বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা ভাষা

মোট প্রশ্ন১,১৩৬এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা ভাষা

PrepBank · পাতা ১১ / ১২ · ১,০০১১,১০০ / ১,১৩৬

১,০০১.
প্রথম বাংলা ব্যাকরণগ্রন্থ কোন ভাষায় রচিত?
  1. ইংরেজি
  2. ফারসি
  3. পর্তুগিজ
  4. বাংলা
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইংরেজি
ব্যাখ্যা
• ম্যানোয়েল দ্যা আসসুম্পসাঁউ পোর্তুগিজ ভাষায় রচিত Vocabulario em Idioma Bengalla E Portugues (1743) গ্রন্থের একটা অধ্যায়ে পোর্তুগিজ  ভাষায় প্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেন।
- কিন্তু সেটা কোনো গ্রন্থ ছিল না, একটা অধ্যায় ছিল মাত্র।

• বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ লেখেন এন বি (নাথায়িল ব্রাসি) হ্যালহেড। এটি ইংরেজিতে লেখা হয়।
- এই বইয়ের নাম ছিল - A Grammar of the Bengal Language (1778)।

• আর বাংলা ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ প্রথম লেখেন রাজা রামমোহন রায়।
- এই বইয়ের নাম ছিল ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ (১৮৩৩)।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
১,০০২.
কোনটি চলিত রীতির শব্দ?
  1. শুকনা
  2. তুলা
  3. শুষ্ক
  4. বুনো
সঠিক উত্তর:
বুনো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুনো
ব্যাখ্যা

বুনো একটি চলিত রীতির শব্দ। 

সাধু রীতির শব্দ:
- মস্তক,
- জুতা,
- তুলা,
- শুষ্ক/শুকনা,
- বন্য। 

চলিত রীতির শব্দ:
- মাথা,
- জুতো,
- তুলো,
- শুকনো,
- বুনো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

১,০০৩.
প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় কোন ভাষায়?
  1. হিন্দি
  2. পর্তুগিজ
  3. ফার্সি
  4. সংস্কৃত
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
ব্যাকরণ ও বাংলা ব্যাকরণ:
- ব্যাকরণে ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। ব্যাকরণের কাজ ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ইত্যাদি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভাষার মধ্যকার সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করা। যে বিদ্যাশাখায় বাংলা ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি বর্ণনা করা হয় তাকে বাংলা ব্যাকরণ বলে। 

• প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়।
- এর লেখক ছিলেন মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ।
- তাঁর বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকা অংশ হিসেবে তিনি এটি রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,০০৪.
'লিখিতেছিলন' শব্দটির চলিত রুপ কোনটি?
  1. ক) লিখতেছিলেন
  2. খ) লিখছিলেন
  3. গ) লিখেছিলেন
  4. ঘ) লিখছিলাম
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) লিখছিলেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লিখছিলেন
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে।যেমনঃ খাইতেছিলাম,যাইতেছিলাম,লিখতেছিলেন ইত্যাদি। চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।যেমনঃ খাচ্ছিলাম, যাচ্ছিলাম, লিখছিলেন ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - অষ্টম শ্রেণী
১,০০৫.
বাংলা ভাষার উৎসমূলে কোন ভাষার সন্ধান পাওয়া যায়?
  1. অস্ট্রিক
  2. দ্রাবিড়
  3. ইন্দো-ইউরোপীয়
  4. পালি
সঠিক উত্তর:
ইন্দো-ইউরোপীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্দো-ইউরোপীয়
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ:
- বাংলা ভাষা হাজার বছরের পুরনো। বাংলা ভাষার উৎসমূলে যে ভাষার সন্ধান পাওয়া যায়, তার নাম ইন্দো- ইউরোপীয় মূল ভাষা।
- আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বে ইউরোপের মধ্যভাগ হতে দক্ষিণ-পূর্বাংশ ভূভাগে ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষা প্রচলিত ছিল।
- এ ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষাই হলো বাংলা ভাষার আদি উৎস। তবে এ আদি উৎস থেকে বিবর্তনের পরবর্তী ধাপেই বাংলা ভাষার জন্ম হয়নি।
- ভাষার স্বাভাবিক পরিবর্তন ও বিবর্তনের ধারায় অনেক কাল ধরে অনেকগুলো স্তর পেরিয়ে সপ্তম শতকে বাংলা ভাষার উদ্ভব ঘটেছে।
- তবে বাংলা ভাষার উদ্ভবকাল নির্ণয়ে পণ্ডিতগণের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র মতে, বাংলা ভাষার উদ্ভবকাল ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ। আর ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দকে বাংলা ভাষার উদ্ভবকাল বলে মনে করেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ), বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,০০৬.
ড. মুহম্মদ এনামুল হক রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ কোনটি?
  1. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  2. বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  3. ব্যাকরণ মঞ্জুরী
  4. ব্যাকরণ কৌমুদী
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ মঞ্জুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ মঞ্জুরী
ব্যাখ্যা

উল্লেখযোগ্য কিছু ব্যাকরণ গ্রন্থের রচয়িতা:
• 'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' এর লেখক ড. মুহম্মদ এনামুল হক।
• বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ (বাংলায়) 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' এর লেখক রামমোহন রায়। 
• 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' এর রচয়িতা-ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
• 'ব্যাকরণ কৌমুদী' বিখ্যাত বাঙালি শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর-এর লেখা।
• "ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ" গ্রন্থের রচয়িতা ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
• ১৯০০ সালে হৃষিকেশ শাস্ত্রী রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ: 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ'।
• ড. সুকুমার সেন 'ভাষার ইতিবৃত্ত' (১৯৩৯)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০০৭.
নিচের কোনটি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়?
  1. বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা
  2. বাগ্‌ধারা
  3. ক্রিয়ার কাল
  4. কারক বিশ্লেষণ
সঠিক উত্তর:
কারক বিশ্লেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারক বিশ্লেষণ
ব্যাখ্যা

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।

তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

অন্যদিকে,
• 'ক্রিয়ার কাল' রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
• 'প্রতিশব্দ' ও 'বাগ্‌ধারা' নিয়ে ব্যাকরণের অর্থতত্ত্ব অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১,০০৮.
সাধু রীতির শব্দ কোনটি?
  1. শুকনা
  2. মাথা
  3. বুনো
  4. জুতো
সঠিক উত্তর:
শুকনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুকনা
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষারীতি:
- বাংলা, ইংরেজি, আরবি, হিন্দি প্রভৃতি ভাষার মৌখিক বা কথ্য এবং লৈখিক বা লেখ্য এই দুটি রূপ দেখা যায়।
- ভাষার মৌখিক রূপের আবার রয়েছে একাধিক রীতি: একটি চলিত কথ্য রীতি, অপরটি আঞ্চলিক কথ্য রীতি।
- বাংলা ভাষার লৈখিক বা লেখ্য রূপেরও রয়েছে দুটি রীতি: একটি চলিত রীতি, অপরটি সাধু রীতি।

• সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্য:
সাধু - চলিত:
মস্তক - মাথা;
জুতা - জুতো;
তুলা - তুলো;
শুষ্ক / শুকনা - শুকনো;
বন্য - বুনো।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।

১,০০৯.
ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা কোনটি?
  1. বাংলা
  2. খরষ্ঠি
  3. সংস্কৃত
  4. কুটিল
সঠিক উত্তর:
কুটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুটিল
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার লিপি:
• বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপি রয়েছে। এই লিপির নাম বাংলা লিপি। বাংলা লিপিতে মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি– স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
• প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে উপমহাদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়।
• ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে।
• বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির পরিবর্তিত রূপ।
• অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুরি প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়।
• সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হতো।
 
ব্রাহ্মী লিপির তিনটি রূপ রয়েছে।
- সারদা,
- নাগর ও
- কুটিল।

অন্যদিকে,
খরোষ্ঠী প্রাচীন উত্তর পশ্চিম ভারতের গান্ধার সভ্যতার গান্ধারী ভাষা লেখার লিপি পদ্ধতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণে) এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০১০.
'ভাষা চিন্তার শুধু বাহনই নয়, চিন্তার প্রসূতিও।' মন্তব্যটি কোন ভাষা-চিন্তকের?
  1. ক) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  3. গ) মুহম্মদ এনামুল হক
  4. ঘ) সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুকুমার সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে উল্লেখিত মন্তব্যটি করেন প্রখ্যাত ভাষা-চিন্তক - সুকুমার সেন
- তিনি তাঁর ‘ভাষার ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থের ‘ভাষা ও উপভাষা’ নামক অধ্যায়ে মন্তব্যটি করেন।
- গ্রন্থটি প্রথম ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত হয়।

সুকুমার সেনের ভাষায় -
"মানুষমাত্রেই কোন না কোন সংসার-সীমানার অথবা সমাজগণ্ডীর অন্তর্গত। স্বাভাবিক অবস্থায় কোন ব্যক্তি সংসার অথবা সমাজ বিরহিত নয়। যে সংসার বা সমাজের মধ্যে মানুষ বাস করে সে সংসার ও সমাজভুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে তাহার চিত্তা উদ্দেশ্য এবং কর্মগত সমতা কিছু না কিছু থাকিবেই। ভাষা এই সমতার প্রধান সাধন। ভাষার মধ্য দিয়া আদিম মানুষের সামাজিক প্রবৃত্তির প্রথম অঙ্কুর প্রকাশ পাইয়াছিল । ভাষার মধ্য দিয়াই সেই সামাজিক প্রবৃত্তি নানাদিকে নানাভাবে প্রসারিত হইয়া আদিম নরকে পশুত্বের অন্ধজড়তা হইতে উদ্ধার করিয়া তাহাকে মননশীল করিয়াছে। প্রকৃতির দাসত্ব হইতে মুক্তি পাইয়া মানুষ প্রকৃতির প্রভুত্বের অধিকারী হইয়াছে। ভাষা চিন্তার শুধু বাহনই নয় চিন্তার প্রসূতিও। লতা যেমন মঞ্চ-অবলম্বন না পাইলে বাড়িতে পারে না চিত্তাও তেমনি ভাষা-অবলম্বন ব্যতিরেকে বিচরণ করিতে অক্ষম।
পশুর সমাজ নাই এবং তাহা থাকিবার কথাও নয়। পশু একাকী অথবা জোড় বাঁধিয়া কিংবা দল লইয়া ঘুরিয়া বেড়ায়। কিন্তু পশুর দল পশুর “সমাজ” নয়, সে দলে একটিমাত্র পুরুষ-প্রাণী—কর্তা। সে দলকে সমাজ নয়, বরং পরিবার বলিতে পারি। পশুর জীবনধারণ শুধু বাঁচিয়া থাকা, সুতরাং তাহার পক্ষে ভাষা নিতান্ত অনাবশ্যক। তবে শারীরিক প্রয়োজনে অনেক পশু বিশেষ বিশেষ ডাক ডাকে।"
------------------
সুকুমার সেন:
-  জানুয়ারি, ১৯০০ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯২ সালে মৃত্যুবরণ করেন। 
- তিনি ১৯৬৩ সালে রবীন্দ্র পুরস্কার, ১৯৮১ সালে বিদ্যাসাগর পুরস্কার লাভ করেন। 

তাঁর অন্যান্য রচনা: 
- বাংলা স্থান নাম,
- বাংলায় নারীর ভাষা,
- বাংলা সাহিত্যে গদ্য,
- ভারতীয় আর্য সাহিত্যের,
- ভারত কথার গ্রন্থিমোচন,
- রামকথার প্রাক ইতিহাস,
- বটতলার ছাপা ও ছবি,
- বনফুলের ফুলবন,
- কলকাতার কাহিনি ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষার ইতিবৃত্ত, সুকুমার সেন এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১,০১১.
কোনটি চলিত রীতির শব্দ?
  1. ইচ্ছা
  2. গৃহিণী
  3. জিজ্ঞাসা
  4. আগেই
সঠিক উত্তর:
আগেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগেই
ব্যাখ্যা
• সঠিক উত্তর- খ) আগেই।

ব্যাখ্যা:
চলিত রীতি হলো আধুনিক বাংলা ভাষার স্বাভাবিক কথ্য রূপ যা সাধারণত লেখায় ব্যবহৃত হয়।

