বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৬৪ / ১৭৪ · ১৬,৩০১১৬,৪০০ / ১৭,৪৩৭

১৬,৩০১.
আপনাকে বড় বলে
বড় সেই নয়,
লোকে যারে বড় বলে
বড় সেই হয়। - পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. হরিশচন্দ্র মিত্র
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
সঠিক উত্তর:
হরিশচন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরিশচন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
আপনাকে বড় বলে
বড় সেই নয়,
লোকে যারে বড় বলে
বড় সেই হয়। - পঙ্‌ক্তিগুলো হরিশচন্দ্র মিত্র রচিত ‘বড় কে’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

হরিশচন্দ্র মিত্র:
- হরিশচন্দ্র মিত্র তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি ১৮৩৭ সালে ঢাকায় এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৫৮ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; ‘বড় কে’ কবিতা।
১৬,৩০২.
'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি কত খণ্ডে প্রকাশিত হয়?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
'শ্রীকান্ত' উপন্যাস: 
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- এর চারটি খণ্ড।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র- 'ইন্দ্রনাথ'। 
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।

- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- শ্রীকান্ত,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদাদিদি,
- অভয়া,
- রোহিণী,
- কমললতা প্রমুখ।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প: 
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী, 
- মামলার ফল ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৩০৩.
'তোরাপ' চরিত্রটি নিম্নের কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. কমলে কামিনী
  2. সধবার একাদশী
  3. নীলদর্পণ
  4. জমিদার দর্পণ
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা
'নীলদর্পণ' নাটক:
- 'নীলদর্পণ' দীনবন্ধু মিত্রের শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনা।
- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- নীলদর্পণ নাটকের ইংরেজি অনুবাদ করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। মধুসূদন দত্ত A Native ছদ্মনামে 'Nil Durpan, or The Indigo Planting Mirror' নামে অনুবাদ করেছিলেন।প্রকাশ করেছিলেন রেভারেন্ড জেমস লং। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- গোলক বসু,
- নবীন মাধব,
- রাইচরণ,
- তোরাপ,
- সাবিত্রী,
- সরলতা,
- ক্ষেত্রমণি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩০৪.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
  2. চৈতালী ঘূর্ণি
  3. কালিন্দী
  4. আরোগ্য নিকেতন
সঠিক উত্তর:
চৈতালী ঘূর্ণি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৈতালী ঘূর্ণি
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যােপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাসের নাম 'চৈতালী ঘূর্ণি'।
- রচনাকাল ১৯২৯ খ্রিষ্টােব্দর মধ্যবর্তী কোন এক সময়। 

অন্যদিকে, 
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস "হাঁসুলী বাঁকের উপকথা"। উপন্যাসটি ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসে বীরভুমের 'কাহার' সম্প্রদায়ের জীবন, তাদের সংস্কৃতি, ধর্মবিশ্বাস, আচার-আচরণ, লোককথা আন্তরিকতার সাথে তুলে ধরা হয়েছে।

"কালিন্দী" নদীর বুকে উৎপন্ন চরকে কেন্দ্র করে দুই জমিদার বাড়ির তৈরি বিবাদ নিয়ে, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়।

"আরোগ্য নিকেতন" নামক উপন্যাসটি রচয়িতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। উপন্যাসটি ১৯৫২ সালে আনন্দবাজার পত্রিকায় 'সঞ্জীবন ফার্মাসী' নামে প্রকাশিত হয়। এই কাহিনির নায়ক এক কবিরাজ, জীবনমশায়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৩০৫.
'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. মাহমুদুল হক
  3. আল মাহমুদ
  4. ফররুখ আহমদ
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- আল মাহমুদের কবি-প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করেছিল 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩) কাব্যগ্রন্থটি।

- পুরো কাব্যগ্রন্থটিতে বঞ্চিতের ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম গ্রামীণ আবহে উঠে এসেছে।

- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে 'সোনালী কাবিন' নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত। এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে। বলা যেতে পারে, বীজ কাব্যগ্রন্থ।

অন্য কবিতাগুলো হলো:
- জাতিস্মর,
- পালক ভাঙার প্রতিবাদে,
- ক্যামোফ্লাজ,
- শোণিতে সৌরভ,
- তোমার আড়ালে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৩০৬.
সৈয়দ শামসুল হক কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. কুষ্টিয়া
  2. কুমিল্লা
  3. কুড়িগ্রাম
  4. কিশোরগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুড়িগ্রাম
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- মানুষের জটিল জীবনপ্রবাহ এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তাঁর সাহিত্যকর্মের মূল প্রবণতা।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ইত্যাদি লাভ করেন।
- তিনি ২০১৬ সালের ২৭শে অক্টোবর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তাঁর রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৩০৭.
'চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান' উপন্যাসের রচয়িতা -
  1. জসীম উদ্দীন
  2. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  3. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
আবদুল গাফফার চৌধুরী
- (১২ ডিসেম্বর ১৯৩৪ — ১৯ মে ২০২২)।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো-এর রচয়িতা।
- স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা সাপ্তাহিক জয়বাংলার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি 1967 সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার , 1983 সালে একুশে পদক এবং 2009 সালে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে ভূষিত হন।

- তাঁর রচিত কিছু সাহিত্যাকর্ম :
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (উপন্যাস),
- কৃষ্ণপক্ষ,
- নাম না জানা ভোর,
- সুন্দর হে সুন্দর।


উৎস: বাংলা পিডিয়া।
১৬,৩০৮.
‘বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়’ - কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. আবুল মনসুর আহমদ 
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শামসুর রাহমান
  4. হাসান আজিজুল হক 
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

• শামসুর রাহমান:
- ১৯২৯ সালের  ২৪শে অক্টোবর মাতুতালয় ঢাকার মাহুতটুলিতে তিনি জন্মগ্রহন করেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবনে ১৩জন তরুণ কবির কবিতার সঙ্কলন, নতুন কবিতা-য় তাঁর পাঁচটি কবিতাতাঁর কবি পরিচয়কে সুধী মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

‘বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়’ কবিতার রচয়িতা হলেন - বিশিষ্ট কবি শামসুর রাহমান। এটি তাঁর একটি বিখ্যাত দেশপ্রেমমূলক রচনা। এটি ‘বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়’ কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতা।

কবিতার অংশবিশেষ:
সারারাত নূর হোসেনের চোখে এক ফোঁটা ঘুমও
শিশিরের মতো
জমেনি, বরং তার শিরায় শিরায়
জ্বলেছে আতশবাজি সারারাত, কী এক ভীষণ
বিস্ফোরণ সারারাত জাগিয়ে রেখেছে
ওকে, ওর বুকে ঘন ঘন হরিণের লাফ,
কখনো অত্যন্ত ক্ষিপ্র জাগুয়ার তাকে
প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে জ্বলজ্বলে
চোখে খর তাকিয়ে রয়েছে ওর দিকে,
এতটুকু ঘুমোতে দেয়নি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- অন্ধকার থেকে আলোয়,
- হরিণের হাড়,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- অবিরল জলাভূমি। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস
- নিয়ত মন্তাজ
- এলো সে অবেলায়
- অদ্ভুত আঁধার এক

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১৬,৩০৯.
কোনটি এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. প্রায়শ্চিত্ত
  3. কোকিলারা
  4. ডাকঘর
সঠিক উত্তর:
কোকিলারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোকিলারা
ব্যাখ্যা
‘কোকিলারা’ নাটক:
- আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তবে ঢাকা গাইড হাউজ মিলনায়তনে ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে জানুয়ারি প্রথম অভিনীত হয়।
- বাংলাদেশের নারীদের তিনটি রূপ তিন কোকিলা।

অন্যদিকে,
→ রবীন্দ্রনাথের 'বৌঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'। উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ধনঞ্জয় বৈরাগী, সুরমা, উদয়াদিত্য, বিভা ইত্যাদি।

→ 'শর্মিষ্ঠা' প্রথম সার্থক বাংলা নাটক। এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক। উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ

→ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) রূপক সাংকেতিক নাটক। নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অমল, সুধা, ঠাকুর্দা প্রমুখ।

--------------------
আবদুল্লাহ আল মামুন:
- আবদুল্লাহ আল মামুন একজন নাট্যকার ও নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর একক চরিত্র নির্ভর নাটক হলো 'কোকিলারা'।
- ‘শপথ’ (১৯৬৪) তাঁর প্রকাশিত প্রথম নাটক।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩১০.
বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. অভিনয়, অভিনয় নয়
  2. কালের পুতুল
  3. যে আঁধার আলোর অধিক
  4. রাত ভরে বৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
যে আঁধার আলোর অধিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে আঁধার আলোর অধিক
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ - যে আঁধার আলোর অধিক
- এটি ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয়।

বুদ্ধদেব বসু:
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশ দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগ্ননাথ হলের ছাত্র অবস্থায় তিনি 'বাসন্তিকা' পত্রিকা প্রকাশের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ঢাকা থেকে 'প্রগতি' (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়। 
- 'তপস্বী ও তরঙ্গিণী' নাটকের জন্য তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।
- ১৯৭০ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত করে।
- এছাড়া 'স্বাগত বিদায়' কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ (১৯৭৪) লাভ করেন।
- ১৯৭৪ সালের ১৮ মার্চ কলকাতায় মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- যে আঁধার আলোর অধিক,
- মরচেপড়া পেরেকের গান,
- একদিন চিরদিন,
- স্বাগত বিদায় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- হঠাৎ আলোর ঝলকানি,
- কালের পুতুল,
- সাহিত্যচর্চা,
- রবীন্দ্রনাথ: কথাসাহিত্য ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- মৌলিনাথ,
- রাত ভরে বৃষ্টি,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনের খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩১১.
'বাংলাদেশ' কবিতাটি কার লেখা?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. আনোয়ার পাশা
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তী:
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।

'বাংলাদেশ' কবিতা:
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বাংলাদেশ কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বিখ্যাত কবিতা ‘বাংলাদেশ’ অনিঃশেষ (১৯৭৬) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।
- কবিতাটি স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।
 
তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার,
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,৩১২.
'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র-
  1. রোহিনী, গোবিন্দলাল
  2. মনোরমা, হেমচন্দ্র
  3. আয়েশা, তিলোত্তমা
  4. কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ
সঠিক উত্তর:
রোহিনী, গোবিন্দলাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোহিনী, গোবিন্দলাল
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণকান্তের উইল:
- এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী রোহিনীকে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর।

অন্যদিকে,
- মনোরমা, হেমচন্দ্র মৃণালিনী উপন্যাসের চরিত্র।
- আয়েশা, তিলোত্তমা দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের চরিত্র।
- কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ  বিষবৃক্ষ উপন্যাসের চরিত্র।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:

- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৩১৩.
প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. পাঁক
  2. পুতুল ও প্রতিমা
  3. কুয়াশা
  4. মিছিল
সঠিক উত্তর:
পুতুল ও প্রতিমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুতুল ও প্রতিমা
ব্যাখ্যা

প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর, 
- বেনামী বন্দর, 
- পুতুল ও প্রতিমা
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- পাঁক
- কুয়াশা
- মিছিল
- উপনয়ন , 
- আগামীকাল, 
- প্রতিশোধ, 
- প্রতিধ্বনি ফেরে ইত্যাদি। 

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৩১৪.
'রচনার শিল্পগুণ' প্রবন্ধটি কে লিখেছেন?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'রচনার শিল্পগুণ' প্রবন্ধটি লিখেছেন। 

• ‘রচনার শিল্পগুণ’ প্রবন্ধ:  
- বঙ্কিমচন্দ্রের ভাষাবিষয়ক চিন্তা সম্পর্কিত একটি উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ ।
- রচনা কীভাবে শিল্পসম্মত হয়ে ওঠে সে সম্পর্কে লেখক তাঁর মতামত রেখেছেন ।
- রচনার দুটি প্রধান গুণ - অর্থব্যক্তি ও প্রাঞ্জলতা।
- লেখক রচনা করেন পাঠককে লক্ষ করে। পাঠকের জন্য অর্থব্যক্তি বা শব্দচয়ন এমন হতে হবে যা পাঠক বুঝতে পারেন।
- একইভাবে প্রাঞ্জলতা হচ্ছে - যা সহজে বোঝা যায়। রচনাটি পাঠক  বুঝতে পারলেই লেখকের রচনা সার্থক।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটির কাছাকাছি কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন।
-  ১৮৫৮ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন।
-  তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গ্রাজুয়েট। 
-  কর্মজীবনে তিনি প্রথম ভারতীয় ও বাঙালি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। 

