বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের জনমিতিক বিষয়সমূহ

মোট প্রশ্ন১,৫৬৭এই পাতা৪৯প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের জনমিতিক বিষয়সমূহ

PrepBank · পাতা ১৬ / ১৬ · ১,৫০১১,৫৪৯ / ১,৫৬৭

১,৫০১.
ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম কী?
  1. ওয়ানগালা
  2. সাংলান
  3. চাপচারকৃত
  4. বৈসু
সঠিক উত্তর:
বৈসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈসু
ব্যাখ্যা

ত্রিপুরা:
- একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জাতি। ব্রিটিশ আমলে ত্রিপুরা ছিল একটি দেশীয় রাজ্য।
- ১৯৪৭ সালের পর ত্রিপুরী জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বসবাস সুবাদে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অর্জন করে।
- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড ও মিরসরাই, নোয়াখালীর বিলোনীয়া অঞ্চল, কুমিল্লা, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এরা বসবাস করেন।
- ত্রিপুরা জাতি যে ভাষায় কথা বলে তা কক্-বরক নামে অভিহিত।
- কক্-বরক্ ভাষাটি ৫৮৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্বাধীন ত্রিপুরা রাজ্যের রাষ্ট্রভাষা ছিল।
- ত্রিপুরা ভারতে যোগ দিলে কক্-বরক্ রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা হারায়।
- ত্রিপুরা জাতির সামাজিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক।
- এই জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম বৈসু।
- ধর্ম বিশ্বাসে ত্রিপুরা জাতি সনাতন ধর্মের অনুসারী।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।

১,৫০২.
নিচের কোন জেলাটিতে গারোদের বসবাস রয়েছে?
  1. কক্সবাজার
  2. পটুয়াখালী
  3. ময়মনসিংহ
  4. বান্দরবান
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
গারো:

- গারো  বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী।
- টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় এদের বাস।
-  বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের মেঘালয় রাজ্যে এদের বসবাস রয়েছে।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে গারোরা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর তিববতীবর্মণ শাখার বোড়ো উপশাখার অন্তর্ভুক্ত।
- গারোদের আদি বাসভূমি বর্তমান চীনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের সিন-কিয়াং প্রদেশ, যেখান থেকে তারা দেশত্যাগ করে পরবর্তীকালে তিববতে দীর্ঘদিন বসবাস করে।
- এরপর ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় এবং বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় এরা বসবাস শুরু করে।
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।
- মা-ই পরিবারের কর্তা ও সম্পত্তির অধিকারী এবং এক্ষেত্রে পিতা পরিবারের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করে।
- পরিবারের সন্তানসন্ততিরা মায়ের পদবি ধারণ করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,৫০৩.
সাঁওতালদের জাতীয় উৎসব নিচের কোনটি?
  1. বাইসু
  2. সোহরাই
  3. বিজু
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সোহরাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোহরাই
ব্যাখ্যা
সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চলে।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা, এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।
- সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য যদিও সূর্য, পর্বত দেবতা (মারাং বুরু) তাদের জন্য যথেষ্ট মর্যাদাব্যঞ্জক হয়ে গ্রামদেবতায় পরিণত হয়েছে।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। প্রায় প্রতিমাসে বা ঋতুতে রয়েছে পরব বা উৎসব।
- সোহরাই উৎসব সাঁওতালদের একপ্রকার জাতীয় উৎসব।
- যা পৌষ সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়।
- সাঁওতাল সমাজে পুরুষের আধিপত্য অপেক্ষাকৃত বেশি।
- সাঁওতালদের ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই, তেমনি তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,৫০৪.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে সাক্ষরতার হার কত শতাংশ?
  1. ৭৩.২৬%
  2. ৭৪.৮০%
  3. ৭৫.০৭%
  4. ৭৬.৫৯%
সঠিক উত্তর:
৭৪.৮০%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৭৪.৮০%
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয় : ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে - CAPI.
- CAPI এর পূর্ণরূপ - Computer Assisted Personal Interviewing.
- গণনায় যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে- মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified De-facto) পদ্ধতি।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।
- সাক্ষরতার হার: ৭৪.৮০%।
- পুরুষের সাক্ষরতার হার: ৭৬.৭১%।
- মহিলার সাক্ষরতার হার: ৭২.৯৪%।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে (৭৮.২৪%)।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে (৬৭.২৩%)।
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা: পিরোজপুর (৮৫.৫৩%)।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন জেলা: জামালপুর (৬১.৭০%)।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
১,৫০৫.
কৃষি শুমারিতে কৃষির অন্তর্ভুক্ত বিষয় কোনটি?
  1. শস্য
  2. প্রাণিসম্পদ
  3. মৎস্য
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
কৃষি শুমারি:
- স্বাধীনতার পর প্রথম কৃষি শুমারি হয় ১৯৭৭ সালে।
- কৃষি শুমারিতে কৃষির অন্তর্ভুক্ত বিষয় ৩টি। যথা:
• শস্য,
• মৎস্য,
• প্রাণিসম্পদ।

উল্লেখ্য,
⇒ কৃষি শুমারি পরিচালনার মাধ্যমে কৃষি খানার সংখ্যা, খানার আকার, ভূমির ব্যবহার, কৃষির প্রকার, শস্যের ধরণ, চাষ পদ্ধতি, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগীর সংখ্যা, মৎস্য উৎপাদন ও চাষাবাদ সংক্রান্ত তথ্যাদি এবং কৃষি ক্ষেত্রে নিয়োজিত জনবল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
- এ তথ্য-উপাত্ত কৃষি ক্ষেত্রের উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণ এবং অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে বেঞ্চমার্ক তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- প্রতি দশ বছর অন্তর কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- পরিসংখ্যান আইন-২০১৩ অনুযায়ী জনশুমারি এবং অর্থনৈতিক শুমারির পাশাপাশি কৃষি (শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) শুমারি পরিচালনা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

উৎস: i) বিবিএস ওয়েবসাইট।
ii) কৃষি মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১,৫০৬.
'মারাংবুরো' কী?
  1. সাঁওতালদের বিবাহপ্রথা
  2. সাঁওতালদের বর্ষবরণ
  3. সাঁওতালদের মন্দিরের নাম
  4. সাঁওতালদের প্রধান গ্রামদেবতা
সঠিক উত্তর:
সাঁওতালদের প্রধান গ্রামদেবতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাঁওতালদের প্রধান গ্রামদেবতা
ব্যাখ্যা
সাঁওতালদের ধর্ম: 
- সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মানুষ প্রধানত হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী।
- সনাতন ধর্মে বিশ্বাসীরা হিন্দুধর্মের রীতিনীতি ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে।
- অন্যরা খ্রিস্টান ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান পালন করে থাকে।
- সাঁওতালদের প্রধান গ্রামদেবতার নাম 'মারাংবুরো'।
- এই দেবতাকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য তাঁর উদ্দেশ্যে সাদা মোরগ ও সাদা ছাগল উৎসর্গ করা হয়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫০৭.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা এবং নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে?
  1. ১৮(ক) নং অনুচ্ছেদ
  2. ২১নং অনুচ্ছেদ
  3. ২৩(ক) নং অনুচ্ছেদ
  4. ২৫নং অনুচ্ছেদ
সঠিক উত্তর:
২৩(ক) নং অনুচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩(ক) নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সংবিধান:

