বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের চরিত্র, উক্তি ও সংলাপ

মোট প্রশ্ন১,৪৯০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের চরিত্র, উক্তি ও সংলাপ

PrepBank · পাতা ১১ / ১৫ · ১,০০১১,১০০ / ১,৪৯০

১,০০১.
শিশির ও বনমালী কোন গল্পের চরিত্র?
  1. ক) হৈমন্তী
  2. খ) বনফুল
  3. গ) মানসী
  4. ঘ) চিত্রা
সঠিক উত্তর:
ক) হৈমন্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হৈমন্তী
ব্যাখ্যা
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোট গল্প।
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্প টি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ। 

• গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি-
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন। - আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ। ইত্যাদি।

• রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ হলো:
- বনফুল
- মানসী
- চিত্রা


উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১,০০২.
‘বাঁধন-হারা' উপন্যাসের নায়ক কে?
  1. জাহাঙ্গীর
  2. নুরুল হুদা
  3. আনাস
  4. হোসেন মিয়া
সঠিক উত্তর:
নুরুল হুদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নুরুল হুদা
ব্যাখ্যা

বাঁধন-হারা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা’।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস। 
- করাচীতে অবস্থানকালে কাজী নজরুল এই উপন্যাসটির রচনা শুরু করেন।
- এই উপন্যাসটি প্রথমে ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- বাঁধন-হারা উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।

• অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো 
- রবিউল,
- রাবেয়া,
- সোফিয়া,
- মাহবুবা প্রমুখ।

উল্লেখ্য,
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯), পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি পরিচিত ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে।

• কাজী নজরুল ইসলামের রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা, 
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

অন্যদিকে,
- মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- আনাস।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক - জাহাঙ্গীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া। 

১,০০৩.
'নিতাই' কোন রচনার প্রধান চরিত্র?
  1. হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
  2. ধাত্রীদেবতা
  3. কালিন্দী
  4. কবি
সঠিক উত্তর:
কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি
ব্যাখ্যা
• 'কবি' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'। ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে নিতাই।
- উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে।'

------------------------
•  তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০০৪.
'ঘরে বাইরে’ - উপন্যাসের নারী চরিত্রের নাম কী?

  1. কুমোদিনী
  2. উর্মিলা
  3. লাবণ্য
  4. বিমলা
সঠিক উত্তর:
বিমলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিমলা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ঘরে-বাইরে' উপন্যাসের নারী চরিত্রের নাম - বিমলা।

• 'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস:
- 'ঘরে-বাইরে' (১৯১৬) চলিতভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস।
- উপন্যাসটি 'সবুজপত্রে' প্রকাশিত হয় ১৯১৫ সালে।
- স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত এই উপন্যাসে একদিকে আছে জাতিপ্রেম ও সংকীর্ণ স্বাদেশিকতার সমালোচনা অন্যদিকে আছে সমাজ ও প্রথা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নারী-পুরুষের সম্পর্ক, বিশেষত পরস্পরের আকর্ষণ-বিকর্ষণের বিশ্লেষণ।
- স্বামী নিখিলেশের প্রতি অনুরাগ সত্ত্বেও এই কাহিনির নায়িকা বিমলা অন্যপুরুষ বিপ্লবী সন্দীপের দ্বারা তীব্রভাবে আকর্ষিত।
- একদিকে বাইরে জাতীয় আন্দোলনের উত্তেজনা অন্যদিকে তিনটি মানুষের জীবনে টানাপোড়েন-রাজনীতি ও ব্যক্তিগত জীবনের দ্বন্দ্ব এই দুই মিলে উপন্যাস।
- 'ঘরে-বাইরে'র সঙ্গে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমার্ক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক; আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাহিনি সকরুণ, সিরিয়াস।
- এর উপসংহার ট্র্যাজিক ও অধিকতর শিল্পসম্মত।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাসে অন্যান্য চরিত্র:
- অতীন, এলা - চার অধ্যায় উপন্যাসের চরিত্র।
- নীরজা, আদিত্য - মালঞ্চ উপন্যাসের চরিত্র।
- গোরা, মসুচরিতা, পরেশবাবু - গোরা উপন্যাসের চরিত্র।
- 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের চরিত্র- অমিত ও লাবণ্য
- শর্মিলা, উর্মিলা - দুইবোন উপন্যাসের চরিত্র।
- মধুসূদন, কুমোদিনী - যোগাযোগ উপন্যাসের চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,০০৫.
“গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায় --।” - কার রচনা?
  1. ক) জীবনান্দ দাশ
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।'- উদ্ধৃতাংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের অন্তর্গত। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ''শেষের কবিতা'' শেষ হয় কাব্যসুরে বিদায়ের ধ্বনি কানে নিয়ে, যেখানে বলা হয়েছে- 
''হে ঐশ্বর্যবান,
তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান-
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।
হে বন্ধু, বিদায়''
----------------
'শেষের কবিতা' উপন্যাস: 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' একটি উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে।

এ উপন্যাসের চরিত্র গুলাে হলাে: 
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী রায় এবং
- শােভনলাল। 

• উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে।
যথা:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,০০৬.
‘এই হৃদয়ের চেয়ে বড়ো কোনো মন্দির-কাবা নাই’ - কোন কবিতার পঙ্‌ক্তি?
  1. নারী
  2. সাম্যবাদী
  3. মানুষ
  4. কুলিমজুর
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা
‘এই হৃদয়ের চেয়ে বড়ো কোনো মন্দির-কাবা নাই’ - 
• কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতা ‘সাম্যবাদী’র শেষ পঙ্‌ক্তি এটি।

'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ:
- সাম্যবাদী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- সাম্যবাদী' কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী; কাব্যগ্রন্থের নামকবিতা।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট ১১টি কবিতা রয়েছে।

সাম্যবাদী - কবিতা,
- কাজী নজরুল ইসলাম---সাম্যবাদী।

গাহি সাম্যের গান-
যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান
যেখানে মিশছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুস্‌লিম-ক্রীশ্চান।
গাহি সাম্যের গান!
------------
মিথ্যা শুনিনি ভাই,
এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির-কাবা নাই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ।
১,০০৭.
‘আমারে নিবা মাঝি লগে?’- এই বিখ্যাত সংলাপটি কাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়?
  1. মালা
  2. কুবের
  3. কপিলা
  4. ধনঞ্জয়
সঠিক উত্তর:
কুবের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুবের
ব্যাখ্যা
• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।
-----------------------

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:

- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কথাসাহিত্যিক।
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ প্রকাশিত হয়।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- অহিংসা,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- আরোগ্য প্রভৃতি।

উৎস: ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০০৮.
স্মৃতির মিনার ভেঙ্গেছে তােমার / ভয় কি বন্ধু—পঙ্‌ক্তিটি কোন কবিতা থেকে নেয়া?
  1. ক) স্মৃতিস্তম্ভ
  2. খ) কোন এক মা'কে
  3. গ) আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
  4. ঘ) লোক লোকান্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্মৃতিস্তম্ভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্মৃতিস্তম্ভ
ব্যাখ্যা

আলাউদ্দিন আল আজাদ :
পেশায় মূলত অধ্যাপক। তবে মূলত পরিচিতি কবি হিসেবে। প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'জেগে আছি' (১৯৫০); গল্পগ্রন্থ।

কাব্যগ্রন্থ :
- মানচিত্র (১৯৬১),
- ভােরের নদীর মােহনায় জাগরণ (১৯৬২)।

স্মৃতিস্তম্ভ (স্মৃতির মিনার ভেঙ্গেছে তােমার / ভয় কি বন্ধু-) কবিতাটি লিখার জন্য তিনি জনপ্রিয়। কবিতাটি মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি (১৯৫০),
- ধানকন্যা (১৯৫১),
- মৃগনাভি (১৯৫৩),
- অন্ধকার সিড়ি (১৯৫৬),
- যখন সৈকত (১৯৬৭),
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার (১৯৭৫),
- জীবনজমিন (১৯৮৮)

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১,০০৯.
গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা। কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন কবিতার?
  1. আষাঢ়
  2. সোনার তরী
  3. দুই বিঘা জমি
  4. প্রতীক্ষা
সঠিক উত্তর:
সোনার তরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনার তরী
ব্যাখ্যা
গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।
কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।- পঙ্‌ক্তিদ্বয় রবীন্দ্রনাথ রচিত সোনার তরী কবিতার অংশ।

সোনার তরী
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।
কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।
রাশি রাশি ভারা ভারা
ধান কাটা হল সারা,
ভরা নদী ক্ষুরধারা
খরপরশা।
কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা।

একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা,
চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।
পরপারে দেখি আঁকা
তরুছায়ামসীমাখা
গ্রামখানি মেঘে ঢাকা
প্রভাতবেলা–
এ পারেতে ছোটো খেত, আমি একেলা।
(সংক্ষিপ্ত)।

• সোনার তরী:
- 'সোনার তরী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা।
- এ কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবন দর্শন।
- সোনার তরী 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত।
- এর অধিকাংশ পঙক্তি ৮+৫ মাত্রার পূর্ণপর্বে বিন্যস্ত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।

উৎস: সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০১০.
'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।' - উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. তিতাস একটি নদীর নাম
  2. কাঁদো নদী কাঁদো
  3. পদ্মা নদীর মাঝি
  4. লালসালু
সঠিক উত্তর:
লালসালু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালসালু
ব্যাখ্যা
‘লালসালু’ উপন্যাস:
- ‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
- নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
- ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে।
- তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
- 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা।
- ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
- উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
- ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির ‘লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০১১.
সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে। - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. কামিনী রায়
  3. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা

• 'সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।' পঙ্‌ক্তিদ্বয় কামিনী রায় রচিত 'সুখ' কবিতার অন্তর্গত।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তিনি 'আলো ও ছায়া' নামে একটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছিলেন। 'সুখ' কবিতাটি ঐ কাব্যগ্রন্থেরই অন্তর্ভুক্ত।

সুখ
কামিনী রায়

"আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে 
আসে নাই কেহ অবনী পরে,
সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।"

কামিনী রায়:
-  ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক। 
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া এবং সুখ, কামিনী রায়।

১,০১২.
“কুমড়ো ফুলে ফুলে
নুয়ে পরেছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. সুকুমার রায়
  3. শামসুর রাহমান
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা

"মাগো, ওরা বলে"
 আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

“কুমড়ো ফুলে ফুলে
নুয়ে পরেছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা,

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- একজন কবি, সরকারি কর্মকর্তা।
- তিনি ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাত নরী হার (১৯৫৫)।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি, 
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১,০১৩.
জহির রায়হান রচিত একুশের গল্প-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র-  
  1. তপু
  2. মুনীর
  3. সেলিম 
  4. রহমত 
সঠিক উত্তর:
তপু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তপু
ব্যাখ্যা

জহির রায়হান রচিত একুশের গল্প-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র- তপু। 
------------------------------------------- 
• “একুশের গল্প” নিয়ে কিছু আলোচনা: 
-
জহির রায়হান রচিত ‘একুশের গল্প’- এর পটভূমি হচ্ছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- জহির রায়হান 'একুশের গল্পে' এক তরুণের (তপুর) আত্মত্যাগের গল্প বলতে চেয়েছেন।
- গল্পে দেখা যায় যে, চার বছর আগে ১৯৫২ সালে হাইকোর্টের মোড়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পুলিশ তপুকে নিয়ে গিয়েছিল।
- দীর্ঘ চার বছর পর একটি কঙ্কালের মাথার খুলিতে গুলির ছিদ্র দেখে তার বন্ধু রাহাত বুঝতে পারে সেটিই তপু।
- কঙ্কালের মধ্যে তপুকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার এক ধরনের আকাঙ্ক্ষা জাগে রাহাতের মনে।
- কিন্তু আনন্দ ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গেই গভীর বেদনা ও হৃদয়ের রক্তক্ষরণের মতো যন্ত্রণা যুক্ত হয়।
- এই অনুভূতিগুলো সরাসরি না প্রকাশ করে লেখক ইঙ্গিত ও ব্যঞ্জনার মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। 
------------------------------------------- 
• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান (১৯৩৫–১৯৭২) ছিলেন বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক বহুমুখী প্রতিভা।
- তিনি ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সাংবাদিক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন।
- জহির রায়হান বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
- তাঁর লেখনী ও নির্মাণ বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সংগ্রামকে নতুন মাত্রায় তুলে ধরেছে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিখোঁজ হন। 
- তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর উপন্যাসসমূহ:
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে (যার জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার পান),
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- তুলাসিন্ধু সেতুবন্ধ,
- অপূর্ব, ব্যারিকেড,
- ক্ষয়িষ্ণু,
- ডায়মন্ড নেকলেস ও
- আমি কেন সিরাজী।

