বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা / ১৭৪ · ৭০১৮০০ / ১৭,৪৩৭

৭০১.
প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শহীদুল্লা কায়সারে পুরো নাম কী ছিলো?
  1. ক) আবু আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. গ) আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) আবু আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শহীদ হোসেন
সঠিক উত্তর:
গ) আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• শহীদুল্লা কায়সার একজন  কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক। 
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।  
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক  ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার তৎকালীন রাজনীতিতে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করেন। 
- ১৯৫২ সালে কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭০২.
'নিহত নক্ষত্র' আহমদ ছফা রচিত -
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. শিশুতোষ গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'নিহত নক্ষত্র' আহমদ ছফা রচিত - গল্পগ্রন্থ
- গ্রন্থটি ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থভুক্ত গল্পসমূহ: নিহত নক্ষত্র, গন্তব্য,পদাঘাতের পটভূমি, আস্বাদ, প্রতিপক্ষ, কবি, হাত, পাগলা ঘণ্টা, কাজলী।

আহমদ ছফা:
- তিনি ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি 'উত্থানপর্ব' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি ২০০১ সালের ২৮ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- সূর্য তুমি সাথী, 
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- মরণ বিলাস, 
- বিহঙ্গ পুরাণ। 

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- জাগ্রত বাংলাদেশ,
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস,
- যদ্যপি আমার গুরু।

তাঁর রচিত কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- গো হাকিম,
- দোলো আমার কনকচাঁপা।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নিহত নক্ষত্র

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; নিহত নক্ষত্র, আহমদ ছফা।
৭০৩.
"আরেক ফাল্গুন" জহির রায়হানের কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. ছোটগল্প
  2. নাটক
  3. উপন্যাস
  4. প্রামাণ্যচিত্র
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
"আরেক ফাল্গুন" উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন 'উপন্যাসটি রচনা করেন। 'আরেক ফাল্গুন 'উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।

- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম-প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।

- এটি ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্রের হৃৎপিণ্ড থেকে মস্তিষ্কের গতিবেগ অনুধাবন করতে হবে। মুনিম, আসাদ, সালমা চরিত্রগুলোর মধ্যে নিজেকে খুঁজতে হবে।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত সংলাপ 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো।'

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- আসাদ,
- সালমা
- রসুল,
- মুমিন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭০৪.
কতরূপ স্নেহ করি, দেশের কুকুর ধরি
বিদেশের ঠাকুর ফেলিয়া।
- এটি কোন কবিতার অংশ?
  1. ক) মাতৃভূমি
  2. খ) আমার দেশ
  3. গ) স্বদেশ
  4. ঘ) আমার পরিচয়
সঠিক উত্তর:
গ) স্বদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্বদেশ
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের স্বদেশ নাম কবিতা থেকে উদ্ধৃতিটি নেওয়া হয়েছে। 
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯) যুগসন্ধিক্ষণের কবি।
ছদ্মনাম : ভ্রমণকারী বন্ধু
উপাধি : যুগসন্ধিক্ষণের কবি, গুপ্ত কবি, সাংবাদিক কবি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
৭০৫.
"তিতাস একটি নদীর নাম" উপন্যাসটি চলচ্চিত্রে রূপায়িত করেন কে?
  1. ঋত্বিক ঘটক
  2. সত্যজিৎ রায়
  3. অমর মল্লিক
  4. শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঋত্বিক ঘটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঋত্বিক ঘটক
ব্যাখ্যা
- "তিতাস একটি নদীর নাম" উপন্যাসটি চলচ্চিত্রে রূপায়িত করেন- ঋত্বিক ঘটক।

"তিতাস একটি নদীর নাম"
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত  একমাত্র উপন্যাস "তিতাস একটি নদীর নাম"
- উপন্যাসটি মাসিক মোহাম্মদীতে প্রথম ধারাবাহিকভাবে (১৯৪৫-৪৭) প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসটিতে লেখক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সুগভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে তিতাস নদীর তীরবর্তী জেলেদের সংগ্রামী জীবনের কথা বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরেন।
- ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটকের পরিচালনায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়।

• অদ্বৈত মল্লবর্মণ:

 - তিনি ছিলেন সাংবাদিক ও ঔপন্যাসিক।
- ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে এক দরিদ্র জেলে পরিবারে তাঁর জন্ম।
- জীবিকার সন্ধানে অদ্বৈত মল্লবর্মণ ১৯৩৪ সালে কলকাতা যান, সেখানে মাসিক পত্রিকা ত্রিপুরা সম্পাদনার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।
- পরে তিনি প্রেমেন্দ্র মিত্র সম্পাদিত নবশক্তি পত্রিকায় যোগ দেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭০৬.
'রমেশ' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. পল্লীসমাজ
  2. বড়দিদি
  3. দেবদাস
  4. চরিত্রহীন
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পল্লীসমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পল্লীসমাজ
ব্যাখ্যা

'পল্লীসমাজ' উপন্যাস:
- রমেশ ও রমা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত পল্লীসমাজ উপন্যাসের চরিত্র।
- পল্লীসমাজ (১৯১৬) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় উপন্যাস।
- বাংলার পল্লীসমাজের নীচতা ও ক্ষুদ্র রাজনীতির পটভূমিকায় এক আদর্শবাদী যুবক - যুবতীর সম্পর্ক
ও বিশেষ করে তাদের অভিশপ্ত প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- ১৯১৫ সালে 'ভারতবর্ষ' পত্রিকায় উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস :
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭০৭.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস 'পথের পাঁচালী' কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. পূর্বাশা 
  2. বিচিত্রা
  3. বঙ্গদর্শন
  4. বঙ্গদূত
সঠিক উত্তর:
বিচিত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচিত্রা
ব্যাখ্যা

 পথের পাঁচালী:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রূর সংবাদ।
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।
- 'পথের পাঁচালী' ও 'অপরাজিত' উপন্যাস অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো-
- অপু, দুর্গা, ইন্দির ঠাকরুন, সর্বজয়া।

 বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাসসমূহ হলো:
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- চাঁদের পাহাড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭০৮.
'ধনঞ্জয় এবং শীতলবাবু' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. পুতুলনাচের ইতিকথা
  2. দিবারাত্রির কাব্য
  3. জননী
  4. পদ্মা নদীর মাঝি
সঠিক উত্তর:
পদ্মা নদীর মাঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মা নদীর মাঝি
ব্যাখ্যা
'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পদ্মা নদীর মাঝি' ১৯৩৪ সাল থেকে ‘পূর্বাশা’ পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ ১৯৩৬ সালে। কুবের ‘পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র।

এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কপিলা
- মালা,
- হোসেন মিয়া,
- ধনঞ্জয়,
- শীতলবাবু

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মা নদীর মাঝি,
- শহরবাসের ইতিকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭০৯.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'পদ্মাবতী' নাটকটি রচিত হয়েছে-
  1. ক) পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে
  2. খ) ঐতিহাসিক কাহিনী অবলম্বনে
  3. গ) রাজনৈতিক কাহিনী অবলম্বনে
  4. ঘ) সামাজিক কাহিনী অবলম্বনে
সঠিক উত্তর:
ক) পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে
ব্যাখ্যা
১৮৬০ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্ত গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনী নিয়ে রচনা করেন 'পদ্মাবতী' নাটক। 
- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা (১৮৫৯) - পুরাণকাহিনি অবলম্বনে 
- পদ্মাবতী (১৮৬০) - পুরাণকাহিনি অবলম্বনে 
- কৃষ্ণকুমারী (১৮৬১) - ঐতিহাসিক কাহিনি অবলম্বনে 

তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য (১৮৬০)
- মেঘনাদবধ কাব্য (১৮৬১)
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য (১৮৬১)
- বীরাঙ্গনা কাব্য (১৮৬২)
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী (১৮৬৫)

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা’ (১৮৬০) ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৭১০.
‘এক মুঠো’ কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. আনিসুজ্জামান
  4. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
‘এক মুঠো’ কাব্যগ্রন্থ:
- এটি অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৯ সালে।
- বিশ শতকের বিজ্ঞানের যুগে ব্যবহারিক জীবনে যেমন জটিলতা বাড়ছে, মানুষের মনেও তেমনি চিন্তার জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।
- আন্তর্জাতিক চেতনায় যুগধর্মের এই বৈশিষ্ট্য খুব উজ্জ্বলভাবে প্রতিভাত হয়েছে এই কাব্যে।
- কবি এখানে সময়কে বিবেচনায় এনে এই সময়গত মানব-মানবীর অন্তর্গত সুখ ও সমস্যা ধরার চেষ্টা করেছেন।

অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭১১.
'পদ্মা মেঘনা যমুনা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. আবুল মনসুর আহমেদ
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মা মেঘনা যমুনা' উপন্যাসটি রচনা করেন আবু জাফর শামসুদ্দীন।

• আবু জাফর শামসুদ্দীন:

- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পরিত্যক্ত স্বামী' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

• আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭১২.
বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক) কারা রচনা করেন?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও সৈয়দ আলী আহসান
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও মুহম্মদ আব্দুল হাই
  3. মুহম্মদ আব্দুল হাই, আনিসুজ্জামান ও আনোয়ার পাশা
  4. মুহম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
• 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ) প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। তিনি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে একত্রে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।

গ্রন্থের সংক্ষেপ:
কয়েক বছর আগে কেন্দ্রীয় পাকিস্তান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলা সাহিত্যের একটি ধারাবাহিক ইতিহাস রচনার ভার পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের উপর। ইতিহাসটির দ্বিতীয় খণ্ড সদ্য প্রকাশিত হয়েছে। এটি লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যক্ষ মুহম্মদ আবদুল হাই এবং করাচী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যক্ষ সৈয়দ আলী আহসান। আধুনিক যুগ অর্থাৎ বৃটিশ আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তানোত্তর যুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস এঁরা আলোচনা করেছেন।




উৎস: 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ)।
৭১৩.
'কবর' কবিতা কবি জসীম উদ্‌দীনের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. নিমন্ত্রণ
  2.  বালুচর
  3. ধানক্ষেত
  4. রাখালী
সঠিক উত্তর:
রাখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাখালী
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীনের 'কবর' কবিতা 'রাখালী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

- 'কবর' কবিতার মোট লাইন সংখ্যা- ১১৮ টি।
- ১৯২৫ সালে কবি জসীমউদ্দীন রচিত ‘কবর’ কাবিতাটি প্রথম কল্লোল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• জসীম উদ্‌দীন:
- কবি জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীমউদ্দীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।

• তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- সূচয়নী,
- নিমন্ত্রণ,
- রূপবতী ইত্যাদি।

• তাঁর বিখ্যাত কবিতা:
- মুসাফির,
- রাখাল ছেলে,
- পল্লী জননী,
- আসমানী,
- নিমন্ত্রণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭১৪.
’প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য’-পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. সুকুমার রায়
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

- ’প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য’-পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- পঙ্‌ক্তিটি  ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটির অন্তর্গত।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি তাঁর “ছাড়পত্র” কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- কবিতাটির স্তবক সংখ্যা আট। এবং কবিতাটি ৬ মাত্রায় মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার মূল বৈশিষ্ট্য- যৌবনের উদ্দীপনা, সাসিকতা এবং দুর্বার গতি।
- ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার শেষ পঙক্তি- ‘এদেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।’

• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭১৫.
'পঞ্চতন্ত্র' রম্যরচনার রচয়িতা কে?
  1. ক) ইসমাইল হোসেন
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. ঘ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
পঞ্চতন্ত্র, ময়ূরকণ্ঠী, বড়বাবু, কত না অশ্রুজল এগুলো সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত রম্যরচনা। চাচা কাহিনী ও টুনি মেম তাঁর রচিত ছোটগল্প। অবিশ্বাস্য, শবনম, শহর-ইয়ার, তুলনাহীন তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৭১৬.
'কেরামতমঙ্গল' - নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  3. সেলিম আল দীন
  4. মামুনুর রশীদ
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা

সেলিম আল দীন: 
-  তিনি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন।
- কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান: তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়। 
- একই বছর ডাকসু মঞ্চস্থ করে 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' এবং নাট্য প্রতিযোগিতাতেও নাটকটি প্রথম পুরস্কার পায়। 
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান। 

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ: 
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য, 
- বাসন, 
- কেরামতমঙ্গল
- কিত্তনখোলা, 
- হাতহদাই, 
- শকুন্তলা, 
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি, 
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, 
- চাকা, 
- যৈবতী কন্যার মন, 
- হরগজ, 
- নিমজ্জন ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৭১৭.
শওকত ওসমানের গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম পুস্তক কোনটি?
  1. জলাংগী
  2. শ্রেষ্ঠ গল্প
  3. সমাগম
  4. জননী
সঠিক উত্তর:
জননী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জননী
ব্যাখ্যা
• গ্রন্থাকারে প্রকাশিত শওকত ওসমানের প্রথম পুস্তক 'জননী'।

• জননী:
- সন্তানের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য একজন মা (গোপনে) যে কোনো পথ অবলম্বন করতে পারে শওকত ওসমানের 'জননী' (১৯৬১) উপন্যাসে সে কথাই ব্যক্ত।
- পটভূমি পশ্চিমবঙ্গের মহেশডাঙ্গা।
- দরিয়া-বিবি সেই পল্লি-জননী যে সন্তান মোনাদিকে আর্থিক সহায়তা দেবার জন্য ইয়াকুবের শয্যাসঙ্গিনী হয়।
- ইয়াকুবের ঔরষে তার গর্ভে সন্তান এলে ওই গৰ্ভস্থ সন্তানকেও দরিয়া অসীম মমতায় সকল ভ্রূকুটি সহ্য করে নিরাপদে জন্মদানের মাধ্যমে আদর্শ জননীর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
- এই মূলকাহিনির পাশাপাশি উপন্যাসে এসেছে মুসলিম সমাজের শরিয়তি দ্বন্দ্ব, বিত্তবানের স্বার্থপরতা, গ্রামের দরিদ্র মানুষের পারস্পরিক ঝগড়া ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নিদর্শন।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: দরিয়া-বিবি, আজহার, মোনাদি, ইয়াকুব, চন্দ্রকোটাল প্রমুখ।

• শওকত ওসমান:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান ।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন।
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, ফিলিপস পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী

• তাঁর রচিত গল্প:
- পিঁজরাপোল,
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প,
- প্রস্তর ফলক,
- উভশৃঙ্গ,
- শ্রেষ্ঠ গল্প,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে,
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই,
- মুসলিম মানসের রূপান্তর।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৭১৮.
কায়কোবাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি? 
  1. চিন্তাতরঙ্গিনী
  2. অশ্রুমালা
  3. মহাশ্মশান
  4. বিরহ বিলাপ
সঠিক উত্তর:
চিন্তাতরঙ্গিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিন্তাতরঙ্গিনী
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ - অশ্রুমালা (গীতিকাব্য), মহাশ্মশান (মহাকাব্য), বিরহ বিলাপ।

অন্যদিকে,
- চিন্তাতরঙ্গিণী - হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।

কায়কোবাদ:

- কায়কোবাদ ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী। ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য '' প্রকাশিত হয়।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭১৯.
‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ উপন্যাস কার সময়ের পটভূমিতে লেখা?
  1. ক) বখতিয়ার খলজি
  2. খ) কুতুব উদ্দিন আইবেক
  3. গ) সম্রাট আকবর
  4. ঘ) রাজা লক্ষণ সেন
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজা লক্ষণ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাজা লক্ষণ সেন
ব্যাখ্যা
শওকত আলী রচিত ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ উপন্যাসে রাজা লক্ষণ সেনের সময়ের সমাজ ও মানুষের দ্বন্দ্ব তুলে ধরা হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৭২০.
'কায়কোবাদ' এর উপাধি কোনটি?
  1. কাব্যকণ্ঠ
  2. কাব্য সুধাকর
  3. সিতারা-ই-ইমতিয়াজ
  4. কাব্যভূষণ
সঠিক উত্তর:
কাব্যভূষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যভূষণ
ব্যাখ্যা

• 'কাজেম আল কোরায়েশী / কায়কোবাদ' এর উপাধি - কাব্যভূষণ

অন্যদিকে,
- 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।
- গোলাম মোস্তফাকে যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭২১.
"জলোচ্ছ্বাস" উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. সুফিয়া কামাল
  3. বদরুদ্দিন উমর
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।

সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস,
- পোকামাকড়ের ঘড়বসতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭২২.
"গাভী বিত্তান্ত" আহমদ ছফা রচিত একটি -
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. প্রহসন
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'গাভী বিত্তান্ত':
- আহমদ ছফা রচিত 'গাভী বিত্তান্ত' বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গাত্মক উপন্যাসগুলোর একটি।
- এই উপন্যাসটি রচিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতি ও তার প্রভাবের প্রেক্ষাপটে।
- আশির দশকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবদুল মান্নানের গর্ভবতী গাভী ছাত্রদের গোলাগুলির মাঝে নিহত হওয়ার সত্য ঘটনাকে উপজীব্য করেই আহমদ ছফা রচনা করেন 'গাভী বিত্তান্ত'।
- আহমদ ছফার ‘গাভী বিত্তান্ত’ (১৯৯৫) উপন্যাসের মূল কেন্দ্র একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং মূল চরিত্র সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ভিসি মিঞা মোহাম্মদ আবু জুনায়েদ।

• আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭২৩.
ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত উপন্যাস কোনটি?
  1. দেবদাস
  2. পথের দাবী
  3. পল্লীসমাজ
  4. চরিত্রহীন
সঠিক উত্তর:
পথের দাবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথের দাবী
ব্যাখ্যা
"পথের দাবী" উপন্যাস:
• 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।

• এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কারো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।

গ্রন্থটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। নান্দনিক মানদণ্ডে 'পথের দাবী' উৎকৃষ্ট সাহিত্য কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে এ উপন্যাস উদ্দীপকের ভূমিকা রাখে।

• আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য, আমার একটি মাত্র সাধনা।'- এই বক্তব্য ছিল উপন্যাসের শেষে। ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

• 'বঙ্গবাণী' পত্রিকায় ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবী' ধারাবাহিকরূপে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭২৪.
‘রাজবন্দীর রোজনামচা’ কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. স্মৃতিকথা
  3. জবানবন্দী
  4. উপ-সম্পাদকীয়
সঠিক উত্তর:
স্মৃতিকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
রাজবন্দীর রোজনামচা:
• শহীদুল্লা কায়সারে আট বছরের কারাজীবনের আশা, আকাঙ্ক্ষা, দুঃখ, বেদনায় নিয়ে রচিত স্মৃতিকথা মূলক গ্রন্থ ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’। গ্রন্থটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
• গ্রন্থের শুরুতে তিনি লিখেছেন-
আট বছরের কারাজীবনে আশা আকাঙ্ক্ষা দুঃখ বেদনায় যারা ছিল নিত্যদিনের সাথী তাদের হাতে তুলে দিলাম বন্দী-জীবনের রোজনামচা।

• প্রথম সংস্করণের ভূমিকা:
অনুজ জহির রায়হান ডায়রি লেখার ফরমাশ জানিয়ে একখানা খাতা পাঠিয়েছিল জেলখানায়। সুদৃশ্য মলাট আর রঙিন কাগজ দেখে রীতিমতো যত্ন করেই খাতাটাকে তুলে রেখেছিলাম বেশ কিছুদিন। মাঝে মাঝে হাত বুলিয়ে মলাটের মসৃণতাটা অনুভব করেছি আর হয়ত টুকে রেখেছি দুচারটি টুকরো কথা, এঁকে রেখেছি- এক আধটি ছবির রেখা। রাজবন্দীর রোজনামচার এটাই হল উৎপত্তি।
কিন্তু এই উৎপত্তি থেকে রোজনামচা কখনো ছাপার অক্ষরে পরিণত রূপে আত্ম-প্রকাশ করতে পারত না, যদি না থাকতো কারাগারের সাথী সন্তোষ গুপ্তের অক্লান্ত শ্রম এবং বন্ধুসুলভ নিষ্ঠা। কাগজ সংগ্রহে সাহায্য করেছেন সিদু ভাই । এদের দুজনের কাছেই আমি ঋণী।
আর একজন, এ পুস্তক প্রকাশে আমার মতোই আশা উৎকণ্ঠা উদ্বেগের যার অন্ত ছিল না, আমার কৃতজ্ঞতা তার অনভিপ্রেত। তাই নামটাও তার অনুক্ত থাকল।

---------------------
• শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ ।

বি.দ্র. 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' নামে কাজী নজরুল ইসলামের লিখিত একটি প্রবন্ধ রয়েছে।

উৎস: ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’ গ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭২৫.
রবীন্দ্রনাথের প্রথম মুদ্রিত কবিতা-
  1. প্রকৃতির খেদ
  2. কবি-কাহিনী
  3. হিন্দুমেলার উপহার
  4. অভিলাষ
সঠিক উত্তর:
অভিলাষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভিলাষ
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম মুদ্রিত কবিতা ‘অভিলাষ’ তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১২৮১ সনের (১৮৭৪) অগ্রহায়ণ মাসে (কারও কারও মতে প্রথম কবিতা ‘ভারতভূমি’ বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ১৮৭৪ সালে প্রকাশিত হয়)।

• তাঁর দ্বিতীয় মুদ্রিত কবিতা ‘প্রকৃতির খেদ’ (১৮৭৫)। এ দুটি কবিতা তিনি পড়েছিলেন ঠাকুরবাড়ির বিদ্বজ্জন সভায়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৮৭৪ সালের গোড়ার দিকে ঠাকুরবাড়ির মনীষীরা বাংলাদেশের কবি-সাহিত্যিক, সংবাদপত্র-সম্পাদকসহ বিদগ্ধজনদের আহবান করে ‘বিদ্বজ্জন সমাগম’ নামে এক সাহিত্য সম্মিলনীর আয়োজন করেন। দ্বিজেন্দ্রনাথ, সত্যেন্দ্রনাথ ও জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ছিলেন সম্মিলনীর উদ্যোক্তা।

• জ্ঞানাঙ্কুর ও প্রতিবিম্ব পত্রিকায় তাঁর বনফুল এবং ভারতী পত্রিকায় 'কবি-কাহিনী' (১৮৭৮) ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।

• জ্ঞানাঙ্কুর সাহিত্যপত্রে সেকালের বিখ্যাত লেখকদের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ স্থান পেয়েছিলেন। এর অন্যতম কারণ হিন্দুমেলায় পঠিত তাঁর কবিতা ‘হিন্দুমেলার উপহার’। যে স্বদেশিচেতনা দেবেন্দ্রনাথের পরিবারে সহজেই বিকাশ লাভ করেছিল, তারই আনুকূল্যে প্রবর্তিত হয় হিন্দুমেলা। বাঙালির জাতীয় চেতনার উন্মেষ ও বিকাশের ইতিহাসে হিন্দুমেলা বিশেষভাবে স্মরণীয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭২৬.
জীবনান্দদাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ঝরাপালক
  2. ধূসর পাণ্ডলিপি
  3. বনলতা সেন
  4. রূপসী বাংলা
সঠিক উত্তর:
ঝরাপালক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝরাপালক
ব্যাখ্যা
• ঝরাপালক:
- কবি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ঝরাপালক'
- প্রকাশিত হয়- ১৯২৭ সালে।
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সত্যেন্দ্রনাথের অনুসরণ যেমন আছে তেমন আছে নতুন এক ভাষারীতি ও বাকপ্রতিমা সৃষ্টির প্রয়াস।

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ, ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- জীবনানন্দ দাশকে বলা হয়  ধূসরতার কবি; তিমির হননের কবি; নির্জনতার কবি; রূপসী বাংলার কবি;  

তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক।
- ধূসর পাণ্ডলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা ,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ
- কল্যাণী।

তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৭২৭.
'জীবন-বন্দনা' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. সন্ধ্যা
  2. সর্বহারা
  3. সিন্ধু হিন্দোল
  4. সাম্যবাদী
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যা
ব্যাখ্যা