অনুচ্ছেদ ২৩ক: উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি:

রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ  ১৮ক: পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।
- অনুচ্ছেদ ২১: নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য।
- অনুচ্ছেদ ২৫: আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫০৮.
‘গারো’ ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সমাজে পরিবারের প্রধান কে?
  1. ক) বাবা
  2. খ) মা
  3. গ) প্রবীণ ব্যক্তি
  4. ঘ) বড় ভাই
সঠিক উত্তর:
খ) মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মা
ব্যাখ্যা
• ‘গারো’ ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সমাজে পরিবারের প্রধান মা। 

• গারো পরিবার মাতৃতান্ত্রিক।
- পরিবারের সকল কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা মাতা বা স্ত্রীর হাতে ন্যস্ত থাকে।
- সে কারণে গারো পরিবারে ও সম্প্রদায়ে পুরুষের প্রাধাণ্য কম।
- এ সমাজে উত্তরাধিকার মাতৃধারায় মা থেকে মেয়েতে বর্তায়। এখানে মাতৃবাস রীতি অনুসরণ করা হয়।
- বিয়ের পর গারো দম্পতি স্ত্রীর মায়ের বাড়িতে বসবাস করে। ইদানীং শিক্ষিত গারো-দম্পতিদের মধ্যে এর বিপরীত অবস্থা পরিলক্ষিত হয়।
- গারো সম্প্রদায়ে একক বিবাহভিত্তিক পরিবার বিদ্যামান। খ্রিষ্ঠান গারোদের বিয়ে চার্চে অনুষ্ঠিত হয়। আর অন্য গারোদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী নিয়মে।
- বাংলাদেশে বসবাসরত গারো সম্প্রদায়ের প্রায় শতকরা ৯০ ভাগ ধর্মান্তরিত খ্রিস্টান।
- এদের ঐতিহ্যগত ধর্মের নাম সাংসারেক।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ৯ম-১০ম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৫০৯.
খানা আয় ও ব্যয় জরিপ ২০২২ অনুযায়ী, অতি দারিদ্রের হার -
  1. ৫.৬ শতাংশ
  2. ৬.৫ শতাংশ
  3. ১৮.১ শতাংশ
  4. ১৮.৭ শতাংশ
সঠিক উত্তর:
৫.৬ শতাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫.৬ শতাংশ
ব্যাখ্যা
২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ:
- ২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী,
- দারিদ্র্যের হার: ১৮.৭ শতাংশ।
- অতি দারিদ্রের হার: ৫.৬ শতাংশ। 
- দারিদ্র্যের হারে শীর্ষ বিভাগ: বরিশাল।

অন্যদিকে -
- বরিশাল বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ২৬.৯%।
- রংপুর বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ২৪.৮%। 
- ময়মনসিংহ বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ২৪.২%।
- ঢাকা বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ১৭.৯%।
- সিলেট বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ১৭.৪%।
- রাজশাহী বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ১৬.৭%।
- চট্টগ্রাম বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ১৫.৮%। 
- খুলনা বিভাগে দারিদ্র‍্যের হার: ১৪.৮%।

উৎস: খানা আয় ও ব্যয় জরিপ ২০২২।
১,৫১০.
নিচের কোন জেলায় 'কন্দ' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. মৌলভীবাজার
  2. রংপুর
  3. কক্সবাজার
  4. রাঙ্গামাটি
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
কন্দ:
- কন্দ বাংলাদেশের অন্যতম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এদের আদিনিবাস ভারতের উড়িষ্যা রাজ্য।
- উনিশ শতকের মাঝামাঝিতে কন্দরা চা ও রেল শ্রমিক হিসাবে বাংলাদেশে আসে এবং রেললাইন নির্মাণের কাজে যোগদান করে। রেললাইন নির্মাণ শেষে এদের একাংশ চা বাগানের শ্রমিক হিসেবে এদেশে স্থায়ীভাবে থেকে যায়।
- বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন হরিণছড়া, উদনাছড়া, পুটিয়া ও লাখাউড়া এবং কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমাছড়া চা বাগানে কন্দদের দেখা যায়।
- অন্যান্য জনগোষ্ঠীর লোকেরা তাদেরকে স্থানীয়ভাবে কুই নামে অভিহিত করে। আবার কোথাও কোথাও তারা উড়িয়া নামেও পরিচিত।
- তাদের সঙ্গে মধ্যভারতের বিভিন্ন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী যেমন ভীল, কোল, মুন্ডা প্রভৃতির সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- কন্দ জনগোষ্ঠীর লোকেরা পাঁচটি দলে বিভক্ত। এ দলগুলি ভিন্ন ভিন্ন গোত্র বা বংশে বিভক্ত।
- কন্দ সমাজ পুরুষ প্রধান। পরিবারের পুত্রসন্তানেরাই পারিবারিক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়।
- কন্দরা হিন্দুদের মতই বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করে।
- তাদের নিজেদের ভাষায় এসব দেবদেবীর নামকরণ করা হয়েছে যেমন ময়মুরুবিব, ত্রিনাথ প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,৫১১.
নিচের কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক?
  1. গারো
  2. চাকমা
  3. লুসাই
  4. পাংখোয়া
সঠিক উত্তর:
গারো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গারো
ব্যাখ্যা

গারো:
- গারো  বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী।
- টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় এদের বাস।
-  বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের মেঘালয় রাজ্যে এদের বসবাস রয়েছে।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে গারোরা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর তিববতীবর্মণ শাখার বোড়ো উপশাখার অন্তর্ভুক্ত।
- গারোদের আদি বাসভূমি বর্তমান চীনের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের সিন-কিয়াং প্রদেশ, যেখান থেকে তারা দেশত্যাগ করে পরবর্তীকালে তিববতে দীর্ঘদিন বসবাস করে।
- এরপর ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় এবং বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় এরা বসবাস শুরু করে।
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।
- মা-ই পরিবারের কর্তা ও সম্পত্তির অধিকারী এবং এক্ষেত্রে পিতা পরিবারের ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করে।
- পরিবারের সন্তানসন্ততিরা মায়ের পদবি ধারণ করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

১,৫১২.
বাংলাদেশের কোন জেলায় জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম? [জনশুমারি ও গৃহগণনা চূড়ান্ত রিপোর্ট ২০২২]
  1. রংপুর
  2. রাঙ্গামাটি
  3. পিরোজপুর
  4. জামালপুর
সঠিক উত্তর:
রাঙ্গামাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা:
- ২০১৩ সালে প্রণীত পরিসংখ্যান আইন অনুযায়ী, ইতিপূর্বে পরিচিত ‘আদমশুমারি'কে 'জনশুমারি' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- সে অনুসারে 'আদমশুমারি ও গৃহগণনার' পরিবর্তে ২০২২ সালের জুন মাসে '৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা' অনুষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে প্রথম আদমশুমারি পরিচালনা করা হয়।
- ১৯৮১ সালে দ্বিতীয় ও পঞ্চম আদমশুমারি ও গৃহগণনা ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত হয়।

