বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের চরিত্র, উক্তি ও সংলাপ

মোট প্রশ্ন১,৪৯০এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের চরিত্র, উক্তি ও সংলাপ

PrepBank · পাতা ১০ / ১৫ · ৯০১১,০০০ / ১,৪৯০

৯০১.
‘মজিদ ও খালেক ব্যাপারি’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. চাঁদের অমাবস্যা
  2. তরঙ্গভঙ্গ
  3. বহিপীর
  4. লালসালু
সঠিক উত্তর:
লালসালু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালসালু
ব্যাখ্যা
⇒ ‘লালসালু’ উপন্যাস:
• ‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
• এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
• নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
• ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। 
• তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
• 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
• উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা।
• ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির ‘লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।
 
================
⇒ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লা‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯০২.
“পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল, কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল” - কার উক্তি?
  1. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  4. কামিনী রায়
সঠিক উত্তর:
মদনমোহন তর্কালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মদনমোহন তর্কালঙ্কার
ব্যাখ্যা

মদন মোহন তর্কালঙ্কার - রচিত কাব্যগ্রন্থ -
- রসতরঙ্গিনী
- বাসবদত্তা
তার রচিত কয়েকটি বিখ্যাত উক্তি -
- ''পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল, কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল''।
- ''সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারা দিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি।''
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯০৩.
“প্রীতি প্রেমের পুণ্য বাঁধনে যবে মিলি পরস্পরে,
স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাসে কুঁড়ে ঘরে।” - চরণ দুটির রচয়িতা কে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. শেখ ফজলুল করিম
  3. অতুলপ্রসাদ সেন
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
শেখ ফজলুল করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফজলুল করিম
ব্যাখ্যা
“প্রীতি প্রেমের পুণ্য বাঁধনে যবে মিলি পরস্পরে,
স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাসে কুঁড়ে ঘরে।” চরণ দুটির রচয়িতা -  শেখ ফজলুল করিম

স্বর্গ ও নরক
 শেখ ফজলুল করিম

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর ?
মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, –মানুষেতে সুরাসুর !
রিপুর তাড়নে যখনি মোদের বিবেক পায় গো লয়,
আত্মগ্লানির নরক-অনলে তখনি পুড়িতে হয়।
প্রীতি ও প্রেমের পুণ্য বাঁধনে যবে মিলি পরস্পরে,
স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাদেরি কুঁড়ে ঘরে

শেখ ফজলল করিম:
- তিনি ১৮৮২ সালে রংপুর জেলার কাকিনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাহিত্যিক, সম্পাদক।
- তিনি হযরত মুহম্মদ (স) এর চারিত্র্য-মাহাত্ম্য ও ধর্মজীবন অবলম্বনে রচনা করেন 'পরিত্রাণ' নামক কাব্য।
- সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে সাহিত্যবিশারদ (১৯১৬) এবং কাব্যরত্নাকর (১৯১৭) উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- ভগ্নবীণা,
- ভক্তি পুষ্পাঞ্জলি,
- গাঁথা,
- প্রেমের স্মৃতি,
- পথ ও পাথেয়,
- উচ্ছ্বাস।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'স্বর্গ ও নরক' কবিতা, শেখ ফজলল করিম।
৯০৪.
‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ - গানটি রচনা করেন কে?
  1. সিকান্‌দার আবু জাফর
  2. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. গোবিন্দ হালদার
সঠিক উত্তর:
সিকান্‌দার আবু জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিকান্‌দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা

সিকান্‌দার আবু জাফর:
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল পাকিস্তানের পেশোয়ারে।
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার । 
- আবু জাফর ১৯৫০ সালে  কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন সময়ে দৈনিক নবযুগ, ইত্তেফাক, সংবাদ ও মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। 
- তিনি মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।
- তাঁর রচিত ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পূরবী,
- মাটি আর অশ্রু,
- নবী কাহিনী, 
- জয়ের পথে,
- নতুন সকাল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯০৫.
‘ও কি গাড়িয়াল ভাই কত রব আমি পন্থের দিকে চাইয়া রে’ কোন ধরনের গান?
  1. চট্‌কা গান
  2. ভাটিয়ালি
  3. ঝুমুর গান
  4. ভাওয়াইয়া
সঠিক উত্তর:
ভাওয়াইয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাওয়াইয়া
ব্যাখ্যা
• ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই কত রব আমি পন্থের দিকে চাইয়ারে’ - ভাওয়াইয়া গানের উদাহরণ।

• ভাওয়াইয়া গান: 
- ভাওয়াইয়া  উত্তরবঙ্গে প্রচলিত এক প্রকার  লোকগীতি।
- রংপুর ও ভারতের কুচবিহার জেলা এ গানের জন্মস্থান।
- ভাওয়াইয়া গান সুরলালিত্যে ভরপুর এবং এর একটি নিজস্ব গীতরীতি আছে।
- এ গানের মূল সুর নর-নারীর প্রণয়। প্রণয়ের বিচ্ছেদ জ্বালাই এতে অধিক রূপায়িত হয়।
- মৈশাল, গাড়োয়ান, মাহুত প্রমুখ এই প্রণয়গীতির নায়ক।
- আধ্যাত্মিক চেতনাসমৃদ্ধ ভাওয়াইয়া গানও পরিলক্ষিত হয়।
যেমন:
‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে’, ‘ছাড় রে মন ভবের খ্যালা’ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯০৬.
'শশী ও কুসুম' চরিত্র দুটির স্রষ্টা কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পুতুল নাচের ইতিকথা'।
- 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস সম্পর্কে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন- "সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।"
এই উপন্যাসে সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ আছে।
- এই উপন্যাসে 'পুতুল' বলতে সেসকল মানুষকে বোঝানো হয়েছে যারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাড়াতে পারে না; পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- শশী, কুসুম, গোপাল, সেনদিদি, যাদব পণ্ডিত ইত্যাদি।
- 'শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?' উক্তিটি উপন্যাসে ডাক্তার শশী কুসুমকে উদ্দেশ্য করে বলে।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
-আরোগ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯০৭.
'মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে' - চরণটি কার রচনা?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
- 'প্রাণ' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে৷

কবিতার নাম - প্রাণ
কবির নাম - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

"মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।
এই সূর্য্য করে এই পুষ্পিত কাননে
জীবন্ত হৃদয় মাঝে যদি স্থান পাই!"
------------------- 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস:
১) লাইভ এমসিকিউ লেকচার - ১০।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি। 
৯০৮.
'মধুসূদন' - কোন উপন্যাসের নায়ক?
  1. গোরা
  2. শেষের কবিতা
  3. যোগাযোগ
  4. নৌকাডুবি
সঠিক উত্তর:
যোগাযোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোগাযোগ
ব্যাখ্যা

'যোগাযোগ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- নৌকাডুবি,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'যোগাযোগ' উপন্যাস।

৯০৯.
'তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে!'- চরণদ্বয় কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে!'- চরণদ্বয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'দুই বিঘা জমি' নামক কবিতা থেকে নেওয়া।
- 'দুই বিঘা জমি' কবিতায় উপেন এই মন্তব্যটি করেছেন।
- এই উক্তি দ্বারা দুর্বলের মুখে নীতিকথা প্রকাশিত হয়েছে।

• দুই বিঘা জমি:
- 'দুই বিঘা জমি' রবীন্দ্রনাথের 'কাহিনী' কাব্যগ্রন্থের অর্ন্তগত। এই কাব্যগ্রন্থটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়। পরে রবীন্দ্রনাথের ‘কথা’ কাব্যগ্রন্থের সহযোগে ‘কাহিনী’ ও ‘কথা’ কাব্য দুটি একসাথে ‘কথা ও কাহিনী’ নামে প্রকাশিত হয়।

কাহিনি সংক্ষেপ:
রবীন্দ্রনাথের একটি বিখ্যাত কবিতা আছে—‘দুই বিঘা জমি’। এক জমিদার মিথ্যা মামলা দিয়ে চুরি করে নিয়েছিল দরিদ্র উপেনের দুই বিঘা জমি। সর্বহারা হয়ে উপেন বহুদিন নানা জায়গা ঘুরেফিরে এসেছিল তার নিজ গ্রামে। সেই জমিতে, যা জমিদারবাবু মিথ্যা ডিক্রি জারি করে দখল করেছে, বলা যায় চুরি করেছে। উপেন তারই জমিতে আমগাছতলায় বসে ছিল। দুটো পাকা আম তার কোলের ওপর পড়লে জমিদারবাবু ও তার লোকজন হইহই শুরু করে। উপেনকেই চোর সাব্যস্ত করেছিল। দুঃখভারাক্রান্ত মনে উপেন বলেছিল, ‘তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে’।

এই কাব্যের উল্লেখযোগ্য কিছু পঙ্‌ক্তি হলো:
- ‘আমি শুনে হাসি, আঁখিজলে ভাসি, এই ছিল মোর ঘটে।'
- 'তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি চোর বটে।’ 
- "এ জগতে হায় সেই বেশি চায় আছে যার ভুরি ভুরি-/রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।"

--------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'দুই বিঘা জমি' কাব্য ও বাংলাপিডিয়া।
৯১০.
‘কাব্যজগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা।’- উক্তিটি কোন প্রবন্ধের অন্তর্গত?
  1. বইপড়া
  2. সাহিত্যে খেলা
  3. লাইব্রেরি
  4. শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
সঠিক উত্তর:
সাহিত্যে খেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাহিত্যে খেলা
ব্যাখ্যা
‘কাব্যজগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা।’- উক্তিটি প্রমথ চৌধুরী রচিত ‘সাহিত্যে খেলা’ প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত।

⇒ প্রমথ চৌধুরী:
• বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
• বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।
- ‘বীরবলেন হালখাতা’ তাঁর রচিত প্রথম চলিত রীতির গদ্য রচনা।
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
-'বীরবলের হালখাতা' গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।

• প্রমথ চৌধুরী প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত ও
- আহুতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯১১.
'মহুয়া' পালার চরিত্র কোনটি? 
  1. মদিনা
  2. সাধু
  3. সোনার
  4. আলাল
সঠিক উত্তর:
সাধু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু
ব্যাখ্যা
মহুয়া পালা: 
- 'মহুয়া' পালার রচয়িতা- দ্বিজ কানাই। 
- মধ্যযুগের কবি দ্বিজ কানাই পূর্ব ময়মনসিংহ অঞ্চলের অধিবাসী। 
- 'মহুয়া' পালার রচনায় তাঁর যে উদার নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ পেয়েছে তাঁর মূলে তাঁর ব্যক্তি জীবনের সংস্কারমুক্ত মানবিক বোধ সক্রিয় বলে ধারনা করা হয়। 
- মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো: 
• মহুয়া, 
• নদের চাঁদ, 
• হুমরা বেদে, 
সাধু প্রমুখ। 

অন্যদিকে, 
- 'দেওয়ানা মদিনা'র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো: 
• আলাল, 
• দুলাল, 
• মদিনা, 
• সোনার প্রমুখ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯১২.
'রাবেয়া খাতুন এবং জাহেদ' চরিত্র দুটি সংশপ্তক শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত কোন উপন্যাসের?
  1. কৃষ্ণচূড়া মেঘ
  2. পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ
  3. সারেং বৌ
  4. সংশপ্তক
সঠিক উত্তর:
সংশপ্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংশপ্তক
ব্যাখ্যা
‘সংশপ্তক’ উপন্যাস:
- সংশপ্তক শহীদুল্লাহ কায়সারের একটি উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্ববর্তীকাল থেকে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রূপান্তর ধারণ করেছেন।
- তাই এই উপন্যাসকে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাবেয়া খাতুন (রাবু), জাহেদ, সেকেন্দার, মালু, মহুরতি, রমজান ইত্যাদি।

শহীদুল্লা কায়সার: 
- শহীদুল্লা কায়সার একজন  কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক। 
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।  
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক  ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯১৩.
''যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্নয় ন জানি।" - কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) নূরনামা
  2. খ) বঙ্গবাণী
  3. গ) বঙ্গদর্শন
  4. ঘ) চতুর্দশপদী কবিতা
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গবাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গবাণী
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিটি আবদুল হাকিম রচিত 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের "বঙ্গবাণী" কাব্য/কবিতার অংশ।
- বাংলা ভাষার প্রতি এরূপ শ্রদ্ধাপূর্ণ বক্তব্যের জন্য কবির 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থ বিশেষভাবে প্রশংসিত।  

আবদুল হাকিম মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি।
আবদুল হাকিম রচিত পাঁচটি গ্রন্থ:  
- ইউসুফ-জুলেখা,  
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলক এবং
- হানিফার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯১৪.
'রতন' - কোন গল্পের চরিত্র?
  1. হৈমন্তী
  2. পোস্টমাস্টার
  3. ভিখারিণী
  4. ডাকঘর
সঠিক উত্তর:
পোস্টমাস্টার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোস্টমাস্টার
ব্যাখ্যা

'পোস্টমাস্টার' ছোটগল্প:
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ছোটগল্প পোস্টমাস্টার।
- এই ছোটগল্পের প্রধান চরিত্র রতন ও পোস্টমাস্টার।
- এই ছোটগল্পের বিখ্যাত উক্তি, 'জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া ফল কী। পৃথিবীতে কে কাহার।'

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পগুলো হলো:
- ভিখারিণী,
- দেনা পাওনা,
- মনিহারা,
- পোস্টমাস্টার,
- এক রাত্রি,
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- স্ত্রীর পত্র,
- নষ্টনীড়,
- কাবুলিওয়ালা,
- হৈমন্তী,
- মুসলমানীর গল্প।

৯১৫.
'শুনহ মানুষ ভাই, সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই'- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. চণ্ডীদাস
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. জ্ঞানদাস
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• 'শুনহ মানুষ ভাই, সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই'- এর রচয়িতা- 'চণ্ডীদাস'।

- চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।

- তাঁর জাত-পাতমুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বানী- 
    "শুনহ মানুষ ভাই
    সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই" 

চণ্ডীদাসের বিখ্যাত উক্তি:
- 'শুনহ মানুষ ভাই, সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।'
- 'সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম।',
- 'সখি কেমনে ধরিব হিয়া, আমার বধূয়া আনবাড়ী যায় আমার আঙিনা দিয়া।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৯১৬.
"আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন।" - লাইনটি কে লিখেছেন?
  1. দাউদ হায়দার 
  2. আল মাহমুদ
  3. রফিক আজাদ
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