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
উপন্যাস: 
- দুর্গেশনন্দিনী, 
- কপালকুন্ডলা,
- মৃণালিনী, 
- বিষবৃক্ষ, 
- কৃষ্ণকান্তের,
-  উইল,  
- আনন্দমঠ, 
- রাজসিংহ। 

রম্যরচনা: 
কমলাকান্তের দপ্তর। 

প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য, 
- বিজ্ঞানরহস্য, 
- বিবিধ প্রবন্ধ ,
- কৃষ্ণচরিত্র।

উৎস:
১) বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩১৫.
কোন পত্রিকায় "বুদ্ধি ও মুক্তির আন্দোলন" সম্পর্কিত লেখা প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ক) শিখা
  2. খ) সমকাল
  3. গ) মোহাম্মদী
  4. ঘ) সওগাত
সঠিক উত্তর:
ক) শিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শিখা
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে "বুদ্ধি ও মুক্তির আন্দোলন" এর পরিবর্তে "বুদ্ধির মুক্তির আন্দোলন" হবে। 
শিখা পত্রিকায় "বুদ্ধির মুক্তির আন্দোলন" সম্পর্কিত লেখা প্রথম প্রকাশিত হয়।

• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এ প্রতিষ্ঠানটির স্লোগান ছিলো - "জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।"
- মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মূলমন্ত্র ছিল 'বুদ্ধির মুক্তি'।
- বুদ্ধির মুক্তি বলতে তাঁরা বুঝাতেন অন্ধ সংস্কার ও শাস্ত্রানুগত্য থেকে মানুষের বিচারবুদ্ধিকে মুক্তি দান। সংগঠনটি যে নবজাগরণের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজকর্ম ও সাহিত্যচর্চায় ব্রতী হয়, তার মূলে ছিল তুর্কি জাতি প্রতিষ্ঠায় মুস্তফা কামাল পাশার উদ্যম, ভারতের নবজাগরণে বিভিন্ন মণিষীর প্রয়াস এবং মানবতার উদ্বোধনে সর্বকালের চিন্তাচেতনার সংযোগ।
- জ্ঞানের শিখা জ্বালাবার জন্য সংগঠনটি ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক। 
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩১৬.
'হরতাল' কার রচনা?
  1. সমর সেন
  2. সুকুমার রায়
  3. সোমেন চন্দ
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• ‘হরতাল’ কবি সুকান্তের একটি গদ্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে। কবি সুকান্ত ব্যক্তি জীবনে যেমন সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন তেমন চিন্তার ছাপ রয়েছে তার রচনায়। তার প্রায় সব লেখাতেই সাধারণ মানুষের কথা, দুঃখ-কষ্টের চিত্র উঠে এসেছে।

----------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘হরতাল’ সুকান্ত ভট্টাচার্য।
১৬,৩১৭.
‘বাংলাদেশ কথা কয়’ সম্পাদনা গ্রন্থটির সম্পাদক - 
  1. বেগম রোকেয়া
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ কথা কয়:
- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর 'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটি বাংলাদেশের কয়েকজন তরুণ ও প্রবীণ কথাশিল্পীর লেখা গল্পগুলো নিয়ে রচিত সম্পাদনা গ্রন্থ বা প্রামাণ্য চিত্র।
- সম্পাদনাটি নিছক যুদ্ধ-সাহিত্য নয়; বরং বাঙালি জাতীয়মানসের বর্তমান বিপ্লবী প্রতিরোধ চেতনার কয়েকটি রূপরেখা অঙ্কিত হয়েছে এই সম্পাদনায়।
- এত কাছের ঘটনা ও চরিত্র নিয়ে লেখা গল্প সকল সময় গল্প হয়ে ওঠে না। কখনো কখনো প্রামাণ্য চিত্র হয়ে ওঠে। সুতরাং কোনো পাঠক যদি এই গল্পগুলোর প্রত্যেকটিতে সার্থক গল্পের রস অথবা কুশলী হাতে সৃষ্ট চরিত্র ও ঘটনা-সন্নিবেশ খোঁজেন তাহলে নিরাশ হতেও পারেন।

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) ‘বাংলাদেশ কথা কয়’ সম্পাদনা।
১৬,৩১৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ট্রাজেডি নাটক 'কীর্তিবিলাস' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) তারাচরণ শিকদার
  2. খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. গ) হরপ্রসাদ রায়
  4. ঘ) যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

১৮৫২ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন' প্রকাশিত হয়।
নাটকটির রচয়িতা - তারাচরণ শিকদার। এটি একটি কমেডি নাটক।

১৮৫২ সালেই প্রকাশিত হয় প্রথম ট্রাজেডি নাটক। এর নাম - কীর্তিবিলাস
কীর্তিবিলাসের রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত।

১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় - বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি
এর নাম - কৃষ্ণকুমারী। রচয়িতা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

হরপ্রসাদ রায় রচিত গ্রন্থের নাম - পুরুষপরীক্ষা (১৮১৫)

উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

১৬,৩১৯.
'ফোক টেল্স অব ইষ্ট পাকিস্তান' গ্রন্থটি কোন রচনা থেকে অনূদীত হয়েছে?
  1. ক) নক্সী কাঁথার মাঠ
  2. খ) বাঙালীর হাসির গল্প
  3. গ) গ্রামের মায়া
  4. ঘ) সোজন বাদিয়ার ঘাট
সঠিক উত্তর:
খ) বাঙালীর হাসির গল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাঙালীর হাসির গল্প
ব্যাখ্যা
'ফোক টেল্স অব ইষ্ট পাকিস্তান' গ্রন্থটি জসীমউদ্দীন এর 'বাঙালীর হাসির গল্প' থেকে অনূদীত হয়েছে।

• ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। জসীমউদ্দীনের কবিত্ব শক্তির প্রকাশ ঘটে ছাত্রজীবনেই। তখন থেকেই তিনি তাঁর কবিতায় পল্লিপ্রকৃতি ও পল্লিজীবনের সহজ-সুন্দর রূপটি তুলে ধরেন। পল্লির মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর অস্তিত্ব যেন মিলেমিশে এক হয়ে গিয়েছিল।

- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবি হিসেবে এটি তাঁর এক অসামান্য সাফল্য।

• বাংলা কবিতার ধারায় জসীমউদ্দীনের স্থানটি বিশিষ্ট। তাঁর কবিতা অনাড়ম্বর কিন্তু রূপময়। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও লোকজীবন জসীমউদ্দীনের কবিতায় নতুন রূপ লাভ করেছে। বাংলাদেশের মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসিকান্না ও জীবন সংগ্রামের কাহিনীই তাঁর কবিতার প্রধান উপজীব্য।তাঁর কবিতায় দেশের মাটির সাক্ষাৎ উপলব্ধি ঘটে। এজন্য ‘পল্লীকবি’ হিসেবে তাঁর বিশেষ ও স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে। তাঁর গদ্য রচনাও বিশেষ আকর্ষণীয়; সরল, সরস, গভীর ও আন্তরিকতার স্পর্শে তা মন ছুঁয়ে যায়।

• তাঁর 'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যটি দি ফিল্ড অব এমব্রয়ডার্ড কুইল্ট এবং 'বাঙালীর হাসির গল্প'  গ্রন্থটি ফোক টেল্স অব ইষ্ট পাকিস্তান নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
১৬,৩২০.
'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. মমতাজউদদীন আহমদ
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সেলিম আল দীন
  4. আব্দুল্লাহ আল মামুন
সঠিক উত্তর:
মমতাজউদদীন আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মমতাজউদদীন আহমদ
ব্যাখ্যা

'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটক:
- 'কি চাহ শঙ্খচিল'- মমতাজউদদীন আহমদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
- ১৯৮৩-৮৪ সালে এসে 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকে মমতাজউদদীন আহমদ লিখলেন এক অনন্য প্রেম, স্বাধীনতা আর প্রতিবাদের কথা।
- যেখানে শঙ্খচিল আসলে হয়ে উঠলো সেই একাত্তরের শকুন।যে ছিল স্বাধীনতাকালীন সময়ের অশুভ শক্তি।
- যেখানে আমরা দেখি নাটকের প্রধান চরিত্র রৌশনারা হানাদারদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার আগেই সন্তানসম্ভবা হয়। আর লোভী স্বামী বীরাঙ্গনা স্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে হয় অর্থের মালিক।
- নাটকটির মাধ্যমে বোঝা যায় কতখানি আত্মত্যাগের বিনিময়ে এসেছে স্বাধীনতা, এসেছে বাংলার এই মুক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,৩২১.
‘আমলার মামলা’ শওকত ওসমান রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. নাটক 
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
নাটক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাটক 
ব্যাখ্যা

‘আমলার মামলা’ শওকত ওসমান রচিত নাটক।
- তার এই নাটকটি তৎকালীন সমাজব্যবস্থার একটি বাস্তব ও নির্মম প্রতিফলন।
-------------------------------------------
শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। 

• তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী;
- ক্রীতদাসের হাসি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:   
- জাহান্নাম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- আমলার মামলা;
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা;
- তস্কর লস্কর;
- কাঁকর মণি।

• শওকত ওসমান এর বিখ্যাত গল্প হল: জন্ম যদি তব বঙ্গে;
• আর তাঁর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস : আর্তনাদ।
--------------------------------------------------
• ‘আমলার মামলা’:
- শওকত ওসমানের বিখ্যাত নাটক ‘আমলার মামলা’।
- এই নাটকটি মূলত আমলাতন্ত্রের দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সাধারণ মানুষের শোষণের চিত্র তুলে ধরে।
- নাটকটিতে দেখানো হয়েছে—কীভাবে সরকারি আমলারা তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে নিপীড়ন করে এবং আইনি জটিলতার মাধ্যমে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করে।
- নাটকের কাহিনিতে একটি দরিদ্র পরিবারের পাঁচজন মেধাবী ছেলের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে। 
- বিশেষ করে বড় ছেলের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দারিদ্র্য ও আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতির কারণে ভেঙে যায়। 
- তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকলেও অর্থনৈতিক সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করে।
- ‘আমলার মামলা’ শুধু শোষণের কাহিনি নয়, বরং শোষণের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভ ও প্রতিবাদের কথাও বলে।
- নাটকে দেখা যায়, অন্যায়ের শিকার মানুষ ধীরে ধীরে সচেতন হয় এবং প্রতিবাদী হয়ে ওঠে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৬,৩২২.
'শিবু ও শম্ভু' কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. ছবি
  2. বিলাসী
  3. মামলার ফল
  4. মহেশ
সঠিক উত্তর:
মামলার ফল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মামলার ফল
ব্যাখ্যা
• 'মামলার ফল' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'মামলার ফল' গল্পে দুই ভাই শিবু ও শম্ভুর মধ্যে সম্পত্তির ভাগাভাগির মামলা এবং নিঃসন্তান সঙ্গামণির অপত্য স্নেহ শিশু গয়ারামকে কেন্দ্র করে কাহিনি বিকশিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
• 'ছবি' গল্পের ঘটনাস্থল ব্রহ্মদেশ। চিত্রকর বা-থিন এবং ধনীকন্যা মাশায়ের গভীর প্রেম এই গল্পের বিষয়বন্তু।
• ‘বিলাসী’ গল্পে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধাচরণ করা হয়েছে মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর বিয়ে সংঘটনের মাধ্যমে। গল্পের ন্যাড়া চরিত্র আসলে লেখক নিজেই।
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সার্থক ছােটগল্প ‘মহেশ'।গল্পের চরিত্রগুলো- গফুর, আমেনা, মহেশ, তর্করত্ন, জমিদার শিববাবু প্রমুখ। 