⇒ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।
- দেশে পুরুষ ও নারীর অনুপাত: ৯৯.০৮ : ১০০.৯০।
- সাক্ষরতার হার: ৭৪.৮০%।
- পুরুষ সাক্ষরতার হার: ৭৬.৭১%।
- নারী সাক্ষরতার হার: ৭২.৯৪%।

উল্লেখ্য,
• জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি:
- বিভাগ: ঢাকা বিভাগ; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ২১৫৬ জন।
- জেলা: ঢাকা জেলা; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ১০,০৬৭ জন।

• জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম:
- বিভাগ: বরিশাল বিভাগ; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ৬৮৮ জন।
- জেলা: রাঙ্গামাটি জেলা; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ১০৬ জন।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা চূড়ান্ত রিপোর্ট ২০২২।
১,৫১৩.
২০১৯-২০২০ অর্থবছরে স্থিরমূল্যে জিডিপিতে সেবাখাতের অবদান কত শতাংশ?
  1. ক) ৫০.৪ শতাংশ
  2. খ) ৫১.৩ শতাংশ
  3. গ) ৫৪.৫ শতাংশ
  4. ঘ) ৫৬.১ শতাংশ
সঠিক উত্তর:
খ) ৫১.৩ শতাংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৫১.৩ শতাংশ
ব্যাখ্যা
বিবিএসের সাময়িক হিসাবে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে স্থিরমূল্যে জিডিপিতে সেবাখাতের অবদান ৫১.৩০ শতাংশ। অন্যদিকে জিডিপিতে শিল্প ও কৃষিখাতের অবদান যথাক্রমে ৩৫.৩৬ শতাংশ এবং ১৩.৩৫ শতাংশ।
(সূত্র: বিবিএস ওয়েবসাইট)
১,৫১৪.
নিচের কোনটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী?
  1. চাকমা
  2. খাসিয়া
  3. ত্রিপুরা
  4. মারমা
সঠিক উত্তর:
খাসিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খাসিয়া
ব্যাখ্যা
খাসিয়া:
- খাসিয়া বাংলাদেশে বসবাসরত একটি মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী।
- এরা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
- বাংলাদেশে তাদের আদি নিবাস বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী সুনামগঞ্জ জেলায়।
- বর্তমানে সিলেট, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক ও সদর থানায় খাসিয়ারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
- খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান উৎসব খাসি সেং কুটস্নেম।
- এই উৎসবের মধ্য দিয়ে তারা পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
- খাসিয়ারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
- পুঞ্জি প্রধানকে সিয়েম বলা হয়।
- বর্তমানে ৮০%-৯০% খাসিয়াই খ্রিস্টান।
- প্রায় প্রতি পুঞ্জিতেই গির্জা আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,৫১৫.
পুঞ্জি কী?
  1. ক) খাসিয়াদের গ্রাম
  2. খ) চাকমাদের গ্রাম
  3. গ) মারমাদের গ্রাম
  4. ঘ) সাঁওতালদের গ্রাম
সঠিক উত্তর:
ক) খাসিয়াদের গ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) খাসিয়াদের গ্রাম
ব্যাখ্যা
পুঞ্জি : খাসিয়াদের গ্রাম
- আদাম : চাকমাদের গ্রাম
- রোয়া : মারমাদের গ্রাম।
- দিশাম : সাঁওতালদের বসবাসের নির্দিষ্ট এলাকা।

(তথ্যসূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী)
১,৫১৬.
দেশের সর্বাধিক গুরুতর জাতীয় সমস্যা হিসেবে সরকার কোনটিকে চিহ্নিত করেছে?
  1. নিরক্ষরতা
  2. বেকারত্ব
  3. জনসংখ্যা বৃদ্ধি
  4. দুর্নীতি
সঠিক উত্তর:
জনসংখ্যা বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনসংখ্যা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

• জনসংখ্যা সমস্যা:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম অঙ্গীকার হলো সকল নাগরিকের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন।
- ১৯৭২ সালে প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকল নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
- জনসংখ্যা সমস্যাকে এক নম্বর জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে ১৯৭৬ সালে একটি জনসংখ্যা নীতি প্রণয়ন করা হয়।

উল্লেখ্য
- বাংলাদেশের সরকার কর্তৃক এক নম্বর জাতীয় সমস্যা হিসেবে জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- ১৯৭৬ সালে তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি জনসংখ্যা বিস্ফোরণকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে ঘোষণা করেন এবং এর সমাধানে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। 

তথ্যসূত্র: i) পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট। (LINK)
ii) পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫১৭.
মারমা জনগণ কোন বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত?
  1. অস্ট্রিক
  2. মঙ্গোলয়েড
  3. দ্রাবিড়
  4. আর্য
সঠিক উত্তর:
মঙ্গোলয়েড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মঙ্গোলয়েড
ব্যাখ্যা

মারমা: 
- মারমা জনগণ মঙ্গোলয়েড বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

- এ বর্ণগোষ্ঠীর মানুষের বৈশিষ্ট্য হিসেবে চ্যাপ্টা মুখমণ্ডল, ছোট ও চওড়া নাক, বাদামি চোখ এবং সোজা চুল পরিলক্ষিত হয়।
- বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী এই জনগোষ্ঠী শারীরিক গঠন ও নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মঙ্গোলয়েড জনগণের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উল্লেখ্য, 
- মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- এই জনগোষ্ঠীর জনগণের অধিকাংশই বাংলাদেশের তিনটি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে বসবাস করে।
- তাদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে।
- এই ভাষা ‘ভোট বর্মী’ শাখার বর্মী দলভুক্ত একটি ভাষা।
- মারমারা মূলত বৌদ্ধ ধর্মালম্বী।
- মারমা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম ‘সাংগ্রাই’।
- গ্রাম পর্যায়ের প্রশাসনিক প্রধান হলেন একজন কারবারি।
- মৌজা পর্যায়ের প্রধান হলেন একজন হেডম্যান।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকা রিপোর্ট।

১,৫১৮.
বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. রাজশাহী
  2. নেত্রকোণা
  3. চট্টগ্রাম
  4. কক্সবাজার
সঠিক উত্তর:
নেত্রকোণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেত্রকোণা
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি:

- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি নেত্রকোণা জেলার বিরিশিরিতে অবস্থিত।
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীণ একটি সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান।
- প্রতিষ্ঠানটি মূল দুটি শাখার মাধ্যমে তার কাজ সম্পাদন করে থাকে।
- একটি সাংস্কৃতিক শাখা এবং অন্যটি গবেষণা শাখা।
- এ ছাড়াও রয়েছে একটি ছোট্ট নৃ-তাত্ত্বিক মিউজিয়াম এবং লাইব্রেরী।
- বৃহত্তর ময়মনসিংহের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীয়দের বিলীয়মান সংস্কৃতি সংরক্ষণ, অবিরত চর্চার মাধ্যমে তা ধরে রাখা এবং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে সংস্কৃতি-সচেতন হতে সহায়তা করা এবং উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে থাকে।