• তাঁর গল্পগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- সোনার হরিণ,
- মহামৃত্যু,
- জন্মান্তর,
- ম্যাসাকার এবং
- মানুষের ঘরবাড়ি।

• তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্র:
- কখনও আসেনি,
- কাঁচের দেয়াল,
- জীবন থেকে নেয়া,
- বেহুলা,
- সঙ্গম।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১,০১৪.
‘মানসিংহ’ কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. অন্নদামঙ্গল কাব্য
  2. মনসামঙ্গল কাব্য
  3. রামায়ণ
  4. চণ্ডীমঙ্গল কাব্য
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল কাব্য
ব্যাখ্যা

মধ্যযুগের শেষ কবি, ভারতচন্দ্র কতৃক রচিত মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম কাব্য অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র মানসিংহ।
এই কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো,
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যা,
- সুন্দর,
- মালিনী ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।

১,০১৫.
"দেশী ভাষা বিদ্যা যার মনে ন জুয়ায়।
নিজ দেশ তেয়াগী কেন বিদেশ ন যায়॥" – কবিতাংশটি কোন কবির রচনা?
  1. আবদুল হাকিম
  2. সৈয়দ সুলতান
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. আলাওল
সঠিক উত্তর:
আবদুল হাকিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল হাকিম
ব্যাখ্যা
• লাইনগুলো আবদুল হাকিম রচিত 'নুরনামা' কাব্যের অন্তর্গত।

এই কবিতার আরো বিখ্যাত অংশ হলো -
"যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী,
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।"
--------------------- 
• আব্দুল হাকিম:
- তিনি সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি ছিলেন।
- নোয়াখালী জেলার বাবুপুর (মতান্তরে সন্দ্বীপের সুধারাম) ছিল কবির আবাসভূমি।
- তাঁর পিতা শাহ্ রাজ্জাক ছিলেন একজন পন্ডিত ব্যক্তি এবং তাঁর পীর ছিলেন সাহাবুদ্দীন।
- আবদুল হাকিম  আরবি,  ফারসি ও  সংস্কৃত ভাষায় বিশেষ ব্যুৎপন্ন ছিলেন।
- হাদীস, আল-কুরআন, ফেকাহ প্রভৃতি শাস্ত্র এবং  রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণ সম্পর্কেও তাঁর গভীর পান্ডিত্য ছিল।
- আব্দুল হাকিমের ৫টি কাব্য পাওয়া যায়।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো: 
- ইউসুফ জোলেখা,
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
- হানিফার লড়াই।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০১৬.
'সোহিনী' চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ল্যাবরেটরি
  2. মহামায়া
  3. প্রায়শ্চিত্ত
  4. সমাপ্তি
সঠিক উত্তর:
ল্যাবরেটরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ল্যাবরেটরি
ব্যাখ্যা
'ল্যাবরেটরি' গল্প:
- 'ল্যাবরেটরি' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একেবারে শেষের দিকের রচনা।
- গল্পটিতে রবীন্দ্রভাবনার অত্যাধুনিক মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়।
- গল্পটির মূল চরিত্রে রয়েছে সোহিনী।
- বিজ্ঞান পাগল নন্দকিশোর নিজের জীবনের সাথে সোহিনীকে জড়িয়ে নিজের মতো করে গড়ে নিতে চেয়েছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

তাঁর রচিত আধুনিক নরনারীর মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প:
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া, লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,০১৭.
"মানুষের হাতে অবাক সূর্যোদয়,
যায় পরে যায় মর্তের অমানিশা
শঙ্কার সংশয়।" - কার রচিত কবিতা থেকে লাইনগুলো উদ্ধৃত হয়েছে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. এখন সকল শব্দই
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
"মানুষের হাতে অবাক সূর্যোদয়, 
যায় পরে যায় মর্তের অমানিশা 
শঙ্কার সংশয়।" - পঙক্তিগুলো হাসান হাফিজুর রহমান রচিত 'অবাক সূর্যোদয়' কবিতার অন্তর্ভূক্ত। 

হাসান হাফিজুর রহমান, (১৯৩২-১৯৮৩):  
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সমালোচক হাসান হাফিজুর রহমান ১৯৩২ সালের ১৪ জুন জামালপুর শহরে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৪৬ সালে স্কুলে পড়া অবস্থায় তাঁর প্রথম রচনা একটি  ছোটগল্প ‘অশ্রুভেজা পথ চলতে’ সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পরে ১৯৪৯ সালে সোনার বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কবিতা।

- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং এ বছরই তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘অমর একুশে’ রচিত হয়। ১৯৫৩ সালে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ একুশে ফেব্রুয়ারী
- হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৬ খন্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) প্রকাশিত হয়। 

- তাঁর মৌলিক গ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে:
- বিমুখ প্রান্তর (১৯৬৩),
- আধুনিক কবি ও কবিতা (১৯৬৫),
- সীমান্ত শিবিরে (১৯৬৭),
- আর্ত শব্দাবলী (১৯৬৮),
- আরো দুটি মৃত্যু (১৯৭০),
- মূল্যবোধের জন্যে (১৯৭০),
- যখন উদ্যত সঙ্গীন (১৯৭২),
- সাহিত্য প্রসঙ্গ (১৯৭৩),
- দক্ষিণের জানালা (১৯৭৪),
- প্রতিবিম্ব (১৯৭৬),
- শোকার্ত তরবারী (১৯৮২),
- আমার ভেতরের বাঘ (১৯৮৩) ইত্যাদি।

এছাড়া তিনি যৌথভাবে সম্পাদনা করেন উত্তর বঙ্গের মেয়েলী গীত (১৯৬২) এবং এককভাবে বাংলায় অনুবাদ করেন হোমারের ওডিসি (১৯৮৭)।
 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০১৮.
"হাসু এবং মায়মুন" চরিত্র দুটি কোন উপন্যাসের?
  1. পদ্মার পলিদ্বীপ
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. পদ্মা নদীর মাঝি
  4. সূর্য দীঘল বাড়ী
সঠিক উত্তর:
সূর্য দীঘল বাড়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য দীঘল বাড়ী
ব্যাখ্যা
'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুণ এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,০১৯.
‘বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই নবী।’- পঙ্‌ক্তিটি কোন কবিতার অন্তর্ভুক্ত?
  1. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার
  2. আমার কৈফিয়ত
  3. মানুষ
  4. ধীবরদের গান
সঠিক উত্তর:
আমার কৈফিয়ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার কৈফিয়ত
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নে উল্লেখিত কবিতাংশটুকু জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'আমার কৈফিয়ত' কবিতার অংশ বিশেষ।
- কবিতাটি কবির সর্বহারা কাব্যগ্রন্থের অষ্টম কবিতা।
- এই কবিতায় কবি স্পষ্ট করে তাঁর বৈশিষ্ট্যের কথা ব্যক্ত করেছেন।

আমার কৈফিয়ত
-কাজী নজরুল ইসলাম

বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই ‘নবী’,
কবি ও অকবি যাহা বলো মোরে মুখ বুঁজে তাই সই সবি!
কেহ বলে, ‘তুমি ভবিষ্যতে যে
ঠাঁই পাবে কবি ভবীর সাথে হে!
যেমন বেরোয় রবির হাতে সে চিরকেলে-বাণী কই কবি?’
দুষিছে সবাই, আমি তবু গাই শুধু প্রভাতের ভৈরবী!

-------------------
• সর্বহারা:
- সর্বহারা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯২৬ খৃষ্টাব্দে এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সর্বহারা কাব্যগ্রন্থে মোট ১০ টি কবিতা রয়েছে।

কবিতাসমূহের তালিকা:
১. সর্বহারা,
২. কৃষাণের গান,
৩. শ্রমিকের গান,
৪. ধীবরদের গান,
৫. ছাত্রদলের গান,
৬. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার,
৭. ফরিয়াদ,
৮. আমার কৈফিয়ত,
৯. প্রার্থনা,
১০. গোকুল নাগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘আমার কৈফিয়ৎ’ কবিতা এবং ‘সর্বহারা’ কাব্যগ্রন্থ কাজী নজরুল ইসলাম ।
১,০২০.
‘আমেনা’ চরিত্রটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত কোন উপন্যাসের?
  1. ক) বহিপীর
  2. খ) লালসালু
  3. গ) সুড়ঙ্গ
  4. ঘ) কাঁদো নদী কাঁদো
সঠিক উত্তর:
খ) লালসালু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) লালসালু
ব্যাখ্যা
• লালসালু: 
- এটি ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 
- এটি একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। 
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস ইত্যাদি। 
- এই উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী ও প্রতিবাদের প্রতীক।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়।
- এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা ভোরের আলো  সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’  ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
-  তিনি কনটেম্পোরারি নামে একটি ইংরেজি পত্রিকা প্রকাশ করেন।
- ১৯৪৫-৪৭ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতার দৈনিক  স্টেটস্ম্যান পত্রিকার সাব-এডিটর ছিলেন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস  লালসালু ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- লালসালু, 
- চাঁদের অমাবস্যা ও,
- কাঁদো নদী কাঁদো। 

গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ ও,
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১,০২১.
'চন্দরা' চরিত্রটি কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. একরাত্রি
  2. সমাপ্তি
  3. নষ্টনীড়
  4. শাস্তি
সঠিক উত্তর:
শাস্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাস্তি
ব্যাখ্যা
• 'চন্দরা' চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শাস্তি ছোটগল্পের অন্তর্গত।

'শাস্তি' গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ:
'শাস্তি' গল্পের চন্দরা একটি বিপ্লবী চরিত্র। এ গল্পে রাগের বশে বড় ভাই তার স্ত্রীকে মেরে ফেলে এবং সেই দায় চাপিয়ে দেয়া হয় ছোট ভাইয়ের বউয়ের উপরে। কিন্তু স্বামীর এ কথা শোনার পরে স্ত্রী চন্দরা স্তব্ধ হয়ে যায়। যদিও দেখানো হয় শেষ পর্যন্ত মৃত্যুকেই মেনে নিতে হয় চন্দরাকে। সমাজের প্রান্তিক শ্রেণীর, তবে তীব্র ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নারী চরিত্র এই চন্দরা।

• গল্পে চন্দরার স্বামীর একটি বিখ্যাত সংলাপ- "ঠাকুর, বউ গেলে বউ পাইব কিন্তু আমার ভাই ফাঁসি গেলে আর তো ভাই পাইব না।"

অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো:
- দুখিরাম,
- ছিরাম।

অন্যদিকে, 
---------------
• 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
• 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
• 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'শাস্তি' ছোটগল্প।
১,০২২.
'হায়ওয়ান আলী' - চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

'জমিদার দর্পণ' নাটক:
- লেখক-মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক 'জমিদার দর্পণ'।
- নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্ত প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষন ও হত্যার কাহিনি এর মূল ঘটনা। 
- ‘জমিদার দর্পণ’ উনিশ শতকের কৃষক শ্রেণির জীবনধারার উপর ভিত্তি করে রচিত ঐ শতাব্দের একটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম।

মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

মীর মশাররফ হোসেন রচিত:
- বিষাদ-সিন্ধু।
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১,০২৩.
'সুচরিতা' চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. শেষের কবিতা
  2. চোখের বালি
  3. গোরা
  4. নৌকাডুবি
সঠিক উত্তর:
গোরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোরা
ব্যাখ্যা
'গোরা' উপন্যাস:
- গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।
- উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো ‘ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়’।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস:

- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,০২৪.
‘অন্নদাদিদি, ইন্দ্রনাথ ও রাজলক্ষ্মী’- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. বৈকুণ্ঠের উইল
  2. গৃহদাহ
  3. শ্রীকান্ত
  4. দত্তা
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
ব্যাখ্যা
• শ্রীকান্ত: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র 'ইন্দ্রনাথ'।
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশ পায়।
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদাদিদি।

