বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

মোট প্রশ্ন১৭,৪৩৭এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ

PrepBank · পাতা ১৫৯ / ১৭৪ · ১৫,৮০১১৫,৯০০ / ১৭,৪৩৭

১৫,৮০১.
'শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকা'র সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন-
  1. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- কবি, সাংবাদিক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (১৮৬০-১৯৩৩) পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক মুসলিম জীবনাদর্শ, ইসলামের নবজাগরন ইত্যাদি অবলম্বনে কাব্য রচনা করলেও জীবনী ও উপন্যাস রচনায় বৈশিষ্ট্য দেখিয়েছেন।
- মোজাম্মেল হক 'লহরী' , 'মোসলেম ভারত' ও 'শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকা'র সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন
- মোজাম্মেল হক ছিলেন মূলত কবি, তবে তাঁর গদ্যরচনাও আছে।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্ব দর্শন,
- প্রেমহার,
- জাতীয় ফোয়ারা,
- ইসলাম সংগীত,
- হযরত মুহম্মদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- মহর্ষি মনসুর,
- ফেরদৌসি চরিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮০২.
'সুরধুনী কাব্য' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্রের দুখানি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে দ্বাদশ কবিতা (১৮৭২) ও সুরধুনী কাব্য (২ ভাগ ১৮৭১, ১৮৭৬)।
• সুরধুনী কাব্য হিমালয় থেকে গঙ্গাদেবীর সাগরসঙ্গমে যাত্রার ছন্দোবদ্ধ বর্ণনা। এতে উত্তর ভারতের বিভিন্ন জনপদ এবং বঙ্গদেশ ও সমকালীন কলকাতার বিশিষ্ট স্থান ও স্মরণীয় ব্যক্তিদের চমৎকার বর্ণনা রয়েছে।

------------------
দীনবন্ধু মিত্র:
• দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
• দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধের সময় দীনবন্ধু কাছাড়ে সফলভাবে ডাক বিভাগ পরিচালনা করেন, যার জন্য সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। 

দীনবন্ধু মিত্রের কাব্যগ্রন্থ:
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮০৩.
'শাহনামা' মৌলিক গ্রন্থটি কার?
  1. ক) মালিক জয়সী
  2. খ) ফেরদৌসী
  3. গ) সৈয়দ হামজা
  4. ঘ) বাহরাম খাঁ
সঠিক উত্তর:
খ) ফেরদৌসী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফেরদৌসী
ব্যাখ্যা
শাহনামা:
- শাহনামা পারস্যের (বর্তমান ইরান) কবি ফেরদৌসী দ্বারা লিখিত একটি দীর্ঘ মহাকাব্য।
- এটি একই সাথে ইরানের ও সারা বিশ্বের ফার্সি ভাষাভাষী লোকদের জন্য জাতীয় মহাকাব্য।
- ফেরদৌসী ৯৭৭ থেকে ১০১০ সালের মধ্যে ৩০ বছরের অধিক সময় ধরে এই মহাকাব্য রচনা করেন।
- শাহনামায় প্রায় ষাট হাজার শ্লোক রয়েছে।
- ইরানের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে আনা হয়েছে এই মহাকাব্যে। 
- এটিকে বলা হয় ইরানের জাতীয় মহাকাব্য।
- ভারতীয় উপমহাদেশে এটির একটি সংকলন প্রকাশিত হয় ১৮২৯ সালে। 
- প্রথম মুঘল সম্রাট বাবর এই মহাকাব্য থেকে কিছু পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করেছিলেন।
- বাংলার নবাব আলীবর্দী খাঁও শাহনামা পড়ে উদ্দীপ্ত হয়েছিলেন।

উৎস: কালের কন্ঠ, ৩১ জুলাই, ২০১৫, ‘শাহনামা' গ্রন্থ- কবি ফেরদৌসী। 
১৫,৮০৪.
‘অতীন ও ইন্দ্রনাথ’ চরিত্রটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মালঞ্চ
  2. ঘরে-বাইরে
  3. চার-অধ্যায়
  4. গোরা
সঠিক উত্তর:
চার-অধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার-অধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ‘চার অধ্যায়’ উপন্যাস:
- চার অধ্যায়' একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব- প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিল, ‘চার অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে।
- আসলে সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই কাহিনি রচিত।
- সন্ত্রাসবাদীদের নেতা ইন্দ্রনাথ একদিকে যেমন অতিমানবিক গুণ সম্পন্ন, অন্যদিক সে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য।
- তার নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনি।
- সমকালীন বিপ্লবপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূল সুর।
- চার অধ্যায়ের কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ‘রবিবার' গল্পের সম্পর্ক আছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অতীন,
- এলা,
- ইন্দ্রনাথ।

অন্যদিকে,
• 'মালঞ্চ' উপন্যাসের চরিত্র: নীরজা, আদিত্য, সরলা প্রমুখ।
• 'ঘরে-বাইরে' উপন্যাসের চরিত্র: নিখিলেস ও বিমলা।
• ‘গোরা’ উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: গোরা, পরেশবাবু, সুচরিতা, ললিতা, বিনয়, বরদাসুন্দরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮০৫.
'পুঁই ডালিমের কাব্য' শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত-
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) প্রবন্ধগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
গ) গল্পগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'পুঁই ডালিমের কাব্য' শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত- গল্পগ্রন্থ। তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ- অনেক দিনের আশা, ঢেউ, পথ জানা নেই, দুই হৃদয়ের তীর, শাহের বানু ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৫,৮০৬.
“রাজা উজির” গল্পের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত গল্পগ্রন্থ - চাচাকাহিনী, টুনি মেম ইত্যাদি।
তার রচিত কয়েকটি বিখ্যাত গল্প - রাজা উজির, ধূপছায়া, রস-গোল্লা, ক্যাফে - দে - জেনি, পাদটীকা, রাক্ষসী, বেঁচে থাক সর্দি-কাশি ইত্যাদি।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া

১৫,৮০৭.
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় এর সৃষ্ট বিখ্যাত চরিত্র কোনটি?
  1. ক) প্রফেসর শংকু
  2. খ) ফেলুদা
  3. গ) ঘনাদা
  4. ঘ) টেনিদা
সঠিক উত্তর:
ঘ) টেনিদা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) টেনিদা
ব্যাখ্যা
'টেনিদা' নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের এক অমর সৃষ্টি।
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের গ্রন্থসংখ্যা ৯৪ টি। 
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, (১৯১৮-১৯৭০) একজন প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিক।
- প্রকৃত নাম তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়, ‘নারায়ণ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। 
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাহিত্যচর্চা শুরু হয় ছাত্রজীবনে কাব্য রচনার মধ্য দিয়ে।
- কালক্রমে তিনি গল্প,  উপন্যাস, নাটক প্রভৃতি রচনা করে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। 

তাঁর রচিত কিশোরগ্রন্থ
- সপ্তকান্ড,
- অন্ধকারের আগন্তুক,
- ছোটদের শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৫২),
- ছুটির আকাশ,
- খুশির হাওয়া,
- ঝাউ বাংলোর রহস্য,
- পঞ্চাননের হাতি,
- পটলডাঙ্গার টেনিদা,
- গল্প বলি গল্প শোন,
- অব্যর্থ লক্ষ্যভেদ,
- টেনিদার অভিযান (১৯৪১) ইত্যাদি। 

সত্যজিৎ রায় সৃষ্ট চরিত্র - 'প্রফেসর শংকু’, ‘ফেলুদা'
প্রেমেন্দ্র মিত্র সৃষ্ট চরিত্র - ‘ঘনাদা' 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮০৮.
'জীবন আমার বোন' কী?
  1. সামাজিক উপন্যাস
  2. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক
  3. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  4. জেলে কেন্দ্রিক উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে। 
- এটি একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
- জাহিদুল কবির খোকা - নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।

উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র:
- মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, রঞ্জু প্রমুখ।

মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
 • উপন্যাস:
- কালো বরফ; 
- জীবন আমার বোন;
- অনুর পাঠশালা;
- নিরাপদ তন্দ্রা;
- অশরীরী;
- চিক্কোর কাবুল ;
- খেলাঘর;
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১৫,৮০৯.
"দোহাই তোদের, একটুকু চুপ কর।
ভালোবাসিবারে দে আমারে অবসর।" - উক্তটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চতুরঙ্গ
  2. শেষের কবিতা
  3. নৌকাডুবি
  4. চোখের বালি
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
"দোহাই তোদের, একটুকু চুপ কর্।
ভালোবাসিবারে দে আমারে অবসর।” - উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' উপন্যাসে, অমিত লাবণ্যকে উক্ত লাইন দুটি শোনায়।

'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। প্রবাসী পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসমান্য ঔজ্জ্বল্য,দৃপ্তিশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, শেষের কবিতা উপন্যাস।
১৫,৮১০.
‘সাদা হাওয়া’ কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. ক) সামাজিক
  2. খ) রোমান্টিক
  3. গ) রাজনৈতিক
  4. ঘ) ঐতিহাসিক
সঠিক উত্তর:
গ) রাজনৈতিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা

তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসের রচিয়তা অদ্বৈত মল্লবর্মণ। উপন্যাসটি জেলে ও মৎসজীবীদের জীবন নিয়ে রচিত। 
তিনি 'সাদা হাওয়া' নামে রাজনৈতিক উপন্যাস রচনা করেন। এছাড়া অদ্বৈত মল্লবর্বণ। এছাড়াও অদ্বৈত মল্লবর্মণ নয়াবসত, রামধনু নামে গ্রন্থ রচনা করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

১৫,৮১১.
কায়কোবাদের প্রকৃত নাম কী?
  1. মোহাম্মদ রওশন আলী
  2. শাহামতউল্লাহ আল কোরেশী
  3. কাজেম আল কোরেশী
  4. আবদুল হামিদ
সঠিক উত্তর:
কাজেম আল কোরেশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজেম আল কোরেশী
ব্যাখ্যা

কায়কোবাদের প্রকৃত নাম হচ্ছে কাজেম আল কোরেশী। 

কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে খ্যাত কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী, এবং ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- কায়কোবাদ মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচনা করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য হলো ‘মহাশ্মশান’, যা ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- কায়কোবাদের সাহিত্যিক প্রতিভা অতি অল্প বয়স থেকেই প্রকাশ পায়।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বিরহবিলাপ’ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- কুসুমকানন,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- বিরহবিলাপ,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ,
- প্রেম পারিজাত,
- মন্দাকিনী ধারা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৫,৮১২.
’দুর্গা ও ইন্দির ঠাকুরণ’ চরিত্র দুটি কোন উপন্যাসের?
  1. আরণ্যক
  2. ইছামতী
  3. দেবযান
  4. পথের পাঁচালী
সঠিক উত্তর:
পথের পাঁচালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পথের পাঁচালী
ব্যাখ্যা
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
-  ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
-  শরৎচন্দ্র পরবর্তী বাংলা সাহিত্যে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিকদের তিনি জনপ্রিয়।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে গুরুত্ব পায় - প্রকৃতি ও মানুষের জীবন।
- ১ সেপ্টেম্বর,১৯৫০সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

• পথের পাঁচালী (১৯২৯) :
- তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ উপন্যাস - পথের পাঁচালী।
- পথের পাঁচালী উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন- সত্যজিৎ রায়।
- পথের পাঁচালী  উপন্যাসের চরিত্র সমূহ :
- অপু,
- দুর্গা,
- ইন্দির ঠাকুরণ,
- সর্বজয়া,

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস :  
- অপরাজিত,
- আরণ্যক,
- ইছামতী,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- দৃষ্টি প্রদীপ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
১৫,৮১৩.
'হে দারিদ্র, তুমি মোরে করেছ মহান' -এ চরণটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. স্বরবৃত্ত
  2. অক্ষরবৃত্ত
  3. মাত্রাবৃত্ত
  4. অমিত্রাক্ষর
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অক্ষরবৃত্ত
ব্যাখ্যা

'হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান' লাইনটি কাজী নজরুল ইসলামের 'দারিদ্র্য' কবিতার অন্তর্গত।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা।
- 'দারিদ্র' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত সিন্ধু হিন্দোল কাব্য গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- ১৯২৭ খৃষ্টাব্দে এই গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৯টি কবিতা নিয়ে এই কাব্যগ্রন্থ।

এই কাব্যের কয়েকটি লাইন-

"হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান্। 
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান
কন্টক-মুকুট শোভা।দিয়াছ, তাপস,
অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস;
উদ্ধত উলঙ্গ দৃষ্টি, বাণী ক্ষুরধার,
বীণা মোর শাপে তব হ'ল তরবার!"