------------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত ছোটগল্পগুলো হলো:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি ছোটগল্প।

- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
- ছবি ইত্যাদি তারঁ সুখপাঠ্য বড়গল্প।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- অরক্ষণীয়া,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- নিষ্কৃতি,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩২৩.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী?
  1. ক) জীবনস্মৃতি
  2. খ) ছেলেবেলা
  3. গ) আত্মপরিচয়
  4. ঘ) সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
জীবনস্মৃতি, ছেলেবেলা ও আত্মপরিচয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৬,৩২৪.
'জাগো বাহে কোন্‌ঠে সবাই?' এই অবিস্মরণীয় আহ্বানটি কে করেছেন?
  1. তোরাব
  2. কুবের
  3. নূরলদীন
  4. কদম সারেং
সঠিক উত্তর:
নূরলদীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নূরলদীন
ব্যাখ্যা
• 'জাগো বাহে কোন্‌ঠে সবাই' বলে অবিস্মরণীয় আহ্বানটি দিয়েছিলো : নূরলদীন।
- সৈয়দ শামসুল হকের 'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যে এই উক্তিটি রয়েছে।

• 'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্য:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারা জীবন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৩২৫.
'সোনালী কাবিন' আল মাহমুদ রচিত- 
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থ:
- ‘সোনালী কাবিন’ হলো আল মাহমুদ রচিত একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থ, যা — ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালী কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেট অন্তর্ভুক্ত, যা একটি দীর্ঘ কবিতার রূপে পাঠকের সামনে আসে।
- এটি আল মাহমুদের প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।

• আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি  'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,৩২৬.
'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কী?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. গ্রামীণ জীবন
  3. স্বাধীনতা সংগ্রাম
  4. দুর্ভিক্ষ
সঠিক উত্তর:
স্বাধীনতা সংগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বাধীনতা সংগ্রাম
ব্যাখ্যা
'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৩২৭.
তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ অবলম্বনে রচিত কায়কোবাদের কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) শিবমন্দির
  2. খ) মহাশ্মশান
  3. গ) অমিয়ধারা
  4. ঘ) শ্মশান-ভস্ম
সঠিক উত্তর:
খ) মহাশ্মশান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
 
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অশ্রুমালা।
- মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত)।
- শিবমন্দির।
- অমিয়ধারা।
- শ্মশান-ভস্ম।
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩২৮.
‘রমা’ চরিত্রটি কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
  1. ক) পল্লী সমাজ
  2. খ) শ্রীকান্ত
  3. গ) পরিণীতা
  4. ঘ) গৃহদাহ
সঠিক উত্তর:
ক) পল্লী সমাজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) পল্লী সমাজ
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত পল্লী সমাজ উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হলো- রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম ইত্যাদি।
উপন্যাসটি রমা নামে নাট্যায়িত হয়।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
১৬,৩২৯.
‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয় কাকে?
  1. মালাধর বসু
  2. বিদ্যাপতি
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর
  4. রামপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন  পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৩৩০.
'পথের দাবী' উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. কিরণময়ী
  2. সব্যসাচী
  3. অচলা
  4. বিজয়া
সঠিক উত্তর:
সব্যসাচী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সব্যসাচী
ব্যাখ্যা

'পথের দাবী' উপন্যাস:
- পথের দাবী (১৯২৬) একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। কাহিনীর পটভূমি ব্রহ্মদেশ। 
- এক গুপ্ত দলের নায়ক 'সব্যসাচী' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। 
- কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রসবিহারীবসুর ছায়াপাত ঘটেছে।  
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। 
- বঙ্গবানী পত্রিকার ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবি' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
- চরিত্রহীন -- সতীশ, সাবিত্রী, দিবাকর, কিরণময়ী
- গৃহদাহ -- অচলা, মহিম, সুরেশ।
- দত্তা -- বিজয়া, নরেন, রাসবিহারী, বনমালী।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৩৩১.
'নদী ও মানুষের কবিতা' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. সানাউল হক
  2. সমর সেন
  3. সিকান্‌দার আবু জাফর
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
সানাউল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সানাউল হক
ব্যাখ্যা
• 'নদী ও মানুষের কবিতা' গ্রন্থটির রচয়িতা- 'সানাউল হক'। 

• সানাউল হক:
- কবি, অনুবাদক, সংস্কৃতিকর্মী, সংগঠক, শিক্ষাবিদ হিসেবে খ্যাতি কুঁড়ান।
- ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার চাউরা গ্রামে ১৯২৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সানাউল হকের প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী ও মানুষের কবিতা।
- সম্ভবা অনন্য।
- সূর্য অন্যতর।
- বিচূর্ণ আর্শিতে।
- একটি ইচ্ছা সহস্র পালে।
- কাল সমকাল প্রভৃতি।
- পদ্মিনী শঙ্খিনী।
- প্রবাসে যখন।
- বিরাশির কবিতা।
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩৩২.
"চেষ্টায় সুসিদ্ধ করে জীবনের আশা।" - বাক্যটি কে রচনা করেন?
  1. মদনমোহন তর্কালঙ্কার 
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত 
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত 
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• ‘চেষ্টায় সুসিদ্ধ করে জীবনের আশা’ - লাইনটি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত রচিত ‘মানুষ কে?’ কবিতার অন্তর্গত।
-------------
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
• তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

মানুষ কবিতার কিছু অংশ-

মানুষ কে?
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত

চেষ্টা যত্ন অনুরাগ মনের বান্ধব।
আলস্য তাদের কাছে রণে পরাভব।।
ভক্তিমতে কুশলগণে আয় আয় ডাকে।।
পরিশ্রম প্রতিজ্ঞার সঙ্গে সঙ্গে থাকে।
চেষ্টায় সুসিদ্ধ করে জীবনের আশা।
যতনে হৃদয়েতে সমুদয় বাসা।।
স্মরণ স্মরণ মাত্রে আজ্ঞাকারী যার।
মানুষ তারেই বলি মানুষ কে আর?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া; ‘মানুষ কে‘ কবিতা।

১৬,৩৩৩.
কোনটি আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত প্রথম উপন্যাস?
  1. পরিত্যক্ত স্বামী
  2. রৌদ্র করোটিতে
  3. নিজ বাসভূমে
  4. আমি অনাহারী
সঠিক উত্তর:
পরিত্যক্ত স্বামী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরিত্যক্ত স্বামী
ব্যাখ্যা
⇒ আবু জাফর শামসুদ্দীন:
• আবু জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১-১৯৮৮): সাংবাদিক, সাহিত্যিক। ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
• উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
•  তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘পরিত্যক্ত স্বামী’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
• উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- প্রপঞ্চ,
- পরিত্যক্ত স্বামী,
- দেয়াল।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা, 
- ল্যাংড়ী। 

• প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics, 
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।

• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ:
- শিল্পীর সাধনা ও
- পার্ল বাকের সেরা গল্প।

অন্যদিকে,
- রৌদ্র করোটিতে, নিজ বাসভূমে ও আমি অনাহারী শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাইভ এমসিকিউ লেকচার; বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩৩৪.
'গাভী বিত্তান্ত' কে লিখেছেন?
  1. আনিসুজ্জামান
  2. আহমদ ছফা
  3. ইবরাহীম খাঁ
  4. এস ওয়াজেদ আলি
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
• 'গাভী বিত্তান্ত':
- আহমদ ছফা রচিত 'গাভী বিত্তান্ত' বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গাত্মক উপন্যাসগুলোর একটি।
- এই উপন্যাসটি রচিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতি ও তার প্রভাবের প্রেক্ষাপটে।
- আশির দশকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবদুল মান্নানের গর্ভবতী গাভী ছাত্রদের গোলাগুলির মাঝে নিহত হওয়ার সত্য ঘটনাকে উপজীব্য করেই আহমদ ছফা রচনা করেন 'গাভী বিত্তান্ত'।
- আহমদ ছফার ‘গাভী বিত্তান্ত’ (১৯৯৫) উপন্যাসের মূল কেন্দ্র একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং মূল চরিত্র সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত ভিসি মিঞা মোহাম্মদ আবু জুনায়েদ।

আহমদ ছফা:

- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র তিন সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

আহমদ ছফার শিশুতোষ রচনা:
- দোলো আমার কনকচাঁপা,
- গো হাকিম ইত্যাদি।

কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর
১৬,৩৩৫.
'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা সম্পাদনা করেন -
  1. ডেভিড হেয়ার
  2. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  3. উইলিয়াম কেরি​
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
জন ক্লার্ক মার্শম্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জন ক্লার্ক মার্শম্যান
ব্যাখ্যা
'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র- 'সমাচার দর্পণ'।
- ১৮১৮ সালের মে মাসে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পণ্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩৩৬.
নিচের কোনটি শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে
  2. বিধ্বস্ত নীলিমা
  3. প্রতিদিন গৃহহীন ঘরে
  4. সবকটি কাব্যগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
প্রতিদিন গৃহহীন ঘরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিদিন গৃহহীন ঘরে
ব্যাখ্যা

• শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থের নাম হলো — “প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে”।
 “প্রতিদিন গৃহহীন ঘরে” নামে তাঁর কোনো কাব্য নেই।

“ঘরহীন” শব্দটাই সঠিক, কারণ এটি শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থের মূল শিরোনাম। “গৃহহীন” শব্দটা ব্যবহার করলে নামটি ভুল হয়ে যাবে।

অন্যদিকে,
শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে;
- বিধ্বস্ত নীলিমা।
---------------------
শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৩৩৭.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থ কোনটি?
  1. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  2. ব্যাকরণ কৌমুদী
  3. ব্যাকরণ মঞ্জরী
  4. ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ কৌমুদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকরণ কৌমুদী
ব্যাখ্যা

•  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গদ্যগ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ’গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ গ্রন্থের রচয়িতা- রাজা রামমোহন রায়।
- ’ব্যাকরণ মঞ্জরী’ গ্রন্থের রচয়িতা- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক ।
- ’ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ’ গ্রন্থের রচয়িতা- সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,৩৩৮.
ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন-
  1. সমর সেন
  2. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. সোমেন চন্দ
  4. শহীদ কাদরী
সঠিক উত্তর:
সোমেন চন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
• সোমেন চন্দ:
- তিনি ছিলেন মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ। তাঁর পূর্ণ নাম সোমেন্দ্র কুমার চন্দ।
- তিনি ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর বিখ্যাত ছোটগল্প 'ইঁদুর' পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ জানিয়েছেন, 'ইঁদুর' গল্প পড়েই তিনি কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা লাভ করেন।
- তিনি ৮ই মার্চ, ১৯৪২ সালে ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে নিহত হন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- সংকেত ও অন্যান্য গল্প,
- বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প,
- সোমেন চন্দের গল্পগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩৩৯.
কোনটি হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস?
  1. সাবিত্রী উপাখ্যান
  2. নামহীন গোত্রহীন
  3. সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য
  4. জীবন ঘষে আগুন
সঠিক উত্তর:
সাবিত্রী উপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাবিত্রী উপাখ্যান
ব্যাখ্যা

• 'সাবিত্রী উপাখ্যান' উপন্যাস:
- হাসান আজিজুল হকের উপন্যাস 'সাবিত্রী উপাখ্যান' প্রকাশ পায় তাঁর উপন্যাস 'আগুন পাখি'র (২০০৬) সাত বছর পর ২০১৩ সালে।
- বিশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সমাজমনস্ক উপন্যাস এটি। উপন্যাসটি একটি সত্য ঘটনা অবলম্বন করে লেখা।

---------------------
তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- জীবন ঘষে আগুন,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো,
- মা-মেয়ের সংসার,
- নির্বাচিত গল্প,
- রাঢ়বঙ্গের গল্প।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বৃত্তায়ন,
- শিউলি,
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কথাসাহিত্যের কথকতা,
- অপ্রকাশের ভার,
- অতলের আঁধি,
- ছড়ানো ছিটানো,
- কথা লেখা কথা।

তাঁর রচিত সম্পাদনা:
- জি.সি. দেব রচনাবলী,
- অসীমান্তিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'আগুনপাখি' উপন্যাস, হাসান আজিজুল হক।