"আগেই" - চলিত রীতির শব্দ:
- এটি আধুনিক বাংলায় স্বাভাবিকভাবে ব্যবহৃত হয়
- সাধু রীতিতে এর রূপ "পূর্বেই"।

অন্যান্য অপশনগুলো:
ক) ইচ্ছা - এটি সাধু রীতির শব্দ।
চলিত রীতিতে: "ইচ্ছে"।

খ) গৃহিণী - এটি সাধু রীতির শব্দ।
- চলিত রীতিতে: "গিন্নি"।

গ) জিজ্ঞাসা - এটি সাধু রীতির শব্দ।
- চলিত রীতিতে: "জিজ্ঞেস"।

সুতরাং "আগেই" শব্দটি চলিত রীতির প্রমিত শব্দ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০১২.
"বাগ্‌ধারা" - ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচনা করা হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্বে
  2. রূপতত্ত্বে
  3. বাক্যতত্ত্বে
  4. অর্থতত্ত্বে
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্বে
ব্যাখ্যা

• অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।

১,০১৩.
ধ্রুপদী ভাষা কোনগুলো?
  1. ক) হিন্দি ও উর্দু 
  2. খ) নেপালি ও সিংহলি
  3. গ) ওহমিয়া ও ওড়িয়া 
  4. ঘ) সংস্কৃত ও পালি
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংস্কৃত ও পালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংস্কৃত ও পালি
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয় , চীনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো - এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে।
ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো বাংলা ভাষাও ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের সদস্য। 
বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া। ধ্রুপদি ভাষা সংস্কৃত এবং পালির সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ( নবম - দশম শ্রেণি )
১,০১৪.
কোনটি সাধুরীতির শব্দ?
  1. যদিও
  2. প্রায়ই
  3. নচেৎ 
  4. তবুও
সঠিক উত্তর:
নচেৎ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নচেৎ 
ব্যাখ্যা

• সাধুরীতির শব্দ - প্রায়শ।
- এবং এর চলিতরূপ - প্রায়ই।

অব্যয়পদের রূপের পার্থক্য:

- সাধু - চলিত:
- অদ্য - আজ,
- অদ্যাপি - আজও,
- কদাচ - কখনো,
- তথাপি - তবুও,
- নচেৎ - নইলে,
- নতুবা - নইলে,
- যদ্যপি - যদিও।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১,০১৫.
কোনটি চলিত রীতির শব্দ?
  1. গৃহিণী
  2. তাহারা
  3. অপেক্ষা
  4. তবুও
সঠিক উত্তর:
তবুও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তবুও
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর- ঘ) তবুও।

ব্যাখ্যা:
চলিত রীতি হলো আধুনিক বাংলা ভাষার স্বাভাবিক কথ্য রূপ যা সাধারণত লেখায় ব্যবহৃত হয়।

"তথাপি" - সাধু রীতির শব্দ:
- চলিত রীতিতে এর রূপ "তবুও"।

অন্যান্য অপশনগুলো:
ক) চেয়ে - এটি চলিত রীতির শব্দ।
সাধু রীতিতে: "অপেক্ষা"।

খ) গিন্নি - এটি চলিত রীতির শব্দ।
- সাধু রীতিতে: "গৃহিণী"।

গ) তাহারা - এটি সাধু রীতির শব্দ।
- চলিত রীতিতে: "তারা"।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১,০১৬.
কোন ভাষা রীতিতে পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট?
  1. কথ্য রীতি
  2. চলিত রীতি
  3. সাধু রীতি
  4. উপরের সবগুলোই 
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
ব্যাখ্যা

• সাধু ভাষারীতির  বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষারীতি সর্বজনগ্রাহ্য লেখার ভাষা।
- সাধু ভাষারীতি সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে।
- সাধু ভাষায় পদবিন্যাস রীতি সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি।
- সাধু ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয় পদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
- সাধু ভাষা গুরুগম্ভীর, দুর্বোধ্য ও মন্থর।
- সাধু ভাষারীতি অপরিবর্তনীয়, তাই কৃত্রিম।

----------------
• চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষারীতি সর্বজনবোধ্য মুখের ও লেখার ভাষা।
- চলিত ভাষা সব সময় ব্যাকরণের নিয়ম মেনে চলে না।
- চলিত ভাষায় পদবিন্যাস রীতি অনেক সময় পরিবর্তিত হয়।
- চলিত ভাষায় তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কম।
- চলিত ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ ও নাটকের সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম, ক্রিয়া ও অব্যয়পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।
- চলিত ভাষা চটুল, সরল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষারীতি পরিবর্তনশীল, তাই জীবন্ত।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১,০১৭.
'রূপতত্ত্বের' আলোচ্য বিষয় নয় কোনটি?
  1. কারক
  2. উপসর্গ
  3. প্রত্যয়
  4. সমাস
সঠিক উত্তর:
কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কারক
ব্যাখ্যা
• 'রূপতত্ত্বের' আলোচ্য বিষয় নয় - কারক।
• কারক - বাতক্যত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

রূপতত্ত্ব: 

- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- উপসর্গ, সমাস, প্রত্যয়, পুরুষ রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। 

ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়  ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভূক্ত।  
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বিষয়: 
- বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, ধ্বনিসংযোগ বা সন্ধি, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য , ধ্বনিদল প্রভৃতি।

বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে ।  
- বাক্যের নির্মান ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে,বাক্যতুত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাতক্যত্ত্বের আকোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষন, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,০১৮.
কোন ভাষারীতির অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে কোনো পরিবর্তন হয় না?
  1. চলিত ভাষারীতি
  2. প্রমিত ভাষারীতি
  3. সাধু ভাষারীতি
  4. আঞ্চলিক ভাষারীতি
  5. সবগুলোয়
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষারীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু ভাষারীতি
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
ক. সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
খ. এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
গ. সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
ঘ. সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
ঙ. সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
১,০১৯.
নিচের কোনটি চলিত রীতির শব্দ?
  1. ক) তুলা
  2. খ) শুকনো
  3. গ) পড়িল
  4. ঘ) সহিত
সঠিক উত্তর:
খ) শুকনো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শুকনো
ব্যাখ্যা
• 'শুকনা' সংস্কৃত শব্দ, এর চলতি রীতি বা চলিত রূপ = শুকনো।

অন্যদিকে,
- 'তুলা' এর কথ্য বা চলতি রূপ হচ্ছে 'তুলো'
- এখানে 'তুলা' অর্থ কার্পাস বা শিমুল প্রভৃতি ফলের মধ্যকার সাদা আঁশ যা থেকে সুতা উৎপাদিত হয়। 

 উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১,০২০.
ভাষার ক্ষুদ্রতম উপাদান হলো-
  1. শব্দ
  2. বাক্য
  3. অর্থ
  4. ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনি
ব্যাখ্যা
• ভাষা হলো বাক্যের সমষ্টি।
- বাক্য গঠিত হয় শব্দ দিয়ে।আবার শব্দ তৈরি হয় ধ্বনি দিয়ে। এদিক থেকে ভাষার ক্ষুদ্রতম উপাদান হলো ধ্বনি।
- এই ধ্বনি, শব্দ, বাক্য প্রত্যেকটি অংশই ব্যাকরণের আলোচ্য।
- এছাড়া শব্দের ও বাক্যের বহু ধরনের অর্থ হয়।
- সেসব অর্থ নিয়েও ব্যাকরণে আলোচনা করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১,০২১.
কোনটি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় নয়?
  1. উক্তি
  2. বাচ্য
  3. বিপরীত শব্দ
  4. যতিচিহ্ন
সঠিক উত্তর:
বিপরীত শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিপরীত শব্দ
ব্যাখ্যা
• বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় নয় - বিপরীত শব্দ
- এটি অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

• ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় অন্তত চারটি ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. ধ্বনিতত্ত্ব,
২. রূপতত্ত্ব,
৩. বাক্যতত্ত্ব ও
৪. অর্থতত্ত্ব।

বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- 'বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন' বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,০২২.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি কোন ভাষা থেকে?
  1. ক) ব্রজবুলি
  2. খ) সন্ধ্যাভাষা
  3. গ) বঙ্গকামরূপী
  4. ঘ) শৌরসেনী
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্গকামরূপী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বঙ্গকামরূপী
ব্যাখ্যা
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন, ভারতীয় ভাষা থেকেই বৈদিক এবং প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার সৃষ্টি।  
- খ্রিষ্টপূর্ব আটশ অব্দে প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা থেকেই আদিম প্রাকৃত ভাষার সৃষ্টি। 
- আনুমানিক দুইশ খ্রিষ্টপূর্ব অব্দে এই ভাষা থেকেই গৌড়ীয় প্রাকৃত এবং আনুমানিক চারশ অব্দে গৌড়ী পাকৃত থেকে গৌড়ী অপভ্রংশের সৃষ্টি। 
- জর্জ গ্রিয়ারসন, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়সহ অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী মনে করেন মাগধী প্রাকৃত থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি। 
- কিন্তু ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ গৌড় অপভ্রংশ থেকে আনুমানিক খ্রিষ্টীয় পাঁচশ অব্দে বঙ্গ কামরূপী ভাষার তৈরী। 
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড় অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গকামরূপী ভাষার মাধ্যমে ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষা স্বতন্ত্ররূপ পরিগ্রহ করে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১,০২৩.
সাধু রীতির ক্ষেত্রে কোনটি অশুদ্ধ?
  1. এ রীতি তৎসম শব্দবহুল।
  2. পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
  3. সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এ রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। 
  4. এ রীতি গুরুগম্ভীর।
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এ রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এ রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। 
ব্যাখ্যা
• সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্য-
⇒ সাধু রীতি:
• বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
• এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
• সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
• এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

⇒ চলিত রীতি:
• চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করেছে।
• এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
• চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী।
• সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০২৪.
কোনটি সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য?
  1. তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে
  2. পরিবর্তনশীল
  3. সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়
  4. সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়

অপরদিকে,
- বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে -চলিতরীতি/ চলনরীতি।
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারণে চলিত রীতি পরিবর্তিত রুপ লাভ করে।
- চলিত ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া, অষ্টম শ্রেণীর ব্যকরণ বই।
১,০২৫.
কোনটি লিপির বিবর্তনের ধাপ নয় ?
  1. ক) চৈনিক লিপি
  2. খ) জাপানি লিপি
  3. গ) দেব লিপি
  4. ঘ) চীনা লিপি
সঠিক উত্তর:
গ) দেব লিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দেব লিপি
ব্যাখ্যা


উৎসঃ নেতাজী সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 

 
১,০২৬.
'চলিত শব্দ' কোনটি?
  1. ক) বললেন
  2. খ) বলিলেন
  3. গ) বলিয়াছিলেন
  4. ঘ) বলাইয়াছিলেন
সঠিক উত্তর:
ক) বললেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বললেন
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার ৩টি রীতি রয়েছে।
যথা -
১. সাধু রীতি
২. চলিত রীতি
৩. আঞ্চলিক কথ্য রীতি বা উপভাষা

• চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনের চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ - আলোচনার জন্য উপযোগী।

• সাধু ও চলিত ভাষার প্রধান পার্থক্য হলো ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের ভিন্নতায়।
প্রদত্ত ‘বলিলেন’ এর চলিত রূপ - ‘বললেন
এবং ‘বলিয়াছিলেন’ এর চলিত রূপ - ‘বলেছেন’ 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০২৭.
ধ্বনির অর্থপূর্ণ মিলনে কি তৈরী হয়?
  1. বর্ণ
  2. শব্দ
  3. বাক্য
  4. ব্যাকরণ
সঠিক উত্তর:
শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দ
ব্যাখ্যা
শব্দ:
- কিছু ধ্বনি উচ্চারিত হয়ে বা বর্ণ একত্র বসে যদি কোন নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে তবে তাকে শব্দ বলে। শব্দই বাক্যের প্রাণ।
- আধুনিক চিন্তা থেকে বলা যায়, শব্দ একটি ধারণা বা ইমেজ।
- শব্দ মানুষের মনোজগতে পৃথক পৃথক ইমেজ সৃষ্টি করে।
- যেমন: 'লোকটি জ্বরে ছটফট করছে।'
- এই বাক্যটি বললে যে-কোনো বাঙালি বুঝবেন যে, একটি মানুষ একটি নির্দিষ্ট অসুস্থতায় এখনো কাতরাচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০২৮.
ব্যাকরণের কোন অংশে ধাতু সম্পর্কে আলোচনা করা হয়?
  1. ক) ধ্বনিতত্ত্ব
  2. খ) অর্থতত্ত্ব
  3. গ) বাক্যতত্ত্ব
  4. ঘ) রূপতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ঘ) রূপতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

