বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা / ১৭৪ · ৮০১৯০০ / ১৭,৪৩৭

৮০১.
বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক) কারা রচনা করেন?
  1. ক) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও সৈয়দ আলী আহসান
  2. খ) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও মুহম্মদ আব্দুল হাই
  3. গ) মুহম্মদ আব্দুল হাই, আনিসুজ্জামান ও আনোয়ার পাশা
  4. ঘ) মুহম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুহম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুহম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ আলী হাসান বাংলাদেশে একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক, কবি, সাহিত্য সমালোচক, অনুবাদক প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক।
- 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ) প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। তিনি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে একত্রে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।
- অনেক আকাশ, একক সন্ধ্যায় বসন্ত, সহসা সচকিত, আমার প্রতিদিনের শব্দ, চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা, সমুদ্রেই যাব, রজনীগন্ধা ইত্যাদি তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮০২.
‘আশার ছলনে ভুলি’ কার জীবনী নিয়ে লেখা গ্রন্থ?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

- মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবন ও কর্ম নিয়ে গোলাম মুরশিদের গ্রন্থ ‘আশার ছলনে ভুলি’
- কিন্তু মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনীগ্রন্থ লেখেন যোগীন্দ্রনাথ বসু।
- বইটির নাম ‘মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবনচরিত’।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৮০৩.
আনোয়ার পাশা কত সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান?
  1. ক) ১৯৭২ সালে
  2. খ) ১৯৭৩ সালে
  3. গ) ১৯৭৪ সালে
  4. ঘ) ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭২ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা
আনোয়ার পাশা (এপ্রিল ১৫, ১৯২৮ - ডিসেম্বর ১৪, ১৯৭১) বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন ১৯৭২ সালে (মরণোত্তর)।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে রচিত ও তার অব্যবহিত পরেই প্রকাশিত অন্যতম উপন্যাস - 'রাইফেল রোটি আওরাত'। উপন্যাসটি ১৯৭১ সালে এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে রচিত এবং এটিই মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রথম রচিত উপন্যাস। কিন্তু এটি প্রকাশিত হয় - ১৯৭৩ সালে।
উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৮০৪.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক কোনটি?
  1. কীর্তিবিলাস
  2. ভদ্রার্জুন
  3. পদ্মবতী
  4. কৃষ্ণকুমারী
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

কৃষ্ণকুমারী:
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক- কৃষ্ণকুমারী।
- নাটকটির রচয়িতা- মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- কৃষ্ণকুমারী নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ’রাজস্থান’ নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- নাটকটি রচিত হয়- ১৮৬০ সালে।
- এটি প্রকাশিত হয়- ১৮৬১ সালে।

• নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- কৃষ্ণকুমারী, 
- মদনিকা,
- ভীম সিংহ,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

অন্যদিকে,
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন'।
- ১৮৫২ সালে প্রকাশিত প্রথম ট্রাজেডি নাটকের নাম - কীর্তিবিলাস।
- 'পদ্মবতী' বাংলা সাহিত্যের কমেডি নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৮০৫.
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) মুনীর চৌধুরী
  3. গ) মমতাজউদ্দিন আহমেদ
  4. ঘ) জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কাব্যনাট্য 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়(১৯৭৬)'।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮০৬.
লালন ও হাসনের গানে প্রাধান্য পায়----
  1. ক) নারী প্রেম
  2. খ) স্বদেশ প্রেম
  3. গ) ইহজাগতিকতা
  4. ঘ) আধ্যাত্মিকতা
সঠিক উত্তর:
ঘ) আধ্যাত্মিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আধ্যাত্মিকতা
ব্যাখ্যা
লালন ও হাসনের গানে প্রাধান্য পায় আধ্যাত্মিকতা। 
আবদুল করিমের গানে প্রাধান্য ইহজাগতিকতা। 

• লালন শাহ বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
- মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- লালন কোনো জাতিভেদ মানতেন না।
- তাই তিনি গেয়েছেন: ‘সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/ লালন কয় জাতির কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।’
- তাঁর জনপ্রিয় গান- 
- ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’,
- ‘বাড়ির কাছে আরশী নগর’,
- ‘আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে’ ইত্যাদি।

• হাসন রাজা মরমি কবি ও সাধক হিসেবে পরিচিত। তার প্রকৃত নাম দেওয়ান হাসন রজা চৌধুরী।
- তিনি ১৮৫৪ সালের ২৪ জনিুয়ারি সুনামগঞ্জের লক্ষ্মণশ্রী গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯২২ সালের ৭ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
- হাসন রাজা আঞ্চলিক ভাষায় প্রায় এক হাজার গান রচনা করেন।
তার উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রযেছে:
- ‘লোকে বলে, বলে রে, ঘর বাড়ী ভালা না আমার’
- ‘সোনা বন্ধে আমারে দেওয়ানা বানাইল’ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮০৭.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) কবিতাবলী
  2. খ) পৃথক পালঙ্ক
  3. গ) প্রেমের কবিতা
  4. ঘ) জীবনক্ষুধা
সঠিক উত্তর:
ক) কবিতাবলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কবিতাবলী
ব্যাখ্যা
- অমিয় চক্রবর্তী, (১৯০১-১৯৮৬)  কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১০ এপ্রিল, ১৯০১ শ্রীরামপুর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫; তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই কবিতাবলী (১৯২৪-২৫)।

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার,
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- পারাপার,
- পালাবদল,
- ঘরে ফেরার দিন,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী,
- অনিঃশেষ,
- নতুন কবিতা,
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক।

• তাছাড়া ইংরেজি ভাষায় রচিত তাঁর ৯টি বই রয়েছে। কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।
• উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমী পুরস্কার। বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮০৮.
বাপুরাম সাপুড়ে,
কোথা যাস্ বাপুরে?
আয় বাবা দেখে যা!
দুটোসাপ রেখে যা!- কবিতার পঙক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. ক) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
গ) সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
বাবুরাম সাপুড়ে
সুকুমার রায়

বাপুরাম সাপুড়ে,
            কোথা যাস্ বাপুরে?
আয় বাবা দেখে যা!
            দুটো সাপ রেখে যা!
যে সাপের চোখ্ নেই,
           শিং নেই নোখ্ নেই!
ছোট না কি হাঁটে না,
           কাউকে যে কাটে না,
করে নাকো ফোঁস্ ফাঁস,
          মারে নাকো ঢুঁশ্ঢাঁশ,
নেই কোন উৎপাত,
          খায় শুধু দুধ ভাত-
সেই সাপ জ্যান্ত
          গোটা দুই আনত?
তেড়ে মেরে ডাণ্ডা
           ক‘রে দিই ঠাণ্ডা।

সুকুমার রায়:

- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার  সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- সুকুমার রায়ের প্রধান অবদান শিশু-কিশোর উপযোগী বিচিত্র সাহিত্যকর্ম।
- কবিতা, নাটক, গল্প, ছবি সবকিছুতেই তিনি সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ ও কৌতুকরস সঞ্চার করতে পারতেন।
- তাঁর কাব্যে হাস্যরসের সঙ্গে সমাজচেতনাও প্রতিফলিত হয়েছে। 
- সুকুমার রায় সিটি স্কুল থেকে প্রবেশিকা পাস করে  প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে রসায়নে অনার্সসহ বিএসসি (১৯১১) পাস করেন।

• সুকুমার রায় প্রেসিডেন্সিতে ছাত্র থাকাকালে ‘ননসেন্স ক্লাব’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন, যার মুখপত্র ছিল সাড়ে-বত্রিশ-ভাজা।
- বিলেত থেকে ফিরে তিনি গঠন করেন ‘মানডে ক্লাব’।
- এখানে আলোচনা ও পাঠের সঙ্গে থাকত ভূরিভোজের ব্যবস্থা।
- তাই ব্যঙ্গ করে কেউ কেউ একে বলত ‘মন্ডা ক্লাব’

উৎস: আবল তাবল ও বাংলাপিডিয়া।
৮০৯.
What is the name of the first successful tragedy in Bengali literature?
  1. Nil Darpan
  2. Krishna Kumari
  3. Ratnavali
  4. Basantakumari
সঠিক উত্তর:
Krishna Kumari
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Krishna Kumari
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণকুমারী: 
- 'কৃষ্ণকুমারী' নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। 

- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
→ কৃষ্ণকুমারী,
→ মদনিকা,
→ ভীম- সিংহ,
→ জগৎসিংহ,
→ ধনদাস প্রমুখ।

- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত চরিত্রকে হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮১০.
'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' কে রচনা করেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।
- এর রচয়িতা রাজা রামমোহন রায় এবং এটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ সালে।
--------------------------------
• রাজা রামমোহন রায়:
- রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক।
- তিনি প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান ।

তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- বেদান্ত গ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- পথ্য প্রদান,
- গোস্বামীর সহিত বিচার (সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮১১.
'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. সিকান্দার আবু জাফর
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
'পরিচয়' পত্রিকা:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত' 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য চর্চায় পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- 'কল্লোল', 'কালিকলম', 'পরিচয়'- এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:

- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেস্ট্রা,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮১২.
আবু জাফর শামসুদ্দীন ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. বহুদর্শী 
  2. দৃষ্টিহীন 
  3. হাবু শর্মা
  4. অল্পদর্শী
সঠিক উত্তর:
অল্পদর্শী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অল্পদর্শী
ব্যাখ্যা

• আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন ছিলেন একজন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক ছিলেন। ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- দৈনিক সোলতান পত্রিকায় সাবএডিটর হিসেবে আবু জাফরের কর্মজীবন শুরু হয়।

- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

​- এর আগে তিনি ১৯৬১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমিতে সহকারী অনুবাদকের পদে নিযুক্ত ছিলেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।
 উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। তাঁর প্রথম উপন্যাস পরিত্যক্ত স্বামী প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

​অন্যদিকে, 
• ​তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো 'হাবু শর্মা'।  
• মধুসূধন মজুমদারের ছদ্মনাম ছিলো- দৃষ্টিহীন।
আবার,
• দৃষ্টিহীন' - দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার এর ছদ্মনাম।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮১৩.
'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. জসীম উদ্দীন
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন - অমিয় চক্রবর্তী।

অমিয় চক্রবর্তী:
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)। তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গদ্যরচনা:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮১৪.
'ঠকচাচা' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. লালসালু 
  2. পদ্মা নদীর মাঝি 
  3. আলালের ঘরের দুলাল
  4. কপালকুণ্ডলা 
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা

• 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- 'আলালের ঘরের দুলাল' বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম উপন্যাস এবং প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসটিতে দেশীয় বন্ধ্যা শিক্ষা ব্যবস্থা, পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে লেখক তাঁর অভিমত প্রকাশ করেছেন।
- ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়। পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিঞা বা ঠকচাচা।
- 'ঠকচাচা' চরিত্রটি ধূর্ততা, বৈষয়িক বুদ্ধি, ও প্রাণময়তা নিয়ে এ গ্রন্থের সর্বাপেক্ষা জীবন্ত চরিত্র।
- উপন্যাসটি 'The Spoiled Child' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।

এছাড়াও অন্যান্য চরিত্রগুলো হচ্ছে-
- বাবুরাম,
- বাবুরামের পুত্র মতিলাল,
- ধূর্ত উকিল বটলর,
- অর্থলোভী বাঞ্ছারাম,
- তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮১৫.
'আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি, আমি বাংলার আলপথ দিয়ে _______ বছর চলি'-চরণের শূন্যস্থান কোন শব্দ দিয়ে পূরণ হবে?
  1. সহস্র
  2. হাজার
  3. শত
  4. অযুত
সঠিক উত্তর:
হাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাজার
ব্যাখ্যা
• আমি জন্মেছি বাংলায়,
আমি বাংলায় কথা বলি।
আমি বাংলার আলপথ দিয়ে, হাজার বছর চলি।

- আলোচ্য পঙ্‌ক্তিদ্বয় সৈয়দ শামসুল হক রচিত 'আমার পরিচয়' কবিতার অংশ। 
- ‘আমার পরিচয়’ কবিতাটি  সৈদয় শামসুল হকের ‘কিশোর কবিতা সমগ্র; থেকে সম্পাদিত আকারে চয়ন করা হয়েছে।
- কবিতাটির মাধ্যমে লেখক বাঙালি জাতির বর্তমান অবস্থার পেছনের বর্ণিল ইতিহাসের কথা তুলে ধরেছেন।

সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- মানুষের জটিল জীবনপ্রবাহ এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তাঁর সাহিত্যকর্মের মূল প্রবণতা।
- কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, অনুবাদ তথা সাহিত্যের সকল শাখায় সাবলীল পদচারণার জন্য তাঁকে 'সব্যসাচী' লেখক বলা হয়।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ইত্যাদি লাভ করেন।
- তিনি ২০১৬ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮১৬.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের মৃত্যুর পর তাঁর স্মরণে 'সত্যেন্দ্র-প্রয়াণ' কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. বুদ্ধদেব বসু
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন্দ্র-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

----------------------
সত্যেন্দ্র-প্রয়াণ 
- কাজী নজরুল ইসলাম

আজ আষাঢ়-মেঘের কালো কাফনের আড়ালে মু-খানি ঢাকি
আহা কে তুমি জননি কার নাম ধরে বারে বারে যাও ডাকি?
মাগো কর হানি দ্বারে দ্বারে
তুমি কোন হারামণি খুঁজিতে আসিলে ঘুম-সাগরের পারে?
‘কই রে সত্য, সত্যেন কই’ কাতর কান্না শুধু
গগন-মরুর প্রাঙ্গণে হানে সাহারার হাহা ধুধু!
সত্য অমর, কেঁদো না জননি, আসিবে আবার রবি,
গিয়াছে বাণীর কমল-বনে মা, কমল তুলিতে কবি!

