বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ৫৫ / ১৭৪ · ৫,৪০১৫,৫০০ / ১৭,৪৩৭

৫,৪০১.
‘ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়'- উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী আবদুল ওদুদ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• ‘ব্যাধি সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়।’- উক্তিটি প্রমথ চৌধুরীর রচনা।

--------------------
• 'বইপড়া' প্রবন্ধ:

- 'বইপড়া' প্রবন্ধের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী।
- এটি তাঁর 'প্রবন্ধ সংগ্রহ' গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। 

এই প্রবন্ধের কিছু বিখ্যাত উক্তি হলো-
- ‘ব্যাধি সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়।’
- ‘যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।’ 
- ‘যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানে বড় নয়।’
- ‘যে জাতির জ্ঞানভাণ্ডারে শূন্য সে জাতি ভাঁড়েও ভবানী।’

-------------------
• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৪০২.
'অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' কে রচনা করেন?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়  'বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা' রচনা করেন ১৯২৯ সালে।
বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।

তার বিখ্যাত গ্রন্থের মধ্যে আছে,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
- অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ,
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স 
- ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড লিটারেচার অব মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৪০৩.
‘মোস্তফা চরিত’ গ্রন্থের লেখক কে ছিলেন?
  1. কায়কোবাদ
  2. মাওলানা আকরম খাঁ
  3. মুহাম্মদ বরকত ‍উল্লাহ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
মাওলানা আকরম খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাওলানা আকরম খাঁ
ব্যাখ্যা
মাওলানা আকরম খাঁ:
জন্ম ও মৃত্যু: ৭ই জুন, ১৮৬৮, পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার হাকিমপুর গ্রামে। ১৮ই আগস্ট, ১৯৬৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য, 
১৯০৩ সালে 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। তিনি উর্দু দৈনিক 'জামানা' (১৯২০) ও বাংলা দৈনিক 'সেবক' (১৯২১) পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৩৬ সালের ৩১শে অক্টোবর থেকে 'আজাদ' পত্রিকার সম্পাদনা করেন, যা তাঁর সাংবাদিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।


তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থগুলো:
• 'মোস্তফা চরিত'  – হজরত মোহাম্মদ (স.) এর জীবনী। বইটিতে মোস্তফা চরিতের বিভিন্ন উপায় বা সূত্র, বিভিন্ন হাদিছের বর্ননা, অন্যান্য ধর্মসমূহের তূলনা করা হয়েছে।

• 'মোসলেম বাংলার সামাজিক ইতিহাস' – মুসলিম বাংলার ইতিহাস নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।

উৎস:
- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
- বাংলাপিডিয়া।
৫,৪০৪.
'আমার পূর্ব বাংলা' কবিতাটির রচয়িতা কে? 
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. শাহাদাৎ হোসেন 
  3. সৈয়দ শামসুল হক 
  4. সিকান্‌দার আবু জাফর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
• ‘আমার পূর্ব বাংলা' সৈয়দ আলী আহসানের একটি বিখ্যাত কবিতা।

• সৈয়দ আলী আহাসান:
- সৈয়দ আলী আহাসান বাংলাদেশে একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক, কবি, সাহিত্য সমালোচক, অনুবাদক প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক।
- 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ) প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। তিনি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে একত্রে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা,
- সমুদ্রেই যাব,
- রজনীগন্ধা ইত্যাদি।

• অনুবাদগ্রন্থ:
- হুইটম্যানের কবিতা,
- ইডিপাস।

• প্রবন্ধ:
- সতত স্বাগত।

• আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

আমার পূর্ব বাংলা- কবিতা;
সৈয়দ আলী আহসান

আমার পূর্ব-বাংলা এক গুচ্ছ স্নিগ্ধ/ অন্ধকারের তমাল
অনেক পাতার ঘনিষ্ঠতায়/ একটি প্রগাঢ় নিকুঞ্জ
নিকুঞ্জের তমাল কনক-লতায় ঘেরা
রাশি রাশি ধান মাটি আর পানির/ কেমন নিশ্চেতন করা গন্ধ
কত দশা বিরহিণীর- এক দুই তিন/ দশটি (বৈষ্ণব কবিতায় বর্ণিত রাধার বিরহের দশটি অবস্থার প্রতি কবি ইঙ্গিত করেছেন।)
ঘর আর বিদেশ আঙিনা
তিনটি ফুল আর একটি পাতা নিয়ে/ কদম্ব তরুর একটি শাখা মাটি/ ছুঁয়েছে
আরও অনেক গাছ পাতা লতা/ নীল হলুদ বেগুনি অথবা সাদা
কাকের চোখের মতো কালোচুল/ এলিয়ে
হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া স্নিগ্ধ নীলাম্বরীতে দেহ ঘিরে (বৃষ্টিভেজা পূর্ব বাংলা যেনো নীল শাড়ি পরা কোনো নারী)
তুমি আমার পূর্ব-বাংলা-/ পুলকিত সচ্ছলতায়, প্রগাঢ় নিকুঞ্জ।।

উল্লেখ্য,
কবিতাটি লেখকের ''একক সন্ধ্যায় বসন্ত'' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, আমার পূর্ব বাংলা- কবিতা, বাংলাপিডিয়া।
৫,৪০৫.
বুদ্ধদেব বসুর জন্মস্থান-
  1. কুমিল্লা 
  2. বর্ধমান 
  3. চব্বিশ পরগণা 
  4. সিরাজগঞ্জ 
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা 
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু:
- একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।
- ঢাকা থেকে 'প্রগতি' (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- হুমায়ুন কবিরের সাথে তাঁর যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকা 'চতুরঙ্গ'।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে থাকা অবস্থায় তিনি 'বাসন্তিকা' পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প:
- 'অভিনয়, অভিনয় নয়',
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৪০৬.
'হুতোম পেঁচা' কার ছদ্মনাম?
  1. কালী প্রসন্ন সিংহ
  2. প্যারীচাদ মিত্র
  3. নীহাররঞ্জন গুপ্ত
  4. চারুচন্দ্র চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
কালী প্রসন্ন সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালী প্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা

• 'হুতোম পেঁচা' কালী প্রসন্ন সিংহের ছদ্মনাম।

অন্যদিকে,
- চারুচন্দ্র চক্রবর্তী- জরাসন্ধ।
- নীহাররঞ্জন গুপ্ত - বানভট্ট।
- প্যারীচাদ মিত্র - টেকচাঁদ ঠাকুর।

তাঁর দুটি বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম :
- হুতোম প্যাঁচার নকশা (১৮৬২) এবং
- পুরাণসংগ্রহ (মহাভারত থেকে পৌরাণিক গল্পের সংগ্রহ, ১৮৬০-১৮৬৬)

- দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ (১৮৬০) নাটক অনুবাদের অভিযোগে জেমস লঙের এক মাসের কারাদন্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা হলে (২৪ জুলাই ১৮৬১) কালীপ্রসন্ন তা পরিশোধ করেন।
- তাঁর অনুসৃত রীতির ভাষাকে বলা হয় 'হুতোমী বাংলা'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৪০৭.
‘রেইনকোট’ গল্পটি রচিত হয়েছে কোন প্রেক্ষাপটে?
  1. ক) ভাষা আন্দোলন
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. ঘ) প্রাকৃতিক দুর্যোগ
সঠিক উত্তর:
খ) মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট গল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও একটি মূলত প্রতীকী গল্প।
- মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে।

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস হলেন কথাসাহিত্যিক।
- পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।

 তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: 
→ চিলেকোঠার সেপাই,
→ খোয়াবনামা। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য: 
→ অন্যঘরে অন্যস্বর, 
→ খোঁয়ারি, 
→ দুধভাতে উৎপাত, 
→ দোজখের ওম, 

- বাংলা ভাষা ও বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘বাংলা একাডেমী পুরস্কার’ (১৯৮২), খোয়াবনামা  উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৫) ও কলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৬) লাভ করেন।
- তাঁর রচনা কয়েকটি ভারতীয় ভাষাসহ অন্যান্য ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- তাঁর চিলেকোঠার সেপাই  নাটকে রূপায়িত হয়েছে।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড বই, বাংলাপিডিয়া।
৫,৪০৮.
ছিঁড়ে ফেলে আজ আয়েশী রাতের মখমল-অবসাদ,
নতুল পানিতে হাল খুলে দাও, হে মাঝি সিন্দবাদ!- পঙক্তিদ্বয় কার রচনা?
  1. আহসান হাবীব
  2. ফররুখ আহমদ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. শামসুর রাহমান
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
ছিঁড়ে ফেলে আজ আয়েশী রাতের মখমল-অবসাদ,
নতুল পানিতে হাল খুলে দাও, হে মাঝি সিন্দবাদ!- উল্লিখিত পঙক্তিদ্বয় ফররুখ আহমদ রচিত ‘সিন্দবাদ’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৪০৯.
'বাংলাদেশ কথা কয়' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস 
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ 
  4. সম্পাদনা গ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
সম্পাদনা গ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পাদনা গ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'বাংলাদেশ কথা কয়':
- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর 'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটি বাংলাদেশের কয়েকজন তরুণ ও প্রবীণ কথাশিল্পীর লেখা গল্পগুলো নিয়ে রচিত সম্পাদনা গ্রন্থ বা প্রামাণ্য চিত্র।
- সম্পাদনাটি নিছক যুদ্ধ-সাহিত্য নয়; বরং বাঙালি জাতীয়মানসের বর্তমান বিপ্লবী প্রতিরোধ চেতনার কয়েকটি রূপরেখা অঙ্কিত হয়েছে এই সম্পাদনায়।

​-----------------
 • আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
-  আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি-গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'বাংলাদেশ কথা কয়' সম্পাদনা।

৫,৪১০.
‘আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।’উক্তিটি কার?  
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা

মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
• মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯)  শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
• ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। 
• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে। 
• ‘আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।’তাঁর বিখ্যাত উক্তি।

• গবেষণাগ্রন্থের পাশাপাশি তিনি সাহিত্য এবং শিশুসাহিত্যের অনেক মৌলিক গ্রন্থও রচনা করেন। তিনি বেশ কয়েকটি গ্রন্থ অনুবাদ ও সম্পাদনাও করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

⇒ তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি। মুহম্মদ আবদুল হাই -এর সঙ্গে তাঁর যুগ্ম-সম্পাদনায় রচিত Traditional Culture in East Pakistan (১৯৬১) একখানা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। তাঁর Buddhist Mystic Songs (১৯৬০) গ্রন্থটি চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম। তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে চর্যাপদ সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় রচিত; এর ধর্মতত্ত্ব নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৪১১.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা' অনুসরণে রচিত প্রহসন কোনটি?
  1. এর উপায় কি?
  2. সীতার বনবাস
  3. টালা অভিনয়
  4. সধবার একাদশী
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা
• সধবার একাদশী:
- 'সধবার একাদশী' দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন। প্রহসনটি ১৮৬৬ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- ‘সধবার একাদশী' প্রহসনে তৎকালীন ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল। এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনি নিয়ে নাটকটির রচিত।
- প্রহসনটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা' অনুসরণে রচিত। 

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নিমচাঁদ,
- কেনারাম,
- সৌদামিনী,
- গিন্নী,
- কাঞ্চন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'এর উপায় কি?' মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন।
• গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত পৌরাণিক নাটক ‘সীতার বনবাস’ এবং ‘সীতার বনবাস’ নামে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের একটি গদ্যগ্রন্থও রয়েছে।
• 'টালা অভিনয়' মীর মশাররফ হোসেন রচিত - প্রহসন। এটি ১৮৯৭ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম।
৫,৪১২.
'নেমেসিস' নাটকের নাট্যকার কে?
  1. ক) সেলিম আল দীন
  2. খ) নুরুল মোমেন
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. ঘ) ইমদাদুল হল
সঠিক উত্তর:
খ) নুরুল মোমেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা
'নেমেসিস' নাটকের নাট্যকার- 'নুরুল মোমেন' 

'নেমেসিস' নাটক 
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯ - ৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৪১৩.
'অনেক সূর্যের আশা' উপন্যাসটির রচয়িতা-
  1. ক) সিরাজুল ইসলাম
  2. খ) শামসুজ্জামান খান
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) সরদার জয়েনউদ্দীন
সঠিক উত্তর:
ঘ) সরদার জয়েনউদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সরদার জয়েনউদ্দীন
ব্যাখ্যা