১৬,৩৪০.
‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’— কবিতাটি কার লেখা?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. আহসান হাবীব
  3. মাহবুব উল আলম চৌধুরী
  4. গোলাম মোস্তফা
সঠিক উত্তর:
মাহবুব উল আলম চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাহবুব উল আলম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি': 
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী গুলি চালিয়ে হত্যা করে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে মিছিলরত তরুণদের।
- সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।
- মাহবুব উল আলম চৌধুরী অসুস্থ শরীরে রাত জেগে তিনি লিখলেন আগুনঝরা কবিতা: ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে প্রতিবাদ সভায় সে কবিতা পড়লেন তাঁরই সতীর্থ চৌধুরী হারুণ-উর-রশীদ।
- পাকিস্তান সরকার সে কবিতা বাজেয়াপ্ত করে।
- ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ একুশের প্রথম কবিতা।

'কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি'- কবিতা, 
মাহবুব উল আলম চৌধুরী। 

ওরা চল্লিশজন কিংবা আরো বেশি
যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে—রমনার রৌদ্রদগ্ধ কৃষ্ণচূড়ার গাছের তলায়
ভাষার জন্য, মাতৃভাষার জন্য—বাংলার জন্য।
যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে
একটি দেশের মহান সংস্কৃতির মর্যাদার জন্য
আলাওলের ঐতিহ্য
কায়কোবাদ, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের
সাহিত্য ও কবিতার জন্য।

উৎস: প্রথম আলো, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৩৪১.
তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার
জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার। - এই পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার
জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার। - এই পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর'। পঙ্‌ক্তিগুলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মানসী' কাব্যগ্রন্থের 'অনন্ত প্রেম' কবিতার অন্তর্গত।

অনন্ত প্রেম
  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার
জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার।
চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয়
গাঁথিয়াছে গীতহার,
কত রূপ ধরে পরেছ গলায়,
নিয়েছ সে উপহার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার

উৎস: 'অনন্ত প্রেম' কবিতা।
১৬,৩৪২.
'নূরলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্যের বিষয়বস্তু কী?
  1. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
  2. কৃষক বিদ্রোহ
  3. দেশ বিভাগ
  4. সাঁওতাল বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
কৃষক বিদ্রোহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষক বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
• নূরলদীনের সারাজীবন:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারা জীবন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরুলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নুরুলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।
-------------------
• সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুপম দিন,
- খেলারাম খেলে যা,
- নীল দংশন,
- স্তব্ধতার অনুবাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩৪৩.
‘শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য’ -প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল মনসুর
  2. খ) কাজী ইমদাদুল হক
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) আহমদ ছফা
সঠিক উত্তর:
ঘ) আহমদ ছফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা রচিত প্রবন্ধ হলোঃ জাগ্রত বাংলাদেশ, শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য, সেই সব লেখা, উপলক্ষের লেখা, রাজনীতির লেখা, বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস, বাংলাদেশের রাজনৈতিক জটিলতা। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১৬,৩৪৪.
'শ্রীমতী রাধামণি দেবী' - এটি কার ছদ্মনাম?
  1. প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
  2. অনুরূপা দেবী
  3. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের এর ছদ্মনাম - শ্রীমতী রাধামণি দেবী।

অন্যদিকে,
অনুরূপা দেবীর ছদ্মনাম - অনুপমা দেবী।
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - অনিলা দেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৩৪৫.
"প্রহরশেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্রমাস, তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ"- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথের কোন উপন্যাসে উধৃত হয়েছে?
  1. চার অধ্যায়
  2. চোখের বালি
  3. চতুরঙ্গ
  4. গোরা
সঠিক উত্তর:
চার অধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার অধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'চার অধ্যায়' উপন্যাস:
- 'চার অধ্যায়' একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব-প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিলো, 'চার-অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে।
- 'চার অধ্যায়' কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের 'রবিরার' গল্পের সম্পর্ক রয়েছে।

- সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই উপন্যাসটি রচিত। উপন্যাসের চরিত্রে ইন্দ্রনাথ সন্ত্রাসবাদীদের নেতা। তিনি একদিকে অতিমানবিক অন্যদিকে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য। ইন্দ্রনাথ এর নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মূখ্য কাহিনি।

- সমকালীন বিপ্লবপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূলসুর। গ্রন্থটি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বন্দীদের প্রতি উৎসর্গ করেন।

- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য উক্তি- "প্রহরশেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্রমাস, তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ"। 

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অতীন,
- এলা,
- ইন্দ্রনাথ।

অন্যদিকে,
• 'চোখের বালি' বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি সামাজিক উপন্যাস। ১৯০১-০২ সালে নবপর্যায় বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। ১৯০৩ সালে বই আকারে প্রকাশিত হয়।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস- চতুরঙ্গ (১৯১৬)। এটি সাধু ভাষায় লিখিত রবীন্দ্রনাথের সর্বশেষ উপন্যাস।
• গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস। ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।

উৎস: 'চার অধ্যায়' উপন্যাস; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৩৪৬.
কোনটি সেলিম আল দীন রচিত উপন্যাস?
  1. জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
  2. হরগজ
  3. অমৃত উপাখ্যান
  4. বনপাংশুল
সঠিক উত্তর:
অমৃত উপাখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমৃত উপাখ্যান
ব্যাখ্যা
• সেলিম আল দীন রচিত উপন্যাস- অমৃত উপাখ্যান।
- এটি ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়।

-----------------
• সেলিম আল দীন:
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার।
- মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর বাংলাদেশে তিনি অন্যান্যদের সঙ্গে গঠন করেন ঢাকা থিয়েটার ও বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- কবি ও তিমি। 

উপন্যাস:
- অমৃত উপাখ্যান। 

নাটক:
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, 
- তিনটি মঞ্চ নাটক: মুনতাসীর ফ্যান্টাসি, শকুন্তলা ও কিত্তনখোলা,
- কেরামতমঙ্গল, 
- প্রাচ্য, 
- কিত্তনখোলা, 
- হাতহদাই, 
- যৈবতী কন্যার মন, 
- চাকা, 
- হরগজ, 
- একটি মারমা রূপকথা। 
- বনপাংশুল,
- স্বর্ণবোয়াল, 
- পুত্র ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩৪৭.
একই সনে জন্মগ্রহণ করেছেন কোন দুই নাট্যকার?
  1. মীর মশাররফ হোসেন ও মুনীর চৌধুরী
  2. সেলিম আল দীন ও মামুনুর রশীদ
  3. নুরুল মোমেন ও বিজন ভট্টাচার্য
  4. সাঈদ আহমদ ও আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
নুরুল মোমেন ও বিজন ভট্টাচার্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নুরুল মোমেন ও বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• নাট্যকার নুরুল মোমেন ও বিজন ভট্টাচার্য একই সনে জন্মগ্রহণ করেছেন।

• নুরুল মোমেন:

- নুরুল মোমেন ছিলেন শিক্ষাবিদ ও নাট্যকার।
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক ‘রূপান্তর’ ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। তিনি নিজে নাটকটি পরিচালনা করেন। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'। ১৯৪৮ সালে ‘বহুরূপা’ নামক রম্যরচনাটি প্রকাশিত হয়।

----------------------------
• বিজন ভট্টাচার্য:

- বিজন ভট্টাচার্য ছিলেন নাট্যকার ও অভিনেতা।
- ১৯০৬ সালে ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- নবনাট্য আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক বিজন ভট্টাচার্য গণজীবনের সংগ্রাম ও দুঃখ-দুর্দশা, শোষণ-বঞ্চনা, প্রগতিশীল চিন্তা ও সমাজবোধ নিয়ে নাটক রচনা করে এবং এ ক্ষেত্রে তিনি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- তবে তাঁর শেষজীবনে রচিত নাটকে মার্কসীয় দর্শন, হিন্দু ধর্ম ও দর্শন সংমিশ্রিত হয়েছে।
- তিনিই প্রথম বাংলা রঙ্গমঞ্চকে পুরাণ ও ইতিহাসের রোম্যান্টিক প্রভাব থেকে মুক্ত করেন।

• তাঁর প্রথম নাটক আগুন (১৯৪৩) নাট্যভারতীতে অভিনীত হয়। পরে তিনি রচনা করেন জবানবন্দী (১৯৪৩); এটি কৃষকজীবনের আলেখ্য।
• তাঁর প্রতিভার সার্থকতম নিদর্শন হলো নবান্ন (১৯৪৪) নাটক; বন্যা, দুর্ভিক্ষ ও মহামারীর পটভূমিকায় রচিত এই নাটকে দুঃস্থ-নিপীড়িত কৃষকজীবন প্রতিফলিত হয়েছে। গণনাট্য সংঘের প্রযোজনায় নবান্ন নাটকে তিনি নিজে অভিনয় করেন এবং অন্য অভিনেতা-অভিনেত্রীরা ছিলেন তৃপ্তি মিত্র, শম্ভু মিত্র, গঙ্গাপদ বসু, শোভা সেন, গোপাল হালদার প্রমুখ।

--------------------
অন্যদিকে,
- মীর মশাররফ হোসেন ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় জন্মগ্রহন করেন।
- মুনীর চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহন করেন।
- সেলিম আল দীন ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সাঈদ আহমদ জন্ম পুরানো ঢাকার ইসলামপুরে ১ জানুয়ারি ১৯৩১ সালে।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ ১৯৩২ সালের ৬ মে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩৪৮.
কবি গোলাম মোস্তফা পাকিস্তান সরকার কর্তৃক কোন উপাধিতে ভূষিত হন?
  1. ক) সিতার-ই-ইমতিয়াজ
  2. খ) কাব্যসুধাকর
  3. গ) কবিরঞ্জণ
  4. ঘ) সিতারা-ই-খিদমত
সঠিক উত্তর:
ক) সিতার-ই-ইমতিয়াজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সিতার-ই-ইমতিয়াজ
ব্যাখ্যা
কবি গোলাম মোস্তফা ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতার-ই-ইমতিয়াজ' উপাধিতে ভূষিত হন। 
এছাড়া তিনি ১৯৫২ সালে সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ উপাধিতে ভূষিত হন। 

তিনি গীতিকার ও গায়ক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
- তাঁর গানের বিষয় ছিল ইসলামি সংস্কৃতি ও দেশপ্রেম।
- পাকিস্তান আন্দোলনের পটভূমিকায় বহু ইসলামি ও দেশাত্মবোধক গান তিনি রচনা করেন।
- তাঁর রচিত কয়েকটি দেশাত্মবোধক গান খুব জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল।
- তাঁর নিজের সুরারোপিত কয়েকটি গানের রেকর্ডও পাওয়া যায়।
- তার মধ্যে আববাসউদ্দীনের সঙ্গে গাওয়া রেকর্ডও রয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩৪৯.
নিচের কোন গ্রন্থটি উপন্যাস?
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. শেষ লেখা
  3. জীবনস্মৃতি
  4. চিলেকোঠার সেপাই
সঠিক উত্তর:
চিলেকোঠার সেপাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসটি 'উনসত্তরের গগণঅভ্যুত্থান' প্রেক্ষাপটে রচিত। 

• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস: 
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে। 

অন্যদিকে, 
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ- 'শেষ লেখা'। 
• 'জীবনস্মৃতি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩৫০.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসের প্রধান চরিত্রের নাম কী?
  1. সুদীপ্ত শাহীন
  2. কবি রসুল
  3. ওসমান
  4. হাশেম
সঠিক উত্তর:
ওসমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওসমান
ব্যাখ্যা
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম: 'ওসমান'। 

• চিলেকোঠার সেপাই:
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি অঙ্কিত হয়েছে। 

• উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র:
- আনোয়ার,
- আলাউদ্দিন,
- আলতাফ,
- হাড্ডি খিজির,
- রানু প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া ও চিলেকোঠার সেপাই উপন্যাস।
১৬,৩৫১.
'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'- উক্তিটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. বাঁধনহারা 
  2. অগ্নিবীণা 
  3. ঝিলিমিলি 
  4. কুহেলিকা
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
ব্যাখ্যা

