধু ভাষা বাংলা ভাষার একটি প্রাচীন লিখিত রূপ।
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগে পদ্যই ছিল ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন। মধ্যযুগে কতিপয় ক্ষেত্রে চিঠিপত্র, দলিল-দস্তাবেজে গদ্যের ব্যবহার দেখা গেলেও তা ছিল খুবই সীমিত। ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বাংলা গদ্যে গ্রন্থ প্রণয়নের প্রয়োজন দেখা দেয়।
- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজকে কেন্দ্র করে গদ্যচর্চা শুরু হয়। সেদিনকার গদ্য লেখকগণ গদ্যগ্রন্থ রচনা করতে গিয়ে মূলত নির্ভর করলেন সাধুজনের মধ্যে ব্যবহৃত সংস্কৃত ভাষার ওপর। এভাবে উনিশ শতকে বাংলা গদ্যের যে লিখিত রূপ গড়ে ওঠে, তার নাম দেওয়া হয় সাধু ভাষা।
- সাধু ভাষা সম্পর্কে ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, 'সাধু ভাষা সমগ্র বঙ্গদেশের সম্পত্তি। এর চর্চা সর্বত্র প্রচলিত থাকাতে বাঙালির পক্ষে ইহাতে লেখা সহজ হইয়াছে।'

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
৭৩৫.
বিভিন্ন অঞ্চলের মুখের ভাষাকে কী বলে?
  1. মিশ্র ভাষা
  2. সাধু ভাষা
  3. চলিত ভাষা
  4. উপভাষা
সঠিক উত্তর:
উপভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপভাষা
ব্যাখ্যা
উপভাষা:
উপভাষা প্রমিত ভাষার (Standard Language) পাশাপাশি প্রচলিত অঞ্চলবিশেষে জনগোষ্ঠী কর্তৃক ব্যবহৃত আঞ্চলিক ভাষা। পৃথিবীর সর্বত্রই প্রমিত ভাষার পাশাপাশি এক বা একাধিক আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা (Dialect) ব্যবহূত হয়ে থাকে। প্রমিত ভাষার সঙ্গে উপভাষার ব্যবধান ধ্বনি, রূপমূল, উচ্চারণ ও ব্যাকরণগত কাঠামোর মধ্যে নিহিত থাকে। সাধারণত প্রমিত ভাষায় ভাষাভঙ্গির সংখ্যা বৃদ্ধি, ভৌগোলিক ব্যবধান এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক শ্রেণিবিন্যাসগত পার্থক্যের কারণে উপভাষার সৃষ্টি হয়। প্রমিত ভাষা দেশের সর্বস্তরে ব্যবহূত হয়; লিখিত পদ্ধতির ক্ষেত্রেও তা অনুসৃত হয়, কিন্তু উপভাষার ব্যবহার কেবল বিশেষ অঞ্চলের জনসাধারণের মধ্যেই সীমিত থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৩৬.
কোন দুটি অঘোষ ধ্বনি?
  1. জ, ঝ
  2. ফ, ত
  3. ঙ, হ
  4. ধ, ন
সঠিক উত্তর:
ফ, ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ, ত
ব্যাখ্যা
অঘোষ ধ্বনি:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না, তাকে বলা হয় অঘোষ ধ্বনি।
যেমন- ক, খ, চ, ছ, প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ঘোষ ধ্বনি:
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যথা:
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৩৭.
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রচলিত উপভাষার নাম কী?
  1. পশ্চিমী
  2. পূর্বী
  3. বরেন্দ্রি
  4. রাঢ়ি
সঠিক উত্তর:
বরেন্দ্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরেন্দ্রি
ব্যাখ্যা
• আঞ্চলিক কথ্য রীতি:
- কথ্য রীতির আঞ্চলিক ভেদ সহজে বােঝা যায়। এই আঞ্চলিক ভেদ সাধারণত অঞ্চলের নামে পরিচিতি পায়।
- যেমন নােয়াখালীর ভাষা, চাপাই নবাবগঞ্জের ভাষা, কিংবা সুন্দরবন অঞ্চলের ভাষা।
- ভাষার এই আঞ্চলিকতা উপভাষা নামে আখ্যায়িত হয়ে থাকে।
- বাঙ্গালি (বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চল)।
- পূর্বি (বাংলাদেশের পূর্ব অঞ্চল, ত্রিপুরা এবং আসামের বরাক অঞ্চল)।
- বরেন্দ্রি (বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল)।
- কামরূপি (বিহারের পূর্ব অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অঞ্চল এবং বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চল)।
- রাঢ়ি (পশ্চিমবঙ্গ)।
- ঝাড়খণ্ডি (পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম অঞ্চল ও ঝাড়খণ্ডের পূর্ব অঞ্চল) প্রভৃতি কয়েকটি উপভাষার নাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭৩৮.
কোন ধ্রুপদি ভাষাগুলোর সঙ্গে বাংলা ভাষার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বা যোগসূত্র রয়েছে?
  1. ল্যাটিন ও হিব্রু
  2. সেমীয় ও হেমীয়
  3. আরবি ও ফারসি
  4. সংস্কৃত ও পালি
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত ও পালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত ও পালি
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে।
- বাংলা ভাষা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'।
- ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।

৭৩৯.
ধ্রুপদী ভাষা কোনটি?
  1. সংস্কৃত
  2. বাংলা
  3. মারাঠি
  4. উপরের সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

• ধ্রুপদী ভাষা:
ধ্রুপদী ভাষা হলো সেই প্রাচীন ভাষাগুলোর সমষ্টি যেগুলোর একটি সমৃদ্ধ সাহিত্যিক ঐতিহ্য রয়েছে এবং যারা ১৫০০ বছর বা তারও বেশি পুরনো।

এই ভাষাগুলো সাধারণত অত্যন্ত প্রাচীন এবং এদের নিজস্ব সাহিত্যিক ধারা গড়ে উঠেছে, যেমন- সংস্কৃত, তামিল, গ্রিক, লাতিন, চীনা এবং আরবি। সম্প্রতি, ভারত সরকার বাংলা, মারাঠি, পালি, প্রাকৃত এবং অসমিয়াকেও ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দিয়েছে।  

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৪০.
নিচের কোনটি চলিত ভাষার শব্দ?
  1. আসিয়া
  2. মস্তক 
  3. শুষ্ক
  4. হলেন
সঠিক উত্তর:
হলেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হলেন
ব্যাখ্যা

• সাধু ও চলিত ভাষায় বিশেষ্য  ও সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:

→  আসিয়া - এসে।
মস্তক - মাথা
→  জুতা - জুতো;
→  তুলা -  তুলো;
→  শুষ্ক/শুকনা - শুকনো;
→  বন্য - বুনো;
→  তাঁহারা/উঁহারা -তাঁরা/ওঁরা;
→  তাহাকে/উহাকে - তাকে/ওকে;
→  তাহার/তাঁহার - তার/তাঁর;
→  পাইয়াছিলেন - পেয়েছিলেন;
→  হইলেন - হলেন;

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২১-সংস্করণ)।

৭৪১.
'চকিত হইয়া’-এর চলিত রূপ -
  1. ক) চকিত হয়ে
  2. খ) চকিত হইয়া
  3. গ) চকিতে
  4. ঘ) চমকে
সঠিক উত্তর:
ঘ) চমকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চমকে
ব্যাখ্যা
চকিত হইয়া’ দুটি শব্দ হলেও চমকে শব্দটি দিয়ে দুটির শব্দের অর্থ পূরণ করতে পারছে। 