উৎস: 'দারিদ্র্য' কবিতা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৮১৪.
টেলিভিশনে প্রচারিত সেলিম আল দীনের প্রথম নাটক কোনটি?
  1. ঘুম নেই
  2. কিত্তনখোলা
  3. নিমজ্জন
  4. জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
সঠিক উত্তর:
ঘুম নেই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘুম নেই
ব্যাখ্যা
• টেলিভিশনে প্রচারিত সেলিম আল দীনের প্রথম নাটক 'ঘুম নেই'।
- ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে নাটকটি প্রচারিত হয়। প্রযোজক ছিলেন আতিকুল হক চৌধুরী।

---------------------
• সেলিম আল দীন:

- বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার হলেন সেলিম আল দীন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ।
- তিনি ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত নাটকগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন,
- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮১৫.
আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
  2. খ) অরণ্যে নীলিমা
  3. গ) দু'হাতে দুই আদিম পাথর
  4. ঘ) বিদীর্ণ দর্পণে মুখ
সঠিক উত্তর:
খ) অরণ্যে নীলিমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অরণ্যে নীলিমা
ব্যাখ্যা
আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত)
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ
- সারা দুপুর (মতান্তরে তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ)
- ছায়া হরিণ

তার উপন্যাস -
- অরণ্যে নীলিমা
- রানী খালের সাঁকো
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১৫,৮১৬.
ফররুখ আহমদ সম্পর্কে কোন উক্তিটি মিথ্যা?
  1. ফররুখ আহমদ কলকাতার আইজি প্রিজন অফিসে চাকরি করেছেন।
  2. দেশভাগের পর তিনি ঢাকায় এসে রেডিও পাকিস্তানে যোগ দেন।
  3. তিনি ‘খেলাঘর’ নামে জনপ্রিয় অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করতেন।
  4. তিনি ১৯৮০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
সঠিক উত্তর:
তিনি ১৯৮০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনি ১৯৮০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
ব্যাখ্যা

অপশন অনুসারে,
• ফররুখ আহমদ কলকাতায় আইজি প্রিজন অফিসে চাকরি করেছিলেন - সত্য।
• দেশভাগের পর তিনি ঢাকায় এসে রেডিও পাকিস্তানে যোগ দেন - সত্য।
• তিনি 'খেলাঘর' নামে শিশুদের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন - সত্য।

অতএব, ঘ) তিনি ১৯৮০ সালে মৃত্যুবরণ করেন - এই উক্তিটি মিথ্যা। কারণ, তিনি ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।
------------------
• ফররুখ আহমদ (১৯১৮–১৯৭৪):

জন্ম: ১৯১৮ সালের ১০ জুন, মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে।
পিতা: খান সাহেব সৈয়দ হাতেম আলী (পুলিশ ইন্সপেক্টর)।

শিক্ষাজীবন:
- ১৯৩৭ সালে খুলনা জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন।
- ১৯৩৯ সালে কলকাতার রিপন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন।
- পরে স্কটিশ চার্চ কলেজে দর্শন ও ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স নিয়ে বিএ শ্রেণিতে ভর্তি হন, তবে পরীক্ষা না দিয়েই কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।

কর্মজীবন:
- প্রথমে কলকাতার আইজি প্রিজন অফিস ও সিভিল সাপ্লাই অফিসে কয়েক বছর চাকরি করেন।
- ১৯৪৫ সাল থেকে মাসিক ‘মোহাম্মদী’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
- দেশভাগের পর ঢাকায় এসে রেডিও পাকিস্তানের ঢাকা কেন্দ্রের স্টাফ শিল্পী হিসেবে যোগ দেন।
- এখানে তিনি জনপ্রিয় ‘খেলাঘর’ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করতেন।

তাঁর মৃত্যু: ১৯৭৪ সালে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৫,৮১৭.
''অন্ধ ভূমিগর্ভ হতে শুনেছিলে সূর্যের আহ্বান প্রাণের প্রথম জাগরণে, তুমি বৃক্ষ, আদিপ্রাণ'' - কবিতাংশটুকুর কবি কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সিকানদার আবু জাফর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ''অন্ধ ভূমিগর্ভ হতে শুনেছিলে সূর্যের আহ্বান
প্রাণের প্রথম জাগরণে, তুমি বৃক্ষ, আদিপ্রাণ'' - কবিতাংশটুকুর কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

- কবিতাংশটুকু কবির 'বৃক্ষবন্দনা'- কবিতার অন্তর্গত।
- 'বৃক্ষবন্দনা'- কবিতাটি 'বনবাণী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- ‘উদ্ভিদের প্রাণ আছে’ জগদীশ চন্দ্র বসুর এই তত্ত্বেরই কাব্যরূপ বলা হয়ে থাকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বৃক্ষবন্দনা’ কবিতাটি।
- ১৩৩৩ বঙ্গাব্দে ‘বনবাণী’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত এই কবিতাটি লেখা হয়েছিল।

বৃক্ষবন্দনা- কবিতা,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

অন্ধ ভূমিগর্ভ হতে শুনেছিলে সূর্যের আহ্বান
প্রাণের প্রথম জাগরণে, তুমি বৃক্ষ, আদিপ্রাণ,
ঊর্ধ্বশীর্ষে উচ্চারিলে আলোকের প্রথম বন্দনা
ছন্দোহীন পাষাণের বক্ষ-'পরে; আনিলে বেদনা
নিঃসাড় নিষ্ঠুর মরুস্থলে।
সেদিন অম্বর-মাঝে
শ্যামে নীলে মিশ্রমন্ত্রে স্বর্গলোকে জ্যোতিষ্কসমাজে
মর্তের মাহাত্ম্যগান করিলে ঘোষণা।

উৎস: 'বৃক্ষবন্দনা'- কবিতা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

১৫,৮১৮.
'আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচূড়া থরে থরে শহরের পথে' - চরণটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. শামসুর রাহমান
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
'আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচূড়া থরে থরে শহরের পথে'  চরণটির রচয়িতা - শামসুর রাহমান। এটি তাঁর 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতা থেকে নেওায় হয়েছে।

কবিতার কয়েকটি চরণ নিম্নরূপ:

জীবন মানেই ...

আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচূড়া থরে থরে শহরের পথে
কেমন নিবিড় হ'য়ে। কখনো মিছিলে কখনো-বা
একা হেঁটে যেতে যেতে মনে হয় ফুল নয়, ওরা -
শহীদের ঝলকিত রক্তের বুদ্বুদ, স্মৃতিগন্ধে ভরপুর।
একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রঙ

শামসুর রাহমান:
- কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮১৯.
’উদাত্ত পৃথিবী’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. জাহানারা ইমাম
  2. সুফিয়া কামাল
  3. বেগম রোকেয়া
  4. নিহারীকা দেবী
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

• সুফিয়া কামাল:
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। 
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
-  সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম ‘ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন’-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে ‘মহিলা সংগ্রাম পরিষদ’ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। 

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৮২০.
‘সাহিত্যবিশারদ’ উপাধিতে খ্যাত কোন সাহিত্যিক?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আবুল হোসেন
  3. গ) আবদুল করিম
  4. ঘ) আবুল হাসান
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল করিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আবদুল করিম
ব্যাখ্যা
আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ(১৮৭১-১৯৫৩):
- আবদুল করিম ছিলেন সাহিত্যিক, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা এবং প্রাচীন বাংলা পুঁথির সংগ্রাহক ও ব্যাখ্যাকার।
- বৃহত্তর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- ১৯২০-২১ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ তাঁর রচিত বাংলা পুঁথির তালিকা বাঙালা প্রাচীন পুথির বিবরণ শিরোনামে দুখন্ডে প্রকাশ করে। তাঁর সংগৃহীত পুঁথির বেশির ভাগ মুসলমান কবিদের লেখা এবং ঐগুলি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে। হিন্দু কবিদের লেখা অবশিষ্ট পুঁথিগুলি রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরকে দেওয়া হয়।
- আবদুল করিম এগারোটি প্রাচীন বাংলা গ্রন্থ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। 
- তাঁর সংগৃহীত মুসলমান কবিদের রচিত পান্ডুলিপিগুলি থেকে জানা যায় যে, সেকালের মুসলিম মনীষীরা বাংলা সাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।
- নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে ‘সাহিত্যসাগর’ উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে এবং চট্টল ধর্মমন্ডলী তাঁকে ‘সাহিত্য বিশারদ’ উপাধিতে ভূষিত করে
- তিনি বরাবরই শেষোক্ত খেতাবটি পছন্দ করতেন এবং নিজ নামের সঙ্গে তা ব্যবহার করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮২১.
বাংলাদেশের চেতনার প্রবাহরীতির উপন্যাস কে লিখেছেন?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) কায়েস আহমদ
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা কম হলেও তাঁর সাহিত্যকর্ম সমগ্র বাংলা সাহিত্যে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। বিশেষত তাঁর গল্প এবং উপন্যাসে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের বহির্লোক এবং অন্তর্লোকের যে সূক্ষ্ম ও গভীর রহস্য উদ্ঘাটন করেছেন তার তুলনা বাংলা সাহিত্যে বিরল। কুসংস্কার ও অন্ধ ধর্মবিশ্বাসে আচ্ছন্ন, বিপর্যস্ত, আশাহীন ও মৃতপ্রায় সমাজজীবনের চিত্র যেমন এঁকেছেন, তেমনি মানুষের মনের ভেতরকার লোভ, প্রতারণা, ভীতি, ঈর্ষা প্রভৃতি প্রবৃত্তির ক্রিয়াপ্রতিক্রিয়া বিজ্ঞানীর মতোই উদ্ঘাটন করেছেন। শুধু উপভোগ্য মজাদার গল্প রচনা তাঁর অভীষ্ট কখনোই ছিল না। তিনি মানব জীবনের মৌলিক সমস্যাগুলিকে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস লালসালু প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে। এটি বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এ-উপন্যাসে তিনি গ্রাম-বাংলার সমাজ-জীবনের এক ধ্রুপদী জীবনধারাকে তুলে ধরেছেন।
তাঁর অন্য দুটি উপন্যাস চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪) ও কাঁদো নদী কাঁদো (১৯৬৮)-তে চেতনা-প্রবাহ রীতি ও অস্তিত্ববাদের ধারণাকে শিল্পরূপ দিয়েছেন। তাঁর গল্পগ্রন্থ নয়নচারা ও দুই তীর প্রকাশিত হয় যথাক্রমে ১৯৪৬ ও ১৯৬৫ সালে। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ নিরীক্ষামূলক চারখানি নাটকও লিখেছেন। সেগুলি হলো বহিপীর, তরঙ্গভঙ্গ, সুড়ঙ্গ এবং উজানে মৃত্যু।
সুত্রঃ একাডেমিক বই, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

জেনে রাখা ভাল,
আইরিশ ঔপন্যাসিক ও কবি James Joyce তার `Stream of Consciousness’ (চেতনার অন্তঃশীল প্রবাহ) টেকনিকের জন্যে বিখ্যাত। তার রচনাবলির মধ্যে Ulysses (উপন্যাস), Exiles (নাটক), Dubliners (ছোটগল্প) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ এবং ব্রিটানিকা।

আরও জানতে চাইলে,
বাংলা ‘চেতনাপ্রবাহ রীতি’ শব্দটি ইংরেজি Stream of consciousness শব্দবন্ধ থেকে এসেছে। যার অর্থ-জাগ্রত বা সজাগ মনের অবিচ্ছিন্ন চিন্তার প্রবাহ বা সচেতনতা। প্রখ্যাত দার্শনিক উইলিয়াম জেমস্ তাঁর 'Principles of Psychology (1890) গ্রন্থে সর্বপ্রথম এই শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেন। গ্রন্থটিতে তিনি এই শব্দগুচ্ছকে ব্যবহার করেছিলেন একটি বিশেষ অর্থে, চেতন, অবচেতন বা প্রাকচেতন সবটুকু মিলিয়েই ব্যক্তিচেতনার যে নিরবিচ্ছিন্নচিন্তার ধারা, মানব মনের প্রচ্ছন্ন অনুভূতির যে সক্রিয় ধারাবাহিকতা, অবদমিত আবেগ, ইচ্ছা কিংবা উপলব্ধির এক অবিচ্ছিন্ন স্রোতপ্রবাহ -তাই 'Stream of consciousness' বা চেতনাপ্রবাহ রীতি।

ধূর্জটিপ্রসাদ মুখােপাধ্যায় এবং গােপাল হালদারের হাতে বাংলা সাহিত্যে চেতনাপ্রবাহ রীতির যে সার্থক সূত্রপাত ঘটেছিল সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সেই ধারারই এক যােগ্য উত্তরসূরি। কেননা তাঁর তিনটি উপন্যাসই - ‘লালসালু’ (১৯৬৮), ‘চাঁদের অমাবস্যা’ (১৯৬৪) এবং “কঁদো নদী কাঁদো' (১৯৬৮) ব্যক্তিলােকের নিজস্ব উপলব্ধির সামগ্রিক তাৎপর্য প্রকাশেসচেতন এবং সার্থক । বিশেষভাবে তাঁর শেষ দুটি উপন্যাস ‘চাঁদের অমাবস্যা’ (১৯৬৪), ‘কাঁদো নদী কাঁদো’(১৯৬৮)-তে চরিত্রের চেতন এবং অবচেতনের অতল গভীরে আলােকনিক্ষেপণে সচেষ্ট হয়েছেন লেখক। শুধু উপন্যাসই নয় তার অধিকাংশ ছােটগল্পও আংশিকভাবে চেতনাপ্রবাহরীতির প্রাথমিক পর্যায়ভুক্ত। যা সচরাচর কোন লেখকের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। এছাড়াও রয়েছে নাটক ‘তরঙ্গভঙ্গ’ (১৯৬২)-যেখানে ঘটেছে স্বপ্ন কল্পনার স্বভাবজাত আসা-যাওয়া এবং চরিত্রাবলীর মনােগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সুনিপুণ উদঘাটন।
সুত্রঃ University Library, University of North Bengal.