• সরদার জয়েনউদ্দিন পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসঃ
- অনেক সূর্যের আশা,
- আদিগন্ত,
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত ছোটগল্পঃ
- নয়ন ঢুলি,
- খরস্রোত,
- অষ্টপ্রহর,
- বেলা ব্যানার্জির প্রেম ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,৪১৪.
মুক্তিযুদ্ধের সময় শামসুর রাহমান কোন ছদ্মনামে লেখালেখি করতেন?
  1. মজলুম আদিব
  2. মজলুমের বাচ্চু 
  3. নাগরিক কবি
  4. জীবন 
সঠিক উত্তর:
মজলুম আদিব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মজলুম আদিব
ব্যাখ্যা

শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুর রাহমানের জন্ম তার নানাবাড়িতে।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তার পিতা মুখলেসুর রহমান চৌধুরী এবং মাতা আমেনা বেগম।

- শামসুর রাহমানের ডাক নাম ছিল- বাচ্চু।
- শামসুর রাহমানকে প্রধানত “নাগরিক কবি” বলা হয়।
- কারণ তার কবিতায় নগর জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
-  তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- শামসুর রাহমান তাঁর কবিতায় সাধারণ মানুষ কীভাবে জীবন যাপন করে, শহরের মানুষদের দৈনন্দিন সমস্যা, সুখ–দুঃখ ও সমাজের নানা ঘটনা তুলে ধরেছেন।
- এই অনন্য কবি-কীর্তি ও সত্যনিষ্ঠ কাব্যচর্চার জন্য তাকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে।
- তিনি ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

- শামসুর রাহমানের অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।
• উল্লেখযোগ্য কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম কাব্যগ্রন্থ);
- রৌদ্র করোটিতে;
- বিধ্বস্ত নীলিমা;
- বন্দী শিবির থেকে;
- নিজ বাসভূমে;
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়;
- এবং উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। 

- তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- কালের ধুলোয় লেখা।
- একাত্তরের ঘটনাবলীর প্রত্যক্ষ বিবরণ তিনি আত্মজীবনী কালের ধুলোয় লেখা গ্রন্থে  লিখে গিয়েছেন।

- তাঁর আত্মস্মৃতিমূলক গ্রন্থ:
- স্মৃতির শহর। (কিশোর রচনা)

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৫,৪১৫.
বাংলা একাডেমি প্রকাশিত আঞ্চলিক অভিধানের প্রধান সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. ক) মুহম্মদ এনামুল হক
  2. খ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  4. ঘ) চন্দ্রকুমার দে
সঠিক উত্তর:
খ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি প্রকাশিত আঞ্চলিক অভিধানের প্রধান সম্পাদক ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৮৮৫ - ১৯৬৯)। 
তার অন্যান্য সংকলিত ও সম্পাদিত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী,
- প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে শেষ নবী,
- গল্প সংকলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৪১৬.
কাকে বাংলা ভাষার 'শুদ্ধতম কবি' বলে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে?
  1. জসীমউদ্দীন
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
কবি জীবনানন্দ দাশ বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।
তাঁকে বাংলা ভাষার 'শুদ্ধতম কবি' বলে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।
এছাড়া তিনি 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' প্রভৃতি নামেও পরিচিত।
তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ- 'কবিতার কথা'।
তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ- ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), ধূসর পান্ডুলিপি, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, রূপসী বাংলা, বেলা অবেলা কালবেলা।
তাঁর রচিত উপন্যাস- মাল্যবান, সুতীর্থ, নিরুপম যাত্রা, বিভা, জলপাইহাটি ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৪১৭.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ?
  1. বোধোদয়
  2. শকুন্তলা
  3. ভ্রান্তিবিলাস
  4. বেতালপঞ্চবিংশতি
সঠিক উত্তর:
বেতালপঞ্চবিংশতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেতালপঞ্চবিংশতি
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ - বেতালপঞ্চবিংশতি।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৫,৪১৮.
'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  3. ​যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি
  4. মুহম্মদ আবদুল হাই
সঠিক উত্তর:
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা

• 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ': 
- ​জ্ঞানতাপস ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ রচিত 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' বাংলা ভাষার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ব্যাকরণ বলে সমাদৃত।

​- ১৯৩৬ সালে প্রথম সংস্করণের পর ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত গ্রন্থটির ত্রয়োদশ সংস্করণ প্রকাশিত হয়। ১৯৬৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গ্রন্থকার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ১৩ জুলাই ১৯৬৯ তারিখে (২৭ আষাঢ় ১৩৭৬) ইন্তেকাল করেন। বইটির আর কোনো সংস্করণ প্রকাশিত হয়নি।

- উল্লেখ্য যে আচার্য সুনীতি কুমারের 'ভাষা প্রকাশ বাঙালা ব্যাকরণ' গ্রন্থটি প্রকাশিত হওয়ার তিন বৎসরাধিকাল পূর্বে শহীদুল্লাহ্ রচিত 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' বাংলা ভাষার ব্যাকরণের অভাব মিটিয়েছিল। এ গ্রন্থ প্রণয়নে গ্রন্থকারকে উৎসাহিত এবং সাহায্য করেছিলেন ড. সুশীল কুমার দে, আচার্য সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়, কবিবর মোহিত লাল মজুমদার, কালিদাস রায়, কবি শেখর, অধ্যাপক গুরুপ্রসাদ ভট্টাচার্য, চিন্তাহরণ চক্রবর্তী এবং চারুচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

- ​ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থ অনুসারে, বাঙ্গালা ব্যাকরণের বিষয়সমূহকে প্রধানত পাঁচ ভাগে বা প্রকরণে বিভক্ত করা যাইতে পারে,
যথা-
১. ধ্বনি প্রকরণ (Phonology),
২. শব্দ প্রকরণ (Accidence),
৩. বাক্য প্রকরণ (Syntax),
৪. ছন্দ প্রকরণ (Prosody),
৫. অলঙ্কার প্রকরণ (Rhetoric)।

​অন্যদিকে, 
• ​যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধির গ্রন্থ- 'বাঙ্গালা ভাষা' (১৯১২)।

উৎস: 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌।

৫,৪১৯.
কোন সাহিত্যিক বাংলায় টিএস এলিয়টের কবিতা প্রথম অনুবাদ করেন?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বিষ্ণু দে
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• প্রথম বাংলায় টিএস ইলিয়টের কবিতা অনুবাদ করেন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

• ‘তীর্থযাত্রী’ টি . এস . এলিয়ট' এর ‘The Journey of the Magi’ নামক কবিতার অনুবাদ। রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘পুনশ্চ’ কাব্যগ্রন্থে ‘তীর্থযাত্রী’ কবিতা নামে কবিতাটি সংকলন করেছিলেন।
- ‘পুনশ্চ’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে।

অন্যদিকে,
- বিষ্ণু দে ১৯৫০ সালে ‘এলিয়েটের কবিতা’র বাংলা অনুবাদ করেন।

------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা ইত্যাদি।

উৎস: ‘তীর্থযাত্রী’ কবিতা ‘পুনশ্চ’ কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৪২০.
শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. রৌদ্র করোটিতে
  2. প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
  3. বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে
  4. অদ্ভুত আঁধার এক
সঠিক উত্তর:
প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যের নাম - প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে।
- কাব্যটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।

--------------------------
• শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শামসুর রহমানে জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘অদ্ভুত আঁধার এক’ শামসুর রাহমান রচিত একটি উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৫,৪২১.
কাজী নজরুল ইসলাম কত সালে ভারত সরকার থেকে পদ্মভূষণ পদক লাভ করেন?
  1. ১৯৬৯
  2. ১৯৭৬
  3. ১৯৪৫
  4. ১৯৬০
সঠিক উত্তর:
১৯৬০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬০
ব্যাখ্যা

১৯৬০ সালে তিনি ভারত সরকার থেকে পদ্মভূষণ পদক পান ।
১৯৬৯ সালে রবীন্দ্রভারতী থেকে ডি,লিট ডিগ্রী দেয়া হয় ।
১৯৭৬ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন ।
১৯৪৫ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী উপাধি পান ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৪২২.
ইসমাইল হোসেন সিরাজীর কোন কাব্যটি ইংরেজ সরকার বাজেয়াপ্ত করে?
  1. অনল প্রবাহ
  2. স্পেনবিজয়
  3. রায়নন্দিনী
  4. স্বজাতির প্রেম
সঠিক উত্তর:
অনল প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনল প্রবাহ
ব্যাখ্যা
১৮৯৯ সালে প্ৰকাশিত তাঁর প্রথম কবিতা-সঙ্কলন ‘অনল-প্রবাহ’।
- গ্রন্থটির ইংরেজ সরকার বাজেয়াপ্ত করে এবং কবির দুই বছর কারাদণ্ড হয়। 

ইসমাইল হোসেন সিরাজী (১৮৮০–১৯৩১):
- লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা ইসমাইল হোসেন সিরাজী সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী একই সাথে বেশ কিছু সংগঠন ও দলের সদস্য ছিলেন, যেমন  ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস,  মুসলিম লীগ,  আঞ্জুমান-ই-উলামা-ই-বাঙ্গালা, জামিয়াত-ই-উলামা-ই-হিন্দ, স্বরাজ পার্টি ও কৃষক সমিতি।
- সমসাময়িক পত্রিকা আল-এসলাম, ইসলাম প্রচারক,  প্রবাসী, প্রচারক, কোহিনূর, সোলতান, মোহাম্মদী,  সওগাত,  নবযুগ ও নবনূর প্রভৃতিতে সিরাজীর লেখা প্রকাশিত হতো।
- তাঁর অধিকাংশ লেখাতেই ইসলামী ঐতিহ্য সংস্কৃতি ও উত্তরাধিকারকে উদ্দীপ্ত করে তোলার প্রয়াস ছিল।

তাঁর কাব্য গ্রন্থগুলি হচ্ছে
- অনল প্রবাহ (১৯০০),
- আকাঙ্ক্ষা (১৯০৬),
- উচ্ছ্বাস (১৯০৭), 
- উদ্বোধন (১৯০৭),
- নব উদ্দীপনা (১৯০৭),
- স্পেন বিজয় কাব্য (১৯১৪),
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী (১৯১৬),
- প্রেমাঞ্জলি (১৯১৬)।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হচ্ছে
- রায়নন্দিনী (১৯১৫),
- তারাবাঈ (১৯১৬),
- ফিরোজা বেগম (১৯১৮) ও
- নূরুদ্দীন (১৯১৯)।
- স্বজাতির প্রেম তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক ও কবিতার ব্লগ
৫,৪২৩.
বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা -
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. জমিদার দর্পণ
  3. নীল-দর্পণ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নীল-দর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীল-দর্পণ
ব্যাখ্যা
'নীল-দর্পণ' নাটক:
- 'নীল-দর্পণ' দীনবন্ধু মিত্র রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত' A Native' ছদ্মনামে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন ও নাম দেন 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror' (1861)
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নীল-দর্পণকে 'আঙ্কল টমস কেবিন'-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে। এটিই বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে 'কস্যচিৎ পথিকস্য' ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।
উল্লেখযোগ্য চরিত্র - গোলক বসু, নবীন মাধব, রাইচরণ, তোরাপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৪২৪.
'বরফ গলা নদী' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. জহির রায়হান
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
• 'বরফ গলা নদী' উপন্যাসটির রচয়িতা - জহির রায়হান।

জহির রায়হান:

- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- তাঁর প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ। তাঁর সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’। তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।

তাঁর উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি) ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৪২৫.
'মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা' গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আনোয়ার পাশা
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) অতুলপ্রসাদ সেন
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
গ) অতুলপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
অতুলপ্রসাদ সেন ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত কবি, গীতিকার ও গায়ক ছিলেন।
তিনি সর্বপ্রথম বাংলা গানে ঠুমরি আমদানি করেন। 'মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা' তাঁর রচিত বিখ্যাত গান। 'কয়েকটি গান ও গীতিগুচ্ছ' তাঁর গানের সংকলন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৪২৬.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনি -
  1. পথে প্রবাসে
  2. পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ
  3. দেশে বিদেশে
  4. য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
সঠিক উত্তর:
পথে প্রবাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথে প্রবাসে
ব্যাখ্যা

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনি - পথে প্রবাসে

অন্যদিকে,
- সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি - দেশে বিদেশে।
- শহীদুল্লা কায়সার রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত - পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।
​- য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনিমূলক গ্রন্থ।

​​অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত। 
- ওড়িশার দেশীয় রাজ্য ঢেঙ্কানালের এক শাক্ত পরিবারে ১৯০৪ সালে অন্নদাশঙ্কর রায়ের জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রথম কবিতা ওড়িয়া ভাষায় রচিত। কম বয়সে প্রভা নামে ওড়িয়া ভাষায় হাতে লেখা একটি পত্রিকা বের করেন। 
- ১৬ বছর বয়সে টলস্টয়ের গল্প ‘তিনটি প্রশ্ন’ তিনি বাংলায় অনুবাদ করেন।
- বাংলা ভাষায় তাঁর প্রথম প্রকাশিত মৌলিক রচনার বিষয় ছিল ’নারীর অধিকার ও স্বাধীনতা।

​তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি: 
- ইউরোপের চিঠি,
- পথে প্রবাসে।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৪২৭.
'অশীতিপর শর্মা' কার ছদ্মনাম?
  1. সমরেশ বসু
  2. অমিয় চক্রাবর্তী
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগ্‌ধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি।
- এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন - নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থরেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৪২৮.
কোনটি জসীমউদ্দীনের রচিত নাটক নয়? 
  1. পদ্মাপাড়
  2. বেদের মেয়ে
  3. মধুমালা
  4. হাসু
সঠিক উত্তর:
হাসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসু
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীন: 
- জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ। 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে। 
- জসীমউদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। 
- ‘সুচয়নী’ জসীমউদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- বালুচর, 
- রূপবতী, 
- রাখালী, 
- নকশী কাঁথার মাঠ, 
- ধানখেত, 
- সোজন বাদিয়ার ঘাট, 
- মাটির কান্না, 
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি। 

• তাঁর রচিত নাটক: 
- পদ্মাপাড়, 
- বেদের মেয়ে, 
- মধুমালা, 
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি। 

• শিশুতোষ গ্রন্থ: 
- হাসু, 
- এক পয়সার বাঁশী, 
- ডালিমকুমার। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৪২৯.
'উত্তম পুরুষ' রশীদ করীম রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ 
  2. প্রবন্ধ 
  3. উপন্যাস
  4. নাটক 
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• 'উত্তম পুরুষ' উপন্যাস:
- রশীদ করীম রচিত এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬১ সালে।
- উপন্যাসের চরিত্রে মনস্তাত্ত্বিক জটিলতায় কোথাও কোথাও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির উদ্ভব করেছে।
- আধুনিক মননশীলতা, পরিশীলতা, আঙ্গিক, অভিজ্ঞতার নির্লিপ্ত বর্ণনায় পাঠকের পাঠতৃষ্ণার নিবারণ হয়।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র শাকেরকে ঘিরে সেলিনা, অণিমা, শেখর, মুশতাক, সলিল, চন্দ্রা, নিহার ভাবি, শিশির এ রকম অসংখ্য চরিত্র আবর্তিত হয়েছে।

--------------------
• রশীদ করীম রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- উত্তমপুরুষ,
- প্রসন্ন পাষাণ,
- আমার যত গ্লানি,
- সোনার পাথর বাটি,
- বড়ই নিঃসঙ্গ,
- লান্সবাক্স ইত্যাদি।

• প্রবন্ধ:
- আর এক দৃষ্টিকোণ,
- মনের গহীনে তোমার মুরতিখানি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৪৩০.
বাংলা সাহিত্যে 'ভোরের পাখি' নামে অভিহিত করা হয়- 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. রাজশেখর বসু
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যে 'ভোরের পাখি' বলা হয়- বিহারীলাল চক্রবর্তীকে।

• 
বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের একজন কবি এবং গীতিকার ছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে ও পরিচিত।
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি-কবি হিসেবে পরিচিত।
- ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল ফরাসডাঙ্গায় এবং তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিহারীলাল গীতি কবিতা শুনিয়েছে বলে তাকে বাংলা গীতি কবিতার ভোরের পাখি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ তাকে এ উপাধি দিয়েছেন। 
- বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলা হয় কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনে করতেন যে তাঁর গীতিকবিতা বাংলা কবিতার নবজাগরণের সূচনা করেছিল, ঠিক যেমন ভোরের প্রথম পাখির ডাক নতুন দিনের আগমনী বার্তা বহন করে। তাঁর কাব্যধারা ছিল বিশুদ্ধ গীতিকাব্য। 

• বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ সারদামঙ্গল।
• বিহারীলালের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
- সঙ্গীতশতক;
- বন্ধুবিয়োগ;
 - প্রেমপ্রবাহিণী;
- নিসর্গসন্দর্শন;
- বঙ্গসুন্দরী;
- সারদামঙ্গল;
- নিসর্গসঙ্গীত;
- সাধের আসন এবং
- ধূমকেতু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৫,৪৩১.
রাজনৈতিক উপন্যাস জোড় কোনটি?
  1. গোরা ও পথের পাঁচালী
  2. চার অধ্যায় ও পথের দাবী
  3. আরেক ফাল্গুন ও রাজসিংহ
  4. দেয়াল ও বাাঁধনহারা
সঠিক উত্তর:
চার অধ্যায় ও পথের দাবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার অধ্যায় ও পথের দাবী
ব্যাখ্যা
♦ চার অধ্যায়:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) রচিত সর্বশেষ উপন্যাস চার অধ্যায় (১৯৩৪)।
- এটি একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব-প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিলো, 'চার অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে৷
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অতীন, এলা, ইন্দ্রনাথ৷
- 'চার অধ্যায়' কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের 'রবিরার' গল্পের সম্পর্ক রয়েছে। 

♦ পথের দাবী:
• 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
• এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কারো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।
• গ্রন্থটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। নান্দনিক মানদণ্ডে ‘পথের দাবী' উৎকৃষ্ট সাহিত্য কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে এ উপন্যাস উদ্দীপকের ভূমিকা রাখে।
• ‘আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য,আমার একটি মাত্র সাধনা।' আমার একটিমাত্র এই বক্তব্য ছিল উপন্যাসের শেষে। ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
• 'বঙ্গবাণী' পত্রিকায় ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবী’ ধারাবাহিকরূপে প্রকাশিত হয়।


অন্যদিকে,
• গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস। কিন্তু ‘পথের পাঁচালী’ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস।

• ‘দেয়াল’ হুমায়ূন আহমেদ রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। তবে ‘বাাঁধনহারা’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত পত্র উপন্যাস।
 
• বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি রচনা করেন। অন্যদিকে ‘রাজসিংহ’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস।
 
অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৩২.
'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।' - পঙ্‌ক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. মৃত্যুক্ষুধা
  2. কুহেলিকা
  3. বাঁধনহারা
  4. শিউলিমালা
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
কুহেলিকা:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়। 
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর। 
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

• এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চিম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

অন্যদিকে:
- 'শিউলিমালা' কাজী নজরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৪৩৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) অতি অল্প হইল
  2. খ) আখ্যানমঞ্জুরী
  3. গ) প্রভাবতী সম্ভাষণ
  4. ঘ) বোধোদয়
সঠিক উত্তর:
গ) প্রভাবতী সম্ভাষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রভাবতী সম্ভাষণ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিকগ্রন্থ ও শোকগাঁথা - প্রভাবতী সম্ভাষণ। এর রচয়িতা - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। অতি অল্প হইল, আবার অতি অল্প হইল, ব্রজবিলাস, ব্যাকরণ কৌমুদী, শব্দ মঞ্জুরী, রত্ন পরীক্ষা, জীবনচরিত, নিষ্কৃতি লাভের প্রয়াস ইত্যাদি তাঁর মৌলিক রচনা।
বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ - বেতাল পঞ্চবিংশতি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৪৩৪.
একটি কবিতা লেখা হবে তার জন্য অপেক্ষার উত্তেজনা নিয়ে
লক্ষ লক্ষ উন্মত্ত অধীর ব্যাকুল বিদ্রোহী শ্রোতা বসে আছে
ভোর থেকে জনসমুদ্রের উদ্যান সৈকতে: ‘কখন আসবে কবি?’ - পঙক্তিগুলো কোন কবিতার অন্তর্গত? 
  1. ক) আমি যখন মুক্তিযুদ্ধের কথা বলি
  2. খ) স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো
  3. গ) বাতাসে লাশের গন্ধ
  4. ঘ) চাষাভুষার কাব্য
সঠিক উত্তর:
খ) স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিগুলো বাংলাদেশের কবি নির্মলেন্দু গুণ রচিত  'চাষাভুষার কাব্য' (১৯৮১) নামক কাব্যগ্রন্থের 'স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 

কবিতাটি শেষ হয়েছে এভাবে- 

"শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে,
রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে
অত:পর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন৷
তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল,
হদৃয়ে লাগিল দোলা, জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার
সকল দুয়ার খোলা৷ কে রোধে তাঁহার বজ্রকন্ঠ বাণী?
গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর-কবিতাখানি:
‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম৷’

সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের৷" 

উৎস: স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো, নির্মলেন্দু গুণ।
৫,৪৩৫.
কবি গান রচয়িতা এবং গায়ক হিসেবে এরা উভয়েই পরিচিত-
  1. রাম বসু এবং ভোলা ময়রা
  2. এন্টনি ফিরিঙ্গি এবং রামপ্রসাদ রায়
  3. সাবিরিদ খান এবং দশরথী রায়
  4. আলাওল এবং ভারতচন্দ্র
সঠিক উত্তর:
রাম বসু এবং ভোলা ময়রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাম বসু এবং ভোলা ময়রা
ব্যাখ্যা
• কবি গান রচয়িতা এবং গায়ক হিসেবে পরিচিত- রাম বসু এবং ভোলা ময়রা।

অন্যদিকে,
- অপশন - খ) তে প্রদত্ত 'এন্টনি ফিরিঙ্গি' কবিওয়ালা হলেও 'রামপ্রসাদ রায়' নামে কোনো কবিওয়ালার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
- অপশন গ) তে প্রদত্ত 'সাবিরিদ খান' মধ্যযুগের আখ্যানকবি ও 'দাশরথি রায়' (১৮০৬-১৮৫৭) স্বভাবকবি ও পাঁচালিকার। ‘দাশু রায়’ নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন।
- অপশন ঘ) তে প্রদত্ত 'আলাওল' (আনু. ১৬০৭-১৬৮০) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং 'ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর' (১৭১২-১৭৬০) মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত।


-------------------------
• আঠারো শতকের শেষ ও উনিশ শতকের শুরুর দিকে বাংলা সাহিত্যে কবিগান রচয়িতাদের আবির্ভাব ঘটে।
- উল্লেখযোগ্য কবিগানের ধরন - তর্জা, পাঁচালি, খেউড়, আখড়াই, দাঁড়া কবিগান, বসা কবিগান, ঢপ, টপ্পা, কীর্তন ইত্যাদি।
- কবিগান এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক গান। দুটি দলে এ প্রতিযোগিতা হয়। দলের দলপতিকে বলে কবিয়াল বা সরকার।
- কবিয়ালের সঙ্গীদের নাম দোহার। যন্ত্রসঙ্গীতকারীদের মধ্যে ঢুলি মুখ্য ভূমিকা পালন করে। দল দুটি পর্যায়ক্রমে আসরে এসে গান পরিবেশন করে।

উল্লেখযোগ্য কবিগান রচয়িতা:
- গোঁজলা গুই (প্রাচীনতম কবি)
- রাম বসু,
- রাসু,
- নৃসিংহ
- অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি
- হরু ঠাকুর
- রামনিধি গুপ্ত
- কেষ্টা মুচী
- ভবানী
- রামানন্দ নন্দী
- ভোলা ময়রা (ভোলানাথ মোদক),
- নিতাই বৈরাগী

- বিশ শতকের শুরুতে কলকাতায় কবিগানের গুরুত্ব হারাতে থাকলেও বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে এর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে।
- বিশ শতকে সর্বাধিক জনপ্রিয় কয়েকজন কবিয়াল হরিচরণ আচার্য (১৮৬১-১৯৪১), রমেশ শীল (১৮৭৭-১৯৬৭), রাজেন্দ্রনাথ সরকার (১৮৯২-১৯৭৪), মানিকগঞ্জের রাধাবল্লভ সরকার, উপেন্দ্র সরকার, ভাসান সরকার, কুমুদ সরকার, অভয়চরণ সরকার, বিজয়কৃষ্ণ অধিকারী (১৯০৩-১৯৮৫), গুমানী দেওয়ান প্রমুখ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৩৬.
'গো-জীবন' কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. প্রবন্ধ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. ছোটগল্প
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

'গো-জীবন' প্রবন্ধ:
- 'গো-জীবন' মীর মশাররফ হোসেনের একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- প্রবন্ধটির মূল বক্তব্য হলো, কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে যে কোন কারণেই হোক গো হত্যা অনুচিত।
- হিন্দু ও মুসলমান এই দুই ধর্মালম্বীদের ঐক্যবদ্ধ করার মানসেই মীর মশাররফ হোসেন এ প্রবন্ধ রচনা করেন।