তথ্যসূত্র - ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি ওয়েবসাইট।
১,৫১৯.
কোন অঞ্চলটি প্রাচীন বঙ্গ জনপদের অন্তর্গত ছিলো না?
  1. ক) কুমিল্লা
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) ফরিদপুর
  4. ঘ) বরিশাল
সঠিক উত্তর:
ক) কুমিল্লা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
প্রাচীন কাল থেকে আরম্ভ করে আনুমানিক ষষ্ঠ ও সপ্তম শতকে প্রাচীন বাংলা বিভিন্ন জনপদে বিভক্ত ছিলো: -
যথা: পুণ্ড্র, গৌড়, রাঢ়, সূহ্ম, তাম্রলিপি, সমতট, বঙ্গ ইত্যাদি জনপদে বিভক্ত।

- পুণ্ড্র:- প্রাচীনকালে পুণ্ড্র ছিল পূর্বাঞ্চলের জনপদসমূহের মধ্যে খুব সম্ভবত প্রাচীনতম। খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের (আনুমানিক) মহাস্থান ব্রাহ্মী লিপিতে উল্লিখিত পুদনগল (পুণ্ড্র নগর) এবং বগুড়া যে অভিন্ন তা একাধিক উৎস থেকে প্রমাণ করা যায়।

- রাঢ়:- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল। জনপদটি দুটি অংশে বিভক্ত ছিল। একটি ছিল দক্ষিণ রাঢ় এবং অন্যটি ছিল উত্তর রাঢ়।

- বঙ্গ:- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ। অনুমান করা যায় ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

- সমতট:- কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট। মূলত মেঘনা-পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল এবং এ অঞ্চলের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী ‘লালমাই’এলাকা। একেবারে সঠিকভাবে সমতটের সীমা নির্ধারণ না করা গেলেও ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই ছিল সম্ভবত প্রাচীন সমতট।

- হরিকেল:- এই জনপদের কথা প্রথম জানা যায় প্রথম শতকের চট্টগ্রামে প্রাপ্ত লিপিতে। চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল কথা আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুটি প্রাচীন গ্রন্থের পান্ডু লিপিতে হরিকোল (হরিকেল) ও বর্তমান সিলেট বিভাগ অভিন্ন উল্লেখিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫২০.
'হোয়ো’ কোন ভাষার বর্ণমালার নাম?
  1. পাংখোয়া
  2. কন্দ
  3. খেয়াং
  4. মণিপুরি মৈতৈ
সঠিক উত্তর:
খেয়াং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খেয়াং
ব্যাখ্যা
'হোয়ো’ ভাষা: 
- বান্দরবানের খেয়াং জনগোষ্ঠীর নিজেদের ভাষার বর্ণমালা তৈরি করা হয়েছে।
- এই বর্ণমালার নাম দেওয়া হয়েছে 'হোয়ো'।
- এই বর্ণমালা দিয়ে কম্পিউটারেও লেখালেখি করা যাবে।
- গত কয়েক বছর ধরে রোমান হরফে এই ভাষা লেখা হচ্ছিল।
- ফ্রেন্ডস অব এন্ডেঞ্জার্ড এথনিক ল্যাংগুয়েজেস (ফিল) নামের একটি সংগঠন এই ভাষাটিকে কম্পিউটারে ব্যবহার উপযোগী করতে কারিগরি সহায়তা করে। 
-  'হোয়ো' বর্ণমালায় স্বরবর্ণ ১১টি আর ব্যঞ্জনবর্ণ ২১টি। 
- খেয়াং ভাষার বর্ণমালার উদ্ভাবকেরা হলেন- ঞো জাই উ খেয়াং, চিং হ্লা উ খেয়াং, ক্য উ প্রু খেয়াং, মং হ্লা প্রু খেয়াং এবং চিং সা থুই খেয়াং।

সূত্র: ডেইলি স্টার।
১,৫২১.
গারোদের বসবাস নেই কোন অঞ্চলে?
  1. ক) রংপুর
  2. খ) ময়মনসিংহ
  3. গ) জামালপুর
  4. ঘ) সিলেট
সঠিক উত্তর:
ক) রংপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রংপুর
ব্যাখ্যা
গারোদের বসবাস

- বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গারোরা হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ।
- গারোরা ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলের মধুপুর, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর ও গাজীপুরের শ্রীপুরে বাস করে। 
- বৃহত্তর সিলেট জেলায়ও কিছু সংখ্যক গারো রয়েছে। বাংলাদেশের গারোরা সাধারণত সমতলের বাসিন্দা৷
- বাংলাদেশের বাইরে ভারতের মেঘালয় ও অন্যান্য রাজ্যেও গারোরা বাস করে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
১,৫২২.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে মোট সিটি কর্পোরেশন কয়টি?
  1. ১০টি
  2. ১১টি
  3. ১২টি
  4. ১৩টি
সঠিক উত্তর:
১২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২টি
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- দেশে মোট সিটি কর্পোরেশন আছে - ১২টি।
- দেশে মোট উপজেলা আছে - ৪৯৫টি।
- মেট্রো থানা আছে - ১০৫টি।
- ইউনিয়নের সংখ্যা - ৪৫৯৬টি।
- মোট গ্রামের সংখ্যা - ৯০০৪৯টি।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
১,৫২৩.
কোন জেলায় ওরাওঁ নৃগোষ্ঠীর বাস নেই?
  1. নীলফামারী
  2. জয়পুরহাট
  3. মৌলভীবাজার
  4. বান্দরবান
সঠিক উত্তর:
বান্দরবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বান্দরবান
ব্যাখ্যা
ওরাওঁ উপজাতি:
- ওরাওঁ  বাংলাদেশের একটি নৃগোষ্ঠী।
- তারা বর্তমানে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমণিরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুর, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় বসবাস করছে।
- তাদের ভগবানের নাম ধরমী বা ‘ধার্মেশ’ বা ‘ধরমেশ’।
- ওরাওঁদের ভাষার নাম কুরুক।
- এ ভাষার কোনো বর্ণমালা নেই। 
- ওরাওঁ সমাজের পার্বণিক উৎসব মূলত চারটি- ১. সারহুল, ২. কারাম, ৩. পশু উৎসব, ৪. খারিয়ানি, ৫. ফাগুয়া, ৭. সোহরায়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১,৫২৪.
মণিপুরী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব কোনটি?
  1. মাঘীপূর্ণিমা
  2. চৈত্রসংক্রান্তি
  3. পৌষ সংক্রান্তি
  4. মহারাসলীলা
সঠিক উত্তর:
মহারাসলীলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহারাসলীলা
ব্যাখ্যা

মহা রাসলীলা:
- মণিপুরী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব 'মহা রাসলীলা'।
- শারদীয় পূর্ণিমা তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় বলে মহারাসকে মণিপুরীরা পূর্ণিমারাসও বলে থাকে। 

⇒ মণিপুরী:

- মণিপুরী বাংলাদেশের অন্যতম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়।
- জাতিগত দিক থেকে মণিপুরীরা মঙ্গোলীয় মানবগোষ্ঠীর তিব্বতি-বর্মি পরিবারের কুকি-চীন গোত্রভুক্ত। 
- বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলা এবং ঢাকায় মণিপুরী সম্প্রদায় বসবাস করে।
- আঠারো শতকের শেষের দিকে মণিপুরীরা ভারতের মণিপুর রাজ্য থেকে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন করে।
- মণিপুরীদের মেইতেই নামেও অভিহিত করা হতো। 

⇒ মণিপুরে তিন গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের বাস- বিষ্ণুপ্রিয়া, মৈতৈ ও পাঙান।
- বাংলাদেশের মণিপুরীদের মধ্যে বিষ্ণুপ্রিয়ারা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা হচ্ছে মণিপুরী নৃত্য।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,৫২৫.
কোন ক্ষুদ্র জাতি সত্ত্বা চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাইরে বসবাস করে?
  1. চাকমা
  2. ত্রিপুরা
  3. হাজং
  4. মারমা
সঠিক উত্তর:
হাজং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজং
ব্যাখ্যা
হাজং:

- চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাইরে বসবাস করে হাজং।
- হাজং বাংলাদেশের একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- ময়মনসিংহ জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে হাজংদের বসবাস।
- এদের কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে। তবে প্রধান বসবাস শ্রীবর্দি, ঝিনাইগাতি, হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নালিতাবাড়ি, সুসং দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও বিরিশিরি এলাকায়।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে, হাজংদের আদিনিবাস উত্তর বার্মায়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে হাজংদের পূর্বপুরুষের দলটি তাদের আদিনিবাস ত্যাগ করে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় প্রথমে প্রবেশ করে।
- সপ্তদশ শতকে মুগলদের দ্বারা বিতাড়িত হয়ে হাজংরা গারো পাহাড়ে আশ্রয় নেয় এবং পরে সমতলভূমিতে বসতি স্থাপন করে।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের প্রধান ভাষা বাংলা।
- হাজং নারীরা যে কাপড় পরিধান করে সেটিকে তারা ‘পাথিন’ বলে।
- তিটি হাজং বাড়িতে ছোট করে হলেও সৃষ্টিকর্তাকে প্রণাম জানানোর জন্য আলাদা একটি ঘর নির্মাণ করে। হাজংরা সেটিকে ‘দেওঘর’ বলে।
- নবজাত শিশুর মঙ্গল কামনায় হাজংরা ময়লাদেওয়ের পূজা করে থাকে।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,৫২৬.
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২২ অনুযায়ী ডাক্তার ও জনসংখ্যার অনুপাত-
  1. ক) ১:১৫২৪
  2. খ) ১:১৬২৪
  3. গ) ১:১৬৫৬
  4. ঘ) ১:১৭২৪
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১:১৭২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১:১৭২৪
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক সমীক্ষা- ২০২২ অনুসারে,বাংলাদেশ

- মোট জনসংখ্যা ১৭.০৮ কোটি।
- প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ১,১৪০ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.৩৭%।
- পুরুষ-মহিলা অনুপাত: ১০০.২ : ১০০।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছরের অধিক) ৭৫.২%।
- প্রত্যাশিত গড় আয়ুষ্কাল ৭২.৮ বছর।
- ডাক্তার ও জনসংখ্যার অনুপাত-২০১৮ = ১:১৭২৪

উৎস: লাইভ এমসিকিউ ডাইনামিক প্যানেল।
১,৫২৭.
জাতীয় জনসংখ্যা নীতি প্রণীত হয় কত সালে?
  1. ২০১০ 
  2. ২০১২
  3. ২০১৪
  4. ২০১৮
সঠিক উত্তর:
২০১২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০১২
ব্যাখ্যা

• জাতীয় জনসংখ্যা নীতি: 
- আর্থ-সামাজিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের জনসংখ্যা বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, তাকেই বলা হয় দেশটির জনসংখ্যানীতি।
- এই নীতির লক্ষ্য হলো, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে দেশের মানুষের জীবনমানের উন্নতি এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

• প্রথম জাতীয় জনসংখ্যা নীতির রূপরেখা প্রণীত হয় ১৯৭৬ সালে।
- পরবর্তীতে ২০০৪ সালে একটি জনসংখ্যা নীতি প্রণয়ন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করা হয়।
- ২০০৪ সালের জনসংখ্যা নীতির উদ্দেশ্য ছিল ২০১০ সালের মধ্যে নিট প্রজনন হার-১ অর্জন করা।
- কিন্তু এ লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় কর্মসূচিতে গতিশীলতা আনার জন্য জনসংখ্যানীতিকে হালনাগাদ করা একান্ত প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
- এরই ধারাবাহিকতায় প্রণীত হয় জাতীয় জনসংখ্যানীতি ২০১২।
- এই জনসংখ্যা নীতির উদ্দেশ্যে ছিলো ২০১৫ সালের মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার ৭২ শতাংশ উন্নীত করে নিট প্রজনন হার ১ অর্জন করা।
- এর মাধ্যমে ২০৭০ সালের মধ্যে দেশের জনসংখ্যার স্থিতিশীলতা অর্জন করা।

• সর্বশেষ জাতীয় জনসংখ্যা নীতি প্রণীত হয় ২০২৫ সালে।
- ২৪ জুলাই ২০২৫ সালে 'বাংলাদেশ জনসংখ্যা নীতি ২০২৫' প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
- এই নীতির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ২০৬১ সালের পর আর বাড়বে না।
- তখন দেশের জনসংখ্যা হবে ২১ কোটি।
- ২০৬২ সাল থেকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঋণাত্মক হবে এবং মোট জনসংখ্যা কমতে থাকবে।
- ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশ জনসংখ্যার লভ্যাংশের যে সুযোগ পেয়ে আসছে তা অব্যাহত থাকবে ২০৬১ সাল পর্যন্ত।
- তখন সমাজে প্রবীণ মানুষের হার অনেক বেশি থাকবে।


তথ্যসূত্র: পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ও বনিক বার্তা। (Link) 