• 'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্র:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,৩৫২.
কোন কবির উপাধি 'কবিশেখর'?
  1. কামিনী রায়
  2. পঞ্চানন কর্মকার
  3. ফররুখ আহমদ
  4. কালিদাস রায়
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
কালিদাস রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালিদাস রায়
ব্যাখ্যা
কালিদাস রায়:
- রবীন্দ্রানুসারী কবিশেখর কালিদাস রায় ছিলেন একজন কবি ও সমালোচক।
- কালিদাস ‘রসচক্র’ নামে একটি সাহিত্য সংসদ প্রতিষ্ঠা করেন এবং রবীন্দ্র-ভাবধারায় উজ্জীবিত হয়ে তিনি কাব্যচর্চা শুরু করেন।
- রোমান্টিকতা, প্রেম, পল্লিজীবন, সমাজ, ঐতিহ্যপ্রীতি এবং বৈষ্ণবভাব তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়।
- তাঁর মোট কাব্যগ্রন্থ ১৯টি, তন্মধ্যে কুন্দ (১৯০৭) তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্য।
- ‘বেতালভট্ট’ ছদ্মনামে রচিত তাঁর রম্যরচনাগুলি পাঠকসমাজে খুবই সমাদৃত হয়েছে।
- তাকে ১৯২০ সালে রংপুর সাহিত্য পরিষদ 'কবিশেখর' উপাধি প্রদান করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- পর্ণপুট,
- ঋতুমঙ্গল,
- রসকদম,
- চিত্তচিতা ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩৫৩.
বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত কিশোর পত্রিকা কোনটি?
  1. ক) সন্দেশ
  2. খ) আঙুর
  3. গ) উত্তরাধিকার
  4. ঘ) ধানশালিকের দেশ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধানশালিকের দেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ধানশালিকের দেশ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমী থেকে বর্তমানে ছয়টি পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে।
এগুলো হলো:
- বাংলা একাডেমি পত্রিকা (গবেষণামূলক ত্রৈমাসিক)
- উত্তরাধিকার (মাসিক সাহিত্য পত্রিকা)
- ধানশালিকের দেশ (ত্রৈমাসিক কিশোর পত্রিকা)
- বাংলা একাডেমি বিজ্ঞান পত্রিকা (বিজ্ঞান বিষয়ক ষাণ্মাসিক)
- বাংলা একাডেমি জার্নাল (ইংরেজি ষাণ্মাসিক পত্রিকা)
- বার্তা (অনিয়মিত পত্রিকা)।

উৎস: বাংলা একাডেমী ওয়েবসাইট
১৬,৩৫৪.
বেগম রোকেয়ার রচনা কোনটি?
  1. অবরোধবাসিনী
  2. পদ্মা নদীর মাঝি
  3. ইউসুফ জুলেখা
  4. জননী
সঠিক উত্তর:
অবরোধবাসিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অবরোধবাসিনী
ব্যাখ্যা
রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন: 
- সাহিত্যিক, শিক্ষাব্রতী, সমাজসংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অন্তর্গত পায়রাবন্দ ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বিয়ের পরে তাঁর নাম হয় রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন।
- তবে তিনি বেগম রোকেয়া নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন।
- ১৯০৯ সালের ১ অক্টোবর স্বামীর প্রদত্ত অর্থে পাঁচটি ছাত্রী নিয়ে তিনি ভাগলপুরে ‘সাখাওয়াৎ মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল' স্থাপন করেন। 
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে: 

• মতিচূর;
• Sultana’s Dream;  
অবরোধবাসিনী;
•পদ্মরাগ (উপন্যাস) প্রভৃতি।

- মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং আলোর দিশারী হিসেবে পরিচিত। 
- ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

অন্যান্য অপশন: 
- 'পদ্মা নদীর মাঝি ও জননী' উপন্যাস দুটি বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা। 
- বাংলা রোমান্টিক কাব্য ইউসুফ-জুলেখা রচনা করেন  শাহ মুহম্মদ সগীর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩৫৫.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত ছিলেন না কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. তারাচরণ শিকদার
  3. রাজীবলোচন
  4. চণ্ডীচরণ মুনশী
সঠিক উত্তর:
তারাচরণ শিকদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাচরণ শিকদার
ব্যাখ্যা
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত ছিলেন না- তারাচরণ শিকদার। 
- তারাচরণ শিকদার একজন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও নাট্যকার। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক ভদ্রার্জুন (১৮৫২) এর রচয়িতা।

--------------------------
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলোচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩৫৬.
'পালামৌ' ভ্রমণ কাহিনীর রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুজ্জামান খান
  2. খ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
খ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'পালামৌ' ভ্রমণ কাহিনীর রচয়িতা- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। যাত্রা, বৈজিকতত্ত্ব, বাল্যবিবাহ, সৎকার, বৃত্রসংহার ইত্যাদি তাঁর রচিত প্রবন্ধ। কণ্ঠমালা, মাধবীলতা, জালপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৬,৩৫৭.
নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ কোনটি?
  1. কি চাহ শঙ্খচিল
  2. যে অরণ্যে আলো নেই
  3. বিশ শতকের মেয়ে
  4. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
সঠিক উত্তর:
আমি বীরাঙ্গনা বলছি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি বীরাঙ্গনা বলছি
ব্যাখ্যা

আমি বীরাঙ্গনা বলছি:
- ১৯৯৫ সালে এই গবেষণাগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'।
- এটি যুদ্ধাহত ও নির্যাতিত কয়েকজন বীরাঙ্গনার সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা জীবন ইতিহাস।
- তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা ও মীনার দুঃখ কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে এই গ্রন্থে।
- তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনি কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি।

অন্যদিকে, 
- 'কি চাহ শঙ্খচিল'- মমতাজউদদীন আহমদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
- 'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহীমের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত একটি নাটক।
- 'বিশ শতকের মেয়ে' (১৯৫৮) ড. নীলিমা ইব্রাহিম রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৬,৩৫৮.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক-
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. ওরা কদমআলী
  3. মহাশ্মশান
  4. পাথর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক- 'রক্তাক্ত প্রান্তর'। 

• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নিয়ে কিছু কথা: 
- মুনীর চৌধুরীর উল্লেখযোগ্য নাটক ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ ১৭৬১ সালের পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- নাটকটি কায়কোবাদের ‘মহাশ্মশান’ কাব্য থেকে অনুপ্রাণিত।
- এই নাটকে তিনি যুদ্ধবিরোধী চেতনা, সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে মানবিক প্রেম এবং যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরেছেন।
- নাটকের মূল বার্তা হলো—যুদ্ধ কখনো প্রকৃত বিজয় আনে না;
- বরং এটি মানবজীবনের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি।
-------------------------------------- 
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবী।
- তিনি তৎকালীন ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জ শহরে ২৭ নভেম্বর ১৯২৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তিনি পাকিস্তান সরকারের হাতে বন্দী হন।
- কারাগারে থাকাকালীনই তাঁর বিখ্যাত নাটক ‘কবর’ (১৯৫৩) রচনা করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী আল-বদর বাহিনী তাঁকে তাঁর বাড়ি থেকে অপহরণ করে এবং সেদিনই তাঁকে হত্যা করা হয়।

• মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য। 
-----------------------
অন্যদিকে, 
- ওরা কদমআলী ও পাথর হচ্ছে মামুনুর রশীদ নির্মিত নাটক।
- মহাশ্মশান হচ্ছে কায়কোবাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১৬,৩৫৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'চোখের বালি' উপন্যাসের চরিত্র হলো-
  1. মহেন্দ্র, আশালতা
  2. অমিত, লাবণ্য
  3. সরলা, মহেন্দ্র
  4. কুমুদিনী, বিনোদিনী
সঠিক উত্তর:
মহেন্দ্র, আশালতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহেন্দ্র, আশালতা
ব্যাখ্যা
⇒ 'চোখের বালি'  উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন।
- এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র - বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্র’র স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

অন্যদিকে,
- 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের চরিত্র = অমিত, লাবণ্য, কেতকী প্রমুখ। 
- 'মালঞ্চ' উপন্যাসের চরিত্র = নীরজা, আদিত্য, সরলা প্রমুখ। 
- 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র = কুমুদিনী, মধুসূদন প্রমুখ।

উৎস:  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও চোখের বালি উপন্যাস।
১৬,৩৬০.
'সারা দুপুর' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ক) আবুল হোসেন
  2. খ) আহসান হাবীব
  3. গ) কাজী আবদুল ওদুদ
  4. ঘ) এস ওয়াজেদ আলী
সঠিক উত্তর:
খ) আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা

আহসান হাবীব : কবি ও সাংবাদিক।

কাব্যগ্রন্থ :
- ছায়া হরিণ (১৯৬২),
- সারা দুপুর (১৯৬৪),
- আশায় বসতি (১৩৮১),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবাে (১৯৭৬),
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর (১৯৮০),
- প্রেমের কবিতা (১৯৮১),
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ (১৯৮৫)।

উপন্যাস :
- অরণ্যে নীলিমা (১৯৬২),
- রানী খালের সাঁকো (১৯৬৫)।

শিশুতােষ গ্রন্থ :
- ছােটদের পাকিস্তান (১৯৫৪),
- বৃষ্টিপড়ে টাপুর টুপুর (১৯৭৭),
- ছুটির দিন দুপুরে (১৯৭৮)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১৬,৩৬১.
‘জীবনক্ষুধা’ উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা

আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯) সত্যমিথ্যা, জীবনক্ষুধা ও আবে হায়াত উপন্যাস ত্রয়ের রচয়িতা।
- তিনি পাকিস্তান আন্দোলন বিশেষত দেশভাগের পটভূমিতে ‘জীবনক্ষুধা’ উপন্যাস লিখেছেন। হালিম চরিত্রকে কেন্দ্র করে উপন্যাসের কাহিনী আবর্তিত।
তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না, ফুড কনফারেন্স, আসমানী পর্দা ইত্যাদি।

পক্ষান্তরে কাজী নজরুল ইসলাম রচিত মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাসে একদিকে মৃত্যু অন্যদিকে ক্ষুধার জ্বালা দেখানো হয়েছে।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৬,৩৬২.
‘আঁপণা মাংসে হরিণা বৈরী’ প্রবাদটির রচয়িতা কে?
  1. ক) শবরপা
  2. খ) কুক্কুরী পা
  3. গ) কাহ্নপা
  4. ঘ) ভুসুকু পা
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভুসুকু পা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভুসুকু পা
ব্যাখ্যা
‘আঁপণা মাংসে হরিণা বৈরী’- ভুসুকু পা রচিত চর্যাপদের ৬নং পদ।

চর্যাগীতি রচনার সংখ্যাধিক্যে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকু পা।
- তাঁর রচিত আটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে রচিত। 
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকু নামটিকে ছদ্মনাম বলে মনে করা হয়।
- তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।

তাঁর রচিত চর্যাপদের নমুনা-
"কাহৈরি ঘিনি মেলি অচ্ছহু কীস।
বেটিল ডাক পড়অ চৌদীস।।
আপণা মাংসে হরিণা বৈরী।
খনহ ন ছাড়অ ভুসুকু আহেরী।।" 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১৬,৩৬৩.
'অধ্যাপক রায়হান' কোন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের প্রধান চরিত্র?
  1. জলাঙ্গী
  2. যাত্রা
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. নেকড়ে অরণ্য
সঠিক উত্তর:
যাত্রা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যাত্রা
ব্যাখ্যা
'যাত্রা' উপন্যাস:
- শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস যাত্রা।
- এই উপন্যাসে যুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
- শুরুর প্রাক্কালে দলে দলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে। এ পলায়ন শুধু চেতনাগত নয়, মানসিকভাবেও পলায়ন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন।
- একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না- এ সংশয় ও দ্বিধায় শেষাবধি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।
- ১৯৭২ সালে রচিত হয় 'যাত্রা' উপন্যাসটি। তবে প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।
 