• "আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন।" - চরণটির রচয়িতা — আল মাহমুদ।

• সোনালী কাবিন- কাব্য;
- আল মাহমুদ।

শ্রমিক সাম্যের মন্ত্রে কিরাতের উঠিয়াছে হাত
হিয়েনসাঙের দেশে শান্তি নামে দেখো প্রিয়তমা,
এশিয়ায় যারা আনে কর্মজীবী সাম্যের দাওয়াত
তাদের পোশাকে এসো এঁটে দিই বীরের তকোমা।
আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন,
পরম স্বস্তির মন্ত্রে গেয়ে ওঠো শ্রেণীর উচ্ছেদ,
এমন প্রেমের বাক্য সাহসিনী করো উচ্চারণ
যেন না ঢুকতে পারে লোকধর্মে আর ভেদাভেদ।

উৎস: সোনালী কাবিন- আল মাহমুদ।

৯১৭.
'অন্তরে অমৃত না থাকলে মুখ দিয়ে এত গরল উগরে দিতে পারতো না' - উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. হুমায়ুন আজাদ
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিনঅঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:

- ইব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা,
- হিরণবালা।
 
• এ নাটকের গুরুত্বপূর্ণ উক্তি হচ্ছে: 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।'
- আমরা হচ্ছি পাহাড়াদার। টুলি-পরা কলুর বলদ।
- 'অন্তরে অমৃত না থাকলে মুখ দিয়ে এত গরল উগরে দিতে পারতো না'। 
- 'যত বড় ক্ষতি ততো বড় লাভ'।
- 'মানুষের রক্তে পিয়াস মেটায় মানুষ'।
- 'জয় পরাজয় যাই হউক, মৃত্যু ভিন্ন আমার মুক্তির অন্য কোন পথ নেই।'
----------------------- 
মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
 
নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য),
- চিঠি (১৯৬৬), 
- কবর  (পূর্ববাংলার প্রথম প্রতিবাদী নাটক। নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন),
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য, 
- মানুষ (১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য),
- নষ্ট ছেলে (রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাট),
- দণ্ডকারণ্য  (তিনটি নাটকের সমন্বয়। এতে দণ্ড, দণ্ডধর, দণ্ডকারণ্য),
- রাজার জন্মদিন। 
 
অনুবাদ নাটক: 
- কেউ কিছু বলতে পারে না (জর্জ বার্নার্ড শর You never can tell-এর বাংলা অনুবাদ),
- রূপার কৌটা (জন গলজ্‌ওয়র্দির The Silver Box-এর বাংলা অনুবাদ),
- মুখরা রমণী বশীকরণ  (উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের Taming of the Shrew-এর বাংলা অনুবাদ)। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯১৮.
'ফটিক' চরিত্রটি কোন রচয়িতা সৃষ্টি? 
  1. কায়কোবাদ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. জসীমউদ্দীন
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• বিখ্যাত 'ফটিক' চরিত্রের স্রষ্টা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

"ছুটি” গল্প:
- "ছুটি” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত একটি ছোটগল্প।
- এটি ১২৯৯ বঙ্গাব্দের পৌষ মাসে রচিত। এবং ১৮৯২ সালে 'সাধনা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- গল্পটি রবীন্দ্রনাথের 'গল্পগুচ্ছ' গল্পসংকলনের অন্তর্ভুক্ত।
- ছোট গল্পটির নায়ক বালক 'ফটিক', তাকে ঘিরেই গল্প বিকাশিত হয়েছে।

গল্পের সারসংক্ষেপ:
- বালকদিগের সর্দার ফটিক প্রকৃতি লালিত এক বালক, স্বভূমিচ্যুত হয়ে নাগরিক পরিবেশে নিজেকে বিচ্ছিন্ন ভাবে। সেখানকার প্রতিকূল পরিস্থিতি ও প্রীতিহীন পরিবেশ তাকে অস্থির করে তোলে। সে সেখানে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে না। অবশেষে এক বর্ষাস্নাত দিনে জ্বরাক্রান্ত শরীরে বাড়ি যাবে বলে বেরিয়ে পড়ে। প্রচণ্ড জ্বর বিকার গ্রস্ত অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে আনে। সে মামার কাছে বাড়ি যাবার বায়না ধরলে তিনি জানান পূজার ছুটিতে বাড়ি যাবেন। বিকারের ঘোরে সে কথা বলতে থাকে। মা ছুটে এসে তাকে জড়িয়ে ধরলে, ফটিক আস্তে আস্তে পাশ ফিরিয়া কাহাকেও লক্ষ্য না করিয়া মৃদুস্বরে কহিল, "মা, এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি।” এ ছুটি চিরকালের ছুটি।

উৎস: ছুটি (ছোটগল্প) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

৯১৯.
‘সুরঞ্জনা, ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি’ -কোন কবি এ কথা বলেছিলেন?
  1. ক) কামিনী রায়
  2. খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
ঘ) জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

সুরঞ্জনা, ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি
বোলোনাকো কথা ওই যুবকের সাথে;
ফিরে এসো সুরঞ্জনা:
নক্ষত্রের রূপালি আগুন ভরা রাতে;
ফিরে এসো এই মাঠে, ঢেউয়ে; 
ফিরে এসো হৃদয়ে আমার;
– কবিতা - আকাশলীনা (১৯৪৮)
— লিখেছেন - জীবনানন্দ দাশ
কবিতাটি 'সাতটি তারার তিমির' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

৯২০.
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী- গানটির রচিয়তা কে?
  1. ক) আলতাফ মাহমুদ
  2. খ) আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
  3. গ) মাহবুবুল আলম
  4. ঘ) শামসুর রহমান
সঠিক উত্তর:
খ) আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• ''আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি......''
- গানটির রচয়িতা সাংবাদিক ও লেখক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।
- গানটির প্রথম সুরকার ছিলেন আবদুল লতিফ।
- বর্তমান সুরকার আলতাফ মাহমুদ।
- ঢাকা কলেজের নতুন নতুন ছাত্র ইউনিয়নের অভিষেক অনুষ্ঠানে গানটি প্রথম গাওয়া হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯২১.
"বীরেন্দ্র সিংহ" কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. কপালকুণ্ডলা
  2. রজনী
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. দুর্গেশনন্দিনী
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা

'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। 
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।
- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৯২২.
‘অচলা' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. চোখের বালি
  2. গৃহদাহ
  3. চতুষ্কোণ
  4. মৃত্যু-ক্ষুধা
সঠিক উত্তর:
গৃহদাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৃহদাহ
ব্যাখ্যা
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘গৃহদাহ’ (১৯২০) ।
- ত্রিভুজ প্রেমের এই উপন্যাসের নায়িকা অচলা। সুরেশ এবং মহিমের প্রতি তার দোলাচল মানসিকতা ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব তুলে ধরা হয়েছে।
তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- চরিত্রহীন,
- শ্রীকান্ত,
- পরিণীতা,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পল্লীসমাজ,
- দেবদাস,
- দত্তা,
- বড়দিদি,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- বামুনের মেয়ে,
- শেষ প্রশ্ন,
- দেনাপাওনা,
- পথের দাবী,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস : গৃহদাহ উপন্যাস ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৯২৩.
"গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তকরবীর মতো কিংবা সূর্যাস্তের
জ্বলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট
উড়ছে হাওয়ায়, নীলিমায়।”- কবিতাংশের রচয়িতা কে?
  1. মহাদেব সাহা  
  2. আল মাহমুদ 
  3. শামসুর রাহমান
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ 
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

"গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তকরবীর মতো কিংবা সূর্যাস্তের
জ্বলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট
উড়ছে হাওয়ায়, নীলিমায়।”- কবিতাংশের রচয়িতা শামসুর রাহমান। 
-------------------------------------------
আসাদের শার্ট
  —শামসুর রাহমান।

"গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তকরবীর মতো কিংবা সূর্যাস্তের
জ্বলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট
উড়ছে হাওয়ায়, নীলিমায়।

বোন তার ভায়ের অম্লান শার্টে দিয়েছে লাগিয়ে
নক্ষত্রের মতো কিছু বোতাম কখনো
হৃদয়ের সোনালি তন্তুর সূক্ষ্মতায়;
বর্ষিয়সী জননী সে-শার্ট
উঠোনের রৌদ্রে দিয়েছেন মেলে কতদিন স্নেহের বিন্যাসে।

ডালিম গাছের মৃদু ছায়া আর রোদ্দুর-শোভিত
মায়ের উঠোন ছেড়ে এখন সে-শার্ট
শহরের প্রধান সড়কে
কারখানার চিমনি-চূড়োয়
গমগমে এভেন্যুর আনাচে-কানাচে
উড়ছে, উড়ছে অবিরাম
আমাদের হৃদয়ের রৌদ্র-ঝলসিত প্রতিধ্বনিময় মাঠে,
চৈতন্যের প্রতিটি মোর্চায়।

আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখণ্ড বস্ত্র মানবিক;
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।" 
---------------------------------------------
শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুর রাহমানের জন্ম তার নানাবাড়িতে।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তার পিতা মুখলেসুর রহমান চৌধুরী এবং মাতা আমেনা বেগম।
- শামসুর রাহমানের ডাক নাম ছিল- বাচ্চু।
- শামসুর রাহমানকে প্রধানত “নাগরিক কবি” বলা হয়।
- কারণ তার কবিতায় নগর জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
-  তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

- শামসুর রাহমান তাঁর কবিতায় সাধারণ মানুষ কীভাবে জীবন যাপন করে, শহরের মানুষদের দৈনন্দিন সমস্যা, সুখ–দুঃখ ও সমাজের নানা ঘটনা তুলে ধরেছেন।
- এই অনন্য কবি-কীর্তি ও সত্যনিষ্ঠ কাব্যচর্চার জন্য তাকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে।
- তিনি ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• শামসুর রাহমানের অসংখ্য কবিতা রয়েছে।
• উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতা হলো:
- তিনি এসেছেন ফিরে, 
- এই মাতোয়ালা রাইত, 
- আসাদের শার্ট, 
- মাস্টারদার হাতঘড়ি, 
- স্বাধীনতা তুমি, 
- কখনো আমার মাকে, 
- একটি কবিতার জন্য, 
- এ লাশ আমরা রাখবো কোথায়?
- উদ্ধার, 
- তুমি বলেছিলে, 
- অভিশাপ দিচ্ছি, 
- বন্দী-শিবির থেকে, 
- তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা, 
- বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা।
--------------------------------------------- 
• “আসাদের শার্ট” কবিতা:
"গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তকরবীর মতো কিংবা সূর্যাস্তের
জ্বলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট
উড়ছে হাওয়ায়, নীলিমায়।”

- “আসাদের শার্ট” কবিতা লিখেছেন শামসুর রাহমান।
- এটি ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের গুলিতে শহীদ আসাদের রক্তাক্ত শার্ট দেখে রচিত।
- কবিতায় শহীদ আসাদের শার্টকে কবি শোষকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে চিত্রিত করেছে।

উৎস:
“আসাদের শার্ট” কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৯২৪.
'যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।' - উক্তিটি কোন প্রবন্ধে রয়েছে?
  1. লাইব্রেরি
  2. আমাদের শিক্ষা
  3. বই পড়া
  4. সভ্যতার সংকট
সঠিক উত্তর:
বই পড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বই পড়া
ব্যাখ্যা
• 'বই পড়া' প্রবন্ধটির রচয়িতা- প্রমথ চৌধুরী। 

• এই প্রবন্ধের কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়।
- যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব। 
- যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।
- যে জাতির জ্ঞানভাণ্ডারে শূন্য সে জাতি ভাঁড়েও ভবানী।

অন্যদিকে, 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি বিখ্যাত প্রবন্ধ ‘লাইব্রেরি’। এই প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ লাইব্রেরী গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। রবীন্দ্রনাথের আরেকটি প্রবন্ধ- সভ্যতার সংকট।

 ----------------------- 
• প্রমথ চৌধুরী:
- ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- তিনি বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- গদ্য / প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন। 
- তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- ১৯৪৬ সালে শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।
 
• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল নুন লকড়ি ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; প্রবন্ধ সংগ্রহ- প্রমথ চৌধুরী।
৯২৫.
রোগকে ঘৃণা করা যায়, রোগীকে কেন?- এ কথা কে বলেছেন?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) আলমগীর কবির
  3. গ) হুমায়ূন আহমেদ
  4. ঘ) হুমায়ুন আজাদ
সঠিক উত্তর:
গ) হুমায়ূন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
রোগকে ঘৃণা করা যায়, রোগীকে কেন? এই উক্তিটি হুমায়ুন আহমেদের অপরাহ্ণের গল্প থেকে নেওয়া।
৯২৬.
''আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে।'' - কথাটি কে বলেছেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  4. লুৎফুর রহমান
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ''আমার পথ" প্রবন্ধ থেকে নেয়া।
 
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
 
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ - যুগবাণী।
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।
-----------
'আমার পথ' প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘রুদ্র-মঙ্গল’ প্রবন্ধগ্রন্থের দ্বিতীয় প্রবন্ধ।
- রুদ্র-মঙ্গল গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে।
- গ্রন্থটিতে মোট ৮টি প্রবন্ধ রয়েছে।
 
‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
‘আমার এই যাত্রা হল শুরু ওগো কর্ণধার, তোমারে করি নমস্কার ।
মাভৈঃ বাণীর ভরসা নিয়ে' ‘জয় প্রলয়ঙ্কর' বলে ‘ধূমকেতু’কে রথ করে আমার আজ নতুন পথে যাত্রা শুরু হল। আমার কর্ণধার আমি। আমায় পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি—নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ ছাড়া আর কোনো পথই আমার বিপথ নয়! রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না । যার ভিতরে ভয়, সে-ই বাইরে ভয় পায়।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং কাজী নজরুল রচিত 'আমার পথ' প্রবন্ধ।
৯২৭.
'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র:
  1. কপালকুণ্ডলা
  2. নবকুমার
  3. মতিবিবি
  4. পদ্মাবতী
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) কপালকুণ্ডলা।
‘কপালকুণ্ডলা’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস (প্রকাশকাল ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দ)।

এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলো কপালকুণ্ডলা, এক সন্ন্যাসীর আশ্রমে লালিত এক সুন্দরী কন্যা।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হলো নবকুমার, মতিবিবি, কাপালিক ইত্যাদি।

এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি:
- 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ’ কপালকুণ্ডলা নবকুমারকে বলে।
- 'তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?'
- 'প্রদীপ নিবিয়া গেল।'