'জীবন-বন্দনা' কবিতা:
- কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- 'জীবন-বন্দনা' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- সন্ধ্যা কাব্য গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- বাংলাদেশের রণসংগীত "চল চল চল, উর্ধ্ব গগণে বাঝে মাদল" এই কাব্য থেকে নেয়া হয়েছে।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭২৮.
‘প্রবোধচন্দ্রিকা’ গদ্য গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. রামরাম বসু
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা

• ‘প্রবোধচন্দ্রিকা’ গদ্য গ্রন্থের রচয়িতা মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
- গ্রন্থটি বাংলা গদ্যের অনুশীলনের শুরুর দিকের রচনা।
- গ্রন্থটি ১৮১৩ সালে লিখিত, কিন্তু ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত হয়।

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

• তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭২৯.
বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' এর রচয়িতা কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. এস ওয়াজেদ আলী
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি:
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে ৩৯টি কবিতা স্থান পেয়েছে।
- বাঙালি জাতিসত্তার মৃত্তিকামূলে শিকড় সঞ্চার করে এ কাব্যগ্রন্থে কবি ঐক্যবদ্ধ চেতনায় সাহসী মানুষের সম্ভাবনার ছবি এঁকেছেন।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতায় আছে: ‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি / আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি / তার বুকে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল-'।
--------------- 
• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ছিলেন একজন কবি ও সরকারি কর্মকর্তা।
- ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।

• তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো : 
- সাত নরীর হার,  
- কখনো রং কখনো সুর,  
- কমলের চোখ,  
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,  
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,  
- প্রেমের কবিতা, 
- নির্বাচিত কবিতা,  
- আমার সকল কথা, 
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৩০.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. দুর্গেশনন্দিনী
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা
'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।
- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৩১.
"আপনাকে বড় বলে
বড় সেই নয়,
লোকে যারে বড় বলে
বড় সেই হয়।" - কবিতাংশটুকু রচনা করেন কে?
  1. কুসুমকুমারী দাশ
  2. হরিশচন্দ্র মিত্র
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. কামিনী রায়
সঠিক উত্তর:
হরিশচন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিশচন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• "আপনাকে বড় বলে
বড় সেই নয়,
লোকে যারে বড় বলে
বড় সেই হয়।" - কবিতাংশটুকু রচনা করেন হরিশচন্দ্র মিত্র। 

বড় কে
  হরিশচন্দ্র মিত্র

আপনারে বড় বলে, বড় সেই নয়
লোকে যারে বড় বলে বড় সেই হয়।
বড় হওয়া সংসারেতে কঠিন ব্যাপার
সংসারে সে বড় হয়, বড় গুণ যার।
গুণেতে হইলে বড়, বড় বলে সবে
বড় যদি হতে চাও, ছোট হও তবে।

হরিশচন্দ্র মিত্র:
- হরিশচন্দ্র মিত্র তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি ১৮৩৭ সালে ঢাকায় এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৫৮ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; ‘বড় কে’ কবিতা।
৭৩২.
'আদর্শ হিন্দু হোটেল' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোনটি?
  1. ক) ঠকচাচা
  2. খ) পরেশবাবু
  3. গ) রমেশ
  4. ঘ) হাজারি ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হাজারি ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) হাজারি ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'আদর্শ হিন্দু হোটেল' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। 
- বিভূতিভূষণের বাস্তব অভিজ্ঞতার মানুষ, আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাজারি ঠাকুরের অপূর্ণ স্বাদ ও আকাঙ্খাকেই উপন্যাসে রূপদানের প্রয়াস করা হয়েছে।
- নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ নিজে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তেমনিভাবে লাভ করেছেন মানুষের ভালোবাসা। 
- আর এর উপর ভিত্তি করে রচিত এই উপন্যাস। 
- উপন্যাস টি প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে। 

অন্যদিকে, 
'ঠকচাচা' চরিত্রটি প্যারীচাঁদ মিত্রের বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস ‘আলালের ঘরের দুলাল’ এর মজার একটি চরিত্র। এর কেন্দ্রীয় চরিত্র মতিলাল।
রবী ঠাকুরের ‘গােরা' উপন্যাসের উল্লেখযােগ্য চরিত্রঃ গােরা, পরেশবাবু, সুচুরি, পানবাবু, ললিতা, বিনয়, বরদা সুন্দরী, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী প্রমুখ।
'রমেশ' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত পল্লীসমাজ উপন্যাসের চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৩৩.
'আলবেরুনী' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সত্যেন সেন
  3. সানাউল হক
  4. সরদার জয়েন উদ্দিন
সঠিক উত্তর:
সত্যেন সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা
সত্যেন সেন:
- তিনি সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- সত্যেন সেন ১৯০৭ সালে বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৫৪ সালে দৈনিক সংবাদ-এ সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। এ দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে সত্যেন সেন ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।

সত্যেন সেন রচিত উপন্যাস:
- অভিশপ্ত নগরী,
- পাপের সন্তান,
- পদচিহ্ন,
- আলবেরুনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৩৪.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে কবে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেওয়া হয়?
  1. ১৯৪১ সালে
  2. ১৮৩৯ সালে
  3. ১৮৪৭ সালে
  4. ১৮৫১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৩৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৩৯ সালে
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তাঁর পিতৃপ্রদত্ত নাম ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন। তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার কারণে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেলের সম্মতিক্রমে বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়।
- ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ বন্ধ করার জন্য 'সিভিল ম্যারেজ অ্যাক্ট' প্রণয়নে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে ৭১ বছর বয়েসে মৃত্যু বরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৭৩৫.
‘চার ইয়ারী কথা' প্রমথ চৌধুরীর- 
  1. কাব্যগ্রন্থ 
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ 
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• চার ইয়ারী কথা:
- ‘চার ইয়ারী কথা' (১৯১৬) প্রমথ চৌধুরীর গল্পগ্রন্থ।
- চারবন্ধুর প্রেমের কাহিনি প্রত্যেকটি প্রেমই অভিশপ্ত, নায়িকা চারজন ইউরোপীয়।
- প্রথম নায়িকা উন্মাদ, দ্বিতীয় চোর, তৃতীয় প্রতারক, চতুর্থ নায়িকা মৃত্যুর পর তার ভালোবাসা ব্যক্ত করেছে।
- ভাষার চাতুর্য, পরিহাসপ্রিয়তা এবং সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ উদ্ভাসিত এই কাহিনি বাংলা ভাবালু প্রেমকাহিনির প্রতিবাদী।

------------------------
• প্রমথ চোধুরী:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিলো- 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।

• প্রমথ চৌধুরীর প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত ও
- আহুতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৩৬.
আল মাহমুদের কবিতায় প্রধানত কোন জীবনচিত্র প্রতিফলিত হয়েছে?
  1. নগরজীবন
  2. চরাঞ্চলের নদীনির্ভর গ্রামীণ জীবন
  3. আধুনিক নাগরিক জীবন
  4. শিল্প-সাহিত্যজীবন
সঠিক উত্তর:
চরাঞ্চলের নদীনির্ভর গ্রামীণ জীবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চরাঞ্চলের নদীনির্ভর গ্রামীণ জীবন
ব্যাখ্যা

• আধুনিক বাংলা কবিতার নগরকেন্দ্রিক প্রেক্ষাপটে ভাটি বাংলার জনজীবন, গ্রামীণ আবহ, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের জীবনপ্রবাহ এবং নরনারীর চিরন্তন প্রেম-বিরহ তাঁর কবিতার বিশেষ উপাদান। তাঁর কবিভাষা লোকজ জীবনকেন্দ্রিক।
----------------

• আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯):
- তিনি ছিলেন একজন প্রথিতযশা কবি এবং বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে তিনি এক প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিভা। 
- তাঁর প্রকৃত নাম: মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- যিনি আল মাহমুদ নামে অধিক পরিচিত।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- স্বাধীনতা-উত্তরকালে আল মাহমুদ দৈনিক ”গণকণ্ঠ” এর সম্পাদক ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৩৭.
কবি জসীমউদ্‌দীন রচিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯২৬ সালে
  2. খ) ১৯২৮ সালে
  3. গ) ১৯২৭ সালে
  4. ঘ) ১৯২৯ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯২৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা
- কবি জসীমউদ্‌দীন রচিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' প্রকাশিত হয়- ১৯২৭ সালে।  

জসীমউদ্‌দীন:
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।

- তাঁর রচিত প্রধান সাহিত্যকর্ম: 
গ্রন্থসমূহ
- রাখালী
-  নক্সী কাঁথার মাঠ 
- সোজন বাদিয়ার ঘাট 
- রঙিলা নায়ের মাঝি 
- মাটির কান্না 
- সুচয়নী 
- পদ্মা নদীর দেশে 
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে 
- ঠাকুর বাড়ির আঙিনায় 
- জার্মানীর শহরে বন্দরে 
- স্মরণের সরণী বাহি 
- ডালিম কুমার
- পদ্মাপার 
- বেদের মেয়ে 
- পল্লীবধূ 
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি। 
উপন্যাস:
- বোবাকাহিনী। 
গল্পগ্রন্থ:
- বাঙ্গালীর হাসির গল্প। 
গানের সংকলন:
- জারীগান ও
- মুর্শীদা গান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৭৩৮.
”এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে রমনার উর্দ্ধমুখী কৃষ্ণচূড়ার নীচে” পঙক্তিটির লেখক কে?
  1. রফিক আজাদ
  2. মাহবুবুল আলম চৌধুরী
  3. সমর সেন
  4. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
সঠিক উত্তর:
মাহবুবুল আলম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাহবুবুল আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা

- ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’—একুশের প্রথম কবিতা।
- কবিতার একটি পঙক্তি ”এখানে যারা প্রাণ দিয়েছে রমনার উর্দ্ধমুখী কৃষ্ণচূড়ার নীচে।”
- কবিতাটির লেখক মাহবুবুল আলম চৌধুরী।

• মাহবুবুল আলম চৌধুরী:

- তিনি ছিলেন  কবি, সাংবাদিক, লেখক, ভাষা সৈনিক এবং ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতার রচয়িতা। 
- মাহবুব উল আলম চৌধুরীর জন্ম ৭ নভেম্বর ১৯২৭, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা।
-  মাহবুব ১৯৪৭ সালে গহিরা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ডিসটিংশন সহ এন্ট্রান্স পাশ করেন।
- তিনি চট্টগ্রাম কলেজে ইন্টারমিডিয়েট পড়াকালে রাজনৈতিক কারণে কলেজ ত্যাগ করেন।
- বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে পাকিস্তানের সংবিধানভূক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ায় মাহবুব উল আলম চৌধুরী পাকিস্তান সরকারের মৌলিক গণতান্ত্রিক রাজনীতির (১৯৫০) বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছিলেন। 
- মাহবুব উল আলম ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত যুক্তফ্রন্টের চট্টগ্রাম শাখা কমিটির আহবায়ক হিসেবে কাজ করেছেন।
- মওলানা ভাসানীর আহবানে কাগমারী সম্মেলনে ১৯৫৭ সালে তাঁর নেতৃত্বে চট্টগ্রাম থেকে একটি সাংস্কৃতিক দল যোগ দেয়।
- যদিও ১৯৬৫ সালের পর তিনি প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
- এরপর থেকে তিনি প্রধানত সাংস্কৃকিত কর্মকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭৩৯.
“যে কবিতা শুনতে জানে না, সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে।” - কে লিখেছেন?
  1. দাউদ হায়দার 
  2. হেলাল হাফিজ 
  3. শহীদ কাদরী 
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• “যে কবিতা শুনতে জানে না, সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে।” - আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর "আমি কিংবদন্তির কথা বলছি" কবিতার চরণ। 

• 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতা: 
• 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে ৩৯টি কবিতা।

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- সাতনরী হার (প্রথম প্রকাশিত),
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- আমার সময়,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা: 
- 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি',
- 'মাগো, ওরা বলে',
- কোন এক মাকে ইত্যাদি।

আমি কিংবদন্তির কথা বলছি- কবিতা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল
তাঁর পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল।
তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন
অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন
পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন। (সংক্ষেপিত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া, আমি কিংবদন্তির কথা বলছি- কবিতা।

৭৪০.
'বঙ্গভূমি' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন -
  1. ক) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. খ) মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী
  3. গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'বঙ্গভূমি' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন - মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

• মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ।
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- পিতা মফিজউদ্দীন আহমদ ছিলেন পীর গোরাচাঁদের দরগাহর খাদেম।
- ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে শহীদুল্লাহ্ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনিই প্রথম উর্দুর পরিবর্তে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার যৌক্তিক দাবি জানান।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির সম্পাদক (১৯১১) ছিলেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সভা ও সম্মেলনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
- তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি।
- তাঁর Buddhist Mystic Songs (১৯৬০) গ্রন্থটি চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম।
- তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে চর্যাপদ সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় রচিত; এর ধর্মতত্ত্ব নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।

• তাঁর রচিত গবেষণা:
- সিদ্ধা কাহ্নপার গীত ও দোহা,
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- বৌদ্ধ মর্মবাদী গান,
- বাংলা ব্যাকরণ,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের সমস্যা,
- বাংলা আদব কি তারিখ,
- Essays of Islam: Traditional culture in East Pakistan.