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৭৪২.
বাংলা ভাষায় অনুনাসিক/নাসিক্য বর্ণ কতটি?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৭টি
  5. ঙ) ৮টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৭টি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় অনুনাসিক/নাসিক্য বর্ণ ৭টি- ঙ ঞ ণ ন ম ং ঁ
৭৪৩.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে গৌড়ি প্রাকৃত থেকে গৌড়ি অপভ্রংশ হয়ে, ভাষার কোনরূপটি এসেছে?
  1. বৈদিক
  2. আর্য
  3. প্রাকৃত
  4. বঙ্গ-কামরুপী
সঠিক উত্তর:
বঙ্গ-কামরুপী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গ-কামরুপী
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার উৎপত্তি:
- বাংলা ভাষার উৎপত্তি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-গোষ্ঠীর অন্তর্গত ইন্দো-ইরানীয় শাখাভুক্ত নব্য-ভারতীয় আর্য ভাষা থেকে।
- নব্য ভারতীয় আর্যগোষ্ঠীর এই ভাষা ঐতিহাসিক সূত্রে আইরিশ, ইংরেজি, ফরাসি, গ্রিক, রুশ, ফারসি ইত্যাদি ভাষার দূরবর্তী জ্ঞাতিভগ্নী। 

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে গৌড়ি প্রাকৃত থেকে গৌড়ি অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গ-কামরুপীর মধ্য দিয়ে বাংলা এসেছে।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা এসেছে মাগধী প্রাকৃত থেকে মাগধী অপভ্রংশ হয়ে।

- ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে ভাষা গবেষকদের মধ্যে ড. শহীদুল্লাহ্‌র মতামতটি অধিক গ্রহণযোগ্য। অন্যান্য পণ্ডিতগণও এই মতামতকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
- উদ্ভবের সময় থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাকে তিনটি ঐতিহাসিক পর্যায়ে ভাগ করে দেখা হয়: প্রাচীন বাংলা (৯০০/১০০০-১৩৫০), মধ্যবাংলা (১৩৫০-১৮০০) এবং আধুনিক বাংলা (১৮০০-র পরবর্তী)। প্রাচীন বাংলার লিখিত নিদর্শনের মধ্যে চর্যাগীতিকাগুলি সর্বপ্রধান

উৎস:বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলাপিডিয়া।
৭৪৪.
সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
  2. সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
  3. ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
  4. এই ভাষারীতি দুর্বোধ্য ও মন্থর।
সঠিক উত্তর:
ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
ব্যাখ্যা

সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য নয়- ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।

সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:

১. সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
২. সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
৩. সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট।
৪. সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
৫. সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
৬. সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর।

অন্যদিকে,
চলিত ভাষারীতি বৈশিষ্ট্য:
১. চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
২. চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের প্রাচীন নিয়ম মেনে চলে না।
৩. চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৭৪৫.
'পার হইয়া' এর চলিত রূপ কী?
  1. পার হয়ে
  2. পারিয়ে
  3. পেরিয়ে
  4. পার হইয়ে
সঠিক উত্তর:
পেরিয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরিয়ে
ব্যাখ্যা

'পার হইয়া' এর চলিত রূপ হচ্ছে - 'পেরিয়ে'।

• সাধু ও চলিত রীতির কিছু উদাহরণ:
 - জুতা = জুতো,
- তুলা = তুলো,
- পড়িল = পড়ল/পড়লো,
- করিয়াছিলেন = করেছিলেন,
- করিলেন = করলেন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৮ - সংস্কারণ)।

৭৪৬.
বাংলা লিপির সুসংগঠন হয় কোন আমলে?
  1. সেন
  2. মৌর্য
  3. আর্য
  4. গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেন
ব্যাখ্যা
বাংলা লিপির ইতিবৃত্ত:
- জাপানের হরিয়জি বৌদ্ধমঠে ৬ষ্ঠ শতাব্দীর একটি হস্তলিখিত পুথি আছে যেখানে প্রাচ্যলিপির নমুনা পাওয়া যায়।
- ৭ম শতাব্দীর লিপির প্রমাণ মেলে আদিত্য সেন নামক এক মগধরাজের অনুশাসনকালে।
- পরে এ অঞ্চলের পালরাজাদের সময় লিপি ক্রমবিবর্তিত হয়ে বাংলা লিপির রূপ পরিগ্রহ করে।
- পাল যুগে লিপির কাজ শুরু হলেও সেন যুগে লিপির সুসংগঠন হয়।
- ৯ম শতাব্দীতে বাংলাদেশের পালবংশীয় রাজা নারায়ণ পালের তাম্রশাসনে বাংলা লিপির সুস্পষ্টরূপ পরিলক্ষিত হয়। আজকের বাংলা লিপি সেই ধারার পরবর্তী রূপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৪৭.
বচন ও লিঙ্গ ব্যাকরণের কোন অংশের আলােচ্য বিষয়?
  1. ক) অর্থতত্ত্ব
  2. খ) ধ্বনিতত্ত্ব
  3. গ) বাক্যতত্ত্ব
  4. ঘ) রূপতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ঘ) রূপতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্বঃ ব্যাকরণে শব্দ বা পদের আলোচনাকে বলে রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্ব।

এর আলোচ্য বিষয় হলোঃ
- শব্দগঠন,
- প্রত্যয়,
- উপসর্গ,
- পদপরিচয়,
- লিঙ্গ,
- পুরুষ,
- বচন,
- শব্দ ও ধাতুরূপ,
- সমাস,
- কারক।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৪৮.
বাঙালির প্রথম ভাষা হচ্ছে-
  1. আদর্শ কথ্য ভাষা
  2. আঞ্চলিক ভাষা
  3. প্রমিত কথ্য ভাষা
  4. চলিত কথ্য ভাষা
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক ভাষা
ব্যাখ্যা
অধিকাংশ ভাষায় অন্তত দুটি রীতি থাকে:
১. কথ্য ভাষা রীতি ও
২. লেখ্য ভাষা রীতি।

বাংলা ভাষায় এসব রীতির একাধিক বিভাজন রয়েছে।
যেমন কথ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে -
১. আদর্শ কথ্য রীতি ও
২. আঞ্চলিক কথ্য রীতি।

• কথ্য ভাষা রীতি:
কথ্য ভাষা রীতি ভাষার মূল রূপ। কথ্য ভাষা রীতির উপরে ভিত্তি করে লেখ্য ভাষা রীতির রূপ তৈরি হয়। স্থান ও কালভেদে ভাষার যে পরিবর্তন ঘটে তা মূলত কথ্য ভাষা রীতির পরিবর্তন। তাই কথ্য ভাষা রীতির পরিবর্তনের ফলে নতুন নতুন ভাষা ও উপভাষার জন্ম হয়।

• আদর্শ কথ্য রীতি:
আদর্শ কথ্য রীতি হলো বাঙালী জনগোষ্ঠীর সর্বজনীন কথ্য ভাষা। বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় রেডিও টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে, সংবাদ উপস্থাপনায় সভা-সেমিনারের আলোচনায় ও কবিতা আবৃতিতে এই রীতির প্রয়োগ দেখা যায়। এই রীতিই প্রমিত লেখ্য রীতির ভিত্তি। তবে বক্তার সামাজিক অবস্থান, জীবিকা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি ভেদে আদর্শ কথ্য রীতিতে কমবেশি তফাত থাকে।

প্রতিটি বাঙালি শিশুর মাতৃভাষা বা প্রথম ভাষা হলো তার আঞ্চলিক ভাষা। আদর্শ কথ্য বা লেখ্য প্রমিত তার কাছে দ্বিতীয় ভাষা।