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সম্বাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা লিখে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম স্বার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) রচনা করেন।
- তাকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।

• বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ত্রয়ী উপন্যাসগুলো হলো:
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী ও
- সীতারাম উপন্যাস।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯২৮.
'জোহরা' চরিত্র কোন নাটকের?
  1. রক্তকরবী
  2. বিবাহ বিভ্রাট
  3. দণ্ডকারণ্য
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

• অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত নাটক 'রক্তাক্ত প্রান্তর'।
• এই নাটকের চরিত্রঃ
- জোহরা
- জরিনা
- হিরণ বালা
- ইব্রাহীম কার্দি
উৎসঃ রক্তাক্ত প্রান্তর, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।

৯২৯.
"হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে" -এই স্মরণীয় পঙ্‌ক্তিটি কোন কবির লেখা?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. কায়কোবাদ
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

“হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে”—এই স্মরণীয় পঙ্‌ক্তিটি আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি জীবনানন্দ দাশের রচনা।
----------------------------------------
• বনলতা সেন।  
   —জীবনানন্দ দাশ

"হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদন্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।" 
-----------------------------------------
জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক।
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ এবং মা কুসুমকুমারী দাশ দুজনেই সাহিত্যচর্চার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- তাঁকে বলা হয় ‘রূপসী বাংলার কবি’।
- কারণ তাঁর কাব্যে বাংলার প্রকৃতি, মাটি, মানুষ ও স্মৃতিমগ্ন সৌন্দর্য গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।   
-------------------------------------
'বনলতা সেন' নিয়ে কিছু কথা: 
- বনলতা সেন জীবনানন্দ দাশের কালজয়ী কবিতা। 
- কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালের ডিসেম্বর মাসে।
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- পরে ১৯৪২ সালে এক পয়সার একটি গ্রন্থমালায় প্রথমবার গ্রন্থাকারে অন্তর্ভুক্ত হয়।
- পরবর্তীতে কবিতাটি ১৯৪৪ সালে মহাপৃথিবী কাব্যে প্রকাশ পায়।
- এবং ১৯৫২ সালে প্রকাশিত বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণেও স্থান লাভ করে।

- জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন কবিতাটি মূলত দীর্ঘ সময়ের ক্লান্ত জীবনযাত্রা ও মানসিক অস্থিরতার পর মানুষের অন্তরে শান্তি, ভালোবাসা ও আশ্রয়ের আকাঙ্ক্ষাকে প্রতীকীভাবে প্রকাশ করে। এটি শুধু প্রেমের কবিতা নয়; বরং জীবনের জীর্ণতা ও একাকিত্বের শেষে কবি বনলতা সেন নামক নারীর উপস্থিতি এবং নাটোরের শান্ত পরিবেশের মধ্য দিয়ে এক গভীর আত্মিক স্বস্তি ও প্রশান্তির সন্ধান পেয়েছেন।

উৎস:
'বনলতা সেন' কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৯৩০.
”যে আমারে দেখিবারে পায় অসীম ক্ষমায় ভালোমন্দ মিলায়ে সকলি,
এবার পূজায় তারি আপনারে দিতে চাই বলি।” পঙ্‌ক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. শামসুর রহমান
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

”যে আমারে দেখিবারে পায় অসীম ক্ষমায় ভালোমন্দ মিলায়ে সকলি, 
এবার পূজায় তারি আপনারে দিতে চাই বলি।”
- পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা।
- এটি শেষের কবিতা উপন্যাসের অংশ।

• শেষের কবিতা: 
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- প্রবাসী পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসমান্য ঔজ্জ্বল্য,দৃপ্তিশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:

-  তিনি একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক ছিলেন।
- জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর]] এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয় কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারিতে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯৩১.
'কেনারাম' চরিত্রটি পাওয়া যায়_____নাটকে।
  1. ক) নবীন তপস্বিনী
  2. খ) লীলাবতী
  3. গ) সধবার একাদশী
  4. ঘ) জামাই বরিক
সঠিক উত্তর:
গ) সধবার একাদশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা
উনিশ শতকের মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাসক্তি একশ্রেণীর যুবকের জীবনে বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছিলো। সধবার একাদশী সেই বিপর্যয়ের কাহিনী নিয়ে রচিত। এই নাটকের চরিত্র নিমে দত্ত বাংলা সাহিত্যের অবিস্মরণীয় চরিত্র। এই নাটকের কেনারাম চরিত্রের মধ্য দিয়ে তৎকালীন শিক্ষিত শ্রেণীর নৈতিক অবস্থান ফুটে উঠেছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৯৩২.
'ওই দূর বনে সন্ধ্যা নামিছে ঘন আবিরের রাগে' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• 'ওই দূর বনে সন্ধ্যা নামিছে ঘন আবিরের রাগে' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - জসীম উদ্‌দীন

'কবর' কবিতা:
- 'কবর' জসীম উদ্‌দীন এর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত কবিতা।
- এই কাব্যে মোট ১৯ টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- কবিতাটি প্রথম 'কল্লোল' পত্রিকায় ছাপা হয়।
- জসীমউদ্‌দীন এর ছাত্রাবস্থায় কবিতাটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়।
- এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮টি পঙ্‌ক্তি আছে।

কবর,
- জসীম উদ্‌দীন

এইখানে তোর দাদীর কবর ডালিম গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা।
সোনালী ঊষায় সোনামুখে তার আমার নয়ন ভরি,
লাঙ্গল লইয়া ক্ষেতে ছুটিতাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত,
এ কথা লইয়া ভাবি-সাব মোর তামাশা করিত শত।
------------------------------------------
ওই দূর বনে সন্ধ্যা নামিছে ঘন আবিরের রাগে,
এমনি করিয়া লুটায়ে পড়িতে বড় সাধ আজ জাগে।
মজীদ হইছে আজান হাঁকিছে বড় সকরুণ সুর,
মোর জীবনের রোজকেয়ামত ভাবিতেছি কত দুর!
জোড়হাতে দাদু মোনাজাত কর্, ‘আয় খোদা, রহমান,
ভেস্ত নাজেল করিও সকল মৃত্যু-ব্যথিত প্রাণ!’

জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য: 
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯৩৩.
বিভীষণের স্ত্রীর নাম কী?
  1. ক) ঊর্মিলা
  2. খ) মন্দোদরী
  3. গ) চিত্রঙ্গদা
  4. ঘ) সরমা
সঠিক উত্তর:
ঘ) সরমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সরমা
ব্যাখ্যা

সরমা - রামায়ণোক্ত বিভীষণপত্নী।
অর্থাৎ রামায়ণে যে বিভীষণের উল্লেখ আছে, তার স্ত্রীর নাম হচ্ছে সরমা। 

উৎসঃ বাংলা একাডেমি অভিধান 

৯৩৪.
‘ইরফান মণ্ডল’ ও ‘লালু’ কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. লালসালু
  2. নদীবক্ষে
  3. পদ্মার পলিদ্বীপ
  4. পল্লী সমাজ
সঠিক উত্তর:
নদীবক্ষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীবক্ষে
ব্যাখ্যা

⇒ 'নদীবক্ষে' উপন্যাস:
- কৃষক পরিবারকে কেন্দ্র করে কাজী আবদুল ওদুদ রচিত উপন্যাস 'নদীবক্ষে'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯১৮ সালে। এটি যতটুকু উপন্যাস তার চেয়ে বেশি সমাজচিত্র। 
- গ্রামীণ সমাজের কলহ, বিবাদ, দ্বন্দ্ব আবার মিলনের কথা চারটি কৃষক পরিবারকে কেন্দ্র করে এই গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। 
- উপন্যাসের চরিত্র: জমির শেখ, ইরফান মণ্ডল, লালু, মতি প্রমুখ। 

⇒ কাজী আবদুল ওদুদ:
- কাজী আবদুল ওদুদ একজন বাঙালি প্রাবন্ধিক, বিশিষ্ট সমালোচক, নাট্যকার ও জীবনীকার ছিলেন।
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার (বর্তমান রাজবাড়ী জেলার) পাংশায় একটি নিম্ন - মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৭০ সালের ১৯ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর সাহিত্য কর্মগুলো হলো:
• প্রবন্ধ:
- শাশ্বত বঙ্গ,
- বাংলার জাগরণ,
- কবিগুরু গ্যেটে (১ম ও ২য় খণ্ড ১৩৫৩),
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ (১ম খণ্ড ১৩৬৯, ২য় খণ্ড ১৩৭৬),
- হযরত মোহাম্মদ ও ইসলাম।
 
• উপন্যাস:
- আজাদ, 
- নদীবক্ষে।

• তাছাড়া:
- মির পরিবার (গল্প),
- মানব বন্ধু (নাটক), 
- পথ ও বিপথ (নাটক), 
- তরুণ (গল্প),
• তার সম্পাদনায় সংকলিত জনপ্রিয় বাংলা অভিধান - ব্যবহারিক শব্দকোষ (১৯৫৩)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯৩৫.
"ললাট লিখন দুঃখ যায় না খণ্ডন"- উক্তি টি কার?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) বিদ্যাপতি
  4. ঘ) আলাওল
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলাওল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলাওল
ব্যাখ্যা
"ললাট লিখন দুঃখ যায় না খণ্ডন" উক্তিটি কবি আলাওল 'পদ্মাবতী' কাব্যে করেছেন।
- মহাকবি আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যের নাম পদ্মাবতী।
- এই কাব্যটি আলাওল রচনা করেন মাগণ ঠাকুরের অনুরোধে।
- পদ্মাবতী রচিত বা প্রকাশিত হয় ১৬৪৮ সালে।
- এটি বিখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির পদুমাবত এর কাব্যোনুবাদ।

'পদ্মাবতী' কাব্যে কবি আলাওলের আরও কিছু উক্তি- 
- দিবসের মর্ম কভু না পুছে পেচক। 
- যমে প্রাণ হরি নিতে কিবা নিশি দিশি। 
- ভাগ্য বিপরীত হৈলে খণ্ডে সব সুখ। 
- পড়শী হৈলে শত্রু গৃহে সুখ নাই। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৯৩৬.
আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত একক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক কোনটি?
  1. ক) কোকিলারা
  2. খ) এখনও ক্রীতদাস
  3. গ) ক্রীতদাসের হাসি
  4. ঘ) সুবচন নির্বসনে
সঠিক উত্তর:
ক) কোকিলারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কোকিলারা
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত একক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক 'কোকিলারা'।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে।  

নাট্যকার আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত অন্যান্য নাটক - 
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৩৭.
"কিশোর, সুবল" - কোন উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র?
  1. পদ্মা নদীর মাঝি
  2. সূর্য দীঘল বাড়ী
  3. তিতাস একটি নদীর নাম
  4. পদ্মার পলিদ্বীপ
সঠিক উত্তর:
তিতাস একটি নদীর নাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিতাস একটি নদীর নাম
ব্যাখ্যা

'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাস:
• অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম'। নিম্নজীবী মানুষের ব্যথা বেদনাকে আপন অভিজ্ঞতার আলোকে নির্মিত বাস্তবতার নাম ‘তিতাস একটি নদীর নাম’।

• উপন্যাসটি প্রথমে মাসিক পত্রিকা মোহাম্মদীতে প্রকাশিত হয়েছিল। কয়েকটি অধ্যায় মোহাম্মদীতে মুদ্রিত হওয়ার পর উপন্যাসটির মূল পাণ্ডুলিপি হারিয়ে যায়। পরে বন্ধু-বান্ধব ও অত্যাগ্রহী পাঠকদের অনুরোধে তিনি পুনরায় কাহিনীটি লেখেন। কাঁচড়াপাড়া হাসপাতালে ভর্তির আগে এই গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি বন্ধু-বান্ধবকে দিয়ে যান। তার মৃত্যুর কয়েক বছর পর ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদী তীরের ধীবর (জেলে ও মৎসজীবী) সমাজের রীতি-নীতি, ধর্ম-সংস্কার উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।

• উপন্যাসটিকে কেন্দ্র করে খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক কুমার ঘটক ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে তিতাস একটি নদীর নাম শিরোনামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন যা; ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কিশোর,
- সুবল,
- অনন্ত,
- তিলক,
- বাসন্তী ও
- মনমালী প্রমুখ।

অন্যদিকে,
- 'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
 - কুবের, কপিলা, মালা, হোসেন মিয়া, ধনঞ্জয়, শীতলবাবু।

• আবু ইসহাকের উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ী'। 
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি। 

• আবু ইসহাকের দীর্ঘ সময়ব্যাপী রচিত 'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাসের চরিত্র:
- ফজল, এরফান মাতব্বর, আরশেদ মোল্লা, জঙ্গুরুল্লা, জরিনা, রুপজান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; তিতাস একটি নদীর নাম, অদ্বৈত মল্লবর্মণ।

৯৩৮.
"জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে" - চরণটি কার লিখা?
  1. মাইকেল মধুসূধন দত্ত
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. আব্দুল হাকিম
  4. আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূধন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূধন দত্ত
ব্যাখ্যা

বঙ্গভূমির প্রতি-
মাইকেল মধুসূধন দত্ত।

"জন্মিলে মরিতে হবে
অমর কে কোথা কবে?
চিরস্থির কবে নীড়
হায় রে জীবন নদে"?
"জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে" এই চরণটি  মধুসূধন দত্তের 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার অংশ।
- এটি একটি গীতিকবিতা এবং 'বিবিধ কাব্য' নামক কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

• মাইকেল মধুসূধন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন একজন মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদনের শিক্ষার পর্ব শুরু হয়। 
- মাদ্রাজে অবস্থানকালে Timothy Penpoem ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie (১৮৪৮) প্রকাশিত হয়।
- ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচিত তার শর্মিষ্ঠা নাটক বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক হিসেবে বিবেচিত হয়।

• ১৮৫৯ সালে মধুসূদন রচনা করেন দুটি প্রহসন: 
- একেই কি বলে সভ্যতা;
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ। 

• মধুসূধন দত্তের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমা সম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী  কবিতাবলি,
- বিবিধ কাব্য।
• মাইকেল মধুসূধনের একমাত্র গদ্য গ্রন্থ হল- হেক্টরবধ (অসমাপ্ত)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

৯৩৯.
‘বিনোদিনী ও আশালতা’ চরিত্রদ্বয়ের স্রষ্টা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
  5. ক + খ
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন।
- এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্র’র স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