১৫,৮২২.
কোনটি হাসান আজিজুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ?
  1. একাত্তরের রণাঙ্গন
  2. একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা
  3. একাত্তরের ঢাকা
  4. আমি বিজয় দেখেছি
সঠিক উত্তর:
একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা
ব্যাখ্যা
• একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা:
- হাসান আজিজুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ- একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা।
- কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক তাঁর দেখা একাত্তরের ভাষ্য শুরু করেছেন নিস্পৃহ নিরাবেগ ভঙ্গিতে। বইয়ের সূচনাবাক্যে তিনি লিখেছেন:
'আমার জানা ছিল না যে পানিতে ভাসিয়ে দিলে পুরুষের লাশ চিৎ হয়ে ভাসে আর নারীর লাশ ভাসে উপুড় হয়ে। এই জ্ঞান আমি পাই '৭১ সালের মার্চ মাসের একেবারে শেষে।'

অন্যদিকে,
• মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ 'একাত্তরের রণাঙ্গন' এর রচয়িতা - শামসুল হুদা চৌধুরী। 
• এম এ আখতার মুকুল রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ 'আমি বিজয় দেখেছি'। 
• সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ 'একাত্তরের ঢাকা'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা' গ্রন্থ।
১৫,৮২৩.
জসীম উদ্‌দীন রচিত 'নিমন্ত্রণ’ কবিতাটি তাঁর কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. রাখালী
  2. বালুচর
  3. ধানখেত
  4. সুচয়নী
  5. নক্সী কাঁথার মাঠ
সঠিক উত্তর:
ধানখেত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধানখেত
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। 

• কবি জসীম উদ্‌দীনের 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটি 'ধানখেত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে।

• ‘সুচয়নী’ জসীম উদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।
• জসীম উদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮২৪.
দ্বিজেন্দ্রলালের গানগুলো কী নামে পরিচিতি লাভ করে?
  1. দ্বিজেন্দ্রগীতি
  2. লোকগীতি
  3. দ্বিজুবাবুর গান
  4. ক এবং গ
সঠিক উত্তর:
ক এবং গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক এবং গ
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলালের সঙ্গীত: 
- উনিশ শতকের শেষদিকে এবং বিশ শতকের প্রথমদিকে বাংলা গানের আধুনিকীকরণে যে পঞ্চ গীতিকবি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন, দ্বিজেন্দ্রলাল তাঁদের অন্যতম।
- রবীন্দ্রযুগে বাংলা কাব্যসঙ্গীতে বিভিন্ন ধারা প্রয়োগ ও  আধুনিক গান রচনায় তিনি ছিলেন একজন সার্থক রূপকার।
- নাটক রচনা ও পরিচালনায় তাঁর অসামান্য অবদান থাকলেও তিনি সঙ্গীতকার হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন।
- বিভিন্ন বিষয়ে তিনি প্রায় পাঁচশত গান রচনা করেন।
- প্রথমদিকে তাঁর গান ‘দ্বিজুবাবুর গান’ নামে পরিচিতি ছিল; পরবর্তীকালে তা ‘দ্বিজেন্দ্রগীতি’ নামে পরিচিত হয়।
- তাঁর প্রথম গীতসংকলন আর্য্যগাথা (প্রথম ভাগ) ১৮৮২ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮২৫.
মুহম্মদ আব্দুল হাই রচিত ”বিলাতে সাড়ে সাতশ দিন” কোন ধরনের গ্রন্থ ?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) ভ্রমণ কাহিনি
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) নাটক
সঠিক উত্তর:
খ) ভ্রমণ কাহিনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভ্রমণ কাহিনি
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ আবদুল হাই (২৬ নভেম্বর ১৯১৯ মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ - ৩ জুন ১৯৬৯) বাংলা ভাষার প্রধানতম ধ্বনিবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
• বাংলা ভাষার ধ্বনির গঠন, উচ্চারণ ও ব্যবহারবিধি সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা-বিশে­ষণ দিয়ে রচিত তাঁর  ‘ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব ‘গ্রন্থটি মুহম্মদ আবদুল হাইকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি দান করে। 
• ১৯৬৯ সালের ৩ জুন ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ গুলো:
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব 
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি 
- বিলাতে সাড়ে সাত শ' দিন (ভ্রমণ কাহিনি)
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা
- ভাষা ও সাহিত্য
- মুহম্মদ আবদুল হাই সৈয়দ আলী আহসানের সঙ্গে যৌথভাবে রচনা করেন ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত‘ (আধুনিক যুগ, ১৯৬৮)। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮২৬.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সওগাত
  2. লাঙ্গল
  3. যুগবাণী
  4. মোসলেম ভারত
সঠিক উত্তর:
লাঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাঙ্গল
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকাগুলো হলো:
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'লাঙ্গল' (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে, 
• 'সওগাত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। ১৯১৮ সালের নভেম্বর/ডিসেম্বরে (১৩২৫ বঙ্গাব্দ, অগ্রহায়নে) মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে সওগাত প্রথম প্রকাশিত হয়। 
• 'মোসলেম ভারত' পত্রিকাটি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক এর সম্পাদনায় ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়।
• যুগবাণী' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- মকবুল হোসেন চৌধুরী।

উল্লেখ্য, 
• 'যুগবাণী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম প্রবন্ধের বই।

------------------
কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৮২৭.
'আমি কোন আগন্তুক নই'-কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
  2. খ) সারা দুপুর
  3. গ) বিদীর্ণ দর্পণে মুখ
  4. ঘ) দু'হাতে দুই আদিম পাথর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দু'হাতে দুই আদিম পাথর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দু'হাতে দুই আদিম পাথর
ব্যাখ্যা
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতাটি আহসান হাবীবের 'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
 - কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দে। 
- কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতা এটি। 

আহসান হাবীব (১৯১৭-১৯৮৫) রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ - 
- রাত্রিশেষ,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- আশায় বসতি,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ, 
- সারা দুপুর,
- ছায়া হরিণ, ইত্যাদি। 

তাঁর উপন্যাস -
- অরণ্যে নীলিমা ও
- রানী খালের সাঁকো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৮২৮.
'সবিতা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. কামিনী রায়
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
'সবিতা' সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮২৯.
'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. সুকুমার সেন
  2. নীহাররঞ্জন রায়
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা- 'দীনেশচন্দ্র সেন'। 

• 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য': 
- বঙ্গভাষা ও সাহিত্য (১৮৯৬)- বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।
- বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- বঙ্গভাষা ও বঙ্গলিপির উৎপত্তি, সংস্কৃত-প্রাকৃত ও বাংলার সম্পর্ক, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য, মধ্যযুগের ধর্মগোষ্ঠী ও তাদের সাথে সাহিত্যের যোগ ইত্যাদি বিষয় এর বর্ণনা রয়েছে।
- বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (১৯১৪), বঙ্গভাষা ও সাহিত্য, বৃহৎবঙ্গ (প্রাচীনকাল থেকে পলাশী যুদ্ধ পর্যন্ত বাংলার ইতিহাস)– গ্রন্থগুলো ড. দীনেশচন্দ্র সেন রচনা করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত- মুহাম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান কর্তৃক রচিত।
- দীনেশচন্দ্র সেন রচিত আরো উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ হলো: History of bengali Language and Literature, বাংলার পুরনারী, প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান, হিন্দু সমাজ ও বৈষ্ণব ধর্ম, ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য, রামায়ণী কথা, কৃত্তিবাসী রামায়ণ।
- দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদনা করেন– মৈমনসিংহ গীতিকা এবং পূর্ববঙ্গ গীতিকা।
--------------------------

 • দীনেশচন্দ্র সেন:
- তিনি পল্লী অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে 'প্রাচীন বাংলা পুঁথি ও লোককথা' সংগ্রহ করেন।
- তাঁর সংগৃহীত পুঁথি থেকে উপকরণ সংগ্রহ করে 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' রচনা করেন।
- তিনি ময়মনসিংহ গীতিকা ও পূর্ববঙ্গ গীতিকা সম্পাদনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- তাঁর রচিত একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ- 'বঙ্গসাহিত্য পরিচয়'।
- তাঁর রচিত 'বৃহৎবঙ্গ' সুপ্রাচীনকাল হতে পলাশীর যুদ্ধ পর্যন্ত সময়ের বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস নিয়ে লিখিত গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮৩০.
'জরাসন্ধ' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. চারুচন্দ্র চক্রবর্তী
  2. নীহাররঞ্জন গুপ্ত
  3. বিমল মিত্র
  4. রাজশেখর বসু
সঠিক উত্তর:
চারুচন্দ্র চক্রবর্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চারুচন্দ্র চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• 'জরাসন্ধ' চারুচন্দ্র চক্রবর্তীর ছদ্মনাম।

অন্যদিকে
• 'বাণভট্ট' নীহাররঞ্জন গুপ্তের ছদ্মনাম।
• বিমল মিত্রের ছদ্মনাম- জাবালি। 
• রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম - পরশুরাম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৮৩১.
বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. দেনাপাওনা
  2. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  3. রত্নবতী
  4. বিষাদ-সিন্ধু
সঠিক উত্তর:
রত্নবতী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রত্নবতী
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ — 'রত্নবতী'। 

• 'রত্নবতী' গ্রন্থ:
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী' (১৮৬৯)।
- এটি মুসলমান সাহিত্যিক রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) প্রকাশের চার বছর পর 'রত্নবতী' উপন্যাস প্রকাশিত হয়।
- লেখকের নাম পৃষ্ঠায় 'কৌতুকাবহ উপন্যাস' বলে উল্লেখ করেছেন। 
- প্রকৃতপক্ষে এটি রূপকথা জাতীয় শিক্ষামূলক একটি দীর্ঘ গল্প। 
- রাজকুমার সুকুমার ও মন্ত্রীপুত্র সুমন্তের মধ্যে 'ধন বড় না বিদ্যা বড়'- এ বিতর্ক এবং বিতর্কের সমাধানই 'রন্তবতী' এর মূল বিষয়। 

বাংলা সাহিত্যের আরো কিছু প্রথম সাহিত্যরচনার নাম:
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য 'বীরঙ্গনা'।
• বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষায় রচিত প্রথম গ্রন্থ 'বীরবলের হালখাতা'।
• বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ 'রত্নবতী'।
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প 'ভিখারিণী'।
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প 'দেনাপাওনা'।
• বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাহিত্যিক রচিত প্রথম নাটক 'বসন্তকুমারী'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮৩২.
বিখ্যাত 'জয়গুন' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. আল মাহমুদ
  3. আবু ইসহাক
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
আবু ইসহাক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো:
- হাসু,
- মায়মুন,
- শাফি,
- ডা. রমেশ চক্রবর্তী,
- মোরল গদু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৮৩৩.
‘অদ্ভুত আঁধার এক’ — উপন্যাসটির লেখক কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. শামসুর রাহমান
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

• ‘অদ্ভুত আঁধার এক’ — শামসুর রাহমান রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ‘অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ’ জীবনানন্দ দাশ রচিত একটি কবিতা।

-------------------
• শামসুর রাহমান:
শামসুর রাহমান ছিলেন বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক। তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ “প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে” প্রকাশের মাধ্যমে কবিতায় তাঁর আসন দৃঢ় হয়।

• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।

• শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• শামসুর রাহমান রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৮৩৪.
"পোকামাকড়ের ঘরবসতি" উপন্যাসের লেখক কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. সেলিম আল দীন
  3. সেলিনা হোসেন
  4. সানাউল হক 
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

"পোকামাকড়ের ঘরবসতি" উপন্যাসের লেখক হচ্ছে সেলিনা হোসেন। 

পোকামাকড়ের ঘরবসতি
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি (১৯৮৬) সেলিনা হোসেন রচিত একটি উপন্যাস।
- এটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর মধ্যে অবস্থিত শাহপরি দ্বীপের মানুষের জীবনকে, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ করে।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো মালেক, সাফিয়া এবং তোরাব আলী।

সেলিনা হোসেন
- ১৯৪৭ সালের ১৪ জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাশিল্পী এবং তাঁর উপন্যাসের প্রধান বিষয় হলো অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- সাহিত্য ও কলার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি মুহাম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮০), ফিলিপস্ পুরস্কার (১৯৮৮) এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেছেন।

উল্লেখযোগ্য উপন্যাসসমূহ:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদি গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৫,৮৩৫.
"কেউ আসে রাজপথে সাজাতে সংসার;
কেউ আসে জ্বালিয়ে বা জ্বালাতে সংসার।" - কে লিখেছেন?
  1. হেলাল হাফিজ 
  2. রফিক আজাদ 
  3. রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
হেলাল হাফিজ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেলাল হাফিজ 
ব্যাখ্যা

• "কেউ আসে রাজপথে সাজাতে সংসার;
কেউ আসে জ্বালিয়ে বা জ্বালাতে সংসার।"- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা — হেলাল হাফিজ।

• হেলাল হাফিজ:
- ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায়ই তিনি দৈনিক পূর্বদেশে সার্বক্ষণিক সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- হেলাল হাফিজ।

• 'যে জলে আগুন জ্বলে' কাব্যগ্রন্থের বিখ্যাত কবিতা 'নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়' এর বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি- 
"এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়
এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়। 

• তাঁর কাব্যগ্রন্থসমূহ: 
- যে জলে আগুন জ্বলে, 
- কবিতা ৭১, 
- বেদনাকে বলেছি কেঁদোনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, যে জলে আগুন জ্বলে- হেলাল হাফিজ।

১৫,৮৩৬.
‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র -
  1. গণেশ
  2. কুবের
  3. কপিলা
  4. শশী
সঠিক উত্তর:
কুবের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুবের
ব্যাখ্যা
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পদ্মা নদীর মাঝি' ১৯৩৪ সাল থেকে ‘পূর্বাশা’ পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ ১৯৩৬ সালে।
- কুবের ‘পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র।  
উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
 - কপিলা
- মালা,
- হোসেন মিয়া,
- ধনঞ্জয়,
- শীতলবাবু।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৯০৮ সালে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে। 
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'অতসী মামী', 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
-  ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- মিহি ও মোটা কাহিনী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মা নদীর মাঝি,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- সোনার চেয়ে দামী,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- অমৃতস্য পুত্রা,
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮৩৭.
”ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান, 
আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন বলিদান?”- উক্তিটি কোন কবিতার অংশ?   
  1. বিদ্রোহী
  2. সাম্যবাদী
  3. দারিদ্র
  4. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার 
সঠিক উত্তর:
কাণ্ডারী হুঁশিয়ার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাণ্ডারী হুঁশিয়ার 
ব্যাখ্যা

”ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গানআসি’ অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন বলিদান?”-
উক্তিটি কাজী নজরুল রচিত 'কাণ্ডারী হুশিয়ার!' কবিতার অংশ।
---------------------------------------------
কাণ্ডারী হুশিয়ার!
– কাজী নজরুল ইসলাম। 

“দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি-নিশীথে, যাত্রীরা হুশিয়ার!”

“ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান,
আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন্ বলিদান
আজি পরীক্ষা, জাতির অথবা জাতের করিবে ত্রাণ?
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, কান্ডারী হুশিয়ার!” 
---------------------------------------------------------------
কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য–সংস্কৃতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে পরিচিত।
- এবং আধুনিক বাংলা গানে তিনি ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- রবীন্দ্রনাথের অনুকরণমুক্ত স্বতন্ত্র সাহিত্যসাধনায় তাঁর অবদান অনন্য।
- সাহিত্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি পরাধীনতা, সাম্প্রদায়িকতা ও শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন।
- এ কারণে ব্রিটিশ সরকার তাঁর গ্রন্থ নিষিদ্ধ করে ও কারাবন্দি করে।
- কারাগারে তিনি রাজবন্দীর জবানবন্দী রচনা ও দীর্ঘ অনশনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।
----------------------------------------
‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ নিয়ে কিছু তথ্য-
- কাজী নজরুল ইসলামের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ কবিতাটি তাঁর ‘সর্বহারা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এটি তাঁর অন্যতম জনপ্রিয় কবিতা।
- অখণ্ড ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত এই কবিতায় কবি যুবসমাজ ও নেতৃত্বকে সাম্প্রদায়িক বিভেদ ভুলে জাতির হাল ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
- এছাড়া, ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মাধ্যমে দেশমাতৃকার মুক্তির বার্তা ও দিয়েছেন। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১৫,৮৩৮.
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক উপন্যাস কোনটি?  
  1. নিষিদ্ধ লোবান
  2. শ্যামল ছায়া
  3. যাপিত জীবন 
  4. জলাঙ্গী
সঠিক উত্তর:
জলাঙ্গী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জলাঙ্গী
ব্যাখ্যা

• 'জলাঙ্গী' উপন্যাস:
- শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জলাঙ্গী'।
- স্বাধীন স্বদেশ প্রতিষ্ঠার দ্যোতক হিসেবে 'জলাঙ্গী' (১৯৭৪) উপন্যাসের মূল্য অপরিসীম।
- শওকত ওসমান রচিত এ উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও তার প্রেমিকার ওপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনা।
- এদের হাত-পা বেঁধে গলায় পাথর ঝুলিয়ে মেঘনা নদীতে ডুবিয়ে মারা হয়।
- এরা নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়েও মৃত্যুর আগ মুহূর্তে 'জয় বাংলা' তাদের অবিচলিত দেশপ্রেমকে মহিমান্বিত করেছে।

অন্যদিকে, 
• হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'শ্যামল ছায়া'।
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'নিষিদ্ধ লোবান'।
• 'যাপিত জীবন' সেলিনা হোসেনের দেশবিভাগ ও ভাষা আন্দোলন নিয়ে রচিত উপন্যাস।

• শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো-
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাঙ্গী ইত্যাদি।

• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক। 
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।

শওকত ওসমান রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- বনি আদম,
- জননী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১৫,৮৩৯.
'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' ভ্রমণকাহিনি রচনা করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. ইবরাহীম খাঁ
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
সঠিক উত্তর:
ইবরাহীম খাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইবরাহীম খাঁ
ব্যাখ্যা
'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' ভ্রমণকাহিনি:
- 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' ইবরাহীম খাঁর কেবল ভ্রমণকাহিনিই নয়, এটি তাঁর অন্যতম সাহিত্যকীর্তিও।
- তিনি ১৯৫১ সালের ২২ আগস্ট করাচী থেকে ইস্তাম্বুল যাত্রা করেন।
- সহযাত্রী ছিলেন মৌলভী তমিজুদ্দীন খাঁ ও মৌলভী খোন্দকার আলী আফজাল-এঁরা তিনজনই বাঙালি।

ইব্রাহীম খাঁ:

- ইব্রাহীম খাঁ ১৮৯৪ সালে টাঙ্গাইল জেলার শাবাজ নগর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক। নাটক, গল্প, উপন্যাস, শিশুসাহিত্য, ভ্রমণকাহিনি ও স্মৃতিকথা মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা ২১টি।
- তাঁর স্মৃতিকথা 'বাতায়ন' সমকালের মুসলিম সমাজের একটি বিশস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- তিনি ব্রিটিশ আমলে ‘খান সাহেব’ ও ‘খান বাহাদুর’ এবং পাকিস্তান আমলে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার পাশা,
- ঋণ পরিশোধ,
- আলু বোখরা,
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র', ইবরাহীম খাঁ।
১৫,৮৪০.
'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ।' কোন উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি?
  1. ঘরে বাইরে
  2. শেষের কবিতা
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. বিষবৃক্ষ
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা

কপালকুণ্ডলা :
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্সধর্মী উপন্যাস।
- এটি বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস ।
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য "রোমান্স বলা যায়।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে।
- সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা।
- ‘পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ' এ উপন্যাসের বিখ্যাত সংলাপ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ। 
- গিরিশচন্দ্র ঘোষ এই উপন্যাসের একটি নাট্যরূপ দেন (১৮৭৩) এবং দামোদর মুখোপাধ্যায় এই উপন্যাসের একটি উপসংহার উপন্যাস রচনা করেন এবং নামকরণ করেন মৃন্ময়ী (১৮৭৪) ।

উৎস: উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।

১৫,৮৪১.
'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকের কাহিনি কোন গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে?
  1. মেঘনাদবধ
  2. মহাশ্মশান
  3. রামায়ণ
  4. মহাভারত
সঠিক উত্তর:
মহাশ্মশান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা
• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিনঅঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- ইব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা,
- হিরণবালা ইত্যাদি।

----------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী সমকালীন জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গেও নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সম্পৃক্ত করেছিলেন।
- ১৯৭১ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে তিনি পাকিস্তান সরকারের দেওয়া সিতারা-ই-ইমতিয়াজ (১৯৬৬) খেতাব বর্জন করেন।
- মুনীর চৌধুরী মঞ্চ, বেতার, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র মাধ্যমে নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা ও সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন।
- তাঁর একটি বিশেষ কীর্তি বাংলা টাইপ রাইটারের কি-বোর্ড (১৯৬৫) উদ্ভাবন, যা ‘মুনীর অপটিমা’ নামে পরিচিত।

মুনীর চৌধুরীর অন্যান্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮৪২.
"বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না" -এই স্মরণীয় পঙ্‌ক্তিটি কোন ভাষাবিদের লেখা?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. মুহাম্মদ এনামুল হক 
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

• “বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না” — এই প্রখ্যাত উক্তিটি বলেছেন বাঙালি রম্যরচয়িতা, ভাষাবিদ ও পণ্ডিত সৈয়দ মুজতবা আলী।
- তাঁর বক্তব্যের মূল ভাব হলো—
- জ্ঞান অর্জন ও বইয়ের প্রতি করা বিনিয়োগ কখনো ব্যর্থ হয় না;
- বরং তা মানুষের জীবনে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে কাজ করে।
-------------------------------------------
• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ ও প্রখ্যাত সাহিত্যিক।
- তিনি ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৪ সালে পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (বর্তমান সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন, যদিও পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- তাঁর পিতা সৈয়দ সিকন্দর আলী সাব-রেজিস্ট্রার ছিলেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম ছিল ‘সত্যপীর’।
- সৈয়দ মুজতবা আলী প্রায় ত্রিশটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- যার মধ্যে উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী রয়েছে।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আছে:
• ভ্রমণকাহিনী:
- দেশে-বিদেশে;
- জলে-ডাঙায়।

 • উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য;
- শবনম।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র;
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর ছোটগল্প সংকলন:
- চাচা-কাহিনী;
- টুনি মেম।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১৫,৮৪৩.
ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন কোন কবি?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত 
  3. সমর সেন 
  4. জীবনানন্দ দাশ
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।

- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।

- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।

- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।

- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।

- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে। জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।

- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।

- তিনি ট্রামের নিচে পড়ে আহত হন এবং হাসপাতালে মারা যান।

------------------
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা ও কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ ইত্যাদি।

• 'কবিতার কথা' হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৮৪৪.
আবুল ফজলের গড়ে তোলা ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের মুখপত্র বার্ষিক পত্রিকা কেনটি?
  1. ক) শিখা
  2. খ) সবুজ পত্র
  3. গ) কল্লোল
  4. ঘ) সখা
সঠিক উত্তর:
ক) শিখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শিখা
ব্যাখ্যা
• আবুল ফজল মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- এ আন্দোলনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা
- আবুল ফজল শিখা পত্রিকার ৫ম সংখ্যা সম্পাদনা করেন।
- আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

•  তাঁর প্রধান কয়েকটি রচনাবলি হলো:
- চৌচির
- প্রদীপ ও পতঙ্গ
- মাটির পৃথিবী
- বিচিত্র কথা
- রাঙ্গা প্রভাত
- রেখাচিত্র
- মৃতের আত্মহত্যা প্রভৃতি।
‘রেখাচিত্র’ (১৯৬৬) আবুল ফজল রচিত একটি দিনিলিপি। তিনি রেখাচিত্রের জন্য আদমজি পুরস্কার (১৯৬৬) লাভ করেন।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৮৪৫.
নিচের কোনটি দিজেন্দ্রলাল রায়ের সামাজিক নাটক?
  1. ক) সাজাহান
  2. খ) প্রতাপ সিংহ
  3. গ) কল্কি অবতার
  4. ঘ) দূর্গাদাস
সঠিক উত্তর:
গ) কল্কি অবতার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কল্কি অবতার
ব্যাখ্যা

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়-এর সামাজিক নাটকগুলো হলোঃ
- পরপারে,
- বঙ্গনারী,
- কল্কি অবতার,
- বিরহ,
- ত্র্যহস্পর্শ,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- পুনর্জন্ম,
- আনন্দ বিদায় ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

১৫,৮৪৬.
‘আমার কৈফিয়ত’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. প্রলয়শিখা
  2. সর্বহারা
  3. বিষের বাঁশী
  4. সাম্যবাদী
সঠিক উত্তর:
সর্বহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বহারা
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘আমার কৈফিয়ত’ সর্বহারা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত একটি কবিতা

কবিতাটির সংক্ষিপ্তরূপ-

আমার কৈফিয়ত
- কাজী নজরুল ইসলাম

বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই ‘নবী’,
কবি ও অকবি যাহা বলো মোরে মুখ বুঁজে তাই সই সবি!
কেহ বলে, ‘তুমি ভবিষ্যতে যে
ঠাঁই পাবে কবি ভবীর সাথে হে!
যেমন বেরোয় রবির হাতে সে চিরকেলে-বাণী কই কবি?’
দুষিছে সবাই, আমি তবু গাই শুধু প্রভাতের ভৈরবী!