শব্দতত্ত্ব বা রূপতত্ত্ব (Morphology): সমাস, প্রকৃতি-প্রত্যয় (প্রকৃতি-প্রত্যয় শব্দ নিয়ে কাজ করে। মনে রাখা দরকার, প্রকৃতি মাত্রই প্রাতিপদিক বা ক্রিয়াপদ, অর্থাৎ স্বাধীন শব্দ। ), কারক, বিভক্তি, উপসর্গ, বচন, পুরুষ ও স্ত্রীবাচক শব্দ, দ্বিরুক্ত শব্দ, সংখ্যাবাচক শব্দ, পদাশ্রিত নির্দেশক, ধাতু, শব্দের শ্রেণীবিভাগ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।

১,০২৯.
'শব্দগঠন' নিয়ে আলোচনা করা হয় ব্যাকরণের কোন অংশে?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. অর্থতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• রূপতত্ত্ব:
- এক বা একাধিক ধ্বনির অর্থবোধক সম্মিলনে শব্দ তৈরি হয়, শব্দের ক্ষুদ্রাংশকে বলা হয় রূপ (morpheme)।
- রূপ গঠন করে শব্দ। সেই জন্য শব্দতত্ত্বকে রূপতত্ত্ব (Morphology) বলা হয়।
- রূপতত্ত্বে শব্দের গঠন ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় -
- শব্দ,
- দ্বিরুক্ত শব্দ,
- বচন,
- সমাস,
- প্রত্যয়,
- উপসর্গ,
- অনুসর্গ,
- পদ- প্রকরণ,
- অনুজ্ঞা,
- ক্রিয়ার কাল,
- পুরষ,
- লিঙ্গ,
- বচন,
- ধাতু  ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
১,০৩০.
কোনটি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়?
  1. বাগ্‌যন্ত্র
  2. বাগধারা
  3. বাচ্য
  4. প্রতিশব্দ
সঠিক উত্তর:
বাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাচ্য
ব্যাখ্যা
• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে। বাক্যের নির্মান ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে,বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করে।
- বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় - বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি, কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
→ ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় - বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য , ধ্বনিদল প্রভৃতি।
→ অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় - শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা, বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,০৩১.
চলিত ভাষারীতিতে কোন পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. সর্বনাম
  3. বিশেষণ
  4. উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা সর্বজনগ্রাহ্য মার্জিত ও গতিশীল ভাষা। তাই এটি মানুষের কথাবার্তা ও লেখার ভাষা হিসেবে গৃহীত হয়েছে। এটি পরিবর্তনশীল।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের প্রাচীন নিয়মকানুন দিয়ে সর্বদা ব্যাখ্যা করা যায় না।
- চলিত ভাষারীতিতে অপেক্ষাকৃত সহজ-সরল শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এটি বেশ সাবলীল, চটুল ও জীবন্ত।
- বলার ও লেখার ভাষা বলেই এ ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ, নাটকের সংলাপ ও সামাজিক আলাপ-আলোচনার জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
- চলিত ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১,০৩২.
ইংরেজি ভাষায় লেখা প্রথম বাংলা ব্যাকরণের রচয়িতা কে?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
  4. জোশুয়া মার্শম্যান 
সঠিক উত্তর:
নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
ব্যাখ্যা

বাংলা ব্যাকরণ রচনার ইতিহাস:
• প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়। এর লেখক ছিলেন মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ। তাঁর বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকা অংশ হিসেবে তিনি এটি রচনা করেন।

• এরপর ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয় নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড প্রণীত ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ।
- বইটির নাম ‘এ গ্রামার অব দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ'।

• ১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরি এবং ১৮২৬ সালে রামমোহন রায় ইংরেজি ভাষায় আরো দুটি উল্লেখযোগ্য বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।

• উইলিয়াম কেরির ইংরেজি ভাষায় রচিত বাংলা ব্যাকরণ 'A Grammar of the Bengalee Language' (১৮০১)। ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে জন রবিনসন এই গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ প্রকাশ করেন।

• ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত রামমোহন রায়ের ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১) এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০৩৩.
এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর করা ব্যাকরণের কোন তত্ত্বের আলোচ্য বিষয়?
  1. অর্থতত্ত্ব
  2. বাক্যতত্ত্ব
  3. রূপতত্ত্ব
  4. ধ্বনিতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• ব্যাকরণের আলােচ্য বিষয় ৪ টি ভাগে বিভক্ত-

ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভূক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য:
- বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য , ধ্বনিদল প্রভৃতি।

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দ গঠন প্রক্রিয়া।

বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে।
- বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে,বাক্যতুত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাতক্যত্ত্বের আকোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষন, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

অর্থতত্ত্ব:
- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- একে বাগর্থও বলে।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচন করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
১,০৩৪.
কোনটি সাধু ভাষার শব্দ?
  1. আজও
  2. কখনো
  3. তবুও
  4. নতুবা
সঠিক উত্তর:
নতুবা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নতুবা
ব্যাখ্যা
অব্যয়পদের রূপের পার্থক্য:
সাধু - চলিত:
অদ্য - আজ,
অদ্যাপি - আজও,
কদাচ - কখনো,
তথাপি - তবুও,
নতুবা - নইলে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,০৩৫.
'সন্ধি' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্বে
  2. বাক্যতত্ত্বে
  3. রূপতত্ত্বে
  4. অর্থতত্ত্বে
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিতত্ত্বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিতত্ত্বে
ব্যাখ্যা
• 'সন্ধি' ব্যাকরণের ধ্বনিতত্ত্বে আলোচিত হয়।
 
• ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় অন্তত চারটি ভাগে বিভক্ত হয়।
যথা –
- ধ্বনিতত্ত্ব,
- রূপতত্ত্ব,
-বাক্যতত্ত্ব ও
- অর্থতত্ত্ব।
 
• ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় সমূহ
- ধ্বনি,
- বর্ণ,
- ধ্বনির উচ্চারণ প্রণালি,
- উচ্চারণের স্থান,
- ধ্বনি পরিবর্তন ও
- লোপ, ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান,
- সন্ধি ইত্যাদি।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১,০৩৬.
ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সেই অংশের নাম কী?
  1. ক) অর্থতত্ত্ব
  2. খ) বাক্যতত্ত্ব
  3. গ) রূপতত্ত্ব
  4. ঘ) বর্ণতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
ক) অর্থতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• অর্থতত্ত্ব: 
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বিপরীত শব্দ,
- প্রতিশব্দ,
- শব্দজোড়,
- বাগধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে ।
রূপতত্ত্ব
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।

ধ্বনিতত্ত্ব: 
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্যন্ত্র, বাগ্যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

বাক্যতত্ত্ব: 
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,০৩৭.
ভাষার সৃষ্টি হয়- 
  1. ধ্বনির সাহায্যে
  2. বর্ণের সাহায্যে
  3. বাক্যের সাহায্যে
  4. পদের সাহায্যে
সঠিক উত্তর:
ধ্বনির সাহায্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনির সাহায্যে
ব্যাখ্যা

• ভাষার সংজ্ঞা:
মানুষ তার মনের ভাব অন্যের কাছে প্রকাশ করার জন্য কণ্ঠধ্বনি এবং হাত, পা, চোখ ইত্যাদি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাহায্যে ইঙ্গিত করে থাকে। কণ্ঠধ্বনির সাহায্যে মানুষ যত বেশি পরিমাণ মনোভাব প্রকাশ করতে পারে, ইঙ্গিতের সাহায্যে ততটা পারে না। আর কণ্ঠধ্বনির সহায়তায় মানুষ মনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ভাবও প্রকাশ করতে সমর্থ হয়। কণ্ঠধ্বনি বলতে মুখগহ্বর, কণ্ঠ, নাক ইত্যাদির সাহায্যে উচ্চারিত বোধগম্য ধ্বনি বা ধ্বনি সমষ্টিকে বোঝায়।

এই ধ্বনিই ভাষার মূল উপাদান। এই ধ্বনির সাহায্যে ভাষার সৃষ্টি হয়। আবার ধ্বনির সৃষ্টি হয় বাগ্যন্ত্রের দ্বারা। গলনালি, মুখবিবর, কণ্ঠ, জিহ্বা, তালু, দাঁত, নাক ইত্যাদি বাক্ প্রত্যঙ্গকে এক কথায় বলে বাগ্যন্ত্র। এই বাগযন্ত্রের দ্বারা উচ্চারিত অর্থবোধক ধ্বনির সাহায্যে মানুষের ভাব প্রকাশের মাধ্যমকে ভাষা বলে।

সকল মানুষের ভাষাই বাগযন্ত্রের দ্বারা সৃষ্ট। তবুও একই ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টির অর্থ বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম হতে পারে। এ কারণে বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর জন্য আলাদা আলাদা ভাষার সৃষ্টি হয়েছে।

মানুষের কণ্ঠনিঃসৃত বাক্ সংকেতের সংগঠনকে ভাষা বলা হয়। অর্থাৎ বাগযন্ত্রের দ্বারা সৃষ্ট অর্থবোধক ধ্বনির সংকেতের সাহায্যে মানুষের ভাব প্রকাশের মাধ্যমই হলো ভাষা।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,০৩৮.
প্রাচীন কথ্য ভারতীয় আর্য ভাষার পরবর্তী স্তরের ভাষা কোনটি?
  1. বৈদিক
  2. সংস্কৃত
  3. মৈথিলী
  4. প্রাচীন প্রাচ্য
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন প্রাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন প্রাচ্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'।
- ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।
- বাংলা ভাষা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে।
- এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করতে হয়েছে, সেগুলো হলো:
ইন্দো-ইউরোপীয় → ইন্দো-ইরানীয় → ভারতীয় আর্য → প্রাকৃত → বাংলা।
- বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন 'চর্যাপদ'।
 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৩৯.
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ সর্বপ্রথম রচনা করেন কে?
  1. রেভারেন্ড জেমস্ কিথ
  2. মনোএল দা আসসাম্পসাঁউ
  3. ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
  4. রাজা রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
মনোএল দা আসসাম্পসাঁউ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনোএল দা আসসাম্পসাঁউ
ব্যাখ্যা
• সর্বপ্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেন মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণের নাম 'Vocabulario Em Idioma Bengalla, E Portuguez: Dividido em duas partes.'
- ব্যাকরণটি ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- বইটি রোমান অক্ষরে মুদ্রিত হয়েছিল।

অন্যদিকে,
- নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দে হুগলি থেকে ইংরেজি ভাষায় বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থ (A Grammar of the Bangla Language) প্রকাশ করেন।
- রেভারেন্ড জেমস্ কিথ বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ 'বঙ্গভাষার ব্যাকরণ' রচনা করেন ১৮২০ খ্রিষ্টাব্দে। এটি  প্রকাশিত হয়।
- বাঙালিদের মধ্যে রাজা রামমোহন রায়ই সর্বপ্রথম ১৮২৬ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজি ভাষায় বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে এর বাংলা অনুবাদ 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৪০.
বাংলা বর্ণমালার উৎস-
  1. আর্য লিপি
  2. অস্ট্রিক লিপি
  3. খরোষ্ঠী লিপি
  4. ব্রাহ্মী লিপি
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মী লিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্রাহ্মী লিপি
ব্যাখ্যা
• বাংলা লিপির উৎপত্তি:
বাংলা ভাষার নিজস্ব লিপি রয়েছে। এই লিপির নাম বাংলা লিপি।
বাংলা লিপিতে মূল বর্ণের সংখ্যা ৫০টি- স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯টি।
বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে ব্রাহ্মী লিপি থেকে। তাই বাংলা বর্ণমালার উৎস ব্রাহ্মী লিপি।

- প্রায় আড়াই বছর আগে উপমহদেশে ব্রাহ্মী লিপির জন্ম হয়। ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে। বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির পরিবর্তিত রূপ। অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুর প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে রেখা হয়। সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হতো। বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা কুটিল লিপি থেকে।