সুতরাং, বলা চলে কথ্যরীতি বা কথা বলার রীতি হলাে ভাষার মৌলিক রীতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৪৯.
‘শব্দ’ ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচনা করা হয়?
  1. বাক্যতত্ত্ব
  2. অর্থতত্ত্ব
  3. ধ্বনিতত্ত্ব
  4. রূপতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় পদ প্রকরণ যেমন: বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া। ক্রিয়ারকাল ও পুরুষ এ অংশে আলোচিত হয়।

অন্যদিকে,
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য সন্ধি বাগ্যন্ত্র, বাগ্যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।
- অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় - বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় - কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৭৫০.
নারীকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে -
  1. ক) কল্যাণীয়েষু
  2. খ) সুচরিতেষু
  3. গ) শ্রদ্ধাস্পদাসু
  4. ঘ) প্রীতিভাজনেষু
সঠিক উত্তর:
গ) শ্রদ্ধাস্পদাসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শ্রদ্ধাস্পদাসু
ব্যাখ্যা
• পত্রের শ্রুতে নারীকে লিখিত কয়েকটি সম্বোধন:
- শ্রদ্ধাভাজনাসু, শ্রদ্ধাস্পদাসু, কল্যাণীয়াসু ইত্যাদি।

• স্নেহভাজন পুরুষ ও বন্ধুদের সম্বোধন:
- সুচরিতেষু, শ্রদ্ধাভাজনেষু, শ্রদ্ধাস্পদেষু, প্রীতিভাজন, স্নেহার্দ্র, স্নেহাশিস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭৫১.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ব্যাকরণের পরিধিকে কতভাগে ভাগ করেছেন?
  1. দুই 
  2. তিন 
  3. চার 
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
পাঁচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঁচ
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ব্যাকরণের পরিধিকে - পাঁচ ভাগে ভাগ করেছেন।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থ অনুসারে,
বাঙ্গালা ব্যাকরণের বিষয়সমূহকে প্রধানত পাঁচ ভাগে বা প্রকরণে বিভক্ত করা যাইতে পারে,
যথা-
১. ধ্বনি প্রকরণ (Phonology),
২. শব্দ প্রকরণ (Accidence),
৩. বাক্য প্রকরণ (Syntax),
৪. ছন্দ প্রকরণ (Prosody),
৫. অলঙ্কার প্রকরণ (Rhetoric)।

উৎস: 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ'- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

৭৫২.
কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম?
  1. ক) ইংরেজি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) মাগধী প্রাকৃত
  4. ঘ) আরবি
সঠিক উত্তর:
গ) মাগধী প্রাকৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মাগধী প্রাকৃত
ব্যাখ্যা
মাগধী প্রাকৃত থেকেই বাংলা ভাষার উৎপত্তি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৭৫৩.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ-
  1. ক) ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ)
  2. খ) ব্যাকরণ কৌমুদী
  3. গ) এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ
  4. ঘ) গৌড়ীয় ব্যাকরণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) গৌড়ীয় ব্যাকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গৌড়ীয় ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ হচ্ছে গৌড়ীয় ব্যাকরণ।
- ১৮৩৩ সালে রাজা রামমোহন রায় এটি রচনা করেন।

এছাড়া,
- প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়। লেখক ছিলেন মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ। 
- ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ। তাঁর রচিত বইটির নাম ‘এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।
- ১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি এবং ১৮২৬ সালে রামমোহন রায় ইংরেজি ভাষায় আরো দুটি উল্লেখযোগ্য বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি। (সংস্করণ-২০২১)
৭৫৪.
চলিত রীতির শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) করবার
  2. খ) করার
  3. গ) করিবার
  4. ঘ) করে
সঠিক উত্তর:
গ) করিবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) করিবার
ব্যাখ্যা
'করিবার' শব্দটি হলো সাধুরীতির শব্দ।

এছাড়া আরও কিছু সাধুরীতির শব্দ হলো- তাঁহারা, পাইয়াছিলেন, আসিয়া ইত্যাদি।
সাধু ও চলিত রীতির বৈশিষ্ট
সাধু রীতি
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

চলিত রীতি

(ক) চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করেছে।
(খ) এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
(গ) চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী ।
(ঘ) সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৫৫.
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. শব্দজোড়
  2. বাগ্যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া
  3. সর্বনাম
  4. কারক বিশ্লেষণ
সঠিক উত্তর:
শব্দজোড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দজোড়
ব্যাখ্যা

অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
-ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

অন্যদিকে,,
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বাগ্যন্ত্র, বাগ্যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা হয়ে থাকে।

রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ, শব্দগঠন প্রক্রিয়া ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা হয়ে থাকে।

বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।

৭৫৬.
'Morphology' দিয়ে ব্যাকরণের কোন শাখাটি নির্দেশ করে?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

- 'Morphology' শব্দের অর্থ শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব।

অন্যদিকে,
- 'Semantic' শব্দের অর্থ অর্থতত্ত্ব।
- 'Phonology' শব্দের অর্থ ধ্বনিতত্ত্ব।
- 'Syntax' শব্দের অর্থ বাক্যতত্ত্ব।
- 'Lexicography' শব্দের অর্থ অভিধানতত্ত্ব।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); অভিগম্য অভিধান।

৭৫৭.
বাংলাদেশের উপভাষাসমূহকে কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়?
  1. ক) তিন
  2. খ) চার
  3. গ) পাঁচ
  4. ঘ) ছয়
সঠিক উত্তর:
খ) চার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চার
ব্যাখ্যা
• উপভাষা
প্রমিত ভাষার (Standard Language) পাশাপাশি প্রচলিত অঞ্চলবিশেষের জনগোষ্ঠী কর্তৃক ব্যবহূত আঞ্চলিক ভাষা। পৃথিবীর সর্বত্রই প্রমিত ভাষার পাশাপাশি এক বা একাধিক আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা (Dialect) ব্যবহূত হয়ে থাকে। প্রমিত ভাষার সঙ্গে উপভাষার ব্যবধান ধ্বনি, রূপমূল, উচ্চারণ ও ব্যাকরণগত কাঠামোর মধ্যে নিহিত থাকে। সাধারণত প্রমিত ভাষায় ভাষাভঙ্গির সংখ্যা বৃদ্ধি, ভৌগোলিক ব্যবধান এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক শ্রেণিবিন্যাসগত পার্থক্যের কারণে উপভাষার সৃষ্টি হয়। প্রমিত ভাষা দেশের সর্বস্তরে ব্যবহূত হয়; লিখিত পদ্ধতির ক্ষেত্রেও তা অনুসৃত হয়, কিন্তু উপভাষার ব্যবহার কেবল বিশেষ অঞ্চলের জনসাধারণের মধ্যেই সীমিত থাকে।

• বাংলাদেশে বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সামাজিক ও ধর্মীয় কারণে বিভিন্ন উপভাষার সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটিশ আমলে কলকাতায় স্বতন্ত্র শ্রেণির প্রমিত ভাষা গড়ে উঠলেও ঢাকায় তা হয়নি; এমনকি ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ার পরেও নয়।

• বাংলাদেশের উপভাষাসমূহকে প্রধানত চার শ্রেণিতে ভাগ করা যায়, যথা: ১. উত্তরবঙ্গীয় দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া ও পাবনায় প্রচলিত উপভাষা; ২. রাজবংশী রংপুরের উপভাষা; ৩. পূর্ববঙ্গীয় (ক) ঢাকা, ময়মনসিংহ, ত্রিপুরা, বরিশাল ও সিলেটের উপভাষা, (খ) ফরিদপুর, যশোর ও খুলনার উপভাষা এবং ৪. দক্ষিণাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও চাকমা উপভাষা।