-------------------
• সর্বহারা:
- সর্বহারা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯২৬ খৃষ্টাব্দে এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সর্বহারা কাব্যগ্রন্থে মোট ১০ টি কবিতা রয়েছে।

কবিতাসমূহের তালিকা:
১. সর্বহারা,
২. কৃষাণের গান,
৩. শ্রমিকের গান,
৪. ধীবরদের গান,
৫. ছাত্রদলের গান,
৬. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার,
৭. ফরিয়াদ,
৮. আমার কৈফিয়ত,
৯. প্রার্থনা,
১০. গোকুল নাগ।

উৎস: সর্বহারা কাব্যগ্রন্থ, কাজী নজরুল ইসলাম এবং ‘আমার কৈফিয়ত’ কবিতা।
১৫,৮৪৭.
বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় কত সালে?
  1. ১৭৯৫ সালে
  2. ১৭৯৮ সালে
  3. ১৮৯৫ সালে
  4. ১৮৫২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৭৯৫ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭৯৫ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলা নাটকের বিকাশ:
- আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়। কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।

- বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে। হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন। তিনি 'The Disguise' এবং 'Love is the best Doctor' নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান। এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।

- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।
- বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১৫,৮৪৮.
'কথাসাহিত্য' বলতে কোনটি বোঝায়?
  1. ক) কথা নিয়ে সাহিত্য
  2. খ) সাহিত্যের কথা
  3. গ) নাটক ও আবৃত্তি
  4. ঘ) ছোটগল্প ও উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
ঘ) ছোটগল্প ও উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ছোটগল্প ও উপন্যাস
ব্যাখ্যা
ছোটগল্প, উপন্যাস এ দুটো শিল্পরূপ নিয়ে কথাসাহিত্য গড়ে উঠেছে।
বাংলা সাহিত্যের কয়েকজন প্রথিতযশা কথা সাহিত্যিক হলেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মানিক বন্দোপাধ্যায়, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শওকত ওসমান, হুমায়ুন আহমেদ প্রমুখ।
১৫,৮৪৯.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্প 'বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী' কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. শিউলিমালা
  2. রিক্তের বেদন
  3. ব্যাথার দান
  4. মৃত্যুক্ষুধা
সঠিক উত্তর:
রিক্তের বেদন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিক্তের বেদন
ব্যাখ্যা
বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্প - বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী।
-  ১৯১৯ সালের মে মাসে সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয় নজরুলের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘রিক্তের বেদন’।
- এই গ্রন্থের গল্পগুলোর প্রধান বিষয় প্রেম। 

‘রিক্তের বেদন’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো: 
- রিক্তের বেদন,
- বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী,
- মেহের নেগার,
- সাঁঝের তারা,
- রাক্ষুসী,
- স্বামী হারা,
- দুরন্ত পথিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৮৫০.
“তুমি পশু সে দেবতা” উক্তিটি কোন নাটক এর অন্তর্গত?
  1. সাজাহান
  2. নবান্ন
  3. স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
• “তুমি পশু সে দেবতা” উক্তিটি  'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটক এর অন্তর্গত। 

• 'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটক:

- রক্তাক্ত প্রান্তর  মুনীর চৌধুরীর প্রথম মৌলিক নাটক। পানি পথের তৃতীয় যুদ্ধের ঘটনার প্রেক্ষিতে এ নাটক নির্মিত।
- “তুমি পশু সে দেবতা” উক্তিটি এ নাটক থেকে নেয়া হয়েছে।
- 'নবান্ন' নাটকটি বিজন ভট্রাচার্য রচিত একটি বিখ্যাত নাটক।
- পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের সংগ্রাম ও কাহীনির বাস্তবতায় নাটকটি রচিত।
- 'স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা' নাটকটি বিখ্যাত নাট্যকার মমতাজ উদদীন আহমদ রচিত।
- 'সাজাহান' নাটকটি মুঘল সম্রাট সাজাহানকে কেন্দ্র করে রচিত দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের একটি বিখ্যাত ঐতিহাসিক নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৮৫১.
‘বিমলা ও নিখিলেশ’ চরিত্রদ্বয়ের স্রষ্টা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ‘বিমলা ও নিখিলেশ’ চরিত্রদ্বয়ের স্রষ্টা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

• ঘরে-বাইরে উপন্যাস:

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস।
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমাক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনি সকরুণ, সিরিয়াস।

-------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- বাংলা সাহিত্যের ছোটগল্পের জনক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম ভিখারিণী।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস:
- বৌ ঠাকুরাণীর হাট,
- প্রজাপতির নির্বন্ধ, 
- ঘরে বাইরে,
- চোখের বালি,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চতুরঙ্গ, 
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮৫২.
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম কোনটি?
  1. নীল উপাধ্যায়
  2. নীল লােহিত
  3. সনাতন পাঠক
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বেশ কয়েকটি ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন।
যেমন:
- নীল লোহিত,
- নীল উপাধ্যায়,
- সনাতন পাঠক।

বিভিন্ন লেখক ব্যবহৃত কিছু ছদ্মনাম হলো:
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম - কালকূট।
- সোমেন চন্দের ছদ্মনাম - ইন্দ্রকুমার সোম।
- বিমল ঘোষ এর ছদ্মনাম - মৌমাছি।
- সতীনাথ ভাদুড়ী ব্যবহৃত ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - যাযাবর।
- বিমল মিত্র এর ছদ্মনাম - জাবালি।
- কালিকানন্দ এর ছদ্মনাম - অবধূত।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৮৫৩.
"Let there be Light" বিখ্যাত ছবিটি পরিচালনা করেন কে?
  1. ক) আমজাদ হোসেন
  2. খ) খান আতাউর রহমান
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) কাজী হায়াৎ
সঠিক উত্তর:
গ) জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
Let There Be Light ছবিটি পরিচালনা করেন জহির রায়হান।
জহির রায়হান পরিচালিত অন্যান্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে:
- Stop Genocide,
- জীবন থেকে নেওয়া, কখনও আসেনি, কাজল, কাঁচের দেয়াল, বেহুলা, আনোয়ারা, সঙ্গম, বাহানা প্রভৃতি।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮৫৪.
‘শিক্ষার হেরফের’ প্রবন্ধটির রচয়িতা কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. হুমায়ুন আজাদ
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ‘শিক্ষার হেরফের’ প্রবন্ধ: 
- ‘শিক্ষার হেরফের’ প্রবন্ধটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষা প্রবন্ধেগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- শিক্ষার হেরফের প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম করার প্রস্তাব দেন।
- রাজশাহীতে অবস্থানকালে রবীন্দ্রনাথ ‘শিক্ষার হেরফের' শীর্ষক এই প্রবন্ধ রচনা করেন।

-------------------------- 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- তিনি অসংখ্য কবিতা, গান,  ছোটগল্প,  উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য,  নৃত্যনাট্য, ভ্রমণকাহিনী, চিঠিপত্র রচনা করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এই পরিবারের পূর্বপুরুষ পূর্ববঙ্গ থেকে ব্যবসায়ের সূত্রে কলকাতায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন।
- বাংলাদেশের শাহজাদপুর,  পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহে আসেন।
- তিনি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ- 
- পঞ্চভূত,  
- বিচিত্র প্রবন্ধ, 
- সাহিত্য, 
- মানুষের ধর্ম।

• তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং ‘শিক্ষা’ প্রবন্ধগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৫,৮৫৫.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা গদ্যপুস্তক প্রণয়নকারী পণ্ডিত -
  1. উইলিয়াম কেরি ও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. গোলোকনাথ শর্মা ও গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
  3. তারিণীচরণ মিত্র ও চণ্ডীচরণ মুনশী
  4. রামরাম বসু ও রামমোহন রায়
সঠিক উত্তর:
তারিণীচরণ মিত্র ও চণ্ডীচরণ মুনশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারিণীচরণ মিত্র ও চণ্ডীচরণ মুনশী
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলি কর্তৃক ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ৪ঠা মে কলেজের প্রতিষ্ঠা দিবস হলেও ২৪শে নভেম্বর থেকে কলেজের কাজ শুরু হয়েছিল।
- দেশীয় ভাষা শিক্ষা দিয়ে সিবিলিয়ানদের উপযুক্ত করে তোলার জন্যই ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠা।
- এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্রীরামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক বাংলায় অভিজ্ঞ উইলিয়াম কেরি।
- তিনি তাঁর অধীনস্ত দু জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। তাঁদের প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

• ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন:

ফোর্ট উইলিয়ামের ফর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:
⇒কেরি রচিত : কথোপকথন (১৮০১); ইতিহাসমালা (১৮১২) ।
⇒ রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০০); লিপিমালা (১৮০২) ।
⇒ গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।

⇒ মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত:
• বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২);
• হিতোপদেশ (১৮০৮);
• রাজাবলি (১৮০৮);
• প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩) ।

⇒তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট (১৮০৩)।
 রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)।

⇒চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস (১৮০৫)।
⇒ হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 
১৫,৮৫৬.
ঢাকায় ছাপাখানা স্থাপন করেন কে?
  1. ক) চার্লস উইলকিন্স
  2. খ) উইলিয়াম কেরি
  3. গ) মার্শম্যান
  4. ঘ) আলেকজান্ডার ফয়েরবাখ
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলেকজান্ডার ফয়েরবাখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আলেকজান্ডার ফয়েরবাখ
ব্যাখ্যা

মুদ্রণ শিল্প:
মুদ্রণ শিল্প  প্রযুক্তি হিসেবে সর্বপ্রথম ভারতে চালু করেন পর্তুগিজগণ। প্রথম মুদ্রণযন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় গোয়ায়। এরপর মুদ্রণ প্রযুক্তি বোম্বাইয়ে চালু হয় ১৬৭০ সালে। ইউরোপীয় মিশনারিদের প্রচেষ্টায় ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ছাপাখানা চালু হয়। এই সকল ছাপাখানার অধিকাংশই অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে ও ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে স্থাপিত হতে থাকে। পর্তুগিজ ধর্মপ্রচারকগণ লিসবন থেকে রোমান হরফে বাংলা বই ছাপিয়ে আনেন। সবচেয়ে পুরাতন বাংলা মুদ্রণের নমুনা পাওয়া গেছে ১৬৮২ সালে প্যারিসে মুদ্রিত একটি গ্রন্থে। এসব বাংলা মুদ্রণ ছিল তামার পাতে, তখনও বাংলা অক্ষর ঢালাইয়ের কোন ব্যবস্থা হয়নি। মুদ্রণের জন্য বাংলা অক্ষরের নকশা প্রথম প্রস্ত্তত করেন চার্লস উইলকিন্স। তাঁর ডিজাইনকৃত অক্ষরে ছাপা হয় নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড রচিত A Grammar of the Bengal Language (১৭৭৮) গ্রন্থটি।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তা উইলকিন্স ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে হুগলি জেলার চুঁচুড়ায় একটি ছাপাখানা স্থাপন করেন। প্রথম দফায় উইলকিন্স যে টাইপ নির্মাণ করেন তাকে পরবর্তী সময়ে পঞ্চানন কর্মকার আরও মার্জিত করে উন্নতমানের টাইপ নির্মাণ করেছিলেন। উইলকিন্সের সহকারী পঞ্চানন কর্মকার ছিলেন বাংলা টাইপ খোদাই করতে জানা প্রথম বাঙালি। বাংলা টাইপকে আরও উন্নত করে লাইনো টাইপে উন্নীত করার কৃতিত্ব সুরেশচন্দ্র মজুমদারের। বিশ শতকের গোড়ার দিকে লাইনো-এর বাংলা অক্ষর বিন্যাস মনোটাইপ, ইস্টার্ন টাইপ এবং টাইপ রাইটার-এ বাংলা অক্ষর বিন্যাসে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখে।

- ১৮৪৭-৪৮ সালে রংপুরে প্রথম ছাপাখানা ''বার্তাবহ যন্ত্র'' প্রতিষ্ঠা করা হয় ৷ এটি বাংলাদেশের ভূখন্ডে প্রথম ছাপাখানা।
- সর্বপ্রথম একজন ইংরেজ আলেকজান্ডার ফারবেখ ঢাকায় ছাপাখানা স্থাপন করেন। ছাপাখানাটির নাম ছিল ‘ঢাকা প্রেস’।
- এই ছাপাখানাটিতে অবশ্য বাংলা মুদ্রণের কোন ব্যবস্থা ছিল না। এখান থেকে ঢাকা নিউজ নামে ইংরেজি সংবাদপত্র প্রকাশিত হতো। ১৮৬০ সালে বাংলা প্রেস বা বাংলা যন্ত্র নামে ঢাকায় দ্বিতীয় ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ছাপাখানাটি প্রথমদিকে শুধু বাংলা মুদ্রণের কাজ করত।
- ১৮৬৬ সালে ঢাকায় তিনটি ছাপাখানা ছিল। আর একটি প্রাচীন ছাপাখানা ছিল ফরিদপুরে এবং সেখান থেকে বাংলা অমৃতবাজার পত্রিকা প্রকাশিত হতো।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৫,৮৫৭.
'মাধব দত্ত' - চরিত্রটির স্রষ্টা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

'ডাকঘর' নাটক:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রূপক সাংকেতিক নাটক।
- এটি ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ঘরের মধ্যে বন্দি এক রুগ্ন বালক অমল এই নাটকের নায়ক।
- এই নাটকের বিষয়বস্তু অসীম ও সুদূরের প্রতি মানবমনের তীব্র আকর্ষণ, উৎকণ্ঠা ও পিপাসা তথা মানবাত্মার সঙ্গে বিশ্বাত্মার সম্পর্ক।

নাটকের চরিত্র গুলো হলো:
- অমল,
- মাধব দত্ত (অমলের পিতা),
- সুধা (মালির মেয়ে),
- ঠাকুরদাদা,
- দইওয়ালা,
- প্রহরী,
- কবিরাজ,
- রাজ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৫,৮৫৮.
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নয়নে বর্তমানে কোন প্রতিষ্ঠানের সমধিক খ্যাতি বিদ্যমান?
  1. শিল্পকলা একাডেমী
  2. শিশু একাডেমী
  3. এশিয়াটিক সোসাইটি
  4. বাংলা একাডেমী
সঠিক উত্তর:
বাংলা একাডেমী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাংলা একাডেমী
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নয়নে প্রতিষ্ঠান হিসেবে বর্তমানে বাংলা একাডেমি সমধিক খ্যাতি অর্জন করেছে।