• উপন্যাসের প্রধান চরিত্র
- বিনোদিনী,
- মহেন্দ্র,
- আশালতা,
- বিহারী,
- রাজলক্ষী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও চোখের বালি উপন্যাস।
৯৪০.
'আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।'- উক্তিটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সমাপ্তি
  2. পোস্টমাস্টার
  3. অপরিচিতা
  4. হৈমন্তী
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
ব্যাখ্যা
• 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির।
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

• গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি-
- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই"।
- 'আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।'

রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক আরও কিছু ছোটগল্প-
- দেনাপাওনা,
- অপরিচিতা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ ইত্যাদি।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৪১.
'পোস্টমাস্টার' ছোটগল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. মৃন্ময়ী
  2. চন্দরা
  3. রতন
  4. সুরবালা
সঠিক উত্তর:
রতন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রতন
ব্যাখ্যা
• 'রতন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'পোস্টমাস্টার' ছোটগল্পের চরিত্র।

---------------------- 
 • 'পোস্টমাস্টার' ছোটগল্প সম্পর্কিত আলোচনা:  
- পোস্টমাস্টার ছোটগল্পটি রবীন্দ্রনাথের প্রথম দিককার ছোটগল্পগুলোর অন্যতম। 
- একটি স্বজনহারা নিঃসহায় গ্রাম্য বালিকার স্নেহালোলুপ হৃদয়ে আসন্ন স্নেহবিচ্যুতির আশঙ্কায় কী সকরুণ ভাবাবেগ উদ্বেলিত হয়েছে তা গল্পের শেষাংশে প্রতিফলিত হয়েছে এবং পাঠকের হৃদয়ে তা অনুরণিত হয়েছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে।
- এই ছোটগল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র 'রতন'। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পের বিখ্যাত চরিত্র:  
- তাঁর 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- তাঁর 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- তাঁর 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'। 
- পোস্টমাস্টার ছোটগল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।
- ‘ ক্ষুধিত পাষাণ’ ছোটগল্পের চরিত্র 'মেহের আলি'। 

--------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র: 
- তাঁর 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র: কুমুদিনী।
- তাঁর চোখের বালি' উপন্যাসের চরিত্র - বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- তাঁর 'ঘরে বাইরে' উপন্যাসের চরিত্র- বিমলা, নিখিলেশ, সন্দীপ।
- তাঁর গোরা উপন্যাসের চরিত্র- গোরা, বিনয়, সুচরিতা, ললিতা, লাবণ্য।
- তাঁর দুই বোন উপন্যাসের চরিত্র- শশাঙ্ক, শর্মিল, ঊর্মিলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার, 'নষ্টনীড়' গল্প ও রবীন্দ্র রচনা সমগ্র।
৯৪২.
"ঈশ্বর থাকেন ঐ গ্রামে, ভদ্রপল্লীতে, এইখানে তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না।"- উক্তিটি কোন উপন্যাসের?
  1. লালসালু
  2. ইছামতী
  3. হাজার বছর ধরে
  4. পদ্মানদীর মাঝি
সঠিক উত্তর:
পদ্মানদীর মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মানদীর মাঝি
ব্যাখ্যা
• "ঈশ্বর থাকেন ঐ গ্রামে, ভদ্রপল্লীতে, এইখানে তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না।"- উক্তিটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের অন্তর্গত।

• ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- এই উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

-----------------------
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- অহিংসা,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- আরোগ্য প্রভৃতি।

উৎস: ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৪৩.
"আপনাকে বড় বলে
বড় সেই নয়,
লোকে যারে বড় বলে
বড় সেই হয়।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. হরিশচন্দ্র মিত্র
  2. কুসুমকুমারী দাশ
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  4. সুকুমার রায়
সঠিক উত্তর:
হরিশচন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিশচন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
"আপনাকে বড় বলে
বড় সেই নয়,
লোকে যারে বড় বলে
বড় সেই হয়।" - পঙ্‌ক্তিগুলো হরিশচন্দ্র মিত্র রচিত ‘বড় কে’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।
 ----------------- 
হরিশচন্দ্র মিত্র:
- হরিশচন্দ্র মিত্র তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি ১৮৩৭ সালে ঢাকায় এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৫৮ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
 
তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক গুলো হলো:
- ম্যাও ধরবে কে, 
- ঘর থাকতে বাবুই ভেজ,
- জানকী নাটক,
- জয়দ্রথবধ বৃত্তান্ত ইত্যাদি।
 
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো: 
- হাস্যরসতরঙ্গিণী,
- বিধবা বঙ্গললনা,
- বীর বাক্যাবলী,
- কীচকবধ কাব্য,
- বঙ্গবালা,
- রামায়ণ ইত্যাদি।
 
তাঁর গীতিনাট্যগুলি হলো: 
- আগমনী,
- নতুন জামাই,
- হঠাৎ বাবু,
- ছাল নাই কুকুরের বাঘা নাম ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া; ‘বড় কে’ কবিতা।
৯৪৪.
"ভানুমতী" কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. পথের পাঁচালী
  2. আরণ্যক
  3. ইছামতী
  4. অপরাজিত
সঠিক উত্তর:
আরণ্যক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরণ্যক
ব্যাখ্যা

‘আরণ্যক’ উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘আরণ্যক’। 
- ভাগলপুরের নিকটবর্তী বনঞ্চলের নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন নিয়ে রচিত হয়েছে আরণ্যক উপন্যাস।
- প্রধান চরিত্র: ভানুমতী, বনোয়ারী, দোবরু, বুদ্ধু সিংহ।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৯৪৫.
‘আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি’ চরণটির রচয়িতা-
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. শামসুর রাহমান
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. শামসুজ্জামান খান
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• ‘আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি’ চরণটির রচয়িতা- সৈয়দ শামসুল হক। 
- আলোচ্য পঙ্‌ক্তিদ্বয় সৈয়দ শামসুল হক রচিত 'আমার পরিচয়' কবিতার অংশ।  

• সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

• সৈয়দ শামসুল হকের প্রবন্ধ: হৃৎকলমের টানে।
---------------
আমার পরিচয়- কবিতা, 
- সৈয়দ শামসুল হক।

আমি জন্মেছি বাংলায়
আমি বাংলায় কথা বলি।
আমি বাংলার আলপথ দিয়ে, হাজার বছর চলি।
চলি পলিমাটি কোমলে আমার চলার চিহ্ন ফেলে।
তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?

আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে
আমি তো এসেছি সওদাগরের ডিঙার বহর থেকে।
আমি তো এসেছি কৈবর্তের বিদ্রোহী গ্রাম থেকে
আমি তো এসেছি পালযুগ নামে চিত্রকলার থেকে।

এসেছি বাঙালি পাহাড়পুরের বৌদ্ধবিহার থেকে
এসেছি বাঙালি জোড়বাংলার মন্দির বেদি থেকে।
এসেছি বাঙালি বরেন্দ্রভূমে সোনা মসজিদ থেকে
এসেছি বাঙালি আউল-বাউল মাটির দেউল থেকে।(সংকলিত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৪৬.
'কেশব এবং বৈকুণ্ঠ' দীনবন্ধু মিত্র রচিত কোন নাটকের চরিত্র?
  1. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  2. কমলে কামিনী
  3. সধবার একাদশী
  4. নীলদর্পণ
সঠিক উত্তর:
বিয়ে পাগলা বুড়ো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিয়ে পাগলা বুড়ো
ব্যাখ্যা
'বিয়ে পাগলা বুড়ো' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক।
- 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' মূলত এক ধরনের হাস্যরসাত্মক নাটক।
- বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন যে এই নাটক কোনো 'জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করিয়া লিখিত হইয়াছিল।
- ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নসিরাম, রতা, রাজীব,ন রাজমণি, কেশব, বৈকুণ্ঠ ইত্যাদি।
 
তাঁর রচিত নাটক:
- নীলদর্পণ, 
- নবীন তপস্বিনী, 
- সধবার একাদশী, 
- লীলাবতী 
- কমলে কামিনী।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯৪৭.
'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাসের কেন্দীয় চরিত্র কোনটি?
  1. ফজল
  2. এরফান মাতব্বর
  3. রূপজান
  4. জরিনা
সঠিক উত্তর:
ফজল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফজল
ব্যাখ্যা
'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাস:
- আবু ইসহাকের দীর্ঘ সময়ব্যাপী রচিত উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার মুক্তধারা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশ পেলেও ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে আবু ইশাক উপন্যাসটি রচনায় হাত দেন।
- উপন্যাসের প্রথম ষোলটি অধ্যায় বাংলা একাডেমীর 'উত্তরাধিকার' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে মে ১৯৭৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। অবশ্য তখন এর নাম ছিল ‘মধুর মাটি’।
- এ উপন্যাসে পদ্মা তীরবর্তী চরকেন্দ্রিক অধিবাসী, তাদের চরদখল, জীবন-সংগ্রাম মুখ্য।
- ফজল এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো: এরফান মাতব্বর, আরশেদ মোল্লা, জঙ্গুরুল্লা, জরিনা, রূপজান ইত্যাদি।

আবু ইসহাকের উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯৪৮.
"জন্মেছি মাগো তোমার
কোলেতে মরি যেন এই দেশে।" - উক্তিটি কোন সাহিত্যিকের রচনায় পাওয়া যায়?
  1. কায়কোবাদ
  2. অতুলপ্রসাদ সেন
  3. সুফিয়া কামাল
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• 'জন্মেছি মাগো তোমার কোলেতে,
মরি যেন এই দেশে' কবিতাংশটুকুর রচয়িতা- সুফিয়া কামাল।

• সুফিয়া কামাল:
- জননী সাহসিকা হিসেবে পরিচিত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
--------------------------
জন্মেছি এই দেশে- কবিতা, 
- সুফিয়া কামাল---সংকলিত (সুফিয়া কামাল)

অনেক কথার গুঞ্জন শুনি
অনেক গানের সুর
সবচেয়ে ভাল লাগে যে আমার
‘মাগো’ ডাক সুমধুর।
আমার দেশের মাঠের মাটিতে
কৃষাণ দুপুরবেলা
ক্লান্তি নাশিতে কন্ঠে যে তার
সুর লয়ে করে খেলা।

মুক্ত আকাশে মুক্ত মনের
সেই গান চলে ভেসে
জন্মেছি মাগো তোমার কোলেতে
মরি যেন এই দেশে।

এই বাংলার আকাশ-বাতাস
এই বাংলার ভাসা
এই বাংলার নদী, গিরি-বনে
বাঁচিয়া মরিতে আশা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, জন্মেছি এই দেশে- কবিতা।
৯৪৯.
''জন্মিলে মরিতে হবে, / অমর কে কোথা কবে,''— চরণদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. ক) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) কালিদাস রায়
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিদ্বয়ের রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 
- তিনি কবিতাটি লর্ড বায়রনের “My native Land, Good Night!” কবিতা থেকে উদ্ভূদ্ধ হয়ে রচনা করেন।

বঙ্গভূমির প্রতি
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত

রেখো মা দাসেরে মনে, এ মিনতি করি পদে
সাধিতে মনের সাধ,
ঘটে যদি পরমাদ,
মধুহীন করো না গো তব মনঃকোকনদে।
প্রবাসে দৈবের বশে,
জীব-তারা যদি খসে
এ দেহ-আকাশ হতে, – খেদ নাহি তাহে।
জন্মিলে মরিতে হবে,
অমর কে কোথা কবে,
চিরস্থির কবে নীর, হায় রে, জীবন-নদে? (সংকলিত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বঙ্গভূমির প্রতি কবিতা।
৯৫০.
"সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।"- মন্তব্যটি কোন উপন্যাসে উদ্ধৃত হয়েছে?
  1. দিবারাত্রির কাব্য
  2. পুতুল নাচের ইতিকথা
  3. ইতিকথার পরের কথা
  4. শহরবাসের ইতিকথা
সঠিক উত্তর:
পুতুল নাচের ইতিকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুতুল নাচের ইতিকথা
ব্যাখ্যা
• "পুতুল নাচের ইতিকথা" উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পুতুল নাচের ইতিকথা'।
- 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস সম্পর্কে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন-"সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।"- এই উপন্যাসে সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ আছে।
- এই উপন্যাসে 'পুতুল' বলতে সেসকল মানুষকে বোঝানো হয়েছে যারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাড়াতে পারে না; পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়।
- 'শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?' উক্তিটি উপন্যাসে ডাক্তার শশী কুসুমকে উদ্দেশ্য করে বলে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো-
- শশী,
- কুসুম,
- গোপাল,
- সেনদিদি,
- যাদব পণ্ডিত ইত্যাদি।

-------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো-
- জননী (প্রথম প্রকাশিত),
- চিহ্ন,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- সোনার চেয়ে দামি,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস।
৯৫১.
'শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে'- চরিণটির রচয়িতা কে?
  1. যতীন্দ্র মোহন বাগচী
  2. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
মদনমোহন তর্কালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মদনমোহন তর্কালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• 'শিশুগণ দেয় মন  নিজ নিজ পাঠে'- চরিণটির রচয়িতা: 'মদনমোহন তর্কালঙ্কার'। 
-----------------
• মদনমোহন তর্কালঙ্কার: 
- মদনমোহন তর্কালঙ্কার কবি, সমাজসেবক।
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত। 
- মদনমোহন বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় ‘সংস্কৃত-যন্ত্র’ (১৮৪৭) নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন।
- সেখান থেকে ভারতচন্দ্রের  অন্নদামঙ্গল কাব্যটি সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয়।

• তাঁর মৌলিক কাব্যগ্রন্থ: 
- রসতরঙ্গিণী, 
- বাসবদত্তা।

- তিন খণ্ডে প্রকাশিত তাঁর শিশু শিক্ষা শিশুদের উপযোগী একটি অনন্যসাধারণ গ্রন্থ;
- ‘পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল’ এই বিখ্যাত উক্তিটি রচনা করেন তিনি।

- কবি-প্রতিভার জন্য  সংস্কৃত কলেজ থেকে তিনি ‘কাব্যরত্নাকর’ এবং পান্ডিত্যের জন্য ‘তর্কালঙ্কার’ উপাধি লাভ করেন।
- ১৮৫৮ সালের ৯ মার্চ  কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

পাখি-সব করে রব- কবিতা, 
– মদনমোহন তর্কালঙ্কার। 

পাখী-সব করে রব, রাতি পোহাইল।
কাননে কুসুমকলি, সকলি ফুটিল।।
রাখাল গরুর পাল, ল’য়ে যায় মাঠে।
শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে।।