• পশ্চিমবঙ্গের উপভাষাগুলি প্রধানত দু শ্রেণিতে বিভক্ত: ১. রাঢ়ী ও ঝাড়খন্ডী (দক্ষিণ-পশ্চিম বর্ধমান ও প্রেসিডেন্সি বিভাগের অধিকাংশ) এবং ২. বরেন্দ্রী ও কামরূপী (গোয়ালপাড়া থেকে পূর্ণিয়া পর্যন্ত)

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৫৮.
নিচের কোনটি সাধু রীতির ক্রিয়াপদ?
  1. খাচ্ছিল
  2. খেয়েছে
  3. খাইতেছিল
  4. খেয়েছিলেন
সঠিক উত্তর:
খাইতেছিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাইতেছিল
ব্যাখ্যা
’খাচ্ছিল’ শব্দের সাধু রীতি = খাইতেছিল ।

অন্যদিকে,
’খেয়েছিলেন’ শব্দের সাধুরূপ = খাইয়াছিলেন।
’খাইয়াছে’ শব্দের সাধুরূপ = খেয়েছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি অষ্টম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)
৭৫৯.
মানুষের দেহের যে সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধ্বনি তৈরিতে সহায়তা করে তাকে বলে?
  1. ক) বাক প্রত্যঙ্গ
  2. খ) অঙ্গধ্বনি
  3. গ) স্বরতন্ত্রী
  4. ঘ) নাসিকাতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
ক) বাক প্রত্যঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বাক প্রত্যঙ্গ
ব্যাখ্যা

- মানবদেহের যেসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধ্বনি তৈরিতে সহায়তা করে তাদের বাক প্রত্যঙ্গ বলা হয়।
- বাক প্রত্যঙ্গগুলোকে একসঙ্গে বলা হয় বাগযন্ত্র।
বাগযন্ত্রের মধ্যে আছে ফুসফুস, স্বরতন্ত্রী, গলনালি, জিভ, তালু, মাড়ি, দাঁত, ঠোঁট, নাক ইত্যাদি।

সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

৭৬০.
পদক্রমের আলোচ্য বিষয় নয় কোনটি?
  1. কারক বিশ্লেষণ
  2. শব্দের ব্যঞ্জনা
  3. যতিচিহ্ন
  4. বাক্যের যোগ্যতা
সঠিক উত্তর:
শব্দের ব্যঞ্জনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দের ব্যঞ্জনা
ব্যাখ্যা
• বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়কে ৪ টি ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা: 
- ধ্বনিতত্ত্ব,
- রূপতত্ত্ব, 
- বাক্যতত্ত্ব/পদক্রম,
- অর্থতত্ত্ব।

⇒ ধ্বনিতত্ত্ব:
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।লিখিত ভাষায় ধ্বনি যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য , ধ্বনিদল প্রভৃতি।

⇒ রূপতত্ত্ব:
শব্দ ও পদনির্মানের বিভিন্ন দিক ব্যকরণের এই অংশে আলোচিত হয়।
যেমন: বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি।

⇒ বাক্যতত্ত্ব: 
বাক্যের নির্মান ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে। 
তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

পদকে ক্রমানুসারে সাজানো হলে বাক্য তৈরি হয় সুতরাং বাক্যতত্ত্বের অপর নাম পদক্রম।

⇒ অর্থতত্ত্ব:
ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৬১.
ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর কোন শাখা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি?
  1. বৈদিক
  2. কেন্তম
  3. অস্ট্রিক
  4. শতম
সঠিক উত্তর:
শতম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শতম
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার উৎপত্তি:
- বাংলা ভাষার উৎপত্তি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-গোষ্ঠীর অন্তর্গত ইন্দো-ইরানীয় শাখাভুক্ত নব্য-ভারতীয় আর্য ভাষা থেকে।
- বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর সদস্য। ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার শাখা ২টি- ১. কেন্তম ও ২. শতম।
- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর শতম শাখা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।
- বাংলার আদি জনগোষ্ঠী অস্ট্রিক ভাষাভাষী ছিল।

- ভারতীয় উপমহাদেশের আঞ্চলিক ভাষাগুলোর আদিম উৎস অনার্য ভাষা। আর্যদের ভাষার নাম বৈদিক ভাষা। বেদের ভাষাকেও বৈদিক ভাষা বলা হয়। বৈদিক ভাষার সংস্কারজাত নতুন ভাষাই সংস্কৃত ভাষা। ভাষা হিসেবে সংস্কৃত শব্দটির উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায় মহাকাব্য রামায়ণে।

- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া। ধ্রুপদী ভাষা সংস্কৃতি ও পালির সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড়ি প্রাকৃত থেকে গৌড়ি অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গ-কামরুপির মধ্য দিয়ে বাংলা এসেছে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা এসেছে মাগধী প্রাকৃত থেকে মাগধী অপভ্রংশ হয়ে।

- ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে ভাষা গবেষকদের মধ্যে ড. শহীদুল্লাহর মতামতটি অধিক গ্রহণযোগ্য। অন্যান্য পণ্ডিতগণও এই মতামতকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
- উদ্ভবের সময় থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাকে তিনটি ঐতিহাসিক পর্যায়ে ভাগ করে দেখা হয়: প্রাচীন বাংলা (৯০০/১০০০-১৩৫০), মধ্যবাংলা (১৩৫০-১৮০০) এবং আধুনিক বাংলা (১৮০০-র পরবর্তী)। প্রাচীন বাংলার লিখিত নিদর্শনের মধ্যে চর্যাগীতিকাগুলি সর্বপ্রধান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৬২.
কোন দেশে বাংলা দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পেয়েছে?
  1. ক) আইভরি কোস্ট
  2. খ) লাইবেরিয়া
  3. গ) সিয়েরা লিওন
  4. ঘ) মিশর
সঠিক উত্তর:
গ) সিয়েরা লিওন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সিয়েরা লিওন
ব্যাখ্যা
- সিয়েরা লিওন ২০০২ সালে বাংলা ভাষাকে সেখানকার সম্মানসূচক সরকারি ভাষার মর্যাদা দেয়।
- বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ভূমিকাকে চিরস্মারণীয় রাখতে বাংলা ভাষাকে সিয়েরা লিয়ন এই সম্মান জানায়।
- সিয়েরা লিয়ন পশ্চিম আফ্রিকার একটি দেশ। সিয়েরা লিওনের সাংবিধানিক নাম - সিয়েরা লিওন প্রজাতন্ত্র। রাজধানী - ফ্রিটাউন।
- দেশটিতে প্রায় ১৬টি জাতিগোষ্ঠী বসবাস করে, যাদের প্রত্যেকের রয়েছে আলাদা ভাষা ও রীতিনীতি।
- ইংরেজি ভাষা সিয়েরা লিওনের সরকারি ভাষা। তাছাড়া এখানে আরও প্রায় ২০টি ভাষা প্রচলিত।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা আর্কাইভ ও ব্রিটানিকা।
৭৬৩.
রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা
  2. বাগ্‌ধারা
  3. শব্দজোড়
  4. শব্দ ও তার উপাদান
সঠিক উত্তর:
শব্দ ও তার উপাদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দ ও তার উপাদান
ব্যাখ্যা
রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়। বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দ গঠন প্রক্রিয়া।

অন্যদিকে,
অর্থতত্ত্ব:
- মূল আলোচ্য - ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭৬৪.
"যতিচিহ্ন" ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. অর্থতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. ধ্বনিতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে ।  
- বাক্যের নির্মান ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে,বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৭৬৫.
”যতিচিহ্ন” ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচনা করা হয়?
  1. রূপতত্ত্ব
  2. ধ্বনিতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্যের গঠন ও ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হয়।