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮১৭.
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন কে?
  1. ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. খ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) মীর মোশাররফ হোসেন
  4. ঘ) বদরুদ্দিন উমর
সঠিক উত্তর:
ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
• বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী, মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক প্রমুখের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সমিতির উদ্যোগে মোট সাতটি সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৩ সালের ৮-৯ মে সমিতির সপ্তম ও শেষ বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা ও সাহিত্যিক নামে এর দুটি মুখপত্র ছিল।
- লাহোর প্রস্তাবের প্রেক্ষাপটে কলকাতায় পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটি এবং ঢাকায় পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ গঠিত হলে বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির গুরুত্ব হ্রাস পায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮১৮.
'কুহেলিকা' উপন্যাসে কোন প্রসঙ্গ অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে উপস্থাপন করা হয়েছে?
  1. সাম্প্রদায়িক ঐক্য
  2. প্রেম ও বিবাহের জটিলতা
  3. নারীর মুক্তি ও স্বাধীনতা
  4. রাজনৈতিক প্রসঙ্গ ও বিপ্লব
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক প্রসঙ্গ ও বিপ্লব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক প্রসঙ্গ ও বিপ্লব
ব্যাখ্যা

• ‘কুহেলিকা’ উপন্যাসে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে উপস্থাপন করা হয়েছে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ (বিশেষ করে ব্রিটিশ-বিরোধী স্বদেশী আন্দোলন, বিপ্লব, দেশপ্রেম, সাম্যবাদী চেতনা ও সমাজ-ধর্ম-রাজনীতির সমন্বয়)।

• 'কুহেলিকা' উপন্যাস সম্পর্কিত তথ্য:

- কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস 'কুহেলিকা' ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ হয়। গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১)।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো- জাহাঙ্গীর। এই উপন্যাসে তিনি একজন শিক্ষিত, দেশপ্রেমিক, বিপ্লবী চরিত্র যিনি সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ খুঁজছেন।
- উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর বিপ্লবী স্বদেশি দলের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু তার যে প্রেমের সম্পর্ক ও নারী সম্পর্কে ধারণা তা যথেষ্ট ঋণাত্মক।

এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

নারী সম্পর্কে এ উপন্যাসে বলা হয়েছে:
'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮১৯.
কোনটি আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত প্রথম উপন্যাস?
  1. পরিত্যক্ত স্বামী
  2. রৌদ্র করোটিতে
  3. নিজ বাসভূমে
  4. আমি অনাহারী
সঠিক উত্তর:
পরিত্যক্ত স্বামী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিত্যক্ত স্বামী
ব্যাখ্যা

আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ পূর্বতন ঢাকা জেলা, বর্তমান গাজীপুর জেলার দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাসের নাম 'পরিত্যক্ত স্বামী' (১৯৪৭)। এটি তাঁর প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থও।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ২৪শে আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী
- নির্বাচিত গল্প।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮২০.
‘এই গৃহ এই সন্ন্যাস’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা?
  1. ক) অমিয় চক্রবর্তী
  2. খ) শামসুর রহমান
  3. গ) নির্মলেন্দু গুণ
  4. ঘ) মহাদেব সাহা
সঠিক উত্তর:
ঘ) মহাদেব সাহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মহাদেব সাহা
ব্যাখ্যা
এই গৃহ এই সন্ন্যাস মহাদেব সাহা'র প্রথম কাব্যগ্রন্থ যা ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়। এতে মোট ৪২ টি কবিতা রয়েছে। এসব কবিতায় সুখ, দুঃখ, আনন্দ, বেদনা, ট্র্যাজেডি, শৈশব স্মৃতি ইত্যাদি ফুটে উঠেছে। (সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৮২১.
'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. আনিসুজ্জামান
  2. আব্দুল কাদির
  3. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  4. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ কথা কয়:
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর 'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটি বাংলাদেশের কয়েকজন তরুণ ও প্রবীণ কথাশিল্পীর লেখা গল্পগুলো নিয়ে রচিত সম্পাদনা গ্রন্থ বা প্রামাণ্য চিত্র।
• সম্পাদনাটি নিছক যুদ্ধ-সাহিত্য নয়; বরং বাঙালি জাতীয়মানসের বর্তমান বিপ্লবী প্রতিরোধ চেতনার কয়েকটি রূপরেখা অঙ্কিত হয়েছে এই সম্পাদনায়।
• এত কাছের ঘটনা ও চরিত্র নিয়ে লেখা গল্প সকল সময় গল্প হয়ে ওঠে না। কখনো কখনো প্রামাণ্য চিত্র হয়ে ওঠে। সুতরাং কোনো পাঠক যদি এই গল্পগুলোর প্রত্যেকটিতে সার্থক গল্পের রস অথবা কুশলী হাতে সৃষ্ট চরিত্র ও ঘটনা-সন্নিবেশ খোঁজেন তাহলে নিরাশ হতেও পারেন। 
-----------------------------------
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।

• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

• তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ‘বাংলাদেশ কথা কয়’ সম্পাদনা ।
৮২২.
'হারানো অর্কিড' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. কল্যান মিত্র
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
'হারানো অর্কিড' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা অমিয় চক্রবর্তীর।
তাঁর রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - কবিতাবলী।
এছাড়াও তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- উপহার, খসড়া, একমুঠো, মাটির দেয়াল, পারাপার, পুষ্পিত ইমেজ, অনিঃশেষ ইত্যাদি।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮২৩.
আহমদ ছফা কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন না?
  1. উত্তরণ
  2. সম্ভাবনা
  3. উত্থানপর্ব
  4. স্বাক্ষর
সঠিক উত্তর:
স্বাক্ষর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাক্ষর
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকা নয়- স্বাক্ষর।

• আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র তিন সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। 
- স্বদেশ, প্রতিরোধ, সম্ভাবনা, উত্তরণ এবং উত্থানপর্বের তিনি ছিলেন সম্পাদক। 
 
 • তাঁর প্রকাশিত উপন্যাস গ্রন্থসমূহ হচ্ছে:
- সূর্য তুমি সাথী, 
- ওঙ্কর, 
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- মরণ বিলাস, 
- গাভি বিত্তান্ত, 
- অর্ধেক নারী অর্ধেক উশ্বরী, 
- বিহঙ্গ পুরাণ। 

অন্যদিকে,
• 'স্বাক্ষর’ পত্রিকা:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে উত্তাল ঘাটের দশকে যে-কয়েকটি লিটল ম্যাগাজিন ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল, 'স্বাক্ষর' এগুলোর একটি।
- ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে 'স্বাক্ষর’ এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- এর সম্পাদক ছিলেন দুই কবি; রফিক আজাদ ও সিকদার আমিনুল হক।
- পরে বিভিন্নজন এর সম্পাদকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: ইমরুল চৌধুরী, প্রশান্ত ঘোষাল, আসাদ চৌধুরী, রণজিৎ পালচৌধুরী।
- সাহিত্যে প্রথাবদ্ধতার বিরুদ্ধে ছিল এঁদের সংগ্রাম। রবীন্দ্র-রোম্যান্টিকতা, জীবনানন্দীয় প্রণয়- আকুলতা, সমাজবাদী মতবাদনিষ্ঠতার বিরুদ্ধে পাশ্চাত্য দর্শন প্রভাবিত হয়ে 'স্বাক্ষরে'র লেখকগণ লেখনীধারণ করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮২৪.
“আনন্দের মৃত্যু” গল্পের রচয়িতা হচ্ছেন-
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) সৈয়দ আলী আহসান
  3. গ) সৈয়দ মঞ্জুরুল হক
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

সৈয়দ শামসুল হকঃ বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে সক্রিয় একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক।
তার রচিত গল্পঃ
- আনন্দের মৃত্যু,
- তাস,
- শীত বিকেল,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তার উপন্যাসঃ
- খেলারাম খেলে যা,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- অনুপম দিন,
- এক মহিলার ছবি,
- নীল দংশন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৮২৫.
রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে ‘রবিহারা’ কবিতাটি কে রচনা করেন?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুতে শোকাহত নজরুল তাৎক্ষণিকভাবে রচনা করেন ‘রবিহারা’ ও ‘সালাম অস্তরবি’ কবিতা এবং ‘ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবিরে’ শোকসঙ্গীত।
• ‘রবিহারা’ কবিতা নজরুল স্বকণ্ঠে আবৃত্তি করেন কলকাতা বেতারে, গ্রামোফোন রেকর্ডে। ‘ঘুমাইতে দাও’ গানটিও কয়েকজন শিল্পীকে নিয়ে স্বকণ্ঠে গেয়েছিলেন।

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী’, 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

কবি নজরুলের উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতা ও রচনার পেক্ষাপট:
• নজরুল যখন আলীপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি তখন রবীন্দ্রনাথ তাঁর বসন্ত গীতিনাট্যটি কবি নজরুলকে উৎসর্গ করেন (২২ জানুয়ারি ১৯২৩)। এ ঘটনায় উল্লসিত নজরুল জেলখানায় বসে তাঁর অনুপম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ রচনা করেন।

• ধূমকেতুর ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হলে ৮ নভেম্বর পত্রিকার ওই সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করা হয়।

• ১৯২১ সালের শেষদিকে নজরুল আরেকটি বিখ্যাত কবিতা ‘কামাল পাশা’ রচনা করেন, যার মাধ্যমে তাঁর সমকালীন আন্তর্জাতিক ইতিহাস-চেতনা এবং ভারতীয় মুসলমানদের খিলাফত আন্দোলনের অসারতার পরিচয় পাওয়া যায়।

• নজরুলের প্রেম ও প্রকৃতির কবিতার প্রথম সংকলন দোলন-চাঁপা  প্রকাশিত হয় ১৯২৩ সালের অক্টোবরে। এতে সংকলিত দীর্ঘ কবিতা ‘পূজারিণী’-তে নজরুলের রোমান্টিক প্রেম-চেতনার বহুমাত্রিক স্বরূপ  প্রকাশিত হয়েছে।

• ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নজরুলের গান ও কবিতা সংকলন বিষের বাঁশী এবং একই মাসে ভাঙ্গার গান প্রকাশিত হয়। দুটি গ্রন্থই ওই বছর অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮২৬.
স্বাধীনতা উত্তরকালে কবি আল মাহমুদ কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিল?
  1. দৈনিক মানবজমিন
  2. দৈনিক সমকাল 
  3. দৈনিক আজাদী
  4. দৈনিক গণকন্ঠ
সঠিক উত্তর:
দৈনিক গণকন্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈনিক গণকন্ঠ
ব্যাখ্যা

• আল মাহমুদ:
 - আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯) একজন প্রথিতযশা কবি। বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে তিনি এক প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিভা। আধুনিক বাংলা কবিতার নগরকেন্দ্রিক প্রেক্ষাপটে ভাটি বাংলার জনজীবন, গ্রামীণ আবহ, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের জীবনপ্রবাহ এবং নরনারীর চিরন্তন প্রেম-বিরহ তাঁর কবিতার বিশেষ উপাদান। 

- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

কবি আল মামুদ যেসব পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন-
১৯৫৪ সালে কবি আল মাহমুদ দৈনিক মিল্লাত পত্রিকায় প্রুফ রিডার হিসেবে যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে সাপ্তাহিক কাফেলা পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫৭-৬২ সালে তিনি ড্রেজার ডিভিশনে গেজ রিডার পদে এবং লাইফবয় সাবানের সেলসম্যান হিসেবে চাকরি করেন।

১৯৬৩ সালে দৈনিক ইত্তেফাক-এ প্রুফ রিডার পদে যোগ দেন। পরে তাঁকে জুনিয়র সাব এডিটর এবং মফস্বল সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৬৮ সালে ইত্তেফাক প্রকাশনা বন্ধ হয়ে গেলে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর সৈয়দ আলী আহসানের আমন্ত্রণে সেখানে গিয়ে আর্ট প্রেসে প্রকাশনা তদারকির কাজ করেন এবং চট্টগ্রামের প্রখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা 'বইঘর'-এর প্রকাশনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালে পুনরায় ইত্তেফাক চালু হলে তিনি সহ-সম্পাদক পদে যোগ দেন। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ইত্তেফাক কার্যালয় গুড়িয়ে দিলে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