অন্যদিকে,
- শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - নেকড়ে অরণ্য, জলাঙ্গী, জাহান্নম হইতে বিদায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৩৬৪.
উইলিয়াম কেরির সহযোগিতায় সংস্কৃত 'রামায়ণ' অনুবাদ করেন কে?
  1. হেনরি ডিরোজিও
  2. জোশুয়া মার্শম্যান
  3. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  4. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
সঠিক উত্তর:
জোশুয়া মার্শম্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জোশুয়া মার্শম্যান
ব্যাখ্যা
• উইলিয়াম কেরির সহযোগিতায় সংস্কৃত 'রামায়ণ' অনুবাদ করেন - জোশুয়া মার্শম্যান

জোশুয়া মার্শম্যান:
- তিনি ১৭৬০ সালের ২০ এপ্রিল ওয়েস্টবেরিলি, উইলট শায়ার লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৭৯১ সালে তিনি যাজকতায় দীক্ষিত হন।
- ১৭৯৯ সালে তিনি মিশনারির কাজে ভারতের শ্রীরামপুরে আসেন। যোগদান করেন উইলিয়াম কেরির সাথে।
- তিনি উইলিয়াম কেরির সহযোগিতায় সংস্কৃত 'রামায়ণ' অনুবাদ করেন
- তিনি চীনা ভাষায় বাইবেল অনুবাদ করেন।
- তিনি যেসকল পত্রিকার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন -
→ সাপ্তাহিক সমাচার দর্পণ,
→ দিগদর্শন,
→ ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া।
- তিনি ১৮৩৭ সালের ৫ ডিসেম্বর মৃত্যবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৩৬৫.
কার সম্পাদনায় 'বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র' গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র:
হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৫ খণ্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) প্রকাশিত হয়। এটি তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

• বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়সীমা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সংগে সম্পর্কিত সারা বিশ্বে যা কিছু ঘটেছে তার তথ্য ও দলিলপত্র সংগ্রহ এবং সেসবের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস রচনা ও মুদ্রণের দায়িত্ব অর্পিত হয় মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাস লিখন ও মুদ্রণ প্রকল্পের ওপর। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই প্রকল্পটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর কাজ শুরু হয় ১৯৭৮ সালের জানুয়ারী থেকে (পরিশিষ্ট দ্রষ্টব্য)।

• গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস লিখন ও মুদ্রণ প্রকল্প গ্রহণ করে। ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা রক্ষা করা ও বিকৃতির আশঙ্কা এড়িয়ে যাবার জন্যই ইতিহাস রচনার পরিবর্তে দলিল ও তথ্য প্রকাশকেই অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়েছে। আর সে প্রকল্পের ফসলই “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র”।

• প্রায় ১৫,০০০ পৃষ্ঠায় ১৫ খণ্ডে এসব দলিলপত্র প্রণয়ন করে ১৯৮২ সালে তা প্রকাশ করা হয়। এই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত গবেষক ও সম্পাদকবৃন্দের আক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই দলিলপত্র গ্রন্থমালা।

উৎস: বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র। 
১৬,৩৬৬.
স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত নাটক কোনটি?
  1. দীপনির্বাণ
  2. মেবার রাজ
  3. বসন্ত উৎসব
  4. বিদ্রোহ
সঠিক উত্তর:
বসন্ত উৎসব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বসন্ত উৎসব
ব্যাখ্যা

স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত নাটক হচ্ছে বসন্ত উৎসব। 

স্বর্ণকুমারী দেবী
- স্বর্ণকুমারী দেবী হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভগ্নী।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ।
- দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন।
- প্রথম উপন্যাস: দীপনির্বাণ
- সেরা গ্রন্থ: কাহাকে (১৮৯৮), ইংরেজিতে অনূদিত: The Unfinished Song। 

উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি। 

কাব্যগ্রন্থ:
- গাঁথা,
- কবিতা ও গান। 

নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া। 

১৬,৩৬৭.
কাজী ইমদাদুল হক সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. উত্থানপর্ব
  2. জ্ঞানেরআলো
  3. শিক্ষক
  4. চতুরঙ্গ
সঠিক উত্তর:
শিক্ষক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষক
ব্যাখ্যা
• কাজী ইমদাদুল হক সম্পাদিত পত্রিকা ‘শিক্ষক’।
- পত্রিকাটি ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
- আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকা উত্থানপর্ব।
- বন্দে আলী মিয়া সম্পাদিত পত্রিকা জ্ঞানেরআলো।
- ‘চতুরঙ্গ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন হুমায়ুন কবির।

-------------------
• কাজী ইমদাদুল হক: 
- কাজী ইমদাদুল হক ১৮৮২ সালে খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।
- আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। 

 তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস: আবদুল্লাহ্।

• কাব্য:
- আঁখিজল ও
- লতিকা।

• প্রবন্ধ: প্রবন্ধমালা।
• শিশুতোষ গ্রন্থ: নবীকাহিনী 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৩৬৮.
”পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ।” - এই সংলাপ কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. মৃণালিনী
  2. চন্দ্রশেখর
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. কপালকুণ্ডলা
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা
• কপালকুণ্ডলা:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।
- ”পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ।” -  কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের এই সংলাপ, বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোম্যান্টিক সংলাপ।
- তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য বাক্য।
- গরিশচন্দ্র ঘোষ এই উপন্যাসের নাট্যরূপ দেন।
---------------------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৩৬৯.
'জীবনের শিল্প’ -প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) এস ওয়াজেদ আলী
  2. খ)  কাজী আবদুল ওদুদ
  3. গ) ইবরাহীম খাঁ
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
সঠিক উত্তর:
ক) এস ওয়াজেদ আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
এস ওয়াজেদ আলী: প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
লেখক হিসেবে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রম্যরচনা ও ভ্রমণকাহিনী রচনায় তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:

প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প (১৯৪১),
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য (১৯৪৩),
- ভবিষ্যতের বাঙালী (১৯৪৩),
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা (১৯৪৯),
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;
গল্প:
- গুলদাস্তা (১৯২৭),
- মাশুকের দরবার (১৯৩০),
- বাদশাহী গল্প (১৯৪৪),
- গল্পের মজলিশ (১৯৪৪);
উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর (১৯৪০);
ভ্রমণকাহিনী:
- পশ্চিম ভারত (১৯৪৮),
- মোটর যোগে রাঁচী সফর (১৯৪৯) প্রভৃতি।

[উৎসঃ বাংলাপিডিয়া]
১৬,৩৭০.
'বাঙলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতি' গ্রন্থটি কে রচনা করেছেন?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. বদরুদ্দীন উমর
  4. আবুল মনসুর আহমদ
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা

• বদরুদ্দীন উমর রচিত গ্রন্থ - বাঙলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতি।

• বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৩৭১.
মুনীর চৌধুরী রচিত অনুবাদ নাটক কোনটি?
  1. মুখরা রমণী বশীকরণ
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. চিঠি
  4. দণ্ডকারণ্য
সঠিক উত্তর:
মুখরা রমণী বশীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুখরা রমণী বশীকরণ
ব্যাখ্যা

'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটক:
- মুনীর চৌধুরী উইলিয়াম শেক্সপিয়রের The Taming of The Shrew (টেমিং অব দি শ্রু) অনুবাদ করেন 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নামে (১৯৭০)। এটি পাঁচ অঙ্ক বিশিষ্ট কমেডি।।
- পদুয়া নামক স্থানের এক ধনী ব্যাপ্তিস্তার দুই কন্যা ক্যাথেরিনা ও বিয়াঙ্কা। ক্যাথেরিনা খুবই মুখরা নারী, বিয়াঙ্কা সুন্দরী। ভেরোনা নামক স্থানের যুবক পেট্রশিও ক্যাথেরিনার দর্প চূর্ণ করে তার পাণিগ্রহণ করে।
- মুনীর চৌধুরী নিজেই বলেছেন: কাহিনিটি স্কুল। কিন্তু এতে যে হাস্যরস আছে তা সতেজ, সরস ও উপভোগ্য।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরী রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

মুনীর চৌধুরীর অন্যান্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১৬,৩৭২.
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপন্যাস 'অনিল বাগচীর একদিন' এর লেখক কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. জহির রায়হান
  4. সৈয়দ শামসুল হক
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
'অনিল বাগচীর একদিন' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপন্যাস 'অনিল বাগচীর একদিন' এর লেখক - হুমায়ূন আহমেদ।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাসের মধ্যে 'অনিল বাগচীর একদিন' বেশ ভিন্ন ধারার।
- এখানে যুদ্ধ নেই প্রত্যক্ষভাবে তবে আছে সততার ঋজু সৌধ, যা নির্মাণ করেছে অনিল নামের একটি সাদাসিধে ছেলে।
- পিতার হত্যা-সংবাদ ও বোনের অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ের খবর পেয়ে গ্রামে ফিরবে বলে অনিলের মধ্যে চাপা উত্তেজনা।
- সব মিলিয়ে উপন্যাসটি ভিন্ন আবেদন সৃষ্টি করে। পাকবাহিনীর সদস্যরা অনিলকে হত্যা করে।
- অনিল বাগচীর একদিন সমাপ্ত হয় চিরতরে কিন্তু বাংলাদেশে উদিত হয় স্বাধীনতার সূর্য।

হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার ও শিক্ষক।
- তিনি ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক বাড়ি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে।
- হুমায়ূন আহমেদ ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯৪ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপন্যাস:
- শ্যামল ছায়া,
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচীর একদিন,
- জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩৭৩.
'একখানি ছোট খেত আমি একেলা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কবিতার চরণ?
  1. সোনার তরী
  2. চিত্রা
  3. মানসী
  4. বলাকা
সঠিক উত্তর:
সোনার তরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সোনার তরী
ব্যাখ্যা
• একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা,
চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা। - কবিতার চরণটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সোনার তরী কবিতার অন্তর্গত।

• ‘সোনার তরী’ কাব্যগ্রন্থ:
- 'সোনার তরী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা।
- এ কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবন দর্শন।
- সোনার তরী 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত।
- এর অধিকাংশ পঙক্তি ৮+৫ মাত্রার পূর্ণপর্বে বিন্যস্ত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।

-----------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩৭৪.
'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' শহীদুল জহির রচিত-
  1. প্রবন্ধ
  2. গল্প
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' উপন্যাসের রচয়িতা- শহীদুল জহির।
- এটি একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

• শহীদুল জহির:
- ১৯৫৩ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম: মো. শহীদুল হক।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পারাপার
- ডুমুরখেকো
- মানুষ ও অন্যান্য গল্প
- ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প

• তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
- সে রাতে পূর্ণিমা ছিল 
- মুখের দিকে চেয়ে দেখি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৬,৩৭৫.
'অবরোধবাসিনী' গ্রন্থটি কার লেখা?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. বেগম রোকেয়া
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
‘অবরোধবাসিনী‘:
- রোকেয়ার একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। কতগুলি ঐতিহাসিক ও চাক্ষুষ সত্য ঘটনার হাসি-কান্না নিয়ে এই গ্রন্থের কাহিনি রচিত।
- নকশাধর্মী ছোট ছোট রচনাগুলির মধ্যে ফুটে উঠেছে অবরুদ্ধ নারীর মর্মান্তিক জীবনকথা।
- এই গ্রন্থে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, লক্ষ্মৌ, লাহোর, পাঞ্জাব, দিল্লি ও আলিগড়ের সম্ভ্রান্ত ও উচ্চবিত্ত মুসলিম পরিবারে পর্দার নামে অবরোধের অমানবিক ঘটনার ৪৭টি চিত্র তুলে ধরেছেন।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।

রোকেয়ার উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর,
- Sultana’s Dream,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী ।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৩৭৬.
মুনীর চৌধুরীর পৈতৃক নিবাস কোন জেলায়?
  1. ঢাকা
  2. খুলনা
  3. বরিশাল
  4. নোয়াখালী
সঠিক উত্তর:
নোয়াখালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
• মুনীর চৌধুরী:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরীর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলায়। 
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- তিনি শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- ঢাকার প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ, কমিউনিস্ট পার্টি, ভাষা আন্দোলন ইত্যাদির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

• তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচনা,
- বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩৭৭.
‘হরফের ছড়া’ নামে শিশুদের বর্ণশিক্ষার বইটি কে লিখেছেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. ফররুখ আহমদ
  3. বন্দে আলী মিয়া 
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

‘হরফের ছড়া’ গ্রন্থ:
‘হরফের ছড়া’ ফররুখ আহমদের লেখা একটি বর্ণশিক্ষার বই, যা শিশুদের জন্য ছড়ার মাধ্যমে বাংলা বর্ণমালা শেখানোর উদ্দেশ্যে রচিত।
- এটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
তিনি ‘বর্ণপরিচয়’ নামে বিখ্যাত বর্ণশিক্ষার বই লিখেছেন। শিশুদের বাংলা ভাষা শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে এটিই প্রথম।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘সহজ পাঠ’ নামে শিশুসাহিত্য রচনা করেছেন।

• শিশুতোষ গ্রন্থ 'ইতল বিতল' এর রচয়িতা - সুফিয়া কামাল।

----------------
ফররুখ আহমদ এর জীবিনী ও সাহিত্যকর্ম:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

তাঁর শিশু-কিশোরদের জন্য রচিত গ্রন্থ:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- নতুন লেখা,
- ছড়ার আসর,
- চিড়িয়াখানা,
- কিস্‌সা কাহিনী,
- মাহফিল ১ম ও ২য় খণ্ড,
- ফুলের জলসা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. ‘হরফের ছড়া’ রচনা।

১৬,৩৭৮.
জহির রায়হানের উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. আর কতদিন
  2. কখনো আসেনি
  3. শেষ বিকেলের মেয়ে
  4. কয়েকটি মৃত্যু
সঠিক উত্তর:
কখনো আসেনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কখনো আসেনি
ব্যাখ্যা

জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৫ সালে।
- তিনি বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক এবং চলচ্চিত্র পরিচালক ছিলেন।
- প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- ১৯৫২ সালে তিনি ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন।
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়।
- হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।

• উপন্যাসসমূহ:
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- কয়েকটি মৃত্যু।

• উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রসমূহ:
- জীবন থেকে নেয়া,
- কখনো আসেনি, 
- Stop Genocide,
- সোনার কাজল,
- কাঁচের দেয়াল,
- বেহুলা,
- আনোয়ারা,
- সঙ্গম,
- বাহানা।

উল্লেখ্য,
- জহির রায়হান পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র: কখনো আসেনি।
- প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র: সঙ্গম।
- প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি: বাহানা।
- কাঁচের দেয়াল চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে ‘নিগার পুরস্কার’ অর্জন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১৬,৩৭৯.
নিচের কোনটি ব্যঙ্গাত্মক রচনা?
  1. একেই কি বলে সভ্যতা
  2. কৃষ্ণকুমারী
  3. মায়াকানন
  4. সারদামঙ্গল
সঠিক উত্তর:
একেই কি বলে সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একেই কি বলে সভ্যতা
ব্যাখ্যা

‘একেই কি বলে সভ্যতা’ মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রহসন।
---------------------------------------
• “একেই কি বলে সভ্যতা”:
- মধুসূদন দত্তের “একেই কি বলে সভ্যতা” একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রহসন।
- যা উনিশ শতকের কলকাতার তথাকথিত ‘ভদ্র’ সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রতি আসক্তি এবং অতিমাত্রায় ইংরেজি শিক্ষাকে যে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে তার প্রতি আলোকপাত করেছেন।
- এই প্রহসনের মাধ্যমে লেখক সমাজকে তীক্ষ্ণভাবে ব্যঙ্গ করেছেন;
- একই সঙ্গে সামাজিক রীতিনীতি ও মূল্যবোধ যে হ্রাস পাচ্ছে তাও ফুটিয়ে তুলেছেন।
--------------------------------------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অবদানের কারণে তাকে “বাংলা আধুনিক কবিতার জনক” ও “মহাকবি” বলা হয়।
-মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি সংস্কৃত রামায়ণের কাহিনীর উপর ভিত্তি করে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- এই কাব্যটি মূলত নয়টি সর্গে বিভক্ত।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
প্রথম প্রহসন: একেই কি বলে সভ্যতা।
• অন্য প্রহসন: বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ।
• প্রথম ট্র্যাজেডি: কৃষ্ণকুমারী।
• প্রথম সফল নাটক: শর্মিষ্ঠা।
• প্রসিদ্ধ নাটকসমূহ: কৃষ্ণকুমারী, শর্মিষ্ঠা, রিজিয়া, শুভ্রদা, পদ্মাবতী, ও মায়াকানন।
• প্রথম কাব্যগ্রন্থ: The Captive Ladie (ইংরেজি ভাষায় রচিত)।
• একমাত্র গদ্যগ্রন্থ: হেক্টরবোধ (অসমাপ্ত)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৬,৩৮০.
‘স্বদেশ ও সংস্কৃতি’ কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম? 
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ 
  4. উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ 
ব্যাখ্যা

‘স্বদেশ ও সংস্কৃতি’ বুদ্ধদেব বসুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।  
------------------------------------------------------
• ‘স্বদেশ ও সংস্কৃতি’র মূলকথা:
- বুদ্ধদেব বসুর স্বদেশ ও সংস্কৃতি প্রবন্ধগ্রন্থে বাঙালি সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতির স্বরূপ বিশ্লেষণের মাধ্যমে স্বদেশীয় ঐতিহ্যের মূল্য ও আধুনিকতার সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। পাশ্চাত্য সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রভাব স্বীকার করেও তিনি বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়, রুচিবোধ ও মানসিক স্বাধীনতার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছেন। গ্রন্থটি মূলত আধুনিক বাঙালি জীবনের সংকট, রবীন্দ্র-প্রভাব এবং স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক আত্মঅনুসন্ধানের মননশীল আলোচনা।
----------------------
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন বাঙালি কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, গল্পকার, অনুবাদক, সম্পাদক ও সাহিত্য সমালোচক।
- বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস বিক্রমপুরের মালখানগর।
- তিনি কবি হিসেবে উল্লেখযোগ্য হলেও সম্পাদক হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন।
- তাঁর সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকাটি কলকাতা থেকে ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি পঞ্চপান্ডব কবিদের মধ্যকার একজন। 
- তাকে কল্লোল গোষ্ঠীর কবি হিসেবেও অভিহিত করা হয়। 
- ১৮ মার্চ ১৯৭৪ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- হঠাৎ আলোর ঝলকানি;
- কালের পুতুল;
- সাহিত্যচর্চা;
- স্বদেশ ও সংস্কৃতি;
- সঙ্গ নিঃসঙ্গতা ও রবীন্দ্রনাথ ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৬,৩৮১.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক রচনা কোনটি?
  1. ক) অতি অল্প হইল
  2. খ) ব্রজবিলাস
  3. গ) রত্ন পরীক্ষা
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক গ্রন্থসমূহ - 
- অতি অল্প হইল 
- আবার অতি অল্প হইল 
- ব্রজবিলাস 
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা 
- রত্নপরীক্ষা 

- 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' ছদ্মনামে প্রথম রচনা 'অতি অল্প হইল' (১৮৭৩)। 
- উক্ত বেনামীতে দ্বিতীয় রচনা 'আবার অতি অল্প হইল' (১৮৭৩)।
- 'ব্রজবিলাস' (১৮৮৫) 'কবিকুল তিলকস্য কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' ছদ্মনামে রচিত।
- নবদ্বীপের ব্রজনাথ বিদ্যারত্নের বিধবাবিবাহ বিরোধী সংস্কৃত বক্তৃতাবলির উত্তর।
- 'কস্যচিৎ তত্ত্বান্বেষিণ' বেনামিতে তাঁর চতুর্থ রচনা 'বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা' (১৮৮৪)
- 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো-সহচরস্য' বেনামিতে লেখা 'রত্নপরীক্ষা' (১৮৮৬)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৩৮২.
‘সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।’ বিখ্যাত এই উক্তিটি কার?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) জসীমউদ্‌দীন
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
গ) জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
- 'কবিতার কথা' হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
-  এই প্রবন্ধে তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি- সকলেই কবি নন,কেউ কেউ কবি।

• জীবনানন্দ দাশ: 
- কবি জীবনানন্দ দাশ  ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম সত্যানন্দ দাশ। পেশায় ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- জীবনানন্দ দাশের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- গ্রামবাংলার নিসর্গ প্রকৃতি ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ তাঁর কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়।
- তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ হিসেবে খ্যাত বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতাকে ‘চিত্ররূপময় কবিতা’ বলেছেন।
- এছাড়াও তাকে ধূসরতার কবি,তিমির হননের কবি ,নির্জনতার কবি ও রূপসী বাংলার কবি বলা হয়ে থাকে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল-
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা ও কালবেলা,

• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হল-
- মাল্যবান,
- সতীর্থ।

সোর্স: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
১৬,৩৮৩.
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কত বঙ্গাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ
  2. ১২ ভাদ্র ১৩০৭ বঙ্গাব্দ
  3. ২২ শ্রাবণ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ
  4. ২৫ বৈশাখ ১৩০৮ বঙ্গাব্দ
সঠিক উত্তর:
১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ
ব্যাখ্যা
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলামকে ভারত থেকে সপরিবারে ঢাকায় আনা হয়। তাকে 'জাতীয় কবি' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৯৭৪ সালের ৯ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ সমাবর্তনের মাধ্যমে তাকে 'ডি. লিট' উপাধি বা সম্মাননা প্রদান করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং ফেব্রুয়ারি মাসে একুশে পদক প্রদান করা হয়।
- ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট বাংলা ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ ঢাকার পিজি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র- বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩৮৪.
‘সংবাদ প্রভাকর’ কত সালে দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে?
  1. ১৮৩১ সালে
  2. ১৮৩৬ সালে
  3. ১৮৩৯ সালে
  4. ১৮৪৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৩৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৩৯ সালে
ব্যাখ্যা
• সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাওগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা: ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩৮৫.
প্রাচীন লোকগীতি সংকলন ‘হারামণি’-এর প্রধান সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. ক) ফকির গরীবুল্লাহ
  2. খ) মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন
  3. গ) আশরাফ সিদ্দিকী
  4. ঘ) দৌলত উজির বাহরাম খান
সঠিক উত্তর:
খ) মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন:
- ১৯০৪ সালের ৩১ জানুয়ারি পাবনা জেলার সুজানগর থানার মুরারিপুর গ্রামে জন্ম। 
- পাবনা  এডওয়ার্ড কলেজ ম্যাগাজিনে তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম ‘বেদুইন মুসলমান’।
- মনসুরউদ্দীন মনেপ্রাণে ছিলেন  বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি, বিশেষত লোকসংস্কৃতির একজন একনিষ্ঠ অনুরাগী।
- তিনি পদ্মার চরাঞ্চল এবং পাবনা-ফরিদপুর-কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে গান, ছড়া, ধাঁধা, প্রবাদ, গল্প ইত্যাদি লোকসাহিত্যের অনেক উপাদান সংগ্রহ করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় ফোকলোর চর্চা দেশের সুধীমহলের স্বীকৃতি লাভ করে।
- ১৯৮৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• লোকগীতি সংকলন ‘হারামণি’: 
- মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন এর অক্ষয় কীর্তি হলো 'হারামণি'। 
- এর মোট ১৩ খন্ডে লোকসঙ্গীত সংকলন ও সম্পাদনা করে তিনি প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন।
- প্রতিটি খন্ডের সম্পাদনায় তিনি আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীর পান্ডিত্যের স্বাক্ষর রেখেছেন।

• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- শিরনী,
- ধানের মঞ্জরী,
- আগরবাতী,
- বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাধনা  (৩ খন্ড: ১৯৬০-৬৬) ও
- ইরানের কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩৮৬.
'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের কোন কবিতাটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল?
  1. রক্তাম্বর-ধারিণী মা
  2. খেয়াপারের তরণী
  3. বিদ্রোহী
  4. আগমণী
সঠিক উত্তর:
রক্তাম্বর-ধারিণী মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাম্বর-ধারিণী মা
ব্যাখ্যা
• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'রক্তাম্বর-ধারিণী মা' কবিতাটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