ফুটিল মালতী ফুল, সৌরভ ছুটিল।
পরিমল লোভে অলি, আসিয়া জুটিল।।
গগনে উঠিল রবি, লোহিত বরণ।
আলোক পাইয়া লোক, পুলকিত মন।।

শীতল বাতাস বয়, জুড়ায় শরীর।
পাতায় পাতায় পড়ে, নিশির শিশির।।
উঠ শিশু মুখ ধোও, পর নিজ বেশ।
আপন পাঠেতে মন, করহ নিবেশ।।

উৎস: পাখি-সব করে রব- কবিতা, বাংলাপিডিয়া।
৯৫২.
’তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’- পঙক্তিটির লেখক কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. আল মাহমুদ
  3. শামসুর রাহমান
  4. হুমায়ূন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• কবিতা: তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা।
• কবি: শামসুর রহমান।

- তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা
- তোমাকে পাওয়ার জন্যে
- আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়?
- আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন ?
- তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা,
----------------------------------------
• শামসুর রাহমান:
-  শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
-  ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।
- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে। 
- তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
- যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। 

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৫৩.
'মোকাজান মিয়া' চরিত্রটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চাঁদের অমাবস্যা
  2. লালসালু 
  3. পদ্মানদীর মাঝি 
  4. আলালের ঘরের দুলাল
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা

• 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'। আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- তার আগে ১৮৫৪ সাল থেকে 'মাসিক পত্রিকা' তে ধারাবাহিকভাবে এটি প্রকাশিত হতে থাকে।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- 'দুনিয়া সাচ্চা নয়-মুই একা সাচ্চা হয়ে কি করবো?'- উপন্যাসে উক্তিটি বলেছেন ঠকচাচা।

- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়। পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।

- এছাড়াও উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রে হচ্ছে- বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৫৪.
‘জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরনো শকুন’- কোন কবির রচনা?
  1. শহীদ কাদরী
  2. মাহাবুবুল আলম চৌধুরী
  3. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. নির্মলেন্দু গুণ
সঠিক উত্তর:
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
ব্যাখ্যা

কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর বিখ্যাত কবিতা ‘বাতাশে লাশের গন্ধ’ থেকে প্রশ্নের পঙক্তিটি নেওয়া হয়েছে।
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর কাব্যগুলো :
- উপদ্রুত উপকূল
- ফিরে চাই স্বর্নগ্রাম
- মানুষের মানচিত্র
- দিয়েছিলে সকল আদেশ
- মৌলিক মুখোশ
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯৫৫.
“আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে” পঙ্‌ক্তির রচয়িতা কে?
  1. কুসুমকুমারী দাশ
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা

• “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে” কবিতার রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ

• ‘আদর্শ ছেলে’:
"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?
মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন,
‘মানুষ হইতে হবে’ – এই যার পণ"৷

• কুসুমকুমারী দাশ:
- কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক বিশিষ্ট মহিলা কবি।
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- এবং ১৯৪৮ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র জীবনানন্দ দাশ বাংলা কাব্যজগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় কবি হিসেবে স্বীকৃত।
- কুসুমকুমারী দেবী মূলত শিশুতোষ ও নীতিপ্রধান কবিতার জন্য সুপরিচিত।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা “আদর্শ ছেলে”।
- কবিতাটির প্রথম পঙক্তি “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে”—বাংলার শিক্ষাক্ষেত্রে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং বহু পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, 
• কুসুমকুমারী দাশ শিশুদের জন্য লিখেছিলেন “কবিতা মুকুল” নামে একটি পুস্তিকা, যা তাঁর উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ সাহিত্যকর্ম হিসেবে পরিচিত।
• তাঁর উল্লেখযোগ্য গদ্যরচনার মধ্যে রয়েছে: “পৌরাণিক আখ্যায়িকা”।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৯৫৬.
"সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা-পলায়ন
ভাবিলাম হায় আর কি কোথায় ফিরে পাব সে জীবন!" - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. দুই বিঘা জমি
  2. সোনার তরী
  3. শেষের কবিতা
  4. নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
সঠিক উত্তর:
দুই বিঘা জমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই বিঘা জমি
ব্যাখ্যা

"সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা-পলায়ন
ভাবিলাম হায় আর কি কোথায় ফিরে পাব সে জীবন!" - পঙ্‌ক্তিদ্বয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'দুই বিঘা জমি' নামক কবিতা থেকে নেওয়া। কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের 'কাহিনী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- পরে রবীন্দ্রনাথের ‘কথা’ কাব্যগ্রন্থের সহযোগে ‘কাহিনী’ ও ‘কথা’ কাব্য দুটি একসাথে ‘কথা ও কাহিনী’ নামে প্রকাশিত হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম অভিনয় ছিল জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের এমন কর্ম আর করব না নাটকে অলীকবাবুর ভূমিকায়।
- কবির শেষ বয়সের প্রায় সব নাটকই শান্তিনিকেতনে রচিত।
- বলাকা কাব্যের জীবনতত্ত্বকেই কবি রূপ দিয়েছেন ফাল্গুনী নাটকে।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৯৫৭.
‘কমলা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. চতুরঙ্গ
  2. ঘরে-বাইরে
  3. মালঞ্চ
  4. নৌকাডুবি
সঠিক উত্তর:
নৌকাডুবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌকাডুবি
ব্যাখ্যা

‘কমলা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'নৌকাডুবি' উপন্যাসের চরিত্র। 

•  ‘নৌকাডুবি’ উপন্যাস সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নৌকাডুবি’ উপন্যাসটি ১৩১০–১১ বঙ্গাব্দে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নৌকাডুবি’ উপন্যাসে গল্পের মূল চালিকাশক্তি হলো ঝড়ে নৌকাডুবি।
- গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যা।
- গল্পের মূল চরিত্রগুলো হলো- রমেশ, হেমনলিনী, কমলা ও অন্নদাবাবু।
- নৌকাডুবির ঘটনা কিভাবে রমেশ হেমনলিনী ও কমলার জীবনকে বদলে দিয়েছে তা নিয়েই গল্পের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে।
- উপন্যাসে প্রেম, ভুল বোঝাবুঝি, পারিবারিক ও সামাজিক বাধ্যবাধকতা, চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব এবং কমলার ত্যাগ ও আত্মমর্যাদা সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।

---------------------------- 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে  কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা ছিলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তাঁর পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। 
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান। 
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর ও দার্শনিক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত। 
- তিনি বেশ কিছু উপন্যাস রচনা করেছেন।

- তার বিখ্যাত উপন্যাসসমূহ- 
• বৌঠাকুরাণীর হাট (প্রথম),
• রাজর্ষি, 
• চোখের বালি, 
• নৌকাডুবি, 
• ঘরে-বাইরে,
• শেষের কবিতা,
• করুণা (অগ্রন্থিত),  
• যোগাযোগ ইত্যাদি। 
---------------------------- 
অন্যদিকে, 
- রবিঠাকুর রচিত চতুরঙ্গ’ উপন্যাসের চরিত্র— জ্যাঠামশাই, শচীশ, দামিনী এবং শ্রীবিলাস।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ঘরে বাইরে' উপন্যাসের চরিত্র— নিখিলেশ (উদারপন্থী জমিদার), বিমলা (নিখিলেশের স্ত্রী) এবং সন্দ্বীপ (উগ্র জাতীয়তাবাদী বন্ধু)।
- রবিঠাকুরের 'মালঞ্চ' উপন্যাসের মূল চরিত্র— নীরজা, আদিত্য, সরলা, রমেন। 

উৎস:
সংশ্লিষ্ট উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৯৫৮.
'ওসমান' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র? 
  1. চন্দ্রশেখর
  2. দুর্গেশনন্দিনী
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. বিষবৃক্ষ
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা

• দুর্গেশনন্দিনী:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম ও সার্থক বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।

উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- বীরেন্দ্র সিংহ,
- ওসমান,
- জগৎসিংহ,
- তিলোত্তমা,
- আয়েশা,
- বিমলা প্রমুখ।

-------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৯৫৯.
'মুখটা মুছে ফ্যাল বাঁদর, নুন লেগে রয়েছে যে' - উক্তিটি কোন উপন্যাসের?
  1. অপরাজিত
  2. ইছামতী
  3. আদর্শ হিন্দু হোটেল
  4. পথের পাঁচালী
সঠিক উত্তর:
পথের পাঁচালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথের পাঁচালী
ব্যাখ্যা
• 'মুখটা মুছে ফ্যাল বাঁদর, নুন লেগে রয়েছে যে' - উক্তিটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের।

লুকিয়ে আম খাওয়ার সময় অপুর মুখে নুন লেগে থাকায় মা দেখে ফেলবে বলে দুর্গা একথা বলে। দুর্গা অপুকে নিয়ে আমের কুচি তেল ও নুন দিয়ে মিশিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে খাচ্ছিল। হঠাৎ ওদের মা বাড়িতে আসায় তাড়াতাড়ি আম খেতে শুরু করে। মা ডাকলে গুড়ির আড়ালে দাঁড়িয়ে আমগুলো গোগ্রাসে গিলতে শুরু করে। কারণ চিবানোর সময় নেই। আম খাওয়ার সময় অপুর মুখে লবণ লেগে থাকতে দেখে দুর্গা আলোচ্য উক্তিটি করে।

'পথের পাঁচালী' উপন্যাস:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ। 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস।
৯৬০.
"মালঞ্চ" উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. ইন্দ্রনাথ
  2. সরলা
  3. দামিনী
  4. বিমলা
সঠিক উত্তর:
সরলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরলা
ব্যাখ্যা

"মালঞ্চ" উপন্যাস:
- 'মালঞ্চ' রবীন্দ্রনাথের পরকীয়া নির্ভর ত্রিভুজ প্রেমের উপন্যাস।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নীরজা, আদিত্য, সরলা
- চরিত্রগুলোর মাঝে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বই এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

অন্যদিকে,
- ইন্দ্রনাথ - চার অধ্যায় উপন্যাসের চরিত্র।
- দামিনী - চতুরঙ্গ উপন্যাসের চরিত্র।
- বিমলা- ঘরে বাইরে।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
চোখের বালি,
নৌকাডুবি,
বউ ঠাকুরানীর হাট,
দুই বোন,
গোরা,
রাজর্ষি,
শেষের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৬১.
'পৃথিবীর শিল্পী মাত্রেই এই শিল্পের খেলা খেলে থাকেন।'- উক্তিটি কার?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  3. প্রমথ চৌধুরী 
  4. সুফিয়া কামাল 
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী 
ব্যাখ্যা

'পৃথিবীর শিল্পী মাত্রেই এই শিল্পের খেলা খেলে থাকেন।' উক্তিটি প্রমথ চৌধুরীর 'সাহিত্যের খেলা' প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত। 

উক্তিটির বিশ্লেষণ-

পৃথিবীর সকল শিল্পীরই শিল্প সৃষ্টির প্রয়াসকে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের লেখক খেলা হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
লেখক মত প্রকাশ করেছেন যে, শিল্পী যা কিছু সৃষ্টি করেন সেটি শিল্পীর কাছে একরকম খেলারই নামান্তর। বিখ্যাত ফরাসি ভাস্কর রোদ্যার সৃষ্টিকর্মকে উদাহরণ হিসেবে দেখিয়েছেন তিনি। মাটি নিয়ে পুতুল গড়ার খেলা খেলেই পৃথিবী জোড়া খ্যাতি পেয়েছেন রোদ্যা। ঠিক তেমনই পৃথিবীর সকল শিল্পীই খেলার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত অভিনব সব সৃষ্টিশীল শিল্পকর্ম সৃষ্টি করে যাচ্ছেন।

--------------------
প্রমথ চৌধুরীর 'সাহিত্যের খেলা' প্রবন্ধের এরূপ কিছু বিখ্যাত উক্তি হলো-
• 'কাব্যজগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা।'- (সাহিত্যের খেলা)।
• 'সাহিত্যের উদ্দেশ্যে সকলকে আনন্দ দান করা কারো মনোরঞ্জনের বিষয় নহে'- (সাহিত্যে খেলা)।
• ‘বেদীতে না বসলে আমাদের উপদেশ কেউ মানে না।’
• 'যিনি গড়তে জানেন, তিনি শিবও গড়তে পারেন বাঁদরও গড়তে পারেন।'
• 'সাহিত্য শিক্ষার ভার নেয় না, কেননা মনোজগতে শিক্ষকের কাজ হচ্ছে কবির কাজের ঠিক উলটো।'

উৎস: 'সাহিত্যের খেলা' প্রবন্ধ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৯৬২.
মোকাজান মিঞা প্যারীচাঁদ মিত্রের কোন উপন্যাসটির জীবন্ত চরিত্র?
  1. ক) রামারঞ্জিকা
  2. খ) আলালের ঘরের দুলাল
  3. গ) যৎকিঞ্চিৎ
  4. ঘ) গীতাঙ্কুর
সঠিক উত্তর:
খ) আলালের ঘরের দুলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা
আলালের ঘরের দুলাল:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম উপন্যাস আলালের ঘরের দুলাল।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ‘মাসিক’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- ঠকচাচা চরিত্রটি প্যারীচাঁদ মিত্রের উপন্যাস ‘আলালের ঘরের দুলাল’ এর মজার একটি চরিত্র, যার কেন্দ্রীয় চরিত্র মতিলাল।
-  মোকাজান মিঞা বা ঠকচাচা চরিত্রটি ধূর্ততা, বৈষয়িক বুদ্ধি ও প্রানময়তা নিয়ে এ গ্রন্থের সর্বাপেক্ষা জীবন্ত চরিত্র।
- কেউ বলেন ‘আলালের ঘরের দুলাল’  বাংলা ভাষায় প্রথম উপন্যাস গ্রন্থ।

• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- প্যারীচাঁদ মিত্র ‘টেকচাঁদ ঠাকুর’ ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন।
-  প্যারীচাঁদ মিত্র ২২শে জুলাই ১৮১৪ সালে জন্ম গ্রহণ করেন এবং ২৩শে নভেম্বর ১৮৮৩ সালে মৃত্যবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:  
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়,
- রামারঞ্জিকা,
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত এবং
- বামাতোষিণী 
- যৎকিঞ্চিৎ
- গীতাঙ্কুর
 