মীর মশাররফ রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

মীর মশাররফ রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু।

মীর মশাররফ রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৪৩৭.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ মিনারের নকশাকার কে?
  1. হামিদুর রহমান
  2. মাইনুল হোসেন
  3. ডা. সাঈদ হায়দার
  4. নিতুন কুন্ড
সঠিক উত্তর:
ডা. সাঈদ হায়দার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডা. সাঈদ হায়দার
ব্যাখ্যা
• শহীদ মিনার:
- ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতা শহীদদের জন্য শোক মিছিল হয়।
- মিছিলের ওপর পুলিশ ও মিলিটারি লাঠি, গুলি ও বেয়োনেট ব্যবহার করে।
- এতে শফিউর রহমানসহ আরও কয়েকজন শহীদ হন।
- সেই স্থানে ছাত্ররা সারারাত জেগে ২৩ ফেব্রুয়ারিতে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করে।
- পুলিশ শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে দেয়।
- ২১ ফেব্রুয়ারির হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়নের প্রতিবাদে ঢাকা শহরে ২৩ ফেব্রুয়ারি হরতাল পালিত হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ফুলার রোডে একজন কিশোর নিহত হয়।
- ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় হরতাল পালিত হয়।
- ডা. সাঈদ হায়দারের নকশা অনুসারে রাতে মেডিকেল কলেজের গেইটের সামনে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়
- এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি তা উদ্বোধন করা হয়।
- ১৯৬৩ সালে অস্থায়ী শহীদ মিনারের স্থলে শিল্পী হামিদুর রহমানের নকশা ও পরিকল্পনায় শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে দেয়।
- ১৯৭২ সালে পূর্বের নকশা অনুযায়ী বর্তমান শহীদ মিনারটি পুনরায় নির্মাণ করা হয়।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪৩৮.
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক প্রথম উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ কে রচনা করেন?
  1. ক) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) দীনেশচন্দ্র সেন
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
খ) দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাসগ্রন্থ।
- গ্রন্থটির রচয়িতা দীনেশচন্দ্র সেন।

- বঙ্গভাষা ও বঙ্গলিপির উৎপত্তি, সংস্কৃত-প্রাকৃত ও বাংলার সম্পর্ক, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য, মধ্যযুগের ধর্মগোষ্ঠী ও তাদের সঙ্গে সাহিত্যের যোগ ইত্যাদি বিষয়ে মনোজ্ঞ বিবিরণ লিপিবদ্ধ আছে এই গ্রন্থে।
- ইংরেজপূর্ব বাংলা সাহিত্যে এমন বিশারদ এবং অনুরাগপূর্ণ ইতিহাস ইতোপূর্বে রচিত হয় নি।
- এটি বাংলাসাহিত্যের প্রথম ইতিহাসগ্রন্থ যেখানে সাহিত্য ও সমাজের গূঢ় সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়া হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৪৩৯.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত কর্তৃক অনুবাদকৃত 'নীলদর্পণ' নাটকটি কী নামে প্রকাশিত হয়?
  1. Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror
  2. Nil Darpan or The Indigo Planting Tree
  3. Nil Darpan or The Indigo Mirror
  4. Nil Darpan: A Drama of Indigo Oppression
সঠিক উত্তর:
Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror
ব্যাখ্যা
'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ। এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়। তাই এটিকে বাংলাদেশের নাটক বলা হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন। অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৪৪০.
‘সম্বাদপ্রভাকর” পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. ভবানিচরন বন্দোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত এর জন্ম ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে।
- তিনি সংবাদ প্রভাকর (বা 'সম্বাদ প্রভাকর') এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।
- তাঁর কবিতায় মধ্যযুগ এবং আধুনিক যুগ উভয়ের লক্ষণ প্রকাশ পায় , তাই তাকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পত্রিকা এবং তাদের সম্পাদকের নাম নিম্নরূপ-
- সম্বাদ কৌমুদী - রাজ আরামমোহন রায় ও ভবানীচরণ বন্ধ্যোপাধ্যায়
- জ্ঞানান্বেষণ - দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়
- তত্ত্বোবোধিনী - অক্ষয়কুমার দত্ত
- বঙ্গদর্শন - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- সবুজপত্র - প্রমথ চৈধুরী
- সওগাত - মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন
- ধূমকেতূ, লাঙল - কাজী নজরুল ইসলাম
- শিখা - আবুল হোসেন
- সন্দেশ - সুকুমার রায়।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; সাহিত্যপাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ)

৫,৪৪১.
’খোয়াবনামা’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
• খোয়াবনামা’
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের লেখা একটা উপন্যাসের নাম ‘খোয়াবনামা’।
- এই উপন্যাসটিতে বগুড়া জেলার বাঙালি নদীর আশেপাশের কিছু গ্রামের মানুষের কাহিনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসের একটা অংশকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। 

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস :
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কথাসাহিত্যিক হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
- অন্যঘরে অন্যস্বর,
- খোঁয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত ,
- চিলেকোঠার সেপাই,
- দোজখের ওম ,
- খোয়াবনামা,
- সংস্কৃতির ভাঙা সেতু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৪২.
মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. বঙ্গবিজেতা
  2. আনোয়ারা
  3. মাধবী কঙ্কণ
  4. সংসার
সঠিক উত্তর:
আনোয়ারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনোয়ারা
ব্যাখ্যা
• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- তিনি ছিলেন মূলত ঔপন্যাসিক।
- পাবনা জেলার শাহজাদপুরের চরবেলতৈল গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রত হন।
- প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো :
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- পরিণাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাই না ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- রমেশচন্দ্র দত্ত রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস: বঙ্গবিজেতা, মাধবী কঙ্কণ, এবং সংসার (সামাজিক উপন্যাস),

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৪৩.
কোন সাহিত্যিককে 'কবিদের কবি' বলা হয়?   
  1. জসীম উদ্‌দীন 
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. নির্মলেন্দু গুণ 
  4. নুরুন্নেসা খাতুন 
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্মলেন্দু গুণ 
ব্যাখ্যা

নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ একজন প্রখ্যাত ও জনপ্রিয় বাংলাদেশী কবি।
- তিনি ১৯৪৫ সালে নেত্রকোণার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কবিতার পাশাপাশি তিনি গদ্য, ভ্রমণকাহিনী এবং ছবি আঁকার জন্য বিখ্যাত।
- তার কবিতায় প্রেম, শ্রেণী-সংগ্রাম ও স্বৈরাচারবিরোধী ভাব গভীরভাবে ফুটে উঠে।
- ১৯৭০ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’ প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের হুলিয়া কবিতা বিশেষভাবে জনপ্রিয়তা পায়।
- কবির রচিত স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো- কবিতাটি এতই জনপ্রিয় যে তা মাধ্যমিক পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- তাছাড়া, ষাটের দশক থেকে তার সহজ ভাষায় লিখা কবিতা তরুণ কবিদের গভীরভাবে প্রভাবিত করত। 
- এজন্য তাকে ‘কবিদের কবি’ বলা হয়।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক, ২০১৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

অন্যদিকে, 
- জসিম উদ্দিনকে বলা হয়- পল্লীকবি।
- কাজী নজরুল ইসলামকে বলা হয়- বিদ্রোহী কবি।
- নুরুন্নেসা খাতুনকে বলা হয়- সাহিত্য সরস্বতী।
 
উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
দৈনিক ইনকিলাব। 

৫,৪৪৪.
গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ -
  1. আমার চিন্তাধারা
  2. ইসলাম ও জেহাদ
  3. বিশ্বনবী
  4. হাসনাহেনা
সঠিক উত্তর:
হাসনাহেনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসনাহেনা
ব্যাখ্যা

গোলাম মোস্তফা:
- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

গোলাম মোস্তফা রচিত রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৪৪৫.
‘খনার বচন’ – এর মূলভাব কি?
  1. ক) লৌকিক প্রণয়সঙ্গিত
  2. খ) শুদ্ধ জীবনযাপন রীতি
  3. গ) সামাজিক মঙ্গলবোধ
  4. ঘ) রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি
সঠিক উত্তর:
খ) শুদ্ধ জীবনযাপন রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শুদ্ধ জীবনযাপন রীতি
ব্যাখ্যা

খনার বচনঃ
খনার বচন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি। ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন।
শুভাশুভ, বিধিবিধান, নীতি ও উপদেশবাচক প্রতিপাল্য প্রাজ্ঞোক্তিই সাধারণ অর্থে বচন, যেমন গুরুর বচন, মহাপুরুষের বচন ইত্যাদি। বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি বচনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

- ডাকের বচন ‘ডাকের কথা’ বা ‘ডাক পুরুষের কথা’ নামেও পরিচিত। ডাক তাঁর বচনকে ‘ডাকর কথা’ বলেছেন, চাকমা ভাষায় যা ‘দাগর কধা’ নামে পরিচিত।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি।
- বৌদ্ধ সমাজে যেমন ডাকের বচনের উৎপত্তি হয়েছিল তেমনি হিন্দু সমাজে খনার বচনের সৃষ্টি হয়েছিল। আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।

- বচন লোকসাহিত্যের একটি জনপ্রিয় শাখা। এর স্বতন্ত্র একটা প্রকৃতি, কাব্যরস ও গীতিধর্মিতা আছে। ডাক ও খনার বচনে মাঝে মাঝে ভণিতা আছে, যা লোকসাহিত্যের অন্য শাখায় সচরাচর লক্ষ করা যায় না।
- বচনে প্রাত্যহিক জীবনের মূল্যবান নীতিমালা ও নির্দেশনা পাওয়া যায়। খনার বচনের বর্তমান ভাষা তার মূল ভাষা নয়, তবে লীলাবতী আর্যার ভাষা অনেকটা মূল ভাষার কাছাকাছি।
- বাংলা ও অন্যান্য ভাষার তুলনীয় বচন-প্রবচন বিশ্লেষণ করে একটি নব ভাষাতাত্ত্বিক দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। অন্যান্য প্রাদেশিক ভাষায় খনার বচনের অনুপ্রবেশের প্রধান কারণ কৃষিবিজ্ঞান। কৃষিপ্রধান বঙ্গদেশে ডাকের কথা ও খনার বচন প্রাচীন বাংলা ও আসামের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বুনিয়াদ রচনা করেছিল।

- ডাকের কথায় নীতিকথা বেশি।
অন্যদিকে,
- খনার বচনগুলো কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, জ্যাতিশাস্ত্র সম্পর্কিত। এছাড়াও স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন রয়েছে।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৪৪৬.
বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন কোন কবি?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

অন্যদিকে,
• জসীম উদ্‌দীন ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• কালীপ্রসন্ন সিংহ ১৮৪০ সালে কলকাতার জোড়াসাঁকোয় জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৪৭.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম প্রহসন রচয়িতা কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যে প্রথম প্রহসন রচয়িতা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক, প্রথম প্রহসন রচয়িতা
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়। 
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৪৮.
রাজা রামমোহন রায়ের সহমরণ প্রথার বিরুদ্ধে রচিত গ্রন্থ-
  1. বেদান্ত চন্দ্রিকা
  2. ভট্টাচার্যের সহিত বিচার
  3. বেদান্তসার
  4. গোস্বামীর সহিত বিচার
সঠিক উত্তর:
গোস্বামীর সহিত বিচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোস্বামীর সহিত বিচার
ব্যাখ্যা
⇒ রাজা রামমোহন রায়:
• বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
• ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
• রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
• রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন। 
• তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

⇒ সহমরণ প্রথার বিরুদ্ধে রচিত গ্রন্থ:
উনিশ শতকের যুক্তিবাদী মননশীলতায় রামমোহন সহমরণ প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। নিজস্ব মত প্রচারের জন্য হিন্দু সমাজের গোঁড়া সংস্কারের যুক্তিহীনতা দেখাবার জন্য তিনি দুটি গ্রন্থ রচনা করেন।
১. প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ (১৮১৮-১৯),
২. গোস্বামীর সহিত বিচার (১৮১৮)।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো-
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ‘বেদান্ত চন্দ্রিকা’ মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্করা রচিত গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৪৯.
'সুনন্দ' কার ছদ্মনাম ছিল?
  1. বিমল ঘোষ
  2. রাজশেখর বসু
  3. মোহিতলাল মজুমদার
  4. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'সুনন্দ' নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
- জীবনের শেষ সময় তিনি সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকায় 'সুনন্দ' ছদ্মনামে লিখতেন।

অন্যদিকে,
- রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম 'পরশুরাম'।
- বিমল ঘোষের ছদ্মনাম 'মৌমাছি'।
- মোহিতলাল মজুমদারের ছদ্মনাম সত্যসুন্দর দাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৫০.
ময়মনসিংহ গীতিকা সম্পাদনা করেন-
  1. ক) দক্ষিণারঞ্জন
  2. খ) অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
  3. গ) দীনেশচন্দ্র সেন
  4. ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
গ) দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা

• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
• চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার

৫,৪৫১.
কার নাটক অবলম্বনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'শকুন্তলা' রচনা করেন?
  1. নূরুদ্দীন আব্দুর রহমান জামী
  2. আলাওল
  3. কালিদাস
  4. মালিক মুহম্মদ জায়সী
সঠিক উত্তর:
কালিদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালিদাস
ব্যাখ্যা

শকুন্তলা:
- প্রাচীন সংস্কৃত মহাকবি কালিদাসের 'অভিজ্ঞান শকুন্তলম্‌' নাটক অবলম্বনে ১৮৫৪ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একটি আখ্যান বা উপন্যাসোপম কাহিনি লিখে নাম দেন 'শকুন্তলা'।
- 'শকুন্তলা'য় কাহিনি নির্মাণ ও ভাষাব্যবহারে বিদ্যাসাগর যথেষ্ট স্বাধীন্তা নিয়েছেন।
- চন্দ্রবংশীয় রাজা দুষ্মন্ত শিকারে এসে কম্ব মুনির তপোবনে উপস্থিত হয়।
- সেখানে শকুন্তলা, প্রিয়ংবদা, অনসূয়া নামের মুনির তিন রূপবতী পালিতা কন্যার মধ্যে শকুন্তলার সঙ্গে দুষ্মন্তের বিয়ে হয়। 
- দৈববাণীতে দুষ্মন্ত সব অবগত হয় এবং শকুন্তলা- ভরতকে যোগ্য স্থান দেয়।
- বৃদ্ধ বয়সে দুষ্মন্ত ভরতকে নিজ রাজ্যের উত্তরাধিকারী করে।
- বাংলা সাহিত্যে 'শকুন্তলা' গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, এ গ্রন্থের আগে গদ্যে রচিত এতো চমৎকার কাহিনি বা আখ্যান বর্ণনা পাওয়া যায় না।
- গদ্যসাহিত্য প্রতিষ্ঠার যুগে 'শকুন্তলা' একটি অসাধারণ সৃষ্টি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত। তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৪৫২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত বঙ্গাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৬
  2. ২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৭
  3. ২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮
  4. ২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৯
সঠিক উত্তর:
২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৫৩.
'বিদ্যে বোঝাই বাবু মশাই চড়ি শখের বোটে'- পঙ্‌ক্তিটির স্রষ্টা কে?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. সুকুমার রায়
  3. রজনীকান্ত সেন
  4. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্যে বোঝাই বাবু মশাই চড়ি শখের বোটে' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - সুকুমার রায়।
- এটি তাঁর 'জীবনের হিসাব' কবিতার পঙ্‌ক্তি।

• সুকুমার রায়:
- ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল কিশোরগঞ্জ জেলার মসুয়ায়।
- তিনি ছিলেন শিশুসাহিত্যিক।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- তিনি সুগায়ক ও সুঅভিনেতা হিসেবে খ্যাত ছিলেন।
- তিনি ১৯২৩ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল তাবোল,
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- খাই খাই,
- অবাক জলপান,
- শব্দকল্পদ্রুম,
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; 'জীবনের হিসাব' কবিতা, সুকুমার রায়।
৫,৪৫৪.
ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র কোনটি?
  1. বেঙ্গল গেজেট
  2. নতুন কবিতা
  3. ঢাকা প্রকাশ
  4. নয়া সড়ক
সঠিক উত্তর:
ঢাকা প্রকাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা প্রকাশ
ব্যাখ্যা

'ঢাকা প্রকাশ' পত্রিকা: 
- 'ঢাকা প্রকাশ' হলো ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র। এটির সম্পাদক ছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
- পত্রিকাটি ১৮৬১ সালের ৭ মার্চ বাবুবাজারের ‘বাঙালা যন্ত্র’ থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। ঢাকা প্রকাশ প্রায় ১০০ বছর টিকে ছিলো।
- ঢাকা প্রকাশের প্রথম সম্পাদক ছিলেন কবি  কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার। পরিচালকগণের মধ্যে প্রধান ছিলেন ব্রজসুন্দর মিত্র, দীনবন্ধু মৌলিক, ঈশ্বরচন্দ্র বসু, চন্দ্রকান্ত বসু প্রমুখ।

অন্যদিকে,
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেম্স অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।

'নতুন কবিতা':
- আবদুর রশীদ খান ও আশরাফ সিদ্দিকী যৌথভাবে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি কবিদের প্রথম সংকলন 'নতুন কবিতা' সম্পাদনা করেন।

'নয়া সড়ক' পত্রিকা:
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র।
- ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।
- মনে করা হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর এটিই স্বাধীন পূর্ববাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্যপত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৫,৪৫৫.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর প্রকৃত নাম কী?
  1. প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সনন্দা চক্রবর্তী
  3. রানা দাশ গুপ্ত
  4. মানিক মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়,
‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

• তাঁর রচিত  উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৪৫৬.
নিচের কোনটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস?
  1. পদ্মা নদীর মাঝি
  2. চাঁদের অমাবস্যা
  3. দিবারাত্রির কাব্য
  4. পথের পাঁচালী
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাঁদের অমাবস্যা
ব্যাখ্যা

• 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত “চাঁদের অমাবস্যা” একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। 
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরেফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

-----------------------
• 'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাস:
- "পদ্মা নদীর মাঝি' হলো মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি সামাজিক উপন্যাস।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৬ সালে । এবং বাংলা সাহিত্যের একটি ক্লাসিক হিসেবে পরিচিত।
- উপন্যাসটির প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের পদ্মা নদীর তীরবর্তী গ্রামাঞ্চল।
- এতে দরিদ্র মানুষের জীবন সংগ্রাম, তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা এবং বেঁচে থাকার লড়াইকে খুব গভীরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কুবের নামে একজন মাঝি, কপিলা,মালা ও হোসেন মিয়া এবং তাদের জীবন সংগ্রাম
- ১৯৯৩ সালে এই উপন্যাস অবলম্বনে ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষ একটি চলচ্চিত্র তৈরি করেন।

• 'দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাস:
- 'দিবারাত্রির কাব্য' উপন্যাসটির লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত।
- এর প্রধান চরিত্র- হেরম্ব ও আনন্দ প্রমুখ।

• 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস:
- 'পথের পাঁচালী' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের পটভূমিতে আছে বাংলাদেশের গ্রাম ও তার পরিচিত মানুষের জীবন।
- এতে একটি শিশুর চৈতন্যের জাগরণ, মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে তার পরিচয় বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের তিনটি ভাগ। বল্লালী বালাই, আমআঁটির ভেঁপু, অক্রুর সংবাদ । 
- 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক অপু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৪৫৭.
‘স্বর্গ ও নরক’ কবিতাটি কার রচনা?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. শেখ ফজলল করিম
  3. আহমদ শরীফ
  4. মাহমুদুল হক
সঠিক উত্তর:
শেখ ফজলল করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফজলল করিম
ব্যাখ্যা
- বাঙালি মুসলমানের ভাষা নিয়ে সঙ্কটের সময় 'বাসনা' পত্রিকা বাংলা ভাষার স্বপক্ষে দাঁড়িয়েছিল শেখ ফজলল করিম।
- হিন্দু-মুসলমান মিলনাকাঙ্ক্ষা ছিল এ পত্রিকার প্রধান লক্ষ্য।
- হিন্দু-মুসলমান সঙ্কটের সময় শেখ ফজলল করিম রচনা করেন ‘স্বর্গ ও নরক’ নামক কবিতটি।

কবিতার কিছু অংশ হলো-

স্বর্গ ও নরক
শেখ ফজলল করিম
কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? 
মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর! 
রিপুর তাড়নে যখনই মোদের বিবেক পায় গো লয়, 
আত্মগ্লানির নরক-অনলে তখনি পুড়িতে হয়। 
প্রীতি ও প্রেমের পূণ্য বাঁধনে যবে মিলি পরষ্পরে, 
স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাদেরি কুঁড়ে ঘরে।

--------------------------------
• শেখ ফজলল করিম:
- তিনি ১৮৮২ সালে রংপুর জেলার কাকিনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাহিত্যিক, সম্পাদক।
- তিনি হযরত মুহম্মদ (স) এর চারিত্র্য-মাহাত্ম্য ও ধর্মজীবন অবলম্বনে রচনা করেন 'পরিত্রাণ' নামক কাব্য।
- সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে সাহিত্যবিশারদ (১৯১৬) এবং কাব্যরত্নাকর (১৯১৭) উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে।
- তাঁর মৃত্যু ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৬।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- ভগ্নবীণা,
- ভক্তি পুষ্পাঞ্জলি,
- গাঁথা,
- প্রেমের স্মৃতি,
- পথ ও পাথেয়,
- উচ্ছ্বাস।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লায়লী মজনু,
- হারুন-অর-রশিদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'স্বর্গ ও নরক' কবিতা, শেখ ফজলল করিম।
৫,৪৫৮.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত 'বিষাদ সিন্ধু' একটি-
  1. মহাকাব্য
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• বিষাদ সিন্ধু:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার। নিজগৃহে মুনশির নিকট আরবি ও ফারসি শেখার মাধ্যমে মশাররফ হোসেনের লেখাপড়ার  হাতেখড়ি হয়।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায়  সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু। গ্রামবার্তার সম্পাদক  কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 

নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু। 

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৪৫৯.
"আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই
আজো আমি মাটিতে মৃত্যূর নগ্ননৃত্য দেখি"- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন কবির রচনা?
  1. শামসুর রাহমান
  2. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. শহীদুল্লা কায়সার
সঠিক উত্তর:
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নে প্রদত্ত পঙ্‌ক্তিদ্বয় রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত কবিতা 'বাতাসে লাশের গন্ধ' এর অন্তর্ভুক্ত।


বাতাসে লাশের গন্ধ
– রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ

আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই
আজো আমি মাটিতে মৃত্যূর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে…
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দু:স্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময় ?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আধাঁর,
আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আরষ্ট কুমারী জননী,
স্বাধীনতা – একি হবে নষ্ট জন্ম ?
একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল ?

----------------------
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত ছিলেন। তিনি ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; 'রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ' নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্য- উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯) ও ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় মুক্তিযুদ্ধ, দেশাত্মবোধ, গণআন্দোলন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতা বলিষ্ঠভাবে উপস্থাপিত।
- সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি 'মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার' লাভ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছোবল,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- একগ্লাস অন্ধকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৬০.
বাঙালি রচিত বাংলা অক্ষরে মুুদ্রিত প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
  2. হুতোম প্যাঁচার নকশা
  3. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
  4. বেহুলার পাঁচালী
সঠিক উত্তর:
রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
ব্যাখ্যা

⇒ রামরাম বসু: 
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'। 
- এটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়। 
- বাঙালি রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ হলো 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'। 
- রামরাম বসু, উইলিয়াম কেরিকে বাংলা ভাষা শেখান ( ১৭৯৩ থেকে ১৭৯৬ পর্যন্ত)। 
- তাই তিনি কেরি সাহেবের মুন্‌সি নামে পরিচিত ছিলেন। 

অন্যদিকে,
- 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' (১৮৬২) গ্রন্থটির রচয়িতা কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন- বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬১)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,৪৬১.
নিচের কোন সাহিত্যিকের রচনায় 'জয়গুন' কেন্দ্রীয় চরিত্রের দেখা পাওয়া যায়?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় 
  2. আবু ইসহাক 
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ 
  4. জহির রায়হান 
সঠিক উত্তর:
আবু ইসহাক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু ইসহাক 
ব্যাখ্যা

• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।
 
--------------------
• কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল,

গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,৪৬২.
"জ্যাঠামশায়, শচীন, দামিনী ও শ্রীবিলাস"—এই চারটি চরিত্র রবীন্দ্রনাথের কোন উপন্যাসের?
  1. চার অধ্যায়
  2. যোগাযোগ 
  3. চতুরঙ্গ
  4. গোরা
সঠিক উত্তর:
চতুরঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা

• 'চতুরঙ্গ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যতম উপন্যাস - চতুরঙ্গ। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- এটি সাধু ভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস।
- ১৩২১ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন সংখ্যা পর্যন্ত মাসিক ‘সবুজপত্রে’ এই উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- জ্যাঠামশায়, 
- শচীশ, 
- দামিনী, 
- শ্রীবিলাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং চতুরঙ্গ উপন্যাস- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