১,৫২৮.
বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে কী নামে পরিচিত?
  1. ক) বঙ্গবাসী
  2. খ) বাঙ্গাল
  3. গ) বাংলাদেশী
  4. ঘ) বাঙ্গালি
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাঙ্গালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাঙ্গালি
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে 'বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালি এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলে পরিচিত হবেন।'
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
১,৫২৯.
নিচের কোন জেলায় হাজং জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. রাজশাহী
  2. কক্সবাজার
  3. ময়মনসিংহ
  4. হবিগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সমূহের মধ্যে হাজংরা অন্যতম। হাজংদের অধিকাংশের বসবাস ময়মনসিংহ জেলায়। এছাড়া নেত্রকোনা, সিলেট ও শেরপুরেও হাজংদের বসবাস রয়েছে।
হাজংদের আদিনিবাস উত্তর বার্মায়। ধর্মীয় বিশ্বাসে হাজংরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী। হাজং শব্দের অর্থ মাটির পোকা।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১,৫৩০.
খিয়াংদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব কোনটি?
  1. সাংসারেক
  2. সাংলান
  3. বৈসু
  4. চাপচারকৃত
সঠিক উত্তর:
সাংলান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাংলান
ব্যাখ্যা
খিয়াং:
- খিয়াং পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি নৃজাতি গোষ্ঠী।আরাকান-ইয়োমা উপত্যকার অববাহিকা অঞ্চলে বসবাসরত নৃগোষ্ঠী থেকে খিয়াংদের আগমন।
- বর্তমানে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম জেলায় এ জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।
- খিয়াংরা চীনা-তিববতীয় ভাষাগোষ্ঠীর তিববতি-ব্রহ্ম শাখার কুকি-চীন দলভুক্ত।
- খিয়াংদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে ‘সাংলান’।
- তারা বৌদ্ধধর্মে দীক্ষা নেয়। তবে তাদের আদি দেব-দেবীদের পূজা করতেও দেখা যায়।
- বর্তমানে অনেকে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে।।
- পাহাড়ের উপর খোলা জায়গায় এবং ছোট খাল বা ঝর্ণাধারার কাছে এদের গ্রামগুলি গড়ে উঠে।
- এরা ঘরকে বলে ‘ইম’ এবং গ্রামকে বলে ‘নাম’।
- খিয়াংদের সমাজব্যবস্থায় একজন নেতা থাকে যাকে বলা হয় কার্বারী।
- খিয়াংদের সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,৫৩১.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ চূড়ান্ত রিপোর্ট অনযায়ী, বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কত?
  1. ১.২%
  2. ১.১২%
  3. ২.১২%
  4. ১.৩২%
সঠিক উত্তর:
১.১২%
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১.১২%
ব্যাখ্যা
• ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- সর্বশেষ ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়: ১৫-২১ জুন।
- তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি: CPI.
- গণনা পদ্ধতি: Modified De-fecto.
- দেশে মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- সাক্ষরতার হার: ৭৪.৮০%।
- সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে: ঢাকায়।
- সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে বরিশাল বিভাগে।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯জন।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি: ঢাকা বিভাগে।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম: বরিশাল বিভাগে।
- জেলা অনুযায়ী সবচেয়ে কম: রাঙ্গামাটি।

উৎস: ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
১,৫৩২.
Which is the main religious festival of the Garo community?
  1. Biju
  2. Onegala
  3. Mutsolung
  4. Fagua
  5. Jolkeli
সঠিক উত্তর:
Onegala
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Onegala
ব্যাখ্যা
গারো উপজাতি:
- বাংলাদেশে গারো উপজাতির মূল নিবাস ময়মনসিংহ জেলার গারো পাহাড়ি এলাকায়। 
- তাছাড়া শেরপুর, নেত্রকোনা, রংপুর, জামালপুর, সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলাতেও কিছু গারো উপজাতি বাস করে। 
- গারোদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মের নাম 'সাংসারেক'। 
- গারোদের প্রধান দেবতা 'তাতারা রাবুগা'। 
- গারোদের ধর্ম খ্রিস্টান। 
- গারোদের উৎসব 'ওয়ানগালা'। 
- গারোদের ভাষা মান্দি। 
- গারোদের পরিবার মাতৃতান্ত্রিক। 

উল্লেখ্য,
- ফাগুয়া ওরাওঁ সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব।
- মুৎসলোং ম্রো বা মুরংদের প্রধান উৎসব।
- বিজু চাকমাদের বাৎসরিক প্রধান উৎসব।

উৎস: ময়মনসিংহ জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।
১,৫৩৩.
'ওরাঁও' নৃ-গোষ্ঠী কোন ভাষায় কথা বলে?
  1. ককবোরক
  2. মুন্ডারি
  3. কুঁড়খ
  4. আচিক খুসিক
সঠিক উত্তর:
কুঁড়খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুঁড়খ
ব্যাখ্যা
ওরাঁও' নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা:

• ওরাওঁ নৃগোষ্ঠী বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলের দিকে বাস করে।
• ওরাওঁদের ভগবানের নাম ধরমী বা ‘ধার্মেশ’ বা ‘ধরমেশ’।
• ওঁরাও নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা- কুঁড়ুখ ও সাদরি।
• এ ভাষার কোনো বর্ণমালা নেই।
• ওরাওঁ সমাজে বর্তমানে দুধরনের বিবাহের প্রচলন লক্ষ করা যায়।
- চুক্তিবিবাহ,
- প্রেমঘটিত বিবাহ।
- তবে অধিকাংশ বিবাহ সম্পন্ন হয় চুক্তিবদ্ধ পদ্ধতিতে। 
• মিশনারীদের প্রভাবে ওরাওঁদের মাঝে খ্রিস্টান ধর্মে বিশ্বাসীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। 

• ত্রিপুরা নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা: ককবোরক 
• মুন্ডা নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা: মুন্ডারি 
• গারো আচিক খুসিক
• সাঁওতাল নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা: মান্দি 

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।  
১,৫৩৪.
মণিপুরী সম্প্রদায় কোন অঞ্চলে বসবাস করে?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) রাঙামাটি
  3. গ) সিলেট
  4. ঘ) পটুয়াখালী
সঠিক উত্তর:
গ) সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সিলেট
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলা এবং ঢাকায় মণিপুরী সম্প্রদায় বসবাস করে। আঠারো শতকের শেষের দিকে মণিপুরীরা ভারতের মণিপুর রাজ্য থেকে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন করে।
মণিপুরী সম্প্রদায় সংস্কৃতির দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং ঐতিহ্যবাহী। তাদের সংস্কৃতির সবচেয়ে উজ্জ্বলতম দিক হলো মণিপুরী নৃত্য যা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।
(সূত্র: মৌলভীবাজার জেলা সরকারি ওয়েবসাইট)
১,৫৩৫.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, কোন বিভাগে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে কম?
  1. সিলেট
  2. রংপুর
  3. খুলনা
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনসংখ্যা ১৬,৫০,৪৭৮ জন।
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি বাস করে চট্টগ্রাম বিভাগে (এ জনগোষ্ঠীর ৬০.০৪%)।
- উপজাতির সংখ্যা সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে (০.২৫%)।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে চাকমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
• চাকমা - ৪,৮৩,৩৬৫।
• মারমা - ২,২৪,২৯৯।
• ত্রিপুরা - ১,৫৬,৬২০।
• সাঁওতাল - ১,২৯,০৫৬।
• ওরাওঁ - ৮৫,৮৫৮।
• গারো - ৭৬,৮৫৪।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

১,৫৩৬.
বাংলাদেশে বেকারত্ব সমস্যা সৃষ্টির মূল কারণ কোনটি?
  1. রাজনৈতিক অস্থিরতা
  2. অধিক জনসংখ্যা
  3. প্রযুক্তিহীনতা
  4. কৃষি নির্ভরতা
সঠিক উত্তর:
অধিক জনসংখ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিক জনসংখ্যা
ব্যাখ্যা