• The Zamindar and Royats: এই গ্রন্থটি তখনকার সময়ে অনেক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। কারণ, এটি রচিত হয়েছিল চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৬৩.
'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাসে নির্যাতিতা কালো মেয়েটি কে?
  1. আমেনা
  2. নাজমা
  3. জীবন
  4. রেণু
সঠিক উত্তর:
নাজমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাজমা
ব্যাখ্যা
• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখিত উপন্যাস 'একটি কালো মেয়ের কথা' রচনা করেছিলেন শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যয়। কর্তব্যের তাগিদেই, মহান মুক্তিযুদ্ধের চল্লিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে অধুনা বিস্মৃত এই উপন্যাসটি পুনর্প্রকাশিত হলো।

- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যয়ের সর্বশেষ উপন্যাস।

- উপন্যাসে পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে ‘স্পাই’ হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে।

জবানবন্দিতে ডেভিড বলেছে: 
'এরই মধ্যে এই দেশটাকে এমন করে ভালবেসে ফেললাম যে এই আমার সব থেকে ভোলো দেশ, এর থেকে ভালো দেশ আর নেই। আর এই দেশই আমার দেশ।’

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ- 
সংগীত শিল্পী ও ট্রানজিস্টার-মেকানিক ডেভিড ভিক্ষাজীবী পিতার কন্যা নাজমার সঙ্গে সঙ্গীত-প্রতিভায় বিমুগ্ধ ছিল। এই নাজমাই পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর তাঁবেদার এক পাঞ্জাবির বলাৎকারের শিকার হয়। নির্যাতিতা ও সন্তানহারা কালো মেয়ে নাজমা ১৯৭১-এর বাংলাদেশের প্রতিরূপক হয়ে উঠেছে উপন্যাসে। তবে, উপন্যাসটিতে ব্যক্তিগত কথকতা ছাপিয়ে বড়ো হয়ে উঠেছে পূর্ব বাংলার সমাজ-রাজনীতি, গণহত্যা ও বাঙালির মহান মুক্তিযুদ্ধ।

উৎস: 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস।
৯৬৪.
'খুল্লনা' কোন মঙ্গলকাব্যের চরিত্র?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) চণ্ডীমঙ্গল
  3. গ) ধর্মমঙ্গল
  4. ঘ) কালিকামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
খ) চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
চন্ডীমঙ্গল  মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
- চন্ডীদেবীর কাহিনী এর উপজীব্য।
- এই চন্ডীদেবীও মূলত অনার্যসম্ভূতা, পরে বৌদ্ধ ও হিন্দু তন্ত্রের দেবকল্পনার প্রভাবে পর্যায়ক্রমে পৌরাণিক দেবতায় পরিণত হন।
- এর বিষয়বস্ত্ত দুটি সামাজিক কাহিনীকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে।
- প্রথমটি কালকেতু-ফুল্লরার জীবনকথা এবং
- দ্বিতীয়টি ধনপতি-লহনা-খুল্লনার কাহিনী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৬৫.
‘মহেন্দ্র’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন দুটি উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. চোখের বালি ও দুইবোন
  2. চোখের বালি ও করুণা
  3. চতুরঙ্গ ও চোখের বালি
  4. করুণা ও মালঞ্চ
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি ও করুণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোখের বালি ও করুণা
ব্যাখ্যা
• 'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন।
- এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্র’র স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলো:
- বিনোদিনী,
- মহেন্দ্র,
- আশালতা,
- বিহারী,
- রাজলক্ষী প্রমুখ।

-------------------
• ‘করুণা’ উপন্যাস:
• ‘করুণা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা প্রথম উপন্যাস, কিন্তু গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস নয়।
• রবীন্দ্রনাথের গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘বৌঠাকুরাণীর হাট’।
• মাসিক ‘ভারতী’ পত্রিকায় এক বছর ধরে (আশ্বিন-ভাদ্র ১২৮৪-৮৫) ‘করণা’ উপন্যাসটি ছাপা হয়।
• তবে ‘করুণা’ উপন্যাসটি রবীন্দ্রনাথের জীবৎকালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় নি। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুবরণের (১৯৪১) পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত ‘রবীন্দ্র রচনাবলি’তে (১৯৬১) ‘করুণা’ প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• সাতাশ পরিচ্ছেদ বিশিষ্ট এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মহেন্দ্র,
- মোহিনী,
- রজনী।

অন্যদিকে, 
• 'দুইবোন' উপন্যাসের চরিত্রগুলো হচ্ছে- শর্মিলা ও উর্মিলা। 
• 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের চরিত্রগুলো হচ্ছে- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ।
• চতুরঙ্গ উপন্যাসে চতুরঙ্গ হলো চারটি চরিত্র- জ্যাঠামশাই, শচীশ, দামিনী, শ্রীবিলাস।
• ‘মালঞ্চ’ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নীরজা, আদিত্য, সরলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯৬৬.
'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র হচ্ছে-
  1. মহিম
  2. নরেন
  3. রমেশ
  4. ইন্দ্রনাথ
সঠিক উত্তর:
ইন্দ্রনাথ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্দ্রনাথ
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস। উপন্যাসটি চারটি খণ্ডে রচিত।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭)' শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশিত হয়।
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রী শ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র হচ্ছে- 'ইন্দ্রনাথ'।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- শ্রীকান্ত,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদাদিদি,
- অভয়া,
- রোহিণী,
- কমললতা প্রমুখ।

অন্যদিকে, 
- গৃহদাহ - মহিম, সুরেশ,  অচলা।
- পল্লীসমাজ - রমা, রমেশ।
- দত্তা - নরেন, বিজয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৯৬৭.
'আরেফ আলী' কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. বহিপীর
  2. চাঁদের অমাবস্যা
  3. লালসালু
  4. কাঁদো নদী কাঁদো
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
ব্যাখ্যা
'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা।
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস:
- লালসালু, 
- চাঁদের অমাবস্যা, 
- কাঁদো নদী কাঁদো।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৬৮.
"হে কবি, নীরব কেন ফাগুন যে এসেছে ধরায়, 
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?" - কবিতাংশটুকু কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. অভিযাত্রিক
  2. সাঁঝের মায়া
  3. ঝরা পালক
  4. রূপসী বাংলা
সঠিক উত্তর:
সাঁঝের মায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাঁঝের মায়া
ব্যাখ্যা

“হে কবি, নীরব কেন ফাগুন যে এসেছে ধরায়, 
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?” - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা 'সুফিয়া কামাল'। এটি তাঁর "তাহারেই পড়ে মনে" কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। "তাহারেই মনে পড়ে" কবিতাটি বেগম সুফিয়া কামাল রচিত 'সাঁঝের মায়া' নামক কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।

সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

অন্যদিকে,
- 'ঝরা পালক' জীবনানন্দ দাশের লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'রূপসী বাংলা' বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান কবি জীবনানন্দ দাশের সর্বাধিক জনপ্রিয় কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৯৬৯.
কাবুলিওয়ালা গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র-
  1. ক) আনোয়ার
  2. খ) আবুল
  3. গ) মফিজ
  4. ঘ) রহমত
সঠিক উত্তর:
ঘ) রহমত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রহমত
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত সামাজিক ছোট গল্প - কাবুলিওয়ালা। এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র - রহমত, খুকী প্রমুখ। গল্পটিতে রহমতের চরিত্র তিনি এত সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন, বাংলা সাহিত্যে কেউ এমন একটি মুসলিম চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে পারেন নি।
উৎসঃ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।

৯৭০.
'কাপালিক' চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ইন্দিরা
  2. বিষবৃক্ষ
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. কপালকুণ্ডলা
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা
'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।

উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৭১.
‘হেমচন্দ্র-মৃণালিনী’ চরিত্রদ্বয় কার উপন্যাসের?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

‘মৃণালিনী' উপন্যাস:
- ‘মৃণালিনী' (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস
- মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় এবং দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনি এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু।
- বঙ্কিমের দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ পাওয়া যায় এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।
- ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৭২.
চোখে তার
যেন শত শতাব্দীর নীল অন্ধকার! - পঙক্তিটি কার রচনা?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
⇒ শঙ্খমালা’ কবিতা:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কবিতা - 'শঙ্খমালা’। 
- এ কবিতায় শঙ্খমালা নামের রূপসী নারীর কথা বলা হয়েছে ৷ কবির ধারণা, পৃথিবীর অন্য কোথাও শঙ্খমালাদের পাওয়া যাবে না।
- তার বিশ্বাস, বিশালাক্ষী বর দিয়েছিলো বলেই নীল-সবুজে মেশা বাংলার ভূ-প্রকৃতির মধ্যে অনুপম এই সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়েছে।
- তাই বলা যায় জীবনানন্দ দাশের কবিতায় ব্যবহৃত 'শঙ্খমালা' হলো - রোমান্টিক কবিকল্পনা। 

শঙ্খমালা- কবিতার কিছু অংশ-

কড়ির মতন শাদা মুখ তার,
দুইখানা হাত তার হিম;
চোখে তার হিজল কাঠের রক্তিম
চিতা জ্বলে: দখিন শিয়রে মাথা শঙ্খমালা যেন পুড়ে যায়
সে-আগুনে হায়।
চোখে তার
যেন শত শতাব্দীর নীল অন্ধকার!
স্তন তার
করুণ শঙ্খের মতো— দুধে আৰ্দ্র— কবেকার শঙ্খিনীমালার;
এ-পৃথিবী একবার পায় তারে, পায়নাকো আর।

-------------------
• জীবনানন্দ দাশ: 
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”।
- 'বনলতা সেন' তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- 'বনলতা সেন' কবিতার উপর এডগার অ্যালান পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় 'রূপসী বাংলা' এবং “বেলা অবেলা কালবেলা' নামক কাব্য।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, শঙ্খমালা- কবিতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭৩.
"দীরহাম দৌলত দিয়ে ক্রীতদাস গোলাম কেনা চলে। বান্দা কেনা সম্ভব—! কিন্তু—কিন্তু—ক্রীতদাসের হাসি—না-না-না-না-।" - বিখ্যাত এই লাইনটির রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী
  2. শওকত ওসমান
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. ড. নীলিমা ইব্রাহীম
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
• "ক্রীতদাসের হাসি":
"ক্রীতদাসের হাসি" বিখ্যাত বাংলা সাহিত্যিক শওকত ওসমানের একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। ১৯৬২ সালে প্রকাশিত এই গ্রন্থটি তৎকালীন সামরিক শাসক আয়ুব খানের শাসনের সমালোচনা করেছে রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।

উপন্যাসের কাহিনীতে বাগদাদের অত্যাচারী বাদশা হারুন অর রশিদ একজন ক্রীতদাস তাতারি এবং বাঁদি মেহেরজানের প্রেমের সম্পর্কে বাধা সৃষ্টি করে। বাদশা তাতারিকে গৃহবন্দি করে এবং তার উপর অত্যাচার চালায়। কিন্তু তাতারি মৃত্যু পর্যন্ত বাদশা হারুনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে থাকে।

এই উপন্যাসে তাতারি চরিত্রটি বাঙালি জনতার প্রতীক এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক হিসেবে চিত্রিত হয়েছে। তাতারির হাসি বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে সাহিত্যে স্থান করে নিয়েছে।

উল্লেখযোগ্য উক্তি- 
উপন্যাসে তাতারীর বিখ্যাত উক্তি: "শোন, হারুনর রশীদ। দীরহাম দৌলত দিয়ে ক্রীতদাস গোলাম কেনা চলে। বান্দী কেনা সম্ভব–! কিন্তু—কিন্তু–ক্রীতদাসের হাসি—না–না–না।"

পুরস্কার ও স্বীকৃতি:
- "ক্রীতদাসের হাসি" শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃত।
- এই উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের জন্য তিনি ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কারে সম্মানিত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস।
৯৭৪.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বড়দিদি’ উপন্যাসে বড়দিদি হিসেবে পরিচিত চরিত্রটির নাম কী?
  1. প্রমীলা
  2. সরলা
  3. মাধবী
  4. সুরমা
সঠিক উত্তর:
মাধবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাধবী
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বড়দিদি’ উপন্যাসে বড়দিদি চরিত্রের নাম মাধবীলতা।

- এই উপন্যাসে মাধবীলতা একজন শক্তিশালী, স্বাধীনচেতা এবং ত্যাগী নারী হিসেবে চিত্রিত হয়েছেন, যিনি পরিবার ও সমাজের প্রতি নিজের কর্তব্য পালন করতে গিয়ে ব্যক্তিগত সুখের ত্যাগ স্বীকার করেন।

----------------------
• 'বড়দিদি' উপন্যাস:

- 'বড়দিদি' (১৯১৩) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম মুদ্রিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসটি সরলা দেবী সম্পাদিত 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশকালে বাংলা সাহিত্যে আলোড়নের সৃষ্টি করে। প্রথমে এর নাম ছিল 'শিশু'।
- শরৎচন্দ্রের উপন্যাসের প্রধান আকর্ষণ, নারীচরিত্রের সংযম ও মাধুর্য, শাস্ত্রশাসিত জীবন ও স্বাভাবিক প্রবৃত্তির মধ্যে টানাপোড়েন এবং সহজ সাবলীল ভাষা-সবই এখানে পূর্ণমাত্রায় প্রকাশিত।
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: সুরেন্দ্রনাথ, ব্রজরাজ, মাধবী, প্রমীলা। বড়দিদি 'মাধবী'র নাম।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসগুলো:
- বড়দিদি,
- পরিণীতা,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিত মশাই,
- পল্লী সমাজ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- দত্তা,
- গৃহদাহ,
- বামুনের মেয়ে,
- দেনা পাওনা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং 'বড়দিদি' উপন্যাস।
৯৭৫.
'বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না।'- বিখ্যাত উক্তিটি কার?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. মোতাহার হোসেন
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ মুজতবা আলী একজন বাঙালি সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ভ্রমণ কাহিনীর জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন সিলেটের করিমগঞ্জে।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বর্তমান হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি 'সত্যপীর', 'রায়পিথোরা', 'ওমর খৈয়াম', 'টেকচাঁদ', 'প্রিয়দর্শী' প্রভৃতি ছদ্মনামে বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লিখতেন।
- তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি, 'বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না।'
- 'দেশে বিদেশে' ও 'জলে ডাঙ্গায়' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯৭৬.
‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' - বিখ্যাত উক্তিটি কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চিঠি
  2. দণ্ডকারণ্য
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. কবর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি।
- নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৭৭.
'কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ
উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ?'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা-
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. ঘ) কামিনী রায়
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
"কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ
উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ" পঙক্তিদ্বয় কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এর 'সদ্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থের 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