 মুক্তিযুদ্ধকালে কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে মুজিবনগর সরকারের প্রতিরক্ষা বিভাগের জুনিয়র স্টাফ অফিসার পদে যোগ দেন। ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।

স্বাধীনতা উত্তরকালে ১৯৭২ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাসদ-এর মুখপত্র এবং সরকারবিরোধী একমাত্র পত্রিকা দৈনিক গণকণ্ঠ-এর সম্পাদক পদে নিযুক্ত হন। ১৯৭৪ সালের মার্চে কারাবরণ করেন। প্রায় ১ বছর কারাভোগের পর অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রচেষ্টায় ১৯৭৫ সালে মুক্তি পান।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮২৭.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'দুর্দিনের যাত্রী' কোন জাতীয় গ্রন্থ?
  1. প্রবন্ধগ্রন্থ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. ভ্রমণকাহিনি
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'দুর্দিনের যাত্রী' একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র-মঙ্গল,
- অন্যান্য প্রবন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া এবং নজরুলের প্রবন্ধ সমগ্র।
৮২৮.
'কণ্ঠস্বর' পত্রিকার সম্পাদক -
  1. আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
  2. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. আব্দুল্লাহ আল মুতী
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
ব্যাখ্যা
'কণ্ঠস্বর' পত্রিকা:
- আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ সম্পাদিত ‘কণ্ঠস্বর’ কেবল একটি পত্রিকা নয়, একটি বৃহৎ আন্দোলনের সূতিকাগার।
- এই পত্রিকার সারথি হিসেবে, পত্রিকার সাহিত্যাদর্শ আর সাহিত্য-উদ্দেশ্যের নির্মাতা হিসেবে, সাংগঠনিক কাজকর্মের সম্পাদক হিসেবে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ নিষ্ঠার সঙ্গে যে পরিশ্রম করেছেন, তা বাংলাদেশের সাহিত্যের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
- বাংলাদেশের বাংলা সাহিত্যে বিশ শতকের ষাটের দশকে বেশ কয়েকটি লিটল ম্যাগাজিন বা ছোট-কাগজ প্রকাশিত হয়ে সাহিত্য ক্ষেত্রে নতুন দিগ্বলয় সৃষ্টি করে।
- এর মধ্যে 'কণ্ঠস্বর' অন্যতম।
- ১৯৬৫ সালে লিটল ম্যাগাজিন হিসেবে প্রকাশিত হলেও পরে তা নিয়মিত সাহিত্যপত্র রূপে এক দশকের বেশি সময় ধরে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮২৯.
‘মোদের গরব মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা’ রচয়িতা-
  1. ক) রাধানিধি গুপ্ত
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) অতুল প্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) অতুল প্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অতুল প্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• 'মোদের গরব মোদের আশা / আ-মরি বাঙলা ভাষা' - গানটির রচয়িতা: 'অতুলপ্রসাদ সেন'। 
- গানটি ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়বাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল।

অতুলপ্রসাদ সেন
- অতুলপ্রসাদ সেন ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি, গীতিকার ও গায়ক ছিলেন।
- তিনি সর্বপ্রথম বাংলা গানে ঠুমরি আমদানি করেন।
- 'মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা' তাঁর রচিত বিখ্যাত গান।
- 'কয়েকটি গান ও গীতিগুচ্ছ' তাঁর গানের সংকলন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৩০.
কোন উপন্যাসে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে?
  1. সংশপ্তক
  2. নিয়ত মন্তাজ
  3. পঞ্চগ্রাম
  4. সারেং বৌ
সঠিক উত্তর:
সারেং বৌ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সারেং বৌ
ব্যাখ্যা

- শহীদুল্লাহ কায়সার একজন বাঙালি লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্।
- 'সারেং বৌ' (১৯৬২) তাঁর রচিত আরেকটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে এই উপন্যাসে।
- 'সংশপ্তক' (১৯৬৫) তাঁর রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্ববর্তীকাল থেকে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রূপান্তর ধারণ করেছেন।
- 'রাজবন্দীর রোজনামচা' তাঁর রচিত স্মৃতিকথা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৮৩১.
পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের সাথে কোনটির ভাবসাদৃশ্য রয়েছে?
  1. ক) ঘরে বাইরে
  2. খ) দুই বোন
  3. গ) যোগাযোগ
  4. ঘ) চতুরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
ক) ঘরে বাইরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ঘরে বাইরে
ব্যাখ্যা
• চলিত ভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস হচ্ছে ঘরে-বাইরে।
- উপন্যাসটির সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৮৬১ সালের ৭ মে কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী।
- এছাড়াও প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক হিসেবেও তিনি পরিচিত।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন।
- তিনি ইংরেজ প্রদত্ত ১৯১৫ সালে ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• ঘরে-বাইরে উপন্যাস: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস 'ঘরে-বাইরে' (১৯১৬)।
- উপন্যাসটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- এই উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমাক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনী সকরুণ, সিরিয়াস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮৩২.
'গঙ্গা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) সত্যজিৎ রায়
  4. ঘ) সমরেশ বসু
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমরেশ বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা
'গঙ্গা' উপন্যাসটি সমরেশ বসুর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা।
- এটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত।
- গঙ্গার পটভূমি একটাই, জল-জাল-জেলে; বিশেষত অবিভক্ত ২৪ পরগনা জেলার মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের (মাছমারা) জীবনসংগ্রামের কাহিনি। গঙ্গা উপন্যাসের চরিত্রগুলো সামনে অতটা উজ্জ্বল হয়ে ধরা দেয়নি।
- সমরেশ বসুর মূল বিষয় চরিত্র চিত্রণ নয়, মূল বিষয় জেলেজীবন।
- জেলেজীবনের সংগ্রাম চিত্রণ করতে যা যা প্রয়োজন, তা করেছেন। চরিত্রের ক্ষেত্রেও তাই।
- এখানে মোটা দাগে যারা রয়েছে: সাইদার নিবারণ, নিবারণের ছোট ভাই পাঁচু ও ছেলে বিলাস, বশীর, সয়ারাম, পাচী (ছায়া), রসিক, দুলাল; অপরদিকে অমর্তের বউ, দামিনী, হিমি, হিমির সখী আতর, মহাজন ব্রজেন ঠাকুর প্রমুখ।
- আপাতদৃষ্টিতে এই উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা হলো বিলাস ও হিমি। কিন্তু সব চরিত্র যার ছায়া অবলম্বনে, তিনি হলো নিবারণ। সেদিক থেকে নিবারণ হলো কেন্দ্রীয় চরিত্র।

উৎসঃ 'গঙ্গা' উপন্যাস ও সাহিত্য সাময়িকী।
৮৩৩.
বাংলা ভাষায় চলিত রীতির প্রবর্তক কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. রাজা রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক - প্রমথ চৌধুরী। 

• প্রমথ চোধুরীর চলিত ভাষা নিয়ে গবেষণা:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- ‘বীরবলেন হালখাতা’ তাঁর রচিত প্রথম চলিত রীতির গদ্য রচনা।
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৩৪.
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কে?
  1. ক) গোলাম মোস্তফা
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) কাজী মোতাহার হোসেন
সঠিক উত্তর:
খ) কায়কোবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)।
তার প্রকৃত নাম - কাজেম আল কোরেশী। তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।
তার রচিত কাব্যগ্রন্থ হলো- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য), মহাশশ্মান (মহাকাব্য), কুসুমকানন, শিবমন্দির, অমিয়ধারা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৩৫.
‘উজানে মৃত্যু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. গল্প
  3. নাটক
  4. গল্পগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
• 'উজানে মৃত্যু' নাটক:
- 'উজানে মৃত্যু' (১৯৬৬) একটি এবসার্ড নাটক।
- নাটকের মুখ্য বিষয় আধুনিক সভ্যতার অন্তঃশূন্যতা, এর ক্লান্তিকর পথপরিক্রমা, নিরাশাবাদী ভাব কিন্তু সুখের জন্য অসীম প্রতীক্ষা, যা শেষ হবার নয়।
- এবসার্ড শিল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, জীবনের এলোমেলো ভাব প্রকাশিত হবে শিল্পের শরীরে। তাই এবসার্ড নাটকে থাকবে সংলাপ ও পাত্রপাত্রীর আপাত সমন্বয়হীনতা। কিন্তু এর গভীরে প্রবাহিত থাকবে পরিত্রাণের অন্তঃশীলা।

-----------------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুরঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৩৬.
কাজী নজরুল ইসলামের কোন বইটি প্রথম নিষিদ্ধ হয়?
  1. বিষের বাঁশী
  2. ভাঙার গান
  3. যুগবাণী
  4. প্রলয় শিখা
সঠিক উত্তর:
যুগবাণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুগবাণী
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম যে বইটি নিষিদ্ধ হয় তার নাম 'যুগবাণী'।

• 'যুগবাণী':
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম প্রবন্ধের বই 'যুগবাণী'।
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে এই প্রবন্ধ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারানুসারে বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয় ১৯২২ সালে।
- প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক বইটি নিষিদ্ধ হয়।
- নিষেধাজ্ঞা উঠে যায় ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে।
- প্রবন্ধ গুলোতে স্বদেশি চিন্তা চিন্তাচেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতা প্রকাশিত।

• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি:
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮৩৭.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল নাটক-  
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. ভদ্রার্জুন
  3. আমলার মামলা
  4. কবর
সঠিক উত্তর:
শর্মিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল নাটক মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত- শর্মিষ্ঠা। 
---------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অবদানের কারণে তাকে “বাংলা আধুনিক কবিতার জনক” ও “মহাকবি” বলা হয়।

- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য;
- যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় এবং
- এটি সংস্কৃত রামায়ণের কাহিনীর উপর ভিত্তি করে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। 
- এই কাব্যটি মূলত নয়টি সর্গে বিভক্ত।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• প্রথম প্রহসন: একেই কি বলে সভ্যতা।
• অন্য প্রহসন: বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ।
• প্রথম ট্র্যাজেডি: কৃষ্ণকুমারী।
প্রথম সফল নাটক: শর্মিষ্ঠা।
• প্রথম কাব্যগ্রন্থ: The Captive Ladie (ইংরেজি ভাষায় রচিত)।
• একমাত্র গদ্যগ্রন্থ: হেক্টরবোধ (অসমাপ্ত)।

• প্রসিদ্ধ নাটকসমূহ:
- কৃষ্ণকুমারী, শর্মিষ্ঠা, রিজিয়া, শুভ্রদা, পদ্মাবতী, ও মায়াকানন।
--------------------------------------- 
• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক নিয়ে কিছু কথা- 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের শর্মিষ্ঠা নাটকটি ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত হয়। 
- একই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর বেলগাছিয়া নাট্যশালায় প্রথম অভিনীত হয়।
- এটি বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সফল নাটক হিসেবে খ্যাত।

- নাটকের প্রধান চরিত্রগুলো হলো- শর্মিষ্ঠা, দেবযানী এবং যযাতি।
- নাটকটি মহাভারতের দেবযানী ও যযাতির কাহিনী অবলম্বনে রচিত।
- শর্মিষ্ঠা নাটকের মূল বিষয়বস্তু হলো- মহাভারতের আদিপর্ব থেকে নেওয়া রাজা যযাতি, দেবযানী ও শর্মিষ্ঠার মধ্যে ত্রিকোণ প্রেম ও বিবাদের গল্প। 
---------------------------- 
অন্যদিকে,
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক হলো 'ভদ্রার্জুন', যা ১৮৫২ সালে তারাচরণ শিকদার রচনা করেন। 
• 'আমলার মামলা' নাটকটি লিখেছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত লেখক শওকত ওসমান। 
• 'কবর' মুনীর চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম নাটক। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮৩৮.
‘এ লাশ আমরা রাখব কোথায়’ কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. শামসুর রাহমান
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
•  ‘এ লাশ আমরা রাখব কোথায়’ শামসুর রাহমানের 'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা। 

'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থ:
• ১৯৭০ সালে প্রকাশিত শামসুর রাহমানের 'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেন আবহমান বাঙলার শহীদদের উদ্দেশ্যে।
• ‘বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’, ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’, ‘পুলিশ রিপোর্ট’, ‘হরতাল’, ‘এ লাশ আমরা রাখব কোথায়’, এ কবিতাগুলির ছত্রেছত্রে লেগে আছে এক বিক্ষুব্ধ সময়ের ছাপ।

-----------------
এ লাশ আমরা রাখব কোথায়
শামসুর রাহমান

এ লাশ আমরা রাখব কোথায়?
তেমন যোগ্য সমাধি কই?
মৃত্তিকা বলো পর্বত বলো
অথবা সুনীল সাগর-জল-
সব কিছু ছেঁদো, তুচ্ছ শুধুই।
তাই তো রাখি না এ লাশ আজ
মাটিতে পাহারে কিংবা সাগরে,
হৃদয়ে হৃদয়ে দিয়েছি ঠাঁই।