-------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস গুলো হলো:
- বড়দিদি,
- পরিণীতা,
- বৈকুণ্ঠের উইল, 
- পল্লীসমাজ, 
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন, 
- নিষ্কৃতি,
- শ্রীকান্ত, 
- দত্তা, 
- গৃহদাহ, 
- দেনা-পাওনা, 
- পথের দাবী, 
- শেষ প্রশ্ন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০২৫.
”তাহেরা, মজিদ” চরিত্রদ্বয় কোন নাটকের?
  1. সুড়ঙ্গ
  2. বহিপীর
  3. উজানের মৃত্যু
  4. তরঙ্গভঙ্গ
সঠিক উত্তর:
বহিপীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বহিপীর
ব্যাখ্যা

• 'বহিপীর' নাটক:
-'বহিপীর' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত সামাজিক নাটক।
- ১৯৫৫ সালে 'বহিপীর' রচিত এবং নাটকটি ১৯৬৫ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গড়ে উঠেছে বহিপীরের সর্বগ্রাসী স্বার্থ ও নতুন দিনের প্রতীক এক বালিকার বিদ্রোহের কাহিনীকে কেন্দ্র করে।
- নাটকের এই কেন্দ্রীয় চরিত্রটির নাম অনুসারেই নাটকের নামকরণ করা হয়েছে বহিপীর।
-  এখানে ধর্মকে ভণ্ডবহিপীর ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে।


উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- বহিপীর মজিদ,
- তাহেরা,
- হাতেম,
- আমেনা,
- হাশেম।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,০২৬.
'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে।’- সংলাপটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'কবি' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'।
- ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে নিতাই।

- উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ-
'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে। '
-------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
 
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 
 
• তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি, 
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; 'কবি' উপন্যাস।
১,০২৭.
"পারিব না এ কথাটি বলিও না আর
কেন পারিবে না তাহা ভাব এক বার।" - কবিতাংশটুকু কোন কবি রচনা করেন?
  1. কামিনী রায়
  2. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  4. শেখ ফজলুল করিম
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন ঘোষ
ব্যাখ্যা
• 'পারিব না এ কথাটি বলিও না আর
কেন পারিবে না তাহা ভাব এক বার।'- কবিতাংশটুকু কালীপ্রসন্ন ঘোষ রচনা করেন।

পারিব না- কবিতা
  কালীপ্রসন্ন ঘোষ

পারিব না এ কথাটি বলিও না আর
কেন পারিবে না তাহা ভাব এক বার,
পাঁচ জনে পারে যাহা,
তুমিও পারিবে তাহা,
পার কি না পার কর যতন আবার
এক বারে না পারিলে দেখ শত বার৷

কালীপ্রসন্ন ঘোষ:
- তিনি ১৮৪৩ সালের ২৩ জুলাই ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে ভরাকর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন বাগ্মী, সাংবাদিক, লেখক, পণ্ডিত।
- তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয় ঢাকার ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত ‘ঢাকা শুভসাধিনী সভার’ মুখপত্র 'শুভসাধিনী' সম্পাদনার মাধ্যমে।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া এবং পারিব না- কবিতা।
১,০২৮.
'প্রেম সতীত্ব অপেক্ষা মহত্তর' কার উক্তি?
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) সেলিম আল দীন
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'দেনা পাওনা' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। অধুনা চণ্ডীগড়ের ভৈরবী ষোড়শীর ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে ঘৃণিত চরিত্রের অধিকারী জীবনানন্দের আমূল পরিবর্তন এই উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু। এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি- 'প্রেম সতীত্ব অপেক্ষা মহত্তর'।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১,০২৯.
'পারিব না এ কথাটি বলিও না আর
কেন পারিবে না তাহা ভাব এক বার।' - চরণদ্বয় কোন কবির রচনা?
  1. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  4. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন ঘোষ
ব্যাখ্যা
• 'পারিব না এ কথাটি বলিও না আর
কেন পারিবে না তাহা ভাব এক বার।'- চরণদ্বয় কালীপ্রসন্ন ঘোষ রচিত ‘পারিব না’ কবিতার।

পারিব না- কবিতা,
- কালীপ্রসন্ন ঘোষ।

পারিব না এ কথাটি বলিও না আর
কেন পারিবে না তাহা ভাব এক বার,
পাঁচ জনে পারে যাহা,
তুমিও পারিবে তাহা,
পার কি না পার কর যতন আবার
এক বারে না পারিলে দেখ শত বার৷

কালীপ্রসন্ন ঘোষ:
- তিনি ১৮৪৩ সালের ২৩ জুলাই ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে ভরাকর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন বাগ্মী, সাংবাদিক, লেখক, পণ্ডিত।
- তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয় ঢাকার ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত ‘ঢাকা শুভসাধিনী সভার’ মুখপত্র 'শুভসাধিনী' সম্পাদনার মাধ্যমে।
- কালীপ্রসন্ন ঘোষ দর্শন ও সমাজ সম্পর্কে অনেক মূল্যবান প্রবন্ধ ও গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর প্রবন্ধগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- প্রভাত-চিন্তা,
- নিভৃত-চিন্তা,
- নারীজাতিবিষয়ক প্রস্তাব,
- নিশীথ-চিন্তা।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভ্রান্তিবিনোদ,
- প্রমোদলহরী,
- ভক্তির জয়,
- মা না মহাশক্তি,
- জানকীর অগ্নিপরীক্ষা,
- ছায়াদর্শন প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া ও পারিব না- কবিতা।
১,০৩০.
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. মতিন
  2. সুদীপ্ত শাহীন
  3. নুরুল হুদা
  4. গাজী রাহমান
সঠিক উত্তর:
সুদীপ্ত শাহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুদীপ্ত শাহীন
ব্যাখ্যা
• 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত 'রাইফেল রোটি আওরাত' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত।

- 'রাইফেল, রোটি, আওরাত' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা সর্বপ্রথম উপন্যাস। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঘটে যাওয়া গণহত্যা এবং তার পরবর্তী দিনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কাহিনি  উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, ঢাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস পাঠে এই উপন্যাস একটি অমূল্য দলিলরূপে গণ্য করা হয়।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
সুদীপ্ত শাহীন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক। স্ত্রী আমিনাসহ তিন বাচ্চা নিয়ে থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচার্স কোয়ার্টারের ২৩ নম্বর বিল্ডিংয়ে। ২৫ মার্চ কালরাতে হানাদার বাহিনীর আক্রমণে ২৩ নম্বর বিল্ডিংয়ের সবাই মারা গেলেও বেঁচে যান তিনি ও তাঁর পরিবার। চারপাশে লাশের স্তূপ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত অধ্যাপকেরা নিহত হয়েছেন সপরিবার। রাতের আঁধারে ইয়াহিয়া খানের লেলিয়ে দেওয়া পশুরা মেরে ফেলেছে তাঁর সহকর্মীদের। গণহত্যার বলী হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রেহাই পায়নি শহরের সাধারণ জনগণ। শিক্ষক হিসেবে নিজের সন্তানতুল্য ছাত্রদের রক্ষা করতে না পারার আক্ষেপ, সহকর্মীদের মধ্যে ব্যতিক্রমী হয়ে নিজে জীবিত থাকার যে অপরাধবোধ-এসবই কুরে কুরে খাচ্ছিল সুদীপ্তকে। মরে গিয়ে তাঁরা বেঁচে গিয়েছেন। লেখক যেন সুদীপ্ত শাহিনের মধ্যে সে সময়ের হতাশা এবং আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৩১.
'মুখে অনেকেই টাকা অতি তুচ্ছ,
অর্থ অনর্থের মূল বলিয়া থাকেন' - বিখ্যাত উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. বিষাদ–সিন্ধু
  3. শ্রীকান্ত
  4. নীল-দর্পণ
সঠিক উত্তর:
বিষাদ–সিন্ধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষাদ–সিন্ধু
ব্যাখ্যা
‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয়নি।
- প্রথমত ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত স্পর্শকাতর কাহিনি সাধারণ মুসলিম পাঠকের কাছে এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ।
- দ্বিতীয়ত 'বিষাদ-সিন্ধু'র জাদুকরী রচনাগুণের জন্যে সাহিত্যরসিকজনের কাছেও গ্রন্থটি আদরণীয়।
- মীর মশাররফ হোসেন বিষাদ–সিন্ধু উপন্যাসে বলেছেন, ‘মুখে অনেকেই টাকা অতি তুচ্ছ, অর্থ অনর্থের মূল বলিয়া থাকেন; কিন্তু জগৎ এমনই ভয়ানক স্থান যে, টাকা না থাকিলে তাহার স্থান কোথাও নাই..'

মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী'(১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমিদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো।
১,০৩২.
'হাজার বছর ধরে আমি পথ
হাঁটিতেছে পৃথিবীর পথে সিংহল সমুদ্র
থেকে নিশীদের অন্ধকারে মালয় সাগরে' - চরণদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. কামিনী রায়
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
বনলতা সেন -
জীবনানন্দ দাশ

'হাজার বছর ধরে আমি পথ
হাঁটিতেছে পৃথিবীর পথে সিংহল সমুদ্র
থেকে নিশীদের অন্ধকারে মালয় সাগরে

জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।

জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,০৩৩.
'নিখিলেশ, বিমলা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ঘরে বাইরে
  2. চতুরঙ্গ
  3. প্রজাপতির নির্বন্ধ
  4. চোখের বালি
সঠিক উত্তর:
ঘরে বাইরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘরে বাইরে
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত।
- ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- তিনি মোট বারোটি উপন্যাস রচনা করেন।
----------
'ঘরে বাইরে': 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজনৈতিক উপন্যাস।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসটি ১৯১৫ সালে ‘সবুজপত্রে’ প্রকাশিত হয়।
- এর উল্লেখযােগ্য চরিত্র: নিখিলেশ, বিমলা ও সন্দীপ।

অন্যদিকে, 
 ‘প্রজাপতির নির্বন্ধ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি হাস্যরসাত্মক উপন্যাস।
- এটি ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। চিরকুমার সভা' নামে এই উপন্যাসের নাট্যরূপটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের প্রধান প্রধান চরিত্র হলো: অক্ষয়কুমার, চন্দ্রমাধব, শ্রীশ, বিপিন, পূর্ণ প্রমুখ।

 ‘চোখের বালি’ (১৯০৩): বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- ২০০৩ সালে ঋতুপর্ণ ঘােষ এই উপন্যাস অবলম্বনে ‘চোখের বালি' চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন।
- প্রধান চরিত্র: মহেন্দ্র, আশা, বিহারী, বিনােদিনী প্রভৃতি।

 ‘চতুরঙ্গ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- উপন্যাসে চতুরঙ্গ হলো চারটি চরিত্র: জ্যাঠামশাই, শচীশ, দামিনী, শ্রীবিলাস।
- এই চারটি চরিত্র চার অঙ্গের মতো উপন্যাস-দেহকে গঠন করেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৩৪.
'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি' উক্তিটি কার?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ এর একটি বিখ্যাত উক্তি- সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।
- 'কবিতার কথা' প্রবন্ধ গ্রন্থে এ উক্তিটি করেছিলেন।

---------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- কবি জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম সত্যানন্দ দাশ। পেশায় ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। জীবনানন্দ দাশের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- গ্রামবাংলার নিসর্গ প্রকৃতি ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ তাঁর কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়।
- তিনি 'রূপসী বাংলার কবি' হিসেবে খ্যাত বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতাকে 'চিত্ররূপময় কবিতা' বলেছেন। এছাড়াও তাকে ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি ও রূপসী বাংলার কবি বলা হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক।
- ধূসর পাণ্ডলিপি।
- বনলতা সেন।
- মহাপৃথিবী।
- সাতটি তারার তিমির।
- রূপসী বাংলা।
- বেলা অবেলা ও কালবেলা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান।
- সতীর্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৩৫.
'কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে।
সন্ধ্যা বেলায় দ্বীপ জ্বালার আগে সকাল বেলায় সলতে পাকানো' - বাক্যদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
'কিন্তু আরম্ভের পূর্বেও আরম্ভ আছে।
সন্ধ্যা বেলায় দ্বীপ জ্বালার আগে সকাল বেলায় সলতে পাকানো' - বাক্যদ্বয় 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের' 'যোগাযোগ' উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে।

'যোগাযোগ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

উৎস: যোগাযোগ উপন্যাস, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৩৬.
রূপা ও সাজু চরিত্র দুটি জসীমউদ্দিনের কোন কাহিনিকাব্যের অন্তর্গত?
  1. রাখালী
  2. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  3. নকশি কাঁথার মাঠ
  4. ধানক্ষেত
সঠিক উত্তর:
নকশি কাঁথার মাঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নকশি কাঁথার মাঠ
ব্যাখ্যা

• পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীন: 
- ১লা জানুয়ারি, ১৯০৩ সালে ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা জন্মগ্রহন করেন।
- তাঁর ছাত্রাবস্থায় “কবর” কবিতাটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়।
- ‘কবর’ কবিতাটি ‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থের অনর্গত।

- তাঁর বিখ্যাত গাথা কাব্যগুলো হলো: নক্সীকাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

- “সুচয়িনী” জসীমউদ্‌দীনের নির্বাচিত কবিতার সংকলন।
- জসীমউদ্দীন “জারীগান” ও “মুর্শীদা গান” নামক গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেছেন।
- তিনি ১৯৭৬ সালে ঢাকায় মারা যান। 

• নক্সী কাঁথার মাঠ:
- জসীম উদদীনের বিখ্যাত কাহিনিকাব্য - নকশী কাঁথার মাঠ।
- ১৯২৯ সালে নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন E.M Milford; ইংরেজি অনুবাদের নাম - The Field of Embroidered Quilt.
- নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যোপন্যাসটি রূপাই ও সাজু নামক দুই গ্রামীণ যুবক-যুবতীর অবিনশ্বর প্রেমের করুণ কাহিনি।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি গুলো হলো: 
- চলে মুসাফির, 
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়।

 উৎস: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১,০৩৭.
‘শশী, কুসুম’ চরিত্রদ্বয় কোন উপন্যাসের?
  1. পুতুল নাচের ইতিকথা
  2. জননী
  3. পদ্মানদীর মাঝি
  4. দিবারাত্রির কাব্য
সঠিক উত্তর:
পুতুল নাচের ইতিকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুতুল নাচের ইতিকথা
ব্যাখ্যা

• 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পুতুল নাচের ইতিকথা'। 
- 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস সম্পর্কে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন- "সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।" 
- এই উপন্যাসে সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ আছে। 
- এই উপন্যাসে 'পুতুল' বলতে সেসকল মানুষকে বোঝানো হয়েছে যারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাড়াতে পারে না; পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়। 
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র - শশী, কুসুম, গোপাল, সেনদিদি, যাদব পণ্ডিত ইত্যাদি। 
- ‘শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?’ উক্তিটি উপন্যাসে ডাক্তার শশী কুসুমকে উদ্দেশ্য করে বলে।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
-  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
 - চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,০৩৮.
'হাসু, মায়মুন' চরিত্র দুটি সৃষ্টি করেন কে?
  1. জহির রায়হান
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. আবু ইসহাক
  4. হুমায়ূন আজাদ
সঠিক উত্তর:
আবু ইসহাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা

'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস: 
- আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুণ এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।

আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,০৩৯.
বাংলা সাহিত্যে জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র 'ফেলুদা' এর স্রষ্টা কে?
  1. শরদিন্দু চট্টোপাধ্যায়
  2. সত্যজিৎ রায়
  3. সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সুকুমার রায়
সঠিক উত্তর:
সত্যজিৎ রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যজিৎ রায়
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্র 'ফেলুদা' এর স্রষ্টা সত্যজিৎ রায়। 

- ১৯৬৫ সালের ডিসেম্বর মাসের সন্দেশ পত্রিকায় ফেলুদা সিরিজের প্রথম গল্প ফেলুদার গোয়েন্দাগিরির প্রথমভাগ প্রকাশিত হয় যা পরের আরো দুইটি সংখ্যার মাধ্যমে শেষ হয়।
- ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত এই সিরিজের মোট ৩৫টি সম্পূর্ণ ও চারটি অসম্পূর্ণ গল্প ও উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে।
- ফেলুদার প্রধান সহকারী তার খুড়তুতো ভাই তপেশরঞ্জন মিত্র ওরফে তোপসে ও লেখক লালমোহন গাঙ্গুলি (ছদ্মনাম জটায়ু)।
- ফেলুদার চরিত্র নির্মাণে সত্যজিৎ রায় তার ছোটবেলায় পড়া শার্লক হোমস এর গোয়েন্দা গল্পের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।
- তাই ফেলুদার চরিত্রের সাথে অনেক জায়গায় আমরা হোমসের আর ফেলুদার ভাই ও সহকারী তোপসের সাথে হোমসের সহকারী ওয়াটসনের মিল পাওয়া যায়। - নিজের লেখা অধিকাংশ গল্পের বইয়ের মতই ফেলুদার বইতেও সত্যজিৎ রায় নিজেই প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করতেন।

উৎস: দৈনিক পত্রিকা।
১,০৪০.
'হোসেন মিয়া' কোন ঔপন্যাসিকের সৃষ্ট চরিত্র?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. জহির রায়হান 
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১,০৪১.
"কুমুদিনী" - কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. নৌকাডুবি
  2. চোখের বালি
  3. যোগাযোগ
  4. শেষের কবিতা
সঠিক উত্তর:
যোগাযোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগাযোগ
ব্যাখ্যা

'যোগাযোগ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

অন্যদিকে,
• 'নৌকাডুবি' উপন্যাসের চরিত্র - রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, অন্নদাবাবু, নলিনাক্ষ।
• 'চোখের বালি' উপন্যাসের চরিত্র - বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
• 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের চরিত্র - অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) কলকাতার জোড়াসাঁকোর এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ছোট গল্পের জনক। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'বৌঠাকুরানীর হাট' (১৮৮৩)।
- কিন্তু প্রথম লেখা উপন্যাস 'করুণা'।

• তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: যোগাযোগ উপন্যাস, বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৪২.
"সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা-পলায়ন- 
ভাবিলাম হায় আর কি কোথায় ফিরে পাব সে জীবন!" - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা-পলায়ন--
ভাবিলাম হায় আর কি কোথায় ফিরে পাব সে জীবন! - পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'দুই বিঘা জমি' নামক কবিতা থেকে নেওয়া।
- কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের 'কাহিনী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- পরে রবীন্দ্রনাথের ‘কথা’ কাব্যগ্রন্থের সহযোগে ‘কাহিনী’ ও ‘কথা’ কাব্য দুটি একসাথে ‘কথা ও কাহিনী’ নামে প্রকাশিত হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম অভিনয় ছিল জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের এমন কর্ম আর করব না নাটকে অলীকবাবুর ভূমিকায়।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) 'দুই বিঘা জমি' কবিতা।

১,০৪৩.
'মোকাজান মিয়া' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'। আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- তার আগে ১৮৫৪ সাল থেকে 'মাসিক পত্রিকা' তে ধারাবাহিকভাবে এটি প্রকাশিত হতে থাকে।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- 'দুনিয়া সাচ্চা নয়-মুই একা সাচ্চা হয়ে কি করবো?'- উপন্যাসে উক্তিটি বলেছেন ঠকচাচা।

- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়। পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।

- এছাড়াও উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রে হচ্ছে- বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৪৪.
নিচের কোনটি মঙ্গলকাব্যের ব্যক্তিত্বময়ী নারীচরিত্র?
  1. ক) বেহুলা
  2. খ) সনকা
  3. গ) ফুল্লরা
  4. ঘ) লহনা
সঠিক উত্তর:
ক) বেহুলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বেহুলা
ব্যাখ্যা
• বেহুলা
মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম প্রধান চরিত্র, যাঁকে কেন্দ্র করে বাংলার লোকসমাজে প্রচলিত আছে এক জনপ্রিয় কাহিনী।
- পুরাণ কাহিনীতে বেহুলা স্বর্গের অনিরুদ্ধের স্ত্রী ঊষা, আর লোককাহিনী অনুযায়ী তিনি ছিলেন উজানীনগরের সায়বেনের কন্যা এবং চম্পকনগরের চাঁদ সওদাগরের কনিষ্ঠ পুত্র  মনসামঙ্গল কাব্যের নায়ক লখিন্দরের (লক্ষীন্দর/ লক্ষ্মীন্দর) স্ত্রী।
- শবানুগামিনী এই যুবতী পত্নীর প্রবাস-জীবন ছিল পবিত্র।
- সতীত্ব রক্ষায় তিনি অসাধারণ চারিত্রিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন।
- সতীত্ববলেই স্বামীর পুনর্জীবন লাভের আশায় বেহুলা অনেক দুর্জনের পাপ-অভিলাষ ব্যর্থ করে নিজের গন্তব্যে পৌঁছতে সমর্থ হন।
- বাল্য-বৈধব্যের প্রতি উদাসীন থেকে পরিস্ফুট যৌবনে মৃত স্বামীর সঙ্গিনী হয়ে সুদূর প্রবাস থেকে স্বামীর পুনর্জীবন নিয়ে ফিরে আসায় বেহুলা চরিত্রটি বিশেষভাবে গৌরবান্বিত।
- বেহুলার দুঃখ-সহনশীলতার চেয়ে তাঁর এই নির্ভীক তেজস্বিতাই সবাইকে মুগ্ধ করে। আত্মশক্তিতে বলীয়ান বেহুলার একাগ্র সাধনার নিকট অত্যাচারী দৈব শক্তিও মাথা নত করেছে, এখানেই বেহুলা চরিত্রের শ্রেষ্ঠত্ব।
- নারীত্বের মহিমায় বেহুলা সীতা-সাবিত্রী-দময়ন্তীর মতোই বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল চরিত্র।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,০৪৫.
'এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।'- উক্তিটি কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ফটিক 
  2. মৃন্ময়ী
  3. সমাপ্তি 
  4. হৈমন্তী
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
ব্যাখ্যা

• 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- 'হৈমন্তী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির।
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি-
- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।
- আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৪৬.
‘ভাব ও কাজ’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধ
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• ‘ভাব ও কাজ’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত টি প্রবন্ধ।
- এই প্রবন্ধের মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলাম দেশের উন্নতি ও মুক্তি এবং মানুষের কল্যাণের জন্য ভাবের সঙ্গে বাস্তব কাজের মিল হওয়ার উপর জোর দিয়েছেন।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি। 

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ: 
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৪৭.
'আমি প্রবীণদের মহলে নবীন, নবীনদের মহলে প্রবীণ।' উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা

• অন্নদাশঙ্কর রায়ের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ বিনুর বই।
• তিনি এই গ্রন্থের ভূমিকায় লিখেছেন- 'আমি প্রবীণদের মহলে নবীন, নবীনদের মহলে প্রবীণ।'
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বিনুর বই।

১,০৪৮.
‘কুমুদিনী’ - কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. চার অধ্যায়
  2. যোগাযোগ
  3. রাজর্ষি
  4. মালঞ্চ
সঠিক উত্তর:
যোগাযোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগাযোগ
ব্যাখ্যা

‘যোগাযোগ’ উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও যোগাযোগ উপন্যাস।

১,০৪৯.
'ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী'- পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাসের?
  1. ঘরে বাইরে
  2. শেষের কবিতা
  3. গোরা
  4. চোখের বালি
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
• 'ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী'- পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের।

শেষের কবিতা:
- শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- প্রবাসী পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসমান্য ঔজ্জ্বল্য,দৃপ্তিশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যোপন্যাস।

• এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- অমিত রায়,
- কেতকী,
- লাবণ্য,
- শোভনলাল ইত্যাদি।

• এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- পুরুষ আধিপত্য ছেড়ে দিলেই মেয়ে আধিপত্য শুরু করবে।
- বিধাতার রাজ্যে ভালো জিনিস অল্প হয় বলেই তা ভালো।
- ভালোবাসা খানিকটা অত্যাচার চাই অত্যাচার করেও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং শেষের কবিতা উপন্যাস- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১,০৫০.
'কবিতায় আর কি লিখব?
যখন বুকের রক্তে লিখেছি
একটি নাম
বাংলাদেশ।'- অংশটুকু কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. স্বাধীনতা তুমি
  2. শহীদ স্মরণে
  3. একুশে ফেব্রুয়ারি
  4. আসাদের শার্ট
সঠিক উত্তর:
শহীদ স্মরণে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদ স্মরণে
ব্যাখ্যা

• ''কবিতায় আর কি লিখব?/ যখন বুকের রক্তে লিখেছি একটি নাম বাংলাদেশ।'- উদ্ধৃতাংশটির রচয়িতা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। 
- লাইনটি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এর 'শহীদ স্মরণে' কবিতা থেকে সংকলিত। 

• মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান: 
- ১৯৩৬ সালের ১৫ আগস্ট যশোর শহরের খড়কী পাড়ায়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা কালে তিনি বাংলা বিভাগ থেকে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 
- তিনি ছিলেন পঞ্চাশের দশকের কাব্যসাহিত্যের একজন অন্যতম প্রধান কবি।

শহীদ স্মরণে- কবিতার অংশবিশেষ,   

কবিতায় আর কি লিখব?
যখন বুকের রক্তে লিখেছি
একটি নাম
বাংলাদেশ।
গানে আর ভিন্ন কি সুরের ব্যঞ্জনা?
যখন হানাদারবধ সংগীতে
ঘৃণার প্রবল মন্ত্রে জাগ্রত
স্বদেশের তরুণ হাতে
নিত্য বেজেছে অবিরাম
মেশিনগান, মর্টার, গ্রেনেড।
মা তো কাঁদে না;
মার চোখে নেই অশ্রু, কেবল
অনলজ্বালা, দু চোখে তাঁর
শত্রুহননের আহ্বান।

উৎস: 'শহীদ স্মরণে' কবিতা- মোহম্মদ মনিরুজ্জামান।

১,০৫১.
'চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা।' উক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. জসীমউদ্‌দীন
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• "চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য;"-- লাইনটি জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। 
------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।

• জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।
------------------------------- 
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কবিতা: বনলতা সেন
হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন।

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের ’পর
হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে , ‘এতোদিন কোথায় ছিলেন?’
পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বনলতা সেন কবিতা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৫২.
"আমারে নিবা মাঝি লগে?" উক্তির রচয়িতা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. হুমায়ূন আহমেদ 
  3. সৈয়দ অলিউল্লাহ
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে। পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।

- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।

- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে।

- এই উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া। নতুন চরে জীবনের গান শোনাতে আগ্রহী হোসেন একই সঙ্গে নির্মম ও দয়ার্দ্র, সরল ও ক্রুর, শ্রমী ও মাদক ব্যবসায়ী। ভালো-মন্দ, আলো-ছায়ায় ঘেরা হোসেন মিয়া এই উপন্যাসের এক অপরিহার্য চরিত্র। তবে তার রহস্যাবৃত চরিত্রের সন্ধান সকল মাঝির জানার সুযোগ নেই। তাই তিনি নিরীহ মাঝিদের কাছে ত্রাতার ভূমিকায় সম্মানিত।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো-
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

উৎস বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০৫৩.
'লহনা' কোন মঙ্গলকাব্যের চরিত্র?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) চন্ডীমঙ্গল
  3. গ) ধর্মমঙ্গল
  4. ঘ) শিবমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
খ) চন্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চন্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
চন্ডীমঙ্গল মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
- চন্ডীদেবীর কাহিনী এর উপজীব্য।
- এই চন্ডীদেবীও মূলত অনার্যসম্ভূতা, পরে বৌদ্ধ ও হিন্দু তন্ত্রের দেবকল্পনার প্রভাবে পর্যায়ক্রমে পৌরাণিক দেবতায় পরিণত হন।
- এর বিষয়বস্ত্ত দুটি সামাজিক কাহিনীকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে।
- প্রথমটি কালকেতুর কাহিনি, এতে রয়েছে কালকেতু-ফুল্লরার জীবনকথা এবং
- দ্বিতীয়টি বণিক ধনপতির কাহিনি, এতে রয়েছে ধনপতি-লহনা-খুল্লনার কাহিনী। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৫৪.
''যে মোরে করিল পথের বিবাগী,
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি।'' - কবিতাংশটুকু জসীম উদ্‌দীন রচিত কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. কাল সে আসিবে
  2. দুরাশা
  3. পরাজয়
  4. প্রতিদান
সঠিক উত্তর:
প্রতিদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিদান
ব্যাখ্যা
• ''যে মোরে করিল পথের বিবাগী,
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি।'' - কবিতাংশটুকু জসীম উদ্‌দীন রচিত 'প্রতিদান' কবিতার অন্তর্গত। কবিতাটি 'বালুচর' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

প্রতিদান
  জসীম উদ্‌দীন

আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা, আমি বাঁধি তার ঘর,
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।
যে মোরে করিল পথের বিবাগী, -
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি।
দীঘল রজনী তার তরে জাগি ঘুম যে হরেছে মোর ;
আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর।

জসীম উদ্‌দীন:
- জসীমউদ্‌দীনএকজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীন এর কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে'পল্লিকবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, প্রতিদান কবিতা- জসীমউদ্‌দীন, বাংলাপিডিয়া।
১,০৫৫.
বিখ্যাত 'নবকুমার' চরিত্রটি সৃষ্টি করেন কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
• বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৫৬.
"দুর্গম গিরি কান্তার-মরু দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে যাত্রীরা হুশিয়ার!" - পঙ্‌ক্তিগুলো কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. কৃষাণের গান
  2. কাণ্ডারী হুশিয়ার
  3. প্রার্থনা
  4. সর্বহারা
সঠিক উত্তর:
কাণ্ডারী হুশিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাণ্ডারী হুশিয়ার
ব্যাখ্যা

• "দুর্গম গিরি কান্তার-মরু দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে যাত্রীরা হুশিয়ার!" - পঙ্‌ক্তিগুলো কাজী নজরুল ইসলামের 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থের 'কাণ্ডারী হুশিয়ার' কবিতার অংশ।
কাণ্ডারী হুশিয়ার!

সর্বহারা:
- সর্বহারা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯২৬ খৃষ্টাব্দে এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সর্বহারা কাব্যগ্রন্থে মোট ১০ টি কবিতা রয়েছে।

কবিতাসমূহের তালিকা:
১. সর্বহারা,
২. কৃষাণের গান,
৩. শ্রমিকের গান,
৪. ধীবরদের গান,
৫. ছাত্রদলের গান,
৬. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার,
৭. ফরিয়াদ,
৮. আমার কৈফিয়ত,
৯. প্রার্থনা,
১০. গোকুল নাগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'সর্বহারা কাব্যগ্রন্থ' কাজী নজরুল ইসলাম।

১,০৫৭.
'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র কোনটি?
  1. বিপিন
  2. হরি
  3. অপু
  4. সত্যচরণ
সঠিক উত্তর:
অপু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপু
ব্যাখ্যা

• 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন। এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রুর সংবাদ।
- এছাড়াও 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।

উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো-
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকরুন,
- সর্বজয়া।

অন্যদিকে, 
 • আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসের চরিত্র- হরি।  
 • আরণ্যক উপন্যাসের চরিত্র - সত্যচরণ।
 • বিপিনের সংসার উপন্যাসের চরিত্র - বিপিন। 

উৎস: 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৫৮.
"সেখানে পথের পাশে মুখ গুঁজে পড়ে আছে জমিনের পর;
সন্ধ্যার জনতা জানি কোনদিন রাখে না সে মৃতের খবর।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. হেলাল হাফিজ
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. আল মাহমুদ
  4. ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

"লাশ" কবিতা ও পটভূমি:
• ফররুখ আহমদের "লাশ" কবিতাটি ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে রচিত। এই কবিতায় কবি দুর্ভিক্ষের কারণে সৃষ্ট দুর্দশা ও অসহায় মানুষের করুণ পরিণতি ফুটিয়ে তুলেছেন। 'লাশ' কবিতাটি লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।

• কবিতাটি ফররুখ আহমদের 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। 

লাশ
ফররুখ আহমদ

যেখানে প্রশস্ত পথ ঘুরে গেল মোেড়,

কালো পিচ-ঢালা রঙে লাগে নাই ধূলির আঁচড়,
সেখানে পথের পাশে মুখ গুঁজে প'ড়ে আছে জমিনের পর;
সন্ধ্যার জনতা জানি কোনদিন রাখে না সে মৃতের খবর

ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- হাতেমতায়ী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০৫৯.
'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।' -উপন্যাসে উক্তিটি কাদের সম্পর্কে করা হয়েছে?
  1. নবাগত যৌবন 
  2. দেশপ্রেমিক
  3. নারী
  4. বিপ্লবী
সঠিক উত্তর:
নারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারী
ব্যাখ্যা

'কুহেলিকা' উপন্যাস সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস 'কুহেলিকা' ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ হয়। গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১)।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো- জাহাঙ্গীর। এই উপন্যাসে তিনি একজন শিক্ষিত, দেশপ্রেমিক, বিপ্লবী চরিত্র যিনি সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ খুঁজছেন।
-উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর বিপ্লবী স্বদেশি দলের সঙ্গে যুক্ত।কিন্তু তার যে প্রেমের সম্পর্ক ও নারী সম্পর্কে ধারণা তা যথেষ্ট ঋণাত্মক।

- নারী সম্পর্কে এ উপন্যাসে বলা হয়েছে:
'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

উৎস: 'কুহেলিকা' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,০৬০.
'ভবানী বাঁড়ুয্যে' - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. দেবযান
  2. আদর্শ হিন্দু হোটেল
  3. অশনি সংকেত
  4. ইছামতী
সঠিক উত্তর:
ইছামতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইছামতী
ব্যাখ্যা

'ইছামতি' উপন্যাস:
- ইছামতি, ১৯৫০ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি লেখকের শেষ উপন্যাস। এই উপন্যাসের জন্য তিনি 'রবীন্দ্র পুরস্কার' লাভ করেন।
- ইছামতি নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষের জীবনকথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র 'ভবানী বাঁড়ুয্যে' কিংবা তার পুত্রত্রয় তিলু, বিলু, নীলু।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- বিপিনের সংসার, 
- চাঁদের পাহাড়, 
- দম্পতি ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়িা।

১,০৬১.
"চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে" - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কুসুমকুমারী দাস
  2. কামিনী রায়
  3. কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  4. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
• ‘চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে’ পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার

- এটি তাঁর 'সদ্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'সুখী দুঃখীর দুঃখ বুঝে না' কবিতার অংশবিশেষ।

------------------
সুখী দুঃখীর দুঃখ বুঝে না,
--- কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার

চির সুখী জন ভ্রমে কি কখন
ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে?
কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে
কভূ আশীবিষে দংশেনি যারে?
যতদিন ভবে, না হবে না হবে,
তোমার অবস্থা আমার সম।
ঈষৎ হাসিবে, শুনে না শুনিবে
বুঝে না বুঝিবে, যাতনা মম।
--------------------------- 

• কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার:
- ১৮৩৪ সালের ১০ জুন বৃহত্তর খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক বৈদ্য পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক। 
- ১৮৬১ সালে 'ঢাকা প্রকাশ' প্রকাশিত হলে তিনি তার সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের নাম 'সদ্ভাবশতক'।
- ১৯০৭ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'সদ্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থ, কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
১,০৬২.
'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. রেনু
  2. টুনি
  3. রসুল
  4. বানু
সঠিক উত্তর:
টুনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টুনি
ব্যাখ্যা
• 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাস:
- আবহমান বাংলার জীবন ও জনপদ 'হাজার বছর ধরে' (১৯৬৪) উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য।
- 'টুনি' চরিত্রের দেখা পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসে।
- উপন্যাসের নায়িকা টুনি একমাত্র জীবন্ত চরিত্র। আর সবাই যেন মৃত ও বিবর্ণ।
- 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের জন্য লেখক আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।

• "হাজার বছর ধরে" উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলি হলো: মন্তু, টুনি, এবং বুড়ো মকবুল।  

অন্যদিকে, 
আরেক ফাল্গুন উপন্যাসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হলো: মুনিম, আসাদ, সালমা, নীলা, রেনু, বানু, এবং রসুল। 
 
-------------------
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কত দিন,
- কয়েকটি মৃত্যু।

• তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্র:
- সোনার কাজল,
- কাঁচের দেয়াল,
- বেহুলা,
- জীবন থেকে নেয়া,
- আনোয়ারা,
- সঙ্গম,
- বাহানা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৬৩.
‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ - এই কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. হাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতাটির রচিয়তা মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী
- এটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম কবিতা।
- মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী প্রগতিশীল মাসিক সীমান্ত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন এবং চট্টগ্রামের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।
- ২২ ফেব্রুয়ারিতে একটি ১৭ পৃষ্ঠার পুস্তিকায় কবিতাটি ছাপা হয়।
- বইটির দাম রাখা হয় দুই আনা।
- ২২ ফেব্রুয়ারিতেই চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে রাজনৈতিক কর্মী হারুনুর রশীদ কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনান।

মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী:
- মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী কবি, সাংবাদিক, লেখক, ভাষা সৈনিক এবং ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতার রচয়িতা।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্তরে (২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২) আন্দোলনকারী ভাষা সৈনিকদের ওপর পুলিশের গুলি এবং ছাত্র নিহত হওয়ার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ স্বরূপ কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী ’একুশে’ শিরোনামে রচনা করেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা ’কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি’ যা ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতা হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,০৬৪.
"স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার/ভয় কি বন্ধু-" পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) নির্মলেন্দু গুন
  3. গ) ইমদাদুল হক মিলন
  4. ঘ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিটি আলাউদ্দিন আল আজাদ এর 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতার অন্তর্ভূক্ত। 
- কবিতাটি তাঁর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৬১ সালে। 

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

স্মৃতিস্তম্ভ
-আলাউদ্দিন আল আজাদ

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে
হীরের মুকুট নীল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার
খুরের ঝটকা ধুলায় চূর্ণ যে পদ-প্রান্তে
যারা বুনি ধান
গুণ টানি, আর তুলি হাতিয়ার হাঁপর চালাই
সরল নায়ক আমরা জনতা সেই অনন্য ।
ইটের মিনার
ভেঙেছে ভাঙুক ! ভয় কি বন্ধু, দেখ একবার আমরা জাগরী
চারকোটি পরিবার ।

লেখকের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র (১৯৬১)
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ (১৯৬২)

উৎস: স্মৃতিস্তম্ভ, আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৬৫.
"আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।" - এটি কার উক্তি?
  1. মুহম্মদ আব্দুল হাই
  2. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।
এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৬৬.
'জয়গুন' কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. হাজার বছর ধরে 
  2. সূর্য দীঘল বাড়ী
  3. লালসালু 
  4. আর কতদিন 
সঠিক উত্তর:
সূর্য দীঘল বাড়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সূর্য দীঘল বাড়ী
ব্যাখ্যা

• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।
 
--------------------
• কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল,

গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০৬৭.
‘নুরুল এসলাম’ চরিত্রটি মোহাম্মদ নজিবর রহমানের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. গরিবের মেয়ে
  2. চাদঁতারা
  3. আনোয়ারা
  4. পরিনাম
সঠিক উত্তর:
আনোয়ারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনোয়ারা
ব্যাখ্যা

'আনোয়ারা':
- 'আনোয়ারা'- (১৯১৪) মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত প্রথম ও জনপ্রিয় উপন্যাস।
- ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য বিষয়।
- এ উপন্যাসের চরিত্র আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজীমুল্লা, গোলাপজান ইত্যাদি।

মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- প্রেমের সমাধি,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমণি,
- পরিণাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাইনা ও
- মেহেরুন্নিসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৬৮.
কোনটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের চরিত্র?
  1. মনোরমা
  2. কাপালিক
  3. হেমচন্দ্র
  4. ভ্রমর
সঠিক উত্তর:
কাপালিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাপালিক
ব্যাখ্যা
‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের চরিত্র - রোহিনী। 
- মৃণালিনী উপন্যাসের চরিত্র - হেমচন্দ্র, মনোরমা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৬৯.
''সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু, অনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়-সাগরে সিনান করিতে, সকলি গরল ভেল।''- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. জ্ঞানদাস
  3. চণ্ডীদাস
  4. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
জ্ঞানদাস:
• জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
• জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন। তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
• তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।
• পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চণ্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।

বিরহের মর্মস্পর্শী আর্তি ফুটে উঠেছে তাঁর কবিতায়-
'রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর'

তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উক্তি-
''সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু, অনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়-সাগরে সিনান করিতে, সকলি গরল ভেল।''

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৭০.
"আজ আমি শোকে বিহ্বল নই
আজ আমি ক্রোধে উন্মত্ত নই
আজ আমি প্রতিজ্ঞায় অবিচল।" - কে লিখেছেন?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. শওকত ওসমান
  3. সুভাষ দত্ত
  4. মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
"আজ আমি শোকে বিহ্বল নই
আজ আমি ক্রোধে উন্মত্ত নই
আজ আমি প্রতিজ্ঞায় অবিচল।" - কবিতাংশটুকু মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী'র ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতার অংশবিশেষ।
------------------ 
• কবিতাটি রচনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আলোচনা:   
- ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতাটির রচিয়তা মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী।
- এটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম কবিতা।
- মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী প্রগতিশীল মাসিক সীমান্ত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন এবং চট্টগ্রামের রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।
- ২২ ফেব্রুয়ারিতে একটি ১৭ পৃষ্ঠার পুস্তিকায় কবিতাটি ছাপা হয়।
- বইটির দাম রাখা হয় দুই আনা।
- ২২ ফেব্রুয়ারিতেই চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে রাজনৈতিক কর্মী হারুনুর রশীদ কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনান।
---------------
কবিতার কিছু অংশ:

এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে
রমনার ঊর্ধ্বমুখী কৃষ্ণচূড়ার তলায়
যেখানে আগুনের ফুলকির মতো
এখানে-ওখানে জ্বলছে অসংখ্য রক্তের ছাপ
সেখানে আমি কাঁদতে আসিনি।
আজ আমি শোকে বিহ্বল নই
আজ আমি ক্রোধে উন্মত্ত নই
আজ আমি প্রতিজ্ঞায় অবিচল।
যে শিশু আর কোনোদিন তার
পিতার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ার
সুযোগ পাবে না
----------------  
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,০৭১.
'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো'- সংলাপটি কার রচনা?
  1. মুনির চৌধুরী
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. জহির রায়হান
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন 'উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের বিখ্যাত একটি সংলাপ।

এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- মুমিন,
- আসাদ,
- রসুল,
- সালমা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৭২.
'লালসালু' উপন্যাসের বিদ্রোহিণী চরিত্র কোনটি?
  1. সকিনা
  2. আমিনা
  3. কপিলা
  4. জমিলা
সঠিক উত্তর:
জমিলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জমিলা
ব্যাখ্যা
'লালসালু' উপন্যাস:
• 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

• উপন্যাসে রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন। নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।

• ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।

• 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির 'লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা,
- রহিমা,
- আমেনা,
- আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'লালসালু' উপন্যাস।
১,০৭৩.
'দনুবানু' চরিত্রটি সৃষ্টি করেন কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. সেলিম আল দীন
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা

হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তনকালীন পর্যায়ে রচিত একটি গদ্য উপাখ্যান।
- যা তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে লিখেছেন।
- এটি মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা।
- চরিত্র: দনুবানু। 

কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিচিত।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাকোয় ১৮৪০ সালে। 
- 'হুতোমী বাংলা' ভাষা রীতি অনুসরণ করে তিনি সাহিত্য রচনা করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১,০৭৪.
'রনজু' শওকত আলীর কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ওয়ারিশ
  2. উত্তরের খেপ
  3. পিঙ্গল আকাশ
  4. যাত্রা
সঠিক উত্তর:
ওয়ারিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়ারিশ
ব্যাখ্যা
'ওয়ারিশ' উপন্যাস:
- শওকত আলী রচিত 'ওয়ারিশ' (১৯৮৯) উপন্যাসটি মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি আছে।
- অতীত থেকে বর্তমান হয়ে ভবিষ্যতের দিকে যেতে হয়। এরই নাম মানব সভ্যতার ইতিহাস, যাকে বলা যায় ক্রমবিকাশ।
- কথাশিল্পী শওকত আলী রনজু চরিত্রের মাধ্যমে উপর্যুক্ত ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির ধারাবাহিকতাই প্রকাশ করেছেন অনবদ্য গদ্যশৈলীতে।

শওকত আলী:
- শওকত আলীর (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ - ২৫ জানুয়ারি)। জন্মস্থান দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ।
- একটি ছোট উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ” (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই।
- বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাঙলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ,
- যাত্রা,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের খেপ,
- হিসাবনিকাশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৭৫.
‘কল্যাণী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গল্পের চরিত্র?
  1. রবিবার
  2. শেষকথা
  3. ল্যাবরেটরি
  4. অপরিচিতা
সঠিক উত্তর:
অপরিচিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরিচিতা
ব্যাখ্যা
'অপরিচিতা' ছোটগল্প:
- 'অপরিচিতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প।
- গল্পে অপরিচিতা বিশেষণের আড়ালে যে বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী নারীর কাহিনি বর্ণিত হয়েছে, তার নাম কল্যাণী।
- অমানবিক যৌতুক প্রথার নির্মম বলি হয়েছে এমন নারীদের গল্প ইতঃপূর্বে রচনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- কিন্তু এই গল্পেই প্রথম যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের কথকতা শোনালেন তিনি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত আধুনিক নরনারীর মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প:
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি

তাঁর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প:
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

উৎস: সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১,০৭৬.
‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই।'- বিখ্যাত উক্তিটি কার রচিত গ্রন্থে ধ্বনিত হয়েছে?
  1. শওকত ওসমান
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শওকত আলী
  4. শহীদুল্লাহ কায়সার
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• নূরলদীনের সারাজীবন:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারা জীবন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরুলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নুরুলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই।'
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

-------------------
• সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৭৭.
'চলে বুনোপথে জোনাকী মেয়েরা কুয়াশা কাফন ধরি' - পঙ্‌ক্তিটি জসীম উদ্‌দীনের কোন কবিতার অংশবিশেষ?
  1. কিশোরী
  2. পল্লী জননী
  3. মা
  4. রাখালী
সঠিক উত্তর:
পল্লী জননী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পল্লী জননী
ব্যাখ্যা
• 'চলে বুনোপথে জোনাকী মেয়েরা কুয়াশা কাফন ধরি' - পঙ্‌ক্তিটি জসীম উদ্‌দীনের 'পল্লী জননী' কবিতার অংশবিশেষ।
- কবিতাটি জসীম উদ্‌দীনের 'রাখালী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- গ্রন্থটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়।

পল্লী জননী,
- জসীম উদ্‌দীন
রাত থম থম স্তব্ধ, ঘোর-ঘোর-আন্ধার,
নিশ্বাস ফেলি, তাও শোনা যায়, নাই কোথা সাড়া কার।
রুগ্ন ছেলের শিয়রে বিসয়া একেলা জাগিছে মাতা,
করুণ চাহনি ঘুম ঘুম যেন ঢুলিছে চোখের পাতা।
শিয়রের কাছে নিবু নিবু দীপ ঘুরিয়া ঘুরিয়া জ্বলে,
তারি সাথে সাথে বিরহী মায়ের একেলা পরাণ দোলে।

ভন্ ভন্ ভন্ জমাট বেঁধেছে বুনো মশকের গান,
এঁদো ডোবা হতে বহিছে কঠোর পচান পাতার ঘ্রাণ?
ছোট কুঁড়ে ঘর, বেড়ার ফাঁকেতে আসিছে শীতের বায়ু,
শিয়রে বসিয়া মনে মনে মাতা গণিছে ছেলের আয়ু।

ছেলে কয়, “মারে, কত রাত আছে? কখন সকাল হবে,
ভাল যে লাগে না, এমনি করিয়া কেবা শুয়ে থাকে কবে?”
মা কয়“বাছারে ! চুপটি করিয়া ঘুমা ত একটি বার, ”
ছেলে রেগে কয় “ঘুম যে আসে না কি করিব আমি তার ?”
পান্ডুর গালে চুমো খায় মাতা, সারা গায়ে দেয় হাত,
পারে যদি বুকে যত স্নেহ আছে ঢেলে দেয় তারি সাথ।
নামাজের ঘরে মোমবাতি মানে, দরগায় মানে দান,
ছেলেরে তাহার ভাল কোরে দাও, কাঁদে জননীর প্রাণ।
ভাল করে দাও আল্লা রছুল। ভাল কোরে দাও পীর।
কহিতে কহিতে মুখখানি ভাসে বহিয়া নয়ন নীর।