• আলোচ্য বিষয়সমূহ:
-  বাক্যের নির্মাণ ও গঠনরীতি;
- পদের বিন্যাস ও বর্গ;
- বাচ্য পরিবর্তন, উক্তি রূপান্তর;
- কারক বিশ্লেষণ,যোগ্যতা;
- বাক্য উপাদানের লোপ;
- যতিচিহ্ন ব্যবহারের নীতি;

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

৭৬৬.
উচ্চরণের একক কী?
  1. অক্ষর
  2. শব্দ
  3. ধ্বনি
  4. বর্ণ
সঠিক উত্তর:
অক্ষর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষর
ব্যাখ্যা

• অক্ষর (Syllable):
- অক্ষর (Syllable) বলতে বোঝায় কথার টুকরো অংশ।
- কথা বলার সময় আমরা এ-অংশই উচ্চারণ করি। একে উচ্চারণের একক (unit) ধরা হয়।
একে দল-ও বলে।
- অক্ষর অনুযায়ী যেসব ভাষা লেখার ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে তাকে বলে অক্ষরভিত্তিক লিখনরীতি।
যেমন- জাপানি ভাষা।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ষষ্ঠ শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)

৭৬৭.
ভাষার কোন রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী?
  1. সাধুরীতি
  2. কথ্যরীতি
  3. আঞ্চলিক রীতি
  4. চলিত রীতি
সঠিক উত্তর:
সাধুরীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধুরীতি
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতি:
১. সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
২. সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
৩. সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট।
৪. সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
৫. সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
৬. সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৭৬৮.
'The Origin and Development of Bengali Language' গ্রন্থটি রচনা করেছেন -
  1. ক) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. খ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. ঘ) স্যার জর্জ গ্রিয়ারসন
সঠিক উত্তর:
খ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
শিক্ষাবিদ, ভাষাবিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন এবং সকল পরীক্ষায় অসাধারণ কৃতিত্বের পরিচয় দেন।
- ১৯১৯ সালে তিনি ভারত সরকারের বৃত্তি নিয়ে লন্ডন যান এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফোনেটিক্সে ডিপ্লোমা ও ডিলিট (১৯২১) ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ‘Origin and Development of Bengali Language’। 
- তিনি তাঁর ‘Origin and Development of Bengali Language’ (ODBL)  নামক বিখ্যাত গ্রন্থে চর্যাপদের ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য প্রথম আলোচনা করেন। 
- সুনীতিকুমার ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৩৮০টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো ‘Origin and Development of Bengali Language’ (ODBL) এটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তাঁর খ্যাতি দেশবিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ‘ভাষাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

- তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
- Bengali Phonetic Reader (১৯২৮),
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা (১৯২৯),
- পশ্চিমের যাত্রী (১৯৩৮),
- ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা (১৯৪৪),
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ (১৯৪৫),
- ভারত সংস্কৃতি (১৯৫৭),
- সংস্কৃতি কী (১৯৬১),
- Languages and Literatures of Modern India (১৯৬৩),
- World Literature and Tagore (১৯৭১),
- রবীন্দ্রসঙ্গমে,
- ইউরোপ ভ্রমণ,
- দ্বীপময় ভারত ও শ্যামদেশ ইত্যাদি

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
৭৬৯.
কোনটি ভাষা পরিবারের নাম নয়?
  1. ইন্দো-ইউরোপীয়
  2. অস্ট্রো-এশীয়
  3. আফ্রিকীয়
  4. ইন্দো-সেমীয়
সঠিক উত্তর:
ইন্দো-সেমীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্দো-সেমীয়
ব্যাখ্যা

• ভাষা-পরিবারের নাম নয় - ইন্দো-সেমীয়

বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে।
- বাংলা ভাষা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'।
- ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।

৭৭০.
‘আমি অদ্য এ কার্যালয়ে যোগদান করেছি’ বাক্যে কোন শব্দটি ভুল ভাষা রীতিতে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অদ্য
  2. যোগদান
  3. করেছি
সঠিক উত্তর:
অদ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্য
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• অদ্য,
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
 অর্থ:
- আজ, এখন, আজকের দিন।

- এখানে 'অদ্য' শব্দটি সাধু ভাষার শব্দ।
- 'অদ্য' চলিত রূপ হচ্ছে 'আজ / আজকের দিন'।
- তাই এখানে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ হয়েছে।
- বাক্যের শুদ্ধ রূপ নিম্নরূপ:
- ‘আমি আজ এ কার্যালয়ে যোগদান করেছি’।
৭৭১.
বাংলা ছাড়াও বাংলা লিপিতে লেখা হয় কোন ভাষা?
  1. ক) হিন্দি
  2. খ) মৈথিলি
  3. গ) সংস্কৃত
  4. ঘ) মণিপুরি
সঠিক উত্তর:
ঘ) মণিপুরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মণিপুরি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপি রয়েছে। এই লিপির নাম বাংলা লিপি। বাংলা লিপিতে মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি - স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
- প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়।
- ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে।
- বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির বিবর্তিত রূপ।
- অহমিয়া, বােড়ো, মণিপুরি প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়। 
- সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হতাে।
- বাংলাদেশের জীবনযাত্রার প্রায় সবক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহারের বিষয়টি সরকারিভাবে বাধ্যতামূলক।
- এছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা প্রদেশের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা বাংলা।।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৭৭২.
কোনটি অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়?
  1. শব্দজোড়
  2. সর্বনাম
  3. শব্দ গঠন
  4. যতিচিহ্ন
সঠিক উত্তর:
শব্দজোড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দজোড়
ব্যাখ্যা
অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলে।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে, 
রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় - শব্দ গঠন, সর্বনাম
বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় - যতিচিহ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৭৩.
সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষারীতি কোনটি?
  1. চলিত রীতি
  2. আঞ্চলিক রীতি
  3. কাব্য রীতি 
  4. সাধু রীতি
সঠিক উত্তর:
চলিত রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলিত রীতি
ব্যাখ্যা

• চলিত ভাষারীতি:
১. চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
২. চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
৩. চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
৪. চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
৫. চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
৬. চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
৭. চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
৮. চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৭৭৪.
নিচের কোনটি অর্থতত্ত্বে আলোচিত হয় না?
  1. বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা
  2. বাগ্‌ধারা
  3. যতিচিহ্ন
  4. শব্দজোড়
সঠিক উত্তর:
যতিচিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যতিচিহ্ন
ব্যাখ্যা
অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

অন্যদিকে,
বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় - যতিচিহ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২)।
৭৭৫.
‘বাচ্য ও উক্তি’ ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. বাক্যতত্ত্ব
  2. অর্থতত্ত্ব
  3. রূপতত্ত্ব
  4. ধ্বনিতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে,বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৭৭৬.
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়গুলোর কোনটি ‘পদক্রম’ নামে পরিচিত?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. অর্থতত্ত্ব
  3. রূপতত্ত্ব 
  4. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়কে ৪ টি ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা: 
- ধ্বনিতত্ত্ব,
- রূপতত্ত্ব, 
- বাক্যতত্ত্ব/পদক্রম,
- অর্থতত্ত্ব।

⇒ ধ্বনিতত্ত্ব:
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।লিখিত ভাষায় ধ্বনি যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য , ধ্বনিদল প্রভৃতি।

⇒ রূপতত্ত্ব:
শব্দ ও পদনির্মানের বিভিন্ন দিক ব্যকরণের এই অংশে আলোচিত হয়।
যেমন: বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি।