কি কারণ, দীন! তব মলিন বদন ?
যতন করহ লাভ হইবে রতন।
কেন পান্থ! ক্ষান্ত হও হেরে দীর্ঘ পথ ?
উদ্যম বিহনে কার পূরে মনােরথ ?
কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?
মনে ভেবে বিষম-ইন্দ্রিয়-রিপু-ভয়,
হাফেজ! বিমুখ কেন করিতে প্রণয়?
-----------------------
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার (১৮৩৪-১৯০৭):  
সাহিত্যিক, সাংবাদিক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের জন্ম ১৮৩৪ সালের ১০ জুন  খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক  বৈদ্য পরিবার। 
-  ঈশ্বর গুপ্তের উৎসাহে সংবাদ সাধুরঞ্জন ও  সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।
- কৃষ্ণচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সদ্ভাবশতক প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- নীতি ও উপদেশমূলক এ কাব্যটি পারস্য কবি হাফিজ ও সাদীর কাব্যাদর্শে রচিত।
- তাঁর কবিতার অনেক পঙক্তি প্রবাদবাক্যস্বরূপ।
যেমন: ‘চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে’ ইত্যাদি।
- এ পঙক্তিধারী কবিতাটি এক সময় স্কুলপাঠ্য বইয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

উৎস: 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না', কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৭৮.
‘ধেয়াই কাহারে দেবী নিজে আমি জানিনে
কবিগুরু বাল্মীকির ধ্যান-ধনে চিনিনে। - পঙ্‌ক্তিটি রচনা করেন কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্তে
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
'সাধের আসন' কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘সাধের আসন’ (১৮৮৯)।
- ‘সাধের আসন’কে ‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির ‘সারদামঙ্গল’ কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন , “তুমি কাকে ধ্যান কর?”। এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল ‘সাধের আসন’ লিখেছিলেন।
- কবি শুরুই করেছেন এভাবে:
‘ধেয়াই কাহারে দেবী নিজে আমি জানিনে
কবিগুরু বাল্মীকির ধ্যান-ধনে চিনিনে।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৭৯.
'চতুরঙ্গ' উপন্যাসের চরিত্র -
  1. অমিত, লাবণ্য
  2. নিখিলেস, বিমলা
  3. শচীন, শ্রীবিলাস
  4. শচীশ, দামিনী
সঠিক উত্তর:
শচীশ, দামিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শচীশ, দামিনী
ব্যাখ্যা
•'চতুরঙ্গ':
- 'চতুরঙ্গ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'চতুরঙ্গ' উপন্যাসের চরিত্র - শচীশ, দামিনী এবং শ্রীবিলাস।
- উপন্যাসটিতে চারটি অধ্যায় রয়েছে, প্রতিটি অধ্যায়ের নামকরণ করা হয়েছে উপন্যাসের প্রধান চরিত্রদের নামে।

অন্যদিকে,
- নিখিলেস, বিমলা ঘরে বাইরে উপন্যাসের চরিত্র।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল শেষের কবিতা উপন্যাসের চরিত্র।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাসে অন্যান্য চরিত্র:
- অতীন, এলা চার অধ্যায় উপন্যাসের চরিত্র।
- নীরজা, আদিত্য মালঞ্চ উপন্যাসের চরিত্র।
- গোরা, মসুচরিতা, পরেশবাবু গোরা উপন্যাসের চরিত্র।
- শর্মিলা, উর্মিলা দুইবোন উপন্যাসের চরিত্র।
- মধুসূদন, কুমোদিনী যোগাযোগ উপন্যাসের চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯৮০.
‘আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য, আমার একটি মাত্র সাধনা।'- বক্তব্যটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. গোরা
  2. কুহেলিকা
  3. চার অধ্যায়
  4. পথের দাবী
সঠিক উত্তর:
পথের দাবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথের দাবী
ব্যাখ্যা
• পথের দাবী:
• 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
• এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কোনো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।

- গ্রন্থটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। নান্দনিক মানদণ্ডে ‘পথের দাবী' উৎকৃষ্ট সাহিত্য কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে এ উপন্যাস উদ্দীপকের ভূমিকা রাখে।

- ‘আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য,আমার একটি মাত্র সাধনা।' আমার একটিমাত্র এই বক্তব্য ছিল উপন্যাসের শেষে। ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে,
---------------------
• 'গোরা' উপন্যাস:
- গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।
- উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো ‘ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়’।

----------------------
• কুহেলিকা (উপন্যাস):
- 'কুহেলিকা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত শেষ উপন্যাস। 
- ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায়  উপন্যাসটির প্রকাশ আরম্ভ হয়। 
- উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে বড় ক্যানভাসে। 
- কলকাতার এক মেসের পরিবেশকে কেন্দ্র করে উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে। উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর। 
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, ''ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।''

-----------------
• ‘চার অধ্যায়’ উপন্যাস:
- চার অধ্যায়' একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব- প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিল, ‘চার অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে।
- আসলে সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই কাহিনি রচিত।
- সন্ত্রাসবাদীদের নেতা ইন্দ্রনাথ একদিকে যেমন অতিমানবিক গুণ সম্পন্ন, অন্যদিক সে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য।
- তার নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনি।
- সমকালীন বিপ্লবপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূল সুর।
- চার অধ্যায়ের কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ‘রবিবার' গল্পের সম্পর্ক আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯৮১.
“বিষাদ সিন্ধু” উপন্যাসের নায়ক-
  1. ক) ইমাম হাসান
  2. খ) সীমার
  3. গ) এজিদ
  4. ঘ) ইমাম হোসেন
সঠিক উত্তর:
গ) এজিদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এজিদ
ব্যাখ্যা

ডক্টর আবুল আহসান চৌধুরীর একটা কলাম থেকে -
"এজিদই ‘বিষাদ-সিন্ধু’র প্রধান চরিত্র। তার কামনা-বাসনাকে কেন্দ্র করেই এই উপন্যাসের সূচনা এবং তার শোচনীয় বিপর্যয়েই এই কাহিনীর সমাপ্তি। তার কর্মকাণ্ডকে অবলম্বন করেই ‘বিষাদ-সিন্ধু’র কাহিনী পল্লবিত হয়ে উঠেছে। লেখক এজিদ চরিত্র-চিত্রণে যতটা আন্তরিক ও মনোযোগী, অন্য চরিত্র অঙ্কনে ততখানি নিবিষ্ট হতে পারেননি। রিপুশাসিত রক্ত-মাংসের একজন মানুষের প্রকৃতি, প্রবণতা ও বাস্তবতা নিয়ে এজিদ চরিত্রটি উপস্থাপিত। এ-প্রসঙ্গে মুনীর চৌধুরীর বিশ্লেষণ স্মরণীয় : ‘গ্রন্থের সর্বাপেক্ষা স্পষ্ট এবং প্রদীপ্ত চরিত্র এজিদের। তার চিন্তায়-আচরণে, আবেগে-অভিব্যক্তিতে এমন একটা দৃঢ় গাঢ় ঔজ্জ্বল্য আছে যে অন্যান্য চরিত্র তার পাশে নিতান্ত মর্যাদাহীন বলে মনে হয়। নীতিবিদের দৃষ্টিতে এজিদের ক্রিয়াকর্ম যত গর্হিত ও অভিশপ্ত বিবেচিত হোক না কেন, চরিত্র বিচারের সাহিত্যিক মানদণ্ডে এজিদের মতো প্রাণময় পূর্ণাবয়ব পুরুষ সমগ্র উপন্যাসে দ্বিতীয়টি নেই। এজিদ পাপী, ধর্মদ্রোহী এবং ইন্দ্রিয়পরবশ। কিন্তু এজিদের পাপের প্রকৃতি অসামান্য, তার বিকাশ প্রলয়ঙ্করী, তার পরিণাম যেমন ভয়াবহ, তেমনি শোকাবহ।’"

ইমাম হোসেন প্রথম পর্ব তথা মহরম পর্বেই মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তী দুই পর্বের নাম - উদ্ধার পর্ব এবং এজিদ বধ।

বিষাদ সিন্ধুর - কাহিনীতে এন্টি-এস্টাবলিশমেন্টের চেতনা মূলত মাইকেল মধুসূদনের মেঘনাদবধ কাব্যের অনুকরণে করেছেন।
ইতিহাস মিশ্রিত এই উপন্যাসের রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৯৮২.
‘নিখিলেশ' রবীন্দ্রনাথ রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র? 
  1. ঘরে বাইরে
  2. শেষের কবিতা
  3. চিত্রাঙ্গদা
  4. গোরা
সঠিক উত্তর:
ঘরে বাইরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘরে বাইরে
ব্যাখ্যা

‘নিখিলেশ' রবীন্দ্রনাথ রচিত 'ঘরে বাইরে' উপন্যাসের চরিত্র। 
---------------------------------------------
• 'ঘরে বাইরে':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘরে বাইরে উপন্যাসের মূল বিষয় হলো স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিতে ব্যক্তিগত প্রেম ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। 
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হচ্ছে- নিখিলেশ, বিমলা ও সন্দীপ।
- উপন্যাসে নিখিলেশ, বিমলা ও সন্দীপের জীবনকাহিনী দিয়ে দাম্পত্য সম্পর্ক, নারী-পুরুষের স্বাধীনতা, প্রেম ও আদর্শের সংঘাত তুলে ধরা হয়েছে।
- পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী ও উদার রাজনীতির টানাপোড়েনের চিত্র ও তুলে ধরা হয়েছে।
---------------------------------  

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে  কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর ও দার্শনিক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘বিশ্বকবি’ উপাধি প্রদান করেন ব্রহ্মবন্ধব উপাধ্যায়।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসসমূহ:
- বউঠাকুরানির হাট (প্রথম উপন্যাস);
- করুণা (অগ্রন্থিত উপন্যাস);
- শেষের কবিতা (কাব্যধর্মী উপন্যাস);
- গোরা (রাজনৈতিক উপন্যাস);
- চোখের বালি (মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস);
- ঘরে বাইরে (মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক উপন্যাস)।
---------------------------------------------- 
অন্যদিকে,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলি- অমিত রায় ও লাবণ্য, কেতকী ও শোভনলাল।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী নৃত্যনাট্য 'চিত্রাঙ্গদা'-র চরিত্র- রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা এবং পাণ্ডব অর্জুন।
- 'গোরা' উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো- গোরা, সুচরিতা, বিনয়, ললিতা, আনন্দময়ী, পরেশবাবু, কৃষ্ণদয়াল, হরিমোহিনী ও মহিম। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৯৮৩.
'সাবিত্রী ও কিরণময়ী' চরিত্রের দেখা মিলে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসে?
  1. শেষ প্রশ্ন
  2. চরিত্রহীন
  3. পরিণীতা 
  4. গৃহদাহ
সঠিক উত্তর:
চরিত্রহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা

"চরিত্রহীন" উপন্যাস সম্পর্কে কিছু কথা:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে। প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত। উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন। গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে।

- প্রধান দুটি নারী চরিত্রের নাম সাবিত্রী ও কিরণময়ী। ছোট দুটি নারী চরিত্রের নাম সুরবালা ও সরোজিনী। সাবেক দুই চরিত্রের (চরিত্রহীন) হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় যে উপন্যাসের চারটি চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

- সাবিত্রী চরিত্রটি বিশুদ্ধ, সে তার ভালবাসার মানুষ সতীশ-এর প্রতি অনুগত। সুরবালা উপেন্দ্রনাথের স্ত্রী। তিনি বয়সে তরুণ, ধর্মীয় গ্রন্থগুলিতে অন্ধবিশ্বাসের কারণে তার চরিত্রও চিত্তাকর্ষক। সরোজিনী পাশ্চাত্য শৈলীতে শিক্ষিত এবং চিন্তা-ভাবনায় অগ্রসর কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতিত এবং একটি জাদরেল মা দ্বারা তার জীবনযাপন অবরুদ্ধ। সরোজিনী শেষ পর্যন্ত সতীশকে বিয়ে করেন। উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র কিরণময়ী। তরুণ এবং অত্যন্ত সুন্দরী, বুদ্ধিমতী। তবে তার আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাগুলো সর্বদা বিবাহিত বিষয়গুলির তুলনায় স্বামীকে শিক্ষাদান করার জন্য এবং স্বামী ও শ্বাশুড়ীর দ্বারা সর্বদা দমিত হয়।

অন্যদিকে, 
• 'শেষ প্রশ্ন' উপন্যাসের চরিত্র- কমল, শিবনাথ। 
• 'পরিণীতা' উপন্যাসের চরিত্র- ললিতা, চারুবালা, শেখর রায়। 
• 'গৃহদাহ উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।

------------------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- দেবদাস,
- গৃহদাহ,
- শেষ প্রশ্ন,
- পথের দাবী ইত্যাদি।

উৎস: "চরিত্রহীন" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৮৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ডাকঘর' নাটকটি কোন বালককে কেন্দ্র করে রচিত?
  1. রতন
  2. মেহের আলি
  3. মধুসূদন
  4. অমল
সঠিক উত্তর:
অমল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমল
ব্যাখ্যা
• 'ডাকঘর' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) রূপক সাংকেতিক নাটক।
- বালক অমল এই নাটকের নায়ক।
- একটি শিশুকে কেন্দ্র করে এমন গীতময় নাটক রচনা সাহিত্যে বিরল।
- রবীন্দ্রনাথ নিজে লিখেছেন- "এর মধ্যে গল্প নেই, এ গদ্য লিরিক।"

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অমল,
- সুধা,
- ঠাকুর্দা প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'পোস্টমাস্টার' ছোটগল্পের একটা বিখ্যাত চরিত্র - 'রতন'।
- ‘ ক্ষুধিত পাষাণ’ ছোটগল্পের চরিত্র 'মেহের আলি'।
- 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র 'কুমুদিনী, মধুসূদন' প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৮৫.
"একি রণ-বাজা বাজে ঘন ঘন–
ঝন রনরন রন ঝনঝন!" - কোন কবিতার অংশ?
  1. বিদ্রোহী
  2. আগমণী
  3. রণভেরী
  4. কামাল পাশা
সঠিক উত্তর:
আগমণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগমণী
ব্যাখ্যা
• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। কিন্তু প্রকাশিত গ্রন্থ হিসেবে দ্বিতীয়।
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- মোট বারটি কবিতার সমাহারে কলকাতার আর্য পাবলিশিং হাউস থেকে ১৯২২ সালের অক্টোবর মাসে 'অগ্নিবীণা' কাব্যটি প্রকাশিত হয়।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা, 
- আনোয়ার, 
- রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব, 
- খেয়াপারের তরণী, 
- কোরবানী, 
- মোহররম।
-------------------------- 
আগমনী- কবিতা, 
- কাজী নজরুল ইসলাম,