বাঁশবনে বসি ডাকে কানা কুয়ো, রাতের আঁধার ঠেলি,
বাদুড় পাখার বাতাসেতে পড়ে সুপারীর বন হেলি।
চলে বুনোপথে জোনাকী মেয়েরা কুয়াশা কাফন ধরি,
দুর ছাই। কিবা শঙ্কায় মার পরাণ উঠিছে ভরি।
যে কথা ভাবিতে পরাণ শিহরে তাই ভাসে হিয়া কোণে,
বালাই, বালাই, ভালো হবে যাদু মনে মনে জাল বোনে।
ছেলে কয়, “মাগো! পায়ে পড়ি বলো ভাল যদি হই কাল,
করিমের সাথে খেলিবারে গেলে দিবে না ত তুমি গাল?
আচ্ছা মা বলো, এমন হয় না রহিম চাচার ঝাড়া
এখনি আমারে এত রোগ হোতে করিতে পারি ত খাড়া ?”
মা কেবল বসি রুগ্ন ছেলের মুখ পানে আঁখি মেলে,
ভাসা ভাসা তার যত কথা যেন সারা প্রাণ দিয়ে গেলে।

জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; রাখালী, জসীম উদ্‌দীন।
১,০৭৮.
'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়' উক্তিটি কার?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. দৌলত কাজী
  3. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. ভারতচন্দ্র রায়
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়
ব্যাখ্যা

• মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কাব্য অন্নদামঙ্গলকাব্য।
• এই কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
• অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিখ্যাত কিছু পঙক্তি হলোঃ
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন',
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়',
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে',
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।',
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,০৭৯.
'কবি' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র 'নিতাই' কোন সম্প্রদায়ের ছিলেন?
  1. সাঁওতাল
  2. বাগদি
  3. বোষ্টম
  4. ডোম
সঠিক উত্তর:
ডোম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডোম
ব্যাখ্যা
• 'কবি' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'।
- ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে নিতাই।

তারাশঙ্করের বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন লেখায় বিশেষভাবে পাওয়া যায় বীরভূম-র্বধমান অঞ্চলের সাঁওতাল, বাগদি, বোষ্টম, বাউরি, ডোম,  গ্রাম্য কবিয়াল সম্প্রদায়ের কথা। কবি উপন্যাসেও অন্ত্যজ শ্রেণির এমনই একজন কবিয়ালের কথা উপজীব্য হয়ে উঠেছে।

এই উপন্যাসটিতে নিম্নবর্গের দুধর্ষ ডাকাত বংশীয় একজন মানুষের কবি হয়ে ওঠার রোমাঞ্চকর ও চিত্তাকর্ষক কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় চরিত্র নিতাইচরণের কবিপ্রতিভা এবং প্রণয়-আবেগ প্রকাশ পেয়েছে।

• উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; 'কবি' উপন্যাস।
১,০৮০.
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?" - কার রচনা?
  1. ক) আবদুল হাকিম
  2. খ) এন্টনি ফিরিঙ্গি
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঘ) নিধুবাবু
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিধুবাবু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিধুবাবু
ব্যাখ্যা
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"-  লাইনগুলোর রচয়িতা রামনিধি গুপ্ত বা নিধুবাবু। 
--------------

নিধুবাবু (১৭৪১-১৮৩০):
- তিনি সঙ্গীতশিল্পী ও টপ্পা গানের জনক।
- তাঁর প্রকৃত নাম ‘রামনিধি গুপ্ত’, কিন্তু সঙ্গীতজগতে তিনি ‘নিধু গুপ্ত’ নামেই পরিচিত।
- কেউ কেউ তাঁকে ‘নিধুবাবু’ বলেও ডাকতেন।
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চাপ্তায় মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। পিতা হরিনারায়ণ গুপ্ত পেশায় ছিলেন একজন কবিরাজ এবং তিনি কলকাতার কুমারটুলিতে সপরিবারে বাস করতেন।

- নিধু বাবু বাংলা ভাষায় টপ্পাগীতি রচনা ও সুরারোপ করে নিজেই তা গাইতেন। ক্রমে তাঁর গানের সমঝদার জোটে এবং কলকাতার নগরসমাজে তিনি অল্পদিনেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
- বর্ধমানের মহারাজা তেজেশচন্দ্র রায়বাহাদুর তাঁর গানের একজন একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলাপিডিয়া।
১,০৮১.
"সাম্যের গান গাই
যেখানে আসিয়া সম-বেদনায় সকলে হয়েছি ভাই।" - চরণটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. কুলি মজুর
  2. রাজা-প্রজা
  3. মানুষ
  4. বারাঙ্গনা
সঠিক উত্তর:
রাজা-প্রজা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা-প্রজা
ব্যাখ্যা

"সাম্যের গান গাই
যেখানে আসিয়া সম-বেদনায় সকলে হয়েছি ভাই।" - চরণটি কাজী নজরুল ইসলামের "রাজা-প্রজা" কবিতার অন্তর্গত। "রাজা-প্রজা" কবিতাটি 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

রাজা-প্রজা
  কাজী নজরুল ইসলামে

সাম্যের গান গাই
যেখানে আসিয়া সম-বেদনায় সকলে হয়েছি ভাই।
এ প্রশ্ন অতি সোজা,
এক ধরণির সন্তান, কেন কেউ রাজা, কেউ প্রজা?
অদ্ভুত দর্শন –
এই সোজা কথা বলি যদি ভাই, হবে তাহা সিডিশন!
প্রজা হয় শুধু রাজ-বিদ্রোহী, কিন্তু কাহারে কহি,
অন্যায় করে কেন হয় নাকো রাজাও প্রজাদ্রোহী!
প্রজারা সৃজন করেছে রাজায়, রাজা তো সৃজেনি প্রজা,
কৃতজ্ঞ রাজা তাই কি প্রজায় ধরে করে দিল খোজা?

'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী,
- নারী,
- রাজা-প্রজা,
- সাম্য,
- কুলি মজুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১,০৮২.
"কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!' চরণটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) অগ্নি-বীণা
  2. খ) সাম্যবাদী
  3. গ) প্রলয়শিখা
  4. ঘ) সর্বহারা
সঠিক উত্তর:
ক) অগ্নি-বীণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অগ্নি-বীণা
ব্যাখ্যা
আলোচ্য চরণটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'অগ্নি-বীণা' কাব্যগ্রন্থের 'কামাল পাশা' কবিতার অন্তর্গত 

কবিতাটি শুরু হয়েছে এভাবে- 

" ঐ খেপেছে পাগ্‌লি মায়ের দামাল ছেলে কামাল ভাই,
অসুর-পুরে শোর উঠেছে জোর্‌সে সামাল সামাল তাই।
            কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!
হো হো   কামাল! তু নে কামাল কিয়া ভাই!

• 'অগ্নি-বীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা ‘প্রলয়ােল্লাস'।
- এ কাব্যে মােট ১২টি কবিতা আছে। 

কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ- 
- অগ্নিবীণা
- বিষের বাঁশি 
- ভাঙার গান 
- সাম্যবাদী
- সর্বহারা
- ঝিঙে ফুল
- ফণি-মনসা 
- জিঞ্জিরা
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৮৩.
''পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ'' - উদ্ধৃতাংশের পথিক কে?
  1. কপালকুণ্ডলা
  2. কাপালিক
  3. নবকুমার
  4. চন্দ্রশেখর
সঠিক উত্তর:
নবকুমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবকুমার
ব্যাখ্যা
• “পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ?"  উক্তিটির রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। 

• ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:

- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস। 
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

• নায়িকা কপালকুণ্ডলা নায়ক নবকুমার কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ?" এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোম্যান্টিক সংলাপ।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

--------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা তথা মানস’।
- তাঁর রচিত প্রথম ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’।

• বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ত্রয়ী উপন্যাসগুলো হলো:
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী ও 
- সীতারাম উপন্যাস।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,০৮৪.
'আমার মাথার দিব্যি রইল, এসব তুমি আর কখনো করো না'। - উক্তিটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন গল্পের?
  1. বিলাসী
  2. দেনাপাওনা
  3. হৈমন্তী
  4. জীবন ও মৃত
সঠিক উত্তর:
বিলাসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিলাসী
ব্যাখ্যা
- 'আমার মাথার দিব্যি রইল, এসব তুমি আর কখনো করো না'। - উক্তিটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিলাসী গল্পের।
- 'বিলাসী' গল্পটি মাসিক 'ভারতী' পত্রিকায় ১৯১৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি 'ছবি' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প: 
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী, 
- মামলার ফল ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস :
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৮৫.
''এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের।''
এই পঙক্তির রচয়িতা -
  1. ক) শামসুর রহমান
  2. খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের।
চলে যাব - তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
- ছাড়পত্র
- সুকান্ত ভট্টাচার্য 

১,০৮৬.
'হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো'
- কার রচিত কবিতার লাইন?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী ছিলেন।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ- ছাড়পত্র, ঘুম নেই, পূর্বাভাস, মিঠেকড়া, অভিযান, হরতাল, গীতিগুচ্ছ (সঙ্গীত) ইত্যাদি।
- আঠারো বছর বয়স (ছাড়পত্র), রানার, এক যে ছিল, হে মহাজীবন (ছাড়পত্র) ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা।

তাঁর 'হে মহাজীবন' কবিতাটি হলো-
''হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!
প্রয়োজন নেই কবিতার স্নিগ্ধতা—
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়:
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্‌সানো রুটি॥''

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও 'হে মহাজীবন' কবিতা।
১,০৮৭.
"আমি চিরদুর্দ্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস,
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর!” -এই লাইনগুলো কোন কবিতার অংশ?   
  1. আঠারো বছর বয়স 
  2. বিদ্রোহী 
  3. সাম্যবাদী
  4. প্রলয়োল্লাস
সঠিক উত্তর:
বিদ্রোহী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্রোহী 
ব্যাখ্যা

• "নিপীড়নের শৃঙ্খল কখনও স্বাধীনতার চেতনাকে বেঁধে রাখতে পারে না।”-
 এই উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার অংশ। 
------------------
বিদ্রোহী
 – কাজী নজরুল ইসলাম

বল বীর -
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি আমারি, নত শির ওই শিখর হিমাদ্রির!
বল বীর -
বল মহা বিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’
চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’
ভূলোক দ্যুলোক গোলোক ভেদিয়া,
খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া,
উঠিয়াছি চির বিস্ময় আমি বিশ্ব বিধাত্রীর!
মম ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
আমি চিরদুর্দ্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস,
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর!
-------------------------------
কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- তাঁর শক্তিশালী লেখনী এবং সুরেলা কণ্ঠের মাধ্যমে কবি বাঙালির মধ্যে স্বাধীনতা, প্রেম, সাম্য ও মানবতার চেতনাকে জাগিয়ে তুলেছেন। 
- তাঁর রচনা ও গানগুলোতে বৈপ্লবিক মনোভাব, অসাম্প্রদায়িক চিন্তা এবং জীবনের গভীর দর্শন স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

- ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলাম তার পরিবারসহ স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
- বাংলা সাহিত্যে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডক্টরেট (ডি.লিট) প্রদান করে।
- পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সরকার তাকে নাগরিকত্ব প্রদান করে।
- এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদক’ প্রদান করার মধ্য দিয়ে কবিকে সম্মান জানানো হয়।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- মৃত্যুর পর জাতীয় কবিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের উত্তর পাশে সমাহিত করা হয়।
-------------------------------- 
• 'বিদ্রোহী' কবিতার মূলভাব:
- ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি নিপীড়ন, স্বাধীনতা ও চেতনার প্রতীক।
- কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত ‘বিদ্রোহী’ কবিতা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি।
- সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়। 

- কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা মূলত শোষণ, অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ প্রকাশ করে। 
- কবিতায় কবি নিজেকে নির্যাতিত মানুষের মুখপাত্র হিসেবে তুলে ধরেছেন। 
- কবি বলেছেন, শৃঙ্খল ভেঙে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে। 
- কবিতায় কবি সকল শৃঙ্খল ভাঙার আহ্বান জানানোর মধ্য দিয়ে মানুষের মাঝে সাম্য ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলে।
- এটি পরাধীনতা ভাঙার, ব্যক্তিগত ও সামাজিক মুক্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠার চিরন্তন আহ্বান।

উৎস: 
'বিদ্রোহী' কবিতা;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১,০৮৮.
'ফুল্লরা' মধ্যযুগের কোন সাহিত্যধারার চরিত্র?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. কালিকামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'ফুল্লরা' মধ্যযুগের চণ্ডীমঙ্গল ধারার চরিত্র।

চণ্ডীমঙ্গল: 
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷ 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো: কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।
- চন্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়