⇒ বাক্যতত্ত্ব: 
বাক্যের নির্মান ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে। 
তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

পদকে ক্রমানুসারে সাজানো হলে বাক্য তৈরি হয় সুতরাং বাক্যতত্ত্বের অপর নাম পদক্রম।

⇒ অর্থতত্ত্ব:
ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৭৭.
'শব্দজোড় এবং বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচনা করা হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
অর্থতত্ত্ব:
- ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থও বলে।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচন করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৭৮.
‘মান রীতি’ নামে পরিচিত ভাষারীতি কোনটি?
  1. প্রমিত রীতি
  2. কাব্য রীতি
  3. সাধু রীতি
  4. আঞ্চলিক রীতি
সঠিক উত্তর:
প্রমিত রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমিত রীতি
ব্যাখ্যা
• প্রমিত রীতি:
• বিশ শতকের মাঝামাঝি নাগাদ চলিত রীতি সাধু রীতির জায়গা দখল করে। ক্রমে জীবনের সব ক্ষেত্রে সাধু রীতিকে সরিয়ে চলিত রীতি আদর্শ লেখ্য রতিতে পরিণত হয়। একুশ শতকের সূচনা নাগাদ এই চলিত রীতিরই নতুন নাম হয় ‘প্রমিত রীতি’। এটি ‘মান রীতি’ নামেও পরিচিত।
• বর্তমান বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ, বিদ্যাচর্চা, সাংবাদিকতা ও যোগাযোগের ভাষা হিসাবে প্রমিত রীতির লেখ্য বাংলা ভাষার প্রধান রীতিতে পরিণত হয়েছে।

প্রমিত রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
- প্রমিত রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গ হ্রস্বতর হয়।
- প্রমিত রীতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের শব্দ ব্যবহার করা যায়। যেমন: তৎসম ‘বৎসর’-ও লেখা যায় আবার তদ্ভব ‘বছর’-ও লেখা যায়।
- প্রমিত রীতিতে কথ্য রীতির বহু শব্দ বর্জনীয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭৭৯.
'ঞ্জ' যুক্তবর্ণটি কোন বর্ণগুলো দিয়ে গঠিত?
  1. ক) ঞ্‌+জ
  2. খ) জ+ঞ্‌
  3. গ) ঞ্‌+চ
  4. ঘ) ঞ্‌+ছ
সঠিক উত্তর:
ক) ঞ্‌+জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ঞ্‌+জ
ব্যাখ্যা
যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, আবার কখনো সহজে চেনা যায় না।
- যুক্তবর্ণ দুই রকম। যথা- স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ ও অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ।

স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ট, জ্জ, জ্ব, ড্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, দ্ম, ষ্ঠ, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, ব্দ ইত্যাদি। 

অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ত (ক্+ত), ক্ম (ক্+ম), ক্র (ক্‌+র), ক্ষ (ক্+ষ), ক্ষ্ম (ক্+ষ্+ম), ক্স (ক্‌+স), গু (গ্‌+উ), ন্ধ (গ্‌+ধ), ঙ্ক (ঙ্+ক), ঙ্গ (ঙ্+গ), জ্ঞ (জ্‌+ঞ), ঞ্চ (ঞ্‌+চ), ঞ্ছ (ঞ্‌+ছ), ঞ্জ (ঞ্‌+জ), ট্ট (ট্+ট), ত্ত (ত্+ত), খ (ত্+থ), ত্র (ত্+ত্র), দ্ধ (দ্‌+ধ), ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (ব্‌+ধ), ভ্র (ভ্+র), ভ্রূ (ভ্+র্+উ), রু (র্+উ), রূ (র্‌+ঊ), শু (শ্+উ), ষ্ণ (ষ্+ণ), হু (হ্+উ), হৃ (হ্+ঋ), হ্ন (হ্+ন), হ্ম (হ্+ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০২২ সংস্করণ)।
৭৮০.
"শব্দগঠন" ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. অর্থতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. ধ্বনিতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- উপসর্গ, প্রত্যয়, শব্দগঠন, পদপরিচয়, ক্রিয়া, লিঙ্গ, পুরুষ, বচন ইত্যাদি রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮১.
‘পশতু’ কোন এলাকার ভাষা?
  1. পাঞ্জাব
  2. ত্রিপুরা
  3. সিলেট
  4. ছাতক
সঠিক উত্তর:
পাঞ্জাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঞ্জাব
ব্যাখ্যা
• ‘পশতু
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তপ্রদেশের অধিবাসীদের ভাষা।

পাঞ্জাব: 
- পূর্ব পাকিস্তানের প্রদেশ। এটি উত্তর-পূর্বে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য, পূর্বে ভারতের পাঞ্জাব এবং রাজস্থান রাজ্য, দক্ষিণে সিন্ধু প্রদেশ, পশ্চিমে বেলুচিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ এবং ইসলামাবাদ ফেডারেল রাজধানী এলাকা এবং আজাদ কাশ্মীর দ্বারা সীমাবদ্ধ।

• যেহেতু জব সলিউশনের প্রশ্ন, তাই কাছাকাছি উত্তর হিসেবে অপশন (ক) গ্রহণ করা হলো।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও ব্রিটানিকা।
৭৮২.
নিচের কোনটি লেখ্য ভাষা রীতি?
  1. আদর্শ কথ্য রীতি
  2. প্রমিত রীতি
  3. আঞ্চলিক কথ্য রীতি
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
প্রমিত রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমিত রীতি
ব্যাখ্যা
• অধিকাংশ ভাষায় অন্তত দুটি রীতি থাকে:
১. কথ্য ভাষা রীতি ও
২. লেখ্য ভাষা রীতি।

• বাংলা ভাষায় এসব রীতির একাধিক বিভাজন রয়েছে।
যেমন কথ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে-
১. আদর্শ কথ্য রীতি ও
২. আঞ্চলিক কথ্য রীতি।

• আবার লেখ্য ভাষা রীতির হচ্ছে ৩টি-
১. প্রমিত রীতি,
২. সাধু রীতি ও
৩. কাব্য রীতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ )
৭৮৩.
সাধু রীতির শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) ওটি
  2. খ) কাহাদের
  3. গ) করিও
  4. ঘ) আসিল
সঠিক উত্তর:
ক) ওটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ওটি
ব্যাখ্যা
- 'ওটি' সাধু রীতির শব্দ নয়।
- 'উহা' এর চলিত রূপ হচ্ছে 'ওটি'/ও/ওটা।

অন্যদিকে,
'কাহাদের' চলিত রূপ হচ্ছে কাদের।
'করিও' চলিত রূপ হচ্ছে করো।
'আসিল' চলিত রূপ হচ্ছে আসল, এলো।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৭৮৪.
বাংলা কাব্যে ব্যবহৃত প্রাচীনতম ছন্দ কোনটি?
  1. ক) মাত্রাবৃত্ত
  2. খ) পয়ার
  3. গ) ত্রিপদী
  4. ঘ) স্বরবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
ক) মাত্রাবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) মাত্রাবৃত্ত
ব্যাখ্যা
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ বাংলা কাব্যে ব্যবহৃত প্রাচীন ছন্দ। এ ছন্দে চর্যাপদ লেখা হয়েছে।
মাত্রাবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য : 
মাত্রাবৃত্ত ছন্দে বদ্ধাক্ষর সর্বদা দুই মাত্রার।
এতে হসন্ত অক্ষরের স্বর, অনুস্বার (ং), বিসর্গ (ঃ), পূর্ববর্তী হসন্ত অক্ষরের স্বর বা যৌগিক স্বর (ঐ = ওই, ঔ = ওউ) বা যুগ্মধ্বনি সর্বদা দুই মাত্রার।
এ ছন্দে সাধু ভাষা বা সাধু ক্রিয়ার ব্যববহারই বেশি। 
এর ভাব ললিত মধুর।
এ ছন্দের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর গীতিপ্রবণতা বা সুরনিষ্ঠতা।

