- মনোএল দ্য আসসুম্পসাঁউ ভাওয়ালের একটি গির্জায় ধর্মযাজকের দায়িত্ব পালনকালে ১৭৩৪-৪২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে Vocabolario em idioma Bengalla, e Potuguez dividido em duas partes শীর্ষক গ্রন্থটি রচনা করেন।
- গ্রন্থটি দুটি অংশে বিভক্ত: প্রথম অংশ বাংলা ব্যাকরণের একটি সংক্ষিপ্তসার এবং দ্বিতীয় অংশ বাংলা-পর্তুগিজ ও পর্তুগিজ-বাংলা শব্দাভিধান।
- গ্রন্থটি পর্তুগালের রাজধানী লিসবন থেকে ১৭৪৩ খ্রিস্টাব্দে রোমান হরফে মুদ্রিত হয়। এর কাঠামোগত আদর্শ গৃহীত হয়েছে লাতিন ব্যাকরণ থেকে, তাই এতে বর্ণিত হয়েছে লাতিন ভাষার ধাঁচে। আর এতে শুধু রূপতত্ত্ব ও বাক্যতত্ত্বই আলোচিত হয়েছে, ধ্বনিতত্ত্ব সম্পর্কে কোনো আলোচনা নেই।
• সুতরাং মনোএল দ্য আসসুম্পসাঁউ প্রথম বাংলা ভাষার অভিধান রচনার প্রচেষ্টা করেন।
অন্যদিকে,
• বাংলা ভাষার দ্বিতীয় ব্যাকরণ ও ব্যাকরণগ্রন্থের রচয়িতা নাথিনিয়েল ব্রাশি হ্যালহেড (Nathaniel Brassey Halhed: ১৭৫১-১৮৩০)। তাঁর A Grammar of the Bengal Language প্রকাশিত হয় ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে। হ্যালহেড ভাল সংস্কৃত জানতেন এবং তিনি বিশ্বাস করতেন, বাংলা ভাষার উদ্ভব সংস্কৃত থেকে। তাই তাঁর ব্যাকরণে সংস্কৃত ব্যাকরণের প্রভাব লক্ষণীয়। হ্যালহেডের ব্যাকরণের বিষয়বিন্যাস সেকালের ইংরেজি ব্যাকরণের অনুরূপ হলেও মাঝে মাঝে তিনি সংস্কৃত ব্যাকরণের মূল সূত্রগুলিও ব্যাখ্যা করেছেন। মনোএল যেমন বাংলা ভাষাকে লাতিন ব্যাকরণের ছাঁচে ফেলে তাঁর গ্রন্থ প্রণয়নের চেষ্টা করেছেন, হ্যালহেড তেমনি অনেকাংশেই বাংলা ভাষাকে সংস্কৃতের ছাঁচে ফেলে বিশ্লেষণ করেছেন। একারণে অনেক ক্ষেত্রেই তিনি সংস্কৃত ব্যাকরণের পারিভাষিক শব্দকে বাংলা ব্যাকরণের পারিভাষিক শব্দ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন।
উল্লেখ্য,
- ১৮১৭ সালে রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ বাংলা ভাষায় (বাংলা থেকে বাংলা) প্রথম অভিধান সংকলন করেন। বাংলা একাডেমি ১৯৯২ সালে অখণ্ড পূর্ণাঙ্গ সংস্করণকে 'বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান' নামে অভিধান প্রকাশ করে।
- ‘আঞ্চলিক ভাষার অভিধান’ বাংলা ভাষার প্রথম আঞ্চলিক অভিধান। এই অভিধানটি রচনা করেছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।
- বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ (বাংলায়) - গৌড়ীয় ব্যাকরণ (রামমোহন রায়)।
উৎস: বাংলাপিডিয়া; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।