• বাংলা একাডেমি:

বাংলা একাডেমি হলো বাংলাদেশের ভাষানিয়ন্ত্রক সংস্থা। এটি ১৯৫৫ সালের ৩রা ডিসেম্বর (১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৩৬২ বঙ্গাব্দ) প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা, গবেষণা ও প্রচারের লক্ষ্যে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশে) এই একাডেমিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

দেশজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সমকালীন শিল্প ও সাহিত্য সংরক্ষণ এবং গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে জাতির মানসিক বিকাশ ও উৎকর্ষ সাধনই ছিল এই সংস্থার প্রধান উদ্দেশ্য।

সাহিত্য ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমির কর্মকাণ্ডসমূহ:
১. শতবর্ষ প্রয়াসের বাস্তবায়ন : বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ প্রকাশ।
২. পাঁচ খণ্ডে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (প্রথম খণ্ড ১৯৮৭, দ্বিতীয় খণ্ড ২০১০) রচনায় গতিসঞ্চার।
৩. বাংলা ও বাঙালির ইতিহাস গ্রন্থ প্রকাশ।
৪. বাংলা ভাষার বিবর্তনমূলক অভিধান প্রকাশ।
৫. পাঁচ খণ্ডে রবীন্দ্রজীবন প্রণয়ন ও প্রকাশনা।
৬. নজরুল রচনাবলি প্রকাশ।
৭. বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের রচনাবলি প্রকাশ।
৮. বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের জীবনী প্রকাশ।
৯. আধুনিক বাংলা অভিধান (পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ) প্রকাশ।
১০. তিনটি গবেষণা বৃত্তি চালু।
১১. গবেষণাধর্মী গ্রন্থ প্রকাশ।
১২. অভিধান প্রকাশ।
১৩. অনুবাদ ও পাঠ্যপুস্তক বিভাগের কর্মকাণ্ডর গতি বৃদ্ধি।
১৪. অনুবাদ প্রকল্প।
১৫. অনুবাদ ও পাঠ্যপুস্তক সহায়ক গ্রন্থ প্রণয়ন ও প্রকাশ।
১৬. অনুবাদ বিষয়ক কর্মশালা।
১৭. চিরায়ত গ্রন্থমালা পুনর্মুদ্রণ।
১৮. আলোকচিত্রে বাংলা একাডেমির ইতিহাস প্রকাশ।
১৯. শত ভাস্কর্য ও ম্যুরালে বঙ্গবন্ধু: আলোকচিত্র অ্যালবাম প্রকাশ।

২০. বাংলা একাডেমি থেকে নব আঙ্গিকে-
১. উত্তরাধিকার ২. বাংলা একাডেমি পত্রিকা ৩. বাংলা একাডেমি বিজ্ঞান পত্রিকা ৪. ধানশালিকের দেশ ৫. দি বাংলা একাডেমি জার্নাল ৬. বাংলা একাডেমি ফোকলোর পত্রিকা ৭. বাংলা একাডেমি  অনুবাদ পত্রিকা ৮. বাংলা একাডেমি বার্তা নিয়মিত প্রকাশ ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষ্যে ১০০টি গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ (ইতোমধ্যে ৭৬টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে)। কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘বিদ্রোহী’ কবিতার শতবর্ষ উপলক্ষ্যে ‘বিদ্রোহী’: শতবর্ষে শতদৃষ্টি’ শীর্ষক গ্রন্থ প্রকাশ।

উৎস: বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
১৫,৮৫৯.
বিখ্যাত 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. মানসী
  2. চিত্রা
  3. গীতাঞ্জলি
  4. প্রভাতসঙ্গীত
সঠিক উত্তর:
প্রভাতসঙ্গীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রভাতসঙ্গীত
ব্যাখ্যা
• প্রভাতসঙ্গীত:
- কাব্যগ্রন্থটি ১৮৮৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছে।
- এতে একুশটি কবিতা আছে।
- এ কাব্যের গুরুত্বপূর্ণ কবিতা 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ'।

• 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' কবিতার বিখ্যাত কয়েকটি লাইন:

"আজি প্রভাতে রবির কর
কেমনে পশিল প্রাণের 'পর,
কেমনে পশিল গুহার আঁধারে প্রভাতপাখির গান!
না জানি রে কেন এত দিন পরে জাগিয়া উঠিল প্রাণ।"

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮৬০.
নিচের কোনটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক রচিত উপন্যাস নয়?
  1. ক) মেবার রাজ
  2. খ) যুগান্তর
  3. গ) দীপনির্বাণ
  4. ঘ) ছিন্ন মুকুল
সঠিক উত্তর:
খ) যুগান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যুগান্তর
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক রবীন্দ্রনাথের ভগ্নি স্বর্ণকুমারী দেবী। তার উপন্যাসঃ দীপনির্বাণ, মেবার রাজ, ছিন্ন মুকুল, মালতী, হুগলির ইমাম বাড়ি, বিদ্রোহ, বিচিত্রা, মিলনরাত্রি ইত্যাদি। তার রচিত নাটক - বসন্ত উৎসব, বিবাহ উৎসব, দেবকৌতুক, কনে বদল, রাজকন্যা, যুগান্তর, দিব্যকমল ইত্যাদি। তিনি ভারতী পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন (১৮৮৪-১৮৯৪)। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
১৫,৮৬১.
'উত্তর ফাল্গুনী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. বিষ্ণু দে
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'উত্তর ফাল্গুনী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - সুধীন্দ্রনাথ দত্ত

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক হিসেবে সমধিক পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে জন্মগ্রহন করেন।
- পিতা হীরেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন বিশিষ্ট দার্শনিক।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- দশমী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

তাঁর রচিত অনুবাদগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৮৬২.
'বাঁধন-হারা' উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. সওগাত
  2. ধুমকেতু
  3. লাঙ্গল
  4. মোস্‌লেম ভারত
সঠিক উত্তর:
মোস্‌লেম ভারত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোস্‌লেম ভারত
ব্যাখ্যা

‘বাঁধন-হারা': 
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এটি ১৯২১ সালে 'মোস্‌লেম ভারত' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- পরে ‘বাধন-হারা' নামেই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 
- এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে: নুরু, রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

কাজী নজরুল ইসলাম:
-  তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১৫,৮৬৩.
কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি কতসালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৩ সাল
  2. ১৯২২ সাল
  3. ১৯২০ সাল
  4. ১৯২৪ সাল
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
১৯২২ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯২২ সাল
ব্যাখ্যা
• 'অগ্নিবীণা' কাব্য:
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষ কে উৎসর্গ করেন।
- এ কাব্যে মােট ১২টি কবিতা আছে। এটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা ‘প্রলয়ােল্লাস'।
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'। 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
----------------- 
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা (১৯২২ সালে প্রকাশিত)।
- বিষের বাঁশি।
- দোলনচাঁপা।
- ভাঙার গান।
- সাম্যবাদী।
- সর্বহারা।
- ফণি-মনসা।
- জিঞ্জির।
- সন্ধ্যা।
- প্রলয় শিখা।
- মরু ভাস্কর।
- নতুন চাঁদ।
- চক্রবাক।
- সিন্ধু হিন্দোল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গানের বই:
- বুলবুল, চোখের চাতক, চন্দ্রবিন্দু, সুরসাকী, জুলফিকার, বনগীতি, গুলবাগিচা, গানের মালা ও গীতি শতদল ইত্যাদি। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৮৬৪.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রথম উপন্যাস রচনা করেন কে?
  1. আহমদ ছফা 
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. আনোয়ার পাশা
  4. শওকত ওসমান 
সঠিক উত্তর:
আনোয়ার পাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা

• 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রথম উপন্যাস 'রাইফেল রোটি আওরাত'।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দুরাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।

-------------------
• আনোয়ার পাশা:
- তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার।
- তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর দেশাত্মবোধ, মননশীলতা এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার পরিচয় পাওয়া যায়।
- ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর তাকে হত্যা করে পাকিস্তানিরা।
- আনোয়ার পাশাকে ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (মরণোত্তর) প্রদান করে।

আনোয়ার পাশা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলতা উজ্জয়িনী।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত।

গল্পগ্রন্থ:
- নিরুপায় হরিণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৮৬৫.
শওকত ওসমানের প্রকৃত নাম কী ছিল?
  1. শওকত আলী
  2. শেখ আজিজুর রহমান
  3. আজিজ হক 
  4. শওকত মিয়াঁ
সঠিক উত্তর:
শেখ আজিজুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ আজিজুর রহমান
ব্যাখ্যা

• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। 

• তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী;
- ক্রীতদাসের হাসি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:   
- জাহান্নম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- আমলার মামলা;
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা;
- তস্কর লস্কর;
- কাঁকর মণি।

• শওকত ওসমান এর বিখ্যাত গল্প হল: জন্ম যদি তব বঙ্গে;
• আর তাঁর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস : আর্তনাদ।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১৫,৮৬৬.
'শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা' শিশু সাহিত্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) মোজাম্মেল হক
  2. খ) বন্দে আলী মিয়া
  3. গ) প্রমথ চৌধুরী
  4. ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
সঠিক উত্তর:
খ) বন্দে আলী মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
- 'শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা' শিশু সাহিত্যের রচয়িতা হলেন বন্দে আলী মিয়া

• বন্দে আলী মিয়া:

- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
- ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- বন্দে আলী মিয়া শিক্ষকতা ও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি পত্রপত্রিকায় চিত্রকর ও ব্লক কোম্পানির ডিজাইনার হিসেবেও কাজ করেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার, প্রেসিডেন্ট পুরস্কার এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক লাভ করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ময়নামতির চর,
- অনুরাগ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য:
- চোর জামাই,
- মেঘকুমারী,
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা,
- সোনার হরিণ,
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা,
- কুঁচবরণ কন্যা,
- সাত রাজ্যের গল্প। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮৬৭.
'বীরবল' সাহিত্যিক ছদ্মনামটি কার?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. প্রমথ চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।

অন্যদিকে,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম - ভানুসিংহ ঠাকুর, অকপটচন্দ্র ভাস্কর, দিকশূন্য ভট্টাচার্য ইত্যাদি।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ‘অনিলা দেবী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮৬৮.
নিচের কোনটি তারাশঙ্করের উপন্যাস নয়?
  1. ক) হাঁসুলী বাকের উপকথা
  2. খ) অগ্রদানী
  3. গ) যতিভঙ্গ
  4. ঘ) অভিযান
সঠিক উত্তর:
খ) অগ্রদানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অগ্রদানী
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস - চৈতালি ঘূর্ণি, ধাত্রীদেবতা, হাঁসুলী বাকের উপকথা, গণদেবতা, আরগ্য নিকেতন, রাধা, যতিভঙ্গ, অভিযান ইত্যাদি। অগ্রদানী তার শ্রেষ্ঠ গল্পগুলোর একটি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৫,৮৬৯.
'পাছে লোকে কিছু বলে'- কবিতা পাঠকের মনে কোন আচরণের উদ্রেক ঘটায়?
  1. ক) পরোপকারিতা
  2. খ) সাহসিকতা
  3. গ) ভয়হীনতা
  4. ঘ) সংকোচ
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংকোচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সংকোচ
ব্যাখ্যা
'পাছে লোকে কিছু বলে'- কবিতাটি কামিনী রায় রচিত ‘আলাে ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থ নেওয়া হয়েছে।
- কবিতাটি কোন কাজ করতে গেলে অন্য মানুষের সমালোচনার ভয়ে নিজেকে ঘুটিয়ে রাখে - সেই দিকটায় আলোকপাত করা হয়েছে।
- অর্থাৎ এই কবিতা পাঠে মানুষের মনে অন্যের সমালোচনার কারণে যে "সংকোচ" তাঁর উদ্রেক ঘটে।
- দৃঢ় মনােবল নিয়ে লােকলজ্জা ও সমালােচনাকে উপেক্ষা করে মানুষের কল্যাণে মহৎ কাজ করতে হলে ভয়-ভীতি সংকোচ উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতে হবে।

কামিনী রায় রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য (১৮৯১),
- পৌরাণিকী (১৮৯৭),
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য, ১৯০৫),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ, ১৯০৭),
- মাল্য ও নির্মাল্য (১৯১৩),
- অশোকসঙ্গীত (সনেট, ১৯১৪),
- অম্বা (নাটক, ১৯১৫),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ (১৯১৮),
- ঠাকুরমার চিঠি (১৯২৪),
- দীপ ও ধূপ (১৯২৯),
- জীবনপথে (সনেট, ১৯৩০)।

উৎস: সাহিত্য কণিকা, অষ্টম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮৭০.
'বেদান্তচন্দ্রিকা' কী ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. অনুবাদমূলক গদ্য
সঠিক উত্তর:
অনুবাদমূলক গদ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুবাদমূলক গদ্য
ব্যাখ্যা
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (আনু. ১৭৬২-১৮১৯) সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক। তৎকালীন ওড়িষা প্রদেশের মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। নাটোর-রাজের দরবারে লেখাপড়া শিখে তিনি সংস্কৃত পন্ডিতে পরিণত হোন। তিনি উনিশ শতকের প্রথম ভালো বাংলা গদ্য লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন। পরে ১৮০৫ সালে আবার কেরীর সুপারিশে তিনি বাংলার সঙ্গে সংস্কৃত বিভাগেরও হেড পন্ডিতের দায়িত্ব লাভ করেন। ১৮১৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি এ কলেজে কাজ করেন। পরে কাজ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।