-------------------------
• শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; 'এ লাশ আমরা রাখব কোথায়' কবিতা এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৩৯.
'ছায়া হরিণ' কার গ্রন্থ?
  1. ক) অমিয় চক্রবর্তী
  2. খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) অক্ষয় কুমার বড়াল
  5. ঙ) আহসান হাবীব
সঠিক উত্তর:
ঙ) আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা

• আহসান হাবীব ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুই হাতে দুই আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত রচিত উপন্যাসঃ
- অরণ্য নীলিমা ও
- রানী খালের সাঁকো।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৮৪০.
বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাসের লেখক কে?
  1. ক) হ্যানা ক্যাথেরিন ম্যুলেনস
  2. খ) ট্যাকচাঁদ ঠাকুর
  3. গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
খ) ট্যাকচাঁদ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ট্যাকচাঁদ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাসের লেখক প্যারীচাদ মিত্র। 
- তিনি টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর  'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮) উপন্যাসকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস বলা হয়। 

হ্যানা ক্যাথেরিন ম্যুলেনস রচিত 'ফুলমনি ও করুণার বিবরণ' প্রকাশিত হয় ১৮৫২ সালে। 
- এই বইয়ে লেখিকা মানুষের গল্প শোনাতে চাননি খ্রিস্টধর্ম প্রচারণার জন্য লিখেছিলেন। 
- তাই এই বই কে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস বলা যায় না। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৮৪১.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' কোন ধরনের পত্রিকা?
  1. মাসিক
  2. সান্ধ্য দৈনিক
  3. সাপ্তাহিক
  4. ত্রৈমাসিক
সঠিক উত্তর:
সান্ধ্য দৈনিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সান্ধ্য দৈনিক
ব্যাখ্যা
• 'নবযুগ' পত্রিকা:
- নবযুগ কলকাতা থেকে প্রকাশিত এক পাতার একটি সান্ধ্য দৈনিক। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২০ সালের ১২ জুলাই, কলকাতার ৬ নং টার্ন স্ট্রিট থেকে। পত্রিকাটির মূল্য ছিল এক পয়সা।

- এর মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক এবং যুগ্ম সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজফ্ফর আহমদ। পত্রিকায় পরিচালকের নাম মুদ্রিত হতো, কিন্তু সম্পাদকের নাম থাকত না। স্বাধীনচেতা, অসাম্প্রদায়িক ও গণমুখী পত্রিকা হিসেবে এটি পরিচিত ছিল।

- ফজলুল হক কৃষক প্রজা পার্টি গঠনের মানসে একটি পত্রিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন; একই সময়ে নজরুল ইসলাম, মুজফ্ফর আহমদ ও কতিপয় সমমনা ব্যক্তি ব্রিটিশবিরোধী গণজাগরণের লক্ষ্যে একটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশেরও চিন্তাভাবনা করছিলেন। এ ব্যাপারে ফজলুল হকের বাসভবনে একাধিকবার সভা হয় এবং তাতে পত্রিকার নামসহ অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে আলোচনা হয়। শেষপর্যন্ত নজরুলের প্রস্তাব অনুযায়ী পত্রিকার নাম হয় নবযুগ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৪২.
‘ভাষা প্রকাশ বাঙালা ব্যাকরণ' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) শামসুজ্জামান খান
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর:
ক) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- তাঁর রচিত গ্রন্থঃ অরিজিন এন্ড ডেভলেপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ, ভাষা প্রকাশ বাঙালা ব্যাকরণ, পশ্চিমের যাত্রী, বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা, ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৪৩.
'অধ্যাপক রায়হান' শওকত আলী রচিত কোন উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ?
  1. যাত্রা
  2. পিঙ্গল আকাশ
  3. উওরের খেপ
  4. ওয়ারিশ
সঠিক উত্তর:
যাত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাত্রা
ব্যাখ্যা
'যাত্রা' উপন্যাস:
- যুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা ও সময় নিয়ে রচিত উপন্যাস শওকত আলীর 'যাত্রা'।
- শুরুর প্রাক্কালে দলে দলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে। এ পলায়ন শুধু চেতনাগত নয়, মানসিকভাবেও পলায়ন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন।
- একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না- এ সংশয় ও দ্বিধায় শেষাবধি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।
- ১৯৭২ সালে রচিত হয় 'যাত্রা' উপন্যাসটি। তবে প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।

শওকত আলী:
- শওকত আলীর (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ - ২৫ জানুয়ারি)। জন্মস্থান দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ।
- একটি ছোট উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ” (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই।
- শিশুকিশোরদের জন্যেও তিনি লিখে থাকেন।
- বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাঙলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে।

শওকত আলী রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উওরের খেপ, 
- বসত, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উত্তরের ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৪৪.
প্রমথ চৌধুরী কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. বীরভূম
  2. যশোর
  3. কুষ্টিয়া
  4. ঢাকা
সঠিক উত্তর:
যশোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যশোর
ব্যাখ্যা
প্রমথ চৌধুরী:
- তিনি ৭ আগস্ট, ১৮৬৮ সালে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- তেল-নুন-লকড়ী,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- ভাষার কথ,
- আমাদের শিক্ষা,
- নানাচর্চা,

তাঁর রচিত গল্পগন্থ:
- চার-ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত,
- ঘোষালে ত্রিকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৪৫.
‘সতীর সর্বস্ব পতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত সতীর জয়’- কোন উপন্যাসের মূল বক্তব্য?
  1. বিশ শতকের মেয়ে
  2. মেহেরুন্নিসা
  3. আনোয়ারা
  4. গরীবের মেয়ে
সঠিক উত্তর:
আনোয়ারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনোয়ারা
ব্যাখ্যা
• 'সতীর সর্বস্ব পতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত সতীর জয়।'- মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্নের 'আনোয়ারা' উপন্যাসের মূল বক্তব্য। 

⇒ 'আনোয়ারা' উপন্যাস:

- 'আনোয়ারা' মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস।
- এটি তার রচিত প্রথম ও সর্বাধিক সার্থক উপন্যাস।
- এটি ১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই (১৩২১ বঙ্গাব্দে) কলকাতা থেকে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা। 
- ‘সতীর সর্বস্ব পতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত সতীর জয়’- এটাই উপন্যাসের মূল বক্তব্য। নারীর ইচ্ছার পৃথক কোনো মূল্য নেই এই উপন্যাসে।
- উপন্যাসের চরিত্র: আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজিমুল্লাহ, গোলাপজান ইত্যাদি। 

⇒ মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান ছিলেন মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৯২৩ সালের ১৮ অক্টোবর রায়গঞ্জের হাটি কুমরুল গ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়।
- নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রত হন। 
- প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো :
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- পরিণাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাই না ইত্যাদি।

• নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৪৬.
আবুল ফজল রচিত দিনলিপি কোনটি?
  1. চৌচির
  2. রেখাচিত্র
  3. প্রদীপ ও পতঙ্গ
  4. মাটির পৃথিবী
সঠিক উত্তর:
রেখাচিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রেখাচিত্র
ব্যাখ্যা

• 'রেখাচিত্র':
'রেখাচিত্র' আবুল ফজল রচিত একটি আত্মজীবনীমূলক দিনলিপি বা স্মৃতিগ্রন্থ, যা ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। এই বইটিতে লেখক তাঁর জীবন ও তৎকালীন সমাজ সম্পর্কে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও চিন্তাভাবনা তুলে ধরেছেন। 

-----------------------
আবুল ফজল কবি পরিচিতি:
আবুল ফজল ছিলেন একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, ও কথাসাহিত্যিক। তিনি ১৯০৩ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত হন এবং ১৯৩০ সালে এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনীসহ বিভিন্ন বিষয়ে অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
• উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

• গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

• দিনলিপি:
- রেখাচিত্র,
- দুর্দিনের দিনলিপি প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৪৭.
কার হাত ধরে বাংলা অভিধানের জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল?
  1. রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ
  2. রাজা রাম মোহন রায়
  3. অশোক মুখোপাধ্যায়
  4. হরিচরণ দে
সঠিক উত্তর:
রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ
ব্যাখ্যা

​• রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ:
-প্রথম বাংলা অভিধানকার রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ খ্যাতনামা স্মার্ত্ত ও ব্রাহ্মসমাজের প্রথম আচার্য হিসেবে সকলের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছেন। -
১৭৮৬ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন ও ১৮৪৫ সালের ২ মার্চ তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

- বাংলা অভিধানের জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৮১৭ সালে রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশের হাত ধরে। তিনি 'বঙ্গভাষাভিধান' নামে বাংলা ভাষায় প্রথম অভিধান সংকলন করেন।

- 'বঙ্গভাষাভিধান' বাঙালি রচিত বাংলা ভাষার প্রথম অভিধান।

- প্রায় দুশো বছর আগে প্রকাশিত রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশের সেই অভিধানকে ঘিরে বাঙালির গর্বের শেষ নেই। সেই সময়কার দাপুটে প্রকাশক স্কুল বুক সোসাইটি এই বইয়ের মুদ্রণ ও প্রকাশনার যাবতীয় দায়ভার গ্রহণ করে একটি ঐতিহাসিক কর্তব্য সম্পন্ন করেছিল।

উৎস: সংবাদপত্রে সেকালের কথা প্রথম খণ্ড এবং 'বঙ্গভাষাভিধান' রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ।

৮৪৮.
'তপস্বী ও তরঙ্গিণী' নাটকটির রচয়িতা?  
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. সেলিনা হোসেন
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• 'তপস্বী ও তরঙ্গিণী'- নাটকটির রচয়িতা বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু: 
- বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালে কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
-  রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুকে 'সব্যসাচী' লেখক বলা হয়।
- হুমায়ুন কবিরের সাথে তাঁর সম্পাদিত ত্রৈমাসিক পত্রিকা 'চতুরঙ্গ'।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস: 
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- মৌলিনাথ,
- নীলাঞ্জনের খাতা,
- রাত ভরে বৃষ্টি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী, 
- বন্দীর বন্দনা, 
- কঙ্কাবতী, 
- যে আধাঁর আলোর অধিক, 
- মরচেপড়া পেরেকের গান, 
- একদিন চিরদিন, 
- স্বাগত বিদায় ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক:
- মায়ামালঞ্চ, 
- তপস্বী ও তরঙ্গিণী,  
- কলকাতার ইলেক্ট্রা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৪৯.
'কারাগারে রোজনামচা' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) শেখ হাসিনা
  2. খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) তাজউদ্দিন আহমেদ
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নামকরণ করেন শেখ রেহেনা। প্রচ্ছদ ও নকশা করেন তারিক সুজাত।
- তবে প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ।

উৎস: কারাগারের রোচনামচা।
৮৫০.
ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব —গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মুতী
  2. খ) মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. গ) আনোয়ার পাশা
  4. ঘ) আবদুল কাদির
সঠিক উত্তর:
খ) মুহম্মদ আবদুল হাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা

মুহম্মদ আবদুল হাই (১৯১৯-১৯৬৯): শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থঃ
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি (১৯৫৪),
- বিলেতে সাড়ে সাত শ’দিন (১৯৫৮),
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা (১৯৫৯),
- ভাষা ও সাহিত্য (১৯৬০),
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪) প্রভৃতি।

বাংলা ভাষার ধ্বনির গঠন, উচ্চারণ ও ব্যবহারবিধি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশে­ষণ দিয়ে রচিত তাঁর ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব গ্রন্থটি মুহম্মদ আবদুল হাইকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি দান করে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮৫১.
বাংলা সাহিত্যের স্বভাবকবি নামে পরিচিত-
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. গােবিন্দচন্দ্র দাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবতী
  4. মুকুন্দ দাস
সঠিক উত্তর:
গােবিন্দচন্দ্র দাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গােবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের স্বভাবকবি হচ্ছেন- গােবিন্দচন্দ্র দাস। 

• গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের স্বভাবকবি হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর কবিতায় পূর্ববঙ্গের প্রাকৃতিক শোভা, বস্ত্তনিষ্ঠতা এবং গভীর পত্নিপ্রেম ফুটে উঠেছে। 
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন। কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।
 
 • তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসূন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস (১৯১০) ইত্যাদি।

এছাড়াও তিনি অ্যালেন হিউমের অ্যায়োত্রক কবিতা এবং ভগবদ্গীতার কাব্যানুবাদ করেন।


- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷ তাকে 'কবিকঙ্কণ' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। 
- চারণকবি ছিলেন - মুকুন্দ দাশ।
উল্লেখ্য, 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৫২.
মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন কে রচনা করেন?
  1. বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ
  2. বড়ু চণ্ডীদাস
  3. চণ্ডীদাস
  4. রামাই পণ্ডিত
সঠিক উত্তর:
বড়ু চণ্ডীদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড়ু চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা

- মধ্যযুগের শুরুতেই রচিত হয় একটি সুদীর্ঘ অসাধারণ কাব্য যার নাম ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’। এ কাব্যটি রচনা করেন বড়ু চণ্ডীদাস
- গ্রন্থটি ১৯০৯ সালে বাঁকুড়ার এক গৃহস্থের গোয়ালঘর থেকে শ্রীবসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ এটি আবিষ্কার করেন।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন-এর কবি বড়ু চণ্ডীদাস বাংলা ভাষার প্রথম মহাকবি।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ

৮৫৩.
'বিলাসী' ছোটগল্পটি প্রথম মাসিক কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ভারতী
  2. বঙ্গদর্শন
  3. সংবাদ প্রভাকর
  4. সাধনা
সঠিক উত্তর:
ভারতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতী
ব্যাখ্যা
'বিলাসী' ছোটগল্প:
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।
- 'বিলাসী' ছোটগল্পটি প্রথম মাসিক 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়
- গল্পে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধাচারণ করা হয়েছে মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর বিয়ে সংঘটনের মাধ্যমে।
- বিলাসী গল্পে 'ন্যাড়া' চরিত্রের মধ্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর নিজের ছায়াপাত ঘটেছে।
- বিলাসী গল্পের বিখ্যাত উক্তি - “টিকিয়া থাকাই চরম সার্থকতা নয়, অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।"

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়।
- সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ।
- বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল,
- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮৫৪.
"অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই" - উক্তিটি কোন রচনার অংশ?
  1. ক) সমাপ্তি
  2. খ) শ্রীকান্ত
  3. গ) দুই বোন
  4. ঘ) হৈমন্তী
সঠিক উত্তর:
ঘ) হৈমন্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হৈমন্তী
ব্যাখ্যা
"অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই" - উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'হৈমন্তী' নামক ছোটগল্পের অংশ। 
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্প টি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম। 
উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ। 

গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি- 
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন। 
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ। ইত্যাদি। 

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৮৫৫.
সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক-
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. লাশ
  3. মানুষ
  4. নেমেসিস
সঠিক উত্তর:
মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ
ব্যাখ্যা
"মানুষ" নাটক:
- 'মানুষ' (১৯৪৭) এক দৃশ্য বিশিষ্ট মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক। ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে নাটকটি রচিত।

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
এক হিন্দু তরুণ ডাক্তার আত্মরক্ষার জন্য এক মুসলিম বাড়িতে প্রবেশ করে। সে বাড়িতে একজন অসুস্থ, অন্য একজন দাঙ্গায় মারা গেছে। ডাক্তার রোগীকে চিকিৎসা দেয়। এ সময় হিন্দু ডাক্তারের খোঁজে মুসলিম দাঙ্গাকারীরা ঘরে প্রবেশ করে। তখন গৃহকর্ত্রী মশারির নিচে অসুস্থ সন্তানের পাশে ডাক্তারকে আড়াল করে তার জীবন রক্ষা করে। এভাবেই মানুষ বা মানবতা বড় হয়ে দেখা দেয়।

• নাটকের চরিত্রগুলো হলো:
- ফরিদ,
- জুলেখা,
- বাবা,
- মা,
- ডাক্তার।

অন্যদিকে, 
- 'লাশ' ফররুখ আহমদ রচিত 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা। 
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকটি মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক। পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্কে বিশিষ্ট এই নাটকটি রচিত।
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক। ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং 'শনবারের চিঠি' পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৫৬.
জাহানারা ইমামের অনুবাদ গ্রন্থ কোনটি?
  1. অন্যজীবন
  2. বুকের ভিতর আগুন
  3. নদীর তীরে ফুলের মেলা
  4. সাতটি তারার ঝিকিমিকি
সঠিক উত্তর:
নদীর তীরে ফুলের মেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীর তীরে ফুলের মেলা
ব্যাখ্যা

জাহানারা ইমামের অনুবাদ গ্রন্থ হচ্ছে নদীর তীরে ফুলের মেলা। 

জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলায়, ১৯২৯ সালের ৩ মে।
- তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ জননী হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’ এর আহবায়ক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পান।
- জাহানারা ইমামের মৃত্যু হয় ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন।

অন্য গ্রন্থসমূহ:
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি। 

শিশু সাহিত্যের জন্য গ্রন্থসমূহ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- বিদায় দে মা ঘুরে আসি। 

অনুবাদ গ্রন্থসমূহ:
- জাগ্রত ধরিত্রী,
- তেপান্তরের ছোট্ট শহর,
- নদীর তীরে ফুলের মেলা। 

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতিচারণমূলক ডায়েরি গ্রন্থ ‘একাত্তরের দিনগুলি’ তার অসাধারণ অবদান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮৫৭.
আধুনিক বাংলা মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ কে?
  1. কায়কোবাদ
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. ফররুখ আহমদ
  4. মীর মশাররফ হোসেন
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• আধুনিক বাংলা মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ - মীর মশাররফ হোসেন

মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী'(১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

তাঁর রচিত প্রহসন: 
- এর উপায় কি?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮৫৮.
'নাজমা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র? 
  1. কাবিলের বোন
  2. রেইনকোট
  3. দুই সৈনিক
  4. একটি কালো মেয়ের কথা
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি কালো মেয়ের কথা
ব্যাখ্যা

• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখিত উপন্যাস 'একটি কালো মেয়ের কথা' রচনা করেছিলেন শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যয়। কর্তব্যের তাগিদেই, মহান মুক্তিযুদ্ধের চল্লিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে অধুনা বিস্মৃত এই উপন্যাসটি পুনর্প্রকাশিত হলো।

- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যয়ের সর্বশেষ উপন্যাস।

- উপন্যাসে পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে ‘স্পাই’ হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে।
- নাজমা এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। 

জবানবন্দিতে ডেভিড বলেছে: 
'এরই মধ্যে এই দেশটাকে এমন করে ভালবেসে ফেললাম যে এই আমার সব থেকে ভোলো দেশ, এর থেকে ভালো দেশ আর নেই। আর এই দেশই আমার দেশ।’

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ- 
সংগীত শিল্পী ও ট্রানজিস্টার-মেকানিক ডেভিড ভিক্ষাজীবী পিতার কন্যা নাজমার সঙ্গে সঙ্গীত-প্রতিভায় বিমুগ্ধ ছিল। এই নাজমাই পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর তাঁবেদার এক পাঞ্জাবির বলাৎকারের শিকার হয়। নির্যাতিতা ও সন্তানহারা কালো মেয়ে নাজমা ১৯৭১-এর বাংলাদেশের প্রতিরূপক হয়ে উঠেছে উপন্যাসে। তবে, উপন্যাসটিতে ব্যক্তিগত কথকতা ছাপিয়ে বড়ো হয়ে উঠেছে পূর্ব বাংলার সমাজ-রাজনীতি, গণহত্যা ও বাঙালির মহান মুক্তিযুদ্ধ।

অন্যদিকে, 
------------------------
• 'কাবিলের বোন' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস, যা লিখেছেন আল মাহমুদ। এটি 'উপমহাদেশ' উপন্যাসের সাথে একটি বইতে প্রকাশিত হয়েছে এবং ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'রেইনকোট' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প। রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প। 'রেইনকোট' গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়। 

• গ্রামের পটভূমিতে লেখা শওকত ওসমানের একটি মুক্ত্যুদ্ধভিততিক উপন্যাস হলো 'দুই সৈনিক'৷ পাক বাহিনীর মেজর হাকিম ও ক্যাপ্টেন ফৈয়াজ এই দুইজনকে কেন্দ্র করে উপন্যাসের নামকরণ করা হয় "দুই সৈনিক”। শওকত ওসমান এই উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বহু ঘটনার মধ্যে একটি ঘটনাংশ উল্লেখ করেছেন মাত্র।

উৎস: 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮৫৯.
অগ্নিবীণা কাব্যের দ্বিতীয় খণ্ড হিসেবে লিখিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) দোলন-চাঁপা
  2. খ) সাম্যবাদী
  3. গ) বিষের বাঁশি
  4. ঘ) যুগবাণী
সঠিক উত্তর:
গ) বিষের বাঁশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিষের বাঁশি
ব্যাখ্যা
• বিষের বাাঁশি:
অগ্নিবীণা কাব্যের দ্বিতীয় খণ্ড হিসেবে বিষের বাঁশি লিখিত ও সর্বজন বিদিত্। অগ্নি-বীণা কাব্যে তিনি যে সংকেত সূত্র কিংবা তত্ত্ব দিয়েছেন বিষের বাঁশিতে আছে তার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ কিংবা পরিণতি। অগ্নিবীণা গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ড লিখতে চেয়েছিলেন কবি তবে পরবর্তিতে তা বিষের বাঁশি নামে রচিত হয়। বিষের বাঁশি গ্রন্থে মোট ২৭টি কবিতা আছে। বিষয় বিন্যাসে কবিতাগুলোকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা যায়:

• ক. অগ্নি-বীণার স্বর ও সূর মিশ্রিত বিদ্রোহী-বাণীর নির্যাস আছে ৮টি কবিতায় যথা:
১. জাগৃতি, 
২. শিকল পরার গান,
৩. জাতের বজ্জাতি,
৪. ভূত-ভাগানোর গান,
৫. বিদ্রোহী বাণী,
৬. অভিশাপ,
৭. মুক্ত-পিঞ্জর,
৮. ঝড়।

• খ. বাকি কবিতা গুলোতে রয়েছে নির্যাতিত-নিপীড়িত অসহায় পর্যুদন্ত গণমানুষের উজ্জীবিত ও জাগ্রত করার প্রত্যয়ধ্বনি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ বাংলাবিদ লেকচার।
৮৬০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কৌতুকধর্মী নাটক- 
  1. বৈকুণ্ঠের খাতা
  2. বিসর্জন
  3. রক্তকরবী
  4. অচলায়তন 
সঠিক উত্তর:
বৈকুণ্ঠের খাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈকুণ্ঠের খাতা
ব্যাখ্যা

‘বৈকুণ্ঠের খাতা’ রবীন্দ্রনাথের কৌতুকধর্মী নাটক, যা মূলত ব্যঙ্গ ও হাস্যরসের মাধ্যমে সামাজিক ও নৈতিক বিষয় তুলে ধরে।
----------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে স্বীকৃত।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান। 

- তিনি সম্মানিত ‘বিশ্বকবি’ খ্যাতি পান ব্রহ্মবন্ধব উপাধ্যায়ের কাছ থেকে;
- তাকে ‘কবিগুরু’ উপাধি দেন ক্ষিতিমোহন সেন, এবং
- মহাত্মা গান্ধী তাঁকে ‘গুরুদেব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
• ‘বিসর্জন’- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যনাটক, যেখানে ধর্মীয় কুসংস্কার ও মানবতার সংঘাত ফুটে উঠেছে।
• ডাকঘর - মানবজীবনের মুক্তির প্রতীকী নাটক।
• রক্তকরবী - প্রতীকী কাব্যনাটক।
• চিত্রাঙ্গদা - এটি রবীন্দ্রনাথের নৃত্যনাট্য।
• অচলায়তন - সামাজিক সংস্কারবিরোধী নাটক।
------------------- 
• ‘বৈকুণ্ঠের খাতা’ নিয়ে কিছু কথা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বৈকুণ্ঠের খাতা’ একটি কৌতুকধর্মী বা প্রহসনধর্মী নাটক। 
- নাটকটি মানুষের স্বার্থপরতা, চাটুকারিতা ও ভণ্ডামির প্রতি ব্যঙ্গাত্মক দৃষ্টি প্রদর্শন করে।
- নাটকের কেন্দ্রবিন্দু বৈকুণ্ঠ, একজন সরলমনা শখের লেখক। 
- তিনি সঙ্গীত নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে চারপাশের তোষামোদকারী ও স্বার্থান্বেষী চরিত্রদের দ্বারা প্রতারিত হন।
- তার লেখা ‘বৈকুণ্ঠের খাতা’ থেকে উদ্ভূত হাস্যকর পরিস্থিতিই নাটকের মূল আকর্ষণ।
- নাটকটি সময়োপযোগী সামাজিক ব্যঙ্গধর্মী রচনা হিসেবে আজও প্রাসঙ্গিক।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৮৬১.
'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনাম কার?
  1. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. কালিকানন্দ
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা

কয়েকজন সাহিত্যিকের ছদ্মনাম:
- কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম 'হুতোম প্যাঁচা'।
- কালিকানন্দ এর ছদ্মনাম 'অবধূত'।
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম 'নীল উপাধ্যায়, নীল লোহিত, সনাতন পাঠক'।
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম 'হাবু শর্মা'।
- বাংলা সাহিত্যে 'কালকূট' নামে পরিচিত সমরেশ বসু।
- 'পরশুরাম' রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ‘বনফুল'।
- 'দৃষ্টিহীন' হলো মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৮৬২.
'আজিকার রোদ ঘুমায়ে পড়িছে
ঘোলাটে মেঘের আড়ে,
কেয়া বন পথে স্বপন বুনিছে, 
ছল ছল জলধারে।'
- পঙ্‌ক্তিটি জসীমউদ্‌দীনের কোন কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. ক) ধানক্ষেত
  2. খ) পুরান পুকুর
  3. গ) পল্লী-বর্ষা
  4. ঘ) আসমানী
সঠিক উত্তর:
গ) পল্লী-বর্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পল্লী-বর্ষা
ব্যাখ্যা
পঙ্‌ক্তিটি জসীমউদ্‌দীনের 'পল্লী-বর্ষা' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