• বেকারত্ব বৃদ্ধি:
- বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা বেকারত্ব।
- আর অতিরিক্ত জনসংখ্যাই আমাদের (বাংলাদেশের) বেকার সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ
- জনসংখ্যা অনুপাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা যাচ্ছে না বলে বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।
- স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৯৬-৯৭ পর্যন্ত সময়ে দেশে শ্রমশক্তি তথা কর্মক্ষম জনশক্তির পরিমাণ দ্বিগুণ হলেও সে অনুপাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পায়নি।

উৎস: সমাজকর্ম দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, এবং এসএসসি প্রোগ্রাম- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৩৭.
'মর থেংগারি’ কোন ভাষায় নির্মিত সিনেমা?
  1. মারমা
  2. মান্দি
  3. চাকমা
  4. সাঁওতাল
সঠিক উত্তর:
চাকমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাকমা
ব্যাখ্যা
- চাকমা ভাষায় নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম সিনেমা ‘মাই বাইসাইকেল-মর থেংগারি’।
- সিনেমাটি সেন্সর বোর্ডে ৯ বছর ধরে আটকে আছে।
- অং রাখাইন পরিচালিত সিনেমাটি নানা কারণে সেন্সর পায়নি।
- এই সিনেমাটি মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শুরু হওয়া চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে (৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪) দেখানো হয়।
- এছাড়া ‘সাউথ এশিয়ান ডকুমেন্টারি ফিল্ম ফেস্টিভাল ২০১৫’ তেও চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী হয়। (১০ জানুয়ারি ২০১৫)
- চাকমা ভাষায় থেংগারি শব্দের অর্থ বাইসাইকেল।
- সিনেমার ইংরেজি নাম মাই বাইসাইকেল।
- সিনেমার কাহিনি আবর্তিত হয়েছে পাহাড়ঘেড়া এক গ্রামের কমল নামের চাকমা যুবককে ঘিরে। শহরে জীবিকা অর্জনে বিফল হয়ে একটি বাইসাইকেল নিয়ে গ্রামে ফেরত আসেন তিনি। বাইসাইকেলে মানুষ ও মালামাল পরিবহন করে জীবিকার সন্ধান করতে থাকেন তিনি।

উৎস: প্রথম আলো (২৯ ডিসেম্বর ২০২৪) ।
১,৫৩৮.
নিপাের্ট (NIPORT) কী ধরনের গবেষণা প্রতিষ্ঠান?
  1. ক) নদী গবেষণা
  2. খ) সমুদ্র গবেষণা
  3. গ) জনসংখ্যা গবেষণা
  4. ঘ) মিঠাপানি গবেষণা
সঠিক উত্তর:
গ) জনসংখ্যা গবেষণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জনসংখ্যা গবেষণা
ব্যাখ্যা
• NIPORT:
- এটি হচ্ছে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বিষয়ক জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- এর পূর্ণরুপ - National Institute of Population Research and Training.
- এটি ১৯৭৭ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয় যা ঢাকার আজিমপুরে অবস্থিত।
- নিপোর্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে।

সূত্র NIPORT ওয়েবসাইট।
১,৫৩৯.
বিবিএসের জরিপ অনুসারে বাংলাদেশে প্রতি লাখ জীবিত শিশুর জন্মের ক্ষেত্রে মাতৃমৃত্যু হার কত?
  1. ক) ১৫৯ জন
  2. খ) ১৬৩ জন
  3. গ) ১৬৯ জন
  4. ঘ) ১৭০ জন
সঠিক উত্তর:
খ) ১৬৩ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৬৩ জন
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ SVRS Report-2020 অনুসারে প্রতি এক লাখ জীবিত শিশুর জন্মের ক্ষেত্রে মাতৃমৃত্যু হার:
- জাতীয় পর্যায়ে : ১৬৩ জন।
- গ্রামাঞ্চলে : ১৭৮ জন
- শহরাঞ্চলে : ১৩৮ জন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর SVRS Report-2020)
১,৫৪০.
পাঙন সম্প্রদায় কোন অঞ্চলে বসবাস করে?
  1. চট্রগ্রাম
  2. নেত্রকোনা
  3. রাঙামাটি
  4. সিলেট
সঠিক উত্তর:
সিলেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট
ব্যাখ্যা
পাঙন উপজাতি:
- পাঙন সম্প্রদায় সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে।
- তবে এদের অধিকাংশের বসবাস মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় ।
- পাঙনরা মণিপুরী নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্গত একটি শাখা।
- এরা বাংলাদেশে বসবাসকারী একমাত্র ইসলাম ধর্মাবলম্বী উপজাতি।
- ধর্মীয় দিক থেকে এরা সুন্নি মুসলিম।

সূত্র - ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, ষষ্ঠ শ্রেণি। 
১,৫৪১.
নিম্নের কোন জেলায় রাখাইন জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে? 
  1. রংপুর
  2. কুমিল্লা
  3. কক্সবাজার
  4. বাগেরহাট
সঠিক উত্তর:
কক্সবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কক্সবাজার
ব্যাখ্যা

রাখাইন জনগোষ্ঠী:
- রাখাইন বাংলাদেশ ও মায়ানমারের একটি জনগোষ্ঠীর নাম। 
- এরা মগ নামেও পরিচিত।
- আঠারো শতকের শেষে এরা আরাকান থেকে বাংলাদেশে এসে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে বসতি স্থাপন করে।
- বর্তমানে রাখাইন সম্প্রদায়ের বসবাস মূলত কক্সবাজার, পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলায়।

এছাড়াও
- রাঙামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায়ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কিছু রখাইন বসতি দেখা যায়। 
- চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়ও রাখাইন সম্প্রদায়ের বসতি রয়েছে।
- রাখাইন শব্দটির উৎস পলি ভাষা। 
- ঐতিহাসিক তথ্যানুসারে, ১৭৮৪ সালে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে রাখাইনদের আগমন ঘটে।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ।

১,৫৪২.
বাংলাদেশের ত্রিপুরা গোষ্ঠী কোন ধর্মবিশ্বাসের অনুসারী?
  1. খ্রিস্টান ধর্ম
  2. বৌদ্ধ ধর্ম
  3. সনাতন ধর্ম
  4. মুসলমান ধর্ম
সঠিক উত্তর:
সনাতন ধর্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সনাতন ধর্ম
ব্যাখ্যা
ত্রিপুরা:
- ত্রিপুরা একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জাতি। ব্রিটিশ আমলে ত্রিপুরা ছিল একটি দেশীয় রাজ্য। ১৯৪৭ সালের পর ত্রিপুরী জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বসবাস সুবাদে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অর্জন করে।
- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড ও মিরসরাই, নোয়াখালীর বিলোনীয়া অঞ্চল, কুমিল্লা, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এরা বসবাস করেন।

⇒ ত্রিপুরা জাতি যে ভাষায় কথা বলে তা ককবরক নামে অভিহিত। ককবরক ভাষাটি ৫৮৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্বাধীন ত্রিপুরা রাজ্যের রাষ্ট্রভাষা ছিল। ত্রিপুরা ভারতে যোগ দিলে ককবরক রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা হারায়।