- অনেকের মতে, তিনি ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আগেকার সবচেয়ে ভালো বাংলা গদ্য লেখক। তাঁর রচনা-রীতি খুব সংস্কৃত-ঘেঁষা হলেও, তিনি বাংলা ভাষার স্বাভাবিক পদক্রম, শব্দাবলীর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক এবং অন্বয় স্থাপনের মধ্য দিয়ে সঠিক এবং সাবলীল বাক্য-কাঠামোর দিক নির্দেশ করেন।

- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে থাকার সময়ে তিনি যেসব গ্রন্থ রচনা করেন, সেগুলি হলো: বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২), হিতোপদেশ (১৮০৮), রাজাবলী (১৮০৮) এবং প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮১৩ সালে লিখিত, কিন্তু ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত)। এছাড়া পরে ১৮১৭ সালে তিনি লেখেন 'বেদান্তচন্দ্রিকা'এসব গদ্য প্রায় সবই অনুবাদমূলক। তা সত্ত্বেও তাঁর রচনা-রীতির কারণে অনেকটা মৌলিক রূপ লাভ করেছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১৫,৮৭১.
'কলম-সৈনিক' কার উপাধি?
  1. আবদুল হক
  2. শেখ ফজলুল করিম
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  4. আবদুল করিম
সঠিক উত্তর:
আবদুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল হক
ব্যাখ্যা
• 'কলমসৈনিক' আবদুল হকের উপাধি।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার পক্ষে সাহসী ও ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে তিনি বিশ শতকের ষাটের দশকে ‘কলমসৈনিক’ উপাধি লাভ করেন।

অন্যদিকে,
• আবদুল করিমের উপাধি - সাহিত্যবিশারদ।
• 'শেখ ফজলুল করিম' এর উপাধি - সাহিত্য বিশারদ।
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট প্রকাশের (তারিখ: ২৯ জুলাই, ২০১৬)।
১৫,৮৭২.
‘যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।’ এ কথাটি কে বলেছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• ‘যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।’ এ কথাটি বলেছেন : প্রমথ চৌধুরী। 
--------------------- 
 • 'বইপড়া' প্রবন্ধ:
- 'বইপড়া' প্রবন্ধের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী।
- এটি তাঁর 'প্রবন্ধ সংগ্রহ' গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। 

• এই প্রবন্ধের কিছু বিখ্যাত উক্তি হলো :
- ‘যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।’ 
- ‘যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।’
- ‘যে জাতির জ্ঞানের ভাণ্ডার শূন্য সে জাতির ধনের ভাঁড়েও ভবানী।’

 • প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।
----------------------
• প্রমথ চৌধুরীর বিখ্যাত কিছু উক্তি:
- সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত।
- বাংলা ভাষা আহত হয়েছে সিলেটে আর নিহত হয়েছে চট্টগ্রামে।
- সাহিত্য জাতির দর্পণ স্বরূপ।
- হীরক ও কাঁচ যমজ হলেও সহোদর নয়।
- সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া-কারও মনোরঞ্জন করা নয়।
- কাব্যজগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা।
- সাহিত্যে মানবাত্মা খেলা করে এবং সেই খেলার আনন্দ উপভোগ করে। 
- যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।
- জ্ঞানের প্রদীপ যেখানেই জ্বালো না কেন, তাহার আলোক চারিদিক ছড়াইয়া পড়িবে।
- যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব।
- মনোজগতে বাতি জ্বালানোর জন্য সাহিত্যচর্চার বিশেষ প্রয়োজন।
- ইহা সত্যকে সুন্দর করে নাই, মিথ্যাকে সত্যের মুখোশ পরাইয়াছে।
- মন উঁচুতে উঠতে চায় নীচুতেও নামতে চায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮৭৩.
কাজী ইমদাদুল হকের অসমাপ্ত উপন্যাস কোনটি?
  1. আঁখিজল
  2. নবীকাহিনী
  3. লতিকা
  4. আবদুল্লাহ্‌
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা

• 'আবদুল্লাহ্‌' উপন্যাস:
- 'আবদুল্লাহ্‌' কাজী ইমদাদুল হক রচিত একটি উপন্যাস।
- এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো। ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে কাজী ইমদাদুল হকের মৃত্যু হলে, কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।
- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ।
- শিল্পের বিচারে 'আবদুল্লাহ্' উৎকৃষ্ট উপন্যাস নয়, তবে বাংলার সামাজিক বিবর্তনের, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সুচারুভাবে ফুটে উঠায় গ্রন্থটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে।

কাজী ইমদাদুল হক রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস: আবদুল্লাহ্।

• কাব্য:
- আঁখিজল ও
- লতিকা।

• প্রবন্ধ: প্রবন্ধমালা।
• শিশুতোষ গ্রন্থ: নবীকাহিনী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৮৭৪.
বাঙালির ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা-
  1. ক) ছয়দফা আন্দোলন
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) ভাষা আন্দোলন
  4. ঘ) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
সঠিক উত্তর:
গ) ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা

বাঙালির ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

অন্যদিকে,
- শিক্ষা আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬২ সালে।
- ছয়দফা আন্দোলন আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯৬৬-৬৮ সময়ে।
- মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৭১ সালে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী

১৫,৮৭৫.
কায়কোবাদ ছদ্মনামে সাহিত্যচর্চা করতেন কে?
  1. কাজেম আল কোরেশী
  2. মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ্
  3. অহিদুর রেজা
  4. মইনুদ্দিন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
কাজেম আল কোরেশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজেম আল কোরেশী
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের কয়েকজন লেখকের সাহিত্যিক নাম:
- কাজেম আল কোরেশী - কায়কোবাদ
- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ্ - জহির রায়হান
- অহিদুর রেজা - হাসন রাজা
- মইনুদ্দিন আহমেদ - সেলিম আল দীন
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১৫,৮৭৬.
আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) কবি ও কোলাহল
  2. খ) লোক লোকান্তর
  3. গ) বখতিয়ারের ঘোড়া
  4. ঘ) মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো
সঠিক উত্তর:
ক) কবি ও কোলাহল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কবি ও কোলাহল
ব্যাখ্যা
• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল  ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৮৭৭.
বাংলা গদ্য সাহিত্যের উৎপত্তিকাল
  1. ষোড়শ শতাব্দী
  2. সপ্তদশ শতাব্দী
  3. অষ্টাদশ শতাব্দী
  4. ঊনবিংশ শতাব্দী
সঠিক উত্তর:
ঊনবিংশ শতাব্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊনবিংশ শতাব্দী
ব্যাখ্যা
• বাংলা গদ্যের উৎপত্তি:
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের পূর্বে সাহিত্যগুণসমৃদ্ধ কোন গদ্যরচনার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না।
- দৈনন্দিন জীবনে বাঙালির কথাবার্তায় চিরদিন গদ্যরীতি ব্যবহৃত হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত সাহিত্যে তার অনুপ্রবেশ ঘটেনি এবং এর লিখিত রূপ চিঠিপত্র, দলিলদস্তাবেজ, বৈষ্ণব কড়চা ও বিদেশি খ্রিষ্টানকর্তৃক লিখিত ধর্মবিষয়ক গ্রন্থের সঙ্কীর্ণ সীমানায় আবদ্ধ ছিল।
১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে ভাষাগত দিক থেকে গদ্যের উৎকর্ষসাধন মোটেই সম্ভবপর হয় নি।
- ইতস্তত বিক্ষিপ্ত কিছুসংখ্যক দৃষ্টান্ত অন্যত্র দৃষ্টিগোচর হলেও বাণিজ্যসম্ভারের পশ্চাতে খ্রিষ্টধর্মের পসার সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।

• ড. সুকুমার সেন বাংলা গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন। সে স্তরগুলোর পরিধি:
- প্রথম স্তর: সূচনা ষোল শতক থেকে ১৮০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
- দ্বিতীয় স্তর: উন্মেষ - ১৮০০ (শ্রীরামপুর মিশন) থেকে ১৮৪৭ সালের (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের) পূর্ব পর্যন্ত।
- তৃতীয় স্তর: অভ্যুদয় ১৮৪৭ (বিদ্যাসাগর) থেকে ১৮৬৫ সালের (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের) পূর্ব পর্যন্ত
- চতুর্থ স্তর: পরিণতি ১৮৬৫ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় বাংলা গদ্যরীতির সূচনা হয় ষোল শতকে তবে উনিশ শতকে বাংলা সাহিত্যে গদ্যরীতির ব্যবহার শুরু হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৫,৮৭৮.
'সন্দ্বীপের চর' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বিষ্ণু দে
  4. অমিয় চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• 'সন্দ্বীপের চর' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা -  বিষ্ণু দে।

• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮৭৯.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা নয় যেটি
  1. লাঙ্গল
  2. ধূমকেতু
  3. নবযুগ
  4. বিজলী
সঠিক উত্তর:
বিজলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজলী
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা: 
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ।

অন্যদিকে,
• 'বিজলী' পত্রিকা:
- ১৯২০ সালে প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার নাম।
- এটি একটি চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকা ছিলো, যার উদ্যোক্তা নলিনীকান্ত সরকার, বারীন্দ্রকুমার ঘোষ, শচ্চিদানন্দ সেনগুপ্ত, অরুণ সিংহ এবং দীনেশ রঞ্জন দাস।
- এর সম্পাদকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো নলিনীকান্ত সরকার, প্রবোধকুমার সান্যাল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮৮০.
মহাকাব্যিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) দেনাপাওনা
  2. খ) শেষপ্রশ্ন
  3. গ) সংশপ্তক
  4. ঘ) সারেং বউ
সঠিক উত্তর:
গ) সংশপ্তক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সংশপ্তক
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যাবহতি পূর্ববর্তী কাল থেকে বায়ান্নর ভাষা আন্দলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক রুপান্তরকে ঘিরে শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত মহাকাব্যিক উপন্যাস 'সংশপ্তক'।
এ উপন্যাসে বাংলার জনগণ সংশপ্তকের মত সর্বদা সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও মনুষ্যত্ব রক্ষায় সংগ্রামশীল।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১৫,৮৮১.
নিচের কোনটি ভ্রমণসাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থ নয়?
  1. চার ইয়ারী কথা
  2. পালামৌ
  3. দৃষ্টিপাত
  4. দেশে বিদেশে
সঠিক উত্তর:
চার ইয়ারী কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার ইয়ারী কথা
ব্যাখ্যা

• 'চার ইয়ারী কথা':
- 'চার ইয়ারী কথা' প্রমথ চৌধুরীর গল্পগ্রন্থ। এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এখানে বর্ণিত হয়েছে চার বন্ধুর প্রেমের কাহিনি।
- গল্পগ্রন্থের নায়িকা চারজনই ইউরোপীয়।
- গল্পগ্রন্থে প্রথম নায়িকা উন্মাদ, দ্বিতীয় চোর, তৃতীয় প্রতারক ও চতুর্থ নায়িকা মৃত্যুর পর ভালোবাসা ব্যক্ত করেছে।
- এটিতে ভাষার চাতুর্য, পরিহাসপ্রিয়তা এবং সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ উদ্ভাসিত হয়েছে ভাবালু প্রেমকাহিনী প্রতিবাদী রূপে।

অন্যদিকে,
- ‘পালামৌ’ সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমন কাহিনি।
- ‘দৃষ্টিপাত’ বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়। 
- ‘দেশে বিদেশে’ সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি।

--------------------
• প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ:
- আহুতি।
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৮৮২.
'কৃত্তিবাস ভদ্র' - কোন লেখকের ছদ্মনাম?
  1. মোহিতলাল মজুমদার
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. সতীনাথ ভাদুড়ী
  4. বিমল মিত্র
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

• প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- সাহিত্য-সাধনার প্রথমপর্বে তিনি — ‘কৃত্তিবাস ভদ্র’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর,
- বেনামী বন্দর,
- পুতুল ও প্রতিমা,
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

অন্যদিকে
- বিমল মিত্র জাবালি ছদ্মনামে লিখতেন।
• মোহিতলাল মজুমদার এর ছদ্মনাম হলো কৃত্তিবাস ওঝা, সত্যসুন্দর দাস।
• সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫,৮৮৩.
'ইঁদুর' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. ক) সত্যেন সেন
  2. খ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) সোমেন চন্দ
  4. ঘ) স্বর্ণকুমারী দেবী
সঠিক উত্তর:
গ) সোমেন চন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
সোমেন চন্দ রচিত গল্প- ইঁদুর, দাঙ্গা, সংকেত, স্বপ্ন, বনস্পতি ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১৫,৮৮৪.
‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় “আঠারো বছর বয়স” কথাটি কতবার ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ৩ বার
  2. ৪ বার
  3. ৫ বার
  4. ৬ বার
সঠিক উত্তর:
৪ বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪ বার
ব্যাখ্যা