৫,৪৬৩.
নিচের কোনটি অন্নদাশঙ্কর রায়ের প্রবন্ধসাহিত্য নয়?
  1. আধুনিকতা
  2. ইশারা
  3. পথে প্রবাসে
  4. জীয়ন কাঠি
সঠিক উত্তর:
পথে প্রবাসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথে প্রবাসে
ব্যাখ্যা
⇒ অন্নদাশঙ্কর রায়:  
• উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।  
• কর্ম: নদীয়া জেলার ম্যাজিস্ট্রেট, কুমিল্লার জজ, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিচার বিভাগের সচিব পদে অবসরগ্রহণ করেন।  
• বাংলার পাশাপাশি উড়িয়া ভাষায় সাহিত্য রচনা করতেন। 
• তাঁর রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য বীরবলী চমক ও গভীর মননশীলতা। 

⇒ তাঁর বিখ্যাত ভ্রমনকাহিনি:  
• পথে প্রবাসে ও  
• ইউরোপের চিঠি।  

⇒ তাঁর উলে­খযোগ্য প্রবন্ধ:  
• তারুণ্য, 
• আমরা,
• জীবনশিল্পী,
• ইশারা,
• আধুনিকতা, 
• বিনুর বই,
• জীয়ন কাঠি ইত্যাদি।  

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৬৪.
বাংলা গজল সাহিত্যের আদি কবি -
  1. অতুলপ্রসাদ সেন
  2. গিরিশচন্দ্র সেন
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
অতুলপ্রসাদ সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
অতুলপ্রসাদ সেন
- ১৮৭১ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকায় তাঁর জন্ম।
- বাংলা সঙ্গীতে অতুলপ্রসাদই প্রথম ঠুংরির চাল সংযোজন করেন।
- ‘মোদের গরব, মোদের আশা/ আ মরি বাংলা ভাষা’ গানটিতে অতুলপ্রসাদের মাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে।
- লক্ষ্ণৌতে বসবাসকালে তিনি ১৯৩৪ সালের ২৬ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।

- বাংলা ভাষায় গজল রচনার পথিকৃৎ অতুলপ্রসাদ সেন।
- তিনিই প্রথম বাংলায় গজল রচনা করেন।
- উত্তর ভারতের লক্ষ্ণৌ শহরে থাকার কারণে তিনি এ ধারার সঙ্গে পরিচিত হন এবং বাংলা গজলের বুনিয়াদ রচনা করেন।
- তাঁর পরে কাজী নজরুল ইসলামের হাতে বাংলা গজল বিশিষ্ট রূপ লাভ করে।

উৎস - বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৬৫.
কোনটি অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত নাগরিক উপন্যাস?
  1. ক) রাঙ্গামাটি
  2. খ) সাদা হাওয়া
  3. গ) তিতাস একটি নদীর নাম
  4. ঘ) জীবন-তৃষা
সঠিক উত্তর:
খ) সাদা হাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সাদা হাওয়া
ব্যাখ্যা
অদ্বৈত মল্লবর্মণ (১৯১৪-১৯৫১): ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোকর্ণ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ (এটি ৪ খন্ডের উপন্যাস, যা প্রথম প্রকাশিত হয় মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায় ১৩৫২ বঙ্গাব্দে। ১৯৫৬ সালে উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসে তিতাস নদী ও নদী তীরবর্তী ধীবর (জেলে ও মৎস্যজীবী সম্প্রদায়) সমাজের রীতি-নীতি, ধর্ম-সংস্কার উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৭৩ সালে এই উপন্যাস অবলম্বনে পরিচালক ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্র নির্মান করেন।),
- ‘সাদা হাওয়া’(১৯৯৬, নাগরিক ও রাজনৈতিক ধরনের উপন্যাস),
- ‘রাঙ্গামাটি’ (১৯৯৭)।
তাঁর রচিত অনুবাদ উপন্যাস - ‘জীবন-তৃষা’ আর্ভিং স্টোন এর উপন্যাস ‘Lust for Life’ এর অনুবাদ।
[সূত্রঃ অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচনাবলী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
৫,৪৬৬.
নিচের কোন লেখকের সাহিত্যিক ছদ্মনাম "নীহারিকা দেবী"?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  3. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
  4. মধুসূদন মজুমদার
সঠিক উত্তর:
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা

• 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী।

অন্যদিকে,
অন্নদাশঙ্কর রায় এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - লীলাময় রায়।
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - যাযাবর।
মধুসূদন মজুমদার এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৪৬৭.
‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামটি কার?
  1. শামসুর রাহমান
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. ফররুখ আহমদ
  4. আবুল ফজল
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান:
- তিনি কবি, সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শামসুর রাহমান ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৬৮.
'শেষ উপহার' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সােনার তরী
  2. কল্পনা
  3. মানসী
  4. খেয়া
সঠিক উত্তর:
মানসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মানসী
ব্যাখ্যা
• 'শেষ উপহার'' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের 'মানসী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১):
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ছোট গল্পের জনক। তাঁকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়।

• 'মানসী' কাব্য: 
- তাঁর রচিত "মানসী" কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯০ সালে প্রকাশিত এবং গ্রন্থটি কবির কাব্যকলার পূর্ণ প্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু "মানসী" কাব্যকে রবীন্দ্র-কাব্যের অনুবিশ্ব বলেছেন।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ৬৬টি কবিতা রয়েছে।

• উল্লেখযোগ্য কবিতা: 
- উপহার,
- নিস্ফল উপহার, 
- ক্ষণিক মিলন, 
- নিস্ফল কামনা, 
- অহল্যার প্রতি, 
- নবদম্পতির প্রেমালাপ,
- মানসিক অভিসা্‌ 
- পুরুষের উক্তি, 
- নারীর উক্তি, 
- ব্যক্ত প্রেম, 
- গুপ্ত প্রেম, 
- অনন্ত প্রেম, 
- শেষ উপহার ইত্যাদি।
----------
'শেষ উপহার' কবিতা,

আমি রাত্রি, তুমি ফুল। যতক্ষণ ছিলে কুঁড়ি
জাগিয়া চাহিয়া ছিনু আঁধার আকাশ জুড়ি
সমস্ত নক্ষত্র নিয়ে, তোমারে লুকায়ে বুকে।
যখন ফুটিলে তুমি সুন্দর তরুণ মুখে
তখনি প্রভাত এল, ফুরালো আমার কাল;
আলোকে ভাঙিয়া গেল রজনীর অন্তরাল। (সংক্ষেপিত)। 

উৎস: মানসী কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৫,৪৬৯.
'ক্রীতদাসের হাসি' শওকত উসমান রচিত একটি -
  1. ছোটগল্প
  2. প্রবন্ধ
  3. নাটক
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান একজন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- সাহিত্য ও সংস্কুতিতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২),  একুশে পদক (১৯৮৩), -এ ভূষিত হন।
- ১৯৯৮ সালের ১৪ মে ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি
-সমাগম 
- চৌর সন্ধি 
- রাজা উপাখ্যান 
- জাহান্নাম হতে বিদায় 
- দুই সৈনিক 

গল্প: 
- পিঁজরাপোল 
- জুনু আপা ও অন্যান্য 
- প্রস্তর  ফলক 
- উভশৃঙ্গ 
জন্ম যদি তব বঙ্গে 


 শওকত ওসমান রচিত নাটক -
- তস্কর ও লস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৫,৪৭০.
'রাজা যায় রাজা আসে' কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) স্মৃতিকথা
সঠিক উত্তর:
ক) কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
- 'রাজা যায় রাজা আসে' আবুল হাসান রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• আবুল হাসান রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক,
• তাঁর রচিত গল্প সংকলন: 'আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ'।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর
৫,৪৭১.
‘ভীমসিংহ’ কোন নাটকের চরিত্র?
  1. পদ্মাবতী
  2. নীলদর্পন
  3. কৃষ্ণকুমারী
  4. জমিদার দর্পণ
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা
• 'কৃষ্ণকুমারী' নাটক:
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন।  এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কৃষ্ণকুমারী,
- মদনিকা,
- ভীমসিংহ,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৪৭২.
স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত উপন্যাস- 
  1. বসন্ত উৎসব
  2. দীপনির্বাণ
  3. বিবাহ উৎসব
  4. রাজকন্যা
সঠিক উত্তর:
দীপনির্বাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীপনির্বাণ
ব্যাখ্যা

• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২)  কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
- তিনি জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।

• 'দীপনির্বাণ' স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত উপন্যাস।
- ১৮৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ
- বিদ্রোহ,  
- মেবার  রাজ, 
- ছিন্নমুকুল, 
- হুগলীর ইমামবাড়ী, 
- বিচিত্র, 
- স্বপ্নবাণী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- বিবাহ উৎসব,
- রাজকন্যা,
- যুগান্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং  বাংলাপিডিয়া।

৫,৪৭৩.
"ক্রীতদাসের হাসি" উপন্যাসে 'তাতারি' কীসের প্রতীক?
  1. বাঙালি জনতার
  2. আইয়ুব খানের
  3. রাজাকারদের
  4. আমলাদের
সঠিক উত্তর:
বাঙালি জনতার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাঙালি জনতার
ব্যাখ্যা

"ক্রীতদাসের হাসি":
- শওকত ওসমানের 'ক্রীতদাসের হাসি' (১৯৬২) উপন্যাসটিতে প্রতীকাশ্রয়ে তৎকালীন পাকিস্তানিদের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে ।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক।
- তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত।

শওকত ওসমান:
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
- জননী
- ক্রীতদাসের হাসি
- সমাগম
- চৌরসন্ধি 
- রাজা উপাখ্যান
- জাহান্নাম হইতে বিদায় 
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- পতঙ্গ পিঞ্জর
- আর্তনাদ
- রাজপুরুষ
- গল্পগ্রন্থ 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৪৭৪.
কোনটি মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন?
  1. গাজী মিঁয়ার বস্তানী
  2. টালা অভিনয়
  3. কুলসুম জীবনী
  4. উদাসীন পথিকের মনের কথা
সঠিক উত্তর:
টালা অভিনয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টালা অভিনয়
ব্যাখ্যা
• 'টালা অভিনয়' মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন।
- এটি ১৮৯৭ সালে প্রকাশিত হয়।

-------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী'(১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা (উপন্যাস) 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী (উপন্যাস)
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

• ‘গো-জীবন’ মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'টালা অভিনয়' প্রহসন ।
৫,৪৭৫.
'রায়নন্দিনী' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
ইসমাইল হোসেন সিরাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' এর প্রতিক্রিয়ায় ইসমাইল হোসেন সিরাজী 'রায়নন্দিনী' লেখেন।

-  ইসমাইল হোসেন সিরাজী (১৮৮০-১৯৩১) লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- তিনি লেখালেখি করে এবং সভা সমিতিতে বক্তৃতা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
- তাঁর লেখা ও বক্তৃতার প্রধান বিষয়বস্ত্ত ছিল বাংলার অনগ্রসর মুসলিম সমাজকে জাগিয়ে তোলা। বাগ্মী হিসেবে তিনি যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছিলেন। মুসলমানদের স্বার্থের পক্ষে কথা বললেও তিনি সাম্প্রদায়িক ছিলেন না। তিনি মনে করতেন, সম্পদের সুষম বন্টনের মধ্যেই হিন্দু-মুসলমানের সৌহার্দ্য নির্ভর করছে।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ (১৯০০),
- আকাঙ্ক্ষা (১৯০৬),
- উচ্ছ্বাস (১৯০৭),
- উদ্বোধন (১৯০৭),
- নব উদ্দীপনা (১৯০৭),
- স্পেন বিজয় কাব্য (১৯১৪),
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী (১৯১৬),
- প্রেমাঞ্জলি (১৯১৬)।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী (১৯১৮),
- তারাবাঈ (১৯০৮),
- ফিরোজা বেগম (১৯২৩) ও
- নূরুদ্দীন (১৯১৯)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৭৬.
সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. সাত সাগরের মাঝি
  2. রাত্রিশেষ
  3. ঘুম নেই
  4. ছায়া হরিণ
সঠিক উত্তর:
ঘুম নেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘুম নেই
ব্যাখ্যা
• 'ঘুম নেই' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- সুকান্ত ভট্টাচার্য।

অন্যদিকে, 
• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ: সাত সাগরের মাঝি। 
• আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ, ছায়া হরিণ।

-----------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- 'কিশোর কবি' সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর.
৫,৪৭৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' উপন্যাস প্রথম কোন পত্রিকায় ছাপা হয়?
  1. তত্ত্ববোধিনী
  2. প্রবাসী
  3. ভারতী
  4. সাধনা
সঠিক উত্তর:
প্রবাসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবাসী
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস 'শেষের কবিতা' প্রথম 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয়।