⇒ ত্রিপুরারা সনাতন ধর্মের অনুসারী। এরা শিব ও কালীপূজা করেন। পাশাপাশি এরা নিজস্ব কিছু দেব-দেবীর উপাসনাও করে। যেমন গ্রামের সব লোকের মঙ্গলের জন্য এরা ‘কের’ পূজা করে।

⇒ ত্রিপুরা জাতির সামাজিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক। পিতাই পরিবারের প্রধান এবং তার অবর্তমানে জ্যেষ্ঠ পুত্র পরিবারের কর্তা হন। সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে ছেলেরা বাবার সম্পত্তি ও মেয়েরা মায়ের সম্পত্তি লাভ করে থাকে।

⇒ ত্রিপুরা জাতির প্রথাগত উৎপাদন পদ্ধতির নাম জুম। জুম চাষের শুরু থেকেই শেষ অবধি সংগীত একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। লোক নৃত্যে ত্রিপুরাদের রয়েছে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্যের মধ্যে সিমতুং, কাথারক, সাকচরাই, চুমলাই, কেরপূজা, গোমতী, নাইরাং, হাচুকমা, সিবরাই, জুয়াংফা, সাকাল, গড়িয়া, হজাগিরি, লেবাং, মামিতা, ত্রিপুরেশ্বরী, মাইখুলুম, হাবা, খুমকাম, অনজালা উল্লেখযোগ্য।

⇒ ত্রিপুরীদের রয়েছে বৈচিত্র্যমন্ডিত উৎসব ও পূজা পার্বণ। প্রধান উৎসব ও পূজা হলো: বৈষু, কের, গোমতী, সিবরাই, খাচী, হাকা। প্রধান উৎসবের নাম বৈষু। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৫৪৩.
ত্রিপুরাদের প্রধান বর্ষবরণ উৎসব কোনটি?
  1. ওয়ানগালা
  2. বৈসুক
  3. বিজু
  4. সাংগ্রাই
সঠিক উত্তর:
বৈসুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈসুক
ব্যাখ্যা

• ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উৎসব:
ত্রিপুরা → বৈসুক (বর্ষবরণ উৎসব)
গারো → ওয়ানগালা
চাকমা → বিজু (বর্ষবরণ উৎসব)
সাঁওতাল → সোহরাই
মারমা → সাংগ্রাই

• ত্রিপুরা:
ভাষার নাম: ককবরক
অর্থ: মানুষের ভাষা
নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই
লেখা হয় বাংলা ও রোমান হরফে

তথ্যসূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণি এবং নৃ-গোষ্ঠীসনদ বাংলাদেশ। 

১,৫৪৪.
কুঁড়ুখ কোন নৃগোষ্ঠীর ভাষা?
  1. ক) ত্রিপুরা
  2. খ) গারো
  3. গ) ওরাঁও
  4. ঘ) হাজং
সঠিক উত্তর:
গ) ওরাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ওরাঁও
ব্যাখ্যা
রংপুর, দিনাজপুর এবং সিলেট অঞ্চলে বসবাসকারী ওরাঁও জনগোষ্ঠীর ভাষা হলো কুঁড়ুখ। এটি দ্রাবিড় ভাষা পরিবারের অন্তর্গত একটি ভাষা। কুঁড়ুখ একটি আদি কথ্য ভাষা। এটির নিজস্ব বর্ণমালা নেই। বর্তমানে কুঁড়ুখভাষী ওরাঁওদের সংখ্যা প্রায় পঁচিশ হাজার। ত্রিপুরা ও গারোদের ভাষার নাম যথাক্রমে ককবোরক এবং আচিক খুসিক।
(সূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : ষষ্ঠ শ্রেণী)
১,৫৪৫.
রোয়া কী?
  1. ক) খাসিয়াদের গ্রাম
  2. খ) মারমাদের গ্রাম
  3. গ) সাঁওতালদের গ্রাম
  4. ঘ) চাকমাদের গ্রাম
সঠিক উত্তর:
খ) মারমাদের গ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মারমাদের গ্রাম
ব্যাখ্যা
রোয়া হলো মারমাদের গ্রাম।

অন্যদিকে,
খাসিয়াদের গ্রামকে বলা হয় পুঞ্জি
চাকমাদের গ্রামের নাম আদাম
সাঁওতালদের গ্রামকে বলা হয় দিশাম।

(তথ্যসূত্র: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী)
১,৫৪৬.
নিচের কোন বছরে আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়নি?
  1. ক) ১৯৬১ সালে
  2. খ) ১৯৭২ সালে
  3. গ) ১৯৮১ সালে
  4. ঘ) ১৯৯১ সালে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৭২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বর্তমান পর্যন্ত মোট ছয়টি আদমশুমারি/জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এগুলো হলো:
- প্রথম আদমশুমারি : ১৯৭৪ সালে
- দ্বিতীয় আদমশুমারি : ১৯৮১ সালে
- তৃতীয় আদমশুমারি : ১৯৯১ সালে
- চতুর্থ আদমশুমারি : ২০০১ সালে
- পঞ্চম আদমশুমারি : ২০১১ সালে
- ষষ্ঠ জনশুমারি : ১৫-২১ জুন ২০২২।

পাকিস্তান আমলে ১৯৬১ সালে আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো)
১,৫৪৭.
মান্দি কোন নৃগোষ্ঠীর নাম?
  1. ওরাঁও
  2. মারমা
  3. গারো
  4. সাঁওতাল
সঠিক উত্তর:
গারো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গারো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বসবাসকারী গারো সম্প্রদায় নিজেদের মান্দি হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে।
গারো সম্প্রদায় বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর, টাঙ্গাইলের মধুপুর, গাজীপুরের শ্রীপুর ও বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে বসবাস করে।
গারোরা নৃতাত্ত্বিকভাবে মঙ্গোলয়েড জাতিগোষ্ঠীর এবং তাদের আদি নিবাস তিব্বতে।
গারোদের ভাষার নাম আচিক খুসিক ও লামদানি। তাদের প্রধান উৎসব হলো ওয়ানগালা। আদি ধর্মের নাম সাংসারেক।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
১,৫৪৮.
বাংলাদেশের ষষ্ঠ জনশুমারিতে অনুষ্ঠিত হবে-
  1. অক্টোবর, ২০২১
  2. নভেম্বর, ২০২১
  3. ডিসেম্বর, ২০২১
  4. আগস্ট, ২০২২
সঠিক উত্তর:
অক্টোবর, ২০২১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্টোবর, ২০২১
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের ষষ্ঠ আদমশুমারি (জনশুমারি) অনুষ্ঠিত হবে ২৫-৩১ অক্টোবর ২০২১ সালে।
- বাংলাদেশের ষষ্ঠ আদমশুমারিতে কারিগরি সহায়তা করবে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা 'ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নাসা)।
১,৫৪৯.
নৃ-গোষ্ঠি সনদ অনুসারে বাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ৩০ টি
  2. খ) ৩৯ টি
  3. গ) ৪৫ টি
  4. ঘ) ৫০ টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৫০ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৫০ টি
ব্যাখ্যা
নৃ-গোষ্ঠি সনদ অনুসারে বাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা ৫০ টি।