- এই কবিতায় ‘আঠারো বছর বয়স’ শব্দটি ৪ বার ব্যবহৃত হয়েছে।

⇒ নিন্মে উল্লিখিত কবিতার পঙক্তি গুলোতে ‘আঠারো বছর বয়স’ কথাটি সরাসরি ব্যবহৃত হয়নি। বয়স শব্দটির সাথে বিভক্তির ব্যবহার হয়েছে। সুতরাং এই কবিতায় ‘আঠারো বছর বয়স’ কথাটি সরাসরি ব্যবহৃত হয়েছে ৪ বার।

আঠারো বছর বয়সেই অহরহ।
আঠারো বছর বয়সের নেই ভয়।
আঠারো বছর বয়সে আঘাত আসে।

অন্যদিকে,
- আঠারো বছর বয়স কবিতায় ‘আঠারো বছর’ কথাটি ৭ বার ব্যবহৃত হয়েছে।
- আঠারো বছর বয়স কবিতায় ‘আঠারো’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে ৯ বার।

⇒ ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতা:

- সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি তাঁর “ছাড়পত্র” কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- কবিতাটির স্তবক সংখ্যা আট। এবং কবিতাটি ৬ মাত্রায় মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার মূল বৈশিষ্ট্য- যৌবনের উদ্দীপনা, সাসিকতা এবং দুর্বার গতি।
- ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার শেষ পঙক্তি- ‘এদেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।’

⇒ সুকান্ত ভট্টাচার্য:

- ‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড.সৌমিত্র শেখর।

১৫,৮৮৫.
"লোকায়ত সাহিত্য" আবদুল কাদির রচিত কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• "লোকায়ত সাহিত্য" আবদুল কাদির রচিত - প্রবন্ধগ্রন্থ।
 
আবদুল কাদির:
- তিনি ১৯০৬ সালের ১লা জুন আড়াই সিধা গ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক, সম্পাদক।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- তিনি সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক 'শিখা' (১৯২৭) পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস: মুসলিম সাধনার ধারা,
- কবি নজরুল,
- কাজী আবদুল ওদুদ,
- লোকায়ত সাহিত্য।

তাঁর রচিত কবিতাগ্রন্থ:
- দিলরুবা ও
- উত্তর বসন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫,৮৮৬.
নিচের কোনটি ভ্রমণসাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থ নয়?
  1. ক) চার ইয়ারী কথা
  2. খ) পালামৌ
  3. গ) দৃষ্টিপাত
  4. ঘ) দেশে বিদেশে
সঠিক উত্তর:
ক) চার ইয়ারী কথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) চার ইয়ারী কথা
ব্যাখ্যা
- 'চার ইয়ারী কথা'(১৯১৬) প্রমথ চৌধুরীর গল্পগ্রন্থ।
- পালামৌ বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমন কাহিনী। রচয়িতা - সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। 
- ‘দৃষ্টিপাত’ - বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা - বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়। তিনি ‘যাযাবর’ ছদ্মনামে এই বইটি রচনা করেন।
- দেশে বিদেশে সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮৮৭.
স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রভাবে রচিত কোন উপন্যাসটি?
  1. ক) আগুনের পরশমনি
  2. খ) রুমালি
  3. গ) কুহক
  4. ঘ) নন্দিত নরকে
সঠিক উত্তর:
ক) আগুনের পরশমনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) আগুনের পরশমনি
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাসঃ জোসনা ও জননীর গল্প, শ্যামল ছায়া, আগুনের পরশমনি, সূর্যের দিন ও অনিল বাগচীর একদিন।
সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১৫,৮৮৮.
জসীম উদ্‌দীন কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. বরিশাল জেলার বানারীপাড়া গ্রামে
  2. কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী গ্রামে
  3. ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল গ্রামে
  4. ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে
ব্যাখ্যা
জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮৮৯.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. কৃষ্ণনগর
  2. বীরভূম
  3. চব্বিশ পরগনা
  4. হুগলি
সঠিক উত্তর:
চব্বিশ পরগনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চব্বিশ পরগনা
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটির কাছাকাছি কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন।
- ১৮৫৮ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন।
- তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গ্রাজুয়েট।
- কর্মজীবনে তিনি প্রথম ভারতীয় ও বাঙালি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮৯০.
'মাতৃভাষায় যাহার ভক্তি নাই সে মানুষ নহে।' - উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. আবদুল হাকিম
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'মাতৃভাষায় যাহার ভক্তি নাই সে মানুষ নহে।' - উক্তিটির রচয়িতা 'মীর মশাররফ হোসেন'। এটি তাঁর 'আমাদের শিক্ষা' প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার। নিজগৃহে মুনশির নিকট আরবি ও ফারসি শেখার মাধ্যমে মশাররফ হোসেনের লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয়।
- মীর মশাররফ হোসেন আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮৯১.
'এই গৃহ এই সন্ন্যাস' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) মহাদেব সাহা
  3. গ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঘ) গোলাম মোস্তফা
সঠিক উত্তর:
খ) মহাদেব সাহা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মহাদেব সাহা
ব্যাখ্যা
'এই গৃহ এই সন্ন্যাস' মহাদেব সাহার প্রথম কাব্যগ্রন্থ। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭২ সালে। 
- এতে মোট  ৪২ টি কবিতা রয়েছে। 

• মহাদেব সাহা: 
- কবি সাংবাদিক মহাদেব সাহার জন্ম ১৯৪৪ সালের ৫ আগস্ট সিরাজগঞ্জ জেলায়।
- তিনি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সহ-সম্পাদক ছিলেন। 

• তাঁর অন্যান্য কাব্য হলো :
- মানব এসেছি কাছে।
- কী সুন্দর অন্ধ।
- তোমার পায়ের শব্দ। 
- ফুল কই শুধুই অস্ত্রের উল্লাস। 
- আমি ছিন্নভিন্ন। 
- তোমার জন্য অন্ত্যর্মিল। 
- ভুলি নাই তোমাকে রুমাল। 
- অন্তহীন নৃত্যের মহড়া। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১৫,৮৯২.
‘সুদীপ্ত শাহীন’ - কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. আগুনের পরশমণি
  2. যাত্রা
  3. রাইফেল রোটি আওরাত
  4. নিষিদ্ধ লোবান
সঠিক উত্তর:
রাইফেল রোটি আওরাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা

'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার 'রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দু'রাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।

​অন্যদিকে,
- '​যাত্রা' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান।
​- 'আগুনের পরশমণি' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র - বদিউল আলম।
​- 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাসের প্রধান দুটি চরিত্র হল বিলকিস এবং প্রদীপ

আনোয়ার পাশা:
- তিনি ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডবকাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সমালোচক ছিলেন।
- তিনি ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (মরণোত্তর) লাভ করেন।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১৫,৮৯৩.
সমর সেন রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. চার ইয়ারী কথা
  2. নানাকথা
  3. নানাচর্চা
  4. রায়তের কথা
সঠিক উত্তর:
নানাকথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নানাকথা
ব্যাখ্যা
• সমর সেন রচিত কাব্যগ্রন্থ - নানাকথা

উল্লেখ্য, 'নানাকথা' নামে প্রমথ চৌধুরীর একটি প্রবন্ধগ্রন্থ রয়েছে।

সমর সেন:
- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর পিতামহ।
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- ‘Frontier’ (ফ্রন্টিয়ার) ও ‘নাও’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। 
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - এভাবেই তিনি মার্কসবাদের  প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।
- তাঁর কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী গণচেতনা বলিষ্ঠভাবে রূপায়িত হয়েছে।
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।
- ১৯৮৭ সালের ২৩ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা
- খোলাচিঠি, 
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বাবু বৃত্তান্ত।

অন্যদিকে,
• প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ - নানাচর্চা, রায়তের কথা।
• প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ - চার ইয়ারী কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮৯৪.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. সাঁঝের মায়া
  2. বলাকা
  3. খেয়া
  4. চিত্রা
সঠিক উত্তর:
সাঁঝের মায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাঁঝের মায়া
ব্যাখ্যা
• সাঁঝের মায়া:
- ১৯৩৮ সালে সুফিয়া কামালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া' প্রকাশিত হয়।
- এর ভূমিকা লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম ।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি পড়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। 
  
- ২৮টি কবিতার এই নাতিদীর্ঘ সঞ্চয়নটির অন্যতম গুণ হচ্ছে সুফিয়া কামালের ভবিষ্যৎ সাহিত্য রচনার ভিত্তি স্থাপনা, যার স্বরূপ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে এক নারীর কণ্ঠস্বরে, সংস্কৃতির শিকড়ে তার গভীর অথচ গতিময় সঞ্চরণে এবং এক বৈশ্বিক, সামগ্রিক চেতনার পরিচয়ে ।
- কবি কামা ইভানোভা কর্তৃক অনূদিত 'সাঁঝের মায়া' গ্রন্থটির রাশিয়ান অনুবাদ প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে।

অন্যদিকে,
রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো: 
- মানসী,
- খেয়া,
- সোনার তরী,
- চিত্রা, 
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং 'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ।
 
১৫,৮৯৫.
‘কারাগারের রােজনামচা'-
  1. ক) নাটক
  2. খ) কাব্য
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) দিনলিপি
সঠিক উত্তর:
ঘ) দিনলিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দিনলিপি
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নামকরণ করেন শেখ রেহেনা। প্রচ্ছদ ও নকশা করেন তারিক সুজাত।
- তবে প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ।

উৎস: কারাগারের রোচনামচা।
১৫,৮৯৬.
'চার অধ্যায়' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কী ধরনের উপন্যাস?
  1. মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস
  2. সামাজিক উপন্যাস
  3. রাজনৈতিক উপন্যাস
  4. রোমান্টিক উপন্যাস
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• 'চার অধ্যায়' উপন্যাস:
- 'চার অধ্যায়' (১৯৩৪) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। 

- অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব-প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিল, 'চার অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে। আসলে সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই কাহিনি রচিত।

- সন্ত্রাসবাদীদের নেতা ইন্দ্রনাথ একদিকে যেমন অতিমানবিক গুণ সম্পন্ন, অন্যদিক সে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য। তার নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনি। সমকালীন বিপ্লবপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূল সুর।
- চার অধ্যায়ের কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের 'রবিবার' গল্পের সম্পর্ক আছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- অতীন,
- এলা,
- ইন্দ্রনাথ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫,৮৯৭.
‘কালিকলম’ পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন না কে?
  1. মুরলীধর বসু
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. আবুল হোসেন
  4. শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
আবুল হোসেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল হোসেন
ব্যাখ্যা

• ‘কালিকলম’ পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন না - আবুল হোসেন। 
 
‘কালিকলম’ পত্রিকা:
- এটি সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার প্রথম রচনা ছিল শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বড় গল্প ‘মহাযুদ্ধের ইতিহাস’।
- কল্লোল পত্রিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে কালিকলম।
- যদিও দুটি পত্রিকার ভাবাদর্শ ছিল এক, লেখকবৃন্দও প্রায় এক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৫,৮৯৮.
‘বছির, আজহার ও রহিমুদ্দিন’ কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. পদ্মানদীর মাঝি
  2. বোবা কাহিনী
  3. মৃত্যুক্ষুধা
  4. আরেক ফাল্গুন
সঠিক উত্তর:
বোবা কাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোবা কাহিনী
ব্যাখ্যা
• ‘বোবা কাহিনী’ উপন্যাস:
- ‘বোবা কাহিনী' (১৯৬৪) জসীমউদ্‌দীন প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই । নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

• উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র :
- বছির,
- আজহার,
- আরজান,
- রহিমুদ্দিন।

-----------------
• জসীমউদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫,৮৯৯.
 ”মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আর হাতে রণ তূর্য।” এটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার চরণ? 
  1. বিদ্রোহী 
  2. প্রলয়োল্লাস
  3. কাণ্ডারী হুশিয়ার
  4. মানুষ 
সঠিক উত্তর:
বিদ্রোহী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্রোহী 
ব্যাখ্যা

 • ”মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আর হাতে রণ তূর্য।”

• উক্ত চরণটি বিদ্রোহী কবিতার অন্তর্গত।

- ১৯২২ সালে সাপ্তাহিক বিজলি পত্রিকা প্রকাশ।
- বিদ্রোহী কবিতাটি অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• অগ্নিবীণা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- ১৩২৯ বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসে (সেপ্টেম্বর, ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ) প্রকাশিত হয়।
- প্রথম কবিতা: প্রলয়োল্লাস
- মোট বারোটি কবিতা আছে।
- উৎসর্গ: বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষ

কবিতার তালিকা:
- প্রলয়োল্লাস
- বিদ্রোহী
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা
- আগমণী
- ধূমকেতু
- কামাল পাশা
- আনোয়ার
- রণভেরী
- শাত-ইল-আরব
- খেয়াপারের তরণী
- কোরবানী
- মহররম

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৫,৯০০.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' এর রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. শওকত ওসমান
  3. আনিসুল হক
  4. হুমায়ূন আহমেদ
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন আজাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' উপন্যাস:
- হুমায়ুন আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস- 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' (১৯৯৪)।
- এই উপন্যাস প্রকাশের মধ্য দিয়ে হুমায়ুন আজাদ ঔপন্যাসিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র রাশেদকে উপন্যাসটি উৎসর্গ করা হয়।

হুমায়ুন আজাদ:

- হুমায়ুন আজাদ একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ।

হুমায়ুন আজাদ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে'
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।