• তাঁর রচিত অনুবাদ গ্রন্থ:
- দীওয়ানে হাফিজ,
- অমিয় শ্তক,
- রুবাইয়াত ই ওমর খ্যায়াম।

• তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- ইংরেজি মাসিক পত্রিকা 'দি পীস'।
- বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'বঙ্গভূমি'
- পাক্ষিক 'তকবীর'।
- মাসিক শিশু পত্রিকা ‘আঙুর'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭৪১.
আবু ইসহাক রচিত 'জাল' কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস
  2. জেলে জীবন ভিত্তিক উপন্যাস
  3. সমাজ সমস্যামূলক উপন্যাস
  4. পদ্মার তীরবর্তী ধীবর জীবন ভিত্তিক উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'জাল' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস 'জাল'।
- উপন্যাসটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে রচিত।
- ১৯৫০ সালে সরকারি কর্মকর্তা থাকাকালীন সময়ে 'জাল নোট' এর কয়েকটা মামলার তদন্তের ভার পড়েছিলো লেখকের ওপর। সেই অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করেই তাঁর 'জাল' উপন্যাসটি রচিত।

--------------
•  আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস:
- সূর্য দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'জাল' উপন্যাস।
৭৪২.
'ছত্রপতি শিবাজী' ঐতিহাসিক নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. খ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. গ) হুমায়ুন আহমেদ
  4. ঘ) জসীম উদদীন
সঠিক উত্তর:
খ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্র ঘোষের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ বিয়োগান্ত নাটক প্রফুল্ল। তাঁর রচিত পৌরাণিক নাটক রাবণবধ, সীতার বনবাস, সীতাহরণ, জনা ইত্যাদি এবং ঐতিহাসিক নাটক- সিরাজউদ্দৌলা, মীর কাসিম, ছত্রপতি শিবাজী ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৭৪৩.
'কুঁচবরণ কন্যা' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
বন্দে আলী মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
• শিশুতোষ গ্রন্থ 'কুঁচবরণ কন্যা' এর রচয়িতা - বন্দে আলী মিয়া।

বন্দে আলী মিয়া:

- সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা,  উপন্যাস, নাটক, জীবনী,  শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।

তাঁর অন্যান্য শিশুসাহিত্য:
- চোর জামাই,
- মেঘকুমারী,
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা,
- সোনার হরিণ,
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা,
- কুঁচবরণ কন্যা,
- সাত রাজ্যের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৪৪.
শিশুতোষ গ্রন্থ 'ডানপিটে শওকত' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) ইমদাদুল হক মিলন
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) শওকত আলী
  4. ঘ) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• শিশুতোষ গ্রন্থ 'ডানপিটে শওকত' এর রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালে।  

• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' - গানের রচয়িতা হিসেবে খ্যাত আবদুল গাফফার চৌধুরী 

• আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• শওকত ওসমানের শিশুতোষ গ্রন্থ - ওটেন সাহেবের বাংলো, তারা দুইজন, ক্ষুদে সোশালিস্ট ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৪৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম সাল কত?
  1. ১৮৬১
  2. ১৯৭১
  3. ১৮৮১
  4. ১৮৯১
সঠিক উত্তর:
১৮৬১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৬১
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক। 
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। 
- ১৯১৩ সালে তাঁকে Song Offerings গ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।  
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- ‘সাধনা, ভারতী, বঙ্গদর্শন ও তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকাগুলো সম্পাদনা করেন। 
- ১৯১৫ সালে ৩রা জুন ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক নাইটহুড বা স্যার উপাধি পান। ১৯১৯ সালের এপ্রিলে বর্জন করেন। 

- তাকে ছোটগল্পের জনকও বলা হয়। তাঁর ছোটগল্পগুলো কাব্যধর্মী। 
- তাঁর রচিত আত্মজীবনী গ্রন্থ ‘জীবনস্মৃতি’। 
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
৭৪৬.
'তৃণাঙ্কুর' কী জাতীয় রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. গল্প
  3. প্রবন্ধ
  4. আত্মজীবনী
সঠিক উত্তর:
আত্মজীবনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মজীবনী
ব্যাখ্যা

১৯৪৩ সালে প্রকাশিত, তৃণাঙ্কুর বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।

১৮৯৪ সালে বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় চব্বিশ পরগনার মুরারিপুরে জনগ্রহণ করেন।
- ইছামতী, উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার পেয়েছেন।
- তিনি মৃত্যুবরণ করেন ১৯৫০ সালে।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৭৪৭.
দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. ক) লীলাবতী
  2. খ) নবীন তপস্বিনী
  3. গ) জামাই বারিক
  4. ঘ) পরপারে
সঠিক উত্তর:
ঘ) পরপারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পরপারে
ব্যাখ্যা

'পরপারে' দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটক । নাটকটি ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।

লীলাবতী, নবীন তপস্বিনী, জামাই বারিক দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক।
এছাড়া তিনি নীলকরদের বীভৎস অত্যাচারে লাঞ্ছিত নীল চাষিদের দুরবস্থা অবলম্বনে রচিত 'নীল দর্পণ' নাটক রচনা করেন।
নাটকটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ইংরেজি অনুবাদ করেন, 'Nil Darpon or The indigo Planting Mirror' নামে ১৮৬১ সালে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৭৪৮.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লার কোন রচনায় চেতনাপ্রবাহ রীতি লক্ষ্য করা যায়?
  1. ক) লালসালু
  2. খ) চাঁদের অমাবস্যা
  3. গ) কাঁদো নদী কাঁদো
  4. ঘ) দি আগলি এশিয়ান
সঠিক উত্তর:
গ) কাঁদো নদী কাঁদো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কাঁদো নদী কাঁদো
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ (১৯৬৮) সালে প্রকাশিত হয়।
মুস্তফা, তবারক, খোদেজা ইত্যাদি চরিত্রের মাধ্যমে গ্রামীণ ও শাহরিক পরিবেশ বর্ণনা করা হয়েছে। এই উপন্যাসে নদী হয়ে উঠেছে প্রবহমান জীবনের প্রতীক।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

কাঁদো নদী কাঁদো ১৯৬৮ সালে  সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত চেতনাপ্রবাহরীতির একটি  উপন্যাস।
আঙ্গিক প্রকরণে পাশ্চাত্যের প্রভাব থাকলেও এর সমাজজীবন, পরিবেশ ও চরিত্রাদি স্বদেশীয়। তবারক ভুঁইয়া নামে এক স্টিমারযাত্রীর মুখে বিবৃত কুমুরডাঙ্গার ছোট হাকিম মুহাম্মদ মুস্তফার জীবনালেখ্য ও অন্তর্জীবনের ইতিকথা এর বিষয়বস্ত্ত। প্রকৃতপক্ষে তা মুহাম্মদ মুস্তফারই অবচেতন মনের বিবৃতি।
এরূপ আঙ্গিকের জন্য চরিত্রের মতো আখ্যানভাগও আপাত জটিল ও খাপছাড়া বলে প্রতিভাত হয়। একদিকে নিয়তিতাড়িত মুহাম্মদ মুস্তফার করুণ জীবনোপাখ্যান।
অপরদিকে শুকিয়ে যাওয়া বাকাল নদীর প্রভাবতাড়িত কুমুরডাঙ্গার মানুষের ব্যতিব্যস্ত জীবনচিত্র জীবন ও নিসর্গ, বাস্তব ও পরাবাস্তব, মানবচৈতন্য ও অবচেতনা, বিশ্বাস ও সংস্কার সবকিছু মিলে অস্তিত্ববাদ ও নিয়তিবাদের সমন্বয়ে এক অভিনব ও জটিল শৈল্পিক নৈপুণ্যে গ্রন্থখানি বাংলা উপন্যাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। 

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৭৪৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'হৈমন্তী' ছোটগল্পের নায়ক কে?
  1. অমিত 
  2. নিখিলেশ
  3. অপু
  4. আদিত্য
সঠিক উত্তর:
অপু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপু
ব্যাখ্যা

'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির।
- 'হৈমন্তী' এর স্বামীর নাম ছিলো — অপু। 
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজ সমস্যামূলক ছোট গল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
• হৈমন্তী (শিশির),
• গৌরীশংকর,
• অপু,
• বনমালী প্রমুখ।

এই গল্পের কিছু বিখ্যাত উক্তি -
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ ইত্যাদি।
-------------------- 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আরো কিছু ছোটগল্পের চরিত্র:
- 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
- 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
- 'পোস্টমাস্টার' গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ঘরে-বাইরে' উপন্যাসের চরিত্র - নিখিলেশ ও বিমলা।
- 'মালঞ্চ' উপন্যাসের চরিত্র - নীরজা, আদিত্য, সরলা প্রমুখ। 
- 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র - কুমুদিনী, মধুসূদন প্রমুখ।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৫০.
বঙ্কিমচন্দ্র রচিত 'বন্দে মাতরম্' সঙ্গীতটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. সম্বাদ কৌমুদী
  3. তত্ত্ববোধিনী
  4. বঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- বঙ্গদর্শন মাসিক সাহিত্যপত্রিকা। ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) কর্তৃক এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।

- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।

- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৮৭৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এর সম্পাদক ও প্রধান লেখক হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র এক গুরু দায়িত্ব পালন করেন।

- বঙ্গদর্শনকে তখন শিক্ষিত বাঙালি সমাজের প্রথম মুখপত্র বলা হতো, কেননা বাঙালি জাতির আধুনিক চিন্তা ও মনন এর মাধ্যমেই প্রথম প্রকাশ লাভ করে। বঙ্কিমচন্দ্রের ধর্ম ও সাম্যবিষয়ক চিন্তা এই পত্রিকায়ই প্রকাশিত হয়।

- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন।

- বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ভারতের জাতীয় সঙ্গীত 'বন্দে মাতরম্' এই পত্রিকায়ই প্রথম মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭৫১.
'তাজকেরাতুল আওলিয়া' অবলম্বনে 'তাপসমালা' কে রচনা করেন?
  1. মুন্সী আব্দুল লতিফ
  2. কাজী আকরাম হোসেন
  3. গিরিশচন্দ্র সেন
  4. শেখ আব্দুল জব্বার
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিরিশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
 • গিরিশচন্দ্র সেন:
- নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ধর্মবেত্তা ও অনুবাদক।
- তিনি 'সুলভ সমাচার' ও 'বঙ্গবন্ধু' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক এবং 'মাসিক মহিলা' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- কেশবচন্দ্র সেন ও বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর প্রভাবে ১৮৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন।
- কুরআনের বঙ্গানুবাদ বাংলা সাহিত্যে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন শরীফের পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন তিনি।
- সকলের নিকট তিনি ‘ভাই গিরিশচন্দ্র’ নামে পরিচিত ছিলেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:

• তাপসমালা:
- গিরিশচন্দ্রের বিখ্যাত গ্রন্থ তাপসমালা।
- এটি ৯৬ জন ওলি-আউলিয়ার জীবনচরিত, যা শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের ফারসি ভাষায় রচিত তাজকেরাতুল আত্তলিয়ার ভাবাদর্শে রচিত।

• তত্ত্বরত্নমালা:
- গিরিশচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য আরেকটি গ্রন্থ হলো তত্ত্বরত্নমালা।
- এটি শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের মানতেকুত্তায়েব ও মওলানা জালালউদ্দীন রূমীর মসনবী শরীফ নামক প্রখ্যাত ফারসি গ্রন্থদ্বয় থেকে সংকলিত।
- এতে নীতিকথা ও শিক্ষণীয় বিষয় ছোট ছোট গল্পের আকারে রসাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 এছাড়াও তিনি হাদিস-পূর্ব বিভাগ শিরোনামে মিশ্কাত শরীফের প্রায় অর্ধাংশের অনুবাদ প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭৫২.
'আর্ত শব্দাবলী' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. রফিক আজাদ
  4. হুমায়ুন কবির
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা

• 'আর্ত শব্দাবলী' হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে।

---------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সমালোচক। তিনি ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পাদনায় ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সাহিত্য সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারি'।
- 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র' তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- তাড় প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিমুখ প্রান্তর'।
- তিনি ১৯৮৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
-সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আরো দুটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৫৩.
কোনটি বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস?
  1. হাওয়া বদল
  2. কালো বরফ
  3. হাওয়ার গান
  4. কালো হাওয়া
সঠিক উত্তর:
কালো হাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালো হাওয়া
ব্যাখ্যা
• ‘কালো হাওয়া’ বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে।

অন্যদিকে,
- মাহমুদুল হক রচিত উপন্যাস হচ্ছে 'কালো বরফ'।

---------------------------
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প গ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• হাওয়ার গান বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি কবিতা।

• বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্য, অষ্টম শ্রেণি।
৭৫৪.
মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক কোনটি?
  1. জনপদ
  2. নবান্ন
  3. মানুষ
  4. চাকা 
সঠিক উত্তর:
মানুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানুষ
ব্যাখ্যা

• 'মানুষ' নাটক:
- 'মানুষ' (১৯৪৭) এক দৃশ্য বিশিষ্ট মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক। ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে নাটকটি রচিত।
- মানুষ নাটকের চরিত্রগুলো: ফরিদ, জুলেখা, বাবা, মা, ডাক্তার।

কাহিনি সংক্ষেপ:
এক হিন্দু তরুণ ডাক্তার আত্মরক্ষার জন্য এক মুসলিম বাড়িতে প্রবেশ করে। সে বাড়িতে একজন অসুস্থ, অন্য একজন দাঙ্গায় মারা গেছে। ডাক্তার রোগীকে চিকিৎসা দেয়। এ সময় হিন্দু ডাক্তারের খোঁজে মুসলিম দাঙ্গাকারীরা ঘরে প্রবেশ করে। তখন গৃহকর্ত্রী মশারির নিচে অসুস্থ সন্তানের পাশে ডাক্তারকে আড়াল করে তার জীবন রক্ষা করে। এভাবেই মানুষ বা মানবতা বড় হয়ে দেখা দেয়।

অন্যদিকে, 
• 'নবনাট্য' আন্দোলন'র প্রবক্তা বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক- জনপদ, নবান্ন। 
• সেলিম আল দিন রচিত নাটক- চাকা। 

-------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী। ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- 'মুনীর অপটিমা' তাঁর উদ্ভাবিত বাংলা টাইপ-রাইটিং।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- মানুষ,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৫৫.
শেখ আজিজুর রহমান কোন লেখকের আসল নাম?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. শামসুর রাহমান
  3. জহির রায়হান
  4. শওকত ওসমান
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস -
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- জলাঙ্গী,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৫৬.
'ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া' ও 'গভর্নমেন্ট গেজেট' পত্রিকাদ্বয়ের সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন কে?
  1. গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
  2. জন ক্লাক মার্শম্যান
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. জেমস্ অগাস্টাস হিকি
সঠিক উত্তর:
জন ক্লাক মার্শম্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন ক্লাক মার্শম্যান
ব্যাখ্যা
• জন ক্লাক মার্শম্যান:
- তিনি ছিলেন মিশনারি, ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক। ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে তাঁর জন্ম।
- ১৮১৮ সালে তিনি শ্রীরামপুর মিশনারি প্রেসে যোগ দেন এবং একই বছর সমাচার দর্পণ পত্রিকায় কাজ শুরু করেন।১৮৪১ সাল পর্যন্ত তিনি এই পত্রিকা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।
- ১৮১৮ সাল থেকে ১৮২৭ সাল পর্যন্ত মার্শম্যান প্রভাবশালী পত্রিকা Friend of India (মাসিক ও ত্রৈমাসিক) সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- ১৮১৮ সালে মার্শম্যান শ্রীরামপুর কলেজ এর অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি ১৮৩৩ সালে সরকারের অনুবাদক এবং ১৮৪০ সালে Government Gazette এর সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- সমাচার দর্পণ,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া,
- গভর্নমেন্ট গেজেট।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভারতবর্ষের ইতিহাস,
- পুরাবৃত্তের সংক্ষিপ্ত বিবরণ,
- জ্যোতিষ গোলাধ্যায়,
- সদগুণ ও বীর্জের ইতিহাস ঈশপস ফেলস,
- ক্ষেত্রবাগান বিবরণ,
- Murray's Grammar। 

অন্যদিকে,
গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা 'বাঙ্গাল গেজেট'।
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর'।
জেমস্ অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত পত্রিকা 'বেঙ্গল গেজেট'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখরএবং বাংলাপিডিয়া।
৭৫৭.
'ওরা কদম আলী' মামুনুর রশীদ রচিত-
  1. প্রবন্ধ
  2. উপন্যাস
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
নাটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক
ব্যাখ্যা
• ওরা কদম কদম আলী:
- ১৯৭৮ সালে 'ওরা কদম আলী' নাটক প্রকাশের মধ্য দিয়ে মামুনুর রশীদের আবির্ভাব ঘটে নাট্যকার হিসেবে।
- শোষিত-নিপীড়িত বঞ্চিত মানুষের জন্য নাটক লিখতে গিয়ে তিনি নাটকে নিয়ে এসেছেন প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ চেতনা।
- আর বঞ্চিত, শোষিত মানুষের শ্রেণিসংগ্রামের রূপকার হিসেবে মামুনুর রশীদের 'ওরা কদম আলী' নাটক সমকালীন বাংলা নাট্য-সাহিত্যের ধারায় যুক্ত করেছেন বিশিষ্ট মাত্রা।
- গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যক্তিক প্রতিবাদ সামষ্টিক রূপ কীভাবে পরিগ্রহ করে কদম আলী নামের একটি বোবা চরিত্রের মধ্য দিয়ে এ নাটকে তা দেখানো হয়েছে।

• মামুনুর রশীদ:
- মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৫৮.
শওকত ওসমানের কোন রচনায় স্বাধীনতাকামী শরণার্থী বাঙালির চিত্র ফুটে উঠেছে?
  1. জননী
  2. চৌরসন্ধি
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. রাজা উপাখ্যান
সঠিক উত্তর:
জাহান্নম হইতে বিদায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাহান্নম হইতে বিদায়
ব্যাখ্যা

• 'জাহান্নম হইতে বিদায়' উপন্যাস:
- শওকত ওসমানের 'জাহান্নম হইতে বিদায়' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বছর রচিত ও প্রকাশিত উপন্যাস।
- ১৯৭১ সালে লেখক এই গ্রন্থ রচনা করেন। অবশ্য তখন তিনি কলকাতায় অবস্থান করছিলেন এবং তাই বইটি বের হয় কলকাতার আনন্দ পাবলিশার্স থেকে।
- এ রচনায় স্বাধীনতাকামী শরণার্থী বাঙালির চিত্র ফুটে উঠেছে।
- এই উপন্যাসটি প্রকাশ পেলে তা পাঠ করে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি পাঠকসহ সেখানে অবস্থানকারী বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী শরণার্থী বাঙালিরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আশাবাদী হয়ে ওঠেন।

- প্রচলিত ধারার উপন্যাসের মতো এই উপন্যাসের নায়ক কোন ব্যক্তি নয়, নায়ক হলো সময় বা যুদ্ধকাল।
- যে সময় সোনার বাংলাকে শ্মশানে পরিণত করেছিল পাকিস্তানিরা, সে সময় শিল্পীর কণ্ঠে ভেসে ওঠে এমন গান: সোনায় মোড়ানো বাংলাকে আমার শ্মশান বানালো কে? ইয়াহিয়া তোমার আসামির মতো জবাব দিতে হবে।
- উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র গাজী রহমানের অভিজ্ঞতায় শওকত ওসমান তুলে ধরেছেন যুদ্ধকালীন পাকিবর্বরতা।
- এই উপন্যাসে যুদ্ধকালে পলায়নপর মধ্যবিত্তের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- গাজী রহমান,
- এডভোকেট রেজা আলী,
- বামপন্থী নেতা কিরণ রায় প্রমুখ কয়েকটি চরিত্র আছে এই উপন্যাসে।

• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ছিলেন।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাংগী,
- পুরাতন খঞ্জর।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই,
- মুসলিম মানসের রূপান্তর।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ওটেন সাহেবের বাংলো,
- তারা দুই জন,
- ক্ষুদে সোশালিস্ট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৫৯.
'তিথিডোর' উপন্যাসটির লেখক কে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

• 'তিথিডোর' উপন্যাস: 
- বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস- তিথিডোর।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৯। 
- উপন্যাসটি প্রথম শ্রাবণ, করুণ রঙিন পথ, যবনিকা কম্পমান এই তিনখন্ডে বিভক্ত। 
- বাঙালি মধ্যবিত্ত শিল্পিত স্বভাব নর নারীর জীবন যাপনের মনোরম ও মধুর কাহিনি এ উপন্যাসে বর্ণিত। 
- প্রধান চরিত্র: স্বাতী, রাজেনবাবু, সত্যেন।
- কাহিনির মূল উপজীব্য প্রেম ও যৌবনের বন্দনা। 

• বুদ্ধদেব বসু:
- তিনি একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালে ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

» তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- যে আঁধার আলোর অধিক,
- মরচেপড়া পেরেকের,
- একদিন চিরদিন।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া ও তিথিডোর উপন্যাস।

৭৬০.
"পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়”- কাব্যনাট্যটির পটভূমি-  
  1. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ 
  2. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান 
  3. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ 
ব্যাখ্যা

"পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়”- কাব্যনাট্যটির পটভূমি- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। 
--------------------------------------------------------
‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ নিয়ে কিছু কথা- 
- ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’  সৈয়দ শামসুল হকের রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধনির্ভর কাব্যনাট্য। 
- নাটকটি ১৯৭৫ সালে লন্ডনের হ্যাম্পস্টেডে রচনা করা হয়।
- পরের বছর ১৯৭৬ সালে এটি প্রকাশিত হয়। 
- এটি বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও মুক্তির চেতনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এক অনুপ্রেরণামূলক নাট্যকর্ম। 
- নাটকের পটভূমিতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের শত্রুমুক্তির সন্ধিক্ষণে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের জীবনচিত্র ফুটে উঠেছে। 
- ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ শিরোনামটি প্রতীকীভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের আসন্ন আগমন ও বিজয়ের বার্তাবাহী পদচারণাকেই নির্দেশ করে।
----------------------
• সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রতিভাবান কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও ছোটগল্পকার।
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যে তার বহুমুখী অবদানের জন্য তাঁকে ‘সব্যসাচী লেখক’ হিসেবে সম্মানিত করা হয়।

- সৈয়দ শামসুল হকের প্রধান রচনা: 
• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - নিষিদ্ধ লোবান।
• তাঁর সবচেয়ে বিতর্কিত উপন্যাস - খেলারাম খেলদে দে।

• কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- নুরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীতের শেষ বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

• কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা, 
- পরানের গহীন ভিতর,
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।
------------------------------------------------
উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৭৬১.
কোন ঔপন্যাসিকের চারটি উপন্যাস একত্রে 'শতবর্ষ' নামে সংকলিত হয়েছে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রমেশচন্দ্র দত্ত
  4. মানিক দত্ত
সঠিক উত্তর:
রমেশচন্দ্র দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রমেশচন্দ্র দত্ত
ব্যাখ্যা

 শতবর্ষ:
• রমেশচন্দ্র দত্ত চারটি ঐতিহাসিক উপন্যাস রচনা করেন: বঙ্গ বিজেতা, মাধবী কঙ্কণ, রাজপুত জীবন সন্ধ্যা ও মহারাষ্ট্র জীবন প্রভাত।
• প্রথম দুটি উপন্যাসে তিনি সম্রাট আকবর কর্তৃক বাংলা বিজয়, তৃতীয়টিতে আকবরের বিরুদ্ধে রানা প্রতাপ সিংহের সংগ্রাম এবং চতুর্থটিতে শিবাজীর নেতৃত্বে মারাঠা শক্তির অভ্যুদয়ের কাহিনি বর্ণনা করেন। 
• সব কটি উপন্যাসই ১৮৭৯ সালে প্রকাশিত হয়।
• মুঘল সাম্রাজ্যের শতবর্ষের ইতিহাসের ঘটনা নিয়ে এই উপন্যাসগুলি রচিত হয়েছিল বলে এগুলি একসাথে “শতবর্ষ” (১৮৭৯) নামে সঙ্কলিত হয়েছিল।

• কবির অন্যান্য বিখ্যাত উপন্যাস :
- রাজপুত জীবন-সন্ধ্যা।
- মহারাষ্ট্র জীবন-প্রভাত। 
- বঙ্গবিজেতা।
- মাধবীকঙ্কণ।
- সংসার। 
- সমাজ। 

উৎস: বাংলাপিডিয় এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭৬২.
'আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই' - বিখ্যাত এই গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সানাউল হক
  2. খ) সিকান্‌দার আবু জাফর
  3. গ) সাঈদ আহমদ
  4. ঘ) সমরেশ বসু
সঠিক উত্তর:
খ) সিকান্‌দার আবু জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সিকান্‌দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
'আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই' - বিখ্যাত এই গানটির রচয়িতা - সিকান্‌দার আবু জাফর।

• তিনি ১৯১৯ সালে তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতরচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক।

তাঁর রচিত  গ্রন্থাবলি:
কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর
- বৈরীবৃষ্টিতে
- তিমিরান্তক
- কবিতা
- বৃশ্চিকলগ্ন

উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু
- জয়ের পথে
- পূরবী
- নবী কাহিনী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৭৬৩.
নিম্নের কোন পত্রিকার সাথে জোশুয়া মার্শম্যান সম্পৃক্ত ছিলেন না?
  1. ক) দিগদর্শন
  2. খ) বেঙ্গল গেজেট
  3. গ) ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া
  4. ঘ) সমাচার দর্পন
সঠিক উত্তর:
খ) বেঙ্গল গেজেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বেঙ্গল গেজেট
ব্যাখ্যা
জোশুয়া মার্শম্যান, (১৭৬৮-১৮৩৭)  পন্ডিত, প্রাচ্যবিদ্যাবিশারদ, ধর্মতাত্ত্বিক, শ্রীরামপুর মিশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। 
জোশুয়া মার্শম্যান ভারতে সংবাদপত্রের সূচনাকারীদের অন্যতম। 
তিনি যেসকল পত্রিকার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন সেগুল হচ্ছে-
- সমাচার দর্পন,
- দিগদর্শন
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া

- তিনি ১৮১৮ সালে প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক সমাচার দর্পণ প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তিনি Friends of India নামে একটি মাসিক পত্রিকাও প্রকাশ করেন। 

অন্যদিকে,  জেমস অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৬৪.
মুহম্মদ আবদুল হাই সৈয়দ আলী আহসানের সঙ্গে যৌথভাবে রচনা করেন-
  1. সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  2. বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত
  3. বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
  4. বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
সঠিক উত্তর:
বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- মুহম্মদ আবদুল হাই ১৯৫৪ সালে বাংলা বিভাগের রিডার ও অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
- পাঠ্যপুস্তকের অভাব দূর করার জন্য মুহম্মদ আবদুল হাই  সৈয়দ আলী আহসানের সঙ্গে যৌথভাবে রচনা করেন- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক যুগ, ১৯৬৮)। 
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।

• মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রচিত গ্রন্থ 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত'।
-ড. দীনেশচন্দ্র সেন রচিত গ্রন্থ ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' (১৮৯৬):

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৬৫.
নিচের কোন গ্রন্থটি ব্যতিক্রম?
  1. ক) মেঘনাদবধ
  2. খ) ব্রজাঙ্গনা
  3. গ) তিলোত্তমাসম্ভব
  4. ঘ) শর্মিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
ঘ) শর্মিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
শর্মিষ্ঠা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত একটি নাটক। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম স্বার্থক নাটক।
অন্যদিকে, মেঘনাদবধ, ব্রজাঙ্গনা ও তিলোত্তমাসম্ভব - একই লেখকের রচিত কাব্যগ্রন্থ।
তাই শর্মিষ্ঠা গ্রন্থের ধরন হিসাবে ব্যতিক্রম।
=============
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত, (১৮২৪-১৮৭৩) মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- মধুসূদনের কৃতিত্ব এখানেই যে, তিনি যাকিছু রচনা করেছেন তাতেই নতুনত্ব এনেছেন। তিনিই প্রথম পাশ্চাত্য সাহিত্যের আদর্শ বাংলা সাহিত্যে সার্থকভাবে প্রয়োগ করেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
• প্রহসন
- একেই কি বলে সভ্যতা ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

• নাটক
- পদ্মাবতী
- কৃষ্ণকুমারী
- শর্মিষ্ঠা

• কাব্য
- মেঘনাদবধ
- ব্রজাঙ্গনা
- তিলোত্তমাসম্ভব


উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৬৬.
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈতৃক নিবাস কোথায়?
  1. ঢাকা
  2. গোপালগঞ্জ
  3. মুন্সিগঞ্জ
  4. নারায়ণগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
গোপালগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপালগঞ্জ
ব্যাখ্যা
• কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈতৃক নিবাস - গোপালগঞ্জ

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭৬৭.
নিচের উদ্ধৃতাংশ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে?
কাণ্ডারী এ তরীর পাকা মাঝিমাল্লা
দাঁড়ি মুখে সারিগান-লা শরীক আল্লাহ।
  1. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার
  2. খেয়াপারের তরণী
  3. সিন্ধু : প্রথম তরঙ্গ
  4. সিন্ধু : দ্বিতীয় তরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
খেয়াপারের তরণী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খেয়াপারের তরণী
ব্যাখ্যা
• কাণ্ডারী এ তরীর পাকা মাঝি মাল্লা, 
দাঁড়ি-মুখে সারিগান লা-শরিক আল্লাহ! - উদ্ধৃতাংশটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'খেয়াপারের তরণী' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।
- 'খেয়াপারের তরণী' কবিতাটি 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

খেয়াপারের তরণী
কাজী নজরুল ইসলাম

যাত্রীরা রাত্তিরে হতে এল খেয়া পার,
বজ্রেরি তূর্যে এ গর্জেছে কে আবার?
প্রলয়েরি আহ্বান ধ্বনিল কে বিষাণে!
ঝন্‌ঝা ও ঘন দেয়া স্বনিল রে ঈশানে!

নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ!
নিঃশেষে নিশাচর গ্রাসে মহাবিশ্বে,
ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে।

তমসাবৃতা ঘোরা 'কিয়ামত' রাত্রি,
খেয়া-পারে আশা নাই ডুবিল রে যাত্রী!
দমকি দমকি দেয়া হাঁকে কাঁপে দামিনী,
শিঙ্গার হুঙ্কারে থরথর যামিনী!

লঙ্ঘি এ সিন্ধুরে প্রলয়ের নৃত্যে
ওগো কার তরী ধায় নির্ভীক চিত্তে-
অবহেলি জলধির ভৈরব গর্জন
প্রলয়ের ডঙ্কার ওঙ্কার তর্জন!

পুণ্য-পথের এ যে যাত্রীরা নিষ্পাপ,
ধর্মেরি বর্মে সু-রক্ষিত দিল্ সাফ!
নহে এরা শঙ্কিত বজ্র নিপাতেও
কাণ্ডারী আহমদ তরী ভরা পাথেয়।

আবুবকর উস্মান উমর আলি হায়দর
দাঁড়ি যে এ তরণীর, নাই ওরে নাই ডর!
কাণ্ডারী এ তরীর পাকা মাঝি মাল্লা,
দাঁড়ি-মুখে সারিগান লা-শরিক আল্লাহ!

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- সাম্যবাদী,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; 'অগ্নিবীণা' কাব্য, কাজী নজরুল ইসলাম।
৭৬৮.
নিচের কোনটি জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) পদুমাবৎ
  2. খ) চন্দ্রাবতী
  3. গ) মনসামঙ্গল কাব্য
  4. ঘ) লাইলি মজনু
সঠিক উত্তর:
ক) পদুমাবৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পদুমাবৎ
ব্যাখ্যা
• জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন ১৮৫১ সালের ৭ জানুয়ারি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত একজন প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ও ভাষাতাত্ত্বিক।
- সংস্কৃত ভাষাসহ অন্যান্য প্রাচ্যভাষা ও ভাষাতত্ত্বে তাঁর আগ্রহ ছিল।

• হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর 'পদুমাবৎ' জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। 
জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন সম্পাদিত গ্রন্থ: 
- The Kashmiri Ramayana 
- Comprising the Sriramavataracarita and the Lava-Kusayuddha Caritra of Divakara Prakasa Bhatta. (1930)

• মহাকবি সৈয়দ আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা পদ্মাবতী কাব্যগ্রন্থ।
- হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সী-এর পদুমাবৎ অবলম্বনে পদ্মাবতী কাব্যটি রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৬৯.
'ভীমসিংহ, জগৎসিংহ' — এই চরিত্রগুলো মধুসূদন দত্তের কোন নাটকের?
  1. পদ্মাবতী
  2. বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  3. মায়া কানন
  4. কৃষ্ণকুমারী
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

'কৃষ্ণকুমারী' নাটক:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা,
- ভীমসিংহ,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৭০.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ প্রকাশিত উপন্যাস কোনটি?
  1. অপরাজিত
  2. অশনি সংকেত
  3. আরণ্যক
  4. ইছামতী
সঠিক উত্তর:
ইছামতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইছামতী
ব্যাখ্যা

⇒ 'ইছামতী' উপন্যাস:
- ‘ইছামতী’ ১৯৫০ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি লেখকের শেষ উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের জন্য তিনি 'রবীন্দ্র পুরস্কার' লাভ করেন।
- ইছামতি নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষের জীবনকথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ভবানী বাঁড়ুয্যে কিংবা তার পুত্রত্রয় তিলু, বিলু, নীলু।

⇒ তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- চাঁদের পাহাড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৭১.
বাংলা সাহিত্যে কথ্যরীতির প্রচলনে কোন পত্রিকার অবদান বেশি?
  1. কল্লোল
  2. সবুজপত্র
  3. বঙ্গদর্শন
  4. কালিকলম
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যে কথ্যরীতির/গদ্যরীতির প্রচলনে কোন ‘সবুজপত্র’ পত্রিকার অবদান অপরিসীম।

• ‘সবুজপত্র’ পত্রিকা:

- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতির ব্যবহার এই পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করে। 
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৭২.
''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন”- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• “সর্বদাই হুহু করে মন, বিশ্ব যেন মরুর মতন”- পঙ্‌ক্তিদ্বয় বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত ‘বঙ্গসুন্দরী’ গীতিকবিতার অন্তর্ভুক্ত।

• ‘বঙ্গসুন্দরী’ গীতিকবিতা:

- বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী’ (১৮৭০)। 
- রবীন্দ্রনাথ এ-প্রসঙ্গে বলেছেন: ‘আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।’
- গ্রন্থটি ১০টি সর্গে বিভক্ত। প্রথম সর্গ উপহার, দ্বিতীয় সর্গ নারীবন্দনা, তৃতীয় সর্গ সুরভালা, চতুর্থ সর্গ চিরপরাধীনা, পঞ্চম সর্গ করুণাসুন্দরী, ষষ্ঠ সর্গ বিষাদিনী, সপ্তম সর্গ প্রিয়সখী, অষ্টম সর্গ বিরহিণী, নবম সর্গ প্রিয়তমা ও দশম সর্গ অভাগিনী নামকরণ করা হয়েছে।

• এ কাব্যে কবি বলেছেন-

''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন,
চারদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।''

---------------------------
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭৭৩.
'হুইটম্যানের কবিতা' কার অনুবাদগ্রন্থ?
  1. ক) সৈয়দ আলী আহাসান
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) সেলিম আল দীন
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ আলী আহাসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সৈয়দ আলী আহাসান
ব্যাখ্যা

- সৈয়দ আলী আহাসান বাংলাদেশে একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক, কবি, সাহিত্য সমালোচক, অনুবাদক প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক।
- 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ) প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। তিনি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে একত্রে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা,
- সমুদ্রেই যাব,
- রজনীগন্ধা ইত্যাদি।

অনুবাদগ্রন্থঃ
- হুইটম্যানের কবিতা,
- ইডিপাস।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৭৭৪.
কোনটি শুদ্ধ?
  1. নির্জন স্বাক্ষর (কাব্যগ্রন্থ)
  2. সতীর্থ (কাব্যগ্রন্থ)
  3. স্বগত (কাব্যগ্রন্থ)
  4. সাত ভাই চম্পা (কাব্যগ্রন্থ)
সঠিক উত্তর:
সাত ভাই চম্পা (কাব্যগ্রন্থ)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাত ভাই চম্পা (কাব্যগ্রন্থ)
ব্যাখ্যা
সাত ভাই চম্পা:
- বিষ্ণু দে রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
নির্জন স্বাক্ষর:
- বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস।
- এটি ১৯৫১ সালে প্রকাশিত হয়।

সতীর্থ:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস।
- এটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।

স্বগত:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৭৫.
'রোহিণী ও কমললতা' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. বড়দিদি
  2. শ্রীকান্ত
  3. পরিণীতা
  4. পথের দাবী
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রীকান্ত
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কথাশিল্পী।
১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের  প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 

'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস। এর চারটি খন্ড।
উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র-
- শ্রীকান্ত,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদাদিদি,
- অভয়া,
- রোহিণী,
- কমললতা প্রমুখ।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

সাহিত্যকর্মে অসাধারণ অবদানের জন্য শরৎচন্দ্র কুন্তলীন পুরস্কার (১৯০৩), জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯২৩), বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সদস্যপদ (১৯৩৪) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিলিট উপাধি (১৯৩৬) লাভ করেন।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া]
৭৭৬.
'নিরুপায় হরিণী' আনোয়ার পাশা রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধ
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'নিরুপায় হরিণী' গল্পগ্রন্থ:
আনোয়ার পাশা গল্প বলতে ভালোবাসেন; এবং তিনি গল্প বলতে জানেন 'নিরুপায় হরিণী' গল্পগ্রন্থে সেই কথাই বলছে। এ বইতে তাঁর ভাষা স্বচ্ছন্দ, তাঁর লেখার রীতির মধ্যে দেখা যায় একটা বুর্জোয়া পরিছন্নতা। পরিহার করে চলেছেন অলঙ্কার প্রিয়তা ও অতিরিক্ত ভাবাবেগ। প্রতীক আছে কিন্তু তার ব্যবহারে অতিশয়োক্তির আড়ম্ব নেই।

এই গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো হলো:
- নিরুপায় হরিণী, 
- বেনো দিঘির উপকথা,
- বাঘে-ছারপোকায়,
- প্রতিনায়িকা,
- নিমসিতানের পথে,
- দুটি মেয়ে একটি ছেলে,
- শিকার,
- মর্কটবৃত্ত,
- ঝরিয়া যায়,
- বাঘা ভূতের পাঁচালি। 

উৎস: 'নিরুপায় হরিণী' গল্পগ্রন্থ আনোয়ার পাশা।
৭৭৭.
কালো আর ধলো বাহিরে কেবল,
ভিতরে সবারি সমান রাঙা।
- পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) চণ্ডীদাস
  4. ঘ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
সঠিক উত্তর:
ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

দোসর খুঁজি ও বাসর বাঁধি গো,
জলে ডুবি, বাঁচি পাইলে ডাঙ্গা,
কালো আর ধলো বাহিরে কেবল
ভিতরে সবারই সমান রাঙা।

বাহিরের ছোপ আঁচড়ে সে লোপ
ভিতরের রং পলকে ফোটে,
বামুন, শূদ্র, বৃহৎ, ক্ষুদ্র
কৃত্রিম ভেদ ধুলায় লোটে।

- মানুষ জাতী, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।

৭৭৮.
'সুরবালা' চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথের কোন ছোটগল্পে পাওয়া যায়?
  1. শাস্তি
  2. একরাত্রি
  3. সমাপ্তি
  4. নষ্টনীড়
সঠিক উত্তর:
একরাত্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একরাত্রি
ব্যাখ্যা
• একরাত্রি ছোটগল্প:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রেষ্ঠ গল্পসমূহের মধ্যে ‘একরাত্রি' বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৯ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ সংখ্যা 'সাধনা' পত্রিকায়।
- ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ছোটগল্প' শীর্ষক রবীন্দ্র গল্পগ্রন্থে এটি প্রথম গ্রন্থিত হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘একরাত্রি' গল্পের নায়িকা — 'সুরবালা'।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আরো কিছু ছোটগল্পের চরিত্র:
- 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
- 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'।
- 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- পোস্টমাস্টার গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'একরাত্রি' ছোটগল্প।
৭৭৯.
আপনাকে বড় বলে
বড় সেই নয়,
লোকে যারে বড় বলে
বড় সেই হয়। - পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. হরিশচন্দ্র মিত্র
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
সঠিক উত্তর:
হরিশচন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিশচন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

• আপনাকে বড় বলে
বড় সেই নয়,
লোকে যারে বড় বলে
বড় সেই হয়। - পঙ্‌ক্তিগুলো হরিশচন্দ্র মিত্র রচিত ‘বড় কে’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

হরিশচন্দ্র মিত্র:
- হরিশচন্দ্র মিত্র তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি ১৮৩৭ সালে ঢাকায় এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৫৮ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; ‘বড় কে’ কবিতা।

৭৮০.
"পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়" কাব্যনাট্যের রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. শওকল ওসমান
  3. শামসুদ্দীন আবুল কামাল
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• "পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়" কাব্যনাট্য:
• পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য। এখানে মুক্তিযুদ্ধকে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় তুলে ধরা হয়েছে।
•  নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।
 
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত অন্যান্য কাব্যনাট্যগুলো হলো:
- নুরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন,
- গণনায়ক,
- বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৮১.
জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ- 
  1. বনলতা সেন
  2. মহাপৃথিবী
  3. সাতটি তারার তিমির
  4. রূপসী বাংলা
সঠিক উত্তর:
রূপসী বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - রূপসী বাংলা।

• রূপসী বাংলা:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'।
- 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের।
- বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু।
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

উল্লেখ্য, 'বেলা অবেলা কালবেলা' (১৯৬১) কাব্যগ্রন্থটিও জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।

• জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৮২.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. অশনি সংকেত
  2. আদর্শ হিন্দু হোটেল
  3. চাঁদের পাহাড়
  4. সবকটি
সঠিক উত্তর:
সবকটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবকটি
ব্যাখ্যা
⇒ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

⇒ তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ: 

• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী, 
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত
- আরণ্যক, 
- আদর্শ হিন্দু হোটেল
- দেবযান, 
- ইছামতী, 
- দৃষ্টি প্রদীপ,  
- চাঁদের পাহাড়।  

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,  
- মৌরীফুল,  
- যাত্রাবদল,  
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৮৩.
'কচিপাতা' সাহিত্যকর্মের রচয়িতা-
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
আবুল কালাম শামসুদ্দীন রচিত প্রধান সাহিত্যকর্ম- কচিপাতা, অনাবাদি জমি, দৃষ্টিকোণ, পলাশী থেকে পাকিস্তান, অতীত দিনের স্মৃতি ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭৮৪.
’সৈয়দ মুজতবা আলী’ রচিত ভ্রমণ-কাহিনি-
  1. পথে প্রবাসে
  2. কাবুলের শেষ প্রহরে
  3. চলে মুসাফির
  4. তুরস্ক ভ্রমণ
সঠিক উত্তর:
কাবুলের শেষ প্রহরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাবুলের শেষ প্রহরে
ব্যাখ্যা
’সৈয়দ মুজতবা আলী’ রচিত ভ্রমণ-কাহিনি- কাবুলের শেষ প্রহরে।

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন,
- তাঁর  উল্লেখ্যযোগ্য ভ্রমন কাহিনী : দেশে বিদেশে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:

- অবিশ্বাস্য,
- শবনম,
- শত্রু-ইয়ার।
- ভ্রমণকাহিনি:
- দেশে-বিদেশে,
- জলে-ডাঙায়।
- রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

অন্যদিকে,
- ’অন্নদাশঙ্কর রায়’ রচিত ভ্রমণ-কাহিনি- পথে প্রবাসে।
- ’জসীমউদ্দীন’ রচিত ভ্রমণ-কাহিনি-  চলে মুসাফির ।
- ’সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী’ রচিত ভ্রমণ-কাহিনি-  তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং আনন্দপাঠ, অষ্টম শ্রেণি।
৭৮৫.
বাংলা শিশুসাহিত্যের বিখ্যাত 'মশা' গল্পটি কার রচনা?
  1. সুকুমার রায়
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'মশা' গল্প ও 'ঘনাদা' চরিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্রের "মশা" একটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিমূলক ছোটগল্প যা তাঁর জনপ্রিয় চরিত্র ঘনাদার সঙ্গে জড়িত। 
- বাংলা শিশুসাহিত্যে প্রেমেন্দ্র মিত্রের অতুলনীয় সৃষ্টি 'ঘনাদা' চরিত্রটি।প্রেমেন্দ্র মিত্রের এ ঘনাদা চরিত্রে সৃষ্টি হয় তাঁর রচিত 'মশা' (১৯৩৭) গল্পের মাধ্যমে।
- শিশুর মনোরাজ্যের রোমাঞ্চকর অনুভূতিগুলি তিনি ঘনাদা চরিত্রের মাধ্যমে অভিব্যক্ত করেন।
- ঘনাদা পড়ে প্রতিটি শিশু-কিশোর ঘনাদার ভিতর দিয়ে নিজেদের দেখতে উন্মুখ হয়ে ওঠে। কিশোর মনোরাজ্য অধিকারের জন্য ডিটেকটিভ ও রোমাঞ্চকর কাহিনি সৃজনে তিনি অসাধারণ শক্তির পরিচয় দেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর; 'মশা' গল্প।
৭৮৬.
'কৃষ্ণকান্তের উইল'র রোহিনী আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল কেন?
  1. ক) উইল চুরি জনিত আত্মগ্লানিতে
  2. খ) হরলালকে বিয়ে করতে ব্যার্থ হয়ে
  3. গ) ভ্রমরের সুখী জীবন প্রত্যক্ষ করে
  4. ঘ) স্বীয় ব্যর্থ যৌবনের হাহাকারে
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বীয় ব্যর্থ যৌবনের হাহাকারে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) স্বীয় ব্যর্থ যৌবনের হাহাকারে
ব্যাখ্যা