শেষের কবিতা:
- 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসামান্য ঔজ্জ্বল্য, দৃপ্তশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরুদ্ধে আধুনিক সাহিত্যিকেরা যখন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই মনোভাব লক্ষ করেছিলেন কৌতুকের সঙ্গে।
- নিজেকে নিয়ে এই উপন্যাসে রসিকতাও আধুনিকদের আকাঙ্ক্ষিত কিন্তু তখনও পর্যন্ত অনর্জিত এক বাক্‌রীতির সৃষ্টিতে 'শেষের কবিতা' বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় গ্রন্থ।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যেমন: ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী
- সুকুমার সেন বলেছেন: 'বৈষ্ণব সাধনার পরকীয়াতত্ত্ব রবীন্দ্রনাথের কবিমানসে যেভাবে রূপান্তর লাভ করিয়াছিল শেষের কবিতায় তাহার পরিচয় পাই।'
- 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫,৪৭৮.
'আমি জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি!
আমি মৃণ্ময়, আমি চিন্ময়, আমি আজব, আমি অক্ষয়, আমি অব্যয়।'
- চরণগুলো কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার অংশ?
  1. ক) প্রলয়ােল্লাস
  2. খ) ধুমকেতু
  3. গ) কামাল পাশা
  4. ঘ) বিদ্রোহী
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিদ্রোহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বিদ্রোহী
ব্যাখ্যা

'অগ্নি-বীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থের বিখ্যাত কবিতা 'বিদ্রোহী'।
কবির 'বিদ্রোহী' কবিতার চরণ,
''আমি জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি!
আমি মৃণ্ময়, আমি চিন্ময়, আমি আজব, আমি অক্ষয়, আমি অব্যয়'।

উৎস: অগ্নি-বীণা, কাজী নজরুল ইসলাম।

৫,৪৭৯.
'বড় কথা বড় ভাব আসে না ক’ মাথায়, বন্ধু, বড় দুখে!
অমর কাব্য তোমরা লিখিও, বন্ধু, যাহারা আছ সুখে!'- চরণদ্বয় কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার অংশবিশেষ?
  1. আমার কৈফিয়ত
  2. দারিদ্র্য
  3. মানুষ
  4. সাম্যবাদী
সঠিক উত্তর:
আমার কৈফিয়ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার কৈফিয়ত
ব্যাখ্যা
• 'বড় কথা বড় ভাব আসে না ক’ মাথায়, বন্ধু, বড় দুখে!
অমর কাব্য তোমরা লিখিও, বন্ধু, যাহারা আছ সুখে!'- চরণদ্বয় কাজী নজরুল ইসলামের 'আমার কৈফিয়ত' কবিতার অংশবিশেষ।
- 'আমার কৈফিয়ত' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

আমার কৈফিয়ত,
--- কাজী নজরুল ইসলাম

বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই ‘নবী’,
কবি ও অকবি যাহা বলো মোরে মুখ বুঁজে তাই সই সবি!
কেহ বলে, ‘তুমি ভবিষ্যতে যে
ঠাঁই পাবে কবি ভবীর সাথে হে!
যেমন বেরোয় রবির হাতে সে চিরকেলে-বাণী কই কবি?’
দুষিছে সবাই, আমি তবু গাই শুধু প্রভাতের ভৈরবী!
--------------------------------------------
বন্ধু গো, আর বলিতে পারি না, বড় বিষ-জ্বালা এই বুকে!
দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে।
রক্ত ঝরাতে পারি না ত একা,
তাই লিখে যাই এ রক্ত-লেখা,
বড় কথা বড় ভাব আসে না ক’ মাথায়, বন্ধু, বড় দুখে!
অমর কাব্য তোমরা লিখিও, বন্ধু, যাহারা আছ সুখে!

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৮০.
"কুমড়ো ফুলে ফুলে নুয়ে পড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায় ভরে গেছে গাছটা,
আর আমি
ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. কাজী আবদুল ওদুদ
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. এস ওয়াজেদ আলী
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলন নিয়ে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত বিখ্যাত কবিতা- 'মাগো ওরা বলে'।

মাগো ওরা বলে- কবিতা, 
রচয়িতা- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ। 

“কুমড়ো ফুলে ফুলে
নুয়ে পড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা,
আর আমি
ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি।
------------------

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ কবি, সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ২০০১ সালের ১৯ মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো :
- সাত নরীর হার,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- প্রেমের কবিতা,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ প্রভৃতি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতাটির রচিয়তা মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী।
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৮১.
পুঁই ডালিমের কাব্য - কি ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কাব্য
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) গল্প
সঠিক উত্তর:
ঘ) গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গল্প
ব্যাখ্যা
শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত গল্পগ্রন্থঃ অনেক দিনের আশা, ঢেউ, পথ জানা নাই, দুই হৃদয়ের তীর, পুঁই ডালিমের কাব্য প্রভৃতি। তার উপন্যাসঃ আলমগড়ের উপকথা, কাশবনের কন্যা (গ্রামীণ পটভূমি), জায়মঙ্গল (আঞ্চলিক উপন্যাস; পটভূমি - সুন্দরবন), সমুদ্র বাসর, কাঞ্চনগ্রাম ইত্যাদি। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৪৮২.
হুমায়ুন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়-
  1. আগুনের পরশমণি
  2. শ্যামল ছায়া
  3. শ্রাবণ মেঘের দিন
  4. সূর্যের দিন
সঠিক উত্তর:
শ্রাবণ মেঘের দিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রাবণ মেঘের দিন
ব্যাখ্যা

• কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয় শ্রাবণ মেঘের দিন।
• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসঃ
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচীর একদিন,
- সূর্যের দিন,
- শ্যামল ছায়া,
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- ১৯৭১ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫,৪৮৩.
ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র কোনটি?
  1. দিগদর্শন
  2. বেঙ্গল গেজেট
  3. আনন্দবাজার পত্রিকা
  4. দি স্টেটসম্যান
সঠিক উত্তর:
বেঙ্গল গেজেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেঙ্গল গেজেট
ব্যাখ্যা
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেম্স অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
- পত্রিকাটিতে মূলত বিজ্ঞাপন, বিদেশি ইংরেজি পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি, সংবাদদাতাদের বিবরণধর্মী লেখা ছাপা হতো।
- 'পোয়েটস্ কর্নার' বলে একটি বিশেষ অংশ ছিল। প্রকাশের প্রথম মাস দশেক কোনো রাজনৈতিক বিবাদপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয় নি।
- পরে প্রশাসনের বিপক্ষে কিছু লেখা বের হলে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই নবেম্বর ফোর্ট উইলিয়াম থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডাকঘর মারফত পত্রিকা বিতরণ বন্ধ করা হয়। পরে হিকি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৮৪.
'বাঙ্গালীর ইতিহাস' প্রবন্ধটির লেখক কে?
  1. বদরুদ্দীন উমর 
  2. নীহাররঞ্জন রায়
  3. নীরদচন্দ্র চৌধুরী
  4. দীনেশচন্দ্র সেন 
সঠিক উত্তর:
নীহাররঞ্জন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীহাররঞ্জন রায়
ব্যাখ্যা

• নীহাররঞ্জন রায় 'বাঙ্গালীর ইতিহাস' গ্রন্থটি লিখেছেন। 

• নীহাররঞ্জন রায়: 
- নীহাররঞ্জন রায়, ভারতের শেষ বহুশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম একজন।
- মানব অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে নীহাররঞ্জন রায় এর প্রয়াস পরিণতি লাভ করেছে তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।
-------------------------------- 
• ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ গ্রন্থ: 
- তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ গ্রন্থ।
- এই ক্লাসিক সৃষ্টি রাজনৈতিক পরিভাষায় ইতিহাস বিশ্লেষণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক পরিবর্তনের সূচনা ঘটায় এবং তা সাধারণ মানুষকে ইতিহাসবিদদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু করে তোলে।
- গ্রন্থটির সাহিত্যমূল্যের ক্ষেত্রেও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
- ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনকালে ১৯৪২ সালে তিনি কারাবন্দি হন এবং জেলখানায়ই ‘বাঙ্গালীর ইতিহাস’ রচনার কাজ শুরু করেন।
- বার্মাতেই তাঁর মনে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অবিচ্ছিন্নতার ধারণা দৃঢ়বদ্ধ হয়, যা পূর্ণ পরিণতি লাভ করে ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত তাঁর বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- Maurya and Sunga Art, 
- বাঙ্গালীর ইতিহাস, 
- Nationalism in India, 
- Idea and Image of Indian Art.

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫,৪৮৫.
'ডাক-হরকরা' গল্পটির রচয়িতা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় 
  2. বন্দে আলী মিয়া 
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'ডাক-হরকরা' গল্প:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমটি স্মরণীয় গল্প ‘ডাক-হরকরা’।  
- ১৩৪৩ বঙ্গাব্দের কার্তিক সংখ্যা 'প্রবাসী' পত্রিকায় তারাশঙ্করের বিখ্যাত গল্প 'ডাক-হরকরা' প্রকাশিত হয়। 
- 'ডাক-হরকরা' গল্পটি তারাশঙ্করের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্প।
- এই গল্পে  দীনু ডাক-হরকরার মাথার মাথালী দড়ি দিয়ে চিবুকের সঙ্গে বাঁধা, শক্ত হাতে ধরা বল্লম, অন্য হাতে হারিকেনের কম্পমান শিখার ধোঁয়ার চিমনি কালো রঙ ধরেছে, ডাক-হরকরা তার অভ্যস্ত নির্দিষ্ট গতিতে ছুটে চলছে।

---------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চগ্রাম,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: 'ডাক-হরকরা' গল্প এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৪৮৬.
‘শ্যামল ছায়া’ উপন্যাসের পটভূমি হচ্ছে-
  1. গ্রামীণ জীবন
  2. শহুরে জীবন
  3. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
  4. নদী পাড়ের জীবন
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা হুমায়ুন আহমেদের জনপ্রিয় উপন্যাস 'শ্যামল ছায়া'।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে রচিত উপন্যাসটি ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তিতে এই উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।

⇒ হুমায়ূন আহমেদ:
- জন্ম: ১৯৪৮ সালে তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলায়। 
- তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে।'
- তাঁর উল্লেখযোগ্য ছায়াছবি: 'আগুনের পরশমণি','শ্রাবণ মেঘের দিন', 'দুই দুয়ারী'
- লজিক ও এন্টি লজিক নিয়ে কাজ করা তাঁর দুটি চরিত্র: মিসির আলী ও হিমু। 
- তাঁর অন্যতম সায়েন্স ফিকশন 'তোমাদের জন্য ভালোবাসা'।
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: মধ্যাহ্ন এবং বাদশাহ নামদার।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
• শ্যামল ছায়া,
• আগুনের পরশমণি,
• অনিল বাগচীর একদিন,
• জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৪৮৭.
‘ব্রাক্ষ্মণ সেবধি’ কীসের নাম?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. পত্রিকা
সঠিক উত্তর:
পত্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পত্রিকা
ব্যাখ্যা

সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধের অন্যতম নায়ক রাজা রামমোহন রায় জন্মগ্রহণ করেন ১৭৭২ সালে, হুগলির রাধানগর নামক স্থানে।
ব্রাক্ষ্মণ সেবধি(১৮২১) রামমোহন রায় সম্পাদিত পত্রিকা। পত্রিকাটি দুই ভাষায়(ইংরেজী+ বাংলা) প্রকাশিত হতো।
বাংলায় সম্বাদ কৌমুদি(১৮২১), পারসি ভাষায় মিরাৎ-উল-আখবার(১৮১৫) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,৪৮৮.
ওঙ্কার উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে লেখা হয়েছে?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধ
  2. খ) ভাষা আন্দোলন
  3. গ) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. ঘ) দেশভাগ
সঠিক উত্তর:
গ) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
• ওঙ্কার:
- ওঙ্কার উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে।
- আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে।
- আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। 
-------------------

• আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন  চট্টগ্রাম জেলার  চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। 
- ষাটের দশকে তাঁর সাহিত্য-জীবনের সূচনা হয়।
- সৃষ্টিধর্মী লেখক হিসেবে তিনি গল্প,  উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, সমালোচনা, অনুবাদ,  শিশুসাহিত্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব দেখান।
- ছফার চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে তাঁর দুটি উল্লেখযোগ্য রচনা বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস ও বাঙালি মুসলমানের মন-এ।
- তাঁর মৃত্যু হয় ২০০১ সালের ২৮ জুলাই।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার,
- মরণ বিলাস,
- গাভি বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্পবৃক্ষ ও বিহঙ্গপুরাণ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৪৮৯.
'ওরা কদম আলী' নাটকটির নাট্যকার কে?
  1. সেলিম আল দীন
  2. মামুনুর রশীদ
  3. দিনবন্ধু মিত্র
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মামুনুর রশীদ
ব্যাখ্যা

মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত। তার প্রকাশিত নাটকের নাম:
- ওরা কদম আলী (১৯৭৮),
- ওরা আছে বলেই (১৯৮০),
- মে দিবস (১৯৮১),
- ইবলিশ (১৯৮২),
- এখানে নোঙর(১৯৮৬),
- গিনিপিগ (১৯৮৫),
- সমতট (১৯৯০),
- পাথর (১৯৯৩),
- লেবেদেফ (১৯৯৭)
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৫,৪৯০.
'বত্রিশ সিংহাসন' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) উইলিয়াম কেরি
  2. খ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. গ) রামরাম বসু
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
খ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ- বত্রিশ সিংহাসন, হিতোপদেশ, রাজাবলি, প্রবোধ চন্দ্রিকা ও বেদান্ত চন্দ্রিকা। তিনি ফোর্ট উইলিয়াম যুগে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ ৫ টি। উৎস: বাংলা শীকর প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৫,৪৯১.
স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. মেবার পতন
  2. কল্যাণী
  3. মেবার রাজ
  4. নির্বাণ দীপ
সঠিক উত্তর:
মেবার রাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেবার রাজ
ব্যাখ্যা
• স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত উপন্যাস 'মেবার রাজ'।

অন্যদিকে,
- 'মেবার পতন' দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের নাটক।
- 'কল্যাণী' জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস।

• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- স্বর্ণকুমারী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৪৯২.
“মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়, কারণে-অকারণে বদলায়।” উক্তিটি কোন নাটক থেকে নেওয়া?
  1. স্বদেশ
  2. চিঠি 
  3. দণ্ডকারণ্য
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

“মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়, কারণে-অকারণে বদলায়।” উক্তিটি মুনীর চৌধুরী রচিত রক্তাক্ত প্রান্তর নাটক থেকে নেওয়া হয়েছে। 
---------------------
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- মুনীর চৌধুরীর উল্লেখযোগ্য নাটক ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ ১৭৬১ সালের পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- নাটকটি কায়কোবাদের ‘মহাশ্মশান’ কাব্য থেকে অনুপ্রাণিত।
- এই নাটকে তিনি যুদ্ধবিরোধী চেতনা, সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে মানবিক প্রেম এবং যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরেছেন।
- নাটকের মূল বার্তা হলো—যুদ্ধ কখনো প্রকৃত বিজয় আনে না;
- বরং এটি মানবজীবনের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি।

- মুনীর চৌধুরীর ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক থেকে নেওয়া উক্তিটি—
- “মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়, কারণে-অকারণে বদলায়।”
- এই উক্তিটি মানুষের জীবনের চিরন্তন সত্য এবং পরিবর্তনশীলতাকে তুলে ধরে। অর্থাৎ, মানুষ মৃত্যুর পর নিস্তব্ধ হয়ে যায়, কিন্তু জীবিত থাকলে তাঁর চরিত্র, আচরণ ও মনোভাব সময়, পরিস্থিতি বা কোনো কারণে বা অকারণে পরিবর্তিত হতে পারে। 
--------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবী।
- তিনি তৎকালীন ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জ শহরে ২৭ নভেম্বর ১৯২৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তিনি পাকিস্তান সরকারের হাতে বন্দী হন।
- কারাগারে থাকাকালীনই তাঁর বিখ্যাত নাটক ‘কবর’ (১৯৫৩) রচনা করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী আল-বদর বাহিনী তাঁকে তাঁর বাড়ি থেকে অপহরণ করে এবং সেদিনই তাঁকে হত্যা করা হয়।

• মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৫,৪৯৩.
আহসান হাবীব শেষ বয়সে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত কোন পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন?
  1. দৈনিক বাংলা
  2. আজাদ
  3. মাসিক মোহাম্মদী
  4. বিচিত্রা
সঠিক উত্তর:
দৈনিক বাংলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৈনিক বাংলা
ব্যাখ্যা

• আহসান হাবীব (১৯১৭-১৯৮৫):
- কবি ও সাংবাদিক।
- ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি  পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি পিরোজপুর থেকে প্রবেশিকা (১৯৩৫) পাস করে কিছুদিন বিএম কলেজে আইএ ক্লাসে অধ্যয়ন করেন, কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে লেখাপড়া ত্যাগ করে  কলকাতা গিয়ে সাংবাদিকতার পেশা গ্রহণ করেন এবং আজীবন ওই পেশাতেই নিয়োজিত ছিলেন।
- কলকাতায় তিনি তকবীর (১৯৩৭), বুলবুল (১৯৩৭-৩৮) ও  সওগাত (১৯৩৯-৪৩) পত্রিকায় কাজ করেন।
- কয়েক বছর (১৯৪৩-৪৮) তিনি আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রের স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করেন।
- ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ঢাকায় এসে তিনি বিভিন্ন সময়ে  আজাদ,  মোহাম্মদী, কৃষক, ইত্তেহাদ প্রভৃতি পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
- ১৯৫৭-৬৪ পর্যন্ত তিনি ফ্রাঙ্কলিন পাবলিকেশনস-এর প্রডাকশন অ্যাডভাইজার ছিলেন।
- পরে তিনি কিছুদিন দৈনিক পাকিস্তানে কাজ করেন এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত দৈনিক বাংলার সাহিত্য-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,৪৯৪.
'বীরবলের হালখাতা' কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) সবুজপত্র
  2. খ) ভারতী
  3. গ) বিশ্বভারতী
  4. ঘ) বঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর:
খ) ভারতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভারতী
ব্যাখ্যা
প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রথম গদ্য রচনা 'বীরবলের হালখাতা'।
- এটি ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 

প্রমথ চৌধুরী, (১৮৬৮-১৯৪৬)  
সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরীর জন্ম ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে।
- ১৯১৪ সালে মাসিক  সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- তেল-নুন-লাকড়ি (১৯০৬),
- সনেট পঞ্চাশৎ (১৯১৩),
- চার-ইয়ারি কথা (১৯১৬),
- The Story of Bengali Literature (১৯১৭),
- পদচারণ (১৯১৯),
- রায়তের কথা (১৯২৬) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৯৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গ্রন্থটি নাটক?
  1. চোখের বালি
  2. বলাকা
  3. ঘরে-বাইরে
  4. চিত্রাঙ্গদা
সঠিক উত্তর:
চিত্রাঙ্গদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিত্রাঙ্গদা
ব্যাখ্যা
• চিত্রাঙ্গদা:
- ‘চিত্রাঙ্গদা' (১৮৯২) মণিপুর রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা ও অর্জুনের পৌরাণিক প্রণয় - কাহিনি অবলম্বনে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি নাটক।
- এটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে  রচিত। 
- কাহিনির পরিকল্পনা সম্পূর্ণ অভিনব এবং মহাভারতের কাহিনি থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। 
- এই নাটকে নারীর মর্যাদা ও আত্মসম্মান প্রধান হয়ে হয়ে উঠেছে। 
- পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ একই কাহিনি অবলম্বনে 'চিত্রাঙ্গদা' নৃত্যনাট্য (১৯৩৬) রচনা করেন। 
- চিত্রাঙ্গদায় নাম-চরিত্রের মাধ্যমে নারীর আত্মজাগরণের যে প্রকাশ ঘটেছে তা আধুনিক নারীবাদীদের কথিত তাত্ত্বিকতার চেয়েও ব্যাপক।
- উভয় ক্ষেত্রে নারীর আত্মসম্মান ও বীরত্ব উভয়ই গুরুত্ব পেয়েছে।

অন্যদিকে,
- চোখের বালি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- 'বলাকা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্য।
- 'ঘরে-বাইরে' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৯৬.
বাংলা সাহিত্যের ‘আধুনিক যুগ’ শুরু হয় কোন শতকে?
  1. পনেরো 
  2. বিশ
  3. আঠারো 
  4. উনিশ 
সঠিক উত্তর:
উনিশ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উনিশ 
ব্যাখ্যা
• আধুনিক যুগ:
- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- ১৮০০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়টুকু ছিলো প্রথম পর্যায়।
- ১৮০০ সালে শুরু হয় আধুনিক যুগ।
- ১৮৬০ সাল থেকে আধুনিক যুগের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়।
- আধুনিক যুগের প্রথম পর্যায়ে বাংলা গদ্যের চর্চা শুরু হয়।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাবে সমৃদ্ধ বাংলা সাহিত্য রচিত হয়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ' কাব্যের মাধ্যমে মহাকাব্যের ধারার প্রবর্তন হয়। 

• ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ কে বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিকাল ধরা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৪৯৭.
রুশ সাহিত্যের দক্ষ অনুবাদক ছিলেন-
  1. সত্যেন সেন
  2. শহীদ কাদরী
  3. সমর সেন
  4. সোমেন চন্দ
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমর সেন
ব্যাখ্যা
• সমর সেন:
- সমর সেন মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর পিতামহ।

- 'Frontier' (ফ্রন্টিয়ার) ও 'নাও' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- 'আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট' এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।

- তাঁর কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী গণচেতনা বলিষ্ঠভাবে রূপায়িত হয়েছে।
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।
- ১৯৮৭ সালের ২৩ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বাবু বৃত্তান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৯৮.
"কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক, কে বলে তা বহু দূর,
মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুরা-সুর।" - পঙক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. চণ্ডীদাস
  2. শেখ ফজলল করিম
  3. আবদুল হাকিম
  4. ভারতচন্দ্র
সঠিক উত্তর:
শেখ ফজলল করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফজলল করিম
ব্যাখ্যা
"কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক, কে বলে তা বহু দূর,
মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুরা-সুর।" - পঙক্তিদ্বয়ের রচয়িতা শেখ ফজলল করিম

শেখ ফজলল করিম (১৮৮২-১৯৩৬): 
- কবি, সাহিত্যিক, সম্পাদক শেখ ফজলল করিমের জন্ম রংপুর জেলার কাকিনা গ্রামে, ৯ এপ্রিল ১৮৮২ সালে। 
- শেখ ফজলল করিমের অল্প বয়সের রচনা সরল পদ্য বিকাশ (১৮৯৪)।
- তিনি উর্দু গজলের ভাবাবলম্বনে রচনা করেন তৃষ্ণা (১৯০০)।
- তাঁর পরিত্রাণ (১৯০৩) কাব্য হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর চারিত্র্য-মাহাত্ম্য ও ধর্মজীবন নিয়ে রচিত।
- পরে তিনি রচনা করেন:
- ভগ্নবীণা (১৯০৪),
- প্রেমের স্মৃতি (১৯০৫),
- ভক্তি পুষ্পাঞ্জলি (১৯১১),
- পথ ও পাথেয় (১৯১৩),
- গাথা (১৯২০),
- উচ্ছ্বাস প্রভৃতি খন্ড কবিতা ও আখ্যানমূলক কাব্য।

তাঁর আখ্যানধর্মী উপন্যাস- 
- লায়লী-মজনু ও
- হারুন-অর-রশিদ (১৯১৩) 

- বাঙালি মুসলমানের ভাষা নিয়ে সঙ্কটের সময় বাসনা পত্রিকা বাংলা ভাষার স্বপক্ষে দাঁড়িয়েছিল।
- হিন্দু-মুসলমান মিলনাকাঙ্ক্ষা ছিল এ পত্রিকার প্রধান লক্ষ্য। হিন্দু-মুসলমান সঙ্কটের সময় শেখ ফজলল করিম রচনা করেন:
কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক, কে বলে তা বহু দূর,
মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুরা-সুর।
- সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে সাহিত্যবিশারদ (১৯১৬) এবং কাব্যরত্নাকর (১৯১৭) উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৯৯.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক?
  1. রক্তকরবী
  2. চিত্রাঙ্গদা
  3. বাল্মীকি প্রতিভা
  4. বিসর্জন
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তকরবী
ব্যাখ্যা

'রক্তকরবী' নাটক:
- রক্তকরবী (১৯২৬) রবীন্দ্রনাথের একটি সাংকেতিক নাটক।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- চরিত্র: নন্দিনী, রঞ্জন।
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে।
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য রূপক-সাংকেতিক নাটক:
- শারদোৎসব,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- ফাল্গুনী,
- অরূপরতন,
- মুক্তধারা,
- রক্তকরবী,
- কালের যাত্রা,
- তাসের দেশ।

অন্যদিকে,
- চিত্রাঙ্গদা - নৃত্যনাট্য।
- বাল্মীকি প্রতিভা - গীতিনাট্য।
- বিসর্জন - কাব্যনাট্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,৫০০.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাটক কোনটি?
  1. কবর
  2. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. অলাতচক্র
সঠিক উত্তর:
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা

'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়':
- বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবনমূলক নাটক 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়'।
- এটি সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

অন্যদিকে,
- 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে রচিত তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটক।
- 'অলাতচক্র' আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।