একি রণ-বাজা বাজে ঘন ঘন–
ঝন রনরন রন ঝনঝন!
সেকি দমকি দমকি
ধমকি ধমকি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা কবিতা সাময়িকী।
৯৮৬.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বড়দিদি' উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. রমা
  2. অন্নদিদি
  3. মাধবী
  4. সাবিত্রী
সঠিক উত্তর:
মাধবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাধবী
ব্যাখ্যা
• ‘বড়দিদি’ উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস 'বড়দিদি' (১৯০৭)।
- ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যজগতে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।
- একজন মানুষের শুধুমাত্র এই বড়দিদি নামটির ওপর কী ধরনের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকতে পারে তা খুব স্পষ্টভাবেই অনুভব করতে পারা যায় এই উপন্যাসের দ্বারা।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মাধবী,
- সুরেন্দ্রনাথ,
- ব্রজরাজ,
- প্রমীলা।

অন্যদিকে,
• ‘শ্রীকান্ত’ উপন্যাসের চরিত্র: শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি।
• ‘পল্লীসমাজ’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।
• ‘চরিত্রহীন’ উপন্যাসের দুটি প্রধান চরিত্র: সাবিত্রী ও কিরণময়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৮৭.
“আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে” উক্তিটি কোন কাব্যে পাওয়া যায়?
  1. কালিকামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

অন্নদামঙ্গল:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত ‘অন্নদামঙ্গল’ মধ্যযুগের শেষ এবং শ্রেষ্ঠ মঙ্গলকাব্য।
- এই কাব্যটি মূলত দেবী অন্নপূর্ণার মাহাত্ম্য প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত।
- কাহিনীটি তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত:
• প্রথম ভাগে শিব ও পার্বতীর পৌরাণিক কাহিনী এবং অন্নপূর্ণা দেবীর মাধ্যমে ভবানন্দ মজুমদারের গৃহে পূজা গ্রহণ বর্ণিত হয়েছে; 
• দ্বিতীয় ভাগে বর্ধমানের রাজকন্যা বিদ্যা ও সুন্দরের প্রেমলীলা বর্ণিত হয়েছে;
• এবং তৃতীয় ভাগে মানসিংহের মাধ্যমে প্রতাপাদিত্যর পরাজয় এবং ভবানন্দের রাজ্য ও সম্মান অর্জনের ঐতিহাসিক আখ্যান  বর্ণিত হয়েছে।
-------------------------------------
ঈশ্বরী পাটনী:
- “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে” — এই প্রসিদ্ধ পঙক্তি মধ্যযুগের শেষবর্তী বাংলা কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের অন্নদামঙ্গল কাব্য থেকে নেওয়া।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ছিলেন নদিয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সভাকবি এবং অন্নদামঙ্গল কাব্যর রচয়িতা।
- কাব্যের প্রথম খণ্ড ‘অন্নদা-মাহাত্ম্য’ বা ‘পাটুনী খণ্ড’-এ এই প্রার্থনা প্রকাশ করেছেন ঈশ্বরী পাটনী।
- এতে তিনি দেবী অন্নপূর্ণার কাছে তার সন্তানের জন্য পুষ্টি, সচ্ছল জীবন এবং অভাবমুক্ত জীবন কামনা করেছেন।

- ঈশ্বরী পাটনী ছিলেন সাধারণ পারঘাটার মাঝি।
- তিনি গঙ্গা নদী পারাপারে মানুষের সহায়তা করতেন।
- ঈশ্বরী পাটনীকে নিয়ে ভারতচন্দ্র অন্নদামঙ্গল কাব্যে একটি উপাখ্যান লিখেছেন।
- কাব্য অনুসারে, দেবী অন্নপূর্ণা ছদ্মবেশে নদী পার হতে চাইলে, তিনি প্রথমে দেবীর পরিচয় জানতেন না এবং পার করাতে দ্বিধা বোধ করেন।
- পরে তিনি ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে দেবীকে পারাপার করান।
- তাঁর অকৃত্রিম ভক্তি দেখে দেবী অন্নপূর্ণা ঈশ্বরীকে আশীর্বাদ দেন, যাতে তার সন্তান “দুধে-ভাতে” থাকে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৯৮৮.
'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি' কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. ক) কবি কাহিনী
  2. খ) কবিতার কথা
  3. গ) কড়ি ও কোমল
  4. ঘ) কথা ও কাহিনী
সঠিক উত্তর:
খ) কবিতার কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কবিতার কথা
ব্যাখ্যা
'কবিতার কথা' প্রবন্ধের রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ।
- এই প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি "সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি" 
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে। 
- মূলত কবি হলেও তিনি অসংখ্য  ছোটগল্প, কয়েকটি  উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ
- ঝরা পালক
- ধূসর পাণ্ডুলিপি
- বনলতা সেন
- মহাপৃথিবী
- সাতটি তারার তিমির 
- রূপসী বাংলা
- বেলা অবেলা কালবেলা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯৮৯.
‘আদিগন্ত’ উপন্যাসের প্রধান প্রেমিক-প্রেমিকা কারা?
  1. রহমান ও জাহানারা
  2. সরলা ও মেহের বয়াতি
  3. রফিক ও হালিমা
  4. মমিন ও সায়রা
সঠিক উত্তর:
সরলা ও মেহের বয়াতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরলা ও মেহের বয়াতি
ব্যাখ্যা
'আদিগন্ত' উপন্যাস:
- 'আদিগন্ত' সরদার জয়েন উদ্দিন রচিত একটি উপন্যাস।
- প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ খিষ্টাব্দে।
- সরলা ও মেহের বয়াতির প্রেমের কাহিনি বর্ণানার ভেতর দিয়ে পল্লিসমাজের জটগুলো অনাবৃতভাবে এতে প্রকাশিত হয়েছে।

সরদার জয়েনউদ্‌দীন:
- সরদার জয়েনউদ্দীন ১৯১৮ সালে ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমান বাংলাদেশ) পাবনার সুজানগর উপজেলার কামারহাটিতে এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- অনেক সূর্যের আশা,
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ,
- আদিগন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৯০.
”অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী”-পঙ্​ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ধর্মপা
  2. কাহ্নপা
  3. ভাদেপা
  4. ভুসুকুপা
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা

”অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী” -পঙ্​ক্তিটির লেখক- ভুসুকুপা

ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়। তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল। ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯৯১.
'নিমচাঁদ, কেনারাম' কোন নাটকের চরিত্র?
  1. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  2. সধবার একাদশী
  3. নীলদর্পন
  4. ডাকঘর
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা
'সধবার একাদশী' নাটক:
- এই নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র।
- প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- সধবার একাদশী বিখ্যাত সামাজিক নাটক।
- উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনী নিয়ে নাটকটির রচিত।
- নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।

দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।
- দীনবন্ধু মিত্র ১লা নভেম্বর ১৮৭৩ মৃত্যবরণ করেন।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- লীলাবত,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৯২.
"কে বলে শারদ শশী সে মুখের তুলা।
পদনখে পড়ি তার আছে কতগুলা।।"
- কার রচনা?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. চন্ডীদাস
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ছিলেন মধ্যযুগের শেষ বড় কবি। তার কাব্য প্রতিভা ছিল অসাধারণ।
চমৎকার কথা বলায়, ছন্দের আন্দোলন সৃষ্টিতে মধ্যযুগে তার জুড়ি নেই। কথা বলেন তিনি বিস্ময়কর চাতুর্যের সঙ্গে।

যেমন - মধ্যযুগের সকল কবিই বলেছেন, তার নায়িকা দেখতে অত্যন্ত সুন্দরী, দেখতে একেবারে চাঁদের মতন। এই নিয়ে তামাশা করেছেন ভারতচন্দ্র।
তিনি তার নায়িকার রূপ বর্ণনা করেছেন এভাবে -
''কে বলে শারদ শশী সে মুখের তুলা।
পদনখে পড়ি তার আছে কতগুলা।।''

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

৯৯৩.
ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যানের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু। উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জাহানারা ইমাম
  2. খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
কুহেলিকা কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস। এই উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর। এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, ''ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যানের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।''
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯৯৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অভিনীত ‘রঘুপতি ও জয়সিংহ’ চরিত্র দুটি কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. রাজা
  2. বিসর্জন
  3. ডাকঘর
  4. প্রায়শ্চিত্ত
সঠিক উত্তর:
বিসর্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিসর্জন
ব্যাখ্যা
• 'বিসর্জন' নাটক: 
- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মঞ্চসফল এবং জনপ্রিয় নাটকগুলির মধ্যে অন্যতম।
- ১৮৯০ সালে বিসর্জন নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- এই নাটকে রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং নিজে প্রধান দুটি চরিত্র অভিনয় করেন।
- ১৮৯০-এ রঘুপতি, এবং ১৯২৩-এ জয়সিংহের ভূমিকায়।
- এই নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- এই নাটকের বিষয়বস্তু হচ্ছে, উদার ধর্মবোধ এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেমন এই নাটকের প্রধান উপকরণ, তেমনি বিশ্বাসের উগ্রতা এবং মানব সম্পর্কের নিবিড়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

• নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- রঘুপতি,
- গুণবতী,
- গোবিন্দমাণিক্য,
- অপর্ণা,
- জয়সিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৯৫.
"গাহি সাম্যের গান
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই,
নহে কিছু মহীয়ান" - পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ভাঙার গান
  2. সিন্ধু হিন্দোল
  3. দোলনচাঁপা
  4. সাম্যবাদী
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা
"গাহি সাম্যের গান
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই,
নহে কিছু মহীয়ান" - পঙ্‌ক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘মানুষ’ কবিতার ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

'গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান!
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি,
সব দেশে, সব কালে, ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।'

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৯৬.
'পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল' - চরণটি রচনা করেন কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
মদনমোহন তর্কালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মদনমোহন তর্কালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• 'পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল' চরণটি রচনা করেন - মদনমোহন তর্কালঙ্কার

পাখি-সব করে রব
 মদনমোহন তর্কালঙ্কার।

পাখী-সব করে রব, রাতি পোহাইল।
কাননে কুসুমকলি, সকলি ফুটিল।।
রাখাল গরুর পাল, ল’য়ে যায় মাঠে।

মদনমোহন তর্কালঙ্কার:
- তিনি কবি, সমাজসেবক ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত।

তাঁর মৌলিক কাব্যগ্রন্থ:
- রসতরঙ্গিণী,
- বাসবদত্তা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯৯৭.
“কে বলে শারদ শশী সে মুখের তুলা / পদনখে পড়ি তার আছে কতগুলা”- আলোচ্য অংশের রচয়িতা কে?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. চন্ডীদাস
  4. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়৷
- চমৎকার কথা বলায়, ছন্দের আন্দোলন সৃষ্টিতে মধ্যযুগে তার জুড়ি নেই। কথা বলেন তিনি বিস্ময়কর চাতুর্যের সঙ্গে।

যেমন - মধ্যযুগের সকল কবিই বলেছেন, তার নায়িকা দেখতে অত্যন্ত সুন্দরী, দেখতে একেবারে চাঁদের মতন। এই নিয়ে তামাশা করেছেন ভারতচন্দ্র।
তিনি তার নায়িকার রূপ বর্ণনা করেছেন এভাবে -
''কে বলে শারদ শশী সে মুখের তুলা।
পদনখে পড়ি তার আছে কতগুলা।।''

উৎস:- লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।
৯৯৮.
রবীন্দ্রনাথের ‘ক্ষুধিত পাষাণ’ -এর একটি চরিত্র-
  1. প্রত্যুষ
  2. মহিম
  3. মেহের আলি
  4. নবীন মাধব
সঠিক উত্তর:
মেহের আলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেহের আলি
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পের বিখ্যাত চরিত্র:
- ‘ ক্ষুধিত পাষাণ’ ছোটগল্পের চরিত্র 'মেহের আলি'।
- তাঁর 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- তাঁর 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- তাঁর 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
- পোস্টমাস্টার ছোটগল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- তিনি অসংখ্য কবিতা, গান, ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য, নৃত্যনাট্য, ভ্রমণকাহিনী, চিঠিপত্র রচনা করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- বাংলাদেশের শাহজাদপুর, পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহে আসেন।
- তিনি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল,
- রবিবার,
- শেষকথা,
- পোস্টমাস্টার,
- ল্যাবরেটরি
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৯৯.
‘সাম্যের গান গাই, আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোন ভেদাভেদ নাই’।- কে বলেছেন?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. মাহবুব উল আলম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• ‘সাম্যের গান গাই, আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোন ভেদাভেদ নাই’।- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম। 

নারী- কবিতা,
- কাজী নজরুল ইসলাম। 
 
সাম্যের গান গাই
আমার চক্ষে পুরুষ-রমনী কোনো ভেদাভেদ নাই
বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।
 
• সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলামের রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘সাম্যবাদী’।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে ।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।
 
এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী,
- নারী,
- রাজা-প্রজা,
- সাম্য,
- কুলি-মজুর।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ এবং ‘নারী’ কবিতা।
১,০০০.
"নুরুল হুদা ও আবদুস সাত্তার" চরিত্র দুটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত কোন সাহিত্যকর্মের অন্তর্গত?
  1. চিলেকোঠার সেপাই
  2. রেইনকোট
  3. মিলির হাতে স্টেনগান
  4. খােয়াবনামা
সঠিক উত্তর:
রেইনকোট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেইনকোট
ব্যাখ্যা
'রেইনকোট' ছোটগল্প:
- রেইনকোট' গল্পটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে। পরে এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়। এ গল্পের পাঠ গ্রহণ করা হয়েছে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচনাসমগ্র ১ থেকে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ঢাকার পরিস্থিতি নিয়ে গল্পটি রচিত।
- নুরুল হুদার জবানিতে গল্পের অধিকাংশ ঘটনা বিবৃত হয়েছে। বিবৃত হয়েছে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের মধ্যে ঢাকা শহরের আতঙ্কগ্রস্ত জীবনের চিত্র।
- ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কলেজের শিক্ষকদের তলব করে এবং তাদের মধ্য থেকে নুরুল হুদা ও আবদুস সাত্তার মৃধাকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করে।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- তিনি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়া জেলায়।

উৎস: সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।