নিজের সঙ্গে নিজের মানসিক সংঘাত-সংঘর্ষে পরাস্ত রোহিণী এক পর্যায়ে আত্মহত্যার পথও বেছে নিতে চেয়েছে। কিন্তু গোবিন্দলাল দেখে ফেলায় রোহিণীর সে-চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। লেখক রোহিণীর সে-মানসিক সংঘাতের যথার্থ বর্ণনাও দিয়েছেন অসাধারণ কাব্যময় ভাষায় :

হে জগদীশ্বর, হে দীননাথ, হে দুঃখীজনের একমাত্র সহায়! আমি নিতান্ত দুঃখিনী, নিতান্ত দুঃখ পড়িয়াছি – আমায় রক্ষা কর – আমার হৃদয়ের এই অসহ্য প্রেমবহ্নি নিবাইয়া দাও – আর আমায় পোড়াইও না। আমি যাহাকে দেখিতে যাইতেছি – তাহাকে যত বার দেখিব, তত বার – আমার অসহ্য যন্ত্রণা – অনন্ত সুখ। আমি বিধবা – আমার ধর্ম্ম গেল – সুখ গেল – প্রাণ গেল – রহিল কি প্রভু? রাখিব কি প্রভু? – হে দেবতা – আমার প্রাণ স্থির কর – আমি এই যন্ত্রণা আর সহিতে পারি না।

(বঙ্কিম রচনাবলি, পৃ ৫১৫)

- উপরের আলোচনা পড়ে এটা স্পষ্ট যে রোহিণী স্বীয় ব্যর্থ যৌবনের হাহাকারে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল।


৭৮৭.
'ঠাকুরমার ঝুলি' -গ্রন্থটির সংকলক কে?
  1. ক) দীনবন্ধু মিত্র
  2. খ) দীনেশচন্দ্র সেন
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
সঠিক উত্তর:
ঘ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
- ঠাকুরমার ঝুলি' দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার সংকলিত রূপকথা আশ্রিত শিশুসাহিত্য। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯০৭ সালে।
- রূপকথার সঙ্গে এখানে উপকথার বৈশিষ্ট্য ও আছে। কারণ পশু-পাখির মুখ দিয়েও কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। এই গল্পগুলি বলার গ্রামীণ রীতি ও ভাষা যথাসম্ভব অক্ষুণ্ন রেখে দক্ষিণারঞ্জন সম্পাদনা ও প্রকাশ করে চিরস্মরণীয় হয়েছেন।

- ১৮৭৭ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
- ১৯০৯ সালে 'ঠাকুরদাদার ঝুলি' প্রকাশিত হয়।
- ১৯৫৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৮৮.
'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) আবু ইসহাক
  2. খ) আনোয়ার পাশা
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) অনন্দাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
খ) আনোয়ার পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
নিশুতি রাতের গাথা, নীড় সন্ধানী ও রাইফেল রোটি আওরাত উপন্যাসের রচয়িতা আনোয়ার পাশা। 'নদী নিঃশেষিত হলে' ও 'সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী' তাঁর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৭৮৯.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় রচিত বিষবৃক্ষ উপন্যাসে কোন চরিত্রটি পাওয়া যায়?
  1. ক) মৃণালিনী
  2. খ) শৈবলিনী
  3. গ) তারাচরণ
  4. ঘ) রাধারাণী
সঠিক উত্তর:
গ) তারাচরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তারাচরণ
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ''বিষবৃক্ষ'' একটি সামাজিক উপন্যাস।
এটি প্রথম ১৮৭২ সালে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র - নগেন্দ্রনাথ, সূর্যমূখী, কুন্দনন্দিনী, কমলমনি, তারাচরণ প্রমুখ।
উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

৭৯০.
ড. সুনীতিকুমারের মতে বাংলা ভাষায় তুর্কি শব্দের সংখ্যা সর্বোচ্চ কতটি?
  1. ক) ৩৫
  2. খ) ৪০
  3. গ) ৪৫
  4. ঘ) ৫০
সঠিক উত্তর:
খ) ৪০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৪০
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার বলেছেন বাঙালায় তুর্কি শব্দ ৪০ টির বেশি হবে না।
- 'আলখাল্লা', 'কুলী', 'কোর্মা', 'খাতুন', 'বেগম', 'লাশ' ইত্যাদি তুর্কি শব্দ। 
- 'আলখাল্লা' তুর্কিতে ছিলো 'আল খালিক'। 
- 'কুলী' ছিলো 'কুলি' তখন তার অর্থ ছিলো ক্রীতদাস।
-  'কোর্মা' তুর্কিতে ছিলো 'কওউর্মা'। 
- 'খাতুন' ছিলো 'খতুন'।
- 'বেগম' ছিলো 'বেগুম'।
- 'লাশ' ছিলো 'লাস'

উৎস: কতো নদী সরোবর বা বাঙলা ভাষার জীবনী, হুমায়ুন আজাদ।
৭৯১.
সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম নয় -
  1. দৃষ্টিহীন
  2. প্রিয়দর্শী
  3. ওমর খৈয়াম
  4. মুসাফির
সঠিক উত্তর:
দৃষ্টিহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৃষ্টিহীন
ব্যাখ্যা
• 'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে লিখতেন - দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার। 
 
সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।
 
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।
 
তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।
 
উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৯২.
‘অক্ষয়কুমার’ ও ‘চন্দ্রমাধব’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ঘরে বাইরে
  2. চোখের বালি
  3. চতুরঙ্গ
  4. প্রজাপতির নির্বন্ধ
সঠিক উত্তর:
প্রজাপতির নির্বন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রজাপতির নির্বন্ধ
ব্যাখ্যা
➤ ‘প্রজাপতির নির্বন্ধ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি হাস্যরসাত্মক উপন্যাস।
- এটি ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। চিরকুমার সভা' নামে এই উপন্যাসের নাট্যরূপটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের প্রধান প্রধান চরিত্র হলো: অক্ষয়কুমার, চন্দ্রমাধব, শ্রীশ, বিপিন, পূর্ণ প্রমুখ।

অন্যদিকে,
➤ ‘চোখের বালি’ (১৯০৩): বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- ২০০৩ সালে ঋতুপর্ণ ঘােষ এই উপন্যাস অবলম্বনে ‘চোখের বালি' চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন।
- প্রধান চরিত্র: মহেন্দ্র, আশা, বিহারী, বিনােদিনী প্রভৃতি।

➤ ‘চতুরঙ্গ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- উপন্যাসে চতুরঙ্গ হলো চারটি চরিত্র: জ্যাঠামশাই, শচীশ, দামিনী, শ্রীবিলাস।
- এই চারটি চরিত্র চার অঙ্গের মতো উপন্যাস-দেহকে গঠন করেছে।

➤ 'ঘরে বাইরে' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজনৈতিক উপন্যাস।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসটি ১৯১৫ সালে ‘সবুজপত্রে’ প্রকাশিত হয়।
- এর উল্লেখযােগ্য চরিত্র: নিখিলেশ, বিমলা ও সন্দীপ।

উৎস: ‘প্রজাপতির নির্বন্ধ’ উপন্যাস; লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭৯৩.
‘অরিজিন এন্ড ডেভলেপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সৈয়দ আলী আহসান
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থঃ
- অরিজিন এন্ড ডেভলেপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ (১৯২৬),
- ভাষা প্রকাশ বাঙালা ব্যাকরণ,
- পশ্চিমের যাত্রী,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৯৪.
কোনটি দীনবন্ধু মিত্রের কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) লীলাবতী
  2. খ) দ্বাদশ কবিতা
  3. গ) সুরধুনী কাব্য
  4. ঘ) খ ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
ঘ) খ ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
লীলাবতী দীনবন্ধু মিত্রের সামাজিক নাটক। তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে দ্বাদশ কবিতা ও সুরধুনী কাব্য। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭৯৫.
'যদ্যপি আমার গুরু' কার রচনা?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. আহমদ ছফা
  4. আব্দুশ শাকুর
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা

• 'যদ্যপি আমার গুরু' গ্রন্থ:
'যদ্যপি আমার গুরু' বাংলাদেশের অগ্রণী চিন্তাবিদ ও কথাসাহিত্যিক আহমদ ছফা রচিত একটি স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ।
- দীর্ঘ স্মৃতিচারণ মূলক রচনাটি ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে বই আকারে প্রকাশের আগে দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার সাহিত্য পাতায় প্রায় চার মাস ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিংবদন্তি জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের সাথে লেখকের বিভিন্ন বিষয়ে কথোপকথনসমূহের বিবরণ পাওয়া যায় এই গ্রন্থে। 
- লেখক দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে রাজ্জাক স্যারের সান্নিধ্য লাভ করেছেন।গুরু হিসেবে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- উদ্ধার,
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- অলাতচক্র,
- ওঙ্কার,
- গাভীবৃত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্পবৃক্ষ ও
- বিহঙ্গ পুরাণ। 

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৯৬.
ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম ছিলেন কে?
  1. সত্যেন সেন
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সুকুমার রায়
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। 
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

তাঁর দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭৯৭.
’শেষ পাণ্ডুলিপি’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• ’শেষ পাণ্ডুলিপি’ উপন্যাসের রচয়িতা- বুদ্ধদেব বসু।
-------------------------------
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা,
- ’শেষ পাণ্ডুলিপি’ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

• তাঁর রচিত নাটক‌:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭৯৮.
‘হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান’ - এ চরণটি কোন ছন্দে লেখা?
  1. ক) স্বরবৃত্ত
  2. খ) সত্তাবৃত্ত
  3. গ) অক্ষরবৃত্ত
  4. ঘ) অমিত্রাক্ষর
সঠিক উত্তর:
গ) অক্ষরবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অক্ষরবৃত্ত
ব্যাখ্যা
- ‘হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান’ লাইনটি কাজী নজরুল ইসলামের 'দারিদ্র্য' কবিতার অন্তর্গত।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা।
- 'দারিদ্র' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত সিন্ধু হিন্দোল কাব্য গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- ১৯২৭ খৃষ্টাব্দে এই গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৯টি কবিতা নিয়ে এই কাব্যগ্রন্থ।

• এই কাব্যের কয়েকটি লাইন-
"হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান্।
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান
কন্টক-মুকুট শোভা।-দিয়াছ, তাপস,
অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস;
উদ্ধত উলঙ্গ দৃষ্টি, বাণী ক্ষুরধার,
বীণা মোর শাপে তব হ’ল তরবার!"

উৎস: 'দারিদ্র্য' কবিতা এবং বাংলাপিডিয়া।
৭৯৯.
‘পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।’- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সুকুমার রায়
  2. রফিক আজাদ
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• আলোচ্য পঙ্‌ক্তিটি কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের 'হে মহাজীবন' কবিতার অন্তর্গত। 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

কবিতাটি সংক্ষেপে নিম্নরূপ- 

হে মহাজীবন
(ছাড়পত্র) - সুকান্ত ভট্টাচার্য

হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!
প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা-
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী-গদ্যময়ঃ
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।।

----------------------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮০০.
কাজী নজরুল ইসলামের 'আমার পথ' প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ধূমকেতু
  2. রুদ্র-মঙ্গল
  3. কবিতার কথা
  4. রাজবন্দীর জবানবন্দী
সঠিক উত্তর:
রুদ্র-মঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুদ্র-মঙ্গল
ব্যাখ্যা
• 'আমার পথ' প্রবন্ধ
- এটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘রুদ্র-মঙ্গল’ প্রবন্ধগ্রন্থের দ্বিতীয় প্রবন্ধ।
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে।
- গ্রন্থটিতে মোট ৮টি প্রবন্ধ আছে।

‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
‘আমার এই যাত্রা হল শুরু ওগো কর্ণধার, তোমারে করি নমস্কার ।
মাভৈঃ বাণীর ভরসা নিয়ে' ‘জয় প্রলয়ঙ্কর' বলে ‘ধূমকেতু’কে রথ করে আমার আজ নতুন পথে যাত্রা শুরু হল। আমার কর্ণধার আমি। আমায় পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি—নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ ছাড়া আর কোনো পথই আমার বিপথ নয়! রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না । যার ভিতরে ভয়, সে-ই বাইরে ভয় পায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং কাজী নজরুল রচিত 'আমার পথ' প্রবন্ধ।