পল্লী-বর্ষা
--- জসীমউদ্দীন

আজিকার রোদ ঘুমায়ে পড়িছে
ঘোলাটে মেঘের আড়ে,
কেয়া বন পথে স্বপন বুনিছে, 
ছল ছল জলধারে।
কাহার ঝিয়ারী কদম্ব শাখে-নিঝ্ঝুম
নিরালায়,
ছোট ছোট রেনু খুলিয়া দিয়াছে-অস্ফুট
কলিকায়।
বাদলের জলে নাহিয়া সে মেয়ে, হেসে
কুটি কুটি হয়।
সে হাসি তাহার অধর নিঙ্গাড়ি,
লুটায়িছে বনময়।
কাননের পথে লহর খেলিছে, অবিরাম
জলধারা।
তারই স্রোতে আজি শুকনো পাতারা,
ছুটিয়াছে ঘরছাড়া।
হিজলের বনে, ফুলের আখরে, লিখিয়া রঙিন
চিঠি,
নিরালা বাদলে ভাসাইয়া দিয়াছে, না
জানি কোন দিঠি।
চিঠির উপরে চিঠি ভেসে যায়, জনহীন বন
বাঁটে,
না জানি তাহারা ভিড়িবে যাইয়া-কার
কেয়া বন ঘাটে।
কোন সে নিরালা বুনো ঝাউশাখে, বুনিয়া
ঘোলাবি শাড়ি-
হয়তো আজিও চেয়ে আছে পথে, কানন
কুমার তারই।
এদিকে দিগন্তে যতদূর চাহি, পাংশু
মেঘের জাল-
পায়ে জড়াইয়া পথে দাড়ায়েছে,
আজিকার মহাকাল।
গাঁয়ের চাষিরা মিলিয়াছে আজি-
মোড়লের দলিজায়,
গল্পে গানে কি জাগাইতে চাহে-
আজিকার দিনটায়!
কেউ বসে বসে বাখাড়ি চাছিছে, কেউ
পাকাইছে রশি।
কেউবা নতুন দুয়ারির গায়ে, চাকা বাঁধে
কসি কসি।
কেউ তুলিতেছে বাঁশের লাঠিতে, সুন্দর
করে ফুল।

উৎস: পল্লীবর্ষা কবিতা- জসীমউদ্‌দীন।
৮৬৩.
'পঞ্চাঙ্ক নাটক'ই হচ্ছে আদর্শ নাটক - কথাটি কে বলেছেন?
  1. ক) সক্রেটিস
  2. খ) অ্যারিস্টটল
  3. গ) প্লেটো
  4. ঘ) অ্যালেকজান্ডার
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যারিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অ্যারিস্টটল
ব্যাখ্যা
নাটকের উৎস ও বিকাশ:
- একটি নাটকের গঠনকে প্রধানত পাঁচটি পর্বে বিভক্ত করা যায়। 
যথা- 
১। কাহিনীর আরম্ভ Exposition (মুখ), 
২। কাহিনীর ক্রমব্যাপ্তি Rising Action (প্রতিমুখ), 
৩। উৎকর্ষ বা চূড়ান্ত দ্বন্দ্ব Climax (গর্ভ), 
৪। গ্রন্থিমোচন Falling Action (বিমর্ষ) এবং 
৫। যবনিকাপাত Conclusion Denouement (উপসংহতি)। 

- উপরের পাঁচটি পর্যায়কে অবলম্বন করে রচিত হয় পঞ্চাঙ্ক নাটক। 
- একটি পর্যায় নিয়ে লেখা হয় একটি অঙ্ক। 
- অ্যারিস্টটলের মতে, পঞ্চাঙ্ক নাটকই হচ্ছে আদর্শ নাটক। 
- বর্তমানকালে নাট্যকারেরা পাঁচের চেয়ে কম অঙ্কে নাটক রচনা করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। 
- কখনো বা এক অঙ্কের পরিসরেই পাঁচটি পর্যায়কে ধারণ করে উৎকৃষ্ট নাটক লেখা হচ্ছে। 

উৎস: বাংলা প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত পত্র সংকলন কোনটি?
  1. ক) বাঁধনহারা
  2. খ) ছিন্নপত্র
  3. গ) বীরাঙ্গনা
  4. ঘ) প্রিয়তমাসু
সঠিক উত্তর:
খ) ছিন্নপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ছিন্নপত্র
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত পত্র সংকলন 'ছিন্নপত্র'। 
- ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা পত্রের সংকলন এটি। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১২ সালে। 
- সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরীর সাথে বিবাহের পর তিনি ইন্দিরা দেবী চৌধুরাণী  হন। 

অন্যদিকে, 
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস কাজী নজরুল ইসলাম রচিত - 'বাঁধনহারা'
প্রেমেন্দ্র মিত্রে রচিত পত্রোপন্যাস - 'প্রিয়তমাসু',
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত - 'বীরাঙ্গনা কাব্য'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৬৫.
বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র 'ইন্দ্রনাথ' এর স্রষ্টা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম 
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র- 'ইন্দ্রনাথ'। 
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস। 
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়। প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭)' শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশিত হয়। লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রী শ্রীকান্ত শর্মা'। 
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়। 

এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- 
• শ্রীকান্ত,
• ইন্দ্রনাথ,
• রাজলক্ষ্মী,
• কমললতা, 
• অন্নদিদি প্রমুখ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮৬৬.
'জনৈক বঙ্গমহিলা' ছদ্মনামে লিখতেন কে?
  1. কামিনী রায়
  2. বেগম রোকেয়া 
  3. স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. কুসুমকুমারী দাশ 
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা

• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর -বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- একসময় তিনি 'জনৈক বঙ্গমহিলা' ছদ্মনামে লিখতেন। তাঁর কবিতা সহজ, সরল, মানবিক ও উপদেশমূলক। তাঁর কবিতায় জীবনের মহৎ আদর্শের প্রতি গভীর অনুরাগের পরিচয় আছে।
-সাহিত্যসাধনার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের (১৯২৯) 'জগত্তারিণী পদকে' সম্মানিত হন।
-তিনি 'নারী শ্রম তদন্ত কমিশন' (১৯২২-২৩) এর সদস্য ছিলেন।
- তিনি ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৩ সালে হাজারীবাগ, বিহারে মৃত্যুবরণ করেন।
-'আলো ও ছায়া' (১৮৮৯): এটি তাঁর ১৫ বছর বয়সে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এ গ্রন্থের ভূমিকা লেখেন হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য, 
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থ এবং চারুপাঠ ষষ্ঠ শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৮৬৭.
“পাছে লোকে কিছু বলে” কবিতাটি কার সৃষ্টিকর্ম?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. কুসুমকুমারী দাশ
  3. কামিনী রায়
  4. বেগম রোকেয়া
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কামিনী রায়
ব্যাখ্যা

“পাছে লোকে কিছু বলে” কবিতাটি কামিনী রায়ের সৃষ্টিকর্ম।

• পাছে লোকে কিছু বলে:
-
কামিনী রায়ের রচিত এই কবিতাটি তাঁর সমগ্র সাহিত্যজীবনে সবচেয়ে বেশি পরিচিত ও আলোচিত।
- এটি শুধু তাঁর কাব্যধারায় নয়, বাংলা সাহিত্যে নারীর মনোজগৎ ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি হিসেবেও বিশেষ খ্যাতি পেয়েছে।
- কবিতার সাহিত্যমান, ভাবগভীরতা ও শিক্ষামূল্য এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত পাঠ্যসূচিতেও এটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
-------------------------------------
কামিনী রায়:
-
কামিনী রায় জন্মগ্রহণ করেন ১২ অক্টোবর ১৮৬৪ সালে, বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার বাসন্ডা গ্রামে।
- কামিনী রায় ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ কবি ও নারীবাদী চিন্তাবিদ। 
- নারীশিক্ষা ও নারীর অধিকার বিষয়ে তিনি ছিলেন বাংলার পথিকৃৎ লেখিকাদের মধ্যে অন্যতম।
- ব্রিটিশ ভারতের প্রথম নারী গ্রাজুয়েট হিসেবে তিনি শিক্ষাক্ষেত্রেও এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
- সাহিত্যজীবনের শুরুতে তিনি কখন “জনৈক বঙ্গমহিলা” ছদ্মনামে লেখালেখি করতেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ “আলো ও ছায়া” (১৮৮৯) প্রকাশের পর থেকেই তিনি সমসাময়িক সাহিত্যসমাজে বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া (প্রথম কাব্যগ্রন্থ);
- অশোকসঙ্গীত (সনেট সংকলন);
- মাল্য ও নির্মাল্য;
- দীপ ও ধূপ;
- জীবনপথে;
- পৌরাণিকী;
- অম্বা (নাট্যকাব্য)।

•  তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ — নারীশিক্ষা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধগ্রন্থ।

• শিশুতোষ রচনা:
- গুঞ্জন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- পরার্থে;
- সুখ;
- পাছে লোকে কিছু বলে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৮৬৮.
'আত্মঘাতী বাঙালি' কার রচিত গ্রন্থ?
  1. অশোক মিত্র
  2. দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
  3. নীরদচন্দ্র চৌধুরী
  4. অতুল সুর
সঠিক উত্তর:
নীরদচন্দ্র চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীরদচন্দ্র চৌধুরী
ব্যাখ্যা
‘আত্মঘাতী বাঙালী’:
• নীরদচন্দ্র চৌধুরী রচিত গ্রন্থ- ‘আত্মঘাতী বাঙালী’। 

• শ্রীনীরদচন্দ্র চৌধুরী, যিনি ৯১ বছর বয়সে কলম ধরেছিলেন বই লেখার জন্য। নিজের সারা জীবনের অভিজ্ঞতার আলোগুলো বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে প্রকাশ করেছেন ‘আত্মঘাতী বাঙালী’ বইটিতে।

• বিবাহ ও দাম্পত্যজীবনের অনেক বিষয় নিয়ে বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে। আলোচিত হয়েছে প্রেমের বিয়ে ও সম্বন্ধ করা বিয়ের পার্থক্য নিয়ে, যা কালে কালে পরিবর্তীত হয়েছে। এ ছাড়াও লেখকের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, সমাজে নারীর সতীত্ব নিয়ে যে বিশ্বাস ছিল-আছে-থাকবে, শরৎচন্দ্র নারীদের যেসব চরিত্রের মধ্য দিয়ে সমাজে চিত্রায়িত করেছেন, তার বাস্তবসম্মত বিশ্লেষণও জায়গা পেয়েছে। 




অন্যদিকে,
- আহমদ শরীফ রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ গবেষণা গ্রন্থ - বিচিত চিন্তা (১৯৮৬), স্বদেশ অন্বেষা (১৯৭০), বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য, স্বদেশ চিন্তা ইত্যাদি।
- 'ভবিষ্যতের বাঙালি' গ্রন্থটির রচয়িতা- এস ওয়াজেদ আলি।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ- 'বাঙালির বাংলা'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘আত্মঘাতী বাঙালী’ নীরদচন্দ্র চৌধুরী এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৬৯.
কোনটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য?
  1. বৃত্রসংহার
  2. মেঘনাদবধ কাব্য
  3. মহাশ্মশান
  4. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা

'মেঘনাদবধ' কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। 
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে বর্ণিত আছে- মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা। 
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি। 
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
- হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের মহাকাব্য - বৃত্রসংহার।
- কায়কোবাদের মহাকাব্য - মহাশ্মশান।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

৮৭০.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক রচনা করেন কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'কবর' নাটক:
- 'কবর' নাটকের রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক
- জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় ১৯৫৩ সালে বামপন্থী রণেশ দাশগুপ্ত জেলখানাতে ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপনের লক্ষে মুনীর চৌধুরীকে একটি নাটক লেখার অনুরোধ জানান। এই অনুরোধের ভিত্তিতে তিনি এ নাটকটি রচনা করেন।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৭১.
‘নদী ও নারী’ হুমায়ুন কবির রচিত -
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• হুমায়ুন কবির রচিত উপন্যাস - নদী ও নারী

হুমায়ুন কবির:
- তিনি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে ১৯০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম খান বাহাদুর কবিরুদ্দিন আহমদ।
- লেখক ও রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি বেশ খ্যাতি কুঁড়িয়েছেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ধারাবাহিক,
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব, 
- বাংলার কাব্য, 
- মার্কসবাদ, 
- শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৭২.
'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. আনিসুজ্জামান
  3. আল মাহমুদ
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- তিনি ৬ মে, ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক। 
- বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব। 
- নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তু করেছেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'জেগে আছি' (১৯৫০)। এটি একটি গল্পগ্রন্থ।
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি লেখার জন্য তিনি জনপ্রিয়। এটি 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- তাঁর 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাসটি 'বসুন্ধরা' নামে চলচ্চিত্রায়িত হয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
- তিনি ২০০৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- ধানকন্যা,
- মৃগনাভি,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- যখন সৈকত,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার,
- জীবনজমিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮৭৩.
''সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে , ‘এতোদিন কোথায় ছিলেন?''
- কার রচিত কবিতার পংক্তি?
  1. ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. খ) জীবনানন্দ দাশ
  3. গ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
  4. ঘ) গোলাম মোস্তফা
সঠিক উত্তর:
খ) জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

"চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের ’পর
হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে , ‘এতোদিন কোথায় ছিলেন?’
পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।"

- বনলতা সেন
জীবনানন্দ দাশ

৮৭৪.
''যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে, অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে''- পঙক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে,
অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে- পঙক্তিদ্বয় কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘অভিশাপ’ কবিতার।

⇒ দোলন-চাঁপা:

- 'দোলন-চাঁপা' কাজী নজরুল ইসলামের একটি কাব্যগ্রন্থ।
- অক্টোবর, ১৯২৩ সালে এটি প্রকাশিত হয়। কবি তখন রাজবন্দী ছিলেন।
- এতে ২১টি কবিতা আছে। প্রথম কবিতা- আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।
- অভিশাপ কবিতাটি দোলন-চাঁপা কাব্যগ্রন্থের অন্তগর্ত।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা হল- পুবের চাতক, অবেলার ডাক, কবি-রানী, পূজারিণী, বেলাশেষে ইত্যাদি।

অভিশাপ কবিতার কিছু অংশ-
অভিশাপ
- কাজী নজরুল ইসলাম 

যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে,
অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে-
বুঝবে সেদিন বুঝবে!
ছবি আমার বুকে বেঁধে
পাগল হ’লে কেঁদে কেঁদে
ফিরবে মর” কানন গিরি,
সাগর আকাশ বাতাস চিরি’
যেদিন আমায় খুঁজবে-
বুঝবে সেদিন বুঝবে!

উৎস: দোলন-চাঁপা কাব্যগ্রন্থ কাজী নজরুল ইসলাম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৭৫.
কোনটি ফররুখ আহমদের কাব্য?
  1. সিরাজাম মুনিরা
  2. অনল প্রবাহ
  3. প্রেমের সমাধি
  4. শান্তিধারা
সঠিক উত্তর:
সিরাজাম মুনিরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিরাজাম মুনিরা
ব্যাখ্যা
-  সিরাজাম মুনিরা ফররুখ আহমদের একটি বিখ্যাত কাব্য।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে।

ফররুখ আহমদের কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি, 
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম, 
- মুহূর্তের কবিতা, 
- ধোলাই কাব্য, 

অন্যদিকে:
• 'অনল প্রবাহ' হচ্ছে সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজী লিখিত কাব্যগ্রন্থ।
• 'প্রেমের সমাধি' হচ্ছে মোহাম্মদ নজিবর রহমান লিখিত সামাজিক উপন্যাস।
• 'শান্তিধারা' হচ্ছে মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী লিখিত গ্রন্থ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৭৬.
বাঙালি মুসলমান রচিত প্রথম মহাকাব্য কোনটি?
  1. ক) বৃত্রসংহার
  2. খ) অনলপ্রবাহ
  3. গ) মহাশ্মশান
  4. ঘ) রৈবতক
সঠিক উত্তর:
গ) মহাশ্মশান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদকে প্রথম বাঙালি মুসলমান মহাকাব্য রচয়িতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- এটি বাঙালি মুসলমান রচিত প্রথম মহাকাব্য।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৪ সালে।
- এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ।
- মহাশ্মশান কাব্যের মোট তিনটি খন্ড রয়েছে এবং ৬০টি সর্গ আছে।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮৭৭.
"যুবনাশ্ব" ছদ্মনামটি কোন লেখকের?
  1. চারুচন্দ্র চক্রবর্তী
  2. মণীশ ঘটক
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. সুভাষ মুখোপাধ্যায়ে
সঠিক উত্তর:
মণীশ ঘটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মণীশ ঘটক
ব্যাখ্যা

মণীশ ঘটক এর ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব

অন্যদিকে,
- চারুচন্দ্র চক্রবর্তীর ছদ্মনাম - জরাসন্ধ।
- সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - সুবচনী।
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - হাবু শর্মা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮৭৮.
'বুকের ভেতর আগুন' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. সুফিয়া কামাল
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. জাহানারা ইমাম
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
'বুকের ভেতর আগুন' উপন্যাস:
- এটি জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস।
- এটি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়। এখানে রংপুরের পীরগঞ্জের কথা উল্লেখ আছে।
উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নান্টু, শান্টু, মোহন।
 
জাহানারা ইমাম:
- তিনি অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি শহিদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'।
- 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি'র আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. 'বুকের ভেতর আগুন' উপন্যাস, জাহানারা ইমাম।
৮৭৯.
‘ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ’ গ্রন্থটি কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. কলকাতা
  2. রোম
  3. হুগলি
  4. লিসবন
সঠিক উত্তর:
লিসবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিসবন
ব্যাখ্যা
• ‘Vocabulario em idioma Bengalla e Portuguez’ গ্রন্থ:
ভোকাবুলারিও (Vocabulario) প্রথম মুদ্রিত বাংলা ব্যাকরণ। পুরো নাম Vocabulario em idioma Bengalla e Portuguez, সংক্ষেপে Vocabulario। এটি সংকলন করেছিলেন বেশ কয়েকজন পর্তুগিজ ধর্মযাজক এবং সম্পাদনা করেছিলেন Manoel da Assumpcam। ১৭৪৩ সালে লিসবন শহর থেকে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটি মূলত এদেশে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের সুবিধার জন্যই সংকলিত হয়েছিল। পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা ষোড়শ শতাব্দীতে বাংলায় আসেন এবং অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত তাঁরা এখানে ধর্ম প্রচারের কাজ চালিয়ে যান। এ কাজের জন্য তাঁদের প্রয়োজন ছিল জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন। কিন্তু যেহেতু তারা গ্রামে বাস করত এবং অভিধানটি ধর্মযাজকদের নিজেদের ব্যবহারের জন্যই প্রয়োজনীয় ছিল, সেহেতু মুদ্রিত ৪০ পৃষ্ঠার এ গ্রন্থটি স্থানীয় ভাষার আদলে রচনা করা হয়। এতে সংস্কৃত ভাষার কোনো প্রভাব ছিল না। পূর্ববঙ্গের ফরিদপুর জেলার লোকদের কথোপকথনের ভিত্তিতে ব্যাকরণটি রচিত হয়। এখানেই এর বিশেষত্ব।

-----------------------
• মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ ছিলেন একজন পর্তুগিজ।
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ লেখেনি।
- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো:
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

এর মধ্যে ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ গ্রন্থে একটি অধ্যায়ে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ সংযোজন করেন। তাই তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচয়িতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৮০.
কামিনী রায়ের ছদ্মনাম কী?
  1. জনৈক বঙ্গমহিলা
  2. বঙ্গবালা
  3. চরণিকা
  4. জননী নারী
সঠিক উত্তর:
জনৈক বঙ্গমহিলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনৈক বঙ্গমহিলা
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায়ের ছদ্মনাম - জনৈক বঙ্গমহিলা

কামিনী রায়:
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮৮১.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি? 
  1. মানুষ শাবকের কথা
  2. হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
  3. পথের পাঁচালী 
  4. পুতুলনাচের ইতিকথা
সঠিক উত্তর:
হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
ব্যাখ্যা

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস হাঁসুলি বাঁকের উপকথা।

হাঁসুলী বাঁকের উপকথা:
- ‘হাঁসুলী বাঁকের উপকথা’ হল তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস।
- উপন্যাসের কাহিনি বাশবাদি গ্রামে কাহার জাতির মানুষের জীবন, তাদের পুরনো বিশ্বাস ও কুসংস্কারের পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি একজন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ।
- তাঁর জন্ম ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায়।
- প্রথম গল্প: ‘রসকলি’, এটি প্রকাশিত হয় কল্লোল পত্রিকায়।
- ত্রয়ী উপন্যাস: ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

উপন্যাসসমূহ:
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি। 

ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা। 

অন্যদিকে, 
- "মানুষ শাবকের কথা" হলো ভারতীয় লেখিকা তিলোত্তমা মজুমদার-এর প্রথম উপন্যাস। 
- "পথের পাঁচালী" হল প্রখ্যাত সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
- "পুতুলনাচের ইতিকথা" মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয় উপন্যাস

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৮৮২.
’চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  2. খ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. গ) কাজী আবদুল ওদুদ
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
ক) আবদুল গাফফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আবদুল গাফফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• আবদুল গাফফার চৌধুরী (১২ ডিসেম্বর ১৯৩৪ — ১৯ মে ২০২২) ছিলেন একজন বাংলাদেশী গ্রন্থকার, কলাম লেখক।
• তিনি ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো-এর রচয়িতা।
• তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের মাধ্যমে নিবন্ধিত স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা সাপ্তাহিক জয়বাংলার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন।
• তিনি তার কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬৭ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক ও ২০০৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
• গ্রন্থতালিকা
- ডানপিটে শওকত (১৯৫৩)
- কৃষ্ণপক্ষ (১৯৫৯)
- সম্রাটের ছবি (১৯৫৯)
- সুন্দর হে সুন্দর (১৯৬০)
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (১৯৬০)
- নাম না জানা ভোর (১৯৬২)
- নীল যমুনা (১৯৬৪)
- শেষ রজনীর চাঁদ (১৯৬৭)
- সম্পাদনা: বাংলাদেশ কথা কয় (১৯৭২)
- আমরা বাংলাদেশী নাকি বাঙ্গালী (১৯৯৩)
- পলাশী থেকে ধানমণ্ডি (২০০৭)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
৮৮৩.
নিম্নের কোনটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. ক) কৃষ্ণকুমারী
  2. খ) বিষবৃক্ষ
  3. গ) রিজিয়া
  4. ঘ) হেক্টরবধ্‌
সঠিক উত্তর:
খ) বিষবৃক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা
'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা। 
'সুলতানা রিজিয়া' মাইকেল মধুসূদন দত্তের অসম্পূর্ণ নাটক। 
'হেক্টরবধ্‌' (১৮৭১) হোমারের 'ইলিয়ড' মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বঙ্গানুবাদ। 

'বিষবৃক্ষ' (১৮৭৩) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত  একটি সামাজিক উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৮৪.
“মধ্যাহ্ন” - উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) হাসান হাফিজুর রহমান
  2. খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. গ) হুমায়ুন আহমেদ
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
গ) হুমায়ুন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হুমায়ুন আহমেদ
ব্যাখ্যা
বঙ্গভঙ্গ ও দেশ বিভাগের প্রেক্ষাপটে লেখা হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাস “মধ্যাহ্ন”। হুমায়ুন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - অনিল বাগচীর একদিন, আগুনের পরশমণি, জোছনা ও জননীর গল্প ইত্যাদি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড নিয়ে তার ইতিহাস মিশ্রিত লেখা - দেয়াল আর ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান নিয়ে লেখা উপন্যাস - মাতাল হাওয়া। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮৮৫.
'মহাশ্মশান' মহাকাব্যের সর্গ সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ৩০টি
  2. খ) ৪০টি
  3. গ) ৫০টি
  4. ঘ) ৬০টি
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ৬০টি
ব্যাখ্যা
'মহাশ্মশান' কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি একটি মহাকাব্য। এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৪ সালে। এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ। মহাশ্মশান কাব্যের মোট তিনটি খন্ড রয়েছে এবং ৬০টি সর্গ আছে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮৮৬.
'বৃত্রসংহার' প্রবন্ধের রচয়িতা-
  1. ক) হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়
  2. খ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) সিকান্দার আবু জাফর
  4. ঘ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
খ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বৃত্রসংহার' প্রবন্ধের রচয়িতা- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। যাত্রা, বৈজিকতত্ত্ব, বাল্যবিবাহ, সৎকার ইত্যাদি তাঁর রচিত প্রবন্ধ। কণ্ঠমালা, মাধবীলতা, জালপ্রতাপ চাঁদক্ষ তাঁর রচিত উপন্যাস। পালামৌ তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনী। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮৮৭.
'প্রভাত-চিন্তা'- প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. খ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. গ) এস ওয়াজেদ আলী
  4. ঘ) কালীপ্রসন্ন ঘোষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) কালীপ্রসন্ন ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কালীপ্রসন্ন ঘোষ
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা হলেন- কালীপ্রসন্ন ঘোষ।

• কালীপ্রসন্ন ঘোষ:
- তিনি ১৮৪৩ সালের ২৩ জুলাই  ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে ভরাকর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন বাগ্মী, সাংবাদিক, লেখক, পন্ডিত। 
- তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয় ঢাকার ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত ‘ঢাকা শুভসাধিনী সভার’ মুখপত্র 'শুভসাধিনী' সম্পাদনার মাধ্যমে।
- কালীপ্রসন্ন ঘোষ দর্শন ও সমাজ সম্পর্কে অনেক মূল্যবান প্রবন্ধ ও গ্রন্থ রচনা করেন।