ব্রাহ্মী লিপির তিনটি রূপ রয়েছে।
যথা:
- সারদা,
- নাগর ও
- কুটিল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৪১.
বাংলা ভাষার মৌলিক রূপ কয়টি?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
দুইটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুইটি
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার মৌলিক রূপ দুটি।
- মৌখিক রূপ, 
- লৈখিক রূপ।
-----------------------
• ভাষার মৌখিক রূপের দুটো রীতি রয়েছে।
যথা:
- আঞ্চলিক রীতি।
- প্রমিত রীতি।

• লৈখিক রূপেরও দুটো আলাদা রীতি আছে,
যেমন:
- চলিত রীতি,
- সাধু রীতি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি বোর্ড বই।

১,০৪২.
বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. বাগ্‌ধারা
  2. শব্দজোড়
  3. যতিচিহ্ন
  4. সমাস 
সঠিক উত্তর:
যতিচিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যতিচিহ্ন
ব্যাখ্যা

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।

তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

​অন্যদিকে, 
• ​অর্থতত্ত্ব:
ব্যাকরণের এই অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একে বাগর্থও বলে। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।

• ​'সমাস' রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১,০৪৩.
'শব্দজোড়' কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. অর্থতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. রূপতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলে।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,০৪৪.
নিচের কোনটি সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য?
  1. গুরুগম্ভীর ও আভিজাত্যের অধিকারী।
  2. ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
  3. ভাষা পরিবর্তনশীল।
  4. ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
সঠিক উত্তর:
গুরুগম্ভীর ও আভিজাত্যের অধিকারী।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুরুগম্ভীর ও আভিজাত্যের অধিকারী।
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য: 
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়।
- অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে।
- এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়।
- তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়। 
- গুরুগম্ভীর ও আভিজাত্যের অধিকারী। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
২) বাংলাপিডিয়া। 
৩) অষ্টম শ্রেণীর ব্যকরণ বই।
১,০৪৫.
সাধু ও চলিত রীতিতে অভিন্নরূপে ব্যবহৃত হয় -
  1. অব্যয় পদ
  2. সম্বোধন পদ
  3. সর্বনাম পদ
  4. ক্রিয়াপদ
সঠিক উত্তর:
অব্যয় পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয় পদ
ব্যাখ্যা
ন ব্যয় = অব্যয়।
- যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
- অব্যয় শব্দের সাথে কোনাে বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না, সেগুলাের একবচন বা বহুবচন হয় না এবং সেগুলাের স্ত্রী ও পুরুষবাচকতা নির্ণয় করা যায় না।
- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনাে বাক্যের শােভা বর্ধন করে, কখনাে একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযােগ বা বিয়ােগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

উল্লেখ্য, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) অনুসারে, অব্যয় কে শব্দের শ্রেণিবিভাগ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।
১,০৪৬.
নিচের কোনটি চলিত রীতির শব্দ?
  1. বন্য
  2. বুনো
  3. মস্তক
  4. শুকনা
সঠিক উত্তর:
বুনো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুনো
ব্যাখ্যা

চলিত রীতির শব্দ: 
- মাথা, 
- জুতো, 
- তুলো, 
- শুকনো, 
- বুনো। 

অন্যদিকে,
সাধু রীতির শব্দ: 
- মস্তক
- জুতা, 
- তুলা, 
- শুষ্ক/শুকনা
- বন্য। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সালের সংস্করণ)।

১,০৪৭.
‘উপসর্গ’ ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. অর্থতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। উপসর্গ শব্দ গঠনের প্রক্রিয়া। সুতরাং ‘উপসর্গ’ ব্যাকরণের রূপতত্ত্ব অংশের আলোচ্য বিষয়।

বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়কে ৪ টি ভাগে ভাগ করা হয়:
- ধ্বনিতত্ত্ব,
- রূপতত্ত্ব,
- বাক্যতত্ত্ব,
- অর্থতত্ত্ব।

• ধ্বনিতত্ত্ব:
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনি যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• রূপতত্ত্ব:
রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। শব্দ ও পদনির্মাণের বিভিন্ন দিক ব্যাকরণের এই অংশে আলোচিত হয়।
যেমন- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি।

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যের নির্মাণ ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

• অর্থতত্ত্ব:
ব্যকরণের এই অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একে বাগর্থও বলে। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,০৪৮.
'ধাতুরূপ' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচিত হয়?
  1. ক) রূপতত্ত্বে
  2. খ) ধ্বনিতত্ত্বে
  3. গ) বাক্যতত্ত্বে
  4. ঘ) অর্থতত্ত্বে
সঠিক উত্তর:
ক) রূপতত্ত্বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রূপতত্ত্বে
ব্যাখ্যা
রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্ব:
ব্যাকরণে শব্দ বা পদের আলোচনাকে বলে রূপতত্ত্ব বা শব্দতত্ত্ব।

পদগঠনে রূপতত্ত্বের দুটি প্রধান ভাগ- 
১. শব্দরূপ (Case inflection) যেখানে ভাংলাভাষার ক্ষেত্রে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের নানা কারকের রূপ দেখানো হয়। 
২. ধাতুরূপ বা ক্রিয়াপ্রকরণ (conjugation) যাতে নানা কালে (tense), প্রকারে (aspect), ভাবে (mood), এবং পক্ষে (person) ক্রিয়ার রূপ নির্মাণ করা হয়।  

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ(প্রথম খণ্ড), বাংলা একাডেমি।
১,০৪৯.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা ভাষার উদ্ভব ঘটেছে- 
  1. মাগধী প্রাকৃত থেকে
  2. ভারতীয় আর্য থেকে 
  3. গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে 
  4. ইরানীয় আর্য থেকে
সঠিক উত্তর:
গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে 
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা এসেছে- গৌড়ীয় প্রাকৃত বা অপভ্রংশ থেকে। 
---------------------------- 
• বাংলা ভাষার উদ্ভব: 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলা ভাষার একজন প্রকৃত গবেষক।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, বাংলা ভাষার উদ্ভব গৌড়ীয় প্রাকৃত থেকে হয়েছে।
- তিনি বাংলা ভাষার উৎপত্তি সপ্তম শতক, অর্থাৎ প্রায় ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
- তার মতে, গৌড়ীয় প্রাকৃতের পরবর্তী রূপ গৌড়ীয় অপভ্রংশ থেকে বাংলা ভাষা বিকশিত হয়েছে।
- তিনি প্রমাণ করেছেন, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সৃষ্টিকর্তা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায় নয়; মূলত বৌদ্ধতান্ত্রিক সমাজের সংস্কৃতির ফলাফল।
- তবে মুসলিম শাসকরা রূপ ও রসের সৃজনশীলতা যোগ করেছেন বলে তিনি মনে করেন। 

- শহীদুল্লাহর ভাষাতত্ত্ব অনুযায়ী, ভারতীয় ভাষা থেকে বৈদিক ও প্রাচীন আর্য ভাষা সৃষ্টি হয়।
- খ্রিষ্টপূর্ব ১৮শ শতকে প্রাচীন আর্য ভাষা থেকে আদিম প্রাকৃত তৈরি হয়।
- প্রায় খ্রিষ্টপূর্ব ২০০ সালে গৌড়ীয় প্রাকৃত এবং চারশ শতকে গৌড়ীয় অপভ্রংশের উদ্ভব ঘটে।

- অনেক ভাষাবিদ যেমন জর্জ গ্রিয়ারসন ও সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মাগধী প্রাকৃতকে বাংলা ভাষার উৎস মনে করেন।
- তবে শহীদুল্লাহর মতে, গৌড়ীয় অপভ্রংশ থেকে প্রায় খ্রিষ্টীয় ৫শ শতকে বঙ্গ-কমরূপী ভাষা গড়ে ওঠে;
- যা ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষাকে স্বতন্ত্র রূপে পরিণত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,০৫০.
ভাষার আঞ্চলিক বৈচিত্র্যকে কি বলা হয়?
  1. ক) প্ৰতি ভাষা
  2. খ) উপভাষা
  3. গ) উপজাতীয় ভাষা
  4. ঘ) আঞ্চলিক ভাষা
সঠিক উত্তর:
খ) উপভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উপভাষা
ব্যাখ্যা
• উপভাষা: 
উপভাষা প্রমিত ভাষার (Standard Language) পাশাপাশি প্রচলিত অঞ্চলবিশেষে জনগোষ্ঠী কর্তৃক ব্যবহৃত আঞ্চলিক ভাষা। পৃথিবীর সর্বত্রই প্রমিত ভাষার পাশাপাশি এক বা একাধিক আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা (Dialect) ব্যবহূত হয়ে থাকে। প্রমিত ভাষার সঙ্গে উপভাষার ব্যবধান ধ্বনি, রূপমূল, উচ্চারণ ও ব্যাকরণগত কাঠামোর মধ্যে নিহিত থাকে। সাধারণত প্রমিত ভাষায় ভাষাভঙ্গির সংখ্যা বৃদ্ধি, ভৌগোলিক ব্যবধান এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক শ্রেণিবিন্যাসগত পার্থক্যের কারণে উপভাষার সৃষ্টি হয়। প্রমিত ভাষা দেশের সর্বস্তরে ব্যবহূত হয়; লিখিত পদ্ধতির ক্ষেত্রেও তা অনুসৃত হয়, কিন্তু উপভাষার ব্যবহার কেবল বিশেষ অঞ্চলের জনসাধারণের মধ্যেই সীমিত থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,০৫১.
কোন ভাষাগোষ্ঠী থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে?
  1. আদি আর্য
  2. চীনা-তিব্বতি
  3. অস্ট্রো-এশীয়
  4. সেমীয়-হেমীয়
সঠিক উত্তর:
আদি আর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদি আর্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-গোষ্ঠীর অন্তর্গত ইন্দো-ইরানীয় শাখাভুক্ত নব্য-ভারতীয় আদি আর্য ভাষা। 
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড়ি প্রাকৃত থেকে গৌড়ি অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গ-কামরুপির মধ্য দিয়ে বাংলা এসেছে।
-  সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা এসেছে মাগধী প্রাকৃত থেকে মাগধী অপভ্রংশ হয়ে। 
- ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে ভাষা গবেষকদের মধ্যে ড. শহীদুল্লাহর মতামতটি অধিক গ্রহণযোগ্য। অন্যান্য পণ্ডিতগণও এই মতামতকে প্রাধান্য দিয়েছেন।


  

উৎস:- ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৫২.
নিচের কোনটি সাধু ভাষার শব্দ?
  1. জুতো
  2. তুলো
  3. বন্য
  4. শুকনো
সঠিক উত্তর:
বন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্য
ব্যাখ্যা

সাধু ও চলিত রীতির কিছু শব্দের পার্থক্য নিচে দেখানো হলো-
সাধু - চলিত:
অগ্নি- আগুন,
মস্তক - মাথা,
জুতা - জুতো,
তুলা - তুলো,
শুষ্ক/শুকনা - শুকনো,
বন্য - বুনো,
কর্ণ - কান,
চন্দ্র - চাঁদ,
দন্ত - দাঁত,
পক্ষী - পাখি,
ব্যাঘ্র - বাঘ,
মৎস্য - মাছ,
হস্তী - হাতি, 
তাঁহারা/উঁহারা - তাঁরা/ওঁরা,
তাহাকে/উহাকে - তাকে/ওকে,
তাহার/তাঁহার - তার/তাঁর,
করিবার - করবার/করার,
পাইয়াছিলেন - পেয়েছিলেন। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১,০৫৩.
প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার কোন রূপ থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি?
  1. প্রাচীন প্রাচ্য
  2. পালি
  3. প্রাচীন উদীচ্য
  4. প্রাচীন সিংহলী
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন প্রাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রাচীন প্রাচ্য
ব্যাখ্যা
• প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার ‘প্রাচীন প্রাচ্য’ অংশ থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি।

• বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ:

- বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-গোষ্ঠীর অন্তর্গত ইন্দো-ইরানীয় শাখাভুক্ত নব্য-ভারতীয় আদি আর্য ভাষা। 
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে গৌড়ি প্রাকৃত থেকে গৌড়ি অপভ্রংশ হয়ে বঙ্গ-কামরুপির মধ্য দিয়ে বাংলা এসেছে।
-  সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা এসেছে মাগধী প্রাকৃত থেকে মাগধী অপভ্রংশ হয়ে। 
- ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে ভাষা গবেষকদের মধ্যে ড. শহীদুল্লাহর মতামতটি অধিক গ্রহণযোগ্য। অন্যান্য পণ্ডিতগণও এই মতামতকে প্রাধান্য দিয়েছেন।


উৎস:- ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৫৪.
'রূপতত্ত্বের' আলোচ্য বিষয় নয় কোনটি?
  1. প্রত্যয়
  2. বচন
  3. পুরুষ
  4. সন্ধি
সঠিক উত্তর:
সন্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধি
ব্যাখ্যা

রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- উপসর্গ, সমাস, প্রত্যয়, বচন, পুরুষ রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

• অর্থ্যাৎ, 'রূপতত্ত্বের' আলোচ্য বিষয় নয় - সন্ধি
- এটি ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
-------------

ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভূক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বিষয়:
- বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, ধ্বনিসংযোগ বা সন্ধি, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য , ধ্বনিদল প্রভৃতি।

বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে ।
- বাক্যের নির্মান ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে,বাক্যতুত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাতক্যত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষন, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১,০৫৫.
ভাষায় সর্বনামের ব্যবহারের উদ্দেশ্য কি?
  1. বিশেষণের পরিবর্তে ব্যবহার করা
  2. বিশেষ্যের পুনরাবৃত্তি দূর করা
  3. বিশেষ্যের অভাব দূর করা
  4. ভাষায় শব্দ সম্পদ বৃদ্ধি করা
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্যের পুনরাবৃত্তি দূর করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্যের পুনরাবৃত্তি দূর করা
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম: 
- সর্বনাম বাক্যে বিশেষ্যের অনুরূপ ভূমিকা পালন করে। 
- সর্বনাম অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ্য, বিশেষ্যগুচ্ছ কিংবা বিশেষ্যস্থানীয় ব্যাক্যাংশের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়। 
- বিশেষ্যের পুনরাবৃত্তি দূর করে। 

যেমন,
- বিশেষ্যের পরিবর্তে: ডাক্তার অসুস্থ, তিনি রোগী দেখতে আসবেন না। 
- এখানে বিশেষ্য: ডাক্তার, আর সর্বনাম: তিনি। 

সূত্র: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন। 
১,০৫৬.
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় কোনটি?
  1. বাগ্যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া
  2. বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা
  3. শব্দগঠন প্রক্রিয়া
  4. যতিচিহ্ন
সঠিক উত্তর:
বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা
ব্যাখ্যা

অর্থতত্ত্ব আলোচ্য বিষয়:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

এছাড়াও,
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বাগ্যন্ত্র, বাগ্যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা হয়ে থাকে।

রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ, শব্দগঠন প্রক্রিয়া ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা হয়ে থাকে।

বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, (২০২১সংস্করণ)।

১,০৫৭.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. ম্যানুয়াল দ্যা আসুসম্পাসাঁও
  3. রামমোহন রায়
  4. নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
সঠিক উত্তর:
রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
গৌড়ীয় ব্যাকরণ:
- ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
- এটি রাজা রামমোহন রায় কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ব্যাকরণ, গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ।
- এর আগে তিনি ইংরেজিতে Bengali Grammar in the English Language নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।
- সর্বমোট বারোটি অধ্যায়ে এটি বিন্যস্ত। প্রথম অধ্যায়ে ধ্বনি, বর্ণ, উচ্চারণ, শব্দ, অক্ষর প্রভৃতি সম্পর্কে দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করা হয়েছে।
- গ্রন্থে বাংলা ভাষার স্বকীয় উচ্চারণ-পদ্ধতি সম্পর্কে রামমোহন কিছু মৌলিক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।
- পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বাংলা ভাষার লিঙ্গ, প্রত্যয়, পদান্বয়, বাক্যরীতি, ছন্দ ইত্যাদি।
- মোটামুটিভাবে গৌড়ীয় ব্যাকরণে রয়েছে বাংলা ভাষার ধ্বনি ও রূপগত বৈশিষ্ট্যের বৈয়াকরণিক বিশ্লেষণ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,০৫৮.
'কারক বিশ্লেষণ' ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. বাক্যতত্ত্ব
  3. অর্থতত্ত্ব
  4. রূপতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• 'কারক বিশ্লেষণ' — ব্যাকরণের বাক্যতত্ত্ব অংশের আলোচ্য বিষয়।

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
তাছাড়া,
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২)।

১,০৫৯.
চলিত ভাষার কোন দুটি উপাদান সংক্ষিপ্ত হয়?
  1. সন্ধি ও প্রত্যয়
  2. অব্যয় ও সমাস
  3. সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ
  4. বিশেষণ ও বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ
ব্যাখ্যা
চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা ব্যাকরণের সকল নিয়মের অনুসারী নয়।
- এ ভাষায় তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার অধিক।
- চলিত ভাষায় সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ সংক্ষিপ্ত হয়।
- এ ভাষা বক্তৃতা, আলাপ, নাট্য সংলাপের উপযোগী।
- চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল। চলিত ভাষার গতি লঘু, চঞ্চল ও সাবলীল।
- চলিত ভাষায় অপনিহিতি ও অভিশ্রুতির ব্যবহার রয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,০৬০.
কথ্য ভাষারীতি কোনটি?
  1. কাব্য রীতি
  2. সাধু রীতি
  3. আঞ্চলিক রীতি
  4. খ ও গ
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক রীতি
ব্যাখ্যা
অধিকাংশ ভাষায় অন্তত দুটি রীতি থাকে:
১. কথ্য ভাষা রীতি ও
২. লেখ্য ভাষা রীতি।

বাংলা ভাষায় এসব রীতির একাধিক বিভাজন রয়েছে। যেমন- কথ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে মান্য বা প্রমিত কথ্য রীতি ও আঞ্চলিক কথ্য রীতি।

আবার লেখ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে প্রমিত রীতি, সাধু রীতি ও কাব্য রীতি। একে একে এসব রীতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১- সংস্করণ)।
১,০৬১.
কোনটি ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়?
  1. শব্দজোড়
  2. বাগ্‌যন্ত্র ও উচ্চারণ প্রক্রিয়া
  3. বিপরীত শব্দ
  4. বাগ্‌ধারা
সঠিক উত্তর:
বাগ্‌যন্ত্র ও উচ্চারণ প্রক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাগ্‌যন্ত্র ও উচ্চারণ প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা
ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভূক্ত।

ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য:
- বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য , ধ্বনিদল প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় - - বিপরীত শব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,০৬২.
চলিত ভাষারীতিতে কোন পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা সর্বজনগ্রাহ্য মার্জিত ও গতিশীল ভাষা। তাই এটি মানুষের কথাবার্তা ও লেখার ভাষা হিসেবে গৃহীত হয়েছে। এটি পরিবর্তনশীল।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের প্রাচীন নিয়মকানুন দিয়ে সর্বদা ব্যাখ্যা করা যায় না।
- চলিত ভাষারীতিতে অপেক্ষাকৃত সহজ-সরল শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এটি বেশ সাবলীল, চটুল ও জীবন্ত।
- বলার ও লেখার ভাষা বলেই এ ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ, নাটকের সংলাপ ও সামাজিক আলাপ-আলোচনার জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
- চলিত ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১,০৬৩.
রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়- 
  1. প্রতিশব্দ
  2. ধ্বনিদল
  3. বাক্যের উপাদান লোপ
  4. সমাস
  5. কোনোটিই নয় 
সঠিক উত্তর:
সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাস
ব্যাখ্যা

• 'সমাস' ব্যাকরণের 'রূপতত্ত্ব' অংশের আলোচ্য বিষয়।

রূপতত্ত্ব: 
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- উপসর্গ, সমাস, প্রত্যয়, পুরুষ রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
----------------------------
অন্যদিকে, 
• বাক্যতত্ত্ব: 
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।
 
অর্থতত্ত্ব: 
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বিপরীত শব্দ,
- প্রতিশব্দ,
- শব্দজোড়, 
- বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। 
এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে ।

ধ্বনিতত্ত্ব: 
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগযন্ত্র, বাগযন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।

১,০৬৪.
চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. চলিত ভাষা তদ্ভব শব্দবহুল 
  2. চলিত ভাষা সুনির্ধারিত ব্যাকরণের অনুসারী
  3. চলিত ভাষা জীবন্ত ও লোকায়ত
  4. চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল
সঠিক উত্তর:
চলিত ভাষা সুনির্ধারিত ব্যাকরণের অনুসারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চলিত ভাষা সুনির্ধারিত ব্যাকরণের অনুসারী
ব্যাখ্যা

• চলিত ভাষার বৈশিষ্ট্য:
১. চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদের রূপ সংক্ষিপ্ত। যেমন: করেছি, গিয়েছি।
২. চলিত ভাষায় সর্বনাম পদের রূপ সংক্ষিপ্ত। যেমন: তারা, তাদের।
৩. চলিত ভাষায় অনুসর্গের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: হতে, দিয়ে।
. চলিত ভাষায় তদ্ভব, অর্ধ-তৎসম, দেশি ও বিদেশি শব্দের ব্যবহার বেশি।
যেমন: হাত, মাথা, ঘি, ধোয়া।
৫. চলিত ভাষার উচ্চারণ হালকা ও গতিশীল।
৬. চলিত ভাষা পরিবর্তনশীল।
৭. চলিত ভাষা চটুল, জীবন্ত ও লোকায়ত।

অন্যদিকে,
• সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষায় তৎসম শব্দের (সংস্কৃত শব্দ) প্রয়োগ বেশি। যেমন: হস্ত, মস্তক, ঘৃত, ধৌত।
- সাধু ভাষার উচ্চারণ গুরুগম্ভীর।
- সাধু ভাষা সুনির্ধারিত ব্যাকরণের অনুসারী।
- এর কাঠামো সাধারণত অপরিবর্তনীয়।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

১,০৬৫.
নিচের কোন পদটি রূপতত্ত্বের আলোচনার অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক্রিয়া
  2. প্রতিশব্দ
  3. সর্বনাম
  4. বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
প্রতিশব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিশব্দ
ব্যাখ্যা
রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দ গঠন প্রক্রিয়া।

অন্যদিকে,
অর্থতত্ত্ব:
- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,০৬৬.
'সমাস' ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. বাক্যতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
সমাস মানে সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ। অর্থ সম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি বড় শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। সুতরাং 'সমাস' ব্যাকরণের রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

----------------
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়কে ৪টি ভাগে ভাগ করা হয়:
- ধ্বনিতত্ত্ব,
- রূপতত্ত্ব,
- বাক্যতত্ত্ব,
- অর্থতত্ত্ব।

• ধ্বনিতত্ত্ব:
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনি যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• রূপতত্ত্ব:
রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। শব্দ ও পদনির্মাণের বিভিন্ন দিক ব্যাকরণের এই অংশে আলোচিত হয়।
যেমন- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি।

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যের নির্মাণ ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

• অর্থতত্ত্ব:
ব্যকরণের এই অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একে বাগর্থও বলে। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,০৬৭.
কোনটি চলিত রীতির শব্দ?
  1. হইয়া
  2. খেয়ো
  3. যাইও
  4. লইব
সঠিক উত্তর:
খেয়ো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খেয়ো
ব্যাখ্যা
চলিত রীতির শব্দ - খেয়ো / খেও।
- এর সাধু রীতি - খাইও।

সাধু-চলিত:

→ যাইবে-যাবে, 
→ বলিব-বলব, 
→ করিলে-করলে, 
→ যাইও-যেয়ো/যেও, 
→ লইব-নেব, 
→ করিতাম-করতাম, 
→ হইয়া-হয়ে।

সাধু রীতি:
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

চলিত রীতি:
(ক) চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভ করেছে।
(খ) এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
(গ) চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী ।
(ঘ) সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১,০৬৮.
ব্যাকরণে কী নিয়ে আলোচনা করা হয়? 
  1. কেবল ধ্বনি নিয়ে
  2. ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি নিয়ে
  3. শুধু শব্দ নিয়ে
  4. শুধু ভাষার উৎপত্তি নিয়ে 
সঠিক উত্তর:
ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি নিয়ে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি নিয়ে
ব্যাখ্যা