উৎস : প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।

৭৮৫.
ভাষার মৌলিক অংশ নয় কোনটি?
  1. ধ্বনি
  2. শব্দ
  3. বাক্য
  4. ছন্দ
সঠিক উত্তর:
ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছন্দ
ব্যাখ্যা
• ভাষার মৌলিক অংশ নয় - ‘ছন্দ’।

• বাংলা ব্যাকরণ:
যে শাস্ত্রে বাংলা ভাষার নিয়ম-কানুন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ করা যায় তাকে বাংলা ব্যাকরণ বলে।

• প্রত্যেক ভাষারই চারটি মৌলিক অংশ থাকে।
যেমন-
১. ধ্বনি (Sound),
২. শব্দ (Word),
৩. বাক্য (Sentence),
৪. অর্থ (Meaning),

• সব ভাষারই ব্যাকরণে প্রধানত নিম্নলিখিত চারটি বিষয়ের আলোচনা করা হয়।
১. ধ্বনিতত্ব (Phonology),
২. শব্দতত্ব বা রূপতত্ব (Morphology,
৩. বাক্যতত্ব বা পদক্রম (Syntax),
৪. অর্থতত্ব (Semantics)।

এ ছাড়া অভিধানতত্ব, ছন্দ ও অলংকার প্রভৃতিও ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ), বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮৬.
বাঙালি জাতির মাতৃভাষা কোনটি?
  1. উর্দু
  2. ইংরেজি
  3. আরবি
  4. বাংলা
সঠিক উত্তর:
বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- বাংলা ভাষা 'আদি আর্য ভাষাগোষ্ঠী' বা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'।
- ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।
- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে।
সেগুলো হলো:
ইন্দো-ইউরোপীয় → ইন্দো-ইরানীয় → ভারতীয় আর্য → প্রাকৃত → বাংলা।
- বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৭৮৭.
ভারতীয় উপমহাদেশের আঞ্চলিক ভাষাগুলাের আদিম উৎস-
  1. অনার্য ভাষা
  2. বৈদিক ভাষা
  3. আর্য ভাষা
  4. সংস্কৃত ভাষা
সঠিক উত্তর:
অনার্য ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনার্য ভাষা
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ:
পৃথিবীর ভাষাগুলো ইন্দো ইউরোপীয়, চিনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশিয় প্রভৃতি ভাষা পরিবারে ভাগ করা যায়।
- বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষাগােষ্ঠীর সদস্য।
- ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষার শাখা ২ টি; কেন্তম ও শতম।
- ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষাগােষ্ঠীর শতম শাখা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।
- ভারতীয় উপমহাদেশের আঞ্চলিক ভাষাগুলাের আদিম উৎস অনার্য ভাষা।
- আর্যদের ভাষার নাম বৈদিক ভাষা।
- বেদের ভাষাকেও বৈদিক ভাষা বলা হয়।
- বৈদিক ভাষার সংস্কারজাত নতুন ভাষাই সংস্কৃত ভাষা।
- ভাষা হিসেবে সংস্কৃত শব্দটির উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায় মহাকাব্য রামায়ণে।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া।
- ধ্রুপদী ভাষা সংস্কৃতি ও পালির সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭৮৮.
নিচের কোনটি চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য?
  1. এটি কৃত্রিম
  2. এটি কেবল পণ্ডিতদের ভাষা
  3. এটি সরল, সাবলীল ও পরিবর্তনশীল
  4. এটি ব্যাকরণের কঠোর নিয়ম মেনে চলে
সঠিক উত্তর:
এটি সরল, সাবলীল ও পরিবর্তনশীল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এটি সরল, সাবলীল ও পরিবর্তনশীল
ব্যাখ্যা

চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
- চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
- চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
- চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
- চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
- চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৭৮৯.
ধ্রুপদী ভাষা হিসেবে স্বীকৃত কোনটি?
  1. অহমিয়া
  2. মৈথিলী
  3. সংস্কৃত
  4. হিন্দি
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
• ধ্রুপদী ভাষা হিসেবে স্বীকৃত - সংস্কৃত

বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে।
- বাংলা ভাষা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'।
- ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৯০.
বর্তমানে লেখ্য বাংলা ভাষার সর্বজনগ্রাহ্য লিখিত রূপ কোনটি?
  1. আঞ্চলিক ভাষা
  2. প্রমিত রীতি
  3. চলিত রীতি
  4. সাধু রীতি
সঠিক উত্তর:
প্রমিত রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমিত রীতি
ব্যাখ্যা

- লিখিত বাংলা ভাষার আদি নিদর্শনের নাম চর্যাপদ।
- প্রায় এক হাজার পূর্বে লেখ্য বাংলা ভাষার কাব্য রীতিতে এটি রচিত।
- ব্যবহারিক প্রয়োজনে ক্রমে লেখ্য গদ্য রীতির জন্ম হয়।
- উনিশ শতকের সূচনায় এই গদ্য রীতি সাধু রীতির জন্ম দেয়।
- বিশ শতকের সূচনায় সাধু রীতির পাশাপাশি চলিত রীতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
- একূশ শতকের সূচনায় চলিত রীতির একটি আদর্শ রূপ প্রমিত রীতি হিসেবে গৃহীত হয়েছে।
- এই প্রমিত রীতি লেখ্য বাংলা ভাষার সর্বজনগ্রাহ্য লিখিত রূপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৭৯১.
রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান
  2. প্রত্যয়
  3. সন্ধি
  4. বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যয়
ব্যাখ্যা

রূপতত্ত্ব: 
রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়। 
বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া। উপসর্গ, সমাস, প্রত্যয়, পুরুষ রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

অন্যদিকে, 
ধ্বনিতত্ত্ব: 
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনাও এর অন্তর্ভুক্ত। 
ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান, সন্ধি প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

৭৯২.
কোনটি সাধুরীতির ক্রিয়াপদ?
  1. খাইতেছিল
  2. করে
  3. এসে
  4. গেছিল
সঠিক উত্তর:
খাইতেছিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাইতেছিল
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াপদের রূপের পার্থক্য:
→ সাধু - চলিত,
→ আসিয়া - এসে,
→ করিয়া - করে,
→ করিয়াছে - করেছে,
খাইতেছিল - খাচ্ছিল,
→ গিয়াছিল - গেছিল,
→ ঘুমাইতেছে - ঘুমাচ্ছে,
→ চাহিয়া - চেয়ে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৭৯৩.
বাংলা ভাষার আঞ্চলিক কথ্য ভাষাকে আর কী বলা হয়?
  1. চলিত ভাষা
  2. সাধু ভাষা
  3. উপভাষা
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
উপভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপভাষা
ব্যাখ্যা
উপভাষা:
- বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চলের জনগণ নিজ নিজ অঞ্চলের ভাষায় কথা বলে। এগুলো আঞ্চলিক কথ্য ভাষা বা উপভাষা।