• তাঁর প্রবন্ধগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- প্রভাত-চিন্তা।
- নিভৃত-চিন্তা।
- নারীজাতিবিষয়ক প্রস্তাব।
- নিশীথ-চিন্তা। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভ্রান্তিবিনোদ।
- প্রমোদলহরী।
- ভক্তির জয়।
- মা না মহাশক্তি।
- জানকীর অগ্নিপরীক্ষা।
- ছায়াদর্শন প্রভৃতি।
- এছাড়াও 'সঙ্গীতমঞ্জরী' নামে আধ্যাত্মিক সঙ্গীতসংগ্রহ এবং 'কোমল কবিতা' নামে শিশুপাঠ্য গ্রন্থও তিনি রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮৮৮.
মুনীর চৌধুরী অনূদিত নাটক কোনটি?
  1. ক) কবর
  2. খ) চিঠি
  3. গ) রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. ঘ) মুখরা রমণী বশীকরণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুখরা রমণী বশীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মুখরা রমণী বশীকরণ
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত অনুবাদ নাটক হলো রূপার কৌটা (মূল: জর্জ গলজওয়ার্দি রচিত The Silver Box), কেউ কিছু বলতে পারে না (মূল: জর্জ বার্নার্ড শ রচিত You Never Can Tell) এবং মুখরা রমণী বশীকরণ (মূল: উইলিয়াম শেকসপিয়ার রচিত Taming of the Shrew)। অন্যদিকে উইলিয়াম শেকসপিয়ারের হ্যামলেট নাটক বাংলা অনুবাদ করেন কবি শামসুর রহমান।
Source: LiveMCQ Lecture
৮৮৯.
''যে মোরে করিল পথের বিবাগী,
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি''- পঙ্‌ক্তিটি কে রচনা করেছেন?
  1. কামিনী রায়
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

• ''যে মোরে করিল পথের বিবাগী,
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি''- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - জসীম উদ্‌দীন।
- কবিতাটি জসীম উদ্‌দীন এর 'প্রতিদান' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 

• জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে  'পল্লিকবি' বলা হয়।

• তাঁর কাব্যগ্রন্থ গুলো হচ্ছে:
- নক্সী-কাঁথার মাঠ, 
- সুচয়নী,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না,
- সকিনা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) প্রতিদান কবিতা। 

৮৯০.
কবি জসীম উদ্‌দীনের পৈতৃক নিবাস কোথায়?
  1. ক) তাম্বুলখানা
  2. খ) মজুপুর
  3. গ) গোবিন্দপুর
  4. ঘ) কাশবন
সঠিক উত্তর:
গ) গোবিন্দপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গোবিন্দপুর
ব্যাখ্যা
জসীম উদ্‌দীন ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। পিতা আনসারউদ্দীন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। মায়ের নাম আমেনা খাতুন।
তিনি ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ  ঢাকায় মৃত্যুবরনণ করেন। ১৪ মার্চ তাঁকে ফরিদপুরের আম্বিকাপুরে সমাহিত করা হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও  সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৯১.
কিরণময়ী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক) দত্তা
  2. খ) অরক্ষণীয়া
  3. গ) চরিত্রহীন
  4. ঘ) শ্রীকান্ত
সঠিক উত্তর:
গ) চরিত্রহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা
চরিত্রহীন (১৯১৭) উপন্যাস প্রথমে ‘যমুনা’ পত্রিকায় কিছুটা প্রকাশিত হয়। উপন্যাস্যের উল্লেখযোগ্য চরিত্র - সতীশ, সাবিত্রী, দিবাকর ও কিরণময়ী। শ্রীকান্ত উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস। এর চারটি খন্ড। উল্লেখযোগ্য চরিত্র- শ্রীকান্ত, রাজলক্ষ্মী, অন্নদাদিদি, অভয়া, রোহিণী, কমললতা প্রমুখ। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৯২.
“গায়ত্রী সন্ধ্যা” - কার রচিত উপন্যাস?
  1. দিলারা হাশেম
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. নীলিমা ইব্রাহিম
  4. সেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

‘গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাস:
• গায়ত্রী সন্ধ্যা' সেলিনা হোসেন রচিত একটি ত্রয়ী উপন্যাস।
• গ্রন্থটি একই শিরোনামে ৩টি পটভূমিতে ৩টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
• সেলিনা হোসেন রচিত 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাসের পটভূমি ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত সময়।
• দীর্ঘ আটাশ বছরের অর্থ- সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক পটভূমিতে রচিত হয়েছে এ উপন্যাস।

♦ সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ই জুন ১৯৪৭ সালে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর লাভ করেন।
- অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নারীমুক্তি তাঁর কথাসাহিত্যের মূলগত আখ্যান।
- সাহিত্যক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ও ফিলিপ্স সাহিত্য পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- চাঁদবেনে,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- দীপান্বিতা ইত্যাদি।

 • গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- খোলকরতাল,
- মুক্তিযুদ্ধের গল্প ইত্যাদি;

• শিশু-কিশোর উপযোগ্য রচনা:
- সাগর,
- বাংলা একাডেমী গল্পে বর্ণমালা,
- বর্ণমালার গল্প,
- জ্যোৎস্নার রঙে আঁকা ছবি,
- চাঁদের বুড়ির পান্তা ইলিশ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা' উপন্যাস সেলিনা হোসেন।

৮৯৩.
‘উত্তরাধিকার’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শহীদ কাদরী
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা
• উত্তরাধিকার: 
- বাংলা কবিতার পঞ্চাশ দশকের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ও সাফল্য দেখা যায় শহীদ কাদরীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উত্তরাধিকার'- এ (১৯৬৭)।
- এতে ৪০টি কবিতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
- এ কাব্যের পঙক্তিতে পঙক্তিতে তিনি দৃশ্যমান বস্তুকে দেখেছেন প্রবল অন্তরঙ্গে, মননের শাসনে ও আবেগের প্রাবল্যের যৌথ প্রচষ্টায়।
- বাংলাদেশের বাংলা কবিতা সত্যিকার অর্থেই আধুনিকতার চূড়ান্তমুখী হয় তাঁর এ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে।

• শহীদ কাদরী:
- তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
- ১৯৪২ সালের ১৪ই আগস্ট, কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- ২০১৬ সালের ২৮শে আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মারা যান।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার,
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা, 
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই, 
- আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৯৪.
হুমায়ুন আজাদ রচিত ’শব্দ থেকে কবিতা’ কী ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. উপন্যাস
  3. ছড়া
  4. কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• ’শব্দ থেকে কবিতা: 
- এটি হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি প্রবন্ধ।
- সাহিত্যের নানা রূপের মধ্যে একটি হচ্ছে কবিতা।
- রচনাটিতে কবিতার শিল্পরূপ ও তার বৈশিষ্ট্য অপরূপ ভাষায় বর্ণিত হয়েছে।
- কাকে বলা যায় কবিতা? লেখকের মতে, যা পড়লে মনের ভিতর স্বপ্ন জেগে ওঠে, ছবি ভেসে ওঠে, তা-ই কবিতা।
- শব্দের সঙ্গে শব্দ মিলিয়ে লেখা হয় কবিতা।
-------------------------------------------------------------------
• হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্য অলৌকিক ইস্টিমার।
- তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার (প্রথম কাব্যগ্রন্থ),
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- যতোই গভীরে যায় মধু, যতোই ওপরে যাই নীল,
- আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে,
- পেরোনোর কিছু নেই ইত্যাদি‌।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল (প্রথম প্রকাশিত)
- সবকিছু ভেঙে পড়ে,
- মানুষ হিসেবে আমার অপরাধসমূহ,
- রাজনীতিবিদগণ,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ,
- একটি খুনের স্বপ্ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া সপ্তম শ্রেণির বাংলা পাঠ্য বই সপ্তবর্ণ।
৮৯৫.
নিচের কোনটি জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. পদুমাবৎ
  2. চন্দ্রাবতী
  3. মনসামঙ্গল কাব্য
  4. লাইলি মজনু
সঠিক উত্তর:
পদুমাবৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদুমাবৎ
ব্যাখ্যা
• হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর 'পদুমাবৎ' জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন:
- তিনি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ১৮৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ও ভাষাতাত্ত্বিক।
- ভারতীয় ভাষা শিক্ষা ও অনুশীলনে বিশেষভাবে উৎসাহী ছিলেন।

কাশ্মিরি ভাষা সম্পর্কে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- Essays on Kashmiri Grammar.
- A Manual of the Kashmiri Language.
- A Dictionary of the Kashmiri Language.

তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- The Kashmiri Ramayana.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮৯৬.
'আনোয়ারা' উপন্যাসের রচয়িতার নাম-
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) কাজী আবদুল ওদুদ
  3. গ) নজিবর রহমান
  4. ঘ) রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
সঠিক উত্তর:
গ) নজিবর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
'আনোয়ারা' মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস।
- এটি তার রচিত প্রথম ও সর্বাধিক সার্থক উপন্যাস।
- এটি ১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই (১৩২১ বঙ্গাব্দে) কলকাতা থেকে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা। 
- উপন্যাসের চরিত্র: আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজিমুল্লাহ, গোলাপজান ইত্যাদি। 

লেখকের অন্যান্য রচনা: 
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি (১৯১৭) 
- পরিণাম (১৯১৮)
- গরীবের মেয়ে (১৯২৩)
- দুনিয়া আর চাই না (১৯২৪) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮৯৭.
'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো' কবিতাটির কবি কে?
  1. ক) নির্মলেন্দু গুণ
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) দিলওয়ার
  4. ঘ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
ক) নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
‘স্বাধীনতা, এ শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’ কবিতাটি লিখেছেন নির্মলেন্দু গুণ।
যেখানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে কবিতার সাথে তুলনা করেছেন।
নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
প্রেমাংশুর রক্ত চাই, না প্রেমিক না বিপ্লবী, চাষাভূষার কাব্য, দূর হ দুঃশাসন, ইসক্রা, মুজিব - লেনিন - ইন্দিরা, শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।
রক্ত আর ফুলগুলি তার অনুবাদ কবিতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৮৯৮.
'কখনো রং কখনো সুর' নিচের কোন লেখকের রচিত কাব্যগ্রন্থ? 
  1.  আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন 
  3. সিকান্দার আবু জাফর 
  4. নুরুল মোমেন
সঠিক উত্তর:
 আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ: 
- তিনি একজন কবি, সরকারি কর্মকর্তা।
- তিনি ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাত নরী হার (১৯৫৫)

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর কাব্যগ্রন্থসমূহ : 
- কখনো রং কখনো সুর 
- কমলের চোখ
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা

• ‘কোন এক মাকে’ তার একটি বিখ্যাত কবিতা।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 

৮৯৯.
জীবনানন্দ দাশের রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মহাপৃথিবী 
  2. বনলতা সেন 
  3. রূপসী বাংলা
  4. ঝরা পালক
সঠিক উত্তর:
ঝরা পালক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝরা পালক
ব্যাখ্যা

• 'ঝরা পালক' কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ- ঝরা পালক। 
- কাব্যটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অনুসরণ যেমন আছে, তেমনি আছে নতুন এক ভাষারীতি ও বাকপ্রতিমা রচনার চেষ্টা।

» জীবনানন্দ দাশ রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

৯০০.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়?
  1. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
  3. যাত্রা
  4. জীবন আমার বোন
সঠিক উত্তর:
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়:
- ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তযুদ্ধবিষয়ক কাব্যনাট্য।
- এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।
 
অন্যদিকে,
'যাত্রা' উপন্যাস:
- যুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা ও সময় নিয়ে রচিত উপন্যাস শওকত আলীর 'যাত্রা'।
- শুরুর প্রাক্কালে দলে দলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে।
- এ পলায়ন শুধু চেতনাগত নয়, মানসিকভাবেও পলায়ন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন।
- একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না- এ সংশয় ও দ্বিধায় শেষাবধি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।
- ১৯৭২ সালে রচিত হয় 'যাত্রা' উপন্যাসটি।
- তবে প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।

জীবন আমার বোন উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বোন' প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা - নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।
- অন্যান্য চরিত্র: মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, জাহিদুল করিম খোকা প্রমুখ।
 
দ্বিতীয় দিনের কাহিনী:
- সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে চমৎকারভাবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।
- বাঙালি জাতিসত্তার আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার কথা পরম মমতায় তুলে ধরেছেন এ উপন্যাসে।
- একজন প্রধান শিক্ষক তাহের উদ্দীন খন্দকারের আত্মোপলব্ধি, অন্বেষণ ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধে জলেশ্বরীর দুর্বার ভূমিকার কথা।
- বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা জলেশ্বরীর সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে তাহেরের স্মৃতিচারণায়।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।