ব্যাকরণ ও বাংলা ব্যাকরণ:
- ব্যাকরণে ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- ব্যাকরণের কাজ ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ইত্যাদি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভাষার মধ্যকার সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করা। 
- যে বিদ্যাশাখায় বাংলা ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি বর্ণনা করা হয় তাকে বাংলা ব্যাকরণ বলে। 
- প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়।
- এর লেখক ছিলেন মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ।
- তাঁর বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকা অংশ হিসেবে তিনি এটি রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,০৬৯.
’বিপরীত’ শব্দ ও ’প্রতিশব্দ’ ব্যাকরণের কোন শাখার অন্তর্গত?
  1. ধ্বনিতত্ত্ব
  2. রূপতত্ত্ব
  3. অর্থতত্ত্ব
  4. বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• অর্থতত্ত্ব:
- অর্থতত্ত্ব বা বাগর্থতত্ত্ব ব্যাকরণের সেই অংশ যেখানে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

• আলোচ্য বিষয়:

- বিপরীত শব্দ,
- প্রতিশব্দ,
- শব্দজোড়,
- বাগ্‌ধারা
- শব্দ,
- বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
১,০৭০.
সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. সাধুভাষায় ক্রিয়াপদগুলো পূর্ণরূপে ব্যবহৃত হয়।
  2. সাধুভাষা সর্বজনীন কথ্য ভাষা।
  3. সাধুভাষায় দুরূহ তৎসম শব্দের ব্যবহার চলে।
  4. সাধুভাষায় বাক্যের পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট। 
সঠিক উত্তর:
সাধুভাষা সর্বজনীন কথ্য ভাষা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধুভাষা সর্বজনীন কথ্য ভাষা।
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষা:
উনিশ শতকে বাংলার যে লিখিত-রূপ গড়ে ওঠে, তার নাম দেওয়া হয় 'সাধুভাষা' (Standard literary style)। সংস্কৃত-ব্যুৎপত্তিসম্পন্ন মানুষের ভাষাকে 'সাধুভাষা' বলে প্রথম অভিহিত করেন রাজা রামমোহন রায়। পরে রামমোহন, মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, অক্ষয়কুমার দত্ত, বঙ্কিমচন্দ্র প্রমুখ গদ্যশিল্পী এই 'সাধু ভাষা'র মাধ্যমেই তাঁদের সাহিত্যকীর্তি প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

প্রখ্যাত বৈয়াকরণ ও ভাষাতত্ত্ববিদ ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, "সাধারণ গদ্য-সাহিত্যে ব্যবহৃত বাঙ্গালা ভাষাকে সাধু ভাষা বলে।"

• সাধু ভাষার বৈশিষ্ট্য:
১. সাধু ভাষায় সর্বনাম পদের পূর্ণরূপ গৃহীত হয়।
২. সাধুভাষায় ক্রিয়াপদগুলো পূর্ণরূপে ব্যবহৃত হয়।
৩. সাধুভাষায় তৎসম শব্দের সমধিক প্রয়োগ (যদিও তদ্ভব ও দেশি-বিদেশি শব্দের ব্যবহার নিষিদ্ধ নয়)। 
৪. সাধুভাষায় সন্ধি-সমাসের আধিক্য লক্ষ করা যায়।
৫. সাধুভাষায় বাক্যের পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট। 
৬. সাধুভাষায় দুরূহ তৎসম শব্দের ব্যবহার চলে।
৭. সাধুভাষায় ধ্বন্যাত্মক শব্দের প্রাধান্য নেই।
৮. সাধুভাষা কথোপকথনে, নাটকের সংলাপ বক্তৃতার অনুপযোগী।
৯. সাধুভাষা গুরুগম্ভীর ও আভিজাত্যের অধিকারী।
১০. সাধুভাষা সর্বজনীন লেখ্য ভাষা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,০৭১.
বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ-
  1. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  2. ব্যাকরণ কৌমুদী
  3. বাংলা ভাষাতত্ত্ব
  4. ব্যাকরণ মঞ্জুরী
সঠিক উত্তর:
গৌড়ীয় ব্যাকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌড়ীয় ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা

গৌড়ীয় ব্যাকরণ:
- ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
- এটি রাজা রামমোহন রায় কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ব্যাকরণ। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে।
- এর আগে তিনি ইংরেজিতে Bengali Grammar in the English Language নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন। সর্বমোট বারোটি অধ্যায়ে এটি বিন্যস্ত।
- প্রথম অধ্যায়ে ধ্বনি, বর্ণ, উচ্চারণ, শব্দ, অক্ষর প্রভৃতি সম্পর্কে দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করা হয়েছে।
- গ্রন্থে বাংলা ভাষার স্বকীয় উচ্চারণ-পদ্ধতি সম্পর্কে রামমোহন কিছু মৌলিক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।
- পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বাংলা ভাষার লিঙ্গ, প্রত্যয়, পদান্বয়, বাক্যরীতি, ছন্দ ইত্যাদি।
- মোটামুটিভাবে গৌড়ীয় ব্যাকরণে রয়েছে বাংলা ভাষার ধ্বনি ও রূপগত বৈশিষ্ট্যের বৈয়াকরণিক বিশ্লেষণ।

অন্যদিকে,
• বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী' ( ১৮৫৩)। 
• 'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' গ্রন্থের রচয়িতা - মুহম্মদ এনামুল হক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,০৭২.
ব্যাকরণের বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় নয় কোনটি?
  1. যতিচিহ্ন
  2. সমাস
  3. কারক বিশ্লেষণ
  4. বাচ্য
সঠিক উত্তর:
সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাস
ব্যাখ্যা
• ব্যাকরণের বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় নয়- সমাস। 

• সমাস মানে সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ। অর্থ সম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি বড় শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে। সুতরাং 'সমাস' ব্যাকরণের রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

----------------
বাংলা ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়কে ৪ টি ভাগে ভাগ করা হয়:
- ধ্বনিতত্ত্ব,
- রূপতত্ত্ব,
- বাক্যতত্ত্ব,
- অর্থতত্ত্ব।

• ধ্বনিতত্ত্ব:
ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনি যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• রূপতত্ত্ব:
রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। শব্দ ও পদনির্মাণের বিভিন্ন দিক ব্যাকরণের এই অংশে আলোচিত হয়।
যেমন- বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি।

• বাক্যতত্ত্ব:
বাক্যের নির্মাণ ও গঠন এই অংশের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে।
তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

• অর্থতত্ত্ব:
ব্যকরণের এই অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একে বাগর্থও বলে। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,০৭৩.
চলিত ভাষারীতি কোন শব্দবহুল?
  1. দেশি 
  2. তদ্ভব
  3. বাংলা 
  4. তৎসম 
সঠিক উত্তর:
তদ্ভব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তদ্ভব
ব্যাখ্যা

• চলিত রীতি:
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভকরেছে।
- এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
- চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী।
- সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।

অন্যদিকে, 
-----------------
• সাধু রীতি:
- বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
- এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১,০৭৪.
২০২৩ সালের ১লা জানুয়ারি রবিবার হলে, ২০২৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বর কী বার হবে? 
  1. সোমবার
  2. মঙ্গলবার
  3. বুধবার
  4. রবিবার
সঠিক উত্তর:
মঙ্গলবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গলবার
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ২০২৩ সালের ১লা জানুয়ারি রবিবার হলে, ২০২৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বর কী বার হবে? 

সমাধান: 
লিপ ইয়ার বাদে বাকি সব বছরের প্রথম দিন এবং শেষ দিন একই বার হয়।
লিপ ইয়ার হলে একদিন বাড়তি যোগ করতে হয়।

২০২৩ সালের ১লা জানুয়ারি রবিবার, তাই ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর রবিবার। 
২০২৪ সালের ১লা জানুয়ারি সোমবার হবে।
২০২৪ সাল লিপ ইয়ার তাই ফ্রেবুয়ারি মাস ২৯ দিনের তাই,
২০২৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বর সোমবার + ১ দিন = মঙ্গলবার হবে।
১,০৭৫.
কোনটি চলিত রীতির শব্দ?
  1. শুকনো
  2. তুলা
  3. শুকনা
  4. জুতা
সঠিক উত্তর:
শুকনো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শুকনো
ব্যাখ্যা
সাধু - চলিত:
→ মস্তক-মাথা, 
→ জুতা-জুতো, 
→ তুলা-তুলো, 
→ শুষ্ক/শুকনা-শুকনো
→ বন্য-বুনো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৭৬.
লেখ্য ভাষারীতি নয় কোনটি?
  1. প্রমিত রীতি
  2. আঞ্চলিক কথ্য রীতি
  3. সাধু রীতি
  4. কাব্য রীতি
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক কথ্য রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক কথ্য রীতি
ব্যাখ্যা
• লেখ্য ভাষা রীতি নয়- আঞ্চলিক কথ্য রীতি।

• অধিকাংশ ভাষায় অন্তত দুটি রীতি থাকে:
১. কথ্য ভাষা রীতি ও
২. লেখ্য ভাষা রীতি।

• বাংলা ভাষায় এসব রীতির একাধিক বিভাজন রয়েছে।
যেমন:
• কথ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে-
১. আদর্শ কথ্য রীতি ও
২. আঞ্চলিক কথ্য রীতি।

• আবার লেখ্য ভাষা রীতির হচ্ছে ৩টি-
১. প্রমিত রীতি,
২. সাধু রীতি ও
৩. কাব্য রীতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)
১,০৭৭.
সাধু ভাষা সাধারণত কোথায় অনুপযোগী?
  1. কবিতার পংক্তিতে
  2. গানের কলিতে
  3. গল্পের কলিতে
  4. নাটকের সংলাপে
সঠিক উত্তর:
নাটকের সংলাপে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটকের সংলাপে
ব্যাখ্যা
• সাধু ভাষা:
- এ ভাষা বাংলা লেখ্য গদ্যের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন রূপ; এর নবীন ও বর্তমানে বহুল প্রচলিত রূপটি হলো চলিত। 
- সাধু ভাষা অনেকটা ধ্রুপদী বৈশিষ্ট্যের এবং চলিত ভাষা সর্বসাধারণের জীবন-ঘনিষ্ঠ। ভাষার এই দ্বিধারিক প্রপঞ্চকে বলা হয় দ্বি-ভাষারীতি।
- সাধু ভাষার বাক্যরীতি অনেকটা সুনির্ধারিত। এ ভাষায়  তৎসম শব্দের প্রয়োগ বেশি। এতে সর্বনাম, ক্রিয়াপদ প্রভৃতির রূপ মৌখিক ভাষার রূপ অপেক্ষা পূর্ণতর। 
- সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
- সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৭৮.
কোন ভাষারীতির পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট?
  1. চলিত
  2. লেখ্য
  3. সাধু
  4. কথ্য
সঠিক উত্তর:
সাধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- সাধু ভাষার রূপ অপরিবর্তনীয়। অঞ্চলভেদে বা কালক্রমে এর কোনো পরিবর্তন হয় না।
- সাধু ভাষারীতিতে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এ ভাষায় এক প্রকার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য আছে।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে চলে। এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
- সাধু ভাষারীতি শুধু লেখায় ব্যবহার হয়। তাই কথাবার্তা, বক্তৃতা, ভাষণ ইত্যাদির উপযোগী নয়।
- সাধু ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।

অপরদিকে,
চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- বাংলা ভাষার সর্বজনস্বীকৃত ভাষারূপ হচ্ছে -চলিতরীতি/ চলনরীতি।
- চলিত রীতি পরিবর্তনশীল অর্থাৎ সময়ের প্রবাহের কারনে চলিত রীতি পরিবর্তিত রূপ লাভ করে।
- এই রীতি তদ্ভব শব্দবহুল। এছাড়াও এতে দেশি ও বিদেশি শব্দের প্রাধান্য রয়েছে।
- চলিতরীতির লৈখিক ও মৌখিক দুটি রূপই বিদ্যমান।
- এই রীতি সহজবোধ্য, সংক্ষিপ্ত। বকৃতা, সংলাপ ও আলাপ-আলোচনার জন্য উপযোগী।
- চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া, অষ্টম শ্রেণির ব্যাকরণ বই।
১,০৭৯.
বাংলা ভাষার কোন রীতিতে পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট?
  1. কথ্য
  2. চলিত
  3. উপভাষা
  4. সাধু
সঠিক উত্তর:
সাধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার সাধু রীতির বৈশিষ্ঠ্য: 
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়া পদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।