-------------------
• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:

- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'। 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

• কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ।
১৬,৩৮৭.
'যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।' বিখ্যাত উক্তিটি কার?
  1. ​রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. সুফিয়া কামাল 
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

প্রমথ চৌধুরী'র বিখ্যাত কিছু উক্তি:
- সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।
- ভাষা মানুষের মুখ থেকে কলমের মুখে আসে, উল্টোটা করতে গেলে মুখে শুধু কালিই পড়ে।
- আনন্দের ধর্ম এই যে তা সংক্রামক।
- সাহিত্যে মানবত্মা খেলা করে এবং সেই খেলার আনন্দ উপভোগ করে।
- যে খেলার ভিতর আনন্দ নেই কিন্তু উপরি পাওনার আশা আছে, তার নাম খেলা নয়, জুয়াখেলা।
- যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।

​-----------------
• ​প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও প্রথম আলো।

১৬,৩৮৮.
'উত্তরাধিকার' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শহীদুল জহির
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. শহীদ কাদরী
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা
'উত্তরাধিকার' কাব্যগ্রন্থ:
- 'উত্তরাধিকার' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা শহীদ কাদরী।
- বাংলা কবিতার পঞ্চাশ দশকের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ও সাফল্য দেখা যায় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ উত্তরাধিকারে। এতে ৪০টি কবিতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
- এ কাব্যের পঙক্তিতে তিনি দৃশ্যমান বস্তুকে দেখেছেন প্রবল অন্তরঙ্গে, মননের শাসনে ও আবেগের প্রাবল্যের যৌথ প্রচেষ্টায়।
- বাংলাদেশের বাংলা কবিতা সত্যিকার অর্থেই আধুনিকতার চূড়ান্তমুখী হয় তাঁর এ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে।

শহীদ কাদরী:
- স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় একজন আধুনিক কবি।
- ১৯৪২ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার (প্রথম),
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা,
- কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই,
- আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৩৮৯.
'দীপনির্বাণ' কার রচিত উপন্যাস?
  1. ক) সানাউল হক
  2. খ) স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
খ) স্বর্ণকুমারী দেবী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা

- স্বর্ণকুমারী দেবী আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ'।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস-
- ছিন্নমুকুল,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- কাহাকে,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত নাটক:
- বিবাহ উৎসব,
- দেব কৌতুক,
- বসন্ত উৎসব।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৬,৩৯০.
'লালসালু' উপন্যাস কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪৮ সালে
  2. ১৯৫২ সালে
  3. ১৯৫৫ সালে
  4. ১৯৫৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৮ সালে
ব্যাখ্যা
• লালসালু:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস।
- ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

- এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনি রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
- উপন্যাসটি 'Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে অনূদিত হয়ে খ্যাতি অর্জন করে।
- উপন্যাসটি ফরাসি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- 'লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ পত্নী 'অ্যান মেরি' উপন্যাসটির ফরাসি অনুবাদ করেন।

• বহুমাত্রিক ও উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো: মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা।

----------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:

- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬৫ সালে আদমজি পুরস্কার এবং ১৯৮৩ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৭১ সালের ১০ই অক্টোবর, প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩৯১.
জহির রায়হান পরিচালিত চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. ক) দুই দুয়ারী
  2. খ) সঙ্গম
  3. গ) নয় নম্বর বিপদ সংকেত
  4. ঘ) আমার আছে জল
সঠিক উত্তর:
খ) সঙ্গম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সঙ্গম
ব্যাখ্যা
- জহির রায়হান পরিচালিত চলচ্চিত্র হচ্ছে সঙ্গম।

• জহির রায়হান:

- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- বাংলাদেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার প্রামাণ্যচিত্র Stop Genocide তৈরি করেন জহির রায়হান।

• তাঁর অন্যান্য পরিচালিত ছবি:
- কখনো আসেনি (প্রথম পরিচালিত ছবি)।
- সোনার কাজল।
- কাঁচের দেয়াল।
- বেহুলা।
- জীবন থেকে নেয়া।
- আনোয়ারা।
- সঙ্গম।
- বাহানা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে।
- হাজার বছর ধরে।
- আরেক ফাল্গুন।
- বরফ গলা নদী।
- আর কত দিন।
- কয়েকটি মৃত্যু।

অন্যান্য অপশন:
- দুই দুয়ারী, নয় নম্বর বিপদ সংকেত, আমার আছে জল হচ্ছে হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত চলচ্চিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩৯২.
'কৃষ্ণকুমারী' কোন ধরনের নাটক?
  1. হাস্যরসাত্মক
  2. রোমান্টিক 
  3. ট্রাজেডি
  4. মনস্তাত্ত্বিক
সঠিক উত্তর:
ট্রাজেডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্রাজেডি
ব্যাখ্যা

• 'কৃষ্ণকুমারী' নাটক:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের 'রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক 'শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা,
- ভীমসিংহ,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৬,৩৯৩.
"আমি শুনে হাসি আঁখিজলে ভাসি, এই ছিল মোর ঘটে"- পঙ্‌ক্তিটি কার রচনা?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• "আমি শুনে হাসি আঁখিজলে ভাসি, এই ছিল মোর ঘটে"- পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'দুই বিঘা জমি' কবিতার অংশ। 

• এই পঙ্‌ক্তিটিতে উপেনের ঘটের (ভাগ্যের) কথা বলা হয়েছে। ভূস্বামী বাবু যখন উপেনকে সাধু বেশে চোর বলে অভিহিত করেছে তখন সত্যের অপলাপ শুনে উপেনের হাসি আসে আর চোখ ভরে জল আসে। উপেন ভাবে- এই চোর ডাক তাকে শুনতে হবে, এই ভাগ্য তাঁর ছিল? 

• 'দুই বিঘা জমি': 
- 'দুই বিঘা জমি' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কাহিনী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয় । 
- পরবর্তীতে 'কথা' কাব্যগ্রন্থের সহযোগে 'কথা ও কাহিনী' কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ পায়। 

---------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩৯৪.
‘কাঙাল হরিনাথ’ কোন সাহিত্যক্যের সাহিত্যগুরু ছিলেন?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক 'কাঙাল হরিনাথ' ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৬,৩৯৫.
'মুঠোফোনের কাব্য' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) নবীনচন্দ্র সেন
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) নির্মলেন্দু গুণ
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
গ) নির্মলেন্দু গুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের কবিদের কবি নির্মলেন্দু গুণ। তাঁর রচিত কাব্য- মুঠোফোনের কাব্য, প্রেমাংশুর রক্ত চাই, না প্রেমিক না বিপ্লবী, দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী, ও বন্ধু আমার, চাষাভুষার কাব্য, দূর হ দুঃশাসন, নিশিকাব্য, মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা, শিয়রে বাংলাদেশ, কামকানন ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৩৯৬.
সেলিনা হোসেন রচিত 'যাপিত জীবন' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট- 
  1. দেশভাগ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা
  2. ভাষা আন্দোলনের উত্তাল সময়
  3. জাফর ও আনজুমের প্রেম
  4. সবগুলো 
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো 
ব্যাখ্যা

'যাপিত জীবন' উপন্যাসে ভাষা আন্দোলন, দেশভাগ এবং বাঙালি জাতিসত্তার সংগ্রামের চিত্র ফুটে ওঠে।
---------------------------------- 
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও গবেষক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ জুন, ১৯৪৭ সালে রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তার রচনায় ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নারী ও সমাজের জীবনচিত্র উঠে এসেছে।
- তিনি বাংলা একাডেমি ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

• সেলিনা হোসেনের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- ‘যাপিত জীবন’,
- ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক),
- ‘নীল ময়ূরের যৌবন’,
- ‘জ্যোস্নায় সূর্যজ্বালা’,
- ‘পদশব্দ’,
- ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা’ (তিন খণ্ড),
- ‘ক্ষরণ’,
- ‘কাঁটাতারে প্রজাপতি’,
- ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’।
-----------------------------------------------
যাপিত জীবন উপন্যাসের খুঁটিনাটি:
- যাপিত জীবন উপন্যাসটি প্রখ্যাত বাংলাদেশী ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেনের লেখা এক  ঐতিহাসিক সৃষ্টি।
- এটি ১৯৮১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস।
- উপন্যাসে ভাষা আন্দোলনের উত্তাল সময়, জাফর ও আনজুমের প্রেম, দেশভাগ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বাঙালির শেকড় ও মাটির সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা সুন্দরভাবে বর্ণিত হয়েছে। 
- উপন্যাসে নায়ক জাফরের চরিত্র বাঙালি জাতির সংগ্রাম, অস্তিত্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে ফুটে ওঠে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১৬,৩৯৭.
’ছায়া হরিণ’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) ফররুখ আহমদ
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) সুকান্ত ভট্রাচার্য
সঠিক উত্তর:
ক) আহসান হাবীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• ’ছায়া হরিণ’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা আহসান হাবীব। 
- আহসান হাবীব ছিলেন মূলত কবি ও সাংবাদিক।
- তাঁর ‘ছায়া হরিণ’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। মোট কবিতার সংখ্যা ২৪।
- এ কাব্যগ্রন্থে তাঁর সমাজ-সচেতনতা প্রকাশিত হয়েছে।
- ঐতিহ্যাশ্রয়ী কবি এখানে বণিক সভ্যতার রুদ্র রূপ দেখেছেন। তিনি গ্রামীণ অনুষঙ্গে স্থিত হতে চেয়েছেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - রাত্রিশেষে।
- ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি এবং ১৯৭৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬,৩৯৮.
বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত 'নিতাই' চরিত্রটি কোন লেখকের সৃষ্টি?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'কবি' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'। ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে নিতাই।
- উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১৬,৩৯৯.
'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত প্রথম কবিতা-
  1. অগ্রপথিক
  2. বিদ্রোহী
  3. প্রলয়োল্লাস
  4. ধূমকেতু
সঠিক উত্তর:
প্রলয়োল্লাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রলয়োল্লাস
ব্যাখ্যা

• বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা' (১৯২২) ।
- এ কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা ' প্রলয়োল্লাস'।

♦ কাজী নজরুল ইসলাম :
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- আধুনিক বাংলা সঙ্গীতে তিনি বুলবুল নামে খ্যাত।
- নজরুলের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো — অগ্নিবীণা, বিষের বাঁশি, চক্রবাক, প্রলয় শিখা, দোলনচাঁপা ও ভাঙার গান।
- অগ্রপথিক কবিতাটি নজরুল ইসলামের 'জিঞ্জীর' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
-তাঁর গল্পগ্রন্থ — শিউলিমালা, বেদনার দান ও পদ্মগোখরা।
-তাঁর নাটক — আলেয়া, ঝিলিমিলি, মধুমালা ও পুতুলের বিয়ে।
-তাঁর উপন্যাস — বাঁধনহারা, মৃত্যুক্ষুধা ও কুহেলিকা।

♦ অগ্নিবীণা :
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় কবিতা হলো বিদ্রোহী, যার জন্য মূলত তাকে ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়।
- কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা হলো প্রলয়োল্লাস।
- নজরুল তাঁর কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেছেন।
- ধূমকেতু ও বিদ্রোহী কবিতাও অগ্নিবীণার অন্তর্গত। 

- অগ্নিবীণা তে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। এগুলো হলো:
• প্রলয়োল্লাস, 
• বিদ্রোহী,
• রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
• আগমণী,
• ধূমকেতু,
• কামাল পাশা,
• আনোয়ার,
• রণভেরী,
• শাত-ইল-আরব,
• খেয়াপারের তরণী,
• কোরবানী,
• মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

১৬,৪০০.
'অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে' - চরণটির রচয়িতা কে?
  1. বুদ্বদেব বসু
  2. কামিনী রায়
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
 'উটপাখী' কবিতাটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের 'ক্রন্দসী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।গ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'উটপাখী' কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি ‘অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?'

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান। তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।