অন্যদিকে,
• অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
• মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র: মনসা, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৮৯.
'রমজান এবং রাবেয়া খাতুন' শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. সারেং বৌ
  2. কৃষ্ণচূড়া মেঘ
  3. সংশপ্তক
  4. দিগন্তে ফুলের আগুন
সঠিক উত্তর:
সংশপ্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংশপ্তক
ব্যাখ্যা
'সংশপ্তক' উপন্যাস:
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত মহাকাব্যিক উপন্যাস।
- সংশপ্তক' উপন্যাস বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক বাস্তবতার এক প্রামাণ্য দলিল।
- হিন্দু-মুসলিমের সহঅবস্থানে অসাম্প্রদায়িক জীবনবােধ উপন্যাসের অন্যতম অসাধারণ বিষয়।
- এই উপন্যাস দেশ, জাতি, মানুষ বাঁচানোর সংগ্রাম শুধু নয়, মানবিক চেতনাবোধ, আমাদের হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক সমাজে গঠনের আবেদন ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে জানান দিয়েছেন লেখক ।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জাহেদ, হুরমতি, লেকু, রমজান, রাবেয়া খাতুন (রাবু), সেকেন্দার, মালু, রামদয়াল ইত্যাদি।

শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- দিগন্তে ফুলের আগুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৯০.
'জমিলা' চরিত্রটি কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
  1. পল্লীসমাজ
  2. পদ্মানদীর মাঝি
  3. লালসালু
  4. সূর্য দীঘল বাড়ী
সঠিক উত্তর:
লালসালু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালসালু
ব্যাখ্যা

‘লালসালু’ উপন্যাস:
• ‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
• এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
• ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। 
• তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
• 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
• ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির ‘লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা প্রমুখ।
 
------------------------- 
⇒ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লা‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।
---------------
অন্যদিকে, 
• পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসের চরিত্র:
- কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

- ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ উপন্যাসের চরিত্র:
- জয়গুণ, হাস্য, মায়মুন, শফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোড়ল গদু।

• ‘পল্লীসমাজ’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র:
- রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০৯১.
"যুদ্ধ মানে শত্রু শত্রু খেলা, যুদ্ধ
মানেই আমার প্রতি তোমার অবহেলা" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  2. জসীম উদ্দীন
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
"যুদ্ধ মানে শত্রু শত্রু খেলা, যুদ্ধ
মানেই আমার প্রতি তোমার অবহেলা" - কবিতাংশটুকু নির্মলেন্দু গুণ এর 'প্রেমাংশুর রক্ত চাই' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'যুদ্ধ' কবিতার অন্তর্গত।

নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’। বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- ও বন্ধু আমার,
- চাষাভূষার কাব্য,
- পৃথিবীজোড়া গান,
- দূর হ দুঃশাসন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়া খেলার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৯২.
মুনির চৌধুরীর রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. ক) জোহরা
  2. খ) ইব্রাহীম কার্দি
  3. গ) মারওয়ান
  4. ঘ) সুজাউদ্দৌলা
সঠিক উত্তর:
গ) মারওয়ান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মারওয়ান
ব্যাখ্যা
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পটভূমিকায় মুনীর চৌধুরীর লেখা মৌলিক নাটক রক্তাক্ত প্রান্তর-এর চরিত্রগুলোর মধ্যে বিখ্যাত চরিত্র গুলো হচ্ছে ইব্রাহীম কার্দি, জোহরা, সুজাউদ্দৌলা, নজীবউদ্দৌলা, আবদালি প্রমুখ।
উৎসঃ রক্তাক্ত প্রান্তর - মুনীর চৌধুরী
১,০৯৩.
"আজি এ প্রভাতে রবির কর
কেমনে পশিল প্রাণের পর" - কোন কবিতার চরণ?
  1. আজি সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
  2. সোনার তরী
  3. নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
  4. প্রিয়তমাসু
সঠিক উত্তর:
নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
ব্যাখ্যা
'প্রভাতসঙ্গীত' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রভাতসঙ্গীত কাব্যগ্রন্থটি ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছে।
- এতে একুশটি কবিতা আছে। এ কাব্যের গুরুত্বপূর্ণ কবিতা 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ'।

নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আজি এ প্রভাতে রবির কর
কেমনে পশিল প্রাণের পর,
কেমনে পশিল  গুহার আঁধারে
প্রভাত-পাখির গান।
না জানি কেন রে  এতদিন পরে
জাগিয়া উঠিল প্রাণ।

উৎস: রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৯৪.
‘সুদীপ্ত শাহীন’ চরিত্রটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. জীবন আমার বোন
  3. রাইফেল রোটি আওরাত
  4. নিষিদ্ধ লোবান
সঠিক উত্তর:
রাইফেল রোটি আওরাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা
রাইফেল রােটি আওরাত:
- 'রাইফেল রােটি আওরাত' (১৯৭৩), আনােয়ার পাশা রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন রচিত এবং ১৯৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলাে হচ্ছে:
- ড. খালেক,
- ড. মালেক,
- ছাবেদ আলী,
- হাসমত,
- জামাল সাহেব প্রমুখ।

অন্য অপশনের রচনাগুলোর চরিত্র:
• পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় -মাতব্বর, পির সাহেব, মাতব্বরের মেয়ে, পাইক, গ্রামবাসী, তরুণদল ও মুক্তিযোদ্ধারা।
• জীবন আমার বোন -  জাহিদুল কবির খোকা, মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, জাহিদুল করিম খোকা প্রমুখ।
• নিষিদ্ধ লোবান - বিলকিস, সিরাজ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,০৯৫.
'সব কটা জানালা খুলে দাও না'- এর গীতিকার কে?
  1. আলতাফ মাহমুদ
  2. নজরুল ইসলাম বাবু
  3. ড. মনিরুজ্জামান
  4. ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল
সঠিক উত্তর:
নজরুল ইসলাম বাবু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নজরুল ইসলাম বাবু
ব্যাখ্যা
গীতিকার:
- 'সব কটা জানালা খুলে দাও না' - গানটির গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু। এটি একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গান।
- আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সুর ও সঙ্গীত পরিচালনায় এই গানে কণ্ঠ দেন সাবিনা ইয়াসমিন।

তার রচিত অন্যান্য গানের মধ্যে রয়েছে:
-‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার’
- ‘আমায় গেঁথে দাও না মাগো একটা পলাশ ফুলের মালা’
- ‘ও আমার আট কোটি ফুল দেইখো গো মালি’ প্রভৃতি।

তাছাড়া,
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি,
আমি কি ভুলিতে পারি'--গানটির বর্তমান সুরকার আলতাফ মাহমুদ।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রণোদনা : গান, দৈনিক ভোরের কাগজ।
১,০৯৬.
'দ্বার খোলো বাবা খাইনি তো সাত দিন'— উক্তিটি কোন কবিতার অংশ?
  1. রক্তাম্বর-ধারিণী মা
  2. আগমণী
  3. ধূমকেতু
  4. মানুষ  
সঠিক উত্তর:
মানুষ  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ  
ব্যাখ্যা

'দ্বার খোলো বাবা খাইনি তো সাত দিন'— এ উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত মানুষ কবিতার অংশ। 
----------------------
• মানুষ- 
     – কাজী নজরুল ইসলাম। 

“গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান,
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি,
সব দেশে, সল কালে, ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।
‘পূজারী, দুয়ার খোল,
ক্ষুদার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজার সময় হলো!’
স্বপ্ন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল ভজনালয়
দেবতার বরে আজ রাজা-টাজা হ’য়ে যাবে নিশ্চয়!
জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুদায় কন্ঠ ক্ষীণ
ডাকিল পান্থ, ‘দ্বার খোল বাবা, খাইনি তো সাত দিন!’
সহসা বন্ধ হ’ল মন্দির, ভুখারী ফিরিয়া চলে,
তিমির রাত্রি, পথ জুড়ে তার ক্ষুদার মানিক জ্বলে!" 
--------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ইসলাম এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- তাঁর শক্তিশালী লেখনী এবং সুরেলা কণ্ঠের মাধ্যমে কবি বাঙালির মধ্যে স্বাধীনতা, প্রেম, সাম্য ও মানবতার চেতনাকে জাগিয়ে তুলেছেন।
- তাঁর রচনা ও গানগুলোতে বৈপ্লবিক মনোভাব, অসাম্প্রদায়িক চিন্তা এবং জীবনের গভীর দর্শন স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ সালে (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
-------------------------------- 
'মানুষ' কবিতা নিয়ে কিছু তথ্য-
- “দ্বার খোল বাবা, খাইনি সাত দিন”— উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘মানুষ’ কবিতার অংশ।
- 'মানুষ' কবিতাটি তাঁর ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানে ক্ষুধিত ভিখারি মন্দিরের পুজারীকে সম্বোধন করে উক্তিটি করেছে। 
- উক্তিটির মধ্য দিয়ে লেখক- মানুষের জীবন ও অধিকারকে ধর্ম বা স্থাপনার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করার বিরুদ্ধ  তীব্র প্রতিবাদ প্রকাশ করেছেন। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

১,০৯৭.
'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসের যুবক-শিক্ষকের নাম-
  1. আবদুল কাদের
  2. খতিব মিয়া
  3. আক্কাস আলী
  4. আরেফ আলী
সঠিক উত্তর:
আরেফ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরেফ আলী
ব্যাখ্যা
• ‘চাঁদের অমাবস্যা’ উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪) উপন্যাসটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচনা করেন।
- এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা।
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য
বিষয়।

--------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ্ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ্‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।
• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৯৮.
‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসটির প্রধান পুরুষ চরিত্র কোনটি?
  1. কিশোর
  2. গণেষ
  3. রসু
  4. হোসেন মিঞা
সঠিক উত্তর:
কিশোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিশোর
ব্যাখ্যা
⇒ ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাস:
• ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ সুবিখ্যাত উপন্যাসটির রচয়িতা অদ্বৈত মল্লবর্মণ। উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে রচিত।
• উপন্যাসটি প্রথম মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায়, ১৩৫২ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়।
• উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে।
• উপন্যাসটি জেলে ও মৎসজীবীদের অন্ত্যজ জীবন নিয়ে রচিত। 
• এই উপন্যাসের মধ্যে অদ্বৈত মল্লবর্মণ তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সুগভীর অন্তর্দৃষ্টির বলে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীরতীরের ধীবর সমাজের কাহিনিকে তুলে ধরেছন।
• এই উপ্যনাসের প্রধান নারী চরিত্র বাসন্তী এবং প্রধান পুরুষ চরিত্র কিশোর।

অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত বিখ্যাত কয়েকটি গ্রন্থ হলো:
- নয়াবসত,
- রামধনু,,
- সাদা হাওয়া,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৯৯.
"করিতে পারি না কাজ
সদা ভয় সদা লাজ
সংশয়ে সংকল্প সদা টলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।" কোন কবির রচনা?
  1. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  2. কামিনী রায়
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
• 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতাটি লিখেছেন: 'কামিনী রায়'।
 - কবিতাটি কোন কাজ করতে গেলে অন্য মানুষের সমালোচনার ভয়ে নিজেকে ঘুটিয়ে রাখে - সেই দিকটায় আলোকপাত করা হয়েছে।

কামিনী রায়:
- কবি ও সমাজকর্মী কামিনী রায় ১৮৬৪ সালে বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় (১৮৮৯) সালে;  হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

পাছে লোকে কিছু বলে,
- কামিনী রায়।

করিতে পারি না কাজ
সদা ভয় সদা লাজ
সংশয়ে সংকল্প সদা টলে,
পাছে লোকে কিছু বলে।

আড়ালে আড়ালে থাকি
নীরবে আপনা ঢাকি,
সম্মুখে চরণ নাহি চলে
পাছে লোকে কিছু বলে।

উৎস: সাহিত্য কণিকা, অষ্টম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১০০.
”সুরবালা” ‍রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ছোটগল্পের বিখ্যাত চরিত্র?
  1. সমাপ্তি
  2. দেনাপাওনা
  3. একরাত্রি
  4. পোস্টমাস্টার
সঠিক উত্তর:
একরাত্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একরাত্রি
ব্যাখ্যা

• 'একরাত্রি' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রেষ্ঠ গল্পসমূহের মধ্যে 'একরাত্রি' বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। 
- গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৯ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ সংখ্যা 'সাধনা' পত্রিকায়।
- ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ছোটগল্প' শীর্ষক রবীন্দ্র গল্পগ্রন্থে এটি প্রথম গ্রন্থিত হয়।
- গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- 'সুরবালা'।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আরো কিছু ছোটগল্পের চরিত্র:
- 'দেনাপাওনা' গল্পের নায়িকা- নিরূপমার।
- 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- 'পোস্টমাস্টার' গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।
- 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।