১,০৮০.
শব্দের অর্থ ও অর্থবৈচিত্র্য নিয়ে ব্যাকরণের কোন অংশ আলোচনা করে?
  1. ক) ধ্বনিতত্ত্ব
  2. খ) রূপতত্ত্ব
  3. গ) অর্থতত্ত্ব
  4. ঘ) বাক্যতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
গ) অর্থতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• 'শব্দের অর্থ ও অর্থবৈচিত্র্য' নিয়ে ব্যাকরণের 'অর্থতত্ত্ব' অংশ আলোচনা করে। 

• রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় পদ প্রকরণ যেমন: বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- ক্রিয়ারকাল ও পুরুষ এ অংশে আলোচিত হয়। 

• অর্থতত্ত্ব: 
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়:
- বিপরীত শব্দ,
- প্রতিশব্দ,
- শব্দজোড়,
- শব্দের অর্থবিচার ও বাক্যের অর্থবিচার, 
- বাগধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে ।

• ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয়, তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভুক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বাগযন্ত্র, বাগযন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ), প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১,০৮১.
ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় কয়টি?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
• ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়:
• ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় অন্তত চারটি ভাগে বিভক্ত হয়।
যথা -
১. ধ্বনিতত্ত্ব:
- ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি।
- লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভূক্ত।
- ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য:
- বাগ্যন্ত্র, বাগ্যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

২. রূপতত্ত্ব:

- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দ গঠন প্রক্রিয়া।

৩. অর্থতত্ত্ব:
- মূল আলোচ্য - ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচনা করা হয়ে থাকে।

৪. বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে।
- বাক্যের নির্মান ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
১,০৮২.
বাংলা শব্দ ভাণ্ডারে অনার্য জাতির ব্যবহৃত শব্দ -
  1. তৎসম
  2. তদ্ভব
  3. দেশি
  4. বিদেশি
সঠিক উত্তর:
দেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশি
ব্যাখ্যা
• বাংলা শব্দ ভাণ্ডারে অনার্য জাতির ব্যবহৃত শব্দকে - দেশি শব্দ বলা হয়।

• দেশি শব্দ:
- বাংলাদেশের আদিম অধিবাসীদের সংস্কৃতির কিছু কিছু শব্দ আর্যদের প্রভাবে পরিবর্তিত না হয়ে অবিকৃতভাবে বাংলা ভাষায় রক্ষিত আছে, এসব শব্দকে বলা হয় দেশি শব্দ। 
- প্রাচীনকালে এদেশের অধিবাসী ছিলেন অনার্য, দ্রাবিড়, কোল প্রভৃতি জাতি।
- তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় রক্ষিত হয়েছে। এগুলোকে দেশী শব্দ বলা হয়।
- অনেক সময় এসব শব্দের মূল নির্ণয় করা যায় না।
- দেশী শব্দের উদাহরণ-
পেট, ডাব, গজ, টোপ, ডিঙ্গা, চাউল ইত্যাদি।
---------------------- 
অন্য অপশনে, 
• তৎসম শব্দ :
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলােকে তৎসম শব্দ বলে।
যথা:
পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ।
- সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়।
যথা:
অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

• তদ্ভব শব্দ:
- প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলােকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়।
- উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘােড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

• বিদেশি শব্দ:
- ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে এই শব্দগুলােকে বিদেশি শব্দ বলে।
- এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।
------------------
বিশেষ তথ্য: 
• বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ:

- বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষাগােষ্ঠীর সদস্য।
- ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষার শাখা ২ টি; কেন্তম ও শতম।
- বাংলার আদি অধিবাসী/জনগােষ্ঠীর ভাষা ছিল অস্ট্রিক।
- ভারতীয় উপমহাদেশের আঞ্চলিক ভাষাগুলাের আদিম উৎস অনার্য ভাষা।
- আর্যদের ভাষার নাম বৈদিক ভাষা।
- বেদের ভাষাকেও বৈদিক ভাষা বলা হয়।
- বৈদিক ভাষার সংস্কারজাত নতুন ভাষাই সংস্কৃত ভাষা।
- ভাষা হিসেবে সংস্কৃত শব্দটির উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায় মহাকাব্য রামায়ণে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,০৮৩.
আঞ্চলিক ভাষার অপর নাম কী?
  1. সাধুভাষা
  2. কথ্য ভাষা
  3. চলিত ভাষা
  4. উপভাষা
সঠিক উত্তর:
উপভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপভাষা
ব্যাখ্যা
• আঞ্চলিক ভাষার অপর নাম - উপভাষা

উপভাষা:
- প্রমিত ভাষার (Standard Language) পাশাপাশি প্রচলিত অঞ্চল বিশেষের জনগোষ্ঠী কর্তৃক ব্যবহূত আঞ্চলিক ভাষা।
- পৃথিবীর সর্বত্রই প্রমিত ভাষার পাশাপাশি এক বা একাধিক আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা (Dialect) ব্যবহূত হয়ে থাকে।
- প্রমিত ভাষার সঙ্গে উপভাষার ব্যবধান ধ্বনি, রূপমূল, উচ্চারণ ও ব্যাকরণগত কাঠামোর মধ্যে নিহিত থাকে।
- প্রমিত ভাষা দেশের সর্বস্তরে ব্যবহূত হয়; লিখিত পদ্ধতির ক্ষেত্রেও তা অনুসৃত হয়, কিন্তু উপভাষার ব্যবহার কেবল বিশেষ অঞ্চলের জনসাধারণের মধ্যেই সীমিত থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,০৮৪.
কোনটি ধ্রুপদী ভাষা হিসেবে স্বীকৃত?
  1. পালি
  2. অহমিয়া
  3. সংস্কৃত
  4. ক ও গ
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষা:
- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- বাংলা ভাষা 'আদি আর্য ভাষাগোষ্ঠী' বা 'ইন্দো-ইউরোপীয়' ভাষা-পরিবারের সদস্য।
- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় 'অহমিয়া' ও 'ওড়িয়া'।
- ধ্রুপদি ভাষা 'সংস্কৃত' এবং 'পালির' সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,০৮৫.
কোথায় সবচেয়ে পুরাতন বাংলা মুদ্রণের নমুনা পাওয়া গেছে?
  1. গোয়ায়
  2. প্যারিসে
  3. পর্তুগালে
  4. রংপুরে
সঠিক উত্তর:
প্যারিসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারিসে
ব্যাখ্যা
মুদ্রণ শিল্প:
- মুদ্রণ শিল্প  প্রযুক্তি হিসেবে সর্বপ্রথম ভারতে চালু করেন পর্তুগিজগণ।
- প্রথম মুদ্রণযন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় গোয়ায়।
- এরপর মুদ্রণ প্রযুক্তি বোম্বাইয়ে চালু হয় ১৬৭০ সালে।
- ইউরোপীয় মিশনারিদের প্রচেষ্টায় ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ছাপাখানা চালু হয়।
- এই সকল ছাপাখানার অধিকাংশই অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে ও ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে স্থাপিত হতে থাকে।
- পর্তুগিজ ধর্মপ্রচারকগণ লিসবন থেকে রোমান হরফে বাংলা বই ছাপিয়ে আনেন।
- সবচেয়ে পুরাতন বাংলা মুদ্রণের নমুনা পাওয়া গেছে ১৬৮২ সালে প্যারিসে মুদ্রিত একটি গ্রন্থে।
- এসব বাংলা মুদ্রণ ছিল তামার পাতে, তখনও বাংলা অক্ষর ঢালাইয়ের কোন ব্যবস্থা হয়নি।
- মুদ্রণের জন্য বাংলা অক্ষরের নকশা প্রথম প্রস্তুত করেন চার্লস উইলকিন্স।
- তাঁর ডিজাইনকৃত অক্ষরে ছাপা হয় নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড রচিত 'A Grammar of the Bengal Language' (১৭৭৮) গ্রন্থটি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,০৮৬.
বাংলা ভাষা কোন ভাষা-পরিবারের সদস্য?
  1. চীনা-তিব্বতীয়
  2. সেমীয়-হেমীয়
  3. ইন্দো-ইউরোপীয়
  4. দ্রাবিড়ীয়
সঠিক উত্তর:
ইন্দো-ইউরোপীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্দো-ইউরোপীয়
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের সদস্য।

• বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
• পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে। ইংরেজি, জার্মান,ফরাসি, হিস্পানি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো  বাংলা ভাষায় ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য। বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া।
 
• ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে।
- এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করেতে হয়েছে।
সেগুলো হলো:
ইন্দো-ইউরোপীয় → ইন্দো-ইরানীয় → ভারতীয় আর্য → প্রাকৃত → বাংলা।
• আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে।
• বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন- ‘চর্যাপদ’।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১,০৮৭.
কোনটি সাধুভাষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. ক) সহজবোধ্য
  2. খ) নাট্য সংলাপ ব্যবহার
  3. গ) তদ্ভব শব্দবহুল
  4. ঘ) তৎসম শব্দবহুল
সঠিক উত্তর:
ঘ) তৎসম শব্দবহুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তৎসম শব্দবহুল
ব্যাখ্যা
সাধুভাষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য- তৎসম শব্দবহুল। 

বাংলা ভাষার সাধু রীতির বৈশিষ্ঠ্য: 
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয় পদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)। 
১,০৮৮.
কথ্য ভাষা রীতি কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
দুই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই
ব্যাখ্যা
• অধিকাংশ ভাষায় অন্তত দুটি রীতি থাকে:
১. কথ্য ভাষা রীতি ও
২. লেখ্য ভাষা রীতি।

• বাংলা ভাষায় এসব রীতির একাধিক বিভাজন রয়েছে।
যেমন কথ্য ভাষা রীতির মধ্যে রয়েছে -
১. আদর্শ কথ্য রীতি ও
২. আঞ্চলিক কথ্য রীতি।

• আবার লেখ্য ভাষা রীতির হচ্ছে ৩টি -
১. প্রমিত রীতি,
২. সাধু রীতি ও
৩. কাব্য রীতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২২ সংস্করণ )
১,০৮৯.
কোনটি চলিত রীতির শব্দ?
  1. সেই
  2. মস্তক
  3. কিছুক্ষণ
  4. ইচ্ছা
সঠিক উত্তর:
কিছুক্ষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিছুক্ষণ
ব্যাখ্যা
• চলিত রীতির শব্দ- 'কিছুক্ষণ'। এর সাধুরূপ - কিয়ৎক্ষণ।

অন্যান্য অপশনগুলো:
গ) সেই - এটি সাধু রীতির শব্দ।
- চলিত রীতিতে: "সে"।

খ) মস্তক - এটি সাধু রীতির শব্দ।
- চলিত রীতিতে: "মাথা"।

ঘ) ইচ্ছা - এটি সাধু রীতির শব্দ।
চলিত রীতিতে: "ইচ্ছে"।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১,০৯০.
কোনটি সাধু ভাষার শব্দ?
  1. বাইরে
  2. ছাতা
  3. দাঁত
  4. দধি
সঠিক উত্তর:
দধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দধি
ব্যাখ্যা

• 'দধি' হচ্ছে সাধু ভাষার শব্দ।

অন্যান্য অপশন:
সাধু    -   চলিত
দধি  -  দই, দৈ।
ছত্র  -  ছাতা।
বাহিরে  -  বাইরে।
দন্ত  -  দাঁত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।

১,০৯১.
'বাচ্য' ব্যাকরণের কোন অংশে আলোচনা করা হয়?
  1. অর্থতত্ত্ব
  2. বাক্যতত্ত্ব
  3. ধ্বনিতত্ত্ব
  4. রূপতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করে।
- তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১,০৯২.
নিচের কোনটি ভাষার বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) ভাবের উৎস
  2. খ) ভাবের উচ্চারণ
  3. গ) মনের ভাব প্রকাশের বাহন
  4. ঘ) মানুষের ইশারা-ইঙ্গিত
সঠিক উত্তর:
ঘ) মানুষের ইশারা-ইঙ্গিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মানুষের ইশারা-ইঙ্গিত
ব্যাখ্যা