পৃথিবীর সব ভাষায়ই উপভাষা আছে। এক অঞ্চলের জনগণের মুখের ভাষার সঙ্গে অপর অঞ্চলের জনগণের মুখের ভাষার যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। ফলে এমন হয় যে, এক অঞ্চলের ভাষা অন্য অঞ্চলের লোকের কাছে দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাধারণের কথ্য ভাষা দিনাজপুর বা রংপুরের লোকের পক্ষে খুব সহজবোধ্য নয়। এ ধরনের আঞ্চলিক ভাষাকে বলার ও লেখার ভাষা হিসেবে সর্বজনীন স্বীকৃতি দেওয়া সুবিধাজনক নয়। কারণ, তাতে বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষাভাষীদের মধ্যে ভাবের আদান-প্রদানে অন্তরায় দেখা দিতে পারে। সে কারণে, দেশের শিক্ষিত ও পণ্ডিতসমাজ একটি আদর্শ ভাষা ব্যবহার করেন

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৯৪.
'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ এনামুল হক
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থের রচয়িতা - ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন।
- তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভান্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।
এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৯৫.
ভারতীয় আর্যের কোন অংশ থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি?
  1. প্রাচীন-ভারতীয় আর্য 
  2. নব্য-ভারতীয় আর্য 
  3. মধ্য-ভারতীয় আর্য 
  4. প্রান্তিক-ভারতীয় আর্য  
সঠিক উত্তর:
নব্য-ভারতীয় আর্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নব্য-ভারতীয় আর্য 
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষার উৎপত্তি:
- পৃথিবীর ভাষাগুলো ইন্দো ইউরোপীয়, চিনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশিয় প্রভৃতি ভাষা পরিবারে ভাগ করা যায়।
- বাংলা ভাষার উৎপত্তি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-গোষ্ঠীর অন্তর্গত ইন্দো-ইরানীয় শাখাভুক্ত নব্য-ভারতীয় আর্য ভাষা থেকে।
- নব্য ভারতীয় আর্যগোষ্ঠীর এই ভাষা ঐতিহাসিক সূত্রে আইরিশ, ইংরেজি, ফরাসি, গ্রিক, রুশ, ফারসি ইত্যাদি ভাষার দূরবর্তী জ্ঞাতিভগ্নী।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড়ি প্রাকৃত থেকে গৌড়ি অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গ-কামরুপির মধ্য দিয়ে বাংলা এসেছে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা এসেছে মাগধী প্রাকৃত থেকে মাগধী অপভ্রংশ হয়ে।
- ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে ভাষা গবেষকদের মধ্যে ড. শহীদুল্লাহর মতামতটি অধিক গ্রহণযোগ্য। অন্যান্য পণ্ডিতগণও এই মতামতকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
- উদ্ভবের সময় থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাকে তিনটি ঐতিহাসিক পর্যায়ে ভাগ করে দেখা হয়: প্রাচীন বাংলা (৯০০/১০০০-১৩৫০), মধ্যবাংলা (১৩৫০-১৮০০) এবং আধুনিক বাংলা (১৮০০-র পরবর্তী)। প্রাচীন বাংলার লিখিত নিদর্শনের মধ্যে চর্যাগীতিকাগুলি সর্বপ্রধান। 

উৎস:বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলাপিডিয়া।

৭৯৬.
নিচের কোনটি ব্যাকরণের বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়?
  1. বাগধারা
  2. শব্দজোড়
  3. যতিচিহ্ন
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যতিচিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যতিচিহ্ন
ব্যাখ্যা
• 'যতিচিহ্ন' হচ্ছে ব্যাকরণের বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

• ব্যাকরণের  আলােচ্য বিষয় ৪ টি ভাগে বিভক্ত।
যথা:

ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়  ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভূক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য- বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য , ধ্বনিদল প্রভৃতি।

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে।
- এই আলোচনায়  বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দ গঠন প্রক্রিয়া।
 
বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে।  
- বাক্যের নির্মান ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে,বাক্যতুত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাতক্যত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষন, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

অর্থতত্ত্ব:
- ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- একে বাগর্থও বলে।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৯৭.
'বাগ্‌ধারা' - বাংলা ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. শব্দতত্ত্ব
  3. অর্থতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• 'বাগ্‌ধারা' ব্যাকরণের — অর্থতত্ত্ব অংশের আলোচ্য বিষয়।

• অর্থতত্ত্ব: 
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।

• অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বিপরীত শব্দ,
- প্রতিশব্দ,
- শব্দজোড়,
- বাগধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।

৭৯৮.
"পূর্বি" কোন অঞ্চলের ভাষা?
  1. বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চল
  2. বাংলাদেশের পূর্ব অঞ্চল
  3. বাংলাদেশের উত্তর
  4. বাংলাদেশের পশ্চিম অঞ্চল
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশের পূর্ব অঞ্চল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশের পূর্ব অঞ্চল
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক কথ্য রীতি:
- কথ্য রীতির আঞ্চলিক ভেদ সহজে বােঝা যায়। এই আঞ্চলিক ভেদ সাধারণত অঞ্চলের নামে পরিচিতি পায়।
- যেমন নােয়াখালীর ভাষা, চাপাই নবাবগঞ্জের ভাষা, কিংবা সুন্দরবন অঞ্চলের ভাষা।
- ভাষার এই আঞ্চলিকতা উপভাষা নামে আখ্যায়িত হয়ে থাকে।
- বাঙ্গালি (বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চল)।
- পূর্বি (বাংলাদেশের পূর্ব অঞ্চল, ত্রিপুরা এবং আসামের বরাক অঞ্চল)।
- বরেন্দ্রি (বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল)।
- কামরূপি (বিহারের পূর্ব অঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অঞ্চল এবং বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চল)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭৯৯.
বাংলা লিপির জন্ম হয় কোন লিপি থেকে?
  1. বোড়ো থেকে
  2. ব্রাহ্মী থেকে
  3. মণিপুরি থেকে
  4. অহমিয়া থেকে
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মী থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মী থেকে
ব্যাখ্যা
• বাংলা লিপি:
- বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপি রয়েছে। এই লিপির নাম বাংলা লিপি। বাংলা লিপিতে মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি - স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।

- প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়। ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে। বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির বিবর্তিত রূপ।

- অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুরি প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়। সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হতো।

- বাংলাদেশের জীবনযাত্রার প্রায় সবক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ব্যবহারের বিষয়টি সরকারিভাবে বাধ্যতামূলক। এছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা প্রদেশের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা বাংলা।।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৮০০.
স্থান, কাল ও সমাজভেদে ভাষার কী দেখা যায়?
  1. প্রকৃতিভেদ
  2. ভেদাভেদ
  3. রুপভেদ
  4. মতভেদ
সঠিক উত্তর:
রুপভেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুপভেদ
ব্যাখ্যা
ভাষা:
- নির্দিষ্ট জনসমাজের মানুষ মনের ভাব প্রকাশের জন্য মুখ দিয়ে অন্যের বোধগম্য অর্থপূর্ণ যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি উচ্চারণ করে তাকে ভাষা বলে।
- স্থান, কাল ও সমাজভেদে ভাষার রূপভেদ দেখা যায়।
- ধ্বনির সৃষ্টি হয় বাগ্যন্ত্রের সাহায্যে। মানুষের গলনালি, দাঁত, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিহ্বা, তালু, নাক ইত্যাদির সহযোগ হলো বাগ্যন্ত্র।
- যেকোনো ধ্বনি বা আওয়াজই ভাষা নয়।
- সেখানে অর্থ এবং অর্থের ধারাবাহিকতা থাকা চাই।
- ধ্বনির অর্থপূর্ণ মিলনে গঠিত হয় শব্দ।
- আর একাধিক শব্দের সমন্বয়ে অর্থের ধারাবাহিকতায় তৈরি হয় বাক্য।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।