ভাষা হলো ভাবের উৎস, ভাবের উচ্চারণ, মনের ভাব প্রকাশের উৎস/মাধ্যম/বাহন, মানুষের কণ্ঠ নিঃসৃত বাক্ সংকেত।
উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১,০৯৩.
আর্য ভাষার প্রাচীনতম রূপ কোনটি?
  1. পালি ভাষা
  2. ধ্রুপদী ভাষা
  3. বৈদিক ভাষা
  4. সংস্কৃত ভাষা
সঠিক উত্তর:
বৈদিক ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈদিক ভাষা
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ:
পৃথিবীর ভাষাগুলো ইন্দো ইউরোপীয়, চিনা-তিব্বতীয়, আফ্রিকীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশিয় প্রভৃতি ভাষা পরিবারে ভাগ করা যায়।
- বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষাগােষ্ঠীর সদস্য।
- ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষার শাখা ২ টি। যথা: কেন্তুম ও শতম।
- ইন্দো-ইউরােপীয় ভাষাগােষ্ঠীর শতম শাখা থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি। কেন্তুম শাখার সাথে বাংলা ভাষার কোনো সম্পর্ক নেই।

- ভারতে আর্য জাতির আগমন ঘটে আনুমানিক ১৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে। তাদের ভাষা ছিল মূল আর্যভাষা। বৈদিক ভাষা এর প্রাচীনতম র‌ূপ। বাংলা ভাষার মূল উৎস আর্যভাষা বা বৈদিক ভাষা।
- বেদের ভাষাকেও বৈদিক ভাষা বলা হয়। বৈদিক ভাষার সংস্কারজাত নতুন ভাষাই সংস্কৃত ভাষা।
- ভাষা হিসেবে সংস্কৃত শব্দটির উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায় মহাকাব্য রামায়ণে।

- বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া।
- ধ্রুপদী ভাষা সংস্কৃতি ও পালির সঙ্গে বাংলা ভাষার রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,০৯৪.
ভাষার মূল কাজ কী?
  1. ব্যক্তির দক্ষতা উন্নয়ন
  2. যোগাযোগ স্থাপন 
  3. কর্মদক্ষতা উন্নয়ন
  4. সাহিত্য রচনা
সঠিক উত্তর:
যোগাযোগ স্থাপন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগাযোগ স্থাপন 
ব্যাখ্যা

ভাষার প্রধান ও মৌলিক কাজ হলো যোগাযোগ স্থাপন করা।
অর্থাৎ, এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ভাব, অনুভূতি, জ্ঞান ও তথ্য বিনিময় করা।

ভাষা ছাড়া মানুষ পরস্পরের সাথে ভাব প্রকাশ করতে পারত না, তাই সমাজজীবনও গড়ে উঠত না।

 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

১,০৯৫.
উপভাষার অপর নাম কী?
  1. মান্য ভাষা
  2. আঞ্চলিক ভাষা
  3. প্রমিত ভাষা
  4. প্রচলিত ভাষা
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঞ্চলিক ভাষা
ব্যাখ্যা
• উপভাষা:
- আঞ্চলিক ভাষার অপর নাম উপভাষা।
- প্রমিত ভাষার (Standard Language) পাশাপাশি প্রচলিত অঞ্চল বিশেষের জনগোষ্ঠী কর্তৃক ব্যবহৃত আঞ্চলিক ভাষা।
- পৃথিবীর সর্বত্রই প্রমিত ভাষার পাশাপাশি এক বা একাধিক আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা (Dialect) ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
- প্রমিত ভাষার সঙ্গে উপভাষার ব্যবধান ধ্বনি, রূপমূল, উচ্চারণ ও ব্যাকরণগত কাঠামোর মধ্যে নিহিত থাকে।
- প্রমিত ভাষা দেশের সর্বস্তরে ব্যবহৃত হয়; লিখিত পদ্ধতির ক্ষেত্রেও তা অনুসৃত হয়, কিন্তু উপভাষার ব্যবহার কেবল বিশেষ অঞ্চলের জনসাধারণের মধ্যেই সীমিত থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,০৯৬.
বর্তমানে লেখ্য ভাষার আদর্শ রীতিকে কী বলে?
  1. লেখ্যরীতি
  2. সাধুরীতি
  3. প্রমিত রীতি
  4. আঞ্চলিক রীতি
সঠিক উত্তর:
প্রমিত রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমিত রীতি
ব্যাখ্যা
• প্রমিত রীতি:
• বিশ শতকের মাঝামাঝি নাগাদ চলিত রীতি সাধু রীতির জায়গা দখল করে। ক্রমে জীবনের সব ক্ষেত্রে সাধু রীতিকে সরিয়ে চলিত রীতি আদর্শ লেখ্য রতিতে পরিণত হয়।
- একুশ শতকের সূচনা নাগাদ এই চলিত রীতিরই নতুন নাম হয় ‘প্রমিত রীতি’। এটি ‘মান রীতি’ নামেও পরিচিত।
• বর্তমান বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ, বিদ্যাচর্চা, সাংবাদিকতা ও যোগাযোগের ভাষা হিসাবে প্রমিত রীতির লেখ্য বাংলা ভাষার প্রধান রীতিতে পরিণত হয়েছে।

• প্রমিত রীতির সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
- প্রমিত রীতিতে ক্রিয়া, সর্বনাম ও অনুসর্গ হ্রস্বতর।
- প্রমিত রীতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের শব্দ ব্যবহার করা যায়। যেমন: তৎসম ‘বৎসর’-ও লেখা যায় আবার তদ্ভব ‘বছর’-ও লেখা যায়।
- প্রমিত রীতিতে কথ্য রীতির বহু শব্দ বর্জনীয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১,০৯৭.
সাধুরীতির বৈশিষ্ঠ্য নয় কোনটি?
  1. ব্যাকরণের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলে।
  2. সর্বনামের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়।
  3. সন্ধি ও সমাসবদ্ধ পদের ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কম।
  4. তৎসম শব্দবহুল ও গুরুগম্ভীর।
সঠিক উত্তর:
সন্ধি ও সমাসবদ্ধ পদের ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধি ও সমাসবদ্ধ পদের ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কম।
ব্যাখ্যা
• 'সন্ধি ও সমাসবদ্ধ পদের ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কম।'- চলিত রীতির বৈশিষ্ট্য।

সাধুরীতির বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. সাধুরীতি ব্যাকরণ নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলে।
২. সাধুরীতি তৎসম শব্দবহুল ও গুরুগম্ভীর।
৩. সাধুরীতিতে ক্রিয়ার পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন : পড়িতেছি, লিখিতেছি ইত্যাদি।
৪. সাধুরীতিতে সর্বনামের পূর্ণরূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: তাহারা, উহারা ইত্যাদি।
৫. সাধুরীতিতে অব্যয়ের তৎসম রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন : তথাপি, যদ্যপি ইত্যাদি।
৬. এই রীতিতে সন্ধি ও সমাসবদ্ধ পদের ব্যবহার বেশি। যেমন : রসনেন্দ্রিয়, মহাবুদ্ধিসম্পন্ন ইত্যাদি।
৭. সাধুরীতি নাটক, বক্তৃতা, সংলাপের উপযােগী নয়।

চলতিরীতির বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. চলতিরীতি ব্যাকরণের সুনির্ধারিত নিয়ম মেনে চলে না।
২. চলতিরীতিতে ক্রিয়াপদের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন : পড়ছি, লিখছি ইত্যাদি।
৩. চলতিরীতিতে সর্বনামের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: ওরা, তারা ইত্যাদি।
৪. চলতিরীতিতে অব্যয়ের তদ্ভব রূপ ব্যবহৃত হয়। যেমন: তবু, যদিও ইত্যাদি।
৫. চলতিরীতি পরিবর্তনশীল।
৬. চলতিরীতিতে সন্ধি ও সমাসবদ্ধ পদের ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কম।
৭. চলতিরীতি বক্তৃতা, নাটক ও সংলাপের উপযােগী।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি- (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)। 
১,০৯৮.
উপভাষা হচ্ছে-
  1. ক) আঞ্চলিক ভাষা
  2. খ) মিশ্র ভাষা
  3. গ) প্রমীত ভাষা
  4. ঘ) দাপ্তরিক ভাষা
সঠিক উত্তর:
ক) আঞ্চলিক ভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আঞ্চলিক ভাষা
ব্যাখ্যা
উপভাষা  
প্রমিত ভাষার (Standard Language) পাশাপাশি প্রচলিত অঞ্চলবিশেষের জনগোষ্ঠী কর্তৃক ব্যবহূত আঞ্চলিক ভাষা। পৃথিবীর সর্বত্রই প্রমিত ভাষার পাশাপাশি এক বা একাধিক আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা (Dialect) ব্যবহূত হয়ে থাকে। প্রমিত ভাষার সঙ্গে উপভাষার ব্যবধান ধ্বনি, রূপমূল, উচ্চারণ ও ব্যাকরণগত কাঠামোর মধ্যে নিহিত থাকে। সাধারণত প্রমিত ভাষায় ভাষাভঙ্গির সংখ্যা বৃদ্ধি, ভৌগোলিক ব্যবধান এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক শ্রেণিবিন্যাসগত পার্থক্যের কারণে উপভাষার সৃষ্টি হয়। প্রমিত ভাষা দেশের সর্বস্তরে ব্যবহূত হয়; লিখিত পদ্ধতির ক্ষেত্রেও তা অনুসৃত হয়, কিন্তু উপভাষার ব্যবহার কেবল বিশেষ অঞ্চলের জনসাধারণের মধ্যেই সীমিত থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,০৯৯.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ কোনটি?
  1. ব্যাকরণ মঞ্জুরী
  2. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  3. আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ
  4. ব্যাকরণ কৌমুদী
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ কৌমুদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ কৌমুদী
ব্যাখ্যা
• ব্যাকরণ কৌমুদী:
- 'ব্যাকরণ কৌমুদী' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ।
- তিনি মোট চারটি খণ্ডে গ্রন্থটি রচনা করেন।
- প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৩ সালে, তৃতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৫৪ সালে এবং চতুর্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৮৬২ সালে।

অন্যদিকে,
- ড. মুহম্মদ এনামুল হক রচিত ব্যাকরণগ্রন্থ 'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' (১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে)।
- রাজা রামমোহন রায় ১৮৩৩ সালে বাংলা প্রথম ব্যাকরণ (গৌড়ীয় ব্যাকরণ) গ্রন্থ রচনা করেন।
- জগদীশচন্দ্র ঘােষ রচিত গ্রন্থ ‘আধুনিক বাংলা ব্যাকরণ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১০০.
অভিধানে কোন শব্দটি আগে বসবে?
  1. চারা
  2. চাঁপা
  3. চাঁদ
  4. চাঁছা
সঠিক উত্তর:
চাঁছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁছা
ব্যাখ্যা
অভিধানে শব্দগুলো অক্ষরিক ক্রমানুসারে সাজানো হয়। অর্থাৎ, প্রথমে শব্দটির প্রথম অক্ষর দিয়ে শ্রেণিবদ্ধ করা হয় এবং তারপর পরবর্তী অক্ষরগুলো আসে।
 
এখানে, সমস্ত শব্দের প্রথম অক্ষর 'চ'। তবে পরবর্তী অক্ষরগুলো বিচার করলে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, 'আ' আসে ‘অ' এর পরে। তাই, আমরা এই শব্দগুলোকে নিম্নোক্ত ক্রমে সাজাতে পারি:
 
• অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ,

- ক, খ, গ, ঘ, ঙ,
- চ, ছ, জ, ঝ, ঞ,
- ট, ঠ, ড, ঢ, ণ,
- ত, থ, দ, ধ, ন,
- প, ফ, ব, ভ, ম,
- য, র, ল, শ, ষ, স, হ, ড়, ঢ়, য়, ৎ, ং, ঃ, ঁ।
 
• সুতরাং অপশনে প্রদত্ত শব্দগুলির বাংলা বর্ণমালার অনুযায়ী ক্রম হবে-
চাঁছা > চাঁদা> চাঁপা > চারা।
 
• অতএব, সঠিক উত্তর হবে ‘চাঁছা' (ঘ)। এটি অভিধানে অন্য তিনটি শব্দের চেয়ে আগে বসবে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।